Saturday, November 19, 2016

যেভাবে ফ্লোরিডা জয়-পরাজয় গড়ে দিল

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফ্লোরিডা আবারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। গত চারটি নির্বাচনে ফ্লোরিডা যেদিকে গিয়েছে, হোয়াইট হাউস সেদিকেই ঝুঁকেছে। এবার অভিবাসীদের নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে আশা করা হয়েছিল, অভিবাসী-অধ্যুষিত এ অঙ্গরাজ্যটি বিপুল ভোটে ট্রাম্প-টিকিটকে প্রত্যাখ্যান করবে। ফ্লোরিডার মোট ভোটারের প্রায় ১৬ শতাংশ ল্যাটিনো, যাঁদের ভোট নির্বাচনের ফলাফলে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছিল। নির্বাচনের কয়েক দিন আগেও বিভিন্ন জনমত জরিপে হিলারি ক্লিনটন তাঁর রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন। বিশেষ করে হিস্পানিকদের মধ্যে পরিচালিত এক জরিপে হিলারি ক্লিনটন ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে রেকর্ড ৩০ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছিল, ততই জনমত জরিপগুলো এ অঙ্গরাজ্যে দুই প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিচ্ছিল। এর মূল কারণ ছিল, অভিবাসী ভোটাররা যতই হিলারি ক্লিনটনের দিকে ঝুঁকছিল, শ্বেতাঙ্গ ভোটাররা ততই ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে জোট বাঁধছিল। এক অর্থে গণমাধ্যমে হিলারি ক্লিনটনের জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হতে থাকাই ডোনাল্ড ট্রাম্প-সমর্থকদের সংগঠিত হতে সহায়তা করেছে।
এ প্রবণতাটি হিলারি শিবির আঁচ করতে পারেনি। আর গণমাধ্যমেও এর পূর্বাভাস আসেনি। এটি ছিল শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের অঘোষিত কিন্তু সংকল্পবদ্ধ প্রয়াস। আরেকটি বিষয় হলো আর্লি ভোটিংয়ে ডেমোক্র্যাটদের প্রাধান্য প্রকাশ পাওয়ায় ভোটের দিন রিপাবলিকান, বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গ ভোটাররা ব্যাপক হারে ভোটকেন্দ্রে জড়ো হন। ফলে যতই গ্রামাঞ্চলের ভোটের ফলাফল আসা শুরু করেছিল, ততই ডোনাল্ড ট্রাম্প আর্লি ভোটিংয়ে পিছিয়ে পড়া সত্ত্বেও ধীরে ধীরে জয়ী হওয়ার পথে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে তিনি এ অঙ্গরাজ্যের ২৯টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট বাগিয়ে নেন। ফ্লোরিডায় গত কয়েক দিনে যা দেখলাম, তা থেকে এ অঙ্গরাজ্যটিকে সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রের অন্য অঙ্গরাজ্যগুলো থেকে স্বতন্ত্র মনে হয়েছে। নিরন্তর ছোট ছোট জাহাজের ভোঁ, মাথার ওপর দিয়ে যখন-তখন কপ্টারের শোঁ শোঁ, সবুজ পামগাছ—সব মিলিয়ে মনে হবে মার্কিন আদবকায়দার হুড়োহুড়ি থেকে এ বুঝি আলাদা৷ হবে না–ইবা কেন? ফ্লোরিডা সবার আদরের ‘সানশাইন স্টেট’ অর্থাৎ​ সূর্যালোকের রাজ্য, যেখানে তা কখনো চুরি যায় না৷ তাই শীত পড়লেই এ রাজ্যে ভিড় বাড়ে মার্কিনিদের। আর ভোটের সময় প্রার্থীদের। তাঁদের কাছেও এটা সানশাইন স্টেটই বটে৷ কারণ, এ রাজ্যের ভোট যাঁর ঝুলিতে যাবে, তাঁর মোটামুটি হোয়াইট হাউসে যাওয়া নিশ্চিতই। ঠিক যেভাবে সবাইকে চমকে দিয়ে সেখানে পৌঁছে গেলেন মার-আ-লাগো রিসোর্টের অধিপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ ফ্লোরিডার খেটে খাওয়া মানুষ ও অবসরপ্রাপ্ত শ্বেতাঙ্গের দল ঝাঁপিয়ে পড়ে ভোট দিলেন এই ধনকুবেরকে। ভোটের মাত্র দুদিন আগে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও বলেছিলেন,
হিলারি যদি ফ্লোরিডা জিততে পারেন, তাহলে তিনিই হবেন প্রেসিডেন্ট৷ অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেছে সে কথা৷ ফসকে গেল ফ্লোরিডা, ফসকে গেলেন হিলারি৷ প্রমাণ হয়ে গেল, আমেরিকার ‘উত্তর প্রদেশ’ নিয়ে কেন রক্তচাপ ওঠা–নামা করে সব প্রার্থীর৷ ভারতে যেমন একটা কথা চালু আছে—উত্তর প্রদেশ যঁার, দেশ তঁার৷ তাই ভোটের প্রায় এক বছর আগে থেকে সেখানে রাজনীতিক নেতা-নেত্রীদের আনাগোনা বেড়ে যায়৷ কখনো কখনো মনে হতে পারে, সেখানে বুঝিবা উত্তর প্রদেশ ছাড়া কোনো রাজ্যই নেই৷ ফ্লোরিডাও তেমন৷ প্রাইমারি হোক বা মূল ভোট, প্রার্থীরা এখানে পড়ে থাকেন৷ যিনিই ভোটে দাঁড়ান, তঁার কাছেই এটা হয়ে ওঠে ‘সেকেন্ড হোম’৷ প্রচারপর্বে ট্রাম্প এই একটিমাত্র রাজ্যেই নিজের প্রফেশনাল ক্যাম্পেইন টিমকে কাজে না লাগিয়ে দলের সাহায্য নিয়েছিলেন৷ রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম ভরসা সুজি ওয়াইলস দায়িত্ব নিয়েছিলেন ট্রাম্পের প্রচারের৷ তাঁর দলের অনেকে এতে আপত্তি করেছিলেন৷ প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘এ রকম একটা লোকের জন্য কেন তিনি কাজ করছেন?’ ওয়াইলস বলেছিলেন, তাতে তাঁর কিছুই যায়-আসে না৷ তাঁর দল জিতল কি না, সেটাই বড়৷ ট্রাম্পের থেকে একেবারেই বিপরীত মেরুতে অবস্থান৷ তা–ও ৮ নভেম্বর রাত এগারোটা নাগাদ যখন ঘোষণা হলো, ‘ফ্লোরিডায় ট্রাম্প জিতে গিয়েছেন’, তখন সবচেয়ে উল্লসিত বোধ হয় ওয়াইলসই হয়েছিলেন। তাঁর তিন বছরের পরিশ্রম সফল হয়েছে।  নহ্যাঁ, একেবারেই তাই৷ তিন বছর ধরে মানুষের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো ও আস্থা অর্জনের কাজটা করে গিয়েছেন রিপাবলিকানরা। ট্রাম্প যতই রাজনীতি থেকে শতহস্ত দূরে থাকুন,
তিনি বিলক্ষণ জানতেন—এই অদ্ভুত ‘দোল খাওয়া রাজ্য’ যদি ঝুলিতে না আসে, তাহলে আর টাকার জোরে ভোটে দাঁড়ালেও ওভাল অফিসে ঢোকা হবে না৷ ফলে এখানে তিনি সিদ্ধান্ত নিতে কোনো ভুল করেননি৷ ব্যক্তিগত প্রচার কমিটিকে দূরে সরিয়ে এখানে দলের সাহায্য চান, পানও। অর্থাৎ​‍ উর্বর জমির ওপর ট্রাম্প বীজ পুঁততে থাকেন৷ যার নিট ফল, মায়ামি-দাদে ছাড়া আর কোথাও জিততে পারেননি ক্লিনটন। কোথাও বিশাল ব্যবধানে, কোথাও আবার কান ঘেঁষে বেরিয়ে গেছেন ট্রাম্পই৷ মায়ামিতে যেমন ৫ লাখ ৭২ হাজার ভোট পেয়েছেন হিলারি, তেমনই ট্যাম্পায় ২ লাখ ২৩ হাজার ভোটে জিতেছেন ট্রাম্প৷ এবার প্রশ্ন হলো, কেন বারবার চরিত্র বদলায় ফ্লোরিডা? সে জন্য তাকাতে হবে এখানকার জনসংখ্যার দিকে৷ মূলত শ্বেতাঙ্গ শ্রমিকশ্রেণি, অবসরপ্রাপ্ত শ্বেতাঙ্গ, আফ্রিকান-আমেরিকান ও হিস্পানিকদের বসবাস এই রাজ্যে৷ অর্থাৎ​ বাসিন্দাদের প্রত্যেকেরই রোজগারের কথা ভাবতে হয়, দেশের অর্থনৈতিক ওঠা-নামা, কর্মসংস্থান বাড়া-কমা, শ্রমিক ছাঁটাই প্রভৃতি তাঁদের জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ৷ ২০০৮ সালে লেহম্যান ব্রাদার্স নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করার পরে বিশ্বজুড়ে যে মন্দার সূচনা হয়েছিল, তার সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী ছিল এই ফ্লোরিডা৷ তা সত্ত্বেও ওবামার ওপর ভরসা রেখে ২০১২ সালে ফের তাঁকেই জেতান ফ্লোরিডাবাসী। কিন্তু হিলারির ওপর সে আস্থা তঁারা রাখতে পারলেন না। তাই এই রাজ্যে প্রচারের জন্য ৮১টি অফিস তৈরি করেও হিলারি থেকে গেলেন দ্বিতীয় স্থানে৷ এক-চতুর্থাংশ বা ১ লাখ ৩৪ হাজার বেশি ভোট পেয়ে জিতে গেলেন ট্রাম্প৷ ফ্লোরিডার ইলেকশন বোর্ডের হিসাব বলছে, এখানে ৬৪ শতাংশ রেজিস্টার্ড শ্বেতাঙ্গ ভোটার আছেন, যার সিংহভাগ ভোট পেয়েছেন ট্রাম্প, পুরুষ-মহিলানির্বিশেষে।
তাই হিস্পানিকদের ১৩ শতাংশ ও কৃষ্ণাঙ্গদের ১৬ শতাংশ ভোটের বেশির ভাগটা হিলারি পেলেও কাজ হয়নি৷ এমনকি বহু হিস্পানিককে বলতে শোনা গেছে, ‘একবার সুযোগ দিয়ে দেখতে চাই!’ ভোট পণ্ডিতদের মত, হিলারি বুঝতেই পারেননি, তিনি যখন এই রাজ্যে কৃষ্ণাঙ্গ ও একদা শরণার্থী হয়ে আসা মানুষের ভোট নিশ্চিত করতে ব্যস্ত, তখন শ্বেতাঙ্গদের নিজের পকেটে পুরে ফেলেছেন ট্রাম্প৷ সে জন্য তাঁর আলাদা অফিসেরও দরকার হয়নি। হিসাব বলছে, ট্রাম্প মোট ১৭ বার এ রাজ্যে প্রচারে এসেছেন৷ প্রতিবারই তিনি একটা কথা বলেছেন, ‘খেটে খাওয়া মানুষকে ভুলে রয়েছে এ সরকার৷ আপনাদের জন্য কিছু করবে না ডেমোক্র্যাটরা৷ আমাকে একটা সুযোগ দিন। দেখুন, কীভাবে বদলে দিই আপনাদের জীবন!’ দিনের শেষে তিনি একজন দুঁদে শিল্পপতি৷ বিশাল বিশাল হোটেল থেকে শুরু করে গলফ কোর্স—সবই রয়েছে তাঁর৷ তিনি মানুষের ‘পালস’ বুঝতে পারবেন না, তা কি হয়? ফলে সঠিক সময়ে তিনি সঠিক জায়গায় টোকা মেরেছেন৷ এমনকি নিউইয়র্কে তাঁর হোটেলে কাজ করা মেক্সিকানরা পর্যন্ত বলেছেন, ‘আমরা তাঁকেই ভোট দেব৷ কিন্তু উনি আমাদের তাঁকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ দেননি!’ এঁদের প্রত্যেকেই ফ্লোরিডার বাসিন্দা৷ সবাই প্রায় ‘আর্লি ভোটিং’ করেছিলেন৷ অর্থাৎ​‍ ই-মেইলে ব্যালটে নিজের ভোট আগেই দিয়ে এসেছিলেন। এ বছর ফ্লোরিডায় এই ভোটারের সংখ্যাও নেহাত কম নয়৷ প্রায় সাড়ে ৬ লাখ ভোট পোস্টাল ব্যালটে হয়েছে৷ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন,
আর্লি ভোটে সুবিধা করতে পারেননি হিলারি৷ এর প্রায় পুরোটাই পেয়েছেন ট্রাম্প৷ ২৯টি ইলেকটোরাল কলেজের ভোট রয়েছে ফ্লোরিডায়৷ সেই ভোট অধিকাংশ সময়ই নির্ধারক হয়ে ওঠে৷ ৫৬ বছরের ইতিহাসে এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না৷ এ-ও এক ইতিহাস৷ ১৯৮০ সালে রিপাবলিকান প্রার্থী রোনাল্ড রিগ্যান হেরে গিয়েছিলেন ফ্লোরিডায়৷ কিন্তু প্রবেশ করতে পেরেছিলেন হোয়াইট হাউসে। তারপর এ ঘটনা আর কখনো ঘটেনি৷ এমনকি ২০০৪ সালে বুশ-আল গোরের লড়াইয়ে বুশ ফ্লোরিডা জেতেন মাত্র ২ হাজার ভোটে৷ দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে থেকে যান৷ এবারও ব্যতিক্রম হলো না৷ মানুষ দেখল, বিতর্কের শীর্ষে থাকা একজন শিল্পপতি কীভাবে পৌঁছে যেতে পারেন ওভাল অফিসে৷ রাজনীতিকদের কাছে ‘সংকেত’ হয়ে ওঠা ফ্লোরিডাবাসী কিন্তু নিজেদের এই চরিত্রে দারুণ খুশি। নইলে কি আর ভোটের পরের দিন একদল তরুণ হিলারি-সমর্থক চিত হয়ে শুয়ে রোদের আদর খেতে খেতে বলেন, ‘এটা তো সূর্যশিখার রাজ্য৷ সব সময়ই উজ্জ্বল! এবার রিপাবলিকানদের জন্য হয়েছে, পরেরবার আমাদের হবে! এখানে এভাবেই উদয়-অস্ত হয়৷’ নেই আফসোস, নেই দুঃখ, নেই হতাশা৷ মেক্সিকো উপসাগরের শাখা-উপশাখা দিয়ে ঘিরে থাকা এই জলাভূমি তাই যেন অবলীলায় বজায় রাখে অদ্ভুত এক নিরপেক্ষতা, যাকে ফি বছর আলেয়ার মতো ধাওয়া করতে হয় রাজনীতিকদের৷
রোজিনা ইসলাম: সাংবাদিক।

রাষ্ট্রধর্মই কি এখন আওয়ামী লীগের রক্ষাকবচ?

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইটে দলের যে গঠনতন্ত্র আছে, তার মূলনীতি অংশে বলা আছে: বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা তথা সকল ধর্মের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি এবং সমাজতন্ত্র তথা শোষণমুক্ত সমাজ ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হইবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মূলনীতি।’ কিন্তু ৬৭ বছরের আওয়ামী লীগ কি তার এই ঘোষিত মূলনীতি থেকে সরে এসেছে? ঘোষণাপত্রে তারা অসাম্প্রদায়িক বা ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণের কথাও বলেছে, যা বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা থেকে যোজন যোজন দূরে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে এখন নাসিরনগর ও সাঁওতালপল্লির ঘটনায় বিএনপিই আওয়ামী লীগকে সাম্প্রদায়িক শক্তি হিসেবে গালমন্দ করছে এবং আওয়ামী লীগের নেতারা জোর গলায় তার প্রতিবাদও করতে পারছেন না। এই প্রথম কোনো ঘটনায় আওয়ামী লীগ কিছুটা পিছু হটল। বিএনপি, জাতীয় পার্টি বা বিএনপি–জামায়াতের শাসনামলে এসব অঘটন হলে আক্রান্ত মানুষগুলো আওয়ামী লীগের কাছেই আশ্রয় খুঁজত। কিন্তু এখন তারা কোথায় যাবে?
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিবদমান স্থানীয় আওয়ামী লীগ এক পক্ষ অপর পক্ষকে শায়েস্তা করতে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে অভিযোগ আছে। এটি অনেকটা অপরের যাত্রাভঙ্গ করতে নিজের পায়ে কুড়াল মারা। নাসিরনগরে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলার মূলে যে স্থানীয় আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল সক্রিয় ছিল, সেটি পুলিশ, মানবাধিকার কমিশন ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এমনকি আওয়ামী লীগের তিনজন নেতাকে সাময়িকভাবে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। তবে নাসিরনগর পরিদর্শন করে এসে একজন প্রবীণ রাজনীতিক, যিনি আওয়ামী লীগের সুহৃদ বলেই পরিচিত, বলেছেন, ওই তিনজন নয়, আরও অনেকে সেখানে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরিতে সক্রিয় ছিলেন। বাইরে থেকে সেখানে  ট্রাকে–বাসে করে মানুষ এনে হামলা চালানো হয়েছিল। ঘটনার দুই সপ্তাহ পরও প্রকৃত অপরাধীরা চিহ্নিত বা ধরা না পড়ার কারণ সরকারের অক্ষমতা না সদিচ্ছার অভাব? ওই প্রবীণ নেতা স্থানীয় প্রশাসনে উদ্ধৃতি দিয়ে আরও জানিয়েছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগের বিবদমান দুই পক্ষেরই মিত্র হলো আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত ও হেফাজতে ইসলাম এবং বড় হুজুরের সমর্থকেরা, ১৯৯৮ সালে যারা সেখানে তাণ্ডব ঘটিয়েছিল প্রশিকা নামে একটি এনজিওর সমাবেশ আহ্বানকে কেন্দ্র করে। এরা একসময় আওয়ামী লীগের প্রচণ্ড বিরোধিতা করলেও সাম্প্রতিককালে গলাগলি করে চলছে।
কয়েক বছর আগেও সেক্যুলার আওয়ামী লীগ ও হেফাজতে ইসলাম মুখোমুখি অবস্থানে ছিল। শেখ হাসিনার প্রথম সরকারের আমলে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত নানা অঘটন ঘটায়। এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রশাসন বলছে, আওয়ামী লীগের নেতাদের অনুরোধে (না হুকুমে!) তারা নাসিরনগরে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে। এরপর সেই সমাবেশ থেকে যখন মিছিল নিয়ে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা হয়, তখন স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব তার দায় এড়াবে কীভাবে? এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার কাউকেই ছাড় দেবে না। উদাহরণ হিসেবে তিনি আওয়ামী লীগের দুজন সাংসদ কারাগারে এবং তিনজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনীত মামলা বিচারাধীন বলে জানান। কিন্তু তাঁর এই আশ্বাসে ওই এলাকার আক্রান্ত মানুষগুলো খুব একটা আশ্বস্ত হবেন বলে মনে হয় না। প্রথম আলোর খবরে বলা হয়, ‘হামলা-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গ্রেপ্তার বিএনপির নেতা আমিরুল হোসেন চকদারকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। বৃহস্পতিবার তাঁর পক্ষে আদালতে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন হামলার ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার বাদী। আমিরুল উপজেলা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। ৩০ অক্টোবর মন্দিরে হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামি হিসেবে গত মঙ্গলবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন বুধবার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুই শতাধিক নারী-পুরুষ নাসিরনগর থানায় গিয়ে দাবি করেন, আমিরুল হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।’ (প্রথম আলো,
১৮ নভেম্বর ২০১৬) অপরাধের প্রধান সাক্ষী আক্রান্ত মানুষ ও পারিপার্শ্বিক আলামত। আক্রান্ত মানুষগুলো যাঁকে নির্দোষ বলে দাবি করছেন, সরকার তাঁকে ধরছে কেন? এর একটি কারণ হতে পারে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা। আরেকটি হলো প্রকৃত অপরাধীকে  আড়াল করা। এই দুই সূত্র নিয়ে কোনো ঘটনার তদন্ত এবং মামলা এগোলে কোনো দিন সত্য প্রকাশিত হবে না, অপরাধীরা শাস্তির বাইরেই থেকে যাবে। আওয়ামী লীগের ওই নেতা যেমনটি বলেছেন, ‘কেউই ছাড় পাবেন না’, সেটি যদি তাঁদের মনের কথা হয়, তাহলে নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি বা গ্রেপ্তার বন্ধ করতে হবে। তখনই একটি মামলার অপমৃত্যু হয়, যখন জজ মিয়া কাহিনি সাজানো হয়। থানা-পুলিশ বিএনপি নেতাকে পাকড়াও এবং গয়রহ ৮০/৮৫ জন মানুষকে ধরতে পারলেও সন্দেহভাজন আওয়ামী লীগের কোনো নেতার কেশাগ্র স্পর্শ করতে পারেনি। সুতোর টানটা কোথায় বুঝতে অসুবিধা হয় না। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শ্রেণিচরিত্রে খুব একটা ফারাক নেই। নির্বাচন এলে এ দল থেকে ও দলে যাওয়ার ঘটনাও কম নয়। খাঁটি বাঙালি জাতীয়তাবাদী হয়ে ওঠেন বাংলাদেশি, আর নির্ভেজাল বাংলাদেশি বনে যান নিখাদ বাঙালি। আন্দোলন–সংগ্রাম থেকে উঠে আসা আওয়ামী লীগ ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর প্রতি অধিকতর সংবেদনশীল বলে দাবি করে। কিন্তু নাসিরনগর ও গোবিন্দগঞ্জের ঘটনার পর সেই দাবি কতটা যৌক্তিক, সেই প্রশ্ন উঠবেই। কঠিন সত্য যে সমাজের সবচেয়ে নিগৃহীত ওই জনগোষ্ঠী এখন আর কোনো দলের ওপর ভরসা রাখতে পারছে না। দুটি স্থানেই আওয়ামী লীগের অবস্থান আক্রান্তের পক্ষে নয়, বিপক্ষে। গোবিন্দগঞ্জে যে নেতারা সাঁওতালদের চিনিকলের জায়গায় বসতি গড়তে ইন্ধন জুগিয়েছেন,
উচ্ছেদেও তাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। ভোটের আগে আওয়ামী লীগের নেতারা জনদরদি ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেও ভোটের পর তা অনায়াসে ভুলে যান। তাঁরা মুখে বিএনপি-জামায়াতের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরোধিতা করলেও সেক্যুলার পোশাকের আড়ালে নিজেদের সাম্প্রদায়িক চরিত্রটি আর আড়াল করতে পারছেন না। বিএনপি ও জাতীয় পার্টি আগে থেকেই ভোটের রাজনীতিতে ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করত, এখন আওয়ামী লীগও ওই পথে হাঁটা শুরু করছে। আওয়ামী লীগ তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি, জামায়াত এবং ক্ষেত্রবিশেষে জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে অহরহ সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা ও জঙ্গিবাদকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করে থাকে। সেই অভিযোগ যে অমূলক, তা–ও বলা যাবে না। এসব দল ধরেই নিয়েছে যে সংখ্যালঘু ও নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ভোট তারা পাবে না। আর আওয়ামী লীগ ভাবে, সংখ্যালঘুরা কোথায় যাবে, তাদের ভোট নৌকায়ই দিতে হবে। দুই পক্ষের দ্বিমুখী আক্রমণে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা ক্রমেই প্রান্তিক অবস্থানে চলে যাচ্ছে, নিয়ত িনরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। নাসিরনগরে যখন হেফাজতে ইসলাম ও আহলে সুন্নাতের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সদ্ভাবের খবর গণমাধ্যমে এসেছে, তখন আরেকটি খবরও রাজনৈতিক মহলে বেশ কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক সম্প্রতি সার্ক কালচারাল সোসাইটির এক সেমিনারে বলেছিলেন, ‘সুযোগ পেলে রাষ্ট্রধর্ম বাতিল করা হবে।’ তিনি বাংলাদেশে সামরিক শাসকেরা কীভাবে ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি ও সমাজকে কলুষিত করেছেন, তারও চিত্র তুলে ধরেন ওই বক্তৃতায়।
রাজ্জাকের এই বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামি আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, ওলামা লীগসহ কয়েকটি সাম্প্রদায়িক সংগঠন হইচই করে উঠল। তারা দল থেকে তাঁকে বহিষ্কারেরও দাবি জানায়। অথচ দল হিসেবে আওয়ামী লীগ কিংবা ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে সদা উদ্বিগ্ন কোনো প্রগতিশীল দল, সামাজিক বা সাংস্কৃতিক সংগঠন ড. রাজ্জাকের পক্ষে দাঁড়িয়েছে বলে জানা যায়নি। বরং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ওটি তাঁর (আব্দুর রাজ্জাক) ব্যক্তিগত মত। সরকার বা আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রধর্ম বাতিল করা কিংবা সংবিধান সংশোধনের চিন্তা করছে না। তবে তিনি এ–ও বলেছেন, দলের একজন নেতা ব্যক্তিগত অভিমত দিতেই পারেন। পঞ্চদশ সংশোধনী পাসের পর সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও বলেছিলেন, ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগ বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাবে। বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতিতে যেসব প্রতিক্রিয়াশীলতা জেঁকে বসেছে, তার জন্য আওয়ামী লীগের নেতারা দুই সামরিক শাসককে দায়ী করলেও অজ্ঞাত কারণে তাঁরা এরশাদকে ছাড় দিয়ে চলেছেন। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সাম্প্রদায়িক চরিত্র নির্মাণে জিয়ার ভূমিকা যদি চার আনা হয়, এরশাদের বারো আনা। অথচ আওয়ামী লীগ সেই বারো আনাকে সঙ্গে নিয়ে চার আনার বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছে। এখন প্রশ্নটি দাঁড়িয়েছে যে আওয়ামী লীগ কি সত্যি সত্যি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে চার মূলনীতি প্রতিষ্ঠা করবে, না পতিত স্বৈরশাসক–প্রবর্তিত সংবিধানের ক্ষত বয়ে বেড়াবে? এখানে মনে করিয়ে দেওয়া দরকার যে ১৯৮৮ সালে এরশাদ যখন রাষ্ট্রধর্ম চালু করেন, তখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন আট দল ও পাঁচদলীয় বাম জোট তার প্রতিবাদে হরতাল পালন করেছিল। তারা কি এখন সেই হরতালটি ফিরিয়ে নেবে?
কেবল নেতারা নন, আওয়ামী লীগের সমর্থক বুদ্ধিজীবীরাও মনে করেন, রাষ্ট্রধর্ম বাতিল করার আগে সমাজকে তৈরি করতে হবে। কিন্তু সমাজ যে তৈরি নয়, সেই কথাটি তাঁদের কে বলল? তাঁরা কি কোনো জরিপ করে দেখেছেন যে সাধারণ মানুষ ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতির পক্ষে। উনসত্তরের, একাত্তরের কিংবা স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশ যদি ধর্মবাদী রাজনীতিকে নাকচ করতে পারে, আজকের বাংলাদেশ কেন পারবে না? অনেক বিষয়ে আওয়ামী লীগ স্ববিরোধিতায় ভুগছে। যুদ্ধাপরাধের বিচারকে এগিয়ে নিতে গণজাগরণ মঞ্চ যখন সাহসী ভূমিকা নেয়, তখন আওয়ামী লীগ তাকে স্বাগত জানিয়েছিল। পরবর্তীকালে সেই গণজাগরণ মঞ্চকে তারা কীভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে, সেটিও সবার জানা। আওয়ামী লীগের পতাকায় চারটি তারকা আছে চার মূলনীতির প্রতীক হিসেবে—জাতীয়তাবাদ (বাঙালি), গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। গণতন্ত্র অত্যন্ত ভঙ্গুর। মুক্তবাজার অর্থনীতি ধারণ করে আওয়ামী লীগ অনেক আগেই সমাজতন্ত্রকে পরিত্যাগ করেছে। বাঙালি জাতীয়তাবাদও এরশাদের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের সঙ্গে আপস করে চলেছে। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ কি বঙ্গবন্ধুর চার মূলনীতি থেকে সরে এসে এরশাদ–প্রবর্তিত রাষ্ট্রধর্মকেই রক্ষাকবচ হিসেবে মেনে নিচ্ছে?
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrabhassan55@gmail.com

কিমের পর প্যারিসে হামলার শিকার মল্লিকা

মল্লিকা শেরাওয়াত
প্যারিস যেন এক আতঙ্কের নগর হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। বিশেষ করে বিতর্কিত ব্যক্তিত্বদের জন্য প্যারিস তো রীতিমতো ভয়ের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিম কার্দাশিয়ানের পর এবার ফ্রান্সের প্যারিস শহরে ডাকাতের কবলে পড়লেন বলিউডের অভিনেত্রী মল্লিকা শেরাওয়াত। শুধু ডাকাতের কবলেই পড়েননি, হামলার শিকারও হয়েছেন তিনি। ১১ নভেম্বর প্যারিসে মল্লিকা ও তাঁর ফরাসি ব্যবসায়িক প্রেমিক সাইরিলের অ্যাপার্টমেন্টে কয়েকজন মুখোশধারী ঢুকে পড়ে।
এরপর দুজনের চোখে-মুখে কাঁদানে গ্যাস স্প্রে করে এবং তাঁদের প্রহার করে। কিন্তু মল্লিকার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে কিছু না নিয়েই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই পুলিশে অভিযোগ করেছেন মল্লিকা ও তাঁর প্রেমিক। গত বৃহস্পতিবার ফরাসি পুলিশ কর্তৃপক্ষ হামলার ব্যাপারে গণমাধ্যমকে জানায়। তারা এও জানায়, এ ঘটনার আরও তদন্ত হচ্ছে। জানা গেছে, মার্কিন রিয়েলিটি শো তারকা কিম কার্দাশিয়ান যে এলাকায় ডাকাতের কবলে পড়েছিলেন, তাঁর খুব কাছেই মল্লিকার ওপর এই হামলা হলো। ডেইলি মেইল।

‘অজ্ঞাতনামা’ দেখতে দর্শকের ভিড়

অজ্ঞাতনামার প্রদর্শনীর আগে কলকাতার রবীন্দ্রসদনের
বাইরে দর্শকদের ভিড়। ভাস্কর ব্যানার্জি
কলকাতার ঐতিহ্যবাহী আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা নেমেছে গতকাল শুক্রবার রাতে। ১১ নভেম্বর কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে এই চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন করেছিলেন বলিউড তারকা অমিতাভ বচ্চন। উৎসবে প্রদর্শিত হয় বাংলাদেশের ছবি তৌকীর আহমেদ পরিচালিত অজ্ঞাতনামা। ছবিটি প্রথমে ১২ নভেম্বর কলকাতার পূর্বাঞ্চলীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে ও ১৭ নভেম্বর কলকাতার রবীন্দ্রসদন প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হয়। এদিনের প্রদর্শনীতে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তৌকীর আহমেদ ও কলকাতার চিত্রপরিচালক গৌতম ঘোষ। সপ্তাহব্যাপী আয়োজিত এই উৎসবে ৬৫টি দেশের ১৫৬টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়।
উৎসবের উদ্বোধনী দিনে এতে অংশ নেন বলিউড তারকা জয়া বচ্চন, শাহরুখ খান, সঞ্জয় দত্ত, কাজল, পরিণীতি চোপড়া প্রমুখ। উৎসবে প্রদর্শিত বাংলাদেশের ছবি অজ্ঞাতনামা দর্শকদের মধ্যে বেশ আলোড়ন তুলেছে। ছবিটি দেখে উৎসবে আসা কলকাতার চলচ্চিত্রপ্রেমীদের অনেকেই বলেন, বেশ ভালো সিনেমা এটি। তাঁরা মুগ্ধ হয়েছেন এই ছবি দেখে। প্রদর্শনীর শুরুতে প্রেক্ষাগৃহের বাইরে দেখা যায় দর্শকদের লম্বা লাইন। ছবি দেখা শেষে কয়েকজন দর্শক আশা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও ভালো ছবি তৈরি করবে। এদিকে পরিচালক তৌকীর আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘সত্যিই আমি মুগ্ধ কলকাতার দর্শকদের বাংলাদেশি ছবি দেখার আগ্রহ দেখে। মানুষ ছবি দেখে উচ্ছ্বসিত হয়েছেন, প্রশংসা করেছেন। দর্শকদের ছবিটি ভালো লাগছে ভেবে আমিও আনন্দিত।’