Thursday, June 21, 2012

কলেরার টিকা বিতর্ক

সম্প্রতি কলেরা টিকার বৃহত্তম ট্রায়াল শুরু হয়েছে বাংলাদেশের মানুষের ওপর। দুই লাখ ৫০ হাজার মানুষের ওপর কলেরা প্রতিরোধে ওই পরীক্ষা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট গবেষক। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, যদি এই পরীক্ষা সফল হয়, তাহলে কলেরা ডায়রিয়ার মতো জীবনঘাতী রোগের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিষেধক হিসেবে টিকাটি কাজ করবে। তবে এই পরীক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের জীবন সংশয়ের মধ্যে চলে যাবে কি না তা নিশ্চিত করতে পারেননি দেশের বিশেষজ্ঞরা।
ফ্রান্সের বিখ্যাত ওষুধ কম্পানি সনোফি এভেন্টিসের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ভারতীয় মালিকানাধীন ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান শান্তা বায়োটিকস সঞ্চল (ঝযধহঈযড়ষ) নামের একটি কলেরা টিকা আবিষ্কার করেছে। সঞ্চল নামের ওই কলেরা টিকাটি বাংলাদেশের দুই লাখ ৫০ হাজার মানুষের ওপর 'দিশারী' প্রকল্প নামে ট্রায়াল (পরীক্ষা) শুরু হয়েছে।
দিশারী প্রকল্পের এই ট্রায়াল কলেরার টিকা গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মিরপুরের ৯টি কেন্দ্রে সব বয়সের নারী-পুরুষ ও শিশুদের খাওয়ানোর মধ্য দিয়ে পৃথিবীর বৃহৎ ট্রায়াল ভ্যাকসিন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) ও ঢাকা সিটি করপোরেশন যৌথভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, যদি দিশারী প্রকল্পটির (পাইলট প্রজেক্ট) সফল হয় তাহলে সারা দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে কলেরার টিকাও সম্পৃক্ত করা হবে।
প্রথম ডোজ নেওয়ার ১৫-২৩ দিন পর দ্বিতীয় ডোজটি দেওয়া হবে। বছরব্যাপী এই ট্রায়াল ভ্যাকসিনের কর্মক্ষমতা পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ পর যদি সফল হন বিশেষজ্ঞরা; তবে এই ভ্যাকসিন পৃথিবীর অন্যান্য জায়গায় কাজে লাগানো হবে। ট্রায়াল ভ্যাকসিনের এই কর্মসূচির জন্য মার্কিন প্রতিষ্ঠান বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেইটস ফাউন্ডেশন অনুদান দিয়েছে। তবে এই ফলাফলের ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসিও (সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন) উৎসুক। উল্লেখ্য, উচ্চমূল্যের কারণে এর আগে বাংলাদেশে কলেরার টিকা বা প্রতিষেধক দেওয়া হয়নি। পরীক্ষায় ব্যবহৃত টিকাটি বিগত যেকোনো টিকা থেকে স্বল্পমূল্যের বা ১০ ভাগের এক ভাগ।
মানবদেহে পরীক্ষাধীন এই প্রকল্পটি বাংলাদেশে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করবে আইসিডিডিআর,বি। কলেরা গবেষণা ও চিকিৎসা প্রদানে এই প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক পরিচিতি আছে। প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌস কাদরীকে প্রকল্প পরিচালক করা হয়েছে। ঢাকা এবং আশপাশের অঞ্চলগুলোর দরিদ্র মানুষের ওপর চালানো হবে এই পরীক্ষা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আখতারুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, 'পাইলট প্রজেক্টে এত মানুষকে গিনিপিগ বানানোর কোনো মানে নেই।' তিনি আরো বলেন, 'ডায়রিয়া প্রধানত পানি এবং পয়োনিষ্কাশনের কারণে হয়। এ বিষয়গুলো স্বাস্থ্যসম্মত হলে ডায়রিয়া এমনতিইে শূন্যের কোটায় চলে আসবে।'
ভিয়েতনাম থেকে বাংলাদেশে:
বাংলাদেশের মানুষকে গিনিপিগ বানানোর বিষয়টি এই প্রথম নয়। ডুকারল নামের একটি কলেরা টিকার পরীক্ষা করা হয়েছিল ১৯৮৫ থেকে '৮৮ সাল পর্যন্ত চাঁদপুরের মতলবে। ৮৯ হাজার ১৫২ মানুষের ওপর চালানের ওই গবেষণা থেকে আশানুরূপ ফল আসেনি। ওই গবেষণার ফল হলো প্রথম বছরে সাফল্যের হার ৮৫ শতাংশ হলেও পরের বছর টিকার কার্যকারিতা ৬৪ শতাংশে নেমে আসে। তৃতীয় বছরে টিকার কার্যকারিতা ৫২ শতাংশ মানুষের ওপর কার্যকর থাকে; যা চতুর্থ বছরে নেমে আসে মাত্র ১৯ শতাংশে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কলেরা টিকা দেওয়ার চেয়ে কলেরা হয় যে কারণে তা প্রতিরোধ করা দরকার।
ডুকারলের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমতি না পাওয়ার পেছনে কারণ টিকাটি মানবদেহে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় সফল হয়নি। বাংলাদেশের মানুষের ওপর পরীক্ষার আগে ভারতীয় কম্পানিটি ১৯৯৭ সালে ভিয়েতনামে মানব দেহে পরীক্ষা চালিয়েছিল। সেখানেও সফলতার হার নগণ্য। টিকার সফলতার হার হিসেবে প্রশ্ন করা হলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ভিয়েতনামের উদাহরণটিই সামনে এনেছে। ভিয়েতনামে ঠিক কত পরিমাণ মানুষের ওপর এই টিকা পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং ওই গবেষণায় সফলতার হার কত_স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সে প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলেও ভিয়েতনামে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, সে বিষয়টি সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন।
তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে জানা যাচ্ছে, এক থেকে ১৫ বছরের ৬৭ হাজার শিশু-কিশোরের ওপর ডুকারল পরীক্ষা করা হয়। ৬৭ হাজার শিশু-কিশোরের ওপর চালানো এই পরীক্ষা কার্যকর হয়েছে ৬৮ শতাংশ। ৬৮ শতাংশ সফল টিকা গ্রহণকারীর টিকাও আবার মাত্র দুই বছর সক্রিয় ছিল। দুই বছর পর থেকে টিকা কোনো কাজ দেয়নি কলেরা প্রতিরোধে। প্রাপ্ত ফল কম্পানিটিকে হতাশই করেছে।
বহুজাতিক কম্পানি বনাম অসহায় মানুষ:
বহুজাতিক কম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। কিন্তু মানুষের শরীরে নানা রকম পরীক্ষা বিশ্বব্যাপী কম্পানিগুলোর প্রতি জন-অসন্তোষ বাড়িয়ে দিয়েছে। বহুজাতিক ওষুধ কম্পানিগুলো মানব দেহে নানা ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করে তার প্রতিক্রিয়া দেখে থাকে। দীর্ঘমেয়াদী সেই পরীক্ষার কারণে মানব দেহে ঘটে যাচ্ছে ভয়ংকর সব পরিবর্তন। ওষুধ কম্পানির পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়টি সব থেকে বেশি পরিমাণে হয়েছে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে; তবে খোদ ধনতান্ত্রিক দেশগুলোও গিনিপিগ পরীক্ষার শিকার হয়েছে।
নাইজেরিয়ার ২০০ শিশুর ওপর মার্কিন কম্পানি ফাইজার মেনিনজাইটিস রোগের ওষুধের পরীক্ষা চালায়। পরীক্ষার শিকার ওই শিশুদের অনেকেই পরবর্তী সময়ে মৃত্যুবরণ করে। বাকিরা নানা রকম সমস্যায় আক্রান্ত হয়। নাইজেরিয়ান সরকার কম্পানিটির কাছে ক্ষতিপূরণ চাইলে কম্পানিটি নানা রকম টালবাহানা শুরু করে। অবশেষে চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সরকারের হস্তক্ষেপে বিষয়টি ফয়সালা হয়। ফাইজারকে এ কারণে শিশুপ্রতি এক লাখ ৭৫ হাজার মার্কিন ডলার গুনতে হবে।
উগান্ডা, কেনিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ আফ্রিকা মহাদেশের বিভিন্ন দেশের এইচআইভি (ঐওঠ অরফং) প্রতিষেধক হিসেবে হবারৎধঢ়রহব নামের একটি ওষুধ দেওয়া হয় বিভিন্ন বয়সের মানুষকে। ওষুধ গ্রহণকারীদের মধ্যে গর্ভবতী নারীও রয়েছে। ওষুধের ফলাফল হিসেবে যা বেরিয়ে এসেছে তা ভয়াবহ। গর্ভবতী নারী ও নবজাতক শিশুও এইচআইভি রোগে আক্রান্ত হয়েছে! বিষয়টি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইউনাইটেড স্টেট ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ (এনআইএইচ) এক গবেষণায় উল্লেখ করে।
তবে মার্কিন নারীরাও বাদ পড়েনি নেভিরাপাইনের পরীক্ষা থেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধটির নাম ারৎধসঁহব নামে পরীক্ষা চালানো হয়। তবে অবাক হওয়ার মতো বিষয় যে ওষুধটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের পৃষ্ঠপোষকতায় বাজারজাত করা হয়ে থাকে। বিবিসি ও ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স ইন সোসাইটির মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দরিদ্র জনগণের ওপর এইচআইভি ট্রায়াল ওষুধ পরীক্ষা করা হয়। প্রধানভাবে ট্রায়াল ড্রাগের শিকার আফ্রিকান-আমেরিকান এতিম বালক-বালিকারা, যারা চার্চ পরিচালিত বিভিন্ন এতিমখানায় থাকে। মার্কিন সরকার ট্রায়াল ড্রাগের ব্যাপারে নীরবে সমর্থন দিয়ে এসেছে; যার শিকার হয়েছে দরিদ্র নারী ও শিশুরা।
শিল্প বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বিজ্ঞান ব্যাপক বিকাশ লাভ করে। বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ শাখা চিকিৎসাবিজ্ঞান সেই বিকাশে সভ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর পৃথিবীতে অন্যান্য বিজ্ঞানের মতো চিকিৎসাবিজ্ঞানও বহুজাতিক কম্পানির মুনাফা তৈরির যন্ত্র হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে। এই সময় থেকেই মূলত ওষুধ তৈরির বড় বড় কম্পানিগুলো রোগের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থার আবিষ্কার থেকে কিভাবে মুনাফার জন্য আরো অধিক হারে ওষুধের ওপর মানুষের নির্ভরশীলতা বাড়ানো যায় তার ওপর বিস্তারিত গবেষণাকর্ম শুরু করে। নিরস্ত্র মানুষের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ বহুজাতিক কম্পানির এই আক্রমণ কিভাবে প্রতিরোধ করবে_সেটাই এখন ভাবার বিষয়।
এথিক্যাল কমিটি কি সক্রিয়?:
বাংলাদেশে যদি কোনো ওষুধ ট্রায়াল বা পরীক্ষা করতে হয় তার জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে এথিক্যাল কমিটির অনুমোদন। কমিটির অনুমোদনের পর যার ওপর প্রয়োগ করা হবে তাকে বিষয়টি বিস্তারিত জানানো হবে যে ওষুধটি ট্রায়াল বা পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। যার দেহে ওষুধটি পরীক্ষা করা হবে যদি তিনি সজ্ঞানে রাজি থাকেন এবং লিখিত অনুমতি দেন তবেই ওষুধটি পরীক্ষা করা যাবে। তথ্য গোপন করে কোনো ব্যক্তির ওপর কোনো ওষুধ পরীক্ষা করা যাবে না। তবে এথিক্যাল কমিটির পক্ষ থেকে এ সব বড় ট্রায়ালে কিভাবে মনিটর করা হয় বা আদৌ মনিটর করার মতো লোকবল আছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কলেরার এই টিকা পরীক্ষার ব্যাপারে সরকারের অনুমতি নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আইসিডিডিআর,বি কর্তৃপক্ষ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এথিক্যাল কমিটির কাছ থেকে অনুমতি নিলেও যাদের ওপর সঞ্চল নামের টিকাটি প্রয়োগ করা হয়েছে, তাদের জানানো হয়নি যে টিকাটি পরীক্ষাধীন রয়েছে। এমনকি তাদের কাছ থেকে লিখিত কোনো অনুমতিও নেননি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এ বিষয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিনের প্রবীণ অধ্যাপক নাম না প্রকাশ করার শর্তে কালের কণ্ঠকে জানান, 'না জানিয়ে কারো ওপর কোনো ধরনের ওষুধ পরীক্ষা করা খুবই অন্যায়।'
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, না জানিয়ে কারো ওপর কোনো ধরনের পরীক্ষা করা ফৌজদারি দণ্ডবিধির আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

চারদিক-মনে পড়ে ১৯১৭? by ফারুক ওয়াসিফ

সহযোদ্ধাদের চোখ কপালে উঠে গেছে। কেউ তাঁকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। এমনকি দীর্ঘদিনের সঙ্গী, স্ত্রী ক্রুপস্কায়া পর্যন্ত বলছেন, ‘লেনিন পাগল হয়ে গেছেন’। কেন্দ্রীয় কমিটির প্রভাবশালী নেতা বোগদানভ তো বলেই ফেললেন, লেনিন ‘পাগলের প্রলাপ’ বকছেন।

সামরিক শাসন-বন্দী বার্মার ডাক শুনুন by অমর্ত্য সেন

ব্রিটিশ অধীনতা থেকে স্বাধীনতার অল্পদিন পরে ক্ষণিকের গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতার পর থেকেই বার্মা ৫০ বছর ধরে এক চরম স্বৈরতান্ত্রিক সামরিক শাসনে বন্দী। বার্মা এখন বিশ্বের দরিদ্রতম দেশ। এর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খুবই নড়বড়ে। ওষুধ মেলে না, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। কঠোর বিধিনিষেধের সঙ্গে রয়েছে প্রতিবাদীদের জন্য চরম শাস্তি।

শ্রদ্ধাঞ্জলি-কলিম শরাফী: এক কিংবদন্তি by আসমা আব্বাসী

মেঘের পরে মেঘ জমেছে, আঁধার করে আসে।
আমায় কেন বসিয়ে রাখ একা দ্বারের পাশে\
কাজের দিনে নানা কাজে থাকি নানা লোকের মাঝে,
আজ আমি যে বসে আছি তোমারি আশ্বাসে\

নারীর প্রতি সহিংসতা-ইভ টিজিং নিয়ে আরও কিছু কথা by মোহীত উল আলম

২৯ অক্টোবর প্রথম আলোয় ইভ টিজিংয়ের ওপর সৌরভ কর্তৃক তার প্রেমিকা মৃধাতের হত্যাকাণ্ডকে নিয়ে আমার কলামটি বের হলে বেশ কিছু পাঠক-পাঠিকার প্রতিক্রিয়া জানার পর বাধ্য হচ্ছি এ সম্পর্কে আমার চিন্তার আরও কিছু অংশ প্রকাশ করতে।

জীবনের সাইকেল-অবাক পৃথিবী: পৃথিবী চেয়ে রয় by মামুনুর রশীদ

‘অবাক পৃথিবী অবাক করলে তুমি জন্মেই দেখি ক্ষুব্ধ স্বদেশ ভূমি’— কোনো নবজাতকের জন্ম হলেই বুকটায় কেমন একটা অনুভূতি হয়, কেন পৃথিবীতে জন্ম নিল শিশুটি? একদিকে পৃথিবীটায় ঋতু পরিক্রমা বিধ্বস্ত, অন্যদিকে বিশ্বায়নের ফলে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে সংকট বাড়ছে। শিশুটি জন্মেই ঋণগ্রস্ত।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী-আসুন, মায়ের মতো দেশকে ভালোবাসি by মতিউর রহমান

প্রথম আলো এক যুগ পেরিয়েছে। ‘যা কিছু ভালো তার সঙ্গে প্রথম আলো’ স্লোগান নিয়ে ১২ বছর আগে (৪ নভেম্বর ১৯৯৮) যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রথম আলোর। আমাদের প্রত্যয় ছিল একটা স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ, পারিবারিক ও মানবিক দৈনিক হিসেবে প্রথম আলোকে গড়ে তোলার। সেই লক্ষ্য থেকে আমরা কখনো সরে আসিনি।

জনজীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারেরই দায়িত্ব-সরকারদলীয় নেতা খুন

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দীন ইসলামকে হত্যা করার পর সাধারণ মানুষের জীবন কতটা নিরাপদ, সেই প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। একজন সরকারদলীয় নেতাকে যদি দুর্বৃত্তরা থানার কাছেই এত অনায়াসে গুলি করে নিরাপদে প্রস্থান করতে পারে, তাহলে তাদের অসাধ্য তো আর কিছু নেই।

ঈদের আগে শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দিন-শ্রমিক অসন্তোষ

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরিকাঠামো ঘোষণার পর ধারণা করা হয়েছিল, এই শিল্পে শান্তি ও স্থিতি ফিরে আসবে। শ্রমিকেরা ন্যূনতম মাসিক মজুরি তিন হাজার টাকা মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু ঈদুল আজহা সামনে রেখে শিল্পাঞ্চল যে আবার সরগরম হয়ে উঠেছে, শনিবারে গাজীপুরে কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানায় শ্রমিক

শ্রদ্ধাঞ্জলি-একজন অসাধারণ চিকিৎসকের কথা by সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী

মহীরুহপ্রতীম পথিকৃৎ চিকিৎসাবিজ্ঞানী আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক অধ্যাপক ডা. জোহরা বেগম কাজী তিন বছর হলো এইদিনে পৃথিবী ছেড়ে পরপারে চলে গেছেন। আমি তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধাভরে তাঁকে স্মরণ করছি।
বাংলাদেশের বরেণ্য চিকিৎসকদের শিক্ষক অধ্যাপক জোহরা বেগম কাজী।

ফিরে দেখা নভেম্বর-খালেদ-তাহের: এক সূত্রে গাঁথা দুই মৃত্যু পরোয়ানা! by আমীন আহম্মদ চৌধুরী

১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালের নৃশংস হত্যাযজ্ঞের জের ধরে সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ড মারাত্মকভাবে হোঁচট খেয়ে ভেঙে পড়ে। ছয় মেজর সশস্ত্র বাহিনীকে কমান্ড করছেন নাকি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা করছেন—এই গুজবে সর্বত্র অস্থিরতা চলছিল।

নিরাপদ সড়ক-সড়ক দুর্ঘটনা এবং আমরা by মোহাম্মদ গোলাম মাওলা

সড়ক দুর্ঘটনা হলে আমাদের প্রতিক্রিয়া বিগত ৬০ বছরে একই রকম রয়ে গেছে। পথচারী ও সাইকেলের মধ্যে দুর্ঘটনা হলে সর্বদাই সাইকেলের দোষ, সাইকেল ও রিকশার মধ্যে হলে রিকশার দোষ, রিকশা ও মোটরসাইকেলের মধ্যে হলে মোটরসাইকেলের দোষ, মোটরসাইকেল ও কারের মধ্যে হলে কারের দোষ,

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পদ্ধতি-দয়া করে ওদের রেহাই দিন by মুনির হাসান

আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, তখন আমার ছোট ভাগনির জন্ম। আমার মনে আছে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের বারান্দায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মামাদের নানা দিকে দৌড়াদৌড়ি। আমার সেই ভাগনি চলতি বছর এইচএইসসি পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার উপযুক্ত হয়েছে।

বিশেষ সাক্ষাৎকার-সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন জিয়া by মাহবুবুর রহমান

পঁচাত্তরের ৩ থেকে ৭ নভেম্বর। সেনাবাহিনীতে পর পর যে দুটি অভ্যুত্থান ঘটে, তার ব্যাপক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায় পরবর্তীকালে রাজনীতিতে। এখনো অনেক প্রশ্নের মীমাংসা হয়নি। ৭ নভেম্বর সামনে রেখে আমরা মুখোমুখি হই দুই সাবেক সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমানের। তাঁদের সাক্ষাৎকার দুটিতে সেই সময়ের ঘটনার কিছু পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সোহরাব হাসান

প্রথম আলো  পঁচাত্তরের নভেম্বরে সংঘটিত ঘটনাবলিকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন? বিশেষ করে ৩ নভেম্বর ও ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থান?
মাহবুবুর রহমান  বাংলাদেশের সেনাবাহিনী পুনর্গঠন-প্রক্রিয়ায় তৎকালীন সরকার কিছু ভুল সিদ্ধান্ত নেয়; যার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া আমাদের অনেক দিন টানতে হয়েছে। সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে সিনিয়র ছিলেন জিয়াউর রহমান। তাঁকে সেনাপ্রধান না করে করা হলো কে এম সফিউল্লাহকে। এটা মন্দ দৃষ্টান্ত। এর ফলে সেনাবাহিনীতে কিছুটা অসন্তোষ দেখা যায়। আরেকটি বিষয় ছিল রক্ষীবাহিনী। আধাসামরিক বাহিনী হিসেবে রক্ষীবাহিনী থাকতে পারে। কিন্তু তাদের সুযোগ-সুবিধা তো সেনাবাহিনীর চেয়ে বেশি হতে পারে না। আমরা যখন পাকিস্তানে আটকাবস্থা থেকে ’৭৩-৭৪ সালে ফিরে এসে সেনাবাহিনীতে আত্তীকরণ হলাম, তখন এ নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছিল।
প্রথম আলো  এর পরিপ্রেক্ষিতেই কি ১৫ আগস্টের ঘটনা ঘটানো হলো?
মাহবুবুর রহমান  পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের বিয়োগান্ত ঘটনা কিন্তু সেনাবাহিনী ঘটায়নি; ঘটিয়েছে কতিপয় জুনিয়র কর্মকর্তা। সেনাবাহিনী জড়িত থাকলে সেনাপ্রধানই ক্ষমতা দখল করতেন। এটা ছিল একটি ষড়যন্ত্র। সে সময় আমি সেনা সদর দপ্তরে ছিলাম। দেখেছি, সেনাবাহিনীর মধ্যে নানা সংশয়, সন্দেহ ও গুজব ছড়িয়ে পড়ছে। সিনিয়র কর্মকর্তারা চাইছিলেন চেইন অব কমান্ড ফিরে আসুক। তখন চিফ অব জেনারেল স্টাফ ছিলেন খালেদ মোশাররফ। তিনি মনে করলেন, চেইন অব কমান্ড প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ঢাকার ব্রিগেড কমান্ডার ছিলেন সাফায়েত জামিল। তাঁরা ৩ নভেম্বর যেটি করলেন, সেটি ছিল অভ্যুত্থান। কিন্তু তাঁরা সেনাবাহিনীকে নিজের পক্ষে টানতে পারলেন না। অন্যদিকে জিয়াউর রহমানের প্রতি বেশির ভাগ কর্মকর্তা ও জওয়ানের সমর্থন ছিল। তাঁকে বন্দী করায় তাঁদের সহানুভূতিও তাঁর প্রতি বেড়ে যায়। সে সময় চার দিন দেশে প্রশাসন বলতে কিছু ছিল না। গোটা জাতি ছিল বিভ্রান্ত। সর্বত্র আতঙ্ক, উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা চলছিল। তখন সেনাবাহিনীর ভেতরে ও বাইরে নানা রকম প্রচারপত্র বিলি করা হয়। জওয়ানদের মধ্যেও ক্ষোভ ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় কর্মকর্তা ও জওয়ানদের মধ্যে তেমন পার্থক্য ছিল না। তাঁরা সবই একই ক্যাম্পে ছিলেন। কিন্তু নিয়মিত বাহিনীতে তাঁদের অবস্থান আলাদা হয়ে গেল।
আরেকটি বিষয়, কর্নেল তাহের তখন সেনাবাহিনীতে না থাকলেও কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতেন। তিনি একটি চিন্তা নিয়ে এগোচ্ছিলেন। সেনাদের একাংশের মধ্যে জাসদেরও প্রভাব ছিল। ৭ নভেম্বর বিভিন্ন ব্রিগেডের জওয়ানরা ব্যারাক থেকে বেরিয়ে এসে জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করলেন। তাহের চেয়েছিলেন, গণবাহিনী সেনাবাহিনী গড়ে তুলবে। পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটের দিকে এগোচ্ছিল। জিয়াউর রহমান সেই পথে গেলেন না। দুজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলো। পরবর্তী ঘটনা আপনারা জানেন।
প্রথম আলো  ৭ নভেম্বরের ঘটনায় জিয়াউর রহমানের ভূমিকা কী ছিল?
মাহবুবুর রহমান  ৭ নভেম্বর ছিল ৩ নভেম্বরেরই প্রতিক্রিয়া। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কাজটি করেছিলেন জিয়াউর রহমান। সেনাবাহিনীর যে জওয়ানরা বেরিয়ে এলেন, তাঁদের ব্যারাকে নিয়ে আসা ছিল কঠিন কাজ। জিয়া ছাড়া আর কেউ পারতেন না। শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যাপারে তিনি ছিলেন অনমনীয়। ৭ নভেম্বরের পর তিনি বিভিন্ন সেনানিবাসে দরবারের ব্যবস্থা করলেন। সেখানে একজন জওয়ান জিয়া ভাই বলে সম্বোধন করতেই তিনি বললেন, ‘চুপ করো, আমি কারও ভাই না। আমি সেনাপ্রধান।’
অতএব এ কথা স্বীকার করতেই হবে যে তিনি সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছিলেন।
প্রথম আলো  ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থানকারীদের সঙ্গে জিয়ার সম্পর্ক কেমন ছিল?
মাহবুবুর রহমান  তাদের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের সম্পর্ক মধুর ছিল না। হয়তো তিক্ততাও ছিল না। স্বাধীনতার পর সেনাপ্রধানের পদটি জিয়াউর রহমানেরই প্রাপ্য ছিল। সেই পদটি তাঁকে না দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবে কর্মকর্তা ও জওয়ানদের সহানুভূতি তাঁর ওপর ছিল।
প্রথম আলো  সেনাবাহিনীর ওপর জিয়াউর রহমানের যদি এতটাই নিয়ন্ত্রণ থাকবে, পরবর্তী অভ্যুত্থান, পাল্টা-অভ্যুত্থান তিনি ঠেকাতে পারলেন না কেন?
মাহবুবুর রহমান  প্রতিটি ঘটনার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া থাকে। যাঁরা ১৫ আগস্টের ও ৩ নভেম্বরের ঘটনা ঘটিয়েছেন, সেনাবাহিনীতে তাঁদের অনুসারী ছিলেন, কর্নেল তাহেরের অনুসারীরা ছিলেন—সবাই চেয়েছিলেন নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে। সব পক্ষকে সামাল দেওয়া তাঁর পক্ষে হয়তো সম্ভব হয়নি। তবে তিনি চেষ্টা করে গেছেন। আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে, জিয়া সেনাবাহিনীর মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তাদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও পোশাকের ব্যবস্থা করেছেন। এ জন্য সাধারণ সেনা কর্মকর্তা ও জওয়ানরা তাঁর ওপর সন্তুষ্ট ছিলেন। সে ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান হওয়ার কথা নয়।
প্রথম আলো  ৭ নভেম্বরের পর সেনানিবাসগুলোতে কি শৃঙ্খলা ফিরে এসেছিল?
মাহবুবুর রহমান  অনেকটাই ফিরে এসেছিল। এ ক্ষেত্রে জেনারেল জিয়াউর রহমান সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন। সেনানিবাসগুলোতে ঝটিকা সফর করে কর্মকর্তা ও জওয়ানদের বুঝিয়েছেন। আমি মনে করি, ’৮১তে তাঁর বিরুদ্ধে যে অভ্যুত্থান হয়েছিল তার সঙ্গে পঁচাত্তরের ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই। এর সঙ্গে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত ছিল।
প্রথম আলো  ৭ নভেম্বর খালেদ মোশাররফ ও তাঁর সহযোগীদের হত্যা করা হয়েছে। কারা হত্যা করেছে? অনেকে মনে করেন, এতে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ছিল।
মাহবুবুর রহমান  এটি অপপ্রচার ছাড়া কিছু নয়। আমার ধারণা, ৩ নভেম্বরের আগে সেনানিবাসে কী ঘটছে, খালেদ মোশাররফ সেটি উপলব্ধি করতে পারেননি। কর্নেল তাহের যে ভেতরে ভেতরে জওয়ান ও কর্মকর্তাদের সংগঠিত করে ফেলেছেন, সেটি তিনি বুঝতে পারেননি। পারলে অন্য রকম ফল হতো। তিনি যেসব ব্রিগেডকে তাঁর সমর্থনে নামাতে চেয়েছিলেন, তাঁরা উল্টে গেলেন। তাঁর মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। কিন্তু সেটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হয় না। খালেদ মোশাররফ পালিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর গাড়ি নষ্ট হয় এবং সংসদ ভবন এলাকায় আশ্রয় নেন। জিয়াউর রহমান কোনোভাবে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। বন্দিদশা থেকে বেরিয়ে এসে কিন্তু প্রথমেই কর্মকর্তাদের বলেছিলেন, ‘খালেদকে রক্ষা করার চেষ্টা করো।’ যখন তিনি জানতে পারলেন, খালেদ ও তাঁর সহযোগীদের মেরে ফেলা হয়েছে। তিনি মাথায় হাত দিয়ে বললেন, ‘ও মাই গড।’

বিশেষ সাক্ষাৎকার-দেশ স্বাধীনতাবিরোধীদের খপ্পরে চলে যায় by কে এম সফিউল্লাহ

পঁচাত্তরের ৩ থেকে ৭ নভেম্বর। সেনাবাহিনীতে পর পর যে দুটি অভ্যুত্থান ঘটে, তার ব্যাপক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায় পরবর্তীকালে রাজনীতিতে। এখনো অনেক প্রশ্নের মীমাংসা হয়নি। ৭ নভেম্বর সামনে রেখে আমরা মুখোমুখি হই দুই সাবেক সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমানের।

সভ্য সমাজে এমন হত্যাকাণ্ড চলতে পারে না-গণপিটুনিতে হত্যা

গত শুক্রবার ঢাকার কদমতলী থানার হাবিবনগরে এলাকাবাসী ডাকাত সন্দেহে পাঁচজনকে পিটিয়ে হত্যা করে। এলাকাবাসীর মতে, সম্প্রতি চুরি-ডাকাতি বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় লোকজন দল বেঁধে পাহারা দেওয়া শুরু করে। ঘটনার দিন গভীর রাতে ২০-২৫ জন লোককে আসতে দেখে পাহারারত ব্যক্তিরা তাদের পরিচয় ও গন্তব্য জানতে চায়।

গণতন্ত্র ও সুশাসনের বিকল্প নেই-মানব উন্নয়ন সূচকে অগ্রগতি

গত ৩০ বছরে বাংলাদেশের মানব উন্নয়ন সূচক ৮১ শতাংশ বেড়েছে—এটি আমাদের জন্য এক বড় আনন্দের সংবাদ। এই সূচক বাংলাদেশের বিরাট অগ্রগতির ইঙ্গিতবাহী এবং আরও উন্নয়নের ধারায় দেশকে এগিয়ে নেওয়ার পথে নিশ্চয়ই নতুন উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।

চারদিক-সুহূদের সঙ্গে by মাহবুবা ইয়াসমীন

অক্টোবরের ওই দিনটা ছিল নির্মলচন্দ্র গোপের জন্মদিন। বিশ্ববিদ্যালয়ে এটাই ছিল তাঁর শেষ জন্মদিন। তাই তিনি জন্মদিনের আয়োজনটা করলেন একটু ব্যতিক্রমী। বরাবরই নির্মলের বন্ধুমহলটা বেশ বড়। এ জন্মদিনে তিনি তাঁর কাছের ৩৫ জন বন্ধুকে নিমন্ত্রণ করেন এবং জানান, ওই অনুষ্ঠানেই উপহার দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে, তাই কেউ যেন উপহার নিয়ে না আসে।

অর্থনীতি-অঞ্চলে বাঁধা চঞ্চল টাকা by ফারুক মঈনউদ্দীন

অর্থনীতিতে যে অলস অর্থ পড়ে থাকার কথাটি প্রায়ই শোনা যায়, সেটা মূলত ব্যাংক খাতের অবিনিয়োজিত তহবিলকেই বোঝানো হয়ে থাকে। বস্তুত, আজকাল কেউ আর ‘চঞ্চল টাকা অঞ্চলে’ বেঁধে রাখেন না। অঞ্চলে বাঁধা টাকা বলতে বোঝায় ঘরের সিন্দুকে নগদ টাকা রেখে দেওয়া।

দুর্যোগ-‘আইলা’পীড়িত কয়রা উপকূলের কথা by মুশফিকুর রহমান

ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’ দেশের দক্ষিণের জেলাগুলোতে আঘাত হেনেছিল ২৫ মে ২০০৯। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর চাপা উদ্বেগের মধ্যেও সেদিন প্রাত্যহিক কাজে বেরিয়েছিল উপকূলের মানুষের সঙ্গে খুলনার কয়রা অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ। দিনের মধ্যভাগে হঠাৎ খবর আসে, উপকূল রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন অংশ ভেঙে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে।

ভারত-সেন্সরশিপের প্রতি গভীর প্রেম by আশীষ নন্দী

প্রায় আড়াই শ বছর আগে স্যামুয়েল জনসন বলেছিলেন, ‘দুরাচারের শেষ আশ্রয় দেশপ্রেম।’ কথাটি একালে ভারতের ক্ষেত্রে নির্বিঘ্নে খাটে। কাশ্মীরবিষয়ক এক সভায় অরুন্ধতী যে বক্তব্য দিলেন, এর জন্য দেশদ্রোহের অভিযোগ তুলে তাঁর গ্রেপ্তার ও বিচারের যে হুমকি দেওয়া হলো, তা অন্য কোনোভাবেই ব্যাখ্যা করা যায় না।

কালের পুরাণ-মধ্যবর্তী নির্বাচন, আমেরিকায়, বাংলাদেশে! by সোহরাব হাসান

‘ছাত্রলীগ’ না থাকা সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ডেমোক্রেটিক দল মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে; বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগকে সঙ্গে নিয়ে কীভাবে আগামী নির্বাচনে জয়ী হবেন?
এই প্রশ্নটি জোরালোভাবে উঠেছে আওয়ামী লীগের কট্টর ও নরম সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে,

শ্রম খাতের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে চায় স্কপ-১৮ বছরের অপেক্ষা

আঠারো বছর পর সরকারের দরবারে দাবিনামা পেশ করেছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। এই সময়ে শিল্প খাতে ব্যাপক পরিবর্তন এলেও শ্রমিকদের অবস্থার তেমন বদল ঘটেনি। বরং অনেক ক্ষেত্রেই অবনতি হয়েছে। এসব বিষয়েই এক মাস আগে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রীর কাছে আলোচনার সময় চেয়েছিলেন স্কপের নেতারা, কিন্তু সাড়া মেলেনি।

রাষ্ট্রীয় দলিল সংরক্ষণে এই উদাসীনতা ক্ষমাহীন-বাহাত্তরের নথিপত্র গায়েব!

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রায় দেড় শ বছর আগে আক্ষেপ করেছিলেন, ‘বাঙালির ইতিহাস নাই।’ আজও সে কথা সত্য। আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের তথ্যপ্রমাণসমৃদ্ধ ইতিহাস এ পর্যন্ত রচিত হয়নি। যেসব দলিল, স্মারক ও উপাদান দিয়ে সেই ইতিহাস পূর্ণাঙ্গ হতে পারত, সেসবও খুইয়ে ফেলা হয়েছে।

চারদিক-আঁধারের মাঝেও আলোর দিশা by শারমিন নাহার

যাত্রাবাড়ী থেকে খুব বেশি পথ নয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ধারে শনির আখড়ার বাঁশপট্টি পর্যন্ত গেলেই চলবে। রাস্তার পাশে সারিবদ্ধ করে রাখা বাঁশগুলো। আর এই বাঁশপট্টিতেই গড়ে উঠেছে স্কুলটি। দিনের মতো রাতের বেলায়ও জমে ওঠে অগ্রদূত বিদ্যানিকেতন নামের স্কুলটি।

সময়চিত্র-প্রথম আলো: পাঠকের কাঠগড়া by আসিফ নজরুল

লন্ডনে থাকাকালে শামীম আজাদ খবরটি জানান। মতিউর রহমান ভোরের কাগজ ছেড়ে দিচ্ছেন। নতুন পত্রিকা বের করছেন, নাম প্রথম আলো। প্রথম আলো সুনীল গঙ্গোপ্যাধায়ের উপন্যাসের নাম। একা এবং কয়েকজন আর সেই সময় পড়ে আমাদের প্রজন্ম তখন সুনীলের উন্মাতাল ভক্ত।

চারদিক-আঁধারের মাঝেও আলোর দিশা by শারমিন নাহার

যাত্রাবাড়ী থেকে খুব বেশি পথ নয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ধারে শনির আখড়ার বাঁশপট্টি পর্যন্ত গেলেই চলবে। রাস্তার পাশে সারিবদ্ধ করে রাখা বাঁশগুলো। আর এই বাঁশপট্টিতেই গড়ে উঠেছে স্কুলটি। দিনের মতো রাতের বেলায়ও জমে ওঠে অগ্রদূত বিদ্যানিকেতন নামের স্কুলটি।

সময়চিত্র-প্রথম আলো: পাঠকের কাঠগড়া by আসিফ নজরুল

লন্ডনে থাকাকালে শামীম আজাদ খবরটি জানান। মতিউর রহমান ভোরের কাগজ ছেড়ে দিচ্ছেন। নতুন পত্রিকা বের করছেন, নাম প্রথম আলো। প্রথম আলো সুনীল গঙ্গোপ্যাধায়ের উপন্যাসের নাম। একা এবং কয়েকজন আর সেই সময় পড়ে আমাদের প্রজন্ম তখন সুনীলের উন্মাতাল ভক্ত। তাঁর উপন্যাসের নামে হবে মতিউর রহমানের নতুন দৈনিক!

ধর্ম-হাজরে আসওয়াদের ইতিকথা by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

‘হাজরে আসওয়াদ’ বা কালো পাথর একটি প্রাগৈতিহাসিক ইসলামি নিদর্শন এবং বেহেশতের বহু মূল্যবান বরকতময় উপকরণ। এটি পবিত্র কাবাগৃহের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে প্রায় চার ফুট উঁচু দেয়ালের কিছুটা ভেতরে পোঁতা কালো থালার মতো একটি গোল পাথর। কালো বর্ণের বলে এর নাম রাখা হয়েছে হাজরে আসওয়াদ।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন-রিপাবলিকানদের জয় নয়, ডেমোক্র্যাটদের পরাজয় by জন বি জুডিস

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের দিন ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির চেয়ারম্যান টিম কাইনির কাছে ডেমোক্র্যাটদের আসন্ন পরাজয়ের তাৎপর্য নিয়ে তাঁর মূল্যায়ন জানতে চাওয়া হলে তিনি একে অনেকটা গতানুগতিক নির্বাচন হিসেবেই মন্তব্য করলেন।

গতকাল সমকাল-মার্শাল চেন ই-র কবিতা আর বাংলাদেশের আঞ্চলিক বিদেশনীতি by ফারুক চৌধুরী

পঞ্চাশের দশকের শেষ দুটি বছর আর ষাটের দশকে (সাংস্কৃতিক বিপ্লবের তাণ্ডবের সময়টি বাদ দিলে) মার্শাল চেন ই ছিলেন চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী। চীনের লংমার্চখ্যাত এই সেনাপতির অন্য একটি পরিচয়ও রয়েছে। চীনের মুক্তিযুদ্ধের নেতৃকুলের মধ্যে কবি হিসেবে চেয়ারম্যান মাও সেতুয়ের পরেই তাঁর স্থান।

বেকার তরুণ-তরুণীরা উপকৃত হবেন-কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুপরামর্শ

দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোকে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন ফি না নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক অত্যন্ত সুবিবেচনার পরিচয় দিয়েছে। দেশে কর্মহীন তরুণ-তরুণীর সংখ্যার তুলনায় চাকরির সংখ্যা নগণ্য। একেকজন চাকরিপ্রার্থীকে অসংখ্য জায়গায় চাকরির জন্য আবেদন করতে হয়।

বিদ্যুতের ঘাটতি দূর করাই আসল কথা-লোডশেডিং ও ষড়যন্ত্র

মধ্যরাতে মানুষ যখন ঘুমায়, যখন বিদ্যুৎ ব্যবহার কম হয়, তখনো লোডশেডিং হয়। আমি একটা উদাহরণ দিলাম। এমন আরও ষড়যন্ত্র হচ্ছে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই বক্তব্যে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে দেশে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে এবং মাঝরাতে যে লোডশেডিং হচ্ছে, তার পেছনেও ষড়যন্ত্র রয়েছে।

ফতোয়াবাজির কবলে সমাজ

সভ্যতার মুখোশ পরে মানুষ এখনো বর্বরদেরই অনুসরণ করে। সামগ্রিক চিত্র না হলেও এও সম্ভব আমাদের দেশে। তাই বলতে হয়, ফতোয়া কার্যকর হওয়ার কারণে শরীয়তপুরের কিশোরী হেনার মৃত্যুর পর। এ কেমন পাশবিকতা? পুরুষের বর্বরতার শিকার এই কিশোরী প্রথমত ধর্ষণের শিকার হয়ে তাকেই কি না আবারও নির্যাতনের শিকার হতে

পরিবেশ বিনিয়োগবান্ধব হোক

খবরটি সুখের নয়। যখন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন জরুরি, সে প্রবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন বিনিয়োগ_তখন বিদেশি বিনিয়োগকারী বা উদ্যোক্তাদের ফিরে যাওয়ার খবর সুখবর হতে পারে না। কিন্তু ঠাঁই নেই ইপিজেডে। বিদেশি উদ্যোক্তাদের ফিরে যেতে হচ্ছে। এই বিদেশি উদ্যোক্তাদের পছন্দের জায়গা ঢাকা অথবা চট্টগ্রাম।

পবিত্র কোরআনের আলো-আল্লাহ মানুষকে তার সামর্থ্যের বাইরে কোনো দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না

২৮৫. আ-মানার্রাসূলু বিমা-উনযিলা ইলাইহি মির্ রাবি্বহী ওয়ালমু'মিনূন; কুল্লুন আ-মানা বিল্লা-হি ওয়ামালা-য়িকাতিহি ওয়া কুতুবিহি ওয়া রুসুলিহি; লা-নুফার্রিক্বু বাইনা আহাদিম্ মির্রুসুলিহি; ওয়াক্বা-লূ ছামি'না-ওয়াআত্বা'না-গুফরা-নাকা রাব্বা-না-ওয়াইলাইকাল মাসীর।

আহমদুল হাসান, রাশেদুর রহমান, নাহিদ কামাল, মেহেদী উল্লাহ, সৌমিত চন্দ্র জয়দ্বীপ-মুক্তমঞ্চে হামলা এবং একটি বিধ্বস্ত বিদ্যাপীঠ

বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে আমরা একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে পা দিয়েছিলাম। অজানাকে নতুন করে জানার বাসনা মনে জেগেছিল আমাদের এবং সেটাই স্বাভাবিক। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে যেকোনো শিক্ষার্থীর এই চিন্তা নিশ্চয়ই গুরুত্ব বহন করে।

সময় বয়ে যায় by শেখ হাফিজুর রহমান সজল

মহাজোট সরকারের দুই বছর পূর্তিতে সরকারের সাফল্যের কথা হচ্ছে সর্বত্র। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিগুলোও সাফল্য বলে প্রচার করা হচ্ছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী খুবই ভাগ্যবান। কারণ তাঁর সামনে অনেক উদাহরণ আছে, যাতে তিনি সতর্ক হতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গের বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সামনে তেমন কোনো উদাহরণই ছিল না।

চালচিত্র-ভাষার মাস, হাতেখড়ি থেকে মুক্তিযুদ্ধ by শুভ রহমান

আমাদের চেতনার অমূল্য সব সম্পদ_ভাষার মাস, স্বাধীনতার মাস, বিজয়ের মাস। জাতি হিসেবে আমরা এভাবে আমাদের বর্ষপরিক্রমাকে চিহ্নিত করতে শিখেছি এবং নতুন প্রজন্মকে শেখাচ্ছি। এ শিক্ষা অনন্য এবং গৌরবময়। এই ভাষার মাস খুবই গভীর ব্যঞ্জনাময়। এভাবে পৃথিবীর কোনো জাতির কোনো একটি মাস চিহ্নিত হয় না।

চারদিক-মন ভালো হয়ে যায় by জাহীদ রেজা নূর

৩ নভেম্বর সকালে হাঁটার জন্য সোজা চন্দ্রিমা উদ্যান। হাতের সঙ্গে পেঁচিয়ে নেওয়া একটা ডিজিটাল ক্যামেরা। চন্দ্রিমায় রাজকীয় চালে হেলেদুলে হাঁটে কয়েকটি রাজহাঁস। ওদের ছবি তুলে বাচ্চাদের দেখাব—এই ছিল উদ্দেশ্য। কিন্তু রাজহাঁসগুলোর দেখা মেলে না। অবশ্য একটি দৃশ্য দেখে মন ভালো হয়ে যায়।

নাগরিক ভাবনা-আমরা অসন্তুষ্ট by শাহদীন মালিক

এ লেখার দায়ভার ৩০ অক্টোবর প্রথম আলোর ১৯ পৃষ্ঠার খবর, যার শিরোনাম ‘শহীদ রুমীর আদর্শ ছড়িয়ে দিতে হবে’। ‘মুক্তিযোদ্ধা রুমীকে নিয়ে প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন’ অনুষ্ঠানের খবররুমীকে মারার আগে কত নির্যাতন করেছে, কত কষ্ট দিয়েছে, সেটা কখনো চিন্তা করতে চাই না—তাই চার দশক ধরে রুমীকে দূরে সরিয়ে রেখেছি।

গোধূলির ছায়াপথে-প্রথম আলোর যুগপূর্তি by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

মনে করার চেষ্টা করছি, যখন আমি বারো বছরের কিশোর। আট থেকে বারোর দিনগুলো যেন ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে চলেছে। পেছনের দিকে তাকানোর নেই অবকাশ। দেশ স্বাধীন হওয়ার মুহূর্তে এক দেশ থেকে আরেক দেশ। এক স্কুল থেকে আরেক স্কুল। পরিবর্তনের দোলাচলে। সঙ্গে কিছুই নেই স্মৃতি ছাড়া।

উইকিলিকস-ইরাকে আমেরিকার গোমর ফাঁস by লিন্ডা এস হার্ড

আমেরিকার গোমর ফাঁসকারী উইকিলিকসের সাহসের তারিফ করতেই হয়! এ ধরনের বিবেকি মানুষজন ছাড়া ভিয়েতনাম যুদ্ধের আসল সত্যগুলো জানা যেত না। জানা যেত না মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি কিংবা ইসরায়েলের গোপন পারমাণবিক বোমাভান্ডার অথবা আবু গারিব কারাগারের পাশবিক নির্যাতনের কথা।

শ্রদ্ধাঞ্জলি-‘এত ভালোবাসা আমায় দিস নে’ by তপন মাহমুদ

মধ্যবিত্ত শিক্ষিত বাঙালি তাঁকে চিনত শিল্পী, সংগঠক ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে। কিন্তু ছোট-বড়, শিক্ষিত-অশিক্ষিত সবার কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন সূর্যস্নান ছবির গান ‘পথে পথে ছিলাম ছড়াইয়া’র গায়ক। এর মাধ্যমে সব শ্রেণীর মাঝে তিনি নিজেকে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।

সময়ের প্রতিবিম্ব-সংবিধান পুনর্মুদ্রণ ও রাষ্ট্রীয় মূলনীতি by এবিএম মূসা

সাম্প্রতিক কালে ১৯৭২ সালে প্রণীত বাংলাদেশের আদি সংবিধানে ‘ফিরে যাওয়া’ নিয়ে অনেক কথাবার্তা হচ্ছে। আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ও তার পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা অনেকের কাছে অস্পষ্ট। এতদসত্ত্বেও সব প্রশ্নের একটি সহজ-সরল উত্তর আছে।

প্রতিকারহীনতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে-আত্মহত্যার মিছিল

বগুড়ার রূপালী ফিরতে পারেনি। চরম অপমান আর অসহায়তার মুখে সে আত্মহত্যা করেছে। সিঁথিতে বখাটের লাঞ্ছনার সিঁদুর সে মুছে ফেলেছে মৃত্যুকে ডেকে নিয়ে। নারায়ণগঞ্জের সিমি, খুলনার রুমী, গাইবান্ধার তৃষাদের মৃত্যুর মিছিলে যোগ হলো আরেকটি নাম।

বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অঙ্গীকার-‘প্রথম আলো’র এক যুগ

প্রথম আলোর প্রকাশনার এক যুগ পূর্ণ হলো। এই আনন্দের দিনে আমরা শুভেচ্ছা জানাচ্ছি আমাদের অগণিত পাঠক, লেখক, পরিবেশক, এজেন্ট, বিজ্ঞাপনদাতাসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে। সবার আন্তরিক সমর্থন ও সহযোগিতার ফলেই প্রথম আলো দেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক সংবাদপত্রের মর্যাদা অর্জন করতে পেরেছে।

স্বাভাবিক হয়ে আসছে সীমান্ত পরিস্থিতি

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের সহিংসতা কমে আসায় বাংলাদেশ-মিয়ানমারের সীমান্ত পরিস্থিতি ক্রমশ স্বাভাবিক হয়ে আসছে। নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি। টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য শুরু হয়েছে।
এদিকে, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মিয়ানমারের নাসাকা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

যানজটে নাকাল চকবাজার by মিঠুন চৌধুরী

চক সুপার মার্কেটের সামনে একটি সিটি বাস অন্যটিকে অতিক্রমের চেষ্টা করছে। পেছনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। কাঁচাবাজারের দিক থেকে আসা রিকশাগুলো আটকে আছে সড়কের মুখে। এ সময় প্যারেড ময়দানের দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল ট্রাফিক পুলিশের ইশারা অমান্য করে কাঁচাবাজারের দিকে যেতে চায়।

ছোট ছোট নৌকায় করে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে-জেলেদের বেশে রোহিঙ্গাদের ঢোকার চেষ্টা

টেকনাফ সীমান্তে বিচ্ছিন্নভাবে আবারও রোহিঙ্গারা অনুপ্রবশের চেষ্টা চালাচ্ছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্টগার্ড। গত রোববার রাত ও গতকাল সোমবার ভোর পর্যন্ত শাহপরীর দ্বীপের বিভিন্ন স্থান থেকে বিজিবি ৩৪ জনকে আটক করে।

আতঙ্কে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীরা-আত্মসমর্পণ করলেই কারাগারে!

নগরে তিনটি প্রাইভেট কার পোড়ানোর মামলায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের বেশির ভাগ নেতা-কর্মীর উচ্চ আদালত থেকে নেওয়া জামিনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এবার পর্যায়ক্রমে তাঁদের নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের চায় না কক্সবাজারের মানুষ by হামিদ উল্লাহ ও গিয়াস উদ্দিন

রোহিঙ্গা নাগরিকদের যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশের বিরোধিতা করছেন টেকনাফের স্থানীয় রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সচেতন লোকজন। তাঁরা মনে করেন, রোহিঙ্গাদের উপস্থিতির কারণে সমগ্র কক্সবাজার জেলার আর্থসামাজিক অবস্থার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। অবনতি ঘটছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির।

চরাচর-ঈসা খাঁর এগারসিন্ধুর দুর্গ by সাইফুল ইসলাম খান

সিন্ধু সভ্যতার যুগ থেকেই রাজ্য শাসন, বিশেষ করে অন্য রাজা বা জমিদারদের বহিরাক্রমণ প্রতিরোধের জন্য রাজা বা জমিদাররা দুর্গ গড়ে তুলতেন। সাধারণত রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এসব দুর্গ গড়ে তোলা হতো। তখনকার দুর্গগুলো মূলত এখনকার ক্যান্টনমেন্টের মতো কাজ করত।

লুৎফর রহমান রনো-দুটি ঘটনা ও নারীর ক্ষমতায়ন

সম্প্রতি দুটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে বাংলাদেশে নারীর অবস্থান কোন পর্যায়ে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক বরখাস্ত হয়েছেন ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অপরাধে। অন্য ঘটনা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের চোখের এক ডাক্তার সাময়িকভাবে বরখাস্ত হয়েছেন রোগিণীর সঙ্গে অনুরূপ আচরণ করার

বন আইন সংশোধন এবং আদিবাসীদের অধিকারের প্রশ্ন by শক্তিপদ ত্রিপুরা

শোনা যাচ্ছে, সরকার বন আইন সংশোধন ও বন্য প্রাণী আইন প্রণয়ন করতে চলেছে। বন আইন প্রণীত হয় ১৯২৭ সালে, ব্রিটিশ আমলে। এটি একটি ঔপনিবেশিক আইন। স্রেফ মুনাফা লাভকে সামনে রেখে ব্রিটিশ সরকার এ আইন প্রণয়ন করেছিল। এ আইন এ দেশের মানুষের স্বার্থে প্রণীত হয়নি।

শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা by হায়দার আকবর খান রনো

গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে জানুয়ারি মাসজুড়ে শেয়ারবাজারে অস্বাভাবিক দরপতনের খেলা চলেছে। পুঁজিবাজারে শেয়ারের দাম ওঠানামা করবে এটা স্বাভাবিক। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় এক ধরনের জুয়ার কারবার যে আছে, তা নতুন কিছু নয়। শেয়ারবাজারের দর অধিকাংশ সময় স্বাভাবিক অর্থনৈতিক অবস্থাকে অনুসরণ করে চলে না।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন-যত দেরি হবে, সংকট তত বাড়বে

২০০৫ সালের পর বাংলাদেশ থেকে একজন রোহিঙ্গা শরণার্থীকেও ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। শরণার্থী হিসেবে নিবন্ধিত প্রায় ২৯ হাজার রোহিঙ্গাকে জোর করে ফেরত পাঠানোর সুযোগ বাংলাদেশের যেমন নেই, তেমনি নানা অজুহাতে তারাও স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে চায় না। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে,

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে মুবারক

মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। দেশটির কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, মুবারক 'ক্লিনিক্যালি ডেড' এবং তাঁকে কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। তবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল নিল জানিয়েছে, মুবারকের অবস্থা সংকটাপূর্ণ। তাঁকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

গাড়ি পোড়ানোর মামলা-ফখরুলসহ ৪৬ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ৩ জুলাই

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৮ দলীয় জোটের ৪৬ নেতার বিরুদ্ধে আগামী ৩ জুলাই অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল বুধবার এ মামলায় অভিযোগ গঠনের তারিখ নির্ধারিত ছিল।

নর্থ সাউথে শাহজাহানের সাম্রাজ্যে ধসের অপেক্ষা-রাষ্ট্রপতির কাছে ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব by অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য

শেষ পর্যন্ত আর টিকতে পারছেন না নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান। যে ট্রাস্টি বোর্ড নিয়ে তিনি সরকারের সঙ্গে চ্যালেঞ্জে গিয়েছিলেন, সেই ট্রাস্টি বোর্ডই ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। গঠন করা হচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি। ফলে ইউনিভার্সিটির নেতৃত্বে আর থাকতে পারছেন না মো. শাহজাহান।

বাসচাপায় সহকর্মীর মৃত্যু-চট্টগ্রামে পোশাক শ্রমিকদের ভাঙচুর বাসে আগুন

চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় সহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় তৈরি পোশাক কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক রাস্তায় নেমে ভাঙচুর করেছে। অন্তত তিন হাজার শ্রমিক নগরের ব্যস্ততম একটি সড়ক অবরোধ করে যানবাহন, হোটেল ও বীমা অফিস ভাঙচুর করে। তারা দুটি বাসেও আগুন ধরিয়ে দেয়।

ঢালিউড কর্নার-এফডিসিতে এক চক্কর

দুপুরের এক পশলা বৃষ্টি যেন গরমটা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গরমে অস্থির হয়েই শিল্পীরা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে আঁটসাঁট হয়ে বসে আছেন। এমন দৃশ্য দেখা গেল ১ নম্বর ফ্লোরে। এফ আই মানিক সেখানে দুই পৃথিবী চলচ্চিত্রের গানের শুটিং করছেন। এখানে একটি বাগান তৈরি করা হয়েছে।

বাবার জন্য ভালোবাসা by মৃন্ময় হক

ইতালির রাস্তায় সার সার মানুষ। তার মধ্যে বাবা আন্তোনিওর হাত ধরে যাচ্ছে ছেলে ব্রুনো। বাবা-ছেলের অভিব্যক্তিতে তখন কান্না ঠেকানোর প্রবল চেষ্টা। ভিত্তোরিও দ্য সিকা পরিচালিত বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র বাইসাইকেল থিভস-এর শেষ দৃশ্য এটি। বাবার হাত ধরে পরম নির্ভরতায় ছেলে চলেছে সামনে।

স্বর্ণার দুই অধ্যায় by শফিক আল মামুন

বিষয়টি এমন! স্বর্ণাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় মঞ্চে বা টেলিভিশনে প্রচার হওয়া আপনার অভিনীত প্রথম নাটকের নাম কী? কিংবা যদি বলা হয় কবে নাটকটি মঞ্চে এসেছিল বা টেলিভিশনে প্রচার হয়েছিল? উত্তরে তিনি কিছুক্ষণ হাসবেন। তারপর একটু থামবেন। বলবেন, ‘মনে নেই। মনে করতে পারছি না।

চিরকুট ও চিরকুটনামা by মেহেদী মাসুদ

জেন এক্স। চ্যানেল নাইনের একটি অনুষ্ঠান। এখানে প্রতি পর্বে আমন্ত্রণ জানানো হয় একজন শিল্পীকে। আর তাঁর সঙ্গে বাদ্যযন্ত্রে কিংবা মাঝেমধ্যে কণ্ঠ দিয়েও সহযোগিতা করেন এ প্রজন্মের পাঁচজন তরুণ—ইমন (গিটার), রোকন (বেস), পাভেল (ড্রামস), পিন্টু (কণ্ঠ, বেহালা, বাঁশি, ডারবুকা) এবং সুমী (কণ্ঠ)।

মেহদি হাসান-গজলের সম্রাট by রুনা লায়লা

বলার অপেক্ষা রাখে না, বিশ্বের দরবারে গজলকে অনেক উঁচু একটা অবস্থানে নিয়ে গেছেন। গজলের সম্রাট তিনি। পাকিস্তানের চলচ্চিত্রশিল্পে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। মানুষকে সুরে সুরে তিনি মাতিয়েছেন জীবদ্দশায়, এখনো শ্রোতা তাঁর গান শোনে তন্ময় হয়ে। মোটক থা সংগীতের জগতে প্রবাদতুল্য একজন তিনি।

স্মরণ-রুদ্র: তোমাকে আজ বেশি প্রয়োজন by সুমেল সারাফাত

আজ ২১ জুন। রুদ্র, ১৯৯১ সালের এই দিনে চমৎকার এক ভোরে তুমি আমাদের সবাইকে রেখে চলে গিয়েছিলে না-ফেরার দেশে। তোমার পরম স্নেহময়ী মা, তোমার বোন তোমার মুখ সাদা কাপড় দিয়ে কিছুতেই ঢাকতে দিচ্ছিলেন না। কারণ, তুমি তো মরতে পারো না। তুমি ঘুমাতে পারো, কিন্তু মৃত্যু যে তোমাকে মানায় না।

দূরদেশ-ক্ষমতার লড়াইয়ের নতুন পর্বে মিসর by আলী রিয়াজ

মিসরে বৃহস্পতিবার নাগাদ যে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে, তার হাতে যে কোনোরকম ক্ষমতাই থাকবে না, মিসরের ক্ষমতাসীন সুপ্রিম কাউন্সিল অব আর্মড ফোর্সেস (স্কাফ) তা ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছে। মিসরের নাগরিকেরা যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্যায়ে ভোট দিচ্ছিলেন, মিসরের সেনাবাহিনী তখন প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশে কার্যত সেনাশাসন পুনর্বহাল করেছে।

নূতন চন্দ্রের ছেলের দাবি-বাবাকে গুলি করেন সাকা

মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন চট্টগ্রামের কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের মালিক শহীদ নূতন চন্দ্র সিংহের ছেলে প্রফুল্ল রঞ্জন সিংহ (৭২)। বাবার হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে গতকাল বুধবার তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বলেন, '১৯৭১ সালের ১৩

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন শাহাবুদ্দিন?-আট মাসের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন : জারদারি

পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মখদুম শাহাবুদ্দিনকে মনোনয়ন দিয়েছে ক্ষমতাসীন পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। পাকিস্তানের জিও নিউজের বরাত দিয়ে এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে। এনডিটিভি জানায়, গতকাল বুধবার সকালে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পিপিবির জ্যেষ্ঠ নেতাদের বৈঠকে আদালতের রায়

ব্লগ থেকে...

নির্বাচিত মন্তব্য যারা ধর্ষণ করে, তাদের কী বলবেন? আমরা তাকে বলছি পশু। এ কথা বলে পশুকে কেন অপমান করছি? আমরা কি কোনো পশুকে ধর্ষণ করতে দেখেছি? কিংবা বয়স্ক কোনো পশু তাদের ছোট পশুবাচ্চাকে ধর্ষণ করতে? দেখিনি, এটা আমাদের জন্য এবং পশুদের জন্যও অকল্পনীয় ভাবনা।

ব দ লে যা ও ব দ লে দা ও মি ছি ল ব দ লে যা ও মি ছি ল-ইভ টিজিং: আগে পুরুষের মানসিকতার পরিবর্তন by সৈয়দ মামুনুর রশিদ

‘বদলে যাও বদলে দাও মিছিল’ ব্লগে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা ও নির্বাচিত চারটি ইস্যু নিয়ে অব্যাহত আলোচনা হচ্ছে। আজ ইভ টিজিংমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার একটি বিশ্লেষণাত্মক অভিমতসহ
আরও দুজন লেখকের নির্বাচিত মন্তব্য ছাপা হলো।

দোষীদের শাস্তি হোক, কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙুক-কালোবাজারে ট্রেনের টিকিট

কয়েক দিন আগে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অনলাইনে রেলওয়ের টিকিট বিক্রির উদ্বোধন করার পর জনমনে আশা জেগেছিল, এখন থেকে কালোবাজারে ট্রেনের টিকিট বিক্রি ও যাত্রী হয়রানি কমবে। কিন্তু বাস্তবে যে তার কোনো লক্ষণ নেই, তা জানা গেল বুধবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদনে।

মন্ত্রী ও সচিবদের আপাতত সরিয়ে দিন-পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ

রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ঠিক যে যুক্তিতে পদত্যাগ করেছিলেন, এবং সেটা যদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের নীতিগত অবস্থান হয়ে থাকে, তাহলে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের এখনই পদত্যাগ প্রত্যাশিত।
আমরা আশা করব, পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগকে অস্বীকার করার চেষ্টার চেয়ে সরকার এই অভিযোগ

আশুলিয়ার সব পোশাক কারখানা খুলছে আজ

টানা চার দিন বন্ধ থাকার পর আজ বৃহস্পতিবার খুলছে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের সব তৈরি পোশাক কারখানা। গতকাল বুধবার শ্রমমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা কারখানা খুলে দিতে সম্মত হয়েছেন।

চেয়ারম্যান নির্বাচনের খবর নেই, দ্বন্দ্ব প্রকট-সময়সীমা শেষ হলেও জেলা পরিষদ চলছে প্রশাসক দিয়ে by অমিতোষ পাল ও পাভেল হায়দার চৌধুরী

জনপ্রতিনিধিদের প্রত্যক্ষ ভোটে ১৮০ দিনের মধ্যে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হবে- এই কথা বলে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ৬১ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী ছয় মাসের এই সময়সীমা এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু চেয়ারম্যান নির্বাচনের কোনো উদ্যোগই এখনো নেয়নি

নিম্নমানের ওষুধ-প্রস্তুতকারী ও ওষুধের নাম জানাতে হবে

ওষুধ নিয়ে নানা চক্র কাজ করে বাংলাদেশে। ভেজাল ওষুধের কারবারিরা বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা যেমন করে থাকে, তেমনি নিম্নমানের ওষুধে বাজার ছেয়ে গেছে। নিম্নমানের ওষুধ তৈরি করে- এমন অভিযোগ অনেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মান দেখার জন্য একটি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

অস্থিতিশীল বাজার-তদারকি বাড়াতে হবে

আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের বাজারে প্রায় সব পণ্যের দামই নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর। আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো জিনিসের দাম বাড়লে সেই পণ্যের দাম এখানেও বাড়ে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ওঠানামা করে। কিন্তু বাংলাদেশের বাজারে পণ্যমূল্য কেবলই উঠতে জানে, নামতে জানে না।

পবিত্র কোরআনের আলো-কোরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে, এটা বদলে ফেলার অধিকার কারো নেই

১৪. ছুম্মা জাআ'লনা-কুম খালা-য়িফা ফিল আরদ্বি মিম বা'দিহিম লিনানযুরা কাইফা তা'মালূন। ১৫. ওয়াইযা- তুতলা- আ'লাইহিম আ-ইয়া-তুনা- বায়্যিনা-তিন ক্বা-লা ল্লাযীনা লা-ইয়ারজূনা লিক্বা-আনা'তি বিক্বুরআ-নি গাইরি হা-যা- আও বাদ্দিলহু; ক্বুল মা- ইয়াকূনু লী আন উবাদ্দিলাহূ মিন তিলক্বা-য়ি নাফছী; ইন আত্তাবিউ' ইল্লা- মা- ইঊহা- ইলাইয়্যা;

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক ভালো হওয়া দরকার by কাজী ফারুক আহমেদ

দ্রব্যমূল্যের এই পাগলা ঘোড়া নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে সরকারকেই। বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে; সেখানে কোনো দিকনির্দেশনা নেই। অর্থনৈতিক মুক্তির কোনো পথ দেখানো হয়নি। একটা ইন্দ্রজাল সৃষ্টি করা হয়েছে। আমরা বলেছিলাম এসআরও-র মাধ্যমে যেন দ্রব্যমূল্য বাড়ানো না হয়। কিন্তু কথা রাখা হয়নি।

দুর্বৃত্তদের হাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে হবে by মোয়াজ্জেম হোসেন খান

বাজেট ঘোষণা হয়েছে সম্প্রতি। বিশেষ দ্রব্যগুলো থেকে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। সাধারণ অনেক আইটেমও আছে যেগুলো এই ছাড় সুবিধা পেয়েছে। তার পরও দ্রব্যমূল্য বাড়বে কেন? আমার কাছে মনে হয়েছে, সরকারের মধ্যে সমন্বয়হীনতা কাজ করছে। তা না হলে দেখুন কিবরিয়া সাহেবের আমলের কথা। তিনি ছয়টি বাজেট দিয়েছিলেন।

চরাচর-শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার মাহাত্ম্য by লীলারাজ গৌর দাস ব্রহ্মচারী

যেই গৌর সেই কৃষ্ণ সেই জগন্নাথ। ভগবান জগন্নাথদেব হলেন, শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং যিনি জগতের নাথ বা জগদীশ্বর রূপে প্রকাশিত। সংস্কৃত ভাষায় জগৎ অর্থে বিশ্ব এবং নাথ অর্থে ঈশ্বর। সুতরাং জগন্নাথ শব্দের অর্থ হলো জগতের ঈশ্বর বা জগদীশ্বর।

অস্থিতিশীলতা বাড়ল পাকিস্তানের রাজনীতিতে by ডিক্ল্যান ওয়ালস

পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি ইফতিখার মুহাম্মদ চৌধুরীর দেওয়া একটি রায়ে সেখানকার তিন বছরের রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে চূড়ান্ত পর্যায়ে ঠেলে দিয়েছে। নতুন করে সেখানকার রাজনীতির হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। বিচারপতি চৌধুরীর দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই রায় বিচার বিভাগ ও রাজনীতির মধ্যে বিতর্ক তৈরি করল আবারও।

বীর মুক্তিযোদ্ধা-তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না

৪৩১ স্বাধীনতার চার দশক উপলক্ষে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ধারাবাহিক এই আয়োজন।আবদুল করিম, বীর বিক্রম সাহসী এক মুক্তিযোদ্ধা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর থেকে পশ্চিম দিকে ২০ কিলোমিটার দূরে আশুগঞ্জ। মেঘনা নদীর তীরে।

সংবর্ধনা-না বুঝে মুখস্থ নয়

এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গুণীজনেরা বলেছেন, না বুঝে শুধু মুখস্থবিদ্যার ওপর নির্ভর করা ঠিক হবে না। এতে সাময়িকভাবে পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জন করা গেলেও জীবনে বেশি দূর যাওয়া যায় না।

রিও+২০-ধনী দেশগুলো চায় সবুজ অর্থনীতি, অন্যরা দারিদ্র্য বিমোচন by ইফতেখার মাহমুদ

ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরে ২০ বছর পর ফের বসেছে বিশ্বসভা। ১৩০টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান আর ৫০ হাজার পরিবেশকর্মী জড়ো হয়েছেন এই শহরে। আলোচনা, তর্কবিতর্ক, ঝগড়া বা বিবাদ—সবই চলছে সমান তালে। এরই মধ্যে ধনী দেশগুলো সবুজ অর্থনীতি বা গ্রিন ইকোনমির ধারণা সবকিছুর সামনে আনার চেষ্টা করছে।

প্রথম আলোর গোলটেবিল আলোচনায় কর্মসংস্থানে গুরুত্বারোপ-দারিদ্র্য নিরসনে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কোনো স্থায়ী সমাধান নয়

সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচিগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে তাঁরা এ খাতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁরা এ-ও বলেছেন, দারিদ্র্য নিরসনে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। স্বল্প সময়ের জন্য এ ধরনের কর্মসূচি চালু থাকতে পারে।

নগরায়ণ দারিদ্র্য বিমোচনে কর্মমুখী প্রশিক্ষণ by সাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী ও মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, একজন মানুষকে ব্যালান্সড প্রোটিনের জন্য বছরে ১০৪টি ডিম, ১৯ কেজি মাছ, প্রতিদিন ২০৫ গ্রাম মাংস ও ২৫০ মিলিগ্রাম দুধ গ্রহণ করতে হয়। অথচ বাংলাদেশের দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারীদের পক্ষে এ ব্যালান্সড ফুড গ্রহণ করা বর্তমান সময়ে সত্যিই অসম্ভব বিষয়।

সাদাকালো-সাম্প্রতিক পুলিশি তৎপরতা ও কিছু পরামর্শ by আহমদ রফিক

সম্প্রতি পুলিশ বাহিনীর কিছুসংখ্যক সদস্যের ক্রিয়াকলাপ সংবাদপত্রের শিরোনাম ও প্রতিবেদনের বিষয় হয়ে উঠেছে। ঘটনাগুলো গুরুত্বপূর্ণ এবং এ বাহিনীর নাম নষ্ট করার পক্ষে যথেষ্ট। বৈঠকখানায়, আড্ডায় বা আলোচনায়- সর্বত্র এ বিষয়ে কথাবার্তা।

পাকিস্তান-আগাম নির্বাচন, না সেনাশাসন? by সোহরাব হাসান

পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি পদচ্যুত হওয়ার পর দেশটির রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন আলোচনার বিষয়। পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) এ মুহূর্তে আদালতের সঙ্গে বিরোধে না গিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যই যে প্রাণপণ চেষ্টা চালাবে, তা নিশ্চিত।

রাজনীতি-আয়নায় মুখ দেখা ও ইতিহাসের পুনর্নির্মাণ by মোহীত উল আলম

সম্প্রতি আয়নায় মুখ দেখা নিয়ে একটি খবর গরম হতে হতে শেষ পর্যন্ত হয়নি। কিন্তু আমার কাছে বিষয়টি কিছু চিন্তার দাবি রাখে মনে হলো। সে জন্য এ লেখা। খবরটি চাউর হয়েছে এভাবে যে প্রধানমন্ত্রী কোনো এক সভায় বিরোধী দলের নেতাকে উদ্দেশ করে বলেছেন, তিনি যেন আগে আয়নায় নিজের মুখটি দেখেন।

ঋণপত্রে কারসাজি হচ্ছে-বোতলজাত তেলে ঠকছেন ক্রেতারা by আবুল হাসনাত

ভোজ্যতেলের দাম নিয়ে দেশে নানা কারসাজি চলছে। ব্যবসায়ীরা নিজেদের মতো করে দাম নির্ধারণ করছেন। সরকার দেখেও যেন তা দেখছে না। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে দেশে দাম কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন কয়েক দফা সুপারিশ করলেও তা আমলে নেয়নি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

আগের জায়গায় যাচ্ছে দেশের শেয়ারবাজার! by সুজয় মহাজন

বাজার তখন পড়ছিল। বেলা সোয়া দুইটা। তখনো লেনদেন শেষ হতে ১৫ মিনিট বাকি। দিলকুশায় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কার্যালয়ের নিচে দাঁড়িয়ে স্টক এক্সচেঞ্জের এক নেতার কাছে প্রশ্ন, বাজারের কী অবস্থা? জবাবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি এককথায় বললেন,

আগের ইসির সংস্কার প্রস্তাব নাকচ-নির্বাচন কমিশন নিজেকে ক্ষমতাধর মনে করছে by হারুন আল রশীদ

বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিজেকে খুব শক্তিশালী ও ক্ষমতাধর মনে করছে। সরকার বা প্রশাসনের ওপর তাদের নাকি কর্তৃত্ব বাড়ানোর কোনোই প্রয়োজন নেই। আগের কমিশন ইসির ক্ষমতা বাড়াতে এবং নির্বাচনের সময় প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে সরকারের কাছে একটি সুপারিশ পেশ করেছিল।

উজ্জ্বল বাতিঘর রবীন্দ্রনাথ by শেখ হাসিনা

তার জন্ম কলকাতায়। কিন্তু জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে বাংলাদেশের পতিসর, শিলাইদহ আর শাহজাদপুরে। জমিদারি দেখাশোনার কাজে এলেও তিনি গরিব প্রজার কল্যাণে কাজ করেছেন। তাদের সুখ-দুঃখের সাথী হয়েছেন। খুব কাছ থেকে দেখেছেন নদীমাতৃক গ্রামবাংলার প্রকৃতি আর আমাদের কৃষিনির্ভর গ্রামীণ সমাজকে।

ঢাকার দশ by একরামুল হক শামীম

বিশ্বকাপ ক্রিকেটকে সামনে রেখে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন একটি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে তুলে ধরার প্রয়াস নিয়েছিল। সাড়া জাগানো সেই বিজ্ঞাপনের স্লোগান ছিল 'বিউটিফুল বাংলাদেশ : স্কুল অব লাইফ, অ্যাডমিশন গোয়িং অন'। জীবন নামের স্কুল থেকে অনেক কিছুই শেখার সুযোগ রয়েছে।

লিবিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপের সমীকরণ by এম আবদুল হাফিজ

নির্বাচনী প্রচারাভিযানে প্রার্থী বারাক ওবামা স্বভাবতই ছিলেন সুউচ্চ নৈতিকতার সুউচ্চ বেদিতে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, নির্বাচিত হলে তিনি বহির্বিশ্বে আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপে ইতি টানবেন। কিন্তু উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সংঘাতগুলোর মধ্য থেকে ইরাকে তিনি চলমান যুদ্ধ গুটিয়ে নেবেন।

আদালত-বিচারক নিয়োগে নতুন শর্ত কতটা যুক্তিযুক্ত? by ওমর হাসান আল জাহিদ

ভর্তি পরীক্ষা মেধা তালিকায় প্রথম সারিতে থাকা শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দই হলো আইন বিষয়ে অধ্যয়ন করা। নতুন শর্তারোপের ফলে যদি আইনের মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিচারপতি হতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন এবং নিম্ন আদালতে কম মেধাবীরা বিচারপতি হিসেবে যোগ দেন, তাহলে তার দায়ভার কে নেবে?

কালের আয়নায়-সার্ধশত জন্মবার্ষিকীতে আমাদের রবীন্দ্র-ভাবনা by আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

ভারতীয় আদি আধ্যাত্মিক সভ্যতা এবং ইউরোপের আধুনিক বাস্তুবাদী সভ্যতার মিশ্রিত চেতনার মানবতাবাদী প্রকাশ ঘটেছে রবীন্দ্রনাথের কাব্য, গান ও সমগ্র সাহিত্যে। বাংলাভাষায় তিনি এই সাহিত্য রচনা করেছেন এবং বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতিকে দিয়েছেন বিশ্বসভায় সম্মানিত আসন।

তেলের মূল্যবৃদ্ধি-বিরূপ প্রতিক্রিয়ার রাশ টানুন

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পক্ষে সরকার কিংবা অর্থনীতিবিদদের কোনো যুক্তিই আমজনতার কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না। তাদের কাছে বিষয়টি শুধুই দুর্ভোগের এবং তার মাত্রা বহুমুখী। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলে তার প্রতিক্রিয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক ধরনের পণ্যমূল্য বাড়ে। ভোগ্যপণ্যের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়।

ইজিবাইক-এত যান এলো কীভাবে?

ইজিবাইক নামের একটি যান চলছে দেশের সর্বত্র। অপেক্ষাকৃত হালকা এ যানটি চলে প্রায় নিঃশব্দে। কাকতালীয়ভাবে এর আমদানিও হয়েছে অনেকটা নিঃশব্দে কিংবা সঙ্গোপনে। প্রায় আড়াই লাখ যান আমদানি ও দেশের নানা সড়কে যাত্রী পরিবহন কাজে নিয়োজিত হয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে : 'ইজিবাইক

এই বাজেট কি নারীবান্ধব? by আয়েশা আক্তার সোনিয়া

বাংলাদেশের অর্ধেকের বেশি জনগোষ্ঠী নারী। তাদের এড়িয়ে উন্নয়ন আকাশকুসুম কল্পনা। এ দেশের নারীরা শিক্ষায় এগিয়ে যাচ্ছে। এভারেস্টের বুকে নারী আঁকল তার পদচিহ্ন। ক্রমাগত হারে বাড়ছিল নারী উদ্যোক্তা, গ্রামীণ নারীদের স্বনির্ভরতার হার। ঠিক এমন সময় ঘোষিত হলো সরকারের ২০১২-১৩ অর্থবছরের বাজেট।

সিরিয়া :জেসমিন ফুলে লেগে থাকা রক্তের দাগ by অভীক দত্ত

সিরিয়ার প্রতিটি শহর, হোমস থেকে হুলো, রাজপথ পেরিয়ে প্রতিটি ঘর কিংবা সিরিয়ানদের প্রিয় ফুল জেসমিন_ সবকিছুতেই আজ বিদ্রোহ আর বিক্ষোভের রঙ। পুরনো রক্তের দাগ না শুকাতেই নতুন রক্তের দাগ আর হাজারটা লাশ। গত বছরের শুরু থেকে সিরিয়ায় স্বৈরতন্ত্রবিরোধী গণআন্দোলন শুরু হয়।

স্বাস্থ্য রক্ষায় ভেজাল প্রতিরোধ জরুরি by রাকিবুল হাসান

ভেজাল পণ্য ঠেকাতে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ নিলেও কতটুকু বাস্তবায়ন হচ্ছে তা কেউ চোখ মেলে দেখছে না। সচেতনতামূলক প্রচার ও ভেজালবিরোধী আন্দোলন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন বেড়েই চলেছে ভেজাল পণ্যের পরিমাণও। বাজারে গেলেই চোখে পড়ে ভেজাল পণ্য। খাদ্যদ্রব্য থেকে শুরু করে ব্যবহার্য প্রায় সব পণ্যেই ভেজাল মেশানো হচ্ছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এখনও কাটেনি আঁধার by আলী হোসাইন

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। এটি বাংলাদেশের একটি অন্যতম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে রয়েছে পড়াশোনার মনোরম পরিবেশ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সমবয়সী এই বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত ইতিহাস গৌরবোজ্জ্বল।

পাকিস্তান :সংসদ বনাম আদালত by রাজা আসগর

প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানিকে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের অযোগ্য ঘোষণা করাটা সংসদের প্রতি আঘাতস্বরূপ। কারণ সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য গিলানির প্রতি তাদের আস্থা ব্যক্ত করেছিলেন। এটাকে সংসদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের এক ধরনের 'ক্যু' বলা চলে।

বিশ্বব্যাপী রথযাত্রা by রবিন কুমার সাহা

পৃথিবীতে সবচেয়ে ব্যাপক, সবচেয়ে জনবহুল, সবচেয়ে বৃহৎ, মহামিলনমেলার আনন্দ, যে ভক্তিমূলক ঐতিহ্যবাহী আকর্ষণীয় মহোৎসব উদযাপিত হয়ে আসছে, সেই মহোৎসবটি হলো শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা। ব্রহ্মা ও বৈকুণ্ঠ উভয় জগতের সর্বারাধ্য প্রভু জগন্নাথ শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে রথযাত্রা অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়।

দুর্যোগ-বন্যা সতর্কীকরণের আধুনিকায়ন কত দূর? by মমিনুল ইসলাম মঞ্জু

পানির উচ্চতা ডেঞ্জার লেভেল পার না হলে বন্যা বলে স্বীকার করেন না পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্টরা। ফলে বন্যা সতর্কবার্তা মানুষের কাজে আসে না সমতলে অবস্থিত বাংলাদেশে বন্যা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। এবারও শোনা যাচ্ছে বন্যার পদধ্বনি। কিন্তু বন্যা সতর্কীকরণ ব্যবস্থা রয়ে গেছে মান্ধাতা আমলেই।

পররাষ্ট্রনীতি-ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রকৃতি ভবিষ্যতে কেমন হবে? by এমাজউদ্দীন আহমদ

দক্ষিণ এশিয়ার নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ কোন পর্যায়ে কী করবে তা বলার সময় এখনও আসেনি বটে, তবে ভারতের সঙ্গে এসব ছোট ছোট প্রতিবেশীর যেসব সমস্যা রয়েছে তাদের সমাধানের পথ প্রশস্ত হবে। এ ক্ষেত্রে ভারতের সদিচ্ছা যতটুকু যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনা তার চেয়ে অনেক বেশি দেখা যাবে।

কাবিখার চাল-গম-ভালো উদ্যোগের মন্দ ফল

কাজের বিনিময়ে খাদ্য ও টেস্ট রিলিফের মতো সরকারি প্রকল্পের উদ্দেশ্য ভালো ছিল এবং এখনও আছে। দরিদ্র নারী-পুরুষদের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের জন্য এসব কর্মসূচির আওতায় কাজের বিনিময়ে খাদ্য দেওয়া হয়। এতে সহজশর্তে বিদেশি সহায়তাও মেলে।

বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ-সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী হোক সিলিন্ডার

চাহিদা ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে সমন্বয়ের অভাব রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাসের সুষ্ঠু ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। এটিই বাংলাদেশে জ্বালানির অন্যতম প্রধান উৎস হলেও উৎপাদন ঘাটতির কারণে নতুন শিল্প-কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়ার কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে শিল্প উদ্যোগের মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।