Thursday, September 11, 2025

পদ্মায় ‘এত বড়’ ঢাঁই মাছ, লাখ টাকায় বিক্রি

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে আজ বৃহস্পতিবার সকালে একটি ঢাঁই মাছ বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৫০০ টাকায়। বিলুপ্তপ্রায় এই ঢাঁই মাছটির ওজন ছিল প্রায় ২২ কেজি ৬০০ গ্রাম।

আজ ভোরের দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের অদূরে জেলেদের জালে মাছটি ধরা পড়ে।

স্থানীয় কয়েকজন মৎস্যজীবী বলেন, মানিকগঞ্জের জাফরগঞ্জ এলাকার জেলে জীবন হালদার আরও জেলেদের সঙ্গে মাছ ধরতে গতকাল রাতে পদ্মা নদীতে যান। দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার ভাটিতে তাঁরা জাল ফেলেন। আজ ভোর পাঁচটার দিকে তাঁদের জালে বড় ধরনের ঝাঁকি দিলে বুঝতে পারেন, বড় কিছু একটা আটকা পড়েছে। পরে জাল গুটিয়ে নৌকায় তুলে দেখতে পান বিশাল আকারের একটি ঢাঁই মাছ। সকালে তাঁরা বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে।

স্থানীয় আনোয়ার হোসেন খান ওরফে আনুখার আড়তে মাছটি তোলা হয়। এ সময় ওজন দিয়ে দেখা যায়, মাছটির ওজন প্রায় ২২ কেজি ৬০০ গ্রাম।

পরে বিক্রির জন্য নিলামে তোলা হলে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ফেরিঘাট এলাকার মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ মাছটি কেনেন। দাম পড়ে ১ লাখ ৪ হাজার টাকা। তিনি বলেন, অনেকেই পদ্মা নদীর এত বড় ঢাঁই মাছ আগে দেখেননি। এ কারণে মাছটি একনজর দেখতে অনেকে ভিড় করেন।

গোয়ালন্দ বাজারের গাড়িচালক সোহানুর রহমান বড় ঢাঁই মাছের কথা শুনে দ্রুত গাড়ি নিয়ে মাছ দেখতে যান। তিনি বলেন, ‘এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন আসা-যাওয়া করি। প্রতিদিন পদ্মা নদীর অনেক মাছ বেচাকেনা করতে দেখি। মাঝেমধ্যে ঢাঁই মাছও দেখা যায়। কিন্তু কোনো দিন এত বড় ঢাঁই মাছ দেখিনি।’

দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ফেরিঘাট এলাকার মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ বলেন, ‘জীবনে এত বড় ঢাঁই মাছ কখনো দেখিনি।’ এর সঙ্গে তিনি যোগ করেন, মাছটি বিক্রির জন্য তিনি ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে থাকেন। নারায়ণগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা কানাডাপ্রবাসী জাহিদুল ইসলাম মাছটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। ওই ক্রেতা ১ লাখ ৮ হাজার টাকায় ঢাঁই মাছটি কিনে নেন।

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট বাজারে এক ঢাঁই মাছ বিক্রি হলো ১ লাখ ৮ হাজার ৫০০ টাকায়। আজ বৃহস্পতিবার সকালে
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট বাজারে এক ঢাঁই মাছ বিক্রি হলো ১ লাখ ৮ হাজার ৫০০ টাকায়। বিলুপ্তপ্রায় ঢাঁই মাছটির ওজন ছিল প্রায় ২২ কেজি ৬০০ গ্রাম। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট বাজারে আজ বৃহস্পতিবার সকালে ছবি: প্রথম আলো

ভারতের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন ক্ষমতাচ্যুত কেপি শর্মা

স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানানোয় প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর অভিযোগ করেছেন নেপালের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। গতকাল মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) জেন-জির বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন কেপি শর্মা।

গুঞ্জন ওঠে, তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। তবে অলির খোঁজ মিলেছে। তিনি এখনো নেপালেই অবস্থান করছেন এবং সামরিক বাহিনীর সুরক্ষায় শিবপুরী এলাকায় রয়েছেন। সেখান থেকে তিনি সরাসরি জেন জি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বার্তাও দিয়েছেন।

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) নেপালি সংবাদমাধ্যম খবর হাব এই তথ্য জানিয়েছে।

আজ নিজ দলের মহাসচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন কেপি শর্মা। সেখানে নিজের প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর জন্য ভারতকে দায়ী করেছেন তিনি।

চিঠিতে তিনি বলেন, যদি আমি লিপুলেখ অঞ্চল নিয়ে প্রশ্ন না তুলতাম এবং অযোধ্যা ও দেবতা রাম নিয়ে কথা না বলতাম, তাহলে আমি হয়তো ক্ষমতায় থাকতাম। আমি ক্ষমতা হারিয়েছি কারণ অযোধ্যতায় দেবতা রামের জন্ম হয়েছে, এই দাবির বিরোধিতা করেছিলাম।

ভারত ও নেপালের মধ্যে লিপুলেখ গিরিপথকে কেন্দ্র করে বিরোধ রয়েছে। এই বিতর্কের মূলে রয়েছে কালাপানি অঞ্চল। ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশের মধ্যে এই অঞ্চলটির মাধ্যমে সীমান্ত নির্ধারিত হয়েছে। কালী নদীর উৎপত্তিস্থলকে নির্ধারণ করে সীমান্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

নেপালের দাবি হলো, কালী নদীর উৎপত্তি লিম্পিয়াধুড়া থেকে, যা লিপুলেখের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। তাদের দাবি এ অনুযায়ী, কালাপানি ও লিপুলেখ উভয়ই নেপালের ভূখণ্ড। অন্যদিকে, ভারতের দাবি নদীটি কালাপানি গ্রামের কাছে শুরু হয়েছে। ফলে এ অঞ্চলটিকে নিজেদের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের অংশ হিসেবে দাবি করে তারা।

কেপি শর্মা অলির সরকার এ অঞ্চল নিয়ে কঠোর ছিল। অলি ঘোষণা দেন, ‘মহাকালী নদীর পূর্ব দিকের লিম্পিয়াধুড়া, লিপুলেখ এবং কালাপানি নেপালের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

এই ঘোষণার পর ভারতকে ওই অঞ্চলে রাস্তা নির্মাণ এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করতে অনুরোধ করেছিল নেপাল। এমনকি দেশটি চীনকে জানিয়েছিল, এটি তাদের ভূখণ্ড। তবে ভারত নেপালের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বলেছিল, ১৯৫৪ সাল থেকে তারা লিপুলেখ দিয়ে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য করছে।

২০২০ সালের জুলাইয়ে কেপি শর্মা অলি বলেছিলেন, দেবতা রাম ভারতে নয়, নেপালে জন্ম নিয়েছিলেন। তিনি মন্তব্য করে বলেন, ‘রামের অযোধ্যা রাজ্য নেপালের পূর্ব বীরগঞ্জে অবস্থিত। ভারত আরেকটি ভুয়া অযোধ্যা তৈরি করেছে।’

ওই সময় অলি বলেন, দেবতা রাম সীতাকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু ভারতে জন্ম নেওয়া রাম কীভাবে নেপালের জনকপুরের সীতাকে বিয়ে করেছিলেন?

প্রাচীন আমলে দূরের স্থানে বিয়ের প্রচলন ছিল না বলেও মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে ভুল ধারণা আছে সীতা ভারতের রামকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু রাম ভারতীয় নয় নেপালি ছিলেন।’

প্রশ্ন রেখে আরও বলেন, ‘রাম কীভাবে ভারতের উত্তর প্রদেশ থেকে নেপালের জনকপুরে সীতাকে বিয়ে করতে এসেছিলেন? প্রাচীন আমলে দূরের স্থানে বিয়ের প্রচলন ছিল না। ওই সময় কোনো ফোনও ছিল না। তাহলে তারা কীভাবে যোগাযোগ করেছিলেন? প্রাচীন আমলে আশপাশের রাজ্যগুলোর মধ্যে বিয়ে হতো। এত দূর গিয়ে কেউ বিয়ে করত না।’

এমন বক্তব্য দেওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ভারতে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছিল।

সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে

কে পি শর্মা অলি ও নরেন্দ্র মোদি। ছবি : সংগৃহীত

সংস্কার: সফল বাস্তবায়ন আদৌ কি সম্ভব? by নুসরাতে আজিজ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগে গঠিত ছয়টি কমিশনের মধ্যে পাঁচটির ১৬৬টি সংস্কার প্রস্তাবকে মূল সংস্কার প্রস্তাব হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সেগুলো বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

এই মূল প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে সাংবিধানিক সংস্কার কমিশনের ৭০টি, নির্বাচনী সংস্কার কমিশনের ২৭টি, বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশনের ২৩টি, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ২৬টি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের ২০টি প্রস্তাব।

উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে বর্তমান সংবিধানের ধারা ৭০ (সংসদ সদস্যদের ভোটের ক্ষেত্রে ফ্লোর ক্রসিং) সংশোধন, সংসদীয় কমিটির গঠনপদ্ধতি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ দুই মেয়াদের বেশি না হওয়া, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা গঠন, সংস্কার বাস্তবায়নে এনসিসির তদারকি ও পদ্ধতিগত চেক, নারী আসন ও নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কার এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার পুনর্বহাল।

তা ছাড়া সংস্কারগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় নিয়োগ কমিশন গঠন, জুলাই অভ্যুত্থান ২০২৪-এর ঘটনাবলির (গণহত্যা/ নির্বাচনী জালিয়াতি/ দুর্নীতি) জন্য একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন প্রতিষ্ঠা, বৃহত্তর সিভিল সার্ভিস সংস্কার—আমলাতন্ত্রকে সুবিন্যস্তকরণ, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে সাংবিধানিক সংশোধনী এবং সম্পদের প্রকৃত মালিকানার উৎস উন্মোচন করা, যাতে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মতো কেউ বিদেশে ২৯৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ৪৮২টি সম্পত্তি ক্রয়ের জন্য টাকা পাচার করতে না পারেন।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে পুলিশ কমিশনের প্রতিবেদনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব—একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন প্রতিষ্ঠা—উল্লেখ করা হলেও, তা কেন যেন মূল সংস্কার প্রস্তাবগুলোর তালিকায় স্থান পায়নি।

তা ছাড়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার, যা মূল সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে আসেনি, তা হলো বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রয়োগের স্বাধীনতার বিষয়।

প্রশ্ন উঠতে পারে, এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ? একটি উদাহরণ দিলেই এর গুরুত্ব সহজে অনুধাবন করা যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর আহসান মানসুর বলেছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকার পতনের আগে ১৫ বছরে দেশের আর্থিক ব্যবস্থা থেকে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়েছিল।

এটি কারও অজানা নয় যে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকগুলো থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকায় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকির ক্ষমতা তৎকালীন সরকার দ্বারা খর্ব হওয়ায় এস আলম গ্রুপ এই অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার করতে পেরেছে।

দুদকের দাখিলকৃত নথি অনুসারে, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম, তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং তাঁর সহযোগীরা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে অবৈধভাবে বেনামি ঋণ নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং দেশে ও বিদেশে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের নামে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন।

ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকায় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকির ক্ষমতা সরকার দ্বারা খর্ব হওয়ায় এস আলম গ্রুপ এই অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার করতে পেরেছে। তা ছাড়া শেখ হাসিনা প্রশাসনের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহায়তায় জোরপূর্বক ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিযোগ এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে রয়েছে।

অথচ বাংলাদেশ ব্যাংককে যদি স্বাধীনভাবে ব্যাংকিং সিস্টেম তদারক করতে দেওয়া হতো, তবে অতি সহজেই বাংলাদেশ ব্যাংক এই দুর্নীতিকে ধরতে পারত এবং এতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করত। আর এত হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হতো না।

এখানে বলে রাখা ভালো যে যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার–১৯৭২-এর অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনি কর্তৃত্ব রয়েছে এবং এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, প্রকৃতপক্ষে এটি বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কাজ করে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক সরকার দ্বারা শক্তভাবে নিয়ন্ত্রিত একটি প্রতিষ্ঠান।

জুলাইয়ের গণবিপ্লব শুরু হয়েছিল মূলত ‘কোটা নয়, মেধা’ আন্দোলনকে ভিত্তি করে। মেধার সঠিক মূল্যায়নে একটি দলনিরপেক্ষ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে আসেনি। কারোরই ভুলে যাওয়ার কথা নয় যে দেড় দশক ধরে কীভাবে দলীয়ভাবে সরকারি নিয়োগ হয়েছে।

তাই বাংলাদেশের জন্য একটি স্বাধীন পাবলিক সার্ভিস কমিশন অতি প্রয়োজন, যেখানে কমিশনের চেয়ার ও মেম্বাররা দলনিরপেক্ষ হবেন।

পিএসসির চেয়ার ও মেম্বার হিসেবে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া জরুরি, যাঁরা কোনো দলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন। শুধু তাঁদের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। তবেই তাঁরা মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন করবেন। কিন্তু পিএসসির সদস্যরা যদি কোনো দলীয় লোক হন আর আমরা তাঁদের মাধ্যমে মেধাবীদের নিয়োগের আশা করি, তবে সেটি হবে আমগাছ থেকে কাঁঠাল আশা করার মতো, যা কখনো সম্ভব নয়।

বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনত একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংস্থা, কিন্তু বাস্তবে এর স্বাধীনতা গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। বলা হয়, কোনো দল ক্ষমতা ছাড়লে দুদককে খুব সক্রিয় হতে দেখা যায়। যে দল ক্ষমতায় থাকে, দুদক সে দলের কোনো দুর্নীতি দেখতে পায় না।

দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার প্রস্তাবে, দুদক সংস্কার কমিশন প্রকৃতপক্ষে দুদককে আরও কার্যকর, স্বায়ত্তশাসিত এবং বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে অনেকগুলো সুপারিশ পেশ করেছে।

এই কাঠামোগত, আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক এবং পরিচালনাগত সংস্কারগুলো কার্যকর করা দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করা দুর্নীতি মুক্তির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য প্রাথমিক পদক্ষেপ।

এ ক্ষেত্রে দ্বিমত করা কোনো রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য ভালো হওয়ার কথা নয়। এ বিষয়ে কোন কোন দল ঐকমত্য পোষণ করেছে, তা জাতির উদ্দেশে প্রকাশ করা প্রয়োজন।

বর্তমানে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের গঠনপ্রণালি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি বড় ধরনের মতানৈক্য লক্ষ করা যাচ্ছে। কেউ উভয় কক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) চাচ্ছে, কেউ শুধু উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি চাচ্ছে, আবার কেউ কোনো কক্ষেই পিআর পদ্ধতি চাচ্ছে না—তারা চাচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রতিনিধিত্ব।

এখানে উল্লেখ করা দরকার যে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ বাংলাদেশের জন্য সম্পূর্ণ নতুন ব্যবস্থা। ক্ষমতার ‘চেক অ্যান্ড ব্যালান্স’ নিশ্চিত করার জন্য এটি হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন।

যদি দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটের প্রতিনিধিত্ব হয়, তবে তা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের মূল উদ্দেশ্যকে (ক্ষমতার চেক অ্যান্ড ব্যালান্স) ব্যাহত করবে।

কারণ, দুই কক্ষেই ক্ষমতাসীন দলই শক্তিশালী থাকবে এবং তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা যাবে না। আবার দুই কক্ষে পিআর থাকলেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দেবে।

কারণ, দুই কক্ষেই একই ধরনের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। তা ছাড়া নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটের প্রতিনিধিত্ব একটি নির্বাচিত দলকে তার কার্যক্রম, দলীয় মেনিফেস্টো অনুসারে পরিচালনার সুযোগ করে দেবে। তাতে জনগণ ওই দলকে ভালোভাবে যাচাই করার সুযোগ পাবে।

বাস্তবে দুটি পদ্ধতির কিছু ভালো ও কিছু মন্দ দিক পাওয়া যায়। তাই দুই কক্ষে একই পদ্ধতির ব্যবহার বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

দুই কক্ষেই পিআর পদ্ধতির ব্যবহার একধরনের ‘একলাফে গাছের চূড়ায় ওঠার মতো’ হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মনে রাখা উচিত, বাংলাদেশে এখনো অপরিণত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা রয়েছে।

বাংলাদেশের অনেক ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ ও সঠিক প্রতিনিধি নির্বাচনের গুরুত্ব অনুধাবন করেন না। তাঁরা তাঁদের নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকদের দায়িত্বের ব্যাপারে ওয়াকিবহাল নন।

আমার এই আলোচনার প্রধান লক্ষ্য শুধু এটি নয় যে কোন কোন সংস্কার বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ; বরং তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো, যে সংস্কারগুলো জাতীয় ঐকমত্য কমিশন (এনসিসি) গুরুত্বপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে, সেগুলোর সফল বাস্তবায়ন আদৌ সম্ভব হবে কি না।

আমরা দেখেছি, রাজনৈতিক দলগুলো অনেকগুলো সংস্কারের পক্ষে ঐকমত্য পোষণ করেছে, আবার কোনো কোনো সংস্কারে তাদের মধ্যে ঐকমত্য হয়নি। কিন্তু ঐকমত্য হলেও অনেকগুলো সম্মত সংস্কারের (যেমন ধারা ৭০, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত, নতুন তত্ত্বাবধান সংস্থা এনসিসির কার্যক্রম অব্যাহত থাকা) জন্য সাংবিধানিক সংশোধন প্রয়োজন।

বর্তমান সংবিধান অনুসারে, সংশোধনের জন্য সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন, যা একটি অনির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অসম্ভব। এর মানে, এই মূল সংস্কারগুলোর জন্য সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট প্রয়োজন হবে।

রাজনৈতিক দল নির্বিশেষে, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে এই সংস্কারগুলো আইনে পরিণত করা সম্ভব। জাতীয় নির্বাচনে কোনো একটি দল যদি দু-তৃতীয়াংশ সংসদীয় সিটে নির্বাচিত হয়, তবে তারা চাইলেও এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে।

আবার দুই-তৃতীয়াংশ সংসদীয় সিট পাওয়া দল ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চাইলে সংস্কারগুলো পাস না করে সেগুলো এড়িয়ে যেতে পারে, যেমনটা হয়েছিল ২০১১ সালে।

সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধানের ১৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে গঠিত ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা’র অধীনে ২০০৯ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে, দুই-তৃতীয়াংশ সিটের ক্ষমতাবলে ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ পঞ্চদশ সংবিধানের মাধ্যমে সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে প্রায় দেড় যুগ ধরে কুক্ষিগত করে রেখেছিল।

তাই এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অবশ্যই একটি অধ্যাদেশ জারি করতে হবে অথবা ঐকমত্যের সনদ নিশ্চিত করতে হবে। তাতেও পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সরকারগুলোর কাছ থেকে এগুলো আইনি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে বাংলাদেশের রাজনীতি পরিচালিত হয় অনেকটা ‘অর্থ ও ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার’ উপায় হিসেবে। অল্প কিছু ভালো রাজনীতিবিদকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের গতানুগতিক রাজনীতিবিদেরা দেশের উন্নয়নের কথা বলেন শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বা ক্ষমতায় থাকার জন্য।

দেশের উন্নয়ন বা নাগরিকদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি তাঁদের আসল উদ্দেশ্য থাকে না। তাই যে দলই ক্ষমতায় গেছে বা ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যাবে, সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করতে পারছে না যে তাদের হাতে এই সংস্কারগুলো বাস্তবে রূপ নেবে।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি অরাজনৈতিক সরকার। অধ্যাপক ইউনূসের সরকার এসেছে মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে—গণহত্যার বিচার, কলুষিত রাজনীতির সংস্কার এবং একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে। এই সরকার ক্ষমতায় এসেই ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছে।

কমিশনগুলো কয়েক মাস সময় নিয়েছে কোন কোন সংস্কার দেশের জন্য জরুরি, তা খুঁজে বের করতে। এখন জাতির কাছে প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো দৃশ্যমান। প্রতিটি দলীয় সরকারই তাদের দলীয় স্বার্থে অনেকগুলো সংস্কার কার্যকর করতে চাইবে না, সেটি মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। মৌলিক সংস্কারগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সংসদীয় কমিটির’ কোনো কোনোটিতে বিরোধী দলের এমপি সভাপতিত্ব করবেন। কোনো মন্ত্রী বা মন্ত্রণালয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব দেখা দিলে বা কোনো দুর্নীতি ধরা পড়লে, সরকারদলীয় সদস্যরা সেই মন্ত্রী বা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারবেন (আর্টিকেল ৭০ সংস্কার)।

প্রশ্ন হলো, কোনো দল দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সরকার গঠন করলে তারা কি এই সংস্কার বাস্তবায়ন করতে চাইবে? বাংলাদেশের অতীত ইতিহাস বলে, তারা এই সংস্কার বাস্তবায়ন করতে চাইবে না। একই রকম আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার এনসিসি প্রস্তাব করেছে, যা বাস্তবে নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার বাস্তবায়ন করতে চাইবে না।

তাই ‘জুলাই জাতীয় সনদ’–এর বাস্তবায়ন হলো এনসিসি সংস্কার প্রক্রিয়ার একটি কার্যকর ফলাফল। সে জন্য এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেই একটি অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে বা (মূল রাজনৈতিক দলগুলোর) ঐকমত্য সনদ (জুলাই সনদ) প্রকাশের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের প্রাথমিক ধাপ অতিক্রম করতে হবে—যা হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এত দিনের প্রচেষ্টার একটি প্রতিফলন।

অন্যথায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত এতগুলো কমিশনের এত দিনের প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

এটি অনস্বীকার্য যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান অর্জন হলো অর্থনীতিকে সচল রাখা এবং বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত করা। যেকোনো কারণেই হোক, এই সরকার এখনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি; বরং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের তুলনায় সরকারের অর্জন অনেক কম।

গণহত্যার বিচারেও দৃশ্যমান কোনো অর্জন এখনো নেই। মানুষ জানে, জুলাইয়ের গণহত্যার বিচার একটি সময়সাপেক্ষ বিষয়। অবশ্য সে ক্ষেত্রে সরকার অন্তত একটি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে।

যদিও অনেকেই মনে করেন এ ক্ষেত্রে আরও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হতে পারত। সর্বোপরি এই মুহূর্তে সংস্কার এবং নির্ভরযোগ্য নির্বাচনই হতে পারে এই সরকারের অন্যতম অর্জন—যদি সরকার এ দুটি কাজ সঠিকভাবে আঞ্জাম দিতে সক্ষম হয়।

* ড. নুসরাতে আজীজ, গবেষক ও একাডেমিক

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-09-07%2Ffqzfvyzt%2FScreenshot-2025-09-07-184404.jpg?rect=0%2C15%2C913%2C609&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif

কাতারে ইসরাইলি হামলার পর কূটনীতি ধ্বংসস্তূপে by জেরেমি বোয়েন

মানবজমিনঃ প্রায় এক বছর আগে আমি দোহায় হামাস নেতা ও প্রধান আলোচক খলিল আল-হাইয়াকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলাম। আমি তার সঙ্গে দেখা করি একটি বাড়িতে। মঙ্গলবার বিকেলে ইসরাইল যে ভবনটি আক্রমণ করেছে তার কাছাকাছি ছিল এই বাড়ি। গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই আল-হাইয়া ছিলেন হামাসের প্রধান আলোচক। তিনি কাতারি ও মিশরীয় মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইসরাইলি ও আমেরিকানদের কাছে বার্তা পাঠাতেন ও গ্রহণ করতেন।

যখন যুদ্ধবিরতি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতো, তখন আল-হাইয়া এবং যাদের মঙ্গলবার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে তারা ইসরাইলি ও আমেরিকান প্রতিনিধি দলের কাছাকাছিই অবস্থান করতেন।
যখন হামলা হয়, আল-হাইয়া ও অন্য শীর্ষ হামাস নেতা গাজার যুদ্ধ শেষ করা এবং অবশিষ্ট ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তি দিতে সর্বশেষ মার্কিন কূটনৈতিক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছিলেন।
ইসরাইলের দ্রুত দায় স্বীকার করায় সামাজিক মাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে এই মার্কিন প্রস্তাব আসলে হামাস নেতাদের এক জায়গায় জড়ো করার ছলনা ছিল, যাতে তাদের লক্ষ্যবস্তু করা যায়। গত বছর ৩রা অক্টোবর খলিল আল-হাইয়া যখন আমাদের সাক্ষাৎকারের জন্য একটি সাধারণ ভিলায় ঢুকলেন, আমি অবাক হয়েছিলাম যে তার নিরাপত্তা এতটাই শিথিল। আমাদের মোবাইল ফোন জমা দিতে হয়েছিল, কেবল দুইজন দেহরক্ষী তাকে ভেতরে নিয়ে আসেন। বাইরে সাদাপোশাকের কাতারি পুলিশ একটি এসইউভিতে বসে ধূমপান করছিল।
এর বেশি কিছু নয়। শত দেহরক্ষীও কোনো বিমান হামলা ঠেকাতে পারত না, কিন্তু আল-হাইয়া ও তার লোকজন নিশ্চিন্ত ছিলেন। মূল ব্যাপার ছিল- কাতারকে নিরাপদ মনে করা হতো, আর তারা এতটাই নিরাপদ বোধ করতেন যে তুলনামূলকভাবে খোলাখুলি চলাফেরা করতেন।
এর কয়েক মাস আগে ২০২৪ সালের ৩১শে জুলাই ইসরাইল হামাসের রাজনৈতিক নেতা ইসমাইল হানিয়েকে হত্যা করে তেহরানে। তখন তিনি ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। গাজার যুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করায় আমার মনে হয়েছিল খলিল আল-হাইয়ার পাশে বসা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু তার মতো আমিও ভেবেছিলাম কাতারে হামলা হবে না।
মধ্যপ্রাচ্যের ‘সুইজারল্যান্ড’ হওয়ার চেষ্টা
কাতার কয়েক দশক ধরে চেষ্টা করেছে মধ্যপ্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে। এটি এমন একটি স্থান যেখানে শত্রুরাও চুক্তি করতে পারে। আমেরিকানরা আফগান তালেবানের সঙ্গে দোহায় আলোচনা করেছে। আর ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর প্রায় দুই বছর ধরে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল দোহা।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফের নেতৃত্বে পরিচালিত শান্তি প্রচেষ্টা আগেই ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। এখন তা সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এক পশ্চিমা সিনিয়র কূটনীতিকের ভাষায়- ‘এখন কোনো কূটনীতি নেই।’ ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরাইলিদের বলেছেন, তাদের শত্রুরা আর কোনোদিন নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবে না এবং ৭ অক্টোবরের হামলার আদেশ দেয়ার জন্য তাদের মূল্য দিতে হবে।
গাজা সংকট ও নেতানিয়াহুর বার্তা
মঙ্গলবার দোহায় হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলি সেনা (আইডিএফ) গাজা সিটির সব ফিলিস্তিনিকে শহর ছেড়ে দক্ষিণে চলে যেতে নির্দেশ দেয়। ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ১০ লাখ বেসামরিক মানুষ এতে প্রভাবিত হতে পারেন। টেলিভিশনে নেতানিয়াহু গাজার ফিলিস্তিনিদের উদ্দেশে বলেন, এই খুনিদের দ্বারা বিভ্রান্ত হবেন না। আপনার অধিকার ও ভবিষ্যতের জন্য দাঁড়ান। আমাদের সঙ্গে শান্তি করুন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাব গ্রহণ করুন। চিন্তা করবেন না, আপনারা পারবেন। আমরা ভিন্ন ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি দিতে পারি। তবে আপনাদের অবশ্যই এদের পথ থেকে সরাতে হবে। যদি করেন, আমাদের যৌথ ভবিষ্যতের কোনো সীমা থাকবে না। কিন্তু গাজার সাধারণ মানুষ যদি তার কথা শুনতেও পারে, তা হবে ভীষণ ফাঁপা। কারণ ইসরাইল ইতিমধ্যেই লক্ষাধিক মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস করেছে, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল গুঁড়িয়ে দিয়েছে। গাজা এখন দুর্ভিক্ষে জর্জরিত, গাজা সিটিতে দুর্ভিক্ষের ছায়া স্পষ্ট, আর পুরো ভূখণ্ডে মানবিক বিপর্যয় চলছে।
নতুন করে মানুষকে জোর করে সরিয়ে নেয়া কেবল বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইসরাইলের প্রাণঘাতী চাপ বাড়াবে। ইসরায়েল ইতিমধ্যেই গাজায় ৬০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। তার অধিকাংশই বেসামরিক। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে, আর ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তদন্ত করছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত।
দোহা হামলা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
দোহায় হামলা প্রমাণ করে নেতানিয়াহু ও তার সরকার শুধু গাজাতেই নয়, সব ফ্রন্টে আক্রমণ চালিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তারা আত্মবিশ্বাসী যে আমেরিকার সমর্থন নিয়ে তাদের সেনাবাহিনী ইচ্ছামতো কাজ করাতে সক্ষম। দোহা হামলার পর হোয়াইট হাউস বিরল এক সমালোচনা জানিয়েছে। কাতার যুক্তরাষ্ট্রের এক মূল্যবান মিত্র, যেখানে বিশাল মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং দেশটি যুক্তরাষ্ট্রে বড় বিনিয়োগকারী। তবুও নেতানিয়াহু হয়তো হিসাব কষছেন যে তিনি শুধু একজন নেতার কথাই শুনবেন। তিনি হলেন ডনাল্ড ট্রাম্প। আর ট্রাম্প কেবল কূটনৈতিক ভাষায় সামান্য তিরস্কার করেই শান্ত থাকবেন। ইসরাইলের গাজা অভিযান চলছেই। আর এ মাসের শেষদিকে যখন যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশ জাতিসংঘে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিতে এগোবে, তখন নেতানিয়াহুর অতিরাষ্ট্রবাদী মন্ত্রিসভার মিত্ররা দ্বিগুণ জোরে দখলকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সংযুক্ত করার দাবি তুলবে।
(বিশ্লেষণটি বিবিসি থেকে অনুবাদ) 

mzamin

গাজায় ত্রাণ নেওয়ার কয়েক মিনিট পর হত্যা করা হয় ক্ষুধার্ত শিশুটিকে: সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা

গাজার শিশু আমির। সামান্য একটু ত্রাণ পাওয়ার আশায় খালি লম্বা পথ হেঁটে এসেছিল সে। ত্রাণ পাওয়ার কয়েক মিনিট পরই ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে নিহত হয় শিশুটি। মার্কিন সেনাবাহিনীর বিশেষ শাখার সাবেক এক কর্মকর্তার বর্ণনায় গাজার এমন ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। এই কর্মকর্তা গত মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত বিতর্কিত ত্রাণ সংস্থা গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) থেকে পদত্যাগ করেন।

অ্যান্টনি আগুইলার গত সোমবার ‘আনঅ্যাক্সেপ্টেবল’ পডকাস্টে বলেন, গত ২৮ মে দক্ষিণ গাজায় জিএইচএফের একটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি নিজ চোখে শিশু আমিরসহ অসংখ্য মানুষকে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হতে দেখেছেন।

আগুইলার বলেন, ‘ছোট্ট আমির খালি পায়ে একটি ছেঁড়া জামা পরে আমার সামনে এসে দাঁড়ায়। তাঁর হাড্ডিসার শরীরে থাকা ছেঁড়া-ফাটা কাপড় যেন ঝুলে ঝুলে পড়ে যাচ্ছিল। সে ১২ কিলোমিটার পথ হেঁটে সেখানে (ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র) এসেছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর সামান্য যে খাবার ও উচ্ছিষ্ট পেয়েছিল, সে জন্য সে আমাদের ধন্যবাদ জানায়।’

আইগুলার বলতে থাকেন, ‘সে (আমির) খাবারের প্যাকেটগুলো মাটিতে নামিয়ে রাখল। কারণ, তখন আমি হাঁটু গেঁড়ে বসে ছিলাম। তার হাত দুটো বাড়িয়ে আমার গালের দুই পাশে রাখে। সেই হাতগুলো ছিল খুব দুর্বল, হাড্ডিসার, ময়লা। আর সেগুলো দিয়ে সে আমার মুখ ছুঁয়ে দেখে এবং আমাকে চুমু দেয়। ও আমাকে চুমু দিয়ে ইংরেজিতে বলে “থ্যাংক ইউ”। এরপর সে জিনিসগুলো নিয়ে তার দলের কাছে ফিরে যায়।’

এর পরপরই ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে উপস্থিত থাকা ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালাতে থাকে। আইগুলার বলেন, তখন আমিরের দিকে মরিচের গুঁড়ার স্প্রে, কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ছোড়া হয়। তাঁর পায়ের কাছে ও আকাশের দিকে তাক করে গুলি চালানো হয়। সে ভয়ে দৌড় দেয়। ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে সাধারণ মানুষেরা গুলিবিদ্ধ হয়ে একে একে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে থাকেন। আমির ছিল তাঁদেরই একজন।

জাতিসংঘের তথ্য বলছে, বিতর্কিত ত্রাণ সংস্থা জিএইচএফ মে মাসের শেষ দিকে কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে গাজায় খাবার নিতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

গত মাসে গাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি ইউসুফ আল-আজউরি মিডল ইস্ট আইকে বলেন, পরিবারের জন্য খাবার সংগ্রহ করার চেষ্টাকে টিভি শো ‘স্কুইড গেম’-এর সঙ্গে তুলনা করা যায়, যেখানে হত্যা করাটা বিনোদনের বিষয়।

ইসরায়েলি সেনারা স্বীকার করেছেন, তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি নির্দেশে গাজা উপত্যকায় ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ইচ্ছাকৃতভাবে গুলি করে হত্যা করেছেন।

‘তারা পশু না, তারা মানুষ’

গত সপ্তাহে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর কমিশনার জেনারেল ফিলিপ লাজারিনি গাজায় ব্যাপক হারে অনাহারকে ‘মানবসৃষ্ট ও পরিকল্পিত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে লাজারিনি জিএইচএফের ত্রাণ বিতরণব্যবস্থাকে ত্রুটিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এ ব্যবস্থা মানবিক সংকট মোকাবিলার জন্য তৈরিই হয়নি।

লাজারিনি বলেন, এ ব্যবস্থা সামরিক ও রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটা নিষ্ঠুর। কারণ, এটা যতটা না জীবন বাঁচায়, তার চেয়ে অনেক বেশি জীবন কেড়ে নেয়। গাজার ভেতরে হোক কিংবা বাইরে—উপত্যকায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের প্রতিটি দিক সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে ইসরায়েল।

সোমবারের পডকাস্টে আইগুলার ফিলিস্তিনিদের প্রতি অমানবিক আচরণের নিন্দা জানান।

আইগুলার বলেন, ‘আমি মার্কিন জনগণ ও ইসরায়েলিদের বলতে চাই যে আমি সেখানে (গাজা) ছিলাম। আমি ওদের ছুঁয়ে দেখেছি। ওদের সঙ্গে কথা বলেছি। গাজার সাধারণ মানুষ ক্ষুধায় মরছে। তারা পশু না, তারা মানুষ। কিন্তু তাদের সঙ্গে পশুর মতো আচরণ করা হচ্ছে। আমরা সিরিয়ার বাগুজে আত্মসমর্পণ করা আইএস যোদ্ধাদের চেয়েও গাজার সাধারণ মানুষদের কম সম্মান করি।’

দৃশ্যমান হচ্ছে দুর্ভিক্ষ

গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা সংস্থা বলেছে, গাজাজুড়ে দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। গাজা নগরীর প্রতি তিনটি শিশুর মধ্যে একটি শিশু গুরুতর অপুষ্টিতে ভুগছে।

জাতিসংঘ–সমর্থিত ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি) তাদের নতুন প্রতিবেদনে বলেছে, গাজা উপত্যকার বেশির ভাগ এলাকায় খাবারের পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে তা এখন দুর্ভিক্ষের মাত্রায় পৌঁছেছে। গাজায় অনেক মানুষ গুরুতর অপুষ্টিতে ভুগছে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, অবিরাম সংঘর্ষ, লাখো মানুষের ঘরছাড়া হওয়া, মানবিক সহায়তার ওপর কঠিন বাধা, স্বাস্থ্যসেবাসহ জরুরি সেবাগুলোর ধ্বংসের কারণে এ সংকট এখন এক ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

এমন এক সময়ে প্রতিবেদনটি দেওয়া হয়েছে, যখন কিনা গাজায় প্রায় ১৫০ জন ফিলিস্তিনি শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ অনাহারে ভুগে মারা গেছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ প্রাণহানি হয়েছে।

ফিলিস্তিনের এ ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অবরোধ কখনো কিছুটা শিথিল, আবার কখনো কঠোর ছিল। তবে গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় পুরোপুরি খাদ্য ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ বন্ধ করে দেয়। এতে মানুষ চরম ক্ষুধার মধ্যে পড়েন।

গত সপ্তাহে বিশ্বের ১০০টির বেশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও ত্রাণ সংস্থা অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এসব সংস্থার নিজেদের কর্মীরাও ব্যাপকভাবে খাদ্যসংকটে পড়েছে।

ইউএনআরডব্লিউএর যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক জুলিয়েট টৌমা গত সপ্তাহে মিডল ইস্ট আইকে বলেন, অপুষ্টির কারণে তাঁদের সংস্থার অনেক কর্মী কাজের সময় জ্ঞান হারিয়েছেন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুসারে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে উপত্যকাটিতে ইসরায়েলের হামলায় এ পর্যন্ত ৬০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অনেক দেশ, আন্তর্জাতিক অধিকার সংগঠন ও বিশেষজ্ঞ একে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

ত্রাণ পেয়ে সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা অ্যান্থনি আগুইলারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে ফিলিস্তিনি শিশু আমির। এর কিছুক্ষণ পরই ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে সে নিহত হয়
ত্রাণ পেয়ে সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা অ্যান্থনি আগুইলারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে ফিলিস্তিনি শিশু আমির। এর কিছুক্ষণ পরই ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে সে নিহত হয়। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া

গণ-অভ্যুত্থান থেকে বিএনপি যেভাবে বারবার লাভবান হয়েছে

বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে তিনটি বড় গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজনীতির বাঁক বদল ঘটেছে, তার সবগুলোতে দৃশ্যত লাভবান হয়েছে বিএনপি। এই তিনটি ঘটনা ঘটেছে ১৯৭৫ সাল, ১৯৯০ সাল এবং ২০২৪ সালে।

এসব গণঅভ্যুত্থানের একটির মাধ্যমে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছেন, আরেকটি গণঅভ্যুত্থানের পরে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে এবং আরেকটির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিএনপি কেন এবং কীভাবে এসব গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছে এই লেখার মাধ্যমে সেদিকে ফিরে তাকানো হয়েছে।

প্রতিটি ক্ষেত্রে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগ অত্যন্ত নেতিবাচক হিসেবে জনগণের কাছে প্রতিভাত হয়েছে। সে সুযোগ বিএনপি পেয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, জন-বিদ্রোহ বা জনরোষের ফলে যে সরকার পরিবর্তন হয়েছে, সেটার রাজনৈতিক ফসল বিএনপি ঘরে তুলেছে।

সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান ১৯৭৫

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার আগে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনেকের মনে মারাত্মক অসন্তোষ ছিল।

একদলীয় শাসন ব্যবস্থা, যেটি ‘বাকশাল’ হিসেবে পরিচিত, প্রবর্তনের মাধ্যমে মুজিব-বিরোধী মনোভাব প্রবল হয়ে ওঠে।

“বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ তখন অত্যন্ত নেতিবাচক হিসেবে প্রতিভাত হয়েছিল,” বলছিলেন আমেরিকান পাবলিক ইউনিভার্সিটি সিস্টেম-এর শিক্ষক সাঈদ ইফতেখার আহমেদ।

শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর তৎকালীন বাংলাদেশে পরিষ্কার রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। সেটি পূরণ করার জন্য 'বিশ্বাসযোগ্য ও জনপ্রিয়' কোন দল ছিলনা। যেসব রাজনৈতিক দল ছিল, তাদের জনভিত্তি ততটা শক্ত ছিল না।

হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষমতাচ্যুত হবার পরে বিএনপি নামক কোন রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব ছিলনা। তখন ক্ষমতায় এসেছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ, যিনি আওয়ামী লীগেরই নেতা ছিলেন।

তবে সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে জিয়াউর রহমান সেনানিবাসের বাইরেও অনেকের কাছে পরিচিত ছিলেন।

১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে বিদ্রোহ হয়। খালেদ মোশাররফের এই অভ্যুত্থানকে ভারতীয় আধিপত্যবাদের একটি ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করে মুজিব-বিরোধীরা। ভারতীয় চক্রান্তের গুজব ঢাকায় ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে মানুষের মনে দুঃশ্চিন্তা এবং সন্দেহ দেখা দেয়।

সাতই নভেম্বর দেশের বিভিন্ন সেনা ছাউনি থেকে সৈন্যরা ঢাকায় এসে পৌঁছায় এবং তাদের সাথে স্বতঃ:স্ফূর্তভাবে হাজার হাজার জনতা যোগ দেয়।

এই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছিল তৎকালীন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও জাসদ নেতা কর্নেল আবু তাহের। প্রধানত তার পরিকল্পনায় জাসদের বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা এই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেয়।

লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, তখন অনেকের ধারণা হয়েছিল যে আওয়ামী লীগ হয়তো ভারতের সহায়তা নিয়ে আবার ফিরে আসতে পারে। সেই আশঙ্কা কিংবা প্রেক্ষাপট থেকে ৭ই নভেম্বর কর্নেল আবু তাহেরের নেতৃত্বে সিপাহী-জনতা বিদ্রোহ করে এবং জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে।

ক্যান্টনমেন্টে আবু তাহেরের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকলেও বাইরে সিপাহী-জনতার মিছিল এবং বিক্ষোভ সকাল দশটার আগেই জাসদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

"সিপাহী-জনতা জিয়া এবং মোশতাকের নামে শ্লোগান দিয়ে ঢাকা শহরকে কাঁপিয়ে তোলে। সেদিন রাজধানীতে সিপাহী-জনতার বিপ্লব ঘটে এবং ব্যাপারটা শেষ পর্যন্ত ভারত এবং আওয়ামী বিরোধী মনোভাবেরই বহি:প্রকাশ দেখা হয়,” এমন বর্ণনা দিয়েছেন মওদুদ আহমদ তার 'চলমান ইতিহাস' বইতে।

এরপর বন্দীদশা থেকে জিয়াউর রহমান ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন। পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করেন, ৭ই নভেম্বর বিদ্রোহ না হলে জিয়াউর রহমান রাজনীতিতে কতটা আসতেন কিংবা আসলেও কতটা সফল হতেন সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

৭ই নভেম্বরের পর থেকে রাষ্ট্রক্ষমতা পরিচালিত হতে জিয়াউর রহমানের ইশারায়।

কিন্তু জিয়াউর রহমান মুক্ত হবার পর পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়।

যে জিয়াউর রহমানকে পাশে পাবার আশায় ছিলেন কর্নেল তাহের, সে জিয়াউর রহমান মুক্ত হয়ে ভিন্ন ইংগিত দিলেন।

দৃশ্যপটের সামনে চলে আসেন জিয়াউর রহমান এবং আড়ালে যেতে থাকেন কর্নেল তাহের। খন্দকার মোশতাক ক্ষমতাচ্যুত হবার পরে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম।

তিনি প্রেসিডেন্ট থাকলেও ক্ষমতা পরিচালিত হতো ক্যান্টনমেন্ট থেকে জিয়াউর রহমানের নির্দেশনায়।

১৯৭৬ সালে জুলাই মাসে কর্নেল তাহেরসহ ১৭ জনকে সামরিক আদালতে গোপন বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছিল। বিচারের কয়েকদিন পরেই কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।

১৯৭৬ সালের নভেম্বর মাসে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের পদ থেকে সরে যান আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম। তখন জিয়াউর রহমানের হাতে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব দেয়া হয়।

এর পাঁচ মাসের মাথায়, অর্থাৎ ১৯৭৭ সালের এপ্রিল মাসে আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব জিয়াউর রহমানের কাছে দিয়ে পদত্যাগ করেন।

রাষ্ট্রপতি হবার দেড় বছরের মধ্যে রাজনৈতিক দল গঠন করেন জিয়াউর রহমান।

“এসময় জিয়াউর রহমান যখন রাজনৈতিক দল গঠন করেন, সেটা তৎকালীন বাংলাদেশে অনেকের কাছে ইতিবাচক মনে হয়েছিল,” বলেন সাঈদ ইফতেখার আহমদ।

মহিউদ্দিন আহমদের ভাষ্য হচ্ছে, “সময়টাকে বিএনপি তাদের পক্ষে নিতে পেরেছিল, আওয়ামী লীগের বিরোধিতার মাধ্যমে। জিয়াউর রহমান পরিস্থিতি সামাল দিয়ে নিজের পক্ষে নিতে পেরেছিলেন”।

গণঅভ্যুত্থান ১৯৯০

১৯৮০’র দশকে তৎকালীন সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদ ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপি আন্দোলন করে। তাদের সাথে অন্যান্য রাজনৈতিক দলও ছিল।

কিন্তু দেখা গেল, এরশাদের পতনের পরে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে যখন প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তখন ক্ষমতায় আসে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নেবার কারণে জনগণের মধ্যে তাদের নিয়ে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়।

তখন এরশাদ-বিরোধী বড় রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছিল যে স্বৈরাচার সরকারের আমলে কোন নির্বাচনে তারা অংশ নেবে না। কিন্তু সবাইকে হতবাক করে দিয়ে আওয়ামী লীগ ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।

নির্বাচনে অংশ নেবার ব্যাপারে এইচএম এরশাদ সরকারের সাথে তাদের একটি সমঝোতা হয়েছিল বলে জানা যায়।

তখন এরশাদ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন মওদুদ আহমদ, যিনি পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন। মি. আহমদ ২০২১ সালে মারা যান।

মি. আহমেদের লেখা ‘চলমান ইতিহাস, জীবনের কিছু সময় কিছু কথা ১৯৮৩-১৯৯০’ বইতে এ বিষয়টি উঠে এসছে।

তিনি লিখেছেন, “সরকারের সাথে এক গভীর সমঝোতার পর আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়সীমার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তারা তাদের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।”

সাঈদ ইফতেখার আহমেদের বিশ্লেষণ হচ্ছে, বিএনপি তখন একটা ধারণা তৈরি করতে পেরেছিল যে আওয়ামী লীগ যদি ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশ না নিত তাহলে এরশাদের পতন আরো আগেই ঘটানো সম্ভব হতো।

“এ বিষয়টি বিএনপিকে রাজনৈতিক সুবিধা দিয়েছিল এরশাদের পতনের পর। এর ফলে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে বিএনপি ক্ষমতায় আসে,” বলেন সাঈদ ইফতেখার আহমেদ।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলছেন, একদিকে এরশাদের সাথে সমঝোতা করে আওয়ামী লীগ ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, অন্যদিকে জেনারেল এরশাদ বিএনপিকে ভাঙার জন্য চেষ্টা করেছেন এবং বিএনপি থেকে একটি অংশকে বের করে এনেছিলেন।

“খালেদা জিয়া নেতা হয়েছিলেন এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। তিনি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী হিসেবে নেতা হন নাই। জিয়ার রহমানের স্ত্রী হিসেবে তিনি দলে এসেছিলেন, কিন্তু নেতা হয়েছিলেন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। এই ফসলটা তিনি ঘরে তুলেছিলেন ১৯৯১ সালে,” বলেন মহিউদ্দিন আহমদ।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ২০২৪

২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাবার পরে যে দুটো রাজনৈতিক দল এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে লাভবান হয়েছে তারা হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী।

শেখ হাসিনা পালিয়ে যাবার পরে বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগ বিরোধীদের দখলে চলে গেছে।

শেখ হাসিনার শাসনামলে পালিয়ে বেড়ানো কিংবা মামলায় জর্জরিত থাকা বিএনপি নেতারা এখন আগে আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অনেক কিছুই নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হচ্ছে।

৫ই অগাস্টের পরে বেশ দ্রুততার সাথে বিএনপি নেতা খালেদা জিয়াকে মুক্তির আদেশে স্বাক্ষর করের রাষ্ট্রপতি। এরপর বিএনপির বেশ কিছু সিনিয়র নেতা জেল থেকে দ্রুত ছাড়া পান। অনেকের বিরুদ্ধে কিছু মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।

লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপি নেতা তারেক রহমানের বক্তব্য বিবৃতি শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশে গণমাধ্যমে প্রচার করা নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে সংবাদপত্র এবং টেলিভিশনে তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারিত হচ্ছে।

মাঠ পর্যায়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের এখন আর পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে না। এসব কিছু বিএনপিকে তাৎক্ষনিকভাবে রাজনৈতিক সুবিধা দিয়েছে।

গত সাড়ে ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগের শাসনামলকে ‘ফ্যাসিবাদের’ তুলনা করেছে বিএনপি। ৫ই অগাস্ট শেখ হাসিনার পতন ও ভারতে পালিয়ে যাবার পরে বিএনপির দেয়া ‘ফ্যাসিবাদ’ তকমা অনেকেই ব্যবহার করছে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে।

“এখনকার বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ জনগণের কাছে অত্যন্ত নেতিবাচক হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে, ” বলেন সাঈদ ইফতেখার আহমেদ।

মি. আহমেদ বলেন, ১৯৭৫ সাল এবং ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ নেতিবাচক হিসেবে উপস্থিতি হয়েছে জনগণের সামনে। এর রাজনৈতিক সুবিধা খুব স্বাভাবিকভাবে আওয়ামী লীগ বিরোধীদের হাতে চলে গেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে মানুষ আওয়ামী লীগের বিকল্প হিসেবে বরাবর বিএনপিকেই দেখেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের বাইরে যদি আরেকটি কার্যকরী শক্তি থাকতো তাহলে বিএনপি হয়তো বা এই সুবিধা পেতো না।

"বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের সাথে কোন ফারাক নেই। তাদের মধ্যে অমিল আছে, আবার অনেক মিলও আছে,” বলছিলেন মহিউদ্দিন আহমদ।

তবে বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ করার মতো নতুন কোন শক্তি আবির্ভূত হলে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে সেটি এখনই বলা মুশকিল। 

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া

নাবালক শিক্ষার্থীর সঙ্গে শিক্ষিকার যৌন সম্পর্ক, গ্রেপ্তার

মানবজমিনঃ যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার ওয়েস্ট ভ্যালির একটি বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষিকা এক নাবালক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। এ অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই স্কুলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের যত্ন নেয়া হয়। অনলাইন ফক্স ১০ ফনিক্স এ খবর দিয়েছে। এতে আদালতের নথি উদ্ধৃত করে বলা হয়, ২৪ বছর বয়সী শিক্ষিকা শার্লট হিউজবির বিরুদ্ধে নাবালক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর তদন্ত শুরু হয় ২৮ আগস্ট। ওইদিন অস্টিন সেন্টারস ফর এক্সেপশনাল স্টুডেন্টস (এসিইএস) পিওরিয়া ক্যাম্পাসে ডাকা হয় পুলিশকে। সেখানকার সুপারিনটেনডেন্ট ১৭ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী ও হিউজবির মধ্যে ‘অশোভন টেক্সট মেসেজ’ খুঁজে পান। হিউজবি ওই স্কুলে থেরাপিউটিক সাপোর্ট স্টাফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কোর্ট ডকুমেন্টে বলা হয়, এক শিক্ষার্থী কাউন্সেলিং সেশনে জানায় যে ভুক্তভোগী জানিয়েছে, তার সঙ্গে এক শিক্ষিকার যৌন সম্পর্ক রয়েছে।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে একটি ভিডিওও উদ্ধার করা হয়। তাতে তাকে হিউজবির সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়াতে দেখা যায়। আরেকজন শিক্ষার্থী জানায়, একটি সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ চ্যাটে ওই ভিডিও শেয়ার করা হয়। এরপরই হিউজবিকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়। ভুক্তভোগীর বাবা প্রথমে ভেবেছিলেন, তার সন্তানের সঙ্গে ‘অ্যাঞ্জি’ নামে ১৮ বছর বয়সী এক মেয়ের সম্পর্কে রয়েছে। কিন্তু পরে জানতে পারেন, ‘অ্যাঞ্জি’ আসলে হিউজবি। শিক্ষার্থীর পিতা আরও জানান, ২০২৪ সাল থেকে তার সন্তান প্রায় সপ্তাহান্তেই হিউজবির সঙ্গে থেকেছে এবং ২০২৫ সালের গ্রীষ্মকালীন ছুটির বেশিরভাগ সময়ও হিউজবির সঙ্গে কাটিয়েছে। তিনি কখনও জানতেন না যে হিউজবি আসলে ২৪ বছর বয়সী এবং তার সন্তানের স্কুলের কর্মী, একজন শিক্ষিকা। ভুক্তভোগী ফরেনসিক সাক্ষাৎকারে পুলিশের কাছে জানায়, স্কুলে পরিচয়ের কয়েক সপ্তাহ পর থেকেই তাদের সম্পর্ক শুরু হয় এবং নিয়মিত যৌন সম্পর্ক ছিল। এক পর্যায়ে হিউজবি একটি হোটেল রুম ভাড়া নিয়ে তাকে সেখানে ডাকেন, তাদের সম্পর্ক ভিডিওতে ধারণ করেন এবং এমনকি বলেন- সে যেন তাকে মা হতে বা সন্তান জন্মদানে সহায়তা করে।

৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ হিউজবির সঙ্গে কথা বলে এবং তিনি ভুক্তভোগীর সঙ্গে ১০ থেকে ১৫ বার যৌন সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। এরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নথি অনুযায়ী, হিউজবি ছয় বছর ধরে ওই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে আগে কখনও কোনো অভিযোগ ওঠেনি। এক বিবৃতিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৮শে আগস্ট আমরা একজন কর্মী ও এক শিক্ষার্থীর মধ্যে স্কুলের বাইরে ও সময়ের বাইরে সম্ভাব্য অসদাচরণের খবর পাই। সঙ্গে সঙ্গে আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাই, ওই নারী কর্মী বা শিক্ষিকার চাকরি স্থগিত করি এবং পূর্ণ তদন্ত শুরু করি। ২৯শে আগস্ট চাকরি থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ৩রা সেপ্টেম্বর আমরা জানতে পারি, পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে। গত ৩০ বছর ধরে যেমন করে আসছি, ভবিষ্যতেও আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেব।

https://mzamin.com/uploads/news/main/178930_Abul-7.webp

ভারতের ক্ষমতার মসনদে তাহলে কি মোদির দিন শেষ হয়ে আসছে by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

ভেতর ও বাইরের নানামুখী চাপে পড়ে বিজেপিতে নরেন্দ্র মোদি–অমিত শাহর মুঠো কি কিছুটা আলগা হচ্ছে? ১১ বছরের মাথায় এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী কি সবচেয়ে বড় সংকটের মুখোমুখি? প্রশ্নগুলো প্রবলভাবে আলোচিত হচ্ছে ক্ষমতার অলিন্দে।

জল্পনা বাড়িয়ে তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। না হলে কৃষিবিজ্ঞানী ও ভারতের সবুজ বিপ্লবের জনক এম এস স্বামীনাথনের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত সভায় মোদি কেন ‘ব্যক্তিগতভাবে চড়া মূল্য চোকানোর’ ইঙ্গিত দেবেন?

ওই সভার আয়োজন করা হয়েছিল এমন এক সময়ে, যখন বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের জোর দড়ি–টানাটানি চলছে। যখন বিশ্বের প্রতিটি দেশের ওপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইচ্ছেমতো শুল্ক চাপিয়ে দিচ্ছেন। মোদি সেই সভায় যখন ভাষণ দেন, তার ঠিক আগেই ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা ট্রাম্প শুনিয়ে দিয়েছেন।

ভারতে কৃষিক্ষেত্রে বাজার বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র অনেক দিন ধরেই সচেষ্ট। বাড়তি শুল্কের হাত থেকে বাঁচতে কৃষিক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে ভারত কোনো রকম ছাড় দেয় কি না, সেই আলোচনাও প্রবল। ওই আবহে মোদি জানিয়ে দেন, কৃষকদের স্বার্থহানি হয়, দেশের পশুপালক ও মৎস্যজীবীরা কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে পারেন, এমন কিছু তিনি করবেন না। সে কথা বলতে গিয়েই তিনি বলেন, ‘আমি জানি, এ জন্য আমাকে চড়া মূল্য চোকাতে হতে পারে। তার জন্য প্রস্তুত আছি। কিন্তু কৃষক, পশুপালক, মৎস্যজীবীদের স্বার্থহানি হতে দেব না।’

সেই থেকে রাজনীতি আলোড়িত। ব্যক্তিগত মূল্য চোকানোর ইঙ্গিত মোদি কেন দিলেন? কী বোঝাতে চাইলেন? চড়া মূল্যর অর্থ কী? ক্ষমতা ছেড়ে চলে যাওয়া? এসব জল্পনায় রাজনীতি গমগম করছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, মোদি অন্তত এটুকু বুঝিয়ে দিলেন খুব একটা স্বস্তিতে তিনি নেই।

প্রধানমন্ত্রী স্বস্তিতে নেই অনেক কারণে। কিংবা অন্যভাবে বলা যায়, ঘরে–বাইরের প্রবল চাপ তাঁর স্বস্তি কেড়ে নিয়েছে।

বাইরের চাপ অবশ্যই বন্ধুবর ডোনাল্ড ট্রাম্পের। যুক্তরাষ্ট্রকে আবার মহান করে তুলতে তিনি যেভাবে সবচেয়ে বেশি শুল্ক ‘বন্ধু’ ভারতের ওপর চাপিয়েছেন এবং ‘পরম মিত্র’ মোদির বিড়ম্বনা বাড়াচ্ছেন, তা অপ্রত্যাশিত। কাশ্মীর ও পাকিস্তান বরাবরই ভারতের কাছে স্পর্শকাতর। এ বিষয়ে তৃতীয় কোনো পক্ষের মধ্যস্থতা ভারত বরদাশত করে না। এটাই বহু বছরের নীতি।

সাম্প্রতিক যুদ্ধ বন্ধে নিজের ভূমিকা বারবার জাহিরের মাধ্যমে মোদিকে ঘরোয়া রাজনীতিতে ট্রাম্প কোণঠাসা করছেন। সেই দাবি বন্ধের উপায় কী, আজও মোদি সরকার তা বুঝে উঠতে পারছে না। এই অবস্থাতেই চেপে বসেছে ৫০ শতাংশ শুল্কের বোঝা। পরিত্রাণের উপায় কী, এখনো মোদির অজানা।

বাইরের এই মারাত্মক চাপের পাশাপাশি ক্রমেই বড় হচ্ছে অভ্যন্তরীণ সমস্যা। প্রধান সমস্যা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) চাপ। মোদি–শাহর ইচ্ছানুযায়ী বিজেপিকে চলতে দেওয়ার লাইসেন্স দিতে সংঘ আর রাজি নয়। নয় বলেই মোদি–শাহ জুটি আজও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি বেছে নিতে পারেননি। বারবার মেয়াদোত্তীর্ণ সভাপতি জে পি নাড্ডার সময়সীমা বাড়ানো হচ্ছে। সংঘ চায় তাদের পছন্দের লোক, মোদিরা চান তাঁদের। টানাপোড়েন আজও অব্যাহত।

এর চেয়েও বড় চাপ, ৭৫ বছর পূর্ণ হলে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকবেন কি না, সেই প্রশ্ন। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হয়েই মোদি ৭৫–ঊর্ধ্ব সবাইকে সরিয়ে দলের ‘মার্গদর্শক’ (উপদেষ্টা) করে দেন। সরে যেতে হয় লালকৃষ্ণ আদভানি, মুরলী মনোহর যোশি, যশোবন্ত সিং, যশবন্ত সিনহাদের। সেই নিয়ম এবার নিজের ক্ষেত্রে কি প্রয়োগ করবেন মোদি? এটা শুধু প্রশ্নই নয়, চাপও। চাপটা দিচ্ছেন সংঘচালক মোহন ভাগবত নিজেই। নানাভাবে তিনি সে কথা মনেও করিয়ে দিচ্ছেন।

গত জুলাই মাসে এক অনুষ্ঠানে মোহন ভাগবত বলেছিলেন, ৭৫ বছর বয়স হয়ে গেলে কেউ যদি শাল উপহার পান, তাহলে তার অর্থ এবার সরে যান। অন্যদের কাজ করতে দিন। নরেন্দ্র মোদির চেয়ে মোহন ভাগবত মাত্র ছয় দিনের বড়। এই বছর ১১ সেপ্টেম্বর ভাগবত ৭৫ পূর্ণ করবেন, মোদি ১৭ সেপ্টেম্বর। ভাগবত অবসর নিলে মোদির ওপর সেটা হবে বাড়তি চাপ।

ঠিক এই সময়ে অপ্রত্যাশিতভাবে সরে যেতে হলো উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়কে। সেটাও যে মোদি–শাহর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ার কারণে, আজ তা গোপন নয়। আজ পর্যন্ত ভারতের কোনো উপরাষ্ট্রপতিকে এভাবে অসম্মানিত হয়ে সরে যেতে হয়নি। মোদির আস্থা ধনখড় এতটাই হারিয়েছিলেন যে সংসদ চললেও তাঁকে বিদায় সংবর্ধনা পর্যন্ত জানানো হলো না। অথচ ধনখড়কে কাছে টেনেছিলেন মোদি নিজেই। তিনিই তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল করেছিলেন। উপরাষ্ট্রপতিও।

জম্মু–কাশ্মীরের রাজ্যপাল হিসেবে মোদি নিযুক্ত করেছিলেন সত্যপাল মালিককেও। সেই সত্যপাল নানা কারণে প্রকাশ্যে মোদির নীতি বিরোধিতা শুরু করেন। এবার ‘অবাধ্য’ হলেন ধনখড়। সংঘের আদর্শের বাইরের লোকজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাতে এখন প্রবল আপত্তি জানাচ্ছে আরএসএস। উপরাষ্ট্রপতি পদেও তাই সংঘকে উপেক্ষা করে নিজের মনের মতো কাউকে প্রার্থী বাছতে পারছেন না মোদি–শাহ।

মুঠো আলগা হলে নানাভাবে সেটার প্রতিফলন ঘটে। সত্যপাল মালিক সম্প্রতি মারা গেছেন। ২২ বছর বিজেপিতে ছিলেন তিনি। বিহার, ওডিশা, জম্মু–কাশ্মীর, গোয়া, মেঘালয়ের রাজ্যপাল ছিলেন। অথচ মৃত্যুর পর বিজেপির একজনও তাঁর শেষকৃত্যে যাননি। কেউ শোকপ্রস্তাবও পাঠাননি।

‘স্বাস্থ্যের কারণে’ ধনখড়ের পদত্যাগের পর প্রধানমন্ত্রী ‘এক্স’–এ তাঁর সুস্বাস্থ্য কামনা করে শুধু বলেন, দেশসেবার অনেক সুযোগ তিনি পেয়েছিলেন। দুই জাট নেতার প্রতি মোদি–শাহর এই মনোভাব জাট সম্প্রদায়কে ক্ষুব্ধ করেছে। রাজস্থানের জাট নেতা ও বিজেপির মুখপাত্র কৃষ্ণকুমার জানু এই নিয়ে প্রশ্ন তোলায় গত শুক্রবার দল তাঁকে ছয় বছরের জন্য বহিষ্কার করেছে। রাজস্থান, হরিয়ানা, পশ্চিম উত্তর প্রদেশের জাট মহলে এ নিয়ে ব্যাপক অশান্তি।

কৃষ্ণকুমার জানুকে যেদিন বহিষ্কার করা হয়, তার আগের দিন বিজেপির আরেক জাতীয় মুখপাত্র মোহনলুমো কিকন দলত্যাগ করেন। কিকন নাগাল্যান্ডের সাবেক বিধায়ক এবং গোটা উত্তর–পূর্বাঞ্চলের একমাত্র জাতীয় মুখপাত্র ছিলেন।

এই পরিস্থিতিতে বেড়ে চলেছে বিরোধীদের চাপ। বিহারে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) নামে যা চলছে, তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে সব বিরোধী দল। ইন্ডিয়া জোটকে এতটা এককাট্টা আগে সেভাবে দেখা যায়নি। নির্বাচন কমিশনের ‘ভোট চুরির’ বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধী যে তদন্ত করেছেন, যেখানে তিনি দেখিয়েছেন ইসি কীভাবে বিজেপিকে জেতাতে ‘ভোট চুরি’ করেছে, ইন্ডিয়া জোটের প্রত্যেকের কাছেই তা ‘বিশ্বাসযোগ্য’ মনে হয়েছে।

এসআইআরের বিরুদ্ধে আগামী সোমবার সংসদ ভবন থেকে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা নির্বাচন কমিশনে যাবেন ‘ভোট চুরি’ ঠেকাতে। ওখানেই শেষ নয়। বিহারের রাজধানী পাটনায় ডাকা হয়েছে সমাবেশ। ১ সেপ্টেম্বর সেই সমাবেশে উপস্থিত থাকতে রাহুল ও তেজস্বী যাদব ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রত্যেক নেতাকে অনুরোধ জানিয়েছেন। রাহুল নিজে কথা বলেছেন সবার সঙ্গে।

রাহুল গান্ধী ইসির ভোট চুরির যে তদন্ত প্রকাশ করেছেন, যেখানে ‘টেস্ট কেস’ হিসেবে কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুর মহাদেবপুরা নামে এক বিধানসভা আসনের ১ লাখ ২৫০ জন ভুয়া ভোটারের নামধাম–পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। সেই অভিযোগ যে অসত্য নয়, সেই প্রতিবেদন তুলে ধরেছে সর্বভারতীয় এক নিউজ চ্যানেল। গত শুক্রবার ওই প্রতিবেদনে দেখানো হয়, মহাদেবপুরার এক ঠিকানায় ৮০ জন ভোটারের নাম সত্যিই নথিভুক্ত।

মহাদেবপুরার সেই ঠিকানার মালিক, সেখানকার ব্লক আধিকারিকের মন্তব্যও ওই প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছে। অভিযোগ কেউই অস্বীকার করেননি। যে গণমাধ্যম ‘গোদি মিডিয়া’ বলে পরিচিত, সেখানে এ ধরনের প্রতিবেদন মোদি–শাহর বজ্র আঁটুনি শিথিল হওয়ার কোনো লক্ষণ কি না, সেই আলোচনাও শুরু হয়েছে।

যেমন শুরু হয়েছে রাহুলের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা। ১৭ আগস্ট বিহারের সাসারাম থেকে তেজস্বী যাদবের সঙ্গে তিনি শুরু করছেন ‘মতদাতা অধিকার যাত্রা’। বিহারের সীমাঞ্চল ও মিথিলাঞ্চলের ১০০ বিধানসভা আসনে তাঁরা যাবেন। কখনো হেঁটে, কখনো গাড়িতে। সেটাই হতে চলেছে ইন্ডিয়া জোটের নির্বাচনী প্রচারের প্রথম ধাপ। যাত্রা শেষে ১ সেপ্টেম্বর হবে পাটনায় জনসভা।

বিহারের নির্বাচন নিশ্চিতভাবেই অনেক কিছুই প্রমাণ করবে। তার আগে অনেক ওলটাপালট হওয়ার সম্ভাবনা। ট্রাম্পের শুল্কনীতির পরিণতি, নরেন্দ্র মোদির ৭৫ বছর বয়স। বিহারের ফল বোঝাবে মোদি–সরকার ও ভারতের ভবিষ্যৎ কোন দিকে বাঁক নেবে। মোদি বাস্তবিকই স্বস্তিতে নেই।

নরেন্দ্র মোদি ও রাহুল গান্ধী
নরেন্দ্র মোদি ও রাহুল গান্ধী। ফাইল ছবি: এএফপি