Wednesday, October 1, 2014

মুসলিম পারিবারিক আইন বর্বরোচিত : ভারতীয় বিচারপতি

ভারতের প্রেস কাউন্সিলের প্রধান বিচারপতি মার্কান্ডে কাতজু মুসলিম পারিবারিক আইনকে বর্বরোচিত, পশ্চাৎপদ ও অন্যায় হিসেবে অভিহিত করে অভিন্ন আইন চালুর প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, প্রতিটি আধুনিক দেশের অভিন্ন দেওয়ানি আইন রয়েছে। কিন্তু ভারতে মুসলিম ভোট ব্যাংকের ভয়ে কেউ এ নিয়ে কথা বলছে না। তিনি শাহ বানু মামলায় সর্বোচ্চ আদালত পশ্চাদমুখী রায় দিয়েছে বলে অভিমত প্রকাশ করেন।

বিচারপতি কাতজু মঙ্গলবার ইন্ডিয়ান ওমেন্স প্রেস কোরে নারীদের বিচার পাওয়ার সমান অধিকার না পাওয়াবিষয়ক অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে বলেন, ‘মুসলিম পারিবারিক আইন বর্বরোচিত, পশ্চাৎপদ ও অন্যায়... এটা সামন্ততান্ত্রিক আইন। বিশ্বে সব দেশের একটি আইন আছে।... আমাদের নেই কেন? আমি অভিন্ন দেওয়ানি আইন সমর্থন করি।’
উল্লেখ্য, ক্ষমতাসীন বিজেপির অন্যতম ইস্যু হলো অভিন্ন দেওয়ানি আইন। সম্প্রতি আইনমন্ত্রী রবি শঙ্কর প্রাসাদ পার্লামেন্টে এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, সরকার এ দিকে অগ্রসর হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সবার সাথে আলোচনা করবে।
কাতজু বিচার বিভাগে দুর্নীতির ‘আশঙ্কজনক বিস্তৃতির’ ব্যাপারেও দুঃখপ্রকাশ করেন। তিনি বিচারকদের মধ্যে দুর্নীতি বিস্তৃতি নিয়ে সম্প্রতি একটি বিতর্কিত মন্তব্যও করেছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের সাবেক এক বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘দুর্নীতিবাজ বিচারকদের কঠোর শাস্তি দেয়া উচিত।... দুর্নীতিবাজকে ফাঁসি দেয়া উচিত।’
সদ্য অবসর নেয়া প্রধান বিচারপতি আর এম লোধা অবসরগ্রহণের পর দুই বছর পর্যন্ত কোনো বিচারপতিকে অন্য কোনো দায়িত্ব না দেয়ার সুপারিশের ব্যাপারেও সমালোচনা করেন কাতজু। তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো আইন নেই।
সাবেক প্রধান বিচারপতি সত্যশিবমের কেরালার গভর্নর হওয়ার প্রতিও তিনি সমর্থন ব্যক্ত করে বলেন এতে অন্যায় কিছু হয়নি।
ভারতে সাম্প্রতিককালে শত শত বিচারককে বিভিন্ন সংস্থার প্রধান করা হচ্ছে।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।

হাফ ডজনেরও বেশি নাটকে প্রভা by তামিম হাসান

গত ঈদের চেয়ে আসছে ঈদে বেশি নাটকে অভিনয় করতে দেখা যাবে সাদিয়া জাহান প্রভাকে। আসছে ঈদ উপলক্ষে প্রভা বেশ কিছু ভালো ভালো নাটকে কাজ করেছেন। প্রভা নিজে থেকে যে নাটকটির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন সেটি হচ্ছে আনিসুল হকের লেখা গল্প নিয়ে নির্মিত নাটক ‘শুধু একদিন ভালোবাসা’।

নাটকটি নির্মাণ করেছেন চলচ্চিত্র পরিচালক এস এ হক অলিক। এতে প্রভা অভিনয় করেছেন দিঠি চরিত্রে। তার সহশিল্পী হিসেবে এতে অভিনয় করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম ও বিজরী বরকতউল্লাহ। প্রভা বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুর দিকে অর্থাৎ ২০০৮ সালে আমি আনিসুল হকের লেখা ‘দৈনিক তোলপাড়’ নাটকে অভিনয় করেছিলাম। এরপর যতদূর মনে পড়ে তার রচনায় আমার  কাজ করা হয়ে উঠেনি। প্রায় ছয় ছর পর তার রচনায় কোন নাটকে কাজ করেছি। অলিক ভাই অনেক যতœ নিয়ে নাটকটি নির্মাণ করেছেন আশা করি দর্শকের ভালো লাগবে।’ ‘শুধু একদিন ভালোবাসা’ নাটকটি আসছে ঈদে এটিএন বাংলায় ঈদের চতুর্থ দিন বিকেল ৩.০৫ মিনিটে প্রচার হবে। আসছে ঈদে মোশাররফ করিমের সঙ্গে দেখা যাবে প্রভাকে শামীম জামানের নির্দেশনায় জাকির হোসেন উজ্জ্বলের নির্দেশনায় ‘বোকা খোকা’ নাটকে। নাটকটি আরটিভিতে প্রচার হবে। আলভী আহমেদের ‘দিকশূন্য পুর’ নাটকে প্রভা দর্শকের সামনে আসবেন একেবারেই ভিন্ন একটি চরিত্র নিয়ে। এটি প্রচার হবে ঈদে চ্যানেল নাইনে।

এছাড়া অরন্য আনোয়ার, গোলাম সোহরাব দোদুল, রুবায়েত হোসাইন, শাহরিয়ার নাজিম জয়, কায়সার আহমেদের ঈদ বিশেষ নাটকে প্রভাকে দেখা যাবে। বুধবার কক্সবাজার প্রভা ঢাকায় ফিরেছেন মাহমুদ দিদারের নির্দেশনায় ‘রিফিউজি’ নাটকের শুটিং শেষ করে। এ নাটকে প্রভা ভীষণ চ্যালেঞ্জিং একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। প্রভা বলেন, ‘সবার সহযোগিতায় এখন বেশ ভালো নাটকে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছি। দর্শকের প্রতি আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ যে তারা আমার অভিনীত নাটকগুলো দেখে আমাকে প্রতিনিয়ত উৎসাহ দিচ্ছেন। আমি আরো ভালো ভালো নাটকে কাজ করতে চাই।’
এদিকে প্রভা ভালো গল্প এবং গুণী পরিচালকের নির্দেশনায় কাজ করার সুযোগ পেলে তিনি চলচ্চিত্রেও কাজ করতে চান।

লতিফ সিদ্দিকী কুলাঙ্গার, তাকে ফাঁসি দিতে হবে : এরশাদ

মহানবী ও হজ নিয়ে মন্তব্য করায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর ফাঁসি দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি বলেন, কুলাঙ্গার লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করুন। তিনি মুসলমান নন, মুরতাদ। তাকে ফাঁসি দিয়ে বিচার করতে হবে। আজ পার্টির কাকরাইলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্যের প্রতিবাদে ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ দাবি জানান। এরশাদ বলেন, দল থেকে বহিষ্কার করে দলকে কলঙ্কমুঙ্ক করুন। তিনি এমন বক্তব্য দিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। সংসদে বক্তব্য দেয়ার অধিকার হারিয়েছেন। তার সাথে একই সংসদে আমরা বসতে পারিনা। তাকে সংসদ থেকেও বহিস্কার করতে হবে। তিনি বলেন, একটি মানুষের কারণে পুরোবিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম ভূলুণ্ঠিত হয়েছে।

জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপির সভাপতিত্বে এ বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তৃতা করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি, পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পাণিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এম এ হান্নান এমপি, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূইয়া প্রমুখ।
কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে এরশাদ বলেন, একটি দল নিজেদের মুসলমানের দল বলে দাবি করে। কিন্তু লতিফ সিদ্দিকীর এমন বক্তব্যের পর দলটি প্রতিক্রিয়া দিতে পারেনি। আমরা প্রতিক্রিয়া দিয়েছি। রাজপথে নেমেছি। এ সময় এরশাদ তার মেয়াদে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, লতিফ সিদ্দিকীর শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বো না। জাতীয় পার্টি প্রকৃত মুসলমানের দল।

ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে জবানবন্দি নিয়েছিল সিআইডি -আদালতকে জজ মিয়া

‘ক্রসফায়ারে’ হত্যার হুমকি দিয়ে জজ মিয়ার কাছ থেকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজানো জবানবন্দি আদায় করেছিল সিআইডি। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ দেওয়া সাক্ষ্যে জজ মিয়া এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। নিজের জীবন ও মা-বোনকে বাঁচাতে তখন আদালতে মিথ্যা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে জজ মিয়া আদালতে সাক্ষ্য দিতে হাজির হন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা মৌখিক আপত্তি জানান। আদালত সাক্ষ্য গ্রহণের আদেশ দেন।

>>২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গতকাল আদালতে সাক্ষ্য দেন জজ মিয়া (ডান থেকে তৃতীয়)। ছবিটি আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় পুলিশ ভ্যান থেকে তোলা l প্রথম আলো
জজ মিয়া সাক্ষ্যে বলেন, তিনি ঢাকার সূত্রাপুর এলাকায় একটি মেসে থাকাকালে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। দুই বছর পর জামিন পান। এরপর ভিডিও ক্যাসেটের ব্যবসা শুরু করেন। পরে একপর্যায়ে তাঁর মা-বাবা গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী সেনবাগ থানার বীরকোর্টে চলে যান। বাবা মারা যাওয়ার পর তিনিও গ্রামে চলে যান। গ্রামের বাড়ি থেকে ২০০৫ সালে সেনবাগ থানার পুলিশ তাঁকে আটক করে। তখন পুলিশ জানায়, তাঁর বিরুদ্ধে চোরাচালানের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। তিনি পুলিশকে বলেন যে তিনি চোরাচালানের ব্যবসা করেন না। তখন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ওপরের নির্দেশে তাঁকে ধরা হয়েছে। পরে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহাকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আবদুর রশিদ গিয়ে মাইক্রোবাসে করে তাঁকে ঢাকায় নিয়ে আসেন।
জজ মিয়া বলেন, ‘সিআইডির রশিদ স্যার আমাকে বলেন যে “তুই ২১ আগস্ট হাসিনার মিটিংয়ে বোমা মেরেছিস।” আমি বলি, “আমি কোনো বোমা মারি নাই, আমি কিছু জানি না।” তখন রশিদ স্যার বলেন, “আমাদের কথামতো কাজ করবি, তা না হলে তোকে ক্রসফায়ারে দেব।”’ জজ মিয়া আরও বলেন, সেনবাগ থানা থেকে তাঁকে ঢাকার মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে আনা হয়। তাঁকে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিনের কাছে নেওয়া হয়।
জজ মিয়া বলেন, ‘রুহুল আমিন সাহেব আমাকে বলেন, “তোর নামে ঢাকায় অনেক মামলা আছে। উপরের নির্দেশ আছে, আমাদের কথামতো কাজ করলে তোর লাভ হবে। আর আমরাও বেঁচে যাব।” আমি বলি, আমাকে কী করতে হবে? রহুল আমিন সাহেব বলেন, “আমরা যেভাবে শেখাব ও বলব, তুই সেভাবে মুখস্থ করবি। পরে আমাদের কাছে হুবুহু বলবি।” এরপর আমি তাদের শেখানো বক্তব্য মুখস্থ করে প্রতিদিন তিন বেলা তাদের শোনাই। সাত দিন পর আমাকে আদালতে পাঠায়।’
এরপর জজ মিয়াকে বিভিন্ন সময়ে রিমান্ডে নিয়ে সিআইডি জিজ্ঞাসবাদ করে এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ভিডিওচিত্র ও কিছু লোকের ছবি দেখায়। পরে সিআইডির কর্মকর্তাদের শেখানো মতে আদালতে জবানবন্দি দেন বলে তিনি সাক্ষ্যে বলেন।
জজ মিয়া বলেন, তাঁকে বলা হয়েছিল, তাঁকে আসামি নয়, রাজসাক্ষী করা হবে। কিন্তু পরে তাঁকে বিভিন্ন সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে থাকা মামলায়ও আসামি করা হয়। তিনি এর কারণ জানতে চাইলে সিআইডির কর্মকর্তারা বলেছিলেন, এসব মামলায় জড়ানো না হলে জবানবন্দিতে তিনি যাদের নাম বলেছেন, তাদের সঙ্গে যে তাঁর সম্পর্ক আছে, সেটা মানুষ বিশ্বাস করবে না।
জজ মিয়া বলেন, সিআইডি কার্যালয়ে থাকাকালে তাঁকে খাবার ও টাকা দিতেন ২১ আগস্ট মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা রুহুল আমিন। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দেওয়ার পর তাঁকে প্রথমে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ও পরে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে সিআইডি আবদুর রশিদ, রুহল আমিন ও মুন্সী আতিকুর রহমান প্রতি মাসেই দেখা করতে যেতেন। তখন তাঁকে কাপড়, খাবার ও টাকা-পয়সা দিয়ে আসতেন। তিনি বলেন, কাশিমপুর কারাগারে গিয়ে তাঁর মা জানান যে সিআইডি তাঁকে প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা দেয়।
জজ মিয়া সাক্ষ্যে বলেন, ‘২০০৭ সালে কাশিমপুর কারাগারে জেলার সাহেবের কক্ষে আমাকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে র্যাবের কর্মকর্তা, মুন্সী আতিকুর রহমানসহ অনেককে দেখতে পাই। তাঁরা আমার ছবি তোলেন। আমি পরিচয় জানতে চাই, তখন একজন বড় অফিসার বলেন, আমি কর্নেল গুলজার। তিনি মুন্সী আতিককে বলেন, “এভাবে আর কত নিরীহ মানুষের জীবন নষ্ট করবেন।” কর্নেল গুলজার আমাকে জিজ্ঞাসা করেন যে আমি কেন মিথ্যা জবানবন্দি দিয়েছি। তখন তাঁকে আমি সব কথা বলি। এরপর তাঁরা চলে যান।’
সাক্ষ্য দেওয়ার সময় জজ মিয়া সিআইডির ওই তিন কর্মকর্তা আবদুর রশিদ, রুহুল আমিন ও মুন্সি আতিককে শনাক্ত করেন। গতকাল তাঁদের অন্যান্য আসামির সঙ্গে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
পরে আসামি উজ্জ্বলের পক্ষে তাঁর আইনজীবী মোহাম্মদ আলী আদালতে দরখাস্ত দিয়ে জজ মিয়ার সাক্ষ্য প্রত্যাহারের আবেদন জানান। তিনি বলেন, এই মামলায় জজ মিয়ার সাক্ষ্য দেওয়ার আইনগত বৈধতা নেই। কারণ এই মামলায় জজ মিয়া এর আগে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। ওই জবানবন্দিকে সমর্থন করে শফিকুল ইসলাম ও আবুল হাসেম নামে আরও দুজন জবানবন্দি দিয়েছিলেন। এখনো সেগুলো বিদ্যমান আছে। জজ মিয়া যেহেতু আগে আসামি ছিলেন, তাই তিনি সাক্ষী হতে পারেন না। তিনি রাজসাক্ষী হতে পারেন।
এই যুক্তি খণ্ডন করে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, জজ মিয়াকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে নিতে ওই জবানবন্দি নেওয়া হয়েছিল। জজ মিয়া এখন আর এ মামলার কোনো আসামি নন। ২০০৮ সালের ৯ জুন সিআইডির এএসপি ফজলুল কবির তদন্ত করে ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। জজ মিয়াসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
রেজাউর রহমান আরও বলেন, ২০০৯ সালে মামলার অধিকতর তদন্ত শুরু হয়। এরপর ২০১০ সালের ৩ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল কাহ্হার আকন্দের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দেন জজ মিয়া। তাই আসামিপক্ষের দরখাস্তের আইনগত কোনো ভিত্তি নেই।
শুনানি শেষে আদালত ১৩ থেকে ১৫ অক্টোবর টানা তিন দিন জজ মিয়াকে আসামিপক্ষের জেরার জন্য দিন ধার্য করেন। তবে তারেক রহমানসহ পলাতক ১৯ আসামির পক্ষে সরকার নিযুক্ত তাঁদের আইনজীবীরা জেরা করতে গতকালই অস্বীকৃতি (ডিক্লাইন) জানান।
এর আগে দুপুর ১২টার দিকে জজ মিয়ার বোন খোরশেদা আকতারের সাক্ষ্য-জেরা শেষ হয়।

আন্দোলন দ্রুত প্রত্যাহারের আহ্বান হংকং নেতার

হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী লিউং চুন-ইং বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেয়া নেতাদের প্রতি রাজপথ থেকে অনুসারীদের দ্রুত প্রত্যাহার করে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে পুলিশের টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের পর মঙ্গলবার তিনি এ বিষয়ে প্রথম প্রকাশ্যে মন্তব্য করলেন।

>>গতকাল হংকংয়ের রাস্তায় ঘুমিয়ে কাটায় অনেক বিক্ষোভকারী : এএফপি
লিউং বলেন, ‘আন্দোলন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকলে তারা এটি বন্ধের আহ্বান জানাবেন এমন কথা অকুপাই সেন্ট্রালের প্রতিষ্ঠাতারা বারবার বলেছিলেন। দেশবাসীর কাছে করা অঙ্গীকার পূরণে এবং দ্রুত এই অন্দোলন বন্ধে আমি এখন তাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’ সোমবার রাতে প্রায় লাখ খানেক বিােভকারী হংকং শহরের রাস্তাগুলোতে অবস্থান নিয়ে গানে-স্লোগানে আন্দোলন জমিয়ে তোলে। এতে শহরের একটি অংশ অচল হয়ে পড়ে। অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে হংকংয়ের পরবর্তী নেতা নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন প্রতিবাদকারীরা। কিন্তু বেইজিং চায় তাদের অনুমোদিত প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচন সীমাবদ্ধ রাখতে।
২০১৭ সালে ওই নির্বাচন অনুষ্ঠানে কথা রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে প্রতিবাদকারীদের অবস্থান নেয়া রাস্তাগুলো শান্ত থাকলেও পয়লা অক্টোবর চীনের জাতীয় দিবস হওয়ায় সন্ধ্যা নাগাদ জনসমাগম বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্র-শনিবার দাঙ্গা পুলিশের সাথে বিােভকারীদের সংঘর্ষ হয়। বিােভকারীদের দমাতে সে সময় কাঁদুনে গ্যাস ও পেপার ¯েপ্র ব্যবহার করেছিল পুলিশ। পরে দাঙ্গা পুলিশ প্রত্যাহার করে নেয়ার পর থেকে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক এই শক্তি কেন্দ্রটির প্রধান অংশ বিােভাকারীরা অবরুদ্ধ করে রেখেছে। ওই এলাকার শিাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকগুলোও বন্ধ রয়েছে। বিােভকারীরা প্রধান নির্বাহী লিউংয়ের পদত্যাগ দাবি করছে। কিন্তু এ ধরনের পদেেপ পরিস্থিতি আরো ঘোলা হবে বলে সতর্ক করে দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন লিউং।
তিনি বলেছেন, ‘অবাধ ভোটাধিকার অর্জনের আগে কোনো ব্যক্তির পরিবর্তন পরবর্তী নেতা নির্বাচনের জন্য হংকংকে ইলেকশন কমিশন মডেলের অধীনস্ত করে তুলবে।’
ছাত্র, অকুপাই সেন্ট্রাল আন্দোলনের সমর্থক ও অন্যদের নিয়ে গড়া মিশ্র আন্দোলনকারীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ারও অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘অকুপাই সেন্ট্রালের প্রতিষ্ঠাতারা বারবার বলেছেন, আন্দোলন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকলে তারা এটি বন্ধ করার নির্দেশ দেবেন। তারা সমাজের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আমি তাদের এখন তা পূরণ করতে বলছি, এখনি এই আন্দোলন বন্ধ করুন।’ অপর দিকে সর্বশেষ বিবৃতিতে অকুপাই সেন্ট্রাল সরকার ‘ধীরে চলো’ নীতি নিয়ে এগোচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে।
‘সময়ের সাথে সাথে জনগণের সত্যিকারের অবাধ ভোটাধিকারের দাবিটি আবেদন হারাবে’ এই আশায় সরকার দিন গুনছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই আন্দোলনকারীরা। উল্লেখ্য, রাজপথে গত দুই দিনের আন্দোলনের পেছনের প্রধান শক্তি অকুপাই সেন্ট্রাল। তবে অকুপাই ছাড়াও অন্য ছাত্রছাত্রীদের একটি গ্রুপও হংকংয়ে প্রকৃত গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
এ দিকে অকুপাই সেন্ট্রাল লিউংয়ের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে আবারো তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে। লিউংয়ের এমন মন্তব্যের পর অকুপাইয়ের কো-ফাউন্ডার চ্যান কিন-ম্যান সাংবাদিকদের বলেন, ‘লিউং পদত্যাগের ঘোষণা দিলে আন্দোলন সাময়িকভাবে হলেও বন্ধ ঘোষণা করা হবে এবং আমরা পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।’ তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে এটি হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। কারণ, অন্ততপক্ষে আমরা বুঝব সরকারের আচরণগত পরিবর্তন হয়েছে এবং তারা সঙ্কটের সমাধান চায়।’

কাশ্মিরি বন্যার্তদের প্রতি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অবহেলা

অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মিরকে অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে থাকে ভারত সরকার। অথচ অঞ্চলটিতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় পীড়িত জনগণের আত্মরক্ষার দায়িত্ব তাদের ওপরেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রহীন অথচ ভারতীয় সামরিক বাহিনীতে গিজ গিজ করছে হিমালয় পাদদেশের এই অঞ্চল। নয়াদিল্লি ইচ্ছা করেই এ অঞ্চলকে অবহেলা করছে। আর সেনাবাহিনী এটিকে ব্যবহার করছে জনসংযোগচর্চার জন্য। বন্যাপীড়িত কাশ্মিরিরা নিজেরাই নিজেদের নিয়ে ভাবছে।

>>শ্রীনগরের বন্যাকবলিত একটি এলাকা : এএফপি
কাশ্মিরে বন্যায় প্রায় ৭৪ জনের প্রাণহানির দুই সপ্তাহ পর নিজ পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া এক ব্যক্তি তার ফেসবুকে লেখেন, বিধ্বস্ত ও লণ্ডভণ্ড দক্ষিণ কাশ্মির অভিমুখে গাড়ি চালিয়ে গেলাম। মাত্র শ্রীনগর পৌঁছলাম। প্রায় অচল নগরী। বাতাসে লাশের গন্ধ।  শ্রীনগরের কেন্দ্রস্থল থেকে কাশ্মিরের বাইরের এক বন্ধুকে টুইট করলেন এক অসহায় ব্যক্তিÑ আমাদের জন্য ভেলা পাঠাও, আমাদের এখন ভেলা দরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকজন লিখলেন, রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশও নেই। ফলে ত্রাণসরবরাহের জন্য চালু রয়েছে যে কয়টি রাস্তা, তাতে জট লেগেই আছে।
কাশ্মিরিদের দুর্ভোগের মূলে রয়েছে রাষ্ট্রীয় কোনো ব্যবস্থাপনা না থাকা। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সামরিক বাহিনী বেষ্টিত অঞ্চলগুলোর একটি এই কাশ্মির। অথচ এখানকার উদ্ধারকার্যক্রম সত্যিই বেদনাদায়ক। শ্রীনগরে সরকারি আমলাদের একটি অত্যন্ত ধনী এলাকা রাজবাগের এক ুব্ধ যুবক ফোনে জানান, তারা (নিরাপত্তা বাহিনী) যখন আমাদের এলাকায় উদ্ধারকাজে অসে, তখন একটি তালিকা নিয়ে আসে। কেবল তালিকাতেই তারা সীমাবদ্ধ থাকে। তাদেরকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সরকারি আমলা ও পণ্ডিতদের উদ্ধার করতে, স্থানীয় মুসলিমদের নয়। তিনি বলেন, সৈন্যরা হেলিকপ্টারে এত নিচ দিয়ে উড়ে যায় যে আমাদের নৌকার ওপর এসে পড়ে। তারপর বন্যার নোংরা পানিতে বিস্কুট ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ফেলে যায়। এগুলো আমরা কিভাবে ব্যবহার করব?
ভারতের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যটির স্থানীয় জনগণকে উপেক্ষা করে শুধু পর্যটকদের ও আমলাদের উদ্ধার পরিকল্পনার কঠোর নিন্দা করেছে সারা বিশ্বের কাশ্মিরি সুশীলসমাজ। ত্রাণসংস্থাগুলোর ত্রাণকার্যক্রমে সহায়তার পরিবর্তে তাদের কাজে আরো ব্যাঘাত সৃষ্টির অভিযোগ পাওয়া যায়। দুর্গত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণের আগে শ্রীনগর বিমানবন্দরে স্থানীয় পুলিশ তত্ত্বাবধায়কের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হচ্ছে ত্রাণসংস্থাগুলোকে। ত্রাণশিবিরের এক ুব্ধ সমন্বয়ক বলেন, এমন সময় কি আমরা পুলিশের অনুমতির জন্য দৌড়াদৌড়ি করব? তিনি আরো বলেন, প্রশাসন আমাদের অভিমতের কোনো তোয়াক্কা না করেই আমাদেরকে বলেছে ট্রাকগুলোকে বিমানবন্দরের গেটের বাইরে রাখতে। কেননা এটি অত্যন্ত নিরাপদ এলাকা। আমরা কি বিমানবন্দরের বাইরে এক কিলোমিটার ত্রাণসামগ্রী মাথায় করে নিয়ে যাবো? প্রাকৃতিক দুর্যোগকে প্রচুর সেনা উপস্থিতির পক্ষে যুক্তি ও স্বাধীনতাকামীদের দাবি নিয়ে তাচ্ছিল্য করার উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
কশ্মিরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে দিল্লি। কিন্তু এখানকার মানবাধিকার রেকর্ড থেকে প্রমাণিত হয়, ছয় দশক ধরে কাশ্মিরি জনগণের কথা বিবেচনা করা হয়নি।

কাশ্মিরি বন্যার্তদের প্রতি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অবহেলা

অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মিরকে অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে থাকে ভারত সরকার। অথচ অঞ্চলটিতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় পীড়িত জনগণের আত্মরক্ষার দায়িত্ব তাদের ওপরেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রহীন অথচ ভারতীয় সামরিক বাহিনীতে গিজ গিজ করছে হিমালয় পাদদেশের এই অঞ্চল। নয়াদিল্লি ইচ্ছা করেই এ অঞ্চলকে অবহেলা করছে। আর সেনাবাহিনী এটিকে ব্যবহার করছে জনসংযোগচর্চার জন্য। বন্যাপীড়িত কাশ্মিরিরা নিজেরাই নিজেদের নিয়ে ভাবছে।

>>শ্রীনগরের বন্যাকবলিত একটি এলাকা : এএফপি
কাশ্মিরে বন্যায় প্রায় ৭৪ জনের প্রাণহানির দুই সপ্তাহ পর নিজ পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া এক ব্যক্তি তার ফেসবুকে লেখেন, বিধ্বস্ত ও লণ্ডভণ্ড দক্ষিণ কাশ্মির অভিমুখে গাড়ি চালিয়ে গেলাম। মাত্র শ্রীনগর পৌঁছলাম। প্রায় অচল নগরী। বাতাসে লাশের গন্ধ।  শ্রীনগরের কেন্দ্রস্থল থেকে কাশ্মিরের বাইরের এক বন্ধুকে টুইট করলেন এক অসহায় ব্যক্তিÑ আমাদের জন্য ভেলা পাঠাও, আমাদের এখন ভেলা দরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকজন লিখলেন, রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশও নেই। ফলে ত্রাণসরবরাহের জন্য চালু রয়েছে যে কয়টি রাস্তা, তাতে জট লেগেই আছে।
কাশ্মিরিদের দুর্ভোগের মূলে রয়েছে রাষ্ট্রীয় কোনো ব্যবস্থাপনা না থাকা। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সামরিক বাহিনী বেষ্টিত অঞ্চলগুলোর একটি এই কাশ্মির। অথচ এখানকার উদ্ধারকার্যক্রম সত্যিই বেদনাদায়ক। শ্রীনগরে সরকারি আমলাদের একটি অত্যন্ত ধনী এলাকা রাজবাগের এক ুব্ধ যুবক ফোনে জানান, তারা (নিরাপত্তা বাহিনী) যখন আমাদের এলাকায় উদ্ধারকাজে অসে, তখন একটি তালিকা নিয়ে আসে। কেবল তালিকাতেই তারা সীমাবদ্ধ থাকে। তাদেরকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সরকারি আমলা ও পণ্ডিতদের উদ্ধার করতে, স্থানীয় মুসলিমদের নয়। তিনি বলেন, সৈন্যরা হেলিকপ্টারে এত নিচ দিয়ে উড়ে যায় যে আমাদের নৌকার ওপর এসে পড়ে। তারপর বন্যার নোংরা পানিতে বিস্কুট ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ফেলে যায়। এগুলো আমরা কিভাবে ব্যবহার করব?
ভারতের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যটির স্থানীয় জনগণকে উপেক্ষা করে শুধু পর্যটকদের ও আমলাদের উদ্ধার পরিকল্পনার কঠোর নিন্দা করেছে সারা বিশ্বের কাশ্মিরি সুশীলসমাজ। ত্রাণসংস্থাগুলোর ত্রাণকার্যক্রমে সহায়তার পরিবর্তে তাদের কাজে আরো ব্যাঘাত সৃষ্টির অভিযোগ পাওয়া যায়। দুর্গত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণের আগে শ্রীনগর বিমানবন্দরে স্থানীয় পুলিশ তত্ত্বাবধায়কের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হচ্ছে ত্রাণসংস্থাগুলোকে। ত্রাণশিবিরের এক ুব্ধ সমন্বয়ক বলেন, এমন সময় কি আমরা পুলিশের অনুমতির জন্য দৌড়াদৌড়ি করব? তিনি আরো বলেন, প্রশাসন আমাদের অভিমতের কোনো তোয়াক্কা না করেই আমাদেরকে বলেছে ট্রাকগুলোকে বিমানবন্দরের গেটের বাইরে রাখতে। কেননা এটি অত্যন্ত নিরাপদ এলাকা। আমরা কি বিমানবন্দরের বাইরে এক কিলোমিটার ত্রাণসামগ্রী মাথায় করে নিয়ে যাবো? প্রাকৃতিক দুর্যোগকে প্রচুর সেনা উপস্থিতির পক্ষে যুক্তি ও স্বাধীনতাকামীদের দাবি নিয়ে তাচ্ছিল্য করার উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
কশ্মিরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে দিল্লি। কিন্তু এখানকার মানবাধিকার রেকর্ড থেকে প্রমাণিত হয়, ছয় দশক ধরে কাশ্মিরি জনগণের কথা বিবেচনা করা হয়নি।

আফগান-মার্কিন নিরাপত্তা চুক্তি সই

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা নিরাপত্তা চুক্তিতে স্বার করেছে আফগানিস্তানের নতুন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির সরকার। এই চুক্তি অনুযায়ী ২০১৪ সালের পরেও মার্কিন সৈন্যরা আফগানিস্তানে থাকবে। গতকাল আফগানিস্তানের নবনিযুক্ত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হানিফ আতমার এ চুক্তি সই করেন।

>> চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি ও অন্য আফগান নেতারা : এএফপি
সোমবার আশরাফ গনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার পরপরই এ চুক্তি সই করা হবে বলে শোনা যায়। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের বিরোধিতার কারণে এ চুক্তি বাস্তবায়ন করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে ওবামা প্রশাসনের সাথে কারজাইয়ের সম্পর্কের চরম অবনতি হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র জেন সাকি সোমবার এ খবরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মঙ্গলবার আফগানিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপীয় নিরাপত্তা চুক্তিতে (বিএসএ) স্বার করবে। এই চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে, আগামী বছরও বেশ কিছু মার্কিন সেনা আফগানিস্তানে অবস্থানের সুযোগ পাবে।
এ খবরের সত্যতা স্বীকার করে প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী দাউদ সুলতানজোয় বলেন, ‘বিএসএ চুক্তি বাস্তবায়িত হবে। তবে এতে প্রেসিডেন্ট নয়, আফগান সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী স্বার করবেন।’
তিনি বলেন, ‘এটি স্বারের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট গনি তার দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করবেন। শপথ নেয়ার পরদিনই (মঙ্গলবার) তিনি এতে স্বার করার কথা ঘোষণা করেছিলেন এবং তিনি তার কথামতোই কাজ করবেন।’
দাউদ বলেন, ‘চুক্তিটি স্বারের মাধ্যমে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি দেয় প্রতিশ্রুতি রা করতে চলেছেন গনি। এ ছাড়া এটি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আরো নিশ্চিত করবে।’ জেন সাকি আরো জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পে এই চুক্তিতে স্বার করছেন আফগানিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস কানিনঘাম। উল্লেখ্য, আফগানিস্তানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে আশরাফ ঘানি এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আবদ্ল্লুাহ আবদুল্লাহ এই চুক্তি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভয়াবহ যানজট -৩ ঘণ্টার পথ পেরোতে ১১ ঘণ্টা

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এতে ঈদ ও দুর্গাপূজা উপলে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ঢাকা থেকে ফেনী ৩ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে গতকাল সময় লাগছে ১০-১১ ঘণ্টা।

>> ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভয়াবহ এই যানজটের ছবিটি গতকাল দুপুরে কুমিল্লা বাইপাস অংশের চৌদ্দগ্রাম থেকে তোলা : নয়া দিগন্ত
পুলিশ, প্রত্যদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্র জানায়, গতকাল ভোর থেকে মহাসড়কে যানজট ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করে। কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত অংশে যানজটের তীব্রতা ছিল বেশি। মহাসড়কে বিভিন্ন ধরনের গাড়ি ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে। এতে যাত্রীসাধারণ বিশেষ করে নারী ও শিশুরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হন। স্টার লাইন পরিবহনের নির্বাহী পরিচালক জাফর উদ্দিন জানান, মহাসড়কের পাশে কোরবানির পশুর বাজার ছাড়াও পশুবাহী ট্রাক ও বিভিন্ন ধরনের পরিবহন মহাসড়কে অতিমাত্রায় চলাচল করায় যানজট তীব্রতর হয়। ঢাকা থেকে প্রাইভেট কারে ফেনীর উদ্দেশে রওনা হওয়া এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, সকাল ১০টার দিকে তিনি ঢাকা থেকে রওনা হয়ে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে চান্দিনা পৌঁছেছেন। তিনি বলেন, দুই পাশেই হাজার হাজার গাড়ি দেখা গেলেও কী কারণে যানজট তা কেউই বলতে পারছেন না। তবে এলেমেলো গাড়ি চলাচল, খালি স্থান পেলেই লাইন ভেঙে এলোপাতাড়ি ঢুকে যাওয়াÑ এসব কারণে যানজট কমছে না। তিনি আরো বলেন, যানজট নিরসনে পুলিশের তৎপরতা কেবল নির্ধারিত পয়েন্টে সীমাবদ্ধ থাকায় অন্যান্য এলাকা অনেকটা অরতি পড়ে থাকে। ফলে যে যেভাবে পারছে সেভাবে গাড়ি চালায়। ফেনী জেলা বিএমএর সাধারণ সম্পাদক ডা: সাহেদুল ইসলাম কাওছার ঢাকা থেকে ভোর ৫টায় রওনা হয়ে এক ঘণ্টায় গৌরিপুর পৌঁছান। সেখান থেকে কুমিল্লা বিশ্বরোড পৌঁছতে তার সময় লাগে ৮ ঘণ্টা। তিনি বলেন, তীব্র যানজটে যাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগী আরেক যাত্রী জানান, যানজট নিরসনের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের অনেকেই পশুবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনে চাঁদা আদায়ে ব্যস্ত। চাঁদা আদায় করতে গিয়েও গাড়ির দীর্ঘ লাইন হয়ে যায়। আমাদের দাউদকান্দি প্রতিনিধি হানিফ খান জানান, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সোমবার রাতে কয়েকটি গাড়ি বিকল হয়ে পড়লে যানজট সৃষ্টি হয়।
হাইওয়ে পুলিশের ওসি মিজানুর রহমান চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইলিয়টগঞ্জ সংলগ্ন স্থানে গভীর রাতে একটি কাভার্ডভ্যানের দুর্ঘটনার ফলে যানজটের সৃষ্টি হয়। তা ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: এনামুল হক নয়া দিগন্তকে বলেন, দুপুরের পর থেকে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সন্ধ্যা ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঢাকাগামী গাড়ি পুরোদমে চলছে বলে তিনি জানান। তবে চট্টগ্রামগামী গাড়ি কিছুটা ধীরগতিতে চলছে।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: সাইফুল হক বলেন, মহাসড়কের ফেনী অংশে যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সার্বণিক সতর্ক রয়েছে। গতকাল বিকেলে মহাসড়কের ফেনী অংশের সমিতি বাজার নামক স্থানে অবৈধ কোরবানির পশুহাট বসলে তা পুলিশ উচ্ছেদ করে দেয় বলে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মুহম্মদ শামছুল আলম সরকার নয়া দিগন্তকে জানান।

বিদ্যুৎকেন্দ্র রিপেয়ারিংয়ের নামে লুটপাটের আয়োজন

সমালোচনার মধ্যেই আরও একটি পুরনো বিদ্যুৎকেন্দ্র রিপেয়ারিং প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। এর আগে রিপেয়ারিংয়ের নামে শুরু করা এ প্রকল্পের অধীনে একটি কেন্দ্রে কাজ চলছে। অন্য একটি কেন্দ্রের কার্যাদেশ দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পুরনো কেন্দ্রে বেশি ব্যয়ে কম বিদ্যুৎ উৎপাদনের এ প্রকল্পকে লুটপাটের আয়োজন বলে মনে করছেন এ খাত বিশেষজ্ঞরা। বেশি মূল্যে একক কোম্পানিকে ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট ৩-এর রিপেয়ারিংয়ের কাজ দেয়ার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত। শুধুমাত্র বাকি রয়েছে হার্ড টার্ম লোন কমিটির অনুমোদন। হার্ড টার্ম লোন কমিটি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলেই লুটপাটের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে।
অভিযোগ রয়েছে অসাধু কর্মকর্তারা ওই প্রকল্প থেকে লুটে নিয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। লুটপাটের পুনঃব্যবস্থা করতে এবার রিপেয়ারিংয়ে হাত দেয়া হচ্ছে ৬নং ইউনিটে। এ ক্ষেত্রে ভূমি অধিগ্রহণ, উন্নয়ন, বেজমেন্ট নির্মাণ- এসব খাতে কোন ব্যয় না থাকার পরও ব্যয় ধরা হয়েছে অনেক বেশি। এসব প্রকল্পে যে খরচ দেখানো হচ্ছে বাস্তবে ওই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ অনেক কম। পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, ঘোড়াশালের তিন নম্বর ইউনিটের রিপেয়ারিংয়ের জন্য ২০১২ সালে ইপিসি কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে কাজ সম্পূর্ণ করার শর্তে দরপত্র আহ্বান করে পিডিবি। তবে একটি মাত্র দরপত্র জমা পড়ায় সেটিকে অযোগ্য ঘোষণা করে ২০১৩ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি ফের দরপত্র আহ্বান করা হয়। শর্ত শিথিল করে এবার কাজ দেয়া হয় কনসোর্টিয়াম অব অ্যালোসথাম লিমিটেড ও সিএমসি চায়নাকে। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী, ৪১৬ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্রে কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বয়লার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে দুই বছরের। অথচ সিএমসি ও অ্যালোসথামের এ ধরনের কোন অভিজ্ঞতা নেই। ঘোড়াশাল তিন নম্বর ইউনিট কেন্দ্র থেকে বর্তমানে উৎপাদন হয় ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। বলা হচ্ছে, রিপেয়ারিং বা পুনঃক্ষমতায়ন শেষে এ কেন্দ্র থেকে পাওয়া যাবে ৪১৬  মেগাওয়াট। কিন্তু বাস্তবে আসলে পাওয়া যাবে ২১৬ মেগাওয়াট। ইপিসি চুক্তির আওতায় প্রকল্পে অর্থায়নের ব্যবস্থা করবে যৌথভাবে কাজ পাওয়া দুই প্রতিষ্ঠান সুইজারল্যান্ডের কনসোর্টিয়াম অব অ্যালোসথাম লিমিটেড ও সিএমসি চায়না। ১০ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের জন্য সুদে-আসলে পিডিবিকে পরিশোধ করতে হবে তিন হাজার ৪৮ কোটি ৫৪ লাখ ৯০ হাজার ৪০৭ টাকা। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ অর্থ দিয়ে নতুন ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা যেত। এ রিপেয়ারিং প্রকল্পের আওতায় অনেক বিদ্যমান পুরাতন যন্ত্রাদি ব্যবহার করা হবে যেগুলো কয়েক বছর পরই পরিবর্তন করতে বিউবোকে মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হবে। অথচ একই সময়ে ঘোড়াশালে ৩৬২ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সম্পূর্ণ নতুন কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য বিউবো অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে যার প্রতি ইউনিটের বিদ্যুৎ খরচ পড়ছে ৩ নং ইউনিটের রিপেয়ারিং ব্যয়ের তুলনায় অর্ধেক। এমনকি সমসাময়িক কালে টেন্ডারকৃত ও বাস্তবায়নাধীন সকল পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রকল্পের তুলনায় এ ইউনিটের রিপেয়ারিং ব্যয় অনেক বেশি।
এদিকে ৩য় ইউনিটের মতো একইভাবে ঘোড়াশাল ৬নং ইউনিটের রিপেয়ারিংয়ের জন্য বিউবো গত ১০ই ফেব্রুয়ারি ২য় স্তরের দরপত্রের ১ম স্তর আহ্বান করেছে। নির্ধারিত সময়ে মাত্র দু’টি প্রতিষ্ঠান আল্‌সটম (সুইজারল্যান্ড) ও সিএমসি (চায়না)-এর কনসোর্টিয়াম এবং আনসারদো এনার্জিয়া (ইতালি) ও শাংহাই ইলেক্ট্রিক গ্রুপ (চায়না)-এর কনসোর্টিয়াম দরপত্র দাখিল করে। কিন্তু এবারও বিউবো আল্‌সটম ও সিএমসি’র কনসোর্টিয়ামের দরপত্রকে টেকনিক্যালি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। অর্থাৎ এই ইউনিটের ক্ষেত্রেও একইভাবে উচ্চমূল্যে দরপত্র দাখিলের সুযোগ দেয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এদিকে কেন্দ্রগুলোকে ক্ষমতায়নের এ প্রক্রিয়া শেষ হলে এতে স্বাভাবিকের চাইতে বেশি গ্যাসের প্রয়োজন হবে। যা সরকারের জ্বালানি সাশ্রয় নির্দেশনারও বিরোধী।
রিপেয়ারিংয়ের কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কোম্পানি সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড। এর কর্ণধার তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিন। রিপেয়ারিং প্রকল্পের নেপথ্যে তার বড় ভূমিকা রয়েছে এবং তার পরিকল্পনা অনুযায়ীই এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি প্রভাব খাটিয়ে এ প্রকল্প থেকে অবৈধ সুবিধা নেয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে এনেছেন। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর বন্ধু পরিচয় দেয়া রুহুল আমিনের অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
রিপেয়ারিং প্রকল্পের বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বিডি রহমত উল্লাহ বলেন, রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল কেন্দ্র করে সরকার আগে বিদ্যুৎ সেক্টরে লুটপাটের আয়োজন করেছিল। এতে কিছু লোক সুবিধা পেয়েছে। এখন রিপেয়ারিংয়ের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এটিও লুটপাটের আয়োজন। এ ধরনের প্রকল্পে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হবে। বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বাড়বে। যার দায় জনগণকেই বহন করতে হবে। তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়ায় রিপেয়ারিংয়ের কার্যাদেশ দেয়া হচ্ছে তাও স্বচ্ছ নয়। রিপেয়ারিং প্রকল্পের বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা এ বিষয়ে নাম প্রকাশ করে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান আব্দুহু রুহুল্লাহ বলেন, ঘোড়াশাল ৬ নম্বর ইউনিটে রিপেয়ারিং করা হলে খরচ বাড়বে না। এতে ক্ষতির কিছু নেই। মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে এ কাজ করতে হচ্ছে। দরপত্রের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রচলিত দরের মধ্যেই রিপেয়ারিংয়ের কাজ হবে। অনেকে বিষয়টা ভুল বুঝছেন।
রিপেয়ারিং সম্পর্কে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বিডি রহমতুল্লাহ বলেন, এই পদ্ধতিতে পুরানো ইউনিটকে সক্রিয় করার পাশাপাশি নতুন একটি ইউনিট চালু করার নিয়ম। কিন্তু আমাদের দেশে যেভাবে দরপত্র দিয়ে রিপেয়ারিং করা হচ্ছে তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এটি এক প্রকার চুরির মতো। এ ধরনের প্রকল্পে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বাড়বে। এর দায় জনগণকেই বহন করতে হবে। তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়ায় রিপেয়ারিংয়ের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে তা-ও স্বচ্ছ নয়।

লতিফ সিদ্দিকীকে এখনই দেশে না ফেরার পরামর্শ

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে এখনই দেশে না ফেরার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। দলের একাধিক নেতা বিভিন্ন মাধ্যমে নিউইয়র্কে অবস্থানরত মন্ত্রীকে এ পরামর্শ দিয়েছেন। সরকারের শীর্ষ মহলও এমন চিন্তাভাবনা করছে বলে জানা গেছে। পবিত্র হজ ও তাবলিগ জামাত, প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাংবাদিকদের সম্পর্কে কটূক্তি করে এখন দেশে-বিদেশে চরম সমালোচিত এই মন্ত্রী। মঙ্গলবার লন্ডন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের এই প্রেসিডিয়াম সদস্যকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগ নেতারা আশঙ্কা করছেন, লতিফ সিদ্দিকী দেশে ফিরলে তার শাস্তির দাবিতে ইসলামী দলগুলো আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করে জানিয়েছেন, তারা চান না নতুন করে শাহবাগ ইস্যুতে দেশে অস্থিরতা তৈরি হোক। তাই এই মুহূর্তে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে দেশে না ফেরার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আÍীয়-স্বজন এবং দলের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে এ পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে তারা জানান। টাঙ্গাইল-৪ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ২১ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত সফরে যুক্তরাষ্ট্র যান। তার সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী লায়লা সিদ্দিকী ও তার ছেলে। রোববার নিউইয়র্কে টাঙ্গাইল সমিতির সংবর্ধনা সভায় লাগামহীন বক্তৃতা দিয়েই তিনি ডালাস চলে যান। সেখানে স্ত্রীকে রেখে নিউইয়র্কে ফিরে আজ তার ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে।

লতিফ সিদ্দিকীকে এখনই দেশে না ফেরার পরামর্শ

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে এখনই দেশে না ফেরার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। দলের একাধিক নেতা বিভিন্ন মাধ্যমে নিউইয়র্কে অবস্থানরত মন্ত্রীকে এ পরামর্শ দিয়েছেন। সরকারের শীর্ষ মহলও এমন চিন্তাভাবনা করছে বলে জানা গেছে। পবিত্র হজ ও তাবলিগ জামাত, প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাংবাদিকদের সম্পর্কে কটূক্তি করে এখন দেশে-বিদেশে চরম সমালোচিত এই মন্ত্রী। মঙ্গলবার লন্ডন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের এই প্রেসিডিয়াম সদস্যকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগ নেতারা আশঙ্কা করছেন, লতিফ সিদ্দিকী দেশে ফিরলে তার শাস্তির দাবিতে ইসলামী দলগুলো আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করে জানিয়েছেন, তারা চান না নতুন করে শাহবাগ ইস্যুতে দেশে অস্থিরতা তৈরি হোক। তাই এই মুহূর্তে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে দেশে না ফেরার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আÍীয়-স্বজন এবং দলের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে এ পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে তারা জানান। টাঙ্গাইল-৪ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ২১ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত সফরে যুক্তরাষ্ট্র যান। তার সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী লায়লা সিদ্দিকী ও তার ছেলে। রোববার নিউইয়র্কে টাঙ্গাইল সমিতির সংবর্ধনা সভায় লাগামহীন বক্তৃতা দিয়েই তিনি ডালাস চলে যান। সেখানে স্ত্রীকে রেখে নিউইয়র্কে ফিরে আজ তার ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে।

হিল্লা বিয়েতে রাজি না হওয়ায়...

সাংসারিক বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি। একপর্যায়ে উৎসুক প্রতিবেশীর আগমন এবং স্বামী উত্তপ্ত মাথায় উচ্চারণ করলো তালাক। কথাটি চলে গেল মাতব্বরদের কানে। আর পরিবারটির বিরুদ্ধে জারি হলো হিল্লা বিয়ে এবং দোররা মারার ফতোয়া। তাতে রাজি না হওয়ার ফল সমাজচ্যুত(একঘরে)। বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বিন্নাচাপড় গ্রামের ৬টি পরিবার ভাগ্যে তাই হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের সমাজে আর ঠাঁই হয়নি। সমাজপতিদের ভয়ে এবং লজ্জায় মুখ খুলতে পারেন না আরও অনেক পরিবার। ফতোয়াবাজ আর মাতব্বরদের দৌরাত্ম্যে গুমরে কাঁদছেন এই উপজেলার গ্রামগুলোর অনেক নিরীহ পরিবার। সবকিছুর অবসান ঘটিয়ে আবারও সমাজে ফিরে সামাজিকভাবে বাঁচতে চায় পরিবারগুলো। ফতোয়াবাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

১৭ বছর যাবৎ সমাজচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তাজুল ড্রাইভার। ৪ থেকে ৭ বছরের মধ্যে রয়েছেন এরফান, মিন্টু, দেলোয়ার হোসেন, জিয়াউর, মিরাজুলের পরিবার। প্রত্যেকের সংসারে আছে সন্তান, জামাই, নাতি নাতনি। শ্রম বিক্রি এবং সমাজের কোন লোকের দোকান থেকে কিছু কিনতে পারলেও আচার অনুষ্ঠানে তাদের রাখা হয় না। ফতোয়াদাতাদের মধ্যে রয়েছেন গ্রামের মসজিদের ইমাম আনিছ মাওলানা, অন্য গ্রামের ইমাম আহম্মদ মাওলানা, ওই ইউনিযনের ২নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুর রহমান বাঘা, সাবেক আরেক সদস্য আকবর, মাতব্বর তাজুল, মোমিন, ইকবাল, ইউছুফ।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানায়, দিনের কাজ শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পরে তুচ্ছ ঘটনায় বিভিন্ন সময় স্ত্রীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় প্রতিবেশীরা ভিড় করে। রাগের মাথায় স্ত্রীর প্রতি তারা তালাক শব্দটি উচ্চাণ করেছেন। কথাটি রাগের মাথায় বললেও মনে থেকে বলেননি বলে তারা জানান। সেই কথা শুনে প্রতিবেশীদের কেউ মাতব্বরদের কাছে বলে দেয়। মাতব্বররা তাদের শুদ্ধি হওয়ার জন্য মাওলানাদের কাছে গিয়ে উপায় জেনে আসতে বলে। গ্রামের মসজিদের ইমাম আনিছ মাওলানা এবং অন্য গ্রামের ইমাম আহম্মদ মাওলানার কাছে গেলে হিল্লা বিয়ের কথা বলেন। পর পুরুষের সঙ্গে বিয়ে এবং ৩ মাস পরে হিল্লা বিয়ের স্বামী যদি আবার তালাক করে তাহলে আগের স্বামীকে দোররা মারার পরে আবারও বিয়ের মাধ্যমে শুদ্ধি হওয়া যাবে। ফতোয়ায় রাজি না হওয়ায় ওই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুর রহমান বাঘা, সাবেক আরেক সদস্য আকবর, মাতব্বর তাজুল, মোমিন, ইকবাল, ইউছুফ গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে তাদের সমাজচ্যুত করে। সমাজের মানুষের কাছে শ্রম বিক্রি এবং তাদের দোকান থেকে কেনাকাটা করা গেলেও সামাজিক আচার অনুষ্ঠানে তাদের রাখা হয় না। কোরবানির ঈদে তাদের বাড়িতে সমাজের মাংস পর্যন্ত আসে না। বঞ্চিত করা হয় বিয়ে, মিলাদসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে। তাজুল ড্রাইভারের মেয়ের বিয়েতে আসেনি সমাজের কেউ। তার ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া নাতনি মনজেলাকে দেয়া হয়নি উপবৃত্তির কার্ড। ফতোয়ার নির্যাতনে এভাবেই কেটে যাচ্ছে তাদের বছরের পর বছর। সমাজে ফিরিয়ে নিয়ে সামাজিকভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেয়ার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারগুলো প্রশাসনের কাছে দাবি রেখেছেন। এলাকাবাসী জানান, ফতোয়া দেয়া অপরাধ তারা শুনেছেন। আর সংসার ভাঙার ফতোয়া যারা দেয় তারা অপরাধী এবং জঘন্য পাপী। এসব ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবি করেছেন তারা।
পরিস্থিতির শিকার তাইজুল-মোর্শেদা দম্পতি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দীর্ঘ ১৮ বছর যাবৎ তাদেরকে সমাজচ্যুত করে রাখা হয়েছে। তারা মাতব্বরদের অনেক অনুরোধ করেছেন। কিন্তু তাতে কোন কাজ হয়নি। মাতব্বরদের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ তুলে ইরফান-সুফিয়া দম্পতি বলেন, তাদেরকে দীর্ঘ ৭ বছর যাবৎ সমাজচ্যুত করা হয়েছে। কোরবানির সময় সমাজের সদস্য হিসেবে তাদেরকে গোশত দেয়া হয় না। অপরদিকে মিন্টু-ফেন্সি দম্পতি ৪ বছর যাবৎ, দেলোয়ার হোসেন ওরফে দুলু-সাফিনা দম্পতি ৩ বছর যাবৎ, জিয়াউল-শাহিনুর দম্পতি ৬ বছর যাবৎ এবং সিরাজুল-সুমি দম্পতি ৩ বছর যাবৎ সমাজচ্যুত রয়েছেন। মিন্টু জানান, ইমাম মাওলানা আনিছ তার স্ত্রীকে অন্যজনের সঙ্গে ৩ মাসের জন্য বিয়ে দেয়ার কথা বলেছিল। পাশাপাশি সামাজিকভাবে ১০১টি দোরার মারার কথা বলেছিল। আমি তাতে রাজি হইনি। ওই ঘটনার বিচারক সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল রহমান বাঘার সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি কোন বক্তব্য না দিয়ে পালিয়ে যান।
ওই ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য আবদুল মোত্তালেব ফেরদৌস জানান, বিষয়টি তিনি আগে যানতেন না। প্রয়োজনে যাবেন এবং সমাধানে যা করণীয় তাই করবেন। শাজাহানপুর থানার ওসি আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, সমাজচ্যুত করার বিষয়টি জানার পরপরই বিন্নাচাপড় এলাকায় একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে পাঠিয়ে ঘটনার তদন্ত করিয়েছি। সংশিষ্টরা অভিযোগ দিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রুবায়েত খান জানিয়েছেন, সমাজচ্যুত করার ঘটনা জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে থানার ওসিকে বলেছি। তাছাড়া তিনি সরেজমিন ওই এলাকা পরিদর্শন করবেন বলেও জানান।

‘বান কি-মুন নির্বাচন নিয়ে কথা বলেননি’

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৌজন্য বৈঠকে ৫ই জানুয়ারি নির্বাচন নিয়ে  কোন কথা হয়নি বলে দাবি করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তিনি জানিয়েছেন, জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিউ ইয়র্ক যাওয়ার আগে জাতিসংঘ মহাসচিব এক বাণীতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছিলেন। রাজনৈতিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে বৃহৎ আঙ্গিকে সমঝোতার তাগিদ দিয়েছিলেন। হাসিনা-মুন বৈঠকে রাজনৈতিক সংলাপ বা সমঝোতা নিয়ে কোন কথা হয়েছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই বার্তায় তিনি যা বলেছেন, যেভাবে সংলাপ ও সমঝোতার তাগিদ দিয়েছেন, বৈঠকে তার বিন্দুমাত্রও বলেননি। বরং জাতিসংঘ মহাসচিব নির্বাচন-পরবর্তী দেশে যে স্থিতিশীলতা এসেছে, শেখ হাসিনা এটি যেভাবে ধরে রেখেছেন তার প্রশংসা করেছেন। ওই বৈঠকের বিষয়ে একাধিক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্ষেপে গিয়ে বলেন, আমি বলছি নির্বাচন নিয়ে তিনি (মহাসচিব) কোন কথা বলেননি। বিশ্বাস না হলে বান কি-মুন সাহেবকে জিজ্ঞাসা করে নিতে পারেন। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এতে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন মন্ত্রী। নিউ ইয়র্ক সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র  মোদির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উভয় নেতার  বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। তিস্তা ও সীমান্ত সমস্যাসহ অন্যান্য অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন মোদি। তিনি জানিয়েছেন, আগের সরকারের কাজের ধারাবাহিকতায় দ্বিপক্ষীয় ইস্যুগুলোর সমাধানে তিনি একটি পথ বের করার চেষ্টা করছেন। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নেপাল ও ভুটানকে নিয়ে ট্রানজিটের বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চান। তবে ভারতের তরফে কি জবাব মিলছে তা জানাননি মন্ত্রী। ভারতের প্রধানমন্ত্রী সার্ক স্যাটেলাইট স্থাপনের বিষয়ে তার সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি প্রতিবেশীদের নিয়ে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। শেখ হাসিনাও একই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন বলে জানান মন্ত্রী। শেখ হাসিনা মোদিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে উনি তা গ্রহণ করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এখন আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে দিন-তারিখ ঠিক হবে। নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর রেকর্ড সংখ্যক সফরসঙ্গী নিয়ে যাওয়া, জাতিসংঘ কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ততা এবং বিশাল ওই বহরের ব্যয় নিয়ে একাধিক প্রশ্ন আসে সংবাদ সম্মেলনে। মন্ত্রী জবাব এড়িয়ে যান। সচিবকে জবাব দেয়ার জন্য মাইক্রোফোন দিয়ে দেন। মূল অধিবেশনের সাইড লাইনে প্রায় ৫০টি ইভেন্ট হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, এসব ইভেন্টে সফরসঙ্গীরা অংশ নিয়েছেন। সফরসঙ্গীর মধ্যে সরকারি দল ও জোটের জেলা পর্যায়ের নেতা সুনির্দিষ্টভাবে কোন ইভেন্টে অংশ নিয়েছেন, দেশের জন্য কি বয়ে এনেছেন অব্যাহতভাবে এমন প্রশ্ন আসার প্রেক্ষিতে ফের মাইক্রোফোন টেনে নেন মন্ত্রী। বলেন, এখানে কে গেছেন, কত খরচ হয়েছে তার চেয়ে বড় প্রশ্ন সার্বিকভাবে আমরা কি অর্জন করতে পেয়েছি? এ নিয়ে বেশি বেশি প্রশ্ন প্রত্যাশা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

‘হাসিনা-মুন সাক্ষাৎ ছিল ফটোসেশন’ by কাউসার মুমিন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৯তম অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে গত সপ্তাহে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিউ ইয়র্ক সফরকালে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুনের সঙ্গে কোন দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিবের বৈঠক হয়েছে বলে যে স্টিল ছবি ও ভিডিও ফুটেজ বাংলাদেশের প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে তা ছিল মূলত জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর একটি  ফটোসেশন, জাতিসংঘ কূটনীতির ভাষায় যাকে বলে ‘ফটো অপর্চুনিটি।’  গতকাল মানবজমিনের এক প্রশ্নের জবাবে লিখিত বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘ।

মহাসচিবের দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী বিগত ২৭শে সেপ্টেম্বর শনিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের জেনারেল ডিবেট (মূল ভাষণ) শুরুর আগে সকাল ৯টায় জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতে ঠিক কি কি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে কোন রিডাউট (মিডিয়ার জন্য  রেকর্ড) রয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘের এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চল বিষয়ক মুখপাত্র ম্যাথিয়াস লিন্ডারম্যান গতকাল এ প্রতিনিধিকে এক লিখিত বার্তায় বলেন, উল্লিখিত শিডিউল  মোতাবেক জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইডলাইনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিবের যে সাক্ষাৎটি হয়েছে তা এত অল্প সময়ের জন্য যে এই সাক্ষাতের কোন রিডাউট রেকর্ড আমাদের কাছে নেই। তিনি বলেন, সাধারণত অফিসিয়াল/দ্বিপক্ষীয় বৈঠক না হলে ওই বৈঠকের কোন রিডাউট থাকে না। এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের মুখপাত্র ম্যাথিয়াস লিন্ডারম্যান-এর ওই লিখিত বার্তা পাওয়ার পর এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে তাকে ফোন করা হলে লিন্ডারম্যান এই প্রতিনিধিকে জাতিসংঘ মহাসচিবের ডেপুটি  স্পোকসপার্সন ফারহান হকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
পরে জাতিসংঘ মহাসচিবের ডেপুটি  স্পোকসপার্সন ফারহান হক-এর নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল অপরাহ্ণে এ প্রতিনিধির নিকট এক লিখিত বার্তায় তিনি বলেন, ‘দিস ওয়াজ এ ফটো অপর্চুনিটি, দেয়ার ওয়াজ নো রিডাউট।’ অর্থাৎ ওই সাক্ষাৎটি ছিল প্রধানমন্ত্রী ও তার সিনিয়র ডেলিগেটদের সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিবের একটি ফটোসেশন, এটা  কোন অফিসিয়াল দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছিল না। জাতিসংঘের প্রচলিত প্রথা মোতাবেক অধিবেশনে  যোগদানকারী রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে ফটোসেশনের জন্য অনুরোধ জানাতে পারেন।
উল্লেখ্য, নিউ ইয়র্ক স্থানীয় সময় বিগত ২৭শে সেপ্টেম্বর শনিবার অপরাহ্ণে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল  সোবহান চৌধুরী জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরকারী মিডিয়া টিমকে ব্রিফ করেন। ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘বান কি-মুনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মিটিং অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে হয়েছে।’ ওই ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার ভূমিকার প্রশংসা করেছেন বান কি-মুন। এভাবেই বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বলেও মিডিয়াকে জানান ইকবাল সোবহান চৌধুরী। এই সংবাদ বাংলাদেশের সকল প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশ ও প্রচারের সময় জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও তার ডেলিগেশনের ফটোসেশনের স্টিল ছবি ও ভিডিও ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া, ওইদিন বিকালে নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এবারের জাতিসংঘ অধিবেশন উপলক্ষে তার নিউ ইয়র্ক সফরে কি কি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন সে বিষয়ে যে বিস্তর তালিকা মিডিয়ার সামনে তুলে ধরেন সেখানেও জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে বলে  বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেন।
জাতিসংঘ কার্যক্রম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এমন কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘ অধিবেশন চলাকালে মহাসচিব স্বাভাবিক কারণেই সর্বোচ্চ ব্যস্ত থাকেন। এছাড়া, এবারের অধিবেশনে জাতিসংঘের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রাষ্ট্র/সরকার প্রধান অংশ নিয়েছেন। তাই মহাসচিবের ব্যস্ত শিডিউলের কারণে  কোন একটি সদস্য রাষ্ট্রের সরকার প্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক সম্ভব না-ও হতে পারে। এটা দোষের কিছু নয়। কিন্তু দ্বিপক্ষীয় বৈঠক না করেই বাংলাদেশের মিডিয়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিবের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে বলে সরকারি প্রচারণায় অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন।
এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিবের কার্যালয়, জাতিসংঘের মুখপাত্র অফিস, জাতিসংঘের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার  সেক্রেটারির কার্যালয় এবং তার স্ট্র্যাটেজিক কম্যুনিকেশন বিষয়ক কর্মকর্তা  হোসে লুইস দিয়াজের সঙ্গে গত ২৬শে  সেপ্টেম্বর শুক্রবারই কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ বছর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিবের  কোন দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নেই। কিন্তু এরপরও সরকারি তরফে কেন বৈঠক হয়েছে বলে প্রচার করা হলো- এ বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের একটি প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, পর পর বেশ কয়েকবার বাংলাদেশের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাতে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন বাংলাদেশে সংসদ ও সংসদের বাইরের বিরোধী দলের সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপের তাগাদা দিয়েছেন সরকারকে। এমনকি এ বছর জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদ প্রাপ্তির ৪০ বছরপূর্তি উপলক্ষে মহাসচিবের প্রদত্ত বাণীতেও রাজনৈতিক সংলাপের আহ্বান রয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এই মুহূর্তে মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে  গেলে মহাসচিব যদি আবারও রাজনৈতিক সংলাপের তাগাদা দেন তাহলে বিষয়টি  দেশে প্রধান বিরোধী দলের হাতে একটি রাজনৈতিক অস্ত্র তুলে দেয়ার মতো হবে, যা সরকারের জন্য দেশে ও বিদেশে ইমেজ সঙ্কট আরও প্রকট করে তুলবে। আবার মহাসচিবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছাড়া দেশে ফিরে গেলে জাতিসংঘের কাছে হাসিনা সরকার পাত্তা পাচ্ছে না বলে বিরোধী দলের সমালোচনার মুখে পড়তে পারে সরকার। এইসব নানা দিক ভেবে উভয় কুল বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত ফটোসেশনের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ দিয়ে কল্পিত হাসিনা-বান কি-মুন দ্বিপক্ষীয়  বৈঠকের গল্প ফেঁদেছে সরকার বলে মনে করছেন অনেকেই।

স্ত্রীর মর্যাদা চেয়ে সংবাদ সম্মেলনের পরদিনই খুন হলেন সাজিদা খাতুন সাজু

স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দাবি করে ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করার একদিন পর শৈলকুপা উপজেলার বাগুটিয়া গ্রামে সাজিদা খাতুন ওরফে সাজু (৪৭) নামে এক মহিলাকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার ছেলে জিন্নাহ আলম (৩০)-কে কুপিয়ে জখম করা হয়। তাকে মুমূর্ষু  অবস্থায় ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সগির মিঞা জানান, সোমবার রাত ১টার দিকে ১০/১২ জনের একদল দুর্বৃত্ত বাগুটিয়া রায়পাড়া গ্রামে সাজিদা খাতুনের বাড়ি ঢুকে মা ও ছেলেকে তুলে নিয়ে যায়। তিনি আরর জানান, এ সময় দুর্বৃত্তরা জিন্নাহ আলমকে কুপিয়ে মা সাজিদা খাতুনকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর একটি কলাগাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। সামাজিক বিরোধ ও দলাদলির কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে পুলিশ প্রাথমিক ভাবে মনে করছে। গতকাল দুপুরে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ব্যাপারে শৈলকুপার নিত্যানন্দপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দীন বিশ্বাস জানান, নিহত সাজিদা এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামকে স্বামী হিসেবে দাবি করে আসছিল। তিনি আরও জানান, এ ঘটনা নিয়ে এলাকার সামাজিক প্রতিপক্ষ সাজিদাকে ইন্ধন দিয়ে সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা মোকদ্দমায় লিপ্ত হয়। তিনি বলেন, নিহত সাজিদা স্বামী দাবি করার পক্ষে চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিক, প্রত্যয়নপত্র ও যে জন্ম সনদ দাখিল করেন তাতে আমি স্বাক্ষর করিনি। আমার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। এ ব্যাপারে সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিপক্ষরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে আমাকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করছে। তিনি দাবি করেন গত রোববার যারা সাজিদাকে নিয়ে ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছিল তারাই তাকে হত্যা করেছে। বিশেষ করে ওই মহিলার ভাই আবদুর রাজ্জাককে গ্রেপ্তার করলেই হত্যার রহস্য উন্মোচিত হবে। উল্লেখ্য, গত রোববার ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবে এলাকার সামাজিক দলের নেতা মুক্তার মৃধার লোকজন নিহত সাজিদাকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে সাজিদা দাবি করে ১৯৮৩ সালে মৌখিক ভাবে রফিকুল তাকে বিয়ে করেন। ১৯৮৪ সালে তার জিন্না আলম নামে এক ছেলে সন্তান হয়। ১৯৮৫ সালে পিতৃত্বের দাবিতে তিনি আদালতে মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হন রফিকুল। পরে  এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় স্ত্রী হিসেবে মেনে নেয়ার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে মামলা তুলে নিই। সংবাদ সম্মেলন সুমন মৃধা, ইকবাল হোসেন মেম্বর, রবিউল ইসলাম, আবু বকর বিশ্বাস, আবদুর রজ্জাক ও শহিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

‘পেটের মহৌষধ’ পেঁপের ৮ উপকারিতা by কাজী আরিফ আহমেদ

পেঁপে অনেকেই পছন্দের ফলের তালিকায় রাখেন না। যদিও পাকা পেঁপে অনেকের প্রিয়, কাঁচা পেঁপে তারা অনেকটা এড়িয়েই চলেন। পাকা পেঁপে খাওয়া হয় মজার জন্য এবং তাও কালে-ভদ্রে। তরকারি হিসেবেও পেঁপে নিয়মিত খাবার তালিকায় স্থান পায় না। অথচ, এ ফলটি নানা গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদানে সমৃদ্ধ। পেঁপেতে রয়েছে ক্যারোটিন, ফ্ল্যাভনয়েড, ফোলেট, পটাসিয়াম, কপার, আঁশ ও ম্যাগনেসিয়াম। প্রকৃতিতে সবচেয়ে উপকারি ফলগুলোর একটি পেঁপে। প্রতিদিনের খাদ্য-তালিকায় ফল বা তরকারি হিসেবে পেঁপে অন্তর্ভুক্ত করুন ও সুস্থ-সবল থাকুন। নিচে এ ফলটির নানা উপকারিতার মধ্য থেকে ৮টি প্রধান উপকারি দিক তুলে ধরা হলো:

১)    পেঁপেতে যে পুষ্টি উপাদানসমূহ রয়েছে, তা হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। হার্টের রোগীদের নিয়মিত পেঁপে খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।
২)    পেঁপেতে যে আঁশ রয়েছে, তা উচ্চ কোলেস্টেরোলের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ ও কমাতে সাহায্য করে।
৩)    বিশেষ করে হজমের সমস্যায় যারা নিয়মিত ভুগে থাকেন, পেঁপে তাদের জন্য অপ্রতিস্থাপনীয় মহৌষধ। বেলও রয়েছে সে তালিকায়।
৪)    কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, পেঁপেতে যে আঁশ রয়েছে, তা মলাশয়ের ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে।
৫)    পেঁপেতে প্রোটিন হজমকারী দুটি অ্যানজাইম চিমোপাপাইন ও পাপাইন রয়েছে, যা প্রদাহ হ্রাস করে।
৬)    রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় পেঁপে। এতে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বিটা-ক্যারোটিন উপাদান। এ উপাদানটি থেকে ভিটামিন এ ও সি উৎপন্ন হয় এবং তা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়ায়।
৭)    নিয়মিত পেঁপে খাওয়ার অভ্যাস আপনার দৃষ্টিশক্তিকেও ভালো রাখে। কারণ, এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে।
৮)    মেয়েলি স্বাস্থ্য সমস্যায় ব্যথা কমানোর ক্ষেত্রেও বিশেষ ভূমিকা রাখে পেঁপে।

যত বেফাঁস মন্তব্য by সাজেদুল হক

সব কিছুকে তুচ্ছ করা তার জন্য নতুন কিছু নয়। বেফাঁস মন্তব্য করেছেন বারবার। হরতালকারীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হত্যার কথাও বলেছিলেন  তিনি। শুধু বিরোধী মতের রাজনৈতিক নয়, নিজ দলের নেতা-কর্মীদেরও বিব্রত করেছেন বারবার। তবে শেষ রক্ষা হলো না আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর। রোববার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হজ, মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে কটূক্তির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়েও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে ফেঁসে গেলেন তিনি। মন্ত্রিসভা থেকে তাকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ থেকেও বহিষ্কার হতে পারেন দলটির এ প্রেসিডিয়াম সদস্য। এর আগে আর নির্বাচন না করার ঘোষণা দিয়েও ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। গত বছর ১৬ই আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এক সভায় লতিফ সিদ্দিকী বলেছিলেন, বসে থাকার সময় নেই, আর কেউ হরতাল করলে তাদের বাড়িতে গিয়ে হত্যা করতে হবে। ওই মাসের শেষ সপ্তাহে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সেমিনারে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে মন্তব্য করেছেন তা রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। তিনি (আবদুল লতিফ সিদ্দিকী) যদি দেশের প্রধানমন্ত্রী হতেন, তাহলে এত দিন তাঁকে (ড. মুহাম্মদ ইউনূস) কারাগারে থাকতে হতো। তিনি এও বলেন যে, ইউনূসের ভাগ্য ভাল যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বিরুদ্ধে এখনো ব্যবস্থা নেননি। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পৃথিবীর সবচেয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ। তাই ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে যারা হরতাল দেবে, তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হত্যা করতে হবে। কারণ, হরতালকারীরা আদালত অমান্যকারী ও রাষ্ট্রদ্রোহী। গত ২৮শে মার্চ টাঙ্গাইলে নিজ বাড়িতে পিডিবি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী পুনয় চন্দ্রকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। ২০১২ সালের ৩১শে ডিসেম্বর যথাযথ মর্যাদা না দেয়ার অভিযোগ তুলে পাট নিয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে আয়োজকদের কঠোর সমালোচনা করেন তখনকার বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী  লতিফ সিদ্দিকী। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উপস্থিতিতে লতিফ সিদ্দিকী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অর্থমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা। আর আমি কি উড়ে এসেছি? রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘পাট ও বাংলাদেশের অর্থনীতি: বেশি উৎপাদনের জন্য পাটকলের যন্ত্রপাতির আধুনিকায়ন’ শীর্ষক এক কর্মশালায় মন্ত্রী এ কাণ্ড ঘটান। লতিফ সিদ্দিকী বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বলেন, উনার দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বব্যাংকীয়। আমার অবশ্য অন্যরকম। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের আদরের পুত্র ইউনূসের আবদার রক্ষা করতে না পারায় পৃথিবীজুড়ে ঝগড়া বাধাচ্ছে। গত বছর ১১ই জুন আর নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন লতিফ সিদ্দিকী। ওই দিন সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনায় দাঁড়িয়ে লতিফ সিদ্দিকী বলেছিলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে নির্বাচনী রাজনীতিতে আর অংশ নেবো না। তবে দলীয় রাজনীতিতে শেখ হাসিনা যে নির্দেশ দেবেন, তা সম্পন্ন করার চেষ্টা করবো। ২০০৯ সালের ১২ই অক্টোবর সংসদে দেয়া এক বক্তব্যে তৎকালীন স্পিকার আবদুল হামিদের সমালোচনা করেন বহুল আলোচিত এ নেতা। তিনি এম এন কউলকে উদ্ধৃত করে বলেন, স্পিকার হচ্ছেন সংসদের সেবক। তিনি প্রভু নন। আবদুল হামিদকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, প্রতিভতা ও প্রগলভতা এক নয়। রোববার সজীব ওয়াজেদ জয়কে ‘চিনতে না পারলেও’ গত ১১ই মার্চ ঢাকায় জয়ের উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে তার ভূয়সী প্রশংসা করেন লতিফ সিদ্দিকী। এসময় জয়কে নিজের মাস্টার হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে জয় কিছু পরামর্শ দিয়েছেন তা পথপ্রদর্শক হবে। কারণ তিনি যার (শেখ হাসিনা) উপদেষ্টা, তার সৃষ্টি মননশীল। গত ৩১শে আগস্ট সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের বক্তব্যে উষ্মা প্রকাশ করেন লতিফ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, সমপ্রচার নিয়ে যে কথা-বার্তা হচ্ছে তা শুনলে আমি হাসি। আমি একজনকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম তিনি পড়েছেন কিনা। তিনি কিন্তু পড়েননি। কেবল নীতিমালা পড়লেই হবে না,  টেলিভিশনগুলো যে সব শর্তে লাইসেন্স পেয়েছে সেগুলোও জানা থাকতে হবে। ওরা কি কি শর্তে দস্তখত করে লাইসেন্স নিয়েছে সেই শর্তটা একবার বের করে দেখুন। ওই কাবিননামায় দস্তখত করেই কিন্তু লাইসেন্স পেয়েছে।

লতিফ সিদ্দিকীর দুর্নীতির সাতকাহন by দীন ইসলাম

বিতর্কিত ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর অব্যাহত দুর্নীতির সত্যতা পেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। মতিঝিলে চট্টগ্রাম সমিতিকে এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে জমি ইজারা, ক্ষমতার অপব্যবহার করে মন্ত্রণালয়ের সচিব ও নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ দেয়াসহ নানা বিষয়ে তার দুর্নীতির সাতকাহন রূপকথাকে যেন হার মানিয়েছে। ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর মিডিয়াতে সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর দুর্নীতির খবর প্রকাশ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এসব বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে তার দুর্নীতির সত্যতা পায়। টিঅ্যান্ডটি মন্ত্রী হওয়ার পর ‘ভিওআইপি’ কেলেঙ্কারির সঙ্গেও জড়িয়ে যান লতিফ সিদ্দিকী। এ কারণে খোদ মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ধমক দেন লতিফ সিদ্দিকীকে। এরপর থেকে সব সময় মন্ত্রিসভা বৈঠকে সরব থাকা লতিফ সিদ্দিকী চুপসে যান।

চট্টগ্রাম সমিতিকে অনিয়মতান্ত্রিক জমি ইজারা: ২০০৮ সালের মহাজোট সরকারের আমলে লতিফ সিদ্দিকী ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। এ মন্ত্রণালয়ে কাজ করার সময়ে ২০১৩ সালে ক্ষমতা ছাড়ার চার দিন আগে নিয়মবহির্ভূতভাবে ঢাকার মতিঝিলে চট্টগ্রাম সমিতিকে জমি ইজারা দেন। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় জমির ইজারা দেয়ার বিষয়ে এখন বলছে, তখনকার মন্ত্রীর ইচ্ছায় এটা হয়েছিল এবং এটি ছিল মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার বহির্ভূত কাজ। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১১ই জুন চট্টগ্রাম সমিতি হাসপাতাল বানানোর কথা বলে জমির জন্য আবেদন করে। গত আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার চার দিন আগে গত বছরের ২০শে অক্টোবর তৎকালীন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী তাতে সম্মতি দেন। পরদিন ২১শে অক্টোবর বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব নীলরতন সরকার চট্টগ্রাম সমিতির তখনকার সভাপতি রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাককে একটি চিঠি দিয়ে জমিটি ইজারা দেয়ার কথা জানান। ইজারা মূল্য প্রতিবছর এক লাখ এক হাজার ১০১ টাকা হিসেবে ৯৯ বছরের জন্য এক কোটি এক লাখ এক হাজার ১০১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর ১২ই জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সরকার শপথ নেয়। তার তিন দিনের মাথায় ১৫ই জানুয়ারি চট্টগ্রাম সমিতিকে জমিটি ইজারা দলিল করে দেয় মন্ত্রণালয়। দলিলে দেখা যায়, জমিদাতা বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব ফণীভূষণ চৌধুরীকে দাতা এবং গ্রহীতা চট্টগ্রাম সমিতির পক্ষে এর ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি ও নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক, আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর স্ত্রী চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি লায়লা সিদ্দিকী এবং সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দীন খান এবং ট্রাস্ট সেক্রেটারি এম এমদাদুল ইসলাম। জমিটি ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্ত হওয়ার আড়াই মাস পর চট্টগ্রাম সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন হয়। এতে ২০১৪-১৫ সালের জন্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হন লায়লা সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দীন খান। জমিটি ইজারা অনুমোদনের নথিতে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী লেখেন, মেজবান চট্টগ্রাম সমিতির একটি আকর্ষণীয় বাৎসরিক অনুষ্ঠান। ব্যক্তিগত জীবনে আমি চট্টলা কন্যার পাণি গ্রহণ করেছি। ঢাকাস্থ চট্টগ্রাম সমিতি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান। তাদের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় এই ভূমি খণ্ডটির প্রয়োজনীয়তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানবতার সেবায় তাদের সহযোগিতা করার নৈতিক দায়িত্ববোধ মনে করছি। লতিফ সিদ্দিকীর এ অনিয়মতান্ত্রিক ইজারার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে এর সত্যতা পায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব নীলরতন সরকারের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, এই প্লটটি বিক্রির কোন এখতিয়ার বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের নেই। এই মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর লিখিত নির্দেশে ওই ইজারা দেয়া হয়। এতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের শর্তও মানা হয়নি। এই জমি পরিত্যক্ত সম্পত্তি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে অবমুক্ত করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। অবমুক্ত করার ক্ষেত্রে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় দু’টি শর্ত দেয়। তা হলো, প্লটটি কখনও বিক্রয় ও হস্তান্তর করা যাবে না এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে এটি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এর কোনটিই মানা হয়নি। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের এমন ভূমিকার কারণে চট্টগ্রাম সমিতি এখনও জমিতে দখলে যেতে পারেনি।
মন্ত্রিসভার সদস্যরা অতিষ্ঠ, প্রধানমন্ত্রীর ধমক: লতিফ সিদ্দিকীর আচরণে মন্ত্রিসভার সদস্যরা ছিলেন অতিষ্ঠ। যখন তখন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের আক্রমণ করতেন তিনি। মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে একাধিক মন্ত্রীর সঙ্গে বিতর্কে জড়ান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর মধ্যস্থতায় অনেক বিতর্ক নিষ্পত্তি হয়। এর মধ্যে তিনি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে কয়েকবার ধমকের সুরে কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর কথা শুনে পদত্যাগ পর্যন্ত করতে যান। যদিও প্রধানমন্ত্রী বাদ সাধার কারণে বিষয়টি বেশি দূর এগোয়নি। ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর দ্বিতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর কয়েকটি মন্ত্রিসভা বৈঠকে সরব থাকলেও এরপর চুপসে যান। একাধিক মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৩০শে জুন অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে অবৈধভাবে ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল (ভিওআইপি) ব্যবসা পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর ধমক খান লতিফ সিদ্দিকী। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে বলেন, কারা ভিওআইপি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তা আমার নলেজে আছে। কার ছেলে, কার মেয়ে, কার জামাই এ ব্যবসা করেন সবই আমার জানা আছে। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় কাউকে কোন ছাড় দেয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী যখন এসব কথা বলছিলেন তখন লতিফ সিদ্দিকী চুপ করে বসেছিলেন। তিনি কোন শব্দ করেননি। এছাড়া, লতিফ সিদ্দিকীর কিছু টেলিফোন কথোপকথনের রেকর্ড বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে নেয়া হয়েছিল। ওই সব রেকর্ড নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ৩০শে জুনের মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর অনেকটা চুপসে যান লতিফ সিদ্দিকী। মন্ত্রিসভা বৈঠকে এসে চুপ মেরে বসে থাকতেন। এরপর থেকেই নিজের অবস্থান দুর্বলের বিষয়টি আঁচ করতে পারেন সরকারের এ মন্ত্রী।
অনিয়মতান্ত্রিক ঋণ ও ঋণ মওকুফ: বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে গাড়ি- ও ফ্ল্যাট কেনা এবং ব্যবসা ?করার জন্য ঋণ দেয়া হয়। ঋণগ্রহীতা দু’জন ছিলেন একই মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এবং একজন নারী উদ্যোক্তা। ঋণ দেয়ার জন্য সুপারিশ ও অনুমোদন দু’টোই করেছেন মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। এমনকি নারী উদ্যোক্তাকে দেয়া ঋণ মওকুফও করেন তিনি। সরকারের তরফে এর তদন্তে বলা হয়, এভাবে টাকা দেয়ার কোন বিধান নেই। কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এ সংস্থাকে কেউ ঋণ দিতে পারে না।
অস্থির অবস্থায় তার দায়িত্বে থাকা দুই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা- কর্মচারীরা: সব সময় অস্থির অবস্থায় রয়েছেন লতিফ সিদ্দিকীর দায়িত্বে থাকা দুই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর মধ্যে টিএন্ডটি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা- কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি অস্থিরতায়। টিএন্ডটি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানালেন, মন্ত্রণালয়ে অনেকটা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী। নয় মাসের মধ্যে তিনি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর মধ্যে ভয়-ভীতির জন্ম দেন। ওদিকে মোবাইল ফোন অপারেটর সংস্থার কাছে অর্থ চাওয়া নিয়ে টিএন্ডটি মন্ত্রণালয়ে নানা কথা চালু রয়েছে। সমপ্রতি টিঅ্যান্ডটি মন্ত্রী এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, আমি চাঁদা নিই। কারণ রাজনীতি করতে আমাকে চাঁদা নিতে হয়। তবে কমিশন খাই না।

অনুতাপ করার কিছু নেই, বক্তব্য প্রত্যাহারের প্রশ্নই আসে না: লতিফ সিদ্দিকী

হজ নিয়ে মন্তব্য করে তোপের মুখে থাকা বাংলাদেশের মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, তিনি তার মন্তব্যে অনড়। তবে শুধুমাত্র তার দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিলেই তিনি তার সম্মানে মন্তব্য প্রত্যাহার করে নিতে পারেন।

মেক্সিকো থেকে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, একজন স্বাধীন ও আধুনিক মানুষ হিসেবেই তিনি হজ সম্পর্কে এই মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, চাপের মুখে তার পদত্যাগ করার কোনো প্রশ্নই আসে না।

“আমি কিছুই করবো না। প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশ দেবেন আমি সেটা প্রতিপালন করবো।” বলেন তিনি।

তিনি বলেন, তার এই মন্তব্যকে ঘিরে বিভিন্ন দলের নেতারা যেসব কথাবার্তা বলছেন, তার অপসারণের যে দাবি উঠেছে, সেসব বিষয়ে তিনি জানেন। এবিষয়ে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা বা প্রধানমন্ত্রীর সাথেও তার কথা হয়নি।

মি. সিদ্দিকী বলেন, “আমি শুধু আমার বিশ্বাসের কথা বলেছি। এতে কারো কারো আঘাত লাগতে পারে। এবং তারাও আমাকে আঘাত করে মতামত প্রকাশ করছে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশীদের একটি অনুষ্ঠানে তিনি কি বলেছেন, তার একটি অডিও বাজিয়ে শোনাতে চাইলে তিনি বলেন, এটা তাকে শোনানোর প্রয়োজন নেই। কারণ তিনি কি বলেছেন সেটা তিনি জানেন। এবং তার দায়িত্ব তিনি নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, “যা রেকর্ড করা আছে। সেটা ঠিকই আছে। আমি ওই কথার ১০০ ভাগ দায়িত্ব নিচ্ছি।”
তিনি বলেন, “অনুতাপ করার কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্র পরিচালনায় তাকে কিছু দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি যেটা ভালো মনে করবেন সেটা তিনি করবেন। আমি যদি তার বোঝা হয়ে যাই তাহলে তার বোঝা রাখবেন কেনো?”
মি. সিদ্দিকী বলেন, তিনি বাংলাদেশে বসে এই মন্তব্য করেন নি।

“আমি ভাবছিলাম মুক্ত পৃথিবীতে আসছি, যেখানে সবাই মুক্ত বিহঙ্গ, কোনো কিছুতেই বাধা নাই। এখানে যে কালো বিড়াল এতো রয়ে গেছে তাতো আমি জানি না।”

লতিফ সিদ্দিকীকে অপসারণের সিদ্ধান্ত

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর এ বিষয়ে  চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি দেশে আসার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে মঙ্গলবার এ বিষয়ে কোন নির্দেশনা আসেনি। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা এ বিষয়ে কথা বললেও মন্ত্রিসভা থেকে লতিফ সিদ্দিকীকে অপসারণের বিষয়ে স্পষ্ট কোন তথ্য জানাতে পারেননি। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী দলীয় এক অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকীকে ‘মুখফোঁড়’ আখ্যা দিয়ে তার কথা কানে না নেয়ার জন্য দলের নেতাকর্মীদের পরামর্শ দিয়েছেন। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ওবায়দুল কাদের অন্য এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে দলীয় সভানেত্রী দেশে ফেরার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। লতিফ সিদ্দিকীর অপসারণের বিষয়ে দলের কেউ নাম প্রকাশ করে বক্তব্য দিতে রাজি না হলেও উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে এ ধরনের  সিদ্ধান্ত আসবে সে সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত ছিলাম। আমরা জানি বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি তা-ই করেছেন। এদিকে লতিফ সিদ্দিকীকে অপসারণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বেশির ভাগ টেলিভিশন চ্যানেল ও অনলাইন সংবাদপত্র সংবাদ প্রচার করে। তবে কোথাও সুনির্দিষ্ট করে খবরের সূত্র উল্লেখ করা হয়নি।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা মানবজমিনকে বলেন, লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে কোন নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। নির্দেশনা পাওয়া গেলে আপনারা জানতে পারবেন।  আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র জানিয়েছে, পবিত্র হজ নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেয়ায় দলীয় পদও হারাচ্ছেন লতিফ সিদ্দিকী। দলের প্রেসিডিয়ামের পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
হজ, তাবলীগ, টকশো ও প্রধানমন্ত্রী পুত্রকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেয়ায় আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে সারা দেশ। ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের অন্যতম হজ নিয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দেয়ায় সারা দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন ইতিমধ্যে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
রোববার নিউ ইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, আমি হজ ও তাবলীগের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীর যত বিরোধী তার থেকেও হজ ও তাবলীগের বিরোধী। এ হজে যে কত ম্যানপাওয়ার নষ্ট হয়। হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গেছে। এদের কোন কাম নেই। এরা কোন প্রডাকশন দিচ্ছে না। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে। ওই অনুষ্ঠানে টক শো আলোচকদেরও গালিগালাজ করেন তিনি।
তার এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় হেফাজতে ইসলাম ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে লাগাতার কর্মসূচির মাধ্যমে দেশ অচল করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন তারা। হেফাজতের পক্ষ থেকে গতকাল দুই দিনের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার ঢাকায় এবং শুক্রবার সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি রয়েছে। লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন আজ বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। একই কর্মসূচি দিয়েছে আরও কয়েকটি ইসলামী দল ও সংগঠন।
প্রধানমন্ত্রী ফিরলে ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। মঙ্গলবার দুপুরে সাভারে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের বড় দায়িত্বে থেকে সরকারেরই ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর বক্তব্য দেয়া বা আচরণ করা কারও জন্য সমীচীন নয়। তিনি বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর গোচরে আছে, তিনি দেশে ফিরলে এ ব্যাপারে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত  নেয়া হবে। জয়কে নিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন তা-ও ঠিক নয়।
বঙ্গবন্ধু কন্যা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন: আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত  সেনগুপ্ত বলেছেন, লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে এ ধরনের  সিদ্ধান্ত আসবে সে সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত ছিলাম। আমরা জানি বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি তাই করেছেন। গতকাল সন্ধ্যায় গুলশান-বনানী পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি। সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, লতিফ সিদ্দিকী যে ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন তা ন্যক্কারজনক। এটি শুধু ইসলাম ধর্মের জন্য অবমাননাকর নয়, সব ধর্মের জন্য একই ভাবে প্রযোজ্য। বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনা দেশের বাইরে থেকে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যা নজিরবিহীন। এর আগে এমন ঘটনা ঘটতে দেখা যায়নি।
এদিকে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হয়েছে এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে যুবলীগ। গতকাল যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদ বিবৃতির মাধ্যমে এ অভিনন্দন জানান। সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে তারা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন। বিবৃতিতে তারা বলেন, ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হজ। তা নিয়ে লতিফ সিদ্দিকী যে জঘন্য ও কুৎসিত মন্তব্য করেছেন, তার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা   নেই। তার এ বক্তব্যে মনে হয় যে, তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছে। একই সঙ্গে তার এ বক্তব্যে নতুন কোন ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা এ নিয়ে  নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী ফিরলে লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে- ওবায়দুল কাদের
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের সিটি সেন্টারের সামনে দ্বিতীয় ফুট ওভারব্রিজ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের বড় দায়িত্বে থেকে সরকারেরই ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর বক্তব্য দেয়া বা আচরণ করা কারও জন্য সমীচীন নয়।
গত রোববার নিউ ইয়র্কে স্থানীয় টাঙ্গাইল সমিতির এক অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, আমি কিন্তু হজ আর তাবলীগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লতিফ সিদ্দিকীর ওই বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ওই ভিডিওতে তাকে বলতে দেখা যায়, ‘এ হজে যে কত ম্যানপাওয়ার (জনশক্তি) নষ্ট হয়। এই হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গেছেন। এদের কোন কাজ নেই। কোন প্রডাকশন নেই। শুধু ডিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা বিদেশে দিয়ে আসছে।’ লতিফ সিদ্দিকীর মন্তব্যের সমালোচনায় ওবায়দুল কাদের বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর গোচরে আছে, তিনি দেশে ফিরলে এ ব্যাপারে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে ‘ভবিষ্যৎ নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাদের বলেন, জয়কে নিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন তা-ও ঠিক নয়। নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠানে এক সাংবাদিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ভূমিকা নিয়ে মন্ত্রীর মন্তব্য চাইলে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, কথায় কথায় আপনারা জয়কে টানেন কেন। ‘জয় ভাই’ কে? জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নন। তিনি কোন সিদ্ধান্ত নেয়ারও কেউ নন। এর আগে মন্ত্রী ফিতা কেটে ফুটওভার ব্রিজের উদ্বোধন শেষে উপরে ওঠার সময় নেতাকর্মীদের ধাক্কাধাকিতে উঠতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এ সময় ওভারব্রিজে টাঙানো বড় বড় ব্যানারে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান ও তার নিজের ছবির দিকে চোখ যায় মন্ত্রীর। তাকে স্বাগত জানিয়েই ছিন্নমূল হকার্স লীগ ও আওয়ামী হকার্স লীগ ব্রিজের দুই পাশে বিশাল আকৃতির এসব ব্যানার টাঙায়। ক্ষুব্ধ স্বরে কাদের বলেন, কার নির্দেশে এসব ব্যানারে আমার ছবি দেয়া হয়েছে। যারা আমার ছবি ব্যবহার করেছেন, তারা ঠিক করেননি। নেতারা নিজেদের ছবি দিয়ে যা-ই করুক, আমার ছবি জুড়ে দিতে পারেন না। তাৎক্ষণিকভাবে এ সব ব্যানার খুলে ফেলার নির্দেশ দেন মন্ত্রী, পরে ব্যানার খুলে ফেলা হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মোল্যা, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

দুর্গাপূজায় রাষ্ট্রীয় ভাবনা by স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ

বৈদিক সূত্রে দেবী বলেছেন- “অহং রাষ্ট্রী” অর্থাৎ আমি বিশ্ব সমাজের অধীশ্বরী । এই বিশ্ব সমাজ বলতে কি বোঝায়? আর অধীশ্বরী বলতেই বা কি বোঝায়?
আমরা জানি আধুনিক বিশ্বের মূল স্তম্ভ মানুষ। মানুষ সাধারণত বাস করে গৃহে। পিতা-মাতা, ভ্রাতা-ভগ্নি এদের নিয়ে একটি পরিবার। এরূপ কয়েকটি পরিবার নিয়ে একটি বাড়ি, কতকগুলো বাড়ির সমষ্টিতে একটি পাড়া। কিছু সংখ্যক পাড়া মিলে একটি গ্রাম। কতগুলো গ্রাম নিয়ে একটি ইউনিয়ন। কতগুলো ইউনিয়ন নিয়ে থানা বা উপজেলা। এভাবে কয়েকটি উপজেলার সমষ্টি জেলা। কয়েকটি জেলার সমষ্টি বিভাগ। কয়েকটি বিভাগের সমষ্টি প্রদেশ। কয়েকটি প্রদেশ নিয়ে একটি দেশ। কয়েকটি দেশ মিলে মহাদেশ। বিশ্ব কয়েকটি মহাদেশের সমষ্টি।
সমাজ হলো পরস্পর সহযোগিতা ও সহানুভূতির সঙ্গে বসবাসকারী মানবগোষ্ঠী। যাকে বলা যায় মানব সমাজ। যেখানে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ বাস করে। এদের মধ্যে শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ধনী-দরিদ্র, কালো-ধলো, নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-যুবা-শিশু বিভিন্ন প্রকার মানুষ। এরা সকলেই মানব সমাজের মধ্যে পড়ে। এককথায় যারা সমাজবদ্ধ হয়ে বাস করে তারাই সমাজিক।
আর বিশ্বসমাজ হলো- বিশ্বের অন্তর্গত জীব-জগৎ-গাছপালা প্রাণী সকল। প্রাণীজগতে পশু, পাখি, কীট-পতঙ্গ, এদেরও আলাদা আলাদা সমাজ রয়েছে। এক পর্যায়ে বৃক্ষরাজি, উদ্ভিদ, জলজ অ-জলজ সবই এক প্রকার প্রাণিসম্পদ বলা যায়। বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন গাছেরও প্রাণ আছে।
এবারে দেখবো অধীশ্বরী বলতে কি বোঝায়? ব্যাকরণগতভাবে দেখা যায় অধি+ঈশ্বর এর সাথে স্ত্রী লিঙ্গে ‘ঈ’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে হয় অধীশ্বরী। অর্থাৎ মালিক বা অধিপতি বা সম্রাজ্ঞী। এ শুধু আমরা জাগতিক অর্থেই ব্যবহার করি। একটি রাষ্ট্রে যে সব মানুষ বসবাস করে, রাজা যেমন তাদের সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের নিরাপদ আশ্রয়ের লক্ষ্য রাখেন তেমনি প্রাণিজগৎ, বৃক্ষরাজি, নদ-নদী এসবেরও ভাল-মন্দ লক্ষ্য রাখেন দেশের রাজা বা রাণী। এসব আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দেশের বা রাষ্ট্রের পরিচালকদের দেখে থাকি। আর বিশ্ব সমাজের অধিপতি অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা তার থেকে জীব-জগৎ উৎপন্ন হয়ে তাতেই লয় হচ্ছে। আমরা অনেক সময় বলি প্রকৃতির খেলা। এই প্রকৃতির নিয়ন্তা তিনি। বিভিন্ন নামে আমরা সম্বোধন করি। ঈশ্বর বা ঈশ্বরী বা দুর্গা বা গড, আল্লাহ ইত্যাদি এসব একই সৃষ্টিকর্তার বিভিন্ন নাম মাত্র। তিনি দেবীরূপে, মাতারূপে, শক্তিরূপে, জ্ঞানরূপে সব কিছুতেই বর্তমান। তাই তিনি বিশ্ব সমাজের অধিষ্ঠাত্রী বা অধীশ্বরী।
আমরা দুর্গা পূজার কাঠামোতে দেখছি মা দুর্গা, তার দু’কন্যা অর্থাৎ লক্ষ্মী-সরস্বতী, দু’পুত্র কার্ত্তিক-গণেশ এদের নিয়ে যেন পিত্রালয়ে বেড়াতে এসেছেন। পুত্র-কন্যা নিয়ে মা তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন, এটি আমাদের বাঙালির সমাজ জীবনের একটি প্রতিচ্ছবি। তাই দুর্গাপূজা বাঙালিদের মধ্যেই বেশি প্রচলিত। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বাঙালি জাতি আনন্দে মেতে ওঠে। এ উৎসবে যোগদান করেন হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ খৃস্টান সকলে। এতে থাকে না কোন জাতি-ধর্ম-বর্ণ ভেদ। বর্তমানে এটি বাঙালির জাতীয় উৎসব।
দুর্গাপূজার কাঠামোতে দেখা যায় দেবী দুর্গা একা নন। তার শক্তি হিসেবে চার শক্তি সঙ্গে নিয়ে আসেন। চারটি বিশেষ শক্তি হলো- জ্ঞান-শক্তি, ধন-শক্তি, বীর্য-শক্তি, জন-শক্তি। একটি রাষ্ট্রেরও এই চারটি শক্তি থাকা প্রয়োজন। না হলে সে রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে না। তাই শ্রীশ্রী দুর্গাপূজার এই সামগ্রিক রূপটিই প্রকৃত রাষ্ট্রীয় জ্ঞান। বস্তুত দুর্গাপ্রতিমাই জাতীয় প্রতিমা। দুর্গাপূজার চিত্রে আমরা দেখতে পাই দেবী দুর্গা মাতারূপে মধ্যমণি। তার দক্ষিণে লক্ষ্মী দেবী ধনশক্তি বা বৈশ্যশক্তি ও গণেশ অর্থাৎ গণশক্তি ও শ্রমশক্তি বা শূদ্র। আর বামদিকে সরস্বতী দেবী অর্থাৎ জ্ঞানশক্তির বা ব্রাহ্মণ্যশক্তি এবং কার্ত্তিক ক্ষাত্র-বীর্যের অর্থাৎ পরাক্রমশালী শক্তির প্রতীক।
দেবীদুর্গাকে রাষ্ট্র কল্পনায় দেখা যায়। রাষ্ট্র চালাতে জ্ঞানের প্রয়োজন। অর্থের প্রয়োজন । দেশ রক্ষার জন্য সেনাবাহিনীর প্রয়োজন। দেশের উৎপাদনের জন্য শ্রমশক্তি অর্থাৎ জনগণের প্রয়োজন। জনগণ ছাড়া দেশ হয় না।
লক্ষ্মী-সরস্বতী-কার্ত্তিক-গণেশ এ যেন সনাতন ধর্মের চারটি বর্ণের প্রতীক। ব্রাহ্মণ-ক্ষত্রিয়, বৈশ্য-শূদ্র। ব্রাহ্মণ যিনি জ্ঞান দান করেন অর্থাৎ শিক্ষাপ্রদান করেন। ক্ষত্রিয় দেশ রক্ষা করেন । বৈশ্য যারা ব্যবসা করেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপাদিত দ্রবাদির সরবরাহ এবং যোগান এর সামাঞ্জস্য বিধান করে জনসাধারণের প্রয়োজনীয় দ্রব্যের অভাব পূরণ করেন। আর এসব খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন করে শ্রমিক বা শূদ্রগণ। এরা মাথার ঘাম পায়ে না ফেললে উৎপাদন বন্ধ। উৎপাদন বন্ধ হলে সমাজের লোকদের না খেয়ে মরতে হবে। এ সব কারণে এরা একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। একটি ব্যতীত অপরটি চলতে পারে না। তাই গুণ ও কর্ম অনুসারে ব্রাহ্মণ-ক্ষত্রীয়-বশ্য-শূদ্র এদের সকলের সমান গুরুত্ব।
কিন্তু  দুঃখের বিষয় আমাদের অজ্ঞতার কারণে আমরা ব্রাহ্মণকে বলি উঁচু বা শ্রেষ্ঠ বর্ণ আর শূদ্রকে বলি নিম্ন বর্ণের বা ছোট জাত। অথচ কেউই ছোট বা অবহেলার নয়। একটি গল্পের মাধ্যমে সহজেই অনুধাবন করা যাবে। একদা একটি কুকুর একটি খরগোশকে তাড়া করছিল। খরগোশ লাফাতে লাফাতে তার বাসস্থান গর্তে প্রবেশ করলো। তারপর নিজে নিজে তার দেহের অঙ্গগুলিকে প্রশ্ন করতে লাগলো। হে কান! আমার বিপদে তুমি কি সাহায্য করছিলে? নিজেই উত্তর দিচ্ছে- হ্যাঁ তুমি শ্রবণে সাহায্য করেছিলে। তোমাকে ধন্যবাদ। হে চোখ, তুমি কি সাহায্য করছিলে? হ্যাঁ তুমি পথ দেখাতে সাহায্য করছিলে। তোমাকেও  ধন্যবাদ। পা-তোমরা? হ্যাঁ, তোমরা দৌড়াতে সাহায্য করছিলে নতুবা মরেই যেতাম। এবার লেজ বলো তুমি? না, তুমি তো কোন সাহায্য করোনি। কাজেই তুমি মবঃ ড়ঁঃ । বের হও! বের হও! বলতে বলতে নিজের লেজ নিজেই বাইরে ঠেলে দিলো। আর যায় কোথা? গর্তের মুখে ওত পেতে থাকা কুকুর সঙ্গে সঙ্গে খরগোশের লেজ ধরে খরগোশটিকেই মেরে ফেলেছে। তাই লেজ অকেজো মনে হলেও এটি যে দেহের অঙ্গ তা মনে রাখতে হবে। নতুবা ভুলে গেলেই সর্বনাশ। তদ্রূপ আমাদের সমাজের গুণ ও কর্ম অনুসারে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র এদের কেউই ছোট বা অবহেলার নয়। যে কোন একটিকে অবহেলা করলেই পুরো সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সমাজ ধ্বংস হবে।
একটি রাষ্ট্রে শুধুমাত্র মানুষই বাস করে না। প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য পশু-পাখি, সরীসৃপ জাতীয় সব ধরনের প্রাণী সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টি করেছেন। আজকের যুগে পশু, পাখি নিধন করে বিশ্বের সর্বত্রই একটা না একটা অনাসৃষ্টি চলছে। জাতিসংঘ নিয়ম-কানুন করেও যেন প্রতিরোধ করতে পারছে না।
একটু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে- শ্রীশ্রী দুর্গাদেবীর বাহন পশুরাজ সিংহ। লক্ষ্মীদেবীর বাহন পেঁচা, সরস্বতী দেবীর বাহন রাজহংস, কার্তিকের ময়ূর এবং গণেশের বাহন ছোট্ট ইঁদুর। আপাত অসামঞ্জস্য পশু-পাখি দেবদেবীর বাহন মানব মনে অনেক খটকা লাগে। তবে একটু বিশ্লেষণ করলে সহজেই বোঝা যাবে। একটি রাষ্ট্রে শুধু মানবই বসবাস করে না। জীব-জন্তুও বাস করে। তাই সিংহ, ইঁদুর এগুলো পশু জগতের প্রতীক। রাজহংস, ময়ূর, পেঁচা এগুলো পাখি জগতের প্রতীক।   
দেবী দুর্গার বাহন হিসেবে সিংহকে বাছাই করার একটি বিশেষ কারণ হয়তো অসুর তার রূপ পরিবর্তন করে কখনও পশু রূপে আবির্ভূত হতো। তাই যুদ্ধক্ষেত্রে সে মহিষরূপে অবতীর্ণ। মানবের সঙ্গে মানবের যেমন যুদ্ধ তেমনি পশুর সঙ্গে পশুর যুদ্ধই স্বাভাবিক। এ কারণেই হয়তো মহিষের সঙ্গে যুদ্ধ করতে সিংহের প্রয়োজন। আর সিংহ পশুগণের মধ্যে শক্তিশালী তাই দেবী দুর্গা বাহন হিসেবে সিংহকে বেছে নিয়েছেন। আধুনিক প্রাণীবিদগণ বলেন- সিংহ এতই শক্তিশালী যে, এক থাবাতেই মহিষকে কুপোকাত করতে পারে।
দেবী সরস্বতীর বাহন রাজহংস। রাজহংস জল আর দুধ মিশ্রিত থাকলে তা থেকে দুধটুকু খাবে জল ত্যাগ করবে। সংসারে সার অসার দু’টিই আছে। জ্ঞানী  সারটুকু নেবে সংসার থেকে, অসারটুকু পরিত্যাগ করবে। হংস জলে থাকে কিন্তু তার গায়ে জল লাগে না। পরমহংস শ্রেণীর সাধকেরা কিন্তু সাংসারিক কলুষতার মধ্যে প্রবেশ করে না। রাজহংস সংসারের মানবকে সারবস্তু গ্রহণে উদ্বোধিত করে। এজন্য বীণাদেবীর বাহন রাজহংস। সরস্বতীর গায়ের রঙ শুভ্র। হংসও শুভ্র। সরস্বতী দেবী জ্ঞানের দেবী। জ্ঞানও জ্যোতির্ময় কোথাও কালিমা নেই। তাই সরস্বতী বাহন হিসেবে রাজহংসকেই বেছে নিয়েছেন।    
দেব সেনাপতি কার্ত্তিক শৌর্য-বীর্যে প্রবল পরাক্রম ক্ষত্রিয় শক্তির প্রতীক। দেবতারা যখন অসুরদের দ্বারা পরাজিত হয়ে স্বর্গরাজ্য ছেড়ে মর্তে এলেন- সেই স্বর্গরাজ্য উদ্ধার করেন কার্ত্তিক তার প্রবল যুদ্ধ পরাক্রম দ্বারা। কার্ত্তিক সেনাপতি, যোদ্ধা। এই কার্ত্তিক অন্যান্য পশু-পাখি  বাহন না করে ময়ূরকে কেন বেছে নিলেন? সেক্ষেত্রে মনে হয় ময়ূরের মধ্যে চারটি খুব সুন্দর গুণ যা  কাত্তির্কের ক্ষত্রিয় হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
যুদ্ধ ক্ষত্রিয়ের প্রধান বৃত্তি। শত্রু জয় তার স্বধর্ম। ময়ূরের যখন সর্পের সঙ্গে যুদ্ধ হয় সে কৌশল দেখার মতো। নখ ও ঠোঁট ময়ূরের অস্ত্র। পুচ্ছ হলো তার ঢাল। পাখা দ্বারা বর্মের ন্যায়  শত্রুর আঘাত প্রতিহত করে। নখ ও চঞ্চু দ্বারা তাকে মেরে ফেলে। ২. ময়ূর অনলস। ব্রহ্ম মুহূর্তে সে জনগণকে ঘুম থেকে ডেকে তোলে। সে অতন্দ্র-প্রহরী, সতর্ক। একজন যোদ্ধা সে-ও ব্রাহ্মমুহূর্তে ঘুম থেকে জেগে তার যুদ্ধ বিদ্যা অনুশীলন করে। ৩. ময়ূর  বিচরণ করে  দল বেঁধে, একাকি নয়। খাবার খাদ্যও সকলকে নিয়ে খায়। সহভোজন। ক্ষত্রিয়রাও  সমবণ্টন করে  তাদের খাদ্যগুলোকে। সামাজিক ও রাষ্ট্রিক সমঅধিকার দান করে। ৪. ক্ষত্রিয় আপদগতা স্ত্রীকে রক্ষা করে। ময়ূর  তার স্ত্রীকে রক্ষা করে। ক্ষত্রিয়ের কর্ম ও ময়ূরের কর্মে অনেক সামাঞ্জস্য  দেখা যায়। তাই মনে হয় এসব কারণেই কার্ত্তিকের পছন্দ পাখিদের মধ্যে ময়ূরকে।
গণেশ জনগণের প্রতিনিধি। শ্রমের প্রতীক। শূদ্রের প্রতীক। আমরা দেখেছি গণেশের মাথাটি হাতির। তার বাহন ছোট মুষিক। মনে হয় এতবড় হাতির মাথাওয়ালা গণেশের ছোট মূষিক বাহন হলো কি করে? লক্ষ্য করার বিষয় সমাজের যারা বড়, সকলেই সাধারণ জনগণের ওপর নির্ভর করেই বড় হন। আবার গণেশের মাথাটি হাতির হলেও তার কান, চোখ, মুখাবয়ব ছোট মূষিকের সঙ্গে যেন মিলে যায়। হাতি পশু হিসেবে বড় জাতের হলেও জাতভাই ছোট মূষিককে ত্যাগ করে না। আবার দেখা যায় ইঁদুরের দু’টি দাঁত খুবই ধারালো। এই ধারালো দাঁত দিয়ে মোটা রশির জালও ছেদন করতে পারে। তেমনি মানবের দু’টি দাঁত যেন বিবেক এবং বৈরাগ্য। এই বিবেক বৈরাগ্যরূপ দাঁত দিয়ে সংসার বন্ধন ছেদন করে মানব মুক্তি লাভ করতে পারে। এসব কারণেই গণেশের পছন্দ তার বাহন এই ছোট মূষিক বা ইঁদুর।
লক্ষ্মীদেবীর বাহন পেঁচক। পেঁচক দিনে অন্ধ-রাতে দেখে। সে দিনের আলোতে দেখতে পায় না। কিন্তু রাতের আঁধারে দেখতে পায়। সচরাচর আমরা জাগতিক অনেক ঘটনায় দেখতে পাই অনেকে খুন-খারাবি করে। কিন্তু এর পশ্চাতে যে সূক্ষ্ম কারণ লুকিয়ে থাকে তা কখনো তলিয়ে দেখি না। অদৃশ্য হতে কার নির্দেশে কি কারণে এসব ঘটনা হয়েছে। পেঁচক সাক্ষ্য দেয়- যা দেখছ তা সবই সঠিক নয়। আরও গভীরে প্রবেশ কর। সব কিছুরই কারণে যেতে হয়।
লক্ষ্মীদেবী ধন-সম্পদের মালিক, তার বাহন পেঁচক। দরিদ্র অর্থ সম্পদের জন্য প্রার্থনা করে ধন লাভ করে ধনী হয়ে সে তখন অন্য দরিদ্রের দুঃখের কথা ভুলে যায়। অর্থাৎ দরিদ্রের মধ্যে ধন সম্পদ দেওয়ার ভয়ে সে অন্ধ। কিন্তু এটা ঠিক নয়। আবার অনেক ধনী ব্যক্তির অর্থ সম্পদ আছে তা অনেক সময় পেছন পথে রোজগার করে। পেঁচক এখানে শিক্ষা দেয় অসৎ পথের অর্থ সংগ্রহে অন্ধ হও। অর্থাৎ সৎ ভাবে রোজগার করো। নতুবা মৃত্যুর পর উত্তর কি দেবে? সাধকদের শিক্ষা- রাত জেগে সাধন ভজন করো নতুবা মানব জীবন বৃথা। দিনের কোলাহলে তাকে ডাকা যায় না। এসব কারণে দেবী লক্ষ্মী পেঁচককে বাহন হিসেবে পছন্দ করেন।
দুর্গাপূজার কাঠামোতে দেখা যায় দেব-দেবীদের সঙ্গে তাদের বাহন পশু-পাখি, সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী। এর তাৎপর্য হিসেবে দেখা যায়, ধরায় এগুলো প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার্থে প্রয়োজন। এগুলোর অভাব হলে প্রকৃতির বিপর্যয় দেখা দিয়ে মানুষ বাসের অযোগ্য হয়ে পরে। পশুপাখি রক্ষণাবেক্ষণের আইন করা হয়েছে।
দেবী দুর্গার কাঠামোতে দেখা যায় একটি কলা-বউ সাজানো রয়েছে। একে বলা হয় নবপত্রিকা। নব পত্রিকা বলতে নয়টি চারা গাছকে বুঝায়। এরা মা দুর্গার প্রতিনিধি। সনাতন ধর্মে পূজার আনুষ্ঠানিকতা প্রকৃতিগত। যে প্রকৃতি আমাদের বাঁচায় তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর উপায় হলো তার পূজা বা আরাধনা। নয়টি চারাগাছ হলো- কদলী, কচু, হরিদ্রা, জয়ন্তী, বেল, দাড়িম্ব, অশোক, মান ও ধান। দেবীদুর্গার প্রতিভূস্বরূপ এদের অর্চনা করা হয়। অর্থাৎ এদের  মধ্যেও তিনি বর্তমান। এক কথায় গাছপালা ও উদ্ভিদ জগৎ ছাড়া রাষ্ট্র হবে মরুভূমি। তাই উদ্ভিদ রক্ষণাবেক্ষণের আইন আছে প্রতিটি দেশে।
একদিকে মানব সমাজ, অপরদিকে পশু-পাখি-বৃক্ষাদি যা কিছু আমাদের গোচরীভূত সব কিছুর মধ্যে দেবী দূর্গা বর্তমান। অর্থাৎ বিশ্বের যা কিছু সব তার থেকে সৃষ্টি এবং তাতেই লয়। তিনি মাতৃ স্বরূপা। জন্মভূমিও মাতৃসমা। কাজেই দেবী দুর্গার ঘোষণা- “অহং রাষ্ট্রী” অর্থাৎ আমি বিশ্ব সমাজের অধীশ্বরী- এ যথার্থই প্রণিধানযোগ্য।
লেখক: অধ্যক্ষ, রামকৃষ্ণ আশ্রম ও রামকৃষ্ণ মিশন, যশোর।