Tuesday, February 16, 2010

বেপরোয়া খুন, বেসামাল ছাত্ররাজনীতি by সুমন রহমান

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি নৃশংসভাবে ঘটতে থাকা ছাত্র হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্ররাজনীতির ভালো-মন্দের ইস্যুটি যখন আবারও ভাবনার কেন্দ্রে চলে এসেছে, তখন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলছেন, তাঁর সরকারের ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই এবং সাংবিধানিক স্বীকৃতি অনুসারে ছাত্ররাজনীতি অব্যাহত থাকবে। এই রাজনৈতিক, সাংবিধানিক ও উদারপন্থী বক্তব্যকে স্বাগত জানানো যেত; কিন্তু প্রশ্ন দাঁড়ায়, এই বক্তব্য কি সময়োপযোগী? শুধু সাংবিধানিক বৈধতা আছে বলেই কি ছাত্ররাজনীতির নামে এই অব্যাহত খুনোখুনি ও সন্ত্রাসের সংস্কৃতি চলমান থাকবে?
সরকার শুধু নয়, আমাদের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো ছাত্ররাজনীতি দেখার পক্ষে। তাঁদের চাওয়ার পেছনে ষাট দশকের আইয়ুববিরোধী বা আশির দশকের এরশাদবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উজ্জ্বল স্মৃতির উসকানি আছে। তাঁরা মনে করেন, ছাত্ররা সব সময় জাতীয় রাজনীতির ভ্যানগার্ড হিসেবে কার্যকর থাকবে। যেকোনো স্বৈরতান্ত্রিক ও বিপথগামী সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা যখন জরুরি, তখন পেশাজীবী মধ্যবিত্ত যেখানে নিজস্ব সুবিধাবাদিতার কারণে মুখর হবে না, নিম্নবর্গের আওয়াজ যেখানে কেন্দ্রে অবস্থানকারী স্বৈরশাসকের সুরক্ষিত গদি পর্যন্ত পৌঁছাবে না, সেখানে ছাত্ররাই হয়ে উঠবে জাতীয় মুক্তির সর্বপ্রাথমিক বারুদঘর। আর এই রাজনীতির চর্চা ছাত্রকেও সমাজসচেতন, আদর্শচালিত ও সাহসী পেশাজীবীতে পরিণত করবে। দেশ এগিয়ে যাবে! কী সুন্দর অথচ মেয়াদোত্তীর্ণ ইউটোপিয়া!
মেয়াদোত্তীর্ণ বলছি কেন? সত্য যে আইয়ুব কিংবা এরশাদবিরোধী রাজনীতিতে ছাত্রদের উজ্জ্বল ভূমিকা ছিল। কিন্তু এটাও সত্য যে স্বৈরাচার আমলের ছাত্ররাজনীতি আর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ছাত্ররাজনীতি এক নয়। হতে পারে না। স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ছাত্ররাজনীতি বেড়ে ওঠে মূলত প্রতিরোধমূলক প্রণোদনা নিয়ে। সেই সময়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস গণতন্ত্রকামী শক্তির দখলে থাকায় রাষ্ট্রীয় দমনকারী শক্তি এর বিপক্ষে কার্যকর থাকে। ফলে অপেক্ষাকৃত স্বাধীন একটা পরিবেশে গণতন্ত্রকামী শক্তির তারুণ্যের মধ্যে একটা সাংস্কৃতিক ঐক্য তৈরি হয়, যা বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যের সূচনা করে। স্বৈরশাসকের ছাত্রভিত্তি না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেকটা এককাট্টাভাবে প্রতিরোধমঞ্চ হিসেবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়। এটা সুস্থ পরিস্থিতি। এ রকমই হয়েছে ষাটের কিংবা আশির দশকের বাংলাদেশে। এ রকম পরিস্থিতিতেই কেবল ‘সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য’জাতীয় প্লাটফর্ম সম্ভব। কিন্তু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সেটা নিতান্ত অসম্ভব। গণতন্ত্রে ক্ষমতাসীন দলের লেজুড় ছাত্রসংগঠন আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অবস্থান করে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় এককাট্টাভাবে ‘বিরোধী’ মতাদর্শ ধারণ করতে পারে না। আবার বিরোধী দলের ছাত্র সংগঠন তার সামর্থ্যের পরীক্ষা করার জন্য বেছে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় নামক গিনিপিগটাকেই। এভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতি তার অখণ্ড আদর্শিক চেহারা হারায়, দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। একদিকে ক্ষমতাসীন, অন্যদিকে ক্ষমতাপ্রত্যাশী সংগঠন। পাঠক হয়তো ভাবছেন, ঠিকই তো আছে, এতে সমস্যা কী? এটা তো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গোটা রাষ্ট্রেরই চেহারা। বটেই! কিন্তু প্রশ্ন হলো, গোটা রাষ্ট্রের এই চেহারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপেক্ষাকৃত ‘স্বাধীন’ পরিবেশে পুনরুৎপাদিত হওয়ায় আমরা বাড়তি কী পাচ্ছি? কী হারাচ্ছি?
সেটা বলার আগে বলে নেওয়া ভালো যে স্বৈরাচারী আমলগুলোতে ছাত্রদের তীব্র ভূমিকার স্মৃতিই কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোকে ছাত্ররাজনীতির ব্যাপারে লোভী করে তুলেছে। ক্ষমতাসীন দল গোড়া থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে চায়। কারণ তার আশঙ্কা, এখান থেকেই হয়তো সরকার পতনের দাবানল ছড়িয়ে পড়তে পারে। আবার বিরোধী দলও সরকার পতনের হোমওয়ার্ক শুরু করতে চায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। কেননা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সব সময় বিরোধী মতাদর্শের সহমর্মী। অথচ ভেবে দেখুন, বাংলাদেশে গত দুই দশকের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ছাত্ররাজনীতি জাতীয় রাজনীতিতে বলার মতো কী ভূমিকা রেখেছে? এই সময়ে কোনো সরকার পতনের আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়ে বেগবান হয়েছে এমনটা দেখা যায়নি। কানসাট বা শনির আখড়ার স্বতঃস্ফূর্ত বিদ্রোহ বা প্রতিরোধের মতো কোনো ঘটনারও জন্ম দিতে পারেনি নব্বই-উত্তর ছাত্ররাজনীতি। জাতীয় রাজনীতির ঢেউ বরং বিশ্ববিদ্যালয়ে লাগতে প্রতিবারই দেরি হয়েছে অনেক। কখনো লাগেইনি। এমনকি টেকনোক্র্যাট ফখরুদ্দীন সরকার যখন শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে অন্তরীণ করে, যাঁরা কিনা দেশের সবচেয়ে বড় ছাত্র সংগঠনগুলোর শীর্ষতম অভিভাবক, এর প্রতিবাদেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মুখর হয়ে উঠেছে এমনটা দেখা যায়নি।
ফলে এটা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে ছাত্ররাজনীতি তার ঐতিহ্যবাহী রি-অ্যাকটিভ মেকানিজম হারিয়ে ফেলেছে। আদর্শিক ছাত্ররাজনীতির চেহারা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা আশির দশকে সর্বশেষ ভাঙাচোরাভাবে দেখেছি। তারপর তাও বিলীন হয়ে গেছে দলীয় রাজনীতির লেজুড়বৃত্তির বাতাবরণে। বিশ্ববিদ্যালয় আর কোনো সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সূতিকাগার হয়ে ওঠেনি এরপর, বরং সর্বব্যাপী রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের অনিবার্য ফল হিসেবে হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য। সেটা হয়েছে প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক মদদে এবং রাষ্ট্রীয় পরিবীক্ষণব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে ঢিলেঢালা থাকার সুযোগে। হলে আখড়া গাড়তে বহিরাগত সন্ত্রাসীর কোনো অনুমতি লাগে না, কিন্তু হলে তল্লাশি চালাতে পুলিশকে অনুমতি নিতে হয়। সেই অনুমতি আবার ন্যায়মূলক এবং অন্যপেক্ষ কোনোভাবেই নয়, তাতে নানা রকম চোরাগোপ্তা রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ থাকে। আবার পুলিশেরও নিজস্ব অরিয়েন্টেশন থাকে, থাকে আরও নিগূঢ় হিসাব। এসব হিসাববিজ্ঞানে যিনি পোক্ত, ছাত্ররাজনীতি তাঁর জন্য অত্যন্ত লাভজনক একটি পেশা। এসব ‘মেধাবী’ নেতা ছাত্রাবস্থাতেই কোটিপতি হয়ে যান এবং ছাত্রের পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার পরপরই সংসদ সদস্য হয়ে জাতির নীতিনির্ধারক বনে যান। তাই একদিকে যেমন চাচার বয়সী ছাত্রনেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মায়া কাটাতে কোনোভাবেই চান না, অন্যদিকে তাঁদের পোষ্যরা খুন-জখম, হুমকি-ধমকি এবং চাঁদাবাজির মাধ্যমে নিজ নিজ কোটারির আধিপত্য বহাল রাখতে চেষ্টা করেন। এই ডামাডোলে আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদ্যা যে কবে উধাও হয়ে গেছে, তা স্বয়ং বিধাতা জানেন! বিশ্ববিদ্যালয় এখন ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতাপ্রত্যাশীদের পেশির সামর্থ্য প্রদর্শনের ক্ষেত্র। বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে এমন একটি মুক্তাঞ্চল, যেখানে বিদ্যমান রাজনীতির ভেতরের বিবাদ-বিসংবাদকে কেন্দ্র করে বড় রকমের শোডাউন হয়, রক্ত ঝরে, লাশ পড়ে এবং এর মাধ্যমে ওপর মহলে ক্ষমতাভাবনার মেরুকরণ হয়।
এসব প্রাগৈতিহাসিক ছাত্রনেতা ও হাল আমলের করপোরেট সন্ত্রাসীদের মিলনমেলাকে রাজনীতি বললেও এর মধ্যে ‘ছাত্র’ কোথায়? ছাত্র তো সেই বোবা মেজরিটি, যাকে প্রতিনিয়ত টিউশনি করে পড়ার এবং সংসারের খরচ জোগাড় করতে হয়, নেতা কিংবা সন্ত্রাসীর কাছে ধরনা দিয়ে হলে সিট পেতে হয়, এর প্রতিদানে নিয়মিত মিছিলে শামিল হতে হয়, মিটিংয়ে যেতে হয়, বড়ভাইদের ফুট-ফরমাশ খাটতে হয়, তারপর মাঝে মাঝে মাফিয়া চক্রের ক্ষমতা প্রদর্শনের দক্ষযজ্ঞে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। আমাদের ক্ষমতাবান গডফাদারদের কাছে এসব ছাত্র নেহাত সংখ্যামাত্র! তাস কিংবা দাবার ঘুঁটি। তাদের লাশের বিনিময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতা একটি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক থেকে অন্য নেটওয়ার্কে হাতবদল হয়। কোনো ছাত্র লাশ হয়ে যাওয়ার পরই আমরা আবিষ্কার করি, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পৌঁছাতে তার পেছনে পরিবারের বিনিয়োগ কী ছিল, কতটুকু প্রত্যাশা ছিল? রাজনীতির বিবেচনায় যে কিনা একটি সংখ্যামাত্র, পারিবারিক বিবেচনায় সেই ছিল প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু, যাকে তিল তিল রক্তে-ঘামে বড় করে তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে দিয়েছিল তার দুঃখী পরিবার। রাজনৈতিক বিবেচনায় যে কিনা নিছক সংখ্যা, সেই ছিল তার শিক্ষকের কাছে নতুন প্রতিশ্রুতি। এত কিছু প্রত্যাশা এবং প্রতিশ্রুতি থাকার পরও জয়ী হয় ছাত্ররাজনীতি, ছাত্র পরিণত হয় লাশে, দাবার ঘুঁটিতে। তার লাশ পড়ে থাকে ম্যানহোলে, শুরু হয় লাশের রাজনীতি। আমাদের বোবা মেজরিটি ছাত্র এভাবেই তার জীবন ও মরণ দিয়ে তথাকথিত ছাত্ররাজনীতির পরিষেবা করে চলে। আমরা যারা এসব ঘটনার ক্ষুব্ধ দর্শক, অবিরল তথ্যপ্রবাহ আমাদের এসব মৃত্যুর ঘটনাকে ভুলিয়ে দেয় হয়তো, কিন্তু নিহত ছাত্রের বাবা-মায়ের কান্না কি কোনো দিন থামে? নিম্নবিত্ত একটি পরিবারের যে অমূল্য রক্তঝরা বিনিয়োগ নিয়ে ফারুক, মহিউদ্দিন কিংবা আবু বকরের মতো ছেলে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত এসেছিলেন; কোন রাষ্ট্রীয় অনুদান দিয়ে তাঁদের পরিবারের ক্ষতি পূরণ হবে?
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যাপারে একধরনের চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স অবস্থান নিয়েছে। অপরদিকে ছাত্রশিবিরের ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামীর রয়েছে অকুণ্ঠ পক্ষপাত। দুটি বিষয়ই খুব গুরুত্বপূর্ণ। ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে প্রধানমন্ত্রীর বীতরাগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বারবার জানানো হয়েছে ছাত্রলীগকে। আমি একে নেহাত আইওয়াশ ভাবি না। গণতান্ত্রিক রাজনীতির পালাবদলে ছাত্ররাজনীতির ভূমিকা দিন দিন গৌণ হয়ে পড়ছে, প্রধানমন্ত্রীর বীতরাগের প্রকাশ থেকেও এটা ঠাহর করা যায়। আবার শিবিরের ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামীর অপত্য অনুরাগ থাকার কারণ হলো, ভোটের রাজনীতিতে জামায়াতের আস্থায় চিড় ধরেছে। ফলে ছাত্রশিবিরের ক্যাডারভিত্তিক রিক্রুটমেন্টই দলটির ভবিষ্যৎ।
তবে বীতরাগ প্রদর্শন, শাসানি কিংবা অভিমান করে এই ধ্বংসাত্মক সংস্কৃতি রোধ করা যাবে না। দলীয় রাজনীতির লেজুড় যে ছাত্ররাজনীতি, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সে তার ঐতিহাসিক ভূমিকাটুকু হারিয়ে ফেলেছে। ভোটের রাজনীতিতে তার কার্যকারিতাও কমে এসেছে। সংবিধানের দোহাই দিয়ে তাকে এখনো টিকিয়ে রাখার কোনো অর্থ হয় না, কারণ ছাত্ররাজনীতির বর্তমান সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কার্যক্রম অর্থাৎ জ্ঞানের উৎপাদন ও বিতরণকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতেই থাকবে। অতীত কালে আমরা এই ক্ষতিটুকু মেনে নিয়েছিলাম, যেহেতু উপনিবেশ ও স্বৈরশাসনবিরোধী সংগ্রামে ছাত্ররাজনীতির দরকারি ভূমিকা ছিল; যেহেতু ছাত্ররাজনীতির আদর্শিক ধারাটি জাতির সাংস্কৃতিক সংগ্রামে নেতৃত্ব দিত। সেসব আজ ইতিহাস। নতুন প্রেক্ষিতে নতুন করে ভাবা দরকার। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দলীয় রাজনীতির রিক্রুটমেন্ট সেন্টার হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য জাতীয় মতৈক্য হওয়া দরকার। রাষ্ট্রপতি চাইছেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয়ে উঠুক। সত্যি সত্যি বিদ্যায়তন হয়ে উঠুক। এটা সবারই চাওয়া। তবে এর জন্য প্রথমেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শর্তহীনভাবে ছাত্র ও শিক্ষকের হাতে ফেরত দিতে হবে। আর তা করতে হবে বিদ্যমান রাজনীতির ধারা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পুরোপুরি মুক্ত করার মাধ্যমে।
সেটা কীভাবে সম্ভব? ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে? উত্তর হলো, হ্যাঁ এবং না। বিশ্ববিদ্যালয় ভোটের রাজনীতির জায়গা নয়, দলীয় রাজনীতির রিক্রুটমেন্ট কেন্দ্র নয়, সন্ত্রাসের প্রজননক্ষেত্র নয়, পেশির সামর্থ্য প্রদর্শনের ডেমো এখানে আর নয়। তাতে প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের রাজনীতি করার অধিকার তো ক্ষুণ্ন হয় না। সে তো জাতীয় রাজনীতিতেই সরাসরি জড়িত হতে পারে, ভোট দিতে পারে, চাইতে পারে, আরও বয়স্ক হয়ে নির্বাচন করতে পারে। ছাত্র তাই স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিক হিসেবেই রাজনীতি করুক, ছাত্র হিসেবে নয়।
অতীতে যতবারই ছাত্ররাজনীতি নিয়ে কথা উঠেছে; শুনেছি, অনেকে বলেন ছাত্ররাজনীতির ‘গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের’ কথা। কিন্তু যে ঐতিহ্য বর্তমানের চাহিদার সঙ্গে খাপ খায় না, তাকে ধরে রাখার নামই পশ্চাত্পদতা। অনেকে আবার বলেন, মাথাব্যথার জন্য তো মাথা কেটে ফেলা যায় না। মোক্ষম কথা। তবে পিত্তে পাথর হলে পিত্ত কেটে ফেলাই চিকিৎসা। বিদ্যমান ছাত্ররাজনীতি এখন আর মাথার সমস্যা নয়, পিত্তের সমস্যা।
সুমন রহমান। কবি, কথাসাহিত্যিক।

দুই দ্বৈরথে দুটি ফেরার গল্প

এক দিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর এসি মিলানের দৃষ্টিনন্দন লড়াই। আরেক দিকে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে লিওঁর খেলা। একই সময়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের দুই মহারণ। টিভির পর্দায় কোন ম্যাচের দিকে চোখ রাখবেন আজ! দোনোমনা না হয়ে উপায় কী! দুটি লড়াইয়েই রোমাঞ্চকর দ্বৈরথের ইতিহাসের সঙ্গে আছে দুটি ফেরার গল্প।
চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানইউ-মিলানের সর্বশেষ চারটি দ্বৈরথের গল্পটা অদ্ভুত। চারটি লড়াইয়ের তিনটিতেই নিজেদের মাঠে মিলানকে হারিয়েছে অ্যালেক্স ফার্গুসনের দল। কিন্তু একবারও মিলানকে পেছনে ফেলে পরের রাউন্ডে যেতে পারেনি ‘অল রেড’রা। চারটি অ্যাওয়ে ম্যাচে মিলানের কাছে হেরেছে তারা।
শক্তিশালী প্রতিপক্ষ, তার পরও শেষ ষোলোর ড্রতে ম্যানইউকে পেয়ে খুশিই হয়েছিল মিলানের কর্মকর্তারা। ইংল্যান্ডের এই দলটিকে তারা যে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবেই নিয়েছে। এর কারণটাও পরিষ্কার—চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা লড়াইয়ের পথে যতবারই ম্যানইউ সামনে পড়েছে তাদের, ততবারই ফাইনালে উঠেছে মিলান। যদিও এই দুদলের গত চারটি লড়াইয়ের তিনটিই ছিল সেমিফাইনালে।
এবার অবশ্য প্রেক্ষাপট ভিন্ন। বিগত বছরগুলোয় ম্যানইউকে পেছনে ফেলতে যাদের বড় অবদান ছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কাকা। এবার ম্যানইউর সঙ্গে লড়াইয়ে নেই এ মৌসুমেই মিলান ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে নাম লেখানো ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার। আর ক্লারেন্স সিডর্ফ, আন্দ্রে পিরলো, জেনারো গাত্তুসো, আলেসান্দ্রো নেস্তারা বিগতযৌবন। ত্রিশ অতিক্রান্ত এই কজনার সোনালি দিন আর নেই।
তবে মিলান কোচ লিওনার্দোর ভরসা হয়ে আছেন নিজেকে ফিরে পাওয়া রোনালদিনহো এবং ম্যানইউর সাবেক ‘মিডফিল্ড জেনারেল’ ডেভিড বেকহাম। ফেরার গল্পটাও এখানেই। ম্যানইউ ছেড়ে যাওয়ার পর এই প্রথম ওল্ড ট্রাফোর্ডে ফিরছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক। এই প্রথম ওল্ড ট্রাফোর্ডে অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলার আগে আবেগাক্রান্ত তিনি। প্রিয় ওল্ড ট্রাফোর্ড তাঁকে কখনোই বিমুখ করেনি। বেকহামের বিশ্বাস, এবারও এই মাঠ তাঁকে খালি হাতে ফেরাবে না।
ওয়েইন রুনিও তাঁর সতীর্থদের মনে করিয়ে দিয়েছেন সেই কথা, ‘মিলানের দারুণ কিছু খেলোয়াড় আছে। পিরলো আর বেক তো গ্রেট খেলোয়াড়। রোনালদিনহো বিশেষ একজন। আর আমার কাছে সিডর্ফও বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়।’
রিয়াল মাদ্রিদ-লিওঁ ম্যাচে ফেরার গল্পগাথা করিম বেনজেমাকে নিয়ে। লিওঁ থেকে এ মৌসুমেই রিয়াল মাদ্রিদে নাম লিখিয়েছেন এই ফরাসি স্ট্রাইকার। তারপর এই প্রথম ফিরছেন লিওঁর মাঠে। এ ম্যাচের আগে আবেগ এসে ঘিরে ধরেছে বেনজেমাকে। তবে সেই আবেগের কাছে ভেঙে পড়েননি তিনি। একজন পেশাদার খেলোয়াড়ের কাছে যে আবেগের চেয়ে দল বড়, মনে করিয়ে দিয়েছেন সেটাই।
বেনজেমার ফেরার সঙ্গে আজ সবার মনে পড়বে রিয়াল-লিওঁ দ্বৈরথে লিওঁর এগিয়ে থাকার গল্পও। বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাবগুলোর একটি রিয়াল। ৩১ বার স্প্যানিশ লিগ জয়ের পাশে জ্বলজ্বল করছে ৯টি চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে লিওঁকে একবারও হারাতে পারেনি রিয়াল। লিওঁর স্টাডে জেরাল্ড স্টেডিয়ামে আগের দুটি লড়াইয়ের একটিতে ৩-০ এবং অন্যটিতে ২-০ গোলে হেরেছে রিয়াল।
এবার আর এটা হতে দিতে চান না রিয়ালের নতুন তারকাত্রয়ী রোনালদো-কাকা-বেনজেমা। তিনজনের কণ্ঠেই জয়ের প্রত্যয়। অভিন্ন কণ্ঠে তাঁরা উচ্চারণ করেছেন—‘ইতিহাসটা এবার পাল্টে দিতে চাই আমরা।’

থাইল্যান্ডে গুলিতে পাঁচজন নিহত

থাইল্যান্ডে সন্দেহভাজন বিচ্ছিন্নতাবাদী গেরিলারা গুলি করে নারীসহ চারজনকে হত্যা করেছে। এদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এক বিদ্রোহী নিহত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, পাত্তানি প্রদেশে গতকাল সকালে বাজারে যাওয়ার সময় এক বৌদ্ধ নারী ও তাঁর ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই প্রদেশে গতকাল বিদ্রোহীরা একজন মুসলিম নাগরিককে তাঁর বাড়ির বাইরে গুলি করে হত্যা করে। শনিবার ভোরে নারাথিওয়াত প্রদেশে অপর এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

ঢাকায় প্রীতিডোর চায় কিংস ইলেভেন

ঢাকায় প্রীতি ম্যাচ খেলতে আসার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আসেনি কলকাতা নাইট রাইডার্স। এবার শোনা যাচ্ছে আইপিএলের আরেক দল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের নাম। না, প্রীতি জিনতা-কুমার সাঙ্গাকারার দল কোনো প্রীতি ম্যাচ খেলতে আসছে না বাংলাদেশে। তারা আগ্রহী বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় কোনো ক্লাবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে।
বিসিবি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সিনিয়র সহসভাপতি মাহবুবুল আনামকে পাঠানো এক চিঠিতে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় কোনো ক্লাবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের বড় কোনো নামের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে চায় আইপিএলের দলটি। খেলোয়াড় আদান-প্রদান ছাড়াও এই চুক্তির আওতায় দুই ক্লাবের মধ্যে স্থাপিত হতে পারে বাণিজ্যিক সম্পর্ক, বিনিময় হতে পারে অনুশীলন সুবিধারও।
বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের কাছ থেকে এ রকম একটি প্রস্তাব পাওয়ার কথা জানিয়ে বলেছেন, ঢাকার কোন ক্লাবটির নাম পাঠানো হবে সেটা এখনো ঠিক হয়নি, ‘চুক্তির জন্য কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ঢাকার শীর্ষস্থানীয় কোনো ক্লাবের নাম জানতে চেয়েছে আমাদের কাছে। আমরা হয়তো শীর্ষস্থানীয় ২-৩টি ক্লাবের নাম পাঠাব তাদের। তবে এ ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

অস্ট্রেলিয়া-বিপর্যয় একটা শিক্ষা!

টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ। অস্ট্রেলিয়া সফরে একমাত্র টি-টোয়েন্টিতেও স্বাগতিকদের কাছে হার। একটা দলের আত্মবিশ্বাস তলানিতে নেমে যাওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজে অন্য বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানকেই দেখা যাবে বলে মনে করেন শোয়েব মালিক। ১৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ে অনুষ্ঠেয় দুটি টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিতে যাওয়া মালিকের উপলব্ধি, ‘ক্রিকেটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় আমরা ভালো খেলতে পারিনি। তবে যা হয়েছে সেটা পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য ভালোই হয়েছে। যা থেকে খেলোয়াড়েরা এবং দল উপকৃত হবে। যা ঘটেছে সেটা এখন ইতিহাস, এখন (ইংল্যান্ডের বিপক্ষে) দুটি ম্যাচ খেলতে উন্মুখ হয়ে আছি আমরা।’
তা মালিক যতই মুখিয়ে থাকুন, অস্ট্রেলিয়া সফরের দুঃস্মৃতি সহজেই পিছু ছাড়ছে না দলটির। অস্ট্রেলিয়া-বিপর্যয়ের সূত্রে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) তদন্ত কমিটির জেরার মুখে কোচ ইন্তিখাব আলম। যার কারণে দুবাইয়ে অনুষ্ঠেয় এই সিরিজে দলের বাইরে তিনি। কোচ থাকতে পারবেন কি না সেটিও অনিশ্চিত। বল টেম্পারিংয়ের দায়ে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়ায় শহীদ আফ্রিদি খেলতে পারছেন না প্রথম ম্যাচ। তা ছাড়া মালিকের বিপক্ষেই অস্ট্রেলিয়া সফরে দলীয় শৃঙ্খলা বিনষ্টের অভিযোগ তুলেছেন অধিনায়ক মোহাম্মদ ইউসুফ। তবে ইউসুফের অভিযোগকে বড় করে দেখছেন না মালিক, ‘যখন আপনি জিততে পারবেন না, তখন এসব কথা উঠবেই। কিন্তু ভুল থেকে আপনি শিখবেন, এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। আমরা কয়েকবার দলীয় সভায় বসেছি। সবকিছু নিয়েই কথা বলেছি, বলেছি অস্ট্রেলিয়ায় আমরা কী করেছি তা নিয়েও। এসব ভুল থেকে শিখেছি আমরা।’ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে সময়ের সদ্ব্যবহারের জন্য এটাই দারুণ একটা সুযোগ বলেও মনে করেন মালিক।
অস্ট্রেলিয়া সফরে পাকিস্তান যেমনই খেলুক না কেন, মালিকের দলকে সমীহ করছেন প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড অধিনায়ক পল কলিংউড। প্রতিপক্ষ সম্পর্কে সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়ে কলিংউড বললেন, ‘এটা খুবই সত্যি কথা যে, পাকিস্তান ভয়ংকর একটা দল। যখনই পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলবেন তাদের হারানো কঠিন হবে। তাদের বিপক্ষে যখন খেলবেন, তখন কী অপেক্ষা করছে সেটা নিশ্চিত হওয়া যায় না।’ তবে নিজেদের নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কলিংউড। বলছেন, পাকিস্তানকে হারাতে হলে খেলতে হবে নিজেদের সেরাটাই।

গৌরী খান বললেন, জয় মহারাষ্ট্র

বলিউড তারকা শাহরুখ খানের স্ত্রী গৌরী খান বলেছেন, ‘জয় মহারাষ্ট্র!’ দক্ষিণ মুম্বাইয়ের মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে মেয়েকে নিয়ে ঘুরে এসেই তিনি এই জয়ধ্বনী উচ্চারণ করেন। গৌরী বলেন, ‘জয় মহারাষ্ট্র!’ বলার এটাই উপযুক্ত সময়। এমন আর হয় না।
মাই নেম ইজ খান ছবিটি মহারাষ্ট্রের মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে দেখানো হবে কি না, তা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ছিল ঘোর অনিশ্চয়তা। শেষমেশ শুক্রবার মাল্টিপ্লেক্সগুলোর দরজা খুলে যায়। মাল্টিপ্লেক্স মালিকদের মধ্য থেকে কেউ কেউ বলেছেন এর নেপথ্য কাহিনি। সরকারের তরফে নিরাপত্তার সব রকম আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও শাহরুখ খানের নতুন ছবি মাই নেম ইজ খান না দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন তাঁরা। বিষয়টা মুখ্যমন্ত্রী অশোক চৌহানের কাছে খুব বেশি করেই আত্মসম্মানের প্রশ্ন হয়ে উঠেছিল।
গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পরিবেশক, প্রদর্শক এবং সরকারপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় যে বৈঠক চলে, সেখানে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন বলেন, প্রদর্শকেরা কিছুতেই রাজি হচ্ছেন না দেখে অশোক চৌহান প্রায় চরমপত্র দেন। সরকারের কাছে মাল্টিপ্লেক্সগুলো যে বিরাট অঙ্কের কর ছাড় পায়, মাই নেম ইজ খান না দেখালে সেই ছাড় তুলে নেওয়া হতে পারে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন মাল্টিপ্লেক্স চত্বরের মধ্যে নানা বেআইনি নির্মাণ রয়েছে। সে ব্যাপারেও তদন্ত শুরু করা হবে বলে সাবধান করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মালিক জানান, ‘ঠিক হুমকি হয়তো বলা যায় না; তবে হ্যাঁ, কর ছাড় তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। বেআইনি নির্মাণের যে তালিকা ওদের কাছে আছে, সেটাও আমাদের দেখানো হয়েছিল।’
শিবসেনাদের হুমকি উপেক্ষা করে গতকাল দাদার, পারেলের মতো কিছু এলাকা ছাড়া মুম্বাইয়ের সর্বত্রই দেখানো হয়েছে মাই নেম ইজ খান। ছবিটি মুক্তি পেয়েছে পুনেতেও। দুটি শহরেই সকাল থেকে টিকিটের জন্য ছিল লম্বা লাইন। উত্সাহী দর্শকদের বলাবলি করতে শোনা যায়, কী করবে শিবসেনা, পুলিশ আছে তো!
গৌরী খান দৃশ্যতই খুশি। দক্ষিণ মুম্বাইয়ের মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে মেয়েকে নিয়ে ঘুরে এসে তিনি তাই উচ্ছ্বাসভরা কণ্ঠে বলেন, ‘জয় মহারাষ্ট্র!’ বলার জন্য এর চেয়ে ভালো সময় আর হয় না।

তাজিকদের বিপক্ষে ‘নতুন’ বাংলাদেশ

ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে মাত্র দুই ধাপ এগিয়ে তারা। তাজিকিস্তান ১৪৮, বাংলাদেশ ১৫০। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে যোজন যোজন এগিয়ে তাজিকিস্তান। এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবলের প্রথম ম্যাচে সেই তাজিকিস্তানকেই সামলাতে হবে বাংলাদেশকে।
এর আগে দুই দলের পাঁচবারের সাক্ষাতে চারটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। একটা মাত্র ম্যাচ ড্র হয়েছিল। দুই দলের গোল ব্যবধানেও বিস্তর ফারাক। দুটি গোল দেওয়ার বিপরীতে বাংলাদেশ হজম করেছে ১৬টি গোল। ২০০৬ সালে ঢাকায় প্রথম এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে বিদায় নিয়েছিল আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানির বাংলাদেশ। তাজিকিস্তানের কাছে ৬-১ গোলের হারটা এখনো দেশের মাটিতে বড় লজ্জা। সেবার ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৪-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তাজিকিস্তান। দ্বিতীয়বার তো বাংলাদেশ বাছাইপর্বই পার হতে পারেনি।
বাংলাদেশ এবার হারার আগে হারতে চায় না। অধিনায়ক আমিনুল হক তো বলেই ফেললেন, ‘আমরা তাজিকিস্তানকে চমকে দিতে চাই।’ যাওয়ার আগে ভারপ্রাপ্ত কোচ সাইফুল বারীও অবশ্য ভালো খেলার প্রত্যাশা জানিয়ে গেছেন। তাঁর লক্ষ্য সেমিফাইনাল। আজকের ম্যাচটিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তবে অধিনায়ক আমিনুল কোনো ম্যাচকেই হালকাভাবে নিচ্ছেন না। তিনি প্রতিটি ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে চান। দলে কোনো ইনজুরি-সমস্যা নেই। শেষ মুহূর্তে এনামুলের অন্তর্ভুক্তিতে দলের শক্তিও বেড়ে গেছে অনেক।
বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে চারটায় কলম্বো সুগাথাদাসা স্টেডিয়ামে ‘এ’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে তাজিকিস্তানের। একই ভেন্যুতে গ্রুপের অন্য ম্যাচে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মিয়ানমারের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা।

পাকিস্তানের দখলে থাকা কাশ্মীর আসলে ভারতেরই: চিদাম্বরম

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম দাবি করেছেন, কাশ্মীরের যে অংশ পাকিস্তানের দখলে আছে, তা আসলে ভারতেরই ভূখণ্ড এবং যেসব ভারতীয় জম্মু ও কাশ্মীরের ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার নিয়ন্ত্রণ রেখা পার হয়ে এত দিন ওপারে (পাকিস্তান ভূখণ্ড) ছিল, তারা যদি আবার ভারতে ফিরতে চায়, তাদের গ্রহণ করতে ভারত সরকার প্রস্তুত।
কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ‘সন্ত্রাসী আত্মসমর্পণ’ নীতি গ্রহণের আহ্বান জানানোর এক দিন পরই চিদাম্বরম এ কথা বললেন। গত বৃহস্পতিবার কেবিনেটে এবং অর্থনৈতিকবিষয়ক কেবিনেটের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। তবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কোনো সময়সীমা বেঁধে দেননি চিদাম্বরম। এ সুযোগ একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে দেওয়া হবে; যে পরিকল্পনায় ‘আবেদনকারীদের পরিচয়, বিভিন্ন তথ্য, চলে যাওয়ার কারণ, জিজ্ঞাসাবাদ, পুনর্বাসন ইত্যাদি বিষয় পরীক্ষা করা হবে।’ এটা করা হবে জম্বু ও কাশ্মীরের নীতিনির্ধারকদের মতামতের ভিত্তিতেই। এ জন্য ভারতের সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও কাশ্মীরের সংবিধান বিশেষজ্ঞরা পার্লামেন্টে বসে করণীয় ঠিক করবেন।
চিদাম্বরম আরও বলেন, এ জন্য প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ইতিমধ্যে একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছেন, যাঁরা এর প্রভাবে জম্মু-কাশ্মীরের সম্ভাব্য বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করবেন।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ পরিকল্পনার সঙ্গে একমত হতে পারেননি বর্তমান ভারতের একজন পূর্ণ মন্ত্রী ও এক সময়ের কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী গোলাম নবী আজাদ। তিনি বলেন, এ আত্মসমর্পণ নীতি ভারতের জন্য বুমেরাং হতে পারে। ভিনদেশি সেনাসদস্য এ পরিকল্পনার আওতায় ভারতের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়বে। আর এটা যদি হয়, তবে কে এর দায় নেবে? এটা কোনোভাবেই প্রমাণ করা যাবে না, এই ব্যক্তি সীমান্ত রেখা অতিক্রম করে পাকিস্তানে গিয়েছিল। এ পরিকল্পনায় পাকিস্তানের জঙ্গিরাও সুযোগ নিতে পারে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে প্রায় চার হাজার কাশ্মীরি যুবক সীমান্ত রেখা অতিক্রম করে চলে গিয়ে জঙ্গি সংগঠনে জড়িয়ে পড়ে। এর পর অনেকে ফিরে আসে। এখন অন্যরা তাদের ভুল বুঝতে পেরে ফিরে আসার জন্য নানারকম ফন্দি-ফিকির করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তবে তাদের ফিরে আসার বিষয়টি নির্ভর করছে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষজ্ঞদের মতামতের ওপর। এ জন্য কাশ্মীরের বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।

রাহুলই হবেন ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী

ভারতে এ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী পদে পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছেন মনমোহন সিং। তাঁর সঙ্গে জনপ্রিয়তায় যথেষ্ট ফারাক রয়েছে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক সোনিয়া-রাজীব তনয় রাহুল গান্ধীর। কিন্তু যদি হিসাব করা হয় আগামী ২০১৪ সালের নির্বাচনকে নিয়ে, তবে সেই নির্বাচনে রাহুলই হবেন ওই পদে সেরা পছন্দ। ভারতের বড় নগরগুলোতে চালানো জরিপে মিলেছে ওই স্পষ্ট বার্তা।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার উদ্যোগে ভারতের ছয়টি বড় শহর—দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদে পরিচালিত জনমত জরিপে অধিকাংশ ভোটারই বলেছেন, আগামী নির্বাচনে রাহুলই হতে যাচ্ছেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ওই নির্বাচনে কংগ্রেস যে পুনরায় ক্ষমতায় আসছে এ ধারণাও ধ্বনিত হয়েছে জরিপে।
জরিপ থেকে আরও আভাস মিলেছে, অধিকাংশ উত্তরদাতা গান্ধী বংশের অভিজাত তরুণ রাহুলের তারুণ্য, যোগাযোগের ক্ষমতা ও বিশ্বস্ততাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। তাঁদের ধারণা, রাহুলের রাজনৈতিক স্টাইল তাঁর বাবার মতো। কেউ কেউ বলেছেন, তিনি তাঁর দাদি ইন্দিরাকে অনুসরণ করছেন। কিন্তু তৃতীয় পক্ষের বক্তব্য, রাহুলের স্টাইল একেবারেই স্বতন্ত্র। রাহুল একেবারে রাহুলের মতোই।
জরিপে অংশগ্রহণকারীরা রাহুলের কর্মকাণ্ডের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। দু-তৃতীয়াংশ ভোটার তাঁর কাজকে ‘চমত্কার’ কিংবা ‘ভালো’ বলেছেন। এক-দশমাংশেরও কম লোক বলেছেন, তাঁর কর্মকাণ্ড ‘খারাপ’ বা ‘খুবই খারাপ’।
জরিপে এ সময়ে প্রধানমন্ত্রিত্বের জন্য মনমোহন সিং পেয়েছেন ৪৪ শতাংশ এবং রাহুল পেয়েছেন ৩১ শতাংশ ভোট। প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য রাহুল ও সোনিয়ার মধ্যে তুলনার পর দেখা গেছে, রাহুলের ঝুড়িতে ৭৭ শতাংশ এবং মা সোনিয়ার ঝুড়িতে মাত্র ২৩ শতাংশ ভোট পড়েছে।
রাহুল কোনো শহরেই তাঁর মায়ের তুলনায় দু-তৃতীয়াংশের কম ভোট পাননি। দুজনের পার্থক্যটা বেঙ্গালুরুতে ছিল সবচেয়ে কাছাকাছি। সেখানে ৬৯ শতাংশ রাহুলের এবং ৩১ শতাংশ সোনিয়ার পক্ষে ভোট পড়ে।
কেবল চেন্নাই শহরে রাহুলের তারুণ্যের বদলে তাঁর যোগাযোগের ক্ষমতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। কলকাতায় রাহুলের অবস্থান সবচেয়ে ভালো। সেখানে ৪৩ শতাংশ ভোটার তাঁর কর্মকাণ্ডকে ‘চমত্কার’ ও ৩২ শতাংশ ‘ভালো’ বলে উল্লেখ করেছেন।
একমাত্র হায়দরাবাদেই সবচেয়ে বেশি অর্থাত্ ১৮ শতাংশ লোক বলেছেন, তাঁরা চান না রাহুল প্রধানমন্ত্রী হোক।

দিল্লি, ইন্দোর ও কানপুরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

ভারতের পুনের একটি রেস্তোরাঁয় বোমা বিস্ফোরণের পর দিল্লি, ইন্দোর ও কানপুরে গতকাল রোববার সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের অন্য রাজ্যগুলোতেও নিরাপত্তা জোরদার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুনেতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ফিরে এক বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম ওই নির্দেশ দেন। ওই বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই বিদেশি নাগরিকসহ নয়জন নিহত ও ৫৭ জন আহত হন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন কলকাতার নাগরিক।
সরকার বলেছে, পুনেতে রেস্তোরাঁয় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় কারা জড়িত, সে ব্যাপারে তাদের তেমন কোনো ধারণা নেই। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ ঘটনায় ভারতীয় জঙ্গিরা জড়িত থাকতে পারে। দেশটির প্রধান বিরোধী দল বলেছে, বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন করে শুরু হতে যাওয়া বৈঠককে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি ওই বোমা হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি পরমাণু শক্তিধর দুই প্রতিপক্ষের মধ্যে থেমে থাকা শান্তি আলোচনা নতুন করে শুরুর ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
পুনেতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর চিদম্বারম গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং হুমকি মোকাবিলায় বিদ্যমান ব্যবস্থা সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। বৈঠক শেষে চিদাম্বরম প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে ৭ রেসকোর্স রোডে যান। সেখানে তিনি দেশের সর্বশেষ নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রীকে জানান।
গতকাল সকালে পুনেতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে চিদাম্বরম হামলার ঘটনায় গোয়েন্দাদের ব্যর্থতার অভিযোগ উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, এখানে গোয়েন্দারা ব্যর্থ হয়েছে—এমনটি বলা যাবে না। কারণ, ওই বিশেষ এলাকাটি অনেক দিন ধরে নজরদারিতে রয়েছে এবং এটি শান্ত এলাকা। কিন্তু এখানেই পেতে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদেশি পর্যটকদের সমাগমের কারণে পুনে সব সময় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের নজরদারির মধ্যে থাকে। তাই জায়গাটি জঙ্গিদের লক্ষ্যস্থল না-ও হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে কোনো আশঙ্কাই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ঘটনার তদন্ত চলছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে ভয়াবহ হামলার আগে ভারতের বেশ কয়েকটি স্থানে একের পর এক বোমা হামলা হয়েছিল। সেই হামলায় শতাধিক লোক প্রাণ হারায়। ওই বোমা হামলাগুলোর সঙ্গে পুনেতে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার মিল রয়েছে।
দেশটির প্রধান বিরোধী দল বলেছে, বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন করে শুরু হতে যাওয়া বৈঠককে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। হিন্দু জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জ্যেষ্ঠ নেতা অরুণ জেটলি বলেছেন, ‘পুনের ঘটনা আমাদের নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতাকেই তুলে ধরে।’
পুনের জার্মান বেকারি রেস্তোরাঁয় গত শনিবার সন্ধ্যায় ওই বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারতে এটাই সবচেয়ে বড় ধরনের বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা।

হাইতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসংখ্যা কমল

মার্কিন সামরিক বাহিনী হাইতিতে ভূমিকম্প-পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন মূল্যায়ন করে তাদের সেনাসংখ্যা ২০ হাজার থেকে ১৩ হাজারে নামিয়ে এনেছে।
গত শনিবার জেনারেল ডগলাস ফ্রেসার বলেন, হাইতি সরকার দিনের বেলায় পোর্ট-অ-প্রিন্স বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণভার ফিরিয়ে নিচ্ছে। ভূমিকম্পের পরপরই উদ্ধার অভিযান চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র বিমানবন্দরটির নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করেছিল।
ভূমিকম্প আঘাত হানার এক মাস পর এ দেশ সফরে গিয়ে তিনি বলেন, হাইতিতে আনুমানিক ১৩ হাজার মার্কিন পুরুষ ও নারী সেনাসদস্য রয়েছেন। তাঁরা এখানে ভূমিকম্প-পরবর্তী পুনর্গঠন প্রচেষ্টায় সহায়তা করছেন। ওই ভূমিকম্পে প্রায় দুই লাখ লোকের প্রাণহানি ঘটে।
ডগলাস বলেন, হাইতিতে আন্তর্জাতিক সাহায্য ও ত্রাণ প্রচেষ্টা বেড়েছে। হাইতিতে মার্কিন সেনা কত দিন অবস্থান করবে, তিনি অবশ্য সে ব্যাপারে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। তবে তিনি বলেন, এটা দেশটির প্রয়োজনীয়তার ওপর নির্ভর করছে। ভূমিকম্পে এখানে ১০ লাখ লোক গৃহহীন হয়েছে।

চীনে মেলামিনযুক্ত গুঁড়ো দুধ ধ্বংস

চীনে বিপুল পরিমাণ ভেজাল গুঁড়ো দুধ ধ্বংস করা হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ক্রেতাদের নিশ্চিত করা হয়েছে, আবারও ক্ষতিকর মেলামিন মেশানোর অভিযোগ ওঠার পর বিপুল পরিমাণ গুঁড়ো দুধ জব্দ করা হয়। সেগুলো সম্প্রতি ধ্বংস করা হয়েছে এবং বিভিন্ন কোম্পানিকে সতর্ক করা হয়েছে। কোম্পানিগুলো যেন ভেজাল গুঁড়ো দুধ মজুদ ও রপ্তানি না করে, সে ব্যাপারে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০০৮ সালে প্রথম চীনা গুঁড়ো দুধে ক্ষতিকর মেলামিন মেশানোর অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে বিশ্বব্যাপী হইচই পড়ে যায়। ওই সময় এই গুঁড়ো দুধ খেয়ে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়। অসুস্থ হয়ে পড়ে আরও অন্তত তিন লাখ শিশু।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বৈঠকে বিতর্কের জন্য প্রস্তুত ইরান ও পশ্চিমা বিশ্ব

ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আজ সোমবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কাউন্সিলের বৈঠকে মুখোমুখি হচ্ছে পশ্চিমা বিশ্ব ও তেহরান। কাউন্সিলের মানবাধিকারবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনের ওপর ৪৭টি সদস্য-দেশের প্রতিনিধিরা উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেবে। গত বৃহস্পতিবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবের বার্ষিকীতে বিরোধীদের ওপর দমন-নিপীড়নের ঘটনা এ বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা।
গণগ্রেপ্তার, বন্দী নির্যাতন, লোক-দেখানো বিচার ও রাজনৈতিক কারণে বিরোধীদের হত্যা এবং তথ্য আদান-প্রদান ও সংবাদমাধ্যমের মত-প্রকাশে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ইরানের সরকারকে অভিযুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরাও কয়েক বছর ধরে উদ্বেগ জানিয়ে এসেছে। ২০০৫ সাল থেকে জাতিসংঘের মানবাধিকারকর্মীদের ইরানে ঢোকার অনুমতি দিচ্ছে না সে দেশের সরকার।
ইরানবিষয়ক মার্কিন উপসহকারী মন্ত্রী জন লিমবার্ট জানান, ২০০৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ইরানে মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেনেভায় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই সরকারবিরোধীরা রাজতন্ত্রের সমর্থক নয়, তারা দীর্ঘমেয়াদি বিরোধীপক্ষও নয়, তারা সমাজেরই অংশ।’
মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান সরকার সে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সৃষ্ট সমালোচনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশের ভেতর তারা বিষয়টি (সমালোচনা) নিয়ে নেতিবাচক আবহ তৈরি করতে পেরেছে। ইরানের সমাজ একটি ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সফল মডেল।
এতে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য সে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে নিয়মিতভাবেই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে পশ্চিমা বিশ্ব। মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো ইরানকেও বেশ কিছু সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।
চীন ও রাশিয়াও আজকের বৈঠকে অংশ নেবে। জাতিসংঘের সব সদস্য-রাষ্ট্রকেই চার বছরের মানবাধিকার পর্যালোচনা প্রতিবেদন জমা দিতে হয়। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, মানবাধিকারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান রক্ষায় ইরানের ব্যর্থতাকে প্রশ্ন করার সুযোগ পেয়েছে সদস্য-দেশগুলো। গত শুক্রবার ইরানের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী শিরিন এবাদি ইরানে এই মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি বিষয়ে কাউন্সিলকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

জারদারি-ইফতেখার ফের মুখোমুখি

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধান বিচারপতি ইফতেখার মাহমুদ চৌধুরীর মধ্যে আবারও বিরোধ শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট জারদারি গত শনিবার বিকেলে প্রধান বিচারপতির অনুমোদন ছাড়াই দুজন বিচারক নিয়োগ দেওয়ায় তাঁদের মধ্যে নতুন করে ওই বিরোধের সৃষ্টি হয়। এতে দুর্বল সরকার ও দেশের বিচারব্যবস্থা ফের হুমকির মধ্যে পড়েছে।
ওই নিয়োগের পরপরই বিচারপতিদের অনির্ধারিত বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে বলা হয়, জারদারির ওই নিয়োগ অসাংবিধানিক। বিচারপতিরা নিয়োগের প্রতিবাদ করে এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।
প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বিচারপতিদের এই অবস্থান একাধারে সরকার এবং তালেবান ও আল-কায়েদা জঙ্গি নির্মূলে দেশটির প্রতি মার্কিন চাপের বিষয়টি আরও প্রকট করে তুলেছে। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কাজী আনোয়ার বলেন, ‘আমরা এখন একটি সংকটকাল অতিক্রম করছি। প্রেসিডেন্ট জারদারি সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন প্রমাণিত হলে সংবিধানের ১৭৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে ওই পদে অযোগ্য ঘোষণা করতে পারেন।’
পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডন পত্রিকাও এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে একে ভয়ংকর ঘটনা বলে উল্লেখ করেছে। ডন-এর এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ঐতিহাসিকভাবে বিরোধপূর্ণ এ দুটি প্রতিষ্ঠান দেশটির সংবিধান ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হচ্ছে এবং তারা বিপর্যয়কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।
শনিবার পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্ শহর লাহোরে এক শর মতো আইনজীবী প্রেসিডেন্ট জারদারির বিরুদ্ধে এবং আদালতের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
২০০৭ সালে পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফ বিচারপতি ইফতেখার মাহমুদ চৌধুরীকে বরখাস্ত করেন। ২০০৮ সালে জারদারি ক্ষমতা গ্রহণের পর ইফতেখার চৌধুরীকে পুনর্বহালের দাবিতে বিচারকেরা আন্দোলন শুরু করলে দেশটির সরকার ও বিচার বিভাগের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। অবশেষে গত বছর মার্চে ইফতেখারকে তাঁর পদে পুনর্বহাল করতে বাধ্য হন জারদারি।

আলোচনার জন্য জান্তার প্রতি টিন ওর আহ্বান

মিয়ানমারের বিরোধী দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট টিন ও মুক্তি পাওয়ার পরদিনই তাঁর দলের সঙ্গে আলোচনার জন্য দেশটির জান্তা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে নির্বাচনের আগে তাঁর ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) প্রধান অং সান সু চিসহ সব রাজনৈতিক বন্দীকে শিগগির মুক্তি দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
ইয়াঙ্গুনের বিখ্যাত শউই ডাগোন প্যাগোডায় গতকাল রোববার এক বিশেষ প্রার্থনা শেষে এনএলডির ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘একজন বৌদ্ধধর্মাবলম্বী হিসেবে আমি এখানে এসেছি আমার দেশের সব নাগরিকের জন্য শান্তি প্রার্থনা করতে। এ সময় টিন ওর স্ত্রীসহ দলীয় বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী তাঁর সঙ্গে ছিলেন। প্রায় সাত বছর গৃহবন্দী রাখার পর জান্তা সরকার গত শনিবার টিনকে মুক্তি দেয়।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে গতকাল দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে টিন বলেন, ‘সব মিয়ানমারবাসী যাতে ঐক্যবদ্ধ ও শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারেন, এই লক্ষ্যে জান্তা সরকারের সঙ্গে আমরা আলোচনায় বসতে চাই। দুই পক্ষের আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটা শান্তিপূর্ণ উপায় বের করতে চাই। সফল রাস্তা তৈরি করতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জান্তা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে যদি সব বিষয়ের সফল সমাধান করতে পারি, তাহলে আমার দেশের সব নাগরিক খুশি হবেন।’
টিন আরও বলেন, দেশের গণতন্ত্রের জন্য গৃহবন্দিত্ব থেকে তাঁর মুক্তি পাওয়া বড় কথা নয়; যদি না সে দেশের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চিসহ তাঁর দলের বন্দী প্রায় দুই হাজার এক শ নেতা-কর্মীকে মুক্তি দেওয়া হয়। টিন জোর দিয়ে বলেন, এসব নেতা-কর্মীকে আটক রেখে নির্বাচন করা হলে তা হবে অর্থহীন। তিনি বলেন, ‘মুক্তি পেয়ে আমি কী করে খুশি হব, যখন আমার অনেক নেতা-কর্মী যাবজ্জীবন গৃহবন্দিত্ব ভোগ করছেন?’
টিন ওর মুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। তাঁর মুক্তির খবরে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জাপানের পক্ষ থেকেও স্বাগত জানানো হয়েছে।

তালেবানের প্রতিরোধের মুখে পড়ছে ন্যাটো বাহিনীর অভিযান

আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর নেতৃত্বে তালেবানবিরোধী অভিযানের দ্বিতীয় দিনে গতকাল রোববার জাঙ্গিদের পেতে রাখা মাইন ও স্নাইপারের গুলি অভিযানের গতি ধীর করে দিয়েছে। মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর সেনানায়কেরা এ কথা বলেন। গত শনিবার অভিযানের শুরুতে সফল্যের দাবি করেছিলেন তাঁরা।
তালেবান জঙ্গি ও মাদক পাচারকারী নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানে মধ্যাঞ্চলীয় হেলমান্দ উপত্যকার মারজাহ শহরে এ অভিযান চলছে। ৮০ হাজার মানুষের এ শহরটি হেলমান্দ উপত্যকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। এ অভিযান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নতুন আফগাননীতির প্রথম পরীক্ষা। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও আফগানিস্তানের ১৫ হাজার সেনার সমন্বয়ে শুরু করা এ অভিযান ২০০১ সালে তালেবান শাসনের পতনের পর সবচেয়ে বড় অভিযান। ন্যাটোর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহায়তাকারী বাহিনী (আইএসএএফ) নিশ্চিত করেছে, অভিযানে গতকাল বিকেল পর্যন্ত একজন ব্রিটিশ ও একজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে।
দক্ষিণ আফগানিস্তানে মার্কিন মেরিন বাহিনীর অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ল্যারি নিকলসন বলেন, অভিযানের প্রথম দিনটি ভালো ছিল। এরই মধ্যে কয়েক হাজার মেরিন সেনা মারজাহ শহরে ঢুকে পড়েছে। তবে তিনি শহরের উত্তর-পূর্বাংশের কিছু এলাকা পরিদর্শন করে দেখেছেন, তাঁদের সেনারা জঙ্গিদের প্রতিরোধের মুখোমুখি হচ্ছে।
ল্যারি নিকলসন বলেন, সেনাদের লক্ষ্য করে স্নাইপার রাইফেল থেকে প্রচুর গুলি ছোড়া হচ্ছে। মাইন শনাক্তকারী যানগুলো বিপুলসংখ্যক পেতে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। জঙ্গিরা মারজাহ শহর ও এর আশপাশ এলাকায় মাইন পেতে রেখেছে, যা শনাক্ত করা বেশ দুস্কর। তিনি জানান, শনিবার বোমা পাতার সময় জঙ্গিদের লক্ষ্য করে ১৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়েন তাঁরা।
আফগান সেনা ও মার্কিন মেরিন কর্মকর্তারা জানান, সেনারা শনিবার হেলিকপ্টার থেকে মারজাহ শহরে অবতরণ শুরু করে এবং গুলির মুখে পড়ে। হেলমান্দের গভর্নর মোহাম্মাদ গুলাব মঙ্গল জানান, ‘মুসতারাক’ নামের এ অভিযানের লক্ষ্য হচ্ছে, ওই এলাকা তালেবানমুক্ত এবং আফগান সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
ঊর্ধ্বতন ব্রিটিশ সামরিক মুখপাত্র মেজর জেনারেল গর্ডন মেসেঞ্জার লন্ডনে দাবি করেন, অভিযানের মূল লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। অভিযানে ব্রিটিশ সেনাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, জনবহুল এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং শহরে থানা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান পুনঃস্থাপন করা। বিক্ষিপ্তভাবে লড়াই হচ্ছে, তবে তালেবান জঙ্গিদের বিভ্রান্ত ও ঐক্যহীন মনে হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে মোল্লা আবদুল রেজাক আখন্দ নামের একজন তালেবান কমান্ডার এ অভিযানের নিন্দা জানিয়ে একে একটি জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, পরাজিত ও ব্যর্থ সামরিক কমান্ডার জেনারেল ম্যাকক্রিস্টালের মান বাঁচানোর জন্য এ অভিযান চালানো হচ্ছে।
কাবুলে ন্যাটোর সিনিয়র বেসামরিক প্রতিনিধি মার্ক সেডউইল বলেছেন, ‘আফগান বেসামরিক শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তালেবানবিরোধী এই সামরিক অভিযান কত দিন চলবে, তা এখন আমি বলতে পারছি না।’ আইএসএএফ জানায়, অভিযানে শনিবার পাঁচজন বিদেশি সেনা নিহত হয়। এদের মধ্যে তিনজন মার্কিন সেনা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আফগানিস্তানের শহর মারজায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানের সর্বশেষ পরিস্থিতি হোয়াইট হাউসের পর্যবেক্ষণ কক্ষের মাধ্যমে অবহিত হয়েছেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টমি ভিয়েটর জানান, ওবামা গতকাল জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল জিম জোনসের সঙ্গে আফগান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। জেনারেল জোনস সম্প্রতি আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সফর করেন।

দ্বিতীয়বার মহাকাশে হাঁটলেন এনডেভরের নভোচারীরা

মার্কিন নভোযান এনডেভরের দুজন নভোচারী রবার্ট বেনকেন ও নিকোলাস প্যাট্রিক এই অভিযানে গত শনিবার দ্বিতীয়বার মহাকাশে হেঁটেছেন। এদিন তাঁরা পৃথিবী থেকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া পর্যবেক্ষণ ডেকটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) স্থাপন করার কাজ এগিয়ে নেন। মার্কিন মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্র নাসা এ কথা জানিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার প্রথমবার মহাকাশে হেঁটে এ কাজ শুরু করেছিলেন তাঁরা। গত সোমবার ছয়জন নভোচারী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি মহাকাশকেন্দ্র থেকে আইএসএসের উদ্দেশে রওনা হয় এনডেভর।
নাসা জানায়, প্রথম চার ঘণ্টায় নভোচারী রবার্ট বেনকেন ও নিকোলাস প্যাট্রিক মহাকাশ স্টেশনে নতুন স্থাপিত ‘ট্রাংকুইলিটি মডিউল’ ও পর্যবেক্ষণ ডেকের অ্যামোনিয়া লুপগুলো আইএসএসের সঙ্গে যুক্ত করবেন। নাসা আরও জানিয়েছে, এনডেভরের অভিযানের সময়সীমা আরও এক দিন বাড়ানো হয়েছে। ওই এক দিন আরও কিছু যন্ত্রপাতি পুনঃস্থাপনের কাজে ব্যয় করা হবে। এর ফলে অভিযানের সময়সীমা বেড়ে ১৪ দিন হলো। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি এনডেভরের পৃথিবীতে ফেরার কথা।
নাসা আরও জানিয়েছে, সাত জানালাবিশিষ্ট পর্যবেক্ষণ ডেকের জানালাগুলো আগামী বৃহস্পতিবার খোলা হতে পারে। এর ফলে আইএসএসবাসী মহাকাশ স্টেশনে বসেই পৃথিবী ও মহাকাশ দেখার সুযোগ পাবেন।

ইরান অবরোধে চীনের সমর্থন আদায়ের চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন গতকাল রোববার উপসাগরীয় অঞ্চলে তাঁর তিন দিনের সফরের শুরুতে কাতার পৌঁছেছেন। সেখান থেকে তিনি সৌদি আরব যাবেন। মূলত ইরানের ওপর অবরোধ আরোপে চীনের সমর্থন আদায়ে সৌদি আরবকে ব্যবহার করতেই তিনি এ সফর করছেন।
এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের ওপর কঠোর অবরোধ আরোপে রাশিয়ার সমর্থন আদায়ে গতকাল মস্কো গেছেন। সেখানে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ, প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এএফপি।
কাতার রওনা হওয়ার আগে হিলারি ক্লিনটনের সফরসঙ্গী সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেফ্রে ফেল্টম্যান সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করতে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কসহ ওই অঞ্চলের সমর্থন আদায়ের জন্যই হিলারির এ সফর। এ ছাড়া তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নিরাপত্তা বাড়াতে ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থা স্থাপন ও ওই অঞ্চলের মার্কিন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক এবং সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
ইরানের ওপর অবরোধ আরোপ করা হলেও চীনের জ্বালানি তেলের কোনো সমস্যা হবে না—সৌদি নেতাদের মাধ্যমে চীনকে এমন নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। এর বিনিময়ে চীনকে ইরানের ওপর অবরোধ আরোপের সমর্থন দিতে হবে। চীনকে এমন প্রস্তাব দেওয়া হবে কি না—জানতে চাইলে সরাসরি কিছু বলেননি জেফ্রে ফেল্টম্যান। তবে তিনি বলেন, ‘চীন ও সৌদি আরবের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক আছে।’
চীন তার প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ ইরান থেকে আমদানি করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরানের ওপর অবরোধ আরোপ করা হলে চীন কিছুটা সমস্যায় পড়বে। এ কারণে ইরানের ওপর অবরোধ আরোপের বিষয়টি সমর্থন করছে না চীন। আর সৌদি আরবের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকায় সেটাকে ব্যবহার করে চীনের সমর্থন আদায় করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো প্রয়োগের ক্ষমতার অধিকারী পাঁচটি দেশের একটি হলো চীন।

বিপণিবিতানে সাপ্তাহিক ছুটি এক দিন করার দাবি ব্যবসায়ীদের

রাজধানীর দোকান, বিপণিবিতান, ব্যবসা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় সাপ্তাহিক ছুটি দেড় দিন করায় ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থে সাপ্তাহিক ছুটি দেড় দিনের পরিবর্তে এক দিন করার দাবি জানিয়েছেন রাজধানীর ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে তাঁরা যানজট নিরসনে রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি ছুটির দিনে খোলা রেখে অন্যান্য দিন অঞ্চলভেদে সাপ্তাহিক ছুটি নির্ধারণের প্রস্তাব করেছেন।
গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যবসায়ী সংগঠন ঐক্য পরিষদ ও মহানগর দোকান মালিক সমিতির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
পুরান ঢাকার মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যবসায়ী সংগঠন ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ও মহানগর দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন। এতে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজি এনায়েত হোসেন, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক দেলোয়ার হোসেন, ডিসিসিআইয়ের সাবেক সহসভাপতি আলাউদ্দিন মালিক, মহানগর দোকান মালিক সমিতির ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি রেজাউল করিম প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সপ্তাহে দেড় দিন সাপ্তাহিক ছুটি রাখা হলে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার সৃষ্টি হবে। কারণ, পাইকারি ব্যবসায়ীদের ব্যবসার সময় সকাল নয়টা থেকে বেলা তিনটা। অন্যদিকে খুচরা ব্যবসায়ীদের ব্যবসার সময় সকাল সকাল ১০টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত। তা ছাড়া সাপ্তাহিক ছুটি দেড় দিন হলেও কার্যত তা দুই দিনে পরিণত হবে, আর ব্যাংকিং লেনদেনের ক্ষেত্রে তা চার দিনে পরিণত হবে, যা ব্যবসায়ীদের পক্ষে মেনে চলা সম্ভব নয়।

আগামী মাসে ৩৭০ কোটি টাকার ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের দরপত্র

আগামী মাসে চট্টগ্রাম বন্দরের ‘ক্যাপিটাল ড্রেজিং’ প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হবে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৭০ কোটি টাকা।
এই প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগ করা হয়েছে গত মাসে। বন্দরের এক নম্বর জেটি থেকে উজানের দিকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার অংশে নদীর মাটি তুলে তা দিয়ে নদীসংলগ্ন রাস্তা (মেরিন ড্রাইভ) তৈরি করা হবে।
কর্ণফুলী নদী থেকে বালু উত্তোলন বিষয়ে বন্দর কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নূর এ আলম চৌধুরী, নৌপরিবহন সচিব আবদুল মান্নান হাওলাদার এবং বন্দরের চেয়ারম্যান কমডোর আর ইউ আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শাজাহান খান বলেন, আঞ্চলিক বন্দর হিসেবে ব্যবহার করতে পারলে এ বন্দরের মাধ্যমে বছরে সাত হাজার কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। অথচ অনেকেই না জেনে এর বিরোধিতা করছেন। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে নৌ-প্রটোকলের আওতায় বাংলাদেশের ৩০৫টি জাহাজ চলাচল করছে। আর ভারতের জাহাজ চলাচল করছে মাত্র পাঁচটি।
কর্ণফুলী নদী থেকে বালু উত্তোলনের ব্যাপারে নানা ধরনের অনিয়ম আছে বলে উল্লেখ করেন নৌপরিবহনমন্ত্রী। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে এখন থেকে নীতিমালা অনুযায়ী উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হবে। বালু উত্তোলনের সময় কেউ নিয়ম ভাঙলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শ্রমিক অসন্তোষ সম্পর্কে নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন আইন অনুযায়ী শ্রমিক ও মালিকদের একটি করে সংগঠন নিবন্ধন হলে এ ধরনের পরিস্থিতি থাকবে না। কারণ শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করব আমরা।’
বন্দরের টাকায় বিদেশ সফর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, চারদলীয় জোট যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন বিদেশ সফরের নামে ৭০ লাখ টাকা খরচ করেছে। অথচ তারা একটি প্রতিবেদনও দিতে পারেনি। আমরা ৩৫ লাখ টাকা খরচ করেছি। বিদেশ সফরে যেসব ধারণা নিয়ে এসেছি, সেসব বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

ঢাকা আসছে বাহরাইন ক্রিকেট দল

১৮ ফেব্রুয়ারি নেপালে পেপসি আইসিসি ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লিগের ডিভিশন ফাইভের ম্যাচ খেলবে বাহরাইন ক্রিকেট দল। তার আগে তারা বাংলাদেশে একটি এক দিনের ম্যাচ খেলবে জিপি-বিসিবি জাতীয় ক্রিকেট একাডেমি আমন্ত্রিত একাদশের বিপক্ষে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ১৭ ফেব্রুয়ারির এই ম্যাচটি খেলতে বাহরাইন দল ঢাকা পৌঁছাবে আগামীকালই।
একাডেমি দলের সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া দলের অধিনায়ক করা হয়েছে তানভির হায়দারকে। নির্বাচিত ১৪ ক্রিকেটারকে আজ বিকেল ৫টায় হাইপারফরম্যান্স লজিস্টিক কর্মকর্তা শহীদুল ইসলামের কাছে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।
জিপি-বিসিবি দল: তানভীর (অধিনায়ক), নুরুল, ইমতিয়াজ, মায়শুকুর, সৈকত, আবুল বাশার, কামরুল, তাসামুল, আরিফুল, আরমান, কামরুল, আলাউদ্দিন, নাবিল সামাদ ও শাকের।

জয়ে শুরু বোল্টের

জয় দিয়ে মৌসুম শুরু করলেন উসাইন বোল্ট। তবে ১০০ কিংবা ২০০ মিটারে নয়, স্প্রিন্টের রাজা দৌড়েছেন ৪০০ মিটারে। নিজ দেশ জ্যামাইকার কিংস্টনে ক্যাম্পারডাউন ক্লাসিক চ্যাম্পিয়নশিপে বোল্ট প্রথম হয়েছেন ৪৫.৮৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে। মৌসুমে প্রথম ট্র্যাকে নেমে নিজের টাইমিংয়ে সন্তুষ্টই ১০০ ও ২০০ মিটারের অলিম্পিক ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, ‘ঠিক নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য আমার ছিল না, তবে ৪৫ সেকেন্ডে দৌড়ানো ভালো লক্ষণ।’ গত বছর বার্লিনে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটারে ৯.৫৮ ও ২০০ মিটারে ১৯.১৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন বোল্ট। গত মৌসুমটাও তিনি শুরু করেছিলেন ক্যাম্পারডাউন ক্লাসিকেই ৪০০ মিটার দিয়ে, সময় নিয়েছিলেন ৪৬.৩৫ সেকেন্ড। এবার সময় নিয়েছেন ০.৪৯ সেকেন্ড কম, মৌসুমের প্রথম দৌড়েই প্রতিদ্বন্দ্বীদের হয়তো একটা সতর্কবার্তাই দিলেন। স্প্রিন্টের রাজা আবার ট্র্যাকে নামবেন ২৭ ফেব্রুয়ারি, কিংস্টনেই।

ম্যানইউতে ফিরতে চান রোনালদো

বার্নাব্যুতেই সুখেই আছেন তিনি। নিয়মিতই পাচ্ছেন গোলের দেখা। গত বছর জুনে রেকর্ড ৮০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়া ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো পুরোনো ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কথা এখনো খুব মনে পড়ে। ওল্ড ট্রাফোর্ডে ফেরার সম্ভাবনাকেও তাই বাতিল করছেন না পর্তুগিজ তারকা।
ম্যানইউকে যে ভুলতে পারেননি সেটি নিজেই স্বীকার করেছেন রোনালদো, ‘অবশ্যই আমি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে মিস করছি।’ কেন ম্যানইউয়ের জন্য এত টান সেটাও জানিয়েছেন দ্য নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ডকে, ‘আমি সেখানে ছয় বছর ধরে খেলেছি। এটা লম্বা একটা সময়। আমি এখনো ম্যানইউয়ের খেলা দেখতে আগ্রহী এবং ভবিষ্যতে যে আমি আবার সেখানে খেলব না সেটা কেউ কেউ বলতে পারে না। আমি আবারও সেখানে ফিরতে পারি। এটা সব সময়ই সম্ভব।’ তবে রিয়ালের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেই তিনি লন্ডনে পাড়ি জমাতে পারেন, ‘আমি এখানে আমার চুক্তির মেয়াদ শেষ করতে চাই কিন্তু ভবিষ্যতে কী হবে সেটা ঈশ্বরই জানেন। আমি বলব না যে আমি রিয়াল মাদ্রিদে সুখী নই। আমি সত্যি সুখী। এবং সবাই জানে এটাই আমার ক্লাব। কিন্তু অবশ্যই আমি ম্যানইউকে, বসকে (ফার্গুসনকে), খেলোয়াড়দের মিস করছি। কারণ সেখানে আমার পরিবারটাকেই ফেলে এসেছি।

আফগানদের বড় ক্রিকেট-স্বপ্ন

অনেক দিন পর উত্সবের উপলক্ষ পেয়েছে আফগানিস্তান। ১১ ফেব্রুয়ারি একবার। আরেকবার ১৩ ফেব্রুয়ারি। তাদের দেশে উড়ে এসে জুড়ে বসা যুক্তরাষ্ট্রকে তারা হারিয়ে দিয়েছে। না, গোলা-বারুদের যুদ্ধে নয়, ক্রিকেট মাঠে। আরব আমিরাতে হয়ে গেল আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব। ১১ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে আফগানরা নিশ্চিত করেছে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় পর্বে যাওয়া। এর পর ১৩ ফেব্রুয়ারির ফাইনালে তারা হারিয়ে দিয়েছে ক্রিকেট বিশ্বের বিপজ্জনক দল আয়ারল্যান্ডকে। একটা বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নপূরণ হয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির।
৩০ এপ্রিল ওয়েস্ট ইন্ডিজে শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে এখন নতুন স্বপ্নের আশায় বসতি গড়েছে আফগানরা। অবশ্য কঠিন গ্রুপে পড়েছে তারা। ‘সি’ গ্রুপে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষের নাম ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। হোক, আফগানরা তাতে ভয় পায় না! ‘এই দুই দলের অন্তত একটাকে হারাতে চাই আমরা। এর জন্য আমরা কঠোর পরিশ্রম করছি’—বলেছেন দলের ব্যাটিং অলরাউন্ডার করিম সাদিক।
এই কঠোর পরিশ্রম শুধু ক্রিকেটীয় সাফল্যের জন্য নয়, বারুদ-বোমা-রক্তে মাখামাখি একটা দেশের জন্য কিছুটা আনন্দের উপলক্ষ এনে দেওয়ার তাগিদ থেকেও। সাদিক বলেছেন, ‘আমাদের এই সাফল্যে দেশের মানুষ খুবই উল্লসিত। আমরা দেশে ফিরলে বড় একটা উত্সব হবে নিশ্চয়ই। আমার অনুমান, ৩০ লাখের মতো লোক চলে আসবে নেচে-গেয়ে উদ্যাপন করতে।’
কিন্তু আসল পরীক্ষা তো হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই। ফাইনালে ১৫ বলে ৩৪ করা সাদিক ঘাবড়ানোর পাত্র নন। জানিয়ে দিলেন প্রস্তুতি নিয়েই ওয়েস্ট ইন্ডিজে যাবেন, ‘আফগানিস্তানে গিয়ে ১৪ মিটার লম্বা একটা উইকেটে ব্যাটিং করব। ফলে প্রতিটি বল ১৬০-১৬৫ কিলোমিটার গতিতে আসবে। আমি শুধু মেরে যাব, মেরেই যাব।’ এই প্রস্তুতি আসলে সময়ের সবচেয়ে ভয়ংকর বোলার ডেল স্টেইনের জন্য। ‘স্টেইন, কোনো সমস্যা না’—সাদিকের কণ্ঠে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস। শুধু তা-ই নয়, ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকাকে ভালোমতো প্রস্তুতি নেওয়ার হুমকিও দিয়ে রাখলেন তিনি!

ফিরে যাচ্ছেন জর্জেভিচ

তাঁর যাওয়ার কথা ছিল কলম্বো, যেখানে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবল। কিন্তু আজ দেশের বিমান ধরে সার্বিয়া ফিরে যাচ্ছেন বাংলাদেশের সদ্য সাবেক হওয়া কোচ জোরান জর্জেভিচ। কয়েক দিন ধরে চলা ‘কোচ সমস্যা’র সমাধান হয়ে গেছে পরশুই। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন তাঁর সঙ্গে চার বছরের চুক্তি করতে রাজি হয়নি। বাফুফের সঙ্গে চার বছরের চুক্তি করতে চেয়ে ব্যর্থ হয়েই তাই দেশে ফিরে যেতে হচ্ছে এই সার্বিয়ানকে। তাঁর সঙ্গে দেশে ফিরে যাচ্ছেন তাঁর দুই সহকারীও।
জর্জেভিচের অবশ্য ফিরতি বিমানে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরে তাঁর অনুরোধে ঢাকা থেকে বেলগ্রেড পর্যন্ত টিকিট দেওয়া হয় তাঁকে। যাওয়ার আগে জর্জেভিচকে তাঁর পাওনা ১৬ হাজার মার্কিন ডলারও বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
চার বছরের জন্য চুক্তি করা নিয়ে জর্জেভিচ যে কাণ্ড করেছেন বাফুফের সঙ্গে তাতে ভীষণ লজ্জিত তাঁর এজেন্ট রাউল ফার্নান্দেজ। এ জন্য টেলিফোনে বাফুফে সভাপতি সালাউদ্দিনের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি।

দুবাই টি-টোয়েন্টিতে আম্পায়ার এনামুল

দুবাইয়ে আগামী ১৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারি দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তান। এই দুই ম্যাচেই থাকছে বাংলাদেশের অংশগ্রহণও! না, নিউজিল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ দল দুবাইয়ে আসছে না, বরং ম্যাচ দুটিতে আম্পায়ারিং করতে আজ সকালে দুবাইয়ের বিমানে উঠছেন এনামুল হক।
১৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে এনামুল দায়িত্ব পালন করবেন থার্ড আম্পায়ারের। ওই ম্যাচে ফিল্ড আম্পায়ার থাকবেন দুই শ্রীলঙ্কান কুমারা ধর্মসেনা ও অশোকা ডি সিলভা। আর ২০ ফেব্রুয়ারির ম্যাচে অশোকার সঙ্গে ফিল্ড আম্পায়ার থাকবেন বাংলাদেশের এনামুল।
চমক আছে আরও। জাতীয় দলের সাবেক বাঁহাতি স্পিনার এনামুল আম্পায়ারিং করতে পারেন আইপিএলেও। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সূত্র জানিয়েছে, আইপিএলের জন্য বাংলাদেশের তিন আম্পায়ার এনামুল, নাদির শাহ আর শরফুদ্দৌলা ইবনে সৈকতের নাম প্রস্তাব করেছিল বিসিবি। সেখান থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত এনামুল। আইপিএলে মোট তিনটি ম্যাচে আম্পায়ার থাকার প্রস্তাব পেয়েছেন তিনি। এনামুলের আইপিএলে যাওয়ার পথে একটা সমস্যাও দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড টেস্ট সিরিজটা যে পড়ে যাচ্ছে ওই সময়েই!
ওদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আম্পায়ার বিনিময় চুক্তির অধীনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গেছেন বাংলাদেশের আম্পায়ার গাজী আশরাফুল আফসার। সেখানে তিনটি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ পরিচালনা করবেন তিনি। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে বাংলাদেশে এসেছেন আম্পায়ার পিটার নেরো। ৪৬ বছর বয়সী ত্রিনিদাদের এই আম্পায়ার জাতীয় লিগের দ্বিতীয় পর্বে ম্যাচ পরিচালনা করবেন তিনটি। বগুড়ায় আজ শুরু রাজশাহী-চট্টগ্রাম ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাঁর বাংলাদেশ মিশন।

প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেটের পাশে বিরোধও

যে আশায় নতুন ফরম্যাট আনা হলো জাতীয় লিগে, সেটা অনেকটাই সফল। আজ থেকে শুরু দ্বিতীয় পর্বের আগে ক্রিকেটাররাই বলছেন, দেশের একমাত্র প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট আসরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কিছুটা হলেও বেড়েছে। কিন্তু প্রদীপের নিচে অন্ধকার থাকেই। নতুন জাতীয় লিগের সব নতুনত্বকেও তেমনি স্বাগত জানানো যাচ্ছে না।
একাদশ জাতীয় লিগের দল গঠন এবং পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে। তাতে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান ফলটা হলো টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে সিনিয়র ক্রিকেটারদের মনোমালিন্য; দল গঠনে অধিনায়কের ভূমিকা অগ্রাহ্য হওয়া এবং দলের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার জন্যও খেলোয়াড়দের কর্মকর্তাদের পেছন পেছন ছোটা।
৫০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় পর্বে ওঠা খুলনা দলের অধিনায়ক হাবিবুল বাশার চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্টেডিয়ামে আজ শুরু ঢাকার বিপক্ষে ম্যাচটা খেলছেন না। খুলনা দলের একটি সূত্রের দাবি, রাগে-ক্ষোভে হাবিবুল হয়তো এবারের জাতীয় লিগেই আর খেলবেন না। ছেড়ে দিতে পারেন প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটও! দল গঠনে মতামতের গুরুত্ব না পেয়ে আর টিম ম্যানেজমেন্টের অসহযোগিতায় বীতশ্রদ্ধ হয়েই নাকি এই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন সাবেক বাংলাদেশ অধিনায়ক। হাবিবুল অবশ্য ‘বিশ্রাম নিতেই ঢাকার বিপক্ষে ম্যাচটা খেলছি না’ বললেও টিম ম্যানেজমেন্টের অসহযোগিতার প্রসঙ্গে বললেন, ‘মন্তব্য করতে চাই না।’ প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার চিন্তাভাবনাও নাকি আপাতত নেই। তবে এবারের জাতীয় লিগের পরের ম্যাচগুলোতে খেলবেন কিনা, দিতে পারলেন না সে নিশ্চয়তা, ‘এখনই সেটা বলতে পারছি না।’
ক্রিকেটারদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের বিরোধের উদাহরণ আরও আছে। অতীতে হাবিবুলের অনুপস্থিতিতে খুলনা দলকে নেতৃত্ব দিতেন তুষার ইমরান। এবার সেটা হচ্ছে না তুষারের সঙ্গে টিম ম্যানেজমেন্টের বিরোধের কারণে। অনেক লড়াইয়ের পর বোর্ডের হস্তক্ষেপে তুষার শেষ পর্যন্ত খুলনা দলে সুযোগ পেলেও সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে দলে তাঁর আগের অবস্থান আর নেই বলেই জানা গেছে।
প্রায় হাবিবুলের মতোই অভিজ্ঞতা রাজশাহী অধিনায়ক খালেদ মাসুদের। প্রথম পর্বের শেষ রাউন্ডের ম্যাচটা অভিমান করেই খেলেননি জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক। মাসুদের অসন্তুষ্টি মূলত দলের কোচ শাহনেওয়াজ শহীদ আর ম্যানেজার শেখ মোহাম্মদ মামুনের ওপর। দুজনের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনে মাসুদ চিঠি দিয়েছেন রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাছে। বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা বিষয়টা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়ায় বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আজ থেকে শুরু চট্টগ্রামের বিপক্ষে ম্যাচে খেলবেন মাসুদ। রাজশাহী অধিনায়ক এ ব্যাপারে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও বলেছেন, ‘খেলোয়াড়দের যেমন সুশৃঙ্খল হতে হবে, কোচ-ম্যানেজারদেরও তাই হওয়া উচিত। আমার মনে হয়, বোর্ড এই জিনিসটা পর্যবেক্ষণ করতে পারে—কোন কোচ কী করছে, কোন ম্যানেজার কীভাবে দল ব্যবস্থাপনা করছে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকটি বিভাগীয় দলের অধিনায়ক টিম ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে বলেছেন, ‘বোর্ড থেকে এমনিতেই যেসব সুযোগ-সুবিধা আমাদের পাওয়ার কথা ছিল, সেসবও চেয়ে চেয়ে নিতে হয়।’ এসবের বাইরে একটা ‘কমন’ অভিযোগ আছে সব ক্রিকেটারেরই—খেলার সূচির কারণে এবার অনেকটা সময়ই ক্রিকেটারদের কাটাতে হচ্ছে এক ভেন্যু থেকে আরেক ভেন্যুতে যাওয়ার পথে। ভ্রমণক্লান্তিতে বিপর্যস্ত সবাই।
অভিযোগের পাশে প্রশংসাও আছে। হাবিবুল যেমন বললেন, ‘এর আগে এত ভালো উইকেটে কখনো জাতীয় লিগ খেলা হয়নি। উইকেটে ঘাস আছে। বোলারদের জন্য পেস, বাউন্স, মুভমেন্ট—সব আছে। ব্যাটিং করেও মজা পাচ্ছি। স্পোর্টিং উইকেট হওয়ায় এবার বেশির ভাগ ম্যাচেই ফলাফল আসছে।’ চট্টগ্রাম অধিনায়ক নাফিস ইকবাল তুলে আনলেন অন্য একটা ইতিবাচক দিক, ‘জাতীয় লিগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে। সব দলই চাইছে বেশি ম্যাচ খেলতে।’
১১তম জাতীয় লিগে এখন পর্যন্ত প্রাপ্তিটা মাঠেই। কিন্তু মাঠের বাইরের অক্রিকেটীয় কাণ্ড-কারখানা সেই প্রাপ্তিতে কলঙ্কের দাগ লাগাতে পারে। এবার লিগ শুরুর আগে নাকি বিভাগীয় দলগুলো খেলোয়াড়দের কাছ থেকে ‘কী করা যাবে আর কী করা যাবে না’র শর্তনামায় সই করিয়ে নিয়েছে। বিভাগীয় দলগুলোর টিম ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে বিসিবিও তো এই ফর্মুলাটা কাজে লাগিয়ে দেখতে পারে!