Monday, February 24, 2025

কোন সরকারব্যবস্থা আমাদের জন্য বেশি উপযোগী by মিল্লাত হোসেন

আমাদের দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক চিন্তার পরিসর বর্তমানে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার পদ্ধতির চেয়ে প্রধানমন্ত্রীশাসিত পদ্ধতির দিকেই অনেকটা ঝুঁকে আছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা না, রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার পদ্ধতি—কোনটা বেশি উপযোগী তা নিয়ে লিখেছেন মিল্লাত হোসেন

আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি যে গণতান্ত্রিক হতে হবে, গণ-অভ্যূত্থানের পর এ নিয়ে এখন কারোরই কোনো দ্বিমত নেই। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নানা ধরন আছে। প্রশ্ন উঠতে পারে, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কোন পদ্ধতির গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আমাদের জন্য অধিকতর প্রযোজ্য হবে?

মোটাদাগে, গণতান্ত্রিক সরকারপদ্ধতি দুই ধরনের। এক, সংসদীয় বা ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের সরকারপদ্ধতি এবং দুই, রাষ্ট্রপ্রধান দ্বারা পরিচালিত সরকারপদ্ধতি।

সংসদীয় সরকারব্যবস্থা

ওয়েস্টমিনস্টার নামটি এসেছে লন্ডনের প্রায় হাজার বছরের প্রাচীন ওয়েস্টমিনস্টার প্রাসাদের নাম থেকে, যা ৫০০ বছর ধরে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সংসদীয় পদ্ধতির সূতিকাগার এবং বড় উদাহরণ হলো ইংল্যান্ডের সরকারব্যবস্থা। এ ব্যবস্থায় একজন আলঙ্কারিক রাষ্ট্রপ্রধান থাকেন, যাঁর কোনো নির্বাহী ক্ষমতা থাকে না, তিনি সাধারণত নির্বাচিত হন না, ক্ষেত্রবিশেষে বংশানুক্রমিকভাবে পদটিতে অধিষ্ঠিত হন। ক্ষমতা থাকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত আইনসভার হাতে।

আইনসভার সাধারণত দুটি কক্ষ থাকে। একটি বা দুটি যে সংখ্যক কক্ষই থাকুক না কেন, নিম্নকক্ষ গঠিত হয় জনগণের ভোটে নির্বাচিত ব্যক্তিদের নিয়ে। আর উচ্চকক্ষ গঠিত হয় প্রধানত মনোনীত/বংশানুক্রমিক খেতাবধারী ব্যক্তিদের নিয়ে। আইনসভার নিম্নকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল সরকার গঠন করে, মন্ত্রী হন সংসদ সদস্যদের মধ্যে থেকে আর দলের নেতা হন প্রধানমন্ত্রী।

অর্থাৎ এই ব্যবস্থায় নির্বাহী বিভাগ ও আইনসভার মধ্যে যেমন কোনো ফারাক থাকে না, তেমনই আবার সরকারপ্রধান আর রাষ্ট্রপ্রধান আলাদা হন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় আইনসভার নিম্নকক্ষের বিরোধী দলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়।

রাষ্ট্রপ্রধানশাসিত সরকাব্যবস্থা

রাষ্ট্রপ্রধানশাসিত সরকারব্যবস্থার উদাহরণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্র পরিচালনাপদ্ধতি। মার্কিন সংবিধান গৃহীত হওয়ার মাধ্যমে এমন এক যুক্তরাষ্ট্রীয় পদ্ধতির উদ্ভাবন ঘটানো হয়, যেখানে একজন নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধান থাকেন, যিনি একই সঙ্গে সরকারপ্রধানও বটে।

ফরাসি আইনবিদ মন্টেস্কুর ‘ক্ষমতার পৃথককরণ তত্ত্ব’ অনুযায়ী যেভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে আইনসভা, সরকার ও বিচার বিভাগে ভাগ করার কথা বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সেই রকমের পৃথককরণ আছে। সেখানে সংসদ সদস্যরা মন্ত্রী বা সরকারের কোনো পদাধিকারী হতে পারেন না। একইভাবে মন্ত্রীরা সংসদ সদস্য থাকতে পারেন না।

এই পদ্ধতিতে দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান কার্যত একই ব্যক্তি হন। তিনি নির্বাচিত হন সরাসরি জনগণের ভোটে। তিনি মন্ত্রীদের নিয়োগ করেন এবং তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী মন্ত্রীরা পদে থাকেন। তাঁদের দিয়েই রাষ্ট্রপ্রধান সরকার চালান। অন্যদিকে আইনসভার সদস্যরাও ছোট ছোট নির্বাচনী আসন থেকে সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন।

শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নকক্ষ সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলেও উচ্চকক্ষ বা সিনেটে সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা ছিল না। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের জন্য দুজন করে সিনেটর নির্বাচন করতেন সংশ্লিষ্ট রাজ্যের আইনপ্রণেতারা। ১৯১৩ সালে মার্কিন সংবিধানের ১৭তম সংশোধনীর মাধ্যমে সিনেটে সরাসরি নির্বাচনের বিধান করা হয়।

মার্কিন রাষ্ট্রকাঠামোতে সিনেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আইনপ্রণয়ন ও বৈদেশিক চুক্তি অনুমোদনের ক্ষমতা ছাড়াও সিনেটে শুনানি এবং অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট তাঁর মন্ত্রীদের (সেক্রেটারি) নিয়োগ করতে পারেন না। সুপ্রিম কোর্টসহ ফেডারেল বিচারকদের নিয়োগও সিনেটে অনুমোদিত হতে হয়। রাষ্ট্রপ্রধানসহ অন্য শীর্ষ পদাধিকারীদের চূড়ান্তভাবে অভিশংসিত করার ক্ষমতাও সিনেটের। এভাবে উচ্চকক্ষ মার্কিন রাষ্ট্রকাঠামোতে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রেখে উচ্চকক্ষ বা সিনেট স্বৈরতন্ত্রের উত্থান রোধসহ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা

আমাদের দেশে ১৯৭২ থেকে প্রধানমন্ত্রীশাসিত সংসদীয় পদ্ধতি চললেও ১৯৭৫ সালে বাকশালের মাধ্যমে চালু হয় রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার। সামরিক-বেসামরিক শাসন মিলে সেটা বহাল থাকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত। সে বছরই সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে আবার চালু করা হয় সংসদীয় পদ্ধতির সরকার।

বাংলাদেশের সংসদীয় সরকারপদ্ধতি যুক্তরাজ্যের সংসদীয় পদ্ধতি থেকে কিছুটা আলাদা। এই পার্থক্য সংসদীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে। আমাদের ক্ষেত্রে সংসদ নয়, সংবিধানই সার্বভৌম।

এই ব্যবস্থায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সরকার গঠন করেন। তাঁদের নেতা একই সঙ্গে সংসদনেতা ও প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি সাধারণত অন্য সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে মন্ত্রীদের মনোনীত করেন।

সরাসরি নাগরিকদের ভোটে নির্বাচিত হওয়া ব্যক্তিদের দ্বারাই সংসদ ও সরকার পরিচালিত হয়। অর্থাৎ সংসদ সদস্যরা আইন প্রণয়ন করেন এবং তাঁদের মধ্যকার কেউ কেউ সরকারের মন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতারও অংশীদার হন। সংসদ সদস্যদের নেতা ও মন্ত্রীদের ‘নিয়োগকর্তা’ হিসেবে আইন বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হয়ে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশে একজন প্রধানমন্ত্রী কতটা ক্ষমতাবান এবং কতটা ক্ষমতার চর্চা করতে পারেন, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হতে পারেন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসক হয়ে ওঠার জন্য যেমন তাঁর রাজনীতির দায় রয়েছে, তেমনি বাংলাদেশের বিদ্যমান সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভূমিকা রয়েছে।

বিদ্যমান ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা এতই বেশি যে এখানে ব্যক্তির ভূমিকা অনেকটাই গৌণ হয়ে যায়; যিনিই প্রধানমন্ত্রী হন, তিনিই থাকেন সব ধরনের জবাবদিহির ঊর্ধ্বে। এসব কিছুর ঊর্ধ্বে ওঠা ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক মনের গড়ন এবং নানা অনুঘটকের ক্রিয়াশীলতার ওপরই অসহায়ভাবে আমাদের জনগণকে নির্ভরশীল হতে হয়। এই ব্যবস্থা কোনোভাবেই গণতন্ত্রের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

গণতন্ত্রের কি কোনো বিকল্প আছে

কোন ধরনের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আমাদের জন্য উপযোগী হবে, এই প্রশ্নের সহজ কোনো উত্তর নেই। একটা রাষ্ট্রে গণতন্ত্র আছে কি না, তা নির্ধারণ করার অনেক ধরনের মাপকাঠি আছে। আধুনিক যুগের অনেক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মনে করেন, কোনো দেশে গণতন্ত্র আছে কি না, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে একটা ‘সাধারণ’ প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমে।

প্রশ্নটি হলো, রাষ্ট্রের একজন সাধারণ ব্যক্তির সরকারপ্রধান হওয়ার পথ কতটা সহজ বা আদৌ সম্ভব কি না। অর্থাৎ নিজের যোগ্যতা, শ্রম আর ক্যারিশমা দিয়ে জনগণের সমর্থন আদায় করে কোনো একদিন তিনি দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন, এমন কোনো বৈধ পদ্ধতি সে দেশে আছে কি না। যদি সে রকম সুযোগ থাকে, তাহলে সেই দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থাকে গণতান্ত্রিক বলা যেতে পারে।

কৃষ্ণাঙ্গ ও পূর্বপুরুষ অভিবাসী হওয়া সত্ত্বেও বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হতে পেরেছিলেন। এটা তিনি পেরেছিলেন তাঁর নিজস্ব যোগ্যতার কারণে এবং অবশ্যই দেশটির গণতান্ত্রিক কাঠামোর জোরে। অন্যদিকে রাজতন্ত্র না থাকলেও অনেক দেশেই পারিবারিক উত্তরাধিকার ছাড়া রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা চিন্তাই করা যায় না। নামে গণতন্ত্র না হলেও এ দেশগুলোর রাষ্ট্রকাঠামো যে গণতান্ত্রিক, তা সহজেই বোধগম্য।

১৯৮০-এর দশক থেকেই দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রধান আর ১৯৯১ সাল থেকে সংসদীয় ব্যবস্থা চালুর পর থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় রয়েছে ‘উত্তরাধিকারের রাজনীতি’। যাঁরা এসব পদে ছিলেন, তাঁদের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ভেতর দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হয়েছে; কিন্তু উত্তরাধিকারের রাজনীতি তাঁদের অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে নিয়ে গেছে।

আমাদের মনে রাখা দরকার, ১৯৯১ সালে সংসদীয় পদ্ধতি চালুর সময় তৎকালীন শাসক দল বিএনপি রাষ্ট্রপতিশাসিত পদ্ধতির পক্ষে ছিল। কিন্তু সংসদীয় পদ্ধতির পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছিল বিরোধী দল আওয়ামী লীগ। রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে দিতে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের অনড় মনোভাবের কারণে কিছুটা অনিচ্ছুক হয়েই বিএনপি সংসদীয় পদ্ধতিতে রাজি হয়।

সংসদীয় পদ্ধতিতে জনগণের রায়ের চেয়েও রাজনৈতিক দল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ, এ পদ্ধতিতে জনগণ সরাসরি একজনকে নেতা নির্বাচন করতে পারেন না। দেশকে কয়েক শ ভাগে (৩০০ সংসদীয় আসন) ভাগ করে প্রতিটি ভাগ থেকে একজন করে প্রতিনিধি নির্বাচন করেই জনগণকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়।

এভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠরা তাঁদের নেতা (প্রধানমন্ত্রী) নির্বাচন করেন। অর্থাৎ জনগণ ও তাঁদের নেতার মধ্যে একদল মধ্যস্থতাকারী (সংসদ সদস্য) থাকেন। এর ফলে সম্ভাব্য নেতা বা প্রধানমন্ত্রীর একটি রাজনৈতিক দল থাকতে হবে; যে দলটির আবার দেশব্যাপী সংগঠন থাকতে হবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে ভোটে জেতার ক্ষমতা থাকতে হবে।

এটা একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া। বিশেষ কোনো পরিস্থিতি ছাড়া সাধারণভাবে কারও পক্ষে অল্প সময়ে এ রকম দল গড়ে ক্ষমতায় যাওয়া বেশ দুরুহ। নানা মত-পথের মানুষকে দলে আনা, তাঁদের ধরে রাখা, তাঁদের নানাবিধ চাহিদার সমন্বয় করে দলকে বিকশিত করা সহজ কাজ নয়। এর ফলে আমাদের দেশের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, ‘রেডিমেড’ ও ‘বিশ্বাসযোগ্য’ নেতৃত্বের জন্য দলকে উত্তরাধিকারের রাজনীতির দিকে ঝুঁকতে হয়।

এর ভালো ও মন্দ—উভয় দিকই আছে। দলের জন্য ভালো হলেও জনগণের বিভিন্ন অংশের জন্য তা অস্বস্তি ও সমালোচনার কারণ হয়ে ওঠে। দল ধরে রাখতে পরিবারের ওপরই ভরসা রাখায় হরহামেশাই জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেখা গেছে। আবার অনেক সমালোচনা থাকলেও এই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হতে পারেন পরিবারেরই কোনো রাজনৈতিক সম্ভাবনাময় সদস্য। যোগ্য হওয়ার পরও উত্তরাধিকারের রাজনীতির বদনাম বহন করে যেতে হয় তাঁকে।

এমন নানা কারণ আর অভিজ্ঞতার আলোকে নাগরিকদের সরাসরি নিজের ও দেশের নেতা নির্বাচন করার অধিকার দেওয়া এবং প্রত্যেক নাগরিকের জন্যই রাষ্ট্রের শীর্ষ পদে যাওয়ার অবারিত সুযোগ রাখার বন্দোবস্ত তৈরি করতে হবে। সেটা করতে চাইলে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারপদ্ধতি অধিকতর উপযোগী বলে মনে হয়।

আমাদের দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক চিন্তার পরিসর বর্তমানে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার পদ্ধতির চেয়ে প্রধানমন্ত্রীশাসিত পদ্ধতির দিকেই অনেকটা ঝুঁকে আছে। সংবিধান সংস্কারসহ নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনেও ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতি বহাল রেখে ক্ষমতার ভারসাম্য আনার প্রচেষ্টা লক্ষ করা গেছে। যদিও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মাধ্যমে কমিশনেরই করানো জনমত জরিপে আবার ৮৩ শতাংশ মানুষ সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষে মত দিয়েছিলেন। (প্রথম আলো, ১৭ জানুয়ারি ২০২৫)

গণতন্ত্র মানে হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ইচ্ছা বা অভিপ্রায়। রাষ্ট্র পরিচালনায় এখনো গণতন্ত্রের বিকল্প আর কিছু নেই। তাই গণতন্ত্রের বাস্তব বিকল্প হলো অধিকতর গণতন্ত্র। ভুলে গেলে চলবে না, দেশের মালিক জনগণ। জনগণের জান, মাল ও জবানের হেফাজত করতে সক্ষম হবে, এমন শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই হোক রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য।

আমাদের সরকারব্যবস্থাটি পাঁচশালা বন্দোবস্তের। কিন্তু আমাদের যে এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রকাঠামো, সেটা পাঁচশালা গণতান্ত্রিক বন্দোবস্তের উপযোগী নয়। এর অবশ্যম্ভাবী গন্তব্য ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’। আমাদের রাষ্ট্রকাঠামো, তাতে প্রবিষ্ট মতাদর্শিক পরিকাঠামো আর রাজনৈতিক দলের গঠন—এসব একসূত্রে গাঁথা।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চাইলে এই কাঠামোটাকে কিছুটা হলেও বদলাতে হবে। তা না হলে দেশের ঘাড়ে জোয়ালের মতো চেপে বসা স্বৈরশাসন হটাতে প্রতি এক-দেড় দশক পরপর একটি করে গণ–অভ্যুত্থানের জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

* মিল্লাত হোসেন সংবিধান, আইন, আদালতবিষয়ক লেখক ও গবেষক

কোন সরকারব্যবস্থা আমাদের জন্য বেশি উপযোগী

সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট যেভাবে তৈরি করেছিলেন ইসরায়েল-ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের মানচিত্র

‘আমি আপনাকে যে প্রস্তাব দিচ্ছি, আগামী ৫০ বছরে আর এমন একজন ইসরায়েলি নেতাকেও আপনি খুঁজে পাবেন না, যিনি আপনাকে এই প্রস্তাব দেবেন। সই করুন! সই করুন এবং ইতিহাস পাল্টে দিন!’

২০০৮ সালে ইসরায়েলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট এভাবেই ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সীমানা চূড়ান্ত করার নিয়ে একটি চুক্তিতে সই করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। ওলমার্টের বিশ্বাস ছিল, ওই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে পারবে।

ওই চুক্তি ছিল একটি দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান—আজ সেই চুক্তির বাস্তবায়নকে অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছে।

যদি সে সময়ে সব পক্ষ ওই চুক্তি মেনে নিত এবং চুক্তির বাস্তবায়ন হতো, তবে আজ অধিকৃত পশ্চিম তীরের ৯৪ শতাংশের বেশি ভূমি এবং গাজা উপত্যকা নিয়ে একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত হতো।

ইসরায়েল ও ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সীমা ভাগ করে ওলমার্ট যে মানচিত্র প্রস্তুত করেছিলেন, এখন সেটিকে এক রকম অলীক কল্পনা বলেই মনে হচ্ছে।

পরবর্তী সময়ে সাবেক ইসরায়েলির প্রধানমন্ত্রী ওলমার্টের ওই মানচিত্র নিয়ে অনেকে অনেক রকম ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু এর আগে কখনোই গণমাধ্যমে ওই মানচিত্র প্রকাশ পায়নি।

তথ্যচিত্র নির্মাতা নরমা পার্সি সম্প্রতি ‘ইন ইসরায়েল অ্যান্ড দ্য প্যালেস্টিনিয়ান্স: দ্য রোড টু সেভেনথ অক্টোবর’ নামে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন।

ওই তথ্যচিত্রে ওলমার্ট ২০০৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর জেরুজালেমে এক বৈঠকে মাহমুদ আব্বাসের সামনে উপস্থাপন করেন। এত দিন পর সেই মানচিত্রটি তিনি প্রকাশ্যে আনলেন।

ওলমার্ট তথ্যচিত্র নির্মাতাকে বলেন, ‘এই প্রথম আমি গণমাধ্যমে এই মানচিত্র দেখাচ্ছি।’

ওই মানচিত্রে ওলমার্ট পশ্চিম তীরের কতটুকু অংশ ইসরায়েলের দখলে যাবে তার বিস্তারিত উল্লেখ করেছিলেন, যা ছিল পশ্চিম তীরের মাত্র ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। সেই অংশের মধ্যে সেখানে ইহুদি বসতির একটি বড় অংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি বিরোধ নিষ্পত্তিতে ১৯৯০–এর দশকের শেষ দিকে অনেকটা তেমন একটি প্রস্তাবই দেওয়া হয়েছিল।

ওই চুক্তিতে ইসরায়েল পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকার সীমানা ধরে ইসরায়েলি ভূখণ্ডের জন্য সমপরিমাণ ভূমির যে দাবি এত দিন করে আসছিল, তা থেকে সরে আসতে রাজি ছিল বলেও জানান সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ওলমার্ট।

চুক্তিতে ফিলিস্তিনিদের দুটি ভূখণ্ডকে একটি সুড়ঙ্গ সড়ক বা মহাসড়ক দিয়ে সংযুক্তর করার কথাও বলা ছিল। অতীতেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল।

ওলমার্টের ওই প্রস্তাবের জবাবে মাহমুদ আব্বাস কী বলেছিলেন, সেটাও বলেছেন ওলমার্ট। তিনি বলেন, ‘আব্বাস তাঁকে বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা খুব, খুব, খুবই গুরুত্বপূর্ণ’।

ওলমার্টের পরিকল্পনায় বিরোধের কেন্দ্রে থাকা জেরুজালেমের ভাগ কীভাবে হবে, সেটা নিয়েও গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা ছিল।

সেখানে বলা ছিল, উভয় পক্ষ নিজেদের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমের একটি অংশ দাবি করতে পারবে। আর জেরুজালেমের পবিত্র ভূমি—যার মধ্যে ওল্ড সিটি, ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং তার আশপাশের এলাকার প্রশাসনিক দায়িত্ব একটি ট্রাস্টি কমিটির হাতে থাকবে। ইসরায়েল, ফিলিস্তিনি, সৌদি আরব, জর্ডান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ওই ট্রাস্টি কমিটিতে থাকবেন।

লাখো ইহুদি বসতি স্থাপনকারীকে সরে যেতে হতো

ওই মানচিত্র বাস্তবায়ন হলে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ত। পশ্চিম তীর ও জর্ডান ভ্যালিজুড়ে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা বহু ইহুদি বসতি সরিয়ে ফেলতে হতো।

এর আগে ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অ্যারিয়েল শ্যারন এমনটা করেছিলেন। তিনি ২০০৫ সালে কয়েক হাজার ইহুদি বসতি স্থাপনকারীকে গাজা থেকে জোর করে সরিয়ে এনেছিলেন। ইসরায়েলি ডানপন্থীরা একে ইহুদি জাতির ওপর আঘাত বলে বিবেচনা করেছিল।

পশ্চিম তীরের বেশির ভাগ ভূমি থেকে ইহুদি বসতি সরিয়ে নেওয়া ওই ঘটনার চেয়েও অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের হতো। কারণ, সেখান থেকে লাখো ইহুদিকে সরিয়ে আনতে হতো। ফলে সেখানে নৃশংসতা ছড়িয়ে পড়ার সত্যিকারের ঝুঁকি ছিল।

যদিও ইসরায়েল সরকারকে কখনো এই পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়নি।

কারণ, জেরুজালেমে ওলমার্ট ও মাহমুদ আব্বাসের ওই বৈঠক নিষ্ফল ছিল। আব্বাস চুক্তি সই করার আগে ওলমার্টের কাছে তাঁর প্রস্তাবিত মানচিত্রের একটি অনুলিপি চেয়েছিলেন, যেন তিনি মানচিত্র বিশেষজ্ঞদের সেটি দেখিয়ে তাঁকে আসলে কী প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা বুঝে নিতে পারেন। কিন্তু ওলমার্ট চুক্তি সই হওয়ার আগে তাঁর মানচিত্র আব্বাসকে দিতে রাজি হননি।

পরদিন দুই নেতা মানচিত্র বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে আরেকটি বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু সেই বৈঠক আর কখনো হয়নি। সে রাতেই দুই নেতা জেরুজালেম থেকে চলে যান।

এ বিষয়ে ওলমার্ট বলেন, ‘আমরা বিভক্ত হয়ে যাই। আপনি জানেন, আমরা একটি ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে ছিলাম।’

মাহমুদ আব্বাসের চিফ অব স্টাফ রফিক হুসেইনি সেদিন জেরুজালেম থেকে ফেরার পথে গাড়িতে কেমন পরিবেশ ছিল, তা এখনো মনে করতে পারেন।

তথ্যচিত্রে রফিক হুসেইনি বলেন, ‘অবশ্যই আমরা হেসেছিলাম।’

ফিলিস্তিনিরা বিশ্বাস করেছিলেন, ওই পরিকল্পনা কাজে আসবে না। দুর্নীতির কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়ে ওলমার্টের নিজেরই তখন নড়বড়ে অবস্থা। তিনি পদত্যাগের পরিকল্পনাও তত দিনে ঘোষণা করে ফেলেছেন।

হুসেইনি বলেন, ‘ওলমার্ট যত ভালো হন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি তখন ক্ষমতাহীন হয়ে পড়েছিলেন। এবং তার ওপর, ওই পরিকল্পনা আমাদের কোথাও নিয়ে যেতে পারত না।’

সে সময় গাজার পরিস্থিতিও জটিল ছিল। হামাসের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূখণ্ড থেকে কয়েক মাস ধরে রকেট ছোড়ার পর ওলমার্ট তাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই অভিযানের নাম ছিল ‘অপারেশন ক্যাস্ট লিড’। পরে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে হামাস ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে তিন সপ্তাহ ভয়াবহ যুদ্ধও হয়েছিল।

হুসেইনি তথ্যচিত্রে আরও বলেন, ‘ওলমার্ট আমাকে বলেছিলেন, আব্বাসের জন্য এই চুক্তি সই করা দারুণ বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এরপর ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ কোনো প্রধানমন্ত্রী যদি ওই চুক্তি বাতিলের চেষ্টা করেন। তবে আব্বাস বাকি বিশ্বকে এটা অন্তত বলতে পারবেন, এই ব্যর্থতার দায় ইসরায়েলের।’

পরের বছর ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলে নির্বাচন হয় ও ভোটে জিতে দেশটির ক্ষমতায় ফিরেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যিনি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বরাবরই খুব সরব।

ওলমার্টের পরিকল্পনা, মানচিত্র এবং আবছা হয়ে যাওয়া দৃশ্যপট

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলমার্ট বলেছেন, তিনি এখনো মাহমুদ আব্বাসের উত্তরের অপেক্ষা করছেন। যদিও ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি সংঘাত শেষ করার যে পরিকল্পনা তিনি করেছিলেন, সেটি এখন সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে না পারার লম্বা তালিকায় আরও একটি সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাওয়া হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

১৯৭৩ সালে ইসরায়েলের সাবেক কূটনীতিক আব্বা এবান মজা করে বলেছিলেন, ‘ফিলিস্তিনিরা কখনো কোনো সুযোগের সদ্ব্যবহার করার সুযোগ হাতছাড়া করার সুযোগ ছাড়ে না।’

তার পর থেকে ফিলিস্তিনি প্রসঙ্গে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা নিয়মিত এই উক্তিটি ব্যবহার করেন। কিন্তু সময় এখন এর থেকেও অনেক বেশি জটিল হয়ে পড়েছে।

ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট
ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট। বিবিসি থেকে স্ক্রীনসট নেওয়া

মুসলিম ‘গণহত্যায়’ প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন সাবেক থাই প্রধানমন্ত্রী

দক্ষিণ থাইল্যান্ডে দুই দশক আগে মুসলিম বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা।

২০০৪ সালে সংঘটিত এই ভয়াবহ ঘটনায় সামরিক বাহিনীর ট্রাকে শ্বাসরোধ হয়ে ৭৮ জন মুসলিম বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়। এই হত্যাকাণ্ড ‘তাক বাই গণহত্যা’ নামে পরিচিত এবং এটি দীর্ঘদিন ধরে থাইল্যান্ডের মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দক্ষিণাঞ্চলে রাষ্ট্রীয় দায়মুক্তির প্রতীক হয়ে রয়েছে।

রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এই অঞ্চল সফরকালে ক্ষমা চেয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা। খবর এএফপি।

থাকসিন, যিনি গণহত্যার সময় থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, ১৯ বছর পর এই অঞ্চলে সফরকালে সাংবাদিকদের বলেন, আমি যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলাম, তখন আমার প্রধান লক্ষ্য ছিল স্থানীয় জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা। যদি আমার কোনো ভুল হয়ে থাকে বা কারও মনে কোনো কষ্ট দিয়ে থাকি, তাহলে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাই।

কী ঘটেছিল তাক বাই হত্যাকাণ্ডে?

২০০৪ সালের ২৫ অক্টোবর, নারাথিওয়াত প্রদেশের তাক বাই শহরের একটি পুলিশ স্টেশনের সামনে কয়েকশ মুসলিম বিক্ষোভ করছিলেন। তখন নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালিয়ে সাতজনকে হত্যা করে।

পরে প্রায় ১,৩০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয় এবং তাদের হাত পেছনে বাঁধা অবস্থায় সামরিক ট্রাকে একটির ওপর আরেকটি স্তূপ করে তোলা হয়। এই অবস্থায় দীর্ঘ সময় তাদের ফেলে রাখার ফলে শ্বাসরোধ হয়ে ৭৮ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়। মানবাধিকার কর্মীরা এ ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রীয় হত্যা’ বলে অভিহিত করেছেন।

বিচারের অভাবে ক্ষোভ

গত বছরের আগস্টে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় সাতজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তবে অভিযুক্তরা আদালতে হাজির না হওয়ায় মামলার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

২০২৩ সালের অক্টোবরে দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং থাকসিনের কন্যা পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা ঘোষণা দেন যে, মামলার সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে, তাই এটি পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব নয়।

থাই মানবাধিকার সংস্থা ‘দুয়াই জায়’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা আঞ্চনা হিমমিনা এএফপিকে জানান, এটি প্রথমবারের মতো থাকসিন সরাসরি ক্ষমা চাইলেন। তবে যদি তিনি সত্যিই আন্তরিক হন, তাহলে তার উচিত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে সরাসরি দেখা করে ক্ষমা চাওয়া।

দক্ষিণ থাইল্যান্ডের বিদ্রোহ এবং রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন

থাইল্যান্ডের মুসলিম-প্রধান দক্ষিণাঞ্চলে বছরের পর বছর ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘাত চলছে। এই অঞ্চলের জনগণ সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয়ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ থাই সমাজ থেকে আলাদা। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়াই করছে।

২০০৪ সাল থেকে এ সংঘাতে ৭,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তবে তাক বাই হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো সামরিক কর্মকর্তা বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো শাস্তি হয়নি।

থাইল্যান্ড সরকার বারবার দক্ষিণাঞ্চলে শান্তি স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিলেও, সেখানে জরুরি আইন বলবৎ রয়েছে এবং ব্যাপক সেনা মোতায়েনের কারণে সাধারণ জনগণ এখনো নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে।

থাইল্যান্ডের মুসলিম-প্রধান দক্ষিণাঞ্চলে ঘটে যাওয়া ‘রাষ্ট্রীয় হত্যা’র ন্যায়বিচারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ করে আসছে। ছবি : সংগৃহীত।
থাইল্যান্ডের মুসলিম-প্রধান দক্ষিণাঞ্চলে ঘটে যাওয়া ‘রাষ্ট্রীয় হত্যা’র ন্যায়বিচারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ করে আসছে। ছবি : সংগৃহীত।



গণঅভ্যুত্থানের ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিনতাই করার চেষ্টা হচ্ছে : গোলাম পরওয়ার

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ‘মাস্টারমাইন্ড’ কেউ কেউ ছিনতাই করার চেষ্টা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে ‘ভাষা আন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থান অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অনেক সত্য ইতিহাস কেন লেখা হয় না প্রশ্ন রেখে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড কারা? এটাও কেউ কেউ ছিনতাই করার চেষ্টা করছে। অনেক বড় দলের নেতারা বলেন-এই আন্দোলনে আমরা সম্পৃক্ত নই। আর তাদের ছাত্র সংগঠন দাবি করে তাদের নেতৃত্বে বিপ্লব হয়েছে! অথচ যারা বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছে, সেই ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, এই গণঅভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড শহীদ ও আহত-পঙ্গুত্ব বরণকারী সকলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাক্ষী এই গণঅভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড কারা। রামদা দলের হাত থেকে ইতিহাস বিকৃত করা বন্ধ করতে এ দেশের ছাত্র-জনতা আবারো অপ্রতিরোধ্য হয়ে দাঁড়াবে।’

২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান হয়েছে বিপ্লব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ মানে হচ্ছে যাকে বাধা দেয়া যায় না। বাংলাদেশের জনগণ ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে সেটি বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে। দুই হাজারের অধিক মানুষ গণহত্যার শিকার হয়েছে। হাজার হাজার আহত-পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। তবুও ছাত্র-জনতাকে দাবিয়ে রাখা যায়নি। এই গণঅভ্যুত্থান এককভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, এ দেশের ছাত্র-জনতার।’

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের সকল আন্দোলন সংগ্রাম ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে, অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে। তিনটি গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তিনটি শাসক গোষ্ঠীর পতন হয়েছে। ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের আইয়ুব খান, ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের এরশাদ এবং সবশেষে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পৃথিবীর ইতিহাসে নিকৃষ্টতম স্বৈরাচার খুনি হাসিনার পলায়নের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পতন হয়। এই পতনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্তি লাভ করে।’

তিনি বলেন, ‘ভারতের বিজেপি সরকার বাংলাদেশের জনগণের দুশমন পরিচয় দিয়েছে। তারা আমাদের ভূখণ্ডকে আসামের সঙ্গে যুক্ত করে মানচিত্র প্রকাশ করে সরাসরি বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করেছে। আমাদের বিজয় দিবসকে ভারতের বিজয় দিবস দাবি করে নরেন্দ্র মোদি পোস্ট করার মাধ্যমে মোদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছিনতাই করতে চেয়েছে।’

দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেডএনআরএফ ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সের অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল আজিজ। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুস সালাম, কামরুল আহসান হাসান, শাহিন আহাম্মদ খান, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সহকারী সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন প্রমুখ।


'ভারতকে হারাতে না পারলে আমার নামও শেহবাজ শরীফ নয়'

পাকিস্তানকে ভারতের চেয়ে বৃহত্তর জাতি হিসেবে গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। ডেরা গাজি খানে বিশাল জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় নিজের লক্ষ্য অর্জনে নিরলস প্রচেষ্টার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একদিন না একদিন ভারতকে পেছনে ফেলে দেব। আর তা করতে না পারলে আমার নামও শেহবাজ শরীফ নয়। আমরা দিনরাত কাজ করে পাকিস্তানকে একটি মহান জাতিতে পরিণত করব এবং ভারতের চেয়ে এগিয়ে যাব।’

ডেরা গাজি খান সফরের সময় শরীফ অবকাঠামো এবং জনসেবা উন্নত করার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি সক্রিয় শাসন ও সংস্কারের মাধ্যমে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জগুলো সমাধানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং স্বনির্ভরতার উপর জোর
শেহবাজ শরীফ জনগণকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তার সরকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে কাজ করছে, যার লক্ষ্য বিদেশী ঋণের উপর পাকিস্তানের নির্ভরতা কমানো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আর ঋণের উপর নির্ভর করব না। আমার নেতৃত্বে, পাকিস্তান একটি স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলে নিজের পায়ে দাঁড়াবে।’

প্রধানমন্ত্রী মুদ্রাস্ফীতির উল্লেখযোগ্য হ্রাসের কথাও তুলে ধরেন, দাবি করেন যে তার সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সময় থেকে ৪০% থেকে কমে বর্তমানে তা  মাত্র ২% হয়েছে।

ভারতের সাথে সংলাপের আহ্বান
ভারতকে ছাড়িয়ে যাওয়ার বিষয়ে শরীফের এই মন্তব্য নয়াদিল্লির সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করার কয়েক সপ্তাহ পরেই এসেছে। কাশ্মীর সংহতি দিবসে পাক-অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) আইনসভার একটি বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময়, তিনি কাশ্মীর সহ সমস্ত অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানের জন্য ভারতকে সংলাপে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদার জন্য ৩৭০ ধারা বাতিলের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘কাশ্মীরের স্বার্থে পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা ভারতকে ২০১৯ সালের ৫ আগস্টের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে জাতিসংঘের কাছে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি অনুসারে আলোচনায় অংশ নেয়ার আহ্বান জানাই।’

ভারতকে ছাপিয়ে যাওয়ার জন্য শরীফের অঙ্গীকারের প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের ভারতকে ছাপিয়ে যাওয়ার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। অনেক ব্যবহারকারী তার মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন এবং তাকে দেশের অভ্যন্তরের চ্যালেঞ্জগুলোর দিকে আগে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়েছেন। একজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী  বলেছেন, ‘নিজের লোকদের উপর মনোযোগ দিন - মৌলিক বিষয়গুলো ঠিক করুন। ভারতকে পরাজিত করার স্বপ্ন দেখা বন্ধ করুন। ভারতের রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারগুলো দেখুন-তারা গুরুত্ব সহকারে বৃদ্ধির কৌশল এবং ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা করে। শরীফের বক্তৃতায় বৃদ্ধি, শিক্ষা, অবকাঠামো বা স্বাস্থ্যের কোনও কথা নেই-কেবল ফাঁকা, ফিল্মি লাইন। যার কোনও বাস্তব অর্থ নেই।’

আরেকজন ব্যবহারকারী ব্যঙ্গ করে বলেছেন, শেহবাজ শরীফ ভারতকে হারাতে চান, কিন্তু পাকিস্তানে ওয়াইফাই সিগন্যালেই সমস্যা রয়েছে। ভারতকে লক্ষ্য করার আগে ডেঙ্গু, ঋণের বোঝাকে হারাও।’

সূত্র : লাইভমিন্ট

mzamin

৬২০ ফিলিস্তিনি কারাবন্দীর মুক্তি ছাড়া কোনো আলাপ নয়: হামাস

আগে ফিলিস্তিনি কারাবন্দীদের মুক্তি দিতে হবে। তাহলেই কেবল গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা করবে হামাস।

হামাস নেতা বাসেম নাঈম গতকাল রোববার এ কথা বলেন।

হামাসের রাজনৈতিক শাখার সদস্য নাঈম রয়টার্সকে বলেন, ‘মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে শত্রুদের সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনার শর্ত হচ্ছে আগে ৬২০ বন্দীকে মুক্তি দিতে হবে, যাদের ৬ ইসরায়েলি জিম্মির মুক্তি এবং ৪ জিম্মির মৃতদেহ ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল। ছয় জিম্মিকে ও চার মৃতদেহ গত শনিবারই হস্তান্তর করা হয়েছে।’

বাসেম নাঈম জোর দিয়ে আরও বলেন, চুক্তিতে সেসব শর্ত থাকে, শত্রুরাও যেন তা মেনে চলে, তা মধ্যস্থতাকারীদের নিশ্চিত করতে হবে।

শনিবার ছয় ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেয় হামাস। তাদের সঙ্গে চার জিম্মির মৃতদেহও হস্তান্তর করা হয়। বিনিময়ে ৬২০ ফিলিস্তিনি কারাবন্দীকে মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল ইসরায়েলের। কিন্তু ইসরায়েল ফিলিস্তিনি কারাবন্দীদের মুক্তি পিছিয়ে দিয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে গতকাল বলা হয়েছে, ‘পরবর্তী জিম্মিদের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এবং জিম্মি মুক্তির সময় অসম্মানজনক অনুষ্ঠান বাতিল না করা পর্যন্ত ৬২০ ফিলিস্তিনি কারাবন্দী ও বন্দীদের হস্তান্তর করার অপেক্ষা করবে ইসরায়েল।’

ইসরায়েলের অভিযোগ, সম্প্রতি জিম্মি মুক্তি দেওয়ার সময় হামাস জিম্মিদের সঙ্গে ‘অসম্মানজনক আচরণ’ করছে। জাতিসংঘের কর্মকর্তারাও বলেছেন, জিম্মিদের সম্মান রক্ষা পায়নি, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।

হোয়াইট হাউস থেকেও ইসরায়েলের সিদ্ধান্তে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। গতকাল হোয়াইট হাউস থেকে বলা হয়, ‘হামাস ইসরায়েলি জিম্মিদের সঙ্গে বর্বর আচরণ করেছে। (ফিলিস্তিনি কারাবন্দীদের মুক্তি) পিছিয়ে দেওয়া এর যথাযথ জবাব হয়েছে।’

এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র ব্রায়ান হিউস বলেন, ‘হামাস সম্পর্কে ইসরায়েল যে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেবে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাতেই সমর্থন দিতে প্রস্তুত আছেন।’

হামাস জিম্মিদের মুক্তির সময় বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। ওই অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে মুখোশ পরা হামাসের যোদ্ধারা জিম্মিদের একটি মঞ্চে নিয়ে যান। এ সময় সেখানে উপস্থিত গাজাবাসীর উদ্দেশে জিম্মিদের হাত নাড়াতে এবং বক্তব্যও দিতে দেখা যায়। জিম্মিদের মৃতদেহের কফিনগুলোও ভিড়ের ভেতর দিয়ে আনা হয়।

ইসরায়েল ফিলিস্তিনি বন্দী মুক্তি পিছিয়ে দেওয়ায় বন্দীদের পরিবারগুলোর মধ্য হতাশা নেমে এসেছে।

ইসরায়েলের কারাগার থেকে শনিবার মুক্তি পাবেন ভাই, গাজায় সেই অপেক্ষায় ছিলেন ঘাসান ওয়াশাহি। তিনি বলেন, ‘প্রতিবার কারাগার থেকে কে কে মুক্তি পাচ্ছেন, তার একটি তালিকা দেওয়া হয়। আমরা অপেক্ষা করি, আশায় থাকি, এবার হয়তো আমার ভাই ইসলামের নাম আসবে, কিন্তু কখনো তাঁর নাম তালিকায় থাকে না।’

তাঁর মা ছেলের মুক্তির আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন বলেও জানান ঘাসান ওয়াশাহি। তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত যখন মুক্তির তালিকায় তাঁর নাম এল, ইসরায়েল চুক্তিই স্থগিত করে দিল।’

গত ১৯ জানুয়ারি থেকে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলছে। যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের ৪২ দিনে হামাসের মোট ৩৩ ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার কথা। বিনিময়ে ইসরায়েলি কারাগার থেকে ১ হাজার ৯০০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে।

রেডক্রসের কর্মকর্তাদের হাতে ইসরায়েলি জিম্মিদের হস্তান্তর করার সময় এভাবেই পাহারায় থাকেন হামাসের যোদ্ধারা
রেডক্রসের কর্মকর্তাদের হাতে ইসরায়েলি জিম্মিদের হস্তান্তর করার সময় এভাবেই পাহারায় থাকেন হামাসের যোদ্ধারা। ফাইল ছবি: রয়টার্স

নতুন দলের আত্মপ্রকাশের দিন বড় জমায়েতের চিন্তা নেতাদের

জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে আত্মপ্রকাশ করতে যাওয়া নতুন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য নাম ‘বাংলাদেশ নাগরিক পার্টি’। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি বড় জমায়েতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশের চিন্তা করছেন এই দল গঠনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা।

জাতীয় নাগরিক কমিটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র বলছে, নতুন রাজনৈতিক দলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব নিতে আজ-কালের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করতে পারেন নাহিদ ইসলাম। আর দলের সদস্যসচিবের পদে আখতার হোসেনের নাম অনেকটাই চূড়ান্ত। তিনি এখন জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব।

নতুন দলের মুখ্য সংগঠক ও মুখপাত্র হিসেবে সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহর নামও মোটামুটি চূড়ান্ত। সারজিস ও হাসনাত গণ-অভ্যুত্থানের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মুখসারির সমন্বয়ক ছিলেন। সারজিস এখন জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক। অন্যদিকে হাসনাত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক।

নতুন রাজনৈতিক দলে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে আলী আহসান জোনায়েদ ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব পদে আসতে পারেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁদের মধ্যে জোনায়েদ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি আর নাসীরুদ্দীন জাতীয় নাগরিক কমিটির বর্তমান আহ্বায়ক।

বড় জমায়েতের পরিকল্পনা

২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বড় জমায়েতের লক্ষ্যে জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শতাধিক নেতার সমন্বয়ে প্রস্তুতি কমিটি করা হয়েছে। আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা সাজাতে ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রস্তুতি কমিটির প্রথম বৈঠক হয়।

প্রস্তুতি কমিটির সঙ্গে যুক্ত একাধিক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, দলের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে তিন থেকে পাঁচ লাখ মানুষের সমাগম করতে চান তাঁরা।

দলের নামের প্রস্তাব জরিপে

নতুন দলের বিষয়ে জনমত জরিপ করছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা। এ লক্ষ্যে ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘আপনার চোখে নতুন বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি কর্মসূচি চলছে। এই কর্মসূচির আওতায় জনমত জরিপ করা হচ্ছে। অনলাইনের পাশাপাশি জেলায় জেলায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত (প্রশ্নোত্তর) সংগ্রহ করা হচ্ছে। জরিপে গতকাল রোববার বিকেল পর্যন্ত তিন লাখের বেশি মানুষ মতামত দিয়েছেন বলে জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা।

এই জরিপে বেশির ভাগ মানুষ নতুন রাজনৈতিক দলের জন্য ‘বাংলাদেশ নাগরিক পার্টি’ নামটি প্রস্তাব করেছেন বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন। তিনি বলেন, ‘এই নাম আমাদের বিবেচনায় আছে।’

তবে জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতৃস্থানীয় আরেকজন নেতা বলেন, বাংলাদেশ নাগরিক পার্টি নামটির ইংরেজি সংক্ষিপ্ত রূপ কেউ কেউ ‘বিএনপি’ করতে পারে। সেই জায়গা থেকে দলের নাম ইংরেজিতে বাংলাদেশ সিটিজেন’স পার্টিও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন দলের নামের সংক্ষিপ্ত রূপ দাঁড়াবে ‘বিসিপি’। তিনি বলেন, দলের নাম চূড়ান্ত না হলেও ‘বাংলাদেশ নাগরিক পার্টি’ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

নতুন দলের আত্মপ্রকাশের দিন বড় জমায়েতের চিন্তা নেতাদের

জার্মানির নির্বাচন: জয়ের পথে ফ্রিডরিখ মেৎসের সিডিইউ, দ্বিতীয় স্থানে উগ্র ডানপন্থি এএফডি

জার্মানির সাধারণ নির্বাচনে রক্ষণশীল ফ্রিডরিখ মেৎসের দল জয়ের পথে এগিয়ে রয়েছে। তবে এগিয়ে থাকলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালো ফলাফল পায়নি দলটি। অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো তুলনায় প্রত্যাশার চেয়ে ৩০ শতাংশ ভোট কম পেয়েছে সিডিইউ। তবে বুথফেরত জরিপের তথ্য অনুযায়ী মেৎসই হতে পারেন জার্মানির পরবর্তী চ্যান্সেলর। রোববার রাতে সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজ রাতে উৎযাপন করি। কাল সকাল থেকেই আমরা কাজে নেমে পড়ব। রোববার জার্মানিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২১তম সাধারণ নির্বাচন। স্থানীয় সময় সকাল আটটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত চলেছে ভোটগ্রহণ। নির্বাচন শেষে জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, ফ্রিডরিখ মেৎসের দল ক্রিশ্চিয়ান গণতান্ত্রিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) জয় পেয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে উগ্র ডানপন্থি অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। তারা ভোট পেয়েছে ২০ দশমিক ৮ শতাংশ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এতে বলা হয়, চ্যান্সেলর পদের জন্য এবার এএফডির প্রার্থী অ্যালিস ওয়েডেল বেশ উন্মুখ ছিলেন। তিনি তার সমর্থকদের বলেছেন, ভালো করলেও তারা আরও বড় ফলাফলের আশা করেছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোনো উগ্র ডানপন্থি দলের সবচেয়ে ভালো ফলাফল করেছে এএফডি।

এদিকে ভরাডুবি হয়েছে চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজের দলের। তার ভাষায়- তিক্ত নির্বাচন ফলাফলের পর তার মধ্য বামপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক (এসপিডি) দলের পরাজয় মেনে নিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এআরডি এবং জেডডিএফ এর হিসেবে দেখা গেছে, চ্যান্সেলরের দল তৃতীয় স্থানে নেমে আসবে, যা হবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী যেকোনো জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনে তাদের সবচেয়ে খারাপ ফলাফল। এসপিডি পেয়েছে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট। এ ছাড়া পরিবেশবাদী সবুজ দল ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং বাম দল দ্য লিঙ্কে ৮ দশমিক ৮ শতাংশে এগিয়ে রয়েছে।

এদিকে জোট গঠনের লক্ষ্যে দ্রুত কাজ শুরু করার অঙ্গীকার করেছেন এগিয়ে থাকা মেৎস। তবে এবার জোট গঠনের কাজটি বেশ কঠিন হতে পারে। কেননা সোমবার ভোরে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে আগের তুলনায় অন্যান্য দলগুলোর তুলনায় অনেকটা এগিয়ে রয়েছে এএফডি বা উগ্র ডানপন্থি দল। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের জরিপ অনুসারে দলটির পক্ষে ৩৪ শতাংশ ভোটের পূর্বাভাস রয়েছে।

অ্যালিস ওয়েডেল বলেছেন, জার্মানরা এবার পরিবর্তনের লক্ষ্যে ভোট দিয়েছে। তিনি আশা করছেন, ফ্রিডরিখ মেৎসের জোট গঠনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। তিনি বলেন, আমার মনে হয়না যে আমাদের আরও চার বছর অপেক্ষা করতে হবে।

গত বছরের শেষের দিকে ওলাফ শলৎজের তিন দলীয় জোট ভেঙে যাওয়ার পর অন্য একটি দলের সঙ্গে একটি জোট গঠনের জন্য ভোটারদের কাছে শক্তিশালী ম্যান্ডেট চেয়েছিলেন মেৎস। তিনি মনে করেন এর মাধ্যমেই জার্মানির সমস্যা সমাধান করতে হবে। বিশেষ করে স্থবির অর্থনীতি থেকে শুরু করে সীমান্তে অভিবাসীদের ঠেকানোসহ সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার অঙ্গীকার জানিয়েছেন তিনি।

তবে এবার ভোটাররা ব্যাপক হারে ভোট দিয়েছেন। এবার দেশটিতে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৮৩ শতাংশ। যা ১৯৯০ সালের পর থেকে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু মেৎসের দল ক্রিশ্চিয়ান গণতান্ত্রিক ইউনিয়ন এবং তাদের সহযোগীরা পেয়েছে মাত্র ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট। তবে তাদের প্রত্যাশা ছিল আরও অনেক বেশি। তিনি উগ্র ডানপন্থীদের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।

মধ্য ইউরোপের বড় দেশ জার্মানির এ নির্বাচনকে এ মুহূর্তে ইউরোপে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, ইউরোপে কট্টর জাতীয়তাবাদীদের উত্থান ঘটছে। জার্মানিতে কট্টরপন্থিরা আলোচনায় ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা ইউরোপীয় রাজনীতি নিয়ে নানা কথাবার্তা বলছেন, আস্ফালন করছেন। ফলে জার্মানিতে কারা ক্ষমতায় আসছে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন শুধু চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষা।

mzamin

হাসিনার নির্দেশ ‘নো ট্রিটমেন্ট নো রিলিজ’

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় আহতদের দেখতে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) বা পঙ্গু হাসপাতালে গিয়েছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ‘নো ট্রিটমেন্ট, নো রিলিজ’ নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। যার প্রমাণ প্রসিকিউশনের হাতে এসেছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম।

রোববার আদালতে পূর্বনির্ধারিত বিষয়ে শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন অফিসের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি। এমন নির্মমতার প্রমাণসমূহ যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যাচাই-বাছাই ও ফরেনসিক করার পর গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী মামলার প্রমাণের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে আদালতের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

তাজুল ইসলাম বলেন, আমরা যখন পঙ্গু হাসপাতালে পরিদর্শনে গিয়েছিলাম তখন সেখানে চিকিৎসারত আহত রোগী ও তাদের স্বজনরা জানিয়েছেন, হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পূর্বে একবার পঙ্গু হাসপাতাল পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে হাসিনা বলেছিলেন, ‘নো ট্রিটমেন্ট, নো রিলিজ’। অর্থাৎ কর্তব্যরত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আহতদের কোনো চিকিৎসা না দিতে এবং কাউকে এখান থেকে বাইরে না যেতে দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন,  রোগীদের পাশাপাশি এই নির্দেশাবলীর কথা সেখানকার ডাক্তাররাও আমাদেরকে জানিয়েছেন। এর তথ্য- প্রমাণাদি আমাদের হাতে আছে, আমরা সেটাই আজ আদালতকে জানিয়েছি।

এসময়, সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে আমাদের যেসব সন্তান শহীদ হয়েছেন, তাদের মৃতদেহ প্রশাসনের নির্দেশে সুরতহাল করতে দেয়া হয়নি, কাউকে কাউকে ডেথ সার্টিফিকেটও দেয়া হয়নি। এমনকি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে যাওয়ার পর যারা সেখানেই শহীদ হয়েছেন তাদের ডেথ সার্টিফিকেটে গুলিতে মারা গেছে- এই কথাটিও লিখতে দেয়া হয়নি। শ্বাসকষ্ট কিংবা জ্বরে মারা গেছে এ ধরনের কথা লিখতে বাধ্য করা হয়েছে। আন্দোলনে শহীদের লাশ দাফন করতে যাচ্ছে জানতে পারলে রাস্তায় পুলিশ তাদের পরিবারের ওপর হামলা ও আক্রমণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, আদালত আমাদের কাছে জানতে চেয়েছেন যে, শহীদদের সুরতহাল প্রতিবেদন বা পোস্টমর্টেম রিপোর্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য এবং কেন সেগুলো নেই। আমরা আদালতকে জানিয়েছি যে, সেই মুহূর্তে মানবতাবিরোধী অপরাধের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, দ্রুত শহীদদের লাশ দাফন করতে বাধ্য করা হয়েছে। তাই এ কারণে তাদের কোনো পোস্টমর্টেম রিপোর্ট দেয়া হয়নি। ঘটনাটি কোনো স্বাভাবিক বিষয় নয় বরং তা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি জাজ্বল্যমান প্রমাণ। এটিই প্রমাণ করে কী ধরনের নিষ্ঠুরতার সঙ্গে জুলাই-আগস্টে হত্যাকাণ্ডগুলো চালানো হয়েছিল।

এদিকে জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর চানখাঁরপুল ও রামপুরা এলাকায় সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত ৩ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য আগামী ২২শে এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়াও অপর একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে রাজধানীর বাড্ডা রামপুরা এলাকার তৎকালীন এসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে আগামী ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২রা মার্চে আরশাদ হোসেনকে এবং ৩রা মার্চে ইমাজ হোসেন প্রামাণিককে জিজ্ঞাসাবাদ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার প্রসিকিউশনের করা একটি আবেদন মঞ্জুর করে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, বিএম সুলতান মাহমুদ, শহিদুল ইসলাম সরদার এবং গাজী এমএইচ তামিম।

শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন অফিসের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম বলেন, রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় মামলার আসামি আরশাদ হোসেন ও ইমাজ হোসেন গণহত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিশেষত, আরশাদ হোসেন অত্যন্ত উদ্ধত একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী এক শিক্ষার্থীর মুখ চেপে ধরেছিলেন তিনি। কে তাদের এ ধরনের অপরাধ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, নির্দেশ দিয়েছে, সেটা জানতে তাদেরকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে, রামপুরায় জীবন বাঁচাতে চারতলার কার্নিশে ঝুলে থাকা যুবক আমির হোসেনকে ২ জন পুলিশ মোট বারো রাউন্ড গুলি করে হত্যা করার চেষ্টা করে। সে অপরাধে অভিযুক্ত সাবেক এস আই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, তদন্ত সংস্থার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কিছু যাচাই-বাছাই ও ফরেনসিক প্রক্রিয়া বাকি আছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রাপ্ত তথ্য পেলে সেগুলোকেও যাচাই-বাছাই ও তদন্ত করা হবে। আশা করছি- নির্ধারিত সময়ের আগেই আমরা প্রতিবেদনগুলো আদালতের কাছে দাখিল করতে সক্ষম হবো।

mzamin

বাংলাদেশে উগ্র বামপন্থি কমিউনিস্টদের ২৯ মিলিয়ন ডলার দেয়া হয়

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করতে দুই কোটি ৯০ লাখ ডলার সহায়তা নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি শক্তিশালী করতে এবং ‘উগ্র বামপন্থি কমিউনিস্টদের’ ভোট দেয়ার জন্যই বাংলাদেশকে ওই অর্থ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার ওয়াশিংটনে কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সে (সিপিএসি) বক্তৃতা করার সময় এই কথা বলেছেন ট্রাম্প। কনফারেন্সের পুরো ভিডিওটি নিজেদের ইউটিউব চ্যানেলে শেয়ার করেছে ফক্স নিউজ। এক ঘণ্টা ১৩ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডের ভিডিওর ৪০ মিনিটের সময় ট্রাম্পকে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কথা বলতে শোনা যায়। বাংলাদেশ ছাড়াও তিনি ভারতের জন্য খরচ করা ১৮ মিলিয়ন ডলারেরও সমালোচনা করেছেন।

ট্রাম্প বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করার জন্য এবং তাদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে ২৯ মিলিয়ন ডলার দেয়া হয়েছিল, যাতে তারা ‘উগ্র বামপন্থি কমিউনিস্টদের’ ভোট দিতে পারে। আপনাকে দেখতে হতো, তারা কাকে সমর্থন করছে। ভারত প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ভারতের নির্বাচনের জন্য ১৮ মিলিয়ন ডলার দেয়া হয়। কেন? কেন আমরা কেবল কাগজের ব্যালট ব্যবহারে ফিরে যাই না? আমাদের নিজস্ব নির্বাচনে সহায়তা করা উচিত, তাদের নয়। এ ছাড়া এশিয়ার শিক্ষার উন্নতির জন্য ৪৭ মিলিয়ন ডলার এবং নেপালের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য ১৯ মিলিয়ন ডলার খরচের কথা উল্লেখ করে সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প।

এর আগে শুক্রবার গভর্নরস ওয়ার্কিং সেশনে বক্তব্য দেয়ার সময় বাংলাদেশকে দেয়া ২৯ মিলিয়ন ডলারের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি শক্তিশালী করতে দেয়া হয়েছে দুই কোটি ৯০ লাখ ডলার। তা এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছে, যার নাম কেউ শোনেনি। তারা পেয়েছে দুই কোটি ৯০ লাখ ডলার। তারা একটি চেক পেয়েছে। আপনারা কল্পনা করতে পারেন? আপনার সামনে একটি ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান আছে। আপনি এখান থেকে ১০ হাজার, ওখান থেকে ১০ হাজার পান। তারপর যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে দুই কোটি ৯০ লাখ ডলার পান। ওই প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করছেন দু’জন মানুষ। আমি মনে করি তারা খুব খুশি এবং তারা খুব ধনী। মহৎ হওয়ার জন্য খুব তাড়াতাড়ি তারা একটি ভালো ব্যবসা-বিষয়ক ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে চলে আসবেন’।

২৯ মিলিয়ন ডলার পেলো কারা?

বাংলাদেশের দুই ব্যক্তির প্রতিষ্ঠান যু্‌ক্তরাষ্ট্র থেকে ২৯ মিলিয়ন ডলার অনুদান পেয়েছে। রাজনৈতিক পরিমণ্ডল শক্তিশালীকরণের প্রকল্পে এই অনুদান দেয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এ তথ্য প্রকাশের পর এ নিয়ে আলোচনা সর্বত্র। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে- কোন প্রতিষ্ঠান বা কারা এই অনুদান গ্রহণ করেছে।

ট্রাম্পের তথ্য প্রকাশের পর বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যেও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। কারণ এসব সংস্থা যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার অনুদান নিয়ে চলে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্প যে অনুদানের তথ্য দিয়েছেন তা দুই ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসে থাকলেও নির্বাচন নিয়ে কাজ করে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে খরচ হয়ে থাকতে পারে। কারণ নির্বাচন নিয়ে কাজ করে এমন অনেক সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ সহায়তা পেয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান গত জাতীয় নির্বাচনের আগে তৎপর ছিল। এ ছাড়া নির্বাচনের পরও কোনো কোনো সংগঠন সেমিনার, গোলটেবিল সহ বিভিন্ন ধরনের আয়োজন করে।

ওদিকে, শনিবার ভারতের ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে ভারতে ইউএসএইড’র তহবিল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এতে বলা হয়, ভারতে নয়, বরং ২০২২ সালে ওই অর্থ বাংলাদেশে অনুমোদন দিয়েছিল ইউএসএইড। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ফ্যাক্ট চেকে ওই ২ কোটি ১০ ডলার তহবিলের মধ্যে অন্তত ১ কোটি ৩৪ লাখ ডলার ইতিমধ্যে বিতরণ করেছে।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অনুদান নির্দিষ্ট দেশগুলোতে দেয়া হয়। ২০০৮ সাল থেকে ভারতে ইউএসএইড’র অর্থায়নে সিইপিপিএস’র কোনো প্রকল্প পরিচালিত হয়নি। ২ কোটি ১০ লাখ ডলার তহবিলের সঙ্গে ইউএসএইড’র অনুমোদিত অনুদান কেবল সিইপিপিএস’র মাধ্যমে (যার ফেডারেল অ্যাওয়ার্ড নম্বর ৭২০৩৮৮২২এলএ০০০০১) বাংলাদেশে দেয়া হয়েছিল। ২০২২ সালের জুলাইয়ে ‘আমার ভোট আমার’ নামে একটি প্রকল্পের জন্য যা অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই বছরের নভেম্বরে এই প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘নাগরিক (সিটিজেন) প্রোগ্রাম’। গত বছরের ডিসেম্বরে ইউএসএইড’র ঢাকার উপদেষ্টা লুবাইন মাসুম যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে নাগরিক প্রকল্পের জন্য ২ কোটি ১০ লাখ ডলার অনুদান পাওয়ার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছিলেন। এই অনুদানের মধ্যে ইতিমধ্যে ১ কোটি ৩৪ লাখ ডলার প্রকল্পের পেছনে ব্যয় হয়েছে। অনুদান পাওয়া তিন সংস্থা হলো- ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেমস (আইএফইএস), ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) এবং ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই)।

ইউএসএইড’র বাংলাদেশের তহবিল প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আইনুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। তিনি মাইক্রো গভর্ন্যান্স রিসার্চ (এমজিআর) নামে একটি গবেষণা সংস্থার পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। আইনুল ইসলাম আইএফইএস’র সিনিয়র কনসালটেন্টের দায়িত্বেও রয়েছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত অ্যাপ্লাইড ডেমোক্রেসি ল্যাবের (এডিএল) প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হন তিনি।

গত ১১ই সেপ্টেম্বর ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, হ্যালো বাংলাদেশ ২.০! গত দুই বছরে এমজিআর, সেইভ ইয়ুথ ও ডিএফটিপি দেশ জুড়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তরুণদের জন্য ৫৪৪টি অনুষ্ঠান ও কর্মসূচি পরিচালনা করেছে। কর্মশালার আকার, প্রশিক্ষণ, কথোপকথন, সামিট, অ্যাকশন প্রকল্পসহ তরুণ গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব এবং নাগরিক সংশ্লিষ্টতার জন্য সরাসরি ২২১টি অ্যাকশন প্রকল্প, ১৭০টি গণতন্ত্র সেশনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ হাজার ২৬৪ তরুণের কাছে পৌঁছেছিল এমজিআর, সেইভ ইয়ুথ ও ডিএফটিপি!

এসব কর্মসূচির বাস্তবায়ন নাগরিক প্রোগ্রামের আওতায় ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেমস (আইএফইএস) এবং ইউএসএইড বাংলাদেশের উদার সমর্থন ও অংশীদারিত্বে সম্ভব হয়েছে বলে লেখেন তিনি। ইউএসএইড ও আইএফইএস’র সহায়তায় এই ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সিইপিপিএস’র মাধ্যমে নাগরিক প্রোগ্রামে ইউএসএইড’র অর্থায়নের তথ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে নিশ্চিত করেছেন তিনি। ইলন মাস্ক নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি ইউএসএইড’র তহবিল বাতিলের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি একটি ধাক্কা। তবে ল্যাবটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে এবং আমরা আশাবাদী এটি চালু থাকবে।

গত বছরের ২রা ডিসেম্বর ওয়াশিংটন ডিসিতে এনডিআই সদর দপ্তর পরিদর্শনের পর ইউএসএইড ঢাকার পলিটিক্যাল প্রোসেসেস উপদেষ্টা লুবাইন চৌধুরী মাসুম লিংকডইনের একটি পোস্টে ইউএসএইড’র ২ কোটি ১০ লাখ ডলারের তহবিলের প্রতিশ্রুতির তথ্য নিশ্চিত করেন। পোস্টে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এনডিআইয়ের উপস্থিতি না থাকলেও সংস্থাটি ইউএসএইড’র ২ কোটি ১০ লাখ ডলারের সিইপিপিএস/নাগরিক প্রকল্পের অধীনে আইআরআই ও আইএফইএস-সহ তিনটি প্রধান অংশীদারদের একটি। এনডিআই...সিইপিপিএস/নাগরিক প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশে প্রি-ইলেকশন অ্যাসেসমেন্ট মিশন (পিইএএম) ও টেকনিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট মিশনে (টিএএম) অংশ নিয়েছে; যা আমি পরিচালনা করি। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও মাসুম সাড়া দেননি বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

এসপিএল শীর্ষক যে প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএইড’র অর্থায়নের কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সেই নামে বাংলাদেশে একটি প্রকল্প পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (ডিআই)। তাদের ওয়েবসাইটে এই প্রকল্পে ইউএসএইড’র অর্থায়নের তথ্য উল্লেখ রয়েছে। ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সক্ষমতা বৃদ্ধি, রাজনৈতিক দল ও ভোটারদের সম্পর্ক উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক সহিংসতা হ্রাস করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে ডিআইয়ের এই প্রকল্প।

mzamin


রাত হলেই ডাকাত আতঙ্কে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

রাত হলেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাড়ে ডাকাত আতঙ্ক। অন্ধকারের সঙ্গে এই মহাসড়কে নেমে পড়ে ডাকাত দল। একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় এই মহাসড়ক এখন আতঙ্কের নাম। রাতের সঙ্গে দিনে মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন থামিয়ে ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের সর্বস্ব লুটে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়েও চলছে ডাকাতি।

জানা গেছে, আগে ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও ৫ই আগস্টের সরকার পরিবর্তনের পর তা লক্ষণীয় হারে বেড়েছে। বিমানবন্দর হয়ে দেশে ফেরা প্রবাসী, রাজধানীতে আসা ব্যবসায়ী, গাড়িচালক ও স্থানীয় তৈরি পোশাক শ্রমিকরা বেশি ডাকাতি, ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া যানজটে আটকে থাকা মোটরসাইকেলের যাত্রীরাও একই পরিস্থিতির শিকার। অনেক ঘটনা ক্লুলেস হওয়ায় ‘ঝামেলা এড়াতে’ মহাসড়কে ডাকাতির শিকার ব্যক্তিরা মামলা করতে চান না। অনেক সময় পুলিশও ডাকাতির ঘটনায় ছিনতাইয়ের মামলা কিংবা শুধু জিডি নিয়েই দায় শেষ করেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাকাতির সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাওয়া যায়নি। তবে এই মহাসড়কে চলাচলকারী কুমিল্লা অঞ্চলের হালকা যানবাহনের চালকেরা নিজেদের ভার্চ্যুয়াল গ্রুপে শেয়ার করা তথ্যের বরাত দিয়ে বলছেন, গত ছয় মাসে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে কুমিল্লার চান্দিনা পর্যন্ত মহাসড়কে অন্তত ১০০ ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। যার বেশির ভাগের ক্ষেত্রে কোনো মামলা হয়নি। অপরদিকে শেষ ছয় মাসে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনায় অন্তত ১৯টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

ঘটনা অনেক, মামলা কম: থানাগুলো থেকে পাওয়া পুলিশের হিসাব বলছে, গত ছয় মাসে মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের তিনটি থানায় অন্তত ১৯টি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে রূপগঞ্জ থানায় ১৩টি, বন্দরে ৪টি ও আড়াইহাজারে ২টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ছয় মাসে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় চারটি ছিনতাই মামলা হলেও সোনারগাঁ থানায় কোনো মামলা হয়নি। যদিও এ সময়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ অংশে বেশ কিছু ডাকাতির ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। গত ৮ই ডিসেম্বর সোনারগাঁ মেঘনা টোলপ্লাজা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আরিফ সোহেলসহ নেতাদের বহনকারী একটি গাড়িতে ডাকাত দল আক্রমণ করে। মহাসড়ক এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডাকাতি কিংবা ছিনতাইয়ের শিকার যাত্রীরা ভয়ে দ্রুত এলাকা ছাড়েন। আদালত ও থানার হয়রানির ভয়ে তারা মামলা এড়িয়ে যান। গত ৮ই ডিসেম্বর ছিনতাইকারীদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের বহনকারী গাড়ি। সমপ্রতি মহাসড়কসংলগ্ন দোকানপাটেও ডাকাতির ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। ৮ই ফেব্রুয়ারি রাতে মহাসড়কলাগোয়া কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মিয়ারবাজার মসজিদ মার্কেটের প্রীতি জুয়েলার্সে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দোকান থেকে প্রায় ২৫ ভরি সোনা লুট করে নিয়ে যায় সাত-আটজনের ডাকাত দল। পালিয়ে যাওয়ার সময় ডাকাতের গুলিতে এক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হন। কাউসারকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, মহাসড়ক সংলগ্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মানুষকে লক্ষ্য করেই তারা ছিনতাই-ডাকাতি করে। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

দেড় থেকে দুই মিনিটের মিশন: জানা যায়, রাতে মহাসড়কগুলোতে গাড়ির চাপ বাড়লে সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। তখন কখনো ধীরগতিতে আবার কখনো থেমে থেমে গাড়ি চলাচল করে। ওই সময় ডাকাতেরা সাধারণত ঢাকা থেকে আসা প্রবাসী যাত্রী বহন করতে পারে, সম্ভাব্য এমন প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসগুলোকে লক্ষ্য করে অস্ত্র নিয়ে দল বেঁধে হামলা চালায়। মুহূর্তেই তারা গাড়ির কাঁচ ভেঙে চালক ও যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সবকিছু লুটে নেয়। পুলিশ বলছে, দেড় থেকে দুই মিনিটে তারা ডাকাতি শেষ করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

আতঙ্কিত যানবাহন চালকরা চান নিরাপত্তা:
প্রতিনিয়ত ডাকাতি-ছিনতাইয়ের ঘটনায় অতিষ্ঠ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা। সড়কে নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন হালকা মোটরযানের চালকরা। ওই দিনের কর্মসূচির অগ্রভাগে ছিলেন ইলিয়টগঞ্জ বাজার এলাকার প্রাইভেটকারের চালক মো. রাসেল। তিনি  বলেন, মানুষ ডাকাতের কবলে পড়ে সব হারালেও মামলা করতে চান না। এর মূল কারণ হচ্ছে, মানুষ মনে করে, মামলা করে শেষ পর্যন্ত কোনো মালামালই পাওয়া যায় না। উল্টো মামলার বাদী হয়ে আইনি বিভিন্ন ঝামেলায় পড়তে হয়।
ওই এলাকার প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসের চালকদের হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে কয়েকটি ভার্চ্যুয়াল গ্রুপ আছে। কোনো চালক ডাকাতের কবলে পড়লে তাৎক্ষণিক এসব গ্রুপে জানিয়ে থাকেন। ওই গ্রুপের বরাত দিয়ে মো. রাসেল বলেন, কাঁচপুর থেকে চান্দিনা এলাকার মধ্যে গত ছয় মাসে অন্তত ১০০ ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। তাদের কর্মসূচির পরও ১০ই ফেব্রুয়ারি গভীর রাতেও দাউদকান্দি এলাকা, গজারিয়ার ভরেরচর, সোনারগাঁর মোগরাপাড়াসহ চার স্থানে ডাকাতি হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপারের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক খায়রুল আলম বলেন, আমরা মহাসড়কে ছিনতাই-ডাকাতি প্রতিরোধে কাজ করছি। এরই মধ্যে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশের সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকেও বলা হয়েছে রাতে মহাসড়কে টহল বৃদ্ধি করার জন্য। হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা দিন-রাত কাজ করছেন, কোথাও তথ্য পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

mzamin

ভারতের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক চায় তা বাংলাদেশকেই ঠিক করতে হবে

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শনিবার দিল্লি ইউনিভার্সিটি লিটারেচার ফেস্টে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে কি রকম সম্পর্ক চায় তা বাংলাদেশকেই ঠিক করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ভারতবিরোধী মেসেজ বন্ধ করার আহ্বান জানান। নয়াদিল্লিভিত্তিক অনলাইন ইউনাইটেড নিউজ অব ইন্ডিয়া (ইউএনআই) প্রকাশিত এক রিপোর্টে এসব কথা বলা হয়েছে। জয়শঙ্কর বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উপদেষ্টা অব্যাহতভাবে ভারতবিরোধী বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। এটাকে তিনি ‘পুরোপুরি হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, স্পষ্টতই আমাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে, তাদের মঙ্গল কামনা করি। বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘ ইতিহাস আছে। এটি অত্যন্ত বিশেষ এক ইতিহাস, যার প্রেক্ষাপট ১৯৭১ সাল। গত বছর সেখানে যা ঘটে গেছে, সে সম্পর্কে আপনারা সবাই অবহিত। এর মধ্যদিয়ে তিনি গত বছর ৫ই আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি এবং তারপর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি বাংলাদেশের দু’টি ক্ষেত্রের উল্লেখ করেন এবং বলেন, এটা ভারতের জন্য খুবই হতাশার।

এক হলো, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্পষ্টতই আমি মনে করি এটা এমন একটা বিষয় যা আমাদের চিন্তাকে প্রভাবিত করে। এটা এমন বিষয় যা নিয়ে আমাদের কথা বলতে হয়, আমরা তা বলছি। দ্বিতীয়ত, তাদের নিজেদের রাজনীতি আছে। এ বিষয়ে আপনি একমত হতেও পারেন, না-ও হতে পারেন। তবে দিনশেষে আমরা প্রতিবেশী। তাদেরকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, তারা আমাদের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক চায়। জয়শঙ্কর আরও বলেন, আমরা খুব স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি যে, আপনারা আমাদের প্রতিবেশী। আমরা চাই পরিস্থিতি শান্ত হোক। আমরা চাই বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং অন্যান্য বিষয় এগিয়ে যাক। কিন্তু অব্যাহতভাবে এমন বার্তা বা সংকেত দেয়া হয় যে, তা ভারতের প্রতি শত্রুতামূলক। সেটা অবশ্যই আমাদের ভালো লাগবে না। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকারের কোনো সদস্য যদি প্রতিদিন উঠে দাঁড়িয়ে সবকিছুর দোষ ভারতের ওপর চাপাতে থাকেন- আর কিছু কিছু বিষয়, আপনারা যদি খবরগুলো পড়েন, সম্পূর্ণ হাস্যকর। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আমি যদি প্রতিদিন সকালে উঠেই আপনাকে  দোষারোপ করতে থাকি, তখন আপনি একা একা বলতে পারবেন না যে, ‘আমি আপনার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাই।’ তাহলে এই সিদ্ধান্তটা তাদেরই নিতে হবে  যে তারা আমাদের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক চায়।’

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলে ৫ই আগস্ট ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। তারপর থেকে  সেখানেই আছেন তিনি। তার দলের  জ্যেষ্ঠ নেতাদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও বেশির ভাগ এখনো আত্মগোপনে। এর মধ্যেই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের চালানো দমনপীড়নকে ‘গণহত্যা’ বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ অন্যদের বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্র্বর্তী সরকার। একাধিক মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে। এরপর প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে দেশে  ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে ২৩শে ডিসেম্বর ভারত সরকারকে ‘কূটনৈতিকপত্র’ পাঠায় অন্তর্র্বর্তী সরকার। তবে ভারত এখনো তার জবাব দেয়নি। উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর  থেকেই বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে এক ধরনের টানাপড়েন চলছে। বিচারের জন্য শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার পাশাপাশি দিল্লিতে বসে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রচেষ্টার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে এনেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

mzamin

হাতে আগ্নেয়াস্ত্র বেপরোয়া অপরাধী by শুভ্র দেব

হঠাৎ করে সারা দেশেই বেড়েছে অস্ত্রের ঝনঝনানি। দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে প্রায়ই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। জমি নিয়ে বিরোধে পিস্তলের ভয়, চলন্ত বাসে অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাই, নারীকে ধর্ষণ, তরুণীকে শ্লীলতাহানি, বিয়ের হুমকি, ডাকাতির সময় গুলি, চাঁদা না পেয়ে গুলি, খুন খারাবি, জমি দখল, আধিপত্য বিস্তারে অস্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে হরহামেশা। আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়ার খবর তো মাঝেমধ্যে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসছে। কিন্তু দেশে এত অস্ত্রের ছড়াছড়ি থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যত কোনো পদক্ষেপই চোখে পড়ার মতো না। অভিযান চালিয়ে মাঝেমধ্যে কিছু অস্ত্র উদ্ধার করা হচ্ছে। যদিও যে পরিমাণ অস্ত্রের ছড়াছড়ি সে তুলনায় উদ্ধার খুবই কম। এমনকি থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রও এখন পর্যন্ত পুরোপুরি উদ্ধার সম্ভব হয়নি। উদ্ধার না হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র যে শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সেটি নীতি নির্ধারকদের বক্তব্য স্পষ্ট। শুধু লুট হওয়া পুলিশের অস্ত্র নয়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে অবৈধ অস্ত্রেরও আনাগোনা বেড়েছে।

থানা থেকে লুটের অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে কিছুদিন আগে পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম মানবজমিনকে বলেছিলেন, এসব অস্ত্র তো অপরাধীদের কাছে চলেই গেছে। সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব অস্ত্র উদ্ধারে এখনো নতুন কোনো পদ্ধতি উদ্‌?ঘাটন করতে পারিনি যেটা দিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করে ফেলতে পারবো। আমি মনে করি আমরা যদি মানুষের আস্থাটা আরেকটু অর্জন করতে পারি এবং তাদের কাছে যেতে পারি তবে তারাই আমাদের বলবে কোথায় কোথায় অস্ত্র আছে। এ ছাড়া মানুষের সহযোগিতা ছাড়া অস্ত্র উদ্ধার সম্ভব নয়। সর্বশেষ গত ১৮ই ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ সংক্রান্ত অধিবেশন শেষে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ সাংবাদিকদের জানান, জেলা প্রশাসক হিসেবে আগামী দিনে কী কী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে সে বিষয়ে বলেছি। যেমন- আমি বলেছি প্রায় ১ হাজার ৪০০ অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি, যেগুলো ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে লুট হয়েছিল। আড়াই লাখ গুলি এখনো উদ্ধার হয়নি। সেগুলো তাদের জেলায় কোনো না কোনো জায়গায় আছে। সেগুলো সন্ত্রাসীদের হাতে পড়তে পারে এবং তারা ব্যবহার করতে পারে। আইজিপি ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর বক্তব্যে স্পষ্ট লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের ভবিষ্যৎ ও এ নিয়ে কতটুকু চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য মতে ৫ই আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে মোট ৫ হাজার ৭৫০টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র লুট হয়েছিল। আর গোলাবারুদ ৬ লাখ ৫১ হাজার ৯৬৯ রাউন্ড। লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে উদ্ধার হয়েছে ৪ হাজার ৩৬৬টি। এখনো উদ্ধার হয়নি ১ হাজার ৩৮৪টি। আর লুট হওয়া গোলাবারুদ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৩ লাখ ৯১ হাজার ৪৩৮ রাউন্ড। এখনো উদ্ধার হয়নি ২ লাখ ৬০ হাজার ৫৩১ রাউন্ড। লুট হওয়া অস্ত্র-গোলাবারুদ ফেরত দিতে ওই সময় দেশবাসীর কাছে অনুরোধ জানায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। গত বছরের ৩রা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। এরপর ৪ঠা সেপ্টেম্বর থেকে দেশ জুড়ে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হয়।

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে, এসএমজি, এলএমজি, বিভিন্ন ধরনের রাইফেল, পিস্তল, শটগান, গ্যাসগান। এ ছাড়াও রয়েছে কাঁদানে গ্যাস লঞ্চার, কাঁদানে গ্যাসের শেল, কাঁদানে গ্যাসের স্প্রে, সাউন্ড গ্রেনেড, বিভিন্ন বোরের গুলি। গণভবনের দায়িত্বে থাকা এসএসএফ সদস্যদের বিশেষায়িত অস্ত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জামাদি এখনো উদ্ধার হয়নি। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরপরই বিক্ষুব্ধ জনতা গণভবনে ঢুকে লুট করে। এসবের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ট্যাক্টিক্যাল গিয়ার, অস্ত্র, গোলাবারুদ, সাজসরঞ্জাম, বেতার যোগাযোগ ও অপারেশনাল সরঞ্জামাদির মজুত ছিল। এ ছাড়া জাতীয় সংসদ ভবনেও এসএসএফের অস্ত্র গোলাবারুদ মজুত ছিল। ৫ই আগস্ট জনতা গণভবন ও জাতীয় সংসদ ভবনে প্রবেশ করার পর ওইসব অস্ত্র লুট হয়ে যায়। লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে অত্যাধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেল, স্নাইপার রাইফেল, ফ্ল্যাশব্যাং গ্রেনেড, অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, বেতার যোগাযোগের ডিভাইস ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদসহ ৩২টি ভারী অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি।

পুলিশ সূত্র মতে, দেশে লাইসেন্স থাকা বৈধ অস্ত্রের সংখ্যা ৫০ হাজার ৩১০টি। এরমধ্যে ব্যক্তির হাতে ৪৫ হাজার ২২৬টি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঁচ হাজার ৮৪টি অস্ত্র আছে। ব্যক্তিগত অস্ত্রের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কাছে আছে সাত হাজার ৫৪৯টি। অনেক বিতর্কিত রাজনীতিকের হাতে বৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্রও রয়েছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, লুট হওয়া অস্ত্র ও অবৈধ অস্ত্র নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করেছে। এসব অস্ত্র এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ কথায় কথায় এখন অস্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে। ইতিমধ্যে গত কয়েক মাসে অস্ত্র ব্যবহার করে যতগুলো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে অন্যান্য সময় পুরো বছরে এত অপরাধ হয় না। তাই উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে যাবে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মুনীরুজ্জামান মানবজমিনকে বলেন, ওই সময় যেসব অস্ত্র লুট হয়েছে তার মধ্যে পুলিশের অস্ত্র ছাড়াও এসএসএফ’র কিছু বিশেষায়িত অস্ত্র ছিল সেগুলোও তারা এখনো খুঁজে পায়নি। কাজেই এগুলো আমাদের নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি থাকবে। অস্ত্র উদ্ধারে যে অভিযান চালানো হয়েছিল সেটিতে পুরোপুরি অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি। তাই আরও জোরদার অভিযান চালাতে হবে। গোয়েন্দা সংস্থার সাহায্য আরও নিতে হবে যাতে অস্ত্র উদ্ধারে যেসব তথ্য দরকার সেগুলো দিয়ে যেন তারা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করার চেষ্টা করে। এ ছাড়া অস্ত্র উদ্ধারের জন্য নতুন কোনো পদ্ধতি বের করতে হবে। ক্রিয়েটিভ এবং ইনোভেটিভ আইডিয়া ব্যবহার করতে হবে। গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করতে হবে। তাহলে উদ্ধারের প্রচেষ্টা আরও জোরদার হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, লুট হওয়া অস্ত্র যদি উদ্ধার করা না হয় তবে নিরাপত্তার ঝুঁকি থেকেই যায়। 

mzamin

ট্রাম্প-পুতিন মুখোমুখি বৈঠকের প্রস্তুতি শুরু

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একের পর এক সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন। তার কোনোটা অভিবাসন নিয়ে। কোনোটা অর্থনীতি নিয়ে। ফেডারেল খরচ কমানোর জন্য তিনি গঠন করেছেন ‘ডজ’। এর প্রধান করেছেন ইলন মাস্ককে। বিশ্ব জুড়ে বৈদেশিক যে সহায়তা দেয়া হয় তার বেশির ভাগই কর্তন করেছেন তিনি। তার মধ্যে পড়েছে বাংলাদেশ, ভারত, নেপালসহ বেশ কিছু দেশ। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে কাজ করছেন ট্রাম্প। তিনি নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ক্ষমতা নেয়ার একদিনের মধ্যেই ইউক্রেন যুদ্ধ থামিয়ে দেবেন। কিন্তু বাস্তবে তা বেশ কঠিন। তবু প্রক্রিয়া চলছে। তা নিয়ে আছে বিস্তর প্রশ্ন। কারণ, যুদ্ধবিরতি নিয়ে সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আলোচনা করেছেন রাশিয়ার সঙ্গে। তাতে অনুপস্থিত ছিল ইউক্রেন। ফলে ইউক্রেন সহ বিভিন্ন দেশে এ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে জানানো হয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনায় বসবেন। এ খবর দিয়ে অনলাইন গার্ডিয়ান বলছে, রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেছেন, ট্রাম্প ও পুতিনের মুখোমুখি আলোচনার প্রস্তুতি চলছে। তাদের মধ্যে এই বৈঠক হলে রাশিয়ার ওপর থেকে অনেকটা কলঙ্ক মুছে যাবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারণ, রাশিয়াকে পশ্চিমা দেশগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। পুতিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। সেই পুতিনের সঙ্গে যখন ট্রাম্প শান্তি সংলাপে বসবেন তখন মস্কোর বিষয়ে পশ্চিমা জগতে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটবে। সের্গেই রিয়াবকভ বলেন, পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যে সামিটে শুধু ইউক্রেন নয়, বৈশি^ক বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ নিয়ে আলোচনার বিষয় আছে। অনেক বিপজ্জনক বিষয়ে সমাধানের পথ বের করতে হবে। তার মধ্যে আছে ইউক্রেন ইস্যু। এমন একটি মিটিং আয়োজন করার চেষ্টা আগেভাগেই নেয়া হয়েছে। এজন্য বড় রকমের প্রস্তুতিমূলক কাজ প্রয়োজন। সিনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যে আরও আলোচনার পথ তৈরি করতে আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার দূতরা সাক্ষাৎ করতে পারেন। উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করা নিয়ে কাজ শুরু করতে মঙ্গলবার একমত হয়েছেন রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নত করতে একমত হয়েছেন। এসব নিয়ে সৌদি আরবে উচ্চ পর্যায়ের মিটিং হয়েছে।

ওই মিটিংয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বার্তা সংস্থা এপি’কে বলেছেন, দু’পক্ষই তিনটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে একমত হয়েছে। তার মধ্যে আছে- ক) ওয়াশিংটন ও মস্কোতে নিজ নিজ দেশের দূতাবাসে স্টাফ পুনর্বহাল। খ) ইউক্রেন শান্তি সংলাপকে সমর্থন করে উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম গঠন করা। গ) সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্ঘাটন করা। ওই বৈঠকে মার্কো রুবিওর সঙ্গে যোগ দেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ, সিনিয়র রাশিয়ান কর্মকর্তারা ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় শান্তি বজায় রাখার জন্য আরও অনেক কাজ করতে হবে। তবে ওই মিটিংয়ে ইউক্রেনের কোনো কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না বা তাদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ফলে ওই আলোচনা থেকে যে সিদ্ধান্তই আসুক না কেন, তা তার দেশ মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এ ছাড়া নিজের সৌদি আরব সফরও তিনি স্থগিত করেন। বৈঠকের পরদিন অর্থাৎ গত বুধবার তার সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল। ইউক্রেনকে একপেশে করে রাখার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপিয়ান মিত্ররাও।

mzamin

পশ্চিমতীরের ৪০০০০ অধিবাসীকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত, ফেরার অনুমতি নেই

গাজায় যুদ্ধবিরতি। কিন্তু দখলিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের শরণার্থী থেকে কমপক্ষে ৪০ হাজার অধিবাসীকে বাস্তুচ্যুত করেছে ইসরাইল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী এমন ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, তাদেরকে আর ফিরতে দেয়া হচ্ছে না। ২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো পশ্চিমতীরে ট্যাংক মোতায়েন করেছে ইসরাইলের সেনাবাহিনী। রোববার হিজবুল্লাহর প্রয়াত নেয়া হাসান নাসরাল্লাহর দাফন হওয়ার কথা। এদিনও লেবাননের আকাশে ইসরাইলের যুদ্ধবিমান টহল দিয়েছে। হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহর টার্গেটে। লেবাননের পূর্বাঞ্চলে বলবেক এলাকা, দেশের দক্ষিণে আরো বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। ওদিকে ইরান তার যুদ্ধবিমান প্রদর্শন করেছে। সম্পন্ন করেছে সেনাবাহিনীর মহড়া। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। এতে বলা হয়,  শনিবার গাজার যোদ্ধাগোষ্ঠী হামাস ৬ জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে। এর বিপরীতে ইসরাইলের হাতে বন্দি থাকা ৬২০ জন ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই কথা রাখেননি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। পরবর্তী গ্রুপের জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে হামাস নিশ্চয়তা না দেয়া পর্যন্ত তিনি ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেয়া মুলতবি করেছেন। তার এ ভূমিকা চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির নগ্ন লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে হামাস। ওদিকে গভর্নমেন্ট মিডিয়া অফিসের হিসাবে এই যুদ্ধে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬১ হাজার ৭০৯ জন ফিলিস্তিনি। তারা বলছে, এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। তারা মারা গেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা অনেক বেশি।

ওদিকে হাসান নাসরাল্লাহকে দাফন অনুষ্ঠানে রাজধানী বৈরুত থেকে টেলিভিশনে বক্তব্য রাখেন হিজবুল্লাহর নেতা নাইম কাসেম। তিনি বলেন, প্রয়াত নেতা হাসান নাসরাল্লাহর পথ অনুসরণ করবে হিজবুল্লাহ। উল্লেখ্য, ওই দাফন অনুষ্ঠানে বিপুল পরিমাণ মানুষের সমাগম ঘটে। সেখানে নাইম কাসেম বলেন- আমরা এই পথচলা এবং বিশ্বাস সমুন্নত রাখবো। হাসান নাসরাল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, আপনার ইচ্ছাকে আমরা সমুন্নত রাখবো। এখনও আপনার সাথে আছি আমরা। আপনার দেখানো পথ, সংগ্রাম এখনও আমাদের সঙ্গে আছে। কিংবদন্তি নাসরাল্লাহর প্রতি আমি অনুগত। আমরা কোনো খুনি, দখলদারকে মেনে নেবো না। তিনি নাসরাল্লাহর দাফনে উপস্থিত জনতার সংখ্যার বিষয়ে বলেন, লেবাননের ইতিহাসে এত মানুষের সমাগম কখনো হয়নি। ওদিকে আরো যুদ্ধজাহাজ প্রদর্শন করেছে ইরান। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে এই মহড়া চালায় সেনাবাহিনী। কারার ড্রোন অংশ নেয় এতে। তা থেকে আকাশ-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে পরীক্ষা চালানো হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্র আকাশপথে আসা হুমকিকে ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। গত কয়েকদিনে ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হেলিকপ্টার থেকে সাবমেরিন বিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। আকাশপথে যুদ্ধবিমানের সঙ্গে কিভাবে যুদ্ধ করবে তার মহড়া করেছে। মোতায়েন করা হয় কয়েক শত ট্যাংক। সমুদ্রে প্রদর্শন করা হয় বিপুল পরিমাণ নৌযানের। এর মধ্যে আছে সাবমেরিন, ড্রোন। 

mzamin

সুপারবাগ সমস্যার সমাধান করে দিল এআই, সময় নিল মাত্র ৪৮ ঘণ্টা

নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুল ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি সুপারবাগ রহস্য সমাধান করেছে, যা দেখে রীতিমতো অবাক বিজ্ঞানীরা । বিবিসি জানিয়েছে, মাইক্রোবায়োলজিস্টরা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে জটিল সমস্যাটি বোঝার জন্য কাজ করছেন। লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের অধ্যাপক জোসে পেনাডেস এবং তার দল বছরের পর বছর ধরে গবেষণা  করে আসছেন কেন সুপারবাগ অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী। সুপারবাগ হল এমন ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক যা একাধিক অ্যান্টিবায়োটিককে অতি সহজে হারিয়ে দিয়েছে। এই জীবাণুকে অতি সহজে শেষ করা কঠিন। যদি আপনি অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়টিক নিয়ে থাকেন তাহলে আপনার দেহে এই সুপারবাগের জন্ম নিজে থেকেই হয়ে যাবে। একে সহজে ওষুধ দিয়ে নষ্ট করা যায় না। এর ক্ষমতা এতটাই বেশি যে একে নিয়ে বহুদিন ধরেই চিন্তায় ছিলেন বিজ্ঞানীরা।

অধ্যাপক জোসে গুগলের এআই টুল 'কো-সায়েন্টিস্ট'-কে এই রহস্য সমাধানের দায়িত্ব দেন।  সকলকে অবাক করে দিয়েছে এআই টুলটি ।  দু দিনের মধ্যে এই সুপারবাগের ওষুধের ফর্মুলা বাতলে দিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ।  সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় হলো, অধ্যাপক জোসে পেনাডেসের  গবেষণাটি এখনও প্রকাশিত হয়নি, যার অর্থ হল এআই  পাবলিক ডোমেইন থেকে এটি অ্যাক্সেস করতে পারত না।  পেনাডেস ভাবতে শুরু করেন যে এআই কি কোনওভাবে তার সিস্টেম থেকে তথ্যটি সংগ্রহ করেছে। পেনাডেস এবং তার গবেষকদের দল কিছু সুপারবাগ, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া তৈরির দিকে নজর দিচ্ছিল। তাদের তত্ত্ব ছিল যে সুপারবাগগুলি  ভাইরাসের সাহায্যে  এক প্রজাতি থেকে অন্য প্রজাতিতে স্থানান্তরিত হতে পারে। এই অনুমানটি গবেষণা দলের কাছেই  ছিল এবং কোথাও প্রকাশিত বা শেয়ার  করা হয়নি। কিন্তু গুগলের এআই টুল এই হাইপোথিসিসকেই মান্যতা দিয়েছে এবং সমাধান বাতলে দিয়েছে।

এবার বিজ্ঞানীরা এই সমস্যার সমাধান অতি সহজেই করতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদি এটি দ্রুত তৈরি করা যায় তাহলে পৃথিবী থেকে চিরতরে বিদায় নেবে এই সুপারবাগ। এটি এমন একটি জীবাণু যাকে সহজে শেষ করা যায় না। অতি দ্রুত এটি দেহের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। সেখান থেকে দেহের নানা অংশকে ধ্বংস করতে শুরু করে সুপারবাগ।পেনাডেস বলেছেন যে এআই টুলটি কেবল তার গবেষণার প্রতিলিপি তৈরি করেনি বরং   প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে।তিনি বলেন যে এআই কেবল সঠিক অনুমানই প্রদান করেনি বরং আরও চারটি অনুমানের পরামর্শ দিয়েছে, যার সবকটিই বৈধ।  

সূত্র : এনডিটিভি

mzamin