Thursday, October 24, 2013
কিভাবে গঠিত হবে নির্বাচনকালীন সরকার by মোহাম্মদ কায়কোবাদ

১.
বিগত চারটি নির্বাচনে সাধারণ মানুষ সব সময় সরকারি দলকে প্রত্যাখ্যান করেছে। নিশ্চয়ই আমাদের দেশের রাজনীতিকরা বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন এবং এর থেকে আমাদের দলগুলো এখনও যে শিক্ষা গ্রহণ করেনি তার বড় প্রমাণ এই ধারা বেশ কিছুদিন ধরে অব্যাহত রয়েছে। বিগত নির্বাচনে ৭-৮ বছর ক্ষমতায় না থাকা, কোনরকম উন্নয়নমূলক কাজ করতে না পারা, টেন্ডার দিতে না পারা আওয়ামী লীগকে মানুষ জয়যুক্ত করেছিল। এবার আবার পাঁচ বছর এমনকি সংসদ অধিবেশনে না যাওয়া, ক্ষমতায় না থাকা বিএনপিকে নির্বাচিত করলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না। সুতরাং নির্বাচনে জেতার জন্য ভালো মানুষ হওয়ার প্রয়োজন নেই, স্রোতের অনুকূলে থাকতে পারাটাই গুরুত্বপূর্ণ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বড় দুটি দলে গণতন্ত্রের চর্চাও লক্ষণীয় নয়। এর ফলে নতুন নেতৃত্বও তৈরি হচ্ছে না। তাই বড় দুটি দলে গণতন্ত্রের চর্চা আবশ্যক। দেশের সাধারণ মানুষের যারা প্রতিনিধিত্ব করবেন, সেই সংসদ সদস্যরা যদি ভাবেন তারা তো কিছুই নন- দলই সব, তাহলে প্রতিনিধিত্ব যোগ্য হবে না। আবার গত কয়েকটি নির্বাচনে এ-ও দেখা গেছে, এই বড় দল দুটি যত ভোট পেয়েছে, সেই অনুপাতে সংসদে তারা আসন পায়নি। ভোটের ব্যবধান ৫-৬ শতাংশ হলেও আসনের ব্যবধান ৮-৯ গুণ, যা কিনা একটি নির্বাচন ব্যবস্থার অগ্রহণযোগ্য ত্র“টি হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। আজ সংসদে বিরোধী দলের আসন সংখ্যা যদি ১৩০-১৪০ হতো, নিশ্চয়ই তাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা যেত না। তাই আমার প্রস্তাব হল দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ তৈরি করা। একজন ভোটার দুটি ভোট দেবে- একটি দলকে আরেকটি স্থানীয় সংসদ আসনের প্রার্থীকে। সংসদ নির্বাচনে যারা দাঁড়াবে, তারা দলের প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না, তবে আমাদের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মতো নানা দল তাদের পক্ষ নিতে পারবে। দলের প্রতীক না নিয়ে যদি কেউ নির্বাচনে জয়ী হতে পারে, তাহলে তার নিজের প্রতি আস্থা ও আত্মমর্যাদাবোধ বেশি হবে। এই সংসদ সদস্যরা ইচ্ছা করলেই ফ্লোরক্রসও করতে পারবেন। এর ফলে তারা দলের অন্ধ আজ্ঞাবহে পরিণত হবেন না। দলের সিদ্ধান্তে তারা অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবেন। এর ফলে দলের সিদ্ধান্তের গুণগত মানও বাড়বে। আর প্রতিটি রাজনৈতিক দল যে ভোট পাবে, সেই অনুপাতে তারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত করতে পারবে। আমরা যদি ধরি, আমাদের ৩০০ জন সংসদ সদস্য ভোটারদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন, আর ৩০০ জন দলীয়ভাবে। তাহলে ৩০০ আসন রাজনৈতিক দলগুলোকে আনুপাতিক হারে বণ্টন করা হবে। আমরা জানি, অনেক ছোট দলের সারা দেশভিত্তিক ভোট থাকা সত্ত্বেও কোনো আসন থেকেই তারা বিজয়ী হতে পারে না, যদিও তাদের মোট প্রাপ্ত ভোট একাধিক সংসদ সদস্যের প্রাপ্ত ভোটের চেয়ে বেশি হতে পারে। সুতরাং তাদের এই জনপ্রিয়তা দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় সংসদ সদস্যরা এলাকার উন্নয়নমূলক কাজে যৌক্তিক মাত্রায় অংশগ্রহণ করবেন। সংসদ সদস্যরা একাধারে ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হওয়ার ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালনে স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয় বলে সংসদ এ বিষয়ে পরিষ্কার নীতি গ্রহণ করতে পারে। এছাড়াও বিগত কয়েকটি সরকারে বিরোধী দলের সংসদ বর্জন অথচ সংসদ সদস্য হিসেবে সব সুযোগ-সুবিধা কড়ায়গণ্ডায় ভোগ করা থেকে সাধারণ মানুষের ধারণা জšে§ছে যে, আমাদের প্রতিনিধি নেতারা চিন্তা-চেতনা-ত্যাগে আমাদের প্রত্যাশাকে কোনোভাবেই স্পর্শ করতে পারছেন না। সুতরাং তাদের নিজেদের কর্মকাণ্ডের যথাযথ মূল্যায়নের জন্য ‘না ভোট’ দানের সুযোগ থাকা উচিত।
২.
বর্তমানে প্রধান দুটি দলের মধ্যে পরস্পরের প্রতি আস্থাহীনতা দেশের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর ও লজ্জাজনক। এ অবস্থায় সমঝোতার মাধ্যমে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া তত সহজ হওয়ার কথা নয়। নির্বাচনকালীন সরকার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্দলীয় সরকার কিংবা নির্বাচন কমিশন বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে দুটি দল একমত হবে এটা কল্পনা করতেও কষ্ট হয়। এজন্য সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে যে বিষয়েই সমঝোতা হওয়া প্রয়োজন, সে বিষয়েই নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে।
মনে করি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ও অন্য সদস্যদের নির্বাচনে উভয় দলকে সমঝোতায় আসতে হবে। নির্বাচন কমিশন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে উভয় দলকে আমন্ত্রণ জানাবে। জনসাধারণও জানবে এ অনুষ্ঠানে অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের জন্য দুই দলের মধ্যে সমঝোতা হবে। সারাদেশের মানুষ ওই অনুষ্ঠান উপভোগ করবে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা পেনড্রাইভে নিয়ে উভয় দলের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হবেন। এর ফলে তালিকাগুলোর গোপনীয়তা বজায় রাখাও সহজ হবে। এবার প্রতিটি তালিকার প্রথম ১০টি নামের মধ্যে (সংখ্যাটি ১০-এর পরিবর্তে অন্য কিছুও হতে পারে) প্রথম মিল খোঁজা হবে (প্রথম মিলকেও আমরা প্রয়োজন অনুসারে সংজ্ঞায়িত করতে পারি)। না পেলে প্রথম ২০, প্রথম ৪০- এভাবে মিল খোঁজা হবে। তালিকার নামগুলোতে যাতে কোনো অস্পষ্টতা না থাকে সেজন্য তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ব্যবহার করা যেতে পারে। এক বা একাধিক সুযোগ্য উপস্থাপকের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি যেমন হতে পারে চিত্তাকর্ষক, তেমনি বিশ্বাসযোগ্য। সাধারণ মানুষের সামনে ঘটে যাওয়া এই সমঝোতা নিয়ে সন্দেহ কিংবা অনাস্থা জ্ঞাপন করা কোনো দলের জন্যই সহজ হবে না। সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা যাতে খুব বড় না হয়, সেজন্য উভয় দলের কাছে গ্রহণযোগ্য শর্ত দিয়ে এর দৈর্ঘ্য সীমিত রাখাও সম্ভব। তাছাড়া যেহেতু উভয় দলই জানছে যে নামটি অন্য তালিকায় থাকতে হবে, সুতরাং তাদের পছন্দের তালিকা যৌক্তিক হবে। যতক্ষণ উভয় তালিকায় একই নাম পাওয়া না যায়, ততক্ষণ টেলিভিশন অনুষ্ঠানটি চলতে থাকবে।
শুধু অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ও অন্যান্য সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে নয়, অন্য যে কোনো বিষয়েই সমঝোতায় পৌঁছতে এ ধরনের নৈর্ব্যক্তিক, স্বচ্ছ পদ্ধতি সাধারণ মানুষের সামনে উপস্থাপন করে তাদেরও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। জাতীয় সংসদের স্পিকার যেমন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন, এক্ষেত্রেও জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দলগুলো তাদের পছন্দের মানুষ নির্বাচন করবে। তাই অনির্বাচিতদের দিয়ে সরকার চালানোর সমালোচনা এখানে প্রযোজ্য হবে না। উল্লেখ করা যেতে পারে, তত্ত্বাবধায়ক, নির্দলীয়, সর্বদলীয়, নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নির্বাচনসহ যে কোনো বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে যদি সমঝোতার প্রয়োজন হয়, তা এ পদ্ধতির মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে জনগণের সামনে করা যাবে।
৩.
আরেকটি বিষয় নিয়েও গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে। একসময় আমরা কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া কিংবা থাইল্যান্ডের তুলনায় পিছিয়ে ছিলাম না। উন্নতির মাপকাঠিতে এখন আমরা অনেক পেছনে। এ উদাহরণগুলো বিবেচনায় নিলে মনে হয়, পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতি আমাদের দেশে কোনো সুফল বয়ে আনেনি। প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য অন্যান্য দেশে যে নানারকম শর্ত রয়েছে, তা আমাদের দেশেও আরোপ করা উচিত। এর ফলে যারা প্রধানমন্ত্রী হবেন, তারা যথেষ্ট বিচক্ষণতা ও ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করবেন, যাতে করে সরকারের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরও তারা যথাযথ সম্মানের সঙ্গে দেশেই বসবাস করতে পারেন। শুধু তাই নয়, দেশের জ্যেষ্ঠ, প্রাজ্ঞ, দেশ চালনায় অভিজ্ঞ, সম্মানিত নাগরিক হিসেবে তারা পরবর্তী নেতাদের মূল্যবান উপদেশ দিয়ে দেশ পরিচালনায় সহায়তা করতে পারেন। এই পদে সর্বোচ্চ এক মেয়াদ থাকার নিয়ম করা যায় কিনা, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। কোনো নেতা যদি যোগ্য নেতা তৈরি করতে ব্যর্থ হন, তাকে নেতা হিসেবে সফল ভাবা যায় না। ১৬ কোটি মানুষের দেশে মাত্র দু-একজন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য হলে আমাদের দেশে গণতন্ত্র সফলভাবে বিকশিত হবে, এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই।
আমি আশা করি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান কিংবা সমাজবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞরা এবং আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়ে গবেষণা করে আমাদের দেশকে যথাসম্ভব ত্র“টিমুক্ত একটি ব্যবস্থা উপহার দিয়ে দেশবাসীকে অনিশ্চয়তা ও শংকা থেকে রক্ষা করবেন।
ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ : অধ্যাপক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজনৈতিক অস্থিরতার কবলে শিক্ষা by মোঃ মুজিবুর রহমান
চলতি বছরের শুরুতেই রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে উপর্যুপরি হরতাল আহ্বান করা হয়েছিল। এ কারণে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটেছে। হরতাল সামনে রেখে কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়া হয়েছিল তখন। পরীক্ষার্থীরা চরম উৎকণ্ঠা নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেছে। এমনকি তাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও বিঘ্ন ঘটেছে ব্যাপকভাবে। পরীক্ষার সময়টিতে পরীক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে পারবে কিনা তা নিয়ে অভিভাবকদের মনে রাজ্যের দুশ্চিন্তা ভর করেছিল। এর পরও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ স্থিতিশীলতা আসেনি; শিক্ষা নিয়েও অনিশ্চয়তা কাটেনি। বছরের মাঝামাঝি রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছুটা স্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করার পর এখন আবার দেখা দিয়েছে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশংকা। সচেতন মহল ধারণা করছে, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যদি কোনো সমঝোতা না হয়, তাহলে বছরের শেষভাগেও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাপক বিঘ্নের মুখে পড়বে।
সামনে নভেম্বর। এ মাসজুড়ে রয়েছে বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষার বিস্তৃত কর্মসূচি। মাসের প্রথম দিনেই শুরু হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স কোর্সে ভর্তি পরীক্ষা। মাসের বিভিন্ন দিনে ইউনিটভিত্তিক পরীক্ষার সময়সূচি অনেক আগেই ঘোষণা করা হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষা শেষ হবে ২৩ নভেম্বর। নভেম্বরের ৪ তারিখ থেকে আরম্ভ হবে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা। এ দুটি পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২০ নভেম্বর। এ পরীক্ষায় প্রায় ২০ লাখ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করার কথা। অন্যদিকে ২০ নভেম্বর থেকে শুরু হবে দেশের সবচেয়ে বড় পাবলিক পরীক্ষা হিসেবে পরিচিত পঞ্চম শ্রেণীর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী এবং ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা। এ পরীক্ষাও চলবে নভেম্বরের ২৮ তারিখ পযন্ত। এতে প্রায় ৩০ লাখ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে। ২১ নভেম্বর থেকে দেশের অষ্টম শ্রেণী ছাড়া অন্যান্য শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষা আরম্ভ হওয়ার কথা। এসব পরীক্ষার পরপরই ৭ থেকে ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক স্তরের বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হবে নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন কলেজে ১ম বর্ষ অনার্স কোর্সে ভর্তি পরীক্ষাও ওই সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মেডিকেল কলেজ ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় তো প্রায় প্রতি সপ্তাহেই চলে পরীক্ষা। দেশজুড়ে অবস্থিত সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোয় চলে পুরো বছর ধরে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। এসব কলেজেও নভেম্বর ও ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নানা রকমের পরীক্ষা ও সমাপনী মূল্যায়ন কার্যক্রম।
আমাদের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষা অনুষ্ঠানের এসব সময়সূচি পর্যালোচনা করে বলা যায়, নভেম্বর ও ডিসেম্বর হল পরীক্ষা অনুষ্ঠানের মাস। স্কুল শিক্ষাবর্ষের সমাপনী মাস হিসেবেও এ দুটি মাস অধিক পরিচিত। কাজেই নভেম্বর ও ডিসেম্বরে যদি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকে এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে যদি অস্থিরতা ও সংঘাত সৃষ্টি হওয়ার আশংকা দেখা দেয়, তাহলে দেশের শিক্ষা কার্যক্রম ও পরীক্ষা উভয়ই চরম বিঘ্নের মুখে পড়বে। বিশৃংখলা দেখা দেবে শিক্ষাক্ষেত্রে। রদবদল করতে হবে বিভিন্ন পরীক্ষার সময়সূচি। সব মিলিয়ে প্রায় ৪ কোটি শিক্ষার্থী সমস্যায় পড়বে। শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হবে সেটা নির্দ্বিধায় বলা যায়। এসব দিক কি কাউকেই ভাবিয়ে তোলে না?
দেশে যত ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচিই পালিত হোক না কেন, তা যদি শান্তিপূর্ণ হয় তাহলে কারও কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে জনমনে আতংক সৃষ্টি ও শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কোনো শেষ থাকে না। আমাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নামে যখন নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করা হয়, তখন শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় বিঘ্ন ঘটে ব্যাপকভাবে। এমনও দেখা গেছে, স্কুল-কলেজের পাশে স্থাপিত রাজনৈতিক দলের কার্যালয় থেকে মাইক ব্যবহার করে অবিরামভাবে জ্বালাময়ী বক্তৃতা দেয়া হচ্ছে। পড়ালেখার উপযুক্ত সময়, বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এর মাত্রা বেড়ে যায়। এমনকি পরীক্ষার সময়েও চলে মাইকের যথেচ্ছ ব্যবহার। আবাসিক এলাকাও বাদ যায় না এ ধরনের শব্দ দূষণের যন্ত্রণা থেকে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা কিভাবে শ্রেণীকক্ষে কিংবা নিজের ঘরে বসে পড়ালেখায় মনোনিবেশ করবে সেটা ভাবনার বিষয়। নিরুদ্বিগ্ন মনে ও শব্দহীন পরিবেশে তারা পরীক্ষাই বা দেবে কিভাবে সেটাও গুরুত্বের সঙ্গে ভেবে দেখা দরকার। এভাবে তো কোনো সভ্য দেশের শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালিত হতে পারে না।
প্রসঙ্গত বলা দরকার, শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি ও প্রচার-প্রচারণার অংশ হিসেবেই যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে মাইকের ব্যবহার করা হয় তা নয়। বরং দেখা যায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করে একশ্রেণীর হাতুরে ওষুধ বিক্রেতা নানা রকমের সুর তুলে তাদের ভাষায় সর্বরোগের মহৌষধ(?) বিক্রির ব্যবসা চালিয়ে যায় বাধাহীনভাবে। মাইক বাজিয়ে ফেরি করে এভাবে ওষুধ বিক্রি করা সম্পূর্ণ বেআইনি হওয়া সত্ত্বেও তা অব্যাহত রয়েছে। কেউ কেউ স্কুল-কলেজের প্রধান গেটে দাঁড়িয়ে, কখনও বা মাঠে ঢুকে মাইকে গান প্রচার করে আইসক্রিম বিক্রি করছে। কেউ আবার বিভিন্ন ধরনের খেলনাসামগ্রী বিক্রির জন্য মাইকে শিশুদের ডাকাডাকি করছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে স্থাপিত বাসস্ট্যান্ডে থেমে থাকা বাসের হর্ন কখনও তীব্র আওয়াজ তুলছে, বাসের হেলপাররা যাত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য উচ্চৈস্বরে হাঁকডাক করছে। কোনো কোনো হেলপার প্রচণ্ডভাবে চিৎকার করে যাত্রীদের ব্যাগ ধরে টানাটানি করছে। প্রতিষ্ঠানের পাশ দিয়ে বিদঘুটে ও কর্কশ শব্দ উৎপাদন করে ট্রাক-বাস চলাচল করছে দ্রুতগতিতে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে ঘটে যাওয়া এসব কর্মকাণ্ড পড়ালেখায় শিক্ষার্থীদের মনোনিবেশে বাধা সৃষ্টি করে। কখনও কখনও মারাত্মক দুর্ঘটনাও ঘটে থাকে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে বাস-ট্রাক না থামানো, দ্রুতগতিতে যানবাহন না চালানো ও হর্ন না বাজানোর নিয়ম থাকলেও বেশিরভাগ চালকই তা মানে না। সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে গতি সীমিত, হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ ইত্যাদি লেখা সংবলিত সাইনবোর্ড টাঙিয়ে রেখেই দায়িত্ব শেষ করেছে। আজকাল অবশ্য এ ধরনের সাইনবোর্ডও খুব একটা দেখা যায় না। উন্নত দেশে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কথা কল্পনাও করা যায় না। অথচ আমাদের দেশে এসব দিকে কারও কোনো নজর নেই। এমনকি জনগণের শান্তিরক্ষায় নিয়োজিত রাষ্ট্রীয় পুলিশ বাহিনীর সামনেও যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে মাইকের বেআইনি ব্যবহার এবং নিয়ন্ত্রণহীন যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়, তখন আমরা বিস্মিত হই। বেআইনি শব্দ সৃষ্টি ও কোলাহল নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে তেমন কোনো দৃঢ় ভূমিকা নিতে দেখা যায় না সচরাচর। আবার যারা মাইক ব্যবহার করে তাদের ভাবটা যেন এরকম যে, স্বাধীন দেশে যার যা ইচ্ছা তা-ই করা যাবে! তাদের ধারণা, এসব কাজে বাধা দেয়ার সাধ্য কারও নেই! কোনো ভদ্রজন যদি এসব কাজ বন্ধে কিছু বলতে এগিয়ে আসেন, তাহলে তার ওপর চলে সংঘবদ্ধ হামলা।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে কিভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নির্বিঘœ রাখা যাবে? বছরের শেষ সময়ে এসে পরীক্ষা অনুষ্ঠান নির্বিঘœ রাখাই বা যাবে কিভাবে? আমরা শুধু ভাবি, কে আমাদের নিরুদ্বিগ্ন শিক্ষাজীবন উপহার দেবে? জাতীয় উন্নয়নের জন্য এগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বলে মনে করি। আমরা জানি না, এসব প্রশ্নের কোনো জবাব পাওয়া যাবে কিনা। তবে ধারণা করি, রাষ্ট্রের নাগরিকদের নিরাপদ জীবনযাপনে এবং শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় বিঘœ ঘটাতে পারে, এমন বিরক্তিকর কর্মকাণ্ড না করার ব্যাপারে দেশের আইনে যতই বিধিনিষেধ থাকুক, এসব নিয়ে পত্রপত্রিকায় যতই লেখালেখি হোক, সচেতন মহল থেকে যতই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশ করা হোক, তাতে পরিস্থিতির সহসা কোনো উন্নতি হবে বলে মনে হয় না। এটাই আমাদের দুঃখ! কী বিচিত্র এ দেশ! কী বিচিত্র সব কর্মকাণ্ড!
মোঃ মুজিবুর রহমান : সহযোগী অধ্যাপক, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঐকমত্যের বিকল্প নেই by মোঃ আবু সালেহ সেকেন্দার

অতি সম্প্রতি আবারও নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক জমে উঠেছে। তবে এ বিতর্ক বেশ ইতিবাচক। মনে হচ্ছে, সরকারি ও বিরোধী দল উভয়েই সুষ্ঠু সমাধানের পথ খুঁজছে। যদিও এবার এর সূচনা করেছে সরকারি দল। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা তুলে ধরেছেন। তিনি সংবিধানের দোহাই দিয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি অর্থাৎ সংসদ সদস্যদের নিয়েই নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার গঠনের কথা বলেছেন এবং এ বিষয়ে বিরোধী দলের পরামর্শ চেয়েছেন। যদিও প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেননি নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান কে হবেন, অথবা তিনি নিজেই নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হবেন কি-না। ফলে বিষয়টি এখনও অস্পষ্ট রয়ে গেছে।
অনেকেই বলছেন, প্রধানমন্ত্রী যদিও ইতিপূর্বে বলেছিলেন তিনি একচুলও নড়বেন না, এ ভাষণের মাধ্যমে এখন তিনি বহুচুল নড়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, তিনি যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা সংবিধানের মধ্যে থেকেই। তিনি নির্বাচনকালীন সরকার কী ধরনের হবে সে বিষয়ে কারও কোনো মতামত চাননি। তিনি মতামত চেয়েছেন নির্বাচনকালীন সরকারে কোন কোন সংসদ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা যায় সে বিষয়ে। অর্থাৎ তিনি এখনও সংবিধান থেকে একচুলও নড়েননি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবের পর বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াও একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। এর সারকথা, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে যারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের মধ্য থেকে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে এবং সরকারি ও বিরোধী দল থেকেই তাদের নাম প্রস্তাব করা হবে। এ প্রস্তাবও অনেকটা অধুনালুপ্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অনুরূপ। পার্থক্য এখানে এটুকুই যে, ইতিপূর্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টারা অনির্বাচিত ছিলেন; এখন তারা নির্বাচিত হবেন। খালেদা জিয়া তার প্রস্তাবে সংসদ সদস্যদের দ্বারা অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি, স্পিকার অথবা সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্যদের মতো করে এ উপদেষ্টাদের নির্বাচিত করা যেতে পারে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন।
সরকারি ও বিরোধী দলের এই বিপরীতধর্মী প্রস্তাবের মধ্যেও কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ চাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে ওই আহ্বানে বিরোধীদলীয় নেতা সাড়া দিয়ে নতুন প্রস্তাব রেখেছেন। রাজপথে সংঘাত-সংঘর্ষ নয়, কেবল শান্তিপূর্ণ পথেই সমাধান সম্ভব- তার মধ্যে এমন উপলব্ধি প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়া উভয়েই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তাদের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী যেমন নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব করেছেন, তেমনি বিরোধীদলীয় নেতাও আগামীতে নির্বাচিত হলে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের কথা বলেছেন। বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি দলের সমালোচনা এবং প্রধানমন্ত্রীর বিরোধী দল সম্পর্কে সমালোচনাও বেশ মজারই বটে। তারা উভয়েই একে অপরকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের জন্য দায়ী করছেন। এ বিষয়গুলো থেকে স্পষ্ট যে, নির্বাচনকালীন সরকার প্রসঙ্গে উভয়ের মধ্যে যোজন যোজন দূরত্ব পরিলক্ষিত হলেও কয়েকটি বিষয়ে উভয়ের চিন্তা-চেতনা একই ধরনের। এখন পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে যদি নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে উভয়ের চিন্তা-চেতনাকে অন্য চিন্তা-চেতনার মতো একই সূত্রে গাথা যায়, তবে অচিরেই সমস্যার সমাধান হতে পারে। আর এমনটি যদি হয় তা উভয় দল, দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গলজনক হবে। অনিশ্চিত গণতন্ত্র নতুন দিশা পাবে। জনমনে স্বতি ফিরে আসবে। উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হওয়ার প্রেক্ষাপট তৈরি হবে।
সরকারি ও বিরোধী দলের গত কয়েক দিনের তৎপরতা থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট যে, তারা উভয়েই নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে সমঝোতায় আগ্রহী। যদিও এখন পর্যন্ত উভয়েই নানাভাবে, ভিন্ন কৌশলে নিজেদের ফর্মুলা বাস্তবায়ন করতে চাইছে। তবে রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য যা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তা হল সদিচ্ছা। যদি সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকে, তাহলে আলোচনার দরজা উন্মুক্ত হলে সমস্যার সমাধান করা কঠিন হবে না। উভয় দল যদি তাদের মনোভাব নমনীয় করে দেশ ও জনগণের স্বার্থে ছাড় দেয়, তবে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে নাকি সর্বদলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হবে, সে বিষয়টির সমাধান অসম্ভব নয়। শেখ হাসিনা তার ভাষণে যা বলেছেন, তার সারকথাও দেশ ও জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং এ স্বার্থ সংরক্ষণ করতেই তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা প্রণয়ন করেছেন, সংবিধান সংশোধন করেছেন। অন্যদিকে বিরোধী দলের নেতাও তার ভাষণে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তাই উভয়ে যদি সত্যিকার অর্থে দেশ ও জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করেন এবং সে অনুযায়ী কাজ করেন, তবে উভয়েই দেশের স্বার্থে, দেশের মানুষের স্বার্থে ছাড় দেবেন, নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে গ্রহণযোগ্য সমাধানে আসবেন বলে আমরা আশা করি।
বর্তমান সংবিধান কোনো ধর্মীয় গ্রন্থ নয় যে, তা পরিবর্তন করা যাবে না। সংবিধানের জন্য দেশ বা জনগণ নয়, দেশ বা জনগণের জন্যই সংবিধান। দেশের মানুষ ও জনগণের জন্য প্রয়োজনবোধে সংবিধান সংশোধন করা যেতে পারে। আর এ জন্য কয়েক মাস, কয়েক বছর বা কয়েক যুগ সময়ের প্রয়োজন নেই। যদি উভয় রাজনৈতিক দল ঐকমত্য পোষণ করে, তবে তা কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটে করা সম্ভব। তাই সর্বাগ্রে প্রয়োজন নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে পৌঁছানো। যদি তারা একমত হতে পারে, তা পর্দার আড়ালেই হোক আর পর্দার বাইরে হোক, সংবিধান তাদের জন্য কখনও অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে না, যেমন দাঁড়ায়নি ১৯৯৬-এ।
আমরা নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে সংঘাত-সংঘর্ষের রাজনীতি চাই না। আমরা চাই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর। রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য সারাবিশ্বে কুখ্যাতি অর্জনকারী পাকিস্তানে যদি সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এবং শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হতে পারে, তাহলে আমরা কেন পারব না? ৩০ লাখ শহীদের রক্তে রঞ্জিত এ পুণ্যভূমি কারও একগুঁয়েমিতে মিসর, সিরিয়া বা লিবিয়ায় পরিণত হোক, আমরা তা চাই না।
মোঃ আবুসালেহ সেকেন্দার : শিক্ষক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় সংসদ অধিবেশন চলতে পারে কি? by ইকতেদার আহমেদ

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধন পূর্ববর্তী দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিষয়ে যে বিধান প্রবর্তন করা হয়েছিল তাতে বলা ছিল- মেয়াদ অবসানের কারণে অথবা মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী পূর্ববর্তী সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন বিষয়ে ’৭২-এর সংবিধান দ্বারা প্রবর্তিত যে বিধান ছিল তা পঞ্চদশ সংশোধনী দ্বারা প্রবর্তিত বিধানের অনুরূপ।
দেশের প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত গণপরিষদ ভেঙে দিয়ে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা বহাল রাখা হলেও ২য়, ৩য় ও ৪র্থ সংসদ নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রপতি সরকার ব্যবস্থা বহাল ছিল। উপরোক্ত ৪টি সংসদের কোনোটিই মেয়াদ পূর্ণ করতে না পারায় এবং উপরোক্ত সংসদগুলো ভেঙে যাওয়া পরবর্তী রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা বহাল থাকায় মেয়াদ অবসানের আগে সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলে অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা নিয়ে কোনো বিতর্ক সৃষ্টির অবকাশ হয়নি। ৫ম সংসদ নির্বাচন তিন দলীয় জোটের রূপরেখায় অস্থায়ী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এ বিষয়টি উত্থাপনের অবকাশ সৃষ্টি হয়নি। পরবর্তীকালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হলে ৭ম, ৮ম ও ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানকালে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা বিষয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ ছিল না। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল পরবর্তী মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান প্রবর্তিত হওয়ায় প্রথমবারের মতো আমাদের সাংবিধানিক ইতিহাসে প্রধানমন্ত্রী স্বপদে বহাল থাকাকালীন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের অবকাশ সৃষ্টি হয়েছে।
একজন ব্যক্তি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পরবর্তী ৬৬নং অনুচ্ছেদে যে সব যোগ্যতার কথা বলা হয়েছে তা হল- তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং তার বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হতে হবে। উপরোক্ত দুটি যোগ্যতার পাশাপাশি একজন ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এবং সংসদ সদস্য হিসেবে থাকার যোগ্য হবেন না যদি- কোনো উপযুক্ত আদালত তাকে অপ্রকৃতিস্থ বলে ঘোষণা করেন; তিনি দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার পর দায় হতে অব্যাহতি লাভ না করে থাকেন; তিনি কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন; তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন ২ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তার মুক্তি লাভের পর ৫ বছরকাল অতিবাহিত না হয়ে থাকে; তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন যে কোনো অপরাধের জন্য দণ্ডিত হয়ে থাকেন; আইনের দ্বারা পদধারীকে অযোগ্য ঘোষণা করছে না এমন পদ ব্যতীত তিনি প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন অথবা তিনি কোনো আইনের দ্বারা বা অধীন কোনোরূপ নির্বাচনের জন্য অযোগ্য হন।
সংবিধানের বর্তমান বিধান অনুযায়ী একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের বৈঠক অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংসদের একটি অধিবেশনের সমাপ্তি ও পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের বিরতি বিষয়ে পঞ্চদশ সংশোধনী পরবর্তী যে বিধান করা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে- ১২৩ অনুচ্ছেদের (৩) দফার (ক) উপ-দফায় উল্লেখিত ৯০ দিন সময় ব্যতীত অন্য সময়ে সংসদের এক অধিবেশনের সমাপ্তি ও পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের মধ্যে ৬০ দিনের অতিরিক্ত বিরতি থাকবে না। উল্লেখ্য, অনুচ্ছেদ ১২৩(৩)(ক)তে বলা হয়েছে- মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভেঙে যাওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সংসদের এক অধিবেশনের সমাপ্তি এবং পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের বিরতির ক্ষেত্রে অনুচ্ছেদ ৭২(১)-এর ক্রমবিকাশ পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়, এ বিষয়ে ’৭২-এর সংবিধানে বলা ছিল- সংসদের এক অধিবেশনের সমাপ্তি ও পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের মধ্যে ৬০ দিনের অতিরিক্ত বিরতি থাকবে না। অতঃপর সংবিধানের ২য় সংশোধনীর মাধ্যমে এ বিরতির সময়সীমা ১২০ দিন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। এরপর সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বিরতির বিধানটি রহিত করে বলা হয়, প্রতিবছর সংসদের অন্তত ২টি অধিবেশন হবে। পরবর্তী সময়ে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিরতি সংক্রান্ত বিষয়ে ’৭২-এর সংবিধানের বিধান পুনঃপ্রবর্তন করে বলা হয়, এক অধিবেশনের সমাপ্তি ও পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের মধ্যে ৬০ দিনের অতিরিক্ত বিরতি থাকবে না। সর্বশেষ বিরতি বিষয়ে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যে বিধান করা হয়েছে তাতে এক অধিবেশনের সমাপ্তি ও পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠক পর্যন্ত ৬০ দিনের অতিরিক্ত বিরতি না থাকার বিধান অক্ষুণ্ন রাখা হলেও মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভেঙে যাওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিন সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানকালে ৬০ দিনের বিরতি সংক্রান্ত বিধান অকার্যকর করা হয়। সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে নবসন্নিবেশিত নির্বাচনকালীন ৯০ দিন সময়ের মধ্যে ৬০ দিনের বিরতির সময়সীমা অপ্রযোজ্য হওয়ার বিধান পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়, নির্বাচনকালীন এ ৯০ দিন সময়সীমার মধ্যে সংসদ অধিবেশন বসবে না- সে বিষয়টিকে বিবেচনায় রেখেই সংশোধনটি আনা হয়েছিল। সংবিধানের ৭২(১) ও ১২৩(৩)(ক) অনুচ্ছেদের সম্মিলিত অধ্যয়নে প্রতীয়মান হয়, অনুচ্ছেদ দুটিতে ভাবার্থগতভাবে (ওসঢ়ষরবফষু) বোঝানো হয়েছে যে, এ সময় সংসদের অধিবেশন বসবে না। উল্লেখ্য, এ বিষয়টির মর্মার্থ অনুধাবন করে যথার্থভাবেই আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংসদে সংসদ সদস্যদের এবং সচিবালয়ে সচিবদের উদ্দেশে বক্তব্য প্রদানের সময় দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেছিলেন- নির্বাচনকালীন ৯০ দিন সময়ের মধ্যে সংসদ বহাল থাকলেও সংসদের অধিবেশন বসবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপরোক্ত বক্তব্য পরবর্তী ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতার নির্বাচনকালীন ৯০ দিন সময়সীমার মধ্যে সংসদের অধিবেশন চালানোর বিষয়ে যে কোনো ধরনের বক্তব্য সংবিধানের এতদসংক্রান্ত বিধানাবলীর চেতনা ও ভাবার্থের পরিপন্থী নয় কি?
সংসদ সদস্যদের নির্বাচন অনুষ্ঠান অনুচ্ছেদ নং ১১৯-এর বিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সাংবিধানিকভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশনকে ৯০ দিনের একটি সময়সীমা দেয়া হয়েছে। এ ৯০ দিন সময় গণনার দিন থেকে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালন আবশ্যক হয়ে পড়ে এবং এ ৯০ দিন সময়ের মধ্যে দৈব-দুর্বিপাকের কারণ ব্যতীত নির্বাচন কমিশন নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে কমিশন কর্তৃক সংবিধান লংঘনের কারণের উদ্ভব ঘটতে পারে। তাই নির্বাচন কমিশনকে সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি, পরিচালনা ও সম্পন্নের জন্য সংবিধানে বিবৃত ৯০ দিন সময় অবশ্যই প্রদান করতে হবে। এ সময় সংসদ অধিবেশন চালানো প্রচ্ছন্নভাবে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর সরকারের হস্তক্ষেপ এমন ধারণা পোষণ অমূলক নয়। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন কর্তৃক তফসিল ঘোষণা পর্যন্ত সংসদ অধিবেশন চলতে পারে মর্মে যে যুক্তি ও ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে, তা অনুচ্ছেদ নং ৭২(১), ১১৯ ও ১২৩ (৩)(ক)-এর চেতনা ও ভাবার্থের আলোকে মনগড়া প্রতীয়মান হয়।
সংবিধানের প্রতিটি সংশোধনীরই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকে। নির্বাচনকালীন ৯০ দিন সময়সীমা উপনীত হওয়ার পর সংসদের এক অধিবেশনের সমাপ্তি ও পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের বিরতির নির্ধারিত সর্বোচ্চ ৬০ দিনের সময়সীমার ব্যাঘাতকে অতিক্রম করার জন্যই স্পষ্টত ৭২(১) অনুচ্ছেদে সংশোধনী এনে বলা হয়েছে ১২৩(৩)(ক)-এ উল্লিখিত ৯০ দিন সময়ে ৬০ দিনের বাধ্যবাধকতার কার্যকারিতা থাকবে না। তাছাড়া যেখানে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, নির্বাচনের সময় সংসদ বহাল থাকলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে কোনোভাবেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর জন্য সমসুযোগ সংবলিত মাঠের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়, সেখানে সংসদ অধিবেশন চালানোর ক্ষেত্রে যে কোনো ধরনের যুক্তি উপস্থাপন নির্বাচন কমিশনের পক্ষে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের অন্তরায়। এ ধরনের অন্তরায় নির্বাচনের নিরপেক্ষতাকে যে প্রশ্নবিদ্ধ করবে সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হলেও এ ৯০ দিন সময়সীমার মধ্যে সংসদ অধিবেশন না চালানোই যৌক্তিক বলে প্রতীয়মান হয়।
ইকতেদার আহমেদ : সাবেক জজ, সংবিধান, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বেড়েছে শিশু ভিক্ষাবৃত্তি
দারিদ্র আর পর্যাপ্ত সুযোগের অভাবে রাজধানীতে বেড়েছে শিশুদের ভিক্ষাবৃত্তি। তবে এ নিয়ে নেই সঠিক পরিসংখ্যান। শিশু ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিয়ে, তাদের সামাজিক পুনর্বাসনের কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। কামরুল হাসানের রিপোর্ট। দুপুরের প্রখর রোদে কিংবা বৃষ্টিতেও শিশুদের ভিক্ষা করতে দেখা যায় রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে। কম বয়সী এসব শিশুর সঠিক সংখ্যা নিয়ে কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে তা মোট ভিক্ষুকের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ। ইচ্ছা না থাকলেও এদের অনেকেই পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে বাধ্য হয় ভিক্ষাবৃত্তিতে। সাধারণ মানুষের সহানুভূতি পেতে অনেক মা-বাবা শিশুদের নামিয়ে দেন রাস্তায়। অনেকে আবার নিজের সাহায্যের জন্য ব্যবহার করেন শিশুদের। শিশুদের ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করতে ইকো কো-অপারেশন নামের একটি সংস্থার সহযোগিতায় কাজ করছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র। এ প্রকল্পের অধীনে ১৭০টি শিশুকে সৃজনশীল পদ্ধতিতে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল। তিনি জানান, মূল্য লক্ষ্য হচ্ছে এসব শিশুদের শিক্ষার মধ্যে নিয়ে আসা। পরে যাতে তারা দেশের প্রচলিত শিক্ষার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিক্ষাবৃত্তি থেকে শিশুদের নিরুৎসাহিত করতে সরকারি এবং বেসরকারিভাবে বড় ধরণের প্রকল্প গ্রহন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি তাদের অভিভাবকদের সচেতন করে তোলার উপরও জোর দিয়েছেন তারা।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
খালেদা জিয়ার প্রস্তাব কি মাঠে মারা গেল?
আবদুল মান্নান: সাবেক উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দক্ষতা প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সম্ভাবনা
ফারুক মঈনউদ্দীন: ব্যাংকবিষয়ক বিশ্লেষক।
fmainuddin@hotmail.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আনন্দ কই, বিড়ম্বনাই সার
মানুষের জীবনে সেই অনাদিকাল থেকেই উৎসব করার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। সারা বছর চাষ করে নতুন ধান ঘরে তোলার নবান্নের উৎসবে এখনো গ্রামগঞ্জের মানুষ মেতে ওঠে। উৎসব আসে সাধারণত অনেক কাজের শেষে। মানুষ যখন একটানা কাজ করে ক্লান্ত, তখন চায় একটু বিনোদন, একটু বিশ্রাম। সারা দিন খেতে কাজ করা কৃষকও সন্ধ্যায় দাওয়ায় বসে হুঁকো মুখে খানিক গালগল্পে জিরিয়ে নেন। কবি দার্শনিক মার্ক টোয়েন বলেন, ‘ঘুমানো আর বিশ্রাম নেওয়া ছাড়া আমি অন্য কোনো ব্যায়াম করি না।’ আর নারীরা বলে, ঘুমানো আর বিশ্রাম ছাড়া তাদের অন্য কোনো বিনোদন নেই। উৎসব দেয় আনন্দ, দেয় শক্তি, কাজ করার প্রেরণা, সক্ষমতা, সর্বোপরি পুনরুদ্দীপনা। কিন্তু নারীর সময় কোথায় আনন্দ আর বিশ্রামের? ছোটবেলায় নানি-দাদি-মা-খালাদের দেখেছি, ঈদের দিন খুব ভোরে গোসল সেরে রান্নাঘরে ঢুকতেন। অনেকে মচমচে নতুন শাড়ি কোমরে পেঁচিয়ে এক হাতে ঘোমটা আর এক হাতে সেমাইয়ের হাঁড়ি সামলাতেন। পাশের বাড়ির মাসিমারও ফুরসত ছিল না পূজার দিনগুলোতে। তাঁর পুত্রবধূদের নিয়ে মধ্যরাত অবধি ঠাকুরের প্রসাদ বানাতেন। ‘কাদাখেড়’ বলে পূজার সময় উঠোনে পানি ঢেলে বাড়তি কাদা এনে তার ওপর নাচানাচি করা হতো। সাধারণত পুরুষেরাই নাচত আর একে অন্যকে কাদা মাখাত। ঈদে নারীরা রাত জেগে বিভিন্ন পদের রান্না করে। শুতে শুতে প্রায় ভোর। আবার তাকেই সবার আগে উঠে নামাজে যাওয়ার জন্য পুরুষদের প্রস্তুত করানোর অনুষঙ্গ গুছিয়ে দিতে হয়। কোরবানির পশু কেনা পুরুষদের জন্য বেশ ঝক্কির কাজ বটে। তবে আনন্দও কম নয়।
উম্মে মুসলিমা: কথাসাহিত্যিক।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হঠাৎ থেমে গেলেন ওবামা...
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ওসামার জন্য ভালোবাসা
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
-
▼
2013
(14877)
-
▼
October
(362)
-
▼
Oct 24
(10)
- কিভাবে গঠিত হবে নির্বাচনকালীন সরকার by মোহাম্মদ কা...
- রাজনৈতিক অস্থিরতার কবলে শিক্ষা by মোঃ মুজিবুর রহমান
- ঐকমত্যের বিকল্প নেই by মোঃ আবু সালেহ সেকেন্দার
- জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় সংসদ অধিবেশন চলতে পা...
- বেড়েছে শিশু ভিক্ষাবৃত্তি
- খালেদা জিয়ার প্রস্তাব কি মাঠে মারা গেল?
- দক্ষতা প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সম্ভাবনা
- আনন্দ কই, বিড়ম্বনাই সার
- হঠাৎ থেমে গেলেন ওবামা...
- ওসামার জন্য ভালোবাসা
-
▼
Oct 24
(10)
-
▼
October
(362)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


