Tuesday, February 28, 2017

সাতকানিয়া সমিতি চট্টগ্রামের এডহক কমিটি গঠন

সাতকানিয়া সমিতি চট্টগ্রামের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি বিলুপ্ত করে এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। রোববার(২৭ ফেব্রুয়ারি) সোমবার সন্ধ্যা ৭ টায় নগরীর লালদিঘী পাড়স্থ ওরিয়েন্ট টাওয়ারের অস্থায়ী কার্যালয়ে সমিতির জরুরী মূলতবী সভায় এই কমিটি গঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক অহিদ সিরাজ চৌধুরী স্বপনকে আহ্বায়ক ও সাতকানিয়া পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ জোবায়েরকে সদস্য সচিব করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়।
সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্ব আবুল বশর আবু’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আমানুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক অহিদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন, সমিতির উপদেষ্টা লায়ন ওসমান গণি চৌধুরী, আবদুল গাফফার চৌধুরী, টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহমেদ হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক বশির উদ্দিন আহমদ, অর্থ সম্পাদক আমান উল্লাহ জাহাঙ্গীর, এড. ফরিদ উদ্দিন, সরওয়ার আমিন বাবু, শাকের উল্লাহ, নুরুল আলম মুন্টু, জসিম উদ্দিন, শেখ সালাউদ্দিন দিদার, মাহমুদুল হাসান, ফারুক আজম, নুর মোহাম্মদ, আবুল কালাম আজাদ ভুট্টু, কাজী গিয়াস উদ্দীন প্রমুখ। সভায় উক্ত আহ্বায়ক কমিটি আগামী ৩ মাসের মধ্যে একটি সুন্দর ও স্বচ্ছ নির্বাহী কমিটি উপহার দেবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

রংপুরের আদালত এলাকায় কড়া নিরাপত্তা

জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রংপুরের আদালত এলাকায় কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার রায় আজ মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে। সকাল সাড়ে নয়টায় রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার এই রায় দেবেন। এর মধ্যে বিচারক আদালতে পৌঁছেছেন। রায় ঘোষণা উপলক্ষে গতকাল সোমবার রাত থেকেই আদালত ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আজ সকালে দেখা যায়, আদালতের তিনটি ফটকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিশেষ জজ আদালতের সামনের ফটকটি বন্ধ করে রাখা হয়েছে। আদালত প্রাঙ্গণের ভেতরে ও বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছেন।
আদালত এলাকায় দায়িত্বে থাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক শরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার কাচু আলুটারি গ্রামে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি সে এলাকায় গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে উন্নত মানের ঘাসের চাষ করতেন। ঘটনার দিনই কাউনিয়া থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নামে হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউনিয়া থানার বর্তমান ওসি আবদুল কাদের জিলানী গত ৩ জুলাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) আট সদস্যের বিরুদ্ধে রংপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ১৫ নভেম্বর সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। অভিযোগপত্রে নাম থাকা দুই জেএমবি সদস্য ঢাকা ও রাজশাহীতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ায় ছয়জনের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া চলে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
আর একজন পলাতক। কারাগারে থাকা পাঁচ আসামি হলেন জেএমবির পীরগাছার আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রী, জেএমবি সদস্য ইছাহাক আলী, লিটন মিয়া ওরফে রফিক, আবু সাঈদ ও সাখাওয়াত হোসেন। পলাতক রয়েছেন জেএমবি সদস্য আহসান উল্লাহ আনসারী ওরফে বিপ্লব। সরকারপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী বিশেষ পিপি রথীশ চন্দ্র ভৌমিক জানান, মামলায় ৬০ কর্মদিবসে ৫৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সেই সঙ্গে আসামিদের পক্ষে একজন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্যও নেওয়া হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি এই মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়। আজ রায় ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে।

গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে হরতাল

গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকায় কয়েকটি বাম দলের ডাকা আধা বেলার হরতাল চলছে। সকালে হরতালকারীদের অবরোধে শাহবাগ মোড়ে যান চলাচল আধা ঘণ্টার বেশি বন্ধ থাকে। এ ছাড়া পল্টন, মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও লালবাগে হরতালের সমর্থনে মিছিল হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল প্রায় স্বাভাবিক রয়েছে। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই হরতাল চলবে। সকালে পুরানা পল্টনে সিপিবি কার্যালয়ের সামনে রাস্তার একাংশ অবরোধ করে রাখে হরতালকারীরা। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। সকাল আটটার দিকে শাহবাগ মোড়ে টায়ার জ্বেলে ও ইট রেখে সড়ক অবরোধ করে প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও হরতালকারীরা। এ সময় প্রায় ৪০ মিনিট শাহবাগকেন্দ্রিক এলাকায় যান চলাচল বন্ধ ছিল।
ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন ছিল। পরে হরতালকারীরা মিছিল নিয়ে রূপসী বাংলা হোটেল ঘুরে আজিজ সুপার মার্কেটের দিকে চলে যায়। এ সময় সংগঠনের নেতারা গ্যাসের দাম কমাতে সরকারের প্রতি দাবি জানান। না কমালে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেন। হরতালকারীদের অভিযোগ, মিরপুর এক নম্বরে মিছিলে পুলিশ বাধা দিয়েছে। গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘সরকার অযৌক্তিকভাবে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদে এই হরতাল ডেকেছি। আমাদের এই ডাকে সাড়া দিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে হরতাল পালিত হচ্ছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি দলের নিয়ন্ত্রণাধীন পরিবহন কোম্পানিগুলো জোর করে রাস্তায় বাস বের করছে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নেতা খান আসাদুজ্জামান মাসুম বলেন, ‘মিরপুর এক নম্বরে আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ বাধা দিয়েছে। তবে আমরা দুপুর ১২টা পর্যন্ত হরতালের পক্ষে রাজপথে অবস্থান ও মিছিল চালিয়ে যাব।’ এসএসসি পরীক্ষার্থী ও পরীক্ষার সব কাজ, অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা, হাসপাতাল-অ্যাম্বুলেন্স, সংবাদপত্র-প্রচারমাধ্যম, জরুরি গ্যাস ও বিদ্যুতের কাজ হরতালের বাইরে রাখা হয়েছে। হরতাল ডেকেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা ও গণসংহতি আন্দোলন।

মাইক্রোবাস কেটে অ্যাম্বুলেন্স

অবৈধ অ্যাম্বুলেন্সের বিরুদ্ধে বিআরটিএর অভিযানে কাজ হচ্ছে না। ব্যক্তিমালিকানায় অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসা বেআইনি হলেও তা চলছে। লক্কড়ঝক্কড় অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে এবং অন্য যানকে অ্যাম্বুলেন্সে রূপান্তর করে এই ব্যবসা করছেন কতিপয় ব্যক্তি, যা রোগীর জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। রাজধানীর চারটি প্রধান সরকারি হাসপাতালের সামনে গিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসার চিত্র দেখা গেছে। গত সপ্তাহে পরপর দুই দিন এসব হাসপাতালের সামনে যে ৫৮টি অ্যাম্বুলেন্স দেখা গেছে, এর ৫৫টিতেই রোগী বহনে প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম দেখা যায়নি। এগুলো নিয়ম না মেনে ব্যক্তিমালিকানায় পরিচালিত। এ ছাড়া সিএনজিতে চলা অনুচিত হলেও বেশির ভাগ অ্যাম্বুলেন্সই সিএনজিচালিত। গত বছরের ১৫ অক্টোবর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রধান ফটকে ব্যক্তিমালিকানার একটি অ্যাম্বুলেন্সের চাপায় রোগীসহ পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটলে অবৈধ এই ব্যবসার বিষয়টি আলোচনায় আসে। ওই অ্যাম্বুলেন্সের মালিক মাহফুজুর রহমান হাসপাতালটির মেডিসিন বিভাগের ওয়ার্ডবয়। পুলিশ এখনো তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এই দুর্ঘটনার পর ঢাকা মেডিকেলের সামনে থেকে সব অ্যাম্বুলেন্স সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগের সামনের সড়কে, জরুরি বিভাগ এবং বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের মাঝের স্থানে ব্যক্তিমালিকানার ২০টি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। এর একটির (নম্বর ঢাকা মেট্রো চ ১১-৩৯৩৪) চালক বাপ্পী হোসেন বলেন, অ্যাম্বুলেন্সটির মালিক হাসপাতালের প্রয়াত এক কর্মচারী। মাইক্রোবাস কিনে এটিকে অ্যাম্বুলেন্সে রূপান্তর করলেও বিআরটিএ থেকে নিবন্ধন নেওয়া হয়নি। পাশের অ্যাম্বুলেন্সটির (ঢাকা মেট্রো ছ ৭১-১৫৯৩) নিবন্ধন থাকলেও সেটি পুরোনো ও চলছে ব্যক্তিমালিকানায়। অ্যাম্বুলেন্স নিবন্ধন দেওয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ)। অ্যাম্বুলেন্সের নিবন্ধন হয় ‘ছ’ সিরিয়ালে। বিআরটিএর মিরপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের নিবন্ধন বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. সানাউল হক প্রথম আলোকে বলেছেন, কেবল সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানের অ্যাম্বুলেন্সকেই নিবন্ধন দেওয়া হয়। ব্যক্তিমালিকানার অ্যাম্বুলেন্স চলাচল অবৈধ। বিআরটিএ বলছে, অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে নিবন্ধন পেতে হলে কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। যেমন: রোগীর জন্য স্থায়ী শয্যা (মাথার দিকে রিভলবিং), অক্সিজেন সিলিন্ডার ও মাস্ক, চিকিৎসক বসার ব্যবস্থা, স্ট্রেচার ও সাইরেন থাকতে হবে। এ ছাড়া চালক, চিকিৎসক, রোগীসহ সর্বোচ্চ ছয়জন বহন করা যাবে। ২০১০ সাল থেকে ২০১৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ৪ হাজার ৫২৭টি অ্যাম্বুলেন্সের রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সিংহভাগ অ্যাম্বুলেন্সই সব শর্ত পূরণ করেনি।
আর অ্যাম্বুলেন্সের অধিকাংশই ব্যক্তিমালিকানার। আবার এগুলোর বেশির ভাগেরই অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে নিবন্ধন নেই। নিবন্ধন রয়েছে মাইক্রোবাস, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান ও প্রাইভেট কার হিসেবে। অর্থাৎ বিভিন্ন যানকে অ্যাম্বুলেন্সে রূপান্তর করা হলেও নতুন নিবন্ধন নেওয়া হয়নি। অভিযোগ আছে, সঠিক নজরদারির অভাব ও বিআরটিএর কিছু অসাধু কর্মীর সহায়তায় অ্যাম্বুলেন্স নাম নিয়ে এসব যান চলছে নির্বিঘ্নে। বিআরটিএর সদর কার্যালয়ের পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) নাজমুল আহসান মজুমদার গত রোববার প্রথম আলোকে বলেন, গত অক্টোবরে প্রথম আলোতে বেআইনি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবসা নিয়ে খবর ছাপার পর রাজধানীতে অবৈধ অ্যাম্বুলেন্সের বিরুদ্ধে বিআরটিএর চারটি ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান শুরু করেন। অভিযান এখন আরও জোরদার করা হয়েছে। ওই কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, ব্যক্তিমালিকানায় অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসা; পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান ও প্রাইভেট কারকে অ্যাম্বুলেন্সে রূপান্তর করলেও নিবন্ধন না নেওয়ায় গত চার মাসে বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত ছয়টি অ্যাম্বুলেন্সকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে পুলিশের (ডাম্পিং) কাছে পাঠিয়েছেন। এ ছাড়া রোগী বহনের বিভিন্ন শর্ত পূরণ না করায় এবং অ্যাম্বুলেন্সে যাত্রী বহনের অভিযোগে ৪০টি অ্যাম্বুলেন্সকে ১ লাখ ৫০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সরেজমিন চিত্র ১৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালসংলগ্ন নার্সিং ইনস্টিটিউটের পাশের সড়কে থাকা আটটি অ্যাম্বুলেন্সই ব্যক্তিমালিকানার। এর একটির নম্বরপ্লেটে লেখা ঢাকা মেট্রো ঠ ১১-২২৭৮। গাড়িটিতে অক্সিজেন সিলিন্ডার, মাস্কসহ প্রয়োজনীয় কোনো সরঞ্জামই নেই। বিআরটিএর একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘ঠ’ সিরিয়াল হয় পিকআপের। অর্থাৎ পিকআপকে অ্যাম্বুলেন্সে রূপান্তর করা হয়েছে। অপর একটির নম্বরপ্লেটে লেখা ঢাকা মেট্রো গ ১৪-০৯৮৬।
পাশেরটির নম্বর ঢাকা মেট্রো গ ১৪-৯২৮৭। বিআরটিএ বলেছে, ‘গ’ সিরিয়াল প্রাইভেট কারের। পরদিন শেরেবাংলা নগরে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) জরুরি বিভাগের আশপাশে ১৪টি অ্যাম্বুলেন্স লেখা যান দেখা গেল। এর ১৩টিই ব্যক্তিমালিকানার। একটির নিবন্ধন ‘ঠ’ সিরিয়ালের। অর্থাৎ পিকআপকে অ্যাম্বুলেন্স বানানো হয়েছে। আরেকটির নম্বরপ্লেটে লেখা ঢাকা মেট্রো শ ১১-০০৪৫। বিআরটিএর যান পরিদর্শক এম এ জলিল বলেন, ‘শ’ সিরিয়াল রেফ্রিজারেটর ভ্যানের। অক্সিজেন সিলিন্ডার, মাস্ক ও চিকিৎসক বসার আসন না থাকা যানটির চালক মো. বাবুলের দাবি, এটি লাশবাহী গাড়ি। তবে প্রয়োজনে রোগীও বহন করা হয়। আধা ঘণ্টা পর কাছেই জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের আশপাশে ফাঁকা জায়গায় থাকা ১৬টি অ্যাম্বুলেন্সের ১৫টিই ব্যক্তিমালিকানার। বেশির ভাগেই রোগীর স্থায়ী শয্যা ও চিকিৎসক বসার আসন নেই। জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. মমিন আলী প্রথম আলোকে বলেন, সারা দেশের ৬০০ অ্যাম্বুলেন্সের মালিক এই সমিতির সদস্য। আগে বিআরটিএ ব্যক্তিমালিকানায় অ্যাম্বুলেন্সের নিবন্ধন দিত, এখন দেয় না। তাঁর মতে, সব অ্যাম্বুলেন্সে চিকিৎসক বসার ব্যবস্থা রাখা সম্ভব নয়। মুমূর্ষু রোগীবাহী এসি অ্যাম্বুলেন্সে এ ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলন জাতীয় কমিটির সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ-উপাচার্য রশীদ-ই-মাহবুব প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছ’ সিরিয়ালভুক্ত নয় এবং শর্ত পূরণ করা ছাড়া কোনো অ্যাম্বুলেন্স চলতে পারবে না। এসব যানে রোগী বহনও ঝুঁকিপূর্ণ। এসব যান বিআরটিএ থেকে ফিটনেস সনদ পায় কীভাবে? ট্রাফিক পুলিশও এসব আটক করে না। তিনি বলেন, সরকারকে নিরাপদে রোগী বহন নিশ্চিত করতে হবে। সরকার রোগী বহনের জন্য ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, পুলিশ কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিতে পারে।

ভবঘুরে আর দোকানের দখলে ফুটপাত

রাজধানীর পলাশী থেকে নীলক্ষেতমুখী রাস্তার এক পাশের ফুটপাতে বড় অংশজুড়ে ভবঘুরেদের বসবাস। ফুটপাতের ওপরই গড়ে উঠেছে চা, রুটি আর ভাতের দোকান। পথচারীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই ফুটপাতটি হাঁটাচলার অনুপযোগী। পলাশী মোড় থেকে নীলক্ষেত মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত রাস্তাটির নাম জহির রায়হান সড়ক। এই সড়কের ডান পাশের ফুটপাতে ২০টির বেশি ভবঘুরে পরিবারের বাস। গত বৃহস্পতিবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, নীল-কালো পলিথিনের একেকটি ছাউনি। দিনের বেলায় বেশির ভাগই গুটিয়ে রাখা। কয়েকটিতে শিশুরা ঘুমাচ্ছে। পাশেই রান্নার আয়োজন। পুরো জায়গাটিই নোংরা আর দুর্গন্ধে ভরা। হালিমা বেগমসহ তাঁর পরিবারের ছয়জন ছয় বছর ধরে এই ফুটপাতে বসবাস করছেন। হালিমা বললেন, কোনো অনুষ্ঠান থাকলে পুলিশ এসে উঠিয়ে দেয়।
আবার রাতে এসে বসেন। পাশের আরেকটি ছাউনির একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ফুটপাতে থাকার জন্য নিয়মিত টাকা দিতে হয়। কারা টাকা নিচ্ছে, তা জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান। ভবঘুরেদের আবাস ছাড়াও ছোট ছোট পাঁচ-ছয়টি চায়ের দোকানও গড়ে উঠেছে ফুটপাতের ওপর। আছে ভাত, রুটি আর পিঠার দোকান। চা বিক্রেতা স্বপন মিয়া বলেন, চাঁদা দিয়ে ফুটপাতে বসতে হয় তাঁদের। ফুটপাত দখল হওয়ায় মূল সড়ক দিয়ে পথচারীদের চলাচল করতে দেখা যায়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাবাসসুম মূল সড়ক ধরে হাঁটছিলেন। তিনি বলেন, ‘এই ফুটপাতে হাঁটার উপায় নেই। সন্ধ্যার দিকে ভবঘুরেরা নেশা করে। এই পাশ দিয়ে হাঁটা যায় না।’ পাশের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী আবু সাইদ বলেন, ফুটপাতটি দীর্ঘদিন ধরে এমনই দেখে আসছেন তিনি। দোকান আর ভবঘুরেদের সংখ্যাও বাড়ছে দিন দিন। পলাশী-নীলক্ষেত এলাকাটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের অধীন। ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. হাসিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, অনেকবার উচ্ছেদ করা হয়েছে। এরা আবার এসে বসে। পুলিশ প্রশাসন যেহেতু সব সময় টহলে থাকে, তারা চাইলে এদের সম্পূর্ণভাবে উচ্ছেদ করা সম্ভব। এ বিষয়ে লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে সিটি করপোরেশন। অভিযানের সময় সাহায্য চাইলে তাঁরা তাৎক্ষণিক সাড়া দেন।

যাত্রাবাড়ীতে জুতার কারখানা ভস্মীভূত

যাত্রাবাড়ীর সামাদ নগরে ‘ক্ল্যাসিক শু-সোলস’ নামের একটি জুতার কারখানা আগুনে পুড়ে গেছে। গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে কারখানাটিতে আগুন লাগে। পরে এই আগুন পাশের আরেকটি কারখানাতেও ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যা পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নেভেনি। আগুনে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস বলছে, কারখানাটি স্থাপনে তাদের অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
কারখানাটিতে দাহ্য পদার্থ থাকলেও নিজস্ব কোনো অগ্নিনির্বাপণ-ব্যবস্থা ছিল না। তাই দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, সামাদ নগরে প্রায় সাত-আট বছর ধরে ‘ক্ল্যাসিক শু-সোলস’ কারখানাটি চলছে। এতে মূলত জুতার সোল তৈরি করা হয়। টিনের ছাউনির আধা পাকা কারখানাটিতে প্রায় ২৫০ জন শ্রমিক দুই পালায় কাজ করেন। গতকাল সকালে কারখানার উত্তর-পশ্চিম কোণ থেকে কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। এর প্রায় ২০ মিনিট পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। রাজিনা বেগম নামের কারখানার এক শ্রমিক বলেন, প্রায় এক মাস ধরে তিনি কারখানাটিতে কাজ করেন। গতকাল সকাল আটটায় তিনি কারখানায় আসেন। ১১টার দিকে সবাই আগুন আগুন বলে চিৎকার শুরু করলে কারখানায় ঢোকার মূল প্রবেশপথ দিয়ে তিনি বের হয়ে আসেন। কীভাবে আগুন লেগেছে, তিনি জানেন না। আনোয়ার হোসেন নামের আরেক শ্রমিক বলেন, সকাল আটটা থেকে রাত আটটা এবং রাত আটটা থেকে সকাল আটটা এই দুই পালায় কারখানায় কাজ হয়। দিনের পালায় অন্তত ১০০ শ্রমিক কাজ করছিলেন। আগুন লাগার পর সবাই দ্রুত কারখানা থেকে বের হয়ে আসেন। কারও আটকা পড়ার খবর তিনি পাননি। তিনি বলেন, কারখানাটিতে মোট ১২টি মেশিনে কাজ করা হয়। আটটিতে জুতার সোল তৈরির ছাঁচ তৈরি করা হয় ও বাকি চারটিতে সোল তৈরি করা হয়। গত শনিবার সোল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামসহ কয়েক লাখ টাকার মালামাল কারখানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। আগুনে সব পুড়ে গেছে বলে তিনি জানান। আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে আনোয়ার বলেন, কারখানার ভেতরে মালামাল রাখার জন্য দ্বিতল একটি টিনের স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছিল। কয়েক দিন ধরে সেখানে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করা হচ্ছিল। গতকাল সকালে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করার সময় স্ফুলিঙ্গ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। গতকাল দুপুরে ওই এলাকায় গিয়ে কারখানা ও তার পাশের আরেকটি কারখানা থেকে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কারখানার দেয়ালের কিছু অংশ ভেঙে আগুন নেভানোর কাজ করছিলেন।
জাহাঙ্গীর নামের স্থানীয় এক যুবক বলেন, ক্ল্যাসিক কারখানায় আগুন লাগার পর আগুন পাশের নাবিল নামের আরেকটি জুতা তৈরির কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। কারখানা দুটি দুই সহোদরের। এই দুটি কারখানায় প্রধানত বিভিন্ন কোম্পানির জুতা ও উপকরণ তৈরি করা হতো। এর পাশাপাশি স্থানীয় বাজারের জন্যও জুতা তৈরি করে বিক্রি করা হতো। কারখানার মালিককে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে দুপুর সোয়া দুইটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট কাজ করে দুপুর দুইটায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় আড়াই ঘণ্টা সময় লাগার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, কারখানায় প্রবেশের রাস্তাটি এত সরু যে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সেখানে ঢুকতে পারছিল না। কারখানায় নিজস্ব পানির ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষিত জনবল নেই। এ ছাড়া কারখানায় প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক পদার্থ থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লেগেছে। তিনি বলেন, আগুনে হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, কারখানাটি স্থাপনে ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন ছিল। এই এলাকায় এমন আরও কয়েকটি কারখানা আছে। ওই কারখানাগুলোর বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সন্ধ্যা ছয়টায় ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে দায়িত্বরত কর্মকর্তা বেলাল হোসেন বলেন, আগুনে হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিরোধী দমনে ট্রাম্পও ‘গণশত্রু’ তকমা বেছে নিচ্ছেন?

‘গণশত্রু’—এই আক্রমণাত্মক অভিধাটি নিকিতা ক্রুশ্চেভেরও অপছন্দ ছিল। অথচ এই বর্ষীয়ান কমিউনিস্ট খুব বেশি খুঁতখুঁতে হিসেবে পরিচিত ছিলেন না। সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা হিসেবে তিনি গণশত্রু কথাটির ব্যবহার বন্ধ করতে চেয়েছিলেন। কারণ, তিনি মনে করতেন, এটা যেকোনো ‘আদর্শিক লড়াইয়ের সম্ভাবনাকে নির্মূল করে’। ক্রুশ্চেভ ১৯৫৬ সালে এক বক্তৃতায় বলেন, সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে ভিন্নমত পোষণকারী ব্যক্তিদের নিশ্চিহ্ন করতেই গণশত্রু অভিধাটির ব্যবহার চালু করা হয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গণশত্রু কথাটির ঐতিহাসিক অনুরণন সম্পর্কে অবগত কি না, সেটা জানা কঠিন। সাধারণত স্বৈরাচারী কমিউনিস্ট সরকারপ্রধানেরাই এমন ভাষা ব্যবহার করতেন।
কিন্তু একটা গণতান্ত্রিক দেশের নির্বাচিত নেতার কেন গণশত্রু কথাটি ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে? স্তালিনের মৃত্যুর পর সোভিয়েত ইউনিয়নেও তো সে রকম বিদ্বেষপূর্ণ নেতৃত্ব আসেনি, যিনি কাউকে গণশত্রু তকমা দিতেন। ট্রাম্প নিজ দেশের জনগণের একটি অংশকেই শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করছেন। নিউইয়র্ক টাইমসসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যমকে তিনি ‘ভুয়া খবর’ প্রচারক আখ্যা দিয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ইঙ্গিত করেই তিনি গণশত্রু কথাটি ব্যবহার করেছেন। গত শুক্রবার তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমি ভুয়া খবরকে গণশত্রু বলেছি। কারণ, এগুলোর কোনো সূত্র বা উৎস নেই—পুরোটাই বানোয়াট।’ গণশত্রু বলতে ট্রাম্প কেবল ‘অসৎ’ সাংবাদিক ও সম্পাদকদের প্রতি ইঙ্গিত করেন। তাঁর ওই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসার আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ঢুকতে দেননি। ক্রুশ্চেভের নাতির মেয়ে নিনা ক্রুশ্চেভা এখন নিউইয়র্কের নিউ স্কুলের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক। তিনি বলেন, স্তালিন-পরবর্তী যুগে সোভিয়েত ইউনিয়নে গণশত্রু কথাটি কদাচিৎ শোনা গেছে। এটা স্বৈরতন্ত্র, রাষ্ট্রীয় জাতীয়তাবাদের ভাষা। যেকোনো দেশেই এটা ব্যবহার করে সমালোচকদের ওপর আক্রমণ করা হতে পারে। ট্রাম্প সম্ভবত লেনিন, যোসেফ স্তালিন বা মাও সে তুং পড়েননি। তবে প্রতিপক্ষের উদ্দেশে অবমাননা, আক্রমণ, তকমা আরোপ প্রভৃতির ভাষা সব সময় একই ধরনের হয়ে থাকে। গণশত্রু অভিধাটি রাজনৈতিক অভিধানে প্রথম প্রবেশ করে ১৭৮৯ সালে, ফরাসি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে।
বিপ্লবীরা যেকোনো বিরোধিতাকারীর বিরুদ্ধে স্লোগান হিসেবে কথাটা ব্যবহার করতে শুরু করে। নরওয়ের নাট্যকার হেনরিক ইবসেন ১৮৮২ সালে এন এনিমি অব দ্য পিপল নামে একটি নাটক লেখেন। ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে অভিধাটি আবার ফিরে আসে। ১৯২৪ সালে লেনিনের মৃত্যুর পর স্তালিন ক্ষমতা নিয়ে নিজ শত্রুদের গণশত্রু আখ্যা দিতে শুরু করেন। পুঁজিবাদীদের পাশাপাশি লেনিনপন্থীদেরও তিনি একই তকমা দিতেন। পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটির রুশ ও পূর্ব ইউরোপীয় অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক মিশের এ অরেনস্টেইন বলেন, গণশত্রু তকমাটির মানে আসলে মৃত্যুই ছিল। কাউকে এ কথা বলার মানে তিনি মানুষের চেয়ে নিচু স্তরের এবং সম্পূর্ণ বিনাশের যোগ্য। চীনের সাবেক বিপ্লবী প্রয়াত মাও সে তুংও গণশত্রু কথাটি ব্যবহার করেছিলেন, তবে নিজ দেশের কাউকে উদ্দেশ করে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে। তিনি ১৯৬৪ সালে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে পুরো বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক গণশত্রু হিসেবে ঘোষণা দেন।

সু চির বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি মার্কিন শান্তিদূতের

মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি তদন্তের জন্য জাতিসংঘের একটি আলাদা কমিশন গঠন করা উচিত। দেশটির নেত্রী অং সান সু চির বিরুদ্ধে তদন্ত করবে ওই কমিশন। ভাবমূর্তির দোহাই দিয়ে তাঁকে বাদ দেওয়া উচিত হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক মানবাধিকার-বিষয়ক দূত কিথ হার্পার। কিথ সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক পরিষদে (ইউএনএইচসিআর) মার্কিন দূত ছিলেন। তিনি বলেন, মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠী চরম নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার। দেশটির নেত্রী অং সান সু চি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছেন। কিথ হার্পার আশঙ্কা প্রকাশ করেন, পশ্চিমা মানবাধিকারকর্মীরা সু চিকে বীর হিসেবে বিবেচনা করেন। ফলে তাঁরা মিয়ানমার এবং সু চির ওপর হয়তো দায় চাপাতে চাইবেন না। তাঁকে বাঁচিয়ে দেওয়া হবে। হার্পার আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসন হয়তো রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিষয়টি খুব একটা গুরুত্ব দেবে না। তিনি বলেন, সু চির নোবেল শান্তি পুরস্কার তাঁর জন্য ঢাল হয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এটা খুব বাজে। এই কারণে তাঁর দায়কে পাশ কাটানোর চেষ্টা হচ্ছে। হার্পার বলেন, ইউএনএইচসিআর যেমন উত্তর কোরিয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি তদন্ত করতে আলাদা কমিশন গঠন করেছিল, ঠিক তেমনটাই করা উচিত মিয়ানমারের ক্ষেত্রে। গত ৯ অক্টোবর রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সীমান্তের তিনটি চেকপোস্টে অস্ত্রধারীদের হামলায় দেশটির নয় পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার পর রোহিঙ্গাদের দমনে সেনাবাহিনীর এই অভিযান শুরু হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, রোহিঙ্গা-অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে বহু ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। হত্যা ও ধর্ষণে যুক্ত হয় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যায় হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম। জাতিসংঘের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, তাঁদের আশঙ্কা, সাম্প্রতিক সহিংসতায় এক হাজারের বেশি লোককে হত্যা করা হয়েছে।

অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রবণতা রোগের মতো ছড়াচ্ছে

‘লোকরঞ্জনবাদের বিপথগামী চর্চার’ পাশাপাশি মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রবণতা ‘রোগের মতো’ ছড়াচ্ছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গতকাল সোমবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মানবাধিকার পরিষদের প্রধান অধিবেশনে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। জাতিসংঘের শীর্ষ পদের দায়িত্ব নেওয়ার পর মানবাধিকার পরিষদে গুতেরেসের গতকালই প্রথম অংশ নেন। তিনি বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারটি একটা অসুখের মতো উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমে ছড়াচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মানবাধিকার পরিষদকে অবশ্যই ভূমিকা রাখতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন প্রতিনিধি অন্তত ২০১৯ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের একটি আসন দখল করে রাখবেন। মার্কিন নেতৃত্বের অনিশ্চয়তাময় নানা কর্মকাণ্ডে জাতিসংঘের এই প্যানেলটির ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের উত্থানে মানবাধিকারকর্মীরা নানা ধরনের উদ্বেগের মুখোমুখি হয়েছেন। গুতেরেস গতকালের বক্তব্যে সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রসঙ্গ উল্লেখ না করলেও এ বিষয়ে সতর্কতামূলক কিছু ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্রমেই দেখতে পাচ্ছি লোকরঞ্জনবাদের বিকৃত চর্চা ও চরমপন্থার সহায়তায় বর্ণবাদ, জাতিগত বিদ্বেষ, মুসলিমবিরোধী ঘৃণা এবং অন্যান্য অসহিষ্ণুতা ছড়াচ্ছে। শরণার্থী ও অভিবাসীদের অধিকার আক্রান্ত হচ্ছে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শরণার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। মুসলিমপ্রধান সাত দেশের নাগরিকদের ওপরও তিনি একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। তবে আদালত সেই আদেশ আটকে দিয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার প্রধান জেইদ রাদ আল হুসেইন বলেন, ‘আমরা অলসভাবে বসে থাকব না। আর আমাদের অধিকার, অন্যদের অধিকার, এই প্যানেলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষীরা নস্যাৎ করতে পারবে না।’

যুক্তরাজ্যে ২৭ বছর থাকার পরও...

স্বামী ব্রিটিশ নাগরিক। ২৭ বছর ধরে দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন যুক্তরাজ্যে। পরিবারে রয়েছে দুজন ছেলে। একজন নাতনিও রয়েছে। তারপরও এক নারীকে যুক্তরাজ্য থেকে বহিষ্কার করা হলো। পাঠিয়ে দেওয়া হলো সিঙ্গাপুরে। সিঙ্গাপুরের বংশোদ্ভূত আইরিন ক্লেনেল তাঁর স্বামী জনের সঙ্গে ইংল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ডারহাম শহরে বসবাস করতেন। যুক্তরাজ্যে জন্ম দুই ছেলের। পরিবারে আছে ছোট নাতনিও। কিন্তু এই মাসের শুরুর দিকে মিডেলসবার্গে অভিবাসন অফিসে নিয়মিত হাজিরা দিতে গেলে তাঁকে আটক করা হয়। তাঁকে স্কটল্যান্ডের সাউথ ল্যানার্কশায়ারে একটি হাজতে নিয়ে রাখা হয়। যখন বিয়ে করেছিলেন, তখন আইরিনকে যুক্তরাজ্যে থাকার জন্য অনির্দিষ্টকালের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একপর্যায়ে বয়স্ক পিতামাতার সেবা করার জন্য সিঙ্গাপুরে অবস্থান করার কারণেই সম্ভবত তাঁর রেসিডেন্সিয়াল স্ট্যাটাস বা ‘আবাসিক মর্যাদা’ বাতিল হয়ে যায়। সিঙ্গাপুরে পাঠিয়ে দেওয়ার পর আইরিন বিবিসিকে বলেন,
গত শনিবার তাঁকে সাউথ ল্যানার্কশায়ারে বন্দিশালা থেকে একটি ভ্যানে করে বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘আটকের পর আমাকে আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি বাড়ি থেকে পোশাক নিয়ে আসার সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।’ আইরিন জানান, তাঁর স্বামীর শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। সেবা করার মতো একমাত্র তিনিই রয়েছেন। যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুর থেকে কয়েকবার আবেদন করেছেন থাকার জন্য। কিন্তু যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষ তাঁর আবেদনে সাড়া দেয়নি। যুক্তরাজ্যে স্বরাষ্ট্র দপ্তরে যোগাযোগ করা তলে তারা এ নিয়ে আলাদা করে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে তারা বলছে, প্রতিটি আবেদনই আলাদাভাবে গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যাঁদের যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি নেই, তাঁরা দেশত্যাগ করবেন বলেই কর্তৃপক্ষ আশা করে। মাইগ্রেন্ট ভয়েস নামে একটি সংস্থা আইরিনকে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রচারণা শুরু করেছে। সংগঠনটির পরিচালক সাজেক রামাদান বলেন, পুলিশ কীভাবে পরিবারগুলোকে বিচ্ছিন্ন করছে এবং জীবন ধ্বংস করে দিচ্ছে, এ ঘটনা তার একটি উদাহরণ।

দেয়াল: অভিবাসী সমস্যার ‘সস্তা সমাধান’

অভিবাসী, চোরাকারবারি বা শত্রু গোষ্ঠী—যে-ই হোক, তাদের হুমকি থেকে রক্ষায় বিশ্বায়নের এ যুগেও অনেক সমাজে সীমান্ত দেয়াল নির্মাণ এক তাৎক্ষণিক ও সস্তা সমাধান হয়ে উঠেছে। কিন্তু তা কোনো কার্যকর বা টেকসই সমাধান নয়। এ বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, ১৯৮৯ সালে জার্মানিকে বিভক্তকারী ঐতিহাসিক বার্লিন দেয়ালের পতনের সময় বিশ্বে এ রকম সীমান্ত দেয়ালের সংখ্যা ছিল ১১।
এরপর বিশ্বায়নের গতি যেমন বেড়েছে, তেমন বেড়েছে বিভক্তির দেয়ালও। ১১টি দেয়াল এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০টিতে। মন্ট্রিলের কুইবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের অবজারভেটরি অব জিয়োপলিটিকসের পরিচালক এলিজাবেথ ভ্যালেট বলছেন, এভাবে দেশে দেশে সীমান্ত দেয়াল বাড়ার পেছনে কাজ করেছে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা এবং ২০১১ সালের কথিত আরব বসন্তের কারণে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ। এসব দেয়ালের এক-তৃতীয়াংশ তৈরি করা হয়েছে কোনো দ্বন্দ্ব মেটাতে। যেমন: উত্তর ও দক্ষিণ সাইপ্রাস, দুই কোরিয়া এবং ভারত ও পাকিস্তান সীমান্তের দেয়াল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আরও তিন ধরনের দেয়াল তৈরি হতে দেখা যাচ্ছে। এগুলো অভিবাসী, চোরাচালানি ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী দেয়াল। ভ্যালেট বলেন, অভিবাসীর চাপে যখন কোনো সমাজের পরিচিতি পরিবর্তন বা অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টির মতো হুমকি তৈরি হয়, তখন প্রায়ই সীমান্ত দেয়াল বা বেড়া নির্মাণকে সহজলভ্য জবাব হিসেবে ব্যবহার করতে দেখা যায়। এর সাম্প্রতিকতম উদাহরণ মেক্সিকোর সঙ্গে সীমান্ত দেয়াল নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগ। যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া উপাত্তের বরাত দিয়ে ভ্যালেট বলেন, দেয়াল অভিবাসীদের আগমনে বাধা দেয়; তাঁদের আসার গতিও মন্থর করে; কিন্তু কখনো তাঁদের বাইরে ঠেকিয়ে রাখতে পারে না। তিনি বলেন, এদিকে অভিবাসীদের এ উদ্যোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা যেহেতু সীমিত,
তাই তাঁদের মধ্যে হতাশাবোধ থাকে প্রবল। আর এ হতাশাই তাঁদের নবজাতককে কোলে আগলে হলেও বিপৎসংকুল পথে জীবনঝুঁকি নিয়ে ভিন দেশে পাড়ি জমাতে প্ররোচিত করে। অভিবাসী ঠেকাতে দেয়াল নির্মাণকে বেশ ব্যয়বহুল পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে এ বিশেষজ্ঞ বলেন, দেয়াল নির্মাণের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় না করে বরং তা অভিবাসী সমস্যার কারণ সমাধানে খরচ করলে এর সদ্ব্যবহার হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির হিসাব অনুযায়ী, মেক্সিকো সীমান্তে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেয়াল নির্মাণের ঘোষণা বাস্তবায়নের ব্যয় ২ হাজার ১৬০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।

আ.লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত একজনের মৃত্যু

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন সোহেল মিয়া (৩৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রোববার মধ্যরাতে মারা গেছেন। এ নিয়ে রোববার সকালের ওই সংঘর্ষে দুজন নিহত হলেন। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের ওই সংঘর্ষ হয় উপজেলার বাংলাবাজারে। সেখানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ওই উপজেলা পরিষদের নির্বাচন সামনে রেখে ওসমানীনগর থানা ভবনে গতকাল সোমবার নির্বাচনের প্রার্থী, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম। সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে বর্তমান নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর। রোববার সকালের সংঘর্ষে আহত হওয়ার পর সোহেল মিয়াকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মধ্যরাতে তিনি মারা যান। তাঁর বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার উত্তর কালনীরচরে। এটি ওসমানীনগরের বাংলাবাজারের লাগোয়া গ্রাম। সোহেলের নিকটাত্মীয় লুৎফুর রহমান মুঠোফোনে গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, সংঘর্ষে সোহেল মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত পান। মাথার গুরুতর জখমেই তিনি মারা গেছেন বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। এর আগে সংঘর্ষের সময় ছররা গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন জগন্নাথপুরের উত্তর কালনীরচরের সাইফুল ইসলাম (১৮)। কালনীরচর গ্রামটি উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব কালনীরচর—এই তিন ভাগে বিভক্ত। এর মধ্যে উত্তর কালনীরচর গ্রামের কিছু অংশ পড়েছে ওসমানীনগরে, বাকি অংশ সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেগম বাজার থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে বাংলাবাজার। রোববার এখানেই আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আউয়াল চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে নিহত সোহেল ও সাইফুলের লাশ পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত মামলা হয়নি। নিহত দুজনের পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে রোববার রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে পূর্ব কালনীরচরের রুহুল আমীন, রাসেল মিয়া, আবদুল্লাহপুর গ্রামের সুলতান আলী ও মিছার আহমদকে আটক করা হয়। এ ছাড়া সংঘর্ষস্থল থেকে আটক পাঁচজনের মধ্যে তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচন হবে আগামী ৬ মার্চ। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া আতাউর রহমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। জেলা আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক মো. আখতারুজ্জামান চৌধুরী (জগলু চৌধুরী) বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ময়নুল হক চৌধুরী ও জাতীয় পার্টির মো. শিব্বির আহমদও চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সংঘর্ষের স্থল বাংলাবাজারসহ আশপাশের এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বাজারের দোকানপাট বন্ধ। কয়েকজন বলেন, আতঙ্কে কেউ দোকান খুলছে না। পুলিশও দোকানপাট বন্ধ রাখতে বলে গেছে। গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, নিহত সাইফুল ও সোহেল রাজনীতি করতেন না। তাঁরা ওসমানীনগরের ভোটারও নন, পাশের জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা। সাইফুল ছিলেন তাজপুর হজরত শাহ জালাল (রহ.) হাফেজি মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্র। তিনি রাজমিস্ত্রির জোগালির কাজও করতেন। সোহেল ছিলেন দিনমজুর। নিজের ঘরদোর ছিল না তাঁর। তবে রোববার ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতাউর রহমান দাবি করেছিলেন, নিহত সাইফুল তাঁর সমর্থক ছিলেন।
নির্বাচন কমিশনারের মতবিনিময়
ওসমানীনগর থানা ভবনে গতকাল বিকেলে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. রাহাত আনোয়ার, পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান, ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এইচ এম এজহারুল হক, জেলার জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা মনির হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত আলীসহ নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সভার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজ্ঞান চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, সংঘর্ষের ঘটনাটি সভায় গুরুত্বসহকারে আলোচিত হয়। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে করণীয় সব পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার। সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনে কোনো অন্যায় বরদাশত করা হবে না। রোববারের সংঘর্ষের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সভায় উপস্থিত প্রার্থী ও রাজনীতিকেরা সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন।

আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে স্বামীকে ১০ বছরের কারাদণ্ড

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ওয়াহিদা সিফাতকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে স্বামী মো. আসিফকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক সাঈদ আহম্মেদ এ রায় ঘোষণা করেন। অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁদের খালাস দিয়েছেন আদালত। খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন সিফাতের শ্বশুর হোসেন মোহাম্মদ রমজান, শাশুড়ি নাজমুন নাহার এবং প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জোবাইদুর রহমান। রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সিফাতের চাচা ও মামলার বাদী মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা প্রত্যাশিত বিচার পাননি। এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করবেন। তিনি বলেন, ‘ময়নাতদন্তে সিফাতকে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করা সত্ত্বেও আদালত এটিকে আত্মহত্যার প্ররোচনা গণ্য করে রায় দিয়েছেন। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা হিসেবেও ধরা হয়, তাতেও আসামিপক্ষ আত্মহত্যার পক্ষে কোনো যুক্তি দেখাতে পারেনি, সে ক্ষেত্রে সিফাতের শ্বশুর-শাশুড়ি কীভাবে খালাস পান?’
রায়ে বলা হয়, রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলায় ২২ জন সাক্ষী উপস্থাপন করেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(ক)-এর অভিযোগ (নির্যাতন করে হত্যা) প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। তা ছাড়া প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলার আলামত গোপনের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা প্রমাণেও ব্যর্থ হয়েছে তারা। তদন্তেও গাফিলতি রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অপরাধে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় আসিফকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তাঁকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায়ে আরও বলা হয়, আসামির গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে এ রায় কার্যকর হবে। আদালত আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন মাহবুবুর রহমান। তাঁকে সহায়তা করে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি। সমিতির প্যানেল আইনজীবী ফামিদা আকতার বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে তাঁরা আপিল করবেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে এসেছে, সিফাতের গায়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তিনি আত্মহত্যা করেননি। তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। আদালত সূত্র জানায়, রায়ের আগে আসিফকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা অন্য তিনজন আদালতে হাজির ছিলেন।
২০১৫ সালের ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগরের মহিষবাথান এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে ওয়াহিদা সিফাতের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রথমে সিফাত আত্মহত্যা করেছেন বলে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন দাবি করেন। এ ঘটনায় সিফাতের চাচা মিজানুর রহমান খন্দকার রাজপাড়া থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়, সিফাতের শরীরে নির্যাতনের আঘাতের চিহ্ন নেই এবং তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এই ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক হলেন জোবাইদুর রহমান। সিফাতের পরিবার এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে। দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সিফাতকে হত্যা করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত ভার প্রথমে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে দেওয়া হলেও পরে সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়। গত বছরের ২৩ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আহম্মেদ আলী চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জোবাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০১ ধারায় এবং সিফাতের স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(ক) ও ৩০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

সারা দেশে আজ থেকে পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতি?

সারা দেশে আজ মঙ্গলবার থেকে কর্মবিরতি শুরু করছেন পরিবহনশ্রমিকেরা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সেক্রেটারি ওসমান আলী গতকাল সোমবার রাতে এ তথ্য জানান। ওসমান আলী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, বাসচালকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের প্রতিবাদে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় গত রোববার সকাল থেকে যে পরিবহন ধর্মঘট চলছিল, সে বিষয়ে আলোচনার জন্য সন্ধ্যায় নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের বাসায় বৈঠক বসে। শাজাহান খান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির সভাপতি সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা।
বৈঠক চলাকালে সেখানে খবর পৌঁছায়, সড়ক দুর্ঘটনার দায়ে গতকাল এক ট্রাকচালকের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। এ খবর পাওয়ার পর ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা ঠিক করেন, মঙ্গলবার (আজ) সকাল থেকে তাঁরা সারা দেশে কর্মবিরতি শুরু করবেন। ১০ জেলার পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার ঢাকার বাইরে থেকে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক এবং আঞ্চলিক কার্যালয় ও প্রতিনিধিরা জানান, গতকাল দুপুরে খুলনায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে শ্রমিকনেতাদের বৈঠকের পর ১০ জেলায় ডাকা অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়। তবে ১০ জেলার বাইরে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা সদরের বিশ্বরোড মোড়ে শ্রমিকেরা সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ করে সড়ক অবরোধ করেন। এতে স্থানীয় ১৬টি রুটের পাশাপাশি ঢাকা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী সব যানবাহন আটকা পড়ে। অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়ে যাত্রীরা। ২০১১ সালে মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ, সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় গত বুধবার বাসচালক জামির হোসেনকে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার প্রতিবাদে রোববার সকাল থেকে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছিল। গতকাল সন্ধ্যা সাতটায় এ ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।
দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা সদর কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে সকালে বাসের ধাক্কায় এক স্কুলশিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর নাম জুলফিকার আলী (৪৫)। তিনি সিংড়া এস আর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। পুঠিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাকিবুল হাসান জানান, রাস্তা পার হওয়ার সময় ঢাকাগামী ন্যাশনাল ট্রাভেলস জুলফিকারকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি রাস্তার ওপর ছিটকে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখান থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মারা যান। নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার রেজীর মোড় এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আবদুর রহমান (৬২) নামে এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী মোবারক হোসেন জানান, সকাল সাড়ে আটটার দিকে ঢাকাগামী একটি ট্রাক ও ঢাকা থেকে যশোরগামী আরেকটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় একটি ট্রাকের চাকার টায়ার বিস্ফোরিত হয়ে ট্রাকটি সড়কের পাশে উল্টে যায়। ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে একটি রিকশা-ভ্যান। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান ভ্যানের চালক আবদুর রহমান। বরিশাল নগরীর হাতেম আলী কলেজ-সংলগ্ন চৌমাথা এলাকায় সকালে ট্রাকের ধাক্কায় মাহেন্দ্র যাত্রী এক নারী নিহত হয়েছেন। তাঁর নাম রুমা বেগম। তিনি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার রামনগর এলাকার মো. লিটনের স্ত্রী।

ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার দায়ে চালকের মৃত্যুদণ্ড

ঢাকার সাভারে ট্রাকচাপা দিয়ে এক নারীকে হত্যার দায়ে ট্রাকচালকের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রদীপ কুমার রায় এই রায় দেন। আদালতের সরকারি কৌঁসুলি গোলাম দস্তগীর প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত চালক মীর হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০০৩ সালের ২০ জুন সাভারের ঝাউচার এলাকায় ট্রাকচাপায় নিহত হন খোদেজা বেগম (৩৮)। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী নুরু গাজী সাভার থানায় ট্রাকচালক মীর হোসেন ও তাঁর সহকারী ইনতাজ আলীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ওই দুজনের বিরুদ্ধে ২০০৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
আদালত ২০০৫ সালের ৪ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গতকাল আদালত চালক মীর হোসেনের মৃত্যুদণ্ড এবং তাঁর সহকারীকে খালাস দেন। সরকারি কৌঁসুলি গোলাম দস্তগীর প্রথম আলোকে বলেন, মামলার বাদী নুরু গাজীর বাড়ি সাভারের ঝাউচর এলাকায়। ট্রাকচালক মীর হোসেনের বাড়িও একই এলাকায়। ঘটনার দিন নুরুর বাড়ির সামনের পারিবারিক রাস্তা দিয়ে ট্রাকে করে মাটি নিয়ে যাচ্ছিলেন ট্রাকচালক মীর হোসেন। বেলা ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে ট্রাকের সামনে এসে দাঁড়ান নুরু ও তাঁর স্ত্রী খোদেজা বেগম। এ সময় তাঁরা তাঁদের পারিবারিক রাস্তা দিয়ে মাটিভর্তি ট্রাক চলাচলে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ট্রাকচালক মীর হোসেন তাঁদের ওপর দিয়ে ট্রাক চালিয়ে দেন। মামলার বাদী নুরু সরে যেতে সক্ষম হলেও খোদেজা ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

সাদিয়াকে ধাক্কা দেওয়া বাসের চালক গ্রেপ্তার

রাজধানীর ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের ছাত্রী সাদিয়া হাসানকে ধাক্কা দেওয়া সেই বাসের চালককে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গত রোববার রাতে মিরপুর এলাকা থেকে রিয়াজ বাঘা নামের ওই বাসচালককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তানজিল পরিবহনের বাসটিও জব্দ করা হয়েছে। সাদিয়া পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।
গত শনিবার সকালে তিনি ও তাঁর মা রাজশাহী থেকে ট্রেনে কমলাপুর আসেন। সেখান থেকে অটোরিকশায় করে পুরান ঢাকায় হোস্টেলে যাচ্ছিলেন তাঁরা। পথে বংশাল থানার নর্থসাউথ রোড এলাকায় তাঁদের বহনকারী অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয় তানজিল পরিবহনের একটি বাস। এতে সাদিয়া নিহত হন, গুরুতর আহত হন তাঁর মা। বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, গত রোববার রাতে চালক রিয়াজকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাসটিও জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চালকের সহকারী মিলনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টার্ট আপ এক্সপো

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় (এনএসইউ) এমবিএ ক্লাবের আয়োজনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে স্টার্ট আপ এক্সপো-২০১৭। দিনব্যাপী এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের সৃজনশীল উদ্যমী উদ্যোক্তা ও উদ্যোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন পণ্য ও সেবার প্রদর্শনী। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এলজিআরডি ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মো. মসিউর রহমান রাঙ্গা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন এনএসইউর বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান আজিম উদ্দিন আহমেদ, নোমান গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিচালক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তালহা, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ জাবের ও আবদুল্লাহ মোহাম্মদ জুবায়ের। বিজ্ঞপ্তি

বিএসবি ফাউন্ডেশন শিক্ষা অ্যাওয়ার্ড

রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হলো বিএসবি ফাউন্ডেশন শিক্ষা অ্যাওয়ার্ড-২০১৭। অনুষ্ঠানে দেশের দুই শর বেশি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার সেরা কনটেন্ট নির্মাতাদের সম্মাননা পদক দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিএসবি-ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপের চেয়ারম্যান লায়ন এম কে বাশার। সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা, চিত্রনায়ক আলমগীরসহ বরেণ্য শিল্পী, কলাকুশলীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বিজ্ঞপ্তি

স্নাতক পরীক্ষার্থী আল-ইকরার দুটি কিডনিই নষ্ট

দরিদ্র বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল একমাত্র ছেলে মো. আবদুল্লাহ আল-ইকরা (২৪) পড়াশোনা শেষে অভাবের সংসারে হাল ধরবেন। কিন্তু স্নাতক পরীক্ষার আগেই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা গেছে, দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে তাঁর। জীবন বাঁচাতে তাই সপ্তাহে তিন দিন ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আল-ইকরার কিডনি প্রতিস্থাপন করা প্রয়োজন। এতে খরচ হবে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। আল-ইকরার বাবা মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, তাঁদের বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১৫ নম্বর শরিফপুর ইউনিয়নের উত্তর শরিফপুর গ্রামে।
ছেলের ডায়ালাইসিসসহ আনুষঙ্গিক চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। তাই ছেলের কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় খরচ জোগাতে পারছেন না। সমাজের দাতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁর চিকিৎসায় এগিয়ে আসবে—এখন সে আশায় চেয়ে আছেন তিনি। আল-ইকরাকে সহায়তা পাঠানোর ঠিকানা: মো. আবদুল্লাহ আল-ইকরা, সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর-৪৯৬২০, ইসলামী ব্যাংক, মাইজদী কোর্ট শাখা, নোয়াখালী। বিজ্ঞপ্তি

মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মানের সঙ্গে কখনো সমঝোতা নয়

ব্যবসার ক্ষেত্রে মূল্যবোধ, নীতিনৈতিকতা ও পণ্যের মানের সঙ্গে কখনো সমঝোতা না করতে তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) লতিফুর রহমান। তিনি মনে করেন, এসব বিষয়ের সঙ্গে সমঝোতা করা হলে তাতে সাময়িকভাবে লাভবান হওয়া গেলেও টেকসই প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসা দাঁড় করানো কঠিন। লতিফুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে ব্যবসায়িক মূল্যবোধের ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি হলেও তা এখনো প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি। বড় বড় অনেক ব্যবসায়ীকে দেখি ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ভালো আছেন, অনেক কিছু করছেন। তাই বলে কখনো তাঁদের দেখে প্রভাবিত হওয়া যাবে না। কারণ জীবনে টাকার প্রয়োজন আছে ঠিকই কিন্তু টাকা উপার্জন যদি একমাত্র লক্ষ্য হয়, তাহলে জীবনে অনেক কিছু বিসর্জন দিতে হয়।’
বেসরকারি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উদ্ভাবন ও সংরক্ষণ কেন্দ্র (ইনোভেশন অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার-আইআইসি) আয়োজিত উদ্যোক্তা উন্নয়নবিষয়ক ধারাবাহিক বক্তৃতা অনুষ্ঠানের অষ্টম আয়োজনে লতিফুর রহমান এসব কথা বলেন। গত ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ফারাজ আইয়াজ হোসেন এবং লতিফুর রহমানের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা বা এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ বিভাগে দুটি শিক্ষাবৃত্তি চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। এ শিক্ষাবৃত্তির অধীনে উদ্যোক্তা বিভাগের দুজন শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দেওয়া হবে। এমনকি পাঠ্যক্রমের আওতায় ভবিষ্যতে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের প্রয়োজন হলে ট্রান্সকম গ্রুপে সেই সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার ঘোষণা দেন লতিফুর রহমান। হলি আর্টিজানের ঘটনায় বন্ধুদের বাঁচানোর চেষ্টা করে প্রাণ দেন ফারাজ হোসেন। প্রয়াত ফারাজ ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের নাতি। অনুষ্ঠানে ফারাজের আত্মত্যাগের জন্য এক মিনিট দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন উপস্থিত হল ভর্তি শ্রোতা। লতিফুর রহমান তাঁর বক্তব্যের শুরুতেও ফারাজের কীর্তির কথা স্মরণ করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘দেশে-বিদেশে এখন অনেকে আমাকে ফারাজের নানা হিসেবে চেনে। এটা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের।’ অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা বিভাগের শিক্ষার্থীদের আঁকা ফারাজের একটি স্কেচ লতিফুর রহমানের হাতে তুলে দেওয়া হয়। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের প্রতিষ্ঠা, ট্রান্সকম গ্রুপের শুরু থেকে বর্তমান, ব্যবসায়িক উত্থান-পতন, দৃঢ়তার সঙ্গে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বাস্তবতাকে তিনি তুলে ধরেন হল ভর্তি তরুণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও আগত অতিথিদের সামনে। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান ও ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি সবুর খান অনুষ্ঠানে লতিফুর রহমানকে পরিচয় করিয়ে দেন প্রচারের আড়ালে থেকে সফল প্রতিষ্ঠান গড়ার একজন অনুকরণীয় উদ্যোক্তা হিসেবে। যাঁর প্রতিষ্ঠান ও পণ্য পরিচিিত মানুষের মুখে মুখে থাকলেও প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তার নামটি অনেকে জানেন না। এ সময় প্রসঙ্গক্রমে উঠে আসে ট্রান্সকম গ্রুপের মালিকানাধীন দেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক প্রথম আলোর নামও। অনুষ্ঠান সঞ্চালক উপস্থিত শ্রোতা ও দর্শকের কাছে জানতে চান সকালে আপনারা কতজন নিয়মিত প্রথম আলো পড়েন? এ সময় অনেকে হাত তুলে তার উত্তর দেন। এরপরই সঞ্চালকের পাল্টা প্রশ্ন ছিল, আপনারা কি জানেন প্রথম আলোর মালিক কে? জবাব আসে ‘না’। তখন সঞ্চালক বলেন, প্রথম আলো ট্রান্সকম গ্রুপ ও লতিফুর রহমানেরই একটি প্রতিষ্ঠান। অনুষ্ঠানে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত প্রথম আলো বন্ধুসভার একদল বন্ধু ফুলেল শুভেচ্ছা জানান লতিফুর রহমানকে। লতিফুর রহমানের মতে, দেশভেদে ব্যবসার মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও পণ্যের মান কখনো আলাদা হতে পারে না। আবার কখনো এ তিন জিনিসের সঙ্গে সমঝোতা করাও উচিত না। ব্যবসায় নীতি, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চর্চার জন্য ২০১২ সালে অসলো বিজনেস ফর পিস পুরস্কারজয়ী লতিফুর রহমান বলেন, ব্যবসায়িক জীবনে কখনো তিনি ও তাঁর প্রতিষ্ঠান ৫ টাকার ব্যাংক ঋণখেলাপিও হননি। মুনাফার জন্য মূল্যবোধকে বিসর্জন দেননি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অনেক বাধা আছে। কিন্তু সেই বাধাকে মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে। এ সময় তিনি ট্রান্সকম গ্রুপের শুরুর গল্পটি বলেন।
সেটি ১৯৭৩ সালের কথা। তার আগে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে পারিবারিক ডব্লিউ রহমান জুট মিলটি জাতীয়করণের আওতায় চলে যায়। ওই মিলেই চাকরি দিয়ে ১৯৬৬ সালে কর্মজীবন শুরু হয়েছিল লতিফুর রহমানের। মিলটি ১৯৭২ সালের মার্চে জাতীয়করণের পর স্বাচ্ছন্দ্যের আর্থিক জীবনে হঠাৎ করেই টানাপোড়েন দেখা দেয়। ১০০-২০০ টাকাও হাতে নগদ থাকত না। দমে যাননি তিনি। টিকে থাকতে হবে এই ব্রতে বলীয়ান হয়ে ভাড়া করা চেয়ার-টেবিল দিয়ে শুরু করেন ট্রান্সকমের যাত্রা। প্রথমে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক এক কোম্পানির পণ্য এ দেশে বাজারজাতের সঙ্গে যুক্ত হয় প্রতিষ্ঠানটি। ধীরে ধীরে কলেবর বাড়তে থাকে প্রতিষ্ঠানের। বর্তমানে খাদ্য, ওষুধ, পানীয়, ইলেকট্রনিকস, মিডিয়াসহ ট্রান্সকম গ্রুপ ৯ খাতের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। কর্মিসংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। আর বার্ষিক ব্যবসায়িক লেনদেনের পরিমাণ প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। সফল প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে হলে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি মানুষের প্রতিযোগিতামূলক আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যের পাশাপাশি যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন লতিফুর রহমান। এ সময় তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানে যাঁরা কাজ করেন তাঁরা প্রত্যেকেই একেকজন উদ্যোক্তা। কারণ প্রতিদিনই তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা উদ্যোগ নিচ্ছেন এবং সেটির বাস্তবায়ন করছেন। যিনি অর্থ লগ্নি করবেন, তিনিই কেবল উদ্যোক্তা এই ধারণা সঠিক নয়। প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে মালিক-শ্রমিকের ভেদাভেদ করা হলে তাতে প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলেও মনে করেন লতিফুর রহমান। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-বিষয়ক পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে লতিফুর রহমানের জীবনবৃত্তান্ত উপস্থাপন করেন আইআইসির পরিচালক আবু তাহের খান। সমাপনী বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে বক্তব্য দেন সবুর খান। এ সময় তিনি লতিফুর রহমানের মতো উদ্যোক্তাদের নিয়ে গবেষণার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান। সেটি করা হলে তাতে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন।

ইব্রাহিম সেলিম ও কাজী দেলোয়ার

ইব্রাহিম সেলিম ও কাজী দেলোয়ারের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি। ১৯৮৪ সালের এই দিনে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ঢাকার ফুলবাড়িয়ায় পুলিশের ট্রাকচাপায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ছাত্রলীগের নেতা ইব্রাহিম সেলিম ও কাজী দেলোয়ার মারা যান। ইব্রাহিম সেলিমের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নাজিপুর গ্রামে। কাজী দেলোয়ারের বাড়ি পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার উত্তর পৈকখালী গ্রামে।
এ উপলক্ষে ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সকালে ভান্ডারিয়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে কাজী দেলোয়ারের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে। বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া উপজেলার উত্তর পৈকখালী গ্রামে শহীদ কাজী দেলোয়ার স্মৃতি শিশুসদনে কোরআনখানি, দোয়া মাহফিল ও গণভোজ অনুষ্ঠিত হবে।

জাপানি নাগরিক কুনিও হত্যা মামলার রায় আজ

বহুল আলোচিত জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ মঙ্গলবার। সকাল সাড়ে নয়টায় রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার এই রায় ঘোষণা করবেন। সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী বিশেষ পিপি রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বলেন, ৬০ কর্মদিবসে ৫৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।
সেই সঙ্গে আসামিদের পক্ষে একজন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্যও গ্রহণ করা হয়। যুক্তিতর্ক শেষে আজ রায় হবে। তিনি বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে বিদেশি নাগরিককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে আসামিরা। যা সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে।

রেলে ৮৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প চলমান

রেলওয়েতে ৮৬ হাজার ৩০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ৪৩টি প্রকল্প চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সামশুল হক চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। রেলমন্ত্রী আরও জানান, এসব প্রকল্পে থোক বরাদ্দসহ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ৯ হাজার ১১৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রশ্নোত্তরের আগে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকেল পৌনে পাঁচটায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। সোহরাব উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী জানান, রেলের টিকিটের ওপর যাত্রীর নাম লেখার বিষয়টি পরীক্ষাধীন পর্যায়ে আছে। বর্তমানে আন্তনগর ট্রেনের টিকিটে যাত্রীর বয়স ও জেন্ডার উল্লেখ করা হচ্ছে। টিকিটের ক্ষেত্রে কালোবাজারি রোধ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে আরও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাহফুজুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে মুজিবুল হক জানান, যানজট নিরসনে রাজধানী ঢাকার চারদিকে বৃত্তাকার রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বৃত্তাকার এ রেলপথ নির্মাণের জন্য ২০১৫ সালের ২৯ জুন একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠানের পর কমিটির সুপারিশের আলোকে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ কে এম মাঈদুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী জানান, রেলসেতুর মূল অবকাঠামোতে কখনোই বাঁশ ব্যবহার করা হয় না। ট্রেন চলাচলের ফলে কোনো কোনো স্লিপারের আঁকাবাঁকা হয়ে যাওয়া রোধ করতে স্থানীয়ভাবে রেলওয়ে কর্মচারীরা বাঁশ ব্যবহার করতে পারেন। তবে এটি বিপজ্জনক নয়। কারণ, ব্যবহৃত এ বাঁশ কোনোভাবে ভার বহন করে না। এনামুল হকের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, বর্তমানে দূরপাল্লার ১৩৯টি রুটে বিআরটিসির ৩২৮টি বাস চলছে। শওকত চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গত বছরের ১৬ আগস্ট থেকে পাঁচটি এক্সেললোড কেন্দ্র নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। নীতিমালা অনুযায়ী অতিরিক্ত ওজন বহন করা ট্রাকের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে এবং জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত মোট ১৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। শফিকুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের জানান, পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ হবে বলে আশা করা যায়।

অভিযোগ গঠনের শুনানি আবার পেছাল

মাগুরায় মায়ের পেটে শিশু গুলিবিদ্ধ ও মমিন ভূঁইয়া হত্যা মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন চতুর্থবারের মতো পিছিয়ে ২৮ মার্চ ধার্য করা হয়েছে। গতকাল সোমবার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে এ শুনানি হওয়ার কথা ছিল। ২০১৫ সালের ২৩ জুলাই মাগুরা শহরের দোয়ারপাড় কারিগরপাড়ায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হন অন্তঃসত্ত্বা নাজমা বেগম। গুলিতে পেটে থাকা শিশুও বিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ ও বোমার আঘাতে আহত হন নাজমা বেগমের চাচাশ্বশুর মমিন ভূঁইয়া। পরদিন তিনি মারা যান। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নাজমার একটি মেয়ে হয়। তার নাম রাখা হয় সুরাইয়া।
এ ঘটনায় মমিন ভূঁইয়ার ছেলে রুবেল ভূঁইয়া মাগুরা সদর থানায় ১৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে আজিবর নামের এক আসামি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। পুলিশ মোট ১৭ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ ফিরোজুর রহমান বলেন, গতকাল এই মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল। এই মামলার দুই আসামি ফরিদ ও সুমন মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আবেদন করেছেন। আদালতের বিচারক সৈয়দ আরাফাত হোসেন উভয় শুনানির জন্য আগামী ২৮ মার্চ দিন নির্ধারণ করেছেন। আবারও অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন পেছানোর কারণে সুরাইয়ার বাবা বাচ্চু ভূঁইয়া হতাশা প্রকাশ করেছেন। দ্রুত বিচারের মাধ্যমে তিনি দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।

গ্যাস সিলিন্ডারের দামে অস্থিরতা

দেশে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম নিয়ে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ৪১টি জেলা থেকে প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, গত দুই মাসে সিলিন্ডারপ্রতি ১০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। এই খাতের সঙ্গে জড়িত কয়েকটি কোম্পানি দাম বাড়ার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছে। বিভিন্ন জেলার বাসিন্দারা মনে করছেন, সরকার পাইপলাইনের গ্যাসের দাম বাড়ানোয় ব্যবসায়ীরা সিলিন্ডারেরও দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারজাত ও বিপণনকারী কোম্পানি বিএম এনার্জি (বাংলাদেশ) লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, গত জানুয়ারি মাসে কাঁচামালের দাম বেড়েছে টনপ্রতি ৫০ মার্কিন ডলার। এরপর ফেব্রুয়ারিতে বেড়েছে টনপ্রতি ৯২ ডলার। এই কারণে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি দুই মাসেই সিলিন্ডারপ্রতি ৫০ টাকা করে (মোট ১০০ টাকা) বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, দুই মাসে কাঁচামালের দাম টনপ্রতি প্রায় ১৫০ ডলার বাড়ার মানে প্রতি সিলিন্ডারের গ্যাসের দাম প্রায় ১৫০ টাকা করে বেড়ে যাওয়া। তাই না বাড়িয়ে উপায় ছিল না। বসুন্ধরা ছাড়া সব কোম্পানি একই হারে দাম বাড়িয়েছে। এলপি গ্যাস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একটি সূত্র বলেছে, জানুয়ারি মাসে কাঁচামালের দাম বাড়লে সঙ্গে সঙ্গেই যে সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয় এর মধ্যে একটা ফাঁকি আছে।
কারণ, এলপি গ্যাসের কাঁচামালের দাম প্রতি মাসের ১ তারিখে ঘোষণা করা হয়। সেই দামের কাঁচামাল দেশে এনে সিলিন্ডারজাত করে যখন গ্রাহককে দেওয়া হবে, তখনই তার দাম বেশি নেওয়া উচিত। কিন্তু ওই বেশি দামের কাঁচামাল দেশে আসার আগে যে সিলিন্ডারগুলো বাজারে ছিল, সেগুলোর ওপরই দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতেও তাই করা হয়েছে। সব সময় এমনই করা হয়। কিন্তু এটা ঠিক নয়। দেশের ৪১টি জেলা থেকে প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা জানান, গত জানুয়ারি থেকে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে বেশি দাম বেড়েছে ফেব্রুয়ারিতে। এই দুই মাসে প্রতিটি জেলায় সিলিন্ডারপ্রতি গড়ে ৭০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। ১২ কেজির এবং ১৫ কেজি তরল গ্যাসভর্তি সিলিন্ডারগুলোর দাম তুলনামূলক বেশি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। জামালপুরে সিলিন্ডারপ্রতি ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এ ছাড়া চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজার ও পাবনায় সিলিন্ডারপ্রতি গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেড়েছে। সিলিন্ডারের খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হয়নি। যে যেভাবে পেরেছে দাম বাড়িয়েছে। এলপি গ্যাসের দাম নিয়ে গ্রাহকের অভিযোগ সম্পর্কে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, এলপি গ্যাসের দাম নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে দুই মাসের মধ্যে একটি নীতিমালা করে তা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই নীতিমালা কার্যকর হলে আর কোনো অভিযোগ থাকবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বরিশালে ৯০ টাকা
বরিশাল থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, এলপি গ্যাসের মূল্য সিলিন্ডারপ্রতি দুই দফায় ৯০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আগে যেসব কোম্পানির গ্যাস খুচরা বাজারে ৮৮০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা ৯৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে টোটাল কোম্পানির গ্যাসের। আগে যেখানে প্রতি সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি হতো ৯০০ টাকায়, এখন তা ৯০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৯৯০ টাকা। নগরীরর সাগরদী চৌমাথা এলাকার গৃহিণী মহসিনা আক্তার বলেন, ‘শুনেছি আরেক দফা নাকি বাড়বে গ্যাসের দাম।’ টোটাল গ্যাসের বরিশাল অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক রুবেল মল্লিক গত রোববার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, বিভিন্ন কোম্পানি তাদের ব্যবসায়িক কৌশল (পলিসি) অনুযায়ী গ্যাসের মূল্য বাড়িয়েছে। এটা চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে বাড়ানো হয়েছে। সরকার সম্প্রতি সংযোগের মাধ্যমে সরবরাহ করা গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির যে ঘোষণা দিয়েছে তার সঙ্গে এলপি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কোনো সম্পর্ক নেই। গ্যাসের মূল্য আরেক দফা বাড়তে পারে, এমন আশঙ্কার বিসয়ে তিনি বলেন, ‘আপাতত আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা নেই।’
যশোরে বেড়েছে ১০০ টাকা
যশোরে সব কোম্পানির গ্যাসের দাম সিলিন্ডারপ্রতি ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গতকাল শহরের গ্যাসের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, বসুন্ধরা ও ওমেরা ৯৫০ থেকে ১ হাজার, যমুনা, ক্লিনহিট ও বিএম ৯৮০ থেকে ১ হাজার ৫০ এবং সেনা গ্যাস ৯৩০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গ্যাস কিনতে আসা যশোর শহরের আবরপুর এলাকার বাসিন্দা নূর শাহানা বলেন, ‘১০ দিন আগেও যে গ্যাস ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকায় কিনেছি, এখন তা ১০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে।’ এ ব্যাপারে জানতে চাইলে করিম পেট্রোলিয়ামের ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম বেড়েছে জানিয়ে কোম্পানিগুলো দাম বাড়িয়েছে। আমাদের কিছু করার নেই।’
খুলনায় দেড় মাসে দুই দফা বেড়েছে
খুলনায় দেড় মাসের ব্যবধানে দুই দফা এলপি (সিলিন্ডার) গ্যাসের দাম বেড়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে ৫০ থেকে ১৪০ টাকা পর্যন্ত। বাসাবাড়িতে গ্যাসের দাম বাড়ানো হবে এমন তথ্য আগেই জানতে পেরে সিলিন্ডারপ্রতি গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে অনেকে অভিযোগ করেন। কিন্তু তারপরও থেমে থাকেনি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি। খুলনা এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি শেখ মো. তোবারেক হোসেন জানান, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর কোনো ঘোষণা ছাড়াই প্রথম দফা এলপি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়। ওই সময় ওমেরা ও টোটালগ্যাসের দাম বাড়ানো হয় ৫০ টাকা। এরপর চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি আরেক দফা দাম বাড়ে। এবার ওমেরা ও টোটাল কোম্পানি আগের দামের সঙ্গে যোগ করে ৯০ টাকা। তা ছাড়া ক্লিনহিট, যমুনা ও বিএম কোম্পানি দাম বাড়ায় ৯০ টাকা করে।
রাজশাহীতে ১৫০ টাকা পর্যন্ত
রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় গত ২০ দিনের ব্যবধানে সিলিন্ডারপ্রতি এলপি গ্যাসের দাম ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। নগরের সাগরপাড়া এলাকার ওহাব এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবদুল ওহাব বলেন, ‘কিছুদিন ধরে গ্যাসের বাজারে অস্থিরতা চলছে। বিভিন্ন কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটর যাঁরা এখানে আছেন তাঁরা বলছেন, কোম্পানি দাম বাড়িয়েছে। তাই আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’
রংপুরে ৬০-৭০ টাকা
রংপুরে হঠাৎই প্রতি সিলিন্ডারে ৬০-৭০ টাকা বেড়েছে। তিন দিন আগেও সিলিন্ডারপ্রতি গ্যাসের দাম ছিল ৯৩০-৯৪০ টাকা, যা গতকাল বিক্রি হয়েছে ৯৯০-১০০০ টাকা। এসব গ্যাস হলো টোটাল, বসুন্ধরা ও যমুনা। এদিকে সরকারিভাবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অধীনে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার সরকারিভাবে সরবরাহ না থাকায় তা বাজারে পাওয়া যায় না। ব্যবসায়ীরা জানান, এক সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি করে লাভ হয় ২০-২৫ টাকা, যা দাম বাড়া না বাড়ার ওপর নির্ভর করে না। দাম বাড়লে ক্রেতাদের বেশি দামে কিনতে হয়। গ্যাস কোম্পানির মালিকদের লাভ।

তথ্য–প্রমাণ ছাড়া আমাকে খুনি বানানো হচ্ছে: বাবুল আক্তার

আলোচিত-সমালোচিত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তার তথ্যপ্রমাণ ছাড়া তাঁকে খুনি বানানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন। গতকাল সোমবার ফেসবুকে ২ হাজার ১৬০ শব্দে লেখা এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেছেন, তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ি মেয়েকে হারিয়ে ভিত্তিহীন কথা বলছেন। সাংবাদিকেরা সেসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ‘সংবাদ-বাণিজ্য’ করছেন। বাবুল আক্তার বলেন, ‘ভেসে যাওয়ার’ দিনগুলোয় শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর পাশে ছিলেন বলে তিনি কৃতজ্ঞ। সন্তানদের ভালোর কথা চিন্তা করে স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতুর মৃত্যুর পর তিনি শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। ওই বাড়ির রুচি, সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাস সন্তানদের উপযোগী না হওয়ায় তাঁকে শ্বশুরবাড়ি ছাড়তে হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ি তাঁর সঙ্গে এক ‘ষোড়শী’র বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ অবস্থায় তাঁর অন্যত্র চলে যাওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বাবুল আক্তারের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বাঁচার জন্য বাবুল আক্তার এসব কথা বলছে। আমার মেয়ের কবরে ঘাস গজায়নি এখনো। বছর ঘোরেনি।
হত্যা মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। আমি তাকে বিয়ের জন্য পীড়াপীড়ি করছি?’ মোশাররফ আরও বলেন, তিনি ও তাঁর পরিবারের লোকজনের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাঁরা বরাবর বলে আসছেন, অপরাধী যে-ই হোক, তাঁর শাস্তি হতে হবে। এখনো তাঁরা তা-ই চান। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের প্রভাবশালী ও ভালো মানুষেরা বলেছেন, বাবুল আক্তার চট্টগ্রামে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর স্ত্রী-সন্তানের ক্ষতি করার মতো সাহস চট্টগ্রামে কারও ছিল না। কাজেই বাবুল আক্তারকেই বলতে হবে মিতুর হত্যাকারী কে?’ ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে বাবুল বলেন, তাঁর সন্তানেরা তাদের মায়ের মতোই। মাহমুদা বাবার বাড়িতে এলে চট্টগ্রামে ফিরে যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে উঠতেন। সন্তানেরাও অস্থির হয়ে উঠেছিল। তাঁর শ্বশুরবাড়িতে সকাল থেকে ‘স্টার জলসা’ দেখা হতো। ছেলেমেয়েকে শাকসবজি খাওয়ানো হতো না ঠিকমতো। শ্বশুরবাড়িতে আরও অনেকে থাকায় পরিবেশ ঘিঞ্জি ছিল। আশপাশে ‘খারাপ বস্তিবাসীর চেঁচামেচি আর অশ্লীল কথোপকথন’ ছেলেকে খিটখিটে করে তুলছিল। একসময় তাঁকে মা-বাবা অথবা শ্বশুর-শাশুড়িকে বেছে নিতে বলা হয়। তাঁর ছেলেমেয়েদের ষোড়শী এক শ্যালিকাকে ‘ছোট আম্মু’ বলতে শেখানো হয়। বাড়িতে হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনার কারণে তাঁর সন্তানেরা অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আলাদা বাসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
বাবুল আক্তার তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা পরকীয়া প্রেমের অভিযোগও অস্বীকার করেছেন। পাশাপাশি তাঁর শাশুড়ি শাহেদা মোশাররফ ও শ্যালিকা শায়লা তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুর পর লাশ বাদ দিয়ে আলমারি থেকে কাপড়চোপড়, গয়নাগাঁটি আর জমানো কিছু টাকাপয়সা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আনায় ব্যস্ত ছিলেন বলে তিনি দাবি করেছেন। কিছুদিন পর আবারও বাইরে থেকে মিস্ত্রি ডেকে আলমারি ভেঙে সেখান থেকে সবকিছু তাঁরা নিয়ে গেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। বাবুল আক্তারের দাবি, তিনি আলাদা বাসা নেওয়ার কথা জানানোর পরই শ্বশুরপক্ষ তাঁকে ‘পচিয়ে ছাড়বেন’ বলে শাসিয়েছিল। বাবুল আক্তারের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন বলেন, বাবুলের উচিত ছিল তাঁকে নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে সংবাদ সম্মেলন করা। অন্যদিকে বাবুল আক্তার বলেছেন, তিনি কৃতজ্ঞ ছিলেন বলে চুপ ছিলেন। তিনি তাঁর মা-হারা সন্তানদের নিয়ে ব্যস্ত। মুঠোফোনে গতকাল যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে বাবুল আক্তার কথা বলতে পারছেন না বলে খুদে বার্তা পাঠান এবং দুঃখ প্রকাশ করেন। ওই খুদে বার্তায় তিনি বলেন, মাকে ছাড়া গতকালই ছেলে প্রথম তার জন্মদিন পালন করেছে। তিনি তাঁর সন্তানদের নিয়ে ব্যস্ত থাকায় কথা বলতে পারছেন না।

বিশেষ সুযোগ রেখেই বাল্য বিবাহ নিরোধ বিল পাস

বিভিন্ন মহলের আপত্তির মুখে বিশেষ প্রেক্ষাপটে কম বয়সে ছেলেমেয়েদের বিয়ের বিধান রেখে বাল্যবিবাহ নিরোধ বিল ২০১৭ গতকাল সোমবার সংসদে পাস হয়েছে। বিলের ওপর বিরোধীদলীয় সদস্যের দেওয়া জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানো ও সংশোধনী প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিল-সম্পর্কিত নোটিশের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সাংসদ ফখরুল ইমাম বলেন, সংবিধানে বলা আছে কারও বয়স ১৮ হলে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হবেন। প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা ভোটার। ১৮ বছরের আগে কেউ ভোটার হতে পারেন না। সুতরাং এই আইনে প্রাপ্তবয়স্কের যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তা তাঁর কাছে স্পষ্ট নয়।
ফখরুল ইমাম প্রাপ্তবয়স্কের সংজ্ঞার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেন। একই দলের সেলিম উদ্দিন এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে প্রতিমন্ত্রী এ প্রশ্নের কোনো ব্যাখ্যা দেননি। এই বিল পাসের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিশেষ বিধান বাতিলে আমরা অনেক চেষ্টা করলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিশেষ বিধান বহাল থাকছেই। এই বিধান কোনোভাবেই বাল্যবিবাহ নিরোধে সহায়ক হবে না।’ এ বিষয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, ‘আইনে বিশেষ বিধান রেখে বিল পাস করায় অামরা খুব অবাক হইনি। তবে বিষয়টি খুবই লজ্জা ও দুর্ভাগ্যজনক।’ আলোচিত এই বিলটি গত ৮ ডিসেম্বর সংসদে উত্থাপিত হয়। পরে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটি বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান শুধু মেয়েদের জন্য নয়, ছেলেদের জন্যও প্রযোজ্য করার প্রস্তাব করে। এর আগে মন্ত্রিসভা অনুমোদিত প্রস্তাবিত আইনে এই বিধান শুধু মেয়েদের জন্য প্রযোজ্য ছিল। সংসদীয় কমিটি ৯ ফেব্রুয়ারি বিলের প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করে। মন্ত্রণালয়ের উত্থাপিত বিলের ১৯ দফায় বলা হয়েছে, এই আইনের অন্যান্য বিধানে যা কিছু থাকুক না কেন, কোনো বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপ্রাপ্তবয়স্ক কোনো নারীর সর্বোত্তম স্বার্থে আদালতের নির্দেশক্রমে এবং মাতা-পিতার সম্মতিক্রমে বিধি দ্বারা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিয়ে সম্পাদিত হলে তা এই আইনের অধীন অপরাধ বলে গণ্য হবে না। এ ক্ষেত্রে সংসদীয় কমিটি ‘কোনো বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপ্রাপ্তবয়স্ক কোনো নারীর’ শব্দগুচ্ছ বাদ দিয়ে ‘বিধি দ্বারা নির্ধারিত কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্কের’ এবং ‘মাতা-পিতা’ শব্দের পরিবর্তে ‘পিতা-মাতা বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিভাবকের’ শব্দগুচ্ছ যোগ করার সুপারিশ করে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ বলেন, বাল্যবিবাহ সারা বিশ্বের জন্য একটি উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে এই সমস্যাটি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বাল্যবিবাহ মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এটি বন্ধে একটি যুগোপযোগী আইন থাকা জরুরি। দেশের মানুষ বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে জানে, কিন্তু মানে না। পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক নারী বা পুরুষ বাল্যবিবাহ করলে সর্বোচ্চ এক মাসের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। বিলটি আইন হিসেবে কার্যকর হলে ব্রিটিশ আমলে প্রণীত ‘চাইল্ড ম্যারেজ রেসট্রেইন্ট অ্যাক্ট-১৯২৯’ বাতিল হয়ে যাবে।  বাল্যবিবাহ নিরোধ-সংক্রান্ত বিলটি পাস হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের চেয়ারম্যান এমরানুল হক চৌধুরী বলেন, আইনে এই বিশেষ বিধান থাকায় শিশুদের সব সুযোগ নষ্ট করে দেওয়া হলো। বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘মহিলা আইনজীবী সমিতি শেষ চেষ্টা হিসেবে এখন আদালতের আশ্রয় নেবে। অন্যান্য নারী ও শিশু সংগঠনগুলোও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবে এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি মোকাবিলা করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’ তিনি মনে করেন, এই আইনের অপব্যবহার বাড়বে এবং বাল্যবিবাহ ঠেকানো যাবে না।

হত্যার পর তিন ঘাতককে ঢাকায় পাঠান কাদের

সাংসদ মনজুরুল ইসলাম ওরফে লিটনকে হত্যার জন্য সাবেক সাংসদ আবদুল কাদের খান তিন ঘাতককে মোট ৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। হত্যা করে ফিরে আসার পর তিনি ঘাতকদের জিলাপি খাইয়ে নিজ গাড়িতে করে বগুড়া শহরে নিয়ে যান। এরপর বাসে করে ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। সাংসদকে নিজ হাতে গুলি করে হত্যাকারী মেহেদী হাসান পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য দিয়েছেন। এই জিজ্ঞাসাবাদে মেহেদী কাদের খানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হওয়া থেকে শুরু করে পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ-সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সাহবাজ গ্রামে সাংসদ মনজুরুল ইসলামকে ঘরে ঢুকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় ইতিমধ্যে চার আসামি কাদের খান, মেহেদী, শাহিন ও আনারুল ইসলাম (রানা) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মেহেদী জানিয়েছেন, কাদের খান যে দীর্ঘদিন ধরে সাংসদ মনজুরুলকে হত্যার পরিকল্পনা করছিলেন, তা হত্যাকাণ্ডের সময় থাকা তিনজন ছাড়াও আরও অন্তত পাঁচজন জানতেন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগের সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সহ-দপ্তর সম্পাদক চন্দন কুমার রায়, তাঁর ফুফাতো বোনের জামাই সুবল, কাদেরের একসময়কার একান্ত সহকারী শামসুজ্জোহা এবং উত্তর সমস কবিরাজটারি এলাকার জাহিদ ও সামাদ। মেহেদীর বক্তব্য অনুযায়ী, জাহিদ ও সামাদ অনেক আগে থেকেই কাদেরের সঙ্গে থাকতেন। শাহীন ও রানাকে কাদেরের কাছে নিয়ে যান জাহিদ। আর শাহীন তাঁকে কাদেরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। মেহেদী এক বছর আগে ঢাকার বাসাবো এলাকায় রিকশা চালাতেন। একদিন তিনি বাড়িতে গেলে শাহীন জানান, তিনি সাবেক সাংসদ কাদেরের সঙ্গে কাজ করেন। শাহীন একদিন তাঁকেও কাদেরের বাড়িতে নিয়ে যায়। মেহেদী জিজ্ঞাসাবাদে বলেন, এর কয়েক দিন পর কাদের তাঁদের আবারও ডাকেন এবং এমনভাবে পরিকল্পনা করতে বলেন, যাতে সাংসদ মনজুরুলকে হত্যার পর তাঁরা নিরাপদে বাড়িতে আসতে পারেন। এরপর একদিন সন্ধ্যাবেলা কাদের আবার তাঁদের ডাকেন। সেখানে গিয়ে চন্দন, সুবল ও আরেক ব্যক্তিকে দেখতে পান মেহেদী।
মেহেদী পুলিশকে জানান, হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ফেরার জন্য তাঁদের একটি মোটরসাইকেল কিনে দেন কাদের খান। তবে ওই বাড়িতে তাঁদের আনাগোনার বিষয়টি আশপাশের লোকজন পছন্দ করতেন না। বিষয়টি বোঝার পর কাদের খান নভেম্বর মাসের শেষ দিকে তাঁদের অস্ত্র ও গুলি দিয়ে নলডাঙ্গায় তাঁর ধান-চালের গুদামে পাঠিয়ে দেন। গুদামটি দেখাশোনা করতেন তাঁর একসময়কার এপিএস শামসুজ্জোহা। কাদের সেখানে তাঁদের অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ দিতেন। ওই গুদামে থাকার সময় তাঁরা মাঝেমধ্যে ছিনতাই করতে বের হতেন বলে মেহেদী পুলিশকে জানিয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে সুন্দরগঞ্জের বড়ুয়াহাটের একজন এবং গাইবান্ধা শহরের ইন্দারপাড়ের একজনও থাকতেন। তাঁরা সুন্দরগঞ্জ এলাকায় পাঁচ-ছয়টি ছিনতাইও করেছেন। মেহেদী বলেন, একদিন কাদের খান ফোন দিয়ে তাঁদের বগুড়ায় আসতে বলেন। তাঁরা আসার পর কাদের তাঁদের মনজুরুলকে হত্যার পরিকল্পনা বুঝিয়ে দেন। মেহেদীরা তিনজনই গাইবান্ধা শহরের একটি বোর্ডিং থেকে সুন্দরগঞ্জে সাংসদ মনজুরুলের বাড়ির আশপাশে যাতায়াত করতে থাকেন। মেহেদী বলেন, ৩০ ডিসেম্বর তাঁরা একবার লিটনের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছার পর কাদের ফোন দিয়ে ফিরে আসতে বলেন। হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে মেহেদী বলেন, মনজুরুলের বাড়িতে যাওয়ার পর শাহীন ও রানা ঘরে ঢোকেন। তাঁরা সাংসদের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন। মেহেদী তখন ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে আশপাশের পরিস্থিতি দেখেন। বাড়ির সামনে মনজুরুলের গাড়িচালক গাড়ি পরিষ্কার করে ঘরে ঢোকা পর্যন্ত তিনি অপেক্ষাÿকরেন। তারপর তিনি ঘরে ঢুকলে শাহীন তাঁকে ইশারা করেন। তিনজনের কাছে তিনটি অস্ত্র থাকলেও ভালো অস্ত্রটি মেহেদীর কাছে থাকায় তিনিই গুলি করেন সাংসদকে। মেহেদী বলেন, ঘরে তখন কেউ ছিল না। প্রথম গুলিটি লক্ষভ্রষ্ট হয়ে সাংসদের হাতে লাগে। এরপর তিনি কাছ থেকে চারটি গুলি করে বের হয়ে আসেন। বেরিয়ে আসার পর আশপাশের লোকজন যাতে কাছে ঘেঁষতে না পারেন,
সে জন্য রানা ও শাহীন দুটি ফাঁকা গুলি করেন। এরপর তাঁরা মোটরসাইকেলে ওঠেন। সেখান থেকে তাঁরা নলডাঙ্গা ও ধোপাডাঙ্গা হয়ে ছাপরহাটিতে কাদেরের বাড়িতে যান। হত্যার খবর জানালে কাদের খান তাঁদের পানি ও জিলাপি খাওয়ান এবং প্রত্যেককে ১৫ হাজার টাকা করে দেন। এরপর নিজ গাড়িতে করে বগুড়া শহরে নিয়ে যান। সেখানে হোটেল আকবরিয়ায় কাদের খান, তাঁর গাড়িচালক হান্নানসহ তাঁরা তিনজন খাওয়াদাওয়া করেন। এরপর বাসে করে তাঁদের ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মেহেদী জানান, গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক দিন আগে কাদের খান তাঁদের আবারও অন্য একজনকে হত্যার জন্য ডেকে পাঠান। তাঁরা হত্যার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েও ফিরে আসেন। মেহেদীকে জিজ্ঞাসাবাদকারী একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, মনজুরুলের অবস্থান সম্পর্কে চন্দন কাদেরকে তথ্য দিতেন। কিন্তু চন্দন সেই তথ্য কোথা থেকে কীভাবে পেতেন, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। চন্দন কুমার রায় এখন ভারতে পলাতক। গতকাল বিকেলে তাঁর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয় প্রথম আলোর। তিনি কলকাতায় আছেন বলে এই প্রতিবেদককে জানান।

সাড়ে ১১ ঘণ্টা পর উদ্ধার ‘আলী বাহাদুর’

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের নতুন পাড়া এলাকার মরা পদ্মা নদীর খালের পানিতে গতকাল সোমবার সকাল আটটার দিকে গোসল করাতে নিয়ে গেলে বালুর চরে আটকে যায় হাতি ‘আলী বাহাদুর’। অবশেষে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল হাতিটি উদ্ধার করে। দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, হাতিটি দেখতে আশপাশে উৎসুক মানুষের ভিড় পড়ে আছে। এ সময় হাতির মাহুতসহ স্থানীয় লোকজনকে হাতিটি উদ্ধার করতে ব্যস্ত দেখা যায়। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করেও উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। বরং ধীরে ধীরে হাতির পা দুটো বালুর চরে আটকে যাচ্ছে। হাতির মাহুত মো. শান্ত আলী বলেন, তাঁরা ফরিদপুরের টেকেরহাটের ‘কমলা সার্কাস’ অনুষ্ঠানে এসেছেন। রোববার সকালে হাতিটি নিয়ে টেকেরহাট থেকে তাঁরা বিভিন্ন স্থান ঘুরে ঘুরে খোরাক জোগাতে টাকা তুলেছেন। তিনিসহ সহকর্মী মো. বাবুকে সঙ্গে করে রোববার বিকেলে গোয়ালন্দে এসে পৌঁছান। রাতে গোয়ালন্দে থাকার পর গতকাল সকাল আটটার দিকে উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের নতুন পাড়া এলাকায় যান। সেখানকার মরা পদ্মা নদীর একটি শুকনা খালের অল্প পানিতে হাতিটিকে গোসল করাতে নামানো হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে হাতিটির ডান পাশের পা দুটি বালুতে আটকা পড়ে। যতই নড়াচড়া বেশি করে, ততই পা দুটি দেবে যায়। এভাবে বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টার পর ব্যর্থ হয়ে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতা চান মাহুত। স্থানীয় লোকজন প্লাস্টিকের পাইপ ও বাঁশ দিয়ে হাতিটির পায়ের নিচ থেকে বালু সরিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা করেও সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত ব্যর্থ হন। হাতির মালিক রবিউল ইসলামকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। উদ্ধারকাজে ব্যস্ত স্থানীয় আবদুল আউয়াল বলেন, সকাল থেকে তাঁরা দুই দফায় চার-পাঁচজন করে হাতিটি উদ্ধারে কাজ করছেন। কিন্তু বেলা গড়িয়ে গেলেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এখন বিকল্প উপায় ছাড়া কোনোভাবেই হাতিটি উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। গোয়ালন্দ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বরুণ কুমার দত্ত ঘটনাস্থল ঘুরে এসে বলেন, ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টায় সহজে হাতি অসুস্থ হবে না। তবে দ্রুত এটি উদ্ধার করা দরকার। কিন্তু এ ক্ষেত্রে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের হাতি উদ্ধারে করণীয় সম্পর্কে তাদের কিছুই করার নেই। এমনকি এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো তাদের কোনো সরঞ্জামাদি নেই। জেলার প্রাণিসম্পদ বিভাগ বা বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা গণেশ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো তাঁদের কোনো ব্যবস্থা নেই। দ্রুত হাতিটি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। এ ক্ষেত্রে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁদের থেকে সহযোগিতা দেওয়া হবে। তবে হাতিটি উদ্ধারে তিনি রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেন। গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসান হাবীব বলেন, বিষয়টি জেলা প্রাণিসম্পদ, বন বিভাগ, ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য বিভাগকে জানানো হয়েছে। এ মুহূর্তে হাতিটি উদ্ধারে খালের পানিনিষ্কাশনে সেখানে শ্যালো ইঞ্জিন বসানো হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুত হাতিটি উদ্ধার করা সম্ভব হবে। জেলা বন কর্মকর্তা আজাদ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘এ ধরনের সংবাদ আমার জানা নেই। এ ছাড়া আমাদের জনবল খুবই কম। মাত্র দুজন লোক দিয়ে চলে বন বিভাগের কার্যক্রম। এ ক্ষেত্রে আমাদের করার কিছুই নেই।’ সর্বশেষ রাত সাড়ে সাতটার দিকে হাতিটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বছরে ১৪৪ একর জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

ভোলায় প্রায় ৩৫০ একর কৃষিজমিতে গড়ে উঠেছে ৮৫টি ইটভাটা; দিনে দিনে বাড়ছে পরিধি। এসব ভাটায় প্রতিবছর প্রায় ১৪৪ একর কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে জমির উর্বরতা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক প্রশান্ত কুমার সাহা প্রথম আলোকে বলেন, আবাদি জমির মাটি দিয়ে ভাটার চাহিদা মেটানো হচ্ছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে ফসলের উৎপাদন।
ইটভাটায় জমির উর্বর অংশের মাটির ব্যবহার বন্ধ করা না হলে এ অঞ্চলে কৃষি বিপর্যয় ঘটতে পারে। ভাটা নির্মাণে কৃষি বিভাগের ছাড়পত্র দরকার হলেও ভোলায় কেউ ছাড়পত্র নেয়নি। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩-এ উল্লেখ আছে, ইটভাটায় ফসলি জমির ওপরের মাটি ব্যবহার করলে প্রথমবারের জন্য ২ বছরের কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। দ্বিতীয়বার একই অপরাধের শাস্তি ২ থেকে ১০ বছরের জেল এবং ২ থেকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা। একই আইনে ফসলি জমি, জনবসতিপূর্ণ এলাকা, সংরক্ষিত এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা, বনভূমি, জলাভূমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করলে শাস্তির বিধান রয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, ভোলায় ৮৫টি ইটভাটা রয়েছে। একেকটি ইটভাটার দখলে রয়েছে ২ একর থেকে ১২ একর জমি। ৮৫টি ভাটায় স্থায়ী জমি রয়েছে ৩৫০ একর। প্রতিবছরই ভাটাগুলো আশপাশের জমি কিনে তাদের পরিধি বাড়াচ্ছে। গত ২০ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরেজমিনে অন্তত ২০টি ইটভাটায় গিয়েছেন এ প্রতিবেদক। এ সময় দেখা যায়, সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশায় পাঙাশিয়ার ফাইভ স্টার ব্রিকস, তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের সাঈদ ব্রিকস, শম্ভুপুরের সাকিব ব্রিকস, তুলি ব্রিকস, লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চর উমেদের সোনালী ব্রিকস, ফরাজগঞ্জের নবনী ব্রিকস এবং বোরহানউদ্দিন উপজেলার ওএম ব্রিকস ঘিরে রয়েছে ফসলি জমি। ভাটার জমিতেও আগে চাষাবাদ হতো বলে জানান স্থানীয় ব্যক্তিরা। একইভাবে চরফ্যাশন উপজেলার চর মানিকা সংরক্ষিত বনের পাশে কৃষিজমিতে গড়ে উঠেছে আকন ও রাত্রি ব্রিকস। এসব ভাটার আশপাশে রয়েছে জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভোলা কার্যালয় থেকে জানা গেছে, জেলায় আবাদি জমির পরিমাণ ১ লাখ ৯২ হাজার ৬৮২ হেক্টর। এক ফসলি জমির পরিমাণ ৫৪ হাজার ২২ হেক্টর। পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন,
কেবল একফসলি জমিই ইটভাটার জন্য উপযুক্ত। আর নীতিমালা অনুযায়ী, একটি ভাটার আওতায় একফসলি দুই একরের বেশি জমি রাখা যাবে না। প্রতিবছর নষ্ট হচ্ছে ১৪৪ একর জমি ৩০ জন মাটি বিক্রেতা ও ইট বানানোর কারিগরের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভোলার মাটি বেশির ভাগ বেলে ও দোআঁশ। ভোলায় এক মৌসুমে একটি ভাটায় ইট বানানো হয় গড়ে ৭০ লাখ। সে হিসাবে ৮৫টি ভাটায় ৫৭ কোটি ৪০ লাখ ইট উৎপাদন হচ্ছে। এই পরিমাণ ইট বানাতে প্রতিবছর ১৪৩ দশমিক ৫ একর জমি নষ্ট হচ্ছে। অনুমোদন আছে ২৪টির পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, ভোলার ৮৫টি ইটভাটার মধ্যে ৫১টি আধুনিক প্রযুক্তির (জিগজ্যাগ)। তবে বর্তমানে মাত্র ২৪টি ভাটার অনুমোদন আছে। পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, অবৈধ ইটভাটায় প্রায়ই অভিযান চালানো হচ্ছে। অনেক ইটভাটা ভেঙেও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পরে তারা আবার চুরি করে ইট উৎপাদন করে। জেলা প্রশাসক মোহাং সেলিম উদ্দিন বলেন, সভ্যতা ও উন্নয়নের জন্য ইট লাগবেই। বিকল্প ইট, পরিবেশসম্মত ইট তৈরির পথ দেখানো উচিত পরিবেশবাদীদের। মোদ্দাকথা হলো, ইট তৈরিতে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়ম মানতে হবে।

নারীদের বিপণিবিতান পুরুষদের দখলে!

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার বুড়িরবাজার মহিলা বিপণিবিতানের দোকানগুলো পুরুষেরা ব্যবহার করছেন। বিপণিবিতানের আটটি দোকানের মধ্যে মাত্র একটি দোকানে নারী ব্যবসায়ী আছেন। আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের বুড়িরবাজার হাটে নারীদের জন্য একটি বিপণিবিতান (উইমেন্স কর্নার) নির্মাণ করা হয়। নিয়মানুযায়ী মাসিক মাত্র ১০০ টাকা ভাড়ার বিনিময়ে এ বিপণিবিতানের ব্যবসায়ী ও দোকানদার হবেন শুধু নারীরা। সরকার দরিদ্র নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে তাঁদের উন্নয়নের জন্য এ উদ্যোগ হাতে নেয়। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে এ উইমেন্স কর্নার করা হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা কার্যালয় সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এবং মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, বুড়িরবাজার মহিলা বিপণিবিতানে রয়েছে আটটি দোকান। এখানকার অধিকাংশ দোকান প্রায়ই বন্ধ থাকে। এর মধ্যে একটি দোকানে একজন নারী দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছেন। আর বাকি সাতটি দোকান রয়েছে পুরুষদের দখলে। সেখানে বাসন্তী লেডিজ টেইলার্স নামের দোকানঘরটি বুড়িরবাজারের ব্যবসায়ী হারিছ মিয়া গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছেন।
হারিছ মিয়া বলেন, মহিলা বিপণিবিতানের ঘর খালি থাকায় তিনি কিছুদিন ধরে তা গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছেন। হামিদা বেগমের নামে ‘ভাই ভাই লন্ড্রি ঘর’ বরাদ্দ নিয়ে দীর্ঘদিন ব্যবসা করছেন মোহাম্মদ আলী। জোবেদ মিয়ার দখলে রয়েছে জেসমিন লেডিজ টেইলার্স। মর্জিনা বস্ত্রালয় নামের দোকানে গুদাম করেছেন মৃণাল কান্তি। জনৈক বেবীর নামে বরাদ্দ হাজেরা মেডিকেল হলে ব্যবসা করছেন পল্লিচিকিৎসক জয়নাল আবেদীন। সন্ধ্যা রানীর বরাদ্দ নেওয়া দোকানে আছেন শ্যামল নামের একজন ইলেকট্রিশিয়ান। পল্লিচিকিৎসক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘বেবী আমার খালা। তিনি না থাকায় আমি সেখানে বসে মানুষজনকে চিকিৎসা দিই।’ শুধু দিপালী বস্ত্রালয়ে ব্যবসা করছেন দিপালী রানী রায়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা কার্যালয়ের কমিউনিটি অর্গানাইজার (সিও) রেজাউল করিম গতকাল মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, দোকানগুলো এখন যে পুরুষেরা ব্যবহার করছেন তাঁরা কোনো না কোনোভাবে বরাদ্দ গ্রহণকারী নারীদের আত্মীয় বা পরিচিত। তবে বরাদ্দ পাওয়া নারীদের দোকানে ফিরে আসার জন্য নোটিশ দেওয়া হবে। তাঁরা যদি ব্যবসা না করতে চান তবে নতুনদের এ দোকান বরাদ্দ দেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেবেন। বরাদ্দ পাওয়া নারীরা যাতে দোকানগুলোতে ফিরে আসেন সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বই ও প্রকাশনার ইতিকথা

১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারির পর পূর্ব বাংলার মানুষের জাতীয়তাবোধে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়। যে যে ধর্মের অনুসারীই হোক, তারা বাঙালি জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়। পাকিস্তান আন্দোলনের সময় বাঙালি মুসলমান মুসলিম জাতীয়তাবাদে অনুপ্রাণিত হয়েছিল। বাহান্নর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সময় তারা—একটি ছোট সাম্প্রদায়িক অংশ বাদে—বাঙালি জাতীয়তাবাদে দীক্ষিত হয়। এবং তার প্রকাশ ঘটে মাত্র দুই বছর পর পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক সাধারণ নির্বাচনের সময়। মুসলিম জাতীয়তাবাদী ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে তারা বর্জন করে এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী যুক্তফ্রন্টকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে। যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল বিখ্যাত ২১ দফা। যুক্তফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে পশ্চিম পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শাসক চক্র বিচিত্র রকম ষড়যন্ত্র করে। তা সত্ত্বেও ওই সরকার নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে বেশ কিছু প্রগতিশীল পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
মুখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার, আওয়ামী লীগের সভাপতি মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং শহীদ বরকতের মা হাসিনা বেগম যৌথভাবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন। সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলা একাডেমি। একুশে ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। তা ছাড়া আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যা বাঙালি জাতীয়তাবাদপ্রসূত। যুক্তফ্রন্টের প্রধানতম দল ছিল আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন আতাউর রহমান খান। তিনি মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ১৯৫৬-এর সেপ্টেম্বর থেকে আইয়ুব খানের সামরিক শাসন জারির দিন পর্যন্ত। আতাউর রহমানের সরকারের সময় বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার আরও বিকাশ ঘটে। বাঙালির শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির উন্নতির লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দেওয়া হয়। তাঁর সরকারের সময়ই ১৯৫৭-এর ফেব্রুয়ারিতে আওয়ামী লীগের সভাপতি মাওলানা ভাসানী আয়োজিত ঐতিহাসিক কাগমারী সাংস্কৃতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় টাঙ্গাইলে। আওয়ামী লীগের আতাউর রহমান সরকারের সময়ের সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঘটনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে তিন দিনব্যাপী পুস্তক প্রদর্শনী: বাংলাদেশের প্রথম বইমেলা। সেটি ছিল ঢাকার বইয়ের প্রকাশক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ আয়োজন। তখন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ছিলেন সুলতানউদ্দিন আহমদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় ১৯২০ দশক থেকেই গভর্নর সুলতানউদ্দিন ও মুখ্যমন্ত্রী আতাউর রহমান বন্ধু ছিলেন। সলিমুল্লাহ হলের পুস্তক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন গভর্নর সুলতানউদ্দিন। সেটি ছিল পাকিস্তানের রাজনীতির খুবই খারাপ সময়। তাঁর উদ্বোধনী ভাষণে গভর্নর বলেছিলেন: ‘বর্তমান দুঃখজনক পরিবেশে আমাদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। সমগ্র দুনিয়ায় যে সব সভ্যতা বিকাশ লাভ করেছে, তাদের কোনো না কোনো সংকটের সম্মুখীন হতে হয়েছে।
বাধাবিঘ্নের ফলে সাংস্কৃতিক কার্যকলাপ নতুনভাবে উৎসাহ লাভ করে থাকে। কোনোরূপ সংকট না থাকলে কোনো সভ্যতার অভ্যুদয় হতো না।’ সেকালের রাজনীতিবিদেরা শুধু উচ্চশিক্ষিতই ছিলেন না, তাঁরা অনেকেই যথেষ্ট পড়াশোনা করতেন। বাঙালি জাতির ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি সম্পর্কেও সুলতানউদ্দিনের পড়াশোনা ছিল। সেদিন তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন, পূর্ব বাংলার শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা একদিন একটি নতুন সভ্যতার জন্ম দেবেন। পুস্তক প্রদর্শনীর সমাপনী দিবসে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই বইমেলার তিন সপ্তাহের মধ্যে পাকিস্তানে আবির্ভাব ঘটে সামরিক স্বৈরশাসনের। ঢাকার প্রকাশনা শিল্পের ইতিহাস দীর্ঘ—দেড় শ বছরের। এখানকার প্রকাশনার দ্বিতীয় অধ্যায়ের সূচনা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর চল্লিশের শেষ দিক থেকে। পঞ্চাশের দশকে তা একটি আকার ধারণ করে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আগে এদিকের বাঙালি মুসলমানদের যেসব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান কলকাতায় ছিল, তাঁরা অনেকে সেখানকার ব্যবসা গুটিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। যাঁরা তখন ঢাকায় এসে প্রকাশনাশিল্পের গোড়াপত্তন করেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখ করতে হয় দুই বন্ধুর নাম। তাঁরা হলেন আয়নুল হক খান ও মোহাম্মদ নাসির আলী। তাঁরা শুরু করেন তাঁদের নওরোজ কিতাবিস্তান,
বাংলাবাজারে। বাংলাবাজারে তখন আরও একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশক ছিলেন, তিনি আমাদের মানিকগঞ্জ শহরের অধিবাসী এবং আমার বাবার শৈশবের বন্ধু অনিলচন্দ্র ঘোষ। তাঁর ছিল প্রেসিডেন্সি লাইব্রেরি। প্রেসিডেন্সি লাইব্রেরির প্রধান কার্যালয় ছিল ঢাকা, তবে কলকাতার কলেজ স্কয়ারেও একটি শাখা ছিল। অনিল ঘোষ ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতাসংগ্রামী। জেল-জুলুম খেটেছেন বহুবার। নিজেও লেখক ছিলেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বাংলা থেকে রবীন্দ্রনাথের ওপর প্রকাশিত প্রথম বইটিই তাঁর। সলিমুল্লাহ হলের সেই প্রথম বইমেলায় যেসব প্রকাশনা সংস্থা অংশগ্রহণ করেছিল, তাদের মধ্যে ছিল প্রেসিডেন্সি লাইব্রেরি, নওরোজ কিতাবিস্তান, ইস্ট বেঙ্গল পাবলিশার্স, ইস্ট বেঙ্গল বুক সিন্ডিকেট, কোহিনূর লাইব্রেরি, পাকিস্তান বুক করপোরেশন, প্যারাডাইজ লাইব্রেরি, ইসলামিয়া লাইব্রেরি, মোহাম্মদী বুক হাউস, লিয়াকত পাবলিশিং হাউস, আইডিয়েল পাবলিকেশনস, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, সরোজ লাইব্রেরি, সোবহানিয়া লাইব্রেরি প্রভৃতি। ওই সব প্রকাশনীর নাম উল্লেখ করলাম এ জন্য যে তারা আমাদের পথনির্মাতা। তাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয়। আজ আমরা বিশাল বইমেলা করছি, শত শত প্রকাশক অংশগ্রহণ করছেন। এই সময় সেদিনের সেই অল্পসংখ্যক প্রকাশকের ভূমিকা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা আমাদের কর্তব্য। সেদিন ঢাকা শহর ছিল পরিসরে ছোট। সাংস্কৃতিক ঘটনা ঘটত কম। যখন শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির কোনো অনুষ্ঠান হতো, তখন তা নগরবাসীর চোখে পড়ত। পুস্তক-প্রদর্শনী বলা হলেও, তাতে বই বিক্রির ব্যবস্থাও করেছিলেন অংশগ্রহণকারী প্রকাশকেরা। পঞ্চাশের দশকে দেখেছি, অধিকাংশ গল্প-উপন্যাস-নাটক-কবিতার বইয়ের আকার হতো ক্রাউন। ডিমাই আকারে বই প্রকাশের প্রথা ষাটের দশকের প্রথম দিক থেকে চালু হয়। সেকালের প্রকাশকেরা লেখকদের সঙ্গে, সততার সঙ্গে ব্যবসা করতেন।
বইয়ের নামপত্রে উল্লেখ থাকত: প্রথম সংস্করণ ১২৫০ কপি, দ্বিতীয় মুদ্রণ ১১৫০ কপি, তৃতীয় সংস্করণ ১২০০ কপি প্রভৃতি। এখন প্রকাশনাশিল্প ঢাকাসর্বস্ব হয়ে উঠেছে। চট্টগ্রাম ছাড়া কোনো বড় জেলা শহরে সাহিত্যের বইয়ের বড় প্রকাশনা বিশেষ দেখা যায় না। কিন্তু চল্লিশ ও পঞ্চাশের দশকেও দেখা যায় অনেক জেলা শহর থেকে পাঠ্যবই তো বটেই, সাহিত্যের বইও প্রকাশিত হয়েছে। অনেকেই ছিলেন ঢাকার প্রকাশকদের বইয়ের নামকরা পরিবেশক। চট্টগ্রাম, বরিশাল, রংপুর, বগুড়া, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট, দিনাজপুর, কুমিল্লা প্রভৃতি শহরে বইয়ের প্রকাশক, পরিবেশক ও বিক্রয়কেন্দ্র ছিল বেশ কিছুসংখ্যক। অনুমান করি, ঢাকার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে তারা প্রকাশনার ব্যবসা গুটিয়ে নেয়। একুশের বইমেলায় জেলা শহরের খ্যাতিমান প্রকাশক কজন আছেন? ষাটের দশক পর্যন্ত কুমিল্লা ছিল ছোট্ট, স্নিগ্ধ ছায়াচ্ছন্ন মনোরম মহকুমা শহর। কিন্তু সেখানকার সংস্কৃতিচর্চার মান ছিল উঁচু। কুমিল্লাকে বলা হতো ব্যাংক এবং ট্যাংকের (পুকুরের) শহর। কিন্তু সেখানেও কয়েকজন প্রকাশক ছিলেন। তার মধ্যে পপুলার বুক এজেন্সির কথা বলা যায়। তার স্বত্বাধিকারী ছিলেন তড়িৎ মজুমদার—মোতাহের হোসেন চৌধুরীদের বন্ধু। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আগেই তিনি কলকাতা গিয়ে বইয়ের ব্যবসা শুরু করেন। তিরিশের দশকেই কুমিল্লায় প্রকাশনা শুরু করেছিলেন পূর্বাশা পত্রিকার সম্পাদক ও কবি সঞ্জয় ভট্টাচার্য্য এবং তাঁর ভাই অজয় ভট্টাচার্য্য। তাঁদের প্রকাশনার নাম ছিল পূর্ব্বশা প্রকাশনী লিমিটেড। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর নয়নচারা গল্পগ্রন্থটির প্রকাশক সঞ্জয় ভট্টাচার্য্য। নয়নচারা প্রকাশিত হয় চল্লিশের মাঝামাঝি। বইয়ের প্রসঙ্গে সাধারণ পাঠাগারের কথাও আসে। একসময় পূর্ব বাংলায় বহু সাধারণ পাঠাগার ছিল। ১৯৫০ নাগাদ সেগুলোর অধিকাংশই বন্ধ হয়ে যায়। ব্রিটিশ আমলে পৌরসভা ও জেলা বোর্ড থেকে সাধারণ পাঠাগারগুলোকে কিছু অর্থসাহায্য দেওয়া হতো। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর অর্থের অভাবে সেই সাহায্য বন্ধ হয়ে যায়। যুক্তফ্রন্ট সরকারের সময়ই আবার তা চালু হয়। ১৯৫৪-৫৫ অর্থবছরে প্রথম পাবলিক লাইব্রেরির জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ১৯৫৫-তে শেরেবাংলা ফজলুল হক, মাওলানা ভাসানী ও মুখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকারের উদ্যোগে ঢাকায় ‘কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি’র ভিত্তি স্থাপন করা হয়। ১৯৫৫-তে ১৫টি জেলার সাধারণ পাঠাগারকে দুই হাজার টাকা করে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই বছরই বেসরকারি পাঠাগারগুলোর জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রাদেশিক শিক্ষাসচিব বলেছিলেন: ‘এই লাইব্রেরি শুধু ঢাকার নাগরিকদের অধ্যয়নের সুযোগ দান করিবে না; বরং ইহা হইবে এই দেশের সকল লাইব্রেরির প্রাণকেন্দ্র।’ প্রকাশনাশিল্পের উন্নতির জন্য সাধারণ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা ও তার উন্নতি ঘটানো অতিপ্রয়োজন। কোনো জাতির সামগ্রিক উন্নতির প্রতিফলন ঘটে সেই জাতির বইপত্রে—দালানকোঠা, ব্রিজ-কালভার্ট প্রভৃতি অবকাঠামোর সংখ্যা দিয়ে নয়। সৃষ্টিশীল-মননশীল ও গবেষণামূলক দুই ধরনের বই-ই সমান গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতার পর আমাদের প্রকাশনাশিল্প বিকশিত হয়েছে, যথেষ্ট সম্প্রসারিত হয়েছে। এখন তার মানের বিষয়ে দৃষ্টি দিতে হবে, পরিমাণ ও সংখ্যা দিয়ে সবকিছুর উৎকর্ষ বিচার্য নয়।
সৈয়দ আবুল মকসুদ: লেখক ও গবেষক।