Tuesday, July 30, 2013

প্রয়োজন একটি সামাজিক উল্লম্ফন by ড. শেখ জিনাত আলী

প্রাচ্যের সমাজব্যবস্থায় বাঙালি সমাজ সেই কোন কালে গড়ে উঠেছে, তার হিসাব-নিকাশ কেউ করছে কি-না তা আমার জানা নেই। তবে এটা জানি, হাজার বছরে গড়ে ওঠা এ গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ অঞ্চলে বংশপরম্পরায় যে কৌলিক উপাদান বাঙালির জীবন কাঠামোতে প্রবহমান, তা-ই বাঙালিত্বের শারীরিক-মানসিক সৌষ্ঠব এনে দিয়েছে। এ সমাজ ইতিমধ্যে তিনটি যুগ অতিক্রম করে এসে চতুর্থ যুগে পদার্পণ করেছে। সত্য, ত্রেতা ও দ্বাপর যুগ শেষ হয়েছে অনেক আগে, যাকে আমরা আদিম সাম্য, ভূমিদাসত্ব ও পুঁজিতন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করতে পারি। আর কলি যুগ আধুনিক সমাজবাদী বা সমাজতন্ত্রের তুল্য হতে পারে। বাংলাদেশে শতাধিক বছর কিংবা তার অল্পকাল পর কলির যুগ শুরু হয়েছে, যদিও চতুর্দশ শতাব্দীতে কলকারখানার উপাদান থেকে ইউরোপে পূর্বোক্ত যুগের অবসান হয়। প্রতিটি যুগ কিছু নিয়ামক দ্বারা সূচিত হয়েছে। আবার নিয়ামকগুলোর পরিসমাপ্তিতে মানুষ পরবর্তী যুগে প্রবেশের মধ্য দিয়ে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। মানুষ অগ্রসর হচ্ছে কিছু ক্ষেত্রে, আবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কিছু ক্ষেত্রে। গভীর বিশ্লেষণ থেকে দেখা যাচ্ছে, অদম্য মানুষ কোনো সমাজে বা দেশে অগ্রসর হতে চায় এবং কোথাও হচ্ছে। তবে অল্পসংখ্যক তাতে বাধা সৃষ্টি করছে। অগ্রসর হতে হলে অল্প সংখ্যকের এ বাধা অতিক্রম করতেই হয়। নইলে মানুষ আর মানুষ থাকে না।
কলির যুগে আমরা ভারত উপমহাদেশের মানুষরা ব্রিটিশ বেনিয়াদের শাসন কবলে আটকা থেকেছি। ব্রিটিশ উপনিবেশে পলাশীর লব্ধ নিয়মনীতিতে আমরা শাসিত হয়েছি। ব্রিটিশরা তাদের ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ অটুট রাখার জন্য যা দরকার তার সবই করেছে। এই যা যা করার মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ ইচ্ছানুযায়ী ভারতীয়দের মধ্য থেকে একটি শাসক শ্রেণী সৃষ্টি করা হয় এবং ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষাবিস্তার হতে থাকে। কিছু দেশপ্রেমিক শিক্ষিত লোকজনও এর মাধ্যমে তৈরি হয়। রাজনৈতিক দলও প্রতিষ্ঠিত হয় এসব শিক্ষিতজনের মধ্য থেকে এবং ভারতের সব জাতির জাতিসত্তার মধ্যেই তা কমবেশি বিস্তার লাভ করে। শুরু হয় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম। এতে নেতৃত্ব আসে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (১৮৮৫ থেকে), কমিউনিস্ট পার্টি (১৯২১ থেকে) ও কিছু আঞ্চলিক চরমপন্থী দল থেকে। মানুষকে ভালোবাসার, মানুষের জন্য কিছু মঙ্গলকর কর্ম সম্পাদনের এভাবেই শুরু হয়। অনুপ্রেরণা আসে ফরাসি বিপ্লব, বলশেভিক বিপ্লব এবং বিভিন্ন কৃষক বিদ্রোহ-শ্রমিক আন্দোলন থেকে। আমরা মে দিবসের কথা জানি। ইউরোপ, এশিয়ার বিশেষত ভারতীয় উপমহাদেশের কৃষক-প্রজাদের আন্দোলন এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায়। উল্লেখ্য, সাম্প্রদায়িক দল মুসলিম লীগ ১৯০৬ সালে ঢাকায় গঠিত হলেও ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামে তার অবদান নেই বললেই চলে। বরং বলা চলে, তারা ব্রিটিশের ‘ভাগ কর, শাসন কর’ নীতির একনিষ্ঠ সমর্থক ছিল। ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর পৃথিবীতে উপনিবেশবাদ বিরোধী নবজাগরণ সৃষ্টি হলেও ভারতবর্ষ সাম্প্রদায়িক বিভাজনের শিকার হয় এবং ১৯৪৭-এর ১৪ আগস্ট গভীর রাতে পাকিস্তান নামের একটি কৃত্রিম রাষ্ট্র মুসলমানদের উপহার দেয় ব্রিটিশ শাসকরা। প্রখ্যাত গণসঙ্গীত শিল্পী প্রয়াত লতিফ ভাইয়ের কথায় একে ‘জল্লাদের কাছে সোপর্দ’ বলা যায়। এটা হল সাম্প্রদায়িক দ্বিজাতিতত্ত্বের রাষ্ট্র। এ রকম রাষ্ট্র পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই। বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি এ রাষ্ট্রে ছিল একটি ভৌতিক কাণ্ড এবং ১৯৪৭-এর পর রাষ্ট্রটিতে অনুসৃত নীতিই ছিল বাঙালি জাতিসত্তার ওপর প্রথম আঘাত এবং এর উদ্দেশ্য ছিল বাংলা অঞ্চলের বাঙালিকে জাতি হিসেবে বিকশিত হতে না দেয়া। তাই জাতিগত নিপীড়ন ও পূর্ববাংলার সম্পদ (পাট, চা, চামড়া ও মানুষ) লুট করে পশ্চিম পাকিস্তানের শিল্পায়ন ছিল চোখে পড়ার মতো ঘটনা।
এভাবে নানা বৈষম্যের শিকার পূর্ব বাংলার মানুষকে পশ্চিমা শাসকদের বিরুদ্ধে প্রথম দাঁড়াতে হয়েছিল ১৯৫২-তে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে যেসব রাজনৈতিক দল সক্রিয় ছিল, তার মধ্যে কমিউনিস্ট পার্টি, মুসলিম লীগের মোহভঙ্গ অংশ আওয়ামী মুসলিম লীগ ও ছাত্র-যুব গোষ্ঠী উল্লেখযোগ্য। এভাবে পাকিস্তানের রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে যারা নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করে, তারাই পরবর্তীকালে ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা, ১৯৬৬-এর আওয়ামী লীগের ৬ দফা ও ১৯৬৯-এর ছাত্র সংগ্রামের ১১ দফা প্রণয়ন করে জনগণকে সংগঠিত করার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা নেয় এবং জেল-জুলুম, হত্যা, নির্যাতন ভোগ করে। এর ফলে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং ১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরংকুশ বিজয় আসে। কমরেড মণি সিংহকে কমপক্ষে ৪০ বছর আÍগোপনে থেকে এবং জেল থেকে সংগ্রাম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবদান রাখতে হয়। অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ন্যাপ গঠন করে প্রগতির পথে হাঁটতে থাকেন এবং শেখ মুজিবুর রহমান আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় অন্যদের সঙ্গে বন্দি হন। ১৯৬৮-তে সেনাবাহিনীতে কমিশনড র‌্যাংকে চাকরির জন্য ঢাকা সেনানিবাসে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করি তা হল, আমাকে জিজ্ঞেস করা হয় আমি ৬ দফা সমর্থন করি কি-না। আমার উত্তর ছিল হ্যাঁ সূচক। সে সময় আমরা যারা ওই সাক্ষাৎকার দিতে যাই, তাদের কারও চাকরি হয়নি। নতুন প্রজšে§র কাছে আমি কিছু কথা এখানে লিপিবদ্ধ করে যাচ্ছি, যাতে তারা পাকিস্তানি ২৩ বছরের ইতিহাস বোঝার চেষ্টা করে। কারণ এটা না বুঝলে বর্তমান দেশের সংকট-সমস্যা সম্পর্কে তারা অন্ধের হাতি দেখার মতো অবস্থায় থেকে যাবে। থেকে যাচ্ছে।
যে শিরোনামে লেখাটি শুরু করেছি, দেশের বর্তমান অবস্থা সঠিকভাবে বোঝার জন্য ওই প্রেক্ষাপট সবার কাছে খুবই গুরুত্ববহ হবে, আমি যা আগেই উল্লেখ করেছি। আজকের এই বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠা করতে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে লাখো প্রাণের বিনিময়ে এক নদী রক্ত ঝরাতে হয় বাঙালিকে। পশ্চিমা শাসকদের সীমাহীন শোষণের পরিসমাপ্তি ঘটাতে লাখো প্রাণের রক্তের ঋণ শোধ হতে পারে শুধু শোষণহীন সোনার বাংলা (বঙ্গবন্ধুর ভাষায়) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। আর তা করতে হলে আমরা যে রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতিতে যুদ্ধ করেছি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও মাওবাদী চীনের পাকিস্তান প্রীতি উপেক্ষা করে, তার বাস্তবায়ন ছাড়া এখানে সেখানে কিছু চুনকাম করে কিছুই করা যাবে না। আমাদের ১৯৭২-এর সংবিধান সে জন্য সর্বাগ্রে পুনঃপ্রতিষ্ঠা জরুরি। এটা করতে যত কালক্ষেপণ হবে, তত দেশে বিশৃংখলা বাড়বে।
আজকের প্রজš§ ভীষণভাবে হতাশ দেশের বর্তমান সৃষ্ট সংকট-সমস্যায়। সময় এসেছে ২০০৮-এর নির্বাচনে মহাজোট সরকারের অগ্রাধিকারগুলোর দিকে যথাসম্ভব দৃষ্টি দেয়ার, যেমন (ক) ১৯৭২-এর সংবিধানের পূর্ণাঙ্গ পুনরুজ্জীবন, (খ) যুদ্বাপরাধীদের বিচারের যে রায় ইতিমধ্যে হয়েছে, তা দ্রুত কার্যকর করা, (গ) নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করা, (ঘ) বিদ্যুৎ, গ্যাস, সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা, (ঙ) দুর্নীতি নির্মূলসহ আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতি সাধন ও বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া এবং (চ) গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকার তথা সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাজের পরিধি আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সংসদ সদস্যদের কর্মক্ষেত্র আলাদা করে সমন্বয় সাধন করা এবং সংসদ সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে øাতক ডিগ্রি করা।
এ কাজগুলো করতে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দক্ষ কর্মশক্তি ও ব্যক্তি সৃষ্টি করার বিকল্প নেই এবং এরূপ লোকজনকে রাজনীতিতে আকৃষ্ট করতে হবে, যাতে দেশে একটি আর্থ-সামাজিক উল্লম্ফন ঘটানো যায়। দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে পারলে সমাজে ও প্রশাসনে ঘুষ-দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব। কৃষি-শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে গ্রাম সমবায় ও শ্রমিকের অংশীদারিত্বমূলক শিল্পায়ন গড়ে তুলতে হবে। এতে মানুষের কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি হবে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির করাল গ্রাস থেকে মুক্ত হতে হলে মানুষের সাংস্কৃতিক মানের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাইরে দেশে কোনো রাজনৈতিক দল থাকবে না, থাকতে দেয়া যায় না। কথাটি মনে রাখার জন্য গণমাধ্যমের আলোচনায় অংশ নেয়া বক্তাদের বিনীত অনুরোধ করছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাহক জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা ছাড়া সামাজিক উল্লম্ফন ঘটানো যাবে না এবং সরকারের ঘোষিত কর্মসূচি দিন বদলের সনদ বাস্তবায়ন হবে না।
ড. শেখ জিনাত আলী : অধ্যাপক

জনগণের মর্যাদা ও প্রাসঙ্গিক কথা by মোশাররফ হোসেন মুসা

লেখাটির শুরুতে একটি ঘটনা উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক হবে। ঘটনাটি একটি প্রত্যন্ত গ্রামের। ওই গ্রামের একটি প্রভাবশালী পরিবারের দুই সন্তান হলেন একজন এমপি ও আরেকজন পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। তারা প্রতি বছর তাদের পিতার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বেশ ঘটা করে দোয়া-খয়রাতের আয়োজন করেন। সেই অনুষ্ঠানে খোলা আকাশের নিচে চাটাই বিছিয়ে প্রায় ১০ হাজার গ্রামবাসীর খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা থাকে। ওই দোয়া-খয়রাতে প্রথম প্রথম গ্রামের লোকজনই অংশগ্রহণ করত। এক সময় শহরের লোকজনও অংশগ্রহণ করা শুরু করে। একবার এমপি তার ছোট ভাইয়ের পরামর্শে দুই রকম প্যান্ডেলের আয়োজন করেন। একটি প্যান্ডেলে চেয়ার-টেবিল পেতে শহরের লোকজন ও সরকারি চাকরিজীবীদের এবং অন্যটিতে চাটাই বিছিয়ে গ্রামের সাধারণ লোকদের খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। একই অনুষ্ঠানে দুই রকম ব্যবস্থা দেখে গ্রামের লোকজন সমালোচনা শুরু করে। তাদের মতে, চাটাইতে বসতে দিয়ে তাদের অমর্যাদা করা হয়েছে। আমলা ভাইটি গ্রামবাসীকে গালাগাল শুরু করলে এমপি সেদিকে না গিয়ে গ্রামবাসীর পক্ষ নেন। তার বক্তব্য, জনগণকে নিয়েই তাকে চলতে হবে, সে জন্য জনগণের অমর্যাদা হয় এমন নিয়ম তিনি রাখবেন না। পরবর্তী বছর থেকে সবার জন্যই চেয়ার-টেবিলের ব্যবস্থা করা হয়। এদেশের জনগণের মর্যাদার প্রতি নজর না থাকার পেছনে রয়েছে দীর্ঘকাল পরাধীন থাকার ইতিহাস। বিদেশী শাসকরা তাদের অর্থনৈতিক শোষণের স্বার্থে স্থানীয়দের ধর্ম, বর্ণ, জাত-পাত ও উঁচু-নীচু শ্রেণীতে বিভক্ত করে রাখত। দেশ স্বাধীন হলেও উপযুক্ত শাসন ব্যবস্থার অভাবে এখনও তাদের কাক্সিক্ষত অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি আসেনি। ফলে অনেক সময় তারা অর্থনৈতিক বৈষম্যের চেয়ে সাংস্কৃতিক বৈষম্যতে ক্ষুব্ধ হয় বেশি। একই কারণে কখনও কখনও চরম দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিও মিষ্ট আচরণে জনপ্রিয় হয়ে পড়ে। বর্তমান সরকারের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির অতিকথন ও উদ্ধত আচরণের কারণে সরকারের বহু অর্জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রধানমন্ত্রীও জনগণের আবেগ-অনুভূতিকে বিবেচনায় না নিয়ে মাঝে-মধ্যে বিরূপ মন্তব্য করে থাকেন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পাঁচটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থীদের বিপুল ভোটে জয়ী হওয়া দেখে কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন- ‘সরকারের দুর্নীতি, সন্ত্রাস, অহংকার, দম্ভ আর খামখেয়ালিপনার জবাব দিয়েছে জনগণ।’ আবার কেউ বলেছেন- ‘এগুলো নেতিবাচক ভোট। এ ভোট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে হলেও বিএনপির পক্ষে নয়।’ কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘যারা সৎ, ক্লিন ইমেজের এবং উন্নতি করেছেন তারা ভোট পাননি। যারা দুর্নীতি, সন্ত্রাস, আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টি আর খুনের সঙ্গে জড়িত, তারাই জিতে এলেন। ... তাহলে আমরা এই উন্নয়ন কেন করছি? কার জন্য করছি? যদি দুর্নীতিবাজরাই জিতে আসে! এই জেতার রহস্যটা কী? ... শুনলাম জাতীয় ইস্যুর জন্য হেরে গেছি। জাতীয় ইস্যু কী? আমরা খাদ্য নিরাপত্তা দিতে পারছি কি না! ... জাতীয় ইস্যুর জন্যই যদি হারব, তাহলে আমার প্রশ্ন, জাতীয় ইস্যু হয়ে গেল দুর্নীতি। আমাদের সরকার নাকি দুর্নীতি করেছে, তবে দুর্নীতি করে তো এত উন্নয়ন সম্ভব নয়’ (ইত্তেফাক, ১৪ জুলাই ২০১৩)। আওয়ামী লীগ সমর্থিত কিছু বুদ্ধিজীবীও বিভিন্ন লেখায় অনুরূপ ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন (যদিও প্রধানমন্ত্রী গত ২১ জুলাই পাঁচ মেয়রকে শপথবাক্য পাঠ করানোর সময় দলমতের ঊর্ধ্বে ওঠে তাদেরকে জনসেবায় নিয়োজিত থাকতে অনুরোধ করেছেন)। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ইস্যু ও স্থানীয় ইস্যু বোঝেন না, এটি ভাবা চরম বোকামো হবে। তিনি মাঝে-মধ্যেই সরকারি সফরে উন্নত বিশ্বে যান (ওয়ান-ইলেভেনের সময় প্রায় দশ মাস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিলেন)। সেখানকার হোটেল, পরিবহনসহ বহু কিছুই স্থানীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত রয়েছে। ইংল্যান্ডে শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপের বিবাহোত্তর অনুষ্ঠানটিও পরিচালিত হয়েছে স্থানীয় সরকারের অনুমতি নিয়ে। বলা হয়, এদেশেও স্থানীয় কাজগুলো স্থানীয় সরকারের জন্য রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে স্থানীয় সরকারের কোনো স্বাধীনতা নেই। একই কারণে ‘স্থানীয় সরকার’ নামে আলাদা কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। উদাহরণস্বরূপ একটি ড্রেনকে পরিষ্কার রাখলেন, তিনি কালা মিয়া না ধলা মিয়া, সেটি বিবেচ্য বিষয় নয়। যিনি পরিষ্কার রেখেছেন তাকেই ভোট দেয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে স্থানীয়রা জাতীয় রাজনীতিতে অতিমাত্রায় আক্রান্ত হয়ে পড়ায় স্থানীয় কাজের বিবেচনায় ভোট প্রদান করছেন না। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিরোধী দলের কেন্দ্রীয় নেতারাসহ সরকারি দলের শতাধিক এমপিকে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে। ফলে স্থানীয় নির্বাচনটি আর স্থানীয়দের থাকেনি, জাতীয় রাজনীতির মহড়ায় পরিণত হয়। এই নিবন্ধের লেখক গাজীপুর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহকে বলেছিলেন, তিনি যেন স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে বলেন- ‘এটি স্থানীয় নির্বাচন। স্থানীয় কাজ আর জাতীয় কাজ এক নয়।’ কিন্তু তিনিও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে করে ভোট প্রার্থনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী জয়ী প্রার্থীদের দুর্নীতিবাজ আর সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে ভোটারদেরই অবমূল্যায়ন করেছেন। জনগণ শতভাগ বিশুদ্ধ হয় না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারও বিশুদ্ধ হয় না। সে জন্য গণতান্ত্রিক সরকারের কাজ হল জনগণকে শুদ্ধ হওয়ার জন্য সচেতন করে তোলা। টঙ্গী এলাকার জনৈক ভোটার প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, ‘সরকার যদি উন্নতি করে থাকে তাহলে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় করেছে, নিজেদের পকেটের টাকায় নয়। কেউ যদি দুর্নীতি করে থাকে তাহলে সেটাও জনগণের টাকাই।’ আরেকজন ভোটার বলেন, ‘জনগণ ভাত-কাপড় চায়, মর্যাদাও চায়।’ আমার বিশ্বাস, তাদের দু’জনের সরল উক্তি যেন সাধারণ জনগণের বিশ্বাসেরই প্রতিধ্বনি। জনগণের মৌলিক অধিকার পূরণের পেছনে রয়েছে মানুষের মর্যাদা দেয়ার চিন্তা। উন্নত বিশ্বে মানুষকে মর্যাদা দেয়ার জন্য পৃথক আইন রয়েছে। আমাদের সংবিধানের তৃতীয় ভাগের ২৬, ২৭, ২৮ ও ২৯ অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার সুরক্ষার পেছনেও রয়েছে জনগণকে মর্যাদা দেওয়ার চেতনা। ২৮ (১) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- ‘কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ ভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না।’ কিন্তু মহান জাতীয় সংসদে এর বিপরীত চিত্র লক্ষ্য করা যায়। মানুষের জন্মস্থান, বংশপরিচয় ইত্যাদি প্রসঙ্গ তুলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় অপচয় করা হয়। অথচ তাদের ছেলেমেয়ের সঙ্গে ভিন্ন দেশের ভিন্ন ধর্মের ছেলে-মেয়েদের বিয়েশাদি সম্পন্ন হচ্ছে। তারা ভুলে যান যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আচার-আচরণ, কথাবার্তা, বাচনভঙ্গি ইত্যাদিতে জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটেছিল বলেই সমগ্র জাতি আড়মোড়া ভেঙে জেগে উঠেছিল। সরকারপ্রধানের স্ববিরোধী ও ক্ষুব্ধ আচরণ প্রসঙ্গে সরকারদলীয় জনৈক এমপি বলেন, ‘নানা ঘটনা-দুর্ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে প্রধানমন্ত্রী মাঝে-মধ্যে ভুল আচরণ করে থাকেন।’ মনোবিজ্ঞানের ভাষায় তার কথাটি অনেকটাই সত্য। তাই বলে প্রধান নির্বাহী পদে বসে ব্যক্তিগত রাগ-বিরাগের বশবর্তী হয়ে ক্ষুব্ধ আচরণ করে শপথ ভঙ্গ করতে পারেন না।
বর্তমানে বহু বুদ্ধিজীবী বলা শুরু করেছেন- সময়োপযোগী শাসন ব্যবস্থার অভাবে আমরা অসহনীয় পরিবার ও ব্যক্তিতন্ত্রের কবলে পড়ে আছি। সেজন্য একাধিক সরকার ব্যবস্থার প্রস্তাবও নানাভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। বিরোধী দলের কেউ কেউ বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে নতুন ধারার সরকার ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করবেন। এক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য হল- এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থা বহাল রেখেও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণসহ জনগণের ক্ষমতায়ন সম্ভব। যেমন- প্রতিটি জেলাকে প্রজাতান্ত্রিক রূপ দিয়ে ও স্থানীয় সরকারের সর্বোচ্চ ইউনিট করে সব স্থানীয় কাজ এই ইউনিটের ওপর ন্যস্ত করা যেতে পারে। এই প্রস্তাবে ইউনিয়ন হবে গ্রামীণ স্থানীয় সরকারের সর্বনিু ইউনিট এবং পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন উভয় হবে নগরীয় স্থানীয় সরকারের সর্বনিু ইউনিট। ‘স্থানীয় সরকার’ শব্দটি বহুল ব্যবহৃত হওয়ায় ও পরিচিত হয়ে পড়ায় প্রতিটি ইউনিটের সঙ্গে ‘সরকার’ শব্দটি সংযুক্ত করে প্রজাতান্ত্রিক রূপ দেওয়া প্রয়োজন। যেমন- ইউনিয়ন সরকার, উপজেলা সরকার, জেলা সরকার, নগর সরকার ইত্যাদি। এ ব্যবস্থায় জেলার প্রতিনিধি নিয়ে জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষও করা সম্ভব। পরিশেষে বলা প্রয়োজন, একটি মাত্র সরকার দিয়ে, তথা উনবিংশ শতাব্দীর সরকারব্যবস্থা দিয়ে সর্বস্তরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়, এটি এখন দিবালোকের মতো সত্য।
মোশাররফ হোসেন মুসা : গণতন্ত্রায়ন ও গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারবিষয়ক গবেষক ও সদস্য, সিডিএলজি

না-লেখার মাঝেও আনন্দ আছে by বদিউর রহমান

৩ জুলাই যুগান্তরে ‘আনারসের হলে জয়, মজাটা কেমন হয়?’ শীর্ষক আমার লেখাটি প্রকাশিত হওয়ার পর অনেকদিন লেখা হয়নি। এর আগে ১৫ জুন প্রকাশিত ‘চার সিটির নির্বাচন কি কোনো পূর্বাভাস দেবে?’ বেশ আলোচিত হয়েছিল। দু’-একজন পাঠক টেলিফোনে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন আমি ‘বাজাদ-মনা’ হয়ে যাচ্ছি কি-না। আলী-মনা আর বাজাদ-মনা নিয়ে চাকরিতে থাকতে বেশ সরব কথাবার্তা সোনা যেত। সরকারি চাকরির জোটীয় আর মহাজোটীয় দলীয়করণে কারা আওয়ামী লীগ (আলী) আর কারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বাজাদ) ঘরানার তা নিয়ে দস্তুর মতো তর্কবিতর্ক এমন পর্যায়ে যেত যে, কোনো কোনো কর্মকর্তার জন্মের ইতিহাস, পরবর্তী বিবর্তন, সুবিধাবাদী মোড় ফেরা- সবই ‘উলঙ্গভাবে’ আলোচিত হতো। অন্তত আমাদের ’৭৯ ব্যাচের এবং পরবর্তী ’৮১ ব্যাচের কর্মকর্তাদের অনেকে আলী-মনা আর বাজাদ-মনায় এমনভাবে চিহ্নিত হয়েছেন যে, পদোন্নতিতে তা প্রকাশ্যভাবে ধরা পড়ে গেল। এখন এমনও ধারণা করা হচ্ছে, ওই বিভাজনের সুফল ওই দুই গোষ্ঠী চাকরিতে থাকতে যেমন পেয়েছে, চাকরি-পরবর্তী পর্যায়েও পাবে। অনেকে এখনও পাচ্ছে। বাজাদ ক্ষমতায় এলে নাকি ’৭৯ ব্যাচের অনেক সাবেকের কপালে আবার শিকে ঝুলবে।
জোট-মহাজোটের নগ্ন দলীয়করণ সিভিল প্রশাসনকে যে রসাতলে নিয়ে গেল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। খালেদা জিয়ার গত মেয়াদে আমাকেও আলী-মনা হিসেবে আমার ব্যাচমেটরাই প্রচার করেছে এবং আমার ব্যাচমেট কুশীলবরাই চার-চারবার আমাকে সচিব পদে পদোন্নতিবঞ্চিত করেছে, যার কিছুটা আমার ‘সরকারি চাকরিতে আমার অনুভূতি : পদোন্নতি, বঞ্চনা’ বইয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। নিজের ঢোল নিজে বাজানো নাকি উত্তম, অন্য কেউ বাজাতে গেলে তা আবার ফাটিয়ে ফেলতে পারে। আমি সরকারি চাকরিতে আমার অনুভূতি নিয়ে এ পর্যন্ত প্রকাশিত ৬টি বইয়ে যা লিখেছি, তাতে কোনো মনাগিরির স্থান আছে বলে আমার অন্তত মনে হয় না। এমনকি ‘তত্ত্বাবধায়ক আমল : কিছু রাজনীতি কিছু বাজনীতি’ বইটিতে তত্ত্বাবধায়ক আমলের রাজনীতি-বাজনীতি নিয়ে, হাসিনা-খালেদার রাজনীতি নিয়ে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে লেখাগুলোতেও আমি কোনো মনাগিরিতে ছিলাম না, যেমন আজও নেই। আমার কাছে যা যথাযথ মনে হয়েছে, যা সুবিবেচ্য ভেবেছি, যা জনগণের ধ্যান-ধারণা থেকে উপলব্ধি করতে পেরেছি- তা-ই লিখেছি। আমি আগেও নয়, এখনও নয়, কোনো লাভের আসায় ‘পুঁজি-খাটানো’ অভ্যাসে কিছু লিখিনি, লিখি না। অতএব ১৫ জুনের চার সিটির নির্বাচন নিয়ে পূর্বাভাস সংক্রান্ত মতামতে বাজাদ-মনা হওয়ার যেমন কিছু নেই, তেমনি আমাকে আলী-মনা ভাবারও কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টির দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো লেখাকে বিশ্লেষণ করার অধিকার অবশ্যই পাঠকের রয়েছে। কিন্তু তেমন বিশ্লেষণ অবশ্যই নৈর্ব্যক্তিক হওয়া কাম্য। আর চার সিটির নির্বাচনের পূর্বাভাস নিয়ে আমি তো ফলাফলের আগে লিখেছি, পরে নয়; যেমনটি গাসিক নির্বাচনে ‘আনারসের হলে জয়, মজাটা কেমন হয়?’ লিখেছিলাম। ভোটের পরের বিশ্লেষণ তো গোটা দেশ করে চলেছে। সেই যে সিসিসি নির্বাচনে মহিউদ্দিনকে কুপোকাত করে যাত্রা শুরু হল, নারায়ণগঞ্জ আর কুমিল্লা হয়ে তা রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেটে বিস্তৃত হল এবং আপাতত সর্বশেষ গাজীপুরে এসে সেই ধারাবাহিকতা অক্ষুণœ রেখে কী যেন একটা ‘জানান’ দিয়ে গেল, তা কি আর ধামাচাপা দেয়ার মধ্যে সীমিত থাকল? আলী-বাজাদ যার যার মতো নিজেদের পক্ষে গলাবাজি তো করেই যাচ্ছে, যাবেও, যেতেই হবে। এটা কখনও রাজনীতি, আবার কখনও বাজনীতি। তাই গাজীপুরের পর আমার কেন জানি আর লিখতে ইচ্ছা হয়নি। জাহাঙ্গীরকে নাটক করে দলীয় চাপে বসিয়ে না দিলে গাজীপুর হয়তো আরেক ‘নারায়ণগঞ্জ’ হতে পারত, যেমনটি বাজাদের জন্য ‘কুমিল্লা’ হয়েছে। প্রার্থী মনোনয়ন ও সমর্থনে আমরা যে ক্যারিকেচার দেখলাম, তাতে গণতন্ত্র তার উৎকট রূপই প্রকাশ করেছে। অতএব না লিখেই যেন আনন্দ পেলাম।
তার পর আরেক মজা হল, বিদেশ থেকে ফিরে এসে ‘তিনি’ নাকি কাদের ‘হারু পাট্টি’ বললেন! এরপর তো আরও ক্ষেপে গেলেন- উন্নয়ন করেও যদি ভোট না পাওয়া যায়, তাহলে আর উন্নয়ন করার দরকার কী? দিলে বড় কষ্ট পেয়েছেন তিনি- বোঝাই যায়। কিন্তু আমি বলব, উন্নয়ন করেছেন আগে ভোট পেয়েছেন বলে, উন্নয়ন করেছেন সরকার গঠন করতে পেরেছেন বলে, উন্নয়ন করেছেন মানুষের জন্য আপনার একটা ভালো দরদী মন আছে বলে। উন্নয়নের আগে তো আবার ভোট দিতে হবে তা বলেননি? রোজার পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিয়ে বিদ্যুৎ না থাকার কষ্ট বুঝিয়ে দেবেন বলেও ভয় দেখিয়েছেন তিনি। ক্ষমতায় যখন আছেন, তখন সবই পারবেন। নিষেধ করে কে? ফালতু কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলন করা ছাত্রদের ফুটেজ দেখে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেবেন/বাদ দিয়ে দেবেন- কী প্রতিহিংসাপরায়ণ ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ! এটা মানায় তাকে?
এই যে বারবার হেরে গিয়ে তার এত কষ্ট, তা আমাদেরও কষ্ট। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির এমনতরো সিরিজ-পরাজয় আমাদেরও বড় কষ্ট দেয়, দিয়েছে, ভবিষ্যতে হয়তো আরও দেবে। কিন্তু বাস্তবতা তো আর উড়িয়ে দেয়া যায় না। আচ্ছা, তিনি কি একবারও ভেবে দেখেছেন, শেয়ার কেলেংকারিতে লাখ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী কেমন কষ্ট পেয়েছেন? ডেসটিনি, হলমার্ক, যুবক নিয়ে ভুক্তভোগীরা কেমন কষ্ট পেয়েছেন? ড. ইউনূস ইস্যুতে অনেকে কেমন কষ্ট হজম করেছেন? ছাত্রলীগ-যুবলীগের টেন্ডারবাজি-খুনাখুনিতে, পদোন্নতির দলবাজিতে অন্যেরা কেমন কষ্ট পেয়েছেন? গাসিক নির্বাচনের আগ মুহূর্তে চট্টগ্রামের টেন্ডারবাজিতে খুন কি কাউকে কষ্ট দেয়নি? আমি কার খালুরে, মধ্যরাতের সিঁদেল চোর, মোটাতাজা ব্যক্তি কিংবা নির্বাচন করতে ব্যর্থ- এসব বলায় কি অন্যরা কষ্ট পাননি? কষ্ট মূলত যার যার তার তার, কে কাকে কখন কীভাবে কষ্ট দেয়, আর কে কখন কিসে কীভাবে কষ্ট পায় তা বুঝতে পারা বড় গুণ। এ গুণ না থাকলে অহমিকা থাকতে পারে, ঝাঁকুনিতে রানা প্লাজা ধসে যেতে পারে, টকশোতে কারও চোখ তুলে ফেলা যেতে পারে এবং আরও কত কী। কিন্তু মনের কষ্ট থামানো যায় না। ফলে ‘শত মণ দুগ্ধ নষ্ট বিন্দু গোচনায়’ হয়ে যায়, হয়ে যেতে পারে। তখন সে কষ্ট নিয়ে হা-পিত্যেশ না করে শোধরানোর চেষ্টাই উত্তম নয় কি? পাঁচ বছরে একবার, একটা সিল, কী ভয়ানক গণতন্ত্র! কেমনে যে এ দেশের মানুষ প্রতিবার পুরো পাঁচ বছরের হিসাব মনে রাখে এবং কোনটা যে তাদের মনকে স্থির করে দেয়, তা বারবারই আমাদের চমকিত করে। অতএব না লিখে চুপ থাকাই ভালো মনে হল, লিখতে আর ইচ্ছা হল না। তাই কষ্ট বুকে নিয়ে না লিখেই আনন্দ পেতে চাইলাম। ভাবলাম, ইটস বেটার নট টু হ্যাভ বর্ন দ্যান টু হ্যাভ বর্ন অ্যান্ড সাফার- জন্ম কষ্ট পাওয়ার চেয়ে না জন্মানোটাই উত্তম; অতএব এত উন্নয়নের পরও ‘শত মণ দুগ্ধ নষ্ট বিন্দু গোচনায়’ অবস্থায় গিয়ে কষ্ট করে, কষ্ট পুষে, কষ্ট ভরে লেখার চেয়ে না লেখাই বরং আনন্দের।
আরও কষ্ট যখন দেখি সাজেদা-হালিম সমর্থকদের সে কী লড়াই, হালিমের সে কী রক্তাক্ত ছবি, তারপর আবার হালিম-সমর্থকদের বাড়িঘর ভাংচুর! আহা, আবার দেখি আমাদের ‘ভাইছা’ ‘নতুনরূপে’ তোপখানা রোডে! সাংবাদিকরা হল হাত-পা মজবুত করার প্রশিক্ষণের এক বড় ‘বালির বস্তা’। পুলিশ সুযোগ পেলে থাপ্পড় মারবে, রাজনীতিকরাও ছাড়বে না। ব্যাটা সাংবাদিক, বোঝ না মনু, মুই কী! অ্যাডা কি মোগল সাম্রাজ্যের দুনিয়া কাঁপানো প্রেম পেয়েছ নাকি? অ্যাডা হল গিয়ে দেশ কাঁপানো সাংবাদিক-লাত্থি মারা! আমি বিস্ময়ে হতবাক হই, তিনি না টকশোতে কত সুন্দর করে কথা বলেন! হবেই তো, সব গুণ থাকতে হয়, আইনের ছাত্রের ‘আÍরক্ষার’ কৌশল প্রয়োগ কি আর বেআইনি হতে পারে? সাংবাদিকরা বললেন, তাকে বয়কট করবেন। কিন্তু করলেন কই? এদিকে সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ড নিয়ে শোরগোল তুলে দিয়ে এক সাংবাদিক নেতা আবার কপালে রাজটিকা লাগালেন। তিনিও কী এক উপদেষ্টা হয়ে গেলেন, সংসদ নির্বাচনে হারলেও এবার তিনি আর হারলেন না। এই-ই যদি হয় অবস্থা, তাহলে না লেখাই কি উত্তম নয়? না লেখার মাঝেও যে আনন্দ আছে।
বড় কষ্ট লাগে যখন শুনি নব্বই ঊর্ধ্ব গো আযমের নব্বই বছরের জেল। কিন্তু বিচার যে, কিছু বলা যাবে না।
অপরাধ প্রমাণের পর তার আবার বয়স কিসের? অপকর্মের হোতা কি কারও বয়স বিবেচনা করেছিলেন? রহস্যটা কোথায়? তাকে জেলেও ঢুকতে হল না, অনুতপ্ত হতেও হল না, নিজের নীতিতে অটলই থাকলেন। অথচ ট্রাইব্যুনাল হলেন দয়ার সাগর। একবার মৃত্যুদণ্ড থেকে বেঁচে গেলে পরে দেখা যাবে কোথাকার জল কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়। পুলিশের গাড়ির বেঞ্চের তলায় কম্বল পেঁচিয়ে জেলে গিয়ে রক্ষা পেয়ে শাহ আজিজ যদি প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন, তবে গো আযম নিরাশ হবেন কেন? হাসিনা-শফিক-হানিফের প্রতিক্রিয়া দেখে তো ‘নির্বুদ্ধিতায় ভরা’ আমজনতার মনে হতেই পারে, ‘ঠাকুর ঘরে কে রে? আমি কলা খাই না’। আরও কত সন্দেহ- ‘সৌদি দয়া’, ‘নির্বাচনী-কূটচাল’, ‘বিচারটাই তো এখন হাতের পাঁচ’ ইত্যাদি ইত্যাদি!
সর্বশেষ আবার মনে পড়ল- ‘আমরা ভাতে মারব, আমরা পানিতে মারব’। ভাতের অভাব এখন নেই, কিন্তু ওয়াসার পানির আহা সে কী কষ্ট! এসি চালিয়ে তবে অজু করলাম একদিন। একটু ব্যবস্থা যাও হল, বস্তির নেতারা মধ্যরাতের সিঁদেল চোর না হয়েও আমাদের রাস্তায় পানি আসার চাবি বন্ধ করে দিল! বেচারা নির্বাহী প্রকৌশলী কত অসহায়। বস্তিতে যে অনেক ভোট, হোক না বিনে পয়সার পানি তাদের। লিখে বিপদে পড়ার চেয়ে, লিখে আলী-মনা আর বাজাদ-মনার অভিযোগে অহেতুক অভিযুক্ত হওয়ার চেয়ে না লেখার মাঝেও যে আনন্দ আছে, তা ভোগ করাই কি উত্তম নয়?
বদিউর রহমান : সাবেক সচিব, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান

ডিজিটাল কলগার্ল!

পতিতালয় আর পতিতা নিয়ে পূর্বে দুটি গল্প লিখেছি। এবার একটু ভিন্ন দিকে নজর দেয়া যাক। শহরের আধুনিক ফ্লাট আর উচু দালানের রঙ্গীন কাঁচের দেয়ালের ভিতরে চলে আসা ডিজিটাল যৌন ব্যবসার কিছু অজানা কথা।

উপকূলীয় সম্পদ রক্ষায় এগিয়ে আসুন by ড. একেএম নওশাদ আলম

বিগত কয়েক বছরের পর্যালোচনায় দেখা যায়, নানা রকম সচেতনতামূলক ও উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি পালনের ফলে অভ্যন্তরীণ মাছের উৎপাদন যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ব্যাপক প্রভাব জনজীবনে লক্ষ্য করা যায়। কয়েক বছর আগে যেখানে বাজারে মাছই পাওয়া যেত না, এখন চাষের মাছ হলেও এবং মাছের বাজারে গুটিকয় প্রজাতির প্রাধান্য থাকলেও বাঙালি মাছ তো খেতে পারছে। অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদনের এ সাফল্যের নিরিখে বলা যায়, এ ধরনের কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির দিকে এবার দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। উপকূলীয় মৎস্য সম্পদ আমাদের দেশে এখনও একটি অবহেলিত উপখাত। অথচ এটা সবার জানা যে, জাতীয় রফতানিতে এ উপখাত থেকেই মৎস্যখাতের সবচেয়ে বেশি অবদান আসছে।
কোনো কালে প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যে ভরপুর ছিল বাংলাদেশের উপকূলীয় ও সামুদ্রিক অঞ্চল। দীর্ঘদিন ধরে সম্পদের কাণ্ডজ্ঞানহীন ও মাত্রাতিরিক্ত আহরণের ফলে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে উপকূল নিঃশেষ হয়েছে বহু আগেই। যাওবা ধুক ধুক করে অবশিষ্ট ছিল পশ্চিম উপকূলের সুন্দরবনে, ঘূর্ণিঝড় সিডরে তার যে পরিমাণ সম্পদহানি হয়েছে, তা আজও পূরণ হয়নি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে লাগামহীন ও অনৈতিকভাবে মাছ ধরার প্রতিযোগিতা। এ প্রতিযোগিতায় শামিল সরকারি-বেসরকারি উভয়পক্ষ। উপকূলীয় এলাকায় নানা রকম সনাতন ক্ষতিকর জাল ব্যবহার করে একদিকে যেমন পোনা মাছসহ প্রায় সব মাছ ছেঁকে তোলা হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের ভ্রান্তনীতির কারণে ধারণক্ষমতার অধিক যান্ত্রিক ট্রলার ব্যবহার করে সমুদ্র প্রায় মাছশূন্য করে ফেলা হচ্ছে। এরপরও প্রতিটি সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় একের পর এক নতুন নতুন ট্রলারের অনুমোদন দিয়ে যাচ্ছে।
উপকূলীয় প্যারাবন কেটে সাফ করে দেয়া হয়েছেÑ যার অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও সামাজিক মূল্য অপরিসীম। এর ফলে মাছসহ অন্য ছোট-বড় সব জলজ প্রাণীর আবাস, খাদ্য ও প্রজননস্থল পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। মাত্রাতিরিক্ত আহরণের ফলে অগভীর জলাশয়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং প্রাণীর খাদ্য জোগান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যানে সামুদ্রিক মাছের উৎপাদন প্রতিবছর একটু একটু করে বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। প্রকৃতপক্ষে উৎপাদন না বাড়লেও, পরিমাণগত উৎপাদন বাড়িয়ে দেখানো হলেও ধরা মাছের গুণগতমান বেশ নাজুক। অর্থাৎ ধরা মাছের প্রায় পুরোটাই স্বল্পদামের কিশোর বা ছোট মাছ, যা অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বড় হয়ে ডিম পেড়ে আরও অনেক কিশোর মাছ উৎপাদন করতে পারত। একই সঙ্গে বেশি বেশি দেশীয় সনাতন ক্ষতিকর জাল যেমনÑ মোহনা-বেহুন্দি বা সাগর-বেহুন্দি এবং উপকূলের কাছাকাছি যান্ত্রিক ট্রলার বা ধারণক্ষমতার বেশি যান্ত্রিক ট্রলার ব্যবহারের ফলে কিশোর মাছ বড় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। ছোট মাছ বেশি ধরাতে মাছের মোট পরিমাণ কখনও কখনও সামান্য হয়তো বাড়ছে, তবে দাম কম পাওয়ায় ছোট থেকে বড় সব মৎস্যজীবীর লাভের অংকে ভাটা পড়েছে। গরিব সনাতন মৎস্যজীবীদের তাতে সংসার চালানোর মতো আয়ের সংস্থান হচ্ছে না, যান্ত্রিক নৌকা বা জালের মালিক-মহাজনদের লগ্নিকৃত পুঁজি উঠে আসছে না, ট্রলারওয়ালাদের ট্রিপ প্রতি লোকসানের পরিমাণ বাড়ছেই। আয় বাড়াতে বা ক্ষতি পোষাতে সব স্তরের মৎস্যজীবীই আরও বেশি মাছ আহরণে নিয়োজিত হচ্ছে। এতে প্রায় মাছশূন্য হয়ে পড়ছে উপকূলীয় জলাশয়।
বঙ্গোপসাগরে আমাদের অংশের তলদেশ, বিশেষ করে সুন্দরবনের লাগোয়া উপকূল থেকে মহীসোপান পর্যন্ত প্রায় পুরোটাই বালি ও কাদাময়, খুব সামান্য অংশই কঠিন শীলা বা পাথর দ্বারা আবৃত। এখানে অসংখ্য ধারায় মিঠাপানি প্রবাহের ফলে তীর থেকে বহুদূরে গেলে স্বাভাবিক লবণাক্ততাসম্পন্ন সমুদ্রের পানি পাওয়া যায়। বর্ষাকালে নদীতে মিঠাপানি প্রবাহের পরিমাণ বেশি বলে সমুদ্রের পানির লবণাক্ততা হ্রাস পাওয়ার ব্যাপ্তি সাগরের উপরিভাগের বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হয়। শীতকালে নদীর প্রবাহ কমে যাওয়ায় সঠিক লবণাক্ততা উপকূলের খুব কাছেই পাওয়া যায়। পোনা ও কিশোর মাছ উপকূলের কাছাকাছি কম লোনা পানিতে থাকে। মাছ যতই বড় বা পরিণত হতে থাকে, ততই অধিক লবণাক্ত গভীর সমুদ্রের দিকে চলে যেতে থাকে। তলদেশে বসবাসকারী প্রজাতি তলদেশ ধরে চলাচল করে। অন্যদিকে, দ্রুত সঞ্চরণশীল ভাসমান প্রজাতি পানির উপরিতল ঘেঁষে বা তার সামান্য নিচ দিয়ে চলাচল করে।
আকার, স্বাভাবিক আবাসস্থল ও চলাচল পথের ওপর ভিত্তি করে মাছ সমুদ্রের তলদেশে, অপেক্ষাকৃত গভীর পানিতে অথবা উপরিতলের সামান্য নিচে ডিম পাড়ে। মাছ যেখানেই ডিম পাড়–ক না কেন, নিষিক্ত হয়েই তা পানির ওপরে ভেসে ওঠে। পানির উপরিতলে মাছের ডিম ফুটে প্রথমে রেণুপোনা উৎপন্ন হয়। রেণুপোনা পানির স্রোতে ভেসে ভেসে উপকূলের কাছাকাছি চলে আসে। এখানে তারা বিশ্রাম নেয় ও আকৃতি পাল্টায়, দ্রুত খাবার খেয়ে বড় হতে থাকে এবং বড় হয়ে আবার গভীর সমুদ্রে নিজস্ব আবাসস্থলে ফিরে যায়। এভাবে মাছের জীবনচক্র চলতে থাকে। উপকূল থেকে বা গভীর সমুদ্রে ফিরে যাওয়ার সময় তাদের ধরে ফেললে বড় হয়ে আবার ডিম দেয়ার মতো মা-মাছ আর থাকল কই? তাই উপকূলে বছরের পর বছর ধরে একই পরিমাণ মাছ আহরণ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
এক্ষেত্রে করণীয় কী? এর জন্য প্রয়োজন ভারসাম্যপূর্ণ ও নিয়ন্ত্রিত সম্পদ আহরণ, সমুদ্রের গুণগতমান বজায় রাখা এবং সঙ্গে সঙ্গে মৎস্য সম্পদের অতিরিক্ত আহরণ থেকে বিরত থাকা, বিশেষ করে দিনদিন কমতে থাকা মাছ বা জলজ প্রাণী আহরণে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা। প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই আহরণে জীববৈচিত্র্যকে অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে। উপকূলীয় মৎস্য সম্পদ মারাÍকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে মৎস্য বিভাগ ও বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি উপকূলীয় মৎস্যজীবী, বৃহদায়তন মৎস্য আহরণকারী বা ট্রলার মালিক, ব্যবসায়ী, পুঁজি লগ্নিকারী, প্রক্রিয়াজাতকারী, সম্প্রসারণ কর্মী, গবেষক, উন্নয়ন কর্মীসহ সব সুফলভোগী ও অংশীদার মিলে উপকূলীয় প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কার্যক্রম শুরু করতে হবে। এ কাজটি শুরু করার এখনই উপযুক্ত সময়। এখন থেকেই আমরা প্রতিবছর ‘জাতীয় উপকূল সপ্তাহ’ পালন করে সুফলভোগীদের সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতে পারলে এক সময় আবার উপকূলকে মাছে মাছে ভরিয়ে দিতে পারি। আমরা এর জন্য কিছু করণীয় নির্ধারণ করতে পারি। যেমন- উপকূলে মোহনা-বেহুন্দি নিষিদ্ধ করে মোহনা-বেহুন্দির জেলেদের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে সাগর-বেহুন্দিতে স্থানান্তরিত বা প্রতিস্থাপিত করতে পারি। সাগর-বেহুন্দির জেলেদের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে গভীর সমুদ্রে বা একান্ত অর্থনৈতিক এলাকায় লং-লাইনিংয়ের মাধ্যমে টুনা বা অন্যান্য ভাসমান প্রজাতির মাছ আহরণে নিয়োজিত করতে পারি। চল্লিশ মিটার গভীরতার বাইরে যান্ত্রিক ট্রলারের মাছ ধরার আইনের বিধানটি কড়াকড়িভাবে পালন করতে পারি। সরকারি পর্যায়ে আর একটিও বটম বা মিড-ওয়াটার ট্রলার বর্তমান ট্রলার বহরে সংযোজিত না করার বিষয়ে প্রতিজ্ঞ থেকে সবাই আইনের বিধানের প্রতি একনিষ্ঠ হতে পারি। অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে মাছ চাষে আকাশ পরিমাণ সাফল্য পেলে উপকূলীয় জলাশয়ে মাছের উৎপাদন কেন বাড়াতে পারব না? দেশপ্রেমিক মন নিয়ে সবাই মিলে সচেষ্ট হলে অবশ্যই পারব।
ড. একেএম নওশাদ আলম : অধ্যাপক, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ

৭ টি গোপন কথা যা আপনার স্ত্রী কখনও মুখে বলবেন না

বেশীরভাগ পুরুষেরই নারীদেরকে বুঝে উঠা প্রায়শই খুব কষ্টকর হয়ে যায়। এমনকি সেই নারীকেও যার সাথে সে বহু বছর বিবাহিত জীবন পার করেছে। এক মুহূর্তে তিনি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, পর মুহূর্তেই হয়ত শিশুর মত কান্নাকাটি শুরু করে দিলেন।

নারীর কাম উত্তেজনা ওতৃপ্তি


নারীর কাম উত্তেজনা
নারীর কাম উত্তেজনা দ্রুত কি ভাবে বৃদ্ধি করা যায় সে বিষয়েও কামশাস্ত্রে আলোচনা করা হয়েছে। নিম্নলিখিত উপায়গুলি অবলম্বন করলে দ্রু নারীর কাম উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।

পুরুষত্বে সমস্যা–ঘরোয়া সমাধান

বর্তমান যুগে বেশীর ভাগ পুরুষের মধ্যে একটা সমস্যা বেশ প্রকট হয়ে উঠছে৷ দিন যত যাচ্ছে পুরুষের মধ্যে নপুংসকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষের যৌণ ইচ্ছা ক্রমশঃ কমে যাচ্ছে৷

প্রেমের আড়ালে অবৈধ সেক্সে কুমারীত্ব হারাচ্ছে মেয়েরা

প্রেমের আড়ালে অবৈধ সেক্সে কুমারীত্ব হারাচ্ছে মেয়েরা। যুবকদের প্রশ্ন আমি কি করে বুঝবো বিয়ের আগে আমার স্ত্রী অন্য কারো সাথে সেক্স করেছে কি না? এই বিষয়টি নিয়ে লিখে ছিলাম। কিন্তু দূঃখের বিষয়ে আমাকে আবারও লিখতে হচ্ছে। কারন আমি আবারও নতুন শত শত বাংলাদেশী সেক্স ভিডিও পেয়েছি। গণমাধ্যম কে তথ্য জানিয়ে ও কোনো প্রতিকার পেলাম না। বাধ্য হয়ে আমাকেই বার বার লেখতে হচ্ছে। নোংরামী করতেছে কয়েক জন? তা দেখতে আছে দেশের সর্বজন । প্রেমিক প্রেমিকাদের এই সব নোংরা ভিডিও দেখে যুবকরা আমার কাছে প্রশ্ন করতে শুরু করেছে। একটি প্রশ্ন শত শত যুবকরা করেছে। প্রশ্ন টি হলঃ আমি কিকরে বুঝবো বিয়ের আগে আমার স্ত্রী অন্য কারো সাথে সেক্স করেছে কিনা?। এই রকম প্রশ্ন করবেই না কেনো? কোনো স্বভ সমাজের স্বামীয়ই এই রকম ঘৃণাত্বক বিষয়টি মানতে পারবেনা। এমন কি কোনো স্ত্রীও অন্য মেয়ের সাথে স্বামীর নোংরামী আচরণ মানতে পারবে না। এই রকম কয়েক টি ঘটনা আমি নিজ চোখে দেখেছি। আমি অবাক হয়েছি কয়েক টি ভিডিওর কথকপন শুনে। এর ভিতর ২টি ভিডিওর কথকপন আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরতেছি। ১।মামা তার ভাগ্নী কে বাসার গেটের সামনে দাড় করিয়ে বলতেছে তোর কামিজ উপরে তুল ছবি তুলবো। অথচ মামা তার ভাগ্নি কে ভিডিও করতেছে। ভাগ্নি তার মামার কথা শুনে কামিজ উপরে তুলে পেট ও এক জোড়া স্তন বের করে রাখলো। এর পর মামা তার ভাগ্নি কে বললো সেলোয়ার খুলতে। এ কথা শুনে ভাগ্নি তার মামাকে জিঞ্জাসা করলো মামা তুমি কি আবারো ভিডিও করতেছো? মামা বললো না ছবি তুলতেছি। তারপর ভাগ্নি মামার কথায় সেলো্যার খুললো। এরপর মামা তার ভাগ্নিকে বললো পাও ২টা একটু ফাক করতে। ভাগ্নি মামার কথা শু্নে পাও ২ ফাক করলো। এবার মামা তার ক্যামেরা দিয়ে ভাগ্নির যৌনির ভিডিও করতে লাগলো। ভিডিও করে মামা তার ভাগ্নিকে বললো যে সুন্দর হয়েছে। ভাগ্নি মহা খুশি হয়ে বলতে লাগলো দেখতে হবেনা কার ভাগ্নি আমি। কই দেখি? এখন চিন্তা করে করে দেখুন দেশ কত বড় ডিজিটাল হয়েছে। এর চেয়ে অবাক হওয়ার বিষয় আছে কি আমার জানা নাই। আরও অবাক এই বারো তেরো বছরের মেয়েটির বুক দেখে। অথচ সতের আঠারো বছরের আপুরা আমার কাছে জানতে চায় কি ভাবে তার ছোট বুক বড় করবে? ২। প্রেমিক প্রেমিকাকে জড়িয়ে চুম্মা দিতে লাগলো। হঠাৎ মেয়েটি কড়াভাষায় ছেলেটিকে বলতে লাগলো আমার কাপড় খুলতে কি তোমার কি কষ্ট হয়? তারপর নিজের কাপড় নিজেই সব খুলে লেংটা হইয়ে গেলো। ছেলেটি মোবাইলের ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও করতেছে সে মেয়েটিও জানে। এখন চিন্তা করে দেখুন মেয়েরা নোংরামীতে ছেলেদের চায়তে কতটুকু এগিয়ে? আমি এরকম ভিডিও দেখেছি যে প্রেমিক সহ প্রেমিকের বন্ধুরা ও একটি মেয়ের সাথে সেক্স করেছে । এবং তার বন্ধু ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও করতেছে তা মেয়ে টি দেখতেছে। এখন চিন্তা করে দেখুন এই অতি আধুনিক ছেলে মেয়েরা কত নিচে নেমে গেছে। এখন আমার প্রশ্ন হলঃ এরা কি মানব সমাজের না কি কত্তার সমাজের? এতো ক্ষন তো ভিডিও কথার বললাম। কিন্তু যেসব ঘটনা ভিডিও হইনা? সেই সব তো আমাদের চোখের আড়ালে রয়ে যাই। এই সব নোংরামী দুনিয়ার কারো চোখে না পড়লে ও এক জনের চোখে ঠিকি পড়তেছে। সেদিন যার যার কৃত কর্মের হিসাব দিতে হবে।এবং তোমার হাত পাও দিয়ে আজ যা কিছুকি করতেছো সবই বলে দিবে কোনো কিছুই গোপন থাকবেনা। হে পুরুষ আজকে তুমি যে মেয়েকে প্রেমের ফাদে ফেলে তার দেহকে লুটে পুটে খাচ্ছ? তার নগ্ন ভিডিও ধারন করে বাজারে প্রকাশ করতেছো? এই মেয়েটি হইতো কারো বোন না হয় কারো মেয়ে হবে। তো্মারো তো বোন আছে। বিয়ে করলে মেয়েও হবে। অন্য কেউ যদি তোমার অথবা মেয়েকে নিয়ে এই সমস্ত নোংরামী কাজ করে ? তখন তোমার কেমন লাগবে। তোমার সন্তান যখন দেখবে তুমি বিয়ের আগে অন্য মেয়ের সাথে এই নোংরামী করেছো? তখন সে তোমাকে কি ভাববে? একটু কি ভেবে দেখেছো? তুমি কেনো তোমার বোনের সম্মান নষ্ট করতেছো? তোমার কাছে তোমার বোনের অথবা মেয়ের ইজ্জত আছে? অন্য ভায়ের বা বাবার কাছেও আছে। তুমি যদি স্বভ মানুষের ঘরে জন্ম নিয়ে থাক? তাহলে এই নোংরামীর পথ পরিহার করো। কারন তুমিও এক মায়ের পেট হতে বের হয়ে এসেছো। আবার আরেক জনের মা কে ধর্ষণ করতেছো? তোমার বিবেক গেলো কোথাই? হে নারী আজ তুমি প্রেমের আড়ালে নিজের দেহকে গোপনে অন্য কে ভোগ করতে দিচ্ছো? তুমি কি ভেবেছো সে তো্মাকে বিয়ে করবে? সে যদি তোমাকেই বিয়েই করবে? তা হলে সে তো্মার সাথে বিয়ের আগে পথে ঘাটে সেক্স করবে কেনো? কারন সে তো বিয়ের পরেই তো্মার সাথে এই সব করতে পারবে। 
ঠিক আছে আমি মেনে নিলাম সে তো্মাকে বিয়েই করবে। তা হলে সে গোপনে তো্মার নগ্ন ভিডিও ধারন করবে কেনো? এর জবাব দাও। অথবা তো্মার মা বাবা অন্য কোনো ছেলের সাথে তোমার বিয়ে দিয়ে দিল? বাসর রাতে তো্মার স্বামী যখন জানতে পারবে বিয়ের আগে তুমি অন্য কারো সাথে সেক্স করোছো? অথবা তো্মার গোপন নগ্ন ভিডিও ক্লিপটি তোমার স্বমীর হাতে আসবে? তখন তো্মার কি হবে একটু ভেবে দেখেছো? যত ঝাটার জুতার বারি আছে? এক টিও মাটিতে পড়বেনা সব তোমার কপালে এসে পড়বে। নিজের খাইয়া নিজের পড়ে তোমাদের কে আর কত বুঝাবো। তা ছাড়া এই দেহের মালিক তুমি না তো্মার স্বামীর। তোমার দেহ ভোগ করার সম্পূর্ণ অধিকার তোমার স্বামীর। অন্য কারোর নাই। স্বামীর অধিকার লঙ্গন করার দ্বায়ে তো্মাকে জাহান্নামে যেতে হবে। তোমাদের চেয়ে এ দেশের মাগী ছাগীরাও অনেক ভালো । যদিও তার দেহকে টাকার বিনিময়ে সামান্য সময়ের জন্য অন্যর হাতে তুলে দেয়। তুবুও তো্মাদের মতো বিনা মূললে নিজের দেহকে অন্যকে ভোগ করতে দেয় না। এক টির মাগির দেহর দাম আছে কিন্তু তো্মার দেহর কোনো দাম নাই। আজ যদি বাংলাদেশের নারীদের কুমাড়ীত্ব পরিক্ষা করা হয়? তা হলে শতকরা ৩০% নারীদের কুমাড়ীত্ব পাওয়া যাবে কি আমার সন্দেহ হয়। যে সমাজের নারীদের কুমাড়ীত্ব থাকেনা? সে সমাজকে মানব সমাজ বলে না পুশুর সমাজ বলে। আজ আমাকে বলতে হচ্ছে [ যিনা ব্যভিচার ভরে যাচ্ছে দেশ, কুমাড়ীত্বহীন নারী দিয়ে গড়তে যাচ্ছি ডিজিটাল বাংলাদেশ।] আমরা বাংলাদেশ কে আমেরিকার পুশু সমাজের মতো দেখতে চাই না। বরং আমরা বাংলাদেশ কে স্বভ জাতি হিসাবে দেখাতে চাই। আমেরিকার মতো হায়া লজ্জাহীন ভাবে বিশ্ববাসী কে দেখাতে চাইনা।

প্রতিবাদের অপর নাম শাহেদ কায়েস by সাজেদা হক

ভালো আছেন কবি শাহেদ কায়েস। হাতের কবজিতে ও ঘাড়ে দায়ের কোপ আর কিছু কিল-ঘুষির ব্যথা নিয়ে সোনারগাঁও সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন তিনি। চিকিৎসকরা বলছেন, আঘাত মারাত্মক, তবে আশঙ্কামুক্ত কবি।

কি কথা তাহার সাথে, তার সাথে? by অজয় দাশগুপ্ত

সকাল সকাল এয়ারপোর্ট যেতে হয়েছিল আজ। পরমাত্মীয়া যাচ্ছে বস-কান্ট্রি আমেরিকা সফরে। তাকে ছাড়তে সকালে টোস্ট চিবুতে চিবুতে চায়ের মগ হাতে দে-ছুট।

প্রভা হ্যাকিং করেন !

প্রভা হ্যাকিং করেন। এবং তিনি একটি হ্যাকার্স দলের হয়ে কাজ করেন। এটা কি বিশ্বাস করা যায়? বিশ্বাস করতে হয়। অভিনয়শিল্পীদের কত কিছুই করতে হয়। একটি হ্যাকার্স দলের গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে নাটক `হ্যাকার্স`।