Wednesday, August 28, 2019

ভারত যা বলছে বনাম কাশ্মীরের যা ঘটছে

চলতি মাসের ৫ তারিখে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে ভারত সরকার। এর ফলে বিশেষ মর্যাদা হারায় জম্মু-কাশ্মীর। এরপর থেকেই উত্তাল কাশ্মীর। থমথমে কাশ্মীরে পুলিশের সঙ্গে একের পর এক সংঘর্ষ লেগেই আছে। জম্মু-কাশ্মীরে রাজনৈতিক নেতাসহ শতাধিক মানুষকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

গোটা জম্মু-কাশ্মীরে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রাখা হয়েছে। মোবাইল সেবা ও ইন্টারনেট নেই। এর ফলে নানা ধরনের সংকটে পড়েছে রাজ্যটি। পাওয়া যচ্ছে না ওষুধসহ শিশুদের খ্যাদ্যও। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করছে রাজ্যটিতে কোনো ধরনের সহিংস আন্দোলন বা কোনো সমস্যা নাই। তবে বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে যে ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে তা ভিন্ন কথাই বলেছে। আসুন একবার দেখে নেই কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে ভারত সরকার কী বলেছে এবং কাশ্মীরে আসলে কী ঘটছে।

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে দেশ দু’টির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কি চলে আসছে। এর আগে ১৯৪৭ সালের পূর্বে ভারতীয় উপমহাদেশ শাসন করতো ব্রিটিশরা। তারা পাকিস্তান এবং ভারতকে দু’টি স্বাধীন দেশে ভাগ করেন। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশটিকে পাকিস্তান আর হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশটিকে ভারতে রেখে দু’টি স্বাধীন অংশে ভাগ করেন। অন্যদিকে কাশ্মীরকে রাখা হয় আলাদা স্বাধীন দেশ হিসেবে। কিন্তু কয়েক দিন পরই কাশ্মীরের এক হিন্দু রাজা ভারতের নিকট আনুগত্য স্বীকার করেন। এরপর থেকেই শুরু হয় কাশ্মীর সংকট। শুরু হয় বিতর্ক। পাকিস্তান ও ভারত উভয়ই এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ দাবি করে আসছে বহুদিন ধরে।

কাশ্মীর যখন ভারতের সঙ্গে যোগ দেয় তখনই ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা সৃষ্টি করা হয়। এ ধারার ফলে কাশ্মীর স্বায়ত্বশাসন পায়। রাজ্যটি শাসকবর্গ নিজদের ইচ্ছায় নিজেদের আইন তৈরি করতে পারতেন। সাত দশক ধরেই এমনভাবে চলছিল কাশ্মীর। কিন্তু হঠাৎ করেই ভারেতর সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। এর ফলে স্বায়ত্বশাসন হারায় রাজ্যটি। শুধু তাই নয়, এই রাজ্যটিতে বসবাস করে না এমন নাগরিক জমি কেনার অনুমতি পান এর ফলে।

৩৭০ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া পর থেকেই উত্তাল ভূস্বর্গ। আর রাজ্যটিকে শান্ত রাখতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার কাশ্মীরের ইন্টারনেট, কেবল টিভি এবং ল্যান্ডলাইনসহ সকল প্রকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর হাজার হাজার সদস্য মোতায়েন করেছে। প্রভাবশালী কাশ্মীরি নেতাদের আটকে রাখা হয়েছে। কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে রাজ্যটির নাগরিকদের। অবরুদ্ধ থাকার দু’সপ্তাহ পর ল্যান্ডলাইন সংযোগের নিষেদ্ধাজ্ঞা কিছুটা প্রত্যাহার করা হলেও অবরুদ্ধ অবস্থা চলছেই। কবে ইন্টারনেট এবং মোবাইল পরিষেবা চালু করা হবে সেই বিষয়ে কেউই কিছু জানেন না।

কাশ্মীরের যখন এমন অবস্থা তখন দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার বলছে রাজ্যটিতে কোনো ধরনের আন্দোলন নেই। নেই কোনো সহিংসতা। কিন্তু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও বলছে অন্য কথা। এছাড়াও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন রাজটিতে প্রায়ই চলে সংঘর্ষ। ভারতের দাবিকে বিতর্কিত দাবি বলেও আখ্যা দিয়েছেন তারা।

গত ৯ আগস্ট শুক্রবারের নামাজের পরে রাজ্যটিতে বিক্ষোভ হয়েছে কিনা তা নিয়ে একটি বিতর্ক সৃষ্টি হয়। প্রথমত, ভারত সরকার অস্বীকার করে। কিন্তু ভিডিওতে দেখা যায় বিক্ষোভ হয়েছিল। কাশ্মীরের শ্রীনগরের হাজার হাজার মানুষ স্বাধীনতার দাবিতে এ বিক্ষোভ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা স্বাধীনতার দাবিতে হাতে প্লেকার্ড নিয়ে মিছিল করছে। এরপর ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার তার অবস্থান থেকে সরে আসে।

তখন বিক্ষোভে কোনো গুলি চালানো হয়নি বলে দাবি করে কাশ্মীরের রাজ্য পুলিশ। পরে আন্তর্জাতিক সংবামাধ্যমের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে গুলির শব্দ শোনা যায়। দেখা যায়, বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে নিতে কাঁদুনে গ্যাসও নিক্ষেপ করা হয়। তারপর রাজ্যটির কর্মকর্তরা স্বীকার করেন যে, গুলি ছোঁড়া হয়েছে এবং আহত হয়েছেন বেশ কয়েক জন।

এদিকে আগস্ট মাসের ১৬ তারিখ থেকে কাশ্মীরে বিভিন্ন সময়েই চলছে বিক্ষেভ। বিক্ষোভকারীরা আন্দোলনে নেমে কোনো না কোনো চিহ্ন রেখে যাচ্ছেন বা তারিখ লিখে যাচ্ছেন- যাতে করে গণমাধ্যম কর্মীরা সহজে বুঝতে পারেন আন্দোলনের ব্যাপারে। কাশ্মীরে আসলে কী হচ্ছে তা জানতে অনুসন্ধানকারীরাও কাজ করে যাচ্ছেন।

>>>সাউথ এশিয়ান মনিটর, 

জাতিসংঘ অভিবাসী সংস্থার বিরুদ্ধে বাংলাদেশীদের দেশে ফিরতে চাপ দেয়ার অভিযোগ

শিশুসহ বাংলাদেশী অভিবাসীদের সাথে আচরণ নিয়ে ‘মারাত্মক উদ্বেগ’ প্রকাশের পর জাতিসংঘ অভিবাসী সংস্থার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

তিউনিস-ভিত্তিক এনজিও ফোরাম তিউনিসিয়েন পুর লেস ড্রয়েটস একোনোমিকেস এট সোশিয়াক্স (এফটিডিইএস) ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশান ফর মাইগ্রেশানের (আইওএম) কাছে চলতি মাসে অভিবাসীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে এই অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিবাসীরা অভিযোগ করেছেন যে, সাগরে কয়েক সপ্তাহ কাটানোর পর কর্মকর্তা এবং কূটনীতিকরা তাদের ফিরে যাওয়ার জন্য চাপ দিয়েছেন।

৬৪ জন বাংলাদেশীর ওই গ্রুপটি জানিয়েছে স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে আইওএম তাদেরকে চাপ দিয়েছে বলে মনে হয়েছে তাদের। তা না হলে গ্রেফতারের ভয় দেখানো হয়েছে।

তারা আরও বলেছন বাংলাদেশ দূতাবাসের কূটনীতিকরা তাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, তারা যদি স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার কাগজে সই না করে, তাহলে তারা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পাচারকারীদের শিকার হবেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, “আমরা যে বক্তব্য সংগ্রহ করেছি, সেগুলোর ভিত্তিতে এফটিডিইএস অভিবাসীদের সাথে আইওএ তিউনিসিয়ার আচরণ নিয়ে আইওএ’র কাছে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে”।

“সকল অভিবাসীর বক্তব্য একই রকম এবং সবাই আইওএমের তরফে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের ইঙ্গিত দিয়েছেন”।

মে মাসে ম্যারিডাইভ ৬০১ নৌযান অভিবাসীদের উদ্ধার করলেও ইউরোপিয়ান কর্তৃপক্ষ তাদের প্রবেশের অনুমতি না দেয়ায় তাদের আরও তিন সপ্তাহ সাগরে কাটাতে হয়েছে।

এফটিডিইএস বলেছে, “অভিবাসীদের মতে, সাক্ষাতকারের সময় ‘স্বেচ্ছায়’ প্রত্যাবাসনের কাগজে স্বাক্ষর করার জন্য আইওএম কর্মকর্তারা তাদের চরম মানসিক চাপ দিয়েছে। তারা আরও বলেছে যে, তারা যখন কাগজে সই করতে অস্বীকার করেন, তখন মানসিক চাপ আরও বাড়ানো হয়। অভিবাসীরা জানিয়েছে যে, প্রাথমিক এই সাক্ষাতকারের সময় ইউএনএইচসিআর বা ইউনিসেফ কেউই সেখানে উপস্থিত ছিল না। এবং তারা এটাও জানেন না যে, তাদের আশ্রয় প্রার্থনার সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া, তাদের জরুরি কোন মেডিকেল সহায়তাও দেয়া হয়নি”।

আইওএম অস্বীকার করেছে যে, অভিবাসীদের বাংলাদেশে ফেরার জন্য কোন ধরনের চাপ দেয়া হয়েছে। তারা বলেছে যে, সকল কাগজপত্রের বিষয় তাদের কাছে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এমন ভাষায় যেটা তারা বোঝে। আইওএম বলেছে অভিবাসীদেরকে সমস্ত উপায় সম্পর্কে অবগত করা হয়েছে। এর মধ্যে আশ্রয় প্রার্থনা এবং তিউনিসিয়ায় অবস্থানের বিষয়েও তাদের জানানো হয়েছে।

এই লোকগুলো ৭৫ জন মানুষের একটি গ্রুপে ছিল। এদের প্রায় অর্ধেকই শিশু, যাদের সাথে কোন অভিভাবক নেই। ম্যারিডাইভ ৬০১ জাহাজ তাদের উদ্ধার করে। সাগরে ১৯ দিন থাকার পর তাদেরকে তিউনিসিয়ার জারজিসে নামার অনুমতি দেয়া হয় এবং সেখানে তিউনিসের রেডক্রিসেন্ট সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের। পরবর্তী কয়েক দিনে কয়েক ডজন বাংলাদেশীকে স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন ও রি-ইন্টিগ্রেশান কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

তিউনিসিয়ায় বাংলাদেশীদের বিষয়টি দেখভাল করে ত্রিপোলির বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাসের একজন মুখপাত্র জানান, বিশেষ এই ঘটনা সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করতে পারছেন না। তবে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন এবং বিষয়টিকে ‘অতি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে’।

তিনি বলেন “ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কোন তদন্ত শুরু করলে সেখানে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে দূতাবাস প্রস্তুত আছে”। দূতাবাস নিজ থেকে এ ধরনের বিষয়ে তদন্ত করতে পারে না বলেও জানান তিনি।

“এটা যদি সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগের তদন্ত করতে পারে”।

মুখপাত্র আরও বলেন, “এটা মাত্র শুরু। আমরা এ ব্যাপারে আপনাদের সাথে থাকবো। আমরা জানি যারা এই মিশনে নেতৃত্ব দিয়েছিল, সেখানে কারা কারা ছিল”।

এফটিডিইএস নিশ্চিত করেছে যে, চারজন বাংলাদেশী স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে রাজি হয়নি এবং তিউনিসিয়ায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে গত সপ্তাহে তাদেরকে আশ্রয় প্রার্থীর স্ট্যাটাস দিয়েছে ইউএনএইচসিআর।
ভূমধ্য সাগরে টাগবোটে কয়েক সপ্তাহ ভাসার পর বাংলাদেশী এই অভিবাসীদের উদ্ধার করে পরে তিউনিসিয়া নিয়ে যাওয়া হয়।
>>>লরেঞ্জো টোন্ডো ও মরিস স্টায়ের্ল

বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেবে জাপান, সমঝোতা সই

বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির গন্তব্যে এবার বেশ ঘটা করেই যুক্ত হলো জাপান। বিশ্বের যেসব দেশ থেকে জাপান কর্মী নেবে সেখানে তারা বাংলাদেশিদেরও ‘অগ্রাধিকার’ তালিকায় রেখেছে। আগে ভিয়েতনাম, চীন, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড এবং পূর্ব-এশিয়ার একটি দেশসহ মোট ৮টি দেশ থেকে কর্মী নেয়ার সিদ্ধান্ত ছিল টোকিও’র। এবার সেই তালিকা বর্ধিত হয়েছে এবং এ নিয়ে মঙ্গলবার টোকিওতে  বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। জনসংখ্যা ক্রমাগত সঙ্কুচিত হওয়ার মুখে থাকা জাপান প্রাথমিকভাবে ৯টি দেশ থেকে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ৫ বছরে এ নিয়োগ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হওয়ার কথা। গত ডিসেম্বরে জাপানের পার্লামেন্টে জনশক্তি নিয়োগ সংক্রান্ত একটি বিল পাস হয়। এই পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের এপ্রিল থেকে বিদেশী কর্মীদের জন্য দুই ধরনের ভিসা ব্যবস্থা চালু করে জাপান।
বিদেশি কর্মী যাদের নূন্যতম কারিগরি শিক্ষা রয়েছে, তারা ৫ বছরের জন্য কাজ করার সুযোগ পাবেন। এই সময়ের মধ্যে তারা পরিবারের সদস্যদের জাপানে নিতে পারবে না। তবে দক্ষ জনশক্তি যেমন গবেষক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, তারা প্রয়োজন অনুযায়ী (যতদিন কাজ ততদিন) জাপানে থাকতে পারবেন। সেই সঙ্গে তারা তাদের পরিবারের সদস্যদেরও নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। জাপানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন বাংলাদেশী তানিয়া হোসাইন। এক যুগের বেশি সময় ধরে তিনি শিক্ষকতার সুবাদে টোকিওতে বসবাস করছেন। সম্প্রতিক তিনি দেশে এসেছেন। মানবজমিনের সঙ্গে আলাপে তানিয়া বলেন, দ্বিতীয় ক্যাটাগরিটি আগেও ছিল। তবে সেটি অর্জনে জটিলতা ছিল অনেক। এখনও খানিকটা সহজ হয়েছে বলে শুনেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করার পরপরই তানিয়া উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে টোকিও চলে যান। সেখানে পড়াশোনা শেষে চাকরি পেয়ে যান। ওসেদা ইউনিভার্সিটিতে চাকরি জীবনের শুরুতে তানিয়া ব্যাচেলর ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বিয়ে করলে পরিবারের সদস্যরা এখন তার সঙ্গেই থাকছেন। টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস অফিসার শিপলু জামানের মতে, বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগের উদ্দেশ্যে জাপানের বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাপানের জাতীয় পরিকল্পনা এজেন্সি সবাই সম্মত। এ নিয়ে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। ওই স্মারকে বাংলাদেশের পক্ষে সই করেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব রৌনক জাহান আর জাপানের পক্ষে সই করেন, দেশটির বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয় অধীন ইমিগ্রেশন সার্ভিস এজেন্সির কমিশনার সোকো শাসাকি। চুক্তি সইয়ের আনুষ্ঠানিকতায় জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা, জাপানের পলিসি প্লানিং ডিভিশনের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফায়ারস দপ্তরের পরিচালক ইয়াসুয়াকি ইমাই, সফররত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর সহ দুদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এ বছরের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টোকিও সফরের সময় জাপানে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির বিষয়ে আলোচনা হয়। তখন জাপান বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছিল। সমঝোতা সইয়ের বিষয়ে রৌনক জাহান গণমাধ্যমকে বলেন, জাপানের চাহিদার কথা বিবেচনা করে দক্ষ কর্মী তৈরিতে বিভিন্ন কার্যক্রম ইতোমধ্যে বাংলাদেশ গ্রহণ করেছে। সমঝোতা স্মারক সইয়ের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বড় আকারে জাপানের শ্রম বাজারে বাংলাদেশ প্রবেশের সুযোগ পেল। এতে দু’দেশই লাভবান হবে। তিনি জানান, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সারাদেশে ২৬টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের মাধ্যমে জাপানি ভাষায় ৪ মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করেছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় কোটি বাংলাদেশীর কর্মসংস্থানের সুযোগ হলেও জাপানে সরকারিভাবে জনশক্তি রপ্তানির কোন সুযোগ ছিল না। এখন সেই দুয়ার খুললো।

আফগান চুক্তির জন্য পরিবেশ এত ভালো কখনোই ছিল না by এম কে ভদ্রকুমার

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণার বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন বেল্টওয়েতে প্রত্যাঘাত হয়েছে। কিন্তু তারপরও ট্রাম্পের ওভাল অফিস মঙ্গলবার যে মন্তব্য করেছে তাতে বোঝা গেছে যে তিনি প্রধানত পুলিশের দায়িত্ব পালন করার জন্য আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিনিয়োগ অব্যাহত রাখাকে মূর্খ্যতা মনে করছেন।

ট্রাম্পের সমালোচকেরা ৯/১১-এর স্মৃতি উস্কে দিয়ে তাকে ভয় পাইয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন। সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের কথা এ প্রসঙ্গে তুলে ধরা যেতে পারে। তিনি বলেছেন, একটি খারাপ চুক্তি উগ্রবাদী ইসলামপন্থীদেরকে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে দিতে পারে। স্মার্ট হন, সময় নিন এবং আপনার জাতীয় নিরাপত্তা দলের কথা শুনুন।

গ্রাহাম পরে এক টুইটে বলেন যে তালেবান যে দাবিই জানাক না কেন যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষার জন্য আমেরিকার অবশ্যই একটি সন্ত্রাসদমন বাহিনী থাকতে হবে।

এই সংশয়বাদীরা মার্কিন নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা এস্টাবলিশমেন্টের অভিমত প্রতিফলিত করে আফগানিস্তানে সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত রাখা ও সন্ত্রাসদমন অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে যুক্তি দিচ্ছেন।

আফগান ও সেইসাথে আমেরিকানসহ স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব গ্রুপ তালেবানের বিরুদ্ধে চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছে।

অবশ্য, ভালো খবর হলো, বিষয়টি ট্রাম্প বুঝতে পেরেছেন। স্মার্ট রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি তার নজরদারির মধ্যেই আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরেকটি সন্ত্রাসী চক্রান্ত দানা বেঁধে ওঠুক সে ঝুঁকি তিনি নিতে পারেন না।

সেখানে আমাদের একজন সবসময় থাকবে

ফলে তিনি নিরাপদ অবস্থানে থেকেছেন এ ব্যাপার একমত হয়ে যে আফগানিস্তানে সবসময় আমাদের একজন গোয়েন্দা থাকবে, সেখানে আমাদের কেউ থাকবে। তিনি সম্ভবত বুঝতে পেরেছেন যে কায়েমি স্বার্থেন্বেষী গ্রুপগুলো পেছনে খেলার কারণে এমনটা হচ্ছে।

মঙ্গলবার ট্রাম্প আসলে যা বলেছেন তা হলো, তালেবান যদি থাকে, তবে তারাই সব সন্ত্রাসকে আঁতুরেই বিনাশ করে দিতে পারবে।

এটিকে কথার কথা বলেই থেমে যাওয়া উচিত হবে না, বরং তালেবান-সম্পর্কে এমন মন্তব্য করার পেছনে ট্রাম্পের গভীর কোনো কারণ রয়েছে।

সম্ভবত ট্রাম্প বুঝতে পেরেছেন যে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো যাতে আবার আফগানিস্তানে ঘাঁটি গাড়তে না পারে, তা নিশ্চিত করার শক্তি আছে তালেবানের। এর অর্থ হলো, দোহায় চলমান শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে এমন প্রস্তাব দিতে হবে, যা তালেবান প্রত্যাখ্যান করতে না পারে।

পাকিস্তানও চায় আফগানিস্তানে একটি কৌশলগত গভীরতা সৃষ্টি করতে এবং মিশনকে সফল করতে। এ দিক থেকে নতুন একটি ম্যাট্রিক্সের আবির্ভাব ঘটেছে। তা হলো চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্প। এর কারণে আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা প্রয়োজন।

তা সত্ত্বেও ট্রাম্প সুযোগটি গ্রহণ করেননি। তিনি আরো কিছু সৈন্য ফিরিয়ে আনার কথা বলেছেন।সেখানে উপস্থিতি রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।

মূর্খতা

বাস্তবে কথার কথা যে আরেকটি ৯/১১ ঘটতে পারে আফগানিস্তান থেকে। যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবস্থার বিপুল উন্নতির ফলে প্রত্যন্ত, দূরের ও স্থলবেষ্টিত আফগানিস্তানে ষড়যন্ত্র করার মধ্যে কৌশলগত সুবিধা নেই। সম্প্রতি এই বিষয়টির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ক্যাটো ইনস্টিটিউটের ফরেন পলিসি স্টাডিজের পরিচালক জন গ্লাসার।

গ্লাসার যথার্থভাবেই বলেছেন, ২০০০-০১ সময়কালের চেয়ে অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

আফগানিস্তান থেকে এখন যে হুমকি আসছে তা আসছে ইসলামিক স্টেট খোরাসান বা আইএসকে নামের ছোট্ট একটি গ্রুপের কাছ থেকে।

এখন তালেবান মনে করছে আইএসকে-কে অস্তিত্বগত হুমকি মনে করছে। তারা তাদের বিরুদ্ধে লড়াইও করছে। নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, তালেবান কখনোই আইএসকে-কে শক্তি বাড়াতে দেবে না।

পাশ্চাত্যের সহায়তা প্রয়োজন

ট্রাম্পকে দোহায় এমন কোনো প্রস্তাব দিতে হবে যা তালেবানের পক্ষে প্রত্যাখ্যান করা সম্ভব হবে না। আর তাতে তালেবান স্বীকৃতি দেবে যে যুক্তরাষ্ট্র তার মিশন সফল করেই আফগানিস্তান ছেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ট্রাম্প কার্ড হতে পারে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পাশ্চাত্য সহায়তা ও আন্তর্জাতিক বৈধতার প্রয়োজন।

একইসাথে পাকিস্তানের সাথেও পূর্ণাঙ্গ সম্পর্ক রাখার প্রস্তাব দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ তালেবানের ওপর পাকিস্তানের প্রভাব বিপুল।

আবার বর্তমানে স্নায়ুযুদ্ধের মতো পরিবেশ বজায় থাকলেও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই এখন আফগানিস্তানকে স্থিতিশীল দেখতে চায়। কোনো আঞ্চলিক শক্তিই বিশৃঙ্খলা থেকে সুবিধা নিতে চায় না।

তালেবান নেতৃত্ব ও পাকিস্তানকে প্রভাবিত করার দিক থেকে চীন বেশ ভালো অবস্থায় আছে। আবার সব ইঙ্গিতেই বোঝা যাচ্ছে, বেইজিং দোহায় শান্তি আলোচনাকে উৎসাহিতই করছে।

আবার রাশিয়া, ভারত ও ইরানের মতো দেশগুলো এখন নীরবতা অবলম্বন করছে প্রান্তিক অবস্থানের কারণে। রাশিয়া মনে করছে, তাকে অগ্রাহ্য করা হচ্ছে; পাকিস্তানের মূখ্য ভূমিকাকে পছন্দ করছে না ভারত; যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অচলাবস্থা নিয়ে সমস্যায় আছে ইরান।

তবে তারা শান্তিপ্রয়াস ভণ্ডুল করতে চায়- এমনও মনে হয়নি।

আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার আকাঙ্ক্ষা

আবার অন্যান্য দেশের সাথে তালেবানেরও রয়েছে নানামাত্রিক সম্পর্ক। এমনকি ৯০-এর দশকের শেষ দিকেও তালেবান আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা কামনা করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্র যদি ওই সময় কাবুল সরকারের সাথে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পাকিস্তানের উপদেশ গ্রহণ করে নিত, তবে এর পরের ইতিহাস হতো সম্পূর্ণ ভিন্ন।

অনেকেই হয়তো মনে করতে পারছেন না যে আমেরিকান তেল কোম্পানি ইউনোক্যালের সাথে তালেবানের সম্পর্ক ভালো ছিল। সব ইঙ্গিতেই বোঝা যাচ্ছে, আফগান পুনঃগঠনে ইরান, রাশিয়া বা ভারত- সবার কাছ থেকেই সহায়তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত তালেবান।

এসব কারণে সহজাত ধারণাতেই ট্রাম্প বুঝতে পেরেছেন যে তালেবানের সাথে সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করে যুদ্ধ বন্ধ করার মতো অনুকূল সময় আগে আর কখনো আসেনি।

চার মাস পর আজ বাসায় ফিরছেন

বিশিষ্ট অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান এখন অনেকটাই সুস্থ। তাই চিকিৎসকের অনুমতি নিয়ে দীর্ঘ চার মাস তিনদিন পর আজ হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরছেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এটিএম শামসুজ্জামানের সহধর্মিনী রুনী জামান। তিনি বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ইনশাআল্লাহ আজ আপনাদের সবার প্রিয় এই মানুষকে নিয়ে বাসায় ফিরবো। কিন্তু বাসায় ফিরলেও সেখানে আরো বেশ কিছুদিন তার চিকিৎসা ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে। দীর্ঘ দুই মাস রাজধানীর পুরনো ঢাকার আজগর আলী হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে শাহবাগের বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তার চিকিৎসা করা হয়। বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আতিকুর রহমানের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলে। আজগর আলী থেকে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে আসার পরও এখানে তার বড় একটি অপারেশন হয়।
আর তার পরপরই এটিএম শামসুজ্জামান ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটিএম শামসুজ্জামানের অসুস্থতায় শুধু আর্থিক সহযোগিতা দিয়েই পাশে ছিলেন, এমন নয়। এটিএম শামসুজ্জামানের ভাষ্যমতে প্রায় প্রতিদিনই প্রধানমন্ত্রী তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এটিএম শামসুজ্জামান বলেন, আল্লাহ্‌র কাছে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি। মহান আল্লাহ্‌ চাইলে একজন মানুষকে অনেক বছর বাঁচিয়ে রাখতে পারেন আবার এক সেকেন্ডের মধ্যে নিয়ে যেতে পারেন। আমি শুধু একটি কথাই বলবো, মহান আল্লাহ্‌ যেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দীর্ঘ আয়ু দেন। আর তাকে অনুসরণ করে পরবর্তীতে অন্যরাও যেন শিল্পীদেরকে তার মতো ভালোবাসেন। অবশ্যই তার প্রতি আমি, আমার পরিবার কৃতজ্ঞ। আর যে মানুষটির কথা না বললেই নয় তিনি হলেন আমার সহধর্মিণী। আমার অসুস্থতার দীর্ঘ এই সময়ে তিনি যে কী অমানবিক কষ্ট করেছেন, তা আমি উপলদ্ধি করেছি। তার জন্য মন থেকে অনেক অনেক দোয়া। এটিএম শামসুজ্জামানের স্ত্রী রুনী জামান বলেন, দীর্ঘ এই অসুস্থতার সময়ে অনেকেই নানাভাবে খোঁজ নিয়েছেন, দোয়া করেছেন।
আমাদের পরিবার তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। অবশ্যই কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে। সর্বোপরি মহান আল্লাহ্‌র কাছে অসীম কৃতজ্ঞতা। হাসাপাতালে বসে তিনি মীর সাব্বিরের অনুদানের সিনেমা ‘রাত জাগা ফুল’র স্ক্রিপ্ট পড়েছেন। পাশাপাশি আরো অনেক প্রখ্যাত লেখকের বইও পড়েছেন। উল্লেখ্য, এটিএম শামসুজ্জামান দীর্ঘদিন পরিপাকতন্ত্রের সমস্যায় ভুগছিলেন।

চীনা প্রতিনিধিদের যা বললেন ইমরান খান

চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নোঙর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। মঙ্গলবার চীনের সফররত একদল প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকে তিনি এমন মন্তব্য করেন। এ সময় উভয় পক্ষ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় সহযোগিতায় তাদের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।
এতে বলা হয়, চীনের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান জেনারেল শু কিলিয়াংয়ের নেতৃত্বে ওই প্রতিনিধি দল সাক্ষাত করে ইমরান খানের সঙ্গে। এরপর ইমরান খানের অফিস থেকে বলা হয়, তারা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয়ে ঘনিষ্ঠ পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষার কথা বলেছেন। উল্লেখ্য, কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে ভারতের সঙ্গে যখন পাকিস্তানের উত্তেজনা বিরাজ করছে, তখন এ ইস্যুতে পাকিস্তানকে সমর্থন করছে চীন।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বন করেছে তারা। সেখানে গত ১৬ই আগস্ট ভারতের পদক্ষেপের কড়া নিন্দা জানিয়েছে চীন।
ইমরান খানের সঙ্গে চীনা ওই প্রতিনিধিরা দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়েও আলোচনা করেছেন। এ সময় কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের অ্যাকশনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানকে সমর্থন দেয়ার জন্য চীনকে ধন্যবাদ জানান ইমরান খান। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভারতের অ্যাকশন শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। তিনি আরো সতর্কতা দিয়ে বলেন, নিজেদের অপরাধকে ঢাকতে এবং বিশ্ববাসীর দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে দিতে ভারত মিথ্যা ‘ফ্লাগ অপারেশন’ চালাতে পারে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কাশ্মীরিদের বিরুদ্ধে যে বর্বর নিষ্পেষণ চলছে তাতে উগ্রপন্থার উদ্ভব হতে পারে। এতে এ অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে। বৈঠকে দুই দেশের জাতীয় মূল স্বার্থের বিষয়ে পরস্পরকে সমর্থন দেয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন জেনারেল শু। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নতি ও দীর্ঘদিনের বিরোধগুলোর নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।
ওদিকে জেনারেল শু পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভির সঙ্গেও সাক্ষাত করেছেন। এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট আলভি বলেছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের প্রতিরক্ষা বিষয়ক সহযোগিতাকে গভীরভাবে মূল্যায়ন করে পাকিস্তান। এ ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তায় সমর্থন দেয়াকেও সমভাবে মূল্যায়ন করে। ওদিকে জেনারেল শু-এর এই সফরে পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে প্রতিরক্ষা বিষয়ক সহযোগিতা বৃদ্ধি, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানকে সমর্থন দেয়ার জন্য চীনকে ধন্যবাদ জানান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট।

এনআরসিতে স্থান পেতে জালিয়াতির আশ্রয় গ্রহণকারী বেশিরভাগ হিন্দু

আসামে বিপুল বিতর্কিত এনআরসি প্রক্রিয়া যখন সাম্প্রদায়িক বিভক্তিরেখা বিস্তৃত করছে তখন আরেকটি সমস্যা সামনে এসে হাজির হয়েছে। দেখা গেছে এই নগরিক পুঞ্জিতে স্থান পেতে মুসলমানদের চেয়ে বেশির সংখ্যক হিন্দু জাল কাগজপত্র ব্যবহার করেছেন। এনআরসি প্রক্রিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত সূত্রগুলো এ কথা জানায়।

চূড়ান্ত এনআরসি তালিকা ৩১ আগস্ট প্রকাশের কথা রয়েছে। এতে আসামের সত্যিকারের নাগরিকদের নাম থাকবে। সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে আসামে এই প্রক্রিয়া চলছে, যা একটি অনন্য উদ্যোগ।

সূত্র জানায়, মজার বিষয় হলো বিপুল সংখ্যক সন্দেহভাজন হিন্দু আবেদনকারী জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে। জাল কাগজপত্রের ৫০ শতাংশের বেশি তারা জমা দিয়েছে।

একটি সূত্র পিটিআইকে বলে, এটা খুবই খুবই বিষ্ময়কর কারণ আমরা ভেবেছিলাম শুধু সন্দেহভাজন অবৈধ মুসলিমরা তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য জালিয়াতির আশ্রয় নিতে পারে। কিন্তু এত বিপুল সংখ্যক হিন্দু এ কাজে জড়িত হয়েছে যা আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি আসামের বিজেপি সরকার অভিযোগ করে যে মুসলিমারদের চেয়ে হিন্দুরা বেশি এনআরসি’র খসড়া থেকে বাদ পড়েছে। রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের গোপনীয়তা রক্ষার নির্দেশ উপক্ষা করে রাজ্যবিধান সভায় জেলাভিত্তিক বাদ পড়াদের তালিকা প্রকাশ করে।

রাজ্য সরকার দাবি করে যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকার চেয়ে উপজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলোর বেশিরভাগ মানুষ তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

এ ব্যাপারে মন্তব্য জানতে চাইলে আসাম অঞ্চলে আরএসএস-এর একজন সিনিয়র কর্মকর্তা শঙ্কর দাস বলেন যে হালনাগাদ করা এনআরসি ‘ত্রুটিপূর্ণ’ হবে না এবং এটা চ্যালেঞ্জ করা হবে।

মোদি সরকার কাশ্মীরকে ধ্বংস করেছেন: গুলাম নবী আজাদ

সোনিয়া গান্ধী ও গুলাম নবী আজাদ
ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা ও সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা গুলাম নবী আজাদ কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে কাশ্মীরকে রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবে ধ্বংস করার অভিযোগ করেছেন। মঙ্গলবার হিন্দি টিভি চ্যানেল ‘আজতক’ ওই তথ্য জানিয়েছে।
হরিয়ানায় নির্বাচন ইস্যুতে কংগ্রেসের অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর সাথে দেখা করার পরে গুলাম নবী আজাদ বলেন, কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতৃত্ব গত তিন সপ্তাহ ধরে গৃহবন্দী রয়েছে। ফল চাষিরা তাদের ফসল নিয়ে উদ্বিগ্ন। পর্যটকরা সেখানে যেতে পারছেন না। সরকার সবকিছু নষ্ট করে দিয়েছে।
এদিকে, কর্মকর্তা সূত্রকে উদ্ধৃত করে আজ গণমাধ্যমে প্রকাশ, জম্মু-কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনী উপত্যকার বিভিন্ন জায়গা থেকে কমপক্ষে ৪ হাজার ১০০ জনকে গ্রেফতার বা আটক করেছে। এ পর্যন্ত ৬০৮ জনের বিরুদ্ধে বিতর্কিত জননিরাপত্তা আইনে মামলা দেয়া হয়েছে। এদের প্রায় সবাইকে উপত্যকার বাইরে উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন কারাগারে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। সরকারিভাবে আটকের প্রকৃত সংখ্যা না জানানো হলেও আটকের প্রকৃত সংখ্যা ৪ হাজার ১০০’রও অনেক বেশি হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। বিভিন্ন থানার লক-আপ ভর্তি হয়ে যাওয়ার পরে বহু তরুণকে নিরাপত্তা বাহিনীর শিবিরগুলোতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে কাউকে যেতে দেয়া হচ্ছে না। বহু পরিবারই জানে না নিরাপত্তা বাহিনী তুলে নিয়ে যাওয়ার পরে তাঁদের সন্তান কোথায় আছে।
এদিকে, সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে এনডিটিভি জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরে এ পর্যন্ত ৪০ জন নেতা ও এক হাজারেও বেশি পাথর নিক্ষেপকারীকে আটক করা হয়েছে। গত ২৪ দিনে জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক ২ মুখ্যমন্ত্রীকে গৃহবন্দী করা হয়েছে। গত ৪ সপ্তাহে বিভিন্ন স্থান থেকে ৪০-এর বেশি মূলধারার রাজনৈতিক নেতাকে আটক করা হয়েছে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আব্দুল্লাহ সরকারের মন্ত্রীপরিষদের ৭০ বছরের কম বয়সী সমস্ত মন্ত্রীকে নিজ বাসায় গৃহবন্দি করা হয়েছে। কেনোও কোনও নেতাকে সেন্টৌর হোটেলে আটক রাখা হয়েছে। কিছু নেতার বাড়ির লোকজন তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র খতিয়ে দেখার পরেই তাঁদের সাক্ষাৎ করতে দেয়া হচ্ছে। যদিও সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রীর পরিবার থেকে কেউ সাক্ষাৎ করতে আসেননি। বিরোধী নেতা মুহাম্মাদ ইউসুফ তারিগামীকে তাঁর বাসায় গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে।
এসব নেতাদের কীভাবে এবং কবে মুক্তি দেয়া হবে এবং কবে তাঁদের গৃহবন্দি অবস্থা শেষ হবে সে সম্পর্কে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও রোডম্যাপ এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে এদের মুক্তি বিলম্বিত হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

মোদির গুরুতর ভুল কাশ্মীর সমস্যা সমাধানের ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী ইমরান

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন যে তার ভারতীয় প্রতিপক্ষ নরেন্দ্র মোদি কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে এক ঐতিহাসিক ‘ব্লান্ডার’ বা গুরুতর ভুল করেছেন।

সোমবার ইমরান খান জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে কাশ্মীর সমস্যা ও অধিকৃত অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদের ভবিষ্যত কৌশল তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, মোদি যে ব্লান্ডার করেছেন তা কাশ্মীর সমস্যার নিরসনের ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে।

ভারত এই বিতর্কিত ভূখণ্ডটিকে তার দানবীয় শক্তি থেকে মুক্তি দেয়ার আগ পর্যন্ত ন অধিকৃত কাশ্মীরের জনগণের পাশে পাকিস্তা থাকবে বলে খান আবারো ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, যখন আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসে তখন আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার ছিলো এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা ও বাণিজ্য সুযোগ বাড়ানো এবং দেশ অন্যান্য যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে সেগুলো মোকাবেলা করা।

খান বলেন যে তিনি ভারতসহ এই অঞ্চলের সব দেশের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছেন।

“আমরা সামরিক সমাধানের পরিবর্তে আফগানিস্তানে রাজনৈতিক সমাধানের কথা বলেছি। আমরা ভারতকে বলেছি তোমরা এক পা বাড়ালে আমরা দুই পা বাড়াবো, যেন আলোচনার মাধ্যমে কাশ্মীরসহ সব সমস্যা নিরসন করা যায়। কিন্তু সংলাপের ব্যাপারে আমাদের আন্তরিক প্রস্তাব ভারত প্রত্যাখ্যান করেছে।”

প্রধানমন্ত্রী খান বলেন, এরপর তাদের নির্বাচন এলো। তা শেষ হওয়ার জন্য আমরা অপেক্ষা করলাম। ভাবলাম নির্বাচনের পর পরিস্থিতি ভিন্ন হবে। এর মধ্যে পুলওয়ামার ঘটনা ঘটে এবং এক কাশ্মীরী জীবন দেয়।

“তারা ঘটনা খতিয়ে দেখার আগেই আমাদের দিকে আঙ্গুল তোলে। নির্বাচনের পর বুঝলাম তাদের ভিন্ন এজেন্ডা রয়েছে, তারা পাকিস্তানকে এফএটিএফের কালোতালিকাভুক্ত করতে চাচ্ছে।

খান বলেন, ৫ আগস্ট তারা কাশ্মীরে অতিরিক্ত সেনা সদস্য পাঠিয়ে ঘোষণা করে যে এটা এখন ভারতের অংশ। এই ঘোষনা ভারতের প্রতিষ্ঠাতা পিতাদের স্বপ্ন ও জাতিসংঘ প্রস্তাবের বিপরীত।

জনগণকে পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী খান বলেন, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) আদর্শকে ভালোভাবে বুঝতে হবে। এটা ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)’র পিতৃ সংগঠন। মোদি আরএসএসের আজীবন সদস্য।

খান বলেন, আরএসএস মনে করেন হিন্দুরাই সেরা, আর অন্যরা দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক। তাদের রয়েছে ফ্যাসিবাদী আদর্শ। ভারতের অতীতের সরকারগুলো একে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে কোনঠাসা করে রেখেছিলো। অন্যদিকে, যে আদর্শের ভিত্তিতে কায়দে আজম মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তার ভিত্তি ছিলো পবিত্র কোরআন। আমরা সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় বিশ্বাস করি। আরএসএসের মনোভাব এর উল্টা।

খান বলেন, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে মোদি যে ঐতিহাসিক ভুল করেছেন তা কাশ্মীরের জন্য স্বাধীন হওয়ার পথ খুলে দিয়েছে। আমাদের কাছে খবর আছে যে তারা বালাকোটের মতো ‘ফলস ফ্লাগ’ অপারেশন চালিয়ে অধিকৃত কাশ্মীর থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নিতে পারে।

খান ঘোষণা করেন, প্রতি শুক্রবার কাশ্মীরী জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে পাকিস্তান। কাশ্মীরীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের জন্য দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে সবাইকে ঘর থেকে বের হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মিয়ানমার ভাবে চীন, ভারত ও জাপান তার পকেটে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেছেন, মিয়ানমার মনে করে চীন, ভারত ও জাপান তার পকেটে। তাই এ তিনটি দেশের সঙ্গে সৃজনশীলভাবে যুক্ত হতে হবে। দেশগুলোকে বোঝাতে হবে, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান না হলে তাদেরও ক্ষতি হবে।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে একশনএইড বাংলাদেশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিজের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এ মন্তব্য করেছেন।

২০১৮ সালের এপ্রিলের মাসে আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট: টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রবন্ধসমূহের সংকলন ওই বইটি । ‘দি রোহিঙ্গা রিফিউজি ক্রাইসিস: টুওয়ার্ডস সাসটেইনেবল সলিউশন’ বইটি সম্পাদনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ।

আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, মিয়ানমার সরকার নাগরিকত্ব আইনে পরিবর্তন না আনলে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হবে না। এ জন্য রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। তাই এ সংকটের বিষয়ে বাংলাদেশ নয় মিয়ানমারের ওপর নজর দিতে হবে। কারণ রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে মিয়ানমার।

অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার মতো বহুমাত্রিক সমস্যা সমাধানে পাঁচটি বিষয়ে নজর দিতে হবে। প্রথমত, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানো। মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর যেসব সদস্য ওই গণহত্যায় জড়িত ছিল তাদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে গভীরভাবে ভাবা। যেসব বাণিজ্যিক সংস্থা মিয়ানমারে বিনিয়োগ করছে তাদের চিহ্নিত করতে হবে। তৃতীয়ত, মিয়ানমারের নাগরিক সমাজের সঙ্গে যুক্ততা। চতুর্থত, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে তথ্য সরবরাহ। এ জন্য তথ্য প্রযুক্তির পাশাপাশি বার্মিজ ও রোহিঙ্গাদের ভাষায় তথ্য সরবরাহ করতে হবে। পঞ্চমত, তিনি ভূ-রাজনৈতিক বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন । মিয়ানমার মনে করছে চীন, ভারত ও জাপান তাদের পকেটে আছে। তবে মনে রাখতে হবে যে, এই তিনটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেরও সুসম্পর্ক রয়েছে। তাই মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে কাজ করতে হবে।

জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো বলেন, এটি একটি জটিল সংকট । এর সমাধানগুলোও পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ এই সংকট খুবই দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছে। এ জন্য বাংলাদেশ প্রশংসার দাবিদার, ঘৃণামূলক বক্তব্যের নয়। তাই রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের পাশাপাশি আমাদের এটাও নিশ্চিত করতে হবে, বাংলাদেশ যাতে কোনো ঘৃণামূলক বক্তব্যের শিকার না হয়। আর টেকসইমূলক সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে ।
তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছাড়া জাতিসংঘ একা কিছু করতে পারে না।

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ড. সৈয়দ রিফাত আহমেদ বলেন, যখন প্রথম ব্যাপক হারে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ শুরু হয় তখন বাংলাদেশ জরুরি সাড়া প্রদান করে। তবে এই বহুমাত্রিক সংকট নিরসনে মূল দায়িত্ব মিয়ানমারকেই পালন করতে হবে। কিন্তু তার নিশ্চয়তা পাওয়া খুবই কঠিন।
কানাডার হাইকমিশনার বেনোয়া প্রিফনটেইন বলেন, নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে মিয়ানমারের আইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে, নিশ্চিত করতে হবে জবাবদিহি। রোহিঙ্গাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। তবে এই সমাধান খুব সহজ হবে না।

এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক আবদুস সালাম কক্সবাজারে কর্মরত সাহায্য সংস্থাগুলোকে সরকারে সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থানে না যাওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বাংলাদেশ সরকারের নীতি অনুসরণ করে তাদের কাজ করার পরামর্শ দেন।
একশনএইড বাংলাদেশের এ দেশীয় পরিচালক ফারাহ্ কবির বলেন, রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে এ ধরনের সহিংসতার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকেই যাবে।

আলোচনার সঞ্চালক ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিজের নির্বাহী পরিচালক এবং একশনএইড বাংলাদেশের চেয়ারপারসন মঞ্জুর হাসান বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার অধিকারকে স্বীকৃতি জানাতে হবে। রাখাইনে গণহত্যার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জোর দিতে হবে।

দুধ পরীক্ষা নিয়ে কার কথা সঠিক

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উত্পাদিত দুধের পরীক্ষা সঠিকভাবে করা হয়নি। তাহলে যারা পরীক্ষা করেছেন, তারা কেমন পরীক্ষা করলেন? এ ব্যাপারে টেলিফোন ও ই-মেইলে প্রাপ্ত পাঠকের অভিমত...
ঢাকায় বসে গরুর দুধ সরাসরি পাওয়াটা তো আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো বিষয়। সেক্ষেত্রে বাচ্চাদের জন্য গরুর পাস্তুরিত প্যাকেটজাত দুধই শেষ ভরসা। এখন যেসব কথা গণমাধ্যমে পড়ছি বা দেখছি তাতে এটাও খাওয়ানো বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কার ওপর নির্ভর করবে সাধারণ মানুষ! এত দিন বিএসটিআইয়ের কথা বিশ্বাস করেছি। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের কথাও তো ফেলনা নয়। এই মুহূর্তে আমি আমার পরিবারে বাজার থেকে কেনা দুধ খাওয়ানো বন্ধ রেখেছি। আমরা এর দ্রুত সমাধান চাই। আমরা নিরাপদ খাদ্য চাই। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কড়া হস্তক্ষেপ চাই।
মেনহাজুল ইসলাম তারেক
মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর
গরুকে বাঁচাতে হলে তাকে অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে। তার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক নির্দিষ্ট করা আছে। কিন্তু মানুষের অ্যান্টিবায়োটিকগুলো প্রাণীর দেহে দেওয়া যাবে না। কিন্তু এটা তারা মানছে না। কোনো কোনো কোম্পানি না মেনে ফিড তৈরি করে। ব্যবসার খাতিরে তারা বাংলাদেশের মানবপ্রজাতিকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তারা বলছে, ফিডের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক মিশিয়ে দিলে গরু মোটা হবে, তাজা হবে, অসুখ হবে না। এগুলোর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এটা বন্ধ করা দরকার।
মোছা. বিলকিছ আক্তার
সরকারি ম্যাটস, টাঙ্গাইল।
বিএসটিআই কোম্পানিগুলোকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য যে কোনো নমুনা দিয়ে যেতে বললে তখন কোম্পানিগুলো চালাকি করে ভালোমানের পণ্যই দিয়ে যায়। তাতে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ভালো ফলাফলই আসে। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরাসরি বাজার থেকেই দুধ সংগ্রহ করেছে। সেক্ষেত্রে আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্যতার জায়গায় এখন পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে আছে।
অমিত বণিক
মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক, উত্তরা, ঢাকা।
গবাদি পশুকে রোগমুক্ত রাখতে হলে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াতে হয়। কিন্তু এই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানোর কত দিন পর ওই পশুকে জবাই করতে পারবে বা এর মাংস ও দুধ মানুষের ব্যবহারের জন্য ক্ষতিকর নয়, তা অবশ্যই দেখতে হবে। তবে কিছু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতি মুনাফার আশায় দুধের সঙ্গে ডিটারজেন্ট, আটা, ময়দা ও পানি মিশিয়ে তা বাজারজাত করে থাকে। তাই দুধ পরীক্ষা নিয়ে গবেষকদের পরীক্ষা যদি সঠিক হয়, তাহলে যারা অন্যায় করেছে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
মোহাম্মদ শহীদউল্যা
হকভিলা, মেরাদিয়া, সিপাহীবাগ, ঢাকা।
এ দেশের ডেইরি ফার্মের মালিক, পাস্তুরিত দুধ ব্যবসায়ী এবং গুঁড়াদুধ আমদানিকারকরাও ধোয়া তুলসি পাতা নয়। পাস্তুরিত দুধ নিয়ে যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে তা কতটুকু সত্য তা প্রমাণ সাপেক্ষ বিষয়। মাঠপর্যায় থেকে দুধের নমুনা সংগ্রহ করে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সঠিক নিয়মে ও সঠিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা করে অ্যান্টিবায়োটিক ও জীবাণু উপস্থিতি পাওয়া গেলে তার প্রমাণ অবশ্যই জনসম্মুখে প্রকাশ করা একান্ত আবশ্যক বলে মনে করি।
মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ,
সর্দারপাড়া, মুন্সীগঞ্জ।
দেশি গরুর দুধ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জন গবেষকের গবেষণার ফল প্রকাশের পর এ বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। এমনকি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে বাধ্য হয়েছেন। আসলে গবেষণার বিষয়টি পুরোপুরি জনসম্মুখে প্রকাশিত হয়নি। তাই বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। উক্ত গবেষণার প্রতি যদি আস্থা না থাকে তাহলে বিষয়টি নিয়ে পুনরায় গবেষণা করা যেতে পারে এবং সরকারই এর উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন। তা না হলে এর কোনো সমাধান হবে বলে মনে হয় না।
মাখরাজ খান,
সাঠুরিয়া, মানিকগঞ্জ।
আমরা মনে করি, দুধ পরীক্ষায় সঠিক তথ্য নিয়ে এগিয়ে যাবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। তাহলেই এর সঠিক সমাধান হবে।
মো. ওয়াহীদউল্লাহ,
স্টেডিয়াম সড়ক, সদর, ফেনী।
বিদেশ থেকে গুঁড়া দুধ আমদানিকে নিরুত্সাহ করে দেশি শিল্পকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাহলেই দেশি দুগ্ধশিল্পের সঠিক মূল্যায়ন করা হবে। সেজন্য প্রত্যেক দুগ্ধ উত্পাদনকারী ব্যক্তি বা পরিবারকে নিবন্ধনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া অবশিষ্ট চিকিত্সার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি আনতে হবে।
পারভীন সুলতানা
রামচন্দ্রপুর, শৈনকুপা, ঝিনাইদহ
আমরা মনে করি, এই দুধের সঠিক পরীক্ষা বিদেশে গিয়ে হলেও এখনই করা জরুরি। সাধারণ মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিষয়। পরীক্ষা না হলে বিষয়টি আমলে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
মো. আরিফুর রহমান
দেলপাড়া, নারায়ণগঞ্জ।
প্রাণিজ আমিষ হিসেবে দুধের কোনো বিকল্প নেই। প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে অন্তত এক কাপ দুধ খাওয়া উচিত প্রত্যেকের। এখন সরকার এ বিষয়টিতে নজর দিয়েছেন এবং বাজারে খোলা ও প্যাকেটজাত দুধের ভেজাল বন্ধ করতে নিরাপদ দুধের জোগান নিশ্চিত করতে শুরু করেছেন। তাই তিনি আবার দুধের নিরাপত্তা পরীক্ষা করতে বলেছেন। প্রথমবারের মতো এবারও নতুন নমুনায় অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি একই নিয়মে একই উন্নত ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। এর ফলাফল আগের মতোই উদ্বেগজনক। তাই এতে কোনো সন্দেহ নেই—দুধে ভেজাল আছে। অন্যদিকে দুধে ভেজাল বন্ধে এখন প্রয়োজন হয়ে পড়েছে সামাজিক সচেতনতা ও আন্দোলন গড়ে তোলার। ভেজাল দুধ ও গাভিকে ভিটামিন নামক বিষাক্ত ওষুধ খাওয়া বন্ধে সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ না হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না বলেই প্রতীয়মান হয়। আমরা আশা করব, সরকার ও জনগণ যৌথভাবে দুধে ভেজাল মেশানোর প্রক্রিয়া বন্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। তা না হলে প্রতি বছর বিশ্ব দুগ্ধ দিবস পালনের কোনো তাত্পর্য থাকবে না।
সাদিয়া সুলতানা মাহি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
স্কুল অ্যান্ড কলেজ,
সাভার, ঢাকা।
দুধ নিয়ে ঢাকা ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার মধ্যে গড়মিল থাকার জন্য এ ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এতে বলা যায়, প্রফেসরের পরীক্ষা ঠিক। কারণ, ঢাকা ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ফারুক সাহেব তার গবেষণার ফলাফল বিস্তারিতভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরতে তার সাক্ষাত্ চেয়েছেন, এতে তার সত্ সাহস আছে বলে ধরা যায়। ঢাকা ইউনিভার্সিটির গবেষকরা গত জুন মাসে বাজার থেকে দুধের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করলে তাতে অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এর পর ২৫ জুন ইউনিভার্সিটির ঔষধ প্রযুক্তি বিভাগ ও বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টার থেকে জানানো হয় দুধের নমুনায় তারা ডিটারজেন্ট ও তিন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের সন্ধান পান। পরে একটি রিট করার ফলে বিএসটিআই-কে পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিএসটিআইয়ের প্যারা মিটারে বিষয়টি ধরা না পড়ায় কোর্ট আরো চারটি ল্যাবরেটরিকে নির্দেশ দেয়। দুধ নিয়ে করা কোন পরীক্ষাটি সঠিক তা প্রমাণ করতে হলে পৃথিবীর যেখানে সঠিক পরীক্ষা হয়, সেখানে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করালে আমরা সঠিক ফলাফল পাব।
ইমরান আলী বাবু
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
গরু আমাদের গৃহপালিত প্রাণী। গরুর আহরিত দুধ থেকে আমরা পুষ্টি পাই এবং অর্থ উপার্জন করি। এখন এই গরু বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে প্রচুর পরিমাণ দুধ আহরণ করা হচ্ছে। দুধের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে যদি হয় গরুর খাঁটি দুধ। দুধ পরীক্ষা করার কথা কতটুকু সত্য আমরা জানি না। দুধে ভেজালকারীর অবশ্যই শাস্তি হতে হবে।
ফারুক আহমেদ
বাঘমারা, রাজশাহী।
দুধ পরীক্ষার সঠিকতা এখনো স্পষ্ট হয়নি। দুধে ক্ষতিকর পদার্থের পরিমাণ সহনীয় মাত্রায় আছে কি না, তা দেশবাসীকে পরিষ্কারভাবে অবশ্যই জানানো প্রয়োজন।
অ্যাডভোকেট এস কে মো. রমিজউদ্দিন
কাজী পাড়া, মিরপুর, ঢাকা।
কয়েক বছর যাবত্ ইউরোপসহ অন্যান্য দেশের সরকারি ভর্তুকি প্রদান করায় সেখানে দুগ্ধ উত্পাদন, বিশেষ করে গুঁড়া দুধ উত্পাদন অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের দেশে তার আমদানি বেড়েছে। ফলে শুরু হয়েছে অনেক অনিয়ম। আর এই অনিয়মের মধ্যে পড়েছে আমাদের দুগ্ধশিল্প। সেজন্য দেখা দিয়েছে দুধ পরীক্ষায় সঠিক নিয়মের বিষয়টি। আমরা চাই সঠিক পরীক্ষা হলে নিশ্চয়ই তার প্রমাণ দিতে এগিয়ে যাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সবার আগে আমাদের দুগ্ধশিল্পকে রক্ষা করতে হবে।
বজলুল
রিক, ধানমন্ডি, ঢাকা
দুগ্ধশিল্পের বিরাজমান যে সংকট, তা দ্রুত কাটিয়ে উঠা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশের ডেইরি ফার্মকে জাতীয় ডাটাবেইজের আওতায় আনা আবশ্যক।
সুগন্ধী আক্তার
মতিঝিল, ঢাকা
আল্লাহ যেখানে গৃহপালিত পশুর দুধকে মানুষের খাদ্য হিসেবে হালাল করেছেন, সেখানে একজন গবেষক দুধের গুণাগুণ সঠিকভাবে পরীক্ষা না করে খামারের দুধের ভেতরে অসত্ উদ্দেশ্যে খুঁত বের করেছেন। তাই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একমত।
হাজী খায়রুল কবীর
সভাপতি, বয়স্ক কল্যাণ সমিতি
মিরপুর-১০, ঢাকা।
এক্ষেত্রে আমাদের একান্ত সহযোগিতা প্রয়োজন। কেননা, এত বড়ো সমস্যার সমাধান করা শুধু একা আমাদের কিংবা সরকারের কারোরই পক্ষে সম্ভব নয়। এ কারণে আমরা সকলে একত্রিত হয়ে দুধের পরীক্ষা/ভেজাল দুধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে চাই—আর যাতে কখনোই এই দুধ নিয়ে ষড়যন্ত্র না হয়।
অ্যাডভোকেট মো. রবিউল হোসেন রবি
সভাপতি, বাংলাদেশ মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা
মতিঝিল, ঢাকা।
সম্প্রতি দুধ পরীক্ষা নিয়ে সঠিক তথ্য আছে বলে সাফ জানিয়েছেন সরকার। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক বলছেন অন্যকথা। অতএব, বিদেশে গিয়ে উন্নত ল্যাবে এর পরীক্ষা করা হোক।
রিফাত
শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়,
উত্তরা, ঢাকা।
দুধে ভেজাল যারা করে তারা অপরাধী। সুতরাং দুধ ভেজাল মুক্ত করা আবশ্যক। ভেজাল দুধ পরীক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানকে সঠিকভাবে পরীক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। এটি একটি জাতীয় সমস্যা, প্রতিকার আবশ্যক।
শাহ্ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন হিরো
কালিহাতি, টাঙ্গাইল।
দুধ পরীক্ষা নিয়ে মতানৈক্যের ধূম্রজালে পড়ে জনগণও বিভ্রান্তিতে হাবুডুবু খাচ্ছেন। ফলে বিশেষভাবে শিশুদের ওপর এর বিরূপ প্রভাব সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। সুতরাং এ পক্ষ ও অন্যপক্ষের ওপর দোষারোপের অভ্যাস পরিহার করে যত দ্রুত সম্ভব সরকার ও দুগ্ধমান নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ সামনা-সামনি একত্রে বসে বিষয়টি সমস্যা সমাধান করবে বলে আশা করি। তা না হলে দুধের মতো এতো পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবারের অভাবে ভবিষ্যত্ প্রজন্ম যে পুষ্টিহীনতায় ভুগবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
আলহাজ মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী (হিফজু)
সেক্রেটারি,
পরিবেশ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটি
হাউজিং স্টেট, ২নং সেক্টর,
রাজশাহী

পথিকের অভিমান ভাঙার গল্প by সুধাময় সরকার

২০০২ সালে ‘ইত্যাদির’ মাধ্যমে তার রাজকীয় উত্থান। টানা ৩ বছরে প্রায় ৩৫টি অডিও অ্যালবাম! যার বেশিরভাগই হিট। ২০০৫ সালের কোনও একদিন হঠাৎ নিজেকে নিজেই বললেন, ‘অনেক হয়েছে পথিক। এবার থাম। এভাবে আর ছুটে চলা নয়।’
যেমন সিদ্ধান্ত তেমন বাস্তবায়ন। এরপর টানা ১৪ বছর কোনও নতুন গান প্রকাশ হলো না পথিক নবীর। চোখের পলকে শুকিয়ে গেল কথা-সুর আর কণ্ঠে টইটম্বুর একটা জীবন্ত নদী! অথচ তারই অভিষেক গান ‘আমার একটা নদী ছিল’ আজও সমান জনপ্রিয়, সর্বত্র।
যেমন চলে যাওয়া, তেমন করেই হঠাৎ ফেরা হলো পথিকের। ঢাকঢোল সমৃদ্ধ এই সময়ে আওয়াজ ছাড়াই ১৪ বছর পর সম্প্রতি নতুন একটি গান কণ্ঠে তুললেন পথিক, বাণিজ্যিক বিপণনের লক্ষ্যে। নাম তার ‘জোড়া শালিক’। যদিও সেটি নিজের ভাণ্ডার থেকে নয়। গানটির কথা লিখেছেন সোমেশ্বর অলি আর সুর করেছেন লুৎফর হাসান। সংগীতায়োজন করেছেন মার্সেল। প্রযোজনায় জি সিরিজ।
কাকতাল হলেও গানটির কথাতেও রয়েছে পথিকের ফিরে আসার ছায়া- একদিন সবকিছু হয়ে যাবে ঠিক/ তুমি খুঁজে নিও সেই দিন তারিখ/ একশ বছরেও আমি দেখব না- জোড়া শালিক।
ঠিকঠিক গানে ফেরা প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে জানতে চাওয়া- গান থেকে কেন এই দীর্ঘ আড়াল? পথিকের জবাব একটু আধ্যাত্মিক, ‘কিছুটা অভিমান আর কিছুটা আত্মোপলব্ধির জন্যই আমার ফিরে যাওয়া। গানের জন্য আমি আমার কাজ করেছি, সামনেও করবো। মাঝের সময়টাতেও গানের সঙ্গেই ছিলাম, তবে সেটি শুধুই নিজের জন্য। কিন্তু পুরো বিষয়টা তো আসলে একার নয়। এ জগৎ একার বিষয় না। এখানে মিলেমিশে আন্তরিকতার আবহ জরুরি। তবেই সময়কে আমরা সান্নিধ্য দিতে পারবো। নয় তো তারছেঁড়ার মতো আঁতলামিতে সব নষ্ট হয়ে যাবে। আমি নষ্ট হতে চাইনি। মূলত এসব ভাবনা থেকেই ২০০৫ সালের কোনও এক সন্ধ্যায় নিজেকে প্রত্যাহার করে নেই, নীরবে। যেখানে মিলমিশ নেই, আন্তরিকতা নেই- সেখানে সুর-তালও থাকার কথা নয়।’
মূলত এই অভিমানে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন পথিক। কিন্তু ফিরেছেন কী ভেবে! তবে কি আন্তরিকতাও ফিরেছে, এই সংগীত সংসারে?
পথিকের ভাষ্যে, ‘আন্তরিকতা তো ছিলোই। তা না হলে ফেরার প্রসঙ্গই আসে না। আমি তো শুধু মানুষের আন্তরিকতা নিয়ে ভাবিনি কখনও। আন্তরিকতা খুঁজেছি গানের কথা, সুরে, সংগীতেও। এই গানটির মাধ্যমে আমি সেই অন্তরগুলোকে খুঁজে পেয়েছি। মন টেনেছে। গেয়েছি। উৎসাহ পেয়েছি। মন বলছে, আবারও গাইবো। ১৪ বছরের অনুপস্থিতি পুষিয়ে দেবো শ্রোতাদের। অপেক্ষা শুধু জোড়া শালিকের।’
জানা গেছে, পথিক নবীর ‘জোড়া শালিক’ তৈরি হচ্ছে আসছে ঈদের অন্যতম চমক হিসেবে। ভিডিও নির্মাণ করবেন বিকাশ সাহা। আসছে সপ্তাহে এর শুটিংয়ে অংশ নেবেন পথিক নিজেই।
কথায় কথায় পথিক জানান, গত ১৪ বছরে প্রায় ৩শ গান লিখেছেন ও সুর করেছেন তিনি। এরমধ্যে রেকর্ডও করেছেন বেশ কিছু। এবার পর্যায়ক্রমে সেগুলোই প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
১৪ বছর আগে প্রকাশিত শেষ গানটার কথা মনে আছে? ‘‘খুব মনে আছে। শওকাত ভাইয়ের সংগীতে ‘লাভ মি’ অ্যালবামে। ২০০৫ সালে প্রকাশ পেয়েছিল। গানটির কথা ও সুর ছিল আমার। কথাগুলো এমন- একবার এসেছো যখন সব দেখ মেলিয়া নয়ন, নয়নো মুদিলে নয়ন আর তো মেলবে না, চলে গেলে আর ভালোবাসা হবে না বন্ধু, চলে গেলে আর ফিরে আসা হবে না।’’ বললেন পথিক নবী।
সামনের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে এই সংগীতশিল্পীর ভাষ্য এমন, ‘শুরু যখন করেছি চলবে আবার ঝটিকা। নিজের ও অন্যদের ভালো গানগুলো মানুষের জন্য গাইতে চাই। জীবনের কী ভরসা?
আর যে ক’দিন আছি, প্রকাশ্যে গান নিয়েই থাকতে চাই। আর নয় অভিমান।’

বাঙালির ঘরে তুর্কি পদ

তুরস্কের খাবারের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। পদগুলোর নাম শুনলে মনে হয় রান্না বেশ কঠিন। বাস্তবে ঠিক তার উল্টো। বাড়িতেই বানিয়ে ফেলতে পারবেন তুর্কি পদ। রেসিপি দিয়েছেন আফরোজা নাজনীন
ফেটা চিজের ফেটুস সালাদ
উপকরণ: পিটা ব্রেড টুকরা করা ২ টেবিল চামচ, জলপাই তেল ১ টেবিল চামচ, শসা, টমেটো কিউব করে কাটা ৩ কাপ, জলপাই ১ চা-চামচ, পেঁয়াজকুচি অর্ধেকটা, পার্সলেকুচি ১ কাপের ৪ ভাগের ৩ ভাগ অংশ, পুদিনাপাতাকুচি ১ কাপের ৪ ভাগের ৩ ভাগ অংশ, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, সামাক পাউডার ১ চা-চামচ, রসুন মিহিকুচি ১ কোয়া, লবণ স্বাদমতো, গোলমরিচের গুঁড়া পরিমাণমতো, ফেটা চিজ পরিমাণমতো।
প্রণালি: পিটা ব্রেড তেলে বাদামি করে ভেজে তুলে নিন। সালাদের সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে পরিবেশন করুন।
শিস কাবাব
উপকরণ: হাড় ছাড়া খাসির মাংস কিউব করে কাটা ১ কেজি, টক দই ৩ টেবিল চামচ, লাল মরিচের গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, গোলমরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ, পাপরিকা আধা চা-চামচ, জিরার গুঁড়া আধা চা-চামচ, রসুনের গুঁড়া আধা চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, জলপাইয়ের তেল ৩ টেবিল চামচ।
প্রণালি: মাংসসহ সব উপকরণ একসঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে ফ্রিজে সারা রাত বা কমপক্ষে ২ ঘণ্টা ম্যারিনেট করুন। এরপর শিকে বা শাশলিক কাঠিতে গেঁথে ওভেনে ২০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে বাদামি রং না হওয়া পর্যন্ত গ্রিল করে নিন। সালাদ, নান বা পোলাওয়ের সঙ্গে পরিবেশন করুন মাজাদার এই টার্কিশ কাবাবটি।
মাহালাবিয়া
উপকরণ: দুধ ৩ কাপ, কর্নফ্লাওয়ার ৬ টেবিল চামচ, ঠান্ডা পানি ১ কাপ, চিনি ১ কাপের ৪ ভাগের ৩ ভাগ অংশ, হুইপড ক্রিম ১ কাপ, গোলাপজল ১ টেবিল চামচ, এলাচ গুঁড়া সিকি চা-চামচ।
প্রণালি: দুধ ও চিনি একসঙ্গে জ্বাল দিন। কর্নফ্লাওয়ার পানিতে ভালো করে গুলে নিন। এবার ওই দুধে মিশিয়ে মাঝারি আঁচে নাড়তে থাকুন। ঘন হয়ে এলে নামিয়ে এতে ক্রিম, এলাচ দানা ও গোলাপজল মিশিয়ে নিন। এরপর ফ্রিজে ২-৪ ঘণ্টার জন্য জমতে দিন। ইচ্ছা হলে এতে চালও দেওয়া যায়। ২ কাপ দুধে ১ কাপ চাল এভাবে।
টার্কিশ মিট বল
উপকরণ: গরুর মাংসের মিহি কিমা ৫০০ গ্রাম, ব্রেড ক্রাম্ব আধা কাপ, পেঁয়াজকুচি ২টি, রসুন বাটা ১ চা-চামচ, শুকনা থাইম ১ চা-চামচ, লাল মরিচের গুঁড়া ১ চা-চামচ, গোলমরিচের গুঁড়া ১ চা-চামচ, চিলি ফ্লেক্স আধা চা-চামচ, জিরার গুঁড়া ১ চা-চামচ, ডিম ১টি, জলপাইয়ের তেল পরিমাণমতো, লবণ স্বাদমতো।
প্রণালি: কিমাসহ সব উপকরণ একসঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে ফ্রিজে সারা রাত বা কমপক্ষে ২ ঘণ্টা মেখে রাখুন। খানিকটা নিয়ে হাত দিয়ে চ্যাপ্টা করে গোল বা ওভাল আকারে কাবাব বানিয়ে গরম তেলে ভেজে বা গ্রিল করে নিন। সালাদ ও নানের সঙ্গে পরিবেশন করুন।
বেইটি শর্মা
উপকরণ পুরের জন্য: গরুর মাংসের মিহি কিমা ৫০০ গ্রাম, পেঁয়াজকুচি ১টি, পার্সলে কুচি ১ চা-চামচ, লাল মরিচের গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, গোলমরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ, পাপরিকা ১ চা-চামচ, রসুনের গুঁড়া আধা চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, জলপাইয়ের তেল পরিমাণমতো।
শর্মার জন্য: পিটা ব্রেড ২টি, গলানো মাখন ১ চা-চামচ।
সসের জন্য: টক দই ও টমেটো সস আধা কাপ।
পরিবেশনের জন্য: পার্সলে ও সালাদ
প্রণালি: পুরের সব উপকরণ একসঙ্গে মেখে নিন। খানিকটা নিয়ে শিকে গেঁথে কয়লার আগুনে সেঁকতে হবে। ওভেনে বেক করুন কাবাব না হওয়া পর্যন্ত। একটু পরপর তেল দিয়ে ব্রাশ করে দিন। শিক থেকে কাবাবটা খুলে নিন। পিটা ব্রেডে মাখন ব্রাশ করে নিন। এই কাবাবটা দিয়ে রোল করে নিয়ে কেটে টক দই, টমেটো সস, সালাদসহ পরিবেশন করুন।
ফালাফেল
উপকরণ: কাবুলি ছোলা ১৫০ গ্রাম, পেঁয়াজ ১টি, রসুন ৪-৫ কোয়া, কাঁচা মরিচ ১টি, পার্সলেপাতা আধা কাপ, লবণ ২ চা-চামচ, চিনি আধা চা-চামচ, ভাজা জিরার গুঁড়া ১ চা-চামচ, লেবুর রস ১টি, ভাজার জন্য সাদা তেল, পরোটা বা পিটা ব্রেড ২টি, তাহিনি সস ২ টেবিল চামচ, ধনেপাতা আর পুদিনাপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ, শসা, টমেটো স্লাইস, লেটুসপাতা সাজানোর জন্য।
প্রণালি: কাবুলি ছোলা সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরদিন পানি ঝরিয়ে নিন। এরপর এই ছোলার সঙ্গে পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচা মরিচ এবং পার্সলেপাতা একসঙ্গে গ্রাইন্ডারে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। এই মিশ্রণের মধ্যে লবণ, ভাজা জিরার গুঁড়া, লেবুর রস মিশিয়ে ভালোভাবে মেখে নিন। খানিকটা করে নিয়ে চ্যাপ্টা প্যাটি করে বা গোল বল করে বানিয়ে নিয়ে গরম তেলে ভেজে নিন। এভাবে সব ফালাফেল ভেজে নিন। পরোটা বা পিটা ব্রেডের মধ্যে তাহিনি সস লাগিয়ে ফালাফেল, শসা, টমেটো, ধনেপাতা, পুদিনাপাতা, লেটুসপাতা দিয়ে রোল করে পরিবেশন করুন।
বাকলাভা
উপকরণ: পেস্তাবাদাম ২০০ গ্রাম, চিনি ১০০ গ্রাম (সুগার সিরাপের জন্য ১০০ গ্রাম), পানি সিকি কাপ, ফিলো পেস্ট্রি শিট ১৬টা, গলানো মাখন ১৫০ গ্রাম।
প্রণালি: প্রথমে গরম পানিতে পেস্তাবাদাম দিয়ে ঢেকে রেখে দিন ৫ মিনিট। তারপর পেস্তা পানি থেকে তুলে শুকনো কাপড় বা কিচেন টাওয়ালের মধ্যে রেখে দিন। একটু ঘষে পেস্তাবাদামের খোসা উঠিয়ে নিন। ওভেন বা শুকনা কড়াইতে ২ থেকে ৪ মিনিট ভেজে নিন। এরপর মিক্সিতে গুঁড়া করে তার সঙ্গে চিনি মিশিয়ে দিন। একটা সমান ট্রেতে পেস্ট্রি শিট বিছান। তার ওপরে গলানো মাখন ব্রাশ দিয়ে লাগান। আবার একটি পেস্ট্রি শিট বিছিয়ে গলানো মাখন ব্রাশ দিয়ে লাগান। এভাবে করে ৮টি পেস্ট্রি শিট বিছাতে হবে। তারপর পেস্তাবাদামের মিশ্রণটি এর ওপর ঢেলে দিন। তার ওপরে আবার ৮টি পেস্ট্রি শিট বিছিয়ে নিন। যেমন করে আগে গলানো মাখন ব্রাশ করে লাগিয়ে নেওয়া হয়েছিল, সেভাবে। মোট ১৬টি পেস্ট্রি শিট ব্যবহার করুন। প্রথমে ৮টি, তারপর পেস্তা বিছিয়ে আরও ৮টি। এরপর বাকি যে মাখন থাকবে সেটা একদম ওপরে ব্রাশ করে বরফির মতো বা নিজের পছন্দমতো কেটে বাকলাভা বানিয়ে ৩০ মিনিট ফ্রিজে রাখুন। ৩০ মিনিট পর ফ্রিজ থেকে বের করে নিন। প্রিহিট ওভেনে ১৮০ ডিগ্রি টেম্পারেচারে ১৫ মিনিট বেক করুন। বেক করার পর ১০০ গ্রাম চিনি ও সিকি কাপ পানি ফুটিয়ে সুগার সিরাপ বানিয়ে নিন। বেক করা পেস্ট্রি শিটের ওপরে ব্রাশ করে সুগার সিরাপ লাগিয়ে পছন্দমতো সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

অবমাননা, দুর্ভোগ আর দায়মুক্তি: সাংবিধানিক গণতন্ত্র হিসেবে ভারতের সামনে প্রশ্ন by কল্পনা কন্নাবিরান

গত ৫ আগস্ট ভারত সরকার সংবিধানে থাকা জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে একে দুটি কেন্দ্র-শাসিত অঞ্চলে পরিণত করেছে। এই নির্দেশ যখন জারি করা হয় তখন রাজ্যটি ছিল রাষ্ট্রপতির শাসনে, কোনো নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় ছিল না।

সিনিয়র সংবিধান বিশেষজ্ঞ এ জি নূরানি এই পদক্ষেপকে চরম ও সুস্পষ্টভাবে সংবিধানের পরিপন্থী হিসেবে অভিহিত করে তা বাতিল করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যান্য আইন বিশেষজ্ঞরাও একই ধরনের অভিমত ব্যক্ত করছেন।

আমাদের সামষ্টিক মননে যেটা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে তা হলো ক্ষমতাসীন শিবিরে আতঙ্কজনক উল্লাস এবং এই পদক্ষেপের ফলে সংশ্লিষ্ট লোকজনের দুর্ভোগ সম্পর্কে উদাসিন থাকা। তারা বিন্দুমাত্র অপেক্ষা না করেই কাশ্মীরে বিনিয়োগ সম্মেলন আয়োজনের কথা ঘোষণা করেছে, সেখানে করপোরেট হানার কথা জানিয়েছে। প্রতিবেশগত সমৃদ্ধ ওই অঞ্চলের মানুষের কথা বিবেচনায় না এনেই সেখানে অন্যান্য এলাকার মতো পরিবেশ গড়ে তোলা হবে, রাজনৈতিক ধান্দাবাজেরা কাশ্মীরী মেয়েদের শিকার করার জন্য পাগল হয়ে ওঠেছে, মনে হচ্ছে যে হাত বাড়ালেই তারা তা পেয়ে যাবে। বলিউডও সিনেমার মাধ্যমে কাশ্মীর জয় সুসংহত করার জন্য উঠে পড়ে  লাগার কথা ঘোষণা করেছে। নির্লজ্জ দায়বদ্ধতার এমন অবস্থা আর কখনো দেখা যায়নি।

সংবিধান অগ্রাহ্য

কাশ্মীরের বাইরে বিজেপি সরকার জোরালোভাবে বলে আসছে যে এসব করা হয়েছে কাশ্মীরের কল্যাণের জন্য। জম্মু ও কাশ্মীরের গভর্নর সাংবিধানিক পদে থেকেও রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তিনি সংবিধান সমুন্নত রাখার তার শপথের কথা ভুলেই গেছেন। সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ সংবিধানকে যেভাবে অগ্রাহ্য করে আসছে, তা ভয়ঙ্কর মনে হচ্ছে।

অবশ্য এটাও ঠিক গত ৭০ বছর ধরে কাশ্মীরের স্বায়ত্বশাসন নস্যাৎ করা হয়েছে। আগের কংগ্রেস করাও মহান কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেনি। কিন্তু বিজেপি সরকার যেভাবে সংবিধান অবমাননার কাজটি করেছে তা নজিরবিহীন।

ঘোষণাটি দেয়ার পর ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও কাশ্মীরী জনগণ বাইরের দুনিয়ার সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি। এমনকি তাদের পরিবার সদস্যদের সাথেও কথা বলতে পারেনি। কাশ্মীরের অন্যতম শ্রদ্ধাভাজন সাংবাদিক অনুরাধা ভাসিন সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে মিডিয়ার স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়ে উপত্যকার পরিস্থিতির খবর পরিবেশনের স্বাধীনতা চেয়েছেন।

নৃশংস বিধিনিষেধ

যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়া, সশস্ত্র বাহিনীর পেলেট বর্ষণ ও অন্যান্য হামলার খবর প্রকাশে বিধিনিষেধ, চিকিৎসার জন্য আসাদের হাসপাতালের রেকর্ড রাখা, সাধারণ নাগরিকদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ ইত্যাদি বিষয় সুরাহা করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। সুপ্রিম কোর্ট ‘স্বাভাবিক’ অবস্থা ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছে।

উপত্যকায় কোন ধরনের ‘স্বাভাবিক’ অবস্থা ফিরে আসবে? আর স্বাভাবিক অবস্থা ফেরাটা নির্ধারণ করবে কে? কাশ্মীরে যে অবস্থা বিরাজ করছে, তা পুরো ভারতীয় জাতির জন্য লজ্জাজনক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। যেখানে দখলদারিত্ব জনসাধরণের মনে গভীর কষ্ট আর যন্ত্রণার সৃষ্টি করছে, যেখানে সেনাবাহিনীর নজরদারি ভয়াবহ মাত্রায় বেড়ে গেছে, সেখানে কোন স্বাভাবিক অবস্থার কথা আমরা বলতে পারি?

কতটা ক্ষতি হয়েছে তা আমরা কিভাবে নিশ্চিত হবো? প্রাণহানির তথ্য আমরা কি স্বাধীন মিডিয়ার কাছ থেকে পাব না সরকারি স্বার্থ পূরণ করে এমন তথ্য থেকেই আমরা সন্তুষ্ট থাকব? আম্বানি আর বলিউডের কাশ্মীরে ফেরাই কি স্বাভাবিক পরিস্থিতির প্রত্যাবর্তন বলে স্বীকৃত হবে?

রাষ্ট্রীয় দায়মুক্তি প্রতিরোধ

আর দায়মু্ক্তি? মাত্র দুই বছরেরও আগে সুপ্রিম কোর্ট নজরদারির বিরুদ্ধে নাগরিক অধিকার, স্বায়ত্বশাসনের অধিকার, মর্যাদার অধিকার, মুক্ত থাকার অধিকারের কথা বলেছে। সংখ্যালঘুদের নিয়ে আদালত এডিএম জবালপুর মামলার রায়ও সমুন্নত রেখেছে।

কিন্তু কাশ্মীরী বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মীরা বারবার বলে আসছেন, কাশ্মীরে এসব অধিকার প্রতিনিয়ত লঙ্ঘিত হচ্ছে। আর এখন যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাতে আরো খারাপ অবস্থাটিই স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে আমাদের সবার সামনে যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা হলো কাশ্মীরীদের জন্য জায়গা করে দেয়া। নয়তো আমরা ভুলে যাব যে আজকের ভারতে কাশ্মীরেই ন্যায়বিচারের অর্থ নিয়ে কোনো ভাবনাচিন্তার অবকাশ রয়েছে।

>>>লেখক: সমাজতত্ত্ববিদ ও মানবাধিকার কলামনিস্ট

খনি থেকে ইউরেনিয়াম উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভারতীয় মুখ্যমন্ত্রী by সুবীর ভৌমিক

ছত্তিশগড় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল
ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল রোববার দ্ব্যর্থহীনভাবে তার রাজ্যের খনি থেকে ইউরোনিয়াম উত্তোলনের বিরোধিতা করেছেন। তার এই বিরোধিতা দেশের পারমাণবিক কর্মসূচিতে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়েও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ইউরেনিয়ামের মজুত রয়েছে। দেশের উচ্চাভিলাষী পারমাণবিক বিদ্যুৎ ও অস্ত্র কর্মসূচির জন্য এই ইউরেনিয়াম উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাত করার সুযোগ দিতে কেন্দ্রের কাছ থেকে রাজ্যটি ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছে।

উত্তরপূর্বাঞ্চলের আরো কয়েকটি রাজ্যে ছত্তিশগড়ের মতো ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধ মজুত রয়েছে বলে মনে করা হয়।

কিন্তু এই খনিজ উত্তোলন করতে গেলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করবে বলে স্থানীয় গ্রুপগুলো এর বিরুদ্ধে। তাদের কারণে প্রায় তিন দশক ধরে মেঘালয়ে ইউরেনিয়াম উত্তোলন বন্ধ রয়েছে।

মেঘালয়ের ইউরেনিয়াম-বিরোধী গ্রুপগুলোর মতো একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাঘেল। নয়া দিল্লিতে রোববার দিল্লিভিত্তিক থিংক ট্যাংক সোসাইটি ফর পলিসি স্টাডিজ ও রায়পুরভিত্তিক গ্রুপ অব থিঙ্কার্স আয়োজিত ছত্তিশগড়ে বিনিয়োগ আকর্ষণ বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যকালে তিনি ওই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সাউথ এশিয়ান মনিটর’র এক প্রশ্নের জবাবে বাঘেল বলেন, তিনি এমন কোন নতুন প্রকল্প নিতে আগ্রহী নন যাতে ইউরেনিয়ামসহ অন্যান্য খনিজের জন্য ব্যাপকভাবে খননের প্রয়োজন হবে।

খনিজ সমৃদ্ধ রাজ্যটিতে বিনিয়োগের সম্ভাব্য ক্ষেত্র অনুসন্ধান করে দেখতে আগ্রহী অনেক বিদেশী কূটনীতিকের উপস্থিতিতে বাঘেল বলেন, ‘পুরা রাজ্যকো খোদ দিয়া হ্যায়, আওর কিতনা খোদেঙ্গে’ (তারা পুরো রাজ্যটিকেই খনন করে ফেলেছে, আর কত খনন করবে)।

তিনি কেন বিশেষ করে ইউরেনিয়াম খনিজ উত্তোলনের বিরুদ্ধে তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বাঘেল বলেন: আমি আমার রাজ্যের আদিম পরিবেশ বজায় রাখতে খুবই আগ্রহী। ব্যাপকভাবে খনি কার্যক্রম বিশেষ করে ইউরেনিয়াম উত্তোলন করা হলে তা পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন যে তার সরকার স্থানীয় জনগণ, বিশেষ করে দারিদ্রপীড়িত উপজাতীয়দের কল্যাণ হয় এমন প্রকল্প গ্রহণে আগ্রহী।

বাঘেল বলেন, স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য কাঁচামালের উপর ভিত্তি করে কৃষি প্রক্রিয়াজাত এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে আমি আগ্রহী। কারণ এতে স্থানীয় জনগণের আয় বাড়বে।

‘দু:খজনক হলো, বড় আকারের খনিজ কার্যক্রম আমাদের জনগণের কোন উপকারে আসে না। এতে শুধু পরিবেশ দূষণ হয়।’

ঝাড়খণ্ডের যাদুগোদার কথা উল্লেখ না করে বাঘেল আরো বলেন যে ভারতের অন্যান্য অংশে ইউরেনিয়াম খনিগুলোর কারণে বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে তিনি অবগত। তেজস্ক্রিয় ইউরেনিয়াম বর্জে্যর কারণে যাদুগোগার গ্রামবাসীদের মারাত্মক ভুগতে হচ্ছে।

তবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ হলো কেন্দ্রের বিষয় এবং কেন্দ্র শুধু ছত্তিশগড় নয় ভারতের যেকোন রাজ্যেই ইউরেনিয়াম খনি খননের আহ্বান জানাতে পারে।

বাঘেল বলেন, তবে রাজ্য সরকার ও স্থানীয় জনগণ নিজেদের অভিমত প্রকাশের অধিকারী।

ভারত তার পারমাণবিক বিদ্যুৎ ও অস্ত্র কর্মসূচির জন্য খনি থেকে ইউরোনিয়াম উত্তোলন জোরদার করার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া থেকে এই পদার্থ আমদানির পরিকল্পনা করেছে।

অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন যে পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির ক্ষেত্রে পাকিস্তানের চেয়ে ভারত অনেক পিছিয়ে আছে। আর এটা এমন এক সময় ঘটছে যখন পরস্পরের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হুংকার দিয়ে বেড়াচ্ছে দুই শত্রু মনোভাবাপন্ন প্রতিবেশী।

ইমরান খান: পাকিস্তানের কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার এক বছর

ক্রিকেট সুপারস্টার থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা ইমরান খান, তার ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম বছরটি বেশ আলোড়নময়।
তিনি এখন এমন একটি অবস্থানে পৌঁছেছেন যে অনেকেই ভেবেছিলেন যে তিনি সেটা কখনই অর্জন করতে পারবেন না।
রাজনীতির মাঠে দুই দশকের দীর্ঘ সংগ্রামের পর ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয় পান তিনি। ওই দুই দশকের বেশিরভাগ সময় তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মুখে পড়তে হয়েছে।
পাকিস্তানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী, যারা কিনা স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময় পাকিস্তানকে শাসন করেছে, তারা ইমরান খানের দল পিটিআই পার্টির স্বার্থে পর্দার আড়ালে হস্তক্ষেপ করছে- এমন অভিযোগ উপেক্ষা করে ইমরান খান নিজ অবস্থানে অবিচল ছিলেন।
এই উপলব্ধি এবং পাকিস্তানের সামনে অগণিত চ্যালেঞ্জ থেকেই বোঝা যায় যে মিঃ খানের ক্ষমতায় থাকা প্রথম বছরটি এতোটাও সহজ ছিলনা।
সমালোচকরা অভিযোগ করেন যে তিনি বিশ্বের কাছে যে চেহারা উপস্থাপন করেন, পাকিস্তানের অভ্যন্তরে তার রূপ একেবারেই আলাদা।
তবে তিনি কী করেছেন?

হ্যাঁ আমরাই খান?

নির্বাচনী প্রচারণায় দুর্নীতি বিরোধী বক্তব্য সেইসঙ্গে "নতুন পাকিস্তান" প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পাশাপাশি মি. খান তার সমর্থকদের প্রায় ওবামার আদলে "তাবদিলি" (পরিবর্তন) করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দেশের ভারসাম্যহীন অর্থনীতিকে রক্ষা করা।
প্রথম আট মাসের মধ্যে, তিনি দীর্ঘ দিনের মিত্র সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং চীন সফর করেন। অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে ৯শ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা আনার ব্যবস্থা করেন।
কিন্তু এতেও সঙ্কট কাটেনি। প্রবৃদ্ধির গতি কমতেই থাকে। রুপির দাম কমে যায় এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০% ছাড়িয়ে যায়। ২০১৩ সালের পর প্রথমবারের মতো এই প্রবৃদ্ধির হার দুই অংকে এসে পৌঁছায়।
অর্থনৈতিক সঙ্কট ক্রমশ বাড়তে থাকায় ইমরান খানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে ইউ-টার্ন নেয়া ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অর্থ সহায়তা চাইবেন না বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে সেই প্রতিশ্রুতি থেকে তিনি সরে আসতে বাধ্য হন।
প্রাক্তন ক্রিকেট সুপারস্টার কখনও প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন কিনা এ নিয়ে বছরের পর বছর ধরে অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন।
জুলাইয়ে, আইএমএফের সাথে ৬০০ কোটি ডলার প্যাকেজের একটি চুক্তি হয়। দেশটিতে ১৯৮০-এর দশক থেকে এ পর্যন্ত এটি আইএমএফের ১৩তম অর্থ সহায়তার প্যাকেজ।
ইউএস-ভিত্তিক অ্যালব্রাইট স্টোনব্রিজ গ্রুপের দক্ষিণ এশিয়ার বিশেষজ্ঞ উজায়ের ইউনুস বলেছেন, পিটিআই সরকারের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল এর নীতিগত পরিকল্পনার অভাব।
"তারা কর রাজস্বের খুব উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে তবে যে মুহূর্তে তারা এই লক্ষ্যগুলো পূরণ করতে ব্যর্থ হবে, তখন তাদের পুরো তাসের ঘর ধসে পড়বে," তিনি বলেন।
তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী বিবিসিকে বলেছেন যে সরকার "আমাদের কাজ করছে"।
তিনি বলেন, " অর্থনীতির বিভিন্ন জায়গায় আমাদের একটি নিবেদিতপ্রাণ দল কাজ করছে এবং আমরা মনে করি যে আগামী নির্বাচনগুলো দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে হবে," তিনি বলেন।
তিনি স্বীকার করেছেন যে এই অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যেও সরকার, পিটিআই এর মূল মধ্যবিত্ত ভোটার শ্রেণীকে কিছুটা স্বস্তি দিতে সক্ষম হয়েছে।
বিবিসির একটি উর্দু বিশ্লেষণ অনুসারে, খান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের করা ৩৪টি প্রতিশ্রুতির মধ্যে কেবল তিনটি অর্জন করতে পেরেছে। মি. চৌধুরী একটি নতুন অর্জন হিসাবে নতুন ই-ভিসা ব্যবস্থা প্রণয়নের কথা উল্লেখ করেন।

প্রধান কূটনীতিক

নির্বাচনে জয়ের পরে প্রথম টেলিভিশন ভাষণে প্রধানমন্ত্রী খান তার দেশের ঘোর প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন: "ভারত যদি আমাদের দিকে এক ধাপ এগিয়ে আসে; আমরা তাদের দিকে দুই ধাপ এগুবো।"
নিজের বক্তব্য প্রমাণ করার জন্য, তিনি দ্রুত করতারপুর করিডোর উন্নয়নের নির্দেশ দেন, যা পাকিস্তান এবং ভারতের মধ্যে সহযোগিতার এক বিরল উদাহরণ স্থাপন করে।
পাকিস্তানের কোয়েটায় কাশ্মীরের সমর্থনে সমাবেশ
এর মাধ্যমে ভারত থেকে আসা শিখ তীর্থযাত্রীরা পাকিস্তানে তাদের পবিত্র স্থানটিতে যাওয়ার অনুমতি পাবে।
তবে বন্ধুত্বসুলভ এই কথা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।
ফেব্রুয়ারিতে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ভারত বিমান হামলা শুরু করলে দুই প্রতিবেশী দেশ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এসে পড়ে। ভারতের দাবি ছিল যে কাশ্মীরে হামলা চালানো জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ শিবির গুঁড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে তারা ওই হামলা চালিয়েছিল।
এরপরে পাকিস্তান পাল্টা হামলা চালায়। একটি ভারতীয় বিমানকে ভূপাতিত করে এবং বিমানের পাইলটকে আটক করে। সে সময় উত্তেজনা আরও ঘনীভূত হতে থাকে।
কিন্তু ৪৮ ঘণ্টার পরে ইমরান খান সমঝোতার ইঙ্গিত হিসাবে পাইলটকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এতে তিনি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হন, যা কিনা ভারতের জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে তার এক ধরণের কূটনৈতিক জয় বলে মনে করা হয়।
বছরের শেষের দিকে, সমস্ত প্রত্যাশার বিপরীতে গিয়ে এই পাকিস্তানি নেতা কিরগিজস্তানের বিশকেকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে সাক্ষাত করে সৌহার্দ্য বিনিময় করেন।
এরপরে জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় তিনি হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ক্যামেরাবন্দী হন। সে সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে "দুর্দান্ত ক্রীড়াবিদ এবং খুব জনপ্রিয়" বলে অভিহিত করেন।
ওয়াশিংটনে থাকাকালীন তিনি কংগ্রেস নেতাদের সাথেও সাক্ষাত করেন, মার্কিন গণমাধ্যমকে সাক্ষাতকারও দেন এবং থিংক ট্যাঙ্ক সার্কিটের সামনে "উচিত কথাগুলো" বলে আসেন।
তবে পর্যবেক্ষকরা প্রশ্ন করেছেন যে মি. খানের মনোমুগ্ধকর ব্যক্তিত্বের কারণে বিদেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যাপারে কী কোন লাভ হয়েছে।
পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের কাশ্মীরি শরণার্থীরা ভারতবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয়।
"মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি পাকিস্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ হবে এবং পুনরায় সাহায্য দেওয়া শুরু করবে?" জিজ্ঞাসা করেছেন রাজনীতি বিশ্লেষক সুহেল ওয়ারাইচ। " রাশিয়ার আচরণ কি পাকিস্তানের প্রতি নীতি পর্যায়ে বদলে যাবে? ওই বৈঠক থেকে কী লাভ হয়েছে?"

নিজ দেশে অভিযান

বিদেশে সফরকালে নিজের এবং নিজ দেশের ব্যাপারে প্রগতিশীল ভাবমূর্তি ফুটিয়ে তুললেও, পাকিস্তানিরা ইমরান খানকে দেখেন এক অন্যরকম রাজনৈতিক জীব হিসেবে।
বক্তৃতা এবং জনসভায় তিনি প্রায়শই পূর্ববর্তী সরকারগুলোর বিরুদ্ধে সংঘাতপূর্ণ বক্তব্য দেন। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তিনি বলেন যে তাদের কারণে দেশ বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী অন্তত ১৩জন শীর্ষ বিরোধী রাজনীতিবিদ দুর্নীতির অভিযোগে কারাগারের বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ, তাঁর কন্যা মরিয়ম নওয়াজ এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আসিফ জারদারি।
খান সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের হয়রানি করার অভিযোগও উঠেছে। কিন্তু জোর দিয়ে বলা হচ্ছে যে এর সঙ্গে দুর্নীতি দমন মামলায় কোনও যোগসাজশ নেই।
মি. চৌধুরী বলেন, "এখানে কোনও উইচ হান্ট হচ্ছেনা।"
আন্দোলনকারীরা বলছে যে, ইমরান খান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও ভিন্নমত ভূলুণ্ঠিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রেস ফ্রিডম গ্রুপ রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের অভিযোগ "পাকিস্তানের প্রেস ফ্রিডমের স্বাধীনতা উদ্বেগজনক হারে হ্রাস পেয়েছে"। এবং এজন্য তারা মি. খানকে জরুরি ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।
আন্তর্জাতিক আইন কমিশনের সাথে যুক্ত আইনজীবী রিমা ওমর বলেছেন, সরকারের কঠোর সমালোচকদেরও যতটা ভয় পেয়েছিল তার চেয়েও এই সরকার বেশি নিপীড়নমূলক।
সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির কর্মীরা
"কী বলা যাবে এবং কী বলা যাবেনা সে বিষয়ে সতর্ক রেখা টেনে দেয়ার হার দিন দিন বাড়ছে," তিনি বলেন" "নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে সরকারের ব্যাখ্যাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জায়গাটি দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে।"
জর্জ ম্যাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ পলিসি অ্যান্ড গভর্নমেন্ট বিষয়ের অধ্যাপক আহসান বাট প্রশ্ন রেখেছিলেন যে, মি. খান এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন যিনি অনেক আগে প্লেবয় উদারপন্থী ভাবমূর্তি স্থাপন করেছিলেন এবং যিনি পুরোপুরি এই ক্র্যাকডাউনের পেছনে ছিলেন।
"[ক্র্যাকডাউন] মূলত সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলির নেতৃত্বে হয়েছিল। ইমরান খান হয় স্বেচ্ছায় এতে অংশ নিয়েছিলেন অথবা তিনি অন্যদিকে তাকিয়ে ছিলেন এবং এটিকে থামানোর চেষ্টা করেননি," তিনি বলেন।
পাকিস্তানের বেসামরিক কার্যনির্বাহী ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঐতিহাসিক ভারসাম্যহীনতা বিবেচনা করে কিছু পর্যবেক্ষক গভীর সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছে, যে কে এই সমস্যার সমাধান করবে?
সেনা প্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার নভেম্বরে অবসর নেওয়ার পরেও তার মেয়াদ আরও তিন বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছিল।
"ইমরান খান ক্ষমতায় আছেন সেনাবাহিনীর সহায়তা ও আশীর্বাদ নিয়ে এবং তিনি নিজেও এটি জানেন" লাহোর বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক সামীন মহসিন এ কথা বলেন।
"একটা জায়গা পর্যন্ত তাদের অবস্থান অভিন্ন। আমি মনে করি না যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে সত্যিই ইমরান খান আছেন।"
মি. খানের ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম বছর জুড়েই এই ধরনের প্রশ্নগুলো তাকে ঘিরে রেখেছিল এবং খুব শীঘ্রই তিনি যে এগুলো শক্ত হাতে দমন করতে সক্ষম হবেন এমন সম্ভাবনাও খুব কম রয়েছে।
আজাদ কাশ্মীরের আইন পরিষদে ভাষণ দিচ্ছেন ইমরান খান

আফগানিস্তানের শান্তিপ্রক্রিয়া: ভারতের জন্য অশুভ ইঙ্গিত! by অমিতাভ মুখার্জি

আফগানিস্তান থেকে ভারতের জন্য অস্বস্তিকর খবর আসছে। সেখানে শান্তিপ্রক্রিয়া গতিশীলতা লাভ করার প্রেক্ষাপটে নয়া দিল্লির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ দেশটিতে উন্নয়নে ব্যাপকভাবে ভূমিকা রাখা সত্ত্বেও সেখানকার দ্রুত পরিবর্তনশীল দৃশ্যপটে ভারত দৃশ্যত বিদায় নিতে যাচ্ছে। জম্মু ও কাশ্মীরকে শান্ত ও স্থিতিশীল রাখার জন্যও একটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আফগানিস্তান প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের কারণে আফগানবিষয়ক কৌশলগত গভীরতা অর্জন করতে পেরেছে পাকিস্তান। অন্যদিকে অন্তত কিছু সময়ের জন্য হলেও পেছনে পড়ে গেছে ভারত।

এখন ইস্যুটি দুটি বিষয়ে এসে ঠেকেছে: মার্কিন/ন্যাটো বাহিনীর প্রত্যাহার নিশ্চিত করে তালেবানের সাথে এমন চুক্তি এবং আশরাফ ঘানির সরকারের ভাগ্য। পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে তার সাথে সোভিয়েত-সমর্থিত নাজিবুল্লাহ সরকারের শেষ দিনগুলোর সাথে এর মিল রয়েছে। ওই সময় সম্পূর্ণ ক্লান্ত মস্কো তল্পি তল্প গুটিয়ে আফগানিস্তান ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, ওই সময়কার কাবুলের প্রেসিডেন্ট নাজিবুল্লাহকে তার হাতে ছেড়ে দিয়ে। তবে আশরাফ ঘানির জন্য পরিস্থিতি ততটা অসহায়জনক নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেকে তার পক্ষে আছে। তার হাতে একটি সেনাবাহিনী আছে। সেটা যত দুর্বলই হোক, এই সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের প্রায় ৫০ ভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে।

ঘানিকে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাইমারি কাছাকাছি চলে আসায় (২০২০ সালের শুরু থেকেই সূচনা হবে) ডোনাণ্ড ট্রাম্প আফগানিস্তান থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের ব্যাপারে তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্বিগুণ আগ্রহী হতে পারেন। কাজটি তারা প্রথমে ইরাক ও পরে সিরিয়ায় করেছে। তারা তাদের আঞ্চলিক প্রক্সিগুলোকে কঠিন পরিস্থিতিতে ছেড়ে এসেছে। আফগানিস্তান কি আবার অন্ধকার যুগে ফিরে যাবে, ১৯৯০-২০০১ সময়কালে তালেবান যেমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল? আশরাফ ঘানি সরকারের ভাগ্য কী হবে? নানা ভাগে বিভক্ত পুরো দেশকে একটি ছাতার নিচে আনতে পারে পারবে কি তালেবান?

জাতিগত রেখায় বিভক্ত দেশটিতে তালেবানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। পশতু প্রাধান্যবিশিষ্ট তালেবান দক্ষিণ ও পূর্ব আফগানিস্তানের বিশাল অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে, আর উজবেক, তাজিক, হাজারা শিয়াদের মতো গ্রুপগুলো দেশটির উত্তর ও পশ্চিমাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। অবশ্য আফগানিস্তানবিষয়ক বিশেষ মার্কিন দূত জালমি খালিলজাদ যুক্তরাষ্ট্র/ন্যাটো বাহিনী শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে প্রত্যাহারের জন্য সর্ব-আফগান উদ্যোগ চাচ্ছেন। তিনি বলছেন, আফগান প্রতিনিধিদের কাছেই ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। তবে ধারণা করা হয়ে থাকে, সেটা হবে পাকিস্তান সমর্থনপুষ্ট কাবুলে তালেবান সরকার প্রতিষ্ঠা করার পন্থা।

এমন পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানে মার্কিন দূত জন বাস এক বিবৃতিতে বলেছেন যে আফগান প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে। তার এই মন্তব্য ভারতের মনে প্রবল উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সাথে নয়া দিল্লির ভালো সম্পর্ক রয়েছে। নির্বাচন হলে ঘানির জয়ের বেশ সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা একইসাথে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমঝোতা ও নির্বাচন স্থগিত করার কথা বলছেন। এর ফলে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, যাদের সাথে ভারতের ভালো সম্পর্ক নাও থাকতে পারে।

এ কারণেই ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল সম্প্রতি ভারত সফরের সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেইওর কাছে এ ধরনের ব্যবস্থার প্রতি ভারতের আপত্তির কথাও উত্থাপন করেছেন। কিন্তু আফগানিস্তানের নীতি নিয়ে কিছু ভুল করে ফেলেছে নয়া দিল্লি। পাকিস্তান-তালেবান অক্ষ প্রধানত সামরিক বিষয়াদি নিয়ে সম্পর্কিত হলেও সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই যখন ভারতের কাছ থেকে সামরিক সহায়তা চেয়েছিলেন, তখন ভারত তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। ভারত এখন পর্যন্ত কেবল উন্নয়ন সহায়তা দিয়েছে তিন বিলিয়ন ডলারের মতো। কিন্তু তবুও বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু গ্রুপের নেতা যেমন মোহাম্মদ মোহাকিক, আতা মোহাম্মদ নূর, আবদুল রাশিদ দোস্তাম ও মোহাম্মদ ফাহিমের কাছ থেকে তেমন সমর্থন লাভ করেনি ভারত।

আফগানিস্তানের ব্যাপারে ভারতের জন্য রাশিয়ার সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধারণা করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের প্রতি রাশিয়ার শীতল আচরণ প্রকৃত না হয়ে অনেকটাই কৌশলগত হয়ে পড়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে মস্কোতে অনুষ্ঠিত সর্ব-আফগান সম্মেলনে কেবল তালেবানই নয়, সাবেক সব মুজাহিদ যুদ্ধবাজই অংশ নিয়েছে। ভারত এতে যোগ দেয়নি। তবে কয়েকজন যুদ্ধবাজের সাথে ভারতের হালকা সম্পর্ক রয়েছে। এদের সহায়তা ছাড়া আফগানিস্তানের শান্তিপ্রক্রিয়া সফল হতে পারে না। দ্বিতীয় সম্মেলনটি হয়েছিল মে মাসে। এতে আশরাফ ঘানির বিরোধী বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক গ্রুপ মস্কোতে তালেবান প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাত করে। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও পাকিস্তান গত মাসে বেইজিংয়ে মিলিত হয়। এখানে ভারতের অংশগ্রহণ অর্থপূর্ণ হতে পারত। তবে নয়া দিল্লির উপস্থিতি জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়।

এখন বাতাসে এই খবর ভেসে বেড়াচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবান একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি এসে গেছে। এটিকে শান্তিচুক্তি না বলে প্রত্যাহারের ব্যবস্থা বলাই ভালো। তালেবান যে শর্তটি মেনে নিয়েছে তা হলো তারা আলকায়েদা বা আইএসআইএসের মতো সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় স্থান দেবে না। তবে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আফগানিস্তানের বর্তমান ঘানি সরকারের সাথে সরাসরি আলোচনা করতে এখনো অস্বীকার করে আসছে তালেবান। তালেবান জানে, আফগানিস্তানের চাবি এখন তাদের হাতে, তারা এখন তাদের ইচ্ছামতো শান্তি আলোচনার গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে।

এ কারণেই গত ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত সর্ব-আফগান সম্মেলনে আফগান সরকারের কোনো কর্মকর্তাকে অনুমোদন করেনি। আশরাফ ঘানি সরকারের অংশগ্রহণ কেবল ব্যক্তিগত পরিচয়ে অনুমোদিত ছিল। আগামী দিনগুলোতে তালেবানের হাত আরো শক্তিশালী হতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কাছ থেকে সমর্থন সে পাচ্ছে আফগান পরিস্থিতি সামাল দেয়া নিয়ে। ইসলামাবাদের ট্রাম্প কার্ড হলো তালেবানের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড আবদুল ঘানি বারাদার। তার ওপর প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তান তালেবানকে আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে রাজি করিয়েছে এবং ইমরান খানের সরকার দক্ষিতার সাথে বারাদারের সফরের ওপর জাতিসংঘ বিধিনিষেধ পাস কাটিয়ে বিশেষ বিমানে কাতারে তালেবান ও খালিলজাদের মধ্যকার আলোচনার টেবিলে বারাদারের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে।

মধ্য এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোতে যাতে ইসলামি মৌলবাদ প্রবেশ করতে না পারে তা নিশ্চিত করার জন্য তালেবান ও পাকিস্তানের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখছে রাশিয়া। ফলে এটি একটি অবাক করা বিষয়। কারণ গত সপ্তাহে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নয়া দিল্লি বেশ ভালো জয়ই পেয়েছে। এই সময় রাশিয়ার প্রতিনিধি স্বীকার করেন যে কাশ্মীর হলো ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার বিষয়। কিন্তু একইসাথে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত টুইটে দুই পক্ষকে জাতিসংঘ সনদ ও প্রস্তাবের আলোকে বিরোধের মীমাংসা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আফগানিস্তানে কৌশলগত গভীরতা লাভ করা ভারতের জন্য অপরিহার্য বিষয়। কিন্তু নয়া দিল্লির নীতি নির্ধারকদের জন্য এই কঠিন পরিস্থিতিতে সুযোগ সৃষ্টি করাটা আরো কঠিন কাজে পরিণত হয়েছে।
হোয়াইট হাউজে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক

জীবন সংগ্রামে হারতে চান না তৃতীয় লিঙ্গের শানু

তৃতীয় লিঙ্গের শানু
নাটোরের বাগাতিপাড়ার শাহনাজ খাতুন ওরফে শানু (৪৫) তৃতীয় লিঙ্গের একজন হয়েও নিজ গোত্রে গা না ভাসিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। জীবনের কঠিন বাস্তবতার কাছে হার না মেনে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। সন্তান হিসেবে মা ও ভাই-বোনের জন্য এখনও পালন করে চলেছেন নিজ দায়িত্ব। পুরুষের পোশাক পরে পরিশ্রম করে আর দশজন মানুষের মতো সমাজে সম্মানের সাথে বসবাস করে এক ব্যতিক্রমী ও বিরল দৃষ্টান্তের মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন শানু।
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার গালিমপুর গ্রামের মতিজান বেগম ও মৃত আহসান আলী প্রামাণিকের দ্বিতীয় সন্তান শানু। তার জন্ম ১৯৭৪ সালে। বর্তমানে ৪৫ বছর বয়সী শাহনাজ ওরফে শানুর জীবনে নেই মনে রাখার মত কোন সুখের স্মৃতি। তার বয়স যখন ১০ বছর তখন মা-বাবা তার শরীরে বিশেষ পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। তখন থেকেই তাকে আলাদা করে রাখেন। ফলে মা-বাবার আদর আর ভালোবাসার পরিবর্তে শানুর ভাগ্যে জোটে তাচ্ছিল্য অনাদর আর অবহেলা। দুবেলা দুমুঠো খাবারও যখন আর জুটছিলো না তখন একটু খাবারের আশায় কাজ খুঁজতে থাকেন শানু। তার এমন অসহায়ত্ব দেখে এগিয়ে আসেন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরা। শানুকে তাদের সাথে রাখার জন্য নিয়ে যেতে চাইলে তিনি যাননি। তখন থেকেই মানুষের বাড়ি বাড়ি আর ক্ষেত-খামারে শুরু করেন হাড়ভাঙ্গা খাটুনি। দিনশেষে রাতে এসে থাকতেন বাড়ির এককোণে আর পরিশ্রমের সব টাকা তুলে দিতেন মায়ের হাতে। এরই মধ্যে বাবা মারা গেলে দিনমজুর বড়ভাইয়ের সঙ্গে সংসারের হাল ধরেন এবং দিনমজুরির টাকায় এক ছোট ভাই রিজু ও দুই বোনের শাবানা ও শাহানারার বিয়ে দেন শানু।
এখন শানু কাজ করেন স্থানীয় একটি খামারে। দিনপ্রতি মজুরি পান ৩০০টাকা। প্রতিদিনের মজুরির টাকা দিনশেষে তুলে দেন বৃদ্ধা মায়ের হাতে। মাকে পৃথিবীতে একমাত্র আশ্রয় মনে করে সর্বোচ্চ কষ্ট করে হলেও বাকী জীবন মায়ের সেবা করে যেতে চান শানু।
খামার মালিক মিল্টন ঘোষ বলেন, 'শানু কাজের ক্ষেত্রে খুবই মনযোগী। কাজ ফাঁকি দেন না। তার কাজে অসন্তুষ্ট হবার সুযোগ নেই। অসহায়ত্ব লাঘবে কাজ দিয়ে তার পাশে দাঁড়াতে পেরেছি বলে ভালো লাগে। তাকে অন্য দশজনের থেকে আলাদাভাবে দেখি না।'
চিথলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহবুবুর রহমান বলেন, 'শানু একজন সৎ, পরিশ্রমী ও অনুকরণীয় মানুষ। একজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হয়েও সমগোত্রের অন্যদের মতো চাঁদাবাজি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে না জড়িয়েও যে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা যায়, শানু তাই প্রমাণ করেছেন।
শানুর প্রতিবেশী মিরাজ উদ্দীন ও শরিফ উদ্দীন বলেন, 'ছোটবেলা থেকেই শানু কঠোর পরিশ্রম করে তার পরিবারের জন্য। কেউ তাকে 'হিজড়া' বলে গালি দিলেও সে কখনও ভেঙে পড়েনি বরং সে ছোটদের স্নেহ করে ও বড়দের প্রাপ্য সম্মান দেয়।'
পাকা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মখলেস হোসেন বাদশা বলেন, 'শানু একজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ এবং প্রতিবন্ধীও। তাকে প্রতিবন্ধী সহায়তা কার্ডের জন্য চিকিৎসকের সত্যায়নকৃত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হলেও সে কর্ণপাত করেনি। সমাজের শ্রমজীবী মানুষদের মতো খেটে খেয়ে সে নিজে বেঁচে আছে এবং পরিবারটিকে বাঁচিয়ে রেখেছে।'
শানু বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'আমার জীবনটা খুব কষ্টের ছিল। শৈশব থেকেই খাটতে খাটতে সব কষ্ট ভুলে গেছি। এখন আর কষ্ট নেই। যতদিন বেঁচে আছি মা'র জন্য কষ্ট করে যাবো। আমি হেরে যেতে চাই না।'
আত্মবিশ্বাস আর মনের জোরে স্রোতের বিপরীতে অবস্থান নিয়েও যে সম্মানের সাথে জীবনধারণ করা যায় তা প্রমাণ করেছেন তৃতীয় লিঙ্গের শাহানাজ ওরফে শানু।