Thursday, July 9, 2026

ট্রাম্পের যৌন নিপীড়নের শিকার ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলার দিতে আদালতের নির্দেশ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কলামিস্ট এলিজাবেথ জ্যঁ ক্যারলের মধ্যকার বহুল আলোচিত আইনি লড়াইয়ে বড় সিদ্ধান্ত দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। ট্রাম্পের সব আপত্তি উড়িয়ে দিয়ে মামলার ক্ষতিপূরণ বাবদ তাঁর জমা রাখা ৫০ লাখের বেশি ডলার অবিলম্বে ক্যারলকে হস্তান্তরের আদেশ দিয়েছেন নিউইয়র্কের ফেডারেল বিচারক লুই কাপলান। গতকাল বুধবার দেওয়া এই আদেশের ফলে ট্রাম্পের এই অর্থ পরিশোধ পিছিয়ে দেওয়ার শেষ চেষ্টাও ব্যর্থ হলো।

এই মামলা দীর্ঘ তিন দশকের পুরোনো। সাময়িকীর সাবেক কলামিস্ট জ্যঁ ক্যারলের অভিযোগ, ১৯৯৬ সালে নিউইয়র্কের একটি বিলাসবহুল ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের চেঞ্জিং রুমে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালে ক্যারল বিষয়টি প্রকাশ্যে আনলে ট্রাম্প এটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দেন।

ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন ক্যারল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালের মে মাসে আদালতের একটি জুরিবোর্ড ক্যারলের যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলায় ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণের রায় দিয়েছিলেন।

জুরিবোর্ডের সেই রায়ের পর থেকেই ট্রাম্প নিজেকে নির্দোষ দাবি করে উচ্চ আদালতে আপিল করে আসছিলেন এবং সম্প্রতি বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।

আদালতের এই নতুন আদেশ এমন এক সময়ে এল, যখন ট্রাম্পের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের দোহাই দিয়ে এই অর্থ আটকে রাখার আবেদন করেছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের করা পুনর্বিবেচনার আবেদনটি ঝুলে থাকা পর্যন্ত যেন ক্যারলকে কোনো অর্থ না দেওয়া হয়। তবে বিচারক কাপলান সেই যুক্তি কানে তোলেননি।

আদালতের এই নতুন সিদ্ধান্তের পর জ্যঁ ক্যারলের আইনজীবীদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ট্রাম্পের আইনজীবীরা বলেছেন, তাঁরা এই আদেশের বিরুদ্ধে আবার উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

ট্রাম্প শিবিরের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাশেই আছেন। ডেমোক্র্যাটদের পয়সায় ক্যারল যে বানোয়াট নাটক সাজিয়েছেন, তার অবসান হওয়া দরকার। এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধের দাবি জানাচ্ছি আমরা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব আইনি নোংরামি রুখে দেবেন এবং দেশকে আবার মহান করার মিশনে মনোযোগ দেবেন।’

এর আগে ট্রাম্পের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দিয়েছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগপর্যন্ত এই অর্থ আটকে রাখলে ক্যারলের কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু প্রেসিডেন্টের জন্য তা অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনবে।

ট্রাম্পের আইনজীবীরা আদালতে লিখিত আবেদনে বলেন, ‘এখনই ক্যারলকে অর্থ দেওয়া হলে পরে ট্রাম্প আপিলে জিতলেও সেই অর্থ আর ফেরত পাওয়া যাবে না। কারণ, ক্যারল নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন, এই অর্থ তিনি বিভিন্ন সংস্থায় দান করে দেবেন। একবার এই অর্থ তৃতীয় পক্ষের হাতে চলে গেলে তা আর উদ্ধার করা সম্ভব নয়।’

আইনজীবীরা আরও দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় আসার আগে অর্থ আটকে রাখলে ক্যারলের কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ, দেরি হওয়ার কারণে যে ক্ষতি হবে, তা পরবর্তী সময়ে সুদের মাধ্যমেই মিটিয়ে দেওয়া যাবে।

গত সপ্তাহে ফেডারেল আদালতের রায় বাতিল করতে ট্রাম্পের করা আপিলটি খারিজ করে দেন সুপ্রিম কোর্ট। এর পরপরই ক্যারলের আইনজীবীরা নিম্ন আদালতের বিচারকের কাছে ট্রাম্পের জমা দেওয়া টাকা ছাড় করার অনুরোধ জানান। এ খবর পেয়ে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে তড়িঘড়ি করে সুপ্রিম কোর্টে আবার একটি পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জ্যঁ ক্যারলের করা দুটি মামলার মধ্যে এটি ছিল প্রথমটি। ২০২২ সালে করা দ্বিতীয় মানহানির মামলায় জুরিবোর্ড ট্রাম্পকে আরও ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার জরিমানা করেছিল। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওই রায়ের বিরুদ্ধেও তিনি চলতি মাসের শেষ নাগাদ সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন।

এলিজাবেথ জিন ক্যারল (ডান থেকে দ্বিতীয়)
এলিজাবেথ জিন ক্যারল (ডান থেকে দ্বিতীয়) ছবি: এএফপি

বড়দেরও কি নিয়মিত কৃমির ওষুধ প্রয়োজন by ডা. তাসনোভা মাহিন

আমাদের দেশে শিশু–কিশোরদের প্রতিবছর কৃমির ওষুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। কৃমি সংক্রমণের কোনো উপসর্গ না থাকলেও কেবল প্রতিরোধের ব্যবস্থা হিসেবেই তাদের দেওয়া হয় এই ওষুধ। প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যেও তো কেউ কেউ ভোগেন কৃমির সমস্যায়। তাহলে কি সব বয়সেই কৃমি প্রতিরোধে ওষুধ খাওয়া জরুরি? স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের মেডিসিন বিভাগের অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট ডা. তাসনোভা মাহিন-এর সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম

কৃমি এবং অন্যান্য বহু জীবাণু প্রতিরোধের উপায় হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। খাবার প্রস্তুত, পরিবেশন এবং খাওয়ার আগে ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাসের বিকল্প নেই। বাসনকোসন ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া এবং কাঁচা খাওয়া যায়—এমন খাবার ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়াও জরুরি।

শৌচকর্মের পর ভালোভাবে হাত ধোয়ার গুরুত্বও সবারই জানা। খালি পায়ে মাটিতে হাঁটলে কৃমি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই এ ব্যাপারও খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

শিশু–কিশোরদের জন্য কেন বাড়তি সতর্কতা

সব বয়সেই কৃমি প্রতিরোধের জন্য এসব বিষয় মেনে চলা উচিত। তবে বাস্তবতা হলো, শৈশব-কৈশোরে স্বাস্থ্যরক্ষার অনেক দিক সব সময় মেনে চলা সম্ভব না-ও হতে পারে। ঘাসের ওপর দৌড়ে যাওয়ার অবিশ্বাস্য সুন্দর অনুভূতি থেকে আপনিও নিশ্চয়ই আপনার সন্তানকে বঞ্চিত করতে চাইবেন না।

কিন্তু বাড়ন্ত বয়সের আনন্দের মধ্যে পুষ্টিহীনতার কারণ হয়ে উঠতে পারে কৃমি। পুষ্টির ঘাটতিতে বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই ঝুঁকি না নিয়ে প্রতিবছর নিয়মমাফিক তাদের কৃমির ওষুধ খাওয়ানোই ভালো। বড়দের জন্য আলাদাভাবে এমন নিয়ম নেই।

বড়দের মধ্যে কারা নেবেন কৃমির ওষুধ

প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁদের কৃমি সংক্রমণ ও সংক্রমণজনিত জটিলতার ঝুঁকি বেশি, সংক্রমণের উপসর্গ না থাকলেও তাঁদের প্রতিবছর কৃমির ওষুধ খেতে বলা হয়।

বাকিদের মধ্যে কৃমি সংক্রমণের উপসর্গ না থাকলে কৃমির ওষুধ তেমন প্রয়োজনীয় নয়। জেনে নিন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী বড়দের মধ্যে কারা আছেন ঝুঁকিতে।

* যাঁদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম (যেমন ৬৫ বছর পেরোনো ব্যক্তি, কেমোথেরাপি বা দীর্ঘ মেয়াদে স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ সেবনকারী ব্যক্তি)

* খালি পায়ে মাটিতে হাঁটেন বা কাজ করেন, এমন ব্যক্তি (যেমন কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি)

* গর্ভধারণ করতে সক্ষম, এমন নারী (গর্ভাবস্থায় নয়)

* যে এলাকায় কৃমির প্রাদুর্ভাব বেশি, সেই এলাকায় বসবাসরত যেকোনো বয়সী নারী-পুরুষ (কখনো কখনো সরকারি উদ্যোগেও কোনো এলাকার সবাইকে কৃমির ওষুধ খাওয়ানোর কর্মসূচি হতে পারে)

একটি ওষুধ খেলেই চলবে?

সাধারণত কৃমি প্রতিরোধে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি বছরে একবার ৪০০ মিলিগ্রামের একটি অ্যালবেনডাজল ট্যাবলেট খেয়ে থাকেন। তবে আমাদের দেশে যেসব কৃমির প্রাদুর্ভাব আছে, সেসব প্রতিরোধ করতে এরই সঙ্গে আরেকটি ওষুধ সেবন করা প্রয়োজন। ওষুধটির নাম আইভারমেকটিন।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওজনের ওপর নির্ভর করে আইভারমেকটিনের ডোজ নির্ধারণ করতে হয়। প্রতি কেজি ওজনের জন্য ২০০ মাইক্রোগ্রাম। তাই সঠিক ডোজ জেনে নিতে একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

কখন খাওয়া ভালো

দিনে নাকি রাতে, খাওয়ার আগে নাকি পরে—কখন কৃমির ওষুধ খাওয়া ভালো, এ নিয়ে দ্বিধায় পড়বেন না। আপনি নিজের সুবিধামতো সময়েই কৃমির ওষুধ খেতে পারেন। তবে যেকোনো দুই বেলার খাবারের মধ্যবর্তী সময়ে কৃমির ওষুধ খাওয়া ভালো।

এক বেলার খাবার খাওয়ার দু-তিন ঘণ্টা পর খেতে পারেন, যার দু–এক ঘণ্টা পর আরেক বেলার খাবারের সময় হয়ে যায়। অনেকে আবার রাতে কৃমির ওষুধ খান। মৃদু কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে সেই সময় বিশ্রাম নিলে তা উপশম হতে পারে। রাতে কৃমির ওষুধ খাওয়ার কোনো আলাদা উপকারিতা নেই।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া জানা থাক

কৃমির ওষুধ খাওয়ার পর সাধারণ কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে ভয়ের কিছু নেই। এ ধরনের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

* বমি ভাব

* বমি

* পেটে হালকা ব্যথা

* পাতলা পায়খানা

* মাথা ঘোরানো

* মাথাব্যথা

* একটু ঘুম ভাব

* মৃদু বা মাঝারি জ্বর

* পেশিতে হালকা ব্যথা

তবে অল্প কিছু ক্ষেত্রে বিপজ্জনক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এ ধরনের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

* তীব্র পেটব্যথা

* চোখ বা প্রস্রাব হলুদ হয়ে যাওয়া

* ত্বকে গোটা সৃষ্টি হওয়া

ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই খেয়াল রাখুন

* গর্ভাবস্থায় কৃমির ওষুধ খেতে নেই। কৃমির ওষুধ খাওয়ার আগে ও পরে (এক মাস পর্যন্ত সময়) গর্ভনিরোধক পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত। এমনকি গর্ভধারণ হয়েছে কি না, এ নিয়ে সন্দেহ থাকলেও কৃমির ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।

* কোনো কৃমির ওষুধে অ্যালার্জি থাকলে তা খাওয়া যাবে না।

* অন্য কোনো ওষুধ চলমান থাকলে বা কোনো রোগের উপসর্গ থেকে থাকলে কৃমির ওষুধ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ওষুধ খাওয়ার আগেই কৃমি সংক্রমণ হয়ে থাকলেও ভিন্ন ডোজ বা ভিন্ন ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে।

* যে মা সন্তানকে দুধ খাওয়ান, তাঁর ক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ প্রয়োজন।

সাধারণত কৃমি প্রতিরোধে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি বছরে একবার ৪০০ মিলিগ্রামের একটি অ্যালবেনডাজল ট্যাবলেট খেয়ে থাকেন
সাধারণত কৃমি প্রতিরোধে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি বছরে একবার ৪০০ মিলিগ্রামের একটি অ্যালবেনডাজল ট্যাবলেট খেয়ে থাকেন। ছবি: পেক্সেলস

খামেনির দাফন আজ, জনসমুদ্র মাশহাদে

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত পর্ব আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তার নিজ শহর মাশহাদে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে হাজার হাজার মানুষ মাশহাদের রাস্তায় নেমেছেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ মাশহাদে জড়ো হচ্ছেন।

এদিন অনেককেই ইরানের জাতীয় পতাকা হাতে দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া কয়েকজনের হাতে এমন প্ল্যাকার্ডও ছিল, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার আহ্বান জানানো স্লোগান লেখা রয়েছে।
খামেনির জানাজার দায়িত্ব তদারক করা দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত খামেনি ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের মরদেহ বহনকারী বিমানটি ইরাক থেকে মাশহাদের হাশেমিনেজাদ বিমানবন্দরে পৌঁছেছে।

গত শুক্রবার থেকে ইরানজুড়ে আলি খামেনির শেষ বিদায় উপলক্ষে কার্যক্রম শুরু হয়। ইরান ও ইরাকের একাধিক শহরে এসব আনুষ্ঠানিকতা হয়। তার প্রতিটি জানাজায় ছিল লাখ লাখ মানুষের সমাগম।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার প্রথম দিনেই আলি খামেনি তার নিজ বাসভবনে নিহত হন। চার মাসের বেশি সময় পর অবশেষে খামেনির আজ দাফনকার্য সম্পন্ন হতে যাচ্ছে।
এদিকে গত দুই দিন ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র আবার পাল্টাপাল্টি হামলা চালাচ্ছে।

খামেনির দাফন আজ, জনসমুদ্র মাশহাদে

পশ্চিমবঙ্গে ‘এনকাউন্টার’ শুরু করে কি যোগী হতে চলেছেন শুভেন্দু

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ভোটের আগে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বারবার বলেছেন, ক্ষমতায় এলে গুন্ডা, খুনি ও ধর্ষকদের ঘুম কেড়ে নেওয়া হবে। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিন্দুত্ববাদী যোগী আদিত্যনাথের দেখানো পথে তাঁরাও এগোবেন। অপরাধীকে ‘সকালে জমা নেওয়া হবে, বিকেলে খরচ করে দেওয়া হবে।’

ভোটে জিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে শুভেন্দু অধিকারী দ্রুত সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে এগোচ্ছেন। সরকারে থিতু হওয়ার আগেই চালু হয়ে গেছে ‘বুলডোজার নীতি।’ কয়েক দিন আগে বিধানসভায় পাস হয়েছে গুন্ডা দমন আইন, যে আইনে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বিনা বিচারে ১২ মাস আটক রাখা যাবে। এবার শুরু হলো ‘পুলিশি এনকাউন্টার’।

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের গুলিতে। পুলিশের দাবি, গভীর রাতে ঘটনার তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত প্রভাস পুলিশের রিভলবার ছিনিয়ে গুলি ছুড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ চালালে গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়।

এ নিয়ে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। কংগ্রেসসহ বিরোধীরা বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানালেও শাসক বিজেপি নির্বিকার। শাসকদলীয় নেতারা বলছেন, সরকার প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে। ভোটের প্রচারেই বলা হয়েছিল, অপরাধীদের রেয়াত করা হবে না। প্রথম সুযোগেই তা বুঝিয়ে দেওয়া হলো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, ‘বিড়াল প্রথম রাতেই মারতে হয়। তাহলেই সবার কাছে বার্তা পৌঁছায়।’

কথায় ও কাজে ফারাক না রেখে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর পদাঙ্ক অনুসরণ করলে অর্ধশতাব্দী পর পশ্চিমবঙ্গে আবার ‘এনকাউন্টার নীতির’ প্রত্যাবর্তন ঘটবে।

সত্তরের দশকে নকশালপন্থীদের দমনের নামে কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শংকর রায় পুলিশকে নির্বিচার হত্যার অনুমতি দিয়েছিলেন। মানবাধিকার রক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মানুষের মতে, সেই সময় ১৯৭০ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে ‘এনকাউন্টারে’ নিহত হয়েছিলেন ২ হাজার থেকে ৫ হাজার নকশালপন্থী তরুণ ও রাজনৈতিক কর্মী।

দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন অধ্যাপকদের এক কমিটির হিসাব অনুযায়ী, শুধু কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকাতেই ৬ হাজার নকশালপন্থীর মৃত্যু হয়েছিল।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যাঁকে অনুসরণ করতে চাইছেন, সেই যোগী আদিত্যনাথের রাজ্য উত্তর প্রদেশ ‘এনকাউন্টারে’ এখনো এক নম্বরে। গত ১৮ মে উত্তর প্রদেশ সরকার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, ২০১৭ সালের মার্চ মাসে যোগী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্যে ১৭ হাজার ৪৩টি ‘এনকাউন্টারের’ ঘটনা ঘটেছে। এসব বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন ২৮৯ জন ‘কুখ্যাত অপরাধী’, আহত হয়েছেন ১১ হাজার ৮৩৪ জন।

অর্থাৎ, গত ৯ বছরে প্রতিদিন গড়ে উত্তর প্রদেশে ৫টি করে পুলিশি ‘এনকাউন্টারের’ ঘটনা ঘটেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই সময়ের মধ্যে ৩৪ হাজার ২৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাঁরা বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। এনকাউন্টারের ঘটনায় মোট ১৮ জন পুলিশ সদস্যেরও মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১ হাজার ৮৫২ জন।

রাজ্যের কোন অঞ্চলে কত এনকাউন্টার হয়েছে, তাতে কতজন নিহত হয়েছেন, সেই তথ্যও উত্তর প্রদেশ পুলিশ প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, মিরাট জোনে সবচেয়ে বেশি ‘কুখ্যাত অপরাধী’ নিহত হয়েছেন। এই অঞ্চলে মারা গেছেন ৯৭ জন, আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৫১৩ জন। এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটেছে ৪ হাজার ৮১৩টি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী আসন বারানসি জোনে ১ হাজার ২৯২টি পুলিশি এনকাউন্টারে মারা গেছেন ২৯ ‘কুখ্যাত অপরাধী’। আগ্রা জোন রয়েছে তৃতীয় স্থানে। সেখানে ২ হাজার ৪৯৪টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৪ জন। পুলিশের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এই তিন এলাকা ছাড়াও এনকাউন্টারের বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে লক্ষ্ণৌ, কানপুর, প্রয়াগরাজ (সাবেক এলাহাবাদ), বেরিলি ও গাজিয়াবাদ এলাকায়।

মানবাধিকার আন্দোলনকর্মী ও বিরোধীদের সমালোচনা মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে ‘এনকাউন্টার’ নীতি থেকে সরাতে পারেনি। কোনো সমালোচনার তোয়াক্কা না করে তিনি তাঁর মতো এগিয়ে চলেছেন। শুভেন্দু অধিকারীও কি সেভাবে পথে চলবেন? এই প্রশ্ন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে উঠতে শুরু করেছে।

বিরোধীরা সমালোচনায় মুখর হলেও বিজেপি নেতারা বলে চলেছেন, তৃণমূল জমানার পুনরাবৃত্তি বিজেপি আমলে হবে না। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, নারীসহ সবাইকে ভোটের আগে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিল ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’। সরকার সেই নীতিই অনুসরণ করছে। করবেও। অপরাধীদের রেয়াত করা হবে না।

বিজেপি নেতারা আরও একটা কথা বলছেন। সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে তাঁরা বলছেন, ভয় তাঁদেরই পাওয়ার কথা যাঁরা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। যাঁরা শান্তিপ্রিয়, নিরপরাধ তাঁদের ভয় পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

শুভেন্দু অধিকারী ও যোগী আদিত্যনাথ
শুভেন্দু অধিকারী ও যোগী আদিত্যনাথ। ফাইল ছবি: এএনআই

মিসর ম্যাচের ‘ডাকাতি’ নিয়ে মুখ খুললেন নিউইয়র্কের মেয়র

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোয় মিসরের হারের ম্যাচে রেফারিং নিয়ে বিতর্ক এখনো থামেনি। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি মিসরের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছেন, এ ম্যাচে আফ্রিকান দলটির সঙ্গে ‘ডাকাতি’ করা হয়েছে।

আটলান্টায় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২–০ গোলে এগিয়ে ছিল মিসর। এরপর আর্জেন্টিনা অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩ গোল করে ম্যাচ ৩–২ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। বিদায় নেয় মিসর। ম্যাচে ৫৮ মিনিটে মিসরের একটি গোল ফাউলের কারণে বাতিল হয়। সেই গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েই বিতর্ক হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

গত বুধবার ভোটারদের সঙ্গে আলাপকালে মামদানি বাসের সেবা উন্নত করার একটি নতুন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। সেখানে মিসর ম্যাচের প্রসঙ্গ টানেন তিনি।
মামদানি বলেন, ‘আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাসে আপনাদের যাতায়াতের সময় ২৪ ঘণ্টা কমে আসবে। আর এক বছর পূর্ণ হতে হতে যাতায়তের সময় থেকে আপনারা বাঁচিয়ে ফেলতে পারবেন দুটির বেশি দিন। এর অর্থ হলো, আপনারা পরিবারের সঙ্গে সকালের নাশতা খাওয়ার সময় পাবেন। সন্তানের লিটল লিগ (বেসবল) ম্যাচে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে তর্ক করার মতো বাড়তি সময় পাবেন। এর মানে হলো, রাতে ঘুমানোর আগে সময়মতো বাড়িতে ফিরতে পারবেন।’

উগান্ডায় জন্ম নেওয়া মামদানি এরপর বলেন, ‘এর মানে হলো, বন্ধুদের আড্ডায় বসে এ বিষয়ে একমত হওয়ার সময় পাওয়া যে, গতকালের ম্যাচে মিসরকে সত্যিই “ডাকাতি” করে হারানো হয়েছে। আর সবকিছুর ঊর্ধ্বে, আসল অর্থ হলো—নিউইয়র্কবাসীদের সেই মহামূল্যবান সময় ফিরিয়ে দেওয়া, যার ভীষণ অভাব রয়েছে তাঁদের জীবনে।’

দ্রুতগতির বাসের কল্যাণে প্রতিদিন যে ছয় মিনিট সময় বাঁচবে, তা দিয়ে তিনি কী করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে বিতর্কিত রেফারিংকে আরও একবার খোঁচা দেন মামদানি, ‘বেঁচে যাওয়া ওই ছয় মিনিটে আমি সম্ভবত মিসরকে কীভাবে ডাকাতি করে হারানো হলো, সেই রিপ্লেগুলোই দেখব। বারবার দেখব।’

ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি তথা ভিএআরের দিকে ইঙ্গিত করে মামদানি রসিকতা করে বলেন, ‘আপনারা তো জানেন, এখন কেবল ভিএআর স্ক্রিনের মতো চারকোনা ইশারাটাই করার বাকি আছে।’

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হারের পর মিসরের কোচ হোসাম হাসান রেফারিংয়ের তীব্র সমালোচনা করেন। মেসি ও আর্জেন্টিনার প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে হোসাম হাসান বলেন, ‘হয়তো তারা চেয়েছিল, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা টুর্নামেন্টে টিকে থাকুক। হয়তো তারা চেয়েছিল, মেসি প্রতিযোগিতায় থাকুক।’

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। এএফপি

জনপ্রিয়তায় নেতানিয়াহুকে ছাড়ালেন মামদানি

ইসরাইলের প্রতি মার্কিন জনসমর্থন আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক রিসার্সের সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে এমন তথ্য। জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি তিনজনে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক মনে করেন, গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালাচ্ছে ইসরাইল। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য এসেছে নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানিকে নিয়ে। ইসরাইলের কড়া সমালোচক এই মেয়র ইহুদি-আমেরিকানদের মধ্যে নেতানিয়াহুর তুলনায় বেশি জনপ্রিয়।

জরিপে অংশ নেওয়া ইহুদি-আমেরিকানদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ মনে করেন, ইসরাইল গণহত্যা চালিয়েছে। আর ৪৯ শতাংশ মনে করেন, গণহত্যা হয়নি।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিদের মধ্যে অত্যন্ত অজনপ্রিয়। জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি ১০ জন ইহুদি উত্তরদাতার মধ্যে প্রায় ছয়জন নেতানিয়াহুকে অপছন্দ করেন। আর পছন্দ করেন এক-তৃতীয়াংশ ইহুদি।

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকে নেতানিয়াহুর তুলনায় বেশি পছন্দ করেন ইহুদি-আমেরিকানরা। জরিপ অনুযায়ী, ৪৪ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ইহুদি মামদানিকে পছন্দ করেন। নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেন ৩৯ শতাংশ উত্তরদাতা। ১৭ শতাংশ এ বিষয়ে কোনো মত দেননি।

সামগ্রিকভাবেও মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা কম। তাকে পছন্দ করেন ২০ শতাংশ, আর অপছন্দ করেন ৩৮ শতাংশ মার্কিনি। ৪১ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে কোনো মত দেননি।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

জনপ্রিয়তায় নেতানিয়াহুকে ছাড়ালেন মামদানি
ছবি: সংগৃহীত

হামাস কেন গাজায় সরকার থেকে সরছে, নেপথ্যে কী? by সাইয়িদ মারকোস তেনোরিও

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় বড় একটি পরিবর্তনের পথে হাঁটছে হামাস। তারা ‘সরকারি জরুরি কমিটি’ ভেঙে দিচ্ছে। বেসামরিক প্রশাসনের দায়িত্ব তুলে দিচ্ছে ‘গাজার প্রশাসনের জাতীয় কমিটি’র হাতে। এটি শুধুই প্রশাসনিক রদবদল নয়; এর ভেতরে আছে বড় কৌশলগত ভাবনা। এ সিদ্ধান্তকে যদি কেউ আত্মসমর্পণ বা পরাজয় মনে করেন, তাহলে তিনি বর্তমান ফিলিস্তিনি সংগ্রামের বাস্তবতা বুঝতে ভুল করবেন।

হামাস স্পষ্ট করেছে, তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি মানতে চায়। গাজার প্রশাসন পুরোপুরি নতুন কাঠামোর হাতে না যাওয়া পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবে। অর্থাৎ হঠাৎ তারা সব ছেড়ে দিচ্ছে না; বরং ধাপে ধাপে সরে যাচ্ছে।

এ সিদ্ধান্তের প্রথম লক্ষ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হামাস নিজেদের টিকিয়ে রাখতে চায় একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক, সামাজিক ও সামরিক শক্তি হিসেবে। তারা শুধু একটি সরকার নয়; তারা একটি আন্দোলন। তাদের শিকড় ফিলিস্তিনি সমাজের ভেতরে অনেক গভীরে।

প্রায় ২০ বছর ধরে হামাস একসঙ্গে দুটি কঠিন কাজ করেছে। একদিকে সরকার চালিয়েছে, অন্যদিকে প্রতিরোধ চালিয়েছে। গাজা ছিল অবরুদ্ধ। বারবার যুদ্ধ হয়েছে। ঘরবাড়ি, রাস্তা, হাসপাতাল—জীবনের মৌলিক কাঠামো বারবার ধ্বংস হয়েছে। এ পরিস্থিতির মধ্যেই তাদের প্রশাসন চালাতে হয়েছে। এটি সহজ কাজ ছিল না।

সাম্প্রতিক যুদ্ধ ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। আধুনিক ফিলিস্তিনি ইতিহাসে এর মতো ধ্বংস খুব কমই দেখা গেছে। তবু একটি বিষয় পরিষ্কার হয়েছে। দখলদার শক্তি তাদের ঘোষিত লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি। তারা হামাসকে নির্মূল করতে পারেনি।

এ অবস্থায় গাজার দৈনন্দিন প্রশাসন থেকে সরে দাঁড়ানো হামাসের জন্য কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে। এতে তাদের ওপর সরাসরি চাপ কমবে। প্রশাসনিক দায়ও কমবে। তারা নিজেদের সংগঠন নতুনভাবে গুছিয়ে নিতে পারবে। শক্তি পুনর্গঠন করতে পারবে এবং সবচেয়ে বড় কথা, তাদের মূল লক্ষ্যে, অর্থাৎ ফিলিস্তিনের মুক্তিসংগ্রামে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারবে।

দ্বিতীয় লক্ষ্য হলো জাতীয় ঐক্য। বহু বছর ধরে ফিলিস্তিনি রাজনীতি ভেঙে আছে। গাজা একদিকে, পশ্চিম তীর আরেক দিকে। অভ্যন্তরীণ বিভাজনও কম নয়। এই বিভক্ত অবস্থাই দখলদার শক্তির বড় সুবিধা। এ বাস্তবতা বদলানো জরুরি।

হামাস বলছে, গাজা তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি পুরো ফিলিস্তিনি জনগণের। তাই নতুন প্রশাসন এমন হতে হবে, যা সবার প্রতিনিধিত্ব করে। কিন্তু এখানে একটি সতর্কবার্তাও আছে। নতুন প্রশাসন যেন বাইরের শক্তির নিয়ন্ত্রণে না চলে যায়। যেন এটি কোনো বিদেশি প্রভাবের হাতিয়ার না হয়।

একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি বিষয় আছে। ফিলিস্তিনি সমাজে যেসব রাজনৈতিক শক্তির বাস্তব ভিত্তি আছে, তাদের বাদ দেওয়া যাবে না। তাদের বাদ দিলে ঐক্য গড়া সম্ভব নয়। তাই একটি সত্যিকারের প্রতিনিধিত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এমন নেতৃত্ব দরকার, যারা অধিকৃত অঞ্চল, শরণার্থীশিবির এবং প্রবাসী ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলতে পারে।

তৃতীয় লক্ষ্য হলো প্রতিরোধের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। শাসন আর প্রতিরোধ এক জিনিস নয়। এ দুইয়ের কাজ আলাদা। একটি জাতীয় মুক্তি আন্দোলন অনেক ধরনের ভূমিকা নিতে পারে। তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। প্রশাসন চালাতে পারে। যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে পারে। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারও মেনে নিতে পারে। আবার সময় এলে প্রশাসন থেকে সরে দাঁড়াতেও পারে; যদি সেখানে থাকা তাদের বড় লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করে।

বহু বছর ধরে ইসরায়েল একটি যুক্তি দিয়েছে। তারা বলেছে, গাজায় হামাস সরকারে থাকার কারণেই অবরোধ, সামরিক হামলা এবং সমষ্টিগত শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, সেই যুক্তি কি এখনো টিকে থাকে?

কারণ, হামাস এখন প্রশাসন হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। তবু দেখা যাচ্ছে, দখলদার শক্তি চুক্তি বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছে। তারা চায় না নতুন জাতীয় কমিটি ঠিকভাবে কাজ শুরু করুক। বরং এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে প্রশাসনিক শূন্যতা থাকবে। আর সেই শূন্যতা মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়াবে।

এই জায়গাতেই বড় একটি বিরোধাভাস সামনে আসে। মনে হয়, লক্ষ্য শুধু হামাসকে সরকার থেকে সরানো ছিল না। আসল লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করা।

হামাস এখন মধ্যস্থতাকারী ও গ্যারান্টর রাষ্ট্রগুলোর দিকেও তাকাচ্ছে। তারা চাইছে এই দেশগুলো চাপ সৃষ্টি করুক, যাতে চুক্তি বাস্তবায়ন হয়। নতুন প্রশাসন কাজ শুরু করতে পারে। যদি তা হয়, তাহলে গাজায় জরুরি জনসেবা ধীরে ধীরে ফিরতে পারে। মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে। যুদ্ধের ফলে তৈরি মানবিক বিপর্যয়ের মোকাবিলাও শুরু করা সম্ভব হবে।

এ সিদ্ধান্ত দখলদার শক্তির কথাবার্তাকেও পরীক্ষা করছে। যদি সত্যিই যুদ্ধের কারণ হয়ে থাকে হামাসের শাসন, তাহলে তাদের সরে দাঁড়ানোর পর পরিস্থিতি বদলানোর কথা। দখলদার সেনা সরে যাওয়ার কথা। সীমান্ত খুলে দেওয়ার কথা। পুনর্গঠন শুরু হওয়ার কথা। সামরিক হামলা বন্ধ হওয়ার কথা।

কিন্তু যদি তা না হয়, যদি নতুন নতুন শর্ত চাপানো হয়, তাহলে বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে যাবে। তখন আর লুকিয়ে রাখা যাবে না। সমস্যা শুধু কে গাজা শাসন করছে, তা নয়। সমস্যা হলো একটি জনগোষ্ঠী, যারা মাথা নত করতে রাজি নয়। যারা উচ্ছেদ হতে চায় না। যারা বিলুপ্ত হতে চায় না।

হামাস মন্ত্রণালয় ছাড়তে পারে। কমিটি ভেঙে দিতে পারে। প্রশাসনের দায়িত্ব অন্যের হাতে তুলে দিতে পারে। কিন্তু এই পদক্ষেপের অর্থ প্রতিরোধ ছেড়ে দেওয়া নয়। গাজা শাসন করা ছিল একটি সময়ের বাস্তবতা। কিন্তু ফিলিস্তিনের মুক্তিসংগ্রামই তাদের মূল লক্ষ্য। সেটিই রয়ে গেছে সামনে।

* সাইয়িদ মারকোস তেনোরিও, একজন ইতিহাসবিদ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ। তিনি ব্রাজিল-ফিলিস্তিন ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা এবং সহসভাপতি।
- মিডল ইস্ট মনিটর থেকে নেওয়া। অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ।

হামাসের সশস্ত্র মহড়া
হামাসের সশস্ত্র মহড়া। ফাইল ছবি: এএফপি

পোকামাকড় ও পশুপাখি কি সত্যিই ভূমিকম্পের আগাম তথ্য জানতে পারে by জাহিদ হোসাইন খান

প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানার আগে বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় ও পশুপাখি বেশ অস্বাভাবিক আচরণ করে থাকে। কুকুর ক্রমাগত ঘেউ ঘেউ করে, গরু দুধ দেওয়া বন্ধ করে দেয় বা ব্যাঙ পুকুর থেকে লাফিয়ে ওঠে। শুনতে অবাক লাগলেও ১৯৭৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি চীনের হাইচেং শহরে ৭ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানার কয়েক সপ্তাহ আগে হিমায়িত তাপমাত্রার মধ্যেও প্রচুর সাপ তাদের শীতকালীন আশ্রয়স্থল থেকে বেরিয়ে এসেছিল। সরীসৃপদের এই আচরণ বিশ্লেষণে শহর কর্তৃপক্ষ তখন বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানার কয়েক ঘণ্টা আগেই পুরো শহর খালি করে ফেলেছিল। পোকামাকড় ও পশুপাখি ভূমিকম্পের আগাম তথ্য জানতে পারে কি না, তা জানতে ২০১৩ সালে এক গবেষণা করেছিলেন জার্মান বিজ্ঞানীরা। সে সময় ভূমিকম্পের একটি চ্যুতি রেখার কাছাকাছি বাসা বাঁধা লাল কাঠ পিঁপড়াদের ভিডিও করেন তাঁরা। দেখা যায়, ভূমিকম্পের আগে পিঁপড়াদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে পরিবর্তন হয়। রাতে বেশি সক্রিয় হলেও দিনে কম সক্রিয় থাকে তারা।

জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট অব অ্যানিমেল বিহেভিয়ার ও ইউনিভার্সিটি অব কনস্টানজের গবেষকেরা ভূমিকম্পের আগে খামারে থাকা বিভিন্ন প্রাণীর কার্যকলাপ সঠিকভাবে শনাক্তের দাবি করেছেন। যদিও তাঁদের দাবির সপক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিজ্ঞানী মার্টিন উইকেলস্কি বলেন, ‘অ্যারিস্টটল ও আলেক্সান্ডার ফন হামবোল্টের সময় থেকেই এমন আচরণের পুরোনো গল্প রয়েছে। এখন আমরা প্রাণীদের কার্যকলাপ ও স্নায়বিক অবস্থার ধারাবাহিক জৈব তথ্য সংগ্রহ করতে পারছি।’

গবেষকদের তথ্যমতে, তথ্য সংগ্রহের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল যন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এই যন্ত্র প্রতি সেকেন্ডে ৪৮ বার পর্যন্ত ত্বরিত নড়াচড়া রেকর্ড করে। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে মোট প্রায় চার মাস ধরে তাঁরা ইতালির উত্তর দিকের ভূমিকম্পপ্রবণ একটি এলাকার একটি খামারে থাকা ছয়টি গরু, পাঁচটি ভেড়া ও দুটি কুকুরের সঙ্গে এই বায়োলগার ও জিপিএস সেন্সর সংযুক্ত করেন। গবেষণার সময় ১৮ হাজারের বেশি কম্পন ঘটেছিল, যার মধ্যে একটি ৬ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প ঘটেছিল। এই গবেষণার ফলাফল ইথোলজি নামের সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণে দেখা যায়, যখন সব প্রাণীকে একটি স্থিতিশীল স্থানে একসঙ্গে রাখা হয়, তখন ৩ দশমিক ৮ বা তার চেয়ে বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের আগে তাদের কার্যকলাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। যখন এসব প্রাণী চারণভূমিতে থাকে, তখন আবার তা দেখা যায় না। বিজ্ঞানী উইকেলস্কি বলেন, আবদ্ধ স্থানে কিছু প্রাণী অতিরিক্ত চাপ অনুভব করে বলে ভিন্ন আচরণ করতে পারে। তথ্য বলছে, ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টা আগে পশুর আচরণে কিছুটা পরিবর্তন দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে গরু কিছুটা স্থির থাকলেও কুকুরের ডাক বেড়ে যায়। পরে গরুরও অস্থিরতা বেড়ে যায়। সবশেষে ভেড়া অস্বাভাবিক আচরণ করে।

বিজ্ঞানী উইকেলস্কি বলেন, এই পর্যবেক্ষণ সম্মিলিত আচরণ তত্ত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কোনো এলাকায় যখন স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি, পোকামাকড় ও মাছ একসঙ্গে থাকে, তখন তাদের মধ্যে তথ্য আদান–প্রদান ঘটে। সম্মিলিতভাবে বেঁচে থাকার দক্ষতা উন্নত করে প্রাণীরা। এমন আচরণ একই প্রজাতি বা বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে দেখা যায়। খামারে থাকা প্রাণীদের কম্পনের ১ থেকে ২০ ঘণ্টা আগেই অনুমান করতে দেখা যায়। উৎসের যত কাছাকাছি ছিল, তারা তত তাড়াতাড়ি প্রতিক্রিয়া দেখায়। বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, প্রাণীরা কোনোভাবে একটি সংকেত অনুভব করে, যা বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। ২০১০ সালের এক গবেষণার তথ্যমতে, ভূকম্পনের সময় শিলা থেকে খনিজ পদার্থ মুক্ত হয়ে বাতাসে আয়ন নির্গত করে। প্রাণীরা তখন এই নতুন সংবেদনের প্রতি প্রতিক্রিয়া জানায়।

বিভিন্ন গবেষণাপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ভূমিকম্প বা যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় প্রাণীর আচরণের ভিন্নতার সম্পর্ক পাওয়া যায়। এসব বিষয় এখনো পুরোপুরি প্রমাণিত নয়, তবুও অনেক বিজ্ঞানী এমন আচরণকে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস বোঝার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

সূত্র: সায়েন্টিফিক আমেরিকান

ভূমিকম্পের আগে গরুর কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণের জন্য যুক্ত করা হয়েছিল সেন্সর
ভূমিকম্পের আগে গরুর কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণের জন্য যুক্ত করা হয়েছিল সেন্সর। ছবি: ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট অব অ্যানিমেল বিহেভিয়ার

ডোনাল্ড ট্রাম্পই কি যুক্তরাষ্ট্রের শেষ জায়নবাদী প্রেসিডেন্ট by ডেভিড হার্স্ট

মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ইসরায়েলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। তিনি সেখানে এতটাই ঘৃণিত যে ইসরায়েলের চিরশত্রু ‘আমালেক’-এর তালিকায় তাঁর নাম উঠে এলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

ট্রাম্পের প্রতি সেখানে কী পরিমাণ ক্ষোভ কাজ করছে, তার একটি বড় উদাহরণ দেশটির প্রভাবশালী ‘চ্যানেল ১৪’-এর প্রাইমটাইম শোর উপস্থাপক ইনন মাগাল। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সরাসরি ‘লুজার’ বলে অভিহিত করেছেন। এমনকি ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফকে ‘ক্ষুদ্র ইহুদি’ বলে কটাক্ষ করেছেন।

ইসরায়েলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইয়াকভ বারদুগো মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্প ও তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এখন আধুনিক যুগের ‘চেম্বারলেন’-এ পরিণত হচ্ছেন। তিনি তাঁদের ১৯৩৮ সালে হিটলারের প্রতি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নেভিল চেম্বারলেনের তোষণনীতির সঙ্গে তুলনা করেছেন।

ডানপন্থী ‘চ্যানেল ১৪’-এর সঞ্চালক শিমন রিকলিন এক্সে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে কেউ তার মিত্র হতে চাইবে না।

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই বিশ্লেষকদের সুর এখন ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেছে। তাঁরা যাঁর বিষোদ্‌গার করছেন, তিনি প্রথম মেয়াদে গোলান মালভূমিকে ইসরায়েলের অংশ এবং জেরুজালেমকে দেশটির রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। এমন আরও বহু উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

অনুগত থেকে ‘বিশ্বাসঘাতক’

গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনের পক্ষে ট্রাম্প শুরু থেকেই শক্ত অবস্থান নিয়ে আসছেন। অন্যদিকে কুশনার ছিলেন তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর মূল পরিকল্পনাকারী।

হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে নেতানিয়াহু ও মোসাদপ্রধান ডেভিড বার্নিয়ার ব্রিফিংয়ের পরেই যে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা নিয়ে দ্বিমত নেই। মার্কিন ইতিহাসে কোনো বিদেশি নেতার সিচুয়েশন রুমে প্রবেশের এটিই প্রথম ঘটনা। এর আগে ইসরায়েলের কোনো প্রধানমন্ত্রী মার্কিন প্রশাসনের এতটা কাছাকাছি আসতে পারেননি। অথচ আজ সেই ট্রাম্পকেই তারা ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আখ্যা দিচ্ছে।

জায়নবাদের ইতিহাসে অবশ্য এমন ফাটল এটাই প্রথম নয়। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, জায়নবাদীরা বারবারই সেই পরাশক্তির বিরুদ্ধে অবাধ্য হয়েছে, যার ওপর তারা নিজেরা নির্ভরশীল ছিল।

একটি ঐতিহাসিক পুনরাবৃত্তি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের শিবিরে আড়াই লাখ ইহুদি শরণার্থী আটকে থাকা অবস্থায় ব্রিটেন ফিলিস্তিনে এক লাখ ইহুদির অভিবাসনে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এর প্রতিবাদে ইহুদি ভূগর্ভস্থ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো একজোট হয়। ফলে ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৮ সালের মধ্যে ফিলিস্তিনে ৭৮০ জনের বেশি ব্রিটিশ সেনা, পুলিশ ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যাঁদের বড় অংশকেই লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল ‘ইরগুন’ এবং ‘স্টার্ন গ্যাং’ (লেহি)-এর মতো গোষ্ঠীগুলো।

অথচ এই ব্রিটেনই ১৯১৭ সালের ‘বেলফোর ঘোষণা’র মাধ্যমে ইহুদিদের স্বতন্ত্র বাসভূমির প্রতিশ্রুতি দিয়ে আরবদের স্বাধীন রাষ্ট্রের অধিকার ক্ষুণ্ন করেছিল। সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি ঘটে ১৯৪৬ সালের ২২ জুলাই জেরুজালেমের কিং ডেভিড হোটেলে, যা ছিল ব্রিটিশ প্রশাসনের সদর দপ্তর। সেই বোমা হামলায় ৯১ জন নিহত হন, যাঁদের মধ্যে ২৮ জন ছিলেন ব্রিটিশ নাগরিক। আজ পর্যন্ত ইসরায়েল সেই নিহত ব্যক্তিদের কবরকে সম্মান জানাতে অস্বীকৃতি জানালেও হোটেলে বোমা হামলার নেতৃত্বদাতাদের ঠিকই বীরের মর্যাদা দিয়ে আসছে।

এমনকি হলোকাস্টের সময় চার হাজারের বেশি ইহুদিকে মুক্ত করা সুইডিশ কূটনীতিক কাউন্ট ফোল্কে বার্নাডোটও এই ইহুদি সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রেহাই পাননি। ইতিহাসের এই ধারা ইসরায়েলের ক্ষেত্রে বারবার ফিরে এসেছে।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইসরায়েলকে তাঁর বিদায়ী উপহার হিসেবে ১০ বছর মেয়াদে ৩৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছিলেন, যা ছিল মার্কিন ইতিহাসের বৃহত্তম প্যাকেজ।

নেতানিয়াহুর আচরণ প্রসঙ্গে ইসরায়েলি ইতিহাসবিদ আভি শ্লাইম সে সময় ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানে লিখেছিলেন, ‘নেতানিয়াহু ওবামার এই উদারতার জবাব দিয়েছেন চরম অকৃতজ্ঞতা দিয়ে। তিনি ওবামাকে আক্রমণ করার কোনো সুযোগই হাতছাড়া করেননি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘যে হাত আপনাকে খাওয়ায়, সেই হাতেই কামড় দেওয়ার এর চেয়ে বড় উদাহরণ আর হতে পারে না।’  

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ছিলেন উদারপন্থী জায়নবাদী। তিনিও একই আচরণের শিকার হন। জেনারেল আমোস গিলাদ লিখেছেন, নেতানিয়াহু যেভাবে বাইডেনকে নজিরবিহীনভাবে তিরস্কার করেছেন, তা চরম অকৃতজ্ঞতা এবং একটি প্রথম সারির কৌশলগত ব্যর্থতা।  

জায়নবাদের আসল রূপ

অনেকের মতে, আমরা আসলে জায়নবাদের আসল ‘শ্রেষ্ঠত্ববাদী’ রূপটিই এখন উন্মোচিত হতে দেখছি। এমনকি নেতানিয়াহু সরকারের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোশে ইয়ালনও এ মতের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে ইয়ালন বলেন, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে যুক্ত ধর্মীয় জায়নবাদী আন্দোলনের একটি অংশ মূলত ‘ইহুদি শ্রেষ্ঠত্ববাদী আদর্শ’ ধারণ করে। তিনি আরও যোগ করেন, ‘ইহুদি শ্রেষ্ঠত্ববাদ আসলে হিটলারের “মাইন কাম্ফ”–এর উল্টো সংস্করণ মাত্র।’

ইহুদি শ্রেষ্ঠত্ববাদের এ ধারণা এখন ইসরায়েলের মূলধারার রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরায়েলের এই বিরোধের আসল কারণ হচ্ছে নতুন ধরনের ধাক্কা। একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলকে যুদ্ধ থামানোর নির্দেশ দিচ্ছেন। মূলত একটি বসতি স্থাপনকারী উপনিবেশকেরা যখন টের পায়, অভিভাবকের ওপর থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গেছে, তখন যে ধাক্কা খায়, এটা তারই বহিঃপ্রকাশ।

একই রকম ধাক্কা খেয়েছিল আলজেরিয়ার ফরাসি উপনিবেশবাদীরাও; তারা ১৯৫৮ সালে চার্লস ডি গলকে ফ্রান্সে ক্ষমতায় আনতে সাহায্য করেছিল, কিন্তু পরে দেখে যে সেই ফরাসি প্রেসিডেন্টই আলজেরিয়ার স্বাধীনতাকে সমর্থন করছেন।

অথবা উত্তর আয়ারল্যান্ডের ইউনিয়নিস্ট সম্প্রদায়ের সেই তীব্র ক্ষোভের কথাই ধরা যাক, যখন ব্রিটিশ ইতিহাসের সবচেয়ে কট্টর ইউনিয়নিস্ট প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার ‘অ্যাংলো-আইরিশ চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন।  

জনমতের সুনামি

ইসরায়েলের ভেতরে যা-ই ঘটুক না কেন, যুক্তরাষ্ট্রে এর প্রভাব অত্যন্ত নেতিবাচক আকার ধারণ করছে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলি মার্কিন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থনকে একেবারে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে বললে ভুল হবে না।

পিউ রিসার্চের এক জরিপে দেখা গেছে, রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক উভয় দলের মধ্যেই ৫০ বছরের কম বয়সী অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক ইসরায়েল ও নেতানিয়াহুকে নেতিবাচকভাবে দেখেন। বর্তমানে ১৮ থেকে ৪৯ বছর বয়সী রিপাবলিকানদের মধ্যে ৫৭ শতাংশই ইসরায়েলের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন।

সামগ্রিকভাবে ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের এখন ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। আমেরিকায় জনমতের পরিবর্তনের দিকটি এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট।

তবে জনমতের এই পরিবর্তন রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কতটা অর্থবহ প্রভাব ফেলবে এবং কখন এটি মার্কিন নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রবাসী ইহুদি জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল নিউইয়র্কে সম্প্রতি ডেমোক্রেটিক পার্টির তিনজন বর্তমান কংগ্রেস সদস্য পুনর্নির্বাচনে হেরে গেছেন এবং মেয়র জোহরান মামদানি সমর্থিত প্রার্থীরা পাঁচটি স্থানীয় আসনে জয়লাভ করেছেন।
এর পরপরই ডেমোক্র্যাটদের দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত শক্তিকে বড় ধাক্কা দেন আইনজীবী ও পিএইচডি শিক্ষার্থী মেলাত কিরোস। তিনি কলোরাডোর প্রথম সংসদীয় আসন থেকে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে বিজয়ী ঘোষিত হন।

কিরোস যাঁকে হারিয়ে দেন, সেই ডায়ানা ডিগেট ইসরায়েলপন্থী লবিং গ্রুপ ‘আইপ্যাক’ থেকে ১৬ লাখ ডলারের বেশি অনুদান পেয়েছিলেন।

‘জিউইশ ভয়েস ফর পিস-অ্যাকশন’ এই ফলাফল প্রসঙ্গে বলেছে, এই নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে ‘আইপ্যাক’ এখন একটি ‘বিষাক্ত ব্র্যান্ড’-এ পরিণত হয়েছে এবং সাধারণ ডেমোক্র্যাট ভোটাররা এখন আর সেই আইনপ্রণেতাদের দেখতে চান না, যাঁরা গণহত্যাকে সমর্থন বা রক্ষা করেন।

কিন্তু এই ফলাফল কি আসলেই ফিলিস্তিনের পক্ষে কোনো বড় পরিবর্তন নির্দেশ করে, নাকি এটি আইপ্যাকের সমর্থন ছাড়াই উদারপন্থী জায়নবাদীদের ডেমোক্রেটিক পার্টিতে টিকিয়ে রাখার একটি প্রক্রিয়া মাত্র? দলটি কি আসলে ‘নেতানিয়াহু-পরবর্তী’ যুগের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যখন ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন সমর্থন আবার আগের মতোই প্রাতিষ্ঠানিক ও স্বাভাবিক রূপ পাবে?

এখানে জয়ী ব্যক্তিদের একজন হচ্ছেন ব্র্যাড ল্যান্ডার। মামদানিকে সমর্থন করার আগে নিউইয়র্কের মেয়র পদের দৌড়ে থাকা ল্যান্ডার অতীতে ইসরায়েলবিরোধী ‘বিডিএস’ আন্দোলনের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। এমনকি নিউইয়র্ক সিটির হিসাবরক্ষক থাকাকালে তিনি ইসরায়েলি অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমে শহরের পেনশন ফান্ডের বিনিয়োগ বাড়িয়েছিলেন। নিজেকে তিনি একজন ‘উদারপন্থী জায়নবাদী’ হিসেবেই পরিচয় দেন।

স্টকটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক নাজিয়া কাজী মিডল ইস্ট আইকে বলেন, যখন ফিলিস্তিনের সমর্থনে আন্দোলনকারীদের রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তখন ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের কিছু অংশ ল্যান্ডারের মতো একজন প্রার্থীকে উদ্‌যাপন করছে, এটি আন্দোলনের পিঠে এক বড় ছুরিকাঘাতের মতো।
কিরোসের বিজয়ের পর, ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এক্সে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছেন, ‘বাতাসের গতি পরিবর্তন হচ্ছে। আমেরিকানরা এখন স্থবির রাজনীতি থেকে মুক্তি চায়।’

মামদানি নিজে বলেছেন, এটি ছিল শ্রমজীবী মানুষের বিজয়। এটি গত বছরের একটি জরিপের ফলাফলকেই সমর্থন করে, যেখানে দেখা গিয়েছিল, মার্কিন ভোটাররা মূলত ঘরোয়া অর্থনৈতিক সমস্যা, সাশ্রয়ী আবাসন এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের মতো বিষয়গুলো দেখেই ভোট দিচ্ছেন।

তবে বিজয়ী প্রার্থীরা তাঁদের বক্তৃতায় ঘরোয়া সমস্যা এবং গাজায় যুদ্ধ বন্ধের দাবিকে একই সুতোয় গেঁথে উপস্থাপন করেছেন।

একটি দীর্ঘ পথ

‘ইউএস/মিডল ইস্ট প্রজেক্ট’-এর প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল লেভির মতো ইসরায়েল-মার্কিন সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন সমর্থন পুনর্মূল্যায়নের এই যাত্রা অত্যন্ত দীর্ঘ এবং আমেরিকা কেবল এর সূচনালগ্নে রয়েছে। তিনি বলেন, ইসরায়েলি লবির শক্তিশালী চাপ, আমাদের নিজেদের পক্ষের ভুল করার প্রবণতা এবং এই পরিবর্তনকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য একটি শক্তিশালী ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের অনুপস্থিতি—সব মিলিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে এখনো অনেক সময় লাগবে।
তা সত্ত্বেও মার্কিন জনমতে যে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে, তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি হলো, ফিলিস্তিন ইস্যুটি এখন রাজনীতির প্রান্তিক পর্যায় থেকে উঠে এসে মার্কিন রাজনীতির মূলধারায় জায়গা করে নিয়েছে।

একসময় যা বামপন্থীদের একটি নির্দিষ্ট এজেন্ডা কিংবা ‘ইসলামপন্থা’ বা ‘সন্ত্রাসবাদ’-এর তকমা দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হতো, তা এখন মার্কিন রাজনৈতিক মহলের সব স্তরে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এমনকি মার্কিন ডানপন্থীদের একটি অংশও এখন ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় বোঝা হিসেবে দেখতে শুরু করেছে। ইসরায়েল থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখাকে অনেকেই এখন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুণ্ন হওয়া বৈশ্বিক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের একটি উপায় হিসেবে দেখছেন।

তবে ফিলিস্তিন ইস্যু মূলধারায় চলে এলেও এর বিতর্কের চারপাশে নতুন কিছু অদৃশ্য দেয়াল বা সীমাবদ্ধতা তৈরি করা হয়েছে। মার্কিন রাজনীতিতে আইপ্যাকের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ, তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের মৌলিক বিষয়গুলো এখনো মার্কিন নীতিনির্ধারণী মহলের ‘ভদ্র ও গ্রহণযোগ্য’ বিতর্কের কাঠামোর বাইরেই থেকে গেছে।

নেতানিয়াহু বা তাঁর পরে যিনিই ক্ষমতায় আসুন না কেন, যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থীদের কাছে ইসরায়েলকে পুনরায় আগের মতো গুরুত্বপূর্ণ করে তোলা মোটেও সহজ হবে না। ইরানের বিষয়ে সুবিধা করতে না পেরে নেতানিয়াহুর পরবর্তী পদক্ষেপ হতে পারে গাজাকে পুরোপুরি পুনর্দখল করার জন্য নতুন করে যুদ্ধ শুরু করা। কিন্তু গাজায় নতুন করে যেকোনো ধরনের রক্তপাত যুক্তরাষ্ট্রের উভয় রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যেই তীব্র ঘৃণার উদ্রেক করবে।

* ডেভিড হার্স্ট, মিডল ইস্ট আইয়ের প্রধান সম্পাদক। মিডল ইস্ট আই থেকে অনূদিত।

 যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

চার সিনেমায় চার লুকে ফিরছেন সেই মুরাদ

প্রকাশ ২২ নভেম্বর ২০২৫ঃ একসময় টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র—দুই মাধ্যমে নিয়মিতই দেখা যেত আরমান পারভেজ মুরাদকে। অভিনয় দিয়েই দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। ‘ঘানি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ২০০৬ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পান তিনি। সাফল্যের পরও ধীরে ধীরে অভিনয়ে অনিয়মিত হয়ে পড়েন মুরাদ। পর্দায় তাঁর উপস্থিতি কমে আসে, নতুন কাজ কম করতে দেখা যায় তাঁকে। গতকাল জানালেন, ‘কাজ করতে চাই। নিয়মিত থাকতে চাই। কাজ পেলেই কাজ করব, এটাই ভালোবাসি।’

বিরতির পর আবারও পর্দায় ফিরছেন মুরাদ। জানালেন, একসঙ্গে তিনটি নতুন ছবির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। দীর্ঘদিন পর এমন ব্যস্ততা তাঁকে যেমন উচ্ছ্বসিত করছে, তেমনি নতুন চরিত্রগুলোও তাঁর জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা হয়ে উঠছে। আজ বুধবার তিনি বলেন, ‘কাছাকাছি সময়ে তিনটি ভিন্ন ঘরানার সিনেমার প্রস্তাব পেলাম। তিনটিতেই চরিত্র আলাদা, ব্যতিক্রমী। দর্শকের জন্যও চমক থাকবে।’

গত মাসেই মুরাদ শুরু করেছেন সাকিব ফাহাদ পরিচালিত ‘সোলজার’ ছবির শুটিং। অ্যাকশনধর্মী এই ছবিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। চলতি মাসে দুটি নতুন ছবির কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন তিনি। এর একটি এন রাশেদ চৌধুরীর ‘সখী রঙ্গমালা’, অন্যটি রাজীব সালেহীন পরিচালিত ‘রবি ইন ঢাকা’। দুই পরিচালকই নতুন ভাবনা ও গল্প নিয়ে কাজ করছেন বলে জানালেন মুরাদ। তিনি মনে করেন, দর্শক এখন বৈচিত্র্য চান, আর এই তিন ছবিতে বৈচিত্র্যের অভাব নেই।

তিনটি ছবির তিন চরিত্রই আলাদা প্রকৃতির—এ কথাই জানালেন আরমান পারভেজ মুরাদ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘সোলজার’ ছবিতে স্পাই এজেন্ট দলেন প্রধান, ‘রবি ইন ঢাকা’তে গোয়েন্দা কর্মকর্তা আর ‘সখী রঙ্গমালা’ ছবিতে জমিদার। কথা প্রসঙ্গে মুরাদ বলেন, ‘আমি সব সময় চেষ্টা করি চরিত্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে। এই তিন ছবিতে সেই সুযোগ পেয়েছি। যাঁরা সিনেমাগুলো দেখবেন, তাঁরা চরিত্রগুলোর ভিন্নতা খুব স্পষ্টভাবেই বুঝতে পারবেন।’

নতুন তিন ছবির ব্যস্ততার পাশাপাশি মুক্তির অপেক্ষায় আছে মুরাদের আরেকটি চলচ্চিত্র—‘জলকিরণ’। এইচ আর হাবিব পরিচালিত ছবিটিতে তিনি অভিনয় করেছেন এক নির্বাক বিজ্ঞানীর চরিত্রে। অসাধারণ একটি অভিজ্ঞতা ছিল বলেই জানান তিনি। সংলাপবিহীন চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলতে শরীরী ভাষা, চোখের অভিব্যক্তি ও নীরব আবেগ প্রকাশের ওপর ভরসা করতে হয়েছে তাঁকে।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-19%2Fu102inpi%2F503714364246689570860272892555773691912761635n.jpg?rect=27%2C0%2C1044%2C696&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
আরমান পারভেজ মুরাদ। ছবি : শিল্পীর ফেসবুক থেকে