Tuesday, July 11, 2017

ঘরে বউ রেখেই সোনিয়াকে উত্ত্যক্ত করতো তানভীর

বখাটেপনা ছাড়াতে প্রায় ৪ মাস আগে বিয়ে করানো হয়েছিলো তানভীর (২৪)কে। তারপরও দোষ কাটেনি তার। ঘরে বউ রেখেই উত্ত্যক্ত করতো অন্য মেয়েদের। বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শনিবার এক কলেজছাত্রীকে ছুরিকাঘাত করে সে। থানায় মামলা হলেও এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি তাকে পুলিশ। তার বিষয়ে খোঁজ নিতে শহরের মেড্ডা এলাকায় গেলে অনেকেই জানান, তানভীর এলাকার চিহ্নিত বখাটে। বছরখানেক আগে নারী সংক্রান্ত এক ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিলো। তখন জেলও খাটে সে। এরপরই সরাইলের শাহবাজপুরে বিয়ে করানো হয় তাকে। তারপরও কলেজ ছাত্রী সোনিয়া আক্তার (২২) কে বিয়ের জন্যে উত্ত্যক্ত করে আসছিলো সে। বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শনিবার সোনিয়াকে ছুরিকাঘাত করে তানভীর। আহত সোনিয়াকে প্রথমে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এঘটনায় ওইদিন রাতেই সোনিয়ার পিতা মলাই মিয়া বাদী হয়ে বখাটে তানভীরকে এজাহারনামীয় এবং আরো ২/৩ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে সদর মডেল থানায় একটি মামলা দেন। পুলিশ সোহেল নামে তানভীরের এক সহযোগিকে গ্রেপ্তার করেছে। তানভীর মেড্ডা মৌবাগের মিজানুর রহমানের ছেলে। তার মা শিউলি বেগম বলেন, আমার ছেলে (তানভীর) খুব ভালো। পাড়ার লোকজনকে জিজ্ঞেস করলেই জানতে পারবেন। ওই মেয়ে (সোনিয়া) সুবিধের নয়। ছেলেকে বিয়ে করিয়েছি। বউয়ের ঘরে বাচ্চা হবে। ৩ মাসের গর্ভবতী সে। ছেলের বিরুদ্ধে আগে নারী সংক্রান্ত কোন অভিযোগ নেই বলেও দাবি করেন শিউলি। ঘটনার শিকার সোনিয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামের মলাই মিয়ার মেয়ে। শহরের কলেজপাড়ায় একটি বাসার একরুমে ভাড়া থেকে পড়াশুনা এবং চাকুরি করতো সে। সোনিয়া সদর উপজেলার চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অনার্স কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। সোনিয়ার পরিবারের লোকজন জানান, গত দেড় বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তানভীরের সঙ্গে পরিচয় হয় সোনিয়ার। এ পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে তানভীর বিয়ের প্রস্তুাব দিলে বিষয়টি পরিবারকে জানায় সোনিয়া। তবে তানভীরের স্বভাব-চরিত্র ভালো না হওয়ায় সোনিয়ার বাবা বিয়ের প্রস্তাব নাকচ করে দেন। সোনিয়া তার পরিবারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে তানভীরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এরপরও তানভীর প্রায়ই সোনিয়াকে উত্ত্যক্ত করতো। উত্ত্যক্তের বিষয়টি তানভীরের পরিবারকে জানায় সোনিয়া। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শনিবার বিকেলে কালিবাড়ি মোড়ে জেএসজে ডেন্টাল পয়েন্টে এসে তারভীর সোনিয়ার মাথা ও বাম হাতে উপুর্যপুরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার ঘণ্টা দেড়ের আগে  তানভীর সোনিয়ার বাসায় গিয়ে হুমকি দিয়ে আসে।

প্রকাশ্যে কাঁদলেন শ্রীদেবী

শুরুটা একটু ধীর গতিতে হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রেক্ষাগৃহে বেড়েছে দর্শকের সংখ্যা। ব্যবসায়ের নিরিখে প্রথম সপ্তাহেই বেশ ভাল ফল করেছে শ্রীদেবীর ‘মম’। কিন্তু ছবির ভাল ব্যবসা সত্ত্বেও সুখে নেই ‘মিস হাওয়া হাওয়াই’। মনের কোণে তার জমে রয়েছে ভীষণ দুঃখ। কেন? কারণ সাফল্যের এই দিনে তিনি মিস করছেন নিজের পাকিস্তানি সহকর্মীদের। এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে নিজের এই আবেগ প্রকাশ করেই ফেললেন বলিউড ডিভা। নিজের পাক সহকর্মীদের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ক্যামেরার সামনেই কেঁদে ফেললেন শ্রীদেবী। সাসপেন্স থ্রিলার হলেও ‘মম’-এ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মা ও মেয়ের সম্পর্ক। শ্রীদেবী নিজেও বাস্তব জীবনে দুই কন্যার মা। শোনা গিয়েছে, ছবি তৈরির সময় নিজের অনস্ক্রিন কন্যা সজল আলির সঙ্গে বেশ ভাল সম্পর্ক তৈরি হয়ে গিয়েছিল নায়িকার। নিজের মেয়ের মতোই ভালবেসে  ফেলেছিলেন পাকিস্তানি সহকর্মীটিকে। একইসঙ্গে বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল পাক কো-স্টার আদনান সিদ্দিকির সঙ্গে। সকলে মিলে কঠিন পরিশ্রম করে সিনেমাটি তৈরি করেছিলেন। কিন্তু সিনেমা তৈরি ও তার সাফল্যের এই দিনের মাঝে গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। পালটে গিয়েছে দুই দেশের সম্পর্কের সমীকরণ। নিত্যদিন পাকিস্তানি সেনার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। যোগ্য উত্তর দিচ্ছেন ভারতীয় জওয়ানরাও। পাক শিল্পীদের ভারতে আসার উপরও জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। তাই ছবির এই সাফল্যের দিনে শ্রীদেবীর পাশে নেই তাঁর অনস্ক্রিন কন্যা সজল ও বন্ধু আদনান। দু’জনকে ভীষণই মিস করছেন অভিনেত্রী। তাঁর এই আবেগই মিডিয়ার ক্যামেরার সামনে বেরিয়ে এল  চোখের জল হয়ে। অনস্ক্রিন ‘মম’-এর এই আবেগ ছুঁয়ে গিয়েছে তাঁর পাকিস্তানি কন্যা সজলকেও। ফেসবুকেই শ্রীদেবীকে উত্তর দিয়েছেন তিনি।

৭০ পার করা প্রেমিকাকে বিয়ে করল ১৬ বছরের কিশোর!

বিয়ের বয়সই হয়নি পাত্র সালামতের।
এ দিকে পাত্রী রোহায়া সেই বয়স পেরিয়ে গিয়েছেন বহু-বহু বছর আগে। প্রথা বা দেশের আইন— দুই-ই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে সব নিষেধ উড়িয়েই ইন্দোনেশিয়ায় ৭০ পার করা প্রেমিকাকে বিয়ে করল ১৬ বছরের কিশোর।
ইন্দোনেশিয়ার আইন অনুযায়ী, সেখানে মেয়েরা বিয়ে করতে পারেন ১৬ বছরে। ছেলেদের বেলায় বয়স হতে হবে অন্তত ১৯।
তা হলে কী ভাবে অসম্ভব সম্ভব হলো?
গ্রামের মাথারা জানাচ্ছেন, বাধ্য হয়েই বিয়েতে মত দিয়েছেন তারা। না হলে নাকি আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিল ওই যুগল! ইন্দোনেশিয়ার সমাজবিষয়ক মন্ত্রী যদিও জানিয়েছেন, পাত্রের যে হেতু বিয়ের বয়স হয়নি, তাই এই পরিণয়ের আইনি স্বীকৃতি নেই। শুধুমাত্র ছোট এক অনুষ্ঠানে চার হাত এক করা হয়েছে অসমবয়স্ক ওই যুগলের।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বেশ কয়েক বছর আগে মারা গিয়েছেন সালামতের বাবা। ছোট ছেলেকে রেখে ফের বিয়ে করেছিলেন মা। সেই থেকে একা সে। ছেলেবেলায় এক বার ম্যালেরিয়া হয়েছিল সালামতের।
সেই সময়ে তার সেবা করে সালামতকে সুস্থ করে তুলেছিলেন রোহায়া। সেই থেকেই দু’জনের সম্পর্কের শুরু।
কনে রোহায়ার এটি তৃতীয় বিয়ে। আগের দুই পক্ষের বেশ কয়েকটি ছেলেমেয়ে রয়েছে সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধার। দক্ষিণ সুমাত্রায় তাঁদের গ্রামের প্রধান সিক আনি বলেছেন, ‘‘ছেলেটি যেহেতু অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাই আমরা গোপনেই রাখতে চেয়েছিলাম গোটা ঘটনাটি।’’ যদিও তা চাপা থাকেনি। সম্প্রতি ওই বিয়ের পরে অনলাইনে সেই ভিডিও ছড়িয়ে যেতেই হইচই পড়ে গিয়েছে সর্বত্র।
গ্রাম প্রধানেরা জানাচ্ছেন, টাকা বা শারীরিক আকর্ষণ নয়। রোহায়ার থেকে পাওয়া স্নেহ-যত্নের টানেই তাকে বিয়ে করতে চায় সেলামত। বাল্যবিবাহ বিরোধী অভিযানের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মী বলেছেন, ‘‘ছেলেটি একেবারে অপরিণত। সে মনে করেছে, একসঙ্গে না থাকলে রোহায়ার ভালোবাসা পাওয়া যাবে না। আর একসঙ্গে থাকার একমাত্র উপায় বিয়ে।’’
দক্ষিণ সুমাত্রার গভর্নর অ্যালেক্স নোয়েরদিন বলেন, ‘‘দু’জনের বয়সের ফারাক প্রচুর। অনেক সময়েই দেখা যায়, কনের বয়স খুব কম। কিন্তু এই বিয়ের ক্ষেত্রে তো দেখছি, বিষয়টা একেবারে উল্টা!’’

সহ্য করতে না পেরে আমি মুখ খুলেছি by ফয়সাল রাব্বিকীন

গত কয়েক মাস ধরেই হাবিব ওয়াহিদের সঙ্গে মডেল-অভিনেত্রী তানজিন তিশার প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন চলছিলো। কিন্তু সম্প্রতি হাবিব ওয়াহিদের সাবেক স্ত্রী রেহান চৌধুরী তার ডিভোর্সের জন্য সরাসরি দায়ী করেছেন তানজিন তিশাকে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। এমনকি তানজিন তিশার সঙ্গে হাবিবের লিভ টুগেদারের সম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি রেহানের। গত দুদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে মিডিয়া পাড়ায়। এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে হাবিব ও তানজিন তিশা ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তাদের বক্তব্য পরিষ্কার করেছেন। তারা দুজনই নিজেদের সম্পর্ককে ‘একান্ত ব্যক্তিগত’ বলে জানিয়েছেন। তবে ডিভোর্সের কয়েক মাস পর রেহান কেন বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন? হাবিব-রেহানের ডিভোর্সের পেছনের রহস্যটাই বা কি ছিলো? এরকম প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে হাবিব ও তিশা ভক্তদের মাথায়। রেহান হাবিবের দ্বিতীয় স্ত্রী। ২০১১ সালের ১২ই অক্টোবর হাবিব ওয়াহিদের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন চট্টগ্রামের মেয়ে রেহান। পরের বছরের ১৪ই ডিসেম্বর তাদের ঘরে আসে পুত্র সন্তান আলিম। চলতি বছরের ১৯শে জানুয়ারি ডিভোর্স হয়ে যায় হাবিব-রেহানের। রেহানের কাছে প্রথম প্রশ্ন ছিলো বেশ কয়েক মাস হয়ে গেছে হাবিবের সঙ্গে আপনার ডিভোর্সের। এতদিন পর কেন এ বিষয়ে মুখ খুললেন? এতদিন চুপ থাকার কারণই বা কি? উত্তরে হাবিবের এই সাবেক স্ত্রী বলেন,  বিশ্বাস করুন আমি এ বিষয়ে একদমই কথা বলতে চাইনি। কারণ আমি আমার মতো করে চলতে চেয়েছিলাম ডিভোর্সের পর থেকে। কিন্তু আমাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করেই যাচ্ছে তানজিন তিশা। বেশ কয়েকবার সে আমাকে গালি দিয়ে এসএমএস করেছে। সেই স্ক্রিনশটও আমার কাছে আছে। আমার কারণে নাকি হাবিবের সঙ্গে তার ব্রেকআপ হয়েছে। এমন অভিযোগ সে করে আসছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে ডিভোর্সের পরও কেন আমাকে মানসিক যন্ত্রণায় থাকতে হবে? তিশাই বা কেন আমাকে এসএমএস করবে! এই বিষয়ে কি আপনি হাবিব ওয়াহিদের সঙ্গে কথা বলেছেন? উত্তরে রেহান বলেন, কয়েক দফা বলেছি। সে আমাকে বুঝিয়েছে তিশা নাকি মানসিক যন্ত্রণায় আছে। রেহান তুমি কিছু মনে করো না। আমি দেখছি। ব্যাস এই পর্যন্তই। কিন্তু তিশার বাজে এসএমএস দেয়া বন্ধ হয়নি। কিন্তু ডিভোর্সের জন্য আপনি তিশাকে দায়ী করছেন। বিষয়টি কি খুলে বলবেন? কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেহান বলেন, ডিভোর্সের আগে প্রথমবারের মতো জানতে পারি ভারতের গোয়ায় তিশার সঙ্গে গিয়ে দশ দিন থেকে এসেছে হাবিব। সে সময় অনেকবার ফোন দিলেও হাবিব রিসিভ করেনি। আমার মানসিক অবস্থা তখন খুবই খারাপ। হাবিব দেশে ফেরার পর বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম। সে উত্তরে বললো হ্যাঁ আমরা একসঙ্গে গিয়েছি। তো কি হয়েছে! আল্লাহর হুকুম হয়েছে তাই আমাদের প্রেম হয়েছে। একটু কষ্টের কথা বলি। গত ডিসেম্বরের ১৪ তারিখ ছিলো আমাদের ছেলে আলিমের জন্মদিন। তখনও আমাদের ডিভোর্স হয়নি। সেদিন আমি রান্নাবান্না করে বসে আছি হাবিবের অপেক্ষায়। কিন্তু তানজিন তিশা হাবিবকে স্টুডিওতে ডাকলো। সেও নাকি রান্না করে নিয়ে এসেছে। হাবিব ঠিকই স্টুডিওতে চলে গেল। এরকমভাবেই প্রচুর অপমান হয়েছি। শেষে হাবিবই আমাকে বললো চলো আমরা ডিভোর্স করি। তুমিও স্বাধীন হও। আমরাও স্বাধীন হয়ে যাই। ডিভোর্সের পর আমি বাচ্চাটাকে নিয়ে হাফ ছেড়ে চলে আসি। কিন্তু তার পরও তিশা বাজে বাজে এসএমএস  পাঠাতে থাকে। আমি নাকি হাবিবের সঙ্গে তার ব্রেকআপের জন্য দায়ী! আমাকে গালি শুনতে হয়েছে অনেক। কেন এটা হবে? এজন্যই সহ্য করতে না পেরে আমি মুখ খুললাম। দুই দিন পর পর হাবিব-তিশার ব্রেকআপ হয়। আবার তারা সিলেট কিংবা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাচ্ছে। আমি চাইলে আগেই ডিভোর্স নিতে পারতাম। কিন্তু সন্তানের দিকে তাকিয়ে আমি সহ্য করেছিলাম তখন। হাবিব ওয়াহিদও বিষয়টি নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। দেখেছেন নিশ্চয়ই? রেহান বলেন, দেখেছি। একদমই মিথ্যা কথা। সে একটা মিথ্যাবাদী। এটা আমার চেয়ে ভালো কেউ জানে না। একটা কথাই বলবো, আমার উপর মানসিক নির্যাতন বন্ধ করুন। কারণ কাদা ছোড়াছুড়ি করতে আমারও ভালো লাগে না। আমি সাধারণ ঘরের মেয়ে। সাধারণ ভাবেই বাঁচতে চাই।

গাদ্দাফির সঙ্গে ক্যাটরিনা!

ক্যাটরিনা কাইফের ‘জাগগা জাসুস’ এই সপ্তাহেই মুক্তি পাবে। এখন ছবির প্রচার নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত সময় পার করছেন এই অভিনেত্রী। প্রতিদিন সংবাদমাধ্যমের শিরোনামও হচ্ছেন। কিন্তু এবার তিনি আলোচনায় এলেন অন্য এক কারণে। পুরোনো একটি ছবি ভাইরাল হওয়ায় ক্যাটকে নিয়ে এখন অনেক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।
লিবিয়ার নিহত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির সঙ্গে বলিউডের এই অভিনেত্রীর ছবি সম্প্রতি ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে হাসিমুখে গাদ্দাফির পায়ের কাছে বসে আছেন ক্যাটরিনা।
সেই ছবিতে অবশ্য ক্যাটরিনা একা নন। ভারতীয় মডেল ও অভিনেত্রী নেহা ধুপিয়া, অদিতিসহ বেশ কয়েকজন নারীকেও দেখা যাচ্ছে। লিবিয়ায় একটি ফ্যাশন শোতে অংশ নিতে গিয়েছিলেন তাঁরা। লিবিয়া সফরের একফাঁকে মডেলরা সেই দেশের তৎকালীন নেতার সঙ্গে এই ছবিটি তুলেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্যাটরিনার বয়স তখন বড় জোড় ১৮ বছর। এর অনেক পরে তিনি বলিউডের নায়িকা হয়েছেন। কিন্তু যত যাই হোক। বিতর্কিত এক নেতার সঙ্গে তোলা এই ছবিটি ভাইরাল হওয়ার ভীষণ বিব্রত হয়েছেন ক্যাট।
এর আগে মার্কিন সংগীত শিল্পী বিয়ন্সে ও মারিয়াহ কেরি গাদ্দাফি পুত্রের ব্যক্তিগত পার্টিতে গান গেয়ে বিতর্কিত হয়েছিলেন। কিন্তু ১৫ বছর আগে তোলা ক্যাটরিনার সেই ছবিটি এত বছর পর কে প্রকাশ করল সেটাও ভাবাচ্ছে অনেককে। সূত্র: এনডিটিভি।

কাশ্মীরে তীর্থযাত্রীদের বাসে হামলা, নিহত ৭

ভারতের জম্মু-কাশ্মীরে একটি বাসে হামলায় ছয় নারীসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। হামলার এই ঘটনায় আরও ১৯ জন আহত হয়েছেন। সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজ্যের অনন্তনাগ জেলায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার বাসটি অমরনাথের তীর্থযাত্রীদের বহন করছিল। খবর এনডিটিভির। খবরে বলা হয়, পহলগাম থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে, একটি উপত্যকার শেষ প্রান্তে গিরিসঙ্কটের মধ্যে অবস্থিত একটি মন্দির পরিদর্শন শেষে ফিরে আসার সময় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা তীর্থযাত্রীদের বহনকারী বাসটি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে, বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী লস্কর ই তৈয়বা হামলাটি চালিয়েছে এবং এ হামলার পরিকল্পনা করেছে পাকিস্তানি জঙ্গি ইসমাইল। এদিকে প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচ্ছিন্নতাবাদীরা প্রথমে পুলিশের একটি সাঁজোয়া গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে,
সাঁজোয়া গাড়ি থেকেও পাল্টা গুলি ছোঁড়া হয়। এ সময় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বেপরোয়া গুলিবর্ষণ শুরু করলে তীর্থযাত্রীরা তার শিকার হন। এক যাত্রী বলেন, গোলাগুলি শুরু হওয়ার সময় আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম, দুইপাশ থেকেই গুলি শুরু হয়। সেখানে কতোজন ছিল তা জানি না আমরা। এর আগে একই বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বাস হামলার ঘটনাস্থল থেকে ৬০০ মিটার দূরের একটি নিরাপত্তা তল্লাশিচৌকিতেও গুলিবর্ষণ করেছিল বলে জানা গেছে। এক বিবৃতিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মুফতি বলেছেন, আমাদের মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে। এই জঘন্য অপরাধে জড়িতদের শিকড় উপড়ে ফেলতে একটি পাথরও উল্টানো ছাড়া ফেলে রাখবো না আমরা। একে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বর্ণনা করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ‘কাপুরুষোচিত এসব হামলার কাছে’ ভারত কখনো নতি স্বীকার করবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

নারীমুক্ত সেই দ্বীপ এখন বিশ্ব ঐতিহ্য

জাপানের নারীদের জন্য নিষিদ্ধ দ্বীপটিকে বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার দেশটির ওকিনোশিমা নামের এ দ্বীপকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। প্রাচীনকাল থেকেই দ্বীপটি নারীদের জন্য নিষিদ্ধ। খবর বিবিসির। চোখ-ধাঁধানো প্রাকৃতিক শোভায় সমৃদ্ধ ওকিনোশিমা দ্বীপটি মুনাকাতা তাইশা ওকিটসুমিয়া মঠের জন্য বিখ্যাত। মঠটি সপ্তদশ শতকে সমুদ্রের দেবীর সম্মানে নির্মাণ করা হয়। জাহাজের নাবিকদের নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করতেই উপাসনালয়টি নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে মঠটি নির্মাণের আগেও সেখানে ধর্মীয় আচার পালন করা হতো। দ্বীপটি ঘিরে রয়েছে আজব সব রীতিনীতি। সেখানে প্রবেশের আগে পুরুষদের সব পোশাক খুলতে হয়। এ ছাড়া বিশেষ নিয়ম মেনে পরিচ্ছন্ন করে নিতে হয় নিজেদের।
দর্শন শেষে ফেরার সময় কেউ দ্বীপটি থেকে কোনো জিনিসপত্র সঙ্গে নিতে পারেন না। এ ছাড়া সেখানকার কোনো খবরও ফাঁস করা নিষেধ। দ্বীপটিতে বিভিন্ন সময় পাওয়া গেছে প্রাচীন শিল্পকর্মের নিদর্শন। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছিল সেগুলো। এর মধ্যে কোরিয়া উপদ্বীপ থেকে আনা সোনার আংটিও রয়েছে। বর্তমানে বছরে শুধু একদিনের জন্য সর্বসাধারণের জন্য দ্বীপটি খুলে দেয়া হয়। দিনটি হচ্ছে প্রত্যেক বছরের ২৭ মে। তবে তা করা হয় প্রাচীন সব নিয়মনীতি মেনেই। সেদিন দর্শনার্থীর সংখ্যা সীমাবদ্ধ থাকে ২০০ জনে। শুধু পুরুষরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই সেদিন ঘুরে দেখতে পারেন দ্বীপটি।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন উচ্চ আদালত। আদালতের নির্দেশনা অনুসারে এক শিক্ষকের বেতন ভাতা পরিশোধ না করায় এ রুল দেয়া হয়। মঙ্গলবার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি আশিস রঞ্জন দাশের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন। আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করায় তার বিরুদ্ধে কেনো আদালত অবমাননার কার্যক্রম শুরু করা হবে না, এর জবাব জানতে দুই সপ্তাহ সময় দেয়া হয়েছে উপাচার্যকে। রিট আবেদনকারী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মো. হাফিজুর রহমানের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী আবদুর রব চৌধুরী ও মো. গিয়াসউদ্দিন। গিয়াস উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক (শিক্ষা) মো. হাফিজুর রহমানকে জাতীয় বেতন স্কেল ১৯৯৭, ২০০৫, ২০০৯ ও ২০১৫ অনুযায়ী বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট একটি রায় দেয়। কিন্তু আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে বেতন-ভাতা না দেওয়ায় গত ৪ জুন হাফিজুর রহমান আদালত অবমাননার আবেদন করেন। এর শুনানি শেষে মঙ্গলবার রুল জারি করলো হাইকোর্ট।

বিরল রোগে আক্রান্ত মুক্তামনিকে ঢামেকে ভর্তি

বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার শিশু মুক্তামনিকে মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। তার চিকিৎসায় আট সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করার কথা রয়েছে। সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমান জানান, ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ডা. সামন্ত লাল সেনের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা শুরু হয়েছে। এজন্য আট সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ডও গঠন করা হচ্ছে।  শিশু মুক্তামনির বাবা সাতক্ষীরার সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামের মুদি দোকানি ইব্রাহীম হোসেন জানান, মঙ্গলবার সকালে তিনি তার মেয়েকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এসেছেন। সকাল ৯টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সে ৬০৮ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন। জন্মের দেড় বছর পর ১২ বছরের শিশু মুক্তামনির দেহে একটি ছোট মার্বেলের মতো গোটা দেখা দেয়। এরপর থেকে সেটি বাড়তে থাকে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়েও তার কোনো চিকিৎসা হয়নি। তার আক্রান্ত ডানহাত এখন ছোট আকারের গাছের গুড়ির রুপ নিয়ে প্রচণ্ড ভারী হয়ে উঠেছে।
এতে পঁচনও ধরেছে। পোকাও জন্মেছে। দিন রাত চুলকানি ও যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে থাকে মুক্তামনি। আক্রান্ত স্থান থেকে বিকট গন্ধ ছুটছে। এ রোগ তার দেহের সর্বত্র ছড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা। এসব কারণে তাদের বাড়িতে আত্মীয় স্বজন ও পড়শিদের যাতায়াতও এক রকম বন্ধ হয়ে গেছে। সম্প্রতি মুক্তামনির এই বিরল রোগ নিয়ে দৈনিক যুগান্তরসহ দেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরই  তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসার উদ্যোগ নেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।   ঢাকায় অবস্থানরত শিশু মুক্তার মা আয়েশা খাতুন ও তার বাবা ইব্রাহীম হোসেন যুগান্তরকে মোবাবাইল ফোনে বলেন, ‘ডা. সামন্তলাল তাদের মেয়ের চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিয়েছেন। বর্তমানে তার রক্তশূন্য দেহে রক্ত দেয়া হচ্ছে। এছাড়া উন্নত মানের খাবার খাইয়ে তাকে সুস্থ করে তুলবার পর মূল চিকিৎসা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। ঢামেক বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের চিকিৎসক ডা. শামন্ত লাল সেন জানান, তিনি এবং বার্ন ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ প্রাথমিকভাবে তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন। বুধবার মুক্তা মনির চিকিৎসার বিষয়ে একটি বোর্ড গঠন করে তার চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিল ফের পেছাল

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিলের জন্য ফের নতুন তারিখ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার প্রতিবেদন দাখিলের কথা থাকলেও তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) তা দাখিল করতে পারেনি। এ প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. খুরশীদ আলম প্রতিবেদন দাখিলে ২৩ আগস্ট নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। এসময় মামলায় মোট ৮ আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। এদিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়ার পরও দীর্ঘদিনে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার কোনো ক্লু উদ্ঘাটন করতে পারেনি তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সরোয়ার ওরফে সাগর সরোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনী দম্পতি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের নিজ বাসায় খুন হন। এ ঘটনায় রুনীর ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। হত্যার চার দিন পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওপর ন্যস্ত করা হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হয় ডিবি। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল এ হত্যা মামলার তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে র‌্যাব সদর দফতরের উপ-পরিচালক সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মহিউদ্দিন আহমেদ মামলাটির তদন্ত করছেন। র‌্যাব এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করে।

চট্টগ্রামে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ ৯ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

চট্টগ্রামে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ওই সভায় ৬ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এসব প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। একনেক সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করেন।

৩৮তম বিসিএস আবেদনে এনআইডি বাধ্যতামূলক নয়

৩৮ তম বিসিএস পরীক্ষার আবেদনে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য প্রদানের বাধ্যবাধকতা তুলে নিয়েছে জাতীয় কর্মকমিশন (পিএসসি)। মঙ্গলবার পিএসসি'র জনসংযোগ কর্মকর্তা ইসরাত শারমিন ঈশিতা যুগান্তরকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রাথমিক আবেদনে এনআইডি'র তথ্য প্রদানের বাধ্যবাধকতা নেই। তবে লিখিত পরীক্ষা অথবা মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। পিএসসির এই কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিক আবেদনে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। কিন্তু অনেকেই অভিযোগ করছেন, এখনও তারা আইডি হাতে পাননি অথবা অনেকের হারিয়ে গিয়েছে। তাই আপাতত এটা শিথিল করা হয়েছে। তবে যাদের কাছে এনআইডি রয়েছে তাদের তথ্য প্রদান করতে হবে বলে জানান তিনি। এদিকে সরকারি কলেজের প্রভাষক পদে আইসিটির অন্তর্ভুক্ত সব শিক্ষার্থীই আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন। মঙ্গলবার সকালে এ বিষয়েও পিএসসি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) পদের যোগ্যতায় চারটি বিষয়ের উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী তার অর্জিত শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়কে উল্লিখিত চারটি বিষয়ের মধ্যে যে বিষয়কে সংশ্লিষ্ট বিষয় মনে করবেন তিনি সেই বিষয়ের বিষয় কোড পূরণ করে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।’ প্রসঙ্গত, এবারের বিসিএসে ২৪টি ক্যাডারে সর্বমোট ২ হাজার ২৪ জনকে নিয়োগ করা হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আছে প্রশাসন ক্যাডারের সহকারী কমিশনার পদ ৩০০টি। এছাড়া পুলিশ ক্যাডারের সহকারী পুলিশ সুপার ১০০টি, স্বাস্থ্য ক্যাডারের সহকারী সার্জন ২২০টি, সহকারী ডেন্টাল সার্জন ৫টি, কৃষি ক্যাডারের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ১৮৯টি, পররাষ্ট্র ক্যাডারের সহকারী সচিব ১৭টি। আনসার ক্যাডারের ৩১টি, মৎস্য ক্যাডারের ২০টি, সহকারী বন সংরক্ষক ২২টি, শিক্ষা ক্যাডারের বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাষক ৯৭৩টি, ভেটেরিনারি সার্জন ২৫টি। সহকারী প্রকৌশলী ৩১টি, নিরীক্ষা ও হিসাব ক্যাডারের সহকারী মহাহিসাবরক্ষক ১১টি, কর ক্যাডারের সহকারী কর কমিশনার ৯টি, তথ্য ক্যাডারের ৩৫টি, রেলওয়ে প্রকৌশল ক্যাডারের নির্বাহী প্রকৌশলী ও সমমানের পদ ১০টি। ইকোনমিক ক্যাডারের সহকারী প্রধান ৬টি, রেলওয়ে পরিবহন ক্যাডারের ৭টি ও ডাক ক্যাডারের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল ৭টি পদ আছে। নতুন চাহিদাপত্র তৈরি হলে পদ সংখ্যা কিছু বাড়তে পারে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, গত ২০ জুন ৩৮তম বিসিএসের সার্কুলার জারি করে সরকারি কর্মকমিশন-পিএসসি।

৫৮ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতির গেজেট প্রকাশ

মহান মুক্তিযুদ্ধের চরমপত্রখ্যাত এমআর আখতার মুকুল, চলচ্চিত্রকার সুভাষ দত্ত, কণ্ঠশিল্পী ফকির আলমগীর ও তিমির নন্দীসহ ৫৮ জন সাংস্কৃতিক কর্মীকে (শব্দ সৈনিক) মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। গত ১২ মার্চ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৪৪তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মঙ্গলবার মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে। এমআর আখতার মুকুল, চলচ্চিত্রকার সুভাষ দত্ত, কণ্ঠশিল্পী ফকির আলমগীর ও তিমির নন্দীসহ স্বীকৃতি পাওয়া ৫৮ জন সাংস্কৃতিক কর্মী স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র এবং মুক্তিযুদ্ধকালে গঠিত সাংস্কৃতিক সংগঠনের হয়ে কাজ করেন। স্বীকৃতি পাওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন- চলচ্চিত্রকার জহুরুল হক, মুশতারি শফি, খন্দকার রাজু আহমেদ, কণ্ঠশিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন মাহজাবিন বেগম (কুইন), আজহারুল ইসলাম, আবু নওশের, সারোয়ার জাহান (মৃত), রেজওয়ানুল হক (মৃত), হযরত আলী বয়াতি (মৃত), মঞ্জুশ্রী নিয়োগী, মৃণাল ভট্টাচার্য্য, প্রবাল চৌধুরী (মৃত),
উমা খান, কল্যাণী ঘোষ, সুজিত রায়, গীতশ্রী চৌধুরী, এম কে কে সিদ্দিক, মোজাম্মেল হক, সাজেদা খাতুন, আমিরুল ইসলাম প্রধান, আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ নিয়াজ উদ্দিন, মোশাররফ হোসেন মশু, ধীরেন্দ্রনাথ নমদাস, শমসের আলী প্রধান (মৃত), মালা খুররম, শিবু রায়, শুক্লা ভদ্র, এনামুল হক, চিত্তরঞ্জন ভুইয়া, ফিরোজা চৌধুরী, যন্ত্রশিল্পী সুবল দত্ত (মৃত), মিলন ভট্টাচার্য্য, টেকিনিশিয়ান আমিনুর রহমান, অনুলিপিকার একরামুল হক চৌধুরী, মহিউদ্দিন আহমেদ, রেকর্ডিং সুপারভাইজার এএম শফিউর রহমান দুলু, যন্ত্রশিল্পী পরিতোষ কুমার সাহা, সুবল দত্ত (মৃত), হাজেন চন্দ্র পাহাড়ী (মৃত), আবু বকর সিদ্দিক প্রধান, অনুষ্ঠান সংগঠক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, মো. নজরুল ইসলাম (অনু ইসলাম), আ ম শারফুজ্জামান, ফয়েজ আহমদ (মৃত), তবলা বাদক সুব্রত সেনগুপ্ত, কথক ডা. দিলীপ কুমার ধর, সাব-এডিটর ম. মামুন, কবি নিরঞ্জন অধিকারী (সবুজ চক্রবর্তী), শাহ সালাউদ্দিন সাজ্জাদ (মৃত) প্রমুখ।

ঘরে ঘরে চিকুনগুনিয়ার যাতনা

রাজধানীতে বাড়ছে মশাবাহিত রোগ চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) হিসাব অনুযায়ী, গত মে থেকে জুলাইয়ের ৭ তারিখ পর্যন্ত চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ৫৬৬ জন আর চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৫০৩ জন। তবে প্রকৃতপক্ষে শুধু রাজধানীতেই চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যাটা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
চিকুনগুনিয়ার আগমন
১৯৫২ সালে আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ায় এ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। পরে তা সাতটি দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ভারত, ইন্দোনেশিয়া এবং নাইজেরিয়ার জনগণ এই ভাইরাস সংক্রমণের ক্ষেত্রে সবচে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন। ২০০৫ সালে ভারতে, ২০০৭ সালে ইতালি, ফ্রান্স, ক্রোয়েশিয়া ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের লোকজন চিকুনগুনিয়ার কষ্ট ভোগ করেন। ২০১৫ সালে আমেরিকাবাসী এ রাগের ভয়াবহতা টের পায়। এরপরের বছর ভারতের রাজধানী দিল্লিতে মশাবাহিত রোগ চিকুনগুনিয়া মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং শহরটিতে এক হাজারেরও বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে সে সময় জানিয়েছিল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। বাংলাদেশে চিকুনগুনিয়া প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ২০০৮ সালে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে। পরে ২০১১ সালে আবারও চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ঢাকার দোহারে এর প্রকোপ দেখা দেয়। তবে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে চলতি বছর ব্যাপক হারে চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
রোগীর কষ্টের সীমা নেই
চিকুনগুনিয়া রোগের কারণে জ্বর হয় এবং হাড়ের সন্ধিস্থলে ব্যথা হয়। অসুস্থতার কারণে অনেকে কর্মক্ষেত্রে যেতে পারছেন না। এজন্য নিন্ম আয়ের মানুষের উপার্জনও এখন বন্ধ। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরিজীবী আল আমিন হোসেন চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দুই সপ্তাহ ভুগেছেন। তিনি বলেন, এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম যে, আমার ছুটি থাকা সত্ত্বেও বাড়ি যেতে পারিনি। প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে ঢাকায় পড়ে ছিলাম। প্রথমে ব্যথা ছিল না, আস্তে আস্তে ব্যথা অনুভূত হয় এবং তা ক্রমেই বাড়তে থাকে। চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়া একজন বেসরকারি কর্মজীবী সাইফ হাসনাত জানান, চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তের প্রথমে রোজার মাসে সেহরি খেয়ে ঘুমানোর ঘণ্টাখানেক পরে পিঠের দিকে হঠাৎ ব্যথা অনুভব করেন। ব্যথাটা যেন পলকেই সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর শরীর কাঁপিয়ে নেমে আসে জ্বর, সঙ্গে বমি বমি ভাব। জ্বরের প্রথম দিনটা কাটে বেহুশের মতো। নড়াচড়া পর্যন্ত করার শক্তি ছিল না। ১২ ঘণ্টার মধ্যেই শরীর দুর্বল হয়ে অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়। এক মাসেও ব্যথাটা পুরোপুরি ঠিক হয়নি।
বর্ষা পর্যন্ত থাকছে চিকুনগুনিয়া
রাজধানীতে বৃষ্টি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত চিকুনগুনিয়ামুক্ত হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব নিন্মগামী নাকি ঊর্ধ্বগামী সে বিষয়ে তথ্য নেই জানিয়ে তিনি বলেন, চিকুনগুনিয়া বেড়েছে না কমেছে এটা সম্পর্কে এ মুহূর্তে কিছু বলতে পারব না। প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে তাই আমরা এডিস মশামুক্ত হব বা চিকুনগুনিয়ামুক্ত হব এমন পরিস্থিতি হয়তো হবে না। তবে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যতক্ষণ বৃষ্টি বন্ধ না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এ সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে একটি কন্ট্রোলরুম চালু করা হয়েছে, কোথায় মশা আছে বা প্রতিরোধে কোন ওষুধ কাজ করবে- এসব বিষয় সমন্বিতভাবে কাজ করতে সহায়তা করা হবে এবং আরও জনসচেতনা প্রচার করা হবে। শুধু ঢাকা নয়, ঢাকার বাইরেও সচেতনতায় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান অধ্যাপক আজাদ।
দুই সিটি কর্পোরেশনে ব্যয় ৩০ কোটি টাকা
মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ রাজধানীবাসী। নগরীর জলাবদ্ধতা, খোলা ড্রেন আর যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ হয়ে উঠেছে মশা প্রজননের অভয়ারণ্য। ফলে বাড়ছে মশাবাহিত রোগ চিকুনগুনিয়া আর ডেঙ্গু। এদিকে নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানোর দাবি করলেও নগরবাসীর আঙ্গুল সিটি কর্পোরেশনের দিকেই। রাজউক, ওয়াসাসহ বিভিন্ন সংস্থার অসহযোগিতার কারণে মশানিধন কর্মসূচির সফলতা আসছে না বলে দাবি ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের।
বর্ষা শুরুর আগ থেকেই রাজধানী জুড়ে মশার উপদ্রব বেড়েছে। মশা নিধনে সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত ওষুধ ছিটানোর দাবি করলেও বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, তাদের চোখেই পড়ে না ওষুধ ছিটানোর বিষয়টি। এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএমএম সালেহ ভূঁইয়া যুগান্তরকে বলেন, সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত ওষুধ ছিটিয়ে যাচ্ছে। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সকাল সাতটা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম চলে ফলে অনেকের চোখে সেটা ধরা পড়ে না। একই রকম কথা বলা হয় দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন থেকেও। মশা নিধনে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে উত্তর সিটি কর্পোরেশনে বাজেট ধরা হয়েছিল ২৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে মশা নিধনে ব্যয় হয়েছে ১৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে মশা নিধনে বাজেট ছিল ১১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। যার পুরোটাই ব্যয় হয়েছে। নগরবাসীর প্রশ্ন ৩০ কোটি টাকার বেশি খরচ করেও মশা নিধনে ব্যর্থ দুই সিটি কর্পোরেশন। দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. শেখ সালাউদ্দিন বলেন, আমরা প্রধানত জলাশয় ও নগরীর অলি-গলিতে বেশি ওষুধ দিয়ে থাকি। কর্মীরা যথেষ্ট কাজ করেন। উত্তর সিটির তুলনায় আমাদের এলাকায় মশা অনেক কম। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শেই কর্মীরা ওষুধ ছিটান।
নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা
সাধারণ জ্বরের মতো হলেও চিকুনগুনিয়া নিয়ে অনেকেই ভয়ে আছেন। এই ভাইরাস নষ্ট করে দেয় মানুষের কর্মক্ষমতা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক অ্যাডভাইজার অধ্যাপক ড. এম মোজাহেরুল হক বলেন, যে কোনো অসুস্থতাই মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট করে। যদি কর্মক্ষম লোকের কর্মঘণ্টা ও কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়, তা হলে তার একটি প্রভাব জাতীয় অর্থনীতিতে পড়ে। চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তদের অধিকাংশই স্বাভাবিক কর্মস্পৃহায় ফিরে আসতে ২-৩ মাস সময় নেন। ফলে কর্মঘণ্টা নষ্টের বিষয়টি সহজেই অনুমেয়। এক হিসাবে জানা গেছে, ২০১৪ সালে জ্যামাইকাতে চিকুনগুনিয়ায় শুধু বেসরকারি খাতের কর্মীদের ১ কোটি ৩০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়েছে। এতে ক্ষতি হয়েছে ৬শ কোটি ডলার।
টেস্টের নামে প্রতারণা
রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকুনগুনিয়ার টেস্টের নামে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা যুগান্তরকে বলেন, চিকনগুনিয়া জ্বরে রোগীর গায়ের তাপমাত্রা থাকে উচ্চ। সেই সঙ্গে শরীরের জয়েন্টে জয়েন্টে থাকে প্রচণ্ড ব্যথা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ঘাবড়ে যান রোগী। ফলে অভিভাবকরা হাসপাতালে ছুটাছুটি করেন। দেশে দুই-একটি বেসরকারি হাসপাতাল আর আইইডিসিআর ছাড়া কোথাও চিকুনগুনিয়া টেস্টের ব্যবস্থা নেই। চিকুনগুনিয়া ভাইরাস আক্রান্ত কি না এই পরীক্ষার নাম আরটিপিসিআর। আর বিভিন্ন হাসপাতালে যে টেস্টগুলো করা হচ্ছে সেগুলো মূলত এন্টিবডি টেস্ট। যা রোগীর জ্বর থাকা অবস্থায় করা যায় না। কাজেই বিষয়গুলোতে সাবধান হতে হবে। চিকুনগুনিয়ায় মৃত্যুর আশঙ্কা নেই তবে উচ্চমাত্রার জ্বরে আক্রান্ত হলে আগে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীর ডেঙ্গুর পরীক্ষা করতে হবে।
পরিবেশ রক্ষায় অবহেলার মাশুল
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান যুগান্তরকে বলেন, ফুলের টব, ফেলে রাখা কৌটা বা বোতল, ছাদে জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত টায়ার, আবর্জনার স্তূপ, দই বা মিষ্টির প্যাকেটে জমে থাকা পানি থেকে জন্ম নিতে পারে এডিস মশা। তাই বাড়ির ভিতরে, বাড়ির ছাদে যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। এই সিজনে প্রচুর ডাব বিক্রি হয়, ডাব খাওয়ার পর ডাবের খোসা যেখানে-সেখানে ফেলে রাখলে তাতে পানি জমে মশার প্রজনন ঘটায়। বাংলাদেশে চিকুনগুনিয়া দশ বছর আগে ধরা পরলেও কারো বিশেষ কোনো নজর ছিল না। আমরা বরাবরের মতোই পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য বলেছি। মশা-মাছি নিধনের জন্য বহু আবেদন-মানববন্ধন করেছি কিন্তু তাতে আশানুরূপ কোনো সাড়া ছিল না। এর মূল দায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের আর দুই সিটি কর্পোরেশন, তারা দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করেনি। মশার ওষুধ এখন ছিটাচ্ছে, এভাবে আগে কেন ছিটায়নি? নাগরিক এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও জবাবদিহিতা নেই। পরিবেশ রক্ষায় এই অবহেলার একটি মাশুল হল চিকুনগুনিয়া।
আইইডিসিআরের হটলাইন নাম্বার
আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি বছর চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশের যে কোনো প্রান্তের চিকুনগুনিয়া রোগী এবং চিকিৎসকদের জন্য হটলাইন নাম্বার (০১৯৩৭-১১০০১১, ০১৯৩৭-০০০০১১)। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এ নাম্বারে কল করে চিকুনগুনিয়া সম্পর্কিত যে কোনো পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে। রাজধানীর বাইরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত রোগীদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই স্বল্প পরিসরে একটা সার্ভে করা হবে।
রাজধানীতে ঝুঁকিপূর্ণ ২৩টি এলাকা
রাজধানীর ২৩টি এলাকাকে চিকুনগুনিয়ার জন্য অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে রোগতত্ত্ব বিভাগ। এলাকাগুলো হল ধানমণ্ডি ৩২, ধানমণ্ডি ৯/এ, লালমাটিয়া, পল্লবী, মগবাজার, মালিবাগ চৌধুরীপাড়া, রামপুরা, তেজগাঁও, বনানী, নয়াটোলা, কুড়িল, পীরেরবাগ, রায়ের বাজার, শ্যামলী, মনিপুরী পাড়া, মোহাম্মদপুর, মিরপুর-১, কড়াইল বস্তি, মহাখালী, মধ্যবাড্ডা, গুলশান-১, উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টর ও উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টর। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হলেও এসব এলাকায় দেখা মেলে না মশা নিধন কর্মীদের। তবে দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রধান দুই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলছেন, তারা স্বাস্থ্য অধিদফতরসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করেই চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ কর্মসূচি পরিচালনা করছেন।

রিমোট কন্ট্রোলে হামলার ছক কষে জঙ্গিরা

ধামরাইয়ে ঐতিহ্যবাহী উল্টো রথযাত্রায় রিমোট কন্ট্রোল বোমার সাহায্যে হামলার পরিকল্পনা পাকা করেছিল নব্য জেএমবি’র জঙ্গিরা। দেশব্যাপী চলমান জঙ্গিবিরোধী একের পর এক অভিযানের মধ্যেই জঙ্গিরা হামলার ছক কষে। বাদ্যযন্ত্র ঢোলের ভেতরে বোমা রেখে ভিড়ের মধ্যে হামলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অপারেশনের দায়িত্ব ছিল মামুন নামে এক জঙ্গির ওপর। দুই জঙ্গি হামলার স্থান পরিদর্শনও করে। সাভারে তারা একটি বাড়িও ভাড়া করেছিল। প্রয়োজনীয় বিস্ফোরক মজুদের কাজও সম্পন্ন হয়েছিল। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট জঙ্গিদের এ পরিকল্পনা জেনে ফেলায় তা ভেস্তে যায়। সূত্র জানায়, নব্য জেএমবির শূরা সদস্যরা এ হামলার অনুমোদনও দিয়েছিল। শুক্রবার গ্রেফতার নব্য জেএমবির অন্যতম শূরা সদস্য আবদুস সবুর ওরফে সোহেল মাহফুজ ওরফে নসরুল্লাহ এ সম্পর্কে অবহিত ছিল। তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন সিটিটিসির কর্মকর্তারা।
জানতে চাইলে সিটিটিসির এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, গুলশান হামলার পর জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নব্য জেএমবির অনেক শীর্ষ জঙ্গি নিহত হয়। অনেকে ধরা পড়ে। অস্ত্র ও বিস্ফোরক আসার পথও বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে দুর্বল হয়ে পড়ছিল জঙ্গিরা। এমন পরিস্থিতিতে সংগঠনের বর্তমান আমীর আইয়ুব বাচ্চু ওরফে লালভাই ওরফে সাজিদ উল্টো রথযাত্রায় বড় ধরনের হামলার সিদ্ধান্ত নেয়। সক্ষমতা জানান দেয়াই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, পুলিশের সিটি (কাউন্টার টেরোরিজম) ইউনিটের মাধ্যমে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনার তথ্য পাই। পরে উল্টো রথযাত্রায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। সিটিটিসি সূত্র জানায়, নব্য জেএমবির আমীর আইয়ুব বাচ্চুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী রাজিকুল ইসলাম আর্চার হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিল। মামলার অপারেশনের দায়িত্বে থাকা মামুন তার সাংগঠনিক নাম কিনা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সোহেল মাহফুজকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সাত দিনের রিমান্ডের রোববার ছিল দ্বিতীয় দিন। শুক্রবার গভীর রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পুষ্করিণী এলাকার ফজলুর রহমানের আমবাগানের টংঘর থেকে তিন সহযোগীসহ সোহেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ইসিতে বড় রদবদল

নির্বাচন কমিশন প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল হয়েছে। ৫ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাসহ ৩৩ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। রোববার রদবদল সংক্রান্ত চারটি আলাদা আদেশ জারি করে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। একসঙ্গে এত পদে রদবদলের ঘটনা কমিশন কর্মকর্তাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ সিনিয়রদের পরিবর্তে জুনিয়র কর্মকর্তাদের ভালো পদে বদলির অভিযোগও তুলেছেন। তবে কমিশন এটিকে নিয়মিত রদবদল বলে আখ্যায়িত করেছে। ইসি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনে রদবদল করছে কমিশন। যেসব কর্মকর্তা সরকারের সমর্থক নন, বিশেষ করে ২০০৫ সালে বিএনপি-জামায়াত আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত তাদের তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক তদবিরে অনেকে ভালো জায়গায় বদলি হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইসির একাধিক কর্মকর্তা। ইসির বদলি আদেশে দেখা গেছে, কুমিল্লার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মণ্ডলকে ঢাকায়, রাজশাহীর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকারকে রংপুরে, সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এসএম এজহারুল ইসলামকে কুমিল্লায়, খুলনার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমানকে বরিশালে এবং ফরিদপুরের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোস্তফা ফারুককে খুলনায় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়েছে। অপর এক আদেশে ১৮ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মোহতাসিমকে শেরপুর জেলায়, ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আতিয়ার রহমানকে রাজশাহী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, বান্দরবান জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুর রহমানকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকে নরসিংদীতে, রাঙ্গামাটি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজিম উদ্দীনকে হবিগঞ্জে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন আল মামুনকে ভোলায়, ভোলা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন খানকে বরিশালে, রাজবাড়ীর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এম মাজহারুল ইসলামকে সাতক্ষীরায়, সাতক্ষীরা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এএইচএম কামরুল হাসানকে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের উপপরিচালক, নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের উপপরিচালক আবদুল মোতালেবকে সুনামগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, পিরোজপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আরিফুল হককে চাঁপাইনবাবগঞ্জে, নরসিংদীর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামকে মাগুরায়, চুয়াডাঙ্গার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমানকে নড়াইলে, মাগুরার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আহমেদ আলীকে মেহেরপুরে, মেহেরপুরের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামানকে পিরোজপুরে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামকে পঞ্চগড়ে, সুনামগঞ্জের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলামকে ঝিনাইদহে এবং হবিগঞ্জের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনকে রাজবাড়ীর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া ৫ জেলায় চলতি দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো, মাহবুবুর রহমানকে গাইবান্ধা জেলায়, বরিশালের নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম রাকিবকে বান্দরবানে, ফরিদপুর সদরের উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানকে রাঙ্গামাটিতে, কুমিল্লা অফিসের নির্বাচন কর্মকর্তা বশির আহমেদকে খাগড়াছড়িতে এবং মাগুরা শালিখা উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা রাজু আহম্মেদকে চুয়াডাঙ্গার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া রাজশাহী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ আমিরুল ইসলামকে রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, ইসি সচিবালয়ের সচিবের একান্ত কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী মো. মঈন উদ্দিন খানকে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, বরিশালের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবদুল হালিম খানকে ইসি সচিবালয়ের উপসচিব, ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. সাবেদ-উর রহমানকে ফরিদপুরের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং নড়াইলের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ আনোয়ার হোসেনকে সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে চলতি দায়িত্বে বদলি করা হয়েছে।

পাচারের অর্থে যুক্তরাষ্ট্রে সাদ মুসা গ্রুপের জমি ক্রয়!

যুক্তরাষ্ট্রে সেকেন্ড হোম গড়তে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ মার্কিন ডলার পাচারের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের সাদ মুসা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মহসিনের বিরুদ্ধে। ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ‘২৮৭৫ সাম্পসন এভিনিউ, করোনা’ এলাকায় বাণিজ্যিক স্থাপনাসহ কেনা এ জমি নিয়ে সেখানকার আদালতে মামলা হওয়ার পর বিষয়টি ফাঁস হয়। নজরে আসে এনবিআরের। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি ছাড়াই বিদেশে সম্পত্তি কেনার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে তার আয়কর রিটার্নেও। পরে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পাচারকৃত অর্থের একটি অংশ জব্দও করেছে ক্যালিফোর্নিয়ার রিভারসাইড সুপিরিয়র আদালত। পাচারের অর্থ ফেরত আনতে আইনজীবীও নিয়োগ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)। এছাড়া কর ফাঁকি, আয়কর রিটার্নে বিদেশে বিনিয়োগের বিষয়টি প্রদর্শন না করার দায়ে তার বিরুদ্ধে আরও তিনটি মামলা হয়েছে। যুগান্তরের নিজস্ব অনুসন্ধানে এসব তথ্য জানা যায়। বিদেশে অর্থ পাচার এবং তা ফেরত আনার বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইসি’র যুগ্ম-পরিচালক ড. নুরুল আমিন যুগান্তরকে বলেন, তদন্ত চলছে।
তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দেয়া হবে। তিনি বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নয়, নাগরিক হিসেবে আমি মনে করি পাচারের অর্থ দেশে ফেরত আনা দরকার। আশা করি সেটি সম্ভব হবে। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে অর্থ পাচারের এ ঘটনা অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে জানায় এনবিআর। পরে যুগান্তরের পক্ষ থেকে বিশদ অনুসন্ধান চালানো হয়। আদালত থেকে মামলার নথি সংগ্রহ করতে গিয়েও বহু গলদঘর্ম হতে হয়। সংশ্লিষ্ট জিআরে (সাধারণ নিবন্ধন শাখা) দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজ করেও পাওয়া যায়নি মামলার নথি। কারণ জানতে চাইলে জিআরের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, জামিনের জন্য আসামি মামলার নথি জিআর থেকে নিয়ে যান, ফেরত আসেনি। পরে মামলার নথি সংগ্রহ করা হয় সংশ্লিষ্ট থানা থেকে। সংগ্রহ করা হয় সংশ্লিষ্ট সব নথিও। নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ব্যবসায়ী মহসিনের আয়কর রির্টানে অনেক তথ্যই নেই। আয় গোপন করে তিনি বিদেশে অর্থ পাচার করেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তেও অনুমোদন ছাড়াই বিপুল অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাচারের বিষয়টি উঠে আসে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১২ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার রিয়েল স্টেট ব্রোকার ‘স্টারাটা রিয়েলিটি ইন্টারন্যাশনাল’ এর সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট মি. আদম সিলভারম্যানের মাধ্যমে জমি কেনার প্রস্তাব করেন মোহাম্মদ মহসিন। পরে তিনি ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৮৬৯ ডলারে জমিটি ক্রয় করেন। মূল্য পরিশোধ করা হয় ‘টাউন অ্যান্ড কান্ট্রি এসক্রো কর্পোরেশনের ব্যাংক হিসাবের (এসক্রো নম্বর-৩৪৪৩৩-১) মাধ্যমে।
মূল্য পরিশোধ শেষে ব্যাংক হিসাবটি বন্ধ করে দেয়া হয় এবং মহসিনের নামে (নম্বর-২০১২-০৪৪৮৫৬০) জমির রেজিস্ট্রেশনও হয়। জমির কর পরিশোধ করা হয় এসোসর পার্সেল নম্বর (এপিএন) ১৭২-৩৯০-০৪০-৮ এর মাধ্যমে। বছরে করের পরিমাণ ৭ হাজার ৮৩৬ ডলার। ২০১৪ সালে মহসিনের নামে কেনা জমি ‘জেল্টমোর ৪জি এলএলসি, নিউ মেক্সিকো লিমিটেড লাইবিলিটি’ নামের একটি কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেন জনৈক সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। নতুন দলিলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর-২০১৪-০১২১৯৬০। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ মহসিন ওই বছর ৮ এপ্রিল ক্যালিফোর্নিয়ার রিভারসাইড সুপিরিয়র আদালতে মামলা করেন (নম্বর আরআইসি-১৪০৪২২৭)। দুই বছর পর ২০১৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর আদালতের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের মধ্যে আপস চুক্তি হয়। সে অনুযায়ী অভিযোগকারী মোহাম্মদ মহসিনকে দেড় লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধের অঙ্গিকার করেন সাইফুল ইসলাম। এদিকে অর্থ পরিশোধের আগেই গোপন সূত্রে গোটা বিষয়টি জানতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং এনবিআর। তদন্তে এর সত্যতাও খুঁজে পায়। পরে অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের মাধ্যমে গত ১৫ সেপ্টেম্বর আইনি সহায়তা চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বরাবর আবেদন করা হয়। তাতে আদালতে চলমান মামলা এবং দেড় লাখ ডলার লেনদেন স্থগিতের আবেদন করা হয়। একই সঙ্গে মহসিনের কেনা সম্পত্তির বৈধতা নিয়ে আরও তদন্ত এবং বিষয়টি ফৌজদারি অপরাধে বিচারের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া আবেদনে উল্লেখিত অর্থ বাজেয়াপ্ত করে তা বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়। বাংলাদেশের আবেদনে সাড়া দিয়ে মার্কিন আদালত ওই অর্থ জব্দ করার নির্দেশও দিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিআইসির জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ক্যালফোর্নিয়ার আদালতে মোহাম্মদ মহিসনের বক্তব্যে প্রমাণ হয় ওই টাকা তিনি দেশ থেকে পাচার করে নিয়ে গেছেন। আশা করছি জব্দ করা অর্থ দেশে ফেরত আনা সম্ভব হবে। আইনি লড়াই চলছে। তিনি বলেন, ফৌজদারি এবং ফিন্যান্সিয়াল অপরাধ ভিন্ন।
ফিন্যান্সিয়াল অপরাধের ক্ষেত্রে অনেক সময় আদালত গ্রেফতারের আদেশ দিয়ে থাকেন। তবে আদালত থেকে এখন পর্যন্ত এ ধরনের নির্দেশ আমাদের হাতে এসে পৌঁছেনি। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সাদ মুসা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মহসিন যুগান্তরকে বলেন, যে সম্পত্তি নিয়ে অভিযোগ, তা আমার বোনের টাকায় কেনা। আমার কাছে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আছে। ঘটনা সঠিক নয়। আমার একজন স্টাফ এনবিআরের কাছে অভিযোগ দিয়ে এ ক্ষতি করেছে। সরকার না বুঝে এতকিছু করেছে। দেশের সর্বোচ্চ করদাতা আমি। আমার কোনো বক্তব্য নেয়া হয়নি। তিনি বলেন, একজন রফতানিকারক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়েই বছরে ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করতে পারি ব্যবসায়িক প্রমোশনে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের কোটায় বিদেশে মোট রফতানি আয়ের ১০ শতাংশ ব্যয় করতে পারব ওয়্যার হাউজ বাবদ। আমি ২শ’ থেকে ৪শ’ কোটি টাকার পণ্য রফতানি করছি। ওই হিসাবে ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকা এমনিতেই ব্যয়ের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এনবিআরের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলছি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তারা কোনো উত্তর দেয়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। এর বেশি কিছু বলতে চাননি তিনি। সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) তদন্ত : ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে সিআইসি জানতে পারে যে, ২০১৪ সাল পর্যন্ত ব্যবসায়ী মহসিন ক্যালিফোর্নিয়ায় অকৃষি (বাণিজ্যিক স্থাপনাসহ) জমির মালিক থাকলেও ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশে দাখিল করা আয়কর রিটার্নে ওই জমির কথা উল্লেখ করেননি। মোহাম্মদ মহসিনের ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইন)-৩১৪১৯১৫৮৬৭০৪। তদন্তে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ মহসিন গোপন আয়ের ওপর প্রযোজ্য কর ফাঁকি দেয়ার মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ১৬৫ ও ১৬৬ ধারা অনুযায়ী অপরাধ করেছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত : বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিভাগ তদন্ত করে দেখতে পায় ‘ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেটরি অ্যাক্ট ১৯৪৭’ এর অধীনে গত ২০০৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণের জন্য মোহাম্মদ মহসিন ও তার স্ত্রী কোনো অনুমোদন নেননি। তদন্তে বলা হয়েছে, নিয়মবহির্ভূত অর্থ পাচার করে সম্পত্তি অর্জন করেছেন মহসিন, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ২(ফ) ধারার এবং একই আইনের ধারা ৪(২) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের (বিএফআইইউ) মহাব্যবস্থাপক দেবপ্রসাদ দেবনাথ যুগান্তরকে বলেছেন, বিদেশে অর্থ পাচার প্রতিরোধ নিয়ে বিএফআইইউ কাজ করছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। আরও অধিক তদন্তের জন্য অর্থ পাচারের কয়েকটি ঘটনা দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, বিদেশে অর্থ পাচার হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব তথ্য পেলে নিজ উদ্যোগে তদন্ত করছে।
সংসদীয় কমিটিতে উপস্থাপন : যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ পাচারের ঘটনাটি গত ডিসেম্বরে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ১৬তম বৈঠকে সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করে অর্থ মন্ত্রণালয়। সেখানে বলা হয়, মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ বা সেকেন্ড হোম তৈরি করা হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থে। তবে তাদের বিরুদ্ধে এনবিআর কার্যক্রম গ্রহণ করছে। সেখানে আরও বলা হয়, মোহাম্মদ মহসিনের বিরুদ্ধে বিদেশের এ বিনিয়োগ প্রদর্শন না করাসহ কর ফাঁকির অভিযোগে তিনটি মামলা করা হয়েছে। জানতে চাইলে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. মো. আবদুর রাজ্জাক যুগান্তরকে বলেন, বিদেশে পাচারকৃত এ অর্থ দ্রুত দেশে ফেরত আনা এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। এজন্য কিছু সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দেশ থেকে টাকা পাচারের বিষয়ে ইতিপূর্বে বেশ কিছু সুপারিশ করা হলেও খুব বেশি অগ্রগতি হচ্ছে না। এ নিয়ে আমাদের চরম অসন্তোষ রয়েছে।
কে এই মহসিন : মোহাম্মদ মহসিন সাদ মুসা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ব্যবসায়িক ঠিকানা ২৪৫ হাটহাজারী রোড, বিবিরহাট, চট্টগ্রাম। এছাড়া সাদ মুসার সিটি সেন্টার, ক-১৮৯ যমজ রোড, কুড়িল বিশ্ব রোড, বাড্ডা-ঢাকায়ও একটি ব্যবসায়িক ঠিকানা রয়েছে। তবে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক আরও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এ গ্রুপের। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ফেব্রিক্স বোর্ড লি., সাদ মুসা ফেব্রিক্স লি., এমএ রহমান ডায়িং ইন্ডাস্ট্রি, সাদ মুসা হোম টেক্সটাইল অ্যান্ড ক্লথিং লি., দেশ কম্পিউটার, মার্স অটোমোবাইলস, সাদ মুসা হাউজিং কমপ্লেক্স, কর্ণফুলী জুট ট্রেডিং, সাদ মুদা গ্রুপ ইন্ডাস্ট্রিসহ আরও অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

রায়ের পক্ষেই বললেন তিন সংবিধান বিশেষজ্ঞ

বিচারকদের অপসারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদে বিচার বিভাগ ও সিনিয়র আইনজীবীদের নিয়ে করা মন্তব্যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সুপ্রিমকোর্টের রায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন দেশের তিন সংবিধান বিশেষজ্ঞ। তার হলেন- ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম এবং সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক। রোববার জাতীয় সংসদে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে কোনো কোনো সংসদ সদস্য বলেছেন, জাতীয় সংসদে পাস হওয়া কোনো আইন সুপ্রিমকোর্টের বাতিল করার এখতিয়ার নেই। আবার কেউ বলেছেন, সংসদ যদি এ রায় গ্রহণ না করে তাহলে তা কার্যকর হবে না। এ প্রসঙ্গে সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সংবিধানে ১১১ অনুচ্ছেদ মতে সুপ্রিমকোর্টের রায় মানতে আমরা সবাই বাধ্য। এটা নিয়ে কোনো বিতর্ক করা উচিত নয়। সর্বোচ্চ আদালতের ওপর সবাইকেই শ্রদ্ধা রাখতে হবে। ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, কোনো আইন যদি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয় বা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব করে অথবা রাষ্ট্রের ভারসাম্য (ব্যালেন্স) ভেঙে পড়ে, তাহলে সে আইন সুপ্রিমকোর্ট বাতিল করতে পারবেন না কেন? তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলেও আইন বাতিল হয়েছে। তারপর মাসদার হোসেন মামলার রায়ে বিচার বিভাগকে পৃথকীকরণ করা হয়। তিনি বলেন, ‘কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে যদি অভিযোগ উত্থাপন হয়, তাহলে জুডিশিয়ারি তদন্ত হবে এবং সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। এখানে আন্তর্জাতিকভাবে যেসব আইনকানুন রয়েছে, জাতিসংঘ থেকে শুরু করে ইউরোপ বা কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে যেসব রুলস দেখা যাচ্ছে, সব জায়গায় এখন জুডিশিয়ারি যে কম্পিটেন্স এবং তাদের যে অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং তাদের যদি কোনো ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন প্রয়োজন হয়, সেটা তারা নিজেরাই করবে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানেও সে রকম একটা পদ্ধতি চালু আছে যা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল। সুতরাং তারাই এটা বিবেচনা করবে।
পার্লামেন্টারি রিমুভাল কোনো দেশেই কার্যকর হতে পারছে না। ভারত, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়াতেও না। সেখানে এ নিয়ে আরও বেশি বিতর্ক সৃষ্টি হয়।’ ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম বলেন, ‘দুনিয়াজুড়ে আমরা যে অবস্থা দেখছি, তাতে বিচারকদের অসদাচরণের কোনো ঘটনা ঘটে, তাহলে সেটি জুডিশিয়ারি ঠিক করবেন। সেটিই হবে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল। এ বিষয়ে বিভিন্ন দেশে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের যেসব অভিজ্ঞতা আছে, সেগুলো আমি তুলে ধরেছি। এখন এটি বিবেচনার বিষয় আদালতের।’ ‘বাহাত্তরের সংবিধান প্রণয়নের সময় আপনারা এটি সংসদের হাতে কেন দিয়েছিলেন’- এমন প্রশ্নের উত্তরে এম আমীর-উল ইসলাম বলেন, ‘তখন তো আমরা জুডিশিয়ারি গড়ে তুলতে পারিনি। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ফেরার পর আমাদের প্রধান বিচারপতি কে হবেন, তা খুঁজতে থাকি। ১১ জানুয়ারি আমরা প্রধান বিচারপতি খুঁজেছি। কাউকে তো শপথ নিতে হবে। প্রধান বিচারপতি হিসেবে সায়েমকে নিয়ে এলাম। পরবর্তী পর্যায়ে তিনি তো সামরিক শাসকের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট হয়ে গেলেন। সময়ের কারণে সে সময়ে আমরা জুডিশিয়ারি গড়তে পারিনি। তখন আপাতত সংসদের হাতে দিয়েছি। কেননা, তখন সংসদ ছাড়া আর কিছু গড়ে ওঠেনি।’ সংবিধান প্রণেতা কামাল হোসেন ও ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের সমালোচনার প্রসঙ্গে ড. শাহদীন মালিক বলেন, উনাদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলাটা ভদ্র সমাজের নয়। যিনি স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিখলেন, তাকে যদি দেশ আইন বোঝাতে চান তাহলে কি হবে? তিনি বলেন, কোনো আইন কার্যকর করে নির্বাহী এবং বিচার বিভাগ। আদালত আইন অনুযায়ী রায় দেয়। এ রায় মানতে বাধ্য করবে নির্বাহী বিভাগ। তিনি সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, সেখানে বলা আছে সুপ্রিমকোর্টকে সাহায্য করা নির্বাহী বিভাগের কর্তব্য। অতএব রায় বাস্তবায়নে সংসদের কোনো ভূমিকা এখানে নেই।

শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলায় অভিযোগ গঠন

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ২০০২ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা দু'টি মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। সোমবার সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক আব্দুল হামিদ এই অভিযোগ গঠন করেন। একই সঙ্গে আগামী ২০ জুলাই এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেন আদালত। এদিকে জামিনের শর্ত ভঙ্গ করায় উপজেলার যুগিখালি ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম, মাহাফুজুর রহমান সাবু ও রিঙ্কুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কাগজপত্র অনুযায়ী ঘটনার সময় এ মামলার অপর আসামি বিএনপি নেতা রাকিব হোসেন মোল্লার বয়স ১০ বছর ১০ মাস ১৯ দিন হওয়ায় তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলি গ্রামের এক মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিতা স্ত্রীকে দেখতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে আসেন।
সেখান থেকে যশোরে ফিরে যাওয়ার পথে কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে রাস্তার উপর জেলা বিএনপির সভাপতি ও তৎকালীন সাংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিব ও বিএনপি নেতা রঞ্জুর নির্দেশে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা দলীয় অফিসের সামনে একটি যাত্রীবাহী বাস (সাতক্ষীরা-জ-০৪-০০২৯) রাস্তার উপরে দাঁড় করিয়ে তার গাড়িবহরে হামলা চালায়। হামলায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রকৌশলী শেখ মুজিবুর রহমান, সাংবাদিকসহ কমপক্ষে  এক ডজন দলীয় নেতাকর্মী আহত হন। এ ঘটনায় থানা মামলা না নেয়ায় একই বছরের ২ সেপ্টেম্বর কলারোয়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোসলেম উদ্দিন বাদী হয়ে যুবদল নেতা আশরাফ হোসেন, আব্দুল কাদের বাচ্চুসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৭০/৭৫ জনকে আসামি করে সাতক্ষীরা নালিশী আদালত ‘ক' অঞ্চলে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়। বিচারক এম আই ছিদ্দিকী তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কলারোয়া থানার ওসি এসএম গোলাম কিবরিয়াকে নির্দেশ দেন। তিনি ২০০৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঘটনা মিথ্যা বলে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এই প্রেক্ষিতে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে গিয়েও জবানবন্দি না নিয়ে নিজের মনগড়া কথা ১৬১ ধারার জবানবন্দি হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে ওসির বিরুদ্ধে এফিডেফিড দিয়ে আদালতে হাজির হয়ে বিচারককে তা অবহিত করেন সাক্ষী কলারোয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন, শওকত হোসেন, শহীদুল ইসলাম, প্রভাষক জাভিদ হাসান, আমিনুল ইসলাম লাল্টু ও আলতাফ হোসেন লালু। বাদী মোসলেম উদ্দিন পুলিশ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে ২০০৪ সালের ২২ জানুয়ারি আদালতে নারাজির আবেদন জানালে শুনানি শেষে তা খারিজ হয়ে যায়। এ খারিজ আবেদনের বিরুদ্ধে বাদী ২০০৪ সালের ১১ এপ্রিল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা দায়ের করেন। একই বছরের ২২ এপ্রিল শুনানি শেষে বিচারক এ রিভিশন আবেদন খারিজ করে দেন। নিরুপায় হয়ে ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট বাদী এ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ক্রিমিনাল মিস কেস দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ১৮ জুলাই আপিল মঞ্জুর করে নিম্ন আদালতের আদেশের উপর স্থগিতাদেশ দেন। একইসঙ্গে নিম্ন আদালতে মামলার কার্যক্রম নতুন করে শুরু করার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। আদেশের কপি দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় পর ফাইলবন্দি থাকার পর ২০১৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে এসে পৌঁছায়। ১৭ সেপ্টেম্বর বাদীর উপস্থিতিতে নারাজির শুনানি করার জন্য মূখ্য বিচারিক হাকিম নিতাই চন্দ্র সাহা ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। ওই দিন বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করার জন্য কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) শফিকুর রহমান ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলাটি তিনটি ভাগে ভাগ হয়ে এসটিসি ২০৭/১৫, এসটিসি ২০৮/১৫ দু'টির সাক্ষীরা জন্য অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২য় আদালতে আগামী ২০ জুলাই সাক্ষীরার জন্য দিন ধার্য আছে। অপর টিআর ১৫১/১৫ মামলাটি মূখ্য বিচারিক হাকিম রাফিজুল ইসলামের আদালতে আগামী ১৩ জুলাই সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য রয়েছে। এ মামলায় ইতিমধ্যে ছয়জন সাক্ষী তাদের জবানবন্দি দিয়েছেন। সাতক্ষীরা জজ কোর্টের পিপি অ্যাড. ওসমান গণি জানান, এ মামলার অন্যতম আসামি বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার ও জহুরুল ইসলামের রিভিশন আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচার কার্যক্রম বিলম্বিত হয়।

যমুনায় তীব্র ভাঙন, শাহজাদপুরে ২শ' ঘরবাড়ি বিলীন

বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে যমুনা নদীতে তীব্র ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এতে দু' শতাধিক ঘর-বাড়ি বিলীন হয়েছে। জানা গেছে, উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের হাটপাচিল গ্রামের দুই শতাধিক ঘরবাড়ি, অর্ধ শতাধিক গাছপালা, ৩০০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এতে ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে দেড় শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু নতুন করে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। তারা হারিয়েছে মাথা গোঁজার ঠাঁই। এছাড়া পৌর এলাকার রূপপুর গ্রাম, পোতাজিয়া ইউনিয়নের অনেক এলাকায় তলিয়ে গেছে পানির নিচে। এসব এলাকায় সরকারি ত্রাণ সহায়তার কোনও খবর পাওয়া যায়নি। গ্রামবাসী জানান, ভাঙন প্রতিরোধে সরকার দ্রুত কোনো ব্যবস্থা না নিলে সম্পূর্ণ গ্রামটি বিলিন হয়ে যেতে পারে। ভাঙন কবলিত এলাকায় তেমনভাবে সরকারি কোনো ত্রাণ সহযোগিতা মেলেনি বলে জানান তারা।
এমনকি ক্ষতিগ্রস্তদের তেমন কোনো খোঁজ-খবরও নেয়া হয়নি। ফলে তারা সর্বস্ব হারিয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছে। সোমবার সকালে হাটপাচিল গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, যমুনা নদীগর্ভে বিলিন হওয়া বাড়ির ভিটার এক কোণে কয়েকজন নারী, শিশু ও বৃদ্ধ ক্ষুধার্থ অবস্থায় সরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় বসে আছেন। তাদের অসহায়ত্ব দেখে দুপুরে একটি পরিবার সামান্য ভাত-তরকারি দিলে তা কয়েকজন মিলে ভাগাভাগি করে খাচ্ছেন। এদিকে আজ দুপুরে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলীমুন রাজীব ও কৈজুরী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে ক্ষুধার্থ নারী, পুরুষ ও শিশুরা তাদের ঘিরে ধরেন। এসময় তারা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতি পরিবারকে নগদ ২০০ টাকা করে সাহায্য প্রদান করেন। এছাড়া বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের ৫ হাজার বিঘা গো-চারণ ভূমি ও শতাধিক গরুর বাথান বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। ফলে গো-খামারীরা তাদের শত শত গবাদি পশু বাথান এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়েছেন। এসব গরু এখন খামারীদের বাড়ির আঙ্গিনা ও গোয়াল ঘরে বন্দিদশায় রয়েছে। অপরদিকে পৌর এলাকার রূপপুর গ্রামের অর্ধ শতাধিক হতদরিদ্র মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। উপজেলার অন্যান্য গ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।

তিস্তার পানি কমছে, ত্রাণের জন্য অপেক্ষা মানুষের

বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে দুর্ভোগ কমেনি তিস্তা পাড়ের মানুষের। দু'দিন ধরে পানিবন্দি মানুষ ত্রাণ সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তিস্তার পানি বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে সোমবার সকাল ৯টা থেকে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ পরিস্থিতিতে তিস্তা ব্যারাজের সব (৪৪টি) জলকপাট খুলে দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এদিকে তিস্তার পানি প্রবাহ কমায় নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলায় বন্যার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে তিস্তা পাড়ের বসবাসরতদের দুর্ভোগ এখনো কমেনি। বন্যা দুর্গত মানুষ এখনো পায়নি ত্রাণ সহায়তা। দু'দিন ধরে পানিবন্দি মানুষগুলো অভুক্ত থেকে ত্রাণ সহায়তার আশায় ক্ষণ গুণছে।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে বন্যা দুর্গতদের জন্য সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসনের ত্রাণভাণ্ডার হতে জিআর এর ৫৫ মেট্রিকটন চাল ও ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নীলফামারী জেলা প্রশাসক খালেদ রহীম বলেন, উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পাড়ে বন্যা দেখা দিয়েছে । ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলায় বন্যায় যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদের জন্য চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জেলার জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তিস্তায় পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার ২৫টি চর ও গ্রামের ১৫ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া পাশ্ববর্তী লালমনিরহাট  হাতীবান্ধা, কালিগঞ্জ উপজেলার নদী বেষ্টিত চর ও গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডালিয়া বিভাগের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিন ধরে উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়াস্থ তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ৩২ সেন্টিমিটার উপর পর্যন্ত পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে তিস্তা অববাহিকার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার চর ও গ্রাম প্লাবিত হয়ে ১৫ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে। তবে মঙ্গলবার রাত থেকে তিস্তায় পানি কমতে শুরু করেছে। আজ সকাল ৯টায় তিস্তার পানি ১৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বাসের ধাক্কায় শালী-দুলাভাই নিহত

মাগুরার শালিখা উপজেলায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী শালী ও দুলাভাই নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে মাগুরা-যশোর মহাসড়কে আড়পাড়া বাজার এলাকায় এ দুর্ঘর্টনা ঘটে। নিহতরা হলেন- শালিখা উপজেলার নাগসা গ্রামের শরিফুল মুন্সির ছেলে আতিক মুন্সি (২৪) ও যশোর জেলার বাঘারপড়ার কবির হোসেনের মেয়ে সাথি আক্তার। যশোর জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম জানান, শালীকাকে মোটরসাইকেলে করে যশোরে শ্বশুর বাড়ি  নিয়ে যাচ্ছিলেন আতিক। পথে আড়পাড়া এলাকায় বিপরীতমুখী শাজাহান পরিবহনের দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস তাদের ধাক্কায় দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দু'জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

ভালুকায় ছুরিকাঘাতে শ্রমিক খুন

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ছুরিকাঘাতে শাহ আলম (৪০) নামে এক মিল শ্রমিক খুন হয়েছেন। সোমবার রাতে উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের গৌরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহ আলমের জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সবুজপাড়া গ্রামের কেরামত আলীর ছেলে। স্থানীয়রা জানান, শাহ আলম প্রতিদিনের মতো সাইকেলে চড়ে কর্মস্থল জামিরদিয়া স্কয়ার ফ্যাশনে যাচ্ছিলেন। পাড়াগাঁও লাল পাগলার মাজারের কাছে পৌঁছালে কে বা কারা পেটে ছুরিকাঘাত করে তাকে পানিতে ফেলে রেখে যায়। সাইকেলটি রাস্তার পাশেই পড়ে ছিল। পরে রাতেই পথচারীরা তার মৃতদেহ দেখে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও ভালুকা মডেল থানায় খবর দেয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য বুলবুল আহাম্মেদ জানান, রাতেই খবর পেয়েছি। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে। নিহতের পেটে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ভালুকা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) হজরত আলী জানান, ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিহতের পেটে আঘাত করা হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। শাহ আলমের লাশ ও তার ব্যবহৃত সাইকেলটি উদ্ধার করে থানা আনা হয়। লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো খুনের কারণ জানা যায়নি। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

হামাসের পাশেই থাকছে কাতার

সৌদি জোটের চলমান নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ফিলিস্তিনের হামাস সরকারের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। গাজা পুনর্গঠনের জন্য কাতার কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আল-এমাদি তার উপ-প্রধান খালেদ আল-হারনানসহ গাজা সফরে গিয়ে এ ঘোষণা দেন।
রবিবার আল এমাদি বলেন, ‘সঙ্কট পরিস্থিতি চলমান সত্ত্বেও আপনাদের প্রতি আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। আমরা নতুন আরেকটি কাতারি প্রকল্প শুরু করব এখানে এবং চলমান প্রকল্পগুলোও সচল থাকবে।’
সঙ্কট নিরসনে গাজার হামাস সরকার মিশরের সাথে সম্পর্ক উন্নতির চেষ্টাকালে কাতারের কূটনৈতিকরা গাজা সফর করেন। শুক্রবার তারা সেখানে পৌঁছান।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের পর ক্ষতিগ্রস্থ গাজা পুনর্গঠনের জন্য এক বিলিয়ন ডলারের অর্থ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল গ্যাস সমৃদ্ধ আরব দেশ কাতার।
জানুয়ারিতে কাতার গাজায় বিদ্যুৎ সঙ্কট মোকাবেলার জন্য তিন মাসের জন্য ১২ মিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তা দিতে সম্মত হয়।
সন্ত্রাসবাদকে অর্থ সহযোগিতার অভিযোগে গত মাসের শুরুতে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর ও বাহরাইন কাতারের সাথে সকল ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে। সৌদি আরব শর্ত দেয় যে, কাতারকে হামাসের প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে হবে।
সূত্র: আল-জাজিরা

বেপরোয়া গতির বাস থামাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন ২ যুবক



খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলায় বেপরোয়া গতির বাস থামাতে গিয়ে চাপা পড়ে মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন আরও একজন। মঙ্গলবার ভোর রাত সাড়ে ৪টার দিকে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আমতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন - গুইমারা উপজেলার জালিয়াপাড়া এলাকার মো. আরিফুল ইসলাম (২৫) ও মো. মহিদুল ইসলাম (৩৮)। আহত জামালও একই এলাকার বাসিন্দা। মানিকছড়ি থানার ওসি মাইনুদ্দিন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে জানান, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে একটি বাস বেপরোয়া গতিতে রামগড় থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছিল। বিষয়টি দেখে মোটরসাইকেলে তিন যুবক বাসটিকে ধাওয়া করে আমতলি এলাকায় ব্যারিকেট দেয় থামানোর চেষ্টা করে। এসময় বেপোরয়া বাসটি না থামিয়ে তাদের চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই যুবক নিহত এবং আহত হন একজন। আহত জামালকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের মৃতদেহ উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি।

ভারতে পুণ্যার্থীদের উপর জঙ্গি হামলায় নিহত ৭

ভারতে অমরনাথ থেকে ফেরার পথে পুণ্যার্থীদের ওপর জঙ্গী হামলায় ৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২০ জন। সোমবার রাতে এই ঘটনা ঘটেছে অনন্তনাগের কাছে। পুলিশ জানিয়েছে ‘লস্কর-ই-তৈয়বা’র জঙ্গিরা হামলা চালিয়েছে । সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জম্মু ও কাশ্মীর  উপত্যকার পুলিশের আইজি মুনির খান বলেছেন, ইসমাইল নামে একজনকে শনাক্ত করা গেছে। সে পাকিস্তানী। কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বাড়িতে এক উচ্চ পর্যাযের বৈঠকে উপত্যকার বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা হয়েছে। এই বৈঠকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ আধিকারিকরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালও। রবিবার রাতে মোদীর সঙ্গেও পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেছেন দোভাল।  সোমবার রাতের অমরনাথ পুণ্যার্থীদের ওপর জঙ্গি হামলার ঘটনায় উপত্যকার পরিবেশ থমথমে রয়েছে। তবে অমরনাথ অভিমুখে যাত্রা বন্ধ রাখা হয় নি। পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আটোসাটো করা হয়েছে।  এর আগে ২০০০ সালে জঙ্গিদের গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল ৩০ জন অমরনাথ তীর্থযাত্রীর। এ দিনের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও হুরিয়ত নেতৃত্ব। খোদ প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে রাহুল গান্ধী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর উচিত নিরাপত্তায় চরম গাফিলতির দায় স্বীকার করে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাতে এ ধরনের ঘটনা আর কখনও না ঘটে। জানা গেছে, নিহত পুণ্যার্থী এবং আহতদের দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নিহতদের সকলেই মহিলা। এর মধ্যে ৫ জন গুজরাটের বাসিন্দা, বাকী দুজন মহরাষ্ট্রের।  হামলার পরই অনন্তনাগে গিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। হাসপাতালে আহতদের সঙ্গে দেখা করে রাতটুকু সেখানেই কাটান। হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, ধর্ম নিরপেক্ষ হিসেবে এতদিন পরিচিতি ছিল কাশ্মীরিদের। কিন্তু নিরীহ পুণ্যার্থীদের ওপর হামলায় লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে গিয়েছে। সমস্ত মুসলিম ও কাশ্মীরিদের কলঙ্কিত করা হয়েছে। হামলার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ওসমানীনগরে বিষ প্রয়োগে ৮৯০টি হাঁস হত্যা

সিলেটের ওসমানীনগরে বিষ প্রয়োগে এক খামারির ৮৯০টি হাঁস হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার উপজেলার উছমানপুর ইউনিয়নের বেরাখাল গহরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন সাহাদাত হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন বিষক্রিয়ার আলামত সংগ্রহ করে তিনটি মৃত হাঁস ময়নাতদন্তের জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে নিয়ে যান। ক্ষতিগ্রস্ত হাঁসের খামারি ছালেহ আহমদ বলেন, শনিবার সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পার্শ্ববর্তী খামারে প্রতিদিনের মতো হাঁসগুলো রেখে বাড়িতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। রোববার ভোরে গিয়ে দেখি সব হাঁস মরে পড়ে আছে। শনিবার রাতের কোনো এক সময় খামারে থাকা ৮৯০টি হাঁস অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা খাবারে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে হত্যা করেছে। এতে আমার প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ওসমানীনগর উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তিনটি মৃত হাঁস সংগ্রহ করে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। বিষক্রিয়ায় হাঁসগুলো মারা গেছে কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য চট্টগ্রামের রাসায়নিক পরীক্ষাগারে এ আলামতগুলো পাঠানোর জন্য পুলিশের কাছে প্রতিবেদন দেয়া হবে। ওসমানীনগর থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মৃত হাঁসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুলিশ-ডাকাত 'গোলাগুলিতে' যুবক নিহত

ঝালকাঠিতে পুলিশ ও ডাকাতদের মধ্যে 'গোলাগুলিতে' এক যুবক নিহত হয়েছেন। এসময় তিন পুলিশ আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঝালকাঠি-খুলনা আঞ্চলিক সড়কের সদর উপজেলার বেরপাশা নামক স্থানে এ 'গোলাগুলির' ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। তবে তার নাম পরিচয় জানা যায়নি। ঝালকাঠি সদর থানার ওসি মো. তাজুল ইসলাম জানান, দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার বেরপাশা নামক স্থানে টহল পুলিশ ৮/১০ জন লোকের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের চ্যালেঞ্জ করে। এ সময় তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। পুলিশও তাদের ওপর পাল্টা গুলি ছোড়ে। এক পর্যায় ডাকাতরা পিছু হঁটে পালিয়ে যায়। পুলিশ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে আটক করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। কর্তব্যরত চিকিৎসক এএইচএম ফয়সাল গুলিবিদ্ধ ওই ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি শাটারগান, এক রাউন্ড গুলি, একটি চাইনিজ কুড়াল, একটি ছ্যানা, একটি করাত, একটি সেলাই রেঞ্জ ও একটি চাকু উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সামান্য আহত হয়েছেন ঝালকাঠি সদর থানার ওসি তদন্ত ফারুক আলম, এএসআই মেহেদী ও বাপ্পি। ঝালকাঠির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এমএম. মাহামুদ হাসান বলেন, ৮/১০ জনের ডাকাত দল সম্ভবত ওই এলাকার কোনও বাড়িতে অথবা নৈশকোচে ডাকাতির জন্য ওঁৎ পেতে ছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা গুলিবর্ষণ করে। ঘটনার সময় পুলিশ ১৮-২০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। নিহত ডাকাতের নাম পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।

দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ

টঙ্গীবাড়ী উপজেলার নশংকর গ্রামে আমবাগানে নিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে হাত পা বেঁধে ধর্ষণ করে পানিতে ফেলে দিয়েছে এক কিশোর। পরে ওই ছাত্রীর চিৎকারে তার প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে সোমবার রাত ৮টার দিকে টঙ্গীবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। স্থানীয়রা জানান,  উপজেলার নশংকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণির ওই ছাত্রী (৭) সোমবার বিকালে বাড়ির পাশের আমবাগানে খেলা করছিল। এ সময় প্রতিবেশী জুয়েল মৃধার ছেলে মাহিন (১৫) ওই স্কুলছাত্রীকে প্রথমে গলায় চেপে ধরে তার কাছে থাকা গামছা দিয়ে হাত পা বেঁধে ধর্ষণ করে পরে পাশের ডোবার পানিতে ফেলে দেয়। এ সময় ওই স্কুলছাত্রী চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে টঙ্গীবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে আসে। টঙ্গীবাড়ী থানা এসআই  শাখাওয়াত হোসেন জানান, ভিকটিম হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ধর্ষককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বন্ধনের পেটে ২০০ কোটি টাকা

কুমিল্লার বিভিন্ন পয়েন্টে বিশাল আকারের বিলবোর্ড, স্থানীয় পত্রিকায় বাহারি বিজ্ঞাপন ও ক্যাবল অপারেটরদের মাধ্যমে ডিশ চ্যানেলে চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচার ছিল বন্ধন হাউজিংয়ের প্রতারণার কৌশল। অর্ধশতাধিক শিক্ষিত যুবককে নিয়োগ দিয়ে তাদের মাধ্যমে মার্কেটিং, এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও পোস্টার লাগিয়ে অল্পদিনেই গ্রাহকের দৃষ্টি আকর্ষণই করে বন্ধন। জমজমাট প্রচারের মাধ্যমে ফ্ল্যাট-প্লট বিক্রি, ওষুধ কোম্পানি, ফুড অ্যান্ড বেভারেজসহ বেশকিছু প্রকল্পের মাধ্যমে এ কোম্পানি হাতিয়ে নেয় গ্রাহকের প্রায় ২০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া গ্রাহকদের মাসিক হারে মুনাফা দেয়ার নামেও অর্থ হাতিয়ে নেয় বন্ধন। অনুসন্ধানে জানা যায়, কাতারপ্রবাসী হাজী সফিকুল ইসলাম কুমিল্লা নগরীতে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বসবাসের জন্য ঝাউতলা এলাকায় বন্ধন হাউজিংয়ের ‘বন্ধন প্যালেস’ প্রকল্পে একটি ফ্ল্যাট বুকিং দেন। তিনি বলেন, ১২শ’ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য সাইনিং মানি হিসেবে বন্ধনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলামকে ২০১০ সালে ২০ লাখ টাকা প্রদান করি। ২ বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন শেষ করার চুক্তি ছিল। কয়েক বছর আমাদের ঝুলিয়ে রেখে সেখানে ভবন নির্মাণ শুরু করেনি। পরে ২০১৩ সালে জানতে পারি, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম জায়গাটি অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছেন। একই প্রকল্পে ফ্ল্যাট কেনার জন্য ১৮ লাখ টাকা দিয়েছিলেন মোল্লা নাজিম উদ্দিন। এছাড়া ওই ভবনে মাথা গোঁজার ঠাঁই কিনতে কাজী নুরুল ইসলামসহ আরও বেশ কয়েকজন গ্রাহক বিনিয়োগ করেন। এসব গ্রাহকের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে বন্ধন। এ কোম্পানিতে মাসিক লভ্যাংশের জন্য অর্থও জমা রেখে ভিখারি হয়েছেন অনেকে। অর্থের শোকে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা বাচ্চু মিয়া সরকার, বদরুন নাহার ও কাতারপ্রবাসী দিলদার চৌধুরী অসুস্থ হয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন। এলাকাবাসী জানায়, বন্ধন নাম দিয়ে কাগজে-কলমে বিভিন্ন কোম্পানি গঠন করে ২০০৭ সালে আলিশান অফিস নিয়ে নগরীর কালিয়াজুরী এলাকার বাসিন্দা জামায়াত নেতা নজরুল ইসলাম কার্যক্রম শুরু করেন। তার দামি গাড়ি, বডিগার্ড, পারসোনাল সেক্রেটারি, অভিজাত ফ্ল্যাট, আলিশান অফিস ছিল চোখে পড়ার মতো। এসব দেখে মানুষ মনে করত, কত হাজার কোটি টাকার মালিকই না নজরুল। এলাকার আলেম, মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রবাসীসহ এলাকার ক্লিন ইমেজের মানুষগুলোই ছিল নজরুলের টার্গেট। এসব ব্যক্তির ইমেজকে কাজে লাগিয়ে তাদের কিছু কমিশন দিয়ে সাধারণ গ্রাহকের কাছ থেকে আমানতের নামে সে হাতিয়ে নেয় শত কোটি টাকা। ঢাকার সাভারে সুনিপুণ ফার্মা নামে ওষুধ কোম্পানি, কুমিল্লার বিসিক শিল্প নগরীতে বন্ধন ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, নগরীর রেসকোর্স এলাকার ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজায় বন্ধন হজ কাফেলা, বন্ধন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শহরতলীর হোসেনপুর, আলেখারচর ও শাসনগাছা এলাকায় বিশাল হাউজিংয়ের সাইনবোর্ড টানিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিভিন্ন চুক্তিতে টাকা সংগ্রহ করেন নজরুল ইসলাম। ওই সময়ে ডিপোজিট, মেয়াদি সঞ্চয়, ফ্ল্যাট ও প্লট বিক্রি করে লভ্যাংশ দেয়াসহ বিভিন্ন কৌশলে আমানত সংগ্রহ করা হয়। পরে কয়েক বছর সঠিক নিয়মে মুনাফা প্রদান করায় অনেকটা বিশ্বস্তও হয়ে উঠে বন্ধন গ্রুপ।
আমানতের বিশাল অঙ্কের এসব টাকা দিয়ে নজরুল নিজের নামে ঢাকা ও কুমিল্লায় বিভিন্ন স্থানে প্লট, ফ্ল্যাট ও আবাদি জমি কিনে রাখেন। মুরাদনগর উপজেলার বৈলাবাড়ী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা বাচ্চু মিয়ার ছেলে মাহবুবুর রহমান সবুজ অভিযোগ করে জানান, চাকরি শেষে প্রাপ্ত পেনশনের ১২ লাখ টাকা ২০১০ সালে তার বাবা জমা রাখেন বন্ধন গ্রুপে। এ টাকার মুনাফা হিসেবে মাসে ২৪ হাজার টাকায় ভালোই চলছিল তাদের সংসার। কিন্তু ২ বছরের মধ্যেই কোম্পানিটি দেউলিয়া হয়ে যাওয়ায় শোকে শেষ পর্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর চিকিৎসার অভাবে ২০১৬ সালে মারা যান তিনি। একই উপজেলার মাজুর গ্রামের বদরুন নাহারের স্বামী রফিকুল ইসলাম লিটন বলেন, বাড়ি বিক্রি করে ৫০ লাখ টাকা স্ত্রীর নামে আমানত রেখে ভালোভাবেই ভাড়া বাসায় জীবনযাপন করছিলাম আমরা। কিন্তু আমাদের সর্বস্ব ওই টাকা হারিয়ে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার অভাবে মারা গেছে স্ত্রী। কাতারপ্রবাসী দিলদার চৌধুরী জীবনের অর্জিত সব অর্থ বন্ধনে জমা রেখে যখন জানতে পেরেছেন, তখন কোম্পানি উধাও। শোকে কাতারেই মারা গেছেন তিনি। অর্থের অভাবে তার লাশটি দেশে আনতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা। এমনটাই জানিয়েছেন দিলদারের স্বজনরা। এমন অসংখ্য মানুষকে পথে বসিয়েছে হায় হায় এ কোম্পানি। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানিয়েছেন, বন্ধন প্যালেসে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেয়ার নামে অর্ধশতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে নজরুল ইসলাম হাতিয়ে নিয়েছেন ২০০ কোটি টাকা। প্রতারণার শিকার গ্রাহকদের তালিকায় আছেন- আমেরিকাপ্রবাসী আবদুল মোমেন, কামরু হাসান, আমির হোসেন, সৌদিপ্রবাসী অলিউল্লাহ, আবু জাহের, আবদুছ ছাত্তার প্রমুখ। নজরুলের বিরুদ্ধে প্রতারিত গ্রাহকরা ৮টি মামলা করলেও তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে। ভুক্তভোগীরা জানান, ৫ বছর ধরে নজরুল সপরিবারে ঢাকায় আত্মগোপনে থেকে বিলাসী জীবনযাপন করছে। নজরুলকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আটক করতে না পারলেও একটি সূত্র জানায়, মাঝেমধ্যে কুমিল্লার দিদার মার্কেট এলাকায় এক বন্ধুর বাসায় যাতায়াত করেন নজরুল। কুমিল্লা নগরীর আশপাশে তার নামে কেনা জমি অল্প অল্প করে বিক্রি করেন। এ টাকাও ঢাকায় নিয়ে যান। স্থানীয়রা জানান, বন্ধন গ্রুপ কিছুসংখ্যক আমানতকারীকে তাদের নগদ অর্থ না দিয়ে ১ লাখ টাকা মূল্যের জমি ১০ লাখ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে হস্তান্তরের মাধ্যমে টাকা সমন্বয় করেছে। নিরুপায় এসব গ্রাহক বাধ্য হয়ে এ জমি গ্রহণ করে কিছুটা আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা পেলেও অধিকাংশ গ্রাহকই তাদের মূলধন হারিয়ে দিশেহারা। বন্ধনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম আত্মগোপনে থাকায় অভিযোগ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের এক সিনিয়র নেতা যুগান্তরকে জানান, নজরুল ইসলাম জামায়াতের কোনো নেতা নন, জামায়াতের একজন সমর্থক। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কুমিল্লার সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ যুগান্তরকে বলেন, বন্ধন গ্রুপের প্রতারণার বিষয়টি আমি লোকমুখে শুনেছি। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে এখনও কেউ অভিযোগ করেনি। কেউ অভিযোগ না করলেও পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখব।

সরকারের পদক্ষেপ হবে বুমেরাং

স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দফায় দফায় বরখাস্ত করছে সরকার। বিশেষ করে রাজশাহী, সিলেট, গাজীপুর, খুলনা সিটি কর্পোরেশন ও হবিগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচিত মেয়রদের বরখাস্তের রেকর্ড তৈরি হয়েছে। বিএনপির সমর্থনে নির্বাচিত ৫ সিটি ও একটি পৌরসভাসহ মোট ৬ মেয়র গত চার বছরে ১২ বার সাময়িক বরখাস্ত হন। আগামী বছর শেষ হবে তাদের পাঁচ বছরের মেয়াদ। শেষ সময় কতটা কাজ করতে পারবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন নির্বাচিত এসব জনপ্রতিনিধি। এদিকে জনপ্রতিনিধিদের দফায় দফায় বরখাস্ত করায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় জনগণসহ দেশের সাধারণ মানুষ। বরখাস্তের মধ্যে রাজশাহী সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল দু’বার, খুলনায় মনিরুজ্জামান মনির একবার সাময়িক বরখাস্ত হন। সিলেটে আরিফুল হক চৌধুরী দু’বার, বরিশালে আহসান হাবিব কামালকে একবার বরখাস্ত করা হয়। ২০১৩ সালের ১৫ জুন চার সিটি নির্বাচনে তারা বিএনপি-সমর্থক মেয়র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। একই বছরের ৬ জুলাই গাজীপুর সিটিতে মেয়র নির্বাচিত হন অধ্যাপক এমএ মান্নান। তিনি তিনবার সাময়িক বরখাস্ত হন। ২০১৫ সালে নির্বাচিত হবিগঞ্জের পৌর মেয়র জিকে গউছ ৩ বার সাময়িক বরখাস্ত হন। মামলার কারণ দেখিয়ে তাদের দায়িত্ব থেকে অপসারণ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দায়িত্ব নেয়ার পর চার বছরের বেশির ভাগ সময় চেয়ার সামলাতেই ব্যস্ত সময় পার করেন এসব জনপ্রতিনিধি। একবার বরখাস্ত হয়ে চেয়ারে বসতে না বসতেই আবার কাউকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। আদালতের আদেশে তারা আবার দায়িত্ব ফিরে পান। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই এদের পদচ্যুত করা হচ্ছে বলে স্থানীয় সরকার বিশ্লেষক ও সাধারণ ভোটাররা মনে করেন। তাদের মতে, জনপ্রতিনিধিদের কাজ করতে না দিয়ে দফায় দফায় বরখাস্ত করে সরকার ভুল করছে। এ পদক্ষেপ তাদের জন্য বুমেরাং হতে পারে। এর প্রভাব আগামী সিটি এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও পড়তে পারে। আজ যে আইনের দোহাই দিয়ে বিএনপি সমর্থক জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্ত করা হচ্ছে, একই আইনের খক্ষ বর্তমান ক্ষমতাসীনদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ হতে পারে। জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, মিথ্যা মামলায় চার্জশিট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বারবার বরখাস্ত করা হচ্ছে। এ থেকে একটা জিনিস প্রমাণিত, সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি বলে তারা নির্বাচিত মানুষদের ভয় পায়। তিনি বলেন, সরকার গণতন্ত্রচর্চার পথ আরও সংকুচিত করে ফেলছে। সরকারের এসব অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কখনও মেনে নেয়া হবে না। আগামীতে জনগণ সরকারের এ পদক্ষেপের উপযুক্ত জবাব দেবে- এতে কোনো সন্দেহ নেই। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক যুগান্তরকে বলেন, জনপ্রতিনিধিদের কাউকে রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জনপ্রতিনিধিদের ঘন ঘন বরখাস্তের ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণ কাক্সিক্ষত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উন্নয়ন কাজের চেয়ে কখন বরখাস্ত হচ্ছেন এই শঙ্কা নিয়েই তারা সময় পার করছেন। মেয়রকে সাময়িক বরখাস্তের পর ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত কাউকে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, ভারপ্রাপ্তদের এলাকার উন্নয়নের চেয়ে অন্যদিকে বেশি মনোযোগ। কিভাবে নিজের দলের লোকজনের উন্নয়ন হবে তা নিয়ে বেশি ব্যস্ত। কারণ এলাকার উন্নয়ন না হলে মেয়র হিসেবে তাদের কোনো জবাবদিহি করতে হবে না। উল্টো নির্বাচিত মেয়ররা কোনো কাজ করেননি এমন অজুহাতও সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। স্থানীয় জনগণের মতে, সরকার এখানেই সবচেয়ে বড় ভুল করছে। তারা বলেন, জনপ্রতিনিধিদের ঠিকমতো কাজ করতে দিলে তারা নানা ধরনের ভুল করত। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি প্রকাশ পেত। এতে তারা ইমেজ সংকটে পড়তেন। যার সুবিধা ক্ষমতাসীনদের পক্ষেই যেত। কিন্তু বারবার বরখাস্তের কারণে সরকার সে সুযোগ হাতছাড়া করছে। বরখাস্তের কারণে সাধারণ ভোটারের সহানুভূতি নির্বাচিত মেয়রের দিকে। ভবিষ্যতেও তারা এ সুবিধা পাবেন। সরকারের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে জনগণ আগামী নির্বাচনেও এসব জনপ্রতিনিধিকে ভোট দিতে পারেন। এতে বঞ্চিত হতে পারেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। ভবিষ্যতে শুধু সিটি কর্পোরেশন নয়, জাতীয় নির্বাচনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বরিশাল ও গাজীপুর ছাড়া বাকি তিন সিটিতে বর্তমান মেয়ররাই আগামীতে আবারও দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন। হাইকমান্ডের এদের প্রতি আস্থা রয়েছে।
পাশাপাশি বারবার বরখাস্তের কারণে নেতাকর্মী এবং স্থানীয় জনগণও তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল। তাই তাদের আবারও মনোনয়ন দেয়া হলে ভোটাররাও বিষয়টিকে সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখবে এবং ভোটের ফলাফল বিএনপির পকেটে যাবে। তবে বিগত আন্দোলনে গাজীপুর মেয়র প্রত্যাশিত ভূমিকা না রাখায় হাইকমান্ড কিছুটা ক্ষুব্ধ। তার পরিবর্তে ওই এলাকার প্রভাবশালী নেতা হাসান উদ্দিন সরকারকে এবার মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে। আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী, সিলেট, খুলনায় তাদের মেয়র প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। গত নির্বাচনে যাদের সমর্থন দেয়া হয়েছিল এবার তাদেরই দলীয় মনোনয়ন দেয়ার সম্ভাবনা বেশি। বরিশাল ও গাজীপুর সিটিতে ক্ষমতাসীনদের প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে বলে আভাস পাওয়া গেছে। জানা গেছে, বিদ্যমান স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন), স্থানীয় সরকার (পৌরসভা), স্থানীয় সরকার (উপজেলা পরিষদ) এবং স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী কোনো জনপ্রতিনিধি যে কোনো ধরনের ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত হলে (আদালত কর্তৃক চার্জশিট গৃহীত হলে) কিংবা ওই প্রতিনিধি শারীরিকভাবে সক্ষমতা হারালে কিংবা পরিষদের সভায় পরপর তিনবার অনুপস্থিত থাকলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারে। এ আইনের মাধ্যমেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্ত করা হচ্ছে। তবে এ আইন অপপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। বিরোধী জনপ্রতিনিধি হিসেবে পরিচিতদের ক্ষেত্রেই এ আইন বেশি প্রয়োগ করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক যুগান্তরকে বলেন, আইনের ধারাগুলো বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ মেয়রদের ব্যাপারে ঘন ঘন ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রয়োগ পক্ষপাতিত্বমূলক। হয়তো সে কারণেই হাইকোর্ট সাময়িক বরখাস্তের আদেশ অবৈধ ঘোষণা করছেন। তিনি বলেন, সরকার রাজনৈতিক ব্যাপারে প্রায়ই পক্ষপাতমূলক আচরণ করে। এটা আরও একটি জলজ্যান্ত নমুনা। ওইসব সিটি কর্পোরেশনে যদি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তবে সরকারের এ পদক্ষেপ তাদের প্রার্থীর বিপক্ষে যাবে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আইনের অপপ্রয়োগ হচ্ছে। এর মাধ্যমে শুধু জনগণের ম্যান্ডেটকে ভণ্ডুল করা হচ্ছে না, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার এসব পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ থেকে বিরত না হলে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়বে এবং এর পরিণতি ভালো হবে না। বিষয়গুলো বুমেরাং হয়ে এক সময় সরকারের দিকেই ফিরে আসতে পারে। যে আইনের দোহাই দিয়ে আজ বিরোধী হিসেবে পরিচিত জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্ত করা হচ্ছে, সময় পরিবর্তন হলে এটা বর্তমান ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধেও ব্যবহার হতে পারে। শুধু তাই নয়, আগামী নির্বাচনেও সরকারের এ পদক্ষেপ হিতে বিপরীত হতে পারে। এভাবে নির্বাচিত মেয়রদের বারবার বরখাস্তের পেছনে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে বলে মনে করেন ওইসব এলাকার স্থানীয় ভোটাররা। তারা মনে করেন, ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোটে এরা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের বারবার বরখাস্ত করা মানে ভোটারদের রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেলা। সাধারণ মানুষের পছন্দকে সরকার কোনো মূল্যই দিচ্ছে না। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের শাহজালাল (র.) মাজার সংলগ্ন এক হোটেল ব্যবসায়ী মো. মমতাজ আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, এটা জনগণের সঙ্গে তামাশা ছাড়া কিছুই নয়। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বরখাস্ত করা হলে কোনো প্রশ্ন উঠত না।
দু’বার বরখাস্ত, ক্ষমতার বাইরে ছিলেন দু’বছর বুলবুল : চার বছরের মধ্যে দু’বছরই ক্ষমতার বাইরে ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। গত ২ এপ্রিল দায়িত্ব নেয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফের সাময়িক বরখাস্ত হন তিনি। পুলিশ সদস্য সিদ্ধার্থ সরকার হত্যা মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়ায় ২০১৫ সালে ৭ মে বুলবুলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে আপিলের পর ২০১৬ সালের ১০ মার্চ উচ্চ আদালত তার বরখাস্তের আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেন। এরপর আইনি লড়াই শেষে ২ এপ্রিল সকালে দায়িত্ব নিতে নগরভবনে যান মেয়র বুলবুল। কিন্তু বিকালেই তাকে আবারও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর ৪ এপ্রিল তিনি এই আদেশের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করেন। আদালতের নির্দেশে ৮ এপ্রিল মেয়রের দায়িত্ব ফিরে পান বুলবুল। এ বিষয়ে মেয়র বুলবুল বলেন, ‘আমি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। কিন্তু শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই আমাকে বিভিন্ন মামলায় আসামি করা হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে মামলার চার্জশিট দিয়ে সাময়িক বরখাস্ত করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু আইন আমাকে দায়িত্ব ফিরিয়ে দিয়েছে। যদিও এরই মধ্যে চার বছর চলে গেল। কিন্তু নগরবাসীর উন্নয়নে হয়তো কাক্সিক্ষত সেবা দিতে পারিনি।’
সিলেটের আরিফ ২৭ মাসই ছিলেন দায়িত্বের বাইরে, বরখাস্ত হন দু’বার : সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ২০১৩ সালের ১৫ জুন নির্বাচিত হন। দায়িত্ব গ্রহণের ১৪ মাস পর ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর কারাগারে যান তিনি। কারাগারে যাওয়ার পর ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি বরখাস্ত হন আরিফ। ২ বছর কারাভোগের পর চার মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি মুক্তি পান তিনি। ২ এপ্রিল তিনি মেয়রের দায়িত্ব ফিরে পান। দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফের আরিফকে বহিষ্কার করা হয়। তবে মাত্র ৪ দিনের মাথায় ৬ এপ্রিল আদালতের রায়ে ফের মেয়রের দায়িত্ব ফিরে পান আরিফ। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত মেয়র আরিফ দীর্ঘ ২৭ মাস দায়িত্বের বাইরে ছিলেন। এ ব্যাপারে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ‘দীর্ঘ ২৭ মাস দফতরের বাইরে থাকায় নগরবাসীর সেবা করার সুযোগ পাইনি। অতীতের মতো নগরবাসী আমার পাশে থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না।’
ভালোই আছেন বরিশালের কামাল : প্রায় চার বছরের দায়িত্ব পালনকালে খুব একটা ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়নি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বিএনপি নেতা আহসান হাবিব কামালকে। দায়িত্ব গ্রহণের শুরুর দিকে একবার বরখাস্ত এবং পরে আরও একবার কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়া বিরোধী দলের মেয়র হিসেবে তেমন কোনো ঝামেলায় পড়তে হয়নি তাকে। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করে চলার অভিযোগ রয়েছে কামালের বিরুদ্ধে। উল্লেখযোগ্য কোনো মামলা এমনকি একদিনের জন্যও জেলে যেতে হয়নি তাকে। এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে মেয়র কামাল যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অন্তত ১০ বার বিক্ষোভ এমনকি নগরভবনে ঢুকতে পর্যন্ত বাধা দেয়া হয়েছে। বুঝে-শুনে আইন-কানুন মেনে কাজ করি বলেই আটকাতে পারেনি কেউ। তাছাড়া আমার বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়ের হয়নি এটা সত্য নয়।’ বেশিদিন পদে থাকলেও স্বস্তিতে নেই মনি : অন্যান্য মেয়রের চেয়ে খুলনার মেয়র মো. মনিরুজ্জামান মনি বেশিদিন দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন। তবে আর্থিক চাপে স্বস্তিতে নেই তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০১৫ সালের ২ নভেম্বর মেয়র মনিরুজ্জামান মনি সাময়িক বরখাস্ত হন। ওই সময় ২৮ দিন জেল খাটেন তিনি। এরপর উচ্চ আদালতের রায়ে গত বছরের ২১ নভেম্বর মেয়রের দায়িত্ব ফিরে পান। মনি যুগান্তরকে বলেন, টাকার অভাবে প্রত্যাশিত উন্নয়ন করা সম্ভব হয়নি। গত চার বছরে নগরীর উন্নয়নে ৫০২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০টি প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও মাত্র ৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। দুটি প্রকল্পই আবার বিদেশি অনুদানে। সরকারি কোনো বরাদ্দ মেলেনি।
মেয়র এমএ মান্নান ৪ বছরে তিনবার বরখাস্ত, ২২ মাস কারাগারে : ২০১৩ সালে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর গত ৪ বছরে তিনবার বরখাস্ত এবং ২২ মাস কারাভোগ করেন গাজীপুরের মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নান। ১৮ জুন আদালতের নির্দেশে মেয়রের দায়িত্ব নেন। তবে দরিদ্র তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা এক মামলায় আদালত চার্জশিট গ্রহণ করায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার তাকে আবারও বরখাস্ত করে। মেয়র পদ ফিরে পেতে সরকারের আদেশের বিরুদ্ধে রোববার হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন মান্নান। আদালত তিন মাসের জন্য ওই আদেশ স্থগিত করেন। এ ব্যাপারে বরখাস্তকৃত মেয়র এমএ মান্নান যুগান্তরকে বলেন, দেশে নির্বাচিত সরকার নেই। অনির্বাচিত সরকার অনির্বাচিত ব্যক্তিদের দিয়ে সিটি কর্পোরেশন চালাতে চায়। জনগণের ভোটের কোনো মূল্যায়ন সরকারের কাছে নেই।
 ৪ বার বরখাস্ত গউছ : হবিগঞ্জের পরপর ৩ বারের নির্বাচিত মেয়র জিকে গউছ কারাগারেই কাটিয়েছেন ১ হাজার ৩৩০ দিন। দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত হয়েছেন ৪ বার। ২০১৭ সালের শুরুতে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান তিনি। একই বছর ২৩ মার্চ উচ্চ আদালতের নির্দেশে পদও ফিরে পান। কিন্তু পদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে তৃতীয় ও চতুর্থ দফায় বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জিকে গউছ বলেন, ‘এলাকার উন্নয়ন করি বলেই জনগণ বারবার ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেন। কিন্তু সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বারবার বরখাস্ত করছে।’

চীন-ভারত দ্বন্দ্ব ও ভবিষ্যৎ বিশ্বরাজনীতি

সাম্প্রতিক সময়ে চীন-ভারত দ্বন্দ্বের বিষয়টি বহুল আলোচিত। সীমান্তে সৈন্য মোতায়েনের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে দেশ দুটির মধ্যে যে উত্তেজনার জন্ম হয়েছিল, তার রেশ গিয়ে পড়েছিল জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে। গত ৮ জুলাই হামবুর্গে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন শেষ হয়েছে। ওই শীর্ষ সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদি ও শি জিনপিং যোগ দিয়েছিলেন। বৈঠকের এক ফাঁকে শি জিনপিং ও মোদি এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে মিলিত হয়েছিলেন। কিন্তু তাতে উষ্ণতা ছিল না। এই যখন পরিস্থিতি তখন গত ৭ জুলাই থেকে বঙ্গোপসাগরে শুরু হয়েছে জাপান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ নৌমহড়া। এ মহড়ায় ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী একাধিক যুদ্ধজাহাজ অংশ নিচ্ছে। এ মহড়া চলবে ১৭ জুলাই পর্যন্ত। পশ্চিমা গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, ‘মালাবার ২০১৭’ নামে পরিচালিত এ তিনদেশীয় নৌমহড়া মূলত চীনকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হচ্ছে। কেননা ইদানীং বঙ্গোপসাগর তথা ভারত মহাসাগরে চীনা ডুবোজাহাজের তৎপরতা বেড়েছে। এ ধরনের ঘটনা ভারতের নীতিনির্ধারকদের জন্য চিন্তার কারণ।
প্রফেসর, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
সিকিম সীমান্তে টানাপোড়েনের মধ্যে সেখানে যুদ্ধের মতো এক ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এমনকি সিকিমের স্বাধীনতাকামীদের সমর্থন দেবে বলে হুমকি দিয়েছিল চীন। চীনের সরকারি পত্রিকা ‘স্পেশাল টাইমস’-এর সম্পাদকীয়তে সিকিমের স্বাধীনতাকামীদের সমর্থনের কথা বলা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, তিব্বতে বিশাল সামরিক মহড়া আয়োজন করে চীন নাথুলা দিয়ে কৈলাস ও মানসসরোবরে তীর্থযাত্রীদের যাত্রা বন্ধও করে দিয়েছিল। ফলে একদিকে সিকিম সীমান্তে উত্তেজনা বজায় রাখা আর অন্যদিকে হামবুর্গে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মোদির সৌজন্য সাক্ষাৎ, দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ক কতটুকু উন্নত করতে পারবে, তা বলা মুশকিল। চীন ও ভারত সাম্প্রতিক সময়গুলোতে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জন করলেও ভারত মহাসাগরভুক্ত অঞ্চলে উভয় শক্তিই এক ধরনের ‘প্রভাব বিস্তার করার’ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বৃহৎ শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের অবস্থানকে সমর্থন করেছে। প্রভাব বিস্তার করার এই যে প্রতিযোগিতা, তাতে এ অঞ্চলের দেশগুলো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে। চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। আর ভারত ইতিমধ্যে অন্যতম একটি অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ফলে ভারত তার ‘ক্ষমতা প্রয়োগ’ করতে শুরু করছে। ফলে এ অঞ্চলে ভারতের ভূমিকা আগামীতে চীনা স্বার্থকে আঘাত করবে। ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারকরা এখন প্রকাশ্যেই বলছেন তারা এ অঞ্চলে চীনের উপস্থিতি ‘সহ্য’ করবেন না। ভুবনেশ্বর আইওআর সম্মেলনে (মার্চ ২০১৫) এ মেসেজটিই তারা দিয়েছেন। ভারতের পররাষ্ট্রনীতির এটা একটা নয়া দিক। সিসিলি ও মরিশাসের সঙ্গে একাধিক প্রতিরক্ষা চুক্তি ও এ দুটি দেশে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করার সিদ্ধান্ত, শ্রীলংকায় ভারতীয় প্রভাব বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে এ ‘জাফনা কার্ড’ ব্যবহার করা প্রমাণ করে ভারত ভারতীয় মহাসাগরভুক্ত অঞ্চলে তার প্রভাব-প্রতিপত্তি বাড়াতে চায়। ইতিহাসের ছাত্ররা জানেন ভারত প্রাচীনকালে তার ‘কটন রুট’ ব্যবহার করে এ অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে তার সম্পর্ক বৃদ্ধি করেছিল। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে প্রাচীন যুগে হিন্দু ও বৌদ্ধ সভ্যতা বিকাশে ভারতীয় পণ্ডিতরা একটি বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন। হাজার বছর আগে দক্ষিণের চোল বংশের রাজা রাজেন্দ্র চোলের আমলে নৌবাণিজ্যে ভারত শক্তিশালী ছিল।
ওই সময় ভারত মহাসাগরকে চোল হ্রদ বলা হতো। ভারতীয় নৌবাণিজ্যের যে প্রাচীন রুট, তাতে দেখা যায় ভারত, পাকিস্তান, কুয়েত, মিসর, আফ্রিকার মাদাগাস্কার, আবার অন্যদিকে শ্রীলংকা হয়ে সুমাত্রা, জাভা (মাল্লাকা প্রণালী), হংকং, জাপান পর্যন্ত ভারতীয় বাণিজ্য রুট সম্প্রসারিত ছিল। মোদি সরকার এ ‘কটন রুট’কেই নতুন আঙ্গিকে সাজাতে চায়। প্রাচীনকালে ভারতীয় তুলা তথা সুতি এ সমুদ্রপথে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেত। চীনা নেতা শি জিনপিং তার ‘সিল্ক রুট’-এর ধারণা নিয়ে ভারতীয় মহাসাগরভুক্ত অঞ্চলে চীনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চান, এর বিপরীতে ভারত তার পুরনো ‘কটন রুট’-এর ধারণা প্রমোট করছে। দ্বন্দ্বটা তৈরি হবে সেখানেই। বাণিজ্যনির্ভর এ দ্বন্দ্ব, শেষ অব্দি পরিণত হবে সামরিক দ্বন্দ্বে। চীন তার নৌবহরে বিমানবাহী জাহাজ আরও বাড়াচ্ছে। ভারত ও ভারত মহাসাগরে তার নৌবাহিনী শক্তিশালী করছে। আন্দামানে নৌঘাঁটি নির্মাণ করছে। বলা হয় একুশ শতক হবে এশিয়ার। তিনটি বৃহৎ শক্তি- চীন, জাপান ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক একুশ শতকের বিশ্ব রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করবে। এ ক্ষেত্রে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ভূমিকা রয়েছে বৈকি! জাপানের নিরাপত্তার গ্যারান্টার যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে। জাপানেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। একই কথা প্রযোজ্য ফিলিপাইনের ক্ষেত্রেও। এ অঞ্চলে চীনের সঙ্গে যে বিবাদ (জাপান ও ফিলিপাইনের) তাতে যুক্তরাষ্ট্র একটি পক্ষ নিয়েছে। সম্প্রতি শি জিনপিং যে নয়া সিল্ক রুটের কথা বলেছেন, তা ‘অন্য চোখে’ দেখছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের ধারণা এতে করে বিশাল এক এলাকাজুড়ে চীনা কর্তৃত্ব, প্রভাব ও প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। ইতিহাসের ছাত্ররা অনেকেই জানেন, ২১০০ বছর আগে চীনের হ্যান রাজবংশ এ সিল্ক রোডটি প্রতিষ্ঠা করেছিল। এ সিল্ক রোডের মাধ্যমে চীনের পণ্য (সিল্ক) সুদূর পারস্য অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে যেত। এর মধ্য দিয়ে আজকের যে মধ্যপ্রাচ্য সেখানেও চীনের প্রভাব বেড়েছিল। চীনের প্রেসিডেন্ট এর নামকরণ করেছেন ‘নিউ সিল্ক রোড ইকোনমিক বেল্ট’। এটা চীনের পশ্চিমাঞ্চল থেকে শুরু করে মধ্য এশিয়া পর্যন্ত সম্প্রসারিত। একইসঙ্গে একটি মেরিটাইম সিল্ক রুটের কথাও আমরা জানি, যা কিনা চীনের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর একটা যোগসূত্র ঘটিয়েছিল। ইতিহাস থেকে জানা যায়, চীন থেকে সমুদ্রপথে বাণিজ্য করতে চীনারা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, মালয়েশিয়ায় এসেছিল। পরে তারা স্থায়ী হয়ে যায়। এমন কথাও বলা হয়, ব্রুনাইয়ে ইসলাম প্রচারের ব্যাপারে চীনাদের অবদান ছিল বেশি। ২০১২ সালে আমি তুরস্কে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে চীনাদের এ সিল্ক রুটের আগ্রহের কথা জানতে পারি। এই সিল্ক রুটের যে অংশ তুরস্কে পড়েছে, আমি সেটার বেশ কিছুটা পথও পাড়ি দিয়েছি। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তার প্রথম সফরে কাজাখস্তানে গিয়ে তার ঐতিহাসিক পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন। এর পরের মাসে ইন্দোনেশিয়ার পার্লামেন্টে দেয়া ভাষণে তিনি দ্বিতীয় মেরিটাইম সিল্ক রুটের কথাও বলেন। এতে করে একটা ধারণার জন্ম হয় যে, চীন শুধু মধ্য ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়া, পারস্য উপসাগর ও মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত বিশাল এক অর্থনৈতিক সংযোগ কাঠামো গড়ে তুলতে চায়। ইরানে চীনের যে বিশাল বিনিয়োগ রয়েছে, এটা নিশ্চয়ই অনেক পাঠকই জানেন। এখন যে প্রশ্নটি অনেক পর্যবেক্ষকই করেন তা হচ্ছে, চীনের এই ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোডের নীতি ভারতীয় স্বার্থের সঙ্গে কতটুকু সাংঘর্ষিক? কেননা দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত তার নিজস্ব মডেলে ভারতীয় মনরো ডকট্রিনের কাঠামো গড়ে তুলছে। অর্থনৈতিক প্রভাব বলয় বিস্তারের প্রতিযোগিতায় দ্বন্দ্ব তাই অনিবার্য। আর এ দ্বন্দ্বকে কাজে লাগিয়ে আটলান্টিক ও প্যাসিফিকের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ‘ফায়দা’ উঠাতে চাইবে। আগামী দিনগুলো তাই যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। তখন চীন-ভারত দ্বন্দ্ব যদি অব্যাহত থাকে, তা হলে এ অঞ্চলের দেশগুলো এতে করে ‘প্রভাবিত’ হবে। সবচয়ে বড় কথা ঝুঁকির মুখে থাকবে ব্রিকস ব্যাংক। বিশ্বের আর্থিক ব্যবস্থাকে সামনে রেখে ব্রিকসভুক্ত ৫টি দেশ একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার যে উদ্যোগ নিয়েছিল, তা যে কোনো বিবেচনায় গুরুত্বের দাবি রাখে। ব্রিকসভুক্ত দেশগুলো- চীন, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, রাশিয়া ও ব্রাজিল বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ তথা যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব হ্রাস করার উদ্দেশ্যেই ২০১৫ সালে আত্মপ্রকাশ করে ব্রিকস ব্যাংক বা এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক বা এশিয়ান অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) গঠন করে। এ ব্যাংককে বলা হচ্ছে বিকল্প বিশ্বব্যাংক। মোট ৫৭টি দেশ নিয়ে এ ব্যাংকের যাত্রা শুরু। মোট মূলধনের পরিমাণ ১০০ মিলিয়ন ডলার। এর মাঝে চীন জোগান দিয়েছে ২৯ দশমিক ৭৮ ভাগ অর্থ। এর পরের অবস্থান ভারতের। ভারতের অর্থের পরিমাণ ৮ দশমিক ৩৭ ভাগ। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জার্মানি ৪ দশমিক ৪৮ ভাগ।
ফ্রান্স ও ব্রিটেনের অবস্থান আরও অনেক পরে। বলাই বাহুল্য, যুক্তরাষ্ট্র যেমন এআইআইবির সদস্য হয়নি, ঠিক তেমনি জাপানও এর সদস্য নয়। বাংলাদেশসহ সার্কভুক্ত প্রায় প্রতিটি দেশ এ ব্যাংকের সদস্য। ২০১৫-১৬ সালে গ্রিসের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি হলে এবং রাষ্ট্রপতি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে উন্নয়নশীল বিশ্বে আইএমএফের ঋণনীতি আবারও আলোচনায় আসে। আইএমএফ শর্তসাপেক্ষে গ্রিসকে আরও ঋণ দিতে চেয়েছিল। কিন্তু গ্রিস সরকার তাতে রাজি হয়নি। ফলে রাষ্ট্রটি দেউলিয়া হয়ে যায়। ইউরো জোন থেকে দেশটির ছিটকে পড়ারও আশঙ্কা ছিল। এমনি একটি পরিস্থিতিতে এআইআইবির জন্ম বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় নতুন এক চমক সৃষ্টি করতে পারে বলে অনেকের বিশ্বাস। কিন্তু যেভাবে ভারত মহাসাগরে এ দুই দেশের মাঝে এক ধরনের প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, তাতে করে এ ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটা প্রশ্ন থাকলই। এখন দেখার পালা যৌথভাবে একটি বিকল্প বিশ্বব্যাংক প্রতিষ্ঠা করলেও এ দুই দেশের মাঝে দ্বন্দ্ব কোন পর্যায়ে উপনীত হয়। গত ৯ জুলাই মোদি-শি জিনপিংয়ের ছবি ছাপা হয়েছে সংবাদপত্রে। ছবির সঙ্গে কলকাতার আনন্দবাজারের বক্তব্য ছিল এ রকম : ‘নয়াদিল্লির প্রশংসা করে ভারতের নেতৃত্বে ব্রিকসের মঞ্চ গতি পেয়েছে।’ এটা চীনা প্রেসিডেন্টর বক্তব্য, মোদির বক্তব্যও অনেকটা এরকম। এখন দেখার পালা সব কিছু ভুলে এ দুটি দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে কিনা। এখানে আস্থা ও বিশ্বাস রাখাটা জরুরি।
ড. তারেক শামসুর রেহমান : প্রফেসর, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
tsrahamanbd@yahoo.com