Wednesday, September 9, 2015

মিয়ানমার নির্বাচনে সুচি এবং মুসলিম বিতর্ক

মিয়ানমারে ২০১১ সালে বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা আসার পর এই প্রথম দেশটিতে একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে সেই নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারাভিযান। এরই মধ্যে প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করেছে দলগুলো, কিন্তু গণতন্ত্র পন্থী নেতা অং সাং সুচির দল এনএলডির তালিকায় কোনও মুসলিম প্রার্থী না থাকায় এখন নতুন একটা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনগোষ্ঠী মুসলিম ধর্মাবলম্বী কিন্তু এই ধর্মের মানুষেরা প্রায়ই অভিযোগ করে থাকেন যে সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দ্বারা তারা বৈষম্যের শিকার হয়ে থাকেন। একটা সময় ছিল যখন অং সাং সুচিকে এশিয়ার ম্যান্ডেলা বলে অভিহিত করা হতো। কারো কারো কাছে তিনি সাধুসন্ত পর্যায়ের একজন মানুষ। মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য তার সুদীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ তাকে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার এনে দিয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে তাকে প্রশংসিত করেছে।
কিন্তু ২৫ বছর পর মিয়ানমারে প্রথম যে সাধারণ নির্বাচনটি হতে যাচ্ছে সেখানে মনে হচ্ছে নীতিবোধের চাইতে বাস্তবতাই বেশী প্রাধান্য পাচ্ছে। ইয়াঙ্গুনের শহরতলীর একটি চায়ের দোকানে বিবিসির সংবাদদাতা জোনাহ ফিশারের কথা হয় সিটু মংয়ের সঙ্গে। মুসলিম ধর্মাবলম্বী মিস্টার মং উনত্রিশ বছর বয়সেই একজন প্রখ্যাত ছাত্রনেতা। ২০০৭ সালের সন্ন্যাসী বিপ্লবের পর চার বছর কারাগারে কাটে তার। সেখান থেকে বেরিয়ে অং সাং সুচির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিতে যোগদান করেন তিনি।
তাঁর ধারণা তিনি এই নির্বাচনে ইয়াঙ্গুন আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে জয়লাভ করবেন তিনি কারণ এই আসনে মুসলিম ভোটার প্রচুর, এবং এজন্য তিনি এনএলডির প্রার্থী হবার জন্য আবেদনও করেন, কিন্তু বিস্ময়ের সাথে তিনি লক্ষ্য করেন তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। তার ধারনা মুসলিম হবার কারণেই এমনটি করা হয়েছে তার সঙ্গে। সিটু মংই মিয়ানমারের একমাত্র অসন্তুষ্ট মুসলিম রাজনীতিবিদ নন। রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থীদের যে তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে তা বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ১১শ ৫১ জন প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে এনএলডি এবং এর মধ্যে একজন মুসলিমও নেই। এ নিয়ে অং সাং সুচির বক্তব্য জানার জন্য তার অফিসে যোগাযোগ করা হয়, কিন্তু ব্যস্ততার কারণে সংবাদদাতাকে তিনি সময় দেননি। পরে পাওয়া যায় এনএলডির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন উ টিন উ-কে। এনএলডির প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত একজন মুসলিম ধর্মাবলম্বীর নাম উল্লেখ করতে বলতে বলা হলে মি. উ সংবাদদাতাকে বলেন, তার জানা নেই। এ নিয়ে দলের অন্য নেতাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলে তারাও এড়িয়ে যান। তবে অনেকেই মনে করছেন, এনএলডি এটা করছে কারণ দলটি কট্টর বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের খেপাতে চায় না। বৌদ্ধরা দেশটির রাজনীতিতে প্রচণ্ড ক্ষমতাশালী এবং যেই এখানে মুসলিমদের অধিকারের সপক্ষে দাঁড়ায় বা দাঁড়াতে চেষ্টা করে তার বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে অবস্থান নেয় তারা। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে জনসভায় অংশ নিয়ে বিপুল জনসমাগম আকর্ষণ করতে পেরেছেন অং সাং সুচি। বহু বছর অপেক্ষা করবার পর যে সুযোগ তিনি পেয়েছেন, মনে হচ্ছে যে কোনও মূল্যে সেটা কাজে লাগাতে চাইছেন তিনি এবং জয় ছাড়া আর কিছুই যেন তিনি ভাবতে পারছেন না।

দায়মুক্তির বিধান রেখে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বিল পাস

দায় মুক্তির বিধান দিয়ে রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রসহ অন্যান্য পারমাণবিক কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনার জন্য একটি কোম্পানি গঠন ও এ সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে বিধান করে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিল-২০১৫ পাস করা হয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন।
গত ৬ সেপ্টেম্বর বিলের ওপর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির রিপোর্ট উপস্থাপন করা হয়।
বিলে আইনের প্রাধান্য ও প্রয়োগ, কোম্পানি গঠন ও নিয়মিতকরণ, অনুমোদিত মূলধন, কোম্পানির প্রধান কার্যালয় ও কার্যাবলী, কোম্পানি পরিচালনা, বোর্ড গঠন, চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অন্যান্য পরিচালক, নিয়োগ ও কার্যাবলী, যোগ্যতা, অযোগ্যতা এবং অপসারণ, জনবল কাঠামো, হিসাব ও নিরীক্ষা, প্রতিবেদন, পরিচালনা কার্যক্রম, মাসিক সাধারণ সভা, সংরক্ষিত তহবিল, ভূমি অধিগ্রহণ, বিধি ও প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান করা হয়েছে।
বিলে সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানী বাংলাদেশ লিমিটেড নামে একটি কোম্পানী গঠন ও নিয়মিতকরণ করার বিধান করা হয়। কোম্পানী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অন্যান্য পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিচালন সংস্থা হিসাবে পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে।
বিলে বাংলাদেশ এটমিক এনার্জি কমিশন রাশিয়ান ফেডারেশন ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সহযোগিতা চুক্তি এবং সংস্থার গাইড লাইন অনুযায়ি মালিক সংস্থা হিসাবে দায়িত্ব পালনের বিধান করা হয়। তবে শর্ত থাকে কমিশন এর সকল বা যে কোন দায়িত্ব প্রয়োজনবোধে অর্পণ করতে পারবে।
বিলে কোম্পানীর কার্যক্রম এবং ব্যবসা পরিচালনা ও সাধারণ তত্ত্বাবধানের জন্য অন্যূন ৭ ও অনধিক ১২ জন পরিচালকের সমন্বয়ে একটি বোর্ড গঠনের বিধান করা হয়। বোর্ডে একজন চেয়ারম্যান ও একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাখার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া বিলে দায় মুক্তির বিধানও করা হয়েছে।
জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম, রওশন আরা মান্নান ও স্বতন্ত্র সদস্য হাজী মো. সেলিম জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাব আনলে তা কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।
সূত্র : বাসস।

২০১৫ ও ২০১৬ সালে ইউরোপে পৌঁছবেন সাড়ে ৮ লাখ শরণার্থী

২০১৫ ও ২০১৬ সালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে কমপক্ষে সাড়ে ৮ লাখ শরণার্থী ও অভিবাসন-প্রত্যাশী ইউরোপে পৌঁছবেন। এ বছর এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৬৬ হাজার শরণার্থী ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর এক প্রতিবেদনে এ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। ইউরোপের দেশগুলোতে ক্রমেই বেড়ে চলা শরণার্থীদের চাপ সামাল দিতে ও তাদের আশ্রয় দিতে শরণার্থী নীতিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ইউএনএইচসিআর-এর একটি আপিল ডকুমেন্টে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে ভূমধ্যসাগর পথে সবমিলিয়ে প্রায় ৪ লাখ নতুন শরণার্থী ইউরোপে আশ্রয় প্রার্থনা করবেন। ২০১৬ সালে এ সংখ্যা সাড়ে ৪ লাখ বা আরও বেশিতে দাঁড়াতে পারে। মুখপাত্র উইলিয়াম স্পিন্ডলার বলেছেন, এ বছর ইউরোপে আশ্রয় নিতে যাওয়া শরণার্থী সংখ্যা নিয়ে যে ধারণা করা হয়েছিল, তা অনেকটাই যথাযথ। কারণ, এরই মধ্যে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ৩ লাখ ৬৬ হাজার মানুষ ইউরোপে আশ্রয় নিয়েছেন। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়া ও সমুদ্র আরও উত্তাল হওয়ার পর শরণার্থীরা ইউরোপে যাওয়ার প্রচেষ্টা বন্ধ করার ওপর সংখ্যাটা নির্ভর করবে। শীতের মাস আসন্ন হলেও, এখন পর্যন্ত শরণার্থীরা সমুদ্র পাড়ি দেয়া থেকে বিরত থাকছেন না। ফলে, সংখ্যায় বড় ধরনের পরিবর্তনের কোন ইঙ্গিত নেই। এর মধ্যে জার্মানি সিরীয় শরণার্থীদের জন্য নিয়ম শিথিল করায় তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপের অন্যান্য দেশও শরণার্থীদের আশ্রয় দিচ্ছে।
এদিকে ইউএনএইচসিআর প্রধান অ্যান্টোনিও গুতেরেস শরণার্থীদের ইউরোপে প্রবেশের জন্য বৈধ উপায় বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন। এর মধ্যে ভিসার সংখ্যা বৃদ্ধি ও ইউরোপের বিভিন্ন রাষ্ট্রে পরিবারবর্গের সঙ্গে শরণার্থীদের মিলিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়ার বিষয় অন্তর্ভুক্ত। এদিকে গতকাল জার্মানি তার ইউরোপীয় অংশীদার রাষ্ট্রসমূহের প্রতি জানানো আহ্বানে আরও বেশি সংখ্যক শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। কারণ, জার্মানি রেকর্ড সংখ্যক আশ্রয়প্রার্থীকে এরই মধ্যে আশ্রয় দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাহী কমিশন এ সপ্তাহে একটি কর্মসূচি উদ্বোধন করবে। এর আওতায় ইতালি, হাঙ্গেরি ও গ্রিসে পৌঁছানো ১ লাখ ৬০ হাজার শরণার্থীকে বিভিন্ন দেশে ভাগ করে পাঠানোর ব্যাপারে কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে। জাতিসংঘের অভিবাসন ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থার মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি পিটার সাদারল্যান্ড বলছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র, সম্পদশালী গাল্ফ রাষ্ট্রসমূহ ও জাপানসহ অন্যান্য দেশকেও অবশ্যই তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

ড. ইউনূসের পরামর্শ চাইলো মহারাষ্ট্র সরকার

ভারতের মহারাষ্ট্র সরকার তার বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল পুরস্কার বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের। এজন্য তাকে আমন্ত্রণ জানায় মহারাষ্ট্র সরকার। সরকারের পক্ষে অর্থ, পরিকল্পনা ও বনমন্ত্রী সুধীর মানগান্তিবার (বিজেপি) পল্লী উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন কর্মসূচি প্রণয়নে সহায়তা চান বাংলাদেশের এই নোবেলজয়ীর কাছে। যে অনুষ্ঠানে এই সহায়তা চাওয়া হয় সেখানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী দীপক কেশরকারও। চার ঘণ্টাব্যাপী এই বিশদ আলোচনায় অংশ নেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত সরকারের বিভিন্ন এজেন্সির প্রধানরা, শিক্ষাবিদগণ, জাতীয় পল্লী অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান ঘঅইঅজউ-এর প্রতিনিধিবৃন্দ। ইউনূস সেন্টারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মহারাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী আলোচনার জন্য কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেন। মন্ত্রীর পরবর্তী বাজেট বক্তৃতার অংশ হিসেবে ও বাজেটে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে অন্তর্ভুক্ত করতে একটি কর্মকৌশল প্রতিবেদন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে এই প্রশ্নগুলো তৈরি  করা হয়েছিল। তিনি বিশেষ করে সামাজিক ব্যবসা সম্পর্কে এবং গ্রাম ও শহরের বেকার যুব সমাজের বেকারত্ব দূর করার কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চান। তিনি ও তার সহকর্মীরা জানতে চান তাদের রাজ্যে ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য গৃহীত ঋণ কর্মসূচিগুলো কেন ভালভাবে কাজ করছে না এবং বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংকের অভিজ্ঞতায় কি করে এই কর্মসূচিগুলোকে উজ্জীবিত করা যায়। মন্ত্রী জানতে চান, প্রফেসর ইউনূসের কর্মসূচিগুলো কিভাবে প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশে এগুলোর সফলতার কারণ কি। তার রাজ্যে বাস্তবায়ন করা যায় এমন যথাযথ প্রকল্প এবং সেগুলোর সুনির্দিষ্ট ফলাফল সম্পর্কেও মন্ত্রী আগ্রহ দেখান, যাতে মহারাষ্ট্রের বাজেট প্রক্রিয়ায় এগুলো অন্তর্ভুক্ত করা যায়। তার আগ্রহের বিষয় ছিল মূলত তিনটি: গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে অতি দরিদ্রদের অর্থায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে আসা, মহারাষ্ট্রে উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং কর্মসংস্থান তৈরি করার লক্ষ্যে দেউলিয়া হয়ে যাওয়া অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগগুলোর পুনরুজ্জীবন। সামাজিক ব্যবসা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রফেসর ইউনূস বলেন যে, অর্থ উপার্জন একটি সুখকর জিনিস। তবে অন্যদের সুখী করা অতি-সুখকর। মন্ত্রী পরে বলেন, তিনি তার রাজ্যের ১৭ লাখ স্বাবলম্বী গ্রুপকে ‘অতি-সুখী গ্রুপ’-এ পরিণত করতে চান। সভা শেষে মন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, তিনি দসারা ও দিওয়ালির মধ্যবর্তী সময়ে (২৩ অক্টোবর থেকে ৯ই নভেম্বরের মধ্যে) তার বিশেষজ্ঞবৃন্দ ও রাজ্য কর্মকর্তাদের নিয়ে বাংলাদেশে একটি স্টাডি ভিজিটে যাবেন, যাতে সেখানে অবস্থানকালে এ সম্পর্কে মৌলিক ধারণা অর্জন করতে পারেন। বাস্তবায়ন কর্মকৌশল চূড়ান্ত করতে ও আলোচনা চালিয়ে যেতে তিনি মহারাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, ভারতে ইউনূস সামাজিক ব্যবসার কান্ট্রি ডিরেক্টর ও ঢাকায় ইউনূস সেন্টারের সমন্বয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও করেন। মন্ত্রী সুধীর মানগান্তিবার তার মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে প্রফেসর ইউনূসকে বেশ কিছু উপহার দেন এবং প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

নিরাপত্তাহীনতায় নারী মিডিয়া কর্মীরা by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

সোমা ও জুতি (ছদ্মনাম)। চাকরি করেন কাওরান বাজারের একটি মিডিয়া হাউসে। অফিস শেষে রাতে বাসায় ফিরেন তারা। কিন্তু ইদানীং বাসায় ফিরতে আতঙ্ক তাড়া করে বেড়ায় তাদের। সাম্প্রতিক কিছু ভয়ঙ্কর ঘটনা ওলটপালট করে দিয়েছে তাদের মনোজগৎ। একদিন কাওরান বাজারে সিএ ভবনের সামনে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তারা। হঠাৎ একটি মোটরসাইকেল তাদের গা ঘেঁষে দাঁড়ালো। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মোটরসাইকেল আরোহী তাদের লক্ষ্য করে অশালীন কথা বলতে থাকেন। যার বেশির ভাগই মুদ্রণ অযোগ্য। জুতি বর্ণনা করছিলেন আরেকটি ভয়ঙ্কর ঘটনা। রাত তখন সাড়ে নয়টা। মাইটিভি অফিসের ঠিক দশ গজ দক্ষিণে। হাঁটতে ছিলেন তিনি। হঠাৎ একটি প্রাইভেট কার ‘এক্স করোলা’ তার পাশে এসে গা ঘেঁষে থামালো। সঙ্গে সঙ্গে তিন-চারজনের একটি গ্রুপ প্রাইভেট কার থেকে রাস্তায় নামলো। একজন বলে উঠলেন, আমাদের সঙ্গে চলেন। কোথায় যাবেন, পৌঁছে দেবো। এ কথা শুনেই জুতি দ্রুত ভয়ে আশপাশের মানুষের দিকে ছুটে গেলেন। ততক্ষণে প্রাইভেট কার গ্রুপ ওই স্থান থেকে খুব দ্রুত সটকে পড়লো। শুধু সোমা ও জুতি নয়, ঢাকা শহরে এভাবেই হাজার হাজার নারী প্রতিনিয়ত রাতে এ রকম গ্রুপের মুখে পড়ছেন। কেউ কখনও বলছেন। কেউবা হজম করছেন নীরবে। তাদের প্রশ্ন- আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? এ ছাড়া পরিবহন সংকটের কারণে পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে।
ধানমন্ডির একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স করছেন কামরুন নাহার। অনেক সময় ক্লাস শেষ হতে তার রাত ৯টা বেজে যায়। তখন ধানমন্ডি থেকে মতিঝিলের আরামবাগ তার বাসায় না পৌঁছা পর্যন্ত প্রচণ্ড আতঙ্কে থাকেন তিনি। কারণ, প্রায়ই নানা বাজে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। ‘র’ আদ্যক্ষরের এক নারী চাকরি করেন একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে। তিনি রাতে চলাচলে তার কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন এ প্রতিবেদকের কাছে। যাকে তিনি ‘সেক্সসুয়াল হেরেজমেন্ট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওই নারী কর্মী বলেন, একদিন কাওরান বাজার থেকে একটি গণপরিবহনে ওঠেন তিনি। বাসের ভেতরে তিনি সামনে একটি সিটে বসেছিলেন। কিন্তু একটি ছেলে অনাকাঙিক্ষতভাবে তার দিকে তাকিয়ে কিছু বলছে। একপর্যায়ে ওই ছেলেটি তাকে সেলফোন নম্বর দিয়ে বলতে থাকে ফোন দিও। তিনি জানান, ‘শুধু ইয়াং ছেলেরাই নয়, বয়স্করাও মাঝে মাঝে মেয়েদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করে। পুরুষদের এমন আচরণে মনে হয়, রাতে যেসব মেয়ে চলাচল করে তারা সবাই খারাপ নারী।’
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি বছরের ২১শে মে রাতে রাজধানীতে মাইক্রোবাসে তুলে এক গারো তরুণীকে গণধর্ষণ করে একদল যুবক। ২১ বছর বয়সী এ তরুণী কুড়িলে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তখন একদল যুবক তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে দলবেঁধে ধর্ষণ করে। রাতে ধর্ষণের ঘটনার পর মামলা করার জন্য মেয়েটিকে নিয়ে থানায় থানায় ঘুরে পুলিশের অসহযোগিতার কারণে ভোগান্তি পোহাতে হয় অভিভাবকদের। চলতি বছরের আগস্টের গোড়ার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গণধর্ষণের শিকার হন বেসরকারি পলিটেকনিক কলেজের এক ছাত্রী। ওই কলেজছাত্রী এক ছেলে বন্ধুর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হন। ভাটারা এলাকায় ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক শিশু। যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই ফয়সাল, শাহাদাৎ ও বাবু নামের তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। একই মাসে রাজধানীর উত্তরায় এক কর্মজীবী তরুণী কর্মস্থল থেকে বন্ধুর সঙ্গে বাসায় যাওয়ার সময় গণধর্ষণের শিকার হন। এর আগে জুলাইয়ে লালবাগে এক তরুণীও বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হন।
নারীদের জীবিকার তাগিদে কিংবা নানা কাজে বাইরে যেতে হয়। আসলে ঢাকা শহরকে নারীদের জন্য ‘অনিরাপদ’ ভাবেন কিনা? এ প্রশ্ন রাখা হয় ঢাকার রাস্তায় বেশ কজন পুরুষের কাছে। অনেক পুরুষ বলেছেন, আজকাল রাতে নারীদের চলাফেরা অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ রকম একজন যাত্রী মাহমুদ। তিনি একটা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, রাতে নারীদের চলাফেরায় এখন ব্যাপক সমস্যা হয়ে পড়েছে। একদিন এক মেয়ের সঙ্গে দু-তিন পুরুষকে অপ্রীতিকর কিছু কথা বলতে শুনেছি। তা একপর্যায়ে বাকবিতাণ্ডে রূপ নেয়।
গত ১লা সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি আয়শা খানম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাসে বিভিন্ন শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেন। এ সময়ে দেশে ২৪৪৭ জন নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে তারা উল্লেখ করেন। নেতারা বলেছেন, বাসে, ট্রাকে, মাইক্রোবাসে, নৌকায়, রিকশায় গণধর্ষণ প্রতিদিন ঘটে চলেছে। সুতরাং এ পরিস্থিতি উত্তরণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন) মুনতাসিরুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। রাতে যারা এ ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হন তাদের থানায় বা পুলিশের কাছে দ্রুত অভিযোগ দিতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ কন্ট্রোল রুমকে জানাতে পারেন। টহল পুলিশকে জানালে সহায়তা দেবে। গাড়ির নম্বর রাখতে হবে। সবাই সচেতনভাবে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে এ রকম ঘটনা কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন।
নগরীতে পরিবহন সংকটে যত ভোগান্তি: নিত্যদিনের যাত্রায় পরিবহনে নৈরাজ্যের কারণে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে রাজধানীর লাখ লাখ মানুষের জীবন। রাজপথে প্রাইভেট কারের বিস্তার, গণপরিবহন কমে যাওয়া, ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযানসহ বিভিন্ন কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রতিদিনের যাত্রীরা। চাহিদার প্রায় অর্ধেক বাস-মিনিবাসে ঝুঁকি নিয়ে দুর্ভোগের যাত্রা সারেন সাধারণ মানুষ। সমপ্রতি ফিটনেসবিহীন গাড়ি আটকের অভিযানে অনেক বাস গ্যারেজবন্দি হয়ে পড়েছে। ফলে দুর্ভোগের রাজধানীতে পরিণত হয়েছে এ নগরী। যাত্রীবাহী বাস কমে যাওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাসে চড়তে পারছেন না যাত্রীরা। সেই সঙ্গে রয়েছে দুর্ভোগের যানজট। বিশেষ করে সকালে অফিস শুরুর আগে ও বিকালে ছুটি শেষে অসহনীয় দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। নারী ও শিশু, অসুস্থ, বয়স্ক যাত্রীদের গন্তব্যে যেতে সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হতে হয়। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) পরিসংখ্যাস অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে রাজধানীর রাস্তায় প্রাইভেট কার নেমেছে ১০ হাজার ১৭০টি। গড়ে প্রতিদিনে ৪৮টি করে। অথচ এ সময়ে মিনিবাস নেমেছে মাত্র ৫২টি। এর আগে ২০১৪ সালজুড়ে রাজধানীতে প্রাইভেট কার রেজিস্ট্রেশন নিয়েছিল ১২ হাজার ৯৭২টি। প্রতিদিন গড়ে ৩৬টি করে। এ সময় মিনিবাস রেজিস্ট্রেশন নিয়েছে মাত্র ১৩৫টি। রাজধানীর রাজপথে পালা দিয়ে বাড়ছে ব্যক্তিগত ছোট গাড়ি। কিন্তু চাহিদার তুলনায় বাড়ছে না গণপরিবহন। ফলে দুর্বিষহ যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের। রাজধানীতে বর্তমানে ব্যক্তিগত ছোট গাড়ি রয়েছে দুই লাখ ১৫ হাজার। এ সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। নগরীতে মানুষের কাজের ক্ষেত্র বেড়েছে। কিন্তু বাড়তি যাত্রী-চাহিদার বিপরীতে গণপরিবহন না বেড়ে বরং কমে গেছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট কমিটির (মেট্রো আরটিসি) বাসরুটের তালিকা অনুযায়ী, ১৬৬টি রুটে সাত হাজার ৩৬২টি গাড়ির সিলিং থাকলেও বর্তমানে অর্ধেকের বেশিতে যানবাহন নেই। সিটিতে চলছে চার হাজারের কিছু বেশি বাস। পরিবহন মালিকরা বলেছেন, যাত্রী বাড়লেও রাজধানীতে যানজটের কারণে বাসের ট্রিপসংখ্যা (আসা-যাওয়া) কমে যাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে মালিকদের। এজন্য নতুন গাড়ি রাস্তায় নামানোর ব্যাপারে মালিকদের আগ্রহ কম।
রাজধানীর যানজট ও পরিবহন নিয়ে চলতি বছরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগ এক গবেষণা পরিচালনা করে। পুরকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান এ বিষয়ে মানবজমিনকে জানান, তাদের গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী ঢাকা শহরে গণপরিবহন আরও বাড়াতে হবে। পথচারীদের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। হাদিউজ্জামান আরও জানান, ঢাকা শহরে প্রতিদিন যে কোন পরিবহন মিলে মোট ২২ মিলিয়ন ট্রিপ দেয়া হয়। ট্রিপের গড় দূরত্ব ৫ দশমিক ৪ কিলোমিটার। প্রতি ট্রিপে ৩০ মিনিট করে দেরি ধরে এ হিসাব করা হয়েছে। ওই গবেষণায় দেখা গেছে, যানজটে ঢাকা সিটিতে বছরে আর্থিক হিসেবে ৩২ হাজার কোটি টাকার কর্মঘণ্টার ক্ষতি হয়। এ হিসেবে প্রতিদিন ৮৭ কোটি ৬৭ লাখ ১২ হাজার টাকা আর ঘণ্টা হিসেবে প্রতি ঘণ্টায় ক্ষতি হয় ৩ কোটি ৬৫ লাখ ২৯ হাজার টাকা।
ঢাকা সিটি করপোরেশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই বিপুল জনসংখ্যার নগরে সাধারণ পথচলা মানুষের জন্য গণশৌচাগারের (পাবলিক টয়লেট) সংখ্যা ৭৯টি। সংখ্যায় অপ্রতুল হলেও নোংরায় এগুলো সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। নিতান্ত বিপদে পড়ে শুধু পুরুষেরা এসব গণশৌচাগার ব্যবহার করতে বাধ্য হন। আর নারীদের কথা না বলাই ভাল। ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) কর্মকর্তারা বলেছেন, জায়গার অভাবে তারা নতুন গণশৌচাগার নির্মাণ করতে পারছেন না। আর যেখানে জায়গা আছে, সেখানে শৌচাগারের চাহিদা কম। শৌচাগারের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ব্যবহারোপযোগী করা প্রসঙ্গে ঢাকা সিটি করপোরেশনের (দক্ষিণ) প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা খালিদ আহম্মেদ মানবজমিনকে বলেন, বার্ষিক চুক্তিতে কিছু শর্তসাপেক্ষে শৌচাগারগুলো ইজারা দেয়া হয়। এগুলো দেখবাল করার দায়িত্ব আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের। এ ক্ষেত্রে শৌচাগার পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব ইজারাদারের। ডিসিসির আওতাধীন এলাকায় যে ৭৯টি শৌচাগার আছে তার ৫৪টি দক্ষিণে এবং ২৫টি উত্তরে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান এবং নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, রাজধানীতে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ কাজের তাগিদে বাড়ি থেকে বের হন। তাদের শৌচাগারের প্রয়োজন। সে হিসাবে মহানগর ঢাকায় শৌচাগারের যে সংখ্যা, তা খুবই নগণ্য। মহিলাদের টয়লেটগুলো ব্যবহার অনুপযোগী বলে তিনি মন্তব্য করেন। জনসংখ্যার বিবেচনায় শহরে প্রচুর স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার দরকার। বিশেষ করে রেল, বাসস্টেশনে এগুলো তৈরি করতে হবে। উন্নত দেশে তিন ধরনের টয়লেট আছে উল্লেখ করে এ নগর পরিকল্পনাবিদ বলেন, তা হলো সাধারণ, প্রস্রাব ও পায়খানা এবং গোসল করার জন্য আলাদা। সিটি করপোরেশন তো তৈরি করবেই। এ ছাড়া এনজিওগুলো এগিয়ে আসতে পারে শৌচাগারে তৈরিতে। এগুলোর তদারকি করতে হবে।

পরকীয়ার ঝড় সায়মার জীবনে by রুদ্র মিজান

পরিচয় মোবাইলফোনে। তারপর প্রেম। একপর্যায়ে বিয়ে। সেই বিয়েটাই এখন অসহ্য যন্ত্রনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বামীর সঙ্গে আর একদিনও থাকার ইচ্ছে নেই তার। কাঁদতে কাঁদতেই জানালেন, এই বিয়েটা তার জীবনের একটা অভিশাপ। এ থেকে মুক্তি চান তিনি। বলছি সায়মা আক্তারের (ছদ্ধ নাম) কথা। ঢাকা মডেল ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী। রাজধানীর ইব্রাহিমপুরের কাফরুলে থাকেন তিনি। মা-বাবা ও ভাইদের কাছে অত্যন্ত আদরের মেয়ে সায়মা। সায়মার সুখের জন্যই তার প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে দেন স্বজনরা। কিন্তু সুখ হয়নি তার। বিয়ের দুই বছর পরেই স্বামীর পরকীয়া তার জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে।
স্কুল জীবনেই পরিচয় হয় প্রতিবেশী আসাদের (ছদ্ধ নাম) সঙ্গে। সায়মা তখন এসএসসি পরীক্ষার্থী। সালটা ২০০৯। পরিচয় মোবাইলফোনে। আসাদ তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলো। সেদিন আসাদকে খারাপ লাগেনি সায়মার। দুজনের গ্রামের বাড়িই বরিশালে। তাছাড়া আসাদের চেহারা দেখতেও খারাপ না। সাত-পাঁচ না ভেবেই তার প্রেমে পড়ে যান সায়মা। ছুটিয়ে প্রেম করেছেন তারা। সায়মাকে খুশি রাখতে ব্যস্ত আসাদ। সায়মার কোন সমস্যা হলে আর কথা নেই। সায়মার ভাষায়, মনে হতো আমি ব্যাথা পেলে কষ্ট হতো আসাদের। আসাদ তখন লেখাপড়া ছাড়া প্রায়। তিন বছর এভাবে প্রেম করার পর বিয়ে হয় আসাদ-সায়মার। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের না জানিয়েই বিয়ে করেন তারা। সায়মার পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা কোনভাবেই চাননি এই ছেলের সঙ্গে সায়মার বিয়ে হোক। কিন্তু সায়মার চাওয়াকে গুরুত্ব দিতে গিয়েই একসময় বিয়েটা মেনে নেন তারা। সায়মার উৎসাহেই সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটিতে বিবিএতে ভর্তি হন আসাদ। সংসার ও আসাদের লেখাপড়ার ব্যয় নির্বাহ করতেন সায়মার মা-ভাই। এমনকি আসাদকে নগদ ১ লাখ টাকা দেন তার মা। সেইসঙ্গে দেওয়া বাসা সাজানোর আসবাবপত্র, পাঁচ ভরি স্বর্ণালঙ্কার। এতোকিছুর পরও আসাদের মন জয়ে ব্যর্থ হন তারা। বিয়ের পরেই অন্য এক আসাদকে আবিষ্কার করেন সায়মা।
২০১৩ সাল। কেমন যেন বদলে যাচ্ছে আসাদ। প্রায়ই অন্যমনস্ক। সকালে বের হলে কখন ফিরে তার কোন ঠিক নেই। মোবাইলফোনে কল এলে কথা বলার জন্য বাসার বাইরে চলে যায়। বাইরে থাকাকালীন তার ফোনে কল দিলে প্রায়ই দীর্ঘ সময় ব্যস্ত পান সায়মা। তবু আসাদকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখেন না তিনি। এক বিকালে জানতে চেয়েছিলেন, ফোন এতো ব্যস্ত ছিলো, কার সঙ্গে কথা বলছিলে? পাল্টা প্রশ্ন করে আসাদ- তুমি কি আমাকে সন্দেহ করো? সায়মা জানান, তিনি কখনই সন্দেহ করেন না। অথচ আশপাশের অনেকের জানা হয়ে গেছে আসাদ পরকীয়ায় মজেছেন।
কাফরুলের ইব্রাহিমপুরে বাসার পাশেই একটি পার্লার। ওই পার্লারে কাজ করেন আসমা (ছদ্ধ নাম) নামের এক মেয়ে। ওই মেয়ের প্রেমে পড়ে যান আসাদ। স্ত্রী সায়মার চোখে ফাঁকি দিয়ে আসমাকে নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন বিভিন্নস্থানে। লোকমুখে বিষয়টি জানার পরও বিশ্বাস করেননি সায়মা। যুমনা ফিউচার পার্কের সামনে স্বামী আসাদ ও আসমাকে দেখলেন নিজ চোখেই। একই রিক্সায়। অন্তরঙ্গ অবস্থান দুজনের। রাস্তার এক পাশ থেকে তাকাতেই রিক্সাটা আড়াল হয়ে গেলো। নিজের চোখকে তখন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না সায়মা। এটা কি সম্ভব? তার ভালোবাসার মানুষটি এমন করতে পারে! আসাদ বাসায় ফেরার পর দুজনের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। ক্ষুব্ধ হন আসাদ। মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিতে চান সব। কিন্তু সায়মা যে প্রত্যক্ষদর্শী। তাই ফেঁসে যান তিনি। এভাবে কেটে যায় বেশ কিছু দিন। সায়মার সরল বিশ্বাস স্বামী আসাদ আর ভুল করবে না। নিশ্চয়ই অনুতপ্ত হয়েছে। সায়মার এই ধারণা ভুল। অন্য রুপ ধারণ করে আসাদ। দেশের বাইরে যেতে চান তিনি। এজন্য সায়মার সহযোগিতা চান। সায়মাকে চাপ দেন তার মা-ভাইদের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা এনে দিতে। সায়মা অপারগতা প্রকাশ করেন। এবার এই টাকার দাবিতে শুরু হয় বাকবিতন্ডা থেকে মারধর। সায়মা জানান, গত ১৩ই ফেব্রুয়ারি সকালে মারধর করে তাকে বাসা থেকে বের করে দেন আসাদ। স্বামীর মারধরে আহত হয়ে চিকিৎসা নেন হাসপাতালে। তারপর থেকে দুজন দুটি পথে। ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গেই যুদ্ধ করতে হচ্ছে এখন সায়মাকে। কাফরুল থানায় সাধারণ ডায়রি থেকে মামলা পর্যন্ত করতে হয়েছে তাকে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। গত ২রা আগস্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ মামলা করেন সায়মা। সালমা অভিযোগ করেন, পরকীয়ায় বাধা দেওয়ার কারণেই যৌতুকের জন্য নির্যাতন করা হয় তাকে। ভালোবাসার মানুষটি এভাবে বদলে যেতে পারে তা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে সালমার।
এসব বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সালমা আক্তার বলেন, টেলিভিশনের বিভিন্ন সিরিয়াল, বিদেশী সংস্কৃতির প্রভাবের কারণে অনেকেই পরকীয়াকে সহজভাবে গ্রহণ করছেন। কিন্তু এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে একটি পরিবার। পরকীয়া পরিবারকে ভেঙে দেয়। সঙ্গী ও সন্তানদের জীবন বিষিয়ে তোলে। যা বাঙালি সমাজে কোনভাবেই কাম্য হতে পারে না। পরকীয়ার ক্ষেত্রে বেকার স্বামী, স্ত্রীরা সহজেই প্রভাবিত হন। তাই কর্মহীন থাকা যেমন উচিত না, তেমনি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে গভীর ভালোবাসা থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশ বিশ্বের দশম আত্মহত্যাপ্রবণ রাষ্ট্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তৈরি করা আত্মহত্যাপ্রবণ রাষ্ট্রসমূহের তালিকায় বাংলাদেশ দশম স্থানে অবস্থান করছে। প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ৮ জনের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে বাংলাদেশে। গত সোমবার ডব্লিউএইচও’র এক কর্মকর্তা এক সংবাদ সম্মেলনে উদ্বেগজনক এ তথ্য দিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা সিনহুয়া। বাংলাদেশে প্রতিদিন আত্মহত্যার সংখ্যা ধীরে ধীরে বেড়ে চলেছে। ভয়াবহ এ প্রবণতা থেকে মানুষকে সরিয়ে আনতে আত্মহত্যা বিরোধী নানা প্রচারণা চালানোর বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আত্মহত্যা বিরোধী প্রচারণা বিষয়ক ফোরাম ‘ব্রাইটার বাংলাদেশ’-এর আহ্বায়ক জয়শ্রী জামান বলছিলেন, আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়াদের অধিকাংশের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। পারিবারিক বা সামাজিক নানা কারণে প্রচ- আবেগতাড়িত হয়ে তারা আত্মহত্যা করেন। সম্মেলনে তিনি বলেন, আত্মহত্যা অনেকের কাছে তাদের সাময়িক সমস্যার স্থায়ী সমাধান বলে মনে হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা দেখেছেন, যারা তাদের আত্মহত্যার প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের বেশির ভাগই আজ সুখী। কারণ, তারা এখনও পৃথিবীর বুকে বসবাস করছেন।
জয়শ্রী পেশায় সাংবাদিক। গত বছরের সেপ্টেম্বরে উত্তরায় তার টিনএজ দুই সন্তান একসঙ্গে আত্মহত্যা করার পর শোকে মুষড়ে পড়েছিলেন তিনি। ঘটনাবহুল সেই দিনটিতে সারা দেশে শোকের কালো ছায়া নেমে এসেছিল। সেই শোককে শক্তিতে পরিণত করে তিনি আত্মহত্যা রোধে প্রচারণায় নামেন এবং ব্রাইটার বাংলাদেশ ফোরামের যাত্রা শুরু হয়। আগামী ১০ই সেপ্টেম্বর বিশ্ব আত্মহত্যা দিবস পালিত হবে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের লক্ষ্যে সংবাদ-সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

নিজামীর আপিলের শুনানি ৩ নভেম্বর পর্যন্ত মুলতবি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর আপিলের শুনানি ৩ নভেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। আজ প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
এর আগে, আজ সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে আপিলের শুনানি শুরু হয়। প্রথমে রাষ্ট্রপক্ষে আদালতে আপিলের নথিপত্র উপস্থাপন শুরু করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। পরে নিজামীর পক্ষে তার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন তুহিন মামলার সারসংক্ষেপ থেকে পড়া শুরু করেন। পরে আদালত শুনানি ৩ নভেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করে।
নিজামীর মামলাটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় ৫ নম্বরে ছিল। এর আগে আজ সকাল ৯টায় আদালত বসার পরপর মতিউর রহমান নিজামীর আইনজীবীরা মামলাটি শুনানি ও সময় আবেদনের বিষয়ে উপস্থাপন করলে আদালত বলেন, কার্যতালিকা অনুযায়ী শুনানি শুরু হবে। পরে সিরিয়াল অনুযায়ী সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে শুনানি শুরু হয়।
২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর মতিউর রহমান নিজামীর মামলায় রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। রায়ে ১৬টি অভিযোগের মধ্যে ২, ৪, ৬ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর দেয়া এ রায়ের বিরুদ্ধে একই বছরের ২৩ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী। ছয় হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার আপিলে মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিল করে খালাস চেয়েছেন নিজামী। মোট ১৬৮টি কারণ দেখিয়ে এ আপিল করা হয়।

‘আওয়ামী লীগই বঙ্গবন্ধু হত্যার ক্ষেত্র তৈরি করেছিল’ -আ স ম আবদুর রব

‘জাসদ বঙ্গবন্ধু হত্যার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে’-আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আজকে যারা বলছেন জাসদ/জেএসডি বঙ্গবন্ধু হত্যার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে তাদের দলই বঙ্গবন্ধু হত্যার জন্য দায়ী। বঙ্গবন্ধুর পর তাদের দলেই খুনী মোস্তাকের নেত্রীত্বে সরকার গঠন করেছে। কারাগারে জাতীয় চার নেতাকেও হত্যা করা হয়েছে। তখন একমাত্র জাসদ/জেএসডি খুনী মোস্তাকের ফাঁসি দাবি করেছিল। বুধবার দুপুরে রাজধানীর  সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড নিয়ে জাসদ’কে জড়িয়ে যেতে বিতর্ক ওঠেছে তার অবস্থান পরিষ্কার করতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)।
লিখিত বক্তব্যে আ সম আবদুর রব বলেন, কোন নেতাকে হত্যার মাধ্যমে জেএসডি ক্ষমতার পটপরিবর্তন চায় না। গণতান্ত্রিক ধারার মাধ্যমেই ক্ষমতার পরিবর্তন চায়। তিনি বলেন, দেশর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়ংকর অবনতি ঘটেছে। আইনের শাসনের সুরক্ষা ভেঙ্গে পড়েছে। জনগণের গণতন্ত্র চর্চা বন্ধ করে সরকার জঙ্গিবাদী রাষ্ট্র বানানোর রসদ জোগাচ্ছে। 
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রেখে আ সম আবদুর রব বলেন, কারা সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পর ‘বিপ্লবী জাতীয় সরকার’ গঠন না করে বঙ্গবন্ধুকে দলীয় সরকার গঠনের পরামর্শ দিয়েছিল? কারা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাজউদ্দিন আহমেদের দুরত্ব তৈরি করেছে? কারা বঙ্গবন্ধুকে রক্ষী বাহিনী গঠনের পরামর্শ দিয়েছিল? রাজনৈতিক সংকটকে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দমন করার উদ্যোগ নিতে কারা বঙ্গবন্ধুকে উৎসাহিত করেছিল? কারা বঙ্গবন্ধুকে বাকশাল করতে বাধ্য করেছিল? কারা বঙ্গবন্ধুকে আজীবন প্রেসিডেন্ট আর সংসদের মেয়াদ বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যা ত্বরান্বিত করেছিল?
আওয়ামী লীগকে আরও গভীর অর্ন্তদৃষ্টি দিযে বঙ্গবন্ধু হত্যার কারণ ও উৎস বিশ্লেষণের আহ্ববান জানান আ স ম আবদুর রব। দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক বলেন, জাসদ কখণোই হত্যার রাজনীতি বিশ্বাস করে না। এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে অঙ্গীকারাবদ্ধ একটি গণতন্ত্রমনা দল। এসময় দুই জোটের বিকল্প হিসেবে ‘তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি’ গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীকে আহবান জানান তিনি।  সংবাদ সম্মেলনের এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি সাবেক এমপি এম এ গোফরান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাউর করিম ফারুক, মো. সিরাজ মিয়া, শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, আব্দুল খালেক, যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

বিলিভ ইট অর নট: আপনার সামনেই আপনার শিশু সেক্সুয়াল অ্যাবিউজের শিকার by এম, এ, বাকী বিল্লাহ্ হৃদয়

পরিনীতা দশ বছর বয়সী শিশু। অনেক চঞ্চল প্রকৃতির মেয়ে। তার দুরন্তপনায় সমস্ত বাড়ি মেতে থাকতো। হঠাৎ করে সে বদলে যায়। তার ব্যবহার অস্বাভাবিক মনে হয়। প্রায় সময় রুমের দরজা বন্ধ করে একা একা বসে থাকে। কারও সঙ্গে তেমন কথা বলে না। পরবর্তী সময়ে জানা যায়, পরিনীতা সেক্সুয়াল অ্যাবিউজের শিকার। আট বছরের ছেলে দীপ্ত। সে তাদের কাজের ছেলেটিকে ভয় পায়। তার কাছে যেতে চায় না। তারপরেও তাকে জোর করে কাজের ছেলেটির কাছে-ই রাখা হয়। দীপ্ত তার পরিবারকে জানায়, কাজের ছেলেটি তাকে প্রতিদিন ব্যাথা দেয়। কিন্তু স-বিস্তারে কিছুই বলতে পারে না সে। তাই তার কথা কেউ গুরুত্ব দিয়ে শুনে না। এভাবে-ই সে প্রায় প্রতিদিন কাজের ছেলে দ্বারা সেক্সুয়াল অ্যাবিউজের শিকার হয়। মাহিমের বয়স সাত বছর। একুশ/বাইশ বছর বয়সী খালাতো ভাই সিক্রেট মজার খেলা বলে তার সাথে সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ করে। তার অনেতক কষ্ট হয়। ব্যাথা পায় খুব। কিন্তু সে বুঝতে পারে না যে, তার সঙ্গে কিরকম নোংরামি করা হচ্ছে। আধুনিকতার মোড়কে চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিনিয়ত। চাইল্ড  সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ  (CSA) কে বলা যায়, ‘The imposition of sexual acts, or acts with sexual overtones, by one or more persons on a child (under 18) - Save the Children, CSA Droft Policy. শিশুর গোপন অঙ্গে  ইচ্ছাকৃত বা অনিশচ্ছাকৃত স্পর্শ, শিশুর সঙ্গে তার বয়স অনুপযোগী সেক্সুয়াল বিষয় নিয়ে আলোচনা করা, শিশুর নগ্ন ছবি তোলা বা তার সামনে নগ্ন হওয়া, শিশুকে পর্নোগ্রাফি দেখানো, তাকে ধর্ষণ করা বা ধর্ষণের চেষ্টা করা, এইসব কিছু-ই চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ। আর এই চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজের মাত্রা ক্রমান্বয়ে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা জানি, চাইল্ড বা শিশু বলতে ১৮ বছর বয়সের নিচে সকল মানব সন্তানকে বুঝায়। আর এই সময়টি তাদের জন্য খুব সেনসেটিভ। বাংলাদেশ মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০০১-১৩ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের কম বয়সী ২৮৬ জন শিশু সেক্সুয়াল অ্যাবিউজের শিকার হয়েছে। যার মধ্যে ৯৯ ভাগ শিশু ধর্ষণের শিকার। মানবাধিকার সংগঠন অধিকার এর একটি জরিপে দেখা যায়, গত চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) দেশে শুধু ধর্ষণের ঘটনা-ই ঘটেছে ১৫৮টি। এর মধ্যে শিশুর সংখ্যা ৯৩ ও নারীর সংখ্যা ৬১ জন। বাকি ৪ জনের বয়স নির্ধারণ করা যায়নি। ৬৭ টি শিশু সংগঠনের মোর্চা বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য অনুযায়ী গত তিন মাসে (এপ্রিল-জুন) সারাদেশে হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, রাজনৈতিক সহিংসতা, গ্রেপ্তার, আত্মহত্যা, স্কুলে শারীরিক নির্যাতন, শিশুবিবাহসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়েছে ১ হাজার ২৯৯ জন শিশু।  WHO এর হিসেব মতে, প্রতি বছর ৪০ মিলিয়ন শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
বিলিভ ইট অর নট আপনার চোখের সামনেই আপনার শিশু সেক্সুয়াল অ্যাবিউজের শিকার হচ্ছে কিন্তু আপনি টের পাচ্ছেন না। জামাই-বউ খেলা, কানামাছি খেলা, সিক্রেট ব্যাপার বলে নোংরামি করা, ভয় দেখানো, বাজে উদ্দেশ্যে আদর বা ভালোবাসার কথা বলাসহ ভদ্রতার লেবাসে চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ করা হচ্ছে অতি সতর্কতার সঙ্গে নানা উপায়ে। এইক্ষেত্রে অভিভাবক হিসেবে আপনার সচেতনতার কোন বিকল্প নেই।  সেই সাথে আপনার শিশুর সবচেয়ে ভালো বন্ধু হোন। যেনো সে তার সব কথা আপনার সাথে নিঃসঙ্কোচে শেয়ার করতে পারে। আপনার শিশু কাদের সাথে মিশে সে সর্ম্পকে সজাগ থাকুন। যৌন নিপীড়ককে আপনার শিশু চিনতে না পারলেও একটু ভালোভাবে খেয়াল করলে আপনি ঠিক-ই চিনতে পারবেন। সে যত-ই আপনার কাছের কেউ হোক না কেনো তার কাছ থেকে আপনার শিশুকে নিরাপদ দুরত্বে রাখুন। আপনার শিশুকে বুঝান- কোনটি ‘ভালো আদর’ আর কোনটি ‘মন্দ আদর’। কোন ধরণের মানুষ থেকে দূরে থাকতে হবে অর্থাৎ কাদের সঙ্গে কখনো মেশা যাবে না সে বিষয়ে আপনার শিশুকে অবগত করুন। তার শরীরের গোপন জায়গাগুলো সম্পর্কে তাকে সতর্ক করুন। আপনার সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতা অনেকাংশে আপনার শিশুকে সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ থেকে রক্ষা করবে নিঃস্বন্দেহে। চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ বা শিশু যৌন নির্যাতন যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে সে হারে প্রতি রোধমূলক ব্যবস্তা নেয়া হচ্ছে না। বাংলাদেশ সরকার ও ডেনমার্ক সরকারের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টারাল প্রোগ্রামের আওতায় নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ন্যাশনাল হেল্পলাইন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ২০১২ সালে। দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে যেকোন সময় ১০৯২১ নম্বরে বিনামূল্যে ফোন করে সাহায্য পেতে পারেন নির্যাতনের শিকার যেকোন নারী ও শিশু। কিন্তু বাজেট ও জনবলের স্বল্পতা এবং প্রদত্ত শিশু সেবা সর্ম্পকে প্রচারের অভাবসহ বিভিন্ন কারণে এক্ষেত্রে কাঙ্খিত লক্ষ অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না। তারপরেও চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজের ক্ষেত্রে এইসব উদ্যোগের চেয়েও বেশি কার্যকরী হচ্ছে সচেতনতা সৃষ্টি।
অপ্রিয় হলেও সত্য যে, আমাদের শিশু সেক্সুয়াল অ্যাবিউজের শিকার হওয়ার ক্ষেত্রে আমরাও এর জন্য দায়ী। যেমন- শিশুর সামনে তাদের অনুপযোগী চলচিত্র, নাটক, বিজ্ঞাপন বা মিউজক ভিডিও দেখা, অশালীন কথা-বার্তা বলা, তাদেরকে বাসায় একা রেখে বাইরে যাওয়া অথবা তাদেরকে বাইরে একা যেতে দেয়া, যার-তার সাথে মেশতে দেয়া, তাদেরকে একদম গুরুত্ব না দেয়াসহ নানাভাবে। কাজেই সময় থাকতে এসব ব্যাপারে দায়িত্বশীল না হলে পরবর্তী সময়ে অপূরণীয় ক্ষতি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। শিশুদের সুন্দরভাবে বেড়ে উঠার জন্য একটি সুন্দর পৃথিবীর প্রয়োজন অনেক বেশি। তাদেরকে তেমন একটি পৃথিবী উপহার দেয়ার দায়িত্ব আমার, আপনার, সকলের। আসুন নিজে সচেতন হই এবং সচেতনতার সৃষ্টি করি, আর একটি শিশুও যেনো  সেক্সুয়াল অ্যাবিউজের শিকার না হয়।
লেখক: সংগঠক, কলামিষ্ট ও গল্পকার
mabakibillah@yahoo.com

জামায়াতে ‘সংস্কারপন্থীদের’ ভাবনা

পশ্চিমা রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন পলিটিক্যাল ইসলাম। সারা দুনিয়াতেই এখন চাপের মুখে এ আন্দোলন। বিশ্ব আর বাংলাদেশে প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর ‘সংস্কারপন্থীদের’ এক বৈঠকে এ নিয়ে একটি কী নোট পেপার উত্থাপন করা হয়েছিল। মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক সম্পাদিত ‘কামারুজ্জামানের চিঠি এবং জামায়াতের সংস্কার প্রসঙ্গ’ শীর্ষক গ্রন্থে ওই কী নোট পেপারটি মুদ্রিত হয়েছে। এর প্রথম পর্বে রয়েছে-
রাষ্ট্র গঠন ও পরিচালনার ইতিহাস সুদীর্ঘ হলেও রাজনৈতিক দলের ইতিহাস খুব দীর্ঘ নয়। মাত্র অষ্টাদশ শতকে ইউরোপ ও আমেরিকায় রাজনৈতিক দল গঠনের সূচনা হয়। সপ্তদশ শতকে বৃটেনে হুইগ ও টোরি পার্টি জন্ম হলেও সেগুলোর তেমন প্রাতিষ্ঠানিক অবয়ব ছিল না। বৃটেনের বড় বড় ভূস্বামী ও ব্যবসায়ীরা নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে যে গোষ্ঠী গড়ে তুলেছিল তারাই পার্লামেন্টে হুইগ ও টোরি পার্টি হিসেবে ভূমিকা পালন করে। এ সময় গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিও তেমন বিকশিত হয়নি। ভোটাধিকার সীমিত ছিল উচ্চবিত্ত শ্রেণীর মধ্যে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবার সাথে সাথে রাজনৈতিক দলগুলোও ক্রমান্বয়ে সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে উঠতে থাকে। স্যার রবার্ট ফিলের নেতৃত্বে বৃটেনে ১৮৩০ সালে প্রথম কনজারভেটিভ পার্টি ক্ষমতায় আসে। পুরো অষ্টাদশ শতক জুড়ে কনজারভেটিভ পার্টি ও লিবারেল পার্টির মধ্যে ক্ষমতার লড়াই চলে। ১৯২০ সালের দিকে লিবারেল পার্টি ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়লে লেবার পার্টির বিকাশ ঘটে।
আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন রাজনৈতিক দল গঠনের বিরোধী ছিলেন। সপ্তদশ শতকের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্ক দেখা দেয়। এর ফলশ্রুতিতে দু’টো রাজনৈতিক দলের উদ্ভব হয়: (১) উত্তরাঞ্চলের নেতা হ্যামিলটনের নেতৃত্বে ফেডারেলিস্ট পার্টি, এরা শক্তিশালী ফেডারেল/কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষপাতি এবং আন্তর্জাতিক নীতির ক্ষেত্রে বৃটেনের সমর্থক। (২) দক্ষিণাঞ্চলের নেতা জেফারসনের নেতৃত্বে গঠিত হয় রিপাবলিকান পার্টি। এরা দুর্বল ফেডারেল/কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষপাতি এবং আন্তর্জাতিক নীতির ক্ষেত্রে ফ্রান্সের সমর্থক।
এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যুদয় ঘটে প্রধানত উপনিবেশিত শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সংঘবদ্ধ শক্তি হিসেবে। এদের অধিকাংশ নেতাই আবার পাশ্চাত্য দর্শনে শিক্ষিত ছিল; তবে তারা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য মুসলিম জাতীয়তাবাদী চেতনাকে কাজে লাগান। অবশ্য কোনো কোনো দেশে ইসলামী আদর্শকে ধারণ করেই শুরু থেকে উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলনের সূচনা করেন। লক্ষণীয় যে, প্রায় প্রতিটি মুসলিম দেশেই স্বাধীনতা পরবর্তীকালে ইসলামী আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠে। কিন্তু এ সকল দলের রাজনৈতিক শক্তি অর্জনে যথেষ্ট সময় লেগেছে এবং তাদেরকে বহু কাঠখড় পোহাতে হয়েছে। স্বৈরশাসক ও সামরিক শাসকদের আমলে ইসলামী দলগুলো বহু নির্যাতন ও নিষিদ্ধ হওয়ার শিকার হয়।
সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন দেশের নির্বাচনী ফলাফল
২০০৮ সালের প্রথমার্ধে পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার সংসদ নির্বাচনে ইসলামী দলগুলো হতাশাব্যঞ্জক ভোট পেলে একজন বিশ্লেষক মন্তব্য করেন যে, এশিয়ার কোনো মুসলিম দেশে নির্বাচনে জয়লাভ করতে হলে ইসলামী এজেন্ডাকে গোপন রাখতে হবে। মালিয়েশিয়ায় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৮ সালের মার্চ মাসে। এতে ইসলামী দল ‘পার্টি ইসলাম-সে-মালয়েশিয়া’ (পাস)’র আসন সংখ্যা ৬ থেকে ২৩টিতে বৃদ্ধি পায়। অপরদিকে ক্ষমতাসীন মহাজোটের আসন সংখ্যা বেশ কমে যায়। ১৯৬৯ সালের পর দলটির এরূপ বিপর্যয় আর ঘটেনি। মহাজোট নেতা প্রধানমন্ত্রী আবদুল্লাহ বাদাওয়ী নির্বাচনী প্রচারণায় ইসলামী উম্মাহর ঐক্যের আহ্বান জানান। পক্ষান্তরে পাস নেতারা অতীতের মতো ‘ইসলামী রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার সেøাগান না দিয়ে ‘স্বচ্ছ সরকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার’ প্রতিষ্ঠার কথা জোর দিয়ে উল্লেখ করেন। পাস নেতৃবৃন্দ আরো একধাপ এগিয়ে প্রথমবারের মতো নারীদের হিযাব বাধ্যতামূলক করার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসেন এবং দলটি প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অমুসলিম ও নারীদের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়।
২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে পাশ্চাত্য বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন যে, এ নির্বাচনে পারভেজ মোশাররফের ভরাডুবি হলেও প্রকৃতপক্ষে ভরাডুবি হয়েছে ইসলামপন্থীদের। তাদের মতে, আল-কায়েদা ও তালেবানদের সাথে সম্পর্কযুক্ত ইসলামী দলগুলো ইতোপূর্বের নির্বাচনে যেখানে ১১ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, এবারের নির্বাচনে তা কমে গিয়ে ৩ শতাংশে নেমে আসে। এর আগে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত প্রদেশে ইসলামী জোটের সরকার ছিল। ২০০৮ এর নির্বাচনে সেটি দখল করে নেয় সেক্যুলার ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি। ২০০১ সালে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে যেখানে ইসলামী দলগুলোর আসন সংখ্যা ছিল ২০টির উপরে এবং জোট সরকারে তাদের ২ জন মন্ত্রীও ছিল। ২০০৮ এর নির্বাচনে পার্লামেন্টে তাদের আসন সংখ্যা নেমে আসে মাত্র ২টিতে।
লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোনো মুসলিম দেশেই পার্লামেন্ট নির্বাচনে ইসলামী দলগুলো সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন লাভ করতে পারেনি। বরং দেখা যায়, তাদের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমে আসছে। মালয়েশিয়ায় সংসদ নির্বাচন ইসলামী দলগুলো কখনোই ১১ শতাংশের বেশি ভোট পায়নি। একইভাবে ইন্দোনেশিয়ায় ইসলামী দলগুলো সবাই মিলে কখনোই ১৭ শতাংশের বেশি ভোট পায়নি। বাংলাদেশের ইসলামী দলগুলো নব্বই দশকে ১১-১২ শতাংশ ভোট পেলেও সাম্প্রতিককালে তা ৩-৪ শতাংশে নেমে এসেছে। আফগানিস্তানে তালেবান সমর্থকরা মাত্র ১১ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অবশ্য সরকার নিয়ন্ত্রিত এ নির্বাচন কতটা অবাধ ও নিরপেক্ষ ছিল, সে প্রশ্ন রয়েছে।
কয়েক বছর আগে পাশ্চাত্য বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছিলেন, ইরানে সরকার মনোনীত প্রার্থীরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বলে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে তেমন আগ্রহী হয় না। যেমন, নব্বই দশকের শেষদিকে নির্বাচনে মাত্র ৪৬ শতাংশ ভোটার ভোট দেয় এবং এতে শহুরে ভোটার ছিল মাত্র ৩০ শতাংশ। তেহরানে এই হার ছিল মাত্র ১৯ শতাংশ। কিন্তু সাম্প্রতিককালে ইরানে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও তার ফলাফল নিয়ে বিদেশী ষড়যন্ত্র এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার জন্ম দেয় যা বিশ্বকে হতবাক করে দিয়েছে। এবারের নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি ৮৫ শতাংশের বেশি হওয়া এটাই ইঙ্গিত দেয় যে, ইরানের নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। আর একটাও ইঙ্গিত দেয় যে, মুসলিম দেশগুলোতে ভবিষ্যতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে পাশ্চাত্য ষড়যন্ত্র ও মিডিয়ার প্রচারণা ভোটারদের বিভ্রান্ত করার জন্য সচেষ্ট থাকবে। আশার কথা যে, ইরানে অনুষ্ঠিত এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে পাশ্চাত্য যে নোংরা খেলা খেলেছে তা বুমেরাং হয়েছে এবং আহমেদী নেজাদ ও ইরানের ইসলামী সরকারের প্রতি মুসমিল দেশগুলোর সমর্থনকে দৃঢ়তর করেছে।
২০০৮ সালের নভেম্বরে জর্ডানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ইসলামিক এ্যাকশন ফ্রন্ট-এর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা চার বছর আগের ১৫ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ৫ শতাংশে নেমে আসে। তারা পূর্বেকার ১৭টি আসনের স্থলে মাত্র ৬টি আসন পায়। প্যালেস্টাইনের গাজায় হামাসের জনপ্রিয়তা একবারে তুঙ্গে। এতদসত্বেও তারা ২০০৬ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোট পেয়েছে ৪৬ শতাংশ। তুরস্কে ইসলামপন্থী একে পার্টি ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোট পেয়েছে স্মরণকালের সর্বোচ্চ ৪৪ শতাংশ। অবশ্য তারা নির্বাচনী প্রচারণায় ইসলামী রাষ্ট্রের কথা না বলে সংবিধানে বর্ণিত সেক্যুলার নীতি অনুসরণের প্রতিশ্রুতি দেয়। তুরস্কের দেখাদেখি মরক্কোতে গঠিত হয় পার্টি অব জাস্টিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট। তারা তুরস্কের একে পার্টির বিশেষজ্ঞ পরামর্শও গ্রহণ করে। এতদসত্বেও দলটি নির্বাচনে মাত্র ১০ শতাংশ ভোট পায়।
আলজেরিয়ায় দু’টি ইসলামী দল ২০০৭ -এ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোট পেয়েছে মাত্র ১২ ভাগ। ইয়েমেনে গত ২০ বছর ধরে নির্বাচন হচ্ছে। সেখানকার ইসলামী দলগুলো সর্বোচ্চ ২৫ ভাগ ভোট পায়। ২০০৩ সালের নির্বাচনে তা আবার ২২ ভাগে নেমে আসে।
কুয়েতে মোটামুটি সুষ্ঠু নির্বাচনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। ২০০৬ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সেখানকার ইসলামী দলগুলো সর্বোচ্চ ২৭ ভাগ ভোট এবং ৫০ আসনের পার্লমেন্টে ১৭টি আসন পায়। লেবাননে ২০০৫ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দু’টি ইসলামী দল সম্মিলিতভাবে ২১ ভাগ ভোট এবং ৯২ আসনের পার্লামেন্টে ২৮টি আসন পায়। সম্প্রতি লেবাননে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচন ও তার ফলাফল নিয়ে পাশ্চাত্য ষড়যন্ত্র ও মিডিয়ার প্রচারণা বেশ লক্ষ্যণীয়। আশা করা গিয়েছিল যে, হেজবুল্লাহর নেতৃত্বাধীন জোট জয়লাভ করবে। কিন্তু মার্কিনপন্থী সেক্যুলার জোটের জয়লাভ হতাশার জন্ম দিয়েছে। তবে এটাও শিক্ষণীয় যে, পাশ্চাত্যের ষড়যন্ত্র ও দেশীয় দালালদের কারণে নির্বাচন কাংখিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারছে না।
উল্লেখিত, তথ্যগুলো থেকে প্রতীয়মান হয়, কোনো মুসলিম দেশেই ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলো সরকার গঠনের মতো ভালো ফল লাভ করতে পারছে না। এর কারণ গবেষণা ও অনুসন্ধানের দাবি রাখে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুলের মন্তব্য: ‘অধিকাংশ মুসলমান সেক্যুলার রাষ্ট্র কাঠামোতে ইসলামী সমাজে বাস করতে চায়।’

শরণার্থী সংকট: উপসাগরের আরব কেন নীরব?

ইওরোপের পথে পথে সিরিয় শরণার্থী ঢলের ছবি দেখে অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে আরব দেশগুলো এদের জন্য কী করছে?
বিশেষভাবে উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিল বা জিসিসিভূক্ত দেশ – সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত – তাদের দরোজা এসব শরণার্থীর জন্য বন্ধ রেখেছে বলে অনেকেই এখন ক্ষুব্ধ। যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস-এর মাইকেল স্টিভেন্স এক নিবন্ধে লিখছেন, তবে এত সমালোচনার পরও জিসিসি দেশগুলো সিরিয়ার শরণার্থীদের জন্য কিছুই করেনি এটা বলা যায় না। ব্যক্তি পর্যায়ে এরা অনেক কিছুই করছেন। যেমন, কাতার পেট্রোলিয়াম-এর কর্মচারিরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তাদের বেতন থেকে প্রতি মাসে তারা কিছু অর্থ সিরিয় শরণার্থীদের জন্য দান করবেন। দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশগুলো এপর্যন্ত মোট ৯০ কোটি ডলার দিয়েছে। কিন্তু খাদ্য বা ওষুধপত্রের মত সাহায্যের বাইরে শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার প্রশ্নে আরব দেশগুলো বেশ নীরব। এর পেছনে কারণ কী?
স্থিতিশীলতা হারানোর ভয়
উপসাগরীয় দেশগুলো সিরিয়দের ঢুকতে দিয়েছে মূলত অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে। সৌদি আরব বলছে ২০১১ সাল থেকে তারা মোট ৫,০০,০০০ সিরিয় নাগরিককে চাকরি দিয়েছে। কিন্তু দলে দলে শরণার্থী এসে হাজির হলে তারা কী করবে? উপসগারীয় দেশগুলিতে এ সম্পর্কে কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। এর পেছনে একটা ব্যাখ্যা সম্ভবত হতে পারে এই যে এসব দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা হারানোর প্রশ্নে একটা গভীর শঙ্কা কাজ করে। ২০১২ সালে সিরিয়ার লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে দিয়ে এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে যে সুন্নি-প্রধান উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে ইরান-পন্থী সিরিয় গোষ্ঠীগুলোর একটা প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। বিশেষভাবে সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমীরাতের আশঙ্কা প্রেসিডেন্ট আসাদের অনুগত দলগুলো উপসাগরীয় দেশগুলোতে ঢুকে পড়ে গোলযোগ তৈরি করতে পারে।
জনসংখ্যার ভারসাম্য
হাজার হাজার সিরিয় শরনার্থীকে দেশে ঢুকতে দিলে উপসাগরীয় দেশগুলোর জনসংখ্যার ভারসাম্য বিনষ্ট হতে পারে বলে একটা আশঙ্কা রয়েছে। ইউএই এবং কাতারের নাগরিকদের মোট সংখ্যা এই দুটি দেশে যত বাসিন্দা রয়েছেন তার মাত্র ১০%। বাদবাকি সবাই বিদেশি। পূর্ণকালীন চাকরির অনুমতি থাকলেই কেবলমাত্র বিদেশিদের এসব দেশে ঢুকতে দেয়া হয়। আর এই পদ্ধতির মাধ্যমেই উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের নাগরিকদের প্রাধ্যাণ্য বজায় রাখে। তা না হলে প্রতিবেশী আরব দেশ কিংবা দক্ষিণ এশীয় শ্রমিকরা এসে তাদের ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।
রাজনৈতিক আলোচনার অভাব
কাজের বৈধ অনুমতি ছাড়া, কিংবা নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই, হাজার হাজার বিদেশি চলে আসছে -- এই ভাবনাটাই উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য চরম অস্বস্তির ব্যাপার। সিরিয়ান শরণার্থীরা উপসাগরীয় দেশগুলোর সামাজিক গঠনের প্রতি যে হুমকি হিসেবে দেখা দিতে পারেন, তার মোকাবেলা করার মত কোন পরিকল্পনা এই দেশগুলোর নেই। আর পশ্চিমা বিশ্বসহ অন্য কোন দেশ এই শঙ্কা দূরে করতে পারবে এমন সম্ভাবনাও কম।
উপসাগরীয় দেশের ক্ষমতাসীন রাজপরিবারগুলোর ওপর জনমতের প্রভাব যথেষ্ট সীমিত। ফলে সে ধরনের কোন চাপও যে খুব একটা কাজ করবে এমন সম্ভাবনাও কম।
সুত্রঃ বিবিসি

পরকীয়ায় ভেঙ্গে চুরমার ইতির জীবন by রুদ্র মিজান

ভালোবেসেই বিয়ে করেছিলেন ইতি (ছদ্ধনাম)। কিন্তু ভালোবাসার সেই সংসারটি ভেঙ্গে গেছে। একটি সন্ধ্যা তার জীবনকে ঘোর অন্ধকার করে দিয়েছে। ওই সন্ধ্যাতেই স্বামীর আসল চেহারা আবিষ্কার করেন ইতি। নিজ বড় ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে তার স্বামীর দীর্ঘদিনের সম্পর্কটি সেদিনই ধরা পড়ে ইতির চোখে। ওই দিনই দুজনের দুটি পথ চিরদিনের মতো আলাদা হয়ে যায়। ভাবীর সঙ্গে দেবরের এই পরকীয়ার কারণেই ভেঙ্গে গেছে ইতির সাজানো সংসার। প্রেম, বিয়ে নাম শুনলেই ভয় পান ইতি। এই জীবনে আর প্রেম, বিয়ের সঙ্গে জড়াতে চান ত্রিশ ছুইঁ ছুইঁ এই নারী। এক কন্যাকে নিয়েই জীবনের বাকিটা পথ পাড়ি দিতে চান তিনি।
রাজধানীর হাজারীবাগের বাসিন্দা ইতি। ২০১০ সালের ২৯শে নভেম্বর বিয়ে হয় তার। তার আগের গল্পটা একটা প্রতারণার। ইতি তখন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী। পরিবার ও বান্ধবীদের সঙ্গে প্রায়ই কেনাকাটা করতে যান নিউমার্কেট। সেখানেই পরিচয় হয় আজাদের (ছদ্ধনাম) সঙ্গে। গায়ের রং কালো হলেও সুঠাম দেহ তার। নিজেকে দোকানের মালিক হিসেবে পরিচয় দেন আজাদ। সেইসঙ্গে ঢাকা কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অর্নাস করছেন বলেও জানান তাকে। সহজ-সরল ইতি তার কথায় আকৃষ্ট হন। ইতি জানান, তার কথা বিশ্বাস করেছিলেন। পারিবারিকভাবে সমপর্যায়ের মনে করে তার সম্পর্কে আর খোঁজ নেননি তিনি। মোটরসাইকেল নিয়ে প্রায়ই ইতিদের বাসার আশপাশে উপস্থিত হতেন আজাদ। ইতিকে নিয়ে যেতেন পার্ক, লেক, রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্নস্থানে। এভাবেই ভালোবাসা গভীর হয়। এরমধ্যেই বিষয়টি জেনে যান ইতির মা। অনড় ইতি। যেভাবেই হোক আজাদকে বিয়ে করতে চান তিনি। কিন্তু আজাদ ও তার পরিবার সম্পর্কে জানার পর কিছুতে মেয়েকে ওই পরিবারের পাঠাতে রাজি না তার মা। ইতিমধ্যে ইতি জানতে পারেন আজাদের মিথ্যাচার। যে দোকানের মালিক পরিচয় দিয়েছেন আজাদ তা তার নিজের না। সত্য হচ্ছে ওই দোকানের একজন কর্মচারী তিনি। যে মোটরসাইকেলটি নিজের বলে জানিয়েছেন সেটিও নিজের না। এতে ভীষণ কষ্ট পান ইতি। তবু মন ভাঙে না। আজাদ মিথ্যা বলতে পারে কিন্ত তার ভালোবাসা মিথ্যা না বলেই প্রবল বিশ্বাস ইতির। কিন্তু ইতির মা কিছুতেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন না। ইতির বাবা নেই। এই অবস্থায় কোন ভুল করতে চান না মা। ঘটে নাটকীয় ঘটনা। বিয়ে ঠিক করেন প্রতিবেশী এক যুবকের সঙ্গে। বিয়ে হয় ঠিকই। কিন্তু সন্ধ্যার পর কনে ইতির খোঁজ নেই। পালিয়ে গেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত একমাত্র কন্যার মুখের দিকে তাকিয়ে ওই বিয়ে ভেঙে দিতে বাধ্য হন ইতির মা। বিয়ে হয় আজাদের সঙ্গে। ইতি বলেন, এই সিদ্ধান্তটাই আমার জীবনকে নষ্ট করে দিয়েছে। যদিও বিয়ের পর বেশ ভালোই চলছিলো তাদের সংসার। বিয়ের ছয় মাস পরে সৌদি আরবে চলে যান আজাদ। ২০১১ সালের ২২শে নভেম্বর এক কন্যা সন্তানের মা-বাবা হন এই দম্পতি। এরমধ্যেই সৌদি থেকে ইতালি যাওয়ার জন্য শ্বাশুড়ির কাছে আড়াই লাখ টাকা দাবি করেন আজাদ। একমাত্র মেয়ের সুখের জন্য টাকা দেন তিনি। এর কিছু দিন পর আজাদ দেশে ফিরে জমি কেনার জন্য ৮ লাখ টাকা ধার চাইলে তাও দেন ইতির মা। আজাদ তখন ভাড়া বাসা নেয় শ্বশুড়বাড়ির পাশে হাজারীবাগ এলাকাতেই। এভাবে আরও কয়েক বছর কেটে যায়। গত ৫ই এপ্রিল। সবচেয়ে বড় ঝড় আসে ইতির জীবনে। ওই বাসায় তখন আজাদের প্রবাসী বড় ভাইয়ের স্ত্রী শোভা। কিছু সময়ের জন্য ইতি বেড়াতে এসেছিলেন তার মায়ের বাড়িতে। স্বামীকে না জানিয়েই বিকালে বাসায় ফিরেন। দরজার পাশে যেতেই অন্যরকম একটা শব্দ পেয়ে চমকে উঠেন তিনি। এই বাসায় তার স্বামী ও জ্যা ছাড়া কেউ থাকার কথা না। তাদের মধ্যে এ ধরনের কোন সম্পর্ক কল্পনাও করতে পারেন না ইতি। দরজা খোলা ছিলো। কিন্তু ভেতরের দুটি কক্ষে কোন আলো নেই। একটি কক্ষকে টার্গেট করেই আস্তে পা ফেলেন ইতি। ওই কক্ষের দরজা সরাতেই আকাশ ভেঙে পড়ে তার মাথায়। জ্যা ও স্বামীকে মারতে উদ্যত হন ইতি। তখন উল্টো স্বামীর মারধরের শিকার হন তিনি। সেদিন বেদম প্রহার করেন ইতিকে। বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণেমেরে ফেলা হবে বলেও হুমকি দেন আজাদ। সন্তানকে কোলে নিয়ে বাসায় চলে যান ইতি। চিৎকার করে কাঁদেন। কিন্তু কাউকে কিছু বলতে পারেন না। একসময় ইতির মা বিষয়টি বুঝতে পারেন। স্বামীর মারধরে আহত ইতিকে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ বিষয়ে গত ২৩শে এপ্রিল হাজারীবাগ থানায় মামলা করেন ইতি। অভিযোগ করেন ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবরও।
ইতি বলেন, ওই দৃশ্য দেখার পর সংসারের সাধ আমার মরে গেছে। আমি তাকে চাই না। আমি চাই আমার মায়ের টাকা ফেরত দিক। আমার সন্তানের ভরষ-পোষন দিক। তবে মনেপ্রাণে চাই আমার জীবনটা নষ্ট করার জন্য তার শাস্তি হোক। ইতি জানান, মামলার প্রধান আসামি বিদেশে পলাতক। যারা দেশে আছে তারা গ্রেপ্তার হচ্ছে না।

যে জেলার শীর্ষ সব পদে নারী by মনিরুজ্জামান

নরসিংদী জেলা প্রশাসকের চলতি দায়িত্ব পেয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুরাইয়া বেগম। আর তখনই তৈরি হলো একটি বিশেষ মুহূর্ত। দেখা গেল, এখানে জেলা ও দায়রা জজ, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, মুখ্য বিচারিক হাকিম—জেলার এসব গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারী কর্মকর্তারা।
নরসিংদীর জেলা প্রশাসক আবু হেনা মোরশেদ জামান ১০ দিনের প্রশিক্ষণে ভারতে গেছেন। গত রোববার থেকে জেলা প্রশাসকের চলতি দায়িত্ব পেয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুরাইয়া বেগম (উপসচিব)।
প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জেলা পর্যায়ে একসঙ্গে এতগুলো শীর্ষ পদে নারীর নেতৃত্বদানের ঘটনা বিরল। জেলা পর্যায়ে জেলা ও দায়রা জজ, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের পদটি হলো শীর্ষ পদ। তাঁরাই মূলত একটি জেলায় সরকারি কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দেন। আর এ মুহূর্তে নরসিংদী জেলায় এ তিনটি পদেই দায়িত্ব পালন করছেন তিন নারী।
বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা। জানতে চাইলে নরসিংদীর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজের অধ্যক্ষ মশিউর রহমান মৃধা বিষয়টিকে যুগান্তকারী হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, নারী ও পুরুষ এখন আর আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। কে কতটা মেধাবী, দায়িত্বশীল ও সৃজনশীল, সেটাই মূল বিষয়। নারীরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন খাতে কাজের স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি বলেন, নরসিংদীর শীর্ষ নারী কর্তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে দায়িত্ব যদি সুচারুভাবে পালন করতে পারেন, তাহলেই নারীর ক্ষমতায়ন দীর্ঘস্থায়ী ও সুদূরপ্রসারী হবে।
বর্তমানে নরসিংদীর জেলা ও দায়রা জজের দায়িত্বে আছেন বেগম ফাতেমা নজীব। তিনি গত ২৬ এপ্রিল নরসিংদীতে যোগ দিয়েছেন। এ ছাড়া গত বছরের ২৫ মার্চ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন শামীম আহাম্মদ এবং গত ৩১ আগস্ট থেকে মুখ্য বিচারিক হাকিমের দায়িত্বে আছেন শামীমা আফরোজ।
নরসিংদী জেলা জজ আদালত ভবনে গতকাল বিকেলে মুখ্য বিচারিক হাকিম শামীমা আফরোজের (বাঁ থেকে চতুর্থ) পরিচিতি সভায় (বাঁ থেকে) জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) সুরাইয়া বেগম, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীম আহাম্মদ, জেলা ও দায়রা জজ বেগম ফাতেমা নজীব এবং সিভিল সার্জন পুতুল রায়। এ পদগুলোর পাশাপাশি পুলিশ সুপারসহ জেলার বেশির ভাগ গুরুত্বপূর্ণ পদই এখন অলংকৃত করছেন নারীরা l ছবি: প্রথম আলো
গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর থেকে নরসিংদীর পুলিশ সুপার হিসেবে কাজ করছেন আমেনা বেগম। এর আগে তিনি রাঙামাটির পুলিশ সুপারের দায়িত্বে ছিলেন।
জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ পদ সিভিল সার্জন। গত বছরের ২৮ মে থেকে এ পদে আছেন চিকিৎসক পুতুল রায়।
এ ব্যাপারে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে পুলিশ সুপার আমেনা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, নরসিংদী তথা সারা দেশের নারীদের জন্য এটি একটি অনন্য ঘটনা। এ জেলায় সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিচার, প্রশাসন, স্বাস্থ্য ও পুলিশ বিভাগে একসঙ্গে নারীর ক্ষমতায়ন নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নারীর ক্ষমতায়ন বাস্তবায়নের একটি উদাহরণ। এতে ভবিষ্যতে নারী কর্মকর্তারা একজন অফিসপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারবেন।
জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালনকারী সুরাইয়া বেগম বলেন, এ ধরনের পদায়ন সব স্তরের নারীদের আত্মবিশ্বাসী ও আত্মমর্যাদাশীল করে তুলবে। পাশাপাশি নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

পরমাণু চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্ঘাত আরো বাড়বে?

ইরানের প্রতি মার্কিন নেতৃত্বাধীন পাশ্চাত্য-জোটের বৈরী মনোভাবকে অনেকে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার অন্যতম কারণ মনে করতেন। এখন পরমাণু চুক্তি হয়েছে, পাশ্চাত্যের সাথে দেশটির সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাহলে কি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস বইবে? কৌশলগত ও গোয়েন্দাবিষয়ক টেক্সাসভিত্তিক সংস্থা স্ট্র্যাটফোর কিন্তু তা মনে করে না। তাদের মতে, ইরানি পরমাণু চুক্তি অন্তত স্বল্পমেয়াদে যুদ্ধের আশঙ্কা প্রশমিত তো করেইনি, বরং আরো বাড়িয়েছে। শিয়া-সুন্নি ছাড়াও তুর্কি, ইরানি, আরব, কুর্দি ইত্যাদি নানা গ্রুপে সঙ্ঘাত বাড়বে বলেই তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে। বিশ্লেষণটি অনুবাদ করেছেন মোহাম্মদ হাসান শরীফ
ইরানের প্রতি মার্কিন নেতৃত্বাধীন পাশ্চাত্য-জোটের বৈরী মনোভাবকে অনেকে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার অন্যতম কারণ মনে করতেন। এখন পরমাণু চুক্তি হয়েছে, পাশ্চাত্যের সাথে দেশটির সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাহলে কি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস বইবে? কৌশলগত ও গোয়েন্দাবিষয়ক টেক্সাসভিত্তিক সংস্থা স্ট্র্যাটফোর কিন্তু তা মনে করে না। তাদের মতে, ইরানি পরমাণু চুক্তি অন্তত স্বল্পমেয়াদে যুদ্ধের আশঙ্কা প্রশমিত তো করেইনি, বরং আরো বাড়িয়েছে। শিয়া-সুন্নি ছাড়াও তুর্কি, ইরানি, আরব, কুর্দি ইত্যাদি নানা গ্রুপে সঙ্ঘাত বাড়বে বলেই তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে। বিশ্লেষণটি অনুবাদ করেছেন মোহাম্মদ হাসান শরীফ।
তুরস্ক
স্ট্র্যাটফোর অনেক আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছে, আঞ্চলিক শ্রেষ্ঠত্বের মুকুটটি শেষ পর্যন্ত তুর্কিদের মাথাতেই শোভা পাবে। মনে রাখতে হবে, মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ এটা। সেইসাথে কৃষ্ণসাগর ও ভূমধ্যসাগরের মোহনা এবং মারমারা সাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এর অবস্থান। বর্তমানে তুরস্কের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত নগরীটির ১৫০০ বছর (খ্রিষ্টপূর্ব ৩৩০ সালে বায়জান্টেনীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার সময় থেকে ১৯১৮ সালে উসমানিয়া সাম্রাজ্যের পতন পর্যন্ত) সাম্রাজ্যগুলোর শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে থাকাটা কোনো কাকতালীয় ব্যাপার ছিল না।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো তুরস্কেরও ইরানের সাথে সমভাবাপন্ন স্বার্থ রয়েছে। পূর্ব দিকের প্রতিবেশী ইরানের সাথে তুরস্কের সব বিষয়ে বৈরিতা আছে এমন নয়; বরং এমন অনেক বিষয় আছে, যাতে একে অপরে নির্ভরশীল, পরস্পর পরস্পরকে সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত। এর একটি হলো, ইরানি তেলের ওপর তুর্কির নির্ভরশীলতা। ২০১৪ সাল পর্যন্ত তুর্কি তেল আমদানির ২৬ শতাংশ পর্যন্ত হতো ইরান থেকে। ইরানের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার সম্ভাব্য অর্থনৈতিক লাভের জন্য অধীর আগ্রহে থাকা তুর্কি বাণিজ্যিক শ্রেণীর কাছে বিনিয়োগের বিপুল সুযোগ বিবেচিত হচ্ছে। ইরান ও তুরস্কের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি তেহরান ও আঙ্কারা কিছু অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থও ধারণ করে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, উভয়েই সিরিয়ান গৃহযুদ্ধ ও ইরাকি সঙ্ঘাতের ভস্ম থেকে স্বাধীন কুর্দি রাষ্ট্রের উত্থানের বিরোধী। ইরানে ৬০ থেকে ৭০ লাখ কুর্দি জনসংখ্যা রয়েছে। ইরাকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) অগ্রগতি প্রতিহত করার জন্য তেহরান কুর্দিদের সামরিক সহায়তাও দিয়েছে। আবার তুরস্কের প্রায় ১৫ ভাগ জনসংখ্যা কুর্দি। সেই ১৯৮৪ সাল থেকে আঙ্কারা সশস্ত্র কুর্দি আন্দোলন দমন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অবশ্য আরো বিস্তারিত বললে বলা যায়, তুরস্ক ও ইরান সহজাত প্রতিযোগী। এমনকি কুর্দিদের দমনে অভিন্ন স্বার্থ থাকলেও উভয়েই একে অপরকে চেপে ধরতে তারাই তাদের কার্যকর হাতিয়ার। ফলে কুর্দিস্তান হলো তুরস্ক ও ইরানের প্রাকৃতিক যুদ্ধক্ষেত্র। তাদের মধ্যকার প্রতিযোগিতা বাড়লে উভয়েই কুর্দি উপদলগুলোকে একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যবহার করবে। যদিও তুর্কিরা প্রধানত সুন্নি এবং ইরান প্রধানত শিয়া, কিন্তু এটা উল্লেখ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, আঙ্কারা ও তেহরান যে এলাকায় তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়, সেটা আরব প্রাধান্যবিশিষ্ট। অনেক আরবের কাছেই তুর্কি বা পারসিক শাসনের কোনো একটা বেছে নেয়া আসলে পানিতে ডুবে মরা নাকি কুঠারাঘাতে মৃত্যুবরণ করা তা বাছাই করা।
ইসলামিক স্টেটের সাথে তুরস্কের সম্পর্ক এখনো অস্পষ্ট। কেবল সাম্প্রতিক সময়ে কট্টরপন্থী গ্র“পটির প্রতি তুরস্কের নীতি পরোক্ষ যোগাযোগ থেকে তাদের ধ্বংস করার কাজে সক্রিয় ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ায় পর্যবশিত হয়েছে। এটা এ কারণে হতে পারে, আঙ্কারা মনে করছে যে, ইসলামিক স্টেট তুরস্কজুড়ে শাখা প্রতিষ্ঠা ও কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকলে সেটা তার জন্য অভ্যন্তরীণ হুমকি হতে পারে। ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কুর্দিদের সবচেয়ে সক্রিয় শক্তি হিসেবে দেখতে পেয়ে পাশ্চাত্য স্বাধীন কুর্দিস্তানের সম্ভাবনার প্রতি অনেক বেশি অনুকূল ধারণা পোষণ করছে, এমনটা শুনেও তুরস্ক হতাশ ও আতঙ্কিত হতে পারে।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পতন দেখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকার কারণেই তুরস্ক দামাস্কাসের বিরুদ্ধে লড়াইরত যোদ্ধাদের সক্রিয়ভাবে সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। লেভ্যান্টকে (ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল) আঙ্কারা নিজের প্রভাববলয়ের অংশ মনে করে, সেখানে ইরানি প্রভাব বাড়ানোর প্রয়াসকে সে সদয়ভাবে বিবেচনা করবে না। সিরিয়ায় তুরস্ক আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে, এমন সম্ভাবনাও নাকচ করে দেয়া যায় না। বিশেষ করে যখন সম্প্রতি এই তথ্য পাওয়া যাচ্ছে যে, একটি বাফার জোন প্রতিষ্ঠার জন্য উত্তর সিরিয়ায় সামরিক বাহিনী পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে তুরস্ক। তাদের বিবেচনায় সুন্নি বিদ্রোহীরা আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ অব্যাহত রাখার জন্য এই স্থানটিকে তাদের শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে।
সৌদি আরব
ইরানের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি বিবেচনায় আনা হলে সৌদি আরবের সাথে দেশটির বিরোধ তুরস্কের মতো এত বেশি নয়। রাজতান্ত্রিক দেশটি আরব ও সুন্নি শক্তি। বেশির ভাগ সৌদি যে ওহাবি মতবাদ অনুসরণ করে, তা শিয়া মতবাদকে গভীর সন্দেহের চোখে দেখে। দেশটির মোট জনসংখ্যার ১০ থেকে ১৫ ভাগ শিয়া। ইরাক এখন আর ইরানি উচ্চাভিলাষের বিরুদ্ধে বাফার জোন হিসেবে বিরাজ না করায় সৌদিরা যথার্থভাবেই ইরানের সাথে সঙ্ঘাতে নিজেকে সামনের কাতারে দেখতে পাচ্ছে। সৌদি আরবের বেশির ভাগ শিয়া লোকজন বাস করে সৌদিদের সম্পদ আর ক্ষমতার উৎস দেশটির বিশাল তেলক্ষেত্রগুলোর কাছাকাছি। এটাই ইরানি সম্প্রসারণ-ভীতির ব্যাপারে রিয়াদকে আরো বেশি সতর্ক করে দিচ্ছে। ইরান এই বিক্ষোভকে উপসাগরীয় দেশগুলোতে তার প্রভাব বাড়াতে ব্যবহার করতে পারে, এই আশঙ্কায় এই ২০১১ সালে সৌদি আরব সুন্নি শাসিত, শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ বাহরাইনে বিক্ষোভ দমন করতে সৈন্য পাঠিয়েছে।
তুরস্কের মতো সৌদি আরবও আসাদ সরকারের পতন দেখতে চায়, যা এই অঞ্চলে ইরানি প্রভাব খর্ব করবে। একসময় সৌদিরা ভেবেছিল, ইসলামিক স্টেট ওই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে। কিন্তু ওই পরিকল্পনা রিয়াদের জন্য পাল্টা আঘাত হেনেছে। ফলে এখন সৌদিদের ইসলামিক স্টেট ও আলকায়েদা উভয়কেই মোকাবেলা করতে হবে। সৌদি আরব এখনো আসাদবিরোধী সিরিয়ায় সুন্নি জঙ্গিদের সমর্থন দেয়া অব্যাহত রেখেছে। জর্ডানের মতো এই দেশটিও ইরাকের সুন্নি উপজাতীয়দের অস্ত্র দিচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
সৌদি আরবের আবার তুরস্ক ও ইরানের মতো আশু কুর্দি সমস্যা নেই। স্ট্র্যাটফোর ইতোমধ্যে এমন আলামত পেয়েছে যে, সৌদ পরিবার ইরাকে কুর্দি দলগুলোকে সামরিকভাবে সহায়তা করবে। তবে সৌদিরা কত দূর এই কৌশলটি বাস্তবায়ন করবে এবং কুর্দিদের কোন অংশকে সহায়তা করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ইরানিরা এর মধ্যেই সৌদি আরবের সংখ্যালঘু গ্রুপগুলোকে প্ররোচিত করার চেষ্টা শুরু করায় সৌদিরা আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যুগুলোতে প্রভাব বিস্তারে সক্ষম এমন একটি শক্তিশালী স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান গঠনের প্রয়াস চালাবে। তবে তা তুরস্কের সাথে সৌদিদের সম্পর্কে অবনতি ঘটাতে পারে। সর্বোপরি উভয়েই সুন্নি হলেও মধ্যপ্রাচ্যে তুরস্কের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা হোক, সে ব্যাপারে সৌদি আরবের আগ্রহ নেই বললেই চলে, ঠিক যেমন তারা চায় না ইরানের ব্যাপারে।
সৌদি আরব ২০১৪ সালে ইরানের সাথে কূটনৈতিক সংলাপ শুরুর চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু ইয়েমেন সঙ্ঘাত শুরু হলে সেই অবস্থা আর থাকেনি। রিয়াদ যখন শিয়া এবং ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মনোযোগী হয়েছিল, তখন ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ব্যাপক অগ্রগতিতে থমকে দাঁড়ায়। হুতিরা একপর্যায়ে রাজধানী সানা পর্যন্ত দখল করে ফেলে। সৌদিরা দেশটিতে বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। বিশ্বের ছয়টি পরাশক্তি ইরানের পরমাণু চুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে সৌদি-সমর্থিত হুতিবিরোধী বাহিনী ইয়েমেনে ইডেন উপসাগরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জয় পেয়েছে। এ ধরনের যুদ্ধ এই অঞ্চলে সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর ইরানের আন্তর্জাতিক ভাবমর্যাদার পুনর্বাসন এবং সেইসাথে তেহরানের আধিপত্য সম্প্রসারণের আকাঙ্ক্ষার ফলে এ ধরনের ঘটনা আরো বাড়তে পারে।
মিসর
সৌদি আরবের মতো মিসরও সুন্নি শক্তি। তবে তুরস্ক ও সৌদি আরবের তুলনায় তার কিছু করার সামর্থ্য অনেক কম। কিন্তু তবুও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে, তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে কায়রো। এর প্রমাণ পাওয়া যায় মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট (মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য) মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার সামরিক অভ্যুত্থানের বিষয়টি অতি দ্রুত বিস্মৃতি হওয়ার ঘটনায়। অধিকন্তু মার্কিন দৃষ্টিকোণ থেকে ১৯৭৯ সালের মিসর-ইসরাইল শান্তিচুক্তিটি এখনো এই অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মিসরের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ সমস্যা থাকলেও সে কল্যাণমূলক সরকারে ফেরা, পার্লামেন্ট নির্বাচন, সামাজিক অস্থিরতা দমন এবং দেশের নানা ধরনের জিহাদি হুমকি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে যাচ্ছে। এসবের মধ্যে মিসরীয় বাহিনী ইয়েমেনেও সক্রিয়, দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে আলোচনার জন্য রাশিয়া সফর করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে মিসর ও সৌদি আরবের মধ্যকার সহযোগিতা আরো ঘনিষ্ঠ হয়েছে, দেশ দু’টি মধ্যপ্রাচ্যের আরব পশ্চাৎভূমি রক্ষার জন্য তাদের সম্পদ জড়ো করতে পারে। যৌথ আরব প্রতিরক্ষা বাহিনী এই পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। আর সেটা আঞ্চলিক জোটটিতে প্রধান ভূমিকা পালনে কায়রোর চেষ্টা সফল হওয়ার অন্যতম পথ হতে পারে।
অর্থাৎ ইরানের পরমাণু চুক্তিটি সহিংসতা বা যুদ্ধের ডামাডোল কোনোভাবেই কমাচ্ছে না; বরং তা আরো উসকে দিতে পারে। ২০১১ সালের আরব বসন্ত এই অঞ্চলজুড়ে ক্ষমতার শূন্যতা সৃষ্টি করেছে; স্থানীয় মিলিশিয়া ও গ্র“পগুলোর পাশাপাশি শিখণ্ডীদের বাইরের শক্তিগুলো সমর্থন দিচ্ছে, নতুন সুযোগ সন্ধানীদের সামনে মুলা ঝুলিয়ে দিয়েছে। এই অঞ্চলে সক্রিয় গ্র“পগুলো নিজেরা ছোট ছোট ভূখণ্ডে নিজেদের অধিকারে নিয়ে শাসন পরিচালনার চেয়ে তুরস্ক, ইরান, সৌদি আরব ও মিসরের দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকবে। ফলে সঙ্ঘাতে এসব দেশের ভূমিকা থাকবে।
(স্ট্র্যাটফোরের পুরো নাম স্ট্র্যাটেজিক ফোরকাস্টিং, ইন্ক। এটি আমেরিকান পাবলিশার এবং বৈশ্বিক গোয়েন্দা কোম্পানি। এটি ১৯৯৬ সালে জর্জ ফ্রিডম্যান টেক্সাসে প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বর্তমানে সংস্থাটির চেয়ারম্যান। এর সভাপতি এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হচ্ছেন শিয়া মরেনজ)।

শিশুহত্যা, তিন কিশোর গ্রেপ্তার

নিহত আরাফাত রহমান
শিশুটি বাঁচল না। গত ২১ আগস্ট পাবনার বেড়া থেকে অপহরণ হয়েছিল সে। পরদিন স্বজনেরা মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ১১ বছরের বাক্ ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশু আরাফাত রহমানকে। ১৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে গত সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা গেছে সে।
আরাফাতকে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি ও হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী তিন স্কুলছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে বেড়া থানার পুলিশ। তিনজনই ইতিমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তবে পুলিশ বলেছে, শিশুটিকে খেলাচ্ছলে জংলায় নিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে টান দিয়েছিল তিন স্কুলছাত্র। শিশুটি নড়াচড়া না করায় মারা গেছে ভেবে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। শিশুটির বাবার কাছে ফোন করে মুক্তিপণ চেয়ে ঘটনাটিকে অপহরণ হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করে তারা।
বেড়া পৌর এলাকার স্যান্ডালপাড়ার কাপড় ব্যবসায়ী আবদুল মাজেদের ছয় ছেলে এবং এক মেয়ের মধ্যে সবার ছোট আরাফাত। তার কথা জড়িয়ে যেত। বুদ্ধিও বয়সের তুলনায় বাড়েনি। তাই ১১ বছর বয়স হলেও পড়ত স্যান্ডালপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে। সে ছিল সবার আদরের।
শিশুটির বড় ভাই মনিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ২১ আগস্ট বিকেল পাঁচটার দিকে বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে আর ফেরেনি আরাফাত। সবাই মিলে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় অপরিচিত মুঠোফোন নম্বর থেকে তাঁদের বাবাকে ফোন করে বলা হয়, আরাফাতকে অপহরণ করা হয়েছে এবং ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরদিনও ওই ফোন থেকে টাকা চাওয়া হয়। ২২ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনের জংলায় গলায় গামছা দিয়ে গাছের সঙ্গে বাঁধা ও অচেতন অবস্থায় আরাফাতকে উদ্ধার করা হয়। তার পা লেগে ছিল মাটিতে। ওই দিনই তাকে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিত্সা দিয়ে সিরাজগঞ্জের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেলের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে ৩ সেপ্টেম্বর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই গতকাল বেলা সাড়ে তিনটার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়। আরাফাতের গলায় ছিলার দাগ ছিল।
মনিরুল কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমরা মুক্তিপণ দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মুক্তিপণ চাওয়া ফোনটি ২৩ সেপ্টেম্বর সকালের পর থেকে বন্ধ পাওয়া যায়।’ অপহরণের ঘটনায় আরাফাতের বাবা ২৬ আগস্ট বেড়া থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
পুলিশ অপহরণকারীদের ব্যবহৃত মুঠোফোনের নম্বরের সূত্র ধরে ৪ সেপ্টেম্বর স্থানীয় ছয় বালককে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের পরে তিনজন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় বাকি দুজনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। আর এক কিশোরকে কারা হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ বলেছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজন স্থানীয় দুটি বিদ্যালয়ে অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণিতে পড়ে। এদের বাড়িও স্যান্ডালপাড়ায়। গত রোববার একজন ও গতকাল দুজন পাবনার আমলি আদালত-৩-এর বিচারিক হাকিম এ কে এম রওশন জাহানের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে তারা বলেছে, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রটি ও আরাফাতদের বাড়ি পাশাপাশি। তারা একসময় একসঙ্গে খেলত। সেই ছেলেটি তার অন্য বন্ধুদের নিয়ে স্বল্পবুদ্ধির আরাফাতকে ভয় দেখানোর পরিকল্পনা করে। ২১ আগস্ট পেয়ারা পাড়ার কথা বলে আরাফাতকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনের জংলা ও নির্জন জায়গায় পেয়ারাবাগানের কাছে নিয়ে যায় প্রতিবেশী ছেলেটি। অন্য দুজনও সেখানে আসে। বিকেল চারটার দিকে ভয় দেখাতে একটি গামছা দিয়ে আরাফাতের গলায় তিনজন মিলে পেঁচিয়ে ধরে। এতে সে নেতিয়ে পড়ে। সে মারা গেছে ভেবে তিন স্কুলছাত্র আরাফাতকে সেখানে লুকিয়ে রেখে চলে আসে। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে তারা অপহরণের কাহিনি সাজানোর পরিকল্পনা করে। এর অংশ হিসেবে তারা একটি অনিবন্ধিত সিমকার্ড কেনে। সেটি দিয়ে আরাফাতের বাবাকে ফোন করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ চায়। ওই রাতে তিনবার ও পরদিন একবার ফোন করে তারা। এর পর ওই সিমটি তারা ভেঙে নষ্ট করে ফেলে। গ্রেপ্তার তিন স্কুলছাত্রের একজনের বাবা রিকশা চালান এবং বাকি দুজনের বাবা তাঁতশ্রমিক।
বেড়া-সাঁথিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) জাকির হোসাইন বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা শিশু ও স্কুলছাত্র হওয়ায় তাদের সতর্কতার সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রাথমিক অবস্থাতেই বোঝা যায়, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে তারা ঘটনাটি ঘটায়নি। মূলত শিশু আরাফাতকে ভয় দেখাতে গিয়েই ঘটনাটি ঘটে যায়। এরপর তারা মুক্তিপণের ঘটনা সাজায়। প্রথমে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নেওয়া হলেও শিশুটি মারা যাওয়ায় এর সঙ্গে এখন হত্যা মামলাও যুক্ত হবে।

দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে ‘মানব পুঁজিতে’ উন্নীত করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে দেশের ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে মানবসম্পদে পরিণত করে মানব পুঁজিতে উন্নীত করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সবার জন্য শিক্ষা’ এবং সহস্ত্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ (এমডিজি) বাস্তবায়নে আমরা অত্যন্ত সফল হয়েছি। দেশের ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানব সম্পদে পরিণত করা হলে দেশের উন্নয়নের গতি আরো জোরদার হবে। আপনাদের সকল কার্যক্রম পুনরায় চালু করুন, আপনাদের সকল কাজে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সমর্থন ও সহযোগিতার দ্বার অবারিত থাকবে।
এখানে আজ সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০১৫’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। ইউনেস্কো ঢাকা অফিসের প্রধান বিয়াত্রিস কালদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সচিব মেজবাউল আলম এতে সভাপতিত্ব করেন। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মো. রুহুল আমিন সরকার ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, সাক্ষরতা কর্মসূচির তাৎপর্য হলো সবার চোখ খুলে দেয়া এবং অক্ষর জ্ঞান মানুষের অন্তর দৃষ্টি খুলে দেয়, মূল্যবোধ সৃষ্টিতে সহায়তা করে। সর্বোপরি চেতনার উন্মেষ ঘটায়।
শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের সকল দেশে যখন সময়ের সাথে সাথে সাক্ষরতার হার বাড়ে, কিন্তু আমাদের দেশে বিএনপি-জামায়াতের ২০০১-২০০৬ আমলে সাক্ষরতার হার আমাদের রেখে যাওয়া ৬৫ শতাংশ থেকে কমে ৪৪ শতাংশ দাঁড়ায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর বিশ্ব ব্যাংক উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রকল্পে সাড়ে ১২শ’ কোটি টাকা দেয়। এই প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির কারণে শেষ পর্যন্ত উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর তাঁর সরকার পুনরায় কার্যক্রম চালু করে এরফলে বর্তমানে সাক্ষরতার হার বেড়ে ৭১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা ১৯৭৩ সালের ১ জুলাই দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে (প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত) সকলের জন্য অবৈতনিক এবং বাধ্যতামূলক করে যান। বঙ্গবন্ধুর সরকারের পর আমাদের সরকার দেশের ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছে। একই সঙ্গে এসব বিদ্যালয়ের ১ লাখ ৩ হাজার ৮৪৫ জন শিক্ষকের চাকরি সরকারিকরণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা সহস্ত্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) এবং সবার জন্য শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছিলাম।
শেখ হাসিনা বলেন, এলক্ষ্য অনুযায়ী ২০১৫ সালের মধ্যে সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করার ঘোষণা থাকলেও ২০১১ সালের মধ্যে বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী শতভাগ শিশুর বিদ্যালয়ে ভর্তি আমরা নিশ্চিত করেছি। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ৩২ কোটি ৬৩ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৩টি নতুন পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিক পর্যায়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ঝরেপড়ার কারণসমূহ চিহ্নিত করেছি। ঝরেপড়া রোধে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় উপবৃত্তি চালু করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঝরেপড়া রোধে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মিড-ডে মিল চালু করা হয়েছে এবং এ সকল ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ৮০’র দশকে ঝরেপড়ার হার ৮০ শতাংশ থেকে কমিয়ে আমরা ২০.৯ শতাংশে নামিয়ে এনেছি।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ঝরেপড়া রোধে এমপি, মেয়র, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের স্থানীয় স্কুলে স্বউদ্যোগে মিড-ডে মিল চালুর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, অভিভাবকদের সহায়তায় প্রতিটি স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি তহবিল গঠন করবে এবং মিড-ডে মিল পরিচালনা করবে। এতে মিড-ডে মিল পরিচালনায় অনুদান গ্রহণ করা হবে এটা হতে পারে রান্না করা খাবার, ফল অথবা অন্যান্য খাদ্য আইটেম। এ ধরনের উদ্যোগ মিড-ডে মিল কার্যক্রম স্থায়ী রূপ পাবে।
প্রথম শ্রেণীতে শিশুদের ভর্তি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, যেকোন শিশু যখন প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির বয়স হবে, তারা ভর্তি হবে এজন্য ভর্তির আগে ছাপানো প্রশ্নপত্রে তাদের কোন পরীক্ষা গ্রহণের প্রয়োজন নেই। এটা তাদের অধিকার এবং এটা ছাপানো প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়ার বিষয় নয়।
এলাকাভিত্তিক বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য তিনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন এবং শিশুরা যাতে তাদের নিজ নিজ এলাকার বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায় সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, এলিট শ্রেণীর শিশুরা যদি ব্যয়বহুল স্কুল পড়াশোনা করে এক্ষেত্রে কোন বাধা নেই তবে সাধারণ জনগণ যেন তাদের শিশুদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াতে পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে এজন্য এসব স্কুলের অবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন।
তিনি পার্বত্য ও চর এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়গুলোতে আবাসিক সুবিধার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী স্কুল ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবেশিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
সূত্র : বাসস।

রূপকথার আলাদিনের শহর বাস্তবে গড়ছে দুবাই

আলো ঝলমলে শহর। পাথরের রাস্তা। রহস্যময় গলি। হুরিপরিদের নাচ। দামী সুরা, হিরে-জহরত। হইহুল্লোড়। সুখের যেন চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। আরব্য রূপকথাতেই তো এই সব পেয়ে এসেছি বরাবর। আর আলাদিনের গল্প। কিশোর মনকে তো বটেই, নাড়া দেয় সব বয়সকেই। রূপকথা আবার সত্যি হয় নাকি! আরব্য উপন্যাস পড়ে আর সেই স্বপ্নের শহর মনে মনে সাজাতে হবে না। গাঁটের ক়ী খরচ করলেই পৌঁছে যাওয়া যাবে আলাদিনের শহরে। সে রকমই ব্যবস্থা করছে দুবাই।
দুবাই মানেই অর্থ, প্রাচুর্য। ধনকুবেরদের দেশ। এহেন দুবাই এবার তামাম দুনিয়াকে চমকে দিতে চলেছে 'আলাদিন সিটি' তৈরি করে। ৪ হাজার একর কমপ্লেক্সে থাকবে এমন সব টাওয়ার, যা দেখলেই মনে পড়ে যাবে আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ ও সিনবাদ, দ্য সেইলরের কথা। দুবাই প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সব মিলিয়ে ৬টি টাওয়ার থাকবে। এর মধ্যে কিছু টাওয়ার তৈরি করা হবে আলাদিনের প্রদীপের মতো। প্রত্যেকটি টাওয়ারের যোগাযোগ রক্ষা করবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্রিজ। সেই ব্রিজটি এমন প্রযুক্তিতে তৈরি করা হবে, যাতে চাপলে মনে হবে আলাদিনের সেই ম্যাজিক কার্পেটে চেপে আপনি উড়ে যাচ্ছেন।
আগামী বছরই এই আশ্চর্য শহর তৈরির কাজে হাত দিচ্ছে দুবাই মিউনিসিপ্যালিটি, জানিয়েছেন পুরসভার ডিরেক্টর জেনারেল হুসেন নাসের লুতাহ। প্রত্যেকটি টাওয়ার হবে ২৬ থেকে ৩৪ তলার। থাকবে অনেক অফিস, অত্যাধুনিক হোটেল এবং ৯০০টি গাড়ি রাখার পার্কিং এরিয়া। এছাড়াও ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বসবাস করতে পারবেন ওই 'আশ্চর্য' শহরে।।২০১৮ সালের মধ্যে আলাদিন সিটি গড়ার কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।

মরুভূমিতে মানব শিশুকে দুধ খাওয়াল গর্ভবতী কুকুর!

ধূসর, রুক্ষ অ্যারিকার মরুভূমি বন্দর এলাকায় ফেলে রেখে গিয়েছিল মাতাল মা। বয়স দু’বছর। বাঁচার কোনও সম্ভবনাই ছিল না তার। খাবার, জল না পেয়ে মরেই যেত সে। তবুও বেঁচে ফিরল দু’বছরের একরত্তি ছেলেটি। কিন্তু কোনও মানুষের কারণে নয়। ওই ভয়ঙ্কর পরিবেশে কোনও মানুষ তার খিদে মেটাতে এগিয়ে আসেনি! তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে একটি গর্ভবতী কুকুর। নিজের বুকের দুধ খাইয়ে শিশুটিকে বাঁচায় ওই সারমেয়। পালন করে প্রকৃত মায়ের দায়িত্ব! ঘটনাটি ঘটেছে চিলির রাজধানী স্যান্টিয়াগো থেকে এক হাজার মাইল দূরের অ্যারিকায়।
জানা গিয়েছে, শিশুটির পরিবার ওই এলাকারই বাসিন্দা। কিন্তু তার মা দিনরাত নেশায় বেহুঁশ হয়ে থাকেন। নেশার ঘোরেই এক দিন ছেলেকে বাড়িতে ফেলে বেরিয়ে যান তিনি। খিদের জ্বালায় শিশুটি বাড়ি থেকে বেরিয়ে প়়ড়ে। কাঁদতে কাঁদতে ক্লান্ত, অবসন্ন হয়ে পড়ে সে। পাশ দিয়ে চলে যাওয়া মানুষ তাকে সাহায্য করেননি। তখনই এগিয়ে আসে কুকুরটি। নিজের বুকের দুধ খাইয়ে শিশুটিকে বাঁচায় সে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, একটি ‘মেকানিকস্ ওয়ার্কশপ’এর মধ্যে শিশুটিকে দুধ খাওয়াচ্ছিল তারই প্রতিবেশীর কুকুর। কুকুরটির নাম রেইনা। স্থানীয় ভাষায় যার অর্থ রানি। পথচলতি মানুষ এই ঘটনা দেখে পুলিশে খবর দেন। এর পর শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে চিলি পুলিশ। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুটির বেশ কিছু চর্মরোগও রয়েছে। তাই কিছু দিন তাকে চিকিত্সকদের বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হবে।
এর পর হাসপাতালেই হাজির হন শিশুটির মত্ত মা। কিন্তু শিশুটির কোনও শারীরিক আঘাত না থাকায় তাঁকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। শিশুটির বাবারও কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। চিলির ‘ন্যাশনাল সার্ভিস ফর মাইনরস্’ কর্তৃপক্ষ শিশুটির মায়ের বিরুদ্ধে তার প্রতি অবহেলার অভিযোগ দায়ের করেছেন। যাঁরা পুলিশকে খবর দিয়েছিলেন তাঁদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাঁরা। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর আদালতে শুনানির মাধ্যমে শিশুটিকে মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।  
সুত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা