Friday, July 1, 2016

‘গরুর মাংস খাইতে খুব মন চায়’

‘আমার নাম লোকমান। ভালা নাম সাফায়েত হোসেন। বয়স হইল গিয়া ১২ বচ্ছর। কেলাস ফাইভে পড়ি। ইশকুলের নাম মতিঝিল আইডিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।’ নাম জিজ্ঞেস করতেই ছেলেটি এক নিশ্বাসে এসব তথ্য আমাকে দেয়। গত ২৬ জুন সকালে লোকমানের দেখা পাই রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী এলাকায়। মায়ের সঙ্গে সে তখন বিভিন্ন বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ করছিল। এরই এক ফাঁকে কথা বলি তার সঙ্গে। কথায় কথায় জানা গেল নানা তথ্য। প্রতিদিন সকালে মায়ের সঙ্গে বের হয় লোকমান। তার মা শাহিদা বেগম প্রতিদিন রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী এলাকার প্রায় ২০০ বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের কাজ করেন। আর লোকমানের কাজ হলো মাকে সাহায্য করা। মা তার অসুস্থ কিনা। জানতে চাই, ‘তোমার মায়ের কী অসুখ হয়েছে?’
‘মায়ের ডাইবেটিস আছে। গলার অসুখ আছে। কিছু খাইতে পারে না। খাইলেই গলায় বাইজ্যা যায়। ট্যাকার অভাবে ডাক্তার দেহাইতে পারে না।’
‘কত টাকা বেতন পান তোমার মা?’
‘সাড়ে সাত হাজার টাকা। কিন্তু সংসারে সব ট্যাকা খরচ হইয়া যায়। বাড়িভাড়া সাড়ে চার হাজার ট্যাকা। পানির বিল, কারেন্টের বিল দেওন লাগে। আমার পড়ার খরচও অনেক। ইশকুল থেইক্যা বেতন লয় না। তয় কোচিংয়ে ১ হাজার ২০০ ট্যাকা দেওন লাগে। এক খালার কাছে পেরাইভেট পড়ি। তারে দেওন লাগে ৫০০ ট্যাকা। হের উপর বাজার সদাই আছে। হের লাইগ্যা মায়ের কাছে ডাক্তার দেহানোর ট্যাকা আর থাকে না।’
লোকমানদের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায়। তবে গ্রামে তাদের যাওয়া হয় খুবই কম। এখন থাকে রাজধানীর উত্তর বাসাবোর এক কক্ষের একটি টিনশেড বাড়িতে। তার বাবার নাম মো. ইউনুস। শাহজাহানপুর অফিসার্স ক্লাবে থালাবাসন ধোয়ার কাজ করেন। মাস শেষে তিনি কত টাকা পান, তা লোকমান জানে না। সকাল ছয়টায় লোকমান মায়ের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর ময়লার গাড়ি নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ময়লা সংগ্রহের কাজে নেমে পড়ে। সাধারণত গৃহকর্মীরা ময়লা এনে গাড়িতে ফেলেন। যেসব বাসায় গৃহকর্মী নেই, সেসব বাড়ি থেকে ময়লা নিয়ে আসে লোকমান। বিনিময়ে মাস শেষে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা মেলে। কোনো কোনো বাসা থেকে নাশতাও মেলে।
রোজার মাস বলে এখন ময়লা সংগ্রহের পুরো সময়টায় সে মায়ের সঙ্গে থাকে। কিন্তু যখন স্কুল খোলা থাকে তখন নয়টার সময় বাসায় ফিরে যায়। এরপর তৈরি হয়ে স্কুলে যায়। সকাল ১০টা থেকে স্কুল শুরু। চলে বেলা দুইটা পর্যন্ত। এরপর আড়াইটা থেকে কোচিং শুরু হয়। শেষ হয় বিকেল চারটায়। বাড়ি ফিরে ভাত খেয়ে সন্ধ্যা ছয়টার সময় প্রাইভেট পড়তে যায়। ছুটি মেলে রাত আটটায়। এরপর আবার বাড়ি ফেরা।
‘তোমার আর ভাইবোন নেই?’
‘একটা ভাই আছে। আমার থেইক্যা বড়। তার নাম বজলু।’
‘তোমার ভাই কি পড়ালেখা করে? স্কুলে যায়?’
‘না, হে পড়ালেখা করে না। কেলাস ফোর পর্যন্ত পড়ছে। কোনো কাইমকাইজও করে না। খালি বন্ধুবান্ধবগো লগে ঘুরে।’
‘তোমার পড়ালেখা করতে ভালো লাগে?’
‘হ, ভালাই লাগে। তয় ইংরাজিটা কডিন লাগে। অনেক সময় কিছু বুজবার পারি না।’
‘বাসায় টেলিভিশন আছে?’
‘হ, আছে। ডিশের লাইনও আছে।’
‘কোন চ্যানেল বেশি দেখো?’
‘সনি চ্যানেলে ভূতের নাটক দেখি বেশি।’
‘আজ সকালে কী নাশতা খেয়েছো?’
‘ও আল্লাহ! কী কন? আমি তো রোজা আছি।’
‘রোজার মাস ছাড়া অন্য সময় সকালে কী দিয়ে নাশতা করো?’
‘বাড়িতে কোনো নাশতা নাই। মা আমারে ১০-১৫ ট্যাকা দেয়। হেই ট্যাকা দিয়া শিঙাড়া-মিঙাড়া এই সব খাই।’
‘শুধু শিঙাড়া খেয়ে পেট ভরে তোমার?’
‘প্যাট ভরে না এইডা ঠিক। কিন্তু কী করুম। মায়ে তো এর থেইক্যা বেশি দিবার পারে না।’
‘ভাতের সঙ্গে কী তরকারি খাও?’
‘শাক, ডাইল এই সব দিয়া ভাত খাই। মাজেমইধ্যে যেসব বাড়ি থেকে ময়লা লই, হেইসব বাড়ি থেইক্যা মুরগির চামড়া, গিলা-কলিজা এই সব দেয়। এইগুলা আমার মা রান্দে। হেই দিয়া ভাত খাই।’
‘তোমার কী খেতে বেশি ইচ্ছা করে’
‘আন্টি আপনারে কই, আমার গরুর মাংস খাইতে খুব মন চায়। কিন্তু মাংসের দাম এত বেশি, আমার মা কিনবার পারে না। হের লাইগ্যা খাইতে পারি না।’
‘সামনে তো ঈদ। ঈদের জামা কিনেছ?’
‘না অহনও কিনি নাই। ঈদের সময় অনেক বাড়ি থেকে মায়েরে বকশিশ দিব। তহন হেই ট্যাকা দিয়া মা আমারে জামা কিন্যা দিব।’
‘ঈদের বাজার কোথায় করো?’
‘শাহজাহানপুর খেলার মাঠের পাশে রেল কলোনির বাজার আছে। ঈদের আগের রাইতে সেইখানে গিয়া পছন্দ কইরা গেঞ্জি-প্যান্ট কিনি।’
‘তোমার মা নিজের জন্য কিছু কেনেন না?’
‘মায়ে তো অনেক শাড়ি পায়। অনেক বাসা থেইক্যা মায়েরে শাড়ি দেয়। হেইগুলাই মা ঈদের দিন পরে। নিজের আর কিনন লাগে না।’ এরপর লোকমান আর দাঁড়ায় না। বলে, ‘অনেক দেরি হইয়া গেছে আন্টি। আপনার লগে পরে কথা কমু।’ এই বলে দৌড়ে চলে যায় ময়লার গাড়ির দিকে।
রোকেয়া রহমান: সাংবাদিক।

শিশু সনুর ঘরে ফেরা

কেউ রাষ্ট্রনায়ক, কেউ নায়ক বা মহানায়ক। কিন্তু এমন একজন আছেন যিনি নায়ক-মহানায়ক কিছুই নন, তিনি মহান ত্রাতা। তাঁর সংগ্রামের কারণে দিল্লি থেকে অপহৃত হওয়া শিশু সনু গতকাল মা-বাবার কাছে ফিরতে পেরেছে। তিনি বরগুনার বেতাগী উপজেলার জামাল ইবনে মুসা। এ জন্য মিথ্যা মামলায় জেল খেটেছেন, চাকরি হারিয়েছেন, দিল্লিতে গিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। ভারতের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র বজরঙ্গি ভাইজান-এর গল্পকেও হার মানায় মুসার মহিমা। এই নিষ্ঠুর সময়ে মুসা দেখিয়ে দিলেন, মানুষ হারতে পারে কিন্তু মানবিকতা হারে না। মানব পাচারকারীদের চক্করে পড়ে দিল্লির সনু ছয় বছর আগে এসে ঠেকে বেতাগী উপজেলার এক বাড়িতে। সেই বাড়ির কর্ত্রীর নির্যাতনে প্রায়ই পালিয়ে যেত সনু। আর ঢাকায় চাকরি করা মুসা গ্রামে গিয়ে এই ঘটনায় বিচলিত হন। পালিয়ে যাওয়া সনুকে একবার তিনি উদ্ধারও করেন। কিন্তু নির্যাতকের হাতে দেওয়ার বদলে তাকে রাখেন স্থানীয় সাংসদের জিম্মায়। এরপর মুসা নামেন আরও দীর্ঘ ও জটিল লড়াইয়ের ময়দানে।
অসহায় শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আইনি লড়াইয়ে নামেন। এ জন্য সনুর দখলদার হাসি বেগম মুসা, তাঁর পুত্র ও আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধে মামলা দেন। মুসা দুই দফায় এক মাস ২৪ দিন জেলও খাটেন। তবু থামেননি। শেষমেশ আদালত জড়িত হন, জড়িত হয় ভারতীয় হাইকমিশন, দিল্লিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকেও স্বয়ং জড়িত করেন মুসা। খুঁজে বের করেন সনুর বাবা-মাকে। বাকি গল্প হৃদয়স্পর্শী মিলনের, বাকি গল্প এক মানবীয় জাগরণের। মুসা কে আসলে? ৫২ বছর বয়সী এক পিতা, এক সজ্জন বাংলাদেশি নাগরিক। অন্যরা যখন আহা-উহু করে দায় সেরেছে, তখন মুসা দায় নিয়েছেন। তাঁর অদম্য মহানুভবতায় একটি শিশু ঘরে ফিরেছে, অনেক মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসার তরঙ্গ বয়ে গেছে। একটি শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে নির্যাতিত মুসার জন্য কি কিছু করতে পারে না সরকার? আরও আরও সনুদের ঘরে ফেরানোর জন্য এ রকম উদ্যোগকে উৎসাহিত করাই তো আমাদের দায়িত্ব।

টরি দলে ইইউ-ব্রেক্সিট লড়াই

ব্রেক্সিট গণভোটের পর ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীত্বের লড়াই হতে যাচ্ছে ইইউপন্থী ও ব্রেক্সিট সমর্থিত প্রার্থীর মধ্যে। ‘ব্রেক্সিট প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে স্বীকৃত লন্ডনের মেয়র বরিস জনসনের সরে দাঁড়ানো এবং মাইকেল গভ ও থেরেসা মের প্রার্থিতা ঘোষণায় সেই সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। ব্রিটেনে ২৩ জুনের গণভোটে ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় হওয়ার পর ধরেই নেয়া হচ্ছিল বরিস জনসনই হচ্ছেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।
ভোটের পরদিন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের পদত্যাগের পর সেই ধারণা আরও শক্ত হয়। কারণ ইইউ ছাড়ার পক্ষের প্রচারণায় বরিস জনসনই নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাকে সঙ্গ দিয়েছেন দেশটির আইনমন্ত্রী মাইকেল গভ। খবর বিবিসি, নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য গার্ডিয়ানের। বৃহস্পতিবার হঠাৎ করেই প্রার্থিতা ঘোষণার সময়সীমা শেষের কয়েক মুহূর্ত আগে দু’দুবার নির্বাচিত লন্ডনের সাবেক মেয়র অপ্রত্যাশিতভাবে লড়াইয়ে না নামার সিদ্ধান্ত জানান। এটাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘পলিটিক্যাল বোম্বশেল’ অর্থাৎ রাজনৈতিক বোমা ফাটানোর সঙ্গে তুলনা করছেন। এই নাটকীয়তার আগে আরও একটি নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে, ব্রিটেনের রাজনীতিতে। ইইউ ছাড়ার পক্ষে জনসনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগী কনজারভেটিভ পার্টির আরেক নেতা, মাইকেল গভ, হঠাৎ করেই এদিন দলের নেতা হওয়ার জন্য প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছিল, মাইকেল গভ জনসনকেই সমর্থন দেবেন এবং তার অন্যতম সহযোগী হিসেবে পাশে থাকবেন। বিশ্লেষকরা বলছেন,
জনসন হয়তো এমন আশংকা করছেন যে জেতার জন্য যতজন এমপির সমর্থন দরকার, তার হয়তো সেই সমর্থন নেই। এ জন্য সরে দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া টরি দলকে চালানোর ক্ষমতা জনসনের নেই- এমন চ্যালেঞ্জ ছোড়েন গভ। ফলে জনসনকে পল্টি দিয়ে মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করে ফেলেছেন মাইকেল গভ। আর তারই অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়েছেন ইইউতে থেকে যাওয়ার পক্ষের সমর্থক ও সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা মে। এতে করে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীত্বের চূড়ান্ত লড়াই হচ্ছে ব্রেক্সিট ও ইইউপন্থী সমর্থকের মধ্যে। বরিস জনসনের প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর পর, ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির (টরি দল) পরবর্তী নেতা এবং পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হচেছন- সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছ। এ দু’জন ছাড়াও প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন কর্মসংস্থান ও অবসরমন্ত্রী স্টেফেন ক্রাব, জ্বালানিমন্ত্রী এদ্রিয়া লিডসাম ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিয়াম ফক্স। টরি দলের এসব প্রার্থীর মধ্যে এখন সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন থেরেসা মে।

পণ্য রফতানি দাঁড়িয়েছে ১৯৪ কোটি ডলার

আদমজী ইপিজেডের প্রধান ফটক -যুগান্তর
বন্ধ হয়ে যাওয়া এশিয়ার বৃহত্তম জুট মিল আদমজী জুট মিলের জায়গায় গড়ে উঠা আদমজী ইপিজেডে বর্তমানে ৪৮ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তা কাজ করছেন। এ ইপিজেড থেকে গত ১০ বছরে (ডিসেম্বর-২০১৫ পর্যন্ত) বিদেশে রফতানি করা হয়েছে ১৯৪৫ দশমিক ৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। ডিসেম্বর-২০১৫ইং পর্যন্ত বিনিয়োগ করা হয়েছে ৩৩৯ দশমিক ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০০২ সালের ৩০ জুন বিএনপি সরকার ১২শ’ কোটি টাকা লোকসানের অজুহাতে আদমজী মিলটিকে বন্ধ করে দেয়। ফলে ২৪ হাজার ৯১৬ জন শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েন। ঐতিহ্যবাহী মিলটি বন্ধের ১৪তম বছর পূর্তি ছিল ৩০ জুন। মিলটির জায়গায় ২০০৬ সালে তৈরি করা হয় আদমজী ইপিজেড। আদমজী ইপিজেডের অগ্রগতি তথ্য (আপডেট তথ্য) সংগ্রহ করতে এ ইপিজেড কার্যালয়ে গেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন সাংবাদিকদের।
আদমজী ইপিজেডকে বহির্বিশ্বের কাছে পরিচিতি করে তুলতে এর পজেটিভ কোনো সংবাদের তথ্যের জন্য ইপিজেডে কোনো সাংবাদিককে প্রবেশ করতে হলে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। অথচ ইপিজেডের কর্মকর্তাদের আশীর্বাদে ইপিজেড অভ্যন্তরে অবাধে সন্ত্রাসী ও বহু মামলার আসামিরাও অহরহ ঢুকছে। অবাধে তারা এ ইপিজেডে ঠিকাদারি ব্যবসা চালিয়ে আসছে কর্মকর্তাদের সন্তুষ্ট করেই। আদমজী ইপিজেড সূত্র মতে, বন্ধ হয়ে যাওয়া আদমজী পাটকলের জায়গাতেই ২৪৫ দশমিক ১২ একর জমির ওপর আদমজী ইপিজেড (এইপিজেড) স্থাপিত হয়েছে। এ ইপিজেডের মোট প্লটের সংখ্যা ২২৯টি। ৬০টির বেশি দেশী-বিদেশী শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে এ ইপিজেডে। বর্তমানে কারখানা চালু রয়েছে ৪৮টি। প্রতিটি প্লটের আয়তন ২ হাজার বর্গমিটার। কোনো কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান ১০-এর অধিকও প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। এসব কারখানায় গার্মেন্ট, জিপার, কার্টন, হ্যাঙ্গার, লেভেল, ট্যাগ, জুতা, সোয়েটার, টেক্সটাইল, মুজা, জুয়েলারি, পলি ও ডায়িংসহ ইত্যাদি পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। যা ১০০ ভাগ রফতানিযোগ্য পণ্য। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমানে ৪৮ হাজার জন শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন। এর মধ্যে দুই শতাধিক বিদেশী কর্মকর্তা-কর্মচারীও রয়েছেন।
এ ইপিজেডে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে (ডিসেম্বর-১৫ পর্যন্ত) মোট বিনিয়োগ করা হয়েছে ৩৩৯ দশমিক ১ মিলিয়ন মার্কিন ডালার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের (ডিসেম্বর-১৫) পর্যন্ত ১০ বছরে সর্বমোট ১৯৪৫ দশমিক ৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি করা হয়। হংকং, কানাডা, জাপান, রোমানিয়া, সিঙ্গাপুর, জার্মানি, ইউইএ, আমেরিকা, থাইল্যান্ড, ভারত, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ইউক্রেন, দক্ষিণ কোরিয়া, কুয়েত, পর্তুগাল, চীন ও মরিশাসসহ বেশ কয়েকটি উন্নত দেশ এ ইপিজেডে বিনিয়োগ করেছে। এদিকে বুধবার এ ইপিজেডের কার্যালয়ে অগ্রগতির তথ্য (আপডেট তথ্য) নিতে গেলে জিএমসহ ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তারা বেপজার মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) নাজমা বিনতে আলমগীরের মোবাইল ফোন ধরিয়ে দেন। অবশ্য পরে ওই কর্মকর্তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তথ্য দেবেন বলে জানান। এভাবেই তথ্য নিতে গিয়ে নানা হয়রানির শিকার হতে হয় সাংবাদিকদের। তবে আদমজী ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আশরাফুল কবির শুধু জানান, আদমজীতে বর্তমানে ৪৮ হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। সবগুলো প্রতিষ্ঠান চালু হলে প্রায় ৬০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী এ ইপিজেডে কাজ করতে পারবেন।

ন্যাটোয় আস্থা শেষ, নিজস্ব সামরিক বাহিনী গড়বে ইইউ

বাইরের হুমকি থেকে নিজেদের সুরক্ষার ব্যাপারে সামরিক জোট ন্যাটোর ওপর আর আস্থা রাখতে পারছে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এবার নিজস্ব সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার কথা ভাবছে ২৭ রাষ্ট্রের এই জোট সংস্থাটি। এ ব্যাপারে ইইউর বিদেশনীতি প্রধান ফেডরিকা মঘরিনি ডেইলি এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘যে কোনো ব্যাপারে স্বাধীনভাবে ভূমিকা রাখার জন্য নিজস্ব বাহিনী গঠনের কথা ভাবা হচ্ছে। এছাড়া ক্ষমতার ভারসাম্যের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটা সম্মানজনক সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্যও বিশ্বস্ত ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা জরুরি হয়ে পড়েছে।’ ব্রেক্সিটের মাধ্যমে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার আগে থেকেই এই প্রস্তাব আলোচনায় থাকলেও ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের পর ইউনিয়নের জন্য এটি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন ফেডরিকা। তবে এ উদ্যোগের সমালোচনা করেছে ব্রিটেন। ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিশেল ফ্যালকন বলেন, ‘কোনো রাষ্ট্রই চাইবে না যে ব্রাসেলস থেকে তাদের বাহিনীর ওপর কোনো আদেশ চাপিয়ে দেয়া হোক।’ এ ব্যাপারে ন্যাটোর মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ বলেন, ‘ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে ব্রিটেন।
সুতরাং তাদের যেন কোনো সমস্যা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত।’ ইইউর নিজস্ব বাহিনীর সম্পর্কে রয়টার্স বলেছে, নিরাপত্তার পাশাপাশি এই বাহিনী ইউরোপের সীমান্ত পাহারায় কাজ করবে। এর ফলে অবাধে শরণার্থীর প্রবেশ রোধ করা হবে। তবে এর ফলে জলসীমায় ব্রিটিশ জাহাজের অবাধ চলাচলে বিঘœ ঘটতে পারে।’ এদিকে ব্রাসেলসভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাবিত ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজি’ সংক্রান্ত তথ্য থেকে জানা যায়, আগামী সপ্তাহে নতুন প্রস্তাবের বিস্তারিত খসড়া তুলে দেয়া হবে ইইউ নেতাদের হাতে। ইইউর বিদেশনীতি পরিকল্পনার নথিতে বলা হয়েছে, ‘ইউরোপিয়ান হিসেবে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নিজেদেরই সুরক্ষা বলয় গড়ে তুলতে হবে। ডেইলি এক্সপ্রেস জানায়, খসড়া নথিতে আরও বলা আছে, ‘ন্যাটো বাইরের হুমকি তার সদস্যদের রক্ষা করার জন্য কাজ করে- যদিও এর অধিকাংশ সদস্যই ইউরোপিয়ান কিন্তু ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোকে সাংগঠনিকভাবে আরও আধুনিক অস্ত্র এবং প্রশিক্ষণে সজ্জিত হতে হবে এবং যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত স্বাধীনভাবে কাজ করার সক্ষমতা অর্জন করাটাও অন্যতম উদ্দেশ্য।’ এছাড়া খসড়ায় আরও বলা আছে, ‘আমরা অভ্যন্তরীণভাবেও অস্তিত্ব সংকটে পড়ে গেছি। আমাদের ইউনিয়ন এখন হুমকির মুখে আছে। আমাদের পূর্বাঞ্চলে ইউরোপীয় নিরাপত্তা আদেশ ঠিকমতো পালন করা হচ্ছে না। আবার উত্তর ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঘটছে। ইউরোপও সহিংসতার ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয়।’
অবশ্য ব্রেক্সিটের আগে ইউরোপিয়ান সামরিক বাহিনীর প্রয়োজন নেই বলে প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছে ১০নং ডাউনিং স্ট্রিট। তবে এখন আর এ বিষয়ে ভেটো দেয়ার ক্ষমতা নেই বলেও জানিয়েছে ডেইলি এক্সপ্রেস। অন্যদিকে ইউরোপীয় সংসদীয় কমিটির বিদেশবিষয়ক প্রধান এলমার ব্রুক বলেন, ‘ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা নীতিতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’ রোববার ইউরোপীয় সংসদীয় কমিটির বৈঠকে তিনি আরও বলেন, ‘ইউরোপীয় কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন থেকে নিজস্ব বাহিনী গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে- এবার তা বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেয়ার সময় এসেছে।’ এদিকে রয়টার্স জানায়, ২০১৫ সালেই ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট জিন ক্লাউড জাঙ্কার সম্মিলিত সামরিক বাহিনী গঠনের জন্য ইইউভুক্ত রাষ্ট্রগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ইউরোপে রাশিয়ার আধিপত্য বিস্তার রোধ করা এবং নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য জোটের সামরিক বাহিনী গঠন করা উচিত। নিজস্ব বাহিনী গঠনের মাধ্যমে জোটের রাষ্ট্রগুলো নিজেদের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে পারবে এবং প্রতিবেশীদের নিরাপত্তা প্রদানেও সাহায্য করবে।’ কিন্তু পিউ জরিপে দেখা যায়, ইউরোপীয় নাগরিকরা অস্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা অর্জন করার বিপক্ষে এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর ব্যাপারেও তাদের অনীহা। কিন্তু রাষ্ট্র ও সরকারগুলো প্রতিরক্ষার উন্নয়নে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

তিন বছর পর শাহরিয়ার নাফীস

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজের জন্য ৩০ জনের প্রাথমিক দলে ডাক পেয়েছেন রকিবুল হাসান, শাহরিয়ার নাফীস ও সোহরাওয়ার্দী শুভ। বৃহস্পতিবার দল ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিক দলে রয়েছেন অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের জন্য আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিষিদ্ধ আরাফাত সানি ও তাসকিন আহমেদ। সদ্যসমাপ্ত ঢাকা প্রিমিয়ার লীগের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক রকিবুল হাসানের সঙ্গে দলে রয়েছেন মুমিনুল হক। শাহরিয়ার নাফীস ডাক পেয়েছেন তিন বছর পর। ঢাকা লীগে ব্রাদার্সের হয়ে ১০ ম্যাচে একটি করে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরিতে ৩৮.৮৮ গড়ে ৩৫০ রান করেছেন তিনি। রকিবুল হাসান সবশেষ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ২০১১ সালের নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।
শেষবার কবে জাতীয় দলের ডাক পেয়েছিলেন তিনি তার মনে নেই। এদিকে কাল রকিবুল বলেন, ‘ডাক পেয়ে মোটেও অবাক হইনি। এবার লীগে ভালো করেছি। তাই আশা ছিল।’ রকিবুল ঢাকা লীগে ১৬ ম্যাচে দুটি সেঞ্চুরি ও চারটি হাফ সেঞ্চুরিতে ৭৯.৪৪ গড়ে করেছেন আসরের সর্বোচ্চ ৭১৯ রান। শাহরিয়ার, সোহরাওয়ার্দী ও রকিবুল এই তিন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের সঙ্গে মোসাদ্দেকের মতো তরুণও রয়েছেন। প্রাথমিক দলে আছেন বাংলাদেশের হয়ে একটি টি ২০ খেলা মোসাদ্দেক ও মুক্তার আলী। জানুয়ারিতে জিম্বাবুয়ে সিরিজ, ফেব্রুয়ারি-মার্চে এশিয়া কাপ ও টি ২০ বিশ্বকাপে দলের বাইরে থাকা এনামুল হক ও লিটন দাস ফিরেছেন প্রাথমিক দলে। গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের পর চোটে পড়া রুবেল হোসেনও আছেন দলে। ২৬ উইকেট নিয়ে প্রিমিয়ার লীগে যৌথভাবে তিনে থাকা ও টি ২০ বিশ্বকাপ খেলা সাকলাইন সজীব অবশ্য সুযোগ পাননি। এই বাঁ-হাতি স্পিনারকে রাখা হয়েছে হাইপারফরম্যান্স ইউনিট দলে। আবু হায়দারকেও রাখা হয়েছে এইচপি ইউনিটে। ২০ জুলাই সকাল সোয়া ৮টায় মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কন্ডিশনিং কোচ মারিও ভিল্লাভারায়নের কাছে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে খেলোয়াড়দের। ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসবে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। ৭ অক্টোবর প্রথম ওয়ানডে দিয়ে সিরিজ শুরু হবে।
প্রাথমিক দল : তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, লিটন দাস, এনামুল হক, মোসাদ্দেক হোসেন, মোহাম্মদ মিঠুন, শাহরিয়ার নাফীস, রকিবুল হাসান, মুমিনুল হক, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ, নাসির হোসেন, মুশফিকুর রহিম, নুরুল হাসান, শুভাগত হোম, সাব্বির রহমান, আরাফাত সানি, তাইজুল ইসলাম, সোহরাওয়ার্দী শুভ, জুবায়ের হাসেন, মাশরাফি মুর্তজা, মুক্তার আলী, কামরুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, আল আমিন, শফিউল ইসলাম, মোহাম্মদ শহীদ, তাসকিন আহমেদ ও রুবেল হোসেন।

নাঈম-শখের ভিন্ন রকম প্রেম

আসছে ঈদে মাছরাঙা টেলিভিশনে প্রচার হবে বিশেষ নাটক ‘ভিন্ন রকম প্রেম’। ক্যাম্পাস, বন্ধুত্ব, প্রেম, সম্পর্কের ভুল বোঝাবুঝি এগুলো ঘিরেই এ নাটকের গল্প গড়ে উঠেছে। যেখানে খুশি নামের একটা মেয়ের প্রেমে পড়ে জয়। কিন্তু মেয়েটি তাকে এড়িয়ে চলে। কোনোভাবেই জয় খুশির কাছাকাছি আসতে পারে না। বন্ধুরা নানা রকম পরিকল্পনা করতে থাকে জয়কে সাহায্য করার জন্য। এভাবেই ক্যাম্পাস জীবনের চলমান ঘটনা আর পাওয়া না পাওয়ার ভেতর দিয়ে গল্প এগিয়ে চলে। নাটকে গল্পের প্রয়োজনে সুমন (অর্থহীন) এর গাওয়া ‘তোমার জন্য’ গানটি ব্যবহার করা হয়েছে।
আসিফ ইকবাল জুয়েলের রচনা ও পরিচালনায় এ নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাঈম, শখ, ইভান সাইর, রুমি, শেহজাদ ওমর প্রমুখ। এতে অভিনয় প্রসঙ্গে নাঈম বলেন, ‘ক্যাম্পাস লাইফের প্রেমে ইমোশনের এক ধরনের ঢেউ থাকে। পাগলামি থাকে। প্রচণ্ড সেই ঢেউয়ের ধাক্কায় প্রেম এগিয়ে চলে। এ নাটকে সেই ইমোশনটাই তুলে ধরা হয়েছে। যা দেখে দর্শকের ভালো লাগবে।’ শখ বলেন, ‘নাটকের স্ক্রিপ্ট পড়ে আমার খুব ভালো লেগেছিল। ক্যাম্পাস লাইফের গল্পটা খুব দারুণভাবে উঠে এসেছে। শুটিংয়ে আমি সাইকেল চালিয়েছি একাধিকবার। খুব মজা করে অভিনয় করেছি।’ নাটকটি ঈদের ৬ষ্ঠ দিন রাত ১০টা ৩০ মিনিটে প্রচার হবে।

তিন হামলাকারী তিন দেশের?

সিসিটিভি ফুটেজ থেকে পাওয়া বিমানবন্দরে হামলা
করা তিন সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবি। রয়টার্স
তুরস্ক কর্তৃপক্ষ বলেছে, ইস্তাম্বুলের আতাতুর্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মঙ্গলবারের হামলার ঘটনায় অংশ নেওয়া তিন ব্যক্তি রাশিয়া, উজবেকিস্তান ও কিরগিজস্তানের নাগরিক। সন্দেহভাজন ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের ধরতে গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশের অভিযান চালানোর পাশাপাশি এ তথ্য প্রকাশ করল দেশটি। ওই অভিযানে ৩ বিদেশি নাগরিকসহ ১৩ ব্যক্তিকে আটক করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তুর্কি সরকারের এক কর্মকর্তা গতকাল বলেন, ‘হামলাকারীরা যে রাশিয়া, উজবেকিস্তান ও কিরগিজস্তানের নাগরিক, তা নিশ্চিত করতে আমরা প্রস্তুত।’ হামলার পরপরই তুরস্কের সরকার বলেছিল, লক্ষণ থেকে তাদের জোরালো ধারণা, আইএসই এ হামলা চালিয়েছে। ওই হামলায় ৪৪ জন নিহত ও প্রায় আড়াই শ মানুষ আহত হয়। গতকাল পর্যন্ত কেউ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। এদিকে বিমানবন্দরে গুলি ও আত্মঘাতী বোমা হামলার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল তুরস্কের পুলিশ ১৬ জায়গায় অভিযান চালিয়ে ১৩ জন সন্দেহভাজন আইএস জঙ্গিকে আটক করেছে বলে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদের মধ্যে তিনজন বিদেশি নাগরিক। তুর্কি সংবাদমাধ্যম বলেছে, পুলিশের সন্ত্রাস দমন ইউনিট পেনডিক, বাসাকসেহির, সুলতানবেইলিসহ ইস্তাম্বুলের বেশ কয়েক জায়গায় অভিযান পরিচালনা করেছে। এ ছাড়া দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরনগরী ইজমিরেও অভিযান চালানো হয়েছে। আইএসকে অর্থায়ন, সংগঠনটির জন্য সদস্য সংগ্রহ ও উপকরণগত সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে ওই ১৩ ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। গত বুধবার থেকে হামলায় নিহত ব্যক্তিদের শেষকৃত্য শুরু হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই তুরস্কের নাগরিক। অনেকে বিমানবন্দরটির কর্মী। এ ছাড়া হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশি অথবা দ্বৈত নাগরিক ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী জে জনসন গতকাল জানান, ওই হামলায় এক মার্কিন নাগরিক আহত হন। তবে তাঁর দপ্তর আহত ওই ব্যক্তির পুরো পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত ২৪ জন তুরস্কের, ৬ জন সৌদি আরবের, ২ জন ইরাকের এবং চীন, জর্ডান, তিউনিসিয়া, উজবেকিস্তান, ইরান ও ইউক্রেনের ১ জন করে নাগরিক বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ছাড়া তুরস্কের ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত দাবি করেছেন, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ফিলিস্তিনি নারী রয়েছেন। বিবিসি জানায়, চরমপন্থী-ঘেঁষা তুরস্কের সরকারের কোনো কোনো মহল তাদের সমমনা সিরীয় জঙ্গি গোষ্ঠীকে আস্কারা দিচ্ছে, এমনকি লালনও করেছে বলে মনে করেন অনেকে। এর ফলে আইএসের বিকশিত হওয়ার অনুকূল পরিবেশ দেশটিতে তৈরি হয়েছে। সিরীয় যুদ্ধের প্রথম কয়েক বছরে সিরিয়ার সঙ্গে তুরস্কের সীমান্তও ফাঁক-ফোকরে ভরা ছিল। এতে সীমান্তের উভয় দিকে অস্ত্র ও জঙ্গিদের চলাচল সম্ভব হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যরা চাপ প্রয়োগ করার পরই কেবল সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কড়াকড়ি হয়। তবে তুরস্ক বরাবরই সীমান্তে অসাধু উদ্দেশ্যে লোক চলাচলের অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।

এক যাত্রীর উড়ান!

আকাশপথে বাড়ি ফিরবেন যুক্তরাষ্ট্রের স্টিভেন শ্নেইডার। কিন্তু বিমানবন্দরে গিয়ে কিছুটা হকচকিয়ে গেলেন। ডেলটা এয়ারলাইনসের যে বিমানের টিকিট কিনেছেন, তাতে চড়তে গিয়ে আর কাউকে চোখে পড়ল না। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, নিউ অরলিন্স থেকে আটলান্টাগামী ফ্লাইটটির যাত্রা ইতিমধ্যে দুই দফা পিছিয়ে গেছে। তাই বিরক্ত যাত্রীদের অনেকে বিকল্প কোনো ফ্লাইটে চেপে ইতিমধ্যেই উড়াল দিয়েছেন গন্তব্যে। আর বাকিরা পরের দিনের ফ্লাইট পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের লরেন্সভিলের বাসিন্দা শ্নেইডারও এ দুটি বিকল্প ব্যবস্থার যেকোনো একটি বেছে নিতে পারতেন। কিন্তু বিরল এক সুযোগ পেয়ে যাওয়ায় তেমনটা আর হলো না।
ফ্লাইটের একজন কর্মী বললেন, চাইলে যাত্রীশূন্য ওই উড়োজাহাজে একমাত্র যাত্রী হয়ে বাড়ি যেতে পারবেন শ্নেইডার। সে ক্ষেত্রে শুধু তাঁকে নিয়েই আটলান্টার পথে রওনা হবে ১৬০ আসনের বিমানটি। সুযোগটা ছাড়েননি স্টিভেন শ্নেইডার। এমডি-নাইনটি উড়োজাহাজটির একমাত্র যাত্রী হিসেবে ছবি তুলে টুইটারে প্রকাশও করলেন। এমন অদ্ভুত ব্যাপার এয়ারলাইনসটির গত ১৭ বছরে ঘটেনি বলে তাঁকে জানিয়েছেন ফ্লাইটের একজন কর্মী। শ্নেইডার এ বিষয়ে বলেন, ‘প্রথমে আমার খারাপই লাগছিল। চাইছিলাম না, শুধু আমার জন্যই বিমানটি উড়ুক। কিন্তু একজন কর্মী বললেন, পরের দিনের ফ্লাইটের জন্য বিমানটিকে আটলান্টায় যেতেই হবে।’