Thursday, March 13, 2025

তিন মাসে প্রায় ৫ হাজার কোটিপতি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বেড়েছে

অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে অর্থাৎ গত তিন মাসে ব্যাংকগুলোতে কোটিপতি অ্যাকাউন্ট বা হিসাবধারীর সংখ্যা বেড়েছে ৪ হাজার ৯৫৪টি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক অস্থিরতায় অনেকেই ব্যাংক থেকে আমানত তুলে নিতে থাকেন। ফলে কমে যায় কোটিপতিদের সংখ্যা। তবে দেশের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা কমে আসতে শুরু করায় মানুষের হাতে থাকা অর্থ ব্যাংকে ফিরতে শুরু করেছে। ফলে কোটিপ্রতি হিসাবধারী সংখ্যা বাড়ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে মোট অ্যাকাউন্টের (হিসাব) সংখ্যা ১৬ কোটি ৩২ লাখ ৪৭ হাজার ৫৩২টি। এসব হিসাবে মোট আমানতের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৮৩ হাজার ৭১১ কোটি টাকা। গত সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে মোট অ্যাকাউন্টের (হিসাব) সংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ২০ লাখ ২৮ হাজার ২৫৫টি। এসব হিসাবে জমা ছিল ১৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৩ কোটি টাকা। সেই অনুযায়ী তিন মাসে ব্যাংক খাতের হিসাব সংখ্যা বেড়েছে ১২ লাখ ১৯ হাজার ২৭৭টি আর আমানতের পরিমাণ বেড়েছে ৪৫ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোটি টাকার হিসাব মানেই কোটিপতি ব্যক্তির হিসাব নয়। কারণ ব্যাংকে এক কোটি টাকার বেশি অর্থ রাখার তালিকায় ব্যক্তি ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। আবার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কতটি ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবে, তার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। ফলে এক প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির একাধিক অ্যাকাউন্টও রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কোটি টাকার হিসাবও রয়েছে।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ডিসেম্বর শেষে এক কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে এমন ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৮১টি। তিন মাসে আগে (সেপ্টেম্বর শেষে) ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ১২৭টি। সে হিসাবে তিন মাসের ব্যবধানে কোটিপতি হিসাব সংখ্যা বেড়েছে ৪ হাজার ৯৫৪ টি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে দেশে কোটি টাকার আমানতকারী ছিলেন মাত্র ৫ জন। ১৯৭৫ সালে তা বেড়ে ৪৭ জনে উন্নীত হয়। ১৯৮০ সালে কোটি টাকার হিসাবধারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৮টি। ১৯৯০ সালে কোটি টাকার হিসাবধারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪টি, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭টি এবং ২০০৮ সালে ছিল ১৯ হাজার ১৬৩টি।

২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৩ হাজার ৮৯০টি, ২০২১ সালের ডিসেম্বর বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ১৯৭৬টিতে। এরপর ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কোটি টাকার হিসাবধারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় এক লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দাঁড়ায় এক লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টিতে এবং গত জুনে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় এক লাখ ১৮ হাজার ৭৮৪টিতে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সেই হিসাবের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১৭ হাজার ১২৭টিতে। আর সবশেষ ডিসেম্বর শেষে কোটি টাকার হিসাবধারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৮১টি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি আমানতকারী ছিল ৫ জন, ১৯৭৫ সালে তা ৪৭ জনে উন্নীত হয়। ১৯৮০ সালে কোটিপতি হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ৯৮টি। এরপর ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪ জন, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭টি এবং ২০০৮ সালে ছিল ১৯ হাজার ১৬৩টি।

২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে কোটি টাকা আমানতকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৩ হাজার ৮৯০টি। ২০২১ সালের ডিসেম্বর বেড়ে তা দাঁড়ায় ১ লাখ ১৯৭৬টিতে। ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সেই হিসাবের সংখ্যা ছিল এক লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দাঁড়ায় এক লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টিতে। গত বছরের জুনে এমন হিসাবের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় এক লাখ ১৮ হাজার ৭৮৪টিতে, সেপ্টেম্বরে এক লাখ ১৭ হাজার ১২৭টিতে এবং ডিসেম্বরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২২ হাজার ৮১টিতে।

mzamin

ট্রাম্পের গাজা খালি করার পরিকল্পনা থেকে সরে আসাকে স্বাগত জানাল হামাস

গাজা উপত্যকা খালি করতে ফিলিস্তিনিদের বের করে দেওয়ার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা থেকে সরে আসার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে হামাস। এর আগে গাজার ২০ লাখের বেশি বাসিন্দাকে পাকাপাকিভাবে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প গতকাল বুধবার বলেন, ‘গাজা থেকে কোনো ফিলিস্তিনিকে কেউ সরিয়ে নেবে না।’ এদিন ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে পাশে নিয়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

এর পরপরই বিবৃতি দিয়ে ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে স্বাগত জানায় হামাস। বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠনটির মুখপাত্র হাজেম কাসেমি বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য গাজা উপত্যকার জনগণকে বাস্তুচ্যুত করার ধারণা থেকে সরে আসার প্রতিনিধিত্ব করে, তাহলে তাদের স্বাগত জানানো হবে।’

হামাসের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা ইসরায়েলি দখলদারত্বকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির সব শর্ত বাস্তবায়নে বাধ্য করার মাধ্যমে এই অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানাই।’

গত মাসে ট্রাম্প তাঁর প্রস্তাব সামনে এনেছিলেন। বলেছিলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার নিয়ন্ত্রণ নেবে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানকার ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীকে পাকাপাকিভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোয় পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের আকস্মিক এমন প্রস্তাবে পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরেও ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

গাজার পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনার জন্য গতকাল আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা কাতারে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেন। এতে ট্রাম্পের পরিকল্পনার স্পষ্ট বিরোধিতা করা হয়।

বৈঠকে কাতার, জর্ডান, মিসর, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এবং প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) মহাসচিব অংশ নেন। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গাজার পুনর্গঠন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। মিসরের কায়রোয় ৪ মার্চ আরব লীগের সম্মেলনে এই পরিকল্পনা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

গত শনিবার ৫৭ সদস্যের ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) ট্রাম্পের গাজা দখল এবং এখানকার বাসিন্দাদের বাস্তুচ্যুত করার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আরব লিগের বিকল্প প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে। সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসির এক জরুরি বৈঠক শেষে এ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। মিসরের উদ্যোগে বিকল্প প্রস্তাবটি সামনে এসেছে।

কাতারের দোহায় গত মঙ্গলবার নতুন করে যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা জানিয়ে হামাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা আশা করছি, চলমান আলোচনায় দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতির দিকে দৃশ্যমান অগ্রগতির সূচনা হবে।’

যুদ্ধবিরতির আলোচনার জন্য ইসরায়েলও প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে। তবে দেশটি দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে প্রথম ধাপের মেয়াদ বাড়িয়ে বাকি জিম্মিদের মুক্ত করতে চায়।

এ আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্র। আলোচনায় যোগ দিতে মঙ্গলবার দোহায় পৌঁছান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ।

টানা যুদ্ধে ফিলিস্তিনের গাজা এখন কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে
টানা যুদ্ধে ফিলিস্তিনের গাজা এখন কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ফাইল ছবি: রয়টার্স

গ্রিনল্যান্ডের নির্বাচনে জয়জয়কার ট্রাম্প বিরোধীদের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে ডনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, ‘প্রতিবেশী’ গ্রিনল্যান্ডকে আমেরিকার অধীনে আনবেন তিনি। দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসার পরেও সেই কথা শোনা গেছে রিপাবলিকান এই নেতার মুখে। কিন্তু সেই দ্বীপের নির্বাচনেই ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প। তার বিরোধী মতাদর্শে বিশ্বাসী ডেমোক্র্যাটস পার্টি বিপুল সাফল্য পেল গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্টের নির্বাচনে। ৩১টি আসনের মধ্যে ১০টিই গেছে তাদের দখলে।

উল্লেখ্য, স্বায়ত্তশাসিত হলেও গ্রিনল্যান্ড রয়েছে ডেনমার্কের অধীনে। ৩১ আসনের গ্রিনল্যান্ড পার্লামেন্টের নির্বাচনে ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৪৪ হাজার। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ‘ম্যাজিক ফিগার’ হলো ১৬। এবারে নির্বাচনে মোট ছ’টি দলের প্রার্থীরা লড়ছেন। ঘটনাচক্রে, তার মধ্যে চারটি দলই ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গ্রিনল্যান্ডের পূর্ণ স্বাধীনতার পক্ষে। ২০১৮ সালের পার্লামেন্টের ভোটে জিতে গ্রিনল্যান্ডে ক্ষমতা দখল করেছিল কমিউনিটি অফ দ্য পিপল (আইএ) এবং ফরোয়ার্ড (এস) দলের জোট সরকার। প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন আইএ নেতা মিউটে এগেদে।

এবারের ফলাফল প্রকাশ্যে আসতে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি আসন গিয়েছে ডেমোক্র্যাটস পার্টির ঝুলিতে। উল্লেখ্য, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের কথা বললে সবচেয়ে বেশি প্রতিবাদ এই দলটিই করেছিল। তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি তারা। আটটি আসন পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্বাধীনতাকামী নালেরাক পার্টি। তৃতীয় স্থানে প্রধানমন্ত্রী মিউটে এগেদের দল আইএ। অর্থাৎ, ২০১৮ সালের পর ফের জোট সরকারই গ্রিনল্যান্ডে ক্ষমতা দখল করতে চলেছে।

ডেনমার্কের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ৫৬ হাজার জনসংখ্যার ‘বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ’ এই গ্রিনল্যান্ড। নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো পরিচালনা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত দায়িত্ব দ্বীপটির স্বায়ত্তশাসিত কর্তৃপক্ষ পালন করেন। আর বিদেশ এবং প্রতিরক্ষানীতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো নেয় ডেনমার্ক সরকার।

গত সপ্তাহেই মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেয়ার সময় ট্রাম্পের হুঙ্কার ছিল, যেকোনো উপায়ে হোক পানামা গ্রিনল্যান্ডের দখল নেবেন। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে গ্রিনল্যান্ডবাসী বেছে নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরোধীকেই।

জয়ী ডেমোক্র্যাট নেতারা পাবলিক ব্রডকাস্টার কেএনআরকে জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্ত আচরণ করতে হবে। বিশ্বব্যাপী যখন বড় উন্নয়ন ঘটছে, তখন তাদের একসঙ্গে দাঁড়ানো উচিত এবং এক সুরে কথা বলা উচিত।

সূত্র: বিবিসি

mzamin

সংসদীয় গণতন্ত্র নাকি ‘মৌলিক গণতন্ত্রের’ পুনঃপ্রবর্তন by নিজাম উদ্দিন আহমদ

সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে যেসব প্রস্তাব বা সুপারিশ করা হয়েছে তাতে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলের অপশাসনের পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো, এসব সুপারিশের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পদকেই একেবারে ‘গৌণ’ করে ফেলা হয়েছে। অথচ সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। শুধু বিগত সরকারের ক্ষমতার অপব্যবহারকে দৃষ্টান্ত হিসেবে ধরে সংবিধান পরিবর্তনের প্রস্তাব কতটুকু যুক্তিসংগত, তা ভেবে দেখা দরকার।

সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে; এটা শুধু বাংলাদেশেই নয়, ব্রিটেনের অনুকরণে যেসব দেশ সংসদীয় সরকারব্যবস্থা চালু করেছে, প্রায় প্রতিটি দেশেই এ প্রবণতা বিদ্যমান।

এমনকি খোদ ব্রিটেনেই প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত ক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে ১৯৬০-৭০-এর দশকে তুমুল বিতর্ক হয়েছিল এবং অনেকেই ব্রিটেনের সরকারকে মন্ত্রিপরিষদশাসিত সরকারের পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রীশাসিত সরকার হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ব্রিটেনের মতো অন্যান্য দেশে যেমন অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস এবং তাকে অধিকতর জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিবেশী ভারতেও প্রধানমন্ত্রীকে অন্যদের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে হয়। এ জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য যেসব কমিটি গঠন করা হয়, তাতে সরকারের অন্যান্য বিভাগ ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব থাকে। লক্ষণীয়, কোনো ব্যক্তির সঙ্গে নয়, বরং সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য সৃষ্টির জন্য—এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

কমিশনের প্রতিবেদনে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে নির্বাহী কর্তৃত্বের ভাগাভাগি এবং প্রধানমন্ত্রীকে ‘কম গুরুত্ব’ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, প্রধানমন্ত্রী যাতে কোনোভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, সে জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা সুপারিশ করা হয়েছে। এটা শুধু সংসদীয় রীতিনীতি-বহির্ভূতই নয়, অসাংবিধানিকও বটে। প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারপ্রধান হিসেবে সংবিধানে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত করা হয়েছে; তাঁকে অন্যদের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
------ ২.

প্রথমত, ওয়েস্টমিনস্টার সিস্টেমের আদলে গড়ে ওঠা কোনো সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগি দেখা যায় না। কমিশনের সুপারিশে রাষ্ট্রপতিকে যেসব ক্ষমতা প্রয়োগ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে (৩.৩), তা সংসদীয় ব্যবস্থায় অকল্পনীয়। ইতিমধ্যে সেনাপ্রধান রাষ্ট্রপতির অধীনে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ভবিষ্যতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও বিভাগও এ ধরনের আগ্রহ প্রকাশ করতে পারে। এর ফলে শুরুতেই সরকারব্যবস্থা সেমিপ্রেসিডেনশিয়াল সিস্টেমে (আধা রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা) রূপ নেবে এবং পরে সরকারব্যবস্থায় অস্থিতিশীলতার সুযোগে রাষ্ট্রপতির হাতে অধিক মাত্রায় ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের সম্ভাবনা রয়েছে।

দ্বিতীয়ত, প্রস্তাবিত সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলে সরকারব্যবস্থায় অস্থিতিশীলতা অবশ্যম্ভাবী। এর প্রধান কারণ, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের মৌলিক পরিবর্তন। যেখানে শুধু অর্থ বিল পাস ছাড়া অন্য সব বিষয়ে, এমনকি সরকার গঠন এবং সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাসের ব্যাপারে দলীয় সংসদ সদস্যদের পূর্ণ স্বাধীনতার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এটা দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা ও ভাঙন সৃষ্টির জন্য যথেষ্ট। এ অবস্থায় সরকার গঠন ও সরকার পতনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি অধিকতর ক্ষমতার প্রয়োগ করতে পারবেন। এ সুপারিশের ফলে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, তা নির্ধারণের বিষয়টি পুরোপুরি ‘ব্যাকবেঞ্চার’দের (দলীয় প্রস্তাবের বিরোধিতাকারী সংসদ সদস্য) হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এটা স্থিতিশীল সরকার গঠনের পরিপন্থী। এর ফলে ‘হর্স ট্রেডিং’-এর মাধ্যমে যে কারও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তৃতীয়ত, কমিশনের সুপারিশের আইনসভা অংশে প্রস্তাব করা হয়েছে, সব সংসদীয় কমিটির সভাপতি বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হবে। এটা যেকোনো দেশের সংসদীয় রীতিনীতির বিরোধী। প্রধানমন্ত্রী বা সরকারকে জবাবদিহির নামে ‘অপদস্থ’ করতে চাইলে এর থেকে সহজ পন্থা আর কী হতে পারে! সংসদীয় কমিটিগুলো আইন পর্যালোচনা ছাড়াও বিভিন্ন তদারকি কাজ করে থাকে। এর ফলে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সংসদের স্থায়ী কমিটিকে তেমন কোনো বেগ পেতে হবে না।

------- ৩.

জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিলে (এনসিসি) বিরোধীদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যপদ প্রদানের শর্ত (৯ জনের মধ্যে ৫ জন) এবং রাষ্ট্রপতিকে এ কাউন্সিলের সভাপতি করার সুপারিশের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বা সরকারকে অধিকতর ক্ষমতাহীন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ কাউন্সিল সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে—সেই আকাঙ্ক্ষা ইতিবাচক বলেই প্রতীয়মান হয়। কিন্তু যেভাবে এর গঠনপ্রক্রিয়া প্রস্তাব করা হয়েছে, তাতে ক্ষমতার ভারসাম্যের পরিবর্তে অধিকতর ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করবে। এতে বিরোধীদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকারের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা থাকবে।

আমাদের এ অঞ্চলে যেসব দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিদ্যমান যেমন, শ্রীলঙ্কা ও নেপালে রাষ্ট্রপতি কাউন্সিলের সদস্য নয়। নেপালে প্রধানমন্ত্রী এবং শ্রীলঙ্কায় স্পিকার কাউন্সিলের সভাপতি হন। কিন্তু কমিশনের সুপারিশে রাষ্ট্রপতিকে সভাপতি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এটা প্রধানমন্ত্রীকে সব দিক থেকে ‘অকার্যকর’ করে রাখার একটা প্রচেষ্টা; প্রধানমন্ত্রী কাউন্সিলের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে অসম্মত হলেও তাকে তা বাস্তবায়ন করতে হবে এবং এর দায় তাঁর ওপরই বর্তাবে।

সংবিধান সংস্কার কমিশন প্রধানমন্ত্রীর পদকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেনি, এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। এটা সংসদীয় সরকারব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সরকারকে চাপে রাখার জন্য বিরোধীদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত এবং অভূতপূর্ব সুযোগ দেওয়ার ফলে সরকারের স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।

সরকার যত বেশি অস্থিতিশীল হবে, রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ করার সুযোগ তত বাড়বে। অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর বিকল্প হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়েছে, কমিশনের সুপারিশ থেকে তেমনটাই প্রতীয়মান হচ্ছে। কিন্তু স্থিতিশীল সরকার না থাকলে রাষ্ট্রের অস্তিত্বই সংকটাপন্ন হতে পারে।

--------- ৪.


একটা বিষয়ে সবাই একমত, বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শুধু প্রচুর ক্ষমতার অধিকারীই নয়, নিয়মবহির্ভূতভাবে অনেক কাজের জন্য তাঁকে দায়বদ্ধ করা অসম্ভব। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ। বাংলাদেশের ইতিহাসে তাঁর চেয়ে ক্ষমতার অপব্যবহারকারী কোন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কি না, তা বলা দুষ্কর।

তবে কমিশন প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাসের যে প্রস্তাব করেছে, তা সরকার গঠন, সরকারের মেয়াদকাল নির্ধারণ এবং সরকারি কার্যাবলি পরিচালনা—এসব বিষয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করবে। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা খর্ব করার প্রস্তাব করতে গিয়ে পুরো সরকারব্যবস্থাকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়ার প্রবণতা লক্ষণীয়। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু তাঁকে ‘ক্ষমতাশূন্য’ করা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।

কিছু সুপারিশ, যেমন প্রধানমন্ত্রীর পরপর দুবারের বেশি ক্ষমতায় না থাকার বিষয়টি—মোটামুটি সবাই সমর্থন করবে বলে ধারণা করা যায়। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী একই ব্যক্তি না হওয়ার সুপারিশও মোটামুটি গ্রহণযোগ্য। এতে সরকার পরিচালনায় অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে সংসদীয় দলের নেতৃত্ব থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব কোনোভাবেই সমীচীন হবে না। ভারত, নেপালসহ বেশির ভাগ সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশগুলোয় প্রধানমন্ত্রী সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে কাজ করেন। শুধু ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও কানাডা কিছুটা ব্যতিক্রম।

প্রধানমন্ত্রীকে সংসদীয় দলের নেতা থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব বাস্তবসম্মত নয়। এর প্রধান কারণ, প্রধানমন্ত্রী একমাত্র ব্যক্তি, যিনি সরকারি বিষয়গুলোতে সবচেয়ে বেশি অবহিত থাকেন। সংসদে কখন কোন আইন উত্থাপন করতে হবে এবং আইন ছাড়াও অন্যান্য বিষয় সংসদে তুলে ধরতে হবে, এসব বিষয়ে অন্য যেকোনো সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীর তুলনায় প্রধানমন্ত্রী অধিকতর অবহিত থাকেন।

সরকারের নির্বাহী ক্ষমতা ভাগাভাগির বিষয়ে, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যকার ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য প্রস্তাবিত সুপারিশগুলো সংসদীয় সরকারব্যবস্থার চেতনাবিরোধী এবং অসামাঞ্জস্যপূর্ণ। অন্য কোনো দেশের ওয়েস্টমিনস্টার সরকারপদ্ধতিতে এ ধরনের ক্ষমতার ভাগাভাগি দেখা যায় না। ভারতের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা আমাদের বর্তমান রাষ্ট্রপতির চেয়েও অনেক কম।

এ রকম অবস্থায় বর্তমান সংবিধান মোতাবেক রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমাবদ্ধ রেখে, বিভিন্ন সাংবিধানিক সংস্থা এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা সাংবিধানিক কাউন্সিলের ওপর ন্যস্ত করা প্রয়োজন, যা সংস্কার কমিটি সঠিকভাবেই সুপারিশ করেছে। কিন্তু আগেই বলা হয়েছে যে কমিশনের প্রস্তাবিত কাউন্সিলের গঠনপ্রণালি অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ।

ভারতে এ ধরনের কাউন্সিল না থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোয় নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত বিভিন্ন কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীই সভাপতিত্ব করেন। কিন্তু আমাদের সংস্কার কমিটি রাষ্ট্রপতিকে কাউন্সিলের সভাপতি করার সুপারিশ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতেও প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতিত্ব করার সুযোগও দেওয়া হয়নি। এখানে প্রধান বিচারপতিকে এ দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর পদকে এত খাটো করার প্রস্তাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাংবিধানিক কাউন্সিলের আকার ছোট করা উচিত, যেখানে সরকার, বিরোধী দল ও বিচার বিভাগের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে এবং প্রধান বিচারপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং সিনেটের (উচ্চকক্ষ থাকলে) চেয়ারম্যানকে সদস্য করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠন করা হলে তা অধিকতর প্রতিনিধিত্বশীল এবং কার্যকর হবে বলে ধারণা করা যায়।

বিরোধী দল থেকে নিম্নকক্ষের সব কমিটির সভাপতি নির্বাচনের যে সুপারিশ কমিশন করেছে, কোনো গণতান্ত্রিক দেশেই এ ধরনের বিধান নেই। সাধারণত বিভিন্ন দলের সংখ্যানুপাতে আইনসভার বিভিন্ন কমিটির সদস্য ও সভাপতি নির্বাচন করা হয়। যে দলের সদস্যসংখ্যা বেশি, সেই দলকে অধিকতরসংখ্যক সদস্য ও সভাপতি পদ দেওয়া হয়। এটাই রীতি, যা সংবিধানে নয়, বেশির ভাগ দেশেই সংসদের কার্যপ্রণালিবিধিতে উল্লেখ থাকে।

সংবিধান সংস্কার কমিশন নির্বাহী বিভাগ ও আইনসভার মধ্যকার সম্পর্কের বিষয়ে যেসব সুপারিশ করেছে, তা ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতিতে পরিচালিত কোনো দেশেই দেখা যায় না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে নেতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীরাও তেমনটাই করবেন—এ আশঙ্কা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে; প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস করে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

কিন্তু কমিশন প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনার কথা বলে যে সুপারিশ করেছে, তা সংসদীয় সরকারব্যবস্থার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এ সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে শুধু যে সরকার অস্থিতিশীল হবে, তা-ই নয়, এর ফলে ‘বিভক্ত’ সরকারের উদ্ভবেরও আশঙ্কা থাকে।
-------- ৫.

সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর সমর্থন নিয়ে একজন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। কিন্তু তাঁকে বাদ দিয়ে অথবা ‘অবিশ্বাস করে’ কমিশনের সুপারিশে রাষ্ট্রপতির ভূমিকাকে অতিমাত্রায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে; যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন মাত্র ৫৮১ জনের ভোটে। সংবিধান সংস্কার কমিশন আইনসভার ৫০৫ জন সদস্যের সঙ্গে স্থানীয় সরকারের মাত্র ৭৬ জন প্রতিনিধিকে (৬৪ জন জেলা পরিষদ থেকে এবং ১২ জন সিটি করপোরেশন থেকে) রাষ্ট্রপতির নির্বাচকমণ্ডলী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এত অল্পসংখ্যক নির্বাচকমণ্ডলীর ভোটে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে কয়েক কোটি ভোটারের সমর্থনে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে অধিকতর গুরুত্ব প্রদান কতটা যৌক্তিক?

 এ পদ্ধতি ১৯৬০-এর দশকের ‘মৌলিক গণতন্ত্র’ ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তনের পথে একধরনের পদক্ষেপ বলে প্রতীয়মান হতে পারে। ১৯৬০-এর দশকে তৎকালীন পাকিস্তানে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নির্বাচিত করতেন। এদের বিডি মেম্বার (বেসিক ডেমোক্রেসি বা মৌলিক গণতন্ত্রী) হিসেবে অভিহিত করা হতো। নির্বাচনের এ পদ্ধতি ছিল তৎকালীন সেনাশাসক আইয়ুব খানের নিজস্ব উদ্ভাবন। এ পদ্ধতি অনুসারে, প্রায় ৮০ হাজার ‘মৌলিক গণতন্ত্রী’ রাষ্ট্রপতির নির্বাচকমণ্ডলী হিসেবে কাজ করেছেন। আইয়ুব খানের সরকার তাদের অতি সহজেই নিজের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য বাধ্য করেছিলেন।

আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে ক্ষমতার ভারসাম্যের কথা বলে সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি অনেক প্রশ্ন ও জটিলতা সৃষ্টি করবে। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস করা, অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো এবং অল্প কিছু ব্যক্তির সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ তৈরি করা হলে, সেটা ভবিষ্যতে দেশকে রাষ্ট্রপতি শাসিত ‘মৌলিক গণতন্ত্রের’ দিকে নিয়ে যেতে পারে, যৌক্তিক কারণেই এ আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

* ড. নিজাম উদ্দিন আহমদ সাবেক অধ্যাপক, লোকপ্রশাসন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে অন্যতম সংবিধান সংস্কার।
স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে অন্যতম সংবিধান সংস্কার। ফাইল ছবি

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে হরে-দরে সবাইকে ‘শাহবাগী’ বলা বন্ধ করতে হবে: মাহফুজ আলম

‘শাহবাগী’ বলে যে কাউকে ফ্যাসিবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে তকমা দেওয়া যাবে না। শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনে ছিলেন, এমন অনেক ব্যক্তি কয়েক বছর ধরে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তাঁদের অনেকে আহত ও নিহত হয়েছেন। শাপলা-শাহবাগের কর্মীরা কমরেডস [সহযোদ্ধা] হয়েছিলেন বলেই শেখ হাসিনার পতন ঘটেছিল। তাঁরা ইতোমধ্যে তাঁদের রাজনৈতিক ভুলের প্রায়শ্চিত্ত তথা কাফফারা আদায় করেছেন। তাই অভ্যুত্থান–পরবর্তী বাংলাদেশে শাহবাগ ও শাপলা—এই দুই ভাগে জনগণকে বিভক্ত না করে সবাইকে গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং সহনাগরিকদের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ সংলাপ ও সংহতির দিকে এগোনোর আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে মাহফুজ আলম এসব কথা বলেছেন। দীর্ঘ পোস্টের শুরুতে মাহফুজ আলম লেখেন, ‘জামায়াত যুদ্ধাপরাধের সহযোগী ছিল। কিন্তু নাহিদ ইসলাম যেভাবে বলেছেন এ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাঁরা কাফফারা দিয়েছেন। আমিও বলেছি, জামায়াতের যাঁরা বাংলাদেশপন্থী, তাঁরা এ দেশে রাজনীতি করার অধিকার রাখেন। জামায়াতের নতুন প্রজন্মের অল্প কিছু ব্যতিক্রম বাদে কেউই পাকিস্তানপন্থী নন। ফলে স্বাধীনতাবিরোধী ট্যাগ [তকমা] দিয়ে জামায়াত-শিবিরের রাজনৈতিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা যাবে না। রাজনৈতিক ও আদর্শিক লড়াই করেই তাদের বিরুদ্ধে জিততে হবে। তাদের প্রোপাগান্ডা ওয়ারের [অপপ্রচারমূলক লড়াই] জবাব দিতে হবে সত্য দিয়ে।’

রাজধানীর শাহবাগে ২০১৩ সালে গণজাগরণ মঞ্চের নেতৃত্বে আন্দোলন প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম লিখেছেন, ‘শাহবাগে যারা গিয়েছিল [তাদের] একটা বড় অংশ “চেতনা”র অন্ধতায় পড়ে গিয়েছিল। অনেক ছাত্র-তরুণ ইসলামবিদ্বেষ থেকে না; বরং নিছক যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবিতে গিয়ে উপস্থিত ছিল। তরুণ প্রজন্মের আবেগকে আওয়ামী লীগ ও বামপন্থীদের মুজিববাদী অংশ কাজে লাগিয়ে এ দেশে মবোক্রেসি [মবতন্ত্র] কায়েম করেছিল। যার ফসল ছিল দীর্ঘ এক দশকের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন—বিরোধীদলীয় কর্মীদের গুম, খুন, ধর্ষণ ও নিপীড়ন।’

কিন্তু শাহবাগে অংশ নেওয়া অনেক ছাত্র-তরুণই তাঁদের ভুল বুঝতে পেরে মুজিববাদী বয়ানের বাইরে যেতে চেয়েছেন উল্লেখ করে মাহফুজ আলম লিখেছেন, ‘গত কয়েক বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁরা অংশীজন ছিলেন। আহত ও নিহত হয়েছেন। তাঁরা আমাদের সহযোদ্ধা। তাঁরা আমাদের কমরেডস বটে! এ অভ্যুত্থানে শক্তিশালী ভূমিকা রেখে তাঁরা লীগ ও মুজিববাদের পরাজয় নিশ্চিত করেছেন। তাঁরা ইতিমধ্যে তাঁদের রাজনৈতিক ভুলের প্রায়শ্চিত্ত, তথা কাফফারা আদায় করেছেন।’

২০১৩ সালের মে মাসে হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচির সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গে টেনে মাহফুজ আলম লেখেন, ‘আমি নিজে শাপলায় এসেছিলাম লংমার্চে নবীজির প্রতি ভালোবাসায়। ৫ মে-তে আমি আসতে পারিনি। কিন্তু যুদ্ধাপরাধের বিচার ও জামায়াত নেতাদের ভূমিকা নিয়ে আমাদের আগ্রহ ছিল না। আমরা মূলত নবীজির সম্মান ও ভালোবাসা সামনে রেখে ঢাকায় এসেছিলাম। আমি শর্ষিণাপন্থী যে মাদ্রাসায় পড়েছি, সেখানে জামায়াত নেতাদের ভ্রান্ত আকিদার অনুসারী হিসেবে গণ্য করা হতো। আর জামায়াত নেতাদের ফাঁসিকে দেখা হতো তাদের আলেম ও সহি ইসলাম বিরোধিতার ফসল হিসেবে। জামায়াতকে আমরা ছোটবেলা থেকে আলেম-ওলামাবিরোধী হিসেবেই জেনে এসেছি।’

মাহফুজ আলম লিখেছেন, ‘অনেকেই হয়তো খেয়াল করেন না, অধিকাংশ শাপলার কর্মীরাই আসলে জামায়াতের আকিদা (বিশ্বাস ও কর্মপন্থা) ও নেতৃত্ববিরোধী। শাপলার অনেক নেতৃত্বই জামায়াতের আলেম ও পীরপন্থা বিরোধিতার শিকার। এমনকি অনেকেই জামায়াত ও শিবির নেতাদের কর্তৃক নিগৃহীত ও নিপীড়িত হয়েছেন। কিন্তু জামায়াত সফলভাবেই তাদের প্রক্সি হিসেবে ব্যবহার করতে পেরেছে। যেমন লীগ “শাহবাগী”দের ব্যবহার করেছে।’

তিনি লিখেছেন, ‘আমরা অভ্যুত্থান-উত্তর সময়ে উপনীত হয়েছি। এখানে জামায়াতকে বা শিবিরের কর্মীদের “রাজাকার”,  “স্বাধীনতাবিরোধী” বলে বধযোগ্য করার যে বয়ান সেটার বিরোধী আমরা। তেমনি শাহবাগের ইসলামফোবিয়ার [ইসলামবিদ্বেষ] বিরুদ্ধেও আমাদের অবস্থান। এ ইসলামফোবিয়ার শিকার আমি নিজে হয়েছি। পাঞ্জাবি–টুপি পরলেই জঙ্গিবাদী বলা থেকে শুরু করে মাদ্রাসাছাত্রদের ও আলেমদের বিমানবিকীকরণের জন্য শাহবাগ দায়ী। শাহবাগের সাংস্কৃতিক বন্দোবস্ত বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধীদলীয় নেতা–কর্মীদের ঊনমানুষে পরিণত করেছিল।’

শাপলা-শাহবাগের কর্মীরা কমরেডস হয়েছিলেন বলেই শেখ হাসিনার পতন ঘটেছিল উল্লেখ করে অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ লিখেছেন, ‘অভ্যুত্থান-উত্তর সময়ে একটি সংলাপমুখর সময় এসে উপস্থিত হয়েছে। শাপলা- শাহবাগের বাইনারির বাইরে এসে শাহবাগের প্রাণভোমরা—মুজিববাদ, ভারতপন্থা ও শেখ পরিবারের বিরুদ্ধে পুরাতন শাপলা ও শাহবাগের কর্মীদের “কমরেডস” হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। আসলে শাপলা-শাহবাগের কর্মীরা কমরেডস হয়েছিলেন বলেই শেখ হাসিনার পতন ঘটেছিল। এদিকে শাপলার নেতৃত্বের জন্যও কারও প্রক্সি না হয়ে রাষ্ট্রে ইজ্জত ও শরিকানা দাবির সুন্দর সুযোগ উপস্থিত হয়েছিল।’

চরমপন্থী কোনো গোষ্ঠীর হাতে তৌহিদি জনতার নেতৃত্ব ছেড়ে না দিতে আহ্বান জানিয়েছেন মাহফুজ আলম। এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘আমি আমার আগের দুটি পোস্টে আলেম-ওলামাদের ধন্যবাদ দিয়েছিলাম, তাঁদের শক্তিশালী ভূমিকার জন্য।

তৌহিদবাদী জনতার নেতৃত্ব যেন ফ্রিঞ্জ এলিমেন্টের (চরমপন্থী গোষ্ঠী) হাতে না গিয়ে মূলধারার হকপন্থী আলেমদের হাতে থাকে, এ আশা রাখি। মূলধারার আলেমরা আশা করি গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে, দেশের পক্ষে দাঁড়িয়ে শাহবাগের মবোক্রেসি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন। নিজেরা সে সংস্কৃতির অনুকরণ করবেন না। এ ক্ষেত্রে আমরা মজলুম ও গণতান্ত্রিক মূলধারার আলেমদের পক্ষেই থাকব।’

উপদেষ্টা মাহফুজ আলম লিখেছেন, ‘বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার শাপলার গণহত্যার বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা শাপলার হত্যাযজ্ঞ ডকুমেন্টেশনের [নথিপত্র সংগ্রহের] কথা বলেছেন। আশা করি, শাপলায় শহীদ মাদ্রাসাছাত্র ও আলেমদের বিরুদ্ধে যে নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে বর্বর শেখ হাসিনা, তার সুষ্ঠু তদন্ত, ডকুমেন্টেশন ও বিচার নিশ্চিত হবে।’

গণজাগরণ মঞ্চ–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হত্যার পটভূমি তৈরি না করতে আহ্বান জানিয়ে মাহফুজ আলম লিখেছেন, ‘সাবেক “শাহবাগী” যাঁরা অভ্যুত্থানের ভেতর দিয়ে নিজেদের ন্যায্য অবস্থান ব্যক্ত করেছেন, লড়াই করেছেন, তাঁদের কোনোভাবেই বধযোগ্য করে তোলা যাবে না। যাকে তাকে “শাহবাগী” ট্যাগ দিয়ে অভ্যুত্থান-উত্তর সময়ে বৃহত্তর সংহতির সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করা যাবে না। শাপলাপন্থী কেউ যদি ভাবেন, লীগবিরোধী ও অভ্যুত্থানের পক্ষের সাবেক “শাহবাগী”দের শত্রু ও বধযোগ্য বানিয়ে তাঁরা সফল হবেন, তা কিন্তু হবে না। আপনি শাপলার হয়ে মবোক্রেসি ও বিচারহীনতার দাবি করলে আপনিও তো “শাহবাগী” হয়ে উঠবেন, নাকি? বামপন্থীদের মধ্যে যাঁরা মুজিববাদবিরোধী, তাঁরা কিন্তু অনেক আগে থেকেই শাপলার হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন। ফলে,শত্রু-মিত্র ফারাক করা আমাদের জন্য খুবই জরুরি।’

মাহফুজ আলম আরও লিখেছেন, ‘তবে পুরোনো “শাহবাগী”, যারা এখনো  শাহবাগের প্রাণভোমরা—মুজিববাদ, ভারতপন্থা ও শেখ পরিবারের প্রতি আনুগত্যকে নিজেদের আদর্শ বলে মনে করে, তাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া উচিত হবে না। এরাই গুম ও গণহত্যার উসকানি দিয়েছিল ও ন্যায্যতা তৈরি করেছিল। জুলাই গণহত্যার সময়ও এরা চুপ ছিল, কেউ কেউ বৈধতা উৎপাদনে ব্যস্ত ছিল। বিদেশ থেকে এখনো যারা ফ্যাসিবাদের পক্ষে সাফাই গাইছে, এদের একটা বড় অংশ শাহবাগের ফ্যাসিবাদী। এরা জনগণের শত্রু, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের শত্রু, গণ-অভ্যুত্থানের শত্রু। এদের বিচার শুরু হয়েছে, শেষও হবে।’

পোস্টের শেষ অংশে দেশে চলমান পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে কথা বলেছেন মাহফুজ আলম। তিনি লিখেছেন, ‘অভ্যুত্থান-উত্তর বাংলাদেশে শাহবাগে বেড়ে ওঠা মবোক্রেসি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি সব পক্ষকেই বাদ দিতে হবে। গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও সহনাগরিকদের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ সংলাপ ও সংহতির দিকে সবাইকে এগোতে হবে। শাহবাগের ছাত্র-তরুণ যাঁরা মুজিববাদের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়েছেন, “শাহবাগী” ট্যাগ দিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে মব উসকে দেওয়া বা বিভেদ তৈরি সবাইকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। রাজনৈতিক ভেন্ডাটা [প্রতিহিংসা] থেকে হরে-দরে সবাইকে শাহবাগী বলা বন্ধ করতে হবে। গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর মধ্যে আদর্শিক ও সাংস্কৃতিক লড়াই থাকবেই। কিন্তু গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমাদের নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া ও মৈত্রী বাড়াতে হবে, শত্রু কমাতে হবে এবং চিহ্নিত শত্রুর দীর্ঘ মেয়াদে পরাজয় নিশ্চিত করতে হবে।’

শাপলা চত্বরে গণহত্যা: হাসিনা-ইমরানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

২০১৩ সালের ৫ ও ৬ই মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরসহ সারা দেশে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে তাদের নেতাকর্মীদের হত্যা-নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়েছে। এ মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। এই ৯ জন আসামির মধ্যে চারজন বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার আছেন। তাদের হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বাকি পাঁচজন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এ ছাড়াও আরেকটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট কারা কর্তৃপক্ষকে আগামী ১২ই মে চারজন আসামিকে হাজির এবং এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

গতকাল প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- প্রসিকিউটর বিএম সুলতান মাহমুদ, গাজী এম এইচ তামিম, মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, তারেক আব্দুল্লাহ ও শাইখ মাহাদী।

যে পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, তারা হলেন- ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার ও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ।

বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার থাকা চারজন আসামি হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ও পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম। তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, শাপলা চত্বরের গণহত্যার পটভূমি তৈরি করেছিল গণজাগরণ মঞ্চ। গণজাগরণ মঞ্চ বাংলাদেশের সংখ্যাগুরু মুসলিম সম্প্রদায়ের কৃষ্টি, কালচার, সংস্কৃতির বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিল। গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীরা সশরীরে হেফাজতের গণহত্যায় অংশ নিয়েছিল বলে তদন্ত সংস্থার কাছে তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে ইমরান এইচ সরকার তৎকালীন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, প্রাইম মিনিস্টার থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, র‌্যাবের প্রধান, পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন সময় বৈঠক করে, শাপলা চত্বরের পরিচালিত অভিযানের পরিকল্পনায় অংশ নিয়েছিল। সে কারনে তার বিরুদ্ধে আমরা ট্রাইব্যুনালে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের বাক্‌ পরিবর্তনকারী একটা ঘটনা ছিল শাপলা চত্বরের গণহত্যা। বাংলাদেশের ধর্মীয় অধিকারের ব্যাপারে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে মানুষ যে সোচ্চার ছিল, এই গণহত্যার মাধ্যমে প্রতিবাদের সর্বশেষ জায়গাটুকু চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এই গণহত্যায় যাদেরকে হত্যা করা হয়েছিল, তাদের বেশির ভাগই ছিল মাদ্রাসার ছাত্র, এতিম শিশু-কিশোর, কোরআনের হাফেজ। এমনকি এসব হত্যাকাণ্ডের পরে তাদের অজ্ঞাতনামা হিসেবে কবর দেয়া হয়েছে। মৃতের সংখ্যা নিরূপন করতে দেয়া হয় নাই। তাদের পরিবারের কাছে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে যে তাদের সন্তানরা এখানে এসে মারা গেছে, এটা তারা প্রকাশ না করে। মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ এই গণহত্যার সংখ্যা প্রকাশ করায় অধিকারের প্রধান নির্বাহী আদিলুর রহমান খানকে কারারুদ্ধ এবং সাজা দেয়া হয়। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ।

ট্রাইব্যুনাল অনেক পর্যালোচনার পরে, এই গণহত্যাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে এ অভিযোগকে তদন্তের অধীনে নিয়ে এসেছে এবং বিচারের ব্যাপারে তারা পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন চিফ প্রসিকিউটর।
হেফাজতের আন্দোলনের মৃত্যুর সংখ্যা কতো, তা তদন্তাধীন। তদন্তের প্রতিবেদন জমা দেয়ার পরেই নিশ্চিত সংখ্যা বলা যাবে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়াও হাসিনার নির্দেশে এই গণহত্যা হলেও, পার্লামেন্টে তিনি বলেছিলেন যে হেফাজতের কর্মীরা রঙ মেখে শুয়ে ছিল। তিনি এ ব্যাপারে জানার পরেও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি সহ হাজার হাজার কর্মকর্তা সেদিন এই গণহত্যায় অংশ নিলেও আমরা টপ কমান্ড স্ট্রাকচারকে বিচারের মুখোমুখি করতে চাই। আজকে এই টপ কমান্ডারদের বিরুদ্ধেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

এদিকে যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়, তাদের নাম ট্রাইব্যুনাল গোপন রাখলেও কীভাবে আসামিরা পরোয়ানার ব্যাপারে জেনে যায় এবং পলায়ন করে, সে বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের নিয়ন্ত্রণে নেই বলে জানান তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনেকগুলো স্টেজ পার হয়ে কার্যকর করতে হয়। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকাকে এক্ষেত্রে প্রাধান্য দিতে হবে। আমরা এ ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি যাতে এটা প্রকাশিত না হয়।

জানা যায়, গত ২৭শে নভেম্বর শাপলা চত্বরের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনকে আসামি করে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে অভিযোগ দাখিল করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

mzamin


বিশ্ব জুড়ে বাণিজ্যযুদ্ধ

কার্যত বিশ্ব জুড়ে বড় রকমের এক বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়েছে। এই ‘যুদ্ধে’ রসদ ঢেলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শতকরা ২৫ ভাগ শুল্ক আরোপ করেছেন তিনি। ফলে সব দেশের জন্য শুল্ক ছাড়ের অবসান ঘটেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বহু বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে তাদের উত্তেজনা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছে। ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্তের জবাবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ), চীন, কানাডা, মেক্সিকো, ব্রাজিল সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন পাল্টা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের শত শত কোটি ইউরো মূল্যের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চীন। বৃটিশ বাণিজ্যমন্ত্রী জনাথন রেমন্ডস ট্রাম্পের এই শুল্ক আরোপকে হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন। গতকাল এ খবরে সারা বিশ্বে ছিল চাপা উত্তেজনা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, নিজের দেশের স্টিল এবং অ্যালুমিনিয়ামের উৎপাদন বৃদ্ধির আশা নিয়ে ট্রাম্প শুল্ক আরোপ করেছেন। কিন্তু সমালোচকরা বলেন, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের জন্য খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে অর্থনীতি। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে স্ট্রিল ও অ্যালুমিনিয়াম সবচেয়ে বেশি সরবরাহকারী দেশের মধ্যে আছে কানাডা, মেক্সিকো ও ব্রাজিল। ট্রাম্পের এই শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের পাল্টা হিসেবে ২৬০০ কোটি ইউরো অথবা ২৮৩০ কোটি ডলারের মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরশুলা ভন ডার লিয়েন।

তিনিই মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের আহ্বান জানান। শক্তিশালী ও যথোপযুক্ত উপায়ে মার্কিন সব পণ্যের ওপর এভাবে শুল্ক আরোপের আহ্বান তার। মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ঘোষণা কার্যকর হওয়ার কথা। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান যদি বাইরে থেকে স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানি করে তাহলে শতকরা ২৫ ভাগ শুল্ক দিতে হবে। চীন এ পদক্ষেপের জবাবে বলেছে, তাদের নিজেদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে চীন। অন্যদিকে ‘ডনাল্ড ট্রাম্পের আইনহীন বিশ্ব বাণিজ্যের’ কড়া সমালোচনা করেছেন বৃটেনে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, শুল্ক আরোপ করার মধ্যদিয়ে বাণিজ্যিক আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে। তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে। এর আগে চীনা পণ্যের ওপর সরাসরি শুল্ক দ্বিগুণ করে শতকরা ২০ ভাগ করেন।

বেইজিংও পাল্টা ব্যবস্থা নেয়। তারা যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিজপণ্য টার্গেট করে। মুরগি, গরুর মাংস, শূকরের মাংস, গম এবং সয়াবিনের ওপর শতকরা ১০ ভাগ থেকে ১৫ ভাগ শুল্ক আরোপ করে চীন। বৃটেনে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার রাফ গুডালে বিবিসি’র ‘টুডে প্রোগ্রামে’ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্বের বাণিজ্যকে আইনহীন করে তুলছেন। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য, বিশেষ করে স্পর্শকাতর পণ্য কানাডায় রপ্তানি করতে হলে শুল্ক দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, নিজের জনগণের ওপর এর প্রভাব সীমিত রাখার চেষ্টা করছে কানাডা সরকার। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে আঘাত করবে। উল্লেখ্য, কানাডা থেকে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি করেছে ৬০ লাখ টন স্টিল। কিছু কিছু অর্থনীতিবিদ সতর্ক করছেন এই বলে যে, শুল্ক আরোপ করার পর যুক্তরাষ্ট্রের স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম শিল্পকে সমৃদ্ধ হতে সহায়তা করবে। কিন্তু তাতে সার্বিক অর্থনীতিতে বড় আঘাত আসবে। তবে যে যা-ই বলুন না কেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক তার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নীতিকে মূল্যবান হিসেবে অভিহিত করেছেন। বলেছেন, যদি তাতে অর্থনীতি মন্দার দিকেও যায়, তবুও ভালো।

তিনি বলেন, মার্কিনিদের কাছে এ যাবৎ যা আসছে তার মধ্যে এসব নীতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বৃটেনের লিবারেল ডেমোক্রেট ডেপুটি নেতা ডেইজি কুপার বলেন, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়া উচিত বৃটিশ বাণিজ্যমন্ত্রী জনাথন রেমন্ডের। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, অন্যপক্ষ বার বার আঘাত করছে। এর প্রেক্ষিতে বৃটিশ বাণিজ্যমন্ত্রীর কঠোর অবস্থানে গিয়ে কিছু করা উচিত। তিনি বলেন, এনাফ ইজ এনাফ। যথেষ্ট হয়েছে। আমাদেরকে শক্তিশালী হতে হবে। বৃটিশ স্টিলের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে বৃটিশ অর্থনীতিতে। যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি অ্যালুমিনিয়াম সরবরাহ দেয় কানাডা। যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি করা অ্যালুমিনিয়ামের শতকরা ৬০ ভাগই আসে কানাডা থেকে। ওদিকে স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করে পণ্য প্রস্তুতকারক মার্কিন কোম্পানিগুলো সতর্ক করেছে। তারা বলেছে, শুল্ক আরোপের ফলে তাদের পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। ইউকে স্টিলের পরিচালক গ্যারেথ স্ট্যাসি বলেছেন, ডনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্কনীতি চরম হতাশার। তার বোঝা উচিত যে, আমরা তার বন্ধু, শত্রু নই। অন্যদিক ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের জবাবে ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেছেন, তারাও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেবেন। ইউরোপিয়ান কমিশন ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের গভীর নিন্দা জানায়। ব্যবসার জন্য এই শুল্ক খুব খারাপ। একই সঙ্গে ভোক্তাদের জন্যও খুব খারাপ। শুল্ক আরোপের ফলে সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হবে। অর্থনীতিতে দেখা দেবে অনিশ্চয়তা।

mzamin

সিলেটের রহস্যময়ী কে এই হেলেন? by মিজানুর রহমান

হেলেন আহমেদ। সিলেটে বহুল আলোচিত একটি নাম। সামরিক-বেসামরিক সরকার, অন্তর্বর্তী বা কেয়ারটেকার- সব আমলেই কম-বেশি ক্ষমতাধর তিনি! আয়েশি জীবনের অধিকারী মিজ আহমেদ বেশ পরিপাটি। ক্ষমতাকেই সবচেয়ে বেশি এনজয় করেন। এটাই তার একমাত্র নেশা, এতে বাড়তি ফিল পান তিনি। ক্ষমতাবানদের সঙ্গে খেলেন, তাদের সঙ্গে টক্কর দিতেও পছন্দ করেন। যেকোনো মূল্যে বাজি জিতার চেষ্টা করেন কৈশোর থেকে। অবশ্য তিনি জিতেছেনও।

হেলেনের ‘সমাজসেবা’ নিয়ে তার সুহৃদরা উচ্ছ্বসিত। তার প্রতি তাদের ভালোবাসা অন্ধ। বিশ্ববিখ্যাত সমাজ হিতৈষী নারী হেলেন কেলারের সঙ্গে তাকে মেলানোর চেষ্টা করেন প্রবাসী অন্ধ ভক্তরা। বলে রাখা ভালো হেলেন কেলার ছিলেন ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধসহ জীবনভর দুনিয়াকে যা দিয়েছেন তা অতুলনীয়।

হেলেন আহমেদের সমালোচকদের ভাষ্য ঠিক উল্টো। তারা সাহিত্যে বহুল চর্চিত ৩ রহস্যময়ী হেলেন, বনলতা আর মোনালিসার প্রতিচ্ছবি দেখেন মিজ আহমেদের মাঝে। তাদের মতে, হেলেনের গোটা জীবনটাই রহস্যেঘেরা। সিলেটের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ধনাঢ্য পিতার একমাত্র সন্তানের সঙ্গে প্রেম-বিয়ে, অল্প বয়সে বিধবা হওয়া, পরবর্তীতে শ্বশুর এবং প্রয়াত স্বামীর সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব, দীর্ঘ সময় সংসার গণ্ডির মধ্যে না থাকা, বর্তমান পার্টনার এডভোকেট মিছবাহুল ইসলাম কয়েছ (আগের ম্যানেজার)-এর সঙ্গে তার সম্পর্কের রসায়ন- সব কিছুতেই অস্পষ্টতা। অভিযোগ আছে, কেবলমাত্র ব্যক্তিস্বার্থে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনকে ব্যবহার করেছেন বহুরূপী হেলেন। মোমেনের ওপর তার যে প্রভাব ছিল তাতে তিনি সিলেটের বৃহত্তর কল্যাণে সরকার থেকে অনেক কিছু আদায় করতে পারতেন। কিন্তু না, তিনি সে পথে হাঁটেননি। বরং বিশ্বস্ততার সুযোগে মন্ত্রীপত্নী ‘লেডি ফরেন মিনিস্টার’ সেলিনা মোমেনের ক্যাশিয়ার হয়ে উঠেন হেলেন।  তারা দু'জন মিলে গড়ে তোলেন দুর্নীতির শক্ত সিন্ডিকেট। তারা প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিশেষ করে বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ইঞ্জিনিয়ার, পিআইও, সাব-রেজিস্ট্রার, এসিল্যান্ড, পুলিশ প্রশাসন থেকে বখরা আদায় করতে গিয়ে সিলেটের সহজ-সরল মানুষকে নানাভাবে ঠকিয়েছেন। এলাকার উন্নয়ন দূর কি বাত। হেলেন আহমেদ প্রশাসনের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছেন মন্ত্রী এবং তার সহধর্মিণীর ক্ষমতার অদৃশ্য হাতের ইশারায়। বিষয়টি এমন ছিল- হেলেনের ক্লিয়ারেন্স ছাড়া বা তার সিন্ডিকেটের বাইরের কেউ কখনো ড. মোমেনের কাছে ঘেঁষতে পারতেন না। সেটা অফিস বা বাসা যেখানেই হোক। তিনি চাইলে ডিসি/এসপি, হর্তা-কর্তা তো বটেই খোদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনকে হাজির করতে পারতেন তার সিলেটের দৌলতখানায়। তার কথার অবাধ্য হওয়ার খেসারত দিতে হয়েছে তৎকালীন অনেক অফিসারকে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে ড. মোমেনকে দিয়ে সিলেটের ডিআইজিকে স্ট্যান্ডরিলিজ করিয়ে নিজের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছিলেন হেলেন। অবশ্য ঢাকা-সিলেট ফোর লেনের কাজ নিয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের সঙ্গে টেক্কায় টিকতে পারেন নি। এই একবারই সম্ভবত প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জে হেরেছেন হেলেন!

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বৃটিশ নাগরিক হেলেনের রাজনীতির পাঠশালায় যাওয়া হয়নি কোনোদিন। কিন্তু তার কাছে অসহায় তৃণমূল থেকে উঠে আসা সিলেটের নারী নেত্রীরা। সেলিনা মোমেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার জেরে সিনিয়রদের টপকে তিনি সিলেট জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান পদ বাগিয়ে নেন। তাছাড়া মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, জাতীয় মহিলা সংস্থাসহ নারীদের সব সংগঠনের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন হেলেন। তিনি যাকে চাইতেন তাকে চেয়ার দিতেন। অপছন্দ হলে ছুড়ে মারতেন আস্তাকুঁড়ে। হেলেন ক্ষমতার গরমে হেন অপকর্ম নেই যা করেননি। ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনেও তিনি মাঠে ছিলেন অস্ত্রধারীদের সঙ্গে। অবশ্য শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেননি। ৫ই আগস্টের অভ্যুত্থানের পর কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন ঢাকায়। নির্ভরযোগ্য সূত্র মানবজমিনকে এটা নিশ্চিত করেছে যে, পুরনো এক বন্ধুর হাত ধরে হেলেন পরবর্তীতে নির্বিঘ্নে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পার হয়েছেন। বর্তমানে সন্তানদের সঙ্গে তিনি লন্ডনে রয়েছেন।

চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আজ যেখানে...
সিলেটের মানুষের মুখে মুখে হেলেনের কীর্তি। শেখ মুজিব পরিবারের ঘনিষ্ঠ বৃটেন আওয়ামী লীগ নেতা ছমরু মিয়ার মেয়ে হেলেন। জগন্নাথপুর নিবাসী হেলেন বরাবরই সুশ্রী। আধুনিক চিন্তা-চেতনার ওই তরুণী বিয়ে করেন সিলেটের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী মাসুদ আহমদ রুহেলকে। রুহেলের পিতা শহরের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ফরিদ উদ্দিন আহমদ। রুহেল জিন্দাবাজারের ব্যবসায়ী। জাতীয় পার্টি করতেন। এরশাদ জমানায় জাতীয় পার্টির সিলেট বিভাগীয় শীর্ষ নেতা মুকিত খানের ঘনিষ্ঠজন। সেই সুবাদে রুহেল ছিলেন অন্যতম শক্তিধর। ঘনিষ্ঠজনদের মতে; সুন্দরী বউ হেলেনের উচ্চাকাক্সক্ষার সঙ্গে নিজেকে খাপ-খাওয়াতে আকাশে উড়তে চেয়েছিলেন রুহেল। শহরতলীর এয়ারপোর্ট রুটে তার বাবার নামে বন্ধকী সম্পত্তিতে গড়ে তুলেন আহমদ হাউজিং। তাছাড়া জিন্দাবাজারের জল্লারপাড়ে গড়ে তুলেন বহুতল মার্কেট, সঙ্গে হোটেল। নাম দেন ‘দ্য লাস্ট ডেইজ অব রাজ’। তার সম্পত্তি (জমি-জিয়ারত) নিয়ে ঝামেলা ছিল অনেক। এ নিয়ে রুহেল ছিলেন প্রচণ্ড দুশ্চিন্তায়। যার প্রেক্ষিতে অকালেই মারা যান তিনি।

স্বামীর মৃত্যুর পর পিতার পরিচয়ে ‘সিঙ্গেল মাদার’ হিসেবে সিলেটে এবং লন্ডনে খানিকটা  স্ট্র্যাগল লাইফ শুরু হয় হেলেনের। অবশ্য কষ্ট বেশিদিন করতে হয়নি। তার বাবার অনেক বন্ধু তাকে আশ্রয় দেন, পাশে দাঁড়ান। ততক্ষণে তার নিজেরও অনেক বন্ধু জোগাড় হয়ে যায়। যার প্রেক্ষিতে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে তিনি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়তে সক্ষম হন। বহুল আলোচিত ওয়ান ইলেভেন তার জীবনে আশীর্বাদ নিয়ে আসে। সেই সময়ে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হন তার নিকটাত্মীয় ফখরুদ্দিন আহমদ। তার ক্ষমতায় তিনি ক্ষমতাধর হয়ে উঠেন সিলেটে। আগে থেকে জমি-জিরাত নিয়ে চলা দ্বন্দ্বে অনেকেই তখন আপস করেন ফখরুদ্দিন আহমদের ভাগ্নিখ্যাত হেলেনের সঙ্গে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাকে আর ঠেকায় কে? অবশ্য সেই সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত তাকে খুব একটা পাত্তা দিতেন না। হেলেনের সুবর্ণ যুগ শুরু হয়  মুহিতের শেষ সময়ে এসে তার বদলে সহোদর ড. মোমেনের সিলেটের রাজনীতিতে পদার্পণের পর। জাদুর বলে মোমেন পত্নী সেলিনা মোমেনকে বশীভূত করে নেন রহস্যময়ী হেলেন। বিষয়টি এমন হয়ে দাঁড়ায় সেলিনা মোমেন আর হেলেন হয়ে উঠেন হরিহর আত্মা। নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার পর মোমেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হলে হেলেনকে আর পেছনে ফেরে তাকাতে হয়নি। ৫ই আগস্ট পর্যন্ত সিলেটের রাজনীতিতে মোমেনই ছিলেন সব। যদিও তিনি ২০২৪ এর ডামি নির্বাচনের পর মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। বলাবলি আছে মোমেন মন্ত্রী বা এমপি হলেও তার সহধর্মিণী ছিলেন তারও উপরে। সেখানে হেলেনের অবস্থান ছিল ‘ছায়া মন্ত্রী’।

হেলেন অনুপস্থিত, তবে আছেন সিলেটের সামাজিক আড্ডা-আলোচনায়
মার্কিন কবি এডগার অ্যালান পো’র ‘টু হেলেন’ কবিতাটি শুধু উনিশ শতকের তরুণদের নয়, বুড়ো হাড়েও প্রেমের স্পন্দন জাগাতো। অ্যালান পো’র ‘টু হেলেন’ পাঠে প্রভাবিত হয়ে নাকি জীবনানন্দ দাস ‘বনলতা সেন’ লিখেছেন! সাহিত্য-সমালোচকদের মতে, জীবনানন্দ হেলেনের প্রেমে পড়ে বনলতাকে নায়িকা বানিয়েছেন। বনলতা সেন নামের কেউ নাকি আদতে ছিলেন না জীবনানন্দ দাশের জীবনে। তবে সিলেটের রাজনীতি, অর্থনীতি তথা সমাজে হেলেন আহমেদের অস্তিত্ব বিদ্যমান নানা কারণে। যদিও অনেকদিন ধরে তিনি সিলেটে ফিজিক্যালি অনুপস্থিত। হেলেনের প্রেম, বিয়ে এবং মন্ত্রী পরিবারের ঘনিষ্ঠতা প্রসঙ্গে এক আড্ডায় কথা হচ্ছিলো। সেখানে ছিলেন অবিভক্ত ভারতের আসাম প্রভিন্সের সর্ববৃহৎ বিদ্যাপীঠ এমসি কলেজের বাংলা বিভাগের এক সহযোগী অধ্যাপক। তিনি বারবার অ্যালান পো’র ‘টু হেলেন’ কবিতাকে উদ্ধৃত করছিলেন।

মন্ত্রী মোমেনকে খুশি করতে তার নামে ফাউন্ডেশন ও জমি দান:
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনের প্রতি খুবই কৃতজ্ঞ হেলেন। তিনি তার খুশির প্রকাশ করেছেন তার নামে একটি ফাউন্ডেশন গড়ে তোলে। মোমেন পত্নীকে চেয়ারম্যান আর নিজে সেক্রেটারি হয়ে ওই ফাউন্ডেশন গড়েছেন। তাতে একটি জমিও দান করেছেন। অবশ্য সেটার বিনিময়ে তিনি ওই প্লটের আশপাশে থাকা জমিগুলোর শ্রেণি পরিবর্তনে সক্ষম হয়েছেন। যা তাকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করেছে। চতুর হেলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেনের স্ত্রী সেলিনা মোমেনের নামে ২০ শতক জমি লিখে দেয়ার পরই ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন বড়শালা এলাকাস্থ সেই জমিগুলোর শ্রেণি পাল্টে যায়। হেলেন-সেলিনার জাদুর ছোঁয়ায় ৬০ বছর ধরে কাগজপত্রে থাকা ৭৮৬ শতক ‘টিলা’ শ্রেণির জায়গা মাত্র ২৭ দিনেই হয়ে যায় ‘ভিটা’ ও ‘বাড়ি’। ২০২১ সালের আগস্টে ঘটনাটি ঘটলেও তা পরবর্তীতে জানাজানি হয়।

হেলেনের সঙ্গে পরিচয়, ঘনিষ্ঠতা প্রসঙ্গে যা বললেন মোমেন:
হেলেনের সঙ্গে ড. মোমেন পরিবারের ঘনিষ্ঠতা বিষয়ে জানতে চেয়ে বার্তা পাঠানো হয় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনের বিবেচনায়। সেই সঙ্গে তার কাছ থেকে হেলেনের নতুন হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারটি যোগাড় করার চেষ্টা হয়। (হেলেনের বাংলাদেশের নাম্বারগুলো এখন আর ব্যবহৃত হচ্ছে না)। দীর্ঘ জবাবে ইংরেজিতে ড. মোমেন যা বললেন তার সারবেত্তা এরকম- “হেলেন সম্পর্কে আমার তেমন কোনো ধারণা ছিল না। আমি যখন বাংলাদেশে ফিরে আসি তখন তার সঙ্গে আমার দেখা হয়। আমাকে বলা হয় যে, তার বাবা ’৬০-এর দশকের গোড়ার দিকে বৃটেনে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং একজন ধনী ব্যক্তি। তার বাবা এবং তার প্রয়াত স্বামীর কাছ থেকে তিনি প্রচুর সম্পদ পেয়েছেন উত্তরাধিকার সূত্রে। তার স্বামী ছিলেন তার ধনী বাবার (শ্বশুরের) একমাত্র পুত্র। ৬০-এর দশকে তার শ্বশুর বেশির ভাগই জমিদারি সম্পত্তি কেনার পেছনে বিনিয়োগ করেন। তাই তিনি তার বাবার কাছ থেকে এবং আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে তার প্রয়াত স্বামী এবং প্রয়াত শ্বশুর উভয়ের কাছ থেকে বিপুল সম্পত্তি পেয়েছেন উত্তরাধিকার সূত্রে।
হেলেনের সঙ্গে এখন কোনো যোগাযোগ নেই। তার নম্বর নেই জানিয়ে ড. মোমেন লিখেন তার সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিতে না পারার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
পরে পৃথক বার্তায় ড. মোমেন তার ফাউন্ডেশনে হেলেনের জমি দান  বিষয়ে লিখেন- ফাউন্ডেশনকে জমি দানের পরই হেলেন আলোচনায় আসেন। যেহেতু সেখানে আমার নাম ছিল, তাই মিডিয়া তাতে কালিমা লেপনের চেষ্টা করেছে।
হেলেনের স্বামী মোমেন ফাউন্ডেশনের প্লটের কাছে একটি 'হিল টপ' বাড়ি তৈরি করেছেন জানিয়ে ড. মোমেন দাবি করেন ফাউন্ডেশনকে যে জমি দান করেছেন হেলেন, তা সেই 'হিল টপ' বাড়ির নিচে অবস্থিত। সেখানে জমির শ্রেণি পরিবর্তন বা পাহাড় কাটা হয়নি।

mzamin

ভালো নেই সেই শিশুটি: সিলেটে ধর্ষকের দোষ কবুল, জনতার ক্ষোভ

মাগুরায় ধর্ষণের শিকার শিশুটির অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। সিজিএস কমা লেভেল চার থেকে তিনে নেমে এসেছে। ব্রেইন স্টেম এবং চোখের মণির প্রসারণও  কমে গেছে আগের দিন থেকে। গতকাল রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বিফ্রিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, সিএমএইচ’র চিকিৎসকরা প্রাণান্ত চেষ্টা করছেন। আমরা সবাই মিলে দোয়া করি যাতে শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়। ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) প্যাডিয়াট্রিক আইসিইউতে শিশুটির চিকিৎসা চলছে। এর আগে সোমবার শিশুটির শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতির খবর দিয়ে বলা হয়, পাঁচদিনের মাথায় তার চোখের পাতা নড়েছে। এদিকে গতকাল সকালে শিশুটির দু’বার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

শিশুটির চিকিৎসায় সিএমএইচ’র চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের এক সদস্য বলেন, তার (শিশুটি) অবস্থা আরও জটিল হয়েছে। সে এখন জটিল পরিস্থিতির সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। আজ সকাল আটটার দিকে প্রথমবার তার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসায় তার হৃদস্পন্দন ফিরে আসে। পরে দ্বিতীয়বার তার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়। সেবারও চিকিৎসায় তা ফিরে আসে। তার মস্তিষ্ক প্রতিক্রিয়াহীন অবস্থায় আছে। তার গ্লাসগো কোমা স্কেল (জিসিএস) ৩। মস্তিষ্কের আঘাতের কারণে কোনো ব্যক্তির চেতনার মাত্রা হলো জিসিএস। মানুষের স্বাভাবিক মাত্রা হলো ১৫। জিসিএস ৩ অবস্থাকে মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়াহীন অবস্থা বলে বিবেচনা করা হয়। তিনি বলেন, ঘটনার সময় শিশুটিকে যখন ফাঁস দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়, তখন তার মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়। পরদিন বেলা ১১টায় হাসপাতালে নেয়ার আগপর্যন্ত এই অবস্থায় তাকে ফেলে রাখা হয়েছিল। এ কারণে দীর্ঘ সময় অক্সিজেন না পেয়ে মস্তিষ্কের বড় ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে অক্সিজেন দিলে মস্তিষ্কের এত ক্ষতি হতো না।

সিলেটে ধর্ষকের দোষ কবুল, জনতার ক্ষোভ

সিলেটে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা স্বীকার করেছে দুই ধর্ষক। বলেছে; শাহপরাণ (রহ.)’র মাজার থেকে বাড়ি ফেরত ওই মহিলাকে তারা নির্জন টিলায় নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। এক পর্যায়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই মহিলাকে টিলার পাশের সড়কে রেখে পালিয়ে যায়। বুধবার বিকালে সিলেটের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল মোমেনের আদালতে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী জবানবন্দিকালে ধর্ষক লেগুনা ড্রাইভার আব্দুর রহিম ও তার বন্ধু রাকিব ঘটনা স্বীকার করেছে। জবানবন্দিতে তারা জানায়, শাহপরানের মাজার থেকে তারা ওই মহিলাকে বাড়ি পৌঁছে দেয়ার কথা বলে লেগুনা গাড়িতে তুলে। এরপর তারা লেগুনা নিয়ে চলে যায় শহরতলীর কালাগুল চা বাগান এলাকার রাবার বাগানে। ঘটনা গত মঙ্গলবার সকালের। ঘটনাস্থল এয়ারপোর্ট থানার ছড়াগাঙের রাবার টিলার নির্জন বাগান। জবানবন্দিতে আব্দুর রহিম ও রাকিব মিয়া জানিয়েছে, রাতে তারা শাহপরানের মাজারেই ছিল। ওখানে তারা কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারীকে টার্গেট করে। তার সঙ্গে কথা বলে। ভোর রাত ৫টার দিকে ওই মহিলা জানায়- সে তার বাড়ি বিশ্বনাথে যাবে। এ সময় আব্দুর রহিম তাকে লেগুনাতে তুলে। লেগুনাতে বসিয়ে তারা গাড়িটি বিশ্বনাথের পথে না গিয়ে চৌমুহনী থেকে বাগান  রোড ধরে। খুঁজে খুঁজে রাবার বাগানের নির্জন টিলার উপর নিয়ে গিয়ে তারা উপর্যুপরি ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে রক্তাক্ত অবস্থায় রেখে তারা পালিয়ে যায়।

 পুলিশ জানিয়েছে; আদালতে তারা দায় স্বীকার করার পর বিচারকের নির্দেশে ধর্ষক আব্দুর রহিম ও রাকিব মিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে রাতভর এয়ারপোর্ট থানায় রেখে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদেও তারা ধর্ষণ ও অপহরণের ঘটনা স্বীকার করে এয়ারপোর্ট থানার ওসি মানবজমিনকে জানিয়েছেন- মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। আসামিদের বাড়ি শাহপরান থানা এলাকায়। ধর্ষণের ঘটনা ঘটানোর পর তারা নিজ নিজ বাড়ি চলে যায়। প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি মিডিয়া মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মানবজমিনকে জানিয়েছেন, ধর্ষিতা ওই নারীকে রাবার বাগানের সড়ক থেকে উদ্ধারের পর পুলিশ তদন্তে নামে। প্রথমে বাগানের শ্রমিকদের কাছ থেকে তথ্য জানার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শ্রমিকরা কিছুই জানে না বলে জানান। ঘটনা ঘটেছে ভোররাতে। তখন বাগান নীরব ছিল, কোনো শ্রমিক ছিল না। তবে ধর্ষিতার মুখ থেকে শাহপরান মাজারের নাম আসে। পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে মাজার থেকে। সিসিটিভি’র ফুটেজ তল্লাশি করে। এক পর্যায়ে তারা দেখতে পায় ওই মহিলাকে নিয়ে দুই যুবক একটি লেগুনা করে মাজার এলাকা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। নাম্বার সংগ্রহ করা হয় ওই লেগুনার। নাম্বার সিলেট-ছ-১১-১২৭১। পুলিশের অনুসন্ধানে পাওয়া যায় লেগুনার মালিকের নাম। মালিকের সূত্র ধরে পাওয়া যায় চালক আব্দুর রহিমকে। পরে পাওয়া যায় রাকিব মিয়াকে। তারা দু’জন বন্ধু। আব্দুর রহিম চালক। আর রাকিব মিয়া গাড়ি মেকানিক। দু’জনের মধ্যে বন্ধুত্বের ভাব রয়েছে।

এদিকে ধর্ষিতা ওই নারী এখন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি আছে। মঙ্গলবার সকালে যখন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় তখন তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিলো। চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর তা বন্ধ হয়। তবে এখনো পুরোপুরি সুস্থ নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালের চিকিৎসকের বরাত দিয়ে এয়ারপোর্ট থানার ওসি জানিয়েছেন- পুরোপুরি সুস্থ হলে তাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া হবে। ভর্তিকালীন সময়ে সে যে ট্রমার মধ্যে ছিল এখন ধীরে ধীরে সেটি কাটছে। গ্রেপ্তার হওয়া ঘটনাকারী দু’ধর্ষককে ছবি দেখার পর সে চিনেছেও। ধর্ষক আব্দুর রহিম শাহপরানের পীরের বাজার এলাকার উত্তর মোকামেরগুল গ্রামে বাড়ি। তার পিতার নাম হাশেম মিয়া। আর রাকিব মিয়ার বাড়ি শাহপরান এলাকার দলইপাড়া গ্রামে। তার পিতা আনোয়ার হোসেন। ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর গতকাল বুধবার দুপুরে ধর্ষক রাকিব মিয়ার বাড়ির সামনে কয়েকশ’ মানুষ উপস্থিত হয়ে হামলার প্রস্তুতি নেয়। খবর পেয়ে শাহপরান থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এক পর্যায়ে ধর্ষকের বাড়ি ভাঙচুর করতে আসা লোকজনের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। উপস্থিত এলাকাবাসী জানিয়েছেন পুলিশ এখন ধর্ষকের বাড়ি পাহারা দিচ্ছে। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। তারা বলেন- ধর্ষক রাকিব মিয়া নিজেও অনেক অপরাধে জড়িত। তার পিতা আনোয়ার হোসেনও একজন গরুচোর হিসেবে পরিচিত। কোনো ধর্ষককে তাদের এলাকায় স্থান দেয়া হবে না। এ কারণে ধর্ষক পরিবারকে সেখান থেকে সরিয়ে নিতে তারা পুলিশকে অনুরোধ করেছেন।
mzamin

গ্রেপ্তার দম্পতির তথ্য: ধর্ষণচেষ্টা করায় উপাধ্যক্ষকে কুপিয়ে হত্যা

রাজধানীর হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ সাইফুর রহমান ভূঁইয়া হত্যা মামলায় রুপা বেগম ওরফে জান্নাতি ও নাজিম হোসেন  দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ফরিদপুর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো বঁটি, একটি ধারালো চাকু ও রক্ত মাখা জামা-কাপড় এবং বিছানার চাদর উদ্ধার করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়। গতকাল ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপি’র উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, গত সোমবার রাত ২টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে হাবীবুল্লাহ বাহার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ সাইফুর রহমান ভূঁইয়া উত্তরখান থানার পুরানপাড়া বাতান এলাকার একটি ছয়তলা বিল্ডিং এর ৪র্থ তলার ৬নং ফ্ল্যাটে খুন হন। এ খুনের ঘটনায় তার ছোট ভাই মোহাম্মদ লুৎফর রহমান ভূঁইয়া বাদী হয়ে উত্তরখান থানায় ১১ই মার্চ একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ভুক্তভোগী সাইফুর রহমান ভূঁইয়া উত্তরখানের পুরানপাড়া বাতান এলাকায় তার স্ত্রীর পৈতৃক সম্পত্তিতে বাড়ি নির্মাণ করার জন্য গত ৩/৪ মাস যাবৎ সে এলাকার একটি বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। ঘটনার দিন বিকালে তিনি সংবাদ পান তার বড় ভাইকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ধারালো অস্ত্র দ্বারা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তার শয়ন কক্ষের ভেতর ফেলে রেখেছে। স্থানীয় লোকজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। পরবর্তীতে চিকিৎসারত অবস্থায় সকাল ৭টার দিকে তিনি মারা যান। উত্তরখান থানা পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠায়।

ডিসি মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, মামলাটি রুজুর পর ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে উক্ত হত্যা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন করে উত্তরখান থানা পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে ফরিদপুর  রেলস্টেশন এলাকা হতে ফরিদপুর সদর থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাদের হেফাজত হতে দুটি মোবাইল ফোন, একটি চাবির রিং ও একটি ব্যাংকের ভিসা কার্ড উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ঘটনার ২/৩ দিন পূর্বে কমলাপুর রেলস্টেশনে মোহাম্মদ সাইফুর রহমান ভূঁইয়ার সঙ্গে নাজিম হোসেন ও রুপা বেগম ওরফে জান্নাতির পরিচয় হয়। পরিচয় হওয়ার সুবাধে তার ফ্ল্যাটে নিয়ে আসেন। একপর্যায়ে মোহাম্মদ সাইফুর রহমান ভূঁইয়া রুপা বেগম ওরফে জান্নাতিকে তার ফ্ল্যাটে আটক করে শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতন শুরু করে। গ্রেপ্তারকৃতরা নির্যাতন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত রাগ ও ক্ষোভ থেকে সোমবার রাতে ধারালো বঁটি দিয়ে মোহাম্মদ সাইফুর রহমান ভূঁইয়াকে উপর্যুপরি আঘাত করে। আঘাতের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি মারা যান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা এই হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। তাদের  আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

mzamin