Tuesday, February 6, 2018

শামসুল-মাজেদা দম্পতির জৈব সার by তোফাজেল হোসেন তপু

ভূমিহীন বাবার সংসারে জন্ম নিয়ে শৈশব কেটেছে কোনোদিন অনাহারে কোনোদিন অর্ধাহারে। যৌবনকাল গেছে অন্যের ক্ষেতে কামলার কাজ করে। আর বৃদ্ধ বয়সে এখন কৃষক শামছুল ইসলাম জৈব কেঁচো কম্পোস্ট সার  ও বালাইনাশক তৈরির যুদ্ধে নেমেছেন। অবদান রাখছেন ঝিনাইদহসহ দেশের জৈব চাষাবাদে। তার সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী মাজেদা বেগমও। তারা মনে করেন, রাসায়নিক সার ও কীটনাশক দিয়ে উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্য খেয়ে মানুষ প্রতিনিয়ত নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
তাছাড়া  রাসায়নিক সার কৃষকদের জন্য ব্যয়বহুলও বটে। তাই এগুলো থেকে মানুষকে বাঁচাতে এ দম্পতি নিজ বাড়িতে বাণিজ্যিকভাবে তৈরি করছেন জৈব সার ও বালাইনাশক। যা ইতোমধ্যে কৃষকেরা জমিতে ব্যবহার করে ভালো ফল পাচ্ছেন।  কম্পোস্ট সার বিক্রি করে প্রতি মাসে তারা গড়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় করছে।  নিজেরাও সাংসারিকভাবে হয়েছেন স্বাবলম্বী। শামছুল ও মাজেদা দম্পত্তির বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বলরামপুর গ্রামে। কম্পোস্ট সারের পাশাপাশি এই দম্পত্তি উৎপাদন করছেন বিষমুক্ত সবজি ও পুদিনা পাতা।
সরেজমিনে শামছুল-মাজেদা দম্পতি গ্রাম বলরামপুর গ্রামে গেলে দেখা যায়, মাঠের মধ্যে একটা টিনের ছাউনির ঘরের নিচে সারি সারি বসানো রয়েছে প্রায় ৩ শতাধিক মাটির তৈরি চাড়ি। এগুলোতে গোবর, পচা লতাপাতায় ভরা। আর এর মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে লাল রঙের এক ধরনের কেঁচো। সেখানে কেঁচোগুলো একদিকে বংশবিস্তার করছে অন্যদিকে গোবর লতাপাতা খেয়ে মলত্যাগ করছে। কেঁচোর এ মলই শুকালে তৈরি হচ্ছে অধিক উর্বরাক্ষম কম্পোস্ট সার। অপরদিকে ঘরের এক কোণে রয়েছে মাটির তৈরি বড় বড় পাত্রে ভেজানো বিভিন্ন গাছের পাতা, বাকল, কান্ড, বীজ চূর্ণ। এখানে তৈরি করা হচ্ছে জৈব বালাইনাশক। যা কৃষকেরা তাদের ফসলি ক্ষেতে ব্যবহার করে সহজেই পোকামাকড় দমন করতে পারছেন। যে কারণে আশপাশের কৃষিনির্ভর  গ্রামগুলোতে কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়াও পড়েছে। 
কথায় হয় শামসুল-মাজেদা দম্পতির সঙ্গে। তারা জানান, গত ২০১১ সাল থেকে তিনি এই কাজের সঙ্গে জড়িত হন। প্রথমে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ডের জৈব চাষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে কেঁচো কম্পোস্ট, বালাইনাশক ও জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। এর পর নিজের বাড়িতে শুরু করেন কয়েকটি মাটির চাড়ি নিয়ে। আর এখন তাদের ৩০০ চাড়িতে কম্পোস্ট সার  উৎপাদন করছেন। প্রতি ৪৫ দিনে একটি চাড়ি থেকে ১০ কেজি করে একবারে মোট ৩০০ কেজি কম্পোস্ট সার উৎপাদন হচ্ছে। এই দম্পত্তি আরো জানান, তাদের ৩০০ মাটির চাড়িতে ৫০০ গ্রাম করে কেচো আছে। সেই হিসেবে প্রায় ১৫০ কেজি কেঁচো আছে তাদের কাছে। এক কেজি কেঁচোর বাজার দর ১৫০০ টাকা।  সব মিলিয়ে তাদের প্রায় আড়াই লাখ টাকার কেঁচো আছে।  প্রতি কেজি সার বিক্রি করেন ১০ টাকা দরে। আর ৫০ কেজির এক বস্তা কম্পোস্ট সার বিক্রি করেন ৫০০ টাকায়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা কম্পোস্ট সার কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এই ডিসেম্বর মাসেই প্রায় ১০০ বস্তা সার বিক্রি করেছেন তারা।  প্রতি মাসে তাদের আয় সব খরচ বাদে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। তবে তিনি তার পাশে সরকারি কিংবা বেসরকারি উদ্যেক্তাকে আশা করছেন। তার  উৎপাদিত কম্পোষ্ট সার তিনি প্যাকেজিং সহযোগিতা কামনা করেন।
কেঁচো কম্পোস্ট সার উৎপাদনকারী শামছুল ইসলাম জানান, মাঠে তাদের নিজেদের এক ছটাক জমি নেই। গোয়ালে নেই গরু। তবুও আশপাশের গ্রাম থেকে গোবর কিনে তার মধ্যে কেঁচো ছেড়ে দিয়ে তৈরি করছেন কেঁচো কম্পোস্ট। অন্যদিকে নানা রকম গাছের ফল, কাণ্ড, পাতা দিয়ে বাড়িতে তৈরি করছেন জৈব বালাইনাশক। যা বিক্রি করে এখন সংসার চালাচ্ছেন। তিনি আরো জানান,  নিজের জমি না থাকলেও বছর চুক্তিতে ২৫ শতাংশ জমি লিজ (বর্গা) নিয়েছেন। এর মধ্যে ১২ শতংশ জমিতে কম্পোস্ট কারখানা আর বাকি ১৩ শতাংশ জমিতে বিষমুক্ত সবজি চাষ করেন। বাণিজ্যিকভাবে তিনি প্রায় ৪ শতক জমিতে পুদিনা পাতা চাষ করছেন। এই কম্পোস্ট সার বিক্রি করে আরো ২ বিঘা জমি লিজ (বর্গা) নিয়েছেন।
কৃষাণী মাজেদা বেগম জানান, তার অভাবের সংসারে স্বামীর বয়স হয়ে যাওয়ায় এখন মাঠে তেমন একটা কাজ করতে পারেন না। ৪ বছর আগে একমাত্র ছেলে পান্নু মিয়া সড়ক দুর্ঘটনায় যখন পঙ্গু প্রায়। তখন ভেবেছিলেন সংসার চালাতে নিজে কিছু একটা করবেন।  কেঁচো পালন ও কেঁচো কম্পোস্ট সার ও জৈব বালাইনাশক তৈরির প্রশিক্ষণ নেন।  বাড়ির কেউ রাজি না থাকায় গোপনে বাড়ির এক কোণে একটি পাত্রে কেঁচো রেখে পালন করতে থাকেন। কিছুদিন পরে কেঁচো বিক্রি করে পয়সা রোজগার শুরু হলে বাড়ির সকলেই এখন ঝুঁকে পড়েছেন কেঁচো পালন ও কেঁচো কম্পোস্ট সার তৈরিতে। 
কৃষি বিশেষজ্ঞ ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, শামছুল-মাজেদা দম্পতির তৈরি কেঁচো কম্পোস্ট সার ও জৈব বালাইনাশক সম্পর্কে কৃষকদের মুখে শুনেছেন তারা ব্যবহার করে ভালো ফল পাচ্ছেন। তিনি জানান, জমিতে দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে রাসায়নিক সার ব্যবহার করলে প্রকৃতপক্ষে জমির উর্বরা ক্ষমতা কমে যায়। যে কারণে তারা অল্প রাসায়নিক সারের সঙ্গে কম্পোস্ট সার ব্যবহারের জন্য কৃষকদের বলছেন। এতে কৃষকদের ফসল উৎপাদন ব্যয় খানিকটা কমে আসছে। কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম আরো জানান, কৃষি অফিস থেকে তাকে সার্বিক পরামর্শ দিচ্ছেন। কেঁচো দিয়ে তৈরি কম্পোস্ট সার আমাদের দেশের কৃষিক্ষেত্রে বিরাট এক পরিবর্তন ঘটিয়ে দিতে পারে। কৃষি জমিতে এই কেঁচো কম্পোস্ট পর পর ৩ থেকে ৪ বছর ব্যবহার করলে আর রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।
তিনি আরো জানান, বাংলাদেশের কৃষকেরা উচ্চ ফলনের আশায় দিনের পর দিন কৃষি জমিতে অধিকহারে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে থাকেন। ফলে দিনে দিনে আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশের বিপর্যয়, মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে উর্বরতা শক্তি হারিয়ে ফেলছে। এছাড়াও অধিকহারে সেচের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারে আর্সেনিক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। উৎপাদিত কৃষিপণ্যে বিষক্রিয়া সৃষ্টি হয়ে মানুষ ক্যানসারের মতো বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে আমাদের কৃষি কাজে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব বা কেঁচো কম্পোস্ট ব্যবহারে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

বনানীতে ফের জন্মদিনের পার্টি কৌশলে গণধর্ষণ

রাত তখন প্রায় দেড়টা। হোটেল কক্ষে এক তরুণী ও দুই তরুণ। চলছিলো ইয়াবা সেবন। খাটে বসে সেবনের দৃশ্য দেখছিলেন ১৮ বছর বয়সী তরুণী। তখনও এই তরুণী জানতেন না তাকে নিয়ে উন্মাদনায় মেতে উঠবে দুই বন্ধু। ইয়াবা সেবনের সঙ্গে সঙ্গে তরুণীকে কাছে টেনে নেয় রাজীব নামের ছেলেটি।
হাতে হাত রাখে। অপর বন্ধু রুবেল হোসেনের সামনেই জড়িয়ে ধরে তাকে। স্পর্শকাতর অঙ্গ স্পর্শ করে। তরুণী বাধা দেন। ‘ফ্রেন্ডের সামনে এসব কী হচ্ছে?’ বলে ধমক দেন। কিন্তু মাদকে বুঁদ হয়ে থাকা রাজীব কোনো বাধাই মানতে রাজি না। ধস্তাধস্তি হচ্ছিলো। এরমধ্যেই এগিয়ে যায় রাজীবের বন্ধু রুবেল। হুমকি দেয়, ‘চিৎকার করে কোনো লাভ হবে না। আপসে এলেই ভালো। কেউ জানবে না।’ কিন্তু বাধা দিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি তরুণীর। বন্ধুকে নিয়েই প্রেমিকাকে ধর্ষণ করেছে রাজীব। গত ৩রা ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বনানীর ডি ব্লকের ১৫ নম্বর সড়কের দি স্টার প্যালেস গেস্ট হাউজে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা  স্বীকার করেছে তারা। পুলিশের কাছে ওই রাতে নির্যাতনের পুরো বর্ণনা দিয়েছেন তরুণী।
নির্যাতিত তরুণী জানিয়েছেন, শাহ আলী এলাকার রাজীব আহমেদের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিলো। মধ্যবিত্ত পরিবারের এই তরুণী চাকরি খুঁজছিলেন দীর্ঘদিন থেকে। প্রায় তিন মাস আগে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রয়োজনে যান তিনি। সেখানেই পরিচয় হয় রাজীবের সঙ্গে। তারপর থেকে প্রায়ই ফোনে কথা হতো তাদের। কথা বলার এক পর্যায়ে দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে বলে জানান ওই তরুণী। তিনি জানান, প্রায়ই ফোনে তাকে ডেকে আনতো রাজীব। বিভিন্নস্থানে বসে আড্ডা দিতেন। ঘটনার দিন জন্মদিনের পার্টিতে আসার জন্য ওই তরুণীকে অনুরোধ করে সে। রাজীবের কথানুসারেই রাত সাড়ে ৮টায় বনানীর স্টার কাবাবের সামনে পৌঁছেন ওই তরুণী। তারপর রিকশাযোগে দুজনে যান বনানীর ওই গেস্ট হাউজে। আগে থেকেই ওই হোটেলের চতুর্থ তলার ৪০৩ নম্বর কক্ষটি ভাড়া নিয়েছিলো রাজীব। তরুণীকে নিয়ে ওই কক্ষে প্রায় এক ঘণ্টা সময় কাটানোর পর বাইরে বের হয় রাজীব। ‘কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরে আসছি’ জানিয়ে বের হয়ে প্রায় দু’ঘণ্টা পরে হোটেলে ফিরে। তরুণীর ধারণা ওই সময়ে সঙ্গে করে ইয়াবা নিয়ে ফিরেছিলো রাজীব।
রাজীব ফেরার পর দু’জনে রাতের খাবার খান। নির্যাতিত তরুণী জানান, খাবার শেষে তিনি চলে যেতে চাইলে রাজীব একসঙ্গে থাকার অনুরোধ করেন। তারপর বাসায় ফোনে জানিয়ে দেন, বাসায় ফিরবেন না। রাতে আছেন বান্ধবীর বাসায়। হোটেল কক্ষে দু’জনের সময় কাটছিলো বেশ আনন্দেই। এরমধ্যেই একটা কল। দরজা খুলে দিতেই কক্ষে ঢুকে রাজীবের বন্ধু রুবেল। তরুণীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় তাকে। তরুণী তখন খাটে বসেছিলেন। দুই বন্ধু মিলে ইয়াবা সেবন করছিলো কক্ষেই। তরুণী জানান, রাজীব ইয়াবায় আসক্ত তা জানা ছিল না তার। কিন্তু পরিস্থিতি দেখে বুঝতে পেরেছেন ইয়াবা সেবনে বাধা দিয়ে কোনো লাভ হবে না।
ইয়াবা সেবন করতে করতে ওই তরুণীকে বারবার ডেকেছিলো রাজীব। ইয়াবা সেবনের এক পর্যায়ে তরুণীকে কাছে টেনে জড়িয়ে ধরে রাজীব। বন্ধুর সামনে এরকম পরিস্থিতির জন্য রেগে গিয়েছিলেন তিনি। বাধা দিচ্ছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাচ্ছিলো। তরুণী বলেন, ‘তারপর তারা আমাকে জোর করে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। আমি তাদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু তাদের দু’জনের সঙ্গে আমি পারিনি। রাত ২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত তারা আমাকে বারবার ধর্ষণ করেছে।’ সকাল ৭টার দিকে হোটেল কক্ষ থেকে ওই তরুণীকে বাইরে নিয়ে রিকশায় উঠিয়ে দেয় রুবেল। ভালো একটা চাকরির প্রস্তাব দিয়ে বিষয়টি কাউকে না জানাতে বলেছিলো রাজীব। এমনকি হুমকিও দিয়েছিলো বলে অভিযোগ করেন তরুণী।
এ বিষয়ে ৪ঠা ফেব্রুয়ারি বনানী থানায় মামলা করেছেন তিনি। বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বোরহান উদ্দিন রানা মানবজমিনকে জানান, মামলা দায়েরের পর রাতেই বনানী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে রাজীব ও রুবেলকে। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেছে তারা। তবে রাজীব জানিয়েছে, নির্যাতিত তরুণীর সঙ্গে প্রেম না, বন্ধুতার সম্পর্ক ছিল। গতকাল রাজীব ও রুবেলকে আদালতে পাঠিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে তাদের জামিন দেয়ার আবেদন করেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রট মো. আহসান হাবীব উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ করে মামলার কেস ডকেট (সিডি) না থাকায় আসামিদের কারাগারে পাঠিয়ে দেন। সেইসঙ্গে আগামী ৭ই ফেব্রুয়ারি রিমান্ড শুনানির তারিখ ধার্য করেন। গ্রেপ্তার রাজীব আহমেদ (২৮) সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের দারিয়ারপুরের আনোয়ার হোসেনের পুত্র। অপর আসামি রুবেল হোসেন জয় (২৭) বরিশালের মুলাদি থানার চরডিগ্রি বয়াতী বাড়ির আমির হোসেনের পুত্র। এই দুই তরুণই বনানী ও রূপনগর এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত বলে জানান তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৮শে মার্চ বনানীর রেইন ট্রি হোটেলে জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় দুই তরুণীকে। একই বছরের ৬ই মে ওই ঘটনায় বনানী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ধর্ষণ মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে শাফাত আহমেদ, শাফাতের বন্ধু নাঈম আশরাফ ওরফে আবদুল হালিমসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়। আসামিরা বর্তমানে কারাবন্দি। একই বছরের ৪ঠা জুলাই রাতে জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে বনানীর বাসায় ধর্ষণ করা হয় এক তরুণীকে। এ ঘটনায় বাহাউদ্দিন ইভান নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন নির্যাতিত। পরে নারায়ণগঞ্জ থেকে ইভানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

ভিটেয় ফেরার সময় হয়েছে? by জ্যান এজল্যান্ড

সিরিয়ার লাখ লাখ শরণার্থীকে তাদের যুদ্ধবিধ্বস্ত বসতভিটায় কোন কায়দায় ফেরত নেওয়া হবে, তা নিয়ে এখন ইউরোপ আর মধ্যপ্রাচ্যের সরকারি অফিস-আদালতে জোর বিতর্ক চলছে। অন্যদিকে, আশ্রয় তাঁবুর তলে বসে উদ্বিগ্ন ও বিষণ্নচিত্তে ভাগ্যহত শরণার্থীরা এখনই ঘরে ফেরা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হবে, তা আন্দাজ করার চেষ্টা করছে। তাদের মাথায় এখন নতুন এই চিন্তার বোঝা চেপে বসেছে। যে শরণার্থীদের দেশে ফেরত পাঠানোর চিন্তাভাবনা চলছে, তাদের সঙ্গে ভালোভাবে কথা না বলে এবং তাদের সম্ভাব্য বিপদের বিষয়টি আমলে না নিয়ে সরকারি আমলাদের হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। এগুলো ভালোভাবে বিবেচনা না করলে আবার বিভ্রান্তির সূত্রপাত হবে। আবার ধারাবাহিক ভুল সিদ্ধান্ত আসবে। এতে সংঘাত এবং দুর্দশা আবার ভয়াবহ রূপ নেওয়ার বড় ঝুঁকি তৈরি হবে। টানা সাত বছরের বহুপক্ষীয় লড়াইয়ে সিরিয়ায় বহু রক্ত ঝরেছে। লাশ পড়েছে অগণিত। দেশের অর্ধেক লোকই যুদ্ধের কারণে ভিটেছাড়া হয়েছে। ৬০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে এক শহর ছেড়ে অন্য এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। আরও ৫ লাখ লোক প্রতিবেশী দেশে পালিয়েছে। এই ৫ লাখের মধ্য থেকে ১ লাখের মতো লোক ইউরোপে চলে গেছে। আমার সংগঠন নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল ভিটেমাটি ছেড়ে শরণার্থী হওয়া লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছে। তারা আমাদের বলেছে, দেশ ছেড়ে ইউরোপ-আমেরিকায় তারা যেতে চায় না। এমনকি স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই শরণার্থীদের যারা জায়গা দিয়েছে, সেই প্রতিবেশী দেশ জর্ডান, লেবানন কিংবা তুরস্কেও তারা যেতে চায় না। তারা চায় দেশে ফিরতে। অনেকে এ বছরই ফেরার আশা করছে। কিন্তু কথা হলো, সিরিয়ার বেশ কয়েকটি অংশ এখনো প্রতিদিন লড়াই-সংঘাতে ছিন্নভিন্ন হচ্ছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব শহরে প্রচণ্ড লড়াই এখনো চলছে। যুদ্ধের কারণে ওই শহর থেকে আড়াই লাখ লোক পালিয়ে চলে গেছে। সিরিয়ার সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির ঘটনাগুলোর মধ্যে এটাই সবচেয়ে বড়। আর একেবারে দক্ষিণ এলাকায় চারদিক থেকে ঘিরে রাখা পূর্ব ঘৌতা এলাকায় ৪ লাখের মতো মানুষ এখনো খেতে না পেয়ে মরতে বসেছে। সিরিয়ায় কম যুদ্ধপ্রবণ ‘ডি-এসকেলেশন এরিয়াস’ভুক্ত যে চারটি এলাকা আছে, সেই এলাকার মধ্যেই এই দুটি রণক্ষেত্র পড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ডি-এসকেলেশন এরিয়াসভুক্ত এলাকায় কম সহিংসতা হয়, পর্যাপ্ত ত্রাণ মেলে এবং যেখানে ক্রমান্বয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বসতবাড়িতে ফিরছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই ‘সুরক্ষিত’ এলাকাতেও প্রতিনিয়ত মানুষ মরছে। সেখানে প্রতিনিয়ত মৃত্যু আর ধ্বংসের ছবি দেখা যাচ্ছে। সিরিয়ার এই অমানবিক পরিস্থিতি এবং মানুষের তিল তিল করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার খবর এখন বৈশ্বিক দৃষ্টির আওতায় আসছে খুবই কম। আইএসের কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করা এলাকায় লোকজন ফিরছে বটে; সেখানে প্রতিদিনই বিস্ফোরণে প্রাণহানি ঘটছে। সবচেয়ে বড় কথা, এসব এলাকায় ফিরে আসা এবং সাহায্য সংস্থার লোকজনের চলাচল খুবই সীমিত রাখা হয়েছে। কোনো কোনো এলাকা জনগণের জন্য নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত বছর যতজন সিরীয় লোক দেশে ফিরেছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি লোক পালিয়েছে। যারা বাস্তুচ্যুত হয়ে নিজ এলাকা ছেড়ে দেশের অভ্যন্তরের অন্য এলাকায় গিয়েছিল এবং পরিস্থিতি অপেক্ষাকৃত অনুকূলে মনে করে আবার ফেরত এসেছে, তাদেরও একটা বিরাট অংশকে বিপদে পড়তে হয়েছে। ২০১৭ সালে ৬৬ হাজার সিরীয় শরণার্থী নিজ দেশে ফিরে গেছে। অন্যদিকে, দেশ থেকে পলায়ন-ইচ্ছুক ৩ লাখের বেশি শরণার্থীর মুখের ওপর প্রতিবেশী দেশগুলো সীমান্তের দরজা বন্ধ করে রেখেছে। যারা দেশে ফিরেছে, তাদের সবাই স্বেচ্ছায় ফিরেছে, এমন নয়। অনেককে দেশে ফিরতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া অনেকে শরণার্থী জীবনের হতাশাজনক অবস্থা থেকে উত্তরণের আশা ছেড়ে দিয়ে এবং এর চেয়ে নিজ দেশে মরা ভালো মনে করে দেশে ফিরে গেছে। সিরিয়ার যেসব এলাকা থেকে লোকজন পালিয়েছে, সেসব এলাকার বেশির ভাগই বলতে গেলে গুঁড়িয়ে গেছে। এক-তৃতীয়াংশ স্কুল-কলেজ, ঘরবাড়ি এবং প্রায় অর্ধেক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবমতো, এগুলো ঠিকঠাক করতে ১৮ হাজার কোটি ডলারের বেশি খরচ হবে। সেখানকার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত এই পুনর্গঠন কাজে হাত দেওয়া সম্ভব নয়। আর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পূর্বশর্ত হিসেবে বিবদমান পক্ষগুলো এবং দাতাদের মধ্যে বহুপক্ষীয় চুক্তি সইয়ের ব্যাপার রয়েছে। এটা নিশ্চিতভাবেই সময়সাপেক্ষ। অনেকে আশা করছে, হয়তো এ বছরই বিবদমান পক্ষগুলো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে। আর সেটা হলে হতভাগ্য শরণার্থীরা নিজ ভিটেয় ফিরতে পারবে।
আল-জাজিরা থেকে নেওয়া। অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
জ্যান এজল্যান্ড: নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের মহাসচিব

প্রত্যাবাসন চুক্তির পর পালিয়ে এসেছে ৬০ হাজার রোহিঙ্গা

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের চুক্তি হলেও প্রত্যাবাসন পরবর্তী রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় এখনো কাটছে না। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশের সাথে চুক্তি করার পরও সেনাবাহিনী বর্বরতা থামাচ্ছে না। দ্বি-পাক্ষিক চুক্তিতে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে যথাযথ প্রস্তুতি এবং নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করলেও এখনো রাখাইনে রোহিঙ্গা পল্লীতে জ্বালাও-পোড়াওয়ের অভিযোগ করছেন রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গাদের ফেলে আসা বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে রাখাইনের উগ্রবাদী বৌদ্ধ সন্ত্রাসী ও দেশটির সেনারা। চুক্তির পর গত দুই মাস ৮ দিনে আইওএম ও সরকারের দেয়া তথ্যমতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে ৬০ হাজার রোহিঙ্গা। প্রতিদিনই রাখাইনের রোহিঙ্গা পল্লীতে এখনো জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঘটনা রোহিঙ্গাদের আতঙ্কিত করছে। তবে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের পক্ষে যথাযথ প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরিবারভিত্তিক রোহিঙ্গাদের তালিকার কাজও এগিয়ে চলছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে জাতিসঙ্ঘকেও অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি হয়েছে গত ২৪ নভেম্বর। চুক্তির দুই মাসের মাথায় প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দু’দেশের প্রস্তুতি না থাকায় প্রত্যাবাসন পিছিয়ে যায়। রাখাইনের ওপারের সূত্রগুলো জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ৩০টি শিবির নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি তিনটি ট্রানজিট পয়েন্টও প্রতিষ্ঠা করছে। সে দেশের তমব্রু লেফ্ট নাগপুরাতে এই তিনটি ক্যাম্প তৈরী করছে প্রশাসন। অপরদিকে, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষও এপারের সীমান্তের পাঁচটি ট্রানজিট পয়েন্ট তৈরী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ পাঁচটি ট্রানজিট পয়েন্টের জন্য স্থানও নির্ধারণ করা হয়েছে। রোহিঙ্গারা সুনির্দিষ্টভাবে বলছে, এপার থেকে ওপারে গিয়ে তারা কোন অবস্থাতে শিবিরে বন্দীর মতো জীবন কাটাতে চায় না। তারচেয়ে এপারে তারা ভালো পরিবেশে রয়েছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সরকারের পক্ষে গঠিত ওয়ার্কিং গ্রুপ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও মিয়ানমারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়টি অনুপস্থিত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অপরদিকে মংডুর দংখালীতে ফের অভিযান শুরু করেছে সেনা সদস্যরা। কয়েক প্লাটুন দংখালী ও এর আশপাশ ঘিরে রোহিঙ্গা বসতি লক্ষ্য করে রোববার রাতে গুলিবর্ষণ করেছে। ফলে গ্রামটির কয়েক শ’ রোহিঙ্গা সীমান্তের জিরো পয়েন্টে দংখালীতে পালিয়ে এসেছে। গত এক সপ্তাহে পাচ শতাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশের উখিয়া ও টেকানাফের আশপাশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছে। টেকনাফের সাবরাং হারিয়াখালী সেনাবাহিনী ত্রাণকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি দেলোয়ার হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এখন রোহিঙ্গারা সাগরপথে নৌকা দিয়ে টেকনাফের বিভিন্ন উপকূলীয় পয়েন্ট দিয়ে ঢুকছে। শনিবার ও রোববার আশ্রয়সন্ধানী প্রায় আড়াই শতাধিক রোহিঙ্গাকে ত্রাণ দিয়ে ক্যাম্পে আশ্রয় দেয়ার সত্যতা জানান তিনি। নতুন করে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানান, সেনাবাহিনীর হামলার মুখে তারা বাড়িঘর ছেড়ে বন-জঙ্গলে পালিয়ে ছিল। সেখানে তারা খাবারের জন্য হাটবাজারে যেতে পারছে না। মংডুর দংখালীর উপকূলে রোহিঙ্গা গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও গুলি চালিয়েছে সেনারা। ফলে প্রাণ বাঁচাতে তারা বাংলাদেশে আশ্রয়ের সন্ধান করছে। দংখালীর বালুরচরে ত্রিপল টাঙ্গিয়ে প্রায় দুই মাসের মতো অবস্থান করছে প্রায় তিন হাজার রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসন কমিশনার, মোহাম্মদ আবুল কালাম জানান, বর্তমানে রোহিঙ্গাদের পরিবারভিত্তিক তালিকার কাজ এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি দুইটি ট্রানজিট ক্যাম্প স্থাপনের কাজ চলছে। মানবিক সহায়তায় রোহিঙ্গাদের সকল ধরনের সহায়তা দেয়া হচ্ছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নতুন পুরাতন মিলে এ পর্যন্ত ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৩৩৭ রোহিঙ্গার নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। কক্সবাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি)’র তথ্যমতে, গত ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ৬ লাখ ৮৯ হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে।

ভিআইপিতন্ত্রী প্রাইভেট লিমিটেড অ্যান্ড কোং by ফারুক ওয়াসিফ

কিশোরগঞ্জের মো. এরশাদ মিয়া একজন হবু ভিআইপি। তাঁর ভিজিটিং কার্ডে নিজস্ব বানানে পরিচয় লেখা: বিশিষ্ট বড় বড় লোকের সঙ্গে সম্পর্ক। বিশিষ্ট ও বড় বড় লোকের ডাকনাম হলো ভিআইপি। চুম্বকের সঙ্গে লোহার ঘষাঘষিতে লোহাও কিছুটা চুম্বক হয়। ভিআইপিদের সঙ্গে ওঠবস থাকলে প্রায়-ভিআইপি থেকে ফুল-ভিআইপি হওয়াও ওয়ান-টুর ব্যাপার। কিছু বিশিষ্ট বড় বড় লোকের সঙ্গে অল্পবিস্তর খাতির আমারও আছে। ভিআইপি লেন হোক। তারপর খাতিরের ভিআইপির সঙ্গে এই ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু’ শহরের রাস্তায় ধূমকেতুর মতো ছুটতে পারব। ভাবলেই কেমন মাথায় শিং গজিয়ে যাওয়ার অনুভূতি হচ্ছে! দেশটার মাথায়ও শিং গজিয়েছে। এই শিংয়ের নাম ভিআইপি। প্রাণীদের শিং থাকে দুটি করে আর বাংলাদেশের মাথায় অনেক শিং। উন্নয়নের সুফল হিসেবে আনাচকানাচে হরদম ভিআইপি গজাচ্ছে। যারা যারা ভিআইপি তাদের পরিচয় আর দিলাম না, যাঁদের নাম নেওয়া বারণ, তাঁরাও সব্বাই ভিআইপি। তাঁদের চাচাতো-মামাতো-খালাতো-ফুপাতো ভাইবোনেরাও ভিআইপি। ব্যাংক লুটে নেওয়া লোক ভিআইপি, ৩২ ধারা নামের কালাকানুন দিয়ে যাদের ইজ্জত রক্ষা করা হবে, সেসব আমলা-এমপিও ভিআইপি। আঙুল ফুলে কলাগাছা সবই ভিআইপি। যেসব সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য অনুমতি নেওয়ার আইন আছে, তাঁরা ভিআইপি।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের বড় বড় প্রকল্পে জড়িতদের দায়মুক্তি দিয়ে আইন পাস করা আছে, অতএব এঁরাও ভিআইপি। যাঁরা উল্টাপথে গাড়ি চালাতে পারেন, যাঁদের সন্তানেরা বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে মানুষ মেরেও রক্ষা পান, তাঁরা তো কর্মসূত্রেই ভিআইপি। সকল শ্রেণী-পেশা-গোষ্ঠীর শীর্ষ ব্যক্তিরা মিলে নতুন এই ভিআইপি কাস্ট বা জাত তৈরি হয়েছে। শ্রমিকনেতা, আয়রোজগারহীন ছাত্রনেতা, বুদ্ধিজীবী-সাংবাদিক-কবি এবং ডট ডট ডট...(শূন্যস্থান আপনারাই পূরণ করে নিন—সবাই ভিআইপি)। এঁদের স্পর্শ করা আর গনগনে লাল লোহা ছোঁয়া সমান কথা। সুতরাং ভিআইপি কোনো একটা শ্রেণি না, এটা জাত বা বর্ণ। বাংলাদেশে জাতপ্রথার চল নেই, তার বদলে এই ভিআইপিপ্রথা নিয়েই জাতের বড়াই করতে পারি আমরা। নতুন পয়দা হওয়া এই কাস্ট বা জাতটার জন্য তাই ছেড়ে দিতে হবে স্থান। শিশুকে ‘না’ বলবেন না, ভিআইপিদেরও ‘না’ বলবেন না। সবই তো দেওয়া হয়ে গেছে। বাংলার আকাশ তো উন্মুক্তই ছিল তাঁদের হেলিকপ্টারের জন্য। এখন সড়কও উন্মুক্ত করে দিতে হবে। দেশটাই তো ভিআইপি হয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের মহাসড়কের এই ভিআইপি পথিকেরা মন্দ কিছু দেখতে পান না, চানও না। তাঁরা দেখেন সুখী-সমৃদ্ধ-শুভ্র বাংলাদেশ। অর্থমন্ত্রী গত বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ গরিবমুক্ত হয়ে যাবে; বর্তমানে দেশের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এলাকা উন্নত। তাই সাধারণ মানুষের ওপর কর-ভ্যাট ইত্যাদি আরোপ করেই চলেছেন। কারণ, ভিআইপি বানানোর কারখানা— নিন্দুকেরা যার নাম দিয়েছে দুর্নীতির আখড়া, তা তো চালিয়ে যেতে হবে। এই দেশে বেকার যুবক-যুবতী থেকে শুরু করে যে লাখো শিক্ষক রাজপথে অনশনে শুয়ে আন্দোলন করেন, তাঁরাও ভিআইপি। আন্দোলন করেন কেবল শখের বশে। এই বাংলাদেশে কোনো গরিব নেই, উদ্বাস্তু নেই, পথশিশু নেই। রবিঠাকুরের গানের ভাষায়, তাঁদের ‘চোখে তো সকলই শোভন, সকলই নবীন, সকলই বিমল, সুনীল আকাশ, শ্যামল কানন, বিশদ জোছনা, কুসুমকোমল—সকলই আমার মতো। তারা কেবলই হাসে, কেবলই গায়, হাসিয়া খেলিয়া মরিতে চায়—না জানে বেদন, না জানে রোদন, না জানে সাধের যাতনা যত। সব দেশে জনগণ অপছন্দের শাসককে বদলায়। বাংলাদেশে শাসকেরা জনগণকে বদলে দিচ্ছেন। সম্পূর্ণ সংবিধানসম্মত এই তরিকা। সংবিধানে বলা আছে, জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক। জনগণের সংজ্ঞা কী? যাঁরা ক্ষমতার মালিক, যাঁরা শাসকদের টিকিয়ে রাখেন, শাসকেরাও যাঁদের সেবা দিয়ে যান,
সংজ্ঞামতে তাঁরাই তো জনগণ। অতএব সংবিধানের ওই ধারার ‘জনগণ’ শব্দের জায়গায় ‘ভিআইপি’ শব্দটা বসালে দেখবেন, দেশ কী সুন্দর সংবিধানসম্মতভাবেই চলছে। যখন জনগণ শাসক বদলাতে পারে না, তখন শাসকেরাই পছন্দ মতো জনগণ বানান। ভিআইপিরা হলেন আমাদের শাসকদের সেই ‘প্রিয় জনগণ’। বাকি জনগণ তাহলে কোথায় যাবে? তাদের জীবন-যৌবন-উদ্যম সব খরচ হবে যানজটে। হাটে নেওয়া মুরগির খাঁচার মতো গাদাগাদি করে, বাদুড়ের মতো ঝুলে, ভেড়ার পালের মতো নীরবে তাদের জীবনের চাকা থাইম্যা থাইম্যা চলবে। উড়ালসড়কগুলোও ভিআইপি পরিকল্পনার ফসল। জনগণের জন্য বরাদ্দ শুধু তলার ভাঙা-ধুলা-ময়লার রাস্তা। জনগণের নতুন সংজ্ঞাটা হলো, যাঁরা গ্রীষ্মে তন্দুরের গরম আর বর্ষায় বৃষ্টিবিধৌত হন, কলিম শরাফীর গাওয়া ‘সূর্যস্নান’ সিনেমার ‘পথে পথে দিলাম ছড়াইয়া রে সেই দুঃখে চোখেরও পানি’ গানের বাস্তবতা যাদের জীবন, তারাই জনগণ। যারা জমিদারি প্রজাতন্ত্রের অনুগত প্রজা হয়ে নামকরণের সার্থকতা প্রমাণ করছে, তারাই জনগণ। যুব ভাইবোনেরা বিসিএস পরীক্ষার জন্য এই সংজ্ঞাটা মুখস্ত করে রাখতে পারেন। যাত্রাবাড়ীর খুদে ব্যবসায়ী ইকবাল সংজ্ঞাটা জানতেন না। তাই পুলিশের ব্যক্তিগত হুকুম উপেক্ষা করে ভাল জনগণ হওয়ার পরীক্ষায় ফেল মেরেছেন। তাঁকে পুলিশ বক্সে ধরে এনে পেটানো হয়। তিনি নাকি পুলিশের সঙ্গে ‘ব্যবহারটা ভালো করে নাই’। এক পুলিশের ব্যক্তিগত ব্যাগ তিনি তাঁর দোকানে রাখতে ভয় পেয়েছিলেন। ব্যাগে যদি অবৈধ কিছু থাকে! যাহোক, জনগণের নতুন সংজ্ঞাটা তাঁকে কারিগরি পদ্ধতিতে অর্থাৎ প্রহার-থেরাপি দিয়ে বোঝানো গেছে। জনগণের চোখে সব পুলিশই ভিআইপি এবং সব ভিআইপিই জনগণের বন্ধু। ভিআইপি লেনের প্রস্তাব তাই আমি সমর্থন করি। নাগরিক হিসেবে জনগণের আসল স্থান, আসল মর্যাদা আর প্রকৃত অধিকার বোঝানোর জন্য এর থেকে মারাত্মক পথ আর কী হতে পারে? দেড়-দুই কোটির মহানগরে ভিআইপি সড়ক হলে সত্যটা তাঁদের অন্তরে প্রতিষ্ঠিত। দেশটা খাসজনদের তথা ভিআইপির, আমজনতা হলো ছিবড়া করা আমের আঁটি, রস খেয়ে তাদের দূরে ফেলে দেওয়া যায়। আধুনিক বিশ্বে গতিই ক্ষমতা। এ থেকে নতুন শব্দ তৈরি করা যায়: গতিক্ষমতা।
গতিক্ষমতা যাদের বেশি তাদের সুখ, সমৃদ্ধি, দাপটও বেশি। এ জন্যই তারা ‘কেবলই হাসে, কেবলই গায়, হাসিয়া খেলিয়া মরিতে চায়’। কোনো দেশে বৈষম্য ও গণতন্ত্রহীনতা কোন মাত্রায় আছে, তা বোঝার সহজ উপায় হলো সেদেশের সড়কের দিকে তাকানো। এখানে একেকটা ব্যক্তিগত বাহন বাসের অর্ধেক জায়গা নিয়ে চলে। একেকটি বাসকে কমপক্ষে ১০০ জন যাত্রী থাকেন। সেই হিসেবে একেকজন ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক ২০ থেকে ৫০ জনের জায়গা দখলে রেখে রাস্তায় চলেন। কিন্তু ব্যক্তিগত গাড়ি তো একটু উঁচুতলার মধ্যবিত্তের বাহন। ভিআইপিরা আরো উঁচুতে। তাই তাঁদের দরকার নিজস্ব ভিআইপি লেন। দেশটা যেভাবে ভিআইপি তৈরির কারখানা হয়ে উঠেছে, তাতে কিছুদিনের মধ্যে ভিভিআইপিরা বলবেন ভিভিআইপি রাস্তা চাই। জাতপ্রথার নিয়মই তাই। সমানদের মধ্যে কিছু কিছু মানুষ একটু বেশি সমান। অভিজাত ভিআইপি জাতকে আমরা স্বাগতম জানাই। তাঁদের গতিক্ষমতা বাড়লে উন্নয়ন, গণতন্ত্র আরো তাড়াতাড়ি গন্তব্যে পৌঁছে যাবে। অনেকে মিলে আটকে থাকার চেয়ে ‘লিমিটেড’ লোকজনের জন্য তুমুল গতিক্ষমতা দেওয়াই কি ভালো নয়? আরও ভালো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশকে ‘ভিআইপিতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে ডাকা।

তবু শিশুরা ডুবছে জলে by গওহার নঈম ওয়ারা

খাল-বিলের পানি কমতে শুরু করেছে। অনেক জায়গায় পুকুর-ডোবা প্রায় শুকিয়ে গেছে। কাদাজলে মাছ ধরার ছবি ছাপা হচ্ছে কাগজে কাগজে। অনেক জায়গায় গোসলের পানি নেই। তারপরও পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর খবরের কোনো ঘাটতি নেই।জানুয়া রিমাসে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর খবর এসেছে ময়মনসিংহের গফরগাঁও, পাবনার চাটমোহর, রাজশাহীর পুঠিয়া, ফরিদপুরের চরভদ্রাসন, হবিগঞ্জের মাধবপুর, ঝালকাঠির রাজাপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর ইত্যাদি অঞ্চল থেকে। আবার এসব দুর্ঘটনার অনেক খবর আমাদের অগোচরেই থেকে যায়।
২০১৭ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় তার বাংলাদেশের তিন সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে নিয়ে করা এক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেছিল। সেই গবেষণা অনুযায়ী বাংলাদেশে এখন প্রতিবছর প্রায় ১৫ হাজার শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। এটা পাঁচ বছরের কম বয়সী মোট শিশুমৃত্যুর প্রায় ৪৩ শতাংশ। নানা প্রতিষেধকের আবিষ্কার আর টিকাদান কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের জন্য অসুখ-বিসুখে শিশুমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে ঠিকই, কিন্তু সে জায়গা এখন দখল করছে নানা রকমের দুর্ঘটনা, বিশেষ করে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু। ২০১৬ সালের ঘটনাপুঞ্জিভিত্তিক এই গবেষণা অনুযায়ী, প্রতিদিন নানা দুর্ঘটনায় গড়ে ১২৫টি শিশু মারা যাচ্ছে। ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত মানুষদের এই হিসাবের মধ্যে আনা হয়েছিল। সেই হিসাবে দেখা যায়, নানা দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে প্রায় ২৪ শতাংশই মারা যায় পানিতে ডুবে। সব শিশু যে নদীতে বা পুকুরে ডুবে মারা যাচ্ছে, তা কিন্তু ঠিক নয়। শহরে বাথরুমে পানি ধরে রাখা বালতিতে ডুবে মারা যাওয়ার মর্মান্তিক খবর নতুন নয়। গত ২৭ জানুয়ারি ফরিদপুরের চরভদ্রাসনের ডাঙ্গাগ্রামের দেড় বছরের শিশু মাহিম মারা গেছে বাড়ির টিউবওয়েলের পানি যাওয়ার গর্তে পড়ে। অনেক খবরে দেখা যায়, একটি নয়, শিশু পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে জোড়ায় জোড়ায়, কখনোবা তিন বা চারজন একসঙ্গে। যেমন মাহিমের দুর্ঘটনার তিন দিন আগে ২৪ জানুয়ারি কুষ্টিয়া সদরের আইচরায় দুই আপন চাচাতো ভাইবোন রাবেয়া আর নাফিজ বাড়ির ঠিক পাশেই পুকুরের নালার মধ্যে পড়ে মারা যায়। ধারণা করা যায়, দুজন একসঙ্গে খেলতে খেলতে কেউ একজন নালায় পড়ে গেলে আরেকজন তাকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে দুজনেরই মৃত্যু হয়। গত বছরের আগস্ট মাসে ঠিক এমনটি ঘটেছিল টাঙ্গাইলে। দুই ভাইবোন ঝুমু (১০) আর শুভ (৭) ভেলা নিয়ে বাড়ির পাশের বিলে শাপলা তুলতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। প্রথমে শুভ পানিতে পড়ে গেলে ঝুমু তাকে উদ্ধারের জন্য পানিতে লাফিয়ে পড়লে দুজনেই ডুবে মারা যায়। আপন ভাইবোন ছাড়াও নানাবাড়ি বা দাদাবাড়ি কিংবা মামার বাড়ি বেড়াতে এসে মামাতো-ফুফাতো বা খালাতো-চাচাতো ভাইবোনের পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার কথা হরহামেশাই খবরে আসছে।
২০১৭ সালের ৩০ জুলাই কুমিল্লার লাকসামে নানাবাড়ি বেড়াতে এসে জান্নাতুল মাওয়া আর তার খালাতো বোন আলিয়া বাড়ির পাশে আমন ধানের জলাবদ্ধ খেতে ডুবে মারা যায়। ২০১৬ সালে প্রায় একই ধরনের দুর্ঘটনায় ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের মামুনশিয়া গ্রামে পানিতে ডুবে মারা যায় দুটি শিশু। ২০১৭ সালে ২৬৮টি দুর্ঘটনায় ডুবে যাওয়া ৩৬৪ জনের ওপর একটা সমীক্ষা চালিয়ে দুর্যোগ ফোরাম দেখেছে, এদের মধ্যে ২৪৪ জনই হচ্ছে অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৬ বছরের নিচে) আর ৮ বছরের নিচে শিশুর মোট মৃতের প্রায় ৫১ শতাংশ (১৮৬ জন)। আলোচ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা মায়ের খুব কাছেই এক শ থেকে দেড় শ গজের মধ্যে পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে। ডুবে মারা যাওয়ার সময়টাও কাকতালীয়ভাবে খুব কাছাকাছি; বেলা ১১টা থেকে ২টার মধ্যে। এই সময় মায়েরা রান্নাবান্নার কাজে ব্যস্ত থাকেন। শিশু একটু চোখের আড়াল হলেই বিপত্তি ঘটে যাচ্ছে। ধানের চাতালে কাজ করার সময় এক মা তাঁর ছোট্ট শিশুকে শরীরের সঙ্গে বেঁধে রাখার ছবি বছর কয়েক আগে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছিল। ছবিটি ছিল নিরুপায় মায়ের এক জুতসই সমাধান। ঝিনাইদহের এক মা তাঁর প্রতিবন্ধী শিশুকে প্রতিদিন শিকলে বেঁধে রেখে কাজে যেতেন। সে করুণ ছবিও সামাজিক মাধ্যমের বদৌলতে আমরা দেখেছি। আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্যগত কারণে শিশুর মৃত্যু রোধের দায়িত্বপ্রাপ্ত। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিসরের মধ্যে চিকিৎসা আর প্রতিষেধক ছাড়া অন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার এখতিয়ার না থাকলেও আমাদের চিরাচরিত ‘লক্ষ্মণরেখার’ বাইরে এসে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে স্থানীয় সরকার আর সমাজকে সম্পৃক্ত করে একটা কার্যকরী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। উপমহাদেশে ৫ বছরের কম বয়স্ক শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার সবচেয়ে কম ভারতের কেরালা রাজ্যে। সে রাজ্যের সরকার স্কুলে যাওয়ার বয়স না হওয়া পর্যন্ত শিশুদের সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দেখাশোনার একটা সামাজিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলেছিল। অঙ্গনবাড়ি নামের এই ব্যবস্থাপনা গ্রামের মায়েদের সম্পৃক্ত করে গড়ে তোলা হয়। গ্রামের মায়েরাই অঙ্গনবাড়ি কেন্দ্রের দেখাশোনা করেন ভাগাভাগি করে। ৩০ পরিবারের একটি অঙ্গনবাড়িতে গড়ে এক দিন এক মায়ের দায়িত্ব পড়ে। কেরালা ছাড়িয়ে এখন এই ব্যবস্থা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশে একাধিক বেসরকারি সংস্থা পরীক্ষামূলকভাবে কোথাও আঁচল, কোথাও আপনঘর ইত্যাদি নামে এই ব্যবস্থা চালু করার চেষ্টা করছে। তবে স্থানীয় সরকারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে সমাজের সবার অংশগ্রহণে এটার একটা স্থায়ী রূপ দিতে না পারলে বেতন দিয়ে আর ঘর ভাড়া করে এটা বেশি দূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না।
গওহার নঈম ওয়ারা: ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মী। শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

মা ও মাতৃভূমি গৌরবের by সৈয়দ আবুল মকসুদ

নোয়াম চমস্কি কোনো চাট্টিখানি মানুষ নন। তাঁর নিজের বিষয় ভাষাবিজ্ঞানেই তিনি যে তুলনাহীন, তা-ই নন, বিশ্ব বুদ্ধিজীবীদের যদি কোনো রোল নম্বর থাকে তা হলে তিনি বর্তমানে এক নম্বরে। বার্ট্রান্ড রাসেল, জাঁ-পল সার্তে গত হওয়ার পর নয়া সাম্রাজ্যবাদ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী দুষ্কর্মের যাঁরা জোরালো প্রতিবাদ করেছেন, তিনি তাঁদের মধ্যে প্রথম সারির একজন।
কার্ল মার্ক্সের পরে পশ্চিমাদের মধ্যে ভারতীয় উপমহাদেশ সম্পর্কে চমস্কির পর্যবেক্ষণ আমার মতো কম বিদ্বান বাঙালির বিবেচনায় সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ও সঠিক। তাঁর কোনো লেখায় বাংলাদেশের উল্লেখ থাকলে বুঝতে হবে তা অর্থহীন নয় এবং তার গুরুত্ব অসামান্য। সাম্রাজ্যবাদ নিয়ে আলোচনায় তাঁর এক সাম্প্রতিক গ্রন্থে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ আছে। সে প্রসঙ্গের আক্ষরিক অনুবাদ এ রকম: ‘সাম্রাজ্যবাদী শাসন যে একটি বিপর্যয় তাতে সন্দেহের লেশমাত্র নেই। দেখুন ভারতবর্ষ। যখন ব্রিটিশরা বাংলায় প্রথম প্রবেশ করে তখন তা ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বিত্তশালী জায়গাগুলোর একটি। প্রথম ব্রিটিশ বেনিয়া-যোদ্ধারা বাংলাকে বেহেশত (প্যারাডাইস) বলে বর্ণনা করেছে। সেই এলাকাটি এখন বাংলাদেশ ও কলকাতা, যা অত্যন্ত হতাশা ও আশাহীনতার প্রতীক।’ আমরা যাকে বলছি তামাম দুনিয়ার রোল মডেল-অনুকরণীয় ও আদর্শস্থানীয়, চমস্কি তাকে আখ্যায়িত করছেন অত্যন্ত হতাশা ও আশাহীনতার দৃষ্টান্ত হিসেবে। সাম্রাজ্যবাদী শোষণ ও অপশাসনে একটি স্বর্গতুল্য ভূখণ্ডের কী পরিণতি হতে পারে, সে কথাই বলেছেন। তিনি শুধু বাংলাদেশের কথা বলেননি, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ দুই বাংলার কথাই বলেছেন। আমাদের জ্ঞানী পূর্বপুরুষেরা শত শত বছর আগে বলে গেছেন, ‘জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী’-মা ও মাতৃভূমি গৌরবের বা মর্যাদাপূর্ণ। পৃথিবীর যেখানেই যত সুন্দর জায়গা থাকুক, তার তুলনা জন্মভূমি বা স্বদেশের সঙ্গে হয় না। সেই স্বদেশ থেকে পালিয়ে যখন কেউ অন্য দেশে চলে যেতে চায়, তখন বুঝতে হবে জননী-জন্মভূমির অবস্থা শোচনীয়, শান্তিতে জীবনযাপনের জন্য স্থানটি উপযুক্ত নয়। তরুণেরাই যেকোনো সমাজের মেরুদণ্ড। উন্নত সমাজ বিনির্মাণে তারাই জাতির শক্তি। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার ছয়টি দেশের তরুণদের মধ্যে মতামত জরিপ থেকে দেখা গেছে ৮২ ভাগ তরুণই নিজের দেশ ছেড়ে অন্য দেশে চলে যেতে চান; থাকতে চান মাত্র ১৮ শতাংশ। যাঁরা দেশ ছেড়ে যেতে চান তাঁরা কেউই জিম্বাবুয়ে বা নাইজেরিয়ায় পাড়ি জমাতে চান না। তাঁদের আগ্রহ যুক্তরাষ্ট্র (২৪ %), কানাডা (১১ %), যুক্তরাজ্য (১১ %), জার্মানি (৯.৯ %), অস্ট্রেলিয়া (৭.৪)। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম বা ডব্লিউইএফ এই জরিপ পরিচালনা করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ছয়টি হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা। এর আগে বাংলাদেশের তরুণদের ওপর গত বছর জুলাইয়ে প্রথম আলো এক জরিপ করেছিল। সেই জরিপে ৮২ শতাংশ তরুণ বলেছিলেন, ‘ভবিষ্যৎ কর্মজীবন নিয়ে তাঁরা অনিশ্চয়তায় থাকেন। আর সবার জন্য সমান সুযোগের অভাবকেই কর্মজীবনের অনিশ্চয়তার বড় কারণ বলে উল্লেখ করেছিলেন তরুণেরা।
এ ছাড়া দুর্নীতি ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান ৫০ শতাংশের বেশি তরুণ।’ [ প্রথম আলো, ২ ফেব্রুয়ারি, ’ ১৮ ] জরিপের ফলাফল উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। বিষয়টি অতি গুরুতর ও উদ্বেগের। সমাজের যাঁরা অধিপতি-শ্রেণি, বিষয়টি নিয়ে ভাববার কথা তাঁদের। যাঁরা বিদেশে পালাতে আগ্রহী, তাঁরা যে সবাই যেতে পারবেন তা নয়। যাঁরা কোনোরকমে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পার হতে পারবেন, তাঁদের মুখে দেখা দেবে জীবনের সেরা আনন্দের হাসি। যাঁরা শুধু পাসপোর্ট পকেটে নিয়ে এর-ওর কাছে ঘুরছেন, আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন না, তাঁদের জীবন এখন হতাশাগ্রস্ত, কিছুদিন পরে ছেয়ে যাবে বিষাদে। বিষণ্নতা একটি রোগ, তা কর্মক্ষমতা শেষ করে দেয়। অর্থাৎ জাতি গঠনে অন্তত পঞ্চাশ শতাংশ তরুণ কোনো ভূমিকা রাখতে পারবেন না। কোনোরকমে বেঁচেবর্তে থাকবেন। কেউ কেউ প্রশান্তির খোঁজ করতে সন্ধান করবেন মাদকের। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের জরিপ মতে, দক্ষিণ এশিয়ার ছয়টি দেশের আশি ভাগের বেশি তরুণ মনে করেন দেশে তাঁদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। এই জরিপের সঙ্গে প্রথম আলোর অনলাইন ভোটারদের প্রায় ৮৮ শতাংশ একমত। ডব্লিউইএফের জরিপের ফলাফল এবং সে ফলাফল সম্পর্কে জনগণের মতামতের থেকে দেশের অবস্থা পরিষ্কার বোঝা যায়। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার তরুণেরা মনে করেন, নিজের দেশে সবার জন্য সমান সুযোগ নেই। জরিপে প্রশ্ন ছিল, সমাজে কোন কোন ঘাটতি তাঁদের জীবনযাপন ও ব্যক্তিস্বাধীনতায় প্রভাব ফেলছে। তাঁরা এ জন্য পাঁচটি বাধার কথা বলেছেন। অর্ধেক তরুণই বলেছেন, তাঁদের সমাজে অসমতাই বড় প্রতিবন্ধকতা। তা ছাড়া, তরুণেরা মনে করেন, দেশে তাঁরা নির্ভয়ে জীবনযাপন করতে পারছেন না, নিজের জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারেন না, নিজের পছন্দের জায়গায় কাজ করা যায় না এবং ন্যায্য বিষয়ে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের বিরুদ্ধে-প্রতিবাদ করা সম্ভব হয় না।
মূল কথা হলো, দেশে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অভাব। এই সব জিনিস ছাড়া শুধু অবকাঠামো উন্নয়নে একটি দেশ আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হয় না। যাঁরা ইউরোপ-আমেরিকায় পাড়ি জমাতে চাইছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ হবে উজ্জ্বলতর-এ নিশ্চয়তা কে দিয়েছে? সেখানে গিয়ে গতর খাটাতে হবে। তাতে যে রোজগার হবে সেই ডলার-পাউন্ডকে ৮০ বা ১১০ দিয়ে গুণ দিলে যে অঙ্কটা দাঁড়াবে তা বাংলাদেশি টাকায় মন্দ নয়। কিন্তু বসিয়ে বসিয়ে কেউ ডলার-পাউন্ড দেবে না। কারখানায় অ্যাপ্রোন পরে কাজ করতে হবে। রাস্তায় গাড়ি মোছার কাজ করতে হবে। বাগান পরিষ্কার করে বা রেস্তোরাঁয় ওয়েটারের কাজ করে মজুরি পাওয়া যাবে। ট্যাক্সি চালালেও ভালো আয় হবে। লন্ডনে আমার নিজের দুই চোখে দেখেছি, মাস্টার্স করা আমাদের এক যুবক টেমস নদীর তীরে ডিসেম্বরের তুষারপাতের মধ্যে কুকুরের গলায় শিকল বেঁধে হাঁটাহাঁটি করছে। জিজ্ঞেস করলাম তার কাজ কী? বলল, প্রতিদিন কুকুরকে হাওয়া খাওয়ায় ও মলত্যাগ করায় নির্দিষ্ট স্থানে। উন্নত দেশে গিয়ে কেউ কেউ খুব ভালো আছেন। তাদের সংখ্যা খুব কম। খুব কষ্টে বেঁচেবর্তে থাকাদের সংখ্যাই বেশি। একদিন তাঁরা মারা যান। জনা পাঁচেক লোক জানাজা পড়ে কোনো গোরস্থানে নিয়ে যায় বা বৈদ্যুতিক চুল্লির লোকদের কাছে দেহ হস্তান্তর করে। স্বদেশের ওপর তরুণদের ক্ষোভের আর একটি কারণ তারা মনে করেন, রাষ্ট্র পরিচালক ও নীতিনির্ধারকেরা সিদ্ধান্ত নিতে তরুণদের বিষয়টি বিবেচনায় নেন না। তাঁদের কণ্ঠস্বর নীতিনির্ধারকদের কান পর্যন্ত পৌঁছায় না। তাঁদের চিন্তাভাবনা উপেক্ষিত থাকছে। কুড়ি-পঁচিশ বছর আগেও তরুণেরা শিক্ষাজীবন শেষ করে চাকরি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করতে চাইতেন। এখনকার তরুণেরা অনেকেই নিজ উদ্যোগে কিছু করতে চান এবং অপরকেও কাজ করার সুযোগ দিতে চান। কিন্তু তাঁদের সেই স্বপ্ন পূরণের সম্ভাবনা কম। শিক্ষিত তরুণদের অসন্তুষ্টির আর একটি কারণ চাকরিবাকরিতে বৈষম্যমূলক ও সংবিধান পরিপন্থী কোটা পদ্ধতি। এই পদ্ধতির ফলে জাতি একটি অদক্ষ ও অপদার্থ জাতিতে পরিণত হবে। মেধাবীদের কোনো স্থান থাকবে না। মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিদের বসিয়ে বসিয়ে বড় অঙ্কের ভাতা দিলেও কারও আপত্তি নেই, কিন্তু যোগ্য-মেধাবীর জায়গায় কোটায় অযোগ্য-অমেধাবী স্থান পাবে-সেটা ক্ষমাহীন অবিচার, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। মা ও মাতৃভূমিকে ত্যাগ করা যায় না। তবু নিজের দেশে ভবিষ্যৎ নেই মনে করে অন্য দেশে পালিয়ে যাওয়ার চিন্তাটা খুবই স্বার্থপরতার পরিচয়। তরুণদের কর্তব্য দেশে থেকেই অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাতে চেষ্টা করা। সে জন্য ঝুঁকি নেওয়া ও ত্যাগ স্বীকার করা। যুগে যুগে সংগ্রামী তরুণেরাই এনেছে জগতে পরিবর্তন। তরুণেরা আত্মত্যাগ করতে জানে, আত্মসমর্পণ নয়।
সৈয়দ আবুল মকসুদ লেখক ও গবেষক

বিনামূল্যের বই কালোবাজারে কেন? by এমদাদুল হক সরকার

২০১০ সালের ১ জানুয়ারি। চোখে-মুখে আনন্দের উচ্ছ্বাস। প্রথমবারের মতো বই উৎসব হবে। বছরের প্রথম দিনেই স্কুল থেকে নতুন বই নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারব। আমার ওই দিনটির মতো প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও সমমানের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য ১ জানুয়ারি মানে উৎসবের দিন, বিনামূল্যে নতুন বই পাওয়ার দিন। গত বছর ৩৩ কোটি ৩৭ লাখ ৬২ হাজার বই বিতরণ করা হয়েছিল। এবার ৪ কোটি ২৬ লাখ ৩৫ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার ২৪৫টি বই বিতরণ করা হয়েছে। পাঠ্যপুস্তক বিতরণের এ কার্যক্রম বিশ্বে অতুলনীয়। সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে জানতে পারলাম শিক্ষার্থীদের প্রতারণা, হয়রানি ও অবৈধ বাণিজ্যের হাত থেকে বাঁচাতে বিনামূল্যে বই বিক্রি বা বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করা হলেও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের দোকানে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে এসব পাঠ্যপুস্তক! এমনকি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃপক্ষও দায়সারা বক্তব্য দিয়ে দায়িত্ব শেষ করছে বলে খবরে উঠে এসেছে। তথ্যমতে, শুধু পাঠ্যপুস্তক নয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের বইও বিক্রি হচ্ছে বাজারে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এসব বই সরকারি দফতর, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের কাছে থাকার কথা। কিন্তু সেসব বইও দোকানে পাওয়া যাচ্ছে। চট্টগ্রাম, খুলনাসহ রাজধানীর বাইরেও বিভিন্ন স্থানে বই বিক্রির বিষয়টি সামনে এসেছে।
এছাড়া বই নিয়ে রমরমা বাণিজ্যের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এমন অভিযোগও উঠে এসেছে যে, বাজারের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকার কারণে এসব বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। সরকার দেশের শতভাগ শিক্ষার্থীর হাতে এক সেট করে বই তুলে দিলেও শহরকেন্দ্রিক বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্কুল, কোচিং এবং গৃহশিক্ষকের কাছে পড়তে ভিন্ন ভিন্ন বই ব্যবহার করে। এছাড়া বই হারিয়ে গেলে বা ছিঁড়ে গেলে নতুন বই কিনে থাকে অনেকেই। এসব শিক্ষার্থীকে টার্গেট করেই বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের কাছে বই পৌঁছানো মাত্রই কয়েকটি চক্র বিনামূল্যের সরকারি বই ফটোকপি করে অনুরূপ বই বাজারজাত করে! এর মধ্য দিয়ে বছরজুড়ে বিপুল অংকের বইয়ের বাণিজ্য করছে এসব চক্র। বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ সরকারের একটি গণমুখী ও প্রগতিশীল পদক্ষেপ, যা প্রান্তিক ও দরিদ্র পরিবারের শিশুদের শিক্ষাবলয়ে অন্তর্ভুক্তির জন্য অত্যন্ত কার্যকর বলে ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের অসৎ কর্মচারীদের জন্য সরকারের এ পদক্ষেপ ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষা মানুষকে ন্যায়ের পথে চলতে শেখায়। শিক্ষকরাই সেই ন্যায়ের পথ দেখান। এহেন জাতি গড়ার কারিগর শিক্ষক ও তাদের কর্মচারীরা যোগসাজশ করে অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে বিনামূল্যে বিতরণের এ বই বিক্রি করে দিচ্ছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হল সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং এর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। মনে রাখতে হবে, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। ফলে তাদের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্টরা যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, এটিই আমাদের প্রত্যাশা।
এমদাদুল হক সরকার : শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

ভুল থেকে শিক্ষা নিতে চান জাকারবার্গ

নিজের সৃষ্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পেছন ফিরে দেখেছেন মার্ক জাকারবার্গ। তিনি নিজের ভুল নিয়েও কথা বলেছেন। জনপ্রিয় এ সামাজিক মাধ্যমের জনক এখন এসব ভুল থেকে শিক্ষা নিতে চান। ফেসবুকের ১৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, এ পর্যন্ত কতটা এগিয়েছি এবং বিশ্বকে একত্র করার লক্ষ্যে কতদূর অগ্রসর হয়েছি তা পেছন ফিরে দেখার সময় এসেছে। কোন বিষয়ে আরও ভালো করতে হবে এটা ভাবারও সময় হয়েছে। মাঝে মাঝে মানুষ আমাকে জিজ্ঞেস করে এ পর্যন্ত আমি কি শিখেছি। যখন আমি ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করি তখন আমার বয়স ছিল ১৯। কীভাবে কোম্পানি স্থাপন করতে হয় সে ব্যাপারে আমি কিছুই জানতাম না। গ্লোবাল ইন্টারনেট সার্ভিস সম্পর্কেও আমার কোনো ধারণা ছিল না।
যত ধরনের ভুল করা সম্ভব বছরের পর বছর ধরে আমি সেই ভুলগুলোই করেছি। যেমন ভুল মানুষকে বিশ্বাস, মেধাবীদের জুতসই কাজের দায়িত্ব না দেয়া, গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন্ড ফলো না করা, অন্যদের চেয়ে ধীরগতিতে কাজ করা, সাফল্য না পেলেও একের পর এক পণ্য উন্মোচন করা। আমরা ভুল কাজকে পাশ কাটিয়ে যাই না বলেই আমাদের কমিউনিটি টিকে আছে। কারণ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাই। আমরা খুব ভালো করেই জানি, বারবার ব্যর্থ হতে হবে কিন্তু এটাই সফলতা লাভ করার একমাত্র প্রক্রিয়া। যাত্রার এখনও প্রাথমিক স্তরে আমরা আছি। উন্নতি করতে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। এ লক্ষ্যটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। ১৪ বছরে আমরা অর্থপূর্ণ কিছু করতে পেরেছি বলে আমি গর্বিত। আপনাদের সঙ্গে এ যাত্রার অংশ হতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। -টেকশহর/আইটি ডেস্ক

এডিপিতে কাটছাঁট

নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বৈদেশিক অর্থের সদ্ব্যবহারে কেন ব্যর্থ হচ্ছে, তার কারণ উদঘাটন করা জরুরি। দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরের ৫৭ হাজার কোটি টাকা থেকে অন্তত পাঁচ হাজার কোটি টাকা কাটছাঁট করায় সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৫২ হাজার ৫০ কোটি টাকা। এডিপি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গত অর্থবছরেও একই চিত্র প্রত্যক্ষ করেছি আমরা। গত অর্থবছরে এডিপি কাটছাঁটের পরিমাণ ছিল প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা। উদ্বেগের বিষয় হল, এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যবহার করতে না পারায় চলতি অর্থবছরে গৃহীত উন্নয়নের কাক্সিক্ষত লক্ষ্য থেকে আমাদের পিছিয়ে আসতে হবে। এর নেতিবাচক প্রভাব কেবল অর্থনীতিতেই পড়বে না, মানুষের হয়রানি ও দুর্ভোগও বাড়াবে। চলতি অর্থবছরে এডিপি কাটছাঁটের যুক্তি হিসেবে পরিকল্পনামন্ত্রী অবশ্য গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলাকে দায়ী করেছেন। প্রশ্ন হল, এডিপি হ্রাসের ঘটনা তো কেবল এ বছরই ঘটেনি, প্রতি বছরই লক্ষ্যমাত্রা ভুল প্রমাণিত হচ্ছে এবং এর ফলে এডিপির বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হচ্ছে। লক্ষ্য বাস্তবায়ন হবে না- এমন ধারণা বদ্ধমূল হওয়ায় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। কাজেই এডিপির লক্ষ্যমাত্রা এমনভাবে নির্ধারণ করা উচিত, যাতে তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই, সুষ্ঠুভাবে এডিপি বাস্তবায়ন করা নিয়ে আগে যেসব সমস্যা ছিল, সেগুলোর অধিকাংশ এখনও বহাল রয়েছে। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকল্প বাস্তবায়নে বেশ কিছু বাধা চিহ্নিত করেছে। এগুলোর মধ্যে কর্মপরিকল্পনা ছাড়াই প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করা, জমি অধিগ্রহণের জটিলতা, অর্থছাড়ে বিলম্ব, দরপত্র মূল্যায়নে দীর্ঘসূত্রতা, সমীক্ষা ছাড়াই প্রকল্প গ্রহণ,
দক্ষ ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন জনবলের অভাব, উন্নয়ন সহযোগীদের প্রকিউরমেন্ট গাইডলাইন অনুসরণ করে মালামাল ক্রয়ে অসুবিধা, ঠিকাদারদের পেশাদারিত্বের অভাব, ভৌত নির্মাণ কাজের ধীরগতি, চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি ছাড়াই কার্যক্রম চালু রাখা, প্রকল্প প্রস্তাব তৈরিতে দ্রব্যের মান ও মূল্য নির্ধারণে অদূরদর্শিতা, পরামর্শক সংস্থার ওপর অতি নির্ভরশীলতা ইত্যাদি অন্যতম। জরুরিভিত্তিতে এসব সমস্যা নিরসন করা না হলে অতীতের পুনরাবৃত্তি ঘটবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নেও একই কথা বলা হয়েছে। সংস্থাটির মতে, ৩ বছর ধরে এডিপি বাস্তবায়নে একই চিত্র বিরাজ করছে। এ অবস্থায় প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া উচিত বলে মনে করি আমরা। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চাহিদা ও সরকারের সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় করে এডিপি অনুমোদন দেয়ার কথা বলা হলেও প্রতি বছরই মাত্রাতিরিক্ত প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি খারাপ প্রবণতা। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে সরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর জোর দিতে হবে। জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় কোনো প্রকল্প অনুমোদনের পর তা নির্দিষ্ট মেয়াদকালে শেষ করা না গেলে রাষ্ট্র আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাছাড়া দাতা সংস্থাগুলোর অর্থের ব্যবহারও নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় তাদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ তৈরি হয়। এ ব্যাপারে সরকারের সজাগ থাকা প্রয়োজন। এডিপির শতভাগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সচেষ্ট হবে, এটাই প্রত্যাশা।

ট্রাম্পকে লেখা চিঠির জবাব পেল সেই খুদে

চোখের সামনেই স্কুল আঙিনায় বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হয় প্রিয় বন্ধু। বন্ধুর মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে এভা। এর পর বন্ধুর মৃত্যুর বর্ণনা দিয়ে শিশুটি চিঠি লেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে। কিছু দিন পর ট্রাম্পও সেই চিঠির জবাব দেন। সাউথ ক্যারোলাইনার টাউনভিল শহরের এলিমেন্টরি স্কুলে পড়ে এভা। সেদিন স্কুলে টিফিনের সময় এভা বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে-খেলতে স্কুলের মাঠে গিয়েছিল। হঠাৎ ১৪ বছরের এক ছেলে স্কুলে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি করে। একটি গুলি গিয়ে লাগে এভার শিক্ষিকার কাঁধে। আর একটি লাগে সহপাঠীর পায়ে। তৃতীয় গুলিটি লেগেছিল এভার প্রিয় বন্ধু ছয় বছরের জেকবের। তিন দিন পর মারা যায় সে। এর পর জেকবের কথা স্মরণ করে ট্রাম্পকে চিঠি লেখে এভা। ‘প্রিয় মিস্টার প্রেসিডেন্ট..., আমি সবটা শুনেছি, সব কিছু দেখেছি। আমার সব চেয়ে প্রিয় বন্ধুর গায়ে গুলি লেগেছিল। ও মারা গেছে। আমার খুব মন খারাপ। আমি ওকে খুব ভালোবাসতাম।
বন্দুক দেখলে আমার খুব ঘেন্না হয়।’ টাউনভিলের বাসিন্দা ছোট্ট এভার চিঠি পেয়ে জবাব দিতে ভুলেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। হোয়াইট হাউস থেকে পাঠানো চিঠিতে ট্রাম্প লেখেন- ‘প্রিয় এভা, তোমার চিঠির জন্য অনেক ধন্যবাদ। তুমি খুব সাহসী। তোমার বন্ধু জেকবকে হারানোর কথা শুনে আমি ও মিসেস ট্রাম্প খুব কষ্ট পেয়েছি।’ অভিযুক্ত বন্দুকধারী স্কুলশিক্ষার্থী জেস অসবোর্নের বিচার চলছে। নাবালক আইনে বিচার হবে নাকি বড়দের মতো করেই বিষয়টিকে দেখা হবে, তা এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তদন্তে জানা গেছে, স্কুলের বন্ধুরা জেসকে নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করত। সেই রাগেই বাবার বন্দুক নিয়ে স্কুলে গিয়ে হামলা করেছিল সে। এভার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও বন্দুক আইন নিয়ে আলাদা করে কোনো উচ্চবাচ্য করেননি ট্রাম্প। বরং তার জবাবে অনেকেই মনে করছেন, দেশবাসীর নিরাপত্তার ওপরে জোর দিলেও বন্দুক আইন বদলাতে নারাজ তিনি।

বিচারক সংকট

দেশের আদালতগুলোয় মামলার পাহাড় জমেছে। বিচারক সংকট ও অনুন্নত অবকাঠামোর কারণে বিচারিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে এ পরিস্থিতি। এ থেকে উত্তরণে নতুন বিচারক নিয়োগ এবং আদালত কাঠামোর সংস্কার প্রয়োজন। উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে এক সময় এগারোজন বিচারপতি থাকলেও বর্তমানে রয়েছেন মাত্র চারজন। গত ১০ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা এবং ২ ফেব্রুয়ারি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা পদত্যাগ করেছেন। এর আগে গত বছরের জানুয়ারিতে একজন বিচারপতির মৃত্যু এবং এরপর দু’জন বিচারপতি অবসরে যাওয়ার পর নতুন করে কোনো বিচারপতিকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। বস্তুত আপিল বিভাগে গত দুই বছরে কোনো বিচারপতির নিয়োগ হয়নি। ফলে মামলাজট কমাতে পদক্ষেপ নেয়া সত্ত্বেও এক্ষেত্রে অগ্রগতি সামান্য। বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ১৬ হাজার ৫৬৫ (৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত)। এই বিশালসংখ্যক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে দুটি বেঞ্চ গঠন করা দরকার, যা মাত্র চারজন বিচারপতি দিয়ে সম্ভব নয়। আমরা মনে করি, আপিল বিভাগে যে হারে মামলার সংখ্যা বাড়ছে তাতে জট কমাতে এবং বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচারের স্বার্থে দ্রুত বিচারক নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন।
শুধু উচ্চ আদালতে নয়, দেশের অধস্তন আদালতগুলোও বিচারক ও অবকাঠামো সংকটে ভুগছে। এসব আদালতে মামলাজট সমস্যা তীব্র। তবে স্বীকার করতে হয়, সরকার ও বিচার বিভাগের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে গত দুই বছরে আদালতগুলোতে মামলা নিষ্পত্তিতে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। তারপরও মামলাজট নিরসনে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিচারকদের। অনেক জেলায় বিচারকসংশ্লিষ্ট সহায়ক জনবল সংকটের কারণে বিচার কাজে গতি আসছে না। মামলা অনুপাতে নতুন বিচারক ও সহায়ক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ না হওয়ায় বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বাড়ছে। বিভিন্ন জেলায় প্রয়োজনীয় আদালত না থাকায় বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ, পরিবেশ আদালতের কার্যক্রম এখনও সীমাবদ্ধ। তাই দেখা যায়, কোনো ঘটনা হয়তো পরিবেশসংক্রান্ত, কিন্তু সংশ্লিষ্ট জেলায় পরিবেশ আদালত না থাকায় আইনজীবী ও বাদী বিষয়টিকে অন্য ধারা ব্যবহার করে ফৌজদারি মামলায় পরিণত করছেন। এতে কোনো পক্ষই ন্যায়বিচার পাচ্ছে না। অধস্তন আদালতগুলো ভুগছে এজলাস সংকটেও। জানা যায়, দেশের শতাধিক আদালতে বিচারকদের কোনো নিজস্ব এজলাস নেই। তারা অন্য বিচারকের এজলাস ভাগাভাগি করেন। অর্থাৎ একজন বিচারক বিচার কাজ শেষ করে অন্যকে বিচার কাজ করার সুযোগ দেন। এসব সংকট নিরসনে আদালত কাঠামোর সংস্কার জরুরি। সরকারকে অবশ্যই এজন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। সরকার ও বিচার বিভাগের সমন্বয়ে এ সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব। এদিকে অবিলম্বে দৃষ্টি দেয়া দরকার।

রাষ্ট্রীয় ভিডিও চিহ্নিত করে দিচ্ছে ইউটিউব

রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সম্প্রচারিত ভিডিওগুলোকে চিহ্নিত করে দেয়া শুরু করেছে মার্কিন ওয়েব জায়ান্ট গুগল অধীনস্থ বিনা মূল্যের ভিডিও স্ট্রিমিং সাইট ইউটিউব। এ পরিবর্তন একাধিক উৎসের ওপর প্রভাব ফেলবে। ভুল তথ্য ছড়ানো বন্ধের উদ্দেশ্যেই এটি আনা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় প্রযুক্তি সাইট ভার্জের প্রতিবেদনে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সম্প্রচার করা ভিডিওগুলোর চিহ্নে প্রকাশকদের বিষয়ে উইকিপিডিয়া ভুক্তির লিঙ্ক জুড়ে দেয়া হচ্ছে। ‘বর্তমানে আমরা শুধু মার্কিন দর্শকদের জন্য এ ফিচার এনেছি, আর এটি একদম যথাযথ হবে এমনটাও আশা করছি না’- এক ব্লগ পোস্টে ইউটিউবের পক্ষ থেকে এ কথা বলা হয়েছে। এ পরিবর্তন বিশেষভাবে রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরটির ওপর প্রভাব ফেলবে- বলা হয়েছে ভার্জের প্রতিবেদনে।
আরটির জন্য সবচেয়ে বড় প্লাটফর্মগুলোর মধ্যে একটিতে পরিণত হয়েছে ইউটিউব। আরটির ভিডিওগুলো রাষ্ট্রীয় বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ইউটিউব বলেছে, ‘আরটি পুরোপুরি বা আংশিকভাবে রুশ সরকারের তহবিলে চলে।’ আরটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এটি হচ্ছে ইউটিউবের সবচেয়ে বেশি দেখা সংবাদ চ্যানেল। আরটি আমেরিকা আর আরটি স্পোর্টসহ ২০টি বা তারও বেশি চ্যানেল নিয়ে আরটির মোট দর্শক সংখ্যা পাঁচশ’ কোটিরও বেশি। আরটিকে ইংরেজি ভাষায় ‘রাশিয়ার প্রজ্ঞাপন’ প্রচারকারী হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল বদলাতে এ নেটওয়ার্ক সহায়তা করেছিল বলে বারবার দাবি করে আসছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। ইউটিউবের প্রধান পণ্য কর্মকর্তা নিল মোহান ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, এই প্লাটফর্ম এখন থেকে ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্বের’ ভিডিওগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ভিডিও দেখানো শুরু করতে পারে। -বিডি নিউজ/আইটি ডেস্ক

আত্মহত্যার মতো সামাজিক ব্যাধি সংক্রমিত হচ্ছে by ড. মাহবুব উল্লাহ্

টেলিভিশনের পর্দায় ছোট্ট একচিলতে খবর। বড় মর্মন্তুদ এ খবরটি! তরুণী মাহি (নামটি শুনতে যদি ভুল না করে থাকি) আত্মহত্যা করেছে গলায় ফাঁস দিয়ে। দুঃসহ এ খবরটি টিভি পর্দায় সম্ভবত এক মিনিটেরও কম সময় ধরে প্রচার করা হয়েছে। আত্মহত্যা করে মৃত্যুর তিন দিন আগে সে তার আঁকা ছবির প্রদর্শনী করেছিল। অনেক ছবি। ছবিগুলো ছোট ছোট ফ্রেমে বন্দি। কী জানাতে চেয়েছিল এই তরুণী তার আঁকা ছবিগুলোর মাধ্যমে? কোনো চিত্র-সমালোচক হয়তো এর পোস্টমর্টেম করবে না। যদি করা হতো তাহলে হয়তো তার আত্মহত্যার একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করানো যেত। সংবাদভাষ্যকার বলেছে, সে বিষণ্ণতায় ভুগছিল। কী সেই বিষণ্ণতা আমরা কেউ জানি না। তবে এটুকু বুঝতে পারি জীবনের পূর্বাহ্নে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যাওয়া এক নিদারুণ খেদের ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছু হতে পারে না। একজন ছবি আঁকিয়ে যখন জীবনের ইতি টানে তখন বুঝতে হয়, মেয়েটির মধ্যে সৃষ্টিশীলতা ও আত্মবিধ্বংসিতার ভয়ানক দ্বন্দ্ব চলছিল। তার এই মৃত্যুর জন্য কাকে দায়ী করব? দায়ী করতে হলে এই সমাজকেই দায়ী করতে হয়। যে সমাজ নর-নারীর কলরবে মুখর, সে সমাজে এমন বেদনাদায়ক ঘটনা কেন ঘটে? সমাজ নিয়ে যারা ভাবেন তারা হয়তো বলবেন, মেয়েটি তার চারপাশের মানুষ ও প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্নবোধ করছিল। এই বিচ্ছিন্নতাই তাকে আত্মহননের পথে ঠেলে দিয়েছে। শত শত মানুষের মধ্যে জীবনযাপন করেও একজন মানুষ যখন ভাবতে শুরু করে সে বড্ড একা, তার কেউ নেই, কিছু নেই; তখন বিশাল এক শূন্যতা তাকে গ্রাস করে। যাপিত জীবনকে মনে হয় অর্থহীন, লক্ষ্যহীন, উদ্দেশ্যহীন। এমনই এক সংকটে পড়ে এমন গুণী মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে। এমন সুন্দর ছবি আঁকত যে, তার ছবির সমঝদার কি কেউ ছিল না? কেউ কি তাকে কোনোদিন প্রশংসা করে বলেনি, তুমি খুব সুন্দর ছবি আঁকো। হয়তো বলেছে। নইলে ছবি আঁকার প্রেরণা সে কোথায় পেত। আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক পরিণতি বেছে নেয়ার আগে সে হয়তো ছবির প্রদর্শনী করে জানান দিতে চেয়েছিল,
আমি অত অবহেলার পাত্রী নই। আমার জীবনের ইতি ঘটাতে পারে, তবুও আমি রেখে যেতে চাই জীবনের প্রতি আমার ভালোবাসার নিদর্শন। হয়তো তার মধ্যে থাকা জীবনকে ভালোবাসার শক্তি জীবনকে হনন করার শক্তির কাছে পরাজিত হয়েছিল। তাই সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। তার এক ঘনিষ্ঠজন টিভি ক্যামেরার সামনে বলেছেন, তার অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার কথা ছিল। আপনজনরা ভেবেছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার ভিন্ন পরিবেশে তার মনে পরিবর্তন আসবে। বাঁচার তাগিদ সে অনুভব করবে। বোঝাই যাচ্ছে আপনজনরা তার মনের অবস্থাটা বুঝতে পেরেছিল। তবে ক্যামেরার ফোকাসে ফাঁসির রজ্জু দেখানোটা আমার কাছে খুবই কষ্টদায়ক মনে হয়েছে। এই দৃশ্যটি কি পরিহার করা যেত না? খবরের মধ্যে অনেক নিষ্ঠুর সত্য থাকে। সেসব সত্য কি এমন বিসদৃশভাবে দেখাতে হবে? গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী হয়েও এমন স্বাধীনতার চর্চা আমার পছন্দ নয়। যা কথায় প্রকাশ করা হয়, তার সচিত্র দৃশ্য খুবই ভয়াবহ হতে পারে। এমনকি আত্মহত্যা রোগে যারা ভুগছে তাদের আত্মহত্যার পথটিও বাতলে দিতে পারে। সমাজবিজ্ঞানী এরিখ ফোম Lonely Crowd-এর কথা বলেছেন। শত শত মানুষের ভিড়ে মানুষ কী করে একাকী বোধ করতে পারে, এটি এক বিরাট প্রশ্ন। যে কোনো আধুনিক নগরীর রাজপথে শত-সহস্র মানুষকে হেঁটে চলতে দেখা যায়। কেউ কারও দিকে দৃষ্টিপাত করে না। সবাই অচেনা। সুতরাং কেউ কারও জন্য আপনবোধ করে না। আধুনিক শিল্পায়িত নগর সমাজে এ রকম বিচ্ছিন্নতারই উদ্রেক হয়েছে। মানুষের যূথবদ্ধ জীবন হারিয়ে গেছে। সবাই আপন মনে ছুটছে আপনাপন কাজে। বিশ্রাম নেই। বিরতি নেই। নিজেকে নিয়ে মানুষ এত ব্যস্ত যে, অন্যের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করে তাকানোরও সময় নেই। সময়ের এত দাম, কেউ কারও দুঃখ-বেদনা ও দুর্ঘটনায় একটু তাকিয়ে সময় নষ্ট করতে চায় না। একে ‘সময় নষ্ট করা’ বলা কেন? মানুষের প্রতি সহমর্মিতা দেখাতে গিয়ে যদি সময়ের অপচয়ও হয়, তার চেয়ে সময়ের উত্তম ব্যবহার আর কী হতে পারে। এজন্যই তো ইংরেজ কবি উইলিয়াম হেনরি ডেভিস বলেছিলেন, What is this life if, full of care/We have no time to stand and stare. জীবনের এমন গতি, এমন কর্মচাঞ্চল্য কতটুকু কাম্য হতে পারে? অর্থনীতির ইতিহাস যারা রচনা করেছেন তাদের দৃষ্টিতে ঘড়ির আবিষ্কার মানবসভ্যতার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। আজকাল আমরা ডিজিটাল ঘড়ি ব্যবহার করি। মহাশূন্যে বিচরণের জন্য এর চেয়েও অনেক বেশি সূক্ষ্ম ঘড়ির ব্যবহার হয়। কিন্তু ঘড়ি আবিষ্কারের প্রথমদিকে এমন ঘড়ি ছিল না। ছিল বালুঘড়ি অথবা সূর্যঘড়ি। স্কুলে পড়ার সময় কুমিল্লা কালেক্টরেটের মাঠে একটি সূর্যঘড়ি দেখেছিলাম। প্রায় প্রতিদিনই স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে ওই ঘড়ির দণ্ডটির ছায়া দেখতাম। বেলা কত হয়েছে বুঝতে চাইতাম। আরও একটি কথোপকথনের গদ্যাংশ ব্যাকরণ পড়তে গিয়ে শিখেছিলাম। কথাটি ছিল, ‘বেলা যে পড়ে এল জলকে চল’। এখানে জল আনতে চলো না বলে কেন জলকে চল বলা হল? এটি কোন কারকে পড়ে? খুবই চমৎকার অভিব্যক্তি ছিল এই বাক্যটির মধ্যে। বেলা ফুরানোর আগেই জল আনতে হবে। অধ্যাত্মবাদীরা বলেন, জীবন ফুরানোর আগেই পরপারের সম্বল সংগ্রহ করতে হবে। যে জীবন মানবকল্যাণে মানুষের ভালোবাসায় উৎসর্গীকৃত, সেই জীবনেই তো ঘটে পরপারের উৎকৃষ্ট সম্বলের সমাহার। ঘড়ির আবিষ্কার মানুষকে সময়সচেতন থাকতে শিখিয়েছে। বিজ্ঞানীর নব-নব আবিষ্কারে সময় বাঁচানোর অনেক উপায় সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুতগামী মোটরযান বুলেট ট্রেন, জেট প্লেন, টেলিফোনে আলাপ সময়কে সংকুচিত করেছে। জীবনযাত্রা প্রভূত গতি পেয়েছে। বিজ্ঞান যেমন দূরকে নিকট করেছে, পরকে করেছে ভাই, আবার বিজ্ঞান দিয়েছে গতি, কেড়ে নিয়েছে যতি। গতিময়তা যেমন বিশ্বময় ভ্রাতৃত্ব ও পরিচয়ের বন্ধন গড়ে তুলতে পারে, তেমনি পারে পাড়াপড়শি, আপনজনদের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা তৈরি করতে। বাংলাদেশে বার্ধক্যে উপনীত হয়ে অনেকের মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর পর লাশ রাখা হয় হাসপাতালের হিমঘরে। জানাজা বিলম্বিত হয়। আমেরিকা থেকে সন্তান-সন্ততিদের আসার জন্যই এই বিলম্ব। অতি আপনজনরা বিদেশ-বিভুঁইয়ে থাকে বলে জীবনসায়াহ্নে অনেকে একা হয়ে পড়েন। এই একাকিত্বের কষ্ট অন্যদের পক্ষে হৃদয়ঙ্গম করা সহজ নয়।
এই বিচ্ছিন্নতাও অত্যন্ত পীড়াদায়ক। বিচ্ছিন্নতা ঘটতে পারে ভাষার ব্যবধানের জন্যও। যে কোনো মানুষ ভিনদেশি ভাষায় খুব পারদর্শী হতে পারে। কিন্তু তারপরও ভিনদেশি ভাষায় মনের গহনের একান্ত অনুভূতিগুলো প্রকাশ করা কঠিন। গল্পকার বনফুলের একটি গল্পে আছে, একজন এক বিদেশিনীকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল। তাদের জীবন পরম সুখেই কেটেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত লোকটির স্ত্রী-বিয়োগ ঘটে। স্ত্রীকে হারিয়ে ভদ্রলোক এখানে-ওখানে ভ্রমণ করে সময় কাটান। একবার তিনি নেপালে গিয়ে এক অতিথিশালায় উঠলেন। তার প্রকোষ্ঠের পাশের প্রকোষ্ঠে উঠল এক নবদম্পতি। ওরা দু’জনেই ছিল এক ভাষাভাষী। ভদ্রলোক রাতের নিঃসীম নীরবতায় পাশের প্রকোষ্ঠ থেকে শুনতে পেলেন নবদম্পতির প্রগল্ভালাপ। ওদের চুপিচুপি কথা বলাও রাতের নীরবতাকে ভেঙে দিচ্ছিল। ভদ্রলোকের মনে হল, তার জীবনে তিনি কখনও তার বিদেশিনী ভালোবাসার স্ত্রীর সঙ্গে এমন অন্তরঙ্গ মুহূর্ত কাটাতে পারেননি। ভাষার ব্যবধান তাদের কোথাও বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিল। ভাষা আন্দোলনের এ মুহূর্তে এই গল্পটি ভাষাপ্রেমীদের জন্য হতে পারে এক তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত। তাই মানুষ কিভাবে একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিষণ্ণতার গর্ভে ডুবে যেতে পারে, তার রয়েছে নানামাত্রিকতা। ফরাসি সমাজতত্ত্ববিদ এমিল দুরখিম ‘ঝঁরপরফব’ নামে একটি অমর গবেষণা গ্রন্থ ফরাসি ভাষায় রচনা করেছিলেন। এ গ্রন্থের শেষ অধ্যায়ে তিনি লিখেছেন, ‘আত্মহত্যা যেমন মানুষের অস্তিত্ব বজায় রাখার কষ্ট থেকে উত্থিত হয় না, তেমনি এর গতিরোধ করার জন্য জীবন সংগ্রামকে কম কষ্টকর এবং জীবনকে সহজতর করা সম্ভব হয় না। আজকাল যদি অতীতের তুলনায় বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে, এর কারণ এই নয় যে, আমাদের টিকিয়ে রাখার জন্য অধিকতর কষ্টকর প্রয়াস চালাতে হয়। অথবা আমাদের যথাযোগ্য চাহিদাগুলো কম পূরণ হচ্ছে, বরং এই কারণে যে, আমরা যথাযোগ্য চাহিদার সীমারেখা আর জানতে পারি না, অথবা আমাদের প্রচেষ্টা কোনদিকে ধাবিত হচ্ছে তাও জানি না। আজকাল অবশ্য প্রতিযোগিতা তীব্রতর হচ্ছে। কারণ যোগাযোগ সহজতর হয়েছে, যার ফলে বৃহত্তরসংখ্যক প্রতিযোগী একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অপরদিকে উন্নততর শ্রম বিভাজন এবং জটিল সহযোগিতা এর সঙ্গী হওয়ার ফলে পেশার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বৈচিত্র্য অর্জন করছে। এর ফলে মানুষ অন্য মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় হয়ে উঠছে, বেঁচে থাকার উপায় বহু গুণিত হচ্ছে এবং তারা দেখতে পারছে তাদের অবস্থান বিরাজ করছে বিচিত্র ও বিশাল মানবগোষ্ঠীর মধ্যে। এর মধ্যে নিকৃষ্ট প্রবণতাগুলো স্থান করে নিতে পারে। একই সময়ে সূক্ষ্ম সহযোগিতা থেকে উৎপাদনের গভীরতা সৃষ্টি হয়। এর ফলে মানুষের মোট সম্পদ বৃদ্ধি পায়। এবং প্রত্যেক শ্রমজীবী মানুষ ভালো বেতন পায়। এর ফলে মানুষের জীবনীশক্তির ক্ষয় অধিকতর হারে পূরণ করা সম্ভব হয়। বস্তুত এটি নিশ্চিত যে, সমাজের প্রতিটি স্তরে গড়পড়তা আরাম-আয়েশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও সব সময় তা একই অনুপাতে হয় না। আমরা যে মিলমিশের অভাবে ভুগি তার কারণ এই নয় যে, দুঃখ-কষ্টের বিষয়গত কারণ-সংখ্যাও তীব্রতায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সঙ্গে বৃহত্তর অর্থনৈতিক দারিদ্র্যের কোনো যোগাযোগ নেই। কিন্তু যোগাযোগটি হল ভীতিপ্রদ নৈতিকতার দারিদ্র্যে।’ বাংলাদেশে আমরা অর্থনৈতিক দারিদ্র্য কাটিয়ে উঠছি ধীরে ধীরে। কিন্তু নৈতিকতার দিক থেকে আমাদের দারিদ্র্য বাড়ছে বৈ কমছে না। এই দারিদ্র্য হতে পারে পড়শির ভালো-মন্দের খোঁজ না রাখা, পরিবারের মধ্যে পিতামাতার ‘সোনার হরিণ’ খোঁজার দুর্বার আকাক্সক্ষা ও প্রয়াস সোনার সন্তানটিকে হারিয়ে ফেলার অবস্থা সৃষ্টি করতে পারে। যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে নিক্ষিপ্ত হয়ে এখন আমরা আর একে অপরের হাত ধরে চলতে পারছি না। একটা সময় ছিল যখন আমরা অন্যের অভাব পূরণের নৈতিক তাগিদ বোধ করতাম, কিন্তু সামর্থ্য ছিল কম। এখন অন্যের অভাব পূরণের সক্ষমতা অনেক বেড়েছে, কিন্তু সেই অভাব পূরণের নৈতিক তাগিদ অনেক কম বোধ করছি। এ কারণেই হয়তো আত্মহত্যার মতো সামাজিক ব্যাধি সংক্রমিত হচ্ছে। নৈতিকতার পুনর্জাগরণেই এই ব্যাধি প্রশমিত হতে পারে। সমাজের গতি এই জাগরণের বৈরী স্রোতে পরিণত হওয়া সত্ত্বেও ভাবতে হবে কীভাবে একে অনুকূল স্রোতে পরিণত করা যায়।

পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ও বৈষম্য রোধে করণীয়

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক যেমন পরীক্ষা পদ্ধতি, শিক্ষার সামগ্রিক মান ইত্যাদি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সচেতন মহলে যথেষ্ট আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। দুটি পাবলিক পরীক্ষা- জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর (পিইসি) আদৌ দরকার আছে কিনা, কিংবা জিপিএ-৫ দিয়ে প্রকৃত মেধাবীদের চিহ্নিত করা যাচ্ছে কিনা, অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে।
গত কয়েক বছরে লাগামহীনভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস আমাদের গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ব্যর্থ নীতিনির্ধারকদের এ বিষয়ে অনেক সময় হতাশ মনে হয়েছে। আসলে সমস্যাকে যদি আমরা স্বীকার না করি, তাহলে সমাধান খুঁজে পাব না। কথায় আছে, সমস্যা চিহ্নিত হলেই অর্ধেক সমাধান হয়ে যায়। একটি বাচ্চা পরীক্ষার হলে যাওয়ার সময় যদি জানে, তার কিছু সহপাঠী ইতিমধ্যে প্রশ্নপত্র পেয়ে গেছে, তাহলে তার ওপর কি পরিমাণ মানসিক চাপ তৈরি হয়, এটা আমরা নিশ্চয় উপলব্ধি করতে পারি। এ আলোচনা আমি পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন নিয়ে সীমাবদ্ধ রাখব, যা প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধসহ অন্যান্য কিছু বিষয়ের উন্নতিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা রাখি। প্রথমেই পাবলিক পরীক্ষার তিনটি দিক, প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষার হলে নকল ও পরীক্ষার ফলাফলে বিভিন্ন বোর্ডে অসাম্যতা নিয়ে আলোচনা করা যাক। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে ফাঁসকৃত প্রশ্ন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে- এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই; কিন্তু পদ্ধতিগত ত্রুটি ও কিছু নীতিহীন মানুষের দায়টা প্রথমেই আসে। তাদের যেহেতু আমরা আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে পারছি না, সুতরাং ছাত্রছাত্রীদের ক্ষতি না করে কৌশলে তাদের নিবৃত্ত করতে হবে। প্রশ্নপত্রের অনেক সেট করা হলে এবং বিভিন্ন সেটে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিলে, কোন্ পরীক্ষার্থীর হাতে কোন্ সেট প্রশ্ন পড়বে, তা অনিশ্চিত থাকলে, কয়েক সেট প্রশ্ন ফাঁস হলেও সেগুলোয় শিক্ষার্থীরা আগ্রহী হবে না। পরীক্ষার্থীরা আগ্রহী না হলে প্রশ্নপত্র ব্যবসায়ীরাও নিবৃত্ত হবে। বর্তমানে প্রশ্নের কয়েকটি সেট করা হলেও পরীক্ষার আগে একটি সেট নির্দিষ্ট করা হয়। সেটি ফাঁস হলে পরীক্ষার্থীরা নিশ্চিতভাবেই জেনে যায়, পরীক্ষার হলে কোন্ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বন পাবলিক পরীক্ষার আরেকটি দুর্বল দিক। নকল করা, পাশের জন থেকে দেখে লেখা, ক্ষেত্রবিশেষে উপস্থিত শিক্ষকের প্রশ্নের উত্তর বলে দেয়া ও বাইরে থেকে নকল সরবরাহ ইত্যাদি সমস্যা এক সময় প্রকট ছিল।
পরীক্ষার হলে বাইরে থেকে আসা নকল অনেকাংশে কমে গেলেও পরীক্ষার হলে ছাত্রদের নিজেদের মধ্যে ও ছাত্র-শিক্ষকদের পারস্পরিক সহযোগিতা এখনও ভালোভাবেই আছে। বিশেষ করে নৈর্ব্যক্তিক অংশের উত্তরগুলো পরীক্ষার হলে অনেকটাই জানাজানি হয়ে যায়। বিভিন্ন বোর্ডের ফলাফলের অসাম্যতা বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতির আরেকটি দুর্বল দিক, যা তেমন আলোচনায় আসে না। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের ভিন্নতার জন্য শিক্ষার্থীদের পাসের হার, প্রাপ্ত নম্বর ইত্যাদিতে বিভিন্ন বোর্ডের ফলাফলের পরিসংখ্যানগত পার্থক্য আমরা প্রতিবছর দেখতে পাই। এ পার্থক্য ছাত্রছাত্রীদের একাদশ শ্রেণীতে অনলাইনে ভর্তি, কিংবা মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ায় ভোগান্তির সৃষ্টি করে। জিপিএ দিয়ে বা বিষয়ভিত্তিক নম্বর দিয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যক ছাত্রছাত্রীর ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হলে এ বিভাজন প্রকট হয়ে দেখা দেয়। কয়েক বছর আগে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় একটি বোর্ডের কম সংখ্যক ছাত্রছাত্রী অংশ নিতে পেরেছিল। সুতরাং বিভিন্ন বোর্ডের ছাত্রছাত্রীদের ফলাফলের সমন্বয় সাধনটাও জরুরি- অন্তত একটি বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থায় তা-ই কাম্য। পাবলিক পরীক্ষার এই তিনটি সমস্যার সমাধান নিয়ে এখন একটু আলোচনা করা যাক। ধরা যাক, বাংলা বিষয়ের জন্য আটটি বোর্ড থেকে চল্লিশটি একই মানের প্রশ্নপত্র তৈরি করা হল, যার মধ্য থেকে বিশটি বা দশটি সেট পরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হল। সারা দেশে এই সেটগুলোর ওপর পরীক্ষা হবে। বিভিন্ন সেটের প্রশ্নপত্রগুলো দৈবচয়নের ভিত্তিতে গোছানো থাকবে, পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্র পাওয়ার আগে কে কোন সেট পাবে, তা জানা যাবে না। পরীক্ষার্থীরা উত্তরপত্রের মলাটে প্রশ্নের সেট নম্বর উল্লেখ করবে, বোর্ডগুলো উত্তরপত্রের সেট অনুযায়ী পরীক্ষকের কাছে পাঠাবেন। এভাবে পরীক্ষা হলে একেকটা প্রশ্নপত্রের সেটে ১ লাখ থেকে দেড় লাখ ছাত্রছাত্রী পরীক্ষা দেবে, আমাদের পাবলিক পরীক্ষার ছাত্রসংখ্যা অনুযায়ী।
এখন প্রতিটি সেটে প্রাপ্ত গড় নম্বর নিয়ে ছাত্রদের প্রাপ্ত নম্বর প্রমিতকরণ করা হবে। প্রমিতকরণের উপায় নিয়ে বিশদ আলোচনা করা যাবে পরে। সেই নম্বরের ওপর ভিত্তি করে প্রতিটি বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর ও গ্রেড গণনা করা হবে, তারপর সর্বমোট নম্বর ও জিপিএ নির্ণয় করা হবে। একটি উদাহরণের মাধ্যমে প্রমিতকরণের ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করি। ধরা যাক, বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে পাঁচ সেট প্রশ্ন করা হয়েছে। একই মানের ছাত্রদের ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিলে প্রশ্নের হেরফের হওয়া স্বাভাবিক। বিভিন্ন সেটে ছাত্রছাত্রীদের প্রাপ্ত নম্বরের গড় নিচের প্রথম ছকে দেখানো হয়েছে। সর্বশেষ কলামে প্রতিটি বিষয়ে সব সেটে ছাত্রছাত্রীদের প্রাপ্ত নম্বরের গড় দেয়া হয়েছে। প্রতিটি বিষয়ে সব সেটের গড় নম্বরকে সংশ্লিষ্ট সেটের গড় নম্বরের বিভাজন হবে প্রমিতকরণ গুণাঙ্ক, যা দ্বিতীয় ছকে দেখানো হয়েছে। এখন ধরা যাক, একজন ছাত্র বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে যথাক্রমে ৫, ১ ও ৩নং সেটে পরীক্ষা দিয়েছে এবং তার প্রাপ্ত নম্বর যথাক্রমে ৬৮, ৬৬ ও ৭২। প্রাপ্ত নম্বরগুলোকে সংশ্লিষ্ট সেটের প্রমিতকরণ গুণাঙ্ক দিয়ে গুণ করলে তার প্রমিত নম্বর পাওয়া যাবে। তৃতীয় ছকে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
১. গড় নম্বর
বিষয় সেট ১ সেট ২ সেট ৩ সেট ৪ সেট ৫ সব সেট
বাংলা ৬০ ৫৯ ৬৩ ৬২ ৫৯ ৬০.৬
ইংরেজি ৫৪ ৫২ ৫৫ ৫০ ৫১ ৫২.৪
গণিত ৫৫ ৬১ ৫৬ ৫৭ ৬১ ৫৮.০
২. প্রমিতকরণ গুণক = সব সেটের গড় বা সংশ্লিষ্ট সেটের গড়
বিষয় সেট ১ সেট ২ সেট ৩ সেট ৪ সেট ৫
বাংলা ১.০১ ১.০৩ ০.৯৬ ০.৯৮ ১.০৩
ইংরেজি ০.৯৭ ১.০১ ০.৯৫ ১.০৫ ১.০৩
গণিত ১.০৫ ০.৯৫ ১.০৪ ১.০২ ০.৯৫
৩. একটি ছাত্রের প্রাপ্ত নম্বরের নমুনা
বিষয় সেট মূল প্রাপ্ত নম্বর প্রমিতকরণ গুণক প্রমিতকরণের পর নম্বর গ্রেড পয়েন্ট
বাংলা ৫ ৬৮ ১.০৩ ৭০ এ (৪.০)
ইংরেজি ১ ৬৬ ০.৯৭ ৬৪ এ-(৩.৫)
গণিত ৩ ৭২ ১.০৪ ৭৫ এ (৪.০)
প্রথমে আসা যাক এ পদ্ধতি কার্যকর করতে কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা আছে কিনা। কয়েক সেট প্রশ্ন তৈরি ও প্রিন্ট করে সুষমভাবে দৈবচয়ন করে প্যাকেটজাত করা কঠিন কিছু নয়, আর খাতায় প্রাপ্ত নম্বর একবার কম্পিউটারে লিপিবদ্ধ হয়ে গেলে সেট অনুযায়ী নম্বর প্রমিতকরণ করা কোনো ব্যাপারই নয়। যারা এখন বোর্ডে নম্বর টেবুলেশনের দায়িত্বে আছেন, তারা ভালো বুঝবেন। তাহলে এই নতুন পদ্ধতিতে পরীক্ষার হলে পরীক্ষা নেয়া কিংবা ফলাফল তৈরিতে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই, শুধু বেশি সংখ্যক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করার ওপর নজর দিতে হবে। আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে নম্বর প্রমিতকরণকে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা কীভাবে নেবে, বিষয়টি পরে আলোচনা করা হচ্ছে। এখন দেখা যাক, এ পদ্ধতি চালু করলে কি কি সুবিধা পাওয়া যাবে- পরীক্ষার হলে আশপাশের ছাত্র থেকে দেখাদেখি বন্ধ হবে। কারণ একেকজনের কাছে ভিন্ন ভিন্ন সেটের প্রশ্নপত্র থাকবে। কোনো অসাধু শিক্ষক পরীক্ষার হলে উত্তর বলে দিতে পারবে না। কারণ বললে প্রতিটা সেট বলতে হবে। বাইরে থেকে নকল হলে দিতে পারবে না, কারণ কোন ছাত্রের কোন্ সেট জানা যাবে না। অনেকগুলো সেট ফাঁস করা কঠিন হবে, অনেক সময়সাপেক্ষ হবে মোবাইল দিয়ে অনেকগুলো সেটের ছবি তোলা। এক বা দুই সেট ফাঁস হয়ে লাভ নেই, কারণ কোন্ সেট পরীক্ষার হলে পড়বে, তা তো আগে থেকে জানা থাকবে না। তাছাড়া পরীক্ষার আগের রাতে ২০ সেট প্রশ্নপত্র পেয়ে তেমন লাভও হবে না। যে ছাত্র ২০ সেট প্রশ্নের উত্তর এক রাতে তৈরি করতে পারে, তার এমনিতেই পাস করা উচিত। এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুফল হবে বোর্ডে-বোর্ডে ফলাফলের আসাম্যতা দূর করা। বছরভিত্তিক ফলাফলেও আমরা বিস্তর ফারাক দেখতে পাই, নিশ্চয় রাতারাতি ছাত্রছাত্রীদের মানের তেমন পরিবর্তন হয় না। আসলে এই অসামঞ্জস্যতা হয় প্রশ্নপত্রের ভিন্নতার কারণে। এখন আমরা যশোর বোর্ড ও কুমিল্লা বোর্ডের দুজন ছাত্রকে বিচার করছি প্রাপ্ত নম্বর দিয়ে, যদিও তারা ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে। যেহেতু জাতীয়ভাবে মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা হয় নম্বরের ভিত্তিতে কিংবা এসএসসি ও এইচএসসির প্রাপ্ত নম্বরের একটা অংশ যোগ হয় ভর্তি পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরে,
এতে বিভিন্ন বোর্ডের ছাত্রদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়। লাখ লাখ ছাত্রছাত্রী যেখানে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, সেখানে প্রমিতকরণের (স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন) কথা অবধারিতভাবে এসে যায়, আমরা এতদিন এই বিষয়টিকে পাশ কাটিয়েছি। তাছাড়া এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বিষয়। যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের পর কত নম্বরে কোনো গ্রেড হবে, তা নির্ধারণ করা হয়, নাহলে ভিন্ন প্রশ্নপত্রের ওপর দেয়া পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরে গ্রেড করলে বিভিন্ন বছরের ফলাফলের মধ্যে অসামঞ্জস্যতা তৈরি হবে। এটা একটা স্বাভাবিক ব্যাপার, একে অস্বীকার করাই বোকামি। এখনই আমাদের দেশের ছাত্রছাত্রীরা আসলে আটটি সেটে পরীক্ষা দিচ্ছে; কিন্তু তারা এখন দিচ্ছে বিভিন্ন বোর্ডে আঞ্চলিকভাবে, নতুন পদ্ধতিতে ছাত্রছাত্রীরা ১০ বা ১২টি সেটে পরীক্ষা দেবে; কিন্তু আঞ্চলিকভাবে না, সারা দেশে- উপরন্তু তাদের প্রাপ্ত নম্বর সমন্বয় করা হবে, যাতে প্রশ্নপত্রের মানের কারণে তারা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কম হলে কয়েকশ’ হলে তাত্ত্বিকভাবে এই পদ্ধতি বোঝা হবে; কিন্তু যেখানে লাখ লাখ ছাত্রছাত্রী পরীক্ষা দিচ্ছে, সেখানে এ পদ্ধতি যথেষ্ট কার্যকর হবে। নির্দিষ্ট মানের প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এ পদ্ধতির জন্য একটি চ্যালেঞ্জ; কিন্তু এখনই প্রতিটি শিক্ষা বোর্ডে কয়েক সেট করে প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়, একইভাবে সমন্বিতভাবে ২০ বা ৩০ সেট প্রশ্নপত্র প্রণয়ন কঠিন হওয়ার কথা নয়। এ পদ্ধতিটি জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) বা প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় অনায়াসে পরখ করা যায়। ভালো ফল এলে মাধ্যমিক কিংবা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রয়োগ করা যেতে পারে।
ড. রাজেশ পালিত : সহযোগী অধ্যাপক, তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জীবনীশক্তি বলে আছে কি কিছু?

আমাদের দেশের বাস্তবতায় সব যে স্বপ্নের মতো হয়ে যাবে তেমন আশা করব না। তবে একেবারে আশা করবই বা না কেন! দেশ তো আর আগের মতো নেই। দৃশ্যমান জায়গা থেকেই বলব অনেক এগিয়েছে দেশ। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে লক্ষণীয়ভাবে। শীতলক্ষ্যা পারের মানুষ আমরা। পাকিস্তান আমলে আর বাংলাদেশ পর্বেরও অনেক বছর দেখতাম খেয়া পারাপারের মাঝির পরনে থাকত পুরনো মলিন লুঙ্গি আর আধছেঁড়া গেঞ্জি। অনেকদিন পর নদী পার হতে গিয়ে বিস্ময়ে তাকাই। ছেঁড়া গেঞ্জি মাঝিদের পরনে নেই আর। ধোপদুরস্ত পোশাক। হাতে ঘড়ি, পকেটে মুঠোফোন। মুখাবয়বে দারিদ্র্যক্লিষ্টতার ছবি খুঁজে পেলাম না। আমাদের ছেলেবেলায় ঈদ এলে নতুন পোশাক পাওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট হতো। অনেকে প্রশ্ন করত এবার কী ঈদে পোশাক পেয়েছ? এখন প্রশ্ন করে তোমার ক’সেট হল? জানতাম কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি এ দেশে। উৎপন্ন ফসলে সাংবৎসরের খাবার জুটত না। পাট ছাড়া রফতানি বলতে কিছু ছিল না। সবই আমদানি করতে হতো। ভাবতাম ‘আহা অমন দেশ যদি হতো, আমরাও নানা জিনিস রফতানি করতে পারতাম!’ সে স্বপ্নও অপূর্ণ থাকেনি। অনেক শিল্পকারখানা তৈরি হয়েছে এ দেশে। আমাদের রফতানি পণ্যের তালিকাও বড় হচ্ছে প্রতিদিন। বিশ্বের অনেক দেশ আমাদের সঙ্গে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী। নিজ সামর্থ্যে পদ্মা সেতু করার সাহসও আমরা দেখাতে পারছি।
এমন একটি বাস্তবতায় যদি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতো, রাজনীতি দূরদর্শী ও দেশপ্রেমআশ্রয়ী হতো এবং রাষ্ট্র শিক্ষার উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা বাজেটকে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ বিবেচনা করত, তবে দেশের এগিয়ে যাওয়াটা হতো অনেক বেশি গতিশীল। কিন্তু বাস্তবতা দেখে আমাদের মনে হয় এ দেশের রাজনীতি তাৎক্ষণিক ঔজ্জ্বল্য দেখিয়ে সবার চোখ ঝলসে দিতেই বেশি আগ্রহী। ভিত্তিমূলে উন্নয়নের শক্ত পিলার প্রথিত করতে আগ্রহী নয়। সবকিছুতে রাজনীতিকরণ করতে গিয়ে মাঝে মাঝে হতাশা তৈরির কারণও ঘটছে প্রতিনিয়ত। এখন নতুন করে এ স্বপ্নটি খুব দেখি- দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সামর্থ্য বাড়া অবস্থায় যদি শিক্ষা ক্ষেত্রটিকে রাজনৈতিক লাভালাভের দৃষ্টিতে না দেখার সিদ্ধান্ত হতো! রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়া শিক্ষাঙ্গন স্বাধীনভাবে বেড়ে উঠতে পারত! শিক্ষাঙ্গনের দক্ষ, মেধাবীরা যদি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা প্রশাসন পরিচালনা করতে পারতেন তবে শিক্ষা ক্ষেত্র অনেক বেশি প্রতিশ্রুতিশীল হতে পারত। তবে এ স্বপ্নপূরণের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। সরকার ও রাষ্ট্র পরিচালকরা যদি বিশ্বাস করতে পারেন প্রকৃত শিক্ষিত জনগোষ্ঠী দেশ-জাতির অগ্রগতির কাণ্ডারি হতে পারে, তবেই যৌক্তিক নীতি প্রণয়ন সম্ভব। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থায় কাগুজে শিক্ষানীতি হয়তো থাকতে পারে, কিন্তু প্রায়োগিক ক্ষেত্রে শিক্ষার কোনো নীতি আমরা দেখতে পারছি না। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো যেখানে প্রাইমারি শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়, সেখানে আমাদের দেশে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে প্রাথমিক শিক্ষা। উচ্চশিক্ষিত এবং প্রশিক্ষিত শিক্ষকের দায়িত্ব নেয়ার কথা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয়। কিন্তু প্রচলিত বেতন কাঠামোয় মেধাবী গ্র্যাজুয়েট ছেলেমেয়েরা বিসিএস দিয়ে সরকারি চাকুরে আর নিদেনপক্ষে ব্যাংকের অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখে। আমাদের প্রতিবেশী দেশে এখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা অনেক বেশি সম্মানের এবং আকর্ষণীয়। প্রাইমারি বিদ্যালয়ে অনেক পিএইচডি ডিগ্রিধারীও পাওয়া যাচ্ছে। আর আমাদের দেশে প্রায় বিনা বেতন ও স্বল্পবেতনে চাকরি করা স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষকরা প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন করে। আমি ভাবি, এসব শিক্ষক দেশের উল্লেখযোগ্য অংশ ছেলেমেয়েদের পড়ানোর দায়িত্ব নিয়েছেন।
সংবিধান অনুযায়ী এদের পড়ার অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। তাহলে সরকারি, বেসরকারি, এমপিও নন-এমপিও এসব নানা ধারায় রেখে বৈষম্য তৈরি করে একটি অংশের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকারকে সংকুচিত করে ফেলা হচ্ছে কীভাবে? প্রাইমারি স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় যে ধারায় এগোচ্ছে, তাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বছরের শুরুতে বিনা মূল্যে বই বিতরণ আর এ উপলক্ষে বই উৎসব করা ছাড়া বড় কোনো সাফল্য দেখাতে পেরেছে বা পারছে বলে আমাদের মনে হয় না। ডিজিটাল বাংলাদেশে ডিজিটাল চুরি আর ডিজিটাল জালিয়াতির মোকাবেলা করার মতো সক্ষমতা দেখাতে পারছে না মন্ত্রণালয়। তাই সব পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের রেকর্ডে বাংলাদেশ সম্ভবত গিনিসবুকে নাম লেখাতে সমর্থ হবে। আবার পাবলিক পরীক্ষা প্রাইমারি স্কুল পর্যন্ত সম্প্রসারিত করে প্রশ্নফাঁস আর নকলকেও ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থী পর্যন্ত। নকল প্রতিরোধ বলব না, তবে এড়াতে নানা চেষ্টা করে যাচ্ছে মন্ত্রণালয়। কিন্তু ফাঁসকারীরা হাঁটছে যেন দু’পা আগে। শেষ পর্যন্ত এবার এসএসসিতে সব বোর্ডের পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে অভিন্ন প্রশ্নে। শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীর হলে প্রবেশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে কতটা ফল দিয়েছে জানি না। হয়ে যাওয়া দুটি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। পত্রিকা সূত্রে পাওয়া তথ্যে অভিযোগ উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। তবে এখনও অকাট্যভাবে প্রমাণ করা যাচ্ছে না। কিন্তু একটা প্রতিক্রিয়া তো পাওয়া যাচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী এবার প্রশ্ন ফাঁসকারীকে ধরিয়ে দিলে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মন্ত্রণালয় কতটা অসহায় অবস্থায় আছে, এ থেকে স্পষ্ট বুঝতে পারা যায়। তবে আমাদের কাছে কষ্টের বিষয় এটি যে, দৈবাৎ এক-দুটি ঘটনা নয়- বছরের পর বছর প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা একের পর এক ঘটে যাচ্ছে, সংশ্লিষ্ট দায়িত্ববানরা কিছু করতে না পারলেও স্বপদে বহাল থাকতে পারছেন। একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আর শিক্ষার অবস্থা অন্ধকারে নিমজ্জিত হলেও সরকার বা রাষ্ট্রের যেন তেমন একটা যায় আসে না। ভেতরে ক্যান্সার ছড়িয়ে দিয়ে বাইরে উন্নয়নের ঝলমলে স্যুট পরে কতক্ষণ জাতিকে সতেজ রাখা যাবে!
প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধ নিয়ে যে হযবরল অবস্থা রয়েছে তা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও দায়িত্ববানদের কথা শুনলেই বোঝা যায়। কখনও বলা হচ্ছে, প্রশ্ন ফাঁসে কতিপয় অসাধু শিক্ষক দায়ী। কখনও কোচিং সেন্টার দায়ী। আবার আমরা দেখতে পাচ্ছি সর্ষের মধ্যেই ভূত লুকিয়ে থাকে। মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী অপকর্মের দায়ে গ্রেফতার হন। প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত কোনো কোনো সরকারি কর্মকর্তা এর আগেও গ্রেফতার হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িতদের নাম চলে এসেছে। ফলে দেখা যাচ্ছে, প্রশ্ন ফাঁসের সিন্ডিকেটের শেকড়-বাকড় অনেক দূর ছড়ানো। এই শেকড়ে কি দায়িত্ববানরাও জড়িয়ে পড়েছেন, না শেকড় ছোঁয়ার সক্ষমতা নেই? আমাদের মানসম্মত শিক্ষার অন্যতম প্রধান বাধা নোট-গাইড আর কোচিং ব্যবসা। বছরের পর বছর ধরে শুনছি সরকার এসব বন্ধ করতে যাচ্ছে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে এর কোনো প্রতিফলন নেই। মন্ত্রণালয়ের ভেতরের সর্ষেতে যে ভূত আছে তারাই নাকি এসব কার্যকর না করার ব্যবস্থা রেখে দিয়েছে। তাই এত হইচইয়ের পরও নোট-গাইড আর কোচিং সেন্টার সদম্ভে বহাল রয়েছে। এদের টাকার কাছে পরাভব মানছে সব ঘোষণা। বলা হয়েছিল এবারের এসএসসি পরীক্ষার তিন দিন আগে থেকে সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। তা হলে তো মেনেই নেয়া হল- প্রশ্ন ফাঁসের চারণ ক্ষেত্র কোচিং সেন্টার। তাহলে বছরের পর বছর এগুলো চলছে কেমন করে? কে জানে কী মধু আছে এখানে! তবে সাধারণ অভিভাবক বন্দিত্বের জালে আটকে পড়ে যে সরকারের প্রতি ক্ষুব্ধ হচ্ছেন, তা কি নীতিনির্ধারকরা বিবেচনায় রাখেন? আমার একজন পরিচিত ভদ্রলোক জানালেন তার ড্রাইভার কষ্টে হলেও দুই ছেলেকে ঢাকার এক স্কুলে পড়াচ্ছেন। দুঃখ করে বলছেন, প্রতি বিষয়ে দুই সেট করে গাইড কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি। স্কুল বাধ্য করছে এক প্রকাশকের গাইড বই কিনতে আর কোচিং সেন্টার বাধ্য করছে অন্য প্রকাশকের গাইড বই কিনতে। উভয়কে সন্তুষ্ট না রাখতে পারলে ছেলে নাকি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এসবের কারণ গাইড বইয়ের প্রকাশকরা স্কুল ও কোচিং সেন্টারের শিক্ষকদের চড়া দামে কিনে নেন।
তাই চুক্তি অনুযায়ী ছাত্রছাত্রীদের প্রেসক্রিপশন দিতে হচ্ছে আর পকেট কাটা যাচ্ছে অভিভাবকদের। এই ক্ষমতাধর প্রকাশকরা একই কায়দায় অনেক দূর পর্যন্ত নিশ্চয়ই যেতে পারেন। ফলে নানা হম্বিতম্বির পরও বন্ধ হচ্ছে না গাইড প্রকাশ আর বন্ধ করা যাচ্ছে না কোচিং ব্যবসা। এসব বাস্তবতায় এখন প্রশ্ন রাখতে হয়, কোন দিক থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের সাফল্য দাবি করতে পারবে? বেসরকারি স্কুল ও কলেজে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা থাকে। নষ্ট রাজনীতি এখানেও সক্রিয়। নিবেদিতপ্রাণ যোগ্য, মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ হতে পারছে না অনেক ক্ষেত্রে। রাজনৈতিক পরিচয় হচ্ছে প্রধান যোগ্যতা। এখানে সুস্থ ধারায় স্কুল আর কলেজগুলোয় নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কখনও ভূমিকা রেখেছে আমরা মনে করতে পারব না। রাজনীতিকরণের প্রকোপে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ঘুণপোকা ধরেছে অনেককাল থেকেই। এখানে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়, না ইউজিসি কেউ কোনো ভূমিকা রাখেনি। ভিসি নিয়োগ থেকে শিক্ষক নিয়োগ সব ক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রক রাজনীতি। এসব বাস্তবতায় জ্ঞানচর্চা আর জ্ঞান সৃষ্টির প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্রমাগতভাবে নিষ্প্রভ হয়ে পড়ছে। দুর্ভাগ্য আমাদের এই যে, যারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ও ক্ষমতাবান, তারা অতিকথন কমিয়ে দিয়ে নির্মোহভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের মানোন্নয়নে পদক্ষেপ নিতে পারছেন না। শিক্ষাকে রাজনীতির সংকীর্ণ গলিপথ থেকে মুক্ত করতে পারতেন তারা, তাহলে আমরা একটি সুন্দর ভবিষ্যতের কথা ভাবতে পারতাম। এ দেশে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া কোনো সুরাহা হয় না; তাই অগত্যা তাকেই কষ্ট দিতে হচ্ছে। নির্বাচনের আগে সব গোপন-পুরনো ঘা কিন্তু আবার দগদগে হয়ে ওঠে। শিক্ষার ভালোমন্দের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছেন এ দেশের অধিকাংশ মানুষ। ব্যর্থ শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নতুন জীবনীশক্তি যদি প্রধানমন্ত্রী দিতে পারেন, তবেই বোধহয় মুক্তি।
ড. একেএম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
shahnaway7b@gmail.com

ডাইনোসর যে কারণে বিলুপ্ত হয়



ডাইনোসর গোটা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিল। কীভাবে তারা দুনিয়াজুড়ে ছড়াল, তা নিয়ে গবেষণা করেছেন বিজ্ঞানীরা। অবশেষে তারা বললেন- এ অদ্ভুত প্রানীটি নিজেদের সফলতার শিকার হয়েছিল। অর্থাৎ পৃথিবীর সর্বত্র বিচরণ করার ক্ষমতা অর্জন করেছিল এই প্রাণী। আর এ সফলতার জন্যই তারা বিলুপ্ত হয়ে গেছে।-খবর বিবিসি অনলাইন।
যুক্তরাজ্যের গবেষকরা বলেন, গ্রহাণুর আঘাতের আগেই তারা পৃথিবী থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করেছিল। কারণ তখন পৃথিবীর এমন কোনো আবাসস্থল ছিল না, যেখানে তারা বাস করা শুরু করেনি। ডাইনোসরের উৎপত্তিস্থল ছিল দক্ষিণ আমেরিকায়। এর পর তারা গ্রহের প্রতিটি প্রান্তে চলাচল শুরু করে। পৃথিবীতে কয়েকশ ধরনের ডাইনোসর ছিল। যারা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। কিন্তু একসময় গ্রহাণু আঘাত করতে শুরু করলে, তাদের সংখ্যা কমতে থাকে। প্রাণীটি পৃথিবীতে হারিয়ে যেতে থাকে। ডাইনোসররা কেন পথ দিয়ে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিল, ন্যাচার ইকোলজি ও ইভালুয়েশন জার্নালে তা নিয়ে একটি তত্ত্ব ছাপা হয়েছে। গবেষক ড. ক্রিস ভেনডিটি বলেন, তারা নিজেদের উৎপত্তিস্থল থেকে দ্রুতই সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। অন্য প্রাণীদের সঙ্গে তারা খাবার ও আবাসস্থল নিয়ে প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়ে। পৃথিবীটা ডাইনোসরে পূর্ণ হয়ে যায়। তিনি বলেন, তাদের আবাসস্থলকে তারা বিশেষায়িত করে ফেলে। কিন্তু নতুন কোনো প্রজাতি তারা রেখে যেতে পারেনি। এতে করে পৃথিবীতে তাদের সংখ্যা কমতে থাকে। গ্রহাণু আঘাত করলে তারা একেবারে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটদের নথি প্রকাশের অনুমোদন কংগ্রেস কমিটির

যুক্তরাষ্ট্রে গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রচারশিবিরের সঙ্গে রুশ যোগসাজশ তদন্তে এফবিআই ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে রিপাবলিকানদের মেমোর যুক্তি খণ্ডন করে ডেমোক্র্যাটদের একটি নথি প্রকাশে অনুমোদন দিয়েছে কংগ্রেসের হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটি। সোমবার রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ কমিটিতে ১০ পৃষ্ঠার মেমো প্রকাশের আবেদন সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়েছে। তবে হাউস কমিটির অনুমোদনেই ডেমোক্র্যাটদের নথি আলোর মুখ দেখছে না। এ জন্য প্রেসিডেন্টের সম্মতি নিতে হবে। সোমবার রাতে নথিটি হোয়াইট হাউসে পৌঁছাবে এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে ট্রাম্পের হাতে শুক্রবার পর্যন্ত সময় আছে। ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, মেমোটিতে গত সপ্তাহে প্রকাশিত চার পৃষ্ঠার রিপাবলিকান নথির খুঁতগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাটদলীয় কংগ্রেস সদস্য অ্যাডাম শিফ ইন্টেলিজেন্স কমিটির সোমবারের এ ভোটকে স্বাগত জানিয়েছেন। কমিটিতে থাকা শীর্ষ এ ডেমোক্র্যাটের লেখা মেমোটি প্রকাশে আগেও একদফা অনুমোদন চাওয়া হয়েছিল, সেই সময় তাতে সায় মেলেনি। অ্যাডাম শিফ বলেন, ডেমোক্র্যাটদের এই নথি আটকে দেয়া ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বেশ কঠিন কাজ হবে। ডেমোক্র্যাটিক নেতা চাক শুমার বলেন, প্রেসিডেন্ট এই মেমো প্রকাশে সায় দেবেন, এটি মৌলিক সততার ব্যাপার। এ নথির ওপর গুরুত্ব দিতে ও বিচার বিভাগের তদন্তকে হেয় না করতে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানান।

তেল ট্যাঙ্কারসহ ২২ ভারতীয় ক্রুকে ছেড়ে দিয়েছে জলদস্যুরা

পশ্চিম আফ্রিকার গিনি উপসাগরে ২২ ভারতীয় ক্রুসহ ১৩ হাজার ৫০০ টন পেট্রলবাহী একটি জাহাজকে মুক্তি দিয়েছে জলদস্যুরা। মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছে জাহাজটির পরিচালনাকারী কোম্পানি হংকংভিত্তিক অ্যাংলো-ইস্টান। তারা জানায়, মুক্তিপণের বিনিময়ে দস্যুরা জাহাজটিকে ছেড়ে দিয়েছে। কোম্পানিটি বলছে, তারা ফেরত আসতে পারছে বলে আমরা আনন্দিত।
ক্রু সদস্যরা নিরাপদে আছেন এবং মালামাল জাহাজেই আছে। শুক্রবার মেরিন এক্সপ্রেস নামে জাহাজটি পশ্চিম আফ্রিকার বেনিন উপকূলে থাকার সময় যোগাযোগ হারিয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল।-খবর এনডিটিভি অনলাইন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে গিনি উপসাগরের একই এলাকায় আরেকটি জাহাজ ছিনতাই হয়েছিল। মুক্তিপণ দিয়ে ছয় দিন পর জাহাজটি ছাড়িয়ে আনা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী জলদস্যুতার ঘটনা হ্রাস পেলেও গিনি উপসাগরে জলদস্যুতার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। জলদস্যুরা জাহাজের মালামাল লুট করার পাশাপাশি মুক্তিপণ দাবি করছে। জলদস্যুতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পশ্চিম আফ্রিকার উপকূল একটি উদ্বেগজনক অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে। ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ টুইটার বার্তায় বলেন, জাহাজটি মুক্তি পাওয়ার খবরে আমি খুবই আনন্দিত।

যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রীর কিডনি বিক্রি করল স্বামী!

যৌতুকের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় স্ত্রীর কিডনি বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদের ফারাক্কার এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গেছে, দুই বছর আগে মুর্শিদাবাদের লালগোলার বিশ্বজিতের সঙ্গে বিয়ে হয় বিন্দুগ্রামের রীতা সরকারের। বিয়ের পর থেকেই দুই লাখ টাকা যৌতুকের জন্য চাপ দেয়া শুরু করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এরই মধ্যে হঠাত্‍ই অসুস্থ হয়ে পড়েন রীতা।
চিকিত্‍সার জন্য রীতাকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসকরা জানান, রীতার গলব্লাডারে পাথর রয়েছে। অপারেশনের জন্য তাকে ওষুধ দেয়া হয়। ওষুধ খাওয়ার পরেই জ্ঞান হারান রীতা। অপারেশনের পর ফের শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসেন রীতা। এদিকে শ্বশুরবাড়ি ফেরার পরই শুরু হয় যৌতুকের জন্য অত্যাচার। এর পরই শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে যান রীতা। সেখানে ফেরার পর শিলিগুঁড়ি বেড়াতে গিয়ে ফের শরীর খারাপ হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় রীতাকে। তখনই আল্ট্রাসোনোগ্রাফিতে ধরা পড়ে ডানদিকের কিডনি নেই রীতার। রীতার অভিযোগ, গলব্লাডারে পাথর অপারেশনের নাম করেই তার কিডনি বিক্রি করে দেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করছে তার শ্বশুরবাড়ি লোকজন।

নীরবতা দিয়েই নিজের পক্ষে দাঁড়াতে চান প্যারিস হামলাকারী

দুই বছরের কিছু বেশি সময় আগে প্যারিস হামলায় জড়িত একমাত্র জীবিত আইএস সদস্য সালাহ আবদে সালাম সোমবার আদালতের প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। দুই বছর আটক থাকার পর এই প্রথম তাকে আদালতে হাজিরা করা হয়েছে। আদালতকে তিনি বলেন, আমি নীরব, এর মানে এই নয় যে আমি অপরাধী।-খবর এনবিসি নিউজ।
২০১৫ সালের ১৩ নভেম্বর রাতে বন্দুকধারী ও আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীরা ফ্রান্সের একটি কনসার্ট হলে হামলা চালালে ১৩০ জন নিহত ও কয়েকশ আহত হন। হামলার চার মাস পর বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির পর সালামকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এই বন্দুকযুদ্ধের সংশ্লিষ্টতা নিয়েই তাকে প্রশ্নের মুখোমুখি করা হয়। ফ্রান্সের একটি কারাগার থেকে ব্রাসেলসে প্রত্যর্পণ করা হলে সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। সালাম বলেন, নীরবতা দিয়েই আমি নিজের পক্ষাবলম্বন করতে চাই। বিচারের শুনানিতে সালাম জানিয়ে দেন, কোনো প্রশ্নের জবাব দেবেন না। মুসলিমবিরোধী পক্ষপাতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মুসলমানদের দোষী ভাবা হয়। তাদের বিচার করা হয় নির্দয়ভাবে। তারা যে নির্দোষ হতে পারে, এমনটি ভাবাই হয় না। সালাম বলেন, আমি কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে চাই না। নীরবতা মানে এই নয় যে আমি অপরাধী। এটিই নিজের পক্ষে আমার সাফাই। হামলাকারীদের মধ্যে আবদে সালামের ভাই ব্রাহিমও ছিলেন। ক্যাফের বাইরে আত্মঘাতী হামলায় তিনি নিহত হন।

শাহজালালের কাছের দেয়াল ধসে নিহত ১

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসংলগ্ন কার্গো সেন্টারের কাছের একটি দেয়াল ধসে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকালে সাড়ে ১০টারর দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শ্রমিকের নাম মোস্তফা (৫০) বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের উত্তরা স্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, কার্গো সেন্টারের পাশে নর্দমা সংস্কারের কাজ করছিলেন শ্রমিকেরা। পাশে একটি পুরোনো দেয়াল ছিল। নর্দমার কাজ করার সময় দেয়ালটি ধসে পড়ে। এতে শ্রমিকেরা চাপা পড়েন। আহত অবস্থায় মোস্তফাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই তিনি মারা যান। বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর এ আজম মিয়া উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোস্তফা মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ফি বাড়লেও মিলছে না সেবা by মাসুদ আলম

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের যেতে হয় আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনাল দিয়ে। টার্মিনালটি ব্যবহারের জন্য যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ‘যাত্রী সুবিধা ফি’। এ জন্য দিনে প্রায় ৩ লাখ টাকা আদায় করা হলেও তেমন সেবা মিলছে না।  যাত্রীরা বলছেন, টার্মিনালটি ব্যবহারের জন্য আগে যাত্রী সুবিধা ফি ছিল ৩৮ টাকা ৭৬ পয়সা। গত ১ জানুয়ারি থেকে তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪০ টাকা ৭০ পয়সা। বাস্তবে নেওয়া হয় আরও বেশি। টার্মিনাল দিয়ে দিনে কমপক্ষে ৭ হাজার যাত্রী যাতায়াত করে। সবচেয়ে কম করে ধরলে যাত্রী সুবিধা ফি হিসেবে দিনে প্রায় ৩ লাখ টাকা আদায় করা হয়। কিন্তু যাত্রী সুবিধা বলতে রয়েছে বিশ্রামকক্ষে নোংরা শৌচাগার, ৬৬টি চেয়ার ও একটি বন্ধ টেলিভিশন। জানতে চাইলে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, টার্মিনালে যাত্রী সুবিধা ফি ৪০ টাকা ৭০ পয়সা করা হয়েছে। সেই টাকাই নেওয়া হচ্ছে। এর বেশি কেউ টাকা নিলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে যাত্রীরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকত। এখন বিশ্রামকক্ষে তারা বিশ্রাম নিতে পারে।
স্থলবন্দরটির অভিবাসন পুলিশের ওসি তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, এই বন্দর দিয়ে দিনে ৭ থেকে ৮ হাজার যাত্রী যাতায়াত করে। কখনো কখনো এ সংখ্যা ১২ হাজার পর্যন্ত হয়। বন্দর সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাতায়াতকারী যাত্রীদের সেবার মান বাড়াতে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে বেনাপোল বন্দরের তল্লাশিচৌকির পাশে নির্মাণ করা হয় আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনাল। ছয়তলা ভিত্তির ওপর তিনতলা পর্যন্ত ১ লাখ ৩ হাজার ৬৭৫ বর্গফুটের এই ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয় ২০১৩ সালের নভেম্বরে। টার্মিনালটির উদ্বোধন করা হয় গত বছরের ২ জুন। এটি ব্যবহারের জন্য চারটি খাতে যাত্রী সুবিধা ফি নির্ধারণ করা হয় ৩৮ টাকা ৭৬ পয়সা। ১ জানুয়ারি তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪০ টাকা ৭০ পয়সা। শতকরা ১৫ টাকা হারে ভ্যাট ৫ টাকা ৩১ পয়সা। যাত্রী ও বন্দরের কর্মকর্তারা বলছেন, যাত্রীদের সুবিধার জন্য এই টার্মিনাল করা হয়েছে। যাত্রীরা টার্মিনালে ঢুকে প্রথমে বিশ্রামকক্ষে আসবে। এরপর ভবনের একতলা ও দোতলায় অবস্থান করবে এবং তাদের জন্য রাখা সুবিধা উপভোগ করবে। এরপর তারা টোল আদায় কক্ষে ফি এবং ব্যাংক বুথে ভ্রমণ কর দিয়ে পাশের ভবনে অবস্থিত কাস্টমস ও বহির্গমন বিভাগে যাবে। এ জন্য নকশায় টার্মিনাল ভবনের সামনে একই সময়ে পাঁচটি বড় বাস দাঁড়ানোর মতো খালি জায়গা রাখা হয়েছে। নিচতলায় খোলা বারান্দা, কাচ দিয়ে ঘেরা যাত্রীদের বিশ্রামকক্ষ, পর্যাপ্ত শৌচাগার, ব্যাংকের বুথ ও টোল আদায় কক্ষ রয়েছে। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে যাত্রীদের জন্য রেস্তোরাঁ, শৌচাগারসহ বিশ্রামকক্ষ। ভারতে যাচ্ছিলেন মাগুরার ইকতিয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘আগে স্লিপে লেখা থাকত ৩৮ টাকা ৭৬ পয়সা। কিন্তু নেওয়া হতো ৪০ টাকা। আজ স্লিপে লেখা রয়েছে ৪০ টাকা ৭০ পয়সা। নেওয়া হলো ৪৫ টাকা। প্রতিবাদ করলাম, কাজ হলো না।’

গোমতী সেতুতে ট্রাক-লরির সংঘর্ষ, যানজট

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে গোমতী সেতুর ওপরে পণ্যবাহী ট্রাক ও লরির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুই চালকসহ চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রায় আধা ঘণ্টা সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ থাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুপাশে তিন কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, গাড়ির ভেতর আটকে পড়া চালকদের উদ্ধার করেন আশপাশের মানুষ। এমনিতেই ঘন কুয়াশা, তার ওপর একটি আরেকটি গাড়িকে অতিক্রম করতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা হয়েছে। দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, রেকার এনে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি সরানো হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। প্রায় আধা ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় দুপাশে তিন কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়।

সারা দেশে এক দিনে গ্রেপ্তার ৪৩১

পুলিশের চলমান গ্রেপ্তার অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে এক দিনে ২০০ জনকে ‘সন্দেহমূলক’ গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঢাকার বাইরের ২৩ জেলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২১৬ জনকে। এ নিয়ে গতকাল সোমবার সারা দেশে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩১। আর সব মিলিয়ে গত সাত দিনে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১ হাজার ৬৫। ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা সামনে রেখে সপ্তাহজুড়ে ধরপাকড় চলছে, গতকাল এই সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকার সাতটি প্রবেশমুখে ১৩টি তল্লাশিচৌকি বসিয়েছে পুলিশ। গতকাল সোমবার সকাল থেকে যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। শহরের ভেতরেও স্থায়ী তল্লাশিচৌকিগুলোতে পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। বিএনপির অভিযোগ, হয়রানি ও গ্রেপ্তার-বাণিজ্য করতেই এমন ধরপাকড় চালানো হচ্ছে। তবে পুলিশ বলছে, সরকার উৎখাত ও নাশকতার মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টির পরিকল্পনার অভিযোগে এবং বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি হিসেবে তাঁদের আটক করা হচ্ছে। জানতে চাইলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা গণমাধ্যমে বিষয়গুলো দেখছি, নজর রাখছি। আমরা প্রত্যাশা করি, পুলিশ কেবল তাদেরই গ্রেপ্তার করবে, যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্ব পালন করবে বলে আশা করছি।’ রায় ঘোষণার আগে ও পরের পরিস্থিতি সামাল দিতে গত বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ১৮ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ নির্দেশনা পাওয়ার পর ঢাকার বাইরের জেলাগুলো থেকে বিএনপির কর্মী-সমর্থকেরা যাতে ঢাকায় আসতে না পারেন, সে জন্য এই তল্লাশি শুরু হয়। পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়,
প্রাথমিকভাবে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তল্লাশি কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ আছে। পুলিশের মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী পুলিশের প্রস্তুতি সম্পর্কে গত বৃহস্পতিবার রাজারবাগে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশ সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে। ঢাকার কয়েকটি প্রবেশমুখ ঘুরে দেখা গেছে, গাবতলী, যাত্রাবাড়ী ও উত্তরায় গতকাল উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি রয়েছে। যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা, সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড, চিটাগাং রোড ও সাইনবোর্ড এলাকায় পুলিশ নাশকতার যেকোনো চেষ্টা এড়াতে তল্লাশি চালাচ্ছে। যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় একটি তল্লাশিচৌকিতে গতকাল বিকেলের দিকে ১০-১২ জন পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়। দলটির প্রধান উপপরিদর্শক মো. আজিজুল হক বলেন, সোমবার সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সন্দেহ হলেই দূরপাল্লার যানবাহন ও মোটরসাইকেল থামিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। গাবতলীতেও সকাল থেকে পুলিশকে তল্লাশিচৌকিতে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। মিরপুর বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জানমালের নিরাপত্তার জন্য তাঁরা তল্লাশিচৌকি বসিয়েছেন। পুলিশের উত্তরা বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, আবদুল্লাহপুরে সব সময়ই দুটো চেকপোস্ট থাকে। বিশেষ পরিস্থিতিতে চৌকিতে পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। শহরের যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা থেকে মেয়র হানিফ উড়ালসড়ক পর্যন্ত কমপক্ষে চারটি পয়েন্টে পুলিশকে তল্লাশি চালাতে দেখা যায়। এদিকে ঢাকা জজ আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন থানা থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে গতকাল ২০০ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের অপরাধকে ‘অধর্তব্য অপরাধ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

তেজস্ক্রিয়তা সনদ লাগবে না

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কোনো দেশ থেকে চাল আমদানির জন্য তেজস্ক্রিয়তা সনদ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে পরমাণু শক্তি কমিশনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই এসব দেশ থেকে চাল আনতে পারবে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্তের ফলে তেজস্ক্রিয় বিকিরণে মানবদেহে ক্যানসারসহ নানা রোগ হওয়ার ঝুঁকি রয়ে যাচ্ছে। এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে চাল আমদানির ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয়তা সনদ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি চায় খাদ্য মন্ত্রণালয়। তাদের যুক্তি, পরমাণু শক্তি কমিশন থেকে এই সনদ নিতে না হলে চাল আমদানিতে সময় কম লাগবে এবং টাকা সাশ্রয় হবে। বিষয়টি নিয়ে আলাপ–আলোচনার পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়কে বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার বিষয়টি জানিয়ে দেয়। পরমাণু শক্তি কমিশন সূত্র জানায়, খাদ্যপণ্যে তেজস্ক্রিয়তা নির্ধারিত মাত্রার বেশি থাকলে ক্যানসার, লিউকেমিয়া, বন্ধ্যাত্ব, চুল পড়ে যাওয়া, জেনেটিক পরিবর্তনসহ মানবদেহের ভয়ানক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয় বিকিরণ মানবদেহে নানা রকম ক্যানসারের জন্ম দিতে পারে। মাত্রাতিরিক্ত তেজস্ক্রিয় বিকিরণের সংস্পর্শে থাকলে মানুষের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে। মানসিক বিকার এমনকি বিকলাঙ্গতাও দেখা দিতে পারে। চট্টগ্রামের পরমাণু শক্তি কেন্দ্রের পরিচালক শাহাদত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আসিয়ান দেশগুলোকে সুযোগ-সুবিধা দিতেই একটি মহল হয়তো এমন অনুরোধ করছে। কিন্তু কোনোভাবেই এই বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে দেওয়া উচিত নয়। আমদানি করা চালে ক্ষতিকর কিছু আছে কি না, তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা পরীক্ষা না করে তা বোঝা সম্ভব নয়। তাই এটা তুলে দিলে ঝুঁকি থাকবে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, মূলত ভিয়েতনাম থেকে চাল আমদানির সময় সনদ সংগ্রহের জন্য তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষার বিষয়ে পরমাণু শক্তি কমিশনের ফি পাঠানোর বিষয়টি জানিয়ে খাদ্য অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছিল চট্টগ্রামের চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রকের দপ্তর। তাঁরা বলেছিলেন, ভিয়েতনামের সঙ্গে করা চুক্তিতে বলা আছে, তেজস্ক্রিয়তার বিনির্দেশ মাত্রা পরমাণু শক্তি কমিশন থেকে যাচাই করতে হবে। তাই ২২ লাখ টাকা পাঠাতে অনুরোধ জানান তাঁরা। কিন্তু মন্ত্রণালয় টাকা না পাঠিয়ে এই বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে দিতে অনুরোধ জানায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী নন বলে জানান। আর খাদ্যসচিব শাহাবুদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে তিনি মনে করেন, যেখান থেকেই চাল আমদানি করা হোক না কেন, অবশ্যই তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা করা উচিত। আমদানি নীতিতে বলা আছে, সার্কভুক্ত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো থেকে সরাসরি চাল, গম ও অন্যান্য খাদ্যশস্য আমদানির ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা করতে হবে। তবে তিনটি শর্ত পালন করলে এই বাধ্যবাধকতা শিথিলযোগ্য হতে পারে। এর মধ্যে রপ্তানিকারক দেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি বা অনুমোদিত সংস্থার ইস্যু করা উৎস দেশসংক্রান্ত সনদ (সার্টিফিকেট অব অরিজিন) যদি থাকে, যদি রপ্তানিকারক দেশের অনুমোদিত সংস্থা থেকে প্রত্যয়নপত্র শুল্ক কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে দিতে পারে এবং পচনশীল খাদ্যর ক্ষেত্রে ওই দেশের অনুমোদিত সংস্থা থেকে তেজস্ক্রিয়তা–সংক্রান্ত সনদ নেওয়া হয়। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই এসব সনদ জমা দেয় না বলে পরমাণু শক্তি কমিশনের সূত্র জানায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক নাজমা শাহীন বলেন, খাদ্যপণ্যে তেজস্ক্রিয়তা নির্ধারিত মাত্রার বেশি থাকলে ক্যানসারসহ নানা রোগ হতে পারে। চুক্তিতে বলা থাকলে অবশ্যই আমদানি করা চাল পরীক্ষা করতে হবে, সেটা যে দেশ থেকেই হোক।