Wednesday, August 31, 2011

ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক হো by সৈয়দ আবুল মকসুদ

আরবি শব্দ ঈদ, যার আক্ষরিক অর্থ আনন্দ বা খুশি। খুশি হওয়ার ক্ষমতা শিশু-কিশোর, যুবকদের যতটা, তার ১ শতাংশের ১ ভাগও প্রবীণ ও বৃদ্ধদের নেই। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মধ্যে খুশি হওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। তার পরও বয়স্করা যে আনন্দ করেন বা খুশি হন, তা যেন দায়ে পড়ে। শিশু-কিশোরদের আনন্দের প্রকাশ ও খুশি স্বতঃস্ফূর্ত। ঘরের মধ্যে একটি রঙিন ফড়িং বা প্রজাপতি ঢুকে পড়লে একটি শিশুর চোখে-মুখে নির্মল আনন্দের আভা ছড়িয়ে পড়ে। বুড়ো মানুষ বসে থাকেন পাথরের মতো মুখ করে। হাত নেড়ে তাড়িয়েও দিতে পারেন ফড়িং বা প্রজাপতিটিকে।
ঈদুল ফিতর মুসলমানের পবিত্র ধর্মীয় উর‌্যাসবও। ধর্মীয় পরবে নতুন কাপড়চোপড় পরা, ভালো খাওয়াদাওয়া, প্রিয়জনদের সঙ্গে একত্র হওয়া এবং অন্য আনন্দদায়ক কর্মকাণ্ড হয়ে থাকে। ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসে, শিশু-কিশোরদের চোখের ঘুম হারাম হতে থাকে, কবে মা-বাবা নতুন কাপড় কিনে দেবেন। তবে আমাদের মতো গরিব দেশে ৯০ ভাগ মা-বাবারও চোখের ঘুম হারাম হয়ে যায়। ছেলেমেয়েদের জন্য বাজেটের মধ্যে জামা-কাপড়-জুতা কেনা যাবে তো! সুতরাং উর‌্যাসবে ঘুম দুই পক্ষেরই হারাম হয়—এক পক্ষের আনন্দে, আরেক পক্ষের আতঙ্কে।
আজকাল বাজারের যে অবস্থা, তাতে বিবাহবিচ্ছেদ পর্যন্ত ঘটতে পারে ঈদ উপলক্ষে। সেদিন গাউছিয়ার সামনে এক দম্পতি দেখলাম প্রায় হাতাহাতি করার পর্যায়ে। ক্ষিপ্ত ভদ্রলোকের চেহারা ভিমরুলে কামড়াতে থাকলে যেমনটি হয়, সেই রকম। ভদ্রমহিলা গজগজ করছেন। মহিলা শাড়ির প্যাকেটটি ভদ্রলোকের হাতে দিতেই তিনি তা রাস্তার মধ্যে ছুড়ে ফেলে দিলেন। বাচ্চা দুটি অসহায় অবস্থায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মা-বাবার কাণ্ড দেখছিল। তাদের একজনের শুভবুদ্ধি যেকোনো বয়স্ক মানুষের চেয়ে বেশি। সে প্যাকেটটি রাস্তা থেকে কুড়িয়ে নিল। ঈদে ওদের ভাগ্যে কী জুটেছে, তা জানা যায়নি।
আজকাল বাংলার মাটিতে ঈদে অন্য রকম ঘটনাও ঘটে। ৫০ বছর বয়স-বয়সিনীর রূপ-যৌবন-শরীর যতই বাংলাদেশের রাস্তাঘাটের মতো হয়ে থাক, ঈদে ৫০ হাজার টাকা থেকে দেড়-দুই লাখ টাকার শাড়ি দিতেই হবে। ৬০ হাজার টাকা ভরি সোনার এক সেট ভারী গয়নাও চাই। ওই শাড়ি ও গয়নায় রূপ কতটা খোলতাই হলো, সেটা বড় কথা নয়, ওগুলো না দিলে মুখের যে অবস্থা হতো, তার কাছে চুলার হাঁড়ির তলা কিছুই না। ব্যাংকক-সিঙ্গাপুরে গিয়ে ঈদ করা তো এখন নস্যি! আজকাল অনেকে ঈদে ‘বিজনেসের ব্যাপারে’ ছুটিটা ব্যাংককে কাটান। ওখানে গিয়ে বিভিন্ন অফিসে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে বলে স্ত্রীকে সঙ্গে নেন না।
বহু ভাগ্যবান বাঙালি ঈদ করেন ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপপুঞ্জে অথবা ব্যাংককে। থাই উপসাগরের বালুকাবেলার বিকেলগুলো রুপার পাতের মতো ঝকঝক করে। সন্ধ্যা নামে মন্দ-মন্থরে। সমুদ্রের পাখিগুলো ওড়াউড়ি বন্ধ করে নীড়ে ফিরে যায়। ঢাকায় থাকা অবস্থায় বাড়িতে ও অফিসের যত যন্ত্রণা, শ্রমিকদের বোনাস প্রভৃতি দেওয়ার মতো যত্ত সব বিরক্তিকর ব্যাপার, কিছুই নেই ব্যাংককের বালুকাবেলায়। পুতুলের মতো থাই যুবতী। মনে হয় যেন মাখনের শরীর। সমুদ্রসৈকতে ও হোটেল-মোটেলের কক্ষে স্বর্গ নেমে আসে। রোমান্টিক মুহূর্তে ঢাকা থেকে স্ত্রীর ফোন যায় ঈদের দিন: ‘তোমার জন্য বাচ্চাদের মন খারাপ।’ ব্যাংককের জবাব: ‘তোমাকে ভীষণ মিস করছি। কাজের চাপে এক মিনিট ফুরসত নেই।’ হোটেলের নির্জন কক্ষে থাই তরুণীটি চেয়ে থাকে। ভাগ্যিস যে বাংলা জানে না।
কিন্তু ৯৯ দশমিক ৯ ভাগ বাঙালি ব্যাংকক-বালিতে নয়, নিজের বাড়িতেই ঈদ করে। বউ-বাচ্চাদের নিয়ে আনন্দ-খুশি করে। সম্ভব হলে নতুন জামা-কাপড়-জুতা কেনে পরিবারের সদস্যদের জন্য। একটু ভালো খাওয়াদাওয়ার আয়োজন হয়। আত্মীয়স্বজন-বন্ধুবান্ধবের বাড়ি ঘুরে বেড়ায়। এসবের ভেতর দিয়ে ঈদের মতো আনন্দোর‌্যাসব উদ্যাপিত হয়। আমার ধারণা এবং যতটুকু খবর রাখি, তাতে অন্য জাতির চেয়ে বাঙালি মুসলমানের কাছে ঈদুল ফিতর একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উর‌্যাসব। কারণ, বাঙালি সংস্কৃতিতে উর‌্যাসবের উপাদান খুব বেশি। ঈদুল ফিতর ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক উর‌্যাসব হলেও এর ঈদগায় নামাজ আদায় করা ছাড়া সবটাই অসাম্প্রদায়িক। কারণ, অন্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদেরও ঈদ উদ্যাপনে অংশগ্রহণে বাধা নেই। ছোটবেলায় দেখেছি নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই আমার বাবার হিন্দু বন্ধুরা চলে আসতেন। দুপুরে-বিকেলে-রাতে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া হতো। মুসলমানি খানাপিনা তাঁরা উপভোগ করতেন। বিশেষভাবে দেখেছি, শুধু যে সম্ভ্রান্ত ও অবস্থাপন্ন হিন্দুরা ঈদের দিন আসতেন তা নয়, আমাদের পারিবারিক নাপিত লোকনাথ শীলও অবধারিতভাবে দুপুরে খেতেন।
তবে শৈশবের সব ঈদই যে সমান আনন্দপূর্ণ ছিল, তা হয়তো নয়। আজও মনে পড়ে একটি ঈদ বেজায় উপভোগ্য হয়েছিল। আমাদের এলাকায় নেতাগোছের একজন ছিলেন, শেরেবাংলার কৃষক প্রজা পার্টি বা আওয়ামী লীগ করতেন। আমাদের মতো ছোট ছেলেমেয়েদের অকারণে শাসন করতেন ও অনবরত উপদেশ দিতেন। ঈদের দিন তিনি পরতেন বহুকাল আগে তাঁর কোনো পূর্বপুরুষের তৈরি একটি কালো আচকান। কানে গোঁজা থাকত মেশকে আম্বার আতর দেওয়া তুলা। মাথায় আচকানের বয়সীই একটি ফেজ বা তুর্কি টুপি, যার ঝুল যথেষ্ট দীর্ঘ।
আশ্বিন-কার্তিক মাস হবে। ডোবা-পুকুর সব পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ। তিনি ঈদের নামাজ পড়তে এসে কী কারণে হাত ধুতে বা কুলি করতে ঈদগার পাশের পুকুরটিতে যান। ঘাট বানানো ছিল খেজুরগাছের গুঁড়ি দিয়ে। মুহূর্তে পা ফসকে পাম্প শুসহ তিনি পুকুরে পড়ে যান। একেবারে গলা পর্যন্ত নিমজ্জিত। শুধু মাথার তুর্কি টুপিটি ছিল শুকনা। তাঁর পদস্খলন শুধু ছোটদের নয়, উপভোগ্য হয়েছিল সবারই।
জামাত শুরু হয়ে গিয়েছিল। তিনি সিক্ত বসনেই এসে দাঁড়ালেন। নেতা মানুষ, সবার পেছনে দাঁড়াতে পারেন না, ইমামের পেছনেই গিয়ে দাঁড়ালেন। অর্ধেক নামাজের মধ্যে ছোটদের অনেকে হাসি চেপে রাখতে না পেরে মুখ দিয়ে ফুঁপিয়ে কান্নার মতো ফোঁস ফোঁস করতে লাগল। ইমাম বিরক্ত হয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে ধমক দিলেন, ‘কোন বেতামিজে এমন করে, আমার নামাজে ভুল করাইয়া দিলা।’ এ কথা শুনে উচ্চ স্বরেই হেসে উঠল অধিকাংশ। যা হোক, সে ঈদ আমাদের বড় খুশিতে কাটল। আসলে কাউকে পড়ে যাওয়া বা কারও পতন দেখলে মানুষ খুশি না হয়ে পারে না। তা যেন মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি।
জলবায়ুর অতি দ্রুত পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতির যে কী ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে, তা নিজের কাছেই বিশ্বাস হয় না। সেকালে দু-এক বছর পর পর ভয়াবহ বন্যা হতো। বাড়িঘর, গাছপালা সব ডুবে যেত।
আমার জীবনে অন্তত দুবার আমি বন্যার মধ্যে ঈদ উদ্যাপন করেছি। সে এক অদ্ভুত অবস্থা। মসজিদ ও ঈদগাহে কোমর পর্যন্ত পানি। মুরব্বিরা সিদ্ধান্ত নিলেন, নৌকায় নামাজ হবে। কুড়ি-পঁচিশটি নৌকা পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে ঈদের জামাত হয়।
আমরা সাহিত্যসমালোচকেরা যেমন বাংলা কবিতা ও কথাসাহিত্যকে ভাগ করি দশকওয়ারি—পঞ্চাশের কবিতা, ষাটের কবিতা, সত্তরের কবিতা প্রভৃতি, তেমনি এখন দেখছি ঈদ উদ্যাপনও দশকওয়ারি করা যায়। যেমন বাঙালি পঞ্চাশের দশকে একভাবে ঈদ উদ্যাপন করত, ষাটের দশকে আরেক রকম, সত্তর, আশি এবং একুশ শতকের প্রথম দশকে আরেক রকম। সত্তর দশক পর্যন্ত জামাকাপড়ের জৌলুশ এত ছিল না। এক ভাগ লোকও ঈদে নতুন জুতা-স্যান্ডেল কিনত না। নতুন কাপড়ের মধ্যে পাজামা-পাঞ্জাবি ও শার্ট-প্যান্ট। এত বাহারি পাঞ্জাবিও ছিল না।
১০-১৫ বছর ধরে বিলাসিতা ও ভোগবাদ গোটা সমাজকে গ্রাস করেছে। শুনলাম, এবার নাকি তিন-চার হাজার টাকায়ও পাঞ্জাবি বিক্রি হয়েছে। ৩০-৪০ হাজার টাকা দামের শাড়ি বিক্রি হয়েছে দেদার। বাংলাদেশ কবে মধ্যম আয়ের দেশ হবে জানি না, কিন্তু দেখতে পাচ্ছি এখনই শীর্ষ ব্যয়ের দেশ হয়ে গেছে। ১০ তলা দালানে দাঁড়ালে দেখা যায় অন্তহীন গাড়ির স্রোত। মনে হয় উত্তাল সমুদ্রে ইস্পাতের ঢেউ। এক লাখ টাকা দামের শাড়ি বিক্রি হয়েছে এবার। বহু বছর আমার নিজের ঈদের কাপড় কেনা লাগে না। ঘনিষ্ঠরাই দেন। অত কাপড় সারা বছর আমার লাগেও না। এবার দুই সেট লুঙ্গিচাদর পাঠিয়েছেন স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম শীর্ষ নেতা, যাঁর বক্তৃতা মন্ত্রমুন্ধের মতো মানুষ শুনত, সেই ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব নূরে আলম সিদ্দিকী। হিসাব করে দেখলাম, গত কুড়ি বছরে যাঁরা আমাকে কাপড় উপহার দিয়েছেন, তাঁদের একজন জাতীয়তাবাদী দলের এবং অন্যরা আওয়ামী লীগের নেতা। সেই জাতীয়তাবাদী নেতা আবদুল মান্নান ভূঁইয়া আজ নেই। কমিউনিস্টরা কিছু দিলে খুশি হতাম, কিন্তু তাঁরা দেন না। তাঁদের পার্টি চালানোরই টাকা নেই।
আজ নগরায়ণ ঘটেছে। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে পঞ্চাশের দশকে ছিল শুধু গ্রাম আর গ্রাম। সেই গ্রামের ঈদ ছিল অন্য রকম। আমাদের জমি বর্গাদারেরা চাষ করলেও দুধের জন্য বাড়িতে গরু পালা হতো। কাজের লোকেরা ঈদের দিন গরুগুলোকে সাবান দিয়ে গোসল করাত।
ঢাকায় লালবাগে থাকতাম বলে ঈদের জামাতে অংশ নিতাম মোগল আমলের শাহি মসজিদে। এখন মনে হয় ওখানে জামাত হয় না, কারণ ওটা এখন পুরাকীর্তি হিসেবে রক্ষিত। মুক্তিযুদ্ধের আগে একবার এবং স্বাধীনতার পরে একবার কি দুবার বঙ্গবন্ধু, আতাউর রহমান খান প্রমুখ নেতার সঙ্গে ঈদের নামাজ পড়েছি। একবার মনে আছে, খুব শীত ছিল। বঙ্গবন্ধুর চাদর গায়ে জড়ানো।
দেশের বাইরে বার তিনেক আমি ঈদের সময় ছিলাম কলকাতা ও দিল্লিতে। দিল্লির শাহি মসজিদে ভারতীয় নেতাদের সঙ্গে জামাতে দাঁড়িয়েছি। কলকাতা দুবার ঈদের দিন থাকলেও ঘুমিয়ে কাটিয়েছি। মালয়েশিয়ায় এক ঈদের জামাতে মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে নামাজ পড়েছি। খুবই অনাড়ম্বর তাদের আয়োজন। মাহাথিরের পরনে লুঙ্গি ও কুর্তা।
বাঙালি সব সময়ই প্রথার মধ্যে পড়ে থাকতে চায়। অর্থার‌্যা যেমনটি আছে তেমনই থাক। সংস্কারে তার অনিচ্ছা। বাঙালি মুসলমানের ঈদ আরও উর‌্যাসবমুখর করা যায়। শুধু খাওয়াদাওয়া ও কাপড় পরার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এর সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিষয়ও যোগ হতে পারে। কিছু যে হয়নি, তা নয়। টিভি চ্যানেলগুলো ঈদ উপলক্ষে বহু নাটক ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান প্রচার করছে। কিছু নাটক-সংগীত প্রভৃতির প্রসার ঘটানো উচিত সাধারণ মানুষের মধ্যে—তাদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
কুড়ি শতকের শুরুতে মাসিক মোহাম্মদী এবং সাপ্তাহিক ও মাসিক সওগাত প্রকাশের পর থেকে ঈদ নিয়ে লেখালেখি শুরু হয়। গত ৯০ বছরে বিখ্যাত বাঙালি লেখক ও কবি ঈদ নিয়ে যত প্রবন্ধ-নিবন্ধ ও কবিতা লিখেছেন, সারা পৃথিবীতে গত নয় শ বছরে তত লেখা প্রকাশিত হয়নি। ঈদের বিশেষ সংখ্যা বহুকাল থেকেই প্রকাশিত হচ্ছে, কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে সমৃদ্ধ বিশেষ ঈদসংখ্যা বের করছে দৈনিক ও সাপ্তাহিকগুলো। সাহিত্য-সংস্কৃতির উন্নতির ক্ষেত্রে এগুলোর ভূমিকা ভালো।
বাংলা ভাষায় ঈদ বিষয়ে যত কবিতা-গান রচিত হয়েছে, তার মধ্যে নজরুল ইসলামের রচনাই সব লেখার কাজি। দারিদ্র্যপীড়িত দেশ। এখানে সবার জীবনে ঈদ আসে না। নজরুলকে দিয়ে শেষ করি:
ইসলাম বলে, সকলের তরে মোরা সবাই,
সুখ-দুঃখ সম-ভাগ করে নেব সকলে ভাই,
নাই অধিকার সঞ্চয়ের!
কারো আঁখিজলে কারো ঝাড়ে কি রে জ্বলিবে দীপ?
দু’জনার হবে বুলন্দ্-নসিব, লাখে লাখে হবে বদনসিব?
এ নহে বিধান ইসলামের।
সৈয়দ আবুল মকসুুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।

পবিত্র ঈদুল ফিতর

বছর ঘুরে আবার এল পবিত্র ঈদুল ফিতর। সারা দেশে এই আনন্দময় উর‌্যাসব উদ্যাপনের প্রস্তুতি চলছে। মা-বাবা ও স্বজনদের সঙ্গে এই উর‌্যাসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে বিপুলসংখ্যক কর্মজীবী মানুষ রাজধানী ঢাকা থেকে ইতিমধ্যে বাড়ি গেছেন এবং এখনো অনেক মানুষ বাড়ির পথে রয়েছেন। ঈদের এই আনন্দ আমরাও ভাগ করে নিতে চাই আমাদের প্রিয় পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, এজেন্টসহ সব শুভানুধ্যায়ীর সঙ্গে। সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
এই আনন্দ-উর‌্যাসবের আয়োজন আমাদের কর্মকোলাহলমুখর জীবনেরই উদ্যাপন। এই উর‌্যাসব জীবনকে নতুন করে রাঙানোর উর‌্যাসব। সব সংকীর্ণতা ও ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের সঙ্গে মিলিত হওয়ার উর‌্যাসব। পরস্পরের সর‌্যা প্রতিবেশী হয়ে ওঠার এক মহান উপলক্ষ ঈদ। ঈদের আগমনী সুরেও বেজে চলেছে মানুষে মানুষে মিলনের এই আকুতি। তাই মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ সব ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের প্রতিবেশীদের নিয়ে তাদের সবচেয়ে বড় উর‌্যাসবের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।
ঈদ উর‌্যাসবকে কেন্দ্র করে কর্মজীবী মানুষের বাড়ি ফেরায় প্রতিবছর বেশ ভোগান্তির সৃষ্টি হয় যানবাহনের অপ্রতুলতার কারণে। এবার সড়ক-মহাসড়কের অবস্থা খারাপ থাকায় এবং সাম্প্রতিক সড়ক দুর্ঘটনাগুলো নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হওয়ায় সড়কপথের চেয়ে রেলপথে মানুষের আগ্রহ বেশি লক্ষ করা গেছে। ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ট্রেন ও বাড়তি বগি সংযোজন করার পরও অনেক মানুষকে ট্রেনের ছাদে চড়ে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকেনি, খাদ্যদ্রব্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব ধরনের পণ্যের দামই বেশি। দেশে বিশেষ কোনো রাজনৈতিক উত্তেজনা নেই; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বছরের অন্যান্য সময়ের মতোই রয়েছে, বিশেষ কোনো অবনতি ঘটেনি। সাধারণত ঈদের আগে চুরি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়, এবার তেমনটি এখনো লক্ষ করা যায়নি। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ইত্যাদিসহ সড়কে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মানুষে মানুষে মিলনের উর‌্যাসব যখন আসে, তখন আমাদের এটাও ভাবতে হয় যে, আমাদের দেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মানুষে মানুষে বৈষম্য প্রকটতর হচ্ছে। দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে বিপুলসংখ্যক মানুষ, আর খুবই স্বল্পসংখ্যক মানুষের হাতে পুঞ্জীভূত হয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থবিত্ত। খাবার, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকির‌্যাসার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত বিপুলসংখ্যক মানুষের এই দেশে যখন ঈদের মতো আনন্দোর‌্যাসব আসে, তখন ঈদের আনন্দ সর্বজনীন হওয়ার পথে বড় বাধা থেকে যায়। ঈদ আমাদের সামষ্টিক জীবনে যে মিলন ও শুভবোধের চর্চার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, তা সঞ্চারিত হোক সবার প্রতিদিনের জীবনযাপনে। ঈদ নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়, জীবনকে নবায়ন করার আহ্বান।
ঈদে প্রবাসীরা দেশে ফিরতে আকুল হয়, শহরবাসী গ্রামে ফেরায় রোমাঞ্চ পায়, একাকী মানুষ বন্ধুমহলের সঙ্গে মেলার জন্য ব্যাকুল হয়। অনেক ভোগান্তি শেষে নিজ প্রাঙ্গণে প্রিয়জনের আলিঙ্গনের সুখ উপভোগ করে। দেশের মানুষ তখন ‘দেশের’ মানুষের সঙ্গে মিলিত হয়। এই সুযোগ থেকে কেউই যাতে বঞ্চিত না হয়, তার জন্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

ঈদ: সীমা আর অসীমের দ্বন্দ্ব by মোহীত উল আলম

ধর্মের সঙ্গে নৈতিকতার সম্পর্কটা পুরোনো গল্প। তার চেয়েও পুরোনো হচ্ছে ধর্মের সঙ্গে অর্থনীতির সম্পর্কটা। ধর্ম আধ্যাত্মিক বিষয়বস্তু, মানুষের আত্মার সঙ্গে সৃষ্টিকর্তার সম্পর্ক নিয়ে ধর্ম আলোকপাত করে। কিন্তু ইহজগতে এর বাস্তবায়ন করতে হয় বিষয়গতভাবে। শুধু প্রতিষ্ঠিত বড় ধর্মগুলোর ব্যাপারে এ কথাটা প্রযোজ্য নয়, প্রাচীনকাল থেকে আদিবাসী ও নৃতাত্ত্বিকভাবে চিহ্নিত গোত্র ও গোষ্ঠী বা যূথবদ্ধ সমাজ ধর্ম পালন করেছে বৈষয়িক ব্যবস্থার মাধ্যমে। তাদের পালিত ধর্ম, ধর্মের আচার-উপচার, সংস্কৃতি ও প্রকাশ হয়েছে প্রথমে বৈষয়িক স্থাপনা, প্রতিষ্ঠানাদি ইত্যাদি তৈরি করে এবং তারপর সেগুলো দেখভালের উদ্দেশ্যে নিয়োজিত অভিভাবকদের মাধ্যমে। এসব বৈষয়িক ব্যবস্থার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে উপাসনালয় প্রতিষ্ঠা, সেটা চালু রাখার জন্য ধর্মযাজক নিয়োগ, সেটা যে আছে তার প্রচারের ব্যবস্থা করা এবং যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেটার রূপের পরিবর্তন সাধন করা। ধর্ম পালন এবং উপাসনালয়ের মধ্যে সম্পর্কটা অনেকটা আত্মা ও শরীরের সম্পর্কের মতো। শরীরের মন্দিরে আত্মা বিরাজিত। মানুষের মৃত্যু হলে শরীর পড়ে থাকে, আত্মা বের হয়ে যায়। লালনের ভাষায়, ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়।’ বলা বাহুল্য, খাঁচাটা শরীর আর অচিন পাখিটি আত্মা। আত্মার জন্য পার্থিব কোনো খরচ পড়ে না, কিন্তু শরীর পার্থিব, তার রক্ষায় খরচ আছে। সে রকম, উপাসনালয়ে সৃষ্টিকর্তার প্রতি প্রার্থনা জানাতে বৈষয়িক কোনো খরচ পড়ে না, কিন্তু ওই উপাসনালয় নির্মাণ ও তার রক্ষণাবেক্ষণ খরচের ব্যাপার।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপনের সময় ধর্ম পালনের সঙ্গে বিষয়চিন্তার প্রাসঙ্গিকতা মনে আসা স্বাভাবিক। ঈদুল ফিতর আরবি শব্দগুচ্ছ। ঈদ অর্থ হচ্ছে আনন্দ বা উর‌্যাসব আর ফিতর অর্থ হচ্ছে মৌলিক শুদ্ধাচার বা অন্তর থেকে আমূল পরিচ্ছন্নতা। অর্থার‌্যা পরিচ্ছন্নচিত্তে আনন্দ লাভ করার উদ্দেশ্যে ঈদুল ফিতর উর‌্যাসবের আয়োজন। সাধারণত ঈদ তিন দিনের উর‌্যাসব হলেও রমজান মাসের শেষে শাওয়াল মাসের প্রথম দিনেই ঈদ জাঁকজমকভাবে পালন করার রীতি। ওই যে জাঁকজমক বললাম, ওখানেই সৃষ্টি হয়েছে ঈদ পালনের সঙ্গে অর্থনীতির সম্পর্ক, যেটা এ প্রবন্ধের আলোচ্য বিষয়। পবিত্র রমজান মাসে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উপবাস থেকে মুমিন মুসলমানেরা ঈদ উদ্যাপনের প্রস্তুতি নেন। কিন্তু ঈদ উদ্যাপনের এ প্রস্তুতি শুধু আর ফিতরের মধ্যে আবদ্ধ থাকে না, এটি চলে যেতে থাকে জাঁকজমকের দিকে। ঈদ উদ্যাপনকারীদের ফিতরের শুদ্ধাচারনির্দিষ্ট শৃঙ্খলার বাইরে আসার জন্যই অর্থনৈতিক সূত্রগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে, আর তখন লাভ-লোকসানের অর্থকরী বিষয়টি ঈদ উদ্যাপনরীতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে মিশে যায়। অথবা, অর্থনৈতিক সূত্রগুলো ঈদের প্রাক্কালে সক্রিয় হয়ে ওঠে বিধায় ঈদ উদ্যাপনকারীদের পক্ষে আয়-ব্যয়ের প্যাটার্নটি ঠিক রাখা সম্ভব হয় না। ঈদের সময়কার এই অর্থনৈতিক চাপটি নির্ধারণ করে দেয় ঈদ পালনের চেহারাটি কী রকম হবে। অর্থার‌্যা, তখন বড়লোকের এক রকম ঈদ, মধ্যবিত্তের আরেক রকম এবং দরিদ্র লোকের আরও এক রকমের ঈদ চোখে পড়ে।
এই অর্থনৈতিক চাপটি ঈদপর্ব উদ্যাপনের সঙ্গে একীভূত হয়ে যায় বলে তখন অনেক ক্ষেত্রে একটি প্যারাডক্সের বা ঈদের মেজাজের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। যেমন সাধারণভাবে সমাজের মধ্যে ধনী-দরিদ্রের যে বৈষম্য, সেটি প্রকট হলেও দৈনন্দিন কর্মপ্রবাহের তলায় টের পাওয়া যায় না, কিন্তু ঈদের প্রাক্কালে ওই বৈষম্যটিই নিদারুণভাবে ফুটে ওঠে। ঈদের যে ধর্মীয় গণতান্ত্রিকতা, সে চেতনাটিই আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এবং আমাদের পরজীবী-আচ্ছন্ন অর্থনৈতিক কাঠামোয় এ বৈষম্যটি সাধারণভাবে মানসিক স্থৈর্যের যে ভাসমান জাহাজটি আছে, সেটিকে টালমাটাল করে তোলে।
একজন সমাজসচেতন বিবেকসম্পন্ন মানুষকে ঈদের প্রাক্কালে এ বৈষম্যটি স্পর্শ করবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এর পরও ঈদ উদ্যাপনের এ পাগলপারা পরিস্থিতি থেকে মুক্তির কোনো উপায় নেই। কারণ, আনন্দের মৌলিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, সে সীমা ছাড়াবেই। আর এ সীমা ছাড়ার প্রণোদনা বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সদা ব্যস্ত রয়েছে সক্রিয় অর্থনৈতিক সূত্রগুলো। এককথায় বাজার: হরেক রকমের ঈদের বাজার। বাজার করে কী, সীমার মধ্যে তারা একটা অসীমের সন্ধান দেয়। যেমন, মধ্যবিত্ত চাকরিজীবীদের নিয়ে প্রসঙ্গটা পরিষ্কার করি। একজন মধ্যবিত্ত চাকরিজীবী যে বাজেট নিয়েই বাজারে ঢুকুক না কেন, বাজারের চাকচিক্য এমন থাকবে যে তিনি সেই বাজেট অতিক্রান্ত হতে প্রলুব্ধ হবেনই। যদি তিনি ক্রেডিট কার্ডধারী হন, তা হলে দোকানির পোয়াবারো। কারণ দোকানি জানেন, ক্রেতাও জানেন, ক্রেডিট কার্ড হচ্ছে অসীমের সুর শোনানোর বাঁশি, যদিও তা পুরোপুরি ছলনা। খুব কম চাকরিজীবী আছেন, যাঁরা বাজেটের অনুশাসনটি মেনে চলতে পারেন, কিংবা ছলনার ফাঁদে পা দেন না। কারণ, প্রিয় খোকা বা খুকির মুখের হাসি ফোটানোই যখন লক্ষ্য, তখন কয়েকটা ক্রেডিট কার্ডের ছলনাও কোনো ব্যাপার নয়। তাই একান্ত বাজারি বা সামাজিক অর্থে রোজার সঙ্গে ঈদের একটি অক্সিমোরনিক বা বৈপরীত্যমূলক সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়। রোজা সংযমের মাস আর ঈদ যেন সংযম না মানার দিন। (অবশ্য রকমারি ইফতারির কারণে বর্তমানে রোজাও কতটা সংযমের, কতটা অসংযমের সে প্রশ্নও উঠে আসছে।)
যা হোক, ঈদ উদ্যাপনের ব্যাপারটি একজন দরিদ্র শ্রমজীবীর ক্ষেত্রে সীমার মধ্যে অসীমের সুর আরও করুণ হয়ে বাজে। তিনি অনেক কষ্ট করলেও সীমা ছাড়াতে পারেন না। তাঁর তো ক্রেডিট কার্ড নেই, তাঁকে কেউ ধারও দেবেন না। পুরোনো কাপড় দিয়ে বাচ্চাদের ঈদ সামাল দিতে হয়, এমন পরিবারের সংখ্যাও এই দেশে অসংখ্য। এ দিক থেকে ঈদ সামাজিক বৈষম্যের বিষয়টিকেও আমাদের সামনে তুলে ধরে। বড়লোকদের সঙ্গে ঈদের সম্পর্কটা বন্ধুত্বপূর্ণ। ঈদ বছরে দুটো না হয়ে বরং আরও বেশি হলে এ শ্রেণীর জন্য ভালো হতো। এরাই বাজার সৃষ্টি করে, এরাই বাজার নিয়ন্ত্রণ করে, আবার এরাই বাজার ভোগ করে। বাজারের একটি নিয়ম হলো নিত্যনতুন (কিছুটা অপ্রয়োজনীয়) চাহিদা তৈরি করা এবং এরা শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাই-ই করেন।
চাহিদা কীভাবে সৃষ্টি করা হয়, তার দুটি তরল উদাহরণ দিচ্ছি। চুল কাটাচ্ছেন আমার এক বন্ধু। চুল কাটা শেষে কেশবিন্যাসকারী জিজ্ঞেস করলেন, স্যার, ফেসিয়াল করবেন। বন্ধু মনে করলেন, বুঝি সামান্য কোনো ব্যাপার। তার পরও সম্মতি দিতে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, খরচ কত। তিনি বললেন, ৭০০ টাকা। বন্ধুর আঁতকে ওঠা লক্ষ্য করে কেশবিন্যাসকারী বললেন, স্যার, অন্যান্য জায়গায় দুই হাজার টাকা নেয়। বন্ধু বললেন, দরকার নেই, আল্লাহ্্ আমাকে যে বদনখানি দিয়েছেন, তা-ই সই। দ্বিতীয় উদাহরণটি আমার এক ছাত্রী বিভাগীয় ইফতার পার্টিতে বলল সেদিন। পোশাক কিনতে গেছে তার বান্ধবী। দোকানি যে পোশাকই দেখান, তার জবাব এ রকম: এটা তো গত বছরের স্টাইল, ওইটা তো পুরোনো দিনের খালাম্মাদের পোশাক, এটা তো কেইট মিডলটনের ধরনের মশারি নেট নয় ইত্যাদি, ইত্যাদি।
বলা বাহুল্য, ঈদের প্রস্তুতিপর্বে পুরো জাতি এক কৃত্রিম চাহিদার ঘেরাটোপে পড়ে।
এর পরও অবশ্য ঈদের আবেদন সর্বজনীন এবং সর্বকালে একই রকম। যেমন—আমার পিতামহ ঈদের দিন সকালে একধরনের অনির্বচনীয় আনন্দ অনুভব করতেন, আমার পিতাও করতেন। এখন আমিও সেই অনির্বচনীয় আনন্দ অনুভব করি।
ড. মোহীত উল আলম: বিভাগীয় প্রধান, ইংরেজি, ইউল্যাব, ঢাকা।
mohit_13_1952@yahoo.com

ঈদেও স্বর্ণকাররা বেকার!

প্রতিবছর ঈদ এলে স্বর্ণালংকার তৈরির কারিগরদের (স্বর্ণকার) ব্যস্ততার সীমা থাকে না। কিন্তু এবারের ঈদে পাবনার বেড়া উপজেলায় স্বর্ণালংকার তৈরির শতাধিক দোকানে কারিগরদের কোনো ব্যস্ততাই নেই। কাজের অভাবে তাঁরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। অনেকেই ইতিমধ্যে পেশা পরিবর্তন করেছেন।
স্বর্ণের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতা কমে গেছে। তাই স্বর্ণালংকার তৈরির অন্যতম ভরা এ মৌসুমে উপজেলার প্রায় এক হাজার স্বর্ণকার প্রায় বেকার হয়ে বসে আছেন। ক্রেতা না থাকায় স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ীদের গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের লোকসান।
স্বর্ণালংকার তৈরির দোকান-মালিকেরা জানান, মাস তিনেক আগেও প্রতি ভরি পাকা স্বর্ণের দাম ছিল ৪৩ হাজার টাকা। এখন দাম ৫৫ হাজার ৫০০ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। সোনার বাজার এতই অস্থির যে দু-এক দিন পরপরই দাম বেড়ে চলেছে। এভাবে দাম বেড়ে চলায় আগে যেসব স্বর্ণ ব্যবসায়ী বিক্রির আদেশ নিয়েছিলেন, তাঁদের এখন লোকসান দিয়ে গ্রাহকদের স্বর্ণালংকার তৈরি করে দিতে হচ্ছে।
বেড়া বাজারের গয়না তৈরির প্রতিষ্ঠান আধুনিকা শিল্পালয়ের মালিক বাবলু কর্মকার বলেন, ‘গত ঈদে (ঈদুল ফিতর) আমার দোকানে প্রায় ৬০ ভরি সোনার গয়না তৈরি হয়েছিল। অথচ এবার ভরি দশেক সোনার গয়না তৈরি হতে পারে। তাও আগে তৈরি করে দেওয়ার আদেশ নেওয়া হয়েছিল।’
গয়না তৈরির কারিগর নীতিশ কর্মকার বলেন, ‘এবার কোনো কাজই নেই। ঈদ সামনে রেখে বাড়তি আয় তো দূরের কথা, সংসার চালানোই মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
প্রীতম শিল্পালয়ের মালিক রাম কর্মকার বলেন, ‘স্বর্ণের দাম এভাবে দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় কয়েক দিনে আমার ৫০ হাজার টাকার বেশি লোকসান হয়েছে।’
জানা যায়, কাজ না থাকায় অনেক স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ী ও কারিগর পেশা বদলে বাধ্য হচ্ছেন। বেড়া শেখপাড়া মহল্লার বাছেদ আলী তেমনই একজন। তিনি বলেন, ‘স্বর্ণের কাজ বাদ দিয়ে ছোট্ট এই মুদি দোকান দিয়েছি। এখন এতে অন্তত ডাল-ভাত জুটছে।’
বেড়া উপজেলা স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সাবিত্রী শিল্পালয়ের মালিক সমর কর্মকার বলেন, ‘স্বর্ণ ব্যবসায়ীসহ স্বর্ণকারদের এমন দুঃসময় আগে কখনো দেখা যায়নি।’

নোয়াখালীতে চলছে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা

নোয়াখালীর বিপণিবিতানগুলোতে শেষ মুুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতারা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিরামহীন বিকিকিনি চলছে। তবে পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় সাধ আর সাধ্যের সমন্বয় ঘটাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।
সদর উপজেলার বিপণি বিতানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন নামের ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি-পিসের বিক্রি বেশি হচ্ছে এবার। জুতা, প্রসাধনী ও ক্রোকারিজের দোকানেও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। তবে অধিকাংশ ক্রেতার অভিযোগ, সবকিছুর দাম গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি।
অন্যদিকে শহরের ফুটপাতের দোকানগুলোতে ঈদের কেনাকাটা জমে উঠেছে। নিম্ন আয়ের মানুষ ভিড় করছেন এসব দোকানে।
ঈদের জামা কিনতে আসা রিকশাচালক আবদুর রহিম বলেন, ‘বড় দোকানে যাওনের সাধ্য নাই। হিয়াল্লাই ফুটপাতের এই দোয়ান আঙ্গো ভরসা। হোলাহাইনেরে তো খুশি রাইখতে অইব।’
হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ী সহিদুল ইসলাম বলেন, জিনিসপত্রের দাম অনেক। প্রতিটি পণ্যের মূল্য দেড় থেকে দুই গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। তবে বিক্রিও ভালো।

বগুড়ায় পোশাকের দাম এবার বেশি

বগুড়ায় এখন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঈদের কেনাবেচা চলছে।
তবে গত বছরের তুলনায় এবার পোশাকসহ সব ধরনের ঈদ-পণ্যের দাম অনেক বেশি বলে ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন। জলেশ্বরীতলায় মিনারা বেগম নামে একজন ক্রেতা জানান, গত বছর যে থ্রি-পিস তিন হাজার টাকায় কিনেছেন, এবার এর দাম পাঁচ হাজার টাকা। একই ভাবে গত বছরের পাঁচ হাজার টাকার শাড়ি এবার বিক্রি হচ্ছে সাত হাজার টাকায়।
উপশহরের বাসিন্দা তানবীর সুলতানা জানান, যা বাজেট করেছেন তা দিয়ে ঈদের কেনাকাটা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফুলবাড়ী এলাকার ব্যবসায়ী সোলায়মান শেখ বলেন, প্রতিটি শাড়িতে দাম বাড়ানো হয়েছে এক থেকে দুই হাজার টাকা।
শহরের নিউমার্কেট, শরীফ উদ্দিন সুপার মার্কেট, আহমেদ মার্কেট, জামিল শপিং সেন্টার, আল আমিন কমপ্লেক্স, রঞ্জু নিউমার্কেট ও রফিক খান মার্কেটে জমজমাট কেনাবেচা লক্ষ করা গেছে। এসব জায়গায় বিশেষ করে নেটহাতা ও কাতানের কাপড়ের তৈরি মাসাককালি, শিলা, মুন্নি বদনাম, ওয়াকা ওয়াকা, কোটালি, সোহানা, আধুরি, বিদায়, সাজনা, সানিয়া মির্জা, কারিনাকাপুর ও ক্যাটরিনা এসব নামের পোশাক বেশি চলছে। সেই সঙ্গে সিল্ক কাতান, কোটি সিল্ক, বলাকা, কারচুপি, টাঙ্গাইল শাড়ি, জামদানি শাড়ির বিক্রি বেশি বলে বিক্রেতারা জানান।
বগুড়া শহরের আবাসিক এলাকা জলেশ্বরীতলার ফ্যাশন হাউসগুলোতেও জমজমাট কেনাবেচা চলছে। এখানে ঢাকার কিছু বড় বড় ফ্যাশন হাউসেরও শাখা রয়েছে। এই এলাকার ফ্যাশন হাউসগুলোতে পোশাকের দাম বেশি। অর্থাৎ অনেকটা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। এখানে বিশেষ করে উচ্চবিত্ত ও কিছু মধ্যবিত্ত লোকজন কেনাকাটা করেন।
ফুটপাতের দোকানগুলোও জমে উঠেছে। তবে এখানেও দাম বেশি। গত বছর যে লুঙ্গি সর্বনিম্ন ১২০ টাকায় এবং শাড়ি ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এবার তা ১৯৫ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জয়পুরহাটে ঈদের বাজারে ক্রেতাদের প্রচণ্ড ভিড়

জয়পুরহাট জেলা শহরে শেষ মুহূর্তে ঈদের বাজার জমে উঠেছে। ক্রেতাদের ভিড়ে বিক্রেতারা হিমশিম খাচ্ছেন।
জয়পুরহাট শহরের প্রধান রাস্তার পাশেই শংকর বস্ত্রালয়, দুর্গা বস্ত্রালয়, মাড়োয়ারিপট্টি এলাকার পাবনা স্টোর, শাড়ি মহল, নিউ মার্কেটে কাপড়ের দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড়।
তবে গরিবের কেনাকাটার মার্কেট হিসেবে রেলের জায়গায় অবস্থিত হকার্স মার্কেটে এখনো সেভাবে বেচাকেনা জমে ওঠেনি। দোকানিরা জানান, এই মার্কেটে ঈদের শেষ তিন দিন বেচাকেনা ভালো হয়। হকার্স মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী সুরভি গার্মেন্টসের মালিক মোকছেদুল আলম জানান, তাঁদের মার্কেটের ক্রেতারা সাধারণত গরিব দিনমজুর ও রিকশা-ভ্যানের চালক এবং নিম্ন আয়ের মানুষ। তাঁরা কয়েক দিন কাজকর্ম করে মজুরির টাকা জোগাড় করে ঈদের দু-একদিন আগে কেনাকাটা করতে আসেন।
হকার্স মার্কেটের নিজের ও ছেলের জন্য শার্ট কিনতে এসেছেন সদর উপজেলার আমদই গ্রামের আবদুল মোত্তালেব। তিনি পেশায় দিনমজুর। তিনি জানালেন, বড় দোকানে বেশি দামের কাপড় কেনার তাঁর সামর্থ্য নেই। তাই বাধ্য হয়ে এই হকার্স মার্কেটে এসেছেন। সেখানেও গতবারের তুলনায় জামাকাপড়ের দাম অনেক বেশি। তবু কষ্ট করে কিনতে হবে।
জয়পুরহাট সদর রাস্তার শংকর বস্ত্রালয়ের মালিক গজেন্দ্র শর্মা জানান, বেচাকেনা খুবই ভালো। এবারে জামদানি সুতি এক হাজার ২৫ টাকা থেকে দুই হাজার ৫০ টাকা, টাঙ্গাইল সুতি ৩৫০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা, এক হাজার টাকা থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা দামের কাপড় ও থ্রিপিস বেশি বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় কাপড়ের চেয়ে মেয়েদের দেশি কাপড়ের প্রতি চাহিদা বেশি।

যশোরের নকশি করা পোশাকের বাজার এখন কারচুপির দখলে

এবারের ঈদের বাজারে ঐতিহ্যবাহী ‘যশোর স্টিচ’ বা নকশি পোশাকের স্থান দখল করে নিয়েছে কারচুপির শাড়ি, পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস ও অ্যামব্রয়ডারির কাজ করা পণ্য।
স্থানীয় নকশি পোশাক প্রস্তুতকারক ও বিক্রয়কারীরা জানান, এবার সুতা ও কাপড়ের দাম বাড়ার কারণে হাতের তৈরি নকশি শাড়ি, থ্রি-পিস ও পাঞ্জাবির উৎ পাদনখরচ অনেক বেড়ে গেছে। এতে পোশাকের খুচরা মূল্যও বেড়েছে। যে কারণে ক্রেতারা নকশি পোশাকের বদলে জরি, চুমকি ও ব্লক-বুটিকের পণ্যের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েছে।
‘হস্তশিল্পের বাজার’খ্যাত যশোর শহরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সড়কের রং ফ্যাশন ব্যাংকের স্বত্বাধিকারী তনুজা রহমান প্রথম আলোকে জানান, গত বছরের তুলনায় এবার যশোর স্টিচের চাহিদা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। সুতা ও কাপড়ের দাম বাড়ায় এবারে নকশি শাড়ি এক হাজার ৪০০ টাকা থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে, যা গত বছর ছিল ৬৫০ টাকা থেকে এক হাজার টাকার মধ্যে।
যশোরের অন্তত হাজার দশেক নারী হাতের তৈরি নকশি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁরা বাড়িতে বসে সুচ-সুতার মাধ্যমে শাড়ি, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, কাঁথা ও বিছানার চাদরে নকশা তোলেন, যা ঐতিহ্যবাহী যশোর স্টিচ নামে পরিচিত এবং দেশে বিক্রির পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয়। কিন্তু এবারের ঈদে নকশি কাজের শাড়ি-কাপড়ের চাহিদা কমে যাওয়ায় তাঁদের হাতে কাজও অনেক কমে গেছে।
এ ব্যাপারে শহরের বারান্দি মোল্লাপাড়া এলাকার কয়েকজন নারী জানান, দোকানদারেরা বাড়িতে এসে কাজ দিয়ে যান। সাধারণত ডিজাইনের একটি শাড়ির নকশা তুলতে ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগে। প্রতিবছর ঈদের আগে কাজের চাপ বাড়লেও এবার তা হয়নি।
শহরের কাপুড়িয়াপট্টির মনসা বস্ত্রালয়ের স্বত্বাধিকারী চিন্ময় সাহা প্রথম আলোকে বলেন, ক্রেতারা এবার ঢাকার তৈরি কারচুপি ও ব্লকের শাড়ির দিকেই বেশি ঝুঁকেছে। এর দাম কম হওয়ায় তারা হাতের তৈরি নকশি শাড়ি কিনতে চায় না।
শপিং করতে আসা এক তরুণী বলেন, ‘গত ঈদে নকশির থ্রি-পিস কিনেছিলাম। এবার অন্য কিছু কেনার কথা ভাবছি।’
মতি শপিং মলের জ্যানথিক বিপণিবিতানের স্বত্বাধিকারী চঞ্চল জানান, এবার তরুণেরা হাতের কাজ করা নকশি পাঞ্জাবির চেয়ে অ্যামব্রয়ডারির কাজের দিকে বেশি ঝুঁকেছেন।

মাওবাদীদের ঐক্য ফিরিয়ে আনতে পারবেন বাবুরাম?

হিমালয়ের দেশ নেপালের ৩৫তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাবুরাম ভট্টরাই গতকাল সোমবার শপথ নিয়েছেন। গত রোববার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পরপরই দেশে কয়েক দশকের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির অবসান ঘটানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ৫৭ বছর বয়সী এই মাওবাদী নেতা।
পুষ্পকমল দহল প্রচণ্ডের পর দেশটির দ্বিতীয় মাওবাদী নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হওয়া ভট্টরাই ভারতের জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়েছেন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাওবাদী নেতা প্রচণ্ডর আমলে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে তিনি বেশ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তা ছাড়া নিজের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছিলেন। তাই নেপালবাসী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছে।
ষোড়শ শতাব্দীতে নেপালের গুর্খা সম্প্রদায়ের মধ্যে রাজা বাছাইয়ের একটি সহজ রীতি ছিল। যাঁরা রাজা হতে ইচ্ছুক, তাঁদের নিয়ে একটি দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হতো। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারীই রাজার মুকুট লাভ করতেন। সেই গুর্খা সম্প্রদায়েরই একজন আজকের এই বাবুরাম ভট্টরাই।
১০ বছরব্যাপী গৃহযুদ্ধের সময় পুষ্পকমল দহল প্রচণ্ডর বিরাগভাজন হয়ে মাওবাদী দল থেকে বহিষ্কৃতও হন বাবুরাম। তাঁকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি বাড়িতে কার্যত গৃহবন্দী করে রাখা হয়। দলের কার্যক্রম নিয়ে প্রচণ্ডের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য এখনো রয়েছে।
সম্প্রতি তাঁরা নিজ নিজ সমর্থকদের নিয়ে আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন। প্রচণ্ড অন্যান্য দলের সঙ্গে জোট গড়ে ভট্টরাইয়ের বিরোধী প্রার্থীকে সমর্থন দেন। এ কারণে মাওবাদীদের একটা বড় অংশ ভট্টরাইকে পছন্দ করবে না।

সিরিয়ার সেনারা ট্যাংক নিয়ে একটি শহর ঘিরে রেখেছে

সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় রাস্তান শহরটি ঘিরে রেখেছে ট্যাংক এবং সাঁজোয়া যান। শহরে ঢোকার পথে নিরাপত্তারক্ষীরা ভারী অস্ত্র থেকে গুলি ছুড়ছে বলে দাবি করেছে বিক্ষোভকারীরা।
শহরের এক বাসিন্দা টেলিফোনে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, মহাসড়কের দুই পাশে ট্যাংক নামানো হয়েছে। সেখান থেকে শহরের দিক লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করা হচ্ছে। সিরিয়ায় বিদেশি সাংবাদিকদের নিষিদ্ধ করার কারণে সেখানকার কোনো খবরের সত্যতা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার অসমর্থিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই এলাকায় অবস্থানরত দেশটির কিছু সেনা সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘ জানায়, প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অপসারণ এবং গণতন্ত্রের দাবিতে গত মার্চে গণবিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত সহিংসতায় দুই হাজার ২০০ লোক নিহত হয়েছে।
এদিকে সংকট মোকাবিলায় আরব লিগের সেক্রেটারি জেনারেল নাবিল আল-আরাবি সিরিয়া সফরে যাবেন বলে গত রোববার ঘোষণা দিয়েছেন।

বাগদাদে মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় এমপিসহ নিহত ২৮

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে একটি মসজিদে গত রোববার রাতে আত্মঘাতী বোমা হামলায় একজন পার্লামেন্ট সদস্যসহ (এমপি) অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার সুন্নিদের ওই মসজিদে জানাজায় যোগ দিতে গিয়েছিলেন তাঁরা।
পবিত্র রমজান শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে ইরাকে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদা এই হামলা চালাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, রোববার রাতের ওই ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও অন্তত ৩৭ জন আহত হয়েছে। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা গতকাল বলেন, হামলায় ৩০ জন নিহত এবং ৩৪ জন আহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলীয় আনবার প্রদেশের সুন্নিসমর্থিত ইরাকিয়া জোটের পার্লামেন্ট সদস্য খালিদ আল-ফাহদাবি রয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে বৃদ্ধা ও শিশু রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার ওসামা আল-নুজায়ফি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

পানির বদলে গুলি

ত্রিপোলির একটি গুদামে ৫০টির বেশি মৃতদেহ পাওয়া গেছে। গুদামটি মুয়াম্মার গাদ্দাফির ভয়ংকর সেনা ইউনিট খামিজ ব্রিগেডের সদর দপ্তরের পেছনে অবস্থিত। ব্রিগেডটির নেতৃত্বে ছিলেন গাদ্দাফিরই এক ছেলে। নারকীয় এ হত্যাযজ্ঞ থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা বলেছেন, নিহতদের সবাই বেসামরিক। গত মঙ্গলবার গাদ্দাফি বাহিনী এ গণহত্যা চালিয়েছে।
গুদামঘরের দরজার কাছে বসে কাঁদছিলেন বৃদ্ধ ফাতাল্লাহ আবদুল্লাহ। তিনি কোনো রকমে মঙ্গলবারের গণহত্যার হাত থেকে বেঁচে গেছেন। কিন্তু তাঁর তিন ছেলে ইব্রাহিম, আবদুল হাকিম ও আলীকে বাঁচাতে পারেননি। তাঁদের চারজনকেই জ্লিতান শহর থেকে আটক করা হয়েছিল।
গুদামঘরে কঙ্কালের একটি স্তূপের দিকে ইঙ্গিত করে ফাতাল্লাহ বলেন, ‘আমি ওখানেই ছিলাম। আমার ছেলেরা ছিল পাশেই। পুরো জায়গাটা ছিল লোকজনে ঠাসা। গরু-ছাগলের মতো গাদাগাদি করে আমাদের রাখা হয়েছিল। একজন ছিলাম আরেকজনের ওপর। মাটিতে পা রাখার মতো কোনো জায়গা ছিল না।’ তিনি জানান, লিবিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ১৫০ জনের মতো লোককে এখানে ধরে আনা হয়েছিল।
ফাতাল্লাহ বলেন, বন্দীরা পানির জন্য ছটফট করছিল। প্রহরীরা সন্ধ্যায় পানি দেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু বাস্তবে তারা পানি নয়, সন্ধ্যায় বন্দুক নিয়ে হাজির হয়। এর পরই শুরু করে বেপরোয়া গুলি। গুলি শেষে তাদের মধ্যে তিনজন গ্রেনেড ছুড়ে মারে। তিনি বলেন, এ সময় আরেকজন বন্দী গুদামঘরের দরজার লাথি মারলে দরজাটি খুলে যায়। সেই সুযোগে তিনি পালিয়ে গিয়ে একটি ট্রাকের নিচে আশ্রয় নেন। সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তিনি লুকিয়ে ছিলেন। এ সময় তিনি মৃত্যুমুখী মানুষের গগনবিদারী চিৎ কার শুনে শিউরে ওঠেন।

মারাকানায় উদ্বোধনী ম্যাচ চান ব্ল্যাটার

২০১৪ বিশ্বকাপকে ঘিরে একটা চাওয়া আছে সেপ ব্ল্যাটারের। উদ্বোধনী ম্যাচটা রিও ডি জেনিরোর বিখ্যাত মারাকানা স্টেডিয়ামে হোক—ফিফা সভাপতির চাওয়া এটাই।
আগামী অক্টোবর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে উদ্বোধনী ম্যাচের ভেন্যু। শোনা যাচ্ছে, সাও পাওলোতেই হবে ২০১৪ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ। কিন্তু ফিফা সভাপতির কথা, ‘ব্রাজিলিয়ান ফুটবল মানে রিও। সন্দেহাতীতভাবে রিও বিশ্বকাপ শুরুর জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় শহর। ফিফার অফিস আর প্রেস সেন্টার থাকবে রিওতে। এসব বিবেচনা করে রিওকেই উদ্বোধনী ম্যাচের জন্য আদর্শ মনে হয়।’
উদ্বোধনী ম্যাচ হিসেবে মারাকানার পরিবর্তে সাও পাওলোর নাম আসায় ব্রাজিলিয়ান রাজনীতিকদের ওপর চটেছেন ব্ল্যাটার। ‘মেয়র, গভর্নর আর সরকার—এই তিনে মিলে বিশ্বকাপ আয়োজনটাকে জটিল করে ফেলেছে। ডিলমা রউসেফের (বর্তমান প্রেসিডেন্ট) চেয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা ডা সিলভার সঙ্গে কাজ করা ব্রাজিলের ফুটবল ফেডারেশনের জন্য সহজ ছিল’—বলেছেন তিনি। যদিও তাঁর এই ব্যতিক্রমী মন্তব্যের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

প্রয়াত কোচের পরিবারের পাশে ক্রিকেটাররা

রাজশাহীর প্রয়াত কোচ ফজলুল কবির সিজারের পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় ক্রিকেটাররা। গতকাল সিজারের ছেলে শ্রেয়াস কবীর সৌর ও তার মায়ের হাতে খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে দেওয়া ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন সিটি মেয়র ও ক্লেমন রাজশাহী ক্রিকেট একাডেমির চেয়ারম্যান এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন।
রাজশাহী নগরভবনে এ সময় জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদসহ রাজশাহী বিভাগীয় দলের ক্রিকেটাররা উপস্থিত ছিলেন। সিজারের ৯ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে সৌরের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাঁরা সিটি মেয়রকে অনুরোধ করেন যেন সিজারের স্ত্রীকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনে একটি চাকরি দেওয়া হয়। মেয়র ঈদের পরে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
খায়রুজ্জামান লিটন ঈদের আগে ক্রিকেটারদের এই মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা করে সিজারের আত্মার শান্তি কামনা করেন।

আর্সেনালের দুঃস্বপ্নের রাত

বিস্ময়—ইংল্যান্ডের ফুটবল আকাশে উড়ছে এই একটি শব্দ। আর্সেনাল হতভম্ব-বিস্মিত ৮ গোল খেয়ে। আর্সেনালকে ৮ গোল দেওয়ার বিস্ময় ম্যানইউ শিবিরে। আর ফুটবল অনুরাগীরা বিস্মিত ১০ গোলের অপ্রত্যাশিত এক ম্যাচ দেখে।
আর্সেনাল ম্যানইউর কাছে ২-৮ গোলে হারবে, পরশু ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যাচ শুরুর আগে কেউ হয়তো স্বপ্নেও ভাবেনি। ম্যানইউ কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসন ম্যাচ শেষে তাঁর বিস্ময় গোপন করেননি, ‘এটা সত্যিই এক বিস্ময়। কারণ, আপনি যখন আর্সেনালের বিপক্ষে খেলবেন তখন কঠিন এক ম্যাচই আশা করবেন।’ আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার আর কী বলবেন! স্তম্ভিত ওয়েঙ্গারের তাৎ ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ছিল এ রকম, ‘আপনি যখন ৮ গোল খাবেন, লজ্জা তো লাগবেই। আমাদের জন্য এটি ভয়াবহ এক দিন।’
ম্যাচের ২২ মিনিটে ফার্গুসনের তরুণ স্ট্রাইকার ড্যানি ওয়েলবেক যখন প্রথম গোল করেন, তখন অনুমানও করা যায়নি আর্সেনালের কপালে এমন দুর্ভোগ অপেক্ষা করছে। দুর্ভোগের শুরু মনে হয় এই গোলের খানিক পর থেকেই শুরু হয়েছে। ওয়েলবেকের গোল শোধ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে ‘গানার’রা। কিন্তু অধিনায়ক রবিন ফন পার্সির পেনাল্টি ঠেকিয়ে দিয়েছেন ম্যানইউর গোলরক্ষক ডেভিড গি গিয়া। ৩-১ স্কোরলাইনে শেষ হওয়া প্রথমার্ধও বাকি ৪৫ মিনিটের নাটকের পূর্বাভাস দিতে ব্যর্থ। দ্বিতীয়ার্ধে ছয় গোল হয়েছে, পাঁচটিই করেছে ম্যানইউ। ম্যানইউয়ের বিপক্ষে এটি তো আর্সেনালের সবচেয়ে বড় পরাজয় বটেই, ১৮৯৬ সালের পরই এত বড় ব্যবধানে হারেনি ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি।
অনেকেই আর্সেনালের এই দুরবস্থার কারণ হিসেবে দেখছেন সেস ফ্যাব্রিগাস আর সামির নাসরির বিদায়কে। আর্সেনাল কোচ অবশ্য বলছেন চোট আর দুর্বলতার কথা, ‘হীনশক্তির দল আর দুর্বলতার সমন্বয় ঘটেছে এখানে। দ্বিতীয়ার্ধে শারীরিকভাবেই ভেঙে পড়েছি আমরা। আজ (পরশু) তো আমাদের ৮ জন খেলোয়াড় বাইরে ছিল (চোট আর নিষেধাজ্ঞার কারণে)। ৮ জনকে বাইরে রেখে খেললে যেকোনো দলকেই এভাবে ভুগতে হবে।’ এই পরাজয় খেলোয়াড় কেনার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তেও বলছে ওয়েঙ্গারকে, ‘ইংল্যান্ডে আপনি যখনই ম্যাচ হারবেন, খেলোয়াড় কেনাটাই সমাধান।’
খেলোয়াড় কেনার সময় ওয়েঙ্গার পাবেন কি না, এটাই এখন প্রশ্ন। ফ্যাব্রিগাস-নাসরির চলে যাওয়ার পর গানার সমর্থকেরা তাঁর এমিরেটসে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ১৫ বছরের আর্সেনাল-ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বাজেভাবে হারার পর সমালোচনার তীর ধেয়ে আসছে আরও। ওয়েঙ্গার কি আর্সেনাল ছেড়েটেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন? ‘না, একেবারেই না’—বলে দিয়েছেন ওয়েঙ্গার।
আর্সেনাল কোচ এই দুঃসময়ে পাশে পাচ্ছেন ম্যানইউ কোচ ফার্গুসন আর বার্সেলোনা কোচ পেপ গার্দিওলাকে। ফার্গুসনের কথা, ‘আমার মনে হয়, তাঁর দর্শন ও আর্সেনালের জন্য তিনি যা করেছেন, সেটি বিবেচনায় নিলে তাঁর সমালোচনা করাটা অন্যায় হবে।’ আর গার্দিওলা বলেছেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, ওয়েঙ্গার ফুটবলের জন্য, বিশেষ করে আর্সেনালের জন্য কী করেছেন। ম্যানচেস্টারের বিপক্ষে যা-ই হয়ে থাকুক, আর্সেনাল এখনো খুব ভালো দল। ফুটবলে এমন হয়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে, যেখানে চোটের কারণে অনেক খেলোয়াড়ই ছিল না আর্সেনালে। ফুটবলে এমন অনেক ভালো ব্যাপার আছে, যা শুধু জয়-পরাজয় দিয়ে মাপা যায় না।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে বড় জয়

গত পরশু আর্সেনালকে ৮-২ গোলে হারিয়ে দিয়ে চমকে দিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ১৯৯২ সালে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শুরুর পর এর চেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের ঘটনা আছে মাত্র ৫টি। তবে ম্যানইউ-আর্সেনাল ম্যাচ এক দিক থেকে সবচেয়ে ওপরেই থাকা উচিত। বড় দুই দলের ম্যাচে এমন স্কোরলাইন যে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ এর আগে দেখেনি।

৯: ২ ম্যানইউ-ইপসউইচ মার্চ, ১৯৯৫
৯: ১ টটেনহাম-উইগান নভেম্বর, ২০০৯
৮: ০ চেলসি-উইগান মে, ২০১০
৮: ০ নিউক্যাসল-শেফিল্ড ওয়েন্সডে সেপ্টেম্বর, ১৯৯৯
৮: ১ ম্যানইউ-নটিংহাম ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৯

এশিয়া কাপ ক্রিকেটের আগে যুব এশিয়া কাপ

২০১২ সালের মার্চে এশিয়া কাপ ক্রিকেটের আসর বসবে বাংলাদেশে। এর আগে বাংলাদেশেই হতে পারে আরেকটা এশিয়া কাপ। ৮ দলকে নিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটারদের এই যুব এশিয়া কাপ হওয়ার সম্ভাব্য সময় আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে।
বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, যুব এশিয়া কাপ আয়োজনের ব্যাপারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আগ্রহের কথা জানতে চেয়েছিল এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)। জবাবে বিসিবি সবুজ সংকেতই দিয়েছে। কাল বিসিবির প্রধান নির্বাহী মনজুর আহমেদও জানিয়েছেন, ‘আমরা বলেছি, টুর্নামেন্টটি আয়োজন করতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। তবে টুর্নামেন্টের সময় নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। এসিসি ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে টুর্নামেন্টটি করতে চায়। আমরা ওই সময়ই তা করতে পারব কি না, সেটা দেখতে হবে।’
প্রধান নির্বাহী জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তান ছাড়াও খেলবে সহযোগী দেশগুলোর মধ্য থেকে শীর্ষ চার দল। টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য ভেন্যু বগুড়া ও সিলেট।

রিলেতেও অনিশ্চিত পাওয়েল

১০০ ও ২০০ মিটারের স্বপ্ন তো শেষ হয়েই গেছে, ৪–১০০ মিটার রিলেও এখন অনিশ্চিত। আসাফা পাওয়েল নিজেই অনিশ্চয়তার দোলাচলে বন্দী। নির্দিষ্ট সময়ের আগে চোট থেকে সেরে উঠতে পারবেন কি না, নিজেই বুঝতে পারছেন না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আগামী বৃহস্পতিবার, ইভেন্টের তিন দিন আগে।
সময়ের হিসাবে ইতিহাসের তৃতীয় দ্রুততম মানব। কিন্তু ২৮ বছর বয়সী এই জ্যামাইকানের সবচেয়ে বড় দুঃখ, অলিম্পিক কিংবা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিততে পারেননি। এই আক্ষেপটা মুছে ফেলার আশা নিয়েই বছরের সেরা ৯.৭৮ সেকেন্ড সময় করে এসেছিলেন দেগুতে। কিন্তু কুঁচকির চোটের কারণে ১০০ ও ২০০ মিটার থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন পাওয়েল। এখন শুধু রিলেটাই তাঁর শেষ আশা হয়ে আছে।
পাওয়েলের কণ্ঠে যদিও হতাশাই ঝরছে, ‘নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফিট হতে না পারলে ঝুঁকি নেব না। অংশ নেওয়ার জোরালো সম্ভাবনাই আছে। তবে এখনো কিছুটা ব্যথা আছে। বাকি দিনগুলোতে আমি ব্যথামুক্ত হওয়ার চেষ্টা করব।’
পাওয়েলের স্বপ্নটা কেড়ে নিয়েছে চোট। ফলস স্টার্ট করে ১০০ মিটার থেকে ছিটকে পড়ে তাঁর চেয়েও বড় আফসোসের কারণ হয়েছেন উসাইন বোল্ট। সর্বকালের দ্রুততম মানবের কেন এমন হলো? পাওয়েল বলছেন, উদ্বেগই এই সর্বনাশটা করেছে। সম্প্রতি বোল্ট ভালো অবস্থায় ছিলেন না বলে শুরুতেই এগিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তবে ২০০ মিটারে বোল্ট দোর্দণ্ড প্রতাপে ফিরে আসবেন বলে ভবিষ্যদ্বাণীও করেছেন, ‘এটা উসাইনের ইভেন্ট। কারণ সেরা সময়টা তাঁর।’ পাওয়েল প্রশংসায় ভাসিয়েছেন ১০০ মিটারে জয়ী স্বদেশি ইয়োহান ব্লেককে, ‘সে দারুণ। সত্যি বলতে, দৌড়ের আগে আমি জানতাম না কে জিতবে।’ ফলস স্টার্টের নিয়ম সম্পর্কে পাওয়েল বলেছেন, ‘আমিও এই নিয়মটা পছন্দ করি না। কিন্তু আগেরটির চেয়ে এটা ভালো।’

পাঁচ বছর পর...

বাংলাদেশ দল এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে ১৬টি। অথচ দেশের মাটিতে খেলেছে শুধু প্রথম ম্যাচটাই! ২০০৬ সালের নভেম্বরে খুলনায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওই ম্যাচের প্রায় পাঁচ বছর পর বাংলাদেশ দল দেশের মাটিতে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজে।
এফটিপি অনুযায়ী, আগামী অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে শুধু তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টেস্টই ছিল। তবে বিসিবির অনুরোধে একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচও খেলতে রাজি হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড।
টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের মাত্র তিনটি জয়। প্রথম ম্যাচটা জেতার পর ২০০৭ সালে নাইরোবিতে কেনিয়া এবং এরপর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। সর্বশেষ ১২টি ম্যাচেই টানা হেরেছে বাংলাদেশ দল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ঢাকায় আসবে আগামী ৪ অক্টোবর।

সীমান্তের ওপারেই আর্জেন্টিনা

মাত্র ১৭ জন অশ্বারোহী সৈন্যসহ ইখতিয়ারউদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি এসে বঙ্গ বিজয় করেছিলেন। সেটা ত্রয়োদশ শতাব্দীর কথা। প্রায় আট শ বছর পর এক আর্জেন্টাইন কাল বঙ্গ বিজয় অভিযানে এলেন ঠিক ১৭ জন সঙ্গী নিয়ে। পৌঁছে গেলেন সীমান্তের ওপারে, কলকাতায়। ইনি আলেজান্দ্রো সাবেলা। আজের্ন্টিনা ফুটবল দলের কোচ। না, বখতিয়ার খিলজির মতো আক্ষরিক অর্থেই রাজ্যজয়ের নেশা তাঁর নেই। নিজেদের বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের প্রাক-প্রস্তুতি যদিও মূল লক্ষ্য, তবু দুই বাংলার ফুটবল মানসও তিনি জিততে চাইবেন। আর্জেন্টাইন ফুটবলের সৌরভ কলকাতার পর ঢাকায়ও ছড়িয়ে দিতে চাইবেন ডিয়েগো ম্যারাডোনার উত্তরসূরি। মঞ্চটা একেবারেই সাজানো। আগামী শুক্রবার ভেনেজুয়েলার সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলে পরদিন সকালেই মেসিদের নিয়ে সাবেলা উড়ে আসবেন ঢাকায়। যেখানে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ৬ সেপ্টেম্বর প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি নাইজেরিয়া—আফ্রিকার সুপার ইগলস।
এত দিন বাংলাদেশ শুধু ঘরে ঘরে আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা পতাকা উড়িয়েছে। ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে মনের বেদিতে বসিয়ে ভালোবাসার ফুল দিয়ে এসেছে। মেসি-মেসি রবে চায়ের কাপে তুলেছে ঝড়। তবে এটি এখন আর ও রকম স্বপ্নে বা ফ্যান্টাসিতে আটকে থাকছে না। ম্যারাডোনার স্মৃতিধন্য, মেসির জাদুমণ্ডিত আর্জেন্টিনা ফুটবল দল সত্যি এসে যাচ্ছে বাংলাদেশে।
আগের দিন সবার আগে এসেছেন পাঁচজন, কোচসহ আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের ১৭ জনের কলকাতায় আসার খবর বাংলাদেশ কাল পেয়ে গেছে সাতসকালেই। মেসি-মাচেরানোসহ ১৭ জনের বাকি দলটি পৌঁছাবে আগামীকাল ও পরশু। কাল রাতে স্প্যানিশ লিগে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে বার্সেলোনার তারকা মেসি সতীর্থ মাচেরানোকে নিয়ে পৌঁছাবেন আগামীকাল।
ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে বসে দুপুরে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন যখন আর্জেন্টিনার অগ্রবর্তী দলের কলকাতায় পৌঁছানোর খবরটি আবার জানালেন, তাঁর মুখে একটা বিজয়ের হাসি ছিল। বিজয়ই তো, গৌরবময় বিজয়ের ঘোষণা। কে কবে ভেবেছে, এই ঢাকার মাঠে আর্জেন্টিনা দলের পদচিহ্ন পড়বে! ওই অসম্ভব ভাবনাটি এখন বাস্তব।
তবে সালাউদ্দিনের মুখে একটু মেঘমেদুর অনিশ্চয়তাও ছিল! আর্জেন্টিনার অনুশীলনের ব্যাপারটি চূড়ান্ত ছিল না। মেসিদের একটা উন্মুক্ত সেশন টিকিটের বিনিময়ে দর্শকদের উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা করে রেখেছিল বাফুফে, ৪ সেপ্টেম্বর তাদের আনুষ্ঠানিক নৈশভোজটাও রাখা হয়েছিল চূড়ান্ত করে। কিন্তু ম্যাচের নিশ্চয়তা ছাড়া আর্জেন্টিনার আর কোনো কিছু নিয়েই আয়োজনের অনুঘটক কলকাতাভিত্তিক এজেন্ট সেলিব্রেটি ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ জানাতে পারছিল না। উড়ো খবর ছিল, আর্জেন্টিনা ৫ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকায় এসে পরদিন ম্যাচ খেলেই ফিরে যাবে। কাল সন্ধ্যায় সালাউদ্দিন কলকাতায় সিএমজির সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছেন, আর কোনো সমস্যা নেই। আর্জেন্টিনা ৪ সেপ্টেম্বর ফতুল্লা স্টেডিয়ামেই অনুশীলন করবে। সবকিছু হবে চুক্তি অনুযায়ীই। অনুশীলনের টিকিট বিক্রি করতেও এখন বাধা নেই।
নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, চুক্তিটি ৩৮ লাখ মার্কিন ডলারের। চুক্তি অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা দল ৪ সেপ্টেম্বর উন্মুক্ত অনুশীলন করবে, পরদিন করবে রুদ্ধদ্বার অনুশীলন, যোগ দেবে আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে। আর এর বাইরে তাদের নিয়ে যাওয়া হবে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে। তাহলে অন্য রকম খবর এল কেন? ফতুল্লা স্টেডিয়ামের দূরত্ব ও যানজটের আশঙ্কা আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ জুলিয়ান কামিনোর মনে অনুশীলনের ব্যাপারে ঢুকিয়ে দিয়েছিল নেতিবাচক চিন্তা। তবে সরকারি সহযোগিতার কথা বলে সেটি শেষ পর্যন্ত দূর করে দিয়েছেন সালাউদ্দিন।
এমনটাই হওয়ার কথা; প্রীতি ম্যাচ নিয়ে বাফুফে ভবনে ঈদের আগেই ছড়িয়ে পড়েছে ঈদের আমেজ। কর্মকর্তাদের ছোটাছুটি, পাতি কর্মকর্তাদের সুযোগসন্ধানী উঁকিঝুঁকি লক্ষণীয়। বাফুফে সভাপতি অবশ্য আয়োজন শেষ হওয়ার আগে হাসতে পারছেন না, ‘ধরেই রেখেছি, সাত-আট কোটি টাকা ক্ষতি হবে। এখন পৃষ্ঠপোষকদের (বেক্সিমকো) ক্ষতিটা যথাসম্ভব কম রাখতেই দৌড়ঝাঁপ করছি।’

হ্যাটট্রিকে শুরু রোনালদোর

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কি লিওনেল মেসিকে বার্তা পাঠালেন—এ মৌসুমেও পিচিচি ট্রফি (সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার) আমারই হতে চলেছে! রিয়াল মাদ্রিদও বার্তা পাঠাল বার্সেলোনাকে—এবার কিন্তু আমরা তোমাদের কর্তৃত্ব খর্ব করতে প্রস্তুত!
পরশু স্প্যানিশ লিগে রোনালদো আর রিয়ালের শুরুটা এ কথাই বলে। গত মৌসুমে যেখানে শেষ করেছিলেন, রোনালদো নতুন মৌসুমটা শুরু করলেন ঠিক সেখান থেকেই। গত মৌসুমে ৬টি হ্যাটট্রিক করেছিলেন, এবার রোনালদো শুরুই করলেন হ্যাটট্রিক দিয়ে। তাঁর জাদুতে রিয়াল মাদ্রিদ ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াল জারাগোজাকে। ১৯৯৫ সালের পর প্রতিপক্ষের মাঠে মৌসুম শুরুর ম্যাচে এই প্রথম ৪ বা এর বেশি গোলে জিতল রিয়াল।
হোসে মরিনহোর রিয়াল মাদ্রিদ মন ভরানো ফুটবল খেলে না, খেলে জয়ের জন্য—গত মৌসুমে মরিনহো রিয়ালের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই চলছে এই সমালোচনা। এই বদনাম ঘোচাতেই কি না, জারাগোজার মাঠে রিয়াল পসরা সাজিয়েছিল আক্রমণাত্মক ফুটবলের। জারাগোজাকে ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অসাধারণ ফুটবল প্রদর্শনীর দর্শক বানিয়ে রেখেছিল মরিনহোর দল।
ম্যাচ শেষে মরিনহোও গেয়েছেন ভালো ফুটবলের জয়গান, ‘জিততে হলে আপনাকে ভালো খেলতে হবে। মাদ্রিদে অন্তত এটা হয়। আমরা যদি এই স্কোরলাইনে জিতি, তাহলে বলতে হবে একটি ভালো ম্যাচই কেটেছে আমাদের।’ মৌসুমটা দারুণভাবে শুরু করতে পারার আনন্দের কথাও বলেছেন রিয়ালের পর্তুগিজ কোচ, ‘জয় পাওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, গত মৌসুম প্রথম ম্যাচ থেকে মাত্র ১ পয়েন্ট পেয়েছিলাম আমরা, আর এবার পেলাম ৩ পয়েন্ট।’
জারাগোজার জালে গোলবন্যার শুরু করেছেন গত মৌসুমে রেকর্ড ৪০ গোল করে পিচিচি ট্রফি জেতা রোনালদো। তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ রিয়ালের দল হয়ে খেলতে পারাটাই, ‘আমাদের একে অপরকে শুভেচ্ছা জানানো উচিত। কারণ, আমরা দারুণ খেলেছি। আমি আমার গোলের জন্য সতীর্থদের ধন্যবাদ জানাই। তারা আমাকে সাহায্য করেছে এবং আমিও তাদের সাহায্য করেছি। আমরা সত্যিকারের এক দল এবং এভাবেই লা লিগা জিতব।’
রিয়ালের পক্ষে বাকি তিনটি গোল করেছেন মার্সেলো, জাবি আলোনসো এবং বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা কাকা।

স্পিনই হবে নির্ধারক

মুত্তিয়া মুরালিধরন এখন কোথায়? কিংবা শেন ওয়ার্ন, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট অথবা চামিন্ডা ভাস? না, ঈদ পুনর্মিলনী জাতীয় কিছুর জন্য খোঁজ পড়েনি তাঁদের। ২০০৪ সালের পর আজ যখন শ্রীলঙ্কায় আবারও স্বাগতিকদের মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া, একটা সময়ে দুই দলের ট্রেডমার্ক হয়ে থাকা ক্রিকেটারদের কথা মনে পড়াই স্বাভাবিক।
আগামীকাল থেকে শুরু গল টেস্টে শ্রীলঙ্কার বেশি মিস করার কথা মুরালিধরনকেই। এ মাঠে ১৫ টেস্ট খেলে পেয়েছেন ১১১ উইকেট—গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামও কম পয়মন্ত ছিল না বিশ্বসেরা এই অফ স্পিনারের জন্য। মুরালি নেই, নেই শ্রীলঙ্কার মাটিতে দুই দলের সর্বশেষ টেস্টে ৫ উইকেট নেওয়া ভাসও। সম্প্রতি লাসিথ মালিঙ্গাও টেস্ট খেলা ছেড়ে দিয়েছেন। স্থানীয় মিডিয়ার খবর, তাঁর মত বদলানোর চেষ্টা চলেছে। কারণটা অনুমেয়, মালিঙ্গাকে ছাড়া শ্রীলঙ্কার বোলিং আক্রমণ এখন অনেকটাই ধারহীন।
অধিনায়ক তিলকরত্নে দিলশান তবুও আশাবাদী। আশার কারণ, স্কোয়াডে তিনি ছাড়াও স্পিনার আছেন চারজন—অজন্তা মেন্ডিস, সুরাজ রণদিভ, রঙ্গনা হেরাথ ও সেকুগে প্রসন্ন। এদের মধ্যে শেষের জন আছেন অভিষেকের অপেক্ষায়, তবে প্রথম তিনজনের মিলিত টেস্টসংখ্যা ৪৬ টেস্ট। উপমহাদেশের কন্ডিশনে অস্ট্রেলিয়াকে বিপদে ফেলতে স্পিনের চেয়ে বড় অস্ত্র আর কী হতে পারে! তবে শুধু স্পিনারদের দিকে তাকিয়ে না থেকে স্বাগতিক অধিনায়ক কিছু চাচ্ছেন ব্যাটসম্যানদের কাছেও, ‘আমাদের বোলিংয়ে অনেক বৈচিত্র্য আছে। তবে অস্ট্রেলিয়ানদের চাপে ফেলতে স্কোরবোর্ডেও আমাদের ভালো রান তুলতে হবে। সাফল্যটা নির্ভর করবে আমরা কীভাবে ব্যাট করি তার ওপর।’
অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়কের কাছেও ব্যাপারটা তা-ই। যদিও সাফল্যের মন্ত্রটাকে আরও নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন মাইকেল ক্লার্ক। ‘আমার মনে হচ্ছে, উইকেটে ভালোই স্পিন ধরবে। স্পিন বোলিংটা কীভাবে খেলা হলো, দুই দলের সাফল্যে সেটাই বড় ভূমিকা রাখবে’—শেষ ওয়ানডের পর বলেছিলেন মাইকেল ক্লার্ক। স্পিন আক্রমণে শ্রীলঙ্কার চেয়ে অনেক পিছিয়ে অস্ট্রেলিয়া। বাঁহাতি স্পিনার মাইকেল বিয়ার এর আগে টেস্ট খেলেছেন মাত্র একটা, অফ স্পিনার নাথান লিওন তো এখনো টেস্টই খেলেননি!
তিন টেস্টের এই সিরিজ শ্রীলঙ্কার স্পিনারদের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের লড়াই যেমন, নিজেদের সঙ্গেও লড়বেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ও বর্তমান অধিনায়ক রিকি পন্টিং ও মাইকেল ক্লার্ক। অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর এটা যেমন পন্টিংয়ের প্রথম টেস্ট, অস্ট্রেলিয়া দলের পূর্ণকালীন নেতৃত্ব পাওয়ার পর প্রথম টেস্ট ক্লার্কেরও। তাঁদের জন্য এই সিরিজ নিজেদের ফিরে পাওয়ার উপলক্ষ। টেস্টে তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের (১২,৩৬৩) মালিক পন্টিং গত ২০ ইনিংসে সেঞ্চুরি পাননি একটিও। আর ক্লার্ক সর্বশেষ সেঞ্চুরি করেছিলেন গত বছর মার্চে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েলিংটনে। পরের ১০ টেস্টে থেকেছেন সেঞ্চুরিবিহীন। ৩-২-এ জেতা ওয়ানডে সিরিজে দুটি করে ফিফটি করে ফর্মের প্রমাণ দিয়েছেন দুজনই। ক্লার্ক তো এরপর প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরিও করেছেন।
গত জানুয়ারিতে নিজেদের মাটিতে খেলা সর্বশেষ সিরিজে ইংল্যান্ডের কাছে ৩-১-এ হেরেছে অস্ট্রেলিয়া। গত আট টেস্টে জয় ওই একটাই, বাকি সাত টেস্টের ছয়টিতেই হার। র‌্যাঙ্কিংয়ের ৫ নম্বরে চলে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া দলের জন্যই আসলে শ্রীলঙ্কা সিরিজটা আবার মাথা তুলে দাঁড়ানোর উপলক্ষ।
পারবে তো অস্ট্রেলিয়া?

সামনের দিকে তাকিয়ে বোল্ট

বর্তমানের ঘটনা এক মুহূর্ত পরই অতীত। পরশু সন্ধ্যায় দেগুর ট্র্যাকে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাও বোল্টের কাছে এখন অতীত। পেছনের দিকে তাকিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট করার মানুষ বোল্ট নন। তাই বলছেন, অতীত নিয়ে তিনি ভাবতে চান না। আগামী শুক্রবারই তাঁর আরেক ইভেন্ট ২০০ মিটার দৌড়। ইতিহাসের দ্রুততম মানব বরং প্রত্যাশার দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছেন সেদিকেই।
অনাকাঙ্ক্ষিত এক ট্র্যাজেডির শিকার হয়ে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়ছেন বোল্টও। প্রবল আত্মবিশ্বাস নিয়ে ট্র্যাকে নামা বোল্ট যখন ৫ নম্বর লেনটিতে দাঁড়িয়ে কাটা পড়লেন ফলস স্টার্টের ফাঁদে; পুরো গ্যালারি তখন স্তব্ধ, বিস্ময়ে হতবাক! আর বোল্ট? সঙ্গে সঙ্গেই গায়ের জার্সিটা নিক্ষেপ করলেন ট্র্যাকে! এতেও মনের ক্ষোভ, হতাশা না মেটায় দুহাত মাথায় তুলে তাকালেন আকাশের দিকে। ট্র্যাক থেকে বেরিয়ে গিয়ে মাথা কুটলেন দেয়ালে। কথা বলার শক্তিটাও ছিল না। ট্র্যাক ছেড়ে যাওয়ার সময় তাৎ ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শুধু জানিয়ে দেন, ধাতস্থ হতে তাঁর কিছুটা সময় প্রয়োজন।
সেই প্রয়োজনীয় সময়টা ১৮ ঘণ্টা। ট্র্যাকের ওই ট্র্যাজেডির ঠিক ১৮ ঘণ্টা পর জানা গেল বোল্টের প্রতিক্রিয়া, যা বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছে তাঁর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা দল। বোল্ট বলেছেন, ‘প্রথমত আমি অভিনন্দন জানাই আমার সতীর্থ ইয়োহান ব্লেক এবং অন্য অ্যাথলেটদের, যারা পদক জিতেছে।’ অলিম্পিক ও বিশ্ব রেকর্ডধারী স্প্রিন্টার এর পরই বলেছেন, ‘অবশ্যই ফলস স্টার্টের কারণে আমার শিরোপা ধরে রাখার সুযোগ নষ্ট হওয়ায় আমি খুব হতাশ। আমি আগের রাউন্ডগুলোতে দারুণ বোধ করছিলাম, ফাইনালে দ্রুত দৌড়ানোর জন্যও প্রস্তুত ছিলাম। এই চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য প্রস্তুতি নিতে আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি এবং সবকিছু ইতিবাচকই ছিল।’
১০০ মিটারের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেলেও দেগুতে বোল্ট-জাদু দেখার সুযোগ ফুরিয়ে যায়নি। আগামী শুক্রবারই ২০০ মিটার, এরপর আছে ৪১০০ মিটার রিলে। এই দুটি ইভেন্ট ছাড়িয়ে বোল্টের দৃষ্টি প্রসারিত বাকি মৌসুমের দিকেও, ‘যাই হোক, আমি এখন অতীত নিয়ে ভাবতে চাই না। শুক্রবারের ২০০ মিটারের দিকে মনোযোগ দিতে এবং প্রস্তুতি নিতে আমার হাতে কয়েকটা দিন সময় আছে। এর পরই আছে ৪১০০ মিটার এবং মৌসুমের শেষ দিকেও কয়েকটি দৌড় আছে। আমি জানি, আমি এখন দারুণ অবস্থায় আছি এবং আমার সব মনোযোগ এখন ২০০ মিটারে ভালোভাবে দৌড়ানো।’
বোল্ট মুখ বন্ধ রাখলেও পরশুর ওই ঘটনার পর অনেকেই ফলস স্টার্টের নিয়মটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বোল্টকে জানিয়েছেন সমবেদনা। বোল্টও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জানিয়েছেন কৃতজ্ঞতা, ‘আমাকে শুভেচ্ছা পাঠানোয় সবাইকে ধন্যবাদ। আপনারা গর্ব করতে পারেন ২০০ মিটারে এমন কিছু করার চেষ্টাই করব আমি।’
একবার ফলস স্টার্ট করলেই বাদের নিয়মটা চালু হয়েছে ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে বিশ্বের সেরা স্প্রিন্টার এই নিয়মের বলি হওয়ার পর এটির পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। তবে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন (আইএএএফ) জানিয়েছে, এ রকম কোনো চিন্তা আপাতত নেই, ‘নিয়ম নিয়মই। এই মুহূর্তে এটাই নিয়ম। আমি যতদূর জানি, পরিষদের আগামী সভায় (দেগু চ্যাম্পিয়নশিপ শেষে) বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে না।’ বোল্টের বিষয়টি ‘হতাশাজনক’ মন্তব্য করে আইএএএফের মুখপাত্র এরপর যোগ করেছেন, ‘বোল্টের এখনো ২০০ মিটার ও ৪১০০ মিটার আছে। আর বিষয়টি নিয়ে কথা বলার আগে আরও সময় দরকার। যেসব মন্তব্য আসছে, সবই তাৎ ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে আরও সময় প্রয়োজন।’
নিয়ম সবার জন্যই সমান। ওই মুখপাত্রের দাবি, বোল্টের বাদ পড়ার মধ্য দিয়ে এটাও প্রমাণিত হয়েছে।

কোচ নির্বাচনে পিসিবির বিশেষ কমিটি

জিম্বাবুয়ে সফরের পরপরই পাকিস্তান দলের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন ওয়াকার ইউনুস। স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি কিছুদিন আগেই ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি আর পাকিস্তান দলের কোচ থাকছেন না।
এরপর থেকেই জল্পনা-কল্পনা কে হচ্ছেন পাকিস্তান দলের পরবর্তী কোচ। কেউ কেউ বিদেশি কোচের কথাও বলছেন। তবে, ওয়াকারের উত্তরসূরি বিদেশি হবেন, নাকি খাঁটি পাকিস্তানি হবেন, তা নির্ধারণ করতে সাবেক ক্রিকেটারদের সমন্বয়ে পিসিবি একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছে। সাবেক অধিনায়ক ইন্তিখাব আলমের নেতৃত্বাধীন এই কমিটির অপরাপর সদস্যরা হলেন, জহির আব্বাস, নওশাদ আহমেদ ও রমিজ রাজা।
এদিকে, পিসিবি সূত্রের বরাত দিয়ে ইএসপিএন জানিয়েছে, বিদেশিদের মধ্যে পাকিস্তানের কোচ হওয়ার তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক কোচ ডেভ হোয়াটমোর। হোয়াটমোরের কোচিংয়ে শ্রীলঙ্কা ১৯৯৬ সালে বিশ্বকাপ জয় করে। ২০০৭ সালে বাংলাদেশ বিশ্বকাপের সুপার সিক্সে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।
হোয়াটমোর অবশ্য বর্তমানে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁকে পিসিবির পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি ভারতের লোভনীয় চাকরি ছেড়ে সন্ত্রাস কবলিত, অনিরাপদ পাকিস্তানে চাকরি করতে আসবেন কিনা-তা অবশ্য জানা যায়নি।
হোয়াটমোর ছাড়াও পিসিবির সংক্ষিপ্ত তালিকায় রয়েছেন আকিব জাভেদ। নব্বইয়ের দশকে পাকিস্তান দলের অন্যতম সুদর্শন এই তারকা পেসার বেশ কয়েক বছর ধরেই পাকিস্তানের বয়সভিত্তিক দলগুলোর কোচিংয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি এবছরের বিশ্বকাপে ওয়াকার ইউনুসের ডেপুটি হিসেবে কাজ করেছিলেন। অবস্থা দৃষ্টে নাকি আকিব জাভেদেরই কোচ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়কের পদ যেমন ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’, কোচের পদও ঠিক তাই। বিদেশি কোচদের কারও এই দলটির সঙ্গে কাজ করে সুন্দর অভিজ্ঞতা হয়নি। বব উলমারতো দলের সঙ্গে থেকেই ইহলোক ত্যাগ করলেন। তাঁর মৃত্যুটি হয়তো রহস্যাবৃত হয়েই থাকবে।
রিচার্ড পাইবাস ছিলেন পাকিস্তানের প্রথম বিদেশি কোচ। ১৯৯৯ সালে পাইবাসের অধীনেই পাকিস্তান দল বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছিল। তবে তাঁর বিদায়টিও সুখের হয়নি।
এরপর এসেছিলেন অসি কোচ জিওফ লসন। চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে বিদায় জানানো হয়েছে।
গত বছর কোচ হওয়ার জন্য সাবেক অস্ট্রেলীয় গ্রেট ও ভারতের সাবেক কোচ গ্রেগ চ্যাপেলকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে, পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই কিনা তিনি সেই প্রস্তাবে কোনও আগ্রহ দেখাননি।

দুঙ্গা এখন কাতারে

২০১০ সালের বিশ্বকাপ ব্রাজিল যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব ভুলে যেতে চাইবে। ব্রাজিলের আগেও ফুটবলের সর্বশেষ বিশ্বকাপ ভুলে যেতে চাইবেন দুঙ্গা। কোয়ার্টার ফাইনালে হল্যান্ডের কাছে পরাজয় নিয়ে নয়, কোচ দুঙ্গার বিপক্ষে অভিযোগ ছিল ব্রাজিলীয় ফুটবলের ধ্রুপদি ছন্দে পতন ঘটানোর। বিশ্বকাপের পরপরই কোচের পদ থেকে বিদায় করে দেওয়া হয় তাঁকে। অথচ এই দুঙ্গাই ১৯৯৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ে ছিলেন ‘সাম্বা’দের অধিনায়ক। ১৯৭০ সালে জুলেরিমে ট্রফির পর ২৪ বছর পর ব্রাজিলীয় অধিনায়ক হিসেবে তিনিই প্রথম হাত রেখেছিলেন হালের ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফিতে।
সেই দুঙ্গা বিশ্বকাপের পর থেকেই হন্যে হয়ে চাকরি খুঁজছিলেন। বিশ্বকাপ শেষে এক বছরেরও বেশি সময় পর তিনি একটি চাকরি খুঁজে পেলেন। ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক অধিনায়ক দুঙ্গা এখন কাতারের আল-রাইয়ান ক্লাবের কোচ।
একটি বার্তা সংস্থার সঙ্গে আলাপকালে আল-রাইয়ান ক্লাবের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘দুঙ্গাই আল-রাইয়ানের নতুন কোচ।’
আল-রাইয়ানের বিদায়ি কোচ পাওলো আউতোরি কাতার অলিম্পিক দলের দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে দুঙ্গার নাম প্রস্তাব করেন।
কাতারের এই ক্লাবটির কোচের দায়িত্ব নিয়ে বড় ধরনের একটি চ্যালেঞ্জেরই সম্মুখীন হতে হচ্ছে দুঙ্গাকে। কারণ, ১৯৯৫ সালের পর আল-রাইয়ান কাতারের পেশাদারি লিগের কোনও শিরোপা জেতেনি। দলটিকে হারানো গৌরব এনে দেওয়ার দায় এখন দুঙ্গারও।

ইন্টার মিলানে যাচ্ছেন ফোরলান

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ও স্প্যানিশ লিগের পর এবার ইউরোপিয়ান ফুটবলের আরেকটি বড় আসর ইতালিয়ান লিগে খেলার অভিজ্ঞতাও নিজের ঝুলিতে ভরতে যাচ্ছেন ডিয়েগো ফোরলান। স্প্যানিশ ক্লাব অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে চারটি মৌসুম কাটানোর পর এবার ইতালিয়ান জায়ান্ট ইন্টার মিলানে পাড়ি জমাচ্ছেন এই উরুগুয়ের স্ট্রাইকার। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবেই এই দলবদলের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
২০০৭ সালে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে যোগ দিয়েছিলেন ফোরলান। এরপর ১৩৪ ম্যাচ খেলে ৭৪টি গোল করেছিলেন এই স্প্যানিশ ক্লাবটির জার্সি গায়ে। ২০০৯-১০ মৌসুমে অ্যাটলেটিকোকে ইউরোপা লিগ শিরোপাও জিতিয়েছিলেন গত বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল জয়ী এই ফুটবলার। এখন নিজের ফুটবল ক্যারিয়ারটা পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যেই এই দলবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ৩২ বছর বয়সী ফোরলান। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘বিদায় নেওয়াটা সবসময়ই খুব কঠিন। কারণ স্প্যানিশ লিগে আমি অনেকদিন ধরে খেলেছি। প্রথমে ভিলারিয়ালের হয়ে তিন বছর, তারপর অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে চার বছর। এই দীর্ঘ সময় সবাই আমাকে অনেক সমর্থন দিয়েছেন। তাঁদেরকে আমি কখনো ভুলব না। নিজেকে নতুনভাবে খুঁজে পাওয়ার জন্যই আমি ইতালিতে পাড়ি জমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেখানে সবকিছুই আমার জন্য নতুনভাবে শুরু হবে। কারণ এখানে চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। ৩২ বছর হয়ে যাওয়ার পরেও আমি ইন্টার মিলানে যেতে পারব কিনা, তা নিয়ে সংশয়ে ছিলাম। তবে এখন আশা করছি আমি তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারব।’
এই মৌসুমের শুরুতেই স্যামুয়েল ইতো ও গোরান পানডেভকে হারিয়ে স্ট্রাইকার সমস্যাতেই পড়ে গিয়েছিল ইন্টার। তবে এবার ফোরলানের আগমনে হয়ত কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন কোচ পিয়েরো গাসপেরিনি। ইতিমধ্যেই দুর্দান্ত পারফরমেন্স দেখানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়ে ফেলেছেন ফোরলান। বলেছেন, ‘আমি ইন্টারের হয়ে অনেকগুলো শিরোপা জিততেই এসেছি। নতুন দলের পক্ষে সাধ্যমত ভালো খেলা ও অনেক গোল করাই আমার লক্ষ্য।

আবারও শারজায় ফিরছে টেস্ট ক্রিকেট

২০০২ সালে শারজা স্টেডিয়ামে শেষবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছিল টেস্ট ক্রিকেট। সেবার পাকিস্তান মুখোমুখি হয়েছিল তত্কালীন বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলিয়ার। ১১ বছর পর আবার সেই পাকিস্তানের হাত ধরেই টেস্ট ক্রিকেট ফিরতে যাচ্ছে মরুভূমির এই ভেন্যুতে। এবছরের অক্টোবরেই শারজাতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে পাকিস্তান। আজ এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। আট বছর পর পাঁচটি একদিনের ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে শারজাতে।
২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বাসে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গন থেকে নির্বাসিত হয়েছে পাকিস্তান। এবারও শ্রীলঙ্কা পাকিস্তানে যেতে রাজি না হওয়ায় তাদেরকে নির্ধারণ করতে হয়েছে নিরপেক্ষ ভেন্যু। দুবাই, শারজাহ ও আবুধাবির ভেন্যুগুলোর জন্য খরচ অনেক কম হয় বলে এগুলোই বেছে নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। পিসিবির কর্মকর্তা সুবহান আহমেদ বলেছেন, ‘আমাদের কাছে অনেকগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুর নাম আছে। কিন্তু এখানে খরচ অনেক কম হয়। ফলে আমরা সবকিছু ভালোভাবে চালাতে পারি।’

২৭৩ রানে গুটিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া

ওয়ানডে সিরিজটা শেষপর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে গেলেও টেস্ট সিরিজের শুরুটা ভালোভাবেই করেছে শ্রীলঙ্কা। আজ বুধবার গল টেস্টের প্রথম দিনে মাত্র ১০ ওভারের মধ্যেই দুই অসি ওপেনার শেন ওয়াটসন (২২) ও ফিলিপ হিউজকে (১২) সাজঘরে পাঠিয়েছেন লঙ্কান বোলাররা। এরপর খুব বড় কোন জুটি গড়ে তুলতে পারেন নি অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু তার মধ্যেও প্রায় একাই লড়াই চালিয়ে গেছেন মাইক হাসি। তবে শেষপর্যন্ত মাত্র ৫ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে এই বামহাতি ব্যাটসম্যনকে। ৯৫ রান করে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছে ২৭৩ রানে।
টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক। কিন্তু সপ্তম ওভারে শেন ওয়াটসনকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন রঙ্গনা হেরাথ। তিন ওভার পরে মাত্র ৩৬ রানের মাথায় আরেক ওপেনার ফিলিপ হিউজের উইকেটটাও তুলে নিয়ে অসি শিবিরকে কিছুটা চাপের মুখে ফেলে দেন সুরাঙ্গা লাকমাল। তৃতীয় উইকেটে ৫৫ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় কিছুটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন রিকি পন্টিং ও অথিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক। কিন্তু দলীয় ৯১ রানের মাথায় ক্লার্ককে এলবিডব্লিউর ফাদে ফেলেন হেরাথ। ২৩ রান করে ফিরে যান ক্লার্ক। ১০ ওভার পর আবারও অসি শিবিরকে হতাশায় ডোবান হেরাথ। তুলে নেন পন্টিংয়ের (৪৪) উইকেটও। পঞ্চম ও ষষ্ঠ উইকেটে উসমান খাজা ও ব্রাড হাডিনকে সঙ্গে নিয়ে আবারও প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন মাইকেল হাসি। যোগ করেছিলেন ৪৫ ও ৪৮ রান। কিন্তু দুজনের কেউই খুব বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেন নি হাসিকে। এরপর টানা দুই ওভারে মিচেল জনসন ও রায়ান হ্যারিসকেও সাজঘরমুখী করেন সুরাঙ্গা লাকমল। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে দিলশানের শিকারে পরিণত হয়ে বিদায় নেন হাসি।

কলকাতায় পৌঁছেছেন মেসি

হিগুয়েইন, ডি মারিয়ারা পৌঁছে গিয়েছিলেন আগেই। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টায় কলকাতায় পা রেখেছেন আর্জেন্টিনার তারকা স্ট্রাইকার লিওনেল মেসি। ভিলারিয়ালের বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচ শেষে বার্সা সতীর্থ জাভিয়ের মাচেরানোকে নিয়ে কলকাতায় পৌঁছান ফিফার বর্ষসেরা এই ফুটবলার।
মেসিকে স্বাগত জানাতে মধ্যরাতেই কলকাতার বিমানবন্দরে হুমড়ি খেয়ে পড়েন মেসি ভক্তরা। হালকা বৃষ্টির মধ্যেও মেসির ছবি ও ব্যানার নিয়ে বিমানবন্দরে আসেন তাঁরা। তবে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে বিশেষ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বাইরে নিয়ে যান কতৃপক্ষ। আগামী ২ সেপ্টেম্বর কলকাতায় ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামবেন মেসি-হিগুয়েইন-মাচেরানোরা।

প্রথম ইনিংসে বিধ্বস্ত শ্রীলঙ্কা

গল টেস্টের প্রথম দিনে অস্ট্রেলিয়াকে ২৭৩ রানে গুটিয়ে দিয়ে শুভসূচনার ইঙ্গিত দিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু আজ দ্বিতীয় দিনে ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ের শিকার হয়েছে স্বাগতিকরাও। অভিষিক্ত স্পিনার নাথান লিয়ন ও শেন ওয়াটসনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ১০৫ রানেই গুটিয়ে গেছে তারা। মাত্র ৩৫ রানের বিনিময়ে ৫টি উইকেট নিয়েছেন লিয়ন।
আজ দিনের শুরুতেই দ্বিতীয় ওভারে কোপল্যান্ডের শিকারে পরিণত হন অধিনায়ক তিলকারত্নে দিলশান। এরপর দলীয় ২৪ ও ৪৪ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান কুমার সাঙ্গাকারা ও জয়াবর্ধনে। চতুর্থ উইকেটে ৪৩ রানের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন থারাঙ্গা পারানাভিতানা ও সামারাবিরা। কিন্তু ৮৭ রানের মাথায় ওয়াটসনের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন সামারাবিরা। ঐ ওভারেই জয়াবর্ধনেকেও সাজঘরে পাঠান ওয়াটসন। তাঁর পরের ওভারে লঙ্কান সমর্থকদের হতাশায় ডুবিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন সর্বোচ্চ ২৯ রান করা পারানাভিতানা। বাকি চারটি উইকেট খুব সহজেই তুলে নেন অফস্পিনার লিয়ন। একে একে ফেরত পাঠান অ্যাঙ্গেলা ম্যাথিউ, রঙ্গনা হেরাথ, সুরজ রনদীভ ও চানাকা ওয়েলেগেদারাকে। প্রথম ইনিংসে অস্টেলিয়ার থেকে ১৭০ রানে পিছিয়ে রয়েছে লঙ্কানরা।

ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে ঘটনাবহুল দিন

ব্রাজিল ফুটবলের এক ঘটনাবহুল দিন গেল গত পরশু। সাও পাওলোর দুই ক্লাব পালমেইরাস ও করিন্থিয়ানস সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন পালমেইরাসের দুই সমর্থক। অন্যদিকে ভাস্কো দা গামা ক্লাবের কোচ রিকার্ডো গোমেজ ম্যাচ চলাকালে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন।
দুই সমর্থকের মধ্যে একজনের কোমরে লেগেছে গুলি। তাঁর অবস্থা গুরুতর। অন্যজনের পায়ে গুলি লেগেছে। পুলিশ এ খবর জানালেও বলতে পারেনি কারা গুলি করেছে। তবে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ে পরে ছত্রভঙ্গ করে দেয় সংঘর্ষে জড়ানো সমর্থকদের। ম্যাচ শুরুর আগে ঘটে এ ঘটনা। ম্যাচে পালমেইরাস জিতেছে ২-১ গোলে।
ব্রাজিলের সাবেক জাতীয় ফুটবলার রিকার্ডো গোমেজ স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করানো হয়। এর আগে গত বছরও গোমেজের একটি ছোটখাটো স্ট্রোক হয়েছিল। বিশ্বকাপ খেলা এই ফুটবলার তখন ছিলেন সাও পাওলোর কোচ।