Saturday, October 24, 2015

বোমা হামলা নিয়ে তাঁরা যা বললেন

হোসনি দালানে বোমা বিস্ফোরণের পর সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকারি দল ও বিএনপির নেতারা এ নিয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন। বক্তব্যে ঘটনার জন্য কারা দায়ী, এতে কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে, সে সম্পর্কে তাঁরা কথা বলেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘এটা একটা লোকাল মেইড বোমা ছিল। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে আমাদের একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য, আমাদের মধ্যে একটা আতঙ্ক তৈরি করার জন্য। আমি মনে করি তারই একটা বহিঃপ্রকাশ এটা হয়েছে। এই ধরনের টেরোরিস্ট, এই ধরনের জঙ্গিকে কখনোই মাথা উঁচু করে দিতে দেইনি। এখনো আমরা দেব না। যারা এই হুজি, যারা এই জেএমবি, যারা এই আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, যারা এই আল-কায়েদা, সবই এক। সবই এক জায়গারই প্রোডাক্ট।’
র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেছেন, ‘আমরা ওই স্পট থেকে দুটি হ্যান্ড গ্রেনেড উদ্ধার করি। এটা ইম্প্রোভাইজড আইডি, ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বেসিক্যালি। এটা হাতে তৈরি বোমা, এখানে একটা প্রেসার রিলিজ ছিল এবং একটা সার্কিট ছিল, টাইমার সার্কিট। আপনারা জানেন যে, যেকোনো বোমা তৈরির ক্ষেত্রেই এই টাইমার সার্কিটটা একটা নির্দিষ্ট সময় পরে বাস্ট হয়। হয়তো তিন বা চার সেকেন্ডের একটা গ্যাপ হয়তো বা ছিল। চট্টগ্রামের জঙ্গিদের কাছ থেকে যে রকমের বোমা উদ্ধার করেছি, এবং আমরা এই ধরনের বোমা এই জঙ্গিদের কাছ থেকেও উদ্ধার করেছি।’
পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেছেন, ‘দুই দিন আগে আমাদের এক এএসআইকে গাবতলীতে হত্যা করা হইছে। এবং সে হত্যাকারীর সহযোগীকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। এবং সেই হত্যাকারীর তথ্য অনুযায়ী আমরা কামরাঙ্গীরচর থেকে গ্রেপ্তার করলাম, বোমা উদ্ধার করলাম, ককটেল উদ্ধার করলাম। সেই ককটেলগুলোর সাথে গতকাল যে ককটেল তা হুবুহু মিল আছে। যেই গ্রুপটা এএসআইকে হত্যা করেছে, হয়তো আরেকটা গ্রুপ এখানে অবস্থান নিয়েছে। কাজেই ওই সার্বিক নাশকতা কর্মকাণ্ড চালানোর পরিকল্পনার অংশ এরা। এটা লোকাল মেইড এক্সপ্লোসিভ। আমাদের যারা বিশেষজ্ঞ তাঁরা এটা পরীক্ষা করছে। গ্রেনেডে একটা পিন থাকে, পিনটা খুলে যদি এটাকে থ্রো করলে এটা ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে এটা এক্সপ্লোড করে। কাজেই এ জন্য অনেকে হয়তো গ্রেনেড বলতে পারে। এটা হোমমেড একটা বিস্ফোরক। জেএমবির সংশ্লিষ্টতা আমরা এখন পর্যন্ত বলতে পারব না। তদন্ত চলতেছে।’
র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেছেন, ‘এখানে লোকের উপস্থিতি এত বেশি ছিল যে প্রতিটি লোককে চেক করে ঢোকানোর মতো এ রকম পরিবেশ বা পরিস্থিতি ছিল না। যার ফলে এ ঘটনাটি ঘটেছে। হ্যান্ড মেইড যে গ্রেনেডগুলো দেখা গেছে সাইজে ছোট ছিল। এবং এগুলো আনা নিরাপদ এ কারণ, তার সাথে একটা ক্লিপ ছিল। ক্লিপটা না খোলা পর্যন্ত ওইটার বিস্ফোরণ হবে না। তো হয়তো তারা পকেটে করে ওগুলো নিয়ে আসছে। ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করা যায়নি। সংগ্রহ করে আমরা ওইটা দিয়ে শনাক্তকরণের চেষ্টা করছি। দুই তিন দিন যাবৎ ওই লোকটা এখানে ছবি তুলতেছিল। এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে সে নাকি এখানকার অথরিটিকে বলছিল যে, ছবি তুলতে আমার ভালো লাগে। কিন্তু তারা এই জিনিসটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা আমাদেরকে জানায়নি।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এবং একই সঙ্গে এ ঘটনার জন্য যারা দায়ী সে ব্যাপারে নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু তদন্ত করে আমি আবার রিপিট করতে চাই নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু তদন্ত করে অবিলম্বে দুষ্কৃতকারীদের যারা এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন তাদেরকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার আমরা দাবি জানাচ্ছি।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, ‘যারা সরকারকে অস্থিতিশীল করতে চায়, যারা সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ঈর্ষাবোধ করে, যারা সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে চায় তারা এ ধরনের হত্যাকাণ্ডে মদদ দিতে পারে। তাদের যোগসূত্র থাকতে পারে। সেটা তদন্তের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসতে পারে। এবং সেই শক্তি কারা এটা দেশবাসী জানে, আপনারাও জানেন সেটা জামায়াত-বিএনপি।

যে ভাবে ৩টি বোমা বাইরে থেকে নিক্ষেপ করা হয়

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে শিয়া সম্প্রদায়ের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় রাজধানীর পুরান ঢাকার হোসনি দালানে বিস্ফোরিত তিনটি বোমার মধ্যে একটি দালানের সীমানা প্রাচীরের বাইরে থেকে নিক্ষেপ করা হয়। বাকি দু’টি বোমা দুর্বৃত্তরা বহন করে দালানের মূল ফটক দিয়ে একটু ভেতরে ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটায়।
শুক্রবার দিবাগত রাতে হোসনি দালানের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় পরপর তিনটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দেশীয় তৈরি এসব হাতবোমার বিস্ফোরণে ১ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে।
এদিন হোসনি দালানের দু’টি স্থানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। দালানের মূল ফটকের ডানেই প্রথম বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটে। এর ঠিক পেছনেই কাঁচের ঘরে সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটর পর্যবেক্ষণের একটি কক্ষ রয়েছে। ঘটনাস্থলের ডান দিকে ১০ গজ দূরে দালানের সীমানার বাইরে একটি ফাঁকা জায়গা রয়েছে। সেখান থেকেই প্রথম বোমাটি ছুড়ে মারা হয়।
তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বোমাটি দুর্বৃত্তরা বহন করে নিয়ে এসে ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটায়। এই স্থানটির পাশে ৪০ ফুটের একটি বাগান ও এর পরে বসতবাড়ি রয়েছে। তাই এতো দূর থেকে বোমা নিক্ষেপ করার সম্ভাবনা কম বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
হোসনি দালানের পুরো এলাকায় প্রায় ১৫টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। জাগো নিউজের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যে দুটি স্থানে বোমাগুলোর বিস্ফোরণ ঘটে সেসব স্থান সিসিটিভির আওতাভুক্ত ছিল। অর্থাৎ সে সময় কারা বোমাটি বহন করেছে তা স্পষ্ট খুঁজে পাওয়ার কথা। তবে অনুসন্ধানের কাজে পুলিশের কাছ থেকে সিসিটিভির ফুটেজ চাওয়া হলে তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
এ ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত জানতে চাইলে প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক বলেন, এটি জঙ্গি হামলা নয়, এটি পরিকল্পিত নাশকতা। দেশের স্বাধীনতা বিরোধীরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া জানান, পুরো এলাকায় ক্লোজ সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরা বসানো ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব সেক্টর তদন্ত কাজ করে যাচ্ছে। আশা করি হামলাকারীরা শনাক্ত হবে।
এদিকে, এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে আবদুল কাদের জিলানী নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তার সঙ্গে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানায়, বোমা বিস্ফোরণের আগে জিলানীর সঙ্গে হোসনি দালান কর্তৃপক্ষের বাকবিতণ্ডা হয়। এর পর থেকেই জিলানী ওই এলাকায় সন্দেহজনকভাবে চলাফেরা করছিল। তাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করা হয়েছে। জাগোনিউজ

ইন্টারনেটের কানাগলি by মুহম্মদ জাফর ইকবাল

প্রায় বিশ বছর আগে আমি যখন প্রথমবার দেশে ফিরে এসেছিলাম, তখন যে বিষয়গুলো নিয়ে ধাক্কা খেয়েছিলাম তার একটি ছিল, টেলিফোন। আমেরিকায় সবার বাসায় টেলিফোন এবং সেই টেলিফোন নিখুঁতভাবে কাজ করে। আমাদের দেশে টেলিফোন বলতে গেলে কোথাও নেই। আর যদিও-বা থাকে, সেগুলো কখনও ঠিকভাবে কাজ করে না। তারপরও যার বাসায় টেলিফোন আছে, তাদের অহংকারে মাটিতে পা পড়ে না। তবে তার একটা যন্ত্রণাও আছে, আশেপাশের সব বাসা থেকে লোকজন টেলিফোন করতে চলে আসে। যারা একটু ছোটলোক ধরনের মানুষ, তারা টেলিফোনের ডায়ালের অংশটুকুতে তালা মেরে রাখত– ফোন রিসিভ করা যেত কিন্তু ফোন করা যেত না।
শুধু যে টেলিফোন ছিল না তা নয়, মনে হয় টেলিফোনের তারও ছিল না। কারণ একই টেলিফোনের তার দিয়ে একাধিক মানুষ কথা বলত এবং তার নাম ছিল ‘ক্রস কানেকশান’। প্রায়ই টেলিফোন করতে গিয়ে আবিস্কার করতাম, ইতোমধ্যে সেই টেলিফোনে অন্য কেউ কথা বলছে। তখন অনুরোধ করা হত, ‘ভাই, আপনারা টেলিফোনটা একটু রাখেন, আমরা একটু কথা বলি’। অবধারিতভাবে অন্য দুইজন বলত, ‘আপনারা রাখেন, আমরা কথা বলি’। ঝগড়া-ঝাঁটি, মান-অভিমান সবই হত।
শুধু যে বাসায় টেলিফোন ছিল না তা নয়, পাবলিক টেলিফোনও বলতে গেলে ছিল না। আমার মনে আছে, আমাদের ক্যাম্পাসে শুধু একটা একাডেমিক বিল্ডিংয়ের সামনে একটা কার্ড ফোনের বুথ ছিল। টাকা দিয়ে কার্ড কিনে সেই কার্ড ঢুকিয়ে ফোন করতে হত। প্রায় সময়েই ফোনের কানেকশন হত না, কিন্তু টেলিফোন বুথ নির্দয়ভাবে কার্ড থেকে টাকা কেটে নিত। দুই পক্ষই দুই পাশ থেকে ‘হ্যালো হ্যালো’ বলে চিৎকার করছি, কেউ কারও কথা শুনছি না। কিন্তু এই ফাঁকে ঠিকই কার্ড থেকে পুরো টাকা উধাও হয়ে গেছে!
এখন সেই সময়কার কথা মনে হলে নিজেরাই আপন মনে হাসি। আমার মনে হয়, এখন প্রায় বাসাতেই যতজন মানুষ তার থেকে বেশি টেলিফোন। এক সময় টেলিফোন দিয়ে আমরা শুধু কথা বলতাম। এখন যতই দিন যাচ্ছে টেলিফোনে কথা বলা কমে অন্য কাজকর্ম বেড়ে যাচ্ছে। আমরা টেলিফোনে এসএমএস পাঠাই ইংরেজিতে বাংলা লিখে। সবার এমন অভ্যাস হয়ে গেছে যে, আমি রীতিমতো আতঙ্কে থাকি যে কোনো এক বই মেলায় আমি দেখব কেউ একজন ইংরেজিতে বাংলা লিখে একটা বই বের করে ফেলেছে। জনতাকে অবশ্য সে জন্যে দোষ দেওয়া যায় না। আজকাল দেখছি সরকারও ইংরেজিতে বাংলা লিখে নানা ধরনের বিজ্ঞপ্তি পাঠাচ্ছে!
আমার মনে হয়, টেলিফোনে এসএমএস পাঠানোর পর পরই যে কাজটা করা হয় সেটি হচ্ছে, ছবি তোলা। কয়েকজন মানুষ একত্র হয়ে গল্প-গুজব করছে, চা-নাস্তা খাচ্ছে, এই পরিচিত সামাজিক দৃশ্যের মাঝে অবধারিতভাবে এখন নূতন একটি দৃশ্য যোগ হয়েছে; সেটি হচ্ছে, একজন তার মোবাইল বের করে ছবি তুলছে। এক সময় মানুষ যত্ন করে ছবি তুলত; এখন ‘সেলফি’ নামক ছবি তোলার এই বিচিত্র পদ্ধতি আবিস্কৃত হওয়ার পর যত্ন করে ছবি তোলার বিষয়টাই উঠে গেছে।
[‘সেলফি’ ছবি তোলার যে একটা সামাজিক মান-মর্যাদার বিষয় আছে, আমি সেটা জানতাম না। একজন কমবয়সী ছেলে আমার সঙ্গে সেলফি তুলতে চাইতেই কাছে দাঁড়ানো একজন বড় মানুষ এই ‘বেয়াদবি’ করার জন্যে তাকে রীতিমতো ধমক দিয়ে বসেছিলেন।]
কথা বলা এবং ছবি তোলা ছাড়াও এই টেলিফোনে আরও অসংখ্য কাজ করা যায়; আমার মনে হয় না আমি তার তালিকা লিখে শেষ করতে পারব। শুধু তাই নয়, আমি যে কয়টি লিখতে পারব, আমার ধারণা পাঠকরা তার থেকে অনেক বেশি লিখতে পারবেন।
টেলিফোনে যে কয়টি কাজ করা যায় তাতেই সন্তষ্ট থাকারও প্রয়োজন নেই। আমি আমার ছাত্রদের দিয়ে আমার জন্যে পরীক্ষা নেওয়ার একটা ‘অ্যাপ’ তৈরি করিয়ে নিয়েছি। এমসিকিউ ধরনের পরীক্ষা নেওয়ার পর ছাত্রছাত্রীরা উত্তরটা আমাকে এসএমএস করে পাঠায়। আমার টেলিফোন উত্তরটা যাচাই বাছাই করে ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষায় কত পেয়েছে সঙ্গে সঙ্গে সেটাও তাদেরকে জানিয়ে দেয়। এখন আমার পরীক্ষা নিতে ক্লান্তি নেই। আমার ধারণা, যে কোনোদিন আমার ছাত্রছাত্রীরা আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে বসবে!
তবে টেলিফোনে আজকাল যে কাজটা সবচেয়ে বেশি হচ্ছে সেটি সম্ভবত ইন্টারনেটে বিচরণ। আজকের লেখাটি এই বিষয় নিয়ে এবং এতক্ষণ আসলে এই কথা বলার জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছি।
২.
মূল বক্তব্যে যাবার আগে সবাইকে একটি বিষয় মনে করিয়ে দেওয়া যাক; সেটি হচ্ছে, জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির মাঝে পার্থক্য। পরমাণুর কেন্দ্রে যে নিউক্লিয়াস থাকে তার মাঝে বিশাল একটা শক্তি জমা থাকতে পারে, এই তথ্য হচ্ছে জ্ঞান কিংবা বিজ্ঞান। এই শক্তি ব্যবহার করে চোখের নিমিষে লক্ষ লক্ষ মানুষ মেরে ফেলার জন্যে যে নিউক্লিয়ার বোমা তৈরি হয়, সেটা হচ্ছে প্রযুক্তি। কাজেই জ্ঞান-বিজ্ঞান খুবই চমৎকার বিষয়। এর মাঝে কোনো সমস্যা নেই।
আমরা কিন্তু কখনও প্রযুক্তির ব্যাপারে এ রকম ঢালাওভাবে সার্টিফিকেট দিতে পারব না। ভালো প্রযুক্তি যে রকম আছে, ঠিক সে রকম অপ্রয়োজনীয়ম এমনকি খারাপ প্রযুক্তিও আছে। কাজেই নূতন একটা প্রযুক্তি দেখলেই সেটা নিয়ে গদগদ হয়ে যাওয়ার অভ্যাস আমাদের ছাড়তে হবে। যে কোনো নূতন একটা প্রযুক্তি দেখলেই রীতিমতো ভুরু কুঁচকে সেটাকে যাচাই-বাছাই করে নেওয়া মোটেও প্রাচীনপন্থীর কাজ নয়, রীতিমতো বুদ্ধিমানের কাজ।
এর সবচেয়ে সহজ উদাহরণ হচ্ছে কম্পিউটার। আমাদের সবচেয়ে সস্তা মোবাইল টেলিফোনেও একটা কম্পিউটার আছে। আবার যে মহাকাশযানটি সেই প্লুটোর কাছে হাজির হয়ে তার ছবি তুলে পাঠাচ্ছে, তার ভেতরেও একটা কম্পিউটার আছে। এই অসাধারণ একটি প্রযুক্তি আসলে আমাদের পুরো সভ্যতাটাই নূতন করে সাজিয়ে দিয়েছে। কোনো মানুষ যদি ঠিক করে যে, সে কম্পিউটার ব্যবহার না করেই তার জীবনটা কাটিয়ে দেবে, আমার ধারণা তার জীবন আক্ষরিক অর্থে আটকে যাবে।
অথচ আমি একজন মাকে জানি যিনি কম্পিউটার দেখলে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। কারণ তার সন্তান কোনো বিশ্রাম না নিয়ে টানা কয়েক দিন, একসঙ্গে কম্পিউটার ব্যবহার করে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে মারা গেছে। এটি অত্যন্ত ব্যতিক্রমী এবং নিষ্ঠুর একটি উদাহরণ। আমরা জানি সারা পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ নিরাপদে কম্পিউটার ব্যবহার করে সব রকম কাজকর্ম করে যাচ্ছে এবং সে জন্যেই এই উদাহরণটি আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। কারণ এটি আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় যে, খুবই নিরীহ এবং নিরাপদ একটা প্রযুক্তি নিয়ে বাড়াবাড়ি করেও ভয়ংকর একটা ঘটনা ঘটিয়ে ফেলা যায়। এ রকম উদাহরণ অনেক আছে।
আমাদের দেশ যেহেতু প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকা একটি দেশ, তাই আমরা যে কোনো নূতন প্রযুক্তি দেখলেই একেবারে গদগদ হয়ে যাই। সে কারণে দেশে যখন নূতন কম্পিউটার এসেছে, আমরা সেটা আমাদের নূতন প্রজন্মের হাতে তুলে দেবার জন্যে খুবই ব্যস্ত ছিলাম।
কম্পিউটারের নামটা দেখেই বোঝা যায় এর জন্ম হয়েছিল ‘কম্পিউট’ বা হিসেব করার জন্যে। কিন্তু এই যন্ত্রটি এতই বিচিত্র যে, এটি দিয়ে কী কাজ করা যাবে সেটি সীমিত হতে পারে শুধুমাত্র মানুষের সৃজনশীলতা দিয়ে। সৃজনশীলতা যে সব সময় সঠিক রাস্তায় যায়, তার কোনো গ্যারান্টি নেই। কাজেই আমরা আবিস্কার করেছি, এই দেশে নূতন প্রজন্মের কাছে কম্পিউটারের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হয়ে গেছে ‘কম্পিউটার গেম’। প্রযুক্তির প্রতি আমাদের এতই অন্ধবিশ্বাস যে, বাবা-মা যখন দেখেছেন, তাদের ছেলেমেয়েরা সব কাজকর্ম ফেলে দিন-রাত কম্পিউটারের মনিটরে মুখ গুঁজে পড়ে আছে, তখন তারা দুশ্চিন্তিত না হয়ে আহলাদিত হয়ে উঠতে শুরু করেছেন। আমি অন্তত একটি শিশুর বাবা-মায়ের কথা জানি, যারা তাদের শিশুটিকে কম্পিউটারের উপর নির্ভরশীল হয়ে পুরোপুরি একটি অসামাজিক জীব হয়ে বড় হওয়ার বিষয়টি নিয়ে অহংকার করেন।
কম্পিউটার এসে আমাদের অনেক শিশুর জীবনকে মোটামুটি জটিল করে তুলেছিল। ইন্টারনেট আসার পর তার সঙ্গে একটা নূতন মাত্রা যোগ হল।
ইন্টারনেট সম্ভবত আমাদের এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি। আমার মাঝে মাঝেই মনে হয়, আমি কত বড় সৌভাগ্যবান যে, নিজের চোখে এই প্রযুক্তিটি জন্ম নিতে এবং বিকশিত হতে দেখেছি। আমরা সবাই জানি, এক সময় এই দেশের কিছু কর্তা ব্যক্তি আমাদের দেশে যেন ইন্টারনেট আসতে না পারে তার জন্যে চেষ্টা করেছিলেন। দেশের তথ্য পাচার হয়ে যাবার ভয়ে তারা সাবমেরিন ফাইবারের যোগাযোগ নিতে রাজি হননি!
এই চরিত্রগুলোর নাম এবং পরিচয় জানার আমার খুব কৌতূহল হয়। আমাদের দেশের সংবাদ মাধ্যম তো কত কিছু নিয়েই কত রকম ফিচার করে থাকে। দেশকে পিছিয়ে নেওয়ার কাজে সবচেয়ে অগ্রগামী এই মানুষদের নাম-পরিচয় জানিয়ে একবার একটা ফিচার কেন করে না কেউ?
একটা দেশ প্রযুক্তিতে কতটুকু এগিয়ে আছে তার পরিমাপ করার জন্যে নানা রকম জরিপ নেওয়া হয়। এর একটা পরিমাপ হচ্ছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা এবং খুবই স্বাভাবিক কারণে আমাদের এই সংখ্যাটি অন্যান্য দেশের তুলনায় ছিল খুবই কম। ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্যে একটা কম্পিউটার বা ল্যাপটপের দরকার হত। এই দেশের আর কতজন মানুষের কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপ কেনার ক্ষমতা আছে? শুধু তাই নয়, কম্পিউটার বা ল্যাপটপের সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগের ব্যাপার আছে। সব কিছু শেষ হবার পর আমাদের সেই মিলিয়ন ডলার প্রশ্নটি করতে হয়, ইন্টারনেট ব্যবহার করে কী করা হবে?
মোটামুটি একই সময়ে হঠাৎ করে সবগুলো সমস্যার সমাধান হয়ে গেল! ইন্টারনেট করার জন্যে কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপের দরকার নেই, খুবই স্বল্পমূল্যের স্মার্ট ফোন দিয়েই সেটা করা সম্ভব। ইন্টারনেট সংযোগেরও দরকার নেই; অনেক জায়গাতেই ওয়াইফাই আছে। যদি না থাকে মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে ‘মেগাবাইট’ কেনা যায়। আর ইন্টারনেট দিয়ে কী করা হবে সেই প্রশ্নটি করা হলে সবাই আমাকে ‘বেকুব’ বলে ধরে নেবে। এটি কি এখন কোনো প্রশ্ন হতে পারে? অবশ্যই ইন্টারনেট দিয়ে ফেসবুক করা হবে। জরিপ নিয়ে দেখা গেছে, বাংলাদেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর শতকরা আশি ভাগ ফেসবুক করে থাকে। ইন্টারনেট এবং ফেসবুক এখন এই দেশে প্রায় সমার্থক শব্দ।
তাই হঠাৎ করে বাংলাদেশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে সাড়ে চার কোটি হয়ে গেছে জানার পরও আমি কেন জানি উল্লাসিত হতে পারছি না। বরং নার্ভাস অনুভব করতে শুরু করেছি। তার কারণ, এর বড় একটা সংখ্যা আসলে কমবয়সী কিশোর-কিশোরী, এমনকি শিশু।
আমি আগেই পাঠকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি যে, আমি ফেসবুক বা অন্য কোনো সামাজিক নেটওয়ার্কের বিশেষজ্ঞ নই। আমি কখনও কোনো ফেসবুক একাউন্ট খুলিনি। কিন্তু নানা ধরনের মানুষেরা আমার নামে ভুয়া ফেসবুক একাউন্ট তৈরি করে এতই ঝামেলা করতে শুরু করেছিল যে, আমার ছাত্র এবং তরুণ সহকর্মীরা আমার জন্যে একটা ‘অফিসিয়াল’ ফেসবুক একাউন্ট তৈরি করে রেখেছে। এর ভেতরে কী ঘটে না ঘটে আমি দেখি না। তাই ফেসবুক বা অন্য কোনো সামাজিক নেটওয়ার্কের ভেতর কী ঘটে আমি সেটা জানি না।
কিন্তু অবশ্যই আমি সেটা অনুমান করতে পারি। আমি একবার একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ সভায় মঞ্চে বসে আছি। আমার পাশে ততোধিক গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ বসেছেন। হঠাৎ করে তিনি আমাকে বললেন: ‘‘একটা সেলফি তুলি?’’
আমি মাথা নাড়লাম এবং সেই চলমান সভার মাঝখানে তিনি আমার সঙ্গে একটা সেলফি তুলে ফেললেন। আজকাল সেলফি তোলার পর সেটা শেষ হয়ে যায় না। সেটাকে ফেসবুকে দিতে হয় এবং সেই সভায় মাঝখানেই তিনি সেটা ফেসবুকে দিয়ে দিলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি আবার আমার দিকে ঝুঁকে পড়ে ফিস ফিস করে বললেন: “এর মাঝে উনত্রিশটা লাইক পড়ে গেছে।”
বলা বাহুল্য, আমি চমৎকৃত হলাম লাইকের সংখ্যা দিয়ে নয়, একজন বয়স্ক এবং গুরুত্বপূর্ণ মানুষের এই ছেলেমানুষী আনন্দটি দেখে। যদি একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বয়স্ক মানুষ লাইকের সংখ্যা দেখে এ রকম বিমলানন্দ পেতে পারেন, তাহলে আমাদের ছোট ছোট কিশোর-কিশোরী বা শিশুরা কী দোষ করেছে? তারা কেন ফেসবুকে লাইকের জন্যে লালায়িত হবে না? কাজেই খুবই সঙ্গত কারণে আমাদের দেশের কিশোর-কিশোরী এবং শিশুরা এই ‘লাইক’ কালচারে ঢুকে গেছে। অন্য সব কারণ ছেড়ে দিয়ে শুধুমাত্র অবিশ্বাস্য পরিমাণ সময় নষ্টের কারণে অসংখ্য অভিভাবক আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করতে শুরু করেছেন।
আমাদের দেশে সাড়ে চার কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। তার মাঝে কতজন অপরিণত বয়সের ছেলেমেয়ে, আমরা কি সেটা জানি? এই কমবয়সী ছেলেমেয়েদের জন্যে ইন্টারনেটের জগৎটি কি একটা আলো-ঝলমলে আনন্দের জগৎ নাকি প্রতি পদক্ষেপে লুকিয়ে থাকা গ্লানিময় অন্ধকার নিষিদ্ধ জগৎ? একজন শিক্ষক তার ক্লাসের ছেলেমেয়েদের ইন্টারনেটের অপকারিতা বোঝানোর জন্যে গুগলে একটা বাংলা শব্দ লিখে সার্চ দিয়েছিলেন। এই শব্দটির মতো পুত-পবিত্র, নির্দোষ এবং নিরীহ শব্দ বাংলা ভাষায় দ্বিতীয়টি নেই। কিন্তু সেই শব্দের সূত্র ধরে ক্লাসের বাচ্চা ছেলেমেয়েদের সামনে মাল্টিমিডিয়াতে বাংলা পর্নোগ্রাফির কুৎসিত জগৎ বন্যার পানির মতো নেমে এসেছিল।
আমি নিজে ইন্টারনেটে পত্রিকা পড়তে পড়তে আশেপাশে ক্লিক করে কিছু বোঝার আগেই হিংস্র মানুষের ঘৃণা-ছড়ানো ভয়ংকর সাইটে ঢুকে পড়েছি। বাকস্বাধীনতার নামে এ ধরনের অমানবিক হিংস্র ওয়েবসাইট যে থাকতে পারে আমি সেটা জানতাম না। যদি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা নিজেদের অজান্তেই এ রকম ভয়ংকর ওয়েবসাইটে ঢুকে যেতে পারেন, তাহলে কেউ যখন সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করে, তখন সে কোথায় গিয়ে হাজির হবে সেটি কি চিন্তা করা অসম্ভব?
বিষয়টি যথেষ্ট গুরুতর। খুব কম বয়সে একটা বাচ্চা যদি শিখে যায় যে, নিজের ছবি কিংবা নিজের কর্মকাণ্ডের বর্ণনাতে অসংখ্য পরিচিত-অপরিচিত মানুষের লাইক পাওয়া হচ্ছে জীবনের একমাত্র আনন্দের বিষয়, সে তাহলে পুরোপুরি একটা ভুল মানুষ হয়ে বড় হবে। আমরা শিশুদের শৈশব অনেক আগেই কেড়ে নিয়েছি। এখন তাদের হাতে তুলে দিচ্ছি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষদের একটা জগৎ, এর চাইতে বড় দায়িত্বহীন কাজ কী হতে পারে?
আমি কোনো সমাধান দেওয়ার জন্যে এই লেখাটি লিখতে বসিনি। খবরের কাগজে একটা কলাম লিখে আমি এর সমাধান দিতে পারব আমি সেটা মনেও করি না। তবে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সংখ্যা বাড়ানোর আগ্রহে আমরা যে আমাদের দেশে অসংখ্য বাচ্চাদের সময়ের আগেই একটা বিপজ্জনক জায়গায় ঠেলে দিয়েছি, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
আমি মাথায় থাবা দিয়ে ‘হায় হায়’ করে মাতম করতেও রাজি নই। ইন্টারনেট একটা অবিশ্বাস্য শক্তিশালী প্রযুক্তি, এটাকে দায়িত্ব নিয়ে ব্যবহার করে ম্যাজিক করে ফেলা সম্ভব। আমি তাই সবাইকে মনে করিয়ে দিতে চাই পুরো বিষয়টাকে নিয়ে নূতন করে ভাবার সময় হয়েছে। অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার সময় হয়েছে। দেশের বড় বড় হর্তা-কর্তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় হয়েছে। জ্ঞানী-গুণী মানুষদের চিন্তা করার সময় হয়েছে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলো কীভাবে এই সমস্যার সমাধান বের করেছে সেগুলো খুঁজে দেখার সময় হয়েছে।
আমরা শিশুদের শৈশব ফিরিয়ে দিতে চাই। তাদেরকে প্রাপ্তবয়স্কদের একটা জগৎ উপহার দিতে চাই না। ইন্টারনেটের কানা গলিতে তাদের হারিয়ে ফেলতে চাই না।
লেখক ও অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
চ্যানেল আই অনলাইন

রাতভর গোলাগুলিতে উত্তপ্ত কাশ্মির

সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করে রাতভর গুলি চালাচ্ছে পাকিস্তান। ভারতের ৯ টি বর্ডার আউটপোস্টকে লক্ষ্য করে চলছে গোলাগুলি। জম্মু ও কাশ্মীরের সাম্বা সেক্টরের কাছে এই গুলির লড়াই চলছে। পাক সেনার আক্রমণের জবাব দিচ্ছে ভারত। সারারাত ধরে বাসান্তার ও তারনায় চলেছে সংঘর্ষ। শুক্রবারই সামবা সেক্টরে পাক রেঞ্জার্সের গুলিতে ভারতের এক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো দু’জন। শুক্রবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ গুলি চালায় পাক সেনা।  বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে কিছু কর্মী ওই এলাকায় নির্মাণ কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তারাই আক্রান্ত হন।

খালেদা জিয়ার লন্ডন সমাবেশে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি আওয়ামী লীগের by আবদুল্লাহ আল মামুন

আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার লন্ডন সমাবেশের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে আওয়ামী লীগ। নানা হিসাব-নিকাশ কষছেন দলটির নীতি-নির্ধারকরা। যুক্তরাজ্য বিএনপির এ সমাবেশে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় তিন হাজার দলীয় নেতার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সেখানে বক্তৃতা করবেন খালেদা জিয়া। তার বক্তব্যে দলটির বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা থাকবে বলে আশা করছেন দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
এদিকে ক্ষমতাসীন দলের একাধিক শীর্ষ নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বিএনপির লন্ডন সমাবেশকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে আওয়ামী লীগ। সাম্প্রতিক দুই বিদেশী হত্যাকাণ্ডের পর পশ্চিমা দেশগুলোর ভূমিকায় অস্বস্তিতে থাকা বর্তমান সরকার লন্ডনে খালেদা জিয়ার এ সমাবেশকে ভালো চোখে নেয়নি। তাদের আশংকা ওই সমাবেশে সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা হতে পারে। পাশাপাশি প্রবাসী বিএনপি নেতাদের সরকারবিরোধী অপপ্রচার চালানোর নির্দেশ দেয়া হবে।
২৭ অথবা ২৮ অক্টোবর লন্ডনের এ সমাবেশ হতে পারে বলে বিএনপিসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। ঢাকায় সরকারি সূত্রগুলো যুগান্তরকে জানিয়েছে, দুই বিদেশী হত্যাকাণ্ডের পর পশ্চিমা দেশগুলোর ভূমিকা তারা সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নিরাপত্তার অজুহাতে অযৌক্তিক সতর্কবার্তা, দুজনের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এবং এ পরিস্থিতিতে লন্ডনে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে ইউরোপের দেশগুলোর নেতাদের নিয়ে সমাবেশ আহ্বান- দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের অংশ কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ক্ষমতাসীনদের ধারণা, জানুয়ারিতে ২০ দলীয় জোটের যে টানা ৩ মাসের অবরোধ কর্মসূচি হয়েছে, তা লন্ডনে বসে তারেক জিয়া প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তাই এ মুহূর্তে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ জোটের বিভিন্ন নেতা লন্ডনে অবস্থান করায় সরকারবিরোধী পরিকল্পনা ছক আঁকা হতে পারে আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নীতি-নির্ধারকের আশংকা। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রায় এক মাসের বেশি সময় ধরে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে রয়েছেন। দেশটিতে তার বড় ছেলে তারেক রহমান ওয়ান-ইলেভেনর পর থেকে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শুক্রবার টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে অর্জন অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি, শিক্ষা, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সূচকে ভারত, পাকিস্তান, নেপালের চেয়ে আমরা অনেক এগিয়ে। এটা ঈর্ষার কারণ। তাই দেশী-বিদেশী চক্রান্ত চলছে। এসব ষড়যন্ত্র অতীতেও ছিল।
আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ যুগান্তরকে বলেন, এতদিন ছেলে লন্ডনে বসে ষড়যন্ত্র করেছেন, এবার সেখানে গিয়ে ছেলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন খালেদা জিয়া। তারা লন্ডনে বসে যা খুশি তাই করুক, আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। জানা গেছে, সরকার ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিএনপির লন্ডন সমাবেশের বিষয়ে সার্বিক খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। শুধুই বিএনপি নেতা নাকি এ সমাবেশে জামায়াতের নেতাকর্মীরা যোগ দেবেন- তা আগেই জানাতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। খালেদা জিয়া সমাবেশে কোন কোন বিষয়ে কথা বলবেন তা জানার চেষ্টা করছে সরকার ও আওয়ামী লীগসংশ্লিষ্টরা। একটি সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির লন্ডনের এ সমাবেশ প্রতিহত করার চেষ্টাও রয়েছে সেখানকার আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের। এ ব্যাপারে ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

সাপের ছোবলে নয়?

চলচ্চিত্রের ক্লিওপেট্রা লিজ টেলর
সাপের ছোবলে প্রাচীন মিসরের রানি ক্লিওপেট্রার মৃত্যু হয়েছে—এ প্রচলিত তথ্য প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। শুধু তা-ই নয়, বিষয়টিকে ‘অসম্ভব’ বলে উল্লেখ করেছেন তাঁরা।
প্রাচীন মিসরের শেষ সক্রিয় ফারাও ক্লিওপেট্রার মৃত্যু হয় মাত্র ৩৯ বছর বয়সে। তখন ৩০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ। উঠতি রোমান সাম্রাজ্যের সঙ্গে দ্বন্দ্বের একপর্যায়ে মৃত্যু হয় তাঁর। ক্লিওপেট্রার জীবন, প্রেম আর অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়টি লৌকিক উপাখ্যানে পরিণত হয়। জনপ্রিয়তার কারণে বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে অনেক চলচ্চিত্র ও টিভি সিরিয়াল।
ক্লিওপেট্রার মৃত্যুর বিষয়ে রোমান সূত্রগুলোর বক্তব্য হলো, বিষধর সাপের ছোবলে তাঁর মৃত্যু হয়। সঙ্গে লুকিয়ে রাখা সাপের ছোবলের মাধ্যমে নিজেই নিজের জীবনের ইতি ঘটান তিনি।
কিন্তু ক্লিওপেট্রা: ইজিপ্টস লাস্ট কুইন গ্রন্থের লেখক মিসর বিশেষজ্ঞ জয়েস টিলডেসলি ও ম্যানচেস্টার জাদুঘরের সরীসৃপ-সংক্রান্ত বিদ্যার কিউরেটর অ্যান্ড্রু গ্রের বক্তব্য হলো, পাঁচ থেকে ছয় ফুট লম্বা একটি গোখরা সাপ যেভাবে লুকিয়ে রাখার কথা বলা হয়, তা বাস্তবে সম্ভব নয়। তারপরও ক্লিওপেট্রা যদি সাপ লুকিয়ে রাখতে সক্ষমও হয়ে থাকেন, সেই একটি সাপের ছোবলে তিনি ও দুই দাসীর অল্প সময়ের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার বিষয়টিও প্রশ্নসাপেক্ষ।
সাপবিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রু গ্রে বলেন, সাপের একটি ছোবলে কারও মৃত্যু হওয়ার আশঙ্কা মাত্র ১০ শতাংশ। কারণ বেশির ভাগ ছোবলই হয় শুকনো। এতে বিষ আসে না। গ্রে বলেন, ‘এর মানে এটা নয় যে গোখরা সাপের ছোবল বিষাক্ত নয়। সাপের বিষ মানুষকে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। কিন্তু সেটা হয় ধীরে ধীরে। তাই এটা অসম্ভব যে একটি সাপের ছোবলে কিছুক্ষণের মধ্যেই পরপর দুই থেকে তিনজন মানুষের মৃত্যু হবে।’ সূত্র: বিবিসি

বোমা হামলার পরও তাজিয়া মিছিলে জনস্রোত

বোমা বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনার পরও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তাজিয়া মিছিল বের করেছে শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলিমরা। এতে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেয়।
রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের ঐতিহ্যবাহী হোসেনী দালানের ইমাম বাড়া থেকে প্রধান তাজিয়া মিছিল বের করা হয়।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে মিছিলটি বের করা হয়। কালো-লাল-সবুজের নিশান উড়িয়ে, নিজ নিজ বুক চাপড়ে ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ ধ্বনি তুলে মিছিলটি এগিয়ে যায়।
শোকের প্রতীক কালো পতাকা, লাল-সবুজের আলাম (দীর্ঘ লাঠির মাথায় ত্রিকোণাকৃতির পতাকা), ছোটো ছোটো পতাকা হতে হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও শিশু এই শোক মিছিলে অংশ নেয়। তাদের মুখে বিলাপ ‘হায় হোসেন,‘হায় হোসেন’।
এ ছাড়া মিছিলের অগ্রভাগে ছিল দুলদুল ঘোড়া (ইমাম হোসেনকে বহনকারী ঘোড়ার প্রতীক), জিন (বসার আসন), মাথার খাপসহ বিভিন্ন উপকরণ। হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর নাতি ইমাম হোসেনের মর্মান্তিত শাহাদাত বার্ষিকী স্মরণে এ আয়োজন করা হয়ে থাকে।
শোক মিছিলটি হোসেনী দালন ইমাম বাড়া থেকে শুরু হয়ে বকশীবাজার, উর্দ্দু রোড, লালবাগ চৌরাস্তা হয়ে ঘোড়া শহীদের মাজার ও আজিমপুর হয়ে ধানমন্ডি জিগাতলায় গিয়ে শেষ হয়।
এরআগে, বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার পর দ্বিতীয় তাজিয়া মিছিলে অংশ নেয়াদের শরীর তল্লাশি করে হোসেনী দালন প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। মিছিলের সামনে ও পেছনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুর সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিল।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে হোসেনী দালান চত্বরে পরপর তিনটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। প্রথম তাজিয়া মিছিল বের করার মুহূর্তে এ বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে এক যুবক মারা যান। আহত হন শতাধিক।

আবারো আইএসের দায় স্বীকারের খবর

হামলায় আহতদের দেখতে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল
রাজধানীর হোসনি দালান এলাকায় তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলার পিছনেও আইএস জড়িত বলে দাবি করেছে ‘সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ’। এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ও ৩ অক্টোবর বাংলাদেশে দুই বিদেশি নাগরিক খুন হওয়ার পরেও আইএস ‘দায় স্বীকার’ করে বার্তা দেয় বলে জানিয়েছিল এ সংস্থাটি।
তবে এর সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ সরকারও দৃঢ়ভাবে আইএস সংশ্লিষ্টতার বিষয়টির বিরোধিতা করে।
শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) একটি বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে ঢাকায় হামলার ‘দায় স্বীকার’র কথা আছে।
আইএসকে উদ্ধৃত করে তারা জানিয়েছে, “বাংলাদেশে খিলাফতের সৈনিকরা বহু-ঈশ্বরবাদীদের ধর্মীয় আচারের সময় বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।”
আশুরা উপলক্ষে শনিবার ভোররাতে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে পুরান ঢাকার হোসাইনী দালান ইমামবাড়ায় বোমা হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে এক কিশোর নিহত ও অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়।
হামলায় জড়িত অভিযোগে দুজনকে আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান বলেছেন, “হাতে তৈরি শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।”
একই সঙ্গে বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, এ হামলায় আইএসের সম্পৃক্ততার দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল নাকচ করেছেন এ হামলায় জঙ্গিদের সম্পৃক্ততা নেই এবং পাকিস্তানে শিয়াদের শোভাযাত্রায় আত্মঘাতী হামলায় ২২ জন নিহতের ঘটনার সঙ্গেও এর কোনো যোগসূত্র নেই।

ওটিতে ভুল টেকনিশিয়ান by রাশেদ রাব্বি

নাপিতের ফোঁড়া কাটার গল্পের সঙ্গে বেশ মিল। যেখানে সেখানে নয়, খোদ জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে কয়েক বছর ধরেই একজন সার্জিক্যাল টেকনিশিয়ানকে চিফ হার্ট-লাং টেকনিশিয়ানের দায়িত্বে রেখে চলছে ওপেন হার্ট সার্জারির মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর কাজটি। অতি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট অপারেটরের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার অভাবে অপারেশনের সময় সৃষ্টি হচ্ছে নানা জটিলতা। অস্ত্রোপচারের সময়ই মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়ছে রোগীর জীবন। আলোচিত ও অভিযুক্ত এই ব্যক্তির নাম রুকুনুজ্জামান সিদ্দিক। তার মূল পদ চিফ সার্জিক্যাল টেকনিশিয়ান হলেও তাকে তার মর্জি মোতাবেক চিফ হার্ট-লাং টেকনিশিয়ানের দায়িত্ব দিয়ে রেখেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে ওটিতে সঠিক যন্ত্রের ‘ভুল টেকনিশিয়ান’ নিয়ে ওপেন হার্ট সার্জারির মতো জটিল অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের।
সংশ্লিষ্ট একাধিক চিকিৎসক ও কর্মচারীর অভিযোগ, রুকুনুজ্জামানের ভুলের কারণে বিভিন্ন সময় শিশুসহ বেশ কিছু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। অথচ এসব অভিযোগের কথা জানার পরও কর্তৃপক্ষ নির্বিকার। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা রোগীদের নিরাপত্তায় বারবার বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদফতরকে অবহিত করলেও কোনো সুরাহা হচ্ছে না।
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের একটি সূত্র জানায়, রুকুনুজ্জামান সিদ্দিক ২০০৪ সালে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের সার্জিক্যাল বিভাগে প্রধান টেকনিশিয়ানের পদে নিয়োগ পান। একই বছর তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে পারফিউশন বিভাগে হার্ট-লাং (হৃদপিণ্ড ও ফুসফুস) শল্য চিকিৎসার প্রধান টেকনিশিয়ান হিসেবে বদলি করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের অভিযোগ হচ্ছে, অভিজ্ঞতা না থাকায় রুকুুনুজ্জামান ওইসব যন্ত্রপাতি ঠিকমতো চালাতে পারেন না। ফলে ঝুঁকিতে পড়ছে রোগীদের জীবন। এমনকি এই টেকনিশিয়ানের অদক্ষতার কারণে কখনও কখনও অপারেশনই বন্ধ রাখতে হয়েছে। ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে হাসপাতালের স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম। নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন চিকিৎসক বলেন, ওপেন হার্ট সার্জারিতে একজন হার্ট-লাং টেকনিশিয়ানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার সামান্য ভুলেই রোগীর মৃত্যু নিশ্চিত। ওপেন হার্ট অপারেশনের সময় একজন রোগীর হার্ট ও লাং-এর স্বাভাবিক কার্যকারিতা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। এ সময় কৃত্রিম ব্যবস্থায় তাকে বাঁচিয়ে রেখে চিকিৎসা চালানো হয়। আর এটা করতে পারফিউমারি মেশিনের সহায়তা নিতে হয়। ওই যন্ত্রটি পরিচালনা করেন একজন হার্ট-লাং টেকনিশিয়ান। যদিও সামগ্রিক প্রক্রিয়াটির তত্ত্বাবধানে থাকেন একজন পারফিউমিস্ট (চিকিৎসক)। ওই চিকিৎসক আরও বলেন, ওপেন হার্ট সার্জারির সময় হার্ট-লাং মেশিনের সাহায্যে রোগীর শরীরে সঠিক মাত্রায় অক্সিজেন সরবরাহ করতে হয়। এছাড়া হিটারকুলার মেশিনের সাহায্যে উচ্চতা, ওজন ও বয়স ভেদে রোগীর শরীরে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এই মেশিনের সাহায্যে রোগীর ব্লাডগ্যাস রিপোর্ট অনুযায়ী কার্বন-ডাই অক্সাইড নিঃসরণ, বাইকার্বনেট, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, হিমোগ্লোবিন নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে রাখতে হয়। যন্ত্রের মাধ্যমে এসব বিষয় দেখভাল করেন হার্ট-লাং টেকনিশিয়ান। অন্যদিকে সার্জিক্যাল টেকনিশিয়ানের কাজ হচ্ছে ওটিতে রোগীর পজিশন ঠিক করা। সার্জনের চাহিদা মতো ডায়োথার্মিন মেশিন (রক্ত বন্ধ ও সঞ্চালন) অপারেট করা। সার্জারি লাইট সেটিংস ও ডিসি শক মেশিন (ইলেকট্রিক শক) অপারেট করা। এ ছাড়া সার্জিক্যাল যন্ত্র সার্জনের চাহিদামতো সরবরাহ করা।
ওপেন হার্ট সার্জারির সময় পারফিউমারি মেশিন অপারেটে কোনো সমস্যার সৃষ্টি হলে বা টেকনিশিয়ানের সামান্য কোনো ভুল হলেও রোগীর তাৎক্ষণিক অথবা পরে মৃত্যু অনিবার্য বলে জানান চিকিৎসকরা। তারা বলেন, এই মেশিন পরিচালনায় কোনো রকম ভুল হলে রোগীর ব্রেন সেল নষ্ট হয়ে যেতে পারে, কিডনি অকেজো হতে পারে, লিভারে সমস্যা হতে পারে। এমনকি রোগীর হেমোডুরিয়া বা রক্তেও হেমোগ্লোবিন ভেঙে যেতে পারে- যা রোগীকে মৃত্যুর পথে নিয়ে যাবে।
টেকনিশিয়ান নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার সমাধানে হাসপাতালের চিকিৎসক বিলকিস বানু ২০১০ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে এ বিষয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। অভিযোগপত্রে তিনি বলেন, প্রধান টেকনিশিয়ান অস্ত্রোপচার কক্ষের যন্ত্রপাতি চালাতে পারছেন না। এতে নানা সমস্যা হচ্ছে। ওই পদে চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা থাকার কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু রুকুনুজ্জামানের তা নেই। বিলকিস বানু জরুরিভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে মহাপরিচালকের কাছে অনুরোধ জানান। এছাড়া কার্ডিয়াক সার্জারির তৎকালীন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. খাজা এন মাহমুদের সুপারিশক্রমে ২০১১ সালের ২০ জানুয়ারি বিলকিস বানু হাসপাতাল পরিচালক বরাবর আরেকটি লিখিত অভিযোগ করেন। তাতে তিনি বলেন, ৮ জানুয়ারি ২০১১ তারিখে বেলা দেড়টায় কিছু চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী চিফ হার্ট-লাং টেকনিশিয়ান রুকুনুজ্জামানের পক্ষ নিয়ে তার সঙ্গে অপ্রীতিকর আচরণ করে। এছাড়া তাকে আইসিইউতে ডেকে নিয়ে ভয় দেখায় এবং হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেয়।
হাসপাতাল পরিচালকের কাছে ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি একই ধরনের অভিযোগ করেন সিনিয়র হার্ট-লাং টেকনিশিয়ান শফিকুল ইসলাম। সেখানে তিনি বলেন, জরুরি অস্ত্রোপচার চলাকালে রুকুনুজ্জামানসহ চার-পাঁচজন তাকে গালমন্দ করে ওটি থেকে বের করে দেয়। পরে ওটিতে কর্মরত সহযোগী অধ্যাপক ডা. এসএএম সবুর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। রুকুনুজ্জামানের বিরুদ্ধে অসদাচরণ, কাজকর্মে বাধা দেয়াসহ নানা বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ডা. এসএএম সবুর।
এসব অভিযোগসহ আরও অনেক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির সুপারিশক্রমে ২০১২ সালের ৪ নভেম্বর হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ আল সাফী মজুমদার রুকুন্জ্জুামানকে ‘তিরস্কার’ করেন এবং নেতিবাচক আচরণের ব্যাপারে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করেন। তবে এতকিছুর পরও রুকুনুজ্জামান রয়েছেন বহাল তবিয়তে।
হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, রুকুনুজ্জামান সিদ্দিক চিফ সার্জিক্যাল টেকনিশিয়ান হিসেবে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে যোগদান করেন। বিশেষ সুবিধা পাওয়ার আশায় ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর তিনি চিফ হার্ট-লাং টেকনিশিয়ান হিসেবে পদায়নের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেন। ওই সময় হাসপাতালের পরিচালক বিভাগীয় প্রধানের মতামত না নিয়েই তাকে পদায়নের জন্য আবেদনে সুপারিশ করেন। নিয়ম অনুযায়ী বিভাগীয় প্রধানের মতামত নেয়ার কথা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রুকুনুজ্জামানের ওই আবেদনপত্রে আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতার সুপারিশ ছিল। এমনকি আবেদনপত্রটি অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে ওই নেতাই পৌঁছে দেন। এরপর তৎকালীন মহাপরিচালক নিজেই তার বদলির আদেশ দেন। রুকুনুজ্জামানের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট বিভাগের চিকিৎসকরা যত অভিযোগ দিয়েছিলেন তার কোনোটিই গুরুত্ব পায়নি। সেই থেকে বেশিরভাগ চিকিৎসক-কর্মচারী তার বিরুদ্ধে আর কিছু বলার সাহস পান না।
সূত্র জানায়, রুকুনুজ্জামানের গ্রামের বাড়ি জামালপুর জেলার মেলান্দহ থানার ঘোষেরপাড়ায়। তারা বাবা রউফ সিদ্দিক ওরফে সুরুজ স্থানীয় ৯নং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। তার পুরো পরিবারই বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তবে সুযোগ-সুবিধা পেতে ভোল পাল্টে এখন আওয়ামী রাজনীতির একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন রুকুনুজ্জামান।
স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, প্রধান সার্জিক্যাল টেকনিশিয়ান পদে প্রথমে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল স্থাপন (২য় পর্ব) প্রকল্পে নিয়োগ পান রুকুনুজ্জামান। পরে হাসপাতালটি প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত হলে একই পদে তার চাকরি নিয়মিতকরণ হয়। কিন্তু তার আগেই প্রধান সার্জিক্যাল টেকনিশিয়ান পদ থেকে তাকে প্রধান হার্ট-লাং টেকনিশিয়ান পদে বদলি করা হয়। এর ফলে প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতাও সৃষ্টি হয়। এ জটিলতা নিরসনে প্রতিষ্ঠানের তৎকালীন পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ আল সাফী মজুমদার ২০১২ সালের ২ জানুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে রুকুনুজ্জামানের বদলির আদেশ বাতিলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। কিন্তু রুকুনুজ্জামান এতটাই প্রভাবশালী যে, অধিদফতর শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
এ বিষয়ে রুকুনুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, শূন্য পদে নিয়ম অনুযায়ী তার পদায়ন হয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো জটিলতা নেই। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ করেছেন তারা ব্যক্তিগত সুবিধা আদায় করতেই এসব করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। রুকুনুজ্জামান আরও বলেন, যে পদে কাজ করছেন তিনি সেই পদের একজন যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে কারও কোনো অভিযোগ থাকার কথা নয়। কর্মস্থলে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন। তাই বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ রয়েছে। এর বেশি কিছু নয়।
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান মিলন এ বিষয়ে বলেন, সার্জিক্যাল টেকনিশিয়ান হলেও স্বাস্থ্য অধিদফতরের আদেশ বলেই রুকুনুজ্জামান হার্ট-লাং টেকনিশিয়ানের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ভিন্ন বিভাগ থেকে আসার কারণে টেকনিশিয়ানরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আগে ওটি বন্ধ করাসহ বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি করেছেন। তবে বর্তমানে সেই সমস্যা নেই।
হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা, আবু আজাম বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এ প্রসঙ্গে উপ-পরিচালক ডা. মো. বেলাল খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এই প্রতিষ্ঠানে নতুন এসেছি। তাই বিষয়টি আমার জানা নেই।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হসপিটাল সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট) অধ্যাপক ডা. শামিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি পরিচালক প্রশাসনের আওতাধীন। তবে এটি অনভিপ্রেত।

ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের জন্য উচ্চমাত্রার সতর্কতা

রাজধানীর পুরান ঢাকার হোসনী দালানে বোমা বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় ব্রিটেন এবং অস্ট্রেলিয়া তাদের দূতাবাস স্টাফ ও নাগরিকদের প্রতি উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। দেশ দুটি এই মুহূর্তে জনাকীর্ণ স্থানগুলো এড়িয়ে চলতে তাদের নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছে।
ব্রিটিশ হাইকমিশন তাদের সর্বশেষ সতর্কবার্তায় বলেছে, ঢাকায় শিয়া সম্প্রদায়ের লোকদের একটি সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২৪ অক্টোবর শনিবার ওই বিস্ফোরণে একজন নিহত ও বেশ কিছু লোক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশে পশ্চিমা নাগরিকদের জন্য উচ্চমাত্রার সন্ত্রাসী হুমকি রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ নাগরিকদের জনাকীর্ণ স্থান, বিশেষ করে যেখানে পশ্চিমা নাগরিকদের উপস্থিতি বেশি, তা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
অপরদিকে, অস্ট্রেলিয়া তাদের নাগরিকদের জন্যেও প্রায় একই ধরনের সতর্কতা জারি ও পরামর্শ দিয়েছে। বলা হয়েছে, পুরান ঢাকায় শিয়া সম্প্রদায়ের একটি সমাবেশে বেশ কিছু হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে একজন নিহত ও অনেকে আহত হয়েছেন। এ অবস্থায় অস্ট্রেলিয়া সরকার তাদের স্টাফদের শুধু গাড়িতে করে চলাফেরা করতে পরামর্শ দিচ্ছে। তাছাড়া এর আগে জনাকীর্ণ স্থান, বিশেষ করে বিদেশীদের অবস্থান, এড়িয়ে চলার যে পরামর্শ দেয়া হয়েছিল তা বলবৎ থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশে তাদের নাগরিকদের উদ্দেশে বলেছে, আপনাদের অধিক সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
এর আগে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেন ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন এবং মার্কিন দূত মার্সিয়া বার্নিকাট।
শনিবার সকালে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট ঢাকাস্থ দূতাবাসের ফেসবুকে এক বার্তায় শিয়াদের ওপর বোমা হামলাকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যায়িত করেছেন। তিনি এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বোমা হামলায় নিহত ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
বার্নিকাট বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘জটিল’ আখ্যায়িত করে বর্তমান সরকার ও বাংলাদেশের জনগণের পাশে যুক্তরাষ্ট্রের থাকার অঙ্গীকারও করেছেন।
অপরদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট গিবসনও তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
রবার্ট গিবসন শনিবার এক টুইট বার্তায় বলেন, তাজিয়া মিছিলে কাপুরুষোচিত হামলা হয়েছে। এই ধরনের হামলা ও অসহিষ্ণুতা গ্রহণযোগ্য নয়। আমি নিহত ও আহতদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

ডিজিটাল ক্যামেরা হারিয়ে যাচ্ছে? by আবুল হাসনাত

২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে গ্রাহকদের ছবি তোলার আগ্রহের ওপর একটি জরিপ চালায় ক্যামেরা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফুজিফিল্ম। জরিপে উঠে আসে ফিল্ম দিয়ে ছবি তোলার যুগে গ্রাহকেরা যেখানে ১০ হাজার কোটি ছবি তুলেছেন, সেখানে ডিজিটাল ক্যামেরার যুগে ছবি তোলা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি।
সাম্প্রতিক সময়ে গ্রাহকদের ছবি তোলার প্রবণতা যে বেড়েছে, জরিপটি তারই প্রমাণ। তবে মজার ব্যাপার হলো, ডিজিটাল যুগের বেশির ভাগ ছবিই স্মার্টফোনে তোলা।
এবার আমেরিকার উদাহরণ দেওয়া যাক। দেশটির বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিইএ মার্কেট রিসার্চের এক গবেষণা অনুযায়ী, ২০১১ সালে আমেরিকায় যত ছবি তোলা হয়, এর ৩৭ শতাংশই হয়েছে মোবাইলের ক্যামেরায়। ২০১৫ সালে এর পরিমাণ দাঁড়াবে ৫০ শতাংশে।
অবস্থা নড়বড়ে হয়ে পড়ায় ক্যানন, নাইকন, অলিম্পাস, সনি, ফুজিফিল্ম ও প্যানাসনিকের মতো নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল ক্যামেরার (বিশেষ করে কমপ্যাক্ট ক্যামেরা) দাম অনেক কমিয়ে দিয়েছে। তাতেও রক্ষা হচ্ছে না। স্মার্টফোনের বিল্ট-ইন ক্যামেরার কারণে আলাদা করে ক্যামেরা কিনতে এখন অনেকেই আগ্রহী নন। এখনকার স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটগুলোর ক্যামেরার মানও বেশ উন্নত। সে কারণেই বিশ্বজুড়ে এখন ক্যামেরার বিক্রি কমছে। আর ছবি তোলার মাধ্যম হয়ে উঠেছে স্মার্টফোন।
যে স্মার্টফোন দিয়ে কথা বলা এবং গান শোনা যাচ্ছে, সেই একই মোবাইলে ভালো ছবিও তোলাও যাচ্ছে। কারও পকেটেই যখন ভালো মানের একটি ক্যামেরা থাকে, তিনি কি আর ১০-১৫ হাজার টাকা খরচ করে আরেকটি ডিজিটাল ক্যামেরা কিনবেন?
প্রযুক্তি খাত নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশন (আইডিসি) বলছে, ২০১৩ সালে বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোনের রপ্তানি ১০০ কোটি ছাড়ায়। এ বছর তা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১৪৪ কোটিতে, যা আগের বছরের চেয়ে ১১ শতাংশ বেশি। আর সংস্থাটির পূর্বাভাস হলো ২০১৯ সালে স্মার্টফোনের রপ্তানি হবে প্রায় ২০০ কোটি ছুঁই ছুঁই।
তবে ২০১৯ সাল নাগাদ ডিজিটাল ক্যামেরার ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে পূর্বাভাস না করলেও চলবে। কারণ টোকিওভিত্তিক ক্যামেরা অ্যান্ড ইমেজিং প্রডাক্টস অ্যাসোসিয়েশন (সিআইপিএ) এরই মধ্যে পূর্বাভাস করেছে যে ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাপী রপ্তানি হতে পারে ৩ কোটি ৪৭ লাখ ডিজিটাল ক্যামেরা। এটি আগের বছরের চেয়ে ২০ শতাংশ কম। অথচ, ২০১২ সালেও সারা বিশ্বে ৯ কোটি ৮১ লাখ ডিজিটাল ক্যামেরা রপ্তানি হয়। অর্থাৎ দুই বছরেই রপ্তানি অর্ধেকে নেমেছে। কেন সাধারণ মানুষের হাত থেকে ডিজিটাল ক্যামেরা হারিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়েও বিস্তর আলোচনা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় যে কারণটি উঠে এসেছে, তা হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। নিজের ছবি অন্যকে দেখানোর বড় দুটি মাধ্যম হলো ফেসবুক আর ইনস্টাগ্রাম। ক্যামেরায় ছবি তুলবেন, সেই ছবি কম্পিউটারে নামাবেন, তারপর ফেসবুকে আপলোড করবেন, এত সময় কোথায়। এত ঝামেলায় না গিয়ে মানুষ এখন স্মার্টফোনে ছবি তুলে সঙ্গে সঙ্গেই তা আপলোড করছে।
আর স্মার্টফোনে তোলা ছবির মানও বেশ ভালো। এখন ১৩-১৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরার মোবাইল ফোন পাওয়া যাচ্ছে অহরহ। এমনকি ৪১ মেগাপিক্সেল ক্যামেরার স্মার্টফোনও আছে নকিয়ার (নকিয়া লুমিয়া ১০২০)।
ডিজিটাল ক্যামেরার ব্যবসায় বিশ্বব্যাপী যে ধাক্কা লেগেছে, তার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। দেশেও কমেছে ক্যামেরার বিক্রি। তবে ডিএসএলআর ক্যামেরা ভালোই বিক্রি হচ্ছে।
স্যামসাং ইলেকট্রনিকস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপক (মার্কেটিং কমিউনিকেশন) মাশরুর হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্মার্টফোনের কারণে আমাদের ক্যামেরা বিক্রি অনেক কমে গিয়েছিল। সে কারণে ২০১৪ সালের প্রথমার্ধের পর থেকে বাংলাদেশে স্যামসাংয়ের ক্যামেরা আসা বন্ধ হয়ে গেছে। এখন আর আমাদের কোনো শোরুমেই ক্যামেরা বিক্রি হচ্ছে না।’
দেশে ক্যাননের ক্যামেরা বাজারজাত করে জেএএন এবং নাইকনের ক্যামেরা বাজারজাত করে ফ্লোরা লিমিটেড। এই দুই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলেছেন, তাঁদের কমপ্যাক্ট ডিজিটাল ক্যামেরার বিক্রি ৮০ শতাংশ কমে গেছে। তবে ডিএসএলআর ক্যামেরা এখনো বিক্রি হয়।
বড় ক্যামেরা প্রস্তুতকারীদের কী হাল: বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি ডিজিটাল ক্যামেরা বিক্রি হয় ক্যাননের। প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, এ বছর তাদের ডিজিটাল ক্যামেরার রপ্তানি কমবে আগের বছরের চেয়ে ১৭ শতাংশ। এবার প্রতিষ্ঠানটি ১ কোটি ২৮ লাখ ক্যামেরা রপ্তানি করতে চায়। রপ্তানি কমে যাওয়ায় বছর শেষে পরিচালন (অপারেটিং) মুনাফা ৪ শতাংশের বেশি কমে যায় কি না, তা নিয়ে সন্দেহে আছে ক্যানন কর্তৃপক্ষ।
আরেক বড় ক্যামেরা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নাইকন। এই প্রতিষ্ঠানটিও এ বছর ১৭ শতাংশ রপ্তানি কমে যাবে বলে ধারণা করছে। তবে তাদের পরিচালন মুনাফা কমবে প্রায় ৩৩ শতাংশ।
একসময়ের ক্যামেরার বাজারে সুপরিচিত নাম অলিম্পাস ২০১৪ সালে প্রায় ১৩৮ কোটি ইয়েন লোকসান গুনেছে। তবে এ বছর কোনো লোকসান হবে না বলে মনে করে কর্তৃপক্ষ। কারণ তারা কয়েক ধরনের ক্যামেরার উৎপাদনই বন্ধ করে দিয়েছে। তেমনি বেছে বেছে কয়েকটি দেশে ক্যামেরা রপ্তানি করছে।
ফুজিফিল্ম কর্তৃপক্ষের ধারণা, এ বছর তাদের ক্যামেরা বিক্রি ৩৬ শতাংশ কমবে। তবুও প্রতিষ্ঠানটি মনে করছে তাদের মুনাফা হবে। কারণ তারা এখন কম দামের ক্যামেরার চেয়ে বেশি দামের উচ্চমানসম্পন্ন ক্যামেরা প্রস্তুত ও বিপণনে মনোযোগী হয়েছে।
প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্মার্টফোনের দাপটে টিকতে হলে এখন নতুন নতুন প্রযুক্তি আনতেই হবে ক্যামেরা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে। সেদিকটি মাথায় রেখে এরই মধ্যে ফুজিফিল্ম, অলিম্পাস ও প্যানাসনিকের মতো প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে আয়নাবিহীন বিশেষ একধরনের ক্যামেরা বাজারে আনে। কিন্তু এতেও খুব একটা লাভ হয়নি। ২০১৩ সালে এক প্রতিবেদনে অলিম্পাস জানায়, এই ক্যামেরা আনার পর প্রথম প্রান্তিকেই তাদের আয়নাবিহীন ছোট ক্যামেরার বিক্রি কমেছে ১২ শতাংশ।

'ধর্ষণের জন্য মোবাইল ফোন দায়ী' -আজম খান

ফের ধর্ষণের কারণ সংক্রান্ত নয়া ‘থিয়োরি’। এবার উদ্ভাবক ভারতের সমাজবাদী পার্টির নেতা আজম খান। তাঁর মতে ভারতজুড়ে রোজ বেড়ে চলা ধর্ষণের ঘটনার জন্য দায়ি আসলে মোবাইল ফোন। শুক্রবার একটি সংবাদ সংস্থারকে তিনি বলেছেন, শহরের সঙ্গে গ্রামাঞ্চলেও মোবাইল ফোনের জন্যই নাকি বাড়ছে ধর্ষণ।
‘‘একটা আড়াই বছরের শিশুও কেন ধর্ষিত হচ্ছে? এর একটাই কারণ মোবাইল ফোন। মোবাইল ফোনের দৌলতে এমনকি গ্রামেও লোকজন যা খুশি ডাউনলোড করতে পারে। ছোট ছোট ছেলে মেয়েরাও ইচ্ছামত এসব জিনিস সহজেই দেখতে পেযে যায়। অপ্রাপ্তবয়স্কদের হাতে এমন কিছু ছবি বা সিনেমা সহজেই চলে আসছে যা এখনও তাদের দেখার বয়স হয়নি।’’ মন্তব্য আজম খানের।
এর সঙ্গেই তিনি যোগ করেছেন, ‘‘এই বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে? কোন শাস্তিটা দেয়া হচ্ছে? ধর্ষণের মতো ঘটনা আমাদের সমাজকে ধ্বংস করছে।’’
গত সপ্তাহে দিল্লিতে ধর্ষিত হয়েছে আড়াই বছরের এক শিশু কন্যা। সেই প্রেক্ষাপটেই শুক্রবার এই মন্তব্য করেছেন আজম খান।

স্থানীয় নির্বাচন আন্দোলন চাপা দেয়ার কৌশল নয় : তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, মেয়াদ শেষে নিয়মানুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এটি কোন আন্দোলন চাপা দেয়ার কৌশল নয়, জাতীয় নির্বাচন পাশ কাটানোরও কৌশল নয়। তিনি জোড় দিয়ে বলেন, জাতীয় নির্বাচন ২০১৯ সালে সময়মতো হবে। কেউ তা আটকাতে পারবে না।
আগামী ৩১ অক্টোবর জাসদের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন প্রস্তুতি উপলক্ষে আজ দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে জাসদ কার্যালয়ে দলের ঢাকা মহানগর কমিটির প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল ও আইনের লুকোচুরি খেলা এবং রাজনৈতিক ভণ্ডামির অবসান ঘটাবে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘আগে রাজনৈতিক দলগুলো অঘোষিতভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের সমর্থন দিতো, যা সবার জানা। এটি ছিলো আইনের সাথে দলগুলোর লুকোচুরি খেলা এবং এক ধরনের রাজনৈতিক ভণ্ডামি। দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচনে এ লুকোচুরি ও ভণ্ডামির অবসান ঘটাবে।’
হাসানুল হক ইনু এ সময় পূর্ববর্তী স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে বলেন, ‘এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ৮ বার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, ৯ বার পৌরসভা নির্বাচন, ৪ বার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, ১টি পার্বত্য জেলা পরিষদ নির্বাচনসহ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনগুলো সবসময়ই দেশে বিদ্যমান সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টের বরাত দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে কিছু সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও জনগণ স্বতস্ফুর্তভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে এবং সকলে ফলাফলও মেনে নিয়েছে। এমনকি ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরংকুশ বিজয়ের পরও ২০১১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল।’
দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ব্যবস্থার কারণে তৃণমূল পর্যায়ের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো আর উদাসীন থাকতে পারবে না উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এর মাধ্যমে ভারত-যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের উন্নত গণতান্ত্রিক রাজনীতির ক্লাবের সদস্য হলো বাংলাদেশ।’
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ও জাসদ মহানগর সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক মীর হোসেন আখতারের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া, বিশিষ্ট জাসদ নেতা নূরুল আখতার, ওবায়দুর রহমান চুন্নু, করিম সিকদার, আফরোজা হক রীনা, আনোয়ারুল ইসরাম বাবু, শফিউদ্দিন মোল্লা, শহীদুল ইসলাম, নুরুন্নবী, এড মহিবুর রহমান মিহির, সামছুল ইসলাম সুমন, এড সেলিম উদ্দিন প্রমূখ।
মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ও জাসদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এড. হাবিবুর রহমান শওকত, নাদের চেৌধুরী, উম্মে হাসান ঝলমলসহ মহানগর কমিটির প্রতিনিধিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মাদকাসক্ত মা, গাড়িচালক তিন বছরের শিশু

মাদকাসক্ত মা। গাড়ি চালাতে চালাতে দরজা খুলে পড়েই গেলেন হাইওয়ের উপর। অতঃপর গাড়ির চালকের আসনে তিন বছরের শিশু। বুধবার ঘটনাটি ঘটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমায়। পুলিশ সূত্রে খবর, এক পার্টি থেকে নিজের তিন সন্তানকে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে ফিরছিলেন টেলওয়া ফস্টার নামের ৩৩ বছর বয়সী মহিলা। পার্টিতে অতিরিক্ত মদ্যপানের পর গাড়ি চালাতে চালাতে মাটিতে পড়ে যান ওই মহিলা। তবে মার জায়গায় ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়িটিকে রাস্তার একপাশে আনে ফস্টারের তিন বছরের ছেলে। ওই মহিলার বিরুদ্ধে শিশুদের বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ এনেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার ওকলাহোমা থেকে ৮০ মাইল দূরের আডা রোডে ওই ঘটনা ঘটে। গাড়িটি মূলত রাস্তার আইল্যান্ডে আটকে যায়। পরে পুলিশ গিয়ে ওই মহিলাকে আটক করে। শিশুরা নিরাপদেই রয়েছে।

ভারতে সহিংসতার প্রতিবাদে রাজপথে লেখকেরা

ভারতে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতা এবং কয়েকজন লেখক হত্যার প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ করেছেন শতাধিক লেখক-সাহিত্যিক। বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তাঁরা জড়ো হন সাহিত্য একাডেমির সামনে। স্মারকলিপি দেন সাহিত্য একাডেমির নিস্পৃহতার প্রতিবাদ জানিয়ে। পরে গতকালই জরুরি বৈঠক করে সাহিত্যিক হত্যার ঘটনায় সর্বসম্মতভাবে নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করে একাডেমি।
কর্ণাটকের যুক্তিবাদী লেখক এম এম কালবুর্গি গত ৩০ আগস্ট তাঁর বাড়ির কাছে খুন হন। উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা এই ঘটনার জন্য দায়ী বলে তদন্তকারী দলের অভিযোগ। কালবুর্গির আগে খুন হয়েছিলেন মারাঠি লেখক গোবিন্দ পানসারে ও নরেন্দ্র দাভোলকর। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজন হত্যাকারীরও শাস্তি হয়নি। ওই সব ঘটনার পাশাপাশি দিল্লির অদূরে উত্তর প্রদেশের বিসাদা গ্রামে গরুর মাংস খাওয়ার অভিযোগে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয় প্রৌঢ় মুহম্মদ ইকলাখকে।
সাহিত্য একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকদের হত্যাতেও একাডেমি চুপ থাকায় শুরু হয় প্রতিবাদ। জওহরলাল নেহরুর ভাগনি নয়নতারা সায়গল প্রথম সাহিত্য একাডেমির পুরস্কার ফেরত দেন। তারপর একে একে বিভিন্ন প্রদেশের বিভিন্ন ভাষার প্রায় ৪০ জন সাহিত্যিক ফিরিয়ে দেন এই পুরস্কার, যাঁদের কেউ কেউ এই সংস্থার সঙ্গে যুক্তও।
সাহিত্য একাডেমির নিস্পৃহতায় ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ এসব প্রতিবাদী লেখক সংস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। গতকাল শুক্রবার সংস্থার কর্মসমিতির বৈঠকের আগে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জড়ো হওয়া শতাধিক লেখক গতকাল সফদার হাশমি মার্গ এলাকায় শ্রীরাম সেন্টারের সামনে থেকে মিছিল করেন। বিক্ষোভকারীদের হাতে হাতে ধরা ছিল নিহত লেখকদের ছবি। মুখে বা হাতে কালো কাপড় বাঁধা। মিছিল নিয়ে তাঁরা সাহিত্য একাডেমিতে গিয়ে স্মারকলিপি পেশ করেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কবি পঙ্কজ সিং বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘এদের (চরমপন্থী) এজেন্ডা না মানলে তাদেরই লক্ষ্যে পরিণত করা হবে।’
তবে লেখক শীব শঙ্কর আয়স্থি বলেন, ‘কালবুর্গির খুনের ঘটনা একটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। এর সঙ্গে রাজনীতি টেনে আনা ঠিক হবে না। লেখকদের পুরস্কার ফেরত দেওয়ার ঘটনা একটি খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।’
লেখকদের বিক্ষোভের পর গতকাল সাহিত্য একাডেমির কর্মসমিতির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়, সাম্প্রতিক ঘটনায় কর্মসমিতি গভীরভাবে বেদনাহত। মুক্তচিন্তার স্বাধীনতাকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে।
একাডেমির সদস্য কৃষ্ণস্বামী নাচিমুথু সাংবাদিকদের বলেন, ‘লেখক কালবুর্গির হত্যার ঘটনায় একাডেমি তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে জন্য পদক্ষেপ নিতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।’
সাহিত্য একাডেমি একই সঙ্গে অনুরোধ জানিয়েছে, যে লেখকেরা তাঁদের পুরস্কার ফেরত দিয়েছেন, তাঁরা যেন তা ফিরিয়ে নেন।
লেখকদের পুরস্কার ফেরত দেওয়ার বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারকে যথেষ্ট বিপাকে ফেলে দিলেও এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দীর্ঘদিন কোনো কথা বলেননি। বরং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি এই বিক্ষোভকে কংগ্রেস আমলের দাক্ষিন্নাভোগীদের বানানো আন্দোলন বলে অভিহিত করেছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও সাহিত্য একাডেমির সভাপতি বিশ্বনাথ প্রসাদ তিওয়ারি কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত শুক্রবারের এই কর্মসমিতির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়। এখন দেখার, সাহিত্য একাডেমির আবেদন মেনে ক্ষুব্ধ লেখকেরা তাঁদের পুরস্কার ফেরত নেন কি না।

প্রেসিডেন্টকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ভাইস প্রেসিডেন্ট গ্রেফতার

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনকে হত্যাচেষ্টার কথিত অভিযোগে দেশটির ভাইস  প্রেসিডেন্ট আহমেদ আদিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিদেশ থেকে এক সরকারি সফর শেষে ফেরার পর আদিবকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়।
মালদ্বীপের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উমর নাসির বলেছেন, আহমেদ আদিবকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহীতার সর্বোচ্চ অভিযোগ আনা হবে।
আদিবকে একটি কারাদ্বীপে রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব থেকে হজ শেষে দেশে ফেরেন প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন।
বিমানবন্দর থেকে প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বোটটি রাজধানী মালের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর বোটে রহস্যময় এক বিস্ফোরণ থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পান তিনি। কিন্তু বিস্ফোরণে তার স্ত্রী, এক সহকারী ও এক দেহরক্ষী আহত হন।
ঘটনার পরপরই নিজ সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন। এর সপ্তাহখানেকের মধ্যেই বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাও চাকরিচ্যুত হন।

স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিই বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে: কামাল লোহানী

একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের যে আদর্শ আমরা লালন করেছি তার পূর্ণতা এখনো দেখতে পাইনি। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতার সপক্ষে। যে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র আমাদের স্বপ্ন ছিল, সেই স্বপ্নের পথে কাঁটা হয়ে উঠেছে মৌলবাদী স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির উত্থান। গত চার দশকে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তিগুলো টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। অন্যদিকে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিগুলো একত্রিত হয়েছে। বিভিন্ন নামে তারা সংগঠিত হয়েছে। আর স্বাধীনতাবিরোধী সেই শক্তিই আজ মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের মন্টিফিউরি সেন্টারে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ব্রিটেনের প্রাচীনতম বাংলা সংবাদপত্র সাপ্তাহিক জনমত এর আয়োজনে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। জনমত এর প্রধান সম্পাদক সৈয়দ নাহাস পাশার সভাপতিত্বে ও নির্বাহী সম্পাদক সাঈম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রেস মিনিস্টার নাদীম কাদির, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য ডা. রফিকুল হাসান খান, কবি শামীম আজাদ ও লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক চৌধুরী। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক জনমত এর পলিটিক্যাল এডিটর ইসহাক কাজল, বিলেতের বাংলা মিডিয়ার কার্যক্রম তুলে বক্তব্য রাখেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি মাহবুব রহমান। সভায় কামাল লোহানী আরও বলেন, সবকিছুর মূলেই হলো রাজনীতি। রাজনীতি যদি সঠিক পথে না চলে তবে রাষ্ট্র প্রত্যাশিত পথে চলে না। আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা যাতে অন্যায় করার সুযোগ না পান সেই লক্ষ্যে সাংবাদিকসহ সমাজের সকল পর্যায় থেকে সাধারণ মানুষকে পাহারাদের ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম সংগঠক কামাল লোহানী বেতার কেন্দ্রে তার যোগদানের স্মৃতিচারণ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে কলকাতায় অবস্থানকালে সাংবাদিক আমিনুল হক বাদশার সাথে দেখা হয় বাংলাদেশ মিশনের সামনে। তিনিই আমাকে ট্যাক্সিতে উঠিয়ে নিয়ে যান বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে। সেখানে তখন আয়োজন চলছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র এর ৫০ কিলোওয়াট মিডিয়াম ওয়েভ ট্রান্সমিটারের উদ্বোধন। সেদিন থেকেই আমি এই বেতারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ি। মুক্তিযুদ্ধকালীন বেতার কেন্দ্রের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, বাঙালি জাতির মাঝে মৃতসঞ্জীবনী সুধা সঞ্চার করে সাড়ে ৭ কোটি মানুষকে উজ্জীবিত করে রাখে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। এই বেতারে অনুষ্ঠান সম্প্রচারের মাধ্যমে আমরা পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে মনস্তাত্বিক যুদ্ধে জয়ী হওয়াতেই তারা মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। মতবিনিময় সভায় বিলেতের বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রধান সম্পাদক বেলাল আহমদ, সাপ্তাহিক জনমত এর বার্তা সম্পাদক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, বাংলা টাইমস এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাসন, বাংলা নিউজ টুয়েন্টিফোরের প্রতিনিধি সৈয়দ আনাস পাশা, টাওয়ার হ্যামলেটস মেয়রের পলিটিক্যাল এডভাইজার সৈয়দ মনসুর উদ্দিন, সাপ্তাহিক দেশ পত্রিকার সম্পাদক তাইছির মাহমুদ, সুরমা সম্পাদক আহমেদ ময়েজ, সাংবাদিক হামিদ মোহাম্মদ, শাহাবুদ্দিন বেলাল, এনআরবি প্রতিনিধি মতিয়ার চৌধুরী, ডেইলি স্টার প্রতিনিধি আনসার আহমেদ উল্লাহ, চ্যানেল এস এর বার্তা সম্পাদক কামাল মেহেদী, ইকরা টিভির বার্তা প্রধান হাসান হাফিজ, বাংলা টাইমস এর নিউজ এডিটর মো. এমরান আহমদ, ম্যানেজিং ডিরেক্টর আহমেদ নাসির, জনমত প্রতিনিধি আহাদ চৌধুরী বাবু, চ্যানেল এস এর সিনিয়র রিপোর্টার ইব্রাহিম খলিল, জাকির হোসেন কয়েস, রেজাউল করিম মৃধা, এনটিভির এম.এ কাইয়ূম, বাংলা পোস্টের শিহাবুজ্জামান কামাল, গ্লোবাল নিউজ সম্পাদক নাজমুল হোসেন।

বছর জুড়েই ধান চাষ

বছরের যে কোন সময় রোপন করা যাবে, সারও লাগে কম। আর ফসল ঘরে তোলা যাবে রোপণের দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে। এরকম চার জাতের ধান উদ্ভাবন করেছেন, জিন বিজ্ঞানী ও ধান গবেষক আবেদ চৌধুরী। দেশীয় ধান থেকে ব্রিডিং করে হাফিজা, জালালিয়া, তানহা ও ডুম নামে চার জাতের ধান উদ্ভাবন করেছেন, অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এই বিজ্ঞানী। এরই মধ্যে মৌলভীবাজারে এই ধানের আবাদে সাফল্যও এসেছে। আর এই ধান আবাদে আগ্রহী হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। ধান গবেষক আবেদ চৌধুরীর বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের কানিহাটি গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অষ্ট্রেলিয়াপ্রবাসী। তবে সম্প্রতি দেশে এসে নিজের উদ্ভাবিত চার জাতের ধানের পরীক্ষামূলক কাজ শুরু করেন।  বীজতলা তৈরির পর; চলতি বছরের জুন মাসে গ্রামের চার বিঘা জমিতে ধান রোপন করেন তিনি। এরপর গেলো সপ্তাহে ধান কাটার পরই পেলেন সফলতা। আবেদ চৌধুরী জানান, পাঁচ বছর গবেষণা করে দেশীয় ধান থেকে ব্রিডিং করে হাফিজা, জালালিয়া, তানহা ও ডুম নামে চার জাতের নতুন ধান উদ্ভাবন করেছেন। এই চার জাতের ধানের বীজতলা থেকে শুরু মাত্র ১০৮ দিনের মধ্যেই মাঠ থেকে ফসল সংগ্রহ করা যায়। বছরের অন্যান্য সময়েও চাষাবাদ করা যাবে নতুন উদ্ভাবিত এই চার জাতের ধান। ড. আবেদ চৌধুরী আরো জানান, কীভাবে দেশীয় ধান সংরক্ষণ করা যায় এবং বিলুপ্তপ্রায় ও দেশীয় ধান থেকে হাইব্রিড পদ্ধতিতে না গিয়ে ব্রিডিং কোরে নতুন ধান উদ্ভাবন করা যায়, তিনি সেই চেষ্টাই করছেন। যা ছড়িয়ে দিতে চান আনাচে-কানাচে। সাধারণ আমন মৌসুমে ধান করলে ঘরে ফসল তোলা যায় অগ্রহায়ণে। কিন্তু এই মৌসুমে চার জাতের ধান চাষাবাদ কোরে আশ্বিনেই ফসল তোলা গেছে। তাই কৃষকরাও আগামীতে এই চার জাতের ধান আবাদে আগ্রহী। আবেদ চৌধুরীর মতে, তার উদ্ভাবিত ধান আগে ঘরে আসায় খাদ্য সংকট দূর হবে আর অগ্রহায়ণের বদলে আশ্বিনই নবান্ন উৎসবে মেতে উঠতে পারবে কৃষকরা।

‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ক্ষমতাসীনদের মতো কথা বলছে’ -বিএনপি

বোমা হামলার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছে বিএনপি। ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই ঘটনার জন্য যারা দায়ী, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে অবিলম্বে সেই দুস্কৃতিকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাই। শনিবার দুপুরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, কোন ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে তদন্তের আগে বিএনপিকে জড়িয়ে বক্তব্য দেয়া হচ্ছে। আর বিভিন্ন হত্যাকা-ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এখন ক্ষমতাসীনদের ভাষায় তাদের মতো করে কথা বলছে। এসব অনাকাঙ্খিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হলে এক সময় তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, দলকে বিভিন্ন সময়ে ভাঙার চেষ্টা হয়েছে, বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছে। এখন বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বিএনপি সম্পূর্নভাবে একটি উদারপন্থি গণতান্ত্রিক দল। এই দলটিকে জঙ্গিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত কথা বলে সরকারি দলের লোকেরা বিএনপিকে ভুলভাবে চিত্রিত করতে চায়। একটি কথা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিএনপি গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে বিশ্বাস করে। বিএনপি সেই দল যারা বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছে এবং সংসদীয় গণতন্ত্রেও সূচনা করেছে। বিএনপি সবসময় মানুষের অধিকার নিয়ে আন্দোলন করেছে।
তিনি বলেণ, লন্ডনে চিকিৎসা শেষে অতি দ্রুত দেশে ফিরবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থান করা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ‘দেশে ফিরবেন না’-বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই সংক্রান্ত খবরের কঠোর সমালোচনা করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান ফখরুল।
বলেন, এটি একটি গভীর চক্রান্ত। বিএনপি নেত্রী তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে সবসময় ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গেই কথাগুলো বলতে চাই, তিনি (খালেদা জিয়া) চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গেছেন। চোখের চিকিৎসা চলছে। একই সঙ্গে পায়ের চিকিৎসাও হচ্ছে। চিকিৎসক ছেড়ে দেয়া মাত্রই তিনি দেশে ফিরে আসবেন।

বেতন স্কেল পুনর্নির্ধারণে আলটিমেটাম প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির

অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল পুনর্নির্ধারণ এবং মাঠপর্যায়ে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ‘খবরদারি’ বন্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারকে সময় বেঁধে দিয়েছেন অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা। তাদের অভিযোগ, প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সুবিধা বাড়াতে বেতন স্কেল থেকে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বাতিল করা হয়েছে। আগামী ৮ নভেম্বরের মধ্যে ‘আন্তঃক্যাডার বৈষম্য’ দূর না করলে কঠোর কর্মসূচির হুমকি দেয়া হয়েছে। শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির’ সমাবেশ থেকে ওই হুমকি দেয়া হয়। সরকারি প্রকৌশলী, কৃষি ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং প্রশাসন ছাড়া অন্যান্য বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তারা এখন থেকে একযোগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবেন বলে সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা সমাবেশে অংশ নেন। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের ভেতরে স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাইরে প্রজেক্টরের ব্যবস্থা করতে হয় আয়োজকদের। দাবি আদায়ে ১১ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেন ‘প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির’ আহ্বায়ক ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ২৮ অক্টোবর দেশের সব উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও কেন্দ্রীয়ভাবে দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত মানববন্ধন, ৫ নভেম্বর উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিবাদ সমাবেশ এবং এই সময়ের মধ্যে জনপ্রতিনিধি ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা। ৮ নভেম্বরের মধ্যে দাবি মানা না হলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি। বেতন স্কেলে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল পুনর্বহাল, ইউএনও’র ক্ষমতা কমিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের ক্ষমতায়ন, নিজস্ব ক্যাডার ও ফাংশনাল সার্ভিস বহির্ভূত সব ধরনের প্রেষণ বাতিল এবং সব ক্যাডার ও ফাংশনাল সার্ভিসে পদোন্নতির সমান সুযোগের দাবি জানান তিনি। প্রশাসন ক্যাডারের দিকে ইঙ্গিত করে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের সভাপতি নাছিম বলেন, “একটি কুচক্রী মহল ২৬টি ক্যাডারের সঙ্গে বৈষম্য তৈরি করেছে, রাস্তায় নামতে বাধ্য করছে। এর মাধ্যমে তারা একটি গতিশীল গণতান্ত্রিক সরকারের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়।” উপজেলা পরিষদের কাছে ১৭ দপ্তর হস্তান্তরের বিষয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ১৪ অক্টোবর একটি অফিস স্মারক জারি করা হয়। এতে বলা হয়, উপজেলা পরিষদে ন্যস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের হিসাব এবং উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হিসাব উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউএনওর স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে। সমাবেশ থেকে ইউএনওর স্বাক্ষরসংক্রান্ত এই আদেশ বাতিল করার দাবি জানান প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির নেতারা। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান বলেন, “বেতন কমিশনের চেয়ারম্যান ফরাসউদ্দিন বললেন, কমিটির সুপারিশে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের বিষয়টি সচিব কমিটি বাতিল করেছে। সরকারি চাকরি বিধিতে সচিব কমিটি বলতে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই, অথচ তারা বাতিল করে দিল! সুপারিশ পরিবর্তনের ক্ষমতা তো শুধু মন্ত্রিসভার থাকার কথা। আমরা অবিলম্বে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিলের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবি জানাই।” আর্সলান বলেন, “প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা নিজেদের জন্য সবকিছু চাচ্ছেন আর অন্যদের হেনস্তা করছেন। দিনে দিনে তারা ফ্রাঙ্কেস্টাইন হয়ে উঠছে। মনে হচ্ছে, কয়েক দিন পর তারা ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে মন্ত্রীর ওপর পদমর্যাদা চেয়ে বসবেন।” বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নাসরিন বেগম বলেন, “বেতন কমিশনের সুপারিশ পরিবর্তন করে তারা ঔদ্ধত্য দেখিয়েছে। পরিবর্তন করার থাকলে সেটা মন্ত্রিসভা করত। তারা (সচিব কমিটি) নিজেদের আরও উপরে উঠানোর ব্যবস্থা করল, সুপার গ্রেড দিল। কিন্তু অন্য ক্যাডারে গ্রেড না বাড়িয়ে অবনমন করা হয়েছে। অধ্যাপক নাসরিন বেগম বলেন,  “তারা এখন সুপারম্যান হয়ে উঠছেন, আর আমাদের ভাবছেন আম-আদমি। তাদের বোঝা উচিত আম-আদমিরা এক হলে সুপারম্যানরা ধ্বংস হয়ে যাবে।” শিক্ষা ক্যাডারের সাড়ে ১৫ হাজার শিক্ষক ও কর্মকর্তা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে মাঠে থাকবে বলে ঘোষণা দেন তিনি। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির মহাসচিব সলিমউল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, “আমরা যতই উপরে উঠি না কেন আমাদের চতুর্থ গ্রেডেই থাকতে হবে। কোনোভাবেই তৃতীয় গ্রেডে যেতে পারব না। ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষও আসবেন প্রশাসন ক্যাডার থেকে। আমরা এটা কোনোভাবে হতে দিতে পারি না।” বিএমএ সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান বলেন, “বেতন স্কেলে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের যে সুবিধা আগে পাওয়া যেত সেটা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আমরা কোনো নতুন দাবি নিয়ে আসিনি, আগে পাওয়া সুবিধা প্রত্যাহারের প্রতিবাদ জানাচ্ছি।” ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সভাপতি প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, নতুন বেতন স্কেলে মাত্র একটি ক্যাডারই উপকৃত হবে। আর বাকি সবাইকে অবনমন করা হয়েছে। ব্রিটিশ আমলে ট্যাক্স কালেকশনের জন্য নিয়োগ দেয়া হতো এই অফিসারদের, পরে আসে তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার। এখন তারা সবকিছুর নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠতে চাইছেন। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও নাকি তাদের হাত দিয়েই হতে হবে! এভাবে চলতে পারে না।” সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বিসিএস সমন্বয় কমিটির নেতা শ ম গোলাম কিবরিয়া, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের সহসভাপতি মোবারক আলী, বিসিএস সমন্বয় কমিটির সহসভাপতি তাসাদ্দুক আহমেদ, বিসিএস সড়ক ও জনপদ সমিতি সভাপতি মনির হোসেন, বিসিএস হেলথ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. সেলিম রেজা, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন সহসভাপতি নজরুল ইসলাম, সম্মিলিত সরকারি কর্মকর্তা পরিষদ সভাপতি শফিউল আলম, বিসিএস কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খাইরুল আলম প্রিন্সসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।

মেক্সিকোতে শক্তিশালী হারিকেনের আঘাত

মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার শক্তিশালী সামুদ্রিক ঝড় (হারিকেন) প্যাট্রিসিয়া আঘাত হেনেছে। আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড়টি ৫ মাত্রার। শক্তির দিক থেকে এটি রেকর্ড ভঙ্গকারী।
মেক্সিকোর পশ্চিমাঞ্চলের জালিসকো রাজ্যে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হেনেছে। প্রবল বর্ষণের সঙ্গে ঝোড়ো বাতাস বয়ে যায়। এতে গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়। কর্তৃপক্ষ উপকূলের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে। সাগর তীরের হোটেলগুলো থেকে পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর ও স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় পানি কমিশনের পরিচালক রবার্তো রামিরেজ মেক্সিকোর মিলেনিও টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সেখানকার গুরুত্বপূর্ণ বন্দর মানজানিলো থেকে ৯৫ কিলোমিটার পশ্চিমে এমিলিয়ানো জাপাতা শহরে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হেনেছে।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এনরিক পিনা নিয়েতো রেডিও ফর্মুলাকে বলেন, তাঁরা বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছেন। তবে প্রাথমিকভাবে কেউ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার শক্তিশালী সামুদ্রিক ঝড় (হারিকেন) প্যাট্রিসিয়া আঘাত হেনেছে। সেখানে প্রচণ্ড বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাস বয়ে যায়। ছবি: এএফপি

বিব্রতকারী ব্লগার, বিব্রত সরকার by ইব্রাহিম খলিল

শুরুতে সরকারের জন্য দু’টি বিব্রতকর কথা বলি। প্রথমত, সরকার ভাবে সারাদিন তাদের প্রশংসা করা জনগণের ডিউটি। দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগ বিস্মিত হয় এই ভেবে যে, দেশের সব মানুষ কেন আওয়ামী লীগ সমর্থন করে না।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় ১৩ অক্টোবরে প্রকাশিত একটা সংবাদ পড়লাম। সংবাদের শিরোনাম ‘চিহ্নিত হচ্ছে বিব্রতকারী ব্লগাররা।' শিরোনাম পড়ে বিশাল খটকা লাগলো। কথিত এসব ব্লগার কাদেরকে বিব্রত করে? কীভাবে বিব্রত করে? সংবাদের বিস্তারিত পড়ে বুঝলাম এরা আসলে সরকারকে বিব্রত করে। বিষয়টা বুঝতে পেরে দারুণভাবে আতংকিত হলাম।
সংবিধানের কোথাও লেখা নেই যে, সরকারকে বিব্রত করা যাবে না। অথচ সরকার বিব্রতকারী ব্লগারদের চিহ্নিত করছে। নিশ্চয় এটা নিছক কোনো গণনা নয়। কিংবা চিহ্নিত ব্লগারদের পুরস্কৃতও করা হবে না। সম্ভাব্য নির্যাতন বা নিপীড়নের প্রথম ধাপই হচ্ছে বিব্রতকারী হিসেবে চিহ্নিত করা।
মনের মাঝে শত শত প্রশ্ন। ব্লগাররা কি কি লিখলে সরকার বিব্রত হয়? এই বিব্রত হওয়া কি কেবলই সরকারের স্বাধীনতা, নাকি কোনো আইনী ব্যাখ্যা আছে? কোনো ব্লগার লিখলো ‘সরকার দুর্নীতিবাজ,’ এতেই কি সরকার বিব্রত হবে? নাকি ‘সরকার দুর্নীতিবাজ নয়,’ এটা না লেখার কারণে বিব্রতবোধ করবে? তাছাড়া ব্লগাররা কি আসলেই সরকারকে বিব্রত করার জন্য লিখে? নাকি সরকার বিব্রত হওয়ার জন্য ওঁৎ পেতে থাকে? সুযোগ পেলেই বিব্রতবোধ করে?
বাংলাদেশ প্রতিদিন এর সংবাদে আরো পড়েছি ধর্ম নিয়ে লেখালেখি করেও নাকি কিছু ব্লগার সরকারকে বিব্রত করে। এখন আমার কানে কেবল বাজছে, এই সরকার বিব্রত হয়, এই সরকার বিব্রত হয়। আহারে, সরকার বিব্রত হয়। অনেকক্ষণ কানে বাজতে থাকলে নিজেই বিব্রতবোধ করি। সরকার ঠিক করে দিবে ব্লগাররা কী লিখবে আর কী লিখবে না। দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা এই পর্যায়ে আছে।
দেশে কোনো বিরোধী দল নেই। রাজনীতির মাঠে সরকারের গঠনমূলক বিরোধিতা করার মতো কেউ নেই। জাতীয় পার্টি নাকি বিরোধী দল। কার বিরোধী দল, তা বুঝি না। তবে এতটুকু বুঝি, তারা আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো বিরোধিতা করে না। এমনকি সরকারে তাদের মন্ত্রীও আছে। এই দলটি বিরোধী দলের মর্যাদা পাওয়ার পর একটি জনমুখী ইস্যুতেও আন্দোলন করেনি, সংসদে জোরালো কোনো ভূমিকা রাখেনি।
তারচেয়ে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা দারুণ একটা ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে নেতাকর্মীদের বড় বড় ছবিওয়ালা ব্যানার ফেস্টুন অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছে এবং ১২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বরাবর ১৯ দফা দাবি জানিয়েছে, যার সবগুলোই শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করে। এই ঘটনার পর আমার মনে হয়েছে রাজনীতির মাঠে আওয়ামী লীগের একমাত্র যোগ্য বিরোধী দল ছাত্রলীগের ঢাবি শাখা।
দেশে বিরোধীদল নেই, এটা আওয়ামী লীগের জন্য স্বস্তি। এই স্বস্তি ভুল এবং এটা দেশের ভবিষ্যতের জন্য খুবই খারাপ ফল বয়ে আনবে। আরো ভয়ংকর বিষয় হচ্ছে, কেবল রাজনীতি নয়, রাজনীতির বাইরেও আওয়ামী লীগ কোনো ভিন্নমত সহ্য করছে না, সমালোচনা সহ্য করছে না। এই সহ্য না করার বিষয়টি সর্বমহলে আওয়ামী লীগকে অসহ্যকর করে তুলছে।
বিরোধী দলহীন দেশে ব্লগ ফেসবুক বেশ গঠনমূলক ভূমিকা রাখছে। সরকারের একটি ভুল সিদ্ধান্তও বিনা বাধায় কার্যকর হতে পারছে না। বরং ব্লগার ফেসবুকাররা অনেক সিদ্ধান্ত পাল্টে দিয়েছে। সরকার বুদ্ধিমান। বুঝতে পেরেছে বিএনপি নেতাদের আর জেলে ভরে লাভ নেই।
আসল প্রতিপক্ষের দিকে নজর দিতে হবে। ইতিহাস বলে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ হওয়া কোনো আনন্দের বিষয় নয়। এরা প্রতিপক্ষের প্রতি খুবই নির্মম। নৃশংসভাবে প্রতিপক্ষ দমন করতে আওয়ামী লীগের জুড়ি নেই। মনে মনে ভাবি এই দলটি যদি দুর্নীতি আর দুঃশাসনকেও নিজেদের প্রতিপক্ষ মনে করতো, তাহলে কারণে অকারণে দলটিকে এত বেশি বেশি বিব্রত হতে হতো না।
প্রতিপক্ষ বাদ। এবার আসি বিব্রত হলে সরকার কী করে, সে প্রসঙ্গে। সরকার বিব্রতকারী ব্লগারদের চিহ্নিত করবে। আমি জানি না চিহ্নিত ব্লগারদের জীবনে কী দুঃসময় অপেক্ষা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে মাগুরায় মাতৃগর্ভে শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়া এবং রাজধানীতে নির্যাতন শেষে শিশু হত্যা করে কয়েকজন দলীয় নেতাকর্মী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে বিব্রত করেছে। বিব্রত হয়ে সরকার দুই মামলার দুই প্রধান আসামীকে বন্দুকযুদ্ধের নামে বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যা করে। একজন প্রশ্ন ফাঁসকারীও সরকারকে বিব্রত করার পর হার্ট অ্যাটাকে (!) মারা যান।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে ব্লগারদের দুশ্চিন্তা কেন? ব্লগাররাতো আর মাতৃগর্ভের শিশুকে গুলি করছে না, কিংবা নির্যাতন করে হত্যা করছে না, কিংবা প্রশ্ন ফাঁস করছে না। তাহলে ব্লগারদের অহেতুক দুশ্চিন্তা করার মানে হয় না। কিন্তু আসলে কি তাই? ব্লগাররা একদিকে সরকারকে বিব্রত করছে, আরেকদিকে বর্তমানে সরকারের একমাত্র প্রতিপক্ষ। দুইয়ে মিলে তাদের উপর সরকারের চোখ কতটুকু বড় হবে আর কী পরিমাণ লাল হবে, ভাবতেই ভয় পাচ্ছি।
আমিও একজন ব্লগার। আমারও প্রাণের ভয় আছে। আমি জানতে চাই ব্লগাররা কী কী লিখলে সরকার বিব্রত হয়। আমি আরো জানতে চাই, যেসব ব্লগারের লেখালেখির কারণে সরকার বিব্রত হবে, তাদের বিচার কোন আইনে হবে। জানতে চাই আমি বিব্রতকারী ব্লগারদের তালিকায় আছি কিনা, তা কিভাবে বুঝবো।
২০০৮ সালে ব্লগে লেখালেখি শুরু করার পর মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে সম্যক ধারণা নেয়ার চেষ্টা করেছি। কিছু পড়াশোনা শেষে বুঝলাম মত প্রকাশের স্বাধীনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় এবং প্রত্যেক মানুষের অধিকার আছে তার চিন্তা ভাবনা প্রকাশ করার। বাংলাদেশের মানুষ খুবই ভাগ্যবান। জাতিসংঘ সনদের চেয়েও বাংলাদেশের সংবিধানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা বেশি দেয়া হয়েছে।
জাতিসংঘ সনদের ফ্রিডম অব স্পিচ (বাক স্বাধীনতা), ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন (ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা) এর বিপরীতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংবিধান তার নাগরিকদের জন্য ফ্রিডম অব থট (চিন্তার স্বাধীনতা)এবং ফ্রিডম অব কনসায়েন্স (বিবেকের স্বাধীনতা) নামের আরো দু’টো অধিকার দিয়েছে।
ওই সময়ের পড়াশোনার কোথাও ‘সরকারকে বিব্রত করা’ টাইপের কোনো কথা চোখে পড়েনি। এখন পড়ছে। পড়তেই পারে। তখন আর এখনকার সময়ের মাঝে ৮ বছরের ব্যবধান। দিন বদলেছে, সবকিছু বদলেছে। এখন সরকার বিব্রত হয়। একজন ব্লগার হিসেবে এটা আমার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। বিষয়টি বিবেচনায় আনা উচিত। কিন্তু বিব্রত হওয়া বিষয়ে পরিস্কার কোনো ধারণা পাচ্ছি না।
সরকার যেহেতু, সুশাসনের তোয়াক্কা না করে যে কোনভাবেই হোক ক্ষমতায় থাকতে চায়; যেহেতু ক্ষমতায় থাকার পথটা রেশমি কাপড়ের মত মসৃণ করতে চায়, সেহেতু সরকারের উচিত কার্যকর কিছু উদ্যোগ নেয়া। সরকার চাইলে এসব উদ্যোগকে ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণার সাথে সম্পৃক্ত করে নিতে পারে।
‘দায়িত্বশীল ব্লগার (Responsible Blogger)’ নামে একটা ওয়েবসাইট খুলতে পারে। যেখানে একজন ব্লগার কী কী বিষয়ে লিখলে সরকার বিব্রত হবে পারে, তার বিস্তারিত বিবরণ থাকবে। সরকার বিব্রত হয়ে গেলে কী পরিণামের মুখে পড়তে হবে, এ বিষয়ও পরিস্কারভাবে লেখা থাকবে। কোনো কারণে বিব্রতকারী ব্লগার হিসেবে চিহ্নিত হয়ে গেলে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য কী কী করতে হবে, তাও বলা থাকবে। একটি সার্চ বক্স থাকবে, যেখানে একজন ব্লগার নিজের নাম লিখে সার্চ দিয়ে দেখতে পারবে তিনি বিব্রতকারী ব্লগারের তালিকায় আছেন কিনা।
আমি হয়তো একটু বাড়িয়ে বলেছি, কিন্তু সরকারের উচিত যেভাবেই হোক বিষয়গুলোর স্পষ্ট ব্যাখ্যা করা। সরকারের সহ্য ক্ষমতা কতটুকু, তা জানাতে হবে। ব্লগাররা যেন পরিস্কার ধারণা পায়, সে ব্যবস্থা করা। তাহলে আমার মতো যারা নির্যাতন নিপীড়নে ভয় পায়, তারা সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী লেখালেখি করে নিজেকে বাঁচাতে পারবে। ব্লগারাও এই দেশের নাগরিক। আশা করি সরকার বিব্রত হওয়া বিষয়ে স্পষ্টতা আনয়নের মাধ্যমে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। নির্যাতন মোটেও মানবিক বিষয় নয়।
বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দলগুলো সব সময় সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে নানানভাবে নিজের অপকর্মের অংশ করে নেয়। সৃজনশীল মানুষদেরকেও দুর্নীতির মূল স্রোতে নিয়ে আসার ফাঁদ পাতে। এই ফাঁদে বেশিরভাগই পা দেয়। একসময় দেশের পত্রিকাগুলোয় প্রচুর রাজনৈতিক স্যাটায়ার দেখা যেতো। সৃজনশীল মহল থেকে বেশি বেশি কার্যকর সমালোচনা, প্রতিবাদ দেখা যেতো। এখন আর দেখা যায় না। সবকিছু নির্বিষ হয়ে গেছে। এই নির্বিষ সময়ে সরকারের কানে বিষ ঢালতে পারে একমাত্র ব্লগাররা। মুখের উপর সবকিছু বলে দিতে পারে।
আবার ব্লগারদের মধ্যে একটা শ্রেণী সরকারের ক্ষমতার ছায়াতলে আছে। তারা সরকারের সম্পদ। তাদের কোনো সমস্যা নেই, হয় না। তারা সরকারকে বিব্রত করে না। সরকার খুব দরদের সাথে এ ধরনের ব্লগারের খামার বানাচ্ছে।
আরেকদিকে কিছু ব্লগার মারা যাচ্ছে। মৃত্যুর অপেক্ষায় আছে। সুকৌশলে ধর্মের শাক দিয়ে এসব হত্যাকাণ্ড ঢেকে দেয়া হচ্ছে। আগে সাধারণ মানুষ বিএনপি জামায়াতের ধর্ম ব্যবসায় বিভ্রান্ত হতো। এখন হয় আওয়ামী লীগের ধর্ম ব্যবসায়। আওয়ামী লীগ আপ্রাণ চেষ্টা করেছে সবাইকে বুঝাতে যে, ব্লগাররা শুধু ধর্মকে কটাক্ষ করে, আর কিছু করে না। এটা বুঝানোর জন্য ব্লগার গ্রেফতার করেছে, পুলিশ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে এমপি, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত ব্লগারদের হুমকি দিয়েছে।
এখন বিব্রতকারী ব্লগারদের তালিকা করছে। যেসব ব্লগারের অনেকগুলো অপরাধের (!) একটা অপরাধ ধর্ম নিয়ে লেখালেখি করা। ধর্ম নিয়ে লেখালেখির বিষয়টাকে একটা স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে প্রচার করতে বিএনপি-জামাত-আওয়ামী লীগ জোট বেঁধে কাজ করেছে।
ব্লগার হত্যার বিচার কিংবা হত্যা বন্ধে সরকারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ কেউ দেখেনি। কারো সামনে কোনো সন্তোষজনক তথ্য সরবরাহ করতে পারেনি। সরকার ব্যস্ত আছে বিব্রতকারী ব্লগারদের তালিকা করতে। একদিকে সরকার বানাচ্ছে বিব্রতকর ব্লগারদের তালিকা, আরেকদিকে বিভিন্ন অপমানজনক আন্তর্জাতিক তালিকায় বাংলাদেশের নাম ঢুকছে।
কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট, সিপিজে-এর অপরাধীদের বিচার না হওয়া বিষয়ক গ্লোবাল ইমপিউনিটি ইনডেক্সে বাংলাদেশের নাম এসেছে। বিশেষত ব্লগার হত্যার বিচারে সরকারের আন্তরিকতা না থাকার কারণে এই গৌরব অর্জন করেছি আমরা।
এখানে সরকার নিপীড়নের উদ্দেশ্যে তালিকা বানাবে, আর অন্য কোথাও অন্য কেউ নিপীড়কের তালিকায় সরকারের নাম লিখে দিবে। এভাবেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে!
চ্যানেল আই অনলাইন