Saturday, September 12, 2009

উরুমচিতে আবারও সিরিঞ্জ হামলা

ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা সত্ত্বেও গত কয়েক দিনে চীনের উরুমচি শহরে অনেকগুলো সিরিঞ্জ হামলা হয়েছে। সিরিঞ্জ হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ খবর জানায়।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জিনজিয়াং প্রদেশের রাজধানী উরুমচির পুলিশ জানায়, গত রোববার বিকেল থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত ৭৭টি সিরিঞ্জ হামলার খবর পেয়েছেন তাঁরা। দ্য চায়না ডেইলি পত্রিকা এই খবর জানায়। এর আগে কর্তৃপক্ষ ৫৩১টি সিরিঞ্জ হামলার খবর দিয়েছিল।
এ হামলা বন্ধে সরকারি পদক্ষেপের দাবিতে গত সপ্তাহে উরুমচিতে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায় হান চীনারা। বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে শহরে কয়েক হাজার সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কিন্তু এই কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেই সর্বশেষ এ হামলার ঘটনাগুলো ঘটল।
দ্য চায়না ডেইলি জানায়, সিরিঞ্জ হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরও ১০ জনেক গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়াল ৪৫ জনে।

গাজায় গণহত্যা চালিয়েছে ইসরায়েল: শাভেজ

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ বলেছেন, ইসরায়েল গত বছরের শেষ দিকে গাজায় গণহত্যা চালিয়েছে। ফরাসি পত্রিকা লা ফিগারোকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি এ কথা বলেন। গতকাল বুধবার ওই সাক্ষাত্কারটি প্রকাশিত হয়।
শাভেজ বলেন, ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের নিশ্চিহ্ন করতে চায় কি না এটা কোনো প্রশ্ন নয়। ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েল প্রকাশ্যে হামলা চালাচ্ছে এটাই মুখ্য। শাভেজ তাঁর মধ্যপ্রাচ্য ও আরব রাষ্ট্রগুলোতে সফর শেষে গাজা হামলা সম্পর্কে বলেন, ওই ঘটনাকে গণহত্যা ছাড়া আর কিই বা বলা যায়।

দক্ষিণ আফ্রিকায় কর্মজীবী মায়েদের অবলম্বন বেবি হোটেল

পাঁচ দিনের হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে এল কাঙ্ক্ষিত সাপ্তাহিক ছুটি। ছুটি উপভোগের জন্য করেছেন নানা পরিকল্পনা। সিনেমা ও নাটক দেখা থেকে শুরু করে অনেক কিছু। পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়তো কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গেলেন, সঙ্গে শিশু সন্তান। কিন্তু অনুষ্ঠানের মাঝপথে কেঁদে উঠল সে। আশপাশের দর্শকেরা বিরক্ত, আপনি বিব্রত। কিংবা ধরুন, অফিস শেষে বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আপনি। হঠাত্ ডাক পড়ল বসের কক্ষ থেকে। জরুরি কিছু কাজ করে দিতে হবে। সারা দিনের কাজ শেষে সন্তানের কাছে যাওয়ার জন্য তখন আপনার মন ছটফট করছে। আপনি উদ্বিগ্ন, কারণ সন্তানকে রেখে এসেছেন গৃহপরিচারিকার কাছে। কিন্তু উপায় নেই। কাজ শেষ করেই বাসায় যেতে হবে। তখন আপনার মনে হয়তো কাজ করবে অপরাধবোধ। চাকরির জন্য সন্তানের যথাযথ যত্ন করতে পারছেন না আপনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার এই ধরনের মায়েদের মুশকিল আসানে এগিয়ে এসেছে ‘বেবি হোটেল’। সন্তানকে ওই হোটেলে রেখে এখন একদম নিশ্চিন্ত মনে অফিস করছেন, কিংবা সাপ্তাহিক ছুটি উপভোগ করছেন অনেক মা।
কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার্থে চালু করা হয়েছে নতুন ধরনের এই বেবি হোটেল। হোটেলটি খোলা থাকে দিনে ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় সাধারণত নার্সারি বা ডে কেয়ার সেন্টারগুলোতে এক বা দুই ঘণ্টার জন্য সন্তান রাখা যায় না। সেখানে সন্তান রাখতে হলে পুরো দিনের জন্য রাখতে হবে। এক বা দুই ঘণ্টা রাখলেও গুনতে হবে পুরো দিনের টাকা। কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সন্তানকে নিতে না পারলে দিতে হয় কড়া জরিমানা। কিন্তু বেবি হোটেলে নেই এসব কড়াকড়ি।
অভিনব এই হোটেলের ভাবনাটি আসে ইসমে জেডউইননিস নামের এক নারীর। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিন সন্তানকে নিয়ে তিনি পড়েছিলেন অকূল পাথারে। সন্তানদের বাসায় রেখে কাজে যেতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তিনি। তখন তাঁর মাথায় আসে অভিনব এই ধারণাটি। যেই ভাবা সেই কাজ। ২০০৪ সালে এই বেবি হোটেল খুলে বসেন ইসমে জেডউইননিস।
হোটেলটির অবস্থান জোহানেসবার্গের উপকণ্ঠে অভিজাত মর্নিংসাইড এলাকায়। হোটেলটিতে রয়েছে ৫০টি শয্যা। শিশুদের দেখভালের জন্য রয়েছেন ১০ কর্মী। এক রাতের জন্য পরিশোধ করতে হয় ৫৪৫ র্যান্ড বা ৬৮ ডলার।
শেরি গালাজারর্ড, আট মাস বয়সী শিশু এমার মা। স্বামীর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন এই নারীর কাছে হোটেলটি পরমাত্মীয়ের মতো। কারণ তার শিশুর দেখভালে দায়িত্ব নিয়েছে বেবি হোটেল। একটি বহুজাতিক কোম্পানির হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা শেরি এখন একেবারেই নির্ভার। এখন একেবারে শেষ মুহূর্তেও তিনি গ্রহণ করতে পারেন ডিনারের কোনো আমন্ত্রণ। অপ্রত্যাশিত কোনো কারণে যদি কর্মস্থলে বেশি সময় ধরে থাকতে হয়, তাতেও তিনি নিরুদ্বিগ্ন। শেরি বলেন, মাসিক বাজারের জন্য শনিবার সকালে তাঁকে শপিংমলে যেতে হয়। কিন্তু ছোট্ট সন্তানকে নিয়ে শনিবার সকালে শপিংমলে যাওয়া বুদ্ধিমানের কোনো কাজ নয়। তাই সন্তানকে বেবি হোটেলে রেখেই তিনি বাজার করতে যান।
হোটেলটি আশীর্বাদ হয়ে এসেছে সাঈদ পরিবারের জন্যও। তসলিম সাঈদ বলেন, ‘সন্তানদের সারা দিন হোটেলে রেখে সন্ধ্যার দিকে নিয়ে যাই। সন্তানদের নিজের কাছে রাখতে পারি না। কারণ কাজ নিয়ে সারা দিন ছোটোছুটি করতে হয়। বেবি হোটেল আমাদের জন্য খুবই সহায়ক।’ গৃহপরিচারিকাদের ওপর একদমই আস্থা নেই তসলিমা সাঈদের। তিনি বলেন, ‘আমি চলে যাওয়ার পর তারা বসে বসে টেলিভিশন দেখে এবং নিজেদের কাজে ব্যস্ত থাকে। তারা আমার সন্তানের যত্ন নেয় না।’
এই অভিযোগ শুধু তসলিম সাঈদের নয়, দক্ষিণ আফ্রিকার অনেক মায়েরই। শুধু যত্ন-আত্তির বিষয় নয়, সারা দিন কাজের মানুষের কাছে পড়ে থাকলে সন্তানের শিক্ষা-দীক্ষার কী হবে? এই বিষয়টিও ভাবতে হচ্ছে মায়েদের। কারণ গৃহপরিচারিকার কাছে থাকা মানে হচ্ছে, শিক্ষা-দীক্ষা থেকে দূরে থাকা। মায়েদের এ ভাবনাটিও দূর করে দিচ্ছে বেবি হোটেল। শিশুদের শিক্ষা-দীক্ষার ব্যাপারে হোটেল কর্তৃপক্ষ খুবই সচেতন।
নবজাতকদের জন্যও ব্যবস্থা রয়েছে হোটেলটিতে। অধিকাংশ নার্সারিই তিন মাসের কম বয়সী শিশুদের গ্রহণ করে না, কিন্তু বেবি হোটেলে এর চেয়ে কমবয়সী শিশুদের রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরই মধ্যে হোটেলটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। চলতি বছরই পোর্ট এলিজাবেথে এর দ্বিতীয় শাখা খোলা হবে।

উরুমচিতে আবারও সিরিঞ্জ হামলা

ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা সত্ত্বেও গত কয়েক দিনে চীনের উরুমচি শহরে অনেকগুলো সিরিঞ্জ হামলা হয়েছে। সিরিঞ্জ হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ খবর জানায়।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জিনজিয়াং প্রদেশের রাজধানী উরুমচির পুলিশ জানায়, গত রোববার বিকেল থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত ৭৭টি সিরিঞ্জ হামলার খবর পেয়েছেন তাঁরা। দ্য চায়না ডেইলি পত্রিকা এই খবর জানায়। এর আগে কর্তৃপক্ষ ৫৩১টি সিরিঞ্জ হামলার খবর দিয়েছিল।
এ হামলা বন্ধে সরকারি পদক্ষেপের দাবিতে গত সপ্তাহে উরুমচিতে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায় হান চীনারা। বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে শহরে কয়েক হাজার সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কিন্তু এই কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেই সর্বশেষ এ হামলার ঘটনাগুলো ঘটল।
দ্য চায়না ডেইলি জানায়, সিরিঞ্জ হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরও ১০ জনেক গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়াল ৪৫ জনে।

জেট এয়ারওয়েজের পাইলটদের গণছুটি, আরও ফ্লাইট বাতিল

দুই সহকর্মীকে বরখাস্ত করার প্রতিবাদে গণনৈমিত্তিক ছুটি নিয়েছেন ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বেসরকারি বিমান সংস্থা জেট এয়ারওয়েজের পাইলটরা। এ কারণে গতকাল বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো ১০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে বিমান সংস্থাটি।
গত মঙ্গলবারও ১৮৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ১৫৪টি ছিল অভ্যন্তরীণ এবং ৩২টি আন্তর্জাতিক। যাত্রা বাতিলের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েন প্রায় ১৩ হাজার যাত্রী।
বরখাস্ত দুই পাইলটের পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে পাইলটদের সংগঠন দ্য ন্যাশনাল এভিয়েশন গিল্ড (এনএজি)। সংগঠনটি বলেছে, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।
ট্রেড ইউনিয়ন এনএজি গঠন করার পর জেট এয়ারওয়েজের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ দুই পাইলট ক্যাপ্টেন স্যাম থমাস এবং ক্যাপ্টেন বলরামনকে বরখাস্ত করা হয়।

উ. কোরিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বাঁধ খুলে দিয়েছে: সিউল

উত্তর কোরিয়া সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃতভাবে দুই দেশের সীমান্তবর্তী ইমজিন নদীতে হাওংগং বাঁধ খুলে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। গত রোববার কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই ওই বাঁধ খুলে দেওয়ার ফলে বন্যার পানিতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং অন্তত ছয়জনের প্রাণহানি ঘটে। এ ঘটনায় প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
পার্লামেন্টে এক প্রশ্নের জবাবে দক্ষিণ কোরিয়ার পুনরেকত্রীকরণমন্ত্রী হাইয়ুন ইন তায়েক গতকাল বুধবার বলেন, ‘আমি মনে করি, উত্তর কোরিয়া সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃতভাবে বাঁধটি খুলে দিয়েছে।’ তিনি এও বলেন, পিয়ংইয়ং বাঁধ খুলে দেওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট স্বীকার করেছে। এতে বোঝা যায়, বাঁধ খুলে দেওয়ার ঘটনা কোনো দুর্ঘটনা ছিল না কিংবা ভুল করেও তা ঘটেনি।
এর আগে সিউল এ ঘটনার জন্য পিয়ংইয়ংকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে এবং এ ব্যাপারে তাদের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাও জানতে চেয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তর কোরিয়া বলেছে, বাঁধের অভ্যন্তরে পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় তারা এটি ‘জরুরি ভিত্তিতে’ খুলে দিতে বাধ্য হয়েছে।
সিউলের ভূমি মন্ত্রণালয় বলেছে, গত রোববার হাওংগং বাঁধ খুলে পিয়ংইয়ং চার কোটি কিউবিক মিটার পানি ছেড়েছে। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিশাল এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
জুংআং নামে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি দৈনিক বলেছে, ‘বিনা নোটিশে বাঁধ খুলে দিয়ে উত্তর কোরিয়া আমাদের মনে এ আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে যে তারা হাওংগং বাঁধকে সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে।’
দ্য কোরিয়া হেরাল্ড ‘এটা কী ইচ্ছাকৃত নয়?’ শিরোনামে একটি সম্পাদকীয় ছেপেছে।

মার্কিন উদাসীনতার সুযোগে পারমাণবিক বোমা তৈরি করে পাকিস্তান

পাকিস্তানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জনক বিজ্ঞানী আবদুল কাদির খান বলেছেন, আশির দশকে আফগান যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার কারণে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে উদাসীন ছিল। এই সুযোগে পাকিস্তান ১৯৮৩ সালেই পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে সমর্থ হয়। পাকিস্তানের একটি উর্দু টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাত্কারে কাদির খান এ কথা বলেন।
কাদির খান পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচির প্রাথমিক দিনগুলোর স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘আমার মনে হয়, আফগান যুদ্ধ পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচিকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তানের পারমাণবিক বোমার ব্যাপারে যাবতীয় কৃতিত্ব আমার দলকে দিতেই হবে। কারণ ওটা ছিল খুবই কঠিন একটা কাজ। প্রায় অসম্ভব একটা কাজ। তবে এটা সত্যি যে ওই সময় আফগান যুদ্ধ না হলে আমাদের পক্ষে এত দ্রুত পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব হতো না।’
উর্দু চ্যানেলে গত ৩১ আগস্ট কাদির খানের সাক্ষাত্কারটি প্রচারিত হয়। সেই সাক্ষাত্কারটি ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয় পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগে। অনুবাদটি সাধারণ মানুষের জন্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে এর একটি কপি যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীদের সংস্থার (এফএএস) হাতে পৌঁছেছে।
পাকিস্তান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি গ্রহণের মাত্র ছয় বছরের মধ্যেই পারমাণবিক পরীক্ষার পর্যায়ে পৌঁছে যায়। ১৯৭৮ সালের ৬ এপ্রিল পাকিস্তান প্রথম এই কর্মসূচি হাতে নেয়। এর মাত্র ছয় বছরের মাথায় ১৯৮৩ সালের গোড়ার দিকে পারমাণবিক বোমা তৈরির পথে প্রায় ৯০ ভাগ অগ্রসর হয়ে যায় দেশটি। বিজ্ঞানী কাদির খান ১৯৮৪ সালের ১০ ডিসেম্বর পাকিস্তানের তত্কালীন প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউল হককে একটি চিঠি লেখেন। সেখানে তিনি জেনারেল জিয়ার কাছে পারমাণবিক পরীক্ষার ব্যাপারে অনুমতি প্রার্থনা করেন। কারণ সে সময় মাত্র এক সপ্তাহের নোটিশে পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা করা পাকিস্তানের পক্ষে সম্ভব ছিল। কিন্তু জিয়াউল হক সে সময় পারমাণবিক পরীক্ষা না করার সিদ্ধান্ত নেন।
পারমাণবিক পরীক্ষার বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হকের সে সময়কার অবস্থানের ব্যাপারে কাদির খান বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া সে সময় পাকিস্তানের পারমাণবিক পরীক্ষার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বিশ্বজনমত এবং প্রতিক্রিয়ার কথা অনুধাবন করতে পেরে পিছিয়ে যান।’ কাদির খান আরও বলেন, ‘সে সময় পাকিস্তান আফগান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করছিল। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রচুর সাহায্য পাচ্ছিল। তাই প্রেসিডেন্ট জিয়া সে সময় পারমাণবিক পরীক্ষা না করে এই কর্মসূচিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দেন।’
পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচির খরচ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যাপারে কাদির খান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ইউরোপে বসবাস করার কারণে পারমাণবিক গবেষণার যন্ত্রপাতি কোথায় কীভাবে ব্যবহার করা হয়, কীভাবে তৈরি হয় সে সম্পর্কে আমি ভালোই জানতাম। সে সময় পাকিস্তানকে তারা ওই সব যন্ত্রপাতি দিতে চাইত না। আমি অন্যান্য দেশের মাধ্যমে পাকিস্তানের জন্য ওই উপকরণগুলো সংগ্রহ করি।’ পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচির উপকরণের জোগান আর ইরান ও লিবিয়ার পরমাণু কর্মসূচির উপকরণের জোগান একই মাধ্যমে হয়েছে বলে কাদির খান স্বীকার করেন।

নগদ সহায়তার ৭০% অর্থ নিরীক্ষার আগেই ছাড় করার নির্দেশ -বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার

রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তার অর্থ দ্রুত ছাড় করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে গতকাল বুধবার ব্যাংকগুলোকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
নির্দেশ অনুসারে, এখন থেকে নিরীক্ষার আগেই প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হলে ৭০ ভাগ অর্থ তাত্ক্ষণিকভাবে ছাড় করতে হবে। এই অর্থের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক পরের কর্মদিবসেই পুনঃ অর্থায়ন করবে। অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ অর্থ নিরীক্ষা শেষে দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, নিট পোশাক মালিক সমিতি বিকেএমইএ গত ৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে দেখা করে নিরীক্ষার আগেই ৭০ ভাগ নগদ সহায়তার অর্থ ছাড় করার দাবি তোলে। বাকি অর্থ নিরীক্ষার পর দেওয়ার দাবি করা হয়।
অর্থমন্ত্রী বিকেএমইএর এই দাবিতে সম্মত হন। তিনি আশ্বস্ত করেন, এখন থেকে এভাবেই অর্থ ছাড় করা হবে। তিনি আরও বলেন, এর জন্য প্রয়োজনে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকার তহবিল বাংলাদেশ ব্যাংককে আগাম জোগান দিয়ে রাখা হবে।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল সার্কুলারে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, নগদ সহায়তা অনিয়মিতভাবে পরিশোধ করা হলে পরে তা সুদসহ কেটে নেওয়া হবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, নগদ সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ গ্রহীতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চিনিকলের আধা কিলোমিটারেই প্রতি কেজিতে পার্থক্য ১৯ টাকা

রাজশাহী চিনিকল গেটে বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৩৩ টাকায়। অথচ সেখান থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে কাঁটাখালী বাজারে একই চিনি বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকা কেজি দরে। আশপাশের বাজারগুলোতেও একই দরে বিক্রি হচ্ছে।
সরকারি চিনিকলের সাশ্রয়ী দরে বিক্রি করা চিনি মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে এসেই কেজিপ্রতি ১৯ টাকা বেশিতে বিক্রি হওয়ায় ক্রেতাসাধারণ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
এদিকে ডিলাররা দাবি করছেন, তাঁরা চাহিদা অনুযায়ী মিল থেকে চিনি পাচ্ছেন না বলে জনগণকে কম দামে দেওয়া যাচ্ছে না।
রাজশাহী চিনিকল সূত্র জানিয়েছে, তাদের গুদামে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ৪০৩ মেট্রিক টন চিনি অবিক্রীত রয়েছে, মিল গেটে যা নির্ধারিত ডিলারদের কাছে ৩৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বেসরকারি চিনিকলগুলো ডিলারদের কাছে ৪০ টাকা কেজি দরে চিনি বিক্রি করছে। তবে ডিলাররা সরকারি-বেসরকারি উভয় চিনিকল থেকে নেওয়া চিনিই বাজারে ৫২ টাকা দরে বিক্রি করছেন।
রাজশাহী চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, এর আওতায় বিভাগীয় শহরটিতে মোট ৩৩ জন ডিলার রয়েছেন। যাঁরা প্রতি মাসে এক টন করে বছরে পাঁচ থেকে ছয় মাস চিনি বরাদ্দ পান।
কাঁটাখালী বাজারে গত মঙ্গলবার দেখা গেছে, খুচরাপর্যায়ে ছোটখাটো দোকানগুলো প্রতি কেজি চিনি ৫২ টাকা আর পাইকারি বিক্রেতারা ৫১ টাকা দরে বিক্রি করছেন।
ব্যবসায়ী-ডিলাররা জানান, রাজশাহী শহরে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৫০ মেট্রিক টন আর গোটা জেলায় ১০০ থেকে ১৫০ মেট্রিক টন চিনির চাহিদা রয়েছে।
রাজশাহী চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকারি চিনিকলের চিনি সাশ্রয়ী মূল্যে দেওয়া সরকারের সিদ্ধান্তটি প্রশংসনীয়। কিন্তু বেসরকারি চিনিকলের চিনির দাম বেশি ধরার কারণে জনগণ এই সুবিধাটি ভোগ করতে পারছে না।

অর্থবছরের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক হয়নি

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও সরকার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা চূড়ান্ত করতে পারেনি।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) থেকে প্রাথমিক রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা এক মাসের বেশি সময় আগে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি। আর কবে নাগাদ চূড়ান্ত হবে, তা এখনো কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেনি।
তবে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা চূড়ান্ত করা না হলেও ইপিবি গত রোববার ২০০৯-১০ অর্থবছরের জুলাই মাসের রপ্তানির তথ্য প্রকাশ করেছে।
এতে দেখা যায়, জুলাইয়ে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয় আগের ২০০৮-০৯ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ কমেছে। এ মাসে দেশ থেকে মোট ১৪৩ কোটি ৮১ লাখ ৮০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। আর আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ১৫৩ কোটি ৩০ লাখ ৯০ হাজার ডলারের পণ্য।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইপিবি প্রাথমিক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের জন্য বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করে। সর্বশেষ ২৯ জুলাই বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করে প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এরপর তা চূড়ান্ত করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়।
ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯-১০ অর্থবছরের জন্য ১৩ শতাংশ হারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এতে চলতি অর্থবছরের জন্য এক হাজার ৭৫৮ কোটির ৮৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আগের ২০০৮-০৯ অর্থবছরে মোট রপ্তানির পরিমাণ ছিল এক হাজার ৫৫৬ কোটি ৫১ লাখ ৯০ হাজার ডলার।
পণ্যভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে প্রাথমিকভাবে ওভেন পোশাকের ৬৬৮ কোটি ৭৯ লাখ ডলার, নিট পোশাকের ৭২৯ কোটি ৭২ লাখ ডলার, হিমায়িত খাদ্যের ৪৬ কোটি ৮২ লাখ ডলার, পাদুকার ২০ কোটি ৫৬ লাখ, কাঁচা পাটের ১৫ কোটি ৫৬ লাখ ডলার, পাট পণ্যের ২৭ কোটি ৭৩ লাখ ডলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া হোম টেক্সটাইলের ৩৫ কোটি ১১ লাখ ডলার, টেরিটাওয়েলের ১৪ কোটি ৩২ লাখ ডলার, হস্তশিল্প ৭২ লাখ ১০ হাজার ডলার, টেক্সটাইল ফেব্রিকস আট কোটি ৭৮ লাখ ডলার, প্রকৌশল দ্রব্য ২২ কোটি ৭৪ লাখ ডলার, কৃষিজাত পণ্যের ১৩ কোটি ডলার, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য ১৩ কোটি ৬৬ লাখ ডলার, সিরামিক পণ্য তিন কোটি ৬৫ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

বেকহাম ফিরবেন প্রিমিয়ার লিগে

ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপের চূড়ান্তপর্বে খেলতে হলে নিজেকে কী করতে হবে তা ভালোই বুঝে গেছেন ডেভিড বেকহাম। তাই নভেম্বরে আমেরিকান মেজর লিগ সকার মৌসুম শেষেই ইউরোপীয় কোনো পেশাদার লিগে ফিরে আসার পরিকল্পনা ইংলিশ এই মিডফিল্ডারের।
ইংল্যান্ড দলের হয়ে ১১৩টি ম্যাচ খেলা বেকহামের জন্য এসি মিলানের দরজা একরকম খোলাই আছে। তবে মিলানই শুধু তাঁর সম্ভাব্য ঠিকানা নয়। ম্যানচেস্টার সিটি, টটেনহাম, আর্সেনালের মতো ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দলগুলোও আগ্রহী তাঁকে পেতে। বেকহামের ভাষায়, ‘আমার কিছু পরিকল্পনা আছে। মিলান ফিরে পেতে চায় আমাকে। এতে আমি খুব খুশি। কিন্তু আমার সামনে বিকল্পও আছে। সময় এলেই সিদ্ধান্ত নেব আমি। ইংল্যান্ডের তিন-চারটি ক্লাব এরই মধ্যে প্রস্তাব দিয়েছে আমাকে।

দুবাই যাচ্ছেন ফ্লিনটফ

ইনজুরি পুনর্বাসন-প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দুবাই যাচ্ছেন অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মরু শহরে তিন মাস থাকবেন এই ইংলিশ অলরাউন্ডার। উষ্ণ আবহাওয়ায় পুনর্বাসন-প্রক্রিয়া সহজ হয়, এ জন্যই মূলত তাঁর দুবাই যাওয়া। তবে দুবাইকে বেছে নেওয়ার আরও একটি কারণ এক জায়গাতেই সব সুযোগ-সুবিধা পেয়ে যাওয়া, ‘আমি অন্তত ছয় সপ্তাহ গাড়ি চালাতে পারব না, ইংল্যান্ডে থাকলে তাই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে আমাকে অন্যের ওপর নির্ভর করতে হবে। আর দুবাইয়ে আমি যেখানে থাকছি সেই অ্যাপার্টমেন্টেই আছে জিমনেসিয়াম, সবকিছুই হাতের নাগালে।’
এই সুযোগে পরিবারের সঙ্গে কিছুটা ঘনিষ্ঠ সময় কাটাতে পারবেন ভেবেও খুশি ফ্লিনটফ, ‘কঠিন একটা গ্রীষ্মের পর পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগও পাচ্ছি। দুবাইয়ের সময়টা আমাকে আরও চাঙা করে তুলবে।’ অ্যাশেজ জয়ের পরই ডান হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হয় ফ্লিনটফের। গত সপ্তাহে ডিপ ভেইন থ্রম্বসিস (ডিভিটি) ধরা পড়ার পর ৩১ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার বলেছিলেন, আর হয়তো মাঠে ফেরা নাও হতে পারে তাঁর। সূত্র অবশ্য বলছে, পুরোপুরি সুস্থ হতে ফ্লিনটফের মাস ছয়েক লেগে যেতে পারে। ইনজুরির পুনর্বাসনের জন্য দেশের বাইরে যাওয়া ফ্লিনটফের জন্য নতুন কিছু নয়। বছর তিনেক আগে গোড়ালির ইনজুরির পর ফ্লোরিডায় গিয়েছিলেন তিনি।

এ কোন সেমেনিয়া

কোঁকড়ানো কালো চুল। হালকা লিপস্টিক দেওয়া ঠোঁটে উজ্জ্বল হাসির দীপ্তি ছড়ানো। পরনে মিশমিশে কালো পোশাক। গলায় বড় চেইন। এক হাতে এক গাছি সোনার চুড়ি। কে বলে, কাস্টার সেমেনিয়া পুরুষদের মতো দেখতে? নিন্দুকেরা পারলে একবার দেখে নিক দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বাধিক প্রচারিত ম্যাগাজিন ইউ-এর এবারকার প্রচ্ছদ। যেখানে এভাবেই সেজেগুজে হাজির দক্ষিণ আফ্রিকার এই নারী দৌড়বিদ। গত বার্লিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে যাকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক—কাস্টার কি আসলেই নারী?
মেয়েদের ৮০০ মিটার দৌড়ে বাকি সব প্রতিদ্বন্দ্বীকে অনেক পেছনে ফেলে সোনা জেতার পর থেকেই শুরু বিতর্কের। পরশু আরও একটি জয় হয়েছে এই ১৮ বছর বয়সী তরুণীর। আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিকস সংস্থা (আইএএএফ) জানিয়ে দিয়েছে, লিঙ্গ পরীক্ষার ফল যা-ই হোক না কেন, সেমেনিয়ার পদক তারা কেড়ে নেবে না। অথচ এই বিতর্কের ঝড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার অ্যাথলেটিকস কোচ উইলফ্রেড ড্যানিয়েলস পর্যন্ত পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন।
ইউ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে তো বটেই, তাঁর নারীত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা নিন্দুকদের পাল্টা জবাব সেমেনিয়া দিয়েছেন ভেতরের ‘স্টোরি’তেও। সেখানে তিনি বলেছেন, তাঁর জেন্ডার পরীক্ষা স্রেফ একটা কৌতুক, ‘আমি এটাকে কৌতুক হিসেবেই দেখি। এটা আমাকে মোটেও বিব্রত করেনি। আমাকে ঈশ্বরই এভাবে বানিয়েছেন। এবং আমি সেটা মেনেও নিয়েছি। আমি যা, আমি তা-ই এবং আমি নিজেকে নিয়ে গর্বিত।’
তবে সেমেনিয়াকে শেষ পর্যন্ত লিঙ্গ পরীক্ষা দিতেই হচ্ছে। যদিও এ নিয়ে তিনি মোটেও ভাবিত নন, ‘আমি এই সব পরীক্ষা নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। এমনকি আমি এসব নিয়ে মোটেও ভাবি না।’
কিন্তু তাঁকে ঘিরে যে বিতর্কের ঝড় উঠে গেল তাতে তাঁর হূদয়ে কি একটুও আঁচড় পড়েনি? দৃঢ়প্রত্যয়ের সুরে বললেন, ‘আমি যখন বার্লিনে ছিলাম, তখনই আমার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের বলেছিলাম, আমাকে নিয়ে লোকে কী সব বলছে। আমি তাদের এসব কথায় কান না দিতে বলেছিলাম। তারা তো আমাকে চেনে। তারা জানে, আমি আসলে কী।’
তবে সবচেয়ে খাঁটি কথাটি বলেছে পরামর্শক দল ‘জেন্ডার লিঙ্কসে’র কলিন মরনা। তিনি বলছেন, ‘কাস্টারকে কাস্টার হয়েই থাকতে দিন।’

ফুটবল একাডেমি খুলছেন জিদান

খেলোয়াড়ি জীবনে ইতি টানার সময়ই বলেছিলেন—ফুটবলের সঙ্গে থাকবেন চিরকাল। একটা স্পোর্টস কমপ্লেক্স হবে, সেখানে শিশুদের ফুটবল নিয়ে কাজ করবেন—জিনেদিন জিদানের এই স্বপ্ন অনেক দিনের। স্বপ্ন পূরণের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন তিনি পেয়ে গেছেন অ্যাইক্স-এন-প্রভেন্সের মেয়রের কাছ থেকে। দক্ষিণ ফ্রান্সের অ্যাইক্স-এন-প্রভেন্সের কাছেই হতে যাচ্ছে তাঁর স্বপ্নের স্পোর্টস কমপ্লেক্স।
শিশুদের ফুটবল নিয়ে জিদান আরও আগে থেকেই কাজ করছেন। ২০০৬ সালে ফুটবলকে ‘বিদায়’ বলার পর জিদান ভাই এবং বন্ধুদের সঙ্গে একটি প্রকল্প চালাতেন মার্শেই এবং এর আশপাশে। বার্তা সংস্থা এএফপির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সেটা জানিয়ে জিদান বলেছেন, ‘আমার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমি ফুটবল ও শিশুদের জন্য এ অঞ্চলে কিছু করতে চেয়েছি।’
সাবেক জুভেন্টাস ও রিয়াল মাদ্রিদ তারকার ইচ্ছে ছিল তাঁর কমপ্লেক্সটি মার্শেইয়েই করবেন। কিন্তু পছন্দমতো কোনো জায়গা না পাওয়ায় সেটা হয়নি। এডিডাসের সঙ্গে যৌথ মালিকানায় ৪ মিলিয়ন ইউরোর কমপ্লেক্সটি তাই হচ্ছে অ্যাইক্স-এন-প্রভেন্সের কাছে মিলেসে। কমপ্লেক্সটিতে সাতটি ফুটবল অঞ্চল, একটি মূল স্টেডিয়ামের সঙ্গে থাকছে একটি ফিটনেস জোন ও রেস্তোরাঁ। আগামী বছরের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই সব কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঝুলে থাকল প্রধান নির্বাহী নিয়োগ

চার ঘণ্টার সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে মাত্র পাঁচটি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের দশম সভা কাল মুলতবি হয়ে গেছে এর পরই। আগামী ১৪ বা ১৫ সেপ্টেম্বর হবে সভার বাকি অংশ।
সিদ্ধান্ত যেগুলো নেওয়া হয়েছে সেগুলোও মোটামুটি আগেই ঠিক করা। জাতীয় দলের অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসানের মেয়াদ বেড়েছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় হোম সিরিজ পর্যন্ত। সভা শেষে বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস জানিয়েছেন, ফিটনেস সমস্যার কারণেই আপাতত লম্বা সময়ের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না তাঁদের। তবে ফিটনেস সাপেক্ষে মাশরাফি-সাকিবের মেয়াদ আবার বাড়ানো হতে পারে।
মেয়াদ বেড়েছে কোচ জেমি সিডন্সেরও। আগামী নভেম্বরে বর্তমান চুক্তি শেষ হলেও এই অস্ট্রেলিয়ানের চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০১১ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। সিডন্স অস্ট্রেলিয়া থেকে ঢাকায় ফিরলে নতুন চুক্তি হবে। ‘সিডন্স বাংলাদেশ দলের সঙ্গে দুই বছর কাজ করেছেন। দল সম্পর্কে তাঁর ভালো একটা ধারণাও তৈরি হয়েছে। আমরা তাই সিডন্সকে আরও একটা সুযোগ দিতে চাচ্ছি’—বলেছেন জালাল ইউনুস। ঢাকায় ফেরার পর কোচের কাছে ফিটনেস-সংক্রান্ত কাগজপত্র চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ায় কিছুদিন আগে সিডন্সের ত্বকের ক্যান্সারের অস্ত্রোপচার হয়েছে।
২০১০ সালের মে-জুনে ইংল্যান্ড সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রথম দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলার প্রস্তাব দিয়েছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। আইসিসির অনুমোদন সাপেক্ষে এ প্রস্তাবে সম্মতি জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। এ ছাড়া সভায় রফিকুল আলমের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটির মেয়াদ ২০১০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অনুমোদন হয়েছে। অনুমোদন হয়েছে নতুন প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্তও।
কিন্তু বহুল আলোচিত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্তটি ঝুলে থাকল গতকালের সভার পরও। বিসিবি সূত্র জানিয়েছে, সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বোর্ড সভাপতি ও বিসিবির নিয়োগ কমিটির সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের বিশেষ কমিটিকে। বোর্ড পরিচালকদের মতের ভিন্নতার কারণেই নাকি গুরুত্বপূর্ণ এই পদে নিয়োগ বিলম্বিত হচ্ছে। সংক্ষিপ্ত তালিকার কারও ব্যাপারেই সন্তুষ্ট হতে পারছে না বোর্ড। আলোচনায় কারও পক্ষেই কোনো বোর্ড পরিচালক মতামত দেননি। জানা গেছে, সংক্ষিপ্ত তালিকার কাউকেই যোগ্য মনে না হলে বোর্ড এর বাইরে থেকেও যোগ্য প্রধান নির্বাহী খুঁজতে পারে।
সিদ্ধান্ত হয়নি জাতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্ট, টিম স্পনসর, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক-সহ-অধিনায়ক নির্বাচনসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারেই। মিডিয়া কমিটির প্রধানের আশা, মুলতবি সভাতে এসব ব্যাপারে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবেন তাঁরা।