Showing posts with label WikiCrime. Show all posts
Showing posts with label WikiCrime. Show all posts

Tuesday, May 19, 2015

ধরন পাল্টাচ্ছে খুনের

পারিবারিক, রাজনৈতিক ও বক্তিগতসহ ছোটখাটো দ্বন্দ্বের জেরে খুনের ঘটনা বেড়েই চলছে। পাল্টাছে খুনের ধরনও। সারা দেশে গড়ে প্রতিদিন ১৪টি খুনের ঘটনা ঘটছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা ঘটেছে। একদিকে নিজের জন্মদাতা পিতার হাতে খুন হয়েছে অবুঝ তিন সন্তান। আবার বাসায় ঢুকে মা-মেয়েকে একসঙ্গে হত্যার ঘটনাও ঘটছে। সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক অস্থিরতা, পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন হওয়া, অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণেই ঘটছে এসব খুনের ঘটনা। অনেক খুনের ঘটনায় ভিকটিমের পরিবার বিচার না পাওয়ায় প্রায় একই কায়দায় খুনের ঘটনা ঘটছে। সমাজে এক ধরনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হত্যা মামলার বাদী বাবাকেও হত্যা করেছে একদল দুর্বৃত্ত। হত্যা মামলায় আদালত থেকে জামিন নিয়ে তারা নৃশংস এই ঘটনা ঘটায়।
সমাজ বিজ্ঞানী ও অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, দিনে দিনে পাল্টাচ্ছে খুনের ধরনও। খুনের পর চোখ তুলে নেয়া, হাত পায়ের রগ কেটে দেয়া, শরীরের বিভিন্নস্থানে এসিড মেরে বা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়াসহ নানা কায়দা অবলম্বন করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হচ্ছে। এমনকি হত্যার পর লাশ কয়েক টুকরা করে গুম করার চেষ্টাও চলছে। সাম্প্রতি সময়ে একাধিক ঘটনায় ট্রাভেল ব্যাগের ভেতর থেকে নারী ও শিশুর লাশও উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ব্যাগে লাশ নিয়ে ভ্রমণ করতেও কুণ্ঠা বোধ করছে না দুর্বৃত্তরা। দিন দিন মানুষ আরও বেশি পাশবিক হয়ে উঠছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন মানসিকতা হলো ক্রমাগত মূল্যবোধের অবক্ষয়ের ফল। মানুষের মনের ভেতর থেকে মনুষ্যত্ব বোধ উবে যাচ্ছে। এ কারণে হত্যার পর লাশ নিয়ে ঘুরতেও মনের ভেতর কোনও সংশয় সৃষ্টি হয় না। আগে এমনটি দেখা যেতো কম।
মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, সমাজে অস্থিরতার বিরাজ করলে অপরাধ কর্মকাণ্ড বেড়ে যায়। এজন্য সমাজে যত অস্থিরতা কম থাকবে ততই অপরাধ কর্মকাণ্ড কম ঘটবে। একই সঙ্গে আইন ও বিচার ব্যবস্থা এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে খুনের মতো পরাধ কওে কেউ আইনের ফাঁক-ফোকর গলে বেরিয়ে যেতে না পারে। অর্থাৎ অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে অপরাধ এমনিতেই কমে আসবে।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি খুনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। খুন করে কেউ পার পেয়ে গেলে তা অন্যের কাছে দৃষ্টান্ত হয়। একজনকে দেখে অন্যরা উৎসাহিত হয়। এজন্য অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করাটা জরুরি। এছাড়া বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতাও অপরাধ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম একটি কারণ। বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা একপর্যায়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাসী বা দুর্বৃত্তরা রেহাই পেয়ে যায়। এছাড়া রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কেউ যেন পার না পায় সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেয়া উচিত। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক ও পারিবারিক কারণে নৃশংস খুনের ঘটনা বেড়ে যাওয়া মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। শুধুমাত্র আইন প্রয়োগের মাধ্যমেই এসব ঠেকানো সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। সামাজিক সচেতনতা ও পারিবারিক শৃঙ্খল একজন মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। প্রকৃত মানুষেরা ভেতরের পশুবৃত্তিকে চাপা দিয়ে রাখতে পারে। এতে স্বাভাবিকভাবেই সমাজে অপরাধের সংখ্যা কমে আসে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত চারমাসে সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ৩০২ জন খুন হয়েছে। তবে ওই চারমাসের চাইতে মে মাসের খুনের সংখ্যা বেশি। এই হিসেবে প্রতি  মাসে গড়ে তিন শতাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। চলতি মাসে খুনের ঘটনা ঘটেছে আরও বেশি।
সূত্র জানায়, গত ১৫ মে ভোর রাতে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নে স্ত্রীর প্রতি অভিমান করে আবদুল গনি নামে এক ব্যক্তি তার তিন কন্যা জবাই করে হত্যা করেন। লোমহর্ষক ওই ঘটনায় এলাকায় শোখের ছায়া নেমে আসে। আবদুল গনি কয়েকদিন ধরে তার পাশের এক আত্মীয়র সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এতে তার স্ত্রী ফাতেমা ইউনিয়ন পরিষদের একটি ইউপি সদস্যসের কাছে নালিশ করলে রাগে ও ক্ষোভে তিনি তার তিন কন্যা সন্তানকে হত্যা করেন। এ আর আগে ১৪ মে রাতে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় উপজেলার মর্নেয়া ইউনিয়নের তালপট্টির নরশিয়ং গ্রামে শাহীনা খাতুন নামে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে দৃর্বৃতরা। একই দিন দুপুরে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার মির্জারপুল এলাকার ইক্যুইটি ভিলেজে খুন হন শারমিন আক্তার। এছাড়া পরাজধানীর পল্লবী এলাকায় জমি সংক্রান্তের বিরোধের জেরে আবদুর রহমান চঞ্চল নামে এক কলেজ ছাত্র খুন হয়েছেন। ১৩ই মে দুপুরে পল্লবীর ২০ নম্বর রোডে ৯ নম্বর সাততলা বাড়ির ছয়তলা ফ্ল্যাটে ঢুকে মামা ও ভাগ্নিকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহতরা হলেন, আমিনুল ইসলাম ও সুইটি খাতুন। চাঁদাবাজি ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে পরিবার ও পুলিশের ধারণা করছেন। ১২ মে দুপুরে সিলেটের বনকলাপাড়া নূরানী দিঘি এলাকায় প্রকাশ্যে দিবালোকে অনন্ত বিজয় দাস নামে এক ব্লগারকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই হত্যার দায় স্বীকার করে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নামে এক জঙ্গি সংগঠন দায় স্বীকার করেছে। ১১ই মে নওগাঁ জেলার পত্নীতলায় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ৯ই মে রাতে রংপুরের কাউনিয়ায় মিরবাগের সাধু লিচুবাগান এলাকায় নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ীকে হাত-পায়ের রগ কেটে কুপিয়ে হত্যা করে সস্ত্রাসীরা। গত ৮ই মে রাতে চট্টগ্রামে শহরের মুরাদপুরের আল-আরাফাহ্‌ ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী ইব্রাহিমকে গলাকেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। গত ৭ই মে সকালে চট্টগ্রামের নগরীর সদরঘাট থানার দক্ষিণ নালাপাড়া এলাকার মোবাশ্বের হোসেনের ৬ তলা ভবনের চতুর্থ তলায় মা ও মেয়েকে পৈশাচিক কায়দায় খুন করে ৪ সন্ত্রাসী। নিহত মায়ের নাম নাসিমা আক্তার। আর মেয়ের নাম রিয়া আক্তার। ডাকাতির কারণে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছি বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
গত ৩রা মে দক্ষিণ বাড্ডায় জাগরণী ক্লাবের ভেতরে ঢুকে থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন রায়হানকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পশুর হাটের টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে ওই খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। একই দিন সকালে কদমতলীর বউবাজার এলাকায় দুর্বৃত্তরা মানিক হোসেন নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এর আগে গত ২০শে এপ্রিল রাজধানীর উপকণ্ঠ আশুলিয়ায় ব্যাংক ডাকাতি করতে গিয়ে ডাকাতের গুলি ও ছুরিকাঘাতে মারা যান ৮ ব্যক্তি।

Thursday, April 9, 2015

রাতে রুনীর বাসায় রিমন by নেসারুল হক খোকন ও ওবায়েদ অংশুমান

হত্যাকাণ্ডের দিন পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ শেষে
ডিবি অফিস থেকে বেরিয়ে আসছে রুনীর
ছোট ভাই রোমান ও রিমন (পেছনে)
জড়িত সন্দেহে আটক করলেও প্রভাবশালীদের চাপে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় : সাগর-রুনী আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করে রিমন
নওয়াজীশ আলম রিমন। বেকার যুবক। নিহত সাংবাদিক মেহেরুন রুনীর ছোট ভাই। ঘটনার দিন সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে যাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আবার প্রভাবশালীদের চাপে তাকে ছেড়েও দিতে বাধ্য হয়। পরে তদন্ত সংস্থার অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, ঘটনার দিন রাতে রুনী-সাগরের ফ্ল্যাটে যায় রিমন। আর গভীর রাতে ধানমণ্ডিতে ছিল তার অবস্থান। রিমনই ফোন করে সবাইকে জানায়, ‘রুনী আপু আত্মহত্যা করেছে। পরে সাগরও সুইসাইড করেছে বলে প্রচার করে সে।’ অথচ তার দাবি অনুযায়ী, মেঘের কাছ থেকে রুনী-সাগরের মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পরও প্রথমে সে বাসা থেকে বের হয়নি।
তদন্তে আরও বেরিয়ে আসে, রিমন মাদকাসক্ত। আর রুনীদের বাসায় চুরির সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এসব কারণে সাগর রিমনকে পছন্দ করতেন না। এমনকি সাগর থাকলে তিনি ওই বাসায় যেতেন না। তার এমন কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পেয়ে রুনীও তাকে এড়িয়ে চলতেন। ঘটনার সঙ্গে রিমনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন সন্দেহে র‌্যাব একাধিকবার তাকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত নেয়। তদন্ত সংস্থার পাশাপাশি যুগান্তরের নিজস্ব অনুসন্ধানেও বেরিয়ে এসেছে, রিমন ওই দিন রাতে সাগরদের বাসায় গিয়েছিল। একই নেটওয়ার্কে অবস্থান করে মোবাইলে দু’জনের সঙ্গে কথাও বলে।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ৫৮/এ/২ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে সাগর-রুনীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ফ্ল্যাটে তারা পাঁচ মাস বসবাস করেন।
রুনীদের বাসায় রিমন : রিমন এয়ারটেলের একটি সিম ব্যবহার করে। ঘটনার আগের তিন মাসের মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রিমন তার ভগ্নিপতি সাগর কিংবা বোন রুনীর সঙ্গে কখনও মোবাইল ফোনে কথা বলার তথ্য নেই। তবে উল্লিখিত সময়ে (তিন মাস) সে সাগর-রুনীর বাসায় গেছে ২৪ বার। এর মধ্যে ঘটনার দিন রাতেই গেছে দু’বার। ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা ৩৮ মিনিটে সে ওই ফ্ল্যাটে যায়। ওই ফ্ল্যাটে অবস্থানকালীন সে একটি ওয়ারিদ নম্বরে (০১৬৭৪৪৯৩২৬৬) কথা বলে। তার মোবাইল থেকে দেয়া এই কলের স্থায়িত্ব ছিল ৬৪ সেকেন্ড। পরে সে ওই বাসা ত্যাগ করে। আবার ওই দিন রাত ১১টায় ফের সাগরদের ফ্ল্যাটে যায়। তখন সে পুনরায় বাংলালিংকের (০১৯২৪৯৭৬৯৯৮) এই নম্বরে ১৪৪ সেকেন্ড কথা বলে। অথচ রহস্যজনকভাবে উল্লিখিত দুটি নম্বরই ঘটনার পর থেকে বন্ধ রয়েছে।
রিমনের অস্বীকার : এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিমন সোমবার যুগান্তরকে বলে, ‘আমি সেদিন ওদের (সাগর-রুনি) বাসায় যাইনি। কারণ আমার মা মেঘকে নিয়ে পিকনিকে গিয়েছিল। সারা দিন তারা বাইরে (সাভারে) ছিল। যদি কেউ বলে, আমি সেদিন বাসায় গেছি তবে তা মিথ্যা।’ এ ছাড়া মাদক সেবনের কথা অস্বীকার করে রিমন বলে, ‘আমার বিরুদ্ধে চুরিসহ অন্য যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য নয়।’
স্বীকার করলেন রোমান : তবে মামলার বাদী ও রিমনের মেজ ভাই নওশের আলম রোমান গত ৯ ফেব্রুয়ারি যুগান্তরকে বলেন, ‘হাঁ, রিমন সেদিন রুনিদের বাসায় গিয়েছিল। বাসায় গেলেই কী সে খুন করছে? করলে র‌্যাব প্রমাণ করুক।’
মা থাকলেই রিমন আসত : ঘটনার পর তদন্তের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন এমন একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সাগর যখন বাসায় থাকত না, তখন রিমন ওই বাসায় যেত। কারণ সাগর রিমনকে অপছন্দ করতেন। সে যে মাদকাসক্ত ছিল তা জানতেন সাগর। তিনি আরও বলেন, সাগর ধারণা করতেন, তার বাসা থেকে টাকা-পয়সাসহ যেসব জিনিস চুরি হয়েছে তা সম্ভবত রিমনই নিয়েছে। ঘটনার সময় ওই বাসার দায়িত্ব পালন করা নিরাপত্তাকর্মী রুদ্র পলাশ যুগান্তরকে বলেন, ‘রুনীর ভাই রিমন সাগরদের বাসায় খুব বেশি আসত। যখন রুনীর মা এ বাসায় থাকতেন তখনই রিমন আসতেন টাকার জন্য। প্রায় সময়ই রুনীর মা তার হাতে দু-তিনশ’ থেকে ৫শ’ টাকাও ধরিয়ে দিতেন। অনেক সময় টাকা খুচরা না থাকলে ৫শ’ টাকার নোট ভাঙানোর জন্য বাড়ির ম্যানেজার তাহেরের হাতে দিতেন তার মা নুরুন্নাহার মীর্জা। তা আমি দেখেছি। রিমন মূলত টাকার জন্যই এ বাসায় আসতেন।’
ওই বাসার তৎকালীন ব্যবস্থাপক আবু তাহের সোমবার যুগান্তরকে বলেন, ‘রুনীর মা থাকলে রিমন ওই বাসায় আসতেন। আর আমি একবার টাকা ভাংতি করে দিলে রিমনকে টাকা দেন খালাম্মা (রুনীর মা)।’ তিনি আরও বলেন, ‘মেঘকে স্কুলে আনা-নেয়া করতেন খালাম্মা। এই বাসাতেও মাঝে মাঝে থাকতেন। তবে ঘটনার দিন রাতে তিনি ওই বাসায় ছিলেন কিনা আমি বলতে পারব না।’
আত্মহত্যা করেছে আপু : রুনীর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ও সহকর্মী নাদিরা কিরন। তিনি বর্তমানে এটিএন বাংলার বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। রুনীও মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত এটিএন বাংলায় সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার দিন সাগর-রুনীর মৃত্যুর সংবাদ নাদিরা কিরণকে রিমনই প্রথম জানিয়েছিল। মৃত্যুর সংবাদ প্রথম কীভাবে জেনেছিলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে নাদিরা কিরন যুগান্তরকে বলেন, ‘রুনির ছোট ভাই রিমন আমাকে ফোন দেয়। টাইমটা এক্সাট বলতে পারব না। তবে ৭টা কিংবা সাড়ে ৭টা হবে। রিমন আমাকে বলল, নাদিরা আপা, আপুতো নাই। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপুতো নাই মানে? সে বলল, আপুতো সুইসাইড করেছে। আর আমি জিজ্ঞাসা করলাম, সাগর কই। ও বলল, দাদাও-তো (সাগরকে দাদা বলে ডাকত) নাই। পরে বলল, দু’জনই আত্মহত্যা করেছে। তবে কেন ও (রিমন) আত্মহত্যার কথা বলেছিল তা আমি আর ওদের কাছে জিজ্ঞাসা করিনি।’ এদিকে আত্মহত্যা বলার কারণ জানতে চাইলে রিমন যুগান্তরকে বলে, অনেক দিন আগের ঘটনা। কাকে কী বলেছিলাম তা আমার মনে নেই। শুধু সাংবাদিক নাদিরা কিরণকে নয়, রিমন তার খালা-খালুকেও জানিয়েছিল, রুনি-সাগর আত্মহত্যা করেছে, যা রিমনের খালু ইমদাদ হোসেন যুগান্তরের কাছে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, রুনীদের ফ্ল্যাট থেকে আমাদের বাসা কাছাকাছি। সেদিন সকাল বেলা আমাদেরও বলা হয়, রুনী-সাগর সুইসাইড করেছে।
রিমন যেভাবে গ্রেফতার : তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ঘটনার দিন সারা রাত জেগেছিল রিমন। এমনকি সকাল বেলা তাকে অস্বাভাবিক মনে হয়। মোবাইল ফোনের কললিস্ট অনুযায়ী গভীর রাতে (২টা ৪৩ মিনিট) তাকে ধানমণ্ডিতে অবস্থান করতে দেখা যায়। এ রকম নানা সন্দেহের সূত্র ধরে ঘটনার দিন দুপুরে তাকে পুলিশ আটক করে। কিন্তু বিকালে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের তৎকালীন একজন উপকমিশনার যুগান্তরকে বলেন, ‘রিমন সেদিন সারা রাত জেগে ছিল। সকাল বেলা তাকে এবনরমাল মনে হয়েছে। ওই দিন রাতে রিমন ধানমণ্ডি গিয়েছিল তার প্রমাণ সিডিআরে পাওয়া গেছে। তাকে তো আমরা প্রথম দিনই গ্রেফতার করেছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘রিমনকে গ্রেফতার করে বিকাল পর্যন্ত আমাদের হেফাজতে রাখা হয়। পরে সাংবাদিকদের একটি মহল, মন্ত্রী-মিনিস্টার, সব জায়গা থেকে তাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য চাপ আসতে থাকে। এমনকি ওর ফ্যামিলি থেকেও চরম বাধার সম্মুখীন হই। পরে আইজিপি স্যার, কমিশনার স্যার সিদ্ধান্ত দিলেন তাকে ছেড়ে দেয়া হোক। এভাবেই সে ছাড়া পায়। তবে ছেড়ে দিলেও সন্দেহের বাইরে ছিল না রিমন।’ তিনি জানান, ‘আমাদের তদন্তে বেরিয়ে আসে, সাগর যখন বাসায় থাকতেন না তখন রিমন ওই বাসায় যেত। রিমন তার বোন রুনী ও তার মায়ের কাছ থেকে অনেক টাকা-পয়সা নিত। সাগরের কাছে টাকা চাওয়ার সাহস করত না সে।’ তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, সাগরের সঙ্গে ওই ফ্যামিলির ভাইদের (রুনীর ভাই) সঙ্গে সম্পর্ক যে দুধে-ভাতে ছিল তা কিন্তু না। এমনকি রোমান তার বোন রুনীর সঙ্গে এক বছর কথা বলা বন্ধ রাখেন।’ এ বিষয়টি যুগান্তরের কাছেও স্বীকার করেন রোমান।
টাকা খোয়া, চাবি উধাও : রুনী তার বান্ধবী নাদিরা কিরনের কাছেও ফ্ল্যাট থেকে টাকা চুরি ও চাবি খোয়া যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। কেবল নাদিরা নন, জার্মানিতে থাকাকালীন সাগরের ঘনিষ্ঠ এক সহকর্মী যুগান্তরকে জানান, প্রায় রুনীদের বাসা থেকে টাকাসহ জিনিসপত্র চুরি হতো। যখন তারা বাসায় থাকত না তখনই এমন ঘটনা ঘটত। একবার তাদের বাসার চাবিও উধাও হয়ে যায়। এর একদিন পর ওই চাবি আবার ফেরতও পায়।
তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট র‌্যাবের এক কর্মকর্তাও যুগান্তরকে বলেন, টাকা-পয়সা চুরির সঙ্গে রিমন জড়িত ছিল। সাগরের পাশাপাশি তার নিজের বোন রুনীও বিষয়টি জানতে পারেন। কেননা এসব কারণে রুনিও তাকে দেখতে পারতেন না।’
রিমন কেন সন্দেহভাজন : র‌্যাবের সদ্য বিদায়ী সাবেক একজন শীর্ষ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘শুরু থেকে রিমনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের সন্দেহের তালিকায় রয়েছে। একাধিকবার তাদের গ্রেফতারের পরিকল্পনাও হয়। কিন্তু বাদী রোমান সাংবাদিক (র‌্যাবের ভাষায় ) হওয়ায় সাংবাদিকদের একাংশকে তিনি ব্যবহার করছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অনেক বিষয় মাথায় রাখতে হয়েছে। রোমান-তো মামলার বাদী। আর আমরা এটাও ভেবেছি যে, তাদের গ্রেফতার করলে উল্টো র‌্যাবকে দোষারোপ করতে পারে সাংবাদিকদের একটি অংশ। তারা বলবে, মামলার কিছুই করতে পারেনি র‌্যাব, উল্টো বাদীপক্ষকে গ্রেফতার করে হয়রানি শুরু করেছে। সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাদের গ্রেফতার করার বিষয়টি থমকে আছে।’
যদিও বাদী রোমান যুগান্তরের কাছে স্বীকার করেছেন যে, ‘ঘটনার পর থেকে টানা সাত মাস র‌্যাব তাকে পর্যবেক্ষণে রাখে। এমনকি তার বাসার সামনে একটি চায়ের স্টলও বসায় তারা।’
রিমন প্রসঙ্গে তদন্ত সংশ্লিষ্ট র‌্যাবের একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, ‘রুনীর পরিবারের দাবি অনুযায়ী, মেঘ তার নানীকে ফোন দিয়ে মৃত্যুর সংবাদ দেয়। তখন রিমনও মেঘের সঙ্গে কথা বলে। এমন সংবাদ পাওয়ার পরও সে তার নিজ বাসায় অবস্থান করে। কেন সে বাসায় অবস্থান করেছিল তার উপযুক্ত ব্যাখ্যা আমাদের কাছে দিতে পারেনি। আবার এমন সংবাদ পাওয়ার পরও সে তার নিজের মোবাইল থেকেও কাউকে মৃত্যুর সংবাদ দেয়নি। ব্যবহার করেছে তার মায়ের মোবাইল। এরও জবাব দিতে পারেনি সে।’
র‌্যাবের তদন্তকারী কর্মকর্তার পাশাপাশি চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি র‌্যাবের এএসপি পদমর্যাদার আরেকজন কর্মকর্তা ছায়া তদন্ত করতেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে র‌্যাবের এএসপি পদমর্যাদার সাবেক ওই কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘সেদিন রাতে ওই বাসায় যে গিয়েছে তার খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার সম্ভাবনা বেশি। কারণ ঘটনার দিন রাতে রুনীদের বাসার পাশে হোটেল কাশবন থেকে খুনিরা বিরিয়ানির প্যাকেট নিয়েছিল। যা তারা রাতে ওই বাসায় খাওয়া-দাওয়া করে। ওই বাড়ির নিচ থেকে কাশবনের লেবেল লাগানো প্যাকেট উদ্ধার করি। পরে ঘটনার রাতে বিরিয়ানির প্যাকেট নেয়া হয়েছিল কিনা তা যাচাই করতে হোটেল কাশবনের মালিকের কাছেও গিয়েছিলাম। হোটেল মালিক বিরিয়ানির প্যাকেট নেয়ার কথা আমার কাছে স্বীকার করেন। তবে কারা নিয়েছিল তা তিনি আমার কাছে স্পষ্ট করতে পারেননি।’ তিনি আরও বলেন, ‘একাধিকবার আমি রিমনের মুখোমুখি হয়েছি। তাকে জিজ্ঞাসাও করেছি। কিন্তু রহস্যজনকভাবে যখনই তাকে জিজ্ঞাসা করেছি তখন বাদী রোমান তার সঙ্গে থাকত। রিমনকে জিজ্ঞাসা করলে রোমান সব প্রশ্নের উত্তর দিত। আর আমাকে বলত, ও (রিমন) পোলাপান মানুষ , ও কি বোঝে?’
রিপোর্টে প্রকাশিত সব সাক্ষাৎকারের অডিও-ভিডিও যুগান্তরের কাছে সংরক্ষিত।

Sunday, January 25, 2015

সৈয়দ আলীর প্যারালাইসিস হাসপাতাল- ওষুধ পায়ের চাপ, তেলপড়া, তাবিজ ও ফুঁ by মাহবুব খান বাবুল

সৈয়দ আলীর প্যারালাইসিস হাসপাতালে বিচিত্রসব চিকিৎসা দিচ্ছেন কবিরাজ। কখনও পায়ের চাপে পিষা হচ্ছে রোগীকে। কখনও বা দেয়া হচ্ছে তেলপড়া। কখনও ঝাড় ফুঁ। গত ২০ বছর ধরে এভাবেই তিনি চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বিঘ্নে। কিন্তু এ হাসপাতালে এসে কেউ ভাল হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন এমন নজির মিলেনি একটিও। তারপরও মানুষ আসছেন। চিকিৎসা নিচ্ছেন। কবিরাজের নাম মো. সৈয়দ আলী। ভিজিটিং কার্ডে লিখেছেন আলহাজ্ব মো. সৈয়দ আলী আল-কাদরী কবিরাজ। বয়স সত্তর ছুঁইছুঁই। বাড়ি সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের শিতাহরণ গ্রামে। তিনি ডাক্তারি বা কবিরাজিও পড়েননি। স্বাস্থ্য বিভাগের কোন অনুমোদন ছাড়াই বিটঘর বাজারে টিনের তৈরি ঘরে খুলে বসেছেন হাসপাতাল। নাম দিয়েছেন মাদানীয়া গাউছিয়া বাতেনিয়া সৈয়দীয়া দরবার শরীফ। মাসিক আয় দেড় লক্ষাধিক টাকা। মহিলা বা পুরুষের শরীরের যে কোন স্থানে পা দিয়ে চেপে ধরে ঝাড়ফুঁক করা তার চিকিৎসার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এ ছাড়া প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করেন তাবিজ ও তেল পড়া। সরজমিনে তার হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, বিশাল বড় দু’টি টিনের ঘর। দূর-দূরান্ত থেকে নানা সমস্যা নিয়ে আসছে রোগী। নির্ধারিত ফি দিয়ে ভর্তি হচ্ছে।  বেশির ভাগ সিট মাটিতে। মাদুর বিছিয়ে শুয়ে আছে ভিন্ন বয়সের পুরুষ-মহিলা মিলে ৩০-৪০জন প্যারালাইসিস রোগী। ৫ থেকে ৮শ’ টাকা দিয়ে তার কাছ থেকে ক্রয় করছেন পড়া তেল। পাশে বসে স্বজনরা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে তেল মালিশ করছেন। ঘরটির এক পাশে বাঁধা আছে বাঁশ। ওই বাঁশ ধরে ব্যায়াম করছেন রোগীরা। ঘরের মধ্যবর্তী স্থানে একটি চৌকিতে বসে আছেন কবিরাজ সৈয়দ আলী। তার ঠিক পেছনে বসে আছেন চারজন হুজুর। তারা সিরামিকের প্লেটে লাল কালি দিয়ে বিরামহীন ভাবে লিখছেন তাবিজ। তাদেরকে মাসিক ভিত্তিতে দেয়া হয় বেতন। সৈয়দ আলীর সামনে একটি টেবিল। টেবিলে সাজানো রয়েছে তেল ভর্তি প্লাস্টিকের বোতল। একটু পরপর তেল ভর্তি বোতলে ফুঁ দিচ্ছেন। মাঝে-মধ্যে তার সামনে হাজির করা হচ্ছে রোগী। তিনি রোগীর হাতে ধরে টানছেন আর ডান পা দিয়ে রোগীর কোমরে কখনও পেটে চাপ দিয়ে ধরে ফুঁ দিচ্ছেন। আর বলছেন যা ভাল হয়ে যাবে। এখানে রয়েছে অনেকগুলো মাটির চুলা। রোগীরা নিজ খরচে বাজার করে পর্যায়ক্রমে রান্না করছেন। রয়েছে একাধিক টয়লেট। তবে এখানকার স্যানিটেশন ও হাইজেনিক ব্যবস্থা অনেকটা প্রশ্নবিদ্ধ। সনদবিহীন ডাক্তার সৈয়দ আলীর চিকিৎসা সেবা নিয়ে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অনেক রোগী। ওই হাসপাতালে দেড় মাস ভর্তি থাকা ইসলামাবাদ গ্রামের আলী আকবর (৬০)সহ একাধিক রোগী বলেন, এখানে কোন চিকিৎসা হয় না। শুধু অনাচার। সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। খাওয়া ঘুমে আরাম নেই। ধোঁকা দিয়ে অর্থ  লোপাট করা হচ্ছে। ভর্তির সময় দিতে হয়েছে ৩ হাজার ২৭০ টাকা। সরিষার তেল এক বোতলের দাম ৮শ’ টাকা। সপ্তাহে লাগে দুই বোতল তেল। শুধু তেলের দামই দিয়েছি ৮ হাজার টাকা। আবার রয়েছে একটি দান বাক্স। সেখানেও দিতে হয় টাকা। আশুগঞ্জ চরচারতলার মো. ফাইজুর রহমান (৩০) বলেন, ১৮শ’ টাকা দিয়ে ভর্তি হয়েছি আজ সাতদিন। কিছু বুঝতেছি না। মাধবপুরের শতানন্দ শর্মা (৭০) বলেন, এক বছর ধরে হাত ও মুখের একপাশ অবশ। ৭/৮শ’ টাকা দরে তিন ধরনের তেল দেন। দিনে ৪/৫ বার মালিশ করতে হয়। এখনও তেমন কোন পরিবর্তন হচ্ছে না। সিলেট কানাইঘাটের আহসান হাবিব বলেন, এক গাড়ি চালকের কাছে খবর পেয়ে এখানে এসেছি। এখন একটু ভাল। সুলতানপুরের আবদুর রউফ (৪৮) বলেন, হঠাৎ শরীরের বাম পাশ অবশ হয়ে যায়। এরপর এখানে আসি। এখন কিছুটা আরাম মনে হচ্ছে। সরাইল ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মৃধা আহমাদুল কামাল বলেন, অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে টিনশেড ঘরে এমন জটিল রোগের চিকিৎসা চলতে পারে না। সনদ ও প্রশিক্ষণবিহীন লোকের চিকিৎসা ব্যবস্থায় কোন দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায়-দায়িত্ব কে নিবে? আলহাজ্ব মৌঃ সৈয়দ আলী আল-কাদরী কবিরাজ রোগী ভর্তির সময় ২-৩ হাজার টাকা নেয়া ও তেল পড়া) বিক্রির কথা স্বীকার করে বলেন, রোগের ধরন বুঝে ভর্তি ফি নেয়া হয়। সব রোগীর ওষুধ লাগে না। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু সালেহ মো. মুসা খান বলেন, এটা কোন চিকিৎসা নয়। মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ঠকানো হচ্ছে। অবৈজ্ঞানিক পন্থায় অনৈতিক ব্যবসার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে শোষণ করা হচ্ছে। সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমরান হোসেন বলেন, বিটঘর গ্রামের কথিত কবিরাজের আদিম পদ্ধতিতে টিনশেড ঘরকে হাসপাতাল বানিয়ে চিকিৎসার বিষয়টি প্রচলিত আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Thursday, January 22, 2015

স্ত্রীর পরকীয়ায় প্রাণ গেল আকরামের

স্ত্রীর পরকীয়ায় অকালে জীবন গেল পুলিশের এসআই আকরাম হোসেনের। আকরাম ঝিনাইদহ শহরতলি হামদহ এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। গত বছরের ২৮শে ডিসেম্বর পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার স্ত্রী ও স্ত্রীর প্রেমিক মুন ষড়যন্ত্র করে আকরামকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়। পরে আহত অবস্থায় চলতি বছরের ১৩ই জানুয়ারি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান আকরাম। এ ঘটনায় আকরামের বোন জান্নাত আরা পারভীন রিনি বাদী হয়ে ঝিনাইদহ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৪ জনকে আসামি করে ২০শে জানুয়ারি একটি মামলা করেন। আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ভগবাননগর গ্রামে বশির উদ্দিনের মেয়ে বনানী বিনতে বশিরের সঙ্গে ২০০৬ সালের ১৩ই জানুয়ারি বিয়ে হয় পুলিশ অফিসার আকরামের। বিয়ের ২ বছর পর বনানীর কোলজুড়ে আসে একটি কন্যাসন্তান। এর পর থেকে আকরাম চাকরির সুবাদে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করেন। সন্তান হওয়ার পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তাদের দূরত্ব তৈরি হয়। একপর্যায়ে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দিনের বেশির ভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকায় স্ত্রী বনানী খাতুন নিকট আত্মীয় সাদিমুল হক মুনের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে চাপের মুখে পড়ে স্ত্রী বনানী। গোপনে মোবাইলে কথা বলা, স্বামীর অবর্তমানে লুকিয়ে প্রেমিক মুনের সঙ্গে দেখা করতো বনানী। এরই একপর্যায়ে বনানী আকরামকে অবহেলা ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে। বনানীর পরিবারও এ পরকীয়ায় সহযোগিতা করে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু আকরাম একমাত্র শিশুকন্যা আফরিনের কথা চিন্তা করে নীরবে সব সহ্য করতে থাকে। সংসারে অশান্তি শুরু হলে এসআই আকরাম স্ত্রীকে খুশি করতে ঢাকার মগবাজারে একটি বাড়ি কিনে দেন এবং বিমানবন্দরের এসবি শাখায় চাকরির সুবাদে সেখানে বসবাস করেন। পরে ২০১৪ সালের ২৮শে ডিসেম্বর রাত ১১টায় মোটরসাইকেলযোগে যমুনা সেতু হয়ে বাড়ি ফেরার পথে শৈলকুপার বড়দাহ নামক স্থানে পৌঁছলে স্ত্রী বনানী বিনতে বশির ও তার প্রেমিক মুন ষড়যন্ত্র করে লোকজন নিয়ে তাকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে সড়ক দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয়রা তাকে মারাত্মক যখম অবস্থায় উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ই জানুয়ারি আকরাম হোসেন মারা গেলে স্ত্রী বনানী ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বামীর লাশ এলাকায় নিয়ে আসে এবং দাফনের চেষ্টা করে। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে ঝিনাইদহ ও ঢাকার চিকিৎসরা জানিয়েছেন। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্ত্রী বনানী লাশ ফেলে রেখে কন্যাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আকরামের বোন বাদী হয়ে মামলা করেন। আসামিরা পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানার কাছারিপাড়া জামতলার এনামুল হকের ছেলে সাদিমুল হক মুন, স্ত্রী বনানী বিনতে বশির, বনানীর বাবা বশির উদ্দিন বাদশা ও মাতা সেলিনা খাতুন। স্ত্রীর পরকীয়ায় একজন সৎ, যোগ্য ও নিষ্ঠাবান পুলিশ অফিসারের এমন করুণ মৃত্যুতে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে নিহতের পরিবার। এ ব্যাপারে নিহত পুলিশ অফিসার আকরামের স্ত্রী বনানী বিনতে বশিরের সঙ্গে তার মুঠোফোনে (০১৭৩৭-৯১৭২০৮, ০১৯৮৬-০৬৪৩৭৪) যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

Tuesday, January 20, 2015

অপরাধের স্বর্গরাজ্য by আলাউদ্দিন কবির

কুলাউড়া রেলওয়ে জংশনের পরিত্যক্ত কোয়ার্টারগুলোতে অপরাধীদের আনাগোনা বেড়েছে। দেখভাল না থাকার কারণে ওই কোয়ার্টারগুলোতে সংঘটিত হচ্ছে নানা অপকর্ম। আর এসব পরিত্যক্ত কোয়ার্টার বহিরাগতরা দখলে নিয়ে অপকর্ম পরিচালনা করছে। রেলওয়ে থানা, কুলাউড়া থানা এবং উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি অবগত হলেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়ার রেলস্টেশনের বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে আবাসিক এলাকা। এখানে রেলওয়ে স্টাফ কোয়ার্টার ১৫০টি। এর মধ্যে ৬০টি বেদখল হয়ে গেছে। এছাড়া পরিত্যক্ত ঘোষিত আরও শতাধিক বাসা দখলে নিয়েছে বহিরাগতরা। বেদখল হওয়া বাসাগুলোয় অবৈধ বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ রয়েছে। স্থানীয় ও রেলওয়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহযোগিতায় এলাকার ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ভাসমান লোকদের কাছে এগুলো দেয়া হয়েছে ভাড়া। ভাড়ার মোটা অঙ্ক যায় রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার পকেটে। এসব বাসায় চলে মদ, গাঁজা, হেরোইন ও ফেন্সিডিলসহ নানান মাদক ব্যবসা। সন্ধ্যার পর বসে জুয়া, অসামাজিক ও অনৈতিক কার্যকলাপ। কোয়ার্টারগুলোতে এসব অসামাজিক কার্যকলাপের কারণে বিপথগামী হচ্ছে এলাকার শিক্ষার্থীসহ যুবসমাজ। এ কারণে স্থানীয় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। স্টেশনের উত্তর ও দক্ষিণ কলোনি এলাকায় সন্ধ্যা নামলে মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে না। মানুষের কাছে রেলওয়ে কলোনি এক বিপজ্জনক এলাকা হিসেবে পরিচিত। গত ১০ জানুয়ারি রেলওয়ের দক্ষিণ কলোনির বাসিন্দারা ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পূর্ত) বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। স্থানীয়দের মতে, ওই কলোনির পরিত্যক্ত ঘরে কমপক্ষে ২০ বছর থেকে বসবাস করছে রোকেয়া নামের এক মহিলা। স্থানীয়রা ওই বাসাকে একটি পতিতালয় বলে জানান। এছাড়া জুয়ার আসরের সর্দার লিয়াকত। একাধিক বাসায় মাদক সেবন ও বিক্রি চলে প্রকাশ্যে। স্থানীয় ও রেলওয়ে প্রশাসনের বিষয়টি জানা থাকলেও রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে। তারা বেদখল হওয়া বাসাগুলো পুনরুদ্ধারে কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না। রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা বন্দোবস্ত এনে শর্ত ভঙ্গ করে পাকা দালান নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযান করতে চাইলেও নানা কারণে তা ব্যর্থ হচ্ছে। কুলাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, রেলওয়ে কলোনির অসামাজিক কার্যকলাপ বা আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি দেখবে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। তারা যদি কোন সহযোগিতা চায় তবে আমরা সহযোগিতা করবো। এ ব্যাপারে রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী পিযূষ কান্তি ভট্টাচার্য জানান, বেশির ভাগ কোয়ার্টার নষ্ট হওয়ার কারণে রেলওয়ের কোন কর্মকর্তা কর্মচারী এখানে থাকে না। আর এ কারণেই বাইরের লোকেরা এসব কোয়ার্টার দখল করে বসবাস করছে। বেদখল হওয়া বাসাগুলোর মানুষের কার্যকলাপ আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টি দেখে রেলওয়ের সিলেট অফিস থেকে। বাসা ভাড়া আত্মসাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, লোকেরা অনেক কিছু বলতে পারে, এটা তাদের স্বাধীনতা। বাসা ভাড়া আত্মসাৎ করার প্রশ্নই আসে না। গত ডিসেম্বর মাসে রেলওয়ের এস্টেট ডিপার্টমেন্ট অবৈধ বাসা ও জায়গা জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযানের পরিকল্পনা করে। কিন্তু শেষতক অর্থাভাবের কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়।

Sunday, January 18, 2015

কন্যাকে মাটিতে পুঁতে জীবন্ত হত্যার চেষ্টা

মেয়ে হয়ে জন্ম নেয়ায় ভারতে জীবন্ত মাটিতে পুঁতে একটি ১০ বছর বয়সী কন্যাকে হত্যার চেষ্টা করেছে তারই পিতা। তবে এলাকাবাসী দেখে ফেলায় এ যাত্রায় সে রক্ষা পেয়েছে। ওই শিশুকন্যাটির পিতা আবদুল হোসেনকে পুলিশ আটক করেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন মিরর। এতে বলা হয়েছে, ভারতের ত্রিপুরায় এ ঘটনার খবরে পুলিশ বিস্মিত। খবরে বলা হয়েছে, আবদুল হোসেনের স্ত্রী যখন বাসার বাইরে ছিলেন, তখন সে বাড়ির পেছন দিকে একটি গর্ত খোঁড়ে। তারপর নিজের মেয়ের দু’হাত পিঠমোড়া করে বাঁধে। মুখে আঁটকে দেয় টেপ, যাতে সে চিৎকার করতে বা কথা বলতে না পারে। এ অবস্থায় কন্যাকে গায়ের জোরে নামিয়ে দেয় মাটির বুকসমান গর্তে। তারপর চারদিক থেকে মাটি দিয়ে ঢেকে দেয় তার বুক পর্যন্ত। মাটির ওপর শুধু তার দুটি হাত, মাথা আর মুখ দেখা যায়। এ ছাড়া পুরো শরীর মাটির ভেতর পোঁতা। একপর্যায়ে আবদুল হোসেনের স্ত্রী বাড়ি ফিরে সেও একই মনোভাব নিয়ে বাঁশের তৈরি একটি ঝুড়ি দিয়ে কন্যার মাথা ঢেকে দেয়, যাতে বাইরের কেউ জানতে না পারে। কিন্তু এলাকাবাসীর সন্দেহ হয় তার আচরণে।
কারণ, সে প্রতিবেশীদের জিজ্ঞেস করতে থাকে তার মেয়ে কোথায়। লোকজন শিশুটিকে খোঁজা শুরু করে। একসময় তাদের চোখে পড়ে শিশুটি। তারা এ দৃশ্য দেখে আবদুল হোসেনকে আটক করে প্রহার করে। তারপর পুলিশে ফোন করে। পুলিশ গিয়ে আটক করে তাদের। এখন তারা হত্যাচেষ্টার মামলার আসামি। আবদুল হোসেন এখনও ত্রিপুরা পুলিশের হাতে রয়েছে।

নারী কর্মকর্তার প্রবঞ্চনার ফাঁদে বাংলাদেশী অভিবাসী

ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক বৃটিশ নারী কর্মকর্তার খপ্পরে পড়ে অর্থের জলাঞ্জলি দিয়েছেন বাংলাদেশ সহ একাধিক দেশের অভিবাসী। অঞ্জলি পাটেল (৩১) নামের ওই নারী জুয়ার ঋণ পরিশোধ করার জন্য অসহায় অভিবাসীদের প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার পথ বেছে নেন। এতে তাকে সহায়তা করেছে তার বয়ফ্রেন্ড আবদুল ফারুক (২৮)। জুয়ার ঋণ শোধ করতে অসহায় অভিবাসীদের প্রবঞ্চনা করেছেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন উভয়েই। সম্প্রতি তারা দক্ষিণ লন্ডনে ক্রয়ডন শহরের একটি আদালতে এ স্বীকারোক্তি দেন। এ খবর দিয়েছে লন্ডন ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড। অঞ্জলি পাটেলের প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়েছেন বাংলাদেশ ছাড়াও কলম্বিয়া ও পাকিস্তানের অভিবাসীরা। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দেশে ফেরত পাঠানো ঠেকাতে অঞ্জলি তাদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। বয়ফ্রেন্ড ফারুকের কাছে পাঠিয়ে অর্থ জমা করিয়েছেন। আইন বিষয়ের ছাত্র ফারুকের কাছে অবৈধভাবে অতি গোপনীয় সরকারি তথ্য সরবরাহ করে অভিবাসীদের মিথ্যা প্রমাণ করেছেন যে তার বয়ফ্রেন্ড সত্যিকারের যোগ্য উকিল। আইনজীবী হওয়া তো দূরের কথা, আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ হয় নি ফারুকের। অঞ্জলি কেস রেজুলেশন ডিরেক্টরেটের একজন নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ক্রয়ডন ক্রাউন আদালতের শুনানিতে বলা হয়, তদন্তকারী কর্মকর্তারা অঞ্জলির ফোনে একটি ছবি খুঁজে পেয়েছেন যা থেকে প্রমাণ মেলে অবৈধভাবে অভিবাসন তথ্য ফারুককে দিয়েছেন তিনি। সেই সব তথ্যের সাহায্যে অভিবাসীদের সামনে নিজেকে পুরোদস্তুর আইনজীবী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন ফারুক। প্রসিকিউটর ক্যারেন রবিনসন বলেন, অঞ্জলি এবং ফারুক এ জালিয়াতি করেছে ২০১০ ও ২০১১ সালে যখন তাকে প্যারোল বোর্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরবর্তীতে সেখানেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীরা আরও প্রমাণ পান, অঞ্জলির কাঁধে ছিল বড় অঙ্কের জুয়ার ঋণ। বিভিন্ন ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি অর্থ ধার নিয়েছিলেন। ফারুক সে সময় ব্রুনেল ইউনিভার্সিটিতে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করছিলেন। তার কোন উপার্জন ছিল না। তা সত্ত্বেও হাজার হাজার পাউন্ড তার পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে বিভিন্ন সময়। এছাড়া, জুয়া খেলে সে হেরেছে ১২ হাজার পাউন্ড। মিস রবিনসন বলেন, ল’ ডিগ্রি না থাকলেও সে নিজেকে আইনজীবী হিসেবে উপস্থাপন করেছে বা অভিবাসন সংক্রান্ত উপদেশ দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, অসহায় অভিবাসীদের বৃটেনে থাকতে সহায়তা করবেন এ আশ্বাস দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। এদিকে অঞ্জলি তাকে সহায়তা করেছে অন্যায়ভাবে অভিবাসী সংক্রান্ত অতি গোপনীয় সরকারি তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করে। ফারুককে পরামর্শ দিয়েছে নিয়মিত। বাংলাদেশী মামুনুর রহমান ফারুককে ১২৯৫০ পাউন্ড নগদ দিয়েছে। পাঁচ বছরের ওয়ার্ক ভিসা পাইয়ে দেয়ার মিথ্যা আশ্বাস দেখিয়ে এ পরিমাণ অর্থ নেয় সে। এদিকে মামুনুর স্বপ্ন দেখতে থাকে ওয়ার্ক ভিসা হয়ে গেলে স্ত্রী সন্তানের স্থায়ী আবাসের আবেদন করতে পারবে বৃটিশ সরকারের কাছে। তাদের মধ্যে বৈঠকটি হয় ক্রয়ডন হোটেলে। আর ফারুক বরাবরই নগদ অর্থ প্রদানে জোর দিতো। সে মোতাবেক অর্থও দিয়েছে মামুনুর। কিন্তু ভিসার স্বপ্ন আর কখনও বাস্তবায়ন হয় নি তার। একই পরিণতি হয় কলম্বিয়া থেকে আসা আশ্রয়প্রার্থী মারিয়া গার্সিয়া জুনিগা। সে ফারুককে দিয়েছে নগদ ২ হাজার পাউন্ড। সে মারিয়াকে বলেছিল, সেই তার আইনজীবী আর তার অভিবাসন সংক্রান্ত সমস্যার জন্য তাকে অন্যত্র যেতে হবে না। পরবর্তীতে যখন ভিসার মুখ দেখেননি তখন ফারুকের কথা পুলিশকে জানায় মারিয়া। সরকারি কার্যালয়ে কর্মরত থাকাকালীন দু’ দফা দুর্নীতির কথা স্বীকার করে অঞ্জলি। একই দুই অভিযোগ স্বীকার করেছে ফারুক। এছাড়া ৪৮৮৫০ পাউন্ড ও ২৪৩৩০ পাউন্ড মূল্যের সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ ছেড়ে দেয় প্রসিকিউশন। তাদের বিরুদ্ধে আদালত রায় ঘোষণা করবে ২০শে ফেব্রুয়ারি।