Wednesday, March 25, 2015
খোকন-সেলিম মুখোমুখি
এদিকে ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগের সমর্থন পাওয়া আনিসুল হকের পাশাপাশি দলের সাবেক সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তিনিও নির্বাচন করার ক্ষেত্রে দৃঢ় প্রত্যয়ী। কবরী মাঠে থাকলে এ সিটি করপোরেশনেও আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হবে।
মেয়র পদে ৩৩, কাউন্সিলর ১৩৮৭
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এ পর্যন্ত মেয়র পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ৩৩ জন সম্ভাব্য প্রার্থী। কাউন্সিলর পদে সংগ্রহ করেছেন ১৩৮৭ জন সম্ভাব্য প্রার্থী। এর মধ্যে সাধারণ ওয়ার্ডে ১১৫৮ এবং সংরক্ষিত নারী পদে ২২৯ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। গতকাল ঢাকা সিটি দক্ষিণের রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন প্রয়াত মেয়র হানিফের ছেলে সাঈদ খোকন ও ঢাকা-৭ আসনের এমপি হাজী মো. সেলিম। আর ঢাকা সিটি উত্তরের রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও চিত্রনায়িকা সারাহ বেগম কবরী। মান্নার পক্ষে তার সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য আতিকুর রহমান এবং কবরীর পক্ষে তার ব্যক্তিগত সহকারী শহীদুল ইসলাম মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
বেলা ১২টার দিকে গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চে ঢাকা দক্ষিণের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন সাঈদ খোকন। এ সময় সাংবাদিকদের কাছে হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে তিনি বলেন, অনেকেই আগাম প্রচারণা চালাচ্ছে। অস্ত্র ও পেশিশক্তি প্রদর্শন করে সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে। এগুলো সুস্পষ্ট নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর মনোয়নয়নপত্র সংগ্রহ করতে আসেন ঢাকা-৭ আসনের এমপি ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. সেলিম। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আমি ঢাকার মানুষের সেবা করতে চাই, তাই আমি মনোনয়ন নিয়েছি। দল থেকে কাউকেই সর্মথন দেয়া হয়নি, সবাইকে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। আওয়ামী লীগের কর্মীরা আমার সঙ্গে আছে। আওয়ামী লীগ থেকে সাঈদ খোকনকে সমর্থন দেয়ার পরেও তিনি প্রার্থী হওয়ায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আওয়ামী লীগের, আমি দলের মানুষ। দল এখনও যাচাই-বাছাই করছে। আমার বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত দল আমাকেই সমর্থন করবে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণ ব্যাখ্যায় হাজী সেলিম বলেন, আমি বসন্তের কোকিল নই। ঢাকাবাসী, ঢাকাইয়ারা চায় আমি মেয়র পদে নির্বাচনে দাঁড়াই। তাই মনোনয়নপত্র নিলাম। দক্ষিণের আরেক সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী সাঈদ খোকনের তোলা আচরণবিধি ভঙের অভিযোগ প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, তিনি যা ইচ্ছে বলতে পারেন, আ???মি পারি না। সংসদ সদস্য হিসেবে রাস্তায় দাঁড়ালে এক শ’ লোক জড়ো হলে, আমার কিছুই করার নেই। আচরণ বিধিতে সালাম দেয়া, হাত মেলানো তো মানা নেই।
সিটি করপোরেশন নির্বাচন আচরণ বিধিমালায় বলা আছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সিটি করপোরেশন এলাকায় কোন প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ নির্বাচনী কাজে সরকারি প্রচারযন্ত্র, সরকারি যানবাহন অন্য কোন সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ এবং সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীগণকে ব্যবহার করতে পারবেন না। বিধিমালার এই ধারা অনুসারে এমপি’দের গাড়ি নির্বাচনী কাজে ব্যবহারের কোন সুযোগ নেই। অথচ গতকাল সংসদ সদস্যের লোগো সংবলিত গাড়িতে করে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে আসেন ঢাকা-৭ আসনের এমপি হাজী মো. সেলিম।
ঢাকা দক্ষিণের রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় প্রাঙ্গণে এমপির লোগো লাগানো আরেকটি গাড়ি দেখা যায়। যার নম্বর ঢাকা মেট্রো-চ-৫১৬৯৫১। গাড়ির ড্রাইভার জানান, গাড়িটি ঢাকা-৫ আসনের এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার ছেলের। প্রথমে নির্বাচনী কাজে আসার কথা স্বীকার করলেও পরে ড্রাইভার জানান, তারা ঘুরতে এসেছেন। মনোনয়ন জমার সময় কার্যালয়ের ভেতরে পাঁচজনের বেশি প্রবেশের অনুমতি না থাকলেও ধাক্কাধাক্কি করে অনেক নেতাকর্মী ঢুকে পড়েন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) উপ-সচিব মিহির সারওয়ার মোর্শেদ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উদ্দেশে বলবো- আপনারা প্রার্থীদের কোন অনুষ্ঠানে ডাকবেন না। প্রার্থীরাও গুরুত্বপূর্ণদের আমন্ত্রণ করবেন না। তাদের কোন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না। না হলে আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে। ইতিমধ্যে ২৬ জন কাউন্সিলকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে শোকজ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এদের মধ্যে অনেকে ক্ষমাও চেয়েছেন। তাদের ফাইল খোলাই আছে। এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণের প্রার্থী হাজী সেলিমের বিরুদ্ধেও ৪টি অভিযোগ রয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে তাকেও প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তদের উদ্দেশে বলবো- আমাদের দৃষ্টি আপনাদের ওপর রয়েছে। আপনারা সতর্ক হোন। এমন কিছু করবেন না যাতে আচরণবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হয়। এ সময় তিনি কোন প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙের অভিযোগ করার ক্ষেত্রে উপযুক্ত প্রমাণসহ অভিযোগের পরামর্শ দেন। এদিকে নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মিহির সরওয়ার মোর্শেদ। চিঠি পাঠানোর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মিহির সরওয়ার মোর্শেদ। তিনি বলেন, সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, দক্ষিণের রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহার ও প্রতীক বরাদ্দের কাজ হবে। এই কাযক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনা করার জন্য নিরাপত্তার প্রয়োজন। রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে পাঁচজনের বেশি লোকের প্রবেশ, মিছিল, শো-ডাউন যাতে না হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়েছে চিঠিতে। রিটার্নিং অফিস সূত্রে জানা যায়, গতকাল পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে গতকাল পর্যন্ত মেয়র পদের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ১৫ জন। সাধারণ কাউন্সিল পদে সংগ্রহ করেছেন ৭২৪ জন এবং সংরক্ষিত পদে সংগ্রহ করেছেন ১৪৩ জন।
পশ্চিম আগারগাঁওয়ে সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় থেকে মঙ্গলবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন পাঁচজন প্রার্থী। উৎসব মুখর পরিবেশে নিজ নিজ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এদিন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন এখলাস উদ্দিন মোল্লা, নাঈম হাসান, মো. তাইফুল সিরাজ, সারাহ বেগম কবরীর পক্ষে শহীদুল ইসলাম এবং মাহমুদুর রহমান মান্নার পক্ষে আতিকুর রহমান। মনোনয়নপত্র গ্রহণ শেষে এখলাস উদ্দিন মোল্লা বলেন, আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। ব্যবসার লক্ষ্যে রাজনীতি করি না। ঢাকা উত্তর সিটি মেয়র নির্বাচিত হয়ে নগরবাসীর সেবা করতে চাই। বিশেষ করে ঢাকা উত্তরের যানজট নিরসন করতে চাই, পরিকল্পিত নগর গড়তে চাই। এর জন্য ঢাকা উত্তর নগরবাসীর সমর্থন প্রত্যাশা করছি। বেলা ১২টার দিকে নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আতিকুল ইসলাম আতিক আগারগাঁওয়ে ঢাকা উত্তরের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এরপর সংগঠনের ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক শহীদুল্লাহ কায়সার সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মাহমুদুর রহমান মান্নার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। আইনজীবীর মাধ্যমে এটা কারাগারে পাঠানোর পর বিধি মোতাবেক জমা দেয়া হবে। মান্নার জয়ের আশা প্রকাশ করে সংগঠনের এই নেতা বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আমাদের বিজয় অবশ্যম্ভাবী। আমাদের জনসমর্থন রয়েছে। ডাকসুর সাবেক ভিপি ও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মান্না রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বর্তমানে কারাগারে আছেন। রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন এ পর্যন্ত মোট ১৮জন প্রার্থী। এর মধ্যে মেয়র পদে গতকাল মনোনয়নপত্র নেন ৫ জন। সাধারণ কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন মোট ৪৩৪ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৮৬ জন। সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মো. শাহ আলম বলেন, ১৯শে মার্চ থেকে বেশ আগ্রহ নিয়ে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র গ্রহণ করছেন। দিন যত এগুচ্ছে প্রার্থীদের চাপও বাড়ছে। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২৯শে মার্চ, যাচাই-বাছাই ১লা ও ২রা এপ্রিল এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ই এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ ১০ই এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ হবে ২৮শে এপ্রিল।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিদায় ‘জায়ান্ট অব হিস্টরি’
‘বিশ্ব নেতারা তার পরামর্শ শুনতেন। তাই তাকে ‘জায়ান্ট অব হিস্টরি’ নামে আখ্যায়িত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং বলেছেন, লি কুয়ান ইউ ছিলেন বিশ্বব্যাপী একজন সম্মানীত ব্যক্তি ও রাষ্ট্রনায়ক। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাকে বর্ণনা করেছেন বিশ্ব রাজনীতির ‘প্যাট্রিয়ার্ক’ হিসেবে। আগামী রোববার মৃত লি কুয়ান ইউ’র অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তার মৃত্যুর খবর শুনে সিঙ্গাপুরবাসী ফুল দিয়ে সম্মান প্রদর্শন করছে। আগামীকাল থেকে আগামী শনিবার পর্যন্ত তার মৃতদেহ রাখা হবে পার্লামেন্টে। পরিবারের সদস্যরা সোমবার ও মঙ্গলবার তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন। প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও প্রধানমন্ত্রীর অফিসের সামনে অসংখ্য মানুষ ফুল দিয়ে তাদের এ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। ১৯৫৯ সালে তিনি প্রথমবার সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর ১৯৯০ সালে তিনি পদত্যাগ করেন। এর মধ্যবর্তী সময়টাতে তিনি টানা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এ সময়েই সমালোচকদের তীর্যক কথার বাণকে উপেক্ষা করে তিনি এগিয়ে নিয়েছেন সিঙ্গাপুরকে। তিনি নেতৃত্ব দিয়ে সিঙ্গাপুরকে ঈর্ষণীয় অবস্থানে নিয়ে গেছেন। তার বিরুদ্ধে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে দমন-পীড়নের অভিযোগ থাকলেও তিনি তার ফর্মুলা ধরে এগিয়েছেন। তাতে সফলতা পেয়েছেন। সিঙ্গাপুরকে বানিয়েছেন বিশ্ব বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র। এটা সম্ভব হয়েছে তার কঠোর প্রশাসনিক কাঠামো ও দুর্নীতি একেবারে কমে যাওয়ার কারণে। ২০১১ সালের নির্বাচনকে দেখা হয় লি কুয়ান ইউ-এর যুগের অবসান হিসেবে। কারণ, ওই বছর জনগণ ক্ষমতাসীন দল পিপলস অ্যাকশন পার্টির বিরুদ্ধে ভোট দেয়। ফলে লি কুয়ান ইউ তার পদ ত্যাগ করেন। তিনি ক্ষমতাকে কেন্দ্রীভূত করার কারণে, সরকার পরিচ্ছন্ন করার কারণে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সীমিত করেছিলেন, জনসমাবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেছিলেন। এছাড়া তিনি সেলফ সেন্সরশিপ আরোপের একটি পরিবেশ তৈরি করেন। এমনকি অর্থনৈতিক অবস্থাকে উদারীকরণ করার জন্য তিনি কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠেছিলেন। তাই তার ‘সিঙ্গাপুর মডেল’ নিয়ে সমালোচনা হয়েছে বিস্তর। তার এই মডেলের প্রশংসা হয়েছে ও তা নিয়ে গবেষণা করেছেন চীন সহ এশিয়ার নেতারা। লি কুয়াং ইউ’র মতো নেতা বিশ্বে খুব কমই হয়। এক সময় এমন প্রভাবশালী নেতা সম্ভবত ছিলেন ফিদেল ক্যাস্ত্রো এবং কিম ইল সাং। সিঙ্গাপুরকে নেতৃত্ব দিয়ে লি যতদূর নিয়ে গিয়েছেন এ দু’জন নেতা তাতে ব্যর্থ হয়েছেন। লি সিঙ্গাপুরকে ‘তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে প্রথম অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। তিন দশক ধরে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সিঙ্গাপুর পরিচালনা করেছেন। তাই এখন যে সিঙ্গাপুর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে লি কুয়ান ইউকে তার রূপকার বলা হয়। পিপলস অ্যাকশন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম মহাসচিব লি। ১৯৫৯ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে তিনি দলকে আটবার নির্বাচনে বিজয় এনে দেন। ১৯৬৫ সালে মালয়েশিয়া থেকে সিঙ্গাপুর আলাদা হওয়া পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। এশিয়ায় সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিকদের মধ্যে তিনি অন্যতম। ১৯৯০ সালে সিঙ্গাপুরের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী গোহ চোক টোং তাকে নিয়োগ দেন একজন সিনিয়র মন্ত্রী হিসেবে। লি কুয়ান ইউ’র জীবনী অনুসারে তিনি সিঙ্গাপুরে চতুর্থ প্রজন্মের মানুষ। তার পূর্বপুরুষ লি বক বুন ১৮৬৩ সালে চীনের গুয়াংডং প্রদেশের দাবু কাউন্টি থেকে পাড়ি জমায় সিঙ্গাপুরে। লি বক বুন এক দোকানির মেয়ে সিওউ হুনান নিওকে বিয়ে করেন। তবে ১৮৮২ সালে তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তানকে ফেলে চলে যান চীনে। তিনি গ্রামের বাড়িতে নির্মাণ করেছিলেন একটি ছোট কাচারি ঘর এবং নিজেকে নিজে পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রকাশ ঘটান। তিনি চীন থেকে ফিরে আসার দু’বছরের মাথায় মারা যান। লি কুয়ান ইউ’র দাদার নাম লি হুন লিয়ং। তার জন্ম ১৮৭১ সালে সিঙ্গাপুরে। তিনি ইংরেজি নিয়ে পড়াশোনা করেন। এক পর্যায়ে তিনি একটি ওষুধের দোকানে ডিসপেন্সার হিসেবে কাজ করেন। লি হুন লিয়ংয়ের বয়স যখন ২৬ বছর তখন কো লিয়েম নিও নামে ১৬ বছরের এক বালিকাকে বিয়ে করেন তিনি। এটা ছিল তখনকার প্রথা অনুযায়ী পারিবারিক বিয়ে। এক্ষেত্রে দুটি পরিবারই ছিল মধ্যবিত্ত। তার ছোট মামার ছিল কাটোং মার্কেট, কিছু রাবারের এস্টেট আর অরচার্ড রোডে ছিল বাড়ি। পরে হিপ ইঞ্জিনিয়ারিং মোহ স্টিমশিপ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পান লি হুন লিয়ং। তার ছিল দু’জন স্ত্রী। ওই সময়ে একাধিক বিয়ে ছিল একটি সাধারণ ঘটনা। তো তার ছিল ৫ কন্যা ও তিনটি ছেলে। তার ছেলে লি চিন কুন বিয়ে করেন চুয়া হিম নিওকে। তার গর্ভ থেকে ১৯২৩ সালে ভূমিষ্ঠ হন লি কুয়ান ইউ। গ্রেট ডিপ্রেশন বা ভয়াবহ মন্দার সময়টাতে লি কুয়ান ইউ’র দাদার অর্থসম্পদ একেবারে কমে যায়। ফলে তার পিতা লি চিন কুন একজন দরিদ্র দোকানিতে পরিণত হন। লি কুয়ান ইউ বিয়ে করেন কাওয়া গিওক চু’কে। ২০১০ সালের ২রা অক্টোবর ঘুমন্ত অবস্থায় মারা যান তিনি। তার রয়েছে দুটি ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলের নাম লি হাইয়েন লুং। তিনি অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। ২০০৪ সালে তিনি সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। লি পরিবারের অনেক সদস্য সিঙ্গাপুরের সুখ্যাত সব পদে আসীন। তার বোন লি ওয়েই লিং পরিচালনা করেন ন্যাশনাল নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট। লি কুয়ান ইউ তার আত্মজীবনীতে লিখেছেন, সিঙ্গাপুরে তার আইন নিয়ে কাজ করার বাসনা ছিল। বিদেশের পড়াশোনা শেষে তিনি যোগ দেন আইনি প্রতিষ্ঠান জন লেকক-এ। এখানে মাসে বেতন পেতেন ৫০০ ডলার।
পেছন ফিরে দেখা: লি কুয়ানের আত্মজীবনী অনুসারে তিনি শৈশবে পড়াশোনা শুরু করেন তেলোক কুরা প্রাইমারি স্কুলে। এ সময় তিনি ছিলেন অতি দরিদ্র এক ছাত্র। তার তেমন মেধা ছিল না। এরপর তিনি পড়াশোনা করতে যোগ দেন র্যাফলস ইনস্টিটিউটে। সেখানে তিনি মানিয়ে নিতে খুব সংকটে পড়ছিলেন। কারণ ওই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে গিয়েছিল সারা সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে সেরা ১৫০ জন ছাত্র। এখানে তিনি শীর্ষ সফলতা অর্জনের চেষ্টা করেন। তিন বছরের জন্য যোগ দেন স্কাউটসে। খেলতেন ক্রিকেট, টেনিস, দাবা। করতেন বিতর্ক। কেমব্রিজে জুনিয়র হিসেবে পড়াকালে তিনি বেশকিছু বৃত্তি লাভ করেন। অর্জন করেন ব্যাপক সফলতা। এক পর্যায়ে সিঙ্গাপুর ও মালয়ে তিনি সেরা ছাত্র হয়ে ওঠেন। ১৯৪২ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত চলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। এতে লি কুয়ান ইউ’র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বিলম্বিত হয়ে পড়ে। এ সময়ে তিনি জাপানি ভাষা শিখতে শুরু করেন। তার দাদার এক বন্ধুর কোম্পানি শিমোদা’তে প্রথমে কেরানি হিসেবে কাজ শুরু করেন। যুদ্ধের শেষদিকে তিনি একটি রেডিও শুনে বুঝতে পারেন জাপানিরা যুদ্ধে পরাজিত হতে যাচ্ছে। এতে তার মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয় যে, এর ফলে সিঙ্গাপুরে নৃশংস এক লড়াই শুরু হতে পারে। কারণ, সিঙ্গাপুরে অনেক জাপানি তখন বসবাস করেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে ক্যামেরন হাইল্যান্ডে একটি ফার্ম শুরু করেন। এ সময় তার অফিসের এক লিফটবয় বলেন, তার ফাইলপত্র নিয়ে গেছে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন। লি বুঝতে পারলেন জাপানি নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা তাকে অনুসরণ করছে। তাই তিনি পরিকল্পনা বাদ দিলেন।
রাজনৈতিক ক্যারিয়ার: ১৯৫৪ সালের ১২ই নভেম্বর ইংরেজি শিক্ষায় কিছু শিক্ষিত ব্যক্তিকে নিয়ে তিনি একটি দল গঠন করেন। এটি ছিল মধ্যবিত্তদের হাতে গড়া পিপলস অ্যাকশন পার্টি। ওই সময়ে সিঙ্গাপুরের শতকরা ৭০ ভাগ মানুষ কথা বলেন চীনা ভাষায়। সেই দলকে নিয়েই তিনি পাল্টে দিয়েছেন সিঙ্গাপুরকে। আগেই বলা হয়েছে, ১৯২৩ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর তিনি বৃটিশশাসিত সিঙ্গাপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩৬-৪২ সাল পর্যন্ত পড়াশোনা করেন র্যাফল ইনস্টিটিউট ও র্যাফল কলেজে। ১৯৪২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান দখল করে নেয় সিঙ্গাপুর। ১৪৫ সালে বৃটিশরা ফিরে যায় সিঙ্গাপুরে। ১৯৪৬-৫০ সাল পর্যন্ত তিনি লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিস্ট ও পলিটিক্যাল সায়েন্সে পড়াশোনা করেন। শিক্ষা লাভ করেন ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজে। ১৯৪৭ সালে গোপনে বিয়ে করেন কাওয়া গিওক চু’কে। এ ঘটনা ঘটে ইংল্যান্ডে। গিওক চু ছিলেন রানীর পক্ষ থেকে বৃত্তি পাওয়া ছাত্রী। তিনিও কেমব্রিজে পড়ছিলেন আইন নিয়ে। সিঙ্গাপুরে ফেরার পর আবার ১৯৫০ সালে কাওয়া গিওক চু’কে বিয়ে করেন তিনি। ১৯৫০ থেকে ’৫৯ সাল পর্যন্ত আইন চর্চা করেন। একটি ট্রেড ইউনিয়নের লিগ্যাল এডভাইজার হন। নীতিনির্ধারণী কাউন্সিল বা লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে সিঙ্গাপুরের মানুষের কণ্ঠ সীমিত হওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। তাই তিনি সক্রিয় রাজনৈতিক আন্দোলনের কথা ভাবতে থাকেন। ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন পিপলস অ্যাকশন পার্টি। ১৯৫৫ সালে পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হন লি কুয়ান ইউ। ফলে তাকে বানানো হয় বিরোধীদলীয় নেতা। ১৯৫৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে নেতৃত্ব দিয়ে পিপলস অ্যাকশন পার্টিকে বিজয়ী করেন। এর ফলে প্রথমবার তিনি প্রধানমন্ত্রী হন ৩৫ বছর বয়সে। ১৯৬৩ সালে সিঙ্গাপুর, মালয় ও সাবাহ মালয়েশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়। এ সময়েই মালয়েশিয়াকে স্বাধীনতা দেয় বৃটেন। ১৯৬৫ সালে মালয়েশিয়ার কাছ থেকে সিঙ্গাপুর স্বাধীন হয়। সিঙ্গাপুর স্বাধীন হয়েছে এমন ঘোষণায় কেঁদে ফেলেন লি। তিনি প্রতিষ্ঠা করেন স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মাত্র ৫০ কর্মকর্তা আছে এমন দুটি ব্যাটালিয়ন, ১০০০ সদস্য ও দুটি জাহাজ নিয়ে স্বাধীন হয় সিঙ্গাপুর। তখনও ছিল না বিমান বাহিনী। এখন চীন, জাপান ও যুক্তরাজ্যের চেয়েও বেশি সামরিক খাতে ব্যয় করে সিঙ্গাপুর। ১৯৬৭ সালে শুরু হয় ন্যাশনাল সার্ভিস। তখনকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী গোজ কেং সুই বলেন, সব পরিবারের যুবকদের অবশ্যই সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এটা করা হবে শক্তিশালী একটি প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠনের জন্য। ১৯৬৮ সালে সিঙ্গাপুরে যাত্রা শুরু করে ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অব সিঙ্গাপুর। বর্তমানে ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অব সিঙ্গাপুর গ্রুপ হোল্ডিংস লিমিটেড হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় ব্যাংক। ১৯৭২ সালে যাত্রা শুরু করে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স। ১৯৭৪ সালে একটি নিয়ম চালু হয়। তাতে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি তেমাসেক হোল্ডিংসে সরকারি বিনিয়োগ করা যাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে। ২০১৪ সালের ৩১শে মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসে তেমাসেকের সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২৩০০ কোটি ডলার। এ কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন হো চিং। তিনি প্রধানমন্ত্রী লি হাইয়েন লুংয়ের স্ত্রী। ১৯৮১ সালে চাঙ্গি বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। বর্তমানে সেখানে রয়েছে তিনটি টার্মিনাল। বিশ্বের ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে এটি একটি।
প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর শোক
আধুনিক সিঙ্গাপুরের জনক ও দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান ইউ’র মৃত্যুতে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী শোক জানিয়েছেন। গতকাল পৃথক বিবৃতিতে দেশটির কর্তৃপক্ষ বরাবর পৃথক শোকবার্তা পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট টনি তান কেং ইয়াম-এর কাছে পাঠানো শোকবার্তায় প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ বলেন, ‘সিঙ্গাপুরের জনক ও আধুনিক সিঙ্গাপুরের স্থপতি লী কুয়ান ইউ-এর মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে দুঃখিত। আমি আপনাকে ও সিঙ্গাপুরের জনগণকে আমার গভীর শোক এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। প্রেসিডেন্ট বলেন, লী কুয়ানের কর্মকাণ্ড শুধু সিঙ্গাপুরের জনগণের জন্যই নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য একটি গৌরবময় অধ্যায় হয়ে থাকবে। প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তিনি একজন বীর, একজন নেতা এবং সবার ওপর একজন গর্বিত নাগরিক হিসাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন, যিনি তার দেশের জন্য একটি ইতিবাচক পার্থক্য নির্ণয় করেছেন এবং অর্থনৈতিক সংকট দূরীকরণ ও উন্নয়ন প্রত্যাশী জনগণের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। শোকবার্তায় এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার জন্য তার পরিবারের সদস্য ও সিঙ্গাপুরের জনগণকে যথেষ্ট শক্তি ও সহিষ্ণুতা প্রদানের জন্য সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন প্রেসিডেন্ট। এদিকে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লী হেসিয়েন লং-এর কাছে প্রেরিত শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আধুনিক সিঙ্গাপুরের জনক ও স্থপতি লী কুয়ান ইউ-এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, লী কুয়ান তার নেতৃত্ব ও কর্মকাণ্ডের জন্য কেবল সিঙ্গাপুরের নাগরিকদের কাছে নয়, সারা বিশ্বেও স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। লী সিঙ্গাপুরকে এশীয়ান টাইগারে পরিণত করতে উন্নয়নের যে পথ নির্দেশনা দিয়েছেন, তা আমাদের ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করে। নিজ দেশের স্বাতন্ত্র্যের রূপকার ও গোটা বিশ্বের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী লী কুয়ানকে আগামী দিনগুলোতে একজন বীর, একজন নেতা ও সর্বোপরি একজন অসামান্য নাগরিক হিসেবে স্মরণ করা হবে। বাংলাদেশের জনগণ ও তার নিজের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রয়াতের পরিবারের সদস্যবর্গ ও সিঙ্গাপুরের জনগণের প্রতি সমবেদনা এবং অপূরণীয় এ ক্ষতি বহনের শক্তি ও সহিষ্ণুতা প্রদানের প্রার্থনা জানান। সোমবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সিঙ্গাপুরের জনক লি কুয়ান ইউ (৯১)। গত ৫ই ফেব্রুয়ারি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে দেশটির একটি হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল তাকে। তার মৃত্যুতে দেশটিতে এক সপ্তাহের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২৯শে মার্চ তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এখনও হিসাব কষছে বিএনপি by কাফি কামাল

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইয়েমেনে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি!
মার্কিন সরকারের একাধিক সূত্র বলছে, এই রণপ্রস্তুতি ইয়েমেনে সৌদি আরবের হামলা অথবা সেখান থেকে আসা সম্ভাব্য হামলা ঠেকানো- উভয় উদ্দেশ্যেই হতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তারা মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর কাছে সৈন্য ও জমা করা অস্ত্রের পরিমাণকে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন।
তাদের ধারণা, ইয়েমেনের অ্যাডেনে অবস্থান করা দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদু রাব্বু মনসুর হাদির ওপর হুতিদের হামলা প্রতিরোধ করতে সৌদি বিমান বাহিনী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গত সেপ্টেম্বরে হুতি বিদ্রোহীরা সৌদিসহ অন্যান্য আরব সুন্নী দেশ সমর্থিত প্রেসিডেন্ট হাদিকে হঠিয়ে দিতে দেশটির রাজধানী সানা দখল করে নেয়। তখন থেকে হাদি অ্যাডেন শহরে নিজের বাসভবনে অবরুদ্ধ ছিলেন।
সর্বশেষ বুধবার প্রেসিডেন্ট হাদি হামলার মুখে অ্যাডেন থেকে পালিয়ে অজ্ঞাত স্থানে আত্মগোপন করেন এবং তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিদ্রোহীদের হাতে আটক হন। হাদি তার দেশে আল-কায়েদার একটি শাখার আস্তানায় মার্কিন ড্রোন হামলায় সমর্থন দিয়েছিলেন।
সীমান্তবর্তী দেশে ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতিদের অব্যাহত শক্তি প্রদর্শন মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান অন্যতম শক্তি সৌদি আরবের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইয়েমেনে সাথে প্রায় ১৮০০ কিলোমিটারের সীমান্ত থাকা সৌদি আরবের উদ্বেগ হচ্ছে, পার্শ্ববর্তী দেশটির সংকটের প্রভাব নিজ দেশেও পড়তে পারে। বিশেষ করে, ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের সীমান্তের সাথেই সৌদির সবচেয়ে বড় তেলক্ষেত্রের অবস্থান।
যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইয়েমেন সীমান্তে সৌদির সমরসজ্জার ব্যাপারে ওয়াশিংটন গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছে। তবে তিনি সেটির প্রকৃত আকার এবং অবস্থান সম্পর্কে কিছু বলেননি।
গত সোমবার সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাউদ আল-ফায়সাল বলেছিলেন, কোন শান্তিপূর্ণ সমাধান না হলে আরব দেশগুলো হুতিদের আগ্রাসন মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।
এরপর মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট হাদি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে লেখা এক চিঠিতে হুতিদের দমনে আগ্রহী দেশগুলোকে সামরিক হস্তক্ষেপে সমর্থন দেয়ার আহবান জানান।
তবে সাবেক এক মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, বাইরে থেকে ইয়েমেনে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। হাদির অবস্থান ক্রমাগতভাবে দুর্বল হচ্ছে এবং বলা যায় তিনি এখন পতিত হয়ে গেছেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অনির্বাচন by মাহবুব তালুকদার
ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। এর পাশেই রয়েছে যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের মূর্তি, যিনি গান্ধীকে ‘অর্ধনগ্ন ফকির’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
মহাত্মা গান্ধী ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক। তিনি ব্রিটিশদের কবল থেকে ভারতকে
মুক্ত করার জন্য আন্দোলন করে কারাগারে যান। এই ‘অর্ধনগ্ন ফকির’ এক সময় ব্রিটিশদের চক্ষুশূল ছিলেন। আজ সেই ব্রিটিশরা তাদের পার্লামেন্ট প্রাঙ্গণে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি স্থাপন করে, বিশেষভাবে তাঁদের দেশের আরেক মহানায়ক উইনস্টন চার্চিলের পাশে গান্ধীকে স্থান দিয়ে বিশ্বব্যাপী একটি বার্তাই পৌঁছে দিয়েছে যে, রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। এক সময়ের শত্রু চিরকালের মিত্র হতে পারে।
আমি চাচাকে বললাম, চাচা! এমন কি হতে পারে না যে, আমাদের সংসদ ভবনের সামনে হাসিনা ও খালেদার পূর্ণাঙ্গ মূর্তি পাশাপাশি স্থাপিত হলো?
কী বলছো তুমি? তোমার কি মাথা খারাপ হয়েছে?
আমি এখনকার কথা বলছি না। ধরুন, পঞ্চাশ ষাট বা একশ’ বছর পরের কথা বলছি।
চাচা অগ্নিদৃষ্টি হেনে তাকালেন আমার দিকে। বললেন, একশ’ বছর পানি দিয়ে ধুলেও কি খালেদা জিয়ার হাতের রক্তের ছাপ মুছে যাবে?
বললাম, অতীতের ঘটনার উপর ভিত্তি করেই তো ভবিষ্যতের ইতিহাস নির্মিত হয়। এক-এগারোর সময় উভয়নেত্রী জাতীয় সংসদ সংলগ্ন দুটি ভবনে অন্তরীণ ছিলেন ওই সময়ে তাদের একজন আরেকজনকে তরকারি রান্না করে পাঠিয়েছেন। বাংলায় প্রবাদ আছে ‘ঠেলায় পড়লে বাঘে ও গরুতে এক ঘাটে পানি খায়।’ ওই সময়ে প্রবাদটি সার্থক মনে হয়েছিল। তাই, দুই নেত্রীর বৈরী সম্পর্ক ভবিষ্যতে কী রূপ নেবে, তা একমাত্র সময়ই বলতে পারে।
চাচা রূঢ়কণ্ঠে বললেন, তুমি সবসময় শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে এক পাল্লায় মাপতে চাও। তাদের দু’জনকে পাশাপাশি দেখাতে চাও। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেরও এরকম হীন প্রবণতা রয়েছে। এটা ভারি অন্যায়।
দুই নেত্রী অবশ্যই ভিন্ন ব্যক্তিত্ব। তাদের পৃথক রাজনৈতিক সত্তা রয়েছে। দুজনের রাজনৈতিক আদর্শও আলাদা।
আবার দুই নেত্রী! চাচা এবারে ক্ষেপে গেলেন। আগে তোমার ‘দুই নেত্রী’ কথাটা উইথড্র করো। একটু থেমে আবার তিনি বললেন, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শটা কি? মানুষ পুড়িয়ে মারাকে কেউ রাজনীতি বলে না।
চাচা! এতটা অনড় হলে তো কথা বলা যাবে না।
কথা বলা মানে সংলাপ তো? বাংলাদেশে এখন কেউ আর সংলাপের পক্ষে নয়। এমনকি, স্বামী-স্ত্রী’র মধ্যেও সংলাপ বন্ধ রাখা উচিত।
চাচা খেয়াল করতে পারেননি, চাচি দরজার পর্দা সরিয়ে ততক্ষণে ঘরের ভেতরে এসে দাঁড়িয়েছেন। বললেন, স্বামী-স্ত্রী’র সংলাপও যদি বন্ধ রাখতে বলা হয়, সেটা মঞ্জুর। তিন বেলা খাবার ও নাশতা দেয়ার কথা আশা করি বলবে না।
চাচির কথা শুনে চাচা কিঞ্চিৎ ভড়কে গেলেন। বললেন, ঠিক আছে। আমি চিরকুট লিখে লিখে আমার প্রয়োজনের বিষয় জানাবো। সেটা নিশ্চয়ই সংলাপ হবে না।
আমি উভয়ের দাম্পত্য পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য বললাম, বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদের অন্তর্ধানের ব্যাপারে সমগ্র দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন। এভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে রাতের বেলা কোন নাগরিককে তুলে নিয়ে গেলে নাগরিক নিরাপত্তার আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উচ্চ আদালতকে জানিয়েছে, সালাহউদ্দিনকে তারা তুলে নিয়ে যায়নি।
তারা ঠিকই বলেছে। চাচা বললেন, সালাহউদ্দিন আত্মগোপনে ছিলেন। আরও অধিকতর আত্মগোপনে গিয়ে লুকিয়ে আছেন। পুলিশ তো তাকে অনেক আগে থেকেই গ্রেপ্তার করতে চাচ্ছিল। কিন্তু তাকে পুলিশ খুঁজে পাচ্ছে না।
চাচা! বারবারই দেখা যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মী বা অন্য কাউকে তুলে নিয়ে গুম করা হচ্ছে। পুলিশ যদি এসব অস্বীকার করে তাহলে এ ধরনের ঘটনা পুলিশের ইমেজের জন্য আরও মারাত্মক।
তুমি এমনভাবে কথা বলছো যেন পুলিশই এসব করাচ্ছে।
চাচি বললেন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মান্নাকে ২১ ঘণ্টা পরে জনসমক্ষে হাজির করার ব্যাপারে পুলিশ যে বয়ান দিয়েছে, মানুষ তা বিশ্বাস করছে না। এসব কি বন্ধ করা যায় না?
কিভাবে বন্ধ হবে?
চাচি আবার বললেন, কাউকে যদি তুলে নিতে হয় বা গ্রেপ্তার করতে হয়, সংশ্লিষ্ট থানার ওসি বা তার অধীনস্থ কর্মকর্তা অকুস্থলে উপস্থিত থাকবেন। ওয়ারেন্ট দেখিয়েই কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে। কিন্তু অপরিচিত সাদা পোশাকের ব্যক্তিরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে রাতের আঁধারে কাউকে তুলে নিয়ে গুম করবে এবং পরে তার লাশ পাওয়া যাবে, গণতান্ত্রিক দেশে তা হতে পারে না। সালাহউদ্দিন আহমেদের অন্তর্ধানের দায় সরকারকেই নিতে হবে।
মোটেই না। সালাহউদ্দিনের ব্যাপারটা একেবারে আলাদা। খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়েই তিনি লুকিয়ে ছিলেন। সেখান থেকে ২০ দলের টাইপ করা আপত্তিকর বিবৃতিগুলোতে সই করে গণমাধ্যমে পাঠিয়ে দিতেন। চাচা জানালেন।
তবে যে গণমাধ্যমে খবর ছাপা হয়েছে, তাকে উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের ৪৯/বি নম্বর বাড়ি থেকে তুলে নেয়া হয়েছে। আমি বললাম।
একেবারেই ভুয়া। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তো বলেই দিয়েছেন, সালাহউদ্দিনকে ৮ বস্তা ময়লার সঙ্গে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। কোথায় পাঠানো হয়েছে তা খালেদা জিয়াই ভালো বলতে পারবেন।
চাচা! মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐ বক্তব্য আমিও শুনেছি। সরকার প্রধান হিসেবে তিনি যখন কোন কথা বলেন, আমি তা শতভাগ সত্য বলে মনে করি। কারণ তিনি কখনো মিথ্যা বলতে পারেন না। কিন্তু এ বিষয়ে আমার কিছু কথা আছে।
কী কথা?
আমি বললাম, ৮টি ময়লার বস্তার সঙ্গে সালাহউদ্দিনকে যে বাইরে পাঠানো হয়েছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তা জানলেন কোত্থেকে? গোয়েন্দারা নিশ্চয়ই বলেছে। গুলশান কার্যালয়ের গেটে কর্তব্যরত পুলিশরা তা ধরলো না কেন? কর্তব্যে অবহেলার জন্য তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলো না কেন? তাছাড়া, আদালতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো যখন প্রতিবেদন দাখিল করল, তখন ময়লার বস্তাগুলোর উল্লেখ করে তারা খালেদা জিয়ার ওপরে দায় চাপাল না কেন? আমি মনে করি, গোয়েন্দারা মিথ্যা তথ্য দিলে তাদেরও শাস্তি হওয়া উচিত।
চাচা আমার কথার কী উত্তর দেবেন, তা বোধহয় ভেবে পাচ্ছিলেন না। তিনি আমতা আমতা করতে থাকলেন। তাকে এই অবস্থা থেকে উদ্ধার করলেন চাচি। বললেন, সারাক্ষণ কেবল খালেদা জিয়া আর খালেদা জিয়া! প্রায় আড়াই মাস ধরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি বক্তৃতার ৫০ ভাগ জুড়ে খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ। অন্য কয়েকজন মন্ত্রী ও খালেদা জিয়া ছাড়া বক্তৃতার বিষয়বস্তু খুঁজে পান না। আমাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রায় সবটুকু জুড়েই তার প্রসঙ্গ। আমার ভয় হয়, এতে কেবল খালেদা জিয়ারই লাভ হচ্ছে। তোমরা বরং সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে পার। বলে চাচি অন্য ঘরে চলে গেলেন। সম্ভবত রান্নাঘরে।
সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পর্কে আমার ভিন্নমত রয়েছে। দেশের এই নাজুক পরিস্থিতিতে এহেন নির্বাচন করার জন্য সরকার তড়িঘড়ি করছে। এর আগে নানা অজুহাতে বেশ কয়েক বছর ধরে নির্বাচন বন্ধ রাখা হয়। এখন বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে মারা সম্পর্কে সরকারের ব্যাপক প্রচারণার সুফল ঘরে তুলতে চায় আওয়ামী লীগ। বিশেষভাবে এই সময়ে বিএনপি-জামায়াতের হাজার হাজার নেতাকর্মী যখন জেলে এবং হাজার হাজার নেতাকর্মীর নামে যখন মামলা চলছে, তখন তাদের নির্বাচনী প্রচারণার বাইরে রেখে নির্বাচন করতে পারলে সরকারি দলের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কাগজে-কলমে এবং নির্বাচন কমিশনের আত্মপ্রচারাভিযানে এহেন দুর্যোগপূর্ণ সময়ের নির্বাচনকে ‘স্বতঃস্ফূর্ত’ হিসেবে দেখাতে পারলে মন্দ কি! আর ‘নির্দলীয়’ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয়ভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা এবং দলীয় মনোনয়নের বাইরে দলের কাউকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াতে না দেয়ার ‘প্রহসন’ তো আছেই। এ নির্বাচনে ‘সব দলের অংশগ্রহণ’ কথাটি কি আদৌ প্রযোজ্য?
চাচাকে এসব কথা বলব কিনা ভাবছিলাম। পরে মনে হলো, এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চাচার মনোভাবই আমার জেনে নেয়া দরকার। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, চাচা! ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?
চাচা জানালেন, সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের চাবিকাঠিও খালেদা জিয়ার আঁচলে বাঁধা। আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার তো এখন তার মুখের দিকেই তাকিয়ে আছেন।
এর মানে কী? আমি সবিস্ময়ে জিজ্ঞাসা করলাম।
চাচা বললেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা দ্রুত নির্বাচনের জন্য একটা শিডিউল ঠিক করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে দিয়েছেন। সে অনুযায়ী শিডিউলও ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়া বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিলে এক কথা আর বিএনপি নির্বাচনে না এলে অন্য কথা।
এ কথার অর্থও আমি বুঝতে পারছি না।
চাচা আমার কানের কাছে মুখ নামিয়ে বললেন, তোমাকে অনেক কথা নির্বিবাদে বলতে পারি। তোমার চাচির সামনে তা বলতে পারি না।
কী কথা?
প্রধান নির্বাচন কমিশনার চান, বিএনপি যেন নির্বাচনে না আসে।
সে কি কথা? তবে যে তিনি বলেছেন, সবার অংশগ্রহণে-
ওটা তার মুখস্থ কথা। তার মনের কথা নয়।
আমার ইচ্ছা হচ্ছিল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মনের কথা তিনি কীভাবে জানলেন, জিজ্ঞাসা করি। কথাটা সরাসরি না বলে জানতে চাইলাম, বিএনপি নির্বাচনে এলে নির্বাচন কমিশনের অসুবিধা কী?
চাচা বললেন, নির্বাচন কমিশনের যে ফরম্যাটে ইতোপূর্বে কয়েকটি সিটি নির্বাচন হয়েছে, তার সবগুলোতে সরকারি দল হেরে গেছে। অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি না থাকায় নির্বাচন কমিশন যে ফরম্যাটে নির্বাচন করেছে, তা সরকারের জন্য খুবই উপযোগী ছিল। বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলে জাতীয় নির্বাচনের ফরম্যাট রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তাতে নির্বাচন কমিশনের যেমন লাভ, সরকারেরও লাভ।
সরকারের লাভ না হয় বুঝলাম, নির্বাচন কমিশনের লাভ কীভাবে হবে?
নির্বাচনের ব্যাপারে তুমি কিছুই বোঝ না। চাচা হাসিমুখে বললেন, জাতীয় নির্বাচনে ১৫৩ পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যেভাবে নির্বাচন করা গেল, এখানেও যদি তেমন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সবাই জয়যুক্ত হয়, তাহলে কমিশন সফল। জাতীয় নির্বাচনের মতো অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটা নির্বাচন উপহার দেয়া বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পক্ষেই সম্ভব।
কিন্তু চাচা! কাউন্সিলর পদে যদি বিএনপির প্রার্থীরা তলে তলে নির্বাচন করে?
তাদের সবার নামে হামলার অভিযোগ ও মামলা আছে। নির্বাচনে দাঁড়ানোর আগে তাদের কারাগারে শোয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
কিন্তু বিএনপির সবার বিরুদ্ধে তো মামলা নেই।
কে বলল নেই? চাচা সরোষে বলে উঠলেন, যারা আত্মগোপনে থেকে নির্বাচনে দাঁড়াবে, তাদের সবারই নাম পুলিশের ‘অজ্ঞাতনামা’ তালিকায় আছে। সেই ‘অজ্ঞাতনামা’দের তালিকায় এখন প্রার্থীদের নাম ধরে ধরে বসিয়ে দিলেই কাম ফতে।
কিন্তু বিএনপি যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আসে? ঢাকা ও চট্টগ্রামের মেয়রের তিনটি পদে বিএনপি প্রার্থী যদি জিতে যায়? তাহলে সরকারের কী দশা হবে?
কুচ পরোয়া নেই। চাচা হাসিমুখে বললেন, আগের ৫টি সিটি করপোরেশনের পদে জিতে বিএনপির মেয়রদের কী অবস্থা হয়েছে? তারা এখন কেউ জেলে, কেউ ফেরারি। এবারও তিনটি মেয়র পদে বিএনপি প্রার্থীরা যদি খোদা না করুন, জিতেই যায়, তাহলে অনিবার্যভাবে তাদের পরিণতিও আগের মেয়রদের মতোই হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতের মতো রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা দরকার by মিজানুর রহমান খান
পিআরআই সেমিনারে উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক জিল্লুর আর খান তাঁর লিখিত প্রবন্ধে ক্ষমতার ওপর প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য সৃষ্টির জন্য দ্বিকক্ষ সংসদের মতো কতিপয় উত্তম প্রস্তাব করেছেন কিন্তু রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার বিষয়ে নীরব থেকে বরং নির্বাচনপদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে সমাধান পেতে চাইছেন।
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতির হাতে ক্ষমতা বাড়ানো হবে সংবিধান পরিপন্থী, বাংলাদেশের বাস্তবতায় তা কার্যকর কিছু হবে না।’ বর্তমান বাস্তবতায় হয়তো কার্যকর কিছু হবে না, কিন্তু নতুন প্রজন্মের লড়াইটা হবে ওই বাস্তবতাকে জনস্বার্থে বদলে দেওয়া। খায়রুল হক বিশ্বে প্রচলিত দুই ধরনের সরকারপদ্ধতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে সংসদীয় পদ্ধতি চালু রাখার পক্ষে মত দিয়ে বলেন, ‘এই প্রক্রিয়ার কোনো দুর্বলতা এখন মনে হলেও চর্চার মাধ্যমে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।’ এটা ঠিক। কিন্তু বুঝতে হবে, সংসদীয় পদ্ধতি যেটা ১৯৭২ সালে চালু করা হয়েছিল, তাতে ওয়েস্টমিনস্টার মডেলের কঙ্কালটা ছিল, প্রাণ ছিল না। এখনো নেই। কারণ, সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীকে আলাদাভাবে অন্য মন্ত্রীদের ওপরে তোলা হয় না। ৭০ অনুচ্ছেদের মতো বিধান রাখা যায় না।
বিচারপতি খায়রুল হকের কথায়, ‘যে পদ্ধতি আমাদের দেশে চালু রয়েছে, সেখানে যার যার সাংবিধানিক ক্ষমতা সেটা বহাল রেখেই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে।’ নীতিগতভাবে এই যুক্তি অচল। মন্ত্রিসভাকে বাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাতে যে সর্বময় ক্ষমতা, সেটা অবশ্যই বিলোপ করতে হবে। সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আকবর আলি খান বলেন, ‘রুলস অব বিজনেসে (পাকিস্তান থেকে আমদানি করা) বিধান আছে, প্রধানমন্ত্রী যেকোনো বিধি আগাম স্থগিত করতে পারেন। আবার স্থগিত না করে কোনো বিধি লঙ্ঘন করলে তার ভূতাপেক্ষ বৈধতা দিতে পারেন।’ কেউ বলবেন, সেটা তো রুলস অব বিজনেস বদলে দিলেই হয়। আমার যুক্তি, প্রধানমন্ত্রী এটা পারছেন সংবিধানের ৪৮(৩) ও ৫৫(২) অনুচ্ছেদের কারণে, ক্ষমতার বিন্যাসটা ভারতের মতো থাকলে এটা করতে কিছুটা কুণ্ঠিত হতেন।
খায়রুল হক ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে ‘জনগণের কাছে যার জবাবদিহি রয়েছে, তিনি বা তাদেরই হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থাকবে। অন্য কারও হাতে নয়। পার্লামেন্ট যেহেতু জনগণের প্রতিনিধি, সেহেতু তাদের মাধ্যমেই জনগণের নিকট দায়বদ্ধতা প্রদর্শন করা হয়ে থাকে।’ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত কিন্তু তাঁকে সংসদের দ্বারা অনুমোদিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে হয়। সুতরাং, পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত হওয়ার কারণে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগে অসুবিধা হয় না।
খায়রুল হক মনে করেন, ‘যেহেতু ক্ষমতার উৎস জনগণ, কাজেই রাষ্ট্রপতিকে কোনো প্রকার নির্বাহী ক্ষমতা দিতে হলে সংবিধান সংশোধন করে তাঁকে সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে হবে। নইলে কোনো ক্ষমতারই অধিকারী তিনি হবেন না।’ এটা গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতীয় রাষ্ট্রপতিরা তার প্রমাণ। তাঁরা কখনো বিশেষ করে সংকটের সময়ে মন্ত্রিসভার পরামর্শ ছাড়াই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়ে রাষ্ট্রপতির এই বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের এখতিয়ারকে সমর্থন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতিকে রাবারস্ট্যাম্প ভাবা হয়নি।
অনলাইন সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, ‘সেই সংশোধনী (রাষ্ট্রপতিকে নির্বাহী ক্ষমতা দিয়ে) সংবিধানের মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে বলে মত প্রকাশ করেন বাংলাদেশের শাসনতন্ত্র ব্যাখ্যার অধিকর্তা সর্বোচ্চ আদালতের সর্বোচ্চ স্থানে দায়িত্ব পালন করে আসা এই ব্যক্তি (বিচারপতি খায়রুল হক)।’ আসলে সাংঘর্ষিক তো হবেই না, বরং সংবিধানসম্মত হবে। এটা দুই অর্থে। ধরা যাক, রাষ্ট্রপতিপদ্ধতিতে আমরা ফিরব না। কিন্তু চাইলেও পারব না, তা ঠিক নয়। আবার সংসদীয় পদ্ধতি চাইলে ভারতের রাষ্ট্রপতির মতো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে নির্বাহী ক্ষমতা দিতে হবে। যদিও এর ফলে কার্যকরভাবে তাঁর ক্ষমতা বাড়বে না। কিন্তু তাঁর মনস্তাত্ত্বিক অর্জন ঘটবে। সংবিধানটা ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ হবে। চতুর্থ সংশোধনী রাষ্ট্রপতিকে নির্বাহী ক্ষমতা দিয়েছিল। সেটা কি সংবিধানের মূল চেতনাকে আঘাত করেছিল?
অষ্টম সংশোধনী মামলায় বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী মত দিয়েছিলেন, ‘রাষ্ট্রপতির হাতে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা-সংবলিত যে সরকারব্যবস্থা চালু রয়েছে, তা সংবিধানে অন্যতম মৌলিক কাঠামো। এটা পরিবর্তন করা যাবে না।’ তিন বছরের মধ্যে ১৯৯১ সালে এটা বদলে আমরা চতুর্থ সংশোধনীতে চালু করা রাষ্ট্রপতিপদ্ধতি রহিত করেছিলাম। যে দুজন ‘স্বৈরাচারী বন্দুকের জোরে’ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেছিলেন, তাঁর মতে সেটা রাষ্ট্রদ্রোহ ছিল। কিন্তু চতুর্থ সংশোধনীমতে, ১৯৮২ সালে যদি প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতো, তাহলে তা নিশ্চয় রাষ্ট্রদ্রোহ হতো না।
রাষ্ট্রপতি শাসন এক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে বলেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে বলেন তিনি। আমরা তাঁর সঙ্গে একমত হতে পারি। পাকিস্তান আমলে ওই এক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত ছিল বলেই বঙ্গবন্ধু তাঁর ছয় দফায় সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৭২ সালে সংবিধান লিখতে বসে ১৯৫৬ সালের সংবিধানের ৩৯তম অনুচ্ছেদের ১ দফাটা অংশত নকল করে আমরা প্রধানমন্ত্রীর নামের আড়ালে সেই রাষ্ট্রপতিকেই আমদানি করেছিলাম। কিন্তু সাংবিধানিক ব্যাকরণ মানা হয়নি। কারণ, সেখানে রাষ্ট্রপতির হাতে প্রথামতে নির্বাহী ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয়েছিল। বাংলাদেশ সংবিধানে কারও হাতেই নির্বাহী ক্ষমতা ন্যস্ত (ভেস্ট) করা হয়নি।
দেশে সংসদীয় পদ্ধতির নামে দুই বিবদমান প্রতিপক্ষের সম্মতিতে কার্যত এক ব্যক্তির শাসন চলছে। তাই যখন ওই তথ্য তুলে ধরা হবে না এবং বাস্তবতা অগ্রাহ্য করে ‘রাষ্ট্রপতিশাসিত পদ্ধতিতে ক্ষমতা কুক্ষিগত হওয়ার যে সুযোগ তৈরি হয়, বাংলাদেশের বর্তমান পদ্ধতিতে মন্ত্রিসভাকে যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত পার্লামেন্টের কাছে জবাবদিহি করতে হয়, সেহেতু প্রভাবান্বিত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে’ বলা হবে, তখন তাতে সত্যের অপলাপ হবে। জনগণ ভুল বার্তা পাবে।
খায়রুল হক ভারতের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, ‘বাংলাদেশে ওয়েস্টমিনস্টার ধরনের যে গণতন্ত্র এখন প্রচলিত, ভারতে তা প্রায় ৭০ বছর ধরে ভালোভাবেই চলছে; সোয়া শ কোটি মানুষ এর সুফল পাচ্ছে। আমাদের দেশে না চলার কোনো কারণ নেই।’ আগেই বলেছি, ১৯৭২ সালে ওয়েস্টমিনস্টার তথা ভারতীয় মডেলের কঙ্কালটা এনেছিলাম, প্রাণটা আমরা আনিনি। সবিনয়ে নিবেদন করি, এটা নিছক মন্তব্য করার ব্যাপার নয়, দালিলিকভাবে প্রমাণ করে দেওয়ার ব্যাপার।
এটা না বদলে কেবল চর্চার মধ্য দিয়ে বিদ্যমান পদ্ধতির দুর্বলতা কাটবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত ত্রয়োদশ সংশোধনীর মামলায় তিনি (বিচারপতি খায়রুল হক) এ বিষয়ে যে পর্যবেক্ষণ (রায়ের ৯৭১ থেকে ৯৮৩ প্যারা দ্রষ্টব্য) দিয়েছেন, সে মতে প্রধানমন্ত্রীরা পথ চললে কোনো কথা ছিল না। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। তাই ভারতীয় রাষ্ট্রপতিকে সংবিধান যেভাবে রেখেছে, সেভাবে আমাদের রাষ্ট্রপতিকেও রাখতে হবে। তিনি রায়ে লিখেন: স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে প্রকৃত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা, তৎপর প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক তা প্রযুক্ত হবে।’
এ রায়ের ওই ১২টি প্যারায় যা লেখা, তার অর্থ মন্ত্রিসভাকে বাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই। ২০১২ সালের ১০ মে থেকে এর অন্যথা যা চলছে, আপিল বিভাগের রায়কে আইন মানলে আইনগতভাবেই তা প্রশ্নবিদ্ধ। নাগরিক সমাজের উচিত এই রায়টি পড়া এবং সরকারকে চ্যালেঞ্জ করা। এ রায়ের পরে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় মন্ত্রিসভাকে বাদ দিয়ে যেসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছিল, তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তা ঘটেনি। তবে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সম্পর্কে এ অভিমতের জন্য তাঁর সাধুবাদ প্রাপ্য। ওই রায়ে তিনি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের শসমশের সিং বনাম পাঞ্জাব মামলার বরাতে বলেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই যে, রাষ্ট্রপতি তাঁর ব্যক্তিত্ব দিয়ে রাজনৈতিক সরকারকে সংযত ও শুধরে দেবেন।’ তবে এখানে কেবল সংস্কৃতির উন্নয়নের প্রশ্নই আসে না। আর সংস্কৃতি ও সংস্কারের মধ্যে বিরোধ নেই। আমরা দুটোরই অপেক্ষায় থাকলাম।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক৷
mrkhanbd@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিঙ্গাপুর যেভাবে বিশ্বসেরা
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
থেমে গেল স্বপ্নের চরকা
১৯২৩ : ১৬ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে এক চীনা ধনী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা লি চিন কুন একটি তেল কোম্পানির ম্যানেজার। মা চুয়া জিম নিও।
১৯৩৬-৪২ : রাফেলস ইন্সটিটিউশনে লেখাপড়া করেন। পুরো দ্বীপাঞ্চলের মধ্যে তিনি পরীক্ষায় প্রথম হন।
১৯৪২ : ১৫ ফেব্রুয়ারি জাপান সিঙ্গাপুর আক্রমণ করে। ১৮-২২ ফ্রেব্রুয়ারি জাপানি সৈন্যরা ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ চীনা সিঙ্গাপুরি সৈন্য হত্যা করে। এ বর্বরতা কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেন লি কুয়ান।
১৯৪৩-৪৪ : জাপানের ইংরেজি প্রচারপত্র হোবুদুর সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন।
১৯৪৬ : সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সিনিয়র ক্যামব্রিজ পরীক্ষায় প্রথম হয়ে বৃত্তি নিয়ে লন্ডনের স্কুল অব ইকনোমিক্সে পড়তে যান।
১৯৪৭-৪৯ : ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনে পড়েন।
১৯৪৭ : ২৩ ডিসেম্বর ক্যামব্রিজ ছাত্রী কোয়া গিওক চু-কে গোপনে বিয়ে করেন।
১৯৫০ : ব্যারিস্টার হয়ে সিঙ্গাপুর ফিরে যান।
১৯৫৫ : স্ত্রী ও ছোটভাইকে নিয়ে নিজস্ব ’ল ফার্ম গঠন করেন।
১৯৫৯ : সিঙ্গাপুরের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তার দল ৫১ আসনের ৪৩টিতে জয়ী হয়।
১৯৬০ : দুর্নীতিবিরোধী কঠোর আইন পাস ও স্বচ্ছ-কার্যকর সরকার প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৬১ : বিদেশী বিনিয়োগে শিল্পোন্নত সিঙ্গাপুর গড়তে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বোর্ড গঠন করেন।
১৯৬৫ : ৯ আগস্ট সিঙ্গাপুর পৃথক হয়ে যায়।
১৯৯০ : প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
১৯৯০-২০০৪ : সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন।
২০০৪ : লির বড় ছেলে লি সিয়েন লুং প্রধানমন্ত্রী হন।
২০১০ : ২ অক্টোবর লির স্ত্রী কোয়া গিওক চু মারা যান।
২০১১ : মন্ত্রিসভার উপদেষ্টা থেকে পদত্যাগ করে নির্বাচিত এমপি হয়ে কাজ করেন।
২০১৩ : ফেব্রুয়ারি মাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
২০১৫ : ৫ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি হন। মারাত্মক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত লিকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। ২৩ মার্চ তিনি ইন্তেকাল করেন।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বহু ভাষাবিদ লির বর্ণাঢ্য রাজনীতি
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালি ও ভূমি প্রসঙ্গ by মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম
পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়নের সূত্রপাত
গত ১৮ তারিখের কলামে শেষ করেছিলাম এই বলে যে, মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর বীর উত্তম যখন জিওসি’র দায়িত্বে ছিলেন, তখন পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রসঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অনেক, মধ্যমেয়াদি গুরুত্বপূর্ণ অনেক এবং দীর্ঘমেয়াদি গুরুত্বপূর্ণ অনেক এবং নৈমিত্তিক অথবা কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। জেনারেল মঞ্জুর দায়িত্ব নেয়ার আগে, ১৯৭৬ সালের শুরুর দিকেই, তদানীন্তন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের আগ্রহে ও নির্দেশনায় পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড স্থাপন করা হয়। ওই অঞ্চলের জন্য আলাদা বরাদ্দ দেয়া শুরু হয়। এই উন্নয়ন বোর্ডের কাজ ছিল স্থানীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং স্বাধীনভাবে অথবা অন্যান্য সরকারি বিভাগ বা দফতরের সাথে মিলিতভাবে এমন সব প্রকল্প হাতে নেয়া, যার মাধ্যমে পাহাড়ি বা উপজাতীয় জনগোষ্ঠী একাধিক উপার্জনকারী পেশার সাথে পরিচিত হতে পারে এবং এর মাধ্যমে নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে পারে। উন্নয়ন বোর্ডের সদর দফতর ছিল রাঙ্গামাটি শহরে। দূরদর্শী লে. জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর বীর উত্তম চাইলেন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জন্য পেশাগত বৈচিত্র্য আনতে। কারণ, সময়ের পরিক্রমায় জনগোষ্ঠীর সংখ্যা যখন বাড়বে, তখন অর্থনৈতিকভাবে বেঁচে থাকতে হলে একাধিক পেশা প্রয়োজন হবে। জিয়াউর রহমান পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতি সহমর্মী ছিলেন।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সম্পূরক প্রয়োজনীয়তা
উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড করতে গেলে কন্ট্রাক্টর, যন্ত্রপাতি, প্রচুর শ্রমিক ইত্যাদি লাগে। যে এলাকায় এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়, সে এলাকার জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। এখন ২০১৫ সালের মার্চ মাসে যারাই এই কলাম পড়ছেন, তাদের মধ্যে যারা তরুণ, তারা কি কল্পনা করতে পারবেন ৩০ বা ৩৫ বা ৪০ বছর আগে পার্বত্য চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা কেমন ছিল? ১৯৭৬-৭৭-৭৮ সালের কথা। যখন সড়ক নির্মাণের প্রকল্পগুলো হাতে নেয়া হলো, তখন শ্রমিকের প্রয়োজন পড়ল। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে জুম চাষ, বাঁশ কাটা বা শন কাটা (ইংরেজিতে শনকে সানগ্রাস বলা হয়) ব্যতীত কায়িক শ্রমের অভ্যাস ছিল না। কন্ট্রাক্টর, পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে থেকে গিয়েছেন। সে অবস্থায় শ্রমিক কোথায় পাওয়া যাবে? শ্রমিকও বাইরে থেকে নিতে হলো। রাতে শ্রমিকেরা ঘুমায় লম্বা বেড়ার ঘরে। শান্তিবাহিনী কঠোরভাবে ধমক দেয় পাহাড়িদের, যেন তারা কোনো অবস্থাতেই এসব কাজে শ্রম না দেয়। পাহাড়িদের কঠোরভাবে ধমক দিলো, তারা যেন বাঙালি কন্ট্রাক্টর, বাঙালি শ্রমিক প্রভৃতি সম্প্রদায়কে কোনো প্রকার সহযোগিতা না করে। নির্মাণাধীন রাস্তা বা সড়কের পাশে যেসব পাহাড়ি গ্রাম পড়ত, সেসব গ্রামে অবস্থান নিয়ে শান্তিবাহিনী, সেনাবাহিনীর টহল দলের ওপর আক্রমণ চালাত, তথা অ্যাম্বুশ করত। অথবা শ্রমিকদের আক্রমণ করত। শান্তিবাহিনী কন্ট্রাক্টরদের কাছ থেকে অনেক বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করত এবং অবশ্যই সেই চাঁদা পেত। এতদসত্ত্বেও, শান্তিবাহিনী কন্ট্রাক্টরের যন্ত্রপাতি পুড়িয়ে দিত। সে অবস্থায় তিনটি প্রয়োজন দেখা দিলো। প্রথম প্রয়োজন হলো, অনেক শ্রমিক; দ্বিতীয় প্রয়োজন হলো শ্রমিক ও কন্ট্রাক্টরদের পাহারা বা নিরাপত্তা দেয়া; তৃতীয় প্রয়োজন হলো- নিরীহ সাধারণ পাহাড়ি জনগণকে বোঝানো যে, এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তাদের জন্যই।
শান্তিবাহিনী কী বোঝাত?
শান্তিবাহিনী পাহাড়ি মানুষকে বোঝাত এই বলে যে, রাস্তাঘাট যদি হয়, তাহলে সেই রাস্তা দিয়ে মিলিটারি চলাচল করবে, বাঙালি ব্যবসায়ীরা চলাচল করবে, সেই রাস্তাঘাট দিয়ে বাইরের লোকেরা পার্বত্য চট্টগ্রামের গভীরে প্রবেশ করবে। বাইরের লোকেরা যদি পার্বত্য চট্টগ্রামের গভীরে প্রবেশ করে, তাহলে তোমরা সাধারণ মানুষেরা টিকে থাকতে পারবে না, তোমাদের বিধর্মী এবং বাঙালি বানিয়ে ফেলবে। সুতরাং এসব জিনিস বানাতে দেয়া যাবে না। উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অন্য একটি উদাহরণ হলো, রাবার বাগান প্রকল্প। শান্তিবাহিনী মানুষকে বোঝাত, রাবার বাগানের রাবার তোমাদের কোনো কাজেই আসবে না, এই রাবার বাঙালিরাই কিনবে। শান্তিবাহিনী বোঝাত এই বলে যে, তোমরা যদি পিতৃপুরুষের জুমচাষ বন্ধ করে রাবার বাগান বা এ ধরনের প্রকল্পে যুক্ত হও, তাহলে এসব বাগানের আশপাশেই বসতি করতে বাধ্য হবে। অর্থাৎ তোমাদের বন্দী করে ফেলছে বাঙালি সরকার, রাবার বাগানের নাম দিয়ে। অতএব তোমরা রাবার বাগানে কাজ করবে না। সম্মানিত পাঠক, রাবার বাগানে প্রত্যেক পাহাড়ি পরিবারকে চার, পাঁচ অথবা ছয় একর করে জমি দেয়া হতো। সুন্দরভাবে ঘর নির্মাণ করে বাস করার জন্য, অর্থাৎ বসতভিটার জন্য ও বসতভিটার চতুর্পাশে পারিবারিক প্রয়োজনের সবজি ও ফল ইত্যাদি উৎপাদনের জন্য কমবেশি এক একর জমি দেয়া হতো। অনেক পরিবারের জমি যখন পাশাপাশি পাওয়া যায়, তখন পুরো রাবার বাগানটি পঞ্চাশ বা ষাট বা সত্তর বা দেড় শ’ দুই শ’ একরের হয়ে যায়। অনেক পাহাড়ি পরিবার যখন এক জায়গায় পরিকল্পিতভাবে বসবাস শুরু করে, তখন তাদের কিছু না কিছু স্বাস্থ্যসুবিধা, লেখাপড়ার সুবিধা, উপাসনার সুবিধা ইত্যাদি দেয়া সম্ভব ও সহজ হয়। ইত্যাদি সুবিধা দিলে মানুষ রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতি আগ্রহী হয়। সরকার এটাই চাইত। কিন্তু শান্তিবাহিনী কোনো মতেই চাইত না, পাহাড়ি জনগণ বাংলাদেশ নামে রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতি আগ্রহী হোক। যা হোক, শান্তিবাহিনীর না-চাওয়া এবং সরকারের চাওয়া, এই পরস্পর বিরোধিতার মাঝেই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু হয় এবং স্থিতি পায়। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ আঙ্গিক ছিল। বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে দমনের জন্য এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহায়তা দেয়ার জন্য, সেনাবাহিনী যেমন প্রয়োজন হয়ে পড়ে, তেমনি সরকারের প্রতি অনুগত ও সেনাবাহিনীর প্রতি সহযোগিতার মনোভাব সম্পন্ন, ভিন্ন জনগোষ্ঠীরও প্রয়োজন পড়ে।
সন্তু লারমা : গ্রেফতার মুক্তি ও সংলাপ
এ প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঐতিহাসিক ঘটনা এখানে উল্লেখ না করলেই নয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদ্রোহী কর্মকাণ্ড শুরু হওয়ার কিছু দিন পর, জনসংহতি সমিতি ও শান্তিবাহিনীর জ্যেষ্ঠতম নেতা ও অধিনায়ক মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার আপন ছোট ভাই এবং দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠ নেতা ও অধিনায়ক জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সংক্ষেপে জেবি লারমা, তবে অতি সুপরিচিত নাম ‘সন্তু লারমা’) খাগড়াছড়ির একটি জায়গায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন বেশ কিছু কাগজপত্রসহ। সন্তু লারমা গ্রেফতার থাকা অবস্থায় তার কাছে একাধিকবার প্রস্তাব দেয়া হয় যে, আপনি ফিরে যান এবং সরকার ও আপনাদের নেতাদের মধ্যে আলোচনার বন্দোবস্ত করুন। একপর্যায়ে তাকে একতরফাভাবেই সরকার বন্দিদশা থেকে মুক্তি দেয়। মুক্তি দেয়ার সময় সরকার বলে দেয়, (অনেকটা এরকম) আপনি ফিরে গিয়ে আপনাদের নেতাদের বোঝান, যেন তারা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেন। সরকার আলোচনায় প্রস্তুত। আপনাদের বিদ্রোহের কারণগুলো আমরা সৃষ্টি করিনি। আপনারা বিদ্রোহ করেছেন বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর। কিন্তু আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে আগ্রহী। কিন্তু যদি আপনারা আলোচনায় না আসেন, তাহলে সরকার একতরফাভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে। কারণ, এভাবে বিদ্রোহ চলতে দেয়া যাবে না। বিদ্রোহ দীর্ঘমেয়াদি হলে দেশের নিরাপত্তার জন্য তা মারাত্মক হুমকি। সম্মানিত পাঠক, জেনে রাখুন, সন্তু লারমা মুক্ত হয়ে ফেরত গিয়েছিলেন সত্য, কিন্তু তার আপন বড় ভাইয়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহ বাহিনী ও সরকার পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু করাতে পারেননি। অতএব, সরকার অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিল (১৯৭৯ সাল)।
বাঙালিদের বসতি স্থাপনের ভালোমন্দ
ওপরের তিনটি অনুচ্ছেদে আলোচনার প্রেক্ষাপটে, আমার মূল্যায়ন হলো, জিয়াউর রহমান সরকারের আমলে, বৈরী পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিবেশে একটি বন্ধুপ্রতিম জনগোষ্ঠী সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল বলেই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল, বালাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দুস্থ, ভূমিহীন বাঙালি পরিবারকে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসতি স্থাপনের অনুমতি দেয়া হবে। এই সুবাদেই ১৯৭৯, ১৯৮০, ১৯৮১ এবং ১৯৮২ সালের প্রথম কয়েক মাসে কয়েক হাজার বাঙালি পরিবার পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন অংশে বসতি স্থাপন করেছিল। সরকার কর্তৃক এ কাজে সহায়তা করা হয়েছিল, কিন্তু ওই পদ্ধতিতে বা প্রক্রিয়ায় কিছু ত্র“টি ছিল, যেগুলো কিছু দিনের মধ্যেই মারাত্মক নেতিবাচক ফল দেয়া শুরু করে। ওই তিন-চার বছরে যেসব বাঙালি পরিবার বসতি স্থাপন করেছিল, তাদের শান্তিবাহিনীর লোকেরা এবং স্থানীয় জনগণ, ‘সেটেলার বাঙালি’ বলত। এরূপ বসতি স্থাপনের বহু আগে থেকেই যেসব বাঙালি পরিবার পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলে বাস করে আসছিল, তাদের বলা হতো আদি বাঙালি। সেটেলার বাঙালিরা, অতি দ্রুতই শান্তিবাহিনীর মারাত্মক আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এই বাঙালিরা আক্রান্ত হলে প্রতিশোধের নিমিত্তে নিকটবর্তী পাহাড়ি গ্রামে আক্রমণ করত। সেটেলার বাঙালিরা পাহাড়ি গ্রামে আক্রমণ করলে পাহাড়িরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হতো; কিন্তু তার থেকেও বড় কথা হলো- পাহাড়িরা গ্রাম ছেড়ে নিকটবর্তী জঙ্গলে আশ্রয় নিত এবং সেখান থেকে ধীরে ধীরে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে আশ্রয় নিত। এই প্রক্রিয়ায় ভারতে চাকমা শরণার্থী সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। শরণার্থী হলে শান্তিবাহিনীর আরেক ধরনের বড় লাভ ছিল। শান্তিবাহিনী তখন শরণার্থী ক্যাম্পে গিয়ে তরুণ যুবকদের উদ্দীপ্ত করত যেন তারা শান্তিবাহিনীতে তথা সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহে যোগ দেয়। অপর দিকে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশী চাকমা শরণার্থী সমস্যা বাংলাদেশ সরকারের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি নেতিবাচক ইস্যু ছিল।
ভূমি সমস্যার প্রাথমিক চিত্র
শুধু আলোচনার খাতিরে একটি বছর ধরি, যেমন ১৯৭৯ সাল। তখন থেকে ১৯৮৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় অনেকবার পাহাড়ি-বাঙালি সংঘর্ষ হয়েছে। উভয় পক্ষের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ভারতের মাটিতে শরণার্থী সমস্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাঙালিদের বসতি করতে দেয়ার সময় তাদের চাষাবাদ করে বেঁচে থাকার জন্য পরিবারপ্রতি কৃষিজমি দেয়া হয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রে কৃষি জমিগুলো তাদের গ্রামের কাছে ছিল। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জমিগুলো গ্রাম থেকে দূরে ছিল। সর্বক্ষেত্রেই কৃষিকাজ করতে গেলে বাঙালি কৃষকেরা শান্তিবাহিনীর আক্রমণের শিকার হতো। শান্তিবাহিনী বা পাহাড়িরা বলত, পাহাড়িদের জমি বাঙালিদের দেয়া হয়েছে। সরকার বলত, সরকারের জমি তথা খাসজমি, যেগুলো কোনোমতেই পাহাড়িদের নয়, সেগুলো বাঙালিদের দেয়া হয়েছে। পাহাড়িরা বলত, পার্বত্য চট্টগ্রামের সব জমির সমষ্টিগত মালিক পাহাড়িরা, অন্য কেউ মালিক হতে পারবে না। তিনটি বাস্তবতা এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন। প্রথম বাস্তবতা, পাহাড়ে কোনো দিন ওই ধরনের ভূমি জরিপ হয়নি, যে ধরনের ভূমি জরিপের সাথে ব্রিটিশ আমল থেকে পাকিস্তান আমল থেকে বাঙালিরা পরিচিত। দ্বিতীয় বাস্তবতা, পাহাড়ে যেহেতু পাহাড়ের সংখ্যা বেশি এবং পাহাড়ি মানুষের সংখ্যা কম ছিল, সেহেতু জমির ব্যবহার সমষ্টিগতভাবেই বেশি হতো। সমষ্টিগত ব্যবহারের নির্দেশনা প্রথাগত নেতারাই দিতেন; যথা পাড়াপ্রধান কারবারি অথবা মৌজাপ্রধান হেডম্যান অথবা সার্কেল-প্রধান রাজা। শহর এলাকার পাহাড়িরা ব্যতীত অন্যরা জমির ব্যক্তিগত মালিকানার পদ্ধতির সাথে নিবিড়ভাবে পরিচিত ছিলেন না। তৃতীয় বাস্তবতা, ব্রিটিশ আমল থেকে পাকিস্তান আমল হয়ে বাংলাদেশ আমল পর্যন্ত সর্বদাই ভূমি ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি জড়িত। অতএব, বাঙালিদের বসতি স্থাপন করে জমি দেয়ার সময় দুর্নীতি যে হয়নি, এ কথা কেউ শপথ করে বলতে পারবে না। এরূপ তিনটি বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে, বাঙালিদের অবস্থান কঠিন ছিল, অপ্রিয় ছিল, ঝুঁকিপূর্ণ ছিল কিন্তু অপরিহার্য ছিল। সেনাবাহিনীর শক্তি যথেষ্ট না থাকায় সেটেলার বাঙালিদের বা পাহাড়ি গ্রামগুলোকে উপযুক্ত নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব হতো না। বাঙালিদের চিকিৎসা, শিক্ষা ইত্যাদি সমস্যাও চরমভাবে অবহেলিত থেকে যায়। এ প্রেক্ষাপটে ১৯৮৬ সালে একবার এবং আরেকবার ১৯৮৮ সালে বাঙালিরা মারাত্মক ও ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হয়েছিল। আদি বাঙালি বেশি ছিল বান্দরবান জেলায়, তার পরে ছিল রাঙ্গামাটি জেলায় এবং সবচেয়ে কম ছিল খাগড়াছড়ি জেলায়। নতুন বসতি স্থাপন করা বাঙালিরা সংখ্যায় বেশি হয়েছে খাগড়াছড়ি জেলায়, তার পরে হয়েছে রাঙ্গামাটি জেলায় এবং তার পরে হয়েছে বান্দরবান জেলায়। ১৯৮৮ সালে বাঙালিদের ওপর আক্রমণ এবং তৎপরবর্তী সরকারের সাথে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি সম্বন্ধে গত সপ্তাহের (১৮ মার্চ) কলামে লিখেছি। কলামটির নাম ছিল ‘রাজনীতি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সম্পর্ক নিয়ে বোঝাবুঝি’। কলামটি আমার ওয়েবসাইটে পাবেন। অথবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে নয়া দিগন্তের ওয়েব সাইটে আর্কাইভসে পাবেন।
শান্তিবাহিনী কী চাইত?
শান্তিবাহিনী কী চাইত সেটা যদি আমরা না জানি, তাহলে এখন কী চায়, এর মূল্যায়ন কিভাবে করব? ১৯৮৮ সাল গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বাংলায় কথা আছে- ‘শক্তের ভক্ত নরমের যম’। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আমরা শক্ত হবো। জনসংহতি সমিতি বা শান্তিবাহিনী যা চায় তার প্রতি কোনো প্রকার নমনীয়তা দেখানো যাবে না। এই পর্যায়ে সম্মানিত কলাম পাঠকের মনে, নিশ্চিতভাবেই প্রশ্ন আসবে, শান্তিবাহিনী কী চাইত? শান্তিবাহিনী তখন যা চাইত, আজো যে তা চায় না সেটা আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারব না। এখন পর্যন্ত, অব্যাহতভাবে শান্তিবাহিনী যা যা প্রকাশ্যে চেয়ে আসছে, তার মধ্যে এক নম্বর হলো, পার্বত্য চট্টগ্রামে কোনো বাঙালি বসতি থাকতে পারবে না (অর্থাৎ ১৯৭১-এর পরে যারা গিয়েছে, তারা থাকতে পারবে না)। শান্তিবাহিনী যা চেয়ে আসছে, তার মধ্যে দুই নম্বর হলো, পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনটি ক্যান্টনমেন্টের বাইরে অন্য কোথাও কোনো সেনা ক্যাম্প থাকতে পারবে না। তিন নম্বর হলো, উপজাতীয় জনগোষ্ঠীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আদিবাসী’ ঘোষণা করতে হবে। এই তৃতীয় চাওয়াটি সাত বছর আগে যোগ হয়েছে। তবে এই তিনটি চাওয়ার ব্যাখ্যায় না গিয়ে পাঠককে ১৯৮৮ সালে ফেরত নিয়ে যাই। ১৯৭৫-এর ডিসেম্বরে বিদ্রোহ শুরু করার পর থেকে, বারো বছরের মাথায়, ডিসেম্বর ১৯৮৭ সালে প্রথমবারের মতো শান্তিবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের দাবিনামা বাংলাদেশ সরকারের কাছে উপস্থাপন করেছিল। দাবিনামাটি আমার হাতেই দিয়েছিল কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করিনি। সেই দাবিনামায় পাঁচটি দফা ছিল এবং প্রত্যেকটিতে অনেক উপ-দফা ছিল। শান্তিবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে কী চাইত, এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য আমার লেখা ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিপ্রক্রিয়া ও পরিবেশ পরিস্থিতির মূল্যায়ন’ নামে বইয়ের ২১৩ থেকে ২১৭ পৃষ্ঠায় আছে। আজকে বাঙালিদের মধ্যে ২০ থেকে ৪০ বছরের তরুণ বয়সের যারা কলাম পাঠ করছেন, তাদের মধ্যে শতকরা ৯৫ ভাগই এই দাবিনামা সম্বন্ধে অবহিত না থাকার সম্ভাবনা। কিন্তু তিনটি পার্বত্য জেলায় উপজাতীয় ভাইবোনদের মধ্যে যাদের বয়স পনেরো-ষোলো বছর থেকে শুরু করে ষাট বছর পর্যন্ত এবং একটু লেখাপড়া জানেন- এমন সবাই, এই দাবিনামাগুলোর মধ্যে প্রধান দিকগুলো মুখস্থ বলতে পারার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ। উপজাতীয় জনগণ যে জানে, এটা তাদের প্লাস পয়েন্ট। বাঙালি তরুণেরা যে জানে না, এটা তাদের মাইনাস পয়েন্ট। ওই পাঁচ দফা দাবির মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় দাবির সারমর্ম ছিল এ রকম- (এক) বাংলাদেশ নামে রাষ্ট্রে দু’টি প্রদেশ হবে। একটি প্রদেশের নাম হবে বাংলাদেশ, রাজধানী ঢাকা। আরেকটি প্রদেশের নাম হবে জুম্মল্যান্ড, রাজধানী রাঙ্গামাটি। দু’টি প্রদেশ মিলে একটি ফেডারেশন হবে। যেই ফেডারেশনের নাম হবে বাংলাদেশ এবং ফেডারেশনের রাজধানী হবে ঢাকা। তিনটি বিষয় যথা দেশরক্ষা, বৈদেশিক মুদ্রা ও ভারী শিল্প ফেডারেল সরকারের হাতে থাকবে; বাকিগুলো থাকবে প্রাদেশিক সরকারের হাতে। (দুই) প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের মতামত যাচাই ব্যতীত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের সংবিধানে বা শাসনপদ্ধতিতে যেন কোনো পরিবর্তন আনা না হয়, এর সাংবিধানিক গ্যারান্টি চাই।
আমি বা আমরা কী করতে পারি?
ওই আমলের সরকার (এরশাদ সরকার) সুদৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, এ দাবিগুলো মানা যাবে না। অতএব, বিকল্প কার্যকর পন্থা শুরু করো। আজ ২০১৫ সালে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদেরা ওই দাবিনামা মানবেন কি না, সেটা তাদের বিষয়। ওই দাবিনামা মানা না হলেও, গত পনেরো-বিশ বছরের সরকারি অবহেলার কারণে, শান্তিবাহিনী ওই দাবি আদায়ের বিকল্প রাস্তা আবিষ্কার করেছে। এর বহিঃপ্রকাশ অহরহ ঘটছে, স্থানাভাবে বিস্তারিত বললাম না। আমার মূল্যায়ন ছিল, এরূপ ঘটনা ঘটবেই। অতএব, সচেতন হওয়া প্রয়োজন। সচেতনতা বৃদ্ধির নিমিত্তেই, আমার দায়িত্বের অংশ হিসেবে আগেই দু’টি এবং আজকেরটি নিয়ে মোট তিনটি কলাম লেখা। আমি যেহেতু রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় নেই, আর কী-ইবা করতে পারি? অনুগ্রহপূর্বক, আগামী বুধবারের ও তার পরের বুধবারের কলামের অপেক্ষায় থাকুন। এরপর কয়েক দিন লিখতে পারব না মনে হয়।
লেখক : মেজর জেনারেল অব:; চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি
www.generalibrahim.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দোকান মালিকদের ক্ষতি ২৭০০০ কোটি টাকা by হামিদ বিশ্বাস
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির হিসাব অনুযায়ী, চলমান হরতাল-অবরোধে সারা দেশে দৈনিক ক্ষতি হচ্ছে ৩০০ কোটি টাকা। সে হিসাবে দেশব্যাপী ছোট-মাঝারি ও বড় মানের ২৫ লাখ দোকানে প্রায় তিন মাসে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ঢাকায় ৪ লাখ দোকানের হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৩২০ কোটি টাকা। আর ঢাকার বাইরে ২১ লাখ দোকানের হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ালো প্রায় ২২ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা।
কাওরান বাজার সুপার মার্কেট সমিতির সভাপতি শেখ শামসুল আলম বুলবুল বলেন, এভাবে যদি কিছুদিন চলে তাহলে ৬০ শতাংশ ভাড়া দোকানদার দোকান ছেড়ে চলে যাবে। ইতিমধ্যে চারজন দোকানদার প্রচুর ঋণ মাথায় নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আরও ২০ থেকে ২৫ জন তার কাছে দরখাস্ত জমা দিয়েছেন চলে যাওয়ার জন্য। তিনি বলেন, কঠিন সময় পার করছি। বিক্রি নেই। ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ বিক্রি কমে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তবে ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিকের পথে। ব্যবসায়ীরা ভয়কে জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। বলেছিলাম আইন করে হরতাল বন্ধ করতে, এখন আইন ছাড়াই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে দাবি তার। তবুও বর্তমানে শুধু ঢাকা মহানগর দোকান মালিকদের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ক্ষতি হচ্ছে বলে তিনি স্বীকার করেন। তিনি আরও বলেন, দোকান খুলছে কিন্তু কেনাবেচা একটু কম। সে কারণে এমনটি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, স্ট্রাইক করার যেমন অধিকার আছে, তেমনি স্ট্রাইক ভঙ্গ করারও অধিকার আছে নাগরিকের। যাদের কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তাদের কাছ থেকে ক্ষতি পূরণ আদায়ের দাবি জানান তিনি। হরতাল-অবরোধের কারণে শুধু দোকান ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না। এর সঙ্গে নানাভাবে জড়িত উৎপাদক ও ভোক্তা শ্রেণীও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোন সমাধান আছে কিনা জানতে চাইলে দুদকের সাবেক এ চেয়ারম্যান বলেন, বিষয়টি সবার জানা কিভাবে সমাধান হবে, নতুনভাবে বলার কিছু নেই। তবে এটুকু বলতে চাই, এটা থামা দরকার। সবকিছুর একটা শেষ আছে, আবার শুরুও আছে। মনে রাখতে হবে শেষ যেন বেশি শেষ না হয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সুযোগের নতুন জানালা? by তোফায়েল আহমেদ
সিটি নির্বাচনের সময় নির্ধারণ সম্পূর্ণভাবে কৌশলগত। এ কৌশলেরও তিনটি দিক থাকতে পারে। এক. প্রধান বিরোধী শক্তিকে বিভিন্ন কৌশলে নির্বাচনের বাইরে রেখে বা নির্বাচনে এলেই হাত-পা বেঁধে রেখে খালি মাঠে গোল করা। দুই. বিরোধী জোটের স্তিমিত বা নিস্তেজ হয়ে আসা হরতাল–অবরোধ সমূলে স্তব্ধ করার কৌশল হিসেবে স্থানীয় নির্বাচনী বটিকার সময়মতো ব্যবহার করে নির্বাচনের ডামাডোলে আন্দোলনের গতি থামিয়ে দেওয়া। তিন. আনুষ্ঠানিক আলাপ-আলোচনা তথা সংলাপ না করেও নির্বাচনে বিরোধী শক্তিকে সম্পৃক্ত করে আন্দোলন-সংগ্রামকে গঠনমূলক ও নিয়মতান্ত্রিকতার পথে পুনঃপ্রবাহিত করা।
যেকোনো রাজনৈতিক পদক্ষেপেই পদক্ষেপ গ্রহণকারীর কৌশলগত অবস্থানকে উপেক্ষা করা যায় না। কিন্তু অন্য পক্ষের পাল্টা ও সুনিশ্চিত কৌশলও উপেক্ষার নয়। তাই কোনো রাজনৈতিক পদক্ষেপ থেকে এককভাবে কোনো একটি শক্তিই শুধু সুবিধা পেতে পারে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। দেশের দুই প্রধান মহানগরের তিনটি সিটি করপোরেশনের তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী বুলেট ব্যারেল থেকে বের হয়ে গেল। এটিকে আর ফেরত আনা সম্ভব নয়। এখন নাগরিক সমাজের দিক থেকে আকুল প্রত্যাশা হবে, এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক করার জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা হোক। যতটুকু আন্দাজ–অনুমান করা যাচ্ছিল, তা সর্বাংশে না হলেও মোটামুটি ঘটতে যাচ্ছে। আন্দোলনরত ২০-দলীয় জোট এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এই মর্মে স্পষ্ট আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এই অংশগ্রহণ রাজনীতিতে নতুন চমক শুধু নয়, গুণগত পরিবর্তনেরও সূচনা করতে পারে। রাজনীতিতে সহিংসতার বিস্তার রোধ হতে পারে, নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির বিকাশ ও নতুন রাজনীতির শক্তির উত্থানও ঘটাতে পারে।
বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক নিয়ম, নিয়ম-নীতি ও গ্রহণযোগ্যতার একটি নতুন স্তরে উপনীত হয়েছিল। প্রার্থী ও নির্বাচকমণ্ডলীর মধ্যে নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধি মেনে চলার নতুন সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে। বিশেষত, ১৯৯১—২০০৮ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন এবং তারই ধারাবাহিকতায় ২০০৯—২০১৩ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনগুলো অন্তত সে আশা জাগরূক রেখেছিল। কিন্তু ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সে আশা-ভরসাকে সমূলে নস্যাৎ করে দিয়েছে। বিশেষত পঞ্চদশ সংশোধনী পাসের পর থেকে ক্ষমতাসীন দলের দলতান্ত্রিকতা (Partyarchy) একটি ভয়ানক দানবীয় রূপে আবির্ভূত হতে শুরু করে।
এই ধারাবাহিকতায় সব নির্বাচনই অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হওয়ার সম্ভাবনা কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে পড়ে। এ রকম একটি অবস্থায় ২০১৫ সালের তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ, অবিশ্বাস, সংশয়, ভয়ভীতি অমূলক নয়। তবু বলব, সর্বশেষ বিশ্লেষণে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিকল্প, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে অসমতলতা বা বৈষম্যনীতি আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা। বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি তাদের আন্দোলন-সংগ্রামকে সংহত করতে গিয়েও তাই-ই হয়তো করবে।
সোহরাব হাসান তাঁর কলামে যথার্থই লিখেছেন, ৬২ লাখ ভোটার এবং দুই মহানগরের প্রায় দুই কোটি মানুষের সঙ্গেই এ সুযোগে দুই রাজনৈতিক পরাশক্তিকে অর্থবহ সংলাপে সম্পৃক্ত হতে এ নির্বাচনে কিছুটা বাধ্য করবে (প্রথম আলো ২১/০৩/২০১৫)। দুই দলের বড় নেতাদের সংলাপের আপাতত প্রয়োজন ফুরিয়েছে। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক করার জন্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপ জরুরি। কমিশন আশা করি চতুর্মুখী সক্রিয়তা বজায় রাখবে। মন্ত্রী-এমপিদের নির্বাচনকে প্রভাবিত করার মতো উসকানিমূলক বক্তব্য ও গতিবিধির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ হতে পারে। প্রশাসনকে তাদের অধীনে এনে নিরপেক্ষতার জন্য যা যা দরকার, তা করার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
বিশেষত, দুই শহরের ৬২ লাখ ভোটারের ভোটদান নির্বিঘ্ন করার জন্য ২ হাজার ৭১০টি কেন্দ্রের ১৫ হাজার ৫১৭টি বুথে অন্তত সতর্কতার সঙ্গে লোক নিয়োগ করতে হবে। এখানে কোনো বিতর্কের অবকাশ রাখা চলবে না।
নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধি প্রতিপালনের ব্যাপারে এনজিও, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যমের সহায়তা ও সক্রিয়তাকে যথাযথভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। ইতিমধ্যে যে বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা অক্ষরে অক্ষরে পালনের জন্য তিনটি সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসন, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে পুরোপুরি ব্যবহার করতে হবে।
ঢাকা ও চট্টগ্রামের প্রতিটি ওয়ার্ডের নাগরিকদের সর্বোচ্চ সক্রিয়তা প্রয়োজন। বিলবোর্ড দখলদার, ঋণখেলাপি, বিলখেলাপি, সন্ত্রাসী, অতিদলবাজ লোকদের থেকে নির্বাচনকে দূরে রাখতে হবে। সৎ, যোগ্য, চরিত্রবান প্রার্থীদের সর্বাংশে উৎসাহিত করুন। নাগরিক উদাসীনতার সুযোগে এ-জাতীয় আবর্জনা বৈধতা পেলে সিন্দবাদী ভূতের মতো তারা কাঁধে চড়ে বসবে, তাতে পরবর্তী সময়ে হা-হুতাশ করে কোনো লাভ হবে না।
বাংলাদেশে সরকারব্যবস্থা এককেন্দ্রিক এবং সংসদব্যবস্থা এক কক্ষবিশিষ্ট। এ রকম একটি ব্যবস্থায় রাজনৈতিক বহুত্ববাদের একমাত্র জায়গা বা পরিসর হচ্ছে স্থানীয় সরকার। জনগণের এ পরিসরটিকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। এখানে ভিন্নমতের অবকাশটি সযত্নে লালন করতে হবে। নতুবা সমাজ, রাজনীতি পুরোটাই ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে।
অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে কিছু অনতিক্রম্য বাস্তবতার কারণে আমাদের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় নির্বাচনকে প্রায়ই কেন্দ্রীয় রাজনীতির দুরূহ বোঝা বহন করতে হয়। এটি হওয়ার কথা ছিল না।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে স্থানীয় সমস্যা ও ইস্যুকে কেন্দ্র করে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা হওয়ার নয়। জাতীয় রাজনীতির মেরুকরণ এত প্রকট ও উৎকট যে তাতে স্থানীয় ইস্যু ও বিষয় হালে পানি পাচ্ছে না। তবু বলব, ঢাকা ও চট্টগ্রামের প্রার্থীরা এবং নাগরিক সমাজ স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে নির্বাচনকালীন কর্মসূচি আকারে সামনে নিয়ে আসবেন। নির্বাচনী প্রচারণা দিনে দিনে গতি পাবে। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় সমস্যাগুলোর প্রকার, প্রকৃতি ও তার অর্থপূর্ণ সমাধানের অঙ্গীকারগুলো দৃঢ় ভিত্তি পাবে।
ড. তোফায়েল আহমেদ, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ। পরিচালক গভর্নেন্স, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এবং সম্মানীয় ফেলো, বিইজিডি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কৌশলী পথে কূটনীতিকরা by মিজানুর রহমান
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কটের দায় কার? by অধ্যাপক ড. মো: শামছুল আলম
আমরা ধারণা করি, দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপির অংশ নেয়া ছাড়া নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার ব্যাপারে খোদ শেখ হাসিনার মনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। নিশ্চয়ই এ ধারণা থেকে তিনি নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলনে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা এবং দ্রুত আরেকটি নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন কথার ভিত্তিতে দেশবাসীর মতো বিএনপিও আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী তাদের চলমান হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করে। শুধু তাই নয়, বিএনপি এখানে আরো আন্তরিকপূর্ণ আচরণ করে। তারা উপজেলা নির্বাচনেও অংশ নেয়। দেশব্যাপী শান্তি ও স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরে আসে। তবে এ সরকারের অধীনে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়ার অভিজ্ঞতাটি বিএনপির জন্য সুখকর হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলে নির্বাচন যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না, উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিএনপি সেই অভিজ্ঞতা লাভ করে। প্রথম দুই দফায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা নিরঙ্কুশ জয়লাভ করলে পরবর্তী সময়ে সরকারি দলের সমর্থিত প্রার্থীরা বিএনপি অনুসারী ভোটারদের কেন্দ্রেই যেতে দেয়নি। এ পর্যায়ে একতরফা নির্বাচন হয় এবং এতে সরকার সমর্থিত প্রার্থীরা জয়লাভ করে। সরকার এবং সরকারি দলের সমর্থিত প্রার্থীদের এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার পরও বিএনপি তেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। বিএনপি অপেক্ষায় থেকেছে শাসক দল আওয়ামী লীগ প্রতিশ্রুত দ্রুত মধ্যবর্তী নির্বাচন, যা একাদশ সংসদ নির্বাচন হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু সময় গড়ানোর সাথে সাথে আমরা লক্ষ করলাম, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা বেমালুম ভুলে গেলেন কিংবা এ মধ্যবর্তী নির্বাচন দেয়ার মনোভাব থেকে সরে গিয়ে বর্তমান সরকারের মেয়াদ পাঁচ বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালের ‘সাংবিধানিক সময়’ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে চাইছেন।
সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনই পারে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে না এলে বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পেট্রলবোমা মেরে মানুষ হত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হতো না। বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিরতা সরকার কার্যত দ্রুত একাদশ সংসদ নির্বাচন আয়োজন থেকে সরে যাওয়াতে যে সৃষ্টি হয়েছে, এ কথা অস্বীকার করা যায় না। বিএনপি একাদশ সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারকে সংলাপ শুরুর আহ্বান জানাচ্ছে। এ আহ্বান জানাচ্ছে দেশী-বিদেশী কূটনীতিকেরাও। কিন্তু সরকার সংলাপের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি মানতেই চাইছে না। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পেট্রলবোমা মেরে যারা মানুষ পুড়িয়ে দেয়, হত্যা করে তাদের সাথে কিসের সংলাপ? আমরা সরকারের এ অভিমতটি বিবেচনায় নিতে চাই। পেট্রলবোমা কারা মারছে, খুঁজে বের করে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। ক্রসফায়ারের নামে সরকারের পাল্টা ব্যবস্থা যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হচ্ছে, সে অভিযোগ অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এখানে আরো যা বলা প্রয়োজন, তা হলো গত ৬ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী এ রাজনৈতিক অনাচার শুরু হয়েছে। এর আগে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ছিল মোটামুটি শান্তিপূর্ণ। সরকার তখন একাদশ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে বিএনপি এবং অপরাপর রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপের উদ্যোগ নেয়নি। ‘মানুষ সুখে থাকলে প্রতিবেশীরও খবর রাখে না’- আওয়ামী লীগ সরকার তা আবারো প্রমাণ করেছে। আবার মানুষমাত্রই আরাম আয়েশপ্রিয়। সুখের তরীতে যে ভেসে চলে, বাধা তার ভালো লাগে না। সরকারের মন্ত্রিপরিষদে সুখের তরীর সদস্যরা আনন্দ যাত্রায় গা ভাসিয়ে বলতে থাকলেন, কিসের সংলাপ, কিসের একাদশ সংসদ নির্বাচন? বিএনপির ট্রেন মিস করার দায় সরকার কেন নেবে? সংলাপ হবে ২০১৯ সালের নির্বাচনের পূর্বক্ষণে। সত্য হলো সরকারের প্রতিক্রিয়াশীল এ সঙ্ঘবদ্ধ দলের সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুর মেলানোর ফলে বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। আবার সরকার জানে যে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নির্বিঘেœ তাদের পক্ষে কুক্ষিগত করে রাখা খুব সহজ হবে না। বিএনপি সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগের সমান বড় রাজনৈতিক দল। বিগত নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটই এর প্রমাণ মেলে। সরকার এ কারণে বিএনপির নেতাকর্মীদের নিষ্ক্রিয় করতে গুম, খুন, হামলা ও মামলার মধ্যে ফেলে। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলকে দমন-পীড়নের সরকারের এ কৌশলে বিএনপি তার স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় বাধা পেয়েছে। রাজনৈতিক সভা, সমাবেশ, অবরোধ এমনকি গণ-অনশনের মতো নিরীহ ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনেও সরকার বাধা দিয়েছে। এতদসত্ত্বেও বিএনপি ধৈর্য ধরেছে, দ্রুত একাদশ নির্বাচনের জন্য। প্রতি উত্তরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ক্ষমতার দম্ভে সংলাপ ও নির্বাচনবিরোধী মনোভাব প্রদর্শন করেছে। এখন ঘটনার ক্রম ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি ‘সঙ্ঘাতপূর্ণ’ হয়ে উঠেছে। এর দায়ভার ষোলো আনাই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ওপর বর্তায়। এ অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী করা হবে দেশকে ধ্বংস করার শামিল। বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে জননিরাপত্তা চরমভাবে বিঘিœত হচ্ছে। বিদ্যমান এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাসীও তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়ে সরকার ও বিএনপির প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। বিএনপি এ আহ্বানে সাড়া দিয়েছে, অথচ জনগণের জানমাল রক্ষায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার কারো কোনো কথায় কর্ণপাত করছে না। এতে যেমন রাজনীতিকদের ক্ষমতাকেন্দ্রিক মানসিকতার পরিচয় ফুটে উঠছে, তেমনি জনগণকেও আরো ভীতিকর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা কোনোভাবেই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য শুভ হতে পারে না।
আলোচ্য নিবন্ধটি শুরু করেছিলাম এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে যাত্রা শুরুর আশঙ্কা নিয়ে। এখন কিছুটা সম্ভাবনার পথ দেখা যাচ্ছে। আমরা লক্ষ করছি যে, কয়েক দিন ধরে সঙ্ঘাতপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। আমরা মনে করি, মধ্যবর্তী তথা একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে সংলাপ শুরুর একটা তাগিদ এর পেছনে ভূমিকা রাখছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার স্বাদে আচ্ছাদিত একমাত্র আওয়ামী ছাড়া দেশী-বিদেশী সব কূটনীতিকগোষ্ঠী সংলাপ শুরুর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। আমরা আশা করছি, সরকার যেকোনোভাবেই হোক, ক্ষমতায় থাকার মোহ ত্যাগ করে দ্রুত একাদশ সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে সংলাপ শুরু করার উদ্যোগ নেবে। অন্যথায়, সরকারি দলের ক্ষমতায় থাকার মোহ আমাদের পিছিয়ে দেবে। ইতিহাসে এ জন্য আওয়ামী লীগ দায়ী থাকবে।
লেখক : অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অভিজিৎকে কেন মরতে হলো by তসলিমা নাসরিন
![]() |
| অমর একুশে বইমেলা থেকে বের হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির কাছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসংলগ্ন ফুটপাতে খুন হন অভিজিৎ রায়। আহত হন তাঁর স্ত্রী রাফিদা আহমেদ। ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে তোলা ছবি। |
অভিজিতের নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেখার পর দেশে ফেরার আমার যে দুর্দমনীয় এক ইচ্ছে ছিল, সেটি মরে পড়ে রয়েছে উপুড় হয়ে, যেভাবে অভিজিৎ পড়ে ছিল নিজের রক্তের ওপর। একুশ বছর আমি দেশে নেই, এ কারণে নিরন্তর বয়ে বেড়িয়েছি এক দুঃখের বোঝা। দুঃখগুলো এখন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। ভাগ্যিস আমাকে দেশে ঢুকতে দেয়নি বাংলাদেশের কোনও সরকারই। ঢুকতে দিলে আমি জানি আমি দেশে ফিরতাম, আগে না জানলেও এখন বেশ জানি যে দেশে ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যে আমার নিজের রক্তের ওপর উপুড় হয়ে মরে থাকতে হতো আমাকে, কোপানো মস্তিষ্কের টুকরো ভেসে থাকতো রক্তে।
---২. ধর্মীয় সন্ত্রাসীরা একদিনে বাড়েনি বাংলাদেশে। ৬৯এর গণআন্দোলন দেখেছি, ৭১এর যুদ্ধ দেখেছি। আশির দশকে আমার যেসব কলাম ছাপা হয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় পত্রিকায়, তা ছাপা হতে পারে বলে আজ কেউ এখন কল্পনাও করতে পারবে না। হ্যাঁ, সেসব কলামে ধর্ম নিয়ে আমার ভিন্নমত ছিল। আজ ভিন্নমতের কোনও স্থান বাংলাদেশের সমাজে নেই। মানুষ কী খাবে, কী পান করবে, কী গান শুনবে, কী ছবি অাঁকবে, কী ভাববে, কী পড়বে, কী লিখবে, কী বলবে, কোথায় যাবে, কোথায় যাবে না, কী পোশাক পরবে, কার সঙ্গে মিশবে, কার সঙ্গে শোবে- তা বলে দেওয়ার লোক বাড়ছে। মনস্টার বাড়ছে। তাদের আদেশ অমান্য করলে উপুড় হয়ে মরে পড়ে থাকতে হবে রাজপথে, নিজের রক্তের ওপর।
আমার মনে হয়, বাংলাদেশের প্রগতিশীল মানুষেরা যদি ধর্মান্ধ মৌলবাদীদের শক্ত হাতে দমন করতো, তাহলে ওরা যে বাড়টা বেড়েছে এতদিনে, তা বাড়তে পারতো না। নব্বইয়ের প্রথম দিকে আমার মাথার মূল্য ধার্য করা হচ্ছে, আমার ফাঁসির জন্য সারা দেশজুড়ে মৌলবাদীরা তাণ্ডব করছে, ইসলামী ঐক্যজোট মরিয়া হয়ে উঠেছে আমাকে হত্যা করার জন্য, মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নিয়ে সরকার আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, মামলা করছে, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হচ্ছে- কোনও লেখকের জন্য এর আগে দেশজুড়ে অত ভয়ংকর দুর্যোগ কখনও আসেনি। প্রগতিশীলরা তখন বেশির ভাগই মুখ বন্ধ করে ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিছিল বেরিয়েছে মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে, কিন্তু কেউ আমার উচ্চারণ করেনি। করবে কেন? 'নাস্তিক নারীবাদী'র বিরুদ্ধে শুধু যে মৌলবাদীরাই নয়, মৌলবাদীবিরোধীরাও। 'পুরুষতন্ত্রবিরোধী নাস্তিক নারীবাদীদের' মত প্রকাশের অধিকারে বাংলাদেশের মৌলবাদী গোষ্ঠী এবং মৌলবাদবিরোধী ধার্মিক গোষ্ঠী- কোনও গোষ্ঠীই বিশ্বাস করে না। দেশসুদ্ধ লোকের সামনে আমাকে আমার দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হল, এবং একুশ বছর দেশে পা রাখতে দেওয়া হয়নি। এর কোনও প্রতিবাদ সত্যিকার অর্থে হয়নি। মৌলবাদীদের সঙ্গে কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে দেশের প্রগতিশীলরা আমার বিরুদ্ধে গত একুশ বছর মিথ্যে অপবাদ রটিয়েছে পত্র-পত্রিকায়। প্রগতিশীল নামে খ্যাত সুবিধেবাদীগুলো মৌলবাদীদের মনে অথবা মানুষের ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগবে এই কারণ দেখিয়ে সরকার যে একের পর এক আমার বই নিষিদ্ধ করেছে- চুপচাপ দেখে গেছে। কোনও কোনও সময় তো নিজেরাই এগিয়ে এসে বই নিষিদ্ধ করেছে। নারীবাদী সমিতির নির্বোধ নারীরা আমাকে দোষ দিয়েছে আমি নাকি মৌলবাদীদের উত্থানের কারণ। তাদের এটুকু বোঝার ক্ষমতা হয়নি যে আমার লেখার কারণে মৌলবাদের উত্থান হয়নি, তাদের মৌনতা এবং তাদের আপোসই দেশে মৌলবাদের উত্থান ঘটিয়েছে। মৌলবাদীরা আমাকে চায়নি, সুতরাং মৌলবাদীদের খুশি করার জন্য, মৌলবাদীদের জিতিয়ে দেওয়ার জন্য সরকার আমাকে তাড়িয়েছে। জনগণ তা বিনাবাক্যে মাথা পেতে মেনে নিয়েছে। এই তো ছিল ঘটনা। তারপর থেকে কি মৌলবাদীরা হাত গুটিয়ে গুহায় বসে থাকবে! তারা যা ইচ্ছে তাই করার গ্রিন লাইসেন্স পেয়ে গেছে। তাই মহা উদ্যমে নেমে পড়লো একের পর এক বাক-স্বাধীনতা হরণে। একের পর এক শিল্পী সাহিত্যিক আর মুক্তচিন্তার মানুষের ওপর নেমে এলো মৃত্যুর হুমকি, বীভৎস শারীরিক আক্রমণ, খুনের চেষ্টা, খুন।
সেদিন যদি আমার ওপর মৌলবাদী আর সরকারের নির্যাতনকে রোধ করা হতো, তবে মৌলবাদীদের পেশিতে এত শক্তি আসতো না, তাদের আত্দবিশ্বাস এত ভয়ংকরভাবে বাড়তো না। যদি আমার নির্বাসনকে সেদিন রোধ করা হতো, তবে মৌলবাদী অপশক্তিকে অন্তত বুঝিয়ে দেওয়া যেতো, তাদের জয় অনিবার্য নয়।
---৩. ধর্মান্ধ বর্বরদের সঙ্গে বছরের পর বছর আপোস করতে থাকলে শেষ অবধি এই দাঁড়ায়। একসময় সমাজটা পচে গলে নষ্ট হয়ে যায়। আমার মনে হয়, বাংলাদেশের অবস্থা আজ তেমনই। আশির দশকের মাঝামাঝি প্রেসিডেন্ট এরশাদ রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নিয়ে এলো। যদিও কেউ তাকে রাষ্ট্রধর্ম আনার জন্য অনুরোধ বা আবদার করেনি। সেই থেকে ইসলামের জয়জয়কার শুরু হয়ে গেল সমাজে। ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী ইস্কুল, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী নার্সিং হোম, ইসলামী হাসপাতাল... সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করে গেল ইসলাম, প্রবেশ করে গেল ভিনদেশি পোশাক এবং আচার আচরণ। নানা ধর্মের লোক যেখানে বাস করে, সেখানে তুমি কোনও একটা ধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম বানাতে পারো না। বানালে সেই ধর্মটি অন্য ধর্মের চেয়ে প্রধান হয়ে ওঠে। এবং সেই ধর্মের মানুষেরা অন্য ধর্মের মানুষদের চেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়, গণতন্ত্র বলে কিছু আর অবশিষ্ট থাকে না। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম আসার পর থেকে অমুসলিম সংখ্যা কমতে কমতে, মুসলিম সংখ্যাকে আট থেকে নয়ের ঘরেও পৌঁছে দিয়েছে। এভাবে চললে ১০০ ভাগ মুসলিমের দেশ হয়ে উঠতে খুব বেশি সময় নেবে না বাংলাদেশ। সৌদি আরব যেমন ১০০ ভাগ মুসলিমের দেশ। আভাসটা এরকমই দেখতে পাচ্ছি। অমুসলিমরা বিদেয় হলে কি মুসলিমরা সুখে শান্তিতে বসবাস করবে? আমার কিন্তু তা মনে হয় না। সুন্নিরা শিয়া মারছে, নাস্তিক মারছে, আহমদিয়া মারছে; শিয়ারা সুন্নি মারছে, কাফের মারছে। শুধু তরবারির ঝনঝনানি। আইসিস দেখিয়ে দিচ্ছে, খাঁটি মুসলমানের দেশ বলতে কী বোঝায়।
---৪. 'ধর্মনিরপেক্ষ' টার্মটায় আমি বিশ্বাস করি না। কারণ আমি মনে করি না সব ধর্ম সমান। ইসলাম আর বৌদ্ধ ধর্মকে আমি সমান বলে মনে করি না। ইহুদি আর জৈন ধমর্কেও নয়। বর্বরতাগুলো একেক ধর্মে একেক রকম। তবে নিরপেক্ষ কী করে হবে মানুষ? যদি দুই বর্বরের মধ্যে এক বর্বরের পাশে আমাকে দাঁড়াতে হয়, তবে তুলনায় কম বর্বরের পাশেই দাঁড়াবো। তাই নয় কি? যেহেতু ধর্মগুলো বর্বরতার দিক দিয়ে বা উদারতার দিক দিয়ে সমান নয়, তাই সকল ধর্মের প্রতি সবারই সমান শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং সকল ধর্মের প্রতি নিরপেক্ষ থাকাও সম্ভব নয়। বরং সকল মানুষকে, সে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলমান, ইহুদি, জৈন, শিখ, নাস্তিক যা-ই হোক- সমান চোখে দেখাটা সম্ভব হতে পারে। আমি মনে করি মানুষ হিসেবে প্রত্যেকের অধিকার সমান হওয়া উচিত। সে ক্ষেত্রে 'ধর্মনিরপেক্ষতা'র বদলে 'বিশ্বাসীনিরপেক্ষতা' অথবা এরকম একটি শব্দ আমাদের ব্যবহার করা উচিত।
---৫. কে মেরেছে অভিজিৎকে? ফারাবী? খুনিরা কি ফেসবুকে বলে বেড়ায় 'আমি খুন করব'? আইসিসএর রাজ্যে বলে। কিন্তু এখনো তো বাংলাদেশ পুরোপুরি আইসিস রাজ্য হয়ে ওঠেনি। আমার মনে হয় ফারাবীর চেয়েও ভয়ংকর জিহাদী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অভিজিৎকে হত্যা করেছে। যেই করুক, খুনি ধরা পড়ুক চাই। খুনির শাস্তি হোক চাই। আমি বরাবরই মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে। কিন্তু আজকাল মাঝে মাঝে আমার মনে হয়, আইসিসরা, বোকো হারামরা, আল শাবাবরা, আর বাংলাদেশে রাজিব হায়দার, হুমায়ুন আজাদ আর অভিজিৎ রায়ের খুনিদের মৃত্যুদণ্ড হলে আমি অখুশি হবো না।
![]() |
| তসলিমা নাসরিন |
লেখক : নির্বাসিত লেখিকা
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1432)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
March
(1092)
-
▼
Mar 25
(23)
- খোকন-সেলিম মুখোমুখি
- বিদায় ‘জায়ান্ট অব হিস্টরি’
- এখনও হিসাব কষছে বিএনপি by কাফি কামাল
- ইয়েমেনে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি!
- অনির্বাচন by মাহবুব তালুকদার
- ভারতের মতো রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা দরকার by ম...
- সিঙ্গাপুর যেভাবে বিশ্বসেরা
- থেমে গেল স্বপ্নের চরকা
- বহু ভাষাবিদ লির বর্ণাঢ্য রাজনীতি
- পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালি ও ভূমি প্রসঙ্গ by মেজর ...
- দোকান মালিকদের ক্ষতি ২৭০০০ কোটি টাকা by হামিদ বিশ্বাস
- সুযোগের নতুন জানালা? by তোফায়েল আহমেদ
- কৌশলী পথে কূটনীতিকরা by মিজানুর রহমান
- বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কটের দায় কার? by অধ্যাপক ড. মো...
- অভিজিৎকে কেন মরতে হলো by তসলিমা নাসরিন
- আড়ালে চাপা পড়েছে যে রহস্য by চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টে...
- সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার নিরাপত্তা! দায় কার! by অ্য...
- চাঁপাই নবাবগঞ্জে রাত নামলেই আতঙ্ক by মোহাম্মদ তারে...
- পিঁপড়া ও গুহাবাসীর কথা by সৈয়দ আবুল মকসুদ
- লক্ষ্মীপুরে আড়াই মাসে ১৬ লাশ, গুলিবিদ্ধ ২০ by আব্ব...
- দগ্ধ শ্রমিকদের পরিবারে হাহাকার by রুদ্র মিজান
- আন্দোলনের সমাপ্তি সিটি নির্বাচনে by মেজর মো. আখতার...
-
▼
Mar 25
(23)
-
▼
March
(1092)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...














