Monday, April 4, 2016

তৃণমূল প্রার্থীদের জেতাতে পূজা!

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল নেতারা বেশ জোরগলায় বলছেন, তাঁরাই আবার ক্ষমতায় ফিরছেন। তবে জেতার আশা নিয়ে মাঠে থাকলেও তাঁদের শঙ্কা কাটেনি। নির্বাচন যে কঠিন রূপ নিয়েছে তা উপলব্ধি করতে পেরেছেন তৃণমূল পরিচালিত পশ্চিমবঙ্গ পৌর কর্মচারী ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। প্রার্থীদের বিপদ কাটানো আর জয়ের জন্য শনিবার সকালে তাঁরা হাজির হন দক্ষিণেশ্বরের কালীমন্দিরে। সেখানে প্রতি প্রার্থীর নামে একটি করে ডালা দিয়ে পুজো দেন মন্দিরে। পুজো শেষে সংগঠনের অন্যতম কর্মকর্তা বিমল সাহা জানান, ‘সব প্রার্থীর নামে আমরা ডালা করে মায়ের কাছে পুজো দিয়েছি। সব প্রার্থীর মঙ্গল কামনায় এবং জয়ের পথ প্রশস্ত করতে আমরা এই পুজোর আয়োজন করেছি।’

ব্রাসেলস বিমানবন্দর খুলল

জঙ্গি হামলার প্রায় দুই সপ্তাহ পর গতকাল রোববার থেকে ব্রাসেলস বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা শুরু হয়েছে। গতকাল প্রথম দিনে ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তিনটি উড়োজাহাজ বিমানবন্দর থেকে ছাড়ে। গত ২২ মার্চ জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) দুই আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী হামলা চালায় বিমানবন্দর ও ব্রাসেলসের মেট্রো স্টেশনে। এতে নিহত হয় ৩২ জন। হামলায় বিমানবন্দরের বহির্গমন ভবন বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গতকাল সীমিত পরিসরে বিমানবন্দর খুলে দেওয়ায় ভয়াবহ ওই ঘটনা কিছুটা হলেও মানুষকে ভুলতে সহায়তা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। গতকাল তিনটি যাত্রীবাহী বিমান পর্তুগালের দক্ষিণের শহর ফারো, গ্রিসের এথেন্স এবং ইতালির তুরিনের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ব্রাসেলস বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী আর্নড ফিস্ট বলেন, কাপুরুষোচিত হামলার পর আশার প্রতীক হিসেবেই এ বিমানগুলো ছাড়ছে। গতকাল বিমানবন্দর খুলে দেওয়ার পর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন যেটি দেখা গেছে তা হলো, কেবল টিকিটধারী এবং পরিচয়পত্রধারীরাই বহির্গমন ভবনে ঢুকতে পারবেন।

দক্ষিণ আফ্রিকা কারা চালাচ্ছে?

২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়ার কিছুদিন আগে যখন তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও অস্ত্র চুক্তি থেকে উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল, তখন তিনি হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। অভিযোগকারীদের নিয়ে টিটকারি করতেও পিছপা হননি। কিন্তু ২০১৬ সালে তা আর সম্ভব হলো না। শেষ পর্যন্ত তিনি ‘ভুল’ স্বীকার করলেন। ক্ষমা না চাইলেও ‘দুঃখ প্রকাশ’ অন্তত করতে হলো। এই দোর্দণ্ড প্রতাপশালী ব্যক্তি হলেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা। তাঁর কারণেই নেলসন ম্যান্ডেলার দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের (এএনসি) ভাবমূর্তি আজ প্রায় তলানিতে এসে ঠেকেছে বলে অনেকে মনে করছেন। জুমার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ, তিনি রাষ্ট্রীয় অর্থ লোপাট করেছেন এবং ব্যবসায়ীদের রাজনীতিতে নাক গলানোর সুযোগ করে দিয়েছেন। বিশেষ করে জুমার ‘আশকারাতেই’ ভারতীয় বংশোদ্ভূত ‘গুপ্ত পরিবার’ নামে একটি সুপরিচিত ব্যবসায়ী পরিবার রাজনীতিতে বেপরোয়া হস্তক্ষেপ করছে। সমালোচকেরা বলছেন, রাজনীতিক নাকি করপোরেট ব্যবসায়ী, কারা এখন দক্ষিণ আফ্রিকা দেশটি চালাচ্ছেন, সে প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। দুই বছর আগে জুমার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ দিয়ে পৈতৃক বাড়িতে বিনোদনের জন্য অ্যাম্ফিথিয়েটার, গবাদিপশুর খামার ও সুইমিংপুল বানানোর অভিযোগ ওঠে। ২০১৪ সালে সরকারের দুর্নীতি দমন পর্ষদ রায় দেয়, জুমা রাষ্ট্রীয় তহবিলের ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার খরচ করে এসব বানিয়েছেন। এর একটি বড় অংশ তাঁকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। কিন্তু জুমা তা ফেরত দেননি। সম্প্রতি বিরোধী দল এ নিয়ে আন্দোলন শুরু করে। এ আন্দোলনের মধ্যেই জুমাকে জড়িয়ে উঠে আসে গুপ্ত পরিবারের নাম। অভিযোগ রয়েছে, কাকে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হবে, আড়াল থেকে কলকাঠি নেড়ে তা-ও ঠিক করে গুপ্ত পরিবার। কেউ কেউ এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত ‘ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি’র আদলে বিষয়টিকে এখন ‘গুপ্ত গেট’ বলে ডাকতে শুরু করেছেন। গত বৃহস্পতিবার দেশের সাংবিধানিক আদালত জুমার রাষ্ট্রীয় অর্থ ফেরত না দেওয়া সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল বলে রায় দেন। এরপর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ‘ভুল’ স্বীকার করে ‘দুঃখ প্রকাশ’ করেন প্রেসিডেন্ট। তবে এই ‘দুঃখ প্রকাশ’ বিরোধীদের ক্ষোভ প্রশমন করতে পারেনি। গুপ্ত পরিবারে কারা: ১৯৯৩ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরের তিন ভাই অজয় গুপ্ত, অতুল গুপ্ত ও রাজেশ ওরফে টনি গুপ্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যবসা শুরু করেন। সাহারা কম্পিউটারস নামের একটি প্রতিষ্ঠান খুলে কম্পিউটার যন্ত্রপাতির ব্যবসা শুরু করেন তাঁরা। তাঁরা দ্রুত ব্যবসা সম্প্রসারণে সক্ষম হন। কয়েক বছরের মধ্যে তাঁরা মিডিয়া ও খনি ব্যবসা শুরু করেন এবং সেখানেও ব্যাপক সাফল্যের মুখ দেখেন। ক্ষমতাসীন রাজনীতিকদের সঙ্গে পরিবারটির ঘনিষ্ঠতা সবার সামনে আসে ২০১৩ সালে। ওই বছর গুপ্ত পরিবারের এক সদস্যের বিয়ের আয়োজন করা হয় প্রিটোরিয়ার বিমানঘাঁটিতে! ধীরে ধীরে সবাই জানতে পারে প্রেসিডেন্ট জুমার স্ত্রী বঙ্গি এনগেমা জুমা গুপ্ত পরিবারের জেআইস মাইনিং সার্ভিসের হয়ে কাজ করেছেন। জুমার মেয়ে দুদুজিলে জুমা সাহারা কম্পিউটারসের পরিচালক ছিলেন। ছেলে দুদুজানে জুমা গুপ্তদের মালিকানাধীন কয়েকটি কোম্পানির পরিচালক হিসেবে এখনো কাজ করছেন। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জ্যাকব জুমার ছেলে দুদুজানে জুমার মাধ্যমেই গুপ্ত পরিবার রাজনীতিকদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে আসছেন।

ভারত ও সৌদি আরব পুরোনো বন্ধু: মোদি

ভারত ও সৌদি আরবকে পুরোনো বন্ধু বলে আখ্যায়িত করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি দুই দিনের সৌদি আরব সফর শেষ করেন গতকাল রোববার। ৪৮ ঘণ্টার সফরে সৌদি বাদশাহ সালমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তিবিদদের একাধিক সমাবেশে যোগ দেন মোদি। ছয় বছর পর কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশটিতে সফর করলেন। মোদির এ সফরের আগে ২০১০ সালে ভারতের তখনকার প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং সৌদি আরব সফর করেন। দেশটিতে অন্তত ৩০ লাখ ভারতীয় কর্মীর বসবাস। গত শনিবার নরেন্দ্র মোদিকে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানান রিয়াদের গভর্নর প্রিন্স ফয়সাল বিন বন্দর আল সৌদ। রিয়াদে পৌঁছেই সেখানে কর্মরত ভারতীয়দের এক সমাবেশে ভাষণ দেন মোদি। তিনি বলেন, ভারতের প্রবৃদ্ধির বড় কারণ এর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। মোদি গতকাল সকালে রিয়াদে সৌদি চেম্বার্স অব কমার্সে ভাষণ দেন। তিনি পেট্রোলিয়াম, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি খাতে বিনিয়োগ করতে সৌদি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান।

এমএইচ৩৭০–এর আরেক টুকরা?

ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র মরিশাসে পাওয়া বিমানের ধ্বংসাবশেষের একটি টুকরা মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের নিখোঁজ ফ্লাইট এমএইচ৩৭০-এর কি না, তা যাচাই করে দেখা হবে বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী ড্যারেন চেস্টার গতকাল রোববার এ কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, ‘মালয়েশিয়ার সরকার ওই ধ্বংসাবশেষ তত্ত্বাবধানে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মরিশাসের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে।’ তবে কোন দেশ ওই ধ্বংসাবশেষের পরীক্ষা করবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এর আগে আফ্রিকার মোজাম্বিকের সাগরসৈকতে পাওয়া বিমানের দুটি ধ্বংসাবশেষের টুকরা ‘প্রায় নিঃসন্দেহে এমএইচ৩৭০’-এর বলে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে জানায় অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়া। সর্বশেষ ধ্বংসাবশেষের টুকরাটি মরিশাসের হদ্রিগিস দ্বীপে ভ্রমণে আসা এক দম্পতি প্রথম দেখেন। ২০১৪ সালে ২৩৯ জন যাত্রী নিয়ে কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিং যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় ফ্লাইট এমএইচ৩৭০।

এনআইএ কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা

ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) এক কর্মকর্তা বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত হয়েছেন। মোহাম্মদ তানজিল নামে ওই কর্মকর্তা গত শনিবার রাতে উত্তর প্রদেশ রাজ্যের বিজনরে স্ত্রী-সন্তানসহ গাড়িতে করে যাওয়ার সময় পথে তাঁকে গুলি করা হয়। হামলায় তাঁর স্ত্রীও আহত হয়েছেন। এনআইএ এ হামলাকে ‘পরিকল্পিত’ বলে আখ্যায়িত করেছে। সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক দলজিৎ চৌধুরী বলেছেন, এই হামলার সঙ্গে জঙ্গিদের যোগসূত্র আছে বলে তিনি মনে করেন। মোটরসাইকেল আরোহী দু্ই বন্দুকধারী গুলি করে দ্রুত চলে যায়। দলজিৎ চৌধুরী বলেন, ‘এটা মারাত্মক একটি হামলা। এর পেছনে কারা জড়িত রয়েছে, তা খোঁজার চেষ্টা হচ্ছে।’

নাগারনো কারাবাখে সংঘর্ষ, অব্যাহত, নিহত ৩০

রাশিয়া ও পশ্চিমের তরফ থেকে যুদ্ধবিরতির আহ্বান সত্ত্বেও বিতর্কিত অঞ্চল নাগারনো কারাবাখের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গতকাল রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ চলে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার বাহিনীর মধ্যে। পরে আজারবাইজান একতরফা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। আগের দিন, শনিবারের সংঘর্ষে দুই পক্ষের মিলে অন্তত ৩০ জন সেনা ও দুজন বেসামরিক ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটে। দুই দশকেরও বেশি সময় পর বিতর্কিত নাগারনো কারাবাখে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয় গত শনিবার। এতে আর্মেনিয়ার ১৮ জন এবং আজারবাইজানের ১২ জন সেনা নিহত হন। দুই প্রতিপক্ষই বলে, শনিবার দিবাগত রাত ও রোববার দিনে থেমে থেমে সংঘর্ষ হয়। ভারী অস্ত্রশস্ত্র, ট্যাংক ও কামান নিয়ে হামলা করা হয়। এ ছাড়া একে অপরের বিরুদ্ধে প্রথমে হামলা শুরুর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে দুই পক্ষই। রোববার সকালে আর্মেনিয়ার মদদপুষ্ট কারাবাখের বাহিনী দাবি করে, শনিবারে অজেরি বাহিনীর দখলকৃত লালা-টেপে শৃঙ্গ পুনরায় দখল করেছে তারা। কিন্তু আজারবাইজান তাদের দাবি অস্বীকার করেছে। আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আর্মেনিয়ার সশস্ত্র বাহিনী রাতে ১৩০ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে। আর্মেনিয়ার ভূখণ্ড ও আর্মেনীয়দের অধিকৃত কারাবাখ থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়। পরে আজারবাইজানি বাহিনী পাল্টা ব্যবস্থা নেয়।’ আর আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘রোববার সকালে কারাবাখের দক্ষিণ দিকে সংঘর্ষ চলেছে। আজারবাইজানিরা হামলার চেষ্টা করে এবং তাদের প্রতিহত করা হয়। পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ।’ এ ছাড়া কারাবাখে আর্মেনিয়ার মদদপুষ্টদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলে, রোববার সকালে আজারবাইজান রকেটচালিত কামান ও ট্যাংক নিয়ে পুনরায় হামলা চালায়। পরে আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সবশেষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘একতরফা যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়ে আজারবাইজান সদিচ্ছা দেখিয়েছে।’

ভারত পর্যাপ্ত প্রমাণ দেয়নি

ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে হামলায় পাকিস্তানি জঙ্গিরা জড়িত ছিল—এমন কোনো প্রমাণ ভারত দিতে পারেনি বলে দাবি করেছে পাকিস্তান। এ হামলার তদন্তে গঠিত পাকিস্তানের যৌথ তদন্ত কমিটি (জেআইটি) এ ব্যাপারে পাকিস্তানের দায়িত্ব অস্বীকার করেছে। ওই কমিটি বিষয়টি তদন্তের জন্য পাঁচ দিন ভারত সফরের পর গত শনিবার দেশে ফিরেছে। পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে হামলার পর ভারত এতে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মুহাম্মদের হাত আছে বলে দাবি করে। ভারতীয় তদন্তকারীরা বলেন, সন্ত্রাসীদের যোগাযোগের ওপর নজরদারি করে এ-সংক্রান্ত তথ্য মিলেছে। একপর্যায়ে ওই হামলার তদন্তে পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ সে দেশের একটি থানায় অভিযোগ দায়ের করে। দেশটির সরকার তদন্ত কমিটিও গঠন করে। এ কমিটিই ভারত সফরে এসে গত ২৯ মার্চ পাঠানকোট বিমানঘাঁটি পরিদর্শন করে। ওই দিন ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) কর্মকর্তারা সফরকারী জেআইটির সদস্যদের হামলার বিষয় জানায়। সেই সঙ্গে তাদের হামলার স্থানগুলোও দেখানো হয়। জেআইটি সূত্র জানায়, বিমানঘাঁটির প্রাচীরের কাছে থাকা আলোর ব্যবস্থা ত্রুটিযুক্ত ছিল বলে তাদের মনে হয়েছে। জেআইটির সদস্যদের বিমানঘাঁটির মূল ফটক দিয়ে না ঢুকতে দিয়ে সংকীর্ণ পথ দিয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়। ঘাঁটিতে তাদের মাত্র ৫৫ মিনিট থাকতে দেওয়া হয়। এই স্বল্প সময়ে জেআইটির সদস্যরা পর্যাপ্ত প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারেননি। জেআইটি সূত্র দাবি করে, সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে বিএসএফকে ৪৮ ঘণ্টা আগে জানানো হয়েছিল। কিন্তু হামলার সময় ওই বাহিনীর সদস্যরা ঘুমাচ্ছিলেন। পাকিস্তানের তদন্ত দলের প্রধান ছিলেন দেশটির সন্ত্রাসবিরোধী বিভাগের পাঞ্জাব প্রদেশ শাখার প্রধান মোহাম্মদ তাহির রাই। পাকিস্তানি তদন্ত দলের ভারতে আসার বিরোধিতা করে বিরোধী দল কংগ্রেস ও দিল্লিতে ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টি। তাদের সমর্থকেরা তদন্ত দলটি পৌঁছানোর দিন ব্যাপক বিক্ষোভ করে। গত ১ জানুয়ারি ভারতের পাঠানকোটের বিমানঘাঁটিতে দুঃসাহসী সন্ত্রাসী হামলা হয়। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে হামলাকারীদের ৮০ ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। ওই ঘটনায় নিহত হন এক সেনা কর্মকর্তাসহ ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সাত সদস্য। হামলার পর চার সন্ত্রাসীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

শরণার্থীদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত গ্রিস

উত্তপ্ত গ্রিস
তুরস্কে ফেরত পাঠানোর সময় ঘনিয়ে আসায় আটকে পড়া শরণার্থীদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গ্রিস। গত শনিবার গ্রিসের কিওসে একটি শরণার্থীশিবিরের বেষ্টনী ভেঙে ফেলে প্রায় ৮০০ লোক। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে গ্রিসের বন্দর শহর পাইরিসে। উত্তাপ ছড়িয়েছে শরণার্থীদের গ্রিসে আসার অন্যতম প্রবেশদ্বার লেসবস দ্বীপেও। গ্রিস সরকার আশঙ্কা করছে, পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে তুরস্কের চুক্তি অনুযায়ী, গ্রিসে থাকা প্রায় এক লাখ শরণার্থীকে তুরস্কে পাঠানো শুরু হওয়ার কথা আজ সোমবার থেকেই। সোম থেকে বুধবার প্রথম দফায় গ্রিসের লেসবস দ্বীপ থেকে তুরস্কের বন্দর শহর দিকিলিতে ৭৫০ জন শরণার্থীকে পাঠানোর কথা। শুরু থেকেই এ বিতর্কিত চুক্তি নিয়ে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন তাদের আপত্তি জানিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, সাগর পাড়ি দিয়ে যে শরণার্থীরা ইইউর সদস্যদেশ গ্রিসে প্রবেশ করেছে, তাদের গ্রহণ করবে তুরস্ক। গ্রিস থেকে ফেরত নেওয়া প্রতিজন সিরীয় শরণার্থীর বিনিময়ে ইতিমধ্যে তুরস্কে থাকা আরেকজন শরণার্থীকে ইইউভুক্ত দেশে পুনর্বাসিত করা হবে। প্রতিবেশী বলকান দেশগুলো সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ায় গ্রিসে আটকে পড়া শরণার্থীর সংখ্যা এখন প্রায় ১ লাখ। এত মানুষকে ফেরত পাঠানোর জন্য গতকাল শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন ইইউ ও গ্রিস সরকারের কর্মকর্তারা। শুরু থেকেই এ কাজের বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। গতকালও এর প্রক্রিয়া নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটে থাকেন ইইউর কর্মকর্তারা। ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে বড় ধরনের আপত্তি উঠেছে। গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, গত শনিবার গ্রিসের দ্বীপ শহর কিওসের শরণার্থীশিবিরে বড় ধরনের হাঙ্গামা হয়। শিবির থেকে চলে যেতে হবে—এ কথা শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সেখানে থাকা শরণার্থীরা। একপর্যায়ে গোলযোগের মধ্যে তিনজন ছুরিকাহত হন। বিক্ষোভ চলাকালে শিবিরের ঘর ও আঙুলের ছাপ নেওয়ার যন্ত্র ভেঙে ফেলে শরণার্থীরা। মুস্তাফা নামের এক শরণার্থী বলেন, ‘আমাকে যদি তুরস্কে ফেরত পাঠানো হয়, তবে পরিবারের সবাইকে নিয়ে আবার সাগরে ঝাঁপ দেব।’ এই শিবিরের এক স্বেচ্ছাসেবী বেঞ্জামিন জুলিয়ান বলেন, ৩০ জন পুলিশ দিয়ে ১ হাজার ৬০০ শরণার্থীকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে যা হওয়ার এখানে তা-ই হচ্ছে। শরণার্থী ফেরত পাঠানোর কাজ যে সহজ হবে না, গ্রিসের কর্মকর্তারাও তা প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছেন। গ্রিসের বামপন্থী সরকারের মুখপাত্র গিওর্গস কাইরিটিস বলেন, ‘আমরা গোলযোগের আশঙ্কা করছি। এভাবে চলে যেতে বাধ্য হওয়া মানুষ স্বাভাবিকভাবেই উগ্র হয়ে ওঠে।’ মুখপাত্র কাইরিটিস বলেন, ‘ইইউ-তুরস্ক চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো তুরস্কের উপকূল থেকে চলা ভয়াবহ মানব পাচার বন্ধ করা। কিন্তু বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। আমরাও খুব ধীরে-সুস্থে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছি। যারা এখানে এসেছে, তারা যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা মানুষ। এরা কেউই অপরাধী নয়।’ চুক্তি অনুসারে ইইউর সীমান্তরক্ষা সংস্থা ফ্রন্টেস্ক গ্রিস থেকে তুরস্কে শরণার্থী ফেরত পাঠানোর বিষয়টি দেখভাল করবে। কিন্তু সংস্থাটি গতকালও এ কাজে সুনির্দিষ্ট লোকবল সরবরাহ করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফ্রন্টেস্কের আটটি জাহাজে করে শরণার্থীদের ফেরত পাঠানো হবে। গিওর্গস কাইরিটিস বলেন, এখন পর্যন্ত এই ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ফ্রন্টেস্কের আইনি পরামর্শক ও অনুবাদকেরা আসেননি। এমনকি ফ্রন্টেস্কের কর্মকর্তাদেরও অনেকে এসে পৌঁছাননি। ২ হাজার ৩০০ কর্মীর আসার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত এসেছেন মাত্র ২০০ জন।

ছয়বার জয়ী গৌতম রায়

গৌতম রায়
নিজে জিতেছেন টানা ছয়বার। এবার সপ্তমবারের জন্য আসামের বরাক উপত্যকার কাঠলিছড়া কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন রাজ্যের সমাজ কল্যাণমন্ত্রী গৌতম রায়। আসামের বরাক উপত্যকায় সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত হাইলাকান্দি জেলায় বিধানসভার তিনটি আসন। কাঠলিছড়া, আলগাপুর ও হাইলাকান্দি। তিনটিতেই শেষ কথা, এখনো কংগ্রেস নেতা গৌতম রায়ই। দোর্দণ্ডপ্রতাপ গৌতম রায় এবারও তিনটি আসনই দলের জন্য ফিরিয়ে আনতে পারেন কি না, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বরাক। গৌতমের দাবি, মানুষ কাজের নিরিখেই তাঁকে ভোট দেবে। সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত বিভিন্ন জনসভায় তিনি নিজেকে সংখ্যালঘুদের লোক বলেই দাবি করে থাকেন। গৌতম রায়ের এ নিশ্চিতির সাম্রাজ্যে পতন ঘটাতে চেষ্টায় ত্রুটি নেই বিরোধীদের। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ থেকে শুরু করে বহু নেতা-মন্ত্রী এবার উড়ে এসেছেন হাইলাকান্দিতে। হাইলাকান্দি জেলায় হিন্দু-মুসলিম সবাই স্বীকার করলেন, জাতপাত নয়, তাঁরা ভোট দেবেন উন্নয়নের নিরিখেই। অর্থাৎ, গৌতম রায়ের ৩০ বছরের সাফল্য আর ব্যর্থতাই বড় ইস্যু এখানে। আসাম ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গৌতম রায়। তাই ক্রিকেটীয় ভাষাতেই বিরোধীদের এবারও ‘ওয়াশ আউট’ করার কথা বলছেন। তাঁর সাফ কথা, ‘মানুষ ডাকলেই আমি হাজির। তাহলে ভোট কেন দেবে অন্যকে!’ মানুষ আসলেই কাকে ভোট দেবে সেটা বোঝা অবশ্য যাবে ১৯ মে। সেদিনই খোলা হবে ইভিএম, মানে বৈদ্যুতিক ভোটযন্ত্র।

সব চোখ উজান আসামে by তরুণ চক্রবর্তী

‘একটি কুঁড়ি, দুটি পাতা, রতনপুর বাগিচায়...!’ গোটা উজান আসামই (আপার আসাম) যেন ভূপেন হাজারিকার সেই বিখ্যাত গানের ‘রতনপুর বাগিচা!’ বাগানের ‘সোনা’ এই ‘একটি কুঁড়ি দুটি পাতার’ হাতছানিই ব্রিটিশদের টেনে এনেছিল ব্রহ্মপুত্রের পারে। আজ সোমবার আসামের ১২৬ আসনের যে ৬৫টি আসনে ভোট হচ্ছে, তার ৪৫টিই প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর উজান আসামে। আসামের উত্তরের বিস্তীর্ণ এলাকার নাম আপার আসাম। এই আপার আসামের নির্বাচন এবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, উজান আসামের ৪৫ আসনের ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে এ রাজ্যটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। আসামের টানা ১৫ বছরের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ নিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উজান আসামেরই তিতাবোর কেন্দ্রে। তাঁর মুখ্যমন্ত্রী কুর্সির প্রধান প্রতিপক্ষ, বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী, বর্তমানে ভারতের ক্রীড়ামন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালও ভোটে লড়ছেন উজান আসামেরই মাজুলি কেন্দ্র থেকে। সেই দিক থেকেও উজান আসামের দিকেই সবার নজর বেশি। আজ প্রথম দফার ভোটও হচ্ছে এই উত্তরেই। আপার আসামের বেশির ভাগ আসনেই চা-শ্রমিকদের আধিপত্য বেশি। তাই ভোট প্রচারে এসে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চা-শ্রমিকদের আবেগকে জয় করার চেষ্টা করেছেন। এতকাল উজান আসামে কংগ্রেসের বড় ভরসা ছিলেন চা-শ্রমিকেরা। কিন্তু সেই ‘কুলি’ ভোটে ফাটল স্পষ্ট। ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভোট ব্যাংকে বড় থাবা বসিয়েছে বিজেপি। সেই সঙ্গে বর্ণহিন্দুদের একটা বড় অংশের সমর্থনপুষ্ট অসম গণপরিষদ গেরুয়া শিবিরে আসায় আপার আসামে ‘পরিবর্তন’-এর হাওয়া বইছে। রাজ্যের অর্থনৈতিক বিকাশে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে এই উজান আসাম। চা রপ্তানির পাশাপাশি কয়লাও এখানকার অর্থনৈতিক সম্পদ। রয়েছে আসাম ওয়েল। তেল, কয়লা ও চায়ের মালিক আপার আসামের মানুষ একটু বেশিই জাত্যভিমানী। আসামের বেশির ভাগ মুখ্যমন্ত্রীও আপার আসাম থেকে নির্বাচিত। ফলে উন্নয়নের হারও অনেকটাই বেশি। আপার আসামে দলের সম্ভাব্য ফল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মুঠোফোনে প্রথম আলোর কাছে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অঞ্জন দত্ত বলেন, গত ১৫ বছরের উন্নয়নের হাত ধরেই কংগ্রেস সেখানে ভালো ফল করবে। সেই সঙ্গে চা-বাগানের উন্নয়নে তাঁদের সরকারের একগুচ্ছ পদক্ষেপের কথাও শোনান তিনি। কিন্তু স্বাভাবিক নিয়মেই কংগ্রেসের ‘কুলি-দরদ’ মানতে নারাজ বিজেপি। সদ্য কংগ্রেস ছেড়ে আসা বিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতা হীমন্ত বিশ্বশর্মার দাবি, ‘কংগ্রেস চা-বাগানে শাসনের নামে শোষণ করেছে! এবার তার জবাব পাবে!’ কংগ্রেস বিজেপির পাশাপাশি রয়েছে, বদরুদ্দিন আজমলের নেতৃত্বাধীন এআইইউডিএফ। অন্যত্র সংখ্যালঘু মুসলিমদের দল হিসেবে পরিচিত হলেও আপার আসামে তাঁরাও নিজেদের ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ বলে দাবি করেন। শুধু দাবি করাই নয়, হিন্দু প্রার্থীও দিয়েছেন তাঁরা। এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে দলের সুপ্রিমো বদরুদ্দিন আজমল দাবি করেন, ‘এবার আসামে সরকার গঠনের চাবি রয়েছে আমাদেরই হাতে।’ লালুপ্রসাদ যাদব আর নীতিশকুমারের সঙ্গে জোট গড়ে উজান আসামে প্রচারে ঝড় তুলছেন তিনি।

সুগন্ধি-সম্রাটের হাতেই সরকার গঠনের চাবি? by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

হিসাবটা মোটামুটি এ রকম। আজ বরাক উপত্যকা ও উজান আসামের প্রথম দফার যে ভোট হতে চলেছে, তাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আট, বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ সাত এবং সুষমা স্বরাজ, রাজনাথ সিং, নিতিন গড়কড়ি ও স্মৃতি ইরানিরা মোট ৪৯টি জনসভায় ভাষণ দিয়েছেন। এঁদের মোকাবিলায় সোনিয়া ও রাহুল গান্ধী এবং আনন্দ শর্মা, সালমান খুরশিদ, জয়রাম রমেশ, গোলাম নবী আজাদ ও রাজ বাব্বরেরা করেছেন ৪৫টা জনসভা। এই হিসাবের সঙ্গে চট করে চোখ বোলানো যাক ভোটের তিন দিন আগে প্রকাশিত জনমত জরিপের রিপোর্টে। দেখা যাচ্ছে, ১২৬ আসনের বিধানসভায় বিজেপি ও তার জোট সঙ্গীরা পাচ্ছে ৫৫টি আসন। ঘাড়ের কাছে নিশ্বাস ফেলছে কংগ্রেস, ৫৩টি আসন পেয়ে। রাজ্যের তৃতীয় শক্তি সুগন্ধি-সম্রাট বদরুদ্দিন আজমলের এআইইউডিএফ জিতছে ১২টি আসনে। জনসভার ক্ষেত্রে বিজেপি ও কংগ্রেসের যা ফারাক, জনমত জরিপের ফারাকও প্রায় ততটাই। নির্যাস একটাই, আসামের ভোটে কংগ্রেসকে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দৌড় করাচ্ছে বিজেপি। শেষমেশ ফল যদি ‘ফটো ফিনিশের’ মতো হয়, তাহলে বলা যেতে পারে, এক চুল হলেও বিজেপি এগিয়ে এবং কিংমেকার হতে চলেছেন বদরুদ্দিন আজমল। সরকার গড়তে হলে কংগ্রেসকে এই প্রথম দফার ৬৫ আসনের মধ্যে অন্তত ৪৫টি জিততেই হবে। বরাক উপত্যকা ও উজান আসামই কংগ্রেসের মূল ঘাঁটি। বিদায়ী বিধানসভায় এই ৬৫ আসনের মধ্যে ৫৪টিই ছিল তাদের দখলে। পাঁচ বছর আগের সেই সুদিন এখন কংগ্রেসের নেই। বরাকের তিন জেলায় তাদের পাঁচ বিধায়ক দলত্যাগী। বিজেপিও কোমর কষে নেমেছে। মোদি-শাহ জুটির কাছে আসাম দখল জীবন-মরণের প্রশ্ন। পাঁচ বছর আগে এই ৬৫-র মধ্যে তাদের দখলে ছিল মাত্র তিনটি। এবার তারা তিনের পাশে একটা শূন্য বসাতে মরিয়া। জরিপ অনুযায়ী অবশ্য বিজেপির তুলনায় কংগ্রেসের ভোটের শতাংশের হার বেশি। বিজেপির ৩৩-এর তুলনায় কংগ্রেস পাচ্ছে ৩৭ শতাংশ ভোট। কিন্তু ভোটের হারের সঙ্গে আসনপ্রাপ্তির যে সব সময় তালমিল ঘটে, তা নয়। গত লোকসভার ভোটে রাজ্যের ১৪টি আসনের মধ্যে সাতটি জিতেছিল বিজেপি। সেই জয় তাদের এবার ১৫ বছরের কংগ্রেস একাধিপত্যের অবসানে আশাবাদী করে তুলেছে। সে জন্য বিজেপি বিধানসভা ভোটে হাত মিলিয়েছে অসম গণপরিষদ ও বোড়ো পিপলস ফ্রন্টের সঙ্গে। কংগ্রেসকে ভাঙিয়ে দলে টেনেছে তরুণ গগৈর একসময়কার ডান হাত হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে। তরুণ গগৈর রাজনৈতিক জীবনে এত বড় চ্যালেঞ্জ আগে আসেনি। এই চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ৮০ বছরের ‘তরুণ’ কিন্তু অচঞ্চল। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে সোনিয়া-রাহুলকে বাধ্য করেছেন তিনি। সফল আতর ব্যবসায়ী এআইইউডিএফ প্রধান বদরুদ্দিন আজমলের সঙ্গে জোট বাঁধার জন্য তাঁর ওপর চাপ ছিল। বদরুদ্দিন আজমলও আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু তরুণ আপাতত ‘একলা চলো’ নীতিতেই এগিয়েছেন। ১৫ বছরে আর যা-ই হোক আসামকে অশান্ত হতে দেননি তরুণ গগৈ। অর্থনীতির ওপর জোর দিতে অবকাঠামোর দিকে নজর দিয়েছেন। বিজেপি এলে রাজ্যে হানাহানি বাড়বে—এটাই তাঁর প্রধান রাজনৈতিক প্রচার। এ রাজ্যের বাঙালি হিন্দুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রশ্নটি বড়ই স্পর্শকাতর। বরাবরই এই প্রশ্ন নির্বাচনী ইস্যু হয়ে ওঠে। বিজেপি এই বিশ্বাসই এত বছর ধরে দিয়ে এসেছে। গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর এই লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকার দুটি নোটিশ জারি করে। অমিত শাহ বরাক উপত্যকার জনসভাগুলোতে বলেছেন, এ বিষয়ে তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট। রাজ্যসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেই তাঁরা এই বিল নিয়ে আসবেন। এ জন্য বিধানসভায় সংখ্যা বাড়ানো জরুরি। কিন্তু বিজেপির দুই জোট সঙ্গী এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে সহমত নয়। বরাকের হিন্দু বাঙালিরাই বিজেপির ভরসা। নাগরিকত্বের প্রশ্নে তারাই আবার ধন্দে। শেষ হাসি কে হাসবে, কংগ্রেস ও বিজেপির নেতারা আজকের ভোটের পরেই তা বুঝে যাবেন। মোদি-শাহ জুটির চাপ আরও বাড়বে, নাকি কংগ্রেস কিছুটা হাঁফ ছেড়ে বাঁচবে, আসামের ফলেই তা বোঝা যাবে। দুশ্চিন্তাহীন শুধু বদরুদ্দিন আজমল। কংগ্রেস বা বিজেপি কারও পক্ষেই নিশ্চিত ফল না হলে সুগন্ধি-সম্রাটের হাতেই থাকবে সরকার গঠনের চাবিকাঠি। বদরুদ্দিন আজমলের টেনশন তাই সবার চেয়ে কম।

পুরো ভারতের নজর পশ্চিমবঙ্গের দিকে by রজত রায়

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ‘জঙ্গলমহলের’ ১৮টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গ্রহণের মধ্য দিয়ে রাজ্যে ছয় দফার ভোট গ্রহণ পর্ব শুরু হচ্ছে আজ সোমবার। পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার জঙ্গল-অধ্যুষিত এলাকাই জঙ্গলমহল নামে পরিচিত। ২০০৭ থেকে ২০১২ পর্যন্ত মাওবাদীরা সক্রিয় ছিল জঙ্গলমহলে। কিন্তু শীর্ষস্থানীয় মাওবাদী নেতা কিষেনজি পুলিশের হাতে প্রাণ হারানোর পরে অনেকেই আত্মসমর্পণ করে ক্ষমতাসীন তূণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছে। এ কারণে ওই এলাকায় মাওবাদী প্রভাব আর প্রায় নেই বললেই চলে। তবু নির্বাচন কমিশন কোনো ঝুঁকি না নিয়ে জঙ্গলমহলে দুই দিন ধরে আলাদা ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ ৪ এপ্রিল এবং ১১ এপ্রিল। মাওবাদীরা যাতে ভোটে কোনো রকম নাশকতা না করতে পারে, সে জন্য বিশাল কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। জঙ্গলমহলকে প্রথম দফা ধরে নির্বাচন কমিশন মোট ছয় দফায় ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা করেছে পশ্চিমবঙ্গে। ভোট গ্রহণ পর্ব শেষ হবে ৫ মে। আসামে ৪ ও ১১ এপ্রিল এ দুই পর্বে ভোট। আসামের ১২৬ আসনের মধ্যে আজ হবে ৬৫ আসনে ভোট। পরে মে মাসেই তামিলনাড়ু, কেরালা ও পদুচেরিতে ভোট। তাই এসব রাজ্যের ভোটপর্ব মিটলে একসঙ্গে নির্বাচনের ফল ঘোষণা হবে ১৯ মে। ভোট পাঁচ রাজ্যে হলেও গোটা দেশের নজর এবার পশ্চিমবঙ্গের দিকে। কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তূণমূল কংগ্রেস পাঁচ বছর রাজত্বে দুর্নীতি, স্বজন পোষণ, সমাজবিরোধীদের প্রশ্রয় দেওয়া থেকে শুরু করে নানা বিতর্কে জড়িয়েছে। এর আগে সারদা ও একগুচ্ছ চিটফান্ডের কেলেঙ্কারিতে শাসক দলের নেতা-কর্মীরা জড়িয়েছেন, কেউ কেউ জেলে গিয়েছেন, তেমনই সম্প্রতি নারদা ‘স্টিং অপারেশনের’ ভিডিওতে ওই দলের নেতা, মন্ত্রী, সাংসদদের লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিতে দেখা গেছে। কলকাতায় কয়েক দিন আগেই নির্মীয়মাণ উড়ালসড়ক ভেঙে পড়ায় যে অনেক মানুষের প্রাণ গেল, সেখানেও অভিযোগ উঠেছে, তূণমূল কংগ্রেসের নেতাদের লোভের মাশুল দিতে উড়ালসড়ক নির্মাণে নিম্নমানের উপাদান ব্যবহার করা হয়েছিল। রাজ্যের সর্বত্র চাঁদাবাজির সঙ্গে তূণমূল কংগ্রেসের নেতাদের নাম জড়িয়েছে। চাঁদার ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থেকে খুনোখুনি এখন নিয়মিত ঘটনা। ভোটের সময় শাসক দলের তরফে পেশিশক্তি ব্যবহার করে বুথ দখল ও জাল ভোট দেওয়ার প্রবণতাও ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় খুব বেশি করে চোখে পড়েছে।
এই অবস্থায় বিরোধী কংগ্রেস ও বামপন্থীরা জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে নামায় লড়াই খুবই জমে ওঠে। কারণ, ২০১৪ সালের প্রাপ্ত ভোটের হিসাবে কংগ্রেস-বাম জোটের ভোট ক্ষমতাসীন তূণমূল কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোটের কাছাকাছি। বিজেপি ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তার হাওয়ায় পশ্চিমবঙ্গে রেকর্ড অঙ্ক ১৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। এ ছাড়া দলটি সাধারণত ৪ থেকে ৬ শতাংশের বেশি ভোট পায় না। এবার মোদি-হাওয়া নেই। মোদি সরকারের জনপ্রিয়তাও নিম্নমুখী। ফলে, বিজেপির ভোটও অনেক কমার সম্ভাবনা। বিজেপির ভোট কমলে তা কোন দিকে ঝুঁকবে, শাসক তৃণমূল, নাকি কংগ্রেস-বাম জোটের দিকে, তার ওপর এবারের ভোটের ফল অনেকটাই নির্ভর করছে। ফল নির্ভর করছে আরও একটা জিনিসের ওপরেও। তা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা। ২০১৪ সালে নির্বাচন কমিশন গোড়ায় খুব হম্বিতম্বি করলেও ভোট ডাকাতি ঠেকাতে কোনো চেষ্টাই করেনি। এবার কমিশন অনেক আটঘাট বেঁধে নেমেছে। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর মোট ৭০০ কোম্পানি সদস্য থাকছে ভোটে নিরাপত্তা দিতে। গতবার কেন্দ্রীয় বাহিনী এলেও ব্যারাকে বসে ছিল। শাসক দলের বুথ দখল, ভোট লুটে ভূমিকা ছিল পাহারায় থাকা রাজ্য পুলিশেরও। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নাসিম জাইদি জানেন, ২০১৪ সালের ভোট পরিচালনা নিয়ে এসব সমালোচনার কথা। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, এবার ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনীই দায়িত্বে থাকবে। কমিশনের এসব ঘোষণায় ক্রুদ্ধ ও চিন্তিত শাসক দল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন সভায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী তো ভোটের পরেই চলে যাবে, তারপর তো এ রাজ্যের মানুষকে রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের তাঁবেই থাকতে হবে। ইঙ্গিত স্পষ্ট, তাঁদের কথামতো ভোট না দিলে ভোটের পরে দেখে নেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের নিরাপত্তার আশ্বাস এবং শাসক দলের হুমকির মধ্যে ভোটদাতারা কোনটাকে বেশি গুরুত্ব দেন, তার ওপরেই ফলাফল অনেকটা নির্ভর করতে পারে। সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে ক্ষমতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, তেমনই অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট পরিচালনা করে রাজ্যবাসীর আস্থা অর্জন করাও নির্বাচন কমিশনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

পশ্চিমবঙ্গে মাওবাদী অধ্যুষিত তিন জেলায় ভোট চলছে by অমর সাহা

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে মাওবাদী অধ্যুষিত তিন জেলার ১৮টি কেন্দ্রে আজ সোমবার সকাল সাতটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। জেলা তিনটি হলো পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুরা ও পুরুলিয়া। এই ১৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩টি কেন্দ্র পুরোপুরি মাওবাদী অধ্যুষিত জঙ্গলমহল। ১৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে পুরুলিয়ায় রয়েছে নয়টি, পশ্চিম মেদিনীপুরে ছয়টি এবং বাঁকুরায় রয়েছে তিনটি আসন। ২০১১ সালের সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনে এই ১৮টি আসনের মধ্যে তৃণমূল-কংগ্রেস জোট জিতেছিল ১২টি আসন আর বামফ্রন্ট জিতেছিল ছয়টি আসন। আজ সেই ১৮টি আসনেই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভোট নেওয়া শুরু হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চলছে। ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে ২৫৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাবাহিনী নিয়োগ করা হয়েছে। ১৮টি কেন্দ্রে ৪০ লাখ ৯ হাজার ১৭১ ভোটার। ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৪ হাজার ২০৩ টি। বুথ ৪ হাজার ৯৪৫ টি। এই ১৮টি কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বামফ্রন্ট, কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, ভারতীয় জনতা পার্টিসহ (বিজেপি) বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ১৩৩ জন প্রার্থী। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত থাকছে আটজন করে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। থাকবে রাজ্য পুলিশ। কেবল ভোটারের লাইন সামাল দেবে রাজ্য পুলিশ। প্রতিটি কেন্দ্রে থাকছে সিসিটিভি। আকাশপথে নজরদারি করতে থাকবে দুটি হেলিকপ্টারও। প্রস্তুত রাখা হয়েছে কুইক রেসপন্স টিমকে। রাখা হয়েছে অ্যান্টি ল্যান্ডমাইন ডিভাইস। এবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার ২৯৪টি আসনের নির্বাচন হবে ছয় দফায়। প্রথম দফা হবে দুটি তারিখে। আগামীকাল ৪ এপ্রিল ও ১১ এপ্রিল। । ৪ এপ্রিল ১৮টি কেন্দ্রে এবং ১১ এপ্রিল ৩১টি কেন্দ্রে ভোট নেওয়া হবে। দ্বিতীয় দফায় ১৭ এপ্রিল ৫৬টি কেন্দ্রে ভোট নেওয়া হবে। তৃতীয় দফার ভোট নেওয়া হবে ২১ এপ্রিল ৬২টি কেন্দ্রে। চতুর্থ দফায় ভোট নেওয়া হবে ২৫ এপ্রিল ৪৯টি কেন্দ্রে, পঞ্চম দফায় ৩০ এপ্রিল ৫০টি কেন্দ্রে এবং শেষ বা ষষ্ঠ দফায় নেওয়া হবে ৫ মে ২৫টি কেন্দ্রে। আর এই শেষ দফায় ভোট নেওয়া হবে কোচবিহারের সাবেক ছিটমহলবাসীদেরও। ফলাফল ঘোষণা হবে ১৯ মে। এবারের ভোটযন্ত্র বা ইভিএম মেশিনে প্রার্থীদের ছবি থাকছে। থাকছে ‘না’ ভোটের বোতামও। এবারের ভোটে অংশ নিতে পারবে কোচবিহারের সাবেক ছিটমহলবাসীরা। পশ্চিমবঙ্গে ভোট নেওয়া হবে ৭৭ হাজার ২৪৭টি কেন্দ্রে। ভোট দেবেন ৬ কোটি ৫৫ লাখ ভোটার।

পাকিস্তানে বন্যায় নিহত ৫৩

বন্যায় নিহত ৫৩
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে মুষলধারে বৃষ্টি থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় কমপক্ষে ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত শনিবার থেকে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এতে খাইবার পাখতুনখাওয়া, কাশ্মীর ও গিলগিত-বালতিস্তান প্রদেশে বন্যা দেখা দেয়। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় লোকজনকে গ্রাম ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হচ্ছে। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কর্মকর্তা লতিফ উর রেহমান বলেন, এই বৃষ্টি ও বন্যায় বেশ কিছু লোক আহত হয়েছে। চিকিৎসার জন্য তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি ও বন্যায় ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেতু ডুবে গেছে। সোয়াত ভ্যালির বাসিন্দা হাবিব খানের অভিযোগ, তাঁরা অসহায় অবস্থায় আছেন। তাঁদের সহায়তার জন্য সরকারের কোনো লোকজন এখন পর্যন্ত আসেনি। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, দুর্গত লোকজনের জন্য মোটা কাপড় ও অন্যান্য ত্রাণ পাঠানো হয়েছে। শত শত লোকজনকে নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিপুল উৎসাহের মধ্য দিয়ে আসামে ভোট চলছে

আসামে প্রথম দফার ভোট। সকাল থেকে
বুথের সামনে ভোটারদের লম্বা লাইন।
রাতভর বৃষ্টির পরও আকাশের মুখ ভার। এ নিয়ে অবশ্য আয়েশা বা অর্চিতাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। ছাতা মাথায় সাতসকালে বুথে হাজির। লম্বা লাইনে তাঁরা একে একে ভোট দেওয়ার যন্ত্রের বোতাম টিপে চলেছেন। উত্তর-পূর্ব ভারতের আসামে ভোটকেন্দ্রগুলোতে আজ সোমবার সকাল থেকে প্রথম পর্যায়ের ভোটে ভোটারদের বিপুল উৎসাহ চোখে পড়ার মতো। বাংলাভাষী বরাক উপত্যকার শিলচর রেলস্টেশনের সামনেই সাতসকালে দেখা বাবুল হোড়ের সঙ্গে। তিনি ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের সদস্য। গতকাল রোববার রাতে কলকাতায় ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফাইনাল দেখে আজ ভোরেই শিলচর বিমানবন্দরে নেমেছেন। তারপর সোজা চলে এসেছেন ভোটকেন্দ্রে। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘কখন কোথায় ব্যস্ত হয়ে পড়ি, তাই আগেভাগে ভোটটা দিয়ে দিলাম!’ সকাল সকাল ভোট দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ, প্রদেশের কংগ্রেস সভাপতি অঞ্জন দত্ত। ভোট দিয়েই সাংবাদিকদের সামনে তাঁদের দাবি, ‘১০০ শতাংশ আমরাই জিতব!’ পাল্টা দাবি অবশ্য বিজেপি শিবিরের থেকেও শোনা গেছে। মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ‘পরিবর্তন হচ্ছেই!’  নেতাদের দাবি, পাল্টা দাবির মধ্যেই ভোটকর্মীরা ভোটগ্রহণে ব্যস্ত। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনই তাঁদের লক্ষ্য। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবদুল মজিদ লস্কর প্রথম আলোকে জানান, এবারের বন্দোবস্ত আগের থেকে ভালো করা হয়েছে। একই মত ভোটকর্মী দীপক রঞ্জন রায়ের। ইফতিকার আহমেদ অবশ্য বললেন, ‘ওয়েদারটাই সমস্যায় ফেলছে। নইলে সবই ঠিক আছে।’ তবে খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেও ভোটারদের মধ্যে উৎসাহের যে কোনো ঘাটতি নেই, সেটা জানালেন অসীম কুমার চৌধুরী। তাঁর দাবি, শান্তিপূর্ণভাবেই চলছে ভোটগ্রহণ। তবে এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যেই রিগিং, বুথ দখল ও সন্ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগও আসতে শুরু করে সকাল থেকে। তবে গুরুতর অভিযোগ নেই বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে সাংবাদিকদের জানানো হয়েছে। কয়েকটি বুথে ইভিএমের অবশ্য গোলযোগ এবারও এড়ানো যায়নি। সেটা বাদ দিলে আসামের প্রথম দফার ভোটের শুরু খুবই ভালো হয়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে। ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভোটারের হারও বাড়তে থাকে। আসামের বরাক উপত্যকার মালুগ্রামে কথা হচ্ছিল নব্য ভোটার ঐয়াষা ভট্টাচার্যের সঙ্গে। কলেজপড়ুয়া ঐয়াষা এবারই প্রথম ভোট দেন। আঙুলে কালি লাগিয়ে ভোটদানের পর তিনি দারুণ খুশি। প্রথম আলোকে বললেন, ‘খুব ভালো লাগছে। জীবনে প্রথম ভোট দিলাম। তবে আঙুলে কালির দাগটা না লাগালেই ভালো হতো!’ প্রায় একই মত শহরের উপকণ্ঠে মধুরবনের ভোটার পারভিনের। তাঁর অবশ্য কালির দাগটাই ভালো লাগছে। কালি লাগানো আঙুল দেখিয়ে বললেন, ‘ভোট দিয়েছি তার প্রমাণ!’  ১২৬ সদস্যের আসাম বিধানসভার ৬৫ আসনে ৫৩৯ জন প্রার্থী প্রথম দফায় ভোটে লড়ছেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন টানা ১৫ বছরের মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস প্রার্থী তরুণ গগৈ, বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালও। মোট ১২ হাজার ৯১০টি বুথে ৯৫ লাখ ১১ হাজার ৭৩২ জন ভোটার ভোট দেবেন। ১৯ মে ভারতের পাঁচ রাজ্যে একসঙ্গে ভোটের ফল ঘোষণা করা হবে।

জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী হলেন মেহবুবা

জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপশন মেহবুবা মুফতি।
ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী হলেন পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) নেত্রী মেহবুবা মুফতি। পিডিপি-বিজেপি জোট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আজ সোমবার শপথ নিয়েছেন তিনি। বার্তা সংস্থা এএনআই এ তথ্য জানিয়েছে। মেহবুবাকে শপথ পড়ান রাজ্যপাল এন এন ভোরা। মেহবুবা সরকারের মন্ত্রীরাও শপথ নিয়েছেন। শপথ অনুষ্ঠানে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের পার্লামেন্ট-বিষয়ক মন্ত্রী ভেঙ্কাইয়া নাইডু, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। তবে অনুষ্ঠান বর্জন করেছে কংগ্রেস। রাজ্যে পিডিপি-বিজেপি জোট সরকার গঠন এবং সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য গতকাল রোববার মেহবুবাকে আমন্ত্রণ জানায় রাজ্যপাল। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে রাজ্যে গত প্রায় তিন মাস ধরে চলা রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটল। গত জানুয়ারিতে পিডিপি-বিজেপি জোট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মুফতি মুহম্মদ সাঈদ মারা যান। এরপর মুফতি-কন্যা মেহবুবা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানান। ওই সময় বিধানসভা না ভেঙে রাজ্যে রাজ্যপালের শাসন জারি করা হয়। তখন থেকে রাজ্যে অচলাবস্থার শুরু। বিজেপির সঙ্গে জোট বেঁধে সরকার গঠনে মেহবুবার ঘোর আপত্তি ছিল। কিন্তু প্রয়াত বাবার ইচ্ছা ও চাহিদার বিরোধিতা করতে পারেননি তিনি। মেহবুবার দাবি ছিল, জোট সরকার গঠনের সময় কেন্দ্রীয় স্তরে যে প্রতিশ্রুতিগুলো দেওয়া হয়েছিল, তা পালিত হয়নি। এই প্রতিশ্রুতিগুলো নিয়ে (এজেন্ডা অব অ্যালায়েন্স) কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিশ্রুতি না পেলে তাঁর পক্ষে সরকার গঠন সম্ভব নয়। মুফতির মৃত্যুর পর মেহবুবা বুঝতে পারেন, বিজেপির সঙ্গে হাত মেলানোয় পিডিপির জনপ্রিয়তা কমেছে। এতে সরকার গঠনে তিনি টালবাহানা করতে থাকেন। গত মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে বরফ গলে। বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়, রাজ্যের জন্য নতুন করে কোনো প্রতিশ্রুতি তারা দিচ্ছে না। জোট সরকার গঠনের সময় মুফতি-মোদির মধ্যে যে বোঝাপড়া (অ্যাজেন্ডা অব অ্যালায়েন্স) হয়েছিল, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। ৮৭ আসনের জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভায় পিডিপির সদস্যসংখ্যা ২৭, বিজেপির ২৫।

৩৪তম বিসিএসে দীর্ঘসূত্রতা

২০১৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ৩৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)। ওই বছরের ২৪ মে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১ লাখ ৯৫ হাজার পরীক্ষার্থী এতে অংশ নেন। একই বছর ১৪ জুলাই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এরপর পরবর্তী বছর অর্থাৎ ২০১৪ সালের ২৪ মার্চ থেকে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়, যার ফল প্রকাশিত হয় ১৮ ডিসেম্বর ২০১৪। পরবর্তীকালে ১৮ জানুয়ারি থেকে ১ জুন ২০১৫ পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় ১০ হাজার পরীক্ষার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। সর্বশেষ গত বছর ২৯ আগস্ট ২ হাজার ১৫৯ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি। জানা গেছে, চূড়ান্ত ফলের সাত মাস পার হলেও বিভিন্ন সরকারি সংস্থা/বিভাগ কর্তৃক প্রার্থীদের প্রত্যয়ন ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়ায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গেজেট প্রকাশ করতে পারছে না। এদিকে গত বছরের আগস্টে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর থেকে অনেকেই অন্য চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে বেকার দিন কাটাচ্ছেন। ইতিমধ্যে ৩৫তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষাও শুরু হয়ে গেছে এবং ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ অনেকেই ৩৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি, আবার অনেকে করবেন কি না বুঝতে পারছেন না শুধু গেজেট ও নিয়োগের অপেক্ষায়। আমরা ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা এই দীর্ঘসূত্রতার অবসান চাই। অনেক সময় চলে গেছে, দয়া করে আমাদের আর বসিয়ে রাখবেন না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিনা মূল্যে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার আশায় এসে পদে পদে মূল্য পরিশোধ করতে বাধ্য হন ধনী-দরিদ্র, সচেতন-অচেতন—সবাই। চিকিৎসার্থে আসা রোগীদের বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয় কমপ্লেক্স ঘিরে গড়ে ওঠা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। স্বল্পমূল্যের সাধারণ ওষুধপত্র ও সদুপদেশে যেসব রোগ সেরে ওঠার কথা, সেখানে এই রোগীর অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা না করেই দেওয়া হয় টেস্টের বোঝা। পরে দেখা যায় এসব রিপোর্টের দিকে ফিরেও তাকান না চিকিৎসকেরা। পুরো কমপ্লেক্সটি যেন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লিয়াজোঁ অফিস, আর চিকিৎসক থেকে শুরু করে ঝাড়ুদার পর্যন্ত সবাই সেই সেন্টারের কর্মী! কোনো কোনো চিকিৎসক ব্যক্তিমালিকানাধীন চিকিৎসাকেন্দ্রের প্রতি এতটা দায়বদ্ধ থাকেন যে, অন্যত্র বদলি হওয়ার পরও বর্তমান কর্মস্থল ছাড়তে পারেন না। তারপর আছে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা। তাঁদের দাপটে রোগীদের কমপ্লেক্সে ঢোকাই দায়। ফলে সবাই মিলে এখানে গরিব রোগীদের পকেট কাটার ব্যবস্থা করেছে। এভাবে একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চলতে পারে না। আশা করি, সরকার বিষয়টিতে নজর দেবে।

দৃকের কর্মকর্তা ইরফানুল হত্যায় মামলা হয়েছে

ইরফানুল ইসলাম
আলোকচিত্র ও শিল্পকর্ম প্রদর্শন প্রতিষ্ঠান দৃক গ্যালারির প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইরফানুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আজ সোমবার তাঁর ভাই ইমদাদুল ইসলাম কলাবাগান থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন। সেখানে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে। কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে পেশাদারি খুনিরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। শনিবার বেলা একটার দিকে আলোকচিত্র ও শিল্পকর্ম প্রদর্শন প্রতিষ্ঠান দৃক গ্যালারির মহাব্যবস্থাপক রেজাউর রহমানের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, ওই প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইরফানুল ইসলাম ৩ লাখ ৮ হাজার টাকার একটি চেক ভাঙাতে শনিবার বেলা ১১টা ২৬ মিনিটে ধানমন্ডির ২৭ নম্বর সড়ক-সংলগ্ন অফিস ছাড়েন। টাকা তোলার পর ১১টা ৪৮ মিনিটে তাঁর সঙ্গে দৃক গ্যালারি অফিসের শেষবারের মতো যোগাযোগ হয়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ। শনিবারই বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবিদ হোসেন খান ইরফানুলের লাশ উদ্ধার করেন। তখনো লাশের পরিচয় ছিল অজানা। পুলিশের ধারণা, অন্য কোথাও খুন করে ইরফানুলের লাশ জালকুড়ির ঝোপে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের ১৫০ শয্যা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, প্রথমে মাথায় আঘাত ও পরে শ্বাসরোধ করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর মাথার পেছনের দিকে আঘাতের চিহ্ন ও পিঠে আঁচড়ের দাগ রয়েছে। নারায়ণগঞ্জে লাশ পাওয়ার পাঁচ ঘণ্টা আগেও শনিবার দুপুরে ঢাকার ধানমন্ডির ৮ নম্বর সড়কে একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সিসি ক্যামেরায় ইরফানুল ইসলামকে দেখা গেছে বলে কলাবাগান থানার ওসি গতকাল রোববার রাতে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন।

সিম নিবন্ধনে ঝুঁকি নেই: মন্ত্রিসভা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ
সোমবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে মোবাইল ফোনের সিম নিবন্ধনে গ্রাহকরা আঙুলের ছাপ দেওয়ার কারণে কোনো ঝুঁকিতে পড়বে না বলে আশ্বস্ত করেছে মন্ত্রিসভা। আজ সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে সিম পুনর্নিবন্ধন বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে উল্লেখ করা হয়। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এই বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ কথা জানান। সূত্র জানায়, সিম পুনর্নিবন্ধন নিয়ে যেসব আশঙ্কা ও সমালোচনা হচ্ছে, তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। তখন ডাক তার ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, মোবাইল অপারেটরদের কাছে কোনো তথ্য জমা থাকছে না। মোবাইল অপারেটরদের বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধন যন্ত্রে আঙুলের ছাপ সংরক্ষণেরও কোনো ব্যবস্থা নেই। এটা কোনোভাবে অন্য কোথাও ব্যবহার করা যায় না। অপারেটররা শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র তথ্য ভান্ডারের সঙ্গে গ্রাহকদের তথ্য মিলিয়ে নিচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইন অনুসারে কোনো কোম্পানি এসব তথ্য বাইরে ব্যবহার করতে বা কাউকে দিতে পারেন না। টেলিযোগাযোগ আইন অনুযায়ী অপারেটররা কোনো আইন ভঙ্গ করলে তাদের ৩০০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে ছয়টি মোবাইল অপারেটর গ্রাহকদের আঙুলের ছাপ নিয়ে সিম/রিম নিবন্ধন ও তথ্য যাচাই শুরু করে। এরপর থেকে নানা মহল থেকে সমালোচনা করে বলা হচ্ছে, বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশনের সময় নেওয়া গ্রাহকদের আঙুলের ছাপ মোবাইল অপারেটরদের কাছে সংরক্ষিত থাকবে। সেখান থেকে অন্যদের কাছে এসব তথ্য চলে যাওয়ার আশঙ্কা করে বলা হচ্ছে, নাগরিকের একান্ত ব্যক্তিগত তথ্য বিদেশে চলে যাবে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নিরীহ মানুষকে জড়ানো হবে। আঙুলের ছাপসহ অন্যান্য তথ্য অপব্যবহারের ঝুঁকি থাকবে।

কাঁটা মান্দার by সৌরভ মাহমুদ

কাঁটা মান্দার ফুল,ভোলা থেকে তোলা
শীতের শেষে যখন বসন্তের হাওয়া লাগে, তখনই নানা ফুলের সঙ্গে গ্রামবাংলায় মান্দার ফুল দেখা যায়। বেশ কয়েক প্রজাতির মান্দার আছে আমাদের দেশে। তবে যে প্রজাতিটি দক্ষিণবঙ্গের মানুষের কাছে অতিপরিচিত, সেটি হলো কাঁটা মান্দার। কেউ কেউ এটিকে মাদার ও পানিয়া মান্দার নামেও চেনেন। উত্তরবঙ্গে এটি দেখিনি। তবে মেঘনা ও সুরমা অববাহিকার তীরবর্তী এলাকায় কিছু গাছ চোখে পড়েছে। এটি বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, কক্সবাজার, নোয়াখালী ও গঙ্গার নিম্ন এলাকায় বেশি দৃশ্যমান। মূলত বীজ জলের প্রবাহের মাধ্যমে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। বুনো গাছ। তাই যত্ন করার প্রয়োজন হয় না। জলের কাছের ঝোপঝাড়ে বেড়ে ওঠে। কেউ কেটে না ফেললে অনেক বছর বাঁচে। আবার ডাল কেটে লাগালেও গাছ হয়। স্বাদু জল ও জোয়ার-ভাটা এলাকায় ভালো জন্মে। বেড়া দিতে, জ্বালানি কাঠ হিসেবে ও মাছের ঝাউ (পুকুর কিংবা নদীর অগভীর অংশে মাছ ধরার জন্য গাছের ডাল দিয়ে তৈরি আবাস) দেওয়ার কাজে এ গাছের ডাল ব্যবহার করা হয়। কাঁটা মান্দারগাছের কোনোটির কাণ্ডের গায়ে ঘন ও প্রচুর কাঁটা থাকে, আবার কোনোটির কাণ্ডে কাঁটার পরিমাণ কম। ফাল্গুন মাসে গায়ের গো-শালিক পাখি বাসা তৈরির জন্য এ গাছটিকে বেছে নেয়। কাঁটার ভয়ে গায়ের দুষ্ট ছেলের দল গাছে উঠতে পারে না, পাখিরাও সে ব্যাপারটি আঁচ করতে পেরেছে। বসন্তে যখন ফুল ফোটে, তখন এ গাছের ফুলে বিচরণ করে নানান প্রজাতির পাখি। কাঁটা মান্দার ফুল গ্রামের কিশোর-কিশোরীদের কাছে অতি প্রিয়। পাকা তেঁতুল, সরিষার তেল ও মান্দারের লাল ফুল চটকিয়ে এক প্রকার চাটনি তৈরি করা হয়, যা ‘তেঁতুল বানানি’ নামে বরিশাল এলাকায় পরিচিত। ফুলের পাপড়ির রং টুকটুকে লাল। বসন্তের দিনে আমাদের প্রতিদিনের খাবার ছিল এটি। মেহগনি, শিশুসহ আগ্রাসী প্রজাতির গাছের কারণে এ গাছ ধীরে ধীরে গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। তা ছাড়া ইটের ভাটায় কাঠের জোগান ও দেশলাই তৈরিতে ব্যবহৃত হওয়ার কারণে পরিণত বয়সের মান্দার দেখা ভাগ্যের ব্যাপার। ছেলেবেলায় অনেক চওড়া ও লম্বা মান্দারগাছ দেখেছি। বিগত ১০ বছরে সে রকম আকারের কাঁটা মান্দারগাছ চোখে পড়েনি। এটি নরম কাণ্ডবিশিষ্ট বৃক্ষ। শাখা-প্রশাখা ফ্যাকাশে ধূসর। অসংখ্য কালো বর্ণের কাঁটা দ্বারা কাণ্ড পরিবেষ্টিত। বাকল গভীরভাবে ফাটা। পাতা সবুজ। দীর্ঘদিন পর হলদে হয়ে ঝরে পড়ে। শাখার আগায় ফুলের মঞ্জরি হয় এবং একটি মঞ্জরিতে একাধিক ফুল থাকে। পুষ্প টকটকে লাল কিংবা সিঁদুরে, উজ্জ্বল, ৩.৪—৪.৩ সেন্টিমিটার লম্বা। ফল পড, পাকলে বহিত্বক ফেটে বীজ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। বীজ কালো, বৃক্কাকার, মসৃণ। বাংলা ও গাঙ্গেও সমভূমি ও মিয়ানমারে আদি আবাস। এটির পরিবার Fabaceae। বৈজ্ঞানিক নাম erythrina fusca।

শাকিলাসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাকিলা ফারজানাসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে র্যাব। এতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামভিত্তিক নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘শহীদ হামজা ব্রিগেড’কে অর্থায়ন এবং নাশকতার পরিকল্পনায় আসামিদের জড়িত থাকার বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নতুন এই জঙ্গি সংগঠনটির প্রধান বাহরাইনের নাগরিক আল্লামা লিবদি। তাঁর অর্থায়নে ও নির্দেশে হামজা ব্রিগেড গড়ে তোলা হয়েছিল। পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না পাওয়ায় তাঁকে এ মামলায় আসামি করা হয়নি। গতকাল রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের মুখ্য বিচারিক হাকিম মুন্সি মো. মশিয়ার রহমানের আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক রুহুল আমিন। এর আগে গত ২০ মার্চ বাঁশখালী থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় শাকিলাসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় র্যাব। এর আগে গত ১৬ মার্চ হালিশহর থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় হামজা ব্রিগেডের ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ গতকাল দুপুরে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘শহীদ হামজা ব্রিগেড’কে অর্থায়ন এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করেছিলেন আসামিরা। অভিযোগপত্রে তিন আইনজীবীসহ ৩৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন পলাতক রয়েছেন। জামিনে মুক্ত আছেন দুই আইনজীবী মাহফুজ চৌধুরী ও হাছানুজ্জামান। সংগঠনের প্রধান বাহরাইনের নাগরিক আল্লামা লিবদির পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না পাওয়ায় তাঁকে আসামি করা যায়নি। গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি হাটহাজারীর মাদ্রাসাতুল আবু বকর (র.)-এ অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রপ্তার করে র্যাব। পরদিন র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক মাহফুজুর রহমান বাদী হয়ে হাটহাজারী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। এর দুদিন পর বাঁশখালীর লটমণি পাহাড়ে ‘জঙ্গি প্রশিক্ষণকেন্দ্র’ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এর প্রায় দেড় মাস পর ১৩ এপ্রিল চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় র্যাব-৭-এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হাটহাজারী ও লটমণি পাহাড়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া জঙ্গিরা চট্টগ্রামভিত্তিক নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘শহীদ হামজা ব্রিগেডের’ সদস্য। তদন্তের একপর্যায়ে গত বছরের ১৮ আগস্ট হামজা ব্রিগেডকে অর্থায়নের অভিযোগে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শাকিলা ফারজানাসহ তিন আইনজীবীকে। শাকিলা বিএনপির সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাবের সহকারী পরিচালক রুহুল আমিন জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলার তদন্ত করতে গিয়ে হামজা ব্রিগেডের প্রধান বাহরাইনের নাগরিক আল্লামা লিবদিসহ আরও ৫৩ জনের জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পেয়েছেন তিনি। তাঁদের নাম জানতে পারলেও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা পাননি। এ কারণে অভিযোগপত্রে তাঁদের আসামি করা হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ৩৩ আসামির মধ্যে কারাগারে রয়েছেন সিরাজুল মোস্তফা, শামীম হোসেন, আবদুল কাইয়ুম শেখ, রফিকুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম শেখ, আবদুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ, মোস্তাকিম বিল্লাহ, উসমান গনি, মাহমুদুল হাছান, শরিফুল ইসলাম, কামাল উদ্দিন, আশরাফ আলী, আবদুল খালেক, আবু হুরায়রা, নাছির হোসেন, নাছির উদ্দিন, মনিরুজ্জামান ওরফে ডন, এনামুল হক, শাকিলা ফারজানা, আজিজুল হক, মোবাশ্বের হোসেন, আমিনুল ইসলাম ওরফে হামজা, হাবিবুর রহমান, আমির হোসেন, মো. ইসহাক, রাকিব হাসান, মো. শামসুদ্দিন ও মোজাহের মিয়া। পলাতক তিন আসামি হলেন আবু সাঈদ, নুরুল আবছার ও আ ক ম মঞ্জুর এলাহী। জামিনে আছেন আসামি দুই আইনজীবী। তিন আইনজীবীকে আসামি করার বিষয়ে জানতে চাইলে র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জঙ্গি অর্থায়নের জন্য মনিরুজ্জামান ওরফে ডনের তিনটি হিসাব নম্বরে আইনজীবী শাকিলা ফারজানা দুই দফায় ২৫ লাখ ও ২৭ লাখ টাকা, হাছানুজ্জামান দুই দফায় ১৫ লাখ ও ১৬ লাখ টাকা এবং মাহফুজ চৌধুরী ২৫ লাখ জমা দেন। এতেই বোঝা যায়, তিন আইনজীবী জঙ্গি অর্থায়ন করেছিলেন। মনিরুজ্জামান বাঁশখালীর লটমণি পাহাড়ে জঙ্গি প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তোলেন। হাটহাজারীতে যুবকদের তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ দিয়ে বাঁশখালীতে পাহাড়ে নিয়ে আসা হতো। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে তিন আইনজীবীর পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আবদুস সাত্তার প্রথম আলোকে বলেন, উসমান আমিন নামের এক ব্যক্তির মামলা পরিচালনা করতে শাকিলাকে ওই টাকা দিয়েছিলেন। তবে মামলা না লড়ায় উসমানের দেওয়া তিনটি হিসাব নম্বরে টাকা ফেরত দেন শাকিলা। ওই হিসাব নম্বরগুলো কোনো জঙ্গির কি না, তা জানা ছিল না শাকিলার। শাকিলার চাচা সৈয়দ নেছার উদ্দিন বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁর ভাতিজিকে আসামি করা হয়েছে। জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে শাকিলা জড়িত নন বলে তিনি দাবি করেন। আট পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আল্লামা লিবদির নির্দেশে দেশে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাতে আসামিরা নতুন জঙ্গি সংগঠন গড়ে তোলেন। বাংলাদেশে সংগঠনটি পরিচালনা করতেন বড় ভাই ওরফে জুনাইয়েদ নামের এক ব্যক্তি। কিন্তু গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা জবানবন্দিতে বড়ভাই সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি। হামজা ব্রিগেডের সামরিক বিভাগের প্রধান মনিরুজ্জামান ওরফে ডন, দাওয়াহ বিভাগের প্রধান নাছির হোসেন, মিডিয়া বিভাগের প্রধান মো. আবদুল্লাহ। জঙ্গিদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করেন অস্ত্র ব্যবসায়ী মোজাহের মিয়া। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া। র্যাব সূত্র জানায়, মনিরুজ্জামানের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে। তিনি চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানা ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। নাছির হোসেনের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগে। তিনি শিবিরের চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ কমিটির বায়তুল মাল সম্পাদক ছিলেন। আবদুল্লাহর বাড়ি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে। তিনিও ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা কোর্ট পরিদর্শক এ এইচ এম মশিউর রহমান বলেন, অভিযোগপত্রটি গ্রহণের শুনানির জন্য মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত থেকে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হবে। সেখানে এটি শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

৮৩ পোশাক কারখানা ২১৮ ব্র্যান্ডের কাজ করতে পারবে না by শুভংকর কর্মকার

সংস্কারকাজের সন্তোষজনক অগ্রগতি না থাকায় দেশের ৮৩ তৈরি পোশাক কারখানার ওপর খড়্গ নেমে এসেছে। ব্যর্থ এসব কারখানার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে বিদেশি ক্রেতাদের দুই জোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স। এ কারণেই দুই জোটের চুক্তিবদ্ধ ২১৮টি ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের হয়ে আর পোশাক তৈরি করতে পারবে না কারখানাগুলো। সংস্কারকাজে সন্তোষজনক অগ্রগতি না থাকায় সর্বশেষ গত ১৭ মার্চ ১০ তৈরি পোশাক কারখানার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে ইউরোপীয় ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ। এর আগে জোটটি ১৩ কারখানার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল। অন্যদিকে উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের জোট অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি সংস্কারকাজে অগ্রগতি না থাকায় ৬০ কারখানার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। গত বৃহস্পতিবার অ্যাকর্ড ১০ কারখানার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়। কারখানাগুলো হচ্ছে গাজীপুরের সাং কেয়াং সোয়েটার, আশুলিয়ার সিলভার স্টাইল অ্যান্ড ডিজাইন, গাজীপুরের মার্ক মোড লিমিটেড, আশুলিয়ার গ্রিন লাইফ নিটেক্স, নায়ারণগঞ্জের ফোপটেক্স লিমিটেড, আশুলিয়ার দিনিয়ার ফ্যাশন, ঢাকার কেমলেট ফ্যাশনস, টঙ্গীর বনডেড ফ্যাশন, গাজীপুরের অ্যাসারশন ডিজাইন ও আশুলিয়ার গ্লোরি ফ্যাশন। অ্যাকর্ডের দাবি, সাং কেয়াং সোয়েটার বেশ কয়েকবার নির্দেশ দেওয়ার পরও কারখানা ভবনের ত্রুটি সংশোধনের কর্মপরিকল্পনা (ক্যাপ) ও ভবনের বিস্তারিত প্রকৌশল মূল্যায়ন (ডিইএ) জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এ ছাড়া কেমলেট ফ্যাশনস ও অ্যাসারশন ডিজাইন কর্তৃপক্ষকে বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও ক্যাপ দেয়নি। এমনকি অ্যাকর্ডের কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা করার অভিযোগও কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে আছে। বাকি সাত কারখানার বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে তারা এখন পর্যন্ত সংস্কারকাজে সংশোধন পরিকল্পনায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশে পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তখন কর্মপরিবেশ উন্নয়নে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স গঠিত হয়। জোট দুটি ২০১৮ সাল পর্যন্ত কাজ করবে। অ্যাকর্ডের সঙ্গে এখন পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ ইউরোপীয় ব্র্যান্ডের সংখ্যা ১৯০টি। আর অ্যালায়েন্সের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ আছে উত্তর আমেরিকা ও কানাডার ২৮টি ব্র্যান্ড।  জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ব্যর্থ কারখানা মালিকদের সঙ্গে কথা বলব, কেন তাঁদের সংস্কারকাজের অগ্রগতি কম। তবে যতটুকু জানি, এসব কারখানা শেয়ারড বিল্ডিংয়ে (একই ভবন কারখানা পাশাপাশি অন্য কাজে ব্যবহৃত হয়) আছে। কারখানার মালিকেরা অন্যত্র কারখানা সরিয়ে নিতে চান। তবে জোটগুলো যে সময় দিচ্ছে, তাতে তাঁদের হচ্ছে না।’ বিজিএমইএর এই সহসভাপতি বলেন, ‘অনেক কারখানাই আবার অ্যাকর্ড বা অ্যালায়েন্সের চুক্তিবদ্ধ ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাজ করে না। তাই তারা দুই জোটের পরিদর্শন কার্যক্রম থেকে বেরুতে চায়। সে জন্য অগ্রগতি কম।’ তিনি বলেন, ‘কারখানাগুলো যদি আবার সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে দুই জোটের ক্রেতা ও ব্র্যান্ডের পোশাক তৈরি করতে চায় তবে আমরা সহযোগিতা করব।’ এদিকে অ্যালায়েন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেসবাহ রবিন প্রথম আলোকে বলেন, শেয়ারড ভবনে থাকা অনেক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষই বলছে তারা অন্যত্র চলে যাবে। তবে সে জন্য কোনো কাজই তারা শুরু করছে না। তিনি বলেন, অবস্থা যেদিকে যাচ্ছে তাতে ৮৬ কারখানার সঙ্গে একই কাতারে আরও অনেক কারখানা যুক্ত হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) জানায়, অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স ২ হাজার ২৪৬ কারখানার পরিদর্শন শেষ করেছে। জোট দুটির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের পোশাক তৈরি করে এসব কারখানা। এ ছাড়া জাতীয় ত্রিপক্ষীয় কর্মপরিকল্পনার (এনটিএপি) অধীনে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সহায়তায় ডিআইএফই ১ হাজার ৫৪৯ পোশাক কারখানা পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শন হওয়া কারখানার মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় ৩৯টি কারখানা বন্ধ করা হয়েছে। জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বর্তমানে দেশে নন-কমপ্লায়েন্স বা উন্নত কর্মপরিবেশ ছাড়া কারখানা পরিচালনা করার কোনো সুযোগ নেই। কারখানাগুলোর সংস্কারকাজ না করা ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়াটা দুশ্চিন্তার। ভবিষ্যতে এটি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা আছে। ঠিক কী কারণে তারা পারছে না, সেসব খতিয়ে দেখা দরকার। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের দিয়ে একটি পর্যালোচনা কমিটি করা যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বগুড়ায় ভাগনিকে উত্ত্যক্ত, প্রতিবাদ করায় মামা খুন

বগুড়ার শাজাহানপুরের গণ্ডগ্রামে ভাগনিকে উত্ত্যক্ত করার
প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে খুন হন সনাতন প্রামাণিক। তাঁর
লাশ নিয়ে গতকাল বগুড়া শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়
স্কুলছাত্রী ভাগনিকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারালেন মামা। গত শনিবার রাতে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার গণ্ডগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম সনাতন প্রামাণিক (২৬)। তিনি গণ্ডগ্রামের সুরথ চন্দ্র প্রামাণিকের ছেলে। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ লোকজন রাজীব নামের একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এ ছাড়া পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে রনি নামের আরেকজনকে আটক করে। সনাতন প্রামাণিকের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে গতকাল রোববার লাশ নিয়ে বগুড়া শহরে মিছিল করে এলাকাবাসী। দুপুর ১২টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে লাশ নিয়ে এই মিছিল বের করে শহরের সাতমাথা হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেন মিছিলকারীরা। জেলা প্রশাসক মো. আশরাফ উদ্দিন বিক্ষুব্ধ লোকজনকে আশ্বস্ত করে বলেন, সনাতন প্রামাণিক হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে প্রশাসন সবকিছুই করবে। গণ্ডগ্রাম আদি কালীমন্দির হরিবাসর কমিটির লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্যমতে, শনিবার রাতে নববধূকে নিয়ে বাড়ির পাশের মন্দিরে হরিবাসর অনুষ্ঠানে (কীর্তনের অনুষ্ঠান) যান সনাতন। সেখানে এলাকার বখাটেরা তাঁর ভাগনিকে উত্ত্যক্ত করতে থাকলে প্রথমে ভগ্নিপতি রতন বিশ্বাস প্রতিবাদ করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের মারধরের শিকার হন। পরে সনাতন প্রতিবাদ করতে গেলে বখাটেরা তাঁকে ছুরিকাহত করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর রাত ১১টায় চিকিৎসকেরা সনাতনকে মৃত ঘোষণা করেন। সনাতনের পরিবার সূত্র জানায়, মাত্র ২৭ দিন আগে বিয়ে করেন সনাতন। বিয়ের জন্যই তিন মাস আগে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে এসেছিলেন তিনি। গতকাল দুপুরে গণ্ডগ্রামে সনাতনের বাড়িতে গেলে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। সনাতনের স্ত্রী সুচি রানী স্বামী নিহত হওয়ার সংবাদে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। তাঁকে ঘিরে থাকা সব মানুষের চোখে পানি। সুচি বলেন, ‘হরিবাসর অনুষ্ঠানে আমাকে বসিয়ে রেখে মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে ফটকের দিকে এগিয়ে যান সনাতন। দুই মিনিট পর হই-হুল্লোড় শুনে সেখানে গিয়ে দেখি ওর রক্তমাখা শরীর মাটিতে পড়ে আছে।’ সনাতনের দিদি সুবর্ণা বিশ্বাস বলেন, ‘ভাগনিকে উত্ত্যক্ত করায় সনাতন শুধু প্রতিবাদ করেছিল। সঙ্গে সঙ্গে সন্ত্রাসীরা তাকে ছুরি মারে করে। চোখের সামনে ভাইটি আমার চির ঘুম দিল।’ গণ্ডগ্রাম আদি কালীমন্দির হরিবাসর কমিটির সভাপতি অচিন্ত্য কুমার সরকার বলেন, এলাকার চিহ্নিত পাঁচ থেকে ছয়জন সন্ত্রাসী হরিবাসরের প্যান্ডেলে ঢুকে মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করছিল। এতে প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসীরা সনাতনকে ছুরিকাঘাত করে। শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, ঘটনায় সনাতনের বাবা সুরথ চন্দ্র বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ ১৪ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। মামলায় রাজীব (২৬) ও রনি (২৪) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

পিয়ন ক্লাস নেন যে বিদ্যালয়ে

ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪০০ শিক্ষার্থী জন্য শিক্ষক আছেন মাত্র একজন। তিনিও অনিয়মিত। তাই শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন বিদ্যালয়ের পিয়ন। গত সোমবার বেলা একটার দিকে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, পিয়ন ইব্রাহীম ছাড়া কোনো শিক্ষক নেই। পঞ্চম শ্রেণিতে ২৪ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ১৫ জন ও তৃতীয় শ্রেণিতে ২৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তারা শ্রেণিকক্ষে বসে বসে দুষ্টুমি করছে। জানতে চাইলে তৃতীয় শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রথম আলোকে জানায়, বিদ্যালয়ের পিয়ন ইব্রাহীম পড়া দেন আর নেন, বুঝিয়ে দেন না। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানায়, সোমবার দুপুর ১২টায় ক্লাস শুরু হয়। তখন আপৎকালীন শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস দুই বিষয়ের পড়া দেন। এ সময় তিনি মুঠোফোনে কথা বলে কাটিয়ে দেন। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও প্রায় একই কথা জানায়। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, এই বিদ্যালয়ে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। নূরে জান্নাত একমাত্র শিক্ষক। তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে আছেন। বিদ্যালয়ে শিক্ষকের প্রচণ্ড সংকট চলছে এক বছর ধরে। সম্প্রতি জান্নাতুল ফেরদৌস ও নাহার বেগম নামের দুজন আপত্কালীন শিক্ষক নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁরাও বেলা একটায় চলে যান। তাঁরা বিদ্যালয়ে আসার পরে ক্লাসে ঢুকে সব সময় মুঠোফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু পিয়নই নন, তিনি নিজেও মাঝেমধ্যে ক্লাস নেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন অভিভাবক বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূরে জান্নাত সপ্তাহে দুই দিনের বেশি বিদ্যালয়ে আসেন না। এলেও বেলা একটার মধ্যেই চলে যান। ক্লাসে ঢুকে ঠিকমতো পড়ান না। অভিযোগ অস্বীকার করেন নূরে জান্নাত। সোমবার একটার পর বিদ্যালয়ে না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শরীর খারাপ ছিল। তাই বাড়ি চলে গেছি।’ সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এক সেমিনারে ভোলার সুশীলসমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা বেশির ভাগই ভোলার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজন। এঁরা তদবির করে শহরে বা শহরের আশপাশে বদলি নিয়ে আসছেন। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে প্রয়োজনের চেয়ে দ্বিগুণ শিক্ষক আছে। কিন্তু গ্রামের বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংকট চলছেই। সদর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (ক্লাস্টার প্রধান) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ওই বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক। তিনজন শিক্ষক অন্যত্র প্রেষণে আছেন। অন্য শিক্ষক নূরে জান্নাতও বদলির জন্য তদবির করছেন। এ জন্যে সেখানে দুজন আপৎকালীন শিক্ষক (পুল) দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁরা যে বেশির ভাগ সময় বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন এ রকম অভিযোগ তাঁর কাছে নেই। জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইয়্যাদুজ্জামান বলেন, শিক্ষকদের প্রেষণের অনুমোদন ও বাতিলের সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় থেকে হয়। এতে তাঁর কিছু করার নেই।

আরও দুই ধাপ থাকতে চায় বিএনপি by রিয়াদুল করিম

নির্বাচনে থাকা না-থাকা নিয়ে মতভেদ থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপের নির্বাচনেও থাকতে চায় বিএনপি। চতুর্থ ধাপের প্রার্থী মনোনয়নের কাজও শুরু করেছে দলটি। কাল মঙ্গলবার থেকে চতুর্থ ধাপের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দেওয়া শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপির নির্বাচন সমন্বয়ের সঙ্গে যুক্ত একজন নেতা জানিয়েছেন। ছয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের প্রথম দুই ধাপ শেষ হয়েছে। তৃতীয় ধাপে ২৩ এপ্রিল ৬৮৫ ইউপির ভোট অনুষ্ঠিত হবে। চতুর্থ ধাপে ৭১৩টি ইউপিতে ভোট হবে আগামী ৭ মে। এই ধাপের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত। ইউপি নির্বাচনের প্রথম দুই ধাপে অংশ নিয়েছে বিএনপি। তৃতীয় ধাপের জন্যও প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে দলটি। অবশ্য দলটির অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা বিএনপির প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেন না। হুমকি-ধমকি দেন। কেন্দ্র দখল ও ভোট ডাকাতি করে জয় ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় নির্বাচনে থাকা না-থাকা নিয়ে দলের মধ্যে নানা আলোচনা তৈরি হয়। মাঠপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে দলীয় প্রধান নির্বাচন বর্জনের একরকম সিদ্ধান্তই নিয়েছিলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনে থাকা না-থাকা নিয়ে গত রোববার রাতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে নির্বাচনে থাকার পক্ষে-বিপক্ষে মত দেন নেতারা। নির্বাচনে থাকার পক্ষেই বেশির ভাগ নেতা মত দিয়েছেন। আজ খালেদা জিয়া মাঠপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এবং জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপির ইউপি নির্বাচন সমন্বয়ে যুক্ত একজন নেতা প্রথম আলোকে বলেন, তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপের নির্বাচনেও বিএনপি অংশ নেবে, এটা মোটামুটি নিশ্চিত। তৃতীয় ধাপের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। চতুর্থ ধাপের মনোনয়নের কাজ শুরু করার জন্য তাঁদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আজ সকাল থেকে তাঁরা কাজও শুরু করেছেন। এই দুটি নির্বাচন দেখে পঞ্চম ও ষষ্ঠ ধাপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অবস্থা একই রকম থাকলে শেষ পর্যায়ে নির্বাচন বর্জন করা হতে পারে। বিএনপির একজন সাংগঠনিক সম্পাদক প্রথম আলোকে বলেন, ইউপি নির্বাচনে বিএনপির থাকার সম্ভাবনাই বেশি। বিএনপির আরেকটি সূত্র জানায়, গত শনিবার রাতে খালেদা জিয়ার আস্থাভাজন কয়েকজন পেশাজীবী তাঁকে নির্বাচন বর্জন না করার পরামর্শ দিয়েছেন। বিএনপির একাধিক নেতা জানান, গত রোববার রাতের বৈঠকে নির্বাচনে থাকার পক্ষে যাঁরা মত দিয়েছেন তাঁদের মূল যুক্তি ছিল, মাঠ ছেড়ে দেওয়া ঠিক হবে না। গত দুই বছরে মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা মামলা-মোকদ্দমায় এলাকাছাড়া হয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁরা প্রকাশ্যে আসতে পারছেন। যতটুকুই করা যাচ্ছে তা দলের জন্য ভালো হচ্ছে। কেউ কেউ বলেছেন, হামলা-নির্যাতন-দখল-কারচুপি হবে—এসব জেনেই বিএনপি নির্বাচনে গেছে। এখন সরে আসা ঠিক হবে না। এই সরকার ও কমিশনের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না—এ কথা প্রতিষ্ঠিত করা গেছে। নির্বাচন বর্জন করলে এই আলোচনা ঘুরে যেতে পারে। তাই এ সুযোগ আরও কাজে লাগাতে হবে। নির্বাচনে থাকলে জনগণ আরও বুঝতে পারবে এই সরকার ও কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হবে না। অন্যদিকে যাঁরা নির্বাচন বর্জনের পক্ষে ছিলেন তাঁদের মূল যুক্তি হলো, এই নির্বাচনে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষের মর্যাদা নষ্ট হচ্ছে। কারণ কিছু জায়গায় প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। বেশির ভাগ জায়গায় নৌকা ধানের শীষের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ভোট পাচ্ছে। তাঁরা মনে করছেন এতে প্রতীকের মর্যাদা নষ্ট হচ্ছে। তাঁরা বলেছেন, এই নির্বাচনে এখন থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো। কারণ থেকে বিএনপির কোনো লাভ হচ্ছে না। বিএনপির নেতা-কর্মীরা কোনো কর্মকাণ্ড চালাতে পারছেন না, হামলা-মামলার শিকার হচ্ছেন। আওয়ামী লীগ সব দখল করে নিচ্ছে। বর্তমান সরকার ও কমিশনের অধীনে যে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, তা ইতিমধ্যে প্রমাণ হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠকে কেউ কেউ বিএনপির প্রতীক না নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে যাওয়ার কথা বলেছেন। তবে তাতে বিএনপির প্রধান সায় দেননি বলে সূত্র জানিয়েছে। ওই সূত্র জানায়, বিএনপি নির্বাচনে থাকলে ধানের শীষ প্রতীক নিয়েই থাকবে।