Wednesday, December 24, 2014

‘ন্যাড়ী কুত্তার মতো পিটামু’ -ছাত্রলীগ

‘তিনদিনের মধ্যে ছবি বিশ্বাসের উপর হামলার জবাব দিব। ডাক্তার বলছিলো আরও কয়টাদিন থাকতে আর থাকতে পারলাম না কুকুরদের ঘেউ ঘেউ এর কারণে। ন্যাড়ী কুত্তার মতো পিটামু বিএনপির বড় নেতাদের।’ এমন হুমকি দিয়েছেন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম। বুধবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি এই হুমকি দেন। ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসার জন্য বিদেশে রয়েছেন ছাত্রলীগের এই নেতা। তবে কোন দেশে রয়েছেন তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেনি। ছাত্রলীগ সম্পাদকের এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান বলেন, ছাত্রলীগের রুচি, ব্যক্তিত্ব ও নের্তৃত্বের গুণ কেমন তা নাজমুল আলমের ভাষা থেকে প্রমাণ হয়। ভবিষ্যতে কে থাকবে আর কে থাকবে না তা সময়ই বলে দেবে। আমরা কাউকে আর ছাড় দেব না।

ফেসবুকে কলেজ ছাত্রীর ছবি: যুবকের কারাদণ্ড

ফেসবুকে কলেজ ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করায় ইমরান হোসেন (১৯) নামে এক যুবককে এক বছরের সশ্রম কারাদ- দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। বুধবার চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানার ইছাইক্যার পুল এলাকা থেকে আটকের পর আদালত তাকে এ দন্ডাদেশ দেন। ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে নগরীর কাপাসগোলা সিটি কর্পোরেশন মহিলা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ রয়েছে। বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসিন জানান, ইমরানের কাছে উত্ত্যক্তের শিকার ছাত্রী মোবাইল সেট মেরামতের জন্য দিয়েছিল। ইমরান মোবাইল থেকে ওই ছাত্রীর ছবি নিয়ে সেগুলো ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে আপলোড করে অশালীন কথাবার্তা লিখেন। বিষয়টি ওই ছাত্রীর ভাইয়ের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর তিনি বাকলিয়া থানায় এসে এ বিষয়ে অভিযোগ করেন। পুলিশ ইমরানের বাসায় গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করা হলে আদালত এক বছরের কারাদ- দেন। জানা যায়, পেশায় মোবাইল মেকানিক ইমরান হোসেনের কাছে নিকট উচ্চ মাধ্যমিকের এই ছাত্রী মোবাইল মেরামতে জন্য যায়। ইমরান ছাত্রীর মোবাইলে থাকা ছবি নিয়ে সেটি ফেইসবুকে আপলোড করে দেয়। ফেইসবুকে ঔ ছাত্রীকে নিয়ে আজেবাজে কথা লিখে। বিষয়টি ছাত্রীর পরিবারের দৃষ্টিগোচর হলে তারা বাকলিয়া থানায় সাধারণ ডায়রি করেন। সকালে ইমরানকে বাকলিয়া থানার ইছাইক্যার পুল এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাত হোসেন পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে ইমরানের ইভটিজিংয়ের বিষয়টি স্বীকার করায় ম্যাজিস্ট্রেট তাকে কারাদ- দেন। মোবাইল মেকানিক ইমরান কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার এরশাদ মিয়ার ছেলে।

নতুন বছরে মাহিয়া মাহির চমক

ক্যারিয়ারের অল্প সময়ে অভিনয়-পারফরম্যান্স দিয়ে বাংলা ছবির দর্শকদের মুগ্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন চলতি প্রজন্মের সর্বাধিক ব্যস্ত অভিনেত্রী মাহিয়া মাহি। সফলতার বিচারেও দুই বছর ধরে অন্য অনেকের চেয়ে এগিয়ে তিনি। জাজ মাল্টিমিডিয়ার প্রযোজনায় মাহি ও তার অভিনীত ছবিগুলো ছিল আলোচনার শীর্ষে। সফলতা-জনপ্রিয়তা-আলোচনা সব মিলিয়ে মাহিকেই বর্তমান সময়ের নাম্বার ওয়ান নায়িকা হিসেবে মানছেন কেউ কেউ। তবে এ বিষয়টি নিয়ে একেবারেই ভাবছেন না তিনি। শুধু কাজ নিয়েই তার সব চিন্তাভাবনা-ধ্যান। গত বছরের মতো চলতি বছরজুড়েও মাহি ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন একাধিক ছবির কাজ নিয়ে। ২০১৪ সালে এখন পর্যন্ত মাহি অভিনীত ৫টি ছবি মুক্তি পেয়েছে। ছবিগুলো হলো ‘কি দারুণ দেখতে’, ‘অগ্নি’, ‘দবির সাহেবের সংসার’, ‘হানিমুন’ এবং ‘অনেক সাধের ময়না’। প্রতিটি ছবিতেই ভিন্নরূপে দেখা গেছে মাহিকে। ছবিগুলোতে তার অভিনয়-পারফরম্যান্স ছিল দর্শক মহলে প্রশংসিত। এসবের মধ্যে ‘অগ্নি’ এবং ‘অনেক সাধের ময়না’ ছিল এ বছরে মাহির সর্বাধিক ব্যবসা সফল ছবি। ছবিগুলো মাহির ক্যারিয়ারে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। ২৬শে ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে তার অভিনীত নতুন ছবি ‘দেশা- দ্য লিডার’। এখানে শিপনের সঙ্গে জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেছেন মাহি। এটি চলতি বছর তার অভিনীত ৬ নম্বর ছবি। ৬টি ছবি নিয়ে চলতি বছর অভিনেত্রী হিসেবে সর্বাধিক ছবির মালিকও তিনি। পাশাপাশি তার অভিনীত ছবিগুলো সফলতার দিক দিয়েও রয়েছে এগিয়ে। নতুন বছরও নানা চমক দিয়ে শুরু করবেন মাহিয়া মাহি। ২০১৫-তে ৮টি ছবি রয়েছে তার হাতে। এর মধ্যে চারটি ছবি জানুয়ারি থেকে এপ্রিল নাগাদ মুক্তি পাচ্ছে। ছবিগুলো হলো ‘ওয়ার্নিং’, ‘রোমিও ভার্সেস জুলিয়েট’, ‘বিগ ব্রাদার’, এবং ‘অনেক দামে কেনা’। এর মধ্যে ‘রোমিও ভার্সেস জুলিয়েট’ ছবিতে ওপার বাংলার অঙ্কুশের বিপরীতে অভিনয় করেছেন মাহি। এর পাশাপাশি তিনি ‘অগ্নি-২’, ‘নিয়তি’, ‘জানে মন’ এবং ‘ওয়ারিশ’ ছবির শুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন বছরজুড়ে। এগুলোর বাইরে আরও কয়েকটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার কথা রয়েছে তার। সব মিলিয়ে নানা চমকে ৮টি ছবি নিয়ে নতুন বছরে দর্শকদের সামনে হাজির হচ্ছেন এই অভিনেত্রী। এ বিষয়ে মাহিয়া মাহি বলেন, আমি অনেক হ্যাপি যে, দর্শক আমার প্রতিটি ছবিই আগ্রহ নিয়ে দেখছেন, প্রশংসা করছেন। আর এর মাধ্যমে কাজ করার স্পৃহা আরও বেড়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন ছবিতে আমি বিভিন্নরূপে দর্শকদের সামনে আসতে পেরেছি, এটা আমার জন্য সৌভাগ্যের ব্যাপার। কারণ, গতানুগতিক প্রেমিকার চরিত্রে অভিনয় করতে চাই না। চলতি বছর আমার মুক্তি পাওয়া ৫টি ছবিতে পাঁচরূপে দেখা গেছে আমাকে। ‘অগ্নি’তে যেমন অ্যাকশন দৃশ্যে কাজ করেছি, আবার ‘দবির সাহেবের সংসার’-এ কমেডি চরিত্র করেছি। অন্যদিকে ‘অনেক সাধের ময়না’ ছবিতে গ্রামের মেয়ের চরিত্রে কাজ করেছি। নতুন বছরেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। নতুন বছরে প্রথম চার মাসেই চারটি ছবি মুক্তি পাচ্ছে আমার। নতুন আরও ৪টি ছবির কাজ করবো। এছাড়া কিছু ছবির কথাবার্তা চলছে। আশা করছি এসব ছবির মাধ্যমেও দর্শকদের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারবো। এটাই একমাত্র চাওয়া। আর কিছু নয়।

মালাইকা অরোরা খান ফিরছেন আইটেম গানে

দীর্ঘদিন ধরেই বলিউড থেকে দূরে রয়েছেন বলিউডের শীর্ষ আইটেম কন্যা মালাইকা অরোরা খান। এর মধ্যে অনেক আইটেম গানের প্রস্তাব থাকলেও সব ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। কারণ, শুধু নিজের পছন্দসই কাজই তিনি করতে চান। তবে এবার অপেক্ষার অবসান হয়েছে। মালাইকা তার নতুন আইটেম গান নিয়ে দর্শকদের সামনে আসতে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে এ গানের শুটিং শেষ করেছেন তিনি। ‘ডলি কি ডোলি’ ছবির মাধ্যমে আবারও আইটেম গানে ফিরেছেন মালাইকা। ছবিটি পরিচালনা করছেন অভিষেক ডোগরা। ছবির মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সোনম কাপুর। এ ছবিতে ‘ফ্যাশন খতম মুঝপে’ শীর্ষক আইটেম গানে পারফরম করতে দেখা যাবে মালাইকাকে। গানটিকে ছবির অন্যতম একটি দিক হিসেবেই উল্লেখ করেছেন পরিচালক। খুব শিগগিরই গানটি ছবির প্রচারণার জন্য মুক্তি দেয়া হবে। এদিকে এই গানে ব্যাপক খোলামেলারূপেই দেখা যাবে সুপারহট মালাইকাকে। অন্যরকম আবেদনময়ীরূপে এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে তাকে। এ ছবিটি প্রযোজনা করছেন মালাইকার স্বামী অভিনেতা-পরিচালক-প্রযোজক আরবাজ খান। আইটেম গানটিতে তার পারফরম করার এটি আরেকটি বড় কারণ। এ গানটি নতুন বছর উপলক্ষেই মুক্তি দেয়া হবে। আর নতুন বছরে গানটি ভক্ত-দর্শকদের জন্য চমক বলেও মনে করছেন মালাইকা। অন্যদিকে ‘ডলি কো ডোলি’ ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে আসছে ফেব্রুয়ারির ৬ তারিখ। এ আইটেম গানে প্রসঙ্গে মালাইকা জানান, এটি অনেক বড় আয়োজনের একটি গান। যেহেতু এটি আরবাজের ছবি, তাই আমার পছন্দ মতোই এর আয়োজন করা হয়েছে। তাই আমি বিষয়টি নিয়ে অনেক হ্যাপি। অবশেষে অনেক ভাল একটি কাজ হয়েছে। এটি নতুন বছরে ভক্তদের জন্য আমার পক্ষ থেকে চমক। বরাবরের মতো সুপারহট মালাইকাকেই এখানে আবিষ্কার করা যাবে। তাই অপেক্ষায় থাকুন, মাত্রতো কয়েকটা দিন!

‘উনি মুক্তিযোদ্ধা, দয়া করে যত্ন নেবেন’ - অসুস্থ গোবিন্দ হালদারের পাশে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট

সোমবার রাত প্রায় দশটা। শীতের কলকাতা অনেকটাই চুপচাপ। এরই মধ্যে আচমকাই কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের কনভয় ছুটে চলেছে। গন্তব্য, উত্তর কলকাতার একটি অতি সাধারণ পলিক্লিনিক কাম হাসপাতাল। এখানেই ভর্তি রয়েছেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অনেক প্রেরণা সৃষ্টিকারী গানের রচয়িতা, কবি ও গীতিকার গোবিন্দ হালদার। প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ সোজা হাজির হলেন আইসিইউতে। তার আগেই অবশ্য উপস্থিত হালদার-পত্নী পারুল দেবী ও কন্যা গোপার কাছে খবর নেন গীতিকারের শারীরিক অবস্থার। অসুস্থ গোবিন্দ হালদারের মাথার পাশে দাঁড়িয়ে আবদুল হামিদ জানতে চান, কেমন আছেন? দৃষ্টিহীন হালদারকে জানানো হয় বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের হাজির হওয়ার কথা। অসুস্থ অবস্থাতেই শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। আবদুল হামিদ তাকে বলেন, মনে পড়ে সেই সব গানের কথা, যেগুলো মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা ছিল? গীতিকার সহজেই ধীরে ধীরে শোনান বেশ কয়েকটি গানের প্রথম কয়েকটি কলি। মিনিট দশেক গীতিকারের কাছে থেকে বাইরে বেরিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের আবদুল হামিদ বলেন, উনি আমাদেরই একজন। উনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। একজন বীর  সৈনিক। দয়া করে ওর যত্ন নেবেন। উনি যাতে আরও দীর্ঘদিন বেঁচে থাকেন। মাত্র দু’দিন আগেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসুস্থতার খবর পেয়ে নিজেই ফোন করেছিলেন গীতিকার গোবিন্দ হালদারকে। তখন তিনি ভাল ছিলেন না। তাই তেমনভাবে কথা বলতে পারেননি। তবে হাসিনা তাকে জানিয়েছেন, দ্রুত ভাল হয়ে উঠুন। হাসিনা আরও বলেছেন, আপনার গান শুনে সেদিন আমরা অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। গোবিন্দ হালদারের সব ধরনের চিকিৎসার খরচও যে বাংলাদেশ সরকার বহন করবে সেকথাও তিনি জানিয়েছেন। সূত্রের খবর, শেখ হাসিনার পরামর্শেই সোমবার রাতের কর্মসূচি পরিবর্তন করে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের মানুষের হয়ে সহমর্মিতা জানাতে গিয়েছিলেন জিতেন্দ্রনাথ রায় পলিক্লিনিক ও হাসপাতালে। এ হাসপাতালেই গত ১৩ই ডিসেম্বর কিডনিজনিত অসুস্থতার জন্য  ৮৪ বছরের গোবিন্দ হালদারকে ভর্তি করা হয়। এখন তিনি অনেকটা ভাল। হাসপাতালের পরিচালনা ট্রাস্টের প্রেসিডেন্ট তরুণ পালিত জানিয়েছেন, উনি চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। তার জ্ঞানও রয়েছে। ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে’, ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’, ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে’ প্রভৃতি মুক্তিযুদ্ধের উন্মাদনা সৃষ্টিকারী গানের রচয়িতা গোবিন্দ হালদার। বাংলাদেশ সরকার এর আগেও অসুস্থ গীতিকারের কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। দেয়া হয়েছিল ১৫ লাখ রুপি। গত বছর ফ্রেন্ড অব বাংলাদেশ সম্মানও দেয়া হয়েছে তাকে। অসুস্থতার কারণে তার পরিবর্তে কন্যা গোপা দেবী সেই সম্মান নিতে ঢাকায় গিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, পুরস্কার ঘোষণার সময় যেভাবে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে তাতে তিনি অভিভূত হয়েছিলেন। আসলে কলকাতা তথা এপার বাংলা এই মহান গীতিকারকে স্মরণ না করলেও ওপার বাংলা তাকে আপন করে নিয়েছে।

সুন্দরবন নিয়ে দুই সংসদীয় কমিটির পাল্টাপাল্টি

সুন্দরবনের শেলা নদীতে তেলবাহী ট্যাংকার দূর্ঘটনার জন্য নৌ মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতাকে দায়ী করেছিল পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এবার উল্টো পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কারণে সুন্দরবন ধ্বংস হচ্ছে বলে দাবি করেছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটির বৈঠকে ঘষিয়াখালী-মংলা চ্যানেলের খনন কাজ দ্রুত করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ওই ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে শেলা নদীর পরিবর্তে এই নৌ রুটটি চালু করার সম্ভব হবে বলে কমিটি আশা করছে। বুধবার সংসদ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম। বৈঠকে কমিটির সদস্য মন্ত্রী মো. শাজাহান খান, তালুকদার আব্দুল খালেক, মো. হাবিবর রহমান, রণজিৎ কুমার রায় ও মো. আনোয়ারুল আজীম (আনার) এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ট্যাংকার ডুবি ও তেল ছড়িয়ে পড়ার পর নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয় যথাযথ কার্যক্রম নেয়নি। কিন্তু আমি তো মনে করি, সুন্দরবন ধ্বংসের জন্য বন মন্ত্রণালয়ই বেশি দায়ী। তারা সুন্দরবনের সুন্দরী গাছ কেটে শেষ করে ফেলেছে। তিনি আরো বলেন, সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে ছোট বড় ৫ হাজারের বেশি নদ-নদী রয়েছে। এসব নদ-নদীতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরা হয়। পরিবেশ মন্ত্রণালয় তখন কি করে? আর তেল ট্যাংকার ডুবির পর আমরা না হয় যথাযথ কার্যক্রম নেয়নি, কিন্তু তারা কি করেছেন?

বাংলাদেশীদের অবশ্যই ভারত ছাড়তে হবে

ভারতে বসবাসরত বাংলাদেশীদের অবশ্যই ধর্মান্তরিত হয়ে হিন্দু হতে হবে না হয় তাদেরকে ভারত ছাড়তে হবে। এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভারতের বজরং দল। এ দলের মিরাট শাখার আহ্বাক বলরাজ দাঙ্গার এমন হুমকি দিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া। এতে বলা হয়, বলরাজ বলেছেন, বাংলাদেশীরা ভারতের সম্পদের অপব্যবহার করছে। তাই আমাদের প্রথম দাবি তাদেরকে অবশ্যই ভারত ছাড়তে হবে। তবে যদি তারা ভারতে বসবাস করতে চায় তাহলে অবশ্যই ধর্মান্তরিত হয়ে হিন্দু হতে হবে এবং আমাদের জীবনধারার সঙ্গে মিশে যেতে হবে। উত্তর প্রদেশের ‘ঘর ওয়াপসি’ ঘটনায় মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, আমরা তো ইউপিএ সরকারের সময়েও ‘ঘর ওয়াপসি’ প্রচারণা চালিয়েছি। এটা একটি অব্যাহত, চলমান প্রক্রিয়া। বলরাজ দাঙ্গার বলেন, বাংলাদেশীরা ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের দেশ স্বাধীনতা অর্জনের ৪৩ বছর পরও তারা এখানে অবস্থান করছে। এখন প্রয়োজন তাদের ফিরে যাওয়া। তবে তারা ধর্মান্তরিত হলেই তাতে অবস্থানের বৈধতা পাবে না। তাদেরকে অন্ততপক্ষে আমাদের শক্তির সঙ্গে যোগ দিতে হবে। এ মন্তব্য করে বলরাজ দাঙ্গার তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন। এর জবাবে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক সুদর্শন ছাকরা বলেছেন, বজরং দল নেতার যুক্তির সঙ্গে তিনি একমত নন। তিনি বলেন, আমাদের সংগঠনের এজেন্ডায় বাংলাদেশীদের কোন ছাড় দেয়ার কথা বলা হয় নি। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভারতে প্রায় ৩ কোটি বাংলাদেশী রয়েছেন। তাদের সবাইকে ভারত ছাড়তে হবে। তাদের ধর্মান্তরিত হয়ে হিন্দু হওয়ার কোন প্রশ্নই আসতে পারে না। তারা ভারতে অবস্থান করায় বেকারত্ব ও অপরাধ বেড়ে গেছে। তারা জাতীয় স্বার্থ বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত। তা সত্ত্বেও অতীতে বিভিন্ন সরকারের সময়ে তারা সুবিধা ভোগ করেছে। তাদের রয়েছে রেশন কার্ড, ভোটার আইডি। কোন কিছুই তাদের ভারতে অবস্থান করাকে বৈধতা দেয় না। তাদেরকে অবশ্যই চলে যেতে হবে। ভারতে অবস্থানকারী বাংলাদেশীর সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন রকম হিসাব আছে। ২০০১ সালের আদম শুমারি অনুযায়ী, ভারতে ৩০ লাখ বাংলাদেশী আছে। ২০১২ সালে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মুল্লাপাল্লি রামাচন্দ্রন বলেছিলেন, শুধু এক দশকে ১৪ লাখ বাংলাদেশী ভারতে প্রবেশ করেছে। ২০০৭ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের পরিসংখ্যানে বলা হয়, ভারতে অবৈধভাবে বসবাস করছে প্রায় ২ কোটি বাংলাদেশী।

বকশিবাজার রণক্ষেত্র

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরা দেয়াকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকার বকশিবাজার এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সকাল থেকে সেখানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী শান্তিপূর্ণ অবস্থান করছিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন আদালত এলাকায় পৌঁছার আগেই বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর আচমকা হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে বকশিবাজার, পলাশীমোড় ও ঢাকা মেডিকেল এলাকায়। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকজনকে রাস্তায় ফেলে লাঠিপেটা করতে দেখা যায়। এসময় পুলিশ ব্যাপক টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে। এক পর্যায়ে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে। সংঘর্ষের মধ্যেই দুপুরে খালেদা জিয়া আদালতে পৌঁছেন। এসময় ছাত্রলীগের কর্মীরা তার গাড়িতেও ইটপাটকেল ছুড়ে। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায়। সংঘর্ষের সময় মেডিকেল এলাকায় একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ওই গাড়িতে থাকা নেত্রকোনার এমপি ছবি বিশ্বাসকেও মারধর করে হামলাকারীরা। হামলায় তার মাথা ফেটে যায়। তিনি দৌঁড়ে মেডিকেলের পুলিশ ফাঁড়িতে আশ্রয় নিয়ে আত্মরক্ষা করেন। পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তিনি চিকিৎসা দেন। ছবি বিশ্বাস জানিয়েছেন, এক আত্মীয়কে চিকিৎসক দেখিয়ে বের হওয়ার সময় তিনি হামলার শিকার হন। এদিকে আদালত এলাকা থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের পুলিশ সরিয়ে দিলেও খালেদা জিয়া আদালত ত্যাগ করার আগ পর্যন্ত আশপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়ে তারা সেøাগান দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ফজলে রাব্বী হলের মোড়ে সকাল থেকে বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অবস্থান নেন। সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশও অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে বুয়েট এলাকা থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করে। এসময় সেখানে অবস্থানরত পুলিশকে নিরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ হামলা চলার পর পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে। এতে সংঘর্ষ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা টিয়ারশেল থেকে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। এসময় পুলিশের এপিসি ও জলকামান ব্যবহার নেতাকর্মীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। তবে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা চানখারপুল, ঢাকা মেডিকেল ও পাশের এলাকায় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। বেলা সোয়া একটার পর খালেদা জিয়া আদালত এলাকা ত্যাগ করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে।

এমপি ছবি বিশ্বাসের ওপর হামলা, গাড়িতে আগুন

রাজধানীর বকশিবাজারে বিএনপি ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে নেত্রকোনা-১ আসনের এমপি ছবি বিশ্বাসের ওপর হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ বেলা পৌনে একটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এসময় হামলাকারীরা ছবি বিশ্বাসের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ছবি বিশ্বাস জানিয়েছেন, হাসপাতাল থেকে একজন রোগীকে ডাক্তার দেখিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা তার গাড়িতে হামলা করে। এতে তিনি মাথায় আঘাত পান। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি পার্শ্ববর্তী পুলিশ ফাঁড়িতে আশ্রয় নেন। হামলকারীরা তার মাইক্রোবাসটি পুড়িয়ে দেয়।

আসামে জঙ্গি হামলায় ২০ শিশুসহ নিহত ৫৫

ভারতের আসাম প্রদেশে সন্দেহভাজন বোড়ো জঙ্গিদের পৃথক হামলায় ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নারী ও ২০ শিশু রয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় আসামের সোনিতপুর ও কোকরাঝাড় জেলায় এ ঘটনা ঘটে। ১ ঘণ্টার মধ্যে ৫টি স্থানে হামলা চালানো হয়। নিহতদের অধিকাংশই আদিবাসী গোষ্ঠীর সদস্য। তারা চা বাগানের শ্রমিক। আসাম পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক পল্লব ভট্টাচার্য এ খবর নিশ্চিত করেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি ও এনডিটিভি। এদিকে এ হামলার পর আসাম প্রদেশে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠন ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট অব বোড়োল্যান্ডের (এনডিএফবি) একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এ ঘটনার জন্য দায়ী। তবে সংগঠনটি হামলার দায় স্বীকার করেনি। আসাম পুলিশ প্রধান খগেন শর্মা এর আগে জানিয়েছিলেন, সোনিতপুর জেলার সিমাংপাড়া গ্রামে কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গত সোমবার এক নিরাপত্তা অভিযানে এনডিএফবি’র দুই শীর্ষ নেতা নিহত হয়। ওই অভিযানের প্রতিশোধ নিতেই সংগঠনটি হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

জিহ্বার TALK-আ TALK-ই! by শায়ের খান

আজ আমাদের আরেকটি ঘরোয়া টকশো হওয়ার কথা ছিল। হঠাৎ বড় ফুফার উদয়ে প্ল্যান পরিবর্তন। পরিবর্তনটি আনেন বোম আঙ্কেল। অনুষ্ঠান হবে, তবে ভিন্ন আঙ্গিকে। দু’পক্ষের ঝগড়াঝাটির টকশো’র বদলে আজ হবে ‘জানাজানি’র অনুষ্ঠান। প্রাণীবিজ্ঞানী ফুফাকে পেয়ে আইডিয়াটা মাথায় আসে আঙ্কেলের। আইডিয়াটি এরকম। একজনকে চেয়ার দেয়া হবে। কয়েকটি কাগজের টুকরোয় কয়েকটি বিষয় লিখে ভাঁজ করে রাখা হবে। লটারির মতো চেয়ারপারসন বা সভাপতি একটি কাগজ তুলবেন। যে বিষয় উঠবে, তার উপর সভাপতি লেকচার দিবেন আর অন্যরা প্রশ্ন করবে। চেয়ারটিতে ভোটাভুটির মাধ্যমে কাউকে বসানোর কথা। তবে আজ কারো তোয়াক্কা না করে ফুফাকে বসিয়ে দিয়েছেন বোম আঙ্কেল। কাগজ তুলেছেন ফুফা। বিষয় উঠেছে ‘জিহ্বা’। থমকে কিছুক্ষণ চিন্তা করেন ফুফা। তারপর বাঁকা হাসি ফুটে উঠে উনার মুখে। বলেন, ‘এমন ইন্টারেস্টিং সাবজেক্ট উঠবে ভাবতে পারিনি। বিষয়টি কার মাথায় এসেছিল?’
মিলি: কাফির মাথায়।
মেম আন্টি: মাথায় না বলে জিহ্বায়-ই বল্‌। গরুর জিহ্বা কাফির খুব প্রিয়।
ফুফা (চায়ে চুমুক দিয়ে): সুপ্রিয় দর্শকম-লী। আজ আপনারা আমাকে এমন একটি বিষয়ের ওপর আলোকপাত করতে বলেছেন যেটি বেশ মজার এবং আমার বিষয়ের মধ্যেই পড়ে।
আমি: আমরা বলিনি। তুমিই কাগজটি তুলেছো ফুফা। সরি স্যার। আপনি তুলেছেন। থুক্কু।
ফুফা: ইট্‌স অলরাইট। তাহলে শুরু করা যাক। শুরু করার আগে আমি সবাইকে জিহ্বাটি একবার দেখিয়ে নেই।
ফুফা ‘আ’ করে প্রায় আধ হাতি জিহ্বাটি বের করে সবাইকে দেখান। আমরা তালি দিয়ে উঠি। মিলির পিচ্চি বাটুল এমন দৃশ্য দেখে চেয়ারে উঠে খুশিতে নাচতে থাকে। ফুফা জিহ্বা ভেতরে নিয়ে আবার শুরু করেন।
ফুফা: জিহ্বা হচ্ছে আমাদের শরীরের সবচেয়ে শক্তিশালী ও সেনসিটিভ মাংশল অঙ্গ। এ এক অদ্ভুত অঙ্গ। অদ্ভুত।
বোম আঙ্কেল (মার্লবোরো ধরিয়ে): কেমন? তবে তুমি যখন জিহ্বা দেখাচ্ছিলে তখন বেশ অদ্ভুত-ই লাগছিল। সরি আপনি যখন দেখাচ্ছিলেন।
ফুফা (হেসে): অদ্ভুত এই অর্থে যে জিহ্বা-ই হচ্ছে একমাত্র অঙ্গ যার সরাসরি শরীরের হাড়-হাড্ডি বা কঙ্কালের সঙ্গে কোন যোগসূত্র নেই।
কাফি ভাই: মানে? ও বুঝেছি স্যার। আপনাকে যদি টেনে চামড়া ছাড়িয়ে কঙ্কাল আলাদা করে ফেলি তবে জিহ্বাটা চামড়ার সঙ্গে চলে আসবে?
ফুফা: একজ্যাক্‌টলি! তবে ল্যাংগুয়েজ প্লিজ ওকে? জিহ্বাটি একটু সামাল দিবেন।
একটু গম্ভীর হয়ে যান ফুফা। আমরা সবাই কাফি ভাইয়ের দিকে তাকাই।
কাফি ভাই: সরি। আমি জিহ্বাকে সামলে নিতে একটি চকোলেট মুখে নিয়ে নিচ্ছি স্যার।
ফুফা: ইটস অলরাইট। জিহ্বা। আসলে জিহ্বা মূলত: দু’টো কাজের জন্যই আমরা ব্যবহার করি। কোন কিছুর স্বাদ নিতে বা খেতে আর কথাবার্তা বলতে। বিজ্ঞান তাই-ই বলছে।
মিলি : অনেকে তো ভেংচি কাটতে বা লোল্লোল-লোল্লোল করে ভেঙানোর জন্য ও ইউজ করে।
ফুফা: সেটা অবশ্য শারীরিক কারণে নয়। সামাজিক কারণে। সরি অসামাজিক কারণে। সবচেয়ে মজার বিষয় কি জানেন? ভিন্ন ভিন্ন জিনিসের স্বাদে জিহ্বার ভিন্ন ভিন্ন অংশ রেসপন্স করে। যেমন ধরুন, মিষ্টির জন্য এক অংশ, টকের জন্য অন্য অংশ এমন আর কি। আরও মজার ব্যাপার হচ্ছে শুকনো জিহ্বা দিয়ে কোন কিছুর স্বাদ নেয়া যায় না। কোন কিছুর স্বাদ পেতে হলে জিহ্বাকে অবশ্যই ভেজা হতে হবে। জিহ্বা শুকালে হবে না।
আসিফ ভাই: ইন্টারেস্টিং! আচ্ছা স্যার, আমাদের জিহ্বার সাইজ কত?
ফুফা: ম্‌-ম্‌-ম্‌-। লম্বায় গড়পড়তা ১০ সেন্টিমিটার বা সাড়ে ৩ ইঞ্চির বেশি। এ পর্যন্ত সবচেয়ে লম্বা জিহ্বার সন্ধান পাওয়া গেছে প্রায় ৩.৯ ইঞ্চির মতো আর সবচেয়ে চওড়া জিহ্বা আমরা পেয়েছি ৩.১ ইঞ্চি। সবচেয়ে মজার বিষয় কি জানেন আপনারা?
মেম আন্টি: কি?
ফুফা: জিহ্বাকে আমরা যত বেশি-ই গুরুত্ব দেই না কেন, আমরা ব্রেইন ছাড়া বাঁচতে পারবো না কিন্তু জিহ্বা ছাড়া ঠিক-ই বাঁচতে পারবো। হয়তো বাঁচতে কষ্ট হবে কিন্তু বাঁচবো। জিহ্বার একটি অদ্ভুত গুণ আছে। সেটা কি বলেন তো?
বোম আক্কেল: আপনি-ই বলুন স্যার। আমরা বলতে পারলে তো আমরাই প্রাণীবিজ্ঞানী হতাম।
ফুফা: আমাদের শরীরে জিহ্বাই একমাত্র অঙ্গ যেটি টায়ার্ড হয় না। বেশি কথা বললে হয়তো ফুসফুস বা অন্যান্য মাংসপেশি টায়ার্ড হয়ে যায়। আমরা হাঁপাতে থাকি। কিন্তু জিহ্বা টায়ার্ড হয় না।
কাফি ভাই: তার মানে জিহ্বা নিজে নেচেনেচে অন্যদের হয়রানি করতে ওস্তাদ?
ফুফা: একজাক্‌টলি। আপনার চকোলেটে কাজ হয়েছে বোঝা যাচ্ছে মিস্টার কাফি।
কাফি ভাই: থ্যাঙ্কু স্যার।
ফুফা: আমি মিস্‌ মিলিকে একটি প্রশ্ন করতে চাই।
মিলি: করুন স্যার।
ফুফা: বলুন তো আপনার জিহ্বা বড় নাকি জামাই আসিফের জিহ্বা বড়?
মিলি: ইয়ে তা কি করে বলবো? আমরা তো কখনো মেপে দেখিনি স্যার। তুমি কি বল?
আসিফ ভাই: তোমার বকবকানি শুনে তো মনে হয় তোমার জিহ্বাই বড়।
মিলি: শাট্‌আপ! জিহ্বা সামলে কথা বলো।
আসিফ ভাই: এই যে দেখেছেন স্যার। ওর বেসামাল জিহ্বাটাই সাইজে বড় আমি কনফার্ম।
ফুফা (মৃদু হেসে): তুমি ভুল। জিহ্বা তোমার-ই বড়। ছেলেদের জিহ্বা মেয়েদের জিহ্বার চেয়ে লম্বা হয়। এ পর্যন্ত পাওয়া মেয়েদের সবচেয়ে লম্বা জিহ্বা হলো পৌনে ৩ ইঞ্চির মতো আর ছেলেদের সবচেয়ে লম্বা জিহ্বা পাওয়া গেছে প্রায় ৪ ইঞ্চির মতো। জিহ্বা নিয়ে একটি মজার সামাজিক রীতি না বলেই পারছি না। তিব্বতের মানুষেরা একে অপরকে সম্মান জানায় জিহ্বা বের করে। এটা ওদের রীতি। অর্থাৎ জিহ্বা বের করে নাচানোই ওখানে সম্মান প্রদর্শন করা। বেশ ইন্টারেস্টিং তাই না?
আমরা সবাই: রিয়েলি?
ফুফা: রিয়েলি। তো জিহ্বা নিয়ে অনেক হলো। এখন আমাকে একটু উঠতে হচ্ছে। পরে আরো বলবো যদিও জিহ্বা আমার টায়ার্ড হয়নি। ধন্যবাদ সবাইকে।
ফুফা উঠে দাঁড়ান। বোম আঙ্কেল অর্ডারি ভঙ্গিমায় বলে উঠেন, ‘তোমরা সকলে সভাপতি স্যারকে পাহাড়ি তিব্বতীয় স্টাইলে সম্মান জানাও।’
আমরা সবাই জিহ্বা বের করে ফুফার উদ্দেশ্যে নাচাতে থাকি। ফুফা প্রথমে একটু বিব্রত হন। তারপর হেসে জিহ্বা নাচিয়ে সম্মানের উত্তর দেন। অতঃপর ঘুরে বেরিয়ে যেতে থাকেন। কি মনে হতে আবার আমাদের দিকে ঘোরেন। সঙ্গে সঙ্গে আমরা সবাই আবার সম্মানের সঙ্গে জিহ্বা বের করে নাচাই। বোকার মতো হেসে প্রাণীবিজ্ঞানী ফুফা জিহ্বা বের করে নাচিয়ে পাল্টা জবাব দেন। তারপর উধাও হন। আমরা জিহ্বা নাচাতেই থাকি। মেম আন্টি বলে উঠেন, ‘আমার জিহ্বা নাচাতে নাচাতে শুকিয়ে গেছে রে!’

ভারতে কৃষকের আত্মহত্যার হার বেড়েছে

ভারতে অন্য বছরের তুলনায় কৃষকদের আত্মহত্যার হার বেড়ে গেছে। মোদি সরকারের কাছে গত সপ্তাহে জমা দেয়া গোয়েন্দা ব্যুরোর (আইবি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা, কর্ণাটক ও পাঞ্জাবে কৃষকদের আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি। অপরদিকে গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুতে এ হার অন্য বছরের তুলনায় খানিকটা স্থিতিশীল। আত্মহত্যার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, দেরিতে বর্ষাকালের আগমন, অপরিশোধিত ঋণ, দেনা বৃদ্ধি, কম ফসল ফলা, শস্য সংগ্রহে ঘাটতি ও ধারবাহিকভাবে ফসল ফলানোর ব্যর্থতা।

মালয়েশিয়ার সেই বিমান ভূপাতিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র

মার্চ মাসে নিখোঁজ মালয়েশিয়ার যাত্রীবাহী বিমান এমএইচ-৩৭০-কে মার্কিন বাহিনী গুলি করে ভূপাতিত করে থাকতে পারে বলে দাবি করেছেন ফ্রান্স এয়ারলাইন্সের সাবেক প্রধান মার্ক দুগেঁ। ফ্রান্সের ম্যাগাজিন প্যারিস ম্যাচে লেখা এক নিবন্ধে তিনি বলেন, মার্কিন সেনারা সম্ভবত বিমানটিকে এ কারণে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিলেন যে, এটি ১১ সেপ্টেম্বর স্ট্রাইলে মার্কিন ঘাঁটি দিয়াগো গার্মিয়ায় হামলা চালাতে পারে। এ কারণে বিমানটি ভূপাতিত করা হয় এবং এ সম্পর্কে কঠোর গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয়।
মার্ক দুগেঁ বলেন, আন্তর্জাতিক তদন্তকারী দল যেসব স্থানে অনুসন্ধান চালিয়েছে আসলে সেখানে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়নি। এটি ভারত মহাসাগরে অবস্থিত ব্রিটিশ ভূখণ্ড দিয়াগো গার্সিয়ার কাছেই কোথাও ভূপাতিত হয়েছে। ওই ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা হতে পারে এমন আশংকা থেকেই বিমানটি ভূপাতিত করা হয়। তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির এই যুগে ৬৩ মিটার লম্বা একটি বস্তু বেমালুম গায়েব হয়ে যাবে তা বিশ্বাস করা যায় না। আসলে ভূপাতিত করার পর ইচ্ছে করেই প্রমাণ লুকানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ৮ মার্চ ২৩৯ জন যাত্রী নিয়ে ভারত মহাসাগরে নিখোঁজ হয় মালয়েশিয়ার এমএইচ-৩৭০ বিমানটি। বোয়িং মডেলের বিমানটি কুয়ালালামপুর থেকে চীনের বেইজিং শহরে যাচ্ছিল। ঘটনার পর আন্তর্জাতিক তদন্ত দল প্রায় এক মাস চেষ্টা করেও বিমানের সন্ধান পায়নি। শেষ পর্যন্ত অনুসন্ধান অভিযান পরিত্যক্ত ঘোষণা করে মালয়েশিয়া।

ইন্টারনেট বিপর্যয়ে উত্তর কোরিয়া

উত্তর কোরিয়ায় ইন্টারনেট সংযোগ নজিরবিহীনভাবে প্রায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তা আংশিকভাবে আবার চালু হয়েছে। সনি পিকচার্সে হ্যাকিংয়ের ঘটনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিবাদের মধ্যে ইন্টারনেট বিপর্যয়ের কবলে পড়ে উত্তর কোরিয়া। বেশকিছু সময়ে জন্য পুরো দেশ ওয়েব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। খবর এএফপির। ইন্টারনেট আংশিকভাবে আবার চালু হওয়া সম্পর্কে পিয়ংইয়ং কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য না করলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞরা তা নিশ্চিত করেছেন। কয়েকজন বিশেষজ্ঞ জানান, বেশকিছু সময়ের জন্য পুরো দেশটি বিশ্বব্যাপী ওয়েব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। সম্প্রতি সনি পিকচার্সে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটে। আর এর জন্য উ. কোরিয়াকে দায়ী করে ওয়াশিংটন। তবে পিয়ংইয়ং তা অস্বীকার করে। সাইবার হামলার কারণে উত্তর কোরিয়ার নেতাকে নিয়ে নির্মিত হাস্যরসাত্মক মুভি দ্য ইন্টারভিউ মুক্তি দেয়া স্থগিত করে সনি কর্তৃপক্ষ। মুভিতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বিরুদ্ধে আততায়ীর হামলার কাল্পনিক কাহিনী রয়েছে। ওয়াশিংটন সাইবার হামলার জন্য অনির্দিষ্ট সংগতিপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দেখানোর অঙ্গীকার করে। তবে উত্তর কোরিয়ার ইন্টারনেট সংযোগবিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা আছে কিনা সে ব্যাপারে ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা কিছু জানাননি।
সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক কোম্পানি দইন রিসার্চ জানায়, দেশটির ইন্টারনেট সংযোগ ৯ ঘণ্টা ৩১ মিনিট বিচ্ছিন্ন থাকার পর তা আংশিকভাবে আবার চালু হয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সির (কেসিএনএ) ওয়েবসাইট ও রদং সিনমুনের অনলাইন সংস্করণ মঙ্গলবার আবার চালু হয়েছে। তবে ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি নয়, আংশিকভাবে চালু হয়েছে এবং আর আংশিকভাবে যেটুকু চালু হয়েছে তাও স্থিতিশীল নয়। এছাড়া অন্যান্য ওয়েবসাইট এখনও খোলা যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কারিগরি সমস্যা বা সাইবার হামলার কারণে এটি হতে পারে। মঙ্গলবার দইন রিসার্চের ডাগ ম্যাদোরি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বহির্বিশ্বের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ইন্টারনেট সংযোগ ধারাবাহিকভাবে দুর্বল হতে হতে একসময় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পিয়ংইয়ংর বাসিন্দারা বলছেন, সোমবার দেশটিতে বছরের সবচেয়ে খারাপ ইন্টারনেট সংযোগ ছিল। এক পর্যায়ে তা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। তবে ঠিক কি কারণে এমনটি হচ্ছে, তা কেউ নিশ্চিত নন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে হতে পারে। তবে অনেকেরই আশংকা, হয়তো সনি পিকচার্স কর্পোরেশনে চালানো উত্তর কোরিয়ার সাইবার আক্রমণের জবাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
জাতিসংঘের বৈঠক বয়কট
জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের এক বৈঠক বয়কট করেছে উত্তর কোরিয়া। বৈঠকে দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়টি উত্থাপন হতে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তারা এ সিদ্ধান্ত নেয়। খবর আলজাজিরার।
সম্প্রতি কিম জং উন সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লংঘনের একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা এ বৈঠকে যোগ দেবে না। ওই বৈঠকে যদি দেশটির বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তাহলে তারা এর জবাব দেবে বলেও হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।

মসজিদকে জাদুঘর বানালো ইসরাইল

শতবর্ষী পুরানো একটি মসজিদকে জাদুঘর বানিয়েছে ইসরাইল। স্থানীয় প্রায় ১০ হাজার মুসলমানের নামাজের কোনো জায়গা না থাকলেও ঐতিহাসিক মসজিদকে তারা জাদুঘর বানালো। খবর প্যালেস্টাইল নিউজ নেটওয়াটের। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ বির আল-সাবে গ্রান্ড মসজিদকে ইসলামী সাংস্কৃতিক জাদুঘর বানিয়েছে। যদিও ওই এলাকায় মুসলমানদের দৈনন্দিন প্রার্থনার কোনো জায়গা নেই। ১৯০৬ সালে অটোমান শাসনামলে মসজিদটি তৈরি করা হয়েছিল। ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনি নাকবার সময় এটিকে হাজতখানা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পরবর্তী সময়ে এটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রূপান্তরিত হয়। ১৯৫৩ সালে এটিকে জাদুঘর বানানো হয়। ১৯৯২ সালে জীর্ণশীর্ণ হয়ে পড়লে মসজিদটি বন্ধ করে দেয়া হয়।
বির আল-সাবে ওই এলাকার একমাত্র মসজিদ। দীর্ঘদিন ধরে মুসলমানরা মসজিদটি খুলে দেয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। তারা বলছেন, অন্তত জুমার নামাজের জন্য হলেও সেটি যেন খুলে দেয়া হয়। ২০১৫ সালের জুন নাগাদ জাদুঘরের প্রদর্শনী শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

সন্ত্রাসী টার্গেটে পাকিস্তানের সহস্রাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

পাকিস্তানের সহস্রাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সন্ত্রাসী হামলার টার্গেটে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে দেশটির আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। পুলিশ জানিয়েছে, ইসলামাবাদের ১১৫৯ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ১২০০ প্রতিষ্ঠানকে সন্ত্রাসী হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। খবর ডন নিউজের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মঙ্গলবার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, চিহ্নিত সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে এক হাজার ১৩৭টি সরকারি ও বেসরকারি স্কুল-কলেজ এবং ২২টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। শহরটিতে দায়িত্বরত ৯ হাজার পুলিশ সদস্যের পক্ষে এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিñিদ্র নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, সম্ভাব্য সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ৭৭টি মার্কেট ও ১৪টি হাসপাতাল রয়েছে।
তিনি জানান, অধিকাংশ পুলিশ সদস্যই ভিভিআইপি ও ভিআইপিদের নিরাপত্তা রক্ষার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। এ অবস্থায় সন্ত্রাসী হামলা ঠেকাতে প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসতে হবে। পুলিশের সুপারিনটেন্ডেন্ট জানান, পৌর, সদর, গ্রাম ও শিল্প এলাকার পুলিশ সদস্যদের স্কুল প্রশাসনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বলা হয়েছে।
তিনি জানান, ইতিমধ্যে অনেক স্কুলে প্রশাসন নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ দিয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সব প্রতিষ্ঠানের জন্য সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ নিজ ভবনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্যও বলা হবে। গত ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের পেশোয়ারের আর্মি পাবলিক স্কুলে তালেবান হামলায় অন্তত ১৪১ জন নিহতের ঘটনার পর দেশজুড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। এর আগে হামলার আশংকায় দেশটির প্রশাসনিক রাজধানী ইসলামাবাদের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
পেশোয়ারে হামলা সম্পর্কে আগেই জানতো সরকার : পেশোয়ারের আর্মি পাবলিক স্কুলে হামলা সম্পর্কে পাকিস্তানের খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রদেশের সরকারকে কয়েক মাস আগেই সতর্ক করেছিল গোয়েন্দা বিভাগ। সোমবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এ খবর জানিয়েছে। খাইবার-পাখতুনখোয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ খবরের সত্যতা স্বীকার করে বলেছে, উপজাতি এলাকা সেনাবাহিনী পরিচালিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলার পরিকল্পনা করছেন বলে তাদের জানানো হয়েছিল। এ নিয়ে স্থানীয় সরকারকে গত ২৮ আগস্ট লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়েছিল।
ওই সতর্কবাণীতে এটাও উল্লেখ করা হয়েছিল, বিলাল এবং ওবায়দুল্লাহ তাদের সহযোগীদের নিয়ে হামলার টার্গেটগুলো পরিদর্শন করতে শুরু করেছেন। সেনা কর্মকর্তাদের সন্তানরাই যে তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু এ বিষয়েও স্থানীয় সরকারকে সতর্ক করা হয়েছিল।
লস্কর-ই জাংভির প্রধানের মুক্তি : পাকিস্তানের উপজাতিভিত্তিক জঙ্গিসংগঠন লস্কর-ই জাংভির প্রধান মালিক ইশাককে মঙ্গলবার মুক্তি দেয়া হয়েছে।
নিষিদ্ধ ঘোষিত এই দলের নেতা তিন বছর জেল খাটার পর মুক্তি পান। সরকার তার বন্দি আদেশ বাড়ানোর জন্য লাহোর হাইকোর্টের কাছে আবেদন জানালে তা নাকচ করেন আদালত। মালিক ইশাকের বিরুদ্ধে শিয়া মুসলিমদের হত্যা ও শ্রীলংকার ক্রিকেট খেলোয়াড়দের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে।

সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ শুরু জাতিসংঘ দলের

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণে কাজ শুরু করেছে জাতিসংঘের ২৫ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল। ৪টি দলে বিভক্ত তারা সকাল থেকে ছোট ছোট ট্রলারযোগে ছড়িয়ে পড়ে বনের বিভিন্ন প্রান্তে। বিশেষ করে শ্যালা নদীর যে স্থানে তেলবাহী ট্যাংকারটি ডুবে ছিল মূলত সেই স্থানেই অবস্থান করছে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ দলটি। এখান থেকেই তারা কাজ করছে নদী-খালের বিভিন্ন পয়েন্টে। প্রাকৃতিক এ বনের বৃক্ষরাজি ও জলরাশির জলজ-বনের প্রাণিকুলের আচরণও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এ দলের সদস্যরা। নদীর পানি-মাটি ও গাছপালার ওপর তেলের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাবের নমুনা সংগ্রহ করবেন তারা।
বিশেষজ্ঞ দলের প্রবীণ এ্যামিলিয়া ওয়ালসন নেতৃত্বে পর্যবেক্ষণ শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দলে থাকা জাতিসংঘ বাংলাদেশের ঢাকা অফিসের পলিসি ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের প্রেস অফিসার কাউসার আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ৯ ডিসেম্বর পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালা নদীর মৃগামারী এলাকায় তেলবাহী ট্যাংকার ডুবির ঘটনা ঘটে। এতে সাড়ে ৩ লাখ লিটার ফার্নেস অয়েল জোয়ার-ভাটার টানে ছড়িয়ে পড়ে বনের অভ্যন্তরীণ নদী-খালে। এতে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে জলজ ও স্থলজ প্রাণীসহ বনের বৃক্ষরাজি। ম্যানগ্রোভ এ বনে সুন্দরী, গেওয়া, পশুর, গরান, গোলপাতাসহ ৩৩৪ প্রজাতির গাছপালা, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল ও ১৩ প্রজাতির অর্কিড রয়েছে। বন্য প্রাণীর বৃহত্তম আবাসস্থল এ বনে বিশ্বখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রল-মায়া হরিণ, লোনা পানির কুমির, অজগর, কচ্ছপ, বিশ্বের বিলুপ্ত প্রায় ইরাবতী ডলফিনসহ ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে ৩২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ, ৮ প্রজাতির উভচর ও ৩শ প্রজাতির পাখি রয়েছে। ২০০৪ সালে সুন্দরবনে ইউএনডিপির অর্থায়নে পরিচালিত প্রাণী জরিপ অনুযায়ী সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার আছে ৪৪০টি, হরিণ দেড় লাখ, বানর ৫০ হাজার, বন্য শূকর ২৫ হাজার, কুমির ২০০টি, উট-বিড়াল রয়েছে ২৫ হাজার। ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ, ২৬ প্রজাতির চিংড়ি, ১৩ প্রজাতির কাকড়া, ১ প্রজাতির লবস্টার ও ৪২ প্রজাতির মালাস্কা রয়েছে।
তেলবাহী ট্যাংকার ডুবির পর ম্যানগ্রোভ এ বনের অস্তিত্ব নিয়ে দেশী-বিদেশী পরিবেশবিদসহ আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় সুন্দরবনের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় আগ্রহ প্রকাশ করে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা। তাই সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণে জাতিসংঘের ওই প্রতিনিধি দলটি সোমবার রাতে সুন্দরবনে পৌঁছায়। মঙ্গলবার পুরোদমে কাজ করতে নামেন তারা। প্রতিনিধি দলের প্রধান এ্যামিলিয়া ওয়ালসন নেতৃত্বে এ দলটি সুন্দরবনে অবস্থানকালে শ্যালা নদীসহ বনের বিভিন্ন খাল ও জলরাশিতে জলজ ও বন্যপ্রাণীর আচরণ পর্যবেক্ষণ করবেন। দেখবেন বনের বৃক্ষরাজির বর্তমান অবস্থাও। সপ্তাহব্যাপী এ দলটি সুন্দরবনে অবস্থান করবেন বলে জানিয়েছেন বনবিভাগ। এ বিষয়ে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন জানান, জাতিসংঘের দলটি ঠিক কত দিন বনের ভেতরে অবস্থান করবেন তিনি নিশ্চিত নয়। তবে তাদের কার্যক্রমে বনবিভাগ সহায়তা করছে।
এদিকে বনের জীববৈচিত্র্যের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি যাচাইয়ে কাজ করছে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ খুলনা বিভাগের একটি পর্যবেক্ষণ দল। এ দলের জলজপ্রাণী গবেষক মো. মফিজুর রহমান জানান, এখনও পর্যন্ত তারা তেলের ক্ষতিকর প্রভাবের তেমন কোনো আলামত পাননি।
জাতিসংঘের ২৫ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দলের সুন্দরবনে পর্যবেক্ষণকে স্বাগত জানিয়েছে সুন্দরবন বিশেষজ্ঞ ও সেভ দ্যা সুন্দরবনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি জানান, বিলম্ব হলেও সরকার এ প্রতিনিধি দলটিকে সংকটাপন্ন সুন্দরবনের বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণের সুযোগ করে দিয়েছে। এ প্রতিনিধি দলটি আমাদের গর্ব ওয়াল্ড হ্যারিটেজ সুন্দরবনে অয়েল ট্যাংকার ডুবিতে তেল নিঃসরণের ফলে জীব বৈচিত্র্যের যে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে তা সঠিকভাবে নিরূপণ করতে সক্ষম হবে। সে অনুযায়ী বন বিভাগ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে সুন্দরবন আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশংকা বিএনপির

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে আশংকা প্রকাশ করেছে দলটি। এ দুটি মামলা প্রত্যাহার না করা হলে এ ইস্যুতে আন্দোলনে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দুই মামলায় খালেদা জিয়ার ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে আশংকা আছে। মামলা দুটি মোকাবেলায় আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলনও অব্যাহত রাখা হবে।
দুই মামলায় হাজিরা দিতে আজ রাজধানীর বকশিবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালতে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া। এ উপলক্ষে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। গত কয়েকদিন ধরে ঢাকা মহানগর বিএনপিসহ দলের অন্য অঙ্গসংগঠনগুলো লোকসমাগমে আলাদা প্রস্তুতি সভা করেছে।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় বিশেষ আদালতের বিচারক পরিবর্তনের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিশেষ আদালতের বিচারক বাসু দেবের পরিবর্তনের বিষয়ে ইতিমধ্যে আমাদের আইনজীবীদের দায়ের করা একটি আবেদন হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। বিষয়টি নিষ্পত্তির আগেই সরকার বিচারক পরিবর্তনে প্রমাণ হয়, তারা এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করেছে।
তার দাবি, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলমান দুটি দুর্নীতি মামলার একটিও আইনসম্মতভাবে চলতে পারে না। হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এ মামলা চালানো হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা। যদি ন্যায়বিচার থাকত, তবে খালেদা জিয়া এ দুটি মামলায় আইনি প্রক্রিয়ায় অব্যাহতি পেতেন। এখন যে পদ্ধতিতে মামলা চালানো হচ্ছে, তাতে ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রীরা বিচারাধীন মামলা সম্পর্কে যে ভাষায় কথা বলছেন, তাতে বিচার বিভাগ প্রভাবান্বিত না হয়ে পারে না। আইনমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, খালেদা জিয়া যে এখনও বাইরে আছেন, তা সরকারের বদান্যতা। মামলা চলছে আদালতে, এটা সরকারের বদান্যতা হবে কেন? আইনমন্ত্রীর এহেন বক্তব্য প্রমাণ করে যে, তারা বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করছে।
ফখরুল বলেন, ন্যায়বিচার না পাওয়ার সুযোগ নেই জেনেও আইনমান্যকারী নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে উচ্চ আদালতেও প্রতিকার লাভের সুযোগ ক্রমেই কমে আসছে। সেখানকার ভূমিকায় তারা হতাশ হয়ে পড়ছেন। জনগণের গণতান্ত্রিক ও ভোটের অধিকার এবং ন্যায়বিচারের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে এনে সরকারের হীন ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে বলেও হুশিয়ারি দেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারপারসন সম্পর্কে দুর্নীতি দমন কমিশনের সদস্য সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, তিনি রাজনৈতিক নেতার মতো কথা বলছেন। তিনি একটি বিশেষ দলের হয়ে কাজ করছেন। তিনি গতকাল রংপুরে একই ভাষায় কথা বলেছেন। দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা দুটি প্রাইভেট ট্রাস্ট সংক্রান্ত। এ সংক্রান্ত বিষয়ে মামলা করার এখতিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের নেই। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ১৫ মামলা প্রত্যাহার করা হলে তার বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে দুদক গিয়েছিল কিনা তা জানতে চান তিনি।
দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২১ আগস্টসহ বিভিন্ন মামলাও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক দাবি করে ফখরুল বলেন, তিনি লন্ডনে একটি বক্তব্য রেখেছেন, তার বিরুদ্ধে ২০টি মামলা হয়েছে। এভাবে তাকেও রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য এসব মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, শামীমুর রহমান শামীম, আসাদুল করীম শাহিন, রফিক শিকদার প মুখ উপস্থিত ছিলেন।
আদালতে যাওয়া প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া জানান, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে দুপুর ১২টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বকশিবাজারের বিশেষ আদালতে হাজির হবেন। আমরা দুটি মামলায় আইনিভাবে লড়াই করতে প্রস্তুত।
ঢাকায় বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের আজ আদালতে যাওয়ার ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকেও সতর্ক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

কুতুবদিয়ায় কাজের মেয়ে খুন! ৯দিন পর লাশ উদ্ধার -ঘাতক গৃহকত্রীসহ ১ সহযোগি গ্রেপ্তার by হাছান কুতুবী

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় কাজের মেয়ে তহমিনা বেগম প্রকাশ ফেরদৌস (১৫) খুনের ৯দিন পর মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় গর্ত থেকে পলিথিন ও কাঁথা মুড়ানো অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে থানা সূত্রে জানা গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমিনুর রশিদ ও থানা ওসি আলতাফ হোছাইনসহ পুলিশ-আনসার ব্যাটিলিয়ন উদ্ধার অভিযানে ছিলেন। ২২ ডিসেম্বর গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বড়ঘোপ মগডেইলের গিয়াস উদ্দিনের ঘাতক স্ত্রী নিলুফা আখতার (৪৫) ও তার সহযোগি চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া ৮নম্বর ওয়ার্ডের শাহাদত হোছাইনের পুত্র বেলাল উদ্দিন (৩০) কে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ২২ ঘন্টার মধ্যে ঘাতকসহ লাশ উদ্ধারে পুলিশী ভূমিকার ভূয়শী প্রশংসা করেন ইউএনওসহ স্থানীয়রা। ঘাতকদের স্বীকারুক্তি মতে লাশ উদ্ধারে বাড়ীর আশ-পাশে ব্যাপক তল্লাশি চালায় পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’দিন ধরে জনতার প্রচন্ড ভীড়সহ আতংক ছড়িয়ে পড়ে ওই এলাকায়। ঘাতক গৃহকত্রী ১৫ ডিসেম্বর বিকেল ৪টায় ওই কাজের মেয়েকে হত্যা করে রাত ১১টায় বেলাল উদ্দিন ও স্থানীয় কালু মিয়ার পুত্র ছাবের আহমদ (৩৫) এর সহযোগিতায় পাশের ভরাট পুকুরের কোণায় মাটির নীচে চাঁপা দিয়ে রাখে বলে থানা পুলিশ জানিয়েছে। মেয়েটির বাড়ী লেমশীখালী আশা হাজীর পাড়ায় বলে জানা গেলেও তার সঠিক কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। মেয়েটি ওই বাড়ীতে বিগত ১০/১১ বছর ধরে ঝিয়ের কাজ করছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

কারাগার থেকে খুনের নির্দেশ

কারাগারে বসে হাজারীবাগের ট্যানারি ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন সাত্তারকে খুন করিয়েছে বন্দি শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন। প্রায় এক মাসের পরিকল্পনায় সে ভাড়াটে খুনি ব্যবহার করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। কারাগারে বসেই ইমন তার সহযোগীদের সঙ্গে দিনের পর দিন দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল ফোনে হত্যাকাণ্ডের ছক আঁকে। বাইরে থাকা তার সহযোগীদের গুলি, অস্ত্র ও অর্থের জোগান দেয়।
ইমন ও তার সহযোগীদের মোবাইল ফোনের কথোপকথনের সূত্র ধরে সাত্তার খুনে ইমনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে আইনশৃংখলা বাহিনী। তাছাড়া হত্যাকাণ্ডের পর ইমনের সহযোগী বুলু ও মাসুদকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। জিজ্ঞাসাবাদে ইমনের পরিকল্পনায় কিভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তার বিস্তারিত খুলে বলে বুলু। আইনশৃংখলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র যুগান্তরকে এ তথ্য দিয়েছে।
১৪ ডিসেম্বর দুপুরে হাজারীবাগ তিন মাজার মসজিদের সামনে প্রকাশ্যে গুলি করে সাত্তারকে হত্যা করা হয়। সাত্তার রাজধানীর ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তার বিরুদ্ধেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল।
সূত্র জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির জের ধরে ইমন গ্রুপের সঙ্গে সাত্তারের দ্বন্দ্ব বাধে। ইমন গ্রুপের সন্ত্রাসীরা সাত্তারকে সরিয়ে দেয়ার জন্য কারাবন্দি ইমনের কাছে সাহায্য চায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এক মাস ধরে এ বিষয়ে কারাগারের বাইরে থাকা সহযোগীদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন ইমন। কারাগারে বসেই হত্যাকাণ্ডের ছক আঁকেন। সাত্তারকে খুন করার জন্য ইমন তার সহযোগীদের কাছে অস্ত্র, গুলি ও টাকা সরবরাহ করে। কিলিং মিশনের পর র‌্যাব বা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলে কিলারকে জামিন পাইয়ে দেয়ার নিশ্চয়তাও দেয় ইমন। এমনকি কিলিং মিশন সফল করার পর ক্রসফায়ারে মারা পড়ার ভয় থাকলে নিজ থেকে পুলিশ বা র‌্যাবের হাতে ধরা দেয়ার পরামর্শ দেয় ধানমণ্ডির এ শীর্ষ সন্ত্রাসী। জেলখানায় ভালো থাকা, খাওয়া ও মোবাইল ফোনে নিয়মিত কথা বলানোর নিশ্চয়তাও দেয় সে।
ইমনের কথা অনুযায়ী তার দুই সহযোগী বুলু ও গনি বেশ কয়েকজন ভাড়াটে কিলারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ভাড়াটে কিলাররা দীর্ঘদিন ধরে সাত্তারের গতিবিধির ওপর নজর রাখে। কখন কোথায় সাত্তার নাস্তা খেতে যান, কখন বাড়ি থেকে বাইরে যান ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহ করে মোবাইল ফোনে ইমনকে জানায় তার সহযোগী বুলু।
কিন্তু সাত্তার সে সময়ে বুঝতে পেরেছিলেন তার জীবন হুমকির মধ্যে রয়েছে। এ কারণে তিনি বাড়ি থেকে বাইরে বের হওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিলেন। দিনের পর দিন তিনি বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। আর এতে অপেক্ষা করতে করতে অস্থির হয়ে পড়ে ইমনের সহযোগীরা।
হত্যাকাণ্ডের ৩ দিন আগে ইমন কারাগার থেকে কিলিং মিশনের সর্বশেষ নির্দেশনা দেন। ওই কথোপকথন ছিল নিম্নরুপ-
বুলু : ভাই, স্লামালেকুম।
ইমন : বল, কি খবর, ওই (সাত্তার) কি বাইর হইছে।
বুলু : না ভাই। কি করন যায় কন দেহি।
ইমন : চুপ থাক। একটা লোক ৫ দিন ঘরে থাকতে পারে কিন্তু ৬ দিনের দিন সে বাইর হইবই।
বুলু : অগোরে (ভাড়াটে কিলার) তো বাড়ির আশপাশে খাড়া কইরা রাখছি।
ইমন : মেশিন পাঠায়া দিছি। পাইছস।
বুলু : হ ভাই পাইছি। গুলি পাইছি ১৫টা।
ইমন : তাইলে কামডা সাইরা ফালাইয়া দে তাড়াতাড়ি।
এরপর ১৪ ডিসেম্বর সাত্তারকে খুন করে ইমনকে আনন্দের সংবাদ জানান কিলার বুলু। এ সময়ের কথোপকথন ছিল-
বুলু : ভাই,
ইমন : হু
বুলু : ফাইনাল, শেষ।
ইমন : ঠিক আছে।
বুলু : একদম পইড়া রইছে।
ইমন : চুপ কর। তুই যাইছ না।
খুনের পর গ্রেফতার হলেও কোনো ভয় নেই জানিয়ে ইমন বলে, চিন্তা করবা না। মাসুদরে দিয়া টেকাটুকা দিয়া আমি মামলা পানি পানি কইরা ফালাব। আকাব্বর সম্রাটরে (জনৈক যুবলীগ নেতা) দিয়া ফোন করামু। দেখবি কাম হইয়া গ্যাছে। আর ও-তো বিএনপির সন্ত্রাসী।
রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পার্ট-১ এ বন্দি ছিলেন। সেখানে বসেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। সম্প্রতি তাকে পার্ট-২ এ স্থানান্তর করা হয়েছে। কারাগারে বন্দি ইমন কিভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারছে- জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ এর জেলার আমজাদ হোসেন ডন মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, কারাগারে মোবাইল ফোন ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। তারা যখন আদালতে সাক্ষী দিতে যায় তখন কথা বলে থাকতে পারে। আবার তারা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালেও থাকে। তখনও কথা বলে থাকতে পারে।
তবে শুধু ইমন নয়, আর শুধু হত্যাকাণ্ডই নয়, কারাগারে বসে চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ করছে বন্দি শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। আইনশৃংখলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কারাগারে বসে খুন, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ করছে এমন শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে রয়েছে- খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন, সোহেল ওরফে ফ্রিডম সোহেল, খোরশেদ আলম ওরফে রাসু, আব্বাস ওরফে কিলার আব্বাস, কামাল পাশা ওরফে পাশা, আরমান, মশিউর রহমান ওরফে কচি, ইমামুল হোসেন হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলালসহ কয়েকজন। কারাগারে এরা আয়েশি জীবনযাপন করছে এমন তথ্যও দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভাড়াটে কিলার ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ডসহ নানা অপরাধ বেড়েছে। কিন্তু এমন অপরাধীদের গ্রেফতারে আইনশৃংখলা বাহিনীর তৎপরতা তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। তাছাড়া আসামি গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হলেও অল্প দিনেই আইনের ফাঁক গলে সন্ত্রাসীরা বেরিয়ে আসতে সক্ষম হচ্ছে। চলতি বছরেই ধারাবাহিকভাবে বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে- যেগুলোর পেছনে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হাত ছিল। এ সময় সবচেয়ে আলোচিত মিল্কী হত্যাকাণ্ডের অনেক আসামি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত একমাত্র আসামি তারেক ওরফে কিলার তারেক র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হন। কিন্তু অন্য আসামিরা এখনও প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ধানমণ্ডি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক শামীমের ওপর গুলিবর্ষণকারী ভাড়াটে খুনি জুয়েলকে গ্রেফতার করেছিল র‌্যাব। কিন্তু জামিনে মুক্তি পেয়ে সে এখন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বর্তমানে সে তেজতুরী বাজার এলাকায় অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে সূত্র। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী ও তাদের ভাড়াটে কিলারদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে নতুন বছরে আইনশৃংখলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে।
জানতে চাইলে সাত্তার হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাজারীবাগ থানার এসআই জামসেদুল আলম যুগান্তরকে বলেন, এই খুনের সঙ্গে ইমনের সংশ্লিষ্টতা একেবারেই নিশ্চিত। ঘটনার পর গ্রেফতার বুলু ইমনের ডান হাত বলে পরিচিত। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল এমন বেশ কয়েকজনের তালিকা করা হয়েছে। তারা সবাই ইমনের সহযোগী।

বকশীবাজারে সংঘর্ষ

(জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির দুই মামলায় হাজিরা দিতে আজ বুধবার আদালতে যাবেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পুরান ঢাকার বকশীবাজার এলাকার আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এ তাই পুলিশের সতর্ক অবস্থান। ছবি: মনিরুল আলম) জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির দুই মামলায় হাজিরা দিতে পুরান ঢাকার বকশীবাজার এলাকার আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে পৌঁছেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তাঁর পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগে আজ বুধবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফজলে রাব্বী হলের মোড়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ফজলে রাব্বী হলের মোড়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা মিছিল বের করেন। এ সময় বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এলাকা থেকে তাঁদের মিছিলে ধাওয়া দেওয়া হয়। বিএনপির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, ছাত্রলীগ তাঁদের ওপর হামলা চালায়। দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় একজনের মাথা ফেটে যায়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের বেশ কয়েকটি শেল ছোড়ে।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেছনের গেটে রাস্তার ওপরে আগুন জ্বালানো হয়। বিএনপির একদল নেতা-কর্মী ঢাকা মেডিকেলের পেছনের গেটে অবস্থান নেন। তাঁরা সেখানে স্লোগান দেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ তাঁদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গুলশানের বাসা থেকে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর আদালতের দিকে রওনা হয়। পুরান ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিশেষ এজলাসে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা দুটির বিচারকাজ চলছে। আদালত এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা ভিড় করেছেন। সকাল থেকে রাজধানীর কাকরাইল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের একটি গাড়ি দেখা গেছে। কার্যালয়ে বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী যাননি। বিচারকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—জানতে চাইলে মতিঝিলের অতিরিক্ত উপকমিশনার রাফিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আগে নিরাপত্তাব্যবস্থা যা ছিল, এখনো তাই রয়েছে। গত ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ নয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এর পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী বিচারক নিয়োগ ও মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন। উচ্চ আদালত তা খারিজ করে দেন। গত সপ্তাহে বিচারক বাসুদেব রায়কে বদলি করে তাঁর স্থলে আবু আহমেদ জমাদ্দারকে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

ছোট পর্দায় আজ

এটিএন বাংলায় ‘চক্কর’
এটিএন বাংলায় প্রচার হচ্ছে ধারাবাহিক নাটক ‘চক্কর’। প্রতি মঙ্গল ও বুধবার রাত ১১টা ৩০ মিনিটে প্রচার হয় এটি। এ জাবির রাসেলের রচনা ও পরিচালনায় ধারাবাহিকটিতে অভিনয় করেছেন চিত্রলেখা গুহ, মাসুদ আলী খান, ড. এনামুল হক, ফারুক আহমেদ, শাহেদ শরীফ খান, অহনা, লিটু আনাম, বন্যা মির্জা, কাজী রাজু, মৌরী সেলিম, সোহান খান, মৌটুসী, ওবিদ রেহান, সাহানা সুমি, আশরাফ কবির, এশা, শামীম, জিল্লুর রহমান, লিটন, আবদুল আজিজ প্রমুখ।
চ্যানেল আইতে ‘দাহ’
মমিনুর রশীদ মিল্লাতের  রচনা ও পরিচালনায় ২৬ পর্বের ধারাবাহিক নাটক ‘দাহ’ প্রচার হচ্ছে চ্যানেল আইতে। প্রচার সময় প্রতি বুধবার রাত ১১টা ৩০ মিনিট। আনোয়ার হোসেন বুলুর চিত্রগ্রহণে এ ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন মামুনুর রশীদ, শহিদুজ্জামান সেলিম, ডলি জহুর, বাঁধন, রোকেয়া প্রাচী, আবুল হায়াত, তুষার খান, তপন বাচপাই, সাব্বির আহম্মেদ, সাজেদ সাজু, বাপ্পি, আকাশ প্রমুখ।
একুশে টেলিভিশনে ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’
একুশে টেলিভিশনে আজ প্রচার হবে জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’। মানিক বন্দ্যোপধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস অবলম্বনে ধারাবাহিটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন আলভি আহমেদ। এর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আনিসুর রহমান মিলন, মামুনুর রশীদ, তমালিকা, তিশা, রওনক, দীপান্বিতা, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, ড. এনামুল হক, জ্যোতিকা জ্যোতি প্রমুখ। প্রতি মঙ্গল ও বুধবার রাত ৮টা ২০ মিনিটে প্রচার হচ্ছে নাটকটি।
এনটিভিতে ‘টক্কোনাথ’
এনটিভিতে আজ রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে প্রচার হবে ধারাবাহিক নাটক ‘টক্কোনাথ’। নাটকটি  বুধ ও বৃহস্পতিবার প্রচার হচ্ছে। ওয়াহিদ আনামের রচনা ও পরিচালনায় এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন এটিএম শামসুজ্জামান, হাসান মাসুদ, মৌসুমী হামিদ, সিদ্দিক, আরফান, ম ম মোর্শেদ, শবনম পারভীন, শামীমা নাজনীন, খান মোহাম্মদ ইউসুফ প্রমুখ।
আরটিভিতে ‘মায়ার খেলা’
আরটিভিতে আজ প্রচার হবে ধারাবাহিক নাটক ‘মায়ার খেলা’। পারিবারিক দ্বন্দ্ব, প্রেম, বিরহ নিয়ে নির্মিত এ নাটকটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন রুলীন রহমান। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জিতু আহসান, রিচি সোলায়মান, ইন্তেখাব দিনার, দিতি, শম্পারেজা, তানিয়া হোসেন, নিশা, মুনিয়া, ইলোরা গহর, সাইফ বাবু, শামস সুমন প্রমুখ। নাটকটি বুধ থেকে শনি সপ্তাহে চারদিন রাত ৯টা ৫০ মিনিটে আরটিভিতে প্রচার হচ্ছে।
বাংলাভিশনের ‘মিউজিক ক্লাব’-এ রিংকু
বাংলাভিশনের ফোনোলাইভ স্টুডিও কনসার্ট ‘মিউজিক ক্লাব’-এ আজ সংগীত পরিবেশন করবেন রিংকু। সরাসরি সমপ্রচার নির্ধারিত এই অনুষ্ঠানে দর্শকরা ফোন করে অতিথির সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি গানের অনুরোধ করতে পারবেন। গানের পাশাপাশি তিনি কথা বলবেন তার জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, জানা অজানা তথ্যসহ ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে। ‘মিউজিক ক্লাব’-এর এ পর্বটি বাংলাভিশনে প্রচার হবে আজ রাত ১১টা ২৫ মিনিটে। অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেবেন নাহিদ আহমেদ বিপ্লব।
মাছরাঙা টেলিভিশনে ‘তিন গোয়েন্দা’
মাছরাঙা টেলিভিশনে আজ রাত ৮টায় প্রচার হবে কিশোর ধারাবাহিক ‘তিন গোয়েন্দা’। কাহিনী বিন্যাস ও নাট্যরূপ মাজহারুল হক পিন্টু। চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় আবুল হোসেন খোকন। ধারাবাহকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন অয়ন, কাব্য, বাঁধন, অধরা, অশোক বেপারী, নাজনীন হাসান চুমকি প্রমুখ।
দেশটিভিতে ‘যুক্তি তক্কো আর গপ্পো’
‘যুক্তি তক্কো আর গপ্পো’ একটি টক শো। তবে এর উপস্থাপন গতানুগতিক টক শোর চেয়ে আলাদা। এটি বিষয়ভিত্তিক, প্রতিটি পর্বে নতুন নতুন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচকদের মধ্যে থাকেন ওই বিষয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।  আর সেই সঙ্গে থাকেন একজন সঞ্চালক। রবিউল করিমের পরিকল্পনায়, আবদুল্লা আল মামুনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেন আলমগীর হোসেন। অনুষ্ঠানটি প্রতি বুধবার রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে দেশটিভিতে প্রচার হয়। 
চ্যানেল নাইনে ‘ধন্যি মেয়ে’
প্রতি মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৩০ মিনিটে চ্যানেল নাইনে প্রচার হয় ধারাবাহিক নাটক ‘ধন্যি মেয়ে’। এটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন মাতিয়া বানু শুকু। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আবুল হায়াত, ডলি জহর, শিল্পী সরকার অপু, দ্বিপান্বিতা হালদার, সামিয়া পূর্বা, সাদিকা স্বর্ণা, স্বাগতা, ইন্তেখাব দিনার, ইমতিয়াজ বর্ষণ, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, ইরফান সাজ্জাদ, শ্যামল মাওলাসহ অনেকে।

ফরিদুর রেজা সাগরের ‘বাংলা টেলিভিশনের ৫০ বছর’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

বাংলা একাডেমির পদকপ্রাপ্ত শিশু সাহিত্যিক ও লেখক ফরিদুর রেজা সাগরের লেখা ‘বাংলা টেলিভিশনের ৫০ বছর’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচিত হলো দেশবরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে। বাংলাদেশ টেলিভশনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বইটি প্রকাশ করেছে অন্য প্রকাশ। গতকাল রাজধানীর অভিজাত একটি পাঁচ তারকা হোটেলে এই বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, এমপি। ‘বাংলা টেলিভিশনের ৫০ বছর’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন শেষে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, টেলিভিশন ছাড়া আমরা অপূর্ণ। সব জায়গায় টেলিভিশন আছে। আজ বেসরকারি টেলিভিশনের যে প্রসার তার ভিত্তিটা
কিন্তু বাংলাদেশ টেলিভিশন। তিনি বলেন, ফরিদুর রেজা সাগরের লেখা ‘বাংলা টেলিভিশনের ৫০ বছর’ বইটি ইতিহাসের অংশ হিসেবে থাকবে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ফরিদপুর রেজা সাগর টেলিভিশনের প্রাণপুরুষ। তিনি এই বই লেখার ক্ষেত্রে যে সাহস দেখিয়েছেন তার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, ফরিদুর রেজা সাগর টেলিভিশনকে দেখেছেন ইচ্ছামতো রঙতুলিতে আঁকা ক্যানভাসে। দেখেছেন প্রাণের ছোঁয়ায়, দেশপ্রেমের আধার হিসেবে, গীতিময় ছন্দের কবিতা হিসেবে, সৃজনশীলতার বিকাশ হিসেবে। ছন্দে, আনন্দে, প্রেম-ভালবাসা আর সোনালি আশ্বাসে। বাংলা টেলিভিশনের ৫০ বছর বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অন্য
প্রকাশের কর্ণধার মাযহারুল ইসলাম, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ, আলী ইমাম, মামুনুর রশীদ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক কবি আসাদ মান্নান, শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার, অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক। বইয়ের লেখক ফরিদুর রেজা সাগর তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, সবার উপদেশ ও সহযোগিতায় ‘বাংলা টেলিভিশনের ৫০ বছর’ বইটি আরও পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করবে। অনুষ্ঠানে রবীন্দ্র কন্যা রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, বইয়ের উৎসর্গপত্রে লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের অংশ ‘ধরে যেন মোর সকল ভালোবাসা প্রভু তোমার পানে, তোমার পানে’ গেয়ে শোনান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগীতজ্ঞ আজাদ রহমান, মুস্তফা জামান আব্বাসী, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব মাহবুব জামিল, সৈয়দ সালাহউদ্দিন জাকি, ম. হামিদ, কেরামত মাওলা, কাওসার আহমেদ চৌধুরী, তারিক আনাম খান, নিমা রহমান, আল মনসুর, খায়রুল আলম সবুজ, মনোজ সেনগুপ্ত, মাহমুদ সাজ্জাদ, ফাল্গুনী হামিদ, শিরিন বকুল, লুৎফর রহমান রিটন, নরেশ ভূঁইয়া, আবদুন নূর তুষার, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব আমজাদ হোসেন, হাবিবুর রহমান খান, সংগীত ব্যক্তিত্ব নাশিদ কামাল, শাহিন আজাদ, ফকির আলমগীর এবং চ্যানেল আই-এর অন্যতম পরিচালক এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু। অনুষ্ঠানে চ্যানেল আই পরিচালক ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ বলেন, ফরিদুর রেজা সাগরের লেখা ‘বাংলা টেলিভিশনের ৫০ বছর’ একটি জীবন্ত দলিল।

‘উনি মুক্তিযোদ্ধা, দয়া করে যত্ন নেবেন’

সোমবার রাত প্রায় দশটা। শীতের কলকাতা অনেকটাই চুপচাপ। এরই মধ্যে আচমকাই কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের কনভয় ছুটে চলেছে। গন্তব্য, উত্তর কলকাতার একটি অতি সাধারণ পলিক্লিনিক কাম হাসপাতাল। এখানেই ভর্তি রয়েছেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অনেক প্রেরণা সৃষ্টিকারী গানের রচয়িতা, কবি ও গীতিকার গোবিন্দ হালদার। প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ সোজা হাজির হলেন আইসিইউতে। তার আগেই অবশ্য উপস্থিত হালদার-পত্নী পারুল দেবী ও কন্যা গোপার কাছে খবর নেন গীতিকারের শারীরিক অবস্থার। অসুস্থ গোবিন্দ হালদারের মাথার পাশে দাঁড়িয়ে আবদুল হামিদ জানতে চান, কেমন আছেন? দৃষ্টিহীন হালদারকে জানানো হয় বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের হাজির হওয়ার কথা। অসুস্থ অবস্থাতেই শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। আবদুল হামিদ তাকে বলেন, মনে পড়ে সেই সব গানের কথা, যেগুলো মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা ছিল? গীতিকার সহজেই ধীরে ধীরে শোনান বেশ কয়েকটি গানের প্রথম কয়েকটি কলি। মিনিট দশেক গীতিকারের কাছে থেকে বাইরে বেরিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের আবদুল হামিদ বলেন, উনি আমাদেরই একজন। উনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। একজন বীর  সৈনিক। দয়া করে ওর যত্ন নেবেন। উনি যাতে আরও দীর্ঘদিন বেঁচে থাকেন। মাত্র দু’দিন আগেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসুস্থতার খবর পেয়ে নিজেই ফোন করেছিলেন গীতিকার গোবিন্দ হালদারকে। তখন তিনি ভাল ছিলেন না। তাই তেমনভাবে কথা বলতে পারেননি। তবে হাসিনা তাকে জানিয়েছেন, দ্রুত ভাল হয়ে উঠুন। হাসিনা আরও বলেছেন, আপনার গান শুনে সেদিন আমরা অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। গোবিন্দ হালদারের সব ধরনের চিকিৎসার খরচও যে বাংলাদেশ সরকার বহন করবে সেকথাও তিনি জানিয়েছেন। সূত্রের খবর, শেখ হাসিনার পরামর্শেই সোমবার রাতের কর্মসূচি পরিবর্তন করে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের মানুষের হয়ে সহমর্মিতা জানাতে গিয়েছিলেন জিতেন্দ্রনাথ রায় পলিক্লিনিক ও হাসপাতালে। এ হাসপাতালেই গত ১৩ই ডিসেম্বর কিডনিজনিত অসুস্থতার জন্য  ৮৪ বছরের গোবিন্দ হালদারকে ভর্তি করা হয়। এখন তিনি অনেকটা ভাল। হাসপাতালের পরিচালনা ট্রাস্টের প্রেসিডেন্ট তরুণ পালিত জানিয়েছেন, উনি চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। তার জ্ঞানও রয়েছে। ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে’, ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’, ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে’ প্রভৃতি মুক্তিযুদ্ধের উন্মাদনা সৃষ্টিকারী গানের রচয়িতা গোবিন্দ হালদার। বাংলাদেশ সরকার এর আগেও অসুস্থ গীতিকারের কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। দেয়া হয়েছিল ১৫ লাখ রুপি। গত বছর ফ্রেন্ড অব বাংলাদেশ সম্মানও দেয়া হয়েছে তাকে। অসুস্থতার কারণে তার পরিবর্তে কন্যা গোপা দেবী সেই সম্মান নিতে ঢাকায় গিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, পুরস্কার ঘোষণার সময় যেভাবে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে তাতে তিনি অভিভূত হয়েছিলেন। আসলে কলকাতা তথা এপার বাংলা এই মহান গীতিকারকে স্মরণ না করলেও ওপার বাংলা তাকে আপন করে নিয়েছে।

নতুন বছরে মাহির চমক

ক্যারিয়ারের অল্প সময়ে অভিনয়-পারফরম্যান্স দিয়ে বাংলা ছবির দর্শকদের মুগ্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন চলতি প্রজন্মের সর্বাধিক ব্যস্ত অভিনেত্রী মাহিয়া মাহি। সফলতার বিচারেও দুই বছর ধরে অন্য অনেকের চেয়ে এগিয়ে তিনি। জাজ মাল্টিমিডিয়ার প্রযোজনায় মাহি ও তার অভিনীত ছবিগুলো ছিল আলোচনার শীর্ষে। সফলতা-জনপ্রিয়তা-আলোচনা সব মিলিয়ে মাহিকেই বর্তমান সময়ের নাম্বার ওয়ান নায়িকা হিসেবে মানছেন কেউ কেউ। তবে এ বিষয়টি নিয়ে একেবারেই ভাবছেন না তিনি। শুধু কাজ নিয়েই তার সব চিন্তাভাবনা-ধ্যান। গত বছরের মতো চলতি বছরজুড়েও মাহি ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন একাধিক ছবির কাজ নিয়ে। ২০১৪ সালে এখন পর্যন্ত মাহি অভিনীত ৫টি ছবি মুক্তি পেয়েছে। ছবিগুলো হলো ‘কি দারুণ দেখতে’, ‘অগ্নি’, ‘দবির সাহেবের সংসার’, ‘হানিমুন’ এবং ‘অনেক সাধের ময়না’। প্রতিটি ছবিতেই ভিন্নরূপে দেখা গেছে মাহিকে। ছবিগুলোতে তার অভিনয়-পারফরম্যান্স ছিল দর্শক মহলে প্রশংসিত। এসবের মধ্যে ‘অগ্নি’ এবং ‘অনেক সাধের ময়না’ ছিল এ বছরে মাহির সর্বাধিক ব্যবসা সফল ছবি। ছবিগুলো মাহির ক্যারিয়ারে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। ২৬শে ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে তার অভিনীত নতুন ছবি ‘দেশা- দ্য লিডার’। এখানে শিপনের সঙ্গে জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেছেন মাহি। এটি চলতি বছর তার অভিনীত ৬ নম্বর ছবি। ৬টি ছবি নিয়ে চলতি বছর অভিনেত্রী হিসেবে সর্বাধিক ছবির মালিকও তিনি। পাশাপাশি তার অভিনীত ছবিগুলো সফলতার দিক দিয়েও রয়েছে এগিয়ে। নতুন বছরও নানা চমক দিয়ে শুরু করবেন মাহিয়া মাহি। ২০১৫-তে ৮টি ছবি রয়েছে তার হাতে। এর মধ্যে চারটি ছবি জানুয়ারি থেকে এপ্রিল নাগাদ মুক্তি পাচ্ছে। ছবিগুলো হলো ‘ওয়ার্নিং’, ‘রোমিও ভার্সেস জুলিয়েট’, ‘বিগ ব্রাদার’, এবং ‘অনেক দামে কেনা’। এর মধ্যে ‘রোমিও ভার্সেস জুলিয়েট’ ছবিতে ওপার বাংলার অঙ্কুশের বিপরীতে অভিনয় করেছেন মাহি। এর পাশাপাশি তিনি ‘অগ্নি-২’, ‘নিয়তি’, ‘জানে মন’ এবং ‘ওয়ারিশ’ ছবির শুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন বছরজুড়ে। এগুলোর বাইরে আরও কয়েকটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার কথা রয়েছে তার। সব মিলিয়ে নানা চমকে ৮টি ছবি নিয়ে নতুন বছরে দর্শকদের সামনে হাজির হচ্ছেন এই অভিনেত্রী। এ বিষয়ে মাহিয়া মাহি বলেন, আমি অনেক হ্যাপি যে, দর্শক আমার প্রতিটি ছবিই আগ্রহ নিয়ে দেখছেন, প্রশংসা করছেন। আর এর মাধ্যমে কাজ করার স্পৃহা আরও বেড়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন ছবিতে আমি বিভিন্নরূপে দর্শকদের সামনে আসতে পেরেছি, এটা আমার জন্য সৌভাগ্যের ব্যাপার। কারণ, গতানুগতিক প্রেমিকার চরিত্রে অভিনয় করতে চাই না। চলতি বছর আমার মুক্তি পাওয়া ৫টি ছবিতে পাঁচরূপে দেখা গেছে আমাকে। ‘অগ্নি’তে যেমন অ্যাকশন দৃশ্যে কাজ করেছি, আবার ‘দবির সাহেবের সংসার’-এ কমেডি চরিত্র করেছি। অন্যদিকে ‘অনেক সাধের ময়না’ ছবিতে গ্রামের মেয়ের চরিত্রে কাজ করেছি। নতুন বছরেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। নতুন বছরে প্রথম চার মাসেই চারটি ছবি মুক্তি পাচ্ছে আমার। নতুন আরও ৪টি ছবির কাজ করবো। এছাড়া কিছু ছবির কথাবার্তা চলছে। আশা করছি এসব ছবির মাধ্যমেও দর্শকদের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারবো। এটাই একমাত্র চাওয়া। আর কিছু নয়।

ফিরছেন আইটেম গানে

দীর্ঘদিন ধরেই বলিউড থেকে দূরে রয়েছেন বলিউডের শীর্ষ আইটেম কন্যা মালাইকা অরোরা খান। এর মধ্যে অনেক আইটেম গানের প্রস্তাব থাকলেও সব ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। কারণ, শুধু নিজের পছন্দসই কাজই তিনি করতে চান। তবে এবার অপেক্ষার অবসান হয়েছে। মালাইকা তার নতুন আইটেম গান নিয়ে দর্শকদের সামনে আসতে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে এ গানের শুটিং শেষ করেছেন তিনি। ‘ডলি কি ডোলি’ ছবির মাধ্যমে আবারও আইটেম গানে ফিরেছেন মালাইকা। ছবিটি পরিচালনা করছেন অভিষেক ডোগরা। ছবির মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সোনম কাপুর। এ ছবিতে ‘ফ্যাশন খতম মুঝপে’ শীর্ষক আইটেম গানে পারফরম করতে দেখা যাবে মালাইকাকে। গানটিকে ছবির অন্যতম একটি দিক হিসেবেই উল্লেখ করেছেন পরিচালক। খুব শিগগিরই গানটি ছবির প্রচারণার জন্য মুক্তি দেয়া হবে। এদিকে এই গানে ব্যাপক খোলামেলারূপেই দেখা যাবে সুপারহট মালাইকাকে। অন্যরকম আবেদনময়ীরূপে এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে তাকে। এ ছবিটি প্রযোজনা করছেন মালাইকার স্বামী অভিনেতা-পরিচালক-প্রযোজক আরবাজ খান। আইটেম গানটিতে তার পারফরম করার এটি আরেকটি বড় কারণ। এ গানটি নতুন বছর উপলক্ষেই মুক্তি দেয়া হবে। আর নতুন বছরে গানটি ভক্ত-দর্শকদের জন্য চমক বলেও মনে করছেন মালাইকা। অন্যদিকে ‘ডলি কো ডোলি’ ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে আসছে ফেব্রুয়ারির ৬ তারিখ। এ আইটেম গানে প্রসঙ্গে মালাইকা জানান, এটি অনেক বড় আয়োজনের একটি গান। যেহেতু এটি আরবাজের ছবি, তাই আমার পছন্দ মতোই এর আয়োজন করা হয়েছে। তাই আমি বিষয়টি নিয়ে অনেক হ্যাপি। অবশেষে অনেক ভাল একটি কাজ হয়েছে। এটি নতুন বছরে ভক্তদের জন্য আমার পক্ষ থেকে চমক। বরাবরের মতো সুপারহট মালাইকাকেই এখানে আবিষ্কার করা যাবে। তাই অপেক্ষায় থাকুন, মাত্রতো কয়েকটা দিন!

জর্জ বুশ সিনিয়র হাসপাতালে

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ সিনিয়রকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ৯০ বছর বয়সী সাবেক এ প্রেসিডেন্ট শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। হিউস্টন মেথোডিস্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। ২ বছর আগে ওই একই হাসপাতালে ২ মাসেরও বেশি সময় বুশের চিকিৎসা করা হয়। ব্রংকাইটিসজনিত কাশি ও সম্পৃক্ত কয়েকটি ইস্যুতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৯৮৯ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টদের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘজীবী বুশ। সিনিয়র জর্জ বুশ তার পা ব্যবহার করতে পারেন না। কিন্তু, ৯০তম জন্মদিনটি উদযাপন করেন স্কাইডাইভিং করে। অবশ্যই, তার সঙ্গে ছিলেন একজন প্রশিক্ষিত ডাইভার। তার পুত্র জর্জ বুশ জুর্নিয়র ২০০১ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

টর্নেডোর আঘাতে লণ্ডভণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি, নিহত ৪

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে প্রলয়ঙ্করী টর্নেডোর আঘাতে কমপক্ষে ৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ বলছে, ধ্বংসাত্মক এ ঘূর্ণিঝড়ে বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে জোন্স ও ম্যারিয়ন কাউন্টিতে। আহতদের বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের স্থানীয় বেশ কয়েকটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে আঘাত হানে টর্নেডোটি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। টর্নেডোতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ম্যারিয়ন কাউন্টির কলাম্বিয়া শহরতলির একটি বাণিজ্যিক অঞ্চল। মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র গ্রেগ ফ্লিন এ তথ্য দিয়েছেন। ম্যারিয়ন কাউন্টির পুলিশ প্রধান বার্কলি হল বলেন, রাস্তায় বাড়ির ছাদ পড়ে আছে, মানুষ তাদের বাড়িতে আটকা পড়েছেন, উল্টে পড়ে রয়েছে গাড়ি। বাড়িঘরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, গাছপালা উপড়ে পড়ে আছে, রাস্তায় ধ্বংসস্তূপ আর জঞ্জালের ছড়াছড়ি। বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। পুরো অঞ্চলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আকস্মিক বন্যা সতর্কতাও জারি করা হয়েছে কয়েকটি অঞ্চলে।

বিদ্যুৎ গোলযোগ ২ ঘণ্টা অচল চট্টগ্রাম বিমানবন্দর

বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। আজ  ভোর সাড়ে ৬টার দিকে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে থমকে যায় বিমানবন্দরের কার্যক্রম। এ সময় প্রায় দুই ঘন্টা সব কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এতে দুটি উড়োজাহাজের অবতরণ বিলম্বিত হয়। মেরামত শেষে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে বিমানবন্দর আবার সচল হয় বলে সিভিল এভিয়েশন ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার নূর-ই-আলম জানান। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর দেখা যায় বিমানবন্দরের পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন প্যানেল হ্যাং হয়ে গেছে। সেটি ঠিক করতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। এ সময় বিমানবন্দরে বিদ্যুৎ ছিল না। বিদ্যুৎ না থাকায় এ সময় বিমানবন্দরের সংকেত-বাতিও জ্বলেনি। ফলে বিমান ওঠানামা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক জানান, ওই সময়ের মধ্যে মাস্কট থেকে ওমান এয়ার এবং ঢাকা থেকে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের দুটি ফ্লাইট চট্টগ্রাম পৌঁছানোর কথা থাকলেও অবতরণ বিলম্বিত হয়।

আদালতে খালেদা, আওয়ামী লীগের হামলা

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির দুই মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে পৌঁছেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি আদালতে পৌঁছার আগেই সেখানে জড়ো হওয়া বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলায় রক্তাক্ত অবস্থায় কয়েকজন কর্মীকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ঢাকা মেডিকেল সংলগ্ন মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার, পলাশী মোড় এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটছে। পুলিশ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুড়ছে। পুরো এলাকায় ভুতুরে অবস্থা বিরাজ করছে। খালেদা জিয়ার গাড়ি আদালত এলাকায় পৌঁছার সময়ও ছাত্রলীগের কর্মীরা তার গাড়িবহর লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়তে দেখা যায়।

পাপকে ঘৃণা করো পাপীকে নয়

 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে কারারক্ষীদের কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া  গেলে তাদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। দেশ ও জাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জঙ্গি এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীরা যাতে কারাগারের ভেতর থেকে জঙ্গি তৎপরতা বা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতে না পারে সে লক্ষ্যে কারা নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হবে। মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় কারা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বন্দিদের সুশৃঙ্খলভাবে নিরাপদ আটক ও তাদের প্রতি মানবিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কারারক্ষীদের জন্য প্রশিক্ষণ  কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। অপরাধীদের নিরাপদে আটক রাখার মাধ্যমে সমাজে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অটুট রাখতে কারারক্ষীগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। বন্দিদের সঙ্গে কারা প্রশাসনের ও কারারক্ষীদের আচরণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাপকে ঘৃণা করো, পাপীকে নয়’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আমরা কারা প্রশাসন পরিচালনা করছি। তাই আমাদের সরকার সবসময় কারাগারের পরিবেশ উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৪৩ বছরেও কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কোন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যথোপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য রাজশাহীতে কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি এবং ঢাকায় একটি কারা স্টাফ কলেজ স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে অনেক কারাগারের সংস্কার এবং নতুন কারাগার নির্মাণ করা হয়েছে। আগামী জুনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার  কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করা হবে। আর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গা খালি হলে সেখানে উন্নত মানের স্কুল-কলেজ করা হবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার  কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরিত হওয়ার পর এখানকার জমির প্রায় ৯ একর জায়গায় পার্ক স্থাপন করার পরিকল্পনা আছে। এতে পুরান ঢাকার মানুষসহ দেশের সব নাগরিক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রতিষ্ঠিত ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতা কারা স্মৃতি জাদুঘর’  দেখার সুযোগ পাবে। কারারক্ষীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কারা বিভাগের প্রতিটি সদস্য বন্দি সংশোধন ও পুনর্বাসনের মহৎ পেশায় নিয়োজিত। এখানে জনকল্যাণে নিজেদের তুলে ধরার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি  পেশাগত জ্ঞানের উৎকর্ষ অর্জনের মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে হবে। তিনি বলেন, কারাগারে আটক অপরাধীদের শৃঙ্খলার মধ্যে রাখতে হবে, যাতে কেউ কারাগারে এসে আরও বড় অপরাধী হয়ে বের না হয়। কারাগারে আসা বন্দিদের বন্দি হিসেবে না দেখে সমাজের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সমাজের একজন সদস্য কারাগারের পরিবেশের কারণে অপরাধী হয়ে বের হলে সমাজ আরও কলুষিত হবে। কারা প্রশাসনের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি, বন্দিরা সাজা ভোগ শেষে কারাগার থেকে মুক্তি  পেয়ে যাতে সমাজে পুনর্বাসিত হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করার সুযোগ পান সে জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি আমরা গ্রহণ করেছি। প্রধানমন্ত্রী কারাগারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক শ’ ভাগ পারিবারিক রেশন, ৩০ শতাংশ ঝুঁকিভাতা এবং বেশ কিছু পর্যায়ে কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা ও  বেতনক্রম বৃদ্ধির কথা তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতো কারারক্ষীদের জন্যও রসদ ভাতা চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জানান, ১০০ বছরের পুরানো, জরাজীর্ণ খুলনা জেলা কারাগারকে সরিয়ে নিতে ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারকেও আরও বড় পরিসরে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম কারাগারের আধুনিকায়নের কাজ শেষ হয়েছে। দিনাজপুর, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ফেনী, মাদারীপুর ও পিরোজপুর জেলায় নতুন কারাগার নির্মাণের কাজ চলছে। এছাড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঝিনাইদহ, চাঁদপুর, মেহেরপুর,  গোপালগঞ্জ, নাটোর, নীলফামারী এবং নেত্রকোনা জেলায় নতুন কারাগার চালু করার কথাও বলেন তিনি। ঢাকা ও চট্টগ্রাম  কেন্দ্রীয় কারাগার এবং কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে শিশুদের ডে-কেয়ার  সেন্টার চালু করার কথা জানিয়ে  শেখ হাসিনা বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত এক হাজার বন্দিকে বিশেষ বিবেচনায় কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে যাতে তারা সমাজে পুনর্বাসিত হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। এর আগে কারা সপ্তাহের উদ্বোধন করতে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর  কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী সকালে কাশিমপুর কারাগারে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন তাকে সেখানে স্বাগত জানান। প্যারেড গ্রাউন্ডে জাতীয় সংগীতের পর প্রধানমন্ত্রীকে সশস্ত্র সালাম জানানো হয়। এরপর একটি  খোলা গাড়িতে চড়ে প্রধানমন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শন ও সশস্ত্র অভিবাদন গ্রহণ করেন। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী কারামেলা ও প্রদর্শনী  কেন্দ্রের উদ্বোধন ও পরিদর্শন করেন। এরপর কারারক্ষীদের দরবারে অংশ নেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে কারাগারের ভেতরে ও বাইরে কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়। দীর্ঘ সাত বছর বন্ধ থাকার পর ‘রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ’- এই স্লোগান নিয়ে এবার সারা দেশের ৬৮ কারাগারে কারাসপ্তাহ পালন করা হচ্ছে। বন্দিদের বিষয়ে কারাগারের কর্মচারীদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনা, কারারক্ষীদের উৎসাহ যোগানো, কারাগারের পরিস্থিতির উন্নয়নে কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ সম্পর্কে নাগরিকদের জানানো এবং সার্বিকভাবে সচেতনতা তৈরি এই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য।

চট্টগ্রামে ৪ ছিনতাইকারীকে গণপিটুনি, নিহত ১

স্যার এবারের মতো মাফ করে দেন। জীবনে আর কোনদিন দুই নম্বর কাজ করবো না। টাকার লোভে পড়ে এমন কাজ করেছি। একটু পানি খাওয়ান। খুব তৃষ্ণা পেয়েছে। আমার শিক্ষা হয়েছে। মৃত্যুর কয়েক মিনিট আগে এভাবেই হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় কথাগুলো বলছিল ছিনতাইকারী তফাজ্জল। ডিবি পরিচয়ে অপহরণের সময় ধরা পড়ার পর সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকায় তাকেসহ মোট ৪ জনকে বেধড়ক পিটুনি দেয় সাধারণ জনতা। এরপর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকাল সাড়ে ৫টায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় এনামুল (৪২) ও বেলায়েত (৪০) নামের আরও দু’জনের জীবন সঙ্কটাপন্ন। ২৮  নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে আরও একজনকে। স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী মাদাম বিবিরহাট এলাকায় ৪ অপহরণকারীকে ধরে গণপিটুনি দেয়া হয়। এই সময় তাদের বহনকারী প্রাইভেটকারটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। বেলা সাড়ে ১২টায় এই ঘটনা ঘটে। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বন্ধ থাকে মহাসড়কের যানচলাচল। পরে এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সীতাকুণ্ড পুলিশ জানায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় জহির নামের এক ব্যক্তিকে নিয়ে। তাকে ওই ৪ অপহরণকারী ডিবি পরিচয়ে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারে  জোর করে তুলে নেয়। বিষয়টি তার আত্মীয় স্বজনরা জানার পর তাদের ধাওয়া করে। একপর্যায়ে মোবাইল ফোনে সাধারণ লোকজন বিষয়টি ভাটিয়ারীতে জানালে সেখানে স্থানীয়রা রাস্তায় ব্যারিকেড দেয়। এই সময় পালাতে গেলে ধরা পড়ে যায় ওই ৪ অপহরণকারী। একপর্যায়ে তারা অপহরণ করা জহিরকে হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে ও পা বেঁধে গাড়িতে ফেলে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সাধারণ মানুষ তাদের ঘিরে ফেললে তারা আটক হয়ে যায়। এরপর সবাইকে নামিয়ে গণধোলাই দেয়া হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় সবাইকে নিয়ে আসা হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে ক্যাজুয়েলিটি বিভাগে ভর্তি করা হলে কথা হয় তাদের সঙ্গে।
সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় মারা যায় তফাজ্জল নামের একজন। এর আগে সে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলে, আমার ভুল হয়েছে। জীবনে আর এমন কাজ করবো না। আমি বাঁচতে চাই।
স্থানীয় একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ঘটনার সময় উত্তেজিত হয়ে সাধারণ মানুষ নিজের হাতে আইন তুলে নেয়। এই সময় অনেকে লাঠিসোটা ও ইট দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণকারীরা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দলের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে তারা নগর পুলিশের পরিচয়ে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম করে আসছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড মডেল থানার সহকারী পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, পরিস্থিতি প্রথমে নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। এখন শান্ত। গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। অপহরণকারীদের মুমূর্ষু অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের অবস্থা ভাল নয়।
গতকাল সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে খোঁজ নিলে জানা যায়, ৩ অপহরণকারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। গণপিটুনির পর এদের কারও জ্ঞান ফেরেনি। পরিবারের কোন আত্মীয়স্বজনও তাদের খোঁজে আসেনি। পুলিশ প্রহরায় চলছে তাদের চিকিৎসা। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির এসআই জহিরুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, একজন মারা গেছে। বাকিদের অবস্থা ভাল নয়। ডাক্তার বলেছে তারা একটু পরপরই জ্ঞান হারাচ্ছে। অপহরণকারীদের খোঁজে কেউ এখনও  হাসপাতালে আসেনি। ধারণা করছি গ্রেপ্তার হওয়ার ভয়েই কেউ হাসপাতালে আসছে না।

জঙ্গি হামলায় আসামে নিহত ৪৩

ভারতের আসাম প্রদেশে সন্দেহভাজন বোডো জঙ্গিদের পৃথক হামলায় ৪৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নারী ও শিশু রয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় আসামের সোনিতপুর ও কোকরাঝাড় জেলায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের অধিকাংশই আদিবাসী গোষ্ঠীর সদস্য। তারা চা বাগানের শ্রমিক। আসাম পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক পল্লব ভট্টাচার্য এ খবর নিশ্চিত করেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এদিকে এ হামলার পর আসাম প্রদেশে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠন এনডিএফবি’র একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এ ঘটনার জন্য দায়ী। আসাম পুলিশ প্রধান খগেন শর্মা জানিয়েছেন, সোনিতপুর জেলার সিমাংপাড়া গ্রামে কমপক্ষে ২১ জন নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গত সোমবার এক নিরাপত্তা অভিযানে এনডিএফবি’র দুই শীর্ষ নেতা নিহত হয়। ওই অভিযানের প্রতিশোধ নিতেই সংগঠনটি হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

ফখরুলসহ ২৬ নেতাকর্মীর অভিযোগ গঠন ১০ই ফেব্রুয়ারি

গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ২৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের জন্য ১০ই ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। ঢাকা মহানগর হাকিম আতাউল হক আজ সকালে আসামিপক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ দিন ধার্য করেন। এ দিন মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। আসামিপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট জয়নুল আবেদীন মেজবা অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করেন। আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করেন। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম-মহাসচিব আমানউল্লাহ আমানসহ ১৬ নেতা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ২০১৩ সালের ২রা মার্চ হরতাল-অবরোধ চলাকালে পল্টন এলাকায় গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পল্টন থানার এসআই মেহেদী মাকসুদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

কুতুবদিয়ায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে আর্থিক অনুদান

কুতুবদিয়ায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে আর্থিক অনুদান দেয়া হয়েছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ.টি.এম.নুরুল বশর চৌধূরী মঙ্গলবার সরেজমিন গিয়ে ৫ হাজার করে ৯ পরিবারকে ৪৫ হাজার টাকার চেক বিতরণ করেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমিনুর রশিদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জালাল আহমদ, সাধারণ সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোবারক হুসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছৈয়দা মেহেরুন্ নেছা, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক হাছান কুতুবী, উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আওরঙ্গজেব মাতবর, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শুভ্রাত দাশ, ছাত্রলীগের আহবায়ক সেলিম উদ্দিন লিটন, যুবলীগ নেতা শহীদুল ইসলাম লালা, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের পিতা ইব্রাহীম খলিল, সতরুদ্দীন হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শুক্কুর আলম আজাদ, সহকারী প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ ইউনুছ, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক জসিম উদ্দিন সিকদার, মেম্বার হাবিব উল্লাহ, আবদুর রহমান কালু, উত্তর ধূরুংয়ের সাবেক ইউপি মেম্বার আলী হোছাইনসহ গন্যমান্যরা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৪ কি.মি.দূর্ঘম এলাকা লেমশীখালী পেয়ারাকাটা গ্রামে গত ২০ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১১ টায় এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় সাবেক মেম্বার আবদুল্লাহ আল-মামুন, শফিউল্লাহ, আজিজ উল্লাহ, জাকের হোছাইন, ইউনুছ, নুর হোছাইন, হুমায়ুন কবির, এনামুল হক ও আনিছুর রহমানের বসতঘর পুড়ে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতির শিকার হন ১০ পরিবার।

আওয়ামী লীগ-বিএনপি মুখোমুখি

৫ই জানুয়ারির আলোচিত নির্বাচনের বছরপূর্তিকে ঘিরে মুখোমুখি দুই রাজনৈতিক শিবির। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দিনটিকে গণতন্ত্র দিবস আখ্যা দিয়ে দেশজুড়ে বড় শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে সারা দেশে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ২০ দলীয় জোট। আর এ কর্মসূচির মাধ্যমে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের সূচনা করতে চায় ২০ দল। এ লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছে। ৫ই জানুয়ারির আগে ৩রা জানুয়ারি গুম-খুনের প্রতিবাদ ও নির্বাচন দাবিতে রাজধানীতে সমাবেশ করবে এ জোট। আর ৫ই জানুয়ারি কালো দিবস হিসেবে বড় ধরনের শোডাউনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এ দুই দিনের কর্মসূচি পালন করতে গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশ বরাবর আবেদনও করা হয়েছে। অনুমতি না মিললে টানা হরতাল দেয়ারও হুমকি দেয়া হয়েছে এ জোটের পক্ষ থেকে।
অন্যদিকে ৫ই জানুয়ারি আওয়ামী লীগ ঢাকাসহ সারা দেশে ‘গণতন্ত্র’ দিবসের কর্মসূচি পালন করবে। এদিন দলের নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে। এদিকে ৫ই জানুয়ারির আগেই গাজীপুরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমাবেশ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। পূর্ব ঘোষিত এ সমাবেশ সফল করতে বিএনপি ও ২০ দলের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হলেও জেলা ছাত্রলীগ একই স্থানে সমাবেশ আহ্বান করেছে। ফলে এ নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে জেলার রাজনীতিতে। শুধু গাজীপুরেই নয়, সারা দেশে বিএনপি চেয়ারপারসনের সমাবেশ প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রলীগ। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্প্রতি লন্ডনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা প্রত্যাহার না করলে বিএনপিকে কোথাও সমাবেশ করতে না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের এ ঘোষণার পর বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল ছাত্রলীগকে মাঠে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে। গতকাল পর্যন্ত গাজীপুর ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠে সমাবেশ করতে কোন পক্ষকেই অনুমতি দেয়নি স্থানীয় প্রশাসন। ঢাকায় সমাবেশ করার অনুমতি চাইলেও গতকাল পর্যন্ত অনুমতি মেলেনি। ২০ দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সমাবেশের অনুমতি না পেলে টানা হরতালের ঘোষণা আসতে পারে। ২০দলীয় জোটের সরকার পতনের আন্দোলনকে সামনে রেখে দুই জোটের নেতাদের মধ্যে চলছে কথার লড়াই। নেতাদের বক্তব্যে উত্তাপ ছড়াচ্ছে রাজনীতি। উদ্বেগ-আতঙ্ক ভর করেছে জনজীবনে। বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। বিরোধী জোট ঘোষণা দিয়েছে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে দেয়া না হলে হরতাল  অবরোধের মতো কর্মসূচি দেয়া হবে। লাগাতার কর্মসূচিরও আভাস দেয়া হচ্ছে বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে। এদিকে সরকারি দলের নেতারা বলছেন, বিএনপি ও ২০ দলকে রাজধানীতে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। কর্মসূচির নামে সহিংসতা করলে মাঠেই তাদের মোকাবিলা করা হবে। একই সঙ্গে বিরোধী জোটকে প্রশাসনিকভাবেও মোকাবিলার চিন্তা করছে  সরকার। এ জোটের সম্ভাব্য কর্মসূচিকে সামনে রেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি শুরু হয়েছে বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর।
গতকাল বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা একে অন্যকে প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে বক্তব্য রাখেন। সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো হবে। আগের দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক অনুষ্ঠানে তিনি সরকারি দলের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, র‌্যাব-পুলিশ ছাড়া রাজপথে আসুন। দেখেন কার চামড়া কে তোলে। এদিকে গতকাল ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের এক সভায় নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, বিএনপি ও ২০ দলকে রাজধানীতে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদও এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, বিএনপিকে আন্দোলন করতে দেয়া হবে না। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম চাঁপাই নবাবগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে ৫ই জানুয়ারি দলের নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার নির্দেশনা দেন।
৫ই জানুয়ারি গোলযোগের আশঙ্কা গোয়েন্দাদের
বিএনপি ও জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের তৎপরতার আগাম খবর সংগ্রহে দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন বেশ তৎপর। রাজনৈতিক দল ও এর অঙ্গসংগঠন, দেশের প্রশাসনযন্ত্র সচিবালয় এবং পেশাজীবী বিভিন্ন সংগঠনের খবরাখবর রিপোর্ট আকারে ঊর্ধ্বতনদের কাছে যেসব গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা পাঠান তাদের এখন রাত-দিন পরিশ্রম করতে হচ্ছে। অলিখিতভাবে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে, ৫ই জানুয়ারি পর্যন্ত সবকিছু বিশেষত বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটকে কঠোর মনিটরিং-এ রাখতে হবে। সচিবালয়ে কাজ করেন এমন কয়েক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখন তাদের বেশি তৎপর থাকতে হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গোয়েন্দা সংস্থার পাঠানো গোপনীয় প্রতিবেদন প্রায় প্রতিদিনই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা হচ্ছে। যেন রিপোর্ট পাঠানোর হিড়িক লেগেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মর্ম অনুযায়ী গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পাঠাচ্ছে। বেশির ভাগ গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ৫ই জানুয়ারি বা এর আগে-পরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট নাশকতামূলক কার্যকলাপ ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং এর অঙ্গ সংগঠনগুলোর ঘোষিত কর্মসূচি সংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস স্বাক্ষরিত ওই গোপনীয় প্রতিবেদনের আলোকে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। গোপনীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২রা ডিসেম্বর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে পল্টনের বিএনপি কার্যালয়ে এক যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এ কর্মসূচি নিয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, বিএনপি এবং এর অঙ্গ সংগঠনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলো ৫ই জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে কোন দাবিকে আন্দোলনের ইস্যু হিসেবে সামনে আনতে পারেনি। বিভিন্ন সময়ে দলীয় ইস্যুতে আন্দোলন করলেও জনসম্পৃক্ততা ও সফলতা আসেনি। সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি’র মূলদলসহ অঙ্গ সংগঠনগুলোতে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে তাদের কর্মসূচি পালনকালে নিজেদের মধ্যে হিংসাত্মক ঘটনা সংঘটিত হওয়াসহ গোলযোগের সম্ভাবনা রয়েছে। স্বাধীনতা বিরোধী চক্র ও স্বার্থান্বেষী মহল সরকারকে বিব্রত করতে এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে যে কোন ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সংঘটনের আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট আগামী দিনের আন্দোলনের ইস্যু সৃষ্টির লক্ষ্যে নিজেরাই যে কোন ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক ঘটনা সংঘটিত করে এবং তার দায়ভার সরকারের ওপর চালানোর চেষ্টা চালাতে পারে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সুপারিশ আকারে বলা হয়েছে, বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি এবং এর অঙ্গ সংগঠনগুলো তাদের ঘোষিত কর্মসূচি পালনকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং স্বাধীনতাবিরোধী চক্র ও স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্রের কারণে গোলযোগ ও নাশকতামূলক ঘটনা প্রতিরোধে বিএনপি’র ঘোষিত কর্মসূচিতে সব গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত নজরদারির পাশাপাশি পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনপূর্বক প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রয়োজন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্র্রতিবেদনের ভিত্তিতে নির্দেশনা দেয়ার কাজ চলছে। সহসাই এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পুলিশের আইজি’র কাছে পাঠানো হবে।
৩ ও ৫ই জানুয়ারি জনসভার অনুমতি চেয়েছে বিএনপি
আগামী ৩ ও ৫ই জানুয়ারি রাজধানীতে জনসভার অনুমতি চেয়ে পুলিশ কমিশনার বরাবর আবেদন করেছে বিএনপি। সোমবার বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের দুইজন কর্মচারী ডিএমপি কার্যালয়ে এ চিঠি পৌঁছে দেন। বিএনপির দপ্তর সূত্র জানায়, আগামী ৩ ও ৫ই জানুয়ারি রাজধানীতে জনসভার অনুমতি চেয়ে ডিএমপিতে চিঠি দেয়া হয়েছে। জনসভার স্থান হিসেবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, শাপলা চত্বর কিংবা নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ে সামনের সড়কের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও কোন কিছু জানানো হয়নি।
‘৫ই জানুয়ারি ঢাকায় ঢুকতে দেয়া হবে না’
বিএনপির প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, খালেদা জিয়ার জোট দেশ ও গণতন্ত্রের শত্রু। ৫ই জানুয়ারি এদেরকে রাজধানীতে ঢুকতে দেয়া হবে না। কত হিম্মত আছে ৫ তারিখে দেখবো। সেদিন আমরা দেখতে চাই কার কতটা শক্তি। গতকাল সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শেখ রাসেল শিশু সংসদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ সব কথা বলেন। উপস্থিত দলের নেতাকর্মীদের  উদ্দেশ্যে মায়া বলেন, পাড়া-মহল্লায় সতর্ক থাকবেন। খোঁজখবর  রাখবেন। কোন দুষ্কৃতকারী, ষড়যন্ত্রকারী যেন কোন বাসাবাড়িতে লুকিয়ে  থেকে ষড়যন্ত্র করতে না পারে। তিনি বলেন, ৫ তারিখ কিন্তু অনেক দেরি। আজকে থেকেই রাস্তায় নেমে যান। যেখানেই দেখবেন দুষ্কৃতকারী-বোমাবাজরা বোমাবাজি করছে, সেখানেই ধইরা এমন মিষ্টি  (উত্তম-মধ্যম) খাওয়াইয়া দেবেন, জীবনে আর যাতে কোনদিন মিষ্টি খাইতে না চায়। বিএনপি চেয়ারপারসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি বারবার হরতাল দিয়ে, মায়াকান্না করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করতে চেয়েছিলেন। ইনশাআল্লাহ শত চেষ্টা করেও রক্ষা করতে পারবেন না। বিচার আমরা শেষ করবোই। তিনি বলেন, আপনি এতিমের টাকা চুরি করেছেন। এতিমের ঢাকা চুরি করে কোর্টে হাজিরা দিতে যান না। যত ভাবেই পালিয়ে থাকেন না কেন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আইন আপনার পেছনে পেছনেই যাবে। পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকেন, আপনি এবং আপনার সন্তানকে আইনের আওতায় এসে শাস্তি ভোগ করতেই হবে। আইন থেকে কেউ রক্ষা পায় না, রক্ষা পাওয়ার সুযোগও  নেই। খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের এই নেতা আরও বলেন, স্বপ্ন দেখছেন ক্ষমতায় বসবেন। কিন্তু পায়ের তলায় যে মাটি নেই সেটা কি ভেবে দেখেছেন? আপনি লক্ষ্য করেন এখন বিদেশেও আপনার কোন বন্ধু নেই। আপনার সঙ্গে আছে শুধু মিথ্যাবাদী-ষড়যন্ত্রকারী। আর যারা মুক্তিযুদ্ধে আমাদের সাহায্য সহযোগিতা করে নাই সেই সব বন্ধুরা। তাদের আমরা ভয় পাই না। আমাদের কোন প্রভু নাই, বন্ধু আছে। শেখ রাসেল শিশু সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন মনসুরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শহীদুল ইসলাম মিলন, সহ-দপ্তর সম্পাদক জামাল উদ্দিন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুল হক সবুজ প্রমুখ।
গাজীপুরে খালেদার জনসভা ঘিরে ছাত্রলীগ-বিএনপি মুখোমুখি
স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর থেকে জানান, গাজীপুরে আহূত খালেদা জিয়ার জনসভা ছাত্রলীগের প্রতিহত করার ঘোষণায় দু’পক্ষের মধ্যেই উত্তেজনা রয়েছে। জনসভাকে সফল করতে বিএনপি ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। ছাত্রলীগও একই দিনে একই স্থানে সমাবেশ আহ্বান করে চালাচ্ছে প্রচার-প্রচারণা। এ অবস্থায় আগামী ২৭শে ডিসেম্বরের ২০ দলীয় জোটের জনসভা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বিএনপির জেলা সভাপতি ফজলুল হক মিলন ও সাধারণ সম্পাদক কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল জানান, কলেজ মাঠে জনসভা করার অনুমতি নিয়েই জনসভা সফল করতে তারা মাঠে নেমেছেন। প্রথম ২৩শে ডিসেম্বর জনসভা করার জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের অনুরোধে তা পিছিয়ে ২৭শে ডিসেম্বর চূড়ান্ত করা হয়। যে কোন মূল্যেই জনসভা সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। এরই মাঝে জনসভাটি সফল করতে গত কয়েক দিন ধরে প্রস্তুতিসভা, কর্মিসভা, জনসংযোগসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে। গতকালও জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি ও বিএনপি জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. মাজহারুল আলমের নেতৃত্বে নগরের বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। গাজীপুর জেলা বিএনপি অফিসে পৌর শ্রমিকদলের প্রস্তুতি সভা হয়েছে। এতে নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি সালাউদ্দিন সরকার ও সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাবুল উপস্থিত ছিলেন। নগরের চান্দনায় বশির আহম্মেদ বাচ্চুর সভাপতিত্বে ও যুবনেতা শওকত হোসেন বাবুর পরিচালনায় যুবদলের প্রস্তুতি সভা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে জনসভাস্থল ভাওয়াল কলেজ মাঠ পরিদর্শন ও তদারক করেন কলেজের সাবেক জিএস ও সদর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুরুজ আহম্মেদ। বলেছেন যে কোন মূল্যে আমরা জনসভা সফল করবো। লাখ লাখ মানুষের স্রোতে ছাত্রলীগ সেদিন টিকতে পারবে না। ২০ দলীয় জোটের জনসভাকে ব্যাহত করতে ছাত্রলীগ ষড়যন্ত্র করছে।
তবে ২০ দলীয় জোটের জনসভা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরাও মাঠে রয়েছেন। তাদের দুই দফা দাবির বাস্তবায়ন না হলে সেদিন খালেদা জিয়ার জনসভা স্থলে বিক্ষোভ সমাবেশ করতে অনড় রয়েছে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ। মঙ্গলবার মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম দীপের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা তুহিন রহমান ফাহিম, মহানগর ছাত্রলীগ নেতা মঈনুল হোসেন মোল্লা, কাজী সাকিব, ইমরান হোসেন পলিন, ইমরান হোসেন বাবুসহ ছাত্র নেতৃবৃন্দ নগরের চান্দনা, কোনাবাড়ি, কাশিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ওই একই মাঠে একই দিনের বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ সফল করতে প্রচারপত্র বিলি ও মিছিল-মিটিং করেছে। অন্যদিকে, জেলা ছাত্রলীগ আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে কালীগঞ্জ উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় ছাত্রলীগের সমাবেশ সফল করতে প্রচারপত্র বিলি করেছে। ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ জানায়, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তারেক রহমানের বক্তব্য প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা অথবা তারেক রহমানকে দল থেকে বহিষ্কার না করলে আগামী ২৭শে ডিসেম্বর গাজীপুরের মাটিতে বেগম খালেদা জিয়াকে জনসভা করতে দেবে না ছাত্রলীগ। বরং ওই মাঠে ওই দিন বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ করবে ছাত্রলীগ। ওই মাঠে জনসভা করার জন্য ছাত্রলীগ অনুমতির আবেদন করেছে প্রশাসনের কাছে। বুধবার ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় সভা করবে। এদিকে জনসভা নিয়ে দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থান ও জনসভা প্রসঙ্গে গাজীপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ জানান, বুধবার থেকে পুলিশ প্রশাসনের হেফাজতে নেবে ভাওয়াল কলেজ মাঠ। এখনও কোন পক্ষকেই অনুমতি দেয়া হয়নি। অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। আগামী ২৫শে ডিসেম্বর দুই পক্ষকে নিয়ে বসার উদ্যোগ নেয়া হবে এবং এর পরই ওই মাঠের সমাবেশের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

তারেকের বিরুদ্ধে ৪৪ মামলা

বঙ্গবন্ধুকে ‘রাজাকার’ ও ‘পাকবন্ধু’ বলার অভিযোগে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ৪৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ১৮ই ডিসেম্বর থেকে গতকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় এসব মামলা দায়ের করেন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতারা। এরমধ্যে বেশ কয়েকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। গতকাল দেশের বিভিন্ন জেলায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ৯টি মামলা দায়ের করা হয়। ২২শে ডিসেম্বর ১৮টি, ২১শে ডিসেম্বর ১২টি এবং ১৮ই ডিসেম্বর দায়ের করা হয় ৫টি মামলা। গত ১৫ই জানুয়ারি লন্ডনে বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধুকে ‘রাজাকার’ ও ‘পাকবন্ধু’ আখ্যায়িত করে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। এরপর দেশে তার বিরুদ্ধে সিরিজ মামলা শুরু করেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এছাড়া তারেক রহমানের শাস্তির দাবি করে মানববন্ধন ও কুশপুত্তলিকা দাহ করছেন তারা। এদিকে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, গত সোমবার পর্যন্ত তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ৩৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সবগুলো মামলাই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
পটুয়াখালীতে ৫০৭ কোটি টাকার মানহানির দু’টি মামলা
পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে পটুয়াখালীতে দুটি মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলা আমলে নিয়ে আগামী বছরের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানকে আদালতে উপস্থিত হতে সমন জারি করেছেন। গতকাল সকালে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দুটি দায়ের করেন।
ফেনীতে ১০০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা
ফেনী প্রতিনিধি জানান, বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি করার অভিযোগে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ফেনীর আদালতে ১০০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর মোহাম্মদ ফারুকীর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক ও ফেনী জেলা আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সমাজকল্যাণ সম্পাদক গাজী তারেক আজিজ।
রংপুরে  রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় পরোয়ানা
স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর থেকে জানান, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় রংপুরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি করায় গতকাল দুুপুরে রংপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মহানগর আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও নারী নির্যাতন কোর্টের এপিপি আলী আখতার জাহাঙ্গীর হোসেন তুহিন মামলা দায়ের করেন। এরপর বিচারক মনসুর আহমদ  ওই মামলায় পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।  মামলার পরপরই আদালত চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ। মিছিলটি কাচারি বাজার এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
নোয়াখালীতে ৩ মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
স্টাফ রিপোর্টার নোয়াখালী থেকে জানান, বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি করায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানিসহ তিনটি মামলায়  গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল আদালত। গতকাল মাইজদী শহর যুবলীগের আহবায়ক একরামুল হক বিপ্লব বাদী তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেন। এদিকে মাইজদী শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু ও বেগমগঞ্জের কৃষকলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলু বাদী হয়ে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সম্পর্কে কুরুচিপুর্ণ এবং সরকারের বিরুদ্ধে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে সদর আদালতে দু’টি মানহানি মামলা করেন। এই দু’টি মামলায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
কুষ্টিয়ায় সমন জারি
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি করায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলায় সমন জারি করেছে আদালত। গতকাল দুপুরে কুষ্টিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৫০ হাজার কোটি টাকার মানহানির অভিযোগটি দায়ের করেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার মানিক কুমার ঘোষ।  ওই মামলায়ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে আদালত।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তারেকের বিরুদ্ধে মামলা
স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে জানান, বঙ্গবন্ধুকে  কটূক্তি করার অভিযোগে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গতকাল দুপুরে জেলা ছাত্রলীগ নেতা মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলায় বিএনপি নেতা রিজভী আহমেদ ও মীর নাছিরকেও আসামি করা হয়। আদালতে মামলাটি দায়ের করার পর শুনানি হয়। বিচারক পরে আদেশ দেবেন বলে জানান।
চট্টগ্রামে তারেকের বিরুদ্ধে  ৩ মামলা
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে জানান, চট্টগ্রামে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই নিয়ে মোট ৩টি মামলা দায়ের হলো তার বিরুদ্ধে। গতকাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ পারভেজের আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আলম। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখার ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক।  এর আগে তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে আরও দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। এর একটি হয় ২১শে ডিসেম্বর। গত ১৮ই ডিসেম্বর চট্টগ্রামে তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করে মহানগর ছাত্রলীগ।
হবিগঞ্জে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা খারিজ
স্টাফ রিপোর্টার, হবিগঞ্জ থেকে জানান, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে করা ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। এ ঘটনায় তারেক রহমানের গ্রেপ্তার দাবিতে মিছিল করেছে জেলা ছাত্রলীগ। গতকাল হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রশীদ আহমেদ মিলন রাষ্ট্রীয় পূর্বানুমতি না থাকায় মামলাটি খারিজ করে দেন। ১৫ই ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের ইস্ট লন্ডনের অস্ট্রিয়াম ব্যাংকোয়েট হলে যুক্তরাজ্য বিএনপির আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের সৃষ্টির বিরোধিতা করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তিমূলক বক্তব্য দেন। এর প্রতিবাদে জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মুকিদুল ইসলাম ১০০ কোটি টাকা মানহানির অভিযোগ এনে ২০৩ ধারায় এ মামলাটি করেন।