Saturday, February 1, 2025

বিডিআর হত্যাকাণ্ড: খালাসের পরও ১১ বছর জেল খাটেন কামরুল

সৈনিক কামরুল হাসানের সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিল। বিপত্তি ঘটে বিডিআর বিদ্রোহ সংঘটিত হওয়ার ১৩ মাস পরে। হঠাৎ কোনো এক সন্ধ্যায় কামরুলের জুনিয়র একজন খবর নিয়ে আসে তার নামে মামলা হয়েছে। কামরুলের জন্য অপেক্ষাও করছে পুলিশ। সে দিনই ছিল কামরুলের সৈনিক জীবনের শেষ ডিউটি। সবকিছু গুটিয়ে পুলিশের সঙ্গে যান থানায়। শুরু হয় কারাবাসের বন্দি জীবন।

তবে আইনি প্রক্রিয়ায় কামরুল শেষ রক্ষা পেয়েও অবসান হচ্ছিল না বন্দি জীবনের। ২০১৩ সালে মামলা থেকে খালাস পাওয়ার পরও তাকে বিনা অপরাধে আরও ১১ বছর জেল খাটতে হয়েছে।

সম্প্রতি কামরুল মুক্তি পেয়েছেন। এরপরই রাজশাহীর পবা উপজেলায় নিজ বাড়িতে গিয়ে মুক্তি পাওয়া কামরুল ও তার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কালবেলার কথা হয়। এ সময় কামরুল তার জীবনে ঘটে যাওয়া লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেন।

এ সময় কামরুল বিডিআর বিদ্রোহের সময়ে নিজের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কামরুলের পাশের সোফায় বসা তার মা-বাবাও ছেলের কষ্টের কথা শুনে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না করতে থাকেন।

কামরুল বলেন, একদিন ডিউটি শেষে ক্লান্ত শরীরে রুমে শুয়ে আছি। হঠাৎ জুনিয়র একজন সৈনিক এসে আমাকে বলে, আপনাকে স্যার ডাকে। আমি বললাম, তুমি স্যারকে বলো আমি বাইরে ডিউটিতে গিয়েছিলাম। এটা বললে স্যার বুঝবে। আমি পরে স্যারের সঙ্গে দেখা করব। সে দুই পা পেছনে গিয়ে আবার এসে আমাকে বলে, ভাইয়া আপনি চলেন, আপনাকে স্যার ডাকে। আপনার নামে মামলা হয়েছে, পুলিশ অপেক্ষা করছে। সৈনিকের এ কথা শুনে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। তখন দ্রুত উঠে স্যারের রুমে গেলাম। সেখানে আমার নাম, বাবার নাম, সৈনিক নম্বর মেলানোর পর আমাকে জানানো হয়- সরকারি সব পোশাক রেখে আপনার লাগেজ গুছিয়ে নিয়ে আসেন। আপনাকে আমাদের সঙ্গে থানায় যেতে হবে। বেরিয়ে গেলাম। এরপর থেকে শরীরে আর সৈনিকের পোশাক ওঠেনি।

কামরুল হাসান বলেন, এরপর শুরু হয় দীর্ঘ কষ্টের জীবন। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৩ সালে আমি যে মামলার আসামি সে মামলার রায় হয়। সে রায়ে আমি খালাস পাই। তখন একটাই স্বপ্ন। বাড়িতে যাব, মা-বাবাকে জড়িয়ে ধরব। কতই না আবেগ কাজ করেছে ভেতরে ভেতরে। কিন্তু খালাস পাওয়ার পরও আমাকে জেলে থাকতে হয়েছে। এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে।

বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কামরুল বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের দিনই প্রথম দরবার হলে যাই। ছিলাম একেবারে পেছনে। সামনে স্যারদের কথাও তেমন শুনতে পাইনি। কিছুক্ষণের মধ্যে হঠাৎ বাইরের বিকট শব্দ কানে এলো। তখন সবাই দ্রুত দরবার হল ত্যাগ করতে লাগল। তখনো আমার বুঝে আসেনি যে এখানে এগুলো কী হচ্ছে। সেখান থেকে কোনো মতে বের হয়ে দেখা হয় আমার সেকশনের একজন মেজরের সঙ্গে। তার থেকে কিছু শোনার আগেই তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ঘটনা ঘটার পরও আমি বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতেই পারিনি। তারপর দ্রুত আমার সেকশনে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি, আমার সিনিয়ররা আছেন।

তারা আমাদের জুনিয়র সৈনিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা বাইরে যেও না। এখানে থাকো। ভয় পেয়ো না। আল্লাহকে ডাকো।’ সেখানে আতঙ্কিত অবস্থায় বসে সন্ধ্যা পার করলাম। এ সময়ের মধ্যে বাড়িতে কল দিয়ে বিষয়টা জানালাম। অথচ নিরপরাধ মানুষ আমি। খালাস পাওয়ার পরও আমাকে দীর্ঘ ১১ বছর জেলেই কাটাতে হলো।

কামরুল বলেন, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় জেলের মধ্যে কেটেছে। সে সময়গুলো অনেক কষ্টের ছিল। সে সময়গুলো জীবনে আর ফিরে আসবে না। তবে আল্লাহকে বলতাম- আল্লাহ তুমি জানো আমার কী অপরাধ। তুমিই উত্তম ফয়সালা দিও। আল্লাহর রহমতে মুক্তি পেয়েছি। এখন আগামীর জীবন নিয়ে চিন্তায় আছি। জীবনের শেষ সময়ে এসে আমি এখন বেকার। এখন চাইলেও কোনো কাজ করতে পারব না। আমার মতো অনেক নির্দোষ, নিরপরাধ সৈনিক জেল থেকে খালাস পেয়েছে। সরকারের কাছে আমাদের একটাই প্রত্যাশা, আমরা যেন আবার কর্মজীবনে ফিরে যেতে পারি।

কামরুলের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী পাটকল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন কামরুল। এরপর এইচএসসিতে ভর্তি হন আদর্শ ডিগ্রি কলেজে। সেখানে এইচএসসি পাস করে যোগ দেন তৎকালীন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরে (বর্তমান নাম বিজিবি) সৈনিক হিসেবে। প্রশিক্ষণ শেষে ২০০৮ সালে যোগ দেন পিলখানায় (বর্তমান বিজিবি সদর দপ্তর)। সেখানে তিনি ইলেকট্রিক মোকানিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইএমই) শাখায় কর্মরত ছিলেন। যোগদানের এক বছরের মাথায় ঘটে পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা। ওই ঘটনার ১৩ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরে তাকে হত্যা মামলায় কারাগারে যেতে হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত ১৬ জানুয়ারি ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

কামরুলের মা সেফালী বেগম বলেন, ছেলে কারাগারে থাকায় আমিও অসুস্থ হয়ে পড়ি। ভারতে চিকিৎসা চলছিল, সেখানে আমার অপারেশনও হয়েছে। এত কথা ছেলেকে জানাইনি। ভারতের হাসপাতালে অপারেশনের আগে আল্লাহকে বলেছি- আল্লাহ আমাকে জীবন ভিক্ষা দাও। আমার ছেলেকে জেল থেকে বাড়ি ফিরে যেন না শুনতে হয় যে তার মা মারা গেছে। আল্লাহ আমার ফরিয়াদ কবুল করেছেন। আমিও সুস্থ আছি। আমার বুকের মানিক বাড়িতে ফিরে এসেছে। আর কিছু চাই না।

সৈনিক কামরুল হাসান। ছবি : কালবেলা

রক্তে ক্যাফেইনের মাত্রা শরীরের চর্বি ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকিকে প্রভাবিত করতে পারে

রক্তে ক্যাফেইনের মাত্রা শরীরের চর্বির পরিমাণকে প্রভাবিত করতে পারে। এটি এমন একটি ফ্যাক্টর যা আপনার টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি নির্ধারণ করতে পারে।

এগুলো হল ২০২৩ সালের একটি গবেষণার ফলাফল যা ক্যাফেইনের মাত্রা, বিএমআই ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকির মধ্যে আরও নির্দিষ্ট সংযোগ স্থাপন করতে জেনেটিক মার্কার হিসেবে ব্যবহার করেছে। সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট, যুক্তরাজ্যের বৃস্টল বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষক দল বলেছে, ক্যালোরিমুক্ত ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়গুলো শরীরের চর্বির মাত্রা কমাতে সাহায্য করার সম্ভাব্য উপায় হিসেবে অন্বেষণ করা যেতে পারে।

গবেষকরা ২০২৩ সালের মার্চে প্রকাশিত তাদের গবেষণা পত্রে লিখেছেন, জিনগতভাবে উচ্চতর প্লাজমা ক্যাফিনের ঘনত্ব নিম্ন বিএমআই এবং পুরো শরীরের চর্বি ভরের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এছাড়া টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ওপর ক্যাফিনের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে , ১০ জনের ওপর পরীক্ষার পর জেনেটিক ডাটাবেস থেকে সংগৃহীত তথ্য বলছে, যে গতিতে ক্যাফিন ভেঙে যায় তা নির্দিষ্ট জিনের বৈচিত্র্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যেমন, ঈণচ১অ২ ও একটি জিন যা এটিকে নিয়ন্ত্রণ করে, যাকে বলা হয় অঐজ। তারা ক্যাফেইনকে আরও ধীরে ধীরে ভেঙে দেয়, যা এটিকে রক্তে বেশিক্ষণ থাকতে দেয়। মেন্ডেলিয়ান রান্ডমাইজেশন নামে একটি পদ্ধতির ব্যবহার করা হয়েছিল বৈচিত্র্যের উপস্থিতি, ডায়াবেটিসের মতো অসুস্থতা, শরীরের ভর এবং জীবনধারার কারণগুলো মধ্যে সম্ভাব্য কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ধারণ করতে। যদিও ক্যাফেইনের মাত্রা, বিএমআই ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকির মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য যোগসূত্র ছিল।

রক্তে ক্যাফিনের পরিমাণ এবং অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন, হার্ট ফেইলিওর ও স্ট্রোকসহ কার্ডিওভাসকুলার রোগের মধ্যে কোনও সম্পর্ক দেখা যায়নি। শরীরের ওপর ক্যাফেইনের প্রভাবগুলো সব ইতিবাচক নয় তাও মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ, যার অর্থ এটি পান করার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখা  উচিত। তবে এই সাম্প্রতিক গবেষণাটি কতটা ক্যাফিন আদর্শ তা মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

ছোট ও স্বল্পমেয়াদী পরীক্ষায় দেখা গেছে, ক্যাফিন গ্রহণের ফলে ওজন এবং চর্বি ভর হ্রাস পায়। কিন্তু ক্যাফিন গ্রহণের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব অজানা বলছেন গবেষকরা। তবে ক্যাফেইন শরীরে থার্মোজেনেসিস (তাপ উৎপাদন) এবং চর্বি অক্সিডেশন (চর্বিকে শক্তিতে পরিণত করে) বাড়ায়, যা সামগ্রিক বিপাকের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষণাটি বিএমজে মেডিসিনে প্রকাশিত হয়েছিল।

সূত্র: সায়েন্স এলার্ট

mzamin

চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে মেছোবিড়াল by আবু আজাদ

মেছোবিড়াল। শান্ত ও লাজুক স্বভাবের নিরীহ এক বন্যপ্রাণী। এক সময় যার বিচরণ ছিল দেশের সর্বত্র। হাওর, বাঁওড়, বিলসহ জলাভূমি এলাকা ছিল প্রাণীটির নিরাপদ আশ্রয়। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এ বন্যপ্রাণীটিকে মানুষ শত্রুজ্ঞান করছে, হত্যা করা হচ্ছে গণহারে। এতে অচিরেই বিলুপ্তির ঝুঁকিতে আছে প্রাণীটি। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষায় দ্রুত মেছোবিড়াল সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে; নয়তো অচিরেই হারিয়ে যাবে প্রাণ-প্রকৃতির এই বন্ধু।

দেশের বনাঞ্চলে যে আট প্রজাতির বুনো বিড়ালের বাস, তার একটি এই মেছো বিড়াল (Fishing Cat)। স্থানীয় নাম বাঘুইলা। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অনেক গণমাধ্যমেও প্রাণীটিকে মেছোবাঘ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নামের সঙ্গে বাঘ যুক্ত হওয়ার কারণেই হয়তো প্রাণীটি সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক মনোভাব গড়ে উঠেছে। এ ঘটনাটিই হয়তো বিড়ালটির সর্বনাশকে ত্বরান্বিত করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে দেশে আজ ১ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো মেছোবিড়াল দিবস পালিত হচ্ছে। মূলত উপকারী এ প্রাণীটির গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি এটি সংরক্ষণে মানুষকে সচেতন করতে দিবসটি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ।

বিড়ালকে বাঘ আখ্যা, হয়ে গেল শত্রু

বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই মেছোবিড়ালের বিচরণ রয়েছে। জলাভূমি আছে এমন এলাকায় বেশি দেখা যায়। প্রাণীটি জলাশয়ের মরা ও রোগাক্রান্ত মাছ খেয়ে মাছের রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া ব্যাঙ, কাঁকড়া, ছোট পাখি ছাড়াও পোকামাকড় ও ইঁদুর খেয়ে কৃষকের উপকার করে।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মানুষের সঙ্গে মেছোবিড়ালের দ্বন্দ্ব বাড়ছে। এতে প্রায়ই আক্রান্ত হচ্ছে প্রাণীটি। হত্যা করা হচ্ছে নির্মমভাবে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ২০০৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মেছোবিড়াল সম্পর্কিত ৩৬১টি সংবাদ সংগ্রহ করা হয়। এর ১৬০টি সংবাদই ছিল মেছোবিড়াল হত্যার। যার ৪৬ শতাংশ সংবাদে বলা হয়, মেছোবিড়াল দেখামাত্র ধাওয়া করেছে মানুষ। ৮৩ শতাংশ সংবাদে মেছোবিড়ালকে বাঘ বা বাঘের বাচ্চা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। গবেষণাটি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্টুডেন্ট কনফারেন্স অন কনজারভেশন সায়েন্স’ পুরস্কার জেতে।

বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা কালবেলাকে বলেন, প্রাণীটির প্রকৃত নাম মেছোবিড়াল হলেও অনেকে একে মেছোবাঘ নামেও ডাকে। বাঘ নামে ডাকার কারণে শুধু শুধু আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রাণীটি মানুষকে আক্রমণ করে না, বরং মানুষ দেখলেই পালিয়ে যায়। কিন্তু এ ধরনের একটি নাম নিরীহ বিড়ালটিকে আরও বিপদগ্রস্ত করে তুলেছে। জনবসতি স্থাপন, বন ও জলাভূমি ধ্বংস, পিটিয়ে হত্যা ইত্যাদি কারণে বিগত কয়েক দশকে এই প্রাণীটির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

আড়মোড়া ভেঙেছিল বন বিভাগ

প্রকৃতিতে মেছোবিড়ালের সংখ্যা দ্রুত কমে যাওয়ার বিষয়টি কয়েক বছর আগে বন বিভাগের নজরে আসে। প্রাণীটির অস্তিত্ব নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে সরকারি এই সংস্থাটি। সীমিত আকারে হলেও শুরু হয় গবেষণা।

২০২৩ সালের ২৫ মার্চ সিলেটে একটি পুরুষ মেছো বিড়ালের গলায় স্যাটেলাইট কলার বসিয়ে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য- প্রাণীটির গতিবিধি ও জীবনধারা সম্পর্কে জানা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে হাওরে থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে প্রাণীটি কোথায় যায়। যাতে ভবিষ্যতে সে এলাকায় বিড়ালটির নিরাপত্তার জন্য নজরদারি বাড়ানো সম্ভব হয়। কিন্তু মাত্র ২৮ দিনের মধ্যে বিড়ালটিকে হত্যা করেন এক কৃষক। এরপর সেখানেই থেমে যায় বন বিভাগ।

এ বিষয়ে গবেষণা দলের প্রধান ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এমএ আজিজ কালবেলাকে বলেন, স্যাটেলাইট কলার পরানো মেছোবিড়ালটি প্রকৃতিতে ছেড়ে দেবার এক মাসও পেরোয়নি অথচ সেটিকে হত্যা করা হয়। এটিই প্রমাণ করে প্রাণীটির অস্তিত্ব কতটা হুমকির মুখে রয়েছে।

আছে সমন্বয়হীনতা ও স্বার্থের সাংঘর্ষ

হাওরাঞ্চলে মেছোবিড়ালের আধিক্য বেশি। কিন্তু হাওরের দেখভাল করে পরিবেশ অধিদপ্তর। আবার মেছোবিড়াল বন বিভাগের সম্পত্তি। তাই প্রাণীটি নিয়ে চিন্তিতও নয় পরিবেশ অধিদপ্তর। এ বিষয়ে নেই তাদের কোনো প্রশিক্ষণও! পরিবেশ ও বন, এই দুই বিভাগের সমন্বয়হীনতার অভাবও মেছোবিড়ালকে সংকটে ঠেলে দিয়েছে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক এমএ আজিজ হতাশা প্রকাশ করে বলেন, একই মন্ত্রণালয়ের বিভাগের দুটি সমন্বয়হীনতার জন্য একটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কঠিন হয়ে উঠেছে, এটি বিস্ময়কর!

তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের অসহযোগিতার বিষয়টি এড়িয়ে যান বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ। তিনি বরং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সমন্বয়হীনতার ইঙ্গিত করেন। এই বন কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাওরে হাঁসের চাষাবাদ অতিমাত্রায় বেড়েছে। এতে সেখানকার স্বাভাবিক প্রতিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিযায়ী পাখি, মেছোবিড়ালের অস্তিত্বসহ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।

আইন ও প্রয়োগের দুর্বলতা

মেছোবিড়ালকে বিশ্বব্যাপী সংকটাপন্ন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন)। প্রাণীটি দেশের আইনে সংরক্ষিত। ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী আইনেও মেছোবিড়াল হত্যা বা এর কোনো ক্ষতিকরা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নজির নেই বললেই চলে।

যদিও অধ্যাপক আজিজ মনে করেন, শুধু আইন দিয়ে মেছোবিড়াল রক্ষা করা সম্ভব নয়। সবার আগে প্রয়োজন স্থানীয় মানুষকে প্রাণীটির উপকারিতা বোঝানো, সংরক্ষণে তাদের সম্পৃক্ত করা। আর এ জন্য বন বিভাগকে আদাজল খেয়ে নামতে হবে। আর এখানেই ব্যাপক ঘাটতি আছে বলে মনে করেন এই গবেষক।

নেই কোনো প্রকল্প, পরিকল্পনাও

২০২৩ সালে শুরু হওয়া গবেষণাটি থেমে যাওয়ার পর আর কোনো উদ্যোগ নেয়নি বন বিভাগ। এই মুহূর্তে নেই কোনো প্রকল্প। এমনকি বিড়ালটি সংরক্ষণে সুর্নিদিষ্ট কোনো পরিকল্পনাও করেনি সরকারি সংস্থাটি। তবে মেছোবিড়াল সংরক্ষণে উদ্যোগ জরুরি হয়ে পড়েছে বলে স্বীকার করেছেন বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ।

তিনি বলেন, মেছোবিড়ালের কলার পরানোর পর গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে ওই গবেষণাটি থেমে যায়। তবে এরপর নতুন করে আর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যদিও এ নিয়ে আমরা পরিকল্পনা করছি।

ইমরান আহমেদ বলেন, আসলে বন বিভাগের পরিকল্পনা ও প্রকল্পগুলো বড়প্রাণী বিশেষ করে মহাবিপন্ন প্রাণীগুলো নিয়ে আবর্তিত। তবে এখন সময় এসেছে ছোটপ্রাণীগুলোকে নিয়ে ভাবার।

তবে কি বিলুপ্ত হয়ে যাবে মেছোবিড়াল?

জাপানের দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নে ২০১৭ সাল থেকে প্রাণীটি নিয়ে গবেষণা করছেন অধ্যাপক আজিজ। তারমতে, দেশে মাংসাশী প্রাণীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হত্যা করা হয় মেছোবিড়াল। হত্যার শিকার সব প্রজাতির বন্যপ্রাণীর মধ্যেও এটি প্রথম দিকেই আছে।

তিনি বলেন, বড় বন্যপ্রাণীর জন্য নানা প্রকল্প পরিচালনা করছে বন বিভাগ। কিন্তু মেছোবিড়াল ছোটপ্রাণী হওয়ায় হয়তো সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। নেই প্রচার-প্রচারণাও। এরই ফাঁকে প্রাণীটি হারিয়ে যেতে বসেছে।

‘সারা দেশে যেভাবে গণহারে প্রাণীটিকে হত্যা করা হচ্ছে, তাতে দ্রুত বিজ্ঞানভিত্তিক ও কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে দ্রুতই দেশ থেকে চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে মেছোবিড়াল,’ যোগ করেন অধ্যাপক। 

চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে মেছোবিড়াল

অন্তর্বর্তী সরকারে সব গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব থাকবে: -আহমেদ আল-শারা

সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা, যিনি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এইচটিএসের নেতা, ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো টেলিভিশনে এক গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি দিয়েছেন। সিরিয়ার ইতিহাসে এটি একটি নতুন মাইলফলক, কারণ এই প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার দৃষ্টি সুস্পষ্টভাবে সমস্ত গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর।

শারা জানিয়েছেন, তিনি সিরিয়ায় একটি শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠন করতে চান এবং এজন্য জাতীয় আলোচনা সম্মেলন (ন্যাশনাল ডায়লগ কনফারেন্স) আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন। এই সম্মেলনে সব পক্ষের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন, যাতে কোনো গোষ্ঠীই বাদ না পড়ে এবং সব ধরনের মানুষের স্বার্থ নিশ্চিত হয়। খবর এএফপি।

তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে সিরিয়া একটি বৈচিত্র্যময় দেশ। এখানে নানা জাতি, ধর্ম, ভাষার মানুষ বসবাস করে। এই বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সবার প্রতিনিধিত্ব রাখা সরকারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার এই মন্তব্যে স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, ভবিষ্যতে গঠিত সরকারের প্রতিটি সদস্যকে বিভিন্ন গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে নির্বাচিত করা হবে, যাতে সার্বিক উন্নয়ন ও শান্তি নিশ্চিত করা যায়।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ডিসেম্বরে সিরিয়ার একনায়ক বাশার আল-আসাদকে উৎখাত করার পর আলোচনায় আসেন গোলানি। এরপর তিনি তার ছদ্মনাম ‘আবু মোহাম্মদ আল-গোলানি’ পরিত্যাগ করে নতুন নামে পরিচিত হতে শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি রাজনীতিতে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেন এবং সিরিয়ার ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক অঙ্গন তৈরি করতে উদ্যোগী হন।

শারা তার বক্তৃতায় বলেন, ‘সিরিয়াতে শান্তি প্রতিষ্ঠা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন। তবে, এটা কেবল তখনই সম্ভব হবে যদি আমরা সকল পক্ষকে একত্রিত করতে পারি। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, এই শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া শুরু হবে একটি জাতীয় আলোচনা কমিটি গঠনের মাধ্যমে, যেখানে সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলও অংশগ্রহণ করবে।

এছাড়া, শারা জানিয়ে দেন যে, আপাতত একটি ছোট দল গঠন করা হবে, যারা পার্লামেন্টে বসে সিরিয়ার প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবে। তবে তিনি ভবিষ্যতে দেশের সংবিধান পরিবর্তন নিয়ে কাজ করার কথাও উল্লেখ করেন। একটি সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করা হবে, যারা নতুন সংবিধান নিয়ে আলোচনা করবে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামী চার বছরের জন্য সিরিয়া পরিচালনা করবে, এর মধ্যে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি পূর্বে জানিয়েছিলেন। আহমেদ আল-শারার এই মন্তব্যগুলো সিরিয়ার ভবিষ্যতের জন্য একটি আশার সঞ্চার করেছে, যেখানে দেশের সব গোষ্ঠীর সমান প্রতিনিধিত্ব এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন এক দিগন্তের সূচনা হতে পারে। 

দামেস্কে ভাষণ দিচ্ছেন সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। ছবি: এএফপি
দামেস্কে ভাষণ দিচ্ছেন সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। ছবি: এএফপি

সাঈদীর মুত্যু পরিকল্পিত মেডিকেল কিলিং হতে পারে : মিজানুর রহমান আজহারী

আমরা এখনো জানি না, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল, নাকি মেডিকেল কিলিং ছিল- বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক ড. মিজানুর রহমান আজহারী।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর প্যারেড মাঠে ইসলামী সমাজকল্যাণ পরিষদ আয়োজিত তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের পঞ্চম ও শেষ দিনে প্রধান মুফাসসিরের বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আজহারী বলেন, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী শিরক-বিদআতের আস্তানা তছনছ করে দিয়েছিলেন। তিনি আজীবন ইসলামকে বিজয়ী হিসেবে দেখতে চেয়েছেন। তার মৃত্যুতে গোটা বিশ্ব কেঁদেছে।

তিনি বলেন, আমাদের জন্মের পর থেকে এ রকম সুন্দর সময় আমরা পাইনি। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দাবি, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যু স্বাভাবিক নাকি হত্যাকাণ্ড তা তদন্ত করে দেখতে হবে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট গণমানুষের কাছে জানাতে হবে।

অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন- অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন। মাহফিলে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- চট্টগ্রাম নগর জামায়াত আমির শাহজাহান চৌধুরী, মাওলানা মনিরুল ইসলাম মজুমদার, সাঈদীপুত্র মাওলানা শামীম সাঈদী প্রমুখ।

এর আগে আজহারীর মাহফিল উপলক্ষে সকাল থেকেই নগরীর প্যারেড ময়দানের দিকে আসতে শুরু করেন বিভিন্ন বয়সী মুসল্লি। গাড়ি না পেয়ে অনেকে পায়ে হেঁটে মাহফিলের দিকে আসতে থাকেন। নগরীর সব রাস্তার শেষ যেন মেশে প্যারেড ময়দানে।

চকবাজার প্যারেড ময়দানে দীর্ঘ ২৯ বছর একাধারে তাফসির মাহফিলে বয়ান করে গেছেন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা প্রয়াত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। তার অনুপস্থিতিতে এবারই প্রথম তাফসির মাহফিল হচ্ছে। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে পাঁচ দিনব্যাপী এই ঐতিহাসিক মাহফিল শুরু হয়। 

আজহারী মঞ্চে উঠবেন রাতে, আগেই ভরে গেছে ময়দান

যেদিকেই চোখ যায় শুধু মানুষ আর মানুষ। সূচি অনুযায়ী, বয়ান দেওয়ার জন্য রাত ৮টায় মঞ্চে ওঠার কথা মিজানুর রহমান আজহারীর। তবে বিকেলের মধ্যেই কানায় কানায় ভরে গেছে গোটা মাহফিল এলাকা। যদিও সকাল থেকেই আসতে শুরু করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) চট্টগ্রামে ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের আয়োজনে পাঁচ দিনব্যাপী ঐতিহাসিক তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের শেষ দিন। এদিন মাহফিলে প্রধান মুফাচ্ছির হিসেবে বয়ান করবেন ড. মিজানুর রহমান আজহারী।

জানা গেছে, আজহারী রাত আটটার দিকে বয়ান শুরু করবেন। কিন্তু বিকেলের মধ্যেই পূর্ণ হয়ে গেছে পুরো প্যারেড ময়দান। মাহফিলকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসতে শুরু করেন মুসল্লিরা। কেউ একা আবার কেউবা দলবদ্ধ হয়ে এসেছেন ময়দানে। মাহফিলে আগতরা জুমার নামাজ আদায় করেন এই ময়দানে।

মাহফিলে আসা নুরুল আজিম নামের এক যুবক কালবেলাকে বলেন, আজহারী হুজুরের মাহফিল উপলক্ষে আমরা বাস নিয়ে প্যারেড ময়দানে এসেছি। বেলা ১১টায় এসেছি যেন সামনের দিকে জায়গা পাই।

মধ্যবয়সী আহমদুল্লাহ জানান, তিনি এসেছেন বাঁশখালী উপজেলা থেকে। মাহফিলের মাঠে জায়গা পাওয়ার জন্য তিনি দুপুরেই চলে এসেছেন।

শুধু এ দুজনই নন, আজহারীর মাহফিল উপলক্ষে সকাল থেকেই নগরীর প্যারেড ময়দানের দিকে আসতে শুরু করেন বিভিন্ন বয়সী মুসল্লি। গাড়ি না পেয়ে অনেকে পায়ে হেঁটে মাহফিলের দিকে ছুটতে থাকেন। নগরীর সব রাস্তার শেষ যেন মিশেছে প্যারেড ময়দানে। আয়োজকদের ধারণা, মাহফিলে কয়েক লাখ মানুষের সমাগম হবে।

চকবাজার প্যারেড ময়দানে দীর্ঘ ২৯ বছর একাধারে তাফসির মাহফিলে বয়ান করে গেছেন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা প্রয়াত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। তার অনুপস্থিতিতে এবারই প্রথম তাফসির মাহফিল হচ্ছে। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে পাঁচ দিনব্যাপী এই ঐতিহাসিক মাহফিল শুরু হয়।

চট্টগ্রামে মাহফিলে জনতার ঢল। ছবি : সংগৃহীত

বিএনপি কি একটা ঝামেলায় পড়তে যাচ্ছে by মহিউদ্দিন আহমদ

এ সময়ের একটি আলোচিত শব্দ হলো নির্বাচন। এটি বিবেচনায় রেখে তৈরি হয়েছে অনেকগুলো পক্ষ। কেউ নির্বাচন চায়, কেউ চায় না। কেউ আগে চায়, কেউ চায় ধীরেসুস্থে। যারা জেতার সম্ভাবনা বেশি দেখে, তারা রোজই বলছে, শিগগিরই নির্বাচন হোক। যাদের জেতার তেমন সম্ভাবনা নেই, তারা আরও মুখর। এ নিয়ে কথা–চালাচালি আর কাইজা চলছে।

একটা খবরে রাজনীতির বাজার বেশ গরম। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের তরুণেরা নতুন দল তৈরি করছেন। এ নিয়ে কোনো কোনো পুরোনো দল নড়েচড়ে বসছে। তারা মনে হয় ব্যাপারটা ভালোভাবে নিচ্ছে না। হিন্দি সিনেমার একটি জনপ্রিয় গানের কলি মনে পড়ে গেল—মেরে অঙ্গনে মে তুমহারা ক্যায়া কাম হ্যায়?

এখন যে অন্তর্বর্তী সরকার, সেটি ছাত্র আন্দোলনের হাত ধরে এসেছে। সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীতে তাঁদের তিনজন আছেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, এখানে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট (স্বার্থের দ্বন্দ্ব) তৈরি হবে? ক্ষমতায় থেকে দল তৈরির এই চেষ্টা (?) ভালোভাবে নেয়নি বিএনপি। তারা সরকারকে নিরপেক্ষ মনে করছে না। তারা বলেছে, এ রকম হলে তারা নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি তুলবে।

এ দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর দুটো মুখ। সরকারে থাকলে তারা একরকম বলে। সরকারের বাইরে গেলে তারা বলে অন্য রকম। বাংলাদেশের জন্মের শুরু থেকেই এ রকম হয়ে আসছে।

মনে আছে, ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে দেশের সংবিধান গৃহীত হলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করেন। গণপরিষদ বিলুপ্ত হলো। তবে শূন্যতা থাকেনি। শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আবারও গঠিত হলো নতুন মন্ত্রিসভা। সব মন্ত্রীই ছিলেন আওয়ামী লীগের। ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত হলো স্বাধীন বাংলার প্রথম সাধারণ নির্বাচন। মন্ত্রীরা বহাল থেকেই নির্বাচন করলেন। অনেক জায়গায় ভোট দেওয়ার আগে-পরে সন্ত্রাস এবং ফল গণনায় কারচুপি হয়েছিল।

১৯৮০-এর দশকজুড়ে এ দেশে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সব দল সোচ্চার ছিল। ক্ষমতাসীন এরশাদের সামরিক সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে ১৯৮৬ সালে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করেছিল। ১৯৯১ সালে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে যে নির্বাচন হলো, তাতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ও জামায়াতে ইসলামীর লিখিত সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে। খালেদা জিয়া হন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।

একই সঙ্গে তিনি ছিলেন এ দেশের ইতিহাসের প্রথম অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে জয়ী হওয়া প্রথম প্রধানমন্ত্রী। এটি বিএনপির জন্য পরম শ্লাঘার বিষয়। অথচ পরবর্তী নির্বাচনটি তারা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আয়োজনের বিরোধিতা করে ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একতরফা নির্বাচনের একটা খারাপ উদাহরণ তৈরি করেছিল। তাদের সে সরকার দুই মাসের মতো টিকেছিল। তারা সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল আনতে বাধ্য হয়েছিল। নতুন করে আবার নির্বাচন হলে তাতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে জাতীয় পার্টি ও জাসদের (রব) সমর্থন নিয়ে। শেখ হাসিনা হন প্রধানমন্ত্রী।

এভাবেই চলছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ২০০১ সালে আবার নির্বাচন হলে বিএনপি ক্ষমতায় ফিরে আসে। একটা বিষয় লক্ষণীয়। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন না হলে একই দল বারবার নির্বাচনে জিততে পারে না। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে বিরোধী দলের জয়ের সম্ভাবনা থাকে। যারা ক্ষমতার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চান, এ ব্যবস্থা তাঁদের ভালো লাগে না। নির্বাচনে জয়ের শতভাগ নিশ্চয়তা পেতে শুরু হয় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার বিকৃতি।

২০০৬-০৭ সালে বিএনপিদলীয় রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে একটা যেনতেন প্রকারের তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার আড়ালে নির্বাচন করিয়ে ক্ষমতায় থেকে যেতে চেয়েছিল। এক-এগারোর কারণে সেটি সম্ভব হয়নি। সে জন্য এক-এগারোর ভূত এখনো তাদের তাড়া করে বেড়ায়। আমার এখনো বিশ্বাস, বিএনপি নির্বাচনকে ম্যানিপুলেটের চেষ্টা না করলে এক-এগারো হতো না। কোনো কিছু স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয় না। তার একটা প্রেক্ষাপট লাগে। এক-এগারোর শর্ত বিএনপি নিজেই তৈরি করেছিল। তাদের ‘ষড়যন্ত্র’কে টপকে গিয়েছিল অধিকতর পাকা খেলোয়াড়দের ‘ষড়যন্ত্র’।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় এল। তারা দেখল, এ তো ভারী মজার খেলা! তারা সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাই দিল তুলে। ফলে নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের হারানোর আর কোনো সুযোগ থাকল না। কিন্তু তাদের পতনের শর্ত তারাই তৈরি করল। তার একটা নিষ্পত্তি দেখলাম ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। কিন্তু এখানেই শেষ নয়।

আওয়ামী লীগ এখন পলাতক। তাদের পাপের বোঝা এত ভারী যে নিজেদের তারা কোনোভাবেই জায়েজ করতে পারছে না। এখন তারা সওয়ার হয়েছে তাদের পৃষ্ঠপোষক ভারতের ওপর। ভারতের প্রায় সব রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিচ্ছে। কারণ, এ দেশটা তারা ‘হারাতে’ চায় না। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ দেশ চায় না। তারা চায় ক্ষমতা।

নির্বাচন কখন হবে, তা নিয়ে আছে অনিশ্চয়তা। সরকার ও অন্যান্য রাজনৈতিক মহল থেকে পরস্পরবিরোধী কথাবার্তায় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বিএনপি একটি বড় দল। আওয়ামী লীগ গর্তে ঢুকে যাওয়ায় মাঠ এখন অনেকটাই তাদের দখলে। নির্বাচন নিয়ে তাদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ১৮ বছরের অপেক্ষা। আর কত? এর মধ্যে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী এসে জুটেছে। তরুণেরা নতুন রাজনৈতিক দল করলে তা বিএনপির সামনে একটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে। অভিযোগ উঠেছে, অন্তর্বর্তী সরকার ‘কিংস পার্টি’ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে তারা দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থেকে যেতে পারে।

এ প্রসঙ্গে আমার একটা কথা মনে পড়ে গেল। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসী নীতি নিয়ে অনেকেই সরব। ট্রাম্প সেই সব মার্কিনের প্রতিনিধিত্ব করেন, যাঁরা নতুন অভিবাসী চান না। ব্যাপারটা বেশ মজার। ওই দেশের প্রায় সবাই অভিবাসী। পাঁচ শ বছর ধরে বেশির ভাগ এসেছেন ইউরোপ থেকে। জাতিতে তাঁরা অ্যাংলো-স্যাক্সন। মানেটা দাঁড়াচ্ছে, পুরোনো অভিবাসীরা নতুন অভিবাসী চান না। ‘কিংস পার্টি’ নিয়ে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ অনেকটা ওই রকম।

রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে দল বানিয়ে ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি পাকিস্তানে প্রথম চালু করেন ফিল্ড মার্শাল মোহাম্মদ আইয়ুব খান। বাংলাদেশে সেই ফর্মুলা প্রথম ব্যবহার করেন জেনারেল জিয়াউর রহমান। তার পরম্পরা বজায় রাখেন জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। মাঝখানে এক-এগারোর সময় জেনারেল মইন ইউ আহমেদ ডিজিএফআইয়ের মাধ্যমে দলছুট বা রাজনীতিতে পরিত্যক্ত ফেরদৌস আহমদ কোরেশী কিংবা জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমকে দিয়ে কিছু একটা করতে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু মাঠ জমানো যায়নি।

বিএনপি জানে তার জন্ম-ইতিহাস। যদিও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এটি একটি রাজনৈতিক দলের চরিত্র অর্জনে সক্ষম হয়েছিল। তারা একই ফর্মুলায় আরেক প্রতিদ্বন্দ্বীর আবির্ভাব পছন্দ করছে না। রাজনীতি তো আর সেবামূলক কাজ নয়। রাজনৈতিক দল তো আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম নয়।

ক্ষমতার রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যা বাড়ুক, এটা কে চায়? রাজনীতির মাঠে নতুন কোনো অক্ষশক্তি তৈরি হোক, এটা বিএনপি চাইবে না। এখন একটা শূন্যতা আছে। এটাই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ। যত দিন যাবে, পরিস্থিতি ঘোলাটে হবে। বিএনপি জনপ্রিয়তা হারাতে থাকবে।

রাজনীতি একটা রিলে রেসের মতো। স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যে দুর্বৃত্তায়ন হয়েছিল, আওয়ামী লীগাররা ভেগে যাওয়াতে রেসের ব্যাটন এখন বিএনপির লোকদের হাতে। মারামারি, জমি-ব্যবসা দখল, চাঁদাবাজি সমানে চলছে। সব জায়গায় অভিযোগের আঙুল বিএনপির লোকদের দিকে। অনেক জায়গায় দখল বা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে তারা নিজেদের মধ্যেও মারামারি করছে।

গুটিকয় আন্ডারগ্রাউন্ড বা প্রবাসী ফেসবুকার-ইউটিউবার ছাড়া সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। বিএনপিকেও তারা একই কাতারে ফেলছে বা ফেলবে। বিএনপির জন্য এটি একটি বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে আবার নতুন এক ‘উপদ্রব’—তরুণদের রাজনৈতিক দল গঠনের ‘পাঁয়তারা’। বিএনপি কি একটা ঝামেলায় পড়তে যাচ্ছে?
*মহিউদ্দিন আহমদ লেখক ও গবেষক

 বিএনপি কি একটা ঝামেলায় পড়তে যাচ্ছে

প্রধান উপদেষ্টা হতে রাজি হওয়ার আগে–পরে কী ঘটেছিল, জানালেন অধ্যাপক ইউনূস

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে হাসপাতালে থাকার সময় প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব পাওয়া, ঢাকায় আন্দোলনকারী ছাত্রনেতাদের সঙ্গে মুঠোফোনে আলাপ এবং সেই সময়ে তাঁর চিন্তাভাবনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের দাভোস সফর করেন প্রধান উপদেষ্টা। সে সময় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বৈদেশিকবিষয়ক প্রধান ভাষ্যকার গিডেয়েন রাখমানের উপস্থাপনায় একটি পডকাস্টে কথা বলেন তিনি।

‘রাখমান রিভিউ’ নামের ওই পডকাস্ট অনুষ্ঠানে কথোপকথন লিখিত আকারে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়েছে।

কথোপকথনে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমি যখন প্রথম ফোনকল পাই, তখন আমি প্যারিসের হাসপাতালে ছিলাম। আমার ছোট্ট একটি অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। তখন তারা (ছাত্রনেতারা) ফোন দিল। যদিও আমি বাংলাদেশে কী ঘটছে, সেসব খবর প্রতিদিন মুঠোফোনে দেখতাম। তখন তারা বলল, “তিনি (শেখ হাসিনা) চলে গেছেন। এখন আমাদের সরকার গঠন করতে হবে। দয়া করে, আমাদের জন্য সরকার গঠন করুন।” আমি বলেছিলাম, না, আমি সেই ব্যক্তি নই। আমি এর কিছুই জানি না। আমি এর সঙ্গে যুক্ত হতেও চাই না।’

কারা আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল—এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা। আমি তাদের কাউকেই চিনতাম না। কখনো তাদের সম্পর্কে শুনিনি। কাজেই আমি তাদের বিকল্প কাউকে খোঁজার বিষয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম। তাদের বলেছিলাম, বাংলাদেশে অনেক ভালো নেতা আছেন। তোমরা তাঁদের খুঁজে নাও। তারা বলছিল, “না, না, না, আপনাকেই থাকতে হবে। আমরা কাউকে পাইনি।” আমি বলেছিলাম, জোরালো চেষ্টা করো। তারা বলল, “আমাদের হাতে পর্যাপ্ত সময় নেই।” তখন বলেছিলাম, অন্তত একটা দিন চেষ্টা করো। না পেলে ২৪ ঘণ্টা পর আমাকে আবার ফোন করো।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘তারা (ছাত্রনেতারা) আমাকে আবারও ফোন করল। বলল, “আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু সম্ভব হয়নি। আপনাকে অবশ্যই দেশে ফিরতে হবে।” শেষ পর্যন্ত আমি বললাম, দেখো, তোমরা রাজপথে জীবন দিয়েছো। প্রচুর রক্তক্ষয় হয়েছে। তোমরা সম্মুখসারিতে আছো। যেহেতু তোমরা এসব করতে পেরেছ, এখন ইচ্ছা না থাকলেও তোমাদের জন্য আমারও কিছু করা উচিত। আর এটাই সেই সময়। সরকারের সংস্কার করতে হবে। আমি রাজি। তোমরা কি একমত? তারা আর কোনো কথা বলেনি।’

সেই দিনের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘ঘণ্টা দুয়েক পর হাসপাতালের একজন নার্স এলেন। তিনি আমাকে একটি ফুলের তোড়া উপহার দিলেন। আমি বললাম, এটা কেন? তখন ওই নার্স বললেন, “আপনি বাংলাদেশের ‘প্রধানমন্ত্রী’, আমরা এটা জানতাম না।” আমি বললাম, এটা আপনি কোথা থেকে জানলেন? তখন তিনি বললেন, “সব গণমাধ্যমে, সব টেলিভিশনে সংবাদ প্রচার হচ্ছে, আপনি বাংলাদেশের ‘প্রধানমন্ত্রী’।” আমি বললাম, আমি আপনার কাছ থেকেই এটা জানলাম।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘এরও ঘণ্টা দুয়েক পর ওই বোর্ড সদস্যরাদসহ হাসপাতালের প্রধান আসেন। তাঁরা ফুলের তোড়া দিয়ে নতুন ‘প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে আমাকে শুভেচ্ছা জানান। সঙ্গে এটাও বলেন যে বিকেলের আগে আমাকে হাসপাতাল ছাড়ার বিষয়ে অনুমতি দেওয়া হবে না।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমি পরিচালককে বলি, ওরা আমাকে চাইছে। দেশে যেতে বলছে। ভ্রমণের জন্য আপনি কি আমাকে প্রস্তুত করে দিতে পারেন? তিনি বললেন, “অবশ্যই, আপনার কথা আমাদের মানতে হবে। আপনি একজন প্রধানমন্ত্রী। আপনার নিরাপদ যাত্রার জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে দেব। প্রয়োজনীয় ওষুধসহ সবকিছু দেব। সার্বক্ষণিক যোগাযোগে থাকব।”’

এর কয়েক ঘণ্টা পর, সকালে ফরাসি সেনাবাহিনীর বড় একটি দল আমাকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে আসে—এমনটাই বলছিলেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, ‘এটাই ছিল দেশে ফেরার আগের ঘটনাবলি। পুরো জাতি আমার ফেরার উড়োজাহাজের অপেক্ষায় ছিল। বাণিজ্যিক উড়োজাহাজে যাত্রা করেছিলাম। তখন তাঁরা (ছাত্রনেতারা) নতুন সরকারের রূপরেখা দাঁড় করিয়ে ফেলেছে। আমি বিমানবন্দর থেকেই জাতির সামনে ভাষণ দিলাম। সবাইকে ধৈর্য, শান্তি, একতা বজায় রাখতে বললাম। এটাই ছিল পুরো ঘটনার শুরু।’ 

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ফাইল ছবি

টেনশন বাড়ছে by সাজেদুল হক

ইতিহাসে এমন সময় আসে। মনে হয় খুব একটা কিছু ঘটছে না। তারপরও চোখ-কান খোলা রাখতে হয়। কখন কী ঘটে? ‘৫ই আগস্টের’ পর বাংলাদেশ তেমন একটা সময়ই অতিক্রম  করছে। এর আগের দিনগুলো ছিল অভাবনীয় ও অকল্পনীয়। রক্তাক্ত, বেদনার এবং গৌরবের।

ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কীভাবে দায়িত্ব নিয়েছে তা সবারই জানা। ছয় মাসে সরকারকে নানা চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হয়েছে। সমালোচনাও কম হয়নি। তবে আওয়ামী লীগ ছাড়া সব শক্তিরই একধরনের নিরঙ্কুশ সমর্থন পেয়ে এসেছে সরকার। এ দৃশ্যপটে কি বড় কোনো পরিবর্তন হতে চলেছে?  

খুব সম্ভবত নতুন একটি পর্বে প্রবেশ করতে যাচ্ছে রাজনীতি। ফেব্রুয়ারিতে ছাত্রদের দলের আত্মপ্রকাশ ঘটতে চলছে। এ দলের প্রধান কে হবেন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট এক ছাত্রনেতা জানিয়েছেন, মূলত চার ক্যাটাগরি থেকে সমন্বয় করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, নাগরিক কমিটি, সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সমন্বয়ে এ কমিটি গঠিত হবে। উপদেষ্টা পরিষদে থাকা ছাত্রনেতারা নবগঠিত দলে যোগ দেয়ার আগে সরকার থেকে পদত্যাগ করবেন। সবার আগে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করতে পারেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অন্য দুই উপদেষ্টা আরও কিছুটা সময় নিয়ে পদত্যাগ করবেন। ২০শে ফেব্রুয়ারি কিংবা তারপর এই নতুন দলের আত্মপ্রকাশ ঘটতে পারে। ছাত্রদের নতুন দলের বিষয়টি এরইমধ্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও নিশ্চিত করেছেন। বৃটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘দল গঠনের প্রক্রিয়ার মধ্যে হয়তো তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এটাও একটা বিপদ। কারণ, রাজনীতি শুরু করলে সব ধরনের রাজনীতিবিদ তাদের সঙ্গে মিশে যাবে। তাই আমরা জানি না তারা আমাদের দেশে যে রাজনীতি, তা থেকে নিজেদের দূরে রাখতে পারবে কি-না। তবে ছাত্ররা প্রস্তুত। তারা প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা দেশ জুড়ে  লোকজনকে সংগঠিত করছে।’

ছাত্রদের নতুন দলের এই উদ্যোগ এরইমধ্যে বিএনপি’র সঙ্গে তাদের একধরনের দূরত্ব তৈরি করেছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি সাক্ষাৎকার নিয়ে তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের তীব্র প্রতিক্রিয়া আমরা দেখেছি। এ বাহাস আগামীদিনে আরও বাড়তে পারে। এটিই রাজনীতির রীতি। কারণ লড়াইটা মূলত ক্ষমতার। বিএনপি’র পক্ষ থেকে এরইমধ্যে সম্ভাব্য নতুন দলের প্রতি রাষ্ট্রীয় কোনো ইন্ধন থাকে কি-না সে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে নাহিদ ইসলাম ওয়ান-ইলেভেনের উল্লেখ করে যে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ঢাকার একজন পরিচিত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী তা নাকচ করেননি।

দৃশ্যত জামায়াত নতুন দলের বিরোধিতা করছে না। বলাবলি আছে, নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের প্রতি জামায়াত-শিবিরের সমর্থন রয়েছে। তবে যদি কখনো এমনটা ঘটে, নতুন দলের সঙ্গে বিএনপি’র নির্বাচনী ঐক্য হয়ে গেল সেক্ষেত্রে জামায়াত আরও একা হয়ে যাবে। রাজনীতিতে বিস্ময়কর কতো ঘটনাই তো ঘটে! উপদেষ্টা আসিফ নজরুল কিন্তু বিএনপি’র সঙ্গে ছাত্রদের বৃহত্তর নির্বাচনী সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করেন নি।    

আওয়ামী লীগ এরইমধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসে বেশ কিছু কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এরমধ্যে হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচিও রয়েছে। যদিও দলটির নেতারা হয় পলাতক নয়তো বা কারাবন্দি। মূলত পলাতক নেতারাই কর্মসূচির পক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিবিসি বাংলার রিপোর্ট বলছে, দেশে থাকা তৃণমূল নেতাকর্মীরা এসব কর্মসূচিতে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। তাদের কারও কারও ধারণা এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বিপদ আরও বাড়বে। দেখার বিষয় আওয়ামী লীগ মাঠে নামতে পারে কি-না। যদিও সরকার যে, এ ব্যাপারে হার্ডলাইনে থাকবে তা সাফ জানিয়ে দেয়া হয়েছে। পুলিশও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছে।

ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি’র আন্দোলনে নামার সম্ভাবনা পুরো বিষয়টিতে কৌতূহল তৈরি করেছে। বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ইতিমধ্যে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদও এক বক্তব্যে আন্দোলনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে একাধিক সূত্র বলছে, বিএনপি পুরো বিষয়টি সতর্কভাবে হ্যান্ডেল করতে চায়। বিএনপি নির্বাচন নিয়ে কোনো বিলম্ব চায় না। যদিও সরকার এবং নির্বাচন কমিশন সূত্র বলছে, চলতি বছর ডিসেম্বর কিংবা পরের বছর জানুয়ারিতে নির্বাচন হতে পারে। বিএনপি কোনোভাবেই এরপর আর যেতে চায় না। দলটি সম্ভব হলে এর আগেই নির্বাচনে অংশ নিতে চায়। ছাত্র নেতৃত্বাধীন দল নিয়েও বিএনপি’র মধ্যে একধরনের সংশয় রয়েছে। এ দল কতোটা রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা পায় সেদিকে দৃষ্টি রাখছেন বিএনপি’র নীতিনির্ধারকরা। বিএনপি নেতৃত্ব বিশ্বাস করে অবাধ নির্বাচন হলে তারা বড় জয় পাবেন। এক্ষেত্রে বিরোধী দল কারা হবে সেদিকেও তাদের দৃষ্টি রয়েছে।

জামায়াত ৫ই আগস্টের পর অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু দলটি ভোটের রাজনীতিতে কতোটা প্রভাব রাখতে পারবে তা আদৌ নিশ্চিত নয়। তাছাড়া, জামায়াতের সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন, বিএনপি তাদের বিরোধী দল হিসেবে চায় না। একাত্তর প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা নিয়েও জামায়াতে আলোচনা চলছে। দু’টি আইনি ইস্যুর সুরাহার পর মুক্তিযুদ্ধকালীন রাজনৈতিক ভূমিকার জন্য জামায়াত দুঃখপ্রকাশ করতে পারে।    

বাংলাদেশের রাজনীতির একধরনের চিত্র পাওয়া যায় ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মিয়ানমার ও বাংলাদেশ-বিষয়ক সিনিয়র কনসালট্যান্ট থমাস কিয়ান-এর মন্তব্যে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের মধুচন্দ্রিমা এখন পুরোপুরি শেষ। রাজনৈতিক দলগুলো এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ সংস্কার নিয়ে দরকষাকষি করায় এবং নির্বাচনী সুবিধার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠায় এই বছর রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো বাড়তে পারে। জিনিসপত্রের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির কারণেও সরকার চাপের মধ্যে রয়েছে যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার অব্যবস্থাপনার উত্তরাধিকার হিসেবে তারা  পেয়েছে। আর অর্থনীতিকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার চলমান প্রচেষ্টার সুফল বাংলাদেশের জনগণের বাস্তবে পেতে আরও সময় লাগবে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে এখনো টানাপড়েন রয়েছে আর  রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অদূর ভবিষ্যতে যুদ্ধবিধ্বস্ত  মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এরপরও আগামী বছর বাংলাদেশের সামনে দেশটির জাতীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুনর্গঠন এবং এটিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক করার একটি বিরল সুযোগ রয়েছে।’

শেষ কথা: সব মিলিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। হাসিনাবিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে দূরত্ব ও ফাটল বাড়ছে। চিরচেনা শত্রু-মিত্র’র সমীকরণও সম্ভবত পাল্টে যাচ্ছে। পাকিস্তানে কী হয়েছিল? ইমরানের বিরুদ্ধে পুরনো শত্রুরা কি এক হয়নি। বাংলাদেশের হিসাব অবশ্য আলাদা। একটি রক্তাক্ত অধ্যায় এখানে অতিক্রম করতে হয়েছে। কিন্তু রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে তো কিছু নেই।

mzamin

ড. ইউনূস তো সুযোগ করে দেয়ার ক্ষমতা রাখেন না: -মাহমুদুর রহমান মান্না

ছাত্রদের রাজনৈতিক দল গঠন করতে সুযোগ করে দেয়ার ক্ষমতা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাখেন না বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস সুযোগ করে দেয়ার ক্ষমতা রাখেন যদি তিনি ক্ষমতাকে অপব্যবহার করেন। তাছাড়া কী সুযোগ করে দেবেন বলেও প্রশ্ন রাখেন মান্না। তিনি বলেন, প্রটোকল দেবেন, তাদের পুলিশ প্রটেকশন দেবেন, তাদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেবেন? কি সুযোগ দেবেন? রাজনীতি করলে বেরিয়ে আসবেন। জনগণ যাদের সমর্থন দেবে, তারা ক্ষমতায় যাবেন এবং তাদের মতো করে দেশ গড়বেন। কেউ তো বাধা দেয়নি। সবাই স্বাগত জানিয়েছে।

‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘ছাত্ররা দল গঠন করবে’- এ লক্ষ্যে তারা দেশ জুড়ে লোকজনকে সংগঠিত করছে’- এ প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমান মান্না মানবজমিনকে বলেন, আমি এটা স্বাগত জানাবো। যেকোনো একটি দলকে সমর্থনও করতে পারি, কিন্তু তিনি ক্ষমতাকে ব্যবহার করে করতে পারেন কিনা? যে ছাত্ররা রাজনৈতিক দল করার কথা বলছেন, প্রকারান্তরে এরা তো ক্ষমতা ব্যবহার করছেন। আমি দাবি করেছিলাম যে, আপনারা যদি দল করেন তাহলে ছেড়ে দেন, ক্ষমতায় থাকবেন না। যেহেতু আপনারা রাজনীতি শুরু করেছেন, কথাবার্তা বলছেন।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার দেখলাম এক উপদেষ্টা বলেছেন, এটা অনেক ভাববার বিষয়। যদি ভাববার বিষয় হয় তাহলে কথাবার্তাগুলোও ভেবে বলেন। প্রধান উপদেষ্টা, উনি দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি। ‘তিনি সরাসরি বলছেন, ছাত্ররা এত বড় অভ্যুত্থান করলো, তাদের তো পরবর্তী আকাঙ্ক্ষা ইত্যাদি থাকতেই পারে।’ এটা শুধু তাদের আকাঙ্ক্ষা হবে কেন? সবার আকাঙ্ক্ষা আছে। তারপরও তাদের বিশেষ আকাঙ্ক্ষা আছে। এখন তারা সরাসরি রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে এটা করতে যাচ্ছেন। উনি সেটা সমর্থন করছেন। তার মানে এটা রাজনীতি সমর্থন করলেন তো?

মান্না আরও বলেন, ছাত্ররা মিলেই দল করবে, ছাত্রদের তো একটাই গ্রুপ না। আরও অনেক ছাত্র সংগঠন আছে। তাদের দল যদি তারা গড়ে তুলতে চায়? তাদেরকেও তিনি সুযোগ দেবেন? এটা বলে ড. মুহাম্মদ ইউনূস মহা একটা ভুল কাজ করেছেন, আমি মনে করি। উনি ক্ষমতায় থেকে, ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে থেকে, এটা বলতে পারেন না- আমি তাদের সুযোগ করে দিতে চাই। তাহলে তো ক্ষমতায় থেকে ক্ষমতায় যারা আছেন তাদের সুযোগ করে দেবেন। এটা ঠিক হয় নাই। আমি মনে করি, তাদের যদি  ভেতরে ভেতরে থাকে যে কিংস পার্টি করে তারা দেশ বদলাবেন, ওই ভাবে দেশ বদলাবে না।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, গণতান্ত্রিক সৌধ নির্মাণের অনেক পথ আছে। যেটার সবচেয়ে বেশি সুযোগ ড. ইউনূসের আছে। সেটা রাজনৈতিকভাবে। একটা সুস্থ রাজনীতি গড়ে ওঠার মাধ্যমেই তা হতে পারে এবং একটা গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর সেটা নির্ভর করে। সেটা না করে এগুলো করলে গণতন্ত্র ধ্বংস করবে এবং দেশের অগ্রগতিও ধ্বংস করবে।

mzamin