Saturday, August 24, 2013

ঐশীকে সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ by ইমরান আলী

বাবা-মা হত্যার ঘটনায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক দেওয়ার আদালত দিয়ে ঐশী রহমান (১৭) ও গৃহপরিচারিকা সুমীকে গাজীপুরে কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

নির্বাচন অনিশ্চিত করা কারও জন্যই উচিত হবে না by মাহমুদুল বাসার

ভালো-মন্দ মিলিয়ে প্রায় পাঁচ বছর একটি নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করেছে এ জন্য আমরা খুশি। এ কারণে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা পেয়েছে। গণতন্ত্রের চর্চা হয়েছে। দেশে কিছু না কিছু উন্নতি হয়েছে। আমাদের নিরতিশয় প্রত্যাশা, সামনের পাঁচ বছরও একটি নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করবে, তা যারাই বা যে দলই হোক না কেন। এর ব্যতিক্রম কিছুতেই আশা করি না। অনির্বাচিত সরকারের তিক্ত অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। এজন্য নির্বাচিত সরকারই আমাদের কাম্য। ভালো-মন্দ, উন্নতি-অবনতি যা হওয়ার তা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকারের শাসনামলেই হোক। অন্তত ভোট পাওয়ার স্বার্থে হলেও নির্বাচিত সরকার জনগণকে ভয় পায়, জবাবদিহিতার প্রবণতা থাকে। জনগণকে ঘুমের মধ্যে রেখে যারা ক্ষমতার মসনদে বসে যায়, তারা তো জনগণকে তোয়াক্কা করে না। যারা জনগণের ভোটের প্রত্যাশা করে না, তারা তুঘলকি সরকারই কায়েম করে শেষ পর্যন্ত।
বাংলাদেশের মানুষ বরাবরই শক্তের ভক্ত নরমের যম। অবশ্য কখনও কখনও এর ব্যতিক্রম আছে। যারা বর্তমান সরকারকে পদে পদে সমালোচনা করে নাকাল করেছেন, এক-এগারোর পর সেনাসমর্থিত অনির্বাচিত সরকারকে কেমন তোয়াক্কা করেছেন তারা, তা বেশ মনে আছে আমাদের। আসলে কেন জানি আমাদের পেটে গণতন্ত্রের ঘি হজম হতে চায় না। প্রমথ চৌধুরী এক প্রবন্ধে বলেছেন, আমরা সাংঘাতিক রকম ইতি ইতি না হয় নেতি নেতি। মানলে ইট-কাঠ-গাছপালাও দেবতা, না মানলে স্বয়ং ভগবানও তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিই। আমাদর রাজনীতির মাঠেও এমন প্রবণতা আছে। দেবতা মানতে দেখেছি সেনা, আমলা, সুশীল সমন্বিত অনির্বাচিত সরকারকে। অথচ তারা দেশকে বিরাজনীতিকরণের দিকে ঠেলে দিয়ে জনগণের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত, অখ্যাত লোকদের মাঠে নামিয়ে একটা পাপেট দল খাড়া করতে চেয়েছিলেন। রাজনীতিকদের চরিত্র হনন শুরু করেছিলেন। জেলখানা ভরে ফেলেছিলেন রাজনীতিকদের ধরে ধরে জেলে ঢুকিয়ে। জনপ্রিয় এমপি, মেয়ররা পর্যন্ত জেলের ঘানি টেনেছেন। দুই নেত্রীকে জেলে ঢোকালেন। নির্দেশ জারি করলেন, দলের সংস্কার করতে হবে। তারপর বললেন, দুই নেত্রীকে দেশ ছাড়তে হবে। কী সাংঘাতিক কথা! তখনও টিভি মিডিয়ায় টকশো চলত। টকশোওয়ালারা দুই নেত্রী আর দুই দলের নিন্দা করতে লাগলেন বড়ই তৃপ্তির সঙ্গে। এক জাঁদরেল উপদেষ্টা বললেন, আমাদের দুই নেত্রী সেনাবাহিনীকে তুচ্ছজ্ঞান করেন, এটা চলবে না, সেনাবাহিনীকে ক্ষমতার অংশ দিতে হবে। তিনি তার কলামে অহরহ গণতন্ত্রের সবক দিয়ে থাকেন।
এমন চাঁদের অমাবস্যা, এমন ঘোর দুর্দিন আমরা আর চাই না। আমরা চাই জনগণের ভোটের দ্বারা নির্বাচিত সরকার। আমরা চাই সংসদীয় গণতন্ত্র, সংসদকেন্দ্রিক রাজনীতি। আমরা চাই, সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে প্রাণবন্ত তর্ক হোক। আমরা চাই, বাংলাদেশে সার্বক্ষণিক গণতন্ত্রের চর্চা হোক। গণতন্ত্রকে ধীরে ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার ক্ষেত্রে পাঁচ বছর পরপর নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করা কোনো পক্ষেরই উচিত হবে না। বড় দুই দলের উভয়পক্ষ যদি ইগো ত্যাগ করে; সদিচ্ছা নিয়ে, প্রত্যেকে ছাড় দিয়ে নির্বাচনকালীন তিন মাসের সরকার গঠনে এগিয়ে আসে, তাহলে দেশ বিপদ থেকে রেহাই পেয়ে যাবে। রাজনীতিকরা নিশ্চয়ই চান না আমাদের দেশটা সিরিয়া, মিসর, আফগানিস্তানের পথ ধরুক। নির্বাচন যাতে কারচুপিমুক্ত হয়, যাতে সুষ্ঠু, অভিযোগমুক্ত হয়- এ টার্গেট নিয়ে গণতন্ত্রই শুধু নয়, দেশের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে তারা এগিয়ে আসবেন বলে আমরা আশা করছি। যুদ্ধংদেহি মনোভাব ত্যাগ করুন, একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করুন। সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে এক হতে পারলেন, এক-এগারোর পর নাকাল অবস্থার মধ্যে একে অপরের কাছাকাছি আসতে পারলে এখন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার স্বার্থে কেন নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে একমত হতে পারবেন না? ছাড় না দিলে মীমাংসা হয় না। মনটা সব সময় জটিল করে রাখতে নেই, একটু সরলতার দরকার আছে। মহাÍা গান্ধীও অনেক সময় ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ছাড় দিয়ে মীমাংসার জন্য আলোচনার টেবিলে বসেছেন। তাতে তিনি খাটো হয়ে যাননি। তালেবানের মতো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রয়োজন অনুভব করছে মহাপ্রতাপশালী মার্কিন সরকার। তাহলে আমাদের দেশে সরকার ও বিরোধী দল কেন মাত্র একটি ইস্যুতে এক হতে পারবে না?
১৮ দলীয় জোটকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন হলে সে নির্বাচন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না, এটা নিশ্চিত। যেদিন বিরোধীদলীয় নেতা বললেন, তারা বিচারপতি খায়রুল হককে প্রধান উপদেষ্টা মানবেন না, তখনই প্রধানমন্ত্রী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে কোদালের মতো বাঁকা হয়ে গেছেন। সবকিছুই কি নিজেদের ইচ্ছামতো হয়? শীতের দিনের কাঁথা দিনে আপনার আর রাতে আমার, গাছের গোড়ার অংশ আপনার আর মাথার অংশ আমার, গাভীর সামনের অংশ আপনার আর পেছনের অংশ আমার- এমন মনগড়া পরিকল্পনা কেউ মানে নাকি? বঙ্গবন্ধু নমনীয় হয়ে লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক মেনে নিয়ে, আরও নানা শর্ত মেনে নিয়ে ইয়াহিয়াকে নির্বাচন দিতে বাধ্য করেছিলেন। নির্বাচনের পর বঙ্গবন্ধু শক্ত অবস্থানে চলে গিয়েছিলেন। নির্বাচনের আগে বঙ্গবন্ধু শক্ত হতে গেলে নির্বাচনই হতো না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাই-ই চাই, এমন ইগো ত্যাগ করে নিশ্চিত সুষ্ঠু নির্বাচনের একটি অবকাঠামো দাঁড় করানোর তাগিদে সরকারের সঙ্গে সহজ ভঙ্গিতে কথা বলার জন্য বিরোধী দলকে অনুরোধ জানাব। ৫টি সিটি নির্বাচনের ফলাফল তাদের অহমিকাগ্রস্ত না করুক, সে আশাই করছি।
মাহমুদুল বাসার : কলাম লেখক, গবেষক

উত্তরাধিকারের রাজনীতিতে কার জয়, কার পরাজয়? by বদিউর রহমান

দেশের রাজনীতি হালে বেশ সরগরম। গত কয়েক মাসে এ সরগরমতা এত বেড়েছে যে, আগে আমজনতাভুক্ত যেসব লোক রাজনীতি নিয়ে বলতে গেলে মাথাই ঘামাত না, এখন দেখা যাচ্ছে তাদেরও অনেকে একটু-আধটু কথা বলা শুরু করেছেন। কিছুটা আড্ডা আসরে তর্ক-বিতর্কে যোগ দিচ্ছেন, এমনকি একটু বোঝেন-ভাবেন এমন লোকদের কিছু প্রশ্নও করছেন। এ লক্ষণটা একদিকে যেমন ভালো, অপরদিকে তেমনি খারাপও বলা চলে। ভালোটা এজন্য, এতে দেশবাসী যে আরও রাজনীতি সচেতন হচ্ছেন তা আঁচ করা যায়। এর ইতিবাচক দিক নিয়ে আশাবাদী হওয়া যেতে পারে, রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনে এটা ভূমিকা রাখতে পারে মর্মে ধারণাও করা যেতে পারে। খারাপ দিকটা এভাবে মূল্যায়ন করা যেতে পারে যে, রাজনীতিতে সবাই নাক গলাতে গেলে রাজনীতি তো আর রাজনীতি থাকতে পারে না, অন্য পেশাদারীরা তখন নিজেদের পেশাদারিত্ব থেকে বিচ্যুৎ হয়ে গিয়ে ওই পেশার ক্ষতি সাধন করে ফেলতে পারেন এবং এতে সামগ্রিকভাবে রাজনীতিসহ সব পেশার মধ্যে একটা জগাখিচুড়ি ভাব এসে যেতে পার মর্মে আশংকাও থাকে। এ আশংকার বাহ্যিক প্রকাশ ইতিমধ্যে যে এ দেশে ঘটে গিয়েছে তা তো আর অস্বীকার করা যাবে না। এখন ব্যবসায়ী, শিক্ষক, ডাক্তার, প্রকৌশলী, সামরিক-বেসামরিক অবসরপ্রাপ্তরা অনেকে মহাধুমধামে রাজনীতিক বনে গেছেন। আগে ব্যবসায়ীরা রাজনীতিককে আর্থিক সহায়তা দিতেন, বিনিময়ে হয়তো কিছুটা ব্যবসায়িক ফায়দা নিতেন। তবে রাজনীতিতে নাক গলাতেন না। কিন্তু এখন তারা ভাবেন, ওই সহায়তার অর্থ দিয়ে নিজেই মানোনয়ন কিনে রাজনীতিক হয়ে যাওয়া উত্তম। হচ্ছেনও তাই। সংসদে তাদেরই প্রাধান্য বলা চলে। ঘটে পদার্থ না থাকুক, তাতে কী, ভোট তো একটা আছে। হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে-তে অবদান তো রাখা যায়, নাকি? অতএব আমজনতাও যদি রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামান, তবে তাতে দোষের কী আছে?
তবে প্রশ্ন হল, আমজনতা রাজনীতি নিয়ে মাথা কি সাধে ঘামাচ্ছেন? নিশ্চয়ই নয়। তারা রাজনীতিকদের অশোভন এবং অযাচিত-অপ্রত্যাশিত, ক্ষতিকর ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে দুশ্চিন্তায় পড়েই মাথা ঘামাচ্ছেন বলা চলে। বিশেষত বড় দুই রাজনৈতিক দলের অপরিণামদর্শী লাগামহীন কথাবার্তা ও আচরণে মানুষ বলা চলে ত্যক্ত-বিরক্ত। ফলে জনগণ ভীত-সন্ত্রস্ত, এক অনিশ্চিত শংকায় শংকিত, আগামী নির্বাচন নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বের দোলাচলে। এর মধ্যে আবার তারেক-জয় ইস্যুতে নতুন ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনীতিতে তাদের সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে জনগণের কৌতূহলের যেন কমতি নেই, বিশেষত জয়ের আগমনে। হাসিনা-খালেদা পরবর্তী প্রজন্মের এ দু’পুত্রকে নিয়ে রাজনীতি কেমন হবে, তা ভাবাচ্ছে অনেককে। এতদিন এ ভাবনা ছিল না এজন্য যে, উত্তরাধিকারের রাজনীতিতে শেখ পরিবারকে অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু পরিবারকে হাসিনা পরবর্তী ভাবনায় তেমন ভাবার কোনো লক্ষণ প্রকাশ্য ছিল না। কিন্তু জয়ের আগমনে এ ভাবনা এখন চাঙ্গা হয়েছে। আগে জিয়া-খালেদা পুত্র তারেক অনেকটা একক কর্তৃত্বে ছিলেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসিনা-পরিবারের কেউ ছিলেন মর্মে ভাবা হয়নি, শেখ রেহানাকে নিয়ে সাময়িক ভাবনা বুদবুদের মতো মিলিয়ে গিয়েছে অনেক সময়েই। তখন এমনও ভাবা হয়েছে, বয়সের তুলনামূলক কম পার্থক্যে এবং উত্তরাধিকারের একক মানদণ্ডে হাসিনা অবসরে যেতে যেতে রেহানারও সময় প্রায় শেষ হয়ে যাবে। অতএব হাসিনার পর রেহানার রাজনীতিতে সক্রিয় হাল ধরার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তাছাড়া হাসিনার সঙ্গে রেহানাকে বড় অনেক অনুষ্ঠানে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা গেলেও কার্যত রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা করার মতো কোনো ক্ষমতায় বা ভূমিকায় রেহানাকে এ পর্যন্ত দেখা যায়নি। মাঝেমধ্যে আমরা যদিও শুনতাম রেহানা শক্তিশালী ভূমিকা রাখেন এবং হাসিনাও রেহানাকে সমীহ করেন, সমঝে চলেন; কিন্তু কার্যত রাজনীতিতে প্রকাশ্য কর্তৃত্বে আসতে হলে যেভাবে পদ-পদবিতে ভূমিকা রাখতে হয়, তেমন অবস্থায় রেহানাকে এ পর্যন্ত আমরা দেখিনি। এর পেছনে দুটি কারণ মুখ্য বিবেচিত হতে পারে। এক, হয়তো শেখ রেহানা নিজেই সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হতে আগ্রহী হননি কিংবা পিতার উত্তরাধিকারের রাজনীতিতে লড়াই সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগকে (আলী) দুর্বল করতে চাননি, যাতে করে পারিবারিক রাজনীতির উত্তরাধিকারী কর্তৃত্ব অটুট থাকে। দুই, শেখ হাসিনা হয়তো সময়-সুযোগে নিজ পুত্র জয়কে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার নবাব আলীবর্দী খাঁর দোহিত্র নবাব সিরাজউদ্দৌলা করার কৌশলে এমনভাবে এগিয়ে গেছেন যে, রেহানা বিষয়টি টেরও পাননি। এমন ধারণা দু’বোনের মধ্যে উস্কানিমূলক মনে হতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশ কিংবা অন্য কয়েক দেশের বা মোগল সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারের রাজনীতির ইতিহাস বিবেচনায় নিলে তা উড়িয়ে দেয়া যাবে না। পরিবারতন্ত্রের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র থেকে শুরু করে কূটকৌশলের কিন্তু শেষ নেই। যে টিকে থাকতে পারে সেই সফল এবং ওই টিকে থাকাই যোগ্যতা। পিতাকে বন্দি করে পুত্রের সিংহাসন দখলের যেমন নজির আছে, তেমনি সুযোগ পেলে মামাকে হটিয়ে দিয়ে ‘ভাগিনা’ যে ‘রাজা’ হতেন না, তা কেউ দিব্যি দিয়ে বলতে পারবেন? তবে আমরা সন্তুষ্ট যে, রেহানাকে নিয়ে কেউ এখনও আলীতে ভাঙন ধরাতে পারেননি। রেহানাও অন্তত ‘মানেকা গান্ধী’ হননি। আমরা এ পরিবারের এমন ঐক্য সব সময় আশা করি, এমনকি ভবিষ্যতেও এ দেশে হাসিনার ছেলে কিংবা রেহানার মেয়ের রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখতে চাই না।
আমাদের দেশে এখন দুটি দলই রাজনৈতিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত। আলী বয়সে আমারও বড়, অনেক ঐতিহ্য নিয়ে তৃণমূল পর্যায়েও সুসংগঠিত। ভাসানী থেকে শুরু করে সোহরাওয়ার্দী, বঙ্গবন্ধু হয়ে এ দল এক বিরাট মহীরুহ বটে। বঙ্গবন্ধুর একক ব্যক্তিত্ব-নেতৃত্ব এবং দেশ স্বাধীন করার বড় কৃতিত্ব এ দলকে এক মহামর্যাদার আসনে তুলে এনেছে। কিন্তু স্বাধীনতা-পরবর্তী লুটপাট আর অন্তঃকোন্দল এ দলকে রাজনৈতিকভাবে অন্ধ গহ্বরে ঠেলে দেয়। তারপরও একুশ বছর পর হাসিনা আবার দলকে ক্ষমতায় আনতে সক্ষম হন। এক-এগারোর সংস্কারপন্থী অন্তঃকোন্দলেরও সামাল দেন তিনি। তবে গত মেয়াদে আলী সরকারকে গডফাদার বদনাম সইতে হয়েছে। আর এ মেয়াদে ছাত্রলীগ-যুবলীগের টেন্ডারবাজি, হানাহানি-খুনাখুনি, পদ্মা-ব্যর্থতা, শেয়ারবাজার-ডেসটিনি-হলমার্ক-যুবক-লিমন-বিশ্বজিৎ-কালো বিড়াল ইত্যাদি হরেক কেলেংকারিতে সরকার ভাবমূর্তি হারিয়েছে চরমভাবে। বড় বড় অর্জনও জনগণ যেন আর বিবেচনায় নিচ্ছে না। এমন অবস্থায় বিলবোর্ড-প্রচার আর জয়ের আবির্ভাব রাজনীতিতে আলীর নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর কৌশল কি-না তা ভাবার বিষয় বটে। বিলবোর্ড-দখলি প্রচার মানুষ হয়তো খাবে না। অনেকে ঠাট্টা করে নানা কথা বলছে। কিন্তু ‘দুই-দেশী’ জয় আর তার এক বিদেশিনী স্ত্রীকে নিয়ে রাজনীতিতে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। হাসিনার সাড়ে চার বছর পর স্বামীর বাড়িতে যাওয়া আর সঙ্গে ‘দুই-দেশী’ ছেলে ও বিদেশী পুত্রবধূকে নিয়ে জয়ের পীরগঞ্জ ‘দখল’ আলীকে কতটুকু চাঙা করবে তা বিশ্লেষণের দাবি রাখে, বিশেষত তারেকের বিপরীতে। আমেরিকাবাসী হয়ে বিদেশিনী স্ত্রী নিয়ে ‘আসিম আবার’ কতটুকু ফলপ্রসূ হবে, তা সময়ের পরীক্ষায়ই দেখতে হবে, নির্বাচনের আগের সাময়িক আবেগে নয়। সজীব ওয়াজেদ জয় শেখ হাসিনার পুত্র হলেও উত্তরাধিকার সূত্রে ড. ওয়াজেদের মনমেজাজই বেশি ধারণ করেন মর্মে আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। হাসিনার গত মেয়াদের শপথের পরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ড. ওয়াজেদ যেমন একটু সাহায্য করেছিলেন সঙ্গে বা পেছনে থেকে, জয়কেও মাকে তেমন সাহায্য করছেন মর্মেই ভাবা হয়েছে এ পর্যন্ত। বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র হিসেবে গতবার জয়কে আলীর সদস্যপদ দেয়ার দলীয় ‘চাটুকারিতা’ রাজনীতি সচেতন জনগণ হয়তো ‘হজম’ করেছেন। কিন্তু এবার তার মঞ্চে ‘অভিষেক’কে আর খাটো করে দেখছেন না কেউ। তাহলে কি হাসিনা জয়কে তার উত্তরাধিকারী হিসেবে দেখতে চাচ্ছেন? যতি তাই হয়, তবে দুটি বিবেচনা এখানে মুখ্য হবে। এক. হাসিনা কি ভাবছেন যে, এ দেশ বঙ্গবন্ধুর বিধায় তার পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারিত্ব তাদের ‘হক’? তিনি কি এমনও ভাবছেন যে, কোথাকার কোন এক সময়ের বরপুত্র জিয়ার ছেলে তারেক রাজনৈতিক উত্তরাধিরাকিত্ব ‘প্রায়’ প্রতিষ্ঠিত করেই ফেলেছেন, এখন তার (হাসিনার) কেউ এ ক্ষেত্রে না এলে বঙ্গবন্ধু পরিবার হারিয়ে যাবে? নচেৎ আলীর এ খারাপ সময়ে জয়কে টেনে আনা কেন? কেন এ সরকারের প্রথম থেকেই তাকে রাজনীতিতে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে দেয়া হল না, যেমনটি খালেদা জিয়া তারেককে করে নিয়েছেন? তারেকের মনমেজাজে রাজনীতি যেভাবে প্রায় সুপ্রতিষ্ঠিত, জয় সে বিবেচনায় অনেক পিছিয়ে। তার ভূমিকা উত্তরাধিকারের বিবেচনায় পাইলট রাজীব গান্ধীর মতো কিংবা বিলাওয়াল ভুট্টোর মতো হতে পারে, কিন্তু ইন্দিরা গান্ধী বা বেনজির ভুট্টোর মতো বোধহয় হবে না। অপরদিকে তারেক কিন্তু মনমেজাজে জয়ের মতো বিজ্ঞানমনস্ক নন। জয়ের মধ্যে পিতৃগুণ বিজ্ঞানমনস্কতা যেমন প্রবল, তারেকের তেমনি রাজনীতিমনস্কতা প্রবল। এ ক্ষেত্রে জয়ের প্রতিষ্ঠায় আরও অনেক সময় লাগবে, যে ধাপ তারেক বেশ আগেই পার করে ফেলেছেন বা তাকে দিয়ে পার করিয়ে ফেলা হয়েছে। জয়ের দ্বৈত-নাগরিকত্ব, বিদেশে জীবন কাটানো, বিদেশিনী বিয়ে করাও এ দেশের রাজনীতিতে সফলতার বিপক্ষে একটা ‘ফ্যাক্টর’ হবে হয়তো। এ দেশের রাজনীতিতে গুণ্ডাপাণ্ডা হলেও দেশীয় ভিত্তি বেশ কাজ দেয়। অনেক গুণ্ডাপাণ্ডাই তো নেতা এবং সংসদ্য সদস্যও হয়েছেন। কেউ কেউ সংসদ ভবনের দক্ষিণ-প্লাজায় জানাজাও পেয়েছেন। কেউ আবার নিজ নিজ এলাকার মুকুটহীন সম্রাটও হয়েছেন। কিন্তু ভালো, শিক্ষিত, মার্জিত অনেক সজ্জন ব্যক্তি রাজনীতিতে পাত্তাও পাননি। এমনকি এ দেশের দলীয়-মাস্তানির রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে অদূর ভবিষ্যতেও ভালো কিছু আশা করা যায় না।
দুই. বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বাজাদ) তারেককে খালেদার উত্তরাধিকারী হিসেবে এরই মধ্যে মেনে নিয়েছে বলা চলে। এ দলের তিন নেতার ছবির মধ্যে জিয়া আর খালেদার পরই রয়েছে তারেকের ছবি। জিয়া-খালেদার জাঁদরেল মন্ত্রী-উপদেষ্টারা অকাতরে তারেক বন্দনায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। মওদুদ, মোশাররফ, ফখরুল, আনোয়ার, খোকা, আব্বাস, হান্নানসহ যেদিকে যাকেই দেখুন না কেন, তারেক তাদের নমস্য। দলীয় গণতন্ত্রে খালেদার ইশারায় তারা সব কুপোকাত, অতএব তারেকই তাদের নেতা, যতই পিচ্চি-ছোকড়া-বাচ্চা বলা হোক না কেন। তারেক তরুণদের মধ্যে ভাবমূর্তিও সৃষ্টি করেছেন। তার সাংগঠনিক শক্তিও স্বীকৃত, হাওয়া ভবনের ক্ষমতা অনস্বীকার্য, তার অপকর্ম এখনও অসুপ্রতিষ্ঠিত। বিপরীতে জয়কে কি হাসিনা তিন নেতার ছবির একটি সহজেই ও সহসা করতে পারবেন? আলীর প্রবীণ নেতাদের কি বাজাদের মতো ‘জো হুকুম ম্যাডাম’ করে নিতে পারবেন? হয়তো পারবেন। কিন্তু তা নির্ভর করবে আগামী মেয়াদে হাসিনার ক্ষমতার ওপর। তিনি ‘লৌহমানবী’ হওয়ার চেষ্টা কম করছেন না। কিন্তু বিজ্ঞানমনস্ক জয়কে দিয়ে তারেককে টেক্কা দেয়াতে পারবেন কি-না- এটা বড় ভাবার বিষয়। তারেক পিতা-মাতা দুজনের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী, মায়ের সঙ্গে সরাসরি ক্ষমতার আড়ালে থেকে বড় ক্ষমতাশালী। জয় কিন্তু এর কোনোটিতেই নেই। নানার পরিচয়টা বড় করে আছে বটে, কিন্তু মায়ের সঙ্গে এ দেশীয় রাজনীতিতে এখনও অনেক পিছিয়ে। উত্তরাধিকারের স্বৈরাচারী-গণতান্ত্রিক লেবাসের এ রাজনীতিতে তারেক-জয়ের মধ্যে কার জয় আর কার পরাজয় হবে, তা দেখতে আমাদের আরও অন্তত কমপক্ষে দু’মেয়াদের নির্বাচন দেখতে হবে। আমরা অপেক্ষা করব।
বদিউর রহমান : সাবেক সচিব, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান

শিক্ষা আইন নিয়ে কিছু কথা by মোঃ মুজিবুর রহমান

শিক্ষা আইন, ২০১৩ খসড়া আকারে প্রণয়ন করে এটি যুগোপযোগী ও আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে জনমত যাচাইয়ের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশে ১৯৯০ সালের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন ছাড়া অন্য কোনো পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা আইন না থাকায় এটি নিয়ে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা এখানে তুলে ধরা হল।
শিক্ষা আইনের ধারা ২ এর সংজ্ঞা অংশে প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞ সংজ্ঞাসহ পৃথকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। ৪ ধারার (১) উপধারায় বর্ণিত প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক কি-না, তা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা দরকার। এর সংজ্ঞাও সহজবোধ্য করা প্রয়োজন। ধারা ৮(৫) উপধারায় বিদ্যালয়ে শব্দের পরিবর্তে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শব্দযুগল সংযুক্ত করা যেতে পারে।
১২ ধারার (১) উপধারায় শুধু প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে ধারাবাহিক মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে এবং তৃতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক বা সমাপনী পরীক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের উল্লেখ রয়েছে। এটা নবপ্রবর্তিত শিক্ষাক্রমে বর্ণিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার পরিপন্থী। নতুন শিক্ষাক্রমে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর সব বিষয়ের জন্য ধারাবাহিক মূল্যায়ন কার্যক্রম চলবে বলে বলা হয়েছে। শিক্ষা আইনের এ ধারা অনুযায়ী যদি ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণীতে ধারাবাহিক মূল্যায়নের কোনো সুযোগ রাখা না হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিবৃত্তীয়, মনোপেশিজ ও আবেগীয় ক্ষেত্রের মূল্যায়ন করা কিভাবে সম্ভব?
১২ ধারার (২) উপধারায় প্রাথমিক সমাপনী সার্টিফিকেট (PSC), জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (JSC), জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেটের কথা (JDC) উল্লেখ রয়েছে। প্রশ্ন হল, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেটকে ঔঝঈ এবং জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেটকে ঔউঈ বলা হলে প্রাথমিক সমাপনী সার্টিফিকেটকে চঝঈ বলা যায় কিভাবে? ঔঝঈ ও ঔউঈ অনুসরণ করে চঝঈকে বলা দরকার প্রাইমারি স্কুল সার্টিফিকেট। শিক্ষানীতি, ২০১০ ও প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন, ২০১৩ অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষা স্তর অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত উন্নীত হওয়ায় পঞ্চম শ্রেণী পাস করাকে প্রাথমিক সমাপনী সার্টিফিকেট বলাও যুক্তিযুক্ত নয়।
ধারা ১৩(১ ও ২) উপধারা অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত যোগ্যতা এইচএসসি এবং ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত যোগ্যতা স্নাতক পাস নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশ্ন হল, শিক্ষা আইন কার্যকর হওয়ার পর যখন এইচএসসির অস্তিত্ব থাকবে না তখন শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এইচএসসির পরিবর্তে কী বলা হবে?
ধারা ১৪(১) উপধারা অনুযায়ী প্রাথমিক পর্যায়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত এবং ৪ উপধারায় মাদ্রাসা শিক্ষার ইবতেদায়ি পর্যায়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদানকারী শিক্ষকদের ডিপ্লোমা-ইন-এডুকেশন ডিগ্রি অর্জনের কথা বলা হয়েছে। এসব শ্রেণীতে পাঠদানকারী শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি হওয়ায় তাদের পক্ষে ডিপ্লোমা-ইন-এডুকেশন ডিগ্রি অর্জন করা সম্ভব নয়। কারণ এ ডিগ্রিটি বিএড ডিগ্রির সমতুল্য এবং এর পূর্বযোগ্যতা হল কমপক্ষে স্নাতক ডিগ্রি। বাস্তবত, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদানকারী শিক্ষকদের জন্য দরকার সার্টিফিকেট-ইন-এডুকেশন (সিইনএড) কোর্স। এই সার্টিফিকেট প্রাইমারি ট্রেনিং ইন্সটিটিউট (পিটিআই) থেকে দেয়া হয়। ডিপ্লোমা-ইন-এডুকেশন ডিগ্রি আগে আইইআর থেকে দেয়া হতো। বর্তমানে এটি চালু নেই।
ধারা ২২গ(৯) উপধারায় ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ লাভের ক্ষেত্রে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট কিংবা উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণের কথা বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট শব্দ তিনটির পরিবর্তে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা দ্বাদশ শ্রেণী উত্তীর্ণ শব্দগুলো যুক্ত করা দরকার।
ধারা ২৫(১) উপধারায় একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও সাংস্কৃতিক দক্ষতাসহ অর্ধবার্ষিক, বার্ষিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষার ভিত্তিতে মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে। প্রশ্ন হল, উচ্চ মাধ্যমিক স্তর বিলুপ্ত হওয়ায় কিভাবে এর ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা সম্ভব? ২০ ধারার (১) উপধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, মাধ্যমিক শিক্ষার স্তর হইবে নবম হইতে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত চার বৎসর মেয়াদি। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা নামে কোনো অধ্যায়ও এ আইনে সংযুক্ত নেই। ধারা ৩৩(১) উপধারায় বলা হয়েছে, মাধ্যমিক অর্থাৎ দ্বাদশ শ্রেণী/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীগণ স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হইবে। এখানেও উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা এইচএসসির কোনো অস্তিত্ব দেখা যায় না। এই আইনের প্রস্তাবনায়ও প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা স্তরের উল্লেখ রয়েছে।
ধারা ২৮(১) ও (২) উপধারায় শিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্স হিসেবে Bachelor in Education (B.Ed.) উল্লেখ করা হয়েছে। এটি হবে Bachelor of Education (B.Ed.) কোর্স। একই ধারার (৩) উপধারায় সরকারি ও বেসরকারিভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের এক বছরের মধ্যে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণসহ চলমান বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের কথা বলা থাকলেও তাদের জন্য ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন (Continuing Professional Development-CPD) প্রশিক্ষণের কোনো কথাই উল্লেখ নেই। এটি শিক্ষা আইনে অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। কারণ শুধু বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ দিয়ে পেশাগত দক্ষতার উন্নয়ন সম্ভব নয়। বরং প্রত্যেক শিক্ষক যাতে নির্দিষ্ট সময় পর পর ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন প্রশিক্ষণ পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। অনেক উন্নত দেশে সব পেশার ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট বিরতি দিয়ে ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন প্রশিক্ষণ নিতে হয়। সিঙ্গাপুরের উদাহরণ হাতের কাছেই রয়েছে।
ধারা ৩৬(১) উপধারায় দক্ষ শব্দের পরে ও বিশেষজ্ঞ শব্দ দুটি প্রতিস্থাপন করা দরকার।
বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষার জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান স্থাপন বা পরিচালনা না করার ব্যাপারে ১১ ধারায় এবং উচ্চ শিক্ষা স্তরের ব্যাপারে ৪২ ধারায় নির্দেশনা থাকলেও মাধ্যমিক স্তরের প্রতিষ্ঠান স্থাপন নিয়ে এরকম কোনো বিধিনিষেধ দেখা যায় না। শুধু ২৩ (১) উপধারায় বলা আছে, বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ছাড়া কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন বা পরিচালনা করা যাবে না। শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রসঙ্গে : প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনের খসড়ায় শিক্ষক প্রশিক্ষণকে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায়ে না দেখিয়ে এটিকে পঞ্চম অধ্যায়ের বিবিধ বিষয়াবলির আওতায় (ধারা ৫৬) উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে মনে হয়, শিক্ষা আইনে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কম গুরুত্ব পেয়েছে। মানসম্মত শিক্ষার স্বার্থেই শিক্ষক প্রশিক্ষণকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ মানসম্মত শিক্ষক প্রশিক্ষণের ওপর দেশের সাধারণ শিক্ষার মান নির্ভরশীল। শিক্ষক প্রশিক্ষণকে পৃথক অধ্যায় দিয়ে উল্লেখ করলে এর সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো দায়িত্ব পালনে অধিকতর স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করবে। শিক্ষকদের জন্য মানসম্মত প্রশিক্ষণের সুযোগ না থাকলে যতই শিক্ষা সরঞ্জাম থাকুক না কেন, শিক্ষায় কোনো গুণগত পরিবর্তন আশা করা যায় না। শিক্ষকদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণসহ বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন (সিপিডি) প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে আইনের মাধ্যমেই। শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের জন্য যারা সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত তাদের চাকরিসংশ্লিষ্ট সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং উচ্চতর বেতন কাঠামোও আইনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা দরকার। প্রশিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ ভাতার প্রচলন করা উচিত। বিদ্যমান ১৪টি সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোয় স্কুলশিক্ষকদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ দেয়ার বিষয়টি আইনে উল্লেখ করা যেতে পারে।
শিক্ষা আইনের ৫৬(৪) উপধারায় সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ তদারকির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে একটি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ গঠন করার কথা বলা হয়েছে। দেশে শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করলে ওই বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে সব ধরনের শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মান উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণের কাজ করানো সহজ হবে। ৫৬(৭) উপধারায় মাদ্রাসা শিক্ষকদের বিএমএড প্রশিক্ষণ এবং বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ সাধারণ ধারার শিক্ষকদের সঙ্গে গ্রহণ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এটা বাস্তবে সম্ভব নয়। মাদ্রাসা শিক্ষকদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ সাধারণ ধারার শিক্ষকদের সঙ্গে গ্রহণের সুযোগ থাকলেও বিএমএড প্রশিক্ষণ একসঙ্গে গ্রহণ করা যাবে না। কারণ বিএমএড ও বিএড কোর্স দুই ধরনের শিক্ষকদের জন্য নির্ধারিত।
অভিযোগ দায়ের ও শাস্তি প্রসঙ্গে : শিক্ষা আইনের তফশিল ১ : অপরাধ ও শাস্তি শিরোনামে বর্ণিত ২(খ) উপঅনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সরকার বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দায়েরকৃত অভিযোগ ছাড়া কোনো আদালত এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ আমলে গ্রহণ করিবে না। প্রশ্ন হল, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই আইনের কোনো ধারা অমান্য করল কি-না, তা সরকার বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ জানবে কিভাবে? ভুক্তভোগীদের কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করার অধিকার দিয়ে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি উল্লেখ করা দরকার। শাস্তির প্রকৃতি হিসেবে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড অথবা কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দেয়া গেলেও প্রতিষ্ঠানকে কিভাবে কারাদণ্ড দেয়া যাবে? প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড করে কী লাভ? টাকা দেবে কে? প্রতিষ্ঠানের টাকা মানে শিক্ষার্থী বা জনগণের টাকা। আর আইনের কোনো ধারা লংঘন করলে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের বিধান রাখা কতটুকু যুক্তিসম্মত সেটাও ভেবে দেখতে হবে। বিদ্বেষপ্রসূত আইনের অপপ্রয়োগ হবে না, এর নিশ্চয়তা কী? প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের দ্বারা শিক্ষা আইন লংঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এই আইনের ৫৮ ধারা প্রয়োগসহ সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯ এবং শৃংখলা ও আপিল বিধিমালা, ১৯৮৫ প্রয়োগের বিধান রাখা যায়। ত্রিশ বছর আগের বিধিমালা সংশোধন করা হোক। কিন্তু কারাদণ্ডের বিধান শিক্ষাক্ষেত্রে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করি। শিক্ষা আইনে এরূপ শাস্তির বিধান রাখা উচিতও নয়।
মোঃ মুজিবুর রহমান : টিচার্স ট্রেনিং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক

কালো আইন, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা by ফরহাদ মজহার

মাহমুদুর রহমান একবার আদালত অবমাননার দায়ে জেল খেটেছেন, নির্যাতিত হয়েছেন। দ্বিতীয়বারও তিনি গ্রেফতার হয়েছেন, রিমান্ডে নিয়ে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। তার মতাদর্শ ও রাজনীতির বিরোধীরা এতে পুলকিত হয়েছেন, তার সমর্থকরা তার পক্ষে লড়ে গেছেন। এই দুই পক্ষের বাইরেও অনেকে রয়েছেন যারা শুধু মাহমুদুর রহমান কেন, যে কোনো ব্যক্তির নাগরিক ও মানবিক অধিকার রক্ষার নীতি অলংঘনীয় গণ্য করেন। তারা মাহমুদুর রহমানের মতাদর্শ ও রাজনীতির বিরোধী, সেটা তারা বলেছেনও, কিন্তু তার অধিকার রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ গণ্য করেছেন। তারা সেই নীতির জায়গায় দাঁড়িয়েই গ্রেফতার ও দমন-পীড়নের নিন্দা করেছেন। যদি তা না করা হয় তাহলে রাষ্ট্র একটি ভীতিকর নিপীড়নের যন্ত্র হয়ে ওঠে; আর ক্ষমতাসীনরা সেই যন্ত্রের যথেচ্ছ ব্যবহারের মধ্য দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করে তোলে। রাষ্ট্র বা সরকারের বাইরের কেউ নয়, সরকার নিজেও সমাজ ও রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। যারা এখন ক্ষমতায়, তারা বিতাড়িত হলে বিরোধী পক্ষও উল্টা তাদের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একই আচরণ করতে পারে। সাধারণভাবে নাগরিক ও মানবিক অধিকার সরাসরি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের সঙ্গে জড়িত। রাষ্ট্র গড়বার গোড়ায় বা ভিত্তিতে যদি এই অধিকারগুলো স্বীকৃত না থাকে তাহলে নাগরিকদের জন্য রাষ্ট্র বা সরকারের কাছে দয়াভিক্ষা করে এই অধিকার কায়েম করা যায় না।
বাংলাদেশে নাগরিক ও মানবিক অধিকার লংঘন এবং তাকে কেন্দ্র করে সমাজে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার যে ধরন আমরা লক্ষ্য করি, তার অভিজ্ঞতা থেকে কয়েকটি দিক স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যে কোনো নাগরিকের নাগরিক ও মানবিক অধিকার রক্ষা কেন বা কী কারণে সংস্কৃতি, রাজনীতি, সরকার ও রাষ্ট্রের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ সে ব্যাপারে সমাজে সচেতনতা খুবই কম। এই পরিস্থিতি ভীতিকর। ফলে এ ধরনের অধিকার লংঘনের ঘটনা যখন ঘটে তখন সংবিধান, আইন, রাষ্ট্র ও রাজনীতির দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আসলে কী, সেই দিকগুলো অস্পষ্ট থেকে যায়। আইন নিয়ে যখন আমরা কথা বলি তখন আমরা শুধু আইন নিয়েই কথা বলি। আইনের দিক থেকে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা, গ্রেফতার করা, আদালতে তোলা ও বিচার সম্পন্ন করার একটা প্রক্রিয়া আছে। এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট আইন থাকুক বা না থাকুক সেই প্রক্রিয়া মানাও নাগরিক ও মানবিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। অভিযুক্তের পক্ষে ও বিপক্ষে নোংরা, কুৎসিত ও অশালীন তর্কবিতর্কের অধিক সমাজ আর অগ্রসর হতে পারে না। যারা মাহমুদুর রহমানের সমালোচক, তারা অবশ্যই তার সমালোচনা করবেন এবং তার পক্ষের যারা তার উত্তরও দেবেন। কিন্তু রাষ্ট্র যখন সংবিধান ও আইনের অধীনে কোনো নাগরিককে অভিযুক্ত করে তখন তর্কের প্রসঙ্গ শুধু অভিযুক্ত নয়, একই সঙ্গে সংবিধান, আইন, রাষ্ট্র ও সরকারও বটে। যে কারণে কোনো কালো আইনে নাগরিকদের গ্রেফতার করলে আমরা কালো আইনের সমালোচনা করি এবং সে আইন প্রত্যাহারের দাবি জানাই। আইনের শাসনের অর্থ কালো আইনের শাসন নয়, ঠিক একইভাবে সংবিধান মেনে চলার অর্থ নাগরিক ও মানবিক অধিকার লংঘনকারী সংবিধান মেনে চলাও নয়। সেটা হতে পারে না। যেহেতু ‘আইন’ আছে, সে আইনে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করলেই গণতান্ত্রিক নীতিনৈতিকতার জায়গা থেকে অভিযুক্ত ‘দোষী’ হবে তার কোনো কথা নেই। খোদ আইনটি কালো আইন কি-না সেটাও বিচার্য।
অভিযুক্তের ভূমিকা ও মতাদর্শের পক্ষে-বিপক্ষে সমালোচনা চলুক, ক্ষতি নেই। মতাদর্শিক পার্থক্য ও রাজনৈতিক বিরোধিতা একটি সমাজের স্বাস্থ্যের লক্ষণ, রুগ্ণতার নয়। কিন্তু সবার আগে বুঝতে হবে একটি সমাজের রাজনৈতিক বিকাশের মাত্রা ও গতিশীলতা নির্ভর করে সংবিধান, আইন, রাষ্ট্র ও রাজনীতির দিক থেকে সঠিক প্রশ্নগুলো ধরতে পাড়া, তোলা এবং তার মীমাংসার জন্য আন্তরিক তর্কবিতর্কের সংস্কৃতি বিকশিত করার সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সামর্থ্যরে ওপর। যেমন ‘আদালত অবমাননা’র যে ঔপনিবেশিক আইন আমাদের দেশে বহাল রয়েছে তা গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি-না। সুনির্দিষ্টভাবে বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত না করলে আদালতের সমালোচনা কিভাবে ‘আদালত অবমাননা’ হয়? কোনো বিচারকের নীতিগর্হিত ভূমিকার সমালোচনা করলে সেটা ‘আদালত অবমাননা’ হয় কি-না। আরও গোড়ার প্রশ্ন, বিচারকরা কি আইন ও সংবিধানের ঊর্ধ্বে? তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উপায় কী? এগুলো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার গোড়ার প্রশ্ন। কিন্তু কংক্রিট সমস্যা হয়ে হাজির হওয়ার পরও গোড়ার প্রশ্নগুলো আমরা তুলি না, বা তুলতে পারি না। আমার ধারণা ছিল, মাহমুদুর রহমান নানা কারণে বিস্তর শত্র“ তৈরি করেছেন। ফলে তার বিরুদ্ধে সমাজে একটি শক্তিশালী পক্ষ থাকা অবাক হওয়ার মতো কিছু নয়, যারা বিচারবুদ্ধি নীতিনৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে কিভাবে তাকে শায়েস্তা করা যায় সেই দিকটা নিয়েই ব্যস্ত থাকবেন। কিন্তু মানবাধিকার কর্মী আদিলুর রহমান খানের গ্রেফতার কেন্দ্র করে সমাজে যে প্রতিক্রিয়া দেখছি তাতে স্পষ্ট যে সমাজের অসুখ অনেক গভীরে। এর চিকিৎসা কিভাবে সম্ভব সেটা আমি নিশ্চিত নই। এই অসুখ বাংলাদেশকে কোথায় নিয়ে গিয়ে দাঁড় করাবে, সেটাও আমি অনুমান করতে পারছি না।
একজন মানবাধিকার কর্মী ও সংগঠনের প্রধানকে অপহরণের চেষ্টা এবং কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া ৫৪ ধারায় গ্রেফতার, রিমান্ড চাওয়া এবং আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়ার তীব্র নিন্দা না করে প্রতিপক্ষরা যে যুক্তি তুলে ধরছেন সেটা হল ‘অধিকার’ তাদের প্রতিবেদনে ৬১ জনের শহীদ হওয়ার কথা বলেছে, এটা মিথ্যা। অতএব তথ্যপ্রযুক্তি আইন (Information & Communication Technology Act, 2006) অনুযায়ী তাকে শাস্তি পেতে হবে। যদি এই তথ্য হেফাজতিদের সমাবেশ সম্পর্কে না হয়ে যারা এ কথা বলছেন তাদের পক্ষের সমাবেশ হতো আর যারা মারা গেছে তারা টুপিওয়ালা মাদ্রাসার আলেম-ওলামা ছাত্র না হতো, তাহলে কিন্তু এই সংখ্যা নিয়ে বিবাদ হতো না। কারণ এর আগে ‘অধিকার’ বহু সংখ্যাই হাজির ও প্রচার করেছে, কিন্তু কেউই তাদের সততা বা সাধুতার প্রশ্ন তুলে ৫৪ ধারায় অধিকারের সম্পাদককে ধরে নিয়ে যাওয়ার সুপারিশ করেননি। আবারও মনে করিয়ে দিতে চাই, যে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে অধিকারের সম্পাদকের বিরুদ্ধে ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ’ আছে বলে দাবি করা হয়েছে, এখনও আদালতে তাকে পেশ করা হয়নি। তার আগেই তাকে গ্রেফতার শুধু নয়, তার অফিস থেকে কম্পিউটার ও অন্যান্য জিনিস গোয়েন্দা পুলিশ জব্দও করেছে। তর্কের খাতিরে ধরা যাক, অধিকার সঠিক সংখ্যা দেয়নি। তার জন্য তাকে গ্রেফতার করতে হবে কেন? সরকার তথ্যপ্রযুক্তি আইনের যে ৫৭ ধারার কথা বলছে সেটা কি কালো আইন নয়? এই আইনের যে অপব্যবহার হবে সেটা পরিষ্কার। কালো আইন সম্পর্কে যারা সচেতন তারা এ আইনের বিরুদ্ধে লেখালিখি করেছেন। পাস হওয়ার শুরু থেকেই। এই কালো আইনটির বিরুদ্ধে জনমতও প্রবল। তারপরও আদিলুরের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারত, জামিন দিয়ে মামলা চলতে পারত। কিন্তু লজ্জার বিষয়, সংখ্যার তত্ত্ব দিয়ে তাকে গ্রেফতার, নির্যাতন ও দমন-পীড়নের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন অনেকে।
ইতিমধ্যে এই কালো আইনটিকে আরও কালো করবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সর্বোচ্চ শাস্তির মেয়াদ বাড়িয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (সংশোধন) অধ্যাদেশের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এতে কয়েকটি অপরাধ জামিন অযোগ্য করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করার জন্য সংশোধিত আইনে ন্যূনতম ৭ বছর ও সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ২০০৬ সালে বানানো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে সর্বোচ্চ ১০ বছর সাজার বিধান ছিল।
নতুন সংশোধন অনুযায়ী কোনো পরোয়ানা ছাড়াই পুলিশ আসামিকে গ্রেফতার করতে পারবে। আগে এ আইনে কারও বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে পুলিশকে সাইবার ট্রাইব্যুনালের কন্ট্রোলারের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হতো। যে কোনো পুলিশ হলেই হবে না। কমপক্ষে সাব-ইন্সপেক্টর র‌্যাংকের হতে হবে। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী পুলিশকে এ ধরনের কোনো আগাম অনুমতি নিতে হবে না, অভিযোগ পেলে যাকে খুশি তাকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারবে। পুলিশ অপরাধ আমলে নিয়ে নিজেই মামলা করতে পারবে। আদিলুর রহমান খানকে গ্রেফতার করার সময় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ৬৯ বিধান অনুযায়ী আগাম অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা ছিল। সেই অনুমোদন ছিল না বলে তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করতে হয়েছে। এখন এসব অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে সরাসরি পুলিশকেই গ্রেফতারের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, যাতে তারা দমন-পীড়ন চালাতে পারে। পুলিশ এখন কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করতে পারবে। আগে এ আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধ জামিনযোগ্য ছিল। এখন এ আইনের অধীনে অভিযুক্ত হয়ে কেউ গ্রেফতার হলে তিনি আর জামিনও পাবেন না।
অনেকে সঙ্গত প্রশ্ন তুলেছেন, এর আগে অন্যরা কেউ আড়াই হাজার, কেউ তিন হাজার মারা গিয়েছে বলে বক্তব্য দিয়েছেন, তাদের ধরা হল না, অধিকারকে ধরা হল কেন? অধিকার বলেছে, এই সংখ্যাই শেষ নয়, তাদের তথ্য সংগ্রহ চলছে এবং তা আরও অনেক বেশি হতে পারে। সেক্ষেত্রে সরকারের উচিত ছিল অধিকারকে সঠিক তথ্য নির্ণয়ে সহযোগিতা করে সরকারের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’র অভিযোগের ফয়সালা করে। অধিকার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা দিয়েছে, এতে সরকারের বরং স্বস্তিবোধ করা উচিত ছিল। অধিকারের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের মূল উদ্দেশ্য তথ্যের সঠিকতা নিয়ে বিতর্ক নয়, বরং চলমান তদন্তকে বন্ধ করা। সেই কালোরাতে আরও কত শহীদ হয়েছে, সেই তদন্ত চলতে থাকলে সেটা বর্তমান সরকারের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। এটা সরকার ঠিকই বুঝেছে। সরকারের বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞের অভিযোগ রয়েছে। সেই কালোরাতে নিহতদের তথ্য সংগ্রহ সেই অভিযোগের প্রমাণ হয়ে উঠতে পারে।
বিপদ অন্যভাবেও ঘটতে পারে, যার নজির অনেকেই এখন দিচ্ছেন। যেমন আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইটে দুঃশাসনের সেই সময় (Reign of Terror 2001-2006) শিরোনামে ‘অন্ধকারের খণ্ড চিত্র’ হিসেবে দাবি করা হয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে পাঁচ বছরে ২১ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। এই ‘দাবি’ কিসের ভিত্তিতে করা হয়েছে? যদি তার তালিকা সরকার চায়, আওয়ামী লীগ কি সেটা দিতে সক্ষম? দিতে ব্যর্থ হলে কি ওয়েবসাইটের কর্তাকে তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে গ্রেফতার ও মামলা করা হবে? বলাবাহুল্য, অধিকারের সংখ্যা ঢালাও কোনো সংখ্যা নয়। ওপরে নজির দিয়েছি এ কারণে যে, সংখ্যা নিয়ে কূটতর্ক বিস্তর করা যায়। মূল কথা হচ্ছে, আসলে শাপলা চত্বরে দেশের কতজন নাগরিক শহীদ ও হতাহত হয়েছেন, তার সঠিক চিত্র সরকার প্রকাশ করতে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে এর ফয়সালা না করার পক্ষে কোনো যুক্তি নেই। অথচ সরকার মানবাধিকার কর্মীর ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দিত হওয়ার পথ গ্রহণ করেছে। আদিলুর রহমান খানকে গ্রেফতার করার যে কৈফিয়ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়েছেন, কূটনৈতিক মহলে তা গ্রহণযোগ্য হয়নি।
মূল তর্কের বিষয়টা মোটেও সংখ্যার ঠিক বা বেঠিকতার বিষয় নয়, এটা আমাদের বুঝতে হবে। পুরোটাই রাজনৈতিক এবং এর পেছনে মানবাধিকার কর্মীদের শায়েস্তা করা যেমন, একই সঙ্গে ভীতি ও আতংক তৈরিই উদ্দেশ্য। মানবাধিকার লংঘনের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহে ছেদ ঘটাতে চায় ক্ষমতাসীনরা। মূল প্রশ্নটা নাগরিক ও মানবিক অধিকারের মামলা। সুনির্দিষ্টভাবে এ ক্ষেত্রে ইস্যুটা হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং তার সাম্প্রতিক সংশোধনী। কোনো অভিযোগ ছাড়া ৫৪ ধারায় নাগরিকদের গ্রেফতার করার ক্ষমতা পুলিশকে দিতে আমরা রাজি কি-না। রিমান্ডে পুলিশি নির্যাতনের মধ্য দিয়ে অপরাধের স্বীকৃতি আদায়ের ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সমাজে একটি জনমত আছে, কিন্তু তাকে একটি রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে আমরা হাজির করতে পারিনি। সমাজে চিন্তা ও মতাদর্শিক তর্কাতর্কি থাকুক, কিন্তু সব ধরনের কালো আইনের বিরোধিতা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে এখনই না করা হয় তাহলে সরকারবিরোধী তথ্য, মত বা বক্তব্য প্রকাশ করা অসম্ভব হয়ে উঠবে। সরকারি দমন-পীড়ন মতপ্রকাশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠবে। আমরা হুমকির মধ্যেই বাস করছি। সরকার সাইবার জগৎকে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে আসলে নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। আগে বলেছি, সমাজের রাজনৈতিক বিকাশের মাত্রা ও গতিশীলতা নির্ভর করে সংবিধান, আইন, রাষ্ট্র ও রাজনীতির দিক থেকে সঠিক প্রশ্নগুলো ধরতে পারা, তোলা এবং তার মীমাংসার জন্য আন্তরিক তর্কবিতর্কের সংস্কৃতি বিকশিত করার সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সামর্থ্য অর্জনের ওপর। এদিক থেকে আমরা জাহেলিয়া বা অজ্ঞানতার অন্ধকারে ডুবে রয়েছি। নইলে রাষ্ট্রের পক্ষে সংবিধান বদলিয়ে এবং একের পর এক কালো আইন জারি করে দানব হয়ে ওঠা সম্ভব হতো না। এ পরিস্থিতি রাতারাতি বদলে যাবে আশা করা বাতুলতা। রাষ্ট্রীয় দমন-নিপীড়ন ভোগ করতে হবে আরও অনেককে। সব পক্ষেই। মাহমুদুর রহমান ও আদিলুর রহমান খান যেমন, তেমনি ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন, মশিউর রহমান, বিপ্লব অধিকারী শুভ্র ও রাসেল পারভেজও একই তথ্য ও প্রযুক্তি আইন ২০০৬-এ গ্রেফতার হয়েছেন। তাহলে এই কালো আইনের বিরুদ্ধে তো সমাজে একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গড়ে ওঠাটাই সবচেয়ে স্বাভাবিক। কিন্তু খেয়াল করলে দেখব, এ আইনের হাত থেকে প্রত্যকে যার যার নিজের পক্ষের ব্যক্তিদের রেহাই দিতে রাজি, কিন্তু প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যখন তার প্রয়োগ ঘটছে তখন তাতে পুলকিত ও উল্লসিত হয়ে উঠছে। যদি আরও গোড়ায় যাই তাহলে দেখব সমাজে আমাদের আলোচনার জন্য প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা, তর্কবিতর্ক হয়েছে খুবই কম। যেমন চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। বিভিন্নজনে বিভিন্নভাবে এই ‘স্বাধীনতা’ ব্যাপারটা বোঝে। নিজের জন্য ‘স্বাধীনতা’ কিন্তু প্রতিপক্ষের জন্য দমন-পীড়ন। খুবই বিকৃত একটি সমাজে আমরা বাস করছি। চিন্তা ও মতপ্রকাশ সংক্রান্ত প্রশ্নের কোনো সার্বজনীন মীমাংসাসূত্র নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এর দার্শনিক, সাংবিধানিক আর আইনি অর্থ ও বিচারের সঙ্গে ইউরোপের মিল নেই। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। ফলে সব দেশের জন্য একই পাজামা বানানোর দরকার নেই। সেই ক্ষেত্রে উচিত হচ্ছে, আমাদের নিজেদের ইতিহাস, শিক্ষা, সংস্কৃতি, দায়িত্ববোধ ইত্যাদি বিবেচনা করে একটা সংখ্যাগরিষ্ঠ মত তৈরির চেষ্টা করা, যাতে রাষ্ট্রের ক্ষমতা ও সীমা আমরা বেঁধে দিতে পারি। ব্যক্তিগতভাবে আমি মানবিক মর্যাদার নীতিকে অলংঘনীয় গণ্য করে চিন্তা ও মতপ্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সেটা বই, ইলেক্ট্রনিক মাধ্যম কিংবা সাইবার স্পেইস যাই হোক, যতক্ষণ ব্যক্তি হিসেবে আমি আমার প্রকাশভঙ্গি দ্বারা অপরের মর্যাদা ক্ষুণ্ন না করছি, ততক্ষণ নাগরিক হিসেবে আমার চিন্তা ও মতের স্বাধীনতার ওপর রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ একটি সমাজের বিকাশের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায় বলে আমি মনে করি। সেক্ষেত্রে ‘মানবিক মর্যাদা’ বলতে আমরা কী বুঝব তা নিয়ে পরের কোনো একটি লেখায় তর্ক হতে পারে। তবে ‘যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ’-এর নামে রাষ্ট্র যখন চিন্তা ও মতের স্বাধীনতা নানা অজুহাতে খর্ব করে, তার বিরোধিতা করা দরকার। আমি মনে করি না অধিকারের সমস্যা সংখ্যার ঠিক-বেঠিকের মামলা। যারা অধিকারের সংখ্যা ভুল দাবি করছেন, তারা স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে তার ফয়সালা করতে ভয় পাচ্ছেন কেন? শেখ হাসিনার দাবি মিথ্যা হয়ে যাবে বলে? তাতে মন্ত্রীর মিথ্যা কথন ধরা পড়ে যাবে। তাই না? এ ছাড়া আর কী কারণ থাকতে পারে? গোড়ায় সমস্যাটা চিন্তা ও মতপ্রকাশের অধিকারেরই প্রশ্ন। সে জন্য বলি, ব্যক্তি নিয়ে কথা না বলে ধারণাগত দিক নিয়ে কথা বললে আমরা আরও কাছাকাছি আসতে পারব। সেই তর্কের মধ্য দিয়েই যেতে রাজি হলে সমাজের বিভিন্ন পক্ষের কাছাকাছি আসার আদৌ কোনো বাস্তব শর্ত আছে কি-না সেটাও বোঝা যাবে। আমরা গর্তের কোথায় পড়ে আছি, হয়তো তারও একটা হদিস করা যাবে।
আজ হোক কাল হোক এই ময়লা গর্ত থেকে তো বেরিয়ে আসতে হবে। তাই না?

বাংলাদেশের অনিশ্চিত যাত্রা by আলী রীয়াজ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ীই হবে। তাঁর ভাষায়, ‘জনগণের ভোট নিয়ে সংবিধান সংশোধন করেছি।

২৪ আগস্ট ইয়াসমিন হত্যা দিবস by আবু তালহা

২৪ আগস্ট দিনাজপুরের ইয়াসমিন হত্যা দিবস। ১৯৯৫ সালের এই দিনে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশের হাতে ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন দিনাজপুরের কিশোরী ইয়াসমিন।

১৫০০০ কোটি টাকার অস্ত্র-সরঞ্জাম ক্রয়

সাবেক সোভিয়েত রাজ্য বেলারুশের সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম কেনা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের চুক্তি করেছে সরকার। গত ৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেলারুশ সফরের সময় দুই পক্ষের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি হয় বলে জানা যায়। তবে সরকারিভাবে এসব চুক্তির কথা স্বীকার করা হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে চার বছরে সামরিক খাতে কেনাকাটার জন্য এ ধরনের অনেক চুক্তি করা হলেও তা কখনো প্রকাশ করা হয়নি। এ সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমান) জন্য ১৫ হাজার ১০৪ কোটি টাকার অস্ত্র, গোলাবারুদসহ বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। এ ছাড়া রাশিয়ার সঙ্গে আট হাজার কোটি টাকার সরঞ্জাম কেনার চুক্তি হয়েছে। এর বাইরে আরও প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার সরঞ্জাম কেনার প্রক্রিয়া চলছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত চার বছরে কেনা সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ, সামরিক হেলিকপ্টার, সাঁজোয়া যান, ক্ষেপণাস্ত্র ও বিভিন্ন ধরনের রাডার উল্লেখযোগ্য।
সশস্ত্র বাহিনীর কেনাকাটার ব্যাপারে জানতে চেয়ে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে গত ১ মার্চ আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারের কাছে লিখিতভাবে তথ্য চাওয়া হয়। জবাবে আইএসপিআর থেকে ২৫ মার্চ লিখিতভাবে জানানো হয়, ‘বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট হওয়ায় উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়।’
এর আগে গত বছরের ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে তিন বাহিনীর জন্য বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনার তথ্য জানান। এ বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি সামরিক সরঞ্জাম কেনার কথা জানান।
সামরিক খাতের এই কেনাকাটা নিয়ে একাধিক সামরিক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তাঁরা প্রথম আলোকে বলেন, বাহিনী থাকলে সরঞ্জাম কিনতেই হবে। আমাদের প্রতিরক্ষা-নীতি হবে আত্মরক্ষামূলক। তবে সম্ভাব্য আক্রমণকারী আঘাত হানার পরে আমরা প্রত্যাঘাত করব, নাকি আগেভাগেই হামলা চালিয়ে তাকে অকার্যকর করে দেব, সেটা ঠিক করতে হবে।
অবসরে যাওয়া একজন পদস্থ সেনা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, সাড়ে চার বছরে সরকার যেসব কেনাকাটা করেছে, তাতে কিছু ব্যক্তির আশা-আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন ঘটছে। প্রতিরক্ষা নীতি না থাকায় এসব কেনাকাটা সমন্বিতভাবে হয়নি। তিনি বলেন, এ জন্য কোনো দিকনির্দেশনা থাকলে তা প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে বা সংসদে অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে। কিন্তু বাস্তবে তার কিছুই করা হয়নি। সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য প্রতিরক্ষানীতি না করে আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার কথা বলে একেক সময়ে সরকারের ইচ্ছানুযায়ী কেনাকাটা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। পাশাপাশি এ ধরনের কেনাকাটায় স্বচ্ছতাও জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সাবেক সেনাপ্রধান মাহবুবুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশে প্রতিরক্ষা খাতে সক্ষমতা বাড়ানো উচিত। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা দরকার। তবে রাশিয়া থেকে যে চড়া সুদে ঋণ নেওয়া হয়েছে, সেটা না করলেই ভালো হতো। এর আগে এত চড়া সুদে কখনো ঋণ নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। এই ঋণের অর্থ তো সাধারণ মানুষের পকেট থেকেই যাবে।
যত কেনাকাটা: অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০১২-১৩ অর্থবছর—এই চার বছরে তিন বাহিনীর জন্য ১৮৮ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৫ হাজার ১০৪ কোটি টাকার সামরিক সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কেনা হয়েছে সেনাবাহিনীর জন্য। এ বাহিনীর জন্য চার বছরে পাঁচ হাজার ৪০৭ কোটি ২৭ লাখ টাকার সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। নৌবাহিনীর জন্য চার হাজার ৯৭৫ কোটি ৪৯ লাখ ও বিমানবাহিনীর জন্য চার হাজার ৭২২ কোটি ১৩ লাখ টাকার সরঞ্জাম কেনা হয়।
এসব কেনাকাটার বাইরে রাশিয়া থেকে ঋণ নিয়ে আট হাজার কোটি টাকার ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, সাঁজোয়া যান (এপিসি), পন্টুন সেতু, প্রশিক্ষণ বিমান, সামরিক হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনার চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৮ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০ কিস্তিতে ১০ বছর ধরে বার্ষিক ৪ শতাংশ সুদে এ ঋণের অর্থ পরিশোধ করা হবে। এ চুক্তির আওতায় অস্ত্র ও সরঞ্জাম কেনা হবে ২০১৭ সালের মধ্যে।
২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সামরিক বাহিনীর উন্নয়নের নামে ২২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া আরও প্রায় ১০০ কোটি ডলার খরচ করে সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় দুটি ডুবো যুদ্ধজাহাজ (সাবমেরিন) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় কুতুবদিয়া চ্যানেলের পাশে সাবমেরিন ঘাঁটি করার জন্য জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
এবারের বাজেটে সামরিক খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৪ হাজার ২২৯ কোটি টাকা। এর আগের বছর ছিল ১৩ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। ২০১১-১২ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ১১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা।
সেনাবাহিনী: বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেনাবাহিনীর ২৬০টি সাঁজোয়া যান, ১৮টি সামরিক উদ্ধার যান, ১৫টি এপিসি অ্যাম্বুলেন্স, ৪৪টি তৃতীয় প্রজন্মের ট্যাংক, দুটি হেলিকপ্টার, ১৮টি স্বয়ংক্রিয় কামান ও সামরিক রাডার কেনা হয়।
২০০৮-০৯ অর্থবছরে ৭৯ কোটি ৮২ লাখ টাকায় জাপান থেকে কেনা হয় ১৮৪টি তিন টনের ট্রাক। পরের বছর রাশিয়া থেকে কেনা হয় ১২০টি সাঁজোয়া যান (আরমার্ড পার্সোনাল ক্যারিয়ার—এপিসি), ১০টি সামরিক উদ্ধার যান (আরমার্ড রিকভারি ভেহিকেল—এআরভি) ও ১০টি এপিসি অ্যাম্বুলেন্স। কেনা এসব সরঞ্জামের দাম ৫১০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। ২০১০-১১ অর্থবছরে চীন থেকে কেনা হয় এক হাজার ২০১ কোটি ৮১ লাখ টাকায় এমবিটি ২০০০ মডেলের ৪৪টি চতুর্থ প্রজন্মের ট্যাংক ও তিনটি সামরিক উদ্ধার যান। ফ্রান্সের তৈরি ইউরোকপ্টার ব্র্যান্ডের দুটি হেলিকপ্টার কেনা হয় ১৭৯ কোটি ৪২ লাখ টাকায়। ওই বছর চীন থেকে রাডার কেনা হয় ১৩৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা খরচ করে। পরের বছর সার্বিয়া থেকে ১৮টি স্বয়ংক্রিয় কামান (সেলফ-প্রোপেলড গান—এসপিগান) কেনা হয় ৫৪১ কোটি ৩৪ লাখ টাকায়। রাশিয়া থেকে ২২২ কোটি সাত লাখ টাকায় কেনা হয় ১১৩টি ট্যাংক বিধ্বংসী সরঞ্জাম। একই বছর রাশিয়া থেকে ৬৫১ কোটি ৪৫ লাখ টাকায় কেনা হয় ১৪০টি সাঁজোয়া যান, পাঁচটি উদ্ধার যান ও পাঁচটি এপিসি অ্যাম্বুলেন্স।
সূত্র জানায়, এ ছাড়া সেনাবাহিনীর জন্য আরও দুটি বিমান, তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণ রাডার, কিছু বেতার সম্প্রচারকেন্দ্র, মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম, বেশ কিছু ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র, স্বল্প পাল্লার ট্যাংকবিধ্বংসী গাইডেড উইপন, এপিসিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনার সরকারি সিদ্ধান্ত রয়েছে।
নৌবাহিনী: সরকারের চার বছরে নৌবাহিনীতে ১৬টি নতুন জাহাজ যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি কেনা হয়েছে আর চীনের সহায়তায় খুলনা শিপইয়ার্ডে তৈরি করা হচ্ছে ছোট আকারের পাঁচটি জাহাজ। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ইতালি থেকে ১৬৩ কোটি টাকায় কেনা হয় দুটি মেরিটাইম হেলিকপ্টার। একই দেশ থেকে ১৪১ কোটি টাকায় কেনা হয় এমকে-১ ক্ষেপণাস্ত্র। পরের বছর ৮৩৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকায় চীন থেকে দুটি বড় টহল জাহাজ (এলপিসি) ও পাঁচটি ছোট টহল জাহাজ কেনা হয়। ১৩৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকায় যুক্তরাজ্য থেকে কেনা হয় দুটি জাহাজ ও একটি জরিপ জাহাজ। এ ছাড়া ৩০২ কোটি ৫৪ লাখ টাকায় চীন থেকে ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৫৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকায় কেনা হয় রাডার যন্ত্রপাতি। ২০১০-১১ অর্থবছরে নৌবাহিনীর জন্য জার্মানি থেকে আনা হয় ডরনিয়ার ব্র্যান্ডের দুটি মেরিটাইম এয়ারক্রাফট। এর দাম ২৪১ কোটি ৩৮ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। গত ৩ জুন নৌবাহিনীর প্রধান কুর্মিটোলায় বঙ্গবন্ধু বিমান ঘাঁটিতে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ওই বছর এক হাজার ৬৫৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকায় চীন থেকে কেনা হয় আরও দুটি যুদ্ধজাহাজ। এ বছর ৬৫২ কোটি টাকায় কেনা হয় আরও দুটি ফ্রিগেট।
কেনাকাটায় স্বচ্ছতার ব্যাপারে জানতে চাইলে নৌবাহিনীর প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল এম ফরিদ হাবিব গত ৩ জুন সাংবাদিকদের বলেন, নৌবাহিনীর কেনাকাটায় সব সময় স্বচ্ছতা ছিল। কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।
বিমানবাহিনী: ২০০৯-১০ অর্থবছরে বিমানবাহিনীর জন্য ৩৩২ কোটি টাকায় চীন থেকে কেনা হয় স্বল্পপাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা পদ্ধতি (এসএইচওআরএডি)। এফ-৭ বিমানের রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধা স্থাপনে খরচ করা হয় ২০৪ কোটি টাকা। এ সময় এফ-৭ বিমানের জন্য চীন থেকে এবং মিগ-২৯ বিমানের জন্য রাশিয়া থেকে ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য খরচ করা হয় ২৭২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। ২০১০-১১ অর্থবছরে এক হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা দিয়ে কেনা হয় চতুর্থ প্রজন্মের ১৬টি যুদ্ধবিমান এফ-৭ বিজি১ এবং ৩৪৫ কোটি টাকায় রাশিয়ার তৈরি এমআই-১৭১এসএইচ হেলিকপ্টার। ৯ এপ্রিল এগুলো বিমানবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরের বছর চারটি মিগ-২৯-এর রক্ষণাবেক্ষণে খরচ করা হয় ১১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া চীন থেকে বিমান প্রতিরক্ষা রাডার কেনায় খরচ করা হয় আরও ২১৫ কোটি আট লাখ টাকা।
প্রতিরক্ষানীতি নেই: সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশে কোনো প্রতিরক্ষানীতি নেই। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে প্রতিরক্ষানীতি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর থেমে যায়। বর্তমান সরকারের আমলেও প্রতিরক্ষাবিষয়ক সংসদীয় কমিটিতে এ নিয়ে শুধু আলোচনাই হয়েছে। তবে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ নামে পাঁচ বছর মেয়াদি চার ধাপের একটি পরিকল্পনা নেয় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ। প্রথম ধাপে ২০১১ থেকে ২০১৫, দ্বিতীয় ধাপ ২০১৬ থেকে ২০২০, তৃতীয় ধাপ ২০২১ থেকে ২০২৫ এবং চতুর্থ ধাপ ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালে বাস্তবায়িত হবে। প্রধানমন্ত্রী এতে অনুমোদনও দিয়েছেন। বর্তমান সরকারের আমলে যেসব কেনাকাটা হচ্ছে, তা প্রথম ধাপের অংশ বলে জানা গেছে।
কতটা যৌক্তিক: প্রতিরক্ষানীতি না থাকার পরও বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে সামরিক সরঞ্জাম কেনা কতটুকু যৌক্তিক? সাবেক সেনাপ্রধান কে এম সফিউল্লাহ এ প্রশ্নের জবাবে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা কী কিনব, তা নির্ভর করবে আমাদের প্রতিরক্ষানীতির ওপর। তবে কেনাকাটার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা অবশ্যই থাকতে হবে, যাতে এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে। নিজেদের নিরাপদ রাখতে হলে প্রতিরক্ষার জন্য ব্যয় করতে হবে। এর প্রয়োজন আছে।’
দেশে কোনো প্রতিরক্ষানীতি নেই। তার পরও কোন উদ্দেশ্য সামনে রেখে এ ধরনের কেনাকাটা হচ্ছে? জানতে চাইলে প্রতিরক্ষাবিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রধান ইদ্রিস আলী প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিরক্ষানীতি না থাকলেও প্রতিটি বাহিনীতে নিজস্ব কার্য পদ্ধতি আছে, আছে ‘ফোর্সেস গোল’। সেই লক্ষ্য নিয়েও কেনাকাটা হচ্ছে। এই ১৫ হাজার কোটি টাকার কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ছিল বলে মনে করেন কি না—এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী তার চাহিদা অনুসারেই কেনাকাটা করে থাকে। এ ক্ষেত্রে যদি কোনো অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, তবেই সংসদীয় কমিটি হস্তক্ষেপ করতে পারে।
তবে রাশিয়ার সঙ্গে আট হাজার কোটি টাকার সামরিক সরঞ্জাম কেনার চুক্তির পর গত ২১ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক বলেন, ‘সামরিক সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অস্বচ্ছতার অবকাশ নেই। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের মতামত নেওয়া হচ্ছে।’
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এয়ার কমোডর (অব.) ইসফাক ইলাহী চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, একটি বাহিনী থাকলে তার সক্ষমতা থাকতেই হবে। না হলে বাহিনী রেখে লাভ কী? সক্ষমতার জন্য দরকার সামরিক সরঞ্জাম। তবে এসব সরঞ্জামের দাম অনেক বেশি, যা সাধারণ মানুষ চিন্তাও করতে পারে না। তবে দাম যাই হোক না কেন, কেনাকাটা অবশ্যই স্বচ্ছ হওয়া চাই, যাতে মানুষের কোনো সন্দেহ না থাকে।
গত ২৯ জানুয়ারি লন্ডনে প্রকাশিত দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সামরিক খাতে বাংলাদেশের দুর্নীতির ঝুঁকি রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা-সম্পর্কিত গোপন বিষয়গুলো সম্পর্কে সংসদে যেমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয় না, তেমনি নিরাপত্তা খাতের বার্ষিক হিসাবের নিরীক্ষা প্রতিবেদন নিয়েও কোনো বিতর্কের প্রমাণ মেলে না।’
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সেনাবাহিনীর একাংশের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের সময় টিআইবির চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল বলেছিলেন, ‘সামরিক খাতের কেনাকাটা নিয়ে কোনো তথ্য জনগণের কাছে প্রকাশ করা হয় না। এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতারও অভাব রয়েছে। এ নিয়ে সংসদেও কখনো কোনো আলোচনা করা হয় না।’

প্রথম আলোর ১০৬টি পাঠকের মন্তব্য

  • ২৩
    ১২
    অর্থহীন এই ব্যয়, এই দেশের বা দেশের জনসাধারণের কি কাজে আসবে? এই অর্থ যদি শহরের ও গ্রামের রাস্তা মেরামত, পরিষ্কার প্রকল্পে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্প, তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়ন এবং বেকার নিরসনে কাজে লাগান যেত তাহলে হয়ত দেশ অনেকটাই এগিয়ে যেত। আফসস, এদেশের রাজনীতিবিদেরা নিজ স্বার্থ ছাড়া অন্য কিছুই ভাবতে পারে না :(
    • ১১
      it won't help the regular citizen but it will help the pocket of AL leaders........ they will pocket enough money for the upcoming election from this deal.
    • ১২
      ১৭
      ঠিকই বলেছেন। আর্মি আগে ভাল ছিল, এ সরকারের আমলে কেমন জানি হয়ে গেছে। আজমি ভাইয়ের ন্যায় চৌকস আর্মিদেরকে অপসারন করেছে। দুর্নিতীর সম্ভাবনা আছে।
    • ২৮
      ৩০
      মন্তব্য দেখে মনে হচ্ছে আমাদের এই সব সরকার নেই। একটি জাতি কতটুকু শক্তিশালী ,মর্যাদা সম্পন্ন তা তার সামরিক শক্তি দিয়ে বুঝা যায়। আমাদের সমুদ্র সীমানাও বেড়েছে। সরকার সিদ্বান্তটি যৌক্তিক। পদ্মা ব্রিজ ওয়ালারা, বাস্তবতা ফিরে আসুন। ভাবখানা এমন যে সরকারে সমালোচনা করলেই মারাত্নক দেশপ্রেমিক আর বুদ্ধিজীবী হওয়া যায়।
    • ১০
      do not blame only to politicians, how about us ? when a government opens new transport system, new electricity plat etc. what we do ? on the name of politics we simply vandalize those things in protest, so are we good ?
    • ২৯
      ১২
      দেশে এখনো পাকি দালাল আছে বুঝা যায়। আমান আজমির আর্মিতে নিয়োগটাই তো ছিল দুর্নীতি। বাংলাদেশ আর্মির নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকের সন্তান আর্মিতে ঢুকতে পারবে না। গোয়াজম পাকি নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তার ছেলে কিভাবে আর্মিতে নির্ধারিত সময়ের এক মাস পরে ঢুকতে পারে? কিভাবে উচ্চমাধ্যমিকে তৃতীয় শ্রেণী পাওয়া আজমি আর্মির ফর্ম তুলতে পারে? কিভাবে সাঁতার না জানা সত্ত্বেও আজমি একের পর এক প্রমশান পায়? কিভাবে গোআজম একজন পাকি সিভিলিয়ান হয়েও ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে রাত যাপন করে ছেলের সাথে (নাগরিকত্ব পাওয়ারও অনেক আগে)? আর গো আজম কিভাবে মাত্র পৌনে চার বছর কারমাইকেল কলেজে খণ্ডকালিন লেকচারার থাকার পরও (পূর্ণকালীন লেকচারার ও হইতে পারে নাই) নামের আগে অধ্যাপক লাগায়?)
    • ১০
      আমাদের নিরাপত্তার জন্য এত ব্যয়বহুল অস্ত্র কেনার সামর্থ থাকলেও সাহিনাদের নিরাপত্তার জন্য কোনো ব্যবস্থা নাই কেন? কেন শাহিনাদের বাচাতে অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ইন্ডিয়া বা যুক্তরাজ্য থেকে ধার নেওয়ার কথা আসে । যেহেতু আমাদের চতুর্পাশে ভারত তাই ইহার দশগুণ অস্ত্র কিনলেও ফেলানিরা ঝুলবে কাটা তারে ভবিষ্যতেও ।
    • এখন তো ঘরের শত্রু বিভীষণে পরিণত হয়েছে, তাদের তাড়াতে, গদি কন্টকমুক্ত রাখতে অস্ত্রের প্রযোজন আছে না ?
  • ১৯
    ১০
    Well, I believe it's a good to make our defense strong.
    • নৌবাহিনীর জন্য দুরপাললার যুদ্ধজাহাজ কেনার জন্য সরকারকে অনুরোধ করছি। কারণ আমাদের নতুন সমুদ সিমার শেষ পযন্ত যাওয়ার উপযোগি কোন জাহাজ নাই। যা আছে তা দিয়ে আধেকটা যাওয়া যায়। আমাদের সমুদ সিমা অরখিত আবসথায় আছে। বিদেশি জাহাজ তাদের ময়লা আবজনা সব আমাদের সমুদে ফেলতেছে।
    • This is stupid!! The period for fighting with other country is over.... no country attacks or will attack other country now a days. i have spoken lot of defense people this time and all of them are fade up with thier job - lot already left their job. so it's better to work for improving their job facilities then to buying new weapons. Out of 15000 crore minimum 3 thousand crore will be in AL's pocket. as they did during their last tenure (procuring worthless mig 29). we need to spend money for improving general people's life style, improving the health service, transportation , job opprotunities, tackle crime. All the positive comments are coming from the ......... military guys. This country people never accept such wastage of money. This is ridiculus.
  • ১৫
    It means lot of corruption happened as well.
  • ৩১
    In terms of percentage of GDP, Bangladesh spends the least on Military expense among all the South Asian countries. Here is the south asian countries by military expenditures: Sri Lanka: 3.5% of the GDP Pakistan: 2.7% of the GDP India: 2.5% of the GDP Nepal: 2.0% of the GDP Bangladesh: 1.5% of the GDP Source: http://en.wikipedia.org/wiki/List_of_countries_by_military_expenditures But there must be a defence policy before spending on weapons for example spending 1,538 crore taka on 4th Generation F7BGI (it is a 3rd generation fighter actually) is a complete waste. Rather we should invest more on Air Defence. We also need relatively a stronger Navy to protect our vast sea territory. So, the spending on Navy is justifiable. Although, the report claims that two ships were bought from china at a cost of 1,659 crore taka which is not true I think, and purchasing two old frigates at a cost of 652 crore taka this year is still not confirmed. I think the reporter confused himself with the information. Finally, I agree with the agreement of defence technology transfer with Belarus and I must say that its now time to invest on Research and Development so that we can build weapons locally like the small warship we built last time. This will save our money and create more job opportunities.
    • 1. the info is not correct given by author, we have bought 2 chinese old frigate at good condition at very low cost which will be heavily modified with more advance weapons. it will reduce cost by 1.5 times if we bought newly build warship of its kind. 2. F-7BGI has been bought to replace A-5iii and F-7MB for ground attack role, their life time has expired. 3. you will see 5 layer air defence system by 2023-2025.
    • ১৭
      ১০
      Nice information. We need strong defense system. Thanks Govt. for enriching our defense forces .
    • সুন্দর একটি তথ্য বহুল মন্তব্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।
    • some people is disgusting , they always say AL want destroy army . when they get news AL making our army strong they try 2 find corruption or say we no need army . when this kind people will be Bangladeshi ? when they will love Bangladesh ? whey will see positive ?
  • ১০
    How many padma bridge is possible by that money?
    • ১৪
      অর্ধেকটা বানানো যেত।
    • ১২
      সামরিক ব্যয়ের প্রয়োজন আছে এবং সেটা করতেই হবে। ওই টাকা দিয়ে কি করা যেত কথা অবান্তর।
    • Sadiq , you always thinking negative why ? any government will come they will make padma bridge . we need strong and smart army 4 our safety .
  • ১৭
    ১৪
    এই রিপোট লিখার সময় যে সব বিশেষগগের মতামত নেওয়া হয়েছে তারা কেউ বলেনি এইসব সামরিক সরঞ্জাম কেনার প্রয়োজন নাই। হয়তো বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট হওয়ায় প্রকাশ করা হয়নি। আমরা নেগেটিভ ভাবে না দেখে এটাও আওয়ামি লীগ সরকারের সাফল্য হিসাবে দেখতে পারি।
  • ২৮
    সামরিক দিক দিয়ে শক্তিশালী হওয়া ছাড়া উপায় নেই। তবে স্বাস্থ্যখাত( প্রেশার বাড়লে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে যেন যেতে না হয়) এবং দেশের সবচেয়ে গরীব মানুষগুলার চিকিতসা ব্যয় কিভাবে সামাল দেয়া যায় সেগুলাও মাথায় রাখা দরকার, শিক্ষাখাত কেও যেন কম গুরুত্ব দেয়া না হয়, ইদানীং সার্টিফেকটধারী তৈরি হচ্ছে অনেক, কিন্তু শিক্ষিত হচ্ছে কয়জন সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ। আমাদের দেশে নামেই ভার্সিটি তৈরি হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের দেশের সব ভার্সিটিগুলাতে নিয়মিত গবেষণা হচ্ছে কি? ভার্সিটি মানে নিশ্চয় খালি পরীক্ষা না, এখানে তো আন্তর্জাতিক মানের অনেক গবেষণা হওয়ার কথা, অনেক পেপার বের হওয়ার কথা নিয়মিত, যেগুলা বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য হবে। গবেষণা না হয়ে মারামারি করে ই তো অনেক সময় চলে যায়। সকল দিকে যেন মনোযোগ দেয়া হয়। সমন্বিত উদ্যোগ অনেক বেশি প্রয়োজন। আমাদের দেশটা অনেক ছোট দেশ। এই ছোট দেশ এ সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ না করলে সব জগাখিচুড়ি পাকিয়ে যাবে। মিয়ানমার এবং ভারতের প্রতিবেশি দেশ হিসেবে সামরিক খাতে ব্যয় কে অপ্রয়োজনীয় ভাবাটাই বোকামি। তবে যা কেনা হচ্ছে, তা সামরিক বিশেষজ্ঞ রাই বলতে পারবে ঠিক আছে কিনা। সাধারণ মানুষ হিসেবে আমরা খালি বুঝতে চাইব যে , সীমান্তে বিএসএফ বা নাসাকা যেন বাড়াবাড়ি করার আগে ভয় পায়। সমুদ্র সীমায় আমাদের জেলেরা যেন নির্ভয়ে মাছ ধরতে পারে। জলদস্যুরা যেন বাংলাদেশের জাহাজ কে এটাক করার আগে দুইবার ভাবে। সেগুলা পেলেই জনতা খুশি। সব দিকেই মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
    • আমাদের সামরিক শক্তিকে ভয় পায় বলেই বিএস এফ সীমান্তে জীবন্ত টার্গেট প্র্যাকটিস করে।
  • ১২
    ১০
    Just want to know how much perchantages goes govt pocket....
  • পদ্মা সেতু সেনাবাহিনির অংশ হলে ভালো হতো !!!
  • Arms purchase deal of Tk 15,104 crore, without letting the people/parliament know about this? What does this indicate? How long people can condone this type of arrogance of this government?
    • It never happens (making military expenditures public). This is not due arrogance of the govt; this is what Bangladesh armed forces do not want to be disclosed.
  • ১১
    ১০
    এতে করে আসলেই কিছু ব্যক্তির চিন্তাভাবনার এবং আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে, এতে করে জনগনের চুড়ান্ত ক্ষতি সাধিত হবে।
  • ১০
    যে বা যাহারা যতই বলুক না কেন, এতো টাকা খরচ করে সরঞ্জাম কিনার কি দরকার? আমরা কার সাথে যুদ্ধ করবো? আমাদের তো কোন শত্রু নেই। তাহলে বলবো আমাদের আশে পাশে ঘাপ্টি মেরে আছে কিছু শত্রু যারা চাইলে অনেক কিছুই করতে সক্ষম সরাসরি হোক আর ইন-ডিরেক্ট হোক। আমাদের বাহিনী আছে এবং তা আমাদের প্রাইড ও তাই তাদের সক্ষমতা অর্জন করা খুব দরকার, তবে এই কেনাকাটার প্রক্রিয়া টা স্বচ্ছ যেমন হওয়া দরকার ঠিক দরকার একটা ভিশন এর উপরে ভিত্তি করে এগিয়ে নেওয়া। যেমন আমাদের নৌ- বাহিনীর জন্যে সাব মেরিন অবশ্যই দেশের ইতিহাসে মাইলফলক হতে যাবে তবে তা পারমাণবিক নয়। এখন যারা আমাদের ঘাটাতে চাইবে তারা একবার হলেও ভাববে আমাদের দিকে এগিয়ে আসার আগেই।
  • We need to understand few things. 1. our armed forces weapons and equipments are now very old. To keep it up to date we need to improve and increase fire power. 2. we are spending only 1.5% of our GDP. 3. Both of our neighbors are increasing their firepower heavily, specially upcoming superpower India after china. I am not saying that we will have war with them but who knows after 15 to 20 years what will happen. 4. our armed forces are trying to keep things secret because you can win half battle by just knowing enemy strength, so whoever will be the enemy, our armed forces are trying to keep them blind about our strength as much as possible, if we disclose it in public then all will know our strength and weakness. 5. according to official, BD will pay to russia from earnings of UN mission. 6. When you convert USD purchase amount into BDT, please also convert BD economy size into BDT too. for your help, now BD economy is $122 billion USD, now do the math.
    • Well said bro... in case of war or criminal activity, it will not wise to get help from others if we can manage ourselves alone with strong defense.
    • Our neigbers secret agents are everywhere in Bangladesh. So although we don't know our & their strength, they know everything.
  • We can not fight with our neighbours, good relatioship with neighbours always good. Yes we believe we need better naval force, our fishing industries , off shore area unprotected. But heavy arms in land area suspicious. Shopping spree before departure of govt, carring wrong messages, Purchasing from old suviet countries are more suspicious because they are no more old socialist govt. Their govt is in transition of capitalist structure systems,They are fighting with corruption as well. These huge arms shopping no doubt will carry controvercy,rather than necesity of the of our defence
  • Forgot to mention 1 more thing, for taking that credit from Russia, they will pass technology to Bangladesh which is very importand, it is not easy get just deal if you are not very close ally.
  • ১০
    সামরিক সরঞ্জাম কেনা মানেই বিরাট %
  • ১০
    ভারত তার নিজের টাকায় দেশের প্রযুক্তি তে বিমানবাহি যুদ্ধজাহাজ বানালেও আপনারা কটাক্ষ করে বলেন "গরিবের ঘোড়া রোগ" . এবার আপনাদের এই " বার্ষিক ৪ শতাংশ সুদে অস্ত্র-সরঞ্জাম ক্রয় " কে আপনারা কি বলবেন ???
    • ১২
      এইটা ভারতের প্রতি এলারজি থেকেই বলা। আর এই এলারজি জন্য ভারতও বহুলাংশে দায়ি।
    • প্লিজ লজ্জা দিবেন না, এসবে আম জনতার কোন হাত নেই।
    • আপনাকেও লাইক দিলাম। আপনার এই মন্তব্যটা একদম সঠিক।
  • ১৪
    যদি সামরিক সরন্জাম কিনতে হয়, তবে সেটা কিনতে হবে আমাদের দাতা দেশগুলো থেকে। সে সন দেশে আমাদের তৈরী পোষাক যায়, তার মধ্যে আমেরিকাই প্রধান। এ ছাড়া ইংল্যান্ড, ক্যানাডা, অস্ট্রেলিয়া সহ ইউরোপের অনেক দেশেই যায়। ওসব দেশ বাদ দিয়ে অখ্যাত দেশ থেকে অস্র কেনার আসল কারন কি? কমিশন????
    • ১২
      bro, plz do not talk what you do not know, if you buy from those countries our purchase cost will increase by 2 to 3 times. Which unpopular country are talking about from whom we are buying weapons ? first study on defence related issues.
    • একই ধরনের সামরিক সরঞ্জাম দাতা দেশগুলো থেকে কিনতে গেলে যেমন খরচ অনেক বেশী হয় তেমনি ওরা সরাসরি জেনে ফেলে আমাদের সামরিক শক্তির পরিমান। এছাড়া দাতা দেশগুলো আমাদের অস্ত্র সম্ভার নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ পেয়ে যাবে।
    • Quality of weapon is not important here priority goes to the country who can understand the percentage deal . which is really very important for awamilegue before the upcoming election .
    • .............বন্ধুত্ব মানে সীমাবদ্ধতা নয় @ইবনে নিজান, সব কাজে বিরোধিতা করা মানে বোকামি করার সামিল.
  • ১২
    এর আগে এত চড়া সুদে কখনো ঋণ নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। এই ঋণের অর্থ তো সাধারণ মানুষের পকেট থেকেই যাবে।
  • ১২
    ১৫,০০০ কোটি টাকার ২০% কত হয়? ৩,০০০ কোটি টাকা। এই বিপুল কমিশন কাদের পকেটে যাচ্ছে বা যাবে তা খুব ভালভাবে বোঝা যায় কেন এই সরকার ক্ষমতা ছাড়তে একেবারেই ইচ্ছুক নয়। তারা ক্ষমতায় না থাকলে এই বিপুল পরিমান কমিশন অন্যদের পকেটে চলে যাবে না? তবে সবচেয়ে বিস্মযকর ও বিমূঢ় করে দেবার মত ব্যপার হচ্ছে জনগনের স্বার্থরক্ষার কথা বলে জনগনের টাকার এরকম অপচয় - বিশেষ করে আমাদের প্রধান প্রতিবেশীর সাথে যুদ্ধের যেখানে দুরতম কোন সম্ভবনা নেই - সেখানে এরকম হঠকারী কান্ড কিভাবে কোন বিবেচনায় সম্ভব? তবে কি এই সরকার বুঝে গেছে যে ঘর পুড়ে গেলে যা পাওয়া যায় তাই লাভ? এনারা কি 'নির্নয় লে লিয়া হ্যায় কে বহুত দের নেহী ইয়ে দেশ ছোড়নে কো'? কি জানি?
    • ভাইজান, ভিন্দেশী ভাষায় কী লিখলেন বুজলাম না। পারসেন্টেজ ভাগাভাগির বৈঠকে কি আপনারে ডাকা হইছিল? এত কথা জানেন কিমুন কইরা? সশস্র বাহিনীর লোকজনের সাথে একটু আলাপ করে জেনে নিয়েন, অস্রের অপূর্ণটা নিয়ে তাদের আক্ষেপ কত? তাদের প্রশিক্ষন আরে ব্যবহৃতব্য অস্রের মধ্যে তফাৎ কত? তাছাড়া আর্মির কেনাকাটায় পলিটিশিয়ানরা কতটুকু ভাগ বসাইতে পারে একটু জেনে নিয়েন। এগুলো খাম্বা না, ফাইটার, ট্যাঙ্ক, ম্যারিন বোট।
    • correct
  • ১০
    আমাদের দেশের জন্য এত বড় সশস্ত্র বাহিণী রাখার কোন যৌক্তিকতা নেই। এদের খোর পোষের পেছনে এত টাকা ব্যয় করা অর্থহীন। এখান থেকে কিছু টাকা ব্যয় করলেই দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানের গবেষনাগার স্থাপন করা যায়। সশস্ত্র বাহিণীর আকার ছোট করে দেশে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে; যেন প্রয়োজনীয় মুহুর্তে আপামর জনসাধারণ যুদ্ধে অংশ নিতে পারে।
    • এতো বড় সামরিক বাহীনির বেশীর ভাগ ই জাতি সংঘ শান্তি মিশনে নিয়োজিত। যার ফলে আমরা প্রচুর বৈদেশিক মূদ্রা আয় করতেছি শুধুমাত্র সামরিক বাহীনির মাধ্যমেই। আর আপনি কি জানেন যে, বাংলাদেশ ই বিশ্বের সবচেয়ে বেশী আর্মি প্রেরনকারী রাষ্ট্র। তাই বেশী বেশী বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য আমাদের সামরিক বাহিনী আরো বড় করা দরকার।
    • 1. same people will say government did nothing to our armed forces when we will face difficulties. 2. you do not support expense of 5,00,000 armed forces size but supporting arms training of 16 crore people ? then some of them will start terrorism with the training. What a Logic ! ! ! i am impressed
  • ১৪
    দেশের সার্বভৌমত্ত রক্ষা তথা প্রতিরক্ষা বিভাগকে শক্তিশালী করার জন্য অস্ত্র-সরঞ্জাম ক্রয় করা যেতেই পারে।
    • লাইক দিলাম, ভাল কথা কইছেন।
  • ১৬
    নিজেদের নিরাপদ রাখতে হলে প্রতিরক্ষার জন্য ব্যয় করতে হবে। এর প্রয়োজন আছে।সক্ষমতার জন্য দরকার সামরিক সরঞ্জাম।তবে দাম যাই হোক না কেন, কেনাকাটা অবশ্যই স্বচ্ছ হওয়া চাই, যাতে মানুষের কোনো সন্দেহ না থাকে।
    • ১১
      যু্দ্ধটা কার সাথে করতে চাইছেন ?
    • saiful @ আপনার কাছে এটম বোমা আছে ওইটা মারার দরকার নাই, আছে জানলেই আরেক জন আপনার সাথে লাগতে আসার আগে দশ বার চিন্তা করব। এত করার পরও প্রতিবেশি দেশের মন ভরে না প্রতিদিন গুলি করে মানুষ মারে। কারণ আপনার দেশ দুবল।
  • অস্ত্র। এক আতঙ্কের নাম। একটা ভয়। এই অস্ত্রই না আবার দেশের জন্য আতঙ্কের হয়ে পড়ে !
  • Our force must have the capability. Military competencies required for military equipment. We are purchasing on n on but no goal. Bangladesh is sovereign country. But there is no Defense Policy for the country yet. But why????? Military shopping shud follow Defense Policy.
  • আমরা যুদ্ধ করব কার সাথে?
    • Ok we will dismiss our armed forces, can you guarenty us our national safety not just short term but also long term like about 20 years ?
    • you should be happy that at least this sector is getting good shape which is rare case of Bangladesh
    • শুধু মায়ানমার এর কথা চিন্তা করুন, তারা কতবার আমাদের সমুদ্রসীমা লংঘন করেছে। আমরা ধাওয়া না দিয়ে আলোচনার মাধ্রমে সমাধান করার চেষ্টা করেিছ। কিন্তু জবাব দেয়ার মতো উপযুক্ত ফায়ার পাওয়ার থাকলে তারা সমুদ্রসীমা লংঘন করার সাহস পেতনা।
  • WE HAVE HEARD THE TERMS/WORDS - TENDER BANIJJO, NIYOG BANIJJO ETC. NOW WE ARE WAITING TO HEAR THE WORD - KROY BANIJJO.
  • ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০১২-১৩ অর্থবছর—এই চার বছরে তিন বাহিনীর জন্য ১৮৮ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৫ হাজার ১০৪ কোটি টাকার সামরিক সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। তাছাড়া ইতপূর্বকার অস্ত্র ক্রয় এবং ভবিষ্যৎ ক্রয় পরিকল্পনার বিশাল ফিরিস্তি দেখে অবাক লাগে কারন এগুলো কেনার পর রক্ষনাবেক্ষনের জন্যও বেয় করতে হবে প্রচুর অর্থ । আমাদের মত গরিব দেশে অর্থ বেয়ের আরও অনের প্রাইওরিটি আছে বলে আমি মনে করি ।
  • ১১
    AL is much better than BNP. They want to do something for country.
  • ১৫
    আমাদের সেনাবাহিনীর হাতে যদি পর্যাপ্ত সামরিক সরাঞ্জাম না থাকে তা হলে বাহিনী রেখে লাভ কি ? আমরা কার সাথে যুদ্ধ করব? আসে পাশে তাকালেই দেখতে পাবেন।
  • ১১
    @সৌরভ রায় (কোলকাতা)২০১৩-০৮-২৪ ০৮:৫১ via computer আপনারা যেভাবে সিমান্তে পেশী শক্তি দেখান আর মানুষ মারেন, তাতে অস্ত্র না কিনে কি কোন উপায় আছে? আমাদের দেশে একটি প্রবাদ আছে “বেড়ায় খেত খায়”
    • চোরা কারবারি বন্ধ হলেই সীমান্তে গুলি বর্ষণ বন্ধ হবে. BSF কখনোই বাংলাদেশের মধ্যে প্রবেশ করে এ্‌ই হত্যা করে না .
  • যুদ্ধটা কার সাথে ?
  • একটি দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে অস্ত্র ক্রয় করা অবশ্যই প্রশংসনিয়। কিন্তু যে দেশের মানুষ শীতের সময় গরম কাপড়ের অভাবে মারা যায়, বিনা চিকিতসায় মারা যায়, যে দেশে আজও মানুষের মৌলিক চাহিদা পুরন হয়না সে দেশে ১৫০০০ কোটি টাকার অস্ত্র ক্রয় হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়। আমাদেরকে বাচতে সহায়তা করুন, আমাদের মৌলিক চাহিদি পুরনে সহায়তা করুন। কোন সভ্য দেশই এখন যুদ্ধ চায়না। আর আমাদেরতো তেলের খনি নেই যে আমেরিকা আমাদের উপর আক্রমন চালাবে রাষায়নিক অস্ত্র আছে বলে !!!!
    • that totally nonsense ! ! we spend only 1.5% GDP in defence, why are you obsessed with this 1.5% ? what about 98.5% of GDP ? use them properly then you will not see any type of that situation, if you can not take care of 98.5% GDP properly, do not talk about 1.5%
  • বড় বড় ডিল, বড় বড় %।
  • যুদ্ধ করি বা না করি নিজেদের নিরাপদ রাখতে হলে প্রতিরক্ষার জন্য ব্যয় করতে হবে । তবে তা েগাপনে করাটা ঠিক হয় নি ..... কারন আগে একই ভাবে অস্ত্র কিনে অভিজুগ উঠেচিল । এবার ও সেই একই প্রশন .. কমিশন নয় তু ????????? অবশ্য এটা বাংলাদেশের কালচার .......।
  • Hope to know that awamileague government has changed its policy regarding Armed Forces...!! Good for the country and people...Hope we will be more secured from any outside attack...It would be nice if we could secure our border more...
  • সাবাশ ......... পতিরক্ষা ছাড়া দেশ , হাট পা হীন পঙ্গুর মতো ।
  • এজননই পরতিবেশি দেশগুলু আওয়ামিলিগ সরকারকে কিছুটা হলেও ভয় পায় | সেনা বাহিনির শ্বংখলা বজায় রাখতে হবে | এ| সরকার সফলতার সাথে মিয়ানমার এর নিকট থেকে ১১১০০০ বরগ কিলমিটারের সমুধর বিশাল এলাকা জয় করে দেশের আয়তন বাড়িয়ে দেশকে মৎস ও খনিজ সমপদে সমরিধধ করেছে | তবে কেনা কাটায় সছচতা থাকা উচিত|
  • sob i thik ache, ja dorkar ta kinuk :) Proti bochor shoto koti taka r gola barud expire hoi jai, ogula agun a jalai dewa hoi.
  • It will be discovered after Awami govt. that all of them (weapon) are so obsolete which are kind of trash & 50% commission in govt. pocket. Why they buy from Russia only? I am positive there are some very sweet honey for these types of deal.
    • কারন রাশিয়া হচ্ছে এমন একটি দেশ যারা বাংলাদেশকে সব সময় সাপোর্ট করেছে ...... ৭১ সালে আমেরিকান নৌ বাহিনীর বিরুধে জবাবটা রাশিয়াই দিয়েছিল..........।
    • mohammad , read history , Russia was always our good friend , they saved us 4m USA navy in 1971 .
  • দেশও আমাদের সেনাবাহিনীও আমাদের। তার প্রয়োজনও মেটাতে হবে আমাদেরকেই। কিন্তু ষেঅল কোটি মানুষের বিপুল অনিশ্চয়তার মাঝে কতোটা জবাবদিহিতার মানদণ্ড ধরে রাখে নৈতিকতার বিচারে। ষোলকোটি মানুষ যদি তাদের সিনা চেতিয়ে স্ব-দেশ স্ব-জন এবং স্ব-কালকে রক্ষা করতে না পারে তবে কোন সেনাবাহিনী আছে তা করবে বা করতে পারে? শিক্ষা স্বাস্থ্য জনপরিষেবা যেখানে এখনো আধুনিক পৃথিবী থেকে লক্ষ যোজন দূরে সেখানে ধার করে বিলাস করবার রাষ্ট্রীয় নৈতিকতা আদৌ মানা সম্ভব? গাছেরটা খাওয়া আর তলারটার কুড়াবার নীতিতে এগিয়ে চলা বাহিনী স্বচ্ছতা ছাড়া গণতান্ত্রিকতার দায় কতোটা মেটাতে পারে? গর্ব যেমন আমরা করি তেমনি কালো ইতিহাসও কম নয়, সেটা বিবেচনায় না নিয়ে স্বচ্ছতাকে পাশ কাটিয়ে চলতে গেলে লক্ষ্য হাসিলের সম্ভাবনা বরাবরই কম। আর এটা রাষ্ট্রে মৌলনীতিরও পরিপন্থি বটে।
  • আমার কেন জানি মনে হচ্ছে আমরা বার্মার সাথে ভবিষ্যতে সামরিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ব, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সামরিক intervention এর কোনো বিকল্প দেখছিনা, আমি মনে করি আমাদের বিমান বাহিনীকে আরো সম্মৃদ্ধশালী করা উচিত, modern warfare এ যুদ্ধ বিমানের বিকল্প নেই. আমাদের এ কথাও মনে রাখা উচিত যে UN এর peace mission গুলিতে আমরা আমাদের সমরাস্ত্র ব্যবহার করতে পারি এমং এর জন্য আমরা উপযুক্ত পারিশ্রমিক পাবো
  • এইখানে যারা বলছেন সামরিক সরঞ্জাম কিনে কি হবে, যুদ্ধ কার সাথে করব ইত্যাদিইত্যাদি..। আল্লাহ না করুক যদি বাংলাদেশ কোনদিন আক্রান্ত হয় ঠিক তারাই বলবেন সামরিক খাতে বাজেটে বরাদ্দ টাকা দিয়ে কি ঘাশ কাটা হয় নাকি, টাকা গেসে কই ব্লা ব্লা.. অথচ দক্ষিণ এশিয়াতে বাংলাদেশ সামরিক খাতে জিডিপি পারসেনটেজ হিশেবে সবচেয়ে কম খরচ করে। এমনকি নেপালের মত দেশের চাইতেও কম পারসেনটেজ খরচ করে। Sri Lanka: 3.5% of the GDP, Pakistan: 2.7% of the GDP, India: 2.5% of the GD, Nepal: 2.0% of the GDP, Bangladesh: 1.5% of the GDP Source: http://en.wikipedia.org/wiki/List_of_countries_by_military_expenditures অস্ত্র ছাড়া আর্মি কি হাত পা নাক মুখ দিয়ে দেশ রক্ষা করবে কামান, রাইফেল, বিমানের বিরুদ্ধে? ডাবল স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন না করে দেশের স্বার্থ বুঝেন।
    • যারা বলছেন সামরিক সরঞ্জাম কিনে কি হবে, তাদের উদ্দেশ্য আমার আর একটু কথা । ঘড়ে তরকারি কাটতে বটি লাগে হাত দিয়ে তা কাটা যায় না বা পাসের বাড়ির আন্টি আপনার তরকারি প্রতিদিন কেটে দেবে না .... দেশের সুরক্ষার বাবস্থা দেশকেই করতে হবে ।
  • We have need first infrastructure development for increase our GDP growth. No need unnecessary purchase Military arms & equipment's. We are a peaceful nation & we always want a peaceful world..
    • we may want peace without arms, does others think like us ?
  • so painful...our army is also corrupted!!! They're sucking people's blood money!!!
  • সংবাদের শিরোনামটিই ছিল আতংকের। পড়ে দেখি স্বাভাবিক। একটি দেশে সেনাবাহিনী থাকলে অস্ত্র লাগবেই। একটি দেশ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মত দুর্নীতিবাজ থাকলে দুর্নীতি হবেই। কোনটাই অস্বাভাবিক নহে।
  • আচ্ছা এই টাকা দিয়ে সিংগাপুরের হসপিটালের মত একটা হসপিটাল করা যেতনা? ওরকম একটা হসপিটাল হলে আমাদের রুগ্ন রাষ্ট্রপতি মন্ত্রী নেতা নেত্রীদের সিংগাপুর ব্যাংককে যেয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর দরকার পরত না?
  • I do strongly support to strengthen the state defence as a whole. But the problem is that we do spend the hard-earning money of the public to buy weapons that are normally obsolete - demo is MIG 29!!! Why do not we spend money on the latest military equipment??? The concerning point is also to buy from Russia because civil service along with the government of Russia is like our big brother in terms of corruption - they are much more corrupted. I do not also understand why we should buy weapons from Belarus with which we have just started to make relations. Please note that when we buy weapons from any country, it is the selling country that also gains more than the buying country!
  • রাডার (Rudder) না, রেডার। A rudder is a device used to steer a ship, boat, submarine, hovercraft, aircraft, or other conveyance that moves through a medium (generally air or water). On an aircraft the rudder is used primarily to counter adverse yaw and p-factor and is not the primary control used to turn the airplane. A rudder operates by redirecting the fluid past the hull or fuselage, thus imparting a turning or yawing motion to the craft. In basic form, a rudder is a flat plane or sheet of material attached with hinges to the craft's stern, tail, or after end. Radar is an object detection system which uses radio waves to determine the range, altitude, direction, or speed of objects. It can be used to detect aircraft, ships, spacecraft, guided missiles, motor vehicles, weather formations, and terrain. The radar dish or antenna transmits pulses of radio waves or microwaves which bounce off any object in their path. The object returns a tiny part of the wave's energy to a dish or antenna which is usually located at the same site as the transmitter.
  • মিয়ানমার এবং ভারতের প্রতিবেশি দেশ হিসেবে সামরিক খাতে ব্যয় কে অপ্রয়োজনীয় ভাবাটাই বোকামি। সাধারণ মানুষ হিসেবে আমরা খালি বলতে চাইব যে , সীমান্তে বিএসএফ বা নাসাকা যেন বাড়াবাড়ি করার আগে ভয় পায়। সমুদ্র সীমায় আমাদের জেলেরা যেন নির্ভয়ে মাছ ধরতে পারে। জলদস্যুরা যেন বাংলাদেশের জাহাজ কে এটাক করার আগে দুইবার ভাবে।
  • আমাদের দেসের ৪০%মানুষ এখন দরিদ্র। আর অস্র কেনায় খরচ হচ্ছে এত্ত টাকা। মানতেই পারছিনা।
  • ভিনদেশে কোনো শত্রুরতো কোনো আলামত নাই ( অন্তত অস্র যুদ্ধ করার মতোন ) .. তাহলে কি শুধুমাত্র ঘরের শত্রুকে মারতেই ১৫ হাজার কোটি টাকার অস্র ?? কেনোরে বাবা লাঠি , চাকু , ছুরি , রামদা এগুলো দিয়েইতো ভালো কাজ চলে ।
  • আমরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে এত ভাবছি, শাহিনাদের নিরাপত্তার কথা কে ভাববে?
  • বাংলাদেশ মনে হয়ে আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে! অথবা এই সমস্ত ব্যয় অপ্রয়জনীয় ভাবে বিমান বন্দর বানানোর উছিলা দিয়ে অর্থ লুটপাট করার পথ সুগম করার মত নতুন লুটপাটের পথ। এই ভাবেই আমাদের ভবিষ্যত লুটপাট করে নিচ্ছে ওরা।
    • only on sentence for you, study on defense.
  • Dr. Bijon I know you are well educated person. But apnar comments dekhe mone hoy apni asole AL er...nije educated hoye kivabe bolen je akti desh er morjada r evaluation hoye military power diye..ai sob bad diye parle desh er jonno valo kichu korun..ar valo ke valo ar karap ke karap bolte sikhun..don't take my comments as advice
  • সশস্ত্র বাহিনীর কেনাকাটার ব্যাপারে জানতে চেয়ে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে গত ১ মার্চ আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারের কাছে লিখিতভাবে তথ্য চাওয়া হয়। জবাবে আইএসপিআর থেকে ২৫ মার্চ লিখিতভাবে জানানো হয়, ‘বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট হওয়ায় উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়।’ - যেইনা সমরশক্তি! তার আবার গোপনীয়তা! সবাই যেখানে নিজেদের সমরাস্ত্র নিয়ে যৌথ মহড়ায় অংশ নিয়ে নিজেদের শক্তি বিশ্বের সামনে প্রদর্শন করতে উঠে পড়ে লাগে, সেখানে এদেশের কর্মকর্তারা কি এমন বাহাদূরী গোপনীয়তা বুঝাচ্ছেন - তা বোধগম্য নয়। তবে নিজেদের উদ্ভাবিত সমরাস্ত্র হয়ে থাকলে তার গোপনীয়তার বিষয়টি না হয় গুরুত্ব পেত। অনেকেই মনে করছে পদ্মা সেতুর মত কোন ঘটনা ঘটলো কিনা তা জানার অধিকার দেশের জনগণের রয়েছে।
  • জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেলারুশ সফরের সময় দুই পক্ষের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি হয় বলে জানা যায়। তবে সরকারিভাবে এসব চুক্তির কথা স্বীকার করা হয়নি। ----------সামরিক বাহিনীর সব প্রকাশ করা উচিত নয়, আপনারা কি এই বিষয়ও বোঝেন না
  • The Parliament should have been informed by the govt. about these purchase. Without the oversight of the parliamentary committee, there is always chance of corruption. And the bottom line is if the money is paid from tax payer's pocket, they have the right to know where it will be spent.
  • বাংলাদেশে প্রতিরক্ষা নীতি নাই এখনো, শুনতে কেমন কেমন লাগে।
  • i agree with you @milon (Gazipur)
  • বেলারুশ থেকে মানধাতা আমলের অসএ কেনার কোন মানে নেই । অযথা পয়সা জলে ফেলা !