Thursday, August 6, 2026
নেতানিয়াহুর আপত্তি, ঝুঁকিতে ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা
যদিও গত সপ্তাহেই ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তাঁর শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটি ‘বড় মাইলফলক’ অর্জিত হয়েছে। এই পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েলও নাকি ‘খুবই সন্তুষ্ট’। গত অক্টোবরে নীতিগতভাবে সম্মত ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী, হামাস অস্ত্র সমর্পণ করবে। আর ধাপে ধাপে গাজা থেকে সেনা সরাবে ইসরায়েল।
সেই পরিকল্পনার ঘোষণার আসার পরই দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে জটিলতা দেখা দেয়। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, হামাস অস্ত্র সমর্পণ না করা পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করবে না। হামাস বলেছে, ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহার ও হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্র ছাড়বে না তারা।
তবে নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে ইসরায়েলের এমন অবস্থান জানানোর পর গতকাল বুধবার রাত পর্যন্ত এ নিয়ে হামাসের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও নতুন কিছু বলেননি।
গাজা থেকে সেনা সরাবে না ইসরায়েল
প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার প্রথমবার প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, কথিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর শর্তে ইসরায়েল রাজি হয়নি। হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজায় বর্তমান অবস্থান থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না। তবে চুক্তির শর্ত চূড়ান্ত করতে আলোচনা চলবে।
ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসন তদারকির জন্য বোর্ড অব পিস গঠন করা হয়েছে। এর আগে সোমবার ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন বোর্ড অব পিসের প্রধান দূত নিকোলাই স্লাদেনভ। বৈঠকের পরদিন ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা নিয়ে এ কথা বললেন নেতানিয়াহু।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বা তাঁর দল মনে করছে, তারা হামাসকে নিরস্ত্র এবং গাজার বেসামরিকীকরণ করতে পারবে। আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। একটি খসড়া পাঠিয়েছিল। আমরা তাতে সম্মতি দিইনি। সেটি আমাদের খসড়া ছিল না। আমরা মন্তব্য জানিয়ে তা ফেরত পাঠিয়েছি।’
প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর গাজায় ‘ইয়েলো লাইন’ নামে পরিচিত একটি সীমারেখায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। এটি হলে গাজার ৪৭ শতাংশ এলাকা ফিলিস্তিনিদের ও ৫৩ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকত। কিন্তু ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের বদলে ইসরায়েল উল্টো গাজায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়িয়েছে। এখন তারা গাজার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে।
ইসরায়েল যে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে চায় না নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার সদস্যরাও সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ রোববার বলেছেন, হামাসকে নিরস্ত্র ও তাদের সুড়ঙ্গগুলো ধ্বংস না করা পর্যন্ত গাজায় অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনারা তাঁদের বর্তমান অবস্থান থেকে সরে যাবেন না।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, পরিকল্পনাটি ট্রাম্পের হওয়ায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন নেতানিয়াহু। তিনিও গাজা থেকে সেনা সরাতে চান না। আর প্রস্তাবিত এ চুক্তি প্রত্যাখ্যানে কট্টর ডানপন্থী জোটসঙ্গীদের চাপে আছেন নেতানিয়াহু। কারণ, অক্টোবরে ইসরায়েলে যে নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে ডানপন্থীরা তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
![]() |
| গাজা সিটিতে আল-মুত্তাকিন মসজিদে ইসরায়েলি হামলার পর ধোঁয়া ও আগুনের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন কয়েকজন ফিলিস্তিনি নাগরিক। ২৮ জুলাই ২০২৬ ছবি: এএফপি |
Friday, July 10, 2026
গাজা ইস্যুতে ক্ষমা চাইলেন যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম
বার্নহ্যাম চলতি মাসের শেষ দিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবি করেছিলেন তিনি। তখন এ নিয়ে লেবার নেতা কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হয়।
সামাজিকমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘গাজায় যা ঘটেছিল, সে বিষয়ে লেবার পার্টির প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া অনেক মানুষকে কষ্ট দিয়েছে। আমরা ভুল করেছি এবং আমি এর জন্য দুঃখিত।’
এক ভিডিও বার্তায় ইসরাইলে হামাসের হামলা এবং যুক্তরাজ্যে ইহুদিবিদ্বেষী হামলারও সমালোচনা করেন তিনি।
যুদ্ধের শুরুর দিকে কিয়ার স্টারমার পূর্ণ যুদ্ধবিরতির দাবি করেননি। তিনি শুধু মানবিক বিরতির পক্ষে ছিলেন, যাতে কিছু সময়ের জন্য যুদ্ধ থামিয়ে গাজায় খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য ত্রাণ পৌঁছানো যায়।
আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির তুলনায় মানবিক বিরতিগুলো সাধারণত স্বল্প সময়ের জন্য, কখনো কখনো মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য স্থায়ী হয় এবং দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক সমাধান অর্জনের পরিবর্তে শুধুমাত্র সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যেই এগুলো বাস্তবায়ন করা হয়।
বার্নহ্যাম বলেন, ‘আমি জানি, অনেকের কাছে মনে হয়েছে যে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের শুরুতে আমার দল ঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেনি। আমি এজন্য দুঃখিত। আমাদের আরো ভালো করতে হবে। যুক্তরাজ্য যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাতে অনেক দেরি করেছে।’
তিনি গাজায় প্রাণহানি ও মানবিক সংকটকে ‘যৌথ বিবেকের জন্য একটি ক্ষত’ বলে বর্ণনা করেন।
২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর এক সাক্ষাৎকারে স্টারমারের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ইসরাইল যদি গাজার বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, তা ঠিক হবে কি না?
তিনি জবাবে বলেন, ‘ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে।’
বার্নহ্যাম তার ভিডিওতে লেবার সরকারের নেওয়া বেশ কয়েকটি পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। এগুলো হলো: ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া, ইসরাইলি মন্ত্রী ও বসতি স্থাপনকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এবং ইসরাইলের জন্য কিছু অস্ত্র রপ্তানির লাইসেন্স সীমিত করা।
তিনি ইসরাইলের নেতানিয়াহু সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইসরাইলের উগ্রপন্থি মন্ত্রী ও বসতি স্থাপনকারীদের ওপর আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ওপর জোর দিয়েছেন।
বার্নহ্যাম বলেন, ‘আমাদের কর্মপন্থাকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। ইসরাইলি সরকার যাতে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে তা নিশ্চিত করতে এবং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে বাঁচিয়ে রাখতে আরো অনেক কিছু করা প্রয়োজন।’
ফিলিস্তিনিদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। এসব অবৈধ বসতির সাথে বাণিজ্য সম্পূর্ণ বন্ধ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করেন। বলেন, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘নেতানিয়াহুর সরকার স্পষ্টতই দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানকে অসম্ভব করে তোলার চেষ্টা করছে।’
সূত্র: বিবিসি
![]() |
| অ্যান্ডি বার্নহ্যাম |
জন্মভূমিতে চিরনিদ্রায় শায়িত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি
বৃহস্পতিবার ইমাম রেজার মাজারে দাফনের আগে শেষ জানাজা ও শোকযাত্রায় অংশ নিতে ভোর থেকেই মাজারমুখী সড়কগুলো শোকার্ত মানুষের ভিড়ে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বেশ কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানায়, বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এ হামলা পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। তবে এতেও খামেনির শোকযাত্রা থামেনি। ইরানের পবিত্র শহর কোম-এ বিশাল শোকযাত্রা শেষে মঙ্গলবার রাতেই খামেনির লাশ ইরাকের নাজাফ শহরে নেওয়া হয়।
সেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং খামেনির বড় ছেলে মোস্তাফা হোসেইনি খামেনির উপস্থিতিতে ইরাকি কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকরা কফিন গ্রহণ করেন। গত বুধবার (৮ জুলাই) নাজাফ শহরে শোকযাত্রা হয়।
নাজাফের কর্মসূচি শেষে খামেনির লাশ প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত কারবালায় নেওয়া হয়। সেখানে ইমাম হোসেনের মাজারে এবং আল-আব্বাসের মাজারে আরেকটি শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শোকযাত্রার মধ্যেই বুধবার (৮ জুলাই) রাতে ইরানে ফের হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা হামলা করে ইরানও। এমন পরিস্থিতির মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার ইরাক থেকে ইরানে নেওয়া হয় খামেনির লাশ।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।- সূত্র: রয়টার্স ও প্রেসটিভি
![]() |
| ছবি: রয়টার্স |
যুদ্ধের মাশুল ট্রাম্প কীভাবে দেবেন?
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা হলেও তা বেশিদিন টেকেনি। নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর বুধবার ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
এখন সেই যুদ্ধবিরতির চুক্তি ভেস্তে যাওয়া অধিকাংশ মার্কিন ভোটারই সমর্থন করেন না। আবার এই যুদ্ধ শুরু করা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতেও চান না। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর চার মাসেরও কম সময় বাকি। এ অবস্থায় ট্রাম্প এমন যুদ্ধে জড়িয়েছেন যা থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় তিনি দেখছেন না। ফলশ্রুতিতে রাজনৈতিক মূল্যও চুকাতে হতে পারে ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান দলকে।
নতুন করে যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। রিপাবলিকান দলের অনেক নেতা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানির দাম বাড়তে থাকলে তার প্রভাব ভোটেও পড়তে পারে।
রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের সমর্থনকারী সংগঠন রিপাবলিকান মেইন স্ট্রিট পার্টনারশিপের প্রেসিডেন্ট সারাহ চেম্বারলেইন বলেন, নির্বাচনের আগে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া তাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। কারণ ভোটারদের সবচেয়ে বড় চিন্তা এখন জীবনযাত্রার ব্যয়। তেলের দাম বাড়লে নিত্যপণ্যের দামও বাড়বে, যা নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
হোয়াইট হাউস অবশ্য ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, ট্রাম্প জনমত জরিপ দেখে সিদ্ধান্ত নেন না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন।
এদিকে সাম্প্রতিক কয়েকটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়ানোর পক্ষে নন। ফক্স নিউজের এক জরিপে ৫৮ শতাংশ ভোটার বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। একই জরিপে ৮৭ শতাংশ মানুষ দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ এড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।
ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করছেন। তাদের দাবি, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি, পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়বে এবং এর বোঝা সাধারণ মানুষকে বহন করতে হবে। তারা কংগ্রেসে 'ওয়ার পাওয়ার্স রেজ্যুলিউশন' কার্যকর করে ইরান থেকে মার্কিন বাহিনী ফিরিয়ে আনার দাবিও তুলেছেন।
অন্যদিকে ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে তিনি ইরানের নেতাদের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন। প্রয়োজনে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও তেল স্থাপনায় আরও হামলার ইঙ্গিত দেন।
তথ্যসূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
![]() |
| যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে। ছবি: রয়টার্স |
Thursday, July 9, 2026
ট্রাম্পের যৌন নিপীড়নের শিকার ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলার দিতে আদালতের নির্দেশ
এই মামলা দীর্ঘ তিন দশকের পুরোনো। সাময়িকীর সাবেক কলামিস্ট জ্যঁ ক্যারলের অভিযোগ, ১৯৯৬ সালে নিউইয়র্কের একটি বিলাসবহুল ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের চেঞ্জিং রুমে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালে ক্যারল বিষয়টি প্রকাশ্যে আনলে ট্রাম্প এটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দেন।
ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন ক্যারল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালের মে মাসে আদালতের একটি জুরিবোর্ড ক্যারলের যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলায় ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণের রায় দিয়েছিলেন।
জুরিবোর্ডের সেই রায়ের পর থেকেই ট্রাম্প নিজেকে নির্দোষ দাবি করে উচ্চ আদালতে আপিল করে আসছিলেন এবং সম্প্রতি বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।
আদালতের এই নতুন আদেশ এমন এক সময়ে এল, যখন ট্রাম্পের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের দোহাই দিয়ে এই অর্থ আটকে রাখার আবেদন করেছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের করা পুনর্বিবেচনার আবেদনটি ঝুলে থাকা পর্যন্ত যেন ক্যারলকে কোনো অর্থ না দেওয়া হয়। তবে বিচারক কাপলান সেই যুক্তি কানে তোলেননি।
আদালতের এই নতুন সিদ্ধান্তের পর জ্যঁ ক্যারলের আইনজীবীদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ট্রাম্পের আইনজীবীরা বলেছেন, তাঁরা এই আদেশের বিরুদ্ধে আবার উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
ট্রাম্প শিবিরের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাশেই আছেন। ডেমোক্র্যাটদের পয়সায় ক্যারল যে বানোয়াট নাটক সাজিয়েছেন, তার অবসান হওয়া দরকার। এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধের দাবি জানাচ্ছি আমরা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব আইনি নোংরামি রুখে দেবেন এবং দেশকে আবার মহান করার মিশনে মনোযোগ দেবেন।’
এর আগে ট্রাম্পের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দিয়েছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগপর্যন্ত এই অর্থ আটকে রাখলে ক্যারলের কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু প্রেসিডেন্টের জন্য তা অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনবে।
ট্রাম্পের আইনজীবীরা আদালতে লিখিত আবেদনে বলেন, ‘এখনই ক্যারলকে অর্থ দেওয়া হলে পরে ট্রাম্প আপিলে জিতলেও সেই অর্থ আর ফেরত পাওয়া যাবে না। কারণ, ক্যারল নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন, এই অর্থ তিনি বিভিন্ন সংস্থায় দান করে দেবেন। একবার এই অর্থ তৃতীয় পক্ষের হাতে চলে গেলে তা আর উদ্ধার করা সম্ভব নয়।’
আইনজীবীরা আরও দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় আসার আগে অর্থ আটকে রাখলে ক্যারলের কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ, দেরি হওয়ার কারণে যে ক্ষতি হবে, তা পরবর্তী সময়ে সুদের মাধ্যমেই মিটিয়ে দেওয়া যাবে।
গত সপ্তাহে ফেডারেল আদালতের রায় বাতিল করতে ট্রাম্পের করা আপিলটি খারিজ করে দেন সুপ্রিম কোর্ট। এর পরপরই ক্যারলের আইনজীবীরা নিম্ন আদালতের বিচারকের কাছে ট্রাম্পের জমা দেওয়া টাকা ছাড় করার অনুরোধ জানান। এ খবর পেয়ে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে তড়িঘড়ি করে সুপ্রিম কোর্টে আবার একটি পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জ্যঁ ক্যারলের করা দুটি মামলার মধ্যে এটি ছিল প্রথমটি। ২০২২ সালে করা দ্বিতীয় মানহানির মামলায় জুরিবোর্ড ট্রাম্পকে আরও ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার জরিমানা করেছিল। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওই রায়ের বিরুদ্ধেও তিনি চলতি মাসের শেষ নাগাদ সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন।
![]() |
| এলিজাবেথ জিন ক্যারল (ডান থেকে দ্বিতীয়) ছবি: এএফপি |
পশ্চিমবঙ্গে ‘এনকাউন্টার’ শুরু করে কি যোগী হতে চলেছেন শুভেন্দু
ভোটে জিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে শুভেন্দু অধিকারী দ্রুত সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে এগোচ্ছেন। সরকারে থিতু হওয়ার আগেই চালু হয়ে গেছে ‘বুলডোজার নীতি।’ কয়েক দিন আগে বিধানসভায় পাস হয়েছে গুন্ডা দমন আইন, যে আইনে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বিনা বিচারে ১২ মাস আটক রাখা যাবে। এবার শুরু হলো ‘পুলিশি এনকাউন্টার’।
পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের গুলিতে। পুলিশের দাবি, গভীর রাতে ঘটনার তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত প্রভাস পুলিশের রিভলবার ছিনিয়ে গুলি ছুড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ চালালে গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ নিয়ে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। কংগ্রেসসহ বিরোধীরা বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানালেও শাসক বিজেপি নির্বিকার। শাসকদলীয় নেতারা বলছেন, সরকার প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে। ভোটের প্রচারেই বলা হয়েছিল, অপরাধীদের রেয়াত করা হবে না। প্রথম সুযোগেই তা বুঝিয়ে দেওয়া হলো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, ‘বিড়াল প্রথম রাতেই মারতে হয়। তাহলেই সবার কাছে বার্তা পৌঁছায়।’
কথায় ও কাজে ফারাক না রেখে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর পদাঙ্ক অনুসরণ করলে অর্ধশতাব্দী পর পশ্চিমবঙ্গে আবার ‘এনকাউন্টার নীতির’ প্রত্যাবর্তন ঘটবে।
সত্তরের দশকে নকশালপন্থীদের দমনের নামে কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শংকর রায় পুলিশকে নির্বিচার হত্যার অনুমতি দিয়েছিলেন। মানবাধিকার রক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মানুষের মতে, সেই সময় ১৯৭০ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে ‘এনকাউন্টারে’ নিহত হয়েছিলেন ২ হাজার থেকে ৫ হাজার নকশালপন্থী তরুণ ও রাজনৈতিক কর্মী।
দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন অধ্যাপকদের এক কমিটির হিসাব অনুযায়ী, শুধু কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকাতেই ৬ হাজার নকশালপন্থীর মৃত্যু হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যাঁকে অনুসরণ করতে চাইছেন, সেই যোগী আদিত্যনাথের রাজ্য উত্তর প্রদেশ ‘এনকাউন্টারে’ এখনো এক নম্বরে। গত ১৮ মে উত্তর প্রদেশ সরকার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, ২০১৭ সালের মার্চ মাসে যোগী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্যে ১৭ হাজার ৪৩টি ‘এনকাউন্টারের’ ঘটনা ঘটেছে। এসব বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন ২৮৯ জন ‘কুখ্যাত অপরাধী’, আহত হয়েছেন ১১ হাজার ৮৩৪ জন।
অর্থাৎ, গত ৯ বছরে প্রতিদিন গড়ে উত্তর প্রদেশে ৫টি করে পুলিশি ‘এনকাউন্টারের’ ঘটনা ঘটেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই সময়ের মধ্যে ৩৪ হাজার ২৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাঁরা বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। এনকাউন্টারের ঘটনায় মোট ১৮ জন পুলিশ সদস্যেরও মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১ হাজার ৮৫২ জন।
রাজ্যের কোন অঞ্চলে কত এনকাউন্টার হয়েছে, তাতে কতজন নিহত হয়েছেন, সেই তথ্যও উত্তর প্রদেশ পুলিশ প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, মিরাট জোনে সবচেয়ে বেশি ‘কুখ্যাত অপরাধী’ নিহত হয়েছেন। এই অঞ্চলে মারা গেছেন ৯৭ জন, আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৫১৩ জন। এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটেছে ৪ হাজার ৮১৩টি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী আসন বারানসি জোনে ১ হাজার ২৯২টি পুলিশি এনকাউন্টারে মারা গেছেন ২৯ ‘কুখ্যাত অপরাধী’। আগ্রা জোন রয়েছে তৃতীয় স্থানে। সেখানে ২ হাজার ৪৯৪টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৪ জন। পুলিশের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এই তিন এলাকা ছাড়াও এনকাউন্টারের বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে লক্ষ্ণৌ, কানপুর, প্রয়াগরাজ (সাবেক এলাহাবাদ), বেরিলি ও গাজিয়াবাদ এলাকায়।
মানবাধিকার আন্দোলনকর্মী ও বিরোধীদের সমালোচনা মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে ‘এনকাউন্টার’ নীতি থেকে সরাতে পারেনি। কোনো সমালোচনার তোয়াক্কা না করে তিনি তাঁর মতো এগিয়ে চলেছেন। শুভেন্দু অধিকারীও কি সেভাবে পথে চলবেন? এই প্রশ্ন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে উঠতে শুরু করেছে।
বিরোধীরা সমালোচনায় মুখর হলেও বিজেপি নেতারা বলে চলেছেন, তৃণমূল জমানার পুনরাবৃত্তি বিজেপি আমলে হবে না। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, নারীসহ সবাইকে ভোটের আগে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিল ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’। সরকার সেই নীতিই অনুসরণ করছে। করবেও। অপরাধীদের রেয়াত করা হবে না।
বিজেপি নেতারা আরও একটা কথা বলছেন। সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে তাঁরা বলছেন, ভয় তাঁদেরই পাওয়ার কথা যাঁরা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। যাঁরা শান্তিপ্রিয়, নিরপরাধ তাঁদের ভয় পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
![]() |
| শুভেন্দু অধিকারী ও যোগী আদিত্যনাথ। ফাইল ছবি: এএনআই |
Tuesday, July 7, 2026
কে হতে পারে ইসরায়েলের পরবর্তী শত্রু by জসিম আল-আজাবি
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ইহুদি সংগঠনগুলোর প্রেসিডেন্টদের সম্মেলনে ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বলেন, ‘তুরস্কই হলো নতুন ইরান।’ আগামী নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বেনেট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
সেদিন আরও এক ধাপ এগিয়ে বেনেট অভিযোগ করেন, আঙ্কারা (তুরস্ক) মূলত ‘সৌদি আরবকে আমাদের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলার চেষ্টা করছে এবং পারমাণবিক শক্তিসমৃদ্ধ পাকিস্তানের সঙ্গে মিলে একটি বৈরী সুন্নি অক্ষ গড়ে তুলছে।’
এর মাত্র পাঁচ দিন পর নেতানিয়াহুও প্রায় একই সুর ধরেন। তিনি ভারত, গ্রিস ও সাইপ্রাসকে নিয়ে একটি ‘ষড়্ভুজ জোট’ গঠনের ঘোষণা দেন। নেতানিয়াহুর ভাষ্যমতে, ইসরায়েল ইতিমধ্যে যে শিয়া অক্ষকে ভেঙে দিয়েছে, তার বিপরীতে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা এই সুন্নি ব্লকের মোকাবিলা করতেই এই জোট।
সহজ কথায়, ইসরায়েলের এই দুই শীর্ষ নেতা মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে একই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। আর তা হলো, দেশটির পরবর্তী কৌশলগত লড়াই ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের মতো হবে না। ইরানকে বিচ্ছিন্ন করতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র বছরের পর বছর ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু এবারের প্রতিপক্ষ অনেক বেশি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এক শক্তি এবং প্রচলিত সামরিক ক্ষমতার বিচারে তারা অনেক বেশি সুসজ্জিত।
তুরস্ককে এই সম্ভাব্য অক্ষের সবচেয়ে শক্তিশালী সদস্য মনে করা হচ্ছে। খাতা-কলমে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনী রয়েছে তাদেরই। প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার সক্রিয় সেনাসদস্যের এই বাহিনীর পেছনে বার্ষিক প্রতিরক্ষা বাজেট ২৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
দেশটির নিজস্ব অস্ত্রশিল্প তুরস্ককে বিশ্বের শীর্ষ মানববিহীন আকাশযান বা ইউএভি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করেছে। তাদের তৈরি সর্বাধুনিক জেটচালিত যুদ্ধ ড্রোন ‘কিজিল এলমা’ ইতিমধ্যে পরীক্ষার সময় রাডার-নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আকাশে থাকা লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সফল হয়েছে। চলতি বছরই তুর্কি সামরিক বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের জন্য এটি এখন গণ-উত্পাদনে যাচ্ছে। অন্যদিকে, আঙ্কারার ‘ব্লু হোমল্যান্ড’ মতবাদের অধীনে দেশটির নৌবাহিনী এখন পূর্ব ভূমধ্যসাগরের বিশাল এলাকাজুড়ে সক্রিয় রয়েছে, যা ইসরায়েলের সমুদ্রবর্তী গ্যাসক্ষেত্রগুলোর খুব বেশি দূরে নয়।
এরপরে রয়েছে মিসর। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এখনো মাঝেমধ্যে ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের উদাহরণ টানেন, যখন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মিসরের বিমানবাহিনীকে মাটিতেই ধ্বংস করে দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সামরিক পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে সেই তুলনা আর টিকবে না।
২০২৬ সালে মিসরের নিয়মিত সেনাসদস্যের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪ লাখ, আর রিজার্ভ সেনা রয়েছে আরও ৮ লাখ। প্রতিরক্ষায় বছরে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার খরচ করা মিসর এখন মার্কিন আব্রামস ট্যাংক, ফরাসি রাফাল জেট, রুশ সু-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং জার্মানিতে তৈরি সাবমেরিনের এক মিশ্র ও শক্তিশালী অস্ত্রাগার গড়ে তুলেছে।
খোদ নেতানিয়াহুও এই পরিবর্তনটি টের পেয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটির এক রুদ্ধদ্বার অধিবেশনে তিনি বলেছিলেন, ‘মিসরীয় সেনাবাহিনী শক্তিশালী হচ্ছে এবং আমাদের এটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা দরকার।’
সুতরাং ২০২৬ সালের মিসর আর ১৯৬৭ সালের মিসর এক নয়, তা এখন ইসরায়েলি কর্মকর্তারাও স্বীকার করতে শুরু করেছেন।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সৌদি আরব। টাইফুন ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমান নিয়ে গড়ে ওঠা তাদের বিমানবাহিনী আকারে ছোট হলেও বেশ সক্ষম। একই সঙ্গে রিয়াদ এখন ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের বাইরেও নিজেদের নিরাপত্তা সম্পর্ক বহুমুখী করার কাজে হাত দিয়েছে।
তবে ইসরায়েলি পরিকল্পনাবিদদের সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন করছে পাকিস্তান। কর্মকর্তাদের মতে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র পাকিস্তানের কাছেই কার্যকর পারমাণবিক অস্ত্রাগার এবং তা বহনের উপযোগী ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। তা ছাড়া দেশটির বিমানবাহিনীও সম্প্রতি বাস্তব যুদ্ধে নিজেদের প্রমাণ করেছে। পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে চীন পাকিস্তানকে ৩৬টি জে-১০সি ফাইটার জেট সরবরাহ করেছে। ইসলামাবাদের দাবি, গত বছর ভারতের সঙ্গে এক সংক্ষিপ্ত লড়াইয়ে এই বিমানগুলো থেকে দূরপাল্লার পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ভারতের বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়, যার মধ্যে অন্তত একটি রাফাল জেটও ছিল।
গত এপ্রিলে পাকিস্তান তাদের এই ধরনের ডজন দুয়েক যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছিল ইসলামাবাদ সফর শেষে ইরানি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
তবে এই সবকিছু মিলে আসলেই কোনো সুসংগঠিত বা সমন্বিত হুমকি তৈরি করছে কি না—সেটি এখনো একটি বড় প্রশ্ন।
খোদ ইসরায়েলের নিরাপত্তাব্যবস্থার ভেতরেই এ নিয়ে তীব্র মতভেদ রয়েছে। আঙ্কারা, কায়রো, রিয়াদ ও ইসলামাবাদকে এক সুতায় বাঁধার মতো কোনো যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই; এমনকি এই চার দেশের সরকার সামরিক কোনো পরিকল্পনা একসঙ্গে করছে—এমন কোনো প্রমাণও মেলেনি।
ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োয়াভ গালান্ত বেনেটের চেয়ে কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি কেবল লিখেছেন, তুরস্ক ‘এখন আর প্রান্তিক কোনো অংশীদার নয়’, বরং তারা নিজেদের একটি বড় আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে। এটি মূলত তুরস্কের উচ্চাকাঙ্ক্ষার বর্ণনা, কোনো আসন্ন সংঘাতের ইঙ্গিত নয়।
কিংস কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা বিষয়ের পণ্ডিত আন্দ্রিয়াস ক্রিগ নেতানিয়াহুর ‘ষড়্ভুজ জোট’কে স্রেফ পূর্বের সম্পর্কগুলোর একটি নতুন ব্র্যান্ডিং বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে চ্যাথাম হাউসের ইয়োসি মেকেলবার্গ এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের সাবেক রাষ্ট্রদূত অ্যালন পিনকাস প্রকাশ্যে যুক্তি দেখিয়েছেন যে বেনেট ও নেতানিয়াহু—উভয়েরই নিজস্ব অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। সামনে নির্বাচন কিংবা বর্তমান সরকারি জোট টিকিয়ে রাখার জন্য একটি ‘বাহ্যিক হুমকি’ জিইয়ে রাখা তাঁদের প্রয়োজন।
তাঁরা সতর্ক করে বলেন, আঙ্কারাকে দ্বিতীয় তেহরান হিসেবে গণ্য করতে গিয়ে ইসরায়েল হয়তো নিজেই নিজের এমন এক শত্রু তৈরি করে ফেলবে, যার অস্তিত্ব বাস্তবে নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বৈরিতা গড়ে উঠেছিল চার দশক ধরে একটি সুনির্দিষ্ট আদর্শিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু তুরস্ক, মিসর, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের তেমন কোনো যৌথ আদর্শ বা যৌথ কমান্ড নেই। বিশেষ করে কায়রো ও রিয়াদের সঙ্গে ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের শান্তিচুক্তি এবং পর্দার আড়ালের নিরাপত্তা সমঝোতা রয়েছে, যা বাতিলের কোনো ইঙ্গিত এই দুই দেশের সরকার দেয়নি।
এখন পর্যন্ত এই দেশগুলোকে যদি কোনো কিছু এক করে থাকে, তবে তা হলো ইসরায়েলের ওপর ক্ষোভ ও শঙ্কা। যে ইসরায়েল মাত্র এক বছরে অঞ্চলের ছয়টি দেশে আঘাত হেনেছে এবং এখন খোলাখুলিভাবে একটি ‘উত্থিত কট্টরপন্থী সুন্নি অক্ষ’ নিয়ে কথা বলছে। এই শঙ্কা বেনেটের সতর্কবাণী অনুযায়ী কোনো বাস্তব সামরিক জোটে রূপ নেবে কি না, তা আঙ্কারা, কায়রো, রিয়াদ বা ইসলামাবাদের সিদ্ধান্তের চেয়ে জেরুজালেম আগামী দিনে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপরই বেশি নির্ভর করছে।
* জসিম আল-আজাবি, সাংবাদিক ও লেখক। মিডল ইস্ট মনিটর থেকে অনূদিত।
![]() |
| ট্যাংকে ভরার জন্য গোলা নিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি এক সেনা। ইসরায়েল ও হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার মধ্যবর্তী সীমান্ত এলাকায়। ছবি: এএফপি |
ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের আগে ন্যাটোর বড় অস্ত্র চুক্তি
সম্মেলনের চমক হিসেবে চুক্তির বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। এই চুক্তির আওতায় ইউরোপীয় দেশগুলো মার্কিন কোম্পানি নর্থরপ গ্রুম্যানের কাছ থেকে নজরদারি ড্রোন এবং ন্যাটো জোট সুইডেনের কোম্পানি ‘সাব’–এর কাছ থেকে উড়োজাহাজ কিনবে। এ ছাড়া ইউক্রেনের প্রতিরক্ষায় ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপে যৌথভাবে উৎপাদনের বিষয়ে জার্মানি ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ড্রোন–বিধ্বংসী সক্ষমতা বাড়াতে মিত্ররা ৪ হাজার কোটি (৪০ বিলিয়ন) ডলারের বেশি বিনিয়োগ করবে বলেও ন্যাটো মহাসচিব নিশ্চিত করেছেন।
স্নায়ুযুদ্ধের শুরু থেকে ন্যাটো জোট ইউরোপকে রক্ষা করে এলেও ট্রাম্প প্রায়ই প্রতিরক্ষায় ইউরোপের অপর্যাপ্ত অবদানের সমালোচনা করেন। মার্ক রুতে জানান, রুশ হুমকির ভয় ও ট্রাম্পের জোরালো চাপের কারণে ইউরোপীয়রা তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় ‘বিস্ময়করভাবে’ বাড়িয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ন্যাটোর ইউরোপীয় দেশগুলো ও কানাডা প্রতিরক্ষায় আরও ৯ হাজার কোটি ডলার বেশি ব্যয় করেছে। সব মিলিয়ে এ ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার কোটি ডলারে, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।
এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ও অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা
শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করবেন ট্রাম্প। সূত্র বলছে, ট্রাম্প হয়তো তুরস্ককে আবার এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার অনুমতি দিতে পারেন। ২০১৯ সালে রাশিয়ার এস-৪০০ ব্যবস্থা কেনার পর তুরস্ককে এ কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালানোর পর ন্যাটোর অভ্যন্তরে উত্তেজনা বেড়েছে। ওই সংঘাতে সমর্থন না দেওয়ায় ট্রাম্প ন্যাটো সদস্যদের কড়া সমালোচনা করেন। তবে ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের দাবি, যুদ্ধ নিয়ে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা না হলেও তাঁরা আকাশসীমা ও ঘাঁটি ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। ওই যুদ্ধ ইউরোপের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র এখন ইউরোপ থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণাও দিয়েছে। এর মধ্যে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে ট্রাম্পের দ্বন্দ্ব ইউরোপের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
শীর্ষ সম্মেলনে ন্যাটো সদস্যরা এ বছর ইউক্রেনের জন্য সাত হাজার কোটি ইউরো (আট হাজার কোটি ডলার) সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিতে পারেন। এর মধ্যেই সোমবার কিয়েভে রাশিয়ার হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন, যা ইউক্রেনে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রকট সংকটের বিষয়টিই নতুন করে সামনে এনেছে।
![]() |
| ন্যাটো নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে আয়োজিত ‘ন্যাটো সামিট ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি ফোরাম’-এ বক্তব্য দিচ্ছেন ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুতে। আঙ্কারা, তুরস্ক। ৭ জুলাই ২০২৬ ছবি: রয়টার্স |
ইরানকে রাতারাতি শক্তিশালী করতে ২০টি সুখোই-৩৫ দিচ্ছে রাশিয়া
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিমানগুলো রাশিয়ার কোমসোমলস্ক-অন-আমুর অ্যাভিয়েশন প্ল্যান্টে তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সেগুলো রাশিয়াতেই রয়েছে এবং চূড়ান্ত হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে।
সুখোই-৩৫ রাশিয়ার অন্যতম অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার কমব্যাট রেডিয়াসের এই ফাইটার জেট শত্রু ভূখণ্ডের গভীরে প্রবেশ করে নির্ভুল হামলা চালাতে সক্ষম। পাশাপাশি অস্থায়ী বা স্বল্প দৈর্ঘ্যের রানওয়ে থেকেও উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা বাড়ায়।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এফ-৩৫-এর মতো পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান না হলেও সুখোই-৩৫ এখনো বিশ্বের অন্যতম কার্যকর ও যুদ্ধ-পরীক্ষিত ফাইটার জেট। আধুনিক আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজনের মাধ্যমে বিমানটির সক্ষমতা আরও বাড়ানো হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান ইতোমধ্যে সুখোই-৩৫ পরিচালনার জন্য পাইলটদের প্রশিক্ষণ শুরু করেছে। এ উদ্দেশ্যে আগে থেকেই রাশিয়ার তৈরি ইয়াক-১৩০ প্রশিক্ষণ বিমান ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সুখোই-৩৫ অন্তর্ভুক্ত হলে দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো এফ-১৪, এফ-৪ ও এফ-৫ যুদ্ধবিমানের ওপর নির্ভরশীল ইরানের বিমানবাহিনীর সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে দূরপাল্লার আকাশ অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে তেহরানের কৌশলগত শক্তি রাতারাতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে বিভিন্ন সূত্রের দাবি, রাশিয়ার কাছে মোট ৪৮টি সুখোই-৩৫ যুদ্ধবিমানের অর্ডার দিয়েছে ইরান। ভবিষ্যতে আরও সুখোই-৩০এসএম২ এবং পঞ্চম প্রজন্মের সুখোই-৫৭ যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়েও তেহরানের আগ্রহ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
Sunday, December 21, 2014
‘একটি বিশেষ দল স্বাধীনতাযুদ্ধের মনগড়া ইতিহাস বলে চলেছে’ -খালেদা জিয়া

আওয়ামী লীগের প্রতি ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া দাবি করেন, ইতিহাস বিকৃতির কারণ, স্বাধীনতাযুদ্ধে তাদের (আওয়ামী লীগ) ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। সংকটকালে তারা ইতিহাস-নির্ধারিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছিল। রণাঙ্গনে জীবনবাজি রেখে তারা যুদ্ধ করেনি। ভারতে আশ্রিত জীবন কাটিয়েছে। তাই তারা ইতিহাসের সত্যের বদলে আবেগকে আশ্রয় করে নিজেদের ব্যর্থতা ও দুর্বলতা ঢাকতে চায়। স্বাধীনতার উষালগ্ন থেকেই স্বাধীনতাযুদ্ধের সাফল্যকে দলীয়করণ করার অপচেষ্টা শুরু হয় বলেও অভিযোগ করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘একটি দল সব সময় দাবি করে, তারা মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ সংগঠিত করেছে ও নেতৃত্ব দিয়েছে। তাদের দাবি যে কতটা অসার তা এখন সেই দলভুক্ত লোকদের লেখা বইপত্র এবং বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার হয়ে গেছে। কিন্তু সত্য কথা কেউ বললে তারা তার সঠিক ও তথ্যভিত্তিক জবাব না দিয়ে গালাগাল শুরু করে। তাদের ফরমায়েশি ইতিহাসের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করলেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরও তারা রাজাকার ও পাকিস্তানের চর বলে লেবেল এঁটে দিতে দ্বিধাবোধ করে না। মহান স্বাধীনতাযুদ্ধকে এভাবে দলীয় সম্পত্তিতে পরিণত করা সম্ভব হবে না। ইতিহাস তার স্বাভাবিক গতিতেই চলবে। গালাগালি ও হুমকি দিয়ে ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করা যাবে না।’
খালেদা জিয়া দাবি করেন, ১৯৭১ সালের মার্চে আওয়ামী লীগের নেতাদের ব্যর্থতার পটভূমিতে জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ করেছিলেন। হানাদার বাহিনীর অধিনায়ক জানজুয়াকে হত্যা ও বাকিদের বন্দী করেছিলেন। বেতার মারফত স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে স্বাধীনতাযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটিয়েছিলেন। তাঁর ঘোষণার মাধ্যমেই বিদ্রোহ উন্নীত হয়েছিল বিপ্লবে। প্রতিরোধযুদ্ধ উন্নীত হয়েছিল স্বাধীনতার যুদ্ধে।
খালেদা জিয়া বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এ দেশে অনেক রাজনীতি হয়েছে। তাঁদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে, এখনো হচ্ছে। বিএনপি তা কখনো করবে না। বিএনপি মুক্তিযোদ্ধাদের ও স্বাধীনতার ইতিহাসকে কখনো দলীয় রাজনীতির উপকরণ করতে চায় না। এ নিয়ে বিতর্কও কাম্য নয়।
খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন তালিকা প্রণয়নের নামে যে ‘জঘন্য জালিয়াতি ও দলীয়করণের’ আশ্রয় নেওয়া হয়েছে, তা পরিশুদ্ধ করা হবে। প্রকৃত কোনো মুক্তিযোদ্ধা তালিকার বাইরে থাকবেন না। যেসব মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবার বিপন্ন ও মানবেতর জীবন যাপন করছে, তাদের সমাজে সম্মানজনক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কারাগারে বিশেষ মর্যাদা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিবাদ ও আন্দোলন সংগঠিত করার আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা ন্যায়সংগত। আজ সেই ন্যায়সংগত বিদ্রোহ সংগঠিত করার সময় এসেছে।’
নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘সকলের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমাদের শান্তিপূর্ণ আহ্বানে তারা সাড়া দেয়নি। তাই আমাদের বসে থাকার আর কোনো উপায় নেই। দেশের জনগণ আন্দোলন চায়, পরিবর্তন চায়।’
আওয়ামী লীগকে স্বদেশি হানাদার আখ্যা দিয়ে শিগগির আন্দোলন শুরুর হুমকি দেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ‘আমরা অস্ত্রের মোকাবিলায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পথে নামব। আমাদের আন্দোলন হবে শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক, জনগণের আন্দোলন। জনগণের সেই আন্দোলনে স্বৈরাচারী, অবৈধ সরকার তাসেরঘরের মতো ভেসে যাবে।’
আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ।
Tuesday, December 9, 2014
তাঁকে খেল না অ্যানাকোন্ডা
![]() |
| পল রোজোলি |

সাপটি রোজোলিকে গিলে ফেলার পরিবর্তে তাঁর পুরো শরীর পেঁচিয়ে ধরে। সাধারণত কোনো খাবার শিকার ধরে পেটে ভরার আগে এটাই করে থাকে অ্যানাকোন্ডা। পেঁচিয়ে ধরায় রোজোলির জন্য পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। কারণ, তাঁর দম বন্ধ হয়ে আসছিল। শেষ পর্যন্ত তাঁর ডাকে সহযোগীরা চলে আসায় রোজোলি প্রাণে বেঁচে গেছেন।
রোজোলি জানিয়েছেন, আমাজন রক্ষায় এক দশক ধরে কাজ করতে গিয়েই তাঁর মাথায় ওই পরিকল্পনা আসে। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর সবাই জানে আমাজন শেষ হয়ে যাচ্ছে। সবাই বলবে, এই বনের গুরুত্ব কত। কিন্তু আজ পর্যন্ত লোকজন এদিকে যথেষ্ট দৃষ্টি দিচ্ছে না।’
পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রোজোলির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দম বন্ধ হওয়া এড়াতে তাঁকে কার্বন ফাইবার ব্যবহার করে বিশেষভাবে নির্মিত স্যুট দিয়ে মুড়িয়ে দেন বিশেষজ্ঞরা। তার সঙ্গে যুক্ত ছিল শ্বাস গ্রহণের ব্যবস্থাও। আরও ছিল কয়েকটি ক্যামেরা এবং সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের একটি পদ্ধতি।
সরঞ্জামগুলো সঙ্গে নিয়ে আমাজনে অ্যানাকোন্ডার সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে রোজোলির দলটি। টানা ৬০ দিন হন্যে হয়ে বেড়ানোর পর অবশেষে একটি স্ত্রী অ্যানাকোন্ডা পান তাঁরা, যেটি লম্বায় ছিল ২০ ফুট। রোজোলি বলেন, ‘আমি যখন সাপটির কাছে গেলাম, সেটি আমাকে খাওয়ার চেষ্টাই করল না। বরং পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করল। আমি যখন কিছুটা উসকানি দিলাম; কিছুটা শিকারির মতো আচরণ করলাম, তাতে কাজ হলো। সাপটি ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করল।’
এরপর সাপটি রোজোলিকে আক্রমণ করে। তবে তাঁকে পুরোপুরি গিলে না ফেলে তাঁর পুরো শরীর পেঁচিয়ে ধরে। রোজোলি জানান, সাপটি তাঁকে এত শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরে যে, একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল তাঁর হাত ভেঙে যেতে পারে। পাশাপাশি রোজোলির শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছিল এবং হৃৎস্পন্দন কমে আসছিল। ভয় পেয়ে গিয়ে তিনি সহযোগীদের কাছে সাহায্য চান। তাঁরা এলে সাপটি রোজোলিকে ফেলে পালিয়ে যায়।
Saturday, December 6, 2014
নির্বাচন বন্ধের চেষ্টা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র -সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দুই আনার মন্ত্রী বলায় দেশটির সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হতে পারে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সার্ক সম্মেলনে যোগ দেওয়া এবং মালয়েশিয়া সফর সম্পর্কে গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এই সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সম্পর্ক, টিআইবির দুর্নীতি প্রতিবেদন, কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কথিত বৈঠকসহ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি নানা প্রশ্নের জবাব দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক: প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করেনি। কিন্তু দেশ স্বাধীন হয়েছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন যাতে না হয়, তারা (যুক্তরাষ্ট্র) সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। বন্ধ করতে পারেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের সবাই যে এসব কাজে একমত, তা না। সেখানে বাংলাদেশেরও বন্ধু আছে। তাঁদের সমর্থন সব সময় আমরা পেয়েছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিককে আমি বলব, এই দেশটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। কাউকে ছাড়া বাংলাদেশ চলতে পারবে না—এ চিন্তাটা না থাকাই ভালো। একটা দেশের সঙ্গে কখনো কখনো সম্পর্ক খারাপ হতে পারে। তাই বলে একেবারে কূটনৈতিক সম্পর্ক শেষ হয়ে যাবে বা বন্ধ হয়ে যাবে, আমি সেটা মনে করি না। কূটনৈতিক সম্পর্ক কূটনৈতিকভাবেই চলবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব নিয়েই আমরা চলতে চাই। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি উত্তর না দক্ষিণ, পূর্ব না পশ্চিম, তা বিবেচনা করে চলে না। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য যার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হবে, আমরা তা-ই করব। আমি ভালো থাকলে বন্ধুর অভাব হয় না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবী গোল। এটা মনে রাখতে হবে। পৃথিবী সারাক্ষণ ঘুরছে। এটাও মনে রাখতে হবে। ঘূর্ণায়মান পৃথিবীতে আমরা বাস করছি। আমাদের কূটনীতি সেভাবেই হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক পররাষ্ট্রসচিব সি এম শফি সামি প্রথম আলোকে বলেন, কোনো দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে ও সমসাময়িক বাস্তবতায় হয়ে থাকে। আবার কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো না থাকলে যে বিরাট বিপর্যয় ঘটবে, তা-ও নয়। তবে দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, পোশাকশিল্প প্রভৃতি বিবেচনায় বুঝেশুনে ও সুচিন্তিতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
পদ্মা সেতু: প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করে দেন। আমরা তখন শুনেছিলাম, যুক্তরাষ্ট্রের তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে এটা করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্নীতির অপবাদ দেওয়া হয়েছিল। আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। বিশ্বব্যাংক তন্নতন্ন করে বিশ্বব্যাপী খুঁজেও দুর্নীতি পায়নি। তারা অনেকভাবে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল।’
টিআইবি সময় সময় সরব: টিআইবির দুর্নীতিবিষয়ক প্রতিবেদন সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা কী কারণে সময় সময় সরব হয়, সেটা নিয়ে প্রশ্ন আছে। ২০০১ সালের জুন মাসের আগেও তারা প্রতিবেদন দিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘ঠিক আছে আমরাও যাচাই করব। যাঁরা আজ কথা বলছেন, তাঁদের ইনকাম কী? টাকাটা কোথা থেকে আসছে? কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, সে হিসাবটাও নেওয়া হবে। জবাবদিহি সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।’
শেখ হাসিনা প্রশ্ন করেন, ‘যারা সত্যিকার দুর্নীতি করে হাজার হাজার কোটি টাকা বানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে টিআইবিকে কখনো শুনেছেন?’ তিনি বলেন, ‘রাস্তায় কে কাকে ২০০ টাকা ঘুষ দিল, ট্রাক থেকে কে ১০ টাকা নিল—এসব খুচরা বিষয় নিয়ে আসা হয়েছে। পৃথিবীর কোন দেশটা আছে, যেখানে দুর্নীতি নেই? আমরা সরকারে আছি। আমরা নিজেরা কোনো দুর্নীতি করছি কি না, সেটা বলুন। যদি তাই করতাম, তাহলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা থাকা সত্ত্বেও ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধি ৬ ভাগের ওপরে উঠত না। কিন্তু যে বীজ বপন করে গেছেন সামরিক শাসকেরা, সেখান থেকে রাতারাতি কীভাবে শিকড়সহ উপড়ে ফেলা সম্ভব?’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘টিআইবির উদ্দেশ্য দেশের দুর্নীতি প্রতিরোধব্যবস্থা সুদৃঢ় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হোক। আমরা জানি, প্রধানমন্ত্রীও এটা চান। আর এ জন্য আমরা নিজেদের সরকারের সহায়ক শক্তি বলে মনে করি।’
কে বা কোন দল ক্ষমতায় আছে, তা বিবেচনা করে টিআইবি কাজ করে না দাবি করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিএনপির সময়ে পর পর চারবার দুর্নীতির ধারণাসূচকে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে ছিল।
টিআইবির অর্থসূত্র প্রসঙ্গে নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘টিআইবি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতাধীন এনজিও ব্যুরোর অনুমতি সাপেক্ষে অর্থ সংগ্রহ ও কার্যক্রম পরিচালনা করে।’
দুর্নীতি করে টাকাও বানিয়েছে, ইজ্জতও কিনেছে: কারও নামোল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকে দুর্নীতি করে টাকা তো বানায়ই, ইজ্জতও কিনে নেয়। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘নিজেরাই চিন্তা করেন। এতগুলো চ্যানেল দিয়েছি। মালিকদের একটা সংগঠন করেছে। কাকে নেতা বানিয়েছে? সে এত হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হলো কীভাবে? টাকা দিয়ে সে ইজ্জত কিনে নিয়েছে। টিআইবি কখনো এ ব্যাপারে একটা টুঁ শব্দ করেছে? করেনি। টাকা পাচার হয়েছে, আমরা উদ্ধার করেছি।’
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এতিমের টাকা মেরে দিয়েছেন। তিনি আদালতেও যেতে চান না। এ ব্যাপারে তো কেউ কথা বলেন না, টক শোতেও কথার ঝড় ওঠে না। তাঁর ছেলে লন্ডনে বিলাসী জীবন যাপন করছেন। একজনও কি টক শোতে টুঁ শব্দ করেছেন? করেননি। কারণ, তারা টাকা দিয়ে ইজ্জত কিনে নিয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অ্যাসোসিয়েশন অব টিভি চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) সভাপতি ও এনটিভির চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী ফালু বলেন, ‘অবৈধ আয়ের কোনো প্রশ্নই আসে না। কখনো অবৈধ আয় করিনি, করবও না। ২০-২৫ বছর ধরে যে আয় ও ব্যয় করেছি, তা সরকারের ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ আছে।’
খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথিত বৈঠক: শুক্রবার রাতে গুলশানে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সরকারের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন কর্মকর্তার কথিত বৈঠক সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী আইনের বরখেলাপ করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে মানুষের মনে সন্দেহ জাগে, এত গভীর রাতে ডাকা হলো কেন? এটা আগেও ঘটেছে। উত্তরা ষড়যন্ত্রের কথা আপনাদের তো মনে আছে।
বিমানে সোনা চোরাচালান: বিমানে সোনা চোরাচালান সম্পর্কে করা প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন সেখানে অব্যবস্থাপনা ছিল। বিমানবন্দরে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন সেখানে প্রতিমুহূর্তে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলেই সোনাদানা ধরা পড়ছে। তিনি দাবি করেন, যারা এসবের সঙ্গে দায়ী না, পত্রপত্রিকায় তাদেরও দায়ী করা হচ্ছে। বিমান চেয়ারম্যানের পালকপুত্র বানানো হয়েছে। আজেবাজে কথা লেখা হচ্ছে। এর সত্যতা নেই। যে দুজন জড়িত, তাদের ধরা হয়েছে। চেয়ারম্যান তাদের ছাড়াতে যাননি।
এইচ টি ইমামের বক্তব্যের দায় তাঁর নিজের: ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই অনেক কথা বলেন। মাঝেমধ্যে দলের জন্য তা সমস্যার সৃষ্টি করে। সবাই কথা বলে যাচ্ছেন। তবে এ কথা উনি কেন বলেছেন, তা তাঁকেই জিজ্ঞাসা করুন। এ বক্তব্যের দায় তাঁর। উনাকে কিছু করতেও বলিনি, বলতেও বলিনি।’
ছাত্রলীগ: আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একমাত্র আওয়ামী লীগই ব্যতিক্রম যে, কে কোন দল করে, তা না দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় কাউকে ছাড় দেইনি। কার জামাই, কার ভাগনে, তা না দেখে ব্যবস্থা নিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হত্যাকাণ্ডে যুবদলের নেতা জড়িত থাকলেও টক শোতে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি।’
প্রশ্ন ফাঁস: আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির আমলে প্রশ্ন ফাঁসের দরকার হতো না। প্রশ্ন আগেই দিয়ে দেওয়া হতো তাদের ক্যাডারদের হাতে। আমাদের সময়ে কখনো একটা-দুইটা দুর্ঘটনা যখনই ঘটেছে, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি। ব্যবস্থা না নিলে কথা থাকত।’
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত সার্ক শীর্ষ সম্মেলন এবং মালয়েশিয়া সফরের অর্জন ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। মালয়েশিয়া সফরকে সফল দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন চুক্তি বিদ্যমান সুসম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ফারুক খান, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীসহ দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
Tuesday, November 11, 2014
ভূমিকম্পের ভবিষ্যদ্বাণী করতে না পারায় বিজ্ঞানীদের জেল!

ইতালির এল আকুইলা শহরে আঘাত হানে রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প। তার কিছু দিন আগে বিজ্ঞানীরা ওই শহর পরিদর্শন করে তেমন ঝুঁকিপূর্ণ নয় বলে বিবৃতি দেন। কিন্তু কয়েকদিন পরই ভূমিকম্পে বহু লোক মারা যান। এরপর ২০১২ সালে বিজ্ঞানীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বিচার শুরু হয়।
বিচারক বলেন- বিজ্ঞানীদের বিবৃতির ওপর আস্থা রেখে অন্তত ২৯ জন লোক তাদের বাড়িতে অবস্থান করেন। তারা ওই শহর ছেড়ে যেতে চেয়েছিলেন। ভূমিকম্পের ফলে তারা মারা যান।
এ ঘটনায় ছয় বিজ্ঞানীকে ৬ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। একই সাথে তাদেরকে সাত মিলিয়ন ইউরো ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই ঘটনায় সরকারের এক কর্মকর্তাকে ২ বছরের সাজা দেয়া হয়েছে।
সূত্র : মেইল অনলাইন
আকাশে উড়ে শততম জন্মদিন পালন

শুনে সবাই তো অবাক। ওপরে বলতে আকাশে ভেসে বেড়ানোর কথা অর্থাৎ স্কাইডাইভিং এর কথা বলেছেন এলানোর। এই বয়সে স্কাইডাইভিং! কিন্তু শততম জন্মদিন বলে কথা কেউ নিষেধও করতে পারলেন না। জন্মদিনের একদিন পর তিনি মাস্টার ডিন ম্যাকডোনাল্ডোর সাহায্য নিয়ে আকাশে উড়ে বেড়ালেন। আকাশে উঠে হাত দুটো মেলে ধরলেন। আনন্দে শিশুর মতোই হাসছিলেন তিনি। মাটিতে নেমে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আর কিছুক্ষণ থাকলে আরো ভাল লাগত।

>> আকাশে উড়ার আনন্দে শিশুর মতো হাসছেন এলানোর
Sunday, October 19, 2014
কক্সবাজার থেকে থাইল্যান্ড : দাস ব্যবসার নতুন রুট

>> আবসার মিয়া : সারাক্ষণ ভাবি কখন বাড়ি ফিরতে পারবো
জঙ্গলের বন্দী শিবির
এই লোকগুলো যে শেষ পর্যন্ত থাইল্যান্ডের জঙ্গলের বন্দীশিবির থেকে মুক্তি পেয়েছেন, তার নেপথ্য নায়ক স্থানীয় জেলা প্রশাসনের প্রধান মানিট পিয়ানথিয়ং। থাইল্যান্ডের টাকুয়া পা উপকূলজুড়ে মানবপাচার চক্রের তৎপরতা সম্পর্কে ভালোই জানেন তিনি। মিস্টার পিয়নথিয়ং জানান, এই চক্রকে নির্মূল করার জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। এজন্যে স্থানীয়দের সাহায্য চাইছেন তারা। বাংলাদেশিদের এই বড় গ্রুপটির অবস্থান সম্পর্কে স্থানীয়রাই তাকে সতর্ক করেছিল। প্রথম গ্রুপে তারা উদ্ধার করেন ৩৭ জন। গত ১১ই অক্টোবর উদ্ধার করেন ৫৩ জনকে। আর এবার সর্বশেষ অভিযানে উদ্ধার করেছেন ৮১জনকে। যারা এদের আটকে রেখেছিল তাদের দুজনও ধরা পড়েছে। এদের একজনকে মুক্তি পাওয়া বাংলাদেশিরা সবচেয়ে নিষ্ঠুর বলে বর্ণনা করেছেন। তার নাম কেকে। বন্দী এই বাংলাদেশিদের জঙ্গলের ভেতর একটা শিবির থেকে আরেকটা শিবিরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল যাতে তাদের অবস্থান গোপন রাখা যায়। মিস্টার পিয়নথিয়ং এর ধারণা, এদের দাস হিসেবে বিক্রির পরিকল্পনা চলছিল।
একালের ক্রীতদাস
থাইল্যান্ডের আন্দামান উপকূলে গত কয়েক বছর ধরে দেখা গেছে মানুষের নির্যাতন-লাঞ্ছনার ভয়ঙ্কর সব দৃশ্য। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মূলত মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীরাই এর শিকার হয়েছেন। ২০০৯ সালে থাইল্যান্ডের নৌবাহিনী রোহিঙ্গা শরণার্থী বোঝাই নৌকা টেনে নিয়ে ছেড়ে দিয়ে আসছিল সাগরের মাঝখানে। এসব নৌকা স্রোতের টানে ভাসতে ভাসতে চলে গেছে বিভিন্ন দিকে। শত শত মানুষ সাগরে ডুবে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হয়। আর অতি সম্প্রতি থাই পুলিশ এবং সামরিক সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে যে তারা থাইল্যান্ডের উপকূলে এসে পৌঁছানো রোহিঙ্গাদের বিক্রি করে দিয়েছে মানব পাচারকারীদের কাছে। থাইল্যান্ডের বিভিন্ন সরকার এই মানব পাচারকারীদের দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিভিন্ন সময়। কিন্তু আন্দামান উপকূলের কাছে থাই জঙ্গলের বন্দী শিবির থেকে ১৭১ জনকে উদ্ধারের ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল এই সমস্যা এখনো কতটা প্রকট। সুযোগ পেয়ে রোহিঙ্গাদের শোষণ-নির্যাতনের মাধ্যমে যার শুরু, তা এখন এক সুসংগঠিত দাস ব্যবসায় রূপ নিয়েছে।
সূত্র : বিবিসি।
৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে মিলল কঙ্কাল

জানা গেছে, মনোহরদী উপজেলার পাইকান গ্রামের মঞ্জিল মিয়ার সাথে একটি মোটরসাইকেল নিয়ে সনির বাবা শাহিনের বিরোধ ছিল। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে মঞ্জিল মিয়া শাহিন মিয়াকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর শিশু সনি বাড়ির আঙিনায় খেলা করার সময় মঞ্জিল মিয়ার স্ত্রী মাজেদা বেগম অন্য একটি শিশুকে দিয়ে সনিকে তাদের বাড়ি নিয়ে যায়। এরপর সনিকে গলাটিপে হত্যা করে একটি বস্তার ভেতর ভরে ছেলে হারিছকে নির্দেশ করে লাশটি ফেলে দেয়ার জন্য। ছেলে হারিছ সনির বস্তাবন্দী লাশ মোটরসাইকেলে উঠিয়ে ব্রাহ্মণেরগাঁওয়ের একটি জঙ্গলের ভেতর ফেলে চলে আসে। এরপর অপহরণকারী মঞ্জিল মিয়া, তার স্ত্রী মাজেদা বেগম মোবাইল ফোনে এই মর্মে মুক্তিপণ দাবি করে যে, বিকাশের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিলে শিশু সনিকে ফিরিয়ে দেয়া হবে। অন্যথায় সনিকে হত্যা করা হবে। সনির বাবা শাহিন সরল বিশ্বাসে বিকাশের মাধ্যমে নগদ ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়ে অপহরণকারীদেরকে জানান, সনিকে ফেরত দিলে বাকি টাকা পরিশোধ করা হবে। এরপরও অপহরণকারীরা তার কাছে আরো ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। কিন্তু সনিকে ফেরত না দেয়ায় সনির বাবা শাহিন তাদের দাবিকৃত বাকি ৫০ হাজার টাকা দেননি। এরপর সনির বাবা একাধিকবার মনোহরদী থানায় সনিকে অপহরণ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি করেছেন। কিন্তু পুলিশ তাকে খুঁজে বের করতে পারেনি। এ নিয়ে স্থানীয় পত্রপত্রিকায় অনেক লেখালেখি হয়েছে। পুলিশ সনির কোনো হদিস করতে পারেনি। গত ৩০ সেপ্টেম্বর মনোহরদী থানার এসআই তানভির আহমেদ মঞ্জিল মিয়াকে গ্রেফতার করে। এরই সূত্র ধরে গ্রেফতার করে তার ছেলে হারিছ মিয়া, স্ত্রী মাজেদা বেগম এবং কন্যা সুমাসহ সাতজনকে। তাদের দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মনোহরদী থানা পুলিশ শনিবার বেলা ১১টায় শিশু সনির কঙ্কাল, মাথার খুলি, পরনের কাপড় এবং একটি বস্তা ব্রাহ্মণেরগাঁওয়ের জঙ্গল থেকে উদ্ধার করে। এ খবর জানাজানি হওয়ার পর সনির বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের গগনবিদারী চিৎকারে পাইকান গ্রামের আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। শত শত মানুষ তাদের বাড়িতে ভিড় জমান।
Saturday, October 18, 2014
ঢাকার ওপর চাপ কমাতে গ্রামের উন্নতি করতে হবে : এপিজে আবদুল কালাম
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক সমন্বয় দরকার : স্পিকার

স্পিকার বলেন, ভারত সরকার ও দেশটির জনগণ ’৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যে সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়েছিল, সেটা বাংলাদেশ চিরকাল মনে রাখবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। ব্যবসা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা দু’দেশের বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করে পারস্পরিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে নিশ্চিত করেছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা, জনগণের মধ্যে আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে এ অঞ্চলের প্রতিটি দেশকে আন্তরিকভাবে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ দমনে অঙ্গীকারবদ্ধ। দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনয়ন, সব ধরনের সন্ত্রাস রোধের মাধ্যমে এ অঞ্চলের সব দেশকে একযোগে কাজ করে টেকসই উন্নয়নকে নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে সব দেশকে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে হবে। তিনি বলেন, আঞ্চলিক সমন্বয় নিশ্চিত করতে সার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আফ্রিকা, ইউরোপ, আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব-এশিয়া তাদের উন্নয়নকে নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগকে কাজে লাগিয়েছে। আগামীতে সার্ক আঞ্চলিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রাডার এড়াতে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ভারতের

কাজাখ তেলক্ষেত্রে হাজারো কোটি ডলার জলে

BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (2005)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...









