Thursday, June 20, 2019

মার্কিন সামরিক ড্রোন গুলি করে নামাল ইরান

ইরান তার আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে। এর ফলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেল বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার ইরান এ কথা জানিয়েছে। ইরান বলছে, আকাশসীমা লঙ্ঘন করায় মার্কিন ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) বরাত দিয়ে বিবিসি ও সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় হুরমুজগান প্রদেশে ‘তাদের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।’ তবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ভূপাতিত করা ড্রোনটির ছবি দেখানো হয়নি। ড্রোনটি এমন একসময় ভূপাতিত করা হলো যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ডের ওয়েবসাইট সেপাহ নিউজ বৃহস্পতিবার জানায়, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজান প্রদেশের ওপর দিয়ে একটি গোয়েন্দা ড্রোন উড়ে যাচ্ছিল এবং সেটিকে নিচে নামিয়ে আনা হয়েছে। একই সংবাদ দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ ড্রোনটির পরিচয়ও তুলে ধরে বলেছে, এটি একটি ‘আরকিউ-ফোর গ্লোবাল হক’ ড্রোন।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা বলেন, মার্কিন নৌবাহিনীর এমকিউ-ফোরসি ট্রিটনকে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া, ড্রোনটির প্রস্তুতকারক নর্থরপ গ্রুমানের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ট্রিটন ড্রোন ১০ মাইলেরও বেশি উচ্চতায় একনাগাড়ে ২৪ ঘণ্টা উড়তে পারে। এর দেখভাল করার ক্ষমতা ৮ হাজার ২০০ নটিক্যাল মাইল।
এর আগে মার্কিন সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের নেভি ক্যাপ্টেন বিল আরবান জানিয়েছিলেন, গতকাল (১৯ জুন) ইরানের ওপর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিমান উড়ে যায়নি।
মার্কিন সেনাদের অভিযোগ, এর আগেও গত সপ্তাহে ইরান মার্কিন একটি ড্রোনকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত স্পর্শকাতর উপসাগরীয় জলসীমায় তেল ট্যাংকারে একের পর এক হামলায় হাত থাকায় ইরানকে দায়ী করে আসছে। এদিকে ইরান তেল ট্যাংকারে হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেছে, বরং এসব হামলায় ওয়াশিংটনের ইন্ধন থাকতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের সমর্থন পেতে যুক্তরাষ্ট্র এমন নাটক সাজিয়েছে।
উপসাগরে প্রবেশমুখে হরমুজ প্রণালিতে দুটো তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় ইরানকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দুটি দেশের মধ্যে এখন সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি বিদ্যমান। গত মে মাসে একই ধরনের হামলার পর এই হামলার কথাও ইরান অস্বীকার করেছে। তবে ইরানের সঙ্গে ছয়টি দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে তিক্ততা বিরাজ করে। গত বছরের মে মাসে ওই চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে চুক্তি করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি ও চীন। চুক্তি অনুসারে, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত রাখবে। ইউরেনিয়াম পারমাণবিক বৈদ্যুতিক চুল্লি এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ব্যাপারে চুক্তিভুক্ত বাকি দেশগুলো কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ২৭ জুনের মধ্যে ইউরেনিয়াম উৎপাদনে চুক্তির সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। তবে সেটি না করার জন্য ইরানকে সতর্ক করেছে জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য।
যুক্তরাষ্ট্র শুধু ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ক্ষান্ত হয়নি, বিশ্বজুড়ে তাদের মিত্রদেশগুলোকেও ইরান থেকে তেল না কিনতে চাপ দিচ্ছে। দেশগুলো কথা না শুনলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-ফোরসি ট্রিটন ড্রোনের একটি পুরনো ছবি। ছবি: সংগৃহীত

নিজের বাড়ি ফিরতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান ব্যারিস্টার তুরিনের মা

ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ নিজের বাসায় প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না এমন অভিযোগ করেছেন তার মা সামুসন নাহার তসলিম। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে অবস্থিত ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ব্যারিস্টার তুরিনের অনৈতিক ও উচ্ছৃঙ্খল কর্মকা-ে বাধা দেয়ায় তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। নিজের মেয়ের হাতে নিগৃহিত হওয়ার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করে সামসুন নাহার তসলিম বলেন, এখানে- সেখানে ঘুরে বেড়াই।
আমি আমার দেশ ছেড়ে এ বয়সে কেন বিদেশে পড়ে থাকবো? এ দেশ আমার জন্মস্থান। আমি তো এখানেই থাকতে চাই। আমি আমার সংসারে ফিরে যেতে চাই। এজন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আজ দুই বছর তিন মাস ১৯ দিন ধরে আমি আমার বাসার বাইরে। আমার স্বামী মারা যাওয়ার ১৮ দিন পর আমাকে বাসা থেকে বের করে দেয় তুরিন।
আমার দোষ তার (তুরিন আফরোজ) কিছু আচরণের প্রতিবাদ করা। যেমন, ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে সবসময় ভাড়ার টাকা আমিই নিতাম। আমার স্বামী অবসরে যাওয়ার পর থেকেই বাড়ি ভাড়ার টাকায় আমাদের সংসার ও ওষুধের খরচ চলতো।
এরপর ওর বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে তুরিন বাসা ভাড়ার টাকা জোর করে নিয়ে নেয়। অপরিচিত লোকদেরকে রাত-বিরাতে ঘরে প্রবেশ করানো নিয়ে দারোয়ান ও ভাড়াটিয়ারা অভিযোগ করলে, তুরিনের সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া লাগতো। এসব বিষয়ে নিষেধ করলে  র‌্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম করে সে ভয় দেখাতো এবং বলতো ‘ওরা সবাই তার বন্ধু।’ কোনও কিছু বললেই ৫৭ ধারায় গ্রেপ্তার করানোর ভয় দেখাতো।
সামসুন নাহার তসলিম বলেন, আমরা জানি, উনি অন্যায়-অবিচারকে প্রশ্রয় দেবেন না। আমি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই। আমি আজ মিডিয়ার মাধ্যমে উনার সহযোগিতা কামনা করছি। আমার শরীর ভীষণ খারাপ। ৬৫ শতাংশ কিডনি অকেজো (বলতে গিয়ে সামসুন নাহার কাঁদতে থাকেন)। সঙ্গে আবার ডায়াবেটিকস আছে। ওষুধ কেনার পয়সা বাড়িভাড়া থেকে পেতাম, সেটাও সে কেড়ে নিয়েছে। দেশে থাকার জায়গা নেই।
তিনি আরো বলেন, আমি তো ধারা বুঝি না। সে (তুরিন) আরও বলতো, পৃথিবীর যেখানেই থাকো সেখান থেকেই ধরে নিয়ে আসবো। আর তার গান ম্যান দিয়ে ভয় দেখাতো। গ্রামের বাড়ি নীলফামারি যেতে পারি না। সে সেখানকার দায়িত্ব নিয়ে জমিজমা ও বাড়ি নিজের নামে কুক্ষিগত করেছে। প্রতিবাদ করলে কথায় কথায় বড় আপু (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) ও ছোট আপুর (শেখ রেহানা) প্রসঙ্গ টানতো।
ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের ভাই শাহনেওয়াজ শিশির সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ক্ষমতার দাপটে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ আমাকে এবং আমার বিধবা মাকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন এবং হয়রানি করে আসছে। তার কারণ একটিই, আর তা হলো, দেশে আমাদের সম্পদ কুক্ষিগত করা। চক্ষু লজ্জায় এতদিন বিষয়টি আড়াল করে রেখেছি। আমি ও আমার মা ক্ষমতাসীন কাউকে অবমাননা করতে চাননি। একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে বাসা থেকে আমাদের বের করে দেয়ার পরও রাজউকের কর ও ভূমি কর আমি নিয়মিত দিয়ে যাচ্ছি। অথচ আমার অনুপস্থিতিতে তুরিন আফরোজ ক্ষমতার দাপট ও প্রশাসনকে সংবিধান বর্হিভূত কাজে বাধ্য করে আমাকে আর আমার মাকে ক্ষতি করছে। ব্যারিস্টার তুরিন শুধু ঢাকাতেই নয়, নীলফামারীতে আমাদের চাচাতো ভাইবোনদের জমিজমাও জিম্মি করে রেখেছে।
এর আগে, গত ১৪ জুন, নিজ বাড়িতে মা সামসুন নাহার তসনিম ও ছোট ভাই শাহনেওয়াজ আহমেদ শিশির বাসায় ঢুকতে না পেরে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। শুক্রবার ছোট ভাই শাহনেওয়াজ আহমেদ শিশির ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে এই জিডি করেন। এর আগে ২০১৭ সালের ১৯ নভেম্বর বাসায় ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগে উত্তরা পশ্চিম থানায় তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে জিডি (জিডি নম্বর- ১১৮৮) করছিলেন তার ভাই শাহনেওয়াজ শিশির।

৩০ লাখ শহীদকে চিহ্নিত করার পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে: -সংসদে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদ বীর যোদ্ধাকে চিহ্নিত   করতে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেছেন, একাত্তরের ৯ মাসব্যাপী স্বাধীনতা যুদ্ধে সারাদেশে ত্রিশ লাখ শহীদদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে এ লক্ষ্যে কার্যক্রম হাতে নেয়ার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। তিনি জানান, বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য সংগ্রহ করে ডাটাবেইজ প্রস্তুত পূর্বক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। গতকাল স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে টেবিলে উত্থাপিত প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে একাধিক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সরকার দলীয় সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিলের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকাশিত তালিকার বাইরে যদি কোন মুক্তিযোদ্ধা থেকে থাকেন, তা সনাক্ত করে উক্ত তালিকায় প্রকাশ করা সম্ভব হবে। সংসদ নেতা জানান, উক্ত তালিকার অংশ হিসেবে বর্তমানে মোট ৫ হাজার ৭৯৫ জন শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম, ঠিকানা সম্বলিত পূর্ণাঙ্গ তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
এর মধ্যে গেজেটভূক্ত বেসামরিক শহীদ ২ হাজার ৯২২ জন, গেজেটভূক্ত সশস্ত্র বাহিনী শহীদ ১ হাজার ৬২৮ জন, গেজেটভূক্ত বিজিবি শহীদ ৮৩২ জন এবং গেজেটভূক্ত শহীদ পুলিশ ৪২৪ জন। তিনি জানান, একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় সহযোগিদের হাতে নিহত জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি বিজড়িত গণকবর সমূহ সংরক্ষণ করার বিষয়ে আমাদের সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন বধ্যভূমি ও গণকবর সনাক্তকরণের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ৪৪২ কোটি ৪০ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের গৃহীত একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশে ২৮১টি বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা হবে। সরকার দলীয় সংসদ সদস্য বেনজীর আহমদের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা অনুধাবন করেছিলেন যে, গ্রামীণ উন্নয়ন ছাড়া উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব নয়।
জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার লক্ষ্যে পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা রূপকল্প-২০২১ ঘোষণা করি। রূপকল্প-২০২১-এর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো- গ্রামীণ দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনের আগে আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার ২০১৮, সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ-এ প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণের অঙ্গীকার করেছি। যার স্লোগান হলো- আমার গ্রাম- আমার শহর। এলক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্যে আমরা গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করছি। আমাদের নিবাচনী অঙ্গীকার হলো- প্রতিটি গ্রামে আধুনিক শহরের সুবিধা সম্প্রসারণ। এ লক্ষ্যে আমরা গ্রামীণ সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত এক দশক ধরেই আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেশ সফলতা অর্জন করেছে। গ্রামীণ জনগণের আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রামের মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন, শিক্ষার হার ও গড় আয়ু বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে এক অনন্য উদাহরণ।
দেশের নগর উন্নয়নের পাশাপাশি গ্রামীণ সমাজের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে প্রতিটি গ্রামে নগর সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আমাদের সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। গণফোরাম থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোকাব্বির খানের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে একটি আধুনিক জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তি নির্ভর মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার বিগত দুই মেয়াদে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অবকাঠামো উন্নয়ন ও কানেক্টিভিটি, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, ই-গভর্নমেন্ট এবং আইসিটি শিল্পের উন্নয়ন এই চার স্তম্ভের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ ও কার্যক্রম গ্রহণ করে সফল হয়েছি।
তিনি বলেন, মহাশূণ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর সফল উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম হয়েছি। বাংলাদেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। ইউএন ই-গভর্নমেন্ট উন্নয়ন সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিশ্বের অনেক উন্নত দেশকে পেছনে ফেলে ১৫০তম অবস্থান হতে ২০১৮ সালে ১১৫তম অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। ২০১২ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৫০তম। বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্যে ঈর্ষণীয়। সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষতা উন্নয়নে নির্বাচনী ইশতেহার ২০১৮, প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২০-২০২১ ও টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-এর আলোকে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দক্ষ, সেবামুখী ও জবাবদিহীমূলক প্রশাসন গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জনপ্রশাসনকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে আমরা ই-নথি ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে জনপ্রশাসনে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের ই-নথি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া গণমুখী প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছি।

মসজিদে ঘোষণা দিয়েও ভোটার আনা যাচ্ছে না -রাশেদ খান মেনন

রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জোটগত বিষয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। গতকাল সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন অংশ যদি দেশের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে, তাহলে রাজনৈতিক দল নির্বাচন কেবল নয়, রাষ্ট্র পরিচালনায়ও প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলবে। এটা সবার জন্য যেমন, আওয়ামী লীগের জন্যও প্রযোজ্য। তিনি বলেন, নির্বাচনকে যথাযথ মর্যাদায় ফিরিয়ে আনার কাজটি আমাদের করতে হবে। কারণ রোগ এখন উপজেলা নির্বাচন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। পাঁচ দফা উপজেলা নির্বাচনে আমাদের দলের অভিজ্ঞতা, এমনকি আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা করুণ। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বলেও কোন লাভ হচ্ছে না। বরং তাদের যোগসাজশ রয়েছে।
ফলে নির্বাচন ও সামগ্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থা সম্পর্কে জনমনে অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনে ভোট দেয়ার ব্যাপারে জনগণ আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। মসজিদে মসজিদে মাইকে আহবান করেও ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আনা যাচ্ছে না।
এটা নির্বাচনের জন্য কেবল নয়, গণতন্ত্রের জন্য বিপদজনক। অর্থনৈতিক সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে লুটপাট, নৈরাজ্য ও বিশৃংখলা কারও অবিদিত নয়। ঋণখেলাপীর দায়ে ব্যাংকগুলো নুব্জ। চলছে তারল্য সংকট। করের টাকা দিয়ে ব্যাংকের ঘাটতি মূলধন পূরণ করার জন্য বরাদ্দ এবারেও রাখা হয়েছে বাজেটে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীন ভূমিকা দূরে থাক, ব্যাংকগুলোকে কার্যকর নজরদারি করতেও অক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছে। জোটগত বিষয়ে রাশেদ খান মেনন বলেন, প্রধানমন্ত্রী চৌদ্দ দলের শরীকদের নিজ পায়ে দাঁড়াতে বলেছেন। কিন্তু যদি গণতান্ত্রিক স্পেস না থাকে তাহলে কেউ সংগঠন নিয়ে, আন্দোলন নিয়ে, ভোট নিয়ে এগুতে পারে না। জোটে নির্বাচন করলেও আওয়ামী লীগ এই সরকারকে আওয়ামী লীগ সরকার বলছে। এর জন্য দুঃখবোধ নাই। কোন প্রত্যাশাও নাই, যে ইঙ্গিত মাঝে মাঝেই করা হয়। বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাশেদ খান মেনন বলেন, সম্পদ পুঞ্জিভূত হয়েছে কিছু হাতে। একটি সংখ্যা সৃষ্টি হয়েছে যারা ‘সুপার ধনী’, এমনকি চীনের ধনীর সংখ্যা তুলনায়। এদের মধ্যে ১০ শতাংশ ধনী মোট সম্পদের ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। এরা মূলত ‘রেন্ট সিকার’। ক্ষমতার চারপাশে বলয় গড়ে তুলে তারা বিভিন্ন ধরনের লুণ্ঠন, দখল-বেদখল, জোর-জবরদস্তি মারপ্যাচে ব্যস্ত। দেশের সব ব্যাংক, বীমা, আবাসন, এমনকি প্রবাসে লোক পাঠানো-এসবই এদের হাতে। রাশেদ খান মেনন বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে পরিবর্তনের জন্য জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ বাস্তবায়নই আমাদের অনেক দূর এগিয়ে নিতে পারত। হেফাজতে ইসলামসহ কিছু ধর্মবাদী দল-এর বিরোধীতা করেছে মাত্র।
জানি না এখানেও আপস হয়েছে কিনা। তিনি বলেন, শবে বরাতের রোজা হারাম, শাড়ী পরে নামাজ হয় না, ওয়াজ মাহফিলে এরকম ফতোয়া হরহামেশা দিচ্ছে। পঞ্চগড়ে খতমে নবুয়তের সম্মেলনে আহমদিয়াদের তো বটেই, আহলে হাদিস, পীরতন্ত্রী, তাবলিগের সাদপন্থীদের সকলকেই কাফের ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশেষ করে ইউটিউবে প্রতি মুহূর্তে ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি ও সাম্প্রদায়িকতা প্রচার করছে। রাশেদ খান মেনন বলেন, সাইবার সিকিউরিটি আইনে সাংবাদিকসহ যে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়, কিন্তু এদের করা হয় না। জামাত রাজনৈতিকভাবে পরাজিত, বিচ্ছিন্ন, বিভক্ত। কিন্তু এদের মাধ্যমেই সমাজ জুড়ে সাম্প্রদায়িক মানসিকতার বিস্তার ও একটি উত্তেজনাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করার বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়ালে দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অশান্তি সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, এই সংসদে আমি বলেছিলাম বিএনপি-জামাত নির্বাচনে আসলেও, নির্বাচন ভণ্ডুল করতে সব কৌশলই প্রয়োগ করেছিল।
তাতে ব্যর্থ হয়ে নির্বাচন ও সংসদের অবৈধতার কথা বলছে। নির্বাচনে অতি উৎসাহী প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বাড়াবাড়ি নির্বাচনকে অশুদ্ধ ও অবৈধ করে না। আর করে না বলেই বিএনপি-গণফোরামের বন্ধুরা আজ জল ঘোলা করে হলেও সংসদে এসেছে। কিন্তু তাতে আত্মতৃপ্তির অবকাশ নাই। তিনি বলেন, সেই ’৬৩ সাল থেকে ভোটাধিকারের জন্য লড়াই করে এসেছি। সর্বশেষ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিএনপি-জামাতের ভুয়া ভোটার তালিকা আর নীল-নক্সার নির্বাচনের বিরুদ্ধে ১৪ দল অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ও জনগণের ভোট প্রয়োগের আন্দোলনে সফলতা অর্জন করেছিলাম। আবার যেন এই বৃদ্ধ বয়সে সবটাই পুনর্মুষিকোভব করতে না হয়।

হাওরের কৃষক রক্ষায় চালু হচ্ছে শস্য বীমা by শেখ আবদুল্লাহ

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে হাওর এলাকার সাত জেলায় শস্য বীমা চালু করতে যাচ্ছে সরকার। বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি থেকে সাধারণ কৃষকদের রক্ষায় এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের থেকে প্রিমিয়াম হিসেবে নামমাত্র টাকা নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম চালু হবে। প্রিমিয়ামের বাকি অর্থ দেবে সরকার। পাশাপাশি বিদেশি দাতা সংস্থাকেও এ প্রকল্পে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চলছে। এজন্য সাধারণ বীমা করপোরেশন একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
সাধারণ বীমা সূত্র জানায়, প্রথমে সাধারণ বীমা করপোরেশন ও বেসরকারি বীমা কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে বীমা প্রকল্প চালু করা হবে। এজন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের তত্ত্বাবধানে নীতিনির্ধারণী কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এ বীমা কার্যক্রমের প্রিমিয়ামে সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হবে। সেজন্য আসন্ন বাজেটে সরকার বরাদ্দ রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এ জন্য কী পরিমাণ বরাদ্দ লাগবে তা এখনও ঠিক হয়নি। এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হলে প্রণোদনার পরিমাণ জানা যাবে। সরকারের পাশাপাশি বিদেশি দাতা সংস্থাকেও এ প্রকল্পে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ সমকালকে বলেন, অনেকদিন ধরেই শস্য বীমা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সরকার হাওরের জন্য শুরু করছে। এ উদ্যোগের ফলে হাওরের কৃষকদের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতি উপকৃত হবে। বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ কবির হোসেন এ বিষয়ে সমকালকে বলেন, এটি অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। এ উদ্যোগকে বেসরকারি বীমা কোম্পানিগুলো সাধুবাদ জানায়। সরকার চাইলে বেসরকারি বীমা কোম্পানি এ উদ্যোগে সম্পৃক্ত হবে।
সাধারণ বীমা করপোরেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, হাওরে বন্যার পরে সরকার কৃষকদের বিভিন্নভাবে সহায়তা করে। এতে সরকারের অনেক ব্যয় হয়। অনেক ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার কারণে কৃষক প্রকৃতপক্ষে লাভবান হন না। তবে সরকারের ত্রাণ বাবদ ব্যয় যদি বীমার প্রিমিয়ামে প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হয়, তাহলে কৃষকরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সহায়তা পাবেন।
সাধারণ বীমা করপোরেশনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ভূপ্রকৃতিগত কারণে বাংলাদেশ যেমন সম্ভাবনাময়, তেমনি সবচেয়ে দুর্যোগপ্রবণও। বর্তমানে এ দেশের ৪৮ ভাগ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কৃষির অবদান ১৫ শতাংশের বেশি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রায়ই বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়। অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সর্বস্বান্ত হন। বিশেষ করে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এলাকা হাওরবেষ্টিত হওয়ায় সেখানে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার ফলে অনেক ঝুঁকি তৈরি করে। এ ঝুঁকি মোকাবেলায় শস্য বীমা থাকা আবশ্যক।
প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পুরো হাওর এলাকা বাধ্যতামূলকভাবে বীমার আওতায় থাকবে। সাধারণ বীমা করপোরেশন পিপিপি বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে প্রকল্পটি পরিচালনার চেষ্টা করছে। এ প্রকল্পে কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি অধিদপ্তর, ব্যাংক ও ক্ষুদ্রঋণ সংস্থাকেও সম্পৃক্ত করা হবে। কৃষি ব্যাংক, ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা এ বীমার কার্যক্রম পরিচালনা করবে। কৃষকদের ঋণ দেওয়ার সময় ঋণের শর্ত হিসেবে বীমা করা হবে। এতে ঋণ যেমন নিরাপদ হবে, তেমনি বীমা কার্যক্রম সহজে পরিচালিত হবে। তবে যেসব কৃষক ব্যাংক ও এনজিওর ঋণে সম্পৃক্ত নয়, তাদেরও বীমার আওতায় আনা হবে।
সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা হাওরবেষ্টিত। এই সাত জেলার মোট কৃষি জমির পরিমাণ ১৯ লাখ ৩৭ হাজার হেক্টর। হাওরের সংখ্যা ৩৭৩। এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে বোরো ধান উৎপাদিত হয়, মোট কৃষি জমির ৯০ ভাগ এলাকায় বোরো চাষ হয়। এছাড়া আউশ ও আমন ধান হয়ে থাকে। তবে প্রায় প্রতি বছর বন্যার কারণে হাওর এলাকায় কৃষকদের জানমাল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ফলে কৃষকরা বিশেষ করে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক পরিবারগুলো আর্থিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে। পরের বছর কৃষকরা স্বাভাবিক উৎপাদন বজায় রাখতে পারেন না। এতে সামগ্রিক উৎপাদন ব্যাহত হয়ে জাতীয় অর্থনীতি চাপে পড়ে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শস্য বীমা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
২০১৭ সালে হাওর এলাকায় অকাল বন্যায় বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বাজারে চালের দাম বেড়ে যায়। সরকার নিজে ও বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানি করে বাজার সামাল দেয়। এর আগে ২০০৪, ২০১০ ও ২০১৩ সালেও হাওরে বন্যা হয়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের হুঁশিয়ারি

চীন মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যে ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ খোলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে। ইরানের সাথে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরো এক হাজার সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেয়ার পর বেইজিং ওয়াশিংটনকে সতর্ক করল।
একইসঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই অতো সহজে পরমাণু চুক্তি পরিত্যাগ না করতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। চুক্তি অনুযায়ী আগামী ১০ দিনের মধ্যে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ তাদের অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থ হলে ইরান তার ইউরেনিয়াম মজুদের সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়ার পর চীন এই আহ্বান জানাল।
বেইজিংয়ে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ মুয়ালেমের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ওয়াং ই বলেন, আমরা সকলের প্রতি শান্ত এবং সংযত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরো বাড়তে পারে এমন পদক্ষেপ না নিতে এবং প্যান্ডোরার বাক্স না খোলার বিষয়েও সতর্ক করছি।
তিনি আরো বলেন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রকে তীব্র চাপ তৈরির এই অভ্যাস বদলাতে হবে। ওয়াং বলেন, ইরানের এই পরমাণু চুক্তি রক্ষায় সহায়তা করার চীনের দৃঢ় ইচ্ছের কোন পরিবর্তন হয়নি। তিনি বলেন, পরিপূর্ণ ও কার্যকরভাবে চুক্তি বাস্তবায়নে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে আমরা সকলের সাথে কাজ করতে আগ্রহী।
যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়া এবং ইরানের এলিট রিভ্যুলিউশনারি গার্ডকে সন্ত্রাসী গ্রুপ হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করার কারণে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
সম্প্রতি ওমান উপসাগরে তেলের ট্যাংকারে হামলার জন্যে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানকে দায়ী করলে উত্তেজনা নতুন রূপ নেয়।

২৫ বড় অর্থনীতির তালিকায় ঢুকবে বাংলাদেশ

*বাংলাদেশ হবে ২৪ তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ।
*এখন অবস্থান ৪১ তম।
*১৫ বছর জিডিপি গড়ে ৭ শতাংশ থাকবে।

২০৩২ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের বড় ২৫টি অর্থনীতির দেশের একটি হবে। তখন বাংলাদেশ হবে ২৪ তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। বর্তমানে অবস্থান ৪১ তম। ২০৩৩ সালে আমাদের পেছনে থাকবে মালয়েশিয়া, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশ। আগামী ১৫ বছর দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি গড়ে ৭ শতাংশ থাকবে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ (সিইবিআর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবিল ২০১৯ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে ১৯৩টি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার উল্লেখ আছে। গত ডিসেম্বর এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। সাধারণত জিডিপির আকার বিবেচনায় এনে অর্থনীতির আকার নির্ধারণ করা হয়।
বাংলাদেশ সম্পর্কে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ ১২টি দেশকে টপকে গেছে। আগামী ১৫ বছরে টপকে যাবে আরও ১৭টি দেশ। এই যাত্রার প্রথম পাঁচ বছরে ৫টি দেশকে টপকে যাবে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ হবে ৩৬ তম অর্থনীতির দেশ। পরের পাঁচ বছর আরও ৯টি দেশকে পেরিয়ে ২০২৮ সালে হবে ২৭ তম বড় অর্থনীতির দেশ। পরের পাঁচ বছরে টপকাবে আরও ৩টি দেশ।
সংস্থাটি আরও বলেছে, এক দশক ধরে বাংলাদেশ গড়ে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এখন ক্রয়ক্ষমতার সমতা অনুসারে বা পিপিপি ডলারে মাথাপিছু জিডিপি ৪ হাজার ৬০০ ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা দেশটিকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণে সহায়তা করেছে। সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় প্রবৃদ্ধির পেছনে কারণ হলো অভ্যন্তরীণ ভোগ চাহিদা, সরকারি ব্যয়, প্রবাসী আয় ও রপ্তানি। নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশ এসব কারণেই সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং বা সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান প্রথম আলোকে বলেন, বড় অর্থনীতির দেশ হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা বাংলাদেশের আছে। আগামী ১৫ বছর ৭ শতাংশ বা এর বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনও সম্ভব। কিন্তু এগুলো শুধু সংখ্যাগত তথ্য–উপাত্ত। কীভাবে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে পরিণত করতে হবে, সেটা বিবেচনায় আনতে হবে। এ জন্য বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে। তাঁর মতে, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে যোগাযোগব্যবস্থা, জ্বালানিসহ অবকাঠামো দ্রুত করতে হবে। দারিদ্র্য বিমোচনে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। এসব না হলে যেসব সংখ্যার কথা বলা হচ্ছে, তা শুধু সংখ্যাই থাকবে।
সিইবিআরের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগামী ১৫ বছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) আড়াই গুণের বেশি বাড়বে। এ বছর (২০১৯) বাংলাদেশের জিডিপি হবে (স্থিরমূল্যে) ১১ লাখ ৩০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। ২০৩৩ সালে গিয়ে জিডিপির আকার দাঁড়াবে ২৯ লাখ ১৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবিল ২০১৯ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের এক নম্বর অর্থনীতির দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র। পরের স্থানে রয়েছে চীন। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে আছে যথাক্রমে জাপান, জার্মানি ও ভারত। ২০৩৩ সালে এই চিত্র পাল্টে যাবে। তখন বিশ্বের এক নম্বর অর্থনীতির দেশ হবে চীন। দ্বিতীয় স্থানে সরে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। আর তৃতীয় স্থানে উঠে আসবে ভারত। জাপান তিন নম্বর থেকে চার নম্বরে চলে যাবে। জার্মানিও চার থেকে পাঁচ নম্বরে নেমে যাবে।

কৃষকের ঘরে জন্ম, আদালতে শেষ

মাত্র এক বছর ক্ষমতায় ছিলেন মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি। তিনি মিসরের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম ও একমাত্র প্রেসিডেন্ট। সামরিক বাহিনী তাঁকে উৎখাত করে।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ‘আরব বসন্তে’র মুখে ২০১২ সালে যে নির্বাচন হয়েছিল তাঁর মাধ্যমে মিসরের প্রেসিডেন্ট হন মুরসি। ২০১৩ সালের ৩ জুলাই মিসরের সেনাবাহিনী তাঁকে উৎখাত করে।
আরব বসন্তের মুখেই পদত্যাগ করেছিলেন হোসনি মোবারক। ২০১৩ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে সামরিক বাহিনী প্রেসিডেন্ট মুরসিকে সংকট সমাধানে আলটিমেটাম দিলে, মুরসি তা মানতে অস্বীকার করেন। এরপর সামরিক বাহিনী এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাঁকে উৎখাত করে।
ক্ষমতাচ্যুতির চার মাস পর, মুসলিম ব্রাদারহুড আন্দোলনের আরো ১৪ জন ঊর্ধ্বতন নেতার সঙ্গে মোহাম্মদ মুরসির বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। অভিযোগ আনা হয় এক সাংবাদিক ও দুজন সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারী হত্যার।
বিচারের প্রথম দিনে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মুরসি বলেন, ‘আমি সেনা অভ্যুত্থানের শিকার এবং আমার বিচার করার বৈধতা এ আদালতের নেই।’
পরে হত্যার অভিযোগ থেকে মুরসিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, কিন্তু বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার ও দমনের অভিযোগে তাঁকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে মুরসির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হয় এবং তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। যদিও পরে সে রায় বাতিল করা হয়।
গত মঙ্গলবার আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ওই সময় গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তাঁর বিচার চলছিল।
নেতা মুরসির উত্থানপর্ব
১৯৫১ সালে আল-আদওয়াহ গ্রামে কৃষক বাবার ঘরে জন্ম নেন মুরসি। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে জ্যেষ্ঠ মুরসি গত শতকের ৭০-এর দশকে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতক করেন। পরে পিএইচডি করতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান।
মিসরে ফিরে এসে তিনি জাগাজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান হন।
এক সময় মুসলিম ব্রাদারহুড আন্দোলনে যোগ দেন তিনি এবং ক্রমে নেতৃত্বে আসেন।
২০০০ সাল থেকে ২০০৫ পর্যন্ত এ সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশটির পার্লামেন্টে স্বতন্ত্র সদস্য ছিলেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় মুরসি নিজেকে হোসনি মোবারকের সমর্থকদের পুনরুত্থানের বিরুদ্ধে একমাত্র কার্যকর বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হন। নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে জিতে ২০১২ সালের জুনে মিসরের রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন তিনি। দেশটির অর্থনীতি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় ঘাটতি, বেকারত্ব, অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবিতে শুরু হয় গণবিক্ষোভ।
এর পরই তার সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়, যাতে ৫০ জনের বেশি মানুষ মারা যায়। ২০১৩ সালের ৩ জুলাই মুরসির ক্ষমতা গ্রহণের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশটিতে যেদিন আনন্দ মিছিলের কর্মসূচি দেয়, সেই দিন লাখ লাখ মানুষ গণবিক্ষোভে যোগ দেয়।
ফের ক্ষমতার মসনদে সেনাবাহিনী
মুরসিকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে ৩ জুলাই সন্ধ্যায় সেনাবাহিনী সংবিধান স্থগিত করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা দেয়। পরবর্তী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ওই সরকার দায়িত্ব পালন করবে বলে বলা হয়। সেনাবাহিনীর এ পদক্ষেপকে 'অভ্যুত্থান' বলে নিন্দা জানান মুরসি।
সামরিক বাহিনীর প্রধান এবং নতুন প্রেসিডেন্ট আব্দুল ফাত্তাহ আল সিসি মুরসিকে গ্রেপ্তারের আদেশ দেন। তাঁকে গ্রেপ্তার করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর মুরসির মুক্তি এবং তাঁকে অবিলম্বে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে কায়রোর রাস্তায় নেমে আসেন তার দলের সমর্থকরা। জবাবে দুটি বিক্ষোভ পণ্ড করে দিয়ে মুসলিম ব্রাদারহুডের কয়েকজন শীর্ষ নেতৃত্বকে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী।
মুরসির উৎখাতের পর দেশটিতে ইসলামপন্থীদের হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পায় এবং মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে তাদের ওপর চালানো হয় ব্যাপক নিপীড়ন, এবং ফল হিসেবে হাজার হাজার ব্রাদারহুড কর্মী গ্রেপ্তার বা নিহত হন। অনেকে কাতার এবং তুরস্কে পালিয়ে যান।
এরপর মুরসি লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান, মাঝেমধ্যে মামলার হাজিরা দিতে তাঁকে আদালতে আনা হলেও কেবল তাঁর দেখা মিলত। এমনই এক শুনানি চলাকালে গতকাল সোমবার কায়রোর আদালতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে অজ্ঞান হয়ে মারা যান মুসলিম ব্রাদারহুড নেতা মোহাম্মদ মুরসি।

২ টাকায় কাঁঠাল, আমের কেজি ১ টাকা! by শাহেদ মতিউর রহমান

২ টাকায় কাঁঠাল, আমের কেজি ১ টাকা!
মাত্র দুই টাকায় পাওয়া যায় কাঁঠাল। প্রতি কেজি আমের দামও এক টাকার বেশি নয়। রসে ভরপুর টসটসে জাম মিলছে ৬ টাকা কেজি দরে। ভাদ্রের ফল তাল কেনা হয়েছে প্রতিটি ২ টাকায়। এমন আজগুবি আর ভুতুরে হিসেব শুধুমাত্র ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানার মৌসুমী ফলের গাছ ইজারার হিসেবেই দেখানো হয়েছে। ভাগ্যবান ইজারাদার কমদামে চিড়িয়াখানার ফল কেনার সুযোগ পেলেও খুচরা ক্রেতাদের চিড়িয়াখানার ভিতরে কিংবা বাইরে কিনতে হচ্ছে চড়া দামেই। নয়া দিগন্তের অনুসন্ধানে চিড়িয়াখানার এ বছরের দুই হাজারেরও বেশি ফলের গাছ ইজারা দেয়ার অন্তরালের ঘটনায় উঠে এসেছে ফলের মূল্যের এমন গরমিলের নানা তথ্য। ইজারাদারের কেনা ফলের দাম ও মোট ফল গাছের হিসেবেই এই অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে।
দীর্ঘ ১০ বছর ধরেই চিড়িয়াখানার ভিতরের বিভিন্ন ফলগাছের ইজারার সাথে জড়িত থেকে ব্যবসা করেন নাজমুল হোসেন রনি। চিড়িয়াখানার ভেতরের মসজিদের বাম পাশের টিনের চালা একটি খুপরি ঘরে রাখা কাঁঠাল, আম, জামসহ অন্যান্য ফলের হিসাব রাখেন তিনি। এখানকার প্রতিটি গাছের সাথে তার নিবিড় সম্পর্ক। কোন গাছের ফল ভালো, কোনটি মন্দ, এছাড়া কোন গাছের ফলন কেমন- সবই তার জানা আছে। তিনি জানালেন, চিড়িয়াখানার ভিতরে কাঁঠাল গাছ আছে এক হাজার ৮ শ’, আম গাছ আছে আড়াই শ’, তাল গাছ আছে ২৮টি আর জাম গাছ আছে ২২টি।
এবছর সবগুলো ফলের গাছের ইজারা নিয়েছেন জৈনিক ব্যবসায়ী আমির হোসেন আমু। এবছর দরপত্রের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল তিন লাখ ৪০ হাজার টাকা। তবে পরে অবশ্য আমু সাহেব থার্ট পার্টির কাছে ইজারার লাভসহ সমুদয় অর্থ নিয়ে গেছেন। এখান ইজারাদার বাইরের কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তারা সংখ্যায় দশজন। এদের মধ্যে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন নাজমুল হোসেন রনি ও আবদুর রহিম।
চিড়িয়াখানার ফল সংগ্রহ ও বিক্রির সাথে সরাসরি জড়িত এমন একজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে নয়া দিন্তকে জানান, ফলগাছের দাম এ বছর মোট তিন লাখ ৪০ হাজার টাকা দেয়া হলেও আমাদের হিসেব মতে শুধুমাত্র ১৮০০ কাঁঠাল গাছের জন্য মূল্য ধরা হয়েছে দুই লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি কাঁঠাল গাছের জন্য মূল্য দেয়া হয়েছে এক শ’ ১১ টাকা। আর প্রতিটি গাছে যদি গড়ে ৫০/৫৫টি কাঁঠালও ধরা হয় তাহলে প্রতিটি কাঁঠালের দাম ইজারাদার দিয়েছেন মাত্র ২ টাকা করে।
বাগানের ২২টি জাম গাছের ফলের জন্য মূল্য ধরা হয়েছে ৮ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি গাছের জন্য ধরা হয়েছে গড়ে ৩৬৩ টাকা। প্রতিটি গাছে মাত্র দেড় মণ (৬০ কেজি) জামের ফলন ধরা হলে প্রতি কেজি জামের দাম দেয়া হয়েছে মাত্র ৬ টাকা ।
চিড়িয়াখানার ভিতরের আড়াই শ’ আম গাছের সমুদয় আমের মূল্য ধরা হয়েছে এক লাখ ২০ হাজার টাকা। এতে প্রতিটি আম গাছের মূল্য পড়েছে ৪৮ টাকা মাত্র। প্রতিটি গাছে গড়ে ২৪ কেজি আমের ফলন ধরা হলে প্রতি কেজি আমের দাম ইজারাদার দিয়েছেন মাত্র দুই টাকা করে।
বাগানে মোট তালগাছ আছে ২৮ টি। দাম ধরা হয়েছে ১২ হাজার টাকা। এতে প্রতি গাছের দাম পড়েছে ৪২৮ টাকা। প্রতিগাছে ২ শ’ তালের হিসেবে প্রতিটি তালের দাম ইজারাদারের জন্য পড়েছে মাত্র দুই টাকা।
ফল গাছের দরদাম নিয়েইজারাদার আমির হোসেন আমুর সাথে যোগাযোগ করা হলে নয়া দিগন্তকে তিনি জানান, যেন দামে এ বছর ইজারা নেয়া হয়েছে সেই আসল টাকা আসবে কিনা তা নিয়েই চিন্তা করছি। তিনি গাণিতিক হিসেব দিয়ে বলেন প্রতিদিন ১২ জন শ্রমিক কাজ করে ফল সংগ্রহ ও বিক্রির কাজে। তাদের দৈনিক মজুরি ৫ শ’ টাকা হলে প্রতিদিন ৬ হাজার টাকা শুধু শ্রমিকের মজুরি বাবদই ব্যয় হচ্ছে। এভাবে তিন মাস কাজ হলে আমার তো ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা শুধু শ্রমিকের পিছনেই ব্যয় হচ্ছে। এরপর তো আমাকে ফল বিক্রি করে লাভ করতে হবে। এছাড়া ঈদের মধ্যে অনেক দর্শনার্থী আম কাঁঠাল চুরি করে নিয়ে যায়। সব সময় তো আর পাহাড়া বসিয়ে রাখা যায় না। তাই আমি এ বছর লাভের আশা ছেড়েই দিয়েছি।
গাছের ফলের ইজারা বিষয়ে জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ড. এস এম নজরুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, এবছর অনেক গাছে ফলন কম হয়েছে। এছাড়া ঝড়ে কিংবা বৃষ্টিতেও কিছু ফল নষ্ট হয়েছে। আর আমার অফিসের ভেতরের গাছগুলো ইজারার হিসেবের বাইরে থাকে। তাই হয়তো দরদাম কম মনে হচেছ। তবে ইজারার পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সাথে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বাজেট নিয়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর চান রুমিন ফারহানা

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর জানতে চান বিএনপি দলীয় এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। গতকাল প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফরহানা বলেন, দেশে ৪ কোটি মানুষ দরিদ্র, ২ কোটি মানুষ হত দরিদ্র কেন? দেশে ৪ কোটি ৮২ লাখ মানুষ কেন কর্মহীন। কেন যুবকরা ইউরোপে পাড়ি দিতে গিয়ে ভুমধ্যসাগরে ভাসে? কেন কৃষক ধানে আগুন দেয়। এই বাজেটে এর জবাব পাওয়া যাবে? অর্থনীতিবিদরা বলছে বাজেট গতানুগতিক,আমরাও বলছি গতানুগতিক। বাজেটে এবারও ঘাটতি আছে। এই ঘাটতি পুরণে বৈদেশিক ঋণ নিতে হবে। বৈদেশিক ঋণ নিয়ে প্রকল্প করা হয়। কোনো প্রকল্পই অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে না বরং ঋণের চাপ বাড়বে।
তিনি বলেন, গত এক দশক ধরে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ আটকে আছে ২২ শতাংশে। দেশে বেকারত্বের কারণ এই বিনিয়োগ স্থবিরতা। এই মুহুর্তে যে শিশুটি জন্ম নিচ্ছে তার মাথার উপর ঝুলছে ৮০ হাজার টাকার ঋণ। সরকারের আরেকটি বড় ব্যর্থতা হলো আয় কর দেয়া নাগরিকের সংখ্যা না বাড়ানো। বিদেশী কর্মীদের করজালের মধ্যে আনার ব্যবস্থা সরকার করেনি। ২০১০-১১ অর্থ বছরে বাজেট বাস্তবায়নের হার ছিলো ৯২ ভাগ। সেটা ক্রমান্বয়ে কমে ৭৬ ভাগে এসে দাঁড়িয়েছে। অর্থ বছর শেষ হওয়ার তিন মাস আগে তড়িঘড়ি কাজ করা হয়। এশিয়ার দ্বিতীয় খারাপ রাস্তার দেশ বাংলাদেশ। ঋণ খেলাপীতে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষে। ব্যাংকগুলোকে তুলে দেয়া হয়েছে এক একটি পরিবারের হাতে। শিক্ষার মান উন্নয়নে কোনো পদক্ষেপের কথা নেই বাজেটে। ধানের ন্যায্য মুল্য না পেয়ে কৃষক ধান ছিটিয়ে ফেলে দিয়েছে, আত্মহত্যা করেছে। কৃষকের ধানের দাম পাওয়ার ব্যাপারে বাজেটে কিছু বলা নেই। রুমিন ফারহানা বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসা মানেই শেয়ার বাজার ধ্বংস হয়ে যাওয়া। শেয়ার বাজার থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দুনীতির একটি বড় খাত বিদ্যুৎ খাত। কথায় কথায় কুইক রেন্টাল করে বিদ্যুৎ খাতে লুটপাটের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন,বাজেট বাড়ছে, কিন্তু দেশ ও জনগণের উন্নয়ন হচ্ছে না। খেলাপী ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। তিনি আরো বলেন, ব্যাংকের টাকা লুটপাট চলছে। সারাদেশে দুর্নীতি মহামারি আকার ধারণ করেছে। দুনীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে সরকারী দলের নেতারা টাকার পাহাড় তৈরি করছে। অন্যদিকে, বাজেটে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের উপর করারোপ করে সরকার সাধারণ মানুষের জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে। দেশবাসী সরকারের এই গণবিরোধী বাজেট প্রত্যাখ্যান করেছে বলে তিনি দাবি করেন। প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে এই আলোচনায় অংশ নেন সরকারি দলের সদস্য পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন, মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম, মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়া, কাজী কেরামত আলী, রুশেমা বেগম, বেগম শামসুন নাহার, এ কে এম ফজলুল হক, সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন, আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন ও সেলিমা আহমেদ, গাজী শাহনেওয়াজ, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, জাসদের শিরীন আখতার।
আলোচনায় অংশ নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গত এক দশকে প্রমাণ করেছে, তারা বড় বাজেট দিতে পারে এবং তা বাস্তবায়নও করতে পারে। আগে দেশের দারিদ্র্যের সংখ্যা ছিল ৪৮ ভাগ, বর্তমান সরকার তা ২১ ভাগে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। অতিদরিদ্র্যের হারও ৩৩ ভাগ থেকে ১১ ভাগে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। এটা একটা বিশাল অর্জন। পদ্মা সেতু, মেট্টোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র, কর্ণফুলী ট্যানেলের মতো বড় বড় মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। বাংলাদেশকে আধুনিক ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে ২০২১ সাল পর্যন্ত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, দেশকে ধ্বংস করতে যা যা করার তার সবই করে গেছে বিএনপি-জামায়াত জোট। সবচেয়ে ক্ষতি করেছে রেলবিভাগকে। সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুনরুজ্জীবিত করেছেন। সারাদেশকে রেলওয়ের নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। রেলওয়ের অনলাইনে টিকিট ক্রয়, রেলের বগিতে কমোড স্থাপনসহ আধুনিক করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল সিঙ্গেল গেজের লাইনগুলোকে ডবল গেজে উন্নীত করার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। জাসদের শিরীন আখতার অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন কঠোরহস্তে দমন করতে হবে দাবি করে বলেন, বিএনপির সংসদ সদস্যরা নিজেরা সংসদে যোগ দিয়ে সংসদকে অবৈধ বলে নিজেদেরকে অবৈধ বলছে। জিয়াউর রহমান বেঁচে থাকতে কখনো নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক বলেননি। ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা, অগ্নিসন্ত্রাস, ভয়াল নৃশংসতার কারণে দেশের জনগণ বিএনপিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভূক্তকরণের দাবি জানিয়ে বলেন, যে প্রক্রিয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও ভুক্তি করা হচ্ছে, সেটা ঠিক করতে রাজনৈতিক  নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এর জন্য রাজনৈতিক নেতাদেরকেই জনগণের কাছে জবাবদিহিতা করতে হয়। সবগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিও ভুক্ত করতে হবে। এমপিও ভুক্তির প্রক্রিয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কারণ এ বিষয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার আছে।

শামীম-আইভীর বিরোধ আবারো প্রকাশ্যে by কামাল উদ্দিন সুমন

আবারো প্রকাশ্যে এসেছে শামীম ওসমান ও মেয়র আইভীর পুরনো বিরোধ। সাম্প্রতিক দুই ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ নতুন করে দেখা দিয়েছে। শামীম ওসমানের সাবেক এপিএস ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বাবু চন্দন শীল ইতোমধ্যে আইভীকে উৎখাতের হুমকিও দিয়েছেন। অপর দিকে আইভী সমর্থক ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম এক বিবৃতিতে বলেন, মেয়র আইভী ভেসে আসেননি। আইভীকে উৎখাত করা অতো সহজ না। তার কিছু হলে আমরাও দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত আছি।
শামীম-আইভীর সাম্প্রতিক বিরোধটা শুরু হয় গত ১৫ জুন। আর তা আরো বাড়ে ১৬ জুনের আরেক ঘটনায়।
গত ১৫ জুন ফতুল্লা আলীগঞ্জ খেলার মাঠে এক অনুষ্ঠানে মেয়র আইভী এমপি শামীম ওসমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, উপযুক্ত আন্দোলনের অভাবে, নেতৃত্বের অভাবে আদমজী মাঠ রক্ষা করা যায়নি। সংসদ সদস্যের (শামীম ওসমান) কাছে আমার প্রশ্ন, আপনি অনেক বড় বড় কথা বলেন, দুই মিনিটে আপনি নারায়ণগঞ্জকে তছনছ করে দেবেন, পাঁচ মিনিটে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট দখল করে প্রধানমন্ত্রীকে রক্ষা করবেন, সেইগুলো কি শুধু আপনার মুখের বুলি? তা না হলে আপনার এলাকার মধ্যে কেন মাঠ দখল হয়ে যাবে?
উল্লেখ্য, আলীগঞ্জ খেলার মাঠ গণপূর্ত বিভাগ সম্প্রতি দখল নিতে এসে জনগণের তোপের মুখে ফিরে যায়। ওই মাঠ গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য একনেকে অনুমোদন দেয়া হয়।
শামীম ওসমানকে উদ্দেশ্য করে মেয়র আইভী বলেন, আপনার এলাকার মধ্যে মাঠ রক্ষা না করে আপনি নারায়ণগঞ্জের ওসমানী স্টেডিয়ামকে দখল করে নিজের বাবার নাম দিয়েছেন কেন? পৌরসভার ৯ একর জায়গা দিয়েছে ওসমানী স্টেডিয়ামকে। আপনি সেখানে ৪ একর জায়গা কেন দখল করেছেন? আপনি আমাদের কাছে জায়গা চাইতেন, আমি মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম সামসুজ্জোহা স্টেডিয়াম করে দিতাম। আমি আপনার বাবার নামে রাস্তা করে দিয়েছি, কোনো কার্পণ্য করিনি। দখল করবেন কেন, দখলের স্বভাবটা আপনার বন্ধ করুন। আপনি এখানে আসুন, জনগণের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করুন। এটা আপনার কাছে আমি অনুরোধ করলাম।
শামীম ওসমানের উদ্দেশ্যে আইভী বলেন, তিন বারের এমপি হয়েছেন। আপনি কেন ফতুল্লাকে ফতুল্লা পৌরসভা ঘোষণা দিয়ে, ফতুল্লা কুতুবপুরের জনগণকে পৌরসভার মান মর্যাদা দেবেন না? কাদেরকে সুবিধা দেয়ার জন্য? কী কারণে লাখ লাখ টাকা কোটি কোটি টাকা এখান থেকে হাতছাড়া হয়ে যাবে। কেন জনগণ সুবিধা পাবে না?
আইভীর এ বক্তব্যের পর ওই রাতেই শামীম ওসমানের একান্ত ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, মেয়র আইভী আপনি থামেন। দখলবাজি কে করে? শামীম ওসমান নাকি আপনি ও আপনার পরিবার? আপনি আপনার লোক দিয়ে সিটি করপোরেশনের সব টেন্ডার নিজের দখলে রেখেছেন। আপনার বাবা জিওস পুকুর, বাড়িসহ বহু হিন্দু সম্পত্তি দখল করেছেন।
পরদিন ১৬ জুন চাষাঢ়ায় আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলায় নিহতদের স্মৃতিস্তম্ভে ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনকালে মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি চন্দনশীল বলেন, বোমা হামলায় নিহতদের নামফলকের পাশে ময়লার ডাস্টবিন রাখায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। এজন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়রকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে ময়লার ডাস্টবিন সরাতে হবে। মেয়র আইভীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাইতে হবে, না হলে তাকে উৎখাতের জন্য যা যা করার দরকার তাই করব। বাবু চন্দনশীলের ওই বক্তব্যের সমালোচনা করে আইভীপন্থী হিসেবে পরিচিত জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ স্মৃতিস্তম্ভ মেয়র আইভীই বানিয়েছেন। শামীম ওসমান এত বড় বড় কথা বলেন, ওই স্মৃতিস্তম্ভ তিনি বানানওনি এবং কোনো শহীদ পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবরও নেননি।

রোহিঙ্গাদের রক্ষায় পদ্ধতিগতভাবে ব্যর্থ হয়েছে জাতিসঙ্ঘ : পর্যালোচনা প্রতিবেদন

মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন ও দেশত্যাগে বাধ্য করা থেকে রোহিঙ্গাদের রক্ষায় জাতিসঙ্ঘ ‘পদ্ধতিগত ও কাঠামোগতভাবে’ ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যর্থতা সমন্বিত কৌশল বাস্তবায়নে জাতিসঙ্ঘকে বিরত রেখেছে।
রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো বর্বরতায় জাতিসঙ্ঘের প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করে দেয়া পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এ মন্তব্য করা হয়েছে। গুয়েতেমালার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসঙ্ঘের সাবেক রাষ্ট্রদূত গ্রিট রোসেথাল মঙ্গলবার এ প্রতিবেদন দিয়েছেন। এতে ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত রাখাইন পরিস্থিতিতে জাতিসঙ্ঘের ভূমিকা পর্যালোচনা করা হয়েছে।
জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেজ একটি অকপট ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন দেয়ার জন্য রোসেথালকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। উপসংহার ও সুপারিশসহ পুরো প্রতিবেদনটি জাতিসঙ্ঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে দেয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে রোসেথাল বলেছেন, ক্ষমতা অপব্যবহারের মূল দায় মিয়ানমার সরকারের ওপর বর্তায়। জাতিসঙ্ঘের পদ্ধতিগত ব্যর্থতার দায় নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির না। মিয়ানমার সরকারের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে গঠনমূলক করতে না পরার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায় নিতে হবে। মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে জাতিসঙ্ঘের গুরুতর উদ্বেগের কথা মিয়ানমারের কাছে শক্তিশালীভাবে উত্থাপনের ক্ষেত্রেও দুর্বলতা ছিল।
জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদকেও কিছু দায় নিতে হবে উল্লেখ করে রোসেথাল বলেছেন, প্রয়োজনের সময়ে জাতিসঙ্ঘ সচিবালয় নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন পায়নি।
রাখাইনের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতিসঙ্ঘের বিভিন্ন অঙ্গ সংস্থাকে সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
জাতিসঙ্ঘ পদ্ধতির উন্নয়নের জন্য এ প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মহাসচিব গুতেরেজ। তিনি বলেছেন, এ প্রতিবেদন মিয়ানমারে জাতিসঙ্ঘের আবাসিক প্রতিনিধি, তার টিম এবং বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে কাজ করা বিশ্বসংস্থার কর্মকর্তাদের জন্য মুল্যবান।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বরিস বড় ব্যবধানে এগিয়ে

বরিস জনসন
যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত দলীয় আইনপ্রণেতাদের দ্বিতীয় দফা ভোটে প্রথম দফার চেয়েও ১২ ভোট বেশি পেয়েছেন তিনি। তবে এবার দলীয় নেতা হওয়ার দৌড় থেকে ছিটকে গেছেন ডমিনিক রাব।
নেতা নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টির ৩১৩ জন আইনপ্রণেতা ভোট দেন। এই ভোটের ফল প্রকাশ হয় বাংলাদেশ সময় গতকাল রাত ১১টায়। এই দফায় ৩৩ ভোটের কম ভোট পাওয়া প্রার্থীদের বাদ পড়ার কথা ছিল। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে থাকা ছয় প্রার্থীর মধ্যে কেবল ব্রেক্সিট-বিষয়ক সাবেক মন্ত্রী ডোমিনিক রাবই বাদ পড়েছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ৩০টি। এখন প্রতিযোগিতায় টিকে রইলেন বরিস জনসন, জেরেমি হান্ট, মাইকেল গোভ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক মন্ত্রী রোরি স্টুয়ার্ট।
গতকালের ভোটে যুক্তরাজ্যের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও লন্ডনের সাবেক মেয়র বরিস পেয়েছেন ১২৬ ভোট। প্রথম দফার ভোটে তিনি পেয়েছিলেন ১১৪ ভোট। এদিকে দ্বিতীয় দফার ভোটে টিকে যাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ৪৬ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন জেরেমি হান্ট। প্রথম দফায় ৪৩ ভোট পেয়ে তিনি দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন।
এ ছাড়া এবারের ভোটে মাইকেল গোভ ও সাজিদ জাভিদেরও সমর্থন বেড়েছে। প্রথম দফার ভোটে তাঁরা যথাক্রমে ৩৭টি ও ২৩টি ভোট পেয়েছিলেন। তবে সবচেয়ে বেশি এগিয়েছেন রোরি স্টুয়ার্ট। এবার তিনি ভোট পেয়েছেন ৩৭টি। প্রথম দফায় পেয়েছিলেন ১৯ ভোট।
এবারের দফায় টিকে যাওয়া পাঁচ প্রার্থীর গতকাল স্থানীয় সময় রাত আটটায় (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত একটা) লন্ডনে সরাসরি সম্প্রচারিত বিবিসির বিতর্কে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
এদিকে গত সোমবার প্রার্থীরা পার্লামেন্টে সংবাদ সংগ্রহকারী সাংবাদিকদের সামনে সরাসরি প্রশ্নোত্তরে হাজির হন। সেখানে সব ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে আসে লন্ডনের মেয়র সাদিক খানকে আক্রমণ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক টুইট। এই টুইট বার্তা নিয়ে প্রার্থীদের কার কী অবস্থান, সেটা জানতে চাওয়া হয়। গত শুক্র ও শনিবার লন্ডনে সহিংসতায় তিন তরুণ নিহত হন। এ ঘটনার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প লন্ডনের মেয়রকে ‘জঘন্য’ আখ্যায়িত করেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট ছাড়া বাকি প্রার্থীরা ট্রাম্পের ওই আচরণের নিন্দা জানান। গত রোববার চ্যানেল ফোর-এর বিতর্কের মতো সোমবারের প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানেও ছিলেন না আলোচিত প্রার্থী বরিস জনসন। তবে একই দিন বিকেলে তিনি দলীয় আইনপ্রণেতাদের সামনে এক বিতর্কে অংশ নেন।
কনজারভেটিভ পার্টির সদস্যদের মধ্যে পরিচালিত সর্বশেষ জরিপ বলছে, জনসনের সমর্থন ৭৭ শতাংশ।

আনা ফ্রাঙ্কের চিঠি

আনা ফ্রাঙ্ক ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন তাঁর ডায়েরির জন্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লেখা তাঁর ডায়েরি সর্বাধিক বিক্রীত বই হয়েছে বিশ্বজুড়ে। এবার প্রকাশিত হয়েছে এই জার্মান ইহুদি কিশোরীর অনেক অপ্রকাশিত চিঠি। চিঠিগুলো ইতিহাসখ্যাত ডায়েরিটি লেখারও আগে দাদি অ্যালিস ফ্রাঙ্ককে লিখেছিলেন তিনি।
এবারই প্রথম আনার অপ্রকাশিত চিঠি ও ডায়েরি সব একসঙ্গে ইংরেজিতে প্রকাশিত হলো। এর নাম রাখা হয়েছে আনা ফ্রাঙ্ক: দ্য কালেকটেড ওয়ার্কস। বইটি চলতি সপ্তাহে প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রকাশনী ব্লুমসবেরি। আনার অপ্রকাশিত চিঠিগুলো থেকে তাঁর জীবনের ভিন্ন আরেকটি অধ্যায় উঠে এসেছে। চিঠিগুলো আনা লেখেন ১৯৩৬ থেকে ১৯৪১ সময়কালের মধ্যে।
আনার স্বপ্ন ছিল লেখক হবেন। অ্যাডলফ হিটলারের নাৎসি পার্টি ১৯৩৩ সালের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জার্মানির ক্ষমতায় এলে আর সব ইহুদির মতো আনার জগৎও বদলে যেতে থাকে। হিটলার প্রচার করেন, জার্মানির বেশির ভাগ সমস্যার জন্য দায়ী ইহুদিরা। তাই নির্বাচনে জিতে ইহুদিদের ওপর নির্যাতনের খড়্গ নেমে আসে জার্মানিতে। আনার পরিবার নেদারল্যান্ডসে চলে যায়। সেখানে কিছুদিন ভালোই কাটায় তারা। এ সময়ই সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া আনা তাঁর কিশোরীসুলভ প্রগলভতায় দাদিকে নিয়মিত চিঠি লিখতে শুরু করেন।
আনা তাঁর চুল বড় হওয়ার কাহিনি, জন্মদিনে কী কী উপহার পেলেন, নতুন পোশাক—এসব দাদিকে চিঠিতে লেখেন। একটি চিঠিতে তিনি দাঁতের ডাক্তার দেখানোর বিড়ম্বনার কথা জানিয়েছেন দাদিকে। আরেকটি চিঠিতে এক ছেলেবন্ধুর সঙ্গে ঘোরার কথা লিখেছেন তিনি। আনা তাঁর চিঠিতে লিখেছেন—যুদ্ধ শেষ হলেই তিনি আইস স্কেটিং (বরফের খেলা) শুরু করবেন।
ডায়েরি লেখা শুরু করেন এর পরের বছর ১৯৪২ সালে। সেবার ১২ জুন ১৩তম জন্মদিনে উপহার পাওয়া লাল-সাদা চেকের একটি ডায়েরি তাঁর সবচেয়ে কাছের বন্ধু হয়ে ওঠে। আদর করে আনা যার নাম দিয়েছিলেন ‘কিটি’।
জার্মানির বার্গেন-বেলসেন কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে আনা যখন টাইফাস জ্বরে মারা যান, তখন মাত্র ১৫ বছর বয়স ছিল তাঁর। অথচ ওই বয়সেই তিনি যা লিখে গিয়েছেন, তার কারণে আনাকে ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে সংঘর্ষ চীনা শ্রমিক নিহত

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বাঙালি শ্রমিকদের সঙ্গে  চীনা শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষে এক চীনা নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাং ইয়াং ফাং (২৬) নামের ওই নাগরিকের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় ২ জন নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে আহত হয়েছে অর্ধ শতাধিক। এদেরকে ঢাকা এবং বরিশাল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালে নির্মাণাধীন ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বাঙালি ও চীনা শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় সাবিন্দ্র দাস (৩২) নামের এক বাঙালি শ্রমিক নিহত হন। তিনি বয়লার থেকে পরে মারা যান। এ ছাড়া এ ঘটনায় আরো ৫ চীনা নাগরিককে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পায়রা বন্দরে নির্মাণাধীন ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বয়লার থেকে নিচে পড়ে নিহত হন সাবিন্দ্র দাস নামের এক বাঙালি শ্রমিক। তিনি ধানখালী কাজল এন্টারপ্রাইজের নিযুক্ত শ্রমিক। তার বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলায়। এ সময় চীনা শ্রমিক ও কর্মকর্তারা তার লাশ গুম করার চেষ্টা করছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে কয়েক হাজার বাঙালি শ্রমিক বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। মঙ্গলবার বিকাল তিনটা থেকে তারা কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। সূত্র জানায় এ সময় আনুমানিক ৬ হাজার বাঙালি শ্রমিক ধর্মঘটে অংশ নেয়। তারা তিন হাজার চীনা শ্রমিককে অবরুদ্ধ করে ফেলে। এক পর্যায়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। কলাপাড়া থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এনেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। বিসিপিসিএল এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহমনি জিকো জানান ক্ষুব্ধ বাঙালি শ্রমিকরা ক্যান্টিন অফিস কক্ষ ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ব্যাপক হামলা চালায়। চীনা শ্রমিকরা প্রতিরোধ করলে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে ৫০ জনের বেশি চীনা ও বাঙালি কর্মী আহত হন।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার রাম চন্দ্র দাস বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুততার সঙ্গে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া চায়না-বাংলাদেশ বন্ধু রাষ্ট্র। তাই বিষয়টি আরো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন জানান, বুধবার রাত ৩টা ৫০ মিনিটে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন জাং ইয়াং ফাং (২৬)। তার মাথায় আঘাত ছিল এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল। এ ছাড়া আহত বাকি ৫ চীনা নাগরিককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে তাদের সেখান থেকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাকিদের বরিশালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বাঙালি শ্রমিকও রয়েছে।
এদিকে জাং ইয়াং ফাং (২৬) নিহত হওয়ার ঘটনায় ভবিষ্যতে কোনো মামলা মোকদ্দমা করা হবে না দাবি করে বিনা ময়না তদন্তে তার লাশ গ্রহণের জন্য বরিশাল জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট আবেদন করেছেন তাপ বিদ্যু কেন্দ্রের প্রজেক্ট ম্যানেজার লিউ সি।
এছাড়া বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত বাঙালি শ্রমিকদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার রাম চন্দ্র দাস, ডিআইজি শফিকুল ইসলাম, পটুয়াখালীর এডিসি হেমায়েত উদ্দিন।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। চলতি বছরেই কাজ শেষ হওয়ার কথা। নির্মাণকাজে চীনের ৩০০০ এবং ৭০০০ বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছেন।

মুরসির মৃত্যু নিয়ে যা বললেন ফরহাদ মজহার

মিসরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম ও একমাত্র প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুরসি মৃত্যুবরণ করেছেন। ৬৭ বছর বয়সী সাবেক এই প্রেসিডেন্ট সোমবার দেশটির আদালতে শুনানি চলাকালে এজলাসেই মৃত্যুবরণ করেন। মিসরের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত প্রথম বৈধ প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি।
তার মৃত্যুতে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ শোক জ্ঞাপন করেছেন। বাংলাদেশের অন্যতম চিন্তক ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক ফরহাদ মজহার মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ওয়ালে একটি পোস্ট দিয়েছেন। পাঠকদের সুবিধার্থে নিম্নে সেই পোস্ট হুবহু তোলে ধরা হলো।
“শেষ পর্যন্ত মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মরসি এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা ইন্তেকাল করলেন। নির্জন কারাবাসে তাঁকে অমানবিক ভাবে মানসিক নির্যাতন ও অত্যাচার করা হয়েছে। কারাগারে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিক্স, কিডনি ও লিভারের অসুখের চিকিৎসা তিনি পান নি। না পেয়ে আদালতে শুনানির সময় অসুস্থ হয়ে আদালতেই ইন্তেকাল করেছেন। ধন্য আদালত! ধন্য বিচার ব্যবস্থা! আজ ভোরে এই খবরটি, বিশেষত মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন, মনকে ভয়ানক বিষণ্ণ ও বিষাক্ত করল।
তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। আরব বসন্তের পরে ২০১২ সালে তিনিই হচ্ছেন মিশরের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। এরপর ২০১৩ সালের জুলাইয়ে পালটা গণ আন্দোলন এবং তার সুযোগে আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসির নেতৃত্বে সামরিক অভ্যূত্থানের মধ্য দিয়ে তাঁকে ক্ষমতাচ্যূত করা হয়।
আদালতে তাঁকে কাঁচের খাচায় রাখা হোত। তাঁর ইন্তেকাল মিশরের আদালত ও শাসন ব্যবস্থার জন্য কলংক হয়ে রইল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের বিধিবিধান অনুযায়ী এটা মরসির স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। বরং সরকারি বা পুলিশী হেফাজতে নির্যাতন করে হত্যা। তিনি বিচার পেলেন না। যেভাবে অত্যাচার করে তাঁকে মারা হয়েছে তার চেয়ে সম্ভবত তাঁকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা অনেক সদয় কাজ হোত।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এই হত্যাকাণ্ডকে বলেছে ‘ভয়াবহ’, কিন্তু ‘একদম এটাই ঘটবে তা আগেই বোঝা গিয়েছিল’। তাদের দাবি, মিশরের কতৃপক্ষকেই মরসির মৃত্যুর দায় বহন করতে হবে। বলাবাহুল্য মিশরে প্রতিক্রিয়া হিশাবে ক্ষোভ-বিক্ষোভ হবে। মিশরের রাজনীতি দেশের ভেতরে এবং বাইরে সরকারি হেফাজতে মরসির হত্যায় কতোটা আলোড়িত হবে পরবর্তী ঘটনাঘটনে সেটা বোঝা যাবে। আমাদের নজর রাখতে হবে।
মিশরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে। বিশেষত ইসলামপন্থি রাজনীতির সীমাবদ্ধতা বোঝার জন্য মোহাম্মদ মরসির নেতৃত্বাধীন ব্রাদারহুডের রাজনীতির পর্যালোচনা বাংলাদেশে আমাদের খুবই দরকার। এ নিয়ে ২০১৩ সালেই আমি একটি লেখা লিখেছিলাম। সেখানে লিখেছি:
“মিশরের অভিজ্ঞতা থেকে এই সংশয়ও আরও প্রবল হবে যে ইসলামপন্থি রাজনীতি এখনও পাশ্চাত্যের গণতান্ত্রিক বিপ্লবের ঐতিহাসিক ফলাফল ও রাষ্ট্র গঠনের মর্ম ও কাঠামোর অসম্পূর্ণতা ও স্ববিরোধিতার কোন সমাধান দেবার যোগ্য হয়ে ওঠে নি। পাশ্চাত্যের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ধারণা ও রূপের ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে অস্বীকার করে সেটা সম্ভব নয়। বরং তাকে অতিক্রম করে যাবার সংকল্পের মধ্যেই একালের ইসলামপন্থি রাজনীতিসহ যে কোন ইতিহাস-সচেতন রাজনীতির সম্ভাব্য বিশ্ব-ঐতিহাসিক ভূমিকা নিহিত রয়েছে। এখন অবধি দেখা যাচ্ছে প্রচলিত ইসলামি রাজনীতি অন্য সম্প্রদায়ের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে নিয়ে শুধু মুসলমানদের জন্য বড়জোর শরিয়া আইন ভিত্তিক একটি রাষ্ট্র কায়েম করতে পারে। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদের এই কালে পাশ্চাত্য গণতন্ত্রের অসম্পূর্ণ ও স্ববিরোধী রাষ্ট্রের ধরণে ও মর্মে বৈপ্লবিক রূপান্তর ঘটানোর দার্শনিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা এই রাজনীতি এখনও অর্জন করে নি। এই ক্ষেত্রে আদৌ কোন সমাধান দিতে পারে কিনা তার ওপর নির্ভর করবে ইসলামি রাজনীতির ভবিষ্যৎ। যেমন, পাশ্চাত্য গণতন্ত্রের পর্যালোচনা ও তাকে অতিক্রম করে যাবার পথ অনুসন্ধানের জন্য ইসলামের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফের ধারণার বিকাশ, ব্যবহার ও প্রয়োগ । সে কাজ হচ্ছে না, তা নয়। সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের তাগিদেই এই ধারণাগুলোর বিকাশ ঘটবে। আর ঠিক এই ধারণার বিকাশ ঘটানোর জন্য যেমন, ঠিক তেমনি জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াইকে আরও তীব্র ও অপ্রতিরোধ্য করে তোলার জন্যই ‘গণতন্ত্র’ দরকার। গণতন্ত্রই রাজনীতির শেষ মঞ্জিল নয়। তবে মিশরে দেখা যাচ্ছে ব্রাদারহুড মিশরের জনগণের জন্য যে গঠনতন্ত্র বা সংবিধান উপহার দিয়েছে ব্রাদারহুড সমর্থক ছাড়া মিশরের জনগণ তা গ্রহণ করে নি। অথচ তাদের ইসলামি রাজনৈতিক চিন্তার এটাই ছিল সর্বোচ্চ রূপ”।
মিশরে একটা পর্বের অবসান হোল। কিন্তু ইসলামপন্থি রাজনীতি এই তিক্ত ও করুণ অভিজ্ঞতা থেকে আদৌ কিছু শিখবে কিনা সেটা আগামিতেই বোঝা যাবে।”
ফরহাদ মজহারের পোস্ট

অভিবাসীর স্বজনদের কাতার ভ্রমণের সুযোগ

কাতারে এখন গ্রীষ্ম মৌসুম। এই সময়ে কাতারে বিশ্বের নানা দেশ থেকে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে চলতি বছর কাতার পর্যটন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কাতার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে ইলেকট্রনিক ভিজিটর অথোরাইজেশন সিস্টেম চালু করা হয়েছে।
সদ্য চালু হওয়া এই অনলাইন পদ্ধতিতে কাতারে বসবাসরত বিদেশিরা নিজেদের আত্মীয়স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের কাতারে নিয়ে আসার সুযোগ পাবেন। কাতার ভিসা সার্ভিসেসের ওয়েবসাইটে আবেদনের পর তাঁরা বিনা মূল্যে এই ভিসা পাবেন। ৪ জুন থেকে শুরু হয়ে এই সুযোগ কার্যকর থাকবে আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত।
কাতার এয়ারওয়েজ গ্রুপের প্রধান নির্বাহী আকবর আলবাকের এই পদ্ধতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের বলেন, এটি কাতারের পর্যটন খাতকে সমৃদ্ধ করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সারা বিশ্ব থেকে সব দেশের মানুষ এই নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে আবেদন করে কাতার ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।
আকবার আলবাকের একই সঙ্গে কাতার জাতীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষের সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড টুরিজম অর্গানাইজেশন সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে কাতারকে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে উন্মুক্ত গন্তব্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। একই সঙ্গে বিশ্ব পর্যটন গন্তব্যের তালিকায় কাতারকে অষ্টম অবস্থানে রাখা হয়।
নতুন এই পদ্ধতি সম্পর্কে কাতার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, এই ই-নোটিফিকেশন পদ্ধতির মাধ্যমে মূলত তিন শ্রেণির পর্যটককে আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে । তাঁরা হলেন, কাতারে বসবাসরত বিদেশিদের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজন, কাতারে আগে বাস করেছেন এমন বিদেশি, পরিবারসহ ঘুরতে আগ্রহী পর্যটক।
কাতারে বসবাসরত বিদেশিরা যখন নিজেদের পরিবারের সদস্য বা আত্মীয়স্বজনদের কাতার ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানাবেন তখন যেসব প্রয়োজন হবে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—কাতারে আসা-যাওয়ার রিটার্ন টিকিট, কাতারে থাকা আবেদনকারীর পরিচয়পত্র এবং অতিথির সঙ্গে সম্পর্কের প্রমাণপত্র।
আর কাতারের সাবেক বাসিন্দাদের কেউ এই মৌসুমে কাতারে আসতে চাইলে তাদের জন্য যেসব প্রয়োজনীয় সেসবের মধ্যে রয়েছে—কাতারে আসা যাওয়ার রিটার্ন টিকিট, আগে কাতারে থাকাকালে কাতারি পরিচয়পত্রের কপি ও হোটেল বুকিং। সপরিবারে ঘুরতে আসা পর্যটকদের বেলায় দরকার কাতারে আসা-যাওয়ার রিটার্ন টিকিট, এক সঙ্গে ভ্রমণকারীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের প্রমাণ ও কাতারে থাকার জন্য হোটেল বুকিং।
এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে বা আবেদন করতে কাতার ভিসা সার্ভিসের ওয়েবসাইট http://www.qatarvisaservices.com এ দেখা যেতে পারে।
কাতারে বসবাসরত বিদেশিরা নিজেদের আত্মীয়স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের কাতারে নিয়ে আসার সুযোগ পাবেন। ছবি: সংগৃহীত

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫৯০ কোটি টাকা দান করলেন মার্কিন ধনকুবের

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়কে ১৫ কোটি পাউন্ড বা প্রায় ১৫৯০ কোটি টাকা দান করলেন যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবের স্টিফেন শোয়ার্জম্যান। বিশ্বজুড়ে প্রসিদ্ধ বৃটেনের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে একক ব্যক্তি হিসেবে তিনিই সর্বোচ্চ অংকের অর্থ দান করলেন। তার এই দানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণার জন্য নতুন একটি ইন্সটিটিউট খোলা হবে। বৃটিশ সরকার বলেছে, বৃটেনে বড় অংকের বৈশ্বিক বিনিয়োগ এটা। এর আগে ম্যাচাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) স্টিফেন শোয়ার্জম্যান দান করেছেন ৩৫ কোটি ডলার বা ২৭ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড। সেখানে কম্পিউটিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক একটি সেন্টার নির্মাণের জন্য তিনি এই অর্থ দান করেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
এমন এক সময়ে মার্কিন বিলিয়নিয়ার স্টিফেন শোয়ার্জম্যান এই দান করলেন, যখন ব্রেক্সিট ইস্যুতে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি আর্থিক সঙ্কটের মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্লাকস্টোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিফেন শোয়ার্জম্যান। সেখানে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ যে কয়েকজন বিলিয়নিয়ার রয়েছেন তাদের অন্যতম তিনি। এর আগে বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য তার কড়া সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু সম্পতি শিক্ষাখাতে তিনি বড় অংকের অর্থ দান করছেন।
অর্থ দান করার বিষয়ে স্টিফেন শোয়ার্জম্যান বিবিসি’কে বলেছেন, অক্সফোর্ডকে তিনি অর্থ দান করছেন এই জন্য যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই সময়ে একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বিশ্বের বেশির ভাগ সরকার এই ইস্যু মোকাবিলার জন্য একেবারে অপ্রস্তুত। এটা হলো একটি ভিন্ন রকমের প্রযুুক্তি। এক্ষেত্রে তারা নির্ভর করছে অক্সফোর্ডের মতো বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর, যারা তাদেরকে এ ইস্যুতে ভাবতে সহায়তা করবে।
তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারের বিষয়ে সতর্ক করেছেন অনেক অর্থনীতিবিদ। তারা বলছেন, এতে সমাজের ওপর বড় রকমের প্রভাব পড়বে। কারণ, অটোমেশনের বা স্বয়ংক্রিয়তার জন্য অনেক মানুষ চাকরি হারাবেন। এ অবস্থাকে অনেক সময় চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বলা হচ্ছে। অন্যদিকে সাইবার যুদ্ধের অপব্যবহার ও গণতন্ত্রের অবনতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদরা।

কর্তৃত্ববাদী শাসনের অনিশ্চিত গন্তব্যে বাংলাদেশ: মাহবুব তালুকদার

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, ‘এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সবচেয়ে আশঙ্কার দিক হচ্ছে ভোটারদের নির্বাচনবিমুখতা। নির্বাচনবিমুখতা জাতিকে গভীর খাদের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। কর্তৃত্ববাদী শাসনের অনিশ্চিত গন্তব্যে বাংলাদেশ। এই অবস্থা কখনও কাম্য হতে পারে না।’ ১৮ জুন মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পঞ্চম বা শেষ ধাপের ভোট। পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিকেলে এক ব্রিফিংয়ে এই মন্তব্য করেন এই নির্বাচন কমিশনার। উপজেলা নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হলেও তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিষয়েও কথা বলেছেন।
উপজেলা ও জাতীয় নির্বাচন বিষয়ে মাহবুব তালুকদারের আজকের বক্তব্য হচ্ছে, ‘এসব (উপজেলা) নির্বাচন কতটা অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে, সে বিষয়ে জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে আমি পূর্বে যা বলেছিলাম, এখনও তাই বলব, আপনারা নিজেদের বিবেককে জিজ্ঞাসা করলে এর উত্তর পেয়ে যাবেন।’ পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট হয় ১০ মার্চ। এরপর দ্বিতীয় ধাপের ভোট ১৮ মার্চ, তৃতীয় ধাপের ২৪ মার্চ এবং চতুর্থ ধাপের ভোটগ্রহণ হয় ৩১ মার্চ।
১৮ জুন পঞ্চম ধাপের ভোটের মধ্য দিয়ে শেষ হলো পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটাভুটি। এই পঞ্চমধাপে বড় একটা অংশ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পর্কে মাহবুব তালুকদারের বক্তব্য, ‘বিরোধীদলগুলো অংশগ্রহণ না করায় এবারের পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ছিল একতরফা।’ তিনি আরও বলেন, ‘একতরফা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠের কোনো অভিব্যক্তি প্রতিফলিত হয় না বলে এর কোনো ঔজ্জ্বল্য থাকে না। নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের ক্ষেত্র তৈরিতে উপযুক্ত পরিবেশ অপরিহার্য। কিন্তু আমরা ক্রমাগত একতরফা নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছি, যা গণতন্ত্রের জন্য অনভিপ্রেত।’ কারও আজ্ঞাবহ হয়ে দায়িত্বপালন করলে এবং উপজেলা পরিষদের গণতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্য বিসর্জিত হলে উপজেলা পরিষদ জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হবে বলেও মন্তব্য করেন এই নির্বাচন কমিশনার।
মাহবুব তালুকদার জানান, কোনো কোনো সংসদ সদস্য আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বা সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠিয়ে তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচন সাংসদদের আওতামুক্ত না হলে তা কখনও অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাদের উপদেষ্টার ভুমিকা উপজেলা পরিষদের কৌলিন্য বিনষ্ট করেছে।’ অনেক সাংসদ কেন আচরবিধি লঙ্ঘন করে পছন্দের প্রার্থীকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বসাতে চান, কখনও বা নিজদলের মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেন, এ প্রশ্নের সমাধান না পেলে উপজেলা নির্বাচন তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাবের কবলে পড়বেই বলেও মনে করেন মাহবুব তালুদকার।

দুর্বার বাংলাদেশ স্বপ্নে বিভোর by ইশতিয়াক পারভেজ

সবুজে ঘেরা টনটনে কিসের যেন একটা অভাব ছিল। হ্যা! লাল রংয়ের অভাব ছিল একটু। তবে সেই রংয়ের অভাব চিরতরে পূরণ করে দিয়েছেন টাইগাররা। তাদের জয়ের  লাল আবির টনটনের সমারসেট স্টেডিয়ামে লেগে থাকবে যুগের পর যুগ। কোনো সময় এই স্টেডিয়ামের ইতিহাস ঘাটতে গেলে উঠে আসবে সাকিব আল হাসান, লিটন দাস, মোস্তাফিজুর রহমান, মাশরাফি বিন মুর্তজাদের নাম। হবে না কেন! বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম হয়ে ওঠা সমারসেটে বাংলাদেশ ছাড়া আর কোনো দলই ৩০০ রান তাড়া করে জেতেনি। শুধু কি তাই! এই মাঠে প্রথম বিশ্বকাপে তিন নম্বরে নেমে সেঞ্চুরি  করা ইংলিশ ব্যাটিং কিংবদন্তি ডেভিড গাওয়ারের পরেই জায়গা করে নিয়েছেন সাকিব। একই পজিশনে ইংলিশ এই তারকার চেয়ে মাত্র ৬ রান কম করেছেন বাংলাদেশের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।
তবে তার ইনিংসটা ব্যাতিক্রম, কারণ তার ব্যাট থেকে এসেছে ১২৪ রানের হার না মানা ইনিংস। ১৮৩ রান করে সবার উপরে থাকা সৌরভ গাঙ্গুলীসহ বাকি তিন সেঞ্চুরিয়ানই আউট হয়েছেন সেঞ্চুরি হাঁকানোর পর। ইতিহাস বদলে এমন সবস্মৃতি এখানে রেখেই সকাল ১১টায় বাংলাদেশ দল ছুটেছে নটিংহামের উদ্দেশ্যে। ট্রেন্ট ব্রিজে এবার অস্ট্রেলিয়া বধের মিশন। জিতলেই সেমিফাইনালের পথে টাইগাররা বাড়িয়ে দিবে আরেক ‘পা’।
দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপের উড়ন্ত শুরু করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দুই ম্যাচ  হেরে ফের নেমে আসে মাটিতে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেলে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায় টাইগারদের। কিন্তু সেই দেয়াল ভেঙে গুড়িয়ে দিলেন টাইগাররা। ক্যারবীয়দের ৩২২ রানও যেন মামুলি হয়ে গেলো সাকিব-লিটনের কাছে। ৫১ বল বাকি থাকতে গোটা বাংলাদেশের প্রাণ নাচিয়ে তুলেন তারা জয়ের আনন্দে। ৫ পয়েন্ট নিয়ে এখন টাইগারদের অবস্থান তালিকার পঞ্চম স্থানে। এখনো বাকি চারটি ম্যাচ। এই চার ম্যাচের অন্তত তিনটি জিতলেই হবে স্বপ্নপূরণ । এক কথায় ছুটতে হবে পয়েন্টের পিছু পিছু।
অন্যদিকে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়া টাইগারদের জন্য অপেক্ষা করছে নটিংহামে। ২০শে জুন ট্রেন্ট ব্রিজ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল। ভীষণ শক্তিশালী অজিদের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত কোন বিশ্বকাপেই জয় পায়নি বাংলাদেশ। ১৯৯৯, ২০১৭ দুই বারই মিলেছে বাজেভাবে হার। তবে ব্যতিক্রম ছিল ২০১৫ বিশ্বকাপ। সেবার বৃষ্টিতে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় পয়েন্ট হয় ভাগাভগি।  সেটা সৌভগ্যই বয়ে এনেছিল মাশরাফিদের জন্য।  তাতে ভর করেই দল যায় কোয়ার্টার ফাইনালে। এবার ইংল্যান্ডের মাটিতে আরো একটি ইতিহাস বদলে দেয়ার সুযোগ। অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারলেই  সেমিফাইনালের আরো কাছে এগিয়ে যাবে সাকিব-তামিমরা। এমন ম্যাচের আগে অজিদের বার্তাও দিয়েছেন সাকিব। ইংলিশ এক নারী সংবাদকর্মী বলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার  পেস আক্রমণের ভয়ের কথা। ভয়তো পাননি উল্টো বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার জবাবে বলেন, ‘দেখেন এই চার ম্যাচে অনেক দারুণ দারুণ সব পেস বোলারের বিপক্ষে খেলেছি। আপনারা জানেন প্রায় প্রতিটি দলেই সেরা দু’জন ফাস্ট বোলার আছে যারা ১৪৫ গতিতে নিয়মিত বল করতে সক্ষম। আমরা তাদের বেশ ভালভাবেই সামলেছি। আমরা শর্ট বল নিয়ে খুব একটা চিন্তা করছি না। আমরা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছি, নিউজিল্যান্ড ও উইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেছি। এই তিন দলে অনেক গতির বোলাররা ছিল। আসলে আমাদের বেসিক কাজটাই করতে হবে। আমি মনে করি আমরা দক্ষ দল। এবং এই সব ভালভাবেই সামলাতে পারবো।’
ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে একাদশ পরিবর্তনে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ  পান লিটন কুমার দাস। নিজের স্বপ্নের প্রথম ম্যাচেই ৬৯ বলে ৯৪ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। সেই সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে দুজনে গড়েন ১৮৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। ওয়ানডেতে চতুর্থ উইকেটে বাংলাদেশের সেরা জুটি এটি আর চলতি বিশ্বকাপে যে কোনো জুটিতেই সর্বোচ্চ। তবে সাকিবময় এই জয়ে লিটনকে দারুণ ভরসা দিয়ে এগিয়ে নিয়েছেন দলের সহ অধিনায়ক। সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেন, ‘সাকিব ভাই অনেক সাহায্য করেছেন উইকেটে। অনেক কথা বলেছেন যেগুলো নার্ভাসনেস থেকে আমাকে বের করে এনেছে। বলেছেন যে উইকেট অনেক সহজ। স্বাভাবিক খেলা খেললেই হবে। জোরাজুরি না করে যেন সিঙ্গেল খেলি। আরও অনেক কিছু ছিল। উনার কিছু বাউন্ডারিও আমাকে সাহায্য করেছে চাপমুক্ত হতে।’ বলার অপেক্ষা রাখেনা লিটন রান পাওয়াতে বেড়েছে দলের ব্যাটিংয়ের আত্মবিশ্বাসও। যা পরের ম্যাচে দারুণ ভাবে এগিয়ে রাখবে বাংলাদেশকে।
তবে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে এই দু্‌ই দলের লড়াইয়ে আছে বৃষ্টির সম্ভাবনা। যা কিনা ফের বদলে দিতে বাংলাদেশের ভাগ্য!

শ্রীলঙ্কায় কিছু বাংলাদেশির অপরাধমূলক কাজে ক্ষুণ্ন হচ্ছে দেশের ভাবমূর্তি by শেখ শাহরিয়ার জামান

শ্রীলঙ্কায় কিছু বাংলাদেশি অবৈধভাবে অবস্থান করে মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। গত বছরের ডিসেম্বরে দুটি ঘটনায় তিনশ’ কেজিরও বেশি হেরোইন পাঁচ বাংলাদেশির কাছ থেকে উদ্ধার করে দেশটির পুলিশ। গত ২১ এপ্রিল কলম্বোয় বোমা হামলার পর ২০ জনের বেশি বাংলাদেশিকে ভিসার মেয়াদ পার হয়ে যাওয়ার পরেও ওই দেশে অবস্থানের কারণে পুলিশ আটক করে। শ্রীলঙ্কার মিডিয়ায় বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ায় বাংলাদেশের প্রতি নেতিবাচক ভাবমূর্তির সৃষ্টি হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘দুই দেশেই অপরাধীরা কাজ করছে এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে তাদের খুঁজে বের করার জন্য উদ্যোগী হতে হবে।’ তিনি বলেন, কলম্বোয় মাদক ধরা পড়ার পরে ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক চোরাচালান দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।
অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে আরও বেশি সজাগ হতে হবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের জন্য।’
পর্যটন ব্যবসাকে উৎসাহিত করায় শ্রীলঙ্কার ভিসা নীতি অত্যন্ত নমনীয় এবং এর সুযোগ নিয়ে এখানকার একটি দালালচক্র ওই দেশে কর্মী পাঠাচ্ছে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, কলম্বোয় সন্ত্রাসী ঘটনায় জড়িত একজন সুইসাইড বোম্বারের কারখানায় ১১ বাংলাদেশি কাজ করতেন। এ ঘটনার পর শ্রীলঙ্কা পুলিশ এসব বাংলাদেশিকে আটক করে। পরবর্তীতে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়। এছাড়া আরও দুটি ঘটনায় ১৫ জনের মতো বাংলাদেশিকে অবৈধভাবে অবস্থানের জন্য পুলিশ আটক করলে তাদের অনেককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে কলম্বোয় একটি চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে, যারা রেসিডেন্স ভিসা জাল করে বাংলাদেশিদের পাসপোর্টে লাগিয়েছিল। তাদের সবাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা বলেন, স্থানীয় দালালরা বাংলাদেশিদের উচ্চ বেতনের লোভ দেখিয়ে শ্রীলঙ্কায় নিয়ে যাওয়ার জন্য দুই লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকে। কিন্তু বাস্তবে সেখানে তাদের সর্ব্বোচ্চ বেতন ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। তিনি বলেন, ‘এই দালালরা ঢাকা এবং কলম্বো উভয় জায়গায় কাজ করে। অসহায় কর্মীরা শ্রীলঙ্কায় পৌঁছলে তাদের জন্য বিমানবন্দরে বাংলাদেশি দালালরা অপেক্ষায় থাকে।’ গত কয়েক মাস ধরে নিয়মিত অবৈধভাবে অবস্থানের জন্য বাংলাদেশিদের আটক করা হচ্ছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সম্পর্কিত একটি নির্দেশনা দেওয়াটা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ কোনও বাংলাদেশিকে আটক করলে আমাদের অবহিত করে। এখানে যারা কাজ করতে আসে তাদের বেশিরভাগের দেশের বাড়ি টাঙ্গাইল, শরীয়তপুর ও কুষ্টিয়ায়। এসব জায়গা থেকে খুব বেশি লোক বিদেশে যায় না। আমি এমনও লোক পেয়েছি, যে আগে তাঁতির কাজ করতো, কিন্তু এখানে একটি বেকারিতে কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘যখনই কোনও আটকের ঘটনা ঘটে, আমরা সঙ্গে সঙ্গে তাদের ফেরত পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি।’
হেরোইন বহনের দায়ে শ্রীলঙ্কায় আটক মো. জামাল উদ্দিন ও দেওয়ান রাফিউল ইসলাম