Friday, September 3, 2010

মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী -‘ছায়াসুনিবিড় শান্তির নীড়’

এই লেখাটির আর একটি শিরোনাম দেওয়া যেত ‘বাংলাদেশের আদি সংবিধানে দেওয়া স্বদেশি সমাজ গড়ার নকশা’ এবং সেটাই উপযুক্ত হতো। কিন্তু সেটার বদলে একটি কাব্যিক শিরোনাম, যার সবই রবীন্দ্রনাথের বিশাল ভান্ডার থেকে নেওয়া। কেন দিলাম তার কৈফিয়ত দিতে হয়। যখনই খবরের কাগজে, বিশেষ করে ঢাকা ও মফস্বল শহরে অনাকাঙ্ক্ষিত দুঃখজনক ঘটনার বিবরণ পড়ি, তখনই রবীন্দ্রনাথের লেখা ‘স্বদেশী সমাজ’ প্রবন্ধটির কথা মনে হয়। তিনি লিখেছেন, ‘দেশের হূদয়লাভকেই যদি চরম লাভ বলিয়া স্বীকার করি, তবে দেশের যথার্থ কাছে যাইবার কোন কোন পথ চিরদিন খোলা আছে, সেইগুলিকে দৃষ্টির সম্মুখে আনিতে হইবে। ...আমাদের দেশ প্রধানত পল্লীবাসী। এই পল্লী মাঝে মাঝে যখন আপনার নাড়ীর মধ্যে বাহিরের বৃহৎ জগতের রক্তচলাচল অনুভব করিবার জন্য উত্সুক হইয়া ওঠে তখন মেলাই তাহার প্রধান উপায়। এই মেলাই আমাদের দেশে বাহিরকে ঘরের মধ্যে আহ্বান করে। এই উৎসবে পল্লী আপনার সমস্ত সংকীর্ণতা বিস্মৃত হয়—তাহার হূদয় খুলিয়া দান করিবার ও গ্রহণ করিবার এই প্রধান উপলক্ষ।’
তবে কি আমাদেরকে গ্রামে ফিরে যেতে হবে? রবীন্দ্রনাথ সেটাই বলেন। বাহাত্তরের সংবিধানও সেটাই বলে। আমিও সেটা বলি। তবে এত দিন সেটা লিখিনি কেন? এবং এখন লিখছি কেন? এটা লিখতে সাহসী হওয়ার পেছনে আছে প্রথম আলো পত্রিকার ২৩ আগস্ট সংখ্যায় ছাপা একটি বিশেষ প্রতিবেদন, যার শিরোনাম ছিল ‘উদ্ভাবন: পাথরকুচি পাতা থেকে বিদ্যুৎ’। এটা উদ্ভাবন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল আলম খান। তিনি বলেন, ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুেকন্দ্র যার কাঁচামাল হবে পাথরকুচির পাতা, তৈরি করতে লাগবে পাঁচ কোটি টাকা এবং প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ পড়বে এক টাকার কম। তা ছাড়া পল্লি অঞ্চলে তার প্রযুক্তি সহজেই ব্যবহার করা সম্ভব হবে এবং সেখানে প্রতিটি পরিবার নিজেদের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ নিজেরাই উৎপাদন করতে পারবে। দেখা যাচ্ছে, কার্ল মার্ক্স ঠিকই লিখেছিলেন, বিশ্ববাজার শোষণের মাধ্যমে বুর্জোয়া শ্রেণী সব দেশে উৎপাদন ও ভোগব্যবস্থাকে এক আন্তর্জাতিক রূপ দিয়েছে। দেশীয় শ্রমশিল্প ধ্বংস করা হচ্ছে। তাদেরকে হটিয়ে দিয়ে নতুন শিল্প গড়ে তোলা হচ্ছে যেখানে দেশজ কাঁচামাল ব্যবহার করা হচ্ছে না, ব্যবহূত হচ্ছে দূরবর্তী অঞ্চলের কাঁচামাল। পুরোনো চাহিদাসামগ্রী যেগুলো নিজ দেশের উৎপাদনেই মিটে যেত, তার বদলে হাজির করা হচ্ছে নতুন সব চাহিদা। বুর্জোয়া শ্রেণী তাদের প্রতিবিম্বে পৃথিবী তৈরি করছে, তারা করছে দেশকে শহরনির্ভর। এই বক্তব্যের সঙ্গে যোগ করা যায়, ইউরোপ কিংবা আমেরিকার ঐতিহ্যে যেখানে রাষ্ট্রই প্রধান, সেখানে বাংলাদেশে সমাজই প্রধান এবং এই মৌলিক তফাতটি কোনোভাবেই অগ্রাহ্য করা যাবে না। সেটা করা হলে বাংলাদেশের হাজার বছরের ঐতিহাসিক ধারাকেই অগ্রাহ্য করতে হয়।
প্রথম আলোয় ছাপা ওই প্রতিবেদনটি পড়া শেষ হতেই আমি ফিরে গিয়েছিলাম আমার অতি বাল্যকালে। স্পষ্ট দেখতে পেলাম, একটি ছোট রেলস্টেশনের প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছি আব্বার হাত ধরে। পাশে মা দাঁড়িয়ে আছেন। আমরা গাঁয়ে দাদার বাড়িতে যাচ্ছি। তারপর কাঁচা মেঠোপথ ধরে আব্বার হাত ধরে হাঁটছি। মা চলেছেন ডুলিতে চড়ে। দুজন বেহারা একটা মোটা বাঁশের দণ্ডের আগে ও পেছনে কাঁধে নিয়ে দুলে দুলে চলছেন আর বাঁশদণ্ডটির মাঝখানে ঝোলানো চাদর দিয়ে ঢাকা ডোলায় মা বসে আছেন। আকাশের রং ঘন নীল, এখানে-ওখানে পেঁজাতুলার মতো মেঘ। যেদিকে তাকাই, সবুজ আর সবুজ গাছপালা। দাদাবাড়িতে পৌঁছে পরদিন চাচাতো বোনের সঙ্গে মাঠে ঘোরাঘুরি করছি। দেখি একটা গাছ বেয়ে একটি লতাগাছ উঠেছে আর সেখান থেকে ঝুলছে থোকা থোকা ছোট্ট লাল রঙের ফল, যাদের প্রতিটির নিচে কালো রঙের ফুটকি। বোনটি বললেন, এগুলো কুচফল। তারপর গাছের নিচে থেকে একটা গাছের পাতা ছিঁড়ে দেখালেন, পাতা থেকে শেকড় ঝুলছে। বললেন, এটা পাথরকুচি গাছ, পাতা মাটিতে পড়ে সেখান থেকে নতুন গাছ হয়।
এই যে চিত্রটি আমার মনের পটে আঁকা আছে, সেটাকে কি ফিরে পাওয়া যায় না কিংবা ধরে রাখা যায় না? এই প্রশ্নটির হ্যাঁ-সূচক উত্তর পাওয়া যাবে বাহাত্তরের আদি সংবিধানে। সংবিধানের ‘রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি’ শিরোনামের দ্বিতীয় ভাগের অন্তর্ভুক্ত ১৬ অনুচ্ছেদটি পড়লেই সেটা স্পষ্ট হয়ে যাবে। ‘গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব’ শিরোনামযুক্ত ১৬ অনুচ্ছেদটির উদ্ধৃতি এই: ‘নগর ও গ্রামাঞ্চলের জীবনযাত্রার মানের বৈষম্য ক্রমাগতভাবে দূর করিবার উদ্দেশ্যে কৃষি বিপ্লবের বিকাশ, গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতিকীকরণের ব্যবস্থা, কুটিরশিল্প ও অন্যান্য শিল্পের বিকাশ এবং শিক্ষা ও যোগাযোগব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের আমূল রূপান্তর সাধনের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।’
এই অনুচ্ছেদটি আচমকা সংবিধানে জুড়ে বসেনি, এটা লেখার ঐতিহাসিক বাধ্যবাধকতা ছিল। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ সঠিক অর্থে ছিল বাংলাদেশের কৃষকদের বিদ্রোহের ধারাবাহিকতায় এক সফল পর্যায় এবং বংশপরম্পরায় ব্যক্তিসমষ্টির ওই আকাঙ্ক্ষাগুলো যা বিকশিত হয়েছিল বাহাত্তরের সংবিধানে।
নোয়াম চমস্কি ‘ভবিষ্যতের সরকার’ শিরোনামের এক বক্তব্যে বলেছেন, যে জিনিসটা মানুষ নিজে বানায়, সেটাকে সে যতটা নিজের বলে ভাবে, তার তুলনায় যে জিনিসটার সে মালিক সেটাকে কখনো ততটা নিজের বলে ভাবে না। যে ভোগবিলাসীরা বাগানের ফলমূল বেশুমার উপভোগ করেন, তাঁদের তুলনায় যে শ্রমিক বাগানটার পরিচর্যা করেন, তিনি সম্ভবত অনেক বেশি সত্যিকার অর্থে সেটার মালিক। আর যেহেতু খাঁটি মানবীয় কাজ হলো সেইটা, যা আসে অন্তরের তাগিদ থেকে, তাতে করে মনে হয় যেন সকল কৃষক ও কারুকুশলীকে উন্নীত করে নেওয়া যেত শিল্পী পর্যায়ে, অর্থাৎ এমন মানুষের পর্যায়ে, যাঁরা তাঁদের শ্রমকে ভালোবাসেন শুধু শ্রমেরই খাতিরে, সেই শ্রমের উন্নতি ঘটান নিজস্ব নমনীয় প্রতিভা ও উদ্ভাবনী দক্ষতার সাহায্যে এবং সেই সূত্রে অনুশীলন করেন নিজেদের মেধার, মর্যাদাবান করে তোলেন নিজেদের চরিত্রকে, আর উল্লসিত ও পরিমার্জিত করে তোলেন নিজের আত্মসুখ। এ রকমটা হলে মানবিকতা ঠিক সেই সমস্ত জিনিসের জন্যই মর্যাদাসম্পন্ন হয়ে উঠত, যেসব জিনিস এখন প্রায়ই তার মর্যাদাহানি ঘটায়, যদিও জিনিসগুলো নিজেরা সুন্দরই বটে (অনুবাদ, সেলিম রেজা নিউটন)। নোয়াম চমস্কি বক্তব্যটি দিয়েছিলেন যদিও ১৯৭০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কে, কিন্তু সেটি ওয়েবসাইটে পোস্ট করা হয়েছিল ২০০৬ সালের ২১ নভেম্বর। অথচ কী আশ্চর্য! বাংলাদেশের বাহাত্তরের সংবিধান প্রণয়নকালে ওই একই নীতি উল্লেখ করা হয়েছিল ২০ অনুচ্ছেদের ২ দফাতে যার উদ্ধৃতি এই: ‘রাষ্ট্র এমন অবস্থা সৃষ্টির চেষ্টা করিবেন, যেখানে সাধারণ নীতি হিসাবে কোন ব্যক্তি অনুপার্জিত আয় ভোগ করিতে সমর্থ হইবেন না এবং যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিমূলক ও কায়িক সকল প্রকার শ্রম সৃষ্টিধর্মী প্রয়াসের ও মানবিক ব্যক্তিত্বের পূর্ণতার অভিব্যক্তিতে পরিণত হইবে।’
প্রিয় পাঠক-পাঠিকা, আসুন, আমরা দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ শুরু করি। বিদেশি সাংস্কৃতিক পণ্য পরিহার করে দেশীয় সাংস্কৃতিক ধারা প্রাণবান করি। আমরা উপলব্ধি করি চরম সত্যটি, রাষ্ট্রের যেহেতু ঝোঁক হচ্ছে নাগরিকদের চাওয়া-পাওয়াকে উপেক্ষা করা, সেহেতু আমরা গ্রামসমাজকে শক্তিশালী করি। কৃষিব্যবস্থা ও তার পাশাপাশি চাহিদামতো কুটিরশিল্প গড়ে তুলি। আধুনিক অতিপ্রয়োজনীয় প্রযুক্তির জন্য বিদেশিদের দ্বারস্থ হওয়ার যে বাধ্যবাধকতা ছিল, তা থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনার পথ অধ্যাপক কামরুল আলম দেখিয়েছেন। আশা করা যায়, আরও অনেকে দেখাবেন। বাহাত্তরের সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতিগুলো বাস্তবায়ন করি। সার্থক করে তুলি জাতীয় সংগীতের চরণগুলো: ‘কী শোভা কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো, কী আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে।’
বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী: অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, আপিল বিভাগ, সুপ্রিম কোর্ট।

অবৈধ বিজিএমইএ ভবন -বেগুনবাড়ি-হাতিরঝিল প্রকল্পের স্বার্থে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন

অবৈধভাবে নির্মিত একটি ভবনের জন্য একটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভবনটি বিজিএমইএ ভবন আর প্রকল্পটি হাতিরঝিল প্রকল্প। ২০১১ সালের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা, কিন্তু ভবনটি রাখা হবে কি হবে না, সে সিদ্ধান্ত এখনো ঝুলে আছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্বের অর্থ হচ্ছে, প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পাওয়া। তাই ভবনটির ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্তে আসা জরুরি।
ভবনটি রাখা হলে বেগুনবাড়ি-হাতিরঝিল সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। কারণ, ভবনটি পড়েছে মূল পানিপ্রবাহ-অঞ্চলের মধ্যে। এটি রেখে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হলে বর্তমান পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হবে, পানিপ্রবাহের পথ সৃষ্টির জন্য এক পাশের রাস্তা ও অন্য পাশের কয়েকটি বৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলতে হবে; প্রকল্পের ব্যয় বাড়বে প্রায় ১০০ কোটি টাকা। প্রশ্ন হচ্ছে, একটি অবৈধ স্থাপনা রক্ষার জন্য বেশ কিছু বৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলার পথ বেছে নেওয়া হবে, নাকি অবৈধ স্থাপনাটি ভেঙে প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
বিজিএমইএ ভবনটি গড়ে উঠেছে খালের মাঝখানে, জলাধার সংরক্ষণ আইন পুরোপুরি লঙ্ঘন করে। প্রচলিত আইনে ভবন নির্মাণের আগে রাজউকের কাছ থেকে ভবনের নকশার অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। এ ভবনটি নির্মাণের আগে নকশার অনুমোদন নেওয়া হয়নি। নির্মাণের পর অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে, কিন্তু অনুমোদন এখনো মেলেনি। প্রস্তাবিত রাজধানীর বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনার (ড্যাপ) বিবেচনায় দেখলেও ভবনটি অবৈধ। কারণ, এটি নির্মিত হয়েছে নিচু জমি ভরাট করে। ভবিষ্যতে ড্যাপ বাস্তবায়িত হলেও ভবনটি অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত হবে। বিভিন্ন বিবেচনায় একদিকে যেমন ভবনটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে নির্মিত, তেমনি এটি নির্মাণের আগে রাজউকের কাছে নকশা অনুমোদনের আবেদন না করার মধ্যে আইনকে উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করার প্রবণতাও স্পষ্ট। ভবনটিকে টিকিয়ে রাখার অর্থ দাঁড়াবে এ ধরনের প্রবণতাকে প্রশ্রয় দেওয়া। প্রথম আলোর অনলাইন জরিপে ৭৭ শতাংশের বেশি পাঠক ভবনটি ভেঙে ফেলার পক্ষে মত দিয়েছেন। ভবনটি রাখার পক্ষে যুক্তি দাঁড় করানো কঠিন। ভবনটি ভাঙার অর্থ দাঁড়াচ্ছে ব্যাপক সম্পদের ক্ষতি—ভবনটি রক্ষার পক্ষে এটাই হতে পারে একমাত্র যুক্তি।
এ ভবন অবৈধ হলেও আমরা দেখেছি, এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেছেন আমাদের বর্তমান ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। ফলে ভবনটির ব্যাপারে সিদ্ধান্তে আসার বিষয়টি যে স্পর্শকাতর, তা সহজেই অনুমেয়। আমরা আশা করব, সরকার সার্বিক বিবেচনায় ভবনটির ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্বের কারণে যেন কোনোভাবেই বেগুনবাড়ি-হাতিরঝিল উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

মাহে রমজানে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা -সিয়াম সাধনার মাস ধর্ম by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

মাহে রমজান বিশেষভাবে দোয়া কবুলের মাস। মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা মানুষের সামনে পাপমুক্তির পথ অবারিত করে দেয়। আল্লাহ তাআলার অসংখ্য মহান গুণের একটি হলো ক্ষমা। আল্লাহ ‘গাফুরুর রাহিম’ অর্থাৎ তিনি পরম ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু। মানুষ মহান আল্লাহর ক্ষমা ও দয়া লাভ করে পাপমুক্ত হতে পারে, সৌভাগ্যবান হতে পারে। তবে সৃষ্টিকর্তার ক্ষমা লাভ করতে হলে তাঁর সৃষ্টিকে ক্ষমা করতে শিখতে হবে—মানুষকে ক্ষমা করতে জানতে হবে। মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা মানুষের সামনে ক্ষমাশীলতা অর্জনের পথ সুগম করে দেয়। এ মাসের প্রথম দশক রহমতের, দ্বিতীয় দশক ক্ষমা বা মাগফিরাতের এবং তৃতীয় দশক দোজখ থেকে নাজাত বা মুক্তি লাভের জন্য নির্ধারিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘আর এটি এমন একটি মাস, যার প্রথম ভাগে আল্লাহর রহমত, মধ্যভাগে গুনাহের মাগফিরাত এবং শেষভাগে জাহান্নামের আগুন থেকে পরিত্রাণ রয়েছে।’ (মিশকাত)
মাহে রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত বিরাট কল্যাণ, রহমত ও বরকতের বাহক। তাই মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে নিজের দুই হাত অবশ্যই সম্প্রসারণ করা উচিত। ইফতারের আগে, সেহিরর আগে ও পরে, তাহাজ্জুদ নামাজ সমাপনান্তে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করলে তিনি তা কবুল করেন। সাধারণ সময় ছাড়াও এ সময়গুলোতে বেশি বেশি করে দোয়া, ক্ষমা প্রার্থনা, তওবা, ইস্তেগফার, দরুদ শরিফ, তাসবিহ, তাহলিল প্রভৃতি জিকরের মাধ্যমে দিন অতিক্রম করা অত্যন্ত জরুরি। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘প্রতিটি জিনিসের মরিচা পরিষ্কার করার যন্ত্র আছে আর অন্তরের মরিচা পরিষ্কার করার যন্ত্র হলো আল্লাহর জিকর।’ (বায়হাকি)
আল্লাহর কাছে এমনভাবে দোয়া করতে হবে যেন নিজেদের মন ও হূদয় পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়। সর্বোপরি মুসলমানেরা যেন সুস্থ থেকে পবিত্র রমজান মাসের রোজাগুলো সঠিকভাবে পালন করতে পারে সে জন্য সব সময় আল্লাহর কাছে এভাবে দোয়া ও ইস্তেগফার করতে হবে, ‘হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে তুমি পছন্দও করো, অতএব আমাকে ক্ষমা করো।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘রোজাদারের নিদ্রা ইবাদততুল্য, চুপ থাকা তাসবিহ-তাহলিলতুল্য, আমল ইবাদত সওয়াব হাসিলে বেশি অগ্রগণ্য, দোয়া কবুলযোগ্য ও তার গুনাহ ক্ষমার যোগ্য।’ (বায়হাকি)
আল্লাহর জিকর মানবজীবনে অমূল্য সম্পদ। যে রোজাদার ব্যক্তি আল্লাহর জিকর করেন, আল্লাহ তার ওপর অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন এবং তিনি আল্লাহর অফুরন্ত রহমত থেকে বঞ্চিত হন না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘অনন্তর তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব আর তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো এবং অকৃতজ্ঞ হয়ো না।’ (সূরা আল বাকারা, আয়াত-১৫২)
নবী করিম (সা.) রমজান মাসে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা সম্পর্কে বলেছেন, ‘এ মাসে তোমরা চারটি কাজ অধিক পরিমাণে কর, তন্মধ্যে দুটি কাজ এমন, যা দ্বারা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা যাবে। আর অপর দুটি এমন যা থেকে তোমরা মুখাপেক্ষীহীন হতে পারবে না। প্রথম দুটি হলো: ১. বেশি বেশি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’-এর জিকর করা; ২. আল্লাহর কাছে মাগফিরাত তথা ক্ষমা প্রার্থনা করা। আর যে দুটি কাজ না করে আমাদের কোনো উপায় নেই তা হলো: ১. জান্নাত চাওয়া, ২. জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া।
রমজান মাসের রাতে নামাজে দাঁড়িয়ে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা, আত্মসমালোচনা ও ক্ষমা প্রার্থনা করা প্রভৃতি ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকার চেষ্টা করা উচিত—এটা তাকওয়া অর্জনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। মাহে রমজান মানুষের সামনে এমন একটা সুবর্ণ সময় যে আল্লাহ তাআলা রোজাদারদের গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে নতুন জীবন লাভ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আত্মসমালোচনা ও আত্মোপলব্ধিতে মানুষ যখন পৌঁছাতে সক্ষম হয়, তখন আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন ও গুনাহ মাফ করে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা (মাহে রমজানে) দুনিয়ার নিকটবর্তী আসমানে আসেন এবং ডেকে বলেন, ‘কে আছে এমন যে আমার কাছে নিজের গুনাহ মাফ চাইবে আর আমি মাফ করে দেব।’ (বুখারি ও মুসলিম)
রোজাদার দিনে রোজা রেখে রাত জেগে জিকর-আজকার, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও তাহাজ্জুদ নামাজের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করার কারণে রোজাদারের দোয়া কবুল হয়। রোজার মাধ্যমে রোজাদার নিজেকে পুরস্কার, সম্মান, দয়া, অনুগ্রহসহ আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাতের উপযুক্ত করে তোলেন। একপর্যায়ে রোজাদার আল্লাহর প্রিয় বান্দা হিসেবে গণ্য হন। আর তাই রোজাদার মাহে রমজানে দোয়া ও ইস্তেগফার করে আল্লাহর কাছে যা চান, আল্লাহ তার সে প্রার্থনা কবুল করেন। হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত আছে, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘রোজা শুধু আমারই জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব।’ (বুখারি ও মুসলিম) পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘আর যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে (তাদের জানিয়ে দাও) নিশ্চয়ই আমি তাদের কাছেই আছি। আহ্বানকারী (প্রার্থনাকারী) যখন আমাকে আহ্বান করে (দোয়া করে) আমি তার আহ্বানে সাড়া দিই (দোয়া কবুল করি)। সুতরাং তারাও আমার ডাকে সাড়া দিক এবং আমার ওপর ঈমান আনুক, যাতে তারা ঠিক পথে চলতে পারে।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-১৮৬)
রোজাদারদের ওপর যেন সর্বদা আল্লাহর রহমত বর্ষিত হতে থাকে সে জন্য দোয়া ও মোনাজাত করা দরকার। অপরাধী যখন অনুশোচনায় সিক্ত হয়, অন্যায় ও অপরাধকর্ম থেকে বিরত হওয়ার প্রতিশ্রুতিতে যখন আল্লাহর দরবারে হাজির হয়, তখন আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিন ধরনের লোকের দোয়া কখনো ফেরত দেওয়া হয় না। ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া, জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের দোয়া, বাড়িতে ফিরে না আসা পর্যন্ত মুসাফিরের দোয়া।’ (তিরমিজি)
আল্লাহর দরবারে রোজাদারের মর্যাদা অনেক বেশি। কিয়ামতের দিনও রোজাদারকে সাদরে গ্রহণ করা হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করেছেন, ‘জান্নাতের একটি দরজা আছে, যার নাম “রাইয়্যান”, কিয়ামতের দিন এ দরজা দিয়ে একমাত্র রোজাদার প্রবেশ করবে। অন্য কারও এ দরজা দিয়ে প্রবেশাধিকার থাকবে না। আল্লাহর পক্ষ থেকে ডাকা হবে রোজাদারগণ কোথায়? তখন তারা দাঁড়িয়ে যাবেন। আর সবাই ওই দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করবেন। তাদের প্রবেশের পর দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।’ (বুখারি ও মুসলিম)
সুতরাং রমজান মাসের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও রজনীগুলোর সঙ্গে সঙ্গে সর্বদা আমাদের মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর জিকর, দোয়া, ইস্তেগফার ও ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকতে হবে। কেননা আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে একমাত্র তাঁর ইবাদতের জন্যই দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। মানুষ যত পাপই করুক না কেন লজ্জিত-অনুতপ্ত হয়ে এবং ভবিষ্যতে কখনো পাপ না করার দৃঢ়সংকল্প নিয়ে তওবা করে চোখের তপ্ত অশ্রু ফেলে ইস্তেগফার করলে আল্লাহ তাআলা অবশ্যই ক্ষমা করবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সিজদায় বান্দা তার প্রভুর অধিক নিকটবর্তী হয়ে থাকে। তাই তোমরা অধিক দোয়া কর।’ (মুসলিম)
নবী করিম (সা.) এমন মানুষদের জন্য আক্ষেপ করেছেন, যারা মাহে রমজান জীবনে পেয়েও গুনাহ থেকে মুক্ত হতে পারেনি। তাই আমরা যেন ইসলামের পঞ্চস্তম্ভসহ সব বিধিবিধান মেনে চলে নামাজ, রোজার হুকুম-আহকাম সম্পূর্ণভাবে পালন করে বেশি বেশি দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে মাহে রমজানের অশেষ রহমত, মাগফিরাত ও জাহান্নাম থেকে নাজাত লাভ করতে পারি। আসুন, কান্নাভেজা কণ্ঠে আমরা আল্লাহর কাছে দুই হাত তুলে মোনাজাত করি, ‘হে আল্লাহ! মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা ও ইবাদতের বরকতে আমাদের সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করুন! সারা বিশ্বে মুসলমানদের মনে চিরশান্তি বিরাজ করুক এবং রোজাদারগণ শুভেচ্ছা বন্ধনে সুদৃঢ় হোক!’
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

মামলা পুনরায় শুরু করার নির্দেশ সর্বোচ্চ আদালতের

ভারতের ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনা মামলা পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এস এইচ কাপাডিয়া, বিচারপতি আলতামাস কবির ও বিচারপতি আর ভি রবীন্দ্রনকে নিয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।
২৬ বছর পর গত ৭ জুন এ মামলার রায় দেন ভূপালের মুখ্য বিচার বিভাগীয় হাকিম মোহন পি তেওয়ারি। এতে অভিযুক্ত সাতজনকে দুই বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। এরপর দেশজুড়ে বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়। পরে সিবিআইয়ের দায়ের করা কিউরেটিভ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট মামলাটির রায় পুনর্বিবেচনা করতে সাত আসামির প্রতি নোটিশ জারি করেন।
১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এ এম আহমদি ও বিচারপতি এস বি মজুদারের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ অভিযুক্তদের বিচার দণ্ডবিধির ৩০৪ পার্ট টু ধারায় না করে ৩০৪এ ধারায় করার নির্দেশ দেন। এতে বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাজার মেয়াদ ১০ বছরের জায়গায় দুই বছর হয়ে যায়।

বাগদাদে বাইডেন ও গেটস

ইরাকে মার্কিন সামরিক কমান্ডের পরিবর্তন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস গতকাল বুধবার বাগদাদ পৌঁছেছেন।
বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে আল ফাও প্যালেসে এক অনুষ্ঠানে লে. জেনারেল লিয়ড অস্টিন মার্কিন বাহিনীর নতুন কমান্ডারের দায়িত্ব গ্রহণ করার কথা। তিনি জেনারেল রে অডিয়ের্নোর স্থলাভিষিক্ত হবেন।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ইতি টানার লক্ষ্যে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করতে সোমবার রাতে বাগদাদ পৌঁছান। প্রেসিডেন্ট ওবামা ওয়াশিংটন সময় গত মঙ্গলবার রাত আটটায় হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস থেকে বিশেষ ভাষণ দেওয়ার পর বুধবার সকালে গেটসও সেখানে পৌঁছান। তিনি যুদ্ধাভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করার জন্য মার্কিন সেনাদের ধন্যবাদ জানান। পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই তিনি বাগদাদের প্রায় ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে মার্কিন ঘাঁটি ক্যাম্প রামাদি যান। তিনি সেখানে মার্কিন সেনাদের সঙ্গে দেখা করেন।
জেনারেল অডিয়ের্নো ২০০৮ সালে ডেভিড পেট্রাউসের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তিনি সেখানে ৫৬ মাস কাজ করেছেন। সোমবার নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে অডিয়ের্নো বলেন, নতুন সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে ইরাকের জনগণ গণতান্ত্রিক শাসনের প্রতি বিশ্বাস হারাতে পারে।
ইরাকে বাইডেনের সফরের লক্ষ্য শেষ পর্যন্ত একটি সরকার গঠনে রাজনৈতিক নেতাদের চাপ দেওয়া। দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।
৪২৬ জন নিহত: গত আগস্ট মাসে ইরাকে ৪২৬ জন ইরাকি নিহত হয়েছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি থেকে মার্কিন অভিযান সমাপ্তির দিনটিতে ইরাকের স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য প্রকাশ করে।

উইকিলিকস-প্রধানের বিরুদ্ধে আবার তদন্ত শুরু

উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসেঞ্জের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার অভিযোগের তদন্ত পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন সুইডেনের আদালত।
ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর গত সপ্তাহে আদালত আবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল করেন। আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন, অ্যাসেঞ্জকে আর সন্দেহ করা হচ্ছে না।
ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করা নারীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত আবার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এক বিবৃতিতে সুইডেনের পাবলিক প্রসিকিউটর ডিরেক্টর ম্যারিয়ান নায় বলেছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ধর্ষণের অভিযোগটি আরও তদন্ত করার প্রয়োজন রয়েছে। নায় নিজেই নতুন তদন্তের নেতৃত্ব দেবেন।
তবে উইকিলিকস-প্রধান তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
সম্প্রতি আফগান যুদ্ধ বিষয়ে অনেক গোপন নথি ফাঁস করে হইচই ফেলে দিয়েছেন উইকিলিকস।

স্মৃতিকথায় ব্লেয়ারের মন্তব্য

১৯৯৭ সালের নির্বাচনের রাত: টেলিভিশনের পর্দায় যখন দেখলাম, লেবাররা পেয়েছে ১০০ আসন, অন্যদিকে টোরিরা পেয়েছে মাত্র ছয়টি, আমার মনে হচ্ছিল, আমি যেন কোনো অসাংবিধানিক কাজ করে ফেলেছি।
ক্ষমতায় এসে: ১৯৯৭ সালের ২ মে আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো ডাউনিং স্ট্রিটে পা রাখলাম। এর আগে আমি কোনোদিন কনিষ্ঠতম মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করিনি। এটাই আমার প্রথম সরকারি দায়িত্ব গ্রহণ।
ডায়ানার মৃত্যু: আমি সত্যিই প্রচণ্ড দুঃখ পেয়েছিলাম। ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে আমি খুব পছন্দ করতাম এবং তাঁর ছেলে দুটোর জন্য ভয়ানক কষ্ট পাচ্ছিলাম। বুঝতে পারছিলাম, এ ঘটনা দেশের ভেতরে ও বাইরে আলোড়ন তুলতে যাচ্ছে।
জর্জ ডব্লিউ বুশ: আমি বুশকে পছন্দ করি এবং এখনো তাঁর প্রশংসা করি। সম্প্রতি আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কোন কোন নেতাকে আমি ঘনিষ্ঠ মনে করি। আমি বুশকে শীর্ষে রেখেছিলাম। অনেকেই এ কথা শুনে বিস্মিত হয়েছেন।

পাকিস্তানে বিমান হামলায় নিহত ৫৫

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আদিবাসী অধ্যুষিত খাইবার জেলায় গত মঙ্গলবার রাতে জঙ্গি আস্তানা লক্ষ্য করে চালানো বিমান হামলায় কমপক্ষে ৫৫ জন নিহত হয়েছে। গতকাল বুধবার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে জঙ্গি পরিবারের সদস্যরাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানি কর্মকর্তারা। তাঁরা জানান, মঙ্গলবার আফগান সীমান্তসংলগ্ন খাইবার জেলায় আসন্ন আত্মঘাতী হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় জঙ্গি আস্তানা লক্ষ্য করে হামলা চালায় পাকিস্তানি জঙ্গিবিমান। এতে আস্তানাগুলো ধ্বংস হয়ে যায়।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আফগান সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় অভিযান জোরদার করেছে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী।
কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার রাতে জঙ্গি আস্তানা লক্ষ্য করে তিনবার বিমান হামলা চালানো হয়।
এতে আস্তানাসহ কয়েকটি গাড়ি ধ্বংস হয়েছে। খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারে আত্মঘাতী হামলার জন্য গাড়িগুলোকে প্রস্তুত করা হচ্ছিল।
খাইবারের জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা রেহান খাত্তাক বলেন, একটি হামলায় নারী, শিশুসহ ছয়জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে।
একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, জঙ্গিরা বেসামরিক লোকজন ও তাঁদের পরিবারকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। তিনি বলেন, ‘হামলায় কয়েকজন বেসামরিক লোক নিহত হয়ে থাকতে পারে। তবে ঠিক কতজন নিহত হয়েছে, তা আমরা জানি না।’
দুজন সামরিক ও একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা তিরাহ উপত্যকায় চালানো এই হামলা ও হতাহতের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, একটি গাড়িবহরে জঙ্গিবিমানের হামলায় কমপক্ষে ১২ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে।
নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেন, বিমান হামলায় কয়েকটি জঙ্গি আস্তানা, একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র, একটি অবৈধ এফএম রেডিও স্টেশন ও আটটি গাড়ি ধ্বংস হয়েছে।
গত এপ্রিলে তিরাহ উপত্যকায় ভুলক্রমে চালানো এক বিমান হামলায় প্রায় ৬০ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়।
মার্কিন কর্মকর্তারা পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাকে আল-কায়েদার নিরাপদ আস্তানা মনে করেন।

‘এটি নজিরবিহীন এক চ্যালেঞ্জ’

চিলিতে সোনা ও রুপার খনিতে আটকে পড়া ৩৩ জন শ্রমিককে উদ্ধারের বিষয়টিকে ‘নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন খনি নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা। শ্রমিকদের উদ্ধারে সুড়ঙ্গ খননের কাজ শুরু করার পর বিশেষজ্ঞরা এই মন্তব্য করেন। এদিকে চিলি সরকারের আহ্বানে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (নাসা) একটি দল চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে পৌঁছেছে।
নিউজিল্যান্ডের খনি নিরাপত্তা বিষয়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কিয়াওরার পরিচালক ডেভ ফেইকার্ট বলেন, চিলির খনিতে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারের কাজটি খুব কঠিন।
কানাডা সরকারের খনিতে আটকে পড়া লোকজন উদ্ধার কার্যক্রমবিষয়ক ব্যবস্থাপক অ্যালেক্স গ্রেসকা বলেন, চিলির খনির পরিস্থিতির মতো ঘটনা এর আগে কখনো শোনা যায়নি। সরকারিভাবে বলা হচ্ছে, উদ্ধারকাজে দুই থেকে চার মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কিন্তু আটকে পড়া শ্রমিকেরা এত সময় মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে পারবেন কি না, তা ভেবে দেখার বিষয়।
চিলি সরকারের অনুরোধে সাড়া দিয়ে নাসার একটি দল রাজধানী সান্টিয়াগোতে পৌঁছেছে। ওই দলে চিকিত্সক, পুষ্টিবিদ, প্রকৌশলী ও মনোবিজ্ঞানী রয়েছেন। দলটি খনিতে আটকে পড়া শ্রমিকদের মিথ্যে কোনো আশ্বাস না দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
চিলির ওই খনির মালিক অ্যালেজান্দ্রো বোন খনি ধসের ঘটনা তদন্তে গঠিত সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছেন, আটকে পড়া শ্রমিক ও তাঁদের স্বজনদের কাছে তিনি ক্ষমা চাইবেন। অ্যালেজান্দ্রো বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি সত্যিই ভয়াবহ। আশা করি শান্তিপূর্ণভাবেই এই পরিস্থিতির সমাধান হবে।’
গত বৃহস্পতিবার চিলির একটি আদালত অ্যালেজান্দ্রোর ১৮০ কোটি মার্কিন ডলার জব্দের নির্দেশ দেন।

সবচেয়ে বেশি মার্কিন সেনা নিহত

২০০১ সালে আফগান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর চলতি বছর আফগানিস্তানে সবচেয়ে বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। ২০১০ সালে এ পর্যন্ত ৩২৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। ২০০৯ সালে ৩১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিল।
আফগান যুদ্ধে এ পর্যন্ত দুই হাজার ৫৮ জন বিদেশি সেনা নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে এক হাজার ২৭০ জন মার্কিন সেনা।

আটক দুই ইয়েমেনি হামলার পরিকল্পনা করেনি: যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো থেকে যাওয়া যে দুজন ইয়েমেনি নাগরিককে আমস্টারডামে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁরা সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করছিলেন, এমনটা তাঁরা মনে করেন না। তাঁদের আজ বৃহস্পতিবার আমস্টারডামে আদালতে হাজির করা হবে।
আমস্টারডামের শিফল বিমানবন্দর থেকে গত সোমবার তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা ইয়েমেনের রাজধানী সানায় যাচ্ছিলেন। ডাচ কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই দুই ইয়েমেনির কাছে সন্দেহজনক জিনিসপত্র ছিল। কিন্তু তাঁদের লাগেজে আসলে কী পাওয়া গেছে, সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ এখনো কিছু জানায়নি।
কর্তৃপক্ষ জানায়, দুই ইয়েমেনি সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। এ জন্য তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বা তাঁদের ছেড়েও দেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে ডেনমার্কের আইন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র থিও ডি আনজু বলেছেন, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্তের শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হবে।

পাকিস্তানে খাদ্যের দাবিতে বন্যাদুর্গতদের বিক্ষোভ

খাদ্যের দাবিতে গতকাল বুধবার পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের থাট্টা শহরে মহাসড়ক অবরোধ করেছে একদল ক্ষুধার্ত মানুষ। এদিকে ‘তিনটি হুমকি’র ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছে জাতিসংঘ।
থাট্টায় সরকার-পরিচালিত একটি আশ্রয়কেন্দ্রের প্রায় ৫০০ মানুষ খাদ্য ও আশ্রয়ের দাবিতে করাচি-থাট্টা মহাসড়ক তিন ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে।
মোহাম্মদ কাশিম (৬০) নামে এক ব্যক্তি বলেন, গত দুই দিন তাঁদের কোনো খাদ্য ও পানি দেওয়া হয়নি।
এদিকে বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন শেষে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) প্রধান জোসেত্তে শিরান ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সংকট আরও বিস্তৃত ও গভীর হওয়ার সঙ্গে তিনটি সংকট উন্মোচিত হয়েছে। তিনি বলেন, সংকটগুলো হলো: বীজ, ফসল ও আয়, যা মানুষকে ক্ষুধা, বাস্তুচ্যুতি ও মরিয়া করে তোলার ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। পরিস্থিতি খুবই জটিল বলেও মন্তব্য করেছেন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির প্রধান।
কৃষিজমি বিনষ্ট ও রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণে খাদ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের হতাশা আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি বলেন, বন্যার কারণে অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং সরকার সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহারকে স্বাগত জানাল ইরান

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে স্বাগত জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইরাক অভিযানে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়ারও দাবি জানান। গতকাল বুধবার ইরানের আল আলম টেলিভিশনে প্রচারিত খবরে এ কথা জানা যায়।
খবরে বলা হয়, এক সাক্ষাত্কারে আহমাদিনেজাদ মার্কিন সেনা সরিয়ে আনার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, যারা ইরাক আক্রমণ করেছিল আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার করে তাদের কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত।
আহমাদিনেজাদ বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যদি সত্যিই কার্যকর কিছু করতে চান, তাহলে তাঁকে ইরাক বিষয়ে নাক না গলানোর অঙ্গীকার করতে হবে। এ ছাড়া তাঁকে বাকি সেনা সরিয়ে নিয়ে ইরাকের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি এবং হামলাকারীদের শাস্তি দিতে হবে।

শান্তি আলোচনা সামনে রেখে হামাসকে সতর্ক করে দিলেন ওবামা

পশ্চিম তীরে গত মঙ্গলবার চারজন ইসরায়েলি নাগরিককে হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি বলেছেন, এ হত্যাকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি আলোচনায় কোনো প্রভাব ফেলবে না।
ওয়াশিংটনে গতকাল বুধবার ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক বৈঠক শেষে ওবামা এ কথা বলেছেন। হামাসকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা কাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছি, তার প্রমাণ গতকালের (মঙ্গলবার) ঘটনা। যেসব সন্ত্রাসী শান্তি আলোচনাকে নস্যাৎ করতে চায়, তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।’
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার সরাসরি শান্তি আলোচনা শুরুর প্রাক্কালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এসব কথা বললেন। আজ বৃহস্পতিবার এ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। গত ২০ মাসের মধ্যে এটাই হবে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম শান্তি আলোচনা।
বহুল কাঙ্ক্ষিত এ আলোচনা উপলক্ষে ওবামা গতকাল হোয়াইট হাউসে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক ও নৈশভোজের আয়োজন করেন। এ ছাড়া গতকাল রাতে ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে তাঁর বৈঠক করার কথা।
ফিলিস্তিনের সঙ্গে বৈঠকের আগে নেতানিয়াহু মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে বলেছেন, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের ওপর ১০ মাসের যে নিষেধাজ্ঞা চলছে, তা তিনি আর বাড়াবেন না। গত ২৬ সেপ্টেম্বর এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

জাপানে নেতৃত্ব নিয়ে লড়াই শুরু

জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ইচিরো ওজাওয়া গত মঙ্গলবার আলাদাভাবে ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ক্ষমতাসীন দল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব জাপানের (ডিপিজে) সভাপতি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তাঁরা। এর মাধ্যমে জাপানের নেতৃত্ব নিয়েও আনুষ্ঠানিক লড়াই শুরু হলো। ডিপিজের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা ওজাওয়া।
মঙ্গলবার কান ও ওজাওয়ার মধ্যে সমঝোতার জন্য আয়োজিত সর্বশেষ বৈঠকটি ব্যর্থ হওয়ায় অনেক বিশ্লেষকই আশঙ্কা করছেন, আসন্ন নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন দলে ভাঙন দেখা দিতে পারে।
বৈঠক শেষে বের হয়ে ডিপিজের সাবেক মহাসচিব ওজাওয়া ঘোষণা করনে, তিনি দলের সভাপতি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গতকাল বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে প্রচারণা শুরু হয়েছে। ওজাওয়ার পক্ষে ডিপিজের সংখ্যাগরিষ্ঠ দেড় শ আইনপ্রণেতার সমর্থন রয়েছে।
ওজাওয়া বলেন, ‘একটি পরিচ্ছন্ন প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য আমি এই দৌড়ে শামিল হতে যাচ্ছি। নির্বাচন শেষে ভেদাভেদ ভুলে এক সঙ্গে কাজ করব বলে আমাদের মতৈক্য হয়েছে।’ তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে কানও অঙ্গীকার করেন, দলের ঐক্য ধরে রাখতে একসঙ্গে কাজ করবেন তাঁরা। জানতে চাওয়া হয়েছিল, নির্বাচনের পর দলে ভাঙন দেখা দেবে কি না? এর জবাবে কান বলেন, ‘এমনটি হবে না। আমরা হাত মিলিয়েছি এবং নির্বাচনের পর একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে রাজি হয়েছি।’
দুই নেতা পরোক্ষভাবে এই উপসংহার টেনেছেন, তাঁদের মধ্যে কোনো সমঝোতা হলে তা নিয়ে সমালোচনা হওয়ার জোরালো আশঙ্কা ছিল। ওজাওয়া এর আগেও ডিপিজের নেতৃত্বে ছিলেন। কিন্তু জনগণের কাছে তাঁর তেমন জনপ্রিয়তা নেই। নির্বাচনে ওজাওয়া জিতলে চার বছরের মধ্যে তিনি হবেন জাপানের ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী।
ওজাওয়া ও কানের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মূল কারণ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউকিও হাতোইয়ামা ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার পর কান যে মন্ত্রিসভা গঠন করেন, এতে ওজাওয়া ও তাঁর অনুসারীদের সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি জাপানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের নির্বাচনে দলের পরাজয়ের জন্য কানকে দায়ভার নেওয়ার আহ্বান জানান ওজাওয়া।

জুলিয়া গিলার্ডের প্রতি গ্রিন পার্টির সমর্থন

নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে আরেক ধাপ এগিয়ে গেলেন অস্ট্রেলিয়ার তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড। দেশটির গ্রিন পার্টি সরকার গঠনে জুলিয়া গিলার্ডের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করায় তিনি এখন সরকার গঠনের পথে অনেকটা এগিয়েছেন। তবে সরকার গঠনের জন্য গিলাডের্র আরও তিনজন এমপির সমর্থন প্রয়োজন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী আসলে শেষ পর্যন্ত কে হবেন, তা নির্ভর করছে চারজন স্বতন্ত্র এমপির ওপর। তাঁদের মধ্যে তিনজন যাঁর প্রতি সমর্থন দেবেন, তিনিই হবেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
অস্ট্রেলিয়া পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য ৭৬ জন এমপির সমর্থন প্রয়োজন। নির্বাচনে এক আসন পাওয়া গ্রিন পার্টির সমর্থনের পর জুলিয়া গিলার্ডের দলের আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩টি। অন্যদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী টনি অ্যাবোটের দলের আসনসংখ্যা ৭৩টি। তিনিও সরকার গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সরকার গঠন নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যে দরকষাকষি চলছে, তা আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পরই বোঝা যাবে কে হবেন দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী।

খাদ্যশস্য পচতে না দিয়ে বিনা মূল্যে বিলি করা হোক

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট খাদ্যশস্য সরকারি গুদামে পচতে না দিয়ে বিনা মূল্যে গরিবদের মধ্যে বিলি করার নির্দেশ দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দলবীর ভান্ডারি ও দীপক ভার্মাকে নিয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন।
নির্দেশে উল্লেখ করা হয়, ২০১০ সালের জন্য কেন্দ্রকে বিপিএল, এপিএল ও এএওয়াই-এর নতুন তালিকাও তৈরি করতে হবে। খাদ্যশস্য যাতে পচে না যায়, এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে।
এর আগে ভারতের বিভিন্ন গুদামে সংরক্ষণের অভাবে বিভিন্ন খাদ্যশস্য নষ্ট হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্ট। একটি জনস্বার্থ মামলায় একই ডিভিশন বেঞ্চ ২৭ জুলাই নির্দেশ দেন, কেন্দ্রীয় সরকারকে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের গুদামে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে খাদ্যগুদামের সংখ্যা বাড়িয়ে শস্যের সংরক্ষণ সুনিশ্চিত করতে হবে। কোনোভাবেই খাদ্যশস্য নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।
জানা গেছে, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গুদামের অভাবে এখন এক কোটি ৭৪ লাখ টন চাল ও গম ত্রিপলে ঢেকে রাখা রয়েছে। এর মধ্যে এক কোটি টন খাদ্যশস্যে পচন ধরার আশঙ্কা রয়েছে।
বৃষ্টির কারণে গত দুই বছরে পাঞ্জাবেই ৪৯ হাজার টন খাদ্যশস্য নষ্ট হয়েছে।

ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে: ওবামা

ইরাকে যুদ্ধাভিযানের সমাপ্তি উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ইরাকের ভবিষ্যৎ ইরাকিদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে জরুরি কাজ নিজেদের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা।
হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস থেকে গত মঙ্গলবার দেওয়া এক বিরল ভাষণে ওবামা বলেন, ‘অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম শেষ হয়েছে। এখন ইরাকিদের দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদের হাতে তুলে নেওয়া।’ প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটা দেশবাসীর উদ্দেশে ওবামার দ্বিতীয় সরাসরি ভাষণ। ২০০৩ সালে দ্বিতীয় ইরাক যুদ্ধের সূচনা করেন তত্কালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ জুনিয়র। তিনি ওভাল অফিস থেকেই ইরাকে হামলার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
এদিকে অপারেশন ইরাকি ফ্রিডমের সমাপ্তি এবং জাতীয় নিরাপত্তার দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে ইরাকিদের হাতে তুলে দেওয়া উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মঙ্গলবার বাগদাদ যান মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস। ওই অনুষ্ঠানে ইরাকে মার্কিন সেনাদের বিদায়ী কমান্ডার জেনারেল রেমন্ড ওদিয়ার্নোর লে. জেনারেল লয়েড অস্টিনের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার কথা। এখন ‘অপারেশন নিউ ডন’-এর নেতৃত্ব দেবেন লয়েড অস্টিন। ইরাকি বাহিনীকে সহায়তা দেওয়াই হবে মার্কিন বাহিনীর নতুন এই অভিযানের লক্ষ্য।
সাত বছরের ইরাক যুদ্ধে সাড়ে চার হাজার মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। আহত ও পঙ্গু হয়েছে ২০ হাজারেরও বেশি সেনাসদস্য। অন্যদিকে লাখ খানেক বেসামরিক ইরাকির মৃত্যু ঘটেছে। প্রলম্বিত এ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। এত কিছুর পরও ইরাকের পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত এবং মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষিত সময়সীমার যৌক্তিকতা নিয়ে উভয় পক্ষেরই অনেক মহলে উদ্বেগ রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ওবামা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাক উভয় পক্ষের স্বার্থেই এই যুদ্ধ শেষ করা দরকার ছিল। তিনি বলেন, ইরাকের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের দায়িত্ব ইরাকিদের হাতে তুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিপুল মূল্য দিতে হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা আমাদের তরুণ-তরুণী সেনাদের ইরাকে পাঠিয়েছি। তাঁদের অনেক আত্মত্যাগ করতে হয়েছে। এ ছাড়া দেশে যখন বাজেটে টানাটানি, তখন আমাদের দেশের বাইরে অনেক অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমরা আমাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছি। এখন সময় এসেছে পৃষ্ঠা ওল্টানোর।’
ইরাকে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া বুশের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকার কথা উল্লেখ করে ওবামা বলেন, ‘মার্কিন বাহিনীর প্রতি বুশের সমর্থন, তাঁর দেশপ্রেম ও দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁর আন্তরিকতা নিয়ে কারও কোনো সন্দেহ নেই।’
ওবামা বলেন, ‘আমি যেমনটি বলেছি, যাঁরা যুদ্ধকে সমর্থন করেছেন, তাঁরাও দেশপ্রেমিক এবং যাঁরা এর বিরোধিতা করেছেন তাঁরাও দেশপ্রেমিক। এখন আমরা সবাই এক হয়ে আমাদের সেনাসদস্যদের কাজের মূল্যায়ন করব এবং ইরাকের সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করব।’
ওবামা বলেন, ইরাক যুদ্ধ শেষ হওয়ায় মার্কিন সেনারা এখন আফগান যুদ্ধের দিকে বেশি নজর দিতে পারবে। কিন্তু তার পরও শিগগিরই আফগান যুদ্ধ শেষ করা প্রয়োজন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আজ আমাদের সবচেয়ে জরুরি কাজ নিজেদের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং যে লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়েছে তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।’

ক্ষুদ্রঋণের ভূমিকা নিয়ে টাঙ্গাইলে ডরেপর সেমিনার

বেসরকারি সংস্থা ডর্প সম্প্রতি টাঙ্গাইল জেলার ভূয়াপুর উপজেলা পরিষদ মিলনাতয়নে ‘দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্রঋণের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারের আয়োজন করেছে।
সেমিনারে সংস্থার সফল সংগঠক, ঋণগ্রহীতা ও কর্মীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতজন স্বনির্ভর কর্মীকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মেসবাহউদ্দিন আহমেদ। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবদুছ ছাত্তার শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পিকেএসএফের মহাব্যবস্থাপক গোলাম তৌহিদ, ভূয়াপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শামসুল হক তালুকদার, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা আক্তার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আবদুল ওয়াদুদ, নেদারল্যান্ডের ওয়েমস ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ট্রেইনার ভেন এসিলডোনক, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের পরিচালক নিজাম উদ্দীন আল হোসাইনী, ডরেপর উপদেষ্টা আবদুল হালিম ও আজহার আলী তালুকদার এবং মহাসচিব এ এইচ এম নোমান।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা সেলিমা খানম, ডরেপর কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী বাবুল অধিকারী ও ক্রেডিট ডেস্ক ম্যানেজার এ এস এম হুমায়ুন কবির।
অনুষ্ঠানে ডরেপর চট্টগ্রাম, কিশোরগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, বরগুনা, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন শাখার সফল ঋণগ্রহীতা ও কর্মকর্তারাসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন ও মানবাধিকার কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পুঁজিবাজারে আসছে ওয়েস্টিন হোটেলের মূল প্রতিষ্ঠান ইউনিক

বেসরকারি খাতের প্রথম হোটেল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পুঁজিবাজারে আসছে ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড। পাঁচ তারকাবিশিষ্ট হোটেল ওয়েস্টিন ঢাকা এ কোম্পানিরই একটি প্রতিষ্ঠান।
কোম্পানিটি চলতি মাসের মধ্যেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কাছে শেয়ার ছাড়ার অনুমোদন চেয়ে বিবরণপত্র বা প্রসপেক্টাস জমা দেবে। অনুমোদন পাওয়ার এক-দুই মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রি শুরু করবে।
এ কাজের প্রাথমিক প্রক্রিয়া হিসেবে গতকাল বুধবার ওয়েস্টিন হোটেল কর্তৃপক্ষ নিজ হোটেল প্রাঙ্গণে রোড শোর আয়োজন করে। শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এতে অংশগ্রহণ করে। এ আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপক ব্র্যাক ইপিএল লিমিটেড। এতে ইউনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর আলী, ব্র্যাক ইপিএলের ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ও কর্মকর্তা খালিদ ফারাজি এবং ওয়েস্টিন হোটেলের মহাব্যবস্থাপক আতিক রহমান বক্তব্য রাখেন।
এ সময় জানানো হয়, ইউনিক হোটেলের বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ২৩০ কোটি টাকা, যা ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ২৩ কোটি শেয়ারে বিভক্ত। প্রতিষ্ঠানটি আইপিওর মাধ্যমে নতুন করে আরও তিন কোটি শেয়ার বাজারে ছাড়বে। এতে তাদের মোট পরিশোধিত মূলধন বেড়ে হবে ২৬০ কোটি টাকা।
সর্বশেষ নিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী, কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস দেখানো হয়েছে তিন টাকা ২০ পয়সা। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরে চার টাকা ৮০ পয়সা ইপিএস প্রক্ষেপণ করা হয়েছে।

তথ্য জানাতে সম্মত সুইজারল্যান্ড সরকার

সুইস ব্যাংকে গচ্ছিত ভারতীয়দের কালো টাকার বিষয়ে তথ্য জানাতে সম্মত হয়েছে সুইজারল্যান্ড সরকার।
গত মঙ্গলবার ভারতের লোকসভায় এ কথা জানিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়।
এ ব্যাপারে সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানী নয়াদিল্লিতে সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিসেলিন কালমি এবং ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। চুক্তি অনুসারে যেসব ভারতীয় কর ফাঁকি দিয়ে গোপনে সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রেখেছেন তাঁদের তথ্য এবার থেকে সুইজারল্যান্ড সরকার ভারতকে জানাবে।
এ জন্য অবশ্য সুইজারল্যান্ডের সংসদে এই চুক্তিটি অনুমোদিত হতে হবে। তাহলে ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে কেন্দ্রীয় সরকার সুইস ব্যাংকে গচ্ছিত ভারতীয়দের গোপন ব্যাংক হিসাব সম্পর্কে জানতে পারবে।
একই সঙ্গে কোন ভারতীয় কত টাকা জমা রেখেছেন তা জানা যাবে। প্রয়োজনে এই নিয়ে ভারত সরকার তদন্তও করতে পারবে।
প্রসঙ্গত, গত ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে সুইস ব্যাংক থেকে কালো টাকা উদ্ধার বিজেপি ও কংগ্রেসের একটি নির্বাচনী ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তখন বিজেপির প্রবীণ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী লালকৃষ্ণ আদভানি বলেছিলেন, বিজেপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক মোর্চা বা এনডিএ ক্ষমতায় এলে বিদেশের ব্যাংকে গচ্ছিত ভারতীয়দের কালো টাকা ১০০ দিনের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
আদভানি কালো টাকার সঙ্গে দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নটি জড়িত উল্লেখ করে সন্ত্রাসী কাজে এই অর্থ ব্যবহূত হচ্ছে বলে দাবি করেন।
আবার গত বছরের মার্চ মাসের শেষ দিকে আদভানি উইকিপিডিয়ার তথের্য উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছিলেন, ২০০১ সালে সুইস ব্যাংকে বিদেশিদের মোট ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন (দুই লাখ ৬০ হাজার কোটি) মার্কিন ডলার রয়েছে, যা ২০০৭ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন (পাঁচ লাখ ৭০ হাজার কোটি) মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ভারতীয়দের রয়েছে আনুমানিক ৫০ হাজার থেকে এক লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলার।
আদভানি তখন এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কোন ভারতীয় গচ্ছিত রেখেছেন তার বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশ করারও দাবি জানিয়েছিলেন।
সে সময় একই ধরনের কথা বলা হয়েছিল ইউপিএর প্রধান শরিক কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও। কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট ক্ষমতায় আসার পর কংগ্রেসের প্রতিশ্রুতি কার্যকর করার জন্য অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায় সুইস ব্যাংকে গচ্ছিত ভারতীয়দের কালো টাকার হদিস জানার জন্য উদ্যোগী হন।

তিন বছরে এডিবি ৩০০ কোটি ডলার সাহায্য দেবে

আগামী তিন বছরে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বাংলাদেশকে ৩০০ কোটি ডলার বা ২১ হাজার কোটি টাকা উন্নয়ন-সহায়তা দেবে।
গত জুলাই মাসে এডিবি ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশে কার্যক্রমের বিজনেস পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এতে এই অর্থ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশকে যে অর্থ দেওয়া হবে এর প্রায় ১৬০ কোটি ডলার আসবে এশীয় উন্নয়ন তহবিল বা এডিএফ থেকে। আর ১২০ কোটি ডলার আসবে সাধারণ পুঁজির উৎস (অর্ডিনারি ক্যাপিটাল রিসোর্সেস বা ওসিআর) থেকে।
তবে ওসিআরের এই ঋণ কঠিন শর্তের এবং সুদের হারও বেশি। এসব ঋণের সুদ নির্ধারিত হবে লন্ডনের আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারের সুদের হারের (লাইবরের) ভিত্তিতে অর্থাৎ বাণিজ্যিকভাবে।
এসবরে বাইরে বছরে ৭৪ লাখ ডলারের মতো কারিগরি সহায়তা অনুদান হিসেবে দেবে এডিবি।
এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে এডিবির ঢাকা অফিস আগামী তিন বছরের কান্ট্রি বিজনেস প্লান তৈরির কথা স্বীকার করে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১১ সাল থেকে বাংলাদেশকে প্রতিবছর ১০০ কোটি ডলার বা সাত হাজার কোটি টাকার বেশি সহায়তা দেওয়া হবে। এসবের বেশির ভাগ অর্থই সামাজিক খাত ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
এ ছাড়া ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্রাটেজি তৈরির কাজ চলছে। এটি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে বলে এডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
এডিবি যেসব উন্নয়ন-সহায়তা দেবে, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্প হচ্ছে পদ্মা সেতু নির্মাণ। এই সেতু নির্মাণে এডিবি ছাড়াও বিশ্বব্যাংক ও জাপানি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা সহায়তা করবে। আগামী তিন বছরে এডিবি পদ্মা সেতু নির্মাণকাজে ৬১ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা চার হাজার ৩০৫ কোটি টাকা দেবে। এর মধ্যে সহজ শর্তের ঋণ বা এডিএফ তহবিল থেকে আসবে মাত্র সাত কোটি ৬০ লাখ ডলার বা ৫৩২ কোটি টাকা। আর বাকি ৫৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার বা তিন হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা আসবে ওসিআর বা বাণিজ্যিক ঋণ থেকে।
দ্বিতীয় বড় প্রকল্প হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি। এই কর্মসূচিতে এডিবি ৩০ কোটি ডলার বা দুই হাজার ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। এর বেশির ভাগই আসবে এডিএফ তহবিল থেকে। একই পরিমাণ অর্থ পাওয়া যাবে জ্বালানি দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পে। তবে এর পুরোটাই আসবে বাণিজ্যিক ঋণ বা ওসিআর তহবিল থেকে। এই অর্থ পাওয়া যাবে ২০১১ সালে।
দেশের শহরতলি উন্নয়ন ও ট্রান্সপোর্ট করিডর প্রকল্পে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক মোট বিনিয়োগ করবে ২৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা দুই হাজার ৬৫ কোটি টাকা। পুরো অর্থই আসবে সহজ শর্তের ঋণ বা এডিএফ তহবিল থেকে। এর মধ্যে ট্রান্সপোর্ট করিডর উন্নয়নে পাওয়া যাবে ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা এক হাজার ২২৫ কোটি টাকা। আর শহরতলি উন্নয়নে এডিবি দেবে ১২ কোটি ডলার বা ৮৪০ কোটি টাকা।
ঢাকা শহরের সমন্বিত টেকসই যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য এডিবি বিনিয়োগ করবে ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ৮৭৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১০ কোটি ডলার আসবে এডিএফ তহবিল থেকে আর বাকি দুই কোটি ৫০ লাখ ডলার আসবে ওসিআর থেকে।
প্রসঙ্গত, বিগত কয়েক বছরে এডিবি বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পে যে ঋণ দিয়েছে, তার অর্ধেকই এসেছে চড়া সুদের তহবিল থেকে।
এসব ঋণ ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে এবং আসলের কিস্তি পরিশোধের ছাড় পাওয়া যাবে মাত্র পাঁচ বছর। ফলে, এডিবির ঋণগুলো কার্যত কঠিন শর্তের ঋণ হয়ে পড়ছে। ২০১১ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত পঞ্জিকা বছরে যে ঋণ দেওয়া হবে এরও প্রায় ৪০ শতাংশ অর্থ আসবে ওসিআর থেকে।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা পরিচালক জায়েদ বখ্ত প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিদেশি সাহায্য নেওয়ার প্রতিযোগী দেশের সংখ্যা বাড়ার ফলে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর কম সুদে ঋণ দেওয়ার প্রবণতা এখন কিছুটা কম। তবে বাংলাদেশ বিদেশি সাহায্যের ওপর তার নির্ভরতা অনেকটা কমিয়ে আনতে পেরেছে। ফলে নিতান্ত প্রয়োজন না হলে যে উৎস থেকেই হোক কঠিন শর্তের ঋণ বা বেশি বাণিজ্যিক ঋণ না নেওয়াই ভালো।’

আকুতে সাত মাসে বাংলাদেশের লেনদেন বেড়েছে ৩০.৭১%

চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে আকুভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সামগ্রিক বাণিজ্য আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩১ শতাংশের বেশি হারে বেড়েছে।
আকুর সর্বশেষ মাসওয়ারি প্রতিবেদন থেকে দেখা গেছে, ২০১০ সালের জানুয়ারি-জুলাই সময়কালে আকুতে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ২৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। আর আমদানি বেড়েছে ৩১ শতাংশ।
আলোচ্য সময়কালে আকুর সদস্য দেশগুলোতে বাংলাদেশ প্রায় ১০ কোটি ডলারের পণ্য-সেবা রপ্তানি করেছে। গত বছর একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল সাড়ে আট কোটি ডলারের সামান্য ওপরে।
আবার চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে আকুভুক্ত দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ ২২৬ কোটি ৫৩ লাখ ডলারের পণ্য ও সেবা আমদানি করেছে। গত বছর একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৭২ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
ফলে আকুতে বাংলাদেশের সার্বিক লেনদেন দাঁড়িয়েছে ২৩৬ কোটি ৪৮ লাখ ডলার, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ১৮০ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
বাংলাদেশসহ আট দেশের অলিখিত বাণিজ্য জোট আকুর সার্বিক বাণিজ্যিক লেনদেন এই সময়কালে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত বছরের প্রথম সাত মাসের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে মোট লেনদেন বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৬৭ শতাংশ।
আকুর প্রধান সদস্য দেশগুলোর লেনদেনও এই সময়কালে বেড়ে গেছে বলে আকুর প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়। এই সময়কালে ভারত ও ইরানের লেনদেন বেড়েছে যথাক্রমে ৭৫ ও ৯৭ শতাংশ। এ ছাড়া পাকিস্তানের প্রায় ৩৫ শতাংশ ও শ্রীলঙ্কার প্রায় সাড়ে ৩০ শতাংশ হারে লেনদেন বেড়েছে।
আকুর প্রতিবেদন থেকে আরও দেখা যায়, আকুতে সামগ্রিক লেনদেনে বাংলাদেশের অবস্থান এখন তৃতীয়। ভারত প্রথম ও ইরান দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা—এই আটটি দেশ বর্তমানে আকুর সদস্য। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করা ও পারস্পরিক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমানোর জন্য আকু গঠন করা হয় ১৯৭৫ সালে। একে পরোক্ষভাবে একটি বাণিজ্য জোট হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।
সদস্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এই লেনদেনের প্রক্রিয়াটি সমন্বয় করে থাকে। আর এই লেনদেনের হিসাবটি আকুতে ঋণ গ্রহণ ও ঋণ প্রদানের আকারে সম্পন্ন হয়। যারা ঋণ গ্রহণ করে তাদের একটি নির্দিষ্ট হারে সুদ প্রদান করতে হয়। ঋণ গ্রহণকে আমদানি ও ঋণ প্রদানকে রপ্তানির সূচক হিসেবে গণ্য করা হয়।
২০০৯ সালে বাংলাদেশ আকুর সদস্য দেশগুলোয় প্রায় ১৩ কোটি ৭৫ লাখ ডলারের পণ্য ও সেবা রপ্তানি করেছিল, যা ২০০৮ সালে ছিল প্রায় ১৫ কোটি ডলার। ফলে রপ্তানি কমেছিল ৮ শতাংশ।
বিপরীতে ২০০৯ সালে আকুর অন্য দেশগুলো থেকে সমন্বিতভাবে বাংলাদেশ প্রায় ৩০২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের পণ্য-সেবা আমদানি করেছে। তার আগের বছর এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৭১ কোটি ডলার। অর্থাৎ আমদানি কমেছিল প্রায় সাড়ে ১৮ শতাংশ।
এর ফলে সামগ্রিকভাবে আকুতে বাংলাদেশের লেনদেন কমে গিয়েছিল প্রায় ১৮ শতাংশ। বিশ্বমন্দায় বিভিন্ন দেশের রপ্তানি চাহিদা ও আমদানি ব্যয় হ্রাস পাওয়ায় এই লেনদেন কমে গিয়েছিল বলে মনে করা হয়।

ডিএসই: সাধারণ সূচক ও লেনদেন বেড়েছে

ঢাকা শেয়ারবাজারে (ডিএসই) আজ বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে সাধারণ মূল্যসূচক এবং বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম ও আর্থিক লেনদেন বেড়েছে। আজ সাধারণ মূল্যসূচক ১১৬.৮৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭৭৪.৮৬ পয়েন্টে।
আজ মোট এক হাজার ৫২১ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা গতকালের চেয়ে ৩৩ কোটি টাকা বেশি।
আজ লেনদেন হওয়া মোট ২৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ২০২টি প্রতিষ্ঠানের, কমেছে ৪৭টি প্রতিষ্ঠানের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে চারটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
আজও গতকালের ন্যায় লেনদেনে শীর্ষে রয়েছে বেক্সিমকো। দ্বিতীয়স্থানে রয়েছে বিএসআরএম স্টিল। এ ছাড়া শীর্ষ পাঁচে থাকা অপর তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো আফতাব অটোমোবাইলস, বেক্সিমকো টেক্সটাইল ও লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেড।
সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ারের। এ ছাড়া সাফকো স্পিনিং, এইচ আর টেক্সটাইল, অনলিমা ইয়ার্ন ও সিএমসি কামালের শেয়ারের দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষ পাঁচ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে।
দাম কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো ঢাকা ব্যাংক, বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, গ্রামীণ মিউচুয়াল ফান্ড ১, আইসিবি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট মিউচুয়াল ফান্ড ১ স্কিম ১ ও কাশেম সিল্ক।

স্পেনকে ডাকছে আরেক ইতিহাস

স্পেন মানেই যেন এখন একের পর এক ইতিহাসের ঢেউ ডিঙিয়ে চলা। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতার ইতিহাস গড়ার টাটকা অনুভূতি সঙ্গে নিয়েই নতুন এক রেকর্ডের মিশনে নামছে ভিসেন্তে দেল বস্কের দল। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ আর বিশ্বকাপের ‘ডাবল’ জেতার কীর্তি স্পেন ছাড়াও আছে পশ্চিম জার্মানি ও ফ্রান্সের। কিন্তু ইউরো, বিশ্বকাপ আবার ইউরো—এই ত্রয়ী সাফল্যের কীর্তি নেই কারোরই। নতুন এই ইতিহাস গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আগামীকাল মাঠে নামছে স্পেন।
না, এখনই চূড়ান্ত পর্ব নয়। ইউরো ২০১২-এর আসর বসবে পোল্যান্ড আর ইউক্রেনে। এর আগে বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসতে হবে ১৪টি দলকে। নয় গ্রুপের নয় চ্যাম্পিয়ন জায়গা পাবে সরাসরি। নয় রানার্সআপের মধ্যে সেরা দলটিও চলে যাবে। বাকি আট রানার্সআপ একে অন্যের মুখোমুখি হয়ে খেলবে প্লে-অফ। এখান থেকে পাওয়া যাবে চারটি দল। বাছাইপর্বের মোট ১৪টি আর দুই স্বাগতিক—এই ১৬ দল নিয়ে হবে চূড়ান্ত পর্ব।
১৪তম ইউরোপ-সেরার এই আসরের বাছাইপর্ব শুরু হচ্ছে। শুরু হয়ে গেছেও বলা যায়। গত ১১ আগস্ট একটা ম্যাচ হয়ে গেছে, যাতে ফারো দ্বীপপুঞ্জকে ২-১ গোলে হারিয়েছে এস্তোনিয়া। আজ ম্যাচ আছে একটি, মুখোমুখি হচ্ছে ইসরায়েল-মাল্টা। ইউরোপের পরাশক্তিগুলো মাঠে নামবে আগামীকাল।
স্পেনের দিকেই বেশি মনোযোগ থাকবে সবার। ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে আসা, টানা ৩৫ ম্যাচে অপরাজিত থাকার বিশ্ব রেকর্ড ছোঁয়া—এর মধ্যে টানা ১৫ ম্যাচে জয়, ইউরো আর বিশ্বকাপের ডাবল পূর্ণ করা...একের পর এক রেকর্ড গড়ে আসা স্পেন এবার এক ঢিলে মারতে পারে দুই পাখি। শিরোপাত্রয়ীর কথা তো প্রথমেই জেনেছেন, স্পেন এবার ইউরো জিতলে সেটি হবে প্রথম দল হিসেবে ইউরোর শিরোপা ধরে রাখার কীর্তি। নতুন এই অভিযাত্রায় বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচে লিকটেনস্টাইনের মতো একেবারে সহজ প্রতিপক্ষ পাচ্ছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
কোচ দেল বস্ক অবশ্য তার পরও সতর্ক, ‘কাউকে ছোট করে দেখার ভুল করা চলবে না। এই ম্যাচটা কিন্তু আমরা ওদের মাঠে গিয়েই খেলব। তা ছাড়া সবাই চাইবে আমাদের হারাতে। শিরোপা অক্ষুণ্ন রাখতে আমাদের তাই কঠোর পরিশ্রমই করতে হবে।’
আগামীকাল চোখ থাকবে ইংল্যান্ড-বুলগেরিয়া ম্যাচেও। বিশ্বকাপ-ব্যর্থতার পরও ফ্যাবিও ক্যাপেলো আরেকটি সুযোগ পেয়েছেন। ক্যাপেলোর জন্যও এটি সেই আস্থার প্রতিদান দেওয়ার মঞ্চ। এমনিতে ইউরোতে কিন্তু ইংল্যান্ডের রেকর্ড সুবিধার নয়। শিরোপা দূরের কথা, ফাইনালেই উঠতে পারেনি কখনো। গতবার তো ইউরোর চূড়ান্ত পর্বেই জায়গা করে নিতে পারেনি।
এদিক থেকে ফ্রান্স অনেকটাই এগিয়ে। ১৯৮৪ ও ২০০০—দুবারের চ্যাম্পিয়ন লা ব্লুজরা। তবে ফরাসি ফুটবল এখন পার করছে এক ক্রান্তিকাল। বিশ্বকাপ এবং এর পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের কারণে লরাঁ ব্লাঁর দলকে নিয়ে এবার বাড়তি আগ্রহ সবার। কৌতূহল থাকছে জোয়াকিম লোর তরুণ দলটাকে নিয়েও। বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে হেরে যাওয়ার আগপর্যন্ত দুর্দান্ত খেলা জার্মানি ইউরোর সবচেয়ে সফলতম দলও। ইউরো আসতে আসতে তরুণ দলটির আরও পরিণত হওয়ার কথা। তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের শিরোপার অন্যতম দাবিদার বলে মানতেই হবে। এএফপি, ওয়েবসাইট।

ইউরো ২০১২ বাছাইপর্ব
গ্রুপ ‘এ’ জার্মানি, তুরস্ক, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, কাজাখস্তান, আজারবাইজান
গ্রুপ ‘বি’ রাশিয়া, স্লোভাকিয়া, আয়ারল্যান্ড, মেসিডোনিয়া, আর্মেনিয়া, অ্যান্ডোরা
গ্রুপ ‘সি’ ইতালি, এস্তোনিয়া, সার্বিয়া, উত্তর আয়ারল্যান্ড, স্লোভেনিয়া, ফারো আইল্যান্ড
গ্রুপ ‘ডি’ ফ্রান্স, রোমানিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, বেলারুশ, আলবেনিয়া, লুক্সেমবার্গ
গ্রুপ ‘ই’ হল্যান্ড, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, হাঙ্গেরি, মালদোভা, সান মারিনো
গ্রুপ ‘এফ’ ক্রোয়েশিয়া, গ্রিস, ইসরায়েল, লাটভিয়া, জর্জিয়া, মাল্টা
গ্রুপ ‘জি’ ইংল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, বুলগেরিয়া, ওয়েলস, মন্টেনেগ্রো
গ্রুপ ‘এইচ’ পর্তুগাল, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সাইপ্রাস, আইসল্যান্ড
গ্রুপ ‘আই’ স্পেন, চেক প্রজাতন্ত্র, স্কটল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া, লিকটেনস্টাইন

সব মিলিয়েই এই পাকিস্তান

বল ট্যাম্পারিং, ম্যাচ পাতানো, ডোপ-কলঙ্ক, নিরাপত্তা সমস্যা, গণপদত্যাগ, বহিষ্কার, ড্রেসিংরুমে মারামারি, খুনের অভিযোগ—কোন সমস্যাটায় গত কয় বছরের মধ্যে পড়েনি পাকিস্তান! পাকিস্তানের ক্রিকেট নিয়ে একের পর এক ‘বেখবরে’ যেন গা সওয়া হয়ে গেছে ক্রিকেট-বিশ্বের।
একটার পর একটা খবর, তার প্রতিক্রিয়ায় হাস্যকর সব ঘটনা জন্ম দিয়ে দিয়ে বিশ্বাসযোগ্যতা, সহানুভূতির এতটুকু আর অবশিষ্ট রাখেনি এই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তার পরও কোথাও যদি কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা টিকে থেকে থাকে, এই ধাক্কায় সেটুকুও শেষ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা পাকিস্তানি বিশ্লেষকদের।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের ফাঁস করা সর্বশেষ কেলেঙ্কারিতে মনে হচ্ছে, এখনো ম্যাচ গড়াপেটার শেকড় রয়ে গেছে পাকিস্তান ক্রিকেট দলে। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে প্রথম যখন ম্যাচ পাতানোর কেলেঙ্কারির ঝড় উঠল, তখন দলেই ছিলেন আমির সোহেল। এর পর থেকে কখনো কর্মকর্তা হিসেবে, কখনো বিশ্লেষক হিসেবে দেখছেন এসব নাটক।
সব দেখেশুনে খেপে যাওয়া সোহেল বলছেন, ‘দুনিয়ার জঘন্যতম ক্রিকেট ব্যবস্থাপনা হলো আমাদের। কোনো রকম দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা-টরিকল্পনা ছাড়াই আমরা টিকে আছি স্রেফ দর্শকদের অনিঃশেষ ভালোবাসার কারণে।’ তবে এই ভালোবাসারও একটা সীমা আছে বলে মনে করছেন আরেক সাবেক পাকিস্তানি অধিনায়ক, কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান জাভেদ মিয়াঁদাদ, ‘সমর্থকেরাও এই বিশৃঙ্খল দলটার কাছ থেকে অনেক সহ্য করেছে।’
কিন্তু পাকিস্তানেই কেন এমন হবে? পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক কামরান খানের মতে, এ সবকিছু ঘটছে খেলাধুলায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে, ‘কোনো দেশেই প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী এভাবে একটা ক্রীড়া সংস্থার প্রধান নির্বাচন করে না। পাকিস্তানে তাঁরা যখন বোর্ডের লোকজন মনোনীত করে, তখন যোগ্যতাকে একেবারেই গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এরপর আবার এদের জবাবদিহি বলে কিছু নেই। আর এসব কিছুই হলো আমরা দলে যা দেখছি তার উৎস।’
এই রাজনৈতিক, সামাজিক, ক্রিকেটীয় সমস্যাকে এক করে দেখতে পারার উপযুক্ত মানুষ হলেন ইমরান খান। ক্রিকেট থেকে রাজনীতিতে আসা বিশ্বকাপজয়ী সাবেক অধিনায়কের মতে পাকিস্তানের সর্বগ্রাসী দুর্নীতির প্রভাব পড়েছে ক্রিকেটারদের ওপর, ‘খেলোয়াড়েরা যখন দেখে প্রশাসনে দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদেরা বসে আছে, লোকেরা অন্যায় করে পার পেয়ে যাচ্ছে; তখন তারা ভাবে, আমরাও এভাবে পার পেয়ে যাব।’
শেষ পর্যন্ত বিশ্লেষণ যা-ই বলুক, এটা ক্রিকেটের জন্যই লজ্জা। লজ্জা একসময় বিশ্বকাপটা পাকিস্তানে নিয়ে আসতে পারা ইমরানদের জন্যও। শেষতক তাই লজ্জায় অবনত ইমরানের মাথা, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই কেলেঙ্কারিটা পাকিস্তানের ক্রিকেটের নৈতিকতা নাড়িয়ে দেওয়া একটা ঝড় হয়ে এল। যেখানে যাচ্ছি, লোকেরা জিজ্ঞেস করছে, কী হচ্ছে এসব! বড়ই বেদনাদায়ক পরিস্থিতি।’

আমির হতে পারেন অন্য উদাহরণ

মাত্র ১৮ বছর বয়স; মাত্র ১৪টি টেস্ট, ১৫টি ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা। ক্রিকেট-দুনিয়াটা ভালোভাবে বুঝে ওঠার আগেই তাঁর বলে ঝরল আগুন। সবাই বলতে শুরু করল—নতুন ওয়াসিম আকরাম। প্রশংসাটা হজম করারও সময় পেলেন না মোহাম্মদ আমির।
এর মধ্যেই বলের আগুন জ্বলল বিতর্ক হয়ে। শোনা গেল, স্পট ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত অমিত প্রতিভাধর এই পাকিস্তানি তরুণ। পাকিস্তান ক্রিকেটের সর্বশেষ বিতর্ক নিয়ে চারদিকে যতটা ‘ছি ছি’ রব, তার চেয়েও বেশি আমিরকে নিয়ে আক্ষেপ-আশঙ্কা। এই অন্যায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে আমির না শেষ হয়ে যায়!
এই শঙ্কা থেকেই বিকল্প একটা প্রস্তাব দিয়ে রেখেছেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল আথারটন। তাঁর মতে, দোষী প্রমাণিত হলে শাস্তি না দিয়ে আমিরকে বরং ‘সুস্থ’ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হোক।
দ্য টাইমস-এ লেখা কলামে আথারটন লিখেছেন, ‘মানছি, অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে অন্যদের সাজা দিয়ে আমিরকে ছেড়ে দেওয়াটা অন্যায় হবে। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে, আমিরই হতে পারে এই সময়ের দুর্দান্ত এক প্রতীক—কী ছিলে, কী আছ আর কী হতে পারো।’
আরও একটু ব্যাখ্যা করে আথারটন বলছেন, আমিরকে যদি বুঝিয়ে, সুশিক্ষা দিয়ে সৎ জীবনে ফেরানো যায়; তাহলে সেটা বাকি ক্রিকেটারদের জন্য একটা দৃষ্টান্ত হতে পারে। অন্তত বাকি তরুণেরা বুঝবে অন্যায় না করেও ক্রিকেট থেকেই অনেক কিছু অর্জন করা সম্ভব, ‘ওকে সুশিক্ষিত করে তুলতে হবে। ক্রিকেট থেকেই যে কত কিছু অর্জন করা সম্ভব, তার উদাহরণ হিসেবে ওকে তৈরি হয়ে উঠতে সহযোগিতা করতে হবে। পাকিস্তানের ক্রিকেটকে কলঙ্কমুক্ত করার উদ্যোগের কেন্দ্রে থাকা উচিত আমিরের পুনর্বাসন প্রকল্প। মনে রাখবেন, এই প্রতিভাধর বোলারটি কিন্তু সমস্যার কারণ নয়, সমস্যার করুণতম এক শিকার মাত্র।’
তবে আথারটনের এসব প্রস্তাব আদৌ কেউ ভেবে দেখবেন কি না, সেই সদিচ্ছা কারও আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। আর আমির দোষী প্রমাণিত না হলে তো পুনর্বাসনের প্রসঙ্গই আসছে না!
আমিরের বড় ভাই মোহাম্মদ ইজাজের দাবি, আমির অপরাধী নন। আমিরের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমির খুবই হতাশ, ভেঙে পড়েছেন। নিজেকে নির্দোষ বলে দাবিও নাকি করেছেন। আর আমিরের কথার ওপর দারুণ বিশ্বাস আছে তাঁর ভাইয়ের। সেই বিশ্বাস থেকেই এখন ‘সত্য’র মুখ চেয়ে থাকার কথা জানিয়েছেন, ‘আমরা ওকে বিশ্বাস করি, কারণ আমরা ওর চরিত্রটা খুব ভালো করে জানি। ও একবার যখন বলেছে ও নির্দোষ, অবশ্যই নির্দোষ। আমরা ওকে বলেছি শক্ত থাকতে। কারণ সত্যি বেরিয়ে আসবেই।’

বিশ্বকাপ উদ্বোধনে বাংলার মুখ

২০১১ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাংলাদেশে। সহ-আয়োজক হলেও সেই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ছবিটাই বেশি ফুটে উঠবে স্বাভাবিক। আর সেই ছবিতে আরও অনেক কিছুর মতো খুঁজে পেতে পারেন বর্তমান সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্নও।
গত পরশু রাজধানীর একটি হোটেলে সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা ছয় প্রার্থীর প্রদর্শনী দেখে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভারতীয় কোম্পানি উইজক্রাফটকে। ১২ ঘণ্টার বাছাই-প্রক্রিয়া শেষে ২০১১ বিশ্বকাপের টুর্নামেন্ট পরিচালক ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রত্নাকর শেঠি এই প্রতিবেদককে বলেছেন, ‘উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমন কিছু দেখানো উচিত যা দেখে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, কৃষ্টিসহ এ দেশের ভালো দিকগুলো মানুষ জানতে পারে। বর্তমান সরকার যে ডিজিটাল প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলছে, সেটারও একটা বড় প্রচার হতে পারে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।’ আগামী বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বাজেট প্রায় ৩০ লাখ ডলার। এর ১৫ লাখ ডলার দিচ্ছে আইসিসি, বাকি ১৫ লাখ ডলার বাংলাদেশ সরকার।
বিশ্বকাপ যত সামনে আসছে, আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ততাও বাড়ছে তত। কাল ঢাকায় হয়ে গেল কেন্দ্রীয় আয়োজক কমিটির ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির সভা, এর আগে পরশু ঢাকার একটি হোটেলে ৯০ মিনিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনার জন্য চূড়ান্ত হয়েছে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান। সংক্ষিপ্ত তালিকার ছয়টি প্রতিষ্ঠান থেকে শীর্ষ দুই বাছাই হিসেবে উইজক্রাফট আর শো টাইম টিকে থাকলেও পরে বেছে নেওয়া হয়েছে উইজক্রাফটকেই। শেঠি জানালেন, ‘শো টাইম ও উইজক্রাফট দুই কোম্পানিই খুব ভালো প্রেজেন্টেশন দিয়েছে। তাদের মধ্যে একটাই পার্থক্য, উইজক্রাফটের বড় আসর আয়োজনের অভিজ্ঞতা বেশি।’
উইজক্রাফট উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নির্মাণ করবে, তবে এর থিমটা দেবে বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটি এবং সেই থিমের মূল সুরে বাংলাদেশ। ‘যেহেতু তিন দেশ মিলে ইভেন্ট আয়োজন করছে, আমরা চাইব তিনটা দেশই যাতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উঠে আসে। তবে অগ্রাধিকার থাকবে বাংলাদেশের। বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। এটা একটা দেশের জন্য বিরাট সম্মান। নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য পুরো বিশ্বের সামনে তুলে ধরার দারুণ সুযোগ বাংলাদেশের সামনে’—বলেছেন শেঠি।
১৯৯৮ সালে মিনি বিশ্বকাপ আয়োজন করেই ক্রিকেটের বড় আসর আয়োজনের সামর্থ্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। এরপর একটু একটু করে সমৃদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন অনেক পরিণত বলে বিশ্বাস শেঠির, ‘গত ১২ বছরে ক্রিকেটে অনেক এগিয়েছে বাংলাদেশ। আমার বিশ্বাস, ভারত আর শ্রীলঙ্কার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়েই তারা বিশ্বকাপ আয়োজন করবে।’
এই বিশ্বাসটা হয়তো একটু টলে উঠত, যদি আজ ঢাকা ছাড়ার আগে রত্নাকর শেঠি একবার ঘুরে আসতেন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম। চূড়ান্ত ঢিমেতালে চলছে সংস্কারকাজ, যেটা কি না বিসিবিরই অনেক কর্মকর্তাকে শঙ্কিত করছে। তবে বিশ্বকাপের টুর্নামেন্ট ডিরেক্টরকে সব মিলিয়ে আশাবাদীই মনে হলো, ‘তিন দেশকেই আমরা মনিটর করছি। কাজের অগ্রগতি ভালো। বাংলাদেশের মতোই ভারতের মুম্বাই, তামিলনাড়ু, কলকাতায় স্টেডিয়াম সংস্কার চলছে। আশা করি, নভেম্বরের শেষ বা ডিসেম্বরের শুরুর দিকে সব স্টেডিয়ামের কাজ শেষ হয়ে যাবে।’
সংস্কারকাজের ব্যাপারে ‘উদার’ শেঠি আরও বলেছেন, ‘উইকেট আর আউটফিল্ডই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেদিক দিয়ে বেশির ভাগ স্টেডিয়াম এর মধ্যেই প্রস্তুত। আর অসম্পূর্ণ অবকাঠামো তো ভালো খেলা বা প্রস্তুতি ম্যাচের পথে বাধা হবে না। অবকাঠামোর কাজ শেষ দিনেও শেষ হতে পারে। তার পরও আমাদের একটা ডেডলাইন দেওয়া আছে। সেটা নভেম্বর পর্যন্ত।’
অবকাঠামো নিয়ে দুশ্চিন্তা না থাক, পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে পড়া নতুন দুশ্চিন্তার ভাঁজ অবশ্যই ফেলছে বিশ্বকাপের ললাটে। বিশ্বকাপে এ নিয়ে নিশ্চয়ই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করবে আইসিসি। শেঠিও আভাস দিলেন সে রকমই, ‘বিষয়টা স্পর্শকাতর। তদন্ত চলছে, দেখা যাক কী হয়। এ ব্যাপারে এখনই মন্তব্য না করা ভালো। তবে বিশ্বকাপ আইসিসির ইভেন্ট। আমি নিশ্চিত, বিশ্বকাপের সময় আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগ আরও বেশি তত্পর থাকবে।’
শেঠি ‘নো কমেন্ট’ বললেন আরও একটা প্রশ্নে—টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার সাত বছরেও বাংলাদেশ ভারতে কোনো পূর্ণাঙ্গ সফর করল না কেন? ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কাউকে সামনে পেলে এটা বাংলাদেশি সাংবাদিকদের ‘কমন’ প্রশ্ন এবং ভারতীয় কর্মকর্তাদেরও ‘কমন’ উত্তর ওই ‘নো কমেন্ট’। তবে হোটেলের লিফটে ওঠার আগে রসিকতার ছলে হলেও বিসিবি কর্মকর্তাদের সামনে আসল কথাটা বলে গেলেন বিসিসিআইর প্রধান নির্বাহী, ‘আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, বাংলাদেশ কেন এখনো ভারতে টেস্ট সফর করল না। আমি বলেছি, ভালো হয় প্রশ্নটা যদি আপনি বাংলাদেশ বোর্ড কর্মকর্তাদের জিজ্ঞেস করেন...।’

আবারও মেসির বাতিস্তা-সমর্থন

স্প্যানিশ লিগে দিন বারোর লম্বা বিরতি। লিওনেল মেসি তাই একটু আগেভাগেই ছুটি নিয়ে চলে গেছেন আর্জেন্টিনায়। বুয়েনস এইরেসে ৭ সেপ্টেম্বর প্রীতি ম্যাচ আছে স্পেনের বিপক্ষে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে যে ম্যাচের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করছে অন্তর্বর্তী কোচ সার্জিও বাতিস্তার চাকরি। যদিও বার্সেলোনা থেকে ফিরে দেশে পা রেখেই মেসি জানিয়ে দিলেন, বাতিস্তাই তাঁদের চোখে স্থায়ী কোচ।
‘কেউই চেচোকে (বাতিস্তার ডাকনাম) ভারপ্রাপ্ত কোচ হিসেবে দেখে না। আমাদের কাছে তিনিই কোচ, তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু করার চেষ্টা করব আমরা’—বলেছেন মেসি, বার্সেলোনার জার্সি গায়ে সর্বশেষ দুই ম্যাচে চার গোল করেছেন যিনি।
এর আগেও বাতিস্তার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় ম্যারাডোনার অনুসারীদের অনেকেই মেসির সমালোচনা করেছিল। তবে মেসি মনে হচ্ছে গত অলিম্পিক ফুটবলজয়ী কোচের পক্ষেই। সমালোচকেরা মেসির নেতৃত্বগুণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল। মেসি অবশ্য জানালেন, ‘মাচেরানোই এই দলের অধিনায়ক। দলের অধিনায়ক হতে আমারও ভালোই লাগে। কিন্তু মাচেই ঠিক আছে।’

যেভাবে আনতে হবে বিদেশি ফুটবলার

বিদেশি ফুটবলার কেনাবেচার ব্যাপারে নতুন নীতিমালা করেছে ফিফা। এখন থেকে সবকিছু করতে হবে অনলাইনে। ফিফার সেই নিয়মকানুন বাংলাদেশের ক্লাবগুলোকে জানাতে উদ্যোগ নিয়েছে বাফুফে।
পেশাদার লিগের দলগুলোর জন্য দুই দিনের এক কর্মশালা আয়োজন করা হলো তারই অংশ হিসেবে। বাফুফের উদ্যোগে কাল কর্মশালার প্রথম দিনে বাংলাদেশ লিগের ১২ দলের মধ্যে ঢাকার বাইরের তিনটি ছাড়া বাকি দলগুলোর প্রতিনিধি ছিল।
বাফুফের পেশাদার লিগের তরুণ ম্যানেজার আবু নাইম এ ব্যাপারে মালয়েশিয়ায় এএফসি পরিচালিত কোর্স করে এসেছেন। সহকর্মীদের নিয়ে কাল দিনব্যাপী সেমিনার পরিচালনা করলেন তিনি।
আগে বিদেশি খেলোয়াড়দের আইটিসি আসত ফ্যাক্সযোগে, ই-মেইল গ্রহণযোগ্য ছিল না। এর ফলে জালিয়াতির সুযোগ ছিল অনেক। ভুয়া আইটিসি দেখিয়ে বাংলাদেশে খেলে গেছেন অনেক বিদেশিই। শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা বিশ্বেই এই জালিয়াতিটা ছিল। প্রতিদিন তাই অনেক অভিযোগ জমা পড়ত ফিফার দপ্তরে। অবশেষে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে অনআইন পদ্ধতিতে গেল ফিফা, যা এখন থেকে বাংলাদেশের ফুটবলেও অনুসরণ করতে হবে। আগামী অক্টোবরের মধ্যেই এই প্রক্রিয়ায় বিদেশি ফুটবলার নিবন্ধন করতে বলেছে ফিফা।
নতুন নিয়মে ক্লাব খেলোয়াড় চেয়ে অনলাইনে এর চাহিদা দেবে। তারপর ফেডারেশন সেটা দেখবে। ফেডারেশন যোগাযোগ করবে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ের ফেডারেশনের সঙ্গে। সবই হবে অনলাইনে। ফোন, ফ্যাক্স কিছুই গ্রহণযোগ্য হবে না।
ফিফার অন্য একটা ওয়েবসাইটে প্রতিটি পেশাদার দলের জন্য আলাদা অ্যাকাউন্ট থাকবে। ক্লাবগুলো আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড করে নেবে। ফিফা এর ওপর নজর রাখবে, কেউ কোনো ভুল তথ্য দিলে শাস্তি পেতে হবে।
খেলোয়াড়ের সঙ্গে কী চুক্তি হচ্ছে, কত টাকার চুক্তি, খেলোয়াড়ের পাসপোর্ট নম্বর, খেলোয়াড়ের এজেন্ট আছে কি না, কত দিনের চুক্তি, ট্রান্সফার মানি দিতে হবে কি না, কোন ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন...। এগুলো নির্দিষ্ট ফরমে লিখতে হবে ক্লাবকে। তারপর দুই দেশের ফেডারেশনের মাধ্যমে অনআইনে আইটিসি আদান-প্রদান হবে। বর্তমানে এই আইটিসি আসে ফ্যাক্সে, অনেক জালিয়াতির সুযোগ থাকে এই প্রক্রিয়ায়।
বর্তমানে ঢাকার ক্লাবগুলো বিদেশি ফুটবলার দলভুক্ত করছে ভালোভাবে খোঁজখবর না নিয়েই। দু-একটি বাদে বেশির ভাগ ক্লাবকে অবশ্য কষ্ট করে বিদেশি আনতে হয় না। ঢাকায় জীবিকার সন্ধানে বহু বিদেশি (পড়ুন আফ্রিকান) আসে, তারপর ট্রায়ালে পছন্দ হলে নিয়ে নেওয়া হয়। এর আগে কোনো প্রক্রিয়াই সম্পন্ন করা হয় না। নতুন নিয়মে এটা বন্ধ হবে।
কাল সেমিনারে উপস্থিত ব্রাদার্সের ম্যানেজার আমের খান সেটাই বললেন, ‘বিদেশি ফুটবলারদের আইটিসি আসার ধরনটা বদলাচ্ছে। আগে স্বচ্ছতা ছিল না, সব তথ্য পাওয়াও যেত না। এখন অনলাইন পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা আসবে।’

নির্বাচন দেওয়ার কথা বললেন মন্ত্রী

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ক্রীড়াঙ্গনে নির্বাচন বন্ধ হয়ে গেছে। মেয়াদ শেষে এখন পর্যন্ত ১২-১৩টি ফেডারেশনে অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি করা হয়েছে। তাহলে কি নির্বাচন হবে না? আওয়ামী লীগ সরকারের আগের মেয়াদে ক্রীড়াঙ্গনে নির্বাচন শুরু হওয়ার পর এখন তা বন্ধ হয়ে গেল কেন?
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার এ ব্যাপারে কথা বললেন কাল। সম্মিলিত ক্রীড়া পরিবারের ইফতার অনুষ্ঠানে এসে মন্ত্রী বললেন, ‘আরও দু-একটি ফেডারেশনের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি করা বাকি। তারপর আমরা নির্বাচনে চলে যাব।’
মন্ত্রীর এ ঘোষণার বাস্তবায়ন চান ক্রীড়া সংগঠকেরা। একাধিক সংগঠক বললেন, নির্বাচনী-প্রক্রিয়ায় অনেক অস্বচ্ছতা থাকলেও নির্বাচন হওয়া উচিত। তবে সরকারের মনোভাব আসলে কী, সেটা অনেকেই বুঝতে পারছেন না।

বোলিং কোচ নিয়ে সংকটে বিসিবি

বোলিং কোচ খুঁজতে গিয়ে খালি ‘না’ই শুনছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দক্ষিণ আফ্রিকার ল্যান্স ক্লুজনার ‘না’ করে দেওয়ার পর বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচ হতে অসম্মতি জানিয়েছেন ইংল্যান্ডের অ্যান্ডি ক্যাডিক ও ভারতের ভেঙ্কটেশ প্রসাদও। বোলিং কোচ নিয়ে তাই এখন দারুণ সংকটে বিসিবি।
বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, ক্যাডিকের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত যোগাযোগ করা গেলেও নিজের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকা সাবেক এই ইংলিশ পেসার এ মুহূর্তে কোচের চাকরি নিতে চাইছেন না। আর ভারতে এসিসির চাকরি করছেন বলে প্রসাদকে পাওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। ক্লুজনার না করে দেওয়ার পর এই দুজনের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়েছিল বিসিবি।
সামনে বিশ্বকাপ, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাংলাদেশ দলের সঙ্গে একজন বোলিং কোচ যোগ করতে বিসিবিকে তাই নতুন করে সন্ধানে নামতে হচ্ছে।

আবার মাঠে জিদান

ফ্রান্স বিপদে পড়লেই ডাক পড়ে তাঁর। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বাদ পড়ার শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিল দল। উদ্ধার করতে অবসর ভেঙে ফিরে এলেন। দলকে চূড়ান্ত পর্বেই শুধু নয়, ২০০৬ বিশ্বকাপে শিরোপাই জিতিয়ে ফেলেছিলেন প্রায়। জিনেদিন জিদান আবারও ফিরলেন। পায়ে বুট, গায়ে ফ্রান্সের অনুশীলনের জার্সি। কাল ফ্রান্সের অনুশীলনে বল নিয়ে কারিকুরিও করতে দেখা গেল তাঁকে। না, এই ৩৮ বছর বয়সে আবারও আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরার ইচ্ছে নেই। জিদানের এই ফেরা ফ্রান্সের তরুণ দলটাকে উজ্জীবিত করতেই।
১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী দলের সতীর্থ লরাঁ ব্লাঁ দায়িত্ব নিয়েছেন নতুন ফ্রান্সের। গত বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর। নতুন এই যাত্রায় আগামীকাল ইউরো বাছাইপর্বে বেলারুশের বিপক্ষে মাঠে নামছে ফ্রান্স। এর আগে ব্লাঁর দলকে অনুপ্রেরণা জোগাতে বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক ফ্যাবিয়ান বার্থেজকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে হাজির ‘জিজু’। তরুণদের শোনালেন ফ্রান্সের সেই সোনালি দিনগুলোর গল্প।
‘জয়ের ধারায় ফেরাটা জরুরি। একটা দল আসলে গড়ে ওঠে জিততে জিততে। লোলো (ব্লাঁ) আমাকে অনুরোধ করেছিল, এখানে এসে যেন ওর নতুন দলের সঙ্গে এক দিন সময় কাটাই। এখানে এসে আমার অভিজ্ঞতার গল্প ওদের বলতে পেরে ভালো লাগছে’—বলেছেন তিনবারের বর্ষসেরা।
অনুশীলন মাঠের পাশে ভিড় জমানো সমর্থকেরা দেখামাত্রই ‘জিজু, জিজু’ স্লোগান তুলে জানিয়ে দিয়েছে, এখনো কতটা ভালোবাসে তাঁকে। কেউ কেউ বার্থেজের ন্যাড়া মাথায় চুমু এঁকে দেওয়ার অনুরোধও জানিয়েছে, যে কাজটা জাতীয় দলে থাকার সময় জিদান নিয়মিত করতেন। কমবেশি সবারই আবদার মিটিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি সময় দিয়েছেন উঠতি ফুটবলারদের। দেখা যাক, জিজু-স্পর্শে কতটা বদলে যায় এই ফ্রান্স।

আজ অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন তামিম

অনেক দিন বয়ে বেড়ানো হাতের সমস্যাটার চূড়ান্ত সমাধান করতে আজ রাতেই অস্ট্রেলিয়ার বিমানে উঠছেন তামিম ইকবাল। সিডনির বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের সঙ্গে তামিমের দেখা করার কথা আগামী ৭ সেপ্টেম্বর, মেলবোর্নে চিকিত্সক দেখাবেন ৯ সেপ্টেম্বর। কাল তামিম বললেন, ‘মূলত চেকআপ করাতেই যাচ্ছি। তবে ডাক্তার যদি সব দেখে বলেন অস্ত্রোপচার করালে পুরোপুরি ভালো হয়ে যাব, তাহলে একেবারে অস্ত্রোপচার করিয়েই ফিরব।’ অস্ত্রোপচার করালে যদি নিউজিল্যান্ড সিরিজ মিসও হয়, তবুও সেটা করাবেন বলে জানিয়েছেন তামিম, ‘আগে তো সুস্থ হওয়া, তারপর খেলা। সুস্থ হওয়ার জন্য না হয় একটা সিরিজ না-ই খেললাম।’