Sunday, November 30, 2014

রিয়েল এস্টেট সামিট-২০১৪ অনুষ্ঠিত

(রিয়েল এস্টেট সামিটে অতিথিরা। শনিবার রাজধানীর গুলশানের একটি কনভেনশন সেন্টারে সামিটের আয়োজন করে লামুডি ডটকম ডট বিডি এবং সিটিস্কেপ। ছবি: সংগৃহীত) লামুডি বাংলাদেশ এবং সিটিস্কেপের আয়োজনে দেশে প্রথমবারের মতো রিয়েল এস্টেট সামিট অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশানের একটি কনভেনশন সেন্টারে এ সামিটের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে রিয়েল এস্টেট ব্যবসার ওপর চারটি গবেষণাপত্রের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন লামুডি বাংলাদেশের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজেশ গ্রোভার, সিটিস্কেপ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাহিদ সারওয়ার, গ্রুপ সিএমও, এসএসজির আফতাব মাহমুদ খুরশিদ এবং ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্ট বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও এশিয়া প্যাসেফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু সাইদ মো. আহমেদ। গবেষণাপত্রে বক্তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আবাসন ব্যবসার ধরন, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিভিন্ন কৌশল ও উন্নয়নপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বাংলাদেশে রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সাম্প্রতিক ধরন বিষয়ে আলোচনা হয়। সেখানে প্যানেল সদস্যরা এ ব্যবসাসংক্রান্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। বিয়েল এস্টেট সামিটের গণমাধ্যম সহযোগী ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যালেন বাংলাভিশন।

সুন্দরের নিরন্তর সাধক by সৈয়দ আজিজুল হক

(শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী ৯ মার্চ বিরাশি পেরিয়ে তিরাশিতে পা দিলেন। এই শিল্পী স্বাধীনতা পদক পেলেন কয়েক দিন আগে। তাঁর মুকুটে যুক্ত হলো আরেকটি নন্দিত পালক) (ছবি:-মুঠোফোনে শিল্পী যোগেন চৌধুরীর ছবি তুলছেন কাইয়ুম চৌধুরী। ছবি: নাসির আলী মামুন/ফটোজিয়াম
আত্মপ্রতিকৃতি ২০১৪, কাইয়ুম চৌধুরী)
১৯৩২ সালে জন্ম নেওয়া কাইয়ুম চৌধুরী তাঁর ৬৫ বছরের সাধনার মাধ্যমে শুধু আমাদের চিত্রশিল্পের জগৎকেই উৎকর্ষমণ্ডিত করেননি, সেই সঙ্গে বাংলাদেশের সমগ্র সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকেই তাঁর অগ্রসর চিন্তার আলোকে উদ্দীপিত রেখেছেন। বিরাশি-উত্তর জীবনেও তিনি আমাদের সাংস্কৃতিক ভুবনে যৌবনকালের মতোই সক্রিয় এক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব। ছয় দশক ধরে এই শিল্পী আমাদের প্রকাশনার জগৎকে তাঁর বিপুল সৃষ্টির মাধ্যমে যেভাবে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছেন, তার কোনো তুলনা মেলে না। আমাদের শিল্প ও সাংস্কৃতিক জগৎকে তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে সুরুচির আলোয় আলোকিত করে চলেছেন। আর এভাবেই তিনি পরিণত হয়েছেন বাংলাদেশের এক সার্থক শিল্পী-ব্যক্তিত্বে। এই সার্থকতার পেছনে তাঁর সৃজনশীল প্রতিভার পাশাপাশি সক্রিয় গভীরতর নিষ্ঠা ও একাগ্রতা।
শিল্প ও সংস্কৃতির সব ধারা থেকে রস আহরণ করে কাইয়ুম চৌধুরী নিরন্তর পরিপুষ্ট করে চলেছেন নিজ সৃজনশক্তিকে। আর এর স্বীকৃতিও পেয়েছেন রাষ্ট্র, জনগণ ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে। সম্প্রতি সর্বশেষ ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশের ‘স্বাধীনতা পদকে’। আর এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে তাঁর স্বীকৃতি লাভ যেন পূর্ণতা অর্জন করল। কেননা, এর আগে তিনি পেয়েছেন শিল্পকলা একাডেমী প্রদত্ত শিল্পকলার জাতীয় পুরস্কার (১৯৭৭), মনোনীত হয়েছেন বাংলা একাডেমির সম্মানিত ফেলো এবং লাভ করেছেন রাষ্ট্রীয় একুশে পদক (১৯৮৬)। তারও আগে বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে তিনি দু-দুবার রেলওয়ের টাইমটেবলের প্রচ্ছদের জন্য সেরা পুরস্কার পেয়েছেন (১৯৫৯, ১৯৬১), পেয়েছেন শিল্পকলায় পাকিস্তানের জাতীয় পুরস্কার (১৯৬১-৬২), পঞ্চম তেহরান বিয়েনাল থেকে রাজকীয় দরবার পুরস্কার (১৯৬৬) এবং বাংলাদেশের প্রচ্ছদশিল্পের জন্য সাতবার গ্রন্থকেন্দ্র পুরস্কার (১৯৬৪-৭৬) ও স্বর্ণপদক (১৯৭৫)।
এবারের স্বাধীনতা পদকের আরও তাৎপর্য হলো, এর মধ্য দিয়ে তাঁর জীবনভাবনা ও জীবনাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি লাভ করল। পদকপ্রাপ্তির সংবাদ-প্রতিবেদনেই উল্লেখ করা হয়েছে যে এ দেশের মুক্তিযুদ্ধ তথা দেশের সব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারী শিল্পী হিসেবেই তিনি এ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। আমরা তাঁর জীবনেতিহাসের দিকে তাকালে দেখতে পাই, ১৯৪৯ সালে ঢাকার শিল্প শিক্ষালয়ের ছাত্র হওয়ার পর জয়নুল আবেদিনসহ শিক্ষকদের সাহচর্যে যেমন তাঁর জীবনানুভবে অঙ্কুরিত হয়েছিল দেশাত্মবোধের বীজ, তেমনি বন্ধু শিল্পী আমিনুল ইসলাম ও মুর্তজা বশীরের ঘনিষ্ঠ সাহচর্যে তিনি বামপন্থী রাজনীতির চিন্তাস্রোতের নিবিড় সংস্পর্শ লাভ করে নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়েছিলেন উচ্চতর মানবতার বোধে। সেই তারুণ্য থেকে শুরু; তারপর ছয় দশকের বেশি সময় ধরে এই দেশ ও এর শুভবোধসম্পন্ন মানুষের কল্যাণার্থে উৎসর্গীকৃত হয়েছে শিল্পীর সব চিন্তা, কর্ম ও সৃষ্টি। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত স্বাধিকার ও স্বাধীনতাকেন্দ্রিক এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সব সাংস্কৃতিক কর্মযজ্ঞে তিনি সক্রিয় থেকেছেন। ষাটের দশকে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে সর্বজনাব মতিউর রহমান, মফিদুল হক, আবুল হাসনাত, আসাদুজ্জামান নূর প্রমুখ যখনই শিল্পসংশ্লিষ্ট কোনো কাজের দাবি নিয়ে তাঁর কাছে গিয়েছেন, তখনই তা আনন্দচিত্তে পূরণ করেছেন। এমনকি উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তাঁদেরই কেউ কেউ রাতে কারফিউর মধ্যে সরকারবিরোধী প্রচার ও প্রকাশনার শিল্পবিষয়ক কাজের জন্য তাঁর বাসায় উপস্থিত হলে তিনিও নির্ভীকচিত্তে সেসব কাজ সম্পাদন করেছেন। ষাটের দশকের নানা প্রতিবাদী প্রকাশনা সমৃদ্ধ হয়েছে তাঁর শিল্পের ছোঁয়ায়।
১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব অসহযোগ আন্দোলনের সময় দেশের চারু ও কারুশিল্পীদের যে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়, তার যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন কাইয়ুম চৌধুরী ও মুর্তজা বশীর। এই সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগেই ১৯৭১-এর মার্চে ‘স্বাধীনতা’ শীর্ষক চারু-কারুশিল্পীদের একটি ঐতিহাসিক মিছিল ঢাকার রাজপথ প্রদক্ষিণ করে। তারপর মুক্তিযুদ্ধকালীন অনুভূতি নিয়ে অনেক ছবি এঁকেছেন তিনি। রাজশাহীর বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে করেছেন মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক মোজাইক ম্যুরাল। আজও তাঁর শিল্পকর্মে মুক্তিযোদ্ধার ইমেজ একটি পরিচিত অনুষঙ্গ। স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে স্বৈরতন্ত্র, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী সব আন্দোলনের সঙ্গে তিনি নিবিড়ভাবে যুক্ত। সুতরাং তাঁর স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নিশ্চিতভাবে এক আনন্দদায়ক ঘটনা।
জয়নুল আবেদিন, কামরুল হাসান প্রমুখ পথিকৃৎ শিল্পীর পর বাংলাদেশের প্রথম প্রজন্মের শিল্পীদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম কাইয়ুম চৌধুরী। প্রচ্ছদশিল্পী হিসেবে তাঁর বিপুল খ্যাতি সর্বদাই এক ঈর্ষণীয় ঘটনা। স্মরণীয় যে বাংলাদেশের ব্যবহারিক শিল্পকলায় পথিকৃৎ হিসেবে কাজী আবুল কাসেম ও জয়নুল আবেদিনের ভূমিকা থাকলেও এই ধারা কামরুল হাসানের হাতেই বিকশিত ও রসমণ্ডিত হয়েছে। এবং স্বীকার না করে উপায় নেই যে এটি পূর্ণায়ত রূপ লাভ করেছে কাইয়ুম চৌধুরীর নিরবচ্ছিন্ন সৃজনশীল সাধনার মাধ্যমে। ছয় দশক ধরে তিনি এই ক্ষেত্রটিকে বিপুল ও বিচিত্রভাবে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে তুলেছেন। অন্যদিকে তাঁর শিল্পকর্মের জমিনে রং ও রূপের যে বিন্যাস, তাতে দারুণভাবে প্রাণবন্ত হয়ে আছে বাংলার নিসর্গ ও জীবনের সদাচঞ্চল রূপ। জন্মভূমির প্রতি প্রবল মমত্ববোধ তাঁর শিল্পচেতনাকে করেছে স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত। প্রগতির ধ্যান-ধারণায় পুষ্ট এই শিল্পীর ধর্মনিরপেক্ষ জীবনবোধ মুক্তবুদ্ধির আকাঙ্ক্ষায়ও সর্বদা উচ্চকিত। ব্যাপক সাহিত্যপাঠ, সংগীত ও চলচ্চিত্র অনুরাগ তাঁর জীবনজিজ্ঞাসাকে করেছে ইতিবাচক, বৈচিত্র্যসন্ধানী ও উন্নত রুচির আকর।
পিতার বদলিপ্রবণ চাকরিসূত্রে বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে তাঁর স্কুলজীবন অতিবাহিত হওয়ায় দেশের বৈচিত্র্যময় প্রকৃতির যে নিবিড় সাহচর্য তিনি লাভ করেন, তাতে নিসর্গের প্রতি তাঁর মনে সৃষ্টি হয় গভীর অনুরাগ। বিশেষ করে চিত্রা নদীর তীরবর্তী নড়াইলের জীবন তাঁর প্রকৃতিপাঠের ক্ষেত্রে এক তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পত্রিকা ও গ্রন্থপাঠ এবং চলচ্চিত্র ও সংগীতের প্রতি পিতার আগ্রহের ফলে বাল্য বয়স থেকে কাইয়ুম চৌধুরীও এসবের প্রতি অনুরাগী হন, যা তাঁর রুচিশীল মানস গঠনে সহায়ক হয়। চতুর্থ-পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ার সময়ই বইয়ের প্রতি গড়ে ওঠে তাঁর তীব্র আকর্ষণ। তখন থেকেই বইয়ের প্রচ্ছদ এবং ভেতরের ইলাস্ট্রেশন তাঁর ভেতরের শিল্পীসত্তাকে জাগিয়ে তোলে। ঢাকা আর্ট ইনস্টিটিউটে শিক্ষকদের প্রভাবের পাশাপাশি একঝাঁক প্রতিভাবান সহপাঠীর সান্নিধ্য তাঁর শিল্পীসত্তার বিকাশকে করে তোলে অবাধ।
জয়নুল আবেদিন ও কামরুল হাসানের মতো কাইয়ুম চৌধুরীর মধ্যেও রয়েছে স্বাজাত্যবোধ, নিজ চিত্রে দেশের রূপ-রসকে পরস্ফুিটিত করার নিরন্তর প্রয়াস এবং লোক-ঐতিহ্যের প্রতি অঙ্গীকার। প্রচ্ছদ-নকশা ও অলংকরণের ক্ষেত্রে যে সুরুচি ও সৌন্দর্যের নতুন ধারার সূচনা তিনি করেছেন, তা তাঁর চিত্রশিল্পের জমিনকেও প্রভাবিত করেছে। কাইয়ুম চৌধুরীর সব ধরনের কাজে বাংলাদেশের গ্রাম জনপদের উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যবহ। তাঁর প্রিয় বিষয়ের মধ্যে রয়েছে নদী, আকাশ আর মাটি। দেশের নানা সংকটে তাঁর বিপর্যস্ত মন গ্রামবাংলার জীবনচিত্রের মধ্যে স্বস্তি খুঁজে পায়; এবং গ্রামজীবন তাঁর অন্তর্গত সত্তায় এমন একধরনের অনুভূতির জন্ম দেয়, যা তাঁর সৃষ্টিশীল উদ্যমকে ওই জীবননির্ভর চিত্রাঙ্কনে প্রাণিত করে। ওইরূপ অনুভূতি তাঁর দেশাত্মবোধেরও উৎস।
লোক-ঐতিহ্যের প্রতি জয়নুল আবেদিনের সুতীব্র অনুরাগ কাইয়ুম চৌধুরীর মনেও লোকশিল্পের প্রতি আগ্রহ ও আকর্ষণ সৃষ্টি করে। এ ক্ষেত্রে নন্দলাল বসুর হরিপুরা চিত্রমালা, যামিনী রায় ও কামরুল হাসানের চিত্রসমষ্টিও তাঁর অনুপ্রেরণার উৎস। আর এভাবে তাঁর কাছে লোকশিল্প হয়ে উঠেছে আমাদের ঐতিহ্যেরই এক স্থায়ী ঠিকানা। লোকশিল্পের বিচিত্র মোটিফ রং ও ভাষাকে তিনি তাঁর শিল্পকর্মে সৃজনশীলভাবে অঙ্গীকার করেছেন। ঐতিহ্যবাহী পটচিত্র, কালীঘাটের পট, শখের হাঁড়ি, লক্ষ্মীর সরা, নকশিকাঁথা ও পাখা প্রভৃতির বিষয় ও প্রকরণপদ্ধতি অনুসরণ করার পাশাপাশি তিনি লোকজ ফর্ম ভেঙে তাকে আরও মিনিমাইজ করে এবং প্রাথমিক রঙের সমান্তরালে মিশ্র রং ব্যবহার প্রভৃতির মাধ্যমে এর আধুনিক প্রয়োগে প্রয়াসী হয়েছেন। কালীঘাটের পটের ড্রয়িংয়ে যে সংক্ষিপ্ততা বা লিরিক্যাল কোয়ালিটি বিদ্যমান, তার প্রতিও তিনি গভীরভাবে আকৃষ্ট।
কাইয়ুম চৌধুরীর প্রতিটি ছবির কম্পোজিশনই এক প্রকার ডিজাইন। এই নকশাধর্মিতা লোকজশিল্পেরও অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই বাস্তবতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও নিজের কর্মধারা চিত্রশিল্পী ও ডিজাইনার হিসেবে তাঁর দুই সত্তাকে পরস্পরের পরিপূরক করে তুলেছে। ছবির জমিনে অবয়ব ভাঙার যেসব কলাকৌশল বা রঙের ওভারল্যাপিংয়ের আশ্রয় তিনি নেন, তা একইভাবে প্রচ্ছদ ও অলংকরণেও অনুসরণ করেন। ফলে চিত্রশিল্পী ও ডিজাইনার হিসেবে তাঁর দুই সত্তাকে আর পৃথক করা যায় না। এ দুই সত্তা পরস্পরের জন্য দ্বন্দ্বাত্মক না হয়ে তাঁর ক্ষেত্রে শক্তিবর্ধক হয়েছে। তা ছাড়া প্রচ্ছদে হস্তলিপি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরন্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তিনি সার্থকতার চূড়া স্পর্শ করেছেন। এই সিদ্ধির কারণ প্রচ্ছদকে শুধু দৃষ্টিশোভন করা নয়, গ্রন্থের বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলার বিবেচনাটিও তাঁর কাছে সব সময়ই মুখ্য।
লাল, আলট্রা মেরিন ব্লু, ক্যাডমিয়াম ইয়েলো এবং ভিরিডিয়াম গ্রিন—এসব রঙের প্রতি রয়েছে তাঁর বিশেষ দুর্বলতা। তাঁর সব ছবিতেই রয়েছে এসব রঙের প্রাধান্য। মৌলিক রঙের প্রতি পটচিত্রীদের আগ্রহসূত্রেই তাঁরও মধ্যে এই আকর্ষণ ও পক্ষপাতের জন্ম। তবে একাধিক রঙের মিশ্রণের মাধ্যমে নতুন রঙের আবহ সৃষ্টিতেও তিনি কম আগ্রহী নন। এ ক্ষেত্রে তাঁকে প্রভাবিত করেছে পাশ্চাত্যের ইমপ্রেশনিস্ট শিল্পীরা। রং ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইমপ্রেশনিস্ট শিল্পীরা দৃষ্টিভঙ্গির যে আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসেন, তাকে তিনি সচেতনভাবে অনুসরণ করেন। লেওনার্দো দা ভিঞ্চি ও মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর পর তাঁর প্রিয় শিল্পীর তালিকায় আছেন ভ্যান গঘ, পল গগা ও পাবলো পিকাসো।
কাইয়ুম চৌধুরীর ছবিতে কর্কশতা বা নির্মমতা নেই, নেই সমকালীন জীবনের যন্ত্রণা, অর্থাৎ মানুষের তীব্র দুঃখ-কষ্ট, সন্ত্রাস, খুনোখুনি, নির্যাতন-নিপীড়ন প্রভৃতির অভিব্যক্তি। তাঁর ছবি সব সময় লালিত্যময়। গঠনবিন্যাসের সৌন্দর্যই এই লালিত্যের কারণ। সমকালকে অতিক্রম করে নিজ চিত্রকর্মকে এক চিরকালীন আবেদনে ব্যঞ্জিত করার দিকেই শিল্পীর আগ্রহ। এই আগ্রহ তাঁকে সুন্দরের এক সাধকে পরিণত করেছে। অরূপরতনের আশায় যেন তিনি রূপসাগরে ডুব দিয়েছেন। আর এই রূপের তৃষ্ণায়ই তিনি আমাদের চারুশিল্পের ভুবনকে উদ্ভাসিত করেছেন দেশাত্মবোধের উজ্জ্বল আলোয়, আমাদের প্রকাশনাশিল্পকে সৌন্দর্যদীপ্ত করে উন্নীত করতে প্রয়াসী হয়েছেন আন্তর্জাতিক মানে। এই দুই ক্ষেত্রেই তাঁর সাফল্য তাঁকে অবিসংবাদিত রূপে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে। স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্তি উপলক্ষে আমরা শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীকে অভিনন্দন জানাই। বাংলাদেশের শিল্প ও সাংস্কৃতিক ভুবনে তিনি প্রতিনিয়ত সুন্দরের যে সুধা বর্ষণ করে চলেছেন, তা আরও বহু-বহুকাল ধরে অব্যাহত থাকুক, সেটাই আমাদের একান্ত কামনা।

হেঁটেছি এতটা দূর by সুমনা শারমীন

মনের মধ্যে ছবি আঁকার আকাঙ্ক্ষাটা তৈরি করে দিয়েছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত রং আর তুলিতে সমান সক্রিয় ছিলেন শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী। শিল্পীর ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে তাঁকে নিয়ে এ লেখাটি লিখেছিলেন সুমনা শারমীন। ২০১২ সালের ১০ মার্চ এটিই ছিল ছুটির দিনের মূল রচনা।
‘আমি তখন ঢাকার নয়াপল্টনে থাকি। ১৯৬০-৬১ সালের কথা। পুকুরের এই পাড়ে আমার বাড়ির জানালা দিয়ে ওই পাড়ের যে বাড়িটা দেখা যায়, সেটা শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বাড়ি। আমাকে একদিন তিনি বললেন, কাইয়ুম, রাত তিনটা-চারটা পর্যন্ত তোমার ঘরে বাতি জ্বলে। প্রায়ই ঘুম ভেঙে গেলে পানি খেতে উঠে দেখি, তোমার ঘরে আলো জ্বলছে। কেন?
‘তখন আমি অবজারভার গ্রুপে কাজ করি। বললাম, আমি তো দিনে চাকরি করি, সময় পাই না। তাই রাত জেগে কাজ করি।
‘তিনি বললেন, এইটার ফল একদিন তুমি পাইবা।
‘তখন রোববার ছুটি ছিল। আমি আর আমার স্ত্রী তাহেরা একদিন ছুটির দিনে আজিমপুরে ওর মায়ের বাড়ি এসে খেয়েদেয়ে রাতে ফিরেছি। দরজায় ঠক ঠক ঠক। দেখি জনাবুল ইসলাম। জয়নুল আবেদিনের ছোট ভাই। বললেন, এখনই চলেন। মিয়া ভাই ডাকে। বলেছেন, যখনই আসবে, তখনই ধইরা নিয়া আসবা।
‘আমি তো অবাক। গেলাম। দেখি তিনি খালি গায়ে রকে বসে আছেন। এত রাতে?
‘কাছে যেতেই ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিলেন। তারপর জড়িয়ে ধরে জানালেন, সন্ধ্যায় একটা টেলিগ্রাম এসেছে। লাহোর জাতীয় প্রদর্শনীতে আমি প্রথম স্থান পেয়েছি।
‘তখন আমার কানে শুধু বেজেছিল স্যারের কথাটা, এইটার ফল একদিন পাইবা।’
গায়ে লাল টি-শার্ট চাপিয়ে গত সোমবার বিকেলে আজিমপুরের বাসায় বসে গল্পটা শোনালেন শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী; যিনি বিশ্বাস করেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন কিছু গ্রহণ করতে না পারলে আটকে যেতে হয়। তাই তো তিনি হেঁটে এসেছেন এতটা পথ, তবু তরুণ।
গতকাল ৯ মার্চ তাঁর ছিল জন্মদিন। ৮০ বছর আগে ১৯৩২ সালে জন্মেছিলেন তিনি। ফেনীতে।
কাইয়ুম চৌধুরী অকপটে বললেন, মনের মধ্যে ছবি আঁকার আকাঙ্ক্ষাটা তৈরি করে দিয়েছিলেন জয়নুল আবেদিন। রোববার ছুটির দিনে আবেদিন স্যারের বাড়িতে আড্ডা দিতেন মোহাম্মদ মনসুরউদ্দীন, কবি জসীমউদ্দীন, সাইয়িদ আতীকুল্লাহ্। আমি পাশে বসে শুনতাম। একদিন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘সানডে অবজারভার-এর ম্যাগাজিন শাখায় দেখলাম নৌকার গলুইয়ে চোখ। ইলাস্ট্রেশনটা কে করেছে?’ বললাম, ‘আমি। সিলেট অঞ্চলে এ রকম নৌকা দেখেছিলাম।’
‘তুমি তাহলে এ ধরনের ছবি আঁকো কেন? অনেক নৌকা, অনেক চোখ এমন কম্পোজিশনে ছবি আঁকবা। আঁকলে ভালো করবা।’ ভেতর থেকে তাগিদ অনুভব করলাম। আবেদিন স্যারের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বললে সাংঘাতিক অনুপ্রাণিত হতাম। জীবিকার প্রয়োজনে তখন ইলাস্ট্রেশন করা, প্রচ্ছদ করা। বাড়িতে গিয়ে তাহেরাকে বললাম, ‘আমার রঙের প্যালেট কই? ইজেল কই? বের হলো ধুলো জমা হার্ডবোর্ড; তখন হার্ডবোর্ডেই আঁকতাম।’
‘১৯৬৪-৬৫ সালের কথা। শিল্পী আমিনুল ইসলাম একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলেন ঢাকার জার্মান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে। আমি সেই নৌকার গলুইয়ের কম্পোজিশনে ছবি দিলাম। তখন জার্মান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক স্টিবার সেই নৌকার ছবি দেখে আমার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। একজন বিদেশির চোখেও সেই নৌকার গলুই ভালো লাগল। সৈয়দ শামসুল হক এই ছবি নিয়ে কবিতা লিখেছিলেন “হিজল কাঠের নাও”।’
এখনো হাতের ছোঁয়া
জীবনে অনেক বইয়ের প্রচ্ছদ করেছেন কাইয়ুম চৌধুরী। সেই ১৯৫৪ থেকে ২০১২ সাল। কাজটা শুরু হয় জীবিকার প্রয়োজনেই। কিন্তু একসময় এমন হয়ে দাঁড়াল যে, কাইয়ুম চৌধুরীর প্রচ্ছদ মানেই ‘বিশেষ প্রচ্ছদ’। বললেন, ‘আমার সৌভাগ্য, আমার বন্ধুবান্ধবেরা আমাকে দিয়েই প্রচ্ছদ আঁকাতেন। এত যে প্রযুক্তির ধাক্কা, আমি নিজেও কম্পিউটার গ্রাফিক্স ব্যবহার করি, কিন্তু আমার কাছে সবার চাওয়া, প্রচ্ছদে থাকবে হাতের ছোঁয়া, থাকবে ক্যালিগ্রাফির ব্যবহার।’
—এ বছর কয়টা বইয়ের প্রচ্ছদ করলেন?
প্রথমা প্রকাশনেরই তো ৩০টার মতো।
সব মিলিয়ে ৫০টার মতো হবে।
—নিজের করা সারা জীবনের এত এত প্রচ্ছদ থেকে যদি চট করে একটা প্রচ্ছদ বাছতে বলি, পারবেন?
—সৈয়দ শামসুল হকের কবিতার বই একদা এক রাজ্যে।
প্রথম একক প্রথম সীমানা পেরিয়ে
শিল্পীজীবনের শুরুটা মোটেও মসৃণ ছিল না কাইয়ুম চৌধুরীর। বললেন, ‘শিল্পসমালোচকেরা বলতেন, আমার ছবি “ছবি” হয় না। একই প্রদর্শনীতে ইলাস্ট্রেশনের পাশে ছবি ঝোলাবে না বলে আমার বন্ধুরা দেয়াল থেকে ছবি পর্যন্ত নামিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু প্রেরণা জাগানো ঘটনাও ঘটেছে। নয়াপল্টনে থাকার সময় একদিন আবেদিন স্যারের বাড়িতে ডাক পড়ল। একজন বিদেশি ভদ্রমহিলা আমার সঙ্গে নাকি দেখা করতে চান। তত্কালীন পাকিস্তানের একজন সচিব মঈনুদ্দিন সাহেবের আমেরিকান স্ত্রী বারবারা মঈনুদ্দিন। তিনি রাওয়ালপিন্ডির এক গ্যালারিতে পূর্ব পাকিস্তানের শিল্পীদের প্রদর্শনী থেকে আমার দুটো কাজ সংগ্রহ করেছিলেন। ঢাকায় এসে তিনি আবেদিন স্যারের কাছে আমার খোঁজ করে দেখা করেছিলেন। দেখা হলো। বললেন, তোমার ছবি দুটো আমার খুব পছন্দ হয়েছে। একটি রেখেছি ড্রয়িংরুমে, একটি বেডরুমে। কথাবার্তা বলে তিনি চলে যাওয়ার পর আবেদিন স্যার আমাকে বলেছিলেন, তুমি তো লোক ভালো না। ভদ্রমহিলার বেডরুমে ঢুকে গেলে! সেই আমি প্রথম একক প্রদর্শনী করি ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীতে। সবাই খুব প্রশংসা করলেন। সেই প্রদর্শনীতে “শৈশব স্মৃতি” শিরোনামে একটা সিরিজ করেছিলাম। তারই একটি এখনো আমার কাছে আছে। (হাত তুলে দেখালেন খাবার টেবিলের পেছনের দেয়ালে ঝুলছে ছবিটি)। কিন্তু একটাও ছবি বিক্রি হয়নি। মন খারাপ। তখন তো অর্থেরও দরকার ছিল। প্রদর্শনী দেখতে এলেন তখনকার উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ। বললেন, তোমার কোনো ছবি বিক্রি হয়নি কেন? আমি বললাম, সেন্টু ভাই, আমার ছবি কেউ কেনে না।
তিনি চলে গেলেন। দুই দিন পর আমার প্রায় সাত-আটটা ছবি বিক্রি হলো। সেই আমলে দেড় লাখ টাকায় ছবি বিক্রি হয়েছিল। তাহেরাকে নিয়ে আমেরিকা চলে গেলাম গ্যালারি, মিউজিয়াম দেখাব বলে। তাহেরার বোন ছিল ওয়াশিংটন ডিসিতে। এর আগে তো কখনো পৃথিবী-বিখ্যাত শিল্পীদের চিত্রকর্ম সামনাসামনি দেখিনি। ন্যাশনাল মিউজিয়ামে গেলাম। বিশাল ব্যাপার। সব তো দেখা সম্ভব নয়। আমি আমার আগ্রহের বিষয় বেছে নিলাম। ইমপ্রেশনিস্ট শিল্পীদের কাজের জায়গায় গেলাম। প্রথমে পল গগাঁ, তারপর ভিনসেন্ট ভ্যানগঘ। একজন হালকা রঙে কাজ করেছেন, ক্যানভাস ছেড়ে ছেড়ে গেছেন। আরেকজন চড়া রঙে ভরিয়েছেন ক্যানভাস। পুরো শরীরের মধ্যে শিহরণ অনুভব করলাম। এই এই জায়গায় গগাঁ তুলি ছুঁয়েছিলেন। হঠাত্ আমাদের সঙ্গে আসা তাহেরার বোন, আমার শ্যালিকা, আমার হাত ধরে বললেন, আপনি তো পড়ে যাবেন, আপনি কাঁপছেন! স্কাল্পচার গার্ডেনে গিয়ে মনে হলো, অন্তত একটা ভাস্কর্য ছুঁয়ে দিই। “বালজাক” নামে রদাঁর ভাস্কর্যটা ছুঁয়ে দিতেই নিরাপত্তারক্ষীর চিত্কার—ডোন্ট টাচ!’
বই আর গানের নেশা
সেই ছোটবেলায় অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ক্ষীরের পুতুল দিয়ে বই পড়া শুরু। তারপর কবে যেন পত্রিকা পড়া, বই পড়াটা নেশাই হয়ে গেল তাঁর। বাবা আবদুল কুদ্দুস চৌধুরীর কাছ থেকেই এসেছে পড়ার এই অভ্যাস। তিনি ছিলেন কো-অপারেটিভ ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার। বাড়িতে আসত নানা পত্রিকা। ভারতবর্ষ, প্রবাসী, বঙ্গশ্রী—এসব পত্রিকার গ্রাহক ছিলেন বাবা। পত্রিকাগুলোর পাতায় ছাপা হতো বিখ্যাত শিল্পীদের চিত্রকর্ম। বলছিলেন, ‘অবনঠাকুর, গগনঠাকুর—এঁদের কাজ দেখতাম। অনেক বিখ্যাত শিল্পীর কাজও ছাপা হতো। তাঁদের মধ্য থেকে অনেক শিল্পী হয়তো হারিয়ে গেছেন। অবনঠাকুর বেঁচে আছেন। যার থাকার কথা, সে-ই থাকে। বাবার ছিল বদলির চাকরি। সেই সূত্রে বাংলাদেশের বহু জায়গায় ঘুরেছি। চট্টগ্রামে যখন, তখন ক্লাস থ্রিতে পড়ি। পুকুরে গোসল করছিলাম, হঠাত্ কে একজন বলল, তোমার বাবা কলের গান এনেছেন। কলের গান! উঠেই ভোঁ-দৌড় বাড়িতে। গায়ে যে কাপড় নেই, সেদিকে খেয়াল নেই। সেই থেকে গান শোনা আর এলপি রেকর্ড জমানোর নেশা। ১৯৭১ সালে যখন বাড়ি ছেড়ে গেলাম, তখন কিছুই নিইনি সঙ্গে। শুধু এক ট্রাংক এলপি রেকর্ড। আর ছেলেবেলায় যখন চলচ্চিত্র দেখতাম, তখন ছবিটা যে চলছে, এই জিনিসটা আমাকে সাংঘাতিক আলোড়িত করত। বিশেষ করে ট্রেন ছুটে যাচ্ছে—এই দৃশ্য দেখলেই আমি শিহরিত হতাম।’
সত্যজিত্ রায়ের পথের পাঁচালী কয়বার দেখেছেন?
‘১৫-২০ বার। সেই ট্রেন, সেই শিহরণ। মনে আছে, গুলিস্তান সিনেমা হলে যখন পথের পাঁচালী দেখতাম, প্রথম কয়েকটি দৃশ্য পরিষ্কার দেখা যেত। তারপর পুরোটাই চোখের জলে ঝাপসা। কাঁদতে কাঁদতে ছবি দেখা।’
প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে
জয়নুল আবেদিনের কথায় অনুপ্রাণিত যে ছাত্র ‘শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী’ হলেন, ছবি আঁকলেন, ছবি এঁকে যাচ্ছেন—তিনি কি পেরেছেন তাঁর কাজ আর কথা দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেই অনুপ্রেরণা ছড়িয়ে দিতে?
মাথা নাড়লেন কাইয়ুম চৌধুরী। শিক্ষক কাইয়ুম চৌধুরীর কোনো অনুসারী নেই। যেমন অনেকে মোহাম্মদ কিবরিয়ার মতো ছবি আঁকেন। তাঁর রং, তাঁর কম্পোজিশন, তাঁর বুনোট, তাঁর রঙের প্রয়োগ অনুসরণ করেন। সবারটাই যে মানোত্তীর্ণ হয়, তা নয়। কাজটা সহজও নয়। তবু কিবরিয়ার ধারা বলে একটা ঘরানা তো আছে। পাশে ছিলেন শিল্পী অশোক কর্মকার। বললেন, স্যার, সরাসরি না হলেও আপনার রং, আপনার ফর্ম অনেককে অনুপ্রাণিত করে। তাহেরা চৌধুরী বললেন, গ্রাফিক ডিজাইনে তোমার কাজের সরাসরি অনুসারী আছে। কিন্তু কাইয়ুম চৌধুরী বিনয়ের সঙ্গে আবারও বললেন, তিনি শিল্পী হিসেবে যতটা সফল, শিক্ষক হিসেবে ততটা নন।
তাঁকে প্রশ্ন করি, আপনি তো হাঁটলেন আশি বছর। সুস্থ দেহে আরও অনেক বছর হাঁটবেন। ছবি আঁকবেন। কিন্তু হঠাত্ দেখলেন পরবর্তী প্রজন্মের কোনো এক শিল্পী ঠিক কাইয়ুম চৌধুরীর মতো করেই কাজ করছেন। সাধারণ চোখে ধরাই পড়ে না কোনটা কাইয়ুম চৌধুরীর, কোনটা না। কেমন লাগবে? খুশি হবেন?
ঘরটা হঠাত্ নীরব। এতক্ষণ চঞ্চল যে দুই শিশু—অতসী ও অতনু (তাহেরা চৌধুরীর ভাতিজা-ভাতিজি) ঘুরে বেড়াচ্ছিল, তারাও কী মনে করে শিল্পীর মুখের দিকে চেয়ে থাকল।
উত্তর শোনার অধীর অপেক্ষায় যেন বারান্দার পাশের গাছ থেকে পাখিরাও একটু বিশ্রাম নিল। কোনো কিচিরমিচির নেই। তিনি বললেন, ‘কষ্ট পাব। আমি যেখানে থামলাম, পরের প্রজন্ম যদি আরেকটু এগিয়ে যায়, তবেই আমার আনন্দ।

মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজের চান্দগাঁও ক্যাম্পাসে ক্লাস পার্টি অনুষ্ঠিত


গত ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রামের একমাত্র ক্লাস নির্ভর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজের চান্দগাঁও ক্যাম্পাসে প্রি-নার্সারী থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন সেকশনের ১২টি ক্লাসে পর্যাক্রমে ক্লাস পার্টি অনুষ্ঠিত হয়। ক্লাস পার্টি উদ্ভোধন করেন মেরিট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ। এই সময় আরো উপস্থিত ছিলেন উক্ত প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ নুর কাশেম, মেরিট বাংলাদেশ স্কুল এন্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ শরিফুল কাদের চৌধুরী, কো-অর্ডিনেটর শিহাব উদ্দিন, বালিকা হোষ্টেল সুপার সাজেদা বেগম মিনু,শিক্ষক ওসমান বেনজির, রঞ্জন রায় চৌধুরী,কাজি মোহাম্মদ সাইয়েদ, চেমন আরা, সাইফুল ইসলাম,নজরুল ইসলাম,বৈশাখী বনিক,আবিদা নুর মনি লক্ষী রানী,নাসরিন আক্তার,পাপিয়া সেন প্রমূখ। অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ প্রতিটি ক্লাস পার্টি উদ্ভোধনের পূর্বে ছাত্র-ছাত্রীর উদেশ্যে বলেন, জীবনের  সব চাইতে আনন্দের বিষয় হচ্ছে শিক্ষা গ্রহণ, সেই আনন্দের প্রাপ্তির পূর্ণতা লাভ হচ্ছে নিজেকে  একাডেমীক ভাবে শিক্ষিত করা। সামনের বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, সারা বৎসরের লেখা-পড়ার মূল্যায়ন হচ্ছে বার্ষিক পরীক্ষা। এই মূল্যায়নের জন্য  শিক্ষার্থীদের দক্ষতা প্রমানের জন্য সামনের পরীক্ষাগুলোতে অবশ্যই  ভালো করতে হবে। এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীদেরকে আরো সচেতন ও নিজে কর্তব্যপরায়ন হতে হবে।

মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজের চান্দগাঁও ক্যাম্পাসে ক্লাস পার্টি অনুষ্ঠিত


গত ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রামের একমাত্র ক্লাস নির্ভর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজের চান্দগাঁও ক্যাম্পাসে প্রি-নার্সারী থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন সেকশনের ১২টি ক্লাসে পর্যাক্রমে ক্লাস পার্টি অনুষ্ঠিত হয়। ক্লাস পার্টি উদ্ভোধন করেন মেরিট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ। এই সময় আরো উপস্থিত ছিলেন উক্ত প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ নুর কাশেম, মেরিট বাংলাদেশ স্কুল এন্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ শরিফুল কাদের চৌধুরী, কো-অর্ডিনেটর শিহাব উদ্দিন, বালিকা হোষ্টেল সুপার সাজেদা বেগম মিনু,শিক্ষক ওসমান বেনজির, রঞ্জন রায় চৌধুরী,কাজি মোহাম্মদ সাইয়েদ, চেমন আরা, সাইফুল ইসলাম,নজরুল ইসলাম,বৈশাখী বনিক,আবিদা নুর মনি লক্ষী রানী,নাসরিন আক্তার,পাপিয়া সেন প্রমূখ। অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ প্রতিটি ক্লাস পার্টি উদ্ভোধনের পূর্বে ছাত্র-ছাত্রীর উদেশ্যে বলেন, জীবনের  সব চাইতে আনন্দের বিষয় হচ্ছে শিক্ষা গ্রহণ, সেই আনন্দের প্রাপ্তির পূর্ণতা লাভ হচ্ছে নিজেকে  একাডেমীক ভাবে শিক্ষিত করা। সামনের বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, সারা বৎসরের লেখা-পড়ার মূল্যায়ন হচ্ছে বার্ষিক পরীক্ষা। এই মূল্যায়নের জন্য  শিক্ষার্থীদের দক্ষতা প্রমানের জন্য সামনের পরীক্ষাগুলোতে অবশ্যই  ভালো করতে হবে। এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীদেরকে আরো সচেতন ও নিজে কর্তব্যপরায়ন হতে হবে।

খালেদার সঙ্গে অমিরাতের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ড. সাঈদ বিন হাজর আল শাহী। রোববার রাতে চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান ও সাবিহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। 

বরেণ্য শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী আর নেই

বরেণ্য শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী আর নেই, বেঙ্গল উৎসবে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মঞ্চেই পড়ে যান তিনি। হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে তৃতীয় দিনের অনুষ্ঠান শুরুর আগে ৮টা ৪০ মিনিটে মঞ্চে বক্তৃতা দেয়ার পর হঠাৎ পড়ে যান তিনি। সেখান থেকে তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ১৯৩৪ সালের ৯ই মার্চ ফেনীতে জন্ম নেয়া কাইয়ুম চৌধুরী ১৯৫৪ সালে ঢাকা আর্ট কলেজ থেকে ফাইন আর্টসে ডিগ্রি নেন।

‘কোন অশুভ শক্তি সরকারকে টেকাতে পারবে না’ -মির্জা ফখরুল

কোন অশুভ শক্তি ভোটারবিহীন সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সাদ্দাতের বেহেশত বেশিদিন টিকে থাকেনি। দেশের মানুষের হক যারা লুণ্ঠন করে তাদের পতন অনিবার্য। এই ভোটারবিহীন অবৈধ সরকারকে কোন অশুভ শক্তি  ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে পারবে না। নারায়ণগঞ্জে আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগের হামলার নিন্দা জানিয়ে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। মির্জা আলমগীর বলেন, আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপি নেতা ও যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদের পোস্টার-বিলবোর্ড ছিঁড়ে ফেলতে গেলে বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করেন। এতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা লাঠি-সোটা নিয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর বেপোরোয়া হামলা চালায়। এতে ১৫-২০ জন মারাত্মক আহত হন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অভিযোগ করেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপ্তারা বাজারে বিএনপি সমর্থিত নেতাকর্মীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাট করে। আওয়ামী লীগ নেতারা মামুন, ইকবাল, শফিক, আলামীনের বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। দেশব্যাপী আওয়ামী সন্ত্রাসীরা এভাবে বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের জোত-জমি, বাড়ি-ঘর, সহায়-সম্পদসহ জীবনের নিরাপত্তাকেও কেড়ে নিচ্ছে। এরা সন্ত্রাসের অবাধ বিস্তারের মধ্যে নিজেদের অবৈধ ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার আইনের শাসন, সুবিচার, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারসহ রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। এরা দেশ ও মানুষের নিরাপত্তায় বিশ্বাস করে না। দেশের মানুষের শান্তি, স্বস্তি ও নির্বিঘেœ চলাচলের স্বাধীনতা হরণ করেছে। দেশব্যাপী নৈরাজ্যের অন্ধকার ছড়িয়ে দিতে পারলেই তারা রাজদ-কে ধরে রাখতে পারবে বলে মনে করে। অবিলম্বে আড়াইহাজারে নৃশংস তা-বে জড়িত দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান মির্জা আলমগীর।

‘ফেসবুক বন্ধ না করে প্রশ্ন ফাঁসকারীদের শাস্তি দিতে হবে’

ফেসবুক বন্ধ না করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যাদের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় তাদের  বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, ফেসবুক ব্যবহারকারীরা প্রশ্ন পত্র ফাঁস করে না, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যাদের কাছে প্রশ্নপত্র থাকে তাদের কেউ কেউ প্রশ্ন ফাঁস করে। তাদেরকে শাস্তি দিতে হবে। আজ সংসদের চতুর্থ অধিবেশনের সমাপনী দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ কথা বলেন। ‘প্রয়োজনে ফেসবুক বন্ধ করে দেয়া হবে’ শিক্ষা মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ফজলুর  রহমান বলেন, পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করতে পারছে না। সর্বশেষ প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এর আগে জেএসসি’র প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এটা বন্ধ করতে না পেরে ‘শিক্ষা মন্ত্রী বলেছেন, পরীক্ষার সময় ফেসবুক বন্ধ করে দিবেন। শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশ্য বলেন, ফেসবুক যারা ব্যবহার করে, তারা প্রশ্ন পত্র ফাঁস করেন না। ফাঁস হওয়ার পর ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যাদের কাছে প্রশ্নপত্র থাকে তাদের কিছু লোকজন একাজের সঙ্গে জড়িত। তাদেরকে না ধরে, শিক্ষা মন্ত্রী বলছেন, ফেসবুক বন্ধ করে দিবেন। ফেসবুকে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন না পাওয়া গেলে এ প্রশ্ন পরে অনেক দামে গ্রামে গঞ্জে বিক্রি হবে। তাই প্রশ্ন ফাঁস রোধ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষা নিয়ে আমাদের প্রচুর অর্জন। তবুও পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা যাচ্ছে না। ফেসবুক বন্ধ না, শিক্ষামন্ত্রীকে দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের শান্তির আওতায় আনতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর অর্জনকে কয়েকজন লুটেরা, চোর ধ্বংস করতে পারে না।

ডিআরইউ নির্বাচন - বাদশা সভাপতি, ইলিয়াস সম্পাদক

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নির্বাচনে ইনকিলাবের  বিশেষ প্রতিনিধি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা সভাপতি এবং ইন্ডিপেন্ডেন্টের বিশেষ প্রতিনিধি ইলিয়াস হোসেন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। আজ সন্ধ্যায় রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ ডিআরইউ’র সাগর-রুনি মিলনায়তনে  ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও দৈনিক সমকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ার নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করেন। নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনার ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, এমএ আজিজ ও আবু তাহের। এর আগে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত  ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ডিআরইউর ১৩০৩ জন সদস্যের মধ্যে ১০৯৬ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।এছাড়া সহ-সভাপতি পদে রফিকুল ইসলাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের সিনিয়র রিপোর্টার রিয়াজ চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক পদে দ্য ডেইলি স্টার-এর সিনিয়র রিপোর্টার ফেরদৌস মোবারক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে দৈনিক নয়া দিগন্তের সিনিয়র রিপোর্টার মো. মঈনউদ্দিন নির্বাচিত হয়েছেন।  এদিকে সভাপতি পদে  সাখাওয়াত হোসেন বাদশা ৩৬৬, ইত্তেফাকের বিশেষ প্রতিনিধি জামাল উদ্দীন ৩৩৭, একাত্তর টিভির চিফ এ্যাসাইনমেন্ট এডিটর মনির হোসেন লিটন ৩২৮, দৈনিক সকালের খবরের সিনিয়র রিপোর্টার আজমল হক হেলাল ৫৮ ভোট পান।সহ-সভাপতি পদে দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের রফিকুল ইসলাম আজাদ ৬৪৭, তার প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলার চোখের সাব্বীর মাহমুদ পেয়েছেন ৩৪৬ ভোট। যুগ্ম-সম্পাদক পদে ডেইলি স্টারের ফেরদাউস মোবারক ৫৯৩, তার প্রতিদ্বন্দ্বী গাজী টিভির সালাম ফারুক পেয়েছেন ৪২০ ভোট। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আলোকিত বাংলাদেশের রিয়াজ চৌধুরী ৬৬৩, প্রতিদ্বন্দ্বী ডেইলি সানের শওকত আলী খান পেয়েছেন ৩৫০ ভোট।  প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে  দৈনিক নয়া দিগন্তের মো. মঈনুদ্দীন খান  ৬৬৩, প্রতিদ্বন্দ্বী সৈয়দ সোহরাব পেয়েছেন ৩৪৩ ভোট। এ ছাড়া একজন করে প্রার্থী থাকায় অর্থ সম্পাদক পদে দৈনিক নয়া দিগন্তের আশরাফুল ইসলাম, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক পদে মানবজমিনের সিনিয়র রিপোর্টার কাজী সোহাগ, দপ্তর সম্পাদক পদে প্রাইম নিউজের মেহেদী আজাদ মাসুম, নারীবিষয়ক সম্পাদক পদে আইরীন নিয়াজী মান্না, আপ্যায়ন সম্পাদক পদে দৈনিক আমাদের অর্থনীতির আমিনুল হক ভূঁইয়া, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে দৈনিক কালের কণ্ঠের আজিজুল পারভেজ ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে বদরুল আলম খোকন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ঐতিহ্য অনুযায়ী ফলাফল ঘোষণার পরপরই নবনির্বাচিত সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশার হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রতীক স্বরূপ একটি চাবি তুলে দেন সাবেক সভাপতি শাহেদ চৌধুরী। একইসঙ্গে শাহেদ চৌধুরী বাদশাহর গলায় ফুলের মালা দিয়ে নতুন সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে শুভেচ্ছা জানান। এরপর নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনের গলায় মালা পরিয়ে সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান অভিনন্দন জানান।

ভাগ্যবিড়ম্বিত শিক্ষার্থীদের প্রতি সদয় হোন by বিমল সরকার

পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী টানা ২৪ বছর আমাদের শাসন-শোষণ করেছে। কেবল শোষণই যে তারা করেছে তা কিন্তু নয়। শাসন করতে গিয়ে তাদের প্রশংসনীয় কিছু কর্মকাণ্ডের কথা আজও মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হয়, যেমন হয় ইংরেজ আমলের কথাও। কীভাবে, সে কথায় পরে আসছি।
শিক্ষা ক্ষেত্রে আস্থা ও বিশ্বাসে চিড় ধরাটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। অথচ বছরের পর বছর, এমনকি যুগের পর যুগ আমরা নানা সংশয়-সন্দেহ, অনাস্থা-অবিশ্বাস ও অস্বাচ্ছন্দ্যের মধ্য দিয়ে চলেছি। এসব থেকে কোনোভাবেই যেমন মুক্ত নয় সরকার (যখন যারা ক্ষমতায় থাকেন), তেমনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকসহ আরও অনেকেরই দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
যেকোনো স্তরেই হোক, আমাদের মতো দেশে শিক্ষার্থী বা পরীক্ষার্থী হওয়া মানেই দুর্ভোগ, বিড়ম্বনা, ভোগান্তি আর অনিশ্চয়তাকে নিত্যসঙ্গী হিসেবে মেনে নেয়া। এ ছাড়া অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সার্বক্ষণিক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার বিষয়টি তো রয়েছেই। কখনও কখনও মনের মাঝে আতংকও এসে ভর করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একেবারে প্রাথমিক স্তরে ভর্তি থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায়ে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পরীক্ষাটির ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত গোটা শিক্ষাজীবনই বলতে গেলে এভাবে অতিবাহিত করতে হয়। তবে কেউ স্বীকার করুন আর না করুন, এ বছর ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা স্তরে অনার্স এবং বিভিন্ন প্রফেশনাল কোর্সে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের দুর্ভোগ-বিড়ম্বনা, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার বিষয়টি বোধকরি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। ৩ এপ্রিল এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরুর দিন থেকে যা ভর করেছিল, আট মাস পর এখন পর্যন্তও ঘাড় থেকে তা নামছে না।
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হতে না হতেই ঘটতে থাকে একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনা বা গুজব (?)। ‘সিরিজ আকারে’ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা বা গুজবে (?) বিভ্রান্ত হয়ে কত হাজার কিশোর-কিশোরী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের স্বপ্নসাধ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে, তা কেবল ভুক্তভোগীরাই সঠিকভাবে বলতে পারবেন। আগের পরীক্ষা পরে আর পরেরটা আগে। দু’দিন ধরে এক বিষয়ের প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষার ঠিক আগ মুহূর্তের ঘোষণা শুনে যদি অন্য বিষয়ের পরীক্ষায় বসতে হয়, তবে এটাকে কেবল ছন্দপতন বলাই কি যথেষ্ট? ১৩ আগস্ট পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হল। ১০টি বোর্ডে গড়ে শতকরা ৭৮.৩৩ ভাগ পাস করল আর জিপিএ-৫ পেল সাড়ে ৭০ হাজার শিক্ষার্থী। এইচএসসি স্তরে পরীক্ষায় পাসের উচ্চহার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির নিরিখে বলা যায় রেকর্ড সৃষ্টি। কিন্তু এ নিয়েও অনাকাক্সিক্ষত বিতর্কের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হল শিক্ষার্থীদের। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হল, দেশে শিক্ষার মান বেড়েছে আর শিক্ষাবিদরা বলেছেন- মান নয়, পাসের হার বা সংখ্যা ‘বাড়ানো হয়েছে’। এই বিতর্ক শেষ হয়নি, সহজে শেষ হওয়ার নয়ও। এরই মাঝে সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে গেছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ভর্তিযুদ্ধ’। মেডিকেল কলেজগুলোর মতো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও প্রথমদিকে গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার কথা আলোচনায় এলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এই ভেবে আশ্বস্ত হয়েছিলেন যে, এবার তাদের দুর্ভোগ-বিড়ম্বনা লাঘব হবে, অর্থের সাশ্রয় হবে। কিন্তু উদ্যোগ, উদ্যম ও প্রধানত সদিচ্ছার অভাবে শেষ পর্যন্ত তা আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। শুরু হয় ছোটাছুটি। ভর্তি পরীক্ষা কোনটা আগে আর কোনটা পরে কিংবা কোনটা বাদ দিয়ে কোনটায় অংশ নেবে এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা পড়ে যায় গোলকধাঁধায়। ভর্তির আগেই অভিভাবকরা গুনতে থাকেন কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। এর মাঝে যুক্ত হয় হরতাল বিড়ম্বনা। শত রকমের বাধা-বিপত্তি ও প্রতিকূলতার মাঝেও যে ইচ্ছাশক্তিকে সম্বল করে তারা এক একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নেয়, আকস্মিক আহূত হরতাল তা লণ্ডভণ্ড করে দেয়। এ যেন অনেকটাই মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। আর ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল? অন্যান্য বিভাগে যেমন-তেমন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ১২৫টি আসনে লড়ে মাত্র দু’জন শিক্ষার্থী পাস নম্বর পেয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে শতকরা দুই ভাগেরও কম শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছেই।
অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অতীতের মতো দ্বিতীয়বার ভর্তির সুযোগ না দেয়ার সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে বলা হয়, এতে নিয়মিত শিক্ষার্থীরা বেশি হারে ভর্তির সুযোগ পাবে। দ্বিতীয়বার ভর্তির সুযোগ দিলে প্রতিবছরই অপেক্ষাকৃত কম পছন্দের বিপুলসংখ্যক আসন খালি পড়ে থাকে। এ ছাড়া এর ফলে বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের যোগসাজশে ভর্তি জালিয়াতিও রোধ করা সম্ভব হবে। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে। প্রথমে রাজু ভাস্কর্য ও পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে শুরু করে আমরণ অনশন। অবশ্য এক সপ্তাহ চলার পর আপাতত প্রত্যাহার করে নেয় আন্দোলন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ না দেয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার পেছনে অবশ্যই যৌক্তিক কারণ রয়েছে। তবে এক বছর আগে, নিদেনপক্ষে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ২০১৪-১৫ সেশনে প্রথমবর্ষ অনার্স ভর্তি পরীক্ষার আগেও যদি সিদ্ধান্তটি জানিয়ে দেয়া হতো, তাহলে হয়তো এমন বিপত্তি সৃষ্টি হতো না। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা সেভাবেই মানসিক প্রস্তুতির সুযোগ পেত। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে পরীক্ষার নির্ধারিত শিডিউল বিপর্যয়, সৃজনশীল পদ্ধতির প্রশ্নপত্র ও আলোচিত-সমালোচিত ফলাফল এবং অন্যান্য বছরের তুলনায় অন্তত দুই মাস আগেই অনুষ্ঠিত অনার্স ভর্তি পরীক্ষা, সর্বোপরি ভর্তি পরীক্ষার সময় আহূত হরতালের খক্ষ- সবদিক থেকেই ২০১৪-১৫ সেশনে ভর্তিচ্ছুরা হতভাগ্য। একে ললাট লিখন (!) ছাড়া আর কী ভাবা যায়!
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়েও দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ বাতিল করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দু’বছর আগে বিষয়টি অবহিত করে তবেই সিদ্ধান্তটি কার্যকর করা হয়। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিষয়টি আগেভাগে জানার কারণে কাজটি করতে সহজ হয়েছে। কোনোদিক থেকে আওয়াজ ওঠেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও পারে ‘ভাগ্যবিড়ম্বিত’ ওই সেশনের শিক্ষার্থীদের প্রতি সদয় হয়ে অন্তত ২০১৫ সাল পর্যন্ত সিদ্ধান্তটি স্থগিত রাখতে।
পাকিস্তান আমলের শেষদিকে ১৯৬৮ সালে সরকার আকস্মিক সিদ্ধান্ত নেয়, তৃতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি করা হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে গৃহীত এ সিদ্ধান্ত দুই বছর পর ‘১৯৭০ সাল থেকে কার্যকর করা হবে’ বলেও শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আগেভাগে জানিয়ে দেয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা একের পর এক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করতে থাকে। ১৯৬৮ সালের ২৮ মার্চ ময়মনসিংহের মুক্তাগাছাতেও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের একটি বড় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের একটাই দাবি- তৃতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না করার সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। এ সময় উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পশ্চিমা শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন ঘনীভূত হয়। আইয়ুব খানের পতনসহ ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও সত্তরের সাধারণ নির্বাচন পাক সরকারকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। সবশেষ শুরু হয় একাত্তরের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধ। এ সবকিছুর ফলে পাকিস্তানি শাসনের শেষদিন পর্যন্তও সরকারের পক্ষে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে তৃতীয় বিভাগধারীদের উপেক্ষা করার সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। স্মরণযোগ্য যে, আইয়ুবের জমানায় কালবিলম্ব না করে সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করা খুবই সহজসাধ্য হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে সরকার দুটি বছর সময় দিয়েছিল।
বিমল সরকার : কলেজ শিক্ষক

বাড়িভাড়া বৃদ্ধির প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে by ধীরাজ কুমার নাথ

শহরে বসবাস করার অনেক সমস্যা। শুধু যে যানবাহনে বিড়ম্বনা, ভেজাল খাদ্যের ভীতি এবং অপহরণের আশংকায় সন্ত্রস্ত থাকতে হয় পথচারীকে তাই নয়, বসবাসের দুর্ভোগ এবং বাড়িওয়ালাদের উপদ্রব শহরবাসীকে তটস্থ করে চলেছে। সম্প্র্রতি উৎকণ্ঠার বিষয় হয়েছে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি। ঢাকা শহরে দুবছর আগে যে বাড়িভাড়া ছিল প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা, এখন তা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। খবর বের হয়েছে, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম দ্বিগুণ হতে পারে। এমন খবরে স্বল্প আয়ের জনগণ অত্যন্ত বিব্রত ও বেসামাল হয়ে পড়েছে। অনেকে ভাবছে পরিবারকে গ্রামে পাঠিয়ে দিয়ে কোথাও মেসে গিয়ে থাকবে। কিন্তু ব্যাচেলর বা পরিবার ছাড়া বিবাহিতদের ভাড়া পাওয়া আরও কঠিন। শহরের নির্দিষ্ট আয়ের লোকজন আতংকগ্রস্ত হয়ে অল্প ভাড়ায় কোথায় থাকা যায়, এরই মধ্যে তা খুঁজতে শুরু করেছে।
ঢাকাসহ দেশের প্রায় সব শহরে জীবনযাত্রার ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক গুণ বেশি। অনেকের উপার্জনের প্রায় অর্ধেক চলে যায় বাড়িভাড়া পরিশোধ করতে। বাড়িভাড়া সম্পর্কিত আইন ও বিধিমালা কার্যত সঠিকভাবে প্রয়োগযোগ্য না থাকায় বা এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তদারকির দায়িত্ব পালনে দৃশ্যমান কোনো দফতর না থাকার কারণে বর্তমানে দেশে বিশেষত ঢাকা মহানগরীতে বাড়িভাড়ার সমস্যা একটি বিশাল নাগরিক সমস্যায় রূপলাভ করেছে। স্বল্প ও মধ্য আয়ের লোকজন, যাদের নিজস্ব কোনো আবাসিক গৃহনির্মাণের সক্ষমতা বা নিজস্ব নিবাস নেই, তাদের জীবনযাত্রা দুঃসহ হয়ে পড়েছে। তাই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন অঙ্গনে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে আদায়ের ব্যাপারে জনস্বার্থে একটি রিট মামলা হয়েছিল এবং ওই রিটের শুনানি শেষ হয় ২৯ নভেম্বর ২০১২। অর্থাৎ দুবছর আগে। শোনা যায়, হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ আছে। শুনানির পর অনেক দিন চলে গেল কিন্তু রায় চূড়ান্ত হয়নি এখনও। দুষ্ট লোকদের ধারণা, মালিকরা সংখ্যায় বেশি বলে ভাড়াটিয়ারা অসহায়।
প্রচলিত আইন প্রিমিসেস রেন্ট কন্ট্রোল অ্যাক্ট ১৯৯১-এর অধীনে একটি স্টান্ডার্ড রেন্ট নির্ধারণের নিয়ম প্রচলিত আছে। কিন্তু কোন কর্তৃপক্ষ তা নির্ধারণ করবে বা কীভাবে এ ধরনের বিরোধ মীমাংসায় উপনীত হবে, এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অভাব আছে।
অনেকে মনে করেন, বাড়িভাড়া সংক্রান্ত বিষয়াবলি জেলা প্রশাসনের কাজ। যদি তাই হয়, তবে এ আইন প্রয়োগ করা দুরূহ। জেলা প্রশাসনের পক্ষে এ মহানগরীতে এ ধরনের ব্যাপক বিস্তৃত একটি আইন বলবৎ করা বা তার নিয়মিত তদারক করা অথবা এ আইনের আওতায় অভিযোগ গ্রহণ করে তার সুরাহা করা এক জটিল কর্মকাণ্ড। তদুপরি মেট্রোপলিটন সিটি হওয়ার পর জেলা প্রশাসকের এখতিয়ার কতটুকু আছে মহানগরীতে তাও বিবেচ্য। এ জন্য কোন মন্ত্রণালয় বা অধিদফতর দায়ী সে ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো কিছু দৃশ্যত উল্লেখ নেই।
এ ক্ষেত্রে অনেক বিষয় প্রণিধানযোগ্য। যেমন, কোনো ভাড়াটিয়া যদি ভাড়া দিতে না চায় অথবা কোনো মালিক যদি কোনো সুপ্ত কারণে ভাড়া গ্রহণ করতে অপারগতা প্রকাশ করে অথবা কিছু ভাড়া ব্যাংক অথবা কিছু ভাড়া নগদ নিতে চায়, তখন কীভাবে এর সুরাহা হবে? ভাড়াটিয়ার ঘর থেকে বের হওয়া বা চলাচলের পথ সুগম না হওয়া এবং এ নিয়ে যদি বিরোধ বাধে, তবে এ বিরোধ মীমাংসার পদ্ধতি কী হবে? এ ব্যাপারে আইনে উল্লেখ আছে; তবে তা প্রয়োগের ব্যাপারে আরও স্পষ্টতার দাবি রাখে।
বাড়ির মালিক যদি প্রিমিয়াম বা সালামি দাবি করে অথবা অনেক বছরের ভাড়া অগ্রিম দাবি করে অথবা ভাড়ার চুক্তি বহাল থাকা অবস্থায় ভাড়াটিয়াকে জোর করে উচ্ছেদ করে এবং বেআইনি পন্থা অবলম্বন করে, তখন কী হবে? এ ছাড়া বিলম্বে ভাড়া পরিশোধ করলে বা অনাবশ্যকভাবে বিলম্ব করলে জরিমানা দিতে হবে কি-না, যদি দিতে হয় তবে কী হারে তা হবে, এ ধরনের বিষয়াবলির সুরাহার পথ ও পন্থা স্পষ্ট হওয়া দরকার।
কয়েকদিন আগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয় ভাড়াটিয়া পর্ষদ নামক একটি সংগঠন অনেক লোকের স্বাক্ষর নিতে শুরু করে। তারা এ ব্যাপারে ১৫টি দাবি সরকারের কাছে উত্থাপন করে। দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, বাড়িভাড়া আইনকে সহজতর ও অধিক গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করতে হবে। তাদের অভিমত, বিষয়টি এখন একটি সামাজিক সমস্যা নয়, একটি বৃহৎ জাতীয় সমস্যা হিসেবে রূপলাভ করেছে। দ্বিতীয় যে বিষয়টি তারা উল্লেখ করেছে তা হল, প্রত্যেক ভাড়াটিয়াকে বাড়ির মালিককে ভাড়ার রসিদ দিতে হবে।
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, এর সঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়টি জড়িত। বাড়ির মালিক এ জন্য আয়কর পরিশোধ করে কি-না অথবা সরকারের রাজস্ব ফাঁকি ও অবৈধ অর্থের উৎস আছে কি-না এর সঙ্গে তা দেখা প্রয়োজন। তদুপরি যিনি বাড়ির ভাড়া গ্রহণ করছেন তিনিই বাড়ির মালিক কি-না এ বিষয়টিও সম্পৃক্ত আছে। তবে আইনের ১৩নং অনুচ্ছেদে বাড়িভাড়ার রসিদ দেয়া বাধ্যতামূলক করা হলেও অনেকেই তা প্রতিপালন করছে না বলেই এ বিরোধ ব্যাপক আকার ধারণ করছে।
এ ছাড়াও প্রচলিত আইনে রেন্ট কন্ট্রোলারের কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু প্রত্যেক ওয়ার্ডে রেন্ট কন্ট্রোলার আছে কি-না, থাকলে কোথায় তার অবস্থান অনেকেই জানেন না। মূলত সরকার বা কর্তৃপক্ষ জনগণকে অবহিত না করলে জনগণ জানবে কী করে? ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রেভিনিউ অফিসার এ ধরনের প্রশ্নের জবাবে জানান, সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব বিভাগ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তিনি সঠিক বলেছেন।
অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এবং যোগাযোগের সুবিধাজনক অবস্থানে বাড়িভাড়া বৃদ্ধির কোনো হিসাব নেই, দরাদরিও নেই। ছেলেমেয়েদের স্কুল বা কর্মস্থলের কাছাকাছি হলে কোনো দরকষাকষির সুযোগও গ্রহণ করে না আগ্রহী ভাড়াটিয়া। অবস্থার শিকার হয়ে বেশিরভাগ ভাড়াটিয়া অধিক মূল্য দিতেও রাজি থাকে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, চলাচলের দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনা থেকে রক্ষা পাওয়া। কী হারে বাড়িভাড়া বাড়তে পারে এবং কোন স্থানে কত ভাড়া হতে পারে, এ ব্যাপারে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে সরকারকে। বাড়ির মালিকরা বলছে, বাড়ি তৈরির খরচ বেড়েছে অনেক। রক্ষণাবেক্ষণের দায়-দায়িত্বও ব্যয়বহুল। কোনো ধরনের মেরামতের প্রয়োজন হলে অনেক খরচ। ভাড়াটিয়ারা বাড়ির যত্ন নেয় না। পক্ষান্তরে ভাড়াটিয়ারা বলছে, বাড়ির মালিক নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ গ্রহণ করে কিন্তু কোনো সার্ভিস দেয় না। অনেক সময় পরিচ্ছন্নতার বিষয়টির প্রতিও সঠিক নজর দেয় না বাড়ির মালিক।
তারপর আছে আপিল আদালত, মামলা-মোকদ্দমার বিষয়। বলা আছে, ৬ মাসের মধ্যে কোনো অভিযোগ দাখিল করতে না পারলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। এ বিষয়টিও বিবেচনার অপেক্ষা রাখে। তা ছাড়া আমাদের দেশের অভিজ্ঞতা হচ্ছে, মামলা করার অর্থ এমন এক ঝামেলাকে গ্রহণ করা, যার ফলাফল অর্থদণ্ড, বিড়ম্বনা ও দীর্ঘসূত্রতা।
খেয়াল রাখতে হবে, বর্তমানে প্রচলিত প্রিমিসেস রেন্ট কন্ট্রোল অ্যাক্ট, ১৯৯১ জারি হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ২৩ বছর আগে। এ আইন প্রণীত হয়েছে যখন কোনো গণমুখী সরকার এ দেশের শাসন ব্যবস্থায় আসীন ছিল না। জনগণের ভাষা বা তাদের অভিমত এ আইনে স্থান পেয়েছে বলে দৃশ্যমান হচ্ছে না। কাদের স্বার্থে বা তদবিরে এ আইন তখন প্রণীত হয়েছিল তাও বোঝা যায় না সঠিকভাবে। ২৩ বছরে নাগরিক জীবনে অনেক পরিবর্তন এসেছে, নগরমুখী অভিবাসন বেড়েছে ব্যাপক হারে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক পরিবর্তন হয়েছে, বসবাসের স্থান নির্ধারণে নতুন চাহিদা ও পদ্ধতির জন্ম নিয়েছে। তাই এখন আর বিলম্ব নয়, বাড়িভাড়ার বিষয়টিকে দেখতে হবে নগর জীবনের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে, সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব করার লক্ষ্যে।
বাড়িভাড়া সংক্রান্ত বর্তমান আইনের পরিবর্তন করতে হবে অবশ্যই। বাড়িভাড়াবিষয়ক আইন ও বিধিমালার পুনর্বিন্যাস করে জবাবদিহিতার একটি ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে জরুরিভাবে। সুশাসনের অর্থ শুধু রাস্তায় আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রণ নয়। যেসব বিষয় আইনশৃংখলার জটিলতা সৃষ্টি করে তা নির্মূল করতে হবে। সরকারকে দৃশ্যমান করতে হবে, সরকার জনগণের কল্যাণে নিয়োজিত এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর- কথায় নয়, কাজে।
ধীরাজ কুমার নাথ : সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা, সাবেক সচিব

দাম বাড়ে চাপ কমে- এ ধাঁধার উত্তর কে দিতে পারে? by মোকাম্মেল হোসেন

টেলিভিশনে সিনেমা দেখানো হচ্ছে। সিনেমার নাম- তুমি আমার মন বোঝ না। কাহিনী মোচড় খেতে খেতে এমন জায়গায় এসে ঠেকেছে, নায়িকার শিল্পপতি বাবা নায়ককে প্যাকেট করে চিরবিদায় স্টোরে পাঠানোর অর্ডার দিয়ে ফেলেছেন। পিতার এ পদক্ষেপের কথা জানতে পেরে প্রেমাস্পদকে রক্ষার জন্য নায়িকা ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়াচ্ছে। তার পা ফেটে রক্ত বেরুচ্ছে। মাথার চুল বাতাসে উড়ছে। বুকের বসন আলগা হয়ে যাচ্ছে। কঠিন অবস্থা। তলপেটের প্রবল চাপ উপেক্ষা করে আতর আলী টেলিভিশনের সামনে বসে আছে। এরকম একটা কঠিন সময়ে আতরজান এসেছে বাজারের ব্যাগ নিয়ে! এর মানে কী? মনে হচ্ছে, কেয়ামতের আগে নারীজাতির জ্ঞান-বুদ্ধি আর বাড়বে না। হাশরের ময়দানে মাথার ৬ ইঞ্চি উপরে থাকা সূর্যের তাপে মগজ সিদ্ধ হয়ে উলট-পালট হওয়ার পর যদি এদের জ্ঞান-বুদ্ধি কিছুটা বাড়ে! আতর আলী তেরছা চোখে আতরজানকে এক নজর দেখে টেলিভিশনে নিমগ্ন হল। আতর আলীর পিঠে হাত রেখে নরম গলায় আতরজান বলল-
: সিনেমা রাইখ্যা উডুইনছে।
আল্লাহপাক পুরুষের পাঁজরের হাড় দিয়ে নারীজাতিকে সৃষ্টি করে ভুল করেছেন। মারাত্মক ভুল। নিজের শরীরের অংশ না হলে আতরজানকে কঠিন কিছু কথা বলা যেত। আফসোস! টেকনিক্যাল এ সমস্যার জন্য তার বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশন নেয়া যাচ্ছে না। নিজেই নিজের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাওয়া চরম বোকামি। আতর আলী এতটা বোকা নয়। বোকা হলে আতরজান এখন শক্ত উষ্ঠা খেত- এ কথা নিশ্চিত।
আতর আলী এবার ঘাড়ে চাপ অনুভব করল। তলপেটের চাপের তুলনায় মেহেদি লাগানো নরম হাতের চাপ হাওয়াই মিঠাই। আতর আলী হাওয়াই মিঠাইকে গুরুত্ব দিল না। চুড়ির রিনিঝিনি শব্দ তুলে আতরজান বলল-
: কী অইল, কথা কানে যাইতেছে না! উডুইন।
নাহ! নারীজাতি সম্পর্কে ফয়সালা হয়ে গেছে। গরুকে খৈল-ভুষি খাওয়ানোর সিস্টেমে ঘণ্টায়-ঘণ্টায় এদের নাক ডুবিয়ে তরল ভিটামিন খাওয়ানোর ব্যবস্থা করলেও আক্কেল আর হবে বলে মনে হচ্ছে না! নায়কের এখন জীবন-মরণ সমস্যা চলছে, অথচ ঘটনার বিষয়বস্তুর প্রতি অবুঝ নারীজাতির কোনো খেয়াল নেই। সে উডলাইনা-উডলাইনা বলে কানের কাছে বেহালা বাজাচ্ছে। আতর আলী টেলিভিশনের পর্দা থেকে চোখ না সরিয়ে বলল-
: ইট্টু পরে।
- পরে-পরে করলে চলব? রান্ধনের কুনু বাও নাই। কুমবালা বাজার আনবাইন, কুমবালা রানবাম!
: কুমবালা রানবাম মানে? তোমার তো অহন আর গোপাল পালের মণ্ডা কারখানার মতো লাকড়ি দিয়া চুলা সাজাইতে হয় না! গ্যাসের চুলায় ফতফতি আগুন জ্বলতেছে। চুলার উপরে ডাইনহাতে পাতিল রাখবা, বামহাতে নামাইবা। ব্যস, মামলা ডিসমিস!
রান্নাঘরের কাজকর্ম ভ্রাম্যমাণ আদালতের মামলা নয়। দেওয়ানি মামলা। দেওয়ানি মামলা মানে লাইফকোর্স। জীবনব্যাপী চলতে থাকা মামলা আতর আলী একবেলার জন্য ডিসমিস করতে পারে। কিন্তু পরের বেলা? আদালতের দেওয়ানি মামলায় বিবাদী পক্ষ দুই-তিন মাস পর পর কাঠগড়ায় হাজির হলেই চলে। এজন্য মহামান্য আদালতের কাছে কোনো কৈফিয়ত দিতে হয় না। রান্নাঘরের মামলায় প্রতিদিন রাঁধুনীকে অন্তত দুই বেলা তার হাজিরা নিশ্চিত করতে হয়। তা না হলে সমন জারি হয়ে যায়। এ কথা পুরুষজাতি জানার পরও ভুংভাং ধরনের কথাবার্তা বলে কীভাবে- আতরজান বুঝতে পারছে না। পুরুষজাতি খাবার টেবিলে সবকিছু রেডি অবস্থায় পায়। খাবার টেবিলে পৌঁছার আগের ইতিহাস তারা জানার প্রয়োজন মনে করে না। একজন রাঁধুনী তার জীবনের বেশিরভাগ সময় রান্নাঘরের মামলায় হাজিরা দিয়ে কাটাচ্ছে, আর পুরুষজাতি খাবার টেবিলে বসে শুধু মাচুড়-মুচুড় খেয়ে যাচ্ছে-আল্লাহপাকের এ কেমন বিধান, ভেবে পায় না আতরজান। ভাবাভাবির এ পর্যায়ে বিদ্যুৎ চলে গেল। আতরজান হাততালি দিয়ে বলল-
: আল্লাহর মাইর- দুনিয়ার বাইর। অহন কেমুন অইল?
বিদ্যুৎ যাওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক কিছু নয়। বেছে বেছে ঠিক এমন একটা সময়ে বিদ্যুৎ কেন এরকম বিটলামি করল? আতর আলীর মনে হল, তার বিরুদ্ধে ঘরে-বাইরে ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে। এ অবস্থায় মাথা ঠিক রাখা শক্ত কাজ। আতর আলী বিদ্যুতের অপেক্ষায় ঝিম মেরে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পরও বিদ্যুতের দেখা না পেয়ে ঘোঁৎ-ঘোঁৎ করতে করতে বাজারের পথ ধরল। বাজারে মাংসের দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় আতর আলীর কানে এলো-
: অই গ্যাস...
গ্যাস আবার কারও নাম হয় নাকি? বিষয়টা একটু পরেই পরিষ্কার হল। আতর আলী বুঝতে পারল- গ্যাস বলে যাকে সম্বোধন করা হয়েছে, তিনি গ্যাস কোম্পানির স্থানীয় অফিসে চাকরি করেন। গ্যাস নিয়ে কারবার- তাকে গ্যাস বলা যেতেই পারে। এতে দোষের কিছু নেই। সম্বোধনকারী গ্যাসের পাশে এসে দাঁড়াতেই তাকে চিনতে পারল আতর আলী। তার নাম আফলাজ মণ্ডল। আফলাজ মণ্ডল অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা। বাসা আকুয়া মণ্ডল বাড়ি। আফলাজ গ্যাস ভদ্রলোকের উদ্দেশে বললেন-
: বক্কইরা, কী খবর?
- ভালো।
: গোস কিনবা?
- হুঁ।
: ভালা কইরা দেইখ্যা লইও। ব্যাটারা এক টুকরা গোস দিয়া তিন টুকরা হাড্ডি ঢুকাইয়া দেয়।
- ঢুকানি-ফুকানির কোনো চান্স নাই। পুরা খাসিই প্যাক করতেছি।
: পুরা খাসি! মেজবানি আছে নাকি?
- আর কইও না! বাসায় তিনবেলা বিরানি চলে। আমার বউ বিরানি ছাড়া অন্যকিছু খাইতে পারে না। পোলাপানগুলাও তার মায়ের তরিকা ধরছে। ফলে টুকাইন্যা মাংস দিয়া আমার চলে না; বস্তা ভইরা কিনন লাগে।
: রেগুলার বিরানি খাওয়া তো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ!
- এইটা আমার বউয়েরে কে বোঝাবে? প্রথমে আণ্ডা দিয়া বিরানি উৎসবের সূচনা হইছিল। কিছুদিন পর মুরগি ঢুকল। এরপর গরু। বর্তমানে খাসি চলতেছে। রুচির বিবর্তনে খাসির পরে হয়তো উটের আগমন ঘটবে। তখন আমাকে উটের মাংস কেনার জন্য দৌড়াইতে হবে, হা-হা-হা।
আফলাজ মণ্ডল হাসিতে যোগ না দিয়ে বললেন-
: তোমরা উটের বিরানি খাবা, বাঘের দুধ পান করবা- এইটাই তো স্বাভাবিক। অহন কওছেন- গ্যাসের দাম কি সত্যি সত্যি বাড়ব?
- বাড়ব মানে? সবকিছু ফাইনাল।
: আমরা যারা গ্যাসের চুলা ব্যবহার করি- তাদের কি প্রতিমাসে ডাবলেরও বেশি টাকা দেওন লাগব?
- না দিয়া উপায় কী? গ্যাস খাতে সরকার ব্যাপক লস খাইতেছে।
: কী জন্য লস খাইতেছে!
: আরে! পাবলিক বেহুদা রাইত-দিন গ্যাসের চুলা জ্বালাইয়া রাখে। এতে গ্যাসের মারাত্মক অপচয় ঘটতেছে। অপচয়জনিত লস কাটাইতে হইলে দাম বাড়ানোর কোনো বিকল্প নাই।
: আমার জানা মতে, বর্তমানে মানুষ অনেক সচেতন হইছে। তারা অকারণে গ্যাসের চুলা জ্বালাইয়া রাখে না। বড় কথা হইল- গৃহস্থালি কাজে মাত্র ১-২ পার্সেন্ট গ্যাস ব্যবহৃত হয়। সব দোষ জনসাধারণের কান্ধে চাপাইতেছ কী জন্য? যদি তোমরা মনে কর, পাবলিক গ্যাস নষ্ট করতেছে, তাইলে প্রিপেইড সিস্টেম চালু কর!
: এইটা কি সম্ভব?
- কেরে সম্ভব না? প্রিপেইড সিস্টেমের আওতায় দেশের অনেককিছু খুব চমৎকারভাবে চলতেছে। গ্যাস কোম্পানি না চলার কুনু কারণ নাই।
এসময় আরেকজন ভদ্রলোক সেখানে আসায় কথাবার্তা অন্যদিকে মোড় নিল। আতর আলী বাজার শেষ করে বাসায় ফিরে দেখল, আতরজান গালে হাত দিয়ে বসে আছে। গালে হাত মানে গভীর চিন্তার নিদর্শন। এ সময় আতরজানের দার্শনিক হয়ে উঠার কারণ কী? একটা খারাপ ভাবনা মাথায় আসতেই তার বুক ছ্যাৎ করে উঠল। আতর আলীর বয়সটা এমন- এ বয়সী মানুষের চারপাশে তার আত্মীয়-স্বজনের মৃত্যুর ঘণ্টাধ্বনি বাজতে থাকে। ঘণ্টাধ্বনি শুনতে শুনতে সে নিজেই একদিন নিজের মৃত্যুর ঘণ্টাধ্বনি শুনতে পায়। বাজারের ব্যাগ রান্নাঘরের দরজার সামনে রেখে আতর আলী কোমল স্বরে জিজ্ঞেস করল-
: কী হইছে!
চোখ সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টির অপূর্ব নিদর্শন। চোখের একটা চাহনি দিয়ে হাজার কথার বাক্য শেষ করা যায়। নির্বোধরা চোখের এ ভাষা পড়তে পারে না। আতর আলী আতরজানের চোখের ভাষা বুঝতে পারছে না। নিজেকে তার অতি নির্বোধ প্রকৃতির মানুষ মনে হচ্ছে। ঘটনা জানার জন্য আতর আলী পুনরায় ঠোঁট ফাঁক করতেই দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আতরজান বলল-
: বাজার আনছুইন!
- হুঁ।
: বাজার তো আনলাইন- চুলার চাপ এক্কেবারেই কইম্যা গেছে। একটা কাম করবাইন তো। বিকালে আমারে এক ব্যাগ মাটি আইন্যা দিবাইন।
- মাটি দিয়া কী করবা?
: চুলা বানাইবাম। গ্যাসের যে অবস্থা দেখতেছি, মনে অইতেছে- মাটির চুলা ছাড়া গতি নাই।
আতর আলী অবাক হয়ে বলল-
: মাটির চুলা কী দিয়া জ্বালাবা? লাকড়ি পাবা কই?
- নান্দিনা থেইক্যা ট্রেনে কইরা লাকড়ি মমিসিং শহরে আহে না!
: কেমনে আইব? গোলাপী তো দেশে নাই।
- দেশে নাই! কই গেছে?
: আরে! তুমি দেখতেছি কুনু খবরই রাখ না। গোলাপী তো অহন লন্ডনে। যে চিত্র পরিচালক গোলাপী এখন ট্রেনে নামে ফিল্ম বানাইছিল, সে এই খবর জানার পরে গোলাপী এখন বিলেতে নামে পুনরায় আরেকটা ফিল্ম বানাইয়া সংশোধনী দিছে।
- তাইলে বিরোধী দলের নেত্রী যে কিছুদিন আগে গোলাপী-গোলাপী করলেন!
: আরে উনি গোলাপী বলেন নাই! গোপালি বলছেন।
- এরা আবার কারা?
: তাদের সম্পর্কে জাইন্যা লাভ নাই। তারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে জড়িত। লাকড়ি সাপ্লায়ের কামে তাদের পাওয়া যাবে না।
- লাকড়িও নাই, চুলায় গ্যাসের চাপও নাই- ক্যামনে কী করবাম!
চাপের কথা শুনে আতর মাথায় একটা ধাঁধার জন্ম হল। সে আতরজানের উদ্দেশে বলল-
: দাম বাড়ে চাপ কমে- এ ধাঁধার উত্তর কে দিতে পারে?
আতর আলীর কথায় আতরজান মুচকি হাসল। তারপর দু’চোখে প্রসন্নের হাসি মেখে বলল-
: হায় রে পুরুষজাতি! অংকের মাস্টাররে সরল অংকের নিয়ম জানাবার আইছুইন! আমি আপনের মতো টেলিভিশনে শুধু সিনেমা লইয়া পইড়া থাকি না। আমি খবর দেখি, টক শো শুনি। কাজেই দাদারে আদা পড়া শিখাইতে আইলে কুনু লাভ অইব না। এই ধাঁধার উত্তর তো আগেই আমি আপনেরে বইল্যা দিছি। চুলায় গ্যাসের চাপ না থাকার খবর আপনে আমার কাছেই পাইছুইন। ঠিক কিনা?
আতর আলী মাথা নাড়ল। ঠিক, ঠিক...
মোকাম্মেল হোসেন : সাংবাদিক

ভারত-বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা একটি পর্যালোচনা by এম সাখাওয়াত হোসেন

কয়েকদিন আগে ভারতের সদ্য বিদায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কোরেইশি রচিত বই অ্যান আনডকুমেন্টেড ওয়ান্ডার : দ্য মেকিং অফ দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান ইলেকশন পড়া শেষ করেছি। যারা ভারতীয় নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে অধিকতর জ্ঞান অর্জনের ইচ্ছা রাখেন, তাদের জন্য এ বইটি অবশ্য পাঠ্য। প্রসঙ্গত, ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের গঠন, দায়িত্ব ইত্যাদি ভারতের সংবিধানের ধারা ৩২৪ দ্বারা নির্ধারিত, যা হুবহু আমাদের সংবিধানে উল্লেখিত বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের গঠন প্রক্রিয়া, দায়িত্ব ইত্যাদির অনুরূপ। ভারতীয় সংবিধানের ধারা ৩২৪-এর ছয়টি উপধারায় যা বলা হয়েছে, তা আমাদের সংবিধানের ধারা ১১৮, ১২৯সহ অন্যান্য ধারায় বর্ণিত রয়েছে।
যা হোক, উল্লিখিত বইটিতে ভারতের সাবেক সিইসি বেশ বিস্তারিতভাবে ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের গঠন এবং এর সাংবিধানিক ক্ষমতা, স্বাধীনভাবে কাজ করার নিশ্চয়তা, নির্বাচন পদ্ধতি, পরিচালনা ও চ্যালেঞ্জের বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন। বহু উদাহরণ টেনেছেন বইটিতে, নির্বাচন পরিচালনাকালে বড় বড় চ্যালেঞ্জের বর্ণনা দিয়েছেন। তেমনি ভবিষ্যতে সংস্কারের জন্য বেশকিছু সুপারিশও রেখেছেন। সম্পূর্ণ বইটিতে ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা ও স্বাধীনতার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতার বিষয়ে তিনি ভারতীয় উচ্চ আদালতের সহায়ক ভূমিকার কথা বলেছেন, বিশেষ করে ধারা ৩২৪(১)-এর অধিকতর ব্যাখ্যার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের গঠন, কাঠামো এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানকল্পে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতার বিষয়ে একাধিক রায় ও পর্যবেক্ষণের উদ্ধৃতি দিয়েছেন। ভারতীয় সংবিধানের আওতায় অবাধ, নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব এককভাবে নির্বাচন কমিশনকে দেয়া হয়েছে। ওই দায়িত্ব পালনে কমিশনের বাইরে কারও হস্তক্ষেপ অথবা প্রভাব বিস্তার সম্পূর্ণভাবে আইন ও সংবিধানবহির্ভূত কর্মকাণ্ড বলে উচ্চতর আদালতের
পর্যবেক্ষণ দেয়া আছে।
ভারতীয় নির্বাচন কমিশনকে কতখানি ক্ষমতা দেয়া হয়েছে এবং উচ্চ আদালত সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে কতখানি বলিষ্ঠ সহায়তা করে থাকে, তার বেশকিছু উদাহরণ কোরাইশি তার বইয়ে উদ্ধৃত করেছেন। উচ্চ আদালতের ১৯৭৮ সালের একটি রিট, এআইআর ১৯৭৮ এসসি ৮৫১ (AIR 1978 SC 851)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, আদালতের রায়ে আলোচিত ধারা ৩২৪(১)-এর অধিকতর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, তত্ত্বাবধান, নির্দেশনা, নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি ধারায় বর্ণিত কালা-সাদাতে মোটা দাগের ক্ষমতার উল্লেখই করা হয়েছে মাত্র। এর বাইরেও নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা রয়েছে। ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, স্বাধীন কমিশনের গঠন ও দায়িত্ব সংবিধানের মৌলিক কাঠামো, যা সংসদের কোনো আইন দ্বারা পরিবর্তন করা যাবে না। একই সঙ্গে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনকল্পে উল্লিখিত ধারার বাইরে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় এমন যে কোনো ক্ষমতা নির্বাচন কমিশন প্রয়োগ করতে পারবে। এসব ক্ষমতা সংসদ কোনো আইন দ্বারা হ্রাস অথবা স্থগিত করতে পারবে না।
উপরে উল্লিখিত রিটের পর্যবেক্ষণে আরও যা বলা হয়েছে তাতেই নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব, ক্ষমতা ও স্বাধীনতার বিষয়টি আরও শক্ত ভিত পেয়েছে। এক্ষেত্রে সুপ্রিমকোর্ট অব ইন্ডিয়া বলেছে, নির্বাচন প্রক্রিয়ার সময় যে আইন বা বিধি উহ্য অথচ এমন এক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে যা নিয়ন্ত্রণ না করলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে অথবা দায়িত্ব পালনে সমস্যার সৃষ্টি হয়, সেক্ষেত্রে হাত গুটিয়ে সৃষ্টিকর্তার শরণাপন্ন হওয়া অথবা কমিশনের বাইরে কোনো শক্তির কাছে উপদেশ, নির্দেশ চাওয়ার কোনো প্রয়োজন ও অবকাশ নেই। এখানে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে সমগ্র নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করবে। এক কথায়, নির্বাচন কমিশনের কাজে কোনো ধরনের বাধা, প্রভাব বিস্তার ও হস্তক্ষেপের পর্যায়ে পড়ে এমন কোনো কাজ হবে সংবিধান ও আইনের পরিপন্থী।
আমি ভারতের নির্বাচন কমিশন ও সংবিধানের ধারার উল্লেখ করলাম এ কারণে যে, আমাদের ও ভারতের সংবিধানে নির্বাচন কমিশনের গঠন, দায়িত্ব এবং নির্বাচন পরিচালনার প্রক্রিয়ার মধ্যে কোনো তফাৎ নেই। ভারতের সংবিধানের ধারা ৩২৪(১)-এ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব যেভাবে বিন্যাস করা হয়েছে, অনুরূপভাবে আমাদের সংবিধানে ধারা ১১৯-এ একই বিষয় সংযোজিত হয়েছে। এমনকি আক্ষরিক অর্থে শব্দ প্রয়োগেও কোনো তফাৎ নেই। ধারা ১১৯-এ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে তত্ত্বাবধান, নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণ কথার উল্লেখ রয়েছে। ধারা ১২৬ নির্বাহী বিভাগ কর্তৃক নির্বাচন কমিশনকে সহায়তার কথা বলা
হয়েছে। ভারতীয় সুপ্রিমকোর্টের পর্যবেক্ষণ এবং নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন প্রক্রিয়াকালে অগাধ ক্ষমতা ব্যবহারের বিষয়ের অনুরূপ ব্যাখ্যা ও পর্যবেক্ষণ আমাদের উচ্চ আদালতেও গৃহীত হয়েছে। আমাদের দেশের নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিষয়টি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ, যা সংবিধানের সপ্তম
অধ্যায় হিসেবে সংযোজিত।
বিস্তারিত বিশ্লেষণ করে যদি ভারতের ও আমাদের নির্বাচন কমিশনের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা যায় তাহলে প্রতীয়মান হয়, নির্বাচন পরিচালনায় বাংলাদেশের কমিশন, অন্তত আইনের দিক থেকে, উপমহাদেশের অন্যান্য কমিশন থেকে শক্তিশালী। আমাদের দেশের নির্বাচন কমিশন উপরে উল্লিখিত ভারতীয় কমিশনের অনুরূপ ক্ষমতা রাখে। কোথাও কোথাও একটু বেশিই রাখে। তথাপি আমাদের নির্বাচন কমিশন এখনও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াতে পারেনি। যতটুকু অগ্রসর হয়, পরবর্তী সময়ে তারও বেশি পেছনে পড়তে হয়। এর একাধিক কারণ রয়েছে। বাংলাদেশে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারগুলোর সময় গঠিত নির্বাচন কমিশনগুলোর সমালোচনা এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তেমন না থাকলেও সে ধারাবাহিকতা বজায় থাকেনি। অপরদিকে সরকার দ্বারা গঠিত কমিশন প্রথম থেকেই বিতর্কিত হয়ে পড়ে, যদিও ১৯৯১ সালের পর জনাব আবু সাঈদ বাদে এবারই প্রথম রাজনৈতিক সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি দ্বারা নিয়োজিত সংক্ষিপ্ত সার্চ-কমিটির মাধ্যমে বর্তমান কমিশন গঠিত হয়েছে। তথাপি বিভিন্ন কারণে কমিশন নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। অবশ্য প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও শরিকরা এই নিয়োগও সরাসরি গ্রহণ করেনি।
নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা শুধু আইন দ্বারাই সুরক্ষিত নয়, ক্ষমতা প্রয়োগে এবং স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনে উচ্চ আদালতসহ দেশের রাজনৈতিক দল এবং সরকারের সব নির্বাহীর সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। যার নিশ্চয়তা বিধানের জন্যই এত আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভারতীয় নির্বাচন কমিশন যথেষ্ট বলীয়ান। সে তুলনায় আমাদের দেশের নির্বাচন কমিশন তেমন সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। আমাদের দেশের দুর্বল রাজনৈতিক সংস্কৃতির কারণে নির্বাচন কমিশন অনেকাংশে রাজনৈতিক সরকার ও তার তত্ত্বাবধানে থাকা প্রশাসন থেকে তেমন সহযোগিতা পায় না। তদুপরি অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে, বিশেষ করে রাজনৈতিক সরকারের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কখনও সরাসরি আবার কখনও পরোক্ষভাবে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে একাধিকবার। বিশেষ করে আমাদের দেশের প্রত্যেক রাজনৈতিক সরকারই প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে, তাদের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার একাধিক প্রমাণ জনসম্মুখে এসেছে। এর মধ্যে ১৯৯৬ সালে মাগুরা এবং ১৯৯৯ সালে টাঙ্গাইলের উপনির্বাচনের বিষয় দুটি বহুল আলোচিত। উভয় ক্ষেত্রেই নির্বাচন কমিশন অসহায় ভূমিকা পালন করেছে। প্রয়োগ করতে পারেনি সংবিধানের ধারা ১১৯ প্রদত্ত ক্ষমতার। মাগুরার নির্বাচনে সরকার ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপের কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন হয়েছিল।
আমাদের দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাও ভারতের অনুরূপ, যদিও ভারতের নির্বাচনী যজ্ঞ বিশ্বে সর্ববৃহৎ। তবে সে অনুপাতে না হলেও বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাও প্রচুর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। আমি মাগুরার নির্বাচনের কথা উল্লেখ করেছি, কারণ ওই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল একটি রাজনৈতিক সরকারের সময়। ওই নির্বাচনে তৎকালীন সরকারি দলের ছত্রছায়ায় যে অব্যবস্থাপনা উদ্ভব হয়েছিল, তাতে নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করতে হয়েছিল। একইভাবে ১৯৯৯ সালে আরেক রাজনৈতিক সরকারের তত্ত্বাবধানে টাঙ্গাইলের উপনির্বাচনে একজন কমিশনারের উপস্থিতি এবং কিছু ব্যবস্থা নেয়ার পরও ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। ফলে নির্বাচন কমিশন প্রায় ছয় মাস গেজেট স্থগিত রেখেছিল। তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের, বিভিন্ন কারণে, পদত্যাগের পর গেজেট প্রকাশিত হয়েছিল। অতীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতেও প্রভাবিত করার যথেষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের নির্বাচনী দুর্নীতির কারণ, আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ধারণা শুধু কাগজ-কলমে আর বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
আমাদের দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাও ভারতের মতো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্ভর, তবে ভারতের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অতখানি দলদাস নয়, যতখানি আমাদের দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিটি শাসক দল তৈরি করে থাকে। এটাই বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর পর এ বিষয়টি শুধু চ্যালেঞ্জের মধ্যেই থাকেনি, বরং নির্বাচন কমিশনের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশোধিত সংবিধানের আওতায় ৫ জানুয়ারি ২০১৪-এর নির্বাচনে কী ঘটেছে তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ওই নির্বাচন এবং তার অব্যবহিত পরে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে যেভাবে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে উচ্চ এবং স্থানীয় পর্যায় থেকে হস্তক্ষেপ হয়েছে, তা এখন আর অনুমানভিত্তিক নয় বরং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং সরকারি দলের নির্বাচন সমন্বয়কারী এবং গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা এইচটি ইমামের সাম্প্রতিক এক বক্তব্য থেকেই প্রমাণিত, যদিও তিনি কয়েকদিন পর অন্য ধরনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন তবু তাতে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার উপাদান থেকেই যায়। উপজেলা নির্বাচনের অব্যবস্থার প্রেক্ষাপটেই হয়তো ওই সময়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অনুপস্থিত থেকেছেন। আলোচিত উপদেষ্টা নিজেই তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে যে ধরনের বিষয় জনসম্মুখে নিয়ে এসেছেন তাতে আগামী নির্বাচনকেও, যা এ সরকারের তত্ত্বাবধানেই হবে, আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ করবে, যদি নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখার জন্য প্রতিটি রাষ্ট্রীয় সহায়ক শক্তি তেমন ব্যবস্থার নিশ্চয়তা দিতে না পারে। খবরে প্রকাশ, উপদেষ্টার এহেন বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী অসন্তুষ্ট হয়েছেন। এমনকি দলের ভেতরেও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। হওয়াটাই স্বাভাবিক।
জনাব এইচটি ইমামের বক্তব্যের ওপরে নির্বাচন কমিশন তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও ওই বক্তব্য সমগ্র নির্বাচন ব্যবস্থাপনাকেই যে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই। সংবিধানের আলোকে উপদেষ্টার বক্তব্য নির্বাচন পরিচালনায় এক ধরনের হস্তক্ষেপেরই শামিল, যা ধারা ১১৯-এর এবং নির্বাচনী আইনের পরিপন্থী।
আমি নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় ভারতের উদাহরণ এ কারণে টেনেছি যে, সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতা, নির্বাচনী আইন ও ব্যবস্থাপনা, এমনকি নির্বাচন কমিশনের গঠন একরকম হলেও যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমরা পিছিয়ে আছি তা হল, রাজনৈতিক সংস্কৃতির অভাব। ভারতে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পরিচালনায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ অথবা প্রভাব বিস্তার যেমন সরকার, রাজনৈতিক দলও করে না, তেমনি ভারতে বিচার ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশনের শক্তি সহায়ক হিসেবে পরিগণিত। আমাদের দেশের রাজনীতিক থেকে শুরু করে সুশীল সমাজের সদস্যরা নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার কথা বললেও তা কার্যকর হতে দেখা যায় না। নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে তার দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ কাম্য হতে পারে না। ভারতীয় নির্বাচন কমিশন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প হতে পারলে আমাদের দেশে কেন তা হবে না, সেটা ভেবে দেখা দরকার।
পরিশেষে আলোচিত বইয়ের একটি উদ্ধৃতি দিয়ে শেষ করব। বইয়ের লেখক বলেছেন, ভারত তিনটি জিনিসের জন্য বিশ্বে অধিক পরিচিত- তাজমহল, মহাত্মা গান্ধী এবং নির্বাচনী গণতন্ত্র। আমরা কি কখনও এমন কিছু বলতে পারব?
এম সাখাওয়াত হোসেন : সাবেক নির্বাচন কমিশনার, নিরাপত্তা বিশ্লেষক

শিক্ষার্থীর মৃত্যু : আগুনে পুড়ল ইবি, অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা

গাড়ি ধাক্কায় কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তৌহিদুর রহমান টিটু নামে এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে ফুসে উঠে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসের প্রায় সব বাসে আগুন দিয়েছে তারা। প্রশাসন ভবনসহ প্রায় সব ভবনে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ভাঙচুরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালালে পুলিশের সাথে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। ক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, আজ রোববার বেলা ১২টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র তৌহিদুর রহমান টিটু ক্যাম্পাসের ঝিনাইদহগামী রাজমটর পরিবহনের একটি বাসে উঠার চেষ্টা করেন। চালক হঠাৎ বাসটি দ্রুত চালালে তিনি উঠতে ব্যর্থ হন। এ সময় পেছন থেকে দ্রুতগামী ‘সাগর পরিবহন’ (ঝিনাইদহ-ব ১১-০০১) নামের একটি বাস তাকে চাপা দেয়। এতে গলা ছিড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তৌহিদ। তার বাড়ি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খালিশপুর গ্রামে।
এদিকে ঘটনার পরপরই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা মেইন গেট ও কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে গাড়ি ভাঙচুর শুরু করে। শিক্ষার্থী নিহতের খবর পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে সব শিক্ষার্থী এসে বিক্ষোভে যোগ দেয়। এতে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারন করে।
এদিকে নিহত টিটুর লাশ ক্যাম্পাসে প্রায় তিন ঘণ্টা পড়ে থাকলেও প্রক্টরের কোনো ভূমিকা না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের এলাকার বহিরাগতরা সুযোগ কাজে লাগিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উস্কে দেয়। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেইন গেটের পাশে থাকা ক্যাম্পাসের ভাড়া করা গাড়িসহ মেডিক্যাল ভবনের পাশে বাসস্ট্যান্ডে থাকা বাসগুলোতেও আগুন দেয়। ফলে ক্যাম্পাসের ভাড়া করা প্রায় ৩০টি বাস (সব বাস) পুড়ে যায়। এছাড়া কিছু বাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাংলোর ভিতরে ঢুকানো হলে সেগুলো অক্ষত থাকে।
এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর ক্যাম্পাসের প্রশাসন ভবন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভবন, অনুষদ ভবন, আইন অনুষদ, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ভবন, টিএসসিসহ প্রায় সব ভবনে ভাঙচুর চালায়। পরে তারা লাঠিসোটা নিয়ে ক্যাম্পাসে ও কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে।
বিক্ষোভ চলাকালে পৌনে ২টার দিকে শিক্ষার্থীরা আবারো ভাঙচুরের চেষ্টা চালালে পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। পুলিশ এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালালে পুলিশের সাথে শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় ব্যপক সংঘর্ষ বাঁধে। পুলিশ শিক্ষাথীদের উপর রাবার বুলেট ও টেয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে পুলিশ সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর গুলি, রাবার বুলেট নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ শুরু করে।
এসময় সজল, আকাশ, মিথুন, নাইম, তৌহিদ, জহির ও মেহেদিসহ ৩০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এছাড়াও সজল নামের এক শিক্ষার্থীকে পুলিশ ধরে নিয়ে হাত ও পা ভেঙে দেয়।
পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. মামুনুর রহমান বলেন, বিুব্ধ ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ও ভাড়া করা ৩০টি গাড়িতে আগুন দিয়েছে এবং ১০টি গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে।
ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে গুলি ছোড়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। সংঘর্ষে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. আনোয়ারুল হক বলেন, টিটু আমার খুব প্রিয় ও মেধাবী ছাত্র ছিলো। সে এভাবে আমাদের কাঁদিয়ে চলে যাবে কখনো কল্পনাও করতে পারিনি। তার মৃত্যুতে আমরা বাকরুদ্ধ।
তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের ভাড়া করা প্রায় প্রতিটি বাসের চালাকসহ হেলপাররা খুবই রুঢ় স্বভাবের। তারা শিক্ষক-শিক্ষার্থী কাউকে পাত্তা দেয় না। ক্যাম্পাস সুষ্ঠুভাবে চালানোর জন্য নিজস্ব বাসের বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার প্রিয় ছাত্রের নিহতের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানান তিনি।
এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিন্ডিকেটে জরুরি সভায় বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ছাত্রদের আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ও ছাত্রীদের আগামীকাল সকাল ১০টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মো. শাহিনুর রহমান বলেন, আমরা শোকাহত। কিন্তু কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই বহিরাগতরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দখলে নেয় বলে জেনেছি। বহিরাগত সন্ত্রাসীরা বিশ্ববিদ্যালয়কে ধ্বংসের জন্য শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালিয়েছে। আমরা বিষয়গুলো কঠোরভাবে খতিয়ে দেখবো এবং শাস্তির ব্যাবস্থা করব।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার বলেন, অনাকাঙ্খিত এ ঘটনায় যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে তাতে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা রাখা সম্ভব নয়। বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আর নিহত ছাত্রের জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার শোকাহত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করে এ ঘটনার নেপথ্যে যারা রয়েছে তাদের ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আইএস নির্মূলে যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ

ইসলামিক স্টেট (আইএস) নির্মূলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার কড়া সমালোচনা করেছে দামেস্ক সরকার। তারা বলছে, এই বিমান হামলা ইরাক ও সিরিয়ায় প্রভাব বিস্তারকারী জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটকে দুর্বল করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটিকে দমনে তুরস্ক সরকারের সহায়তা দাবি করেছে।
সিরিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ মুলায়েম শুক্রবার আল মায়াদিন টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আইএসকে দমনে তারা যে কোনো দেশের সঙ্গে কাজ করতে রাজি আছেন। তবে এর আগে তুরস্ককে তাদের সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা আরোপ করতে হবে। তিনি মার্কিন বিমান হামলার সমালোচনা করে বলেন, ‘আইএসের বর্তমান অবস্থান দেখে মনে হচ্ছে, দু’মাস ধরে চলা বিমান হামলা তাদের একটুও দুর্বল করতে পারেনি। তাদের পরাজিত করতে হলে তুরস্কের সহায়তা জরুরি।’ আল জাজিরা।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা পরিষদ এবং ওয়াশিংটন যদি তুর্কি সীমান্ত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা কঠোর করতে আঙ্কারাকে রাজি করাতে সক্ষম না হয় তবে তাদের পক্ষে আইএসকে দমন করা সম্ভব হবে না। সিরিয়ার সঙ্গে তুরস্কের ৯শ’ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এসব এলাকা দিয়েই প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে লড়াইরত বিদ্রোহীরা সিরিয়া অতিক্রম করে থাকেন।
ধারণা করা হয়ে থাকে, আইএসের হয়ে হাজার হাজার বিদেশী সেনা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ইরাক ও সিরিয়ার একটি বৃহৎ অংশ দখল করে নেয়ার পর খেলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে এই জঙ্গিগোষ্ঠীটি। সিরিয়ায় ইসলামের স্টেটের ঘাঁটি লক্ষ্য করে গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা মূলত জঙ্গিদের দ্বারা অবরুদ্ধ কোবানে শহরের আশপাশেই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে সিরিয়ায় সরকার ও বিদ্রোহীদের মধ্যে গত সাড়ে তিন বছর ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। যুদ্ধে দুই লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। গৃহহীন হয়েছে আরও বহু মানুষ।
বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণে মানসিক পরীক্ষা নেবে যুক্তরাষ্ট্র : সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিদ্রোহী জনগোষ্ঠীদের প্রশিক্ষণ দিতে মানসিক পরীক্ষার এক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আইএসবিরোধী লড়াইয়ে এই প্রশিক্ষণ জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা। স্ক্রিনিং পরিকল্পনার এই কর্মসূচিতে যোদ্ধাদের মানসিক চাপ মূল্যায়ন ও বায়োমেট্রিক পরীক্ষা করা হবে। সাধারণত মার্কিন বাহিনীতে বিদেশী সৈন্য অন্তর্ভুক্তির সময় এ ধরনের পরীক্ষা নেয়া হয়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন এই পদক্ষেপ সিরিয়ায় বারাক ওবামার দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ পরিচালনার ইঙ্গিত। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম প্রধানত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড থেকে পরিচালনা করা হবে।

অনুসন্ধান যান পাঠাচ্ছে জাপান

জাপান গ্রহাণু নিয়ে গবেষণা চালাতে সোমবার অনুসন্ধান যান উৎক্ষেপণ করবে। রোববার এটির উৎক্ষেপণের কথা থাকলেও এদিন খারাপ আবহাওয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি। জাপান এরোস্পেস এক্সফ্লোরেশন এজেন্সি শনিবার বলেছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় তানেগাশিমা স্পেস সেন্টার থেকে সোমবার হায়াবুসা টু উৎক্ষেপণের কথা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর আকাশজুড়ে ঘন মেঘ থাকার ঘোষণা দেয়ার পর অনুসন্ধান যানটির উৎক্ষেপণ সময়ে পরিবর্তন আনা হয়। অনুসন্ধান যানটিকে গ্রহাণুতে পাঠানোর উদ্দেশ্য সৌরজগতের অজানা এমন কিছু তথ্য সংগ্রহ যাতে জীব ও মহাজাগতিক বিশ্বের মৌল কিছু জিজ্ঞাসার জবাব মিলবে। গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত রেফ্রিজারেটর আকৃতির হায়াবুসা টু ২০১৮ সালের মাঝামাঝি গ্রহাণুতে পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে ১৮ মাস নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এটি পৃথিবীতে ফিরবে। উল্লেখ্য, ছয় বছরমেয়াদি পুরো এ অভিযানের জন্য খরচ হবে ২৬ কোটি মার্কিন ডলার। এএফপি।

ফিনল্যান্ডে হাতের লেখা বিলুপ্ত!

আগামী বছর থেকে ফিনল্যান্ডের স্কুলগুলোতে ছেলেমেয়েদের আর হাতে লিখতে হবে না, হাতে লেখা শেখানোও হবে না। এর পরিবর্তে তাদের টাইপিং শেখানো হবে। ফিনল্যান্ডের স্যাভন স্যানোমাট পত্রিকার বরাত দিয়ে শনিবার এ খবর জানিয়েছে বিবিসি। ফিনল্যান্ডের ন্যাশনাল বোর্ড অব এডুকেশনের মিনা হারম্যানেন জানিয়েছেন, টাইপিং শেখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিত্যদিনের কাজে এটা দরকার হয়। এজন্যই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, হাতের লেখা তুলে দিয়ে পুরোপুরি টাইপিং-এ চলে যাওয়াটা একটা বিরাট পরিবর্তন।
তবে এর ভালো-মন্দ নিয়ে ফিনল্যান্ডে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। অনেকে মনে করেন, হাতের লেখা চর্চার মাধ্যমে শিশুদের ফাইন মটর স্কিল এবং বুদ্ধির বিকাশ ঘটে। কেউ কেউ হাতের লেখার পরিবর্তে এজন্যে নানা ধরনের হস্তশিল্প এবং ড্রয়িং শেখানোর পরামর্শ দিচ্ছেন।

মেক্সিকো মাতাচ্ছেন ড. ইউনূস

শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবার মেক্সিকো মাতাচ্ছেন। সামাজিক ব্যবসার ধারণা দেশটির তরুণ প্রজন্মকে এত বেশি অনুপ্রাণিত করছে যে, মেক্সিকোর অর্থ মন্ত্রণালয় তাদের দেশের রাজধানী মেক্সিকো সিটিকে ঘোষণা করেছে ‘সামাজিক ব্যবসা নগর’ হিসেবে। এই ঘোষণা এসেছে সেখানে অনুষ্ঠিত বিশ্ব সামাজিক ব্যবসা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। গত ২৭ নভেম্বর মেক্সিকো সিটিতে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের উদ্বোধন হয়। অনুষ্ঠানে সামাজিক ব্যবসা সম্পর্কে ধারণা নিতে, ড. ইউনূসের বক্তব্য শুনতে বিশ্বের নানা প্রান্তের নানা পেশার মানুষ একত্রিত হয়েছিলেন। ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, এনজিও কর্মকর্তা, করপোরেট ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি দুই দিনের এ সম্মেলনে যোগ দেন নবীন উদ্যোক্তারা। আলোচনায় অংশ নেন গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক থেকে শুরু করে নারী উদ্যোক্তারাও। দুই দিনে তারা শোনেন ছোট ছোট উদ্যোগের মধ্য দিয়ে কীভাবে একজন বেকার নিজেকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলছেন। কীভাবে তারা সামাজিক সমস্যা নিয়ে কাজ করছেন।

মানুষের আয়ু হবে ১২০ বছর!

মানুষের আয়ু হবে ১২০ বছর। কথাটা শুনতে সায়েন্স ফিকশন সিনেমার মতো লাগছে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটা কোনো কল্পকাহিনী নয়। রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা মানুষের বুড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া টেনে ধরার পদ্ধতির সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছেন। তারা এমন একটি ট্যাবলেট আবিষ্কার করেছেন যা মানুষের বয়স বাড়ার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করবে। রুশ বিজ্ঞানীরা এরই মধ্যে ইঁদুর, মাছ, কুকুরের ওপর নতুন এ প্রক্রিয়ার পরীক্ষা চালিয়েছেন। এটি প্রয়োগ করে মানুষের আয়ু ১২০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব বলে তারা আশা করছেন। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কোষের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে মানুষসহ প্রাণীদেহ। দেহকোষের শক্তির জোগান দেয় মাইটোকন্ড্রিয়া। প্রাণীদেহে বয়স বাড়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গেও জড়িত দেহ কোষের এ অংশ। মানুষের হৃদরোগ, আলঝেইমার বা পার্কিনসন্স রোগও দেখা দেয় মাইটোকন্ড্রিয়ার জন্যই। মস্কো স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. ম্যাক্সিম সুকুলাচেভ আয়ু বাড়ানোর এ প্রকল্পে কাজ করছেন। তিনি বলেন, মানুষকে বুড়িয়ে দেয় যে সব অসুখ তার অনেকগুলো খুবই ধীরে ধীরে দেখা দেয়। রুশ গবেষকরা মনে করছেন, তারা দেহের জারণ প্রক্রিয়া প্রতিরোধ করতে পারে এমন এক নতুন পদ্ধতির খোঁজ পেয়েছেন। এ প্রক্রিয়ায় মানুষের আয়ু বেড়ে ১২০ বছর হতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। ড. ম্যাক্সিম সুকুলাচেভ বলেন, মানুষের আয়ু বেড়ে ৮০০ বছর হবে না কিন্তু ১২০ বছর পর্যন্ত আয়ু বাড়ানোর চেষ্টাকে যৌক্তিক বলতে হবে। রুশ পরীক্ষায় নতুন প্রক্রিয়া ব্যবহারে আয়ু বাড়েনি কিন্তু দেহে বুড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা গেছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন করবে ভারত: মোদি

স্থায়ী সমাধানের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন করবে ভারত। এ চুক্তি বাস্তবায়নের পথেই সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রোববার গোহাটিতে বিজেপি কর্মীদের এক সভায় তিনি এ কথা বলেন। নরেন্দ্র মোদি বলেন, “অনুপ্রবেশ ঠেকাতে স্থায়ী সমাধানের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে এগুবে ভারত সরকার।” চুক্তিতে স্বল্প ক্ষতি হলেও আসামের লাভ হবে মন্তব্য করে মোদি বলেন, “সীমান্ত চুক্তি নিয়ে আসামবাসীদের মনের ভাষা আমি বুঝি। আমি এটা নিশ্চিত করে বলতে চাই, দেশ ও আসামের কল্যাণের কথা ভেবেই আমরা সামনে এগুচ্ছি। এ চুক্তিতে স্বল্প সময়ের জন্য আসামবাসীর ক্ষতি হলেও দীর্ঘস্থায়ীভাবে লাভবান হবে তারা।” আসামের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে মোদী বলেন, “আসামবাসীর সমস্যার কথা আমি জানি। আমি এটা নিশ্চিত করতে চাই যে, আসামবাসীর নিরাপত্তায় আমি কোনো আপস করবো না। স্থায়ী সমাধানে জন্য স্থলসীমান্ত চুক্তি হবে।” তিনি বলেন, “এ রাজ্যে যারা ক্ষতি সাধন করতে চাচ্ছে তাদের প্রবেশের সব রাস্তা আমরা বন্ধ করে দেবো। নির্ধারিত আইনেই অভিযুক্তদের বিচার করা হবে।”-ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

হাসিনা নকলে পাস করায় জনগণের মনের কথা বোঝেন না: রিজভী

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নকল করে পাস করেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নকল করে পাস করায় জনগণের মনের কথা বোঝেন না। সরকার দলীয়করণ করতে গিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে কালিমাযুক্ত করেছে। এ সরকার যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করে। আর শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করা মানে জাতির মেরুদণ্ডতে আঘাত করা। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য দুর্ভাগ্যজনক। তার বক্তব্যে জনগণ ধিক্কার জানিয়েছে।” রোববার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. জেডএম জাহিদ হোসেন, বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ। হবিগঞ্জে শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বক্তব্য দিয়েছেন তাকে চূড়ান্ত পতনের আগে পাগলের প্রলাপ ও প্রজ্জলিত রোষানলে মহাকুণ্ডলি বলে মন্তব্য করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘কী ভয়ঙ্কর ভাব ধরে প্রধানমন্ত্রী কী বক্তব্য রাখেন। তার বক্তব্য নিম্নরুচির বহিঃপ্রকাশ, দুর্বল কাণ্ডজ্ঞান ও মনোবৈকল্যগ্রস্ত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। এই বক্তব্য বিষাধ ঘনঘোর পতনের আগে সরকার প্রধানের উম্মত্ত বিলাপ।” রিজভী বলেন, “প্রধানমন্ত্রিত্ব ও ক্ষমতা হারানোর ভয়ে হাসিনা আরো নিষ্ঠুর আকার ধারণ করেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার জনসভার কথা শুনলে হাসিনার গায়ে ১০৪-১০৫ ডিগ্রি জ্বর উঠে। তাই হাসিনা পুলিশের সহযোগিতায় কুমিল্লা জনসভার আগে ও পরে জেলার বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ দানবীয় তাণ্ডব চালিয়েছে।”

চাকরির বদলে ঝাঁটা দিয়েছেন মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একহাত নিলেন কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী। মোদির স্বচ্ছ ভারত অভিযানের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেছেন, মানুষকে চাকরি দেয়ার প্রতিশ্র“তি দিয়ে এখন তাদের হাতে ঝাঁটা ধরিয়ে দিয়েছেন মোদি। ঝাড়খণ্ডে শুক্রবার এক নির্বাচনী সমাবেশে মোদিকে নিয়ে এমন কটাক্ষ করেন রাহুল। খবর পিটিআইয়ের।
পশ্চিম সিংভূম জেলার এই নির্বাচনী সভায় রাহুল বলেন, মোদি (লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে) বলেছেন, আমি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করব। আমি কারখানা, সড়ক ও বিমানবন্দর নির্মাণ করব। কিন্তু সরকার গঠনের পর তিনি আপনাদের ঝাঁটা ধরতে বলে বলছেন, আমি অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছি।
বিগত কংগ্রেস সরকারের পাস করা কয়েকটি আইনের উল্লেখ করে রাহুল জানান, কংগ্রেস জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করে। তিনি অভিযোগ করেন, পুঁজিবাদীদের সুবিধা দিতে মোদি সরকার সেগুলো পরিবর্তন করেছেন। এসময় মোদিকে ১০ শিল্পপতির প্রধানমন্ত্রী বলে অভিহিত করেছেন রাহুল। রাহুল বলেন, আমরা উন্নয়নকেন্দ্রিক সরকার চাই। জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি আপনাদের কাছে মোদি একাই কলকারখানা স্থাপন, রাস্তাঘাট, বিমানবন্দর নির্মাণ করতে পারবেন কিনা। তিনি বলেন, আসলে জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়াই তিনি দেশ চালাতে চান। বিজেপি সরকারের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য হচ্ছে- আমরা সব শ্রেণীপেশার জনগণকে পাশে নিয়ে কাজ করতে চাই। কিন্তু মোদি চান ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে।

নাইজেরিয়ায় আতংক ছড়াচ্ছে বোকো হারাম

নাইজেরিয়া ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আতংক ছড়াচ্ছে বোকো হারাম জঙ্গীগোষ্ঠী বোকো হারাম। শুক্রবার নাইজেরিয়ার কানো শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে আÍঘাতী বোমা হামলা ও গুলি চালিয়ে অন্তত ১২০ জনকে হত্যা করেছে তারা। আহত হয়েছেন আরও ২৭০ জন। মসজিদটি কানোর আমীর মুহাম্মদ সানুসির বাড়ির কাছাকাছি অবস্থিত। গত সপ্তাহে তিনি জঙ্গি সংগঠন বোকো হারামের বিরুদ্ধে শহরবাসীকে অস্ত্র তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, তার ওই আহ্বান ছিল উস্কানিমূলক। ওই মসজিদে সাধারণত শহরের প্রভাবশালী মুসলিম নেতারা সেখানে নামাজ পড়েন। তবে সানুসি বর্তমানে সৌদি আরবে আছেন। শনিবার এএফপির খবরে বলা হয়েছে, মুহাম্মদ সানুসি দেশটির দ্বিতীয় শীর্ষ ধর্মীয় নেতা। চলতি বছরের শুরুর দিকেও নাইজেরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দেশটির রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সাধারণত তিনি কথা বলেন না। শুক্রবার মাইদুগুরি শহরে আরেকটি বোমা হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেয় পুলিশ। এর দিনপাঁচেক আগে শহরটিতে দুই নারী বোমারুর আত্মঘাতী হামলায় ৪৫ ব্যক্তি প্রাণ হারান। দেশটির পুলিশের মুখপাত্র ইমানুয়েল ওজুকো এএফপিকে জানান, নামাজ শুরু হলে আত্মঘাতীরা দ্রুত বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এসময় লোকজন ছুটাছুটি শুরু করলে বন্দুকধারীরা তাদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। ফলে হতাহতের ঘটনা বেড়ে যায়। তবে আত্মঘাতী হামলাকারী নারী না পুরুষ তা নিশ্চিত করতে পারেননি ওজুকো। সম্প্রতি দেশটিতে নারী হামলাকারীর সংখ্যা বেড়ে গেছে।

দেবতার মন জয়ে তিন লাখ পশু বলি

নেপালের ছোট্ট গ্রাম বারিয়াপুর অথচ পশু বলিতে বিশ্বসেরা। দেবতার মন জয় করতে শুক্রবার ও শনিবার তিন লাখ পশু বলি দিয়েছেন পূজারিরা। ২০০৯ সালে এ সংখ্যা ছিল আড়াই লাখ। প্রতি পাঁচ বছর পর পর গাধিমাই মেলায় দু’দিনব্যাপী এই পশু বলি হয়। নেপাল ও ভারতের প্রায় ২৫ লাখ হিন্দুধর্মাবলম্বী যোগ দেন ডেইলি মেইল

ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের মুনাফায় ৫ ভাগ বাড়তি কর

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের মুনাফার ওপর চাপানো হল বাড়তি করের বোঝা। এখন থেকে আয়কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী বা টিআইএনধারী সঞ্চয়কারীদের তুলনায় টিআইএন নেই এমন সঞ্চয়কারীদের মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ বাড়তি কর দিতে হবে। নতুন আইন অনুযায়ী যাদের ১২ ডিজিটের নতুন টিন নম্বর নেই তাদের সঞ্চয়ী মুনাফার ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। আর যাদের ১২ ডিজিটের টিআইএন নম্বর আছে তাদের মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।
এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একটি সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সার্কুলারের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের সঞ্চয়ের বিপরীতে মুনাফা দেয়ার সময়ে উল্লেখিত হারে কর কেটে রাখবে। সূত্র জানায়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বড়-ছোট সব ধরনের সঞ্চয়কারীদের হিসাব রয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ করে ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের কোনো টিআইএন নম্বর নেই। এদের অনেকে বেতনের টাকা, চেক নগদায়ন বা ছোট আকারের সঞ্চয়ী হিসাব খুলে সামান্য মুনাফা পাচ্ছেন। ওই মুনাফা থেকেই সরকারকে বড় সঞ্চয়কারীদের চেয়ে ৫ শতাংশ বেশি কর দিতে হবে। ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে ওইসব ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের মুনাফার ওপর থেকে ১৫ শতাংশ হারে কর কেটে রাখা হবে। আর বড় সঞ্চয়কারীদের মুনাফার ওপর থেকে কর নেয়া হবে ১০ শতাংশ। কেননা বড় অংকের সঞ্চয়কারীদের নামে টিআইএন রয়েছে। তাদের এই কর বছর শেষে দেয়া মোট আয়করের সঙ্গে সমন্বয় করারও সুযোগ দেয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সঞ্চয়ের ব্যাপারে উৎসাহিত করা উচিত। তাহলে ব্যাংকে সব ধরনের সঞ্চয় আসবে। বড় সঞ্চয়কারীরা অন্য দিকে ভালো বিনিয়োগের সুযোগ না পেলে ব্যাংকে রাখে। অন্যদিকে ব্যাংকের চেয়ে বাড়তি মুনাফার সুযোগ পেলে তারা ব্যাংকে টাকা রাখে না। এসব বিবেচনা করে ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের কোনোভাবেই নিরুৎসাহিত করা উচিত হবে না। তিনি বলেন, সরকার ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে করের হার কম ধরেও বেশি আদায় করতে পারে। কেননা এখানে কর ফাঁকি দেয়ার সুযোগ কম। এ জন্য সরকারও কর আদায়কে এখন ব্যাংকমুখী করতে চাচ্ছে।

নগর পরিকল্পনায় ভুল : রাজউক টাকা কামানোতে ব্যস্ত

হাসিমুখে আত্মসমালোচনায় মুখর হলেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। শনিবার জনস্বার্থে গৃহনির্মাণ শীর্ষক আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে তার অধঃস্তন প্রতিষ্ঠান রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, আমাদের নগর পরিকল্পনায় ভুল ছিল। কর্মকাণ্ডেও দীর্ঘসূত্রতা আছে। জমি, প্লট, ফ্ল্যাট নিয়েও অনেক কথা শোনা যায়। অবস্থা দেখে মনে হয় রাজউকের কোনো কাজ নেই। তারা শুধু টাকা কমাতে ব্যস্ত।
রাজধানীর মতিঝিলের ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ রাজউকের সমালোচনা করে আরও বলেন, রাজধানীর অবকাঠামো উন্নয়নে পরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের অভাব রয়েছে রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর। এ কারণে ঢাকা ও আশপাশে পরিকল্পিতভাবে নগরায়ন হয়নি। আমরা নগরপরিকল্পনাবিদরা এ শহরের মধ্যেই ট্যানারি ও গার্মেন্ট শিল্প নির্মাণ করেছি। যার বর্জ্য গিয়ে পড়ছে বুড়িগঙ্গাসহ অনেক নদীতে। ফলে নদী দূষিত হয়ে নগরী বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। যদি প্রকৌশলীরা কারখানাগুলোতে ইটিপির ব্যবস্থা করতেন, তবে এ সমস্যা হতো না।
এসব প্রতিষ্ঠানে আগে যারা নগরপরিকল্পনাবিদ ছিলেন তারা এ দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে মিল রেখে পরিকল্পনা করেননি। ওই সময় তাদের কোনো ধারণাই ছিল না যে, ভবিষ্যতে ঢাকা কতটুকু সম্প্রসারিত হবে। তাই শহরের আজ এ অবস্থা। তিনি এ সময় যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, এসব দেশের নগরায়ন হয়েছে ৬০০ বছরের পরিকল্পনা করে। তাই ওইসব দেশের শহরগুলো অনেক সুন্দর।
তবে আশার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, লন্ডনের টেমস নদীর অবস্থাও আমাদের দেশের মতো ছিল। কিন্তু তারা সেখান থেকে নদীকে রক্ষা করতে পেরেছে। আমরাও আশা করছি, অচিরেই নদী দূষণমুক্ত করতে পারব। সেমিনারে অর্থনৈতিক উন্নয়নে আবাসন খাতের ভূমিকা এবং এ খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা শীর্ষক মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি সদস্য ও অর্থনীতিবিদ ড. নুরুল আমিন। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার জিএম জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. আবুল কাশেম এবং রিহ্যাবের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে গণপূর্তমন্ত্রী নগরীর আবাসন সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, ঋণের উচ্চ সুদের হারের কারণেই আবাসন খাতে রেডিমেট ফ্ল্যাটগুলো বিক্রি করা যাচ্ছে না। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে ফ্ল্যাট কেনার জন্য গ্রাহকদের মাত্র ৩ শতাংশ সুদে ঋণ দেয়া হলেও আমাদের দেশে ঋণের সুদের হার অনেক বেশি। এই উচ্চ সুদের কারণেই অনেকে ব্যাংক ঋণ নিতে সাহস পান না। এর ফলে অনেকেই শত চেষ্টার পরেও ফ্ল্যাট কিনতে পারছেন না। আবার একই কারণে রাজধানীতে অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারও ফ্ল্যাটের মালিক হতে পারছেন না। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের গরিব ও মধ্যবিত্তদের ঋণ দিলে সেটা কখনও খোয়া যায় না। তাদের ঋণ দিলে হলমার্ক, বিসমিল্লাহ, যুবক, ডেসটিনির মতো হবে না। কারণ, তারা ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করেন।

শিক্ষককে ছাত্রলীগ নেতার হুমকি

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) পোস্ট গ্রাজুয়েট অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আনিস খানকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছেন হাবিপ্রবি ছাত্রলীগ শাখার সভাপতি ও নবগঠিত ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ইফতেখারুল ইসলাম রিয়েল। তিনি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রকাশ্যে মাইকে এ ঘোষণা দেন। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে একাডেমিক কাউন্সিলের এক সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ৩০ নভেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা এবং হল বন্ধ থাকবে। আজ বিকাল ৫টার মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের হল ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের ডাকা অনির্দিষ্টকাল ছাত্র ধর্মঘটের ১০ম দিন শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭টি অনুষদের সব ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড বন্ধ ছিল।
প্রকাশ্যে মাইকে প্রফেসর ড. আনিস খানকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। ঘোষণার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দিনাজপুর শহরেও চলাচল করতে ভয় পাচ্ছেন। শনিবার প্রফেসর ড. আনিস খান দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় ছাত্রলীগ সভাপতি ইফতেখারুল ইসলাম রিয়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোস্তাফিজ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিক তদন্তে ছাত্রনেতা ইফতেখারুল ইসলাম রিয়েলের বক্তব্যে শিক্ষককে হুমকি দেয়ার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত হয়েছেন। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল কারচুপির অভিযোগে হাবিপ্রবির ছাত্রলীগ শাখার সাধারণ সম্পাদক অরুণ কান্তি রায়, জিয়া হল শাখার সভাপতি জাহিদ হাসান ও ছাত্রলীগ নেতা অলিন্দ্য দত্ত অন্তুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করলে হাবিপ্রবি ছাত্রলীগ শাখার সভাপতি ইফতেখারুল ইসলাম রিয়েল ও সাধারণ সম্পাদক অরুণ কান্তি রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদ প্রফেসর ডা. ফজলুল হককে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়ায় কোতোয়ালি থানায় একটি অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর রুহুল আমিনের গাড়িচালককে একই হুমকি দেয়ার ব্যাপারেও কোতোয়ালি থানায় আরেকটি পৃথক অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম। তার জিডি নং- ১৩৩৭।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ শাখার নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি চত্বরে ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত ৩ ছাত্রনেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারসহ ভিসি প্রফেসর রুহুল আমিনের অপসারণ চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সভা করে ছাত্রলীগ সভাপতি ইফতেখারুল ইসলাম রিয়েলের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন বহি®কৃত ছাত্রনেতা অরুণ কান্তি রায়, নবগঠিত ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রফিক, ছাত্রলীগ নেতা জাহিদ হাসান, অলিন্দ্য দত্ত অন্তু প্রমুখ।

সরকারি কাজে পরিবর্তন আসন্ন

সরকারি কর্মপদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। বিভিন্ন দেশের সরকারি কর্মপদ্ধতিতে জনবান্ধব দিকগুলো বাংলাদেশে চালু করা হবে। সহজভাবে কাজ করা, সময় বাঁচানো এবং মানুষের ভোগান্তি কমাতেই এ পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। এজন্য ভারত, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, নেপাল, ভুটান ও আফ্রিকাসহ ১১টি দেশের উত্তম চর্চা নিয়ে সরকার কাজ করছে। ওইসব দেশের কর্মপদ্ধতিগুলো পর্যালোচনা করে প্রস্তাবিত ব্যবস্থাপনার খসড়া তৈরি হবে। এজন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মো. নজরুল ইসলামকে সভাপতি করে ৮ সদস্যের কোর কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ কমিটি প্রস্তাবিত পদ্ধতি চালু করতে কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে তাও নিরূপণ করবে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নবগঠিত কোর কমিটির প্রধান ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মো. নজরুল ইসলাম শনিবার যুগান্তরকে বলেন, উন্নত বিশ্বের আদলে বাংলাদেশের সরকারি দফতরগুলোতে কর্মসম্পাদন পদ্ধতির পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বছরের শুরুতেই অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হবে। সে অনুযায়ী যে কোনো মূল্যে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। এ ব্যাপারে কোনো অজুহাত আমলে নেয়া হবে না। এ লক্ষ্যে সরকার একটি কোর কমিটিও করেছে। শিগগিরই এ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত পদ্ধতি চালু হলে চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষাগতসহ সব যোগ্যতার সত্যায়িত কপি আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে না। অনলাইনে এক পাতার আবেদন করলেই হবে। এর সঙ্গে কোনো সংযুক্তি দিতে হবে না। সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, আবেদনের সঙ্গে একগাদা কাগজপত্র জমা দেয়া এবং তার জন্য একাডেমিক কাগজপত্র সত্যায়িত করার বিষয়টি প্রার্থীদের জন্য হয়রানিমূলক। এ বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময় সরকারের নীতিনির্ধারণী বৈঠকগুলোতে আলোচনাও হয়েছে। কাগজপত্রের বেশিরভাগ সত্যায়নই ভুয়া বলে মনে করেন তারা। কারণ রাজধানীর নীলক্ষেতসহ বিভিন্ন স্থানে অল্প টাকায় এসব সিল বানানো সম্ভব। কাজেই সরকারি কাজে বা চাকরির আবেদনে সত্যায়ন প্রথা তুলে দেয়ার পক্ষে সরকারের নীতিনির্ধারক মহল। প্রার্থী নিজেই অঙ্গীকার করবেন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তার কাছে রক্ষিত আছে। নিয়োগের চূড়ান্ত পর্যায়ে মূল সনদ অবশ্যই দেখাতে হবে। এতে করে চাকরিদাতা কর্তৃপক্ষকে বস্তায় বস্তায় আবেদনপত্র ঘাঁটতে হবে না। আবেদনপত্র সংরক্ষণও করতে বেগ পেতে হবে না। এতে কর্তৃপক্ষের যেমন সময় বাঁচবে, তেমনি প্রার্থীরও হয়রানি কম হবে। প্রয়োজনে এ সংক্রান্ত বিধি-বিধানও সংশোধন করা হবে বলে সূত্র জানায়। এ ধরনের সহজ ও জনবান্ধব পদ্ধতি চালু হবে।
মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ৮ সদস্যের কোর কমিটি গঠন করে পরিপত্র জারি করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ এবং বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন করে প্রতিনিধি। কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (সংস্কার)।
কমিটিকে ৬টি কাজ নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এদের কার্যপরিধিতে বলা হয়- অন্যান্য দেশের উৎকৃষ্ট চর্চা (বেস্ট প্র্যাক্টিজ) সমূহ পর্যালোচনা করে বাংলাদেশে চালু করার মতো কার্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত খসড়া তৈরি করবে। প্রস্তাবিত কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে বর্তমানে প্রচলিত প্রশাসনিক পদ্ধতির সমন্বয় সাধন করবে। এ পদ্ধতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও কৌশল উদ্বোধন এবং বিদ্যমান পদ্ধতির উন্নয়ন সাধনের সুপারিশ করবে কমিটি। এজন্য প্রচলিত বিধি-বিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা যাচাই ও এ সম্পর্কে করণীয় নির্ধারণ করবেন কমিটির সদস্যরা। কমিটিকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে না দিলেও প্রতি মাসে বৈঠক করে কমিটির কাজের অগ্রগতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে নির্দেশ দেয়া হয় পরিপত্রে।

জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করেই সামনে এগোতে হবে

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি বলেছেন, জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করেই দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পার্টির মহাসমাবেশে তিনি এ কথা বলেন, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন প্রসঙ্গে রাশেদ খান মেনন বলেন, সংবিধানের নির্ধারিত পথেই আগামী নির্বাচন হবে। আমেরিকা ও ব্রিটেনে কখন নির্বাচন হবে সে প্রশ্ন তো আমরা তুলি না। তিনি আরও বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করা হয়েছে। কিন্তু তারা (বিএনপি) নির্বাচন মেনে না নিয়ে এখন বিদেশে ধরনা দিচ্ছেন। তিনি বামপন্থী ও গণতন্ত্রকামী সব রাজনৈতিক দল এবং শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরাই বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে পারি। তিনি বলেন, সরকার শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাসমুক্ত, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে। জনগণের কথা চিন্তা করে সরকারকে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কৃষক-শ্রমিকদের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং মৌলবাদী, সন্ত্রাস জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই-সংগ্রাম করতে হবে। ওয়ার্কার্স পার্টি জনগণের সঙ্গে আছে, থাকবে।
মহাসমাবেশ থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা, অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ও মুক্তিযুদ্ধের ধারা অব্যাহত রাখতে বাহাত্তরের মূল সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আইনশৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখা, খাদ্য নিরাপত্তা, দুর্নীতি প্রতিরোধ, প্রকৃত কৃষকদের হাতে জমি এবং ভূমি সংস্কারসহ সরকারের কাছে ৭ দফা দাবি জানানো হয়। দুর্নীতিবাজ ও দলবাজদের পরিহার করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান রাশেদ খান মেনন। দেশে যারা বামপন্থী রাজনীতি করছে, লড়াই করছে তাদের সম্মান করুন। শিক্ষাঙ্গন থেকে সন্ত্রাস দূর করুন। তিনি আরও বলেন, সমাজের পরিবর্তনের জন্য দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করছি। এই পরিবর্তনের যাত্রা মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হল। দেশের বামপন্থীদের ঐক্যের মাধ্যমে দেশ ও সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
প্রবীণ এই বাম নেতা বলেন, তথাকথিত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র এখনও করছে। জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদকে রুখতে সারা দেশের গ্রামে গ্রামে মানুষকে সুসংগঠিত করার আহ্বান জানান তিনি। রাশেদ খান মেনন বলেন, ওয়ার্কার্স পার্টিকে বাদ দিয়ে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
মহাসমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, পলিটব্যুরো সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক, বিমল বিশ্বাস, নুরুল হাসান, শফিউদ্দিন আহমেদ, হাফিজুর রহমান ভূইয়া, সুশান্ত দাস, মাহমুদুল হাসান মানিক, ইকবাল কবির জাহিদ, কামরুল আহসান, হাজেরা সুলতানা এমপি। সভা শুরুর আগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গণসঙ্গীত, জাতীয় সঙ্গীত ও আন্তর্জাতিক সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পাশাপাশি জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। সভা-সমাবেশ থেকে বেরিয়ে এসে ১৪ দলীয় জোটকে আরও শক্তিশালী করারও আহ্বান জানান তিনি। বিমল বিশ্বাস বলেন, শ্রমিক শ্রেণীর মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদীদের মোকাবেলা করতে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাকর্মীরা প্রয়োজনে বুকের রক্ত দেবে, তবুও পিছপা হবে না।