Showing posts with label একুশে ফেব্রুয়ারি. Show all posts
Showing posts with label একুশে ফেব্রুয়ারি. Show all posts

Friday, February 21, 2025

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত, শ্রদ্ধা জানাতে আসেননি পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগ নেতারা by আরিফ মাহফুজ

কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই লন্ডনে পালিত হয়েছে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।  বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন থাকার কারণে লন্ডনের আলতাব আলী পার্কে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এবার বড় ধরনের কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

২১শে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে টাওয়ার হ্যামলেটস্ কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র ও বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর ক্রমান্বয়ে শ্রদ্ধা জানান যুক্তরাজ্য বিএনপি এবং যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ সহ সকল রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিকদের সংগঠন। সাধারণ মানুষও একক ভাবে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসেন, তবে যুক্তরাজ্যে পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি, মন্ত্রী কেউ শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসেননি। শুধু মাত্র সিলেটের সাবেক মেয়র ও যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ নেতা আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী শহীদ মিনারে এসেছিলেন তবে আওয়ামীলীগের ব্যানারে নয়।  

যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ যখন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তখন আনোয়ারুজ্জামানকে দেখা যায়নি। একই সময় একটি সামাজিক সংগঠনের ভিড়ে তাকে এক ঝলক দেখা যায়, পরবর্তীতে শহীদ মিনারের সামনে কয়েকজন সঙ্গীসহ তাকে দেখা যায়, তার হাতে ছিল তার নাম সম্বলিত একটি পুষ্পস্তবক। আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গেলে, বিএনপি কর্মীরা ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিতে শুরু করেন। এসময়  তিনি গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে গেলে, নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে বাধা দেন। দ্রুত তাকে শহীদ মিনার ছাড়তে দেখা যায়। এসময় আওয়ামী লীগ কর্মীরাও উত্তেজনার সৃষ্টি করে।  পরে নিরাপত্তা কর্মীদের সহযোগিতায় তারা এলাকা ত্যাগ করেন।

পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কে অবস্থিত শহীদ মিনারে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের অন্তত পাঁচ শতাধিক কর্মী জড়ো হন। বিএনপি, আওয়ামী লীগ ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

৫ আগস্টের পরে দেশত্যাগ করে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নেয়া নেতারা হলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, সদ্য বিলুপ্ত সংসদ ও মন্ত্রিসভার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ও ফরিদপুর ১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান, সাবেক বৈদেশিক কল্যাণ ও শ্রম প্রতিমন্ত্রী ও সিলেট-২ আসনের সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান, সুনামগঞ্জ ১ আসনের সাবেক সাংসদ রণজিৎ সরকার, সিলেটের আওয়ামী লীগ নেতা বিধান চন্দ্র দাস, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ার সহ আরো অনেকে।  তারা কেউই ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে আসেননি।

mzamin

Tuesday, February 22, 2011

একটি জাতীয় ভাষা পরিকল্পনা প্রয়োজন একুশে ফেব্রুয়ারি

আবার এসেছে একুশে ফেব্রুয়ারি, আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো দিন। জাতীয় শোক ও শহীদ দিবস। আজ আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ভাষা আন্দোলনের শহীদদের। গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছি ভাষাসৈনিকদের।
১৯৫২ সালের এই দিনে বাঙালি তরুণেরা ঢাকার রাজপথে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে রচনা করেছিলেন মাতৃভাষার অধিকারকে সর্বজনীন মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথ। কিন্তু ওই আত্মবলিদান শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; ক্রমশ তা গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন ও অঙ্গীকার হিসেবে দানা বেঁধেছিল। বাঙালির ইতিহাসের প্রতিটি ধাপে আমাদের পথ দেখিয়েছে সেই স্বপ্ন। ফেব্রুয়ারি তাই স্বাধীনতা, মুক্তি, সাম্য, গণতন্ত্র—আধুনিক বাঙালির সব শুভ চেতনার মাস।
শুধু তা-ই নয়, জাতীয় গণ্ডি পেরিয়ে একুশে ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। মাতৃভাষা বাংলার জন্য বাঙালি ভাষাশহীদদের আত্মত্যাগের মহিমা ছড়িয়ে পড়েছে ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে পৃথিবীর সব জাতি-গোষ্ঠীর মাতৃভাষার স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে। মাতৃভাষার অধিকার যে মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার, এ সত্যটি বিশ্ববাসী উপলব্ধি করেছে। জীববৈচিত্র্যের মতোই ভাষা ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যও যে মানবসভ্যতার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ, তা বিশ্বজুড়েই স্বীকৃত হচ্ছে। বিশ্বের প্রতিটি জনগোষ্ঠীর নিজ নিজ মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও বিকাশের অধিকার তাদের রাজনৈতিক অধিকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও বাংলা ছাড়া ছোট অনেক জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতির পাশাপাশি সেসব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির স্বকীয় পরিপুষ্টির সুযোগ অবারিত রাখা প্রয়োজন।
যে বাংলা ভাষার জন্য শহীদেরা প্রাণ দিয়েছেন, আমাদের সেই প্রাণপ্রিয় মাতৃভাষার আজ কী অবস্থা? কাগজ-কলমে বাংলা বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা। কিন্তু সরকারি দাপ্তরিক কাজে বাংলা ভাষার ব্যবহার আংশিক। এ দেশে এখনো ইংরেজির প্রাধান্য বেশি। উচ্চ আদালতে এখনো বাংলা চালু হয়নি। ব্যবসা-বাণিজ্যে বাংলা ভাষার জায়গা খুব সীমিত। আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলার ব্যবহার প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়ছে না। উন্নয়ন খাতও চলছে মূলত ইংরেজি ভাষায়। এনজিওদের সেমিনার, সিম্পোজিয়ামগুলোর ভাষা প্রধানত ইংরেজি, তাদের প্রতিবেদন ও অন্যান্য লেখালেখির ভাষাও তা-ই। শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা মাতৃভাষা বাংলার পরিবর্তে ইংরেজি রপ্ত করতে বেশি আগ্রহী। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার সীমিত। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পাঠ্যবই অধিকাংশই ইংরেজিতে রচিত। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছে ইংরেজি বেশি প্রাধান্য পেয়ে থাকে। মাতৃভাষা বাংলায় শুদ্ধ করে, সুন্দরভাবে লিখতে না পারা অগৌরব বলে বিবেচিত নয়। শিশুদের শিক্ষাক্ষেত্রে ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়ের প্রসার ঘটে চলেছে। সাধারণ বিদ্যালয়েও বাংলার প্রতি অবহেলার প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
ফেব্রুয়ারি মাস এলে মাতৃভাষা বাংলা নিয়ে নানা কথা বলা হয়, অনেক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কিন্তু এসব কথায় ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি পায় না। বাংলার মর্যাদা বৃদ্ধি করতে হলে শিক্ষাসহ জীবনের সর্বস্তরে বাংলা চালু করার ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তাই প্রথমে প্রয়োজন একটি জাতীয় ভাষা পরিকল্পনা। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন কিছু স্থায়ী প্রতিষ্ঠান ও মানুষ, যাঁরা বাংলা ভাষার বিকাশের লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ করে যাবেন।

Monday, February 22, 2010

ভাষার গৌরব প্রতিষ্ঠিত হোক সমাজে ও জীবনে -আমি কি ভুলিতে পারি

আজ একুশে ফেব্রুয়ারি: আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো দিন। জাতীয় শোক ও শহীদ দিবস। আজ আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ভাষা আন্দোলনের শহীদদের। গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছি ভাষাসৈনিকদের।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথে বাঙালি ছেলেরা বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে মাতৃভাষার অধিকারকে সর্বজনীন মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথ রচনা করেছিল। কিন্তু ওই আত্মবলিদান শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; ক্রমেই একটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন ও অঙ্গীকার দানা বেঁধেছিল। সে স্বপ্নই ইতিহাসের প্রতিটি ধাপে পথ দেখিয়েছে বাঙালি জাতিকে। তাই ফেব্রুয়ারি স্বাধীনতা, মুক্তি, সাম্য, গণতন্ত্র—আধুনিক বাঙালির সব শুভ চেতনার মাস।
২১ ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসও বটে। মাতৃভাষা বাংলার জন্য বাঙালি ভাষাশহীদদের আত্মত্যাগের মহিমা ছড়িয়ে পড়েছে ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে পৃথিবীর সব জাতি-গোষ্ঠীর মাতৃভাষার স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে। মাতৃভাষার অধিকার যে মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার, এই সত্যটি আমরা বিশ্ববাসীকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছি। জীববৈচিত্র্যের মতোই ভাষা ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যও যে মানবসভ্যতার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ, তা বিশ্বজুড়েই স্বীকৃত হচ্ছে। বিশ্বের প্রতিটি জনগোষ্ঠীর নিজ নিজ মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও বিকাশের বিষয়টি তাদের রাজনৈতিক অধিকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আমাদের এই দেশেও বাংলা ছাড়া ছোট অনেক জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতির পাশাপাশি সেসব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির স্বকীয় পরিপুষ্টির সুযোগ অবারিত রাখতে হবে।
একুশে ফেব্রুয়ারির সুবাদে আমাদের একবার ভেবে দেখা উচিত, যে বাংলা ভাষার জন্য শহীদেরা প্রাণ দিয়েছেন, সেই প্রাণপ্রিয় মাতৃভাষার আজ কী অবস্থা। কাগজ-কলমে বাংলা বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা। কিন্তু সরকারি দাপ্তরিক কাজে বাংলা ভাষার ব্যবহার আংশিক এবং এখনো ইংরেজির প্রাধান্য বেশি। আইন প্রণয়ন হয় বাংলায়, কিন্তু উচ্চ আদালতে এখনো বাংলা চালু হয়নি। ব্যবসা-বাণিজ্যে বাংলা ভাষার জায়গা নেই বললেই চলে। দোকানের মূল্য পরিশোধের রসিদের ভাষাও ইংরেজি। এনজিও খাতও চলছে মূলত ইংরেজি ভাষায়। তাদের সেমিনার, সিম্পোজিয়ামগুলোর ভাষা প্রধানত ইংরেজি, তাদের প্রতিবেদন ও অন্যান্য লেখালেখির ভাষাও তা-ই। শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা মাতৃভাষা বাংলার পরিবর্তে ইংরেজি রপ্ত করতে চান। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার নেই বললেই চলে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইংরেজি বেশি প্রাধান্য পেয়ে থাকে। বাংলায় লিখতে না পারা অগৌরব বলে বিবেচিত নয়। শিশুদের শিক্ষাক্ষেত্রে শুধু ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়ের প্রসার নয়, বাংলার প্রতি অবহেলা সাধারণ বিদ্যালয়েও কম নয়।
একুশের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বাংলার মর্যাদা বৃদ্ধি পায় না। সর্বস্তরে বাংলা চালু করার মধ্য দিয়ে সেটা হতে পারে। এ বিষয়ে কথা অনেক হয়, কাজ হয় না। এ জন্য প্রয়োজন একটি জাতীয় পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন।