Friday, January 21, 2011

এই তবে ছাত্রনেতা, এরই নাম প্রাধ্যক্ষ! by শরিফুজ্জামান শরিফ, আতীকুর রহমান, সরদার আমিন, ওমর ফারুক ও রোবায়েত ফেরদৌস

‘বড় ভাইদের সালাম দেয় না, সম্মান করে না, প্রোগ্রামে আসে না—তাদের মারব না তো কী করব?’ এই দম্ভোক্তিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্য সেন হল ছাত্রলীগ সভাপতির। প্রথম আলো ১৮ জানুয়ারি উদ্ধৃতি হিসেবে এটি তুলে ধরেছে। বিস্তারিত পড়ে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০-১২ জন শিক্ষার্থী, যাঁরা সবাই মাস্টারদা সূর্য সেন হলের একটি কক্ষে অবস্থান করেন। তাঁদের সবাইকে ১৭ জানুয়ারি হলের অতিথিকক্ষে ধরে এনে শীতের মধ্যে দাঁড় করিয়ে রেখে জেরা করা হয়েছে, দেয়ালে মাথা ঠোকা হয়েছে এবং একপর্যায়ে পেটানো হয়েছে। তাঁদের অপরাধ (?) তাঁরা ছাত্রলীগের সভায় উপস্থিত হন না, বড় ভাইদের দেখে সালাম দেন না। শিক্ষার্থীদের এই অপরাধটি (!) জানা গেছে হল ছাত্রলীগের নেতার মুখে, একই সঙ্গে যিনি নিজ দায়িত্বের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে হলের প্রাধ্যক্ষও সাংবাদিকদের কাছে তাঁর দায়িত্ব ও দায়িত্বশীলতার একটি ফিরিস্তি তুলে ধরেছেন।
ছাত্রলীগের কীর্তিকলাপ নিয়ে মাঝেমধ্যে এ ধরনের সংবাদ গণমাধ্যমের কল্যাণে পাঠকের সামনে আসে। শুধু ছাত্রলীগ নয়, যখন যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকে, তাদের ছাত্রসংগঠন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে ‘রাজা বনে যায়’। তারা টেন্ডারবাজি, খুন, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হলে তাদের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ এ ধারার বাইরে আসতে পারেনি। যদিও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট ২৩ দফার নির্বাচনী অঙ্গীকারে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনা, একটি আধুনিক সমৃদ্ধ দেশ গড়ার কথা বলেছিল। বাংলাদেশের মানুষ বিশেষ করে, তরুণ ভোটাররা (ওই শিক্ষার্থীদের বয়সী) সেই প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করেন, তাদের সমর্থন দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসিয়েছে।
১৯৭৩ সালের পর আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ফলাফলে এত বড় বিজয় আসেনি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় এলেও সে সময় তাদের আসনসংখ্যা ছিল ৫০ শতাংশের নিচে। কিন্তু ২০০৮ সালের বিজয় ছিল নিরঙ্কুশ। এই বিজয়ের নায়ক ছিলেন এ দেশের তরুণ প্রজন্ম। যারা সব সময় একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও আধুনিক দেশ দেখতে চায়। কিন্তু সরকারের শাসনামলের দুই বছর পূর্ণ হওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে যে সংবাদ পত্রিকায় এসেছে, তাতে আবারও প্রমাণিত হলো ‘পরিবর্তন হয়নি মনে ও আচরণে।’ আওয়ামী লীগ যেহেতু ক্ষমতায়, তাই ছাত্রলীগের নেতারা রাজা হয়ে গেছেন। এই তল্লাটের তাঁরা মালিক, শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রজা। এই প্রজারা তাঁদের রাজাদের সালাম দিয়ে চলবে, রাস্তাঘাটে কদমবুসি করবে, পরীক্ষার হলে না গিয়ে মিছিলে যাবে! এর ব্যত্যয় হলেই নেমে আসবে নির্যাতনের খড়্গ। সূর্য সেন হলে যেটা ঘটেছে।
কেউ বলবেন এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অথবা ওই সংগঠেনের শীর্ষ রাজারা হয়তো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবেন। বলা বাহুল্য, তা হবে লোক দেখানো। কেননা, এ ধরনের ঘটনা দুই বছর ধরে ঘটেই চলছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুঙ্কার ছাড়ছেন, ‘আর কিন্তু কোনো গুন্ডামি সহ্য করব না’, বলছেন, ‘ছাত্রলীগের মধ্যে শিবির ঢুকেছে’ প্রধানমন্ত্রী ‘সম্পর্কছেদ করছেন’, আবার তাঁদের অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটছেন। পত্রিকা ঘেঁটে জানা গেছে, ছাত্রলীগ গত দুই বছরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২৪২টি সংঘাতের জন্ম দিয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯০টি ও বাইরে ৫২টি। এসব সংঘর্ষে ১৬ জন খুন হয়েছে, আহতের সংখ্যা চার হাজারের অধিক। তাদের সন্ত্রাসের কারণে বন্ধ হয়েছে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। হয়তো কেউ বলবেন, ‘আগের সরকারের সময়ও তো এটা হয়েছে।’ হ্যাঁ, সত্য। কিন্তু এখনো তা-ই হবে? তা মেনে নেওয়া যায় না। জনগণও মেনে নিচ্ছে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফলাফল তা প্রমাণ করছে।
প্রথম আলোর এই কলামে বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের সন্ত্রাস নিয়ে আমরা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলাম। দেশের মানুষও নানা সময় এই গুন্ডামি বন্ধের দাবি তুলেছে। কিন্তু তা যে বন্ধ হয়নি, সূর্য সেন হলের ঘটনা তার সাক্ষ্য দেয়। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়াও শুভ নয়। আওয়ামী লীগের নেতারা, সরকারের মন্ত্রীরা কি তা বুঝতে পারছেন? পাবনার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর সরকার সমর্থকদের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২ অক্টোবর এই কলামে আমরা প্রশ্ন করেছিলাম, যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরকার আর আওয়ামী লীগের জন্য অতল গর্ত খুঁড়েছেন কি না! আজ পৌর নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, আশঙ্কা সত্য। গর্ত খোঁড়া চলছেই। আপাত দৃষ্টিতে তাঁদের দলীয় কর্মী হিসেবে চেনা গেলেও তাঁরা ‘দুধের মাছি’। আওয়ামী লীগ যখন বিপদে পড়বে, তাঁরা সবাই লাপাত্তা হয়ে যাবেন, অপকর্মের বোঝা বইতে হবে আওয়ামী লীগকেই। ইতিহাস তা-ই বলে।
সূর্য সেন হলের প্রাধ্যক্ষর বয়ানও একই সংবাদে উদ্ধৃত করা হয়েছে। ‘তারেক বন্দনা’ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের রুচিহীনতার বিষয়টি ৮ সেপ্টেম্বর ২০১০ আমরা এই কলামে তুলে ধরেছিলাম। আজ দেখছি, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের এখনো কিছু শিক্ষক রয়েছেন, যাঁরা দায়িত্ববোধ শেখেননি, নৈতিক মূল্যবোধ ছাড়াই বেড়ে উঠেছেন, সনদ সংগ্রহ করেছেন, মনুষ্যত্ব অর্জন করেননি। একজন অভিভাবক তাঁর সন্তানকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়ে ভাবেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তাঁর সন্তানের বিপদে পাশে দাঁড়াবেন, আগলে রাখবেন। সেই অভিভাবক যখন দুর্বিনীত ছাত্রলীগের ধৃষ্টতা জানবেন, আর প্রাধ্যক্ষের বয়ান শুনবেন, তখন লজ্জিত হবেন নিশ্চয়ই। প্রাধ্যক্ষ যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা ক্ষমার অযোগ্য। তাঁর বক্তব্য প্রমাণ করে, তিনি মূক ও বধির হয়ে আছেন।
একজন মানুষ বিপদে পড়লে এখনো তার সহায়তায় আমরা ছুটে যাই, এটি আমাদের বাল্যকালের শিক্ষা, আমাদের সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতি শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ধনী-দরিদ্র মানুষের মধ্যে এখনো বিরাজমান। অথচ একজন শিক্ষক প্রাধ্যক্ষের দায়িত্বে থেকে নানা সুবিধা নিয়েও যেহেতু ‘কেউ এসে বলেননি, তাই বিবেক টলেনি’ ধরনের মনোভাব পোষণ করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই মনে আসে আমাদের মগজে সত্যিই পচন ধরেছে। সমাজের অনেকেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পেলেও মানসিক বিকলঙ্গতার সঙ্গে যে এখনো বাস করছেন, প্রাধ্যক্ষ তা জানান দিলেন। ছাত্রলীগের নেতা শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে আর হলের প্রাধ্যক্ষ দায়িত্ব অবহেলা করে অপরাধ করেছেন। আমরা দুজনের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করি।
লেখকেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী।

মাদক পাচারে পায়রা

প্রিয়জনের চিঠি বহনে পায়রা ব্যবহূত হচ্ছে ডাকব্যবস্থার প্রচলনের আগ থেকেই। কিন্তু কলম্বিয়ার পুলিশ এবার এমন একটি পায়রা আটক করেছে, যে কিনা মাদক বহন করছিল।
পুলিশ জানায়, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বুকারামাঙ্গা শহরের একটি কারাগারের বন্দিদের জন্য মাদক নিয়ে যাচ্ছিল পায়রাটি। তার পিঠে বাঁধা ছিল ৪৫ গ্রাম মারিজুয়ানা ও কোকেন। কিন্তু ভার একটু বেশি হয়ে যাওয়ায় পায়রাটির পক্ষে তা নিয়ে উড়ে যাওয়া কষ্ট হয়ে যাচ্ছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ।
বুকারামাঙ্গা শহরের পুলিশ কমান্ডার হোসে অ্যাঞ্জেল মেন্দোজা বলেন, ‘পায়রাটি মাদক নিয়ে কারাগারেই ঢুকছিল। কিন্তু অতিরিক্ত ভারের কারণে সে তা পারেনি। মাদক পাচারের এ এক অভিনব কায়দা।

ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী দুং ফের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান

ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী এনগুয়েন তান দুংকে (৬১) পুনরায় ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান নিযুক্ত করা হয়েছে। গত ১২ জানুয়ারি শুরু হওয়া আট দিনব্যাপী পঞ্চবার্ষিক কংগ্রেসের শেষ দিনে গতকাল বুধবার এই নিয়োগ দেওয়া হয়।
পার্টির মহাসচিব ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এনগুয়েন ফু তাং ও ত্রুং তান সাং। প্রধানমন্ত্রী দুংয়ের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী তান সাং পলিটব্যুরোর একটি পদও পেয়েছেন। সরকারের নীতিনির্ধারণ করে এই পলিটব্যুরো। তান সাংকে দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
কমিউনিস্ট পার্টির শক্তিশালী কেন্দ্রীয় কমিটিতে সামরিক বাহিনীর কয়েকজন প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, পার্শ্ববর্তী দেশ চীনের শক্তি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়োগের বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ।

আইএসআইয়ের সহায়তায় মোল্লা ওমরের চিকিৎসা!

আফগান তালেবানের প্রধান মোল্লা ওমর হূদেরাগে আক্রান্ত হলে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সহায়তায় তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানের পর মোল্লা ওমর আত্মগোপন করেন। ৭ জানুয়ারি তিনি হূদেরাগে আক্রান্ত হলে করাচির কাছে একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলে। সাবেক মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের পরিচালিত একটি বেসরকারি গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের সূত্র থেকে ওয়াশিংটন পোস্ট এ তথ্য জানায়। ওয়াংিশটন পোস্ট।

৩৭০০ শিক্ষার্থীকে ‘নভোচারীর প্রশিক্ষণ’ দেওয়া হবে

যুক্তরাষ্ট্রের নাসা ও বিশ্বের অন্য মহাকাশ সংস্থাগুলো বিশ্বের ২৫টি নগরের তিন হাজার ৭০০ ছাত্র-ছাত্রীকে ‘নভোচারীদের মতো’ প্রশিক্ষণ দেবে। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা গত মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছে।
ছয় সপ্তাহব্যাপী এই প্রশিক্ষণের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মিশন এক্স: নভোচারীর মতো শেখো’। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে আট থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার এবং ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তোলা।
প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নির্বাচিত শিশুরা বিজ্ঞান বিষয়ে তাদের মেধার প্রমাণ দেখানো ও দলের একজন হিসেবে কাজ করায় পয়েন্ট পেতেও প্রতিযোগিতা করবে। শক্তিমত্তা, সহ্যক্ষমতা, ভারসাম্য ও সমন্বয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে তাদের।
নাসার এক বিবৃতিতে বলা হয়, মহাকাশ অভিযানের জন্য তৈরি করতে নভোচারীদের যে ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, এটি হবে সে রকম।
যেসব দেশ থেকে শিশুদের নেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ড, স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও কলম্বিয়া।
নাসার প্রকল্প ব্যবস্থাপক চার্লস লয়েড বলেন, ‘এ প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পড়াশোনায় লেগে থাকা এবং বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ে উৎকর্ষ অর্জনে উৎসাহিত করা, যাতে তারা এ গুরুত্বপূর্ণ কাজটি ২১ শতকে এগিয়ে নিতে পারে।

পাকিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্প

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গতকাল বুধবার শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে। এতে কোনো প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। রিখটার স্কেলে এ ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৭ দশমিক ২। প্রতিবেশী দেশ ভারত এবং উপসাগরীয় অঞ্চলেও এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পের ফলে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছোটাছুটি করতে থাকে। অনেকে চিৎকার শুরু করে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত একটা ৩২ মিনিটে ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল আফগানিস্তানের সীমান্ত-সংলগ্ন পাকিস্তানের দালবানদিন শহরের ৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে। তবে ভারতের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রিখটার স্কেলে ওই ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৭ দশমিক ৪। এতে দিল্লি পর্যন্ত কেঁপে ওঠে।
গতকালের ভূমিকম্প সবচেয়ে তীব্রভাবে অনুভূত হয় পাকিস্তানের উপজাতি-অধ্যুষিত বেলুচিস্তান প্রদেশে। সেখানে বাড়িঘর দুলতে শুরু করলে লোকজন ভয়ে ঘর থেকে বের হয়ে আসে।
বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটার বাসিন্দা গুল মোহাম্মদ সাংবাদিকদের জানান, ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি কাঁপতে শুরু করলে তাঁরা প্রাণভয়ে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন। গতকালের ওই ভূমিকম্প ভারতের দিল্লি এবং উপসাগরীয় এলাকার দুবাই ও কাতারেও অনূভূত হয়েছে বলে জানা গেছে।।

ভারতের মন্ত্রিসভায় রদবদল সম্পন্ন

ভারতে গতকাল বুধবার মন্ত্রিসভার রদবদল করা হয়েছে। রদবদল নিয়ে কয়েক দিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চলছিল। মন্ত্রিসভার রদবদলের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, প্রফুল প্যাটেল, শ্রীপ্রকাশ জয়সওয়াল ও সালমান খুরশিদের পদোন্নতি।
২০০৯ সালের মে মাসে ক্ষমতায় যাওয়ার পর সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চা (ইউপিএ) সরকারের মন্ত্রিসভায় এই প্রথম রদবদল করা হলো। এদিকে আগামী বাজেট অধিবেশন শেষ হওয়ার পর মন্ত্রিসভায় দ্বিতীয় দফায় রদবদল করা হবে।
মুরলি দেওরাকে তেল মন্ত্রণালয় থেকে করপোরেট অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। কমল নাথ ভূতল পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হারিয়েছেন। তাঁদের বদলি করা হয়েছে নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ে।
প্রফুল প্যাটেলকে দেওয়া হয়েছে ভারী শিল্প ও সরকারি শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। সালমান খুরশিদকে সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর শ্রীপ্রকাশ জয়সওয়াল রয়েছেন কয়লা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে।
অজয় মাকেনকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কেরালার প্রখ্যাত খ্রিষ্টান নেতা কেভি থমাস পেয়েছেন ভোক্তা, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

হুর সফরের প্রতিবাদে হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভ

চীনা প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে বিশেষ এক নৈশভোজের আয়োজন করেছেন। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শুরু হয়েছে চীনা প্রেসিডেন্টের। গতকাল বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওভাল অফিসে দুই নেতার বৈঠক হওয়ার কথা। হুর সফরের প্রতিবাদে হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, গত তিন দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো শীর্ষ চীনা নেতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সফর এটি।
তাইওয়ান, মানবাধিকার, বাণিজ্য ঘাটতি ও মুদ্রার বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন রয়েছে। এই সফরে এসব বিষয় ছাড়াও উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচির বিষয়টিও স্থান পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীনের প্রেসিডেন্টের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা চীনের তিব্বতনীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। মানবাধিকার প্রসঙ্গে চীনের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য বারাক ওবামার প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে চীনের ভিন্নমতাবলম্বী হিসেবে পরিচিত উইঘুর সম্প্রদায়ের সদস্য ও নির্বাসিত তিব্বতিরা ছিলেন।
চীনা নাগরিকদের অধিকার নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজক মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য ক্রিস স্মিথ বলেন, ‘এটা অভাবনীয় একটি বিষয় যে বারাক ওবামার মতো একজন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী নেতা এমন এক নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন, যিনি আরেক নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ব্যক্তিকে কারারুদ্ধ করে রেখেছেন।’ তিনি বলেন, ‘আশা করি, প্রেসিডেন্ট ওবামা ২০০৯ সালে তাঁকে দেওয়া নোবেল পুরস্কারের মর্যাদা রাখবেন।’
বিমানবন্দর থেকে হোয়াইট হাউসে যাওয়ার পথে শ্রমিকেরা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পতাকা প্রদর্শন করেন। নৈশভোজে চীনা ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা টম ডনিলন ও চীনা প্রতিনিধিদলের দুজন সদস্য অংশ নেন। হোয়াইট হাউসের ওল্ড ফ্যামিলি ডাইনিং রুমে আয়োজিত এই বিশেষ নৈশভোজ সম্পর্কে কর্মকর্তারা বিস্তারিত কিছু জানাননি।

আইভরি কোস্টে আলোচনা ব্যর্থ

আইভরি কোস্টের ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা প্রেসিডেন্ট লরা বাগবো প্রতিপক্ষের সঙ্গে আলোচনার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সে ব্যাপারেও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।
আফ্রিকান ইউনিয়নের দূত কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট রাইলা ওদিঙ্গা গতকাল বুধবার লরা বাগবো ও আলাসেন ওয়াতারার সঙ্গে আলোচনা করেও কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেননি। এ কারণে তিনি আবিদজান ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ওদিঙ্গার মুখপাত্র জানান, ৪৮ ঘণ্টার এক সফরে ওদিঙ্গা আবিদজানে আসেন। তবে তিনি দেশটির দুই নেতার সঙ্গে আলোচনা করেও বৈধ প্রেসিডেন্ট কে হবেন, তার উত্তর খুঁজে পাননি।

বন্যায় ভিক্টোরিয়ার ৫৮ শহর প্লাবিত

কুইন্সল্যান্ডের পর এবার বন্যায় আক্রান্ত হলো অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ভিক্টোরিয়া। রাজ্যের ৫৮টি শহর এর মধ্যে প্লাবিত হয়েছে। এ রাজ্যের কেরাং শহরের বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। হরশ্যাম শহরের কাছে পানিতে ডুবে মারা গেছে এক বালক।
এদিকে বন্যার পানি কমে যাওয়ায় কুইন্সল্যান্ডের লোকজন বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। এখানে বন্যায় নিহতদের কবর দেওয়া শুরু হয়েছে। ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হগ গতকাল বুধবার কুইন্সল্যান্ডের রাজধানী ব্রিসবেন সফর করেছেন।
কেরাং শহরের কর্মকর্তারা বলেন, লোডেন নদীর পানি ক্রমে বাড়ছে। সে জন্য শহরের বাসিন্দাদের উচিত নদীর পানি আরও বাড়ার আগেই নিরাপদ জায়গায় চলে যাওয়া।
রাজ্যের জরুরি পরিষেবা সংস্থার পক্ষ থেকে গতকাল কেরাং শহরের আড়াই হাজার লোকের কাছে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে। বার্তায় তাদের অবিলম্বে ওই শহর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বলা হয়েছে। শহরের মেয়র ম্যাক্স ফেরিং স্কাই নিউজকে বলেছেন, বন্যায় আক্রান্তদের আশ্রয় দেওয়ার মতো অনেক উঁচু জায়গা কেরাং শহরে আছে। তাদের সামাল দেওয়ার মতো যথেষ্ট সম্পদও আছে। কিন্তু এর পরও বাড়িঘর পুরোপুরি প্লাবিত না হওয়া পর্যন্ত খুব কমসংখ্যক লোক নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেবে বলে তিনি মনে করেন।

বিভিন্ন বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছাতে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও বিভিন্ন বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছানোর পথ অন্বেষণে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। গতকাল বুধবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এক বৈঠকে তাঁরা এ অঙ্গীকার করেন।
বৈঠকে ওবামা বলেন, ‘কয়েকটি ক্ষেত্রে আমাদের দুই দেশের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও আমরা অন্যান্য ক্ষেত্রে পরস্পরকে সহায়তা করতে পারি। আসুন, আমরা এ সুযোগকে কাজে লাগাই।’
চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, পারস্পরিক আস্থা বাড়াতে এবং সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতেই তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসেছেন। তবে দুই দেশকে অবশ্যই একে অপরের পছন্দ-অপছন্দ ও স্বার্থের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে।
এ ছাড়া বৈঠকে তাইওয়ান, মানবাধিকার, বাণিজ্য ঘাটতি ও মুদ্রার বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণ ও উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়।
হু জিনতাও গত মঙ্গলবার চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যান। ওই দিনই তাঁর সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা হোয়াইট হাউসে বিশেষ এক নৈশভোজের আয়োজন করেন। নৈশভোজে চীনা ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা টম ডনিলন ও চীনা প্রতিনিধিদলের দুজন সদস্য অংশ নেন। হোয়াইট হাউসের ওল্ড ফ্যামিলি ডাইনিং রুমে আয়োজিত এই বিশেষ নৈশভোজ সম্পর্কে কর্মকর্তারা বিস্তারিত কিছু জানাননি।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, গত তিন দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো শীর্ষ চীনা নেতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সফর এটি।
মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের অ্যান্ড্রুজ বিমান ঘাঁটিতে চীনের প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমান অবতরণ করে। তাঁকে স্বাগত জানান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। হু জিনতাওকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং তাঁর সম্মানে ২১ বার তোপধ্বনি করা হয়।
চীনের প্রেসিডেন্টের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা চীনের তিব্বত নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। মানবাধিকার প্রসঙ্গে চীনের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য বারাক ওবামার প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে চীনের ভিন্নমতাবলম্বী হিসেবে পরিচিত উইঘুর সম্প্রদায়ের সদস্য ও নির্বাসিত তিব্বতিরা ছিলেন।
চীনা নাগরিকদের অধিকার নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজক মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য ক্রিস স্মিথ বলেন, ‘এটা অভাবনীয় একটি বিষয় যে, বারাক ওবামার মতো একজন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী নেতা এমন এক নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন, যিনি আরেক নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ব্যক্তিকে কারারুদ্ধ করে রেখেছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিকার অর্থেই আশা করতে চাই, প্রেসিডেন্ট ওবামা ২০০৯ সালে তাঁকে দেওয়া নোবেল পুরস্কারের মর্যাদা রাখবেন।’

বিচারের মুখোমুখি সুইস ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা

ব্যাংকিং আইন ও গোপনীয়তা ভেঙে উইকিলিকসকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগে সুইজ্যারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় সুইস ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা এখন বিচারের মুখোমুখি। ওই কর্মকর্তার নাম রুডলফ এলমার। তিনি কেম্যান আইল্যান্ডের জুলিয়াস বায়ের শাখার প্রধান ছিলেন।
কর ফাঁকি দিয়েছে এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে গত সোমবার এলমার উইকিলিকসে কিছু তথ্য দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ।
এলমারের শুনানির বিষয়টি এক দিনেই শেষ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কৌঁসুলিরা তাঁর আট মাসের কারাদণ্ডের আদেশ ও দুই হাজার সুইস ফ্রাঙ্ক জরিমানা করার দাবি জানিয়েছেন।
এলমার দাবি করেন, তিনি সুইস ব্যাংকের গোপনীয়তা রক্ষার নিয়ম লঙ্ঘন করেননি। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, ধনীরা কর ফাঁকি দেওয়ায় জনগণকে কল্যাণমূলক সেবা প্রদান কীভাবে ব্যাহত হচ্ছে, তা তিনি পরিষ্কার করতে চাইলেও ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাঁকে সহযোগিতা করেনি।
২০০২ সালে বরখাস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত সুইস ব্যাংকের ওই শাখার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন এলমার। অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকের গ্রাহকদের কিছু গোপন তথ্য ফাঁস করতে ২০০৭ সালে উইকিলিকসকে তিনি সহায়তা করেন।
এলমারের ভাষ্য, তাঁকে বরখাস্ত করার পর ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানায় সুইস ব্যাংক। তাঁর অভিযোগ, সুইস ব্যাংকের কারণে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দুর্ভোগের শিকার হন। এ ছাড়া, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিকদের কর ফাঁকির বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য ব্যাংক তাঁকে পাঁচ লাখ ফ্রাঙ্ক দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল।

মাওবাদীদের সঙ্গে আঁতাত রয়েছে তৃণমূলের

মাওবাদীদের সঙ্গে তৃণমূলের আঁতাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তিনি বলেছেন, এখন তৃণমূল কংগ্রেস প্রকাশ্যে হাত মিলিয়েছে মাওবাদীদের সঙ্গে। আগে তারা গোপনে হাত মেলাত, এখন মেলাচ্ছে প্রকাশ্যে। নন্দীগ্রামের আন্দোলনেও তৃণমূলের সঙ্গে ছিল মাওবাদীরা। গতকাল বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ কথা বলেন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরমের চিঠি পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য গতকাল সকালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেন।
পরে এক সংবাদ সম্মেলনে বুদ্ধদেব তৃণমূলের সঙ্গে মাওবাদীদের আঁতাতের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহলের তিনটি জেলার ২৮টি থানা মাওবাদী-প্রভাবিত। জঙ্গলমহলের পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও বাঁকুরা জেলায় মাওবাদীদের হাতে গত দুই বছরে ৩৩৩ জন খুন হয়েছেন। এর মধ্যে ২১৩ জন সিপিএমের নেতা-কর্মী।
এদিকে গতকাল নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরের সামনে পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা।

সরকার থেকে বেন আলীর সহযোগীদের বহিষ্কারের দাবি

তুমুল আন্দোলন ও উত্তেজনার মধ্যে তিউনিসিয়ার সদ্য গঠিত ঐকমত্যের সরকারের মন্ত্রিসভা প্রথমবারের মতো আজ বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। দেশটির আঞ্চলিক উন্নয়ন মন্ত্রী নেজিব চেব্বি এ কথা জানিয়েছেন। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী বৈঠকের দিনক্ষণের বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি।
সংবাদমাধ্যম জানায়, ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট জয়নুল আবেদিন বেন আলীর দল আরসিডির কয়েকজন নেতা এখনো মন্ত্রিসভায় থাকার কারণে রাজধানী তিউনিসে ব্যাপক বিক্ষোভ হচ্ছে। তারা আরসিডিকে বিলুপ্ত করে প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মাদ ঘানুচি ছাড়া ওই দলটির বাকি সব নেতাকে মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কার করার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি আরসিডিকে পুরোপুরি বিলুপ্ত করারও দাবি জানিয়েছে তারা।
সদ্য গঠিত ঐক্যের সরকারের চারজন মন্ত্রী গত মঙ্গলবার আরসিডির নেতাদের মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কারের দাবিতে পদত্যাগ করেছেন। বিক্ষোভের মুখে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ফুয়াদ মেবাজা এবং প্রধানমন্ত্রী ঘানুচি আরসিডি থেকে পদত্যাগ করেছেন। তবে বিরোধী নেতারা বলেছেন, এ দুজন পদত্যাগ করলেও তাতে জনরোষ কমছে না। সাধারণ মানুষ ‘উৎপীড়ক’ বেন আলী সরকারের কোনো মন্ত্রীকে অন্তর্বর্তী সরকারে দেখতে চায় না।
গত সোমবার গঠিত ঐক্যের সরকারে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সাবেক মন্ত্রীদের বহাল রাখা হয়।
বিশ্লেষকেরা বলেন, নতুন করে উত্তেজনা শুরু হওয়ায় দেশটিতে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে।
জেনারেল ইউনিয়ন অব তিউনিসিয়ান ওয়ার্কার্স (ইউজিটিটি) দলের দুজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী নতুন মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন। ওই দলের সংগঠক আবিদ আল ব্রিকি সাংবাদিকদের বলেছেন, আরসিডির নেতাদের মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিতে সাধারণ লোকজন রাস্তায় নেমে এসেছে।
বিরোধী এফডিএলটি দলের নেতা ও ঐকমত্যের সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুস্তাফা বিন জাফর বলেছেন, বেন আলীর আমলের লোকজন গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে যতক্ষণ আসীন থাকবেন, ততক্ষণ তিনি দায়িত্ব পালন করবেন না।
প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মাদ ঘানুচি বলেন, জাতীয় স্বার্থে সাবেক সরকারের মন্ত্রীদের বহাল রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তাদের রাখা হয়েছে, কারণ এ মুহূর্তে তাঁদের প্রয়োজন রয়েছে।’
বেন আলীর কট্টর সমালোচক ও বিরোধী সিপিআর পার্টির নেতা মোনসেফ মারজুকি প্রায় দুই যুগ প্যারিসে নির্বাসিত থাকার পর গত মঙ্গলবার দেশে ফিরেছেন। তিনিও নতুন সরকারে বেন আলীর কোনো সহযোগীর উপস্থিতি দেখতে চান না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

মিয়ানমারে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চলছে

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সে দেশের চিন প্রদেশের সংখ্যালঘু জনগণের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। গতকাল বুধবার একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। সংস্থাটি এ ব্যাপারে তদন্তের দাবি করেছে।
মিয়ানমারের চীন প্রদেশে শত শত পরিবারের ওপর জরিপ চালানোর জন্য একদল স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেয় ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস নামের সংস্থাটি। জরিপে অনেক পরিবার বলেছে, তাদের স্বজনদের হত্যা, ধর্ষণ বা বাধ্যতামূলক শ্রমে বাধ্য করা হয়েছে।
নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী ডেসমন্ড টুটু ও আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের সাবেক কৌঁসুলি রিচার্ড গোল্ডস্টোন জরিপের এই ফলাফলকে ‘বিপর্যয়কর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মিয়ানমারের মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে পর্যালোচনার জন্য আগামী সপ্তাহে জেনেভায় বৈঠকে বসছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল। এই বৈঠকের আগে ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটসের এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো।
গত নভেম্বরে মিয়ানমারে নির্বাচনের পর আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন গঠনের দাবির ব্যাপারে শিথিলতা দেখা যাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই সংস্থাটি বলছে, মিয়ানমারের নির্বাচন জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করেনি।
সংস্থার ‘লাইফ আন্ডার দ্য জান্তা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের মতো জাতিগত সংখ্যালঘুরা সামরিক শাসনের অধীনে নিষ্ঠুর আচরণের শিকার হচ্ছে।
২০০৯ সালের অক্টোবর থেকে ২০১০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ওই জরিপ চালানো হয়। জরিপে ভারত সীমান্তবর্তী চীন প্রদেশের ৬২১টি পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন প্রদেশে হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, দলগতভাবে নিপীড়ন ও অন্যান্য অমানবিক কাজসহ নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, ৯০ শতাংশেরও বেশি পরিবার বলেছে, তাদের পরিবারের কমপক্ষে একজন সদস্য সামরিক বাহিনী অথবা সরকারের জন্য বিনা মূল্যে শ্রম দিতে বাধ্য হয়েছে।
ছয়টি পরিবার জানায়, তাদের একজন করে স্বজনকে হত্যা করেছে সেনাসদস্যরা। ২৯টি পরিবার জানায়, তাদের স্বজন নিখোঁজ হয়েছে। ২৩টি পরিবার বলেছে, তাদের পরিবারের একজন করে সদস্যের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। ১৭টি পরিবার বলেছে, তাদের পরিবারের একজন করে সদস্যকে সেনাসদস্যরা ধর্ষণ করেছে অথবা যৌন নিপীড়ন চালিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের প্রায় ২০ শতাংশের বয়স ১৫ বছরের নিচে। ১৭টি পরিবার বলেছে, তাদের পরিবারের একজন শিশুকে জোর করে সেনাবাহিনীতে ভর্তি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জোর করে সেনাবাহিনীতে ভর্তি করা কোনো কোনো শিশুর বয়স মাত্র ১১ বছর।

বিদায়ী বছরে চীনের প্রবৃদ্ধি ১০.৩ শতাংশ

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি চীনে মোট দেশজ উত্পাদন (জিডিপি) প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত বেড়েছে। ২০১০ সালে দেশটির জিডিপি বেড়েছে ১০ দশমিক তিন শতাংশ। চীনের সরকারি পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বিদায়ী ২০১০ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে চীনের মোট দেশজ উত্পাদন প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম হয়েছিল। ওই সময়ে প্রাক্কলিত জিডিপি নয় দশমিক আট শতাংশ হলেও অর্জিত হয় নয় দশমিক ছয় শতাংশ। তবে, মুদ্রাস্ফীতি গত বছর চীনে যথেষ্ট চিন্তার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছিল। ওই চীনের মুদ্রাস্ফীতির পরিমাণ ছিল তিন দশমিক তিন শতাংশ।
সিঙ্গাপুরের ওসিবিসি ব্যাংকের অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা ডগমিং জি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, চীনে এ বছরও প্রবৃদ্ধির হার শক্তিশালী থাকবে। তবে মুদ্রাস্ফীতি এ বছর চীনে চিন্তার কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে। চীনের এ বছরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মুদ্রাস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। তিনি আরও বলেন, গত ডিসেম্বরে, যতটা আশা করা হয়েছিল তাঁর চেয়েও মুদ্রাস্ফীতি অনেকটাই বেড়েছে। জানুয়ারি মাসেও চীনে খাদ্যদ্রব্যের দাম অনেকটাই বেড়েছে।

পুঁজিবাজারে আইন অমান্যকারীদের শাস্তির দাবি ডিএসইর

পুঁজিবাজারে আইন অমান্য করলে তাঁদের খুঁজে বের করে অবশ্যই শাস্তি দিতে হবে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী এ কথা বলেন।
শাকিল রিজভী বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে দেখা যাচ্ছে অনেক কোম্পানি বাজারে প্রবেশের সময় শেয়ারের দাম অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে। ফলে বাজার ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। বাজার যাতে ঝুঁকির মধ্যে না পড়ে সে জন্য শুরুতেই সতর্ক হওয়া দরকার। তবে এ ক্ষেত্রে কেউ যদি আইন অমান্য করে থাকে, তা খুঁজে বের করে অবশ্যই শাস্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের হতাশ ও আতঙ্কিত না হয়ে পুঁজিবাজারের ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ করেছেন তিনি।
শাকিল আরও বলেন, পুঁজিবাজারে নতুন শেয়ায়ের ক্ষেত্রে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে কোনো প্রকার ত্রুটি আছে কি না, তা ক্ষতিয়ে দেখা দরকার। বর্তমানে ৪৮টি কোম্পানি বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজারে আসার অপেক্ষায় রয়েছে। এসব কোম্পানির ব্যালান্সশিট ক্ষতিয়ে দেখা উচিত। একই সঙ্গে কেউ ভুয়া তথ্য দিলে তা খুঁজে বের করা উচিত। শুরুতেই কোম্পানির শেয়ারের দাম যথাযথ হলে ওই কোম্পানিতে বিনিয়োগ ঝুঁকিমুক্ত হবে।
শাকিল রিজভী বড় বিনিয়োগকারী এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেন, যেসব বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লাভ করেছে, তাঁরা যেন ওই টাকা অবশ্যই পুঁজিবাজারে খাটায়। তাহলে বাজারে স্থিতিশীলতা আসবে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাও বাজারের ওপর আস্থা রাখতে পারবে।

অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা ভেট্টোরির

কাল পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়েলিংটন টেস্টটা ড্র হওয়ার পর পরই অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিলেন ড্যানিয়েল ভেট্টোরি। বিশ্বকাপের পর আর নিউজিল্যান্ডের নেতৃত্ব দেবেন না এই অলরাউন্ডার।
দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স আর তাঁর অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা—দুটোর মধ্যে অনেকে স্বাভাবিকভাবেই একটা যোগসূত্র খুঁজে নিতে চাইবে। যদিও ভেট্টোরি জানালেন, ‘এ সিদ্ধান্ত আমি সাড়ে তিন বছর আগেই নিয়ে রেখেছিলাম।’
অধিনায়ক হিসেবে আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত দেখা গেলেও ওয়েলিংটন টেস্টই টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে তাঁর শেষ ম্যাচ। ২০০৭ সালে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর ৩২টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন ভেট্টোরি, নিউজিল্যান্ডের পক্ষে যেটি তৃতীয় সর্বোচ্চ। তাঁর নেতৃত্বে নিউজিল্যান্ড ৬টি টেস্ট জিতেছে (চারটিই বাংলাদেশের বিপক্ষে), হেরেছে ১৬টি। দলগতভাবে ভালো ফল না হলেও এই সময়টায় খেলোয়াড় হিসেবে সবচেয়ে ধারাবাহিক ছিলেন ভেট্টোরি। দলের পক্ষে সবচেয়ে বেশি উইকেট (১১৬) নেওয়ার পাশাপাশি চারটি সেঞ্চুরি ও নয়টি ফিফটি করেছেন অধিনায়ক হিসেবে।
অধিনায়কের ভারমুক্ত হয়ে খেলে যেতে চান বলেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভেট্টোরি। তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে রস টেলরই এগিয়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আজহার-ফয়সালে ঘুরে দাঁড়াল মোহামেডান

কালকের দিনে বড় ম্যাচ বলতে ছিল মোহামেডান-বিমান ম্যাচ। তা-ও আবার দুই দলেরই আগেই ‘সুপার এইট’ নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় এ ম্যাচ নিয়ে বিশেষ কোনো আগ্রহ ছিল না। তবে মিরপুর স্টেডিয়ামে ঠিকই বড় ম্যাচের উত্তেজনা ছড়াল ম্যাচটি। যাতে ২ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মোহামেডান।
বিমানের ৬ উইকেটে ২৪৪ রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল মোহামেডান। কিন্তু দলকে ৬১ রানে রেখে তামিম ইকবাল (৩০) আউট হয়ে যাওয়ার পর মোহামেডানের ইনিংসে বয়ে যায় ঝড়। ৪৬ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে ৬ উইকেটে ১০৭ হয়ে যায় তারা। ম্যাচটিও যেন একটু ঝুঁকে পড়ে বিমানের দিকে। এখান থেকেই ঘুরে দাঁড়িয়ে আজহার মেহমুদ, ফয়সাল হোসেন ও মুক্তার আলী দারুণ এক জয় এনে দেন মোহামেডানকে। সপ্তম উইকেট জুটিতে ফয়সাল ও আজহার তোলেন ৮৬ রান। অষ্টম উইকেটে আজহার ও মুক্তার যোগ করেন ৩৩ রান। এই দুটি জুটিই ৫ বল বাকি থাকতে জিতিয়ে দেয় তাঁদের দলকে।
দিনের অন্য দুই ম্যাচে আবাহনী ৩৯ রানে প্রাইম দোলেশ্বরকে এবং কলাবাগান ৮০ রানে সূর্যতরুণকে হারিয়েছে।

ইউসুফে ‘ফিনিশার’ খুঁজছে ভারত

মিডল-অর্ডারে নেমে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতেন বলে মাইকেল বেভানের নাম হয়ে গিয়েছিল ‘দ্য ফিনিশার’। ইউসুফ পাঠানের মধ্যে এমনই একজন ‘ফিনিশার’ খুঁজছে ভারত। পরশু তাঁর দুর্দান্ত ইনিংসটার প্রশংসা করতে গিয়ে অধিনায়ক ধোনি সেই চাওয়ার কথাই জানিয়ে দিয়েছেন, ‘ও ওর স্বাভাবিক খেলাটাই খেলে। আমিও চাই, ও নিজের খেলাটা খেলে যাক। অভিজ্ঞতা যখন বাড়বে, ও এমনিতেই একজন ম্যাচ ফিনিশার ব্যাটসম্যান হয়ে উঠবে।’
পাঠান ভাইদের বড়জনের অভিজ্ঞতা খুব বেশি নয়। ওয়ানডেতে মাত্র ২৯ ইনিংস ব্যাটিং করেছেন। তবে এরই মধ্যে বুঝিয়ে দিয়েছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে ম্যাচের মোড় ঘুড়িয়ে দেওয়ার সামর্থ্য তাঁর আছে। পরশু কেপটাউনের ম্যাচটি হয়ে থাকল এর সার্থক উদাহরণ। মাত্র ২২১ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নামা ভারত ৯৩ রানে হারিয়ে ফেলে ৫ উইকেট। এই উইকেটে ব্যাটে বল ঠিকমতো আসছিল না দেখে ধারণা করা হচ্ছিল, সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হারাল ভারত। কিন্তু ইয়োহান বোথার চার বলের মধ্যে তিন ছক্কা হাঁকানো ইউসুফ ম্যাচের চেহারা পাল্টে দেন। তাঁর ৫০ বলে ৫৯ আর আট নম্বরে নামা হরভজনের ২৫ বলে অপরাজিত ২৩ রান ২ উইকেটে জেতায় ভারতকে। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ভারত এগিয়ে ২-১-এ। এই প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ওয়ানডে সিরিজে লিড নিল ভারত।
ইউসুফের কাছেই দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচটা হেরেছে বলে স্বীকার করে নিয়েছেন গ্রায়েম স্মিথ। আর ম্যাচ-সেরা ইউসুফ বলছেন, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১২৩ রানের ইনিংসটাই তাঁর ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। ওই সেঞ্চুরির পরও এই সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচে বাইরে বসে ছিলেন। তবে জানতেন, সুযোগ পেলে প্রমাণ দেবেন যোগ্যতার। আর এও জানালেন, ম্যাচের পরিস্থিতি যা-ই হোক, ‘জায়গামতো বল পেলে আমি সেটাকে মারবই।’

নড়াইলে বিক্ষোভ মিছিল আজ হরতাল

খবরটা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে দাবানলের মতো। এ-কান ও-কান হতে হতে মুহূর্তেই জেনে যায় পুরো শহর। কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছিল না। তার পরও কয়েক মিনিটের মধ্যে বের হয় কয়েক শ যুবকের বিক্ষোভ মিছিল। সবার কণ্ঠে স্লোগান—‘মানি না, মানব না।’
এই না-মেনে নেওয়ার স্লোগানটি উঠেছে বিশ্বকাপের দল থেকে মাশরাফি বাদ পড়ায়। ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’-এর বিশ্বকাপ-স্বপ্ন এভাবে ধূলিস্মাৎ হতে দেখাটা মানতে পারেনি তাঁর নিজের শহর। কাল দিনভর বিক্ষোভ-মিছিল করে তারই প্রতিবাদই জানিয়েছে নড়াইলবাসী। আজ শহরে ডাকা হয়েছে হরতালও। মাশরাফির প্রতি নড়াইলবাসীর ভালোবাসা প্রবল বলেই সেখানে যুক্তির চেয়ে আবেগের দামটা বেশি। আবেগতাড়িত বলেই নির্বাচকদের কুশপুতুল পোড়ানোর মচ্ছবে স্লোগান উঠেছে কোচ জেমি সিডন্সের বিরুদ্ধেও। যদিও জাতীয় দলের অস্ট্রেলিয়ান কোচ নির্বাচক কমিটির কেউ নন।
দুঃখ-শোক মাশরাফির পরিবারেও। যদিও তাঁর বাবা গোলাম মুর্তজা স্বপন ও মা হামিদা মুর্তজা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এই দুঃখ প্রকাশের ভাষা আসলে জানা নেই তাঁদের। মাশরাফিকে বাদ দেওয়ায় পঞ্চগড়ে আজ মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা করেছে তাঁর ভক্তরা।

মাশরাফির কান্নায় ভেজা বিশ্বকাপ দল

বাংলাদেশ দল
সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, জুনায়েদ সিদ্দিক, শাহরিয়ার নাফীস, রকিবুল হাসান, মোহাম্মদ আশরাফুল, মুশফিকুর রহিম, নাঈম ইসলাম মাহমুদউল্লাহ, আবদুর রাজ্জাক, রুবেল হোসেন, শফিউল ইসলাম, নাজমুল হোসেন মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী

মোহাম্মদ আশরাফুল, না অলক কাপালি?
জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এটি উড়ে বেড়াল কোটি টাকার প্রশ্ন হয়ে। শুধু এই একটি প্রশ্নের উত্তর জানতেই যেন সাংবাদিক-টিভি ক্যামেরার উপচে পড়া ভিড়। সঙ্গে প্রাসঙ্গিক আরেকটি অদ্ভুত প্রশ্নও—শেষ পর্যন্ত নির্বাচকদের নির্বাচিত দলই থাকছে তো?
ক্রিকেট দল ঘোষণার সঙ্গে সব সময়ই একটা রোমাঞ্চ মিশে থাকে। আর এটি তো বিশ্বকাপের দল! কিন্তু দেশের মাটিতে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের স্বপ্ন-সারথিদের নাম নিয়ে জল্পনা-কল্পনা ওই দুটি নামে সীমাবদ্ধ হয়ে গেল কেন? হয়েছে দল ঘোষণার আগের দুই দিন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অস্বাভাবিক কর্মতৎপরতা এবং সেটি সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাওয়ায়। নির্বাচকদের নির্বাচিত ১৫ জনের নাম প্রথম আলোয় দুই দিন আগেই ছাপা হয়ে গেছে। বিসিবির টেকনিক্যাল কমিটি যে আশরাফুলের বদলে অলককে নিতে নির্বাচকদের চাপাচাপি করছে, এই খবরও। প্রধান নির্বাচক রফিকুল আলম সপ্তম খেলোয়াড় হিসেবে ‘মোহাম্মদ আশরাফুল’ উচ্চারণ করার সঙ্গে সঙ্গেই যেন তাই দল নিয়ে সব কৌতূহলের সমাপ্তি। একে একে বাকি নামগুলো বলে গেলেন রফিকুল। টেকনিক্যাল কমিটির রক্তচক্ষুকে তাহলে উপেক্ষা করতে পেরেছেন নির্বাচকেরা। এটি তো নির্বাচকদের দলই। যাতে আবারও ইনজুরিকে হারানোর সংগ্রামরত মাশরাফি বিন মুর্তজা ছিলেন না। নেইও। মতবিরোধটা অবশ্য মাশরাফিকে নিয়ে ছিল না। ছিল—আশরাফুল, না কাপালি?
মাশরাফি কেন নেই—এ নিয়ে বেশ কটি প্রশ্ন হলো। তবে দেশের সেরা পেসারের না-থাকাটাও সেভাবে বিস্ময়ের ঢেউ হয়ে আছড়ে পড়ল না। আভাস যে আগেই পেয়ে গিয়েছিলেন সবাই। রফিকুল আলম অনুমিত ব্যাখ্যাই দিলেন। মাশরাফিকে আগে শারীরিকভাবে পুরো ফিট হয়ে উঠতে হবে। এর পরও থাকবে ম্যাচ ফিটনেসের প্রশ্ন। এই ঝুঁকি কীভাবে নেওয়া যায়?
তবে সামনের দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে পেছনের খিড়কিটা যেন খোলা রাখতে চাইলেন রফিকুল। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ফিট হয়ে গেলে মাশরাফি বিশ্বকাপ খেলতেও পারেন। কীভাবে—সেটি ব্যাখ্যা করলেন না। উপায় তো আসলে একটাই। অন্য কারও ইনজুরির জন্য প্রার্থনা করা!
ক্রিকেট কখনো কখনো বড় নিষ্ঠুর হয়। সেই নিষ্ঠুরতার রূপ মাশরাফির চেয়ে বেশি দেখেছেন খুব কম ক্রিকেটারই। ক্যারিয়ারজুড়েই চোট-আঘাত তাঁর ছায়াসঙ্গী। স্বপ্ন আর স্বপ্নভঙ্গ যাঁর ডানে আর বাঁয়ে হাঁটে। নিয়তিকে মেনে নিতেও কি শিখিয়েছে তা?
হয়তো বা। তবে এতটা নয়, যা দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে না পারার দুঃখ মুছে দিতে পারে। এই কয়েক মাস আগেও এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। সেই বিশ্বকাপেই তিনি দর্শক! মিরপুর স্টেডিয়ামের পাশে একাডেমি মাঠে প্র্যাকটিস করে গেলেন তার পরও। নেটে ব্যাটিংয়ের সময় যেন বলের ওপর ঝাল মেটাতে চাইলেন। বল উড়িয়ে দিয়ে সেটির সঙ্গে উড়িয়ে দিতে চাইলেন সব দুঃখ। কিন্তু চাইলেই কি আর পারা যায়!
বেরিয়ে যাওয়ার সময় ঘিরে ধরেছেন সাংবাদিকেরা। হঠাৎই টোকা পড়ল আবেগের তারে। মাশরাফি ভেঙে পড়লেন। তাঁর কান্নায় রৌদ্রোজ্জ্বল বিকেলটা মুহূর্তেই বিষণ্ন হয়ে গেল।
মাশরাফির না থাকাটা নিয়েই যা একটু আলোচনা। নইলে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলে চমক-টমক বলতে যা বোঝায়, তা একদমই নেই। নিউজিল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গত দুটি সিরিজে যাঁরা খেলেছেন, তাঁদের মধ্য থেকেই এই ১৫ জন। ও হ্যাঁ, একটা বিষয় নিয়ে একটু আলোচনা হলো। দলে পেসার মাত্র তিনজন। যেটির পক্ষে প্রধান নির্বাচকের যুক্তি, খেলা হবে ফেব্রুয়ারি-মার্চে। বাংলাদেশের কন্ডিশনে তখন স্পিনাররাই হয়ে উঠবেন নির্ধারক। কোচ জেমি সিডন্সও অনেক আগেই বলে দিয়েছিলেন, দুজনের বেশি পেসার নিয়ে মাঠে নামার ইচ্ছা নেই তাঁর।
ব্যাটসম্যান হিসেবেও সাকিব দলে থাকেন বলে তাঁর পরিচয় শুধু বাঁহাতি স্পিনার নয়। তাঁকে নিয়ে দলে বাঁহাতি স্পিনারের সংখ্যা তিন। এর বাইরে তিন ওপেনার, তিন মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান, দুই অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার ও উইকেটকিপার মিলে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল।
১৫ জনের দলে বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা আছে পাঁচজনের। সাকিব, তামিম, মুশফিকুর, রাজ্জাক ও নাফীস খেলেছেন ২০০৭ বিশ্বকাপে। একমাত্র আশরাফুলেরই অভিজ্ঞতা আছে এর আগে দুটি বিশ্বকাপে খেলার। সেই আশরাফুলকে নিয়েই এবারের দল নির্বাচনে বড় নাটক!
আশরাফুল নিজেকে বড় মঞ্চের খেলোয়াড় বলে দাবি করেন। এখন তাঁর সেটি প্রমাণের দায়।

অভিজ্ঞতাই যা একটু কম

এর আগে তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছি আমরা। এটি আমাদের চতুর্থ বিশ্বকাপ। দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ বলে বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে এসেছে এটি আমাদের কাছে। সুতরাং এই বিশ্বকাপের দল নির্বাচনটা একটু আলাদা হবেই। দল নিয়ে ভাবনা ছিল সবার মাথায়। দল কেমন হবে, কেমন হওয়া উচিত—এটা নিয়ে চায়ের কাপে ঝড় উঠেছে অনেক।
দল ঘোষণার সময় একটা টিভিতে লাইভ অনুষ্ঠান করছিলাম। আর সবার মতো খুবই উত্তেজনায় কেটেছে আমার সময়টা। দল দেখার পর বলব না, খারাপ হয়েছে। এই দল নিয়ে আমি বেশ খুশি। আলাদা করে বলার খুব বেশি কিছু দেখতে পাইনি, যদিও মাঝখানে কিছু কথা শুনেছিলাম। সেটা অবশ্য শেষ পর্যন্ত হয়নি।
তবে আমরা একটা সুযোগ নিতে পারতাম। সেটা নিলাম না। বুঝতেই পারছেন মাশরাফি বিন মুর্তজার কথা বলছি। মনে হয় না কোনো ম্যাচে দুজনের বেশি ফাস্ট বোলার খেলাব আমরা। এবং আমাদের প্রথম ম্যাচটা আজ থেকে এক মাস পর। তারপর আমাদের আরও পাঁচটি ম্যাচ থাকবে। সেই হিসাবে আমাদের হাতে এখনো দেড় মাস সময় আছে।
এ অবস্থায় মাশরাফির জন্য অপেক্ষা করা যেত। যদি বোঝা যেত, ও একদমই পারবে না, তখন অন্য কাউকে নেওয়া যেত। আমরা কোনো বিকল্প খোলা রাখলাম না। মোহাম্মদ আশরাফুলের ফিরে আসাটা ঠিকই আছে। শাহরিয়ার নাফীসের ফিরে আসাটাও ভালো দিক। ব্যাটিংয়ের গভীরতা আরও বাড়বে। বাকি যারা আছে, তারা ভালো করে আসছে। সোহরাওয়ার্দী শুভকে ব্যাকআপ স্পিনার হিসেবে নেওয়া হয়েছে। সব ঠিকই আছে।
অনেকে হয়তো ভাবতে পারেন, আমরা বেশি স্পিনার নিয়ে খেলছি। আমি অবশ্য জানি না কজন স্পিনার নিয়ে খেলব, তবে বেশি স্পিনার রাখার অপশন অনেক সময় দলের জন্য ভালো হয় না। সবাইকে বল করানোর একটা চিন্তা অধিনায়কের মাথায় থাকে।
যা-ই হোক, দলটা যখন টুর্নামেন্টে ঢুকে যাবে, আশা করি, একাদশ যাঁদের করার কথা, তাঁরাই করবেন। অধিনায়ক-কোচ এবং টিম ম্যানেজমেন্টই সব দেখাশোনা করবে তখন। অসংখ্য মতামত-অনুরোধ থাকবে, দেশটা তো বাংলাদেশ! সবাই চায় তার মতটা থাকুক, সাধারণ দর্শকেরও দাবি থাকবে। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভারটা টিম ম্যানেজমেন্টের ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত।
একটা ব্যাপার না বলেই পারছি না। পত্রিকায় ‘নির্বাচকদের দল’ ছাপা হয়েছে দুই দিন আগে। নির্বাচকদের দলটা আবার কী! নির্বাচকদের আলাদা কোনো দল হয় নাকি! দল তো একটাই হবে এবং সেটি হবে নির্বাচকদেরই। তো নির্বাচকদের দল বলতে যেটা ছাপা হয়েছে কাগজে, তা আমার কাছে পরিষ্কার নয়।
এই দল করা ছাড়া আমাদের হাতে আর বিকল্প ছিল না। আমরা অন্য কাউকে দেখিওনি। আমি নির্বাচক হলে যাদের নিয়ে বিশ্বকাপ খেলব, তাদের নিয়ে অনেক আগে থেকেই ভাবতাম এবং সুযোগ দিতাম। অলক কাপালির কথা শোনা যাচ্ছিল, তাকে নেওয়া হয়নি। অলক শেষ ওয়ানডে খেলেছে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে। এত দিন দলের বাইরে থাকা কাউকে বিশ্বকাপে নেওয়ার চিন্তাভাবনা আমি করলে আগেই এক-দুটি ম্যাচে সুযোগ দিয়ে দেখে নিতাম। বিশ্বকাপে একদম অভিজ্ঞতা ছাড়া অন্য কাউকে নেওয়ার পক্ষপাতী আমি নই।
গত বিশ্বকাপে আমি অধিনায়ক ছিলাম এবং সেই দলটি ছিল অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের খুব ভালো মিশেল। রফিক, জাভেদ, মাশরাফি ও আমার সঙ্গে যোগ হয়েছিল তরুণ সাকিব, তামিম, মুশফিকেরা। সেদিক থেকে এ দলটির অভিজ্ঞতাই যা একটু কম। আমাদের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়েরা তো চলে গেছে। পার্থক্য এটুকুই।
তবে এই দলের অলরাউন্ডার অনেক বেশি। এবং দলটির মূল বৈশিষ্ট্য কঠিন সময়ে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা। এর প্রমাণ তারা রেখেছে। নিউজিল্যান্ড সিরিজটায় তো অসাধারণ খেলল। জিম্বাবুয়ে সিরিজে প্রথম ম্যাচে হারের পরও দারুণভাবে ফিরে এসেছে। দুর্বল দিক তেমন নেই। তবে ভালো করতে চাইলে নতুন বলের বোলারদের অবশ্যই ভালো করতে হবে।
পরিশেষে সাকিবদের জন্য শুভকামনা রইল। সাকিবকে বলব, ভালো করার সব ক্ষমতা তোমাদের আছে। দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই ভালো। দেশের মাটিতে খেলা, তোমরা উপভোগ করো। প্রত্যাশা অনেক, তবে চাপ নিয়ো না। সবকিছু সবার সঙ্গে শেয়ার করতে যেয়ো না। অনেক কিছু আছে নিজেদের মধ্যে রেখো।

সিরিজ মিসবাহর পাকিস্তানের

আক্ষেপ নিয়ে মিসবাহ বলতে পারেন, ‘কেন আমাকে আগে অধিনায়ক করল না!’ আফসোস নিয়ে পাকিস্তানও বলতে পারে, ‘ইস্, কেন যে আগে তোমাকে অধিনায়ক করা হলো না!’
আকস্মিকভাবে টেস্টে নেতৃত্ব পেয়ে যাওয়া মিসবাহ-উল হকের ব্যাট থেকে রানের ফোয়ারা ছুটছেই। অধিনায়ক হওয়ার আগে ৩৩ ইনিংসে তাঁর গড় ছিল ৩৩.৬০। পঞ্চাশের অধিক ইনিংস ছয়টি। অধিনায়ক হওয়ার পর যে সাত ইনিংসে ব্যাট করেছেন, তাতে তাঁর গড় ব্র্যাডম্যানীয়—১১২.৭৫। সাত ইনিংসের ছয়টিতেই ফিফটি!
কাল মিসবাহ করলেন অপরাজিত ৭০, সাবেক অধিনায়ক ইউনুস খান ৮১। চতুর্থ উইকেটে এই দুজনের ১১৮ রানের জুটিতে উদ্ধার পেল ৪২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলা পাকিস্তান। দিনের শুরুর নাটকীয়তা মুছে ফেলে ওয়েলিংটন টেস্ট ড্র করে নিশ্চিত করল সিরিজ জয় (১-০)। চার বছর আর ১০টি সিরিজ পর টেস্ট সিরিজে জয়ের স্বাদ পেল পাকিস্তান। স্পট ফিক্সিংয়ের ঝড়ে টালমাটাল পাকিস্তানের এটি বিদেশের মাটিতে পাঁচ বছর পর আসা সিরিজ জয়।
চতুর্থ দিনের শেষে অলআউট নিউজিল্যান্ড পাকিস্তানের সামনে ২৭৪ রানের লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছিল। ওভারপিছু ৩ রান করে তোলার চ্যালেঞ্জ ছিল পাকিস্তানের সামনে। কিন্তু প্রথম এক ঘণ্টায় তৌফিক উমর, আজহার আলী ও মোহাম্মদ হাফিজকে হারানোর পর পাকিস্তান ম্যাচ বাঁচানোর জন্যই ব্যাট করে গেছে। প্রথমে ইউনুসের সঙ্গে ৪৪.৪ ওভার, এরপর আসাদ শফিকের সঙ্গে ২৫.৪ ওভারের দুটি জুটি গড়ে ড্র নিশ্চিত করেন মিসবাহ। প্রথম ইনিংসে মাত্র এক রানের জন্য সেঞ্চুরি-বঞ্চিত অধিনায়কই অবশ্য ম্যাচ-সেরা।
মিসবাহর এই নেতৃত্ব বিশ্বকাপের অধিনায়ক বিতর্ক আরও উসকেই দিয়েছে। বিশ্বকাপ দলের অধিনায়কের নাম ঘোষণা করেনি পাকিস্তান। ২২ জানুয়ারি শুরু ছয় ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে অবশ্য নেতৃত্ব দেবেন শহীদ আফ্রিদি।

ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে সান্ত্বনা

মাশরাফির চোখে যখন জল, একাডেমি মাঠের আরেক পাশে তখন রাজ্যের অন্ধকার সৈয়দ রাসেলের মুখে। কিট ব্যাগটা টানতে টানতে এমনভাবে মাঠ থেকে বের হচ্ছিলেন, যেন গন্তব্য জানা নেই।
গত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দুটো দৈত্য-বধেই বড় অবদান ছিল রাসেলের। ভারতের বিপক্ষে সেই স্মরণীয় জয়ে কোনো উইকেট পাননি, কিন্তু টানা ১০ ওভারের স্পেলটা রানে বেঁধে ফেলেছিল ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের। শেবাগ-সৌরভ-উথাপ্পাদের বিপক্ষে প্রথম ৫ ওভারে দিয়েছিলেন মাত্র ৮! দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কিপটে বোলিংয়ের পাশাপাশি নিয়েছিলেন সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত দুই উইকেট—গ্রায়েম স্মিথ ও জ্যাক ক্যালিস। পুরো টুর্নামেন্টে ৭ ম্যাচে উইকেট পেয়েছিলেন ৮টি, কিন্তু ওভারপ্রতি রান দিয়েছিলেন মাত্র ৩.৮৫!
গত বিশ্বকাপের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবার দেশের মাটিতে বিশ্বকাপে ব্রাত্য। চোখে-মুখে যা-ই থাকুক, রাসেলের মুখে কিন্তু অন্য কথা, ‘দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ বলেই যা একটু খারাপ লাগছে। তা ছাড়া খুব বেশি হতাশ নই। একটা টুর্নামেন্টেরই তো ব্যাপার। আশা করি, আবার দলে ফিরব।’ কিন্তু মনের কষ্ট আর কতক্ষণ চেপে রাখা যায়? হতাশা আর ক্ষোভ বেরিয়ে এল একটু পরই, ‘আসলে জেমি কোচ হওয়ার পর তো আমি সেভাবে সুযোগই পাইনি। হয়তো আমাকে সে পছন্দ করে না।’ কিন্তু গত বছর ৬ ওয়ানডেতে যে মাত্র ২ উইকেট? এরও ব্যাখ্যা আছে, ‘অনেক দিন পরপর একটা ওয়ানডেতে নামালে ভালো পারফরম্যান্স করা যায়?’
রাসেলের মতো হতাশাটাকে ঢেকে রাখতে চাইলেন অলক কাপালিও। বিশ্বকাপের দল নির্বাচন নিয়ে গণভোট হলে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়াদের একজন হতেন অলক। গত দুই দিনে দল নিয়ে যা হলো, তাতে মনে হচ্ছিল বিশ্বকাপ দিয়েই হয়তো বাংলাদেশ দলে ফিরছেন এই অলরাউন্ডার। কিন্তু বিশ্বকাপ তাঁর কাছে হতাশার আরেক নাম হয়ে থাকছে। বাংলাদেশের দুঃস্বপ্নের ২০০৩ বিশ্বকাপে ৫ ইনিংসে করেছিলেন ৮০। ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে সুযোগই পাননি, হলো না এবারও। প্রতিভাবান অলরাউন্ডার তবু তাকিয়ে ভবিষ্যতের দিকে, ‘বিশ্বকাপই তো আর সব নয়। নির্বাচক কমিটি, টিম ম্যানেজমেন্ট সবাই আমাকে বলেছে, আমি বিবেচনায় ভালোমতোই আছি। সামনে অনেক খেলা আছে। আশা করি, আমার সুযোগ আসবে।’
২৩ জনের দল থেকে বাদ পড়া খেলোয়াড়দের মধ্যে রাসেল-কাপালির দলে আছেন আর কেবল একজনই। ওই দুজনের মতো শাহাদাত হোসেনেরও আছে বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা। বিশ্বকাপে একটাই ম্যাচ খেলেছেন, ২০০৭ বিশ্বকাপের সেই ম্যাচটি তাঁর কাছে দুঃস্বপ্ন। ৯ ওভারে ৫১ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি, বাংলাদেশও হেরে বসে আয়ারল্যান্ডের কাছে। পরে বলেছিলেন, ওই ম্যাচটা এখনো পোড়ায় তাঁকে, সুযোগ পেলে পুষিয়ে দেবেন। সেই সুযোগ আর পাওয়া হলো না। গত ফেব্রুয়ারির পর আর ওয়ানডে খেলা হয়নি, তবু আশা ছিল এবারের ঢাকা লিগে ভালো করায়। মাত্র তিন পেসার নেওয়ার কারণেই হয়তো সুযোগ হলো না।

উদ্ভট উটের পিঠে আইভরি কোস্ট

মাদের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমানের একটি কাব্যগ্রন্থের নাম 'উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ'। এ শিরোনামে তার একটি সাড়া জাগানো কবিতাও রয়েছে। যতদূর মনে পড়ে কবিতাটি তিনি লিখেছিলেন আশির দশকের শুরুতে। বাংলাদেশ তখন নতুন করে সামরিক স্বৈরশাসনের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়েছে। গণতন্ত্রের সম্ভাবনা সুদূরপরাহত।