Wednesday, September 30, 2015

ইইউ’র উদ্বেগ, ইতালির রেড নোটিশ : প্রধানমন্ত্রীর উষ্মা

ইতালিয়ান নাগরিক সিজার তাবেলাকে হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে অবস্থানরত ইতালির নাগরিকদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছ দেশটি। ইতালিয়ান দূতাবাসের এক রেড নোটিশে এ সতর্কতা জারি করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদরদপ্তর থেকে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদেরকে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। তাবেলা কাজ করতে ছিলেন বাংলাদেশের স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে। ইউরেপীয় ইউনিয়ন এ কাজ করে যাচ্ছে এবং করে যাবে। বার্তায় তাবেলার পরিবার ও ইতালির প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয় ইইউ’র পক্ষ থেকে।
এদিকে ইতালি দূতাবাসের এক লাল বার্তায় বাংলাদেশে অবস্থানরত দেশটির নাগরিকদের হোটেল, ক্লাব, ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, বিদেশী নাগরিকদের সমাগম হয় এমন স্থানে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। এতে বলা হয়, তাবেলা হত্যার মোটিভ এখনও পরিস্কার হয়নি। আইএস দায় স্বাকীর করে যে বিবৃতি দিয়েছে এর সত্যতাও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পশ্চিমাদের রেড এলার্টে প্রধানমন্ত্রীর উষ্মা
ঢাকায় ইতালিয়ান নাগরিক হত্যার ঘটনাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, একজন বিদেশি নাগরিক মারা যাওয়ায় আমরা সত্যিই দুঃখিত। তবে এ হত্যাকা-ের পর বাংলাদেশে পশ্চিমা বিভিন্ন দেশে রেড এলার্ট জারি করায় উষ্মা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিউ ইয়র্কেই আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতিকে হত্যা করা হয়েছে। তখনতো কোন দূতাবাস রেড এলার্ট জারি করেনি।
মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি নাগরিক হত্যার পরপরই দূতাবাসগুলো রেড এলার্ট জারি করলো। আর আমরা বিএনপির এক নেতাকে তৎপর দেখলাম। তাতে সন্দেহ হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে। ঢাকায় ফিরেই এই ব্যবস্থা আমি নিবো।
বাংলাদেশে আদৌ কোন বিরোধী দল আছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সংসদীয় রীতি অনুযায়ী যারা জাতীয় সংসদে বিরোধী দল হিসেবে বসছেন তারাই সত্যিকারের বিরোধী দল। তবে আমাদের দেশে আরেকটি দল আছে যারা নির্বাচনে যায়নি, নির্বাচনের পথ ছেড়ে দিয়ে যারা জঙ্গিবাদি, সন্ত্রাসী, জ্বালাও-পোড়াও করেছে তারা রাজনৈতিক দল হতে পারে না। তারা জঙ্গিবাদি দল।  ২০১৯ সালের আগে জাতীয় সংসদের আগাম কোন নির্বাচনের সুযোগ বা সম্ভাবনা আছে কিনা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, আগাম নির্বাচন কেন? আমরা যে উন্নয়ন করছি এটি পছন্দ হচ্ছে না? হ্যাঁ, যারা বাংলাদেশের উন্নয়ন পছন্দ করবে না তারাই আগাম নির্বাচনের জন্যে চিৎকার করবে। আর আওয়ামী লীগ যতদিন ক্ষমতায় থাকবে উন্নয়নের গতিও বাড়তে থাকবে। তাই জনগণ কোনটি চাইছে সেটি জণগণকে জিজ্ঞাসা করতে বলবেন। শেখ হাসিনা বলেন, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অনুযায়ীই সামনের নির্বাচন হবে। এ নিয়ে কোন চিন্তার কারণ নেই।
বাংলাদেশে আইএস’র অস্তিত্ব আছে কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে দেশে একটি রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠি মানুষ পুড়িয়ে মারে, মানুষ হত্যা করেই যারা দেশে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরী করতে চায়, এমন কিছু লোকতো বাংলাদেশে রয়েছে। তারাতো চাইবেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে। সে শ্রেণীর লোকদেরই কর্মকান্ড এগুলো। একজন মানুষ মারা গেছে সেটি আমরা জানি। এজন্যে আমরাও দু:খিত এবং এটি অত্যন্ত দু:খজনক ঘটনা। তবে আইএস এ হত্যাকান্ড চালিয়েছে বলে যে দাবি উঠেছে সেটি আমরা যদ্দুর জানি, শিকাগো থেকে একটি মেসেজ দেয়া হয়েছে যে, এটি আইএস করেছে। তবে বাংলাদেশ থেকে কেউ এমন দাবি করেছে বলে এখন পর্যন্ত কোন মেসেজ পাইনি। তবে বাংলাদেশই শুধু নয়, এখন বিশ্বব্যাপী এমন সন্ত্রস্ত পরিস্থিতি তৈরীর একটা চেষ্টা চলছে। কিন্তু আমরা বাংলাদেশের মানুষ শান্তিতে বিশ্বাস করি। আমরা কোন জঙ্গিবাদে বিশ্বাস করি না। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থানও আমরা চাই না।

ঢাকায় ‘আইএস’ হানা, দুশ্চিন্তা বাড়ছে দিল্লির

গুলশানে দুবৃত্তদের গুলিতে ইতালির নাগরিক সিজার তাভেলা হত্যা এবং এর পরবর্তী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতের এই সময় পত্রিকা। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রাজধানীতে প্রকাশ্য রাস্তায় এক বিদেশিকে গুলি করে মারল আইএস জঙ্গিরা৷ সিজার তাভেলা নামের ৫০ বছরের ওই ইতালীয় নাগরিক একটি আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন৷ কলকাতা শহর থেকে মাত্র ৩২৮ কিলোমিটার দূরে, খাস ঢাকার গুলশন এলাকার কূটনৈতিক অঞ্চলে এই ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে৷ আইএস ঘটনার দায় স্বীকার করার পরই ঢাকা শহরে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস নিজেদের নাগরিকদের চলাফেরার উপর নিয়ন্ত্রণ জারি করেছে৷
ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে আইএস যে ভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে তা দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে দিল্লির৷ বছর দেড়েক আগে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাক ও সিরিয়ার বেশ কিছু এলাকা দখল করে নতুন করে খিলাফতের ঘোষণা করেছিল ইসলামিক স্টেট (আইএস)৷ কিন্ত্ত অল্প কিছু দিনের মধ্যেই নৃশংসতা ও অত্যাচারের মাত্রায় আল কায়দাকেও পিছনে ফেলে দেয় তারা৷ এর আগে পশ্চিম এশিয়ায় ত্রাণের কাজ করতে যাওয়া বিদেশি নাগরিকদের অপহরণ করে নৃশংস ভাবে খুন করেছে আইএস৷ সে সমস্ত হত্যার ভিডিয়ো নিয়মিত ইন্টারনেটে পোস্ট করেছে তারা৷ ভারতের নানা রাজ্য থেকে আইএস-এ যোগ দিতে তরুণদের মধ্যে প্রবণতা বাড়ছে৷ পশ্চিমবঙ্গ, অসমের মতো বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে এই প্রবণতা যে বাড়ছে তার প্রমাণ আগেও দেখা গিয়েছে৷
গত মাসেই দিল্লিতে ডিজি সম্মেলনে আইএস সম্পর্কে সব রাজ্যকেই সতর্ক করা হয়েছিল৷ ঢাকার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ রাজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে এখনই মুখ খুলতে চাননি রাজ্যের পুলিশ কর্তারা৷ স্বরাষ্ট্রসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায় ঢাকার ঘটনাটি নিয়ে আলাদা ভাবে কিছু না বললেও জানিয়েছেন আইএস-এর তত্পরতা নিয়ে রাজ্য প্রশাসন ওয়াকিবহাল৷ তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সব কটি নিরাপত্তা এজেন্সিকেই নিয়মিত সতর্কবার্তা পাঠানো হয়৷ কলকাতায় বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাসের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷ অসমের রাজ্য পুলিশের ডিজি খগেন শর্মা মঙ্গলবারই এক সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, রাজ্যে আইএস তত্পরতার উপর কড়া নজর রাখছে পুলিশ-প্রশাসন৷ তাঁর কথায়, অসম থেকে এখনও পর্যন্ত কেউ আইএস-এ যোগ দিয়েছে বলে খবর নেই৷ তবে অনেকেই নিয়মিত ওই জঙ্গি সংগঠনের ওয়েবসাইটে যান৷ জম্মু-কাশ্মীর ও অন্ধ্রপ্রদেশের মতো অসমেও তরুণদের মধ্যে আইএস সম্পর্কে কৌতূহল ক্রমেই বাড়ছে৷
সোমবার রাতে, ঢাকার গুলশন এলাকায় জগিং করতে বেরিয়েছিলেন ৫০ বছরের সিজার৷ আচমকাই মোটরবাইকে চড়ে তিন জন এসে তাঁর উপর গুলি চালিয়ে পালায়৷ গুরুতর আহত অবস্থায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিত্সকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন৷ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক রিকশাচালক বলেন, আততায়ীরা গুলি চালিয়েই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়৷ সিজারের মানিব্যাগ বা মোবাইল ফোন জিনিস ছিনতাই করার চেষ্টা হয়নি৷ ঢাকার পুলিশ কমিশনার ওহিদুজ্জামান মিয়াঁ বলেন, কে খুন করেছে তা এখনও স্পষ্ট নয়৷ তবে ছক কষে খুনের জন্যই হামলা চালানো হয় সিজারের উপর৷ এই ঘটনায় এখনও কেউ ধরা না পড়লেও তদন্তে বিশেষ দল গড়েছে পুলিশ৷
এই ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই নিজেদের ওয়েবসাইটে আরবিতে একটি বিবৃতি জারি করে জঙ্গি সংগঠন আইএস৷ সেখানে ঘটনার দায় স্বীকার করে বলা হয়, মুসলিম রাষ্ট্রগুলিতে বিধর্মী জোটের কোনও নাগরিকই সুরক্ষিত নয়৷ বাংলাদেশে আইএস-এর এটি প্রথম হামলা বলে মনে করা হচ্ছে৷ যদিও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি আইএস যোগ মানতে চাননি৷ তবে হামলার কিছু ক্ষণের মধ্যেই আমেরিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, কানাডার দূতাবাস সে দেশের নাগরিকদের চলাফেরার উপর নিয়ন্ত্রণ জারি করে৷ সোমবারই ইংল্যান্ড ব্রিটিশ নাগরিকদের সতর্ক করে জানিয়েছিল বাংলাদেশে পশ্চিমি দুনিয়ার বাসিন্দা এবং প্রতিষ্ঠানের উপর জঙ্গি হামলার আশঙ্কা রয়েছে৷ মার্কিন দূতাবাস তাদের নাগরিকদের যে কোনও জমায়েত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে৷
এই ঘটনায় সারা বিশ্বে নিন্দা ও সমালোচনার মুখে পড়েছে বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকার৷ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে আসন্ন বাংলাদেশ ক্রিকেট সফর নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে৷ ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নও৷ ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন বলেন, নৃশংস এবং কাপুরুষোচিত এই ঘটনার নিন্দার ভাষা নেই৷ মার্কিন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে তারা৷
আর দু-দিন পরেই বর্ধমানের খাগড়াগড়ের বিস্ফোরণের এক বছর পূর্ণ হবে৷ ওই ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল মুজাহিদিনের৷ তার আগেই ঢাকার এই ঘটনা রাজ্য প্রশাসনের রক্তচাপ বাড়াবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই৷ গত এক বছরে বাংলাদেশে চার জন ব্লগারকে খুনের ঘটনাতেও চরমপন্থী সংগঠনগুলির সক্রিয়তা বেড়েছে বই কমেনি৷ এই পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা সরকারের পাশাপাশি দুর্ভাবনা বাড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও৷

সালাউদ্দিন ও মুজাহিদের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ ‘আজ থেকেই দিনগণনা শুরু’

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, নিয়ম অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের দিন থেকে আসামিপক্ষ রিভিউয়ের (পুনর্বিবেচনা) জন্য ১৫ দিনের সময় পাবে। যেহেতু সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আজ বুধবার মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা আলী আহসান মুজাহিদের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে, সেহেতু আজ থেকেই রিভিউয়ের দিন গণনা শুরু হবে। রায় প্রকাশের পরই রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের আরও বলেন, তবে রাষ্ট্রপক্ষ এ সময়ে বসে থাকবে না। তারা রায় কার্যকরের জন্য প্রস্তুতি শুরু করবে। আগামী ১লা নভেম্বর পর্যন্ত নিয়মিত বেঞ্চের ছুটি রয়েছে- সাংবাদিকরা এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, অবসরকালীন বেঞ্চ এ বিষয়ে নির্দেশ দিতে পারবেন।

অস্বস্তি বাড়ছে সরকারে by মাসুদ করিম ও সৈয়দ আতিক

সন্দেহভাজন এই লোকটিকেই খুঁজছে আইনশৃংখলা বাহিনী
(১নং ছবিতে পেছন ও ২নং ছবিতে সামনে থেকে)।
মোটরসাইকেলে অপেক্ষায় খুনিদের বহনকারী এক সহযোগী
এবং তার পেছনে এসে বসে এক খুনি (৩নং ও ৪নং ছবি)।
সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ছবিতে গোল চিহ্নিত
বিদেশীদের নিরাপত্তা হুমকি নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে বাংলাদেশ সরকার। বিদেশীরা জঙ্গি হামলার টার্গেট বলে আশংকা ব্যক্ত করেছে প্রভাবশালী একাধিক দেশ। দেশগুলো দাবি করছে, তাদের কাছে হুমকির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট খবর আছে। কিন্তু তারা সরকারকে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্যই দিচ্ছে না। সোমবার রাতে গুলশানে ইতালির নাগরিক খুন হওয়ার পর থেকে প্রভাবশালী দেশগুলো দূতাবাস ও মিশন থেকে বিবৃতি দিয়ে নিজেদের আশংকার কথা প্রচার করছে। জঙ্গি সংগঠন আইএস সোমবার রাতেই দাবি করে তারাই সিজারি তাভেল্লাকে খুন করেছে। এদিকে মার্কিন দূতাবাস মঙ্গলবার ঐচ্ছিক ছুটি ছিল। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত আমেরিকান ক্লাব বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ড এবং প্রভাবশালী দেশগুলোর আশংকাই সরকারের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ইতালির নাগরিক খুনের সঙ্গে আইএসের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। বাংলাদেশে আইএসের কোনো অস্তিত্ব নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিদেশী নাগরিক ও তাদের স্বার্থের ওপর জঙ্গি হামলা বিষয়ে কোনো হুমকি ছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আইনশৃংখলা বাহিনীর কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য নেই। সম্প্রতি জঙ্গি হামলার আশংকায় বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল তাদের সফর স্থগিত করে। তাদের কাছ থেকে এ ধরনের হামলার বিষয়ে বাংলাদেশ কিছু জানতে পেরেছে কিনা প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তাদের কাছ থেকে তথ্য চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা কিছুই জানাতে চায়নি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশীদ যুগান্তরকে বলেন, কোনো দেশ যদি জেনে থাকে অন্য একটি দেশে হামলা হতে পারে তখন সে দেশের উচিত হুমকিতে থাকা দেশকে তা জানানো। কারণ, বিশ্বায়নের সুযোগে জঙ্গিদের সক্রিয়ভাবে দমন করতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। ইতালিতে আইএসের প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, অন্য দেশে যেভাবে আইএস সক্রিয় ইতালির ক্ষেত্রে তেমনটা এখনও দেখা যায়নি।
তিনি বলেন- আমি মনে করি, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট রাজনীতির সঙ্গে নতুন করে জঙ্গি নিয়ে শংকা তৈরি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী এর সুবিধা নেয়ার সুযোগ খুঁজছে। বিশেষ করে এর মাধ্যমে প্রচারিত হল নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশে বিদেশী প্রতিনিধি আসতে ভয় পাবে, শংকা তৈরি হবে। আর এর সঙ্গে ইতালিয়ান নাগরিক খুনের ঘটনা যোগ করে সেই শংকাকে ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, আমরা আমাদের দেশে আইএসের কোনো অস্তিত্ব এখনও পাইনি। তবে তাদের কিছু সমর্থক আছে- যেমন নিষিদ্ধ আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ও হিজবুত তাহরির সেই ধাঁচের। জেনারেল রশীদ বলেন, পাকিস্তান বা আমেরিকায় যেভাবে জঙ্গিরা হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে, বাংলাদেশে এ ধরনের হামলার মতো জঙ্গিদের শক্তি-সামর্থ্য নেই। কারণ, আমাদের আইনশৃংখলা বাহিনী যথেষ্ট সতর্ক এবং জঙ্গিদের দমনেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তিনি আরও বলেন, আইএস এখন সর্বত্র আতংক ছড়াচ্ছে।
এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেছেন, বাংলাদেশসহ ১০১টি দেশে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামী স্টেট রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক আমেনা মহসিন বলেন, ইতালীয় নাগরিককে হত্যা প্রসঙ্গে আইএসের স্বীকারোক্তির কথাটি আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হচ্ছে না। আইএসের নামে এ স্বীকারোক্তিটির কথা যদি আমরা ধরি সেটা তাদের একটি শাখা হতে পারে। তারা যদি ধরা পড়ে তা হলে নিশ্চিত হওয়া যাবে যে, এটা আইএসেরই একটা অংশ কিনা। যদি আইএসের অংশ হয় তাহলে সেটা বাংলাদেশের জন্য বড় ভয়ের কারণ আছে। এখানে প্রশ্ন উঠবে যে, তাহলে আমরা বিগত সময় জঙ্গি দমনে কি করলাম। আইএস কর্তৃক এ হত্যাকাণ্ড হলে বোঝা যাবে বাংলাদেশের সিকিউরিটি ব্যর্থতা আছে। আর এটা যদি সত্য হলে বুঝতে হবে সরকারের ব্যর্থতা আছে।
বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার স্বার্থে জঙ্গিরা হামলা করতে পারে বলে শুক্রবার আশংকা প্রকাশ করে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র দফতর। এরপরই অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে আসে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি দল। তারা ঢাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনশৃংখলা বাহিনী ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ (বিসিবি) বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করেন। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়। প্রতিনিধি দলটি এ বিষয়ে তাদের মত জানাবে এমন ধারণা করা হচ্ছিল। ঠিক এমন সময় ইতালির সাহায্যকর্মী সিজারি তাভেল্লা খুন হন। এরপর দলটি কোনো সিদ্ধান্ত না জানিয়েই বাংলাদেশ ত্যাগ করে। এ ঘটনার পর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, অস্ট্রেলিয়া তাদের আগের অবস্থানে স্থির আছে। ‘ফক্স স্পোর্টস’ জানিয়েছে, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার গুলশানের কূটনৈতিকপাড়ায় সিজারি তাভেল্লা নামে ইতালির এক নাগরিককে গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা। ফলে আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে আসন্ন সিরিজটি। দ্য গার্ডিয়ান বলেছে, অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে জঙ্গি গোষ্ঠীর সন্ত্রাসী হামলার আশংকা করা হয়। ফলে শেষ মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফর বাতিল হয়ে যেতে পারে।
এদিকে ইতালির এই সাহায্যকর্মী নিহত হওয়ার পর যুক্তরাজ্য বলেছে, বাংলাদেশে পশ্চিমা স্বার্থে হামলা হতে পারে। এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য তাদের হাতে আছে। ইতালির নাগরিক হত্যার ঘটনায় কূটনৈতিক মহলে নিন্দার ঝড় বইছে। ইইউ ও যুক্তরাজ্য এ বর্বর হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ অনেক দেশ বাংলাদেশে তাদের দেশের নাগরিকদের চলাচলে সতর্কতা জারি করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার রীতিমতো বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন মনে করেন, ঢাকায় ইতালির নাগরিককে হত্যার ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত। তবে তিনি এ ঘটনায় আইএস জড়িত থাকার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।
ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, ‘আইএসের হত্যার ধরন এমন নয়। তারা প্রথমে অপহরণ করে, মুক্তিপণ চায় এবং তারপর হত্যা করে কিংবা ছেড়ে দেয়। কিন্তু আইএস বাংলাদেশে এমনটা করতে যাবে কেন সেটাও বোঝা যাচ্ছে না’।
তিনি আরও বলেন, ‘ইতালির নাগরিককে কেন হত্যা করা হয়েছে তার একটা স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এই হত্যার ঘটনা জঙ্গি হামলা কিনা সেটা জানি না। তবে এ ঘটনার প্রভাব বাংলাদেশের ভাবমূর্তির জন্য খুবই ক্ষতিকর। এখন অনেক প্রভাবশালী দেশ তাদের নাগরিকদের জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে’।
বাংলাদেশে জঙ্গি ভাবমূর্তির ব্যাপারে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অবিবেচনাপ্রসূত মন্তব্যকে দায়ী করেন এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক। তিনি বলেন, ‘দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সারাক্ষণ জঙ্গি জঙ্গি করছে। বিদেশী দূতাবাসগুলো এ বিষয়ে নোট নিচ্ছে। এখন মনে হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দল আর আসবে না। ক্রিকেট দলের সফরের সিদ্ধান্ত ক্রিকেট দল নিজেরা নেয় না। সরকারের পররাষ্ট্র দফতর থেকে নেয়া হয়’।
ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত আরও বলেন, ‘অনেকে বলেন ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এটা মুখে বললে হবে না। সেই ষড়যন্ত্রেরও একটা প্রমাণ থাকতে হবে। সব ঘটনাকে রাজনৈতিক কালার দেয়াও সমীচীন নয়’। তিনি এ ঘটনা তদন্তে ইতালির গোয়েন্দা সহায়তা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
জানতে চাইলে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের একজন মুখপাত্র মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, ‘গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ইতালির একজন নাগরিক খুন হয়েছেন। এ বিষয়টি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর অবগত আছে। আমরা নিহতের পরিবারবর্গ, বন্ধুবান্ধব ও ইতালির প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাই। মার্কিন দূতাবাস তাদের নাগরিকদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করেছে। এই তথ্য মার্কিন দূতাবাসের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই হামলা এবং বাংলাদেশের প্রতি অব্যাহত হুমকির বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের মধ্যে আছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে উগ্রবাদবিরোধী লড়াইয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শক্তিশালী অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে।’ ঢাকায় নেদারল্যান্ডস দূতাবাস ইতালির নাগরিক খুনের নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে।
ইতালির নাগরিক সিজারি তেভেল্লা হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ঢাকায় ইইউ রাষ্ট্রদূত পিয়ারে মায়াডোন। মঙ্গলবার ঢাকায় ইইউ দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকায় নেদারল্যান্ডসভিত্তিক এনজিও আইসিসিওতে কর্মরত ইতালীয় সাহায্য কর্মী সিজারি তেভেল্লার বর্বর হত্যাকাণ্ডে ঢাকায় ইইউ রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াডোন হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি অপরাধীদের বিচার করারও দাবি জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, সিজারি তাভেল্লা হতদরিদ্র মানুষদের সহায়তা করতে এসেছিলেন। তার ওপর এই অপরাধ ঘটনাকে আরও অনেক বেশি ভয়াবহ করেছে।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইতালীয় সাহায্য কর্মী সিজারি তেভেল্লাকে সহিংস হত্যাকাণ্ডে তিনি ক্ষুব্ধ। এটা হল একজন সাহায্য কর্মী যিনি বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে সবচেয়ে দুস্থ অংশের জন্য কাজ করছিলেন তার বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর এবং কাপুরোষিত অপরাধ। তিনি তেভেল্লার পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন।
অস্ট্রেলিয়া ও পশ্চিমা স্বার্থে হামলার আশঙ্কার মাধ্যমে নিরাপত্তা হুমকির পর বাংলাদেশে মার্কিন নাগরিকদের সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে। মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তার আপডেটে বলা হয়, এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রসহ অপরাপর বিদেশীদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। মার্কিন সতর্কতায় বলা হয়, সন্ত্রাসী গ্রুপ দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনা, নাগরিক কিংবা স্বার্থের ওপর হামলা করতে পারে। এমন হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেশের সব কর্মকর্তাকে বড় ধরনের জনসমাগমস্থলে যাওয়া নিষিদ্ধ করেছে। এ ক্ষেত্রে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়া বিদেশীরা অবাধে চলাচল করে যেমন- হোটেল, রেস্তোরাঁ এমন স্থানে যাওয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
এদিকে দ্য আমেরিকান অ্যাম্বাসি এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের (এইইএ) ব্যবস্থাপনা বিভাগ মঙ্গলবার সকালে ক্লাবের সদস্যদের প্রতি সতর্কতামূলক একটি ই-মেইল পাঠিয়েছে। আমেরিকান দূতাবাসের পাঠানো ই-মেইলে বলা হয়েছে, অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত আমেরিকান ক্লাব বন্ধ থাকবে।
কানাডার সতর্কতা বিষয়ক ওয়েবসাইটে বাংলাদেশে সন্ত্রাসের হুমকি এবং ভঙ্গুর রাজনৈতিক পরিস্থিতির উল্লেখ করে তাদের দেশের নাগরিকদের সতর্ক হয়ে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার স্বার্থে জঙ্গি হামলা হতে পারে বলে আশংকা ব্যক্ত করেছে অস্ট্রেলিয়ার বৈদেশিক ও বাণিজ্য দফতর। এই দফতর বলেছে, ‘নির্ভরযোগ্য তথ্য মোতাবেক, জঙ্গিরা বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করছে।’ এই তথ্য পাওয়ার পরপরই অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলের বাংলাদেশে আগমন বিলম্বিত করা হয়।

কাবায় সৌদি আরবের অভিভাবকত্ব হুমকিতে

মুসলমানদের কেবলা পবিত্রতম কাবা শরিফ তাওয়াফে হজ করতে সৌদি আরবে আসেন সারা বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ। কিন্তু মিনায় ভয়াবহ পদদলনে শত শত হাজীর নিহত হওয়ার ঘটনায় হজ ব্যবস্থাপনাসহ কাবা শরিফে সৌদির রক্ষণাবেক্ষণ ও অভিভাবকত্ব প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণজমায়েত ব্যবস্থা ও মুসলমানদের আবেগ-অনুভূতির সঙ্গে জড়িত প্রিয় স্থান আল্লাহর ঘরের রক্ষণাবেক্ষণের যোগ্যতা সৌদি সরকারের নেই। মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র ইরান প্রযুক্তি ও উন্নয়নের দিক দিয়ে এগিয়ে থাকলেও দেশটির শিয়া জনগোষ্ঠী ও অন্যান্য নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বে তারাও পিছিয়ে রয়েছে। ব্রিটেনের প্রভাবশালী দৈনিক গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণে এসব কথা বলা হয়েছে। ১৯২৪ সালে হাশেমি শাসকদের থেকে মক্কা দখলে নেন ইবনে সাউদ। তখন থেকেই কাবার রক্ষণাবেক্ষণ হজের সময় হাজীদের নিরাপত্তাসহ অন্যান্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব একচ্ছত্রভাবে পালন করে আসছে সৌদি আরব। কিন্তু তাদের এ দায়িত্বে সম্মতি নেই গোটা মুসলিম বিশ্বের। সাউদের মক্কা জয়ের পর কাবার নিরাপত্তার দায়িত্ব তিনি নিজেই নিয়েছিলেন স্বঘোষিতভাবে। মুসলিম জাতিগুলো নিয়ে সম্মেলন হলেও কেহ সেচ্ছায় স্বীকৃতি দেয়নি।
ফলে আজও একক দায়িত্ব প্রশ্নবিদ্ধই রয়ে গেছে। সৌদি আরব জাতীয় দুটি বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এক মরুভূমিসুলভ দেশটির নিচে থাকা তেল সমুদ্রের ব্যবস্থাপনা। দুই মুসলিম বিশ্বের ধর্মীয় প্রাণকেন্দ্র কাবার হেফাজত। প্রশ্ন উঠেছে রাষ্ট্রীয়ভাবে সৌদির আদৌ কাবার হেফাজত ও তেল সম্পদ ব্যবস্থাপনার যোগ্যতা আছে কিনা। গত বৃহস্পতিবার মিনায় প্রতীকী শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করার সময় যে মর্মান্তিক দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে তা এ প্রশ্নের সমুচিত উত্তর। এছাড়া ২০০৬ ও ১৯৯০ সালেও প্রায় একই ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিলেন হাজীরা। অন্যদিকে গত মাসে অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহৃত একটি দানবীয় ক্রেন ধসে অনেক হাজী নিহত ও আহত হয়। এসব ঘটনার পেছনে মূলত অব্যবস্থাপনাই দায়ী। মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার চাবি হাতে নিতে ব্যাকুল ইরান এসব যুক্তি উপস্থাপন করেছে। দাবি করেছে এ দায় মাথায় নিয়ে সৌদিকে ক্ষমাও চাইতে হবে বলে। বাস্তবে সৌদির গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয় দুটিতে দক্ষতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করার যোগ্যতা নেই। ইতিমধ্যে দেশটির তেলের মূল্য তলায় ঠেকেছে। আড়ম্বর পূর্ণতায় ডুবে থাকা রাজকীয় পরিবার খাপখাওয়াতে পাড়ছে না এ অর্ধগামী গতির সঙ্গে। যাতে তাদের নিত্য ব্যয়ের চাকা সচল থাকলেও স্থির হয়ে পড়ছে মধ্য ও নিুবিত্ত নাগরিকদের জীবনব্যবস্থা। অন্য দিকে লেবাননে হুথিদের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোয় আরও বিপদের বোঝা মাথায় চাপিয়েছে দেশটি। সব মিলিয়ে নেতৃত্ব প্রদানে একটি আধুনিক রাষ্ট্রের যে সব উপাদান প্রয়োজন তার কোনোটিই নেই।
যাও আছে সেগুলো একেবারেই ভঙ্গুর। অপরদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার স্বপ্নবিলাসী ইরান নানা রাজনৈতিক প্রচেষ্টায় সৌদির এ অযোগ্যতা বিশ্বের সামনে সুচারু রূপে তুলে ধরছে। চেষ্টা করছে সৌদির অবস্থান নড়বড়ে করে নিজের গদির শেকড় ছড়াতে। কিন্তু স্বপ্ন সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা শূন্যের কোঠায়। শিয়া অধ্যুষিত হওয়ায় এ অঞ্চলে সংখ্যাগরিষ্ঠ সুন্নিদের করায়ত্ব করতে পারবে না দেশটি। সবমিলিয়ে আগে-পাছে কূটনৈতিক চেষ্টা অব্যাহত রাখছে ইরান ও সৌদি আরব। যার মূলে রয়েছে এ অঞ্চলে আধিপত্য বজায় রাখা। এ সুবাদেই কাবার দায়িত্ব নিয়ে সৌদির প্রতি প্রশ্ন ছুড়ছে ইরান। কাবাকে ঘিরে যেসব দুর্ঘটনা ঘটেছে সেগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সৌদি পদক্ষেপ নিলেও বাগড়া দিয়ে বসেছে ইরান। পদদলিত হয়ে মিনায় নিহত ৭৬৯ জনের মধ্যে ইরানের নাগরিক রয়েছে ১৪০ জন। যে জন্য রাজনৈতিক দৃষ্টি বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে তেহরান। একক তদন্তে পক্ষপাতিত্ব থাকতে পারে বলে এ বিরোধিতা করেছে তারা। মক্কার এ ট্র্যাজেডিকে আঞ্চলিক আধিপত্যে ভাগ বসানোর একটি কলকাঠি হিসেবে বিবেচনা করছে তেহরান। কিছুটা সফল হলেও নিজের অযোগ্যতায় এ লড়াইয়ে টিকতে পাড়বে না সেও। তাই প্রশ্ন রয়েই গেল সৌদি-ইরান ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে দাদাগিরি করবে কে? কে নেবে কাবার দায়িত্ব? নেতৃত্ব প্রদানে একটি আধুনিক রাষ্ট্রের যেসব উপাদান প্রয়োজন তার কোনোটিই নেই সৌদির। অন্যদিকে শিয়া অধ্যুষিত হওয়ায় এ অঞ্চলে সংখ্যাগরিষ্ঠ সুন্নিদের করায়ত্ত করতে পারবে না ইরান

যেখানে বেমালুম হারিয়ে যাচ্ছে মেয়েরা

ব্যানারে মেক্সিকোর একটি এলাকা থেকে হারিয়ে
যাওয়া মেয়ে ও নারীদের ছবি। ছবি: রয়টার্স
প্রতিদিন দেশটির কোথাও না কোথাও একাধিক কিশোরী বেমালুম নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে। তাদের ফিরে আসার ঘটনা বিরল। বেশির ভাগেরই কোনো খোঁজ মেলে না। তাদের যে কেবল অপহরণ করা হয়—এমন নয়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে এমন ফাঁদ পাতা হয়, সেই ফাঁদে পা দিয়ে অনেক কিশোরী ঘরছাড়া হয়। পাচারকারীদের পাল্লায় পড়ে জীবনটাই শেষ হয়ে যায় তাদের।
সম্প্রতি বিবিসি অনলাইনের খবরে উঠে এসেছে মেক্সিকোর হারিয়ে যাওয়া এসব মেয়ের কথা। দেশটিতে হাজারো মেয়ে চিরদিনের জন্য হারিয়ে যাচ্ছে, কোথাও আর তাদের সন্ধান মেলে না।
ফিরে পাওয়া এক কিশোরীর জীবনের গল্প দিয়েই শুরু করা যাক। মেয়েটির নাম কারেন। ২০১৩ সালের এপ্রিলে সে যখন হারিয়ে যায়, তার বয়স ছিল ১৪ বছর। মেক্সিকোয় প্রতি বছর নিখোঁজ হওয়া হাজারো মেয়ের একজন সে। অন্যদের চেয়ে সে অবশ্য ভাগ্যবতী। বাবা-মায়ের তৎপরতায় সে আবার পরিবারের কাছে ফিরে আসতে পেরেছিল।
কারেনের মা এলিজাবেথ জানালেন সেই আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠার দিনগুলোর কথা। তিনি বলেন, ‘মাত্র ১৫ মিনিটে তাঁর কিশোরী মেয়ে হারিয়ে যায়। এটা জানার পর প্রচণ্ড কষ্টে ভুগছিলাম আমি। আগে কখনো এত কষ্ট পাইনি। রাস্তায় রাস্তায় মেয়েটাকে খুঁজলাম। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবাইকে ফোন করলাম। কিন্তু কোনো আশার আলো দেখতে পেলাম না। কেউ আমার মেয়েকে দেখেনি। আমার মেয়ে বাইরে একটি শৌচাগারে গিয়েছিল। তার সঙ্গে কিছুই ছিল না। টাকাপয়সা, মোবাইল ফোন, বাড়তি কোনো কাপড়—এসব কিছুই ছিল না।...তখন ধরে নিলাম মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে।’
মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার তিন ঘণ্টা পর এলিজাবেথ বিষয়টি পুলিকে জানায়। তবে পুলিশ বিষয়টি নথিভুক্ত করেনি। মেক্সিকোতে কেউ নিখোঁজ হওয়ার ৭২ ঘণ্টা পার না হলে পুলিশ তা নথিভুক্ত করে না। এমনকি শিশু হলেও না। তাই কারেনের মা এলিজাবেথ ও বাবা আলেজেন্দ্রো নিজ উদ্যোগে মেয়েকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। প্রথমেই তাঁরা মেয়ের সামাজিক যোগাযোগের অ্যাকাউন্টগুলোতে ঢোকেন।
এলিজাবেথ বলতে থাকলেন, ‘আমরা যখন মেয়ের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ঢুকলাম, তখন দেখলাম চার হাজারেরও বেশি বন্ধু আছে তার। ওই বন্ধু তালিকায় থাকা একজনের বিষয়ে সন্দেহ জাগল। অনেক মেয়ের সঙ্গে ওই ব্যক্তির ছবি। এসব মেয়ে আমার মেয়ের বয়সী। টের পেলাম, সে আমার মেয়েকে পটিয়েছে। আমার মেয়ে বুঝতেও পারেনি—কী বিপদের মুখে পড়তে যাচ্ছে সে।’
কারেনের বাবা আলেজান্দ্রো বলেন, ওই ব্যক্তি তাঁর মেয়েকে নানা কথা বলে পটিয়েছেন। মেয়েকে বলেছে, শিগগিরই তিনি তার (কারেন) সঙ্গে দেখা করতে আসছেন। মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার আগের দিনগুলোতে তাদের ঘন ঘন যোগাযোগ হয়েছে। ওই ব্যক্তি মেয়েকে স্মার্ট ফোন দিয়েছে, যাতে যোগাযোগ রক্ষায় কোনো সমস্যা না হয়। এর কিছুই বাবা-মা জানতেন না।
মেয়েকে বেশি দূর নিয়ে যাওয়ার আগেই সন্ধান পেতে এলিজাবেথ-আলেজান্দ্রা পুলিশের কাছে যান। তাদের চাপে, পুলিশ মেক্সিকো শহরের বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও জনবহুল স্থানে নিখোঁজ কারেনের সন্ধান চেয়ে ছবি এঁটে দেয়। টেলিভিশন ও রেডিওতেও এই নিখোঁজ সংবাদ প্রচার করা হয়।
নিখোঁজের ১৬ দিন পর কারেনকে একটি বাস টার্মিনালে পাওয়া যায়। কারেন ও আরেকটি নিখোঁজ মেয়েকে সেখানে ফেলে যায় কেউ। তাদের নিউইয়র্কে পাচার করার ফন্দি আঁটা হয়েছিল, কারেন নিজেই পরে সেটা বলেছে।
আলেজান্দ্রো বলেন, ওই ব্যক্তি তাদের মেয়েকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া, অর্থ দেওয়া, সংগীতশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা ও খ্যাতির চূড়ান্ত সীমায় নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছিল। সেই ফাঁদে পড়ে মেয়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে চলে যায়।
উদ্ধার হওয়ার পর কারেন প্রথমে তার বাবা-মায়ের ওপর খুব ক্ষিপ্ত ছিল। তখন বাবা-মা তাকে পাচারকারীদের কবল থেকে উদ্ধার হওয়া মেয়েদের নিয়ে আয়োজিত একটি সেমিনারে নিয়ে যায়। সেখানে যাওয়ার পর কারেন বুঝতে পারে, কী ভয়াবহ বিপদের হাত থেকে সে রক্ষা পেয়েছে।
২০১১ ও ২০১২ সালে মেক্সিকো সিটিতে এক হাজার ২৩৮ নারী নিখোঁজ হয়। এদের মধ্যে ৫৩ শতাংশের বয়স ১৭ বছরের নিচে। তবে এদের মধ্যে কতজনকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়, সে কথা কেউ জানে না। এটা নারীদের জন্য খুবই বিপজ্জনক শহর। শুধু নারী নয়, সবার জন্যই শহরটি বিপজ্জনক। কারণ, গত এক দশকে এখানে কমপক্ষে দুই হাজার ২২৮ জন খুন হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার হিসাবে, প্রতি বছর মেক্সিকোতে ২০ হাজারের মতো মানুষ পাচারের শিকার হয়। পাচার হওয়া বেশির ভাগ নারীকে যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করা হয়।
মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ বলছে, সম্প্রতি ইন্টারনেটের সুযোগ ব্যবহার করে অপরাধীরা অধিক সংখ্যক মেয়েকে টোপে ফেলে পাচার করছে।
কর্তৃপক্ষের এই দাবির সত্যতা মেলে সায়মা পাজ লেমুস নামের হারিয়ে যাওয়া এক মেয়ের জীবনের গল্প শুনে। সায়মা শান্তশিষ্ট এক মেয়ে। ভালোবাসত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চ্যাট করতে, অনলাইনে গেমস খেলতে। এভাবে অনলাইনে থাকতে থাকতে এক ব্যক্তির সঙ্গে সায়মার সম্পর্ক হয়ে যায়। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি তাকে ব্ল্যাকমেল করে। বলে, তার সঙ্গে না গেলে জীবন বিষিয়ে ফেলা হবে। ওই ব্যক্তির কাছে থাকা নানা গোপনীয় ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
মেয়েটি পরিবারের কাউকে কিছু না বলে একদিন ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। রেখে যাওয়া একটি চিঠিতে সে সব বলে যায়। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের অনুরোধ করে, ছোট বোনটির দেখভাল করতে। তাকে সুন্দর একটি উপহার কিনে দিতে, যেন ওই উপহারটি দেখে ছোট বোন তার কথা স্মরণ করতে পারে।
অনেক দিন হয়ে গেল, সায়মার কোনো খোঁজ নেই। তবে তার পরিবার আশাবাদী। কারেনের ফিরে আসা তাদের আশান্বিত করে। যদিও পরিবারটি জানে, ফিরে আসা সহজ নয়। অল্প বয়সী মেয়েরা যেখানে নিজের ঘরেও নিরাপদ নয়, সেখানে ফিরে আসার কথা ভাবা অনেকটাই দুরাশা।

দেশের ২৪ হিমাগার এখন বন্ধ, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোয় হিমাগার শিল্পে সংকট বৃদ্ধির আশঙ্কা by আবুল হাসনাত

দেশের ২৪টি হিমাগার (কোল্ড স্টোরেজ) বন্ধ হয়ে গেছে। আলু, বীজ, সবজিসহ পচনশীল পণ্য সংরক্ষণে প্রতিষ্ঠিত এসব হিমাগার নিজেরাই এখন রুগ্ণ।
বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন বলছে, যন্ত্রপাতি পুরোনো হয়ে যাওয়া, মালিকানাগত জটিলতা, ঋণখেলাপি হয়ে পড়া, চলতি মূলধনের অভাব ও সংরক্ষণ উপযোগী পর্যাপ্ত আলু না পাওয়ার কারণেই হিমাগারগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।
এ অবস্থায় মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুতের সাম্প্রতিক দাম বৃদ্ধি। সরকারের এ সিদ্ধান্তে দেশের হিমাগার শিল্প হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন হিমাগারের মালিকেরা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জসিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, বিদ্যুতের দাম দফায় দফায় বাড়ানোর কারণে ও ব্যাংকঋণের সুদের হার বেশি হওয়ায় প্রতিটি হিমাগার ঋণের ভারে জর্জরিত ও রুগ্‌ণ শিল্পে পরিণত হচ্ছে। ২৪টি কোল্ড স্টোরেজ ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে আবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আরও কোল্ড স্টোরেজ বন্ধ হয়ে যাবে।
হিমাগার সমিতির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি হিমাগার বন্ধ হয়েছে মুন্সিগঞ্জ জেলায়। এ জেলার পাঁচটি হিমাগার এখন বন্ধ। এগুলো হলো পিজেন্ট ট্রেডিং কোল্ড স্টোরেজ, চান কোল্ড স্টোরেজ, মৌসুমী কোল্ড স্টোরেজ, মীরকাদিম কোল্ড স্টোরেজ ও ময়নামতি আইস অ্যান্ড কোল্ড স্টোরেজ।
এরপরই বেশি হিমাগার বন্ধ হয়েছে রংপুরে, চারটি। এগুলো হলো ভরসা স্পেশালাইজড কোল্ড স্টোরেজ, আরভি কোল্ড স্টোরেজ, আজি ভরসা কোল্ড স্টোরেজ ও মাওলানা বশির কোল্ড স্টোরেজ।
কুমিল্লায় বন্ধ হয়েছে তিনটি হিমাগার। এগুলো হলো মডার্ন কংশনগর কোল্ড স্টোরেজ, প্রিমিয়ার কোল্ড স্টোরেজ ও বন্দিশাহী কোল্ড স্টোরেজ।
এ ছাড়া ঢাকার মুন্না কোল্ড স্টোরেজ ও আরগোছী কনজার্ভস, গাজীপুরের ইরিনা অ্যাগ্রো প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজ, টাঙ্গাইলের মালতি কোল্ড স্টোরেজ, লক্ষ্মীপুরের লক্ষ্মীপুর কোল্ড স্টোরেজ অ্যান্ড আইস প্ল্যান্ট, হবিগঞ্জের পাইওনিয়ার কোল্ড স্টোরেজ অ্যান্ড আইস প্ল্যান্ট, সিলেটের সুরমা কোল্ড স্টোরেজ, খুলনার খুলনা আইস অ্যান্ড কোল্ড স্টোরেজ, কুষ্টিয়ার কুষ্টিয়া কোল্ড স্টোরেজ, বরগুনার মধুমতি কোল্ড স্টোরেজ, সিরাজগঞ্জের শাহ মুখদুমিয়া কোল্ড স্টোরেজ ও দিনাজপুরের উত্তরা হিমঘর বন্ধ হয়েছে।
এই বন্ধ ২৪টিসহ দেশে এখন হিমাগার আছে ৪০৪টি। এর মধ্যে ২২টি হিমাগার বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি)। সেখানে শুধু বীজ সংরক্ষণ করা হয়। দেশের সব হিমাগারে বছরে ৫০ লাখ মেট্রিক টন পণ্য সংরক্ষণ করার সক্ষমতা আছে।
হিমাগার সমিতি বলছে, দেশে উৎপাদিত আলুর প্রায় অর্ধেকই হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়। এ বছর হিমাগারে আলু এসেছে ৩৫ লাখ টন। এর মধ্যে ৪৭ শতাংশ আলুই বাজারে সরবরাহ করা হয়ে গেছে।
বিদ্যুৎ বিলে রেয়াত পায় না হিমাগার: হিমাগার শিল্প পুরোপুরিই কৃষিভিত্তিক শিল্প। তবে হিমাগার সমিতির অভিযোগ, জাতীয় অর্থনীতিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখলেও এ খাত কৃষিভিত্তিক অন্যান্য খাতের মতো সুবিধা পাচ্ছে না।
হিমাগারের মালিকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ ছাড়া হিমাগারের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পরিচালনা করা সম্ভব নয়। আলু থেকে প্রক্রিয়াজাত ও উৎপাদিত খাদ্য (যেমন ফ্লেক্স, চিপস, ফ্রেঞ্চফ্রাই ইত্যাদি) প্রস্তুতকারী শিল্পকে বিদ্যুৎ বিলের ২০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। সরকারি সংস্থা বিএডিসির আওতাভুক্ত ১৭টি হিমাগারও অনেক আগে থেকেই এ সুবিধা পাচ্ছে। কিন্তু কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বেশি সংরক্ষণ করেও বেসরকারি হিমাগারগুলো তা পাচ্ছে না।
একজন হিমাগারের মালিক ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘বীজের মোট চাহিদার মাত্র ২ শতাংশ বিএডিসি সংরক্ষণ করে। কিন্তু সংস্থাটি বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ রেয়াত পাচ্ছে। অথচ বেশির ভাগ বীজ আলু সংরক্ষণের পরও আমরা তা পাচ্ছি না।’
এ বিষয়ে কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, কৃষিভিত্তিক শিল্পের জন্য বিদ্যুৎ বিলের ২০ শতাংশ রেয়াত দেওয়ার আইন থাকলেও হিমাগার শিল্পকে এ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। এটা না পেলে সবগুলো কোল্ড স্টোরেজই বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে।
জসিম উদ্দিন আরও বলেন, এবারের বাজেটে হিমাগারের বিদ্যুৎ বিলের ওপর থেকে ৫ শতাংশ মূসক সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করায় হিমাগারের মালিকেরা আশান্বিত হয়েছিলেন। কিন্তু এখন বিদ্যুতের দাম নতুন করে বাড়ানোয় তাঁরা হতাশ।

ভারত-বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল 'অবরুদ্ধ' নেপাল

নেপালের নতুন সংবিধান নিয়ে ক্রমশ ঘোরালো হচ্ছে ভারত-নেপাল সম্পর্ক৷ সোমবার রাজধানী কাঠমান্ডুর কেন্দ্রস্থলে বিক্ষোভকারীরা পোড়ালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কুশপুত্তলিকা৷ তাদের অভিযোগ, ভারত নেপালের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার চর্চা করা ছাড়াও আর্থিক অবরোধ করে সে দেশের সাধারণ মানুষকে অসুবিধায় ফেলেছে৷ মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের একজন, নার্সিংয়ের ছাত্রী অমৃতা বারাল ভারতীয় দূতাবাস যাওয়ার পথে বলেন, 'আমরা ভারতকে অনুরোধ করছি, সীমান্ত খুলে দিন আর নেপালের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত হোন৷' ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি৷
গত সপ্তাহে, নতুন সংবিধান গৃহীত হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ নেপালের তরাই অঞ্চলে এর বিরোধিতায় শামিল হয়েছেন মদেশি ও থারু সম্প্রদায়৷ এদের অভিযোগ, সংবিধানে তাদের যথেষ্ট অধিকার ও প্রতিনিধিত্ব মেলেনি৷ এই আন্দোলনের ফলে জ্বালানি, সব্জি ও ইমারতি দ্রব্য বহনকারী বহু লরির সীমান্তে আটকে পড়ে৷
সমস্যার তীব্রতা সম্পর্কে নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লক্ষ্মীপ্রসাদ ঢাকাল বলেন, 'আর্থিক অবরোধের জন্য, শেষ চার দিনে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ে কোনো ট্রাক নেপালে ঢোকেনি৷ সোমবার অবশ্য গাড়ির জ্বালানি ও রান্নার গ্যাসের কয়েকটি কনসাইনমেন্ট প্রবেশ করেছে৷'
এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা নেপাল অয়েল কর্পোরেশন সোমবার গাড়ির জ্বালানিতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে৷ প্রতি সপ্তাহে মোটরবাইকের ক্ষেত্রে পাওয়া যাবে তিন লিটার আর চার চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে ১০ লিটার৷ এর ফলে বহু পেট্রল পাম্পে এক কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে৷ আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলিকেও বলা হয়েছে তাদের বিমানগুলি যেন অন্য দেশে জ্বালানি ভরে তবেই নেপালে অবতরণ করে৷
ভারতের সঙ্গে নেপালের বাণিজ্যিক সীমান্ত পাঁচটি৷ এ গুলি হলো রক্সৌল, কাকরভিট্টা, বিরাটনগর, ভৈরাওয়াহা ও নেপালগঞ্জ৷ নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রক্সৌল-বীরগঞ্জ সীমান্তে গোলমালের খবর এলেও বাকিগুলোতে অবস্থা শান্তিপূর্ণ ছিল৷ তবু ভারতের শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তারা মালবাহী লরি যাতায়াতের বিরোধিতা করেন৷
নেপাল তার প্রযোজনীয় পণ্যের ৭০ শতাংশই আমদানি করে ভারত থেকে৷ কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে, ভারতের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে, নেপাল চীন সীমান্তের দুটি পথ আবার খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ এ বছরের এপ্রিলের প্রাণঘাতী ভূমিকম্পে এ দুটি বন্ধ রাখা হয়েছিল৷
অন্য দিকে, সংবিধান বিরোধী দল ও গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে আলোচনার জন্য নেপালের তিন প্রধান বিরোধী দল- নেপাল কংগ্রেস, সিপিএন-ইউএমএল ও ইউসিপিএন মাওবাদী- তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে৷ প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালার সঙ্গে অন্যান্য দলের শীর্ষনেতাদের এক বৈঠকের পরে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়৷
নেপাল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা শের বাহাদুর দইবা বলেছেন, 'আমার আশা, এই কমিটি বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা করার পর এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে পারবে৷'
'নেপালে ভারত সাম্প্রদায়িক যুদ্ধ শুরু করেছে'
নেপাল ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টির (কৃষক-শ্রমিক দল) প্রধান নারায়ন মান বিজুকাচে বলেছেন, ভারত নেপালের সাথে সাম্প্রদায়িক যুদ্ধ শুরু করেছে।
সোমবার ভক্তপুরে একটি অনুষ্ঠান পুরস্কার বিতরণকালে তিনি বলেন, সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির লক্ষ্যে ভারত নেপালে সাম্প্রদায়িক ও গোত্রীয় যুদ্ধ শুরু করেছে।
তিনি বলেন, ভারত উদ্দেশ্যমূলকভাবে মদেশি সম্প্রদায়কে ব্যবহার করেছে। এ লক্ষ্যে ভারত পরোক্ষভাবে সীমান্তে অবরোধ আরোপ করেছে, যা নেপালের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক আচরণ।
তিনি জরুরি প্রয়োজন মেটাতে চীন থেকে পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং বাংলাদেশ থেকে গ্যাস আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারের উচিত উত্তর দিক থেকে সীমান্ত খোলার উদ্যোগ নেয়া।
সূত্র : কাঠমান্ডু পোস্ট

ঢাকায় কম দামেই চামড়া বিক্রি: ঠকেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ী লাভবান ট্যানারি মালিক by আবুল হাসনাত

ঢাকার পোস্তা এলাকায় কোরবানির পশুর চামড়ায়
লবণ দিয়ে সংরক্ষণের কাজ করছেন শ্রমিকেরা
কোরবানির পশুর চামড়া এবার বিক্রি হয়েছে খুবই কম দামে। এতে ট্যানারি মালিকেরা লাভবান হলেও ঠকেছেন পাড়া-মহল্লার মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।
বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে খুব বেশি দামে চামড়া কেনেননি আড়ত মালিক ও ট্যানারি মালিকেরা। সে কারণে বেশি দাম দিয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনেছেন ঠিকই, কিন্তু বিক্রি করতে গিয়ে হতাশ হয়েছেন। অনেকেই কেনা দামের চেয়ে কম দামে চামড়া বিক্রি করেছেন।
অন্যদিকে ভালো দাম পাওয়ার আশায় চামড়া নিয়ে এ জায়গায়, ও জায়গায় ঘোরাঘুরি করা এবং যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে না পারার কারণে ২০ শতাংশ চামড়ার মান নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এবার ঢাকায় কোরবানি হওয়া গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়া ৫০-৫৫ আর ঢাকার বাইরের গরুর চামড়া ৪০-৪৫, খাসির চামড়া ২০-২২ ও বকরির চামড়ার দাম ঠিক করা হয় ১৫-১৭ টাকা।
বিশ্ববাজারে প্রস্তুত চামড়ার দাম কমে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে গত বছরের চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ কম দাম নির্ধারণ করে ট্যানারি মালিকদের দুই সংগঠন বাংলাদেশ প্রস্তুত চামড়া, চামড়া পণ্য ও জুতা রপ্তানিকারক সমিতি (বিএফএলএলএফইএ) ও বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) এবং কাঁচা চামড়ার আড়তদারদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন।
হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব টিপু সুলতান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিবছরই কোরবানির সময় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়ার বাজারটা অস্থির করে ফেলেন। তাঁরা মনে করেন যে দামেই কিনুক না কেন সেটা তো আমরা কিনবই। কিন্তু এবার আমরা নির্ধারিত দামের বাইরে খুব একটা যাইনি। তাই লাভের কথা ভেবে যাঁরা বেশি দামে চামড়া কিনেছেন, তাঁরা লোকসান দেবেন।’
দাম কম হওয়ায় খুশি ট্যানারি মালিকেরা। বিটিএর সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, এবার যে দামে চামড়ার বেচাকেনা হয়েছে তা ঠিকই আছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা তো লোকসান দিচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা ঠিক না। কারণ তাঁরাও কম দামেই কেনেন।’
দাম নিয়ে পাল্টাপাল্টি: ঈদের দিন রাজধানীর গ্রিন রোডের ল্যাবএইড হাসপাতালের মোড়ে কয়েকজন মৌসুমি ব্যবসায়ী জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর চামড়ার দাম ২০০-৩০০ টাকা কম। ব্যবসায়ীরা তাঁদের কাছ থেকে চামড়াও কিনছেন কম।
রাজধানীর গ্রিন রোডের ইকরাম কবির প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, ‘গত বছর একটু বড় গরুর চামড়া ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করেছি। এবার তা ২০০০ টাকাও বলছেন না কেউ। চামড়া ব্যবসায়ীরা মনে হয় সিন্ডিকেট করছেন।’
তবে লালবাগের পোস্তার আড়ত মালিকেরা বলছেন, বিশ্ববাজারে চামড়ার দাম কমে যাওয়ায় এবার চামড়ার দাম কম নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেভাবেই চামড়া কিনতে বলা হয়েছে। বেশি দামে চামড়া কিনলে তাঁদের কাছ থেকে ট্যানারি মালিকেরা এই চামড়া কিনবেন না। তাই তাঁরা হিসাব করে চামড়া কিনছেন।
এতেই কপাল পুড়েছে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের। তাঁরা যে চামড়া ২০০০ টাকায় কিনেছেন বিকেল থেকে ঘুরে ঘুরে, শেষ পর্যন্ত রাতে ওই চামড়া ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে তাঁদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদের দিন দুপুরের দিকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব ও জিগাতলায় কয়েকজন ব্যবসায়ী মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বেশি দামেই চামড়া কেনেন। কিন্তু বিকেলে ওই একই ব্যবসায়ীর কাছে চামড়া নিয়ে গেলে তিনি আর আগের মতো বেশি দামে চামড়া কিনতে রাজি হননি।
রাজধানীর পোস্তায় গতকাল রোববার গরুর ছোট আকারের চামড়া ৫০০-৮০০, মাঝারি চামড়া ১২০০-১৫০০ ও বড় চামড়া ১৮০০-২২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে বড় আকারের ভালো মানের কিছু চামড়া বিক্রি হয়েছে ২৪০০-২৫০০ টাকায়। ঈদের পরদিন শনিবারও প্রায় একই দামে চামড়ার বেচাকেনা চলেছে।
এবার ৫০-৫৫ লাখ গরুর চামড়া এবং ৩০-৩৫ লাখ মহিষ-ছাগল-খাসির চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। ঢাকা থেকে আসবে ১০-১২ লাখ গরুর চামড়া।
তবে ঢাকা থেকে এবার গত বছরের চেয়ে ৫-৭ শতাংশ কম চামড়া সংগৃহীত হবে বলে ধারণা করছেন আড়তদারদের সংগঠনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন। তাঁর মতে, ঢাকায় গরু কম কোরবানি হয়েছে। অবশ্য ঈদের দিন থেকে এ পর্যন্ত পোস্তায় তিন লাখের বেশি চামড়া এসে গেছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে চামড়ার চাহিদার ৪৮ শতাংশ সংগ্রহ হয় কোরবানির ঈদে।

নতুন আইফোন পেতে এ কী কাণ্ড!

নতুন আইফোন কিনে না দেওয়ায় প্রেমিকের
সামনে দিগম্বর হয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন প্রেমিকা।
চীনে আইফোন দারুণ জনপ্রিয়। নতুন আইফোন হাতে পাওয়ার জন্য অনেক সময় অদ্ভুত কাণ্ড করে বসেন সেখানকার কেউ কেউ। এর আগে নতুন আইফোন কিনতে কিডনি বিক্রি করার কথা হয়তো অনেকেই শুনেছেন। এবারে চায়না নিউজের এক খবরে আইফোন নিয়ে আরেক অদ্ভুত কাণ্ডের খবর প্রকাশিত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে চীনের একটি বাজারে। প্রেমিক ও প্রেমিকার মধ্যে তর্কবিতর্ক ও শেষ পর্যন্ত দিগম্বর হওয়ার ঘটনাটি সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে। পরে ওই ভিডিওটি অনলাইনে প্রকাশিত হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
এবিপি নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে আইফোন নিয়ে এ ঘটনার সূত্রপাত। প্রেমিক নাকি আইফোন কিনে দিতে চেয়েছিলেন! সেটি কিনে না দেওয়ায়, রাগে-ক্ষোভে জনসম্মুখেই অভিনব প্রতিবাদ করে দিগম্বর হতে শুরু করেন প্রেমিকা। হতবিহ্বল—বেচারা প্রেমিক তাকে শত বুঝিয়েও কাজ হয়নি।
নতুন আইফোন হাতে পাওয়া নিয়ে এ রকম পাগলামির ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। এ মাসের মাঝামাঝিতে চায়না ডেইলির এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, আইফোনের নতুন সংস্করণ ৬ এস বাজারে আসার পর কিডনি বিক্রি করে তা কেনার চেষ্টা করেন দুজন। উয়ু নামের এক ব্যক্তি নতুন আইফোন কেনার ইচ্ছার কথা তাঁর বন্ধু হুয়াংকে জানান। কিন্তু আইফোন কেনার সামর্থ্য না থাকায় কিডনি বিক্রি করার পরিকল্পনা করেন তাঁরা। ইন্টারনেটের মাধ্যমে অবৈধ অঙ্গ-প্রত্যক্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগও করেন। তাদের নানজিংয়ের এক হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য আসতে বলা হয়। ১২ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে এসে দেখেন সে প্রতিনিধি আসেনি। তখন উয়ু তার কিডনি বিক্রির পরিকল্পনা বাদ দিলেও হুয়াং সিদ্ধান্ত বদলাননি। বন্ধুর কিডনি বিক্রি ঠেকাতে উয়ু পুলিশকে ফোন করেন। তারপর থেকে পলাতক আছেন হুয়াং।
আইফোন কেনার ক্ষেত্রে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে মরিয়া হয়ে ওঠার লক্ষণ অবশ্য এটাই প্রথম নয়। এর আগে ২০১২ সালে চীনের এক তরুণ আইফোন ও আইপ্যাড কেনার জন্য নিজের কিডনি বেচতে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ব্যবসায়ীদের ফাঁদে পা দিয়েছিল। এ কাজে জড়িত থাকার দায়ে সাতজনের কারাদণ্ড হয়।
২০১৩ সালে চীনের এক দম্পতির বিরুদ্ধে আইফোন ও বিলাসী পণ্য কিনতে নিজেদের কন্যাশিশুকে বিক্রির অভিযোগ আনা হয়েছিল। দেশটির সরকারি কৌঁসুলিরা অভিযোগ করেন, ঝাং ও তেং দম্পতি প্রায় ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের কন্যাশিশুকে বিক্রির জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়। ইন্টারনেট, আইফোন ও অন্যান্য বিলাসী পণ্য কিনতে তারা এই টাকার সিংহভাগ খরচ করেছে। ওই দম্পতির ব্যাংক হিসাব ও ক্রেডিট কার্ডের লেনদেনেও এর প্রমাণ রয়েছে।
সম্প্রতি ভারতেও এ ধরনের ঘটনার প্রমাণ পায় পুলিশ। দেশটির উত্তর প্রদেশে শুধু একটা স্মার্টফোন আর যৎসামান্য বাড়তি অর্থের জন্য তিন কিশোর রক্ত বিক্রি করতে গিয়েছিল। মাত্র ৫০০ রুপিতে প্রতি ব্যাগ রক্ত বিক্রি করতে সম্মত হয়েছিল তারা। ৭ আগস্ট রক্ত বিক্রির সময় ভারতের উত্তর প্রদেশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর আইফোন ৬ এস ও ৬ এস প্লাস নামের দুটি মডেলের আইফোন বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে অ্যাপল। অ্যাপলের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আইফোন ৬ এসের ১৬ জিবি মডেলটির দাম ৬৪৯ মার্কিন ডলার, ৬ এস প্লাসের দাম ৭৪৯ মার্কিন ডলার।
২৫ সেপ্টেম্বর থেকে আইফোন বিক্রি শুরুর পর এখন পর্যন্ত এক কোটি ৩০ লাখ ইউনিট আইফোন বিক্রি হয়েছে যা এক সপ্তাহের মধ্যে আইফোন বিক্রির একটি রেকর্ড। নতুন আইফোন চীনের বাজারে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক।

মস্তিষ্কের জন্য উপকারী ও ক্ষতিকর যেসব খাবার

আমরা শরীরের জন্য কত কিছু করি। ভালো ত্বকের জন্য, ভালো চুলের জন্য, ফ্ল্যাট অ্যাবসের জন্য। কিন্তু যেখান থেকে আমাদের শরীরের যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়, সেই মস্তিষ্ক নিয়ে আমরা ক'জন ভাবি! জানেন কি, মগজেরও খাদ্য প্রয়োজন। সেটা অবশ্যই আমাদের দৈনন্দিন খাবারের মধ্যে থেকেই। তবে এমন কিছু খাবার রয়েছে, যা মস্তিষ্কের বিশেষ ক্ষতি করে থাকে। এগুলো খাওয়া বন্ধ না করলে অদূর ভবিষ্যতে অ্যালঝাইমার্স বা ডেমেনশিয়া-র মতো রোগ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। দেখে নিন কী সেই খাবারগুলো:
১) প্যাকেটবন্দি চিজ : যেকোনো ধরনের প্রক্রিয়াকরণ করা চিজ, আমেরিকান চিজ, মোজারেলা স্টিকস ব্রেনের পক্ষে ভীষণ ক্ষতিকারক। এগুলো খাওয়ার পর শরীরে এমন কিছু প্রোটিন উৎপন্ন যা ভবিষ্যতে অ্যালঝাইমার্সের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
২) বিয়ার : প্রতিদিন বিয়ার পান করা খুবই খারাপ। আজকে বাজারে যে সমস্ত ব্র্যান্ডের বিয়ার মেলে সে সবেই নাইট্রাইট থাকে। স্মৃতি ধরে রাখার ক্ষেত্রে এটা বিরূপ প্রভাব ফেলে। তার সঙ্গে এটা অ্যালঝাইমার্সের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।
৩) মাইক্রোওয়েভে বানানো পপকর্ন : দুর্ভাগ্যবশত, বাড়িতে বসে বা সিনেমা হলে বসে সিনেমা দেখার সময় আপনার পছন্দসই স্ন্যাক্সটিও স্মৃতিশক্তি দুর্বল করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা থাকে। এতে ডায়েসেটিল থাকে। এটা এক ধরনের রাসায়নিক যা শরীরে অ্যামিলয়েড প্লাক তৈরি করে। এই প্লাক দীর্ঘ দিন ধরে ব্রেনের মধ্যেই বাসা বেঁধে থাকে। এটা অ্যালঝাইমার্স এবং ডেমেনশিয়ার মতো রোগের অন্যতম কারণ।
৪) টিনের মাংস : সাধারণত, যেকোনো প্রসেসড্ খাবারই শরীরের পক্ষে খারাপ। হ্যাম, বেকন, সসেজ প্রভৃতি খুবই সুস্বাদু। কিন্তু এটা আপনার ব্রেনের যা ক্ষতি করে তা জানলে এগুলো থেকে দূরেই পালাবেন। প্রক্রিয়াজাত মাংসে নাইট্রো সেমাইন নামক এক ধরনের রাসায়নিক দেয়া হয়। খাওয়ার পর এই রাসায়নিক বিষাক্ত এক ধরনের ফ্যাট উত্‍পন্ন করে যা আপনার ব্রেনকে বিষিয়ে তোলে।
কী কী খাবার এড়িয়ে চলবেন সেটা তো দেয়া হলো। এ বার দেখে নিন কী কী খাবার ব্রেনের পক্ষে অত্যন্ত উপকারি:
১) যেকোনো ঠান্ডা পানির মাছ, বিশেষত স্যামন।
২) সবুজ পাতাযুক্ত সব্জি।
৩) সে সমস্ত ফল, যার উপরিভাগ গাঢ় রঙের। যেমন, রাস্পবেরি, জাম।
৪) ক্যাফেনযুক্ত খাদ্য এবং পানীয়। যেমন চকোলেট, দিনে ১-২ কাপ কফি।

আরো কয়েকটি ব্যাপার মাথায় রাখতে পারেন। রান্নার সময় সামান্য অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। এ সমস্ত খাবারে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং প্রয়োজনীয় প্রোটিন থাকে। সঙ্গে থাকে দরকারি ভিটামিন এবং মিনারেল যা ব্রেনকে তার প্রয়োজনীয় খাদ্যের যোগান দেয়।

কুনদুজ ফিরে পেতে মরিয়া আফগান বাহিনী

কুনদুজ শহর পুনরুদ্ধারে এগিয়ে যাচ্ছে আফগান সেনাবাহিনী
আফগানিস্তানের সেনাবাহিনী তালেবান জঙ্গিদের কাছ থেকে উত্তরাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর কুনদুজের দখলের ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার পাল্টা হামলা শুরু করেছে। মার্কিন বিমানবাহিনী এতে তাদের সহায়তা করছে।
শহরটি তালেবান জঙ্গিরা গতকাল সোমবার দখল করে নেয়। ২০০১ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে তালেবানের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর একটি হলো কুনদুজ শহর দখল করে নেওয়া।
কুনদুজ প্রদেশের রাজধানী শহর তালেবান দখল করে নেওয়ায় চাপের মুখে পড়েছে প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির সরকার। কারণ আজই আশরাফ গনির ক্ষমতা গ্রহনের এক বছর পূর্ন হলো। সেনারা কুনদুজ পুনর্দখল করবে জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আফগান সরকার একটি দায়িত্বশীল সরকার। এই শহরের ভেতরে থাকা জনগনের ওপর আমরা বোমা মারবো না।’
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারি বাহিনী শিগগিরই কুনদুজের দখল ফিরে পাবে। ইতিমধ্যে সেনারা নগরের কারাগার ও প্রাদেশিক পুলিশের সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। কুনদুজের কারাগার তালেবানের দখলে চলে যাওয়ার পর জঙ্গিসহ শত শত বন্দীকে সেখান থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী একজন বলেছেন, তালেবান যোদ্ধারা রাস্তায় রাস্তায় গাড়ি নিয়ে টহল দিচ্ছে। শহরের হাসপাতাল, ব্যাংক ও সরকারি অন্যান্য ভবন সোমবার থেকে জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে। শহরটিতে আজ তালেবান যোদ্ধার সংখ্যা বেড়েছে।
এদিকে ন্যাটোর একজন মুখপাত্র বলেন, মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে কুনদুজ শহরতলি এলাকায় জঙ্গিদের কয়েকটি অবস্থান লক্ষ্য করে আজ হামলা চালানো হয়েছে।
তালেবানের নতুন নেতা মোল্লা আখতার মনসুর শহরটি দখলের খবরে আনন্দ প্রকাশ করে এক বিবৃতি দিয়ে স্থানীয় লোকজনকে নির্ভয়ে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। মোল্লা ওমরের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হওয়ার পর জুলাইয়ে তালেবানের নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন মনসুর।
চলতি বছরের শুরুতে ন্যাটোর বেশির ভাগ সেনা প্রত্যাহারের পর আফগানিস্তানে জঙ্গি হামলা বেড়ে যায়। সাবেক তালেবান সরকার পাঁচ বছরের শাসনামলে ইসলামি আইনের কঠোর প্রয়োগ চালু করেছিল। মূলত মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত এ সংগঠন ২০০১ সালে মার্কিন বাহিনীর নেতৃত্বে চালানো সামরিক অভিযানে ক্ষমতা হারায়। যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ নাইন-ইলেভেন সন্ত্রাসী হামলার পর ওই অভিযান চালানো হয়। ক্ষমতাচ্যুত তালেবান যোদ্ধারা তখন থেকে পাল্টা লড়াই করে চলেছে।