Monday, October 24, 2016

ট্রাম্প পরাজয়কে সহজভাবে নিতে জানেন না: হিলারি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প পরাজয়কে সহজভাবে নিতে জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন তাঁরই প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। গতকাল রোববার ট্রাম্পকে নিয়ে হিলারি এই মন্তব্য করেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, আগামী ৮ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়ার বিষয়ে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত বিতর্কে ট্রাম্প কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁর সম্পর্কে ওই মন্তব্য করেন হিলারি। সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অগণতান্ত্রিক দেশে স্বৈরশাসকেরা তাঁদের প্রতিপক্ষ সম্পর্কে যেমনটা বলেন,
ট্রাম্পের মন্তব্য এর সঙ্গে অনেকটা সংগতিপূর্ণ। ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনায় এক সমাবেশে হিলারি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবেন না—এমন কথা বলা দেশের গণতন্ত্রের প্রতি সরাসরি হুমকি। শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতার পালাবদল আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম উপাদান। ট্রাম্পের শীর্ষস্থানীয় উপদেষ্টা কেলিঅ্যান কনওয়ে গতকাল স্বীকার করেছেন, নির্বাচনের প্রাক্কালে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী তাঁর প্রতিপক্ষ ডেমোক্রেটিক পার্টির হিলারির চেয়ে পিছিয়ে আছেন। তবে তাঁরা হাল ছাড়ছেন না।

এবার পর্নো অভিনেত্রীর অভিযোগ

জেসিকা ড্রেক
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এবার যৌন নিগ্রহের অভিযোগ আনলেন পর্নো ছবির এক অভিনেত্রী। জেসিকা ড্রেক নামের ওই নারী গত শনিবার বলেছেন, তাঁকে ট্রাম্প একবার নিজ হোটেলকক্ষে একা ডেকেছিলেন। বিনিময়ে ১০ হাজার মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এই নিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ করা নারীর সংখ্যা ১১ জনে দাঁড়াল। তাঁদের অভিযোগ, ট্রাম্প জোর করে জড়িয়ে ধরছেন বা চুমু খেয়েছেন অথবা গোপনাঙ্গে হাত দিয়েছেন...ইত্যাদি। লস অ্যাঞ্জেলেসে এক সংবাদ সম্মেলনে জেসিকা ড্রেক বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার লেক টাহয়ে ২০০৬ সালে একটি গলফ টুর্নামেন্টে তাঁর ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা হয়। সেখানেই আলাপ এবং ট্রাম্পের ওই প্রস্তাব। তবে ট্রাম্পের হোটেলে যাওয়ার সময় জেসিকা আরও দুই নারীকে সঙ্গে নিয়েছিলেন। সেখানে প্রবেশের পর ট্রাম্প প্রত্যেককেই জোর করে আলিঙ্গন করেন এবং অনুমতি ছাড়াই একজনকে চুমু খান। পর্নোগ্রাফি করতে কেমন লাগে, সেই প্রশ্নও করেন। জেসিকার ভাষ্য,
তিনি হোটেল থেকে চলে আসার পর ট্রাম্প তাঁকে ফোন করে নিজের কক্ষে একা যেতে বলেন। জানতে চান, ‘কত চাও?’ প্রত্যাখ্যান করার পর আরেকটি ফোন এসেছিল। ট্রাম্প বা অন্য কেউ ১০ হাজার ডলারের প্রস্তাব দেন। বিনিময়ে জেসিকাকে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বিমানে চড়ে লস অ্যাঞ্জেলেস পর্যন্ত যেতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে জেসিকার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী আইনজীবী গ্লোরিয়া অলরেড। তিনি আরও দুই নারীকে উপস্থাপন করেন, যাঁরা নাকি ট্রাম্পের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। অলরেড শনিবার একটি আলোকচিত্র দেখিয়েছেন, যাতে ওই গলফ টুর্নামেন্টে ট্রাম্প ও জেসিকা ড্রেককে একসঙ্গে দেখা যায়। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার দপ্তর এক বিবৃতিতে জেসিকার ওই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ‘এই গল্প ডাহা মিথ্যা ও হাস্যকর। ট্রাম্প এই নারীকে চেনেন না, তাঁকে স্মরণ করতে পারেন না এবং এ বিষয়ে কোনো আগ্রহও রাখেন না।’

এবার পর্নো অভিনেত্রীর অভিযোগ

মুয়াম্মার গাদ্দাফি। রয়টার্স
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এবার যৌন নিগ্রহের অভিযোগ আনলেন পর্নো ছবির এক অভিনেত্রী। জেসিকা ড্রেক নামের ওই নারী গত শনিবার বলেছেন, তাঁকে ট্রাম্প একবার নিজ হোটেলকক্ষে একা ডেকেছিলেন। বিনিময়ে ১০ হাজার মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এই নিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ করা নারীর সংখ্যা ১১ জনে দাঁড়াল। তাঁদের অভিযোগ, ট্রাম্প জোর করে জড়িয়ে ধরছেন বা চুমু খেয়েছেন অথবা গোপনাঙ্গে হাত দিয়েছেন...ইত্যাদি। লস অ্যাঞ্জেলেসে এক সংবাদ সম্মেলনে জেসিকা ড্রেক বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার লেক টাহয়ে ২০০৬ সালে একটি গলফ টুর্নামেন্টে তাঁর ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা হয়। সেখানেই আলাপ এবং ট্রাম্পের ওই প্রস্তাব। তবে ট্রাম্পের হোটেলে যাওয়ার সময় জেসিকা আরও দুই নারীকে সঙ্গে নিয়েছিলেন। সেখানে প্রবেশের পর ট্রাম্প প্রত্যেককেই জোর করে আলিঙ্গন করেন এবং অনুমতি ছাড়াই একজনকে চুমু খান। পর্নোগ্রাফি করতে কেমন লাগে, সেই প্রশ্নও করেন।
জেসিকার ভাষ্য, তিনি হোটেল থেকে চলে আসার পর ট্রাম্প তাঁকে ফোন করে নিজের কক্ষে একা যেতে বলেন। জানতে চান, ‘কত চাও?’ প্রত্যাখ্যান করার পর আরেকটি ফোন এসেছিল। ট্রাম্প বা অন্য কেউ ১০ হাজার ডলারের প্রস্তাব দেন। বিনিময়ে জেসিকাকে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বিমানে চড়ে লস অ্যাঞ্জেলেস পর্যন্ত যেতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে জেসিকার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী আইনজীবী গ্লোরিয়া অলরেড। তিনি আরও দুই নারীকে উপস্থাপন করেন, যাঁরা নাকি ট্রাম্পের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। অলরেড শনিবার একটি আলোকচিত্র দেখিয়েছেন, যাতে ওই গলফ টুর্নামেন্টে ট্রাম্প ও জেসিকা ড্রেককে একসঙ্গে দেখা যায়। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার দপ্তর এক বিবৃতিতে জেসিকার ওই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ‘এই গল্প ডাহা মিথ্যা ও হাস্যকর। ট্রাম্প এই নারীকে চেনেন না, তাঁকে স্মরণ করতে পারেন না এবং এ বিষয়ে কোনো আগ্রহও রাখেন না।’

লন্ডনে তিন দিন ধরে বাড়ি ঘিরে পুলিশ

লন্ডনে গত শনিবার থেকে একটি বাড়ি
ঘিরে রাখে পুলিশ। গতকালও ওই এলাকায়
ছিল কড়া নজরদারি। ছবি: এএফপি
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে একটি বাড়িতে অনেক পেট্রল ও বিস্ফোরক মজুত রয়েছে, এমন আশঙ্কায় সেখানকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পশ্চিম লন্ডনের নর্থহল্টের ওই বাড়িটি গতকাল রোববার পর্যন্ত তিন দিন ধরে ঘিরে রেখেছিল পুলিশ। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার পাতালরেলের একটি ট্রেনে সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধারের ঘটনার পর ইতিমধ্যেই শহরের পাতালরেলসহ গণপরিবহনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। দুই ঘটনায় শহরে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। লন্ডনের নর্থহল্ট এলাকার একটি বাড়ি থেকে গত শুক্রবার মধ্যরাতে ফোন পায় পুলিশ। পরে সেখানে গিয়ে বাড়িটিতে প্রবেশ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ে তারা। বাসিন্দার সন্দেহজনক আচরণে বাড়িটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছিল, ওই বাড়িতে আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী এক পুরুষ বাসিন্দা রয়েছেন। তিনি অনেক পেট্রোল মজুত করে রেখেছেন, এ ইঙ্গিত পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো থেকে অন্তত গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বিরত ছিল পুলিশ।
গতকাল রোববার তৃতীয় দিনের মতো বাড়িটি ঘিরে ছিল তারা। বাংলাদেশ সময় গতকাল মধ্যরাত পর্যন্ত ওই ব্যক্তির সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। হঠাৎ বিস্ফোরণের আশঙ্কায় আশপাশের অনেককে সরিয়ে নেওয়া হয়। লন্ডনের পুলিশ বলেছে, এটা কোনো সন্ত্রাসী ঘটনা কি না, সে বিষয়ে তারা তখনো নিশ্চিত ছিল না। প্রতিবেশীরা বলেছেন, ওই বাড়িতে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর সম্প্রতি ছাড়াছাড়ি হয়েছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার লন্ডনের পাতালরেলে জুবিলি লাইনের নর্থ গ্রিনিচ স্টেশনে সন্দেহজনক একটি ব্যাগ পেয়ে চালকের কাছে দেন যাত্রীরা। ওই ব্যাগে বৈদ্যুতিক তার ও ঘড়ি আকৃতির বস্তু ছিল। এ ঘটনার পর ওই স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি পুরো লন্ডনের পাতালরেলগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। এই ঘটনায় পুলিশ শুক্রবার ১৯ বছর বয়সী একজনকে আটক করে। পুলিশ নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পাতালরেলে পাওয়া বস্তুটি ধ্বংস করেছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে সন্ত্রাসী হামলার সতর্কতার মাত্রা ‘সিভিয়ার’ বা ‘মারাত্মক’।

চার বছর বয়সে আট ভাষা!

বেল্লা দেভিয়াতকিনা
রাশিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজধানী মস্কোর বাসিন্দা এই রুশ মেয়েশিশু বেল্লা দেভিয়াতকিনা আটটি বিদেশি ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারে। সম্প্রতি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলের একটি রিয়েলিটি শোতে ওই শিশু বিদেশি ভাষায় তার পারদর্শিতা প্রমাণ করেছে। বেল্লা রুশ, ইংরেজি, জার্মান, ফরাসি, স্প্যানিশ, ইতালিয়ান, চায়নিজ ও আরবি ভাষায় কথা বলতে পারে। সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বেল্লার মা-বাবা জানান, তার বয়স যখন মাত্র দুই বছর, তখন থেকেই সে রুশ ভাষার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা শিখতে শুরু করে। সে খেলার ছলেই শিখতে বেশি পছন্দ করে।
ভাষার প্রতি তার আগ্রহ বাড়তে থাকায় ধীরে ধীরে যোগ হতে থাকে নতুন বিদেশি ভাষা। চার বছরে মাথায় এখন সে আটটি ভাষায় পারদর্শিতা প্রমাণ করেছে। টিভিতে সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে দেখা যায়, আটটি দেশের প্রতিনিধিত্বকারী আটজনের সঙ্গে ওই শিশু অত্যন্ত সাবলীল ভঙ্গিতে কথা বলছে। শুধু বলতে পারাই নয়, বড় পর্দায় তাকে যখন প্রশ্ন পড়তে দেওয়া হয়, তা-ও সে পড়ে শোনায়। অনুষ্ঠানের উপস্থাপকের অনুরোধে স্প্যানিশ ভাষায় একটি গান গেয়ে শোনায় বেল্লা। তার এই অসাধারণ প্রতিভা দেখে রীতিমতো অবাক হতে থাকেন বিচারকসহ উপস্থিত দর্শকেরা। ওই অনুষ্ঠানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ইউটিউবে ভাইরাল হয়েছে। এক দিনেই তা এক কোটির বেশিবার দেখা হয়েছে। ইতিমধ্যে তাকে নিয়ে ডেইলি মেইল, টেলিগ্রাফ, নিউইয়র্ক টাইমসসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন ছেপেছে।

আশরাফের যাওয়া, কাদেরের আসা

সব জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে রদবদল এসেছে। সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বিদায় নিয়ে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হলেন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। অন্যদিকে যোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে মাঠঘাটে ছুটে বেড়ানো নেতা ওবায়দুল কাদের পেলেন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব।
ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক পদটিতে কে আসছেন, তা নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও বিভিন্ন মহলের আগ্রহ ছিল। এরই মধ্যে ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক হতে যাচ্ছেন—এ খবর সংবাদমাধ্যমে বের হয়। এরপর কয়েক দিন ধরেই সৈয়দ আশরাফ ও ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে নানা আলোচনা, বিশ্লেষণ হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম ও টেলিভিশনের টক শোতে। জানা গেছে, আওয়ামী লীগের একটি অংশ চেয়েছে নেতৃত্বে পরিবর্তন, আরেকটি অংশ চেয়েছে সৈয়দ আশরাফ যেন বহাল থাকেন। তবে প্রধানমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকেই চেয়েছেন, যা গণমাধ্যমে কয়েক দিন আগে প্রকাশিত হয়েছে। দলের নেতারা মনে করেন, নানা হিসাব-নিকাশ করেই ওবায়দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের একজন প্রবীণ নেতা প্রথম আলোকে বলেন, সৈয়দ আশরাফের মতো নেতাকে আরেকটু সুন্দরভাবে বিদায় দেওয়া যেত। নেতাদের মুখে, গণমাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে বিষয়টি আগেভাগে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, তাতে আশরাফ কিছুটা বিব্রত হয়েছেন। তবে এ বিষয়টিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও দেখছেন কেউ কেউ। দলের আরেকজন কেন্দ্রীয় নেতা প্রথম আলোকে বলেন, সম্মেলনস্থলে বিষয়টি নিয়ে যাতে নতুন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আগে থেকে বিষয়টি ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে খোদ সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা ওবায়দুল কাদেরের মুখ থেকে বিষয়টি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বেরিয়ে আসাটা উচিত হয়নি বলে মত দেন এই নেতা। ১৪ দলের সমন্বয়ক ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে যে কমিটি হয়েছে, তা দলটিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। সৈয়দ আশরাফ দীর্ঘ সময় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে গেলেন। অন্যদিকে ওবায়দুল কাদের ভালো সংগঠক, তৃণমূলে যোগাযোগ আছে। ছাত্ররাজনীতি ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির অভিজ্ঞতা দিয়ে তিনি দলকে এগিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা রাখি।’ পর্যালোচনায় দেখা যায়, সদ্য বিদায়ী এবং নতুন সাধারণ সম্পাদকের রাজনৈতিক জীবনে বেশ কিছু ভালোমন্দ দিক রয়েছে।
এক-এগারোর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই জাতীয় সম্মেলন করে। ওই সম্মেলনে সৈয়দ আশরাফ প্রথমবারের মতো সাধারণ সম্পাদক হন। এর আগে তিনি এক-এগারোর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দলের সংকটময় সময়ে বিশ্বস্ততা ও নেতৃত্বের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন বলে জ্যেষ্ঠ নেতারা মনে করেন। এরপর টানা সাত বছর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকাকালে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বজায় রাখার অভিযোগ থাকলেও তাঁর সততা ও বিশ্বস্ততা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলেননি। গত শনিবার আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে আশরাফের আবেগঘন বক্তৃতা নেতা-কর্মীদের মন ছুঁয়ে যায়। মাঠের রাজনীতিতে সৈয়দ আশরাফের তেমন ভূমিকা নেই। তবে এক-এগারোর সময় জিল্লুর রহমানের পাশে সৈয়দ আশরাফের ভূমিকা অনেক বিপর্যয় থেকে আওয়ামী লীগকে রক্ষা করে। ২০১২ সালের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সৈয়দ আশরাফের পাশে উঠে আসে ওবায়দুল কাদেরের নাম। তবে আশরাফই টানা দ্বিতীয়বার সাধারণ সম্পাদক হন। এ ছাড়া রাজনীতির সংকটময় বিভিন্ন মুহূর্তে ভূমিকা রাখেন জাতীয় চার নেতার অন্যতম সৈয়দ নজরুল ইসলামের পুত্র সৈয়দ আশরাফ। ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে অবস্থান নেওয়া হেফাজতে ইসলামের উদ্দেশে ঘোষণা দেন, ‘এই হেফাজতিদের কোনোভাবেই ওখানে থাকতে দেওয়া হবে না।’ ৬ মে ভোররাত থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপারেশন চালিয়ে হেফাজতে ইসলামকে উৎখাত করে। যদিও মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালকে দুই আনার মন্ত্রী বলে উপহাস করে সমালোচনার মুখে পড়েন।
এ ছাড়া সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনাকেও সৈয়দ আশরাফ ‘কাজের বুয়া মর্জিনা’ বলে উপহাস করেন। আবার চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরে এবং এবারের সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের অতিথিদের আনার বিষয়ে তাঁরও ভূমিকা ছিল বলে আলোচনা আছে। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল—জাসদের ভূমিকা নিয়ে গত আগস্টে দেওয়া সৈয়দ আশরাফের বক্তব্যে তোলপাড় শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে। তিনি বলেছিলেন, জাসদ বঙ্গবন্ধুর হত্যার পরিবেশ তৈরি না করলে দেশ অনেক আগেই উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতো। জাসদ থেকে মন্ত্রী করায় আওয়ামী লীগকে প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে বলেও মত দেন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে সরকার ও দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলেও সৈয়দ আশরাফের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠেনি। প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকতে তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগে আয়কর বিবরণী প্রকাশ করেন। গত বছরের ৯ জুলাই স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদ থেকে বাদ পড়েন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এর কয়েক দিনের মধ্যে তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অন্যতম সমালোচনা হচ্ছে, তাঁকে দলের কাজকর্মে সচরাচর পাওয়া যায় না। দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতাকেও অনেক সময় তিনি সাক্ষাৎ দেন না। মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত যান না। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ প্রথম আলোকে বলেন, সৈয়দ আশরাফ সজ্জন, মিষ্টভাষী ও সৃজনশীল মানুষ। নির্লোভ ও নিরহংকার এই নেতা মানুষ হিসেবে তুলনাহীন। তাঁকে নেতা-কর্মীরা মিস করবেন। তারপরও প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে তাঁর মেধা ও প্রজ্ঞা দলকে গতিশীল করতে ও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। আর নতুন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রসঙ্গে হানিফ বলেন, ‘উনি কর্মীবান্ধব নেতা। তৃণমূলে গ্রহণযোগ্যতা আছে। ওনার সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন করতে গিয়ে তৃণমূলে তাঁর যোগাযোগ যে অনেক নেতার তুলনায় অনেক বেশি, তা জানতে পেরেছি।’ এদিকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজে যথেষ্ট অগ্রগতি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর ‘গুডবুকে’ স্থান পান। তিনি মাঠেঘাটে ছুটে বেড়ান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ওবায়দুল কাদের কলেজজীবন থেকেই রাজনীতিতে যুক্ত হন। উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর তিনি কারাবরণ করেন। কারাগারে থাকতেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। ওবায়দুল কাদের দৈনিক বাংলার বাণীর সহকারী সম্পাদক ছিলেন দীর্ঘ সময়। ১৯৯৬ সালে নোয়াখালী-৫ আসন থেকে ওবায়দুল কাদের সাংসদ নির্বাচিত হন। তখন যুব, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন। ২০০৭ সালে এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তিনি গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় দেড় বছর জেলে ছিলেন। ওই সময় গ্রেপ্তারের পর গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তাঁর দেওয়া কথিত জবানবন্দিকে কেন্দ্র করে তিনি দলে কিছুটা বিতর্কিত হন। এরপর ২০১১ সালের ৫ ডিসেম্বর যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো যোগাযোগমন্ত্রী হন তিনি। জানতে চাইলে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মির্জা আজম প্রথম আলোকে বলেন, যেকোনো পরিবর্তনে দলের মধ্যে গতির সঞ্চার হয়। সাধারণ সম্পাদকসহ নেতৃত্বের এই পরিবর্তন দলকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। তিনি বলেন, সাবেক ও বর্তমান—দুই সাধারণ সম্পাদকই যোগ্য ও দক্ষ। সৈয়দ আশরাফ ক্লিন ইমেজ নিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তর করলেন। ওবায়দুল কাদের আগামী দিনগুলোতে তাঁর দক্ষতার পরিচয় রাখবেন, এটা খুবই প্রত্যাশিত।

মানসিক স্বাস্থ্য এখনো অবহেলিত

গতকাল প্রথম আলো কার্যালয়ে আয়োজিত ‘মনোরোগ:
বাস্তবতা ও চিকিৎসা সহায়তা’ শীর্ষক গোলটেবিল
আলোচনায় আলোচকেরা। ছবি: প্রথম আলো
জাতীয় জরিপ অনুযায়ী, দেশের ১৮ বছরের বেশি বয়স্ক জনগোষ্ঠীর ১৬ শতাংশ এবং ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ১৮ শতাংশ মানসিক রোগে ভুগছে। তবে দেশে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ আছেন মাত্র ২২০ জন। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে অন্য জনবলও অপ্রতুল। গতকাল রোববার প্রথম আলো আয়োজিত ‘মনোরোগ: বাস্তবতা ও চিকিৎসা সহায়তা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের আলোচকেরা সরকারের এ জরিপের তথ্য ও বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়টি এখন পর্যন্ত অবহেলিত।
তাঁরা মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য সরকারের নজর বাড়ানোর তাগিদ দেন। তাঁরা দক্ষ জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি অবকাঠামো নির্মাণ, সমন্বিত চিকিৎসা পদ্ধতি গড়ে তোলা, প্রতিটি হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ ইউনিট ও শয্যার ব্যবস্থা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে সম্পৃক্ত করার সুপারিশ করেন। কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর কার্যালয়ে বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সহায়তায় অনুষ্ঠিত এ গোলটেবিল বৈঠকে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম। গোলটেবিল বৈঠকে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মনোরোগবিদ্যা-বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা আলোচক হিসেবে অংশ নেন। তাঁরা বলেন, আত্মমর্যাদাবোধ, অন্যের প্রতি আস্থাবান, দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরি, গভীর অনুভূতি, অন্যকে ক্ষমা করে দেওয়ার শক্তিসহ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য হলো মানসিক স্বাস্থ্যের বৈশিষ্ট্য। এ বৈশিষ্ট্যগুলোর অনুপস্থিতি মানসিক সমস্যা তৈরি করে। এর ফলে জঙ্গিবাদের বিস্তারসহ নানা ঘটনা ঘটছে। তাই মানসিক স্বাস্থ্যের সুস্থতার বিষয়টিতে গুরুত্ব দিতে হবে। আলোচকেরা বলেন, সমাজে মানসিক রোগী ও তার পরিবারের কোনো মর্যাদা নেই। মানসিক রোগের কারণে জনগণের কর্মদক্ষতা কমে যাচ্ছে, ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। দরিদ্র জনগণ মানসিক রোগের চিকিৎসা করাতে গিয়ে দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হচ্ছে। চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের সাহায্য-সহযোগিতা বাড়াতে হবে। আলোচনায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টসের সভাপতি অধ্যাপক মো. গোলাম রব্বানী বলেন,
গুরুত্বের তালিকায় মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি অনেক পরে এসেছে। তবে শুধু বাংলাদেশ নয়, উন্নত দেশেও এই স্বাস্থ্যের মর্যাদা পেতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে। বর্তমানে মানসিক রোগের চিকিৎসায় যে জনবল আছে, তা অত্যন্ত অপ্রতুল। মানসিক সব রোগ বংশপরম্পরায় হয় না। আবার যেসব রোগ বংশপরম্পরায় হয়, তারও প্রতিকার আছে। যেকোনো মানসিক সংকটে প্রাথমিক মানসিক স্বাস্থ্য-সহায়তা একটি জরুরি সেবা। দেশে প্রতি চারজনের মধ্যে একজন কোনো-না-কোনো সময়ে মানসিক সংকটকাল অতিক্রম করছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টসের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ওয়াজিউল আলম চৌধুরী বলেন, অজ্ঞতা, মানসিক রোগীর প্রতি বৈষম্য, স্টিগমাসহ বিভিন্ন কারণে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্বে আনা হয় না। বাস্তবতাকে স্বীকার করে সাধারণ জনগণকে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়টিতে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তিনি প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি পর্যায়ে এ নিয়ে আলোচনা বাড়ানো, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে রোগীদের প্রবেশগম্যতা বাড়ানো, রোগী সুস্থ হলে তাদের মূলধারার কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, সর্বোপরি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার সুপারিশ করেন তিনি। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. আব্দুল হালিম বলেন, সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, গত ১০ বছরের তুলনায় বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের মানসিক রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে। তবে চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট দক্ষ জনবলের সংখ্যা বাড়েনি। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতালে জনবলের অভাবে রোগীর সঙ্গে পরিবারের একজনকে থাকতে হচ্ছে। ভালো খবর হলো, ১৯৯টি পদে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেছে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে তা প্রক্রিয়াধীন আছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টসের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, উচ্চশিক্ষিত ও ধনী পরিবারের কোনো সদস্য মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হলে তা গোপন রাখা হয়। রোগীকে সামাজিক কোনো অনুষ্ঠানে নেওয়া হয় না।
এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. আহসানুল হাবীব ২০০৭ সালে পাবনা মানসিক হাসপাতালে পরিচালক পদ থেকে অবসর নেন। তিনি বলেন, পাবনা মানসিক হাসপাতালে ২০ থেকে ২২ বছর পুরোনো রোগীরাও ছিলেন। কেননা, পরিবার তাঁদের নিতে চায় না। হাসপাতালে রোগীরা কম থাকবে, তারা ফিরে যাবে নিজের কমিউনিটিতে। উন্নত বিশ্বের মতো দেশে এখন পর্যন্ত এ ধরনের ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। তিনি বলেন, একসময় সব উপজেলায় স্বাস্থ্যসহকারীদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। বর্তমানে এ কর্মসূচি বন্ধ। এটি আবার চালু করা জরুরি। বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ এবাদুল করিম বলেন, ব্যথার ওষুধ খেলে ব্যথা ভালো হয়, সবাই তা বুঝতে পারে। কিন্তু মানসিক রোগের ক্ষেত্রে বুঝতে বুঝতেই অনেক সময় চলে যায়। রোগীর অবস্থা তত দিনে মারাত্মক আকার ধারণ করে। মানসিক সমস্যায় আক্রান্তদের বেশির ভাগই পরিবারের কাছ থেকে সহায়তা পায় না। সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউল করিম বলেন, মানসিক রোগের চিকিৎসাব্যয় অনেক বেড়েছে। এ রোগীদের দীর্ঘদিন চিকিৎসার আওতায় থাকতে হয়। ফলে অনেকেই একটানা চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারে না। সরকারের উচিত এ রোগের চিকিৎসাব্যয় কমানোর দিকে নজর দেওয়া। নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুলতানা আলগিন। তিনি বলেন, গর্ভাবস্থা ও প্রসবের পর নারীদের হরমোনসংক্রান্ত কারণসহ বিভিন্ন কারণে মানসিক সংকট দেখা দেয়। প্রথম গর্ভাবস্থায় কোনো মায়ের মানসিক সমস্যা দেখা দিলে পরবর্তী সময়ে আবার সন্তান নিলে ওই মায়ের মানসিক রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন বলেন,
গত বছর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে ১৫ হাজার রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। কিন্তু সেই অর্থে জনবল বাড়েনি বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়নি। তিনি মানসিক রোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রচারের বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘পাগল’ শব্দটি সাহিত্যে আছে, চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ শব্দ নেই। কিন্তু মানসিক রোগীদের এখন পর্যন্ত পাগল বলা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এস আই মল্লিক বলেন, দেশের প্রায় ২ কোটি ৮৮ লাখ মানুষ বিভিন্ন ধরন ও মাত্রার মানসিক রোগে ভুগছে। চিকিৎসা নিয়ে ভালো হয়েছে এমন রোগীদের কথা বেশি করে প্রচার করতে হবে। কেননা, সুস্থ রোগীদের দেখে অন্যরা চিকিৎসকের কাছে আসে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মামুন হুসাইন মানসিক স্বাস্থ্যসেবার পেছনে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুপারিশ করেন। বর্তমানে এ খাতে যে বাজেট বরাদ্দ, তা অত্যন্ত অপ্রতুল। তিনি এ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার থাকা জরুরি বলে উল্লেখ করেন। রংপুর মেডিকেল কলেজের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জ্যোতির্ময় রায় মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য এমবিবিএস পরীক্ষায় এ বিষয়ে আলাদা বোর্ড গঠনের সুপারিশ করেন। খুলনা মেডিকেল কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ধীরাজ মোহন বিশ্বাস বলেন, মানসিক সমস্যা উচ্চবিত্ত, নিম্নবিত্ত সবার হতে পারে। প্রকাশভঙ্গিটা শুধু ভিন্ন হয়। বড় কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী হলে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে সে সহিংসতার পথ বেছে নেয়। কারণ সে ভাবছে, সে যা করবে তা সবাই মেনে নেবে। উচ্চবিত্তের সন্তান হাল আমলের মোটরসাইকেল না দেওয়ায় বাবাকে হত্যা করছে। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি হাসপাতালে এ রোগের জন্য ওষুধ পাওয়া যায় না। তিনি মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের আচরণগত বিজ্ঞান বিষয়টি পড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক শফিউল হাসান বলেন, বর্তমানে ইন্টারনেটসহ যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের কারণে বিভিন্ন মানসিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তিনি এ রোগ সম্পর্কে চিকিৎসক সমাজের সচেতনতা বাড়ানো এবং রোগীর প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করার আহ্বান জানান।

দুর্ভোগে সাড়ে তিন লাখ মানুষ

নাটোরের লালপুর-বনপাড়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত
তৈরি হয়েছে। এতে সড়কটি যানবাহন চলাচলের
অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। লালপুরের চকনাজিরপুর
এলাকা থেকে গত শুক্রবার তোলা ছবি। প্রথম আলো
নাটোরের বনপাড়া-লালপুর সড়কের ১১ কিলোমিটার অংশে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ জায়গায় পিচ উঠে গেছে। এ সড়ক দিয়ে লালপুর উপজেলার প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ জেলা শহরে চলাচল করে। নাটোর-বনপাড়া লালপুর সড়ক ৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ। এই সড়কের ১৯ কিলোমিটার নাটোর-ঢাকা মহাসড়কের অংশ। বাকি ১৮ কিলোমিটার বনপাড়া থেকে লালপুরের ত্রিমোহিনী পর্যন্ত গেছে। এই ১৮ কিলোমিটারের মধ্যে ১১ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা বেহাল। গত শুক্রবার বিকেলে বনপাড়া-লালপুর সড়ক ঘুরে দেখা যায়, ১৮ কিলোমিটার সড়কের ১১ কিলোমিটারের অধিকাংশ স্থানে পিচঢালাই নেই। সড়কজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। বিশেষ করে ভূঁইয়াপাড়া, চকনাজিরপুর, দিয়াড়পাড়া ও ওয়ালিয়া এলাকার অবস্থা বেশি খারাপ। এসব এলাকায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলে এসব গর্ত পানিতে ভরে যায়। তখন যানবাহনের চাকা গর্তে আটকে যায়। তারপরও এ অবস্থাতেই চলছে বাস, ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স, ইজিবাইকসহ নানা ধরনের যানবাহন। এই সড়কের সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক আবদুল সালাম বলেন, দূরত্ব হিসাবে লালপুর থেকে বনপাড়ায় পৌঁছাতে আধা ঘণ্টার বেশি লাগার কথা নয়। কিন্তু এক বছর ধরে এই পথ পেরোতে তাঁদের এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগছে। জ্বালানি ও অটোরিকশা মেরামত খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। নবনপাড়া থেকে লালপুরের ত্রিমোহিনী পর্যন্ত সড়কে যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে। যাত্রীদের অভিযোগ,
কয়েক মাস ধরে সড়কের অবস্থা বেশি খারাপ। গর্তের কারণে গাড়ি হেলেদুলে চলে। এ জন্য অনেক বাস আর ওই পথে যেতে চায় না। এ সুযোগে ভাড়া বেড়ে গেছে। গত শুক্রবার ভাড়ায়চালিত একটি গাড়ির চালক জমসেদ আলী লালপুর থেকে নাটোর শহরে ফিরে এই প্রতিনিধিকে বলেন, ‘সড়ক মেরামত না হলে আমি আর গাড়ি নিয়ে লালপুর যাব না। ভাঙাচোরা রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে আমার শরীর ও গাড়ি দুটোই শেষ।’ চকনাজিরপুর এলাকার বাসিন্দা আইনজীবী মামুনুর রশিদ বলেন, পেশাগত কারণে তিনি ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু প্রতিদিন মাইক্রোবাসে নাটোর আদালতে যাতায়াত করেন। রাস্তার গর্তে পড়ে প্রায় তাঁদের মাইক্রোবাসটি বিকল হয়ে যায়। সড়ক বিভাগ মাঝে মাঝে কিছু ইট গর্তে ফেলে দিয়ে যায়। দুদিন যেতে না-যেতেই অবস্থা আবার আগের মতো হয়ে যায়। সড়ক ও জনপথ বিভাগ নাটোরের নির্বাহী প্রকৌশলী জিকরুল ইসলাম বলেন, বড় ধরনের সংস্কার করা না হলে সড়কটি টেকসই হবে না। এ জন্য দরকার বড় বরাদ্দ। কিন্তু কেন্দ্র থেকে সে তুলনায় বরাদ্দ পাওয়া যায় না। তাই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে ইট দিয়ে গর্তগুলো ভরাট করে দেওয়া হয়েছে। এ বছর বৃষ্টি বেশি হওয়ায় সমস্যাটা বেড়েছে। তবে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলে সড়কটির সংস্কার করা হবে। (নাটোর-১) লালপুর-বাগাতিপাড়া আসনের সাংসদ মো. আবুল কালাম বলেন, সড়কটির টেকসই সংস্কার ছাড়া সমস্যার সমাধান হবে না। তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের জন্য তদবির করছেন। আগামী সংসদ অধিবেশনে আবারও সমস্যাটি তুলে ধরবেন।

সুযোগ পেয়েও মেডিকেলে পড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে

তাঁরা দুজনেই মেধাবী ছাত্র। তবে গরিব ঘরের। খেয়ে না-খেয়ে পড়াশোনা চালিয়ে এসেছেন। দুজনেই এবার মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু টাকার অভাবে তাঁরা মেডিকেলে পড়তে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার এক সবজিবিক্রেতার ছেলে আবদুল আলিম রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। আর জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার এক ফেরিওয়ালার ছেলে রাসেল মাহমুদ ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন বরিশাল মেডিকেল কলেজে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা দারুস সুন্নাত ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুল মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, আবদুল আলিম এবার আলিম পরীক্ষায় তাঁর মাদ্রাসা থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। দাখিল পরীক্ষায়ও তিনি জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। গত ৩০ বছরে এ মাদ্রাসা থেকে পাস করে এই প্রথম কোনো ছাত্র মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। এ কারণে আলিমকে নিয়ে তাঁদের গর্বের সীমা নেই।
একই মাদ্রাসার শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি আলিমের ভর্তির জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আবদুল আলিম বলেন, ‘ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মা-বাবার মুখে হাসি ফোটানোর পাশাপাশি আমি মানুষের সেবা করতে চাই।’ আলিমের বাবা হজরত আলী বলেন, তাঁর ২২ শতক আবাদি জমি রয়েছে। তাতে চাষাবাদের পাশাপাশি সবজি বিক্রি করে তিনি সংসার চালান। তাঁর আরেক ছেলে দশম শ্রেণি ও এক মেয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। তারাও মেধাবী। আলিম মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় তিনি গর্বিত। তবে তাঁর পড়াশোনার খরচ নির্বাহ করা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। রাসেল মাহমুদের বাড়ি জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার দড়িপাড়া এলাকায়। তাঁর বাবা মোতালেব মিয়া ফেরি করে কাপড় বিক্রি করেন। রাসেল বলেন, তিনি বকশীগঞ্জ উপজেলার আলিরপাড়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পান। এবার গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। চলতি মাসের ৩১ তারিখের মধ্যে বরিশাল মেডিকেলে ভর্তি হতে হবে। এ জন্য ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা লাগবে। কিন্তু এত টাকা তাঁর হতদরিদ্র মা-বাবার পক্ষে দেওয়া অসম্ভব। রাসেল মাহমুদের বাবা মোতালেব মিয়া বলেন, তাঁর জমি বলতে ভিটেটুকুই আছে। কাপড় বিক্রি করে কোনো রকম সংসার চলে। এর মধ্যে রাসেলের মেডিকেলে ভর্তি ও পড়াশোনার ব্যয়ভার বহন একেবারেই অসম্ভব। ছেলের মুখের দিকে তাকালে তাঁর চোখে পানি চলে আসে। কেমন বাবা তিনি যে ছেলের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে যেতে পারবেন না। তিনি নানাজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে সাত হাজার টাকা জোগাড় করেছেন। কিন্তু এ টাকায় তো রাসেল ভর্তিই হতে পারবে না, পড়াশোনা চালানো তো পরের কথা।

বালিয়াড়িতে ‘প্লট-বাণিজ্য’!

বালিয়াড়িতে গড়ে তোলা হয়েছে ঘর। গত
বুধবার দুপুরে তোলা ছবি। প্রথম আলো
কক্সবাজার সৈকতের সমিতিপাড়া এলাকায় ঝাউবাগান গেটে বালিয়াড়িতে ছোট-বড় বিভিন্ন আয়তনের ‘প্লট’ বানিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। ১০ শতকের একটি প্লট বিক্রি করা হচ্ছে এক লাখ টাকায়। এসব প্লটে ঘর তুলে বসবাস করছে বেশ কয়েকটি পরিবার। এ ছাড়া বালিয়াড়িতে কয়েক হাজার নারকেলগাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বন বিভাগের অসাধু কিছু কর্মচারী প্লট-বাণিজ্য ও চারা রোপণের সঙ্গে জড়িত। গত বুধবার নাজিরারটেক সৈকতের সমিতিপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়,
প্রায় ২০০ একরের বালিয়াড়ি দখল করে কয়েক হাজার নারকেলগাছের চারা রোপণের পাশাপাশি ৮০টির বেশি অস্থায়ী ঘর তৈরি করা হয়েছে। বালিয়াড়িতে বাঁশ ও কাঠের বেড়া দিয়ে ঘিরে বিক্রির জন্য ছোট ছোট শতাধিক প্লট তৈরি করে রাখা হয়েছে। পাশের কুতুবদিয়াপাড়া ও নাজিরারটেক সৈকতেও ঘর তৈরির জন্য বানানো হয়েছে ছোট ছোট প্লট। সমিতিপাড়ায় সৈকতে বাঁশের ঘর তৈরি করে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন মহেশখালীর মাতারবাড়ী এলাকার জেলে আবদু শুক্কুর (২৯)। তিনি বলেন, ছয় মাস আগে বন বিভাগের অস্থায়ী কর্মী মোস্তাক আহমদসহ দুই ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ শতক জমি এক লাখ টাকায় কিনেছেন। এরপর ঘর তৈরি করে বসবাস করছেন। আরেকটি ঘরের মালিক কুতুবদিয়ার আকবরবলীপাড়ার জেলে শফিউল আলম (৩৪) বলেন, তিনিও মোস্তাকসহ দুই ব্যক্তির কাছ থেকে প্রতি শতক জমি ১০ হাজার টাকা করে কিনে তিন মাস আগে ঘর তৈরি করে বসবাস করছেন। পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক সর্দার শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এই সৈকতের বালিয়াড়ি রক্ষার জন্য সরকার বিপুল অর্থ খরচ করে ঝাউবাগান সৃজন করলেও এখন দুর্বৃত্তরা তা উজাড় করছে। ঝাউবাগান ও বালিয়াড়ি দখল করে ঘরবাড়ি তৈরি করা হচ্ছে। এতে পরিবেশ-প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। সমিতিপাড়ায় প্লট কিনে ঘর তৈরি করা কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বন বিভাগের কর্মী মোস্তাক আহমদসহ দুই ব্যক্তি সৈকতের বিশাল এলাকা দখল করে নারকেলগাছের চারা রোপণ করেছেন। তাঁরা প্লট তৈরি করে বিক্রি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোস্তাক আহমদ বলেন,
‘সৈকতের বালিয়াড়ি খালি পড়ে আছে। তাই ব্যক্তি-উদ্যোগে সংগ্রহ করা ১৫ লাখ টাকা দিয়ে সাড়ে তিন হাজার নারকেলগাছের চারা রোপণ করেছি। বাগানটি দেখাশোনার জন্য ১৫ জন শ্রমিকও নিয়োগ দিয়েছি। এর দেখাদেখি অনেকে সৈকত দখল করে ঘরবাড়ি তৈরি করছেন। কেউ কেউ ঝাউবাগান উজাড় করছেন। এর সঙ্গে আমি মোটেও জড়িত নই।’ মোস্তাক আহমদ বলেন, নারকেলবাগান সৃজনের জন্য জেলা প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়নি। নারকেলবাগান সৃজনের সঙ্গে কস্তুরাঘাট বিট কর্মকর্তাসহ আরও একজন বন কর্মকর্তার হাত আছে। জানতে চাইলে কস্তুরাঘাট বন বিট কর্মকর্তা সেলিম মিয়া বলেন, ‘আমি সবেমাত্র দায়িত্ব নিয়েছি। সৈকত দখল করে নারকেল চারা রোপণ ও ঘরবাড়ি তৈরির বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।’ তিনি আরও বলেন, মোস্তাক আহমদ বন বিভাগের দিনমজুর। সৈকতে সৃজন করা ঝাউগাছ দেখভালের জন্য তাঁকে ‘ওয়াচার’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর অপকর্মের দায়ভার বন বিভাগ নেবে না। কক্সবাজার (দক্ষিণ) বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. আলী কবির বলেন, ‘সৈকতে সৃজিত ঝাউবাগান দেখশোনার দায়িত্ব আমাদের। কিন্তু সৈকতের বালিয়াড়ির মালিক জেলা প্রশাসক। সৈকত দখলের বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও সদরের ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা হবে।’ এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আনোয়ারুল নাসের বলেন, নারকেলগাছের চারা রোপণ অথবা ঘরবাড়ি তৈরির জন্য সৈকতের বালিয়াড়ি কাউকে ইজারা বা অনুমতি দেওয়া হয়নি। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সৈকত দখলমুক্ত করা হবে।

আলতা মুনিয়া

রাজশাহীর পদ্মার চর থেকে আলতা মুনিয়ার
ছবিটি তুলেছেন মো. মারুফ রানা
চার দিনের টানা বর্ষণে মাঠ, বাগান ও রাস্তাঘাট যখন তলিয়ে গেল, ডুবুডুবু আমাদের বাগানের খেজুরের চারা গাছটির ওপরের পাখির বাসাটি, পিচ্চি পাঁচটি ছানা হাঁচড়ে-পাঁচড়ে বাসা থেকে বেরিয়ে বসল গিয়ে ওপরের ডগা-পাতার ভেতরে। চারপাশের মাঠ, বিল ও বাগান জলের তলায়। তবে মা-বাবা পাখি দূরে দূরে গিয়ে খাবার এনে খাওয়াচ্ছে ছানাদের। বাবা পাখিটি দেখতে খুবই সুন্দর, যেন সারা শরীরে আলতা মাখানো।
মাথা-ঘাড় বাদ দিয়ে সেই আলতা-শরীরের ওপর সাদা সাদা ছিট বসানো। ঠোঁট গোলাপি। লেজের আগা ঘন বাদামি। পেটের নিচের দিকটাও ঘন লালচে বাদামি। ডানা ও পেটের দুপাশে সাদা ছিট বেশি। চোখ লাল। পা ও পায়ের পাতা গোলাপি। পিঠ লালচে বাদামি। ডানা ঘন বাদামি লালচে। মেয়েটির পিঠ বাদামি, গলা-বুক-পেট সাদাটে, ডানার ওপরে অল্প কয়েকটা সাদা ছিট। পিচ্চি ছানাগুলোর রং হালকা লালচে। ঠোঁটের গোড়া গোলাপি। পা ও পায়ের পাতাও গোলাপি। তিন দিন পর ছানা তিনটি মা-বাবার পেছন পেছন উড়ে চলে গেল দূরের উঁচু ভূমির পানের বরজ ও আখখেতটার দিকে। ঘটনাটি গত আগস্ট মাসের ২১-২৪ তারিখের। গ্রামেই ছিলাম আমি। ছোট সুন্দর এই পাখিটির নাম আলতা মুনিয়া। লাল মুনিয়া ও সোনামুনে নামেও পরিচিত এরা। ইংরেজি নাম Red Avadavat. বৈজ্ঞানিক নাম Amandava amandava. দৈর্ঘ্য ১০ সেমি। ওজন ৯ গ্রাম। প্রজননের মৌসুমে পুরুষটি আলতারঙা হয়। অন্য সময় মেয়ে-পুরুষ প্রায় একই রকম দেখায়। নিরীহ, ভীত ও চতুর পাখি।
মূলত ঘাসভূমি তথা জলাভূমি বা জলাজমি লাগোয়া ঝোপঝাড়ের পাখি এরা। বাসাও করে হোগলাবন-নলখাগড়া-উলুঘাস-ঘাসবন-বাঁশবন-তাল-খেজুরের চারার মাথায়, শেওড়া ও গোলগাছের মাথার ভেতরে। গোল বাসাটার উপকরণ নিয়ে যখন সরু লম্বা ঘাস-লতা বা কাশফুলের ডগা ঠোঁটে-পায়ে ধরে দুলতে দুলতে উড়ে আসে, তখন উড়ন্ত সাপের মতো মনে হয়। বর্ষা-শরতে বাসা করে মূলত। ডিম হয় চার থেকে সাতটি। ছোট গোল গোল ডিমগুলো যেন মুক্তো দিয়ে গড়া। ফোটে ১২ থেকে ১৬ দিনে। ১৯ থেকে ২৪ দিনে ছানারা উড়তে শেখে। ছানাদের প্রধান শত্রু সোনাব্যাঙ, ধানখেত বা ঘাসবনে ওত পেতে থেকে ব্যাঙেরা লাফ দিয়ে মুখে পুরে ফেলে ছানাদের। ছানারাও নিয়মিত ধুলোস্নান করে। আবার পানিতে গোসল করে। এদের মূল খাদ্য ধান-কাউন-চিনাদানা-তিল-সরষে-বিভিন্ন রকমের ঘাসের বীজ, ছোট ছোট পোকামাকড়সহ নানান রকম ডাল। এরা মটরশুঁটির দানা বের করে খায়। আপেল শামুকের ডিমও এদের খেতে দেখেছি। সারা দেশেই দেখা মেলে। তবে সংখ্যায় একেবারেই কম।

ফুলগাজীতে এফএসআইবিএলের শাখা

ফেনীর ফুলগাজীতে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ফুলগাজী শাখার উদ্বোধন করা হয়েছে। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ ওয়াসেক মো. আলী শাখাটির উদ্বোধন করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ওসমান আলী,
জেনারেল সার্ভিসেস ডিভিশনের প্রধান এস এম নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রধান মো. ওয়াহিদুর রহমান, ফুলগাজী শাখার ব্যবস্থাপক এ কে এম আহসান করিম উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি।

সক্রিয় সংযোগ এখন ১১ কোটি ৯৭ লাখ

আঙুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক) পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন-প্রক্রিয়ার কারণে দেশে চার মাস ধরে কমছে মুঠোফোন ও ইন্টারনেট সংযোগের সংখ্যা। চলতি বছরের মে থেকে আগস্ট—এই চার মাসে মুঠোফোন সংযোগের সংখ্যা কমেছে ১ কোটি ৩০ লাখ। এর মধ্যে শুধু আগস্টেই ৯২ লাখ সংযোগ কমেছে। মুঠোফোন সংযোগের পাশাপাশি গত চার মাসে ইন্টারনেট সংযোগের সংখ্যাও ১৭ লাখ কমেছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যানে মুঠোফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের এ চিত্র উঠে এসেছে।
বিটিআরসির আগস্টের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে সক্রিয় মুঠোফোন সংযোগের সংখ্যা ১১ কোটি ৯৭ লাখ। যা চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ছিল ১২ কোটি ৮৯ লাখ। দেশে সর্বোচ্চসংখ্যক সক্রিয় সিম ছিল ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ওই সময় সক্রিয় সিমের সংখ্যা ছিল ১৩ কোটি ৩৭ লাখ। এরপর আঙুলের ছাপ-পদ্ধতিতে (বায়োমেট্রিক) সিম পুনর্নিবন্ধন-প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর কমতে শুরু করে সিমসংখ্যা। টেলিযোগাযোগ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গত ৩১ মে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম পুনর্নিবন্ধন-প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বিটিআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী, মুঠোফোন অপারেটররা সোয়া এক কোটির বেশি অনিবন্ধিত সিম বন্ধ করেছে। বিটিআরসির নিয়ম অনুযায়ী, একটি সিম বন্ধ হলেও ৯০ দিন বা ৩ মাস পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অপারেটরের হিসাবে সেটিকে সক্রিয় হিসেবে ধরা হয়। এ কারণে জুন-জুলাইয়ের পরিসংখ্যানে সিম বন্ধের প্রভাব সেভাবে পড়েনি। গত ৩১ আগস্ট অনিবন্ধিত সিম বন্ধের ৯০ দিন সময়সীমা শেষ হয়। মূলত এ কারণেই আগস্টে সংযোগসংখ্যা এতটা কমে গেছে। জানতে চাইলে বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘সক্রিয় সংযোগ কমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তার কিছু নেই। কারণ বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের আগে অনেক ব্যবহারকারীই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বা একাধিক সিম রাখতেন। বায়োমেট্রিক-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা একটি সঠিক, নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল তথ্যভান্ডার পেয়েছি।’ দেশের সবচেয়ে বড় মুঠোফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের সংযোগসংখ্যা আগস্টে ১৮ লাখ কমেছে। জুলাইয়ে অপারেটরটির সংযোগসংখ্যা ছিল ৫ কোটি ৬৩ লাখ, সেটি এখন কমে ৫ কোটি ৪৫ লাখ হয়েছে। একই সময়ে বাংলালিংকের সংযোগসংখ্যাও কমে ৩ কোটির নিচে চলে এসেছে। জুলাইয়ে বাংলালিংকের সংযোগ ছিল ৩ কোটি ২১ লাখ, যা আগস্টে কমে হয়েছে ২ কোটি ৮৯ লাখ। একীভূত হওয়ার অনুমোদন পাওয়া দুই অপারেটর রবি ও এয়ারটেলের সংযোগসংখ্যাও আগস্টে কমেছে। রবির সংযোগসংখ্যা এ সময়ে ২ কোটি ৬৮ লাখ থেকে কমে ২ কোটি ৩২ লাখ হয়েছে। আর এয়ারটেলের সংযোগসংখ্যা ৯৩ লাখ থেকে কমে ৭৯ লাখে দাঁড়িয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার বন্ধ হয়ে যাওয়া দেশের প্রথম মুঠোফোন অপারেটর সিটিসেলের সংযোগসংখ্যা দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৬৮ হাজার। সব বেসরকারি অপারেটরের সংযোগ কমলেও অপরিবর্তিত আছে সরকারি অপারেটর টেলিটকের গ্রাহকসংখ্যা। আগস্টে অপারেটরটির গ্রাহকসংখ্যা জুলাইয়ের মতোই ৪৪ লাখ ৩৭ হাজারে অপরিবর্তিত আছে। অথচ বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন না হওয়া প্রায় ২২ লাখ সিম বন্ধ করা হয়েছে জানিয়ে বিটিআরসিকে চিঠি দিয়েছে টেলিটক। এরপরও টেলিটকের সংযোগসংখ্যা না কমার বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিআরসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অন্য অপারেটররা ৩১ মে-এর সময়সীমা পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সিম বন্ধ করেছে। টেলিটক সিমগুলো বন্ধ করতে একটু বেশি সময় নিয়েছে। তাই তাদের সংযোগসংখ্যা কমার চিত্রটি সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যানে উঠে আসবে। ইন্টারনেট সংযোগ: আগস্টে দেশে ইন্টারনেট সংযোগসংখ্যা ৬ কোটি ৩৯ লাখ থেকে কমে ৬ কোটি ২২ লাখ হয়েছে। এর প্রায় পুরোটাই কমেছে মুঠোফোনভিত্তিক ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে। এ সময়ে মুঠোফোন ইন্টারনেট সংযোগসংখ্যা ৬ কোটি থেকে কমে ৫ কোটি ৮৩ লাখে নেমে এসেছে। তবে পিএসটিএন ও ওয়াইম্যাক্স ইন্টারনেট সংযোগসংখ্যা আগের মতোই আছে। রবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মুখপাত্র ইকরাম কবীর বলেন, ইন্টারনেট ব্যবহারে গ্রাহকদের মধ্যে এখন একটি পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে—ডেটা ব্যবহারের জন্য আগে অনেকে একাধিক সিম রাখতেন, বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের পর এ প্রবণতা অনেকটাই কমে এসেছে।

রেহমান সোবহানের ‘অশান্ত স্মৃতিগুচ্ছ’

অধ্যাপক রেহমান সোবহানের স্মৃতিচারণামূলক গ্রন্থটি বেশ আগ্রহের সঙ্গেই হাতে নিয়েছিলাম। প্রচ্ছদের দিকে দৃষ্টি পড়তেই মনে প্রশ্ন জাগল, ‘লেখকের যে মুখচ্ছবি শোভা পাচ্ছে, তা একজন স্থিতধী, রসিক, প্রাজ্ঞ ভদ্রলোকের। এর স্মৃতি কেন অশান্ত বা উত্তাল হবে? বিশেষত, পুরো শিরোনামে যখন রয়েছে পরিপূর্ণতার ইঙ্গিত (Untranquil Recollections: The Years of Fulfilment)? প্রাথমিক এই কৌতূহল মিটবে, এই প্রত্যাশা নিয়ে পড়তে শুরু করলাম এবং প্রথম অধ্যায় (যেখানে তিনি তাঁর পিতা-মাতা ও সহধর্মিণীদের পারিবারিক বিবরণ দিয়েছেন) শেষ করার পরই বুঝলাম, একটি ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। বইপড়া আমার অভ্যাস কেবল নয়, নেশাও বলা যায়। ছোটবেলা থেকেই যেকোনো নতুন বই পেলে ‘গোগ্রাসে গিলে’ ফেলি। পরে পুরো বইটা (একেবারে অখাদ্য না হলে) ধীরে ধীরে আবার পড়ি। বিশেষ করে যেসব অংশ ভালো লেগেছে, সেসব জায়গা তাড়িয়ে তাড়িয়ে রসাস্বাদন করা আমার অভ্যাস। যেমনটা আগেই বলেছি, এই প্রথম তার ব্যত্যয় ঘটল। সেটা এতটাই যে এমনকি আমার ১০ বছর বয়সী নাতি মাহীম মন্তব্য করল, ‘দিদি, এ বইটা পড়তে আপনার এত সময় লাগছে কেন? এর চেয়ে কত মোটা মোটা বই তো আপনি দুই দিনেই শেষ করে ফেলেন!’
ধীরে পড়ার কারণ এই নয় যে বইটির বিষয়বস্তু দুর্বোধ্য অথবা বর্ণনারীতি বা ভাষা আকর্ষণীয় নয়। বরং উল্টোটাই সত্যি। অধ্যাপক সোবহানের স্মৃতিতে বহু বিচিত্র ঘটনার সমাবেশ; তাঁর বর্ণনা সরস, চিত্রল ও বর্ণময়, আর ভাষা? বহতা নদীর মতো তা পাঠককে অনায়াসে পৌঁছে দেয় লেখকের জীবননদীর বাঁক থেকে বাঁকে, বন্দর থেকে বন্দরে। এতই অনায়াস সেই যাত্রা, এমন সজীব সব স্মৃতিচিত্র যে নিজের অজ্ঞাতেই স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ি আমি। মনের গহিনে ডুবে যাই নিজের শৈশব, বাল্য, কৈশোর ও যৌবনের বিভিন্ন মুহূর্তে, যখন আমারও প্রায় একই অভিজ্ঞতা হয়েছে। কখনো প্রতিক্রিয়াও হয়েছে একই রকম, কখনো বা ভিন্ন। স্মৃতিরোমন্থন থেকে সংবিৎ ফিরে পেয়ে আবার পড়ায় মন দিয়েছি, এটাই পাঠের শ্লথগতির প্রধান কারণ। লেখকের স্মৃতিচারণায় অনুগামী হয়ে প্রথমেই বিস্মিত হতে হয় তাঁর স্মৃতির ঈর্ষণীয় ব্যাপ্তি, প্রখরতা ও গভীরতায়। যেমন প্রথম যে ঘটনার বর্ণনা তিনি দেন, সেটি মাত্র তিন বছর বয়সে ঘটেছিল।
প্রথম দিন স্কুলে গিয়েই বাড়ি ফেরত আসার প্রচেষ্টায় বাধা দেওয়ায় তিনি শিক্ষয়িত্রীর কবজিতে সুতীক্ষ্ণ দাঁতের কামড় বসিয়ে সুগোল যে নকশা এঁকেছিলেন এবং ওই (কু)কীর্তির জন্য অনিবার্য যে শাস্তি ভোগ করেছিলেন, তা এই প্রবীণ বয়সেও তাঁর স্মৃতিতে অম্লান। ‘ধন্য, ধন্য’, মনে মনে বলি। ঘটনার পর্যালোচনায় যে সরস ও তির্যক মন্তব্য করেন (‘শিল্প এবং স্বাধীনতার জন্য আমার প্রথম আত্মত্যাগ’) তাতে টক-মিষ্টি স্বাদ আছে কিন্তু তিক্ততা নেই। বস্তুত, পুরো গ্রন্থেই তিনি তাঁর রসজ্ঞান ও তির্যক উক্তিতে পারদর্শিতার প্রমাণ রেখেছেন বহু জায়গায়। কখনো ব্যঙ্গ করেছেন নিজেকে, কখনো অন্যকে; কিন্তু তাতে তিক্ত কোনো স্বাদ নেই। প্রকৃত জীবনরসিক লেখক প্রখর আবেগে তাড়িত হয়েছেন, কিন্তু আপনহারা হননি কখনো। দেশে-দেশান্তরে কেটেছে তাঁর বাল্যকাল, কৈশোর ও যৌবন। শিক্ষা নিয়েছেন কলকাতা ও দার্জিলিংয়ের বনেদি স্কুলে, লাহোরের বিশিষ্ট কলেজে এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে। বলা বাহুল্য, সবচেয়ে মধুর তাঁর কাছে কলকাতাবাসের স্মৃতি। কারণ, শৈশব ও বাল্যকাল কেটেছে সেখানে। রসনাবিলাসী লেখক তাঁর নানির অতুলনীয় রান্নার কিছু বিশেষ পদের কথা উল্লেখ করেন আর আমার মনে পড়ে যায় আমার নানুর রান্নার অপূর্ব স্বাদের কথা। অধ্যাপক সোবহানের মনের কথা বুঝি এবং দীর্ঘশ্বাস ফেলি বিগত যুগের সেই সব রন্ধনশিল্পীর জন্য, যাঁরা অক্লান্ত পরিশ্রমে পরিবারের সবাইকে অমৃতের আস্বাদ দিয়েছিলেন। এক নিমেষেই সহমত হয়ে যাই, যখন তিনি হোস্টেলের অখাদ্য-কুখাদ্য খাওয়ার অসহ্য যন্ত্রণার কথা লেখেন। মনে পড়ে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উইমেন্স হলে (বর্তমানে রোকেয়া হল)
থাকার সময় কেমন করে দুই দিনের মধ্যেই বুয়াদের রান্না করা উৎকট গন্ধযুক্ত মাছ-মাংসের তরকারি খাওয়া এড়ানোর জন্য পুরো নিরামিষাশী হয়ে গিয়েছিলাম। আরও মনে পড়ে, প্রায়ই খাওয়ার সময় প্রতিভাদি (প্রতিভা মুৎসুদ্দি, বর্তমানে ভারতেশ্বরী হোমের কর্ত্রী) আদর করে একটু বেশি ভাজিটা বা ভর্তাটা পাতে দিয়ে দিতেন। গোয়েন্দাকাহিনি ও রহস্যরোমাঞ্চভরা বই পড়ার নেশা আমারও ছিল এবং আছে। তবে সিনেমা দেখার ইচ্ছা থাকলেও সব সময় তা পূর্ণ হয়নি। কারণ, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে লেখক কিশোর বয়সে দিব্যি ফুরফুরে মেজাজে যেমন ঘুরে বেড়াতে পেরেছেন, আমার সেই সৌভাগ্য হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে ঢুকে ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে আমেরিকায় পড়তে যাওয়াই আমার জীবনে প্রথম একলা কোথাও যাওয়া। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দলেবলে বা কখনো কোনো বন্ধুর (পড়ুন বান্ধবী) সঙ্গে যে এখানে-সেখানে যাইনি, তা নয়। তার মধ্যে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ছিল ভাসানী ন্যাপ প্রতিষ্ঠার সূচনা অনুষ্ঠান দেখার জন্য লাইলী আপার (কামরুন্নাহার লাইলী) এবং প্রতিভাদির নেতৃত্বে রূপমহল সিনেমা হলে যাওয়া।
বাবা সরকারি কর্মকর্তা বলে আমার ও সহপাঠিনী বশিরা বারি মালিকের জন্য কাজটা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, কিন্তু ঐতিহাসিক একটি উপলক্ষে প্রত্যক্ষদর্শী থাকার ইচ্ছাও ছিল প্রবল। সুতরাং, জনা বিশেক ছাত্রীর সঙ্গী হয়েছিলাম দুজনে। লাইলী আপা একেবারে মিলিটারি কায়দায় কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন যে অবশ্যই সবচেয়ে পেছনের সারিতে বসতে হবে এবং বিশেষ ইশারা করা মাত্রই পেছনের সিঁড়ি দিয়ে বেরিয়ে অপেক্ষমাণ রিকশায় উঠে পড়তে হবে। তাঁরা যে অঘটন আশঙ্কা করেছিলেন, তা সত্যিই ঘটেছিল এবং ইশারা মোতাবেক একছুটে সিঁড়ি বেয়ে নেমে রিকশায় উঠে পড়েছিলাম। পুরান ঢাকার কিছু অলিগলি ঘুরে রিকশাওয়ালা সেদিন আমাদের নিরাপদেই হলে পৌঁছে দিয়েছিল। অধ্যাপক সোবহানের লেখায় সেদিন বাইরে কী ঘটছিল, তার একটা বিবরণ পেলাম। কারণ, তিনি এক বিদেশি বন্ধুকে নিয়ে রূপমহলের বাইরে ছিলেন।বলা বাহুল্য, আমার জন্য এটা একটা বাড়তি পাওনা। গ্রন্থের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক অবশ্য এক উচ্চবিত্ত, রসনাবিলাসী, জীবনরসিক বালকের বিবিধ অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের মাধ্যমে এক দায়িত্ববান, বিবেকবান, সচেতন, অগ্রণী নাগরিক ও বিশিষ্টজনে পরিণত হওয়ার চিত্রটি। ছাত্র রেহমান সোবহান শরীরচর্চা ও ক্রীড়াঙ্গনের দক্ষতা প্রদর্শন পেছনে ফেলে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক আদর্শে দীক্ষিত হচ্ছেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মজলিশে’ অংশগ্রহণ করে; তারপর ক্রমে অর্থনীতি থেকে রাজনৈতিক অর্থনীতিতে তাঁর আগ্রহ বাড়ছে; দেশে ফেরার পর বিরাজমান রাজনৈতিক উত্তাপ স্পর্শ করছে তাঁকে; কেবল শিক্ষকতায় বা পারিবারিক দায়দায়িত্বে (অবাক হলেও সত্য যে তিনি এমনকি হাজারীবাগের একটি ট্যানারির দেখভালও করেছেন মালিকানাসূত্রে) আবদ্ধ না থেকে তিনি পাকিস্তানের দুই অংশে বিরাজমান অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে উদ্বিগ্ন ও প্রতিবাদী হয়ে উঠছেন এবং সমাধানের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নিচ্ছেন।
তারপর প্রায় অনিবার্যভাবেই যুক্ত হচ্ছেন সরাসরি স্বায়ত্তশাসনের দাবি থেকে স্বাধীনতার সংগ্রামে পথচলায়—উপদেষ্টা হিসেবে, সচেতনতা সৃষ্টির অগ্রণী কর্মী হিসেবে এবং ১৯৭১-এর ভয়াল ২৫ মার্চের পর প্রথমে আত্মগোপন ও পরে দেশত্যাগ এবং তারও পরে স্বাধীন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও স্বীকৃতি লাভের জন্য বিশেষ দূত হিসেবে অবদান রাখছেন—এই উত্তরণ এক ব্যতিক্রমী অভিযাত্রা। লক্ষণীয় যে সবচেয়ে ভীতিকর মুহূর্তে তাঁর রসবোধ ও ঈষৎ তির্যক দৃষ্টিভঙ্গি সক্রিয় থাকে, যেমন দেশত্যাগের সময় তাঁর বর্ণনায় আমরা তাঁকে দেখি খাকি কুর্তা, চেক লুঙ্গি (বেল্ট দিয়ে পরা), পাঠানি চপ্পল পরিহিত অবস্থায়। তাঁর ভাষায়, এই পোশাকে তাঁকে ‘চকবাজারের একজন অবাঙালি কসাইয়ের মতো’ দেখাচ্ছিল। এই বিশেষ বেশ যে তাঁর চেহারার অবাঙালিত্বকে আরও নজরে পড়ার মতো করে তুলেছিল, তার বিপজ্জনক দিক নয় বরং কমিক দিকটি তাঁর নজরে পড়ে আর পাঠকও একটু না হেসে পারেন না। বলা বাহুল্য, এই রোমাঞ্চকর ও চিত্তাকর্ষক অভিযাত্রার বর্ণনা অত্যন্ত যৌক্তিক এবং প্রায় অনিবার্যভাবেই শেষ হয় মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়, পরিবারের সঙ্গে তাঁর মিলন ও আনন্দ-উদ্দীপনায় স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে। তৃপ্ত পাঠকের মনে হয় ‘মধুরেনসমাপয়েৎ’। তবে আমার একটু অতৃপ্তি বা আক্ষেপ রয়ে গেছে। একটি প্রশ্ন মনে খচখচ করে, যার ঠিক সদুত্তর খুঁজে পাই না। কেন রেহমান সোবহান শিক্ষাজীবনের শেষে ঢাকাতেই ফিরেছিলেন? পারিবারিক দায়িত্বই কি তাঁকে বাধ্য করেছিল? তবে যে কারণেই ফিরুন না কেন, এতে তাঁর ব্যক্তিজীবনে যেমন বৈচিত্র্য, রোমাঞ্চ আর পূর্ণতার স্বাদ এসেছে, তেমনি বাংলাদেশের সমাজও বিশেষত ছাত্রসমাজ উপকৃত হয়েছে নানাভাবে। তাঁকে ধন্যবাদ! আশা করি এবং প্রার্থনা করি তাঁর চিন্তা ও লেখনীর গতি অব্যাহত থাকবে এবং অচিরেই স্মৃতিচারণার দ্বিতীয় খণ্ডটি পাঠকের হাতে পৌঁছাবে।
ড. রওশন জাহান: গবেষক ও নারী অধিকারকর্মী। সাবেক সভাপতি, উইমেন ফর উইমেন।

সুন্দরবন কি বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি হারাবে?

পশুর নদে ফেলা পানি দূষিত ও গরম
হওয়ার কারণে সুন্দরবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে
১৯৯৭ সালে সুন্দরবনকে জাতিসংঘের শিক্ষাবিজ্ঞান ও সংস্কৃতি–বিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি প্রদান করে। বিশ্বের অনন্য ও অসাধারণ জীববৈচিত্র্যবহুল এই বনাঞ্চল বাংলাদেশের গর্ব হয়ে এত দিন সসম্মানে দাঁড়িয়ে থাকে। কিন্তু আজ ২০ বছরের মাথায় ইউনেসকো সুন্দরবনকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর কথা ব্যক্ত করেছে। রামপাল কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করলে তার দূষণ সুন্দরবনকে ভয়ানকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে—এ উদ্বেগকে গ্রাহ্যের মধ্যে না নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে অনড় অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি আজ সংকটাপন্ন। রামপাল কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্রের দূষণের ফলে সুন্দরবন যে কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তার বৈজ্ঞানিক যুক্তিগুলো দেশের বিশেষজ্ঞ মহল, পরিবেশবিদ ও প্রকৃতি গবেষকেরা তুলে ধরা সত্ত্বেও সরকার তা অমূলক, অসত্য ও উন্নয়নবিরোধী বলে অগ্রাহ্য করে আসছে। ইতিমধ্যে ইউনেসকো রামপালের দূষণে সুন্দরবনের ক্ষতির আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করে গত মার্চ মাসে তাদের তিন সদস্য বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদলকে রামপাল ও সুন্দরবন পর্যবেক্ষণে পাঠায়। প্রতিনিধিদল গত জুন মাসে তাদের পর্যবেক্ষণের ফলাফল রিপোর্ট সরকারের কাছে পাঠায়, যাতে তারা সুস্পষ্টভাবে রামপাল প্রকল্প সুন্দরবনের কী কী ক্ষতির কারণ ঘটাবে, তা উল্লেখ করে এটিকে বাতিল করা বা অন্য স্থানে সরানোর সুপারিশ করে। সরকার তাতে সম্মত না হলে ইউনেসকো সর্বশেষ পুনরায় রামপাল কেন্দ্র বাতিলের সুপারিশের পুনরাবৃত্তি করে। ইউনেসকো জানায়, ২০১৭ সালে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠেয় ৪১তম অধিবেশনে সুন্দরবনকে ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
রামপাল নিয়ে অনড় মনোভাব দেখানোর সরকারি ব্যাখ্যা এই যে রামপাল প্রকল্প সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি হবে, তাই কয়লাদূষণ রোধ করে সুন্দরবন রক্ষা করা যাবে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের এই ব্যাখ্যায় অর্ধসত্য, অসত্য ও চাতুরতার আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি সাধারণ জনগণের বোধগম্য হয়নি বটে; কিন্তু আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী মহলের অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণে তা সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক দলের সদস্যরা রামপাল কেন্দ্র স্থাপনে কারিগরি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে তা সম্যক বিশ্লেষণ করে রামপালের দূষণ ও ক্ষতির বিষয়গুলো তুলে ধরেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পাঁচজন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, যাঁরা সবাই কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্র ও তার প্রভাব নিয়ে বিশ্বের নানা স্থানে কাজ করেছেন, তাঁদের মতামত গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তাঁদের মতে, রামপাল প্রকল্প হলে সুন্দরবনের দূষণ অবশ্যম্ভাবী।কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির দক্ষতা ৪২ থেকে ৪৪ শতাংশ, আর আলট্রাসুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির দক্ষতা ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ; দ্বিতীয়টি প্রথমটির তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম কয়লা ব্যবহার করে সমান বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। তার মানে এই নয় যে আলট্রাসুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি দূষণমুক্ত। তাই সরকারের ঢালাও বক্তব্য যে আলট্রাসুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি সুন্দরবনকে সব দূষণ থেকে মুক্ত রাখবে, তা মোটেই সত্য নয়। প্রকৃতপক্ষে কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে যে বায়ুদূষণ, পানিদূষণ ও কঠিন বর্জ্য দূষণ হয়, তা প্রতিরোধে কী ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, তা-ই মূল বিষয়। এ প্রবন্ধের স্থান সীমিত হওয়ার কারণে এসব বিষয়ে উল্লিখিত বিজ্ঞানীদের মতামতের কিছু অংশ আলোচনা করা হলো। প্রথমে ধরা যাক পানিদূষণের কথা। পশুর নদ থেকে পানি নিয়ে তা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহারের পর যে দূষিত পানি নদে ফেলে দেওয়া হবে, তা নদকে দূষিত করবে; যা কিনা ভাটিতে সুন্দরবনের ভেতর প্রবেশ করে দূষণ ঘটাবে। সরকার বলছে, এই পানি ফেলার আগে তা পরিষ্কার করে নেওয়া হবে, তার পিএইচ মাত্রা ৭ পর্যায়ে এনে তা সহনীয় করা হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পানিদূষণ বিশেষজ্ঞ ডোনা লিসেনবি বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে। দূষিত পানির পিএইচ মাত্রা ৭-এ নিয়ে এলেই পানি দূষণমুক্ত হয় না। পরিষ্কার করা বর্জ্য পানিতে কিছু দূষণ থেকেই যাবে। এ ক্ষেত্রে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি হলো ‘জিরো লিকুইড ডিসচার্জ’, অর্থাৎ শূন্য পানি নির্গমন ব্যবস্থাপনা; যেখানে কোনো পানিই নদীতে ফেলা হয় না। এই সর্বাধুনিক পদ্ধতি পৃথিবীর ছয়টি মহাদেশে ১৬০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে চালু আছে।
ভারতের স্থাপিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও এনটিপিসি রামপালে এটি ব্যবহারের ব্যবস্থা করেনি। পশুর নদে ফেলা বর্জ্য–পানির অপর সমস্যা হবে তার তাপমাত্রা। কেউ কেউ এ পানি ঠান্ডা করে ফেলা হবে বললেও সরকারি ভাষ্যমতেই তা নদের পানির চেয়ে অন্তত ২ ডিগ্রি বেশি থাকবে। মার্কিন বিশেষজ্ঞ বলছেন যে এই ২ ডিগ্রি বেশি থাকার ব্যাখ্যাটি সুচতুরতার সঙ্গে করা হয়েছে, কারণ সরকারি ভাষ্যমতে, এই তাপমাত্রা থাকবে মিশ্রণবলয়ের প্রান্তসীমায়। সাধারণ লোকেরা মিশ্রণবলয় কী তা বোঝে না। প্রকৃতপক্ষে পশুর নদের যে স্থানে পানি ফেলা হবে, সেখানে তাপমাত্রা মিশ্রণবলয়ের প্রান্তসীমানার চেয়ে আরও বেশি হবে। সুতরাং পশুর নদে ফেলা পানি দূষিত ও গরম হওয়ার কারণে নদের জীববৈচিত্র্যের সমূহ ক্ষতি হবে, যার প্রভাব ভাটির দিকে নিকটস্থ সুন্দরবনের ওপর পড়বে। এবার আসা যাক ছাইদূষণের কথায়। সরকার বলছে, নির্গত ছাইদূষণ রোধে ইলেকট্রো স্ট্যাটিক প্রেসিপিটেটর (ইএসপি) ব্যবহার করা হবে, যাতে বাতাস দূষণমুক্ত থাকে। মার্কিন বিশেষজ্ঞ বলছেন, ছাইদূষণ ও পারদদূষণ রোধে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি হলো ‘ব্যাগ হাউস’ প্রযুক্তি, যা কিনা রামপালে ব্যবহার করা হবে না। সরকারি ভাষ্যমতে, ২৯০ মিটার সুউচ্চ চিমনির মাধ্যমে নির্গত দূষিত ছাইমিশ্রিত বায়ুকে দূরে পাঠিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃতপক্ষে এই নির্গত বায়ু রামপালে পড়বে না বটে; কিন্তু ১৪ কিলোমিটার দূরত্বে শুরু হওয়া এবং ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত সুন্দরবনের ভেতর গিয়ে পড়বে।
কয়লা থেকে উদ্ভূত ছাই সম্পর্কে সরকারি বক্তব্য হলো, কয়লা থেকে উদ্ভূত ছাই শতভাগ শুষ্ক অবস্থায় রাখা হবে এবং তা পুরোটাই বাইরে বিক্রি করে দেওয়া হবে। এ বক্তব্য ছাইদূষণের প্রধান উপাদান ভেজা ছাই এবং পানি ও ছাইয়ের ঘন মিশ্রণের অস্তিত্ব সুচতুরতার সঙ্গে এড়িয়ে গেছে। কিন্তু বিজ্ঞানী দলের সদস্যরা রামপালের আহূত দরপত্রের সূত্র ধরে বলছেন যে দরপত্রে পানি ও ছাইয়ের ঘন মিশ্রণ রাখার জন্য ছাই-পুকুর স্থাপন করার বিষয়টি অতি বিস্তারিত উল্লেখ করা আছে। আর এহেন ছাই-পুকুর ভূগর্ভস্থ পানিকে, পার্শ্ববর্তী নদীর পানি ও পরিবেশকে ব্যাপকভাবে দূষিত করতে পারে, যেহেতু এই ছাইয়ের মধ্যে নানা বিষাক্ত ভারী ধাতু থেকে থাকে। কয়লা পোড়ালে নির্গত দূষিত বায়ুর একটি নাইট্রোজেন অক্সাইড। মার্কিন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দূষিত বায়ু রোধে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি হলো সিলেকটিভ কাটালিটিক রিডাকশন (এসসিআর)। রামপালে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে না; বরং ব্যবহার করা হবে ‘লো নক্স বার্নার’। তাঁদের মতে, এটি দূষিত নাইট্রোজেন অক্সাইড গ্যাস প্রতিরোধে মোটেই সুদক্ষ প্রযুক্তি নয়; বরং এটি ৩০ বছর পুরোনো প্রযুক্তি, যা উন্নততর দেশে ব্যবহারই করা হয় না। কয়লার স্তূপ থেকে উদ্ভূত কয়লার ধুলা ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক দূষণ হতে পারে। রামপালের আহূত দরপত্রের সূত্রে জানা যায়, এটি রোধে পানি ছিটা পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে; যা মোটেই সুদক্ষ পদ্ধতি নয়। এটি নিয়ন্ত্রণে নানা রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার পদ্ধতি চালু রয়েছে, যা উন্নত ও দক্ষ পদ্ধতি কিন্তু রামপালে তার ব্যবহার হবে না। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেভ নাইমিয়ার হিসাব করে দেখাচ্ছেন যে রামপাল থেকে প্রতিবছর প্রায় ৩ টন কয়লা–ধুলা ছড়িয়ে পড়বে, যা কিনা নদীর পানি, মাটি ও বনাঞ্চলকে ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে পশুর নদ দিয়ে জাহাজে করে কয়লা পরিবহনের জন্য প্রতিবছর নদে যে ড্রেজিং করার প্রয়োজন হবে, সুন্দরবনের ওপর তার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে বিজ্ঞানী দলের বক্তব্য সুস্পষ্ট। রামপালের দূষণের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা যেভাবেই তুলে ধরা হোক না কেন, সরকার তা বোঝে না। দেশি বা বিদেশি বিজ্ঞানী, দেশি বা বিদেশি সংস্থা, এমনকি জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন ইউনেসকো বা রামসার সবাই সরকারকে রামপাল দূষণের বিজ্ঞান বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছে। ইউনেসকো সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য মর্যাদা দিয়ে বিশ্বদরবারে যে সম্মান দিয়েছে, তা বাংলাদেশের জন্য অমূল্য ও বিরল সম্মাননা। রামপাল নিয়ে সরকারের বর্তমান অযৌক্তিক মনোভাব দেশি-বিদেশি জনগণকে যেভাবে ক্ষুব্ধ করেছে, সেভাবে ইউনেসকোও অসন্তুষ্ট। ইউনেসকো ২০১৭ সালে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সম্মেলনে সুন্দরবনকে বিপন্ন বা ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ের তালিকায় রাখলে তা পরে এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পূর্বশর্ত মনে করা যেতে পারে। সরকার দেশের বিদ্যুৎ উন্নয়নে মহেশখালী, মাতারবাড়ী, চট্টগ্রাম, পায়রা ও আরও অনেক স্থানে বৃহৎ কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র স্থাপনের যে পরিকল্পনা করেছে, তা দেশের জ্বালানি-সংকটের প্রেক্ষাপটে গ্রহণযোগ্য। কিন্তু এ সবকিছুকে ছাপিয়ে কেবল একটি রামপাল প্রকল্প সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় কালো দাগ ফেলেছে। রামপাল প্রকল্প বাতিল না হলে ভবিষ্যতে এই কালো দাগ চিরস্থায়ী হয়ে ইতিহাসের পাতায় লেগে থাকবে।
ড. বদরূল ইমাম, অধ্যাপক, ভূতত্ত্ব বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

বছরে একটি স্মার্টফোন আনবে স্যামসাং!

এখন থেকে প্রতি বছর একটি মাত্র ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন বাজারে আনবে স্যামসাং। আগামী বছর থেকেই এ নীতি অনুসরণ করতে পারে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানটি। পাঁচ বছর ধরে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে গ্যালাক্সি নোট ফ্যাবলেট সিরিজ আর বছরের প্রথমার্ধে গ্যালাক্সি এস সিরিজের ফোন উন্মুক্ত করে আসছে স্যামসাং। তবে এবারে যেকোনো একটি ফ্ল্যাগশিপ নীতিতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি গ্যালাক্সি নোট ৭ নিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে স্যামসাংকে তাদের নীতি পরিবর্তন করতে হচ্ছে। গত কয়েক মাসে বেশ কিছু নোট ৭ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামমোবাইল ও কোরিয়া হেরাল্ডের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। স্যামমোবাইলের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পণ্যের মান যাতে নিশ্চিত করা যায় সে লক্ষ্যে ফ্ল্যাগশিপ মডেলের ক্ষেত্রে একটি ফোনের নীতি গ্রহণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে নোট ৭ বিস্ফোরণের জন্য ব্যাটারি সমস্যার কথা বললেও পুরো বিষয়টি তদন্ত করছে স্যামসাং। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হলে গ্যালাক্সি নোটের ওপর প্রভাব পড়বে। ইতিমধ্যে নোট ৭ উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গুঞ্জন উঠেছে, নোট ব্র্যান্ডটিকে বাদ দেওয়ার কথা ভাবছে স্যামসাং। এর পরিবর্তে ভাঁজ করা যায় এমন ওএলইডি স্ক্রিনের নতুন স্মার্টফোন তৈরি করছে স্যামসাং। তবে এক ফোন নীতিতে গেলে নতুন এই স্মার্টফোন বাজারে আনার বিষয়টি আরও পেছাতে পারে। অবশ্য, স্যামসাং এখন পর্যন্ত স্মার্টফোন সরবরাহকারীদের কাছে শিডিউল পরিবর্তনের বিষয়ে অবগত করেনি। ধারণা করা হচ্ছে, নোট ৮ তৈরিতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। ২৬ ফেব্রুয়ারি নোট ৮ বাজারে আসতে পারে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি।

নায়ক হতে পারবেন সাব্বির?

চন্ডিকা হাথুরুসিংহে
৩৩ রান, নাকি ২ উইকেট? ২ উইকেট দুটি মাত্র বলেরই ব্যাপার। ইংল্যান্ডের জন্য তাই কাজটা বেশি সহজ। আবার বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের পক্ষেও ৩৩ রান করা খুব অসম্ভব নয়। হাতে পুরো একটা দিন। সারা দিন টুকটুক করে খেলে রান করলেই বা সমস্যা কী!
কিন্তু উইকেটের চতুর্থ দিনের আচরণ বলে দিচ্ছে, শেষ দিনে কাজটা সহজ হবে না। তার ওপর আজ সকালে ২ ওভার পরই নতুন বল নিতে পারবে ইংল্যান্ড। নতুন বলে এই উইকেটে বোলাররা কী করতে পারেন, সেটা এই কয় দিনেই দেখেছে সবাই। ৮ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশ ইনিংসে স্বীকৃত ব্যাটসম্যান বলতে এখন ৫৯ রানে অপরাজিত সাব্বির রহমান। দিন শেষের সঙ্গী তাইজুল ইসলাম ও শেষ ব্যাটসম্যান শফিউল ইসলাম তাঁকে সংগত দিতে পারলে ভালো। না পারলে আপাতত আক্ষেপেই শেষ হবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বপ্ন। কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে আশাবাদীদের দলে। তাঁর দৃঢ়বিশ্বাস, ‘কাল (আজ) ১০-১৫ ওভার ব্যাট করতে পারলেই আমরা লক্ষ্যে পৌঁছে যাব। জিততে হলে আমাদের যতটা সম্ভব সময় মাঠে থাকতে হবে। আশা করি, আমরাই জিতব।’
অপরাজিত দুই ব্যাটসম্যানকে নিশ্চয়ই কাজটা ঠিকভাবে করার কৌশল বুঝিয়ে দেবেন কোচ। পত্রিকায় ছাপা হলে সেটা ইংল্যান্ড শিবিরে ফাঁস হয়ে যাবে বলে কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত বললেন না। তবে সংবাদ সম্মেলনে বসেই ব্যাটসম্যানদের একটা কথা মনে করিয়ে দিতে চাইলেন কোচ, ‘ব্যাট করার জন্য আমাদের হাতে পুরো ৯০ ওভার আছে।’ ২৩৮ রানে কামরুল ইসলামের বিদায়ের পর সাব্বিরের সঙ্গে জুটি বাঁধেন তাইজুল। উইকেটে যাওয়ার সময় তাইজুলকে একটাই পরামর্শ দিয়েছেন হাথুরুসিংহে—‘দিনটা শেষ করে আসো।’ বিস্তারিত কোচের মুখেই শুনুন, ‘তাইজুল যখন ব্যাট করতে যায় তখনো আমাদের ৪৬-৪৭ রান বাকি ছিল। ৫-৬ ওভারেই সেটা করে ফেলা সম্ভব ছিল না। ওই সময়টুকু ব্যাট করে টেস্টটাকে পঞ্চম দিনে নিয়ে যাওয়াই ছিল সম্ভাব্য সেরা উপায়।’ টেস্ট শুরুর আগে কোচ বলেছিলেন, বাংলাদেশের বোলারদের পক্ষে ইংল্যান্ডের ২০ উইকেট নেওয়া সম্ভব নয়। প্রকারান্তরে যেন আগেই বলে দিতে চাইলেন—আর যা-ই হোক চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশ জিতবে না। ইংল্যান্ডকে দুই ইনিংসেই অলআউট করে দ্বিতীয় ইনিংস ব্যাট করতে নেমে কোচের ধারণা ভুল প্রমাণ করেছেন খেলোয়াড়েরা। কোচও তাতে খুশি, ‘আমি খুবই খুশি যে ওরা ২০টি উইকেট নিতে পেরেছে। এটা ইতিবাচক। চতুর্থ দিন শেষে আমরা খেলায় আছি, এটাও আনন্দের।’ এত ভালোর মধ্যে শুধু একটা অঙ্কই মেলেনি হাথুরুসিংহের। প্রথম ইনিংসের রানটা আরেকটু ভালো আশা করেছিলেন তিনি।
গেম প্ল্যানও সাজিয়েছিলেন সেভাবেই। তবে এ নিয়ে আর হতাশা নেই। কোচ-খেলোয়াড় সবার চোখই এখন জয়ে। সাব্বিরের সঙ্গে বাকি দুজনের কেউ না কেউ দলকে সেই পথ দেখাবেন, সবার আশাটা এমনই। এমনও তো নয় যে, তাইজুল-সাব্বির এর আগে এমন রোমাঞ্চকর ম্যাচে দল জেতাননি। তবে বেশি আশা সাব্বিরের কাছেই। অভিষেক টেস্ট খেলতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসেই প্রথম ফিফটি পেয়ে গেছেন। এখন সামনে টেস্ট জয়ের নায়ক হওয়ারও হাতছানি। ব্যাটিং করাটা যে উইকেটে সমুদ্রে সাঁতার কাটার মতোই কঠিন, সেখানে সাব্বিরের এমন পারফরম্যান্সে দারুণ খুশি হাথুরুসিংহে, ‘দ্বিতীয় ইনিংসে ও যেভাবে ব্যাট করছে, আমি খুব খুশি। মাথায় আঘাত পেয়েছে, সারা দিন বাইরে ছিল। এমন চাপের মধ্যেও কঠিন একটা উইকেটে সে মনোযোগ ধরে রাখতে পেরেছে।’ অবশ্য এই উইকেটে সাব্বিরের অপরাজিত ৫৯ থেকে শুরু করে তামিম ইকবালের ৯, সবার ব্যাটিংয়েই সন্তুষ্ট কোচ। সেটা এমনই যে, তামিমের ৯ রানের ইনিংসটাও নাকি তাঁর কাছে ফিফটির সমান। মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ, ইমরুলদের ইনিংস কতটা মূল্যবান, সেটা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে! কিন্তু টেস্ট জেতানোর নায়ক হয়ে ওঠার সুযোগ সাব্বিরেরই বেশি। মাথার ওপর থাকা চাপটাও। সেটা কমাতেই কিনা কাল রাতে বললেন, ‘আমি এই টেস্টটা পুরোপুরি আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিয়েছি।’

সাব্বিরদের দুটি ভুলের অপেক্ষায় ব্রড!

চতুর্থ দিনের শেষে সাব্বির ও তাইজুলের দৃষ্টি
যেদিকেই থাকুক, আজ তাঁদের ব্যাটের দিকে
তাকিয়ে কিন্তু পুরো দেশ। প্রথম আলো
জিততে হলে শেষ ২ উইকেট হাতে নিয়ে বাংলাদেশকে করতে হবে ৩৩ রান। কিন্তু এই পথটুকুই নিশ্চয়ই দুর্গম মনে হচ্ছে সাব্বির-তাইজুলদের কাছে। গত চার দিনে অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে চট্টগ্রাম টেস্ট আজ কাদের দিকে হেলে পড়বে, তা কালও নির্দিষ্ট করে বলা যায়নি। তবে এক দিকেই হেলে পড়বে, সেটি সংশয়াতীত। ম্যাচটি শেষ হয়ে যেতে পারত কাল চতুর্থ দিনের শেষ সেশনেই। সেটি হয়নি। বাংলাদেশ পারেনি প্রয়োজনীয় রান তুলতে, ইংল্যান্ডও পারেনি বাংলাদেশকে অলআউট করতে। এতেই ফুটে উঠেছে টেস্টের চিরায়ত রোমাঞ্চ, সেটি বললেন স্টুয়ার্ট ব্রডও, ‘বিরতিটা আমাদের জন্য ভালো হয়েছে। ব্যাটসম্যানদের আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। আসলে কাল (আজ) কী হবে অনুমান করা কঠিন। খেলার ফল হবে ব্যাটসম্যানের একটা দুর্দান্ত ইনিংস কিংবা বোলারের দুটি অসাধারণ ডেলিভারিতে। টেস্ট ক্রিকেট এ জন্যই আমরা ভালোবাসি, তাই না?’
ইংল্যান্ডের হয়ে ৯৯তম টেস্ট খেলছেন ব্রড, এতটা পথ পেরিয়ে আসতে উত্তেজনায় ঠাসা এমন কত টেস্টেরই তো সাক্ষী হয়েছেন। তবে এবার নতুন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি এই ফাস্ট বোলার—বাংলাদেশ তাঁদের স্নায়ুর পরীক্ষা নিচ্ছে! পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা চট্টগ্রাম টেস্ট তাই তাঁর চোখে ধরা দিয়েছে সেরা টেস্টগুলোর একটি, ‘বাংলাদেশ চমত্কার খেলছে। রোমাঞ্চের দিক দিয়ে এটি আমার খেলা সেরা ৫ টেস্টে অবশ্যই থাকবে। তবে আমিও ৯৯টা টেস্ট খেলছি। এমন না যে সারা রাত (কাল) নির্ঘুম কাটবে। হ্যাঁ, দুই-তিন ঘণ্টা বাড়তি জেগে থাকতে হতে পারে।’ তবে এই টেস্টে বাংলাদেশের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের পরীক্ষার জন্য ব্রড প্রস্তুত, ‘ফিল্ডিং দল হিসেবে আপনি নিজেকে এভাবে বোঝাতে পারেন—দুটি উইকেট পেতে দরকার শুধু দুটি বল। ডিফেন্স করা কঠিন এমন দুটি ডেলিভারি, অথবা ব্যাটসম্যানের সামর্থ্যের পরীক্ষা নেবে এমন বল।’ বাংলাদেশের সঙ্গে এর আগেও দুটি টেস্ট খেলেছেন ব্রড। ২০১০ সালে বাংলাদেশ সফরে খুব বড় পরীক্ষা অবশ্য দিতে হয়নি। এবার চট্টগ্রাম টেস্টে প্রথম ইনিংসে উইকেটশূন্য থাকার পর দ্বিতীয় ইনিংসে নিজের দশম ওভারে পেয়েছেন প্রথম উইকেট। এখন পর্যন্ত নামের পাশে ২৬ রানে ২ উইকেট। বাংলাদেশের অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্তুতি গাইলেও নিজেদের পারফরম্যান্সেও খুশি ব্রড, ‘এটা অসাধারণ এক টেস্ট। দুই দলের খেলোয়াড়ই অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছে।
বাংলাদেশ তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে গর্ব করতে পারে। আমরাও গর্বিত এই কন্ডিশনে আমাদের স্কিল ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছি। ছয় বছর পর এখানে প্রথম টেস্ট খেলছি। তবে কাল (আজ) ১১ জন হতাশ হবে, ১১ জন উল্লাস করবে। এটা ড্র হওয়ার ম্যাচ নয়।’ বাংলাদেশের জয়ের আশা জাগিয়ে ৫৯ রানে অপরাজিত আছেন সাব্বির রহমান। গায়ে ‘টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ’ তকমা থাকলেও ২৪ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানের ব্যাটিং কাল মুগ্ধতা ছড়িয়েছে। সাব্বিরের প্রশংসা করলেও তাঁকে আজ দ্রুতই ফেরাতে চান ব্রড, ‘সে (সাব্বির) ভালো খেলেছে। মুশফিকের সঙ্গে তার খুব ভালো একটা জুটি হয়েছিল। রান তুলতে (আজ) তার ওপর অনেক চাপ থাকবে। আজ (কাল) সে দারুণভাবে দাঁড়িয়ে গেছে। তবে কাল তাকে অনেক চাপে রাখতে হবে আমাদের। বাংলাদেশের দুটি ভুলেই আমরা জিতে যাব।’ তীব্র চাপের মুখেও সাবলীল ব্যাটিং করেছেন সাব্বির। তাঁর এই শরীরী ভাষা বেশ পছন্দ হয়েছে ডানহাতি ইংলিশ পেসারের, ‘আমার এটা ভালো লেগেছে। টেস্ট ক্রিকেটে আপনাকে দৃঢ়তা দেখাতে হয়। সে এটা খুব ভালো করেই দেখিয়েছে। লড়াই করতে আমার ভালো লাগে।’ হাড্ডাহাড্ডি সেই লড়াইয়ের পরিসমাপ্তি কী হয়, সেটিই আজ দেখার।

ফিরে এসে নতুন খবর দেব

সাতটি তারার তিমির’ ৩০০ পর্বে শেষ হচ্ছে। জানেন?
না, ঠিক জানি না। এই ধারাবাহিকের মাঝামাঝি পর্যায়ে অভিনয় শুরু করেছিলাম। কবে, কত পর্বে শেষ হচ্ছে, আমি কিছুই বলতে পারব না। এই ধারাবাহিকে শেষ শুটিং করেছিলাম বছর খানেক হয়েছে।
তাহলে এখনকার কাজ নিয়ে কিছু বলুন?
কদিন আগে দীপ্ত টিভির খেলাঘর নামে একটি ধারাবাহিকের শুটিং শেষ করলাম। এটিও খুব তাড়াতাড়ি শেষ হবে যাবে। আর চ্যানেল আইতে ‘লাক ভেলকি লাখ’ নামে একটি অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করেছি। অনেক দিন পর উপস্থাপনা করা হলো। তাও আবার রিয়াজ ভাইয়ের সঙ্গে। দারুণ একটা অনুষ্ঠান।
নাটকে কি আগের মতো দর্শক–সাড়া পান?
অনেক কাজ হচ্ছে, কিন্তু আগের মতো সাড়া পাওয়া কঠিন। মাঝে তো আমার কোনো কাজ দেখানো হলে কাউকে জানাতামও না। কারণ, মানুষ নাটক দেখেন না। তবে দীপ্ত টিভির ওই ধারাবাহিকে অভিনয় করে অনেক দিন পর দারুণ সাড়া পাচ্ছি। এখনো মানুষ নিয়মিত ধারাবাহিক দেখেন, তা বাইরে গেলে টের পাই। আর লাক ভেলকি লাখ অনুষ্ঠানও দর্শক খুব আগ্রহ নিয়ে দেখছেন, এটা বুঝতে পারি।
নতুন কোনো চলচ্চিত্রে কি কাজ শুরু করছেন?
এটা এখনই বলতে চাই না। এ সপ্তাহেই আমি কলকাতা যাব। ফিরে এসে একটা নতুন খবর দেব। তার আগে আপাতত চুপ।
সাক্ষাৎকার: হাবিবুল্লাহ সিদ্দিক

শুটিং–সেটে মান্না!

স্থান ফ্যান্টাসি কিংডম। সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে মান্নার ছবিসংবলিত কাট–আউট করা বড় বড় বোর্ড। মান্নাকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অনেক দর্শনার্থীই ধাঁধায় পড়ে যান। দূর থেকে তা দেখে দ্রুতপায়ে ছবির কাছে ছুটেও আসেন অনেকে। ওখানে কি শুধুই ছবি, নাকি সত্যিই দাঁড়িয়ে আছেন মান্না! কিন্তু কাছে যেতেই ভ্রম কেটে যায় দর্শনার্থীদের। প্রয়াত মান্না নেই সেখানে, তবে এই শুটিং–সেটের প্রাণই যে মান্না! হ্যাঁ, প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্নাকে ঘিরেই তৈরি হচ্ছে অন্তর জ্বালা ছবিটি। সেই ছবির একটি গানের দৃশ্যায়নের জন্য গত শনিবার তাঁর ছবিসংবলিত বড় বড় বোর্ড,
ব্যানার আর পোস্টার দিয়ে সাজানো হয় ফ্যান্টাসি কিংডম। দিনভর মান্নার আবহেই হয় শুটিং। গানের দৃশ্যায়নে অংশ নেন অন্তর জ্বালা ছবির নায়ক জায়েদ খান; ছবিতে আলাল চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। শুটিংয়ে আরও ছিলেন ছবির নায়িকা পরীমনি। ‘আমি তোর মান্না ওরে, তুই আমার সোনা’ গানের দৃশ্যায়ন হয় দিনভর। এই গানটি গেয়েছেন পলাশ ও বেলী। এর সংগীত পরিচালক আলী আকরাম। গানটির কথা লিখেছেন সুদীপ কুমার। এই গানের নৃত্য পরিচালনা করেছেন মাসুম বাবুল। ছবির পরিচালক মালেক আফসারী জানান, মান্নাকে নিয়েই গানটি তৈরি হয়েছে। পর্দায় তা সঠিকভাবে উপস্থাপনের জন্য যা যা করা দরকার, সবই করা হয়েছে।