Saturday, October 25, 2025
ইসরায়েলের বয়ান আর খাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্রের তরুণেরা by জামাল কান্জ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন সাধারণ মিডিয়ার গৎবাঁধা দৃষ্টিভঙ্গি উড়িয়ে দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেই সত্যগুলো প্রকাশ করেছে, যা আগে দীর্ঘদিন ধরে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। সাধারণ ‘মূলধারার’ সংবাদমাধ্যমে আগে ইসরায়েলকে আক্রমণের শিকার ও ফিলিস্তিনকে আক্রমণকারী হিসেবে দেখানো হতো।
আমেরিকানদের এই জনমতের পরিবর্তনকে প্রথম দিকে অনলাইনে সক্রিয় অল্প কিছু কিশোরের ‘ক্ষণস্থায়ী রোগের’ ফল সাব্যস্ত করে উপেক্ষা করা হয়েছিল। কিছু জায়নবাদী নেতা এটিকে একেবারেই পাত্তা দেননি, কারণ তাঁরা পশ্চিমা মিডিয়ায় দীর্ঘদিনের প্রভাবের কারণে মাত্রাতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তাঁরা ভেবেছিলেন, প্রচলিত মিডিয়া ও নির্বাচিত কর্মকর্তাদের যেহেতু তাঁরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছেন, সেহেতু জনগণের মতামত কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। তাঁরা ভেবেছিলেন, তাঁদের ‘সুপরিকল্পিত’ প্রোপাগান্ডা বরাবরের মতোই মানুষকে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গির দিকে ঠিকই ঘুরিয়ে আনতে পারবে।
কিন্তু এবার তাঁরা বুঝতে পারলেন, কিছু বিষয় মৌলিকভাবে একেবারে বদলে গেছে। মানুষ এখন সরাসরি ফিল্টারবিহীন ছবি, প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা এবং গাজা থেকে আসা কণ্ঠ শুনতে পারছে। কোনো ধরনের প্রচার এগুলোকে মুছে দিতে পারবে না।
নতুন জরিপগুলো দেখাচ্ছে, এই পরিবর্তন কতটা গভীর। কুইনিপিয়াক এবং নিউইয়র্ক টাইমসের নতুন জরিপের তথ্য উল্লেখ করে সিএনএনের প্রধান তথ্য বিশ্লেষক হ্যারি এন্টেন বলেছেন, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ভোটাররা +৪৮ পয়েন্টে ইসরায়েলের পাশে ছিলেন। অর্থাৎ ইসরায়েলকে সমর্থন করা ভোটারদের সংখ্যা ফিলিস্তিনকে সমর্থন করা ভোটারের তুলনায় ৪৮ পয়েন্ট বেশি ছিল। কিন্তু এখন একই জরিপে দেখা গেছে, ভোটাররা ফিলিস্তিনকে +১ পয়েন্টে সমর্থন করছেন। অর্থাৎ এবার ফিলিস্তিন সামান্য হলেও এগিয়ে আছে। তিনি বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জনমত জরিপে ইসরায়েলের চেয়ে ফিলিস্তিনের এগিয়ে থাকার এটিই প্রথম ঘটনা।
এই পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে। দুই বছর আগে ডেমোক্র্যাট ভোটাররা +২৬ পয়েন্টে ইসরায়েলের পাশে ছিলেন। অর্থাৎ ইসরায়েল সমর্থনকারী ডেমোক্র্যাটরা ফিলিস্তিন সমর্থকদের তুলনায় ২৬ পয়েন্ট বেশি ছিলেন। এখন একই ডেমোক্র্যাট ভোটাররা +৪৬ পয়েন্টে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান করছেন। অর্থাৎ তাঁরা এখন ফিলিস্তিনকে সমর্থন করছেন এবং সেই সমর্থন ইসরায়েল সমর্থনের তুলনায় ৪৬ পয়েন্ট বেশি।
মাত্র দুই বছরে অবস্থান উল্টে গেছে ৭২ পয়েন্টে। অর্থাৎ, যাঁরা আগে ইসরায়েলের পক্ষে ছিলেন, তাঁরা এখন একই মাত্রায় ফিলিস্তিনের পক্ষে চলে গেছেন। যেন পাল্লাটা সম্পূর্ণ উল্টে গেছে।
অন্যদিকে, রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে বয়সভিত্তিক ফারাক দেখা যাচ্ছে। ৫০ বছরের কম বয়সী ভোটাররা ইসরায়েলকে অনেক কম সমর্থন করছেন। তবে বয়স্ক ভোটাররা এখনো তুলনামূলকভাবে বেশি সমর্থন দেখাচ্ছেন।
যাঁরা জনমত নিয়ন্ত্রণের নকশা করেছেন, তাঁরা বুঝতে পারেননি, এই পরিবর্তন সাময়িক নয়। এটি প্রজন্মগত এবং নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাস্তবভিত্তিক।
তরুণ আমেরিকানরা ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে নিরপেক্ষ চোখ থেকে দেখছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে পশ্চিমা রাজনীতিতে ইসরায়েলকে ভিকটিম হিসেবে দেখানোর যে ধারা চলে এসেছে, সেই ধারাকে অন্ধের মতো মেনে নেওয়া এখনকার প্রজন্মের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
তাঁরা এমন একটি বৈশ্বিক প্রজন্মের অংশ, যাঁরা দুটো-পাঁচটি নিউজের রুটিন বা শীতল যুদ্ধ দেখে বড় হননি। তাঁদের জন্য তথ্যের উৎস এখন অবাধ। রিয়েল-টাইম ভিডিও এখন প্রচলিত মিডিয়ার বাঁধাধরা বার্তাকে বাইপাস করছে।
ইসরায়েল যখন আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের গাজায় প্রবেশে বাধা দিল, তখন তা অজান্তে বিকল্প সংবাদ চাহিদাকে বাড়িয়ে দিল। সোশ্যাল মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ একটি স্বাধীন উৎস হয়ে উঠল। এটি একধরনের সমতার ভূমিকা রাখল। এর মাধ্যমে সেই সব নৃশংসতা প্রকাশ পেল যা আগে পুরোনো মিডিয়া নেটওয়ার্কগুলো ফিল্টার করে চাপা দিয়ে দিত।
সোশ্যাল মিডিয়া লাখ লাখ মানুষকে যুদ্ধাপরাধ দেখার সুযোগ করে দিল। তারা ছবিগুলো দেখল কোম্পানির চোখে নয়, ভুক্তভোগীর চোখে। এটি ৭৭ বছরের জন্য ইসরায়েলকে জবাবদিহি থেকে রেহাই দেওয়া ভাষ্যের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণকে ভেঙে দিল। ধ্বংসপ্রাপ্ত হাসপাতাল, পাড়া-মহল্লা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং অনাহারী শিশুদের ‘র ফুটেজ’ বিশ্বজনমনে পরিবর্তন এনেছে।
এসব ফুটেজই কেন ইসরায়েল স্থানীয় সাংবাদিকদের হত্যা করেছে এবং কেন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে গাজায় ঢুকতে দিচ্ছিল না, তার প্রকৃত কারণ দেখিয়ে দিয়েছে।
জনমতের এই পরিবর্তনই ব্যাখ্যা দেয় কেন আমেরিকার জায়নবাদীরা এখন আরও আক্রমণাত্মকভাবে প্রচলিত এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। ফিলিস্তিনিদের প্রতি জনগণের সহানুভূতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, ইসরায়েল ও তার মিত্ররা বারবার কাহিনি বানানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা ‘গল্প পরিবর্তন’ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ করছে যাতে তারা বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যমে তাদের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারে।
জ্যাকি ও জেফ কার্শ নামে দুজন ধনী জায়নবাদী ২০২৫ সালে একটা নতুন ‘জার্নালিজম ফেলোশিপ’ শুরু করেছেন। বাইরে থেকে এটা সাংবাদিকতার ট্রেনিং প্রোগ্রাম বলে দাবি করা হলেও, এর উদ্দেশ্য হলো ইসরায়েলের পক্ষে গল্প বদলে দেওয়া, অর্থাৎ মিডিয়ার বয়ানকে আবার ইসরায়েলপন্থী করে তোলা।
এটির বিজ্ঞাপনেও বলা হয়েছে, ‘শুধু ইহুদিদের নিয়ে বিশ্বের একমাত্র ফেলোশিপ’। এই প্রোগ্রামের মেন্টরের তালিকায় আছে সিএনএন ও নিউইয়র্ক টাইমসের ইসরায়েলপন্থী সাংবাদিকেরা (যেমন ভ্যান জোনস, জোডি রুডোরেন, শারন ওটারম্যান)।
তাঁরা বাইরে থেকে ‘স্বাধীন সাংবাদিকতা’ নামের মোড়ক লাগালেও, ভেতরে আসলে এটি একটি বড়সড় প্রোপাগান্ডা প্রকল্প। এর লক্ষ্য ইসরায়েলের ভাবমূর্তি রক্ষা ও পুনর্গঠন করা। অর্থাৎ প্রোপাগান্ডাকে সাংবাদিকতার পোশাক পরিয়ে আবার মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা।
তবে গাজার বাস্তবতা আনফিল্টার করা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী পৌঁছে যাচ্ছে। জনমত এমনভাবে বদলাচ্ছে যে কোনো নিয়ন্ত্রিত কাহিনি তা আটকাতে পারছে না। কোনো মিডিয়া ইঞ্জিনিয়ারিং যুদ্ধাপরাধ ঢাকতে পারবে না। সোশ্যাল মিডিয়া ইসরায়েলের ভেজালি নৈতিক ছদ্মবেশ ভেঙে দিয়েছে। কোনো বিলিয়নিয়ার তহবিল, কোনো কংগ্রেসে নেতানিয়াহুর জন্য দাঁড়িয়ে প্রশংসা—কিছুই মুছে দিতে পারবে না, যা মানুষ দেখেছে। যে মিথ অনেক বছর ধরে দখল এবং ইহুদি বর্ণবৈষম্যকে টিকিয়ে রেখেছিল, সেই মিথ নিয়ে মানুষ এখন প্রশ্ন তোলা শুরু করেছে।
এই সচেতনতার রাজনৈতিক প্রভাব ওয়াশিংটনকে ধীরে ধীরে অস্থির করে তুলছে। আগে যেখানে ইসরায়েলের বিষয়ে দুই দলীয় সমঝোতা অটুট ছিল, এখন সেখানে দৃশ্যমান ফাটল দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যে মতভেদ বেড়ে চলেছে।
দুই বছর আগে, আমি কল্পনাও করতে পারতাম না, প্রার্থীর পক্ষ থেকে এমন টেক্সট বার্তা পাব যেখানে তাঁরা আইপ্যাকের তহবিল গ্রহণ না করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এমনকি কংগ্রেসের হলগুলোতেও, যেখানে আগে আইপ্যাক কোনো ভিন্নমতকে চুপ করিয়ে দিত, সেখানে এখন ধীর ধীরে একটি নীরব বিদ্রোহ গড়ে উঠছে।
যাঁরা আগে ‘ফিলিস্তিন’ শব্দ উচ্চারণ করতে দ্বিধা করতেন, তাঁরা এখন এটি নৈতিকতার একটি মান হিসেবে উল্লেখ করছেন। আইপ্যাক এবং ইসরায়েলের নীতির প্রশ্ন করা এখন মূলধারার রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে গেছে।
শেষ পর্যন্ত, এই প্রজন্মগত বিভাজনে দেখা যাচ্ছে সেই ভয়ের ক্ষয়, যা আগে অনেককে ভীত করত। কথা বলার ভয়, তহবিল হারানোর ভয় বা অ্যান্টিসেমিটিক হিসেবে দাগা খাওয়ার ভয় এখন কমে আসছে। এর পরিবর্তে উঠে আসছে দৃঢ় বিশ্বাস। তরুণ আমেরিকানরা সত্য ও নৈতিক স্পষ্টতা নিয়ে আসছেন। ইসরায়েলকে ইহুদিদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে এক কাতারে মিলিয়ে দেওয়া ধারণাকে কারা প্রত্যাখ্যান করছেন।
* জামাল কান্জ, লেখক ও বুদ্ধিজীবী। তিনি নিয়মিত আরব বিশ্বের বিষয় নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কলাম লেখেন
- কাউন্টার পাঞ্চ থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
![]() |
| ইসরায়েল ও ইউক্রেনের জন্য মার্কিন সিনেটে সহায়তা তহবিল পাসের শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। তাঁর পেছনে হাতে লাল রং করে (রক্তের প্রতীক) প্রতিবাদে শামিল হন কয়েকজন যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভাকারী। ফাইল ছবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জোহরানকে ঘায়েল করতে ‘মুসলিম’ পরিচয় সামনে আনছেন বিরোধীরা, কীভাবে জবাব দিচ্ছেন তিনি
গতকাল শুক্রবার নগরের ব্রঙ্কস এলাকার একটি মসজিদের বাইরে দাঁড়িয়ে জোহরান বিরোধীদের সমালোচনা করেন। তাঁর ভাষায়, তাঁরা ‘ঘৃণাকে সামনে নিয়ে আসছেন’। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাঁদের এই ইসলামভীতি শুধু মেয়র পদে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিসেবে তাঁকেই আঘাত করছে না। বরং নিউইয়র্কে বসবাসরত প্রায় ১০ লাখ মুসলিমের আবেগেও আঘাত করছে।
৪ নভেম্বর মেয়র নির্বাচনের দুই সপ্তাহের কম সময় আগে দেওয়া বক্তৃতায় জোহরান বলেন, নিউইয়র্কে একজন মুসলিমের জীবন মানেই অসম্মান বা অমর্যাদা মেনে নেওয়া। তবে এই অসম্মান কেবল আমাদের একার নয়। নিউইয়র্কের বহু মানুষই এর শিকার। আমরা এই অসম্মানকে কতটা সহ্য করে নিই, সেটিই আসল পার্থক্য তৈরি করে দেয়।
বর্তমানে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার সদস্য জোহরান জানান, তিনি তাঁর নির্বাচনী প্রচারের মূল বার্তা অর্থাৎ জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দিকে মনোযোগ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি তাঁর প্রতিপক্ষরা দেখিয়ে দিয়েছেন, ‘ইসলামভীতি এখন তাঁদের মধ্যে একমত হওয়ার অন্যতম জায়গা হয়ে উঠেছে।’
নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী নিউইয়র্ক রাজ্যের সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোকে জড়িয়ে একটি প্রশ্ন করার একদিন পর জোহরান এই বক্তব্য দিলেন। রেডিও সঞ্চালক সিড রোজেনবার্গ অনুষ্ঠানে কুমোকে নিয়ে এক অনুষ্ঠানে বলেন, আরেকটি ৯/১১ হামলা হলে জোহরান ‘উল্লাস’ করবেন। তাঁর কথা শুনে কুমো হেসে ওঠেন
ডেমোক্রেটিক দলের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও জুনে দলীয় প্রাইমারিতে জোহরানের কাছে হেরে যাওয়া কুমো রেডিওর সঞ্চালক রোজেনবার্গের কথায় সায় দিয়ে বলেন, ‘সেটিও আরেকটি সমস্যা।’
মুসলিমদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘সিএআইআর অ্যাকশন’–এর নির্বাহী পরিচালক বাসিম এলকারা রেডিও অনুষ্ঠানে কুমোর এই আচরণকে ‘ঘৃণ্য, বিপজ্জনক ও অযোগ্য’ বলে আখ্যা দেন।
এলকারা বলেন, ‘একজন বর্ণবাদী রেডিও সঞ্চালকের কথায় সম্মতি দিয়ে কুমো নৈতিকতার সীমা পেরিয়ে গেছেন। ওই সঞ্চালক ইঙ্গিত করেছেন, একজন মুসলিম নির্বাচিত কর্মকর্তা আরেকটি ৯/১১-এ “উল্লাস” করবেন।’
এলকারা আরও যোগ করেন, ‘এ ধরনের প্ল্যাটফর্মে এমন বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে কুমো তাঁর নেতৃত্বের আসল রূপ দেখিয়ে দিয়েছেন। তিনি এমন একজন নেতা যিনি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার চেয়ে বরং ভয় ছড়াতেই বেশি আগ্রহী।’
গতকাল শুক্রবার জোহরান আরও বলেন, ‘রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া তাঁকে বিতর্কের মঞ্চে “কলঙ্কিত” করেছেন। স্লিওয়া দাবি করেছিলেন, আমি বিশ্বব্যাপী জিহাদকে সমর্থন করি। এ ছাড়া কিছু সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছে—আমি একজন সন্ত্রাসী, অথবা তারা আমার খাওয়ার ভঙ্গি নিয়ে উপহাস করেছে।’
জোহরান নিজের পুরোনো কষ্টের স্মৃতিও তুলে ধরেন—তাঁর এক খালা যিনি ৯/১১-এর পর হিজাব পরে আর নিরাপদ বোধ করতেন না বলে সাবওয়েতে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিলেন এবং তাঁর এক কর্মীর গ্যারেজে ‘সন্ত্রাসী’ শব্দটি স্প্রে করে লেখা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, তাঁকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, নির্বাচনে জিততে চাইলে যেন তিনি মানুষকে ‘বলতে না যান’ যে তিনি মুসলিম।
আগাম ভোটের প্রাক্কালে শীর্ষ ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন
শুক্রবার সকালেই জোহরান মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিজের কাছ থেকে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সমর্থন পেয়েছেন। জেফ্রিজ নিউইয়র্কের অষ্টম কংগ্রেশনাল আসন (ব্রুকলিনের ইস্ট ফ্ল্যাটবুশ, কনি আইল্যান্ড এবং ব্রাউনসভিল এলাকা অন্তর্ভুক্ত) থেকে নির্বাচিত সদস্য।
জোহরান নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হচুল, কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-করতেজ এবং স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের মতো শীর্ষ ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন পেয়েছেন, তবুও স্পষ্টভাষী ফিলিস্তিনপন্থী এই প্রার্থী সিনেটর চাক শুমারের মতো নিউইয়র্ক শীর্ষ ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন পাননি।
ডেমোক্রেটিক দলের কিছু প্রভাবশালী নেতার দ্বিধা সত্ত্বেও গত জুনে অনুষ্ঠিত দলের প্রাথমিক বাছাইয়ে জোহরান বিপুল ভোটে জয়ী হন।
নিউইয়র্ক নগরের বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামস দুর্নীতির অভিযোগের কারণে দলীয় মনোনয়ন পাননি। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও পরে প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ান। প্রথমে কাউকে সমর্থন না দিলেও চলতি সপ্তাহে আরেক স্বতন্ত্রপ্রার্থী কুমোর প্রতি সমর্থন জানান। তবে ভোটের ব্যালটে তাঁর নাম থাকবে।
এএআরপি ও গোথা পোলিং অ্যান্ড অ্যানালিটিকসের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যায়, জোহরান ৪৩ দশমিক ২ শতাংশ ভোটারের সমর্থন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে আছেন।
২৮ দশমিক ৯ শতাংশ জনসমর্থন নিয়ে জোহরানের পেছনে আছেন স্বতন্ত্রপ্রার্থী কুমো এবং ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ জনসমর্থন নিয়ে রিপাবলিকান স্লিওয়া। অন্যদিকে ৮ শতাংশ ৪ শতাংশ ভোটার হয় সিদ্ধান্ত নেননি বা অন্য প্রার্থীকে বেছে নিতে চান বলে জানিয়েছেন।
একই জরিপে দেখা গেছে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটারের কাছে জীবনযাত্রার খরচ ছিল প্রধান উদ্বেগের বিষয়। পাশাপাশি জননিরাপত্তা এবং সাশ্রয়ী আবাসন নিয়েও ভোটারদের চিন্তা রয়েছে।
| মেয়র প্রার্থী জোহরান মামদানি। ছবি–এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অভ্যুত্থানের পর যে রূপ নেয় গণভবনের অন্দরমহল by মানসুরা হোসাইন
গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টানা দেড় দশকের আবাসস্থল গণভবনে গত ২ জুন গিয়ে এই চিত্র দেখা যায়। তীব্র গণবিক্ষোভের মুখে শেখ হাসিনা গত বছর ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর গণভবনে ঢোকে জনতার স্রোত। বিপুলসংখ্যক মানুষ বিশাল আয়তনের গণভবনে ইচ্ছেমতো ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। ভাঙচুরে অনেকটা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন। সেই সঙ্গে চলে লুটপাট। সেদিন লোকজন গুরুত্বপূর্ণ নথি থেকে শুরু করে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যবহৃত শাড়ি, তৈজসপত্র, পুকুরের মাছ, রান্না করা খাবার—সবই লুট করে নিয়ে যায়।
এই গণভবনকে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর করছে অন্তর্বর্তী সরকার। জুলাই–আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তির দিন গত ৫ আগস্ট গণভবনে জাদুঘর তৈরির কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। জাদুঘরটি এখনো সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ গণভবনের দায়িত্ব নিয়ে জাদুঘর তৈরির কাজ এগিয়ে নেওয়ায় সেখানে সাধারণের প্রবেশের সুযোগও গত কয়েক মাসে ছিল না।
এর মধ্যে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর অনুমতি নিয়ে গত ২ জুন গণভবনে ঢোকার সুযোগ পাওয়া যায়। সর্বশেষ দেখা সেই চিত্রই এখানে তুলে ধরা হয়েছে। গণভবনে তখন বিদ্যুৎ ছিল না। সেখানকার সুইচ বোর্ড পর্যন্ত উপড়ে ফেলা হয়েছিল। ভবনের অনেকগুলো কক্ষে ছিল ঘুটঘুটে অন্ধকার। বড় করে গণভবন লেখা বোর্ডটিও কেউ একজন সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন।
সেদিন গণভবনের ভেতরে দেখা যায়, শেখ হাসিনার চিকিৎসা–সংক্রান্ত এক্স-রে ফিল্ম, এক্সক্লুসিভ সিরিজের স্টারলিং হাই কোয়ালিটি শটগান শেলের প্যাকেট, কোভিড–১৯–এর পরীক্ষার কার্ড, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধনের আমন্ত্রণপত্র, জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা ২০২৪ এর রসিদ, কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের জন্য একজনের পূরণ করা মেম্বারশিপ অ্যাপ্লিকেশন ফরম, শেখ মুজিবুর রহমানের জুলিও কুরি শান্তি পদক প্রাপ্তির ৫০ বছর পূর্তির একটি কার্ড, আমার দেখা নয়া চীন-এর ৬৫ নম্বর পৃষ্ঠা, এইচ টি ইমামের পত্রিকায় লেখা হৃদয়বিদারক ১৫ আগস্ট, গদি ছাড়া চেয়ার, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেটের খালি প্যাকেট, ২০১৩ সালে ডিজিএফআইয়ের পাঠানো একটি খালি প্যাকেট, ২০২৩ সালের মহান বিজয় দিবসের ডাকটিকিটের লিফলেট, শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বানানো সিনেমার জন্য কাগজে লেখা ১৯৭৩ সালের দৃশ্যচিত্র—বিভিন্ন চরিত্রের সংলাপের কপি, শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদের ২০১৭ সালের এমআরআই রিপোর্টের প্যাকেট, শটগান ক্লিনিং প্যাকেট, অটিজম ও স্নায়ু বিকাশজনিত সমস্যা–বিষয়ক কমিটিসহ আরও কিছু কাগজ, দাওয়াতপত্র, লাল মলাটে ইকবালের কবিতা, সাংবাদিকদের ভিজিটিং কার্ড, শেখ হাসিনার ভিজিটিং কার্ড এদিক–সেদিক থেকে উঁকি দিচ্ছে। লালমাটিয়া মহিলা মহাবিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর স্নাতকের রিপোর্ট কার্ড, সাদা–কালো অস্পষ্ট একটি পারিবারিক ছবি থেকে এখন আর সেগুলোর ইতিহাস বের করা সম্ভব না। ভবনের একটি কক্ষে দেখা গেল শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি দিয়ে একটি লিফলেটে লেখা, লক্ষ্য এবার স্মার্ট বাংলাদেশ।
ভবনের এক জায়গায় দেখা যায়, লেমিনেটিং করা পুড়ে যাওয়া লাশের একটি ছবি। ছবির ক্যাপশনে লেখা, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে জামায়াত-বিএনপির দেওয়া আগুনে মারা যায় বাসের হেলপার তোফাজ্জল হোসেন। হল রুমের তিনটি ঝাড়বাতি আস্তই ঝুলছিল। এটুকু দিয়ে গণভবনের অতীত জৌলুশের চিত্র যেন কিছুটা উঁকি দিচ্ছিল।
গণভবনের বিভিন্ন দেয়ালে বিক্ষুব্ধ লোকজন তাঁদের মনের কথা লিখে রেখে যান। শেখ হাসিনা খুনিসহ বিভিন্ন গালিও আছে তাতে। এক জায়গায় লেখা, ‘কিছু বললেই স্বজনহারা বেদনা শুরু হয় ডাইনির’। গণভবনের কয়েকটি কক্ষের দেয়াল সুন্দর করে রং করা। এই দেয়ালগুলোতে হাতে আঁকা গাছ ও পাখিও আছে। তেমনই একটি দেয়ালে লেখা হয়েছে, ‘জয় গণতন্ত্র ২০২৪’।
কুড়িয়ে পাওয়া একটি নোটে লেখা দেখা যায়, ‘জয় মামাকে সাধারণ খাবার দিতে হবে। পরোটা বানানো নিষেধ। সবজি, মুরগি, ডাল দিতে হবে। গরু ও খাসি কম।’ সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলকের খাবারের মেনুতে এই নোটটিতেই রুই মাছ, ইলিশ মাছ ভাজি, ভর্তা দুই রকম, কাচ্চি বিরিয়ানির কথা লেখা। আর ইলিয়াছ মোল্লার জন্য মেনুতে কই মাছ, শিং মাছ, শোল মাছ, টাকি মাছের কথা লেখা। মামির সালাদে টমেটো দেওয়া যাবে না— লেখা ছিল নোটটিতে। এটি কবেকার, তার তারিখ ছিল না।
৫ আগস্ট অনেকে গণভবনের লেকে নেমে গোসল করে। এই লেকের সংস্কারকাজের ফলকটি আস্তই ছিল। তাতে লেখা, গণভবনের লেক পুনঃখনন ও সংস্কার—লেকের বড় অংশের দৈর্ঘ্য ৩৭৬ দশমিক ১০ মিটার, প্রস্থ ১৮ দশমিক ৬০ মিটার। আর লেকের ছোট অংশের দৈর্ঘ্য ১০০ দশমিক ০০ মিটার এবং প্রস্থের মাপ লেখা ৬ দশমিক ৪০ মিটার। ২০১৪ সালে এ কাজটি বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন।
৫ আগস্ট গণভবনের একটি জার্মান শেফার্ডকে সঙ্গে করে নিয়ে যান একজন। পরে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে কুকুরটি উদ্ধার করে নিজের কাছে রাখেন ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৩ ’-এর মুকুটজয়ী শাম্মী ইসলাম (নীলা)। তবে ফেসবুকে নানা নেতিবাচক মন্তব্য দেখে শাম্মী ইসলাম গণভবনে গিয়ে সেনাবাহিনীর কাছে কুকুরটিকে ফেরত দিয়ে আসেন। তবে এ কুকুর এখন কোথায় আছে, তা নিশ্চিত করতে পারেনি জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ।
গণভবন থেকে লুট করা একটি সিন্দুক মোহাম্মদপুর থানার রায়েরবাজার বটতলা এলাকা থেকে উদ্ধার করেছিল র্যাব। এতে ৮ লাখ টাকা ছিল। পরে অবশ্য কেউ কেউ লুট করে নিয়ে যাওয়া কিছু জিনিস সেনাবাহিনীর কাছে ফেরত দিয়ে যান। তবে এসব জিনিসপত্র এখন কোথায় বা কার কাছে আছে, তা–ও জানা নেই জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষের। দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ গণভবনের ধ্বংসস্তূপে যে অবশিষ্ট আসবাব বা অন্যান্য জিনিস পেয়েছিল তাতে নম্বর বসিয়েছে হিসাব রাখার জন্য।
গণভবন সম্পর্কে জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৮ একরের বিশাল কমপ্লেক্স, উন্মুক্ত মাঠসহ ২৯ হাজার বর্গফুটের বিশাল দ্বিতল ভবনটিতে পরিবার নিয়ে থাকতেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও দাপ্তরিক কাজও হতো এখানে। গণভবনের খোলা জায়গায় নানা শাকসবজি, ফল এমনকি বিভিন্ন জাতের ধানের চাষও করতেন শেখ হাসিনা। বিশাল লেকে মাছ চাষ করতেন। গরু, মুরগি, কবুতরসহ নানা জাতের পশুপাখি পালন করতেন। এ ছাড়া বিনোদনের জন্য ছিল বিশাল টেনিস কোর্ট। ৫ আগস্ট দেশ ছাড়ার দিন দুপুরের আগপর্যন্ত শেখ হাসিনা গণভবনেই ছিলেন। তাঁর জন্য সেদিনের খাবারও তৈরি ছিল।
জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে কী কী থাকছে
২ জুন সরেজমিনে দেখা যায়, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ গোলাম নাফিজের দেহ বহনকারী রিকশাটি একটি পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। জাদুঘরে স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে রাখা হবে এটি। গত ৪ আগস্ট রাজধানীর ফার্মগেটের পদচারী-সেতুর নিচে গুলিবিদ্ধ হয় নাফিজ। নাফিজ রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করে কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল।
গত ৫ নভেম্বর প্রথম আলোয় ‘নাফিজের নিথর দেহ পড়ে থাকা রিকশাটি বিক্রি করে দিয়েছেন নুরু’ শীর্ষক ভিডিও প্রতিবেদনটি দেখে তৎকালীন তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম তাৎক্ষণিক রিকশাটি জাদুঘরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। অন্য শহীদদের স্মারকগুলোও সংগ্রহ করছে সরকার।
বিশ্বের আধুনিক জাদুঘরের আদলেই এটি নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তাঁর ভাষ্যমতে, এই জাদুঘর গল্প বলবে। মানুষ জানতে পারবে কীভাবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল, তারা কী কী করেছে, কী কী করার ফলে মানুষ ফুঁসে উঠেছে এবং শেখ হাসিনাসহ নেতারা দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
সংস্কৃতি উপদেষ্টা বলেন, ‘গণভবনটা তো ছিল আসলে একটা বাড়ি। যে বাড়িতে খুনি থাকতেন এবং এখানে বসে উনি পরিকল্পনা করতেন, মানুষদের নিশ্চিহ্ন করে দিতেন। অনেককে পৃথিবী থেকে সরিয়ে ফেলতেন, গুম করতেন, হত্যার নির্দেশ দিতেন, ব্যাংক লুট করতেন এবং যাবতীয় অপকর্মের কেন্দ্রস্থল ছিল এটা।’
ইতিহাসের বাঁকবদলের সাক্ষী
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান রাজধানীর মিন্টো রোডে প্রেসিডেন্ট ভবনে অফিস করতেন। প্রেসিডেন্ট ভবন তখন গণভবন নামে পরিচিত ছিল। প্রেসিডেন্ট ভবনে স্থান সংকুলান হতো না। ১৯৭৩ সালে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও সচিবালয় হিসেবে শেরেবাংলা নগরে এই গণভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শেখ হাসিনার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট থাকাকালে গণভবনে বসবাস না করলেও ভবনটিকে অফিসের কাজে ব্যবহার করতেন।
১৯৮৫ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গণভবন সংস্কারের উদ্যোগ নেন। ১৯৮৬ সালে এটিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে পরিণত করা হয়, নাম দেওয়া হয় করতোয়া ভবন।
গত ৯ সেপ্টেম্বর বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। তখন তিনি গণভবন বরাদ্দ নিয়ে সেখানে বসবাস করতে শুরু করেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকার সময় ২০০১ সালের ২০ জুন জাতীয় সংসদে ‘জাতির পিতার পরিবারের সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন ২০০১’ সংসদে পাস হয়। বছরটির ২ জুলাই শেখ হাসিনাকে গণভবন বরাদ্দ দেওয়া হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পরে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে শেখ হাসিনার নামে গণভবন বরাদ্দ বাতিল করার দাবি জানান। ২০০১ সালের অক্টোবর মাসে নির্বাচনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। বছরটির ১৬ আগস্ট শেখ হাসিনা গণভবন ছেড়ে যান।
পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে ২০০৯ সালে বঙ্গবন্ধুর সরাসরি উত্তরাধিকারীদের জন্য জাতির পিতার পরিবারের সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন পাস করে। ২০১০ সালের ৫ মার্চ থেকে আবারও গণভবনে থাকতে শুরু করেন শেখ হাসিনা, ছিলেন গত বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত।
গণভবন নিয়ে বিভিন্ন সময় বিতর্ক হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নাম পরিবর্তন হয়েছে আবার গণভবন নামটি ফেরতও পেয়েছে। জাদুঘর করা হলে আবার কোনো সরকার ক্ষমতায় এসে তা পাল্টে ফেলবে কি না—এমন প্রশ্নে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশে যে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছে এবং সেটা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য যে জুলাই এসেছে, তা সবার চোখের সামনে ঘটেছে। তথ্যপ্রমাণ সবার হাতে আছে। ফলে এবারের ইতিহাস বদলে ফেলার কোনো সুযোগ নেই।’
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার সার্বভৌম ঋণ সংকট by বিজ্ঞান বাবু রেগমি ও শিশির ভাণ্ডারি
এই উচ্চ ঋণস্তর এবং এর দুর্বলতা কেবল এর পরিমাণে নয়, কাঠামোগত দিকেও নিহিত। একদিকে সীমিত কর-ভিত্তি, অদক্ষ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানি ও পণ্যের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা রাজস্ব ব্যবস্থাকে সংকুচিত করছে। অন্যদিকে সীমিত বাণিজ্য সংহতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার অভাব দক্ষিণ এশিয়াকে বহিঃনির্ভরশীল করে তুলছে। এর ফলে উন্নয়ন অগ্রাধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্য অর্থ বরাদ্দ কমে যাচ্ছে। অর্থাৎ রাষ্ট্রের আর্থিক অগ্রাধিকার পুনর্গঠিত হচ্ছে, আর জনঅর্থায়ন নাগরিকদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
বহিরাগত ধাক্কা
কোভিড-১৯ মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার সমৃদ্ধির নড়বড়ে ভিত্তিকে উন্মোচিত করেছে।
২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এর ফলে আমদানি ব্যয় বাড়ে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যায়। রিজার্ভ সংকট সামাল দিতে সরকারগুলো আরও ঋণ নেয়, যাতে দেশ চালু রাখা যায় এবং মৌলিক প্রয়োজন (জ্বালানি ও পণ্য) আমদানি অব্যাহত থাকে। ফলে দ্রুত মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়- যা সরবরাহ আধিক্যের কারণে নয়, বরং আমদানির খরচ বেড়ে যাওয়া এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্নের কারণে।
উদাহরণস্বরূপ, ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কায় ভোক্তা পণ্যের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়, ২০২৩ সালে পাকিস্তানে ৩০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। এমনকি ‘এশিয়ার বাঘ অর্থনীতি’ নামে পরিচিত বাংলাদেশেও ২০২৫ সালে মুদ্রাস্ফীতি ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। ভারতের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে বহুমুখী ও স্থিতিশীল হলেও, রাশিয়ার সঙ্গে ছাড়মূল্যের জ্বালানি চুক্তি সত্ত্বেও ৩ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি ধরে রাখতে সরকারকে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার লাখো মানুষ এখন প্রতিটি বৈশ্বিক সংকটের অভিঘাত প্রথমে টের পায় জ্বালানি পাম্পে বা বাজারের দোকানে। এর ওপর যুক্ত হয়েছে নতুন বাণিজ্য বাস্তবতা।
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যা দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ টেক্সটাইল ক্রেতা, ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসায় পোশাক ও শ্রমনির্ভর পণ্যের ওপর। এতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, শ্রীলঙ্কার অ্যাপারেল ও ভারতের টেক্সটাইল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই শুল্ক আরোপ দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর জন্য বড় আঘাত। কারণ তারা ঋণ শোধের জন্য রপ্তানি আয়ের ওপর নির্ভর করে। ফলে প্রতিযোগিতার ক্ষমতা কমে যায় এবং বিদ্যমান কাঠামোগত সমস্যাগুলো আরও ঘনীভূত হয়।
কাঠামোগত সমস্যা
দুর্বল রাজস্ব ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিকভাবে জনপ্রিয় হলেও অকার্যকর ভর্তুকি নীতির কারণে সরকারগুলো বহিরাগত ধাক্কা সামাল দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, পাকিস্তানে কৃত্রিমভাবে কম বিদ্যুৎ ট্যারিফ নির্ধারণ ‘চক্রাকার ঋণ’ তৈরি করেছে, যা বারবার সরকারি হিসাবপত্রে ফিরে আসে। রাজস্ব কম থাকায় সরকারকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা অবকাঠামোর মতো খাত থেকে অর্থ সরিয়ে এই ভর্তুকি বহন করতে হয়। এ ধরনের ভর্তুকি অর্থনৈতিক দক্ষতার জন্য নয়, বরং রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দুর্বল করভিত্তিও বড় সমস্যা। ২০২৪ সালে পাকিস্তানে মাত্র ৩ শতাংশ নাগরিক আয়কর দিয়েছে, বাংলাদেশে ২০২২ সালে ১.৪ শতাংশ, আর ভারতে ৭ শতাংশ। শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানিগুলো নিয়মিতভাবে সরকারকে ক্ষতির মুখে ফেলছে। এসব কেবল অর্থনৈতিক অদক্ষতা নয়, বরং নীতিগত ব্যর্থতার ফল। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি প্রায়ই স্বল্পমেয়াদি জনপ্রিয়তার পেছনে ছোটে। ফলে রাজস্ব শৃঙ্খলা দুর্বল হয়, সংকটে সরকারের প্রতিক্রিয়া ক্ষমতা কমে এবং পুনরুদ্ধার বিলম্বিত হয়।
জলবায়ু পরিবর্তন: নতুন চ্যালেঞ্জ
জলবায়ু পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার নাজুক রাজস্ব অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলছে। এই অঞ্চল বন্যা, তাপপ্রবাহ ও অস্বাভাবিক মৌসুমি বৃষ্টিপাতের মতো জলবায়ুগত বিপর্যয়ের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব দুর্যোগ ফসল, জীবিকা, বসতি ও অবকাঠামো ধ্বংস করছে। ২০২২ সালে পাকিস্তানের ভয়াবহ বন্যায়ই শুধু ৩০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয় এবং লাখো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশে বাড়তি তাপমাত্রার কারণে বছরে প্রায় ২.৫ কোটি কর্মদিবস নষ্ট হয়, যার অর্থমূল্য ১.৮ বিলিয়ন ডলার। ভারত, নেপাল ও ভুটানে জলবিদ্যুৎ ব্যাহত হচ্ছে। আর শীতলীকরণ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি আমদানি ও সরকারি ব্যয় বাড়ছে। এই জলবায়ু আঘাত নতুন ঋণ সৃষ্টি করছে। কারণ অভিযোজন অর্থায়ন প্রায়ই ঋণভিত্তিক। ফলে দেশগুলো টিকে থাকার জন্য আরও ঋণ নিচ্ছে, যা আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে- অথচ ঝুঁকি হ্রাস খুব সামান্যই হচ্ছে। এই ‘জলবায়ু-ঋণ ফাঁদে’ দেশগুলো দুইবার শাস্তি পায়। প্রথমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে, পরে ঋণের বোঝা টেনে। পর্যাপ্ত রেয়াতি অর্থায়নের অভাবে রাজস্ব স্থিতিশীলতা জলবায়ু চক্রের হাতে বন্দি থাকবে। ‘ঋণ-বিনিময়ে জলবায়ু রেহাই’ বা ‘ঝুঁকি-তহবিল’-এর মতো পদক্ষেপ এর সময়োপযোগী সমাধান দিতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক বাধার কারণে আঞ্চলিক সহযোগিতা ধীরগতির।
সংকট ব্যবস্থাপনা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো ডিফল্ট এড়াতে বারবার আইএমএফের দ্বারস্থ হয়েছে। ভারত শ্রীলঙ্কাকে ৪ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেয় এবং নিজেও ২০২৩ সালে ১.৭ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা পায়, যা মুদ্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে, কিন্তু ঋণ এখনও অস্থিতিশীল। পাকিস্তান ২০২৩ সালে ৩ বিলিয়ন এবং ২০২৪ সালে আরও ৭ বিলিয়ন ডলার সহায়তা পায়, যা মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু ঋণ পরিশোধেই সরকারের রাজস্বের ৬০ শতাংশ ব্যয় হচ্ছে। বাংলাদেশ ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের কর্মসূচি নিয়েছে বৈদেশিক ঘাটতি ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু পুনরুদ্ধার ধীরগতির। ছোট অর্থনীতির দেশ নেপাল ও ভুটান রেমিট্যান্স, সাহায্য ও রেয়াতি ঋণের ওপর নির্ভর করছে। এর ফলে আইএমএফ কর্মসূচিগুলো সময় কিনে দিয়েছে, সংকটের সবচেয়ে খারাপ সময়গুলো সামাল দিয়েছে। কিন্তু এখন দেশগুলোর উচিত এই সুযোগে আর্থিক শৃঙ্খলা পুনর্গঠন করা এবং ঋণনির্ভরতা কমানো।
পথচলার দিকনির্দেশ
মধ্য মেয়াদে দক্ষিণ এশিয়াকে এমন একটি আঞ্চলিক সহযোগিতামূলক কাঠামো তৈরি করতে হবে যা পারস্পরিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা গড়ে তোলে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়- ভুটান, নেপাল ও ভারতের মধ্যে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্য বাড়ানো গেলে ২০৪০ সালের মধ্যে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করা সম্ভব। ২০২২ সালে আভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল মাত্র ২৩ বিলিয়ন ডলার, যেখানে সম্ভাবনা ছিল অন্তত ৬৭ বিলিয়ন পর্যন্ত। এছাড়া ক্যারিবীয় অঞ্চলের জলবায়ু ঝুঁকি বীমা তহবিলের আদলে দক্ষিণ এশিয়াও একটি যৌথ ঝুঁকি বীমা তহবিল গঠন করতে পারে, যা দুর্যোগের পর নতুন ঋণ ছাড়াই দ্রুত নগদ সহায়তা দিতে পারবে। স্বল্প মেয়াদে, দেশগুলোকে নিজস্ব সংস্কার আনতে হবে- করভিত্তি প্রসারিত করা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেয়া ভর্তুকি বন্ধ করা এবং লোকসানি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন করা। জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাজার দরে সমন্বয় করা। তবে নিম্ন-আয়ের জনগণের জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা, এটি আর্থিক ভারসাম্য পুনরুদ্ধারে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে বাজেট পরিকল্পনা, ঋণ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু ঝুঁকি অন্তর্ভুক্ত করে স্বচ্ছ আর্থিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা জরুরি। নতুন ঋণ যেন রাজনৈতিক খরচে নয়, বরং উৎপাদনশীল বিনিয়োগে ব্যবহৃত হয়- এটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
(লেখক- বিজ্ঞান বাবু রেগমি, একজন অর্থনীতিবিদ, এটিএইচ জুরিখ, সুইজারল্যান্ড এবং শিশির ভাণ্ডারি, একজন অর্থনীতিবিদ, নিউইয়র্ক; জলবায়ু অর্থায়ন ও সার্বভৌম ঋণ বিশেষজ্ঞ। তাদের এ লেখাটি কাঠমাণ্ডু পোস্ট থেকে অনুবাদ)

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পবিত্র ভূমি সিনাই পর্বতে বিলাসবহুল মেগা রিসোর্ট নিয়ে কেন এত আলোচনা
মিসরের অন্যতম এই পবিত্র স্থান ইহুদি, খ্রিষ্টান ও মুসলিমরা সমানভাবে শ্রদ্ধা করে থাকেন। সেই সিনাই এবার বদলে যাচ্ছে। বদলে যাচ্ছে দৃশ্যপট, মুছে যাচ্ছে বহু প্রজন্ম ধরে থাকা মানুষের জীবনযাত্রা। এখানে নির্মিত হচ্ছে বিলাসবহুল হোটেল, ভিলা ও শপিং সেন্টার। সিনাই পবর্তের এ স্থানে একটি নতুন পর্যটন মেগা প্রকল্পে রূপান্তরের পরিকল্পনা ঘিরে তুমুল বিতর্কও চলছে।
স্থানীয়ভাবে সিনাই পর্বত জাবাল মূসা নামে পরিচিত। পবিত্র কোরআন ও বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী, এখানে নবী মুসা (আ.) আল্লাহর কাছ থেকে ১০টি আদেশ পেয়েছিলেন। অনেকের বিশ্বাস, এখানেই পবিত্র কোরআন ও বাইবেল অনুযায়ী এখানেই আল্লাহ মুসা (আ.)-এর সঙ্গে জ্বলন্ত ঝোপের মধ্য থেকে কথা বলেছিলেন।
বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন খ্রিষ্টান মঠগুলোর একটি হলো ষষ্ঠ শতাব্দীতে নির্মিত সেন্ট ক্যাথরিন মঠ। গ্রিক অর্থোডক্স চার্চের অধীন পরিচালিত এই মঠও এখানে অবস্থিত। গ্রিসের চাপের কারণে মিসরীয় কর্তৃপক্ষ এই মঠটি বন্ধ করার কথা অস্বীকার করেছে। তাই মঠের সন্ন্যাসীরা এখনো সেখানে অবস্থান করছেন।
দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন এই মরুভূমি অঞ্চল যা মঠ, শহর ও পর্বত নিয়ে গঠিত ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান, তা বদলে যাচ্ছে। সেখানে এখন বিলাসবহুল হোটেল, ভিলা ও শপিং মল নির্মিত হচ্ছে। এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বেদুইনদের কান্না
এ অঞ্চলে জেবেলিয়া নামের একটি ঐহিত্যবাহী বেদুইন জনগোষ্ঠীর বাস। প্রাচীনকাল থেকে তারা সেন্ট ক্যাথরিনের অভিভাবক হিসেবে পরিচিত। এই জনগোষ্ঠীর ঘরবাড়ি এবং পর্যটন ইকো-ক্যাম্পগুলো প্রায় ক্ষতিপূরণ ছাড়াই ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া পার্কিংয়ের জায়গা করার জন্য স্থানীয় কবরস্থান থেকে মৃতদেহ সরাতে তাদের বাধ্য করা হয়েছে।
ব্রিটিশ ভ্রমণ লেখক বেন হফলার সিনাই উপজাতিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, প্রকল্পটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় টেকসই উন্নয়ন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি পর্যটনকে আরও উৎসাহিত করবে ঠিকই। তবে এটি বেদুইনদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বেন হফলার বলেন, জেবেলিয়ারা যে রকম চেয়েছিল, এটি ঠিক সে রকম কোনো উন্নয়ন নয়। বাইরের মানুষের স্বার্থরক্ষার জন্য এটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি পরিকল্পনা।
এই ভ্রমণ লেখক আরও বলেন, ‘যাযাবর ঐতিহ্যের বেদুইন উপজাতির চারপাশে গড়ে তোলা হচ্ছে এক নতুন নগরসভ্যতা। এটি এমন একটি নগর, যা থেকে তারা সব সময় বিচ্ছিন্ন থেকেছে, যা নির্মাণে তারা কোনো সম্মতি দেয়নি। এ ছাড়া এটি মাতৃভূমিতে তাদের অবস্থান চিরতরে বদলে দেবে।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের নীরবতা
এই অঞ্চলে প্রায় চার হাজার বেদুইন বাস করে। তাদের কণ্ঠ চাপা পড়ে গেছে। এই পরিবর্তন নিয়ে তারা কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলছে না।
এ পর্যন্ত গ্রিস হলো একমাত্র বিদেশি শক্তি, যারা এই মিসরীয় পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সবচেয়ে সরব। কারণ, এখানকার মঠের সঙ্গে তাদের সরাসরি সম্পর্ক আছে।
গত মে মাসে মিসরের একটি আদালত বিশ্বের প্রাচীনতম ও বহুল ব্যবহৃত খ্রিষ্টান মঠ সেন্ট ক্যাথেরিনসকে রাষ্ট্রীয় জমিতে অবস্থিত বলে রায় দেওয়ার পর এথেন্স ও কায়রোর মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
কয়েক দশক ধরে চলা বিরোধের পর বিচারকেরা বলেন, মঠটি শুধু এর জমি ও আশপাশের প্রত্নতাত্ত্বিক ধর্মীয় স্থানগুলো ‘ব্যবহারের অধিকার’ রাখে।
গ্রিসের চার্চপ্রধান আর্চবিশপ দ্বিতীয় ইয়েরোনিমোস দ্বিতীয় এই রায়ের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মঠের সম্পত্তি দখল ও বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে। অর্থোডক্স ও হেলেনিজমের এই আধ্যাত্মিক বাতিঘর এখন অস্তিত্ব–সংকটের মুখে।
দীর্ঘদিন আর্চবিশপের দায়িত্ব পালন করা দামিয়ানোস গ্রিক সংবাদপত্রকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এ সিদ্ধান্ত ‘আমাদের জন্য মারাত্মক আঘাত...এবং এক লজ্জাজনক ঘটনা।’ বিষয়টি সামলাতে গিয়ে যাজকদের ভেতরে বিভাজন তৈরি হয়েছে। এ কারণে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন বলেও জানিয়েছেন।
আদালতের বিতর্কিত রায় বহাল থাকলেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর গ্রিস ও মিসর একটি যৌথ ঘোষণায় সেন্ট ক্যাথরিনের গ্রিক অর্থোডক্স পরিচয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
উন্নয়ন, নাকি ধ্বংস
মিসর সরকার ২০২১ সালে গ্রেট ট্রান্সফিগারেশন নামের এই প্রকল্প শুরু করে। পর্যটকদের জন্য করা এই পরিকল্পনার মধ্যে আছে হোটেল, ইকো লজ ও একটি বৃহৎ দর্শনার্থীকেন্দ্র খোলার পাশাপাশি কাছাকাছি ছোট বিমানবন্দর ও মাউন্ট মোজেসা পর্যন্ত একটি কেব্ল কার স্থাপন।
সরকার এ উন্নয়নকে ‘পুরো বিশ্বের ও সব ধর্মের জন্য মিসরের উপহার’ হিসেবে প্রচার করছে।
গত বছর মিসরের গৃহায়ণমন্ত্রী শেরিফ এল-শেরবিনি বলেন, ‘প্রকল্পটি দর্শনার্থীদের সব পর্যটন ও বিনোদনমূলক সেবা দেবে; সেন্ট ক্যাথরিন শহর ও আশপাশের এলাকার উন্নয়ন করবে, পরিবেশগত, নান্দনিক ও ঐতিহ্যগত বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করবে এবং প্রকল্পে কাজ করা ব্যক্তিদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করবে।’
অর্থসংকটের কারণে এই প্রকল্পের কাজ আপাতত থেমে থাকলেও সেন্ট ক্যাথরিন মঠের সামনে এল-রাহা সমভূমি ইতিমধ্যেই বদলে গেছে। সেখানে নতুন সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। তবে সমালোচকেরা বলছেন, এ অঞ্চলের বিশেষ প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে ইউনেসকো উদ্বেগ জানালেও প্রকল্প থেমে নেই। ইউনেসকোর নথিতে লেখা হয়েছে, মঠের চারপাশের দুর্গম পাহাড়ি প্রাকৃতিক দৃশ্য মঠের জন্য এক নিখুঁত পটভূমি তৈরি করেছে। স্থানটির অবস্থান প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নির্জনতা একদিকে এবং মানুষের আধ্যাত্মিক অঙ্গীকার অন্যদিকে—এই দুয়ের এক অন্তরঙ্গ বন্ধন প্রকাশ করে।
২০২৩ সালে ইউনেসকো উদ্বেগ প্রকাশ করে মিসরকে এই উন্নয়ন বন্ধ করতে, প্রভাব যাচাই করতে ও সংরক্ষণ পরিকল্পনা করার আহ্বান জানায়; কিন্তু তা হয়নি।
চলতি বছরের জুলাই মাসে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ওয়াচ ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি সেন্ট ক্যাথরিনকে বিপদাপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় রাখার আহ্বান জানিয়ে একটি খোলাচিঠি দেয়।
সেন্ট ক্যাথেরিন ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে যুক্তরাজ্যের রাজা চার্লসের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। ফাউন্ডেশন মঠের ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রাচীন খ্রিষ্টান পাণ্ডুলিপি নিয়ে কাজ করে এবং তহবিল সংগ্রহ করে। রাজা চার্লস এ স্থানকে ‘একটি মহান আধ্যাত্মিক সম্পদ, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করা উচিত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
অর্থনীতি বনাম ঐতিহ্য
এ মেগা প্রকল্প মিসরে এটিই প্রথম নয়। দেশের অনন্য ইতিহাসের প্রতি সংবেদনশীল না হওয়ায় সরকারের এমন প্রকল্প নিয়ে আগেও সমালোচনা হয়েছে। তবে সরকার এসব বড় প্রকল্পকে দুর্বল অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার মূল হাতিয়ার হিসেবে দেখছে।
কোভিড-১৯ মহামারি থেকে পুনরুদ্ধারের পথে থাকা মিসরের সমৃদ্ধ পর্যটন খাত গাজার যুদ্ধ ও নতুন আঞ্চলিক অস্থিরতায় আবার মুখ থুবড়ে পড়েছে। এরই মধ্যে সরকার ২০২৮ সালের মধ্যে ৩ কোটি পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে।
মিসরের বিভিন্ন সরকারের সময়ে সিনাইয়ের ক্রমাগত বাণিজ্যিক উন্নয়ন স্থানীয় বেদুইন সম্প্রদায়ের সঙ্গে কোনো পরামর্শ ছাড়াই করা হয়েছে।
১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে ইসরায়েল সিনাই উপদ্বীপ দখল করে। ১৯৭৯ সালে দুই দেশের মধ্যে এক শান্তিচুক্তির পর তা আবার মিসরের কাছে ফেরত আসে। তখন থেকেই বেদুইনরা অভিযোগ করে আসছে, তাদের সঙ্গে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের মতো আচরণ করা হচ্ছে।
১৯৮০-এর দশকে দক্ষিণ সিনাইয়ে শারম আল–শেখসহ জনপ্রিয় লোহিত সাগরের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। অনেকে বলছেন, সেন্ট ক্যাথরিনে যা ঘটছে, তার সঙ্গে এর মিল আছে।
মিসরীয় সাংবাদিক মোহান্নাদ সাবরি বলেন, বেদুইনরা এ অঞ্চলের মানুষ। তারা ছিল পথপ্রদর্শক ও শ্রমিক। এরপর শিল্পপর্যটন এসে তাদের সরিয়ে দিল—শুধু ব্যবসা থেকে নয়, সমুদ্রের কাছ থেকেও শারীরিকভাবে তাদের পেছনে ঠেলে দেওয়া হলো।
ধারণা করা হচ্ছে, লোহিত সাগরের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর মতোই দেশের অন্য প্রান্ত থেকে এই উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করার জন্য শ্রমিক নিয়ে আসা হবে। তবে সরকার বলছে, তারা বেদুইন আবাসিক এলাকাগুলোরও ‘উন্নয়ন’ করছে।
আধ্যাত্মিক ভুবনের ভাঙন
গত দেড় সহস্রাব্দ ধরে সেন্ট ক্যাথরিন মঠ বহু উত্থান-পতন সহ্য করে টিকে আছে। শুরুতের এটি ছিল এক নির্জন আশ্রয়স্থল। তবে লোহিত সাগরের পর্যটন সম্প্রসারণের পর থেকে হাজারো দর্শনার্থী এখানে এক দিনের জন্য ভ্রমণে আসতে শুরু করে। আর এতেই এর প্রাচীন পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই জ্বলন্ত ঝোপের অবশেষ বলে পরিচিত স্থান কিংবা নিউ টেস্টামেন্টের প্রাচীনতম প্রায় পূর্ণাঙ্গ হস্তলিপি কোডেক্স সিনাইটিকাসের পৃষ্ঠা প্রদর্শনকারী জাদুঘরে মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
এতে সেন্ট ক্যাথরিন ও এই স্থানের গভীর ধর্মীয় তাৎপর্য অটুট হয়তো থাকবে। তবে চারপাশের পরিবেশ ও শতাব্দীপ্রাচীন জীবনযাত্রা চিরতরে বদলে যাবে। তবু স্থানীয় অনেকের কাছে এখন একটাই প্রশ্ন—পবিত্র ভূমি কি টিকে থাকবে বিলাসবহুল রিসোর্টের ভিড়ে? এর উত্তর তাদের জানা নেই। -বিবিসি
![]() |
| মিসরের দক্ষিণ সিনাইয়ে অবস্থিত সেন্ট ক্যাথেরিন মঠ। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ▼ 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

