Saturday, July 16, 2011

মারডককে তলব করেছে ব্রিটিশ সংসদীয় কমিটি

মিডিয়া-ব্যারন রুপার্ট মারডক ও তাঁর ছেলেসহ তিনজনকে ফোনে আড়িপাতা কেলেঙ্কারি বিষয়ে জবাবদিহির জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সংশ্লিষ্ট কমিটি তলব করেছে। যুক্তরাজ্যের উপপ্রধানমন্ত্রী নিক ক্লেগ এ প্রসঙ্গে বলেছেন, প্রশ্নের জবাব দিতে সদ্য বিলুপ্ত নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড-এর মালিক রুপার্ট মারডকের সংসদীয় কমিটির সামনে হাজির হওয়া উচিত।
ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান শরিক রক্ষণশীল দলের এমপি ও সংস্কৃতি, প্রচারমাধ্যম ও ক্রীড়াবিষয়ক সংসদীয় কমিটির অন্যতম সদস্য লুইস মেনস্ক বলেছেন, রুপার্ট মারডক, তাঁর ছেলে জেমস মারডক ও নিউজ ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী রেবেকা ব্রুকসকে তাঁরা কমিটির সামনে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মারডক ও তাঁর ছেলে উভয়েই মার্কিন নাগরিক বলে কমিটির সামনে আসতে আইনত তাঁদের বাধ্য করা যাবে না। তবে রেবেকা ব্রুকস আসতে বাধ্য। কমিটি আগামী মঙ্গলবার তাঁদের হাজির হতে বলেছে।

করাচিতে আবার সহিংসতা, নিহত ১২

পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের রাজধানী করাচিতে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় গতকাল বৃহস্পতিবার আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যসহ ১২ জন নিহত হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের প্রাদেশিক মন্ত্রী করাচির উর্দু ভাষাভাষী প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতাদের সমালোচনার প্রতিবাদে এ সংঘর্ষ শুরু হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে করাচিতে আধাসামরিক বাহিনীর অতিরিক্ত ৫০০ সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে।
সিন্ধুর প্রাদেশিক মন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) জ্যেষ্ঠ সদস্য জুলফিকার মির্জা ক্ষমতাসীন জোট সরকারের সাবেক শরিক দল মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম) এবং এর নির্বাসিত নেতা আলতাফ হোসেনের কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁর এ বক্তব্য স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে বারবার সম্প্রচার করা হয়।

অস্ত্র সংগ্রহে আগ্রহী হয়ে উঠেছে সৌদি আরব

অস্ত্র সংগ্রহে আগ্রহী হয়ে উঠেছে বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরব। দেশটি সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করলেও এবার জার্মানির কাছ থেকে ২০০টি ট্যাঙ্ক কিনছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, সৌদি আরব ইরানকে হুমকি ভেবেই অস্ত্র আমদানি করে থাকে। তবে এখন ইরাক থেকে আসন্ন মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং ইয়েমেন ও বাহরাইনে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সৌদি আরব অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
মিডলইস্ট ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের পরিচালক আনোয়ার এসকি বলেন, ‘ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু হলে তা হবে ওই অঞ্চলের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ সময়। তাই সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সাধারণ উপলব্ধি, ওই সময়ে নিজেদের রক্ষা করার সামর্থ্য তাদের থাকতে হবে।’ তিনি বলেন, সৌদি আরব জানে, ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হলে ওই অঞ্চলে ইরান প্রভাব বিস্তার করতে চাইবে। তাই শুধু জার্মানি নয়, রাশিয়া থেকেও অস্ত্র কেনার চেষ্টা করছে তারা।
ইরাকের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশটি থেকে ৪৬ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে। যদিও মার্কিন কর্তৃপক্ষ বলছে, ইরাক অনুরোধ করলে ওই সময়ের পরে কিছু সেনা সেখানে অবস্থান করবে।
জার্মানির ডের স্পিগেল সাময়িকীর ওয়েবসাইটে বার্লিনের কাছ থেকে সৌদি আরবের ট্যাঙ্ক কেনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যার দাম ২৮০ কোটি মার্কিন ডলার।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স সৌদ আল ফয়সাল ৫ জুলাই বলেন, ‘উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রাখার কৌশল নিয়েছে। ইরান এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করতে চাইলে শুধু নিজের স্বার্থ নয়, সবার স্বার্থের কথা বিবেচনা করতে হবে।’
ইনস্টিটিউট ফর নেয়ার ইস্ট অ্যান্ড গালফ মিলিটারি অ্যানালাইসিসের পরিচালক থিয়োডর কারাসিক বলেন, সৌদি আরব ইয়েমেন ও ইরানের কাছ থেকে হুমকির মুখে রয়েছে। যা দেশটির নেতৃত্বকে অস্ত্র সংগ্রহের দিকে ঝোঁকার মানসিকতায় গতি এনে দিয়েছে। সিরিয়া ও লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতিও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।

মুম্বাইয়ের অলংকার ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন

মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সেখানের রত্ন ও অলংকার ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অলংকারকর্মীরা অন্যত্র চলে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীরা এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনটি বিস্ফোরণের দুটিই ঘটে মুম্বাইয়ের কেন্দ্রস্থলে জাভেরি বাজারে ও অপেরা হাউসের অদূরে। এ দুটি স্থানে হীরাসহ রত্নসামগ্রী, সোনা, রুপা ও অন্যান্য বহু মূল্যবান অলংকারের অনেক দোকান রয়েছে।
গত বছরের অক্টোবরে নগর কর্তৃপক্ষ বিশ্বে হীরার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্র বলে পরিচিত ভারত ডায়মন্ড বোর্সের (বিডিবি) উদ্বোধন করে। কিন্তু পাঁচ হাজার ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র পাঁচ থেকে ছয় শতাংশ ব্যবসায়ী সেখানে তাঁদের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গে পরিবহন ধর্মঘট

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের ৪৪ দিনের মাথায় প্রথম ধাক্কা খেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে রাজ্যব্যাপী ট্যাক্সি ও মিনিবাসের ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার মিনিবাস, ট্যাক্সি ও বাসচালকেরা ধর্মঘট পালন করেছেন।
ধর্মঘটের কারণে কলকাতায় বেসরকারি বাস, মিনিবাস ও ট্যাক্সি চলাচল বন্ধ ছিল। এতে দুর্ভোগের শিকার হন যাত্রীরা। রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী সুব্রত বকশি ধর্মঘট প্রত্যাহারের দাবি জানালেও এতে রাজি হননি ধর্মঘটীরা।

৯৯ শতাংশ সন্ত্রাসী হামলা ঠেকানো গেছে: রাহুল

ভারতে ৯৯ শতাংশ সন্ত্রাসী হামলা ঠেকানো গেছে বলে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার যে মন্তব্য করেছে, তার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক রাহুল গান্ধী। গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, গোয়েন্দা তৎপরতা ও কড়া সতর্কতার কারণে ৯৯ শতাংশ সন্ত্রাসী হামলা ঠেকানো গেছে। তবে চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে ১০০ শতাংশ হামলাই প্রতিহত করা।
বুধবারের হামলায় হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে রাহুল বলেন, ইউপিএ সরকার দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। সন্ত্রাসী হামলার হুমকি এড়াতে সরকার সঠিক পথেই কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি সন্ত্রাসী হামলা ঠেকানো অসম্ভব।

ফ্রান্সের সঙ্গে চুক্তি করবে ভারত

মিরেজ জঙ্গি বিমানের আধুনিকায়নে ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২৪০ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। গতকাল বৃহস্পতিবার কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।
ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে ৫১টি বেশ পুরোনো মিরেজ জঙ্গি বিমানের আধুনিকায়ন করা হবে। এ জন্য ফ্রান্সের ড্যাসল্ট অ্যান্ড থ্যালিস এবং এমবিডিএর সঙ্গে বিষয়টি দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল।
ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘ফরাসি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি এগিয়ে নিতে সম্মতি দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।’
নতুন চুক্তির আওতায় ফ্রান্সের তৈরি ৫১টি জঙ্গি বিমানে উন্নত নেভিগেশন সিস্টেম, মিশন কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ও রাডার বসানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ কাজে প্রায় নয় বছর সময় লাগতে পারে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। এ জন্য দুটি বিমান ফ্রান্সে নিয়ে নতুন করে খুলে আবার ঠিক করতে হবে। অন্য বিমানগুলোর কাজ করা হবে ভারতের বেঙ্গালুরুতে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকসের ঘাঁটিতে।
আধুনিকায়নের পর বিমানগুলোর বয়সসীমা আরও ২০ থেকে ২৫ বছর বাড়বে। আশির দশকে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বহরে যোগ করা হয়েছিল এ মিরেজ বিমানগুলো।
চুক্তির ব্যাপারে ভারত সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

কলকাতাসহ গোটা রাজ্যে সতর্কতা

মুম্বাইয়ে সিরিজ বোমা বিস্ফোরণের পর কলকাতাসহ রাজ্যের প্রতিটি বাস ও রেলস্টেশন এবং বিমানবন্দরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী।
শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশনে দূরপাল্লার ট্রেনে ওঠার আগে যাত্রীদের পরীক্ষা করা হচ্ছে। ট্রেন ছাড়ার আগে পুলিশ ডগ স্কোয়াডের কুকুর দিয়ে ট্রেন পরীক্ষা করছে। এ ছাড়া রাজ্য সচিবালয় মহাকরণ, বিধানসভা ভবন ও নতুন সচিবালয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে।
রাজ্যের হোটেলগুলোতে পর্যটকদের প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র ছাড়া প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিদেশি পর্যটকদের ব্যাপারে সজাগ থাকতে হোটেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কলকাতা শহরে বাড়িভাড়া ও জমিজমা বিক্রয়সংক্রান্ত কাজ স্থানীয় থানায় অবহিত করতে বলা হয়েছে।
নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে রাজ্যের ঐতিহাসিক স্থাপনা, সেতু, শপিংমল, সিনেমা হল, মিলনায়তন, ধর্মীয় স্থান, পাতালরেল, বিমানবন্দর, বাজারসহ জনবহুল এলাকায়। সীমান্তে জারি করা হয়েছে কঠোর সতর্কতা।

থেমে নেই মুম্বাইয়ের জীবন

জীবন থেমে থাকে না। আপন গতিতেই তার পথচলা। গতকালও মুম্বাইয়ের আকাশে সূর্য উঠেছে। আলোকিত হয়েছে সেখানকার অলিগলি, রাজপথ। দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। দিনভর কোলাহল ছিল ফুটপাতে। ট্রেন চলেছে অন্যান্য দিনের মতোই।
সিরিজ বোমা হামলার এক দিন পরই মুম্বাইয়ের জীবনযাত্রা ছিল এমনই। অন্য ১০ দিনের মতোই মুম্বাইবাসী স্বাভাবিক থাকায় স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরমও মুম্বাইবাসীর দৃঢ় মনোবলের প্রশংসা করেছেন।
মুম্বাইয়ের আবাসন ব্যবসায়ী ভিনোদ হিরানান্দিনি বলেছেন, ‘জীবন তাঁর স্বাভাবিক গতিতেই চলবে। যারা দিন আনে দিন খায়, জীবিকার তাগিদে তাদের ঘরের বাইরে যেতেই হয়। জীবনের জন্য এটা (মুম্বাই) খুব কঠিন একটা জায়গা।’
অবশ্য মুম্বাইয়ের জন্য এ রূঢ় অভিজ্ঞতা নতুন নয়। এর আগেও বহুবার রক্তাক্ত হয়েছে এই নগর। স্বজন হারানোর বেদনায় বারবার কেঁদেছে মুম্বাইবাসী। তবে সন্ত্রাসীদের এ ধরনের হামলার বিষয়টি অনেকটা নিয়তি বলে ধরে নিয়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা।
টাইমস অব ইন্ডিয়া এ হামলার ঘটনাকে বর্ণনা করেছে এভাবে—‘আবারও’। ট্যাবলয়েড মুম্বাই মিরর শিরোনাম করেছে ‘আবারও হামলা’ বলে। আরেক ট্যাবলয়েড মিড-ডে বলেছে, ‘কোনো শিক্ষাই হলো না, কখন ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ হবে।’
এর আগে মুম্বাই সর্বশেষ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয় ২০০৮ সালে। প্রায় ১০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তিনটি বিলাসবহুল হোটেল, রেলস্টেশন, রেস্তোরাঁ ও ইহুদিদের সংস্কৃতি কেন্দ্রে হামলা চালায়। এতে ১৬৬ জন নিহত ও তিন শতাধিক আহত হয়।
ওই হামলার ক্ষতচিহ্ন এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে ১৩ বছরের কিশোরী দেবিকা। বুধবারের হামলার ভয়াবহতা টেলিভিশনে দেখামাত্র সে তার বাবা নটবরলাল রতোয়ানের কাছে জানতে চায়, ‘সরকার কেন সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’
জবাবে নটবরলাল রতোয়ান বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা মুম্বাই শহর ও সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের রাজনীতিবিদেরাই এর জন্য দায়ী। দরিদ্র-নিরীহ লোকজনের মৃত্যুতে তাদের তো কিছু যায়-আসে না।’
ভয়াবহ হামলার সেই বিভীষিকাময় স্মৃতি ভুলতে না ভুলতেই বুধবার আবারও কেঁপে উঠল মুম্বাই। তিনটি পৃথক বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ১৭ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছে।
মহারাষ্ট্রের গণপূর্তমন্ত্রী চাগান ভূজপাল বলেছেন, সন্ত্রাসীরা হামলার জন্য প্রধান লক্ষ্যস্থল হিসেবে মুম্বাইকে বেছে নিয়েছে। এখানে হামলা চালালে তা পুরো জাতিকে কাঁপিয়ে দেবে, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিশ্বেরও মনোযোগ কাড়তে পারবে। আর সন্ত্রাসীরা সেটাই চাইছে।

প্রতীকার বিশ্বাসই হয়নি তাঁর স্বামী আর নেই

হাসপাতালের কর্মীদের কথা বিশ্বাসই করতে চাননি প্রতীকা শাহ। খববটি তাঁকে বাকরুদ্ধ করে ফেলে। সময় লাগে ধাতস্থ হতে। তারপর তাঁর দুই চোখ বেয়ে গড়াতে থাকে অশ্রু।
হাসপাতালের কর্মীরা প্রতীকা শাহকে জানান, বোমা হামলায় নিহতের মধ্যে তাঁর স্বামীও আছেন। গত বুধবার সন্ধ্যায় ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে পরপর তিনটি বোমার বিস্ফোরণে নিহত হন ১৭ জন। আহত হয় শতাধিক মানুষ। হতাহতদের নেওয়া হয় দক্ষিণ মুম্বাইয়ের সাইফি হাসপাতালে। সেখানে হতাহতদের স্বজনদের বিলাপ আর আহাজারিতে শোকাবহ অবস্থার তৈরি হয়।
প্রতীকার স্বামী ছিলেন আবাসন ব্যবসার এজেন্ট। কয়েকজন গ্রাহকের সঙ্গে দেখা করার কথা বলে বুধবার সন্ধ্যার আগে তিনি বাসা থেকে বের হন। স্বামীর সঙ্গে প্রতীকার সেটাই শেষ দেখা।
প্রতীকা বলেন, ‘এলাকায় দুটি দোকান ভাড়ার ব্যাপারে গ্রাহকদের সঙ্গে ওর কথাবার্তা চলছিল। বেরিয়ে যাওয়ার আগে আমাকে ও বলেছিল, বড় গ্রাহক পাওয়া গেছে। ঠিকঠাকমতো কাজটা হলে বন্ধুদের নিয়ে বড় পার্টি দেব।’
প্রতীকা জানান, অপেরা হাউস এলাকায় বোমা বিস্ফোরণের খবর শুনেই তিনি বাসা থেকে ছুটে বেরিয়ে যান। পায়ে জুতা গলানোর কথাও মনে ছিল না। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন এক বীভৎস দৃশ্য। রাস্তার ওপর সারি বেঁধে নিহতদের লাশ রাখা হয়েছে। পাশের দোকানের মালামালের সঙ্গে মানুষের শরীরের ছিন্নভিন্ন অংশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। ভিড়ের মধ্য থেকে একজন জানান, তাঁর স্বামীকে নেওয়া হয়েছে সাইফি হাসপাতালে। প্রতীকার মনে যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হাসপাতালে ছুটে গিয়ে দেখেন সেটাই সত্যি। তাঁকে জানানো হলো, তাঁর স্বামী জীবিত নেই।
‘আমার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না ও মারা গেছে। না, এটা হতেই পারে ন।’ কাঁদতে কাঁদতে বলেন প্রতীকা শাহ।

‘দুর্বল গোয়েন্দাব্যবস্থার কারণে ভারত ঝুঁকির মধ্যে থাকবে’

সন্ত্রাসবাদবিরোধী নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন না আনা পর্যন্ত ভারত জঙ্গি হামলার সহজ লক্ষ্যবস্তু থাকবে; যে নীতিতে কার্যকর গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা এ কথা বলেন।
বিশ্লেষকেরা বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পদ্ধতি এখনো দুর্ভাগ্যজনকভাবে পরিপূর্ণ নয়।
গত বুধবার ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে তিনটি বিস্ফোরণে ১৭ জন নিহত হন। আহত হন আরও কমপক্ষে ১৩১ জন। আহত ব্যক্তিদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নয়াদিল্লির ইনস্টিটিউট অব কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্টের নির্বাহী পরিচালক আজাই সাহনি বলেন, ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার পর নেওয়া নতুন পদক্ষেপ পুলিশব্যবস্থা ও তৃণমূল পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রধান দুর্বলতার ‘একটি ক্ষুদ্র অংশ’ দূর করেছে মাত্র।
সাহনি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আপনি অবশ্যই সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে শতভাগ নিশ্চয়তা পাবেন না; তবে এটা বলা যায়, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমাদের প্রচণ্ড দুর্বলতা রয়েছে।’ তিনি বলেন, ভারতের পুলিশ বাহিনী অনেক ক্ষেত্রে ‘অনুপযুক্ত’। সাহনি বলেন, পুলিশের ফরেনসিক সামর্থ্য সামান্য বা একেবারেই নেই। গোয়েন্দা প্রশিক্ষণের অবস্থাও একই রকম।
দেশে কার্যকর জাতীয় অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদবিষয়ক ডেটাবেস না থাকার কথা উল্লেখ করে সাহনি বলেন, সরকারগুলো অতীত থেকে শিক্ষা নিতে দৃশ্যমানভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কয়েক দশক ধরে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়ছি। কিন্তু পুলিশের জন্য সন্ত্রাসবাদবিরোধ বিষয়ে কোর্স চালু করা হয়েছে ২০১০ সালে।’
দিল্লিভিত্তিক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ উইলসন জন বলেন, সরকার জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর জন্য অনেক বেশি জায়গা খালি রেখেছে।

সাপটির দুই মাথা, চিন্তাও দুই

সাদা বলে সাপটি এমনিতেই বিরল। এর মধ্যে আরও ব্যতিক্রম যোগ করেছে জোড়া মাথা। বিস্ময়ের এখানেই শেষ নয়। প্রতিটি মাথা দিয়ে এই সাপ আলাদাভাবে চিন্তা করতে পারে। পারে আলাদাভাবে খেতে।
এই অ্যালবিনো (সাদা) সাপটির নাম ক্যালিফোর্নিয়া কিংস্নেক। এটি রয়েছে ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরের তীরবর্তী ইয়ালতা অবকাশযাপন কেন্দ্রের চিড়িয়াখানায়। সাপটি দেখতে প্রতিদিন সেখানে অনেক মানুষ ভিড় করছে। ৬০ সেন্টিমিটার (দুই ফুট) দীর্ঘ তিন বছর বয়সী সাপটি জার্মানি থেকে ধার করা হয়েছে।
স্কাজকা নামের ওই ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানার কর্মীরা জানান, সাপটির দুটি মাথাই নিজ নিজ স্বাধীনতার ব্যাপারে সচেতন। খাবার খেতে গিয়ে সব সময় যে মাথা দুটির মধ্যে মতের মিল হয়, তা নয়।
চিড়িয়াখানার পরিচালক ওলেগ জুবকোভ বলেন, মাঝেমধ্যে সাপটির এক মাথা একদিকে যেতে চাইলে, আরেকটি অন্যদিকে যেতে চায়। চিড়িয়াখানার কর্মী রাসলান ইয়াকোভেঙ্কো বলেন, মাঝেমধ্যে খাবার নিয়ে দুই মাথার মধ্যে এমন টক্কর লাগে, তখন প্রতিটি মাথার মুখে আলাদাভাবে খাবার তুলে দিতে হয়। তিনি বলেন, যখন সাপটির খুব খিদে পায়, তখন এক মাথা আরেকটি মুখ থেকে খাবার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টায় লেগে পড়ে।

বিদ্রোহীরা দখল নিলে ত্রিপোলি উড়িয়ে দেবেন গাদ্দাফি

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ‘আত্মঘাতী পরিকল্পনা’ নিয়েছেন। বিদ্রোহীরা রাজধানী ত্রিপোলি দখল করে নিলে তিনি এ শহর উড়িয়ে দেবেন। লিবিয়ায় নিযুক্ত রাশিয়ার বিশেষ দূতের বরাত দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাশিয়ার একটি সংবাদপত্রে এ খবর প্রকাশিত হয়।
সমঝোতার মাধ্যমে গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া ও বিদ্রোহীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আজ শুক্রবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আলোচনায় বসছেন।
লিবিয়ায় নিযুক্ত রাশিয়ার বিশেষ দূত মিখাইল মারগেলভ রাশিয়ার ইজভেস্তিয়া পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমার ধারণা, গাদ্দাফি সরকারের আত্মঘাতী পরিকল্পনা রয়েছে। এখনো তাদের হাতে প্রচুর ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুদ রয়েছে।’ তিনি বলেন, গাদ্দাফির সেনারা এখনো ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপণযোগ্য একটি ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করেনি। তাদের ট্যাংকের জন্য রাখা গোলা ও রাইফেলের গুলি ফুরিয়ে যেতে পারে। কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকের প্রচুর মজুদ রয়েছে।
গত ১৬ জুন ত্রিপোলিতে লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাগদাদি আল মাহমুদির সঙ্গে বৈঠক করেন মারগেলভ। তবে তিনি গাদ্দাফির সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।
আজ ইস্তাম্বুলে লিবিয়ার বিষয়ে আলোচনায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঁলা জুপ্পে, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হগ ও ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্কো ফ্রাত্তিনি অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। এতে সামরিক জোট ন্যাটোর মহাসচিব আন্দ্রেস ফগ রাসমুসেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাস্টন ও আরব লিগের প্রধান নাবিল আল আরবিরও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এই আলোচনায় অংশ নিতে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে রাশিয়া ও চীনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত নয়।
তুরস্কের একজন কূটনীতিক জানান, ইস্তাম্বুলের আলোচনায় লিবিয়ায় নিযুক্ত জাতিসংঘের দূত আবদুল ইলাহ সম্প্রতি তাঁর ত্রিপোলি ও বেনগাজি সফরের বিষয় তুলে ধরবেন। এ ছাড়া মুসলমানদের জন্য আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে লিবিয়ায় মানবিক সহায়তা বাড়ানো ও বিদ্রোহীদের সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।
লিবিয়ার বিদ্রোহীদের গঠিত অন্তর্বর্তী জাতীয় পরিষদের (টিএনসি) জ্যেষ্ঠ সদস্য মাহমুদ জিবরিল ইস্তাম্বুলের আলোচনায় যোগ দেবেন। তিনি বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নেবেন।
ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাউরিজিও মাসারি বলেন, জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় লিবিয়া পরিস্থিতির রাজনৈতিক সমাধানের পরিকল্পনা এগিয়ে চলছে।
গত মঙ্গলবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঁলা জুপ্পে বলেন, ‘আমরা লিবিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তাঁরা আমাদের বলেছেন, গাদ্দাফি ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন। সে বিষয় নিয়ে আলোচনা হোক।’

মালিঙ্গায় বিধ্বস্ত স্কটিশরা

অনেকবার খেলেও লাসিথ মালিঙ্গাকে বুঝতে হিমশিম খান প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যানদের অনেকে। স্কটিশরা তো খেলল প্রথমবার! যা হওয়ার হলো তাই-ই, মালিঙ্গার আগুনে (৫/৩৮) ছারখার স্কটল্যান্ড। আগের দিন আয়ারল্যান্ডের ৩২০ রান সহজেই টপকে গিয়েছিল স্কটল্যান্ড। পরশু ২৮৫ রান তাড়া করতে গিয়ে গুটিয়ে গেল ১০১ রানে। শেষ ম্যাচ ১৮৩ রানে জিতে এডিনবরার ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতল শ্রীলঙ্কা।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ ম্যাচে মাত্র ৬ উইকেট পেয়েছিলেন মালিঙ্গা। পরশু ফিরলেন পরিচিত সেই বিধ্বংসী রূপে। ম্যাচ শেষে অসহায় শোনাল স্কটিশ অধিনায়ক গর্ডন ড্রামন্ডের কণ্ঠ, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের ওর সেরাটার মুখোমুখি হতে হয়েছে, এর কোনো উত্তর আমাদের জানা ছিল না। ওর বোলিংয়ের ধরনটাই অন্য রকম। জানতাম, ওকে খেলা কঠিন হবে। তবে জানা আর বাস্তবে কিছু করা আলাদা ব্যাপার।’
এর আগে মালিঙ্গার ব্যাটও ভুগিয়েছে স্কটিশদের। ১৫ বলে ৩২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেছেন। বোলিংয়ে প্রথম স্পেলেই আউট করেছেন প্রথম তিন ব্যাটসম্যানকে। দ্বিতীয় স্পেলে আরও দুটি নিয়ে ওয়ানডেতে ৫ উইকেট পেয়েছেন তৃতীয়বার।

আরও উন্নতি চান মেনেজেস

প্রথম দুটি ম্যাচে দল যা খেলেছে, তাতে দিনরাত কেমন অস্বস্তিতে কেটেছে, সেটা তিনিই ভালো জানেন। এখন একটু নির্ভার থাকাই যায়। কিন্তু মানো মেনেজেস বলছেন, দল ৪-২ গোলে জিতেছে বলেই আনন্দে ভেসে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কারণ দলের খেলায় যে পুরোপুরি তৃপ্ত নন তিনি, ‘আমাদের এখনো আরও ভালো করার সুযোগ আছে। খেলোয়াড়েরাও সেটা জানে, তাই তাদের নতুন করে বোঝানোর কিছু নেই।’
এই সুযোগে তাঁর কোচিং দর্শনের মূলমন্ত্রটাও জানিয়ে দিলেন মেনেজেস, ‘আমি খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করছি তাদের আরও উন্নতির জন্য। সব সময় এটাই থাকে আমার লক্ষ্য।’ প্রথম দুই ম্যাচে বাজে পারফরম্যান্সের পরও সমালোচনা থেকে খেলোয়াড়দের আগলে রেখেছিলেন। ইকুয়েডরের বিপক্ষে জয়ের পর একটু তৃপ্তি বোধ তো করতেই পারেন। ‘এখন পর্যন্ত এটাই এই টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের সেরা ম্যাচ’ বলার পর ঘোষণা করলেন, ‘আমার দলের খেলোয়াড়েরা অসাধারণ।’
কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে স্বস্তির ব্যাপার, মূল স্ট্রাইকারদের স্বরূপে দেখা দেওয়া। পাতো-নেইমার দুটি করে গোল পেয়েছেন। রেফারি আর ক্রসবার বাদ না সাধলে দুই গোল পেতে পারতেন রবিনহোও। পাতো বলছেন, ‘আমরা এভাবেই খেলতে চেয়েছি। চেয়েছি ম্যাচটা জিতে গ্রুপের সেরা হতে।’ দলের ঐক্য বোঝাতে বলেছেন, ‘যখন হেরে যাই, আমরা সবাই-ই আসলে হারি। জিতলে যেমন সবাই একসঙ্গেই জিতি। পুরো দলই আসলে দুর্দান্ত খেলেছে। এটা দারুণ একটা ফল।’
এই ম্যাচে খেলেননি, তবে দানি আলভেজের এ নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। বার্সা-সতীর্থ লিওনেল মেসির মতোও তিনি বললেন, ‘এখন শুরু হলো সত্যিকারের প্রতিদ্বন্দ্বিতা।’ স্বীকার করে নিলেন, ‘চাপের বোঝা মাথা থেকে নেমে গেল।’
চাপ সরে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন হুলিও সিজারও। যদিও ম্যাচে যে দুটো ভুল করে গোল খেয়েছেন, তাতে তাঁরই চাপে থাকার কথা। ভুলও স্বীকার করছেন, ‘প্রথম গোলের চেয়ে দ্বিতীয়টি বেশি তিক্ত ছিল। আমি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম বলেই গোল বাঁচানোর সময় পাইনি।’

শুধু মেসিকে নিয়ে ভাবছে না উরুগুয়ে

কোপা আমেরিকার প্রথম দুই ম্যাচে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করে খেলতে না পারলেও কোস্টারিকার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ছন্দে ফেরার আভাসটা ভালোমতোই দিয়েছেন লিওনেল মেসি। এখন শেষ আটের লড়াইয়ে উরুগুয়ের বিপক্ষে তাঁর জাদুকরি ফুটবল দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা। উরুগুয়ের কোচ অস্কার তাবারেজ অবশ্য শুধুই মেসিকে নিয়ে আলাদাভাবে ভাবতে চাচ্ছেন না। স্বাগতিক আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয়ের জন্য তাঁর শিষ্যরা নিজেদের খেলার দিকেই বেশি নজর দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল বুয়েন্স আয়ার্সে এক সংবাদ সম্মেলনে তাবারেজ বলেছেন, ‘আপনার কাছে যদি কোনো সমস্যার সমাধান না থাকে, তাহলে সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করে তো লাভ নেই। মেসি আমাদের জন্য অনেক সমস্যা হিসেবে দেখা দিতে পারে। আর শুধুই ওই ব্যাপার নিয়ে ভেবে আমরা সেটা এড়াতেও পারব না। কিন্তু আমরা ওইটা বাদেও আরও অনেক কিছু করতে পারি। আমরা আমাদের নিজেদের খেলাটা ভালোমতো খেলার চেষ্টা করব। আমরা মনে করি যে মাঠে খুব শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে হাজির হতে পারব; আর ম্যাচটা জেতার মতো সামর্থ্যও আমাদের আছে।