Wednesday, August 31, 2016

সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় পাকিস্তানের উচিত অন্য দেশকেও সঙ্গে নেওয়া

নয়াদিল্লিতে বৈঠকের আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি
ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের করমর্দন। রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, নিজ ভূখণ্ডে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অন্য দেশকেও শামিল করা উচিত পাকিস্তানের। নিউইয়র্কে আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে অনুষ্ঠেয় আলোচনার কারণে নিজেকে ‘বিচ্ছিন্ন’ ভাবার কোনো কারণ নেই ইসলামাবাদের। গতকাল মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলা ও গত জানুয়ারি মাসে পাঞ্জাবে বিমানঘাঁটিতে হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভারতের মাটিতে হামলা চালানো সন্ত্রাসীদের বিচার হওয়া উচিত। আমরা কখনোই সন্ত্রাসের মধ্যে ভালো-খারাপের বিভেদ করব না।’ কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে ভারত-পাকিস্তান আলোচনা আবারও শুরু করার আহ্বান জানান জন কেরি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আজ বুধবার সাক্ষাতের সময়ও এ আহ্বান জানাবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। মোদির সঙ্গে তাঁর আলোচনায় যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান প্রসঙ্গও উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে গতকাল ভারত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় কৌশলগত ও বাণিজ্য সংলাপে (এস অ্যান্ড সিডি) ‘পাকিস্তান থেকে সৃষ্ট’ সন্ত্রাসবাদ এবং অন্যান্য কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও বাণিজ্যিক স্বার্থ নিয়ে আলোচনা হয়। এতে ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়, সন্ত্রাস দমনে আরও অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে। বৈঠকে দুই দিনের ভারত সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী পেনি প্রিজকার এবং ভারতের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও বাণিজ্যমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন অংশ নেন। উভয় পক্ষ জ্বালানি ও বাণিজ্য খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়েও আলোচনা করে। জন কেরির এটি চতুর্থবারের মতো ভারত সফর। আলোচনার শুরুতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে করণীয় নিয়ে কথা হয়। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বিষয় ছাড়াও নিরাপত্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের ‘প্রত্যাশা ও আগ্রহের’ দিকে দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান সুষমা স্বরাজ।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে বলেন, পরমাণু প্রযুক্তি সরবরাহ গোষ্ঠী (এনএসজি) এবং নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ পেতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে চায় ভারত। জন কেরি বলেন, দুই দেশ প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতা বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক খাতে ভারতের সঙ্গে পরমাণু সহযোগিতা করতে চায়। ভারতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে চুল্লি স্থাপনেও সহযোগিতা করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র ওয়াশিংটনে একে অপরের সামরিক ঘাঁটি সরবরাহসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের বিষয়ে চুক্তির এক দিন পরই নয়াদিল্লিতে গতকালের এই আলোচনা হলো। বৈঠক শুরুর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেরি বিশ্বের বৃহৎ গণতান্ত্রিক দুটি দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও বাণিজ্য খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর তাগিদ দেন। তিনি বলেন, ‘আমি আশাবাদী যে আমাদের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।’

ট্রাম্পের চেয়ে বেশি জনপ্রিয় ছারপোকা!

ডোনাল্ড ট্রাম্প
আফ্রিকান-আমেরিকান অর্থাৎ কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিন বংশোদ্ভূত হিস্পানিকদের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন ছারপোকা, প্লেগ ও মশার চেয়েও কম! পাবলিক পলিসি পোলিং নামের একটি জনমত জরিপ প্রতিষ্ঠান সমীক্ষার বরাত দিয়ে এ অভিনব তথ্য দিয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে পরিচালিত এই জরিপ অনুসারে ৯৭ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ ট্রাম্পের বিপক্ষে। বাকি ৩ শতাংশ তাঁর ব্যাপারে এখনো মনস্থির করে ওঠেনি। আফ্রিকান-আমেরিকান ভোটারদের মন জয়ের জন্য ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিকে এসে কিছু জোরালো চেষ্টা চালিয়েছেন। তা সত্ত্বেও ওই দুই জনগোষ্ঠীর মধ্যে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর পক্ষে সমর্থন কার্যত এখনো শূন্য। ২৬-২৮ আগস্টের মধ্যে চালানো এই জরিপে ছারপোকা বা মশার তুলনায় ট্রাম্পের সমর্থনের সঠিক অনুপাত কী,
তা অবশ্য জানানো হয়নি। উল্লেখ্য, পাবলিক পলিসি পোলিংকে ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থক বলে ভাবা হয়ে থাকে। এক সপ্তাহ ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্প আফ্রিকান-আমেরিকানদের মধ্যে তাঁর সমর্থন বৃদ্ধির লক্ষ্যে জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মূলত শ্বেতাঙ্গ-অধ্যুষিত শ্রোতা-দর্শকদের সামনে এই প্রচারণা চলছে। সর্বত্রই ট্রাম্পের যুক্তি, ওবামা প্রশাসনের সাত-আট বছরে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গদের অবস্থা আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে। এই অবস্থায় তাঁকে একটা সুযোগ দেওয়া হোক। আফ্রিকান-আমেরিকানদের কাছে ট্রাম্পের প্রশ্ন, ‘আমাকে ভোট দিয়ে আপনাদের হারানোর কী আছে?’ পাবলিক পলিসি পোলিংয়ের জনমত জরিপ থেকে স্পষ্ট, এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের ওই বক্তব্য আফ্রিকান-আমেরিকানদের মধ্যে কোনো আবেদন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়নি।

তৃতীয় দফা ভোটেও শীর্ষে পর্তুগালের গুতিরেস

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের লক্ষ্যে সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত তৃতীয় অনানুষ্ঠানিক ভোটেও প্রথম হয়েছেন পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতিসংঘের সাবেক উদ্বাস্তুবিষয়ক হাইকমিশনার আন্তোনিও গুতিরেস। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন স্লোভাকিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিরোস্লাভ লাইচাক। আর যৌথভাবে তৃতীয় হয়েছেন ইউনেসকোর চলতি মহাপরিচালক বুলগেরিয়ার ইরিনা বুকোভা ও সার্বিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভুক জেরেমিচ। স্ট্র পোল নামে পরিচিত এই অনানুষ্ঠানিক ভোটে অংশগ্রহণ করে শুধু নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ জন সদস্য। এই ভোটের লক্ষ্য মহাসচিব হতে আগ্রহী প্রার্থীদের সংখ্যা দুই বা তিনে কমিয়ে আনা। ২১ জুলাই অনুষ্ঠিত প্রথম স্ট্র পোলে মোট ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সবচেয়ে কম ভোট পেয়ে ইতিমধ্যে ক্রোয়েশিয়ার ভেসনা পুসিচ ও মন্টিনেগ্রোর ইগর লুকসিচ প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। শুধু নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদেরই ভোটের ফল জানতে পারার কথা।
কিন্তু এদের কেউ কেউ গণমাধ্যমের কাছে ফলাফল প্রকাশ করে দেওয়ায় বিভিন্ন প্রার্থীর ক্রমিক অবস্থান ফাঁস হয়ে পড়ে। জাতিসংঘে প্রচলিত ‘পর্যায়ক্রমিকতার’ নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী মহাসচিব পূর্ব ইউরোপের কোনো দেশ থেকে নির্বাচিত হওয়ার কথা। কিন্তু এবার সে নিয়ম পুরোপুরি রক্ষিত হচ্ছে না। অনেকে আশা করেছিলেন, এবার প্রথমবারের মতো একজন নারী এই পদে নির্বাচিত হবেন। অথচ তিনটি ভোটের প্রতিটিতেই শীর্ষস্থান দখল করেছেন একজন পুরুষ। অন্যতম প্রার্থী আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুসানা মালকোরা সমালোচনা করে বলেছেন, পুরুষ প্রতিনিধিরা একজন পুরুষ মহাসচিব নির্বাচনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। কোনো কোনো কূটনীতিক ইঙ্গিত করেছেন, রাশিয়া কোনো নারী মহাসচিবের পক্ষে নয়। জাতিসংঘে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত ভিতালি চুরকিনকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, একজন নারী মহাসচিব অবশ্যই হওয়া উচিত এবং এক দিন সে নির্বাচনের সময় আসবে। সেই সময় এখন এসেছে কি না, সে বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান চুরকিন। এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর চলতি মহাসচিব বান কি মুনের দায়িত্ব শেষের আগেই বিশ্ব সংস্থার পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার কথা।

লিবীয় উপকূল থেকে সাড়ে ছয় হাজার অভিবাসন প্রত্যাশীকে উদ্ধার

লিবিয়ার উপকূলীয় সাগর থেকে ইউরোপে অভিবাসন-প্রত্যাশী প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। ইতালীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, এটি ভূমধ্যসাগর থেকে অভিবাসন-প্রত্যাশীদের উদ্ধারের অন্যতম বড় ঘটনা। লিবিয়ার শহর সাবরাথার ২০ কিলোমিটার দূরের সাগরে ৪০টি সমন্বিত উদ্ধারকারী দল এ অভিযান পরিচালনা করে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অভিবাসন-প্রত্যাশীরা উদ্ধারকারী জাহাজ দেখে আনন্দে চিৎকার করছে। কয়েকজন জাহাজগুলোর দিকে সাঁতার কেটে এগিয়ে যায়। ছোট একটি নৌকায় থাকা কয়েকজন মানুষের কোলে বাচ্চাও ছিল। এসব অভিবাসন-প্রত্যাশীর অধিকাংশই আফ্রিকার ইরিত্রিয়া ও ইথিওপিয়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। গত সোমবারের ওই অভিযানে ইতালি ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থা ফ্রনটেক্স ও বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) প্রোঅ্যাকটিভা ওপেন আর্মস এবং দাতব্য সংগঠন মেদসঁ সঁ ফ্রতিয়েখের (এমএসএফ) জাহাজ অংশ নিয়েছে।
রোববার একই এলাকা থেকে ১১ শতাধিক অভিবাসন-প্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই অভিবাসীদের নৌকাগুলো ছিল সাগর পাড়ি দেওয়ার অনুপযুক্ত। এ ছাড়া তাতে ছিল ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত লোক। উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দেশটিকে মানব পাচারের ঘাঁটিতে পরিণত করেছে। গত বছর ১০ লাখেরও বেশি অভিবাসন-প্রত্যাশী ইউরোপে পৌঁছেছে। এদের অনেকেই সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের কারণে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। অতিরিক্ত এই অভিবাসন-প্রত্যাশীর চাপে ইউরোপের দেশগুলোতে সংকট তৈরি হয়েছে। এদের পুনর্বাসন নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বলছে, এ বছর প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার মানুষ ইতালিতে প্রবেশ করেছে। নৌপথে আসার সময়ই মারা গেছে ২ হাজার ৭২৬ জন। আইওএমের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৩ লাখ অভিবাসন-প্রত্যাশী ইউরোপে ঢোকার জন্য এখন লিবিয়ায় অবস্থান করছে।

ভারতে গঙ্গায় নজিরবিহীন পানি বৃদ্ধি

ভারতে এবারের বন্যায় গঙ্গা নদীর পানি এতটাই বেড়েছে যে তা আগেকার সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলের চারটি স্থানে বন্যার পানি বেড়ে নজিরবিহীন অবস্থায় পৌঁছেছে।সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট বিহার রাজ্যের রাজধানী পাটনায় গঙ্গার পানি বেড়ে ৫০ দশমিক ৫২ মিটারে (১৬৬ ফুট) ওঠে। এর আগে ১৯৯৪ সালে সেখানে সর্বোচ্চ ৫০ দশমিক ২৭ মিটার পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছিল। ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশনের প্রধান জি এস ঝা বলেন, বিহার রাজ্যের ভাগলপুর ও উত্তর প্রদেশের বাল্লিয়াতে বন্যার পানি বেড়ে নজিরবিহীন অবস্থায় পৌঁছেছে।
এসব স্থানে পানি বৃদ্ধির রেকর্ড এবার ভেঙে গেছে। বিহারে এবার বন্যার কারণে দেড় শর বেশি লোকের প্রাণহানি ঘটেছে। সরিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ পানিবন্দী মানুষকে। গঙ্গার পানি বৃদ্ধি উত্তর প্রদেশ রাজ্যকেও বন্যাকবলিত করেছে। বিশেষজ্ঞরা বন্যার জন্য দায়ী করছেন গঙ্গা নদীতে জমে ওঠা পলিকে। নদী বিশেষজ্ঞ দেব নারায়ণ যাদব বলেন, গঙ্গায় পলি জমে পাশের গ্রামগুলোর তুলনায় নদীর খাতের স্তরকে বেশি উঁচু করে ফেলেছে। বন্যার পরিপ্রেক্ষিতে বিহার রাজ্যের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে, প্রতিবেশী বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা পার্শ্ববর্তী পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা বাঁধ তুলে দেওয়া হোক।

‘২০১৯ সালে গোর্খাল্যান্ড হবে’

বিমল গুরুং
২০১৯ সালে গোর্খাল্যান্ড রাজ্য গঠনের চুক্তি করার আশা প্রকাশ করেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জনমুক্তি মোর্চার চেয়ারম্যান বিমল গুরুং। গতকাল মঙ্গলবার নেপালি ভাষা দিবসের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘২০০৭ সালে যখন জনমুক্তি মোর্চা গঠন করা হয়, তখন নেপালি সাহিত্যিক গুমান সিং চামলিং আমাকে একটি টুপি উপহার দিয়েছিলেন।
২০১৯ সালে যখন গোর্খাল্যান্ড রাজ্য গড়ার চুক্তি করতে যাব, তখন ওই টুপি পরেই সই করব।’ প্রধানমন্ত্রীকে দাবির কথা জানিয়ে চিঠি লিখবেন বলেও জানান বিমল। গোর্খা জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জন্য পাহাড়ি অঞ্চল দার্জিলিংয়ে পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্য গড়ার দাবিতে সম্প্রতি নতুন করে সক্রিয় হয়েছে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা।

পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ বেড়েছে

দেশে ঝটিকা সফর করে গেলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। সফরটি নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ, যার একটি দিক হচ্ছে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা। তাঁর সফরে এই বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে। ইএমকে সেন্টারে বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেছেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে একত্রে কাজ করবে। বাংলাদেশ সব সময় বলে আসছে, এখানকার সন্ত্রাসীরা হোম গ্রোন বা দেশে বেড়ে ওঠা। তবে জন কেরি বলেছেন, দেশে বেড়ে ওঠা জঙ্গিদের সঙ্গে আইএসের যোগাযোগ আছে। আসলে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় মার্কিন দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রটি অনেক বড়। কথা হচ্ছে, বাংলাদেশ তো নিজের মতো সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করার চেষ্টা করছে। কিন্তু এই জঙ্গিরা কারা, কোথাকার, সেটা বড় বিষয় নয়। এখানে আদর্শটাই বড় কথা। সিরিয়ার আইএস ও বাংলাদেশের নব্য জেএমবি বা আনসার আল-ইসলামের আদর্শ কিন্তু একই। আজকের যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। তথ্যপ্রযুক্তি বা ইন্টারনেটের কল্যাণে এই আদর্শ আজ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে এটার আর শুদ্ধ দেশজ চরিত্র নেই। সন্ত্রাসবাদ যেমন আঞ্চলিক, তেমনি আন্তর্জাতিক চরিত্রও আছে। এ ব্যাপারটা আমাদের বোঝা দরকার। আমরা না হয় নিজ দেশে কী হচ্ছে না হচ্ছে সে খবর পাচ্ছি। কিন্তু পৃথিবীর অন্যান্য দেশে কী হচ্ছে, সে খবর আমরা কোত্থেকে পাব।
নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। এ কাজে বাংলাদেশের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে বিভিন্ন পর্যায়ে সাহায্য করছে। ফলে এখন আমরা সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আরও কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য নিতেই পারি। যেমন, ইন্টারনেটের মাধ্যমেই যেহেতু এই আদর্শ বিস্তৃত হচ্ছে, সে কারণে আমাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তথ্যপ্রযুক্তিতে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ। ফলে আমাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে তার সহযোগিতা নেওয়া যেতেই পারে। আমি মনে করি, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার প্রশ্নে আমাদের একদম ধরাবাঁধা অবস্থান না নিয়ে উন্মুক্ত হওয়া দরকার। বিষয়টিকে সামগ্রিকভাবে দেখে যখন যা করা দরকার, তখন সেটাই করা উচিত। যেটা আমরা করতে পারব না, সেটার জন্য তার দ্বারস্থ হওয়াই যায়। তবে এটা আমাদেরই ঠিক করতে হবে, কোন কোন ক্ষেত্রে সহযোগিতা নেওয়া যায়।   সন্ত্রাসী হামলার কিছুটা দৃশ্যমান, আর কিছুটা অদৃশ্য। আমরা কিছুটা জানি, আবার কিছুটা জানি না। কেন তরুণেরা সন্ত্রাসবাদের দিকে ঝুঁকছেন, তার অবশ্যই সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। মূলত হতাশা থেকেই তাঁরা এ দিকে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হয়। তাঁদের এই হতাশা দূর করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এই হতাশা দূর করতে সুশাসন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা দরকার। সুশাসন মানুষের অধিকার বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি করে। এটা থাকলে অনেক কিছুই মোকাবিলা করা যায়। সে কারণে এখন রাজনৈতিক গবেষকেরা সুশাসনের ওপর জোর দিয়ে থাকেন।
আইনের শাসন না থাকলে অনেক কিছুই ঘটতে পারে, যা আমাদের কাঙ্ক্ষিত নয়। একটা সমাজে এগুলো না থাকার অর্থ হলো, সেই সমাজে মানুষের সমতার অভাব রয়েছে। অর্থাৎ সার্বিকভাবে গণতন্ত্রের ঘাটতি রয়েছে। সেটা হলে বঞ্চিত মানুষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়। যে হতাশা মানুষকে অন্ধকার পথে নিয়ে যেতে পারে। তাই গণতন্ত্র খুব জরুরি বিষয়। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে গণতন্ত্র সমুন্নত রেখে সন্ত্রাস দমনে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছে, তার সঙ্গে দ্বিমত করার কিছু নেই। জন কেরির সফরে রাজনৈতিক পর্যায়ে যে আলাপ-আলোচনা হয়েছে তার ইতিবাচক দিক রয়েছে। কারণ, একটা বিষয় খেয়াল করার মতো, জন কেরি দেশে খুব অল্প সময়ের জন্য থাকলেও প্রায় সব শ্রেণি–পেশার মানুষের সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করেছেন। তিনি যেমন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন, তেমনি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। আবার তিনি নাগরিক সমাজ, তরুণ ও সাংবাদিকদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেছেন। অর্থাৎ তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন গোষ্ঠীর কথা শুনেছেন। সামগ্রিকভাবে দেশের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করেছেন, যেটা আমাদেরও করা উচিত। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বছর জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে জন কেরিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, সুযোগ পেলেই আসবেন। তিনি এলেনও। ফলে এই সফরটি খুবই ইতিবাচক। আর  সরকার সার্বিকভাবে এই সফরের সফলতা দাবি করতেই পারে।
এম হুমায়ুন কবির: সাবেক রাষ্ট্রদূত।

জন কেরির ঝটিকা সফর by জিয়াউদ্দিন চৌধুরী

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি তাঁর নয় ঘণ্টার ঝটিকা সফর শেষ করে গেলেন সোমবার। সফরটি যে বহুদিনের পরিকল্পিত ছিল, এটি ভাববার কোনো কারণ নেই। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনো দেশে সফর করার অনেক আগে থেকে দুই দেশের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলে, অনেক দিন আগে থেকে সফরের এজেন্ডা তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে তা হয়েছে এমন কথা খুব একটা শোনা যায়নি। তবে এটা হঠাৎ করেও যে হয়েছে, তা-ও নয়। কারণ, এ সফরের বেশ কিছুদিন আগে থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছিল। কিছুদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক সংবাদ সম্মেলনে আইএস জঙ্গিগোষ্ঠীর মোকাবিলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ়সংকল্পের কথা বলতে গিয়ে জঙ্গিগোষ্ঠী পৃথিবীর যেসব দেশে প্রসার লাভ করেছে, তাতে বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করেন। তিনি এ-ও বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করবে। সুতরাং এটা খুবই পরিষ্কার যে জন কেরির হঠাৎ বাংলাদেশ সফরের একটা প্রধান উদ্দেশ্য ছিল, যা বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে বৈদেশিক যোগাযোগের বিষয় সম্পর্কে আলোচনা এবং এ ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক করা (যা তঁার সফর শেষে মন্তব্যে উঠে এসেছে)। এ আলোচনা যুক্তরাষ্ট্রের বিবেচনায় আরও জরুরি হয়ে পড়ে যখন বাংলাদেশের সরকারি মহল থেকে প্রায়ই সব সন্ত্রাসী কাজকে বিরোধী দল-অনুপ্রাণিত বা গৃহজাত জঙ্গি দ্বারা সংঘটিত বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছিল। সফর শেষে জন কেরি তাঁর সফরকে সফল বলে মন্তব্য করে বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে প্রধানমন্ত্রী এবং আরও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর আলোচনা সার্থক হয়েছে।
তিনি তাঁর আলোচনায় অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বললেও তাঁর মন্তব্যে সন্ত্রাস দমনের ওপরই বেশি জোর দিয়েছেন। এ ধরনের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত সফরকে বিদেশি সফরকারীরা সাধারণত সফল বলে থাকেন, বিশেষভাবে সফরকারী যখন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। যেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর আলোচনার সারাংশ। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং দুই দেশ এ ব্যাপারে তাদের আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনীর কাজের সমন্বয় করতে আগ্রহী। কেরির মন্তব্য আমাদের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক তিনটি কারণে। প্রথমত, সরকারি উচ্চমহলে এবং বিশেষভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এ ধরনের সহযোগিতার কথা সন্ত্রাস দমনে সরকারের দৃঢ়তা ও স্থির প্রতিজ্ঞার পরিচায়ক; দ্বিতীয়ত, এটি পরোক্ষভাবে দেশে সাম্প্রতিক এবং অতীতে সন্ত্রাসী ঘটনার সঙ্গে বৈদেশিক যোগাযোগের সম্ভাবনা স্বীকার, তৃতীয়ত, সন্ত্রাস দমনে বিদেশি সাহায্যের প্রয়োজনীয়তার অনুভব। তবে আমরা শুধু কেরির আশাব্যঞ্জক মন্তব্যের ওপর ভরসা করেই থাকতে পারি না। কেরির সফর সফল হবে যদি আমাদের সরকার শুধু কেরির সন্তুষ্টির জন্য নয়, আমাদের দেশের মঙ্গলের জন্যও জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস ঠেকাতে সরকারি কাজকর্মে এ ধরনের প্রত্যয় ও দৃঢ়তা প্রদর্শন করে। আমার এ সংশয়ের কারণ ওই একই দিনে দেওয়া আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একই পুরোনো মন্তব্য যে বাংলাদেশে কোনো বিদেশি জঙ্গিগোষ্ঠী-অনুপ্রাণিত শক্তি নেই, যা আছে তা গৃহজাত। সরকারের তরফ থেকে এ ধরনের বক্তব্য শুধু বিদেশিদের নয়,
দেশের জনসাধারণ এবং সর্বোপরি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও বিভ্রান্ত করবে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, যা আজ বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে শুধু একক ব্যক্তিত্ব বা একক গোষ্ঠীর দ্বারা নয়, অন্তত আটটি গোষ্ঠী কাজ করছে বিভিন্ন দেশে। গোষ্ঠীগুলো পুরোপুরি সমন্বিত না হলেও তারা মোটামুটি একই আদর্শে অনুপ্রাণিত এবং তারা চায়, তাদের অনুসারী বৃদ্ধি পাক। আজ বাংলাদেশের সন্ত্রাসীরা যদি তাদের অনুপ্রেরণা ও আদর্শ কোনো বিদেশি উগ্রবাদী গোষ্ঠীর কাছ থেকে পায় বা তাদের কাছ থেকে শিক্ষাপ্রাপ্ত হয়, তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। বরং আমরা আশ্চর্য হই এ দেখে যে বাংলাদেশে আইএস-অনুপ্রাণিত কার্যকলাপের বহুল প্রমাণাদির পরও আমাদের কারও কারও কাছে দেশে কোনো বিদেশি সন্ত্রাসীর হাত আছে বলে মনে হয় না। তাঁরা অনবরত তাঁদের একপেশে দৃষ্টি দিয়ে দেশের সন্ত্রাসী তৎপরতাকে রাজনৈতিক কুকর্ম বলে আখ্যায়িত করছেন। দেশে যখন একের পর এক সন্ত্রাসী হত্যাকাণ্ড হচ্ছে, যখন এ ধরনের কর্মকাণ্ডে বিদেশি জঙ্গিশক্তির সম্পৃক্ততার পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে, তখন এ ধরনের মন্তব্য শুধু জনসাধারণকেই কুয়াশাচ্ছন্ন করে না, বিদেশে বাংলাদেশকে বিব্রত করছে। ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে জন কেরিকে যখন ভয়েস অব আমেরিকার প্রতিনিধি প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশে বিদেশি সন্ত্রাসীদের অস্তিত্ব বা তাদের অনুপ্রেরণা সম্পর্কে মাথা গুঁজে বসে আছে কি না, তিনি উত্তরে বলেন, তা তিনি বিশ্বাস করেন না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার দেশে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ এবং এতে বিদেশি সম্পৃক্ততা সম্পর্কে খুবই সচেতন। আমার বিশ্বাস, কেরি এ আশ্বাস পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সরকারি ওপর মহল থেকে।
আমি এ-ও আশা করছি যে সত্যিই আমাদের সরকার সন্ত্রাস এবং এতে বিদেশি প্রভাবের ব্যাপারে মাথা গুঁজে বসে নেই। সন্ত্রাস বা জঙ্গি কর্মকাণ্ড দমন করতে যেসব প্রক্রিয়ার দরকার, তার মধ্যে প্রধান হচ্ছে জঙ্গিবাদের উৎপত্তির কারণ এবং এর ইন্ধনদাতাদের খুঁজে বের করা। পরবর্তী পদক্ষেপের মধ্যে প্রধান হচ্ছে জঙ্গিবাদকে একটি সরকারবিরোধী রাজনৈতিক কুকর্ম মনে না করে দেশের স্থায়িত্বের প্রতি হুমকি বলে গণ্য করা। তবে এ ব্যাপারে আরও দরকার একটি মানসিকতার, যে মানসিকতা দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকে দেশের ও দশের স্বার্থে। আর এ হুমকি ঠেকাতে দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে সংঘবদ্ধ করা। আজ বাংলাদেশ বা বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় যে জঙ্গিবাদ ও সহিংস উগ্রবাদ চলছে, তাকে শুধু দেশীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে দেখলে চলবে না। এটা দেখতে হবে চলমান বিশ্ব পরিস্থিতি আর অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে। এটা দমন করতে আন্তর্জাতিক সাহায্যের প্রয়োজন। যেমন প্রয়োজন জঙ্গি দমনে নতুন প্রযুক্তি এবং এ ব্যাপারে বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা ও তাদের প্রজ্ঞা। জানি না জন কেরি শেষ কথা কী বলে গেছেন। তবে আমি আশা করি, তিনি জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যের হাত এগিয়ে দিয়েছেন। সহযোগিতা শুধু কথায় নয়, কাজেও হতে হবে। এটা হতে পারে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে নতুন প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে, যা যুক্তরাষ্ট্র দিতে পারে। আমি আশা করব, আমরা এ সুযোগ নেব।
জিয়াউদ্দিন চৌধুরী: রাজনৈতিক ভাষ্যকার।