Sunday, September 19, 2010

পাট কেবল অতীত নয়, ভবিষ্যৎও by ফারুক ওয়াসিফ

যোগাযোগটি কাকতালই বটে। সাবেক স্বৈরশাসক এরশাদের ক্ষমতা দখল অবৈধ ঘোষণার রায় এবং পাট ও পাটজাতদ্রব্য দ্বিতীয় প্রধান রপ্তানি পণ্যের স্থান অধিকারের ঘটনা প্রায় একই সময়ের। বাংলাদেশের পাট খাতের সর্বনাশের ষোলকলা পূর্ণ করেছিলেন এই এরশাদ। ১৯৮২ সালে তাঁর ঘোষিত শিল্পনীতিকে শিল্পধ্বংস-নীতি বলাই যুক্তিযুক্ত। বিশ্বব্যাংকের কাঠামোগত সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারি মালিকানাধীন ৬৫০টি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিমালিকানায় ছাড়া হয়। এটাই ছিল এযাবৎকালে বিশ্বের সব থেকে বড় বেসরকারীকরণ। ৬২টি পাটকলের মধ্যে ৩৩টি বিক্রি করা হয় এমন লোকদের কাছে, যাদের শিল্প চালানোর কোনো অভিজ্ঞতাই ছিল না। মুজিব ও জিয়া আমলে পাট-বস্ত্র ও চিনিশিল্প রুগ্ণ হয়ে পড়ে এবং এরশাদ আমলে সেসবের পূর্ণ বারোটা বাজে। বিশ্বের আর কোথাও একটি দেশের শিল্প-অর্থনীতিকে এত দ্রুত কাবু করার কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়নি।
বাঙালিরা কখনোই বড় কোনো শিল্প খাত গঠন করতে পারেনি। ব্রিটিশ আমলে কিছু করেছিল মাড়োয়ারি পুঁজিপতিরা, পাকিস্তান আমলে তাদের জায়গা নেয় পশ্চিম পাকিস্তানি আদমজী, বাওয়ানী, ইস্পাহানীরা। বাহাত্তর সালে এদেরই ফেলে যাওয়া ৫৪৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান তৎকালীন মুজিব সরকার জাতীয়করণ করে। এগুলো লাভজনকভাবে টিকিয়ে রাখা তো দূরের কথা, বরং জাতীয়করণের নামে দলীয় লোকজন ও আমলারা এগুলোকে দুর্নীতির মাধ্যমে ফোঁপরা করে দেয়।
বাংলাদেশের ইতিহাস সাক্ষী, পাটের শত্রু মানেই জাতীয় শত্রু। গত দুই শ বছরের বাংলার ইতিহাসের বড় অংশজুড়ে পাটই ছিল নায়কের ভূমিকায়। আঠারো শতকের মাঝামাঝি থেকে বাংলার পাট ইংল্যান্ড-আমেরিকায় রপ্তানি হতে শুরু করে। ব্রিটিশ বস্ত্রশিল্প-দুনিয়ার রমরমা হয় বাংলার পাটের সুবাদেই। বিরাট বিরাট পাট-বস্ত্রকল প্রতিষ্ঠিত হয় স্কটল্যান্ডের ডান্ডি শহরে। বাংলার সম্পদে ইংল্যান্ডে জুট ব্যারন নামে নতুন এক ধনিক শ্রেণীরও জন্ম হয়। পরে এই জুট ব্যারনদের জায়গা নেয় ভারতের মাড়োয়ারি ব্যবসায়ীরা। বিশ শতকের শুরুতে পূর্ব বাংলায় পাটের আড়তদারি আর পশ্চিম বাংলার পাটশিল্পের মালিকানায় তারাই ছিল একচেটিয়া। আজকের ভারতের টাটা-বিড়লাদের শিল্পসাম্রাজ্যেরও গোড়াপত্তন পাটের কারখানার মাধ্যমেই।
ব্রিটিশ গেল, পাকিস্তান এল। পশ্চিম পাকিস্তানি ধনকুবের আদমজী-বাওয়ানী-ইস্পাহানীরাই হয় নতুন জুট ব্যারন। এভাবে পাটের মুনাফা বারবার বিভিন্ন রঙের ‘পশ্চিমা’দের হাতে চলে যাওয়া বাংলার মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। গত শতকের তিরিশের দশকে ময়মনসিংহের গ্রাম্য কবি সোমেদ আলী মিয়া গান লেখেন, ‘পাট আসিয়া যখন দেশেতে পৌঁছিল,/ পশ্চিমা এসে তখন দখল করিল।’ রংপুরের কৃষক কবি আবেদ আলী মিয়া লেখেন, ‘তোমার টাকা দিয়া যত মাড়োয়ারিরা ধনী,/ তোমরা পাইলে ছাই-ভস্ম, কাইড়া নেয় গুনি।’ গ্রামীণ কবিদের এই অভিযোগই পরে বিকশিত হয়ে ছয় দফা কর্মসূচিতে রূপ নেয়।
দীর্ঘ সময়জুড়ে পাটই ছিল বাংলার প্রধান অর্থকরী ফসল। গত শতকের শুরুতে বিশ্ববাজারে পাটের দাম বাড়তে থাকলে বাংলার কৃষকেরা সমৃদ্ধির মুখ দেখতে থাকেন। পাটের ফলন চাষির সামর্থ্য বাড়ায়। গ্রামগঞ্জের পাটের ব্যাপারিরা হয়ে ওঠেন সবল সামাজিক গোষ্ঠী। গ্রামীণ চাষি-জোতদার আর ব্যাপারিরা তাঁদের এই নতুন অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষা ও রাজনীতিতে জায়গা করে নিতে থাকেন। কৃষকের সন্তান প্রথমবারের মতো আধুনিক শিক্ষা নিতে যায় মফস্বলের স্কুল-কলেজে, সেখান থেকে আরও উচ্চশিক্ষার জন্য আসে ঢাকায়। ঢাকা তত দিনে প্রাদেশিক রাজধানী এবং সেখানে দেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই পাটচাষি-জোতদার-ব্যাপারিরা সরাসরি জমিদার-মহাজনদের চ্যালেঞ্জ জানান। তাঁরা কত বলবান ছিলেন, তার প্রমাণ শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টির উত্থান। নতুন এই রাজনৈতিক শক্তি তাঁর নেতৃত্বে ১৯৩৫ সালের নির্বাচনে হিন্দু জমিদার আর মুসলিম নবাব-নাইটদের হটিয়ে প্রাদেশিক সরকার পর্যন্ত গঠন করে ফেলে। তাঁর হাত ধরেই পূর্ব বাংলা একদিকে কংগ্রেস, আরেকদিকে মুসলিম লীগের অভিজাত-সাম্প্রদায়িক বৃত্তের বাইরে এসে দাঁড়ায়। বাংলায় সূচনা হয় জনগণভিত্তিক সেকুলার রাজনীতির। অন্য অনেক কিছুর সঙ্গে পাটের ভালো ফলন আর বর্ধিত দাম একে সম্ভব করেছিল (Taj Hashmi: Peasants Utopia, UPL)|
আগেই বলেছি, তিরিশের দশকে পশ্চিমা বলতে মানুষ বুঝত ভিনদেশি ইংরেজ আর মাড়োয়ারিদের। ষাটের দশকে একই রকম পশ্চিমাবিরোধী মনোভাব জাতীয়তাবাদী চেতনাকে পুষ্ট করতে থাকে। শেখ মুজিবের ছয় দফা জনপ্রিয় হয় পাটের বঞ্চনার অভিযোগের কারণেই। বাংলার কৃষক ভোলেননি, পাটের সোনালি আঁশের কল্যাণেই তাঁদের অনেকের ঘরের চালে প্রথম টিন লেগেছিল, মেয়ে-বউয়ের গলায় উঠেছিল সোনার গয়না। সেই স্মৃতি মনে ছিল বলেই ‘সোনার বাংলা শ্মশান কেন?’—এই প্রশ্ন বাঙালি জাতীয়তাবাদকে জাগিয়ে তুলল।
বাংলাদেশের রাজনীতি ও স্বাধীনতাসংগ্রামের ইতিহাস তাই পাটেরও ইতিহাস। তিরিশের দশকে পাটচাষির আন্দোলন, ষাট ও আশির দশকে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে পাটকল-শ্রমিকদের সংগ্রামের কাছে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ঋণী। বাঙালি জাতীয়তাবাদের নির্মাণ, সোনার বাংলার মিথ সৃজনের কৃতিত্ব আর অর্থনীতির সোনালি মুকুট তাই পাটচাষি ও পাটশ্রমিকের মস্তকেই শোভা পাওয়ার কথা। কিন্তু যা হওয়ার কথা এই পোড়ার দেশে তার উল্টোটাই ঘটে! পাটের আদর কমে, কৃষি ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর চিংড়ি চাষে উৎসাহ বাড়ে।
মুজিব-জিয়া-এরশাদের আমলের অদূরদর্শী পদক্ষেপগুলোর সংশোধন তো দূরের কথা, নব্বইয়ের পরে চলতে থাকে সেসবেরই ধারাবাহিকতা। ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংকের ‘দ্য জুট ম্যানুফ্যাকচারিং স্টাডি’ ও ‘বাংলাদেশ রিস্ট্রাকচারিং অপশনস ফর দ্য জুট ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রি’ শীর্ষক দুটি সমীক্ষা অনুসারে পাট খাত সমন্বয় ঋণ কর্মসূচি (জেএসএসি) হাতে নেওয়া হয়। এতেই পাটশিল্পের মৃত্যুঘণ্টা বেজে যায়। কর্পূরের মতো উবে যায় সোনার বাংলার স্বপ্নও। রাষ্ট্রের অপচয় আর ধ্বংসাত্মক কায়কারবারের এত বড় শিকার অর্থনীতির আর কোনো খাত হয়নি। পাটের বেদন তাই জাতীয় বেদন।
এশিয়ার বৃহত্তম পাটকল আদমজী বন্ধের বছরই (২০০২) ঘোষিত হয় জাতীয় পাটনীতি। তখন দেশের মোট রপ্তানি-আয়ের ৮-১২ শতাংশ আসত পাট ও পাটজাতপণ্য থেকে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০০৩-০৪ সালে এই হার ৪ শতাংশে নামে। অথচ ১৯৭২-’৭৩ সালে রপ্তানি-আয়ের ৯০ শতাংশই জোগাত এই খাত। যে দেশের আবহাওয়া পাট চাষের অনুকূল, চাষিরাও দক্ষ এবং যে দেশের পাট জাতে সেরা বলেচাহিদাও বিশ্বব্যাপী, সেখানে এমন হওয়ার কারণ কী? কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী সম্প্রতি বলেছেন, নানান ষড়যন্ত্রে পাটের সোনালি গৌরব মিলিয়ে গিয়েছিল (ডেইলি স্টার, ২ জুন, ২০১০)।
বিপরীতে ২০০৫ সালে ঘোষিত ভারতের পাটনীতিতে রপ্তানি আয় এক হাজার কোটি রুপি থেকে ২০১০ সালে পাঁচ হাজার কোটি রুপিতে তোলার লক্ষ্য ঠিক করা হয়। পাট খাত চাঙা করায় বিশ্বব্যাংকের ঋণও তারা পায়। ভারত সরকার পাটচাষিদের ৫১৪ কোটি রুপি বকেয়া ঋণ ও সুদ মওকুফ করে। পাশাপাশি ৩০২ কোটি রুপির ভর্তুকিও চালু রাখে। দুই দেশের শাসকদের এই বৈপরীত্যের মধ্যেই বাংলাদেশের শিল্প ধ্বংস আর ভারতের শিল্প শক্তিশালী হওয়ার রহস্য নিহিত।
পাট খাতের পতনের সব দোষ শ্রমিকের ঘাড়ে চাপানো হয়ে থাকে। পাট মন্ত্রণালয়ের এক সমীক্ষা অনুযায়ী ২০০৬ সালে লোকসান হওয়া ৪২১ কোটি টাকার মধ্যে শ্রমিক আন্দোলনের দায় মাত্র ৩০ কোটি টাকা। অন্যদিকে পাট কিনতে দেরির ক্ষতি ১৪০ কোটি টাকা এবং বিদ্যুৎ-বিভ্রাটসহ বিবিধ অশ্রমিক কারণে লোকসান হয় ১৩০ কোটি টাকা। ভি ভাস্কর এবং মুশতাক খানের এ-সম্পর্কিত গবেষণায় দেখা গেছে, পাটকলগুলোতে বাড়তি শ্রমিক ছিলেন না, বরং স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বাড়তি কর্মচারী-কর্মকর্তা সেখানে পোষা হতো। বর্তমান পাটমন্ত্রীও এক সভায় যথার্থই বলেছেন, সমস্যাটা জুট মিলে নয়, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায়। গত চল্লিশ বছরে এ রকমটাই চলেছে। অথচ এর জন্য আজ অবধি কোনো মন্ত্রী, আমলা, রাজনীতিবিদের শাস্তি হয়নি, ক্ষমা চায়নি বিশ্বব্যাংকের রাশভারী আমলারা। অথচ তাঁদেরই দোষে দক্ষ শ্রমিক হয়েছেন রিকশাচালক, অনেক শ্রমিকের স্ত্রী-কন্যারা চলে গেছে আদিম পেশায়, অনেকের লেখাপড়ার পাট চুকেছে। না খেয়ে মরেছে অনেকে। আদমজী বন্ধের পর সেখানকার এক শ্রমিক হাহাকার করে বলেছিলেন, ‘যেদিন কারখানার ভেঁপু বন্ধ হলো, সেদিনই আমাদের ভাগ্যের কবর হলো।’
এসবেরই পরিণাম হলো একসময় বিশ্বের পাটের বাজারের ৭০ শতাংশের জোগানদাতা বাংলাদেশের ভারতের কাছে মার খাওয়া। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ ১৪ লাখ টন পাটদ্রব্য রপ্তানি করে; ভারত করে মাত্র ছয় টন। বিশ্ববাজারে তখন মোট চাহিদা ছিল ৩০ লাখ টন। দান উল্টে গেছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ৬০টি পাটকল বন্ধ, চলছে মাত্র ২২টি। বিপরীতে ভারতে চালু আছে ৭৮টিরও বেশি পাটকল (ডেইলি স্টার, ২২ জুন, ২০১০)। একই বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ঋণ দেয় পাটকল বন্ধ করার জন্য, ভারতকে দেয় চালু করার জন্য।
এত মন্দের মধ্যেও চাষিরা এবার পাটের ভালো ফলন ফলিয়েছেন। বিশ্ববাজারে পাট ও পাটজাতদ্রব্যের চাহিদাও ব্যাপক হারে বাড়ছে। এ বছর পাটের রপ্তানি রেকর্ড ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা পাটের জিন-নকশা আবিষ্কার করে ফেলেছেন। নতুন পাটনীতিতে সরকারও পাট খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলছে। ইতিমধ্যে খুলনার দুটি বন্ধ পাটকল খুলে দেওয়া হয়েছে, আরও হবে। কারখানা চালুর দিনকে শ্রমিকেরা বর্ণনা করেছেন ঈদের দিন বলে। এটাই সুযোগ ঘুরে দাঁড়ানোর।
আমাদের শক্ত শিল্পভিত্তি প্রয়োজন। দরকার শক্তিশালী কৃষিও। পাটের মধ্যে এ দুয়েরই সোনালি সম্ভাবনা। এ খাতে আমাদের শত শত বছরের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা। এখানে আমাদের ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগই নেই। যদি তা হয়, বুঝতে হবে সচেতন আত্মঘাত। এবং সেটা এমন এক আত্মঘাত, যে করে সে বাঁচে কিন্তু ক্ষতি হয় দেশের। ঠিক যেমন এরশাদ এখনো বহাল তবিয়তে আছেন, কিন্তু দেশের পাটশিল্পের অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক।
farukwasif@yahoo.com

জাপানি মন্ত্রিসভায় রদবদল

জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান গতকাল শুক্রবার মন্ত্রিসভায় রদবদলের কথা ঘোষণা করেছেন। ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টি অব জাপানের (ডিপিজে) নেতা পুনর্নির্বাচিত হওয়ার তিন দিন পর তিনি এই রদবদলের ঘোষণা দিলেন।
বিশ্লেষকেরা বলেছেন, সরকারের প্রতি জনসমর্থন বাড়ানোর লক্ষ্যে মন্ত্রিসভায় রদবদল করা হয়েছে।
ইয়োশিহিকো নোদাকে অর্থমন্ত্রী পদে বহাল রাখা হয়েছে। বানরি কাইয়েদাকে নতুন অর্থনৈতিকবিষয়কমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ডিপিজের নেতৃত্বের লড়াইয়ে প্রধানমন্ত্রী কানের প্রতিদ্বন্দ্বী ইচিরো ওজাওয়ার পক্ষে ছিলেন কাইয়েদা।
ডিপিজের নেতৃত্বের লড়াইয়ে ভোটাভুটিতে অর্ধেকেরও বেশি আইনপ্রণেতা ওজাওয়াকে ভোট দিয়েছেন। দলকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টায় প্রধানমন্ত্রী কান কাইয়েদাকে মন্ত্রী নিয়োগ করেছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সেইজি মায়েহারাকে নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জের কাছে জাপানের টহল নৌকা ও চীনের মাছধরা নৌকার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় চীনা নৌকার ক্যাপ্টেনের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে চীনের সঙ্গে বিরোধের মধ্যে তাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হলো।
কাটসুয়া ওকাদার স্থলাভিষিক্ত হলেন সাবেক পরিবহনমন্ত্রী মায়েহারা। ডিপিজের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য মন্ত্রিত্ব ছেড়েছেন ওকাদা।

শিশুমৃত্যুর হার এক-তৃতীয়াংশ কমেছে

গত দুই দশকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার এক-তৃতীয়াংশ কমেছে। তবে এই হ্রাসের হার জাতিসংঘের সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) পূরণের জন্য যথেষ্ট দ্রুত নয়। গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। জাতিসংঘের লক্ষ্য হচ্ছে, ২০১৫ সালের মধ্যে শিশুমৃত্যুর হার দুই-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনা।
জাতিসংঘের এমডিজি-৪ হচ্ছে, ১৯৯০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর হার দুই-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনা।
চিকিৎসা সাময়িকী দ্য ল্যানসেট-এর বিশেষ সংস্করণে প্রকাশিত ইউনিসেফের ওই তথ্যে দেখা যায়, বৈশ্বিকভাবে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার ১৯৯০ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে এক-তৃতীয়াংশ কমেছে। ১৯৯০ সালে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ছিল এক কোটি ২৪ লাখ। ২০০৯ সালে তা কমে হয়েছে ৮১ লাখ।
ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে পাঁচ বছরের কম বয়সী এক হাজার শিশুর মধ্যে ৮৯ জন মারা যেত। ২০০৯ সালে এই মৃত্যুর হার কমে হয়েছে ৬০ জন।
ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে পাঁচ বছরের কম বয়সী যেসব শিশু মারা যায়, এর মধ্যে অর্ধেকই নাইজেরিয়া, কঙ্গো, পাকিস্তান ও চীনের।
আফ্রিকার সাব-সাহারান এলাকায় পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। এই অঞ্চলে প্রতি আটজনে একজন শিশু মারা যায়। অধিক শিশুমৃত্যুর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়া। ওই অঞ্চলে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে প্রতি ১৪ জনে একজন মারা যায়।

সিরিয়াকে ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে রাশিয়া

সিরিয়াকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আনাততোলি সার্দাইকোভ। রাশিয়ার বার্তা সংস্থা গতকাল শুক্রবার এ কথা জানিয়েছে।
সার্দাইকোভ বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী আমরা সিরিয়াকে পি-৮০০ ইয়াখোন্ত ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করব।’ ওয়াশিংটনে রুশ সাংবাদিকদের তিনি জানান, ২০০৭ সালে এই চুক্তি হয়েছিল। বার্তা সংস্থা ইতার-তাস এ কথা জানায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক জোরদার করতে সার্দাইকোভ ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনে সফরে যান। সিরিয়াকে অস্ত্র সরবরাহ এবং তাঁদের সঙ্গে রাশিয়ার সম্ভাব্য পরমাণু সহযোগিতা নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এসব অস্ত্র লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর হাতে পড়তে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। তা ছাড়া সিরিয়ার সঙ্গে ইরানের সম্পর্কও বেশ ভালো। এটাও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আরেকটি চিন্তার বিষয়।
তবে এ ধরনের উদ্বেগ-আশঙ্কাকে অমূলক বলে অভিহিত করেন সার্দাইকোভ। তিনি বলেন, ‘সিরিয়াকে ইয়াখোন্ত ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ না করার জন্য বলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এসব অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে পড়তে পারে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, কিন্তু আমরা তা মনে করি না।’
ইউরোপে সেনাশক্তি এবং প্রথাগত অস্ত্র সীমিত রাখতে স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার চুক্তি কনভেনশনাল ফোর্স ইন ইউরোপ (সিএফই) আর কার্যকর না রাখার আহ্বান জানান রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী। পূর্ব ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েনের পর ২০০৭ সালে রাশিয়া এই চুক্তি থেকে বের হয়ে যায়। সার্দাইকোভ বলেন, ‘এই চুক্তি যে আর চলতে পারে না, তা আমাদের মার্কিন পক্ষও বোঝে। বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে এই চুক্তি আরও যুগোপযোগী করা দরকার।’

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সাতজনে একজন গরিব

যুক্তরাষ্ট্রে গরিব মানুষের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। এক বছরে সেখানে গরিব মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ৪০ লাখ। সাতজনের মধ্যে একজন দরিদ্র জীবন যাপন করছেন। মার্কিন পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সাতজনে একজন দরিদ্র। ষাটের দশকের পর যুক্তরাষ্ট্রে গরিবদের এ সংখ্যাই সর্বোচ্চ।

থাইল্যান্ডে ‘লাল শার্ট’ সমর্থকদের শোভাযাত্রা

থাইল্যান্ডে ২০০৬ সালের অভ্যুত্থানের স্মরণে দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট থাকসিন সিনাওয়াত্রার সমর্থক লাল শার্ট পরা ব্যক্তিদের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এক শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট থাকসিন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত হন।
গতকাল শুক্রবার রাজধানী ব্যাংককে প্রথম দিনের ওই শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা জাতীয় সংগীত গাইতে গাইতে ব্যাংককের একটি হাজতের সামনে সমবেত হন। গত এপ্রিল ও মে মাসের সহিংসতায় সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁদের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ওই হাজতে রাখা হয়েছে।
পুলিশ বলেছে, শোভাযাত্রায় প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারী অংশ নিয়েছেন।
বিরোধী দল পুয়ে থাইয়ের আইনপ্রণেতা জতুপর্ণ প্রম্পান এবং হাজতের বাইরে অবস্থানকারী নেতাদের নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা হাজতের প্রধান দরজার বাইরে লাল গোলাপ সাজিয়ে রাখেন। প্রম্পান বলেন, ‘হাজতে আটক অবিচারের শিকার দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে লোকজন আজ এখানে এসেছে।’ প্রম্পান বলেন, লাল শার্ট পরা ব্যক্তিরা হাজতের সামনে প্রতি সপ্তাহে অবস্থান কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করছেন।

কাশ্মীরে পুলিশের গুলিতে নিহত ২

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের গোলযোগপূর্ণ হিমালয় অঞ্চলে গতকাল শুক্রবার কারফিউ উপেক্ষা করে বিক্ষোভ করার সময় পুলিশের গুলিতে দুজন নিহত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা এ সময় নিরাপত্তা বাহিনী লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে। বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ওই অঞ্চলে অবস্থান ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
পুলিশ জানায়, গতকাল বিক্ষোভ চলাকালে অন্তত দুজন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছে। ওই অঞ্চলটিকে পরমাণু শক্তিধর দুটি দেশই নিজের বলে দাবি করে। পাকিস্তান এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করেছে। দেশটি এ জন্য ভারতকে দায়ী করে বলেছে, বিক্ষোভকারীরা তিন মাস ধরে কাশ্মীরে ভারতের শাসনের অবসানের দাবি জানিয়ে আসছে।

ভারতের সাবেক ১৬ প্রধান বিচারপতির অর্ধেকই দুর্নীতিগ্রস্ত

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক ১৬ জন প্রধান বিচারপতির অর্ধেকই দুর্নীতিগ্রস্ত ছিলেন বলে দাবি করেছেন ভারতের সাবেক আইন ও বিচারমন্ত্রী শান্তিভূষণ। শান্তিভূষণ মোরারজি দেশাইয়ের আমলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা এক হলফনামায় বিশিষ্ট আইনজীবী শান্তিভূষণ জানান, সাবেক ১৬ জন প্রধান বিচারপতির মধ্যে আটজন নিশ্চিতভাবেই দুর্নীতিগ্রস্ত ছিলেন। ছেলে প্রশান্ত ভূষণের বিরুদ্ধে একটি মানহানির মামলায় অংশ নিতে গিয়ে তিনি এ হলফনামা জমা দেন।
জানা গেছে, শান্তিভূষণ আটজন দুর্নীতিগ্রস্ত সাবেক প্রধান বিচারপতির নাম একটি সিলকরা খামে আদালতে পেশ করেন। তিনি হলফনামায় বলেছেন, দুজন সাবেক প্রধান বিচারপতি তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন যে তাঁদের ঠিক আগের প্রধান বিচারপতিরা দুর্নীতিগ্রস্ত ছিলেন। তাঁদের নামও শান্তিভূষণ আট দুর্নীতিগ্রস্ত প্রধান বিচারপতির তালিকায় দিয়েছেন বলে জানা গেছে। আইনজীবীদের সূত্রে জানা গেছে, শান্তিভূষণের আবেদন গৃহীত হলে বিচার বিভাগের একটি নোংরা চিত্র প্রকাশ্যে এসে পড়বে।
উল্লেখ্য, ৮২ বছরের এই প্রবীণ আইনজীবী ও তাঁর আইনজীবী ছেলে প্রশান্তভূষণ বহু দিন ধরেই দুর্নীতিমুক্ত বিচারব্যবস্থার দাবিতে প্রচারাভিযান চালিয়ে আসছেন। ভারতীয় বিচারব্যবস্থার দুর্নীতি নিয়ে প্রশান্ত তেহেলকা ম্যাগাজিনে একটি নিবন্ধও লিখেছিলেন। এই নিবন্ধে তিনি প্রধান বিচারপতি এস এইচ কাপাডিয়া ও কেজি বাল সুব্রমনিয়ম সম্পর্কে দুর্নীতির আভাস দিয়েছিলেন। সেই লেখা নিয়েই মানহানির মামলা চলছে।
শান্তিভূষণ হলফনামায় যে ১৬ জন প্রধান বিচারপতির নাম উল্লেখ করেছেন তাঁরা হলেন বিচারপতি রঙ্গনাথ মিশ্র, বিচারপতি কে এন সিং, বিচারপতি এম এইচ কানিয়া, বিচারপতি এল এম শর্মা, বিচারপতি এম এন ভেঙ্কটচালিয়া, বিচারপতি এ এম আহমাদি, বিচারপতি জে এস ভার্মা, বিচারপতি এম এম পুঞ্চি, বিচারপতি এ এস আনন্দ, বিচারপতি এসবি ভারুচা, বিচারপতি বি এন কিরপাল, বিচারপতি জে বি পাঠক, বিচারপতি রাজেন্দ্র বাবু, বিচারপতি আর সি লাহোটি, বিচারপতি ভি এন খারে এবং বিচারপতি ওয়াই কে সবরওয়াল। তবে এঁদের মধ্যে কোন আটজন দুর্নীতিগ্রস্ত তা গোপন খামে আদালতকে জানানো হয়েছে।
আদালতে এই তালিকা জমা দিয়ে শান্তিভূষণ বলেছেন, ‘এতে যদি আমার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ ওঠে, তবে তা আমি মাথা পেতে নেব। আমাকে যদি জেলে যেতে হয় তাতেও আমি রাজি। আমি মনে করি দেশের মানুষকে পরিচ্ছন্ন এবং সৎ আইনব্যবস্থা দিতে গিয়ে যদি কিছু সময় জেলে কাটাতে হয়, সেটা আমার গর্বের বিষয়।’

আফগানিস্তানে ভোট গ্রহণের আগে তালেবানের রকেট হামলা

আফগানিস্তানে এখন পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে। তবে ভোট নেওয়ার আগেই আজ ভোরে তালেবানের রকেট হামলা এই প্রক্রিয়ার স্বাভাবিকতাকে ম্লান করে দিয়েছে। আজ ভোট গ্রহণের আগে রকেট হামলাসহ বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা এই নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর আগে তালেবান বিদ্রোহীরা নির্বাচন বানচালের হুমকি দিয়েছিল। আজকের নির্বাচনকে আফগানিস্তানে সরকার ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বিশ্বাসযোগ্যতার গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা বলে অভিহিত করা হয়েছে। খবর রয়টার্সের।
আফগান পুলিশের মুখপাত্র আবদুল রহমান জানান, সকাল সাতটায় ভোট গ্রহণ শুরুর প্রায় তিন ঘণ্টা আগে কাবুলের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও ন্যাটো পরিচালিত বাহিনীর সদর দপ্তরের পাশে বিদ্রোহীরা রকেট হামলা চালায়। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া তালেবানরা আজ বাদাখশান, হেরাত ও গজনি প্রদেশের পাঁচটি নির্বাচনী কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে।
আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই সাধারণ জনগণকে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানালেও তালেবান বিদ্রোহীরা ভোট না দিয়ে জনগণকে ঘরে বসে থাকার আহ্বান জানায়।
আফগানিস্তানের স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের (আইইসি) প্রধান ফয়জাল আহমাদ মানাবী নির্বাচনের শুরু হলে প্রথম ভোট দেন। তবে শুরুতে কাবুলের বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা কম ছিল।
তালেবানের হুমকি নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নির্বাচন পরিদর্শকেরা।
কাবুলের একটি কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর ছাত্র সোহাইল বায়াত বলেন, ‘এই নির্বাচন আফগানিস্তানের ভবিষ্যত্ নির্ধারণ করবে। আফগানিস্তানের জনগণ তালেবানকে ক্ষমতায় চায় না, তাই সবার উচিত তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করা।
২০০১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানে তালেবানের পতনের পর আফগানিস্তানে এটা দ্বিতীয় পার্লামেন্ট নির্বাচন। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ২৪৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আড়াই হাজারের বেশি প্রার্থী। প্রায় ৫০ লাখ ভোটার ভোট দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে সার্বিক নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নির্বাচনকে সামনে রেখে সেখানে তিন লাখ আফগান সেনা ও পুলিশ এবং তাঁদের সহযোগিতায় প্রায় দেড় লাখ বিদেশি সেনা মোতায়েন রয়েছে।

উস্টারকে তুলে সাকিবের চোখ লন্ডনে

এ যেন নতুন এক রূপকথা। মাঠে পারফরম্যান্স ছিল না, তহবিলের অভাবে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক দিতেই কষ্ট হতো। হার আর আর্থিক টানাটানির ধকল সইতে না পেরে পাঁচ বছরের বাঁধন কেটে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন বিক্রম সোলাঙ্কি।
কিন্তু এমন সংকট থেকেই ঘুরে দাঁড়াল উস্টারশায়ার। শেষ চার ম্যাচের তিনটিতেই জয়, একটি ড্র! শেষ ম্যাচে সাসেক্সের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ে উঠে এল কাউন্টির প্রথম বিভাগে। আর এই রূপকথার জন্য খেলোয়াড়দের কৃতিত্ব দিতে গিয়ে ক্লাবের ক্রিকেট পরিচালক স্টিভ রোডস বলছিলেন, ‘সাকিব বলছিল, সবাই এখানে এসেছে পরিশ্রম করতে ও উন্নতি করতে। কৃতিত্ব ওদের এই মানসিকতারই।’
ক্রিকইনফোয় ছাপা হওয়া ভদ্রলোকের কথাটা শুনে ফোনের ওপাশে মৃদু হাসি ছড়িয়ে পড়ল সাকিব আল হাসানের মুখে, ‘কথাটা আমি বলেছি ঠিকই; কিন্তু দলের সবাই আসলেই তাই মনে করত। এ দলটার সবার ব্যক্তিগত উন্নতি করার প্রবল লক্ষ্য ছিল। সে কারণেই আমরা মৌসুমের শেষ দিকে দল হিসেবেই দারুণ উন্নতি করেছি। এমন লড়াকু একটা দলের সঙ্গে খেলে ফেরার অভিজ্ঞতাই অন্যরকম।’
না, সাকিব এখনো দেশে ফেরেননি। আগামীকাল দেশের উদ্দেশে রওনা দেবেন। এর আগে উস্টারশায়ারের বাসায় বসে একটু ফিরে দেখতে হচ্ছে প্রথম কাউন্টি মৌসুম। ফিরে দেখতে গিয়ে চাইলে সাকিব তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে পারেন। নিজে ব্যাটে-বলে, বিশেষ করে বল হাতে দারুণ সময় কাটিয়েছেন, দলের নাটকীয় বিভাগ উন্নয়নের কারিগরদের একজন ছিলেন; তৃপ্তির ঢেকুর তিনি তুলবেন না, কে তুলবেন!
কিন্তু সাকিব সব সময়ের মতোই বিনয়ী, ‘হ্যাঁ, আমার পারফরম্যান্স নিয়ে এখানে কর্মকর্তারা, খেলোয়াড়েরা সবাই খুব আলোচনা করছে। অনেকেই অভিনন্দন জানিয়েছে। কিন্তু ব্যাপারটা তো আমি একা করিনি। এটা আমাদের দলীয় জয়।’
যতই ‘দলীয় জয়’ বলুন, অন্যদের কৃতিত্ব দিন; সাকিব আসলেই আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছেন। সাকিব সেটা উস্টার কর্মকর্তাদের আচার-ব্যবহারেই বুঝতে পারছেন। পরশু শেষ ম্যাচের সঙ্গে সঙ্গে সাকিবের সঙ্গে ক্লাবটির চুক্তি শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু সম্পর্ক শেষ করতে চাইছে না উস্টার।
রোডসও বলছিলেন, তাঁদের অর্থের যে টানাটানি, নতুন তারকা তাঁরা খুঁজতে যাবেন না। এই দল নিয়েই প্রথম বিভাগে খেলতে চান। সাকিবও বললেন, ‘ওরা চুক্তি বাড়ানোর জন্য কথাবার্তা শুরু করে দিয়েছে। ওরা দ্রুতই নতুন চুক্তি করতে চায়। কিন্তু আমি একটু সময় নিতে চাইছি।’
কেন? তাহলে উস্টারে খেলাটা কি উপভোগ করেননি? ‘উপভোগ না করলে আমার মতো ছেলে এই দুই-আড়াই মাস একা একা দেশের বাইরে থাকতে পারে! ৩০-৩৫ দিন হলেই আমার খারাপ লাগে। এবার সেটা লাগেনি, কারণ এখানে খুব উপভোগ করেছি’—সাকিব উস্টারের পক্ষেই বললেন।
তাহলে কেন ভাবছেন? এবার আসল কারণটা বেরিয়ে এল, ‘শহরটা ভালো, ক্লাবটাও ভালো লেগেছে। কিন্তু সমস্যা হলো, এখানে আমার পরিচিত বাঙালিরা তেমন নেই। লন্ডনের দিকে কোনো ক্লাব হলে খুব ভালো হতো। দেখি লন্ডনভিত্তিক কোনো ক্লাব থেকে ভালো প্রস্তাব পেলে চলে যেতে পারি।’
সে লন্ডনেই যান আর উস্টারে থাকুন; সাকিব তার মানে কাউন্টিতে মজে গেছেন। কাউন্টিতে নিয়মিতই খেলতে চান, ‘নিয়মিত তো খেলতে চাই-ই। এখন বুঝতে পারছি, এখানে আরও লম্বা সময় থাকাটাও মানিয়ে নিতে হবে। এক সতীর্থ বলে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছেড়ে দিয়ে কাউন্টি খেলো। হা হা হা।’
তা-ই যদি করে ফেলেন সাকিব! ‘দূর! আগে জাতীয় দল, তারপর দুনিয়ার সবকিছু। জীবনটা কি খালি টাকা-পয়সার জন্য নাকি?’—একেবারে আদি ও অকৃত্রিম সাকিবই বেরিয়ে এলেন।

পর্তুগালকে মরিনহোর ‘না’

লিগ শিরোপা ছয়টি, একটি উয়েফা কাপ ও দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ। ২০০২ সালের পর থেকে প্রতিটি মৌসুমে অন্তত একটি শিরোপা—এই সাফল্যবিধৌত রেকর্ড কার? কার আবার হোসে মরিনহোর! ‘স্পেশাল ওয়ানের’ নিজের দেশই যখন আজ সংকটে, তখন কি একটুও মুখ তুলে তাকাবেন না?
বড় আশা নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ কোচের কাছে ছুটে গিয়েছিল পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ)। ইউরো বাছাইপর্বের প্রথম দুই ম্যাচ থেকে মাত্র একটি পয়েন্ট পাওয়া পর্তুগাল দুই দশক পর বাছাইপর্ব না পেরোনোর শঙ্কার সামনে। এর মধ্যে আবার কোনো কোচও নেই তাদের। কার্লোস কুইরোজকে ছাঁটাই করার পর নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এফপিএফ চাইছিল, আগামী মাসে বাছাইপর্বের ওই দুই ম্যাচে যেন দায়িত্ব নেন মরিনহো।
এটা নিয়ে আলাপ করতে এফপিএফ সভাপতি জিলবার্তো মাদাইল এসেছেন স্পেনে। স্বদেশি মরিনহোকে রাজি করাতে মাদাইলের সফরসঙ্গী হয়েছেন সাবেক সভাপতি হোয়াও রদ্রিগেজও। মরিনহো অবশ্য সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন এই প্রস্তাব। জানিয়েছেন, ‘পর্তুগালের প্রতি আমার যে আবেগ-ভালোবাসা, এ কারণে সরাসরি তাদের না বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু এখন আমি হ্যাঁ-ও বলতে পারছি না। আমার মনে হচ্ছে, এটাকে রিয়াল কর্তৃপক্ষ ভালো চোখে দেখবে না। এ ব্যাপারে যে চুক্তি হওয়া দরকার, সেটি সম্ভব নয়।’
সাধারণত ইউরোর বাছাইপর্ব চলার সময় ক্লাব ফুটবলে দিন দশেকের বিরতি দেওয়া হয়। ওই সময় লিগের কোনো ম্যাচ থাকে না বলে মরিনহো চাইলে পর্তুগালের এই বিপদের দিনে পাশে এসে দাঁড়াতে পারতেন। মাত্রই তো দুটি ম্যাচ। কিন্তু এটাও আবার সত্যি, হুট করে একটা দলের দায়িত্ব মাত্র দুই ম্যাচের জন্য নেওয়াটাও জুতসই কিছু নয়।
নিরাশ হয়েই তাই ফিরতে হচ্ছে মাদাইলকে। অবশ্য এফপিএফ সভাপতি স্পেনে পা রেখেই বলেছিলেন, প্রায় অসম্ভব একটা প্রস্তাব নিয়েই তিনি এসেছেন। দেখা যাক, দেশের প্রতি কিছু ঋণ মরিনহো শোধ করেন কি না। কিন্তু মরিনহোর হাত যে বাঁধা!

আর্জেন্টিনাই সর্বোচ্চ রপ্তানিকারক

ব্রাজিলকে টপকে গেল আর্জেন্টিনা। না, ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে নয়; বিশ্বে ফুটবলার রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে। গত বছর ইউরোপ আর আরব ফুটবল লিগগুলোয় ১ হাজার সাত শরও বেশি ফুটবলার রপ্তানি করেছে আর্জেন্টিনা। ব্রাজিলের চেয়ে সংখ্যাটি ৩০০ বেশি। ক্রীড়া বিপণন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইউরোআমেরিকাসের গবেষণায় উঠে এসেছে এই তথ্য। একটা সময় বলা হতো, ব্রাজিল কফির পর সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করে ফুটবলার। বিশ্বের বড়-মাঝারি লিগগুলোয় ব্রাজিলের ফুটবলারে ছড়াছড়ি। কিন্তু এবার তাদের টপকে গেল আর্জেন্টিনা, যে দেশটিতে নতুন প্রতিভার উর্বরা সময় চলছে। গত পাঁচ বছরে আর্জেন্টিনা থেকে ইউরোপে খেলোয়াড় বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে আট গুণ। ইউরোপের লিগগুলোয় বিদেশি ফুটবলার কোটার নিয়মে শিথিলতা আনাও এর একটা কারণ। গত বছর আর্জেন্টিনা ১১৭ মিলিয়ন ডলারের খেলোয়াড় রপ্তানি করেছে। সর্বমোট খেলোয়াড়ের সংখ্যা ১৭১৬। একই বছর ব্রাজিল থেকে খেলোয়াড় বিক্রি হয়েছে ১৪৪৩ জন।

বার্সেলোনায় মহা সুখী মাচেরানো

একরকম জোরাজুরি করেই লিভারপুল থেকে বার্সেলোনায় চলে গেছেন হাভিয়ের মাচেরানো। ঠিকানাটা যেহেতু পছন্দের সুতরাং সেখানে সুখেই থাকার কথা। বার্সেলোনায় সুখেই আছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বলতে পারেন বার্সেলোনায় তাঁর দিন কাটছে মহা সুখে।
মাত্রই কয়েক সপ্তাহ হলো ইংল্যান্ড ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন স্পেনে। এই কদিনেই স্পেনের ফুটবল ও পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে বার্সেলোনাকে মাচেরানো বানিয়ে ফেলেছেন নিজের বাড়ি! আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার বলছেন, বার্সেলোনায় নিজের বাড়ির মতোই অনুভব করছেন তিনি।
মাচেরানো লিভারপুল ছাড়তে মরিয়া ছিলেন তাঁর পরিবারের কারণে। তাঁর স্ত্রী কিছুতেই ইংল্যান্ডে বাস করতে চাইছিলেন না। নিজে তো বটেই, বার্সেলোনার পরিবেশে মুগ্ধ তাঁর পরিবারও, ‘আমি ভালো আছি। আমি আনন্দিত, আমি এবং আমার পরিবার খুবই ভালো ব্যবহার পাচ্ছি এই শহরে, রাস্তায়, ক্লাবে—সর্বত্র।’ যাদের কারণে তাঁর এই সুখ, সেই সতীর্থদের ধন্যবাদ দিতে কার্পণ্য করেননি মাচেরানো।
সতীর্থদের প্রশংসা, কোচ পেপ গার্দিওলার প্রশংসা। প্রশংসায় ভাসিয়েছেন আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের সতীর্থ সার্জিও আগুয়েরোকেও। আগুয়েরো খেলেন স্পেনেরই ক্লাব অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে। লিগে এই অ্যাটলেটিকোই কালকের ম্যাচে বার্সেলোনার প্রতিপক্ষ। ম্যাচে মাচেরানো-আগুয়েরো থাকবেন পরস্পরের ‘শত্রু’।

পাতোর ইনজুরি, রবিনহোর সুযোগ

সুখে থাকবেন বলেই তো ম্যানচেস্টার সিটি ছাড়লেন। কিন্তু এসি মিলানে নাম লিখিয়েও রবিনহোর মুখে হাসি ফেরেনি। ফিরবে কী করে, মাঠে খেলার চেয়ে ইতালির ক্লাবটির বেঞ্চ গরম করতে বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়েছে তাঁকে এই কদিন। অবশেষে ব্রাজিলিয়ান এই স্ট্রাইকারের সামনে এসেছে সুযোগ। আজ কাতানিয়ার বিপক্ষে ইতালিয়ান লিগে প্রথম একাদশেই জায়গা হতে পারে রবিনহোর। স্বদেশি স্ট্রাইকার আলেক্সান্দ্রে পাতোর ইনজুরিই তাঁর সামনে খুলে দিয়েছে দরজা। আক্রমণভাগে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের সঙ্গী হওয়ার কথা এই ২৬ বছর বয়সীর। চ্যাম্পিয়নস লিগের গত ম্যাচে পাতো ইনজুরিতে পড়েন। তিন সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে চলে গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ফাওয়াদ টানলেন পাকিস্তানকে

পথ হারিয়ে ফেলা পাকিস্তানের ইনিংসটাকে ট্র্যাকে ফিরিয়েছিলেন ফাওয়াদ আলম ও শহীদ আফ্রিদি। এই দুজনই আবার পরপর দুই ওভারে দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে আউট হয়ে বিপদে ফেলে দিয়েছিলেন দলকে। আবদুল রাজ্জাকের ক্যামিওতে তার পরও লড়ার মতো স্কোর পেয়েছে পাকিস্তান। শেষ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে আফ্রিদির দল করেছে ২৪১। সিরিজ বাঁচাতে হলে এই ম্যাচে জয় ছাড়া উপায় নেই পাকিস্তানের।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান তৃতীয় ওভারের মধ্যেই হারায় দুই ওপেনারকে। দলীয় ৩১ রানে বিদায় নেন অভিজ্ঞ ইউসুফও। চতুর্থ উইকেটে আসাদ শফিককে নিয়ে ৬৪ রানের জুটি গড়েন ফাওয়াদ। কিন্তু ছক্কা মারতে গিয়ে দুই তরুণ শফিক ও উমর আকমলের বিদায়ে আবার বিপদে পড়ে যায় পাকিস্তান। পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে ৫১ বলে ৬০ রানের জুটি গড়েন আফ্রিদি ও ফাওয়াদ। ইয়ার্ডিকে আলতো করে চিপ করতে গিয়ে আউট হন ফাওয়াদ, ব্যাট ঠিকমতো না ফেলে রানআউট খেয়ালি আফ্রিদি। চোটের কারণে আগের দুই ম্যাচ না খেলা রাজ্জাকের ২৪ বলে ৩১ রানের ইনিংসে আড়াই শর কাছাকাছি যেতে পারে পাকিস্তান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান ৫০ ওভারে ২৪১/১০ (কামরান ৫, হাফিজ ১, শফিক ৪০, ইউসুফ ১৬, ফাওয়াদ ৬৪, উমর ১৬, আফ্রিদি ৩৪, রাজ্জাক ৩১, গুল ১৪, আজমল ২, শোয়েব ৬*; অ্যান্ডারসন ৩/২৬, ব্রেসনান ৩/৫১, ইয়ার্ডি ১/৪২, ব্রড ১/৪৫, সোয়ান ১/৫৩)।

ইউরোপেও সেই জুভেন্টাস

কী যে হলো জুভেন্টাসের! না ঘরোয়া লিগে, না ইউরোপে; কোথাও সুবিধা করে উঠতে পারছে না ২৭ বার সিরি ‘আ’ ও ২ বার উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ চ্যাম্পিয়ন দলটি।
সিরি ‘আ’তে প্রথম ম্যাচে বারির কাছে ১-০ গোলে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে সাম্পদোরিয়ার সঙ্গে ড্র করেছে ৩-৩ গোলে। জুভেন্টাসের কোচ লুইজি দেলনেরি এর পর দুঃখ করে বলেছিলেন, তাঁর দলের স্কুডেট্টো জয়ের সামর্থ্য আসলে নেই। এখন তো মনে হয় ইউরোপা লিগেও জুভেন্টাসের ভালো কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
ভোরের সূর্য যদি দিনের সঠিক পূর্বাভাস দিয়ে থাকে তাহলে ধরে নিতে হবে এটাই। কারণ ইউরোপা লিগের প্রথম ম্যাচেই জুভেন্টাসকে ৩-৩ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে অখ্যাত লেচ পোজনানের বিপক্ষে। বিশ্বকাপে সোনার বলজয়ী ডিয়েগো ফোরলানের অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ এর চেয়েও খারাপ করেছে। এইরিস সালোনিকার কাছে ১-০ গোলে হেরেই গেছে স্প্যানিশ দলটি। তবে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ইংল্যান্ডের দুই ক্লাব লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার সিটি। সালজবুর্গের বিপক্ষে ম্যান সিটির জয়টি ২-০ গোলের। লিভারপুল স্টুয়া বুখারেস্টকে হারিয়েছে ৪-১ গোলে।
পরশুর ইউরোপা লিগের রাতটি আসলে ছিল গোলের রাত। ২৪টি ম্যাচে ৪০টি গোল হয়েছে পরশু রাতে। এর মধ্যে আছে দুটি হ্যাটট্রিক। জুভেন্টাসকে হতাশায় ডুবিয়ে হ্যাটট্রিক করেছেন পোজনানের আর্টজমস রুডনেভস এবং হ্যাটট্রিক করেছেন বায়ার লেভারকুসেনের প্যাট্রিক হেলম্স। হেলমসের হ্যাটট্রিকে তাঁর দল রোজেনবার্গ ট্রন্ডহেইমের বিপক্ষে জিতেছে ৪-০ গোলে।
জুভেন্টাস যেমন হতাশ হতে পারে, তেমনি আবার এই ভেবে খুশিও হতে পারে, ৩০ মিনিটের মধ্যে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছে। রুডনেভের ২ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ৫ মিনিটের মধ্যে (৪৫ ও ৫০) দুই গোল করে তুরিনের ‘ওল্ড লেডি’দের সমতায় ফেরান চিয়েল্লিনি। এরপর দেল পিয়েরো ৬৮ মিনিটে এগিয়েও দিয়েছিলেন। কিন্তু ৯০ মিনিটে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন রুডনেভ। পোজনানকেও এনে দেন ড্র।
ম্যানচেস্টার সিটির জয়ে অবদান আছে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ডেভিড সিলভার। ৮ মিনিটেই দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ৩০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে সিটিতে নাম লেখানোর পর এটিই তাঁর প্রথম গোল। এরপর ৬৩ মিনিটে জো করেন দলের দ্বিতীয় গোল। সালজবুর্গ অনেক চেষ্টা করেও আর একটিও ফেরত দিতে পারেনি।
অ্যানফিল্ড ম্যাচের প্রথম মিনিটেই লিভারপুলকে এগিয়ে দিয়েছেন জো কোল। ১৩ মিনিটেই তানাসের গোলে সমতায় ফেরে স্টুয়া বুখারেস্ট। তবে শেষ পর্যন্ত লিভারপুলের সঙ্গে আর পেরে ওঠেনি তারা। ডেভিড এনগগ করেছেন জোড়া গোল। লিভারপুলের বাকি গোলটি লুকাসের।