Sunday, August 5, 2018

নিরাপদ সড়ক আন্দোলন: কী ঘটেছিল ধানমণ্ডিতে?

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শনিবার আওয়ামী লীগ কর্মীদের সাথে সংঘর্ষে ঢাকার ধানমণ্ডির জিগাতলা এবং সায়েন্স ল্যাব মোড় অনেকটা রণক্ষেত্রে রূপ নিয়েছিল। তবে সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছিল। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মীরা বলছেন, তাদের কেউ ওই হামলা সঙ্গে জড়িত নয়।
ওই সংঘর্ষে অন্তত ২৫জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে, যাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।।
শনিবার ঠিক কি ঘটেছিল ধানমণ্ডিতে?
প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে এবং ঘটনাস্থল ঘুরে জানা গেল, জিগাতলার মোড়ে কিছু শিক্ষার্থী অবস্থান নিয়ে গাড়ির কাগজপত্র দেখছিল। দুপুরের পরে হঠাৎ করে হেলমেট পড়া একদল যুবক এসে লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা করে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রথমে পিছু হটে গেলেও একটু পরে সংগঠিত হয়ে তাদের ধাওয়া করে। এরপর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে। ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি চলে।
মোটরসাইকেলে হেলমেট পড়া যে যুবকরা ছিল, তারা পিস্তল উঁচিয়ে ফাঁকা গুলি করেছে বলেও জানিয়েছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী। কিছুক্ষণ পরে এই ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া থেমে যায়।
আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, হেলমেট পড়া যুবকরা তাদের কর্মী নয় বা তাদের কোন কর্মী সমর্থক এই হামলা করেনি। এদের কাউকে তারা চেনে না।
তবে ঘটনার শুরু সম্পর্কে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, আন্দোলনরত একজন শিক্ষার্থীকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন কর্মী ডেকে কথা বলেন।
কিন্তু কথা ছড়িয়ে পড়ে যে তাকে চড়থাপ্পর দেয়া হয়েছে, এরকম কথা ছড়িয়ে পড়ার পর সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে তারা বলছেন।
এই ঘটনার কিছু পরে বেশ কয়েকটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাদের কাছে খবর আসে যে, একজনকে জিগাতলায় আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ের পাশে নির্বাচনী অফিসে ধরে নিয়ে পিটিয়ে মারা হয়েছে।
আরো কথা ছড়িয়ে পড়ে যে, আওয়ামী লীগ অফিসের ভেতর একটি মেয়েকে ধরে নিয়ে ধর্ষণ করা হচ্ছে।
তখন বিভিন্ন স্থান থেকে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা এসে জিগাতলায় জড়ো হন। তারা স্বীকার করেছেন যে, এসব তারা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অফিসে ইটপাটকেল ছোড়ে। তখন তাদের মধ্যে কয়েক দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়।
এসময় দুই পক্ষেই অনেকে আহত হন। কাছেই পপুলার নামের একটি হাসপাতালে দুই পক্ষ মিলিয়ে ২৫জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
পুরো ঘটনার সময় পুলিশ নিষ্ক্রিয় অবস্থান নিয়েছিল বলে বলেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
বিকাল সাড়ে ৫টার পর ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কয়েকজনকে আওয়ামী লীগের অফিসের ভেতরে নিয়ে যান। তাদের তারা অফিসটি ঘুরিয়ে দেখান।
সেই শিক্ষার্থীরা বাইরে বেরিয়ে এসে বলেন, তারা যা শুনেছে, তা সঠিক নয়। এরপর আরো কয়েকজন শিক্ষার্থীকে এসে আওয়ামী লীগ অফিসের ভেতরে ঘুরিয়ে দেখানো হয়। পুলিশও কয়েকজনকে নিয়ে এসে অফিসটি দেখায়।
এরপর শিক্ষার্থীরা শান্ত হন। সন্ধ্যার দিকে পুরো এলাকাটি শান্ত হয়ে আসে।
ধানমণ্ডি থানার পুলিশ জানিয়েছে, শনিবারের ওই ঘটনায় কোন মামলা হয়নি।
পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ছাত্র নিহত বা ধর্ষণের যেসব গুজব রটানো হয়েছে, তারা তদন্ত করে তার কোন প্রমাণ খুঁজে পাননি।
সূত্র- বিবিসি বাংলা

জিগাতলা হামলা সরকারের দ্বৈত চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ by মুসা বিন মোহাম্মদ

জিগাতলায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকে সরকারের দ্বৈত চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. আনু মুহাম্মদ। মানবজমিন অনলাইনকে দেয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে  তিনি কথা বলেন চলমান আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে।
আনু মুহাম্মদ বলেন, শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভ এক কথায় ঐতিহাসিক জাগরণ, অভূতপূর্ব, সুশৃঙ্খল, দায়িত্বশীল, শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ ও অচিন্ত্যনীয়। ঢাকায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর থেকে দেশজুড়ে  এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনের মধ্যে একটি শক্তি রয়েছে। একদিকে সহপাঠিদের নিহত হওয়া অন্যদিকে সংগঠিত প্রতিবাদ জানিয়ে পরিশ্রম করে দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে রাস্তাঘাট ঠিক করতে হয়, আইন প্রয়োগ করতে হয়।
তাদের হাতে অস্ত্র নেই, ক্ষমতা নেই। গাড়ি ভাঙচুর না করে তারা সড়কে সুশৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সব মানুষকে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছে। শিক্ষার্র্থী এটা সম্ভব করেছে ন্যায্যতার মাধ্যমে।
আনু মুহাম্মদ বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পেছনের কারণ কেবল বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়া নয়; বরং দীর্ঘদিন শিক্ষার্থীদের মনে জমে থাকা তিক্ততা। এ কারণেই দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের এই সুশুঙ্খল বিক্ষোভ। শিক্ষার্থীরা দেখে আসছে, প্রতিনিয়ত গাড়ির নিচে তাদের সহপাঠি মারা যাচ্ছে, যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে, লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত হচ্ছে। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া অপরাধ দমনে বড়রা কিছু করছেন না। সমাধান হচ্ছে না। এসব তিক্ততা নিয়ে বয়সে ছোট হলেও তারা আন্দোলনে নেমে গেছে।
শিক্ষার্থীদের এটা অনেক বড় অর্জন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আন্দোলনকে দেশের সব মানুষ সমর্থন জানিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও শিক্ষার্থীদের সখ্যতা গড়ে ওঠতে দেখা গেছে। সমর্থনও জানিয়েছেন তারা। এ অবস্থায় আন্দোলনকারীদের সব দাবি মেনে নেয়া দরকার ছিল সরকারের। সরকার দাবি মেনে নেয়নি। দাবি মানলে নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খান পদত্যাগ করে দেখিয়ে দিতেন। দেখা গেছে, সড়কে এমপি-মন্ত্রীদের গাড়িতে লাইসেন্স ছিল না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও অনেক গাড়ির রুট পারমিট নেই। এসব মেনে চলা পুরাতন আইনেই আছে। সরকার সড়কের পুরাতন আইনই ভঙ্গ করেছে। আইনভঙ্গের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণের কোনো ভূমিকা সরকার গ্রহণ করেনি।
আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, আমরা দেখেছি, শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মধ্যেও শিক্ষার্থীসহ অনেক মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। তবুও সরকার শাজাহান খানকে পদত্যাগ করায়নি। সরকারে যারা থাকে তারা বোধশক্তি হারিয়ে ফেলে বলেই এসব দাবি তারা মানতে পারেনি।
ধানমন্ডির জিগাতলায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় সরকারের দ্বৈত চরিত্রের বহি:প্রকাশ বলে মন্তব্য কওে তিনি বলেন, একদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে সরকার প্রশংসা করছে অন্যদিকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে সরকারের লোক। কীভাবে তাদের ওপর হাত ওঠে। এটা আমাদের নিকট অবিশ্বাস্য বিষয়। এ অবস্থান সরকারের জন্য আতœঘাতী কাজ উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, শিক্ষঅর্থীদেও আন্দোলনে সবার সমর্থন ও তাদের সাথে রয়েছে জনগণ। তাদের ওপর সরকারের নগ্ন হামলার কারণে আন্তর্জাতিকভাবে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। অন্যদিকে সরকার জনবিচ্ছিন্নও হয়ে পড়ছে।

কত জনকে শয্যাসঙ্গী করেছেন মেগান

বৃটেনের লাভ আইল্যান্ড প্রতিযোগী মেগান বার্টন-হ্যানসন একজন এসকর্ট ছিলেন। তার থেকে বয়সে অনেক বেশি এমন পুরুষদের সঙ্গী হয়েছেন তিনি। বিনিময়ে পেয়েছেন প্রচুর অর্থ ও উপহার। শুধু তা-ই নয়। তিনি একজন ছিলেন একজন স্ট্রিপার। পোল ড্যান্সে গিয়ে মানুষের মনোরঞ্জন করতেন। এখন তিনি ২৪ বছর বয়সী এক সুন্দরী। তিনি যেসব পুরুষের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে সঙ্গী হয়েছেন তাদেরকে বলা হয় সুগার ড্যাডি। এক সময় মেগান বার্টনকে লন্ডনের টেমস নদীর পাশে একটি বিলাসবহুল এপার্টমেন্টে বসবাস করতে দেখা যায়। তিনি ওই সময় চালাতে থাকেন ৩০ হাজার পাউন্ড দামের এসইউভি। লন্ডনে আইটিভি-২ তে লাভ আইল্যান্ড একটি রগরগে অনুষ্ঠান। সেখানে যুবতী ও যুবকদের অবাধে ছেড়ে দেয়া হয়। তারা একে অন্যের সঙ্গে মেলামেশা করেন। যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। অনেক সময়ই একই কম্বলের নিচে একসঙ্গে দেখা যায় যুবক ও যুবতীকে। সে দৃশ্য আবার ভিডিও করে প্রচার করা হয়। এ প্রতিযোগিতায় মেগানের নতুন বয়ফ্রেন্ড তার চেয়ে চার বছর কম বয়সী ওসে নেলসন। তারা দু’জনে ওই লাভ আইল্যান্ড প্রতিযোগিতার ফাইনালিস্ট। অবস্থান তাদের চতুর্থ স্থানে।
একটি সূত্র বলেছে, লাভ আইল্যান্ড প্রতিযোগিতার আগে উঁচুমানের জীবনযাপন করতেন মেগান। লন্ডনের সেইন্ট ক্যাথেরিনে ডক এলাকায় তার ছিল চমৎকার একটি এপার্টমেনটট। তার ছিল রেঞ্জ রোভার ইভোক। ছিল সব রকমের ডিজাইনের ব্যাগ ও পোশাক, যা তিনি চাইতেন। এর বেশির ভাগই তিনি পেয়েছেন একজন পুরুষের কাছ থেকে, যার বয়স ৫০ উত্তীর্ণ। তার সঙ্গে মেগান অনেকটা সময় একসঙ্গে ওই এপার্টমেন্টে কাটিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি আরো অনেক বয়সী পুরুষের সঙ্গে ডেটিং করেছেন। তাদের সঙ্গে উন্মতাল সম্পর্কে জড়িয়েছেন। তারা মেগানকে তাদের বাহুবন্ধনে আবদ্ধ করতে ভালবাসতেন। মেগান যা চাইতেন তারা তাকে তাই দিতেন।
ওই সূত্র আরো বলেছেন, লন্ডনের একটি হোটেল দ্য ওয়েস্টবারি মেফেয়ারে একটি যুবকের সঙ্গে তার সাক্ষাত করার কথা ছিল। তাই হয়েছিল। তার গ্লামারাস জীবনযাপন দেকে ওই সুগার ড্যাডি তো গলে গিয়েছিলেন। তিনি তাকে প্রচুর অর্থ দিয়েছেন। দিয়েছেন অনেক চমৎকার সব জিনিসপত্র।
যাই হোক বিস্ময়কর মেগান বার্টন স্বীকার করেছেন তিনি ২৫ হাজার পাউন্ড খরচ করে কসমেটিক সার্জারি করিয়েছেন শরীরের আকর্ষণ বাড়াতে। কয়েকমাস আগে তিনি ডকের ওই এপার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে এসেছেন। ফিরে গেছেন নিজের শহর সাউথএন্ডে। এরপরম তিনি মেজোরকা ভিত্তিক ডেটিং শোতে স্বাক্ষর করেন। এতে অংশগ্রহণকারীরা জীবনসঙ্গী বেছে নেন। সোমবার এর চূড়ান্ত পর্র্বটি সোমবার দেখেছেন ৩৬ লাখ মানুষ।
গত সপ্তাহে লন্ডনে ফেরার পর তিনি তার এজেন্টের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। যোগ দেন লন্ডনভিত্তিক স্টুডিও ৬৬ ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে। এই প্রতিষ্ঠানটি ‘ইউকে বেবে চ্যানেলস’ পরিচালনা করে স্কাই ও ফ্রিভিউয়ের মতো রেড লাইট লাউন্ডের মতো, ফ্লার্ট একচেঞ্জ এবং প্লেবয় টিভি চ্যাটের মতো। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গিয়ে মেগান বার্টন ও ওয়েসকে নিয়ে সাউথএন্ডের ফ্লাটেই অবস্থান করছেন। তারা ঘোষণা দিয়েছেন তাদে মধ্যকার সম্পর্ক ‘সিরিয়াস’।

বাংলাদেশে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে জাতিসংঘ উদ্বিগ্ন

ঢাকায় নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপো
বাংলাদেশে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। আজ (রোববার) রাতে জাতিসংঘের ঢাকা অফিসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানানো হয়। একই সঙ্গে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানায় সংস্থাটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা ও বাংলাদেশের অন্যান্য অংশে সাম্প্রতিক প্রতিবাদ বিক্ষোভে ছেলেমেয়ে ও টিনেজারদের নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান হারে উদ্বিগ্ন জাতিসংঘের বিভিন্ন এজেন্সি। সড়ক নিরাপত্তার মতো ইস্যুসহ বৈধ অধিকারের ইস্যুতে নিজেদের কথা বলার অধিকার আছে ছাত্র ও যুবকদের। কোনো রকম সহিংসতার হুমকি ছাড়াই তাদের মতামত শুনতে হবে। সারা বিশ্বজুড়ে উন্নত সড়ক নিরাপত্তার দাবিতে ও বাংলাদেশে ট্রাফিক দুর্ঘটনার বিষয়ে দীর্ঘসময় প্রচারণা চালিয়ে আসছে জাতিসংঘ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতি বছর বাংলাদেশে কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন।
জাতিসংঘ বলেছে, গত কয়েকদিনে রাজধানীতে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা আহত হচ্ছেন। এটা একটি গভীর উদ্বেগের বিষয়। প্রতিবাদ বিক্ষোভের ফলে অনেক স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বিবৃতিতে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপো গভীর উদ্বেগ জানিয়ে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
আহত এক ছাত্রীকে নিয়ে যাচ্ছে সহপাঠীরা গত ২৯ জুলাই জাবালে নূর পরিবহনের দুটি বাসের রেষারেষিতে বিমানবন্দর সড়কে রাস্তার পাশে দাঁড়ানো একদল শিক্ষার্থীর উপর উঠে যায়। তাতে শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে তাদের সহপাঠীরা এরপর নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগ এবং ঘাতক চালকের ফাঁসিসহ ৯ দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার ছুটির দিনে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি মানার ঘোষণা দেয়া হলেও শিক্ষার্থীরা বলছে, দাবি আদায় না করে তারা ক্লাসে ফিরবে না।

ছাত্র বিক্ষোভে অচল ঢাকা -এপি’র রিপোর্ট

প্রতিবাদ বিক্ষোভে ৭ দিন ধরে অচল ঢাকা। সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা থেকে বার্তা সংস্থা এপি’র এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। ৩রা আগস্ট প্রকাশিত ওই রিপোর্টে বলা হয়, সড়ক দুর্ঘটনায় ২৯শে জুলাই ঢাকায় নিহত হয় দুই শিক্ষার্থী। এতে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। এতে বাকি দেশ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকা। ওদিকে বিক্ষোভকারীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে। এই বিক্ষোভের সূচনা গত রোববার থেকে, যখন দু’টি বাসের বেপরোয়া গতির কারণে একই কলেজের দু’শিক্ষার্থী মারা যান। এতে এক কোটি মানুষের রাজধানী অচল হয়ে পড়ে। ঢাকার মগবাজার এলাকায় শুক্রবার সকালে একজন বাইক চালককে ধাক্কা দেয় একটি বাস। এতে ওই বাইক চালক মারা যান। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা ওই বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
রিপোর্টে বলা হয়, রোববারের দুর্ঘটনার সময় দু’টি বাস যাত্রী ধরার প্রতিযোগিতায় বেপরোয়াভাবে সড়কে চলছিল, যা এ শহরে একটি সাধারণ ঘটনা। এ শহরটি নিয়মিত ট্রাফিক জ্যামে বিশৃঙ্খল অবস্থায় থাকে। দুর্ঘটনায় লিপ্ত দু’টি বাসের একটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তবে দু’টি বাসকেই পরে আটক করা হয়েছে। এরপর শিক্ষার্থীরা নেমে আসেন রাস্তায়। তারা হাজার হাজার যানবাহন আটকে দেন। এর মধ্যে রয়েছেন সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে বিচারক পর্যন্ত। এসব যানবাহন আটকে দিয়ে তারা তাদের গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও চালকের লাইসেন্স দেখতে চান। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা একজন মন্ত্রীর গাড়ির কাগজপত্র বৈধ নয় বলে দেখতে পান। ফলে তাকে ওই গাড়ি থেকে নেমে যেতে বাধ্য করেন তারা। তিনি নিজের গাড়ি থেকে নেমে যান। তবে শুক্রবার বড় ধরনের বিক্ষোভ দেখা যায়নি। কিন্তু ঢাকা প্রেস ক্লাবের সামনে বিপুল সংখ্যক মানুষ মানববন্ধন তৈরি করেন। তাদের আহ্বান পরিবহন খাতে সংস্কার। এই মানববন্ধনে যোগ দিয়েছিল দু’টি স্কুলগামী শিক্ষার্থী। তাদের মা সেলিনা আকতার। তিনি বলেছেন, আমরা অবশ্যই পরিবর্তন আনবো। ওদিকে রাজধানীর আরো বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছে ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপ।
এপি’র রিপোর্টে আরো বলা হয়, বাংলাদেশে দুর্নীতি তীব্র। এর ফলে লাইসেন্সবিহীন চালক হওয়া ও সড়কে রেজিস্ট্রিবিহীন গাড়ি নামানো খুব সহজ হয়ে পড়েছে। ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, চালকদের বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে ঘাটতির কারণে প্রতিবছর এখানে সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১২০০০ মানুষ মারা যান।
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের নেতা আবদুর রহিম বলেছেন, রাস্তায় নিরাপত্তার মান উন্নত না হলে বাস অপারেটররা বাস চালাবেন না। বিক্ষোভকালে অনেক বাসের ওপর হামলা করেছে বিক্ষোভকারীরা। তিনি বলেন, আমরা ব্যবসায় প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছি। বিক্ষোভের নামে লোকজন আমাদের গাড়ি পুড়িয়ে দিক এটা তো হতে পারে না। আমাদের নিরাপত্তার প্রয়োজন।
বাংলাদেশে জন চলাচলের মূল বাহন হলো বাস। এখানে যেসব রেল চলে তা থেকে মানুষে ঠাসা। আর বেশির ভাগ মানুষের প্রাইভেট কার কেনার সামর্থ্য নেই।

আমেরিকার হাতিয়ার ইরানবিরোধী সন্ত্রাসী 'মোনাফেকিন গোষ্ঠী': পর্ব-এক

প্যারিসে ইরান বিরোধী সন্ত্রাসী মোনাফেকিন গোষ্ঠীর সম্মেলন
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে গত ৩০ জুন ইরান বিরোধী সন্ত্রাসী মোনাফেকিন গোষ্ঠী 'এমকেও'র বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারের বৈঠকেও পাশ্চাত্য ও কয়েকটি আরব দেশের সাবেক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ থেকে জনসমর্থনহীন ইরান বিরোধী এ গোষ্ঠীর প্রতি ইউরোপের কোনো কোনো মহলের সমর্থনের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
ইরান বিরোধী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী 'এমকেও'র বৈঠকে অংশগ্রহণকারী পাশ্চাত্যের রাজনীতিবিদরা এই গোষ্ঠীর সহযোগিতায় ইরানের ইসলামি শাসন ব্যবস্থাকে উৎখাতের ব্যাপারে বক্তব্য দিয়েছেন। যদিও তাদের এ স্বপ্ন গত চল্লিশ বছরে পূরণ হয়নি বরং পাশ্চাত্য এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের আরব মিত্র দেশগুলো ও দখলদার ইসরাইলের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় ইরান অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের সাবেক সদস্য আব্বাস আলী মানসুরি অরানি ইরান বিরোধী বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে ফ্রান্সে এমকেও'র বৈঠক আয়োজনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেছেন, প্রতি বছর ইরান বিরোধী সন্ত্রাসী মোনাফেকিন গোষ্ঠীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং এর আগে এরা ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দামের পৃষ্ঠপোষকতা পেত। এ গোষ্ঠীটি এখনো মধ্যপ্রাচ্যে গোয়েন্দাবৃত্তির কাজ করছে এবং আমেরিকা ও ইসরাইলকে সহযোগিতা করছে।"
মাত্র কয়েক বছর আগেও আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তালিকায় ইরান বিরোধী সন্ত্রাসী মোনাফেকিন গোষ্ঠী এমকেও'র নাম ছিল। কিন্তু পাশ্চাত্যের কর্মকর্তাদের বিপুল অংকের অর্থ ঘুষ দিয়ে এবং লবিং করে সন্ত্রাসবাদের তালিকা থেকে এমকেও'র নাম প্রত্যাহার করা হয়। এরপর থেকে এ গোষ্ঠীর সদস্যরা ইউরোপীয় দেশগুলোর রাজধানীতে অবাধ যাতায়াতের সুযোগ পায় এবং বিভিন্ন শহরে তারা ইরান বিরোধী সমাবেশ করার অনুমতি পায়। এসব সমাবেশ কিংবা সম্মেলনে পাশ্চাত্যের দ্বিতীয় সারির রাজনীতিবিদরা বিপুল অংকের ঘুষের বিনিময়ে এমকেও'র পক্ষে নানান বক্তব্য দেন। ইরান বিরোধী এ গোষ্ঠীটি প্রতি বছর এ ধরণের সমাবেশ আয়োজনের মাধ্যমে প্রমাণ করার চেষ্টা করে তাদের প্রতি অনেক ইরানির সমর্থন রয়ছে। সমাবেশে লোকসমাগমের জন্য 'এমকেও' এমন সব বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসে যাদের অর্থের প্রয়োজন  রয়েছে। এ ছাড়া, ইউরোপে আশ্রয় নেয়া অন্য মহাদেশ থেকে আসা অভিবাসী এবং এমনকি ঘরবাড়ি হারা ছিন্নমূল মানুষকেও অর্থের বিনিময়ে সমাবেশে আসতে উৎসাহিত করা হয়।          
পাশ্চাত্যের ধারণা এমকেওকে ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে। পাশ্চাত্য বিশেষ করে আমেরিকা সবসময়ই সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার ক্ষেত্রে দ্বিমুখী নীতি অনুসরণ করে আসছে। তারা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কথা বললেও গত তিন দশক ধরে ইরান বিরোধী এমকেওকে পৃষ্ঠপোষকতা ও সমর্থন দিয়ে আসছে। যদিও তারা জানে এমকেও একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। বর্তমানে তাদের প্রধান ঘাঁটি ফ্রান্সে যা কিনা সেদেশের পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। ইউরোপের সন্ত্রাসীর তালিকায় এক সময় ইরান বিরোধী এ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নাম থাকলেও বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এদেরকে সমাবেশ করার লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। এদের মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত থাকা সত্বেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ইরাকের সাদ্দাম এক সময় ইরান বিরোধী এ গোষ্ঠীকে সমর্থন দিত। এরপর আমেরিকাও ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিরুদ্ধে গোয়েন্দাবৃত্তি কাজে এদের ব্যবহার করে। এই সন্ত্রাসীদের দেয়া মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই আমেরিকা ও ইসরাইল ইরানের পরমাণু কর্মসূচীর বিরুদ্ধে তৎপরতা শুরু করে।      
ইরান বিরোধী সন্ত্রাসী মোনাফেকিন গোষ্ঠী এমকেও ১৯৬০ এর দশকে সংগঠিত হলেও এদের সদস্য-সংখ্যা খুবই কম। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পরপরই তখনকার গোলযোগপূর্ণ পরিস্থিতির সুযোগ নেয় এ গোষ্ঠীটি এবং অনেকেই এ গোষ্ঠীতে যোগ দেয়। এরপর ১৯৮১ সালের পর থেকে এমকেও ইরানের ইসলামি শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংঘাতে লিপ্ত হয় এবং দেশটির কর্মকর্তাসহ হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে তারা শহীদ করে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১৯৮০'র দশকে এবং এর পরেও এমকেও'র হামলায় ১৭ হাজারের বেশি ইরানি শহীদ হয়েছে। এরপর ইরানে টিকতে না পেরে এ গোষ্ঠীটি ইরাকে আশ্রয় নিয়েছিল এবং সাদ্দামের ছায়াতলে থেকে তারা ইরাকের জনগণের বিরুদ্ধে দমন অভিযান এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছিল। সাদ্দামের সহযোগিতায় এ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি ইরান ও ইরাকের হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। এ প্রসঙ্গে ১৯৯১ সালে দক্ষিণ ইরাকে শিয়া মুসলমানদের বিরুদ্ধে এবং  উত্তর ইরাকের কুর্দিদের বিরুদ্ধে দমন অভিযানের সময় সাদ্দামকে এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সহযোগিতার কথা উল্লেখ করা যায়।
শেষ পর্যন্ত ইরান বিরোধী এই সন্ত্রাসী মোনাফেকিন গোষ্ঠীকে ইরাকের স্বৈরশাসক সাদ্দামের স্পেশাল বাহিনী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ক সমন্বয়কারী ড্যানিয়েল বেঞ্জামিন ২০০৯ ও ২০১২ সালের মাঝামাঝি সময়ের দিকে পলিটিকো সাময়িকীতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে ইরান বিরোধী মোনাফেকিন গোষ্ঠীর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "ইরানের প্রখ্যাত আলেম আয়াতুল্লাহ বেহেশতির মতো দেশটির বহু কর্মকর্তা এবং হাজার হাজার সাধারণ মানুষ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন। এ কারণেই এই গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।"   
সাদ্দামের পতনের পর ইরান ও ইরাকের জনগণের বিরুদ্ধে মোনাফেকিন গোষ্ঠীর নৃশংসতা ও অপরাধযজ্ঞের বহু ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর আমেরিকা ও ইউরোপ এদেরকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু ইসরাইল ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিরুদ্ধে গোয়েন্দাবৃত্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যে লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য এই গোষ্ঠীটিকে ব্যবহার করে। এরপর আমেরিকাও ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য মোনাফেকিন গোষ্ঠীর প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন দেয়া শুরু করে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা এ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে পুনরায় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের ব্যাপারে তাদের লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন করতে পারবে। এ কারণে আমেরিকা ২০১২ সালে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তালিকা থেকে মোনাফেকিন গোষ্ঠীকে বাদ দেয়। সন্ত্রাসীদের তালিকা থেকে বাদ দেয়ার জন্য মোনাফেকিন গোষ্ঠীর নেতারা মার্কিন কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়েছিল এ কথা উল্লেখ করে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ক সমন্বয়কারী ড্যানিয়েল বেঞ্জামিন বলেন, ওয়াশিংটন অর্থের বিনিময়ে সন্ত্রাসীদের সব অপরাধযজ্ঞ চেপে যাচ্ছে।
ইরানবিরোধী সন্ত্রাসী মোনাফেকিন গোষ্ঠীর নৃশংস কর্মকাণ্ডের প্রতি ইরাকের জনগণ এতোটাই ক্ষুব্ধ ছিল যে সাদ্দামের পতনের পরপরই ওই দেশে টিকে থাকা সন্ত্রাসীদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তখন সন্ত্রাসীদের রক্ষায় আমেরিকা এগিয়ে আসে এবং তাদেরকে আলবেনিয়ায় স্থানান্তরের কাজ শুরু করে। সাবেক মার্কিন সিনেটর রবার্ট তুরিচলি সে সময় বলেছিলেন, "ইউরোপের দেশ আলবেনিয়ার সঙ্গে আমেরিকার সুসম্পর্ক বজায় থাকায় সন্ত্রাসীদেরকে ইরাক থেকে ওই দেশে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।"
যাইহোক, এখনো পর্যায়ক্রমে সন্ত্রাসীদেরকে আলবেনিয়ায় পাঠানোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে । ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ পর্যন্ত প্রায় ৩২৫০ জন সন্ত্রাসীকে আলবেনিয়ায় স্থানান্তর করা হয়েছে। ইরান বিরোধী এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নেতারা অবাধে আমেরিকায়ও সফর করছে এবং পেন্টাগনের অতিথি হিসেবে সেখান অবস্থান করছে। আমেরিকার তার লক্ষ্য পূরণের জন্য এদেরকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন ওসামা বিন লাদেনের মা

নিহত ওসামা বিন লাদেনের মা আলেয়া ঘানেম
আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদার সাবেক প্রধান নিহত ওসামা বিন লাদেনের মা আলিয়া ঘানেম প্রথমবারের মতো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ছেলেকে নিয়ে কথা বলেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি জানিয়েছেন লাদেন সম্পর্কে বেশ কিছু অজানা তথ্য।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ড ট্রেড সেন্টারে ভয়াবহ হামলায় প্রাণ হারিয়েছিল ২ হাজার ৭৫৩ জন। শনাক্ত হওয়া গেছে ১ হাজার ৬৪১ জনের পরিচয়। শুধু প্রাণের হিসেবেই নয়, সেই ঘটনায় পাল্টে গেছে বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্র। ঘটনার পরপরই সন্দেহের তীর আল কায়দার ওপর গিয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে নির্মম হামলাগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয় অস্বীকার করলেও ২০০৪ সালে হামলার দায় স্বীকার করে নেন আল কায়দা প্রধান ওসামা বিন লাদেন। পরে ২০১১ সালে মার্কিন সিল টিমের অভিযানে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে নিহত হন ওসামা বিন লাদেন।
আল কায়েদা প্রধান হিসেবে প্রায় দুই দশক ধরে দায়িত্ব পালন করা ওসামা সম্পর্কে এতদিন কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিলেন তার মা। কিন্তু সৌদি আরবে ৩২ বছরের প্রভাবশালী যুবরাজ হিসেবে মুহাম্মদ বিন সালমান দায়িত্ব নেওয়ার পর লাদেন পরিবারের সাক্ষাৎকার নিতে দ্য গার্ডিয়ানের অনুরোধে সাড়া দেন তিনি। কারণ, লাদেন পরিবার সৌদি আরবের অন্যতম প্রভাবশালী পরিবার এবং তাদের সব ধরনের গতিবিধি ঘনিষ্ঠভাবে নজরদারিতে রাখা হয়।
এতদিন পর সাক্ষাৎকারের অনুমতির কারণ সম্পর্কে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব ও লাদেন পরিবারে ওসামার ঘটনাটি বড় ধরনের কলঙ্কজনক অধ্যায়। সিনিয়র কর্মকর্তারা মনে করছেন, লাদেন পরিবারকে তাদের কাহিনি বলার সুযোগ দিলে তারা একটি বার্তা দিতে পারবেন- আর তা হলো ওসামা তাদের কোনও এজেন্ট ছিলেন না। সৌদি আরবের সমালোচকরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিলেন, ওসামা সৌদি সরকারের সমর্থন পেয়েছিলেন। একই সঙ্গে ৯/১১ হামলায় ক্ষতিগ্রস্তরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে। বিমান হাইজ্যাকের ঘটনায় জড়িত ১৯ জনের মধ্যে ১৫ জনই ছিলেন সৌদি আরবের নাগরিক।
স্বাভাবিকভাবেই লাদেনের পরিবার দ্য গার্ডিয়ানের সঙ্গে শুরুতে আলোচনার বিষয়ে সতর্ক ছিল। তারা নিশ্চিত ছিলেন না যে পুরনো ক্ষত খুঁচিয়ে তুললে তা আবেগমুক্তি ঘটাবে নাকি ক্ষতিকর হবে। বেশ কয়েকদিন আলোচনার পর তারা সাক্ষাৎকারে রাজি হন।
দ্য গার্ডিয়ান প্রতিবেদক মার্টিন চুলব জানান, জুন মাসের শুরুতে গরমের দিনে তিনি লাদেন পরিবারের সঙ্গে প্রথম কথা বলেন। ওই সময় তাদের সঙ্গে সৌদি আরবের সরকারের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। যদিও তিনি আলোচনায় কোনও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টারের করেননি।
ওসামার সৎভাইদের মাঝখানে বসে আলিয়া নিজের প্রথম সন্তান ওসামাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, লাজুক হলেও সে পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল। ২০ বছরের দিকে সে শক্তিশালী, উদ্যমী ও ধার্মিক ব্যক্তিতে পরিণত হয়।
ছেলেকে নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুলে আলিয়া ঘানেম আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, সে আমার কাছ থেকে অনেক দূরে ছিল, তাই আমার জীবন ভীষণ কঠিন ছিল। সে খুব ভালো ছেলে ছিল এবং আমাকে অনেক বেশি ভালোবাসতো।
লাদেনের মা সৎবাবাকে দেখিয়ে জানান, তিন বছর বয়স থেকেই ওসামাকে বড় করেছেন তিনি। তিনি ভালো মানুষ এবং ওসামার কাছেও ভালো ছিলেন।
আলিয়া দাবি করেন, জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময়েই ওসামা উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়েন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকেরাই তাকে বদলে দেয়। সে অন্যরকম মানুষে পরিণত হয়। বিশ বছর পার হওয়ার প্রথম দিকে কিছু মানুষ তার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দেওয়ার আগ পর্যন্ত সে ভালো ছেলে ছিল। ওই মানুষেরা নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য অর্থ পেয়েছিল। আমি তাকে সবসময় এদের কাছ থেকে দূরে থাকতে বলতাম। কিন্তু সে কখনোই আমাকে কিছু বলত না। কারণ, সে আমাকে অনেক বেশি ভালোবাসত।