Tuesday, November 12, 2024

গাজায় সম্মুখযুদ্ধে ইসরায়েলের আরও ৪ সেনা নিহত

ফিলিস্তিনের গাজায় স্বাধীনতাকামীদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে ইসরায়েলের আরও ৪ সেনা নিহত হয়েছেন। সোমবারের (১১ নভেম্বর) লড়াইয়ে তারা নিহত হন।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে নিহতের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে এখনও সংঘাতের ঘটনা বিস্তারিত জানায়নি। খবর দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের।

আইডিএফ জানায়, উত্তর গাজা উপত্যকায় লড়াইয়ের সময় চার সেনা নিহত হয়েছেন। তারা হলেন, স্টাফ সার্জেন্ট ওর কার্টজ (২০), স্টাফ সার্জেন্ট নেভ ইয়ার আসুলিন (২১), স্টাফ সার্জেন্ট গ্যারি লালরুয়াকিমা জোলাট (২১) ও স্টাফ সার্জেন্ট ওফির ইলিয়াহু (২০)।

সৈন্যরা সবাই কেফির ব্রিগেডের শিমশন ব্যাটালিয়নের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। তাদের মৃত্যুতে গাজা উপত্যকায় হামাসের বিরুদ্ধে স্থল আক্রমণ এবং সীমান্তে অভিযানের সময় ইসরায়েলি সেনা নিহতের সংখ্যা ৩৭৫ জনে দাঁড়াল। তবে আইডিএফের এ হিসাব অনেকেই মানতে নারাজ। বিভিন্ন সংগঠন ইসরায়েলি সেনা নিহতের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশিত সংখ্যার কয়েক গুণ বলে দাবি করেছে।

এদিকে একই দিন গাজায় এক রিজার্ভ অফিসার নিহত হয়েছেন। নিহত ওই সেনার নাম মেজর ইতমার লেভিন ফ্রিডম্যান। তিনি উত্তর গাজায় অভিযানকালে নিহত হয়েছিলেন। রিজার্ভ ফোর্সের এ সেনা স্কুলশিক্ষক ছিলেন। তিনি লোটার এলিট ইউনিটের সদস্য ছিলেন। ইউনিটটি সন্ত্রাসী হামলা থেকে রেড সি রিসোর্ট শহর রক্ষা করার জন্য দায়িত্ব পালন করে আসছে।

আইডএফ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাগুলোতে ইসরায়েল এ এলাকায় অভিযান জোরদার করেছে। সেখানে প্রায় সম্মুখযুদ্ধ হচ্ছে। এমন এক যুদ্ধে ট্যাংকবিরোধী হামলায় জাবালিয়ায় তিনি আঘাত পেয়েছিলেন। 

গাজায় সংঘাতে নিহত আরও ৪ ইসরায়েলি সেনা, সামরিক মৃত্যুর সংখ্যা ৩৭৫ ছাড়াল
ইসরায়েলের নিহত চার সেনা। ছবি : সংগৃহীত

যুবককে ভেতরে রেখেই সিলগালা করা হয় গুহাটি

পৃথিবীটা যেন আটকে আছে অপার কিছু বিস্ময়ের ভারে। অনেক সময় যার কূল-কিনারা মেলে না। এই পৃথিবীতে লুকিয়ে থাকা এক অপার রহস্যময় গুহা, নাটি পার্টি। যার ভেতরের জটিল গোলকধাঁধায় আটকে মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের কাছে তাই এটি যেন এখন এক আতঙ্কের নাম।

বলা হয় এই গুহার ভেতরে লুকিয়ে আছে এক অজানা রহস্য। তাই এর নামও দেওয়া হয়েছে ‘অদ্ভুত রহস্যের গুহা’। এর জালে একবার ফেঁসে গেলে আর রক্ষা নেই। এই গুহা নিয়ে সবার কৌতূহলের মাত্রা দিনদিন বেড়েই চলেছে।

জানা যায়, ভয়ংকর এই গুহাটির অবস্থান আমেরিকার উটাহ অঞ্চলের এক রুক্ষ ভূমিতে। গুহাটির আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বলা হয়ে থাকে এর ভিতরের হাইড্রো থার্মাল প্যাসেজ। এ ছাড়া সরু গলির মতো অসংখ্য রাস্তা তো আছেই।

এক সময় অনেক কৌতূহলীরাই এখানে আসতেন তাদের কৌতূহল মেটানোর আশায়। দুঃসাহসিক অভিযানে বেরিয়ে অনেক গবেষকই এই গুহার রহস্যের কূল-কিনারা না পেয়ে আর বের হতে পারেননি এর রহস্য থেকে।

২০০৯ সালে গুহায় ঢুকে প্রাণ হারান বছর ২৬ বছরের জন এডওয়ার্ড জোনস। মেরিকার উদ্ধারকারী দলগুলির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নাটি পাটিতে আটকে পড়ার পর ২৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন জোনস। তাকে বের করে আনার যাবতীয় চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু গুহার মধ্যে একটা লম্বা গর্তের মতো জায়গায় আটকে যান তিনি। ফলে একটা সময়ে শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় তার।

গুহার ভেতরে ছিল অস্বাভাবিক সরু পথ। এই পথ দিয়ে হাঁটা একজন মানুষের জন্য বেশ জটিল। আর তাই জোনসকে চলতে হয়েছে হামাগুঁড়ি দিয়ে। কিন্তু সে জানতো না, সামনে তার জন্য অপেক্ষা করছে এক ভয়ংকর পরিণতি। এক লম্বা গর্তের অবস্থান ছিল সেখানে। সেটা খেয়াল না করার কারণেই দুর্ভাগ্যবশত পিছলে পড়ে শরীরের একটা অংশ সেখানেই ঢুকে যায়। ফলে আটকে পড়েন তিনি।

নাটি পার্টি গুহা থেকে আর বের করা সম্ভব হয়নি জোনসকে। পরে বাধ্য হয়ে অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী এই যুবকের মরদেহ ভেতরে রেখেই গুহার মুখ সিলগালা করা হয়।

নাটি পার্টি গুহায় আটকে প্রাণ হারান ২৬ বছর বয়সী জন এডওয়ার্ড জোনস। ছবি : সংগৃহীত
নাটি পার্টি গুহায় আটকে প্রাণ হারান ২৬ বছর বয়সী জন এডওয়ার্ড জোনস। ছবি : সংগৃহীত



অন্তর্বর্তী সরকার শুধু ঢাকায় বসে আছে, মাঠে নেই

অন্তর্বর্তী সরকার ঢাকায় বসে আছে উল্লেখ করে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, সরকারকে মাঠে যেতে দেখলাম না। মাঠে যাওয়া দরকার। গতকাল রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত ‘তৃতীয় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৪’-শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, দৃশ্যমান দুর্নীতি কমেছে, তবে কাজের গতি কমে গেছে। হয়রানি দুর্নীতির চেয়ে ভয়াবহ। উপদেশ দিয়ে ঠিক করা যাবে না। সেটা কার্যকর করে দেখাতে হবে। তিনি বলেন, বৈষম্য বহুমাত্রিক। গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ একটি অধ্যায়ের মধ্যদিয়ে গেছে। যেখানে শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনীতি থেকেও প্রতিযোগিতা হারিয়ে গেছে। তিনি বলেন, চারটি বিষয়ে নজর দিতে হবে। সেগুলো হলো-সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য, বিনিয়োগবান্ধব, সামপ্রতিক আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসহ সবার কর্মসংস্থান ও মুদ্রাস্ফীতি কমানো। বর্তমান সরকার সেই চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বিনিয়োগকারীদের কথা শোনাটা খুব জরুরি। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার ওটাকে গুরুত্ব দেয়নি। উনাদের শোনার আগ্রহ দেখা যায়নি। শোনার মাধ্যমেই তো উদ্যোক্তারা তথা ব্যবসায়ীরা আগ্রহ দেখাবে। কারণ তারাই তো বিনিয়োগ করবে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ঢাকায় বসে আছে, ঘরে বসে আছে। মাঠে যেতে দেখলাম না। মাঠে তাদের পদচারণা কেন নাই? মাঠে যাওয়া খুব দরকার। সদিচ্ছার ঘাটতি নিয়ে বলছি না, কিন্তু কার্যক্রম নিয়ে বলছি। তিনি বলেন, দৈনন্দিন জীবনে বাজার নিয়ন্ত্রণের জায়গায় মনিটরিং কমে গেছে। মনিটরিং মানে সাজা দেয়া নয়। মনিটরিং মানে আগাম তথ্য ও ব্যবস্থা নেয়া, সমস্যা চিহ্নিত করা। সেটা দেখা যায় না।

অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ছাত্র-জনতার দেয়া দায়িত্ব আমরা যথাসম্ভব পালন করার চেষ্টা করছি। আমাদের কোনো ব্যক্তিগত এজেন্ডা নেই। আমাদের এজেন্ডা হচ্ছে দেশের স্বার্থ। যা করা হচ্ছে তা দেশের স্বার্থেই করা হচ্ছে। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমরা কাজগুলোকে ৩টি ধাপে ভাগ করেছি। স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি কাজ। আমরা হয়তো মধ্যমেয়াদি কাজ শুরু করতে পারবো। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি কাজগুলো পরবর্তী রাজনৈতিক সরকার যারা আসবেন তারা করবেন। তবে আমরা কিছু কিছু দীর্ঘমেয়াদি কাজও করার চেষ্টা করবো। গরিব মানুষজন সুযোগের বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রামের অনেক মানুষই জানেন না সরকারি সুযোগগুলো কোথায় পাওয়া যাবে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রেও বৈষম্য হচ্ছে। গরিব মানুষকে শুধুমাত্র ভিটামিন এ ক্যাপসুল আর কলেরার টিকা দিলেই হয় না। তারও মরণব্যাধি হয়। কিন্তু তার জটিল রোগের চিকিৎসা কোথায় করাবে সেটি নির্দিষ্ট নয়। তাকে ঘটিবাটি বিক্রি করে ঢাকা আসতে হচ্ছে। আবার শিক্ষা খাতেও অনেক সময় তারা গুণগত শিক্ষা পান না। উপদেষ্টা বলেন, যোগ্য পরিচালকের অভাবে বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে গেছে। কারণ, সেগুলো চালাতে সময়মতো ভালো লোক দেয়া হয়নি। আবার তারা প্রফেশনাল জায়গাগুলোতে নন প্রফেশনাল কন্সিডারেশনও হয়েছে। এ ছাড়া আমাদের সিস্টেমগুলোও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় অটোমেশন হয়নি। স্মার্ট বাংলাদেশ, ডিজিটাল বলা হলেও বাস্তবে এতটা নয়। সেজন্য এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেন, ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা নিয়ে আসার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে যে লিভারগুলো ব্যবহার করা হয়েছে চাহিদা ও জোগানের মাঝে তা প্রশংসার যোগ্য। আমার ধারণা মূল্যস্ফীতির ব্যাপারটাতেও আমাদের একই ধরনের লিভার ব্যবহার করতে হবে। এ লিভারগুলো চিহ্নিত করতে হবে। হোসেন জিল্লুর রহমান যেভাবে দেশ জুড়ে ঘুরে ঘুরে মানুষের সঙ্গে সংযোগ রাখতে বললেন, সেভাবে মানুষের সঙ্গে মিশে লিভারগুলোকে চিহ্নিত করে সক্রিয় করতে হবে যেন বাজারে জোগান সংক্রান্ত যে মূল্যস্ফীতি রয়েছে তা মোকাবিলা করা সম্ভব হয়। তিনি বলেন, আমদানি দিয়ে হোক বা স্থানীয় উৎপাদন বা বাজারের সময়কাল ইত্যাদি আরও যা যা নিয়ামক আছে এ নিয়ামকগুলোকে যদি আমরা সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারি ইনশাআল্লাহ আমরা একটি পরিবর্তন দেখতে পাবো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, আমরা শ্রীলঙ্কা হয়ে যাইনি। আমাদের গ্রোথ (অগ্রগতি) কমেনি। যেকোনো পলিসি ইমপ্লিমেন্ট (প্রয়োগ) করলেও মূল্যস্ফীতি এক বছরের আগে কোনো দেশেই কমে না। মাত্র ৪ মাস সময় পার করছি। আমাকে আরও ৮ মাস সময় দিতে হবে। আমরা শুধু মুদ্রানীতির উপর নির্ভর করছি না। সব প্রয়োজনীয় পণ্যের এলসি খোলা রয়েছে। প্রয়োজন অনুসারে, শুল্ক শিথিল করা হয়েছে। ব্যাংক নিয়ে তিনি বলেন, বিগত সময়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আমাদের ব্যাংক খাত। এখন যদি দ্রুত সংস্কার বা সমাধান চাওয়া হয় আমার চাকরি ছেড়ে দিতে হবে। কারণ, এক ব্যাংকের ২৭ হাজার কোটি টাকার অ্যাসেট এক পরিবারের হাতে ছিল। তারা ২৩ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে। আমার হাতে ম্যাজিক নেই। তবে আমি বলতে পারি, কোনো ব্যাংক বন্ধ হবে না। কারণ তাদের তারল্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। অর্থ পাচার নিয়ে তিনি বলেন, দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে দেশ থেকে কয়েক লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। এটা ফিরে পাওয়া কঠিন। তবে আমাদের জাল ফেলা হয়েছে। এখন গোটানো বাকি। এরইমধ্যে আমরা দেশ ও দেশের বাইরেও যোগাযোগ করেছি। আমাদের সহযোগিতার জন্য চলতি সপ্তাহে আমেরিকার প্রতিনিধি আসছে, যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধি আসবে, বিশ্বব্যাংক আসবে এবং সিঙ্গাপুরের সঙ্গেও কথা হবে। আমরা চাই না কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা শিল্প বন্ধ হয়ে যাক। কারণ, সেখানে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। আবার কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হিসাবও জব্দ করা হয়নি, হবেও না। গভর্নর বলেন, গত ৩ মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ছাপিয়ে কোনো নগদ সহায়তা দেয়া হয়নি। কারণ ম্যাক্রো ইকোনমি স্ট্যাবল রাখতে হবে। এটা স্ট্যাবল না হলে কোনো বিনিয়োগ হবে না। এজন্য ব্যবসায়ীদের ধৈর্য ধরতে হবে। আমাদের উদ্দেশ্য যারা ব্যাংকের টাকা মেরেছে তারা ব্যাংকের সঙ্গে থেকে টাকা ফেরত দেয়। বাইরে যে টাকা চলে গেছে সেসব কীভাবে আইনগত প্রক্রিয়ায় ফেরত আনা যায় সেই চেষ্টা চলছে।  তিনি আরও বলেন, ফরেন এক্সচেঞ্জ শর্টেজ এখন নেই। আমি মনে করি, সাপ্লাই সাইডে যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ব্যাংক রেজুলেশন অ্যাক্ট নিয়ে আসতে চাইছি। ব্যাংকিং খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে যে বিনিয়োগ হওয়া উচিত, তা না হওয়ায় বর্তমানে বাংলাদেশের আউট অফ পকেট এক্সপেন্ডিচার আফগানিস্তানের চেয়েও বেশি। এই বিপুল পরিমাণ টাকা মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগ হচ্ছে, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর। আমীর খসরু আরও বলেন, অর্থনীতি ডেমোক্রেটাইজেশন করতে হবে। না হলে সাধারণ মানুষকে মূল্যস্ফীতির কারণে ক্রয়ক্ষমতার ঘাটতির মধ্যে পড়তে হবে। তিনি বলেন, সরকারের বাজেটের রিসোর্স অ্যালোকেশন ভুল হচ্ছে এবং ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড পেতে হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্ব দিতে হবে। এ সময় রাজনৈতিক জবাবদিহিতার অভাবও তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা থাকতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে বিনিয়োগ করতে চান। কারণ তারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য এক ধরনের স্থিতিশীল পরিবেশ আশা করেন।

এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি এবং বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, দেশে বেসরকারি খাতে সংকোচিত মুদ্রানীতি নেয়া হয়, কিন্তু সরকারি খাতে খরচের সময় সমপ্রসারিত নীতি চলেছে। এ বৈষম্যের কারণে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এ সংকোচিত মুদ্রানীতি বেসরকারি খাতকে গলা টিপে ধরছে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। বিএনপি’র এ ভাইস চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমাদের সমাজে অনেক বৈষম্য। যা কমাতে সম্পদ সৃষ্টি করতে হবে। কিন্তু যারা বা যে ব্যবসায়ীরা দেশের সম্পদ সৃষ্টি করে, সেটা বিলি বণ্টনের ক্ষমতা তাদের নেই। আবার এক শ্রেণি এটা বিলি বণ্টন করছেন, তারা আবার সেটা লুণ্ঠন করছে। সম্পদ সৃষ্টিকারী ও লুণ্ঠনকারী দু’টি দল হয়েছে। আবার যারা লুণ্ঠন করে তারা সব সময় ব্যবসায়ীদের দোষারোপ করে যায়। এটা ঠিক নয়। এগুলো ঠিক করতে আমাদের সামাজিক মূলধন দরকার। আইনের সঠিক প্রয়োগ দরকার। এ সমাজে কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না। একে অপরকে শত্রু মনে করে। এ দেশে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা অর্থনীতি নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের বিরোধী মনে করে। আবার অর্থনীতির লোকগুলোও সেটা করে। কিন্তু দেশের অর্থনীতি ভালো করতে হলে ভালো রাজনীতির বিকল্প নেই। সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক সরকার ছাড়া কোনোভাবে ভালো অর্থনীতি সম্ভব না।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান ও আইআরডি সচিব মো. আবদুর রহমান খান বলেন, পলিসি তৈরিতে এনবিআর জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়। এ কারণে গত তিন মাসে নিত্যপণ্যের কর ও শুল্কে অনেক ছাড় দেয়া হয়েছে। কোনো পলিসির কারণে এনবিআরের স্বার্থ (রাজস্ব সংগ্রহ) ক্ষুণ্ন হলেও রাষ্ট্রীয় স্বার্থকেই আমরা প্রাধান্য দেই। তবে দেশের মানুষের মধ্যে এখনো মিথ্যা হলফনামা তৈরির প্রবণতা রয়েছে। এটি দূর করতে হবে। এটি অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। 

mzamin

সিলেটে মুনতাহা খুন: মার্জিয়ার উচ্ছৃঙ্খল জীবন নিয়ে রহস্য by ওয়েছ খছরু ও মুফিজুর রহমান

সিলেটের কানাইঘাটে শিশু মুনতাহা খুনের ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন হয়েও হলো না। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মুনতাহাকে গলায় রশি পেঁচিয়ে লাশ পুঁতে রাখার কথা স্বীকার করলেও কেন এই হত্যাকাণ্ড সেটি নিয়ে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে গ্রেপ্তারকৃত মার্জিয়া সহ অপর তিন আসামি। এ কারণে পুলিশ ধারণা করছে; হত্যাকাণ্ডের গভীরে কোনো রহস্য লুকিয়ে রয়েছে। এ কারণে গতকাল দুপুরের পর এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আলিফজান বিবি, তার মেয়ে শামীমা বেগম মার্জিয়া, প্রতিবেশী ইসলাম উদ্দিন ও নাজমা বেগমকে সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. আবু জাহের বাদলের আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কানাইঘাট থানার এসআই শামসুল আরেফিন। আদালত শুনানি শেষে তাদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গতকাল বিকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মানবজমিনকে জানিয়েছেন- হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত বক্তব্য আসামিদের মুখ থেকে  মেলেনি। এ কারণে এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে। তিনি জানান-হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে  গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের বাইরে আরও কেউ সম্পৃক্ত রয়েছে কিনা- সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে সব তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে, এই ধারণা থেকে তাদের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করেন। কানাইঘাটের বীরদল গ্রামের শামীম আহমদের ৬ বছরের শিশুকন্যা মুনতাহা আক্তার জেরিন। ৩রা নভেম্বর বাড়ির উঠোনে শিশুদের সঙ্গে খেলা করছিল। এ সময় হঠাৎ করে সে নিখোঁজ হয়ে যায়। কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে। এই অবস্থায় গত শনিবার রাতে পুলিশ সন্দেহজনক হিসেবে একই বাড়ির পার্শ্ববর্তী ঘরের বাসিন্দা মার্জিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে নিয়ে যায়। এতে ভড়কে যান মার্জিয়ার মা আলিফজান বিবি। তিনি রোববার ভোররাতে সবার অগোচরে খালে পুঁতে রাখা মুনতাহার লাশটি সরাতে গেলে জনতার হাতে ধরা পড়েন। পুলিশ গিয়ে আলিফজানকে আটক করে। ৭ দিন মাটির নিচে থাকা শিশুটির লাশ অর্ধগলিত হয়ে গিয়েছিল। ঘটনার দিন গ্রেপ্তার হওয়া আলিফজান ও তার মেয়ে মার্জিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সিলেটের এডিশনাল এসপি (ক্রাইম) মো. রফিকুল ইসলাম  গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন; নিখোঁজ হওয়ার দিনই মুনতাহাকে ঘরের ভেতরে নিয়ে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে খুন করা হয়। এরপর লাশ পুঁতে রাখা হয় ঘরের পাশের খালে। সেখান থেকে লাশ সরানোর সময় মার্জিয়ার মা আলিফজানকে আটক করা হয়। বিকালে মার্জিয়ার স্বীকারোক্তি মতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত একই গ্রামের ইসলাম উদ্দিন ও নাজমা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল আদালতে আসামিদের জামিন মঞ্জুরের পর কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. জামসেদ আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- লাশ সরানোর সময় হাতেনাতে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গুম হওয়া লাশ এক স্থান থেকে অন্যস্থানে হস্তান্তরের সময় পুলিশ জনগণের সহযোগিতায় প্রধান আসামি আলিফজানকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। খুনের মোটিভটা কী এবং এটার সঙ্গে কারা কারা জড়িত সেটা উদ্‌ঘাটনের জন্য আসামিদের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এদিকে শিশু মুনতাহার আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় আলোচিত হচ্ছে তরুণী মার্জিয়ার নাম। তার মা আলিফজান ও নানী কুতুবজানকে নিয়ে বীরদল গ্রামে মুনতাহার পিতা শামীম আহমদের বাড়িতে ঘর বানিয়ে আশ্রিত হিসেবে বসবাস করতেন। তাদের মূলবাড়ি উপজেলার চতুল এলাকার চাউরা গ্রামে। ২২ বছর আগে তারা বীরদলে এসে শামীমের বাড়িতে আশ্রয় নেন। মার্জিয়ার মা ও নানী দু’জনই পেশায় ভিখারী। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করা মার্জিয়া চার মাস ধরে মুনতাহাকে পড়ালেখা শিখাতো। হাউজ টিউটর হিসেবে সে ছিল। মুনতাহার পিতা ঘটনার সঙ্গে জড়িত মার্জিয়া সম্পর্কে মানবজমিনকে জানিয়েছেন- কয়েক মাস আগে মার্জিয়ার নানা বিষয় নিয়ে তার সন্দেহ হয়। পাশের ঘরের মহিলা হওয়ায় মার্জিয়া প্রায় সময় মুনতাহাকে নিয়ে বাজারে চলে যেতো। না বলে কখন কোথায় যেতো এ নিয়ে আমরা চিন্তায় থাকতাম। এ কারণে মার্জিয়ার কাছে পড়ালেখা বন্ধ ছাড়াও সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়। এ ছাড়া কয়েক মাস আগে মুনতাহার কয়েকটি জামা চুরির ঘটনা ঘটে। চুরি হওয়া জামাগুলো মার্জিয়াদের ঘরে পাওয়া গিয়েছিল। তিনি বলেন- মা ও নানী এলাকায় ভিক্ষা করলেও মার্জিয়ার তিনটি এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিল। তার কাছে নামে-বেনামে সিম ছিল বেশ কয়েকটি। এ কারণে তার উচ্ছৃঙ্খল জীবনের নানা বিষয় নিয়ে আমাদের সন্দেহ হয়েছিল। এলাকার লোকজন জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া মার্জিয়া উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করতো। সে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কাজ করতো বলে জানিয়ে সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতো। ফিরতো রাতে। কখনো কখনো গাড়িযোগে লোকজন এসে তাকে নামিয়ে দিয়ে যেতো। চালচলনেও ছিল উচ্ছৃঙ্খল ভাব। এ কারণে তার সঙ্গে আশপাশের বাড়ির মহিলারা সম্পর্ক রাখতো না। ঘটনার দিনও চারখাই বাজারে গিয়ে কয়েক ঘণ্টা কাটায় মার্জিয়া। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ইসলাম উদ্দিন ও নাজমা বেগম প্রায় সময় তাদের ঘরে আসা-যাওয়া করতো বলে জানান তারা। পুলিশ জানিয়েছে; গ্রেপ্তার হওয়ার পর দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদে মার্জিয়া ও তার মা আলিফজান খুনের ঘটনা স্বীকার করলেও কারণ সম্পর্কে পূর্ব বিরোধ বলেছে। একই বাড়ির বাসিন্দা হওয়ায় তুচ্ছ বিষয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল বলে জানায় মার্জিয়া ও আলিফজান। থানায় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে খুনের ঘটনা স্বীকার করলেও আদালতে স্বীকারোক্তি প্রদান করতে অস্বীকার করে। এ কারণে তাদের ফের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।
mzamin

মণিপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর হামলা, সিআরপিএফের গুলিতে ১১ কুকি বিদ্রোহী নিহত

ফের অশান্ত হলো ভারতের অঙ্গরাজ্য মণিপুর। এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর সিআরপিএফের শিবিরে হামলা চালিয়েছে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে হামলাকারীদের ১১ জন নিহত হয়েছেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি, নিহতেরা সকলেই কুকি বিদ্রোহীদের সদস্য। তাদের ছোড়া গুলিতে সিআরপিএফর এক জওয়ান আহত হয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। এতে বলা হয়, পুলিশ জানিয়েছে হামলাকারীরা সকলেই কুকি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্য।সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে হামলাকারীরা প্রথমে বড়বেকরা মহকুমা সদরের থানায় হামলা চালায়। এর পরে কিছু বাড়িঘর ও দোকানে লুটপাট চালিয়ে জাকুরাডোর করংয়ের রাস্তায় সিআরপিএফের উপর হামলা চালায়। এর পরেই শুরু হয়ে দু’পক্ষের গুলি বিনিময়। ঘটনার পর এলাকা ঘিরে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, শনিবার রাতে জিরিবাম জেলায় জাইরাওন নামে এক গ্রামে মেইতেই সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাম্বাই টেঙ্গল এবং ইউএনএলএফের যৌথ বাহিনীর হামলায় এক কুকি মহিলা নিহত হয়েছিলেন। রোববার কুকি-জোজনজাতিদের যৌথ মঞ্চ আইটিএলএফের মদতপুষ্ট সদস্যরা এক মেইতেই নারীকে হত্যা করে। পূর্ব ইম্ফল জেলার থামনাপোকপি, ইয়াইঙ্গাংপোকপি, সাবুংখোক এবং সানসাবিসহ বিভিন্ন এলাকায় মেশিনগান, রকেটচালিত গ্রেনেড (আরপিজি) নিয়ে হামলা চলে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের উপর। সোমবারও বিভিন্ন এলাকা থেকে দফায় দফায় সংঘর্ষের খবর এসেছে।
mzamin

জুলাই-আগস্টের হত্যা মামলার আসামি যখন উপদেষ্টা

অন্তর্বর্র্র্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে আকিজ-বশির গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ বশির উদ্দিনের শপথ নেয়ার পরই আলোচনায় এসেছে একটি মামলার নথি। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে রামপুরা এলাকায় গুলিতে নিহত মো. সোহানের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা ওই মামলার এজাহারে নাম আছে শেখ বশির উদ্দিন ভূঁইয়ার। আসামির তালিকায় থাকা এই নামের সঙ্গে শপথ নেয়া বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিনের নাম ও বাবার নামের মিল আছে। মামলার নথি সামনে আসার পর অনেকে প্রশ্ন করছেন, গণহত্যা মামলার এজাহারে নাম থাকা ব্যক্তিকে উপদেষ্টা করা হলো কেন? আর তিনি যদি নির্দোষ হন তালে সেটি স্পষ্ট করা হলো না কেন?

৫৭ জনের নাম পরিচয়সহ ২০০-৩০০ ব্যক্তিকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলাটি করেছেন নিহত সোহানে মা সুফিয়া বেগম। গত ৭ই অক্টোবর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি হত্যা মামলার আবেদন করেন। সি আর মামলা নম্বর-৯৯। পরবর্তীতে আদালত সেটাকে আমলে নিয়ে রামপুরা থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় রামপুরা থানা পুলিশ গত ১৯শে অক্টোবর মামলা এজাহারভুক্ত করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। মামলা নম্বর-১৮।
ওদিকে গত রোববার নতুন ৩ উপদেষ্টার শপথ গ্রহণের দিন বঙ্গভবনের বাইরে এই উপদেষ্টাদের কাউকে কাউকে নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিক্ষোভ করেন কিছু মানুষ। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, শেখ বশির উদ্দিন ভূঁইয়া একজন আওয়ামী লীগ নেতা। তার বাবা মো. শেখ আকিজ উদ্দিন ভূঁইয়া। বর্তমানে তিনি রাজধানীর বনানী থানা এলাকায় বসবাস করছেন।

মামলায় শেখ বশির উদ্দিন ভূঁইয়ার সঙ্গে তার ভাই শেখ আফিল উদ্দিনকেও আসামি করা হয়েছে। আফিল উদ্দিন যশোর-১ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক এমপি। মামলার বিষয়ে রামপুরা থানার ওসি আতাউর রহমান আকন্দ মানবজমিনকে বলেন, মামলায় দুই ভাইয়ের নামই আছে। আমরা তদন্ত করছি। তদন্তে যদি তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১৯শে জুলাই স্থানীয় এমপির নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীরা ছাত্র আন্দোলনবিরোধী মিছিল নিয়ে রামপুরা সিএনজি স্টেশনের সামনে এসে সাধারণ ছাত্র-জনতার ওপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। এ সময় নিহত সোহান শাহসহ বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থলে বেশ কয়েকজন মারা যায়। সোহানের বুকের বাম পাঁজর ভেদ করে ফুসফুসে গুলিবিদ্ধ হয়। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা তাকে রামপুরা ফরাজী হাসপাতালে নিয়ে গেলে মামলার ১৬ নম্বর আসামি ইমন ফরাজীর নির্দেশে চিকিৎসা না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। পরে তাকে ঢাকার একাধিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে এসব হাসপাতাল থেকেও উপর মহলের নির্দেশ আছে বলে ভর্তি না নিয়ে ফিরিয়ে দেয়। অনেক চেষ্টার পর পরদিন ২০শে জুলাই সন্ধ্যায় বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে হাসপাতালের চিকিৎসকরা আশঙ্কাজনক ও মৃত্যুর শঙ্কা রয়েছে এবং অপারেশন করতে হবে বলে জানান। মা সুফিয়া বেগম বিভিন্ন জনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ২০শে আগস্ট রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল সিএমএইচে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানায়, সোহানের বুকে বা পাশে গুলিবিদ্ধ হয়ে রক্তনালী ও হৃদপিণ্ডের মধ্যে আটকে আছে। পরে অপারেশন করাকালীন গত ২৮শে আগস্ট সোহান মারা যান।

এই হত্যা মামলায় আসামির তালিকায় রয়েছেন, শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডিএমপি’র সাবেক গোয়েন্দা প্রধান হারুন অর রশিদ।

মামলার বিষয়ে সোহানের মা সুফিয়া বেগম মানবজমিনকে বলেন, আমার মণি (সোহান) অপারেশন টেবিলে যাওয়ার আগে আমার মাথায় চুমু খেয়ে বলে, মা আমি যাচ্ছি। দোয়া কইরো। সেই যে গেল মণি আর ফিরলো না।

এজাহারের ৪৯ নম্বর আসামি শেখ বশির উদ্দিন ভূঁইয়ার নামের বিষয়ে তিনি বলেন, ছাত্র আন্দোলনের সময় যারা উপস্থিত ছিলেন তারা আমাকে বশির উদ্দিন ভূঁইয়া এ ঘটনায় পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বলে নিশ্চিত করেন। পরে আমরা প্রকৃত আসামিদের এজাহারভুক্ত করতে সময় নেই।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. ইলতুৎমিশ সওদাগর বলেন, নিহতের মা মামলা করা জন্য লিখিত আবেদন করলে আমরা সেটাকে আদালতে উপস্থাপন করি। পরে আদালত এটাকে এজাহারভুক্ত করে মামলার তদন্তের নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট রামপুরা থানাকে। তিনি বলেন, শেখ বশির উদ্দিন ভূঁইয়া মামলার ৪৯ নম্বর আসামি। নিহতের পরিবারে সদস্যরা নামের তালিকা প্রস্তুত করে আমাদের দিলে সেটাকে আদালতে উপস্থাপন করি। এখন তিনি দোষী না নির্দোষ সেটা তদন্ত শেষে আদালতে প্রমাণিত হবে।

এদিকে প্রথম দিনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অফিস শেষে নিজের নামে মামলা প্রসঙ্গে নতুন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেন, আমি খুব ভালো জানি না। আমাদের লিগ্যাল টিম ব্যাপারটা দেখছে। ওখানে আমার বাবার নামে কিছু অসঙ্গতি আছে। এটা আসলে আমি কিনা সেটা নিশ্চিত জানি না। নিশ্চিত হলে এটা লিগ্যালি ফেস করবো।

mzamin

কার প্রেসক্রিপসনে উপদেষ্টা নিয়োগ, প্রশ্ন হাসনাতের -ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ

ছাত্র-জনতার অংশীদারিত্ববিহীন সিদ্ধান্তে নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ এবং এতে ফ্যাসিবাদী দোসরদের স্থান দিয়ে শহীদদের রক্তের অবমাননা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। কার প্রেসক্রিপশনে উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়া হয়েছে এমন প্রশ্নও তুলেছেন নেতারা। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এমন অভিযোগ করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যৌথ আয়োজনে বিক্ষোভটি অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ শেষে একটি মিছিল ভিসি চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভ থেকে বিতর্কিত ব্যক্তিদের উপদেষ্টা পদ থেকে অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানানো হয়। বিক্ষোভকারীরা বলেন, জুলাই-আগস্টে ফেসবুকে ২/১টা পোস্ট দিয়েই উপদেষ্টা হয়ে যাচ্ছেন। ভারতের দালালি করা ব্যক্তিরাও ডাক পাচ্ছেন বঙ্গভবনে, যেটি অভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে বেঈমানি। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে কীভাবে নিয়োগ দেয়া হলো- তা স্পষ্ট করার আহ্বানও জানান তারা। বিক্ষোভে উত্তরবঙ্গের কোনো জেলার কেউ উপদেষ্টা নিয়োগ না পাওয়ারও সমালোচনা করা হয়।

সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ৫ই জুন থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের সবচেয়ে বড় আইরনি হলো তিন মাস পরেও হাসিনার বিচার চাইতে হয়। শিক্ষার্থীরা মুজিববাদ এবং আওয়ামী দোসরদের তাড়াতে ব্যস্ত। অন্যদিকে তখন আমরা খবর পাই ধানমণ্ডি-৩২কে যারা কা’বা মনে করে তাদেরকে উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। আপনারা যদি মনে করেন ছাত্র-জনতার রক্তকে পুঁজি করে উপদেষ্টা হবেন, তাহলে ভুল বুঝছেন। অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমরা জানতে চাই কাদের প্রেসক্রিপশনে আওয়ামী দোসরদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। ছাত্র-জনতার রক্তকে উপেক্ষা করে মশকরা করছেন। চব্বিশ পরবর্তী বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট দোসরদের পুনর্বাসন চাই না। যাদেরকে নিয়োগ দিচ্ছেন গত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাদের অবদান কী? তাদের লড়াইয়ের ইতিহাস জানতে চাই। আর যদি সমঝোতা করে থাকেন, তাহলে মনে রাখবেন আমাদের জীবনে আর হারানোর কিছুই নেই। আমরা খুনি হাসিনাকে উৎখাত করেছি, তার লিগ্যাসি রক্ষা করার জন্য না। তিনি বলেন, দু’জন ছাত্র উপদেষ্টার প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। আমাদের প্রতিবাদের মুখে বঙ্গভবন থেকে মুজিবের ছবি সরানো হয়েছে। শুধু ছবি নয়, আমরা ফ্যাসিবাদের সকল সিম্বলের রিমুভাল চাই।

উপদেষ্টা পরিষদকে উদ্দেশ্য করে সমন্বয়ক আব্দুল কাদের বলেন, কথা ছিল আবু সাঈদ, ওয়াসিম, মুগ্ধদের রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ হবে এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত হবে। কথা ছিল গণঅভ্যুত্থানের অংশীদাররা সরকার চালাবে। আপনারা মাঠে বলছেন ছাত্র-জনতার সরকার। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। ফ্যাসিবাদের দোসরদের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে আনা হচ্ছে। বিপ্লব রক্ষার জন্য যা দরকার সবই করবো। জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা আমরা বাস্তবায়ন করবোই।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর উদ্দেশ্যে সমন্বয়ক মাহিন সরকার বলেন, সংস্কৃতি বলতে আপনি কী বোঝেন? পশ্চিম থেকে ধার করে আনা জিনিস না কি বাংলাদেশের প্রতিদিনের জীবনচর্চা। প্রাত্যহিক জীবনচর্চা ও মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ কারও মধ্যে না থাকে তাহলে সে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে ধারণ করে না। যারা ধানমণ্ডি-৩২কে কা’বা মনে করে তাদেরকে আমরা লালকার্ড দেখাই। এমন কাউকে আমরা উপদেষ্টা প্যানেলে চাই না। এই সরকারে যারা ফ্যাসিবাদের দোসর আছে তাদেরকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। আঞ্চলিকতার অভিযোগ করে তিনি বলেন, উপদেষ্টা নিয়োগে আঞ্চলিকতাকে ইস্যু করা হচ্ছে। শুধুমাত্র একটা অঞ্চল থেকে উপদেষ্টা নিয়োগে প্রাধান্য পাচ্ছে। আন্দোলনের সময় উত্তরবঙ্গের মানুষের প্রয়োজন হয়, কিন্তু উত্তরবঙ্গ থেকে কোনো উপদেষ্টা নাই। দ্বিতীয় স্বাধীনতার প্রথম শহীদ আবু সাঈদ উত্তরবঙ্গের সন্তান। উত্তরবঙ্গকে বঞ্চিত করা হলে আমরা লালকার্ড দেখাতে বাধ্য হবো।

mzamin

বঙ্গভবনের দরবার হল থেকে সরানো হলো বঙ্গবন্ধুর ছবি

সমালোচনার মুখে এবার বঙ্গভবনের দরবার হলের দেয়াল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। গতকাল উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে একটি ছবি শেয়ার করে এমন তথ্যই দিয়েছেন। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ’৭১-পরবর্তী ফ্যাসিস্ট নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি দরবার হল থেকে সরানো হয়েছে। এটা আমাদের জন্য লজ্জার যে আমরা ৫ই আগস্টের পর বঙ্গভবন থেকে তার ছবি সরাতে পারিনি। ক্ষমাপ্রার্থী। কিন্তু মানুষের মধ্যে জুলাইয়ের চেতনা বেঁচে থাকা পর্যন্ত তাকে কোথাও দেখা যাবে না। শেখ মুজিব ও তার মেয়ে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে যা করেছেন, তার জন্য আওয়ামী লীগকে অবশ্যই দায় স্বীকার করতে হবে, ক্ষমা চাইতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে- অগণতান্ত্রিক ’৭২-এর সংবিধান থেকে শুরু করে দুর্ভিক্ষ, হাজার হাজার কোটি অর্থ পাচার, হাজার হাজার ভিন্নমতাবলম্বী ও বিরোধীদের বিচারবহির্ভূত হত্যা (১৯৭২-’৭৫, ২০০৯-’২৪)। তিনি আরও লেখেন: তাহলেই আমরা ’৭১-এর আগের শেখ মুজিবের কথা বলতে পারি। ক্ষমা প্রার্থনা ও ফ্যাসিস্টদের বিচার ছাড়া কোনো ধরনের পুনর্মিলন হবে না। বাংলাদেশের সংবিধানের ৪-ক অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও প্রধান বিচারপতিসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয় এবং সরকারি-আধা-সরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দূতাবাসে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করতে হবে।’ ২০০০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার সব সরকারি অফিসে বঙ্গবন্ধুর ছবি প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করে আইন পাস করে।
mzamin

প্রবাসীরা অতিথির মতো সম্মান ও সেবা পাবেন -বিমানবন্দরে প্রবাসী লাউঞ্জ উদ্বোধনকালে প্রধান উপদেষ্টা

প্রবাসীরা যেন বিমানবন্দরে অতিথির মতো সম্মান ও সেবা পায় সরকার তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিবাসী কর্মীদের জন্য একটি ডেডিকেটেড লাউঞ্জ (প্রবাসী লাউঞ্জ) উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আপনাদের যে প্রাপ্য সম্মান, সেটি যেন জাতি দিতে পারে। সেই সম্মান দেয়ার জন্য আজকের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে প্রবাসী লাউঞ্জ উদ্বোধন করা হলো। আশা করি, আরও বহু রকমের পদক্ষেপ নেয়া হবে। ড. ইউনূস বলেন, যাতে করে আপনারা এখানে এসে মনে করতে পারেন যে, আপনারা শান্তিতে আছেন, বাড়িতে আছেন, সবাই আপনাদের দেখভাল করছে, আপনাদের সেবা-শুশ্রূষা করছে। অর্থাৎ আপনি এখানে মেহমানের মতো থাকবেন। আপনি সম্মান নিয়ে থাকবেন। তিনি বলেন, আপনার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেয়ার জন্য এই প্রচেষ্টা। আজকে যেটা শুরু করলাম বহুভাবে একে কাজে লাগানো যাবে। প্রবাসীরা বিমানবন্দরে যথাযথ সম্মান ও সেবা পান না বলে আক্ষেপ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আপনাদের দিয়ে তো দেশ চলে। আপনাদের তো মাথার উপর রাখার কথা। অপরাধী করে রাখবে কেন? ভাবখানা এই যে, তোমরা নিজেদের টাকা রোজগার করতেছো, তোমাদের ব্যাপার! আমাদের কী তাতে? প্রবাসীদের উপার্জিত অর্থ যথার্থভাবে দেশের কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করে সরকারপ্রধান বলেন, প্রবাসীরা টাকা যেটা রোজগার করছে, সেটা তো বাংলাদেশেই আসছে, বাংলাদেশের জন্য রোজগার করছে। প্রবাসীরা কষ্ট করে টাকা রোজগার করে আনছেন। আর এই কষ্টার্জিত টাকা আরেকজনে বিদেশে পাচার করছে। এটা হলো আমাদের দুর্ভাগ্য। সেখান থেকে আমাদের ফিরে আসতে হবে, আমাদের দেশের টাকা যেন দেশে থাকে, দেশের কাজে লাগে। ড. ইউনূস বলেন, আমাদের প্রবাসী কর্মীরা দেশ গড়ার কারিগর। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে তারা বড় ভূমিকা পালন করেছে। আমরা তাদের কাছে সবসময় কৃতজ্ঞ। আমরা বিশ্বাস করি, এই লাউঞ্জ তাদের ভ্রমণকে সহজ করবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আমরা সরকারে আসার তিন মাসের মাথায় এসে প্রবাসীদের জন্য নতুন যাত্রা শুরু করতে পারলাম। প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা দুজনেই বিদেশে আসা-যাওয়ার পথে এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি। তিনি বলেন, বিমানবন্দর আমাদের সবাইকে ব্যবহার করতে হয়। আমাকেও প্রায় আসা-যাওয়া করতে হয়। মনে খুব কষ্ট হয় যখন দেখি প্রবাসীদের যাওয়া-আসায় কতো কষ্ট হচ্ছে। প্রবাসীদের জন্য সরকারের সেবা সহজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রবাসীদের জন্য এখন ই-পাসপোর্ট দিতে হবে। ছাপা পাসপোর্ট দরকার নেই। পাসপোর্ট আপনার ফোনে চলে আসবে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। অফিসে যেন যেতে না হয়। তিনি বলেন, আমরা এখন আর সরকারি অফিসে যেতে চাই না। বাড়িতে যেন সেবা পৌঁছে দেয়া যায়। উল্লেখ্য, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এটিই প্রথম প্রবাসী লাউঞ্জ। যেখানে বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের বিশ্রামের জন্য জায়গা এবং সুলভ মূল্যে খাবার পাওয়া যাবে। সুলভ মূল্যে খাবার পরিবেশনের জন্য এতে ভর্তুকি দেবে সরকার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইন ও প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ড. আসিফ নজরুল জানান, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের দেখভাল এবং তাদের সহায়তা করার জন্য ১০০ কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আইওএম এই কর্মীদের স্পন্সর করেছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত আইওএম মিশনের ডেপুটি চিফ ফাতিমা নুসরাত গাজালি জানান, জাতিসংঘ বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের সহায়তার জন্য লাউঞ্জটি স্পন্সর করেছে।
mzamin

উপদেষ্টা পরিষদেই বৈষম্য

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে আঞ্চলিক বৈষম্য নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। ২৪ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদের অন্তত ১৩ জনের জন্মস্থান চট্টগ্রাম বিভাগে। এই ১৩ উপদেষ্টার দপ্তর-উপ দপ্তরেও তাদের নিজস্ব এলাকার ব্যক্তিদের গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। উপদেষ্টা পরিষদে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঢাকা বিভাগের রয়েছেন ৭ জন। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কেউ উপদেষ্টা পরিষদে নেই। খুলনা ও বরিশাল বিভাগের একজন করে আছেন। একক জেলা হিসেবে চট্টগ্রাম এবং কুমিল্লা জেলা থেকে উপদেষ্টা হয়েছেন বেশি।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকেই এই  বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এমন বৈষম্য দূর করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে।

রাজনৈতিক সরকারের সময়েও মন্ত্রী নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভাগ ও অঞ্চল বিবেচনা করে নিয়োগ দেয়া হয় যাতে সব অঞ্চল ও এলাকার প্রতিনিধিত্ব থাকে। কিন্তু অন্তর্বর্র্র্র্র্র্র্র্তীকালীন সরকারে এক্ষেত্রে বড় বৈষম্য তৈরি হয়েছে অঞ্চল বিবেচনায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে উপদেষ্টা পরিষদে এই অঞ্চল বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম। এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘শুধু ১টা বিভাগ থেকে ১৩ জন উপদেষ্টা; অথচ উত্তরবঙ্গের রংপুর, রাজশাহী বিভাগের ১৬টি জেলা থেকে কোনো উপদেষ্টা নাই! তার উপর খুনি হাসিনার তেলবাজরাও উপদেষ্টা হচ্ছে!’

ওদিকে রোববার রাতে তিন উপদেষ্টার শপথ নেয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অঞ্চল বৈষম্য নিরসন দাবি করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে রাষ্ট্র বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. নূরুল আমীন  বেপারী বলেন, বিভিন্ন জায়গায় কথা উঠেছে সরকার এক বিভাগ থেকেই বেশি উপদেষ্টা নিয়েছে। এ কারণে সরকার বেশি সফলতা পাচ্ছে না বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জন্মস্থান চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নে। শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের জন্মস্থানও চট্টগ্রাম বিভাগের নোয়াখালী জেলায়।

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের পৈতৃক নিবাসও চট্টগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। যদিও তার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা ঢাকায়। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলও চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা জেলার। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারও চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা। একই জেলার যুব ও ক্রীড়া এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপের অধিবাসী। একই জেলার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক। ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার চট্টগ্রামের চন্দনাইশের বাসিন্দা। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের পৈতৃক বাড়িও চট্টগ্রামে। বিয়ে ও পরিবার সূত্রে তিনি ঢাকার ধামরাইয়ের বাসিন্দা। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমার বাড়ি চট্টগ্রাম বিভাগের খাগড়াছড়িতে। সর্বশেষ উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেয়া মো. মাহফুজ আলমের বাড়ি চট্টগ্রাম বিভাগের লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে।  

ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফের জন্ম কলকাতায়। কলকাতা কোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করে পরে তিনি ঢাকায় আসেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ঢাকা বিভাগের নরসিংদী জেলার অধিবাসী।  স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ঢাকা বিভাগের মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বাসিন্দা।  শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান  খানও একই জেলার। বন ও পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার অধিবাসী। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ঢাকা জেলার বাসিন্দা। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী ঢাকার বাসিন্দা।

নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বরিশাল বিভাগের একমাত্র উপদেষ্টা।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের জন্মস্থান সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জে। যদিও তিনি কর্মসূত্রে ময়মনসিংহে স্থায়ী। তাকে বাদ দিলে সিলেট বিভাগের একমাত্র উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। আর গণশিক্ষা উপদেষ্টাকে সিলেটের বাসিন্দা ধরলে ময়মনসিংহ বিভাগেরও কোনো উপদেষ্টা নেই। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ ঢাকার অধিবাসী। খুলনা বিভাগ থেকে একমাত্র উপদেষ্টা হয়েছেন সেখ বশির উদ্দীন। তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। 

mzamin

খালেদা জিয়ার ১০ বছরের সাজা স্থগিত

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছরের সাজার বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে খালেদা জিয়াকে দেয়া ১০ বছরের সাজা স্থগিত করেছেন সর্বোচ্চ আদালত। আপিল শুনানি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাজা স্থগিত থাকবে। পাশাপাশি খালেদা জিয়াকে আপিলের সার সংক্ষেপ দুই সপ্তাহের মধ্যে দাখিল করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র এডভোকেট জয়নুল আবেদীন। খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, এডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল ও এডভোকেট আমিনুল ইসলাম। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। দুদকের পক্ষে ছিলেন এডভোকেট আসিফ হোসাইন।

আদেশের পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজা সংক্রান্ত রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। রায়ের বিরুদ্ধে বেগম খালেদা জিয়ার আনা লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে এই আদেশ দেয়া হয়। আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে আপিলের ওপর শুনানি হবে।

দুদকের আইনজীবী মো. আসিফ হাসান আদালতকে বলেন, এই ট্রাস্টের টাকা কিন্তু আত্মসাৎ হয়নি। জাস্ট ফান্ডটা মুভ হয়েছে। সুদে আসলে অ্যাকাউন্টেই টাকাটা জমা আছে, কোনো টাকা ব্যয় হয়নি।

২০১৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে খালেদার ছেলে ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত। একই বছরের ২৮শে মার্চ খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধি চেয়ে দুদকের করা আবেদনে রুল দেন হাইকোর্ট। এরপর সাজা বৃদ্ধিতে দুদকের আবেদনে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে ২০১৮ সালের ৩০শে অক্টোবর বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়ার সাজা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করেন। অন্যদিকে, ২০১৮ সালের ২৯শে অক্টোবর রাজধানীর পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন খালেদা জিয়া। গত ৪ঠা নভেম্বর হাইকোর্ট বিভাগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাত বছরের দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়। তার অংশ হিসেবে নিজের খরচে পেপারবুক (মামলা বৃত্তান্ত) তৈরির আবেদন মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট।

mzamin

ছয় মাসের মাথায় ক্ষমতাচ্যুত হলেন হাইতির প্রধানমন্ত্রী

দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস না পেরোতেই ক্ষমতাচ্যুত হলেন হাইতির প্রধানমন্ত্রী গ্যারি কনিল। ক্ষমতাসীন ট্রানজিশনাল প্রেসিডেনশিয়াল কাউন্সিলের (টিপিসি) এক নির্বাহী আদেশে বরখাস্ত করা হয়েছে কম সময় দায়িত্বপালন করা এই প্রধানমন্ত্রীকে। নয় সদস্যের মধ্যে আট সদস্যের স্বাক্ষরিত এক নির্বাহী আদেশে কনিলের স্থলাভিষিক্ত করতে ব্যবসায়ী এবং হাইতির সিনেটের সাবেক প্রার্থী অ্যালিক্স দিদিয়ের ফিলস আইমের নাম ঘোষণা করেছে কাউন্সিল। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, হাইতির গ্যাং নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে চলমান নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন জাতিসংঘের সাবেক এই কর্মকর্তা কনিল। দেশটিতে ২০১৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়নি। ফলত ধারণা করা হচ্ছিল কনিল প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করতে কাজ করবেন। কিন্তু তার আগেই তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হল। এক চিঠিতে কনিল দাবি করেছেন, বরখাস্তের এই আদেশ অবৈধ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক চিঠিতে এই দাবি করেন তিনি। চিঠিতে কনিল দেশটির ভবিষ্যত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। হাইতিতে বর্তমানে কোনো প্রেসিডেন্ট কিংবা পার্লামেন্ট নেই। হাইতির সংবিধান অনুযায়ী, একমাত্র পার্লামেন্টই ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে পারে। গত ৩ জুন হাইতির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন কনিল। তার চিঠিতে বলা হয়েছে, কনিলকে বরখাস্তের নির্বাহী আদেশ আইন ও সাংবিধান বহির্ভূত যার বৈধতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে।

গত এপ্রিলে হাইতির ট্রানজিশনাল প্রেসিডেনশিয়াল কাউন্সিল গঠনের আগে কনিলের পূর্বসূরী অ্যারিয়েল হ্যানরি গ্যাংদের একটি নেটওয়ার্কের হাতে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন। তখন ওই গ্যাংটি হাইতির রাজধানী পোর্ট অব প্রিন্সের বেশ কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণে নেয়। ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি গায়ানায় এক সম্মেলনে যোগ দিতে দেশ ছাড়েন হ্যানরি। পরে গ্যাং-এর সদস্যরা শহরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দখল করে নেন। পরে হ্যানরি আর দেশে ফিরতে পারেননি। ক্যারিবীয় এই দেশটিতে গণতান্ত্রিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে গঠিত হয়েছে টিপিসি। বিভিন্ন সশস্ত্র গ্যাং সদস্যদের উৎপাতে বারবার হুমকির মুখে পড়ছে দেশটির গণতন্ত্র। জাতিসংঘের হিসাব মতে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে হাইতিতে বিভিন্ন সহিংসতায় সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ। বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোর মধ্যে একটি হাইতি।

mzamin

অভিযানের খবরে পালিয়ে যান অর্ধনগ্ন তরুণীরা by শুভ্র দেব

রোববার রাত সাড়ে ১২টা। গুলশান-২ এর ৫০ নম্বর রোডের ৬ নম্বর বাড়ির ষষ্ঠতলার হলরুম। এটি কোয়ালিটি ইন প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি হোটেল। হলরুমের ভেতরে আবছা অন্ধকার। লেজার লাইটের ঝলকানি। বিটের তালে তালে কেঁপে উঠছিল চার দেওয়াল। বাজছিল হিন্দি-ইংরেজি গান। স্টেজ থেকে উড়ন্ত চুম্বন দিচ্ছিলেন ডিজে তরুণী। তার সঙ্গে মেতে উঠছিলেন অর্ধনগ্ন তরুণীরা। সঙ্গ দিচ্ছিলেন বিভিন্ন বয়সী ছেলেরা। প্রত্যেকের মুখে সিগারেট। হাতে বিয়ারের ক্যান- বিদেশি মদের গ্লাস। মাতাল তরুণ-তরুণীরা সময়ে সময়ে একে- অপরকে জড়িয়ে ধরছিলেন। এই যখন অবস্থা তখন খবর চলে যায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে। যেই খবর সেই অভিযানের সিদ্ধান্ত। কিন্তু ডিএনসি কর্মকর্তারা অভিযান চালাবেন সেই খবরও চলে যায় ডিজে পার্টির আয়োজক ও অতিথিদের কাছে। কর্মকর্তারা ছয় তলা ভবনের লিফ্‌ট দিয়ে উঠতে উঠতে হলরুমের ভেতরের আয়োজক, অতিথি ও অর্ধনগ্ন তরুণীরা পালিয়ে যান। পালাতে গিয়ে অনেকে হাতে পায়েসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান। তবে থেমে যাননি ডিএনসি কর্মকর্তারা। পার্টি আয়োজকদের মধ্যে কামাল উদ্দিন (৪৮) ও আরিফুল ইসলাম (৩২) নামের দু’জনকে গ্রেপ্তার করেন। এছাড়া সেখানে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ-১১ বোতল ও ১৭ ক্যান বিয়ারের বোতল উদ্ধার করেন।

অভিযান সংশ্লিষ্ট ডিএনসি কর্মকর্তারা বলেছেন, একটি চক্র রাজনৈতিক ছত্রছায়ার বহুদিন ধরে কোয়ালিটি ইন প্রাইভেট হোটেলে নানা ধরনের অপকর্ম চালিয়ে আসছিল। তারা রাতভর সেখানে অশ্লীল ডিজে পার্টির আয়োজন করতো। ডিজেতে অংশ নিতো শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার  ছেলে-মেয়েরা। বিশেষ করে বিত্তবানরা বেশি অংশগ্রহণ করতেন। আয়োজকরা শহরের নামিদামি ডিজেদের সংগ্রহ করে পার্টি আয়োজন করতেন। রাতভর সেখানে অর্ধনগ্ন তরুণ-তরুণীরা মদ খেয়ে মাতাল হয়ে নাচতেন। অভিযোগ আছে বিদেশি মদের সঙ্গে সেখানে ইয়াবা, এলএসডি, কুশের মতো মাদক পরিবেশন করা হতো। এছাড়া হতো অসামাজিক কার্যকলাপ।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, সন্ধ্যার পর থেকে গুলশান-২ এর ৫০ নম্বর রোডের ওই বাড়ির সামনে দামি দামি গাড়িতে অভিজাত ঘরের মানুষ এসে নামতেন। এছাড়া মোটরসাইকেল, সিএনজিতেও অনেকে আসতেন। যেদিন ডিজে পার্টির আয়োজন থাকতো সেদিন বেশি ব্যস্ত থাকতো বাড়িটির আশপাশ। সবারই গন্তব্য ছিল কোয়ালিটি ইন হোটেল। পশ্চিমা দুনিয়ার আদলে পরা পোশাক পরিহিত তরুণীদের আনাগোনা বেশি ছিল। ধনীর দুলাল থেকে শুরু করে সরকারি চাকরিজীবী, চিকিৎসক, বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীরা সেখানে আসতেন। ভেজাল মদও পরিবেশনের অভিযোগ রয়েছে হোটেলটিতে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো কার্যালয়ের (উত্তর) সহকারী পরিচালক রাহুল সেন মানবজমিনকে বলেন, তারা আগেও এখানে অশ্লীল ডিজে পার্টির আয়োজন করতো। বিভিন্ন ধরনের মাদক পরিবেশন করতো। এমন খবর আমাদের কাছে ছিল। সরকার পতনের আগে পুরোদমে এমন কর্মকাণ্ড করলেও পতনের পর কিছুটা কমেছিল। কয়েকদিন ধরে তারা আবার চালু করার পরিকল্পনা করে বাস্তবায়ন শুরু করে। তবে খবর পেয়ে আমরা সেটি থামিয়ে দিয়েছি। তিনি বলেন, সেখানে বার ছিল না। এ ধরনের আয়োজনের অনুমতিও ছিল না। তারপরও তারা অবাধে মাদকদ্রব্য পরিবেশন করছিল। এরসঙ্গে যারাই জড়িত তাদের প্রত্যেককেই আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।  
ঢাকা মেট্রো: কার্যালয়ের (উত্তর) উপ-পরিচালক শামীম আহম্মেদ বলেন, অভিযান চালানোর আগে খবর পেয়ে পেছনের দরজা দিয়ে আয়োজকসহ অনেকেই পালিয়ে যায়। তবে আমরা দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকিদের বিষয়ে আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি। গুলশান থানায় একটি মামলাও হয়েছে।

সঞ্চয়পত্রে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা

নিরাপদ বিনিয়োগের উৎস হিসেবে বিবেচিত সঞ্চয়পত্রে আবার ঝুঁকছে সাধারণ মানুষ। ফলে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এ খাতে নিট বিক্রি (বিনিয়োগ) ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। সর্বশেষ সেপ্টেম্বর মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ১০০ কোটি টাকারও বেশি। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এ খাতে নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা, যা পুরো অর্থবছরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৫৪ শতাংশ। উচ্চমূল্যস্ফীতির কারণে গত বছরও সঞ্চয়পত্র ভেঙে ফেলার প্রবণতা দেখা গেলেও সমপ্রতি এর বিক্রি বেড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ৫ই আগস্ট সরকার পতনের পর পরিচালন ব্যয় অনেক কমেছে। এর অন্যতম কারণ মন্ত্রী, এমপিসহ অনেকের পেছনে আগের মতো আর নিয়মিত ব্যয় হচ্ছে না। আবার এখন যেকোনো খরচ করার ক্ষেত্রে জবাবদিহি বাড়ানো হয়েছে। এসব কারণে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে আগের সরকারের যে ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল তা কমছে। এ ছাড়া আস্থার সংকটে দুর্বল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আমানত তুলে নেয়ার প্রবণতা অব্যাহত আছে। সেই আমানতের একটা অংশ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ হিসেবে আসছে। আবার সঞ্চয়পত্র ভাঙানোর প্রবণতাও কমেছে। শেয়ারবাজারেও দুর্দিন চলছে। সব মিলিয়ে সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। উল্লেখ্য, সঞ্চয়পত্রের নিট বিনিয়োগ সরকারের ঋণ হিসেবে গণ্য হয়। এটা বাজেট ঘাটতির অর্থায়নে ব্যবহার করে সরকার।

নিম্ন মধ্যবিত্ত, সীমিত আয়ের মানুষ, মহিলা, প্রতিবন্ধী ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সঞ্চয়পত্রের বিভিন্ন প্রকল্প চালু রয়েছে। সামাজিক সুরক্ষার কথা বিবেচনায় নিয়ে সঞ্চয়পত্রে তুলনামূলক বেশি মুনাফা (সুদ) দেয় সরকার। বর্তমানে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সুদের হার ১১.৭৬ শতাংশ। এ ছাড়া পরিবার সঞ্চয়পত্রে সুদের হার ১১.৫২ শতাংশ, ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে সুদ ১১.২৮ শতাংশ ও তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সুদের হার ১১.০৪ শতাংশ।

সরকারি হিসাবেই দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি এখন ৯.৯২ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও বেশি ১০.৪০ শতাংশ। জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ১১ শতাংশ ছাড়িয়ে ১১.৬৬ শতাংশে উঠেছিল; খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ১৪.১০ শতাংশ। কিন্তু হঠাৎ করেই সঞ্চয়পত্র বিক্রি অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে।

গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের পুরো সময়ে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি ছিল ২ হাজার ১১২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ঋণাত্মক। অর্থাৎ গত অর্থবছরে যত টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল, তার চেয়ে ২ হাজার ১১২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বেশি সুদ-আসল বাবদ সরকারের কোষাগার থেকে পরিশোধ করতে হয়েছিল। অথচ চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পরিস্থিতি ঠিক উল্টো। এই অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৩৩২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অর্থাৎ এই তিন মাসে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল বাবদ পরিশোধের পরও সরকারের কোষাগারে ৮ হাজার ৩৩২ কোটি ৮০ লাখ টাকা জমা ছিল; এই টাকা সরকার ঋণ হিসেবে নিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহার করছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি বেশ কমে গিয়েছিল; বিক্রির চেয়ে সুদ-আসল পরিশোধে ৩ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা বেশি চলে গিয়েছিল।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত দুই অর্থবছরে (২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪) সঞ্চয়পত্র থেকে কোনো ঋণ পায়নি সরকার; উল্টো আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল কোষাগারে থেকে পরিশোধ করেছে।

সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা গেছে, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৩৩২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর মানে হচ্ছে- এই তিন মাসে মোট যত টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে, তা থেকে আগে বিক্রি হওয়া সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধের পর ৮ হাজার ৩৩২ কোটি ৮০ লাখ টাকা সরকারের কোষাগারে জমা ছিল; এই টাকা সরকার তার প্রয়োজনমাফিক খরচ করেছে। অথচ গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের এই তিন মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা ঋণাত্মক (-)। তার মানে হচ্ছে ওই তিন মাসে যত টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে তার সঙ্গে ১ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা যোগ করে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধ করতে হয়েছে সরকারকে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই (জুলাই- সেপ্টেম্বর) সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ছিল ধণাত্মক (+)। অর্থাৎ যত টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে, গ্রাহকদের সুদ-আসল পরিশোধের পরও সরকারের কাছে অবশিষ্ট থেকে।
অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১৮৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ধণাত্মক। দ্বিতীয় মাস আগস্টে এই বিক্রির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৩৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা। তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে নিট বিক্রি ছিল জুলাই-আগস্ট দুই মাসের বিক্রির প্রায় দ্বিগুণ ৪ হাজার ১০৯ কোটি ৯ লাখ টাকা।

বিক্রির চাপ কমাতে ২০১৯ সালের ১লা জুলাই থেকে মুনাফার ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। একই সঙ্গে এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে টিআইএন (কর শনাক্তকরণ নম্বর) বাধ্যতামূলক করা হয়। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকলে সঞ্চয়পত্র বিক্রি না করার শর্ত আরোপসহ আরও কিছু কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তারপরও বাড়তে থাকে বিক্রি।

সর্বশেষ সঞ্চয়পত্র খাতে সরকারকে যাতে বেশি সুদ পরিশোধ করতে না হয়, সে জন্য বিক্রি কমাতে ২০২১ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ২ শতাংশের মতো কমিয়ে দেয় সরকার। এরপর থেকে বিক্রি কমতে থাকে।
বাজেট ঘাটতি মেটাতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ধরেছিল সরকার। নানা ধরনের কড়াকড়ি, সুদের হার হ্রাস এবং মূল্যস্ফীতি বাড়ায় মানুষের সঞ্চয়ে টান পড়ায় বিক্রি কমে যাওয়ায় এই খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত ঋণ পাচ্ছিল না সরকার। সে কারণে সংশোধিত বাজেটে লক্ষ্য কমিয়ে ২০ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। কিন্তু অর্থবছর শেষে সঞ্চয়পত্র থেকে এক টাকাও ঋণ পায়নি সরকার; উল্টো আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের সুদ-আসল পরিশোধ বাবদ ৩ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা কোষাগার থেকে অথবা ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে হয়।

২০২২-২৩ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে কোনো ঋণ না পাওয়ায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ১৮ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়। কিন্তু গত অর্থবছরের এই খাত থেকে কোনো ঋণ নিতে পারেনি সরকার। উল্টো ২১ হাজার ১২৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা কোষাগার থেকে গ্রাহকদের সুদ-আসল বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে। এর আগে ২০২১-২২ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ১৯ হাজার ৯১৬ কোটি টাকার ঋণ পেয়েছিল সরকার। ২০২০-২১ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিল ৪১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা।  চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ১৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ধরেছিল ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকার। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ৮ হাজার ৩৩২ কোটি ৮০ লাখ টাকা তিন মাসেই (জুলাই- সেপ্টেম্বর) নেয়া হয়ে গেছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, সামপ্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স অনেক বেড়েছে। রেমিট্যান্সের একটি অংশ দিয়ে সঞ্চয়পত্র কেনেন অনেকেই। অন্যদিকে অনেক ব্যাংক আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। সে কারণে আমানতের সুদের হার আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেলেও মানুষ এখন আর কোনো ব্যাংকেই টাকা রাখছে না। যতটুকু সঞ্চয় আছে, তা দিয়ে ঝুঁকিমুক্ত সঞ্চয়পত্র কিনছে। আর দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারে মন্দা চলছে। ফলে সবাই এখন সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকছে।