Friday, January 28, 2011

আবাহনীকে শীর্ষে তুললেন ফ্রাঙ্ক

অনেক বিদেশি স্ট্রাইকার আবাহনীতে খেলে গেছেন। কজন দর্শকমনে ঠাঁই নিয়েছেন? তুয়াম ফ্রাঙ্ক এসব জানেন না। তবে আবাহনীর জার্সি গায়ে স্মরণীয় হয়ে থাকার স্বপ্ন দেখছেন ঘানাইয়ান স্ট্রাইকার। আরেকটি ম্যাচে দলকে জিতিয়ে সেই স্বপ্ন তিনি দেখতেই পারেন।
ব্রাদার্সের বিপক্ষে ১-০ ম্যাচে আবাহনীর জয়সূচক গোলদাতার নাম ফ্রাঙ্ক। এ নিয়ে চার ম্যাচে ৪ গোল করলেন। সব ম্যাচেই জিতেছে বাংলাদেশ লিগের হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নরা। একটি মাত্র গোল করে দলকে জেতালেন দুবার। শেখ জামাল ও ফরাশগঞ্জের বিপক্ষে গোল পাননি। দলও জেতেনি। পরিসংখ্যান বলছে, ফ্রাঙ্ক গোল করলে আবাহনী জেতে। তিনি এখন আবাহনীর ‘অমূল্য সম্পদ’।
ব্রাদার্সের সম্পদ ছিলেন এভারটন, ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার পারেননি বড় ম্যাচে দলকে পয়েন্ট এনে দিতে। তাঁরই স্বদেশি ডিফেন্ডার ড্যানিলো নিয়েছেন গোলরক্ষকের ভূমিকা! ৪০ মিনিটে ব্রাদার্সের নিয়মিত গোলরক্ষক মিতুল আঘাত পাওয়ায় মাঠে আসা সবুজ দাস (রঘু) গোল বাঁচাতে লাল কার্ড দেখেছেন ৭৫ মিনিটে। মিতুলের জার্সি পরেই ড্যানিলো পোস্টের নিচে ছিলেন বাকি সময়। দু-তিনবার বলও ধরেছেন। বল নয়, যেন কই মাছ ধরেছেন!
‘উপভোগ্য’ এই দৃশ্য নয়, ৬০ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ফ্রাঙ্কের দুর্দান্ত ভলিতে লক্ষ্যভেদ—ওটাই কাল কমলাপুর স্টেডিয়ামে সবচেয়ে দৃষ্টিকাড়া ছবি। তরুণ গোলরক্ষক সোহেল যেভাবে দলকে নির্ভরতা দিলেন, সেটিও আবাহনী সমর্থকদের কাছে ছিল স্বস্তির। প্রধান দুই গোলরক্ষক না থাকায় গোলপোস্টই এখন আবাহনীর বড় উদ্বেগের জায়গা। সেই উদ্বেগ জয় করে যোগ্যতর দল হিসেবে ব্রাদার্সের বিপক্ষে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ফেরা চ্যাম্পিয়নদের জন্য প্রেরণাও বটে।
ফ্রাঙ্ক ২-০ করতে পারলে জয়টা সহজ হতো। ইব্রাহিমের থ্রু ধরে ফ্রাঙ্ক এগিয়ে যাচ্ছিলেন গোলমুখে, ব্রাদার্স গোলরক্ষক রঘু বক্সের বাইরে ফ্রাঙ্ককে ফাউল করে দেখলেন লাল কার্ড। ম্যাড়মেড়ে বড় ম্যাচে নাটকীয়তা!
ব্রাদার্স সমর্থকেরা লাল কার্ড মানতে পারেনি, স্টেডিয়ামের চতুর্থ তলা থেকে তারা চেয়ার ছোড়া শুরু করল! ‘দেখ, আমরা কেমন মাস্তানি করতে পারি’—তাদের উগ্রতায় ছিল এমন ঘোষণা। এর আগেও চেয়ার ছুড়ে মেরেছে এই সমর্থকেরা, প্রতিকার না হওয়ায় এরা বেপরোয়া।
ম্যাচের পর আরেক কাণ্ড। আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস (রুপু) রেফারিকে কী যেন বলেছিলেন। এক পুলিশ তাঁকে থামতে বললে রুপু ওই পুলিশ সদস্যকে বলেন, তাঁর (রুপুর) পরিচয়টা যেন পুলিশ জেনে নেয়। এরপর সবুজবাগ থানার সহকারী পুলিশ পরিদর্শক ফাহিম ছাপার অযোগ্য ভাষায় রুপুকে গালি দেন বলে অভিযোগ। আবাহনী এর প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে। স্লোগানও উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেশের ফুটবলে অবদান রেখেছেন, ছিলেন অধিনায়ক, সেই রুপুকে গালি দেওয়ার ঘটনায় উপস্থিত সবাই ছিলেন বিস্মিত।
ব্রাদার্সের রক্ষণাত্মক ফুটবলের বিপরীতে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে টানা তৃতীয় জয়। ছয় ম্যাচে চার জয়, এক ড্র, এক হার—১৩ পয়েন্ট নিয়ে এই প্রথম এবারের লিগের শীর্ষে উঠল আবাহনী (৫ ম্যাচে মুক্তিযোদ্ধার ১২, শেখ রাসেলের ১০, মোহামেডানের ৯ ও শেখ জামালের ৮ পয়েন্ট)। আজই আবাহনীকে শীর্ষস্থানচ্যুত করতে পারে মুক্তিযোদ্ধা। তা যদি হয়ও, ফ্রাঙ্কের হাত ধরে এক দিনের জন্য শীর্ষে ওঠার স্বাদও তো কম নয়!
ঢাকা আবাহনী: সোহেল, লিঙ্কন, সামাদ, আমিনু, প্রাণতোষ, সিরাজী, মামুন, চৌমিন (অরূপ), ইব্রাহিম, রনি, ফ্রাঙ্ক।
ব্রাদার্স: মিতুল (রঘু), অপু, ইউসুফ, ড্যানিলো, আশরাফুল, ফয়সাল, ইমরোজ, তপু (নাদিম), কবির (তরু), এভারটন, রিচার্ড।

কিবরিয়া ভাইকে মনে পড়ে by শাহ মোহাম্মদ ইমাম মেহেদী

সেদিন ছিল ২০০৪ সালের অক্টোবর অথবা নভেম্বরের রোববারের এক সকাল। রোববারের ভোর সব সময় আমার কাছে অলস সময় কাটানোর দিন। সারা সপ্তাহের কর্মব্যস্ততা শেষে এই রোববার এলে যেন কিছুই করতে ইচ্ছা হয় না, এমনকি একটি টেলিফোন কল রিসিভ করাও আলসেমিতে ভরে যায়।
সেই আচমকা মুহূর্তে ফোন পেলাম। ওপাশ থেকে কিবরিয়া ভাই বললেন, ‘আমি আজ সারা দিন কোথাও বের হচ্ছি না। তোমরা সবাই চলে আসো না। নানা গল্প করা যাবে।’ শুনে খুবই ভালো লাগল। লন্ডনে বসে এই ভাবনাহীন দিনে অনেক কিছুই স্মরণ করা যাবে।
মনে পড়ে বছরের দুই ঈদের দিনে আশপাশের সবাইকে নিয়ে চিন্তা করা অথবা কে কোথায় কেমন আছে খবরাখবর নেওয়া।
আমরা গেলাম। সাউথ লন্ডনের একটি হোটেলে বসলাম। অত্যন্ত ঘরোয়া পরিবেশে পারিবারিক বিষয়-আশয় নিয়ে আলাপ শুরু হলো। আমাদের পরিবারের কে কোথায় কী করছেন, এ প্রসঙ্গেই আলাপ উঠল। বুঝলাম, পরিবারের কে কোথায় কী করছেন, তার জ্ঞান পুরোপুরি পাকা বা ওয়াকিবহাল। আমাদের দাদার দেওয়া জামে মসজিদ থেকে শুরু করে গ্রামের ও এর আশপাশের অনেক ঘটনাই উঠে এল। কিবরিয়া ভাইয়ের সঙ্গে এতটা নিরিবিলি পরিবেশে শুধু লন্ডনে বসে পরিবারের সুখ-দুঃখের অনেক ঘটনার সুরাহা খোঁজা আমাদের পক্ষে ছিল একটি অবিস্মরণীয় আলোচনা।
দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বললেন, ‘মেহেদী, তুমি বুঝতে পারছ না, এই লন্ডনে বসে দেশে আজ কী চলছে? এর বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার হয়ে উঠতে হবে, সর্বশক্তি দিয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে, তা না হলে সাধারণ মানুষের মুক্তি নেই। ধর্মের নাম নিয়ে এরা যে অপরাধ করছে, তা কোনো অবস্থায় মেনে নেওয়া যায় না। ওদের আইনের আওতায় সোপর্দ করতেই হবে।’
এ উপলক্ষে বলে রাখা ভালো, ইতিমধ্যে বাংলাভাই ও তার অনুসারীরা ৬৪টি জেলায় বোমা ফাটিয়েছে। তাদের রাজনৈতিক মতবাদ তারা জোরেশোরে চালিয়েছে এবং দাম্ভিকভাবে বলেছে, তারা বাংলার যেকোনো জায়গায় যেকোনো মানুষের বিরুদ্ধে যেকোনো কিছু করার ক্ষমতা রাখে। তাই এই নিষ্ঠুর খড়গের খোরাক হয়েছিলেন আইভি রহমানের মতো নারী আর কত জানা-অজানা প্রাণ, যা প্রতিদিনের নানা মিডিয়ায় চলে আসছিল।
ক্ষণিকের জন্য হলেও আমরা সবাই নিশ্চুপ। তখন কিবরিয়া ভাইয়ের মুখের দিকে তাকালাম, তাঁর চোখে দেখতে পেলাম আগুনের ফুলকি। যার মধ্যে সর্বদাই দেখে আসছি অফুরন্ত জ্ঞানের সমাহার, অসংখ্য অভিজ্ঞতায় ভরপুর। অত্যন্ত ব্যথিত মনে দেশে ভয়াবহ নিষ্ঠুরতার আশঙ্কা করেছিলেন। কিন্তু সেটি তাঁরই জীবনে এভাবে ঘটে যাবে, আমরা কেউ ভাবতে পারিনি।
মনে পড়ে, ভাষা আন্দোলনের কথা। সেই আন্দোলনে কিবরিয়া ভাই সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং অভিযুক্তও হন। তিনি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র। কিবরিয়া ভাই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। আমি তখন খুবই ছোট। তবে স্পষ্ট মনে আছে, সকালের চা-নাশতা শেষ করে মা-চাচিরা কিবরিয়া ভাইয়ের পড়ার ঘরে আসতেন, গল্পগুজব করতেন। একদিন মা-চাচিরা বসেছেন। কিবরিয়া ভাই আমার মাকে ডাকলেন, ‘ছোট চাচি, বরকত-সালাম-জব্বারের মতো যদি আমার অবস্থা হতো, তবে কী না ভালো হতো, আজ আমি বেহেশতে থাকতাম।’
কিবরিয়া ভাইয়ের মা এ কথা শুনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন। সেদিন হয়তো কিবরিয়া ভাই মনের আবেগে কোটি কোটি মানুষের অন্তরের সুখ-দুঃখকে প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন, কী যন্ত্রণা আর অনাচার-অবিচার তাঁকে দগ্ধ করে চলেছিল। সেদিন কি তিনি জানতেন, সময়ের গতিতে ঝড়ঝঞ্ঝার আবর্তন-বিবর্তনের মধ্যে যে শিকড় গড়ে উঠেছিল জ্ঞান আর অভিজ্ঞতার খেলায়, দেশ-দশকে তাঁর জ্ঞানের আলো শুধু দেওয়ার সময়, তখন তাঁর আপন জন্মস্থান বৈদ্যেরবাজারে, একটি ছোট্ট এলাকায়, আন্তর্জাতিক দেশি-বিদেশি চক্রের বিষাক্ত থাবায়, গ্রেনেডের প্রচণ্ড আঘাতে ঝাজরা হবে সে মানুষটির শরীর? দিনটি ছিল ২৭ জানুয়ারি ২০০৫। দেশ ও মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসার প্রতিফল এভাবে দিতে হলো।
কিবরিয়া ভাই অর্থমন্ত্রী থাকাকালে সাধারণ মানুষের মনে ছিল একটু স্বস্তির নিশ্বাস। এটা বিনা দ্বিধায় বলা যেতে পারে, তাঁর অর্থমন্ত্রী থাকাকালে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনের যে জিনিস—চাল, ডাল, মাছ, তরিতরকারি ইত্যাদির দাম ছিল সবার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে। তার কোনো শত্রুও বলতে পারবে না দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে ছিল। তিনি অসহায় মানুষের সমস্যা জানতেন, বুঝতেন।
কিবরিয়া হত্যা সারা জাতির জন্য একটি নিষ্ঠুর কলঙ্কজনক অধ্যায়। তার কালিমা সারা জাতিকে বহন করতে হবে। এই নিষ্পাপ মানুষকে যারা খুন করেছে, এরা কোনো সাধারণ লোক নয়। এরা সমাজের হোমড়াচোমড়া, উঁচু স্তরের লোক। ক্ষমতায় অন্ধ হয়েই এরা এই কাজ করেছে। কিবরিয়া ভাইয়ের মৃদু ভাষণ ওদের শেলবিদ্ধ করেছে।
সত্যি কথা বলতে কি, কিবরিয়া হত্যা জাতির কাছে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দেশের বুদ্ধিজীবী, লেখক, সমাজসেবক অনেকেই অনেক কিছু লিখেছেন, বলেছেন। কিন্তু ছয় বছর পরও সেই হত্যার বিচার হয়নি। অথচ তাঁর দলই এখন ক্ষমতায়। আমরা এই ঘাতকদের বিচার চাই।
আসুন, আমরা সবাই দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে শপথ করি, হত্যাকারীরা যে দলেরই হোক, যত শক্তিশালীই হোক, আমরা তাদের খুঁজে বের করব এবং শাস্তি নিশ্চিত করব।
ই-মেইল: emmymehdishah@yahoo.co.uk

মেধাবিকাশ ও মেধাবিনাশের তীর্থভূমি! by সুলতানা মোসতাফা

এবার বিলেতের মাটি স্পর্শ করার প্রায় পরক্ষণ থেকে আজ অবধি ক্রমাগত যে প্রশ্নটির সম্মুখীন হচ্ছি, তা হচ্ছে, ‘আসলে বিষয়টি কী?’ ম্যানচেস্টারের বাংলাদেশি ব্যবসায়ী এবং শিক্ষক সম্প্রদায়, কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, হার্টফোর্ডশায়ারের সুশীল সমাজের বাংলাদেশি প্রতিনিধি, লন্ডনের খেটে খাওয়া বাংলাদেশি—সবাই উৎসুক হয়ে জানতে চান, আসলেই বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কী ঘটছে? শিক্ষক-রাজনীতি প্রকৃতপক্ষেই আত্মঘাতী অবস্থার জন্ম দিচ্ছে কি না। তাদের এই ঔৎসুক্যের সূত্র হলো, বিগত কয়েক মাসে প্রথম আলোয় প্রকাশিত গোলাম মুরশিদ, সৌরভ সিকদার ও শাহাদুজ্জামানের লেখা কয়েকটি কলাম। আমার এই লেখাটি তাঁদের লেখার আলোকে আমার দৃষ্টিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরার কিছুটা ক্ষুদ্র প্রয়াস বলা চলে।
জনাব মুরশিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং আচরণ তুলে ধরেছেন, তা সংখ্যাগরিষ্ঠ তো নয়ই, সার্বিক বিচারে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষকও এর আওতায় পড়েন না, অথচ তিনি ক্ষুদ্র অংশকে এর আওতাবহির্ভূত বলেছেন—এটি আপত্তিকর। এখন মূল প্রশ্নটি হলো, এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশটিই বিশ্ববিদ্যালয়কে পচনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে কি না? এ ক্ষেত্রে আমি তাঁর সঙ্গে একমত, ‘ছাত্র আর শিক্ষকদের রাজনীতির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চরম সর্বনাশের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।’
এবার আসা যাক সৌরভ সিকদারের বক্তব্যে, ‘আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কারা পড়তে আসে? পাস করে তারা কোথায় যায়? আমাদের দেশের দক্ষ ও শিক্ষিত জনবলের যে চাহিদা...তার পুরোটাই আসে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।’ এটি হলো সত্যের এক পীঠ। সত্যের অন্য পীঠে দেখি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ও অতি মেধাবীদের গন্তব্য শেষের অবস্থান। ১. এদের একটি ক্ষুদ্রতর অংশ তাদের যোগ্য ও কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারে। ২. এদের বৃহত্তম অংশটি তাদের যোগ্যতা, বিপুল কর্মোদ্যম, অপার অনুসন্ধিৎসা, অমিত সম্ভাবনা ও সৃজনশীলতা নিয়েও ছিটকে পড়ে তাদের যোগ্য স্থান থেকে। তাদের সব সম্ভাবনা মুখ থুবড়ে পড়ে দশটা-পাঁচটার কলম পেষার আবর্তে বা ক্ষুদ্রঋণ আদায়ের লক্ষ্যে গ্রহীতাদের পেছনে ঘোরাঘুরি কিংবা সওদাগরি অফিসের চার দেয়ালের গণ্ডিতে, যেখানে তাদের অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার স্ফুরণ ঘটানোর কোনো সুযোগ নেই ৩. এদের একটি অংশ দীর্ঘদিন বেকারত্বের অভিশাপে দগ্ধ হতে থাকে, যা তাদের প্রায়ই মাদকাসক্তি বা অপরাধজগতের দিকে ঠেলে দেয়, অনেকে বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ, বিপর্যস্ত হয় পুরো পরিবার। ৪. অতি মেধাবীদের অধিকাংশই শিকার হয় ব্রেন ড্রেন বা মেধা পাচারের। এরা তাদের যোগ্যতার স্বীকৃতিস্বরূপ বিদেশে পাড়ি জমায় বুকের ভেতরে এক পাশে প্রিয় স্বদেশের ছবি ও অন্য পাশে নিজের অর্জিত শিক্ষা ও জ্ঞানকে কাজে লাগানোর সুযোগ ও সাফল্যের ছবি নিয়ে। ক্রমেই স্বদেশের ছবি, স্বদেশপ্রেম তাদের কাছে ম্লান হতে থাকে। যারা বা সাহস করে দেশে ফিরে আসে দেশকে কিছু দেওয়ার উদগ্র বাসনায়, তারা ক্রমাগত শিকার হতে থাকে পঙ্কিল রাজনীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও পারিপার্শ্বিক বৈরী অবস্থার। দরিদ্র দেশের দরিদ্রতর জনগণের শ্রম ও ঘামে ভেজা করের টাকায় মানুষ হওয়া এসব মেধাবী সন্তান একধরনের গ্লানি ও অপরাধবোধ নিয়ে, শেকড় উপড়ানোর মর্মবেদনা নিয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয় বিদেশের নিরাপদ ভূমিতে প্রবাসী/অভিবাসী হিসেবে। তাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ‘দেশ’ থেকে যায় কাগজে-কলমে ‘কান্ট্রি অব অরিজিন’ হিসেবে। এসব মেধাবীর সাফল্যগাথা আমরা জানতে পারি বিদেশি গণমাধ্যমে। দেশ হারাতে থাকে তার সূর্যসন্তানদের আর দেশবাসী হারাতে থাকে তাদের ভাগ্য উন্নয়নের প্রাপ্য অধিকার ও সুযোগ।
এবার দেখি দক্ষ ও শিক্ষিত জনবলের চাহিদা মেটাচ্ছে কারা? ক্ষুদ্র অংশ বাদে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মেধাবী ও অতি মেধাবীদের জায়গাগুলো দখল করে আছে তুলনামূলকভাবে কম যোগ্যতাসম্পন্ন সেই সব সাবেক শিক্ষার্থী, যারা কোনো না কোনোভাবে ‘রাজনীতির আশীর্বাদপুষ্ট’। তারা মূলত উচ্চ যোগ্যতার অধিকারীদের চেয়ারে বসে রাজা-উজির মারে এবং পরিশ্রমী ও কর্মঠ সহকর্মীদের পা টেনে নিচে নামানোর চেষ্টায় রত থাকে। এটি কেবল ব্যক্তিগত ঈর্ষাপরায়ণতার কারণেই নয়, বরং দক্ষ সহকর্মীটি এগিয়ে গেলে তার অযোগ্যতা যে প্রকট হয়ে ধরা দেবে—এ আশঙ্কায়। বস্তুত আজ অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘রাইট পারসন ইজ নট ইন দ্য রাইট প্লেস’। এরাই দেশের উন্নয়নের চাকাকে সামনের দিকে নয়, উল্টো দিকে ঘোরানোয় ভূমিকা রাখে। এ পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় লেজুড়বৃত্তির শিক্ষক-রাজনীতিও বহুলাংশে দায়ী। শুধু অন্য মতাবলম্বী শিক্ষকের অধীনে গবেষণা করার অপরাধে সব দিক থেকে যোগ্যতম, ফ্যাকাল্টি ফার্স্ট ছাত্রটি কি নিয়োগ বোর্ড কর্তৃক বাতিল হয়ে যায়নি? চারটি প্রথম শ্রেণী/বিভাগ, বিলেতের পিএইচডি, ডজন দুই আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রবন্ধ/প্রকাশনা থাকার পরও সেই প্রার্থীকে তুলনামূলকভাবে খারাপ রেজাল্ট, পিএইচডিবিহীন, স্থানীয় জার্নালে প্রকাশিত গণ্ডা দেড়েক প্রবন্ধ প্রকাশ করা দলীয় রাজনীতির আশীর্বাদপুষ্ট প্রার্থীর কাছে পদোন্নতি বা বৃত্তির মনোনয়নের ক্ষেত্রে হেরে যাওয়ার অভিজ্ঞতা কি আমাদের নেই? আমাদের কি সেই অভিজ্ঞতা নেই যে এমফিল থেকে পিএইচডিতে স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম শর্ত পূরণ না করেও কেবল প্রভাবশালী শিক্ষকের অধীনে গবেষণা করার সুবাদে এক্সপার্টদের মতামতকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে, তাদের প্রবল আপত্তির মুখেও গবেষণাকর্মটিকে পিএইচডিতে স্থানান্তরের? ক্ষেত্রবিশেষে এর খেসারত দিতে হয় প্রতিবাদকারী শিক্ষককে।
এর পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্রোতের বিপরীতে চলার চেষ্টা করেন যদি কখনো ‘নিরপেক্ষতার’ শিকেয় তাঁদের ভাগ্য ছেঁড়ে, এই প্রত্যাশায়; বিশ্ববিদ্যালয়কে তার হারানো মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রত্যাশায়। এমন শিক্ষকেরা এখনো সংখ্যাগরিষ্ঠ বলেই বিশ্ববিদ্যালয় এত বিপর্যয়ের মধ্যেও টিকে আছে।
জনাব মুরশিদ ‘উজ্জ্বল ব্যতিক্রম’ শিক্ষক, লেখক, গবেষক হিসেবে কয়েকজন জ্ঞানতাপসের নাম উল্লেখ করেছেন, যা প্রশংসনীয় কিন্তু ভাবতে কষ্ট হয় তার ক্যারিয়ারের ভিত তৈরি হয়েছিল যে বিশ্ববিদ্যালয়ে, সেখানে কি তিনি কোনো জ্ঞানী, নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, লেখক, গবেষক খুঁজে পাননি? সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষকদের প্রতিভূ, নিষ্ঠাবান শিক্ষক প্রফেসর অরুণ কুমার বসাকের ঠিকানা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভাগে বা গবেষণাগারে, এটি সর্বজনবিদিত। গবেষক হিসেবে ড. মঞ্জুর হোসেনের সমতুল্য হাতে গোনা কয়জন শিক্ষক আছেন দেশে? শত প্রতিকূলতার মধ্যেও ড. মঞ্জুর তাঁর গবেষণা চালিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছেন, কিন্তু অনেকেই ছিটকে পড়তে বাধ্য হন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ড. মাহতাব আলীর মৌমাছি গবেষণার বিষয়টি হয়তো প্রাসঙ্গিক। ড. আলী ১৯৯০-৯৪ পর্যন্ত ইংল্যান্ডে মৌমাছি ও মধু চাষসংক্রান্ত গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৯৪ সালে দেশে ফিরে একক প্রচেষ্টায় গবেষণা চালিয়ে যান। ২০০১ সালে বিভাগের সহযোগিতায় গবেষণাটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। ‘মৌচাষ’ বিষয়টি পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্তৃত অঞ্চলে মৌ-খামার স্থাপিত হয়, শিক্ষার্থীরা সেখানে গবেষণার সুযোগ পায়। ড. আলী বিদেশ থেকে কিছু যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি আনান এবং এর আদলে দেশেই কিছু সরঞ্জাম তৈরি করা হয়। আগে যেখানে একটি বাক্স থেকে ঊর্ধ্বে ১৫-২০ কেজি মধু আহরণ সম্ভব হতো, নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগের ফলে বাক্সপ্রতি মধুর পরিমাণ দাঁড়ায় ১০০ কেজি। দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে মৌমাছির জন্য ক্ষতিকর মাকড় ‘ভেরোয়া’ দমন সম্পূর্ণরূপে সফল হয়। এই মৌ-খামারকে কেন্দ্র করে ‘কমিউনিটি অ্যাপিকালচার’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আক্ষরিক অর্থে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—প্রায় প্রতিটি অঞ্চল থেকেই মৌচাষিরা এতে সম্পৃক্ত হন। কিছু সন্ত্রাসী ‘ভেজাল মধু’ এই অভিযোগ তুলে মৌ-খামারে হামলা করে তা ভেঙে তছনছ করে দেয়। এর মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী ছিল? না, এর কোনো প্রতিকার হয়নি, মৌ-খামার রক্ষায় কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি, উপরন্তু বিস্ময়করভাবে ড. আলীকে ডেকে নিয়ে জানানো হয়, অপ্রিয় পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য তিনি যেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৌ-খামারটি সরিয়ে নেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে কমিউনিটি অ্যাপিকালচারের কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া অসম্ভব। নিমিষেই দীর্ঘদিনের গবেষণালব্ধ প্রকল্পটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভের মাত্র তিন বছরের মধ্যেই বিলীন হয়ে যায়। মৌচাষিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। আর এত বড় বিপর্যয়ের পর ড. আলীকে শিকার হতে হয় হূদেরাগের। এটি কি কেবলই ব্যক্তিগত ঈর্ষাপরায়ণতা?
আমি আগেই বলেছি, মুষ্টিমেয় শিক্ষক দলীয় লেজুড়বৃত্তিমূলক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়কে পচনের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর তৎপরতাই যথেষ্ট, যার শিকার অগণিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। যে প্রজাপতির ডানা ভেঙে দেওয়া হয়েছে, সে-ই জানে, জীবনে সে কতটুকু হারাল। সে-ই জানে, সে আর কখনোই উঠে দাঁড়াতে পারবে না, জানে চিরতরেই কেড়ে নেওয়া হয়েছে তার পাখার রং ও চাঞ্চল্য। এভাবেই মুছে যাচ্ছে হাজার শিক্ষার্থীর জীবনের রং, তাদের প্রাণচাঞ্চল্য।
এখনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেটুকু জীবনের রং ও আশার বৈভব রয়েছে, তা সেসব শিক্ষকের জন্যই, যাঁরা জনাব মুরশিদের উক্তিটির মতোই বিশ্বাস করেন এবং নিজেদের জীবনে তার প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করেন—‘শিক্ষকতা এমন একটি পেশা, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে খানিকটা আত্মত্যাগ, জ্ঞানের সাধনা এবং ছাত্রদের শেখানোর আগ্রহ। প্লেইন লিভিং অ্যান্ড হাই থিংকিং...।’ এরাই স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও সুযোগ থাকার পরও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে যান কেবল এর প্রতি, এর শিক্ষার্থীদের প্রতি মমত্ব ও দায়বদ্ধতার বোধ থেকেই। এঁরা বিশ্বাস করেন, দুঃসময় একদিন কেটে যাবেই, কেননা সামনে আসছে আপসহীন, রুখে দাঁড়ানো প্রজন্ম, তা যত ক্ষুদ্র আকারেই হোক না কেন।
সুলতানা মোসতাফা: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে গবেষণারত।
sultanamk@yahoo.co.uk

কাগুজে বাঘের হুংকারে আর লাভ হবে না by শাহ্দীন মালিক

গত দুই দিনে দুদক আইনের সংস্কার-সংক্রান্ত প্রস্তাবের ব্যাপারে দুদকের চেয়ারম্যান নিজেই প্রতিবাদ করেছেন। আইনে দুদককে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, সেই আইনের কোন বা কী ধরনের সংস্কারে প্রতিষ্ঠানটির দুর্নীতি দমনের হাত শক্ত হবে আর কোন সংস্কারে সেই হাত কাটা যাবে, সেটা এর চেয়ারম্যান সাহেবই সবচেয়ে ভালো জানেন। স্পষ্টত, সংস্কার প্রস্তাবে প্রতিষ্ঠানটির হাত কাটার আশঙ্কা দুদক চেয়ারম্যান তিনি নিজেই করেছেন।
এই সংস্কার প্রস্তাব যেহেতু মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই অনুমোদন করেছে, সেহেতু আমরা সহজেই ধরে নিতে পারি, সংসদে এটা পাস হয়ে যাবে। আর কিছু না হোক, এই সংসদ দ্রুত আইন পাসে তার পটুতা বিলক্ষণ দেখিয়েছে। যেমন—গত ১১ দিনের অধিবেশনে আইন পাস হয়েছিল ১৩টি। অর্থাৎ আইন পাস করার আগে বিলের পরীক্ষা, ভালো-মন্দ বিচার-বিশ্লেষণ ইত্যাদির ব্যাপারে সংসদ বিশেষ ধার ধারে বলে মনে হয় না। কাউকে ডাকেও না, জিজ্ঞাসাও করে না। অন্তত এই দুর্নীতি আইনের প্রস্তাবিত সংস্কারের ব্যাপারে সংসদীয় কমিটি যদি কাউকে ডাকত, তাহলে সম্ভবত সবাই এর বিরোধিতা করত, কিন্তু সে পথে যায়নি সংসদীয় কমিটি।
প্রস্তাবিত এই সংস্কার আইন হিসেবে পাস হয়ে গেলে আমাদের ধারণা, টিআইবির দুর্নীতির ধারণাসূচকে অতীতের মতো প্রথম স্থান সগর্বে অলংকৃত করতে না পারলেও অন্তত তৃতীয় স্থানের গ্যারান্টি সহজেই দেওয়া যাবে। মন্ত্রিসভার মুখপাত্র ছাড়া আইনের এই সংস্কারের পক্ষে এখনো কেউ কথা বলেননি। আর যাঁরা লাভবান হবেন অর্থাৎ আমলাদের কিছু না বললেই চলে। কারণ তাঁদের উদ্দেশ্য তো হাসিল হয়েই যাবে। মজা হবে সরকার পরিবর্তনের পর। এখন যাঁরা মন্ত্রী আছেন, তখন তাঁরা মন্ত্রী থাকবেন না। অর্থাৎ তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করতে কোনো অনুমোদন লাগবে না। বর্তমানের আমলাদের কিছুসংখ্যক অবসরে গেলেও বর্তমান আমলাদের অধিকাংশই পরের সরকারের সময়ও থাকবেন। এবং তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করার অনুমোদন নিশ্চয়ই তাঁরা উচ্ছ্বসিত হয়ে দেবেন না। আমলাদের বাঁচানোর জন্য আইন সংস্কারের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা, কিন্তু লাভের গুড় পিঁপড়ায় খাবে।

২.
গ্যাস, বিদ্যুৎ, দ্রব্যমূল্য, যানজট—কোনো কিছুরই বড় কোনো সমাধান এখনো হয়নি। এত দিন আশা ছিল, অন্তত সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান দৃঢ় থাকবে। শতকোটি টাকার দুর্নীতিরও সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছরের জেল। অবস্থানটা দৃঢ়তর হতো যদি এই শাস্তির মেয়াদ বাড়িয়ে আইন সংস্কার হতো। আমাদের প্রধান দুর্নীতিবিরোধী আইন ১৯৪৭ সালের। বয়স ৬০ পেরিয়ে গেছে, সেটারও সংস্কার-পরিবর্তন দরকার ছিল। সরকার সেই পথে না গিয়ে ‘দুর্নীতির মামলা যত কম করা যায় ততই ভালো’ এই নীতিতেই বিশ্বাসী হয়ে উঠছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এতে মন্ত্রিসভা হয়তো মনে করতে পারে, সরকারের কাজের গতি বাড়বে ও দুর্নীতি কমবে। কিন্তু আমাদের কাছে এটা স্পষ্ট, মন্ত্রিসভা আর আমলাদের বাইরে সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়ার এই ধারণা হালে মোটেও পানি পাবে না। এমনিতেই সরকারের জনপ্রিয়তা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। নিজের জনপ্রিয়তা হ্রাস করার জন্য এ ধরনের উদ্যোগকে বিরোধীরা মনে মনে নিশ্চয়ই স্বাগত জানাবে। সে জন্যই বোধ হয় বলা হয়, যে নিজের পায়ে কুড়াল মারতে চায়, তাকে ঠেকানো মুশকিল।
এটাও অনস্বীকার্য, দুদকও তার তীক্ষতা হারিয়ে ফেলেছে। অবশ্য দুদকের চেয়ারম্যান আগেও আক্ষেপ করেছেন, তাঁর অবস্থা নখকাটা বাঘের মতো। সারা বিশ্বের গত ৫০ বছরের উন্নয়ন-ধারায় এটা স্পষ্টভাবে স্বীকৃত, দুর্নীতি ও উন্নতি একসঙ্গে চলে না। দুর্নীতি কমলে উন্নতি বাড়বে। দুর্নীতি না কমিয়ে কোনো দেশ বা সমাজ উন্নতি করতে পেরেছে বলে আমাদের জানা নেই। হয়তো মন্ত্রিসভা মনে করছে, বাংলাদেশে দুর্নীতি আর উন্নতি একই সঙ্গে সমান তালে চলতে পারে। দেশ ও জাতির দুর্ভাগ্য হবে যদি এ ধারণাটা বর্তমান সরকার আরও জোরালোভাবে ধরে রাখে। কারণ তাদের ধারণা যে ভুল, সেটা প্রমাণ করার সুযোগের জন্য জনগণের তো আরও তিন বছর অপেক্ষা করা ছাড়া গত্যন্তর নেই।
তবে আমরা সব সময় আশা নিয়ে থাকি, আশা নিয়ে বাঁচি। আশা করব, মন্ত্রিসভার বোধোদয় হবে। দুর্নীতিবাজ আমলা বাঁচাও—এটা সরকারের মূলমন্ত্র হবে না, মূলমন্ত্র হবে গ্যাস দেব, বিদ্যুৎ দেব, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কমাব আর দুর্নীতিবাজদের শায়েস্তা করব।
ড. শাহ্দীন মালিক: অ্যাডভোকেট, সুপ্রিম কোর্ট; শিক্ষক, ব্র্যাক স্কুল অব ল।

মিসরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ, নিহত ৪

মিসরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে গতকাল বুধবার আন্দোলনকারীরা মিছিলের জন্য সমবেত হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তবে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিক্ষোভকারীদের রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছে গণতন্ত্রপন্থী যুব সংগঠন ‘এপ্রিল ৬ মুভমেন্ট’। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘কোনো উত্তেজনা, প্রতিবাদ সমাবেশ বা বিক্ষোভ সহ্য করা হবে না।’ এতে আরও বলা হয়, ‘নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের পদত্যাগের দাবিতে গঠিত সংগঠন ‘এপ্রিল ৬ মুভমেন্ট’-এর নেতারা ফেসবুকে বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, তাঁদের এই আন্দোলন নির্যাতন, দারিদ্র্য, দুর্নীতি ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে।
তিউনিসিয়ায় বিক্ষোভে সরকার পতনের ঘটনায় উৎসাহিত হয়ে প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের পদত্যাগের দাবিতে গত মঙ্গলবার রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার মানুষ। সামাজিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক ফেসবুক ও টুইটারের মাধ্যমে একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে আন্দোলন গড়ে তোলে তারা।
বিক্ষোভকারীরা গতকাল কায়রোর তাহরির স্কয়ার চত্বরে সমবেত হলে পুলিশ তাদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান নিক্ষেপ করে। মিসরের বেশ কয়েকটি শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে বুধবার ভোরে তিন বিক্ষোভকারী ও এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়।

মস্কোর আত্মঘাতীরা পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল

মস্কোর বিমানবন্দরে হামলার সন্দেহভাজন দুই আত্মঘাতী পাকিস্তানে আল-কায়েদার ঘাঁটিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবির ঘনিষ্ঠ একটি পত্রিকা এ কথা জানিয়েছে। পত্রিকাটি দাবি করেছে, সম্ভাব্য এ হামলার বিষয়ে গত ডিসেম্বরেই নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে, বোমা হামলার পর মস্কোতে গতকাল বুধবার এক দিনের শোক পালিত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, এই মুহূর্তে সন্ত্রাসবাদই রাশিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। রাশিয়ার বিমানবন্দরগুলোতে ইসরায়েলের বিমানবন্দরের মতো নিরাপত্তাব্যবস্থা আরোপ করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
বিভিন্ন সূত্র ও পত্রপত্রিকা দাবি করছে, মস্কোতে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে এক-দুই সপ্তাহ আগে সতর্ক করার পরও হামলার ঘটনা ঘটল। এতে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েছে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবির ঘনিষ্ঠ একটি পত্রিকা জানিয়েছে, বিশ্বাসযোগ্য গোয়েন্দা সূত্রের মাধ্যমে মস্কো পুলিশকে গত ডিসেম্বরেই সতর্ক করা হয়েছিল যে তিন নারী এবং একজন পুরুষের একটি আত্মঘাতী দল চেচনিয়া থেকে মস্কোর দিকে এগোচ্ছে।
ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়, আত্মঘাতী ওই দলটি পাকিস্তান ও ইরানে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। ওই দলের এক নারী সদস্যের এক আত্মীয় থাকেন মস্কোর একটি ফ্ল্যাটে। ওই ফ্ল্যাটটি সম্ভবত বোমা তৈরির জন্য ব্যবহূত হচ্ছে। এ ছাড়া পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ নেওয়া আরও পাঁচ ইসলামি জঙ্গির একটি দল শিগগির মস্কোতে ঢুকতে যাচ্ছে।
আল-কায়েদাসংশ্লিষ্ট একটি ওয়েবসাইট জানিয়েছে, দোকু উমারভের নেতৃত্বাধীন ইসলামিক ককেশাস ইমিরেট মস্কো হামলা চালানোর দাবি করেছে। সংগঠনটি বলেছে, ককেশাস অঞ্চলে স্বাধীনতাকামীদের বিরুদ্ধে রুশ সেনাবাহিনীর নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাতেই তারা এ হামলা চালিয়েছে।
দৈনিক কোমারসান্ত পত্রিকা জানিয়েছে, নববর্ষের অনুষ্ঠানের সময় মস্কোতে এক নারী আত্মঘাতী দুর্ঘটনাক্রমে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ফেলার পর এ ধরনের আরও হামলার বিষয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল। পরে দেখা গেছে, একটি ইসলামি জঙ্গি গ্রুপে যোগ দেওয়ার দায়ে ওই আত্মঘাতী নারীর স্বামী জেল খাটছেন এবং এ জন্যই আরও এক নারীসহ ওই নারী দাগেস্তান থেকে মস্কোতে এসেছেন হামলার জন্য।
অপর একটি পত্রিকা জানিয়েছে, আত্মঘাতী ওই দলটি মূলত নববর্ষের অনুষ্ঠানেই বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু ওই সময় এক নারী আত্মঘাতী দুর্ঘটনাক্রমে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ফেলায় সে সময় পরিকল্পনা সফল হয়নি।
হামলার পর গতকাল এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করেছে মস্কো। হামলায় আহত ১১৬ জন এখনো হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

হামাসকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছিল ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা

ফিলিস্তিনি ইসলামি সংগঠন হামাসকে দুর্বল করার চেষ্টার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিল ব্রিটেনের গোয়েন্দা সংস্থা। মধ্যপ্রাচ্য শান্তিপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত নথিপত্র থেকে এই তথ্য জানা গেছে। ২০০৪ সালের নথি থেকে এই তথ্য জানা যায়। ২০০৬ সালের নির্বাচনে হামাসের বিজয় এবং গাজা ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগের ঘটনার এসব নথি ফাঁস করেছে আল-জাজিরা।
আল-জাজিরা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনার সঙ্গে সম্পৃক্ত দেড় হাজারেরও বেশি গোপন নথিপত্র রয়েছে তাদের কাছে। টেলিভিশন চ্যানেলটি এখন ধীরে ধীরে এসব নথিপত্র প্রকাশ করছে।
ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের লেখা সাত পৃষ্ঠার ফিলিস্তিন নিরাপত্তা পরিকল্পনায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ২০০৩ সালের শান্তি উদ্যোগ ‘রোডম্যাপের’ প্রথম ধাপের আওতায় নিরাপত্তা বাধ্যবাধকতা পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে (পিএ) সক্ষম ও উৎসাহিত করাই এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য। ওই শান্তি উদ্যোগের আওতায় ইসরায়েল বসতি নির্মাণ বন্ধ করতে রাজি হয়। ফিলিস্তিনিরাও জঙ্গি কার্যক্রম রোধ করার উদ্যোগ নিতে সম্মত হয়।
দলের কিছু জ্যেষ্ঠ নেতাকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে হামাসের মতো পশ্চিম তীরের অন্যান্য উগ্রপন্থী দলকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য পিএকে পরামর্শ দিয়েছিলেন ব্রিটিশ গোয়েন্দারা।
ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের নিরাত্তা পরিকল্পনায় হামাস, পিআইজে (প্যালেস্টিনিয়ান ইসলামিক জিহাদ) ও আল-আকসা ব্রিগেডের নাম উল্লেখ করে ইসরায়েলিদের সঙ্গে আলোচনায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার বিরোধী ব্যক্তিদের সামর্থ্য কমানোর জন্য বেশ কয়েকটি পন্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পন্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে: তাঁদের নেতাদের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণের সামর্থ্য ব্যাহতকরণ; মধ্যম সারির গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের আটক; তাঁদের অস্ত্রভান্ডার জব্দ ও অধিকৃত অঞ্চলে তাঁদের অর্থের উৎস বন্ধ করা।
সহিংসতা বন্ধে আরাফাতের ব্যর্থতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র যখন ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়, তখন এমআই৬ ওই সুপারিশপত্র প্রণয়ন করে।
এ ছাড়া গত মঙ্গলবার আরও কিছু নথিপত্র প্রকাশ করে আল-জাজিরা। যেখানে ২০০৫ সালে ইসরায়েলের তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী শল মোফাজ ও পিএর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের ইউসেফের মধ্যকার বৈঠকের হাতে লেখা বর্ণনা প্রকাশ করা হয়।
বৈঠকে তাঁরা হাসান আল-মাদহুন নামের এক ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা করেন। আল-মাদহুন ছিলেন আল-আকসা মর্টারস ব্রিগেডের সদস্য।
মোফাজ জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনারা কেন তাঁকে হত্যা করছেন না?’ জবাবে ইউসেফ বলেন, পশ্চিম তীরের নিরাপত্তাপ্রধান রাশেদ আবু সাবাককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ওই বৈঠকের কয়েক মাস পর ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন হাসান আল-মাদহুন।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ক্ষোভ: আল-জাজিরা টেলিভিশন ফিলিস্তিন সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন একজন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা।

দক্ষিণ সুদানের গণভোটের চূড়ান্ত ফল ফেব্রুয়ারিতে

দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতা নিয়ে অনুষ্ঠিত গণভোটের প্রাথমিক ফলাফল কয়েক দিনের মধ্যে ঘোষণা করা হবে। আর চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৭ ফেব্রুয়ারি। জাতীয় কমিশন গত মঙ্গলবার এ কথা জানায়।
সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশির গত বছর দ্য সাউথ সুদান রেফারেনডাম কমিশন (এসএসআরসি) গঠন করেন। এসএসআরসি জানায়, আগামী শনিবার দক্ষিণ সুদানের জুবাতে ও ২ ফেব্রুয়ারি রাজধানী খার্তুমে গণভোটের প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
এসএসআরসির ডেপুটি চেয়ারম্যান বিচারক চান রিস মাদুত বলেন, প্রাথমিক ফলাফলের পর যদি কোনো ধরনের আপিল না করা হয় তাহলে ৭ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে। আপিল করা হলে তাঁরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন এবং চূড়ান্ত ফল ১৪ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করবেন।
স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে এ মাসে সপ্তাহব্যাপী গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এ পর্যন্ত যে ভোট গণনা করা হয়েছে তাতে দেখা গেছে, ৯৯ ভাগ লোক এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
সুদানের প্রেসিডেন্ট বশির বলেছেন, ‘গণভোটে দক্ষিণ সুদানের ৯৯ ভাগ লোক পৃথক হওয়ার ব্যাপারে ভোট দিয়েছেন তাতে আমাদের কোনো দুঃখ নেই।’
আল-দামের শহরে এক বক্তৃতায় বশির বলেন, ‘আমি পুনরায় বলছি যা আগেও বলেছিলাম। আমরা দক্ষিণ সুদানে তাঁদের অভ্যর্থনা জানাতে যাব।’
বশির বলেন, দক্ষিণ সুদান পৃথক হয়ে গেলেই ইতিহাস শেষ হয়ে যাবে না। বরং নতুন করে ইতিহাস শুরু হবে।

কাশ্মীরে পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি পালন করতে পারেনি বিজেপি

ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরে গতকাল বুধবার প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাত কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লাল চকে বিজেপির পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি বন্ধ করতে এদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনা বাদ দিলে কাশ্মীরে গতকাল শান্তিপূর্ণভাবে প্রজাতন্ত্র দিবস পালিত হয়েছে।
লাল চক এলাকার কাছের একটি হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় বিজেপির ছয় কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া রেসিডেন্সি সড়ক এলাকায় জাতীয় পতাকা ও বিজেপির পতাকাসহ এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
লাল চক এলাকায় গত মঙ্গলবার থেকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। প্রজাতন্ত্র দিবস সামনে রেখে বিজেপি এবং জম্মু ও কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের প্রস্তাবিত মার্চ কর্মসূচি বন্ধ করতে কর্তৃপক্ষ এ পদক্ষেপ নেয়।
গতকাল কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসা বিজেপির তিন নেতা সুষমা স্বরাজ, অরুণ জেটলি ও অনন্ত কুমারকে জম্মুর বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে পাশের পাঞ্জাব রাজ্যে পাঠিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল শ্রীনগরে পতাকা উত্তোলন কর্মসূচিতে অংশ নিতে তাঁরা আসছিলেন। কিন্তু কাশ্মীর কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, এ ধরনের কর্মসূচির কারণে ওই রাজ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

টিভি উপস্থাপকের ওপর ফেটে পড়লেন বেরলুসকোনি

ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনি তাঁর যৌনজীবন নিয়ে আয়োজিত এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ও অতিথির ওপর দারুণ চটেছেন। অনুষ্ঠান চলাকালে তিনি সরাসরি ফোন করে তাঁদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করেছেন। গত মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
বেসরকারি টিভি চ্যানেল লা সেভেন এই আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে উপস্থাপকের দায়িত্ব পালন করেন গাদ লার্নার। আলোচক হিসেবে ছিলেন ক্ষমতাসীন দল পিপল অব ফ্রিডম পার্টির এমপি ইভা জানিচি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালককে ফোন করেন বেরলুসকোনি। তিনি বলেন, ‘আপনি যা সম্প্রচার করছেন তা মিথ্যা। এটা কখনোই সত্য বা বাস্তব হতে পারে না। আমি জানি যে আমি কী বলছি, কিন্তু আপনি তা জানেন না।’
বেরলুসকোনি এরপর তাঁর সাবেক দন্ত চিকিৎসক মিনেত্তির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘তিনি একজন বুদ্ধিমতী নারী। ইংরেজিতে সাবলীলভাবে কথা বলতে পারেন। স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। আপনার অতিথি থেকে তিনি অনেকটা আলাদা।’
এ সময় লার্নার বেরলুসকোনিকে থামিয়ে দেন এবং তাঁকে ‘ভাঁড়’ বলে অভিহিত করে বলেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে। আর অপমান নয়। আপনি যদি এতই আত্মবিশ্বাসী হন, তাহলে কৌঁসুলিদের সঙ্গে কথা বলছেন না কেন?’
জবাবে বেরলুসকোনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলার তাঁদের (কৌঁসুলি) কোনো আইনগত অধিকার নেই। তা ছাড়া আমি কোনো ভুল করিনি।’
এরপর বেরলুসকোনি অনুষ্ঠানের অতিথি ইভা জানিচিকে চলে যেতে বলেন। তাঁকে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুষ্ঠানে আর অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু জানিচি প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ নাকচ করে দেন এবং অনুষ্ঠানের শেষ পর্যন্ত থাকেন।

ইন্দোনেশিয়ায় এক মানব পাচারকারী গ্রেপ্তার

ইন্দোনেশিয়ায় এক মানব পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিসমাস দ্বীপে একটি জাহাজডুবির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় ৫০ জন আশ্রয়প্রার্থীর মৃত্যু হয়।
গতকাল বুধবার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তি খুবই ধূর্ত পাচারকারী। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। অস্ট্রেলিয়ার পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি জাহাজে করে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিসমাস এবং অ্যাসমোর দ্বীপে ইরান এবং আফগানিস্তান থেকে অবৈধ অভিবাসী পাঠাতেন।
গত মঙ্গলবার রাজধানী জাকার্তার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বেশ কিছু ক্রেডিট কার্ড, ছয়টি মুঠোফোনসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিবিসি পাঁচটি ভাষায় সম্প্রচার কার্যক্রম বন্ধ করছে

বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস পাঁচটি ভাষায় তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিচ্ছে। এতে কয়েক শ কর্মী চাকরি হারাচ্ছেন। তবে এতে বিবিসির বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হবে।
বিবিসি গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, তারা আলবেনীয়, মেসেডোনীয় ও সার্বীয় ভাষায় তাদের কার্যক্রম বন্ধ করবে। পাশাপাশি আফ্রিকার জন্য পর্তুগিজ ও ক্যারিবীয়দের জন্য ইংরেজি ভাষা কার্যক্রমও বন্ধ করবে।
বিবিসি জানায়, বর্তমান জোট সরকারের ঘোষণার সঙ্গে সংগতি রাখতে পরবর্তী ছয় বছরে ১৬ শতাংশ ব্যয় কমানোর জন্য তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে গত অক্টোবর মাসে সে দেশের জোট সরকার বেসরকারি খাতে ব্যয় হ্রাসের ঘোষণা দেয়।
বিবিসির ওয়েবসাইটের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এতে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় সাড়ে ৬০০ কর্মী চাকরি হারাবেন। এতে বছরে বিবিসির প্রায় চার কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড সাশ্রয় হবে। এদিকে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো এ পদক্ষেপকে ভয়াবহ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
বিবিসি গ্লোবাল নিউজের ডিরেক্টর পিটার হরকস বলেন, শুধু অর্থ সাশ্রয়ের জন্য এটি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তাঁরা সেই সব ভাষায় ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন, যা খুবই প্রয়োজন এবং যার প্রভাব অনেক বেশি।
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী নির্ভরযোগ্য সংবাদ উৎস হিসেবে বিবেচিত বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস ইংরেজি ও অন্য ৩১টি ভাষায় অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৪ কোটি ১০ লাখ মানুষ বেতার, টেলিভিশন ও অনলাইনের মাধ্যমে বিবিসি সেবা গ্রহণ করে।

আইন পাসের ১০ মাস পর বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন

আইন পাস হওয়ার ১০ মাস পর বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। একজন চেয়ারম্যান ও তিনজন সদস্য নিয়ে এই কর্তৃপক্ষ গঠনের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গতকাল বুধবার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়েছে প্রগতি লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম শেফাক আহমেদকে। তিনি একজন অ্যাকচুয়্যারি। আর তিনজন সদস্য হলেন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) জিয়াউল হক মামুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক নব গোপাল বণিক এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব মো. শমসের আলী। আরও একজন সদস্য দ্রুত নিয়োগ করা হবে।
গত বছরের ১৮ মার্চ বিমা আইন-২০১০ এবং বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন-২০১০ পাস হয়েছে। কিন্তু পাস হলেও দুই আইনই অকার্যকর হয়ে পড়ে থাকে। অর্থাৎ নতুন আইন হলেও দেশের বিমা খাত পরিচালিত হয়ে আসছিল পুরোনো ১৯৩৮ সালের বিমা আইনেই।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কর্তৃপক্ষ গঠিত না হওয়ার কারণে বিমা বিধিমালা তৈরি করা যায়নি। আর বিমা বিধিমালা তৈরি না হওয়ায় কার্যকর করা যায়নি নতুন আইন।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারী গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ যেহেতু গঠিত হলো, এখন এর প্রধান কাজ হবে বিমা বিধিমালা তৈরিতে হাত দেওয়া।’
উল্লেখ্য, বিমা খাতের দেখভালের দায়িত্ব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ছিল। ২০০৮ সালের নভেম্বরে নতুন বিমা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার সময় বিমা খাতের দেখভালের দায়িত্ব অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওপর ন্যস্ত করা হয়। এখন তা অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ওপর ন্যস্ত।
আইনানুযায়ী গতকাল বুধবারই বিমা অধিদপ্তর বাতিল হয়ে গেছে। আর বিলুপ্ত অধিদপ্তরের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থও এখন থেকে কর্তৃপক্ষের আওতায় চলে এসেছে। বিমা অধিদপ্তরের সব ঋণ, দায় দায়িত্বও বহন করবে নতুন সংস্থাটি। অর্থাৎ এখন থেকে দেশের বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলো বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।
সংস্থাটির প্রধান কাজ হলো, বিমা ও পুনর্বিমা ব্যবসাসংক্রান্ত পেশাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ করা। এ ছাড়া বিমাকারী, পুনর্বিমাকারী, মধ্যস্থতাকারীদের (এজেন্ট) নিবন্ধন ও সনদ প্রদান এবং নিবন্ধনের নবায়ন, সংশোধন, প্রত্যাহার, স্থগিত বা বাতিল করবে এই সংস্থা।
সংস্থাটি বিমাশিল্পের উন্নয়নসংক্রান্ত সব বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দেবে। বিমা পলিসি গ্রাহকদের স্বার্থ সংরক্ষণে তহবিল গঠন ও নিয়ন্ত্রণ এবং বিমা ও পুনর্বিমা কোম্পানির তহবিলও বিনিয়োগ করবে।
জানা গেছে, কর্তৃপক্ষ তার কাজের সুবিধার্থে যেকোনো সময় এক বা একাধিক কমিটি গঠন করতে পারবে।
যোগাযোগ করলে এম শেফাক আহমেদ প্রথম আলোকে জানান, নতুন আইন অনুযায়ী বিমা খাতের উন্নয়ন এবং তদারকিতে তিনি নজর দেবেন। আজ বৃহস্পতিবার অথবা আগামী রোববার থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন বলেও জানান তিনি।
শেফাক আহমেদ বলেন, কিছুটা জটিল হলেও বিমা খাত দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় খাত। এই খাতকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাঁর লক্ষ্য। তাঁর ভাষায়, ‘জীবনভর এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার পুরো অভিজ্ঞতাই আমি কর্তৃপক্ষের জন্য ঢেলে দিতে চাই।’

বন্ধ ব্রোকারেজ হাউসগুলোর লেনদেন চালুর দাবি

বাংলাদেশ শেয়ার ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশন বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় পুঁজিবাজারে নিবন্ধন স্থগিত হওয়া ছয়টি ব্রোকারেজ হাউসের লেনদেন চালু করার জন্য সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কাছে দাবি জানিয়েছে।
শেয়ার ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বাবলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মাঈনউদ্দিন ও কারিগরি সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন গতকাল বুধবার এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল খোন্দকার ও ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই দাবি জানান। তাঁরা ছয়টি ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের সব বিনিয়োগকারীর স্বার্থ রক্ষায় প্রতিষ্ঠানগুলোর লেনদেন চালুর অনুরোধ করেন।
সাক্ষাৎকালে শেয়ার ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে জরিমানা করা এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রাখা নিয়ে আলোচনা করেন। এর জবাবে এসইসির চেয়ারম্যান যত দ্রুত সম্ভব এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

আইসিসির মহাসচিব ও ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত

জিন-গাই ক্যারিয়ার গত সোমবার ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের (আইসিসি) মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ২০১০ সালের জুলাই থেকে এই সংস্থার ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
এ ছাড়া ইউনাইটেড স্টেটস কাউন্সিলের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসের চেয়ারম্যান এবং ম্যাকগ্রো হিল কোম্পানিজের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হ্যারল্ড ম্যাকগ্রো থ্রি আইসিসির ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
আইসিসি ওয়ার্ল্ড কাউন্সিলের ৮০ জনেরও বেশি ব্যবসায়ী সদস্য (আইসিসির গভর্নিং বডি) গত সোমবার প্যারিসে একত্র হয়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত করেন।
এদিকে আইসিসি সদর দপ্তর ও ফিলিস্তিনের নেতৃস্থানীয় ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে আইসিসি, প্যালেস্টাইন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে আইসিসির নতুন মহাসচিব জিন-গাই ক্যারিয়ার বলেন, আইসিসি ফিলিস্তিনে একটি জাতীয় গ্রুপ প্রতিষ্ঠাকে স্বাগত জানায়, যা ওই অঞ্চলের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উন্নয়নকে উৎসাহিত করবে।
জিন-গাই ক্যারিয়ার গবেষণাভিত্তিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রকাশনা এবং পাবলিক ইনফরমেশন প্রোগ্রামে নেতৃত্ব দেন। তিনি ডব্লিউটিও রেফারেন্স সেন্টার প্রোগ্রাম প্রতিষ্ঠা করেন, যেটি ১০০টিরও বেশি উন্নয়নশীল দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কম্পিউটারাইজড ডব্লিউটিওর তথ্য ও গবেষণা কেন্দ্রের মধ্যে নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করে।
হ্যারল্ড ম্যাকগ্রো থ্রি ১৯৮০ সালে ম্যাকগ্রো হিল কোম্পানিতে যোগ দেন। তিনি ১৯৮৭ সাল থেকে এই কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং ১৯৯৯ সালে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০০৯ সালের নভেম্বরে ইউএস-ইন্ডিয়ার সিইও নিযুক্ত করেন।

২৫ বছর পূর্ণ করল গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স

২৫ বছর পূর্ণ করল গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। এই উপলক্ষে গত মঙ্গলবার রাতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক মিলন মেলার আয়োজন করা হয়।
মিলন মেলায় উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) সভাপতি আসিফ ইব্রাহীম, কমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান এ কিউ সিদ্দিকী, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক নুরুল ফজল, ভারতীয় বিমা বিশেষজ্ঞ এসি মুখার্জী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসির এ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বাংলাদেশে বিমা খাতের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সাধারণ বিমার চেয়ে জীবন বিমার দিকে বেশি গুরত্ব দিতে হবে। এতে সাধারণ জনগণ বেশি উপকৃত হবে বলে তিনি মত দেন।
মসিউর রহমান বলেন, বাজার অর্থনীতিতে যেকোনো বিনিয়োগেই ঝুঁকি থাকে। এই ঝুঁকি এড়াতে বিমা অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি আরও জানান, বিমা করা থাকলে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকির মাত্রা কিছুটা হ্রাস পায়। বাজার অর্থনীতিতে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ উত্তোলন করে বিনিয়োগ করতে সাহস পান উদ্যোক্তারা। এভাবে ছোট ছোট বিনিয়োগই বড় বিনিয়োগে পরিণত হবে। তাই বাজার অর্থনীতিকে সুসংহত করতে বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর মান উন্নীত করার পরামর্শ দেন তিনি।
গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্সের সামাজিক দায়বদ্ধতার কার্যক্রম বেশ ভালো বলে অভিমত দেন ডিসিসিআইয়ের সভাপতি আসিফ ইব্রাহীম।
নাসির এ চৌধুরী বলেন, গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স এখন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে অধিক গুরত্ব দিচ্ছে। এ জন্য এই প্রতিষ্ঠানে এসএমই বিভাগ চালু করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে গ্রিন ডেল্টা কার্যক্রম শুরু করে। যাত্রা শুরুর সময় এর পরিশোধিত মূলধন ছিল তিন কোটি টাকা। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধিত মূলধন ৪০ কোটি ৮২ লাখ টাকা। ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়।

বৃষ্টিতে ভাসল দ্বিতীয় ম্যাচ

ওয়েলিংটনের প্রথম ম্যাচে অসহায় আত্মসমর্পণ করা পাকিস্তান কাল বৃষ্টির কারণে ৪৮ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে শুরু করেছিল ঝড়ের মতো। কিন্তু মাত্রই ৪.২ ওভার পর বৃষ্টিতে শেষ হলো সেই ঝড়। শেষ হলো ম্যাচও। দুই দফা বৃষ্টির মাঝে যে ৪.২ ওভার খেলা হয়, তাতে পাকিস্তান করেছিল বিনা উইকেটে ৩১ রান। ২৫ রানই করেন আহমেদ শেহজাদ, ১ ছক্কা ৪ চারে মাত্র ১৬ বলে। মোহাম্মদ হাফিজের রান ছিল ৪।
ম্যাচ পরিত্যক্ত। গতকালই নিউজিল্যান্ড ঘোষণা করেছে ক্রাইস্টচার্চের তৃতীয় ওয়ানডের দল। ১২ সদস্যের এই দলে আছেন নিউজিল্যান্ডের ১৫ সদস্যের বিশ্বকাপ দলের একমাত্র নতুন মুখ লুক উডকক। ‘আমরা মনে করি, বিশ্বকাপ দলের প্রত্যেককেই সুযোগ দেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ’—বলেছেন প্রধান নির্বাচক মার্ক গ্রেটব্যাচ। অধিনায়ক ভেট্টোরি নিজের দলটিকে দেখতে চান ড্রেসিংরুম থেকে। তাই আগামী শনিবারের এ ম্যাচে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক রস টেলর। দলে ফিরেছেন পেসার কাইল মিলস। ঘরোয়া ক্রিকেট খেলবেন বলে দলে নেই জেসি রাইডার ও জেমস ফ্রাঙ্কলিন।

গলফ-ভক্ত শাভেজ

জোনাত্তান ভেগাস যুক্তরাষ্ট্র থেকে বব হোপ ক্লাসিক জেতার পর থেকেই হুগো শাভেজ তাঁর সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করছিলেন। বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট নিশ্চয়ই পেয়েছেন ভেগাসকে এবং অভিনন্দনও জানিয়েছেন। এটি যে বলিভিয়ার ক্রীড়া ইতিহাসে বিরাট এক সাফল্য। গত ৫২ বছরের মধ্যে নতুন খেলোয়াড় হিসেবে প্রথম এই প্রতিযোগিতায় জিতলেন ভেগাস। ভেনেজুয়েলার প্রথম ও একমাত্র পিজিএ ট্যুর খেলোয়াড় হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সার্কিটে গলফে প্রথম শিরোপা জয়েরও কীর্তি গড়লেন। ক্যাডি বাবার উত্তরাধিকার হিসেবে ক্যাডি হিসেবেই গলফে ঢোকা। একসময়ের সেই ‘ক্যাডিবয়’ই ভেনেজুয়েলার গলফে ইতিহাস গড়লেন ২৬ বছর বয়সে।
শাভেজের কথা শুনে মনে হতে পারে, এটিকে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধেও একটি বিজয় হিসেবে দেখছেন বলিভিয়ার সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট, ‘দারুণ খুশি আমি। জোনাত্তান ভেগাসকে অভিনন্দন। সব গ্রিঙ্গোকে (আমেরিকান) হারিয়েছে সে, দারুণ ব্যাপার!...সে ভেনেজুয়েলার গর্ব।’
সাফল্যের আশ্চর্য রকম একটা জাদু আছে। না হলে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সমালোচকদের একজন এই নেতার তো গলফের নাম শুনেই তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠার কথা। তাঁর কাছে গলফ ছিল বুর্জোয়াদের খেলা। যেটি হয় বিশাল সবুজ মাঠে, যেখানে সহজেই গরিবদের জন্য তোলা যায় অনেক ঘরবাড়ি। এই বিশ্বাস থেকেই সরকারি তেল কোম্পানির গোটা ছয়েক গলফ কোর্স বন্ধ পর্যন্ত করে দেওয়া হয়েছে। বেসবল-ভক্ত এই নেতাই সেদিন ভেগাসের বিজয়ের ছবি দেখে আনন্দে হাততালি দিলেন, ‘আমি গলফের শত্রু নই, কোনো খেলারই বিরোধী নই।’

প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কার পেলেন ক্রিকেটাররা

নিউজিল্যান্ডকে ‘বাংলাওয়াশ’ করার সাফল্যের পুরস্কার এর মধ্যেই দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কাল ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের জন্য ওই দুই সিরিজের ক্রিকেটার ও টিম ম্যানেজমেন্ট সদস্যদের হাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তুলে দেওয়া হলো ৩ লাখ টাকা করে পুরস্কার।
রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে পুরস্কারের চেক হাতে পেয়ে জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক তামিম ইকবাল ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রীকে, ‘এমন একটা পুরস্কারের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। বিশ্বকাপের আগে এটা আমাদের আরও অনুপ্রাণিত করবে। আমরা সবার দোয়া চাই যেন বিশ্বকাপের পরও এ রকম একটা অনুষ্ঠান করা যায়।’
অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার এবং বিসিবি সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামালের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রধান জাহিদ আহসান (রাসেল), সচিব মাহবুব আহমেদ ও এনএসসির ভারপ্রাপ্ত সচিব শেখ আতহার হোসেন। ছিলেন জাতীয় দলের খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফের সদস্যসহ বিসিবির কয়েকজন পরিচালকও।
অনুষ্ঠানের বক্তৃতা পর্বে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দিলেন একটা নতুন খবর, দেশের ৪৭৬টি উপজেলায় ৪৭৬টি করে ক্রিকেট ও ফুটবল মাঠ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্রিকেট মাঠগুলোর সঙ্গে থাকবে হ্যান্ডবল আর হা-ডু-ডু মাঠও। যদিও বিসিবি সভাপতি মোস্তফা কামাল বলেছেন, যেসব খেলায় বাংলাদেশের সম্ভাবনা বেশি সেসব খেলার প্রতিই বেশি যত্নবান হওয়া উচিত, ‘বাংলাদেশের মানুষ রাত জেগে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপের টিকিট কাটে। ক্রিকেটের এই জনপ্রিয়তাকেই আমাদের পুঁজি করতে হবে। ক্রিকেট, সাঁতারের মতো যেসব খেলায় বাংলাদেশের ভালো সম্ভাবনা আছে, সেগুলোর প্রতি আগে যত্নবান হতে হবে।’
বিসিবির সভাপতি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের পর ক্রিকেটের প্রতিভা অন্বেষণে নতুন করে কাজ করবেন তাঁরা। এ ছাড়া বিসিবি থেকে স্কুল পর্যায়ে বৃত্তি দেওয়া এবং জেলা পর্যায়ে ক্রিকেট মাঠের জন্য টার্ফ দেওয়ারও পরিকল্পনা আছে বিসিবির।

সব ছাপিয়ে মাশরাফি

৩০ থেকে ২৩, ২৩ থেকে ১৫ জনের চূড়ান্ত দল। সুপার লিগ চললেও জাতীয় দলের এই ক্রিকেটারদের চিন্তাভাবনায় এখন শুধুই বিশ্বকাপ। কাল থেকে শুরু হয়ে গেছে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতিও।
বিশ্বকাপে না থেকেও এই প্রস্তুতিতে থাকছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। সব ছাপিয়ে আলোচনাটা তাঁকে নিয়েই বেশি। দল ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচকেরা মাশরাফির জন্য সম্ভাবনার একটা মৃদু আলো জ্বালিয়ে রেখেছিলেন। মাশরাফি কতটা ছড়াতে পারবেন সেই আলো?
প্রতিদিনই একটু একটু করে এগোচ্ছেন। পরশু ১৬ মিটার রানআপে বল করে কাল পাঁচ ওভার বোলিংয়ে সেটা বাড়িয়ে নিলেন ১৮ মিটারে। পরের লক্ষ্য ২১ মিটারের পুরো রানআপ। কিন্তু পথটা যখন পুনর্বাসনের, প্রতিটি দিনে আসে নতুন ঝুঁকির আশঙ্কাও। জাতীয় দলের বোলিং কোচ ইয়ান পন্ট সেটাই মনে করিয়ে দিলেন কাল অনুশীলন শেষে, ‘অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। আশা করা যায়, কয়েক দিনের মধ্যেই ও পুরো রানআপে বল করতে পারবে। তবে পুনর্বাসন-প্রক্রিয়ায় আজ হয়তো আপনি ভালো বোধ করবেন, কিন্তু কালই আবার ফিরে আসতে পারে ব্যথা।’
বিশ্বকাপের আগেই যে মাশরাফি পুরো রানআপে বল করতে পারবেন, সেটা এখন অনেকটাই স্পষ্ট। তাই বলে মাশরাফি বিশ্বকাপ খেলবেনই, সে নিশ্চয়তা এখনই দেওয়া যাবে না। তার জন্য দরকার ম্যাচ ফিটনেস, আহতও হতে হবে অন্য কাউকে। কিন্তু কোচ হিসেবে কারও এমন অমঙ্গল কীভাবে চান পন্ট! ‘শুনতে হয়তো ভালো লাগবে না, কিন্তু কারও ইনজুরিতে পড়ার মধ্য দিয়ে মাশরাফি দলে আসুক সেটা আমি চাইব না। আমরা চাই, দলের সবাই ইনজুরিমুক্ত থাকুক। তবে হ্যাঁ, কেউ যদি সত্যি সত্যি ইনজুরিতে পড়ে যায় এবং মাশরাফিও তত দিনে ফিট হয়ে ওঠে, তার জন্য দরজা খোলা থাকবে। মাশরাফির মতো একজন খেলোয়াড় বিশ্বকাপ দলে থাকাটা হবে দারুণ।’
মাশরাফি অবশ্য কালও বলেছেন, বিশ্বকাপের চিন্তা না করে আপাতত ফিটনেসই ফিরে পেতে চাইছেন। সে লক্ষ্যের দিকে ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন বলেও মনে হচ্ছে তাঁর, ‘যত দিন যাচ্ছে তত ভালো বোধ করছি। ফিজিও যা যা করতে বলছে সবই করতে পারছি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পুরো রানআপে বল করব। ফিজিও বলেছে, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ। আমারও আশা খুব দ্রুত শতভাগ ফিটনেস পাব।’
পুরো রানআপে বল শুরুর পর আবাহনীর হয়ে সুপার লিগের দু-একটা ম্যাচ খেলার ইচ্ছা মাশরাফির। তবে এ ক্ষেত্রেও ফিজিওর মতামতকেই গুরুত্ব দেবেন বলে জানিয়েছেন।

বিশ্বকাপকে আরভিনের ‘না’

জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে দেশ ছেড়েছিলেন। সাত বছর পর আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেখা যেত শন আরভিনকে। বিশ্বকাপ দিয়ে জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন হতো। কিন্তু বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন স্বেচ্ছায় বিসর্জন দিলেন ২৮ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। কারণ কাউন্টি!
হ্যাম্পশায়ারের হয়ে গত ছয়টি মৌসুমে দারুণ সফল ছিলেন আরভিন। তিনটি শিরোপা জয়ের পথে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩৯৬৫ রান ও ১১৮টি উইকেট নিয়েছিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপ খেলে ফেললে কাউন্টিতে আরভিন বিবেচিত হতেন বিদেশি খেলোয়াড় কোটায়। হ্যাম্পশায়ারে যে জায়গাটি এরই মধ্যে ইমরান তাহিরের দখলে।
হ্যাম্পশায়ারের সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে জাতীয় দলে ফিরেছিলেন। কিন্তু বিদেশি খেলোয়াড়ের কোটা থেকে মুক্তি পেতে এখন আরভিন ছিন্ন করলেন জাতীয় দলের সঙ্গে সম্পর্ক। আরভিন জানিয়েছেন সবকিছু ভেবেই এই সিদ্ধান্ত, ‘হ্যাম্পশায়ার ছাড়ার এটি সঠিক সময় নয়। ক্লাব ও সমর্থকদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অন্য রকম। ওরা যেন আমার পরিবার। হ্যাম্পশায়ারও যেন নিজের শহরই। আগামী বছর সেখানে বিয়ে করে সংসার শুরুর পরিকল্পনাও আমার আছে।’
অনুশীলনের জন্য দুবাইয়ে যাওয়ার আগমুহূর্তে এই দুঃসংবাদ শুনতে হলো জিম্বাবুয়েকে। স্বাভাবিকভাবে জিম্বাবুয়ে এই খবরে হতাশ। নির্বাচক অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেল একটা খোঁচাও দিয়েছেন, ‘ওকে ফিরে পেয়ে আমরা উচ্ছ্বসিত ছিলাম। হয়তো ও বুঝে গেছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বড় কঠিন জায়গা।’
আরভিনের ছোট ভাই ক্রেইগ অবশ্য বিশ্বকাপ দলে থাকছেন। শনের বদলে সুযোগ পাচ্ছেন টিনো মায়োবো।

আবার বিদায় হেনিনের

চোটের সঙ্গে সখ্য কমবেশি সব খেলোয়াড়েই হয়। তবে অন্যদের তুলনায় চোট জাস্টিন হেনিনকে জ্বালিয়েছে একটু বেশিই। প্রতিভা আর সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ক্যারিয়ারে প্রায়ই কোর্টের বাইরে কাটাতে হয়েছে চোটের কারণে। এই চোটের কাছে হেরেই টেনিস ক্যারিয়ারের ইতি টেনে ফেললেন ৭টি গ্র্যান্ড স্লামজয়ী হেনিন। গতকাল নিজের ওয়েবসাইটে বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এএফপি।
হেনিন অবশ্য ‘অবসর’ নিলেন দ্বিতীয়বারের মতো। ২০০৮ সালে তিনি যখন ফর্মের তুঙ্গে, অজ্ঞাত কারণে আচমকাই অবসরের ঘোষণা দেন। ১৬ মাসের ‘অবসর’জীবন ভেঙে ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে আবার ফিরে আসার ঘোষণা দেন। ২০১০ সালে ব্রিসবেন ইন্টারন্যাশনাল দিয়ে শুরু হয় টেনিসে হেনিনের ‘দ্বিতীয় জীবন’। ব্রিসবেনের পর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেরও ফাইনালে উঠে জানান দেন, আবারও রাজত্ব করতেই এসেছেন। কিন্তু ওই পর্যন্তই। ‘টেনিস এলবো’ গত বছরের শেষ দিকে কোর্টেই নামতে দেয়নি বেলজিয়ান তারকাকে। এই টেনিস এলবোর কারণেই দ্বিতীয়বারের মতো বলে দিলেন ‘বিদায়’।
সানিয়া মির্জার বিপক্ষে জয় দিয়েই শুরু করেছিলেন এবারের অস্ট্রেলিয়া ওপেন। কিন্তু তৃতীয় রাউন্ডে হেরে যান রুশ তারকা সভেৎলনা কুজনেৎসভার কাছে। এটাই যে হেনিনের শেষ ম্যাচ হবে কে জানত!

যখন নাজমুলও রোমাঞ্চিত

গত বছর ফেব্রুয়ারির ঘটনা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে থেকে বাদ পড়ায় রাগ করে হোটেল ছেড়ে চলে গেলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। বিকল্প হিসেবে রাতারাতি সিলেট থেকে উড়িয়ে আনা হলো নাজমুল হোসেনকে। মজার ব্যাপার, আকস্মিক এই যাত্রার জন্য নাজমুল নাকি তৈরিই ছিলেন!
দলে থাকুন আর না থাকুন, তৈরি থাকার কাজটা খুব ভালোভাবেই করেন নাজমুল। সিরিজের মাঝপথে বিকল্প পেসার হিসেবে যদি কারও ডাক পড়ে তো সেটা তিনিই হওয়ার কথা!
২০০৪-এর সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক। সেই থেকে বাংলাদেশ ওয়ানডে খেলেছে ১৫০টি। নাজমুল দলে ছিলেন মাত্র ৩৪টিতে। সঙ্গে সবেধন নীলমণি একটি মাত্র টেস্ট। এমন না যে দীর্ঘমেয়াদি কোনো চোটে পড়েছেন বা ভুগেছেন ফর্মহীনতায়। অথচ দলে আসা-যাওয়া করতে করতে নাজমুল হয়ে গেছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ (সময়ের বিবেচনায়) অনিয়মিত খেলোয়াড়। বিশ্বকাপ দলের বাকি দুই পেসারের দিকে তাকিয়েই দেখুন না। ২০০৯-এর জানুয়ারিতে অভিষিক্ত রুবেল হোসেন খেলে ফেলেছেন ২১টি ওয়ানডে আর ৮টি টেস্ট। শফিউল ইসলাম তো অভিষেকের এক বছরের মধ্যেই ওয়ানডে খেলে ফেলেছেন ২৩টি, সঙ্গে ৫টি টেস্ট।
জাতীয় দলে যাওয়া-আসার ঘটনা এত বেশি ঘটেছে যে, নাজমুল নিজেও সংখ্যাটা ঠিক মনে করতে পারেন না। বারবার এই যাওয়া-আসা নিয়ে খেদ আছে তাঁর মনে, ‘এই জিনিসটা আর ভালোই লাগে না। এ রকম যাওয়া-আসার ভেতর থাকলে আত্মবিশ্বাসেও সমস্যা হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু করেছি অনেক দিন হয়ে গেছে। সে তুলনায় ম্যাচ খেলেছি অনেক কম।’ কারও দিকে অভিযোগের আঙুল না তুলে ভাগ্যকেই দায়ী করেন নাজমুল, ‘আমি কাউকে দোষ দিই না। ভাগ্যটাই এমন...নিউজিল্যান্ডের সঙ্গেই দেখেন না। তিনটা ম্যাচ খেলতে পারিনি হাত ফেটে যাওয়ায়।’
ইনজুরির চেয়েও দলের বাইরে বেশি থেকেছেন দল গঠনের যোগ-বিয়োগে না আসায়। এটাকেও বলছেন ভাগ্যের দোষ, ‘অনেক সময় ভালো বল করেও টিম কম্বিনেশনের জন্য বাদ পড়ে গেছি। একবার যেমন অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে খুব ভালো বোলিং করলাম। কিন্তু দেশে এসে পরের হোম সিরিজে আমি ড্রপ! কারণ টিম কম্বিনেশনে আসিনি। বেশির ভাগ সময়ই ভাগ্য আমার সহায় হয় না।’ তবে সাত বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার পরও যখন দলে ভূমিকা বলতে কারও অনুপস্থিতিতে ‘প্রক্সি’ দেওয়া—কখনো কখনো ভীষণই হতাশ হয়ে পড়েন নাজমুল।
কিন্তু ভাগ্যের কাছে যে কিছু দায়বদ্ধতাও আছে! উল্টো করে যদি দেখেন, এতটা অনিয়মিত হয়েও এখনো যে ঘুরেফিরেই বাংলাদেশ দলে নামটা আসে, পারফরম্যান্সের সঙ্গে ভাগ্যের ইশারাও নিশ্চয়ই আছে। সেটা ভেবেই সব সময় প্রস্তুত রাখেন নিজেকে। কিন্তু এভাবে কি ক্রিকেট খেলা যায়! নাজমুলের আফসোস সেখানেই, ‘এভাবে ভালো খেলা কঠিন। অনেকটা লটারির মতো। নেগেটিভ কিংবা পজিটিভ। কপাল ভালো হলে ভালো খেলে ফেলব, নয়তো খারাপ। আবার এমনও হতে পারে ভালো-খারাপ যা-ই খেলি, পরের ম্যাচেই আমি বাদ।’
দলে থাকা অবস্থায়ও প্রায়ই অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয় নাজমুলকে। ম্যাচ খেলবেন, সেটাও অনেক সময় জেনেছেন ম্যাচের দিন সকালে, ‘বিশ্বাস করেন, অনেক ম্যাচে আমি নিজেও জানতাম না খেলব! খেলার দিন সকালে ওয়ার্মআপ পর্যন্তও জানতাম না আমি আছি। হয়তো বলা হয়েছে, হয় আমি খেলব না হয় আরেকজন।’
অনিশ্চয়তা ছিল বিশ্বকাপের দলে থাকা নিয়েও। নাজমুল কখনোই আশা করেননি দলে তিনজন পেসার থাকলেও তাঁর জায়গা হবে। মাশরাফির ইনজুরিই হয়তো সুযোগটা করে দিয়েছে, তবে নাজমুলের নিজের সমীকরণ অনুযায়ী চার পেসার নিলেই কেবল তাঁর ১৫ জনের দলে থাকার কথা। তবে এই সমীকরণ নিয়ে তাঁর প্রবল আপত্তি, ‘আমার তো পারফরম্যান্স খারাপ না! যেভাবেই দলে আসি মূল বোলার হিসেবেই খেলি এবং প্রায়ই পুরো ১০ ওভার বল করি। সুযোগ পেলেই টুকটাক কিছু না-কিছু করি দলের জন্য। অনেক সময় শুনি মাশরাফি ভাই না খেললে আমাকে খেলাবে। আমাকে নিয়ে সব সময় এ রকমই পরিকল্পনা থাকে...।’
অনিশ্চিত অবস্থার মধ্যে থাকতে থাকতে দলে থাকা-টাকা নিয়ে কিছুটা যেন আবেগহীন হয়ে পড়েছেন নাজমুল, ‘দলে থাকা নিয়ে অনেকেই ভাবে। আমার কিন্তু এ রকম কোনো টেনশন নেই। দলে থাকতে হবে, আমাকে নিতে হবে এ রকম কিছু ভাবি না। তবে আমি তৈরি থাকি। বুঝতে পারি দলে না থাকলেও আমাকে যেকোনো সময় ডাকা হতে পারে। বিশ্বকাপের স্কোয়াডে না থাকলেও আমি তৈরিই থাকতাম।’
না, এবার সেই অনিশ্চয়তা নেই। বিশ্বকাপের দলে নাজমুল আছেন সবচেয়ে অভিজ্ঞ পেসার হিসেবেই। এই থাকাটাকে তিনি বলছেন স্বপ্নপূরণ, ‘প্রথম বিশ্বকাপ খেলব—আমার জন্য স্বপ্নপূরণের মতো ব্যাপার। গত বিশ্বকাপে স্ট্যান্ডবাই ছিলাম। এবার দলে আছি। অনেক এক্সাইটেড।’
‘এক্সাইটেড’ মানে রোমাঞ্চিত! হয়তো বিশ্বকাপ বলেই। নইলে দলে আসা-যাওয়াটা তো রুটিন একটা ব্যাপারই হয়ে গেছে নাজমুলের জন্য।

অস্ট্রেলিয়া দিবসে ইংলিশ উদ্যাপন

বর্ণিল আতশবাজিতে আকাশে রঙের ছটা। কখনো লাল, কখনো নীল, কখনো বা সবুজ। অ্যাডিলেড ওভালের ৩৪ হাজার দর্শকের বেশির ভাগকেই কিন্তু রাঙাল না অস্ট্রেলিয়া দিবসের এই উদ্যাপনের রং। অস্ট্রেলিয়া যে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে গেল ২১ রানে।
আগের ছয়টি ওয়ানডের পাঁচটিতে হারা ইংল্যান্ড অবশেষে সিরিজে প্রাণ ফিরিয়ে আনল। কাল ইংল্যান্ড হেরে গেলেই সাত ম্যাচ সিরিজের অলিখিত সমাপ্তি হয়ে যেত। কিন্তু হলো না একজন দক্ষিণ আফ্রিকানের জন্য। সিরিজটাকে ৩-১ করে দিয়েছেন আসলে একজন দক্ষিণ আফ্রিকান—জোনাথন ট্রট। ব্যাট হাতে ১২৬ বলে ১০২ রানের ইনিংস খেলার পর বল হাতে হোয়াইট-হাসির দুটো গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়েছেন ইংল্যান্ডের দক্ষিণ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার। ম্যাচ-সেরার পুরস্কারে ট্রটের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না।
ট্রটের সেঞ্চুরি, ওপেনার ম্যাট প্রিয়রের ৫৮ বলে ৬৭, আটে নেমে মাইকেল ইয়ার্ডির ২৭ বলে খেলা ৩৯ রানের অপরাজিত ইনিংসের কল্যাণে ৮ উইকেটে ২৯৯ রান তুলেছিল ইংল্যান্ড। অ্যাডিলেডের সপ্তম সর্বোচ্চ স্কোরের পরেও স্বস্তি ছিল না। কারণ অস্ট্রেলিয়ার ছিল শেন আর শন। প্রথম ম্যাচে ২৯৪ রান করেও ৬ উইকেটে ইংল্যান্ড হেরেছিল শেন ওয়াটসনের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে। হোবার্টে অস্ট্রেলিয়াকে লড়াইয়ের পুঁজি দিয়েছিল শন মার্শের লড়াকু সেঞ্চুরি।
মার্শ এদিন মাত্র ১ রান করে রিটার্ন ক্যাচ দিয়েছেন। মার্শের আগে হাডিন, পরে মাইকেল ক্লার্ককেও হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর হয়ে গিয়েছিল ৮৭/৩। ওয়াটসন তখনো ছিলেন। কিন্তু আজমল শেহজাদের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ৬৪ রান করা ওয়াটসন। ম্যাচের ভাগ্য আসলে নির্ধারিত হয়ে যায় ওখানেই।
ক্যামেরন হোয়াইট (৪৪), ডেভিড হাসি (২৮), স্টিভেন স্মিথরা (৪৬*) আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। অষ্টম উইকেটে স্মিথ-ব্রেট লি জুটিটা অবশ্য অসম্ভব এক স্বপ্নই দেখাতে শুরু করেছিল। কিন্তু ৭৭ রানের জুটিটা শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে, তার বেশি কিছু নয়।
২৮ বছর পর অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় পাওয়ার আনন্দের সঙ্গে ইংল্যান্ডের জন্য যোগ হয়েছে সিরিজে ফেরার তৃপ্তিও। যদিও সিরিজটা জিততে হলে বাকি তিনটি ম্যাচই জিততে হবে। অস্ট্রেলিয়ার জন্য হিসাবটা সহজ। ব্রিসবেন, সিডনি, পার্থের তিন ম্যাচের একটিতে জিতলেই যথেষ্ট। ওয়েবসাইট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ইংল্যান্ড ৫০ ওভারে ২৯৯/৮ (ট্রট ১০২, প্রিয়র ৬৭, ইয়ার্ডি ৩৯; ডেভিড হাসি ৪/২১, স্মিথ ৩/৩৩, লি ১/৬৮)। অস্ট্রেলিয়া ৫০ ওভারে ২৭৮/৭ (ওয়াটসন ৬৪, স্মিথ ৪৬, হোয়াইট ৪৪; ট্রট ২/৩১, অ্যান্ডারসন ২/৫৭)। ফল: ইংল্যান্ড ২১ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: জোনাথন ট্রট। সিরিজ: অস্ট্রেলিয়া ৩-১-এ এগিয়ে।

মাতৃভক্তির মাশুল

মায়ের প্রতি ভালোবাসা কি টাকার অঙ্কে বিচার করা যায়? নাকি তা করা উচিত। লিওনেল মেসিকে কিন্তু মূল্য শুধতে হচ্ছে টাকার বিচারেই। ‘শুভ জন্মদিন মা’—প্রিয় মাকে মেসির জানানো জন্মদিনের এই শুভেচ্ছার দাম ২ থেকে ৩ হাজার ইউরোর মধ্যে।
গত শনিবার ছিল মেসির মা সেলিয়া কাক্কিতিনির জন্মদিন। ওই দিনই স্প্যানিশ লিগে এক ম্যাচ পর গোল পান রেসিং সান্তান্দারের বিপক্ষে ম্যাচ। সাধারণত পেনাল্টি কিক নেন না মেসি। এদিন নিলেন এবং গোল করেই দৌড়ে চলে যান টিভি ক্যামেরার সামনে। জার্সি তুলে দেখান নিচের শার্টে লিখে আনা মায়ের জন্য জন্মদিনের শুভেচ্ছাবার্তা।
স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের আইন অনুযায়ী এর জন্য জরিমানা গুনতে হচ্ছে বার্সার নায়ককে। গত পরশু ফেডারেশন থেকে জানানো হয়েছে, গোল-উদ্যাপন করতে গিয়ে জার্সি তোলার জন্য মেসিকে ২ থেকে ৩ হাজার ইউরো জরিমানা দিতে হবে। ম্যাচে অবশ্য রেফারি কোনো শাস্তি দেননি মেসিকে। তবে ফেডারেশন পরে জরিমানার সঙ্গে মেসিকে একটি হলুদ কার্ডও দিয়েছে।
বার্সেলোনা অবশ্য মেসির এই শাস্তির বিরুদ্ধে আবেদন করেছে।

ম্যানইউর বারবেতভ-ভাগ্য

২০০৭-০৮ মৌসুমে যেমন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ছিলেন, গত মৌসুমে ছিলেন ওয়েইন রুনি; এবার তেমন দিমিতার বারবেতভ। এ মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জয় আর বারবেতভ যেন সমার্থক হয়ে উঠেছেন। ম্যাচের পর ম্যাচ গোল করে যাচ্ছেন, ম্যানইউকে এনে দিচ্ছেন মূল্যবান সব জয়। পরশু ব্ল্যাকপুলের বিপক্ষে ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়েও ম্যানইউ যে ৩-২ গোলে জিতে ফিরল, তা এ মৌসুমে গোল-রাজা হয়ে ওঠা বারবেতভের কল্যাণেই।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যানইউ সর্বশেষ হেরেছে গত বছরের এপ্রিলে। চেলসির কাছে ১-২ গোলে হারের ক্ষত মুছে টানা ২৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার কীর্তি নিয়ে ব্ল্যাকপুলের মাঠে গিয়েছিল ম্যানইউ। কিন্তু সবাইকে বিস্মিত করে ম্যাচের ১৫ মিনিটেই ক্যাচকার্টের গোলে এগিয়ে যায় ব্ল্যাকপুল। ৪৩ মিনিটে ব্যবধান ২-০ হয় ক্যাম্পবেলের গোলে।
প্রথমার্ধে ম্যানইউর এমন অবস্থা কেন হলো? ‘হয়তো মাত্রাতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই এর কারণ’—ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করেছেন কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসন। বারবেতভের ব্যাখ্যা আবার অন্য রকম, ‘প্রথমার্ধটা আমাদের জন্য কঠিন হয়ের ওঠার কারণ মাঠ খুব একটা ভালো ছিল না। বল বেশি লাফিয়েছে এবং ব্ল্যাকপুলও ভালো খেলেছে।’
এসব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে ম্যানইউ যে আরেকটা দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন কাহিনি লিখতে পারল তা বারবেতভের জন্যই। লিগে নিজের ১৮তম গোলটি করে ব্যবধান কমান তিনি ৭২ মিনিটে। দুই মিনিট পর সমতা ফেরান রুনির বদলি হিসেবে নামা হাভিয়ের হার্নান্দেজ। ৮৮ মিনিটে দলের জয় নিশ্চিত করতে মৌসুমে নিজের ২০তম (লিগে ১৯তম) গোলটি করেন বারবেতভ।
ম্যাচ শেষে ম্যানইউর ফিরে আসার মহিমা কীর্তন করেছেন বারবেতভ ও ফার্গুসন। বারবেতভের কথা, ‘১-০ বা ২-০-তে পিছিয়ে পড়ার পরও আমরা ম্যাচে ফিরতে পারি। আমাদের এই আত্মবিশ্বাসটা আছে, যদি একটা গোল করতে পারি তাহলে আরও করতে পারব।’ ‘আমার খেলোয়াড়েরা কখনো হাল ছেড়ে দেয় না’—বলেছেন ফার্গুসন।
এভাবে ম্যাচে ফিরতে পারার আসল রহস্যটা কী? ফার্গুসন আর বারবেতভ দুজনেই বলেছেন খেলোয়াড় বদলির কথা। বিশেষ করে বদলি হিসেবে রায়ান গিগসের মাঠে নামাটাই কাজে লেগেছে বেশি। ‘দ্বিতীয়ার্ধে আমরা পরিবর্তন করেছি। রায়ান গিগস সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে’—বলেছেন ফার্গুসন। তবে সর্বশেষ ১০ ম্যাচে ১৩ গোল করা বারবেতভের প্রশংসায়ও পঞ্চমুখ ফার্গুসন, ‘দুর্দান্ত একটা মৌসুম যাচ্ছে ওর (বারবেতভ)। দারুণ এক প্রতিভা ও।’
প্রথম লেগে ইপসউইচের কাছে ১-০ গোলে হারের পর ‘গানার’ শিবিরে ‘গেল গেল’ রব উঠে গিয়েছিল। সেই ইপসউইচকেই ৩-০ গোলে হারিয়ে স্বরূপটা দেখাল পরশু আর্সেনাল, উঠে গেল ইংলিশ লিগ কাপের ফাইনালে।