Showing posts with label মুন্সীগঞ্জ. Show all posts
Showing posts with label মুন্সীগঞ্জ. Show all posts

Friday, February 6, 2026

মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা, ৩ বন্ধু নিহত

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় একসঙ্গে তিন বন্ধু নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার যশলং এলাকার সিপাহিপাড়া-দিঘীরপাড় সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত তিনজন হলেন তুর্জয় মাঝি (২৮), হোসাইন মোহাম্মদ সাকিব (২৭) ও মো. সানিয়াত (২৯)। তাঁদের সবার বাড়ি টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সোনারং টঙ্গিবাড়ী ইউনিয়নে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই তিন বন্ধু মোটরসাইকেলে করে দিঘীরপাড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। তাঁদের মোটরসাইকেলটি রাত ৯টার দিকে সিপাহিপাড়া-দিঘীরপাড় সড়কের যশলং এলাকায় এলে নিয়ন্ত্রণ হারায়। সে সময় মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশের আমগাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে হোসাইন মোহাম্মদ সাকিব ও মো. সানিয়াত মারা যান। ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে তুর্জয় মাঝি মারা যান।

টঙ্গিবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের সুরতহাল করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হোসাইন মোহাম্মদ সাকিব, তুর্জয় মাঝি ও মো. সানিয়াত
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হোসাইন মোহাম্মদ সাকিব, তুর্জয় মাঝি ও মো. সানিয়াত। ছবি: সংগৃহীত

Wednesday, December 4, 2024

লুট করা অস্ত্রে প্রেমিকাকে হত্যা

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে গুলিতে নিহত শাহিদা আক্তার (২২) অন্তঃসত্ত্বার জন্য প্রেমিক তৌহিদ শেখ (২৩)কে বিয়ে করতে চাপ প্রয়োগ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়েই প্রেমিক তৌহিদ শেখ থানা লুট করা অস্ত্র দিয়ে গুলি করে হত্যা করে শাহিদাকে। সংবাদ সম্মেলনে এমন কথা জানান মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. শামসুল আলম সরকার।

নিহত শাহিদা ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার বেগুনবাড়ির বরিবয়ান এলাকার প্রয়াত আবদুল মোতালেবের মেয়ে। তিনি ঢাকার ওয়ারী থানার যুগীনগর এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। গ্রেপ্তার প্রেমিক তৌহিদ শেখ তন্ময় রাজধানী ঢাকার ওয়ারীর বনগ্রাম এলাকার প্রয়াত শফিক শাহ’র ছেলে। মঙ্গলবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জে ক্লুলেস হত্যা মামলা নিয়ে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার  বলেন, শাহিদাকে গুলি করে হত্যার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছে তৌহিদ শেখ। আমরা তাকে (তৌহিদকে) হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তৌহিদ আমাদের জানিয়েছে, তার সঙ্গে শাহিদার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।  কিন্তু তৌহিদ তার পরিবারের পছন্দের অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। প্রেমের সম্পর্কের পর তাদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্কও ছিল। শাহিদা তৌহিদকে বলেছিল সে আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তবে সামপ্রতিক সময়ে শাহিদাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছিল সে। এবিষয়টি শাহিদা বুঝতে পেরে তৌহিদকে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শুক্রবার রাতে শাহিদাকে মুঠোফোনে ওয়ারীর বাড়ি থেকে মাওয়ায় ইলিশ খাওয়ার কথা বলে ডেকে আনে তৌহিদ। শাহিদাকে নিয়ে খাওয়া- দাওয়া শেষে রাতভর মাওয়া এলাকায় ঘোরাঘুরি করে। শনিবার ভোরে শ্রীনগর দোগাছি এলাকার এক্সপ্রেসওয়েতে শাহিদাকে নিয়ে আসে তৌহিদ। সেখানেই তার সঙ্গে থাকা ওয়ারী থানা থেকে লুট করা পিস্তল দিয়ে শাহিদাকে গুলি করে হত্যা করে।
হত্যার পর তৌহিদ দোগাছি এলাকা থেকে ঢাকায় পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার আগে পিস্তলটি কেরানীগঞ্জের বটতলী বেইলি সেতুর নিচে ফেলে যায়। রোববার তৌহিদ আত্মগোপনে ছিল।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, তৌহিদ তার পরিবারের লোকজনের সহযোগিতায় সোমবার রাতে ঢাকা থেকে লঞ্চে করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ব্যাপক তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা বিষয়টি জানতে পারি। পরবর্তীতে ভোলার ইলিশাঘাট এলাকায় লঞ্চের কেবিনের ভেতরে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করে আমাদের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এর আগে গত শনিবার দুপুরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সমসপুর এলাকার দোগাছি সার্ভিস সড়ক থেকে শাহিদা আক্তারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের পাশে কয়েকটি গুলির খোসা পড়ে ছিল। তার শরীরে আটটি গুলির ছিদ্র ছিল।

সেদিন দুপুর ১২টার দিকে লাশ উদ্ধার করে শ্রীনগর থানায় নিয়ে যান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সেখান থেকে শাহিদার মুঠোফোনে থাকা নম্বরের মাধ্যমে তার মায়ের নম্বর পাওয়া যায়। বিকালে জরিনা বেগম এসে মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় শনিবার দিবাগত রাত ১২টার পর নিহত তরুণীর মা জরিনা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলাটি করেন। পরে রোববার সকালে ওই মামলায় একমাত্র নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয় তৌহিদকে। রোববার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে শাহিদার লাশ ময়মনসিংহের বরিবয়ান গ্রামে দাফন করা হয়।

নিহতের মা জরিনা বেগম বলেন, তিন মাস আগে শাহিদা ও তৌহিদ সবার অজান্তে চাঁদপুরে ঘুরতে গিয়েছিল। সেখানে তৌহিদ আমার মেয়েকে মারধর করে। পরে পুলিশ এসে দু’জনকে ধরে নিয়ে যায়। তখন তাদের মধ্যে প্রেমের বিষয়টি আমি জানতে পারি। পরে তৌহিদের বিষয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নিই। জানতে পারি, তৌহিদ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ছেলে হিসেবেও ভালো না। আমার মেয়েকে ওই ছেলের সঙ্গে মেলামেশা করতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু তৌহিদ বিভিন্ন সময় আমার মেয়েকে ফুসলিয়ে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যেত। আমার মেয়েটাকে গুলি করে হত্যা করেছে। আমি মেয়ে হত্যার বিচার চাই।

অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি সঠিক কিনা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিতভাবে জানার কথা বলেন পুলিশ সুপার। তবে শাহিদা অন্তঃসত্ত্বা ছিল কিনা এমনটা জানে না তার মা জরিনা বেগম।

মুন্সীগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ইশতিয়াক রাসেল বলেন, আসামি তৌহিদকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে সে ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

mzamin

Tuesday, December 3, 2024

বিয়ের জন্য চাপ দেয়ায় প্রেমিকাকে গুলি করে হত্যা

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে বিয়ের জন্য চাপ দেয়ায় শাহিদা আক্তার (২২) নামে সেই তরুণীকে গুলি করে হত্যা করেছে প্রেমিক। গতকাল ভোরে ভোলার ইলিশা থেকে মনপুরা পালিয়ে যাওয়ার সময় প্রেমিক তৌহিদ শেখ তন্ময়কে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটিও উদ্ধার করা হয়। এর আগে শনিবার দুপুর ১২টায় উপজেলায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের সমসপুর এলাকার দোগাছী সার্ভিস সড়ক থেকে ওই তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

তন্ময় রাজধানীর ওয়ারীর বনগ্রাম এলাকার প্রয়াত শফিক শাহর ছেলে। শনিবার রাত ১২টার পর নিহতের মা জরিনা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলাটি করেন। রোববার সকালে সে মামলায় একমাত্র নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়। নিহতের শরীরে আটটি গুলির ছিদ্র ছিল। সে সময় লাশের পাশে কয়েকটি গুলির খোসাও পড়ে ছিল। এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মো. আজাদ বলেন, শাহিদাকে হত্যার পর থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে তৌহিদকে গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের একাধিক দল কাজ করছিল। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি তৌহিদ ভোলা রয়েছে। রোববার রাতে আমাদের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। সেখান থেকে তৌহিদকে গ্রেপ্তার করে। পরে তৌহিদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে যে অস্ত্র দিয়ে শাহিদাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল সেটি কেরানীগঞ্জের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

হত্যার ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, তৌহিদ আমাদের জানিয়েছে, শাহিদার সঙ্গে তৌহিদের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রেমের সম্পর্ক থেকে তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্কও গড়ে ওঠে। এর মধ্যে তৌহিদ অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বিষয়টি শাহিদা জানতে পারে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে একাধিকবার ঝগড়াঝাঁটি হয়। তাদের সম্পর্কের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। তবে গত শুক্রবার রাতে তৌহিদ শাহিদাকে মুঠোফোনের মাধ্যমে ওয়ারীর বাড়ি থেকে মাওয়ায় ইলিশ খাওয়ার কথা বলে ডেকে আনে। তারা সারারাত এক্সপ্রেসওয়েতে ঘোরাঘুরি করে। শনিবার ভোরে তারা শ্রীনগর দোগাছী এলাকায় হাঁটাহাঁটি করছিল। এ সময় শাহিদা বিয়ের জন্য চাপ দেন। তৌহিদ বিয়ে করতে অস্বীকার করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তৌহিদের সঙ্গে থাকা পিস্তল দিয়ে শাহিদাকে গুলি করে হত্যা করে। যে পিস্তলটি দিয়ে শাহিদাকে হত্যা করা হয়েছে এটি গত ৫ আগস্ট ওয়ারী থানা থেকে লুট করেছিল তৌহিদ।

নিহত শাহিদা ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার বেগুনবাড়ীর বরিবয়ান এলাকার প্রয়াত আবদুল মোতালেবের মেয়ে। তিনি ঢাকার ওয়ারী এলাকায় ভাড়াবাড়িতে থাকতেন। গত শনিবার ভোরে শাহিদা ও তৌহিদকে সার্ভিস লেনে হাঁটতে দেখেছেন পথচারীরা। কিছুক্ষণ পর অন্য পথচারীরা শাহিদার রক্তাক্ত লাশ সড়কে পড়ে থাকতে দেখেন। তার পিঠে একাধিক গুলির চিহ্ন ছিল। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানান। শাহিদার মা জরিনা বেগম বলেন, ৬ বছর ধরে তার মেয়ের সঙ্গে প্রেম করছিল তৌহিদ। বিষয়টি তৌহিদের পরিবারের লোকজন জানত। তিন মাস আগে শহিদা ও তৌহিদা সবার অজান্তে চাঁদপুরে ঘুরতে গিয়েছিল। সেখানে তৌহিদ আমার মেয়েকে মারধর করে। পরে পুলিশ এসে দু’জনকে ধরে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে তৌহিদের পরিবারের লোকজন। তখন থেকে প্রেমের বিষয়টি আমি জানতে পারি। এরপর তৌহিদের বিষয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ-খবর নেই। জানতে পারি তৌহিদ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ছেলে হিসেবেও ভালো না। পরে আমরা মেয়েকে ওই ছেলের সঙ্গে মেলামেশা করতে নিষেধ করি। তৌহিদ বিভিন্ন সময় আমার মেয়েকে ফুসলিয়ে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যেত। প্রেমের অপরাধে তৌহিদের মা আমার মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল। আমি মেয়েকে বাড়ি থেকে বের হতে দিতাম না। শুক্রবার শাহিদাকে ফুসলিয়ে ফোনের মাধ্যমে বাড়ি থেকে বের করে নেয়। শেষপর্যন্ত আমার মেয়েটাকে গুলি করে হত্যা করেছে। আমি মেয়ে হত্যার বিচার চাই।

mzamin

Tuesday, April 21, 2020

হারিয়ে যাচ্ছে ঘোড়ার গাড়ি by হামিদুল ইসলাম লিংকন

রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে মুন্সীগঞ্জ জেলা অবস্থিত। বিক্রমপুর বাংলার একটি ঐতিহাসিক এলাকা। সুপ্রাচীন কাল থেকেই এই অঞ্চল তার বৌদ্ধ জ্ঞান চর্চার জন্য এবং পরবর্তীতে সাংস্কৃতিক প্রভাবের জন্য সুপরিচিত।
ধারণা করা হয়, বৈদিক যুগ থেকে ভাওয়াল ও সোনারগাঁও রাজধানী হিসেবে আবির্ভূত হবার আগ পর্যন্ত এটিই ছিল বাংলার প্রাচীনতম রাজধানী। বিক্রমপুর ছিল রাজা বিক্রমাদিত্যের রাজধানী। এই এলাকায় বাংলার বহু কীর্তিমান ব্যক্তির জন্ম হয়েছে। সে সময় থেকেই যোগাযোগ ও মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত ঘোড়ার গাড়ি।
আধুনিক যান্ত্রিক যানবাহনের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে বর্তমানে প্রায় বিলুপ্তির পথে ঘোড়ার গাড়ি! ইঞ্জিনের স্পর্শে আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী অনেক যানবাহনই কালপরিক্রমায় পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সময় অতিবাহিত হবার সাথে সাথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের ধারক-বাহক অনেক বাহনেরই আমূল পরিবর্তন, আধুনিকায়ন সাধিত হয়েছে। আবার ঐতিহ্যবাহী অনেক বাহনই হারিয়ে গেছে দৃশ্যপট থেকে।
তেমনি মান্ধাতার আমলে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ঘোড়ার সাহায্যে চলমান ঘোড়ার গাড়ি বহুবিধ কারণে বর্তমানে হারিয়ে যেতে বসেছে দৃশ্যপট থেকে। কয়েক বছর আগেও কালে ভাদ্রে দু’একটি ঘোড়ার গাড়ির দেখা মিললেও বর্তমানে তা যেন ডুমুরের ফুল।
জানা গেছে, প্রাচীনকাল থেকে গাঁও গ্রামে বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হতো ঘোড়ার গাড়ির অবকাঠামো। আর কেটে পুরিযে গোলাকার করে পেরেক মেরে তৈরি করা হতো চাকা। ওই গাড়িকে টেনে নেয়ার কাজে ব্যবহার করা হতো ঘোড়াকে। কালের আবর্তে ঘোড়ার গাড়ির ব্যবহার কমে যেতে থাকলেও এখনও বিশ্বে আধুনিক সকল যানবাহনের জন্য তৈরিকৃত সকল ইঞ্জিনের ক্ষমতাকে ঘোড়ার শক্তি (অশ্বশক্তি) হিসাবে পরিমাপ করা হয়েছে থাকে। যে ইঞ্জিনের অশ্বশক্তি (হর্স পাওয়ার) যত বেশী তার পরিবহন ক্ষমতা ও মূল্যও তত বেশী হয়ে থাকে।
সুপ্রাচীনকাল থেকে দেশের গ্রামীণ জনপদের কাঁচা মেঠো পথে যাতায়াত ও মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে গরুর গাড়ি, মহিষের গাড়ি ও ঘোড়ার গাড়ির বহুল প্রচলণ পরিলক্ষিত হতো। কিন্তু যখন থেকে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানী দ্বারা চালিত ইঞ্জিন দিয়ে তৈরি যানবাহনের প্রচলন ঘটতে থাকে তখন থেকেই মান্ধাতা আমলের দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরিকৃত ‘ঘোড়ার গাড়ি’র কদর ও ব্যবহার হ্রাস পেতে থাকে।
বর্তমানে দেশের গ্রামীণ জনপদের বেশীরভাগ কাঁচা ও মেঠোপথ/সড়ককে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ওইসব সড়ককে পিচপাথর দিয়ে পাকা সড়কে রূপদান করা হয়েছে। সড়কে যাতায়াত ও মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে জায়গা করে নিয়েছে যান্ত্রিক ইঞ্জিন দ্বারা চালিত বাস, মিনিবাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, সিএনজি অটোরিক্সা, নছিমন, করিমনরা।
নদীমাতৃক এ দেশের চরাঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ ও মালামাল পরিবহনে দু’একটি ঘোড়ার গাড়ির দেখা মিললেও ক্রমান্বয়ে তাও দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। ফলে প্রাচীনকাল থেকে সড়ক যোগাযোগে বহুল জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত ‘ঘোড়ার গাড়ি’ বর্তমানে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে পড়েছে।
ঘোড়ার গাড়ির এই তীব্র দুর্দিনেও প্রাচীনকালের এই বাহনটি চালান মমিন আলী। তিনি বলেন, আগে আমার বাবা এই ঘোড়ার গাড়ি চালাইতো। তাই আমিও চালাই, কিন্তু আগের মত মালামাল বহন করা হয় না। আমার ঘোড়াটা বিক্রি করতে পারলে অন্যকাজ করতাম। ঘোড়াটা বিক্রি হয় না বলে আমি ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে যা পাই তাই বহন করি সংসার চালাতে হবে তাই।
বয়রাগাদী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেন্টু মিয়া বলেন, একটা সময় ঘোড়ার গাড়ির চাহিদা ছিল। এখন দেশ উন্নত হয়েছে, ইঞ্জিন চালিত গাড়ির অভাব নেই। তাই আগের মত ঘোড়ার গাড়ির চাহিদা নেই।

Monday, October 7, 2019

অপরূপ জলজ নিসর্গ আড়িয়াল বিল by তানজিল হাসান

নৌকা বা ট্রলারে খাল ধরে সামনে এগোচ্ছেন। দু’পাশে গ্রাম। যেতে যেতে চলে এলেন বিশাল জলরাশির বুকে। যেন মিঠা পানির এক সমুদ্র! কোথাও ভেসে আছে কচুরিপানা। কোথাও রাশি রাশি সাদা শাপলা। কিছুক্ষণ পরপর চোখে পড়বে ভেসাল জাল দিয়ে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য। কখনও পাশ দিয়ে ঢেউ তুলে চলে যেতে পারে মালবাহী ছোটবড় ট্রলার।
জলরাশির দিকে তাকালে পানির রঙ কখনও নীল, কখনও সাদা, কখনওবা কালো মনে হবে। শ্রাবণের আকাশের সঙ্গে রঙ বদলায় জল। ক্ষণে ক্ষণে বৃষ্টি নামে, আবার রোদ ঝকঝক করে ওঠে। কালো মেঘের ছোটবড় ভেলা চেনা পরিবেশের বাইরে ভাসিয়ে নিয়ে যায় কল্পনার জগতে। আড়িয়াল বিলের এই অপার সৌন্দর্য তুলনাহীন। এ যেন অপরূপ জলজ নিসর্গ।
মূহূর্তে বদলে যাওয়া চারপাশের প্রকৃতির রঙ মনে দোলা দেয়। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য দু’চোখ ভরে উপভোগ না করলে বোঝা যায় না। ঢাকার নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলা এবং মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর ও সিরাজদিখান জুড়ে বিস্তৃত আড়িয়াল বিল। এখানে এলেই ভ্রমণপ্রেমীরা হারিয়ে যান প্রকৃতির মাঝে। দূরের কোনও গ্রামের প্রতিচ্ছায়ায় আটকে থাকে দৃষ্টি।
জলরাশিতে ভাসতে ভাসতে চোখ মেলে তাকালে আকাশটা বিশাল লাগে। মনে হতে পারে, এত বড় আকাশ কতদিন দেখা হয়নি! নৌকা থেকে নেমে ডেঙ্গায় হেঁটে বেড়ালে মন্দ লাগবে না। আড়িয়াল বিলে রয়েছে অনেক ডেঙ্গা। এগুলো মূলত বিশাল আকৃতির দীঘি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো সাগরদীঘি। এগুলো প্রাকৃতিক মৎস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত।
মাছের মধ্যে আড়িয়াল বিলের সরপুঁটি ও কই বেশ প্রসিদ্ধ ছিল। এছাড়া শিং, মাগুর, রুই, কাতলা, বোয়াল, পুঁটি ও টেংরা মাছসহ প্রায় সব দেশি মাছ পাওয়া যায় এতে। এখানকার প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন মাছের পাশাপাশি আধুনিক পদ্ধতিতে ডেঙ্গায় মাছ চাষ হয়। সংগৃহীত মাছ সরবরাহ হয় ঢাকাসহ আশেপাশের জেলাগুলোতে। দীঘির পাড়ে আছে বৃক্ষরাজি।
হিজল, নারিকেল, বরুণ, মেহগনিসহ বিভিন্ন গাছ দেখা যায়। বিলে মাঝে মধ্যে উড়ে বেড়ায় কানিবক, মাছরাঙা, পাতিহাঁস, শঙ্খচিল, ডাহুক পাখি। বিলের পাশের গ্রামে বাবুই পাখিরও দেখা মিলবে। শোনা যায়, অতীতে আড়িয়াল বিলে কালিম পাখি দেখা যেতো। তবে অতিথি পাখি খুব একটা দেখা যায় না।
সবজি হিসেবে বাজারে আড়িয়াল বিলের শাপলা কেনাবেচা হয়। স্থানীয়দের অনেকে বিল থেকে এটি তোলে। ঢাকা থেকে ব্যবসায়ীরা সেগুলো সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। বিলে এলেই চোখে পড়বে স্থানীয় অনেকে শাপলা তুলছেন। কেউ একমনে শাপলা গোছাতে ব্যস্ত। মূলত তারা কৃষক। বর্ষা মৌসুমে ভোর থেকে বিকাল পর্যন্ত তারা শাপলা তোলেন।
অম্বিকাচরণ ঘোষ ও যোগেন্দ্র নাথ গুপ্ত রচিত ‘বিক্রমপুরের ইতিহাস’ গ্রন্থে আড়িয়াল বিলের দৈর্ঘ্য পূর্ব-পশ্চিমে ১২ মাইল ও প্রস্থ দক্ষিণে ৭-৮ মাইল উল্লেখ করা হয়েছে। আড়িয়াল বিলের দক্ষিণ প্রান্তে মইজপাড়া ও কোলাপাড়া, উত্তরে শ্রীধরখোলা, বারুইখালি ও শেখেরনগর। পশ্চিমে নারিশা গ্রাম, পূর্বে দয়হাটা, হাসাড়া গাদিঘাট ও প্রাণীমণ্ডল বা পরানিমণ্ডল প্রভৃতি গ্রাম।
ঢাকা বিভাগের সবচেয়ে বড় ও বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আড়িয়াল বিল। অনেকের অনুমান, রাজশাহীর চলনবিল ও ঢাকা-মুন্সীগঞ্জের আড়িয়াল বিলেই অতি প্রাচীনকালে গঙ্গা ও ব্রক্ষপুত্রের সঙ্গম হয়েছিল। পরে উভয় নদীর প্রবাহ পরিবর্তনের কারণে এই স্থান শুকিয়ে বিলে পরিণত হয়। আড়িয়াল বিলের আরেক নাম ‘চূড়াইন বিল’। একসময় বর্ষায় এতে কুমির দেখা যেতো।
বিলের মধ্যে এখানে-সেখানে উঁচু মাটির ঢিবিতে ঘরবাড়ি দেখা যায়। বর্ষাকালে বিলে পানি টইটম্বুর থাকলে মনে হয়, বাড়িগুলো দ্বীপের মতো ভেসে আছে! তখন যাতায়াতের একমাত্র উপায় হয়ে ওঠে কোষা নৌকা। বর্ষার আগে ধান কেটে ঘরে তোলেন কৃষক। বিলের পাশের গ্রামগুলোতে খড়ের গাদা দেখা যায়– কারও বাড়ির উঠানে, কোথাও রাস্তার পাশে, আবার কোথাও বিলের পাশের উঁচু জমিতে।
আড়িয়াল বিলের সৌন্দর্য উপভোগের জন্য বর্ষায় অনেক পর্যটক সমাগম হয়। বর্ষায় দেখতে বেশি মনোমুগ্ধকর হলেও এই বিলের সৌন্দর্য শীতেও কম নয়। আড়িয়াল বিলে ধান চাষ বেশি হয়। তবে মিষ্টি কুমড়া, লাউ, ঢেঁড়স, পটলসহ বিভিন্ন রকম সবজি উৎপন্ন হয়। ফলে বিস্তীর্ণ সবুজ ফসলের মাঠ নিশ্চিতভাবে সবার মন কাড়ে।
যেভাবে আসবেন
ঢাকার গুলিস্তান থেকে মাওয়াগামী বিআরটিসি ও ইলিশ পরিবহনসহ বেশকিছু বাস রয়েছে। ভাড়া নেবে ৯০-১২০ টাকা। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের শ্রীনগরের ছনবাড়ি চৌরাস্তায় বাস থেকে নেমে অটোরিকশা নিয়ে যেতে হবে গাদিঘাট গ্রাম। সেখান থেকে বিল দেখা যায়। অথবা শ্রীনগর বাজার থেকে ট্রলার ভাড়া নিয়ে বিল ঘুরে দেখা যাবে। ঢাকা থেকে সকালে রওনা দিয়ে আড়িয়াল বিলে বেড়িয়ে আবার বিকালের মধ্যে ঢাকায় ফেরা যায়। দুপুরে খাবারের উদ্দেশে মাওয়াতেও বেড়িয়ে আসতে পারেন। শিমুলিয়া ঘাটে নিতে পারেন তাজা ইলিশের স্বাদ।
>>>ছবি: বাংলা ট্রিবিউন

Friday, July 27, 2018

গজারিয়ায় যেভাবে হত্যা করা হয় নর্থসাউথের ছাত্র পায়েলকে

তড়িঘড়ি করে বাসে উঠতে গিয়ে এর সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে আহত হওয়া নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাইদুর রহমান পায়েলকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে বাঁচানো যেত বলে জানিয়েছেন মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম পিপিএম।
গতকাল দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সভা কক্ষে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার নর্থসাউথ  বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পায়েলের মৃত্যুর রহস্যের কথা তুলে ধরে বলেন, হানিফ পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব-৯৬৮৭ নম্বরের সেই বাসটিকে জব্দ এবং হানিফ পরিবহনের মালিক পক্ষকে পায়েল হত্যা মামলায় জড়িত করা হবে।
তিনি জানান, গেটের দরজায় আঘাত পেয়ে জ্ঞান হারানোর পর বাসের চালক, হেলপার ও সুপার ভাইজার মিলে নদীতে ফেলে হত্যা করেছে মেধাবী ছাত্র সাইদুর রহমান পায়েল (২১)কে। ১৬৪ ধারায় আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বাসের সুপার ভাইজার জনি। গত ২১শে জুলাই চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে গজারিয়ার পথে প্রসাব করতে নামে পায়েল। এরপর গত ২৩শে জুলাই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গজারিয়ার ফুলদি নদীতে ভেসে ওঠে পায়েলের লাশ। এ ঘটনায় বাসের চালকসহ তিনজনকে আটক করা হয় বলে জানান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম।
তিনি আরো জানান, নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির বিবিএ’র পঞ্চম সেমিস্টারের মেধাবী ছাত্র ছিলেন পায়েল। চট্টগ্রামের বাড়িতে ছুটি কাটিয়ে দুই বন্ধু শান্ত ও আদরকে সঙ্গে করে হানিফ বাসে চড়ে ঢাকার উদ্দেশে ২১শে জুলাই রাত সোয়া ১০টায় হানিফ পরিবহনের বাসে করে রওনা হন পায়েল। ২২শে জুলাই ভোর ৪টার দিকে গজারিয়ার ভাটের চর ব্রিজের কাছে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে নামেন পায়েল। বন্ধুরা ঘুমিয়ে থাকলেও কিছুটা পথ পর, জেগে সুপারভাইজারের কাছে পায়েলের কথা জানতে চায় বন্ধুরা। পায়েল পরের গাড়িতে আসবে বলে জানান, গাড়ির চালক, হেলপার ও সুপার ভাইজার।
গত ২৩শে জুলাই সকালে গজারিয়ার ফুলদি নদীতে ভেসে ওঠে পায়েলের লাশ।
আর লাশ উদ্ধারের পর, নাক মুখ থেতলানো ও রক্তের চিহ্ন দেখে পায়েলের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করেন পুলিশ। পরে ২৪শে জুলাই পুলিশের সহযোগিতায় গজারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন পায়েলের মামা গোলাম সারোওয়ার্দী বিপ্লব।
এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বাসের চালক জামাল হোসেন, হেলপার ফয়সাল এবং সুপার ভাইজার জনিকে গ্রেপ্তার করলে তারা জানান, পায়েল দৌড়ে বাসে উঠতে চাইলে দরজায় বাড়ি খেয়ে নাক, মুখ ফেটে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে বাইরে পড়ে যায় এবং পায়েলকে তারা মৃত ভেবে নদীতে ফেলে দেয়ার কথা আদালতে স্বীকার করেন সুপার ভাইজার জনি।
এ সময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আশফাকুজ্জামান, গজারিয়া থানার ওসি হারুন অর রশিদসহ পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তা।

Tuesday, December 5, 2017

গজারিয়ায় বাস খাদে পড়ে ৩৬ যাত্রী আহত।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ভবেরচর বাসষ্ট্যান্ড ও বাউশিয়া এলাকায় পৃথক দুইটি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬ যাত্রী আহত হয়েছে। এদের মধ্যে দুইজনকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত যাত্রী মো: গিয়াস উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার সকাল ৭টায় ঢাকামুখী জোনাকী পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো ব-১৪-৯৩০৯) ভবেরচর বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় আসলে বিপরীতমুখী সবজি বোঝাই একটি পিকআপ ও একটি সিএনজিকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় এটি রাস্তার পাশে খাদে পরে যায়। এঘটনায় আহতরা হলেন- জুলেখা বেগম (৫০), মো: জুয়েল মিয়া (১৮), রিপন মিয়া (২৬), লিটন হোসেন (৩০), জহুর আলী (৩০), আব্দুস সালাম (৩৫), খোকন মিয়া (২৫), নিলা আক্তার (৪০), রোজি আক্তার (৩৫), আবু মুসা (৬০), তন্ময় হোসেন (২২), রেজাউল মিয়া (৪০), জাহাঙ্গীর আলম (৪০), গিয়াস উদ্দিন (৪৫) ও অহেদ আলীসহ(২৭) ৩০ যাত্রী। গজারিয়ার টেংঙ্গারচর ইউনিয়নের মীরেরগাও এলাকার নূরহোসেনের স্ত্রী জুলেখা বেগম ও কুমিল্লার দাউদকান্দি জিংলাতলা গ্রামের মো: জজ মিয়ার ছেলে মো: জুয়েলকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ীর সার্জেন্ট যতিন ভক্ত জানান, জোনাকী পরিবহনের বাসটি বিপরীত মুখি কাঁচামালবাহী পিকআপকে পাশ কাটাতে গিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পরে গিয়ে এ দুঘটনাটি ঘটে। আহতদেরকে উদ্ধার করে নিকটতম হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে সকাল সাড়ে ৭টায় বাউশিয়া এলাকায় মেঘনাম ষ্ট্রীল কারখানার সামনে ঢাকামুখী অনির্বাণ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহি বাস (ময়মনসিংহ জ-১১-০০৬৫) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে খাদে পড়ে গিয়ে ৬ যাত্রী আহত হয়।

Saturday, April 8, 2017

মুন্সীগঞ্জের অবাধে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ জাটকা

মুন্সীগঞ্জের গ্রাম-গঞ্জের হাট- বাজার ও শহরের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় অবাধে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ জাটকা মাছ। জেলা শহর, সদর উপজেলার নদী তীরবর্তী গ্রাম ও এর আশপাশের বাজারগুলোতে এখন প্রতিনিয়ত প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে জাটকা। আর বিক্রেতারাও প্রতি কেজি জাটকা বিক্রি করছেন ২০০ টাকা কেজি দরে। বিষয়টি দৃশ্যমান হলেও স্থানীয় জন প্রতিনিধি ও প্রভাবশালীদের ইন্ধনে অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে জাটকা বিক্রেতারা এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের। সরেজমিনে অনুসন্ধান করে দেখা যায়, মুন্সীগঞ্জের নদী তীরবর্তী গ্রাম, চর-আব্দুল্লাহ, কালিরচর, বাংলাবাজার, চিতলিয়া বাজার ও বাঘেরহাটে সকালে বিকাল বিক্রি হচ্ছে জাটকা মাছ। পহেলা বৈশাখের ইলিশের স্বাদ নেওয়ার জন্য অনেক ক্রেতা সাধারণ বড় বড় ঝাটকা মাছগুলোকে ৩০০ টাকা কেজি দরে কিনে নিচ্ছেন।
সাধারন ক্রেতারা কিনছেন প্রতি কেজি জাটকা ২০০ টাকা করে দাম দিয়ে। মঙ্গলবার বিকালে চিতলিয়া বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, একজন জাটকা ব্যবসায়ী প্রায় ১০ মন জাটকা নিয়ে আসেন। মুহুর্তের মধ্যে ক্রেতাদের ভীড় পড়ে যায় মাছ বাজারটিতে। ২০ মিনিটের মধ্যে বিক্রি হয়ে যায় পুরো ১০ মন জাটকা। বাংলাবাজারে গিয়েও একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। বাজারটিতে পদ্মার তীরবর্তী গ্রাম কালিরচর থেকে ৫ জন মাছ বিক্রেতা জাটকা নিয়ে বাজারে আসে । সাংবাদিক দেখে তারা বলেন, আমরা খুচরা বিক্রি করি যারা বড় বড় চালান কিনে নিয়ে আসে তাদেরকে গিয়ে ধরেন। কথা হয় বিক্রেতা করিমের সঙ্গে তিনি জানান, আমরা অল্প পরিমান কিনে এনে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাই। কিন্তু প্রতিদিন এই বাজার থেকে সিএনজি যোগে শত শত মন জাটকা শহরে যাচ্ছে। তাদের গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন কোথায় থেকে জাটকাগুলো নিয়ে আসে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্রেতা জানান, কালিরচর গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য বাচ্চু বেপারীর ছেলে রিপন দীর্ঘদিন ধরে পাইকারী দরে জাটকা মাছ বিক্রি করে চলেছেন। তার থেকে খুঁচরা বিক্রেতারা কিনে এনে স্থানীয় বাজার ও গ্রামগুলোতে ফেরি করে বিক্রি করেন। মাছ বিক্রয়ের ব্যাপারে জানতে চেয়ে পদ্মা নদীর তীরে গেলে পাইকার রিপন সংবাদকর্মীদের দেখে দ্রুত ট্রলার চালিয়ে নদীর মাঝখানে চলে যান। পরে কথা হয় ইউপি সদস্য বাচ্চু বেপারীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, অল্প পরিমান মাছ এনেছিল রিপন। আমার ছেলে সব সময় বিক্রি করেনা। কৌশলে ইউপি সদস্য স্থান ত্যাগ করে কেটে পড়েন। বাগেরহাট বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, জাজিরা গ্রাম থেকে আফছার নামের এক মাছ বিক্রেতা ৭টা ঝুঁড়িতে করে ৭মন জাটকা নিয়ে আসে । মুহুর্তের মধ্যে ২ টি ঝুঁড়ি বাগেরহাট বাজারে স্থানীয় ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে দেন। বাকী ৫টা ঝুঁড়ি নিয়ে সিএনজি করে মুন্সীগঞ্জ শহরের দিকে রওয়ানা করেন।
এ সময় অনেক ক্রেতাই নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাংলাবাজার, চিতলিয়া এবং বাগেরহাট থেকে প্রতিদিন পিকাপ ও সিএনজি করে প্রচুর মাছ শহরের দিকে যায়। তাছাড়া শহরের উপকন্ঠে মুন্সীর হাট, খাসকান্দি, রমজানবেগসহ শহরের বিভিন্ন অলি-গলিতে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ জাটকা মাছ বিক্রি করতে দেখা গেছে। বাজারে মাছের দাম বেশী হওয়ায় হাতের কাছে কমদামে পেয়ে ক্রেতারা কিনে খাচ্ছে এসব নিষিদ্ধ জাঁটকা মাছ। এভাবে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ জাটকা মাছ বিক্রি করলেও মৎস্য কর্মকর্তারা কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে না জনবল সংকটের অজুহাত দেখিয়ে। নদীতে নিয়মিত অভিযান না চালানোর কারণে এসব জাটকা মাছ নদী তীরবর্তী গ্রামে ঢুকে পড়ছে আর সেখান থেকে ছড়িয়ে যাচ্ছে শহর বন্দর আনাচে কানাচে। মধ্যবিত্ত আয়ের লোকেরা ইলিশের চাহিদা পূরন করতে জাটকা মাছ কিনে নিচ্ছেন। স্থানীয় ও সাধারন জেলেদের সুত্রে জানা যায়, প্রতিদিন এসব বাজারগুলোতে প্রা ১ থেকে দেড় টন জাটকা বিক্রি ও পরিবহনের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে চলে যায়। মৎস্য কর্মকর্তারা কোস্ট গার্ডের সাথে নদীতে নিয়মিত অভিযান আর বাজারগুলো মনিটরিং করলে জাটকা বিক্রি কমে আসতো। তাছাড়া স্থানীয় প্রভাবশারীরা জাটকা বিক্রেতাদের আশ্রয় ও সহযোগিতা করায় মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারাও বেশীরভাগ ক্ষেত্রে সফল হতে পারছেন না চলমান এই জাটকা রক্ষার অভিযানে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মাছ বিক্রেতা জানান, আমরা নদীর তীর থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে পাইকারদের কাছ থেকে কিনে আনি আর সেটাকে ফেরি করে ২০০ টাকা ধরে বিক্রি করি । জানি এটা বিক্রি করা দন্ডনীয় অপরাধ কম দামে কিনে বেশী দামে বিক্রি করে লাভবান হতে পারি তাই পেটের দায়ে এ কাজ করি। জাটকা মাছ ক্রেতা বাংলাবাজার এলাকার আনোয়ার হোসেন জানান, আমাদের এলাকায় প্রতিদিন মাছ বিক্রেতারা জাটকা মাছ নিয়ে আসে। ইলিশ মাছের দাম বেশী তাই ইলিশের চাহিদা মেটাতে আমরা জাটকা মাছ কিনে খাই। কেন কিনেন নিষিদ্ধ জাটকা মাছ?
জবাবে বলেন, হাতের কাছে পাই বলে কিনি। এ ব্যাপারে গজারিয়া কোস্ট গার্ডের পেটি অফিসার মো: আলী ফরহাদ বলেন, আমরা নিয়মিত নদীতে অভিযান চালাচ্ছি এবং আমাদের অভিযান চলমান আছে। শহরের বিভিন্ন বাজারে জাটকা মাছ বিক্রি কওে সেটা মৎস্য বিভাগ ব্যবস্থা নিবে। তারা যদি আমাদের কাছে কোন সাহায্য দরকার মনে করে তাহলে নৌ পুলিশ আর আমাদের কোষ্টগার্ড তাদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। নিষিদ্ধ জাটকা বিক্রির বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড: অলিউর রহমান জানান, জাটকা নিধনের অভিযান চলছে। আমাদের অভিযান চলমান আছে। চুরি চামারি কওে জেলেরা ঝাটকা ধরে গ্রামে গঞ্জে হাটে বাজারে বিক্রি করছে এমন কোন তথ্য পেলে আমরা তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া জাহান বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এ পর্যন্ত অনেক জাটকা জব্দ করা হয়েছে। জাটকা বিক্রি এবং বিক্রিতে জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Saturday, April 1, 2017

মুন্সীগঞ্জে আ’লীগ কর্মী হত্যার প্রতিবাদে থানা ঘেরাও

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে আওয়ামী লীগ কর্মী আলেক হত্যার ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল এবং থানা ঘেরাও করেছে এলাকার শত শত নারী-পুরুষ। শনিবার সকাল ৯টায় উপজেলার শ্যামসিদ্ধি ইউনিয়নের সেলামতি গ্রামের ৪/৫ শতাধিক নারী-পুরুষ এ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা মিছিল করে ৩ কিলোমিটার পায়ে হেটে শ্রীনগর এসে আলেক হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে থানা ঘেরাও করে। এ সময় শ্রীনগর থানার ওসি (তদন্ত) কাজী শরিফুল ইসলাম আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা থানা থেকে চলে যায়। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে সেলামতি বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন কাঠের পুল এলাকায় সন্ত্রাসীরা আলেক বেপারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এ সময় তার চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
এ সময় মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্যে ধানমন্ডি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে রাত ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যৃ হয়। এ ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে নিহত আলেক বেপারীর স্ত্রী ইয়াছমীন বেগম বাদি হয়ে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা এমএ কাইয়ুম রতন মিয়াকে হুকুমের আসামি করে ৮ জনের বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শ্রীনগর সার্কেল) সাইফুল ইসলাম বলেন, মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

Thursday, March 23, 2017

গজারিয়ায় আফিল পেপার মিলে ভয়াবহ আগুন

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভাটেরচর বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন আফিল পেপার মিলে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিভাতে গিয়ে এক ফায়ার সার্ভিস কর্মীসহ ৪জন আহত হবার খবর পাওয়া গেছে। অগ্নিকান্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সঠিকভাবে নিরূপণ করা না গেলেও কয়েক কোটি টাকা ক্ষতির আশংকা করছে কর্তৃপক্ষ। প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সকাল ১১টার কিছু পর আগুনের সূত্রপাত ঘটে।
দাহ্য পদার্থ আর বাতাস থাকায় আগুন মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে কো¤পনিটির কর্মীরা পরে খবর পেয়ে দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট অগ্নিনির্বাপণের কাজ শুরু করে। পরে বন্দর,আড়াই হাজার,ডেমরা,নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের আর পাঁচটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়। আগুন নিভাতে গিয়ে ডেমরা ফায়ার সার্ভিসের কর্মী পারভেজ (৩৪) ও অঞ্জাতনামা তিনজন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেøেক্স পাঠানো হয়েছে।

Tuesday, March 14, 2017

ঠিকাদারের গাফিলতিতে এক বছর ধরে দুর্ভোগে ৩ গ্রামের মানুষ

প্রায় এক বছর আগে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় সড়ক সংস্কারের নামে নয়াকান্দি সড়কের মাটি কেটে প্রায় দেড় ফুট গভীরে গর্ত করা হয়। সেই গর্তে জমছে বৃষ্টির পানি, ভাঙ্গছে সড়ক, সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সড়কটি ব্যবহারকারী তিন গ্রামের প্রায় পনেরো হাজার মানুষকে। জানা যায়, কেবল ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে আটকে আছে সড়কটির সংস্কার কাজ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক লাগোয়া মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার নয়াকান্দি গ্রামটি। মহাসড়ক থেকে গ্রামে প্রবেশের একমাত্র রাস্তাটির ছিল বেহাল দশা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল সড়কটি। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি সড়কটি সংস্কারে প্রতিশ্রুতি দিলেও তা কেবল আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ ছিল। অবশেষে জনগণের দাবির মুখে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক ও মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মৃণাল কান্তি দাস। এমপির আশ্বাসের পর হয়েছিল টেন্ডার, সড়কটির ১৫২০ মিটার অংশ সংস্কারে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ৮১ লাখ টাকা। তবে দীর্ঘদিনেও শুরু হয়নি সংস্কার কাজ। জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে সংস্কারের নামে সড়ক কেটে এক ফুট পরিমাণ গর্ত করা হয়।
গত বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয় বিশাল বিশাল গর্তের, সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু পরিমাণ পানি জমতো রাস্তায়। সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে রোগী, স্কুলগামী শিক্ষার্থীসহ সড়কটি ব্যবহারকারী তিন গ্রামের প্রায় পনেরো হাজার মানুষকে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমেও যাতে সেই ভোগান্তিতে আবার পড়তে না হয় তাই রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের দাবী ভুক্তভোগীদের। এলজিইডির গজারিয়া উপজেলার দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রকৌশলী মো: আরজুরুল হক জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নেকী এন্টারপ্রাইজ সঠিক সময়ে কাজ শুরু না করায় তাদের ইতিমধ্যে দুই বার নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তবে নেকী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো: আতাউর রহমান নেকী খোকন জানান, কাজটি সাব-কন্ট্রাক্টে উপজেলা চেয়ারম্যানের ছোট ভাই আজিম খানের করার কথা ছিল। তবে তিনি কেন দেরি করছেন তা তিনি জানেন না। সড়কটির সংস্কার কাজ দ্রুত শুরু হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এব্যাপারে জানতে আজিম খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী কর্তৃক চাঁদা দাবির কারণে কাজটি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। তবে তার এই দাবি অযৌক্তিক বলে মনে করেন স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। সড়কটি দ্রুত সংস্কারে সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাসের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

লৌহজংয়ে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও পলিথিন জব্দ

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ১নং ও ২নং ঘাটে পদ্মা নদীর পাড় থেকে ৩ লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও ৫ হাজার ৮০০ কেজি পলিথিন জব্দ করেছে কোস্টগার্ড। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে কোস্টগার্ড কন্টিনজেন্ট কমান্ডার (মাওয়া) মো: ইব্রাহিম খলিলের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এগুলো জব্দ করা হয়।
কোস্টগার্ড কন্টিনজেন্ট কমান্ডার (মাওয়া) মো: ইব্রাহিম খলিল জানান, সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিষিদ্ধ এসব কারেন্ট জাল ও ৫ হাজার ৮০০ কেজি পলিথিন শিমুলিয়া ১নং ও ২নং ফেরী ঘাট থেকে ফেরীতে পদ্মা পারাপারের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড সদস্যরা মাওয়া পদ্মানদীর পাড়ে অভিযান চালিয়ে এগুলো জব্দ করে। তবে উপস্থিতি টের পেয়ে কারেন্ট জাল ও নিষিদ্ধ পলিথিন ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অবৈধ ব্যবসায়ীরা। এ সময় কাউকে আটক করা যায়নি। পরে আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা মৎস্য অফিসার মো: ইদ্রিশ তালুকদারের উপস্থিতিতে মাওয়া এলাকা সংলগ্ন পদ্মা নদীর পাড়ে জব্দকৃত কারেন্ট জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। অন্যদিকে নিষিদ্ধ পলিথিনগুলো মুন্সীগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে হ¯তান্তর করা হয় বলে কোস্টগাড কর্মকর্তারা জানান।