পিন্টুর বোন, নিউটনের স্ত্রী থেকে এমপি: মিষ্টির রাজনৈতিক উত্থান-পতনের গল্প

স্বামী সাইদুর রহমান ওরফে নিউটন খুন হওয়ার পর তারই নির্বাচনি ওয়ার্ডে উপনির্বাচনে দাঁড়িয়ে জয়ী হয়েছিলেন ফেরদৌসী আহমেদ ওরফে মিষ্টি। অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কমিশনার হিসেবে স্থানীয় সরকারে যাত্রা শুরু হয় তার। এর আগে কলেজে ছাত্রদলের রাজনীতি ও ছাত্র সংসদের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। পরে ঢাকা মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।

চলতি বছরের মে মাসে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে সংসদে প্রবেশ করেন মিষ্টি। তবে মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় তার নাম আলোচনায় আসার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি। তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করেছে সংসদ সচিবালয়।

মিষ্টির স্বামী নিউটন ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকার ওয়ার্ড কমিশনার। তার বড় ভাই নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুও ছাত্রদলের সভাপতি থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। বিএনপির রাজনীতিতে পরিচিত এই দুই নেতার সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের পাশাপাশি মিষ্টির নিজের রাজনৈতিক পথচলায় রয়েছে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ, দলীয় দায়িত্ব পালন এবং মামলা মোকাবিলার ইতিহাস।

সম্প্রতি মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় মিষ্টির নাম সামনে এসেছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গা বরাদ্দ চেয়ে দুই দশক আগে তার স্বাক্ষরে করা আবেদন এবং হামলায় অভিযুক্ত কয়েকজনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি হামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এসব অভিযোগের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

ছাত্রদল থেকে ওয়ার্ডের নির্বাচনে

মিষ্টির জন্ম ১৯৭৪ সালের ১৫ জানুয়ারি। শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক, পেশায় ব্যবসায়ী। বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে পড়ার সময় ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। পরে ওই কলেজের ছাত্র সংসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক বা এজিএস নির্বাচিত হন। বড় ভাই পিন্টুও তখন ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

কলেজের রাজনীতি থেকে মিষ্টি পরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আসেন। ২০০২ সালে স্বামী নিউটন খুন হওয়ার পর অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন তিনি। সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে নয়, সাধারণ ওয়ার্ডের ভোটারদের সরাসরি ভোটে কমিশনার নির্বাচিত হয়েছিলেন মিষ্টি।

পরবর্তী সময়েও সাধারণ ওয়ার্ডের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। ২০২০ সালের সিটি নির্বাচনের আগে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তিনি তৃতীয়বারের মতো সাধারণ কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন। স্থানীয় সরকারে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সে সময় এলাকার কয়েকটি সমস্যা সমাধানের দাবিও করেছিলেন।

কাউন্সিলর হিসেবে নিজের কাজের বিবরণ দিতে গিয়ে মিষ্টি বলেছিলেন, এলাকায় গ্যাসলাইনের সমস্যার সমাধান করেছেন। অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে শিশুদের জন্য খেলার মাঠের ব্যবস্থা করেছেন। তার দায়িত্ব পালনের সময়ে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কমেছিল বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।

গৃহকর্মীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন মিষ্টি। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের আয়োজিত একটি শোভাযাত্রায় তিনি নেতৃত্ব দেন। এতে স্কুলশিক্ষার্থী, গৃহকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। ওই সময় তার নির্দেশনায় ওয়ার্ডের বিভিন্ন বাড়িতে কর্মরত গৃহকর্মীদের তথ্য সংগ্রহ এবং তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

মহানগর বিএনপিতেও দায়িত্ব

স্থানীয় নির্বাচনের পাশাপাশি মহানগর বিএনপিতেও দায়িত্ব পান মিষ্টি। ২০১৮ সালে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন। ওই বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

সে সময় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে ২০টি মামলা হয়েছে। মামলাগুলোকে ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা বলে দাবি করেছিলেন তিনি।

সদ্য বিলুপ্ত ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটিতে মিষ্টি ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক। চলতি বছরের এপ্রিলে বিএনপি তাকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেয়। সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ থেকে নির্বাচিত হয়ে ৩ মে শপথ নেন তিনি। এটিই ছিল তার প্রথম সংসদীয় মেয়াদ।

স্বামী নিউটন যেভাবে খুন হন

মিষ্টির স্বামী নিউটনের রাজনৈতিক জীবনও শুরু হয়েছিল ছাত্রদল দিয়ে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, তেজগাঁও কলেজে পড়ার সময় তিনি সংগঠনটিতে যুক্ত হন। ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের দায়িত্ব পেরিয়ে মহানগরে আসেন। পরে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি হন।

২০০২ সালে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হন নিউটন। কিন্তু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাননি। কমিশনার হিসেবে শপথ নেওয়ার তিন দিন পর, ওই বছরের ১০ মে ধানমন্ডিতে গুলিতে নিহত হন তিনি।

দলীয় পদ ও নির্বাচনি সাফল্যের পাশাপাশি নিউটনের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগও ছিল। সে সময় তার বিরুদ্ধে ৩৬টি ফৌজদারি মামলার তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, আগের আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক কারণে এসব মামলা করেছিল।

হত্যাকাণ্ডের দিন ছোট ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ধানমন্ডিতে এসেছিলেন নিউটন। অর্কিড প্লাজার একটি সেলুন থেকে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠার সময় তাকে গুলি করা হয়। হামলায় তার গাড়িচালকও গুলিবিদ্ধ হন। নিউটনের মা রাবেয়া বেগম সেদিনই ধানমন্ডি থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলাটিতে ২০০৬ সালের ২৪ মে বিচারিক আদালত ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পরে ২০১১ সালে হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তিনজনকে খালাস দেন। কালা জাহাঙ্গীরসহ বাকি সাতজনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন করা হয়। অন্য তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল থাকে।

নিউটন নিহত হওয়ার পর তার ওয়ার্ডের উপনির্বাচনে অংশ নেন মিষ্টি। ওই নির্বাচনে জয় দিয়ে তার স্থানীয় সরকারে দায়িত্ব পালনের শুরু। এরপর দলীয় রাজনীতি ও স্থানীয় নির্বাচনে সক্রিয় থাকেন তিনি।

ছাত্রদলের সভাপতি থেকে সংসদে পিন্টু

মিষ্টির বড় ভাই নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু ছিলেন পুরান ঢাকাকেন্দ্রিক বিএনপির পরিচিত নেতা। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে তিনি সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি দুই পদেই দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০০ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত সভাপতি ছিলেন।

ছাত্রদলের সভাপতি থাকা অবস্থায় ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন পিন্টু। পরে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ছাত্রসংগঠনের নেতৃত্ব থেকে জাতীয় সংসদ ও মূল দলের দায়িত্বে আসেন তিনি।

২০০১ সালে বিএনপিসহ চারদলীয় জোট সরকার গঠন করার আড়াই মাসের মধ্যেই গ্রেপ্তার হন পিন্টু। ২০০১ সালের ২৬ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল, একটি দেউলিয়া প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি নিলামের দরপত্রের কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা।

২৯ দিনের মাথায় তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরে মামলাটি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বলে প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয় তৎকালীন বিএনপি সরকার। ২০০৫ সালে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়।

পিন্টু পিলখানা হত্যা মামলায় দণ্ডিত হন। ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় করা ওই মামলায় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন তিনি।

কারাবন্দি অবস্থায় ২০১৫ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচনের উদ্যোগ নেন পিন্টু। তবে দণ্ডিত হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। ফলে ওই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি তিনি।

২০১৫ সালের ৩ মে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হওয়ার পর পিন্টুকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার কথা জানানো হয়।

তার মৃত্যুর পর পরিবার ও বিএনপি চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলে। চিকিৎসক রইস উদ্দিনও হাসপাতালে নিতে বিলম্ব এবং আগের দিন কারাগারে গিয়ে পিন্টুকে দেখতে না পারার অভিযোগ করেন। তবে কারা কর্তৃপক্ষ ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

স্বামী ও ভাইয়ের মৃত্যুর পরও মিষ্টি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি মহানগর সংগঠনে দায়িত্ব পালন করেন। পরে সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য হন।

রাড্ডার ঘটনায় পুরোনো আবেদন সামনে

গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। হামলার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সাইনবোর্ড টাঙানো হয়। এরপর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গা বরাদ্দ চেয়ে সমিতির পক্ষ থেকে অতীতে করা আবেদনের তথ্য সামনে আসে।

২০০৬ সালে ওই সমিতির সভাপতি হিসেবে জায়গা বরাদ্দের আবেদনে মিষ্টির স্বাক্ষর ছিল। তখন তিনি শাহ আলী থানা এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার ছিলেন। অনুসন্ধানে হামলার আয়োজনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত স্থানীয় কয়েকজন নেতার সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে আসে। মিষ্টি অবশ্য সমিতির সঙ্গে বর্তমানে কোনো সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য, সমিতির সঙ্গে এখন তার সম্পর্ক নেই। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার সঙ্গেও তিনি জড়িত নন।

হামলার ঘটনায় রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার মামলা করেছেন। মামলায় হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা এবং জায়গা দখলের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনে একাধিক সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

গত বুধবার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই দিনে মহানগর উত্তর যুবদল ও মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়। বিএনপির তিনজন, ছাত্রদলের পাঁচজন, স্বেচ্ছাসেবক দলের দুজন ও শ্রমিক দলের চারজনকে বহিষ্কার করা হয়। তবে মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্তির কারণ দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়নি। যুবদল ও ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্তির ক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

পাঁচ মাসেই শেষ সংসদীয় মেয়াদ

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার মিষ্টি জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগপত্র জমা দেন। সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ফেরদৌসী আহমেদ ১ অক্টোবর পদত্যাগ করায় সংবিধানের ৬৭ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩২৩ নম্বর আসন, অর্থাৎ সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ একই তারিখে শূন্য হয়েছে।

চলতি বছরের ৩ মে শপথ নেওয়া মিষ্টির প্রথম সংসদীয় মেয়াদ শেষ হলো প্রায় পাঁচ মাসের মাথায়। ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার, মহানগর বিএনপির দায়িত্ব এবং শেষ পর্যন্ত জাতীয় সংসদ- দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনাকে ঘিরে তার সংসদ সদস্য পদে ইতি ঘটল।

ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। গ্রাফিক্স: কালবেলা
ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। গ্রাফিক্স: কালবেলা