Wednesday, May 19, 2010

আমাদের সবার মধ্যেই আছে জিনিয়াস -অরণ্যে রোদন by নিসুল হক

মাধ্যমিক পরীক্ষায় যারা জিপিএ-৫ পেয়েছে, তারা আনন্দ করছে। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে দেশের সেরা স্কুলের ছেলেমেয়েরা। পত্রিকায় আর টেলিভিশনের খবরে সেই মেধাবী ছেলেমেয়ের আনন্দ আর কৃতিত্বভরা মুখগুলো দেখতে কী ভালোই না লাগছে!
প্রথমেই আমরা অভিনন্দন জানাব এই বিজয়ীদের। মোটামুটি প্রতি নয়জনে একজন জিপিএ-৫ পেয়েছে এবার। তার মানে নয়জনে আটজনই পায়নি। কাজেই বাকি আটজনের সামনে যারা আছে তাদের তো অভিনন্দন জানাতেই হবে। তবে কার সামনে বা কার পেছনে গেলাম, এটা বড় কথা নয়। একটা পরীক্ষায় ভালো করলাম, ফল হিসেবে যেটা সবচেয়ে ভালো, সেটাতেই নিজের নাম লেখালাম, এর মধ্যে একটা গৌরব আছে।
এই জিপিএ পদ্ধতিটা আমার কাছে আমাদের সময়ের চেয়ে ভালো বলে মনে হয়। আমাদের সময়ে ছিল স্ট্যান্ড করা। এর বাইরে কে কটা লেটার মার্কস পেল, স্টার মার্কস আছে কি না; তারপর প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ—এই সব দিয়ে ফলাফলের ইতরবিশেষ করা হতো।
যারা মেধাতালিকায় স্থান পেত, বোর্ডের মধ্যে—একটা ছিল সম্মিলিত মেধাতালিকা, আর একটা ছিল বিজ্ঞান বা মানবিক বা বাণিজ্য শাখার মেধাতালিকা—তাদেরকে কৃতী ছাত্র হিসেবে গণ্য করা হতো। তাতে চার বোর্ড থেকে সাকল্যে দুই-আড়াই শ ছেলেমেয়েকে আলাদা করে নেওয়া হতো। এখন সেই সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজারে। আমার একজন শিক্ষক অবশ্য তাতে খুবই গোস্বা। তিনি মনে করেন, এতে মুড়ি-মুড়কির এক দর হয়ে গেছে। প্রকৃত মেধা চেনা যাচ্ছে না। যে সবার সেরা, তাকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা ও স্বীকৃতি দেওয়া দরকার। আমি তাঁর মতের সঙ্গে একেবারেই একমত নই। সবার সেরা, সবচেয়ে মেধাবী, সবচেয়ে কৃতী আবার কী! মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করা খুব ভালো, কিন্তু তার মানে এই নয় যে সে-ই সবচেয়ে মেধাবী! আর জীবনের পরীক্ষায় সে-ই যে সবচেয়ে ভালো করবে এই রকম কোনো কথাও নেই। আসলে একটা গবেষণা হওয়া দরকার। সেই যে বোর্ডে যারা প্রথম থেকে বিশতম স্থান অধিকার করত আমাদের সময়ে, পরবর্তীকালে কে কী করেছে, কে কী হয়েছে? একটা বড় সমস্যা হলো ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। আমাদের সময়ে আমাদের বোর্ডে যে ছেলেটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিল, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় সে মেধাতালিকায় বিশের ঘরেও ছিল না। আবার প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে দেখলাম, আমাদের সঙ্গে সিভিলে যে প্রথম হচ্ছে, মাধ্যমিক আর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় তার ফল ছিল মামুলির চেয়ে মামুলি। এ রকমও দেখেছি, অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে সে বুয়েটে ভর্তি হয়েছে, তার সামনের যোগ্যতর কেউ ভর্তি হলে তার বুয়েটে জায়গাই হয় না, সেই ছেলে দিব্যি ফার্স্ট হচ্ছে তার বিভাগে। তারপর কী হলো? বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে গিয়ে কত উজ্জ্বল মুখ এখন হয়তো আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের কোনো একটা কম্পিউটার কোম্পানিকে দিন-রাত সেবা দিয়ে মরছে, আর মাঝারি ফল করে বুয়েট থেকে বেরিয়ে ঢাকায় সফটওয়্যার কোম্পানি দিয়ে সেই মাঝারি ছেলেটা এখন শত শত ছেলেমেয়ের চাকরির ব্যবস্থা করেছে, দেশের জন্য আনছে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা, আর হয়তো আমাদের প্রথমোক্ত ভালো ছেলেটির নিয়োগকর্তার সঙ্গে সমান মর্যাদা নিয়ে ব্যবসায়িক কিংবা প্রযুক্তিগত লেনদেন করছে।
তাহলে আখেরে মেধাবী কে? দেশের জন্য বেশি উপকারী কে? পরীক্ষার ফল দিয়ে এই প্রশ্নের উত্তর বের করা যাবে না। এই জন্য যত বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থীকে আমরা উজ্জীবিত রাখতে পারি, উৎসাহিত রাখতে পারি, সমাজ-সভ্যতা ও মানুষের জন্য তত বেশি সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
প্রতিটি মানুষ একেকটা অনন্ত সম্ভাবনার নাম। প্রত্যেকের মধ্যে সলতে আছে, মোম আছে, শুধু অগ্নিসংযোগটা করে দেওয়ার অপেক্ষা।
আমার এই কথার সমর্থন পেলাম ডেভিড শেংকের কথায়। বিবিসি রেডিওর ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে এই লেখকের ইন্টারভিউ হচ্ছিল। তিনি সম্প্রতি একটা বই লিখেছেন, দি জিনিয়াস ইন অল অব আস। আমাদের সবার মধ্যেই আছে জিনিয়াস। তিনি বললেন, আমাদের যে কেউ আইনস্টাইন, বিটোফেন, মাইকেল জর্ডান হতে পারে। ওই বইটা এখন নিউইয়র্ক টাইমসের বেস্ট সেলারের তালিকায় আছে। তিনি বলছেন, আমরা কেউ ভালো করি, কেউ খারাপ করি, এটা আমাদের জিনে লেখা আছে বলে হয় না, আসলে আমাদের সবার জিনেই অনেক কিছুই আছে, এখন দরকার ওই জিনটাকে কার্যকর করে তোলা। সেটা হয় পরিবেশ, ক্রমাগত চেষ্টা, খাদ্য, হরমোন, মানসিক ও শারীরিক অনুশীলন আর অন্য জিনের ভূমিকার ওপরে। তিনি এন্ডারস এরিকসন নামের একজন মনোবিজ্ঞানীর একটা পরীক্ষার কথা উল্লেখ করেছেন তাঁর বইয়ে। এই মনোবিদ একজন তরুণকে বেছে নিয়েছেন, যিনি সাত অঙ্কের বেশি সংখ্যা মনে রাখতে পারেন না। কিন্তু ক্রমাগত অনুশীলন করে তীব্র মনোসংযোগ করে, শেষমেশ দেখা গেছে, ওই তরুণ আশি অঙ্কের বিশাল সংখ্যাও মনে রাখতে পারেন। তার মানে, এই যে বিশাল কোনো অঙ্ক মনে রাখার প্রতিভা, এটা ওই তরুণের ভেতরে ছিলই। পরিবেশের কারণে, চেষ্টাহীনতার কারণে তিনি তাঁর বিকাশ ঘটাতে পারেননি। ডেভিড শেংক বলছেন, যে কেউ জিনিয়াস হতে পারে, সে যদি তীব্রভাবে সেটা চায়, সেটা পাওয়ার জন্য প্রচণ্ড অনুশীলন করে। বেটোফেন তাঁর একটা পঙিক্ত রচনা করার জন্য ৬০-৭০ বার পর্যন্ত লিখেছেন, টেড উইলিয়ামস নামের আমেরিকার কিংবদন্তি বেসবল খেলোয়াড় প্রতিদিন এত অনুশীলন করতেন যে তাঁর আঙুল ফেটে রক্ত বেরোতে থাকত। আমরা জানি, এখনো শচীন টেন্ডুলকার রোজ নেটে খুবই শ্রম স্বীকার করে অনুশীলন করেন। এই অনুশীলন, এই তীব্র আকাঙ্ক্ষা, এই মনোসংযোগ তাঁর ভেতরের জিনটাকে সক্রিয় করে তোলে। এই জিন আমাদের সবার ভেতরেই আছে, আমরা সেই শ্রম স্বীকার করি না, সেই পরিবেশ পাই না।
কাজেই মেধাবীর সংখ্যা যত বেশি হবে, তাদের ভেতর থেকে জিনিয়াস বের করে আনার সম্ভাবনা তত বেশি।
কিন্তু আমরা কেবল কৃতকার্যদের নিয়ে কথা বলব না। আমাদের তাকাতে হবে অকৃতকার্যদের দিকেও। প্রায় দুই লাখ ছেলেমেয়ে পাস করতে পারেনি। ৮ বোর্ডে সাড়ে আট লাখ ছেলেমেয়ে জিপিএ-৫ পায়নি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা ফল ভালো করতে পারেনি, তাদের প্রতি যেন অভিভাবকেরা সহানুভূতিহীন আচরণ না করেন। তোমরা যারা জিপিএ-৫ পাওনি, তোমরা একদম মন খারাপ করবে না।
আমার নিজের স্কুল-কলেজের দিনগুলোর দিকে তাকিয়ে মাঝেমধ্যে বিচার করার চেষ্টা করি আমি। পরীক্ষার ফল আর জীবনের ফল কি সব সময় এক থাকে? যে ছেলেটা এসএসসি পাস করেছিল দ্বিতীয় বিভাগে, সে কেমন আছে? আসলে আমাদের দেশে শিক্ষার একটাই উদ্দেশ্য, তা হলো, লেখাপড়া করে যেই জুড়িগাড়ি চড়ে সেই। আমরা কৃষকের সন্তান, লেখাপড়া করে কেরানি বাবু হব, বড়জোর জজ-ব্যারিস্টার-ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হব। এই হলো আমাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। সেটাও উপলক্ষ, আসল লক্ষ্য জুড়িগাড়ি চড়া। জীবনকে সুন্দর করা, নিজের ভেতরের দক্ষতা ও যোগ্যতার সীমাটাকে প্রসারিত করা, জীবন ও জগৎ সম্পর্কে কৌতূহলী ও সচেতন করে তোলা, মানবসভ্যতা আর মানবতার উপকারে লাগা, এই জাতীয় বিমূর্ত ধারণা আমাদের শিক্ষালাভের উদ্দেশ্যের সঙ্গে যেন যায়ই না।
আচ্ছা, এসো, আমরা বিবিসির জরিপে যে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির তালিকা প্রণীত হয়েছিল, সেটার দিকে তাকাই। সবার ওপরে আছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর পরই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এই তালিকায় আরও যাঁরা আছেন—কাজী নজরুল ইসলাম, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, তিতুমীর, বেগম রোকেয়া, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, জীবনানন্দ দাশ থেকে শুরু করে অমর্ত্য সেন—তালিকার দিকে তাকালে দেখা যাবে, তাঁদের বেশির ভাগেরই ভালো ছাত্র বলে সুনাম ছিল না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্কুলে যেতে চাননি, প্রবেশিকা পরীক্ষায় অবতীর্ণই হননি। নজরুলের স্কুলের পড়া শেষ হয়নি। ঈশ্বরচন্দ্রের অবশ্য ফল খুব ভালো ছিল। ফার্স্ট হতেন। নিশ্চয়ই অমর্ত্য সেনেরও পরীক্ষার ফল ভালো ছিল। ক্যামব্রিজে স্নাতক পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন, তাঁর জীবনীতে দেখতে পাচ্ছি। তার মানে, পরীক্ষার ফল ভালো করলেও শ্রেষ্ঠ হওয়া যায়, না করলেও হওয়া যায়। অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ তাই বলেন, ‘আমি অনেক অভিভাবককে বলি, আপনারা তো পুত্রঘাতী রুস্তম। যে সন্তানের অ্যারিস্টোটল হওয়ার কথা ছিল, তাকে আপনারা একজন কম্পিউটার প্রগ্রামার বানিয়ে ভাবেন সেটাই সাফল্য।’
না, আমি তোমাদের লেখাপড়ায় ফাঁকি দিতে বলব না। চেষ্টা করো। আমাদের সবার মধ্যেই জিনিয়াস আছে, খুব মনোযোগ দিয়ে চেষ্টা করলে আমাদের লক্ষ্য পূরণ হবেই। তবে শুধু লেখাপড়া বা পরীক্ষার ফল জীবনের সব কথা নয়, শেষ কথা তো নয়ই। পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে বাইরের বই পড়া, শ্রেষ্ঠ সাহিত্য পাঠ, সংগীত-চিত্রকলা-চলচ্চিত্রের আস্বাদন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা ইত্যাদি আমাদের সুকুমার বৃত্তিগুলোকেই কেবল জাগিয়ে তোলে না, আমাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণ তৈরি করে। আমাদের দায়িত্ব নিতে শেখায়। ওই যে একটু বিবিসি জরিপের শ্রেষ্ঠ বাঙালিদের নাম নিচ্ছিলাম, তাদের সবার পরীক্ষার ফল ভালো না হলেও একটা বিষয়ে সবার মধ্যে মিল পাওয়া যাবে, তাদের প্রত্যেকেই প্রচুর পড়েছেন, এমনকি কাজী নজরুল ইসলামেরও দেশবিদেশের সাহিত্য পড়া ছিল গভীরভাবে।
যে হাজার হাজার ছেলেমেয়ে জিপিএ-৫ পাচ্ছে, তাদের মেধার আলোয় বাংলাদেশ আলোকিত হবে, এই স্বপ্ন তো আমরা দেখি। কিন্তু যারা জিপিএ-৫ পায়নি তাদের মধ্য থেকেও বেরিয়ে আসবেন আইনস্টাইন, রবীন্দ্রনাথ, শেখ মুজিবুর রহমান, পাবলো পিকাসো, বিল গেটস, নয়তো কোনো দুনিয়া কাঁপানো শিল্পোদ্যোক্তা—সেই স্বপ্নও আমাদের আছে। শুধু স্বপ্ন নয়, বিশ্বাসও আছে। কাজেই আমাকে যদি পক্ষ নিতে বলা হয়, আমি বলব, আমি তাদের দলে, যারা জিপিএ-৫ পায়নি। সেই সাড়ে লক্ষ লক্ষ ছেলেমেয়ে এবার জিপিএ ফাইভ পায়নি, তারাও মানুষ হবে, কেবল নিজের জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবে না, দেশ ও সমাজের কল্যাণে তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে, এ বিষয়ে আমার নিজের কোনও সন্দেহ নেই।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

বিটিআরসি বনাম মন্ত্রণালয় -স্বাধীন নিয়ন্ত্রণ-কাঠামোর ক্ষমতা খর্ব করা কার স্বার্থে

প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধিত) আইন-২০১০’ মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়ায় টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রণ কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। আইনটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সব ধরনের ক্ষমতা চলে যাবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সরাসরি এখতিয়ারে। নতুন আইনের সংশোধনী প্রস্তাবে টেলিযোগাযোগ লাইসেন্স প্রদানের পদ্ধতি, নীতিমালা প্রণয়ন, ফি ও ট্যারিফ-কাঠামো বিটিআরসির পরিবর্তে সরকার বা মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করবে। নিয়ন্ত্রণের এই নতুন ধরন টেলিযোগাযোগ খাতের বিকাশ প্রশ্নে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রণের স্বাধীন কাঠামো হিসেবে ১৯৯৮ সালে জাতীয় টেলিযোগাযোগ নীতিমালার আওতায় আইন ও কমিশন গঠন করা হয়। নতুন আইনের ফলে বিটিআরসির এই স্বাধীন ক্ষমতা থাকবে না। এ উদ্দেশ্যে টেলিযোগাযোগ আইন ২০০১-এর ১৫ ধারায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনও আনা হয়েছে। বাংলাদেশে ক্রিয়াশীল মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানিগুলোর ধারণা, বিটিআরসি ১৫ বছরের অভিজ্ঞতায় দক্ষ এবং টেলিযোগাযোগ খাতের বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত। হঠাৎ এই দায়িত্ব সরাসরি মন্ত্রণালয়ের হাতে গেলে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি তারা সরকারি মালিকানায় মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানি থাকায়, সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ থাকবে না বলেও অভিযোগ করেছে।
অন্যদিকে নতুন আইনে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো অপরাধের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে নেটওয়ার্ক বন্ধ না করে প্রশাসক নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। সাধারণভাবে এটি ইতিবাচক প্রস্তাব। তবে প্রশাসক থাকাকালে ক্ষয়ক্ষতির দায়দায়িত্ব সরকার না নেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের জন্য তা সুরক্ষা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে হয় না। এ খাতের অনিয়ম ও অপরাধের জন্য ৩০০ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে। এ ধরনের জরিমানার বিধান শৃঙ্খলার স্বার্থে নিশ্চয় প্রয়োজনীয়; কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠান অভিযুক্ত হলে যাতে আপিল বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পায় তা নিশ্চিত করা উচিত, প্রস্তাবিত নতুন সংশোধনীতে এ ধরনের কোনো বিধান নেই।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, বিটিআরসি যেখানে কার্যকর ভূমিকা রাখছিল, সেখানে মন্ত্রণালয়ের সরাসরি কর্তৃত্ব গ্রহণের প্রয়োজন হলো কেন? জ্বালানি খাতে অনেক অনিয়মের পরও স্বাধীন রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠান কাজ করতে পারলে শক্তিশালী বিটিআরসি থাকতে অসুবিধা কোথায়? ক্ষমতার এ রকম কেন্দ্রীভবন একদিকে দুর্নীতি অন্যদিকে দীর্ঘসূত্রতার কারণ হয়। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের স্বীকৃত পন্থা হচ্ছে, মন্ত্রণালয়ের নীতিগত দিকনির্দেশনার আলোকে স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কার্যক্রম ও তদারকি পরিচালনা করা। সেই কাজের জন্য বিটিআরসিই উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান। মন্ত্রণালয়ের বরং প্রয়োজন সরকারি টেলিসেবা খাতের বিকাশে আরও নিষ্ঠাবান হওয়া। অন্যদিকে বিটিআরসির মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি সব টেলিসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান যেন সরকারের রাজস্ব বাড়ানো, গ্রাহকের সন্তুষ্টি এবং প্রাযুক্তিক বিকাশে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে না জড়ায় তার নিশ্চয়তা সৃষ্টি করা। সরাসরি হস্তক্ষেপ এ কাজের অন্তরায়। তবে এ কথা অস্বীকার করা যায় না যে, বিটিআরসির ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে অভিযোগ রয়েছে; প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, এর প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার প্রয়োজন নেই।
এ রকম অবস্থায় আশা করা যায়, সরকার পুরো বিষয়টি নতুন করে ভাববে এবং টেলিযোগাযোগ খাতে জড়িত সবার সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। মন্ত্রণালয়ের এ ক্ষেত্রে নিজেই একটি পক্ষ হয়ে কাজ করা উচিত নয়। সুতরাং সামগ্রিকভাবে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে বিটিআরসিকে অকেজো করা থেকে বিরত থাকাই সরকারের কাছ থেকে বাঞ্ছনীয়।

শিক্ষকদের জবাবদিহি -নিশ্চিত করতে হবে ঢাবিতে সেশনজট

এক যাত্রায় দুই ফল হওয়ার কথা না থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সেটাই ভবিতব্য হয়েছে। রোববার প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৩-০৪ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা একই সঙ্গে ভর্তি হয়েছিলেন। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাস করে চাকরি করলেও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষাই শেষ হয়নি। এটি শুধু একটি বিভাগ বা অনুষদের সমস্যা নয়, সময়মতো কোর্স শেষ করার নজির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব কমই আছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমাজবিজ্ঞান ও কলা অনুষদে পিছিয়ে থাকা বিভাগগুলো হলো লোকপ্রশাসন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইতিহাস, বাংলা, পালি ও ইংরেজি। ২০০৩-০৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের স্নাতকোত্তর পাস করার কথা ২০০৯ সালের জুনের মধ্যে। কিন্তু অনেক বিভাগের পরীক্ষার দিনক্ষণই ঠিক হয়নি। কয়েকটি বিভাগে দু-তিন মাসের মধ্যে পরীক্ষা হবে বলে জানানো হয়েছে। ফল প্রকাশ হতে বছর শেষ হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে নতুন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরাও চলে আসবেন। ফলে বাড়বে সেশনজট। কেন এমনটি হচ্ছে? এ জন্য কি শিক্ষার্থীরা দায়ী? মোটেই নয়। বরং কয়েকটি বিভাগের যথাসময়ে পরীক্ষার ফল প্রকাশের দাবিতে তাঁরা বিক্ষোভও করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী, তিন মাসের মধ্যে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করার কথা থাকলেও বেশির ভাগ শিক্ষক তা মানেন না। তাঁরা সময়মতো ক্লাস নেন না, পরীক্ষা নেন না, খাতা দেখেন না। তাহলে একাডেমিক দিনপঞ্জির বিষয়টি শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ? কোনো কোনো শিক্ষক নাকি খাতা দেখতে ১০ মাসও সময় লাগান। শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতার খেসারত দিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। পাঁচ বছরের কোর্স শেষ করতে সাত-আট বছর লেগে যায়। সংশ্লিষ্ট কারও বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছে এমন দৃষ্টান্ত নেই বললেই চলে। জবাবদিহি না থাকার কারণেই এমনটি হয়ছে।
আমরা আশা করব, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষকদের সময়মতো ক্লাস-পরীক্ষা নিতে ও ফল প্রকাশ করতে বাধ্য করবে। আর শিক্ষক মহোদয়দের সবিনয়ে বলব, তাঁরা আরেকটু দায়িত্বশীল ও কর্তব্য-সচেতন হোন। বাইরে তাঁরা যা-ই করুন না কেন, অন্তত শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না।

ছত্তিশগড়ে যাত্রীবাহী বাসে মাওবাদীদের হামলা ৩৫ জন নিহত

ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে গতকাল সোমবার যাত্রীবাহী একটি বাসে মাওবাদীরা হামলা চালিয়েছে। এতে ১১ পুলিশসহ কমপক্ষে ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল বিকেল সোয়া চারটার দিকে দান্তেওয়ারা থেকে সুকমায় যাওয়ার পথে জাতীয় সড়কে ভূমিমাইনের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মাওবাদীরা ওই যাত্রীবাহী বাসটি উড়িয়ে দেয়। ওই বাসে ৬৫ জন যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন ২৫ জন।
ছত্তিশগড় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রামান সিং জানান, যাত্রীবাহী বাসটি যখন জাতীয় সড়ক ধরে দান্তেওয়ারা থেকে সুকমার দিকে যাচ্ছিল, তখন মাওবাদীরা পাজিরাশে ভূমিমাইনের বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে ১৪ পুলিশসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের কাছের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এর আগে গত ৬ এপ্রিল এই দান্তেওয়ারার সুকমার জঙ্গলে মাওবাদীরা সিআরপিএফের ৭৬ জন জওয়ানকে হত্যা করেছিল।

আফগানিস্তানে ৪৩ আরোহী নিয়ে বিমান বিধ্বস্ত

আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় গতকাল সোমবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে যাত্রীবাহী একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় বিমানের আরোহীদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিমানটিতে ৪৩ জন আরোহী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন বিদেশি। খবর এএফপির।
কর্মকর্তারা জানান, আফগানিস্তানের পামির এয়ারওয়েজের ওই ফ্লাইটটি উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ কুন্দুজ থেকে রাজধানী কাবুলে যাচ্ছিল।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেমারাই বাশারি জানান, কাবুল থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে থাকা অবস্থায় বিমানটির সঙ্গে বেতার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে ৩৮ জন যাত্রী ছিল। বাকি পাঁচজন ক্রু। বিমানটি সালাং পার্বত্য এলাকায় বিধ্বস্ত হয়।
কুন্দুজে পামির এয়ারওয়েজের কার্যালয় থেকে যাত্রীদের তালিকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ তালিকা থেকে জানা গেছে, ৩৮ জন যাত্রীর মধ্যে ৩৫ জন পুরুষ ও তিনজন নারী। তাঁদের মধ্যে ছয়জন বিদেশি রয়েছেন।

ওবামার দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় ভোজে কড়া নিরাপত্তা

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ফেলিপ ক্যালডেরনের সম্মানে কাল বুধবার হোয়াইট হাউসে নৈশভোজের আয়োজন করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এবারের নৈশভোজে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস পত্রিকা গত রোববার এ খবর জানায়।
ক্ষমতায় আসার পর এটা ওবামার দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন। এর আগে গত নভেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সৌজন্যে প্রথম নৈশভোজের আয়োজন করেন তিনি। তবে ওই নৈশভোজে নিরাপত্তারক্ষীদের নজর এড়িয়ে অনাহূত ব্যক্তিদের প্রবেশের ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
পত্রিকার খবরে বলা হয়, হোয়াইট হাউসের নতুন সোশ্যাল সেক্রেটারি এই নৈশভোজ আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছেন। এ ছাড়া তৎপর থাকবেন গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরাও। ক্যালডেরনের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী মেক্সিকোর ফার্স্ট লেডি মার্গারিটা জাভালাও এতে উপস্থিত থাকবেন। তবে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি গোয়েন্দা দপ্তরের মুখপাত্র এড ডোনোভান।

সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণে সীমিত সাফল্য দাবি বিপির

মেক্সিকো উপসাগরে বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত তেলক্ষেত্রের সরবরাহ পাইপের ছিদ্র বন্ধ করার পরীক্ষামূলক উদ্যোগের সীমিত সাফল্য দাবি করেছে তেলক্ষেত্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি)। গত রোববার বিকেলে এই সাফল্যের কথা জানায় বিপি।
বিপির ঘোষণায় বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত একটি পাইপের ছিদ্র বন্ধ করতে প্রকৌশলীরা সফলভাবে একটি টিউব প্রবেশ করাতে পেরেছেন। টিউবটি ছিদ্রের মুখে বসানো হলেও প্রথমে তা সরে যায়। পরে টিউবটি আবার ছিদ্রের মুখে স্থাপন করা হয়েছে। এতে তেল বেরিয়ে আসা কিছুটা ঠেকানো গেছে। ঘোষণায় বলা হয়, উপসাগরের পানিতে তেল ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণে এই টিউব স্থাপন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তেলক্ষেত্রের ক্ষতিগ্রস্ত পাইপ থেকে তেল উপচে পড়া ঠেকাতে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি পদ্ধতি পরীক্ষা করে দেখেছে বিপি। তবে কোনোটিই সফল হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এই দুর্ঘটনার কারণে দৈনিক কমপক্ষে দুই লাখ ১০ হাজার গ্যালন তেল সাগরে মিশছে। এতে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য এবং লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, অ্যালাবামা ও ফ্লোরিডা উপকূলের স্পর্শকাতর জলাভূমি ও সাগরতীর পরিবেশগত হুমকির মুখে রয়েছে।
বিপির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের পাঁচ হাজার ফুট নিচে তেলক্ষেত্রের ক্ষতিগ্রস্ত পাইপের একটি অংশ দিয়ে বেশি পরিমাণে তেল বেরিয়ে আসছে। ওই স্থানেই পাঁচ ফুট দীর্ঘ টিউবটি স্থাপনের চেষ্টা শুরু করা হয় গত শুক্রবার থেকে। দূরনিয়ন্ত্রিত ডুবোজাহাজের মাধ্যমে ওই রাবার টিউবটি স্থাপনের কাজ করা হচ্ছে। প্রাথমিক উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর যন্ত্রগুলো সাগরতল থেকে তুলে আনা হয়েছিল।
তেল উপচে পড়া নিয়ন্ত্রণ করতে বিপি আরও বেশ কয়েকটি স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগ পরীক্ষা করে দেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে ছিদ্রের মুখে টুপি আকারের নিয়ন্ত্রক বসানো, সিমেন্ট ও কাদা দিয়ে ছিদ্রটি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করা ইত্যাদি। আর দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ হিসেবে ওই তেলক্ষেত্রে দুটি বিকল্প তেলকূপ খননের কাজ চলছে। তবে আগামী আগস্টের আগে তা শেষ হবে না।
এদিকে বিজ্ঞানীরা মেক্সিকো উপসাগরের গভীর পানিতে ১০ মাইল দীর্ঘ ও এক মাইল চওড়া তেলের স্তর শনাক্ত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বিশেষজ্ঞ সতর্ক করেছেন, সাগরের কিছু এলাকায় অক্সিজেনের মাত্রা ৩০ শতাংশ কমে গেছে। এই পরিবেশগত ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কয়েক দশক সময় লাগতে পারে।
গত মাসের শেষ দিকে মেক্সিকো উপসাগরে ওই তেলক্ষেত্রে বিস্ফোরণ ঘটে এবং সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এতে ওই অঞ্চলের সাগর ও উপকূলীয় এলাকার জীববৈচিত্র্যের ওপর পরিবেশগত হুমকি তৈরি হয়েছে। ওই দুর্ঘটনায় তেলক্ষেত্রের ১১ জন কর্মীও নিহত হন।

দাউদ ইব্রাহিম তৃতীয় শীর্ষ পলাতক অপরাধী

মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস-এর বিশ্বের শীর্ষ পলাতক অপরাধীদের এবারের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে দাউদ ইব্রাহিমের নাম। ভারতীয় পুলিশের তালিকায় অন্যতম শীর্ষ পলাতক অপরাধী এই দাউদ ইব্রাহিম। ১৯৯৩ সালে ভারতের মুম্বাইয়ে বোমা হামলার ঘটনায় তিনি জড়িত বলে ধারণা করা হয়।
তালিকায় শীর্ষস্থানটি দখল করেছেন আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন। দ্বিতীয়বারের মতো তাঁর নাম তালিকার শীর্ষে স্থান পেয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মেক্সিকোর শীর্ষ মাদক পাচারকারী হিসেবে চিহ্নিত জ্যাকুইন গুসমান। ২০০৮ সালের এপ্রিলে ফোর্বস প্রথমবার বিশ্বের শীর্ষ পলাতক অপরাধীদের তালিকা প্রকাশ করে।
ওই সাময়িকীতে বলা হয়, দাউদ ইব্রাহিম ‘ডি-কোম্পানি’ নামের অপরাধী চক্রের নেতা। তাঁর এই চক্রের ওপর ইতালির অপরাধী চক্রের এক নেতা মেসিনা দেনারোর ভালো প্রভাব রয়েছে। দাউদের পাঁচ হাজার সদস্যের এই অপরাধী চক্র মাদক চোরাচালান থেকে শুরু করে সব ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। চক্রটি মূলত পাকিস্তান, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে সক্রিয়।
ফোর্বস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান সরকার অস্বীকার করলেও দাউদ সম্ভবত সে দেশেই অবস্থান করছেন এবং পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে তাঁর বেশ ভালো সম্পর্ক রয়েছে।
ফোর্বস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর শীর্ষ ১০ পলাতক অপরাধীর এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তালিকার সব অপরাধীই জাতীয় বা আন্তর্জাতিক আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত বা অভিযুক্ত; প্রত্যেকের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ রয়েছে এবং প্রত্যেককেই হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ভারতে অগ্নি-২ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা

ভারত মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-২-এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। গত সোমবার ওড়িশা উপকূলের অদূরে হুইলার্স দ্বীপে সেনাবাহিনী ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষা চালায়। ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রটি দুই হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
গত বছর ভারত এ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাতে গিয়ে দুবার ব্যর্থ হয়।

চমস্কিকে পশ্চিম তীরে প্রবেশ করতে দেয়নি ইসরায়েল

প্রখ্যাত মার্কিন লেখক ও শিক্ষাবিদ নোয়াম চমস্কিকে পশ্চিম তীরে প্রবেশ করতে দেয়নি ইসরাইয়েলের অভিবাসন কর্মকর্তারা। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য দিতে গত রোববার তিনি সেখানে যাচ্ছিলেন।
ইসরায়েলি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাবিনে হাদাদ জানান, চমস্কির পশ্চিম তীরে প্রবেশ করতে চাওয়ার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তাদের আপত্তি না থাকলে ওই এলাকায় প্রবেশে চমস্কিকে বাধা দেওয়ার কোনো কারণ নেই।
৮২ বছর বয়সী নোয়াম চমস্কি জর্দান থেকে পশ্চিম তীরে প্রবেশ করতে চেয়েছিলেন। বিরজেইত বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও ইনস্টিটিউট ফর প্যালেস্টাইন স্টাডিজে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল।
চমস্কি জানান, অভিবাসন কর্মকর্তারা খুব বিনয়ী ছিলেন। তবে তিনি আর পশ্চিম তীরে প্রবেশ করতে চাননি। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমি যেসব বিষয়ে কথা বলি, ইসরায়েলের সরকার তা পছন্দ করে না।’
চমস্কিকে বিরজেইত বিশ্ববিদ্যালয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান ফিলিস্তিনের গণতন্ত্রকামী নেতা মুস্তাফা আল বারগুতি। তিনি ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তকে ফ্যাসিবাদী আচরণ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন।
উল্লেখ্য, নোয়াম চমস্কি বিভিন্ন সময়ে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কথা বলেন।

মিস ইউএসএ হলেন আরব বংশোদ্ভূত রিমা ফাকিহ

তাঁর পরনে ছিল রঙিন ঝলমলে পোশাক, যা অনেকটা কনের সাজ এনে দিয়েছিল। তবে তাঁর মধ্যে তখন নববধূর সলাজ নম্রতা ছিল না। ছিল গর্বিত ভঙ্গিমা। কারণ তিনি তখন সদ্য মিস ইউএসএ মুকুটজয়ী সুন্দরী। ২০১০ সালের এই যুক্তরাষ্ট্র সুন্দরী হলেন রিমা ফাকিহ। গত রোববার লাস ভেগাসের প্লানেট হলিউড রিসোর্ট অ্যান্ড ক্যাসিনোতে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
মজার বিষয় হচ্ছে, প্রতিযোগিতায় ফাকিহ যখন দর্শকের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন, লম্বা গাউনের কারণে শেষ মুহূর্তে হোঁচট খেয়ে আবার নিজেকে সামলে নেন। পতন থেকে এই রক্ষা পাওয়া একদিকে যেমন তাঁর জয় নিশ্চিত করেছে, তেমনি তিনি আগামী মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় যুুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন। এখন থেকে এক বছর নিউইয়র্কের একটি বাড়িতে তিনি বিনা ভাড়ায় থাকার সুযোগ পাবেন। মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক পাবেন তিনি, যদিও অঙ্কটা প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে পাবেন বিলাসবহুল জীবনযাপনের সব রকম সুবিধা।
২৪ বছর বয়সী রিমা ফাকিহ মিশিগানের ডিয়ারবর্নে বাস করেন। জন্ম সূত্রে তিনি লেবাননী। ফাকিহ জানান, তাঁরা মুসলিম ও খ্রিষ্টান উভয় ধর্মই পালন করেন। শিশু বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন তিনি। প্রতিযোগিতার আয়োজকেরা জানান, এই প্রতিযোগিতায় আরব বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক হিসেবে ফাকিহই প্রথম বিজয়ী কি না, তা বলা সম্ভব নয়। কারণ ১৯৫২ সালে প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার পর এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য রেকর্ড করা হয়নি।

দুই বাঙালির এভারেস্ট শৃঙ্গ জয়

এবার পশ্চিমবঙ্গের দুই সন্তান বিশ্বের সর্বোচ্চ চূড়া এভারেস্ট জয় করে নজির সৃষ্টি করেছেন। গতকাল সোমবার সকাল পৌনে আটটার সময় এই দুই বাঙালি পর্বতারোহী এভারেস্ট শৃঙ্গে আরোহণ করে ভারতের বিজয়পতাকা ওড়ান।
এই বিজয়ী দুই বঙ্গসন্তানের নাম দেবাশীষ বিশ্বাস ও বসন্ত সিংহ রায়। দেবাশীষের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাকপুরের পলতায় আর বসন্ত সিংহের বাড়ি নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে। দেবাশীষ আয়কর বিভাগে আর বসন্ত সিংহ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে চাকরি করেন। দুজনই কৃষ্ণনগর মাউন্টেনিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় এই দুই পর্বতারোহী গত ১ এপ্রিল এভারেস্টের উদ্দেশে যাত্রা করেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তাঁদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী কান্তি গাঙ্গুলি জানান, তাঁদের নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে।

তুরস্কে ইউরেনিয়াম পাঠাতে রাজি হয়েছে ইরান

ইরান, ব্রাজিল ও তুরস্কের মধ্যে একটি পরমাণু জ্বালানি বিনিময় চুক্তি হয়েছে। গতকাল সোমবার ইরানের রাজধানী তেহরানে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী ইরান তার স্বল্পমাত্রায় সমৃদ্ধ করা এক হাজার ২০০ কেজি ইউরেনিয়াম তুরস্কে পাঠাবে। তুরস্ক প্রয়োজনীয় মাত্রায় এই ইউরেনিয়াম আরও সমৃদ্ধ করবে এবং তেহরানকে তা ফেরত দেবে।
এ চুক্তির ফলে ইরানের বিরুদ্ধে চতুর্থ দফা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ নিয়ে চলমান অচলাবস্থার নিরসন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভা ও তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়িপ এরদোগানের মধ্যে সফল আলোচনার পর এ চুক্তি সম্পাদিত হলো। তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এ চুক্তিতে সই করেন।
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) তাৎক্ষণিকভাবে এ চুক্তির ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ইসরায়েল বলেছে, এ চুক্তির মাধ্যমে ইরান আবারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
ইরানের আণবিক সংস্থার প্রধান আলি আকবর সালেহি বলেছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর বল এখন পশ্চিমা বিশ্বের কোর্টে চলে গেছে। তিনি বলেন, ‘ব্রাজিল ও তুরস্কের প্রস্তাব গ্রহণ করে ইরান তার সদিচ্ছার পরিচয় দিয়েছে। বল এখন পশ্চিমাদের কোর্টে। পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে ইরানের সহযোগিতার আহ্বানে ভিয়েনা গ্রুপের (যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও রাশিয়া) যথোপযুক্ত সাড়া দেওয়া উচিত।’
ইরানের বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরানের প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ আশা প্রকাশ করেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় বসবে। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র ও জার্মানি তেহরানের সঙ্গে সততা, সম্মান ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে আলোচনায় বসবে এবং তেহরানের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে মনোযোগ দেবে।’
ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের স্বল্পমাত্রার ইউরেনিয়াম যখন তুরস্কে পৌঁছাবে তখনো তার মালিকানা তেহরানেরই হাতে থাকবে।
ইউরেনিয়ামের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ইরান ও আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার কর্মকর্তারা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। চুক্তির বিস্তারিত বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে আইএইএকে জানানো হবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রামিন মেহমানপারাস্ত বলেন, আইএইএর মাধ্যমে চুক্তিটির বিষয়ে ভিয়েনা গ্রুপকে জানানো হবে। তিনি জানান, তেহরান এক মাসের মধ্যে এক হাজার ২০০ কেজি ইউরেনিয়াম তুরস্কে পাঠাবে। তেহরানের গবেষণা চুল্লির কাজে ব্যবহারের জন্য সেখান থেকে ১২০ কেজি ইউরেনিয়াম এক বছর পর আবার ফেরত আনা হবে।
চুক্তির ব্যাপারে ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘তুরস্ক ও ব্রাজিলের সঙ্গে ইরান প্রতারণা করেছে।’ তিনি বলেন, ‘ইরান এর আগেও একই ধরনের প্রতারণা করেছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এড়াতে এবং উত্তেজনা প্রশমনে ইরান অতীতেও তাদের স্বল্পমাত্রায় সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়াম উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ করার জন্য বিদেশে পাঠানোর কথা বলেছিল। কিন্তু তারা সে কথা রাখেনি।’
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ দাভুতোগলু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের ফের অবরোধ আরোপের ‘কোনো কারণই’ দেখছে না আঙ্কারা। তিনি বলেন, ‘চুক্তিটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা উচিত। এ মুহূর্তে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা (তুরস্ক ও ব্রাজিল) আশ্বস্ত করছি যে ইরানের স্বল্পমাত্রায় সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়াম এখন থেকে তুরস্কে থাকবে।’
ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেলসো অ্যামোরিম বলেন, চুক্তির ফলে এটাই প্রমাণিত হয়েছে, আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতার সুযোগ এখনো রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই চুক্তির দুটি বড় দিক রয়েছে। একটি হলো, এ চুক্তির মধ্য দিয়ে ইরানকে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরমাণু কর্মসূচি চালানোর অধিকার দেওয়া হলো। আরেকটি হলো, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পরমাণু কর্মসূচির উদ্দেশ্যের ব্যাপারে ইরানের অঙ্গীকার করতে হবে।’
ইরান বরাবরই জোর দিয়ে বলে আসছিল, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য তারা নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করবে। কিন্তু পশ্চিমা বিশ্বের অভিযোগ, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির লক্ষ্যে গোপনে পরমাণু কর্মসূচি চালাচ্ছে। তবে তেহরান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিশ্বশক্তি তেহরানের বিরুদ্ধে ফের অবরোধ আরোপের চিন্তাভাবনা করছে। এ অবস্থায় তুরস্ক ও ব্রাজিল চলমান অচলাবস্থা নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেয়। ইরান সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়। ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি তারই ফল।

টাইসন গের রেকর্ড

এরই মধ্যে শুরু হয়ে যাওয়া ডায়মন্ড লিগ নিয়ে কী ভাবছেন স্প্রিন্টের রাজা উসাইন বোল্ট? তাঁকে ২০০ মিটারে অন্তত চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত হচ্ছেন টাইসন গে।
২০০ মিটার সোজা দৌড়ে ৪৪ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে যুক্তরাষ্ট্রের টাইসন গে জানিয়ে দিলেন, বোল্টকে চ্যালেঞ্জ জানাতে তিনি প্রস্তুত। গতকাল ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার সিটিতে অনুষ্ঠিত গ্রেট সিটি গেমসের ২০০ মিটার সোজা দৌড়ে জয়ী হয়েছেন গে, সময় নিয়েছেন ১৯.৪১ সেকেন্ড। ১৯৬৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রেরই টমি স্মিথ দৌড়েছিলেন ১৯.৫০ সেকেন্ডে। ৪৪ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভাঙার পর গে বলেছেন, ‘এখানে এসেও আমি জানতাম, রেকর্ড ভাঙাটা হবে কঠিন। প্রথম ১০০ মিটার আমার জন্য কঠিন ছিল এবং আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম।’
পরে নিজের মনের কথাটাই অবশ্য জানিয়েছেন ২৭ বছর বয়সী স্প্রিন্টার, ‘আমি বিশ্বাস করি, তাকে (বোল্ট) হারানো কঠিন। সত্যি বলতে, সে এই মুহূর্তে অন্য মানের। আমাকে ওই মানে যেতে হলে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। আমার জন্য চ্যালেঞ্জ এটাই—প্রচুর পরিশ্রম করে আমাকে সেখানে যেতে হবে।’

স্বপ্ন দেখেন ওঁরা

শামসুন নাহার (নূপুর) তখনো জানতেন না ‘শ্যুটিং’ খেলাটা কী? ভেবেছিলেন, ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হবে। কোচ বাবুল ইসলাম যখন জানালেন, শ্যুটিংয়ের বাছাইয়ের জন্য তাঁকে নির্বাচন করা হয়েছে, তখন তো কেঁদে-কেটে একশেষ। রাইফেল-বন্দুক আর গুলি নিয়ে এটি খেলতে হয় শুনে ভয়ে আরও অস্থির। শফিপুর আনসার একাডেমির বাছাই ক্যাম্পের প্রথম দিনের অভিজ্ঞতার কথা কাল এভাবেই বলছিলেন বাংলাদেশ আনসারের এই তরুণী। সারা দেশ থেকে শামসুন নাহারের মতো প্রায় ৪০০ তরুণ-তরুণী এসেছেন ইস্টার্ন হাউজিং আন্তক্লাব শ্যুটিংয়ে অংশ নিতে।
সচরাচর ঢাকার বাইরে হয়ে থাকে আন্তক্লাব শ্যুটিং। তবে এবার তা হচ্ছে ঢাকাতেই, গুলশান শ্যুটিং কমপ্লেক্সে। দক্ষিণ এশীয় গেমস, কমনওয়েলথ শ্যুটিং ও ইন্দো-বাংলা গেমসের সাফল্যের পর এই প্রতিযোগিতায় ব্যাপক সাড়া মিলেছে বলে জানালেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ, ‘এত বেশি প্রতিযোগী এর আগে আমি কখনো দেখিনি। সবার মধ্যে দারুণ উৎসাহ।’ কুষ্টিয়া থেকে এসেছেন লুৎফর রহমান, আবু সালেহ নিসার উদ্দিন ও শফিকুল ইসলাম। ক্রিকেটের মতো জনপ্রিয় খেলাকে পাত্তা না দিয়ে এঁরা মেতে উঠেছেন রাইফেল-পিস্তল নিয়ে লক্ষ্যভেদের নেশায়। শফিকুলের স্বপ্ন আসিফের মতো বড় শ্যুটার হওয়ার। উৎসাহটা পাচ্ছেন কুষ্টিয়া রাইফেল ক্লাবের অতীত ইতিহাস থেকে। এই ক্লাবই তৈরি করেছে আসবাব আলী ফয়েজ, সাইফুল আলম চৌধুরীর (রিংকি), শোয়েবুজ্জামানদের মতো জাতীয় শ্যুটার। এদের পর কেন আর সেভাবে শ্যুটার উঠে আসছে না? ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক এস এম আনসার আলী জানালেন, ‘উঠে আসছে না, ঠিক এটা বলব না। তবে মাঝখানে কিছুদিন নানা সমস্যার কারণে আমরা শ্যুটার তৈরি করতে পারিনি। তবে এখন আসাদুজ্জামান বেশ ভালো করছে। ওর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।’
শ্যুটিংয়ে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়তে চান বগুড়া সেনা শ্যুটিং ক্লাবের পরিতোষ সরকার, আলী রেজা নূরানী ও আবদুল্লাহ আল মামুনরা। গুলশানের শ্যুটিং কমপ্লেক্সে গাদাগাদি করে থাকাটাও তাঁদের কাছে আনন্দের একটা ব্যাপার মনে হচ্ছে। তাঁদের চোখেমুখে খেলা করছিল অন্য রকম স্বপ্ন। পরিতোষ জানালেন, ‘আমি আসিফ ভাইয়ের মতো কমনওয়েলথে সোনা জিততে চাই।’ প্রথমবারের মতো আন্তক্লাবে অংশ নিতে আসা দিনাজপুরের খালেদা পারভিনেরও একই কথা, ‘ওরা পারলে আমরা কেন পারব না!’
তিন দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতা আজ শেষ হবে, তবে কথা শুনে মনে হলো, এই তরুণদের স্বপ্ন কেবল শুরু।

মাদ্রিদ ওপেন নাদালের

ক্লে-কোর্ট মানেই রাফায়েল নাদালের জয়জয়কার। এই কোর্টে তাঁর সামনে বারবার অসহায় হয়ে পড়েন বিশ্বসেরা রজার ফেদেরারও। আরও একবার ফেদেরারের সেই অসহায়ত্ব দেখল টেনিস-বিশ্ব।
পরশু মাদ্রিদ ওপেনের ফাইনালে ৬-২, ৭-৬ (৭/৫) গেমে হারালেন বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড়কে। এই জয়ে আবারও র‌্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় স্থানেও উঠে এলেন স্প্যানিয়ার্ড তারকা। এটি নাদালের ১৮তম মাস্টার্স শিরোপা। ছেলেদের বিভাগে নাদাল জিতলেও অঘটন ঘটেছে মেয়েদের বিভাগে। রোলাঁ গাঁরোয় যাওয়ার আগের টুর্নামেন্টে হেরে গেলেন ভেনাস উইলিয়ামস। তাঁকে ৬-২, ৭-৫ গেমে হারিয়ে অঘটনের জন্ম দিলেন আরাভানে রেজাই।

কোচকেই দুষছেন সবাই

১৪ মাস ধরে বাংলাদেশ হকি দলের কোচের দায়িত্বে আছেন পিটার গেরহার্ড। এর মধ্যে এশিয়া কাপ, রাশিয়ায় চার জাতি টুর্নামেন্ট, দক্ষিণ এশীয় গেমস (এসএ গেমস) ও এশিয়ান গেমস বাছাই—চারটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলল বাংলাদেশ। শুধু এসএ গেমস ছাড়া, অন্য টুর্নামেন্টে বলার মতো কোনো পারফরম্যান্সই নেই তাদের। এবারের এশিয়ান গেমস বাছাই হকিতে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা রীতিমতো ধুঁকেছে। দলের এমন পারফরম্যান্সে সাবেক খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা হতাশ।
ফেডারেশনের দায়সারা মনোভাব, দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্ব, কোচের তারুণ্যপ্রীতি নিয়েও অসন্তুষ্ট অনেকেই। প্রধান নির্বাচক ও সাবেক অধিনায়ক মামুনুর রশিদ জানালেন, ‘এই টুর্নামেন্টে আমাদের হেসেখেলে জেতার কথা। অথচ পুরো টুর্নামেন্টেই খেলেছি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।’ কোচের দিকেই বেশি অভিযোগ তাঁর, ‘আমি নির্বাচকদের একজন। অথচ আমাকে ছাড়াই দল নির্বাচন করেন কোচ। কিছু বলতে গেলে উল্টাপাল্টা বুঝিয়ে দেন।’ কোচের অনুশীলনের পদ্ধতি দেখেও সন্তুষ্ট নন তিনি, ‘উনি এক দিন প্র্যাকটিস করান তো তিন দিন বন্ধ রাখেন।’ সাবেক খেলোয়াড় রফিকুল ইসলাম সমস্যা দেখছেন অন্যখানে, ‘সমন্বয়হীনতা ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি আছে দলে।’ অভিজ্ঞদের বাদ দিয়ে তারুণ্যনির্ভর দল গড়ায় ক্ষুব্ধ আরেক সাবেক খেলোয়াড় শহীদুল্লাহ, ‘ব্যর্থতার প্রধান কারণ কোচ। উনি অভিজ্ঞদের দলেই নেন না। আমরা যখন খেলেছি তখন এসব দল আমাদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। অথচ এখন সিঙ্গাপুরের বিপক্ষেও হার দেখতে হচ্ছে আমাদের। আমরা আরও পিছিয়ে যাচ্ছি।’ সদ্যই হকিস্টিক তুলে রাখা মওদুদুর রহমান (শুভ) ইসা-মুসাদের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড় নেই দেখে অবাক হয়েছেন, ‘ইসা-মুসাদের মতো খেলোয়াড়েরা দলে থাকার নিশ্চয়তা চেয়েছিল। তাদের সেই নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। অথচ নেদারল্যান্ডে থাকা মিমোকে ঠিকই দলে রাখা হলো। যে এল খেলা শুরুর দুই দিন আগে।’ হকি ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুল বারী দলের পারফরম্যান্সে ব্যথিত, ‘ঘরের মাঠে এমন পারফরম্যান্স মেনে নেওয়া যায় না।’
খেলোয়াড়েরাও মেনে নিয়েছেন পারফরম্যান্স মোটেই প্রত্যাশামতো হয়নি। তবে এই ব্যর্থতা তাঁরা কাটিয়ে উঠতে চান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক খেলোয়াড় জানান, ‘আমরা হয়তো পাঁচ মাসের জন্য আবারও ইউরোপ সফরে যাচ্ছি। যত দূর সম্ভব কানাডা বা স্কটল্যান্ডে যেতে পারি। সেখানেই হবে আমাদের এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি।’

বালাকের বিশ্বকাপ শেষ

দু-দুটো বিশ্বকাপ ট্রফির খুব কাছ থেকে ফিরে এসেছেন মাইকেল বালাক। এবার তৃতীয় চেষ্টায় বিশ্বকাপটা জিতে শেষ করতে চেয়েছিলেন অভিযান। মঞ্চ প্রস্তুত ছিল। নিজের ভালো ফর্ম ছিল, দল ভালোই করছিল। তাঁর ঝলসে ওঠার অপেক্ষায় ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
কিন্তু হায়! নিয়তি কাল হয়ে দাঁড়াল। এফএ কাপের ফাইনালে গোড়ালির ইনজুরির চেহারা নিয়ে সামনে এসে দাঁড়াল মাইকেল বালাকের নিষ্ঠুর নিয়তি। জার্মান ফুটবল ফেডারেশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কাল জানিয়ে দিয়েছে, ‘জাতীয় দলের অধিনায়ক মাইকেল বালাকের ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না।’
এ ঘোষণাই শেষ করে দিল মাইকেল বালাকের বিশ্বকাপ-স্বপ্ন। চেলসির শিরোপা জেতা এফএ কাপ ফাইনালের ওই ইনজুরি বালাককে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে ফেলার সঙ্গে একটা আন্তর্জাতিক বিতর্কও তুলে দিয়েছে। বালাকের ইনজুরির কারণ যে পোর্টসমাউথ মিডফিল্ডার কেভিন-প্রিন্স বোয়াটেং-এর ‘জঘন্য’ ট্যাকেল। জার্মান বংশোদ্ভূত বোয়াটেং আবার ঘানার ফুটবলার। বিতর্ক তৈরি হওয়ার কারণ, ঘানা আর জার্মানি এবারের বিশ্বকাপে খেলবে একই গ্রুপে!
ঘানাইয়ান মিডফিল্ডার বোয়াটেং ইচ্ছে করে বালাককে আহত করেছেন কি না, সেটা বিতর্কের বিষয়। তবে এ দুর্ঘটনায় বালাকের জন্য বিশ্বকাপটা চির-আক্ষেপের নামই হয়ে গেল। টানা দুটি বিশ্বকাপে ‘ফিফা অল স্টার টিম’-এ সুযোগ পেলেও ট্রফিটা ছোঁয়া হয়নি। ২০০২ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বালাকের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে জার্মানি উঠেছিল ফাইনালে। কিন্তু কার্ড-গেরোতে আটকে বেঞ্চে বসে দেখতে হয়েছিল ব্রাজিলের কাছে জার্মানির পরাজয়।
২০০৬ বিশ্বকাপে নিজেদের মাটিতে আর্জেন্টিনা ও ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছিলেন বালাক। কিন্তু সেমিফাইনালে ১১৯ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য থাকা ম্যাচে ০-২ গোলের হার দেখতে হয়েছিল ইতালির বিপক্ষে।
এবার আরেকটা চেষ্টা করতে চেয়েছিলেন বালাক। দারুণ খেলছিলেন চেলসির হয়ে, জার্মানির হয়ে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ৪টি গোল করেছেন। তাঁর ফর্ম দেখেই কোচ জোয়াকিম লো বলেছিলেন, ‘মাইকেল বালাকই আমার অধিনায়ক। মাইকেল বালাকই আমার দলের অন্যতম নেতৃস্থানীয় খেলোয়াড়।’
লোর এই বক্তব্যের সপক্ষে দারুণ যুক্তি খুঁজে পেতে পারেন। বালাকের রেকর্ড বলছে, ২০০৫ সালের জুন থেকে বালাক গোল করেছেন, এমন ম্যাচে জার্মানি হারেনি। এমন একজন খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি নিয়ে তোলপাড় হবে না!
সেটাই শুরু হয়েছে। ইনজুরিতে পড়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলের জন্য এক দিন অপেক্ষা করেছিল জার্মান ফেডারেশন। সেই ফল হাতে পেয়েই তারা আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, ‘তার (বালাকের) ডান গোড়ালি প্লাস্টারের মধ্যে থাকায় নাড়াচাড়া করা সম্ভব হবে না। তাকে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ বিশেষ জুতা পরে থাকতে হবে।’
এই খবরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে জার্মানিতে। অনেক জার্মান সমর্থক বালাকের এই ইনজুরিতে ষড়যন্ত্র খুঁজে পাচ্ছেন। ষড়যন্ত্র মানে সোজা কথা, ঘানার সুবিধার জন্য ইচ্ছে করে বালাককে আহত করেছেন বোয়েটাং। এই তত্ত্বের পালে হাওয়া জোগাচ্ছে বোয়েটাংয়ের অতীত।
জার্মান মা ও ঘানাইয়ান বাবার ছেলে বোয়েটাংয়ের অভিষেক হয়েছিল হার্থা বার্লিনের হয়ে। একসময় জার্মান অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে খেলেছেন। তাঁর আপন ছোট ভাই জেরোম বোয়েটাং আবার জার্মানির প্রাথমিক দলেই আছেন। আর এসব মিলিয়েই অনেকে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন।
বালাক নিজেও একটা গন্ধ পাচ্ছেন। তবে গন্ধটা কিসের, সেটা পরিষ্কার করে না বললেও বলেছেন, মোটেও ফুটবলীয় ট্যাকেল ছিল না ওটা, ‘এটা মোটেও ভালো ট্যাকেল ছিল না। আমি মাঠেও বুঝেছি। পরে টিভিতে দেখে নিশ্চিত হয়েছি।’
বালাকের মতো এত কূটনৈতিক কথা বলার প্রয়োজন নেই সাবেক জার্মান খেলোয়াড় ও কোচ রুডি ফোলারের। তিনি সরাসরি বলে দিয়েছেন, এটা বালাকের ওপর নৃশংস একটা আক্রমণ, ‘বালাকের জন্য এটা নৃশংস এবং জঘন্য। ও আরেকটা বিশ্বকাপের জন্য খুব আশাবাদী ছিল।’
এটাই শেষ কথা। আরেকটা বিশ্বকাপ খেলা হলো না বালাকের। আর কখনোই সম্ভবত বিশ্বকাপ খেলা হবে না তাঁর।

শুধুই বার্সেলোনার রাত

প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ দুই হাত তুলে প্রার্থনা করছিল, বার্সেলোনা যাতে পা হড়কায়। রিয়ালের প্রার্থনায় কান দেয়নি স্প্যানিশ লিগের ভাগ্যদেবী। ভ্যালাদোলিদকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে স্প্যানিশ লিগের শিরোপা জিতে নিল গতবারের চ্যাম্পিয়নরা।
প্রায় পুরো মৌসুমেই চলেছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, কিন্তু সেটি পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকে শেষের ৫ ম্যাচ আগে থেকে। শেষ পাঁচ রাউন্ডে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ প্রবেশ করে ১ পয়েন্টের ব্যবধান নিয়ে। রিয়ালের চেয়ে এক পয়েন্ট এগিয়ে থাকে বার্সা। এগিয়ে থাকে তারা দুটি এল ক্লাসিকোই জিতে মুখোমুখি লড়াইয়েও। এত কিছুর পরও শেষ রাউন্ডে শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা ছিল বার্সেলোনার।
পরশু বার্সেলোনা যদি ভ্যালাদোলিদের কাছে পয়েন্ট হারাত (ড্র কিংবা হার), আর রিয়াল মাদ্রিদ জিতত মালাগার বিপক্ষে, তাহলেই লিগটা হতো রিয়ালের। জিতেই সব হিসাব-নিকাশকে ছুড়ে ফেলেছে বার্সা। শেষে তো দেখা গেল বার্সা হারলেও শিরোপা থাকত তাদেরই হাতে। কারণ রিয়াল শেষ ম্যাচে মালাগার সঙ্গে করেছে ড্র (১-১)।
হায় রিয়াল মাদ্রিদ! এমন শূন্য হাত নিয়ে মৌসুম শেষ করতে হবে স্প্যানিশ পরাশক্তিদের, এটা কে জানত? গত বছর বার্সেলোনা ৬টি শিরোপা জিতেছে, এর মধ্যে ছিল স্প্যানিশ লিগ ও কাপ এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতে ঐতিহাসিক ট্রেবল জয়ের রেকর্ড গড়াও। বার্সেলোনার এই সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়েছিল রিয়াল। বার্সার এই আধিপত্যে ইতি টানতে টাকার বস্তা নিয়ে তারা নেমেছিল খেলোয়াড় কেনাবেচার বাজারে।
খেলোয়াড় কিনতে ২৫০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে তারা। শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে এত কিছু করেও কোনো লাভ হলো কোথায়? নিজেদের মাঠে চ্যাম্পিয়নস লিগে দর্শক হয়ে থাকতে হচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদকে। আর স্প্যানিশ লিগটাও চোখের সামনে দিয়ে চলে গেল বার্সেলোনার ঘরে!
রিয়ালের মাদ্রিদের ২৫০ মিলিয়ন ইউরোই জলে গেল। এর মধ্যে রিয়াল সবচেয়ে বেশি টাকা ব্যয় করেছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জন্য। রেকর্ড ৯৪ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে ম্যানইউ থেকে কিনেছিল রিয়াল। নিজের দামের যথার্থতা তিনি প্রমাণও করেছেন ২৬ গোল করে। তাঁকে ভালোই সঙ্গত করেছিলেন রিয়ালের পুরোনো ছেলে আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার গঞ্জালো হিগুয়েইন (২৭ গোল)। ভালো খেলেছেন লিভারপুল থেকে রিয়ালে নাম লেখানো জাভি আলোনসোও।
তবে ৬৮.৮ মিলিয়ন ইউরোয় কেনা ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার কাকা কি তাঁর মূল্যের সঙ্গে সংগতি রেখে কিছু দিতে পেরেছেন? শেষের দিকে চোটের কারণে মাসখানেক মাঠের বাইরে ছিলেন। এর আগে যত দিন মাঠে ছিলেন তখনো নিজের সেরা ফর্মে কখনোই আবির্ভূত হতে পারেননি এসি মিলানের সাবেক মিডফিল্ডার। নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন ফরাসি স্ট্রাইকার করিম বেনজেমাও।
এত টাকা ঢেলেও একটা মৌসুম শূন্য হাতেই ফিরতে হলো রিয়ালকে। রিয়ালের পুরোনো যোদ্ধা গুতি রাগটা আর ধরে রাখতে পারেননি। অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট—গুতি বলে দিলেন এমন কথাই, ‘আসলে ব্যক্তিকেন্দ্রিক একটি দল না হয়ে আমাদের সমষ্টিগত একটা দলে পরিণত হবে সবার আগে।’
বার্সেলোনার সাফল্যের মূলে কিন্তু এই সমষ্টিই। লিওনেল মেসির মতো একজন চ্যাম্পিয়ন দলে থাকার পরও বার্সা আসলে সমষ্টিগত একটা দল। মৌসুম শুরুর আগে ভাঙা-গড়া হয়েছিল বার্সেলোনাতেও। স্যামুয়েল ইতোর জায়গায় ইন্টার মিলান থেকে আদলবদল করে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচকে আনে বার্সা। যুবদল থেকে মূল দলে সুযোগ দেওয়া হয়েছে দু-একজনকে। ভয় ছিল—সবাই মিলে একটা দলে পরিণত হতে পারবে তো? এই ভয় উড়িয়ে বার্সা মৌসুম শুরু করেছিল দুর্দান্তভাবে। প্রথম পাঁচ ম্যাচের পাঁচটি জিতে। নতুন আসা ইব্রাহিমোভিচ টানা পাঁচ ম্যাচেই করেছিলেন গোল।
মেসি ছিলেন তাঁর সেরা ফর্মে। বার্সার মূল দলে সুযোগ পাওয়া পেদ্রোও সময়মতো জ্বলে উঠেছেন। জাভি হার্নান্দেজ আর কার্লোস ইনিয়েস্তা আগলে রেখেছেন মাঝমাঠ। গোলপোস্টের নিচে ভিক্টর ভালদেজ অতন্দ্রপ্রহরী হয়ে ছিলেন। রক্ষণে জেরার্ড পিকে-কার্লোস পুয়োলরা ছিলেন অসাধারণ। আর সবাইকে এক সুতোয় বেঁধেছেন কোচ পেপ গার্দিওলা। বলতে পারেন আবারও রিয়ালের ঘাতক হয়ে উঠেছিলেন আসলে এই গার্দিওলাই।
গার্দিওলা বার্সেলোনার শিরোপা জয়ের কৃতিত্বটা অবশ্য ভাগ করে দিলেন সবার মধ্যে। সমর্থকদেরও বাদ দেননি, ‘আজ উৎসবের দিন। এই সাফল্যে অবদান রাখায় আমি সব খেলোয়াড় এবং সমর্থকদের ধন্যবাদ জানাই।

অপেক্ষার ২০ দিন

পেলে ব্রাজিলকে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জেতানোর ২৪ বছর পর আরেকটি বিশ্বকাপ জিতেছিল দুঙ্গার ব্রাজিল। আর্জেন্টিনাকে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন ম্যারাডোনা; দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের ঠিক ২৪ বছর আগে। একই দলে দুই খেলোয়াড়ের বয়সের সর্বোচ্চ তফাৎ ২৪ বছর ৪২ দিন। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় রিগোবার্ত সংয়ের বয়স ছিল ১৭ বছর ৩৫৮ দিন। আর বয়োজ্যেষ্ঠ রজার মিলারের ৪২ বছর ৩৫ দিন। বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ রেফারি হুয়ান গার্দিয়াজাবালের বয়সও ২৪ বছর। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে এই স্প্যানিশ রেফারির বয়স ছিল ২৪ বছর ১৯৩ দিন।

ক্লান্তি ভোগাবে ইংল্যান্ডকে: ফার্গুসন

দীর্ঘ ইংলিশ মৌসুমের ক্লান্তি এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড দলকে ভালোই ভোগাবে বলে মনে করেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ স্যার আলেক্স ফার্গুসন। এ সমস্যা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে বিশ্বকাপের আগে ফুটবলারদের পুরোপুরি বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন আলেক্স ফার্গুসন, ইংলিশ লিগ এতটা দীর্ঘ যে, বিশ্বকাপের সময় ক্লান্তি পেয়ে বসতে পারে খেলোয়াড়দের। সদ্য মৌসুম শেষ করে বিশ্বকাপে ভালো করা খেলোয়াড়দের জন্য কঠিন হবে। বিশ্বকাপের আগে খেলোয়াড়দের বিশ্রামে রাখার কোনো বিকল্প নেই।
এর পরই বিশ্বকাপে বিভিন্ন দলের সম্ভাবনার কথা বলেছেন আলেক্স ফার্গুসন। জানিয়ে দিয়েছেন ব্রাজিলেরই বিশ্বকাপ জেতার সবচেয়ে সম্ভাবনার কথা। এর পরের স্থানেই রেখেছেন স্পেনকে। ফ্রান্স ও ইতালিও রয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচের সম্ভাবনার তালিকায়।