Saturday, June 12, 2010

চার দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন হামিদ কারজাই

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই চার দিনের সফরে গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন। কর্মকর্তারা বলছেন, ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে কারজাই ওয়াশিংটন সফর করছেন।
আফগান কর্মকর্তা সেদিক সিদ্দিকি বলেছেন, ওয়াশিংটন ডিসির কাছে অ্যান্ড্রু বিমান ঘাঁটিতে প্রেসিডেন্ট কারজাইকে স্বাগত জানান মার্কিন কর্মকর্তারা। কারজাই গতকাল রাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন।
সরকারের ভেতরে ব্যাপক দুর্নীতির কারণে আফগানদের কাছে প্রেসিডেন্ট কারজাইয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন চাইছে, ভবিষ্যতে তালেবানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরুর আগেই কারজাই যেন তাঁর দেশের জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনে সক্ষম হন।

ছত্তিশগড়ে সেনা মোতায়েনের অনুরোধ রাজ্য সরকারের

ভারতের ছত্তিশগড়ে সেনা মোতায়েনে গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে রাজ্য সরকার। মাওবাদীদের সহিংসতা ক্রমেই গুরুতর আকার ধারণের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুরোধ জানানো হয়।
ছত্তিশগড়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নানকি রাম কনোয়ার গতকাল বলেন, বামপন্থী চরমপন্থীদের বেপরোয়া সহিংসতার কারণে রাজ্যে এখন যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, এতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে এখানে সেনা সহায়তা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। গেরিলাদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার খবর নাকচ করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাওবাদীরা যে শান্তি বা উন্নয়ন চায় না, তাদের অব্যাহত সহিংসতাই এর প্রমাণ।
গত শনিবার সড়কে মাইন বিস্ফোরণের মাধ্যমে মাওবাদীরা আটজন নিরাপত্তারক্ষীকে হত্যা করে। গত মাসে গেরিলাদের হাতে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের ৭৬ জন সদস্য নিহত হন।

ইরাকের হিল্লা শহরে গাড়িবোমা হামলায় ৪০ জন নিহত

ইরাকের হিল্লা শহরে গতকাল সোমবার দুটি গাড়িবোমা বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৪০ জন নিহত ও ১৪০ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে হামলা-সংঘর্ষে পুলিশসহ নিহত হয়েছেন আরও ৩২ জন।
রাজধানী বাগদাদ থেকে ৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে হিল্লা শহরের একটি পোশাক কারখানার সামনে গাড়িবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় শ্রমিকেরা কাজ শেষে কারখানা থেকে বের হচ্ছিলেন। কারখানার পাশে পার্কিং করা একটি গাড়ি থেকে প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে। এর কিছুক্ষণ পরই ঘটে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ। এতে ৪০ জন নিহত হন। পুলিশ কর্মকর্তারা দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি আত্মঘাতী হামলা বলে ধারণা করছেন।

হারালো জীবনের আটটি বছর, ভাঙল সংসার

ঝাও জুওহাইয়ের সঙ্গে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ ছিল একই গ্রামের ঝাও ঝেনশাংয়ের। একপর্যায়ে দুজনের মারামারি হয়। তারপর নিখোঁজ হন ঝেনশাং। এর মধ্যে একটি মাথাহীন লাশ উদ্ধার হয়ে বাধিয়ে দেয় বিপত্তি। লাশটি নিখোঁজ ঝেনশাংয়ের বলে শনাক্ত করা হয়। তাঁকে খুন করার দায় গিয়ে চাপে জুওহাইয়ের ওপর। পুলিশের বেদম পিটুনি সইতে না পেরে একপর্যায়ে খুনের কথা তিনি স্বীকার করেন। জুওহাইকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত প্রথমে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। পরে শাস্তি কমিয়ে ২৯ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। তারপর শুরু হয় তাঁর কারাবাস। গত মাসে ঝেনশাং সশরীরে ফিরে এলে ঘটনা নাটকীয় মোড় নেয়। বাতিল হয়ে যায় জুওহাইয়ের দণ্ডাদেশ। চীনের হেনান প্রদেশের ঝেচেং জেলার ঝাউলাউ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
কিন্তু এত দিনে জুওহাই কেবল তাঁর জীবনের আটটি বছরই হারাননি, হারিয়েছেন স্ত্রী, চার সন্তানসহ সুখের সংসার। ১৯৯৭ সালে জুওহাইয়ের সঙ্গে প্রতিবেশী ঝেনশাংয়ের মারামারি হয়। এ ব্যাপারে ঝেংশানের ভাষ্য, এক সময় জুওহাইয়ের সঙ্গে তাঁর খুব বন্ধুত্ব ছিল। ধারের টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে জুওহাই টালবাহানা শুরু করলে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে তাঁদের মারামারি হয়। এর পর ঝেনশাং পালিয়ে যান।
১৯৯৯ সালের মে মাসে ওই গ্রামে একটি মাথাহীন লাশ পাওয়া গেলে অনেকেই লাশটি নিখোঁজ ঝেনশাংয়ের বলে শনাক্ত করে। তখন ঝেনশাংকে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে জুওহাইয়ের বিরুদ্ধে। তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০০২ সালে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। শুরু হয় তাঁর কারাবাস। গত ৩০ এপ্রিল ঝেনশাং গ্রামে ফিরে আসেন।
গত শুক্রবার হেনানের উচ্চতর আদালত ঝেনশাংয়ের পরিচয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পর জুওহাইকে বেকসুর খালাস দেন। কিন্তু ততদিনে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে জুওহাইয়ের জীবন। তিনি কারাগারে যাওয়ার পর স্ত্রী আরেকজনকে বিয়ে করে দুই সন্তান নিয়ে চলে গেছেন। অন্য দুই সন্তান দত্তক হিসেবে বড় হচ্ছে পৃথক দুটি পরিবারে।

কাসাবকে রাখা নিয়ে বিপাকে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা

মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাকিস্তানি জঙ্গি মুহম্মদ আজমল আমির কাসাবকে কোথায় রাখা হবে, তা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ভারতের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। কাসাবকে বর্তমানে মুম্বাইয়ের আর্থার রোডের কারাগারে রাখা হয়েছে। তবে এই কারাগারে কেবল বিচারাধীন আসামিদের রাখা হয়। কাসাবের মতো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন ভয়ানক সন্ত্রাসীকে সেখানে রাখাটা নিরাপদ মনে করছেন না কর্মকর্তারা।
মহারাষ্ট্র সরকার গত রোববার নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠক করেছে। বৈঠকে কাসাবের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার পর কাসাবকে পুনে কিংবা নাগপুরের কারাগারে পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে সেখানে তাঁকে নেওয়া হচ্ছে না। তা ছাড়া কাসাবের শাস্তির বিষয়টি মুম্বাই আদালতের এখতিয়ারে থাকায় তাঁকে আপাতত মুম্বাইয়েই রাখা হচ্ছে।
কাসাবের নিরাপত্তা বাবদ ইতিমধ্যে ভারত সরকারের ৩৩ কোটি রুপি খরচ হয়েছে। রায় ঘোষণার পর তাঁর নিরাপত্তা বাবদ খরচ আরও বাড়ছে। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন, কাসাবের মতো একজন সন্ত্রাসীর পেছনে এত অর্থ খরচ না করে সেই অর্থ মুম্বাই হামলার ঘটনায় হতাহতদের পরিবারগুলোকে দেওয়া যেতে পারে।
এদিকে কাসাবের মৃত্যুদণ্ডাদেশ হওয়ায় এখনো ভারতের বিভিন্ন স্থানে আনন্দ উৎসব চলছে। তাজ হোটেল ও ছত্রপতি শিবাজী টার্মিনালসহ যেসব জায়গায় সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল সেসব এলাকার লোকজন পরস্পরের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করছে।
২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ১৬৬ জন নিহত হয়।

পীতসাগরে ডুবে যাওয়া দ.কোরিয়ার জাহাজে বিস্ফোরকের আলামত

পীতসাগরে গত মার্চে ডুবে যাওয়া দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধজাহাজে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরকের আলামত পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম তায়ে ইয়ং এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে এর আগে গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হলেও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তা অস্বীকার করা হয়েছিল।
গত ২৬ মার্চ উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত বরাবর পীতসাগরে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি যুদ্ধজাহাজ রহস্যজনক বিস্ফোরণে ডুবে যায়। এতে জাহাজের ৪৬ জন নাবিকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার জন্য দেশটি উত্তর কোরিয়াকেই দায়ী করে আসছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম বলেন, তদন্ত কর্মকর্তারা ডুবে যাওয়া যুদ্ধজাহাজে আরডিএক্স জাতীয় বিস্ফোরকের আলামত পেয়েছেন। এ ছাড়া কিছু ধাতব পদার্থ পাওয়া গেছে, যেগুলো জাহাজে থাকার কথা নয়। তিনি বলেন, সম্ভবত টর্পেডোর আঘাতেই যুদ্ধজাহাজটি ডুবে গেছে। তবে যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে কারা টর্পেডো ছুড়েছে তা উল্লেখ করেননি তিনি। কিম বলেন, আসলে এ বিষয়ে এত দ্রুত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাহাজের ধোঁয়া নির্গমনের চুঙ্গি এবং সমুদ্রগর্ভ থেকে সংগ্রহ করা বালিতে বিস্ফোরকজাতীয় পদার্থের আলামত পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় বহুজাতিক তদন্ত প্রতিবেদন আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

তালেবানের সঙ্গে সংঘর্ষে ৯ পাকিস্তানি সেনা নিহত

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ওরাকজাই জেলার ডাবুরিতে গতকাল সোমবার তালেবান জঙ্গিদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নয়জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন।
পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সেনারা জঙ্গি দমনে ওই এলাকায় অভিযান চালানোর সময় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

মার্কিন অভিনেত্রী লেনা হর্নের জীবনাবসান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত অভিনেত্রী ও কণ্ঠশিল্পী লেনা হর্ন আর নেই। গত সোমবার নিউইয়র্কে তিনি মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। অভিনয় ও গানের পাশাপাশি নাচেও পারদর্শী ছিলেন লেনা। কৃষ্ণাঙ্গ এই শিল্পী বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
লেনা হর্ন ১৯৪৩ সালে শুধু কৃষ্ণাঙ্গদের অংশগ্রহণে নির্মিত সেলিনা রজার্সের চলচ্চিত্রে ‘স্টোর্মি ওয়েদার’ গানটি গেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান।
তাঁর জীবন ও ক্যারিয়ার নিয়ে ১৯৮১ সালে নির্মিত শো ‘লেনা হোম: দ্য লেডি অ্যান্ড হার মিউজিক’-এ অভিনয়ের জন্য অনেক পুরস্কার লাভ করেন লেনা। লেনা হর্ন হলিউডের ৬০ বছরের ক্যারিয়ার শেষে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন।

রানির সঙ্গে ক্যামেরনের দেখা হয়েছিল খরগোশের সাজে

ব্রিটেনে সদ্য অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসনে জয়ী কনজারভেটিভ পার্টির নেতা ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের দেখা হয়েছিল ৩৫ বছর আগে। ওই সাক্ষাতের সময় ক্যামেরন একটি খরগোশের সাজে ছিলেন। স্কুলের একটি নাটকে অংশ নিতে তাঁকে ওই সাজে সাজতে হয়েছিল। গতকাল সোমবার ব্রিটিশ পত্রিকা ডেইলি মেইল এই খবর জানায়।
ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৭৫ সালে। ওই সময় ক্যামেরনের বয়স ছিল আট বছর। বার্কশায়ারের অ্যাসকটে হিদারডাউন স্কুলে পড়ার সময় টড অব টড হল নাটকের হ্যারল্ড র‌্যাবিট চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। স্কুলটি এখন বন্ধ হয়ে গেছে। তবে ওই সময় খুবই অভিজাত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল সেটি। সেখানে নারী, পুরুষ ও তাঁদের সঙ্গীদের জন্য আলাদা কক্ষে বসার ব্যবস্থা ছিল।
স্কুলের ওই সময়ের একজন শিক্ষক ক্রিস ব্ল্যাকের মনে আছে ক্যামেরনের অভিনয় প্রতিভার কথা। তাঁকে উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি বলেছে, ‘স্কুলে বার্ষিক নাটকটি পরিচালনা করার দায়িত্ব ছিল আমার। নাটকের চূড়ান্ত মঞ্চায়নের দিন উপস্থিত ছিলেন রানি স্বয়ং। ডেভিডের বড় ভাই আলেক্সজান্ডারও ওই নাটকে অভিনয় করেন। ক্যামেরন আত্মবিশ্বাসী একজন অভিনেতা ছিল।’ আরেকজন শিক্ষক লেওয়েলিন বলেন, ‘ক্যামেরন খুবই সাধারণ মানের একজন ছাত্র ছিল। একটি ভালো মধ্যবিত্ত পরিবারের ভালো ছেলে বলতে যা বোঝায়, ঠিক তা-ই ছিল ক্যামেরন।

করাচি বিমানবন্দরে সন্দেহভাজন বোমা হামলাকারী গ্রেপ্তার

পাকিস্তানের করাচি বিমানবন্দরে গত রোববার রাতে বোমা হামলাকারী সন্দেহে একজন পাকিস্তানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফয়েজ মোহাম্মদ (৩০) নামে ওই পাকিস্তানি নাগরিকের জুতার ভেতর ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক সার্কিট পাওয়া গেছে, যা বিস্ফোরণ ঘটানোর উপকরণ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। থাই এয়ারওয়েজের বিমানে করে ওমানের মাস্কাট যাচ্ছিলেন তিনি। বিমানে ওঠার সময় একটি স্ক্যানার তাঁর ব্যাপারে সতর্কতা সংকেত দিলে নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত বিমানবন্দর নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা তাঁকে গ্রেপ্তার করেন। এএফপি ও পিটিআই অনলাইনের।
এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি ফোর্সের মুখপাত্র মোহাম্মদ মুনির বলেন, ফয়েজ মোহাম্মদের কাছে বিস্ফোরকদ্রব্য পাওয়া যায়নি, তবে তাঁর জুতার ভেতর সার্কিট পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ওই সার্কিটের মাধ্যমে বিস্ফোরকদ্রব্য তৈরি ও এর বিস্ফোরণ ঘটানো যেতে পারে।
গতকাল সোমবার ফয়েজ মোহাম্মদকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেন পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। করাচি পুলিশের প্রধান গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিয়াজ খোসো বলেন, ফয়েজকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে নিজেকে তিনি একজন প্রকৌশলী বলে দাবি করেন। উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত এলাকার খাইবার পাখতুন খাঁ এলাকায় তাঁর বাড়ি। ফয়েজের ভাষ্য। সম্প্রতি পুরোনো কর্মস্থল মাস্কাটে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা নেন। সেখানে এর আগে একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে তিনি কাজ করেন।
খোসো বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফয়েজ বলেন, জুতার ভেতর ব্যাটারি ও সার্কিট এমন এক যন্ত্রের, যা কম্পনের মাধ্যমে তাঁর পা মালিশ করত। কাজ করতে করতে ক্লান্তি এসে গেলে এই যন্ত্র চালু করে তিনি পা মালিশ করতেন। এতে আরাম হতো তাঁর। ফয়েজের বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ে তাঁর জুতা বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ফয়েজ নির্দোষ কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি যৌথ গোয়েন্দা দল তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

সৌদি আরবে স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে প্রচারণা

সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে প্রচার শুরু করেছে। জাতীয় স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ প্রচারণা চালানো হচ্ছে। গত শনিবার রিয়াদের প্রিন্স সুলতান বিশ্ববিদ্যালয়ে এই প্রচারণা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রিয়াদের স্বাস্থ্যবিষয়ক পরিচালক হিশাম মোহাম্মদ আল নাদিরা। এতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল রাবিয়ার সমর্থন রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নাদিরা বলেন, শিশুদের মুটিয়ে যাওয়া রোধের বিষয়টিকে অভিভাবকদের গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। শিশুরা স্বাস্থ্যবিষয়ক যেসব সমস্যায় ভুগে থাকে, সঠিক সময়ে যথাযথ দিকনির্দেশনা তা কমাবে।
স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে প্রচারণা উপলক্ষে একটি প্রদর্শনীও চালু হয়েছে। এ ব্যাপারে ঐকমত্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে পাঁচ দিনব্যাপী আলোচনা সভা হবে। প্রচারণা কর্মসূচি সফল করে তুলতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা।

মহাশূন্যে যাচ্ছে নিউটনের সেই আপেলগাছের অংশ

পদার্থবিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটনের মধ্যাকর্ষণতত্ত্বের পটভূমি সবারই জানা। একদিন তিনি তাঁর বাগানে একটি আপেলগাছের নিচে বসে ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে গাছ থেকে একটি আপেল পড়ল। আপেলটি ওপরে না গিয়ে নিচে কেন পড়ল, সেই চিন্তা থেকেই নিউটনের সৃষ্টি মধ্যাকর্ষণতত্ত্বের।
পদার্থবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ এই তত্ত্ব আবিষ্কারের পর নিউটনের উত্তরসূরিরা পরবর্তী সময়ে সেই আপেলগাছটি খুবই যত্ন করে রেখেছিলেন। আপেলগাছটির একটি অংশ বর্তমানে যুক্তরাজ্যের জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান রয়্যাল সোসাইটিতে রয়েছে।
একালের বিজ্ঞানীদের শখ হয়েছে, আপেলগাছটির সেই অংশ মহাশূন্যে নিয়ে যাবেন। সঙ্গে বিজ্ঞানী নিউটনের একটি ছবিও। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পরবর্তী মহাকাশ মিশনে গাছটির অংশবিশেষ ও নিউটনের ছবি মহাশূন্যে পাঠাবেন তাঁরা।
রয়াল সোসাইটির ৩৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হচ্ছে এ বছর। এ উপলক্ষে নাসার বিজ্ঞানীরা মহাশূন্যে একটি নভোযান পাঠাবেন। ১২ দিনের অভিযানে নাসার মহাকাশযান আটলান্টিস ১৪ মে মহাশূন্যের উদ্দেশে উড্ডয়ন করবে। এ অভিযানে ছয়জন ক্রু অংশ নেবেন। তাঁদের মধ্যে থাকবেন ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত নভোচারী পিয়ার্স সেলার্স। তিনিই নিউটনের ছবি ও আপেলগাছটির অংশ মহাশূন্যে নেওয়ার দায়িত্ব পালন করবেন।
পিয়ার্স সেলার্স বলেন, ‘নিউটনের সেই আপেলগাছের অংশ কক্ষপথে নিয়ে যেতে পারলে আমরা খুবই আনন্দিত হব। যখন এই গাছের অংশ মহাশূন্যে নেওয়া হবে, তখন এটির মধ্যাকর্ষণশক্তির অভিজ্ঞতা হবে না। যদি এই গাছের সঙ্গে একটি আপেল থাকত, তাহলে সেটি আর নিচে পড়ত না।’ তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে, স্যার আইজ্যাক এখন বেঁচে থাকলে তিনি এই পদক্ষেপ দেখে খুবই খুশি হতেন।’ তিনি জানান, অভিযান শেষে আপেলগাছের অংশ ও নিউটনের ছবি আবার রয়াল সোসাইটিকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
রয়াল সোসাইটির সভাপতি লর্ড রিস বলেন, ‘আমরা খুবই আনন্দিত ও গর্বিত যে, বিজ্ঞানের ইতিহাসের এ ধরনের অসাধারণ একটি অংশ ও রয়াল সোসাইটির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান মহাশূন্যে ঐতিহাসিক অভিযানে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, মহাশূন্য থেকে ফিরে আসার পর আপেলগাছের অংশ ও নিউটনের ছবি রয়াল সোসাইটির প্রদর্শনী ইতিহাসের অংশ হয়ে যাবে। এ বছরের শেষ নাগাদ এগুলো প্রদর্শন করা হবে।
পিয়ার্স সেলার্স ১৯৫৫ সালে সাসেক্সে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি নাসার নভোচারী হিসেবে মনোনীত হন।
ব্রিটেনের জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমি রয়াল সোসাইটি ১৬৬০ সালের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠিত হয়।

বহিষ্কারাদেশ পাওয়া অভিবাসীরা ক্ষমার আবেদন করতে পারবেন

বহিষ্কারাদেশ পাওয়া অভিবাসীদের ক্ষমা করার উদ্যোগ নিয়েছেন নিউইয়র্কের গভর্নর ডেভিড প্যাটার্সন। তাঁর কার্যালয় থেকে গত সপ্তাহে এ সংক্রান্ত একটি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, লঘু অপরাধে বহিষ্কারাদেশ পাওয়া নিউইয়র্কের অভিবাসীরা সাধারণ ক্ষমার জন্য গভর্নরের কাছে আবেদন করতে পারবেন। এ আবেদন যাচাই করার জন্য গভর্নর একটি প্যানেলও গঠন করেছেন। এ ঘোষণার পর নিউইয়র্কে হাজার হাজার অবৈধ অভিবাসী আশার আলো দেখছেন।
গভর্নর প্যাটার্সন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে বহিষ্কারাদেশ অত্যন্ত অনমনীয়। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় আইনে রাজ্য গভর্নরকে এ ক্ষেত্রে সীমিত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। গভর্নরের সীমিত ক্ষমতাবলে রাজ্য গভর্নর ক্ষেত্রবিশেষ বহিষ্কারাদেশ পাওয়াদের অনুকম্পা প্রদর্শন করতে পারেন।
নব্বইয়ের দশকে মার্কিন অভিবাসন আইনে ব্যাপক পরিবর্তন আনায় লঘু অপরাধে গত তিন দশকে বহু বৈধ অভিবাসীর অভিবাসনসুবিধা বাতিল করা হয়েছে। বহিষ্কারাদেশের খড়্গ মাথায় নিয়ে হাজার হাজার অভিবাসী বসবাস করছেন নিউইয়র্কে। একসময় বৈধ অভিবাসন ছিল, এমন অনেকেরই গ্রিন কার্ডের মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। তাঁদের কাজের বৈধ অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। বহিষ্কারাদেশ পাওয়া অভিবাসীরা প্রায়ই ধরপাকড় আর তল্লাশির শিকার হচ্ছেন।
নিউইয়র্কে বসবাসরত বহিষ্কারাদেশ পাওয়ারা অনুকম্পা পাওয়ার জন্য রাজ্য গভর্নরের কাছে আবেদন করতে পারবেন। এ সংক্রান্ত বাছাই কমিটি আবেদন বিবেচনার জন্য আনুষঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করবে। গভর্নরের অফিস থেকে জানানো হয়েছে, বাছাই কমিটি অনুকম্পা বিবেচনার জন্য গভর্নরের কাছে সুপারিশ উপস্থাপন করবে। গভর্নর ডেভিড প্যাটার্সন বলেছেন, নিউইয়র্কে অভিবাসীদের অবদানকে স্বীকৃতি জানানোর জন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে অভিবাসীদের ওপর কড়াকড়ি করে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এ আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছে। অভিবাসী গোষ্ঠীগুলোর চাপের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ বছরের মধ্যেই অভিবাসন আইনের সংস্কার করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

আশরাফুলের অন্য সেঞ্চুরি

ওভালে সারের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে কাল ১১ রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেছেন, তবে একটা সেঞ্চুরি কিন্তু মোহাম্মদ আশরাফুল এই ম্যাচে মাঠে নেমেই করে ফেলেছেন। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে আশরাফুলের এটি শততম ম্যাচ। বাংলাদেশের আর একজনেরই আছে এই ‘সেঞ্চুরি’। উইকেটের সামনে-পেছনে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ভরসা খালেদ মাসুদ প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলেছেন ১১২টি। এখনো অবসর নেননি, সংখ্যাটা তাই আরও বাড়বে ভবিষ্যতে। সবকিছু ঠিক থাকলে শততম ম্যাচ খেলা বাংলাদেশের তৃতীয় ক্রিকেটারটি হবেন জাভেদ ওমর বেলিম। ৪০ টেস্ট খেলা জাভেদ প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলেছেন ৯৮টি। সুযোগ ছিল হাবিবুল বাশারের সামনেও। কিন্তু ৯১ ম্যাচ খেলা সাবেক বাংলাদেশ অধিনায়ক প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন এ মৌসুমেই।

প্রথম বিভাগ বাস্কেটবল

প্রিমিয়ার ব্যাংক বাস্কেটবলে কাল ধূমকেতু ৯২-৬১ পয়েন্টে দ্য গ্রেগসকে, দি গ্রেগারিয়াস ৯০-৫০ পয়েন্টে মোহাম্মদপুর বাস্কেটবল ক্লাবকে ও ইউরোপা ইয়ুথ ৯৩-৪৯ পয়েন্টে যোশে ফাইটসকে হারিয়েছে।

টি-টোয়েন্টিতে হার একাডেমি দলের

ওয়ানডে সিরিজ জিতলেও টি-টোয়েন্টিতে জিপি-বিসিবি একাডেমি দলের শুরুটা হলো হার দিয়ে। কাল বিকেএসপিতে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি দল জিতেছে ৪ উইকেটে।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৭০ রান করেছে বিসিবি একাডেমি দল। ৮৫ রানে ৪ উইকেট পড়ার পর সাব্বির রহমান ও নাসির হোসেন চতুর্থ উইকেট জুটিতে করেন ৮১। সাব্বির ৩৪ বলে ৫০ ও নাসির ৩৪ বলে ৩৪ রান করেছেন। এর আগে ওপেনার আনামুল হক মাত্র ২২ বলে করে গেছেন ৫০ রান।
জবাবে চার বল বাকি থাকতে জিতে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি দল। ওপেনার আবুরি সোয়ানেপল করেছেন ২৮ বলে সর্বোচ্চ ৪২ রান। জিপি-বিসিবি একাডেমির নাসির ৩২ রানে ৩টি ও সানজামুল ইসলাম ৪৩ রানে ২টি উইকেট পেয়েছেন। অন্য উইকেটটি আসিফ আহমেদের। একই মাঠে আজ দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে দুই দল।

আবাহনীর পরীক্ষার মঞ্চ প্রেসিডেন্টস কাপ

পেশাদার লিগে হ্যাটট্রিক শিরোপা ঘরে তুলতে যাচ্ছে আবাহনী। শেষ তিন ম্যাচের আগে মোহামেডানের চেয়ে ৬ পয়েন্ট এগিয়ে আকাশি-নীলেরা। এই লিগে আবাহনীকে পরীক্ষাই দিতে হয়নি। তবে দেশের সেরা ফুটবল দলটির জন্য পরীক্ষার মঞ্চ তৈরি।
আগামীকাল ঢাকায় শুরু হচ্ছে এএফসি প্রেসিডেন্টস কাপ ফুটবল। এবার নিয়ে এই টুর্নামেন্টে তৃতীয়বার খেলছে আবাহনী। প্রথমবার নেপাল পুলিশের কাছে ৪ গোলের লজ্জা ছিল সঙ্গী। দ্বিতীয়বার অর্থাৎ গত বছর ঘরের মাঠে টুর্নামেন্ট আয়োজন করে আবাহনীর দুঃখ ছিল ‘একটা গোল’। আর এক গোল বেশি করলে গোলগড়ে সেরা রানার্সআপ হয়ে চূড়ান্ত পর্বে যাওয়ার সুযোগ মিলত।
নেপালের নিউ রোড, চীনা তাইপের হাসুস এনটিসিপিই ও কিরগিজস্তানের দরদই বিশকেকের সঙ্গে এবার লড়াই করে ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়ন হওয়া কঠিন নয় আবাহনীর জন্য। অধিনায়ক বিপ্লব ভট্টাচার্য সেটাই মনে করেন, ‘চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা কঠিন কিছু নয়। এ জন্য ভালো ফুটবল খেলতে হবে। চেষ্টা করলে সম্ভব।’
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ৫ দিনে ছয়টি ম্যাচ হচ্ছে। আবাহনীর তিন ম্যাচই সন্ধ্যা ৭টায়। আগামীকাল তাদের প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ নিউরোড, ১৪ মে হাসুস, ১৬ মে শেষ ম্যাচে দরদরই বিশকেক। তিন দিনই বিকেল চারটায় শুরু হবে প্রথম ম্যাচ।
শেষ ম্যাচটিকেই যা একটু কঠিন মনে করছে আবাহনী। প্রথম দুটি ম্যাচ জিতলে শেষ ম্যাচে সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে মাঠে নামতে চায় তারা।
মাঠের বাইরের প্রস্তুতিতে ঘাটতি থাকলেও শেষ সময়ে নড়েচড়ে বসেছে আবাহনী। প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে কাল ক্লাব ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন কর্তারা। তবে মাঠে দর্শক আনার জন্য তেমন জোরালো তৎপরতা দেখা যায়নি। তা না যাক, আবাহনী মনে করছে টুর্নামেন্ট আয়োজনে গতবারের মতো এবারও তারা সফল হবে।
এফসির কাছ থেকে আয়োজন বাবদ পাওয়া যাচ্ছে ৬০ হাজার ডলার। ভিআইপি ৫০ ও পশ্চিম গ্যালারির টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ২০ টাকা। পূর্ব গ্যালারি উন্মুক্ত স্কুলছাত্রদের জন্য।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ক্লাবের ডাইরেক্টর ইন চার্জ কাজী শাহেদ আহমেদ, কাজী নাবিল আহমেদ, সত্যজিৎ দাস প্রমুখ।

চীনা তাইপের কাছে হারল বাংলাদেশ

মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ড্রেসিংরুমের ভেতরে ঢুকতেই ঠান্ডা বাতাসের ঝাপটা গায়ে লাগে। কিন্তু ওই শীতল কক্ষেও হকি খেলোয়াড়েরা রাগে-ক্ষোভে-বিস্ময়ে একাকার। রাসেল মাহমুদ (জিমি) বিস্মিত, ‘আমার তো বিশ্বাসই হচ্ছে না, ৭-৫ গোলে হেরেছি আমরা।’ অধিনায়ক মশিউর রহমান (বিপ্লব), স্ট্রাইকার মামুনুর রহমান (চয়ন) মূর্তির মতো বসে। হারের কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পাচ্ছেন না তাঁরা! রবি এশিয়ান গেমস বাছাই হকিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার যে স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশ, দ্বিতীয় ম্যাচেই তা হোঁচট খেল। এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত প্রথমবারের মতো চীনা তাইপের কাছে হারল ৫-৭ গোলে।
অথচ কী দুর্দান্ত শুরুটাই না হয়েছিল বাংলাদেশের! শুরুতেই আক্রমণ। ৫ মিনিটের মাথায় গোল পেয়ে যান কামরুজ্জামান (রানা)। ৭ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করেন কৃষ্ণ। এর পরই খেই হারিয়ে পেনাল্টি কর্নার থেকে ৯ ও ১৮ মিনিটে দুটি গোল খেয়ে বসে বাংলাদেশ, গোল করেন ম্যাচসেরা খেলোয়াড় চেন ই। ২১ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় বাংলাদেশ কালও হ্যাটট্রিক করা মামুনুরের গোলে। ২৩ মিনিটে সাই মিংয়ের গোলে আবারও এগিয়ে যায় চীনা তাইপে। এর মিনিটখানেক বাদে গোলকিপার মনোয়ার হোসেনকে উঠিয়ে মাঠে নামানো হয় জাহিদ হোসেনকে। তার পরও তাইপেকে আটকাতে পারেনি বাংলাদেশ। তাইপের বাকি গোলগুলো করেছেন চেন ই, সাই মিং, ও হু চুয়ান।
পরাজয়ে হতাশ বাংলাদেশ অধিনায়ক মশিউর রহমান, ‘দিনটাই খারাপ গেল।’ প্রতিপক্ষকে কি হালকাভাবে নিয়েছিল বাংলাদেশ? কোচ পিটার গেরহার্ডের ধারণা, ‘প্রথম ১০-১৫ মিনিট আমরা দারুণ খেলেছি। এগিয়ে যাওয়ার পরই আমাদের ছেলেদের দেখে মনে হচ্ছিল, যেন ম্যাচ জিতে গেছে ওরা। তখনই হয়তো প্রতিপক্ষকে উপেক্ষার চোখে দেখার শুরু। সেটার মূল্যও দিল।’ বাংলাদেশ দলের খেলায় ছিল অজস্র ভুল পাস, রক্ষণভাগটা ছিল দুর্বল এবং সুযোগও নষ্ট করেছে অনেক। এই পরাজয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আশাটা ফিকে হয়ে গেল। তবে দ্বিতীয় হয়েও এশিয়ান গেমসে যাওয়ার আশা ছাড়ছেন না গেরহার্ড, ‘আশা করি, ভুলগুলো পরের ম্যাচে কাটিয়ে উঠতে পারব। অবশ্যই আমরা এশিয়ান গেমসের চূড়ান্ত পর্বে যাব।’
এর আগে দিনের প্রথম ম্যাচে ওমান ৫-৪ গোলে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কাকে, দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুর ৩-১ গোলে জিতেছে হংকংয়ের বিপক্ষে।

১৯৫০ ফিরিয়ে আনবে যুক্তরাষ্ট্র

দক্ষিণ আফ্রিকায় কি ইতিহাস ফিরিয়ে আনবে যুক্তরাষ্ট্র? ১৯৫০ বিশ্বকাপের সেই ‘মিরাকল অন গ্রাস’ কি ফিরে আসবে? বলা যায় না। এবারও গ্রুপ পর্বেই ইংল্যান্ডকে পেয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আরেকবার তাই ইংল্যান্ড-বধের স্বপ্ন দেখতেই পারেন ল্যান্ডন ডনোভানরা।
তবে এবার যুক্তরাষ্ট্র যদি ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দেয়, সেটা আর ‘মিরাকল’ হবে না। কারণ এই যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ কনফেডারেশনস কাপের রানার্সআপ দল। এই যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে স্বপ্ন দেখার জোর পাচ্ছেন মার্কিন মিডফিল্ডার ডনোভান, ‘আমরা সবাই সুস্থ থাকলে প্রথম পর্ব পার হয়ে যাওয়ার একটা ভালো সুযোগ থাকবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ইতিহাস আজকের নয়। সেই ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপেই বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল তারা বেলজিয়াম ও চিলিকে হারিয়ে। সেবার বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়েছিল দলটি। তবে বিশ্বকে আসল চমকটা দিয়েছিল তারা ১৯৫০ সালে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর দুনিয়ায় ইংল্যান্ড তখন মহা শক্তিধর ফুটবল দল। সেবার বিশ্বকাপের দিনকয়েক আগেই ইংল্যান্ড এক প্রদর্শনী ম্যাচে ‘রেস্ট অব ইউরোপ’ দলকে ৬-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছিল! আর যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ সাত ম্যাচে টানা হারের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছিল।
সেই যুক্তরাষ্ট্রই ১-০ গোলে হারিয়ে দিল ইংল্যান্ডকে। একসময়ের উপনিবেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন হার সহজে হজম করতে পারেনি ইংল্যান্ড।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র আর ছোট নেই। ১৯৯০ বিশ্বকাপে ফেরার ভেতর দিয়ে নতুন করে গড়ে উঠেছে সে দেশের ফুটবল। সর্বশেষ টানা পাঁচটি বিশ্বকাপেই অংশ নিয়েছে তারা। এর মধ্যে নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল কীর্তি গড়ে ফেলেছে তারা গত বছর জুনে; খেলে ফেলেছে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম কোনো ফিফা টুর্নামেন্টের ফাইনাল।
কনফেডারেশনস কাপে ইতালি, মিসর ও ব্রাজিলের গ্রুপে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ভাগ্যগুণে গ্রুপ পর্ব পার হয়ে তারা সেমিফাইনালে হারিয়েছিল তখনকার র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল স্পেনকে (২-০)। ফাইনালে প্রথমার্ধে ২ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের কাছে হেরেছিল তারা ৩-২ গোলে। ওই হার গায়ে লাগার কথা নয়। ততক্ষণে ইতিহাস গড়ে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র!
ওই স্মৃতিটাকেই আবারও দক্ষিণ আফ্রিকায় জল ছিটিয়ে চাঙা করে তুলতে চান মার্কিন ফুটবলের প্রতীক হয়ে যাওয়া ডনোভান, ‘আমাদের চ্যালেঞ্জ হলো, দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে সেই একই রকম চেষ্টাটা করে যাওয়া।’
একই রকম চেষ্টা করলে যে ফল আসবে, সেটাও বিশ্বাস করেন এই মিডফিল্ডার। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকালের সর্বোচ্চ স্কোরার ডনোভান মনে করেন, কনফেডারেশনস কাপ থেকে তারা যেকোনো দলকে হারাতে পারে, এই শিক্ষাটা পেয়েছেন, ‘ওই টুর্নামেন্ট থেকে আমাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, নিজেদের সেরা খেলাটা খেললে আমরা যেকোনো দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি, যেকোনো দলকে হারাতে পারি। বিশ্বে এ কথা বলার মতো দল খুব বেশি কিন্তু নেই।’
ডনোভানের কথা শুনলে ক্যাপেলো বাহিনীর একটু আতঙ্কেই থাকার কথা।

পাকিস্তানকে সেমিতে তুলল ইংল্যান্ড

সেমিফাইনাল আগেই নিশ্চিত করেছিল ইংল্যান্ড। তাই তাদের জন্য ম্যাচটি নিছক আনুষ্ঠানিকতার হলেও নিউজিল্যান্ডের জন্য ছিল বাঁচা-মরার লড়াই। যে লড়াইয়ে ৩ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ল ড্যানিয়েল ভেট্টোরির দল। আর তাদের পরাজয়ে কপাল খুলল পাকিস্তানের। নিউজিল্যান্ডের সমান ২ পয়েন্ট নিয়েও শ্রেয়তর রান রেটের ভিত্তিতে শেষ চারে উঠে গেছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান।
সেন্ট লুসিয়ায় কাল টস জেতা নিউজিল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেটে করে ১৪৯ রান। যা ৫ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটে টপকে যায় ইংল্যান্ড।
বেন্ডন ম্যাককালাম (৩৩) ও জেসি রাইডার (৯) উদ্বোধনী জুটিতে ৩০ রান এনে দিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডকে। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে অ্যারন রেমন্ডকে (১৬) নিয়ে ম্যাককালাম করেন ২৯ রান। ১ উইকেটে ৫৯ থেকে নিউজিল্যান্ড একপর্যায়ে হয়ে যায় ৩ উইকেটে ৬৫। এ অবস্থায় নিউজিল্যান্ডকে পথ দেখান রস টেলর। স্কট স্টাইরিসকে (৩১) নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ৬২ রানের জুটি গড়া টেলর ৩৩ বলে ২টি ছয়ে করেন সর্বোচ্চ ৪৪ রান।
ইংল্যান্ড ৬৬ রানে হারিয়ে ফেলে ৪ উইকেটে। পঞ্চম উইকেটে লুক রাইট ও এউইন মরগানের ৫২ রানের জুটি এই ব্যাটিং বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে দলকে। মরগান সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন। ৪টি চার ও ১টি ছয়ে ৩৪ বলে সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন মরগান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: নিউজিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৪৯/৬ (ম্যাককালাম ৩৩, রাইডার ৯, রেমন্ড ১৬, টেলর ৪৪, স্টাইরিস ৩১, হপকিন্স ১, নাথান ম্যাককালাম ৩*, ভেট্টোরি ৪*; ব্রেসনান ১/২০, সাইডবটম ১/৩৫, ব্রড ২/৩৩, সোয়ান ২/৩১, হার্ডি ০/২৫)।
ইংল্যান্ড: ১৯.১ ওভারে ১৫৩/৭ (কিসওয়েটার ১৫, লাম্ব ৩২, বোপারা ৯, কলিংউড ৩, মরগান ৪০, রাইট ২৪, ব্রেসনান ২৩*, ইয়ার্ডি ০, সোয়ান ১*; নাথান ম্যাককালাম ১/৩৭, বন্ড ২/২৯, মিলস ১/৩২, ভেট্টোরি ১/২৪, স্টাইরিস ২/১৬, বাটলার ০/১০)।
ফল: ইংল্যান্ড ৩ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: টিম ব্রেসনান।

ভারতীয় দলেও অন্তঃকলহ

শহীদ আফ্রিদি দায় দিয়েছিলেন নির্বাচকদের ওপর। আবার কেউ কেউ বলছেন, এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ব্যর্থতার কারণ, দলের অন্তঃকলহ। সে পাকিস্তানের খারাপ পারফরম্যান্সের কারণ যা-ই হোক, ভারতের খারাপ করার কারণটা কী? এখানেও নাকি অন্তঃকলহ।
না, মহেন্দ্র সিং ধোনিরা কিছু বলেননি। তবে পাকিস্তানেরই সাবেক ক্রিকেটাররা সোজাসুজি রায় দিয়ে দিয়েছেন, ভারতীয় দলেও অন্তঃকলহ চলছে। পাকিস্তানের ‘জিয়ো সুপার’ নামের চ্যানেলে পাকিস্তানের অধিনায়ক মঈন খান ও শোয়েব আখতার দাবি করেছেন, ভারতের খেলা দেখে দলের অন্তঃকলহটা বোঝা গেছে।
মঈন উদাহরণ দিয়েছেন এক যুবরাজ সিংকে দিয়েই, ‘যুবরাজ একজন উঁচুমানের, ভয়-ডরহীন ক্রিকেটার এবং টি-টোয়েন্টিতে ভারতের অতীত সাফল্যের চাবিকাঠি। কিন্তু এবার ওকে দেখে মনে হচ্ছে, খেলায় আগ্রহই নেই। সাধারণত ওর শরীরী ভাষা এমন থাকে না। হতে পারে ও শতভাগ ফিট না। অথবা দলের ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কোনো ঝামেলা আছে।’
এখন ঠিক সাবেক না হলেও ফুরিয়ে যেতে বসা পেসার শোয়েব এত কূটনীতির ধার ধারেননি। তাঁর নাকি পরিষ্কার মনে হচ্ছে, ভারতীয় দলে দ্বন্দ্ব আছে, ‘আমি জানি না যে আইপিএল এখানে কোনো ভূমিকা রেখেছে কি না। সম্ভবত আইপিএলে সম্প্রতি যেসব স্ক্যান্ডাল হয়েছে সেগুলোর প্রভাব পড়েছে। সম্ভবত খেলোয়াড়দের মধ্যে ঝামেলা আছে। এটা নিশ্চিত, কিছু সমস্যা আছেই।’
সে ভারতে সমস্যা থাকুক। মঈন-শোয়েব বরং পাকিস্তান নিয়ে আরও দুশ্চিন্তা করতে পারেন। কারণ পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি ব্যর্থতায় এবার আর শুধু খেলোয়াড়-কোচদের ওপর দিয়ে ঝড়টা যাবে বলে মনে হচ্ছে না। ভারতীয় একটি পত্রিকা গোপন সূত্রের বরাত দিয়ে লিখেছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যানও এবার তোপের মুখে পড়তে যাচ্ছেন।
বলা হচ্ছে, পিসিবি চেয়ারম্যান ইজাজ বাটের অনেক স্বজনপ্রীতি পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতির কানে গেছে। সুতরাং তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে ফিরলেই একটা ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। শোনা যাচ্ছে, বিশিষ্ট ক্রিকেট ইতিহাসবিদ নোমান নিয়াজকে বোর্ডে কোনো একটা (পড়ুন, চেয়ারম্যান) দায়িত্ব দেওয়া হবে।

কী করলে কী হবে

শ্রীলঙ্কা (পয়েন্ট ২, নেট রানরেট -০.৬০০)
আজ শ্রীলঙ্কা যদি ভারতকে হারায়, আর অস্ট্রেলিয়া হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে, দুই দলই উঠবে সেমিফাইনালে। ভারতের কাছে হেরেও সেমিতে যেতে পারে শ্রীলঙ্কা। সে ক্ষেত্রে হারতে হবে ২০ রানের কমে, আর অস্ট্রেলিয়াকে জিততে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ অস্ট্রেলিয়াকে হারালেই কেবল ভারতের বিপক্ষে জিতেও শ্রীলঙ্কার সেমিফাইনাল নিশ্চিত হবে না। শ্রীলঙ্কা যত রান করেছে, দিয়েছে তার চেয়ে ২৪ রান বেশি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান ৪৩ রানের। যদি এই দুই দল শেষ ম্যাচে জিতে যায়, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই ব্যবধান ঘুচিয়ে দেয়, তাহলে শেষ চারে যাবে তারাই। অর্থাৎ শ্রীলঙ্কা যদি ভারতকে ১ রানে হারায়, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ অস্ট্রেলিয়াকে হারায় ২১ রানে, তাহলে সেমিতে যাবে স্বাগতিকেরাই।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ (পয়েন্ট ২, নেট রানরেট -১.০৭৫)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ যদি অস্ট্রেলিয়াকে হারায়, আর শ্রীলঙ্কা ভারতের কাছে হারে তাহলে পয়েন্টের হিসেবেই তারা সেমিতে চলে যাবে। শ্রীলঙ্কা জিতলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিততে হবে ১৯-এর ব্যবধান ঘুচিয়ে। অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারলেই বিদায়!
ভারত (পয়েন্ট ০, নেট রানরেট -১.৫৭৫)
শ্রীলঙ্কাকে হারাতে হবে কমপক্ষে ২০ রানে আর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারতে হবে অস্ট্রেলিয়ার কাছে। এখন পর্যন্ত ভারত যত রান করেছে, দিয়েছে তার চেয়ে ৬৩ বেশি, শ্রীলঙ্কা বেশি দিয়েছে ২৪। ভারত ২০ রানে জিতলে ব্যবধান কমে হবে ৪৩ আর শ্রীলঙ্কারটা বেড়ে হবে ৪৪, সে ক্ষেত্রে ভারত চলে যাবে সেমিতে। এই হিসাব ভারত প্রথমে ব্যাটিং করলে। পরে ব্যাটিং করলে হিসাবটা নির্ভর করবে কত রান তাড়া করতে হবে এর ওপর। শ্রীলঙ্কা যদি ১৬০ রান করে, তাহলে ভারতকে জিততে হবে ১৭.৪ ওভারে।
অস্ট্রেলিয়া (পয়েন্ট ৪, নেট রানরেট +৩.২৫০)
দুটি ম্যাচই বড় ব্যবধানে জেতা অস্ট্রেলিয়ার নেট রানরেটটাও দারুণ। যত রান করেছে, দিয়েছে তার চেয়ে ১৩০ কম। তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৮৭ রানে হারলে আর শ্রীলঙ্কার কাছে ভারত ৬৮ রানে হারলেই কেবল সেমিতে ওঠা হবে না তাদের।