Wednesday, August 12, 2026
মিসরের জাহাজে হুতিদের হামলায় নিহত ৬
এতে আগুন লেগে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আক্রমণের ফলে জাহাজটিতে উদ্ধার অভিযানও ব্যাহত হয়। উদ্ধারকালীন সময়ে ফের ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ চালানো হলে ২ সেনা নিহত হন। ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে হুতিদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকরী ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। হামলার বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি হুতিরা। হুতি নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা সাবা জানায়, তারা একটি সৌদি জাহাজে হামলা চালিয়েছে যেটিতে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণ করা হচ্ছিলো। এ বিষয়ে সৌদি আরবের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Saturday, July 11, 2026
বিশ্বকাপের একটি মিশর-আর্জেন্টিনা ম্যাচ যেভাবে ফিলিস্তিন ইস্যুর প্রতীক হয়ে উঠল
ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার সময় মিশরের দ্বিতীয় গোল বাতিল করা হয়। এছাড়া আর্জেন্টিনার একটি গোলের আগে ভিএআর পর্যালোচনার আবেদনও গ্রহণ করা হয়নি। এতে অনেক সমর্থক ও বিশ্লেষক অভিযোগ করেন, ভিএআর সমানভাবে ব্যবহার করা হয়নি এবং মিসরের ৩-২ গোলের হার ন্যায়সংগত ছিল না।
মিশরের কোচ হোসাম হাসান ম্যাচ শেষে বলেন, খেলাটি ‘ন্যায্য হয়নি’। তিনি ইঙ্গিত দেন, ফিফা হয়তো আর্জেন্টিনা ও তাদের তারকা লিওনেল মেসিকে জেতাতে চেয়েছিল। পরে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয়।
এই বিতর্কের আড়ালে আরও বড় একটি বিষয় সামনে এসেছে। ফিলিস্তিন ইস্যু এখন আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনেও রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ডে পরিণত হচ্ছে।
ম্যাচের আগে থেকেই কোচ হোসাম হাসান প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে আসছিলেন। ৩ জুলাই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মিসরের জয় পাওয়ার পর তিনি মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ান এবং সেই জয় ফিলিস্তিনের জনগণকে উৎসর্গ করেন।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনেও তিনি ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘যার ফিলিস্তিনিদের জন্য সহানুভূতি নেই, সে মানুষই নয়।’
ম্যাচ চলাকালে গ্যালারিতেও এই রাজনৈতিক মতপার্থক্যের প্রকাশ দেখা যায়। গাজার ফিলিস্তিনিরা মিসরের পতাকা উড়িয়ে দলটিকে সমর্থন জানান। অন্যদিকে স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার কিছু সমর্থক ইসরায়েলের পতাকা প্রদর্শন করলে মিসরের সমর্থকেরা ফিলিস্তিনের পতাকা তুলে ধরেন।
আর্জেন্টিনার জনগণের একটি বড় অংশ ইসরায়েলের সমালোচক হলেও দেশটির বর্তমান সরকার ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই নিজেকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে জায়নবাদপন্থী প্রেসিডেন্ট’ বলে উল্লেখ করেছেন। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইসরায়েলের দৃঢ় সমর্থক।
ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও কারো অজানা নয়। তাদের এ সম্পর্ক ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ফিফা ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর দ্রুত রাশিয়াকে নিষিদ্ধ করলেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি। এ নিয়েও ক্রীড়াঙ্গনে সমালোচনা রয়েছে।
এসব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণেই মিসর-আর্জেন্টিনা ম্যাচের বিতর্ককে অনেকেই কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ হিসেবে দেখেননি। বরং অনেক সমর্থকের কাছে এটি এমন একটি বিশ্বব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে, যেখানে শক্তিশালী পক্ষ তুলনামূলক বেশি সুবিধা পায় । এতে করে আস্থার সংকট তৈরি হয় নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর।
এর মানে এই নয় যে ফিফা গোপনে আর্জেন্টিনাকে জেতানোর ষড়যন্ত্র করেছে। ক্ষমতার প্রভাব সব সময় পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে কাজ করে না, কখনও তা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থার সংকটের মধ্য দিয়েও প্রকাশ পায়।
মিশর-আর্জেন্টিনা ম্যাচের বিতর্ক হয়তো দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকবে। তবে একইসঙ্গে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে কোচ হোসাম হাসানের ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ানো এবং ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরার ঘটনাও অনেকের মনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
![]() |
| বিশ্বকাপে আর্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেয় মিশর। ছবি: সংগৃহীত |
Thursday, July 9, 2026
মিসর ম্যাচের ‘ডাকাতি’ নিয়ে মুখ খুললেন নিউইয়র্কের মেয়র
আটলান্টায় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২–০ গোলে এগিয়ে ছিল মিসর। এরপর আর্জেন্টিনা অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩ গোল করে ম্যাচ ৩–২ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। বিদায় নেয় মিসর। ম্যাচে ৫৮ মিনিটে মিসরের একটি গোল ফাউলের কারণে বাতিল হয়। সেই গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েই বিতর্ক হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।
গত বুধবার ভোটারদের সঙ্গে আলাপকালে মামদানি বাসের সেবা উন্নত করার একটি নতুন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। সেখানে মিসর ম্যাচের প্রসঙ্গ টানেন তিনি।
মামদানি বলেন, ‘আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাসে আপনাদের যাতায়াতের সময় ২৪ ঘণ্টা কমে আসবে। আর এক বছর পূর্ণ হতে হতে যাতায়তের সময় থেকে আপনারা বাঁচিয়ে ফেলতে পারবেন দুটির বেশি দিন। এর অর্থ হলো, আপনারা পরিবারের সঙ্গে সকালের নাশতা খাওয়ার সময় পাবেন। সন্তানের লিটল লিগ (বেসবল) ম্যাচে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে তর্ক করার মতো বাড়তি সময় পাবেন। এর মানে হলো, রাতে ঘুমানোর আগে সময়মতো বাড়িতে ফিরতে পারবেন।’
উগান্ডায় জন্ম নেওয়া মামদানি এরপর বলেন, ‘এর মানে হলো, বন্ধুদের আড্ডায় বসে এ বিষয়ে একমত হওয়ার সময় পাওয়া যে, গতকালের ম্যাচে মিসরকে সত্যিই “ডাকাতি” করে হারানো হয়েছে। আর সবকিছুর ঊর্ধ্বে, আসল অর্থ হলো—নিউইয়র্কবাসীদের সেই মহামূল্যবান সময় ফিরিয়ে দেওয়া, যার ভীষণ অভাব রয়েছে তাঁদের জীবনে।’
দ্রুতগতির বাসের কল্যাণে প্রতিদিন যে ছয় মিনিট সময় বাঁচবে, তা দিয়ে তিনি কী করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে বিতর্কিত রেফারিংকে আরও একবার খোঁচা দেন মামদানি, ‘বেঁচে যাওয়া ওই ছয় মিনিটে আমি সম্ভবত মিসরকে কীভাবে ডাকাতি করে হারানো হলো, সেই রিপ্লেগুলোই দেখব। বারবার দেখব।’
ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি তথা ভিএআরের দিকে ইঙ্গিত করে মামদানি রসিকতা করে বলেন, ‘আপনারা তো জানেন, এখন কেবল ভিএআর স্ক্রিনের মতো চারকোনা ইশারাটাই করার বাকি আছে।’
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হারের পর মিসরের কোচ হোসাম হাসান রেফারিংয়ের তীব্র সমালোচনা করেন। মেসি ও আর্জেন্টিনার প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে হোসাম হাসান বলেন, ‘হয়তো তারা চেয়েছিল, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা টুর্নামেন্টে টিকে থাকুক। হয়তো তারা চেয়েছিল, মেসি প্রতিযোগিতায় থাকুক।’
![]() |
| নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। এএফপি |
Friday, June 12, 2026
ইসরায়েলি প্রতারণায় শুরু হওয়া যে সংঘাত বদলে দিয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যের চিত্র by মুহাম্মাদ জাহিদুল ইসলাম
ওই যুদ্ধ শুধু কয়েকটি দেশের সীমানা বদলায়নি—বদলে দিয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতা। ফিলিস্তিন প্রশ্নের চরিত্র পাল্টে গেছে। আরব-ইসরায়েল সম্পর্কের নতুন সংজ্ঞা তৈরি হয়েছে। গাজা, পশ্চিম তীর বা জেরুজালেম নিয়ে আজ যে সংঘাত চলছে, তার অনেকটুকু শিকড় ওই ছয় দিনেই প্রোথিত।
গাজায় যখন বোমা হামলা হয়, পশ্চিম তীরে যখন উত্তেজনা ছড়ায়, জেরুজালেম নিয়ে যখন বিশ্বনেতারা তর্ক করেন—প্রতিবারই কোনো না কোনোভাবে ফিরে আসে সেই ছয় দিনের প্রসঙ্গ। কারণ, আজকের মধ্যপ্রাচ্যের অনেক সংকটের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল তখন।
কিন্তু ওই যুদ্ধ কেন হয়েছিল? কারা এর জন্য দায়ী? আর কেনই–বা প্রায় ছয় দশক পরেও এই যুদ্ধের ছায়া থেকে মধ্যপ্রাচ্য বের হতে পারছে না? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে ফিরে যেতে হবে আরও পেছনে।
যুদ্ধের আগের মধ্যপ্রাচ্য
১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আরব বিশ্বের সঙ্গে দেশটির সংঘাত চলছিল। ওই বছরই শুরু হয় প্রথম আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ। সেই যুদ্ধে ইসরায়েল টিকে গেলেও পুরো ফিলিস্তিন তাদের নিয়ন্ত্রণে আসেনি। পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম রয়ে যায় জর্ডানের হাতে, গাজা মিসরের নিয়ন্ত্রণে। লাখো ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়ে ছড়িয়ে পড়েন আশপাশের আরব দেশগুলোতে।
বিষয়টি সেখানেই থামেনি। যুদ্ধ–পরবর্তী বছরগুলোয় ইসরায়েলের ভেতরে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ধারা মনে করত, ১৯৪৮ সালে তাদের কাজ অসম্পূর্ণ থেকে গেছে। জেরুজালেমের পুরোনো শহর, পশ্চিম তীর এবং বাইবেলের সঙ্গে যুক্ত ফিলিস্তিনের বহু এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়ে গেছে।
পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত নথি, স্মৃতিকথা ও ইতিহাসবিদদের গবেষণায় দেখা যায়, ইসরায়েলের ভেতরে অনেকেই মনে করতেন, ভবিষ্যতে পুরো ফিলিস্তিন ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে আসা উচিত। তখন থেকেই মূলত পুরোপুরিভাবে ফিলিস্তিন দখলের ছক আঁকছিল ইসরায়েল।
অন্যদিকে সে সময় আরব বিশ্বে দ্রুত উত্থান ঘটেছিল মিসরের প্রেসিডেন্ট জামাল আবদেল নাসেরের। তিনি শুধু মিসরের নেতা ছিলেন না, তিনি আরব জাতীয়তাবাদের মুখ হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল বিভক্ত আরব বিশ্বকে এক রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করা। সুয়েজ খালকে পশ্চিমাদের হাত থেকে উদ্ধার করে জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়ার পর তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যায়। আরব বিশ্বের অনেকেই বিশ্বাস করতেন, নাসের একদিন ইসরায়েলকে মোকাবিলা করতে পারবেন।
দুই পক্ষের এই বিরোধী অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে ধীরে ধীরে একটি নতুন সংঘাতের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল।
উত্তেজনা যেভাবে বাড়ল
১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে শুরু করে। সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়। পানিসম্পদ নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। ফিলিস্তিনি গেরিলারা সিরিয়া থেকে ইসরায়েলের ভেতরে হামলা চালাতে থাকেন। ইসরায়েল পাল্টা আক্রমণ করলে পুরো অঞ্চল অস্থির হয়ে ওঠে।
১৯৬৬ সালের নভেম্বরে জর্ডানের পশ্চিম তীরের আল-সামু গ্রামে ইসরায়েলি হামলায় ১৮ জন নিহত ও ৫৪ জন আহত হন। ১৯৬৭ সালের এপ্রিলে সিরিয়ার সঙ্গে আকাশযুদ্ধে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী সিরিয়ার ছয়টি মিগ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে।
ওই সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন মিসরকে একটি তথ্য দেয়। তারা দাবি করে, ইসরায়েল নাকি সিরিয়ার বিরুদ্ধে বড় আকারের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরে এই তথ্য ভুল প্রমাণিত হয়। কিন্তু মিসরের প্রেসিডেন্ট জামাল আবদেল নাসের তখন সেটিকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছিলেন। তিনি মনে করলেন, সিরিয়ার ওপর হামলা হলে আরব বিশ্বের নেতা হিসেবে তাঁর নীরব থাকার সুযোগ নেই। কারণ, এর আগে সিরিয়া ও জর্ডানকে সাহায্য না করার কারণে আরব বিশ্বে নাসের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।
এমন পরিস্থিতিতে আরব বিশ্বে নিজের ভাবমুর্তি ঠিক রাখতে তৎপর হন জামাল আবদেল নাসের। ১৪ মে তিনি সিনাই উপদ্বীপে বিপুল মিসরীয় সেনা মোতায়েন করেন। এরপর সেখান থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল তিরান প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া। এই প্রণালি দিয়ে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক যোগাযোগ চলত। ইসরায়েল বহু আগেই ঘোষণা করেছিল, তিরান প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হলে তারা সেটিকে যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য বলে মনে করবে।
অন্যদিকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে তৎপর হয়ে ওঠে জর্ডান। দেশটির বাদশা হোসেন ইসরায়েলি বাহিনীকে মোকাবিলার জন্য ৩০ মে কায়রোতে এসে মিসরের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেন এবং জর্ডানের বাহিনীকে মিসরীয় কমান্ডের অধীনে ন্যস্ত করেন। এরপর ইরাকও এই জোটে যোগ দেয়। সিরিয়া আগে থেকেই মিসরের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ছিল।
আরব দেশগুলোর এই জোট ইসরায়েলের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা আগে থেকেই শুরু হওয়া উত্তেজনায় ঘি ঢালার কাজ করে।
আত্মরক্ষা, নাকি পূর্বপরিকল্পিত যুদ্ধ
নাসেরের পদক্ষেপগুলোকে ইসরায়েল ও পশ্চিমা বিশ্ব প্রচার করতে শুরু করে, মিসরের প্রেসিডেন্ট আরব দেশগুলোকে নিয়ে ইসরায়েলের অস্তিত্ব মুছে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যুদ্ধের পর ইসরায়েলের সরকারি বয়ানও ছিল এমনই। বলা হয়, দেশটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছিল এবং আত্মরক্ষার জন্য যুদ্ধ করা ছাড়া তাদের সামনে কোনো বিকল্প ছিল না।
কিন্তু পরবর্তী দশকগুলোতে প্রকাশিত নথি এবং কিছু ইসরায়েলি নেতার বক্তব্য এই ব্যাখ্যাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।
যুদ্ধকালীন লজিস্টিক কমান্ডের প্রধান জেনারেল মাতিতিয়াহু পেলেদ স্বীকার করেছেন, ইসরায়েলের অস্তিত্ব ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা অতিরঞ্জিত করে প্রচার করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘১৯৬৭ সালে ইসরায়েলে গণহত্যার হুমকি ছিল—এই গল্পটা ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা। যুদ্ধের পরে তৈরি করা।’
ছয় দিনের যুদ্ধের সময় মেনাখেম বেগিন ছিলেন ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার সদস্য। পরবর্তী সময়ে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৮২ সালে তিনিও স্বীকার করেন, নাসেরের সেনা মোতায়েনের বিষয়টিকে ইসরায়েল নিশ্চিত হামলার হুমকি হিসেবে দেখেনি; বরং ইসরায়েল আগে থেকেই হামলার পরিকল্পনা করেছিল।
যুদ্ধকালীন সেনাপ্রধান মোশে দায়ানও পরে বলেছিলেন, মিসরীয় বাহিনী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিল না এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা তাৎক্ষণিক বিপদের মুখে ছিল না।
ইসরায়েলি ইতিহাসবিদ ইলান পাপেসহ আরও কিছু গবেষকের মতে, যুদ্ধকে পরে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন এটি ছিল সম্পূর্ণ অনিবার্য এক আত্মরক্ষার লড়াই। তাঁদের যুক্তি, এই বয়ান পরবর্তী দখলদারত্বকে নৈতিক বৈধতা দিতে সাহায্য করেছে।
অবশ্য সব ইতিহাসবিদ এ বিষয়ে একমত নন। অনেকে মনে করেন, নাসেরের পদক্ষেপগুলো—বিশেষত তিরান প্রণালি বন্ধ করা এবং সিনাই থেকে জাতিসংঘের বাহিনী সরিয়ে দেওয়া—ইসরায়েলের উদ্বেগকে সম্পূর্ণ অমূলক বলার সুযোগ দেয় না। তাঁদের মতে, নাসের হয়তো সরাসরি যুদ্ধ চাননি, কিন্তু তাঁর পদক্ষেপগুলো পরিস্থিতিকে এমন জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল, যেখান থেকে ফেরা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
ছয় দিনে বদলে গেল মানচিত্র
৫ জুন ভোরে ইসরায়েল মিসরের বিমানঘাঁটিগুলোতে আকস্মিক হামলা চালায়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মিসরের বিমানবাহিনীর ৯০ শতাংশের বেশি বিমান মাটিতেই ধ্বংস হয়ে যায়। একই সময়ে সিরিয়ার বিমানবাহিনীকেও অকেজো করে দেওয়া হয়।
বিমান সহায়তা ছাড়া স্থলযুদ্ধে মিসরীয় বাহিনী অসহায় হয়ে পড়ে। তিন দিনের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা এবং সিনাই উপদ্বীপের পুরোটা সুয়েজ খালের পূর্ব তীর পর্যন্ত দখল করে নেয়।
পূর্ব রণাঙ্গনেও একই দিনে যুদ্ধ শুরু হয়। ইসরায়েলের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে জর্ডানের বাহিনী পশ্চিম জেরুজালেমে গোলাবর্ষণ শুরু করলে ইসরায়েল পাল্টা আঘাত হানে। ৭ জুনের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনী জর্ডানের সেনাদের পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরের অধিকাংশ এলাকা থেকে হটিয়ে দেয়। পুরোনো জেরুজালেম শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সেই দৃশ্য ছয় দিনের যুদ্ধের সবচেয়ে আলোচিত ছবিগুলোর একটি হয়ে আছে।
৭ জুন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানায়। ইসরায়েল ও জর্ডান সঙ্গে সঙ্গে তাতে রাজি হয়, মিসর পরদিন রাজি হয়। কিন্তু সিরিয়া যুদ্ধবিরতি মানতে অস্বীকার করে উত্তর ইসরায়েলের গ্রামগুলোতে গোলাবর্ষণ চালিয়ে যায়। ৯ জুন ইসরায়েল গোলান মালভূমিতে আক্রমণ শুরু করে। এক দিনের তীব্র লড়াইয়ের পর সিরীয় বাহিনী পিছু হটে এবং ১০ জুন সিরিয়া যুদ্ধবিরতি মেনে নেয়।
ছয় দিনের মধ্যে ইসরায়েল গাজা, সিনাই উপদ্বীপ, পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম এবং সিরিয়ার গোলান মালভূমি দখল করে নেয়। এরপর মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র আর আগের মতো থাকেনি।
এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলে পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরের দখল। কারণ, এই ভূখণ্ডই ছিল ফিলিস্তিনি জাতীয় আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্র। পূর্ব জেরুজালেমে রয়েছে ইহুদি, মুসলিম ও খ্রিষ্টান—তিন ধর্মের পবিত্র স্থানসমূহ। এই শহরের নিয়ন্ত্রণ তাই শুধু ভূরাজনৈতিক নয়, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও অত্যন্ত সংবেদনশীল।
ব্যর্থ রাজনৈতিক সমাধান
যুদ্ধের পর অনেকে আশা করেছিলেন, দখলকৃত ভূখণ্ড নিয়ে দ্রুত কোনো রাজনৈতিক সমাধান হবে। সেই আশার প্রতিফলন ঘটে একই বছরের নভেম্বরে, যখন নিরাপত্তা পরিষদ ২৪২ নম্বর প্রস্তাব পাস করে। প্রস্তাবে বলা হয়, ইসরায়েলকে দখলকৃত ভূখণ্ড থেকে সরে যেতে হবে এবং অঞ্চলটির সব রাষ্ট্রের নাগরিকদের শান্তিতে বসবাসের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পরবর্তী দশকগুলোতে ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি থেকে শুরু করে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের সব কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ভিত্তি হয়ে উঠেছিল এই প্রস্তাব।
কিন্তু বাস্তবে ঘটল উল্টো। কয়েক মাসের মধ্যেই পশ্চিম তীরে অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপন শুরু হয়। ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে যায়, ইসরায়েলের ক্ষমতাবান একটি অংশ এসব এলাকা স্থায়ীভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। বসতি স্থাপনের এই প্রক্রিয়া পরবর্তী দশকগুলোতে আরও বিস্তৃত হয়। আজ পশ্চিম তীরে কয়েক লাখ ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী বাস করেন, যা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ বলে বিবেচিত।
ফিলিস্তিনিদের জীবনে নতুন বাস্তবতা
যুদ্ধের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি মূল্য পরিশোধ করতে হয়েছে ফিলিস্তিনিদের। যুদ্ধ শেষে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি মানুষ নতুন করে উদ্বাস্তু হয়ে পড়েন। ১০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি সরাসরি ইসরায়েলি সামরিক শাসনের অধীনে চলে যান। পশ্চিম তীর ও গাজায় তল্লাশিচৌকি, ভূমি অধিগ্রহণ, বসতি সম্প্রসারণ ধীরে ধীরে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে ওঠে। চলাফেরা, কাজ, শিক্ষা—সবকিছুতেই সামরিক নিয়ন্ত্রণের ছাপ পড়তে থাকে।
১৯৪৮ সালের যুদ্ধে যেসব ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন, তাঁদের অনেকে আশ্রয় নিয়েছিলেন গাজা বা পশ্চিম তীরে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে সেই এলাকাগুলোও ইসরায়েলের দখলে চলে যায়। ফলে ফিলিস্তিনিদের একটি বড় অংশ দ্বিতীয়বারের মতো বাস্তুচ্যুতির মুখে পড়েন।
আরব বিশ্বে গভীর আঘাত
ছয় দিনের যুদ্ধে পরাজয় ছিল আরব বিশ্বের জন্য রাজনৈতিকভাবে বিধ্বংসী। শুধু ভূখণ্ড নয়, মানবিক ক্ষতিও ছিল অপ্রতিসম। মিসরের ১১ হাজারের বেশি সেনা নিহত হন, জর্ডানে নিহতের সংখ্যা ৬ হাজার এবং সিরিয়ায় ১ হাজার। অন্যদিকে ইসরায়েলে নিহত হন প্রায় ৭০০ জন। আরব বাহিনীগুলো একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জামও হারায়।
পরাজয়ের খবরে নাসের ৯ জুন পদত্যাগের ঘোষণা দেন। কিন্তু তাঁকে ক্ষমতায় রাখার দাবিতে রাস্তায় নামেন লাখো মিসরীয়। জনমতের চাপে তিনি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন। তবু তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি আর আগের জায়গায় ফেরেনি। ১৯৭০ সালে তাঁর মৃত্যুর পর আরব জাতীয়তাবাদের এই ধারা আর কখনো আগের শক্তি ফিরে পায়নি।
সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে থাকে নতুন ধারার আন্দোলন। পরবর্তী দশকগুলোতে রাজনৈতিক ইসলামের উত্থান ঘটে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে। মিসরে মুসলিম ব্রাদারহুড, ফিলিস্তিনে হামাস—এই আন্দোলনগুলোর শক্তিবৃদ্ধির পেছনে ১৯৬৭ সালের পরাজয়ের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন।
![]() |
| ১৯৬৭ সালের আরব–ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলার আঘাতে আগুনে পুড়ছে মিসরের একটি সামরিক পরিবহনযান। ছবি: রয়টার্স |
Sunday, April 12, 2026
৭০০০ বছরের ইতিহাস তুলে ধরছে মিশরের গ্র্যান্ড মিউজিয়াম
বিখ্যাত মিশরবিদরা মনে করছেন, এই জাদুঘরের উদ্বোধন তাদের সেই দাবিকে আরও জোরালো করবে যে, মিশরের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নবস্তুগুলো, যেগুলো বিদেশে সংরক্ষিত, সেগুলো ফেরত দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে লন্ডনের বৃটিশ মিউজিয়ামে থাকা বিখ্যাত রোজেটা স্টোন। জিইএমের প্রধান আকর্ষণ হলো তরুণ রাজা তুতানখামেনের অক্ষত সমাধির সম্পূর্ণ উপাদান, যা প্রথমবারের মতো একসাথে প্রদর্শিত হচ্ছে। এতে রয়েছে তুতানখামেনের সোনার মুখোশ, সিংহাসন ও রথসহ হাজারো ঐতিহাসিক নিদর্শন। জিইএমের সাবেক প্রধান ও আন্তর্জাতিক মিশরবিদ সমিতির সভাপতি ড. তারেক তৌফিক বলেন, আমি ভেবেছিলাম কীভাবে তাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা যায়। ১৯২২ সালে সমাধি আবিষ্কারের পর প্রায় ৫৫০০ নিদর্শনের মধ্যে মাত্র ১৮০০টি প্রদর্শিত হয়েছে। এবার আমরা সম্পূর্ণ সমাধিটি প্রদর্শন করছি। কিছুই গুদামে বা অন্য কোনো জাদুঘরে থাকবে না। দর্শকরা হাওয়ার্ড কার্টারের মতোই পুরো অভিজ্ঞতা পাবেন।
প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই বিশাল জাদুঘর বছরে ৮ মিলিয়ন দর্শক আকর্ষণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা মিশরের পর্যটন খাতে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে আনবে। গিজার পিরামিড এলাকার পর্যটক গাইড ও আগ্রহী মিশরবিদ আহমেদ সেদ্দিক বলেন, আমরা আশা করি গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম মিশরবিদ্যা ও সাংস্কৃতিক পর্যটনের এক নতুন সোনালী যুগ সূচনা করবে। এর পাশাপাশি, ৪৫০০ বছর পুরোনো খুফুর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার নৌকা ও অন্যান্য রাজবংশীয় নিদর্শনও এখানে প্রদর্শিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমি আংশিকভাবে খোলা অবস্থাতেও এখানে বহু ট্যুর আয়োজন করেছি। এখন এটি হবে তার গৌরবের শীর্ষে। তুতানখামেন সংগ্রহ খুলে গেলে পুরো বিশ্ব এখানে ছুটে আসবে, কারণ তিনি ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত ফারাও।
স্পেনের পর্যটক রাউল বলেন, এটা অবশ্যই দেখা উচিত। আমরা ৪ঠা নভেম্বরে পূর্ণ উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছি। লন্ডনের পর্যটক স্যাম বলেন, আমরা শুধু সব মিশরীয় নিদর্শন দেখার অপেক্ষায়। জীবনে একবারই এমন সুযোগ আসে। একজন বৃটিশ পর্যটক যোগ করেন, তাহরির স্কোয়ারের পুরোনো জাদুঘরটা খুবই বিশৃঙ্খল ছিল। নতুন মিউজিয়ামটা নিশ্চয়ই অনেক সুন্দরভাবে সাজানো। এখানে এসে ইতিহাসকে আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করা যাবে।
৫ লাখ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত জিইএমের বাইরের অংশে খোদাই করা রয়েছে হায়ারোগ্লিফ ও অ্যালাবাস্টার, যার প্রধান প্রবেশদ্বারটি পিরামিড আকৃতির। এখানে অন্যতম আকর্ষণ হলো ৩২০০ বছর পুরোনো ১৬ মিটার লম্বা রামসেস দ্বিতীয়ের ওবেলিস্ক এবং তার ১১ মিটার উচ্চতার বিশাল মূর্তি। ২০০৬ সালে কায়রোর রেলস্টেশন এলাকা থেকে জটিল প্রক্রিয়ায় মূর্তিটি স্থানান্তর করা হয়।
মিউজিয়ামটি প্রথম প্রস্তাবিত হয় ১৯৯২ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের শাসনামলে। ২০০৫ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়। আরব বসন্ত, অর্থনৈতিক সংকট, কোভিড-১৯ মহামারি ও আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে প্রকল্পটি প্রায় পিরামিড নির্মাণের সমান সময় নিয়েছে সম্পূর্ণ হতে। প্রবীণ প্রত্নতাত্ত্বিক ও মিশরের সাবেক পর্যটন ও প্রত্নসম্পদমন্ত্রী ড. জাহি হাওয়াস বলেন, এটি ছিল আমার স্বপ্ন। অবশেষে মিউজিয়ামটি খুলে গেছে দেখে আমি গর্বিত। এটি প্রমাণ করে মিশরীয়রাও এখন প্রত্নতত্ত্ব, সংরক্ষণ ও জাদুঘর পরিচালনায় বিদেশিদের সমান দক্ষ। তিনি আরও বলেন, এখন আমি চাই দুইটি জিনিস। প্রথমত, জাদুঘরগুলো যেন চুরি করা নিদর্শন কেনা বন্ধ করে। দ্বিতীয়ত, তিনটি জিনিস মিশরে ফিরিয়ে আনা হোক- রোজেটা স্টোন (বৃটিশ মিউজিয়াম থেকে), দ্য জোডিয়াক (ল্যুভর, ফ্রান্স) এবং নেফারতিতির বক্ষমূর্তি (বার্লিন থেকে)। ড. হাওয়াস ইতিমধ্যে এই তিনটি প্রত্নবস্তু ফেরতের দাবিতে অনলাইন পিটিশন চালু করেছেন। এতে এরই মধ্যে শতসহস্র মানুষ স্বাক্ষর করেছে।
রোজেটা স্টোন (১৭৯৯ সালে আবিষ্কৃত) হায়ারোগ্লিফিক লিপি পাঠোদ্ধারে মূল চাবিকাঠি ছিল। এটি ফরাসি বাহিনী আবিষ্কার করে এবং পরে বৃটিশরা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে নিয়ে যায়। ১৮২১ সালে ফরাসিরা দেন্দেরার হাথোর মন্দির থেকে দ্য জোডিয়াক সরিয়ে নেয় এবং শতাব্দীরও বেশি আগে জার্মানরা গোপনে নিয়ে যায় নেফারতিতির মূর্তি। ড. হাওয়াস বলেন, আমরা চাই এই তিন দেশ সৌজন্যবশত এগুলো ফিরিয়ে দিক উপহার হিসেবে, যেমন মিশর পৃথিবীকে অনেক উপহার দিয়েছে। অন্য শীর্ষ মিশরবিদ ড. মনিকা হান্না’ও এই তিনটি বস্তু ফেরতের পক্ষে। তিনি বলেন, জিইএম আসলে বিশ্বের কাছে এই বার্তা দেয় যে মিশর এখন প্রস্তুত। আমরা আমাদের ঐতিহ্য ফেরত চাই সঠিক কূটনৈতিক পথে। বৃটিশ মিউজিয়াম বিবিসিকে জানিয়েছে, তারা মিশর সরকারের কাছ থেকে রোজেটা স্টোন ফেরত চাওয়া বা ধার নেয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পায়নি।

Tuesday, March 31, 2026
দাঁত দিয়ে জাহাজ টেনে তুললেন মাহরুস
বর্তমানে এই রেকর্ডটি ২০১৮ সালে একজন ব্যক্তি দাঁত দিয়ে ৬১৪ টন (৫,৫৭,০০০ কেজি) ওজনের জাহাজ টেনেছিলেন। এর আগেও মাহরুস একাধিক বিশ্ব রেকর্ডের মালিক। ২০২৫ সালের মার্চে তিনি দাঁত দিয়ে ২৭৯ টন (২,৫৩,১০৫ কেজি) ওজনের ট্রেন প্রায় ১০ মিটার (৩৩ ফুট) টেনে নিয়ে যান এবং গিনেস কর্তৃপক্ষ তাকে সবচেয়ে ভারী রেল টানার রেকর্ডধারী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তাকে আরও দুইটি প্রশংসাপত্র দেয়া হয়- সবচেয়ে ভারী লোকোমোটিভ টান এবং দ্রুততম ১০০ মিটার সড়কযান টান-এর জন্য। এর তিন বছর আগে, তিনি দাঁত দিয়ে ১৫,৭৩০ কেজি ওজনের ট্রাক টেনে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন। শনিবারের চ্যালেঞ্জের আগে মাহরুস প্রতিদিন ছয় ঘণ্টা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তার খাদ্যতালিকায় ছিল প্রচুর প্রোটিন ও আয়রনসমৃদ্ধ খাবার। প্রতিদিন অন্তত এক ডজন ডিম, দুইটা সম্পূর্ণ মুরগি এবং ৫ কেজি মাছ। ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি (১.৯ মিটার) লম্বা ও ১৫৫ কেজি (৩৪১ পাউন্ড) ওজনের এই শক্তিশালী মানুষ বলেন, ছোটবেলাতেই তিনি নিজের অস্বাভাবিক শক্তির প্রমাণ পেয়েছিলেন। নয় বছর বয়সে তিনি টাকার বিনিময়ে ভারী জিনিস টানতেন। একবার খেলতে গিয়ে বন্ধুর হাত ভেঙে ফেলেছিলেন শুধুমাত্র টান দেয়ার সময়! ছোটবেলা থেকেই তিনি খেলাধুলা ভালোবাসতেন- কুংফু, কিকবক্সিং শিখেছেন। এমনকি কায়রোতে নিজের রেসলিং টিম গঠন করেন।
তার বন্ধুরা একবার দেখেছিলেন, তিনি জিমের এক ফাঁকা প্রাঙ্গণে বিশাল ট্রাকের টায়ার পরপর দশবার উল্টে দেন, এমনকি এক আঙুলে একটি গাড়ি ঠেলে দেন। তখনই বন্ধুরা তাকে বিশ্ব রেকর্ডের চেষ্টায় উৎসাহ দেন। মাহরুস বলেন, তিনি কোনো সাপ্লিমেন্ট খাবার খান না। কিন্তু প্রতিদিন দুইবার ব্যায়াম করেন এবং যথেষ্ট ঘুমান। তার পরবর্তী লক্ষ্য আরও অবিশ্বাস্য। তিনি মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির কাছে অনুমতি চাইবেন একটি সাবমেরিন টানার জন্য। ভবিষ্যতে তিনি শুধু চোখের পাতার পেশি দিয়ে বিমান টানার পরিকল্পনাও করছেন! মাহরুস বিশ্বাস করেন, তিনি যেসব বস্তু টানেন, সেগুলোর সঙ্গে আগে কথা বলা জরুরি। এতেই নাকি বস্তুটির সঙ্গে তার হৃদস্পন্দনের একধরনের সংযোগ তৈরি হয়। তার ভাষায়, আমি যে জিনিসটি টানব, তাকে আমার শরীরের অংশ মনে করি। তখন সেটি আমার হৃদস্পন্দনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোয়- এটাই আমার সাফল্যের রহস্য।

Saturday, January 31, 2026
মিসরে বিপ্লবীরাই এখন কারাগারে
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, আজ ২৫ জানুয়ারি ২০১৫ মিসরে মোবারক-বিরোধী গণ-আন্দোলনের চার বছর পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু গত চার বছরে মিসরে কিছু বদলায়নি। বিফলে গেছে সাড়াজাগানো ‘বিপ্লব’।
২০১১ সালে আরব বসন্তের অন্যতম ঘটনা ছিল মিসরে মোবারক-বিরোধী গণ-আন্দোলন। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ওই গণ-আন্দোলনে পতন ঘটে এক সময়ের লৌহমানব মোবারকের। নিহত হন আট শতাধিক বিক্ষোভকারী।
বিপ্লব শেষে বন্দী হন মোবারক ও তাঁর বেশ কয়েকজন সহযোগী। বিক্ষোভকারীদের হত্যা, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাঁদের বিচার শুরু হয়। কিন্তু ক্ষমতার পালাবদলে এখন মিসরের শাসন ক্ষমতা এসেছে প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির হাতে। তিনি ছিলেন সাবেক সেনাপ্রধান। মোবারকের শাসনামলের এই সেনা কর্মকর্তা উর্দি ছাড়লেও স্বৈরশাসনের দুর্গন্ধ থেকে মুক্ত নন। বরং তাঁর কর্মকাণ্ডে যেন মোবারকের অপচ্ছায়াই মূর্ত হয়ে উঠছে। হত্যা ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ থেকে মোবারকের একের পর এক খালাস পাওয়ার ঘটনাকে এখন অনেক বিশ্লেষকই বাঁকা চোখে দেখছেন।
বিক্ষোভকারীদের হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে ২০১১ সালের ২৪ মে মোবারককে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর আদেশ দেওয়া হয়। বিচারে ২০১২ সালের ২ জুন তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ হয়। ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে আপিল কোর্ট মোবারকের ওই দণ্ডাদেশ প্রত্যাখ্যান করে মামলাটির পুনর্বিচার করার নির্দেশ দেন। গত বছরের নভেম্বরে ওই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে মোবারক ও তাঁর সাতজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যার অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রীয় তহবিলের অর্থ আত্মসাতের একটি মামলায় ২০১৪ সালে মিসরের একটি আদালত মোবারককে কারাদণ্ডাদেশ দেন। কিন্তু আপিল আদালত ওই দণ্ড বাতিল করে পুনর্বিচারের আদেশ দেন।
দিন কয়েক আগেই মোবারকের দুই ছেলে কারাগার থেকে বেরিয়েছেন। মোবারকসহ তাঁদের বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতির মামলা পুনর্বিচারাধীন রয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব হিউম্যান রাইটসের অভিযোগ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের অব্যাহতি এবং রাজনৈতিক কর্মীদের কারাদণ্ড দিয়ে মিসরের বিচার বিভাগ দ্বৈতনীতি প্রদর্শন করছে।
বিপ্লবে অংশ নেওয়া জিয়াদ আল-এলাইমি বলেন, মোবারকের রায় আমাদের এই বার্তা দেয় যে কর্তৃপক্ষ যতই দুর্নীতি ও নিপীড়ন করুক না কেন, তা কোনো বিষয় নয়। তাঁরা সব সময় শাস্তির বাইরে থাকবেন। এটা খুবই কষ্টদায়ক।’
এলাইমি বলেন, ২০১১ সালের বিপ্লব ব্যর্থ হলে আমাদের ফাঁসি হতো। এখন আমরা আমাদের সেই রাজনৈতিক অবস্থানের মূল্য দিচ্ছি।
বিপ্লবীরা বলছেন, ২০১১ সালে তীব্র গণ-আন্দোলনে তিন দশকের শাসক মোবারকের পতনের আনন্দ এখন নিরানন্দে পরিণত হয়েছে। মিসরের এখনকার শাসক মোবারকের চেয়েও বেশি স্বৈরাচারী। বিনা অনুমতিতে বিক্ষোভ করার অভিযোগে মোবারক-বিরোধী গণ-আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক বিপ্লবী এখন কারাগারে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম মোবারক-বিরোধী আন্দোলনের নেতা আহমেদ মাহের ও মোহাম্মদ আদেল। এ দুজনকে তিন বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
মোবারকের পতনের পর দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন মুসলিম ব্রাদারহুডের মোহাম্মদ মুরসি। ২০১৩ সালে সেনাবাহিনী তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করে। ক্ষমতা দখল করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান সিসি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মোবারকের চেয়েও নিপীড়নমূলক শাসন প্রবর্তন করেছেন। দমন-পীড়নে সাবেক স্বৈরশাসককে ছাড়িয়ে গেছেন এই নব্য শাসক। সিসির আমলে নৃশংস অভিযানে মুরসি-সমর্থক ও মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষকে কারাবন্দী করা হয়েছে। গণহারে দেওয়া হয়েছে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ।
মোবারক-বিরোধী বিপ্লবী জিয়াদ আল-এলাইমির ভাষ্য, ‘গত চার বছরে কিছুই বদলায়নি। আমরা এখনো একই স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ দেখছি। দেখছি একই দুর্নীতি, স্বাধীনতা হরণ।’
![]() |
| মিসরে হোসনি মোবারক-বিরোধী গণ-আন্দোলনের চার বছর পূর্ণ হয়েছে আজ ২৫ জানুয়ারি। গত চার বছরে দেশটিতে কিছুই বদলায়নি। বরং আরও বেশি স্বেচ্ছাচারী শাসন কায়েম হয়েছে। ছবি: এএফপি |
Friday, January 30, 2026
হোসনি মোবারকের বিরুদ্ধে আরব বসন্তের কথা কি ৩ কোটি মিসরীয় জানেন
বেকারত্ব, দারিদ্র্য ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ১৮ দিন ধরে সড়কে অবস্থান নেন মিসরের লাখ লাখ বিক্ষোভকারী। তাঁরা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের পদত্যাগের দাবি জানান।
মিসরের জনগণের গড় বয়স প্রায় ২৪ বছর। বিশ্বের যেসব দেশে তরুণদের সংখ্যা বেশি, মিসর তার মধ্যে একটি। দেশটির প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষ অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ৩১ শতাংশের বয়স ১৫ বছরের কম। এই শিশুদের জন্য আরব বসন্ত এক ঐতিহাসিক ঘটনা, যা তারা বড়দের কাছ থেকে জেনেছে।
মিসরের তরুণ জনগণ
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে মিসরের জনসংখ্যা ছিল ৮ কোটি ৩০ লাখ। বেকারত্বের হার ১২ শতাংশ। মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ২ হাজার ৫৯০ মার্কিন ডলার। ওই সময় ১ ডলারে ৫ দশমিক ৮ মিসরীয় পাউন্ড পাওয়া যেত।
১৫ বছর পর মিসরের জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ বেড়ে ১২ কোটি হয়েছে। দেশটির বেকারত্বের হার কমে এখন ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। আর মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৩ হাজার ৩৩৯ মার্কিন ডলার। তবে এ সময় ডলারের বিপরীতে মিসরের মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়ন হয়েছে। বর্তমানে ১ মার্কিন ডলারে প্রায় ৪৭ মিসরীয় পাউন্ড পাওয়া যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি অনেক মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে।
মিসরের জনগণ তুলনামূলক তরুণ। দেশটির অর্ধেকের বেশি নাগরিকের বয়স ২৪ বছরের নিচে, যা বিশ্বের সব দেশের তরুণদের গড় বয়স ৩১ বছরের চেয়ে প্রায় ৭ বছর কম।
ইকোনমিক রিসার্চ ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, মিসরে প্রতিবছর ১৫ লাখ লোকের কর্মসংস্থান দরকার। কিন্তু গত দুই দশকে দেশটিতে বছরে মাত্র ছয় লাখের কর্মসংস্থান হয়েছে।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন কারিগরি ইনস্টিটিউটসহ প্রায় ৩৬ লাখ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন। আধুনিক অর্থনীতির চাহিদা পূরণ করতে ২০৩২ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৫৬ লাখে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
মিসরে ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। এর প্রায় পুরোটাই তরুণদের হাত ধরে ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে মোবাইল সংযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহার বড় ভূমিকা রাখছে।
মিসরের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান সংস্থার (সিএপিএমএএস) তথ্য অনুযায়ী, বেকারত্বের হার রেকর্ড সর্বনিম্ন ৬ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এলেও ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার এখনো প্রায় ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ।
আরব বসন্তের সময় ১৮ দিনে মিসরে কী কী ঘটেছিল
২৫ জানুয়ারি ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে মিসরে আরব বসন্তের শুরু হয়, যা ১৮ দিন পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। অবশেষে ১১ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক পদত্যাগ করে সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা তুলে দেন।
আরব বসন্তের সময় মুঠোফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মিসরীয়রা তাঁদের লড়াই-সংগ্রামের ছবি ও ভিডিও বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন।
সে সময়ের ১৮ দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কয়েকটি প্রধান ঘটনা সংক্ষিপ্ত আকারে নিচে তুলে ধরা হলো—
২৫ জানুয়ারি: পুলিশের বার্ষিক অনুষ্ঠানের দিন সারা দেশে হাজার হাজার মানুষ মিছিল করেন। ৩০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের পদত্যাগের দাবি ওঠে।
২৮ জানুয়ারি: জুমার নামাজের পর হাজার হাজার মানুষ কায়রোর তাহরির স্কয়ারের দিকে রওনা দেন। প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক প্রথমবার টেলিভিশনের সামনে হাজির হন এবং গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
১ ফেব্রুয়ারি: দেশজুড়ে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়। বিক্ষোভকারী ব্যক্তিরা যাতে কায়রো পৌঁছাতে না পারেন, তা ঠেকাতে সব ধরনের ট্রেন পরিষেবা বন্ধ করে দেয় সরকার।
২ ফেব্রুয়ারি: হোসনি মোবারকের সমর্থকেরা কেউ উটে চড়ে কেউ–বা ঘোড়ায় চড়ে কায়রোর বিক্ষোভ দমন করতে নিষ্ঠুর চেষ্টা চালান। তাঁরা ব্যাট ও ছুরি ব্যবহার করে তাহরির স্কয়ারে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু করেন।
১০ ফেব্রুয়ারি: হোসনি মোবারকের পদত্যাগের গুঞ্জন ওঠে। তিনি ওই দিন এক ভাষণে ঘোষণা দেন, তিনি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন। এতে তাহরির স্কোয়ারে জনতার ক্রোধ ফেটে পড়েন।
ফেব্রুয়ারি ১১ (মোবারকের পদত্যাগ): ১৮ দিনের ব্যাপক বিক্ষোভের পর ভাইস প্রেসিডেন্ট ওমর সুলেইমান ঘোষণা করেন, হোসনি মোবারক পদত্যাগ করে সেনাবাহিনীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন।
আরব বসন্তে অন্যান্য দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী
মিসরের মতো, আরব বসন্তের সময় আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের চারটি দেশের সরকারপ্রধানদের উৎখাত করা হয়েছে। সেসব দেশের বড় একটি অংশ তরুণ জনগোষ্ঠী।
তিউনিসিয়ায় মোট জনসংখ্যা ১ কোটি ২২ লাখ। তার মধ্যে ২০ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ অর্থাৎ ২৪ শতাংশের বয়স ১৫ বছরের নিচে। অন্যদিকে লিবিয়ায় বর্তমান জনসংখ্যার ২৭ শতাংশ বা ৭৪ লাখের বয়স ১৫ বছরের নিচে।
সিরিয়ায় আড়াই কোটি মানুষের মধ্যে ৭২ লাখ কিংবা ২৯ শতাংশের বয়স ১৫ বছরের কম। ইয়েমেনে এই সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশে ৪ কোটি মানুষের মধ্যে ৪১ শতাংশ বা ১ কোটি ৭০ লাখের বয়স ১৫ বছরের কম।
![]() |
| মিসরে হোসনি মোবারকবিরোধী গণ-আন্দোলনের ১৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। ফাইল ছবি: এএফপি |
Sunday, January 11, 2026
আরব বসন্তে ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রনায়করা এখন কোথায়?
তিউনিসিয়ার জয়নাল আবিদিন বিন আলি
তার জন্ম ১৯৩৬ সালে। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নির্বাসনে থেকেই ২০১৯ সালে তার মৃত্যু হয়। ১৯৮৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেন আলি প্রেসিডেন্ট হাবিব বুরগিবাকে শারীরিকভাবে অযোগ্য ঘোষণা করে ক্ষমতা দখল করেন। তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে কঠোর শাসন কায়েম করেন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলেও দুর্নীতি, বৈষম্য ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ বাড়তে থাকে। ২০১০ সালের ১৭ ডিসেম্বর মোহাম্মদ বুয়াজিজির আত্মাহুতির পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। টানা এক মাসের আন্দোলনের মুখে ২০১১ সালের ১৪ জানুয়ারি বেন আলি সৌদি আরবে পালিয়ে যান। পরে তিউনিসিয়ার আদালত তাকে অনুপস্থিতিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। ২০১৯ সালে সৌদি আরবে নির্বাসনে তার মৃত্যু হয়।
মিশর: হোসনি মুবারক
১৯৮১ সালে আনোয়ার সাদাত হত্যার পর ক্ষমতায় আসেন মুবারক। জরুরি আইন ও সামরিক প্রভাবের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন দেশ শাসন করেন। ২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারি গণবিক্ষোভ শুরু হয় এবং ১৮ দিনের মাথায় ১১ ফেব্রুয়ারি মুবারক পদত্যাগে বাধ্য হন। বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হলেও পরে তা বাতিল হয়। দুর্নীতির মামলায় কিছুদিন আটক থাকার পর ২০১৭ সালে মুক্তি পান। ২০২০ সালে কায়রোতে তার মৃত্যু হয়।
ইয়েমেন: আলি আবদুল্লাহ সালেহ
ইয়েমেনের রাজনীতিতে দক্ষ কৌশলী হিসেবে পরিচিত সালেহ ৩৩ বছর দেশ শাসন করেন। ২০১১ সালের আন্দোলনের পর ২০১২ সালে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর তিনি সাবেক শত্রু হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে জোট বেঁধে ২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখলে সহায়তা করেন। কিন্তু ২০১৭ সালে সেই জোট ভেঙে গেলে হুথি বাহিনীর হাতে তিনি নিহত হন।
লিবিয়া: মুয়াম্মার গাদ্দাফি
১৯৬৯ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতায় আসা গাদ্দাফি চার দশকের বেশি সময় লিবিয়া শাসন করেন। তেল সম্পদের ওপর ভর করে তিনি ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলেন। ২০১১ সালে বেনগাজিতে আন্দোলন শুরু হলে তা গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। ন্যাটোর বিমান হামলা ও বিদ্রোহীদের অগ্রযাত্রায় তার শাসনের অবসান ঘটে। ২০১১ সালের ২০ অক্টোবর সির্তে শহরে বিদ্রোহীদের হাতে ধরা পড়ে তিনি নিহত হন।
সিরিয়া: বাশার আল-আসাদ
২০০০ সালে বাবার মৃত্যুর পর সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বাশার আল-আসাদ ক্ষমতায় আসেন। ২০১১ সালে দারা শহরে শিক্ষার্থীদের গ্রাফিতি লেখাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন শুরু হয়, যা পরে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। প্রায় ১৪ বছর ধরে চলা যুদ্ধে লাখো মানুষ নিহত ও অর্ধেকের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। রাশিয়া, ইরান, তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন শক্তি এতে জড়িয়ে পড়ে। ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর হায়াত তাহরির আল-শামের নেতৃত্বে বিদ্রোহীদের দ্রুত অভিযানে দামেস্কের পতন ঘটে। বাশার আল-আসাদ পরিবারসহ মস্কোতে পালিয়ে যান এবং সেখানে আশ্রয় নেন।
আরব বসন্ত বহু স্বৈরশাসকের পতন ঘটালেও অঞ্চলজুড়ে স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। কারও পরিণতি হয়েছে মৃত্যু, কারও নির্বাসন, আবার কারও ক্ষেত্রে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ- আরব বসন্তের উত্তরাধিকার আজও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে চলেছে।

Sunday, December 21, 2025
মিসরের সঙ্গে সাড়ে ৩ হাজার কোটি ডলারের গ্যাস চুক্তির ঘোষণা নেতানিয়াহুর
গতকাল টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু এই গ্যাস চুক্তির কথা জানান। এটাকে তিনি ‘ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গ্যাস চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, চুক্তির অর্থমূল্য ১১ হাজার ২০০ কোটি শেকেল (প্রায় ৩ হাজার ৪৬০ কোটি ডলার)।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কোম্পানি শেভরন ইসরায়েল থেকে মিসরে গ্যাস সরবরাহের কাজ করবে। নেতানিয়াহু বলেন, ‘এই চুক্তির ফলে আঞ্চলিক জ্বালানি শক্তি হিসেবে ইসরায়েলের মর্যাদা অনেকে বেড়ে যাবে। এটা আমাদের অঞ্চলের স্থিতিশীলতায় অবদান রাখবে। এ চুক্তির ফলে ইসরায়েলের অর্থনৈতিক জলসীমায় অন্যান্য কোম্পানি গ্যাস অনুসন্ধানে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হবে।’
এ চুক্তির বিষয়ে জানেন ইসরায়েলের এমন একটি সূত্র জানায়, চুক্তিটি অনেক আগেই চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু ইসরায়েল কয়েক মাস ধরে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন স্থগিত করে রেখেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের মুখে তারা চুক্তিটির অনুমোদন দিতে বাধ্য হলো।
নেতানিয়াহু ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির মধ্যে একটি বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এ বৈঠক আয়োজনের লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক শান্তিচুক্তি এবং আব্রাহাম অ্যাকর্ডস বিস্তৃত করা।
ইসরায়েলের সঙ্গে গ্যাস চুক্তি নিয়ে মিসর আনুষ্ঠানিকভাবে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। চুক্তির বিষয়ে জানতে, সিএনএনের তরফে মিসরের পেট্রোলিয়াম ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তবে কোনো তথ্য পায়নি।
ইসরায়েল ও মিসর ১৯৭৯ সালে একটি ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে। এর মধ্য দিয়ে প্রথম আরব দেশ হিসেবে মিসরই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। কিন্তু দেশ দুটির শীর্ষনেতারা প্রায় এক দশকে প্রকাশ্যে দেখা করেননি।
ইসরায়েলের আরেকটি সূত্র জানায়, গ্যাস চুক্তির ঘোষণা মূলত নেতানিয়াহু ও সিসির মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠকের ভিত্তি তৈরির অংশ।
![]() |
| ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
Monday, December 1, 2025
গাজায় পুলিশ বাহিনীর জন্য কয়েক শ ফিলিস্তিনিকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে মিসর
মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি গত আগস্টে ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মুস্তফার সঙ্গে কথা বলার সময় গাজার জন্য পাঁচ হাজার কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফিলিস্তিনি এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, মার্চে কায়রোতে প্রথম ভাগে পাঁচ শতাধিক কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আরও কয়েক শ জনকে প্রশিক্ষণ দিতে সেপ্টেম্বর থেকে আবার দুই মাসের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, বাহিনীর সব সদস্য গাজা উপত্যকা থেকে নেওয়া হবে এবং দখল করা পশ্চিম তীরের রামাল্লাভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ তাঁদের বেতন দেবে।
২৬ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি এ প্রশিক্ষণের বিষয়ে খুব খুশি। আমরা চাই, যুদ্ধ ও আগ্রাসনের স্থায়ী সমাপ্তি হোক। আমরা আমাদের দেশ ও দেশের নাগরিকদের সেবা করতে উদ্গ্রীব হয়ে আছি।’
ওই পুলিশ কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, তিনি আশা করছেন, নিরাপত্তা বাহিনী স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। তারা শুধু ফিলিস্তিনের প্রতি অনুগত থাকবে এবং কোনো বাইরের জোট বা উদ্দেশ্য দিয়ে প্রভাবিত হবে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফিলিস্তিনি এক লেফটেন্যান্ট বলেন, ‘সীমান্তে নজরদারির জন্য আধুনিক সরঞ্জামের পাশাপাশি আমরা কার্যক্রম পরিচালনা–সংক্রান্ত দারুণ প্রশিক্ষণ পেয়েছি।’
ওই লেফটেন্যান্ট গত বছর তাঁর পরিবারসহ গাজা ছেড়ে এসেছেন। তিনি বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের ওপর ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়া এবং এর ফলে ফিলিস্তিনের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিকে প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলে হামাসের হামলায় ১ হাজার ২২১ জন নিহত হন বলে দাবি করে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে ওই ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে গাজায় শুরু করা ইসরায়েলের তাণ্ডবে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৭০ হাজার ১০০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে উপত্যকাটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। জাতিসংঘ এ মন্ত্রণালয়ের সংখ্যাকে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে।
![]() |
| ফিলিস্তিনি পুলিশ কর্মকর্তারা দখল করা পশ্চিম তীরের রামাল্লা শহরে ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাতের মৃত্যুর ২১তম বার্ষিকী পালন করতে একত্র হন। ১১ নভেম্বর ২০২৫ ছবি: এএফপি |
Saturday, October 25, 2025
পবিত্র ভূমি সিনাই পর্বতে বিলাসবহুল মেগা রিসোর্ট নিয়ে কেন এত আলোচনা
মিসরের অন্যতম এই পবিত্র স্থান ইহুদি, খ্রিষ্টান ও মুসলিমরা সমানভাবে শ্রদ্ধা করে থাকেন। সেই সিনাই এবার বদলে যাচ্ছে। বদলে যাচ্ছে দৃশ্যপট, মুছে যাচ্ছে বহু প্রজন্ম ধরে থাকা মানুষের জীবনযাত্রা। এখানে নির্মিত হচ্ছে বিলাসবহুল হোটেল, ভিলা ও শপিং সেন্টার। সিনাই পবর্তের এ স্থানে একটি নতুন পর্যটন মেগা প্রকল্পে রূপান্তরের পরিকল্পনা ঘিরে তুমুল বিতর্কও চলছে।
স্থানীয়ভাবে সিনাই পর্বত জাবাল মূসা নামে পরিচিত। পবিত্র কোরআন ও বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী, এখানে নবী মুসা (আ.) আল্লাহর কাছ থেকে ১০টি আদেশ পেয়েছিলেন। অনেকের বিশ্বাস, এখানেই পবিত্র কোরআন ও বাইবেল অনুযায়ী এখানেই আল্লাহ মুসা (আ.)-এর সঙ্গে জ্বলন্ত ঝোপের মধ্য থেকে কথা বলেছিলেন।
বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন খ্রিষ্টান মঠগুলোর একটি হলো ষষ্ঠ শতাব্দীতে নির্মিত সেন্ট ক্যাথরিন মঠ। গ্রিক অর্থোডক্স চার্চের অধীন পরিচালিত এই মঠও এখানে অবস্থিত। গ্রিসের চাপের কারণে মিসরীয় কর্তৃপক্ষ এই মঠটি বন্ধ করার কথা অস্বীকার করেছে। তাই মঠের সন্ন্যাসীরা এখনো সেখানে অবস্থান করছেন।
দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন এই মরুভূমি অঞ্চল যা মঠ, শহর ও পর্বত নিয়ে গঠিত ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান, তা বদলে যাচ্ছে। সেখানে এখন বিলাসবহুল হোটেল, ভিলা ও শপিং মল নির্মিত হচ্ছে। এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বেদুইনদের কান্না
এ অঞ্চলে জেবেলিয়া নামের একটি ঐহিত্যবাহী বেদুইন জনগোষ্ঠীর বাস। প্রাচীনকাল থেকে তারা সেন্ট ক্যাথরিনের অভিভাবক হিসেবে পরিচিত। এই জনগোষ্ঠীর ঘরবাড়ি এবং পর্যটন ইকো-ক্যাম্পগুলো প্রায় ক্ষতিপূরণ ছাড়াই ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া পার্কিংয়ের জায়গা করার জন্য স্থানীয় কবরস্থান থেকে মৃতদেহ সরাতে তাদের বাধ্য করা হয়েছে।
ব্রিটিশ ভ্রমণ লেখক বেন হফলার সিনাই উপজাতিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, প্রকল্পটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় টেকসই উন্নয়ন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি পর্যটনকে আরও উৎসাহিত করবে ঠিকই। তবে এটি বেদুইনদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বেন হফলার বলেন, জেবেলিয়ারা যে রকম চেয়েছিল, এটি ঠিক সে রকম কোনো উন্নয়ন নয়। বাইরের মানুষের স্বার্থরক্ষার জন্য এটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি পরিকল্পনা।
এই ভ্রমণ লেখক আরও বলেন, ‘যাযাবর ঐতিহ্যের বেদুইন উপজাতির চারপাশে গড়ে তোলা হচ্ছে এক নতুন নগরসভ্যতা। এটি এমন একটি নগর, যা থেকে তারা সব সময় বিচ্ছিন্ন থেকেছে, যা নির্মাণে তারা কোনো সম্মতি দেয়নি। এ ছাড়া এটি মাতৃভূমিতে তাদের অবস্থান চিরতরে বদলে দেবে।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের নীরবতা
এই অঞ্চলে প্রায় চার হাজার বেদুইন বাস করে। তাদের কণ্ঠ চাপা পড়ে গেছে। এই পরিবর্তন নিয়ে তারা কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলছে না।
এ পর্যন্ত গ্রিস হলো একমাত্র বিদেশি শক্তি, যারা এই মিসরীয় পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সবচেয়ে সরব। কারণ, এখানকার মঠের সঙ্গে তাদের সরাসরি সম্পর্ক আছে।
গত মে মাসে মিসরের একটি আদালত বিশ্বের প্রাচীনতম ও বহুল ব্যবহৃত খ্রিষ্টান মঠ সেন্ট ক্যাথেরিনসকে রাষ্ট্রীয় জমিতে অবস্থিত বলে রায় দেওয়ার পর এথেন্স ও কায়রোর মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
কয়েক দশক ধরে চলা বিরোধের পর বিচারকেরা বলেন, মঠটি শুধু এর জমি ও আশপাশের প্রত্নতাত্ত্বিক ধর্মীয় স্থানগুলো ‘ব্যবহারের অধিকার’ রাখে।
গ্রিসের চার্চপ্রধান আর্চবিশপ দ্বিতীয় ইয়েরোনিমোস দ্বিতীয় এই রায়ের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মঠের সম্পত্তি দখল ও বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে। অর্থোডক্স ও হেলেনিজমের এই আধ্যাত্মিক বাতিঘর এখন অস্তিত্ব–সংকটের মুখে।
দীর্ঘদিন আর্চবিশপের দায়িত্ব পালন করা দামিয়ানোস গ্রিক সংবাদপত্রকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এ সিদ্ধান্ত ‘আমাদের জন্য মারাত্মক আঘাত...এবং এক লজ্জাজনক ঘটনা।’ বিষয়টি সামলাতে গিয়ে যাজকদের ভেতরে বিভাজন তৈরি হয়েছে। এ কারণে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন বলেও জানিয়েছেন।
আদালতের বিতর্কিত রায় বহাল থাকলেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর গ্রিস ও মিসর একটি যৌথ ঘোষণায় সেন্ট ক্যাথরিনের গ্রিক অর্থোডক্স পরিচয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
উন্নয়ন, নাকি ধ্বংস
মিসর সরকার ২০২১ সালে গ্রেট ট্রান্সফিগারেশন নামের এই প্রকল্প শুরু করে। পর্যটকদের জন্য করা এই পরিকল্পনার মধ্যে আছে হোটেল, ইকো লজ ও একটি বৃহৎ দর্শনার্থীকেন্দ্র খোলার পাশাপাশি কাছাকাছি ছোট বিমানবন্দর ও মাউন্ট মোজেসা পর্যন্ত একটি কেব্ল কার স্থাপন।
সরকার এ উন্নয়নকে ‘পুরো বিশ্বের ও সব ধর্মের জন্য মিসরের উপহার’ হিসেবে প্রচার করছে।
গত বছর মিসরের গৃহায়ণমন্ত্রী শেরিফ এল-শেরবিনি বলেন, ‘প্রকল্পটি দর্শনার্থীদের সব পর্যটন ও বিনোদনমূলক সেবা দেবে; সেন্ট ক্যাথরিন শহর ও আশপাশের এলাকার উন্নয়ন করবে, পরিবেশগত, নান্দনিক ও ঐতিহ্যগত বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করবে এবং প্রকল্পে কাজ করা ব্যক্তিদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করবে।’
অর্থসংকটের কারণে এই প্রকল্পের কাজ আপাতত থেমে থাকলেও সেন্ট ক্যাথরিন মঠের সামনে এল-রাহা সমভূমি ইতিমধ্যেই বদলে গেছে। সেখানে নতুন সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। তবে সমালোচকেরা বলছেন, এ অঞ্চলের বিশেষ প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে ইউনেসকো উদ্বেগ জানালেও প্রকল্প থেমে নেই। ইউনেসকোর নথিতে লেখা হয়েছে, মঠের চারপাশের দুর্গম পাহাড়ি প্রাকৃতিক দৃশ্য মঠের জন্য এক নিখুঁত পটভূমি তৈরি করেছে। স্থানটির অবস্থান প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নির্জনতা একদিকে এবং মানুষের আধ্যাত্মিক অঙ্গীকার অন্যদিকে—এই দুয়ের এক অন্তরঙ্গ বন্ধন প্রকাশ করে।
২০২৩ সালে ইউনেসকো উদ্বেগ প্রকাশ করে মিসরকে এই উন্নয়ন বন্ধ করতে, প্রভাব যাচাই করতে ও সংরক্ষণ পরিকল্পনা করার আহ্বান জানায়; কিন্তু তা হয়নি।
চলতি বছরের জুলাই মাসে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ওয়াচ ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি সেন্ট ক্যাথরিনকে বিপদাপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় রাখার আহ্বান জানিয়ে একটি খোলাচিঠি দেয়।
সেন্ট ক্যাথেরিন ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে যুক্তরাজ্যের রাজা চার্লসের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। ফাউন্ডেশন মঠের ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রাচীন খ্রিষ্টান পাণ্ডুলিপি নিয়ে কাজ করে এবং তহবিল সংগ্রহ করে। রাজা চার্লস এ স্থানকে ‘একটি মহান আধ্যাত্মিক সম্পদ, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করা উচিত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
অর্থনীতি বনাম ঐতিহ্য
এ মেগা প্রকল্প মিসরে এটিই প্রথম নয়। দেশের অনন্য ইতিহাসের প্রতি সংবেদনশীল না হওয়ায় সরকারের এমন প্রকল্প নিয়ে আগেও সমালোচনা হয়েছে। তবে সরকার এসব বড় প্রকল্পকে দুর্বল অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার মূল হাতিয়ার হিসেবে দেখছে।
কোভিড-১৯ মহামারি থেকে পুনরুদ্ধারের পথে থাকা মিসরের সমৃদ্ধ পর্যটন খাত গাজার যুদ্ধ ও নতুন আঞ্চলিক অস্থিরতায় আবার মুখ থুবড়ে পড়েছে। এরই মধ্যে সরকার ২০২৮ সালের মধ্যে ৩ কোটি পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে।
মিসরের বিভিন্ন সরকারের সময়ে সিনাইয়ের ক্রমাগত বাণিজ্যিক উন্নয়ন স্থানীয় বেদুইন সম্প্রদায়ের সঙ্গে কোনো পরামর্শ ছাড়াই করা হয়েছে।
১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে ইসরায়েল সিনাই উপদ্বীপ দখল করে। ১৯৭৯ সালে দুই দেশের মধ্যে এক শান্তিচুক্তির পর তা আবার মিসরের কাছে ফেরত আসে। তখন থেকেই বেদুইনরা অভিযোগ করে আসছে, তাদের সঙ্গে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের মতো আচরণ করা হচ্ছে।
১৯৮০-এর দশকে দক্ষিণ সিনাইয়ে শারম আল–শেখসহ জনপ্রিয় লোহিত সাগরের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। অনেকে বলছেন, সেন্ট ক্যাথরিনে যা ঘটছে, তার সঙ্গে এর মিল আছে।
মিসরীয় সাংবাদিক মোহান্নাদ সাবরি বলেন, বেদুইনরা এ অঞ্চলের মানুষ। তারা ছিল পথপ্রদর্শক ও শ্রমিক। এরপর শিল্পপর্যটন এসে তাদের সরিয়ে দিল—শুধু ব্যবসা থেকে নয়, সমুদ্রের কাছ থেকেও শারীরিকভাবে তাদের পেছনে ঠেলে দেওয়া হলো।
ধারণা করা হচ্ছে, লোহিত সাগরের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর মতোই দেশের অন্য প্রান্ত থেকে এই উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করার জন্য শ্রমিক নিয়ে আসা হবে। তবে সরকার বলছে, তারা বেদুইন আবাসিক এলাকাগুলোরও ‘উন্নয়ন’ করছে।
আধ্যাত্মিক ভুবনের ভাঙন
গত দেড় সহস্রাব্দ ধরে সেন্ট ক্যাথরিন মঠ বহু উত্থান-পতন সহ্য করে টিকে আছে। শুরুতের এটি ছিল এক নির্জন আশ্রয়স্থল। তবে লোহিত সাগরের পর্যটন সম্প্রসারণের পর থেকে হাজারো দর্শনার্থী এখানে এক দিনের জন্য ভ্রমণে আসতে শুরু করে। আর এতেই এর প্রাচীন পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই জ্বলন্ত ঝোপের অবশেষ বলে পরিচিত স্থান কিংবা নিউ টেস্টামেন্টের প্রাচীনতম প্রায় পূর্ণাঙ্গ হস্তলিপি কোডেক্স সিনাইটিকাসের পৃষ্ঠা প্রদর্শনকারী জাদুঘরে মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
এতে সেন্ট ক্যাথরিন ও এই স্থানের গভীর ধর্মীয় তাৎপর্য অটুট হয়তো থাকবে। তবে চারপাশের পরিবেশ ও শতাব্দীপ্রাচীন জীবনযাত্রা চিরতরে বদলে যাবে। তবু স্থানীয় অনেকের কাছে এখন একটাই প্রশ্ন—পবিত্র ভূমি কি টিকে থাকবে বিলাসবহুল রিসোর্টের ভিড়ে? এর উত্তর তাদের জানা নেই। -বিবিসি
![]() |
| মিসরের দক্ষিণ সিনাইয়ে অবস্থিত সেন্ট ক্যাথেরিন মঠ। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
Thursday, October 16, 2025
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির নামে আপাতত শুধুই ‘শব্দ-বিস্ফোরণ’
প্রাথমিকভাবে গাজায় গণহত্যা নিশ্চিতভাবে থামলেও অধিকৃত ফিলিস্তিনে একটি ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি অর্জন এখনও বহু দূরের বিষয়। গাজা পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্প বিপুল প্রশংসা কুড়িয়েছেন। যার মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসাও রয়েছে। পাক নেতা আবারও ট্রাম্পকে নোবেল দেওয়ার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি তাকে‘লাখ লাখ’ জীবন বাঁচানোর’ কৃতিত্ব দেন। যদিও ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার সারবস্তু সামান্যই।
প্রথমত, একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কোনো স্পষ্ট পথরেখা ট্রাম্পের পরিকল্পনায় নেই। যদিও মিশরের প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, এই চুক্তি দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, শান্তির জন্য আরও বিস্তৃত ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তিও দ্বিতীয় ইন্তিফাদার বিশৃঙ্খলার মধ্যে ভেঙে পড়ে। এর প্রধান কারণ ছিল প্রকৃত শান্তির প্রতি ইসরাইলের আন্তরিকতার অভাব।
তদুপরি, গাজার উপর নজরদারি করার জন্য বিদেশি শাসন, ঔপনিবেশিক প্রশাসনের ধারণা এবং বিদেশি সৈন্য মোতায়েনের বিষয়টিও রয়েছে। যা গভীরভাবে ত্রুটিপূর্ণ বলে মনে হয়। এই অঞ্চলের সঙ্গে পরিচিতদের লেবাননের গৃহযুদ্ধের সময় আমেরিকা ও ইউরোপীয় ‘শান্তিরক্ষীদের’ সংশ্লিষ্টতার কথা মনে রাখা উচিত। ইরাকে ‘জাতি গঠন’-এর ব্যর্থতাও ভুলে যাওয়া উচিত নয়।
সংক্ষেপে, গাজা বা পশ্চিম তীর—কোনোটাই বিদেশি বাহিনীর দ্বারা শাসিত হওয়া উচিত নয়। সব মতের ফিলিস্তিনি দলগুলোর একত্রিত হওয়া এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত নিজেদের ভূখণ্ড নিজেরাই পরিচালনা করা উচিত।
আরেকটি সত্য হচ্ছে শার্ম আল-শেখের এই ‘শান্তি’ উদ্যাপনের মাঝে গাজায় গণহত্যার বিষয়ে ইসরাইলের কোনো জবাবদিহিতার উল্লেখ ছিল না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই জায়নবাদী রাষ্ট্রটি দশকের বেশি সময় ধরে এমনভাবে কাজ করছে যেন তারা আইনের ঊর্ধ্বে। নাকবা’র সময় থেকে শুরু করে তারা ফিলিস্তিনিদের হত্যা, অঙ্গহানি এবং জমি দখল করে চলেছে। ইসরাইল তাদের পূর্বের দায়মুক্তির জন্য শাস্তি না পাওয়ায়, তারা গাজায় হত্যাকাণ্ড চালাতে এমন এমন সাহস দেখিয়েছে।
এই অঞ্চলে যদি প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হয় তবে দুটি বিষয় অপরিহার্য। প্রথমত, তেল আবিবে যারা হাজার হাজার গাজাবাসীর হত্যা ও অনাহারের জন্য দায়ী, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। বিশ্বকে অঙ্গীকার করতে হবে যে গাজার মতো আরেকটি গণহত্যা আর কখনও হবে না। দ্বিতীয়ত, একটি সার্বভৌম ও কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দিকে একটি দৃঢ় পথরেখা তৈরি করতে হবে। এর চেয়ে কিছু কম হলে তা কেবল সহিংসতার চক্রকেই স্থায়ী করবে। কারণ ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের বৈধ অধিকার দিতে অস্বীকার করছে।

Sunday, October 12, 2025
গাজার যুদ্ধবিরতি নিয়ে মিশরে আন্তর্জাতিক সম্মেলন সোমবার
মিশরের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ২০টিরও বেশি দেশের নেতা এই বৈঠকে অংশ নেবেন। এ সম্মেলনের লক্ষ্য হলো, গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানো, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদার করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও উন্নয়নের নতুন যুগের সূচনা করা। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং স্পেনের পেদ্রো সানচেজ উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনও অংশগ্রহণ করবেন।
তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বা ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের কোনো প্রতিনিধি যোগ দেবেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। ওদিকে মার্কিন মধ্যস্থতায় সম্পাদিত চুক্তির প্রথম ধাপে ইসরাইলি বাহিনী গাজার কিছু অংশ থেকে আংশিক সরে গেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া যুদ্ধে ফিলিস্তিনের গাজায় কমপক্ষে ৬৭ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। গোটা গাজা এখন দুর্ভিক্ষ ও ধ্বংসের মুখে।
গাজা শান্তি সম্মেলনে ইরানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে মিশরে সোমবারের উচ্চপর্যায়ের শান্তি সম্মেলনে ইরানকে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনটা জানিয়েছে অ্যাক্সিওস-এর এক প্রতিবেদন। সম্মেলনটি সোমবার মিসরের রেড সি উপকূলীয় শহর শার্ম আল-শেখে হবে। এর সহ-সভাপতিত্ব করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।
মিসরের প্রেসিডেন্সি জানিয়েছে, সম্মেলনে বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশের নেতা উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। গাজা যুদ্ধবিরতির পর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার একটি কাঠামো গড়ে তোলাই এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।
Wednesday, October 1, 2025
কায়রোয় গড়ে উঠছে ‘ছোট্ট গাজা’ by শিরিন ফালাহ সাব
ইসরায়েলি বোমা হামলায় নিজেদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর তাঁরা খান ইউনিসে আত্মীয়দের সঙ্গে ছিলেন। তখন অবশ্য গাজা ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবতে পারেননি তাঁরা। কিন্তু রাফাহতে আসার পর প্রতিনিয়ত ‘বোমা আর মৃত্যুর ভয়াবহতা নিয়ে তাঁবুতে বাস করা’ রীতিমতো দুঃসহ হয়ে ওঠে। তখনই খুলুদের স্বামী মোহাম্মদ ঠিক করেন যে তাঁরা যেভাবেই পারেন, মিসর যাবেন। তারপর যা হয় হবে।
‘অন্তত বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ একটু যেন ভালো হয়, সেটা ভেবেই এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়,’ বলেন খুলুদ। খুলুদ শিক্ষকতার পাশাপাশি গাজায় জাতিসংঘের একটি সংস্থার সঙ্গেও কাজ করতেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলের অভ্যন্তরে হামলা চালানোর পর প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েল গাজার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করে। তখন থেকে এ পর্যন্ত আনুমানিক এক লাখ গাজাবাসী মিসরে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে গাজায় প্রতিনিয়ত মৃত্যুর বিভীষিকাকে সাময়িকভাবে পেছনে ফেললেও মিসরে তাঁদের জীবন বড্ড কঠিন ও অনিশ্চিত।
তারপর তাঁরা কেউ পারতপক্ষে এ নিয়ে কথা বলতে চান না পাছে আশ্রয়দাতা দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার দায়ে খেদিয়ে দেওয়া হয় বা জোর করে গাজায় ফেরত পাঠানো হয়।কিংবা মিসরীয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের হয়রানি করতে পারে আর গাজায় থেকে যাওয়া স্বজনদের মিসরে আসার পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রবল।
তাই এ প্রতিবেদন তৈরিতে যাঁদের সঙ্গে কথাবার্তা বলা হয়েছে, এখানে তাঁদের পুরো নামধাম উল্লেখ করা হয়নি।
গাজা থেকে প্রাণ নিয়ে পালাতে খুলুদ ও মোহাম্মদকে শিশুদের জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ ডলার ও বড়দের জনপ্রতি ৫ হাজার ডলার করে মোট ১৭ হাজার ৫০০ ডলার দিতে হয়েছে একটি মিসরীয় কোম্পানিকে, যারা রাফাহ সীমান্ত অতিক্রম করে মিসরে প্রবেশের যাবতীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছে।
টেলিফোন পাওয়ার কয়েক দিন পর পরিবারটি রাফাহ সীমান্ত অতিক্রম করে মিসরে প্রবেশের মুখে অভিবাসন কর্মকর্তা তাঁদের পাসপোর্টে ৪৫ দিন মেয়াদি পর্যটন ভিসার সিলছাপ্পর মেরে দেন। রাফাহ থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে আরিশ হয়ে সিনাই মরুভূমির ওপর দিয়ে ৩১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মিসরের রাজধানী কায়রো গিয়ে পরিচিত একটি পরিবারের বাড়িতে ওঠেন খুলুদ-মোহাম্মদ দম্পতি।
ওখানে তিন দিন থেকে কায়রোর দক্ষিণে গিজার উত্তরাঞ্চলে ইমবাবা নামের একটি মহল্লায় ছোট্ট একটি বাসা নেন তাঁরা। প্রতি মাসে ভাড়া গুনতে হয় ১৮৫ ডলার, যা একই ধরনের বাসার জন্য মিসরীয়দের দেওয়া ভাড়ার তিন গুণ। ‘গাজার ভেতরে ও বাইরে সবাই এ যুদ্ধ থেকে মুনাফা লুটতে চায়,’ ক্ষোভের সঙ্গে বলেন খুলুদ।
এখানে আসার পর মোহাম্মদ মাসখানেক কাজ খুঁজেছেন আর খুলুদ বাচ্চাদের নিয়ে বাসায় থেকেছেন। কারণ, বসবাসের পারমিট ছাড়া বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানো যায় না। মোহাম্মদ এরপর তিন সপ্তাহের জন্য দুটি রেস্তোরাঁয় কাজ করেন। তিনি ভোরে বাসা থেকে বেড় হতেন আর রাতে ক্লান্ত-বিধ্বস্ত হয়ে ফিরতেন।
এই দম্পতি অবশ্য সৌভাগ্যবান। কারণ, হাড়ভাঙা খাটুনির তিন সপ্তাহ পর গাজায় যে সংস্থা মোহাম্মদ কাজ করতেন, সেই সংস্থা মিসরের বাইরে তাঁর জন্য একটা কাজের ব্যবস্থা করে দেয়। ফলে খুলুদ ও তাঁর তিন সন্তান মিসরে সাময়িকভাবে বসবাসের অনুমতিপত্র লাভ করেন। ‘অভিবাসীদের তুলনায় আমাদের লড়াইটা ভিন্ন ও কঠিনতর,’ বলেন খুলুদ। এখানে যেসব ফিলিস্তিনি থাকছেন, সবার ক্ষেত্রেই একই কথা প্রযোজ্য।
এখানে প্রধান সমস্যা হলো মিসরে তাঁদের কোনো বৈধ অবস্থান নেই। তাই তাঁরা ফোনের সিম কার্ড কিনতে পারেন না, ব্যাংকে হিসাব খুলতে পারেন না, শিশুদের স্কুলে পাঠাতে পারেন না, এমনি মিসর ছেড়ে অন্য কোনো দেশে যেতেও পারেন না।
দুই.
এখন কায়রোতে বসবাস করছেন ৫৩ বছর বয়সী আয়েশা। তিনি স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে গাজা ছেড়েছিলেন ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে। ‘আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে থাকতে পারি না। যদি যুদ্ধ থেমে যায়, তখন আমাদের কী হবে? আমাদের কি মিসর ছেড়ে চলে যেতে হবে?’ প্রশ্নগুলো করে নিজেই উত্তর দিলেন তিনি, ‘কিন্তু আমি গাজায় ফিরে যেতে চাই না। ওখানে সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা গৃহহারা হয়েছি, দেশহারা হয়েছি।’
গাজা নগরীতে কনটেন্ট এডিটরের কাজ করতেন ২৪ বছরের মোহানদ। তাঁর মা–বাবা আগেই মিসরে আসতে পেরেছিলেন। মোহানদ তাঁদের একমাত্র সন্তান হওয়ায় অসুস্থ বাবার সেবাযত্ন করার জন্য পরবর্তী সময় কায়রোয় আসার অনুমতি পান। তাঁদের ভ্রমণ ভিসার ৪৫ দিন মেয়াদ অনেক আগেই ফুরিয়ে গেলেও তাঁরা সাময়িক বসবাসের অনুমতিপত্র পাননি এখনো। ‘আর এই অনুমতিপত্র ছাড়া কোনো স্থায়ী বা ভালো কাজ খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। আমি তাই কোনোমতে অনলাইনে কাজ করে আর নিজের জমানো টাকা ভেঙে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছি।’
গাজা ছেড়ে চলে আসার আগে মোহানদের প্রতিদিনের কাজ ছিল খাবার-পানি জোগাড় করা। ‘এখানে আমার দৈনিক কাজের অংশ হলো গাজার আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের খবর জানার চেষ্টা করা। তারা খাবার ও পানি পাচ্ছে কি না, নিরাপদে আছে কি না—এসব জানা,’ বলেন তিনি।
আসলে এটা তো শরণার্থী হিসেবে বেঁচে থাকার অনুভূতি। তাঁরা প্রতিনিয়ত অনুভব করেন, যেকোনো সময়ে তাঁদের মিসর থেকে চলে যেতে হতে পারে। মিসর কর্তৃপক্ষ এমন পদক্ষেপ নিতে পারে যে ফিলিস্তিনিদের বসবাস কঠিনতর হয়ে উঠতে পারে।
‘হয়তো আপনাকে সম্মান জানানো হচ্ছে, হয়তো গোটা মিসরবাসী আপনাকে ভালোবাসছে। কিন্তু দিন শেষে আপনি এখানে একজন অতিথি মাত্র,’ মোহানদ বলে চললেন। ‘মিসরীয়রা মেহমানদের সম্মান করে ঠিকই, কিন্তু আমাদের তো ভুললে চলবে না, আমরা কারা ও কোথা থেকে এসেছি। তাই আমাদের সব সময় চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হচ্ছে।’
তিন.
বিদেশিদের বিভিন্ন মেয়াদে অবস্থান করার জন্য মিসর সরকার বিভিন্ন রকম অনুমতিপত্র দিয়ে থাকে। এগুলোর মধ্যে আছে ভ্রমণ ভিসা, শিক্ষা ভিসা, বিনিয়োগ ভিসা, রিয়েল এস্টেট ক্রয়কারী ভিসা ও মিসরীয় নাগরিক বিয়ে করলে বিশেষ অনুমতিপত্র বা পারমিট।
গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে মিসর সরকার নতুন এক নিয়ম চালু করে। এতে বলা হয়, যুদ্ধের কারণে শরণার্থী হিসেবে কেউ সেখানে প্রবেশ করলে ও অনুমতিপত্র ছাড়া অবস্থান করলে এক হাজার ডলার জরিমানা গুনতে হবে। পাশাপাশি শরণার্থীর পক্ষে কোনো মিসরীয় নাগরিক বা বৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশি কাউকে জামিনদার হতে হবে, তা না হলে ওই শরণার্থীকে মিসর ছেড়ে চলে যেতে হবে।
স্বাভাবিকভাবেই এ আইন প্রাণ বাঁচাতে গাজা থেকে পালিয়ে আসা ফিলিস্তিনিদের জন্যও প্রযোজ্য। আয়েশা জানান, তাঁর ২৬ বছর বয়সী মেয়ে নিদ্দা একজন মিসরীয়কে বিয়ে করতে যাচ্ছেন, যদিও এটা তাঁর ইচ্ছা নয়।
‘গাজা থেকে চলে আসার আগে ওখানে এক চিকিৎসকের সঙ্গে ওর সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং ওদের প্রায় বাগ্দান হতে চলেছিল,’ বলেন আয়েশা। ‘কিন্তু যুদ্ধ শুরু হলে আমরা পালিয়ে আসি আর ছেলেটা গাজায় রয়ে যায়।’ ‘এরপর আমরা ওকে মিসরে নিয়ে আসার জন্য যা করা সম্ভব, তা–ই চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।
ওদিকে সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। আমরাও কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছি। যুদ্ধ হয়তো শেষ হবে, কিন্তু আমাদের কী হবে? আমি জানি, আমার মেয়ে ওর হৃদয়কে গাজায় ফেলে এসেছে। আর একজন মিসরীয়কে বিয়ে করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা তো আমাদের জন্য, আমার জন্য, এখানে আমাদের ভবিষ্যতে নিশ্চিত করার জন্য,’ ভগ্ন কণ্ঠে বলে গেলেন আয়েশা।
তবে ফিলিস্তিনিদের সবাই যে খুব কষ্টে দিনাতিপাত করছেন, তা–ও নয়। গাজা ছেড়ে চলে আসা সচ্ছল পরিবারগুলো এখানে ভালোভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছে, এমনকি কায়রোতে তাদের সমৃদ্ধি চোখে পড়ার মতো।
গাজার রিমালে এক বড়সড় রেস্তোরাঁর মালিক ছিলেন বাসসাম আবু আল-কুন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি মিসর চলে আসেন। দুই মাস পর কায়রোর উত্তর-পশ্চিমের নাসর শহরে একটি রেস্তোরাঁ খুলেছেন। এখানে পালিয়ে আসা অনেক ফিলিস্তিনি জড়ো হয়েছেন। তিনি তাই জায়গার নাম দিয়েছেন রিমাল। ‘এই জায়গা আমাদের গাজার কথা মনে করিয়ে দেয়,’ বলেন আয়েশা। ‘জায়গাটাকে ইতিমধ্যে সবাই “লিটল গাজা” বলে অভিহিত করতে শুরু করেছে।’
এখানে গাজার আরেক ব্যবসায়ী তাঁর বুজা ও বারাদ আইসক্রিম পার্লার খুলেছেন, যা যুদ্ধের আগে উপত্যকায় খুবই জনপ্রিয় ছিল।
আয়েশার ভাষায়, ‘গাজায় যা ছিল মানুষজন এখানে তা আবার গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। ওখানকার আবহ, খাবার, স্বাদ। আর এ দুটি স্থান (রেস্তোরাঁ ও আইসক্রিম পার্লার) আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আমরা কারা।’
মোহানদও গাজার অভাব ভীষণভাবে অনুভব করেন। তবে তিনি এটাও বোঝেন যে ওখানে ফিরে যাওয়া আসলে কোনো সমাধান নয়। ‘গাজা অবাসযোগ্য হয়ে গেছে, যা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই,’ হতাশ কণ্ঠে বললেন তিনি। ‘কেউ তো স্বেচ্ছায় শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চায় না। আমি তো নিজেকে জিজ্ঞাসা করি যে কীভাবে আমি ও আমার মতো অন্যরা নিজেদের অন্তরের গভীর ক্ষত আর বেদনাবহ স্মৃতি নিয়ে কোনো ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব।’
‘গাজার যা কিছু ধ্বংস হয়ে গেছে, তার সবকিছুর স্মৃতি আমাদের মনে গেঁথে রয়েছে,’ মোহানদ বলে চললেন। ‘আমরা ফিরে যেতে চাই, ফিরে পেতে চাই সেসব, যা আমাদের ছিল। কিন্তু সবার আগে আমি ওখানকার কবরগুলোর কাছে যেতে চাই, যেখানে আমার প্রিয়জনেরা শুয়ে আছে। আমি আরও চাই, ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া আমার ভালোবাসার মানুষদের দেহগুলোকে বের করে আনতে।’
চার
মিসর সরকারের আমলতান্ত্রিক হয়রানি ও ভীত আর প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তার মধ্যে বাস করতে থাকা ফিলিস্তিনিদের অনেকেই এখন প্রবল অপরাধবোধে ভুগছেন তাঁদের সেসব আত্মীয়-পরিজন, বন্ধু ও অন্য গাজাবাসীর জন্য, যাঁরা তাঁদের মতো সৌভাগ্য নিয়ে পালিয়ে আসতে পারেননি।
‘আমাকে পালাতেই হয়েছে,’ ৩৮ বছর বয়সী কনটেন্ট ক্রিয়েটর মাহা বলেন। ‘গাজা শহর ছেড়ে আমরা দক্ষিণে সরে যেতে বাধ্য হয়েছিলাম। এ সফরে আমি ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়ি। সেই সঙ্গে ভয় সব সময় তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল। তাই আমার স্বামী ঠিক করেন, আমাদের মিসরে চলে যাওয়া উচিত। এখানে আসার পর আমাদের জীবনের সবকিছু বদলে গেছে। তবে আমি এখনো অনুভব করি না যে আমি গাজা থেকে চলে এসেছি।’
‘আমার পুরো পরিবারই তো ওখানে রয়ে গেছে,’ কান্নাভেজা কণ্ঠে মাহা বলে চললেন।
‘শারীরিকভাবে আমি মিসরে থাকলেও মানসিকভাবে, আবেগের সঙ্গে আমি তো গাজায় আছি। মিসর তো আমাদের কাছে গ্রীষ্ম অবকাশ কাটাতে যাওয়ার জায়গা, যদিও আমি এখন তা মোটেও উপভোগ করছি না।’
মাহা এ–ও বলেন, প্রতি মিনিটে তাঁকে তাড়িয়ে বেড়ানো মৃত্যুকে ফাঁকি দিয়ে আসতে পেরেছেন বটে, কিন্তু তাঁকে এখন এক অপরাধবোধ তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। ‘আমি যখন সুউচ্চ ভবন আর সুদৃশ্য ঘরবাড়ি দেখি, তখন আমার খালি মনে হয়, গাজার ঘরবাড়ি ও ভবনগুলো যদি এ রকমই থাকত।’
‘যখন আমি খেতে বসি, আমার পরিবারের লোকজনের কথা মনে হয়’, বলতে বলতে মাহার গলা ধরে আসে। ‘ভীষণ কষ্ট হয় এই ভেবে যে আমি যা খাচ্ছি, তা যদি ওরা খেতে পারত, আমার বাবা যদি তাঁর পছন্দের কফির কাপে চুমুক দিতে পারত, চারপাশে কোনো শব্দ ছাড়াই একটু ঘুমাতে পারত, আর আপনমনে গাছপালা ও ফুলের দিয়ে একদৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকত পারত!’
মাহা জানান, তিনি এখানে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না। একবার একটানা চার রাত নির্ঘুম কাটিয়েছিলেন। কারণ, যখন তিনি ঘুমের কোলে ঢলে পড়েন, তখনই বোমা, পলায়ন আর ছোটাছুটির দুঃস্বপ্ন তাঁকে চেপে ধরে।
মিসরে বা অন্য কোনো দেশে তিনি তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে কী ভাবছেন, জানতে চাইলে মাহা বলেন, এ রকম ভাবা খুব বেদনাদায়ক। ‘আমি এখনো গাজায় ফিরে যেতে চাই,’ তিনি বলেন। ‘যুদ্ধে আমি ভাইকে হারিয়েছি। আমি ওর অভাবটা খুব অনুভব করি। আমি গাজায় গিয়ে ওর কবরটা নিজ চোখে দেখা না পর্যন্ত বিশ্বাস করতে পারছি না যে ও নেই। আশা করি, কবরটা এখনো আছে।’
‘আপনাদের কাছে বড় অদ্ভুত শোনাতে পারে, কিন্তু আমি অনুভব করি যে সবকিছুর পরও গাজায় জীবন সহজ ছিল,’ মাহা বেদনার্ত স্বরে বললেন। ‘সেখানে সবাই প্রতিনিয়ত অনুভব করে যে তারা যেকোনো সময়ে মরতে যাচ্ছে। কারণ, মৃত্যুই তাদের নিয়তি। আমরা ফিলিস্তিনিরা যারা পালিয়ে মিসরে এসেছি, তারা জানি না যে বাঁচতে হবে না মরতে হবে।’
- ইসরায়েলের প্রগতিশীল দৈনিক হারেৎজ থেকে নেওয়া
- ইংরেজি থেকে রূপান্তর: আসজাদুল কিবরিয়া
* শিরিন ফালাহ সাব, আরব-ইসরায়েলি সাংবাদিক।
![]() |
| রাফা সীমান্তে এক ফিলিস্তিনির কাগজপত্র যাচাই করছেন মিসরীয় পুলিশ। ছবি: রয়টার্স |
Saturday, September 13, 2025
মিসরে হামাস নেতাদের হত্যার চক্রান্ত করেছিল ইসরায়েল: গোয়েন্দা তথ্য
একজন উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ইসরায়েল বেশ কিছুদিন ধরেই কায়রোতে হামাস নেতাদের হত্যার পরিকল্পনা করছে। মিসর গত দুই বছরে যুদ্ধবিরতির আলোচনার সময় ইসরায়েলের এ ধরনের একটি চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছিল।
কাতারের রাজধানী দোহায় গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে আবাসিক ভবনে প্রায় ১২টি বিমান হামলা চালায় উগ্রবাদী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ইসরায়েল। হামাস নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়, যা পুরো অঞ্চলে নিন্দার ঝড় তুলেছে।
ইসরায়েলের কট্টর ইহুদিবাদী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে মিসরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মিডল ইস্ট আইকে এই বিবৃতি দিয়েছেন। নেতানিয়াহু হুমকি দিয়েছিলেন, ইসরায়েল অন্যান্য দেশেও হামাসকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে।
মিসরের নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ‘মিসরীয় ভূখণ্ডে হামাস নেতাদের জীবনের ওপর যেকোনো হামলাকে মিসর তার সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল হিসেবে বিবেচনা করবে। এর বিরুদ্ধে পাল্টা জবাব দিতে আমরা একমুহূর্তও দ্বিধা করব না।’
হামাসের শীর্ষস্থানীয় নেতারা মিসরে বসবাসের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো কোনো ঘোষণা দেয়নি। তবে নিরাপত্তা সূত্রটি জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের নৃশংস হামলার আগে থেকেই বেশ কয়েকজন নেতা বছরের পর বছর ধরে মিসরে বসবাস করছেন। নিরাপত্তার কারণে তাঁদের পরিচয়, সংখ্যা ও সঠিক অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্র মতে, এই অঞ্চলকে অন্তহীন যুদ্ধ ও উত্তেজনার দিকে ঠেলে দেওয়ার পরিবর্তে আলোচনায় ফিরে আসার এবং গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য কাজ করতে মিসরীয় কর্মকর্তারা তাঁদের ইসরায়েলি প্রতিপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্রটি উল্লেখ করেছে, গাজায় সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির বিষয়ে তেল আবিবের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে বেশ কয়েক মাস ধরে এমনিতে মিসর-ইসরায়েল সম্পর্কে উত্তেজনা রয়েছে।
গাজার ভবিষ্যতের দায়িত্ব মিসরের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা বিশেষ করে ফিলিস্তিনিদের উত্তর সিনাইয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টার ব্যাপারে মিসরের কর্মকর্তারা সব সময়ই সতর্ক রয়েছেন।
১৯ আগস্ট মিডল ইস্ট আই প্রতিবেদন করেছিল, সিনাইয়ে ফিলিস্তিনিদের সম্ভাব্য প্রবেশ ঠেকাতে মিসর গাজার সঙ্গে মিসর সীমান্তে প্রায় ৪০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে।
মিডল ইস্ট আই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করেছিল, ভেঙে পড়া গাজা যুদ্ধবিরতির আলোচনা থেকে কায়রোকে একপাশে সরিয়ে রাখা হয়েছে। কারণ, মিসর আশঙ্কা করছে ছিটমহলটিতে বড় ধরনের ইসরায়েলি হামলার কারণে ফিলিস্তিনি সিনাই সীমান্ত ভেঙে ঢোকার চেষ্টা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে বাধ্য হতে পারে।
দোহার হামলার আগে গত সপ্তাহে একজন ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেছিলেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার আলোচনায় কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় মিসর ও ইসরায়েলের মধ্যে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
মিসর হামাসকে রক্ষা করছে না
মিসরের একজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, দোহার হামলায় মিসরের আকাশসীমা ব্যবহার করেনি ইসরায়েল। তিনি বলেন, ‘দোহার হামলায় জড়িত কোনো ইসরায়েলি বিমান মোটেই মিসরের আকাশসীমা অতিক্রম করেনি।’
সেনাবাহিনীর ওই কর্মকর্তা আরও নিশ্চিত করেছেন, দোহার হামলা সম্পর্কে মিসরের আগে থেকে কোনো ধারণা ছিল না এবং এই অভিযান সম্পর্কে মিসর, ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো সমন্বয় ছিল না।
মিসরের কর্মকর্তারা মিডল ইস্ট আইকে বলেন, বর্তমানে ইসরায়েল সীমান্তে সিনাই উপদ্বীপে চীনা বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে, যাতে পূর্বানুমতি ছাড়া বা শনাক্ত না হয়ে কোনো বিমান সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে।
দোহায় হামলার পর নেতানিয়াহু তাঁর ভিডিও ভাষণে হামাসকে যেকোনো জায়গায় নিশানা করার হুমকি দেন।
উগ্রবাদী নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি কাতার ও সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়া সব দেশকে বলছি, হয় তাদের বহিষ্কার করুন অথবা তাদের বিচারের আওতায় আনুন। আপনারা তা না করলে আমরা করব।’
গাজায় গণহত্যার দায় ওঠা ইহুদিবাদী নেতা নেতানিয়াহু হামাসের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযানকে ‘সন্ত্রাসবাদের’ বিরুদ্ধে একটি বিশ্বব্যাপী লড়াইয়ের অংশ বলে দাবি ধরেন।
গাজায় গণহত্যা চালানো নেতানিয়াহু যুক্তি দেখান, ‘যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে আফগানিস্তানে আল-কায়েদা সন্ত্রাসীদের পেছনে ছুটেছিল এবং পাকিস্তানে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করেছিল, আমরা ঠিক সেভাবে কাজ করেছি।’
নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিশিষ্ট নিরাপত্তা বিশ্লেষক মিডল ইস্ট আইয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, তিনি মনে করেন—এই সতর্কবার্তাগুলো মূলত হামাসকে নয়, বরং কায়রো নিজেকে এই অঞ্চলে কীভাবে দেখে, সেটাকেই বেশি বোঝায়।
এই বিশ্লেষক মনে করেন, এই সতর্কতাগুলো হামাসের জন্য ততটা নয়, যতটা কায়রো এই অঞ্চলে নিজের অবস্থানকে কীভাবে দেখে তার সঙ্গে সম্পর্কিত।
এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক যুক্তি দেন, মিসর হামাসকে রক্ষা করছে না। এই দেশ দলটিকে সন্দেহের চোখে দেখে এবং মিসরে নিষিদ্ধ মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে হামাসের সম্পর্ক আছে বলে মনে করে।
এই বিশ্লেষক আরও বলেন, মিসর নিজেকে সবচেয়ে কৌশলগত আরব দেশ হিসেবে দেখে এবং তার মাটিতে যেকোনো ইসরায়েলি হামলাকে একধরনের অপমান হিসেবে গণ্য করা হবে। এটি মিসরের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করবে এবং সেই আঞ্চলিক অবস্থানকে বিপন্ন করবে।
ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী, বিশেষ করে হামাসের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মিসর কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে। তবে বিগত কয়েক মাস গাজা যুদ্ধবিরতির আলোচনা থেকে মিসরকে ক্রমবর্ধমানভাবে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। কায়রোর ভয়, সিনাই উপদ্বীপে ইসরায়েলি স্থল হামলা মিসরকে এই সংঘাতে টেনে আনতে পারে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক তাঁর ব্যাখ্যায় বলেন, ইসরায়েলকে যদি কায়রোতে নির্বিঘ্নে হত্যাকাণ্ড চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়, তবে গাজায় একজন বিশ্বাসযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মিসরের কাজ করার গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না।
এই বিশ্লেষক আরও বলেন, দেশের শাসকেরা এই ভূমিকার জন্য অনেক বিনিয়োগ করেছে। রাজধানীতে একটি হামলা সেই ভাবমূর্তিকে চুরমার করে দিতে পারে। এই অঞ্চলে দেখিয়ে দেবে, মিসর নিজের উঠানও রক্ষা করতে পারে না।
মিসরই প্রথম আরব দেশ যারা ১৯৭৯ সালে জনগণের বিরোধিতা সত্ত্বেও মার্কিন-মধ্যস্থতায় একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছিল। মিসরীয়রা বেশির ভাগই সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের ক্ষেত্রে শাসকদের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে এসেছে এবং ইসরায়েলকে শত্রু ও ফিলিস্তিনের দখলদার হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।
![]() |
| ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (বাঁয়ে) ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। ফাইল ছবি–রয়টার্স |
Wednesday, August 27, 2025
মিসরে সমুদ্রতলে প্রাচীন শহরের খোঁজ
দেশটির প্রত্নতত্ত্ববিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই শহরের বেশ কিছু নিদর্শন গত বৃহস্পতিবার ধাপে ধাপে পানির নিচ থেকে তুলে আনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে রাজরাজড়াদের মূর্তি, চুনাপাথরের তৈরি ভবনের ধ্বংসাবশেষ ও ডকইয়ার্ডের (জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতের কারখানা) অংশবিশেষ।
প্রত্নতাত্ত্বিকেরা বলছেন, টলেমাইক রাজাদের প্রায় ৩০০ বছরের শাসনামলে গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল কানোপাস নগরী। তারই সম্প্রসারিত অংশ হিসেবে এই শহর গড়ে ওঠে। পরে রোমান সাম্রাজ্যের আনুমানিক ৬০০ বছরের শাসনামলে সেটি আরও সমৃদ্ধ হয়। কিন্তু ভূমিকম্প ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে ধীরে ধীরে তলিয়ে যায় শহরটি। হারিয়ে যায় কানোপাস ও পাশের বিখ্যাত বন্দরনগরী হেরাক্লিয়ন।
বৃহস্পতিবার উদ্ধার অভিযান চলাকালের কিছু ছবি ও ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, বড় বড় ক্রেন দিয়ে ধীরে ধীরে পানির নিচ থেকে তুলে আনা হচ্ছে বেশ কয়েকটি মূর্তি ও চুনাপাথরের তৈরি ভবনের ধ্বংসাবশেষ। এ সময় সেখানে থাকা ডুবুরিরা হাততালির মাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিলেন।
মিসরের পর্যটন ও পুরাকীর্তি বিষয়ক মন্ত্রী শেরিফ ফাতহি বলেন, ‘সমুদ্র তলদেশে প্রাচীন এই শহরের স্থাপনাসহ আরও অনেক কিছু খুঁজে পাওয়া গেছে। তবে সেসব স্থাপনার সামান্যই তুলে আনতে পেরেছি আমরা। বাকি সব রয়ে যাবে আমাদের ডুবে যাওয়া ঐতিহ্যের অমূল্য সম্পদ হিসেবে।’
প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার অন্যতম একটি কেন্দ্র ছিল আলেকজান্দ্রিয়া। মানবসভ্যতার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এই শহরও বর্তমানে সমুদ্রে বিলীন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সমুদ্র–তীরবর্তী এই শহর প্রতিবছর গড়ে তিন মিলিমিটার করে দেবে যাচ্ছে। জাতিসংঘের গবেষণা বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যেই শহরটির এক–তৃতীয়াংশ ডুবে যেতে পারে নয়তো বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠবে।
![]() |
| ক্রেন দিয়ে সমুদ্র তলদেশ থেকে তুলে আনা হচ্ছে মাথাবিহীন একটি মূর্তি। বৃহস্পতিবার মিসরের আলেক্সান্দ্রিয়া উপকূলে। ছবি: এএফপি |
Monday, June 9, 2025
মিশরের নতুন রাজধানী তৈরির কারিগর চীন, যেখানে থাকবে ৬০ লক্ষ লোক
CSCEC এক বিবৃতিতে বলেছে- 'চুক্তির অধীনে, CSCEC নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে CBD-এর সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করবে, যা বাসিন্দা, পর্যটক এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মন্বিত নগর পরিষেবা প্রদান করবে। 'রবিবার চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত চীনের গৃহায়ন উপমন্ত্রী ডং জিয়াংগুও দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বকে "পারস্পরিক সুবিধার একটি মডেল" হিসেবে দেখেন এবং গৃহায়ন, অবকাঠামো এবং নগর-গ্রামীণ উন্নয়নে সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য চীনের ভূমিকা ব্যক্ত করেন।সিবিডিতে আফ্রিকার সর্বোচ্চ আকাশচুম্বী ভবন, ৩৮৫.৮-মিটার (১,২৬৬-ফুট) আইকনিক টাওয়ার, ১০টি অফিস টাওয়ার, পাঁচটি আবাসিক টাওয়ার এবং চারটি হোটেল রয়েছে, যার প্রধান ঠিকাদার হল সিএসসিইসি। ২০২৩ সাল থেকে, ৩০,০০০ এরও বেশি সরকারি কর্মচারী নতুন রাজধানীতে স্থানান্তরিত হয়েছেন, যা প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির তৃতীয় মেয়াদে অভিষেকের পর থেকে মিশরের সরকারী কর্মকান্ডের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে আসছে।ব্যাংক সহ বাণিজ্যিক ভাড়াটেরাও সিবিডিতে স্থানান্তরিত হচ্ছে। চীনা কোম্পানিগুলি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলের অধীনে বন্দর, মহাসড়ক এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের মতো মেগাপ্রকল্প নির্মাণে ক্রমবর্ধমান অর্থায়ন করছে।
বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট পলিসি সেন্টারের ঋণ ডাটাবেস অনুসারে, ২০২৩ সালের মধ্যে, চায়না এক্সিম ব্যাংক এবং অন্যান্য চীনা ঋণদাতাদের একটি কনসোর্টিয়াম সিবিডি নির্মাণের জন্য ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সরবরাহ করেছিল। মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের একজন অনাবাসী সিনিয়র ফেলো জন ক্যালাব্রেস বলেন, সিবিডি নির্মাণকারী সংস্থাগুলো সহ চীনা সংস্থাগুলোকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ব্যবহারিক এবং কৌশলগত উভয় উদ্দেশ্যকেই প্রতিফলিত করে- বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভকে অগ্রাধিকার এবং স্মার্ট সিটি হিসেবে অ্যাক্সেস। চীন-মিশর সম্পৃক্ততা এমন এক সময় হচ্ছে যখন বেইজিং মিশরে তার বিনিয়োগ সম্প্রসারণ করছে, বিশেষ করে সুয়েজ খালে। যা ভূমধ্যসাগর এবং লোহিত সাগরকে সংযুক্তকারী একটি প্রধান বৈশ্বিক বাণিজ্য পথ।জেনারেল অথরিটি ফর ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ফ্রি জোনস অনুসারে, উৎপাদন থেকে শুরু করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে ২,৮০০ টিরও বেশি চীনা কোম্পানি মিশরে কাজ করছে, যার বিনিয়োগ ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
সূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
.jpeg)
Wednesday, June 4, 2025
প্রাচীন মিশরীয় শহর আলেকজান্দ্রিয়া ধসে পড়ছে কেন?
গবেষণায় দেখা গেছে ২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৮৬টি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে, ২০১টি ভবন আংশিকভাবে ধসে পড়েছে, ৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পুরনো মানচিত্র (১৮৮৭, ১৯৫৯, ২০০১) ও স্যাটেলাইট ইমেজ ব্যবহার করে দেখা গেছে, শহরের উপকূল দ্রুতই ভিতরের দিকে সরছে। মাটির নমুনায় আইসোটোপ বিশ্লেষণ (যেমন বি৭) করে দেখা গেছে, যেসব এলাকায় আইসোটোপের মাত্রা কম, সেসব জায়গার মাটি অনেক বেশি ক্ষয়প্রবণ। গবেষণার সহ-লেখক এবং ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার পানি বিষয়ক বিজ্ঞানী ড. এসসাম হেগগি বলেন- এই ক্ষতির পরিমাণ শুধু ভবনের ইট বা সিমেন্টে সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ক্ষতি। আমরা প্রত্যক্ষ করছি কীভাবে উপকূলীয় ঐতিহাসিক শহরগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন ভবিষ্যতের নয়- এটা এখনই বাস্তব। গবেষকরা প্রাকৃতিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছেন, যেমন- উপকূল বরাবর বালুর ঢিবি ও গাছপালা দিয়ে প্রাকৃতিক ব্যারিয়ার তৈরি, যা সমুদ্রের লবণাক্ত পানি প্রবেশ ঠেকাতে সাহায্য করবে। এতে ভবনের নিচে পানির স্তর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারবে না, ফলে ভবনের ভিত্তিও রক্ষা পাবে। আলেকজান্দ্রিয়ার অবস্থা শুধু মিশরের জন্যই নয়, বরং সমুদ্রতটবর্তী ঐতিহাসিক শহরগুলোর জন্য একটি সতর্কবার্তা। যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে আমরা শুধু ভবন নয়, সভ্যতার ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কেই চিরতরে হারাতে পারি।

Saturday, April 19, 2025
নতুন গবেষণায় সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য: গিজার গ্রেট পিরামিডের নীচে যীশুখ্রিস্টকে সমাহিত করা হয়েছিল
সেই মিশনের অংশ হিসেবে ইমেজিং সরঞ্জাম ব্যবহার করে ওয়ার্নার পিরামিডের ভিত্তিপ্রস্তরের গভীরে খোদাই করা মানবসৃষ্ট কক্ষগুলো সনাক্ত করেছেন। যীশুখ্রিস্টের সমাধি ও সিন্দুকটি যে গুপ্ত গুহায় রাখা, তার মুখ একটা বড় পাথর দিয়ে বন্ধ করা বলে জানিয়েছেন ওয়ার্নার। তাঁর সবচেয়ে আশ্চর্যজনক দাবিগুলোর মধ্যে একটি হল যে যীশু সম্ভবত এই স্থানে পাহাড়ে ধর্মোপদেশ দিয়েছিলেন। ২০২১ সালের শেষের দিকে, ওয়ার্নার এক দশকের গবেষণা মিশরের বিজ্ঞান অফিসে হস্তান্তর করেন। কর্তৃপক্ষ এই গবেষণার প্রশংসা করে এটিকে "সমস্ত মানবতার কল্যাণের জন্য বৈজ্ঞানিক বিপ্লব" বলে অভিহিত করেছেন। ২০২২ সালের অক্টোবরে, মিশরের পর্যটন ও পুরাকীর্তি মন্ত্রী আহমেদ ইসার সাথে একটি বৈঠকের পর, ওয়ার্নার দক্ষিণ প্যাসেজওয়ের নীচে অন্বেষণ অব্যাহত রাখার বিনিময়ে তার তথ্য বিনামূল্যে ভাগ করে নিতে সম্মত হন। ওয়ার্নারকে স্ক্যান পিরামিডস মিশনের একজন পরামর্শদাতা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি দাবি করেছেন যে এই চুক্তি সত্ত্বেও, মিশন পরিচালনাকারী আন্তর্জাতিক দলটি এখনও মূল পাথরখণ্ডের বাইরের অংশটি স্ক্যান করার প্রতিশ্রুতি পালন করেনি।
ওয়ার্নার লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আন্তর্জাতিক জটিলতা এড়াতে আবেদন করেছেন। এই আবিষ্কারটি আরেকটি তত্ত্বের বিরুদ্ধে যায়। যেখানে দাবি করা হয়েছে যে যীশু খ্রিস্ট ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার পর বেঁচে গিয়েছিলেন এবং ভারতে তাঁর শেষ দিনগুলো কাটিয়েছিলেন। একটি বই অনুসারে, যীশু কাশ্মীর উপত্যকায় ভ্রমণ করেছিলেন, যেখানে তিনি ধর্মের প্রচার করতেন। সেখানে প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে তিনি মারা যান। শ্রীনগরের খানিয়ার এলাকায় অবস্থিত ইউজ আসাফ নামে এক সাধুর সমাধি রোজা বাল মাজার, বিংশ শতাব্দীতে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করে। “Jesus Lived in India” এবং “Christ in Kashmir” এর মতো বইগুলোতে দাবি করা হয়েছিল যে ইউজ আসাফই হলেন যীশু খ্রিস্ট। জার্মান লেখক কার্স্টেন যুক্তি দিয়েছিলেন যে প্রাচীন গ্রন্থ এবং অপ্রামাণিক রেকর্ড ইঙ্গিত দেয় যে যীশু ভারতে যাত্রা করেছিলেন। কিন্তু এই সমস্ত দাবি ইতিহাসবিদ এবং ধর্মতত্ত্ববিদদের মধ্যে বিতর্ক তৈরী করেছে। মূলধারার খ্রিস্টধর্ম এই ধারণাটিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ওয়ার্নার বিশ্বাস করেন যে খ্রিস্টের দেহাবশেষ যদি সত্য প্রমাণিত হয় তা ধর্মকে নতুন আকার দিতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে।
সূত্র : টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
-
▼
2026
(1763)
-
▼
August
(310)
-
▼
Aug 28
(6)
- পুরুষের প্রোস্টেট স্ফীত হওয়ার সমস্যা by ডা. কাজী জ...
- নেপালে বিপর্যয়: ‘নিমেষেই চোখের সামনে নিশ্চিহ্ন হয়ে...
- ইরান-ন্যাটো নিয়ে আলোচনা করতেই রাশিয়া সফরে গিয়েছিলে...
- ‘বসনিয়ার কসাই’ সার্ব জেনারেল মারা গেছেন
- বিশ্বসেরা দেশের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে ইরানের পারমাণব...
- শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, সেটে ফিরবেন না নায়িকা
-
▼
Aug 28
(6)
-
▼
August
(310)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...










