Wednesday, September 16, 2009

অটিস্টিক শিশুদের মেলায় একদিন by নুরুন্নবী হাছিব

অটিজম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনে ঢুকতেই চোখে পড়ল গেটের সাজসজ্জা। সুসজ্জিত গেট পেরিয়ে এগোতেই চোখে পড়ল অটিস্টিক শিশুদের তৈরি নানা পণ্যের সমাহার। প্রতিটি স্টলে সাজানো পণ্যগুলো আগত দর্শকদের দেখাচ্ছে পণ্য তৈরি করা শিক্ষার্থীরা। এ দৃশ্য চোখে পড়ে অটিজম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের আয়োজনে অটিস্টিক শিশুদের তৈরি বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী নিয়ে আয়োজিত মেলায়। এক স্টলের সামনে যেতেই নিজের তৈরি বিভিন্ন ডিজাইনের মোম দেখায় শিক্ষার্থী সাদ। কেমন লাগছে জিজ্ঞেস করতেই হেসে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করল সে। তারা, ফুলসহ নানা আকারে তৈরি এসব মোম দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি আকৃষ্ট করছে দর্শকদের। আরেক শিক্ষার্থী তাসনিয়া মেলা সামনে রেখে সুন্দরভাবে সাজিয়েছে মেলা প্রাঙ্গণ। দেয়ালে বিভিন্ন রং ব্যবহার করে আঁকা ফুলগুলো দেখিয়ে সে বলে উঠল, ‘এ কাজ আমার। এখানে রং করেছি আর অনেকগুলো মালাও গেঁথেছি।’ শিক্ষার্থীদের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের মধ্যে রয়েছে জরি আর সুতোর সমন্বয়ে তৈরি ঈদ কার্ড, বিভিন্ন রঙের ফুল, প্রজাপতির ছবি দিয়ে তৈরি ঈদ কার্ড। পাশাপাশি কিছু ঈদ কার্ড ব্লক করা হয়েছে এবং তার ওপর পেস্টিংয়ের কাজটুকু করেছে শিক্ষার্থীরা। কিছু কার্ডে আঙুলের ছাপের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন দৃশ্য। পাশাপাশি নিজেদের তৈরি কানের দুল, বিভিন্ন ডিজাইনের মোম, মাটির জিনিস, কাপড় আর তুলোর মাধ্যমে তৈরি পুতুল, মোবাইল ব্যাগ, চাদর, রুমাল, টি-শার্ট, ট্রে, অফিসে ব্যবহূত ছোট-বড় খামসহ বিভিন্ন জিনিস প্রদর্শন করা হয় মেলায়। অটিজম শিশুদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের শিক্ষক আবুল মনসুর আজাদ বললেন, ‘অটিস্টিক শিশুরা পারে এবং তারা এ কাজগুলো করতে পারলে নিজেরাই স্বাবলম্বী হতে পারবে খুব সহজেই।’ শিক্ষার্থীদের কাজের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি যোগ করলেন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের নিজস্ব ক্যাফেটেরিয়াও পরিচালনা করছে ওরা নিজেরা। বিভিন্ন ধরনের জিনিস তৈরিতে সিদ্ধহস্ত লাবিব রান্না থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজ নিজেই করতে পারে। মেলায় সেও তৈরি করেছে নানা জিনিস। শিক্ষার্থী অনিক বলে উঠল, ‘মেলা চলছে আর এখানে হাতি, শোপিস করেছি আমরা।’ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা জানালেন, প্রতিটি পণ্য তৈরির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কিছুটা সহযোগিতা করা হয়, আর বাকি কাজটুকু তারা নিজেরাই সম্পন্ন করতে পারে। শিক্ষা কার্যক্রমের ব্যাপারে শিক্ষকেরা জানালেন, শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন কাজগুলোকে বিভিন্ন ছবির মাধ্যমে শেখানো হয়। মেলার আরেকটি স্টলে যেতেই নিজের তৈরি বিভিন্ন রঙের ছোট-বড় পুঁতির মালা দেখায় আরেক শিক্ষার্থী প্রীতম। শিক্ষক আবুল মনসুর আজাদ জানালেন, এ মালাগুলো তৈরিতে শিক্ষার্থীদের শুধু বলে দেওয়া হয়েছে দুটি ছোট এক রঙের পুঁতির পর বড় একটি অন্য রঙের পুঁতি হবে। বাকি কাজটুকু নিজেরাই সেরেছে শিক্ষার্থীরা। মেলাঙ্গনের পাশেই একটি কক্ষে গিয়ে দেখা গেল কয়েকজন শিক্ষার্থী মিলে তৈরি করছে ব্লকের চাদর। সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক জানালেন, এবারের মেলায় শিক্ষার্থীদের তৈরি ব্লকের এ চাদরটি অনেকেই পছন্দ করেছেন। পাশাপাশি বেশ কিছু অগ্রিম অর্ডারও এসেছে। আর তাই মেলা চলাকালীন ব্লকের চাদর তৈরির কাজটুকু করে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। পুরো মেলা প্রাঙ্গণে দর্শক আর শিক্ষার্থীদের আনাগোনা। এক পাশে সবাইকে গানের মাধ্যমে মেলায় স্বাগত জানাচ্ছে একজন শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের নিজেদের পণ্যগুলো তৈরির সময় তা ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে ধারণ করে এক পাশে প্রচারও করা হচ্ছে। আগত দর্শকেরা মেলা প্রাঙ্গণ ঘোরার পাশাপাশি কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকছেন টিভি পর্দার সামনে আর দেখে নিচ্ছিলেন শিক্ষার্থীদের পণ্য তৈরির ব্যাপারগুলো। এ মেলার আয়োজক অটিজম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ডা. রওনাক হাফিজ জানালেন, ‘এই নিয়ে চতুর্থবারের মতো অটিস্টিক শিশুদের তৈরি পণ্যমেলা হচ্ছে। অটিস্টিক শিশুরাও যে পারে, এ ব্যাপারটি তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন করে যাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এসব অটিজম শিক্ষার্থীকে স্বাবলম্বী করতেও সাহায্য করবে এ মেলা এবং ভবিষ্যতে তারা যাতে নিজেরাও কিছু করতে পারে, সে লক্ষ্য নিয়ে আমাদের এগিয়ে চলা।’ মেলার প্রতিটি স্টলে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ছিল সানিডেল স্কুলের একদল শিক্ষার্থী। তারা অটিস্টিক শিক্ষার্থীদের পণ্য প্রদর্শন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে। মেলা দেখতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী চৌধুরী ইশতিয়াক বলেন, অটিজম শিশুরা যে এ ধরনের সুন্দর কাজ করতে পারে, নিজে না দেখলে জানা হতো না। তিনি নিজে বেশ কিছু পণ্য কেনার পাশাপাশি এসব কাজে উত্সাহিত করেন শিক্ষার্থীদের। অটিস্টিক শিশুরাও নিজেদের স্বপ্নকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চায় এবং নিজেদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে মনের মাধুরী মিশিয়ে নানা পণ্য তৈরি করে। দেয়ালে টাঙানো বিভিন্ন ওয়ালমেটও তৈরি করেছে কয়েকজন শিক্ষার্থী, যেখানে নানা দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে বিভিন্ন রঙের সংমিশ্রণে। এ ধরনের কাজ দেখে সত্যিই অটিস্টিক শিক্ষার্থীদের শিল্পী মনের পরিচয়ও পাওয়া যায়। ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ মেলা শেষ হলো গতকাল।

বামে ঘুরছে জাপান -সময়ের প্রেক্ষিত by মনজুরুল হক

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে শুরু হওয়া স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তি পর্বের সূচনা হয়েছিল ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়ার মধ্য দিয়ে। প্রায় সাড়ে চার দশক ধরে চলা সেই ছায়াযুদ্ধে কামান দাগা না হলেও যেকোনো মুহূর্তে পরমাণু সংঘাত শুরু হয়ে যাওয়ার মতো ভয়ঙ্কর আশঙ্কা তখন প্রায় পুরো সময় বিরাজমান ছিল। আর সে রকম সমর প্রস্তুতির মুখে বিশ্ব হয়ে পড়েছিল টানা এক বিভক্তিরেখা বরাবর দুই শিবিরে বিভক্ত—যার একদিকে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমের পুঁজিবাদী বিশ্বের জোট আর অন্যদিকে ছিল সোভিয়েত নেতৃত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক বিশ্ব।
সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেঙে পড়া এবং সমাজতন্ত্রের বিদায়-পর্বের সেই বিভাজনকে অর্থহীন করে তোলায় বিশ্বজুড়ে শত্রু-মিত্রের সংজ্ঞাতেও বড় ধরনের রদবদল পরবর্তী সময়ে হতে দেখা যায়। সোভিয়েত নেতৃত্বের অনেক দেশ যোগ দেয় মার্কিন আধিপত্য বলয়ে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘খাস তালুক’ হিসেবে গণ্য হয়ে আসা লাতিন আমেরিকার অনেক দেশ বের হয়ে আসে আগের সেই প্রভাব বলয় থেকে। স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের হিসাব-নিকাশের অনেকটাই এর ফলে যায় বদলে। তবে রদবদলের সেই হাওয়া পূর্ব এশিয়ার যে দুটি দেশকে প্রায় দুই দশক ধরে আলোড়িত করতে পারেনি, সেই দেশ দুটি হচ্ছে জাপান ও উত্তর কোরিয়া। ১৯৯১ সালের পরও জাপান থেকে যায় নব্য-উদার অর্থনীতির বাজার মৌলবাদী ব্যবস্থা অনুসরণ করে যাওয়া এক দেশ, কৌশলগত দিক থেকে যে অব্যাহত রাখে মার্কিন নিরাপত্তা ছত্রচ্ছায়া ভোগ করা। উত্তর কোরিয়া অবশ্য অনুসরণ করে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারার সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি। স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তি তাই পূর্ব এশিয়ার এই দুটি দেশকে কোনোভাবেই প্রভাবিত করতে পারেনি, যাদের সরকারি নেতারা এরপরও দীর্ঘদিন ধরে গতানুগতিকভাবে জপে গেছেন স্নায়ুযুদ্ধের সময়কালের সেই একই পুরোনো বুলি।
তবে ৩০ আগস্টের নির্বাচনের পর থেকে দিনবদলের যে হাওয়া জাপানে এখন বহমান, তা হয়তো দেশটিকে শেষ পর্যন্ত বের করে আনবে স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের মনমানসিকতায় পরিপূর্ণ রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার বেড়াজাল থেকে। জাপানের জন্য সম্ভাব্য এই পরিবর্তন তাই হচ্ছে আসলেই সুদূরপ্রসারী।
জাপান হচ্ছে অগ্রসর গণতান্ত্রিক কাঠামো চালু থাকা বিশ্বের একমাত্র দেশ, দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের আধিপত্যে কোনোরকমে রদবদল যেখানে প্রায় দেখা যায়নি। ‘প্রায়’ শব্দটির প্রয়োগ এ কারণে যে ১৯৯৩ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন উদার গণতন্ত্রী দল এলডিপি একবার মাত্র অল্পসময়ের জন্য ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিল। তবে হারানো সেই ক্ষমতা ফিরে পেতে বেশি দিন দলকে অপেক্ষায় থাকতে হয়নি। ভিন্ন অবস্থানের আটটি রাজনৈতিক দল জোটবদ্ধ হয়ে একটি সরকার গঠন করলে এলডিপিকে সেবার ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হয়েছিল বটে, তবে জোটের শরিকেরা অল্পদিনের ভেতরে নীতিগত বিভিন্ন প্রশ্নে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ শুরু করে দিলে সেই সুযোগ গ্রহণ করে জোটের সবচেয়ে বড় দলটিকে ভাগিয়ে নিয়ে এসে এলডিপি আবারও ক্ষমতায় বসে গিয়েছিল। সেই থেকে এখন পর্যন্ত চলছে এলডিপির দ্বিতীয় দফার রাজত্ব, যার সমাপ্তি সূচিত হতে যাচ্ছে চলতি মাসের ১৬ তারিখে নতুন একটি মন্ত্রিসভা গঠিত হওয়ার মধ্য দিয়ে।
১৯৯৩ সালের সাময়িক সেই রদবদলের তুলনায় এবারে পরিস্থিতি অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। ১৬ বছর আগে কোয়ালিশন সরকারের কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হলেও এলডিপি তখন থেকে গিয়েছিল সংসদের বৃহত্তম দল, ফলে পর্দার আড়ালে রাজনীতির খেলায় মত্ত হওয়ার মতো পর্যাপ্ত শক্তি দলটির থেকে গিয়েছিল, যা কিনা শেষ পর্যন্ত দলকে আবারও ক্ষমতায় নিয়ে যায়। সেই তুলনায় ৩০ আগস্টের নির্বাচন-পরবর্তী অবস্থা এলডিপির জন্য অনেকটা হয়ে দাঁড়িয়েছে যুদ্ধ ময়দানের বিধ্বস্ত দৃশ্যপটের মতো চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে পরাভূত বাহিনীর সৈনিক থেকে শুরু করে সেনাপতিদের মৃতদেহ, পিছু হটে গিয়ে নতুন রণকৌশল ঠিক করে নেওয়ার মতো সামর্থ্য যাদের এখন আর নেই। ফলে এটাকে বলা যায়, যেন একটি যুগের অবসান, যে যুগ জাপানকে সমৃদ্ধি আর অগ্রগতি এনে দিলেও বঞ্চিত করেছে সত্যিকার অর্থে স্বাধীন হতে পারার মতো তৃপ্তির পরিপূর্ণ অনুভূতি পাওয়া থেকে। জাপানে যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে হাজার পঞ্চাশেক মার্কিন সেনা নিয়মিতভাবে তাদের উপস্থিতি বজায় রাখছে তাই কেবল নয়, একই সঙ্গে জাপানের বিদেশ ও প্রতিরক্ষা নীতিও থেকে গেছে ওয়াশিংটনের আজ্ঞাবাহী। নব নির্বাচিত জাপানি নেতৃত্ব এখন বলছে সেই পরিস্থিতির বদল তারা নিয়ে আসবে। কতটা তারা সফল হতে পারবে এখনই তা বলা যাচ্ছে না। তবে টোকিওর নীতি-নির্ধারকদের মুখ থেকে যে এ রকম বক্তব্য বের হয়ে আসছে, তার তাত্পর্য আসলেই গভীর।
দুই কক্ষবিশিষ্ট জাপানি সংসদের নিম্নকক্ষের মোট আসনসংখ্যা হচ্ছে ৪৮০। এর মধ্যে ৩০০ আসনে নির্বাচন হয়ে থাকে সরাসরি বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের মধ্যে এবং অবশিষ্ট ১৮০ আসন নির্ধারণ করা থাকে প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হিসাবে বিভিন্ন দলের মধ্যে বণ্টনের জন্য। ৩০ আগস্টের নির্বাচনে বিজয়ী গণতান্ত্রিক পার্টি ডিপিজে পেয়েছে ৩০৮ আসন অর্থাত্ দুই-তৃতীয়াংশের সামান্য কম। এই বিশালসংখ্যক আসন এককভাবে ক্ষমতাসীন হওয়ার সুযোগ দলের জন্য করে দিলেও ডিপিজে ইতিমধ্যে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র দুটি দলকে নিয়ে কোয়ালিশন সরকার গঠনে সম্মত হয়েছে, যা কিনা কৌশলগত দিক থেকে বেশকিছু সুবিধা দলের জন্য এনে দেবে।
প্রথম সুবিধা হচ্ছে উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিশ্চিত হওয়া। বিভিন্ন আইন বাস্তবায়িত করতে হলে যার প্রয়োজনীয়তা অবশ্যম্ভাবী। জাপানের সংবিধানে আইন প্রণয়নের যে নিয়ম নির্ধারণ করা আছে, নিম্নকক্ষের বাড়তি সুবিধা ভোগ করা তাতে লক্ষ করা যায়। সংসদে পেশ করা যেকোনো বিল সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে শুরুতে নিম্নকক্ষে পাস হওয়ার পর চূড়ান্ত অনুমোদন লাভের জন্য উচ্চকক্ষে তা পাঠানো হয়। উচ্চকক্ষ সেই বিল বাতিল করে দিলে আবারও তা নিম্নকক্ষে ফিরে আসে এবং সেখানে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে তা পাস হলে বিলটি আইনে পরিণত হয়। ফলে সংখ্যাগত হিসাব-নিকাশের এ রকম মারপ্যাঁচে নিরাপদ অবস্থান ধরে রাখার জন্য উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়া হয়ে দাঁড়ায় ক্ষমতাসীন দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সমাজ গণতন্ত্রী দল ও নিউ পিপলস পার্টির সঙ্গে ডিপিজে জোটবদ্ধ হওয়া উচ্চকক্ষে জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে দেবে। ফলে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে প্রয়োজন হওয়া আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ নতুন সরকারের পক্ষে অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।
ডিপিজের নির্বাচনী এবং নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিশ্রুতিকেও সহজেই সুদূরপ্রসারী আখ্যায়িত করা যায়। মার্কিন সামরিক উপস্থিতি হ্রাসের উল্লেখ দলের পক্ষ থেকে সরাসরি করা না হলেও দলীয় নেতৃত্ব বলছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর মর্যাদাসংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সংশোধন করে নেওয়ার অনুরোধ তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জানাবে। এ ছাড়া ওকিনাওয়া দ্বীপে ব্যাপক মার্কিন উপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরুর আহ্বানও দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
অন্যদিকে বিদেশে জাপানের সামরিক উপস্থিতির দিকটিও নতুনভাবে বিচার-বিবেচনা করে দেখা হবে। ইরাকে জাপানের সরাসরি সামরিক উপস্থিতি কয়েক বছর আগেই গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিদেশের যে দুটি সামরিক মিশনে জাপান এখন অংশ নিচ্ছে তা হলো, ভারত মহাসাগরে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের জাহাজের জন্য নিখরচায় জ্বালানি তেল সরবরাহ করা এবং সোমালিয়ার অদূরে জলদস্যু দমনে আত্মরক্ষা নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠানো।
ভারত মহাসাগরের জাপানি মিশন সম্পর্কে নতুন প্রশাসনের পরিষ্কার বক্তব্য হচ্ছে, জানুয়ারি মাসে মিশনের বৈধতা দেওয়া বর্তমান আইনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পর তা আর বৃদ্ধি করা হবে না। অর্থাত্, জাপানের যে দুটি ডেস্ট্রয়ার ও সরবরাহ জাহাজ ২০০১ সালের নভেম্বর মাস থেকে দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপের আশপাশে মোতায়েন রয়েছে, সেগুলোকে অচিরেই দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। তবে জাপানের প্রতিরক্ষা প্রভু স্বাভাবিকভাবেই নতুন সরকারের তড়িঘড়ি এই সিদ্ধান্তে উষ্মা প্রকাশ করে মিশন অব্যাহত রাখার অনুরোধ টোকিওর প্রতি জানায়। অন্যদিকে সোমালিয়ার মিশন অন্য কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক তত্পরতা না হওয়ায় এ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। নতুন কোয়ালিশন সরকারের শরিক সমাজ গণতন্ত্রী দল অবশ্য দাবি জানিয়েছে যে জাপানের আত্মরক্ষা বাহিনীকে ফিরিয়ে এনে এবং উপকূল রক্ষী দলকে সেই মিশনে যেন পাঠানো হয়।
তবে আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে ক্ষমতাসীন হতে যাওয়া নতুন সরকারের সবচেয়ে তাত্পর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে দেশের অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন খাতে চালিত করায় সরকারের নেওয়া উদ্যোগ।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা ও দেশের আগামী প্রধানমন্ত্রী ইয়ুকিও হাতোইয়ামা মার্কিন নেতৃত্বে বিশ্বজুড়ে চাপিয়ে দেওয়া মুক্তবাজার অর্থনীতিকে ‘বাজারের মৌলবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন যে অর্থনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নয়, বরং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ সংরক্ষণ করা। হাতোইয়ামা বলছেন, জাপানের অর্থনীতিকে তিনি জনতার কল্যাণের পথে ফিরিয়ে আনবেন এবং সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমলাতন্ত্রের প্রভাবমুক্ত রাজনীতি প্রবর্তনের অঙ্গীকারও তিনি করেন।
ফলে দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘদিনের স্থবিরতার অবসানে ধীরে বাম দিকে মোড় নিতে চলেছে জাপান। চলতি মাসের ১৬ তারিখে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাওয়া জাপানের নতুন প্রশাসনের দিকে তাই স্বাভাবিকভাবেই রয়েছে বিশ্বের উত্সুক দৃষ্টি।
টোকিও, ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৯
মনজুরুল হক: শিক্ষক ও সাংবাদিক।

দারিদ্র্য বিমোচন, জাকাত ও মাহে রমজান -সিয়াম সাধনার মাস ধর্ম by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা বা রোজাকে দেহের জাকাতস্বরূপ বলা হয়েছে। জাকাত আদায় করলে যেমন মানুষের উপার্জিত সব ধনসম্পদ পবিত্র হয়, তেমনি রমজান মাসে রোজা পালন করলে সারা শরীর পবিত্র হয়ে যায়। হাদীস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘যে ব্যক্তি তার সম্পদের জাকাত প্রদান করে, তার সম্পদের দোষ দূর হয়।’ বস্তুর পবিত্রতা হাসিলের জন্য যেমন যাকাত প্রদান করতে হয়, তেমনি মানুষের শরীর তথা আত্মার পরিশুদ্ধির জন্য সত্যিকারের সিয়াম পালন করতে হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক বস্তুরই একটি জাকাত রয়েছে, আর মানুষের দেহের জাকাত হলো রোজা।’ (ইবনে মাজা)
ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম প্রধান ভিত্তি ও বাধ্যতামূলক আর্থিক ইবাদত জাকাত সমাজে ধনী ও গরিবের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ জাগরণের একটি বিরাট উপকরণ। ইসলামে কোনো ব্যক্তির উপার্জিত অর্থের পুরোটাই এককভাবে তাঁকে ভোগ করার অধিকার দেওয়া হয়নি, বরং বছরান্তে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ ধনসম্পদ হলে এর দ্বারা তাঁর গরিব আত্মীয়স্বজন এবং নিঃস্ব, হতদরিদ্র লোকজনকে সাহায্য করতে হয়, যাতে তাঁরাও উপার্জনক্ষম হতে পারেন। মাহে রমজানে জাকাত প্রদান করলে জাকাতদাতার ধনসম্পদ কিছু কমে না, বরং আল্লাহ এতে অনেক বরকত দান করেন এবং তা বহুগুণ বেড়ে যায়। ইসলামে সর্বপ্রকার ধনসম্পদ বণ্টনের মূলনীতি সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ঘোষিত হয়েছে, ‘ধনসম্পদ যেন শুধু তোমাদের ধনীদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়।’ (সূরা আল-হাশর, আয়াত-৭)
জাকাত দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়ের বাধ্যবাধকতা না থাকলেও রমজান মাসই জাকাত আদায়ের সর্বোত্তম সময়। মাসব্যাপী রোজা রেখে রোজাদার লোকেরা পরস্পরের প্রতি সহমর্মী ও সহানুভূতিশীল হয়ে পড়েন। ফলে বিত্তবানেরা বেশি বেশি দান-খয়রাত, সাদকা, জাকাত প্রদান করতে উত্সাহিত হন। কেননা রমজান মাসে যেকোনো ধরনের দান-সাদকা করলে অন্য সময়ের চেয়ে ৭০ গুণ বেশি নেকি হাসিল হয়। মাহে রমজানে যদি কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য একটি নফল কাজ করেন, তবে তিনি এ মাসের একটি ফরজ ইবাদতের সমান সওয়াব পাবেন। আর যিনি একটি ফরজ আদায় করবেন, তিনি অন্যান্য মাসের ৭০টি ফরজের সমান সওয়াব পাবেন। তাই রমজান মাসে রোজাদার মুমিন বান্দারা একসঙ্গে জাকাত ও ফিতরা আদায়—এ দুটি আর্থিক ইবাদত করে থাকেন।
দারিদ্র্য দূরীকরণ ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে রমজান মাসেই অধিক সওয়াব প্রাপ্তির জন্য জাকাত দেওয়ার উপযুক্ত ও শ্রেষ্ঠ সময়। রমজান মাস ও অন্যান্য সময় রোজাদার ধনী লোকেরা গরিবদের জাকাত প্রদান করার ফলে সমাজের গরিব-নিঃস্ব ব্যক্তিরা দারিদ্র্যের কশাঘাত থেকে অনেকটা রেহাই পান এবং সমাজের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়। ধনী মুসলমানদের অর্থ-সম্পদের মধ্যে আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী অপরের নির্দিষ্ট পরিমাণ আংশিক অধিকার রয়েছে। আর অন্যের এ আংশিক ন্যায্যপ্রাপ্য বা হক প্রদান করলেই অবশিষ্ট ধনসম্পদ পবিত্র হয়ে যায়। রমজান মাসে ধনী লোকেরা দরিদ্রদের জাকাত প্রদানের ফলে উভয় শ্রেণীর মানুষের মধ্যে মেলামেশা হয় এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে ওঠে। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘জাকাত ইসলামের সেতু।’ (মুসলিম)
মাহে রমজানসহ সারা বছর নিজের ও পরিবারের যাবতীয় খরচ বাদ দিয়ে যদি কোনো মুসলমানের কাছে নিসাব পরিমাণ, অর্থাত্ বছরের আয় থেকে ব্যয় বাদ দিয়ে যদি কমপক্ষে সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ, বা সাড়ে ৫২ তোলা রৌপ্য, বা সমমূল্যের ধনসম্পদ থাকে, তবে তার সম্পদের শতকরা আড়াই টাকা হিসাবে আল্লাহর নির্ধারিত খাতে গরিব-মিসকিনদের মধ্যে বণ্টন করতে হয়, আর এটাই হলো জাকাত। যাঁর ওপর জাকাত ফরজ হয়েছে, তাঁকে অবশ্যই জাকাত আদায় করতে হবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা নামাজ প্রতিষ্ঠা করো এবং জাকাত প্রদান করো।’ (সূরা আল-মুয্যাম্মিল, আয়াত-২০)
আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক ধনসম্পদের ৪০ ভাগের এক ভাগ অসহায় গরিব-দুঃখীদের জাকাত প্রদান করে রোজাদার আত্মিক প্রশান্তি লাভ করে থাকেন। জাকাত গরিবের প্রতি ধনীর অনুগ্রহ নয়, বরং তা গরিবের ন্যায্য অধিকার। যখন ধনী লোক গরিবকে জাকাত প্রদান করেন, তখন স্বভাবতই তিনি তাঁর প্রতি সহানুভূতিশীল হন। এভাবে জাকাতের মাধ্যমে ধনী রোজাদারেরা গরিবদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘আর তাদের (সম্পদশালীদের) ধনসম্পদে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে।’ (সূরা আল-যারিআত, আয়াত-১৯)
ইসলামি বিধান অনুসারে জাকাত প্রদানের ফলে সমাজের অসহায় গরিব-দুঃখী, অনাথ, বিধবা, বৃদ্ধ, রুগ্ণ, পঙ্গু, অক্ষম ও ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিরা মৌলিক চাহিদা পূরণের মাধ্যমে অভাব মোচন করতে পারে। জাকাতের এসব অর্থ-সম্পদ অভাবী ও দুস্থ মানুষের হাতে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বণ্টিত হয়ে তাদের দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক হয়। ধনী রোজাদার লোকেরা যদি ঠিকমতো জাকাত আদায় করেন, তাহলে সমাজে কোনো অন্নহীন, বস্ত্রহীন, আশ্রয়হীন, শিক্ষাহীন লোক থাকতে পারে না। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো বান্দা জাকাত আদায় করে, তখন ফেরেশতারা তার জন্য এই দোয়া করে—হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি তোমার পথে খরচ করছে, তাকে তুমি আরও দান করো; আর যে ব্যক্তি সম্পদ কুক্ষিগত করে রাখে, তোমার পথে খরচ করে না, তুমি তার সম্পদকে ধ্বংস করে দাও!’ (বুখারী)
সঠিক হিসাব অনুযায়ী জাকাত প্রদান করা হলে পুরো সম্পত্তিই হালাল হয়ে যায়। মাহে রমজানে যে জাকাত-ফিতরা প্রদান করা হয়, কতিপয় ধনী লোক গরিবদের প্রতি তা দয়া বা অনুগ্রহ বলে মনে করেন। আর গরিব-দুঃখীদের মনে করা হয় করুণার পাত্র। কিন্তু ধনীর অর্থ-সম্পদে দরিদ্র অসহায়দের অধিকার রয়েছে। রমজান মাসে ধনী লোকেরা জাকাত-ফিতরা দিয়ে সেই দায়িত্বমুক্ত হচ্ছেন মাত্র। আর জাকাত-ফিতরা আদায় না করলে তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করেননি বলে দোষী সাব্যস্ত হবেন। জাকাত-ফিতরা বা দান-খয়রাত করুণার বিষয় নয়, এগুলো হলো হাক্কুল ইবাদ বা বান্দার হক। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর সাদকা (জাকাত) অপরিহার্য করেছেন, যা তাদের ধনীদের কাছ থেকে আদায় করে দরিদ্রদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।’ (বুখারী ও মুসলিম)
রমজান মাসে জাকাত হিসেবে যেকোনো পরিধেয় বস্ত্রের চেয়ে নগদ অর্থ পেলেই মনে হয় গরিব অসহায় মানুষেরা অধিকতর খুশি হবে। জাকাতের এ নগদ অর্থ দিয়ে তারা প্রয়োজনে পছন্দমাফিক কাপড়চোপড় ক্রয় করবে, নয়তো সংসার নির্বাহে ব্যয় করে সাময়িকভাবে অভাব দূর করতে পারবে। অন্যদিকে অনেকে জাকাত হিসেবে শাড়ি-লুঙ্গি অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণে জাকাতপ্রার্থীরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত পেয়ে থাকে। কিন্তু এগুলোর চেয়ে তাদের সাংসারিক অনটন ও দারিদ্র্য নিরসনের লক্ষ্যে উপযুক্ত হারে নগদ অর্থ দ্বারা জাকাত আদায় করা হলে তারা প্রকৃত অর্থে উপকৃত হবে।
সুতরাং রোজা পালনকারী প্রত্যেক ধনী ব্যক্তিরই আল্লাহকে ভয় করে কড়ায়-গণ্ডায় জাকাত আদায় করা উচিত। রমজান মাসে বঞ্চিতদের অধিকার রক্ষায় ও সমাজের ধনী-দরিদ্রের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণে জাকাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। জাকাতের প্রকৃত হকদার হচ্ছেন তাঁরা, যাঁরা কর্মক্ষমতাহীন এবং যাঁরা কর্মক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও উপার্জনহীন অথবা পর্যাপ্ত পরিমাণে উপার্জন করতে পারছেন না। এমতাবস্থায় দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা দুর্বিপাকে ধনী লোকেরা যদি রমজান মাসে অগ্রিমও জাকাত আদায় করেন, তাহলে সব ধরনের অভাবী, দুর্দশাগ্রস্ত, বন্যাদুর্গত মানুষের অভাব দূরীকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিধান ও পুনর্বাসন করা সহজ হতে পারে। মাহে রমজানে জাকাতকে সঠিক খাতে এবং সহায়সম্বলহীন বন্যাকবলিত দুস্থদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজে ব্যবহার করতে পারলে সমাজ থেকে সহজেই অভাব-অনটন ও দারিদ্র্য বিমোচন করা সম্ভব হবে।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান, সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমী, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়।
dr.munimkhan@yahoo.com