Showing posts with label সন্ত্রাসবাদ. Show all posts
Showing posts with label সন্ত্রাসবাদ. Show all posts

Saturday, January 23, 2010

মেসের নামে অস্ত্রের ঘাঁটি

রোববার চট্টগ্রামে শিবিরের মেস থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য ও জিহাদি বই উদ্ধারের পর যেসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে, তা শিক্ষাঙ্গন তো বটেই, জননিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত বিপজ্জনক। নগরের ডবলমুরিং থানার মিস্ত্রিপাড়ার হক ভিলায় পুলিশ অভিযান চালালে শিবিরের সব জারিজুরি ফাঁস হয়ে যায়। পুলিশ বমাল শিবিরকর্মীদের আটক করলেও শিবির নেতারা অপরাধ স্বীকার করতে চাইছেন না। তাঁরা উল্টো পুলিশের ওপর দায় চাপাতে চাইছেন। যদিও আটক কর্মীরা বলেছেন, বড় ভাইয়েরা মেসে অস্ত্র রাখতেন। এই বড় ভাই আর কেউ নন, তাঁরা শিবিরের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতা। এখন পুলিশেরই দায়িত্ব বড় ভাইদের খুঁজে বের করা। সে সঙ্গে অন্যান্য স্থানে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রও উদ্ধার করতে হবে। বছরের শুরুতে শিক্ষাঙ্গন যে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, তার পেছনে শিবিরের হাত থাকাও অস্বাভাবিক নয়।
আসলে পড়াশোনার নাম করে শিবির বিভিন্ন স্থানে মেস ভাড়া করলেও সেখানে বিদ্যাবহির্ভূত কাজই বেশি হয়ে থাকে। এসব মেসে শিবিরকর্মী ছাড়াও জামায়াতের নেতা-কর্মীরা আস্তানা গেড়ে বসেছেন। রোববার মেস থেকে যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে একজন জামায়াতের কর্মীও আছেন, যিনি চিকিত্সা পেশায় নিযুক্ত। এ থেকেই প্রমাণিত হয়, তাঁদের যোগাযোগ বহুদূর বিস্তৃত। শুধু ডবলমুরিং থানা নয়, চট্টগ্রামজুড়েই শিবির মেস-ব্যবসার আড়ালে ছোট ছোট অস্ত্রের ঘাঁটি গড়ে তুলেছে। মহানগরে শিবির-পরিচালিত ১৩৫টি মেস রয়েছে। কয়েক মাস আগে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে প্রায়ই সংঘাত-সংঘর্ষের পেছনেও শিবিরের হাত ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনোভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছিল না। পরে তারা আশপাশে শিবির-পরিচলিত পাঁচটি মেস বন্ধ করে দিলে ইনস্টিটিউটে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসে। হক ভিলা থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ মানুষ যেমন উদ্বিগ্ন, তেমনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও ভাবিয়ে তুলেছে।
মহানগরের কেন্দ্রস্থলেই যদি শিবির অস্ত্রের ঘাঁটি গড়ে তুলতে পারে, তাহলে দুর্গম বা প্রত্যন্ত এলাকায় কী হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। চট্টগ্রাম নগরের বাইরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর কারমাইকেল কলেজ, খুলনার বিএল কলেজ এলাকায়ও শিবিরের শক্ত ঘাঁটি রয়েছে। প্রতিটি এলাকায় শিবির-পরিচালিত মেস আছে। এসব মেস ভাড়ার উদ্দেশ্য যদি পড়াশোনা করার জন্য হতো, তা হলে কারও কিছু বলার থাকত না। কিন্তু শিবির মেস করে রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্দেশ্যে। মেসের পাশাপাশি তাঁরা এলাকার বাসিন্দাদের নানা কৌশলে পক্ষে টানতে চেষ্টা করেন। এমনকি এলাকায় বিয়েশাদি করে স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যাওয়ার ঘটনাও কম নয়। পুলিশ যখন চট্টগ্রামে শিবিরের মেস থেকে অস্ত্র উদ্ধার করছে, তখন শিবিরের নেতারা জামায়াতের আমিরের উপস্থিতিতে দেশ অচল করার হুমকি দেন। এ সাহস তাঁরা কোত্থেকে পান?
আমরা অতীতে দেখেছি, এসব অস্ত্র উদ্ধারের কিছুদিন পর পুলিশের তত্পরতা থেমে যায় এবং মামলার তদন্তও ঠিকমতো হয় না। ফলে অপরাধীরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে আসেন। চট্টগ্রামের ঘটনায় তা হবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস। মনে রাখা প্রয়োজন, এটি সাধারণ অপরাধ নয়। এর সঙ্গে সেই রাজনৈতিক অপশক্তি রয়েছে, যারা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিশ্বাস করে না। সারা দেশে শিবিরসহ যেসব ছাত্র নামধারী ব্যক্তি সন্ত্রাস চালাচ্ছেন এবং অবৈধ অস্ত্রের ঘাঁটি গড়ে তুলেছেন, তাঁদের মূলোত্পাটন করতে হবে।

Wednesday, December 9, 2009

বাংলাদেশের ভূখণ্ড -সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়স্থল হতে পারে না

সন্ত্রাসবাদ আন্তর্জাতিক রূপ নেওয়ার পর এক দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য দেশে সন্ত্রাসী তত্পরতা চালানোর কৌশলকে সন্ত্রাসীরা সহজ পথ হিসেবে বেছে নেয়। তবে সন্ত্রাসীরা যে দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তাদের তত্পরতা চালায়, সে দেশের ভূমিকার বিষয়টি এ ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এ ধরনের কাজে তার ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিতে পারে না। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোববার জোরের সঙ্গে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মাটি আমরা কখনো কারও বিরুদ্ধে ব্যবহূত হতে দেব না।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ ঘোষণাকে আমরা স্বাগত জানাই। কারণ বাংলাদেশের ভূখণ্ড বিদেশি সন্ত্রাসীরা ব্যবহার করুক বা সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ও মদদদাতা দেশ হিসেবে কোনোভাবে বাংলাদেশের নাম উচ্চারিত হোক, তা প্রত্যাশিত নয়। একই সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ ঘোষণাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে চাই।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণভাবে বাংলাদেশের মাটি ‘কারও বিরুদ্ধে’ ব্যবহূত হতে না দেওয়ার ঘোষণা দিলেও কার্যত ভারতকে উদ্দেশ করেই তা বলেছেন। কারণ ভারতের বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয়-প্রশ্রয় ও মদদ পাচ্ছে—এ ধরনের অভিযোগ ভারত দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে। সম্প্রতি আসামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি জায়গা থেকে আটক হওয়ায় বোঝা যায়, বর্তমান সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে তারা আর বাংলাদেশে পালিয়ে থাকতে বা অবস্থান করতে পারেনি। ভারতীয় পত্রপত্রিকা ও গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, অবশ্য বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের ধরে ভারতের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এ ক্ষেত্রে যেটাই সত্য হয়ে থাক, বাস্তবতা হচ্ছে, সরকার বর্তমানে এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সেটাই প্রকাশ পেয়েছে।
তবে বিষয়টিকে অবশ্যই পারস্পরিকভাবে দেখা জরুরি। ভারত বা অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ড বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে না, সেটাও বাংলাদেশকে নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের অনেক অপরাধী ও বড় বড় সন্ত্রাসী ভারতে পালিয়ে রয়েছে। অনেকে বিভিন্ন জেলে আটক রয়েছে বলেও পত্রপত্রিকার খবরে জানা যায়। কোনো দেশই যদি তার ভূখণ্ডে অন্য দেশের সন্ত্রাসী বা অপরাধীদের আশ্রয় না দেয় এবং এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়, তবে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন পথ খুলে যেতে পারে। এ অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় নিরাপত্তার বিষয়টি এখন ভারতের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনার সঙ্গেও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী ও জঙ্গি চক্রের যোগসাজশের বিষয় দিন দিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই জঙ্গি ও সন্ত্রাসী চক্রের নেটওয়ার্ক ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ যতটা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে এবং যেভাবে এ অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাতে পারস্পরিক সহযোগিতা ছাড়া তা মোকাবিলা করা অসম্ভব। ফলে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিকভাবেও উদ্যোগ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

Friday, November 13, 2009

অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করুন -হাসপাতাল পরিচালকের ওপর হামলা

নয় দিন পার হয়ে গেল, কিন্তু জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক এ কে এম মুহিবুল্লাহর ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে যে সন্ত্রাসীরা হামলা করেছিল, তাদের গ্রেপ্তার ও আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হলো না। এ ব্যর্থতা যদি পুলিশ বা প্রশাসনের হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন জাগে, এদের ওপর ভরসা করে কি আইনশৃঙ্খলার উন্নতি আশা করা যায়? অভিযুক্ত কয়েকজন অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা কি এতই দুঃসাধ্য?
৩ নভেম্বর হাসপাতালের পরিচালকের ঘরে ঢুকে সন্ত্রাসীরা ভাঙচুর ও পরিচালককে লাঞ্ছিত করে তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। তাদের কথামতো চলার হুমকি দেওয়ার দুঃসাহসও তারা দেখায়। এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে মামলা হয়। পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করলেও সে এই ঘটনায় অভিযুক্ত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া এ ব্যাপারে আর কোনো অগ্রগতিও নেই। সন্ত্রাসীদের খুঁটির জোর কি এতই বেশি যে তাদের কেশাগ্র স্পর্শ করার সাধ্য কারও নেই? এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকৃষ্ট হোক। কারণ স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একাধিকবার বলেছেন, সন্ত্রাসীরা যে-ই হোক, তারা কোনোভাবেই ছাড় পাবে না। এখন সে কথার বাস্তবায়ন দরকার।
জানা গেছে, একদল সন্ত্রাসী হাসপাতালে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে চিকিত্সাসেবার কাজে বাধা দেয়। তাদের কাজ হলো রোগী ভাগিয়ে বাইরে নিয়ে যাওয়া। তারা হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে ব্যবসা করতে চায়। বিভিন্ন সময় দরপত্র কার্যক্রমে সন্ত্রাসীদের হস্তক্ষেপ করার অভিযোগও রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব অনৈতিক কাজে সব সময় বাধা দেয়। ফলে ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসীরা পরিচালকের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি নিয়ম অনুযায়ী সেবা কার্যক্রম চালাতে না পারে, তাহলে তো সরকারেরই সেটা দেখা দরকার। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, থানার পুলিশের যেন কোনো গরজ নেই।
এটা সত্যি দুঃখজনক যে সরকারি হাসপাতালগুলো বহিরাগত সন্ত্রাসীদের উত্পাতে বিপর্যস্ত। এর আগে আমরা দেখেছি, পঙ্গু হাসপাতালে একশ্রেণীর দালাল রোগীদের হাসপাতালে যেতে বাধা দেয়। তারা নানাভাবে সরল রোগীদের প্রভাবিত করে। তাদের বাধা দিলে ভাঙচুর করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালেও দেখা যায়, রোগীদের ওষুধ-পথ্য নিয়ে একশ্রেণীর সন্ত্রাসী ব্যবসা করে। উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কথা সরকার সব সময় বলে আসছে। কিন্তু সেটা করতে হলে হাসপাতালগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসী চক্রের অপতত্পরতা বন্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে পুলিশ ও প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
হূদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিত্সক ও কর্মচারীরা হামলার প্রতিবাদ ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছেন। আমরা আশা করব, থানা-পুলিশ অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক সাজা প্রদানের উদ্যোগ নেবে।

Saturday, September 19, 2009

কুষ্টিয়ায় সন্ত্রাস

সম্প্রতি কুষ্টিয়া গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে নেতিবাচক খবরের জন্য, যা একজন কুষ্টিয়াবাসী হয়ে আমার জন্য খুবই লজ্জাকর। প্রথম আলো ধারাবাহিক প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে এ জেলার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চরমপন্থী ও স্থানীয় সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্যের কথা।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এ জেলায় এখন প্রায় প্রতিদিনই রক্তের গন্ধ পাওয়া যয়। খুনোখুনির উত্সবে মেতে উঠেছে চরমপন্থী ও স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর ৬৫টি খুনের ঘটনা ঘটেছে কুষ্টিয়ায় (প্রথম আলো, ২০ আগস্ট, ২০০৯)।
এরই মধ্যে গত ২০ আগস্ট পুলিশের মহাপরিদর্শক ও র্যাবের মহাপরিচালক কুষ্টিয়ায় এসে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে গেছেন। কুষ্টিয়ায় হঠাত্ এই খুনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে পাওয়া গেছে সড়ক ও জনপথের ১৮ কোটি টাকার দরপত্রের নিয়ন্ত্রণ, পানি উন্নয়ন বোর্ড (জিকে প্রকল্প), শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ঠিকাদারি কাজের নিয়ন্ত্রণ (প্রথম আলো, ২০ আগস্ট, ২০০৯) আর এর পেছনে মদদ দিচ্ছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতারা। ইতিমধ্যে জেলা পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দিন খান বলেছেন, রাজনৈতিক মদদ না থাকলে এ ধরনের বিস্তার ঘটতে পারে না (প্রথম আলো, ২০ আগস্ট, ২০০৯)। তিনি যথার্থই বলেছেন।
এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় এলাকাভিত্তিক সন্ত্রাসীরা কিছু এলাকায় ফিরে এসে তাদের কার্যক্রম আবার পুরোদমে শুরু করেছে। কুষ্টিয়া জেলায় এখন সরকারি দল ও বিরোধী দলে সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন পদ খল করে রয়েছে। এতে তাদের সন্ত্রাসী ও টেন্ডারবাজি কার্যকলাপ আরও সহজ হয়ে গেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী আপনারাই তো বলেছেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। তবে কেন এসব সন্ত্রাসীকে আপনাদের দলে জায়গা দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিকে কলুষিত করছেন। আমরা তো আপনাদের কাছে বেশি কিছু চাই না। আমরা চাই একটু শান্তি।
মুজিবর রহমান, কুষ্টিয়া।