Friday, April 25, 2014
কিছুই দিই না, শুধু নিই by আনিসুল হক
আমি ওই বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকাতে পারি না।
এই বাচ্চাদের শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে।
একজন বাবা চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বলেন, ‘আপনারা কত টাকা দিচ্ছেন এটা ব্যাপার নয়, আপনারা যে বলছেন, এই বাচ্চা যত দিন পড়াশোনা করবে, তত দিন আপনারা আমাদের পাশে থাকবেন, এই কথাটা কোটি টাকার চেয়ে বেশি।’
আমার বুকে ব্যথা করে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শ্রমিকের অধিকার ও নিশ্চুপ শ্রম আইন by আদনান সৈয়দ
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘অতিমাত্রায় পলিটিক্যাল’ সিনড্রোম by আবদুল মান্নান
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রানা প্লাজা ধসের এক বছর পূর্তিতে বিজিএমইএর স্মরণসভা- এমন মৃত্যু আর নয়
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিচ্ছিন্ন গাজার অবরুদ্ধ জীবন
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রানা প্লাজাধসের এক বছর- ‘পা তো দ্যাশে পাঠাইয়া দিছি’ by মানসুরা হোসাইন
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মার্কেসের জনপ্রিয় চারটি বইয়ের কথা by রুহুল মাহফুজ জয়
১. ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অফ সলিটিউড (১৯৬৭) :
১৯৬৭ সালে প্রকাশিত এ উপন্যাসটিই বিশ্বখ্যাতি এনে দেয় মার্কেসকে। দুনিয়ার সব প্রধান ভাষাতেই অনুদিত হয়েছে উপন্যাসটি। সাহিত্য বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মার্কেজের নির্জনতার একশ বছর বিংশ শতাব্দীর সর্বাধিক পঠিত সাহিত্যকর্ম। সাহিত্যবোদ্ধা থেকে সাধারণ পাঠকের বহুল প্রশংসিত উপন্যাসটি বদলে দেয় ল্যাটিন আমেরিকার কথাসাহিত্যের ধারা। সাহিত্যে প্রতিষ্ঠিত হয় জাদুবাস্তবতা।
বুয়েন্দিয়া পরিবারের মাধ্যমে মাকোন্দো নামের এক পৌরাণিক শহরের উত্থান ও পতনের গল্প বলে এ উপন্যাস। যা হয়ে উঠেছে মানবজাতির বাঁচা-মরা আর হর্ষ-বিষাদের মিশেলে রচিত এক অনন্য উপাখ্যান। মাকোন্দো মার্কেজের সৃষ্ট কল্পিত শহর, কিন্তু এ উপন্যাসের জন্য ল্যাটিন সাহিত্যের তীর্থস্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এ শহরকেই! বনেদি, হাস্যরসে ভরপুর ও সুন্দর একটি পরিবারের চটকদার গল্পে, একের চোখে মানবতার সকল দিক দেখা, যা শুধু মাকোন্দোর ইতিহাস, পুরাণ, ক্রমবিকাশ আর অবক্ষয় নয়, কেউ চাইলে তা মিলিয়ে নিতে পারেন পুরো ল্যাটিন আমেরিকার সঙ্গে। মাকোন্দো মার্কেজের জাদুবাস্তবতার শহর হলেও, তা যেনো ল্যাটিন সমাজের পরতে পরতে বিদ্যমান।
প্রেম-লালসা, যুদ্ধ-বিপ্লব, ধনী-দরিদ্র, যৌবন ও বার্ধক্য, জীবনের বৈচিত্র্য আর অন্ত্যহীন মুত্যু, শান্তি আর সত্যের খোঁজ নির্জনতার একশ বছর উপন্যাসে সার্বজনীন এ থিমের প্রবল বিস্তার ঘটেছে। মার্কেস তার নিজের সরল, খাঁটি আর বিশুদ্ধ ঢঙে বর্ণনা করেছেন পুঁজিবাদের লিপ্সা, সরকারের দুর্নীতি আর আবেগময় প্রণয়। সশ্রদ্ধ ও হাস্যরসাত্মক উপায়ে রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত আর আধ্যাত্মিক বিষয়গুলো জালের মতো বুনেছে নির্জনতার একশ বছর উপন্যাসটি। যার মাধ্যমে গল্প বলার নতুন এক ঘরানা সৃষ্টি করেছেন গ্যাবো।
২. লাভ ইন দ্য টাইম অফ কলেরা (১৯৮৫) :
গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের সবচেয়ে সহজবোধ্য উপন্যাস হিসেবে পরিচিত। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস উপন্যাসটিকে বর্ণিত করেছে এভাবে, সুপরিসরে লেখা সমৃদ্ধ এক উপন্যাস, যার অন্তর্নিহিত আখ্যান শক্তি দূরদর্শিতা দিয়ে উপলব্ধি করতে হবে। লাভ ইন দ্য টাইম অফ কলেরা উপন্যাসটির নামেই ইঙ্গিত আছে, এটি প্রথাগত কোনো প্রেমকাহিনী নয়। উপন্যাসে দুজন প্রেমিককে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন গাবো। ফ্লোরেন্তিনো অ্যারিযা আর ফেরমিনা দ্যাযা, দুজন জীবনের সোনালি সময়ে একে অপরের প্রেমে মজেছিলেন। কিন্তু ঘটনাক্রমে ঐশ্বর্যশালী পরিবারের সন্তান এক চিকিৎসককে বিয়ে করে ফেরমিনা, বিচ্ছিন্ন হন তারা।
এ বিচ্ছেদে ফ্লোরেন্তিনো শারীরিক-মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হলেও তার প্রেমিক হৃদয় মরে না। এর মধ্যেই ফ্লোরেন্তিনো নিজের ব্যবসা দাড় করায়, কয়েক বছরে ৬২২ জন রমণীর সঙ্গে মিলিত হয় সে। কিন্তু ফেরমিনার জন্য তার হৃদয় কাঁদে। হঠাৎই ফেরমিনার স্বামীর মৃত্যু হয়। উদ্দেশ্যমূলকভাবেই সাবেক প্রেমিকার স্বামীর শেষকৃত্যানুষ্ঠানে হাজির হয় ফ্লোরেন্তিনো। পঞ্চাশ বছর নয় মাস চার দিন পর ফেরমিনাকে আবারো ভালোবাসার প্রস্তাব দেয়। মানুষের অঝর আবেগের বিষয় নিয়ে শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখকের এক কালজয়ী উপাখ্যানের নাম লাভ ইন দ্য টাইম অফ কলেরা।
৩. দ্য জেনারেল ইন হিজ লেবরিন্থ (১৯৮৯) :
উনিশ শতকের ল্যাটিন আমেরিকার অন্যতম মুক্তিকামী নেতা সাইমন বলিভারের জীবনের শেষ কটা মাসের কল্পিত আখ্যান। স্প্যানিশ স্বৈরশাসন থেকে ল্যাটিন আমেরিকার অর্ধেক অঞ্চল মুক্ত করলেও, রাজতান্ত্রিক উচ্চাশা তাকে জনসাধারণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। স্বদেশ ভেনিজুয়েলা থেকে নির্বাসিত অবস্থায় একটি দ্বীপে ১৮৩০ সালে মারা যান বলিভার। আধুনিককালে যিনি অনেকের হ্যাজিওগ্রাফির বিষয়, গার্সিয়া মার্কেজের কাছে সেই বলিভার একজন মানব চরিত্র: দুর্দান্ত মেধা আর উচ্চাভিলাষী মানুষ, আশঙ্কাজনকভাবে ইতিহাসে যিনি আবার জেনারেল হিসেবে চিহ্নিত।
যে মানুষটি পুরো ল্যাটিন আমেরিকাকে এক সুতায় বাঁধতে চেয়েছিলেন সাইমন বলিভারকে নিয়ে গাবো রচিত দ্য জেনারেল ইন হিজ লিবরিন্থ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৯ সালে। বলিভার, দুনিয়ার পশ্চিম গোলার্ধের অধিকাংশ মানুষের কাছে যিনি সুপার হিরো, দক্ষিণ আমেরিকার ছয়টি দেশকে যিনি পরাধীনতার শৃংখল থেকে মুক্ত করেছিলেন, মার্কেজের কলমে চমৎকারভাবে উঠে এসেছে তার ভুলগুলো। ম্যাগদালেনা নদীর সমুদ্রের দিকে যাত্রার মতো বলিভারের শেষযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে আমেরিকা জাতিকে একত্র করার স্বপ্নও যেনো বিলীন হয়ে যায়। জোরপূর্বক ক্ষমতাচ্যুত, গুপ্তঘাতকের টার্গেট, জীবনক্ষয়ী অসুখে অকাল বার্ধক্যে ক্ষয়িত হওয়ার পরও জেনারেল একজন অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ ও তেজস্বী মানুষ। অতীতে যুদ্ধক্ষেত্র আর প্রেমের জয়ই যেন তাকে নেতৃত্বের সাহস আর বাঁচতে দিয়েছে। ক্ষমতার ব্যর্থতা আর এক সময়ের অপরাজেয় স্মৃতি শেষ বয়সে বলিভারকে এক গোলকধাঁধায় ফেলে। সেই গোলকধাঁধার মধ্যেই বলিভারের মৃত্যু। এ মানুষটির শেষ জীবনের ট্র্যাজেডি নিপুণভাবে উঠে এসেছে গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের দ্য জেনারেল ইন হিজ লেবরিন্থ উপন্যাসে।
৪. মেমোরিজ অফ মাই মেলানকোলি হোরস (২০০৪) :
বাংলায় তর্জমা করলে উপন্যাসটির নাম হয় আমার বিষন্ণ বেশ্যাদের স্মৃতি। সবগুলো রচনার মতো মার্কেজের প্রকাশিত সবশেষ উপন্যাসের নামকরণেও একটা আলাদা স্বর আছে। যে নিজস্বতা লেখক মায়েস্ত্রোর বড় শক্তি। সদ্যযৌবনা কুমারী এক মেয়ের সঙ্গে উন্মত্ত ভালোবাসার রাত কাটিয়ে আমি নিজেকে আমার নব্বইতম জন্মদিনের উপহার দিতে চেয়েছিলাম। এভাবেই মেমোরিজ অফ মাই মেলানকোলি হোরস শুরু; যা কিছুটা হলেও উপন্যাসটির ভেতরটা কিছুটা খুলে দেয়।
আকারে ক্ষুদ্র এ উপন্যাসের গল্প সাজানো হয়েছে একজন বেনামি, কখনোই বিয়ে বা প্রেমের সম্পর্কে না জড়ানো নব্বই বছর বয়সী একজন কলম্বিয়ান সাংবাদিক ও শিক্ষককে নিয়ে। যিনি এক ধর্মযাজকের পরিত্যক্ত বাড়িতে বাস করেন। তাকে সহায়তা করার জন্য শহরের সবচেয়ে নামজাদা পতিতালয়ের মাসি রোযা কাবারকাসকে ডাকেন। রোযা জানায়, বয়সের কারণে তার ইচ্ছাপূরণ সম্ভব নয়। তবে কিছুদিন পরেই জানানো হয়, তার জন্য দারুণ এক মেয়ে খুঁজে পেয়েছে সে।
উপন্যাসের একপর্যায়ে নায়ক উচ্চারণ করেছেন, আমি কখনও গাঁটের পয়সা খরচ করে নারীর সঙ্গে বিছানায় যাইনি। কিন্তু পঞ্চাশ বছর বয়স পর্যন্ত ৫১৪ জন নারীর সঙ্গে অন্তত একবার হলেও মিলিত হয়েছি। আমার সামাজিক জীবন বলতে কিছু ছিল না। অন্যদিকে বাবা-মা দুজনকেই হারানো ছাপোষা সাংবাদিক, ক্যারিকেচারে মজে থাকা ভবিষ্যৎহীন কুৎসিত যুবক হওয়ায় ভালোবাসার প্রতি ভয় ছিল আমার। সেই মানুষটিই জীবনের শেষ সময়ে এসে প্রেমে পড়েন ১৪ বছর বয়সী এক বালিকার। রোযার সৌজন্যে খুঁজে পাওয়া সে বালিকার সঙ্গে মিলিত হতে গিয়ে অন্যরকম এক প্রেম মজে যান তিনি। উপন্যাসের প্লট অপ্রচলিত আর প্রথাবিরোধী হলেও, মার্কেজের লেখার ধারে অনন্য এক বিষণ্নতা আর জীবনবোধের পরিচয় পান পাঠক।
এছাড়া নিউজ অফ অ্যা কিডন্যাপিং, অফ লাভ অ্যান্ড আদার ডেমনস, নো ওয়ান রাইটস টু দ্য কর্নেল : অ্যান্ড আদার স্টোরিজ, স্ট্রেঞ্জ পিলগ্রিমস, গল্প সংগ্রহ মার্কেজের অন্যান্য আলোচিত বই। আর গাবোর সমগ্র জীবনকে জানতে পড়ে ফেলুন তার আত্মজীবনী গ্রন্থ গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস : অ্যা লাইফ।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রিয় গাবো, কল্পরাজ্যের অধিশ্বরকে বিদায়ী কুর্নিশ by প্রিয় গাবো,
রাষ্ট্রনায়ক থেকে শুরু করে দেশে দেশে যেসব গল্পযশোপ্রার্থী ছড়িয়ে আছেন, তাদের সবার কাছেই আপনি ছিলেন সমাদৃত। কুবার কিংবদন্তী কমিউনিস্ট নেতা ফিডেল ক্যাস্ত্রোর সঙ্গে আপনার বন্ধুতাতো সবসময় সংবাদমাধ্যমগুলোর মুখরোচক কাহিনি হয়ে উঠেছে। আপনার মৃত্যুর পর সংবাদপত্রে শোকবাণীর যে স্তূপ জমেছে তার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামারও একটা শোকবাণী আছে : পৃথিবী আজ বিশ্বের একজন স্বাপ্নিক দূরদর্শী লেখককে হারালো। বিল ক্লিনটন যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তখন অনেকবার আপনি হোয়াইট হাউজে তার আতিথ্য গ্রহণ করেছেন। আপনার দীর্ঘদিনের বন্ধু এই রাষ্ট্রনায়ক শোকবার্তা পাঠিয়ে বলেছেন, আমি সবসময় তাঁর অনন্য কল্পনাশক্তি, পরিচ্ছন্ন ভাবনা আর আবেগিক সততার দ্বারা আচ্ছন্ন ছিলাম। অধিকাংশ প্রাজ্ঞ সমালোচকের ধারণা, জনপ্রিয়তা শিল্পের শত্র“। কিন্তু আপনি সেই লেখক যিনি একদিকে যেমন ছিলেন জনপ্রিয়, তেমনি শিল্পের শুদ্ধতম বরপুত্র।
কিন্তু খুব সহজ ছিল কী আপনার এই উত্থান? গাবোর বর্ণময় জীবনেতিহাস সেকথা বলে না। এই সেদিনও আপনার জন্মবর্ষ নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা। নোবেল পুরস্কার পাওয়ার চৌদ্দ বছর পর জানা গেল আপনার সঠিক জন্ম তারিখ : ১৯২৮ সাল নয়, ১৯২৭ সালের ৬ মার্চে জন্মেছিলেন আপনি। নোবেল পুরস্কার পারিষদও ব্যাপারটা খেয়াল করেনি। প্রখ্যাত মার্কিন সাময়িকী নিউ ইয়র্কার-এ ২০০১ সালে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে আপনিই জানিয়ে দিয়েছেন সঠিক তারিখটি। ভিভির পারা কন্তারলা শীর্ষক আত্মজীবনীতে আপনি লিখেছেন, দিনটি ছিল রবিবার, বর্ষণমুখর ছুটির দিন। বারো ভাইবোনের প্রথম ভাইটির সেদিন জন্ম হয়।
মনে পড়ছে ১৯৩০ সালের প্রথম দিককার আরও একটা দিনের কথা। উত্তর কলোম্বিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় সমুদ্র উপকূল দিয়ে ছুটে চলেছে একটা ট্রেন। ওই ট্রেনের জানালা দিয়ে বাইরের সারি সারি কলাবাগানের দিকে তাকিয়ে আছে এক তরুণী। আগের রাতে স্টিমারে চেপে, মশার কামড় খেয়ে, সিয়েনাগা জলাভূমি পেরিয়ে তবেই উঠতে পেরেছিলেন এই ট্রেনে। গন্তব্য আরাকাতাকা। কয়েক বছর আগে এই আরাকাতাকাতেই তিনি তার সদ্য-ভূমিষ্ঠ প্রথম সন্তানকে বাবা ও মায়ের কাছে রেখে স্বামী গাবরিয়েল এলিহিও গার্সিয়ার সঙ্গে পাড়ি দিয়েছিলেন র্বারানকুইলায়। সন্তানটি ছিল ছেলে সন্তান, সবাই তাকে আদর করে ডাকতো গাবিতো বা গাবো। এখন আমরা জানি, এই গাবোই হচ্ছেন আপনি, বিশ্বখ্যাত কথাসাহিত্যিক গাবরিয়েল গার্সিয়া মার্কেস। সেদিন ওই তরুণী, অর্থাৎ আপনার মা লুইসা সান্তিয়াগা মার্কেস ইগুয়ারাঁ দে গার্সিয়া আপনার নানার মৃত্যু হলে আপনাকে নিজের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু জন্মের কিছুদিন পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া মাকে সেদিন খুবই অচেনা মনে হয়েছিল আপনার। ঘরে ঢুকেই দেখলেন অনিন্দ্যসুন্দর এক রমণী দাঁড়িয়ে আছেন, মাথায় খড়ের হ্যাট, গায়ে ঢিলেঢালা পোশাক। তখন কতই-বা বয়স হবে আপনার, আট পেরিয়ে নয়ে পা দিয়েছেন মাত্র। এর আগে নানা কর্নেল নিকোলাস মার্কেস মেহিয়া আর নানী ত্রানকুইলিনা ইগুয়ারাঁ এবং নানীর বোনদের সঙ্গে চমৎকার দিন কাটছিল আপনার। নানা ছিলেন, আপনার ভাষ্য অনুসারে, চমৎকার গল্পকথক। নানীর কাছেও শুনেছেন আজগুবি সব গল্প। নানার চরিত্রটাও ছিল দারুণ চিত্তাকর্ষক। বিশশতকের প্রথম দিকে হাজার দিনের যে গৃহযুদ্ধ হয়েছিল সেই যুদ্ধে বীরের মতো যুদ্ধ করে ছোট্ট ওই শহরে কিংবদন্তী হয়ে উঠেছিলেন তিনি।
আপনার মা ছিলেন এই আরাকাতাকার অভিজাত এই কর্নেল পরিবারের দীর্ঘাঙ্গি, প্রাণচঞ্চল, সুন্দরী মেয়ে। অথচ আক্ষরিক অর্থে আপনার বাবার কোনো চালচুলো নেই। আপনার দাদী, অর্থাৎ আর্হেমিরা গারসিয়া পাতেরনিনার সন্তান তিনি। কুমারী অবস্থায় মাত্র চৌদ্দবছর বয়সে সাতাশ বছরের স্কুলশিক্ষক গাবরিয়েল মার্তিনেস গাররিদোর সঙ্গে সম্পর্কের সূত্রে আপনার বাবার জন্ম। অর্থের অভাবে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে টেলিগ্রাফ অফিসে চাকরি নিয়ে এসেছিলেন আরাকাতাকায়। চমৎকার বেহালা বাজাতে পারতেন, গানের গলাটাও ছিল দারুণ, কবিতাও আবৃত্তি করতেন চমৎকার। অল্প দিনের মধ্যে দীর্ঘকায়, বুদ্ধিদীপ্ত, সুদর্শন এই যুবক রমণীমোহন হিসেবে খ্যাতি অর্জন করলেও আপনার মা ওর প্রেমেই হাবুডুবু খেতে থাকেন। অনেক চেষ্টা করে সেই সম্পর্কে চিড় ধরাতে না পেরে আপনার নানা ও নানী বিয়েটা মেনে নেন, কিন্তু বিয়ের অনুষ্ঠানে তারা উপস্থিত হননি। জেরাল্ড মার্টিন আপনার যে জীবনীটি লিখেছেন, তাতে এই প্রেমের চমৎকার বিবরণ আছে।
এতকিছুর পরও এই নানার বাড়িতেই জন্মেছিলেন আপনি। কিন্তু আপনার জন্মের কিছুদিন পর বাবা-মা দুজনেই বাররানকুইলায় চলে গেলে নানার বাড়িই হয়ে ওঠে আপনার ছেলেবেলার জমজমাট সাম্রাজ্য। নানার কাছে শোনা যুদ্ধের গল্প আর নানীর কাছে শোনা ভূত-প্রেত দৈত্য-দানোর কল্পকাহিনি আপনার মনে যে মায়াজাল বিস্তার করেছিল, পরে সেসবই নানা ভঙ্গি আর শৈলীতে উপস্থিত হয়েছে আপনার সৃষ্টিশীল রচনায়। নিজেই এপ্রসঙ্গে আমাদের জানিয়েছেন, “নির্বিকার মুখে, নানী আমাকে সারাক্ষণ আশ্চর্য ও আজগুবি সব গল্প শোনাতেন, অথচ মাথার চুল খাড়া হতো না, মনে হতো যা বর্ণনা করছেন তা যেন তিনি এইমাত্র দেখতে পেয়েছেন। আমি বুঝতে পেরেছিলাম তাঁর ওই অবিচল নির্বিকার ভঙ্গি আর তার চিত্রকল্পগুলোর ঐশ্বর্যই তাঁর গল্পগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতো। আমি একশো বছরের নিঃসঙ্গতা লিখেছিলাম আমার নানীর (গল্প বলার) কৌশল ব্যবহার করেই।”
ছেলেবেলায় এইভাবে গল্প শুনে-শুনেই কী আপনার মধ্যে লেখক হয়ে উঠবার বাসনা জেগেছিল? কোনো লেখায় বা সাক্ষাৎকারে সরাসরি এ সম্পর্কে কিছু বলেননি আপনি। কিন্তু আপনি যে লেখক হওয়ার সংকল্প নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনায় ইতি টেনেছিলেন, আÍজীবনীতে এর স্পষ্ট উল্লেখ আছে : “আজ, পঁচাত্তর বছর পেরিয়ে আসার পর মনে হচ্ছে, জীবনে যত ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পেশা হিসেবে লেখক হয়ে ওঠার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাটাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটাই ছিল. বলা যায়, আমার সমগ্র জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বাঁক পরিবর্তন।” বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোতে হিস্পানি স্বর্ণযুগের কবিতা নিয়ে আপনি মশগুল ছিলেন। আইন পড়া ছেড়ে দিয়ে গোগ্রাসে পড়তে শুরু করলেন সফোক্লিস, হেমিংওয়ে, জয়েস, উলফ, ফকনার, কাফকার লেখা। ফকনারের ইয়োকনাপাটাফার আদলেই পরে আপনার মাথায় এসেছিল মাকোন্দো নামের কল্পজনপদের কথা। সফোক্লিস পড়ে বুঝতে পেরেছিলেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রতাপ কীভাবে ব্যক্তিমানুষের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে ফকনারের কাছ থেকে পেয়েছিলেন বাস্তবতার প্রথম পাঠ। এইসময়ে, ১৯৪৭ সালে, প্রকাশিত হলো আপনার প্রথম ছোটগল্প লা তেরেসের রেজিগনেশন (তৃতীয় ত্যাগ)। ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত আপনার প্রথম উপন্যাস লা ওয়ারাস্কাতেও (পাতার ঝড়) আছে মাকোন্দোর উপস্থিতি। পরে এই মাকোন্দোই হয়ে উঠেছে আপনার উপন্যাসের প্রভাবশালী চরিত্র।
এইসময়েই বোহেমিয়ান জীবনটা দারুণ উপভোগ করছিলেন আপনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্ব চুকিয়ে দিয়ে বিশ্বকোষ বিক্রির চাকরি কিংবা বলা যায় জীবনাভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের জন্য কোনো জায়গাতেই থিতু হননি, এখানে সেখানে ঘুরে বেরিয়েছেন। এরকম অস্থির মুক্ত অবস্থাতেই প্রেমিকা মের্সেদেস বারখা পারদোর সঙ্গে সেরে ফেলেন আনুষ্ঠানিক বাগদান। বোগোতায় ফিরে যোগ দিলেন এল এসপেক্তাদোর পত্রিকায়। সবকিছু ছাপিয়ে সাংবাদিকতাকেই আপনার মনে হয়েছিল লেখালেখি চালিয়ে যাওয়ার উপযুক্ত পেশা। তবে সাদামাঠা অর্থে আমাদের মনে রিপোর্টারদের যে ছবি ভেসে ওঠে সেরকম সাংবাদিক ছিলেন না আপনি। সংবাদের পেছনে লুকিয়ে থাকা যে ঘটনা সংবাদের জন্ম দেয়, ব্যক্তিক বিপন্নতা বা রাষ্ট্রীয় সংকট তৈরি হয়, সেই ধরনের সংবাদের প্রতি আগ্রহ ছিল আপনার। ফলে সংবাদ নয়, সংবাদভাষ্যের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন আপনি। আমার অ্যাডভেঞ্চারের অন্তর্নিহিত সত্য শিরোনামে প্রকাশিত এরকম একটা সংবাদ প্রকাশের জন্য এল এসপেক্তাদোর পত্রিকাটি বন্ধ করে দেওয়া হয় আর আপনাকে দেশ ছেড়ে পাড়ি জমাতে হয় ইউরোপে।
আপনার ইউরোপের দিনগুলো ছিল অর্থনৈতিক দৈন্য, পেশাগত অনিশ্চয়তা আর রোমাঞ্চকর ঘটনায় পূর্ণ। কিন্তু যতই অনিশ্চয়তা থাকুক, অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ে এতটুকু পিছপা হননি আপনি। কিন্তু বিস্ময়কর হচ্ছে, ইউরোপ কোনদিনই আপনাকে সেইভাবে টানেনি, তাহলে কেন এতটা ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপ ঘুরে বেরিয়েছিলেন আপনি? আসলে কে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন জানিনা, আপনি যে পুঁজিবাদী-গণতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক-রাজতান্ত্রিক এবং সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোকে খুব কাছে থেকে দেখে আন্তঃমহাদেশীয় রাজনীতির অন্তর্নিহিত পরিস্থিতিকে প্রত্যক্ষভাবে বুঝতে চাইছিলেন, চল্লিশ বছর বাদে নিজেই সেকথা জানিয়েছেন আমাদের : “উনিশশো ছাপ্পান্নর গোড়ায় ইউরোপে আমার চাকরি চলে যায়। চেষ্টা করলে অন্য কোনো পত্রপত্রিকার একটা কাজ হয়তো খুঁজে নেওয়া যেত। কিন্তু নিজের ভেতরকার আবেগকে মর্যাদা দিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করার কাজে ব্যস্ত ছিলাম।”
আপনার লেখক সত্তাকে বুঝতে হলে এই রাজনীতিকে বাদ দিয়ে কখনও বোঝা যাবে না। সমগ্র লাতিন আমেরিকা জুড়ে যে স্বৈরশাসন বছরের পর বছর কোটি কোটি সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছে, হত্যা করা হয়েছে লাখ লাখ মানুষকে, আপনি ছিলেন তার বিরুদ্ধে প্রচণ্ড সোচ্চার। ইউরোপে থাকতেই আরেকটি কাজ আপনি করেছিলেন। চলচ্চিত্রের প্রতি আপনার প্যাশন সুবিদিত। এরই টানে রোমের বিখ্যাত সেন্ত্রো স্পেরিমেন্তালে দে সিনেমায় চলচ্চিত্র সম্বন্ধে
প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ নিলেন। ভিক্তেরিও ডি সিকা, সিজার জাভাত্তিনি, ফ্রেদেরিকো ফেলিনি, অর্থাৎ ইতালীয় নব্যবাস্তববাদী বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সাহচর্যে এসে আপনি বুঝতে পেরেছিলেন চলচ্চিত্র হচ্ছে সেই মাধ্যম যা দুনিয়াকে বদলে দিতে পারে। চলচ্চিত্রের প্রতি এই অনুরাগের পাশাপাশি চলছিল ধারাবাহিকভাবে সাংবাদিক প্রতিবেদন লেখালেখি আর প্রকাশের কাজ।
একবার লন্ডনে ছসপ্তাহ আটকে যাওয়ায় হোটেলে বসেই লিখে ফেললেন বেশ কয়েকটি অসাধারণ ছোটগল্প। দুম করে কলোম্বিয়ায় ফিরে মের্সেদেসকে বিয়ে করে ফেললেন। মের্সেদেসের বহুদিনের অপেক্ষার অবসান হলো। কিন্তু আবার তাকে মায়ের কাছে রেখে ছুটলেন ভেনিজুয়েলায়। সেখান থেকে কলোম্বিয়ায় ফিরে কিউবা সরকারের মুখপাত্র হিসেবে বোগোতায় স্থাপন করলেন প্রেনসা লাতিনা। পরে ফিদেল ক্যাস্ত্রোর দ্বারা অনুরুদ্ধ হয়ে এরই একটা শাখা খোলার জন্য সপরিবারে ছুটলেন নিউ ইয়র্ক। কিছুদিন পর সেই দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে ইতিমধ্যে জন্ম নেয়া বড় ছেলে রোদরিগো আর স্ত্রীকে নিয়ে চলে গেলেন মেহিকোতে।
মেহিকোতে দারিদ্র্য ছিল আপনার নিত্যসঙ্গী। বেঁচে থাকবার জন্যে তাই শুরু করেছিলেন সিনেমার সাবটাইটেল আর চিত্রনাট্য লেখা। সময়টা ১৯৬২ সাল, এই সময়েই মেহিকোতে বসেই লিখলেন কর্নেলকে কেউ চিঠি লেখে না শীর্ষক অসাধারণ বড় গল্প বা নোভেলা। প্রকাশিত হলো প্রথম গল্পসংকলন বিগ মামাস ফ্যুন্যারেল। অনন্য বর্ণনারীতি আর লাতিন সমাজজীবনের দ্বারা সমৃদ্ধ এর গল্পগুলো বিশ্বের গল্পপাঠকদের দিল নতুনত্বের স্বাদ। ওই বছরই জন্ম নিল আপনার দ্বিতীয় পুত্র গোনসালো। চলচ্চিত্রের জন্য পর পর লিখলেন দুটি চিত্রনাট্য : তিয়েম্পো দে মোরিরে (সহচিত্রনাট্যকার কার্লোস ফুয়েন্তেস) এবং হোগো পেরিগোজো।
চলচ্চিত্র, গল্প, নোভেলা, নানা মাধ্যমে আপনার প্রতিভা বিকশিত হলেও প্রকাশিত বইগুলো তেমন বিক্রি হচ্ছিল না। দারিদ্র্য আর হতাশা তাই আপনার জীবনে এসে ভর করলো। বেঁচে থাকার জন্য কাজ নিতে হলো বিজ্ঞাপনী সংস্থায় আর জড়িয়ে পড়লেন পত্রিকা সম্পাদনার সঙ্গে। এর পর এলো সেই অভূতপূর্ব সময়। অবকাশ কাটাবার জন্যে গাড়ি চালিয়ে মেহিকো থেকে আকাপুলকোর দিকে চলেছেন আপনি। হঠাৎ আপনার মানসপটে ভেসে উঠলো কল্পিত সেই মাকান্দো জনপদের ছবি, বিগত কুড়ি বছর ধরে যা নিয়ে ভাবছিলেন আপনি। এ প্রসঙ্গে পরে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে লিখেছেন : “অকস্মাৎ জানিনা কীভাবে যেন উপন্যাসটার সম্পূর্ণ খসড়াটা চোখের সামনে ভেসে উঠলো। আমার চিন্তাস্রোতটা এতটাই স্বচ্ছ, স্পষ্ট আর সম্পৃক্ত লাগছিল যেন আমি একের পর এক এর প্রতিটি শব্দ কোনো এক টাইপিস্টকে গড় গড় করে বলে যেতে পারছি।” সংসার আর বাচ্চাদের সব দায়-দায়িত্ব মের্সেদেসের হাতে তুলে দিয়ে অজ্ঞাতবাসে চলে গেলেন আপনি। জগৎ সংসার থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে একটানা আঠারো মাস ধরে লিখে ফেললেন আপনার স্বপ্নের উপন্যাস : শতবর্ষের নিঃসঙ্গতা। সামান্য উদরপূর্তি আর ছয় প্যাকেট সিগারেটই ছিল তখন আপনার সঙ্গী। এদিকে ধারদেনায় জেরবার মের্সেদেস। গাড়িতো বটেই, বিক্রি করতে হলো আসবাবপত্র, বাসনকোসন। প্রতিবেশীরা বুঝতে পারলো, গাবো কোনো গুরুত্বপূর্ণ লেখায় ব্যস্ত। কিছুদিন বাদে উপন্যাসটির প্রথম তিনটি অধ্যায়ের খসড়া পাঠিয়ে দিলেন বন্ধু কার্লোস ফুয়েন্তেসকে। ফুয়েন্তেসতো পড়েই রীতিমতো বিমুগ্ধ। সংবাদমাধ্যমে বলেই ফেললেন, এইমাত্র আমি আসন্ন চিরায়ত সাহিত্যের প্রথম আশি পৃষ্ঠা পড়ে শেষ করলাম।
অবশেষে আঠারো মাসের অজ্ঞাতবাস ছেড়ে বেরিয়ে এলেন আপনি। হাতে তেরোশো পৃষ্ঠার পাণ্ডুলিপি। কী কঠোর অধ্যবসায় আর পরিশ্রমই-না আপনাকে করতে হয়েছিল এই বইটি লিখবার জন্য! স্ত্রী এবং বন্ধুদের শোনাবার একপর্যায়ে শেষপৃষ্ঠায় পৌঁছে পেয়ে গেলেন উপন্যাসের নাম - সিয়েন আনিয়োস দে সোলেদাদ। প্রকাশকের কাছে পাঠাবার ডাকমাশুলও তখন আপনার নেই। বৌয়ের চুল শুকোবার যন্ত্র আর বৈদ্যুতিক স্টোভ বিক্রি করে জোগাড় করতে হলো সেই টাকা। ১৯৬৭ সালের জুন মাসে আর্হেন্তিনার বুয়েনোস আইরেসের সুদামেরিকানা প্রকাশনা সংস্থা থেকে বেরুলো সিয়েন আনিয়োস দে সোলেদাদ। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সারা লাতিন আমেরিকা জুড়ে হৈচৈ পড়ে গেল। প্রথম সপ্তাহে বিক্রি হলো আট হাজার কপি, এর পর প্রতিমাসে কয়েকটি মুদ্রণ। তিন বছরে বিক্রি হলো পাঁচ লাখ বই। ১৯৭০ সালে গ্রেগরি রাবাসার অনুবাদে বেরুলো এর ইংরেজি অনুবাদ : ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সলিচ্যুড। গত পঁয়তাল্লিশ বছরে পৃথিবীর এমন কোনো ভাষা নেই যে ভাষায় উপন্যাসটি অনূদিত হয়নি। ইংরেজি অনুবাদসহ এ পর্যন্ত এই বইয়ের বিক্রির সংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি। এই উপন্যাসটির রাষ্ট্রীয় ও সাহিত্য পুরস্কার যেমন জুটেছে, তেমনি আপনাকে যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক ডিলিট উপাধিতে ভূষিত করেছে। মারিও ভার্গাস ইয়োসা আপনার জীবনের প্রথম তেতাল্লিশ বছরকে নিয়ে লিখে ফেললেন একটি বই। এরপর সাড়া পৃথিবী জুড়ে এই উপন্যাসটিকে সর্বকালের সেরা উপন্যাস বা মাস্টারপিস হিসেবে স্বীকৃতি পেতে তেমন দেরি হয়নি। অর্থ, খ্যাতি আর পুরস্কারের মধ্যে যখন আপনি ডুবে যাচ্ছেন, তখনই স্বৈরাচারের চেহারা চাক্ষুস প্রত্যক্ষ করবার জন্য চলে গেলেন ফ্রাঙ্কোর স্পেনে। কী সাহস আপনার!
বিশ্বসাহিত্যের পাঠকমাত্রই আমরা জানি, লাতিন আমেরিকার কথাসাহিত্যের প্রধান অংশ জুড়ে আছে স্বৈরাচারের বিচিত্র প্রসঙ্গ। এই স্বৈরাচারের চমৎকার ছবি পাওয়া যায় আপনার কুলপতির হেমন্তকাল উপন্যাসে। একসময়ের দোর্দণ্ড প্রতাপের স্বৈরাচারী শাসক কীভাবে একাকীত্বের মধ্যে নিঃশেষ হয়ে যেতে পাওে, এতে আছে সেরকমি একটা গল্প। ব্যক্তিমানুষের এই সংকট, বিশেষ করে নারীর হাতে নারীর বা পুরুষের দ্বারা নারীলাঞ্ছনার দুঃসহ কাহিনি হচ্ছে আপনার বেচারি এরেন্দিরা আর তারহিৃদয়হীন দাদীমার অবিশ্বাস্য করুণ কাহিনি। দেশপ্রেম ও স্বপ্নভঙ্গের কাহিনি হিসেবে আপনার গোলকধাঁধায় সেনাপতি উপন্যাসটিও অসাধারণ।
ভাবতে অবাক লাগে, আপনি শুধু কলোম্বিয়া নয়, হয়ে উঠেছেন সমগ্র লাতিন আমেরিকার কণ্ঠস্বর। সমগ্র মহাদেশের মানুষ সেই ঔপনিবেশিক কাল থেকে যে অবিশ্বাস্য নিপীড়িন, নির্যাতন, হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণের দ্বারা মানবেতর জীবনযাপন করে আসছে, সেই নির্মম বাস্তবতারই করুণ ছবি কথাসাহিত্যে তুলে ধরেছেন। নোবেল পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্তেও এসব কথা ভুলে যাননি আপনি। সেই সঙ্গে আপনার গুরু ফকনারের মতোই উচ্চারণ করেছিলেন মানুষের অজেয় সম্ভাবনা ও মুক্তির কথা : “এই ভয়াল বাস্তবতার সামনে - সমস্ত মানুষী কালে যাকে মনে হয়েছিল নিছক কোনো কল্পলোক বলেই, আমরা যারা কথা বানাই, কাহন গড়ি, আমরা তবু কিন্তু বিশ্বাস করি সবকিছু, বিশ্বাস করবার দাবি ও অনুভূতি রাখি যে এখনও এক বিকল্প/বিরুদ্ধ কল্পরাজ্য গড়বার কাজে আত্মনিয়োগ করার সময় আছে - এখনও সময় চলে যায়নি।” একশো বছরের রাজনৈতিক নিঃসঙ্গতার দণ্ড পেয়ে যে মহাদেশের মানুষ ভেঙে পড়েছে, সেই মানুষকেই আবার উঠে দাঁড়াবার আহ্বান জানালেন আপনি।
কিন্তু প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয়, এ কী শুধু একমহাদেশের কথা? নাকি আপনি নির্যাতিত বিশ্বমানবতার কথা ধনিত হলো আপনার কণ্ঠে? জানি, আজ আর এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর পাওয়া যাবে না, যা কিছু উত্তর তা উৎকীর্ণ হয়ে আছে আপনার লেখা রচনাবলিতে, বিশেষ করে কথাসাহিত্যে। সেই মর্মবাণীটি হলো - মানুষ অজেয়, মানবের কোনো অবসান নেই। এই হচ্ছে আপনার অসাধারণত্ব, এই হচ্ছে সর্বকালের সেরা কথাসাহিত্যিক গাবরিয়েল গার্সিয়া মার্কেস, যার দেহ নশ্বর, কিন্তু ভাবনা মানবিক জয়গাথা হিসেবে অবিনশ্বর হয়ে থাকবে।
গাবো, আপনাকে কুর্নিশ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মহানক্ষত্রের মহাপ্রয়াণ by আলী আহমদ
গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের এই চলে যাওয়া সাধারণ কোনো লেখকের চলে যাওয়া নয়, এমনকি প্রচলিত অর্থে অসাধারণ কোনো লেখকেরও চলে যাওয়া নয়; এ হচ্ছে সাহিত্যের এক যুগ-প্রবর্তকের মহাপ্রয়াণ, একথা অন্তরের গভীরে অনুধাবন করবেন বিশ্ব সাহিত্যের যে-কোনো মননশীল পাঠক। গার্সিয়া মার্কেস সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন ১৯৮২ সনে, পঞ্চান্ন বছর বয়সে। সাহিত্যের এ পুরস্কার কোনো লেখক বা কবির সার্বিক সাহিত্যকর্মের জন্য দেয়া হলেও, সংশ্লিষ্ট লেখক বা কবির দু-একটি বই তার শ্রেষ্ঠ রচনা বলে পাঠক-সমালোচক মহলে পরিচিতি লাভ করে। গার্সিয়া মার্কেসের ওই শ্রেণীর একাধিক বই থাকলেও, ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত তার জাদুবাস্তবতাধর্মী উপন্যাস সিয়েন আনিওস দে সোলেদাদ বা শতবর্ষের নির্জনতা এমনই একটি পরিচিতি বা খ্যাতি লাভ করেছে। বইটি এমনিতে খুব যে সহজবোধ্য তা বলা যাবে না; তবুও পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত হয়ে এখনও পর্যন্ত বইখানির তিন কোটিরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। পুরো পৃথিবীতে শুধু বাইবেলই এর চেয়ে কিছুটা বেশি বিক্রি হয়েছে বলা হয়ে থাকে। যে-কোনো সাহিত্যস ষ্টার জন্য এ সম্মান শুধু বিরল নয়, অনন্য। কিন্তু গার্সিয়া মার্কেসের খ্যাতি শুধু একারণেই নয়; কিংবা, বলা চলে, মোটেই এ কারণে নয়।
সাহিত্যে নোবেল প্রাপ্তিকে মোটেই খাটো করে না-দেখেও বলা চলে যে ১৯০১ সালে এ পুরস্কার প্রবর্তণের পর থেকে মহাযুদ্ধের দুএক বছর বাদ দিয়ে এখন পর্যন্ত এ পুরস্কার একশ দশজনের বেশি লেখক-কবিকে দেয়া হয়েছে। ওইসব লেখক-কবিদের অধিকাংশ তাদের নিজ নিজ দেশ এবং/কিংবা ভাষিক অঞ্চলে অবশ্যই পঠিত ও সম্মানিত হন বলে ধরে নেয়া যায়; কিন্তু বৈশ্বিক সাহিত্যমহলে তাদের কতজন ব্যাপক জনগোষ্ঠীর সমীহ ও ভালোবাসা পান এবং তাদের সাহিত্যকর্ম পঠিত হয় কিংবা তাদের ব্যাপক চর্চা হয় তা প্রায় যে-কেউ অনুমান করতে পারেন। অথচ নোবেল পুরস্কার শুরুর পর ওই পুরস্কার পাননি এমন অনেকেই কিন্তু এ পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়ে বিশ্বসাহিত্য সভায় আপন গৌরবে দীপ্ত হয়ে আছেন। লিও তলস্তয়, আন্তন চেখভ, হোর্হে লুইস বোর্হেস... এদের মধ্যে মাত্র কয়েকজন। কারও নামোল্লেখ করে নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত কাউকে আমরা ছোট করার চেষ্টা করে না বলেই নাম-না-করে বলছি যেসব পৃথিবী তো দূরের কথা, নোবেল পাওয়া অনেক লেখক তাদের নিজ দেশে, নিজ ভাষায় শুধুই একটি রেকর্ড হয়ে আছেন; পাঠকের মনে নেই, এমনকি কাছেও হয়তো নেই। সুতরাং নোবেল পুরস্কার গার্সিয়া মার্কেসকে এমন খ্যাতিমান করে তোলেনি।
যে-কোনো মানোত্তীর্ণ শিল্পী নিঃসন্দেহে অসাধারণ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার দাবি রাখেন, এবং যে-কোনো শিল্পমাধ্যমের কথা আলোচনায় আনলে, এমনকি ইতিহাসের নিরিখে আলোচনা করলে, একগাদা না-হলেও বেশ কয়েকজনের নাম প্রায় এক নিঃশ্বাসে উঠে আসে। একথা চিত্রশিল্পের বেলায় যেমন, সাহিত্যের বেলায়ও তেমনভাবেই প্রযোজ্য। কিন্তু যুগে যুগে কিছু কিছু শিল্পস ষ্টার আবির্ভাব ঘটে যারা অন্যতম নন, একেবারেই অনন্য। তারা নতুন যুগের সূচনা করেন, তারাই যুগপ্রবর্তক। চিত্রশিল্পে একনামে যেমন বলা যায় পাবলো পিকাসোর কথা, সাহিত্যে তেমন একইভাবে উল্লেখ করা যায় গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের নাম। চিত্রশিল্পে পিকাসো যেমন, কথাসাহিত্যে গার্সিয়া মার্কেস তেমন... সম্পূর্ণ নতুন একটি দুনিয়া খুলে দিয়েছেন আমাদের চোখের সামনে। এদের প্রত্যেকেরই শিষ্য-ভাবশিষ্য এবং মেধাবী অনুসারি তৈরি হয়েছে জগৎব্যাপী, এবং ভবিষ্যতে আরও হবে ধরে নেয়া যায়।
গত শতকের পঞ্চাশের দশকে গার্সিয়া মার্কেস যখন সাংবাদিকতার সঙ্গে সঙ্গে কিছু কিছু গল্প লেখা শুরু করেন সেগুলো পড়ে স্পেনীয় সাহিত্যের পাঠকেরা বেশ খানিকটা চমকে উঠেছিলেন অনুমান করা যায়। কারণ তখনকার লাতিন আমেরিকার তো নয়ই, স্পেনেরও নয়, এমনকি সুপরিচিত ইংরেজি-ফরাসি-জর্মানি কিংবা অন্য কোনো সাহিত্যে অমন ধরনের গল্প কেউ কখনও পড়েছে কিংবা দেখেছে বলে মনে করতে পারেনি। কেমন এক অস্পষ্ট, ধোঁয়াশা-ধোঁয়াশা অনচ্ছ এক আবরণের এপার থেকে দেখা যেন কোনো ঘটনা; যেনবা পুরু অথচ স্বচ্ছ এক কাচের এপার থেকে ওপারে দেখা ঘটমান কোনো বিষয়; এ বিষয়ে প্রেম আছে, যুদ্ধ আছে, ঔপনিবেশিকীকরণ আছে, আছে তার অমানবিক শোষণ, আর আছে ইউরোপ থেকে পূর্বপুরুষের বয়ে-আনা ইতিহাস, কল্পকথা, রাগ-বিরাগ আর তার সঙ্গে মিশেল-দেয়া স্থানীয় লোককাহিনী। মোদ্দাকথায়, এই হচ্ছে গার্সিয়া মার্কেসের জাদুবাস্তবতাধর্মী বর্ণনারীতি। সাহিত্যের অনুধাবকেরা স্বীকার করবেন আশা করি যে, সাহিত্য স্বভাবতই কিছুটা নেশাধর্মী; তার সঙ্গে গার্সিয়া মার্কেসের এ জাদুবাস্তবতার মিশেল যেনবা উঁচু জাতের একাধিক পানীয়ের এক ককটেল। সারা পৃথিবী তাকে লুফে নিল। তিনি হয়ে উঠলেন একেবারে অনন্যসাধারণ এক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এত গেল তার আখ্যান বর্ণনারীতি। তার সাহিত্যের বহিরাঙ্গন। তার সাহিত্যের শাঁস, বর্ণনার বিষয়বস্তু, তো পরিচিত হয়েও একেবারে যেন আনকোরা; নতুন বইয়ের পৃষ্ঠা শুঁকতে নাম-না-জানা কেমন একটা ভালোলাগা যেমন মনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, তেমনি মাদকতা মাখানো তীব্র ঝাঁঝালো এক স্বাদ তার লেখার মধ্য থেকে উঠে এসে কখন যেন নিজের অজান্তে পাঠককে একেবারে আচ্ছন্ন করে ফেলে। সারা পৃথিবীর অনেক বড় বড় লেখকদের অনেক বই পড়েছি তাদের অনেককে একান্ত আপনার করে ভালোবাসি। তবুও বলব গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস সবার থেকে আলাদা, অনন্যসাধারণ।
মাকে তিনি ভালো করে চিনেছিলেন বেশ খানিকটা বড় হওয়ার পর। পুরো বাল্যকাল আর কৈশোরেরও বেশ বড় একটি অংশ কেটেছে তার দাদির কাছে। সেই দাদি, অনুমান করা চলে, তুখোড় এবং আকর্ষণীয় এক গল্প-বলিয়ে ছিলেন। কারণ গার্সিয়া মার্কেস পরবর্তীকালে বলেছেন যে, ওই দাদির কাছে তিনি যে-সব গল্প আর কল্পকাহিনী শুনেছিলেন ছোটবেলায় তা-ই লিখেছেন তিনি তার গল্প-উপন্যাসে।
বিষয়টি যতটা সোজা-সাপটা করে বুঝানোর চেষ্টা তিনি করেছেন ততটা সহজে কিন্তু আমরা নিতে পারি না। গল্প-বলিয়ে দাদি-নানী কোনোটা পাওয়ার সৌভাগ্য আমার অবশ্য হয়নি; কিন্তু যাদের হয়েছে বলে জানি তাদের একেকজন কেউ একেকটা গার্সিয়া মার্কেস হয়ে বসে নেই। আসলে গার্সিয়া মার্কেসের মনোজগতে সম্পূর্ণ নতুন গল্প-ভুবন তৈরির এক অফুরন্ত বারুদের স্তূপ জমা হয়েছিল তার দাদির গল্প শোনানো তাতে একটি দেশলাইয়ের কাঠি মাত্র ছুঁইয়ে দিয়েছিল, তার বেশি কিছু নয়।
পুরো পৃথিবীর ধ্র“পদী সাহিত্যস ষ্টাদের কথা বাদ দিলে, আধুনিককালের লেখকদের মধ্যে গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসই সম্ভবত বাংলাদেশ তথা সব বাংলাভাষী অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি পঠিত, পরিচিত ও আলোচিত। বিশ্বের খ্যাতনামা লেখকদের নিয়ে আলোচনা উঠলে প্রায় ক্ষেত্রেই আমাদের অনেকটা মাফ চাওয়ার ভঙ্গিতে বলতে হয় যে, তিনি আমাদের পাঠককুলের কাছে প্রায়-অপরিচিত। এ মহান লেখকের সম্পর্কে, সৌভাগ্যক্রমে, তেমন জোড়হাত হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। পশ্চিম বাংলায় তার অনুবাদ আমাদের চেয়ে কিছুটা আগে শুরু হলেও, বাংলাদেশও তেমন একটা পিছিয়ে নেই। প্রসঙ্গত বলে রাখি যে, আমাদের (সম্ভবত পশ্চিম বঙ্গেরও) প্রকাশকরা যদি অনুবাদকদের সঙ্গে আর্থিক ও অন্যান্য বিষয়ে সৎ হতেন, তাহলে গার্সিয়া মার্কেসসহ বিশ্বসাহিত্যের অন্যান্য বড় বড় লেখকরা সক্ষম অনুবাদকদের হাত ধরে বাঙালি পাঠকদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠতেন, এবং বাংলা সাহিত্যও সহজবোধ্য কারণে সমৃদ্ধতর হতো। প্রকাশকদের সবাই হয়তো অসৎ নন; কিন্তু তা হয়তো ব্যতিক্রমই, বাস্তব অবস্থানের নির্ণায়ক নয়। পশিমবঙ্গের মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায় গার্সিয়া মার্কেসের একাধিক বই বাংলায় অনুবাদ করেছেন; সেখানে আরও কেউ কেউ হয়তো তার অন্য কোনো কিছু অনুবাদ করে থাকতে পারেন। আমি দুঃখিত তাদের সম্পর্কে আমার জানা নেই। আমাদের এখানে শতবর্ষের নির্জনতা অনুবাদ করেছেন জি, এইহ, হাবীব, প্রেম ও কলেরা অনুবাদ করেছেন কবীর চৌধুরী, মৃত্যুর কড়ানাড়া করেছেন বেলাল চৌধুরী, গোলকধাঁধায় সেনাপতি করেছেন মোরশেদুর রহমান, একটি অপহরণ সংবাদ করেছেন সুরেশরঞ্জন বসাক, গোত্রপিতার হেমন্ত করেহেন অদিতি ফাল্গুনী, আমার দুঃখভারাক্রান্ত বেশ্যাদের কাহিনী এবং বর্তমান লেখক করেছেন বারো অভিযাত্রীর কাহিনী ও প্রেম ও অন্যান্য দানব। সুতরাং নিদ্বির্ধায় বলা চলে যে মহান এ লেখকের প্রধান প্রধান বই সবগুলোই বাংলায় অনুদিত হয়ে আমাদের এখানে প্রকাশিত হয়েছে। এটি সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য অবশ্যই একটি ভালো খবর। উপর্যুক্ত প্রায় সবাই প্রথম শ্রেণীর; অনুবাদগুলোও আশা করি তাই ভালো হয়েছে। বাংলায় যারা গার্সিয়া মার্কেসের অসাধারণ সাহিত্যের স্বাদ পেতে চান তাদের জন্য এতই অবশ্যই একটি সুখবর।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শ্রমিকের অধিকার ও নিশ্চুপ শ্রম আইন
![]() |
| বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে গভীর ও মৌলিক পরিবর্তনের জন্য রানা প্লাজা দুর্ঘটনা একটি অত্যন্ত জোরালো ডাক |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কিছুই দিই না, শুধু নিই
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বৃষ্টিপ্রার্থনায় ইসতিসকার নামাজ
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
April
(397)
-
▼
Apr 25
(12)
- কিছুই দিই না, শুধু নিই by আনিসুল হক
- শ্রমিকের অধিকার ও নিশ্চুপ শ্রম আইন by আদনান সৈয়দ
- ‘অতিমাত্রায় পলিটিক্যাল’ সিনড্রোম by আবদুল মান্নান
- রানা প্লাজা ধসের এক বছর পূর্তিতে বিজিএমইএর স্মরণসভ...
- বিচ্ছিন্ন গাজার অবরুদ্ধ জীবন
- রানা প্লাজাধসের এক বছর- ‘পা তো দ্যাশে পাঠাইয়া দিছি...
- মার্কেসের জনপ্রিয় চারটি বইয়ের কথা by রুহুল মাহফুজ জয়
- প্রিয় গাবো, কল্পরাজ্যের অধিশ্বরকে বিদায়ী কুর্নিশ b...
- মহানক্ষত্রের মহাপ্রয়াণ by আলী আহমদ
- শ্রমিকের অধিকার ও নিশ্চুপ শ্রম আইন
- কিছুই দিই না, শুধু নিই
- বৃষ্টিপ্রার্থনায় ইসতিসকার নামাজ
-
▼
Apr 25
(12)
-
▼
April
(397)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

