Tuesday, August 8, 2017

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশীসহ গ্রেফতার চার শতাধিক

মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ সন্ত্রাসবিরোধী এক অভিযানে চার শ'র বেশি মানুষকে গ্রেফতার করেছে। যাদের বেশিরভাগই বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানের নাগরিক। রাজধানী কুয়ালালামপুরে পরপর বেশ কয়েকটি অভিযানে এদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে পুলিশ জাল পাসপোর্ট এবং মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের ভুয়া কাগজপত্র জব্দ করেছে। এক সপ্তাহ পরই দেশটিতে সাউথ-ইস্ট এশিয়ান গেমস শুরু হতে যাচ্ছে। আর এই প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করেছে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ। সোমবারের ওই অভিযানে দেখা গেছে বেশ কয়েকটি বাড়িতে পুলিশ দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করেছে এবং হাতকড়া পরিয়ে অনেককে গাড়িতে তুলেছে। পুলিশ জানায়, তদন্ত ও অনুসন্ধানের জন্য এদের নিকটস্থ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব ব্যক্তি নিখোঁজ বা ভ্রমণের ভুয়া কাগজপত্র বহনকারী কোনো ব্যক্তি বা সিরিয়া ও ইরাকে গিয়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে জড়িত হতে পারে এমন মানুষদের লক্ষ্য করে এ অভিযান চালানো হয়। "বিদেশী কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তির সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততা আছে কিনা, বিশেষ করে সিরিয়ায় সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে কেউ যুক্ত কিনা -তা আমরা খতিয়ে দেখবো এবং কিছু প্রমাণ হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেব" - পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের কর্মকর্তা আইয়ুব খান মাইদিন পিচায়কে উদ্ধৃত করে এ তথ্য দিয়েছে সংবাদ মাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।

কোরিয় উপকূলে যুদ্ধের আভাস দিলো চীন

পিত সাগরে সামরিক মহড়া চালানোর মধ্য দিয়ে কোরিয় উপকূলে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে ‌আভাস দিয়েছে চীন। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে এ কথা বলেছেন অস্ট্রেলিয়ান স্ট্রাটেজিক পলিসি ইন্সটিটিউটের ম্যালকম ডেভিস। উত্তর কোরিয়ার কয়লা, সীসা এবং লোহা রফতানির বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলারের নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরই এ মহড়া চালানো হয়। পিত সাগরের মহড়ায় প্রায় ১২টি সামরিক অনুশীলন চালিয়েছে বেইজিং। ডেভিস বলেন, এর মধ্য দিয়ে বেইজিং আভাস দিয়েছে যে ওই এলাকায় যুদ্ধ বেধে গেলে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে চীন। সিঙ্গাপুরের নানিয়াং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের করিন কোহ বলেন, এ বার্তা কেবলমাত্র পিয়ংইয়ংকে দেয়া হয়নি। এদিকে, রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিস ইন্সটিটিউটের পিটার রবার্টস জানান, চীনা নৌশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। গত সপ্তাহেই চীনা নৌবহরে যুক্ত হয়েছে একটি দৈত্যাকার জাহাজ। কোনো দেশের নৌ ইতিহাসে এতো দ্রুতবেগে শক্তি বাড়ানোর নজির প্রায় নেই বলেই জানান পিটার রবার্টস। সূত্র : ওয়েবসাইট

প্রবাসী ছেলে দেশে ফিরে পেল মায়ের পচাগলা লাশ

ভারতের মুম্বাইতে এক প্রকৌশলী আমেরিকা থেকে দীর্ঘদিন বাদে দেশে ফিরে তাদের অ্যাপার্টমেন্টে মায়ের পচাগলা লাশ আবিষ্কার করেছেন। মৃত আশা সাহনি বহুতল সোসাইটির ওই ফ্ল্যাটবাড়িতে একাই থাকতেন - তবে তিনি কতদিন ধরে সেখানে মরে পড়ে আছেন তা পুলিশ এখনও জানাতে পারেনি। ভারতে এমন লাখ লাখ বয়স্ক বাবা-মা আছেন যাদের ছেলেমেয়েরা পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে প্রবাসী জীবন কাটাচ্ছেন - কিন্তু ভারতে তাদের দিন কাটছে প্রবল একাকীত্ব আর নিঃসঙ্গতার মধ্যে। ভারতে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে, পড়াশুনো করে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে - আর সেই সঙ্গে এই একাকীত্ব ব্যাপক এক সামাজিক সমস্যার চেহারা নিচ্ছে। মুম্বইয়ের লোখন্ডওয়ালার অ্যাপার্টমেন্টে তেষট্টি বছরের আশা সাহানিকে যে চোখে পড়ছে না - সেটা গত কয়েকমাসে তার প্রতিবেশীরা, ধোপা, কলের মিস্ত্রি বা মুদি দোকানদার কেউই খেয়াল করেননি। মার্কিনপ্রবাসী ছেলের সঙ্গেও তার যোগাযোগ হয়নি বহুদিন। অগত্যা তিনি মারা যাওয়ার পরেও দেহটা পড়ে ছিল ফ্ল্যাটের ভেতরেই - এবং বয়স্ক মানুষদের নিয়ে কাজ করা ভারতের সবচেয়ে বড় এনজিও হেল্পএজ ইন্ডিয়ার মতে এই ধরনের ঘটনা আজকাল মোটেও বিরল নয়। ওই সংস্থার প্রধান প্রকাশ বোরগাঁওকর বিবিসিকে বলছিলেন, ‘গত পাঁচ-ছবছরে আমরা বহু দৃষ্টান্ত দেখেছি যেখানে বিদেশে থাকা ছেলেমেয়েরা বাবা-মার সঙ্গে যোগাযোগ রাখে না বললেই চলে।’ ‘একা থাকা বাবা-মাদের আমরা সব সময় পরামর্শ দিই কাছের পুলিশ থানায় রিপোর্ট করিয়ে রাখতে, কিন্তু একা থাকার কথাটা জানাজানি হওয়ার ভয়ে তারা সেটাও করাতে চান না। পুলিশেরও অন্তত সপ্তাহে একবার তাদের ভিজিট করে যাওয়ার কথা - কিন্তু বাস্তবে সেটাও ঘটে না।’ ভারতে ষাটোর্ধ্ব নাগরিক বা সিনিয়র সিটিজেনদের ৪০ শতাংশই সম্পূর্ণ একলা থাকেন - বলছে হেল্পএজ ইন্ডিয়ার সর্বশেষ জরিপ। বহু ক্ষেত্রেই তাদের সন্তানরা কৃতি ও প্রবাসী, কিন্তু সারাদিনে তাদের একটা খোঁজ নেওয়ারও কেউ নেই। কলকাতায় প্রবীণ সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় কিন্তু মনে করেন অনেক বাবা-মা নিজেরাই তাদের এ পরিস্থিতি ডেকে এনেছেন।
তিনি বলছেন, ‘একটা কথা বলতেই হবে এত বেশি উচ্চাকাঙ্ক্ষা যখন, উচ্চাশা যখন ... যেখানে বাবা-মারাও চান তার ছেলেমেয়ে বিদেশে যাক, আরও বেশি রোজগার করুক, গর্ব করে সেটা সবাইকে বলা যাক - তা থেকেই কিন্তু এই ডিটাচমেন্টটা আসে। ফলে এর পেছনে বাবা-মার অবদানও কম নয়। এই একাকীত্ব তারা নিজেরাই অর্জন করেন, আর তার ফলও তাদের ভোগ করতে হয়।’ ‘আমি কলকাতায় যে পাড়ায় থাকি সেখানে তো ঘরে ঘরে এই অবস্থা। বুড়ো বুড়ি একলা পড়ে আছে, দেখার কেউ নেই - কাজের লোকের ভরসায় কোনওরকমে থাকা। ওই মুম্বাইয়ের বুড়ির মতোই তাদের অবস্থা আর কী!’ ছেলেমেয়ের সান্নিধ্য না-পেয়ে তারা কেউ কেউ নি:সঙ্গতা দূর করার জন্য অন্য রাস্তাও বেছে নিচ্ছেন বলে বলছিলেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। ‘আজকাল নতুন নতুন সব এজেন্সিও হয়েছে যারা কিছু ছেলেমেয়েকে ট্রেনিং দিয়ে এই সব বাবা-মায়ের কাছে পাঠায় সাময়িকভাবে তাদের নি:সঙ্গতা দূর করার জন্য। যে সব বাবা-মা আর্থিকভাবে স্বচ্ছ্বল তারা অনেকে এই সার্ভিস কিনছেনও - ওই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাচ্ছেন আর কী’, বলছিলেন তিনি। মুম্বাইয়ের গোরেগাঁওয়ের বাসিন্দা সুনীল চোপড়ার দুই ছেলেই অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তার নিজের এ নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই, কিন্তু তিনি অনেক বন্ধুকে জানেন যারা একই ধরনের পরিস্থিতি সামলাতে পারেননি। তিনি বলছেন, ‘আসলে ভারতে তো রাষ্ট্র কোনও সামাজিক নিরাপত্তা দেয় না - কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় আমি দেখেছি সিস্টেমটা সম্পূর্ণ আলাদা। ভারতে যে বাবা-মা তাদের সব সঞ্চয় ঢেলে সন্তানকে পড়াশুনো করান, সেই ছেলেমেয়ে দূরে চলে যাওয়ার পরে তারা অনেকেই আর্থিক ও মানসিকভাবে অকূল পাথারে পড়েন।’ ‘তবু আমি বলব, আমার বাবা উন্নত জীবনের সন্ধানে পাঞ্জাব থেকে মুম্বাই এসেছিলেন, আমার ছেলেরা একই কারণে মুম্বাই থেকে অস্ট্রেলিয়া গেছে - আমি তাতে বাধা দেওয়ার কে?’ হেল্পএজ ইন্ডিয়ার প্রকাশ বোরগাঁওকর মনে করেন, ভারতীয় সমাজের যেটা জোরের জায়গা ছিল - সেই যৌথ পরিবার প্রথা লুপ্ত হওয়াটাও এই একাকীত্বের একটা বড় কারণ। কিন্তু তার পরামর্শ, বয়স্ক বাবা-মাকে এই বাস্তবতা মেনে নিয়েই জীবন কাটাতে হবে, ছেলেমেয়ে একদিন আমার ঠিক কাছে ফিরে আসবে - এই মিথ্যে আশা নিয়ে থাকলে চলবে না। ভারতে এখন ষাটোর্ধ্ব মানুষের সংখ্যা সোয়া এগারো কোটির মতো - যা ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় আঠারো কোটিতে পৌঁছবে। বিশেষজ্ঞরা ধরেই নিচ্ছেন তার সঙ্গেই তীব্রতর হবে তাদের একাকীত্বের সমস্যা। সূত্র: বিবিসি

অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি দ.আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি হচ্ছেন। দেশটির পার্লামেন্ট সদস্যরা মঙ্গলবার গোপন ব্যালটে এ ভোট দিচ্ছেন। বিরোধী দল আশা করছে, তার ওপর ক্ষুব্ধ এএনসি’র আইন প্রণেতারা জুমার ক্ষমতাচ্যুতিতে সহায়তা করতে পারেন। দুর্নীতি কেলেঙ্কারি ও রুগ্ন অর্থনীতির কারণে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের (এএনসি) ভেতরে জুমা সমালোচিত হচ্ছেন। কিন্তু পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল এএনসি গোপন ব্যালটে ভোট দেয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। দলটি আশা করছে, অনাস্থা ভোটের উদ্যোগটি ব্যর্থ হবে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুর ২টায় পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরু হবে। এদিকে পার্লামেন্ট অধিবেশনকে সামনে রেখে বেশ কয়েকটি বিরোধী দল কেপটাউনে অবস্থিত জাতীয় পরিষদে বিক্ষোভ করতে যাচ্ছে। সোমবার আকস্মিকভাবে গোপন ব্যালটে ভোটের সিদ্ধান্ত জানান পার্লামেন্টের স্পীকার। এরপর প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক অ্যালাইয়েন্স পার্টি বলেছে, ‘এএনসি’র এমপিদের কোন ওজর-আপত্তি চলবে না। জুমাকে অপসারণে তাদেরকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতেই হবে।’

ভেনিজুয়েলায় ভয়াবহ বন্যা : সাড়ে চার শ' পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত

ভেনিজুয়েলার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় সাড়ে চার শ' পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানির তোড়ে দেশটির একটি বৃহৎ জলবিদ্যুৎ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সোমবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যম একথা জানিয়েছে। বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশের প্রধান দুটি নদী ওরিনোকে ও ক্যারোনি দু’কূল উপচে বলিভার, ডেল্টা আমাকুরো ও অ্যামোজোনাসের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের ভিডিও ফুটেজে বন্যার কারণে ভেনিজুয়েলার বৃহৎ জলবিদ্যুৎ বাঁধের মধ্য দিয়ে তীব্র স্রোতে বয়ে আসতে দেখা গেছে। এখান থেকে দেশের চাহিদার ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এ পরিস্থিতিতে বিরোধী দল বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি যেন না হয় সেজন্য আশু ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

নাইজেরিয়ায় বোকো হারামের হামলায় ৩১ জেলে নিহত

নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের লেক চাদ দ্বীপে দুটি পৃথক হামলায় কমপক্ষে ৩১ জেলে নিহত হয়েছেন। সোমবার রাতে বোকো হারাম এ হামলা চালায়। দ্বীপটির স্থানীয় জেলে ও পাহারাদাররা একথা জানিয়েছে। দুগুরি ও দাবার ওয়ানজাম দ্বীপের মিঠাপানির খালে জেলেদের উপর এ হামলা চালানো হয়। এ সময় জেলেরা মাছ ধরছিল। তাদের গুলি করে ও কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। স্থানীয় মিলিশিয়া বাহিনীর সদস্য বাবাকুরা কোলো বলেন, ‘বোকো হারাম সদস্যরা দুগুরি ও দাবার ওয়ানজাম দ্বীপে হামলা চালিয়ে ৩১ জনকে হত্যা করেছে।’ বোকো হারামের বিরুদ্ধে লড়াইরত মাইদুগুরি মিলিশিয়া বাহিনীর সদস্য কোলো আরো বলেন, ‘তারা (বোকো হারাম) দুগুরিতে ১৪ জন এবং দাবার ওয়ানজামে আরো ১৭ জনকে হত্যা করেছে।’ জেলে সাল্লাউ ইনুয়া বলেন, বোকো হারাম প্রথমে দুগুরি দ্বীপে হামলা চালিয়ে ১২ জেলেকে হত্যা ও আরো দু'জনকে জখম করে। পরে তারা মারা যান। তিনি আরো বলেন, দাবার ওয়ানজামে তারা ১৭ জনকে হত্যা করে। তবে এই হামলা সম্পর্কে সেনাবাহিনী বা নাইজেরিয়া কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। নাইজেরিয়ার সামরিক কর্তৃপক্ষ মিঠা পানির লেকটিতে দুই বছর ধরে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এক সপ্তাহ আগে নিষেধাজ্ঞাটি তুলে নেয়া হয়। নাইজেরিয়া, নাইজার, ক্যামেরুন ও শাদের মধ্য দিয়ে লেকের পানি বয়ে গেছে।

ঘিওর সদরের রাস্তার বেহাল দশা

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা সদরের বেশিরভাগ রাস্তাই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঘিওর সরকারি কলেজ, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, ৩টি উচ্চ বিদ্যালয়, ২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পাঁচ মিনিটের বৃষ্টিতে হাঁটু পানি জমে এ রাস্তাটি প্লাবিত হয়ে যায়। বাসস্ট্যান্ডের সাথে এ রাস্তাটি দীর্ঘদিন যাবৎ সংস্কার না করার দরুন এ রাস্তা দিয়ে চলাচলরত হাজার হাজার লোকজনসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অথচ স্থানীয় প্রশাসনের এ রাস্তাটির দিকে বিন্দুমাত্র নজরদারি নেই। জানা গেছে, ঐতিহ্যবাহী ঘিওর বাজারের সাথে সিংজুরী ও পয়লা ইউনিয়নের হাজার হাজার লোকজন এ রাস্তা দিয়ে ঘিওর বাজারে প্রবেশ করে। ঘিওর সরকারী কলেজ, ঘিওর ডি.এন. পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, ঘিওর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মসজিদ, ঈদগাহ, পোষ্ট অফিস, ক্রীড়া সংস্থা, ৪৭ নং ঘিওর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থীর এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অপরদিকে, পরিবহন, পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলেও মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। ফলে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও শুশীল সমাজের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ করে বলেন, ঘিওর সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় একই স্থানে একাধিকবার উন্নয়ন ও সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু এই রাস্তাটির দিকে প্রশাসনিক কারো কোনো নজর নেই। অপরদিকে এ রাস্তার সাথে ঘিওর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার দরীদ্র লোকজন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ওষুধ নেওয়ার জন্য আসে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটির চারপাশে অটোবাইক, অটোরিকশা, ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন ঘিরে রাখে।
ফলে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা লোকজনেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাতায়াতের ক্ষেত্রে অসুবিধা থাকায় অসুস্থ লোকজন চিকিৎসা নিতে এসে অনেক সময় ফিরে যায়। ঘিওর ডি.এন. পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মিজানুর রহমান শিকদার জানান, বিদ্যালয়ের আসার এই প্রধান সড়কটির ৪/৫টি স্থানে কাদা, পানি ও জলাবদ্ধতায় অবরুদ্ধ থাকায় শিক্ষার্থীসহ এলাকার লোকজনের য়াতায়াতের খুবই অসুবিধা হচ্ছে। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার কে এম সিদ্দিক আলী জানান, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সসহ ৭/৮ টি বড় প্রতিষ্ঠান এখানে থাকা সত্ত্বেও বাজারের ভিতরে এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দীর্ঘদিন যাবৎ মেরামত করা হয়নি এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। জরুরী ভিত্তিতে রাস্তাটি মেরামতের জন্য তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো: সাজ্জাকুর রহমান জানান, আমি রাস্তাটি পরিদর্শন করেছি। জরুরী ভিত্তিতে রাস্তাটি মেরামতসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্বাহী অফিসার শামীমা খন্দকার জানান, রাস্তাটি আমি সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। রাস্তটির মেরামতের জন্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। বাজেট আসলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে। এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা রাস্তাটি মেরামতের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

নীলফামারী ৪ আসনে নতুন মুখ বেশি

নীলফামারী-৪ আসনে বইছে আগাম নির্বাচনী হাওয়া। বাড়ছে নতুন মুখের আনাগোনা। ব্যানার ফেস্টুন ছাপিয়ে জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়ে জানান দিচ্ছেন তাদের আগমনী বার্তা। আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ অন্যান্য দলের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই দীর্ঘ হচ্ছে প্রার্থী তালিকা। সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও লবিং ছাড়াও মাঠপর্যায়ে গণসংযোগ করে চলছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ঈদুল ফিতর থেকেই নেমে পড়েছেন গণসংযোগে আর কেউ বা ডিজিটাল ব্যানার ঝুলিয়েছেন শহরজুড়ে। এ আসনে প্রবীণ, নবীন ও বহিরাগতরাও মনোনয়ন চাইছেন। আওয়ামী লীগ থেকে হ্যাভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে যুক্ত হয়েছেন নীলফামারী জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ। তিনি প্রকাশ্য জনসভায় এ আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এ ছাড়াও সৈয়দপুর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সিকেন্দার আলী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র আখতার হোসেন বাদল, কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির অন্যতম সদস্য আমেনা কোহিনুর আলম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আওয়ামী লীগ নেতা ব্যারিস্টার মোখছেদুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজকল্যাণ সম্পাদক নাফিউল ইসলাম নাফা, কর আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন। বিএনপির সম্ভ্যাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র আমজাদ হোসেন সরকার, কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক কণ্ঠ শিল্পী বেবী নাজনীন, সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ আবদুল গফুর সরকার ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা বিলকিস ইসলাম। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন সৈয়দপুর শহর জামায়াতের আমির আবদুল মোতাকিম, উপজেলা জামায়াতের আমির গোলাম মোস্তফা ও সাবেক উপজেলা আমির মাওলানা মাহমুদুল হাসান সাঈদী। জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন বর্তমান এমপি ও জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক শওকত চৌধুরী ও সাবেক সংসদ সদস্য শিল্পপতি জাফর ইকবাল সিদ্দিকী। জাফর ইকবাল সিদ্দিকী এর আগে নীলফামারী- ১ আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ছিলেন। এখন পর্যন্ত ১৪ জন প্রার্থীর আনাগোনা দেখা গেলেও এই তালিকা আরো দীর্ঘ হতে পারে বলে দলীয় নেতাকর্মীদের মুখে শোনা যাচ্ছে। ভোটারদের মধ্যেও চলছে নানা আলোচনা, কে কোন দলের মনোনয়ন পাচ্ছেন, কে হলে ভালো হয় তা নিয়েও চলছে নানা বিশ্লেষণ। তবে প্রবীণ নেতা নাকি নবীনদের দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে তা নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। কিশোরগঞ্জ উপজেলার একাংশ ও সৈয়দপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে অবাঙালিদের একটি বিরাট ভোট ব্যাংক রয়েছে। নির্বাচনে এই অবাঙালি ভোটাররাই মূল ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়। তাই এখন থেকেই সব সম্ভাব্য প্রার্থীরা ছুটছেন তাদের কাছে। নানাভাবে তাদের মনজয় করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এ আসন থেকে ’৯১ সালে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সৈয়দপুর পৌরসভার চারবারের নির্বাচিত মেয়র আমজাদ হোসেন সরকার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তিনি নির্বাচিত হওয়ার শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ জানান, দলীয় মনোনয়ন পেলে এ আসনটি সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে তিনি উপহার দিতে পারবেন বলে তিনি আশা করেন।

তুফানের চার্জার রিকশা এখনো চলছে তুফান গতিতেই

জাতীয় শ্রমিকলীগ নেতা (সদ্যবহিষ্কৃত) তুফান সরকারের দেয়া লাইসেন্সে বগুড়া শহরে ব্যাটারিচালিত প্রায় ১০ হাজার চার্জার রিকশা এখনো তুফান গতিতেই চলছে। এসব রিকশা শহরে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি করছে। তুফান সরকার ২০১৪ সালে জেলা চার্জার রিকশা ও ভ্যান মালিক সমিতি গঠন করে। এরপর সংগঠনের সভাপতি হয়ে এসব রিকশা ও ভ্যান রাস্তায় নামাতে তার স্বাক্ষরিত পরিচয়পত্র গাড়ির সাথে লাগানো বাধ্যতামূলক করা হয়। এ সময় ভর্তি ফি নেয়া হয় মোটা অঙ্কের। এ ছাড়া দৈনিক ২০ টাকা চাঁদা নেয়া হতো। তবে পুলিশ এটা বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তবে খুশির বিষয়, এখন কোনো চাঁদা দিতে হয় না চালকদের। এতে গরিব রিকশা চালকরা খুশি। তারা চান আর যেন আগের মতো কোনো চাঁদা দিতে না হয়। এসব রিকশা চালক অদক্ষ হওয়ায় শহরের মধ্যে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ ট্রাফিক পুলিশ শহরের জিরো পয়েন্ট সাতমাথা এলাকায় চার্জার রিকশা নিষিদ্ধ করেছে। তবুও কিছু রিকশা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে সাতমাথায় চলাচল করছে। ফলে প্রায়ই যানজট লেগে থাকে।
কিশোরী সেফহোমে ও মাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখার নির্দেশ
বগুড়ায় ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার সেই ছাত্রীকে রাজশাহীর সেফ হোমে এবং তার মাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার দুপুরে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ- ১ (নারী ও শিশু) আদালতে পুলিশ তাদের হাজির করে। শুনানি শেষে বিকেলে আদালতের বিচারক এমদাদুল হক ছাত্রীকে রাজশাহী বিভাগীয় সরকারি সেফহোম ও ওই ছাত্রীর মাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার ওসি অপারেশ আবুল কালাম আজাদ জানান, ১১ দিন চিকিৎসা শেষে মা ও মেয়েকে কোথায় রাখা হবে এ জন্য আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নির্যাতিত ছাত্রীকে রাজশাহী বিভাগীয় সরকারি সেফহোমে রাখা হবে এবং তার মাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নেয়া হবে। নির্দেশমতে তাদের সেখানে নেয়ায় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (শজিমেক) উপপরিচালক নির্মলেন্দু চৌধুরী জানান, ধর্ষিতা ও নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রী ও তার মা এখন সুস্থ। সোমবার দুপুরে তাদের ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর পুলিশ তাদের আদালতে নিয়ে যায়।
তদন্ত কমিটি
বগুড়া জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি জনসাধারণের জবানবন্দী গ্রহণ করছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আব্দুস সামাদের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটির সদস্যরা সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে জবানবন্দী নিচ্ছেন। এ পর্যন্ত সাতজন জবানবন্দী দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, রিমান্ড শেষে ছাত্রী নির্যাতনের প্রধান নায়ক তুফান সরকার, তার স্ত্রী আশা সরকার, আশার বোন ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাজিয়া হাসান রুমকি ও তুফানের সহযোগীরা জেল হাজতে রয়েছে। তিনি বলেন, অবৈধ অস্ত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও মুখ খোলেনি তুফান ও তার সহযোগীরা।
বিবৃতি
বগুড়া জেলা যৌন হয়রানি নির্মূলকরণ নেটওয়ার্ক, বগুড়ার আহ্বায়ক আল মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান ফিজু, আশরাফুন নাহার স্বপ্না ও সদস্য সচিব মো: জলিলুর রহমান এক বিবৃতিতে বগুড়ায় ধর্ষণ এবং পরবর্তী সময়ে মা ও মেয়েকে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় ধর্ষক তুফান সরকার এবং এ কাজের সহিত জড়িত অন্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। গত ১৭ জুলাই কলেজে ভর্তি করার কথা বলে কিশোরীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে গ্রেফতারকৃত তুফান সরকার। এ ঘটনার পর ২৮ জুলাই দুপুরে ওই এলাকার পৌর কাউন্সিলর রুমকি ও তার সহযোগীরা বিচারের নামে ওই মেয়ে ও তার মাকে ধরে নিয়ে আটকে রেখে মারধর করে মাথা ন্যাড়া করে দেয়। এ খবর পেয়ে পুলিশ ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে তুফান সরকার ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করে। এসব ঘটনায় ওই কিশোরীর মা মুন্নি বেগম বাদি হয়ে অপহরণ, ধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগ এনে সদর থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তুফান সরকারের স্ত্রী আশা সরকার, ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুমকি ও তার মা রুমি, মাথা মুণ্ডনকারী নাপিত জীবন রবিদাসসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। এর মধ্যে তুফানের সহযোগী আতিক ও মুন্না আদালতে ১৬৪ ধারায় কিশোরীর সাথে তার মার মাথা মুণ্ডন করে দেয়ার ঘটনা স্বীকার করে জবানবন্দী দেয়। মা-মেয়ের মাথা মুণ্ডনকারী নাপিত জীবন রবিদাসও মাথা মুণ্ডন করে দেয়ার ঘটনা স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছে।

বিএনপি চায় হারানো দুর্গ আ’লীগ চায় জয়

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এখনই সরগরম হয়ে উঠেছে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের নেতাকর্মীরা। আগামী নির্বাচনে বিএনপি চায় তাদের হারানো দুর্গ ফিরে পেতে আর আওয়ামী লীগ চায় জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনো বাকি প্রায় ১৬ মাস। তারপরও ভোট সামনে রেখে সরগরম নির্বাচনী এলাকা বরিশাল-১ আসনের (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) মানুষ। এখানে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নেমে পড়েছেন গণসংযোগে। জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থীর নাম এখনো শোনা না গেলেও নির্বাচনের সময় তারা প্রার্থিতা ঘোষণা করতে পারে। বর্তমানে সম্ভাব্য প্রার্থীরা কৌশলে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী এলাকাগুলোতে গণসংযোগ করছেন। চলছে দলীয় গ্রুপিং ও লবিং। প্রত্যেক ভোটারের মধ্যেই চলছে নানা আলোচনা। কে পাচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন। এখানে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে, মরহুম আ: রব সেরনিয়াবাতের ছেলে এবং এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান এবং কেন্দ্রীয় কমিটির বরিশাল বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান। এখানে আওয়ামী লীগের উন্নয়নের প্রচারণা শুরু করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। অন্য দিকে দলীয় কোন্দল ও মামলার কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় কোন্দল মেটাতে না পারলে আসনটি হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে এমনটাই ধারণা করছে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। আগৈলঝাড়া উপজেলায় বড় দুই দলের কমিটি না থাকায় ঝিমিয়ে পড়েছে কার্যক্রম। বিএনপি দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপি দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। আগৈলঝাড়া ও গৌরনদী উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-১ আসনে চারদলীয় ঐক্যজোট মনোনীত প্রার্থী ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান। নির্বাচনের পর তার সমর্থিত আ: লতিফ মোল্লাকে প্রধান করে আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের পরপরই অপর কেন্দ্রীয় নেতা আকন কুদ্দুসুর রহমান সমর্থিত নেতাকর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। এরপর ২০০৯ সালের ২৭ নভেম্বর গৈলায় আ: লতিফ মোল্লার বাড়িতে দলীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলে আ: লতিফ মোল্লা সভাপতি ও আফজাল শিকদারকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে কমিটি গঠিত হয়। এর পর থেকে বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে গ্রুপিং সৃষ্টি হয়। দলীয় বিভক্তির কারণে হামলা-সংঘর্ষের আশঙ্কায় ২০১০ সালের ৯ অক্টোবর আগৈলঝাড়া বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয় কেন্দ্র থেকে। বিএনপির অপর কেন্দ্রীয় নেতা আকন কুদ্দুস সমর্থিত উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন লাল্টুকে আহ্বায়ক করে আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির পাল্টা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান সমর্থিত নেতাকর্মীরা প্রত্যাখ্যান করেন। পরে আফজাল শিকদারকে সভাপতি ও আবুল হোসেন লাল্টুকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬১ সদস্যবিশিষ্ট আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির আরেকটি কমিটি ২০১১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ ও সাধারণ সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান অনুমোদন করেন। বরিশালের বিভিন্ন আঞ্চলিক পত্রিকায় ওই কমিটি প্রকাশিত হলে আগৈলঝাড়ায় বিএনপির মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান সমর্থিত নেতা ওই কমিটির সভাপতি আফজাল শিকদারকে প্রত্যাখ্যান করে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান এ নিয়ে কেন্দ্রে অভিযোগ দেয়ায় কেন্দ্রীয় বিএনপি বরিশাল জেলা উত্তর সভাপতি ও সম্পাদককে চিঠি দিয়ে নতুন কমিটির কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দেয়। গ্রুপিং এবং পুলিশের সভা-সমাবেশের অনুমতি না থাকায় উপজেলা বিএনপি কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারছে না বলে একাধিক নেতাকর্মী জানান। বিএনপির তিন নেতা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ আসন থেকে দলীয় মনোয়ন চাইবেন। তারা হলেন- জেলা উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান ও সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন। সংস্কারপন্থী বিএনপি নেতা স্বপন মনোনয়ন পেলে বিরোধিতা করতে পারে অপর দুই নেতাসহ বরিশালের প্রভাবশালী নেতারা। অন্য দিকে আওয়ামী লীগ দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ইউসুফ মোল্লার মৃত্যুর পর থেকেই কমিটিশূন্য হয়ে পরে দলটি। এর আগে দলীয় নির্দেশ অমান্য করে উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করায় দলের সাধারণ সম্পাদক যতীন্দ্র নাথ মিস্ত্রিকে ২০১৪ সালের ৮ মার্চ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। সূত্রগুলো আরো জানায়, পদ-পদবি দিতে মাঠেঘাটে আলোচিত অনেক নেতাকে দীর্ঘদিন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ নিজে। সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে সর্বজন গ্রহণযোগ্য এক নেতার হাতেই তিনি নেতৃত্ব তুলে দিতে চান বলে জানা গেছে। দলীয় সূত্রে আরো জানা গেছে, ২০০১ সালে ইউসুফ মোল্লাকে প্রধান করে ২১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির দীর্ঘ ১৩ বছর পর ২০১৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর আগৈলঝাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিল শেষে ইউসুফ মোল্লাকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যতীন্দ্র নাথ মিস্ত্রির নাম ঘোষণা করা হয়। তবে তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে ব্যর্থ হওয়া এবং সভাপতির মৃত্যু ও সম্পাদকের বহিষ্কারে কমিটিশূন্য হয়ে পড়ে আওয়ামী লীগ। এই উপজেলায় দু’টি গাড়ি পোড়ানোর মামলাসহ বিভিন্ন ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীরা আসামি হওয়ায় দলীয় কর্মসূচি পালন হয় না। এসব মামলায় কারাগারে যেতে হয়েছে বহু নেতাকর্মীকে। এ কারণে কিছুটা আন্দোলনবিমুখ হয়ে পড়া দলটি সাংগঠনিকভাবে ঝিমিয়ে পড়েছে। বর্তমানে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে পঞ্চাশ হাজার নতুন সদস্যর টার্গেট নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছেন। প্রতিটি ইউনিয়নেই নতুন সদস্যের কার্যক্রম নিয়ে নেতাকর্মীরা এখন অনেকটা উজ্জীবিত।

ভালুকায় বাস ও লড়ির সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ৫০

ময়মনসিংহের ভালুকায় যাত্রীবাহী বাস ও ইটভাঙা লড়ির সংঘর্ষে তিনজন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ভালুকা পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ড সড়ক ও জনপথ বিভাগের ডাকবাংলোর সামনে। প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় ঢাকাগামী শ্যামলী বাংলা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৫২৮০) সাথে উল্লেখিত স্থানে বিপরীত দিকে থেকে আসা একটি ইটভাঙা লড়ির সংঘর্ষ হয়। এ সময় রাস্তার পূর্ব পাশে বাসটি পড়ে গিয়ে ডাকবাংলোর বাউন্ডারির পিলারে লেগে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ও ময়মনসিংহ হাসপাতালে দুইজনসহ তিনজন মারা যান। দুর্ঘটনায় অন্তত ৫০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের অবসরপ্রাপ্ত টিএইচও ডাক্তার হাসমত আলীর মেয়ে ডা. সুমি (২৮), নারাঙ্গী গ্রামের আতিক (৩০), ভালুকার সুমন (৩০), উথুরার রায়হান (২৪); গফরগায়ের সুমাইয়া (২৫), শিবগঞ্জের মাহমুদা (৪০) ও আব্দুল কাদের (৫০), পূর্বধলার রায়হান (২৫), হালুয়াঘাটের হেকমত (৫০), মাকসুদা (২৫), রফিকুল (৩০), রাবেয়া খাতুন (২৫) ও সাহেরা খাতুন (৩৫); কেন্দয়ার লিটন (৪০), শ্রীপুরের আব্দুল খালেক (৩০), ময়মনসিংহের রায়হান (২৬), আশিকুর রহমানসহ ২৭ জনকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মো: রেজাউল করিম জানান, দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বাসটির বিভিন্ন অংশ কাটার মেশিং দিয়ে কেটে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ভালুকা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো: হযরত আলী জানান, ইটভাঙ্গার লড়ি উল্টোপথে যাওয়ার সময় লড়ি ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর বাসের চাকা পাংচার হয়ে রাস্তার পাশে ডাকবাংলোর বাউন্ডারির পিলারের সাথে ধাক্কা লেগে দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবে নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

টাঙ্গাইলে কলেজছাত্র রাজন হত্যা মামলায় ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড

টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরে কলেজছাত্র রাজন মিয়া হত্যামামলায় ১২ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের স্পেশাল ও জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক ওয়াহেদুজ্জামান শিকদার এ রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, উপজেলার ভালকুরিয়া গ্রামের আবু বকর সিদ্দিক ওরফে টুনু, তার তিন ছেলে- হানু, নূরুল ইসলাম, আ: মজিদ, টুনুর নাতি সাইদুল ইসলাম এবং অন্য আসামিদের মধ্যে মজিদ মিয়া, তার ছেলে মজনু। এছাড়া বাবু প্রামাণিক, ওয়াহাব শেখ, সিরাজ প্রামাণিক, নিজাম প্রামাণিক ও তার ছেলে মুমিন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে ৮ আসামিকে হাজির করা হয়। বাকি ৪ জন পলাতক রয়েছে। মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০১৪ সালের ১৩ এপ্রিল রাজনদের পরিবারের উপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষরা। এ সময় রাজনকে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়। আহত রাজনকে হাসপাতালে নেয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন দায়িত্বরত চিকিৎসক। এ ঘটনার পরদিন রাজনের বাবা বাদি হয়ে ভুঞাপুর থানায় একটি হত্যামামলা দায়ের করেন। জানা যায়, রাজন টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি ডিগ্রি কলেজ থেকে সে বছর ডিগ্রি পরীক্ষা দিয়েছিল। খুনের পর প্রকাশিত ফলাফলে সে ভালোভাবে উত্তীর্ণ হয়েছিল।  রাজনের পিতা রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এ রায়ে তিনি খুশি। তবে রায় দ্রুত কার্যকরে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

চাষাঢ়ায় ডিবি-সন্ত্রাসী গোলাগুলি

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় সন্ত্রাসীর সঙ্গে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গোলাগুলির ঘটনায় ইয়াসিন আরাফাত (৩৫) নামের এক সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় ওই ঘটনা ঘটে। ডিবির এসআই মিজানুর রহমান জানান, রাতে তাদের একটি টহল টিম চাষাঢ়া এলাকাতে ছিল। ওই সময়ে রেল লাইন এলাকাতে টহল দেওয়ার সময়ে ইয়াসিন আরাফাত ডিবিকে উদ্দেশ করে গুলি ছুড়ে। ডিবিও পাল্টা গুলি ছুড়লে সে গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তার দেহ তল্লাশী করে ৪ রাউন্ড গুলিসহ ৭ পয়েন্ট ৬৫ বোরের একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। সে একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অস্ত্রবাজ। ইয়াসিন আরাফাতকে উদ্ধারের পর তাকে শহরের খানপুরে ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

বিশ্বজিতের মা কল্পনা রানীর বিলাপ থামছে না

উচ্চ আদালতের রায়ের পর থেকে বিশ্বজিতের পরিবারের সদস্যদের কান্না আরো বেড়ে গেছে। মা কল্পনা রাণী দাস বিশ্বজিতের ভাস্কর্যের সামনে বিলাপ করে চলছেন। বাবা অনন্ত দাস ছেলের স্মৃতিগুলো মনে করে কখনো ভাস্কর্যের সামনে আবার কখনো পূঁজার ঘরের সামনে গিয়ে নিরবে চোখের পানি ফেলছেন। বিশ্বজিৎ দাস প্রতিবছর পূজায় বাড়ি আসতেন। কিন্তু গত পাঁচ বছর ধরে আর আসেন না। বিশ্বজিতের মা নিহত ছেলের ছবির এলবাম হাতে নিয়ে বিশ্বজিতের ভাস্কর্য়ের কাছে দাঁড়িয়ে বিলাপ করতে করতে বলেন, পাঁচ বছর আগে বিশ্বজিতকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, এটা দেশের সব মিডিয়ায় প্রচার হয়েছে। সবাই তা দেখেছে। আমরা বুক ভরা আশা নিয়ে খুনিদের ফাঁসির রায় দেখার জন্য পাঁচ বছর অপেক্ষা করেছি। রোববার উচ্চ আদালত ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রফিকুল ইসলাম শাকিল ও রাজন তালুকদারের ফাঁসির রায় বহাল রাখে এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দুইজনকে খালাস প্রদান করেন। নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১৩ আসামির মধ্যে ১১ জনের ব্যাপারে আদালত কোনো মন্তব্য করেননি।
আপিল করা দুই আসামিকে উচ্চ আদালত খালাস দিয়েছেন। এ রায় শোনার পর থেকেই বিশ্বজিতের পরিবার হতাশ হয়ে পড়ে। তারা সরকারের কাছে সঠিক বিচার পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখে বিশ্বজিতের খুনিদের ফাঁসি দেয়া হোক। বিশ্বজিতের বাবা অনন্ত দাস ছেলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, বিশ্বজিৎ বাড়ি থেকে শেষবারের জন্য যায় নিহত হওয়ার এক সপ্তাহ আগে। যাওয়ার সময় বিশ্বজিতকে ডেকে বলেছিলাম বাবা আমার শরীরটা বেলি ভালো না। আবার এসে আমাকে দেখবি কিনা জানি না। তুই ভালোভাবে চলাফেরা করিস। এর এক সপ্তাহ পরেই বিশ্বজিৎ আমাদের সবাইকে রেখে না ফেরার দেশে চলে গেল। অথচ আমি আজও বেঁচে আছি। একথা বলেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি আরো বলেন, বিশ্বজিৎ বাড়ি এলে তার বন্ধুরা এসে ভিড় জমাতো। ছোট ছোট ছেলে মেয়েদেরকে চকলেট কিনে দিয়ে ওদের সাথে আনন্দ করতো। বিশ্বজিত ছোট বেলা থেকেই খেলাধুলা পছন্দ করতো। সে বাড়ি এসে একটুও স্থির থাকতো না। সব সময় বন্ধুদের নিয়ে খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকতো।

চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে ডিএসসিসিতে গাপ্পি মাছ প্রযুক্তি

এডিস মশাবাহিত চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) পয়ঃনিস্কাশন ড্রেনে গাপ্পি মাছ ছাড়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। তিনি বলেন, গাপ্পি মাছ দৈনিক ৫০টি মশার লার্ভা খেতে সক্ষম। তাই সিটি কর্পোরেশন ৪৫০ কিলোমিটার ড্রেনে প্রাকৃতিক উপায়ে মশক নিধনের এই কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এজন্য গাপ্পি মাছের ১৫ লাখ পোনা প্রয়োজন। রাজধানীর স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাস মিলনায়তনে ‘চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধ বিষয়ক সচেতনতামূলক’ এক সেমিনারে মেয়র প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন। ইউনিভার্সিটির সদ্য বিদায়ী ভিসি অধ্যাপক ড. এম ফিরোজ আহমেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির নব নিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক মুহাম্মদ আলী নকী, পরিবেশ অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কাজী সারওয়ার ইমতাজ হাশেমী, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. গুলশান আরা লতিফা ও অধ্যাপক ড. কে মউদুদ ইলাহী। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আধ্যাপক ড. কাবিরুল বাশার এবং জাতীয় রোগতত্ত্ব নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তৌহিদ উদ্দিন আহম্মেদ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সাঈদ খোকন বলেন, চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণে এলেও বসে থাকার কোন সুযোগ নেই। গাপ্পি মাছ প্রকল্পের কার্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ‘চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধ করতে হলে গনসচেতনতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। চিকুনগুনিয়া রোগে আক্রান্ত মানুষকে বাসায় গিয়ে সেবা দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি এক হাজার ৫৭৭ জন রোগীকে ফিজিওথেরাপি সেবা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারিভাবে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫১৬ জন। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবাকর্মী এবং ডিসিসির কর্মীরা চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সম্প্রতি সামাজিক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনও শুরু করেছেন। রিডিও, টেলিভিশনসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় এ ব্যাপারে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে ৯২টি পয়েন্টে চিকিৎসক, নার্স, সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের বিশেষ মেডিকেল ইউনিট চিকুনগুনিয়া সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা হয়েছে বলে তিনি জানান। অনুষ্ঠান শেষে মেয়র ইউনিভার্সিটি ক্যাস্পাসে গাপ্পি মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে : ভারতীয় হাইকমিশনার

বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক হবে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। তিনি বলেছেন, ‘গণতন্ত্র মানে অংশগ্রহণ। আমি নিশ্চিত নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে। যদি কেউ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় থাকতে চায় তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। কেউ অংশ না নিলে সে নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় থাকবে না।’ গতকাল পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের সাথে দেখা করার পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে শ্রিংলা এসব কথা বলেন। হাইকমিশনার বলেন, ‘আমরা সবাই গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে বিশ্বাস করি। আমি নিশ্চিত, অন্য গণতন্ত্রের মতো এখানেও তেমনটিই হবে। এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।’ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সম্ভাব্য ঢাকা সফরের তারিখ নিয়ে শ্রিংলা বলেন, এ মাসে সফরটি হচ্ছে না। আগামী মাসে নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ অধিবেশন রয়েছে। আমরা এর মাঝামাঝি একটি তারিখ নির্ধারণের চেষ্টা করছি।

ক্ষমতাধর দৈত্য নয়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য লড়াই করেছিলেন পূর্বপুরুষেরা

ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করা রায়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, আমাদের দেশে রাজনীতি এখন আর মুক্ত নয়। এটা এখন অতি মাত্রায় বাণিজ্যিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। রাজনীতির চালকের আসনে রয়েছে অর্থ। আর এ অর্থই নির্ধারণ করছে রাজনীতির কর্মধারা ও গন্তব্য। এখন মেধা নয়, ক্ষমতাই নিয়ন্ত্রণ করছে দেশের সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। প্রধান বিচারপতি লিখেছেন, অদম্য আকাঙ্ক্ষা আর দুর্বার স্পৃহা নিয়ে আমরা একটি সুপার পাওয়ার সেনাবাহিনীর হাত থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলাম। কিন্তু নির্মম ইতিহাস হলো- আমরা স্বাধীন দেশে নিজেরা নিজেদেরকে নির্মমভাবে পরাজিত করেছি। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও আমরা কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করতে পারিনি। নাই কোনো চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স বা ভারসাম্য রক্ষার ব্যবস্থা। ফলে মানুষ লিপ্ত হচ্ছে ক্ষমতার অপব্যবহারে। নির্বিচারে ক্ষমতার অপব্যবহারের ঔদ্ধত্য দেখিয়ে চলছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এখন কুক্ষিগত হয়ে পড়েছে গুটি কয়েক লোকের হাতে। আর ক্ষমতা সংহত করার এই আত্মঘাতী প্রবণতা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। ক্ষমতার লোভ প্লেগের মতো। একবার এ রোগ পেয়ে বসলে সব গ্রাস করতে চেষ্টা করে। এরপর প্রধান বিচারপতি লিখেছেন, বলার অপেক্ষা রাখে না এটা আমাদের স্বাধীনতার যুদ্ধের আদৌ কোনো লক্ষ্য বা দর্শন ছিল না। আমাদের পূর্বপুরুষেরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছিলেন, কোনো ক্ষমতাবান দৈত্য তৈরির জন্য নয়। প্রধান বিচারপতি রায়ে লিখেছেন, দেশের মানবাধিকার আজ বিপন্ন, দুর্নীতি বাধাহীন, সংসদ অকার্যকর, কোটি কোটি মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। প্রশাসনে অব্যবস্থাপনা চরম আকার ধারণ করেছে। উন্নত প্রযুক্তির কারণে দ্রুত পাল্টাচ্ছে অপরাধের ধরন। জনসাধারণের জীবন ও নিরাপত্তা ক্রমেই হুমকির মুখোমুখি হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম নয়। আর এসবের শেষ ফল হলো- সমাজ পঙ্গুত্বের দিকে ধাবিত হওয়া যেখানে ভালো মানুষ আর ভালো স্বপ্ন দেখে না, কিন্তু খারাপ লোকেরা আরো লুটপাটের জন্য বেপরোয়া। এ অবস্থায় নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারীরা হয়ে ওঠে দাম্ভিক আর বেপরোয়া। আর আমলাতন্ত্র কখনোই দক্ষতা অর্জনে সচেষ্ট হবে না। ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দাম্ভিকতা দেখানোর ক্ষেত্রে বাধা দেয়ার মতো কোনো নজরদারি বা তদারককারী প্রতিষ্ঠান নেই। এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। নাই ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার ব্যবস্থা। প্রধান বিচারপতি লিখেছেন এই সীমাহীন চ্যালেঞ্জের মুখেও বিচার বিভাগ তুলনামূলকভাবে স্বাধীন অঙ্গ হিসেবে কোনোমতে পানিতে ডুবতে থাকা অবস্থায় নাক উঁচু করে রাখার লড়াই করে যাচ্ছে। কিন্তু এভাবে বিচার বিভাগও বেশি দিন টিকে থাকতে পারে না। বিচার বিভাগকে শক্তিশালী না করে বরং নির্বাহী বিভাগ বিচার বিভাগ পঙ্গু করার চেষ্টা করছে। আর এটা হলে ধ্বংসাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনও এখনো প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ হয়নি বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন প্রধান বিচারপতি।
সংশোধনী : ষোড়শ সংশোধনী-বিষয়ক গতকালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে- প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ৫২২ পৃষ্ঠার রায় লিখেছেন। এখানে ‘৫২২ পৃষ্ঠা’র স্থলে ‘৩৯৫ পৃষ্ঠা’ হবে।

খুলনার সাতজনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দােয়র করা মামলায় খুলনার আমজাদ হোসেন হাওলাদারসহ (৭৫) সাতজনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তদন্ত সংস্থা। আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার ধানমন্ডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার কর্মকর্তা সানাউল হক এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। অন্য ছয়জন হলেন- মোজাহার আলী শেখ (৬৫), মো: সহর আলী সরদার (৬৫), মো: আতিয়ার রহমান শেখ (৭৫), মো: মোতাছিম বিল্লাহ (৬৬), মো: কামাল উদ্দিন গোলদার(৮০) ও মো: নজরুল ইসলাম (৬০)। এবিষয়ে সানাউল হক বলেন, এ মামলার তদন্ত শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালের ১৫ নভেম্বর। আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধ আটক, নির্যাতন, অপহরণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে আট জনকে হত্যা, মালামাল লুট করার পর বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করার অভিযোগ তদন্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আট আসামির মধ্যে গ্রেফতার আছেন ৬ জন, পলাতক একজন এবং জেলহাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন একজন।’ অপরাধ সংগঠনের স্থান খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা থানা। অপরাধীদের বিরুদ্ধে মোট ৭টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে বলেও জানান সানাউল হক।

অতি বৃষ্টির শঙ্কা, পরে আরো বাড়বে

দেশের কোথাও কোথাও আজ মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে। আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়, মৌসুমী বায়ুর অক্ষ বর্ধিতাংশ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ বিহার গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশ হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারী অবস্থায় বিরাজ করছে।

মালয়েশিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বাংলাদেশি আটক

সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে চারশ' বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে মালয়েশিয়া পুলিশ। আটক হওয়াদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিও রয়েছে।   দেশটির রাজধানী কুয়ালালামপুরে পরপর বেশ কয়েককবার চালানো অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। আটক হওয়াদের মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিকও রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। খবর বিবিসি অনলাইন। মালয়েশিয়া পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের কর্মকর্তা আইয়ুব খান মাইদিন পিচায়কে উদ্ধৃত করে সংবাদ মাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে জানায়, বিদেশি কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তির সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে কিনা, বিশেষ করে সিরিয়ায় সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কেউ যুক্ত কিনা- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কিছু প্রমাণ হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেয়া হবে। জানা গেছে, আটক হওয়াদের কাছ থেকে পুলিশ জাল পাসপোর্ট এবং ভুয়া কাগজপত্র জব্দ করেছে। এক সপ্তাহ পর মালয়েশিয়ায় সাউথ-ইস্ট এশিয়ান গেমস শুরু হতে যাচ্ছে। এই গেমসকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আর নিরাপত্তার অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। সোমবারের ওই অভিযানে দেখা গেছে বেশ কয়েকটি বাড়িতে পুলিশ দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করেছে এবং হাতকড়া পরিয়ে অনেককে গাড়িতে তুলেছে। পুলিশ জানায়, তদন্ত ও অনুসন্ধানের জন্য এদের নিকটস্থ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

দুর্নীতি মামলায় এবার নেতানিয়াহুর পালা

দুর্নীতি মামলায় সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকজন ক্ষমতাধর সরকার প্রধানকে গদি ছাড়তে হয়েছে। দৃশ্যত এবার সেই পথেই হাঁটছেন ইসরাইলের কট্টরপন্থী প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কেলেঙ্কারি আর নেতানিয়াহু যেন সমার্থক। এর আগে দুর্নীতির কারণে বেশ কয়েকবারই ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দুর্নীতির কেলেঙ্কারির কারণে কোনোবারই ক্ষমতা হারাতে হয়নি। কিন্তু এবারের তিনটি কেলেঙ্কারির প্রেক্ষাপট একটু ভিন্ন। বেশ কয়েক মাস ধরেই দুর্নীতির কয়েকটা অভিযোগে তদন্তাধীন রয়েছেন নেতানিয়াহু। গত বৃহস্পতিবার ইসরাইলি পুলিশ জানায়, অন্তত দুটি মামলায় ঘুষ গ্রহণ, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মতো অপরাধের সঙ্গে নেতানিয়াহুর জড়িত থাকার ব্যাপারে সন্দেহ করছেন তারা। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এক বিবৃতি বলেছে, এটা সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র, এটা উইচ হান্ট। বিরোধীদের প্রচারণার অংশ হিসেবে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এটা ব্যর্থ হবে। এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। এতে কিছুই হবে না কারণ এমন কোনো ঘটনাই নেই।’ কিন্তু এবারকার পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হবে নেতানিয়াহুর জন্য। গত শুক্রবার জেরুজালেম পোস্ট জানায়, খোদ নেতানিয়াহুর সাবেক চিফ অব স্টাফ আরি হ্যারো তার বিরুদ্ধে তদন্তে রাজসাক্ষী হতে রাজি হয়েছেন। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তে এই উন্নতিগুলো মূল্যায়ন করে বিশ্লেষকরা বলছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন গুরিয়নের পর ইসরাইলের দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু শেষ পর্যন্ত সম্ভবত আনুষ্ঠানিক অভিযোগের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।
অনেকেই বলছেন, এমন রাজনৈতিক ঢামাডোলের মধ্যে তিনি আর কতদিন ক্ষমতায় টিকে থাকেন সেটাই এখন দেখার ব্যাপার। বিখ্যাত রাজনৈতিক কলামিস্ট সিমা ক্যাডমন রোববার ইয়েদিওথ আহারনথ পত্রিকায় লিখেছেন, ‘আরি হ্যারো রাজসাক্ষীর চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। কারণ এ বিষয়ে তার কিছু বলার আছে। কর্তৃপক্ষ যদি তার ছয় মাসের কমিউনিটি সার্ভিস ও জরিমানার শর্তে তার সাক্ষ্য নিতে সম্মত হয়, তাহলে নেতানিয়াহুর ক্ষমতা শেষ। ইতিমধ্যেই তিনি মৃত মানুষের মতো হেঁটে বেড়াচ্ছেন।’ হ্যারো কোনো গোপন কথা ফাঁস করবেন, তা কেউই জানে না। কিন্তু ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তদন্তাধীন তিনটি মামলার অন্তত একটিতে তিনি ভয়াবহ কোনো প্রমাণ হাজির করবেন। কেস ১০০০, ২০০০ ও ৩০০০ নামে পরিচিত এই তিনটি মামলার প্রথমটি হচ্ছে, সম্পদশালী বন্ধুদের কাছ থেকে উপহার গ্রহণ সংক্রান্ত। পরেরটি হচ্ছে ইসরাইলের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক ইয়েদিওথ আহারোনোত পত্রিকার সঙ্গে পক্ষপাতমূলক কভারেজ পেতে যোগসাজশ করা এবং সর্বশেষ অভিযোগটি হচ্ছে, জার্মানির কাছ থেকে তিনটি সাবমেরিন ক্রয়ে দুর্নীতি। এই মামলাগুলো আগেরগুলোর চেয়ে গুরুতর। হারেৎজ পত্রিকা জানায়, সরকারী কৌঁসুলি ও আরি হ্যারো যেই চুক্তিতে পৌঁছেছেন, তাতে আর যাই হোক, একটি পরিণতি অপরিবর্তনীয়। সেটি হচ্ছে, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন।

‘ট্রাম্প ভাইয়া’র জন্য পাঠান হল ১০০১টা রাখি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য ভারত থেকে হোয়াইট হাউসে ১০০১টা রাখি পাঠানো হয়েছে। রাখি কী জিনিস ট্রাম্প হয়তো জানেনও না। তবে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ট্রাম্পের জন্য ভারত থেকে ১০০১টা রাখি পৌঁছাচ্ছে হোয়াইট হাউসে। পাঠাচ্ছেন ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের মারোরা গ্রামের মেয়েরা। শুধু তাই নয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য দিল্লিতেও ৫০১টা রাখি পাঠাচ্ছেন তারা। খবর এনডিটিভির। সুলভ ইন্টারন্যাশনাল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রধান বিন্দেশ্বর পাঠক জানান, মুসলিম অধ্যুষিত এই প্রত্যন্ত গ্রামটির বাসিন্দাদের স্যানিটারি ল্যাট্রিন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে এ উদ্যোগ। সেখানে গ্রামে শৌচাগারের কাজ করতে গিয়ে অযথা মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রচার ঠিক যাচ্ছে না। তাই সপ্তাহ ঘোরার আগেই মারোরা থেকে খুলে ফেলা হয় সব ছবি-পোস্টার। কিন্তু গ্রামের ট্রাম্প-প্রীতি যে যায়নি, তা স্পষ্ট হয়ে গেল রাখি আসতেই। এবারও তাদের যুক্তি, দু’দেশের সম্পর্ক পোক্ত করতেই এ উদ্যোগ।

‘এই শুনছো’ ছেড়ে স্বামীর নাম ধরে ডাক

ভারতের নারী অধিকারকর্মীরা গ্রামের মহিলাদের বোঝাচ্ছেন যেন তারা পুরনো অভ্যাস ছেড়ে স্বামীর নাম ধরেই ডাকেন। ভারতের লাখ লাখ বিবাহিত নারী কখনোই তাদের স্বামীর নাম মুখে উচ্চারণ করেননি। স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর উদ্দেশ্যেই এমনটি করেন তারা। কারণ স্বামীর নাম মুখে উচ্চারণ না করা তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশের শামিল মনে করা হয় এবং যুগ যুগ ধরে গ্রামাঞ্চলে এমন প্রথা কঠিনভাবে মেনে চলা হচ্ছে। কিন্তু এখন নারী অধিকারকর্মীরা গ্রামের এসব মহিলাকে বোঝাচ্ছেন যেন তারা পুরনো অভ্যাস ছেড়ে স্বামীর নাম ধরেই ডাকেন। দেশটির অন্তত দশ লাখ নারী ধর্মীয় বা সামাজিক কারণে নিজের স্বামীর নাম ধরে ডাকেন না। ভারতীয় সমাজে স্বামীর নাম মুখে আনা বা নাম ধরে ডাকা নিষেধ। প্রথা আছে এমনটা করলে স্বামীর অমঙ্গল হয় বা স্বামীর আয়ু কমে যায়। এখন যে সমাজে স্বামীকে ঈশ্বরের আসনে বসানো হয়েছে সেখানে নাম ধরে ডাকা তো রীতিমতো অপরাধের পর্যায়ে পরে। আর এ কারণে তারা স্বামী নাম ধরে কখনও ডাকে না। তাহলে কীভাবে ডাকে? ইংরেজিতে অনেকটা ‘হেই ইউ’ আর বাংলায় ‘এই শুনছো’? তবে ভারতের শহুরে জীবনে এর প্রভাবটা অনেক কম। বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘হাজার গুণ’ প্রতিশোধ নেব

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘হাজার গুণ’ প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। সোমবার উত্তর কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা কেসিএনএতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ হুমকি দেয়া হয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা আরোপের দু’দিন পর যুক্তরাষ্ট্রকে এমন হুমকি দিল উত্তর কোরিয়া। খবর এএফপি ও দ্য গার্ডিয়ানের। শনিবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে উত্তর কোরিয়ার ওপর কঠিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। একে ‘সাম্প্রতিককালে যেকোনো দেশের ওপর সবচেয়ে কঠোর অবরোধ’ বলে উল্লেখ করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত নিকি হ্যালি। এই নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, জাতিসংঘের কোনো সদস্য দেশ উত্তর কোরিয়া থেকে কয়লা, লোহা, লৌহ আকরিক, সিসা, আকরিক সিসা ও সামুদ্রিক খাদ্য আমদানি করতে পারবে না। দেশটি থেকে নতুন কর্মী নেয়া যাবে না। উত্তর কোরিয়ার কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগ করা যাবে না, চলমান যৌথ প্রকল্পেও নতুন করে বিনিয়োগ বন্ধ করতে হবে। এছাড়া দেশটির আরও অনেক ব্যক্তির ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও তাদের সম্পদ জব্দ করা হবে। কেসিএনতে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই নিষেধাজ্ঞা আমাদের দেশের সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন। এটি আমাদেরকে বিচ্ছিন্ন ও অবরুদ্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি জঘন্য পরিকল্পনা। আমরা আমাদের আত্মরক্ষামূলক পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসব না এবং আমাদের দেশকে পরমাণু শক্তিধর করা থেকে এক পাও পেছাব না। নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব উত্থাপনকারী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়ে এতে বলা হয়েছে, ‘দেশটিকে তাদের এ অপরাধের জন্য হাজার গুণ বেশি মূল্য দিতে হবে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে সুরক্ষিত মনে করতে পারে, কারণ দেশটি আমাদের থেকে বহু দূরে। কিন্তু এ নিষেধাজ্ঞা আরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হাত মেলান অন্যান্য দেশকে এর জন্য ভুগতে হবে। এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দ্রুত আলোচনায় ফেরার কথা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশটির ওপর নতুন এ নিষেধাজ্ঞা এটাই প্রমাণ করে যে পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু মুক্ত করতে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ।’ সোমবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আঞ্চলিক ফোরাম আসিয়ান সম্মেলন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় টিলারসন বলেন, পিয়ংইয়ং তাদের ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা বন্ধ করলেই কেবল ওয়াশিংটন তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা বিবেচনা করবে। এদিন টিলারসন এবং উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়োং-হো পরস্পরকে এড়িয়ে চলার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। এ কাজে এক ধাপ এগিয়ে ছিলেন টিলারসন। এমনকি উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত থাকায় একটি ভোজসভায় যোগ দেয়া থেকে বিরত ছিলেন তিনি। অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়াকে ভয়াবহ ও ক্রমবর্ধমান প্রত্যক্ষ হুমকি বলে মনে করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন। রোববার তারা টেলিফোনে কথা বলার সময় এ ব্যাপারে একমত পোষণ করেন। হোয়াইট হাউস জানায়, দুই নেতা টেলিফোনে আলাপকালে উত্তর কোরিয়ার কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের পাশাপাশি বিশ্বের অধিকাংশ দেশের জন্য সরাসরি হুমকি বলে মন্তব্য করেন। তারা উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কঠোর অবরোধ আরোপকে স্বাগত জানান। ট্রাম্প ও মুন এ সংশ্লিষ্ট সব প্রস্তাব পুরোপুরি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীকে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে এ ধরনের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান। দুই কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নজিরবিহীন বৈঠক : দক্ষিণ কোরিয়ার আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর কোরিয়া। রোববার উভয়দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যতিক্রমী এক বৈঠকে অংশ নেন। আসিয়ান সম্মেলন উপলক্ষে রোববার রাতে আয়োজিত এক নৈশভোজে তাদের মধ্যে এ সাক্ষাৎ হয়েছে। এসময় সিউলের পক্ষ থেকে দেয়া আলোচনার এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে পিয়ংইয়ং। সোমবার সিউলের সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ জানায়, দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাং কিউং-ওয়াহ উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়োং-হোর সঙ্গে করমর্দন করেন। এ সময় কাং কোরীয় উপদ্বীপে চলমান উত্তেজনা নিরসনে সিউলের সামরিক আলোচনার প্রস্তাব গ্রহণ এবং বিভক্ত হয়ে পড়া পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মিলন ঘটাতে নতুন করে আলোচনায় বসার জন্য ইয়োং-হোর প্রতি আহ্বান জানান। তবে তার এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ইয়োং-হো। তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে যখন দক্ষিণ কোরিয়ার দোসররা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে উত্তর কোরিয়াকে চাপ দিচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এ ধরনের প্রস্তাবে যথেষ্ট আন্তরিকতার অভাব রয়েছে।’ এর পরেও কাং ‘দক্ষিণ কোরিয়ার আন্তরিকতায় কোনো ঘাটতি নেই’ বলে উল্লেখ করেন এবং আলোচনার জন্য সামনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

জঙ্গি অর্থায়নের 'হোতা' মোস্তাক খাঁ আটক

জঙ্গি কার্যক্রমে অর্থায়নের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আটক ব্যক্তির নাম মোস্তাক খাঁ। যাকে জঙ্গি অর্থায়নের অন্যতম 'হোতা' বলে দাবি করছে সিআইডি। মঙ্গলবার সকালে সিআইডির পক্ষ থেকে এক খুদে বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সোমবার রাতে তাকে হবিগঞ্জ থেকে আটক করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অর্গানাইজড ক্রাইম দলের সদস্যরা। সিআইডির পক্ষ থেকে বলা হয়, মোস্তাক খাঁ জঙ্গি কার্যক্রমের অর্থায়নের অন্যতম হোতা। আজ তাকে আদালতে তোলা হবে। তবে আটক মোস্তাক খাঁ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানায়নি সংস্থাটি। এ বিষয়ে মালিবাগে সিআইডি সদর দফতরে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানানোর কথা বলা হয়।

মুক্তামনির রক্তনালীতে টিউমার

বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার মুক্তামনির বায়োপসি রিপোর্টে তার রক্তনালীতে টিউমার ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা। মঙ্গলবার সকালে ঢামেকের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন এ কথা জানান। এর আগে গত শ‌নিবার সকালে মু্ক্তামনির বায়োপ‌সি করা হয়। এর রিপোর্ট পাওয়া যায় সোমবার। রিপোর্ট পর্যালোচনা করে ঢামেকের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা আজ জানালো, মুক্তামনির রক্তনালীতে টিউমার রয়েছে। তবে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানিয়েছেন, মুক্তামনির চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের বৈঠকে এ বিষয়ে তারা আরও পর্যবেক্ষণ করবেন। এরপর করণীয় নিয়ে ব্রিফিং করে বিস্তারিত জানানো হবে। শনিবার সকালে বায়োপ‌সির পর মুক্তামনির আক্রান্ত স্থান দিয়ে বেশ কয়েকবার রক্তক্ষরণ হয়। এরপর ওইদিন দুপুর ও বিকালে তাকে তৃতীয়বারের মতো অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়।
তাকে বার্ন ইউ‌নিটের আই‌সিইউ- ৫ নম্বর বেডে রাখা হয়েছে। রোববার বোর্ড প্রধান প্রফেসর আবুল কালাম যুগান্তরকে জানিয়েছিলেন, মুক্তামনিকে নি‌বির পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বায়োস‌পির রি‌পোর্ট পাওয়ার পর বর্তমান বোর্ডের পাশাপা‌শি আরেক‌টি বোর্ড গঠন করা হবে। তি‌নি বলেন, আমরা চেষ্টা চা‌লিয়ে যা‌চ্ছি, তার হাত‌টি রেখেই চি‌কিৎসা চা‌লিয়ে যা‌চ্ছি। প্রয়োজন হলে হাত‌টি কাটাও হতে পারে। বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার মুক্তামনিকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সম্প্রতি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর এই শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তামনির চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেন। মুক্তামনির চিকিৎসার জন্য বোর্ড গঠনসহ সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে ঢামেক কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে তার বায়োপসি শেষে রিপোর্ট প্রকাশ হলো। রিপোর্টে মুক্তামনির রক্তনালীতে টিউমার ধরা পড়েছে বলে জানালো চিকিৎসকরা।

রাজধানীতে র‌্যাবের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' আহত ২

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গুলিতে দু'জন আহত হয়েছেন। র‌্যাবের দাবি, তাদের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' ওই দুই ব্যক্তি আহত হন। যাদেরকে 'ডাকাত দলের সদস্য' বলে জানায় র‌্যাব। মঙ্গলবার ভোর রাতে মোহাম্মদপুরের একতা হাউজিং এলাকায় 'এ বন্দুকযুদ্ধ' হয়। গুলিবিদ্ধরা হলেন- মো. হেলাল (৩৫) ও মো. সিরাজুল ইসলাম (৫০)। গুলিবদ্ধ দুই ব্যক্তিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ভর্তি করা হয়েছে। ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. বাচ্চু মিয়া জানান, ভোরে পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুই ব্যক্তিকে নিয়ে আসে র‌্যাব। এদের মধ্যে হেলালের বাঁ ঊরু ও সিরাজুলের ডান ঊরুতে গুলি লাগে। তিনি জানান, তাদের মধ্যে সিরাজুলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর র‌্যাব-২ নিয়ে গেছে। অন্যজন চিকিৎসাধীন। র‌্যাব সদরদফতরের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. মিজানুর রহমান জানান, মঙ্গলবার ভোর রাতে মোহাম্মদপুরের একতা হাউজিং এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে ডাকাতদের জড়ো হওয়ার খবর পেয়ে র‌্যাবের টহলদল সেখানে যায়। এসময় ডাকাতরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। পরে দু'জনকে আহত অবস্থায় আটক করা হয়। বাকিরা পালিয়ে যায়। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি জানান, আটক দুই ব্যক্তির কাছ থেকে একটি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। মোহাম্মদপুর থানার কর্তব্যরত উপপরিদর্শক (এসআই) ফজল জানান, মোহাম্মদপুর হাউজিং এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে একটি 'বন্দুকযুদ্ধ' হয়েছে বলে আমরা খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে লিখিত কোনো তথ্য আমরা পাইনি। তাই এ নিয়ে কিছু বলতে পারবো না। তিনি জানান, 'বন্দুকযুদ্ধে' তিন ব্যক্তির আহত হওয়ার খবর শুনেছি। তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঈদ যাত্রার আগাম টিকিটের স্লিপ গ্রহণ আজ থেকে

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা-বরিশাল রুটে আজ থেকে লঞ্চের আগাম টিকিটের জন্য আবেদন (স্লিপ) জমা নেয়া হবে। যদিও এদিন কার্যক্রমটি শুধু ক্রিসেন্ট শিপিং লাইন্সের সুরভী লঞ্চ কর্তৃপক্ষ শুরু করতে যাচ্ছে। বাকি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সুন্দরবন নেভিগেশন এ প্রথায় স্লিপ জমা নেবে। তবে তারা এখনও তারিখ নির্ধারণ করতে পারেনি। সুরভী ও সুন্দরবন ব্যতীত অন্য বেশির ভাগ লঞ্চ কোম্পানি স্লিপ ছাড়া আগে এলে আগে পাবেন ভিত্তিতে ঈদুল আজহায় ঘরমুখো মানুষের জন্য লঞ্চের টিকিট বিক্রি করবে। সুরভী লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা কেবিনের টিকিটের জন্য আবেদন (স্লিপ) জমা নেবে ৮ আগস্ট থেকে, যা চলবে ১১ আগস্ট বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

আজ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮৭তম জন্মবার্ষিকী

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮৭তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৩০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সম্ভ্রান্ত শেখ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা শেখ জহুরুল হক ও মা হোসনে আরা বেগম। তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাতা। বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন অধ্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। অনেক জটিল ও সংকটময় পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহযোগিতা করেছেন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে বাঙালির মুক্তি সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে গৃহবন্দি অবস্থায়ও তিনি অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে বঙ্গবন্ধু এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ঘাতকের বুলেটে শহীদ হন তিনি। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে এই মহীয়সী নারীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি তার আত্মার শান্তি কামনা করেছেন তারা। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জীবনাদর্শ চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছেন। বঙ্গমাতার জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আওয়ামী লীগ সকাল সাড়ে ৮টায় বনানী কবরস্থানে ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের কবরে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ, কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। বাদ আসর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, সকালে একই স্থানে যুবলীগ এবং বেলা ১১টায় ধানমণ্ডি বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে স্বেচ্ছাসেবক লীগ পৃথক আলোচনা সভা এবং মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে।

লুটে নিচ্ছে ৩০০ কোটি টাকা

সেবা না দিয়েও স্যুয়ারেজ (পয়োবর্জ্য) খাতে রাজধানীবাসীর কাছ থেকে বছরে সার্ভিস চার্জ হিসেবে ৩০০ কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে ঢাকা ওয়াসা। এমনকি প্রতিবছর স্যুয়ারেজ সেবার ওপর বাড়াচ্ছে ট্যাক্সও। নিরুপায় নগরবাসী বাধ্য হয়েই ঢাকা ওয়াসার এ অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করছেন। নিয়ম অনুযায়ী, ঢাকা ওয়াসা পাইপলাইনের মাধ্যমে বাসাবাড়ি থেকে মানুষের মলমূত্র নারায়ণগঞ্জের পাগলায় বসানো স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে নেবে। এরপর তা পরিবেশবান্ধব উপায়ে শোধন করে নদীতে ফেলবে। এ শর্তে রাজধানীর বড় একটি অংশের (সব স্থানে নয়) বাসাবাড়িতে স্যুয়ারেজ সার্ভিস সংযোগ দিয়েছে সংস্থাটি। এসব বাড়ি থেকে এ সংযোগ বাবদ পানির বিলের প্রায় সমপরিমাণ ট্যাক্স আদায় করছে তারা। কিন্তু এর মাত্র ৫ শতাংশ পরিশোধন করা হচ্ছে। ৯৫ শতাংশ পয়োবর্জ্যই পানি নিষ্কাশনের নালা হয়ে মিশছে রাজধানীর চারপাশের নদী, ঢাকার ভেতরের খাল ও জলাধারে। দূষিত হচ্ছে পানি ও পরিবেশ। এ থেকেও নানাভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে, বিরূপ প্রভাব পড়ছে জনজীবনে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সেবা না দিয়ে অর্থ আদায় অনৈতিক, এটি জনগণের অর্থ লুটপাট ছাড়া কিছুই নয়। এর ওপর দূষণের মাধ্যমে তারা আরও ক্ষতি করছে। জানা যায়, ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত আট বছরে স্যুয়ারেজ খাতে ঢাকা ওয়াসা সার্ভিস চার্জ আদায় করেছে ১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। আর এ সময়ে স্যুয়ারেজ পাইপলাইন মেরামতে খরচ করেছে শুধু ১৬ কোটি টাকা। নগরবাসীর কাছ থেকে আদায় করা বিপুল অর্থ আর কোন খাতে খরচ করেছে, তার কোনো হদিস নেই। ঢাকা ওয়াসার আট বছরের বার্ষিক প্রতিবেদন ঘেঁটে এসব অর্থ খরচের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা ওয়াসার জোন-১, ২, ৩, ৫, ৬ ও ৭-এর আওতায় রাজধানীর পুরান ঢাকা, ধানমণ্ডি-মোহাম্মদপুরসহ আশপাশের এলাকা, বাসাবো-গেণ্ডারিয়াসহ আশপাশের এলাকা, গুলশান-বনানী-বারিধারা, মতিঝিল, মালিবাগ, সেগুনবাগিচা, মগবাজার এলাকা, দনিয়া-শ্যামপুরসহ আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ঢাকা ওয়াসার ৯৬১ কিলোমিটার স্যুয়ারেজ পাইপলাইন। এ লাইন যুক্ত হওয়ার কথা পাগলার সেই ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে।
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণ বা মেরামত না করায় লাইনের ৯৫ শতাংশই এখন অকেজো। ফলে এসব পয়োবর্জ্য সেখানে যাচ্ছেই না। আবার একটি এলাকায় একটি-দুটি ড্রেন থাকলেও পুরো এলাকার হোল্ডিং থেকে স্যুয়ারেজ ট্যাক্স আদায় করছে ওয়াসা। ঢাকা ওয়াসার এক প্রকৌশলী জানান, ঢাকা ওয়াসা স্যুয়ারেজ সেবার নামে রাজধানীবাসীর সঙ্গে রীতিমতো প্রতারণা করছে। কেননা ১০ বছরেরও বেশি সময়ে স্যুয়ারেজ পাইপলাইন সংস্কারের জন্য সামান্য পরিমাণও অর্থ খরচ করা হয়নি। এ কারণে স্যুয়ারেজ পাইপলাইন নেটওয়ার্ক নষ্ট হয়ে গেছে। এ প্রকৌশলী উদাহরণ টেনে বলেন, স্যুয়ারেজ পাইপলাইন অনুযায়ী গুলশান-বনানী এলাকার পয়োবর্জ্যগুলো হাতিরঝিলের নিচে স্থাপিত পাইপলাইন দিয়ে নিষ্কাশন হওয়ার কথা। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, হাতিরঝিলের নিচ দিয়ে বসানো স্যুয়ারেজ পাইপলাইনগুলো অকেজো। এ কারণে গুলশান-বনানী এলাকার পয়োবর্জ্য হাতিরঝিলে মিশে লেকের পানি নষ্ট করছে। এ পানি বেগুনবাড়ী খাল দিয়ে বালু নদীতে মিশছে। আরেক প্রকৌশলী জানান, ঢাকা ওয়াসা ১০-১৫ বছরে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ কাজে এককভাবে মনোনিবেশ করেছে। এ কারণে পানি সরবরাহ খাতে মোটামুটি সাফল্য এসেছে। আর পয়োবর্জ্য নিষ্কাশন ও পানি নিষ্কাশন খাতে মনোযোগ না দেয়ায় এ দুটি খাতের অবস্থা ভয়াবহ। ওই প্রকৌশলী আরও বলেন, স্যুয়ারেজ সেক্টরের বড় সমস্যা- পাইপলাইনগুলোর ৯৫ ভাগই নষ্ট হয়ে গেছে। পাগলা শোধনাগার পর্যন্ত স্যুয়ারেজ পাইপ নেটওয়ার্ক রয়েছে খুবই কম এলাকার। এ কারণে অল্প কিছু এলাকার স্যুয়ারেজ পাগলা ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে যাচ্ছে। বাকি এলাকার পয়োবর্জ্য নগরীর পানি নিষ্কাশন ড্রেনের মাধ্যমে নদী, খাল, ডোবায় পড়ছে। ঢাকা ওয়াসার তথ্যমতে, ২০০৯-১০ অর্থবছরে স্যুয়ারেজ খাতে ট্যাক্স আদায় হয়েছে ১১২ কোটি ৪৩ লাখ, ২০১০-১১ অর্থবছরে আদায় হয়েছে ১৩৩ কোটি ৯ লাখ, ২০১১-১২ অর্থবছরে আদায় হয়েছে ১৬৪ কোটি ২৮ লাখ, ২০১২-১৩ অর্থবছরে আদায় হয়েছে ১৯২ কোটি ৪১ লাখ, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ২০৮ কোটি ৪৯ লাখ, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২০৫ কোটি ৮০ লাখ এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২১৬ কোটি ৯ লাখ টাকা। এরপর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২২ শতাংশ স্যুয়ারেজ বিল বৃদ্ধি করেছে ঢাকা ওয়াসা। একই সঙ্গে স্যুয়ারেজ সংযোগও কিছু বেড়েছে। বর্ধিত হিসাবে ঢাকা ওয়াসার স্যুয়ারেজ খাতের ট্যাক্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। এ অবস্থায় চলতি মাসে নতুন করে আবারও ৫ শতাংশ স্যুয়ারেজ বিল বাড়িয়েছে সংস্থাটি। আর এসব স্যুয়ারেজ পাইপলাইন মেরামতে বছরে ৬টি জোনে গড়ে ৩০ লাখ টাকা করে খরচ করা হচ্ছে। যার বাৎসরিক পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ঢাকা ওয়াসার জোন-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী সিহাবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, বছরে স্যুয়ারেজ পাইপলাইন পরিষ্কারে ২৫-৩০ লাখ টাকা খরচ হয় এ জোনে। এরবাইরে স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাপনায় জোন থেকে আর কোনো কাজ করা হয় না। স্যুয়ারেজ পাইপলাইন নির্মাণকাজ প্রকল্পের আওতায় করা হলেও কয়েক বছর ধরে স্যুয়ারেজ লাইন ব্যবস্থাপনায় কোনো প্রকল্পই নেই বলে জানান এ প্রকৌশলী। ঢাকা ওয়াসার জোন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী সুজাবত আলী তালুকদার যুগান্তরকে বলেন, বছরে স্যুয়ারেজ পাইপলাইন মেরামতে ২৫-৩০ লাখ টাকা খরচ হয়। আর এ টাকা আমরা খরচ করি দৈনিক ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত ক্লিনারদের পেছনে। কোনো টেন্ডার ছাড়াই সব জোনে এখন এভাবে স্যুয়ারেজ পাইপলাইন সংস্কারের কাজ করা হচ্ছে। আর দীর্ঘদিন ধরে স্যুয়ারেজ পাইপলাইন স্থাপনের কোনো কাজ নেই বলেও জানান তিনি। ঢাকা ওয়াসার জোন-৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল মান্নান যুগান্তরকে বলেন, বছরে স্যুয়ারেজ পাইপলাইন পরিষ্কারে ৩০-৩৫ লাখ টাকা খরচ হয়। এর বাইরে স্যুয়ারেজ পাইপলাইন ম্যানেজমেন্টে অন্য কোনো খরচ করা হয় না। নতুন করে কোনো স্যুয়ারেজ পাইপলাইনও স্থাপন করা হচ্ছে না। ঢাকা ওয়াসার কোনো অঞ্চলে স্যুয়ারেজ পাইপলাইন স্থাপনের কোনো কাজ চলছে না বলে জানান এই প্রকৌশলী। নগর বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকা ওয়াসা স্যুয়ারেজ লাইনগুলো মেনটেইনেন্স করে না। এ কারণে এসব স্যুয়ারেজ পাইপলাইন অকেজো হয়ে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় স্যুয়ারেজ ও খাবার পানি সরবরাহ লাইনও এক হয়ে গেছে। তবে বেশিরভাগ স্যুয়ারেজ মিশছে রাজধানীর চারপাশের নদী, খাল ও ডোবায়। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর পানি ও পয়োবর্জ্য নিষ্কাশন নিয়ে গবেষণা করেছি। এতে আমার কাছে মনে হয়েছে, বর্তমান ঢাকা ওয়াসার ৫ শতাংশ স্যুয়ারেজ লাইনও ঠিক নেই। এ কারণে পাগলা শোধনাগারে খুবই কম পরিমাণ স্যুয়ারেজ পৌঁছে। ইনামুল হক আরও বলেন, আবার পাগলায় যে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট আছে, তা কোনোভাবেই নগরবাসীর পয়োবর্জ্যরে ৫ শতাংশের বেশি শোধনের ক্ষমতা রাখে না। আবার পুরো নগরীর পয়োবর্জ্যও এক স্থানে নেয়া অনেক জটিল। কাজেই অবশিষ্ট পয়োবর্জ্য শোধনে নগরীতে বেশ কয়েকটি প্ল্যান্ট জরুরি। প্রায় একই কথা যুগান্তরকে বলেন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাছের খান। তিনি বলেন, ঢাকা ওয়াসা পাগলা স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে যে পয়োবর্জ্য শোধন করছে, তার পরিমাণ ৫ শতাংশের বেশি হবে না। এটাই ওই ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের সক্ষমতা। তাছাড়া ঢাকা ওয়াসার বেশিরভাগ স্যুয়ারেজ পাইপলাইন অকেজো রয়েছে। এসব পাইপলাইনের পয়োবর্জ্য ঢাকার চারপাশের নদী, খাল ও ডোবায় পড়ছে। ফলে এসব পয়োবর্জ্য পানি ও পরিবেশের মারাত্মক দূষণ ঘটাচ্ছে। আবু নাছের খান আরও বলেন, ঢাকা ওয়াসা স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাপনা সচল করলে বর্তমানের চেয়ে বেশি ট্যাক্স ধরতে হবে। তেমনটি হলে একজন নগরবাসী হিসেবে সেটা পরিশোধ করতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু ঢাকা ওয়াসা সেটা না করে নগরবাসীকে টেকসই স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি অন্ধকারে রেখে বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করছে। এটা জনগণের সঙ্গে ঢাকা ওয়াসার বড় প্রতারণা। এ প্রসঙ্গে ইন্সটিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের সভাপতি এবং ঢাকা ওয়াসার বোর্ড মেম্বার প্রকৌশলী একেএমএ হামিদ যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা ওয়াসার স্যুয়ারেজ সেবা নিয়ে জনগণের অসন্তোষ রয়েছে, এটা সত্য। জনগণ বলছে, ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে স্যুয়ারেজ সেবা পাচ্ছে না। আর ঢাকা ওয়াসা বলছে, স্যুয়ারেজ সেবা দিচ্ছে। এ অবস্থায় স্যুয়ারেজ ট্যাক্স আদায় করার বিষয়টি নৈতিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ব্যাপারে ঢাকা ওয়াসার একজন বোর্ড সদস্য হিসেবে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এ প্রসঙ্গে ঢাকা ওয়াসার বোর্ড চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ড. হাবিবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা ওয়াসা স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট করতে চেষ্টা করছে। নতুন কিছু পরিকল্পনাও রয়েছে। সেগুলো বাস্তবায়িত হলে স্যুয়ারেজ সেবার মান আরও বাড়বে। বিদ্যমান অবস্থায় স্যুয়ারেজ ট্যাক্স নেয়ার যৌক্তিকতা সম্পর্কে তিনি বলেন, এ ধারা অব্যাহত রাখার কোনো বিকল্প নেই। তবে জনগণের সেবাও যাতে সুনিশ্চিত হয়, সে ব্যাপারে ঢাকা ওয়াসা কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

ফুলের ওপারের বঙ্গবন্ধু

এই মাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতিকৃতি ভরে উঠবে ফুলে। আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুদিনকে স্মরণ করার মূল্য আছে অপরিসীম। তবে অনেক সময় আড়ম্বর আর ফুলেল আনুষ্ঠানিকতার চাপে সত্যিকার মানুষটির কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। সেই ফুলের ওপারে যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আছেন তাকে আমাদের আরও নিবিড়ভাবে জানা ও বোঝা দরকার। এটি খুব দুর্ভাগ্যের ব্যাপার হবে, যদি শেখ মুজিব নেহাত একটি দলের, বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর মানুষ হয়ে ওঠেন। বাংলাদেশের নানা সংকটের একটি তার পরিচয় সংকট। সেই পরিচয়ের সূত্র খুঁজতে দলমত নির্বিশেষে ফিরে যাওয়া দরকার এ দেশের রাজনীতির অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ মানুষ শেখ মুজিবের কাছে। বোঝা দরকার তার শক্তি আর সীমাবদ্ধতাকে। শেখ মুজিবের রাজনৈতিক জীবনকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, তিনি জনগণের স্পন্দনের সঙ্গে চলেছেন বরাবর, সে জন্য প্রয়োজনে নিজের অবস্থানও বদলেছেন। তিনি শুরু করেছিলেন মুসলিম লীগের রাজনীতি দিয়ে। পাক ভারত উপমহাদেশে বঞ্চিত মুসলমানদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে তিনি পাকিস্তান আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তার ডায়েরি পড়লেই বোঝা যায়, পাকিস্তানের জন্মের কিছুকালের ভেতরই তিনি টের পেয়ে গেছেন, যে দেশ তিনি চেয়েছিলেন, পাকিস্তান তেমন দেশ নয়। তিনি তখন তার অবস্থান পাল্টালেন। শুরু করলেন পাকিস্তানের ভেতর বঞ্চিত বাঙালিদের স্বাধিকারের আন্দোলন, যার পরিণতি আজকের বাংলাদেশ। আবার নতুন বাংলাদেশের জন্মের পর যখন তিনি দেখলেন সেখানে কৃষক শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষা হচ্ছে না তখন তিনি আবার তার নিজের গণতান্ত্রিক রাজনীতির অবস্থান বদলে প্রতিজ্ঞা করলেন একটি সমাজতান্ত্রিক কাঠামোর দেশ গড়ার। সেখানে এসে বাধা পেলেন, শিকার হলেন আক্রমণের। কাউকে নকল না করে এ দেশের মাটির আসল পরিচয় খুঁজেছেন তিনি। তিনি পশ্চিমবঙ্গের প্রমিত বাংলার বদলে বক্তৃতায়, ব্যক্তি জীবনে নিজের লোকজ ভাষায় কথা বলতেন। তিনি সাহেবদের মতো স্যুট-কোট না পরে নিজের মতো করে প্রাচ্য আর পাশ্চাত্য মিলিয়ে একটা পোশাক তৈরি করে নিয়েছিলেন। তিনি নিজেকে একাধারে, মানুষ, বাঙালি এবং মুসলমান হিসেবে ঘোষণা করেছেন। কিন্তু সেইসঙ্গে এ ঘোষণাও দিয়েছেন স্পষ্ট করে যে তিনি এমন একটি দেশ গড়তে চান যেখানে সব ধর্মের লোক, নিজ নিজ ধর্মীয় আচার নিদ্বির্ধায় নিরাপদে পালন করবে।
তিনি তার রাজনৈতিক ঘোর প্রতিপক্ষের সঙ্গেও নির্দ্বিধায় আলিঙ্গন করতে পারতেন। এই বাংলাদেশের মাটির শত বছরের ইতিহাসে যে সমন্বয়বাদিতার ঐতিহ্য আছে তা মূর্ত হয়ে উঠেছিল শেখ মুজিবের ভেতর। তিনি এই মাটির জল, হাওয়া থেকে বেড়ে ওঠা নেতা। এই দেশের পরিচয়ের ইঙ্গিত আছে তার জীবনের ভেতর। শেখ মুজিব নিজেকে পূর্ণাঙ্গভাবে বিকশিত করার সুযোগ পাননি। যুদ্ধ শেষে ভেঙে পড়া অবকাঠামো, প্রশাসন, কোটি শরণার্থী, জনজীবনে ছড়িয়ে থাকা যুদ্ধাস্ত্র, দেশের মাটিতে ভারতীয় সৈন্য, ভেঙে পড়া সীমান্তের সুযোগে ব্যাপক চোরাচালান ইত্যাদি পাহাড় সমান সংকটের ভেতর তিনি শুরু করেছিলেন তার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব, যাতে তিনি তখনও অনভিজ্ঞ। তিনি যেভাবে এসব সংকটের সমাধান চাইছিলেন তা দেশের কোনো কোনো গোষ্ঠীর, আন্তর্জাতিক প্রধান মহাশক্তির ছিল অপছন্দ। তিনি দেশকে ভালোবেসে দিনে দিনে তৈরি করেছিলেন শত্রু। তিনি সে সময়ের সমাজতান্ত্রিক, পুঁজিবাদী দুই শিবিরের ভেতর ভারসাম্য রাখতে গিয়ে সুতোর ওপর হাঁটছিলেন। সেই নাজুক অবস্থার সুযোগ নিয়ে একদিন মধ্য আগস্টের এমনি দিনে তার শত্রুরা থামিয়ে দেয় তার পথচলা। ভুলভ্রান্তির ভেতর দিয়ে শিখতে শিখতে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেলেন না শেখ মুজিব, পেল না বাংলাদেশ। তারপর কতগুলো দশক চলে গেল আমাদের সেই হারানো পথ খুঁজে পেতে। বর্তমানকে বুঝতে, ভবিষ্যতের পথ তৈরি করে নিতে আনুষ্ঠানিকতা, আড়ম্বরের ফুলের ওপারের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে আরও গভীরভাবে বোঝা দরকার আমাদের।

‘আপত্তিকর’ বক্তব্য প্রত্যাহারের আবেদন করবে সরকার

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে ক্ষুব্ধ সরকার। সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। একই সঙ্গে রায়ের পর্যবেক্ষণে দেয়া অনেক বক্তব্যকে ‘আপত্তিকর’ বলে অভিহিতও করেছেন তারা। জনগণের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন, ‘এই কোর্ট (আদালত) সামরিক সরকারের শাসনামলকে (পঞ্চম সংশোধনী) অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল সেই সামরিক সরকারের তৈরি যা আগেই অবৈধ হয়ে গেছে। তাহলে একই কোর্ট (আদালত) কিভাবে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনর্বহাল করেন?’ তিনি রায়ের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার জন্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানাতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র যুগান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকের অনির্ধারিত আলোচনায় ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে দেয়া ‘আপত্তিকর’ বক্তব্য প্রত্যাহার করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতি বরাবর লিখিত আবেদন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। রায় নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি হিসেবে এসকে সিনহার নিয়োগের প্রসঙ্গ উঠে আসে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমার কোনো ভুল ছিল না। আমি মানুষ হিসেবে যাকে যোগ্য মনে করি তাকেই প্রমোট করি। তিনি আরও বলেন, আমি এ রায়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। এদিকে বিদেশে সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াতের অব্যাহত অপপ্রচারের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারছে না জানিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশিত নিবন্ধ নিয়েও কথা বলেন তিনি।
তখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘লবিস্ট’ ছাড়াও এ অপপ্রচারের কাজটি বিএনপি জামায়াত তাদের বিদেশে থাকা নেতাকর্মীদের মাধ্যমে করছে। তাই বিদেশে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার রুখতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি ও নেতাকর্মীদের বলিষ্ঠ ভূমিকার প্রয়োজন রয়েছে। অনির্ধারিত আলোচনায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের কপি উত্থাপন করেন। তিনি রায়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করেন। আইনমন্ত্রী বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে অপ্রাসঙ্গিক অনেক কিছু আনা হয়েছে, যা প্রয়োজন ছিল না। যেমন এখানে পঞ্চম ও ষষ্ঠ সংশোধনী টেনে আনা হয়েছে। এ রায়ে সংসদকে ‘ইমম্যাচিউরড’ (অপরিপক্ব) বলা হয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনকে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও এ রায়ে আরও অনেক ‘আপত্তিকর’ বিষয় রয়েছে বলে আইনমন্ত্রী মন্ত্রিসভাকে অবহিত করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রায়তো ওনারা দিয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি আপনাদের হাতে এসেছে। এখন রায়ের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ নিয়ে কথা বলুন। এ বিষয়ে জনমত গড়ে তুলুন। জনগণ যেন বুঝতে পারে ষোড়শ সংশোধনীর পূর্ণাঙ্গ রায়ে তারা (আদালতের বিচারক) কী মন্তব্য করেছেন। তিনি আরও বলেন, রায়ে কোথাও কোথাও সরকার ও জনগণ সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। কাজেই আপনারা যেখানেই সুযোগ পাবেন সেখানেই জনগণকে এসব বিষয় জানাবেন। তিনি বলেন, আগে রায় সম্পর্কে জেনেছিলাম। এখন রায়ের কপি হাতে পেয়ে পড়ে দেখলাম, বুঝলাম। জনগণকে এসব বিষয় জানাবেন, কারণ আমরা জনগণের প্রতিনিধি। জনগণের এসব বিষয় জানার অধিকার আছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু। বৈঠক শেষে মুজিবুল হক তার দফতরে সাংবাদিকদের বলেন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল আগেই বাতিল করা হয়েছিল। সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন হলে সুপ্রিমকোর্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেন, সংশ্লিষ্ট আইন বাতিল করা যেতে পারে। কিন্তু সংবিধান বাতিল করতে পারেন না। এ সংসদ ইমম্যাচিউরড ও ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হলে এ সংসদের সদস্যরাইতো ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেছেন। তাহলে তিনিও তো ইমম্যাচিউরড ও তার নিয়োগ প্রশ্নবিদ্ধ। সেই প্রশ্নবিদ্ধ রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দিয়েছেন এবং তাকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন। তাহলে প্রধান বিচারপতি কি ম্যাচিউরড হতে পারেন?

আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে : শ্রিংলা

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। শ্রিংলা বলেন, ‘আমরা সবাই গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে বিশ্বাস করি। আমি নিশ্চিত, অন্য দেশের গণতন্ত্রের মতো এখানেও তেমনটি হবে। এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।’ সামনের নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে কিনা জানতে চাইলে শ্রিংলা বলেন, ‘গণতন্ত্র মানে অংশগ্রহণ। আমি নিশ্চিত নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে। যদি কেউ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় থাকতে চায় তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। কেউ অংশ না নিলে সে নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় থাকবে না।’ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের ঢাকা সফরের বিষয়ে ভারতের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এ মাসে তার (সুষমা স্বরাজ) বাংলাদেশ সফর হবে না। সামনের মাসে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন আছে। আমরা এর মাঝামাঝি একটি তারিখ বের করার চেষ্টা করছি।’ সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশে আসবেন বাংলাদেশ-ভারত ‘জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশন’ (জেসিসি) বৈঠকে যোগদান করার লক্ষ্যে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের এবং সুষমা স্বরাজ ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন।

প্রকাশ্যে নয় তোড়জোড় এবার পর্দার আড়ালে

এবার বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের প্রকাশ্যে তেমন হাঁকডাক নেই। তবে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পর্দার আড়ালে তোড়জোড় চলছে। উন্নয়ন সহযোগীসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা নির্বাচনে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জানিয়েছে, তারা নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে। জাতিসংঘের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচনে সহায়তার ধরন নির্ধারণ করতে বাংলাদেশ সফর করে গেছে। আগামী নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা দেখা দেয়ায় পশ্চিমা বিশ্ব এ নিয়ে উৎসাহী হয়ে উঠেছে। এদিকে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনে সমর্থন দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা প্রতিবেশী ভারত এবার কোন পথে, সে ব্যাপারে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল আছে। ইইউ রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদোন রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থার প্রশংসা করে বিদায়ী ইইউ রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার প্রস্তাবকে স্বাগত জানান এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে তাদের উদ্যোগে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশে নির্বাচনে ইইউ সবচেয়ে বেশি পর্যবেক্ষক পাঠিয়ে থাকে। তবে অর্থবহ নির্বাচন না হওয়ার আশঙ্কা থাকলে তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে না। ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি বাংলাদেশে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। ইইউ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছিল।
কিন্তু নির্বাচনের আগে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে ভোটের আগেই তারা পর্যবেক্ষক দল প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর নির্বাচন স্থগিত হয় এবং ওয়ান-ইলেভেনের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দল অংশ নেয়ায় পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছিল ইইউ। তবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা পর্যবেক্ষক পাঠায়নি। জানতে চাইলে সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির সোমবার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমাদের নির্বাচন নিয়ে বিদেশি বন্ধুদের সব সময়ই আগ্রহ থাকে। এবারও তারা সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং সবার অংশগ্রহণ চাইবে, এটাই স্বাভাবিক। আমাদের বিদেশি বন্ধুরা ততটুকুই সহায়তা করবে, আমরা যতটা চাইব। এক্ষেত্রে নির্বাচনী উপকরণ, পর্যবেক্ষক কিংবা সক্ষমতা দিয়ে বিদেশিরা সহায়তা করতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনকে নিজেদেরই শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হবে।’ এর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে ‘সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা’ হিসেবে উল্লেখ করে সমর্থন করেছিল প্রতিবেশী ভারত। আগামী নির্বাচনে ভারতের অবস্থান কী হবে, তা স্পষ্ট না করলেও প্রতিবেশী দেশটি গোটা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিপরীত অবস্থানে ছিল। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশ সফর করবেন বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা আছে। সুষমার সফর হলে নির্বাচন নিয়ে এবার ভারতের অবস্থান কী হবে, তা জানা যাবে। আগামী নির্বাচনে ভারতের অবস্থান কী হবে জানতে চাইলে বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি সোমবার টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, ‘নির্বাচন এখনও অনেক দূরে। ফলে এ সম্পর্কে মন্তব্য করার এটা উপযুক্ত সময় নয়। নির্বাচনের সময় কাছাকাছি এলে বোঝা যাবে।’ তিনি অবশ্য এটা বলেন যে, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক এখন অনেক ভালো যাচ্ছে। অনেক কাজ হচ্ছে। এসব কাজের মাধ্যমে উভয় দেশই উপকৃত হচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য যা ভালো, সেটা হচ্ছে। ভারতের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য যা ভালো, সেটাও হচ্ছে।’ ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইলেকশন কমিশনকে (ইসি) সহায়তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। কিন্তু ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনের পর ইসির প্রকল্পে বিদেশি সহায়তা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিদেশিরা আগ্রহ ব্যক্ত করেন। বিদেশি কূটনীতিকরা নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ চান। কিন্তু সরকার এ সাক্ষাতে অনুমতি দেয়নি। তারপর ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী রবার্ট উইটকিনসের নেতৃত্বে কূটনীতিকরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার নূরুল হুদার সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় ভোটে কোনো সহায়তা লাগবে কিনা- বিদেশিরা ইসির কাছে জানতে চান। কমিশন জানিয়েছে, তারা চাহিদা-সংবলিত একটি চিঠি জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কাছে পাঠাবে। এ চিঠি পাঠানোর পর জাতিসংঘের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আগামী নির্বাচনে কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা জানতে সফর করে গেছে। ‘নিড অ্যাসেসমেন্ট টিম’ নামে এ প্রতিনিধি দলের কাছে নির্বাচন কমিশন উচ্চগুণগত মানসম্পন্ন নির্বাচনী উপকরণ দিয়ে সহায়তা করার জন্য জাতিসংঘের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে।

সৌদির সঙ্গে কৌশলগত অংশীদার হতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ এবং সৌদি আরবের মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ এবং সামরিক অবকাঠামো নির্মাণে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ প্রশিক্ষণ সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, সামরিক অবকাঠামো নির্মাণ, জাহাজ নির্মাণ এবং বাংলাদেশি সেনা সদস্যদের বিভিন্ন সামগ্রী রফতানির ক্ষেত্রে সৌদি আরবের কৌশলগত অংশীদার হতে পারে।’ সোমবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌদি চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল আবদুল রহমান আল-বুনাইয়ান সৌজন্য সাক্ষাত করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, তার সরকার সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে একত্রিত করে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য গণসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ও সৌদি আরব, ভ্রাতৃপ্রতিম দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক সম্পর্কে শেখ হাসিনা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশিদের হৃদয়ে সৌদি আরব একটি বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মে নিয়োজিত থাকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা সেদেশের অর্থনীতিতেও বিরাট ভূমিকা রাখছে। সৌদি চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল আবদুল রহমান বলেন, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে আমাদের প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভালো সহযোগিতা রয়েছে। সৌদি জেনারেল বলেন, সৌদি আরব এবং বাংলাদেশ উভয়েই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পিএসও লে. জেনারেল মাহফুজুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে রয়েল থাই আর্মড ফোর্সেসের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস জেনারেল সুরাপং সুওয়ানা আদথ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে সাক্ষাৎ করেন।

সরকারের অবস্থান জানাতে আইনমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন বৃহস্পতিবার

উচ্চ আদালতে বিচারক অপসারণে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আগামী বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সন্মেলন কক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন হবে বলে সোমবার রাতে যুগান্তরকে জানিয়েছেন তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা ড.মো: রেজাউল করিম।   সংবাদ সন্মেলনটি কভারেজ করার জন্য সকল গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। ১ আগস্ট রায় প্রকাশের পর আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন রায় না পড়ে কোন মন্তব্য করবেন না।   বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদে ফিরিয়ে এনে বর্তমান সরকারের আমলে পাস করা সংবিধানের ষোড়শ সংধোশনী বাতিল হয়ে গেছে উচ্চ আদালতে। সুপ্রিম কোর্ট গত ১ আগস্ট এই মামলার যে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ  করে। এতে শাসনব্যবস্থা, সংসদ নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে নানা মন্তব্য এসেছে। আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর বিএনপি সরকারের পদত্যাগ দাবি করেছে। আর এই রায়ে ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছে সরকার। মন্ত্রিসভার বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে এই রায় নিয়ে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রকাশ্যে বলেছেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিল হলেও আবার তা পাস করা হবে। প্রয়োজনে বারবার পাস করা হবে।

বিএনপিই নিজেদের কর্মসূচি পণ্ড করছে: ওবায়দুল

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকার বা আওয়ামী লীগ নয়- বিএনপির নেতাকর্মীরাই নিজেদের কর্মসূচি পণ্ড করছেন। 'সরকার বিএনপিকে কর্মসূচি পালনে বাধা দিচ্ছে' দলটির নেতাদের এমন অভিযোগের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি এ মন্তব্য করেন। মঙ্গলবার সকালে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বনানী কবরস্থানে নেতাকর্মীদের নিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, তাদের (বিএনপির) অভিযোগ ভিত্তিহীন। তারাতো বিভিন্ন জায়গায় কর্মসূচি দিচ্ছে, কিন্তু সেখানে তারা তাদের নেতাদের সামনে নিজেরাই দ্বন্দ্ব-সংঘাত করে কর্মসূচি পণ্ড করছে। সরকার বা আওয়ামী লীগ তাদের বাধা দিচ্ছে না। খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ভুয়া জন্মদিনের নামে ১৫ আগস্ট কেক কাটেন।
এটাকে আমরা ঘৃণা করি। ভুয়া জন্মদিন পালন না করতে আমরা তাকে আহ্বান জানাচ্ছি। পর্দার আড়ালের বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছিলেন একজন সংগ্রামী নারী মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠার পেছনে তার অসামান্য অবদান রয়েছে। বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতার আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, মোজাফফর হোসেন পল্টু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

টাঙ্গাইলে রাজন হত্যায় ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে রাজন মিয়া (২৪) নামে এক যুবককে হত্যার দায়ে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক ওয়াহেদুজ্জামান সিকদার এ রায় দেন। আদালতে রায় ঘোষণার সময় আট আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন- সাইদুল, মমিন, নিজাম, আবু বকর, হানু, বাবু, সিরাজ, ওহাব। অন্যরা পলাতক রয়েছেন, পলাতকরা হলেন- মজিদ, আবদুল মজিদ, মজনু ও নুরুল ইসলাম। আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মুলতান উদ্দিন জানান, ২০১৪ সালের ১৩ এপ্রিল রাতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে রাজনের বাসায় হামলা করে সাইদুলের নেতৃত্বে ওই ১২ জন। এসময় রাজনকে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে এ ঘটনায় রাজনের বাবার লাল মিয়া সরকার ভূঞাপুর থানায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ এ রায় দিলেন।

উল্টো পথে গাড়ি, দুর্ঘটনায় নিহত ৩

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় উল্টো পথে ইটভাঙা লরি চালানো সময় বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন অন্তত ৪৮ যাত্রী। সোমবার রাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে পৌরসভার ডাকবাংলোর সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে, তিনি হলেন- ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বাসিন্দা আলাল উদ্দিন। ভালুকা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. হযরত আলী জানান,মহাসড়কের ডাকবাংলোর সামনে ইটভাঙার লড়ি উল্টোপথে যাওয়ার সময় ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসের (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৫২৮০) সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এসময় বাসটি রাস্তার পাশে পড়ে গিয়ে ডাকবাংলোর বাউন্ডারি পিলারে লেগে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই এক যুবকের (২৫) মৃত্যু হয়। এসময় আহত হন অন্তত ৫০ যাত্রী। আহতদের ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে গভীর রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়।

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দুভোর্গে পড়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক হাজার যাত্রী। লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে চায়না ড্রেজার দিয়ে পলি অপসারণের কাজ চলায় রোববার রাত ১২টা থেকে এ নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করা হয়। সূত্র জানায়, এ নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় সোমবার সকাল থেকে শিমুলিয়া ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। শিমুলিয়া ঘাটে পাড়ের অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় ৭শ' যানবাহন। দুভোর্গে পড়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার হাজার হাজার যাত্রী। বিআইডব্লিউটিএর সহকারী ব্যবস্থাপক শাহ খালিদ নেওয়াজ জানান, ঈদকে সামনে রেখে এই নৌরুটে যাত্রীদের চালাচল নির্বিঘ্ন করতে লৌহজং টানিং পয়েন্টসহ হাজরা চ্যানেলে ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে। এই চ্যানেল দুটির মুখ সরু হওয়ায় সোমবার রাত ১২টা থেকে ফেরি চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। হঠাৎ করে চ্যানেল দুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উভয় পাড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে এবং হাজার হাজার যাত্রী দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

কান্না থামছে না বিশ্বজিতের পরিবারে

বিচারিক আদালতের রায়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও উচ্চ আদালতের রায়ের পর বিশ্বজিতের পরিবারের কান্না যেন থামছেই না। হাইকোর্টের রায়ে আটজন ফাঁসির আসামির মধ্যে দু’জনের দণ্ড বহাল রেখে চারজনের দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং দু’জনকে খালাস দেয়ার পর থেকে ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে থেমে থেমে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তার মা-বাবা। রাত নেই দিন নেই মা কল্পনা রানী দাস বিশ্বজিতের ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে বিলাপ করে চলছেন। বাবা অনন্ত দাস ছেলের স্মৃতিচারণ করে কখনও ভাস্কর্যের সামনে আবার কখনও পুজোর ঘরের সামনে গিয়ে নীরবে চোখের পানি ফেলছেন। বিশ্বজিতের মা কল্পনা রানী দাস ছেলের ছবি বুকে নিয়ে বলে চলেছেন, প্রতি বছর পূজায় বাড়ি আসত ছেলে, গত পাঁচ বছর ধরে আর আসে না। ছেলেকে প্রকাশ্যে এতগুলো সন্ত্রাসী নৃশংসভাবে কুপিয়ে মারল অথচ আদালত দু’জনের ফাঁসির রায় দিল। এটা কী করে হয়? আমি মনরে বুঝ দিব কীভাবে। দেশের সব মিডিয়া হত্যার দৃশ্য প্রচার করেছে। সবাই তা দেখেছে। আমরা বুকভরা আশা নিয়ে খুনিদের ফাঁসির রায় দেখার জন্য পাঁচ বছর অপেক্ষা করছি। এটা কী হল?
রোববার উচ্চ আদালত রফিকুল ইসলাম শাকিল ও রাজন তালুকদারের ফাঁসির রায় বহাল রাখেন। বিচারিক আদালতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত চারজনের সাজা কমিয়ে হাইকোর্ট যাবজ্জীবন এবং দু’জনকে খালাস দেন। এ ছাড়া যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১৩ আসামির মধ্যে ১১ জনের ব্যাপারে আদালত কোনো মন্তব্য করেনি। আপিল করা দুই আসামিকে উচ্চ আদালত খালাস দিয়েছেন। বিশ্বজিতের বাবা অনন্ত দাস ছেলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, নিহত হওয়ার এক সপ্তাহ আগে বিশ্বজিত ঢাকায় যায়। যাওয়ার সময় বিশ্বজিতকে ডেকে বলছিলাম বাবা আমার শরীরটা ভালো নেই। আগামীতে এসে আমাকে দেখবি কিনা জানি না। তুই ভালোভাবে চলাফেরা করিস। এর ১ সপ্তাহ পরই বিশ্বজিত আমাদের রেখে না ফেরার দেশে চলে গেল। অথচ আমি আজও বেঁচে আছি। কথাগুলো বলতেই ডুকরে কেঁদে ওঠেন। তিনি বলেন, বিশ্বজিত বাড়ি এলেই তার বন্ধু-বান্ধবরা এসে ভিড় জমাত। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের চকলেট কিনে দিয়ে ওদের সঙ্গে আনন্দ করত। বিশ্বজিত ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা পছন্দ করত। সে বাড়ি এসে একটুও স্থির থাকত না। সবসময় খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকত। তিনি সরকারের কাছে বিশ্বজিতের খুনিদের বিরুদ্ধে নিন্ম আদালতের রায় বহাল রেখে খুনিদের ফাঁসির দাবি জানান।

জড়িতদের বাদ দিয়ে আসামি নিরীহ গ্রামবাসী

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় গরু চুরির অপবাদ দিয়ে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ শেফালী বেগমকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। রোববার গভীর রাতে থানায় মামলাটি করেন শেফালীর মামা ভটভটি চালক সহিদুল ইসলাম। মামলা নম্বর-১৬। মামলায় ঘটনায় জড়িতদের বাদ এবং নিরীহ গ্রামবাসীকে আসামি করায় ক্ষোভ জানিয়েছেন ভিকটিম। সুস্থ হয়ে এ ঘটনার প্রকৃত আসামিদের নামে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন নির্যাতিত শেফালী বেগম। মামলায় আসামি করা হয়েছে খালিশা চাঁপানী ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুর কাদের, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের হাতে আটক উক্ত ওয়ার্ডের গ্রামপুলিশ রশিদুল ইসলাম সর্দার, শেফালীর বড় বোন আকলিমার স্বামী রফিকুল ইসলাম ও শাশুড়ি অপেয়া বেগমসহ নামীয় ১৯ জন ও অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়। মামলার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটককৃত তিনজনকে পুলিশ গ্রেফতার দেখায়। এদের রোববার বিকালে আটক করেছিল পুলিশ। সোমবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠায়। তবে নতুন করে কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ মামলায় খালিশা চাঁপানী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তামজিদার রহমান, ইউনিয়নের শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক শিমুল ইসলাম, সদ্য বিএনপি হতে আওয়ামী লীগে যোগদানকারী মোসলেম উদ্দিনের ছেলে আশরাফুল ও সামছুলের ছেলে বিএনপি কর্মী মজনুর রহমান মঞ্জুকে আসামি না করায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শেফালী বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি সেখানে সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, ঘটনায় জড়িতদের নাম বাদ দিয়ে ডিমলা থানার ওসি আমার মামা সহিদুল ইসলাম, আমার ছোটবোন শিউলি আক্তার মনিকে থানায় নিয়ে গিয়ে মামলা করান। ঘটনার সময় আমার মামা সহিদুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিল না। শেফালী আরও জানায়, ডিমলা থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন ওদের নাম বাদ দিয়ে উল্টো খালিশা চাঁপানী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তামজিদার রহমানকে মামলার এক নম্বর সাক্ষী করেছে। এমনকি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় গ্রামের অনেক মানুষের নাম জড়িয়ে দিয়েছে ওসি। শেফালী আরও জানান, তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামি করে নিজে বাদী হয়ে মামলা করবেন। আর যারা জড়িত নয় তাদের মামলা হতে বাদ দেয়া হবে। নীলফামারী সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল ডিমলা ও ডোমার) জিয়াউর রহমান বলেন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত ঘটনার সূত্রে পুলিশ তদন্ত করে সত্যতা পেয়ে থানায় মামলা নেয়া হয়েছে। ঘটনায় কয়েক প্রভাবশালী নাম বাদ দেয়ার প্রসঙ্গে বলেন, ঘটনাটি তদন্তের পর কারা জড়িত বের হয়ে আসবে। কারণ মামলায় ১৯ জন নামীয়সহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন রয়েছে। ডিমলা থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন সাংবাদিকদের ওপর যে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে আছেন তার ক্ষোভ তিনি সোমবারও দেখিয়েছেন। সাংবাদিকরা মামলার কপি চাইতে গেলে ওসি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন মামলার কপি শুধু বাদী ও বিবাদী পাবে। থানা হতে সাংবাদিকদের মামলার কপি দেয়া হবে না। প্রয়োজনে সাংবাদিকরা মামলার কপি আদালত থেকে সংগ্রহ করবেন। পরে সাংবাদিকরা মামলার কপি বিকল্প ব্যবস্থায় সংগ্রহ করতে বাধ্য হয়। মামলার এজাহারে দেখা যায় সংবাদপত্রে প্রকাশিত ঘটনার চিত্র রেখে আরও কিছু যোগ করা হয়। প্রভাবশালীদের মধ্যে যারা জড়িত ছিল তাদের আসামির নামের তালিকায় রাখা হয়নি। মামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেয়া যায়, গ্রামটি পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, মামলায় শেফালী বাদী হলে প্রকৃত আসামিদের নাম চলে আসত। আমাদের কথায় কর্ণপাত করেননি ডিমলা থানার ওসি, উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছেন। এতে জড়িত অনেকে বাদ পড়েছে। মামলার বাদী শেফালীর মামা ভটভটি চালক সহিদুল ইসলামের যুগান্তরকে বলেন, ঘটনার দিন আমি সকালে গ্রামের বাইরে ছিলাম।
আমাকে খালিশা চাঁপানী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তামজিদার রহমান মোবাইলে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। সেখানে আমার ভাগ্নিকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের পর মাটিতে পড়েছিল সে। আমার হাতে শেফালীকে তারা তুলে দিয়ে চিকিৎসা করতে বলে। আমি তাদের বলেছি তোমরা চিকিৎসা করে ওকে সুস্থ করে দিলে আমি নেব। এরপর আমি ঘটনাস্থল হতে চলে আসি। খালিশা চাঁপানী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তামজিদার রহমানকে মামলার সাক্ষী করার বিষয়ে তিনি বলেন, ওই নেতাই তো আমাকে মোবাইলে ডেকে ঘটনাস্থলে আনেন। তিনি সব জানেন তাই তাকে সাক্ষী করেছি। রোববার বিকালে পুলিশ আমাকে ও শেফালীর ছোট বোন শিউলীকে থানায় ডেকে নিয়ে আমাদের কথা শুনে পুলিশ এজাহার তৈরি করে। সেখানে আমরা দু’জনে স্বাক্ষর করি। মামলায় আসামিদের নামের তালিকায় দেখা যায় খালিশা চাঁপানী ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল কাদের (৬০), অপিয়ার রহমান (২৩) ও রফিকুল ইসলাম (৪২), আলী হোসেন (৩৫), আবু বক্কর সিদ্দিক (৩০) ও মনোয়ার হোসেন (২৮), দবির উদ্দিন (৫৫) ও আহেদুল ইসলাম (৩৮), আতাউল রহমান (১৯), তহমিনা বেগম (২৩), রূপালী বেগম (২৮), মনছুরা বেগম (২৪), তুলি বেগম (২১), ফাতেমা বেগম (৪০), সুলতানা বেগম (২৪), অপিয়া বেগম (৬০), রশিদুল ইসলাম (৪০), রাজিয়া বেগম (২৭) ও খালিকুন বেগমসহ (৫০) ৪/৫ জন অজ্ঞাত। একটি পারিবারিক ঘটনাকে পুঁজি করে এলাকার কিছু প্রভাবশালী মহল শেফালীকে গরু চুরির অপবাদ দিয়ে শুক্রবার গ্রামে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করেছিল।