Wednesday, February 24, 2010

রঙে রঙে রাঙিয়ে ফাগুয়া by মুজিবুর রহমান

চা-বাগানের শতকরা ৯৮ ভাগ শ্রমিক সনাতনী ধর্মাবলম্বী। কথায় আছে, বারো মাসে তেরো পার্বণ (উৎসব)। অর্থাৎ সারা বছরই একটা না একটা উৎসব লেগেই থাকে। এর কোনো ব্যতিক্রম হয় না চা-বাগানগুলোতেও। চা-শ্রমিকেরা ছোট থেকে বড় যেকোনো পূজা পালন করেন যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে। কোথাও যেন খাদ বা আয়োজনের কমতি না থাকে। শারদীয় দুর্গোৎসব হিন্দুদের, বিশেষ করে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি প্রধান উৎসব। পরে আসে কালীপূজা, সরস্বতী পূজা, জন্মাষ্টমী, ব্রহ্ম তারকযজ্ঞ ও নামযজ্ঞ। চা-শ্রমিকেরাও এই পূজাগুলো গুরুত্ব দিয়ে পালন করে থাকে। তবে চা-বাগানে তিন-চার দিনব্যাপী রঙে রঙে রাঙিয়ে রং খেলা বা ফাগুয়া অর্থাৎ হলি উৎসব পালন করা হয় কমলগঞ্জের ফাঁড়িসহ ২২টি চা-বাগানে। এ উৎসবটি ওদের মনও রাঙিয়ে দেয়। এ মাসের শেষ দিকে হবে এই হলি উৎসব।
বাংলা মাস ফাল্গুন থেকে চা-বাগানে চলে এসেছে ফাগু বা ফাগুয়া। ফাল্গুন পূর্ণিমায় হিন্দুধর্মীয় চা-শ্রমিকেরা তিন-চার দিনের রং মাখামাখি, রং ছোড়াছুড়ি করে থাকে। এ সময় পুরো চা-বাগান এলাকা নানা রঙে রঙিন হয়ে যায়। চিরসবুজ চা-বাগানে লাল, নীল, হলুদ, কালো, সবুজ নানা রঙের ছড়াছড়ি। এ সময় চা-বাগান এলাকায় পরিচিতজন অন্য ধর্মের হলেও তার গায়ে কিছু রং মাখতে হবে। চা-শ্রমিকেরা এখন ফাগুয়া পালন এমনভাবে করছে যে এটাকে চা-শ্রমিকদের প্রধান উৎসব বলা চলে।
এত দারিদ্র্যের মধ্যেও রং উৎসবে চা-শ্রমিকেরা প্রাণভরে আনন্দ উপভোগের পেছনে তাদের বিশ্বাসে ধর্মীয় একটি যুক্তি রয়েছে। শমশেরনগর চা-বাগানের দীননাথ পণ্ডিতের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, হিন্দুধর্মীয় শাস্ত্রে আছে, রাক্ষস অসুর হিরণ্য কর্ষকের কথা। এই রাক্ষস এমনই প্রতাপশালী ছিল যে সে ধর্ম-কর্ম কিছুই পালন করত না।
সে ভগবান নারায়ণকে বিশ্বাস করত না। কিন্তু তারই ছেলে প্রহ্লাদ ছিল ভগবান নারায়ণের ভক্ত। রাক্ষস তা জেনে ছেলের ওপর এতই ক্ষুব্ধ ছিল যে তাকে শাস্তিস্বরূপ একটি পর্বতের ওপর থেকে নিচে ফেলে দেয়। কিন্তু ভগবান নারায়ণ তাকে এ সময় বিপদ থেকে রক্ষা করেন। দ্বিতীয়বার রাক্ষস ছেলে প্রহ্লাদকে একটি স্বর্পকুণ্ডে ফেলে দেয়। কিন্তু এখানেও ভগবান নারায়ণ তাকে রক্ষা করেন। রাক্ষসের বোন ধুন্ডি রাক্ষসী ছিল। সে ছিল আগুনের বরপ্রাপ্ত। রাক্ষস এবার ছেলে প্রহ্লাদকে প্রাণে মেরে ফেলার জন্য বোন ধুন্ডি রাক্ষসীর কোলে তুলে দেয়। ধুন্ডি রাক্ষসী ভাইপোকে কোলে নিয়ে আগুন দিয়ে পোড়ানোর চেষ্টা করে। প্রহ্লাদ ধুন্ডি রাক্ষসীর কোলে বসেই নারায়ণের নাম জপ করতে থাকলে এখানেও নারায়ণ প্রহ্লাদকে রক্ষা করেন আর ধুন্ডি রাক্ষসীকে পুড়িয়ে মারেন। এভাবে ভগবান নারায়ণের দয়ায় রাক্ষসের হাত থেকে প্রহ্লাদ বেঁচে যায়। ধ্বংস হয় রাক্ষসের। এটাকে একটি বড় বিজয় হিসেবে প্রতিবছর ফাল্গুন পূর্ণিমায় হিন্দুধর্মীয় লোকজন আনন্দ উৎসব পালন করে। উৎসব পালন করা হয় রঙে রঙে নিজেদের রাঙিয়ে দিয়ে।
তবে চা-বাগানে রং উৎসবকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে পালন করা হয়। প্রথমে শুরু হয় কাদাখেলা। তারপর কাঠি নৃত্য বা কাঠিখেলা। তিন দিন ধরে চা-বাগান এলাকায় কাঠিনৃত্য করে নেচে-গেয়ে একে অন্যের গায়ে রং ছোড়ে, রং মাখিয়ে ফাগুয়ার উৎসব পালন করে থাকে। বর্তমান আধুনিকতার ছোঁয়ার মধ্যে আমাদের দেশে তেমন রং খেলা হয় না বললেই চলে। ভারতে ব্যাপক আয়োজনে রং উৎসব হলি পালন করা হয়। তবে বাংলাদেশের সব কয়টি চা-বাগানে রং উৎসব ফাগুয়া পালন করে চা-শ্রমিকেরা ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায়। রং উৎসবে চা-বাগান এলাকায় একবার এসে না দেখলে বাস্তবে তার বিবরণ দেওয়া কষ্টকর।

বিভাগ নয়, প্রয়োজন শক্তিশালী স্থানীয় সরকার by ফারুক মঈনউদ্দীন

গত নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় আচমকা এক অযৌক্তিক আন্দোলন শুরু হয়েছিল, যাতে সেসব জেলাকে বিভাগে পরিণত করা হয়। সেসব আন্দোলনের ফলে কিংবা সরকারি সিদ্ধান্তে জাতীয় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস/পুনর্গঠন বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) সারা দেশকে মোট বারোটি বিভাগে ভাগ করার এক প্রস্তাব করেছিল। সে প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশ গঠিত হওয়ার সময়কার চারটি বিভাগকে বাড়িয়ে সারা দেশে ছয়টি বিভাগ করা হয়েছিল অর্থাৎ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীর পর সিলেট ও বরিশালকে বিভাগ ঘোষণা করা হয়েছিল। অতিসম্প্রতি রংপুরে সৃষ্টি করা হয়েছে দেশের সপ্তম বিভাগ, রাজশাহী বিভাগ থেকে আটটি জেলা নিয়ে নবগঠিত এই বিভাগে থাকবে মোট আটটি জেলা—রংপুর, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়। নিকারের প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে আরও পাঁচটি বিভাগ সৃষ্টি করা হবে পর্যায়ক্রমে।
কোনো একটা নতুন বিভাগ সৃষ্টি হওয়ার পর নতুন কিছু সরকারি প্রশাসনিক পদ সৃষ্টি হওয়া ছাড়া জনগণের বাড়তি কী সুবিধা হয় সেটা উপলব্ধি করার কোনো সুযোগ সেখানকার অধিবাসীরা লাভ করেন না। কারণ বিভাগ সৃষ্টি হলে সাধারণ মানুষের কোনোই উপকার হয় না। পক্ষান্তরে একটা বিভাগীয় সদরে সৃষ্টি হয় অর্ধশতাধিক নতুন পদ। বিভাগের শীর্ষ পদে থাকেন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন বিভাগীয় কমিশনার, তাঁর অধীনে থাকেন একজন একান্ত সচিব, একজন অতিরিক্ত কমিশনার, দুজন সহকারী কমিশনার। আরও থাকেন চল্লিশ থেকে জনা পঞ্চাশেক নন-গেজেটেড কর্মচারী। বিভাগীয় পুলিশ প্রশাসনে থাকেন পুলিশের একজন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), একজন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এবং জনা দশেক বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা। এ ছাড়া স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভিন্ন পদ সৃষ্টি হবে বিভাগীয় সদরে। এতগুলো নতুন সৃষ্ট পদের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য তৈরি করতে হবে বাসস্থান, দাপ্তরিক ভবন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। এই বাড়তি সরকারি অনুৎপাদনশীল খরচের ফলে গণমানুষের যে কোনো উপকার হবে না নবসৃষ্ট বিভাগের উল্লসিত মানুষ অচিরেই তা বুঝতে পারবেন।
বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোতে জেলা প্রশাসনের হাতে থাকে একটা জেলার সর্বময় ক্ষমতা। এই কাঠামোর শীর্ষ পদে থাকেন জেলা প্রশাসক বা ডেপুটি কমিশনার। উপসচিব পদমর্যাদার জেলা প্রশাসক জেলায় কর্মরত থাকা অবস্থায় একসঙ্গে তিনটি ভূমিকা পালন করে থাকেন। প্রথমত তিনি কমিশনার, তবে বিভাগীয় কমিশনারের অধীনে থাকার কারণে তিনি ডেপুটি কমিশনার। জেলার সব প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের তিনিই মুখ্য সমন্বয়কারী। জেলার সব ধরনের ব্যয়-বরাদ্দ, জমিজমার বিলি-বণ্টনের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা মুখ্য ও প্রধান। দ্বিতীয়ত জেলার সব ভূমি রাজস্ব ও পাওনা আদায়ের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার কারণে তিনি কালেক্টরও। এ কারণে জেলা প্রশাসকের দপ্তরকে জেলা কালেক্টরেটও বলা হয়ে থাকে। তৃতীয়ত সীমিত আকারের ম্যাজিস্ট্রেসি থাকে জেলা প্রশাসকের অধীনে। বিচার বিভাগ পৃথক্করণের আগে জেলার বিচারিক আদালতও ছিল জেলা প্রশাসকের হাতে। বর্তমানে সীমিত মাত্রার হলেও ম্যাজিস্ট্রেসির দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত বলে জেলা প্রশাসক একজন ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবেও দায়িত্ববান।
বর্ণিত তিনটি প্রধান কর্মের শীর্ষ ব্যক্তি হিসেবে অধিষ্ঠিত থেকে একজন জেলা প্রশাসক প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী থাকেন। সে কারণে বর্তমান বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামোতে এই ত্রিমাত্রিক পদাভিষিক্ত জেলা প্রশাসকের কর্মপরিধির বাইরে কোনো কার্যকর ক্ষমতাবলয় সৃষ্টি করার অবকাশ সীমিত। তাহলে সংগতভাবে প্রশ্ন জাগতে পারে, একজন বিভাগীয় কমিশনারের ভূমিকা কী এবং কতখানি?
বলাবাহুল্য, একটা বিভাগ হচ্ছে কয়েকটা জেলার সমষ্টি, সে হিসেবে বিভাগীয় কমিশনার হচ্ছেন মূলত তাঁর অধীন জেলাগুলোর (ডেপুটি) কমিশনারদের কাজের মূল সমন্বয়কারী। তবে জেলার ভূমি রাজস্ব সংগ্রহ, সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমন্বয় এবং ম্যাজিস্ট্রেসির পূর্ণ দায়িত্বে দায়িত্ববান থাকা ডেপুটি কমিশনারদের কার্যপরিধির বাইরেও জেলা প্রশাসকদের কাজকর্মের দেখভাল করা ছাড়া বিভাগীয় কমিশনারদের তেমন কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই। বিভাগীয় কমিশনাররা কেবল একটিমাত্র ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকদের ক্ষমতাবলয়ের বাইরে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেন। সেটি হচ্ছে ভূমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে দেওয়ানি আদালতবহির্ভূত সিদ্ধান্তে জেলা প্রশাসকের রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরে আপিল করতে পারে। এই একটিমাত্র বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার জেলা প্রশাসকের সিদ্ধান্তের ওপর আপিল নিষ্পত্তি করতে পারেন।
নব্বই দশকের সেই বিভাগ বাস্তবায়নের অযৌক্তিক আন্দোলন এক সময় স্তিমিত হয়ে এসেছিল। হয়তোবা আন্দোলনকারী নেতারা এই আন্দোলনের অসারতা বুঝতে পেরেছিলেন। কারণ ওপরের অতিসরলীকৃত আলোচনার আলোকে বিভাগীয় প্রশাসনের যে কর্মপরিধি সম্পর্কে জানা গেল, তার পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যায় নতুন বিভাগ সৃষ্টি হলে সাধারণ মানুষের জীবনে কোনোই ইতিবাচক প্রভাব পড়ে না। কারণ বিভাগীয় সদরে নিয়োজিত প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রয়োজন পড়ে না। নিকারের ব্যবস্থাপত্রে সারা দেশে আরও পাঁচটি বিভাগ সৃষ্টির যে প্রস্তাব রাখা হয়েছে তাতে কী অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক যৌক্তিকতা দেখিয়ে প্রস্তাব অনুমোদন করানো হয়েছে আমাদের জানা নেই, তবে যুক্তি যাই দেখানো হোক তার সঙ্গে সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কিংবা ন্যূনপক্ষে তাদের কোনো বাড়তি সুবিধার কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা আছে বলে মনে হয় না। বাংলাদেশের দারিদ্র্যের প্রকৃতি এবং সাধারণ মানুষের বঞ্চনার বিচারে যেখানে আরও বেশি বিকেন্দ্রীকরণের প্রয়োজন, সেখানে কেবল বিভাগ সৃষ্টি করে প্রশাসনিক ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন কতটুকু কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে সে প্রশ্ন জরুরি ভিত্তিতে পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
দেশের উন্নয়নপ্রক্রিয়ায় গণমানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় সরকার পদ্ধতি শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই। নতুন নতুন বিভাগ সৃষ্টির মাধ্যমে নতুন কিছু আমলার পদ সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের অলীক আত্মতৃপ্তির ব্যবস্থা করা যেতে পারে, কিন্তু জেলায় জেলায় মানুষের এই আকাঙ্ক্ষার ভেতর দিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের উঠে দাঁড়ানোর যে প্রয়াস ও শক্তিকে প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে, সেটাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কিছু গুণগত অবদান রাখা সম্ভব। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি লক্ষণীয় সেটি হচ্ছে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, যাদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সব কাজে অত্যাবশ্যক—বিভাগ সৃষ্টির অলীক আনন্দে মশগুল জেলা সদরের মানুষদের মধ্যে তাদের প্রতিনিধিত্ব নেই। তাই জেলা সদরকে বিভাগ করা হোক কিংবা প্রদেশই করা হোক তাতে তাদের অবস্থার সামান্যতম পরিবর্তনও ঘটবে না।
রংপুরকে বিভাগীয় সদর ঘোষণা করার পর সেখানকার উল্লাসমুখর মানুষের আবেগের প্রতি পূর্ণ সহানুভূতি জানিয়ে ধারণা করা যায়, এই আবেগ ও উচ্ছ্বাস উত্তরবঙ্গের উন্নয়নবঞ্চিত মানুষের প্রাপ্তির একটা অলীক আস্বাদ। কিন্তু সেসব উচ্ছ্বাসমুখর মানুষের মুখের হাসি ম্লান হয়ে যাবে, যখন তারা দেখবে যে বিভাগ সৃষ্টির পর রংপুর জেলা সদরে নতুন কয়েকটা সরকারি দপ্তর ছাড়া তাদের আর কোনো উপকার হয়নি। অথচ উত্তরবঙ্গবাসীর জন্য প্রয়োজন ছিল বিভাগ নয়, অধিক পরিমাণে কলকারখানা এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। তার জন্য প্রয়োজন সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপত্র নয়। বর্তমান সরকারের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ও প্রত্যাশা অত্যধিক, সুশীল সমাজের অকুণ্ঠ সমর্থনও বর্তমান সরকারের এক বড় শক্তি। তাই সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থনীতির চাকাকে বেগবান করার জন্য প্রয়াসই হওয়া উচিত সরকারের প্রধানতম লক্ষ্য।
নিকারের প্রস্তাবনায় আরও কোন কোন জেলাকে বিভাগে পরিণত করার সুপারিশ আছে আমাদের জানা নেই। সেসব সুপারিশ পুনর্বিবেচনা করে বিভাগ সৃষ্টির বাড়তি ব্যয়কে যদি জেলার উন্নয়নকাজে প্রবাহিত করা হয় সেটাই হবে প্রকৃত জনকল্যাণমুখী কাজ। কারণ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পড়ে থাকা অবহেলিত দরিদ্র মানুষকে যেকোনো সৃষ্টিশীল কাজে সম্পৃক্ত করতে পারলে তার ফল হবে সুদূরপ্রসারী। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য এর কোনো বিকল্পও নেই। তাই প্রয়োজনহীন বিভাগ সৃষ্টির পরিবর্তে আমাদের দরকার শক্তিশালী স্থানীয় সরকার, যা নিশ্চিত করতে পারে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সুযোগহীন স্থানীয় মানুষের প্রত্যক্ষ ও কার্যকর অংশগ্রহণ।
ফারুক মঈনউদ্দীন: ব্যাংকার ও লেখক।
fmainuddin@hotmail.com

বেগুন নিয়ে হইচই by মুশফিকুর রহমান

গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১০ ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিটি বেগুন’ নামের জেনেটিক্যালি মডিফায়েড বা ‘জিএম’ বেগুনের বাণিজ্যিক চাষাবাদ নিষিদ্ধ করেছে। ভারতের পরিবেশমন্ত্রী জয়রাম রমেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ওই ঘোষণা দেন। মন্ত্রী বলেন, নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক গবেষণায় খাদ্য হিসেবে নিরাপদ প্রতিপন্ন হওয়া অবধি বিটি বেগুনের বাণিজ্যিক চাষাবাদে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পরিবেশবাদী গ্রুপগুলো মন্ত্রীর এই ঘোষণাকে ‘জিএম’ ফসলের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলনের বিজয় হিসেবে বিবেচনা করছে। আন্তর্জাতিক পরিবেশ আন্দোলন গোষ্ঠী ‘গ্রিন পিস’ এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি জেনেটিক্যালি মডিফায়েড ফসল নিয়ে গবেষণারত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার দাবি ও দুর্ঘটনাক্রমে যেন ‘জিএম’ ফসল ব্যবহারকারী পর্যায়ে চলে না আসে তার দাবি জানিয়েছে। গ্রিন পিস আরও সতর্কতা উচ্চারণ করেছে, যেন বিটি বেগুনের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা পেছনের দরজা দিয়ে লঙ্ঘিত না হয় বা ভারতে অনুরূপ ৪১টি গবেষণা পর্যায়ের জিএম ফসল বাণিজ্যিক ব্যবহারের উপাদান না হয়।
অবশ্য জিএম শস্য, ফসল ও কৃষিজাত পণ্যের গবেষণা-সংশ্লিষ্ট অনেকেই এ ঘটনায় হতাশ। তাদের বক্তব্য, ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কৃষক যখন বিভিন্ন নতুন প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ফলন বাড়ানোর অহর্নিশ চেষ্টা করছে, তখন বিটি বেগুনের বাণিজ্যিক চাষ বা অনুরূপ গবেষণা ও তার ফসলকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্যোগ প্রকারান্তরে অধিক হারে কৃষি ফলনকে বাধাগ্রস্ত করবে।
ভারতে প্রায় চার হাজার বছর ধরে বেগুনের চাষ হচ্ছে এবং এ উপমহাদেশে বেগুন একটি অন্যতম প্রধান সবজি হিসেবে ব্যাপক সমাদৃত ফসল। কার্যত, চীনের পরেই পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বেগুন চাষ হয় ভারতে। বেগুন চাষের অন্যতম প্রতিবন্ধক বেগুন ও তার গাছের নরম অংশ ফুটো করে বাসা বাঁধা একধরনের ক্ষতিকর কীট। অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার থেকে শুরু করে বিভিন্ন কৌশলে বেগুনের শত্রু ওই ক্ষুদ্র পোকা নিয়ন্ত্রণের জন্য বেগুন চাষিরা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মনসান্টোর সঙ্গে যৌথভাবে মহারাষ্ট্র হাইব্রিড সিডস কোম্পানি গবেষণার মাধ্যমে ‘বিটি বেগুন’ নামের পরিবর্তিত জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের বেগুন আবিষ্কার করে। এই জাতের বেগুনের জেনেটিক কোডে পরিবর্তন ঘটিয়ে একধরনের ভূমিজ ব্যাকটেরিয়ার ‘জিন’ বেগুনের কোষে প্রবেশ করানোর ফলে, বিটি বেগুন নিজেই আক্রমণকারী পোকার প্রতিরোধকারী বিষাক্ত উপাদান তার নিজ কোষ থেকে নিঃসরণ করার ক্ষমতা অর্জন করে। ফলে বেগুন ছিদ্রকারী পোকা বেগুনের সামান্য অংশ গ্রাস করলে নিজেই মারা যায়। এতে পোকা দমনে কোনো কীটনাশক প্রয়োগ বা অন্য ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
বিটি বেগুন উদ্ভাবনকারী কোম্পানির বক্তব্য, বেগুন ছিদ্রকারী পোকা মেরে ফেলার মতো বিষ বেগুনের কোষ থেকে নিঃসৃত হলেও মানুষ বা গবাদিপশু বিটি বেগুন নিরাপদেই খেতে পারে। কোম্পানিটির দাবি, বেগুন রান্না করলে বা গবাদিপশু কাঁচা খেলে তার পাকস্থলীর এসিড বেগুনের কোষের উত্পাদিত সামান্য মাত্রার বিষাক্ত উপাদান ভেঙে দেয়। ফলে বিটি বেগুন ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ প্রতিরোধশক্তি অর্জন করলেও তা মানুষ ও পশুর জন্য নিরাপদ।
গবেষকদের দাবি, বিটি বেগুন উত্পাদন কম ব্যয়বহুল। কেননা এতে কীটনাশকের ব্যবহার ৮০ শতাংশ কম ও এর উত্পাদন প্রচলিত অন্যান্য বেগুনের দ্বিগুণ। ভারতের ‘জিএম’ ফসল নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিটি বেগুন চাষের জন্য ইতিপূর্বে অনুমোদন দিলেও পরিবেশ আন্দোলনকারী গ্রুপসহ বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে বিতর্ক ছিল। গবেষকদের কেউ কেউ মানুষের শরীরে বিটি বেগুন কতটুকু ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে তা আরও নিশ্চিত হওয়ার আগে এর বাণিজ্যিক চাষাবাদের অনুমতি ঝুঁকির কারণ হতে পারে বলে মত প্রকাশ করেন।
আবার বিরুদ্ধ মতের বিজ্ঞানীদের কথা হলো, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জিএম ফসল নিয়ে কেবল গবেষণা নয়, বাণিজ্যিকভাবে তার চাষাবাদও হচ্ছে। খোদ ভারতেই ২০০২ সাল থেকে ‘বিটি তুলা’ নামের ‘জিএম’ ফসলের বাণিজ্যিক চাষাবাদ রীতিমতো সাড়া ফেলেছে। উচ্চ ফলনশীল জিএম ফসল ‘বিটি তুলার’ সুবাদে যুক্তরাষ্ট্রকে ডিঙিয়ে ভারত দ্বিতীয় বৃহত্তম তুলা উত্পাদনকারী দেশে রূপান্তরিত হয়েছে।
পরিবেশবাদী গ্রুপসহ জিএম ফসলবিরোধী আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা কেবল জনস্বাস্থ্য নিয়ে নয়। তাদের বক্তব্য, জেনেটিক্যালি মডিফায়েড বা জিএম ফসল ব্যাপকভাবে প্রচলিত হলে উত্পাদনের জন্য কৃষক পুরোপুরি মনসান্টো বা অনুরূপ বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ওপর কৃষি ফসলের বীজের জন্য নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে উচ্চ ফলনশীল জিএম ফসল প্রচলিত ফসল ও জীববৈচিত্র্য-ভান্ডারকে দ্রুত সংকুচিত করে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।
কিন্তু ক্রমসংকুচিত ফসলের মাঠ, বর্ধিত মানুষ ও তার চাহিদা পূরণে বিশ্বজুড়েই জেনেটিক্যালি মডিফায়েড বা জিএম ফুড ও ফসল নিয়ে ব্যাপক গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। কৃষিকাজ শেখার পর থেকেই মানুষ বিভিন্ন জাতের ফসল, খাদ্যশস্য বাছাই করে সেগুলোর মধ্য থেকে উত্তম গুণ ও বৈশিষ্ট্য সংমিশ্রণ করে নতুন প্রজাতির উন্নত শস্য ও ফসল উত্পাদন করে আসছে। বায়োটেকনোলজির বিস্ময়কর সব আবিষ্কার প্রাণী ও উদ্ভিদের কোষসমূহে বিদ্যমান জেনেটিক কোড বদলের সুযোগ করে দিয়েছে। এতে উদ্ভিদ ও প্রাণীকোষের বিদ্যমান বৈশিষ্ট্যের অনেকগুলো পাল্টে যাচ্ছে। কেউ কেউ এটাকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বলছেন। এভাবে তৈরি হচ্ছে নতুন বৈশিষ্ট্যের ফসল, খাদ্যশস্য, প্রাণী ও পশুদের খাদ্য, যুগান্তকারী ওষুধ। আবার ফসল উত্পাদনে রোগবালাই ও কীটপতঙ্গ দমনের প্রচলিত কৌশলের বদলে—ফসল আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় ফসলের জেনেটিক কোডে পরিবর্তন ঘটিয়ে তাকে করে তোলা হচ্ছে রোগবালাই ও কীটপতঙ্গের আক্রমণ-প্রতিরোধক্ষম।
২০০৬ সালে পৃথিবীর ২২টি দেশে অন্তত ২৫২ মিলিয়ন একর জমিতে এ রকম রোগবালাই ও কীটপতঙ্গের আক্রমণ প্রতিরোধ-সক্ষম সয়াবিন, ভুট্টা, তুলা ক্যানোলাসহ (তেলবীজ) অন্যান্য ফসল চাষ করা হয়েছে। এ ছাড়া মিষ্টি আলু, ভিটামিন সমৃদ্ধ ধানও উদ্ভাবিত হয়েছে এই গবেষণার অধীনে। আশা করা হচ্ছে, এমন দিন বেশি দূরে নয় যখন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বদৌলতে ‘জিএম কলা’ খেয়ে মানুষের শরীরে হেপাটাইটিস-বি-এর মতো মারাত্মক ব্যাধির প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে উঠবে; গবাদিপশুর ‘ম্যাড কাউ ডিজিস’ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা তৈরি হবে, ফলমূল ও বাদাম উত্পাদন সময়কাল তরান্বিত হবে। মাছ বেড়ে উঠবে আরও দ্রুত। সম্প্রতি খবর বেরিয়েছে, উড়িষ্যার কটক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা ‘আঘন বোরো’ নামের এক নতুন ধান আবিষ্কার করেছেন, যার চাল না ফুটিয়ে ৪৫ মিনিট স্বাভাবিক পানিতে ভিজিয়ে রাখলেই ভাতের মতো খাওয়া যাবে। ঈষত্ উষ্ণ পানিতে ‘আঘন বোরো’ চাল থেকে ভাত পেতে লাগবে ১৫ মিনিট।
অবধারিতভাবে বায়োটেকনোলজি যত এগোচ্ছে, জিএম ফসল ও খাদ্য উত্পাদন নিয়ে গবেষণার ব্যাপকতা তত বাড়ছে। মানুষ একই সঙ্গে এ নিয়ে উদ্বিগ্নও হচ্ছে। কেননা বড় বড় কোম্পানি এ ক্ষেত্রে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। তারা মুনাফা ও একচেটিয়া ব্যবসা করায়ত্ত করতে যথোপযুক্ত ‘বায়োসেফটি’ আইন-কানুন মানবে কি না তা নিয়ে সংশয়ও রয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ লক্ষ্যে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং গবেষণার ওপর নজরদারি এবং উদ্ভাবিত ফসল বিপণনের অনুমোদনের জন্য বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ও বিধিবিধান প্রণীত হচ্ছে।
১০ ফেব্রুয়ারি ২০১০ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি বিল-২০১০’-এর খসড়া উত্থাপিত হয়েছে। প্রয়োজনীয় খুঁটিনাটি বিশ্লেষণের পর এ বিল পার্লামেন্টে অনুমোদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ বিলের অধীনে জিএম ফুড ও ‘জেনেটিক্যালি মডিফায়েড অরগানিজম’ (জিএমও) উত্পাদনের স্ট্যান্ডার্ড প্রণয়ন ও অনুমোদন সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।
বাংলাদেশে জিএম ফুড হিসেবে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ ‘গোল্ডেন রাইস’, বিটি বেগুনের মতো ফসলসহ বিভিন্ন জিএম ফসল নিয়ে গবেষণা চলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ক্ষেত্রে ভারতের তুলনায় আমাদের কৃষি গবেষণা খানিক পিছিয়ে থাকলেও থেমে নেই। সুতরাং বিশ্বে জিএম ফসল নিয়ে চলমান গবেষণা, এর নিয়ন্ত্রণকাঠামো এবং একই সঙ্গে এখানে উপযুক্ত সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়ার এখনই সময়।
মুশফিকুর রহমান: খনি বিশেষজ্ঞ। পরিবেশবিষয়ক লেখক।

ভূমির লড়াইয়ে আর কত প্রাণ যাবে by জোবাইদা নাসরীন

আবারও রক্তাক্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম। পার্বত্য চুক্তির এক যুগ পরেও পাহাড়ে সংঘাত থামেনি। দফায় দফায় তৈরি হওয়া ভূমি কমিশন এখন পর্যন্ত কোনো কাজ করতে পারেনি। সেই ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে এক মাস ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। মূল ঘটনা ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে শুরু হলেও ২০ ফেব্রুয়ারিতে সেটি চরম আকার ধারণ করে। ২০ ফেব্রুয়ারি দিনভর গোলাগুলি চলে। আদিবাসীরা জানায়, তারা অগ্নিসংযোগে বাধা দিতে গেলে সেনাবাহিনী গুলি ছোড়ে। ফলে তাদের গ্রাম থেকে সরে যেতে হয়। আর এই সুযোগে বাঙালিরা লুটপাট চালায় এবং তাদের বাড়িঘরে আগুন দেয়। এ ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন বলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে আদিবাসীদের দাবি, এ ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন (সূত্র: প্রথম আলোয় ২১ ফেব্রুয়ারি)। মানুষ মারা গেছে, বাড়িঘর পুড়ে ছাই হয়েছে, জনশূন্য হয়ে পড়েছে লোকালয়, আতঙ্কে আছে মানুষ; সেগুলোই মানবতার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ। পাহাড়িদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি জবরদখল নিয়ে আর কতজন প্রাণ হারাবে?
পার্বত্য অঞ্চলের অনেকটাই দুর্গম এলাকা বাঘাইছড়ির সাজেক ভূমি সমস্যার কারণে একটি আতঙ্কিত জনপদ। এ বছরের ২২ জানুয়ারি আবার উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার সূত্রপাত, দুজন পাহাড়িকে সেনাবাহিনী আটক করলে ‘সচেতন নারী কমিটি’ নামে স্থানীয় একটি নারী সংগঠনের কর্মীরা তাঁদের ছিনিয়ে আনে। পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনী গ্রামে গিয়ে নারীদের মারধর করে। এতে আটজন নারী আহত হন। এ ঘটনার সূত্র ধরে ২৪ জানুয়ারি বাঘাইহাট উচ্চবিদ্যালয়ের ২৮ জন ছাত্রসহ দুজন শিক্ষককে সেটেলার বাঙালিরা অবরুদ্ধ করে রাখে। গত ২৫ জানুয়ারি বাঙালিরা কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী হামলার আশঙ্কায় ভাইভাইছড়া, এমএসপাড়া ও হাজাছড়া নামক তিনটি পাহাড়ি গ্রাম জনশূন্য হয়ে পড়ে। ২০০৮ সাল থেকেই সাজেকের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সবাই কম-বেশি জানে যে পার্বত্য চট্টগ্রামের অনেকগুলো সমস্যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সমস্যা হলো ভূমি বিরোধ। ২০০৮ সালের আগে সাজেকে ভূমি বিরোধ ছিল না তা কিন্তু নয়। তবে যখন বলা হলো যে দীঘিনালা-বাঘাইছড়ি সড়কের উভয় পাশের তিন কিলোমিটারের মধ্যে বাঙালিরা এবং এর পরে পাহাড়িরা বাস করবে, তখন থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাতে থাকে। স্থানীয় অধিবাসীদের মতে, এরপর বাঙালিরা পাহাড়িদের বাগানকেন্দ্রিক জমি দখলের চেষ্টা শুরু করে। এতে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। এরই জের ধরে ২০ এপ্রিল সাতটি গ্রামের ৭৮টি বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনা শুধু এখানেই থেমে ছিল না। ১৯৯৯ সালে ৪ এপ্রিল এই বাঘাইহাটে একই ধরনের হামলায় একজন আদিবাসী নারী ধর্ষণের শিকার হন এবং ৫২ জন পাহাড়ি আহত হন।
পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি সমস্যার নিষ্পত্তি একটি বড় বিষয়। বারবার এটিকে কেন্দ্রীয় আলোচনায় আনা হলেও কোনো অজ্ঞাত কারণে সেটি সঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না, যার ফলে এটিকে কেন্দ্র করেই ঘটছে বিরোধ। পার্বত্য চুক্তির মধ্য দিয়েই ভূমি কমিশন গঠনের পটভূমি তৈরি হয়েছে। তাই চুক্তি মোতাবেক কমিশনকে তার কর্মপদ্ধতি পরিচালনা করতে হবে। পার্বত্য চুক্তির ঘ খণ্ডের ২ নং ধারায় স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে ‘সরকার ও জনসংহতি সমিতির মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর ও বাস্তবায়ন এবং উপজাতীয় শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উপজাতীয় উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের পর সরকার এই চুক্তি অনুযায়ী গঠিতব্য আঞ্চলিক পরিষদের সাথে আলোচনাক্রমে যথাশীঘ্র পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি জরিপ কাজ শুরু এবং যথাযথ যাচাইয়ের মাধ্যমে জায়গা-জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করতঃ উপজাতীয় জনগণের ভূমির মালিকানা চূড়ান্ত করিয়া তাহাদের ভূমি রেকর্ডভুক্ত ও ভূমির অধিকার নিশ্চিত করিবেন।’ এখানে উল্লেখ্য, ভূমি কমিশন আইনের ২০টি ধারার মধ্যে ১৯টি বিষয়ই পার্বত্য চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই চুক্তির সঙ্গে ভূমি কমিশন আইনের যেসব দিক সাংঘর্ষিক রয়েছে, সেগুলো আগে সংশোধন করে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি করতে হবে।
যদিও গত ৮ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশনের এক সভায় কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী ঘোষণা দেন যে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ভূমি জরিপের পন্থা ও পদ্ধতি ঠিক করে ১৫ অক্টোবর ’০৯ থেকে শুরু করে আগামী ২০১০ সালের মার্চের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি জরিপ সম্পন্ন করা হবে (ডেইলি স্টার, ৯ সেপ্টেম্বর,২০০৯)। যে সভার মাধ্যমে ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান এ ঘোষণা দেন, সেই সভায় আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান বা প্রতিনিধি, পার্বত্য জেলা পরিষদের (রাঙামাটি ও বান্দরবান) প্রতিনিধি ও সার্কেল চিফদের অনুপস্থিতিতে গৃহীত সিদ্ধান্ত কতটুকু গ্রহণযোগ্য ও বিধিসম্মত হয়েছে, তা নিয়ে পাহাড়ি জনগণের মধ্যে সংশয় ও উত্কণ্ঠা রয়েছে। কারণ পার্বত্য চুক্তি মোতাবেক গঠিত ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের অন্যতম সদস্য হিসেবে উল্লিখিত প্রতিনিধিরাও রয়েছেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন গত আগস্ট মাসে তৃতীয়বারের মতো পার্বত্য চট্টগ্রাম সফর করে সেখানকার স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও পাহাড়ি-বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মতবিনিময়ের পর চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য সরকারের কাছে কয়েকটি সুপারিশ পেশ করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: (১) ভূমি কমিশন প্রথমে বিরোধপূর্ণ সব ভূমির মালিকানা-সংক্রান্ত দাবি-দাওয়ার একটি ডেটাবেইজ প্রস্তুত করবে এবং ভূমির দাবিদারদের হাতে ফরম তুলে দেবে, যাতে করে ভূমির দাবিদাররা প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো সেখানে লিপিবদ্ধ করে কমিশনকে সরবরাহ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ভূমি কমিশন আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার জন্য ইউএনডিপির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তা নিওয়া যেতে পারে বলে উল্লেখ করে। (২) যেসব ভূমির ওপর দ্বৈত মালিকানা রয়েছে, সেসব জটিলতা নিরসনে ভূমি মালিকানার আপেক্ষিক অগ্রাধিকার নির্ধারণের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম প্রণয়ন করা এবং (৩) শরণার্থী পুনর্বাসনবিষয়ক টাস্কফোর্স, ভূমি কমিশনের মধ্যে কাজের বিভাজন ও পারস্পরিক সমন্বয়ের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সরকারি দিকনির্দেশনা প্রণয়ন করা।
ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা এবং কর্তৃত্ব নিয়েও সরকারকে পুনর্বিবেচনায় বসতে হবে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সব সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহারের কথা থাকলেও, এখনো বহু সেনা ক্যাম্পই রয়েছে। সরকারকে ভাবতে হবে, যখন আদিবাসীদের বিপরীতে সেনাবাহিনী এবং বাঙালির অবস্থান এক হয়ে যায়, তখন এই সরকারের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। আমরা মনে করি, সাজেকের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত, বিচার হওয়া উচিত। সাজেকে বসবাসরত আদিবাসীদের মনে নিরাপত্তার আশ্বাসটুকু ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। কীভাবে আনবে, সেটি সরকার বিবেচনা করুক।
লেখকেরা শিক্ষক, গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী।

এখন কোনো কিছুই চোখে লাগে না by সৈয়দ আবুল মকসুদ

এখন বাংলাদেশের যেকোনো একটি দিনের একটি সংবাদপত্রই যথেষ্ট দেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক যুগের অবস্থাটা জানার জন্য। উদাহরণের জন্য আমরা শুধু গত শনিবারের প্রথম আলো হাতে নিতে পারি।
প্রথম পাতার একটি খবরে বলা হয়েছে: ‘চট্টগ্রাম মহানগরের চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) একটি ব্যাংক হিসাবে গত পাঁচ মাসে প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা জমা হয়েছে। ...এ ছাড়া ওই ওসি প্রতিমাসে এসএ পরিবহনের মাধ্যমে কিছু টাকা ঢাকায় পাঠান বলে নিজেই স্বীকার করেন। ...ওই ওসির মাসিক বেতন ১৫ হাজার টাকা। শুক্রবার পর্যন্ত ওসি হিসেবে তাঁর দায়িত্ব ছয় মাসও পূর্ণ হয়নি।’
বিভিন্ন সভা-সমাবেশে আমি বলে থাকি, ঘুষ-দুর্নীতি-চাঁদাবাজি-ফাঁকিবাজিতে আমাদের পুরুষেরাই বহুকাল থেকে অভ্যস্ত ও পটু। নারী ওসব থেকে এখনো দূরে। এখন দেখছি সম-অধিকারের যুগ বলেই নারীও পুরুষের সমকক্ষ হয়ে উঠছে। কোনো থানার ওসি, কোনো উপজেলার চেয়ারম্যান, কোনো জেলার পুলিশ সুপার বা জেলা প্রশাসক যখন শুনি মহিলা, তখন খুব ভালো লাগে। কিন্তু তাঁদেরই কারও যদি পাঁচ মাসে সাড়ে আট লাখ টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা হয়, তখন ওই খুশির খবরটিতে দুঃখ হয় না—গভীর হতাশায় ডুবে যাই।
তাঁর অর্থের উত্স ও অস্বাভাবিক লেনদেন সম্পর্কে সাংবাদিক জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি পরিচিত লোকজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ব্যাংকে জমা রাখি। এ টাকা আমার মেয়ে ও তার স্বামীর জন্য লন্ডনে পাঠাতে হয়। আমার মেয়ে ব্যারিস্টারি পড়ে। তার জন্য প্রতি সেশনে (ছয় মাস পর পর) পাঁচ-ছয় লাখ টাকা করে পাঠাতে হয়।’
খুবই খুশির কথা। আমাদের একটি কন্যারত্ন শিগগিরই ব্যারিস্টার হয়ে আসছেন দেশে—সে এক বিরাট প্রাপ্তি। যদি তিনি এসে রাজনীতি করেন তাহলে অন্য ব্যারিস্টার, যেমন—গান্ধী, জিন্নাহ, সি আর দাশ, নেহরু, সোহরাওয়ার্দীদের মতো দেশের সেবা করতে পারবেন। ওদিকে যদি না যান, তাহলে হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হতে কোনো বাধা নেই। তখন প্রকাশ্যে রাজনীতি না করেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হওয়াও সম্ভব।
আজ ‘স্থানীয় রাজনীতিক ও পুলিশের একটি চক্র কাপ্তাই-বান্দরবানসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে চোরাই পথে কাঠ পাচারে জড়িত ব্যবসায়ী, বৈধ কাঠের আড়তদার, করাতকল, বহদ্দারহাট বাস টার্নিমাল ও মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড, জুয়ার আসরসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে যে মাসোহারা আদায়’ করছে, তার অংশবিশেষ তো সত্ ও যোগ্য পাত্রপাত্রীর জন্যই ব্যয় হচ্ছে। এই ব্যারিস্টাররা যখন বিচার করবেন, তা খলিফা ওমর (রা.)-এর মতোই ন্যায়বিচার হবে। শাস্তিপ্রাপ্ত আসামি ও যত বড় অপরাধীই হোক এবং সংখ্যায় যত বেশি হোক—এক ঘণ্টায় সবাই পাবে চিরকালের জন্য জামিন।
ওসির ব্যাংক হিসাব ও মেয়েজামাই-সংক্রান্ত সংবাদের পরই দ্বিতীয় পাতায় আছে এক প্রতিমন্ত্রীর ছেলের বিয়ের খানাপিনার খবর। অকুস্থল পাবনার বেড়া উপজেলার শহীদ আবদুল খালেক স্টেডিয়াম। তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি। প্রতিবেদনের শুরু এ রকম: ‘বগুড়া থেকে ভাড়া করে আনা হয় ডেকোরেটর। ছয় দিন ধরে নির্মাণ করা হয় বিশাল প্যান্ডেল ও তোরণ। ১৮টি গরু, ১০০ খাসি ও তিন হাজার মুরগি জবাই করে খাওয়ানো হয় প্রায় ২০ হাজার অতিথিকে। অনুষ্ঠানের নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হয় শতাধিক পুলিশ সদস্য। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কয়েক দিন ধরে পরিশ্রম করে এ আয়োজন সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেন। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন জেলার বিভিন্ন স্থান ও অন্যান্য জেলা থেকে আসা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও স্থানীয় লোকজন। তাঁদের আপ্যায়ন করা হয় পোলাও, রোস্ট, সবজি, ঝাল মাংস ও দই দিয়ে। বেড়া উপজেলা সদরের সিঅ্যান্ডবি মোড় থেকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।’ ইসলামি জঙ্গিরা যদি টুইন টাওয়ার গুঁড়িয়ে দিতে পারে, বিয়েবাড়িতে হামলা করা খুবই স্বাভাবিক। সে হিসাবে শতাধিক পুলিশ কমই। কোনো রকম গোয়েন্দা-ব্যর্থতা যেন না থাকে, সে ব্যবস্থাও নিশ্চয়ই ছিল। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ ছিল কতজন তা প্রতিবেদনে নেই। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘টেলিভিশন, ফ্রিজ, ডিনার সেটসহ প্রচুর উপহারসামগ্রী পাওয়া গেছে।’ স্বর্ণালঙ্কার, প্রাইজবন্ড প্রভৃতির পরিমাণ জানা যায়নি।
নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধির ঘরে বৌমা আসছেন। ঘরের লক্ষ্মী। খুশির এই মুহূর্তে সবাই খাবে, তাতে ঢাকায় বসে কারও মন খারাপ করার কিছু নেই। তবে ওই জননেতা একুশ শতকের প্রথম নয় বছরে কত টাকা আয়কর দিয়েছেন, তা যদি এটিএম শামসুল হুদা এবং রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান না জানেন, তাহলে বুঝব রাষ্ট্র তার দায়িত্ব পালন করছে না।
বত্রিশ বছর চাকরি করার পর স্ত্রীর সামান্য গয়নাগাঁটি, ঘটিবাটি বিক্রি করে কোনো কর্মকর্তা যখন গোরান বা তল্লাবাগ ডোবার মধ্যে দেড় কাঠা জমি কিনে ওস্তাগার ডেকে কিছু ইট বসিয়ে একটি ঘর তোলেন, তখন তাঁর কাছে গিয়ে চোখ লাল করে দাঁড়িয়ে যান আয়কর বিভাগের লোক। তাঁর চোখে সন্দেহ: লোকটি চোর না হলে বাড়ি করে কীভাবে? তাঁর এক হাতে কি একটা ফাইল, আরেক হাতে নতুন গামছা—গলায় পরানোর জন্য? যাঁদের মাসে আয় লাখ লাখ টাকা, মায়ের কুলখানির জেয়াফতে ব্যয় ৫০ লাখ, বৌভাতে ব্যয় ২৫ লাখ, তাঁদের খবর রাখে না অর্থ মন্ত্রণালয়, রাজস্ব বোর্ড, নির্বাচন কমিশন, দুদক ও উচ্চতর আদালত।
ওই সংখ্যার মিজানুর রহমান খানের কলামে ‘প্রধান বিচারপতির প্রশ্নবিদ্ধ সংবর্ধনা’ সম্পর্কে কিছুই বলার নেই। মাঘ-ফাল্গুন পিকনিকের মাস। এ সময় যে কেউ পিকনিকে যেতে পারেন। র্যাফল ড্রতে অংশ নিয়ে পুরস্কার পেতে পারেন। এবং যেখানে প্রতিদিন সবাই সংবর্ধনা নিচ্ছেন, সেখানে সংবর্ধনা নিলে এবং ক্রেস্ট উপহার পেয়ে ড্রয়িংরুমে শোকেসে নিয়ে সাজিয়ে রাখলে ‘চোখে লাগা’র কিছু নেই। কারণ, এ দেশ বাংলাদেশ।
সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।

সরকারি খবরদারি নয়, চাই গণমাধ্যমের দায়বোধ by আনিসুল হক

টেলিভিশনের খবর দেখছিলাম। হঠাৎই একটা খবর কানে এল। তথ্য মন্ত্রণালয় গণমাধ্যমের কর্তাব্যক্তিদের এক পরামর্শসভায় ডেকেছে। তাতে গণমাধ্যমগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বাংলা ভাষার বিকৃতি রোধে ভূমিকা রাখতে। জগাখিচুড়ি ভাষা, অশুদ্ধ ভাষা প্রচারের মাধ্যমে ভাষার দূষণ যেন কেউ না ঘটায়। যদি কেউ এ ধরনের বিকৃতি ঘটাতেই থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। টেলিভিশনে শোনা খবর স্মৃতি থেকে বললাম। ‘কঠোর ব্যবস্থা’র হুঁশিয়ারিটা স্পষ্ট মনে আছে। বাকি কথাগুলো হুবহু কী ছিল, তা ঠিকঠাক বলতে পারছি, এমন নয়। তবে অন্তর্নিহিত বার্তাটা এ রকমই।
বাংলা ভাষার প্রতি আমাদের যে গভীর মমত্ববোধ, সেটা খুবই খাঁটি একটা জিনিস, বানিয়ে তোলা কিছু নয়। তথ্য মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগও সেই আন্তরিক ভালোবাসা, বেদনা ও উদ্বেগেরই প্রকাশ। তবে ধমক দিয়ে, পরামর্শ দিয়ে বা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দিয়ে সৎ উদ্দেশ্যও চরিতার্থ হবে কি না, এ বিষয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমগুলোর নিজেকেই দায়িত্বশীল হতে হবে সবার আগে। গণমাধ্যমের কাজ কী— পাঠ্যপুস্তকে লেখা আছে—গণমাধ্যম তথ্য দেবে, বিনোদন দেবে, শিক্ষা দেবে, আর প্রেরণা জোগাবে। কাজেই শ্রোতা বা দর্শক বা পাঠককে সুশিক্ষা দেওয়া, উন্নতির পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করার দায় প্রতিটা গণমাধ্যমের ওপরে আপনাআপনিই বর্তায়। আর সেই দায়িত্ব গণমাধ্যমকে নিজের গরজে, নিজের দায়বোধ থেকেই করতে হয়। সরকার খবরদারি করে সেটা করতে পারবে বলে মনে হয় না। এটা সরকারের কাজও নয়। সৃষ্টিশীলতার কাজে সরকারের সব চেয়ে ভালো ভূমিকা হলো সবচেয়ে কম জড়িত হওয়া, কম হস্তক্ষেপ করা।
গণমাধ্যম তার নিজের ওপরে অর্পিত পাবলিক ট্রাস্টের দায় এড়াতে পারে না। আমাদের বেতারের উপস্থাপকেরা মান বাংলায় কথা বলতে জানবেন, প্রমিত কথ্যভাষা বলায় তাঁরা হয়ে উঠবেন একেকজন আদর্শ, এটা বেশ জোরের সঙ্গেই আমরা দাবি করতে পারি। এবিসি রেডিওতেও যথাসম্ভব প্রমিত বাংলা ব্যবহার করা হয় ও ইংরেজি শব্দ পরিহার করা হয়, কিন্তু তাতে এই বেতারটির জনপ্রিয়তা কমেনি, বরং খুবই অল্প সময়ের মধ্যে বেতারটি শ্রোতাদের মনে একটা স্থান অধিকার করে নিতে পেরেছে। প্রথম আলোরও সম্পাদকীয় নীতি হলো, ইংরেজি শব্দ পারতপক্ষে ব্যবহার না করা। কই, প্রথম আলোর জনপ্রিয়তা তো কমেনি, বরং প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। যখন একজন উপস্থাপক নেওয়া হয়, তখন তাঁকে পরীক্ষার মাধ্যমে বাছাই করে নিশ্চিত হতে হবে যে, তিনি মান বাংলাটা সঠিকভাবে বলতে পারেন। একই কথা টেলিভিশন চ্যানেলের জন্যও প্রযোজ্য। অনেকগুলো অনুষ্ঠান, বিশেষ করে ব্যান্ডের গানের অনুষ্ঠানের উপস্থাপকেরা বাংলা বলেন, নাকি হিন্দি বলেন, নাকি ইংরেজি বলেন, বোঝা খুবই দুষ্কর। আর এত ইংরেজি শিরোনামের অনুষ্ঠানই বা কেন?
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তথ্য মন্ত্রণালয় বা সরকারের কোনো মন্ত্রণালয় এগুলোকে পাহারা দিয়ে রাখতে পারবে কি না? এটা তার কাজ কি না? কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াটা মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে কি না! আমরা গণমাধ্যমের নিরঙ্কুশ স্বাধীনতার পক্ষে এবং সরকারের ন্যূনতম হস্তক্ষেপেরও বিরুদ্ধে। আমেরিকা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ। ওই দেশের সংবাদমাধ্যমে কোনো ধরনের সরকারি হস্তক্ষেপ সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধ। ইউনাইটেড স্টেটস ইনফরমেশন এজেন্সি প্রকাশিত আনফেটারড প্রেস গ্রন্থে বলা হয়েছে, ‘একটা সংবাদপত্রের অধিকার আছে ছিদ্রান্বেষী, দলীয় পক্ষপাতদুষ্ট, অথবা অসত্যবাদী, সংকীর্ণতাবাদী, অথবা যা খুশি তাই হওয়ার, যা তার বিবেক তাকে হতে বলে।’ (পৃষ্ঠা ৩৫)। আমেরিকায় একটা সংবাদমাধ্যম মিথ্যা কথা বলারও অধিকার রাখে। কেন তারা সংবাদমাধ্যমকে এই স্বাধীনতা দিয়েছে? না হলে সরকার খবরদারি করবে, বলবে তুমি মিথ্যা বলছ। সরকারি খবরদারির একটা অজুহাত তৈরি হবে মাত্র। সেটা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করবে। তার বদলে পাঠক সিদ্ধান্ত নিক, কোনটা সত্য কোনটা মিথ্যা। মিথ্যা কথা বলে কোনো সংবাদমাধ্যম শেষতক গ্রহণযোগ্যতা পায় না। তো এই অবাধ স্বাধীনতা দিয়ে আমেরিকা কি তার রাষ্ট্রটাকে ধ্বংস করে দিয়েছে? নাকি তারাই আজ পৃথিবীর এক নম্বর শক্তি হিসেবে টিকে আছে?
তার পরের প্রশ্ন হলো, কোনটা প্রমিত কোনটা প্রমিত নয়, এটা ঠিক করবে কে? ভাষা তো বহমান একটা জিনিস, এটা স্থির নয়। আজ যাকে প্রমিত বলছি, ১০০ বছর আগে সেটা প্রমিত ছিল না, ১০০ বছর পরেও থাকবে না। প্রমথ চৌধুরী বলেছেন, ‘ভাষা মানুষের মুখ হতে কলমের মুখে আসে, কলমের মুখ হতে মানুষের মুখে নয়। উল্টোটা করতে গেলে মুখে শুধু কালি পড়ে।’ (প্রমথ চৌধুরী, কথার কথা, প্রবন্ধসংগ্রহ)। আমি লেখার সময় বাংলা একাডেমীর প্রমিত বানান অভিধান মেনে চলি, কিন্তু বাংলাদেশের বহু গুরুত্বপূর্ণ লেখক আছেন, যাঁরা ওই বানানরীতি মানেন না। তাঁদের কি আমরা বলতে পারব, আপনারা আইন লঙ্ঘন করছেন? বানানের ক্ষেত্রেই যদি আমরা বাংলা একাডেমীর প্রমিত বানান অভিধান সবাইকে মানতে বাধ্য করতে না পারি, তাহলে উচ্চারণের ক্ষেত্রে কীভাবে পারব? প্রমিত বাংলা নষ্ট হয়ে যাবে, এই ভয়ে কি আমরা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের চরমপত্র পাঠ নিষিদ্ধ করে দেব? অথচ ওইটাই ছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান! আমরা কি বেতারে কি টেলিভিশনে ভাওয়াইয়া-ভাটিয়ালি-লালন-হাসন প্রচার করব না! আমরা কি সাতই মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণের ‘দাবায়া রাখতে পারবা না’ বাক্যটাকে সম্পাদিত করে ‘দাবিয়ে রাখতে পারবে না’ করতে বলব? অসম্ভব। আমরা কি টেলিভিশন নাটক নির্মাণের সময় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদ্মানদীর মাঝির সংলাপ বা দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ নাটকের সংলাপ বদলে প্রমিত মান বাংলা করে দেব? আবার আমাদের সংবিধান লেখা সাধু ভাষায়, আমরা কি তাহলে সাধু ভাষাকে প্রমিত ভাষা ধরে নিয়ে বেতার-টেলিভিশনে সাধু ভাষা বাধ্যতামূলক করব? রবীন্দ্রনাথের একটা গল্প ‘ল্যাবরেটরি’ থেকে তিনটা বাক্য উদ্ধৃত করি, খেয়াল করে দেখুন তিনি কত ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করেছেন, ‘নন্দনকিশোর ছিলেন লন্ডন য়ুনিভার্সিটি থেকে পাস করা এঞ্জিনিয়ার। যাকে সাধুভাষায় বলে দেদীপ্যমান ছাত্র, অর্থাত্ ব্রিলিয়ান্ট, তিনি ছিলেন তাই।...এসব দেনা-পাওনা নাকি কোম্পানি নামক একটা অ্যাব্স্ট্রাক্ট সত্তার সঙ্গে জড়িত...।’ এখন রবিবাবুর এই গল্পকে জগাখিচুড়ি ভাষা বলে আমরা বাতিলের খাতায় পাঠাতে পারব কি?
তাই বলি, প্রথমেই একটা সীমারেখা টানতে হবে। তা হলো, সৃজনশীল এলাকা আর আনুষ্ঠানিক এলাকা। শিল্পী-সাহিত্যিক-নাট্যকারেরা স্বাধীনভাবে লিখবেন। একটা বেতার বা টেলিভিশন বা সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় নীতি বলে দেবে, এটা তারা প্রকাশ বা প্রচার করতে পারবে কি না। যেমন হাসান আজিজুল হক একটা অপূর্ব উপন্যাস লিখেছেন আগুনপাখি নামে। এটা প্রথম আলোর বর্ষসেরা বইয়ের পুরস্কার পেয়েছে এই বাংলাদেশে, পশ্চিমবঙ্গে পেয়েছে আনন্দ পুরস্কার। বইটা লেখা হয়েছে রাঢ় অঞ্চলের কথ্য ভাষায়। ‘আমার মায়ের য্যাকন মিত্যু হলো আমার বয়েস ত্যাকন আট-ল’ বছর হবে। ভাইটোর বয়েস দেড়-দু বছর। এই দুই ভাই-বুনকে অকূলে ভাসিয়ে মা আমার চোখ বুজল। ত্যাকনকার দিনে কে যি কিসে মরত ধরবার বাগ ছিল না।’ পুরো বইটার বর্ণনা এই ভাষায়। এটাকে তো আপনি প্রমিত নয় বলে নিষিদ্ধ করে দিতে পারেন না।
আমরা কি টেলিভিশনে পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, নূরলদীনের সারাজীবন বা হাতহদাই প্রচারে বাধা দেব? নাটকের সংলাপ হবে চরিত্রানুগ, সেটা দীনবন্ধু মিত্রও লিখেছেন, মধুসূদন দত্তও লিখেছেন, সেটা নিয়ে কোনো বিতর্ক কখনো ছিল না, আশা করি এখনো নাই। আবার সৃষ্টিশীল লেখক তাঁর বর্ণনার ভাষাও নিজের মতো করে তৈরি করে নিতে পারেন, আঞ্চলিক ভাষায় লিখতে পারেন—আইন করে সেটাকে ঠেকানোর কথা কেউ কল্পনাও করে না।
কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে যখন আমরা বেতারে বা টেলিভিশনে কথা বলব, শ্রেণীকক্ষে বা আলোচনা সভায় বক্তৃতা করব, আমরা তখন প্রমিত কথ্য ভাষা ব্যবহারের চেষ্টা করব ১০০ ভাগ। সেখানে যখন অন্যথা দেখি, আমরা আমাদের উদ্বেগের কথা নিশ্চয়ই জানাব। আমাদের কোনো পরামর্শ থাকলে সেটা দেবও। আমরা চাইব, আমাদের সংবাদপাঠকেরা প্রমিত বাংলায় খবর পরিবেশন করবেন। আমরা চাইব আমাদের আলোচনা অনুষ্ঠানগুলোর আলোচকেরা মান বাংলায় আলোচনা করবেন। কিন্তু সেটাও পাহারা দিয়ে রাখা মুশকিল। আমরা কি আমাদের জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার আবদুল হামিদের সংসদে বলা উক্তিগুলো প্রচার করব না? নিশ্চয়ই করব। অসাধারণ দক্ষতায় তিনি সংসদ পরিচালনা করেন এবং তাঁর মুখের কথা শুনতে আমাদের ভালো লাগে।
বলতে চাচ্ছি, এটা অসম্ভব যে কোন বেতারে, কোন টেলিভিশনে, কোন সংবাদপত্রে দূষণীয় ভাষা পরিবেশিত হচ্ছে, সরকারের পক্ষে তা পাহারা দিয়ে রাখা, তা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা। এ ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমকেই যথেষ্ট দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। যে যত জনপ্রিয় হবে, তাকে তত বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। এমনকি শিল্পীরও দায়িত্ব আছে। দায়বদ্ধতা আছে। শিল্পী নিশ্চয়ই এ বিষয়ে সচেতন হবেন।
প্রমিত বাংলা আমাদের শিখতে হবে। আমরা শুদ্ধ বাংলা বলতে ও লিখতে পারার কষ্টটা স্বীকার করব না, এটা খুব কাজের কথা নয়। আমাদের স্কুলগুলোকে, আমাদের নাগরিকদেরকে এ ব্যাপারে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পাশাপাশি এটাও বলি, আঞ্চলিক ভাষা বাংলা ভাষার শত্রু নয়, আঞ্চলিক ভাষা বাংলার প্রধান সম্পদ। এটাকে যেন আমরা অবহেলা না করি, আঞ্চলিক ভাষায় যাঁরা কথা বলেন, তাঁদের যেন আমরা হেয় না করি। আমাদের যেন আবার লিখতে না হয়, ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়।’ একুশের চেতনা মানে বহুস্বরের চেতনা, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের চেতনা আমাদের ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোর ভাষাগুলোকেও গুরুত্ব ও মর্যাদা দেওয়ার চেতনা। সংস্কৃতি মানে কেবল কেন্দ্রের বা মধ্যবিত্তের স্বর নয়, শাসক শ্রেণীর স্বর নয়; প্রান্তেরও স্বর, শত ফুল ফুটতে দেবার সাধনা, গরিব মানুষ, কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষের কণ্ঠস্বরও যেন আমাদের শিল্প-সাহিত্য-গণমাধ্যমে স্থান পায়। আমরা যেন কথায় কথায় হাতে-পায়ে শেকল পরানোর ভুল চেষ্টা না করি।
বাংলা ভাষার প্রধান শত্রু কে? আমাদের আঞ্চলিক ভাষাগুলো মোটেও নয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ যে বিভিন্ন উপভাষায় কথা বলেন, সেসবের বদলে রাষ্ট্র একটা কেন্দ্র-নির্দেশিত ভাষা প্রবর্তন করবে, এই চিন্তার মতো স্বৈরাচারী ও একুশের চেতনাবিরোধী আর কিছুই হতে পারে না। বাংলা ভাষার প্রধান শত্রু বিশ্বায়নের চাপে মুক্তবাজারের খোলা দরজা-জানালা দিয়ে ঢুকে পড়া পণ্যবাদী সংস্কৃতির আগ্রাসন। সরকারের এসব ক্ষেত্রে করার আছে অনেক কিছু। একবার এই দেশে আইন করা হয়েছিল, অফিস-আদালত, দোকানের নামফলক বাংলায় লিখতে হবে। সাইনবোর্ডে বাংলা থাকতে হবে, এই আইনটা যদি থেকে থাকে, তাহলে সেটাকে পুরোপুরি কার্যকর করা হোক, যদি না থাকে, তাহলে এই আইন আবার চালু করতে হবে। বাংলা ভাষার আরেকটা বড় শত্রু অবশ্যই হিন্দি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো। আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো আর বাংলাদেশের চ্যানেল দেখে না। তথ্য মন্ত্রণালয় যদি সত্যি সত্যি বাংলা ভাষার জন্য একটা কিছু করতে চায়, তাহলে তার প্রথম কাজ হওয়া উচিত এই দেশে হিন্দি চ্যানেলের ওপরে বিধিনিষেধ আরোপ করা। এটা ভীষণ অজনপ্রিয় একটা পদক্ষেপ হবে, কারণ আমরা এই হিন্দি ধারাবাহিকগুলোতে মাদকের মতো নেশাসক্ত হয়ে পড়েছি। শিশুদের একটা হিন্দি চ্যানেলে হিন্দি কার্টুন দেখানো হয়, ওর দ্বারা শিশুরা বাংলা বলা ভুলে যাচ্ছে। এটা অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়া উচিত। আমাদের ভোগ্যপণ্যগুলোর মোড়কে বাংলা লেখা থাকা বাধ্যতামূলক করা যায়। আমাদের বিজ্ঞাপনচিত্রে ইংরেজির ব্যবহার সহজেই বন্ধ করে দেওয়া যায়। এসব পদক্ষেপ যদি তথ্য মন্ত্রণালয় গ্রহণ করে, বাংলা ভাষার ভীষণ উপকার হবে। অফিস-আদালতে বাংলা ব্যবহারের সাংবিধানিক অঙ্গীকার পালনে আন্তরিক হতে হবে সরকারকেই। প্রথম আলো ২০১০ একুশে সংখ্যায় মিশা হোসেন একটা চমত্কার প্রবন্ধ লিখেছেন, আজকে দেশের মানুষ ইংরেজি জানা ও ইংরেজি না জানা এ দুই শ্রেণীতে ভাগ হয়ে যাচ্ছে। বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। একুশের চেতনা হলো বৈষম্যহীনতা, রাষ্ট্রকে এই বৈষম্য বিলোপে কাজ করতে হবে। আমাদের ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়গুলোয় ভারতের ইতিহাস পড়ানো হয়, ব্রিটেনের ইতিহাস পড়ানো হয়, তাদের বাংলার ইতিহাস পড়াতে হবে। সেসব না করে রাষ্ট্র যদি বহু মানুষের কণ্ঠস্বরকে সংস্কৃতিতে আসতে বাধা দেয়, তা হবে পণ্ডশ্রম, তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় শহীদ কাদরীর কবিতা, ‘রাষ্ট্র মানেই লেফ্ট রাইট লেফ্ট রাইট।’ একুশের চেতনা এ রকম লেফট রাইট মার্কা রাষ্ট্র নয়, একটা বৈষম্যহীন উদার অসাম্প্রদায়িক সুখী আলোকিত মুক্ত রাষ্ট্র—যে রাষ্ট্রে বর্ণমালা যাবে প্রতিটা ভূমিহীনেরও ঘরে, ভূমিহীনের কণ্ঠস্বরও ধ্বনিত হবে জাতীয় গণমাধ্যমে।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক, সাংবাদিক।

লাঞ্ছিত শহীদ মিনার -শোক প্রকাশেও দলবাজি

ঘটনাটা জাতীয়। একজন নিহত, পাঁচ জেলায় ৫৫ জন আহত এবং দুই সাংসদ লাঞ্ছিত। ছকটি পরিচিত। বাদী-বিবাদীরাও যেন অনেকটা পূর্বনির্ধারিত: আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপি, আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপ পরস্পরের বিরুদ্ধে এবং বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে এই সংঘাত হয়েছে। সবই ঘটেছে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে। আসন নিয়ে, কে আগে যাবে কে পরে যাবে তা নিয়ে, এমনকি ছবি তোলা নিয়েও সংঘর্ষ হয়েছে। সংসদ থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত দলবাজি, গ্রুপ-বাজির এই বেপরোয়া আচরণে শহীদ মিনার লজ্জিত, ফুলগুলো ব্যথিত আর শোকে স্তব্ধ নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা।
একুশের শোক ও গাম্ভীর্য যাদের বিন্দুমাত্র স্পর্শ করে না, তাদের শহীদ মিনারে যাওয়ার প্রয়োজন কী! বাংলাদেশে একুশকে স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানানোর মানুষের কোনো অভাব নেই। তাঁদের ছাড়াও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে। এর পরও তাঁরা আসেন শোক জানাতে নয়, লোক-দেখানো দলীয় কর্মসূচি পালন করতে। যাঁদের যে গুণ, তাঁরা সেটাই সর্বত্র প্রদর্শন করেন। একশ্রেণীর রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর প্রধান গুণ হলো দম্ভ ও সন্ত্রাসী ক্ষমতা, তাঁরা যেখানে যান সেখানেই এর ছাপ রাখেন। কেবল এবারের একুশেই নয়, প্রতিবছরই এমনটা ঘটতে দেখা যায়। এমনকি অতীতে জাতীয় শহীদ মিনারে জাতীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতেই দুটি প্রধান দল সংঘাতে লিপ্ত হয়ে একুশের পবিত্র মুহূর্তকে কালিমালিপ্ত করার রেকর্ড গড়েছিল।
যাঁদের মধ্যে স্থান-কাল-পাত্রের বোধ নেই, অসহিষ্ণুতা যাঁদের মজ্জাগত, তাঁরা যদি রাজনীতির নামে এহেন কাজ করতে থাকেন, তাতে তাঁদের নাক কাটা না পড়লেও লজ্জায় দেশবাসীর মাথা নত হয়ে যায়।
দেশকে, দিবসকে, জাতীয় ঐতিহ্যকে এভাবে কলঙ্কিত ও লাঞ্ছিত করার অধিকার কারও নেই।

গণতন্ত্র বিকাশের পথ -ইউরোপীয় সংসদীয় দলের বক্তব্য আমলে নিন

গণতন্ত্র আকাশ থেকে পড়ে না, মাটি ফুঁড়েও বের হয় না, জনগণের মধ্য থেকেই বেরিয়ে আসে দেশ পরিচালনায় এখন পর্যন্ত শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচিত এই পদ্ধতিটি। তবে এ কথাও স্বীকার করতে হবে, জনগণ সরাসরি দেশ শাসন করে না, করে তাদের নির্বাচিত বা মনোনীত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে। অতীতে যা-ই হোক না কেন, ১৯৯১ সাল থেকে এ পর্যন্ত (মাঝখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছর বাদে) আওয়ামী লীগ ও বিএনপিই পালাক্রমে দেশ শাসন করে আসছে। সে ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় যদি কোনো ব্যর্থতা বা দুর্বলতা থেকে থাকে, এর দায়ও তাদের নিতে হবে। একে অপরকে দোষারোপ করে নিজের ব্যর্থতা ঢাকা যাবে না।
সম্প্রতি ইউরোপীয় সংসদীয় প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে এসে সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকার কথাটি আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। প্রতিনিধিদলের নেতা জিম ল্যামবার্ট বলেছেন, সরকার যত উদারতা ও সহনশীলতা দেখাবে, গণতন্ত্র তত বিকশিত হবে। একই সঙ্গে তিনি বিরাধী দলকেও রাজপথে ব্যস্ত না থেকে সংসদে এসে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করার পরামর্শ দেন।
দীর্ঘদিন ধরে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজও অনুরূপ আহ্বান জানিয়ে আসছে। কিন্তু সেসব সদুপদেশে তারা কর্ণপাত করেনি। এখন বিদেশিরা এসে একই সবক দিয়ে যাচ্ছেন। এটি দেশের জন্য মোটেই মর্যাদাকর নয়। তা সত্ত্বেও যদি সরকার ও বিরোধী দলের চৈতন্যোদয় ঘটে তা হলে বিদেশিদের কাছে বারবার আমাদের লজ্জিত হতে হবে না। দেশ ও জনগণ মুক্তি পাবে ধ্বংসাত্মক রাজনীতি থেকে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় হিংসা-বিদ্বেষ বা হানাহানির যে স্থান নেই, সে কথাটি আমাদের বিজ্ঞ জনপ্রতিনিধিরা ভুলে যান। গণতন্ত্রে দুই পক্ষকে যে উদারতা ও সহনশীলতা দেখাতে হয়, সে কথাটিই জোর দিয়ে বলেছে ইউরোপীয় সংসদীয় প্রতিনিধিদল।
সংসদীয় গণতন্ত্রে জাতীয় সংসদই রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত। জনগুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়ে সেখানে আলোচনা হতে হবে। সবকিছু গায়ের জোরে করলে তার ফল কখনো ভালো হয় না, এর ভূরি ভূরি প্রমাণ আছে। সংসদ চালু থাকতে বিরোধী দলই বা কেন দাবি আদায়ের জন্য রাজপথ বেছে নেবে?
দীর্ঘদিন পর হলেও বিরোধী দল সংসদে যোগ দিয়েছে। তারা যাতে জনগুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়ে সেখানে তাদের বক্তব্য রাখতে পারে, সে নিশ্চয়তা সরকারকেই দিতে হবে। হালে যেসব বিষয় নিয়ে সরকার ও বিরোধী দল বাহাসে লিপ্ত হয়েছে, এর সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই। অতএব অর্থহীন বিতর্কে সময়ক্ষেপণ না করে তারা জনগণের কল্যাণে একযোগে কাজ করলে গণতন্ত্র যেমন বিকশিত হবে, তেমনি দেশও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে।

চালকবিহীন বিমান

নতুন ধরনের মনুষ্যবিহীন অত্যাধুনিক বিমান ইসরায়েলি বিমান বাহিনীতে যুক্ত হয়েছে। ওই বিমান একটানা ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আকাশে অবস্থান করতে ও ইরানের মতো দূরবর্তী দেশে পৌঁছাতে সক্ষম।
সেনাবাহিনী একে ‘প্রযুক্তিগত সাফল্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিমানটির নাম রাখা হয়েছে ‘ইটান’, হিব্রুতে যার অর্থ শক্তিশালী। বিমানটি ২৪ মিটার লম্বা। এর ওজন ৪ দশমিক ৫ টন।
দেশের বিমানবাহিনীর সহায়তায় বিমানটি তৈরি করেছে ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রি। বিমানটি রাডার, ক্যামেরা ও হাইটেক ইলেকট্রনিক এবং মানচিত্র তৈরির যন্ত্রপাতি দিয়ে সজ্জিত। বিমানটি ১৩ হাজার মিটার উঁচুতে উড়তে এবং প্রায় এক টন ওজন বহনে সক্ষম।
বিমানবাহিনীর প্রধান জেনারেল ইদো নেহুস্তান বলেন, মনুষ্যবিহীন বিমানের উন্নয়নে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

আবু সায়াফের নেতাকে হত্যা ওই চক্রের ওপর বড় আঘাত

ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনী গতকাল সোমবার জানিয়েছে, তারা আবু সায়াফের কমান্ডারকে হত্যা করে আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত ওই চক্রের ওপর একটি বড় ধরনের আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
সামরিক বাহিনী আরও জানায়, তারা গত রোববার জোলো দ্বীপের জঙ্গলে আবু সায়াফের ছয় সদস্যকে গুলি করে হত্যা করে। এদের মধ্যে আবু সায়াফের কমান্ডার আলবাদার পারাদ ছিলেন। এর আগে পারাদকে হত্যা করতে মার্কিন সরকার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।
দক্ষিণাঞ্চলীয় সামরিক বাহিনীর প্রধান লে. জেনারেল বেঞ্জামিন দলোর্ফিনো টেলিফোনে এএফপিকে বলেন, এটি আবু সায়াফের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের আঘাত। কারণ তিনি তাঁদের সংগঠনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন।

তৃণমূল ছাড়ছেন কবীর সুমন

তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে লোকসভায় নির্বাচিত কবীর সুমন এবার দল পাল্টানোর কথা ভাবছেন। গত রোববার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, সোস্যালিস্ট ইউনিটি সেন্টার (এসইউসিআই) তাঁর সবচেয়ে প্রিয় দল। এই দলের শৃঙ্খলায় তিনি মুগ্ধ। আর তাই ওই দলে যোগ দেওয়ারও ইচ্ছে রয়েছে তাঁর।
এসইউসিআই অবশ্য তৃণমূল কংগ্রেসের সহযোগী বামপন্থী দল। তৃণমূল কংগ্রেসের এই সাংসদকে নিয়ে দলের মধ্যে বিতর্ক চলছে। দলের অনুশাসন না মেনে সুমন মাওবাদীদের প্রতি নরম মনোভাব নিয়ে চলার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অপারেশন গ্রিনহান্ট ও ইউপিএ আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী তিনি।
সুমন জানিয়েছেন, অপারেশন গ্রিনহান্ট শুরু করলে আদিবাসী ও প্রান্তবাসী মানুষেরাই মারা পড়বে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, তিনি হিংসার বিরুদ্ধে। কবীর সুমন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ওই অভিযানের বিরুদ্ধে সরব হতে বলেছেন।

নয়াদিল্লিতে আটক ব্রিটিশ দুই নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে গত সপ্তাহে আটক হওয়া ব্রিটিশ দুই নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পাইলট ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যকার টেলিযোগাযোগে অবৈধভাবে ঢুকে পড়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। নয়াদিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে গতকাল সোমবার এ কথা জানানো হয়েছে। এএফপি।
পুলিশের মুখপাত্র রাজন ভগত বলেছেন, বিমানবন্দরের পাশের একটি আবাসিক হোটেল থেকে গত সপ্তাহে স্টিফেন হ্যাম্পস্টোন (৪৬) ও স্টিভেন মার্টিন (৫৫) নামের ব্রিটিশ দুই নাগরিককে আটক করা হয়। তাঁদের কাছে শক্তিশালী বাইনোকুলার, দিল্লি বিমানবন্দরের মানচিত্র ও সামরিক বিমানের অবস্থান চিহ্নিত করার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি পাওয়া গেছে। তাঁরা যে ওই হোটেল থেকে বিমানের গতিবিধির ওপর নজরদারি করছিলেন, সে বিষয়ে তাঁরা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছেন।
তিনি জানান, ভারতে অনুমতি ছাড়া এ কাজ করা আইনত দণ্ডনীয়। তবে অভিযুক্ত দুজনই জামিনে মুক্তি পাবেন। আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁদের অন্তত তিন বছরের জন্য জেল খাটতে হবে।

পাকিস্তানে তালেবানের আরও এক জ্যেষ্ঠ নেতা গ্রেপ্তার

পাকিস্তানে আফগান তালেবানের আরও একজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মৌলভি কবির মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকাভুক্ত শীর্ষ ১০ তালেবান নেতার একজন। তিনি আফগানিস্তানের নানগহর প্রদেশের গভর্নর ছিলেন। গত রোববার ফক্স নিউজের ওয়েবসাইটে এ খবর দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে ফক্স নিউজ জানায়, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের নাও শেরা জেলা থেকে মৌলভি কবিরকে গ্রেপ্তার করেছে পাকিস্তানি পুলিশ। আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওই গ্রেপ্তারকে ‘গুরুত্বপূর্ণ আটক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তালেবানের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মোল্লা বারাদার থেকে পাওয়া তথ্যের সাহায্যে মৌলভি কবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বারাদারের গ্রেপ্তারের পর তালেবানের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, তালেবানের ওই ‘ছায়া গভর্নররা’ পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী ও আদিবাসী অঞ্চল থেকে কর্মকাণ্ড চালাতেন।

টরন্টোতে অমর একুশে পালন

কানাডার টরন্টোতে শোক ও উত্সবের আমেজে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। গত শনিবার দুপুর ১২টা থেকে শিশু-কিশোরদের বাংলা হাতের লেখা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কানাডায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার ইয়াকুব আলী খান। রাত ১২টা পর্যন্ত কথা ও কবিতা, চিত্র প্রদর্শনী ও অমর একুশের ওপর বিভিন্ন ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয় টরন্টোর বাংলাদেশ কালচারাল সেন্টারে।
রাত ১২টা ১ মিনিটে কানাডার এমপি মারিয়া মিন্না অস্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
সম্মিলিত একুশ উদ্যাপন পরিষদ একুশের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। গতকাল সোমবার ভিক্টোরিয়া পার্ক সেন্টক্লেয়ার রয়্যাল কানাডিয়ান লিজিয়ন হলে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

নাইজারে নতুন সংবিধান প্রবর্তনের অঙ্গীকার সামরিক জান্তার

নাইজারে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী নেতারা দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনে নতুন সংবিধান প্রবর্তনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। গত রোববার ১৫-জাতি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোটের (ইসিওডব্লিউএএস) প্রধান মোহাম্মদ ইবনে চ্যামবাস জান্তা প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ কথা জানান। এএফপি।
মোহাম্মদ বলেন, জান্তা নেতারা নতুন সংবিধান চালুর লক্ষ্যে আলোচনায় রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সংশ্লিষ্ট করার ব্যাপারেও অঙ্গীকার করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জান্তা নেতারা দেশের ক্ষমতা দখল করেছেন। অভ্যুত্থানকালে প্রেসিডেন্ট মামাদো তানজা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গকেও আটক করা হয়।
মোহাম্মদ বলেন, ‘দেশে খুব দ্রুত স্বাভাবিক সাংবিধানিক পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়ার উপায় নিয়ে আমরা জান্তা সদস্যদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছি। এ ব্যাপারে তাঁরা আমাদের যথাযথ নিশ্চয়তা দিয়েছেন এবং সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সব কিছু করার অঙ্গীকার করেছেন।’
ইসিওডব্লিউএএস প্রধান আরও বলেন, ‘দেশের সব পক্ষের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনা করে নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।’

মমতার সঙ্গে মতপার্থক্য মেটানোর পরামর্শ সোনিয়া গান্ধীর

ভারতের রেল বাজেট, সারের ভর্তুকি কমানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সরকার তথা কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। তবে গতকাল সোমবার থেকে পার্লামেন্টে শুরু হওয়া ভারতের বাজেট অধিবেশন শেষ হওয়ার আগেই এ বিবাদ মিটিয়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী।
এর মধ্যে গত শনিবার কলকাতায় ফেরার কথা ছিল মমতার। কিন্তু তিনি তা পিছিয়ে দিয়ে ওই রাতেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বাসভবনে যান। রেল বাজেট এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনাও হয়। গতকাল কংগ্রেসের নেতারা বলছেন, মতপার্থক্য যা-ই হয়ে থাকুক, কংগ্রেস জোট ভাঙতে চায় না। সোনিয়া গান্ধীর রাজনৈতিক সচিব আহমেদ প্যাটেল বলেন, ‘কলকাতায় পৌর নির্বাচন আসছে। আরও ৮১টি পৌরসভায় নির্বাচনও আছে। এখন সিপিএমের বিরুদ্ধে আমাদের হাতে হাত মিলিয়ে নামতে হবে। সুতরাং মমতা-কংগ্রেসের সম্পর্ক আমরা নষ্ট করতে দেব না।’
গতকাল থেকে শুরু হওয়া অধিবেশনে বিজেপি ও বাম দলগুলো একযোগে কংগ্রেসের বিরোধিতার লক্ষ্যে তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের দলনেতা হিসেবে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ও সংসদীয় মন্ত্রী পবন বনশাল চেষ্টা করছেন, যাতে শরিক দলগুলো কোনোভাবেই কংগ্রেসকে সংসদ চলার সময় চাপ না দেয়। তাই ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস, এনসিপি, ডিএমকের নেতাদের সঙ্গে কংগ্রেসের নেতাদের কথাবার্তা শুরু হয়েছে।
গত রোববার তৃণমূল্যের মুখ্যসচেতক সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে পবন বনশাল এবং অন্য নেতাদের এক দফা আলোচনাও হয়েছে। কংগ্রেসের মুখপাত্র অভিষেক মনু সিঙ্গভি বলেন, ‘মূল্যবৃদ্ধি নিশ্চয়ই একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সরকারকে দায়িত্ব নিয়ে তার সমাধান করতে হবে। এ ব্যাপারে শরিকদের অসন্তোষ থাকতে পারে। কংগ্রেসও মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে। তবে আমরা আশা করি, ইউপিএ সরকার এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারবে। মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত কংগ্রেস নেতৃত্ব।’

উরুজগান প্রদেশের দায়িত্ব নেবে না অস্ট্রেলিয়ান সেনারা

অস্ট্রেলিয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশ থেকে নেদারল্যান্ড তার সেনা সরিয়ে নিলে অস্ট্রেলিয়া কোনো অবস্থাতেই সেখানে তাদের সেনা মোতায়েন করবে না। এ বিষয়ে এরই মধ্যে তারা ন্যাটো কর্তৃপক্ষ ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। আফগানিস্তান থেকে ডাচ সেনা সরিয়ে আনা হবে বলে নেদারল্যান্ডের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া পরিষ্কারভাবে এ ঘোষণা দেয়। খবর এএফপির।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন স্মিথ গত রোববার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আফগানিস্তানে নেদারল্যান্ড যে ভূমিকা রেখেছে, আমরা তার অকুণ্ঠ প্রশংসা করি। কিন্তু ন্যাটো ও ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাসিসট্যান্স ফোর্সকে আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, ডাচ সেনাদের যদি সরিয়ে আনা হয়, তাহলে অস্ট্রেলিয়া উরুজগান প্রদেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ভার কিছুতেই নেবে না।’ স্মিথ জানান, উরুজগান থেকে নেদারল্যান্ডের সেনারা সরে গেলে সেখানে যে নেতৃত্বশূন্যতার সৃষ্টি হবে, সে সংকট কাটানোর দায়ভার ন্যাটোর ওপরই বর্তাবে।
আফগানিস্তানে বর্তমানে এক হাজার ৫৫০ জন অস্ট্রেলিয়ান সেনা মোতায়েন রয়েছে। তালেবান অধ্যুষিত হেলমান্দ প্রদেশে তারা দায়িত্বরত আছে। ন্যাটো আফগানিস্তানে তাদের মিশনের কার্যকাল আরও এক বছর বাড়ানোর আবেদন করলেও সে দেশের জোট সরকার সে আবেদনে রাজি হয়নি। এর ধারাবাহিকতায় নেদারল্যান্ড উরুজগান প্রদেশ থেকে তাদের এক হাজার ৯৫০ জন সেনা সরিয়ে আনবে বলে ঘোষণা দেয়। আগামী আগস্টের মধ্যেই তারা এসব সেনা সরাবে বলে কথা রয়েছে। তাদের জায়গায় অস্ট্রেলিয়ান সেনাদের মোতায়েন করার নির্দেশ আসতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

ন্যাটোর বিমান হামলায় ৩৩ আফগান নিহত

আফগানিস্তানে ন্যাটোর বিমান হামলায় কমপক্ষে ৩৩ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অন্তত ১২ জন। গতকাল সোমবার আফগান সরকারের দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়। ওই হামলাকে ‘ঘোরতর অযৌক্তিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে আফগান সরকার। অন্যদিকে হামলার জন্য ন্যাটোর পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
ন্যাটো নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত রোববার উরুজগানে ন্যাটোর হামলায় বেসামরিক আফগান নাগরিক নিহত হয়েছে। তবে ঠিক কতজন নিহত হয়েছে, সে সম্পর্কে বিবৃতিতে কিছু বলা হয়নি।
আফগান কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববার উরুজগানে বেসামরিক আফগানদের বহনকারী তিনটি গাড়ির একটি বহরের ওপর ওই হামলা চালানো হয়। নিহতদের মধ্যে চারজন নারী ও এক শিশুও রয়েছে।
গতকাল সোমবার আফগান মন্ত্রিপরিষদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে পাওয়া খবরে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, গত রোববার কান্দাহার অভিমুখী তিনটি গাড়ির ওপর ন্যাটোর বিমান হামলায় চারজন নারী, এক শিশুসহ কমপক্ষে ৩৩ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও কমপক্ষে ১২ জন।
এর আগে আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেমেরি বাশারি জানান, তাঁর কাছে ২৭ জনের নিহত হওয়ার খবর আছে। তিনি আরও জানান, ওই গাড়িবহরে ৪২ জন বেসামরিক আফগান ছিল।
আফগান সরকার ও ন্যাটো বাহিনী এ সম্পর্কে তদন্ত শুরু করেছে। বিমান হামলায় হতাহতের খবর নিশ্চিত করেছে ন্যাটো। আফগানিস্তানে বিদেশি বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল স্ট্যানলি ম্যাকক্রিস্টাল ওই ঘটনার জন্য আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বেসামরিক লোকজনের মৃত্যুর ঘটনায় এ নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো দুঃখ প্রকাশ করলেন তিনি।
জেনারেল ম্যাকক্রিস্টাল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নিরপরাধ মানুষের এমন করুণ মৃত্যুতে আমরা সত্যিই দুঃখিত। আমাদের বাহিনীকে আমি পরিষ্কার করে জানাতে চাই, আফগান জনগণকে রক্ষা করার জন্যই আমরা এখানে এসেছি। অসাবধানতাবশত বেসামরিক লোকজনের হতাহতের ঘটনায় আমাদের অভিযানের ওপর আফগান জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আস্থা ফিরে পাওয়ার জন্য আমরা প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করব।’
উরুজগান প্রাদেশিক পরিষদের প্রধান সাংবাদিকদের বলেন, প্রদেশের চর চেনো জেলার মধ্য দিয়ে তিনটি মিনিবাসে করে ওই আফগানরা যাচ্ছিল।
গত শনিবার বেসামরিক লোকজনকে হত্যার কারণে বিদেশি সেনাদের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট কারজাই। ক্ষুব্ধ আফগান প্রেসিডেন্ট আট বছর বয়সী এক বালিকার করুণ চিত্র তুলে ধরেন। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মারজাহে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর অভিযানের সময় ওই বালিকার পরিবারের সব সদস্য নিহত হয়।
কারজাই বলেন, ‘যদি একটি ছোট্ট মেয়েকে পরিবারের সদস্যদের মৃতদেহ গ্রহণ করতে হয়, তাহলে আপনি আন্দাজ করতে পারবেন, আমরা এখন কোন পরিস্থিতিতে আছি।’
এদিকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর অভিযানের মধ্যে তালেবানদের একটি শক্ত ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ লাভের চেষ্টা চালাচ্ছে আফগান পুলিশ। এদিকে মার্কিন জেনারেল ডেভিড পেট্রিউস বলেছেন, ‘তীব্র লড়াই’ অব্যাহত রয়েছে।
প্রায় ১৫ হাজার আফগান ও ন্যাটো সেনা ব্যাপক প্রতিরোধের সম্মুখীন হচ্ছে। হেলমান্দ প্রদেশের নাদ আলী ও মারজাহতে শুরু হওয়া অভিযান মুসতারাক দ্বিতীয় সপ্তাহ ধরে অব্যাহত রয়েছে।
তালেবানদের স্থাপন করা বোমার বেড়াজালে আটকে পড়া বেসামরিক নাগরিকেরা ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। খাদ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করছেন, আফগান পুলিশ শিগগিরই মারজাহ শহরের কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হবে।

সিডনিতে মালয়েশিয়ার কনস্যুলারের কর্মী নিহত

অস্ট্রেলিয়ায় মালয়েশিয়ার কনস্যুলারের এক কর্মচারী গত রোববার সিডনিতে তাঁর বাড়ির পাশের রাস্তায় ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
৪৩ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি মালয়েশিয়ার কনসাল জেনারেলের গাড়িচালক ছিলেন। রোববার রাতে দুজন লোক তাঁকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। একজন নারী পথচারী তাঁকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন। গোয়েন্দা পরিদর্শক শেন উলব্যাংক বলেন, এটি ছিল একটি নৃশংস হামলা।
মালয়েশীয় কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ নাসির আবু হাসান বলেন, নিহত ব্যক্তি একজন মালয়েশীয়। তিন বছর ধরে তিনি গাড়িচালক হিসেবে কনস্যুলেটে কর্মরত ছিলেন।

পৃথিবীতে ফিরেছে এনডেভর

মার্কিন নভোযান এনডেভর গত রোববার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে অবতরণ করেছে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) ১৪ দিনের অভিযান শেষে ছয় নভোচারীকে নিয়ে ফিরে এসেছে নভোযানটি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি যে স্থান থেকে আইএসএসের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল, সেখান থেকে তিন মাইল দূরে অবতরণ করে এনডেভর।
এই অভিযানে আইএসএসে একটি পর্যবেক্ষণ কক্ষসহ ট্রাংকুইলিটি মডিউল নিয়ে যায় এনডেভর। নভোচারীরা সফলভাবে মহাকাশ স্টেশনে পর্যবেক্ষণ কক্ষটি যুক্ত করেন। আইএসএসের কাজ পুরো শেষ করতে আরও চারটি অভিযানে যেতে হবে।
নভোযানটি অবতরণের পর অভিযান নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে রেডিওর সাহায্যে এনডেভরের কমান্ডার জর্জ জামকাকে অভিনন্দন জানানো হয়। জবাবে জামকা বলেন, ‘ফিরতে পেরে অনেক ভালো লাগছে। এটি খুবই সফল একটি অভিযান ছিল।’
এনডেভর অবতরণের সময় আবহাওয়া খারাপ ছিল। আকাশে মেঘ ছিল এবং বৃষ্টি পড়ছিল। তবে এনডেভরের অবতরণ পর্যবেক্ষণকারী নাসার ফ্লাইট ডিরেক্টর নর্ম নাইট বলেন, সফল অবতরণ হয়েছে।

অভিযোগ থেকে বেরিয়ে আসতে লড়ছেন ব্রাউন

কর্মীদের সঙ্গে বাজে আচরণের অভিযোগ থেকে বেরিয়ে আসতে বেশ ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনকে। গত রোববার প্রকাশিত সাংবাদিক অ্যান্ড্রু রনসলের বইতে দাবি করা হয়, ব্রাউন একবার তাঁর কর্মীর জ্যাকেট চেপে ধরে তাঁর প্রতি চিত্কার করেন। এই অভিযোগ আসন্ন নির্বাচনে ব্রাউন ও লেবার পার্টির জনপ্রিয়তার জন্য নতুন হুমকি সৃষ্টি করেছে।
ব্রাউনের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি তাঁর একান্ত সচিবকে চেয়ার থেকে তুলে দিয়ে নিজেই টাইপ করতে শুরু করেন। একান্ত সচিব কিছুটা ধীরে টাইপ করছিলেন, তাই ক্ষিপ্ত হয়ে ব্রাউন এমন আচরণ করেন বলে বইতে অভিযোগ করা হয়। বইটি প্রকাশ হওয়ার পর এসব অভিযোগ জনসমক্ষে চলে এল।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে গেছে যে, ব্রিটেনের সিভিল সার্ভিস বিভাগের প্রধান গাস ও’ডনেল ব্রাউনকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘কাজ আদায় করে নেওয়ার ভালো কোনো পন্থা নয় এটি।’
তবে এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘মানহানিকর’ বলে উল্লেখ করেছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এ ব্যাপারে ব্রাউন দাবি করেছেন, ওই ক্ষোভ প্রকাশ তাঁর নিজের উদ্দেশে ছিল, কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে মেজাজ দেখাননি তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ নিয়ে ব্রিটেনের বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার ম্যানডেলসন বলেন, ‘রনসলের বইতে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা আমি মানতে পারছি না। ব্রাউন হয়তো খানিকটা অধৈর্য আচরণ করেছেন।’
এর আগে শনিবার নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিক প্রচারাভিযান শুরু করেন ব্রাউন। লেবার পার্টি এই প্রচারাভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন ফাইটব্যাক’। এই প্রচারাভিযান শুরুর পরদিনই এমন অভিযোগ আনা হলো ব্রাউনের বিরুদ্ধে।
ব্রিটেনে লেবার পার্টি ১৯৯৭ সাল থেকে ক্ষমতায় আছে। ২০০৭ সালে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার তাঁর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে পদত্যাগ করলে প্রধানমন্ত্রী হন গর্ডন ব্রাউন। অর্থনৈতিক মন্দা, ইরাক ও আফগানিস্তানে অভিযান নিয়ে লেবার পার্টির জনপ্রিয়তা কমতে থাকে। নির্বাচনকে সামনে রেখে পার্টির জনপ্রিয়তা আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন ব্রাউন।
ব্রিটেনে আগামী ৬ মে সাধারণ নির্বাচন হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি জনপ্রিয়তার দিক থেকে লেবার পার্টির চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন ৪৩ বছর বয়সী ডেভিড ক্যামেরন।

পর্তুগালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪২ তিন দিনের শোক

পর্তুগালের মাদেইরা দ্বীপে প্রবল বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ৪২ জনে পৌঁছেছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন উদ্ধারকর্মীরা। গত শনিবার দ্বীপটিতে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস শুরু হয়। এএফপি।
সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনী উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। গতকাল সোমবার উদ্ধারকর্মীরা বাড়ি ও রাস্তায় আটকে থাকা কাদা অপসারণ শুরু করেন এবং নিখোঁজদের সন্ধান চালান। এর আগে রোববার ৩২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এলাকাবাসী জানান, পানির তোড়ে অনেক মানুষ ভেসে গেছে।
সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, কেবিনেট সদস্যরা গতকাল জরুরি বৈঠকে বসেন। সেখানে তিন দিনের জাতীয় শোক পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
মাদেইরার প্রধান শহর ফুনচালের মেয়র মিগুয়েল আলবাকুর্গ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি, এখনো অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছে।’
কর্মকর্তারা জানান, পর্তুগালের রাজধানী লিসবন থেকে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দূরে পর্যটকদের কাছে প্রিয় এ দ্বীপের অবস্থান। বন্যা ও ভূমিধসের পর থেকে রাজধানীর সঙ্গে এর সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। গতকালও টেলিফোন যোগাযোগ ও বিদ্যুত্ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।
এ ঘটনার পর এ পর্যন্ত ১২০ জনের বেশি আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন।
ঘটনার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী হোসে সক্রেটিস এলাকা পরিদর্শন করে ঘোষণা করেছেন, দুর্গত ব্যক্তিদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মাবু হত্যাকাণ্ডে বিদেশি পাসপোর্ট ব্যবহারের ঘটনায় ইইউর উদ্বেগ

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) দুবাইয়ে হামাস নেতাকে হত্যার কাজে ইউরোপীয় পাসপোর্ট ব্যবহারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইইউর বর্তমান সভাপতি স্পেন গতকাল সোমবার এ কথা জানিয়েছে।
ইসরায়েল ও ইউরোপীয় কয়েকজন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে গতকাল সোমবার বৈঠকের লক্ষ্যে ব্রাসেলস পৌঁছে স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিগুয়েল অ্যাঞ্জেল মোরাতিনোস সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভিন্ন উদ্দেশ্যে ভিন্ন কাজে ইউরোপীয় পাসপোর্ট যে ব্যবহূত হতে পারে, তা দেখে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’
বৈঠকের আগে মোরাতিনোস বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। এ ছাড়া আশা করি এ বিষয়ে আমরা একটি বিবৃতিও প্রকাশ করব।’
ইসরায়েলে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড্যানি আয়ালন গত শনিবার বলেন, খুনের ঘটনায় বিদেশি পাসপোর্ট ব্যবহারের কারণে ইউরোপের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি কোনো সমস্যা দেখছেন না। কিন্তু ব্রিটেন, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স ও জার্মানি তাদের দেশে নিয়োজিত ইসরায়েলি দূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করেছে। এ ছাড়া ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড মিলিব্যান্ড ইসরায়েলের প্রতি ঘটনা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
হামাসের সশস্ত্র শাখার প্রতিষ্ঠাতা আল মাবহুহর লাশ ২০ জানুয়ারি দুবাইয়ে তাঁর হোটেলকক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়। দুবাই পুলিশ ১১ জন সন্দেহভাজনের ছবিসহ নাম প্রকাশ করেছে। এই ১১ জনের ছয়জন ব্রিটিশ, তিনজন আয়ারল্যান্ড, একজন জার্মানি ও একজন ফ্রান্সের পাসপোর্ট নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশ করেছিল। কিন্তু এসব পাসপোর্ট ছিল জাল কিংবা চুরি করা।
এদিকে হামাস নেতা হত্যাকাণ্ডে ইসরায়েলের কূটনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি বা এর গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সুনাম ক্ষুণ্ন হবে—এমন আশঙ্কা গত রোববার নাকচ করে দিয়েছেন ইসরায়েলি গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞরা।
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক প্রধান ও সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল উজি দাইয়ান আর্মি রেডিওতে বলেন, ঘটনা যেই ঘটিয়ে থাকুক, সর্বশেষ কথাটি হলো, সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজই সম্পাদিত হয়েছে।
দুবাই পুলিশ বলেছে, তারা এক প্রকার নিশ্চিত যে, মোসাদই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ গত রোববার জোর দিয়ে বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।

বাগদাদে একই পরিবারের আট সদস্যকে হত্যা

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে গতকাল সোমবার একই পরিবারের আট সদস্যকে হত্যা করেছে বন্দুকধারীরা। হত্যাকাণ্ডে সাইলেন্সার-সংযুক্ত আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়। বন্দুকধারীরা কয়েকজনের শিরশ্ছেদ করে।
এদিকে পৃথক ঘটনায় ইরাকে আরও ১১ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় নিহত হয়েছে তিনজন। বাগদাদে এক পুলিশ কমান্ডোকে দূর থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
একই পরিবারের আট সদস্যের হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাগদাদ অপারেশন কমান্ডের এক বিবৃতিতে বলা হয়, একটি সন্ত্রাসী চক্র সকাল সাতটায় ওই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড ঘটায়। অপরাধী চক্র সাইলেন্সার পিস্তল ব্যবহার করে ওই পরিবারের আট সদস্যকে হত্যা করে। বিবৃতিতে বলা হয়, কয়েকজনের শিরশ্ছেদও করা হয়।
বাগদাদ পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পরই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।
পাইলট নিহত: ইরাকের উত্তরাঞ্চলে একটি বিমান ঘাঁটির কাছে রোববার মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় দুই পাইলট নিহত হয়েছেন। সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, ‘হেলিকপ্টারটি সজোরে মাটিতে আছড়ে পড়ে। সেনাবাহিনী জানায়, দুর্ঘটনার তদন্ত চলছে।
পুলিশসহ নিহত ৭: মধ্যাঞ্চলে গত রোববার বোমা বিস্ফোরণে পুলিশের চার সদস্য নিহত ও দুজন আহত হয়েছে। একটি বৈদ্যুতিক কেন্দ্রে নিরাপত্তা প্রদানের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এ বিস্ফোরণ ঘটে। এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, দিয়ালা প্রদেশের রাজধানী বাকুবার ৭০ কিলোমিটার দূরবর্তী ইমাম ওয়াইজ এলাকায় এ বিস্ফোরণ ঘটেছে।
একই দিন উত্তরাঞ্চলের মসুল নগরে এক পুলিশ সদস্য তাঁর বাড়ির বাইরে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। বাগদাদের উত্তরে সামারাতে এক ধর্মীয় উত্সবে যাওয়ার সময় গুলিবর্ষণে এক শিয়া তীর্থযাত্রী নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া তিকরিতে এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় এক দোকানদার নিহত ও দুই ক্রেতা আহত হয়েছেন।

নিখোঁজ সিপিএম নেতার লাশ চেন্নাইয়ে উদ্ধার

ভারতের চেন্নাইয়ের পোরুর লেক থেকে উদ্ধার করা লাশটি কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (মার্ক্সিস্ট) নেতা ডব্লিউ আর বরদারাজনের। তাঁর স্ত্রী সরস্বতী স্বামীর লাশ শনাক্ত করেন। গত রোববার ভারতীয় পুলিশ এ কথা জানায়।
সিপিআইএম কেন্দ্রীয় কমিটি ও তামিলনাড়ু রাজ্য কমিটিসহ দলের সব পদ থেকে সদ্য অপসারিত সিপিআইএমের নেতা ডব্লিউ আর বরদারাজন ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন। ৪-৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় অনুষ্ঠিত সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে ‘অকমিউনিস্ট-সুলভ’ আচরণের জন্য তাঁকে দলের সব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ডব্লিউ আর বরদারাজনের স্ত্রী সরস্বতী তাঁর বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ তুলেছিলেন। অন্য একজন নারীও তাঁর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ আনেন।
কলকাতা থেকে ফেরার পর তামিলনাড়ুর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান বরদারাজন। ১৩ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ের কাছে পোরুর লেক থেকে ৬৪ বছর বয়সী ওই নেতার লাশ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু লাশটির অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে, প্রথমে কেউ ওই লাশ শনাক্ত করতে পারেননি। দলের রাজ্য কমিটির নেতারাও লাশটি শনাক্ত করতে ব্যর্থ হন। তবে পোশাক দেখে লাশটি বরদারাজনের মনে হওয়ায় পুলিশ ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে স্ত্রী সরস্বতীই তাঁকে শনাক্ত করেন। তবে সরকারিভাবে বলা হয়েছে, লাশটি বরদারাজনের কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল হাতে পাওয়ার পর।
নিখোঁজ হওয়ার আগে লিখে যাওয়া চিঠিতে আত্মহত্যার ইঙ্গিত দিয়ে গিয়েছিলেন প্রবীণ এই ট্রেড ইউনিয়ন নেতা। তামিল কবিতা উদ্ধৃত করে তিনি লিখেছিলেন, ‘অসম্মানের থেকে মৃত্যুই শ্রেয়’।
দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে শাস্তি ঘোষণার পরে ওই নেতা নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর অস্বস্তিতে পড়েছে সিপিএমের নেতৃত্ব। কেউ এ ব্যাপারে মুখ খুলতে চাইছেন না। দলীয় নেতারা বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে বরদারাজনের নিখোঁজ হওয়া বা তার পরবর্তী কোনো ঘটনার সঙ্গে দলীয় সিদ্ধান্তের কোনো সম্পর্ক নেই। পারিবারিক অশান্তির কারণেই যা হওয়ার হয়েছে।
তবে দল তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দিলেও নিজের দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অর্থ দলকে দান করে গেছেন ডব্লিউ আর বরদারাজন। নিজের বইপত্র ও ল্যাপটপ দান করে গেছেন দলের তামিল মুখপাত্রকে। চিকিত্সাবিজ্ঞানের গবেষণার জন্য নিজের দেহ দান করে গেছেন তিনি।

অর্থবহ সম্পর্কের জন্য পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদ দমন করতে হবে

ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিল গতকাল সোমবার সংসদে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে যেকোনো অর্থবহ সম্পর্কের জন্য ইসলামাবাদকে অবশ্যই ‘সন্ত্রাসবাদ’ দমন করতে হবে। মুম্বাই হামলার ঘটনার পর প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে আগামী বৃহস্পতিবার এই প্রথম আনুষ্ঠানিক আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। এমন মুহূর্তে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিল এ কথা বললেন।
সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার সময় প্রতিভা পাতিল বলেন, পরমাণু ক্ষমতাধর প্রতিবেশী এ দুটি দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের দ্বার উন্মুক্ত রয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী বৃহস্পতিবার এ দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিবদের বৈঠক করার কথা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পাতিল বলেন, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের হুমকি ব্যাপকভাবে মোকাবিলা এবং ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে ভারত ইসলামাবাদের সঙ্গে অর্থবহ সম্পর্ক উন্নয়নে প্রস্তুত রয়েছে।
২০০৮ সালের নভেম্বরে মুম্বাইয়ে বন্দুকধারীদের হামলার ঘটনার পর পাকিস্তানের সঙ্গে সব ধরনের সংলাপ বাতিল করে ভারত। এরপর এই প্রথম দেশ দুটির মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা। জঙ্গিদের ওই হামলায় সে সময় ১৬৬ জন প্রাণ হারায়।
নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদ ১২ ফেব্রুয়ারি উভয় দেশের মধ্যে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরুর ঘোষণা দেয়। এর এক দিন পরই পুনের একটি রেস্তোরাঁয় বোমা বিস্ফোরণে ১৫ জন নিহত হয়। এ ঘটনায় শান্তি আলোচনা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় ভারতের বিরোধীদলীয় কয়েকজন নেতা ২৫ ফেব্রুয়ারির বৈঠক স্থগিত করার জন্য পররাষ্ট্রসচিবের প্রতি আহ্বান জানান।
পাকিস্তানে শিখ নাগরিককে হত্যা
এদিকে তালেবান জঙ্গিরা পাকিস্তানের পার্বত্য এলাকায় অপহূত যশপাল সিং নামের এক শিখকে শিরশ্ছেদ করে হত্যা করেছে। পরিবার থেকে মুক্তিপণ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় জঙ্গিরা তাঁকে হত্যা করে। পাকিস্তানের একজন কর্মকর্তা গতকাল সোমবার এ কথা জানান। খাইবার জেলার বারা শহরে জানুয়ারি মাসে যে তিন শিখকে অপহরণ করা হয়েছিল, যশপাল সিং তাঁদের একজন। গত রোববার নিকটবর্তী ওরাকজাই জেলায় তাঁর লাশ পাওয়া গেছে।
ওই খবরের পর সংসদের বাইরে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণা বলেন, ভারত সরকার পাকিস্তানে সংঘটিত ওই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। বিষয়টি বৃহস্পতিবারের বৈঠকে তোলা হবে।

ওবামার স্বাস্থ্যনীতি প্রকাশ করছে হোয়াইট হাউস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বহুল আলোচিত স্বাস্থ্যনীতি অবশেষে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হচ্ছে। গতকাল সোমবার হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে এর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করার কথা। মাত্র কয়েক দিন আগেও স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে ঘোরতর চাপে ছিলেন ওবামা। সংবেদনশীল এ বিষয়টি তাঁর ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু সেটাই এখন শাপে বর হয়ে দেখা দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকেরা মত দিয়েছেন।
বিশ্লেষকেরা বলেছেন, এ স্বাস্থ্যনীতিই এখন বারাক ওবামার রিপাবলিকানদের ঘায়েল করার মোক্ষম অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যনীতি অনুমোদনের বিষয়ে বিরোধীদের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি ইতিমধ্যেই রিপাবলিকানদের সহযোগিতা চেয়েছেন। গত শনিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ওবামা বলেন, সাধারণ আমেরিকানদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে তিনি স্বাস্থ্যনীতি সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মধ্যে রাজনীতি খুঁজতে যাওয়াটা ঠিক হবে না। বরঞ্চ ভবিষ্যত্ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে দলমত-নির্বিশেষে এর প্রতি সমর্থন জানানো উচিত।’ আগামী নভেম্বরে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এ ইস্যুটি ওই নির্বাচনকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। টেক্সাস ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ব্রুস বুকানন বলেছেন, রিপাবলিকানরা যদি স্বাস্থ্যনীতি অনুমোদনের ক্ষেত্রে সমর্থন জানায়, তাহলে ওবামা স্বাভাবিকভাবেই বিজয়ের হাসি হাসবেন। আর যদি তারা বিরোধিতা করে, তাহলে তিনি ‘রিপাবলিকানরা সাধারণ মানুষের স্বার্থে নিবেদিত নয়’ বলে মন্তব্য করার সুযোগ পাবেন। এতে বিরোধীদের জনসমর্থনে ধস নামতে পারে। গত শুক্রবার লাস ভেগাসে এক সভায় ওবামা বলেন, ‘রিপাবলিকানরা বলছে, তাদের কাছে নাকি আমার প্রস্তাবিত স্বাস্থ্যনীতির চেয়ে আরও ভালো নীতিমালা আছে। আমি তাদের আলোচনার টেবিলে এসে সেগুলো দেখানোর জন্য বলে দিয়েছি।’
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, আমেরিকায় এখন বেকারত্বের হার ১০ শতাংশের কাছাকাছি। তাই স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে মার্কিনিরা খুব একটা মাথা ঘামাচ্ছে না। বেকারত্বই এখন তাদের দুশ্চিন্তার বড় কারণ।

ইরানকে চাপে রাখার পথ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: জেনারেল পেট্রস

পরমাণু কর্মসূচি বন্ধে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর পথ বেছে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত রোববার শীর্ষ মার্কিন জেনারেল ডেভিড পেট্রস এনবিসি টেলিভিশনের মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য বিশ্বশক্তিগুলো ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের চতুর্থ দফা অবরোধ আরোপ করার প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন জোগাড় করছে। কারণ, বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি জাতিসংঘ-সমর্থিত পরমাণু জ্বালানি সরবরাহ চুক্তিও মেনে নেয়নি তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল পেট্রস বলেন, ‘এখন আর কেউ বলতে পারবে না, কূটনৈতিকভাবে সমস্যা সমাধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও বাকি বিশ্ব ইরানকে যথেষ্ট সুযোগ দেয়নি। আমরা এখন এমন অবস্থায় পৌঁছেছি যে আমাদের চাপ প্রয়োগের পথ বেছে নিতে হচ্ছে।’
গত সপ্তাহে জাতিসংঘের পরমাণু কার্যক্রম পর্যবেক্ষক সংস্থা আইএইএ বলেছে, তাদের ধারণা, ইরান সম্ভবত ইতিমধ্যে পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা শুরু করেছে। আইএইএ এমন ধারণা প্রকাশের পর ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের উদ্বেগ বেড়েছে।
২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরান ২০০৩ সালে পরমাণু অস্ত্র তৈরির বিষয়ে গবেষণার কাজ বন্ধ করেছে। কিন্তু ইরানের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথা যেসব পশ্চিমা দেশ বলছে, তাদের বিশ্বাসেরই প্রতিধ্বনি আইএইএর সর্বশেষ এ প্রতিবেদন।
এ ব্যাপারে পেট্রস বলেছেন, ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের ফলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের তথ্য-উপাত্তগুলো আরও হালনাগাদ করবে।
গত বৃহস্পতিবার আইএইএ আরও নিশ্চিত করেছে, তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের হার বাড়িয়েছে। এতে দেশটি পরমাণু বোমা তৈরির জন্য যে পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন, তার কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। অবশ্য ইরানি কর্মকর্তারা আইএইএর প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শুক্রবার বলেছেন, তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না।
গত বছর আইএইএ প্রস্তাব দিয়েছিল, তেহরানের কম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামগুলো তৃতীয় কোনো দেশে পাঠিয়ে আরও সমৃদ্ধ করে আবার তেহরানের কাছে ফেরত পাঠানো হবে, যাতে তারা সেগুলো জ্বালানি হিসেবে পরমাণু চুল্লিতে ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু ইরানি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র
ইরান জানিয়েছে, আগামী মাসে নতুন দুটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনা করছে তারা। গতকাল সোমবার ইরানের পরমাণু কর্মসূচির প্রধান আলী আকবর সালেহি এ ঘোষণা দেন।
সালেহি বলেন, নতুন দুটি কেন্দ্রের ক্ষমতা বর্তমানে ইরানের নাতানজে অবস্থিত কেন্দ্রটির মতোই হবে।

উত্তরা ব্যাংকের নতুন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হলেন ফজলুর রহমান

মো. ফজলুর রহমান উত্তরা ব্যাংকিং লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেছেন। এর আগে তিনি এই ব্যাংকের নির্বাহী মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ফজলুর রহমান ১৯৭৭ সালে প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে উত্তরা ব্যাংকে যোগ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০০৭ সালে তিনি এই ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক এবং ২০০৮ সালে নির্বাহী মহাব্যবস্থাপক হিসেবে পদোন্নতি পান। তিনি ২০০৩ সাল থেকে কোম্পানি সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

অর্থবছরের প্রথমার্ধে অভ্যন্তরীণ ঋণপ্রবাহ বেড়েছে ৬.৫৬%

চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) দেশের অভ্যন্তরীণ ঋণপ্রবাহ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে অভ্যন্তরীণ ঋণ ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসের তুলনায় ১৩ দশমিক ৭১ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ডিসেম্বর শেষে অভ্যন্তরীণ ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে তিন লাখ সাত হাজার ৪৭৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
আর গত বছরের জুন শেষে অভ্যন্তরীণ ঋণের স্থিতি ছিল দুই লাখ ৮৮ হাজার ৫৫২ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
মোট ঋণের মধ্যে অবশ্য সরকারের ঋণ গ্রহণ নেতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে। অর্থাত্ এই সময়কালে সরকার কার্যত কোনো ঋণ গ্রহণ করেনি। বরং আগের বকেয়া ঋণ অধিক পরিমাণে ফেরত দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুসারে ডিসেম্বরের শেষে সরকারের গৃহীত ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪৮ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, যেখানে জুলাই শেষে এই স্থিতি ছিল ৫৮ হাজার ১৮৫ কোটি ২০ লাখ ডলার।
গত বছরের ডিসেম্বর মাসে এসে সরকারের ঋণ গ্রহণ এর আগের বছরের (২০০৮) ডিসেম্বরের তুলনায় পৌনে ৭ শতাংশ কমেছে।
আর চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে সরকারের নিট ঋণ ২০০৮-০৯ অর্থবছরের প্রথমার্ধের তুলনায় ১৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
তবে আলোচ্য সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০০৯-১০ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়কালে বেসরকারি খাতে ব্যাংক-ব্যবস্থা থেকে ঋণপ্রবাহ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেড়েছে।
ডিসেম্বর শেষে বেসরকারি খাতের ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৪৩ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। আর জুন মাসে এই স্থিতির পরিমাণ ছিল দুই লাখ ১৭ হাজার ৯২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে দেশে মুদ্রা সরবরাহ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ১০ শতাংশ বেড়েছে।
ডিসেম্বর শেষে দেশে মুদ্রা সরবরাহের স্থিতি দাঁড়ায় তিন লাখ ২৮ হাজার ১৯২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আর জুন শেষে এই স্থিতি ছিল দুই লাখ ৯৬ হাজার ৪৯৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

বাড়ি নির্মাতাদের জন্য শাহ সিমেন্টের কর্মশালা

শাহ সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজের সহযোগিতায় খুলনা শহরে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি বাড়ি নির্মাতাদের জন্য দুই দিনব্যাপী ‘নিজের বাড়ি নিজেই করি’ শীর্ষক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তসচিব মোহাম্মদ মহবুব উর রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ঢাকার পরিচালক প্রকৌশলী মাইনুদ্দীন আহমেদ, সিনিয়র রিসার্চ ইঞ্জিনিয়ার প্রকৌশলী আবদুস সালাম, শাহ সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজের উর্ধ্বতন বিপণন ব্যবস্থাপক দীপন কঙ্কন চক্রবর্তী প্রমুখ।

১৩ সদস্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য ১৩ জন সদস্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নতুন নির্দেশনা মেনেই গতকাল সোমবার তাঁরা ডিএসইতে আগ্রহপত্র জমা দেন।
আগ্রহী ব্যক্তিদের মধ্যে বর্তমান ও সাবেক সভাপতি, সহসভাপতি ও পরিচালকেরা ছাড়াও সাধারণ সদস্যরা রয়েছেন।
যে ১৩ জন আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তাঁরা হলেন: রকিবুর রহমান, আহমেদ ইকবাল হাসান, আবদুল হক, আহমেদ রশিদ, শরিফ আতাউর রহমান, খাজা গোলাম রসুল, আনোয়ার হোসেন, দস্তগীর মোহাম্মদ আদিল, এম এ মুনিম, গোলাম কাদের, মুজিবর রহমান, আহসানুল ইসলাম ও হাবিবুল আওয়াল মোস্তাক। তবে এ তালিকায় বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের নাম নেই। আগের তফসিল অনুযায়ী তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও এবার আগ্রহ দেখাননি।
এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এসইসির একটি আদেশের কারণে ডিএসই পূর্বঘোষিত নির্বাচনী তফসিল বাতিল করে।
এসইসির জারি করা ওই আদেশে বলা হয়, স্টক এক্সচেঞ্জের নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ন্যূনতম পাঁচ দিন আগে এসইসির কাছ থেকে অনাপত্তি নিতে হবে। আগের তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ঠিক আগের দিন এ নির্দেশ দেওয়ায় ডিএসইর নির্বাচন কমিশন আগের নির্বাচন স্থগিত করে নতুন তফসিল ঘোষণা করে। এ তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২১ মার্চ। আগের তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
নতুন তফসিলে এসইসির অনাপত্তির জন্য ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক সম্ভাব্য প্রার্থীদের ডিএসইতে ইচ্ছাপত্র দাখিল করার নির্ধারিত দিন ধার্য করা হয়। সে অনুযায়ী প্রার্থীরা তাঁদের আগ্রহ জানিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার ডিএসই আগ্রহীদের তালিকা এসইসিতে পাঠাবে। এসইসি যাঁদের ব্যাপারে অনাপত্তি দেবে কেবল তাঁরাই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
তবে প্রার্থীদের অনেকেরই আশঙ্কা, ডিএসইকে রাজনৈতিকীকরণের লক্ষ্যে সরকারের নির্দেশে এসইসি এমন একটি আদেশ দিয়েছে। একই উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তাঁদের ব্যাপারে অনাপত্তি জানানো হতে পারে।
এ ব্যাপারে তাঁরা সব পক্ষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

ঢাকার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন

টানা তিন দিন ছুটির পর লেনদেন শুরুর প্রথম দিনই দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। কমেছে লেনদেনের পরিমাণও।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল সোমবার সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১৩৮ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ৬২২ পয়েন্টে নেমে এসেছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে এক দিনে সবচেয়ে বড় পতন। এর আগে ২০০৫ সালের ১১ জানুয়ারি ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ১৩৩ পয়েন্টের মতো কমেছিল।
আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ৩৮৫ পয়েন্ট কমে ১৬ হাজার ৩১৪ পয়েন্টে নেমেছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সবচেয়ে বেশি পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানি গ্রামীণফোনকে স্পট মার্কেট বা নগদ লেনদেনের বাজারে নিয়ে যাওয়ার আদেশ কার্যকর হওয়ার প্রভাবই দরপতনের বড় কারণ।
গ্রামীণফোনের শেয়ারের ‘অস্বাভাবিক’ মূল্য বৃদ্ধি ঠেকাতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটিকে স্পট মার্কেটে লেনদেনের নির্দেশ দেয়, যা গতকাল থেকে কার্যকর হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্পট মার্কেটে লেনদেনের জন্য নগদ টাকা প্রয়োজন হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় গতকাল গ্রামীণফোনের শেয়ারের চাহিদা কম ছিল।
গতকাল গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম আগের দিনের সমাপনী মূল্যের চেয়ে ২৮ টাকা ৬০ পয়সা কমে ৩৩২ টাকা ৬০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। আর এতেই ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক কমেছে ১০৮ পয়েন্টের বেশি। একপর্যায়ে অবশ্য শেয়ারটি ৫১ টাকা কমে গিয়েছিল।
এ ছাড়া ব্যাংক খাতের বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর কমার প্রভাবেও সূচকের পতন আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিশ্লেষকেরা বলেন, এরই মধ্যে বেশ কিছু ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। অনেক ক্ষেত্রেই এসব ঘোষণা বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। এ কারণে অনেক বিনিয়োগকারীই ব্যাংকিং খাতের শেয়ার বিক্রি করেছেন। এটা এ খাতের দরপতনের একটা কারণ হতে পারে। তবে তাঁরা মনে করেন, বাজারে অন্য যেকোনো খাতের তুলনায় ব্যাংক খাতের শেয়ারের আয় অনুপাতে দাম (পিই) এখনো অনেক কম। ইতিমধ্যে যেসব ব্যাংক চূড়ান্ত আয় ঘোষণা করেছে, সেগুলো হিসাবে নিলে পিই আরও কম হবে। সে হিসেবে বিনিয়োগের জন্য এ খাতটি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের তালিকায় থাকার কথা।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আরেক বহুজাতিক কোম্পানি ম্যারিকো বাংলাদেশের শেয়ারও গতকাল স্পট মার্কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এদিনই আবার কোম্পানিটি তালিকাভুক্তির পর প্রথমবারের মতো লভ্যাংশ দেওয়ায় ‘এন’ শ্রেণী থেকে উন্নীত হয়েছে ‘এ’ শ্রেণীতে। আর কোনো কোম্পানির শ্রেণী পরিবর্তন হলে এসইসির নির্দেশ অনুযায়ী ৩০ কর্মদিবস পর্যন্ত ঋণসুবিধা পাওয়া যায় না।
একই দিন দুটি প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় এ কোম্পানিটির শেয়ার আগের দিনের চেয়ে ৩৩ টাকা কমে ৪২১ টাকা ৮০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। দরপতনের হার ছিল সাত শতাংশের বেশি।
বাজার পরিসংখ্যান: ডিএসইতে গতকাল এক হাজার ৯৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ২০৭ কোটি টাকা কম। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৯৫ কোটি টাকার মতো।
ডিএসইতে গতকাল ২৩৭টি কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৬৬টির, কমেছে ১৬৯টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে দুটি কোম্পানির শেয়ারের দর। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৫৮টি কোম্পানির। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৪০টির, কমেছে ১১৬টির ও অপরিবর্তিত ছিল দুটি কোম্পানির শেয়ার।

পুঁজিবাজারে সম্পৃক্ততা ব্যাংকের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে: আইএমএফ

বাংলাদেশের ব্যাংক খাত ক্রমেই প্রথাগত ব্যাংকিং কার্যক্রমের বাইরে তাদের কর্মকাণ্ড ও সম্পৃক্ততা বাড়াচ্ছে। ফলে এটি দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য বাড়তি ঝুঁকিও তৈরি করছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ: ফাইন্যান্সিয়াল সিস্টেম স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই মন্তব্য করা হয়েছে। চলতি মাসেই এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দেশের ব্যাংক তথা আর্থিক খাতের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়েছে। তুলে ধরা হয়েছে এই খাতের শক্তিমত্তা ও দুর্বলতার দিকগুলো। বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকিও পর্যালোচনা করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় প্রথাগত ব্যাংকিং কর্মকাণ্ডের বাইরের কার্যক্রম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। এর মানে হলো, নিয়ন্ত্রণমূলক কর্মকাণ্ডও জোরদার করা এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো ক্রমশই পুঁজিবাজারের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা জোরদার করছে। আর এই কাজটি হচ্ছে, হয় সরাসরি অথবা সহযোগী মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।
শেয়ারবাজারে পতন ঘটলে তা কোনো কোনো ব্যাংকের জন্য বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইএমএফের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশের ব্যাংকগুলো ক্ষুদ্রঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও সম্পৃক্ততা বাড়িয়েছে, যা আরেক ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
এতে বলা হয়েছে, সাধারণত ব্যাংকের জন্য যেসব কর্মকাণ্ড সংরক্ষিত, ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে সেসব এলাকাতেও কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ করছে। অথচ এখানে পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনাগত ও নিয়ন্ত্রণগত দিকের ঘাটতি রয়েছে।
আইএমএফ মনে করছে, এসব পরিবর্তন কিছুটা হলেও আর্থিক খাতের প্রবৃদ্ধি ও উদ্ভাবনী প্রবণতার প্রতিফলন। পাশাপাশি এগুলো করকাঠামো ও নিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামোর মধ্যে পার্থক্যেরও প্রতিফলন।
আইএমএফের প্রতিবেদনে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে, এসবের সম্মিলিত ফলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলধন ভিত্তিতে বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে, যা আবার অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিবেদনে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের নাজুকতার ওপরও আলোকপাত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সুদের হারসীমা বেঁধে দেওয়ার মতো সরকারের অবিচক্ষণ হস্তক্ষেপ এবং বিশেষ বিশেষ খাতে ঋণ প্রদানের নির্দেশনা ও ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া একাধারে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, স্বচ্ছতা হ্রাস করছে ও অদক্ষতা তৈরি করছে।
আইএমএফ সরকারি মালিকানাধীন এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোকে সবচেয়ে বেশি দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক যে দেশের ব্যাংকগুলোর ওপর ‘স্ট্রেস টেস্ট’ করেছে, তাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ-ঝুঁকিই সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বলে মনে করে আইএমএফ।
এ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণভাবে ব্যাংকগুলোর আর্থিক সূচক ইতিবাচক হলেও বড় ধরনের খেলাপি ঋণের কারণে বাণিজ্যিক ঋণ পরিস্থিতি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
আইএমএফ আরও বলেছে, দেশের সিকিউরিটিজ মার্কেট বা পুঁজিবাজার সাম্প্রতিক সময় উল্লেখযোগ্য হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও এখনো ছোট ও অনুন্নত।
এই বাজারে আইনি ও নিয়ন্ত্রণবিধির কর্মকাঠামো পর্যাপ্ত হলেও তা প্রয়োগে যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। এ জন্য অবশ্য প্রতিবেদনে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সীমাবদ্ধতাকে দায়ী করে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, একটি শক্তিশালী ঋণবাজার গড়ে তোলাও জরুরি। এ জন্য সরকারি বন্ডের বা ঋণপত্রগুলোর দ্বিতীয় স্তরের বাজার গঠন এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় করা জরুরি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৩ সাল থেকে নানা ধরনের সংস্কার কার্যক্রম শুরু করার ফলে বাংলাদেশের আর্থিক খাতের শক্তিমত্তা বেড়েছে। তারপরও নানা ধরনের দুর্বলতা ও নাজুকতা রয়ে গেছে।
আর তাই নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষকে আরও দক্ষ ও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন বলে অভিমত প্রকাশ করেছে আইএমএফ। এ জন্য কর্মরত ব্যক্তিদের উন্নতমানের প্রশিক্ষণ প্রদান করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি ব্যাংকের কর্মকাণ্ড কোন পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য তা সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা এবং শেয়ারবাজারের সম্পৃক্ততা বিবেচনায় নিয়ে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আইএমএফ ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা সুস্পষ্ট করারও আহ্বান জানিয়েছে। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটিকে (এমআরএ) অধিকতর ক্ষমতা প্রদান ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করে ক্ষুদ্রঋণ কর্মকাণ্ডে যথাযথ তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ওপরও জোর দিয়েছে আইএমএফ।

ফর্মুলা মেনে শেয়ারবাজার চলে না by আবু আহমেদ

সম্প্রতি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ঋণ নিয়ে শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে বলে দিয়েছে, যেসব স্টকের মূল্য-আয় (পি/ই) অনুপাত ৫০-এর ওপর, সেগুলোর ক্ষেত্রে ঋণ দেওয়া যাবে না। উদ্দেশ্য, শেয়ারমূল্য বেড়ে যাওয়ার গতি কিছুটা হলেও টেনে ধরা।
এই যিকঞ্চিত্ ঋণপ্রবাহ কমানোয় শেয়ারের মূল্য কমবে কি না জানি না, তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, কথিত এই মার্জিনসুবিধা কমানোর কোনো প্রভাব বাজারে পড়েনি। কিন্তু পি/ই অনুপাত বেঁধে দেওয়ার ফল হচ্ছে। অনেক বিনিয়োগকারী মনে করছেন, তাঁরা ওই পর্যন্ত শেয়ার কিনতে পারেন এবং তা ঋণ নিয়েও।
তবে এর অন্য ফল হচ্ছে, যেসব শেয়ারের পি/ই অনুপাত ৫০-এর অনেক নিচে ছিল, সেসব শেয়ারের মূল্য বেড়ে এখন পি/ই ৫০-এর দিকে ধাবিত হচ্ছে। আর যেসব শেয়ারের দর এর ওপরে ছিল, সেগুলোর মূল্য অতি ধীরে কমছে। অতি ধীরে কমছে এটা বলব না, তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দিকনির্দেশনা মানলে কমার কথা।
পি/ই অনুপাত ৫০ নির্ধারণ থেকে মনে হতে পারে, এই পর্যন্ত ঋণ নিয়ে শেয়ার কেনা নিরাপদ, এর ওপর কিনলে অনেক বিপদ। তবে এসইসি ঠিক এটাই বোঝাতে চেয়েছে, তা নয়। বরং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাড়তি স্তরকে নির্দেশ করে ঋণের প্রবাহকে কমিয়ে শেয়ারবাজারে তারল্যপ্রবাহকে কমাতে চেয়েছে যেন এতে শেয়ারের মূল্য পড়তির দিকে আসে!
এটা না করে বাজারের অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে মোট মার্জিনসুবিধার ওপরই একটা ছুরি চালানো যেতে পারত। তাতে পি/ই অনুপাতকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা থেকে বিনিয়োগকারীদের বাঁচানো যেত। দুর্বল শেয়ারের পি/ই অনুপাত অনেক কম থাকে। এখন কোনো অনভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী যদি মনে করেন, যেহেতু কোনো শেয়ারের পি/ই অনুপাত অনেক কম আছে, তাই ওই শেয়ার কেনা উচিত—সেটা কি সঠিক সিদ্ধান্ত হবে? কোনো অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী কখনোই পি/ই অনুপাত কোনো অভিন্ন মূল্যের শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে ব্যবহার করে না। পি/ই অনুপাত ৫০-এর বেশি হলে শেয়ার কেনা যাবে না, সেটা কোনো বিশেষজ্ঞ কোনো দিন বলবে না। আবার পি/ই অনুপাত ৫০-এর অনেক নিচে থাকলে যে শেয়ারটি সস্তা হবে তাও কোনো বিশেষজ্ঞ বলবে না।
শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে অনেক কৌশল কাজ করে। পোর্টফোলিও তৈরি বা শেয়ার দিয়ে সম্পদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে পি/ই অনুপাত একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তবে এটিই যদি একমাত্র উপাদান হতো, তাহলে তো সব কোম্পানির শেয়ারই একই মূল্য-আয় অনুপাতে বেচাকেনা হতো।
বিনিয়োগকারীদের চিন্তার ভিন্নতায় একজন বিনিয়োগকারী একটা পি/ই অনুপাতে একটা শেয়ার বিক্রি করছে, অন্য বিনিয়োগকারী আবার সেই অনুপাতে শেয়ারটা কিনে নিচ্ছে। শেয়ার কিনে সবাই কম-বেশি জিতে যাবে যতদিন বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকে। কিন্তু বাজার পড়তে থাকলে কতজন জিতে অথবা লোকসানের আঘাত থেকে সফলভাবে আত্মরক্ষা করতে পারে, সেটাই হলো বড় কৌশলের ব্যাপার।
এ জন্য আমি বিনিয়োগকারীদের অনুরোধ করব, উঠতি বাজারে অতি খুশি না হয়ে এসব ব্যাপারে কিছু পড়াশোনা করে নিতে। জানার কোনো বিকল্প নেই। তবে না জেনে শেয়ার কিনলে যে ভুল হয়, তা পরিণামে বিনিয়োগকারীকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে। অন্যদিকে আজকের রমরমা বাজারে অনেক উদ্যোক্তা শেয়ার বেচতে এগিয়ে আসবে। আমি নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করব, তাদের এসব শেয়ার তারা স্বাভাবিক বাজারে বর্তমানের মূল্যে বেচতে পারত কি না, তা দেখার জন্য।
লেখক: অর্থনীতিবিদ।

টেস্ট ছাড়ছেন লি

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার প্রলম্বিত করতে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছেন ব্রেট লি। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী শুক্রবার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তও জানিয়ে দেবেন বলে অস্ট্রেলিয়ার এক পত্রিকার খবর।

রোনালদোর অবসর-ভাবনা

আগামী বছরের শেষে পেশাদার ফুটবল থেকে অবসর নেবেন ব্রাজিলের রোনালদো। দুটি বিশ্বকাপজয়ী এই স্ট্রাইকার কাল সাও পাওলোয় তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। এ বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপও যে খেলতে চান, জানিয়েছেন সেটিও, ‘এখনো (বিশ্বকাপ খেলার) সম্ভাবনা আছে আমার।’

ক্লাব কাপ হকি শুরু ২৭ ফেব্রুয়ারি

দক্ষিণ এশীয় গেমসের আগেই শুরু হওয়ার কথা ছিল হকি লিগ। কিন্তু খেলোয়াড়দের ইউরোপ সফর এবং নানা জটিলতার কারণে যেটি পিছিয়ে এসএ গেমসের পর শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। অবশেষে ক্লাব কাপ দিয়ে শুরু হচ্ছে ঘরোয়া হকি।
আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে ক্লাব কাপ। এটি শেষ হওয়ার তিন দিন পরই শুরু হবে হকি লিগ। কাল লিগ কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন লিগ কমিটির চেয়ারম্যান আনভির আদিল খান।
এবার খুব দ্রুতই লিগ শেষ করার চিন্তাভাবনা করছেন ফেডারেশন-কর্তারা। যে জন্য খেলা চলতে পারে একটানা। সভায় বিদেশি খেলোয়াড়দের নিবন্ধনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৮-৯ মার্চ। এবার প্রতিটি ক্লাব সর্বোচ্চ ৫ জন বিদেশি খেলোয়াড় নিতে পারবে। পুলের খেলোয়াড়দের দলবদলও হবে এই দু দিন।

আন্তর্জাতিক জুনিয়র টেনিস

ইউসিবি আন্তর্জাতিক জুনিয়র টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম রাউন্ডেই দর্শক হয়ে গেল বাংলাদেশ। কাল বালক এককে ভারতের রোহান বাথিয়া রাইসুল ইসলামকে, মালয়েশিয়ার কু ইয়াং ইয়াং মোফাজ্জল হোসেনকে, চীনের সিং বাং ইসমাইল হোসেনকে, চীনা তাইপের চিং হুসু আবু সাইদ সালমানিকে, ভারতের সনম পুনসক তাহসিন আজমেকে এবং বালিকা এককে ভারতের সঞ্চিতা মালিথা হারিয়েছে সারদা শারমিনকে।

ওয়ানডে ম্যাচ কমাতে বলছেন পন্টিং

ঘিঞ্জি ক্রিকেটসূচি নিঃশেষ করে দিচ্ছে—ক্রিকেটাররা মাঝেমধ্যেই এটা বলছেন। এর সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করলেন রিকি পন্টিংও। সতীর্থ পিটার সিডল, বেন হিলফেনহস, ব্রেট লি, স্টুয়ার্ট ক্লার্ক, নাথান ব্র্যাকেনের ইনজুরির দিকে তাকিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট প্রশাসকদের কাছে একটা আবেদনও জানালেন অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক, ‘খেলাটার বৃহত্তর স্বার্থেই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার উচিত এখন এক গ্রীষ্মে যত ওয়ানডে ম্যাচ হয়, সেটা অর্ধেকে কমিয়ে আনা।’
চলতি গ্রীষ্মে ১০টি ওয়ানডে খেলেছে অস্ট্রেলিয়া। পরের গ্রীষ্মের যে সূচি সম্প্রতি প্রকাশ করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ), তাতেও রয়েছে ১০টি একদিনের ম্যাচ।
‘২০১৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপ হবে অস্ট্রেলিয়ায়, খেলাটার সর্বোচ্চ প্রসারের জন্য সম্ভাব্য সেরা পদ্ধতিতেই কাজ করতে হবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এই বিশ্বকাপই যে এখনো সেরা আকর্ষণ, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এর অর্থ এই নয় যে, এক গ্রীষ্মেই ১০টি ওয়ানডে খেলতে হবে আপনাকে। পাঁচটি ওয়ানডে কি খেলা যায় না? আমি মনে করি না এটা খুব বড় ব্যবধান গড়ে দেবে’—ওয়ানডে কমিয়ে আনার পক্ষে যুক্তি পন্টিংয়ের।
অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া বিগ ব্যাশ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ হওয়া উচিত বলেও মনে করেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট অধিনায়ক। আর এর পেছনে পন্টিংয়ের যুক্তি, এতে বেশি বেশি দর্শক আসবে মাঠে।
এদিকে আইপিএলের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার জন্য অস্ট্রেলিয়ার আইপিএল ক্রিকেটাররা আজ অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এসিএ) সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। ৩১৩ ব্রিগেড এবং আল-কায়েদা হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই নিরাপত্তা পরামর্শক রেগ ডিকাসন ভারতে আইপিএল না খেলতে পরামর্শ দিয়েছেন এসিএকে।

তেভেজের ওপর চটেছেন মানচিনি

রবার্তো মানচিনির মন-মেজাজ খুবই খারাপ। গত সপ্তাহেই তাঁর দল ম্যানচেস্টার সিটি এফএ কাপে ঘরের মাঠে ড্র করেছে স্টোক সিটির সঙ্গে। গত পরশু আবারও ড্র, এবারও লিগে ঘরের মাঠে লিভারপুলের বিপক্ষে। টানা ড্রয়ে হতাশ মানচিনির সব ক্ষোভ গিয়ে পড়েছে কার্লোস তেভেজের ওপর। খেপার যৌক্তিক কারণও আছে। না, গোলটোল মিস করেননি আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার। মিস করবেন কীভাবে, তিনি তো খেলেনইনি। ক্লাবের দুঃসময়ে ‘এল অ্যাপাচে’ বসে আছেন কি না আর্জেন্টিনায়!
তেভেজ আর্জেন্টিনা গিয়েছেন এক সপ্তাহেরও বেশি। নির্ধারিত সময়ের মাসখানেক আগেই সন্তান জন্ম দিয়েছেন তাঁর বান্ধবী, তড়িঘড়ি করেই তাই যেতে হয়েছে। এ পর্যন্ত ঠিকই ছিল, কিন্তু বান্ধবী এবং সদ্যোজাত বাচ্চা পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পরও তেভেজের ফেরার নাম নেই। এদিকে এ সপ্তাহেই এফএ কাপে স্টোক এবং এর পরই চেলসির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ দুটি ম্যাচ। ক্লাবে ফেরার জন্য তাঁকে ফোনও করা হয়েছিল, কিন্তু তাতেও নাকি সাড়া দেননি। মানচিনি তাই একই সঙ্গে বিরক্ত ও চিন্তিত, ‘সে এখনো আর্জেন্টিনায় এবং এটা আমাদের জন্য বড় একটা সমস্যা। আট দিন আগে সে গিয়েছে, কিন্তু ফেরার নাম নেই। আমি নিজে তাকে বলেছি ফিরে আসতে, কিন্তু তাতেও পাত্তা দেয়নি। আশা করি দু-একদিনের মধ্যেই সে ফিরে আসবে, কারণ তাকে আমাদের ভীষণ প্রয়োজন।’
ম্যান সিটি থেকে ধারে সান্তোসে খেলতে গিয়েছেন রবিনহো, হাঁটুর ইনজুরিতে বাইরে আরেক স্ট্রাইকার রক সান্তাক্রুজ। তেভেজও নেই, স্ট্রাইকার বলতে মানচিনির হাতে কেবল ইমানুয়েল আদেবায়োর। মানচিনি কি আর এমনিই খেপেছেন? এএফপি।

মাঠের ক্রিকেট নিয়ে বোর্ডসভা আজ

ক্রিকেট বোর্ডের সভায় ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাহী কমিটির সভার আলোচ্যসূচির বেশির ভাগ জুড়ে কেবল মাঠের ক্রিকেট থাকাটা বোধ হয় এবারই প্রথম। বিসিবি কার্যালয়ে এ সভা শুরু হবে আজ বেলা সাড়ে ১১টায়।
বিসিবির সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে জাতীয় দল, অনূর্ধ্ব-১৯ দল ও এসএ গেমসে সোনাজয়ী অনূর্ধ্ব-২১ দলের কোচ-অধিনায়ক ও টিম ম্যানেজমেন্ট সদস্যদের। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে কেন শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ বাংলাদেশ, সেটার ব্যাখ্যা চাওয়া হবে দলের কোচ-অধিনায়কের কাছে। আলোচনা হবে নিউজিল্যান্ড সফরে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স নিয়েও। এসএ গেমস ক্রিকেটে প্রথমবারেই সোনাজয়ী দলকে জানানো হবে অভিনন্দন। বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস জানিয়েছেন, ‘জাতীয় দল, অনূর্ধ-১৯ দল আর এসএ গেমসে সোনাজয়ী দলের অধিনায়ক আর টিম ম্যানেজমেন্টকে তাদের সাফল্য-ব্যর্থতা সম্পর্কে জানাতে এই সভায় ডাকা হয়েছে।’
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আজকের সভায় আলোচনা-সিদ্ধান্ত হতে পারে জাতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্টে পরিবর্তন আর বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ নিয়েও। আগামী ৩১ মার্চ চুক্তি শেষ হতে চলা দুই শ্রীলঙ্কান কোচ চম্পকা রমানায়েকে ও রুয়ান কালপাগে কেউই নাকি বিসিবির সঙ্গে নতুন করে চুক্তিবদ্ধ হতে চান না। এ অবস্থায় পরবর্তী করণীয় ঠিক হতে পারে আজ। আলোচনা হবে ফিল্ডিং কোচ হিসেবে মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে ফিরিয়ে আনা, ৩১ মার্চের পর নতুন টিম অপারেশনস ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও। বর্তমান ম্যানেজার জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক শফিকুল হকের মেয়াদও শেষ হয়ে যাবে আগামী ৩১ মার্চ।
অনেক দিন ধরেই ঝুলে থাকা বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের ব্যাপারটিও আছে আজ আলোচ্যসূচিতে। এটা অবশ্য নতুন কিছু নয়। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগসংক্রান্ত আলোচনা বোর্ড কর্মকর্তারা প্রায়ই বেশ উত্সাহ নিয়ে করেন। নিয়োগপ্রক্রিয়ার পেছনে খরচও এর মধ্যে যথেষ্টই করেছেন তাঁরা। তবে ফলাফল নিয়মিতই শূন্য।

ব্যাডমিন্টনের পর উশু, এবার কোনটি

ভেঙে দেওয়া হলো ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটি। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন ১৯৭৪-এর ২০এ (বি) ধারা অনুসারে ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ কার্যনির্বাহী কমিটি বাতিল করে গঠন করা হয়েছে ২৮ সদস্যের অস্থায়ী কমিটি। সভাপতি পদে অবশ্য কোনো রদবদল হয়নি, আছেন রুবাবা দৌলাই। সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে সাবেক ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়, বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা মাহবুবুর রবকে।
কমিটি ভেঙে দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সচিব শফিক আনোয়ার স্বাক্ষরিত সেই প্রজ্ঞাপন সব জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক বরাবর ওই তারিখেই দেওয়ার কথা থাকলেও সেটি পাওয়া গেল গতকাল। প্রজ্ঞাপন যেমন দেরিতে এসেছে, ঠিক তেমন করেই পুরোনো কমিটি তাদের দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিতে গড়িমসি করছে। যে জন্য আসন্ন ইন্দো-বাংলা গেমসের জন্য খেলোয়াড়দের প্রস্তুতিও শুরু করতে দেরি করছে নতুন কমিটি।
ব্যাডমিন্টনের নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল গত ৬ ফেব্রুয়ারি। এত তাড়াতাড়ি এই কমিটি ভেঙে দেওয়া হবে সেটা হয়তো ভাবতেই পারেননি পুরোনো কমিটির কর্মকর্তারা। আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক জোবায়দুর রহমান ব্যাপারটিকে ‘অগণতান্ত্রিক’ আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদও জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ—এই কমিটির বেশির ভাগ ব্যক্তিই অদক্ষ ও অযোগ্য। তবে এই অভিযোগ মানতে রাজি নন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর। জাতীয় পর্যায়ে দুবার ত্রিমুকুটজয়ী এই খেলোয়াড় কাল জানালেন, ‘আগের কমিটির সবাই আমার শ্রদ্ধেয়। উনাদের সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এই কমিটিতে অবশ্যই যোগ্য লোক স্থান পেয়েছে। সৈয়দা মরিয়ম তারেক, মনোয়ার আলমের মতো লোক আছেন যাঁরা জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব।’ নিজের ব্যাপারে বললেন, ‘সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা নেই, এটা সত্যি। কিন্তু আমি অনেক দিন ধরে ব্যাডমিন্টন খেলেছি। তা ছাড়া আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাকরি করলেও বিকেএসপি, জাতীয় ক্রীড়া পরিদপ্তর, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অনেক প্রকল্প বাস্তবায়নে আমার অবদান আছে।’ সামনের দিকেই তাকাচ্ছেন নতুন সাধারণ সম্পাদক, ‘স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে চাই ব্যাডমিন্টনে। খেলোয়াড়দের মান উন্নয়নই আমার প্রধান লক্ষ্য। এ ছাড়া সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝেও ব্যাডমিন্টন ছড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা আছে। তবে আসল কথা, কাজেই প্রমাণ করব আমি কী।’
ইন্দো-বাংলা গেমসের জন্য অনতিবিলম্বে খেলোয়াড়দের অনুশীলন শুরু করার প্রত্যয় জানিয়ে, আশা প্রকাশ করেছেন, খুব তাড়াতাড়িই আগের কমিটি দায়িত্ব বুঝিয়ে দেবে।
এসএ গেমসের সাফল্য-ব্যর্থতার পর্যালোচনার পর স্টেডিয়াম পাড়ায় অনেক দিন ধরেই আলোচনা চলে আসছে যে অনেকগুলো কমিটিই ভেঙে যেতে পারে। কাল যেমন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হলো, ভেঙে দেওয়া হলো উশু ফেডারেশনের অস্থায়ী কমিটি। এরই মধ্যে মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে জিমন্যাসটিকস, তায়কোয়ান্দো, খো খো, ক্যারম ফেডারেশন ও সাইক্লিং ফেডারেশনের নির্বাচিত কমিটির। রোলার স্কেটিং ফেডারেশনের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, অচিরেই ভেঙে দেওয়া হবে সাইক্লিং ফেডারেশন। এসএ গেমসের ‘ধাক্কা-কেলেঙ্কারি’ই এ ক্ষেত্রে প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে বলে জানালেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের এক কর্মকর্তা।